0/0
(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
إبرام عقود النكاح عبر وسائل الاتصالات الحديثة - دراسة فقهية حديثية   (عبد المنان التالبي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: إبرام عقود النكاح عبر وسائل الاتصالات الحديثة - دراسة فقهية حديثية -

المؤلف: عبد المنان التالبي

عدد الصفحات: 16

[البحث غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الأول 1442

আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহের মাধ্যমে বিবাহ চুক্তি সম্পাদন - একটি ফিকহি (فقهية) ও হাদিসতাত্ত্বিক গবেষণা   (আব্দুল মান্নান আত-তালিবী)

বিভাগ: ফিকহি (فقهية) মাসআলাসমূহ


বই: আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহের মাধ্যমে বিবাহ চুক্তি সম্পাদন - একটি ফিকহি (فقهية) ও হাদিসতাত্ত্বিক গবেষণা -

লেখক: আব্দুল মান্নান আত-তালিবী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬

[গবেষণাটি অপ্রকাশিত]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد ..

 

‌‌مقدمة

فإن عقد النكاح من أعظم العقود منزلة، وأرفعها شأناً؛ ولذا وصفه الله تعالى بالميثاق الغليظ فقال: {وأخذنا منكم ميثاقاً غليظا} [النساء: 2] فهو ميثاق غليظ، ورباط وثيق في ذاته وبما ينتج عنه من أثار.

وقد أولى الشارع هذا العقد عناية كبيرة بما أوجبه من أركان وشروط لا بد من توافرها ليكون هذا العقد صحيحاً.

ونظراً للتقدم العلمي والتقني المتسارع في هذا العصر فقد استجدت نوازل في باب النكاح لم تكن معهودة في الزمان الماضي ومنها ما يسمى بالزواج عبر وسائر الاتصالات الحديثة.

وقد ارتأيت بحث هذا الموضوع باعتباره أحد النوازل المعاصرة، والقضايا الطارئة التي يحتاج الناس إلى معرفة حكم الله فيها، وذلك على النحو التالي:

من المعلوم فقهاً ومنطقاً أن الحكم على الشيء فرع عن تصوره والعلم به، ومن هذا المنطلق نلقي الضوء على الأسس الرئيسة للبحث فنعرفها فيما يلي:

 

‌‌أولا:‌‌ تعريف العقد لغة واصطلاحاً.

تعريف العقد لغة:

أصل العقد: نقيض الحل من عقد الحبل والبيع والعهد يعقده عقداً فانعقد (شدَّه) ثم استعمل في أنواع العقود من البيوعات والعقود وغيرها.

والعقد بفتح فسكون: الضمان والعهد.

ومنه عقدة النكاح(1).

والعقد: ما يمسك الشيء ويوثقه(2).

 

‌‌تعريف العقد اصطلاحاً:

قال الجصاص: العقد ما يعقده العاقد على أمر يفعله هو، أو يعقد على غيره فعله على وجه إلزامه إياه(3).

--------------------------------------------

(1) ـ تاج العروس من جواهر القاموس: محمد بن محمد بن عبد الرزاق الحسيني أبو الفيض الملقب بمرتضى الزبيدي. تح: مجموعة من المحققين. دار الهداية ، 8/ 394 - 395 مادة (عقد).

(2) 2 ـ القاموس الفقهي: سعدي أبو جيب. دار الفكر: دمشق. ط (2) 1408 هـ ، 1/ 265.

(3) ـ أحكام القران: أحمد بن علي الرازي الجصاص. تح: محمد الصادق قمحاوي. دار أحياء التراث العربي: بيروت ، 3/ 285.
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের ওপর। অতপর..

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই বিবাহের চুক্তি (আকদ) মর্যাদার দিক থেকে অন্যতম মহান এবং গুরুত্বের দিক থেকে অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের; একারণেই মহান আল্লাহ একে 'দৃঢ় অঙ্গীকার' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: {এবং তারা তোমাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে} [আন-নিসা: ২]। সুতরাং এটি একটি সুদৃঢ় অঙ্গীকার এবং এর মূল সত্তা ও এর মাধ্যমে যা কিছু অর্জিত হয় সে সবের বিচারে এটি একটি শক্তিশালী বন্ধন।

বিধানদাতা (শারেই) এই চুক্তির প্রতি বিশেষ যত্ন প্রদান করেছেন সেই সকল রুকন ও শর্তাবলি আবশ্যক করার মাধ্যমে, যা এই চুক্তিটি সঠিক (صحيح) হওয়ার জন্য বিদ্যমান থাকা অপরিহার্য।

বর্তমান যুগে দ্রুতগামী বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে বিবাহ অধ্যায়ে এমন কিছু আধুনিক সমস্যার (নাওয়াজিল) উদ্ভব হয়েছে যা অতীতে পরিচিত ছিল না। এর মধ্যে অন্যতম হলো আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে সম্পাদিত বিবাহ।

আমি এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি একে একটি সমসাময়িক আধুনিক সমস্যা এবং উদ্ভূত ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করে, যে বিষয়ে মানুষের আল্লাহর বিধান জানার প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি নিম্নরূপ:

ফিকহশাস্ত্রীয় এবং যৌক্তিকভাবে এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, কোনো বিষয় সম্পর্কে বিধান প্রদান করা সেই বিষয়টির সঠিক উপলব্ধি ও জ্ঞানের একটি শাখা মাত্র। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা এই গবেষণার মূল ভিত্তিগুলোর ওপর আলোকপাত করব এবং নিম্নে তার সংজ্ঞা প্রদান করব:

 

‌‌প্রথমত:‌‌ চুক্তির শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা

চুক্তির (আকদ) শাব্দিক সংজ্ঞা:

'আকদ' এর মূল অর্থ হলো: খোলার বিপরীত। যেমন দড়ি বাঁধা, কেনা-বেচা এবং অঙ্গীকার সম্পন্ন করা। যখন কেউ তা সম্পন্ন করে তখন বলা হয় 'আকাদা' (সে শক্ত করে বেঁধেছে)। পরবর্তীতে এটি কেনা-বেচা ও অন্যান্য সকল ধরণের চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে থাকে।

জবর ও সাকিন সহযোগে 'আকদ' শব্দের অর্থ হলো: জামানত ও অঙ্গীকার।

এর থেকেই 'আকদাতুন নিকাহ' (বিবাহের বন্ধন) কথাটি এসেছে।(১)

আর 'আকদ' হলো যা কোনো বস্তুকে ধরে রাখে এবং সুসংহত করে।(২)

 

‌‌চুক্তির পারিভাষিক সংজ্ঞা:

ইমাম জাসসাস বলেন: 'আকদ' হলো যা কোনো চুক্তিকারী ব্যক্তি এমন একটি বিষয়ের ওপর সম্পাদন করে যা সে নিজে করবে, অথবা যা অন্য কারোর ওপর আবশ্যিক করার মাধ্যমে সম্পাদন করে।(৩)

--------------------------------------------

(১) — তাজুল আরূস মিন জাওয়াহিরিল কামূস: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রাজ্জাক আল-হুসাইনি আবুল ফাইজ, যিনি মুরতাজা আজ-জাবিদি নামে পরিচিত। সম্পাদনা: একদল গবেষক। দারুল হিদায়াহ, ৮/৩৯৪-৩৯৫, শব্দমূল (আকদ)।

(২) ২ — আল-কামূস আল-ফিকহি: সা'দী আবু জিব। দারুল ফিকর: দামেস্ক। ২য় সংস্করণ, ১৪০৮ হিজরি, ১/২৬৫।

(৩) — আহকামুল কুরআন: আহমদ বিন আলী আর-রাজি আল-জাসসাস। সম্পাদনা: মুহাম্মদ আস-সাদিক কামহাউয়ি। দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি: বৈরুত, ৩/২৮৫।
(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌ثانياً:‌‌ تعريف النكاح لغة وشرعاً.

تعريف النكاح لغة:

النِكاح في اللغة بالكسر: الوطء ، وقيل: التزويج؛ لأنه سبب للوطء المباح. ويطلق على الضم والجمع(1).

والنكاح: هو البِضاع ، وامرأة ناكح في بني فلان، أي ذات زوج منهم(2).

 

‌‌تعريف النكاح شرعاً:

النكاح في الشرع: عقد يرد على تمليك منفعة البُضع قصداً.

وفي القيد الأخير احتراز عن البيع ونحوه؛ لأن المقصود فيه تمليك الرقبة، وملك المنفعة داخل فيه ضمنا(3).

وقيل: عقد يحل به استمتاع كل من الزوجين بالآخر(4).

 

‌‌ثالثاً: تعريف الإنترنت.

الإنترنت: شبكة عالمية من الروابط بين الحواسيب، تسمح للناس بالاتصال والتواصل بعضهم مع بعض واكتساب المعلومات من الشبكة الممتدة الى جميع أرجاء الأرض بوسائل بصرية وصوتية ونصية مكتوبة، وبصورة تتجاوز حدود الزمان والمكان والكلفة وقيود المسافات.

وقيل: شبكة دولية بالمعلومات تتفاهم باستخدام بروتكولات تتعاون فيما بينها لصالح جميع مستخدميها، وتحتوي على العديد من الإمكانيات.(5)

 

‌‌رابعاً: تعريف الهاتف.

الهاتف بالإنجليزية (Telephone) وهي مشتقة من كلمة يونانية: آلة أو جهاز يستخدم لنقل الصوت بشكل فوري بين مكانين متصلين بخط هاتف نم خلال البدالة ويوجد هاتف على كل طرف منهما(6).

والهاتف المحمول أو النقال أو الخلوي أو الخليوي أو الجوال أو المتحرك هو: أحد أشكال أدوات الاتصال والذي يعتمد على الاتصال اللاسلكي عن طريق شبكة من أبراج البث الموزعة ضمن مساحة معينة(7).

--------------------------------------------

(1) ـ تاج العروس: الزبيدي ، 7/ 195. معجم لغة الفقهاء: محمد قلعجي ، 1/ 487 مادة (نكح).

(2) ـ مقاييس اللغة: أحمد بن فارس بن زكريا. تح: عبد السلام محمد هارون. اتحاد الكتاب العربي 1423 هـ ، 5/ 383.

(3) ـ التعريفات: علي بن محمد بن علي الجرجاني. تح: إبراهيم الأبياري. دار الكتاب العربي: بيروت. ط (1) 1405 هـ، 1/ 315.

(4) ـ معجم لغة الفقهاء: محمد قلعجي ، 1/ 487.

(5) الموسوعة الحرة (الإنترنت).

(6) ـ الموسوعة الحرة (الهاتف).

(7) ـ المصدر السابق.
‌‌দ্বিতীয়ত:‌‌ শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে নিকাহ-এর পরিচয়.

শাব্দিক অর্থে নিকাহ-এর পরিচয়:

অভিধানে 'নিকাহ' (প্রথম অক্ষরে কাসরা বা 'ই-কার' যোগে) বলতে সহবাস বোঝায়; আবার কেউ কেউ বলেছেন, এর অর্থ বিবাহ; কারণ এটি বৈধ সহবাসের মাধ্যম। এটি একত্র করা ও সমবেত করার অর্থেও ব্যবহৃত হয়(১)।

নিকাহ হলো মিলন, আর অমুক বংশের নারী 'নাকিহ' হওয়ার অর্থ হলো সেই বংশে তার স্বামী রয়েছে(২)।

 

‌‌পারিভাষিক অর্থে নিকাহ-এর পরিচয়:

শরিয়তের পরিভাষায়: নিকাহ এমন এক চুক্তি যা উদ্দেশ্যমূলকভাবে যৌন-উপকার লাভের মালিকানা অর্জনের ওপর বর্তায়।

শেষের শর্তটি কেনা-বেচা বা অনুরূপ বিষয়সমূহ থেকে পৃথক করার জন্য যুক্ত করা হয়েছে; কারণ সেগুলোতে মূল সত্তার মালিকানা অর্জন উদ্দেশ্য থাকে এবং এর অধীনে আনুষঙ্গিকভাবে ব্যবহারের অধিকারও অর্জিত হয়(৩)।

আবার বলা হয়েছে: এটি এমন এক চুক্তি যার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকের জন্য অপরের থেকে আনন্দ লাভ করা বৈধ হয়(৪)।

 

‌‌তৃতীয়ত: ইন্টারনেটের পরিচয়.

ইন্টারনেট: কম্পিউটারগুলোর মধ্যকার সংযোগের একটি বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক, যা দৃশ্যমান, শ্রবণযোগ্য এবং লিখিত বার্তার মাধ্যমে সময়ের সীমা, স্থান, খরচ ও দূরত্বের বাধা পেরিয়ে পৃথিবীর প্রান্তরে প্রান্তরে মানুষকে একে অপরের সাথে যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ করে দেয়।

আরও বলা হয়েছে: এটি তথ্যের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক যা নিজেদের মধ্যে সহযোগিতামূলক প্রোটোকল ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কল্যাণে কাজ করে এবং এতে অসংখ্য সুবিধা বিদ্যমান।(৫)

 

‌‌চতুর্থত: টেলিফোনের পরিচয়.

টেলিফোন (Telephone) শব্দটি একটি গ্রিক শব্দ থেকে উদ্ভূত: এটি এমন একটি যন্ত্র বা সরঞ্জাম যা এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সংযুক্ত দুটি টেলিফোন লাইনের সাহায্যে দুই প্রান্তের মানুষের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে শব্দ স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত হয়(৬)।

মোবাইল ফোন বা হ্যান্ডসেট বা সেলুলার ফোন হলো যোগাযোগের এমন একটি মাধ্যম যা একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে বিন্যস্ত টাওয়ারের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারবিহীন সংযোগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে(৭)।

--------------------------------------------

(১) — তাজুল আরুস: আয-যাবিদি, ৭/১৯৫। মুজামু লুগাতিল ফুকাহা: মুহাম্মদ কালাজি, ১/৪৮৭, (নিকাহ) শব্দমূলের অধীনে।

(২) — মাকায়িসুল লুগাহ: আহমাদ বিন ফারিস বিন যাকারিয়া। সম্পাদনা: আব্দুস সালাম মুহাম্মদ হারুন। ইত্তিহাদুল কুতুব আল-আরাবি ১৪২৩ হি., ৫/৩৮৩।

(৩) — আত-তারিফাত: আলি বিন মুহাম্মদ বিন আলি আল-জুরজানি। সম্পাদনা: ইব্রাহিম আল-আবিয়ারি। দারুল কিতাব আল-আরাবি: বৈরুত। ১ম সংস্করণ ১৪০৫ হি., ১/৩১৫।

(৪) — মুজামু লুগাতিল ফুকাহা: মুহাম্মদ কালাজি, ১/৪৮৭।

(৫) মুক্ত বিশ্বকোষ (ইন্টারনেট)।

(৬) — মুক্ত বিশ্বকোষ (টেলিফোন)।

(৭) — পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌حقيقة الزواج عبر وسائل الاتصالات الحديثة

الزواج عبر الإنترنت لم يعد خيالاً أو وهماً، بل غدا حقيقة واقعة ، فتن بها كثير من شبابنا، فأضاعوا الأوقات، وأفرغوا العواطف في البحث عن الزواج عبر شبكات الإنترنت، ومن خلف شاشات الكمبيوتر وعبر الدردشات والمنتديات والمواقع المختلفة.

فما حقيقة الزواج عبر الإنترنت؟ وما توصيفه الشرعي وما مزاياه وعيوبه؟ هذا ما سيتناوله الباحث فيما يلي:

 

‌‌أولاً: صورة الزواج عبر الإنترنت.

يمكن إجراء عقد النكاح عبر الإنترنت من خلال بعض البرامج التي يوجد بها خاصية المحادثات وذلك مثل:

 

‌‌أـ برامج البال توك: وهي عبارة عن برنامج للتواصل عبر الإنترنت باستخدام غرف تحاور صوتية ومرئية بأكثر من أسلوب منها الكتابة (كالماسينجر) والصوت وأيضاً بالصورة (كالفيديو) ويمكن بموجبه اجتماع العاقد وطرفي العقد (الإيجاب والقبول) والشهود في غرفة واحدة ويتم الحديث بين الجميع بالصوت والصورة في غرفة تحاور صوتية بالفيديو ومن ثم يتم إبرام عقد النكاح الشرعي بينهم.

‌‌ب ـ برنامج الإيسكايبي: وهو أحد البرامج التي تعمل من خلال تقنية (VOIP) ويستطيع مستخدموه إجراء المكالمات الهاتفية بالصوت والصورة عبر الإنترنت مجاناً من خلال أجهزة الكمبيوتر المثبت عليها هذا البرنامج ويمكن من خلاله إبرام عقد النكاح بحضور أطراف العقد جميعاً في مجلس واحد.

‌‌ج ـ الهوتميل ـ الماسنجر: وهو برنامج محادثة يمكن لمستخدميه من إرسال الرسائل الفورية والاتصال الهاتفي بأي جهاز كمبيوتر ومشاركة الصور وإرسال الملفات وتبادلها بين الأطراف المتصلة.
‌‌আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে বিবাহের বাস্তবতা

ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিবাহ এখন আর কোনো কল্পনা বা অলীক বিষয় নয়, বরং এটি একটি বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে, যার দ্বারা আমাদের অনেক যুবক প্রলুব্ধ হয়েছে। তারা ইন্টারনেটের বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে, কম্পিউটারের পর্দার আড়াল থেকে এবং বিভিন্ন চ্যাট রুম, ফোরাম ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিবাহের সন্ধানে সময় অপচয় করছে এবং নিজেদের আবেগকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে।

তাহলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিবাহের প্রকৃত রূপ কী? শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এর বিশ্লেষণই বা কী এবং এর সুবিধা ও অসুবিধাগুলোই বা কী কী? গবেষক নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন:

 

‌‌প্রথমত: ইন্টারনেটে বিবাহের চিত্র.

কথোপকথনের বৈশিষ্ট্য রয়েছে এমন কিছু প্রোগ্রামের সাহায্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিবাহের আকদ সম্পন্ন করা সম্ভব, যেমন:

 

‌‌ক— প্যালটক (Paltalk) প্রোগ্রামসমূহ: এটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগের একটি মাধ্যম যেখানে অডিও এবং ভিডিও চ্যাট রুম ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। এতে মেসেঞ্জারের মতো লিখন পদ্ধতি, অডিও এবং ভিডিওর মাধ্যমে যোগাযোগের একাধিক পদ্ধতি রয়েছে। এর মাধ্যমে বিবাহ সম্পাদনকারী, চুক্তির উভয় পক্ষ (ইজাব ও কবুল) এবং সাক্ষীদের এক রুমে একত্রিত করা সম্ভব এবং অডিও-ভিডিও চ্যাট রুমে সবার মাঝে কথোপকথনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে শরয়ি বিবাহের আকদ সম্পন্ন করা হয়।

‌‌খ — স্কাইপ (Skype) প্রোগ্রাম: এটি ভিওআইপি (VOIP) প্রযুক্তিতে চালিত একটি প্রোগ্রাম। এর ব্যবহারকারীরা তাদের কম্পিউটারে এই প্রোগ্রামটি ইনস্টল করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিনামূল্যে অডিও এবং ভিডিও কল করতে পারেন। এর মাধ্যমে বিবাহের সকল পক্ষ এক মজলিসে উপস্থিত হয়ে বিবাহের আকদ সম্পন্ন করতে পারেন।

‌‌গ — হটমেইল — মেসেঞ্জার: এটি একটি কথোপকথনের প্রোগ্রাম যার ব্যবহারকারীরা তাৎক্ষণিক বার্তা প্রেরণ করতে পারেন, যেকোনো কম্পিউটারে টেলিফোন কল করতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ছবি ও ফাইল শেয়ার এবং আদান-প্রদান করতে পারেন।
(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌ثانياً: مميزات عقد النكاح عبر وسائل الاتصالات الحديثة.

يتميز عقد النكاح عبر الإنترنت من خلال البرامج السابقة بكونه مشابهاً للعقد، حيث يتمكن كلا الطرفين من إجراء مفاوضات عقد النكاح بينهما بصورة لا تختلف كثيراً عن اجتماعهما في مجلس واحد إذ أن البرامج السابقة تدعم خاصية نقل الصورة أيضاً، بالإضافة الى الصوت من خلال كاميرات رقمية موصولة بجهاز الحاسوب تمكن كل طرف من رؤية الطرف الأخر ما يسهل كثيراً من عملية التواصل بين أطراف العقد في آن واحد، كما يمكن من خلالها معرفة الرضا المعتبر شرعاً من الزوجة، ومن ثم إبرام عقد النكاح بحضور جميع أطراف العقد وفي مجلس واحد(1).

 

‌‌ثالثاً: عيوب عقد النكاح عبر وسائل الاتصالات.

كما أن لعقد النكاح عبر الإنترنت مميزات ، فإن له عيوباً قد تفضي إلى منازعات وخصومات وربما إلى حل رابطة الزوجية ومنها:

أـ إمكانية تقليد الأصوات ومحاكاتها أثناء إجراء مفاوضات العقد.

ب ـ إمكانية تقليد الصورة وتشبيهها بغيرها ، حيث توجد برامج عبر النت لمعالجة الصوت والصورة وتغيير الملامح وتقليدها بطرق متعددة.

ج ـ احتمال وجود بعض العوارض الفنية (كانقطاع المكالمة بعد صدور الإيجاب من الولي ، وسماعه من الخاطب؛ إما لخلل في شبكة الإنترنت المحلية أو الدولية أو لخلل في جهاز الحاسب أو في التوصيلات أو غير ذلك).

وقد يطول الفصل بين الإيجاب والقبول لدقائق وربما لساعات فلا يكتمل العقد(2).

--------------------------------------------

(1) ـ عقد الزواج عبر الإنترنت: عبدالإله بن مزروع المزروع، ص 5.

(2) ـ عقد النكاح عن طريق الانترنت: المزروع، ص 5 ــ 6 ص.
দ্বিতীয়ত: আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে বিবাহ চুক্তির (عقد النكاح) বৈশিষ্ট্যসমূহ.

পূর্বোক্ত প্রোগ্রামগুলোর মাধ্যমে ইন্টারনেটে সম্পাদিত বিবাহ চুক্তির (عقد النكاح) বৈশিষ্ট্য এই যে, এটি সাধারণ চুক্তির অনুরূপ; যেখানে উভয় পক্ষ বিবাহ চুক্তির (عقد النكاح) আলোচনা এমনভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয় যা তাদের একই মজলিসে (مجلس واحد) উপস্থিত হওয়ার চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়। কেননা পূর্বোক্ত প্রোগ্রামগুলো কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত ডিজিটাল ক্যামেরার মাধ্যমে শব্দের পাশাপাশি ভিডিও চিত্র স্থানান্তরের সুবিধাও প্রদান করে। এটি চুক্তির পক্ষগুলোর মাঝে যুগপৎ যোগাযোগের প্রক্রিয়াকে সহজতর করে। এর মাধ্যমে স্ত্রীর শরিয়তসম্মত গ্রহণযোগ্য সম্মতি (الرضا المعتبر شرعاً) জানাও সম্ভব হয় এবং পরবর্তীতে চুক্তির সকল পক্ষের উপস্থিতিতে একই মজলিসে (مجلس واحد) বিবাহ চুক্তি (عقد النكاح) সম্পাদন করা যায়(১).

 

তৃতীয়ত: যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে বিবাহ চুক্তির (عقد النكاح) ত্রুটিসমূহ.

ইন্টারনেটে বিবাহ চুক্তির (عقد النكاح) যেমন কতিপয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তেমনি এর এমন কিছু ত্রুটিও রয়েছে যা বিবাদ-বিসংবাদ, এমনকি বৈবাহিক বন্ধন ছিন্ন হওয়ার কারণ হতে পারে। তার মধ্যে কয়েকটি হলো:

ক— চুক্তির আলোচনার সময় কণ্ঠস্বর অনুকরণ বা নকল করার সম্ভাবনা।

খ — ছবি বা অবয়ব পরিবর্তন করে অন্য কারো সদৃশ করার সম্ভাবনা; যেহেতু ইন্টারনেটে অডিও-ভিডিও প্রসেসিং এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে অবয়ব পরিবর্তন ও অনুকরণের বহু প্রোগ্রাম রয়েছে।

গ — বিভিন্ন কারিগরি সমস্যার সম্ভাবনা (যেমন অভিভাবকের পক্ষ থেকে ইজাব (إيجاب) প্রদানের পর এবং প্রস্তাবকারীর তা শ্রবণের মাঝে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া; চাই তা স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের ত্রুটির কারণে হোক কিংবা কম্পিউটার বা সংযোগ লাইনের ত্রুটির কারণে হোক)।

কখনো কখনো ইজাব (إيجاب) ও কবুলের (قبول) মধ্যবর্তী ব্যবধান কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে, ফলে চুক্তিটি আর পূর্ণতা পায় না(২).

--------------------------------------------

(১) — ‘আকদুজ জাওয়ায আবরাল ইন্টারনেট: আব্দুল ইলাহ বিন মাজরু আল-মাজরু, পৃষ্ঠা ৫।

(২) — ‘আকদুন নিকাহ আন তারিখিল ইন্টারনেট: আল-মাজরু, পৃষ্ঠা ৫-৬।
(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
حكم عقد النكاح عبر وسائل الاتصالات الحديثة.

 

‌‌عقد النكاح عبر وسائل الاتصالات الحديثة له صور متعددة يبينها الباحث من خلال الآتي:

‌‌أولاً: العقد عن طريق الكتابة.

وهذه الطريقة عرفت عند الفقهاء قديماً، وما استفيد من وسائل الاتصالات الحديثة اليوم إنما هو سرعة النقل بين المرسل والمرسل اليه بخلاف المراسلات قديماً فقد تستغرق وقتاً طويلاً ، وبطرق تقليدية متعددة، وسيتحدث الباحث عنها فيما يلي:

صورة عقد النكاح عن طريق الكتابة.

لعقد النكاح عن طريق الكتابة عبر الإنترنت صور متعددة منها:

أـ "أن يكتب الولي إيجابه على النكاح ثم يرسله عبر البريد الإلكتروني إلى القابل فيصدر قبوله كتابة، ثم ترسل هذه الورقة عبر البريد إلى اثنين حتى يشهدا عليها.

ب ـ أن يكون الإيجاب والقبول عن طريق الإنترنت عبر المنتديات المفتوحة ـ لا سيما المهتمة بأمر الزواج ـ حيث يصدر الولي إيجابه كتابة في هذا المنتدى لشخص معين ثم يصدر القابل قبوله ثم يقوم اثنان من المتواجدين في المنتدى بالشهادة على هذا العقد"(1).

ج ـ الكتابة عبر لوحة المفاتيح في برنامج الإيميل بكل أنواعه: الياهو والهوتمايل والجيميل والفيس بوك والتويتر والإيسكايبي ...... الخ.

خلاف الفقهاء في إبرام عقد النكاح بالكتابة.

اختلف الفقهاء قديماً في إبرام العقود عن طريق الكتابة على قولين(2):

 

‌‌القول الأول: يمنع من إبرام عقود النكاح عن طريق الكتابة بوسائل الاتصالات الحديثة ، وهذا مذهب جمهور العلماء من المالكية والشافعية والحنابلة، وما ورد من أقوال في المذاهب الثلاثة تجيزه فضعيف مردود عند المحققين منهم، إلا في حال الضرورة وقصروا حال الضرورة على الأخرس الذي لا قدرة له على النطق ويحسن الكتابة فيجوز له ذلك.

--------------------------------------------

(1) ـ المرجع السابق.

(2) ـ مستجدات فقهية في قضايا الزواج والطلاق: أسامة عمر سليمان الأشقر. دار النفائس: الأردن ط (1) 1420 هـ ، صـ 104_105.
আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে বিবাহ চুক্তির বিধান।

 

‌‌আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে সম্পাদিত বিবাহ চুক্তির একাধিক ধরণ রয়েছে, যা গবেষক নিম্নে বর্ণিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন:

‌‌প্রথমত: লিখিত মাধ্যমে সম্পাদিত চুক্তি।

এই পদ্ধতিটি প্রাচীনকাল থেকেই ফকিহগণের নিকট পরিচিত ছিল। বর্তমানে আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে যা অর্জিত হয়েছে তা হলো প্রেরক ও প্রাপকের মধ্যে দ্রুত আদান-প্রদানের সুবিধা, যা প্রাচীনকালের চিঠিপত্রের আদান-প্রদান থেকে ভিন্ন; কারণ অতীতে বিভিন্ন প্রথাগত উপায়ে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতো। গবেষক এ সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করবেন:

লিখিত উপায়ে বিবাহ চুক্তির ধরণ।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে লিখিত উপায়ে বিবাহ চুক্তির একাধিক ধরণ রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

ক. "অভিভাবক বিবাহের প্রস্তাব (إيجاب) লিখবেন এবং তা ইমেইলের মাধ্যমে গ্রহণকারীর নিকট প্রেরণ করবেন, অতঃপর গ্রহণকারী লিখিতভাবে তার কবুল (قبول) প্রকাশ করবেন। এরপর এই কাগজটি ডাকযোগে দুইজনের নিকট পাঠানো হবে যাতে তারা তাতে সাক্ষ্য প্রদান করতে পারেন।"

খ. "উন্মুক্ত ফোরামের মাধ্যমে—বিশেষ করে বিবাহ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করে এমন ফোরামে—প্রস্তাব (إيجاب) ও কবুল (قبول) সম্পন্ন হওয়া। যেখানে অভিভাবক উক্ত ফোরামে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির উদ্দেশ্যে লিখিতভাবে প্রস্তাব পেশ করবেন, অতঃপর গ্রহণকারী তার কবুল বা সম্মতি প্রকাশ করবেন এবং ফোরামে উপস্থিত দুই ব্যক্তি এই চুক্তির সাক্ষ্য প্রদান করবেন"(১)।

গ. বিভিন্ন প্রকার ইমেইল প্রোগ্রামের কী-বোর্ড ব্যবহারের মাধ্যমে লেখা: যেমন ইয়াহু, হটমেইল, জিমেইল, ফেসবুক, টুইটার এবং স্কাইপ... ইত্যাদি।

লিখিতভাবে বিবাহ চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে ফকিহগণের মতভেদ।

প্রাচীনকাল থেকেই লিখিত উপায়ে চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে ফকিহগণ দুইটি মতে বিভক্ত হয়েছেন(২):

 

‌‌প্রথম মত: আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখিত উপায়ে বিবাহ চুক্তি সম্পাদন করা নিষিদ্ধ, এবং এটি মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাবের জমহুর বা অধিকাংশ আলিমের অভিমত। এই তিন মাযহাবে এর বৈধতা নিয়ে যেসব উক্তি বর্ণিত হয়েছে তা দুর্বল (ضعيف) এবং তাদের মধ্যকার গবেষক আলিমগণের নিকট তা প্রত্যাখ্যাত। তবে বিশেষ প্রয়োজনে (যরুরত) তা জায়েজ; আর তারা এই বিশেষ প্রয়োজনকে কেবল এমন বাকপ্রতিবন্ধীর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করেছেন যার কথা বলার ক্ষমতা নেই কিন্তু সুন্দরভাবে লিখতে পারেন, এমতাবস্থায় তার জন্য এটি অনুমোদিত।

--------------------------------------------

(১) — পূর্বোক্ত উৎস।

(২) — মুস্তাজাদদাতুন ফিকহিয়্যাহ ফি কাদায়াজ যাওয়াজ ওয়াত তালাক: উসামা উমর সুলাইমান আল-আশকার। দারুন নাফাইস: জর্ডান, ১ম সংস্করণ ১৪২০ হিজরি, পৃষ্ঠা ১০৪-১০৫।
(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
قال الدردير: "ولا تكفي الإشارة ولا الكتابة الا لضرورة خرس"(1).

وقال النووي: " وإذا كتب بالنكاح إلى غائب أو حاضر لم يصح. وقيل: يصح في الغائب. وليس بشيء"(2).

وقال المرداوي: "وأما الكتابة في حق القادر على النطق فلا ينعقد بها مطلقاً على الصحيح من المذهب"(3).

ومما استدل به أصحاب هذا القول(4):

1 ـ اشتراطهم الإشهاد على عقد النكاح حين انعقاده ، والإشهاد شرط صحة عند الشافعية والحنابلة … قال ابن قدامة: "لا ينعقد إلا بشاهدين. هذا هو المشهور عن أحمد، وروي ذلك عن عمر وعلي، وهو قول ابن عباس، وسعيد بن المسيب، وجابر بن زيد، والحسن، والنخعي، وقتادة، والثوري، والأوزاعي، والشافعي، وأصحاب الرأي"(5).

قال النووي: "لا ينعقد النكاح إلا بحضرة رجلين"(6) وهذا الشرط مقرر عند الحنفية يقول الكاساني:

"قال عامة العلماء: إن الشهادة شرط جواز النكاح"(7) ولكن الحنفية الذين أجازوا العقد بالكتابة رأوا أنه يمكن تحقيقه باستدعاء العاقد الذي وصله كتاب الإيجاب بدعوة الشهود واطلاعهم على الكتاب أو إخبارهم بمضمونه وبذلك يتم الإشهاد كما يرى الحنفية.

وأما المالكية فشرط الإشهاد عندهم حاصل إلا أنه يجوز لديهم تأخيره إلى ما قبل الدخول ، ويشترطون بدلاً من ذلك حين العقد الإعلام والظهور.

2 ـ اشتراطهم الموالاة بين الإيجاب والقبول وهي محل إجماع عندهم، لكنهم اختلفوا في مدة الوقت الذي يتم فيه العقد إيجاباً وقبولاً، فالشافعية يوجبون الفور ولا يضر الفصل اليسير عندهم.

--------------------------------------------

(1) ـ حاشية الصاوي على الشرح الصغير، 4/ 427.

(2) ـ روضة الطالبين وعمدة المفتين: يحي بن شرف الدين النووي. المكتب الإسلامي: بيروت، 7/ 37.

(3) ـ الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف على مذهب الإمام أحمد بن حنبل: علي بن سليمان المرداوي. تح: محمد حامد الفقي. دار إحياء التراث العربي: بيروت، 8/ 50.

(4) ـ مستجدات فقهية: الأشقر، 106 ـ 107.

(5) ـ المغني في فقه الإمام أحمد بن حنبل الشيباني: عبدالله بن أحمد بن قدامة المقدسي. دار الفكر: بيروت. ط (1) 1405 هـ، 4/ 337.

(6) ـ روضة الطالبين: النووي، 7/ 45.

(7) ـ بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع: علاء الدين الكاساني. دار الكتاب العربي: بيروت، 2/ 252.
আদ-দারদীর বলেন: "বাকশক্তিহীনতার জরুরি প্রয়োজন ব্যতিরেকে ইশারা বা লিখন যথেষ্ট নয়"(1).

আন-নববী বলেন: "যদি অনুপস্থিত বা উপস্থিত ব্যক্তির নিকট বিবাহের প্রস্তাব লিখে পাঠানো হয়, তবে তা সঠিক হবে না। কেউ কেউ বলেছেন: অনুপস্থিতের ক্ষেত্রে সঠিক হবে। তবে এ মতটি গ্রহণযোগ্য নয়"(2).

আল-মারদাওয়ী বলেন: "আর কথা বলতে সক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে লিখনের মাধ্যমে কোনোভাবেই বিবাহ সম্পন্ন হবে না—এটিই মাযহাবের বিশুদ্ধ (صحيح) মত"(3).

এই মতের প্রবক্তাগণ যা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন(4):

১ ـ বিবাহ চুক্তি সম্পাদনের সময় সাক্ষী রাখার শর্তারোপ করা; আর শাফিঈ ও হাম্বলি মাযহাব মতে সাক্ষী রাখা বিবাহের বিশুদ্ধতার (صحة) শর্ত … ইবনে কুদামা বলেন: "দুইজন সাক্ষী ছাড়া বিবাহ সম্পন্ন হয় না। ইমাম আহমাদ থেকে এটিই প্রসিদ্ধ (مشهور) মত। এটি উমর ও আলী থেকে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আব্বাস, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, জাবির বিন যায়িদ, হাসান, নাখয়ী, কাতাদা, সাওরী, আওযাঈ, শাফিঈ এবং আসহাবুর রায়ের অভিমতও এটিই"(5).

আন-নববী বলেন: "দুইজন পুরুষের উপস্থিতি ব্যতীত বিবাহ সম্পন্ন হয় না"(6)। এই শর্তটি হানাফি মাযহাবেও সুপ্রতিষ্ঠিত। আল-কাসানি বলেন:

"অধিকাংশ আলেম বলেছেন: সাক্ষ্য প্রদান বিবাহের বৈধতার (جواز) শর্ত"(7)। তবে যেসব হানাফি আলেম লিখনের মাধ্যমে বিবাহ চুক্তি সম্পন্ন করা বৈধ মনে করেন, তারা মনে করেন যে, যার কাছে প্রস্তাব সম্বলিত পত্র পৌঁছেছে সেই পক্ষ সাক্ষীদের ডেকে পত্রটি সম্পর্কে অবহিত করলে বা বিষয়বস্তু জানিয়ে দিলে এর মাধ্যমে সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়টি সম্পন্ন হয়ে যায়, যেমনটি হানাফিগণ মনে করেন।

আর মালিকি মাযহাব মতে সাক্ষী রাখার শর্ত বিদ্যমান, তবে তাদের নিকট বাসর রাতের পূর্ব পর্যন্ত এটি বিলম্বিত করা বৈধ। এর পরিবর্তে তারা চুক্তির সময় প্রচার ও প্রকাশের শর্তারোপ করেন।

২ ـ প্রস্তাব ও কবুলের মধ্যে নিরবচ্ছিন্নতার শর্তারোপ। এটি তাদের নিকট ঐক্যমত্যের (إجماع) বিষয়। তবে ইজাব ও কবুলের মাধ্যমে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সময়ের ব্যাপ্তির বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন। শাফিঈগণ তাৎক্ষণিকতা আবশ্যক মনে করেন, তবে তাদের নিকট সামান্য বিরতি কোনো ক্ষতি করে না।

--------------------------------------------

(1) ـ হাশিয়া আস-সাওয়ী আলাশ শারহিস সাগীর, ৪/ ৪২৭।

(2) ـ রাওদাতুত তালিবিন ওয়া উমদাতুল মুফতিন: ইয়াহইয়া বিন শারাফুদ্দিন আন-নববী। আল-মাকতাবুল ইসলামি: বৈরুত, ৭/ ৩৭।

(3) ـ আল-ইনসাফ ফি মারিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল: আলী বিন সুলাইমান আল-মারদাওয়ী। তাহকিক: মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকি। দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি: বৈরুত, ৮/ ৫০।

(4) ـ মুসতাজাদদাতুন ফিকহিয়্যাহ: আল-আশকার, ১০৬-১০৭।

(5) ـ আল-মুগনি ফি ফিকহিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানি: আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি। দারুল ফিকর: বৈরুত। ১ম সংস্করণ ১৪০৫ হিজরি, ৪/ ৩৩৭।

(6) ـ রাওদাতুত তালিবিন: আন-নববী, ৭/ ৪৫।

(7) ـ বাদায়িউস সানায়ি ফি তারতিবিশ শারায়ি: আলাউদ্দিন আল-কাসানি। দারুল কিতাবিল আরাবি: বৈরুত, ২/ ২৫২।
(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
قال النووي: "الصحيح اشترط القبول على الفور، ولا يضر الفصل اليسير ،ويضر الطويل"(1)، ولم يشترط الحنابلة الفورية، لكنهم اشترطوا أن يتم الإيجاب والقبول في مجلس واحد، بشرط أن لا ينشغل العاقد عن العقد لغيره.

قال بن قدامة: "إذا تراخى القبول عن الإيجاب صح ما داما في المجلس، ولم يتشاغلا عنه بغيره؛ لأن حكم المجلس حكم حالة العقد"(2).

وذكر ابن رشد أن الإمام مالك يشترط الموالاة بين الإيجاب والقبول ولا يضر الفصل اليسير بينهما عنده(3).

والحنفية يشترطون الموالاة ولكنهم يجيزون عقد النكاح بالكتابة ويعدون مجلس العقد حكماً هو وقت وصول الرسالة(4).

3 ـ أن الكتابة كناية ، والعقود التي تحتاج الى قبول البيع والإجارة والنكاح لا تنعقد بالكتابة.

4 ـ أن النكاح له خصوصية ، فيحتاط فيه ما لا يحتاط في غيره؛ حفظاً للفروج وهذا مقصد من مقاصد الشريعة.

قال الحسن بن صالح بن حي: "لا ينعقد النكاح بالكتابة لعظم خطر أمر النكاح"(5).

 

‌‌القول الثاني: يُجّوز عقد النكاح بالمكاتبة.

وهذا مذهب الحنفية، والأحناف وإن كانوا كالجمهور في اشتراط الموالاة بين الإيجاب والقبول، وفي اشتراطهم الإشهاد إلا أنهم جعلوا مجلس العقد ساعة وصول الخطاب الذي يحمل الإيجاب إلى الطرف الآخر، فإذا أوصله ودعا الشهود وأطلعهم على الكتاب وأخبرهم بمضمونه وأشهدهم على قبول النكاح، فقد جعلوا مجلس العقد هو المجلس الذي يصل فيه الخطاب حكماً وعلى ذلك تتم الموالاة بين الإيجاب والقبول عندهم ويتم الإشهاد.

--------------------------------------------

(1) ـ روضة الطالبين: النووي، 7/ 39.

(2) ـ المغني: ابن قدامة، 7/ 428.

(3) ـ بداية المجتهد ونهاية المقتصد: محمد بن أحمد بن رشد الحفيد؛ تح: محمد صبحي حسن حلاق. مكتبة ابن تيمية: القاهرة، 3/ 19.

(4) ـ حاشية رد المحتار: ابن عابدين، 3/ 13.

(5) ـ المبسوط: السرخسي. ن: محمد أفندي مغربي، 4/ 52.
ইমাম নববী বলেছেন: "সঠিক (الصحيح) মত হলো তাৎক্ষণিকভাবে কবুল (গ্রহণ) করা শর্ত, এবং সামান্য বিরতি কোনো ক্ষতি করে না, তবে দীর্ঘ বিরতি ক্ষতিকর।"(1) হাম্বলিগণ তাৎক্ষণিকতাকে শর্ত করেননি, তবে তারা ইজাব (প্রস্তাব) এবং কবুল (গ্রহণ) একই মজলিসে হওয়াকে শর্ত করেছেন, এই শর্তে যে চুক্তি সম্পাদনকারী ব্যক্তি চুক্তির বিষয় বাদ দিয়ে অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হবে না।

ইবনে কুদামা বলেছেন: "যদি ইজাব থেকে কবুল বিলম্বিত হয়, তবে যতক্ষণ তারা মজলিসে থাকবে এবং অন্য কোনো কাজে লিপ্ত না হবে, ততক্ষণ তা সহিহ (صحيح) হবে; কারণ মজলিসের বিধান হলো চুক্তিকালীন অবস্থার বিধান।"(2)।

ইবনে রুশদ উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মালিক ইজাব ও কবুলের মধ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করাকে শর্ত করেছেন এবং তাঁর মতে উভয়ের মধ্যে সামান্য বিরতি কোনো ক্ষতি করে না(3)।

হানাফিগণ ধারাবাহিকতাকে শর্ত মনে করেন, তবে তারা লিখিতভাবে বিবাহের চুক্তি সম্পন্ন করাকে বৈধ মনে করেন এবং পত্র পৌঁছানোর সময়কেই তারা হুকুমগতভাবে মজলিসে আকদ (চুক্তির মজলিস) হিসেবে গণ্য করেন(4)।

৩ — নিশ্চয়ই লিখন হলো পরোক্ষ প্রকাশ, আর যেসব চুক্তিতে কবুল (গ্রহণ) করা প্রয়োজন—যেমন ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা ও বিবাহ—সেগুলো কেবল লিখনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না।

৪ — বিবাহের একটি বিশেষত্ব রয়েছে, তাই এতে এমন সতর্কতা অবলম্বন করা হয় যা অন্য কোনো ক্ষেত্রে করা হয় না; লজ্জাস্থানের হেফাজতের স্বার্থে, আর এটি শরিয়তের উদ্দেশ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি অন্যতম উদ্দেশ্য।

হাসান ইবনে সালিহ ইবনে হাই বলেছেন: "বিবাহের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে তা কেবল লিখনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না"(5)।

 

‌‌দ্বিতীয় মত: পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে বিবাহের চুক্তি সম্পন্ন করা বৈধ।

এটি হানাফি মাজহাবের অভিমত। হানাফিগণ যদিও ইজাব ও কবুলের মধ্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সাক্ষী রাখার শর্তারোপের ক্ষেত্রে অধিকাংশ আলেমের ন্যায় মত পোষণ করেন, তবুও তারা অপর পক্ষের কাছে ইজাব সম্বলিত পত্র পৌঁছানোর মুহূর্তকেই মজলিসে আকদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। যখন পত্রটি পৌঁছাবে এবং তিনি সাক্ষীদের ডাকবেন, তাদের চিঠিটি দেখাবেন, এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত করবেন এবং বিবাহ কবুল করার ব্যাপারে তাদের সাক্ষী রাখবেন, তখন তারা যে মজলিসে পত্রটি পৌঁছেছে তাকেই হুকুমগতভাবে চুক্তির মজলিস গণ্য করেন। আর এভাবেই তাদের নিকট ইজাব ও কবুলের মধ্যে ধারাবাহিকতা এবং সাক্ষ্যদান সম্পন্ন হয়।

--------------------------------------------

(1) — রাওদাতুত তালিবিন: নববী, ৭/ ৩৯।

(2) — আল-মুগনি: ইবনে কুদামা, ৭/ ৪২৮।

(3) — বিদায়াতুল মুজতাহিদ ওয়া নিহায়াতুল মুকতাসিদ: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন রুশদ আল-হাফিদ; তাহকিক: মুহাম্মদ সুবহি হাসান হাল্লাক। মাকতাবাতু ইবনি তাইমিয়া: কায়রো, ৩/ ১৯।

(4) — হাশিয়াতু রাদ্দিল মুহতার: ইবনে আবিদিন, ৩/ ১৩।

(5) — আল-মাবসুত: সারাখসি। প্রকাশনায়: মুহাম্মদ আফান্দি মাগরিবি, ৪/ ৫২।
(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وإذا راجعنا حاشية ابن عابدين نجد أن الحنفية اشترطوا لصحة عقد الزواج بالكتابة الشروط التالية:

1 ـ أن لا يكون العاقد حاضراً بل غائباً.

2 ـ أن يُشهد العاقد شاهدين على ما في الكتاب عند إرساله.

3 ـ أن يصرح المرسل إليه بالقبول لفظاً لا كناية، فلو كتب رجل إلى امرأة تزوجتك فكتبت قبلت، لم ينعقد إذ إن الكتابة من الطرفين بلا قول لا تكفي ولو في الغيبة.

4 ـ أن يُشهد الغائب حين يأتيه الخطاب شاهدين، ويعرفهم بواقع الحال ويصرح أمامهم بالقبول، والمرأة حين يأتيها الخطاب تدعو شاهدين، ثم تقرأ عليهما الكتاب وتخبرهم بمضمونه وتصرح بقبولها النكاح(1).

ومما أستدل به أصحاب القول الثاني أن الكتاب من البعيد بمثابة الخطاب من القريب،

قال بن عابدين: "ينعقد النكاح بالكتاب كما ينعقد بالخطاب"(2).

 

‌‌ثانياً: العقد عن طريق المهاتفة.

العقد بالمهاتفة عن طريق الأجهزة السلكية واللاسلكية صورة جديدة ، ولم يكن لها وجود في العصور السابقة وسيتحدث الباحث عنها على النحو التالي:

 

‌‌أولاً: صور ة عقد النكاح عن طريق المهاتفة.

وصورة العقد بالمهاتفة:

أن يكون العاقدان في مكانين يسمع كل منهما كلام الآخر ، شاهده أو لم يشاهده وذلك عبر وسائل إلكترونية تنقلها تقنيات سلكية ولا سلكية تمكن أطراف العقد من سماع بعضهم البعض عن طريق وسائل الاتصالات الحديثة التي تجعل المتباعدين مكاناً حاضرين زماناً يتخاطبان وهما بعيد ان كأنهما حاضران.

--------------------------------------------

(1) ـ حاشية رد المختار: ابن عابدين، 3/ 12.

(2) ـ حاشية رد المحتار: ابن عابدين، 3/ 13.
আর যদি আমরা হাসিয়া ইবনে আবিদিন পর্যালোচনা করি, তবে দেখতে পাই যে হানাফিগণ লিখিতভাবে বিবাহ চুক্তি সম্পাদনের বৈধতার জন্য নিম্নোক্ত শর্তাবলি আরোপ করেছেন:

১. চুক্তি সম্পাদনকারী ব্যক্তি উপস্থিত থাকবে না বরং অনুপস্থিত (غائب) থাকবে।

২. চুক্তি সম্পাদনকারী ব্যক্তি পত্র পাঠানোর সময় তাতে যা কিছু লিপিবদ্ধ আছে তার ওপর দু’জন সাক্ষীকে সাক্ষী রাখবে।

৩. যাঁর কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে তিনি মৌখিকভাবে স্পষ্টভাবে কবুল করার কথা ব্যক্ত করবেন, পরোক্ষ ইঙ্গিত (كناية) এর মাধ্যমে নয়। সুতরাং কোনো পুরুষ যদি কোনো মহিলার কাছে লিখে পাঠান যে, "আমি তোমাকে বিবাহ করলাম" এবং উত্তরে সেই মহিলা লিখে জানান যে, "আমি কবুল করলাম", তবে বিবাহ সংঘটিত হবে না। কারণ মৌখিক উক্তি ছাড়া উভয় পক্ষ থেকে শুধু লেখা যথেষ্ট নয়, এমনকি তা অনুপস্থিতিকালীন (غيبة) অবস্থায় হলেও।

৪. অনুপস্থিত (غائب) ব্যক্তি যখন পত্রটি পাবেন, তখন তিনি দু’জন সাক্ষীকে সাক্ষী রাখবেন এবং তাদেরকে প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করবেন এবং তাদের সামনে কবুল করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করবেন। আর মহিলার কাছে যখন পত্রটি আসবে, তখন তিনি দু’জন সাক্ষীকে আহ্বান করবেন, এরপর তাদের সামনে পত্রটি পাঠ করবেন এবং তাদের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত করবেন এবং বিবাহের কবুল (قبول) করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করবেন(১)।

দ্বিতীয় মতের অনুসারীগণ যে দলিল পেশ করেছেন তা হলো— দূরবর্তী ব্যক্তির পক্ষ থেকে লিখিত পত্র নিকটবর্তী ব্যক্তির মৌখিক সম্বোধনের সমতুল্য।

ইবনে আবিদিন বলেন: "বিবাহ যেমন মৌখিক সম্বোধনের মাধ্যমে সংঘটিত হয়, তেমনি পত্রের মাধ্যমেও সংঘটিত হয়"(২)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: টেলিফোনের মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদন।

তারযুক্ত বা তারবিহীন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে টেলিফোনে চুক্তি সম্পাদন একটি নতুন পদ্ধতি, যা পূর্ববর্তী যুগে বিদ্যমান ছিল না। গবেষক এ সম্পর্কে নিম্নোক্তভাবে আলোচনা করবেন:

 

‌‌প্রথমত: টেলিফোনের মাধ্যমে বিবাহ চুক্তির স্বরূপ।

টেলিফোনের মাধ্যমে চুক্তির স্বরূপ হলো:

চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী উভয় পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অবস্থান করবেন অথচ একে অপরের কথা শুনতে পাবেন, চাই একে অপরকে দেখতে পান বা না পান। আর এটি সম্পাদিত হবে ইলেকট্রনিক মাধ্যমের সাহায্যে যা তারযুক্ত বা তারবিহীন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়, যা চুক্তির পক্ষদ্বয়কে আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে একে অপরের কথা শোনার সক্ষমতা প্রদান করে। এই মাধ্যম ভৌগোলিকভাবে দূরত্বে অবস্থানকারী ব্যক্তিদেরকে সময়ের নিরিখে উপস্থিত করে দেয় এবং তারা দূরে অবস্থান করা সত্ত্বেও এমনভাবে কথোপকথন চালান যেন তারা একে অপরের সামনে উপস্থিত আছেন।

--------------------------------------------

(১) — হাসিয়া রাদ্দুল মুহতার: ইবনে আবিদিন, ৩/ ১২।

(২) — হাসিয়া রাদ্দুল মুহতার: ইবনে আবিদিন, ৩/ ১৩।
(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ثانياً: خلاف الفقهاء في إبرام عقد النكاح بالمهاتفة.

اختلف العلماء في إبرام عقد النكاح بالمهاتفة على ثلاثة أقوال:

القول الأول: يرى بعض الفقهاء المعاصرين(1) أن لإبرام عقد النكاح بالمهاتفة نظير في تراثنا الفقهي وأقرب مثال لهذه الصورة ـ من وجهة نظرهم ـ عقد البيع بين المتناديين، قال النووي: " ولو تناديا وهما متباعدان وتبايعا صح البيع بلا خلاف"(2).

وممن ذهب إلى هذا المذهب من المعاصرين:

1 ـ الشيخ: مصطفى الزرقا(3).

2 ـ الدكتو: وهبة الزحيلي(4).

3 ـ الدكتو: إبراهيم فاضل الدبو(5).

4 ـ الدكتور: محمد عقله(6).

5 ـ الشيخ: بدرأبو العينين(7).

6 ـ الدكتور: عبد الرحمن بن عبد الله السند(8).

7 ـ الدكتور: عبد الله بن عبد العزيز الجبرين(9).

8 ـ الدكتور: محمد بن يحيى بن حسن النجمي(10).

9 ـ الدكتور: أسامة عمر سليمان الأشقر(11).

وهؤلاء جميعاً أوجبوا الإشهاد على العقد، وذلك بحضور المحادثة الهاتفية التي يجري فيها العقد بحيث يسْمعون الإيجاب والقبول بهاتف يمكن الشهود استماع صوت العاقد الآخر.

--------------------------------------------

(1) ـ إجراء العقود بآلات الاتصالات الحديثة: علي محيي الدين القر ة داغي ضمن مجلة مجمع الفقه الإسلامي، العدد السادس، 2/ 935.

(2) ـ المجموع: يحيى بن شرف الدين النووي. دار الفكر: بيروت، 9/ 181.

(3) ـ حكم إجراء العقود بوسائل الاتصالات الحديثة: محمد عقلة الإبراهيم.

(4) ـ موسوعة الفقه الإسلامي المعاصر: وهبة الزحيلي، 3/ 223_247.

(5) ـ مجلة مجمع الفقه الإسلامي العدد السادس، 2/ 867.

(6) ـ حكم إجراء العقود بوسائل الاتصالات الحديثة: محمد عقلة صـ 113.

(7) ـ الزواج والطلاق في الإسلام: بدران أبو العينين صـ 41.

(8) ـ مسائل فقهية معاصرة صـ 94.

(9) ـ شرح عمدة الفقه للموفق ابن قدامة، كتاب النكاح صـ 1248.

(10) ـ حكم إبرام عقد الزواج عن طريق الوسائل الإلكترونية: محمد بن يحيى النجمي.

(11) ـ مستجدات فقهية معاصرة في قضايا الزواج والطلاق: أسامة الأشقر صـ 101_123.
দ্বিতীয়ত: টেলিফোনের মাধ্যমে বিবাহ চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে ফকিহদের মতপার্থক্য.

টেলিফোনের মাধ্যমে বিবাহ চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে আলেমগণ তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:

প্রথম মত: কতিপয় সমসাময়িক ফকিহ(১) মনে করেন যে, টেলিফোনের মাধ্যমে বিবাহ চুক্তি সম্পাদনের নজির আমাদের ফিকহী ঐতিহ্যে বিদ্যমান এবং তাদের দৃষ্টিতে এর নিকটতম উদাহরণ হলো—পরস্পর থেকে দূরে অবস্থানকারী ও উচ্চস্বরে আহ্বানকারী দুই ব্যক্তির মধ্যে সম্পাদিত ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি। ইমাম নববী বলেন: "যদি তারা পরস্পর দূরে থাকা অবস্থায় একে অপরকে উচ্চস্বরে আহ্বান করে এবং ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করে, তবে কোনো মতভেদ ছাড়াই সেই বিক্রয় শুদ্ধ হবে।"(২)।

সমসাময়িকদের মধ্যে যারা এই মত গ্রহণ করেছেন তারা হলেন:

১ — শায়খ: মুস্তফা আল-জারকা(৩)।

২ — ডক্টর: ওয়াহবাহ আল-জুহাইলি(৪)।

৩ — ডক্টর: ইবরাহিম ফাদিল আদ-দাব্বু(৫)।

৪ — ডক্টর: মুহাম্মদ উকলাহ(৬)।

৫ — শায়খ: বদরান আবু আল-আইনাইন(৭)।

৬ — ডক্টর: আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ আস-সানাদ(৮)।

৭ — ডক্টর: আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল-জিবরীন(৯)।

৮ — ডক্টর: মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন হাসান আল-নাজমি(১০)।

৯ — ডক্টর: উসামা উমর সুলাইমান আল-আশকার(১১)।

তাদের সকলেই এই চুক্তির ক্ষেত্রে সাক্ষ্য প্রদানকে আবশ্যক করেছেন; আর তা টেলিফোনে কথোপকথন চলাকালীন সাক্ষীদের উপস্থিতির মাধ্যমে, যাতে তারা প্রস্তাব ও কবুল এমন কোনো ফোনের মাধ্যমে শুনতে পান যা সাক্ষীদের জন্য অপর পক্ষের কণ্ঠস্বর শোনা সম্ভবপর করে তোলে।

--------------------------------------------

(১) — আধুনিক যোগাযোগ যন্ত্রপাতির মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদন: আলি মুহিউদ্দিন আল-কাররা দাগি, মাজাল্লাতু মাজমাউল ফিকহিল ইসলামি-এর অন্তর্ভুক্ত, সংখ্যা ৬, ২/৯৩৫।

(২) — আল-মাজমু: ইয়াহইয়া বিন শরাফ উদ্দিন নববী। দারুল ফিকর: বৈরুত, ৯/১৮১।

(৩) — আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদনের বিধান: মুহাম্মদ উকলাহ আল-ইবরাহিম।

(৪) — মাউসুআতুল ফিকহিল ইসলামি আল-মুআসির: ওয়াহবাহ আল-জুহাইলি, ৩/২২৩-২৪৭।

(৫) — মাজাল্লাতু মাজমাউল ফিকহিল ইসলামি, সংখ্যা ৬, ২/৮৬৭।

(৬) — আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদনের বিধান: মুহাম্মদ উকলাহ, পৃষ্ঠা ১১৩।

(৭) — ইসলামে বিবাহ ও তালাক: বদরান আবু আল-আইনাইন, পৃষ্ঠা ৪১।

(৮) — মাসাইল ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ, পৃষ্ঠা ৯৪।

(৯) — মুওয়াফফাক ইবনে কুদামা রচিত উমদাতুল ফিকহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, বিবাহ অধ্যায়, পৃষ্ঠা ১২৪৮।

(১০) — ইলেকট্রনিক মাধ্যমের সাহায্যে বিবাহ চুক্তি সম্পাদনের বিধান: মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-নাজমি।

(১১) — বিবাহ ও তালাকের আধুনিক ফিকহী সমস্যাবলি: উসামা আল-আশকার, পৃষ্ঠা ১০১-১২৩।
(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
القول الثاني: وذهب أكثر الفقهاء المعاصرين، وبعض لجان الإفتاء في العالم الإسلامي إلى منع عقد الزواج بالمهاتفة، وعن طريق الإنترنت ومن هؤلاء:

1 ـ اللجنة الدائمة للإفتاء بالمملكة العربية السعودية والتي أصدرت فتوى تمنع فيها من إجراء عقد النكاح بالمهاتفة نظراً للتغرير والخداع ومهارة تقليد الأصوات هذه الأيام. ونص الفتوى يقول:

السؤال: إذا توفرت أركان النكاح وشروطه إلا أن الولي والزوج كل منهما في بلد، فهل يجوز العقد تليفونيا أو لا؟

"نظرا إلى ما كثر في هذه الأيام من التغرير والخداع، والمهارة في تقليد بعض الناس بعضا في الكلام وإحكام محاكاة غيرهم في الأصوات حتى إن أحدهم يقوى على أن يمثل جماعة من الذكور والإناث صغارا وكبارا، ويحاكيهم في أصواتهم وفي لغاتهم المختلفة محاكاة تلقي في نفس السامع أن المتكلمين أشخاص، وما هو إلا شخص واحد، ونظرا إلى عناية الشريعة الإسلامية بحفظ الفروج والأعراض، والاحتياط لذلك أكثر من الاحتياط لغيرها من عقود المعاملات - رأت اللجنة أنه ينبغي ألا يعتمد في عقود النكاح في الإيجاب والقبول والتوكيل على المحادثات التليفونية؛ تحقيقا لمقاصد الشريعة، ومزيد عناية في حفظ الفروج والأعراض حتى لا يعبث أهل الأهواء ومن تحدثهم أنفسهم بالغش والخداع. وبالله التوفيق"(1).

2 ـ أكثر فقهاء مجمع الفقه الإسلامي المنعقد بجدة الذين أجازوا التعاقد عبر وسائل الاتصالات الحديثة ومنعوا إبرام عقود النكاح بوسائل الاتصالات الحديثة كتابة ومشافهة وذلك لاشتراط الاستشهاد منه. ونص الفتوي يقول:

إن مجلس مجمع الفقه الإسلامي الدولي المنعقد في دورة مؤتمره السادس بجدة في المملكة العربية السعودية من 17 - 23 شعبان 1410 الموافق 14 - 20 آذار (مارس) 1990 م،

بعد اطلاعه على البحوث الواردة إلى المجمع بخصوص موضوع إجراء العقود بآلات الاتصال الحديثة، ونظراً إلى التطور الكبير الذي حصل في وسائل الاتصال وجريان العمل بها في إبرام العقود لسرعة إنجاز المعاملات المالية والتصرفات، وباستحضار ما تعرّض له الفقهاء بشأن إبرام العقود بالخطاب وبالكتابة وبالإشارة وبالرسول، وما تقرر من أن التعاقد بين الحاضرين يشترط له اتحاد المجلس - عدا الوصية والإيصاء والوكالة - وتطابق الإيجاب والقبول، وعدم صدور ما يدل على إعراض أحد العاقدين عن التعاقد، والموالاة بين الإيجاب والقبول بحسب العرف.

--------------------------------------------

(1) ـ فتاوى اللجنة الدائمة للإفتاء، 18/ 90.
দ্বিতীয় মত: অধিকাংশ সমকালীন ফকিহ এবং মুসলিম বিশ্বের কিছু ফতোয়া বোর্ড টেলিফোনে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন করা নিষিদ্ধ হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন:

১ ـ সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটি (আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ), যারা টেলিফোনে বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি ফতোয়া প্রদান করেছে। বর্তমান যুগে প্রতারণা, ধোঁকাবাজি এবং কণ্ঠস্বর অনুকরণ করার বিশেষ দক্ষতার কথা বিবেচনা করে তারা এই ফতোয়া দিয়েছেন। ফতোয়ার পাঠ নিম্নরূপ:

প্রশ্ন: বিবাহের রুকন ও শর্তাবলি পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও যদি অভিভাবক এবং বর ভিন্ন ভিন্ন দেশে অবস্থান করেন, তবে কি টেলিফোনে বিবাহ সম্পন্ন করা জায়েজ হবে কি না?

“বর্তমানে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এবং কথা বলায় একে অপরকে অনুকরণ করা ও অন্যের কণ্ঠস্বর নিখুঁতভাবে নকল করার ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জিত হওয়ার প্রেক্ষিতে—এমনকি একজন ব্যক্তিই একাধিক নারী, পুরুষ, শিশু বা বৃদ্ধের মতো অভিনয় করতে সক্ষম এবং তাদের কণ্ঠস্বর ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষা এমনভাবে নকল করতে পারে যা শ্রোতার মনে এই ধারণা দেয় যে কথাগুলো ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি বলছেন, অথচ তিনি মূলত একজনই ব্যক্তি—এবং লজ্জাস্থান ও সম্মান রক্ষার বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের বিশেষ গুরুত্ব প্রদান এবং অন্যান্য লেনেদেনের চুক্তির চেয়ে এক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষিতে, কমিটি মনে করে যে: শরিয়তের মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ) হাসিল এবং লজ্জাস্থান ও সম্মান রক্ষায় অধিকতর সতর্কতার খাতিরে বিবাহের চুক্তির ক্ষেত্রে প্রস্তাব, গ্রহণ এবং ওকালতি বা প্রতিনিধিত্ব প্রদানের জন্য টেলিফোনিক কথোপকথনের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়; যাতে প্রবৃত্তি পূজারি এবং প্রতারণা ও ধোঁকাবাজিতে লিপ্ত ব্যক্তিরা এর অপব্যবহার করতে না পারে। আর আল্লাহই তাওফিক দানকারী।”(১)।

২ ـ জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফিকহ একাডেমির অধিকাংশ ফকিহ, যারা আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সাধারণ লেনদেনের চুক্তির অনুমতি দিলেও বিবাহের চুক্তি আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখিত বা মৌখিকভাবে সম্পন্ন করা নিষিদ্ধ করেছেন। কারণ এক্ষেত্রে সাক্ষী রাখার শর্ত রয়েছে। ফতোয়ার পাঠ নিম্নরূপ:

সৌদি আরবের জেদ্দায় ১৭-২৩ শাবান ১৪১০ হিজরি মোতাবেক ১৪-২০ মার্চ ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফিকহ একাডেমির ষষ্ঠ অধিবেশনের কাউন্সিল—

আধুনিক যোগাযোগ যন্ত্রপাতির মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে একাডেমিতে উপস্থাপিত গবেষণাগুলো পর্যালোচনার পর এবং যোগাযোগ মাধ্যমে বর্তমান ব্যাপক উন্নয়ন এবং আর্থিক লেনদেন ও কার্যাদি দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে, এবং ফকিহগণ সরাসরি ভাষণ, লিখন, ইশারা এবং বার্তাবাহকের মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদনের যে বিবরণ দিয়েছেন তা স্মরণ করে এবং উপস্থিত পক্ষদ্বয়ের মধ্যে চুক্তির ক্ষেত্রে একই মজলিসে অবস্থান করার যে শর্ত (ওসিয়ত, ওকালতি বা প্রতিনিধিত্ব ব্যতীত) এবং প্রস্তাব ও গ্রহণের সামঞ্জস্য থাকা, চুক্তি থেকে কোনো এক পক্ষের বিমুখ হওয়ার কোনো আলামত প্রকাশ না পাওয়া এবং প্রথা অনুযায়ী প্রস্তাব ও গ্রহণের মধ্যে নিরবচ্ছিন্নতা বজায় থাকার যে নিয়মগুলো নির্ধারিত রয়েছে, তা বিবেচনা করে...

--------------------------------------------

(১) — ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ, ১৮/ ৯০।
(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
قرر ما يلي:

أولاً: إذا تم التعاقد بين غائبين لا يجمعهما مكان واحد، ولا يرى أحدهما الآخر معاينة، ولا يسمع كلامه، وكانت وسيلة الاتصال بينهما الكتابة أو الرسالة أو السفارة (الرسول)، وينطبق ذلك على البرق والتلكس والفاكس وشاشات الحاسب الآلي (الحاسوب)، ففي هذه الحالة ينعقد العقد عند وصول الإيجاب إلى الموجَّه إليه وقبوله.

ثانياً: إذا تم التعاقد بين طرفين في وقت واحد وهما في مكانين متباعدين، وينطبق هذا على الهاتف واللاسلكي، فإن التعاقد بينهما يعتبر تعاقداً بين حاضرين، وتطبق على هذه الحالة الأحكام الأصلية المقررة لدى الفقهاء المشار إليها في الديباجة.

ثالثاً: إذا أصدر العارض، بهذه الوسائل، إيجاباً محدّداً المدة يكون ملزماً بالبقاء على إيجابه خلال تلك المدة، وليس له الرجوع عنه.

رابعاً: أن القواعد السابقة لا تشمل النكاح لاشتراط الإشهاد فيه، ولا الصرف لاشتراط التقابض، ولا السلم لاشتراط تعجيل رأس المال.

خامساً: ما يتعلق باحتمال التزييف أو التزوير أو الغلط يرجع فيه إلى القواعد العامة للإثبات.

والله أعلم(1)

3 ـ الدكتور يوسف القرضاوي حيث قال: في فتواه: "لا أقر الزواج عبر الإنترنت ولو توافرت فيه كل شروط العقد من توافر الشهود والولي، وأرى التشدد في هذا الأمر لتبقى للزواج قداسته وهيبته، فالفقهاء قالوا عن البيع والشراء والتجارة إن أساسها الرضا، وقالوا: البيع المعاطاة، أما الزواج فالصيغة والشهود والولي أمور لم يشرعها الله عز وجل من فراغ، فسوف تُبنى عليها حقوق وواجبات لله وللمجتمع وللأسرة والأبناء، كما أن هذا رأيي أيضاً بالنسبة للطلاق، فالقرصنة لم تبق شيئاً سرياً … "(2).

4 ـ الدكتور أحمد ذياب شويدح رئيس لجنة الإفتاء بالجامعة الإسلامية قال في فتواه" "وإبرام العقود عبر شاشات الحاسب الآلي (الكمبيوتر) لا يشمل عقد النكاح لاشتراط الإشهاد فيه ....... "(3).

--------------------------------------------

(1) ـ قرارمجمع الفقه الإسلامي رقم (52)، 3/ 6، عام.199 م

(2) ـ 15/ 6/2003 Islamoline.Net.

(3) ـ فتاوى شرعية: أحمد ذياب شويدح، صـ 68.
নিচে বর্ণিত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হলো:

প্রথমত: যখন এমন দুইজন অনুপস্থিত ব্যক্তির মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হয় যারা একই স্থানে অবস্থান করছেন না, একে অপরকে সরাসরি দেখছেন না এবং কথা শুনছেন না, আর তাদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হলো চিঠিপত্র, বার্তা বা দূত (বার্তাবাহক); এবং এটি টেলিগ্রাম, টেলেক্স, ফ্যাক্স এবং কম্পিউটারের পর্দার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়; তবে এই অবস্থায় যখন প্রস্তাব (ইজাব) প্রাপকের নিকট পৌঁছাবে এবং তিনি তা গ্রহণ (কবুল) করবেন, তখন চুক্তি সম্পন্ন হবে।

দ্বিতীয়ত: যদি দুই পক্ষের মধ্যে একই সময়ে চুক্তি সম্পাদিত হয় কিন্তু তারা দুটি ভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন, এবং এটি টেলিফোন ও বেতারের (ওয়্যারলেস) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়; তবে তাদের মধ্যকার এই চুক্তিটি একই স্থানে উপস্থিত দুই ব্যক্তির মধ্যকার চুক্তির ন্যায় গণ্য হবে। এই ক্ষেত্রে ফকিহগণ কর্তৃক প্রস্তাবনায় উল্লিখিত মূল বিধানসমূহ প্রযোজ্য হবে।

তৃতীয়ত: যদি প্রস্তাবকারী এই মাধ্যমগুলোর সাহায্যে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের প্রস্তাব প্রদান করেন, তবে উক্ত মেয়াদের মধ্যে তিনি নিজের প্রস্তাবে অটল থাকতে বাধ্য থাকবেন এবং তা প্রত্যাহার করতে পারবেন না।

চতুর্থত: পূর্বোক্ত নিয়মাবলি বিবাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, কারণ এতে সাক্ষ্যপ্রদান শর্ত। তেমনি এটি মুদ্রা বিনিময় বা সারফ-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে না কারণ এতে তাৎক্ষণিক হস্তান্তরের শর্ত রয়েছে, এবং সালাম চুক্তির ক্ষেত্রেও নয় কারণ এতে অগ্রিম মূলধন প্রদানের শর্ত রয়েছে।

পঞ্চমত: জালিয়াতি, প্রতারণা বা ভুলের আশঙ্কার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রমাণের সাধারণ নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত হবে।

আল্লাহই ভালো জানেন(১)

৩ - ড. ইউসুফ আল-কারাদাভি তার ফতোয়ায় বলেছেন: "আমি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিবাহ অনুমোদন করি না, যদিও তাতে সাক্ষী ও অভিভাবক উপস্থিত থাকার মতো চুক্তির সকল শর্ত বিদ্যমান থাকে। আমি এই বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করা সমীচীন মনে করি যাতে বিবাহের পবিত্রতা ও গাম্ভীর্য বজায় থাকে। ফকিহগণ ক্রয়-বিক্রয় ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বলেছেন যে, এর ভিত্তি হলো পারস্পরিক সন্তুষ্টি এবং তারা তাৎক্ষণিক লেনদেনের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়ের কথা বলেছেন। পক্ষান্তরে বিবাহের ক্ষেত্রে ইজাব-কবুলের শব্দাবলি, সাক্ষী এবং অভিভাবক এমন বিষয় যা আল্লাহ তাআলা অনর্থক বিধান করেননি। কারণ এর ওপর আল্লাহ, সমাজ, পরিবার ও সন্তানদের প্রতি বিবিধ অধিকার ও কর্তব্য নির্ভরশীল। তেমনি তালাকের ক্ষেত্রেও এটিই আমার অভিমত; কারণ হ্যাকিং বা পাইরেসির দরুন কোনো কিছুই আর গোপন থাকছে না..."(২)।

৪ - ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফতোয়া কমিটির প্রধান ড. আহমাদ দিয়াব শুওয়াইদাহ তার ফতোয়ায় বলেছেন: "কম্পিউটারের পর্দার মাধ্যমে সম্পাদিত চুক্তিসমূহ বিবাহ চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হবে না, কারণ এতে সাক্ষ্যপ্রদান শর্ত..."(৩)।

--------------------------------------------

(১) - ইসলামি ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্ত নং (৫২), ৩/৬, ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ।

(২) - ১৫/৬/২০০৩ Islamoline.Net।

(৩) - ফাতাওয়া শরইয়্যাহ: আহমাদ দিয়াব শুওয়াইদাহ, পৃষ্ঠা ৬৮।
(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
5 ـ الدكتور نصر فريد واصل مفتي مصر قال في موجز إجابته لسؤال عن حكم الزواج عن طريقة الإنترنت: "إن عقد الزواج عن طريق الإنترنت أمر يحتاج إلى توثيق له من المأذون الشرعي ليكون متأكداً من رضا الزوجين معاً بالشهود وحضور الولي الشرعي ويتحقق المأذون من وجودهم جميعاً ليوثق عقد الزواج، أما أن يتم التراسل بينهم عن طريق الإنترنت دون أن يلتقيا في مكان واحد وبدون وجود شهود فإن هذا الزواج عبر التراسل لا يجوز لأنه لا يستوفي أركانه وشروطه الشرعية ....... "(1).

6 ـ الدكتور عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين(2).

7 ـ الدكتور عبد الله بن إبراهيم بن عبد الله الناصر(3).

8 ـ ربحي الجديلي(4).

القول الثالث: الجواز عند أمن التلاعب.

وهذا ما أفتى به الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز رحمه الله مفتي المملكة العربية السعودية سابقاً حيث قال في سؤال قدم له مفاده: أريد أن أعقد على فتاة وأبوها في بلد آخر ولا أستطيع الآن

أن أسافر إليه لنجتمع جميعا لإجراء العقد وذلك لظروف مالية أو غيرها وأنا في بلاد الغربة فهل يجوز أن أتّصل بأبيها ويقول لي: زوجتك ابنتي فلانة. وأقول: قبلت، والفتاة راضية، وهناك شاهدان مسلمان يسمعان كلامي وكلامه بمكبر الصوت عبر الهاتف؟ وهل يعتبر هذا عقد نكاح شرعي؟

" فأجاب بأنّ ما ذُكر إذا كان صحيحا (ولم يكن فيه تلاعب) فإنه يحصل به المقصود من شروط عقد النّكاح الشّرعي ويصحّ العقد "(5).

 

‌‌ثالثاً: الإشهاد على العقد بالمهاتفة ومدى صحته.

الإشهاد على عقد النكاح بالمهاتفة مبني على مسألة: حكم شهادة الأعمى على ما سمعه من الاصوات.

وقد اختلف أهل العلم في هذه المسألة على قولين(6): … القول الأول: أن شهادة الأعمى على ما سمعه من الأصوات غير مقبولة، وهذا مذهب الحنفية والشافعية.

قال الكاساني: : لا تقبل شهادة الأعمى في سائر المواضع؛ لأنه لا يميز بين المشهود له والمشهود عليه ولأنه ليس من أهل الشهادة "(7).

--------------------------------------------

(1) ـ 6/ 2/2001 Islamoline.Net.

(2) ـ ملتقى أهل الحديث، 16/ 4/1426 هـ.

(3) ـ العقود الإلكترونية، دراسة فقهية مقارنة: عبدالله بن إبراهيم بن عبدالله الناصر، ص ـ 18_19.

(4) ـ حكم إجراء العقود بوسائل الاتصالات الحديثة: ربحي الجد يلي، صـ 27_29.

(5) ـ فتاوى ابن باز، فتوى رقم (2201).

(6) ـ عقد الزواج عبر الإنترنت: عبدالإله بن مزروع المزروع بتصرف، ص 7.

(7) ـ بدائع الصنائع: الكاساني، 3/ 243.
5 ـ মিসরের মুফতি ডক্টর নাসর ফরিদ ওয়াসিল ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিবাহের বিধান সম্পর্কে তার উত্তরের সারসংক্ষেপে বলেছেন: "ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনের বিষয়টি এমন যা শরয়ি কাজির মাধ্যমে নিবন্ধিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে তিনি সাক্ষী এবং শরয়ি অভিভাবকের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন এবং কাজি তাদের সকলের উপস্থিতির বিষয়টি যাচাই করে বিবাহ বন্ধনটি নথিভুক্ত করতে পারেন। আর যদি তাদের মধ্যে এক স্থানে মিলিত না হয়ে এবং সাক্ষীদের উপস্থিতি ব্যতীত ইন্টারনেটের মাধ্যমে কেবল বার্তা আদান-প্রদান হয়, তবে বার্তার মাধ্যমে সম্পাদিত এই বিবাহ জায়েজ নয়; কারণ এটি এর রুকন ও শরয়ি শর্তসমূহ পূরণ করে না...।"(১).

৬ ـ ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-জিবরিন(2).

৭ ـ ডক্টর আবদুল্লাহ বিন ইবরাহিম বিন আবদুল্লাহ আন-নাসির(3).

৮ ـ রিবহি আল-জুদাইলি(4).

তৃতীয় মত: প্রতারণামুক্ত হওয়ার নিশ্চয়তা থাকলে তা জায়েজ।

সৌদি আরবের সাবেক মুফতি শেখ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ) এই ফতোয়া দিয়েছেন। তাকে করা একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি এটি বলেন, যার সারমর্ম হলো: আমি এক মেয়েকে বিবাহ করতে চাই যার বাবা অন্য দেশে থাকেন। আর্থিক বা অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে আমার পক্ষে সেখানে গিয়ে বিবাহের মজলিসে একত্রিত হওয়া সম্ভব নয় এবং আমি প্রবাসে আছি। এমতাবস্থায় আমি কি তার বাবার সাথে যোগাযোগ করতে পারি এবং তিনি যদি আমাকে বলেন: 'আমি আমার অমুক মেয়েকে তোমার কাছে বিবাহ দিলাম', আর আমি বলি: 'আমি কবুল করলাম', এবং মেয়েটিও রাজি থাকে, আর সেখানে দুইজন মুসলিম সাক্ষী লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ফোনের ওপার থেকে আমার ও তার কথা শুনতে পান? এটি কি শরয়ি বিবাহ বন্ধন হিসেবে গণ্য হবে?

"তিনি উত্তরে বলেন যে, যা উল্লেখ করা হয়েছে তা যদি সঠিক (صحيح) হয় (এবং এতে কোনো প্রতারণা না থাকে), তবে এর মাধ্যমে শরয়ি বিবাহ বন্ধনের শর্তাবলির উদ্দেশ্য হাসিল হবে এবং বিবাহটি শুদ্ধ (صحيح) হবে।"(5).

 

‌‌তৃতীয়ত: টেলিফোনের মাধ্যমে বিবাহের সাক্ষ্যদান এবং এর বিশুদ্ধতা.

টেলিফোনের মাধ্যমে বিবাহের সাক্ষ্যদান বিষয়টি এই মাসআলার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত: কোনো অন্ধ ব্যক্তি যা শুনতে পায় সেটির সাক্ষ্য প্রদানের বিধান।

এই মাসআলায় আলেমগণ দুইটি মতে বিভক্ত হয়েছেন(6): … প্রথম মত: অন্ধ ব্যক্তি যা শুনেছে সেটির ওপর তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। এটি হানাফি ও শাফেয়ি মাযহাবের অভিমত।

আল-কাসানি বলেছেন: "অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে অন্ধ ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না; কারণ সে যার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে এবং যার বিপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে তাদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না এবং সে সাক্ষ্য প্রদানের যোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"(7).

--------------------------------------------

(১) ـ ৬/ ২/২০০১ ইসলামঅনলাইন.নেট।

(২) ـ আহলুল হাদিস ফোরাম, ১৬/ ৪/১৪২৬ হিজরি।

(৩) ـ আল-উকুদ আল-ইলেকট্রনিয়্যাহ, দিরাসাতুন ফিকহিয়্যাহ মুকারানাহ: আবদুল্লাহ বিন ইবরাহিম বিন আবদুল্লাহ আন-নাসির, পৃষ্ঠা ১৮-১৯।

(৪) ـ হুকমু ইজরাইল উকুদ বি-ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদিসাহ: রিবহি আল-জুদাইলি, পৃষ্ঠা ২৭-২৯।

(৫) ـ ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ফতোয়া নং (২২০১)।

(৬) ـ আকদুজ জাওয়াজ আবরাল ইন্টারনেট: আবদিল ইলাহ বিন মাজরু আল-মাজরু (পরিমার্জিত), পৃষ্ঠা ৭।

(৭) ـ বাদায়েউস সানায়ে: আল-কাসানি, ৩/ ২৪৩।
(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
قال الشافعي: "فإن شهد وهو أعمى على شيء قال أُثبته كما أثبت كل شيء بالصوت أو الحس فلا تجوز شهادته لأن الصوت يشبه الصوت، والحس يشبه الحس"(1).

استدل أصحاب هذا القول بأدلة منها(2):

1 ـ قوله تعالى: {وما يستوي الأعمى والبصير} [فاطر: 19].

وجه الشاهد: أن الآية الكريمة دلت على عدم استواء الأعمى والبصير بإطلاق، ويدخل في ذلك الشهادة، فلا تستوي شهادتهما.

ويمكن أن يناقش: بأن الدليل المقيد قد ورد في ذلك فلم يبق في الاستدلال حجة.

2 ـ حديث ابن عباس رضي الله عنه أن رجلا سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن الشهادة: ((فقال: هل ترى الشمس؟ قال: نعم، قال: فعلى مثلها فاشهد أودع))(3).

وجه الدلالة: أن ذكر النبي صلى الله عليه وسلم الشمس تنبيه على المعاينة، بدليل أنه لا تجوز الشهادة على أحد بلمسه، أو بشمه، فكذلك سماع كلامه(4).

ويناقش الدليل من وجهين:

الوجه الأول: أن هذا الحديث لم يصح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

والوجه الثاني: أنه على فرض ثبوته، فإنه لا يدل على رد شهادة الأعمى، إذ إن مراد النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الحديث هو التحقق من الأمر المشهود عليه وذلك قد يحصل بالنظر، وقد يحصل بغيره.

 

3 ـ حديث أبي مرة مولى أم هانئ بنت أبي طالب: أنه سمع أم هانئ بنت أبي طالب تقول: ذهبت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفتح فوجدته يغتسل، وفاطمة تستره فقال: (من هذه؟ ) فقلت أنا أم هانئ(5).

--------------------------------------------

(1) ـ الأم: محمد بن إدريس الشافعي. دار المعرفة: بيروت، 7/ 46.

(2) ـ عقد الزواج عبر الإنترنت: المزروع بتصرف، ص 8.

(3) ـ أخرجه الحاكم في المستدرك، كتاب الأحكام، حديث رقم (7045)، وأبو نعيم في الحلية 4/ 18، قال الحاكم: صحيح الإسناد ولم يخرجاه، وتعقبه الذهبي: فقال بل هو حديث واه فإن محمد بن سليمان بن مشمول ضعفه غير واحد، ينظر: نصب الراية للزيلعي 4/ 82.

وضعف هذا الحديث ابن الملقن في البدر المنير 9/ 671، وابن حجر في التلخيص الحبير 4/ 198.

(4) ـ الذخيرة 10/ 164.

(5) ـ أخرجه البخاري في الصحيح، باب: التستر في الغسل، رقم الحديث (276).
ইমাম শাফেঈ বলেছেন: "যদি অন্ধ ব্যক্তি কোনো বিষয়ে সাক্ষ্য দেয় এবং বলে যে, আমি তা সাব্যস্ত করেছি যেভাবে শব্দ বা অনুভূতির মাধ্যমে প্রতিটি বিষয় সাব্যস্ত করি, তবে তার সাক্ষ্য গ্রহণীয় নয়। কারণ শব্দ শব্দের মতো হতে পারে এবং অনুভূতি অনুভূতির মতো হতে পারে।"(১).

এই মতের প্রবক্তারা কতিপয় দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে(২):

১. আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়} [ফাতির: ১৯]।

প্রমাণের দিক (وجه الشاهد): সম্মানীয় আয়াতটি অন্ধ এবং চক্ষুষ্মান ব্যক্তির মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে অসমতার প্রমাণ দেয়, যার মধ্যে সাক্ষ্য প্রদানও অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তাদের সাক্ষ্য সমান হবে না।

এ ব্যাপারে আলোচনা করা যেতে পারে যে: যেহেতু এক্ষেত্রে নির্দিষ্টকারী দলিল (الدليل المقيد) বর্ণিত হয়েছে, তাই এই প্রমাণের মাধ্যমে দলিল পেশ করার সুযোগ অবশিষ্ট থাকে না।

২. ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সাক্ষ্য প্রদান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। ((তিনি বললেন: "তুমি কি সূর্য দেখতে পাচ্ছ?" সে বলল: "হ্যাঁ"। তিনি বললেন: "এরকম উজ্জ্বল ও স্পষ্ট হলে সাক্ষ্য দাও, অন্যথায় ছেড়ে দাও"))(৩).

প্রমাণের ধরণ (وجه الدلالة): নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক সূর্যের উল্লেখ করা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করার প্রতি সতর্কবাণী। এর দলিল হলো, কাউকে স্পর্শ করা বা ঘ্রাণ নেওয়ার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া বৈধ নয়; অনুরূপভাবে তার কথা শোনাও একই পর্যায়ের(৪).

এই দলিলটি দুই দিক থেকে পর্যালোচিত হতে পারে:

প্রথম দিক: এই হাদিসটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত নয়।

দ্বিতীয় দিক: এটি সাব্যস্ত হওয়া ধরে নিলেও, তা অন্ধ ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করার প্রমাণ দেয় না। কেননা এই হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উদ্দেশ্য হলো যে বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে তা নিশ্চিতভাবে যাচাই করা, আর তা দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে হতে পারে আবার অন্য উপায়েও হতে পারে।

 

৩. আবু তালিবের কন্যা উম্মে হানির আযাদকৃত গোলাম আবু মুররাহ-এর হাদিস: তিনি আবু তালিবের কন্যা উম্মে হানিকে বলতে শুনেছেন, মক্কা বিজয়ের বছর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে গেলাম। তখন আমি তাঁকে গোসল করতে দেখলাম এবং ফাতিমা তাঁকে আড়াল করছিলেন। তিনি বললেন: "এ কে?" আমি বললাম, আমি উম্মে হানি(৫).

--------------------------------------------

(১) ـ আল-উম্ম: মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আল-শাফেঈ। দারুল মা'রিফাহ: বৈরুত, ৭/ ৪৬।

(২) ـ আকদুয যাওয়াজ আবরাল ইন্টারনেট: আল-মাযরু, সংক্ষেপিত, পৃ. ৮।

(৩) ـ হাকেম আল-মুস্তাদরাক-এ এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল আহকাম, হাদিস নং (৭০৪৫), এবং আবু নুআইম আল-হিলইয়াহ-তে ৪/১৮। হাকেম বলেছেন: এর সনদ বিশুদ্ধ (صحيح الإسناد) এবং তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি। যাহাবি তাঁর অনুসরণ করে বলেছেন: বরং এটি একটি অত্যন্ত দুর্বল (واه) হাদিস, কারণ মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন মাশমূল-কে একাধিক ব্যক্তি দুর্বল (ضعيف) বলেছেন। দেখুন: নাসবুর রায়াহ লিত-যাইলায়ি ৪/৮২।

ইবনুল মুলাক্কিন আল-বাদরুল মুনীর ৯/৬৭১-এ এবং ইবনে হাজার আত-তালখিসুল হাবীর ৪/১৯৮-এ এই হাদিসটিকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন।

(৪) ـ আয-যাখীরাহ ১০/ ১৬৪।

(৫) ـ বুখারি এটি সহিহ-তে বর্ণনা করেছেন, অধ্যায়: গোসলের সময় আড়াল করা, হাদিস নং (২৭৬)।
(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
قال ابن عبدالبر: ((وقد احتج بهذا الحديث من رد شهادة الأعمى، وقال إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يميز صوت أم هانئ مع علمه بها، حتى قال لها: من هذه؟ فقالت: أنا أم هانئ، فلم يعرف رسول الله صلى الله عليه وسلم صوتها لأنه لم يرها، وكل من لا يرى فذلك أحرى))(1).

ويناقش:

بعدم التسليم، إذ إنه لم يرد في الحديث أن أم هانئ قد تكلمت قبل أن يسألها النبي صلى الله عليه وسلم، فلم يبق في الحديث دلالة، ثم لو فرض أنها تكلمت فإن عدم تمييز النبي صلى الله عليه وسلم لصوتها لا يدل على رد شهادة الأعمى، إذ إن الأعمى لا يجوز له الشهادة على ما لم يميزه من الأصوات بالاتفاق.

القول الثاني: أن شهادة الأعمى على ما سمعه من الأصوات مقبولة إذا تيقن الصوت، وهذا مذب المالكية والحنابلة.

قال في المدونة: هل تجوز شهادة الأعمى في الطلاق قال مالك: "نعم إذا عرف الصوت"(2).

قال ابن قدامة: "وتجوز شهادة الأعمى إذا تيقن الصوت"(3).

ـ استدل أصحاب هذا القول بأدلة منها(4):

1 ـ قوله تعالى: {واستشهدوا شهيدين من رجالكم .. } [التوبة: 282].

وجه الدلالة: أن الله أمر بالاستشهاد ولم يفرق بين الاعمى والبصير فدل على العموم.

2 ـ حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((إن بلالا يؤذن بليل فكلوا واشربوا حتى يؤذن، أو قال حتى تسمعوا أذان ابن أم مكتوم))(5).

وجه الدلالة:

يظهر وجه الدلالة من هذا الحديث من وجهين:

الوجه الأول: أن أذان ابن أم مكتوم يعد شهادة منه على دخول الوقت، ولو كانت شهادته غير مقبولة لما جاز له التأذين.

الوجه الثاني: أن من يستمع لأذانه هو في حكم الأعمى لأنه لا يراه، ومع ذلك يصح له أن يشهد أنه سمع صوته(6).

3 ـ أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يستعمل ابن أم مكتوم على المدينة إذا سافر، ولو كانت شهادته غير مقبولة لما استعمله(7).

--------------------------------------------

(1) ـ الاستذكار لابن عبدالبر 2/ 261، وانظر: شرح الزرقاني 1/ 432.

(2) ـ المدونة، 5/ 122.

(3) ـ المغني: ابن قدامة المقدسي، 12/ 62.

(4) ـ عقد الزواج عبر الإنترنت: المزروع بتصرف، ص.1 ــ ص 11.

(5) ـ أخرجه البخاري في الصحيح، باب: شهادة الأعمى، حديث رقم (2513).

(6) ـ ينظر: شرح صحيح البخاري لابن بطال 8/ 32، التمهيد لابن عبد البر 10/ 61، شرح النووي على مسلم 7/ 202، فتح الباري لابن رجب 3/ 500، طرح التثريب للعراقي 2/ 185، فتح الباري لابن حجر 5/ 265.

(7) ـ مصنف عبدالرزاق 8/ 323.
ইবনে আব্দুল বার বলেছেন: ((যারা অন্ধ ব্যক্তির সাক্ষ্য (شهادة) প্রত্যাখ্যান করেছেন, তারা এই হাদিসটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন এবং বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে হানির সাথে পরিচিত থাকা সত্ত্বেও তার কণ্ঠস্বর চিনতে পারেননি, এমনকি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: তুমি কে? তখন তিনি বলেছিলেন: আমি উম্মে হানি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কণ্ঠস্বর চিনতে পারেননি কারণ তিনি তাকে দেখতে পাননি। সুতরাং যে ব্যক্তি দেখতে পায় না, তার জন্য (কণ্ঠস্বর না চেনা) আরও বেশি স্বাভাবিক))(১).

এবং এর পর্যালোচনা:

এটি মেনে নেওয়া যায় না, কারণ হাদিসে এমন কোনো বর্ণনা নেই যে উম্মে হানি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করার আগেই কোনো কথা বলেছিলেন। ফলে এই হাদিসে কোনো দালিলিক প্রমাণ অবশিষ্ট থাকে না। তদুপরি, যদি ধরেও নেওয়া হয় যে তিনি কথা বলেছিলেন, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তার কণ্ঠস্বর চিনতে না পারা অন্ধ ব্যক্তির সাক্ষ্য (شهادة) প্রত্যাখ্যানের দলিল হতে পারে না। কারণ, সর্বসম্মতিক্রমে অন্ধ ব্যক্তির জন্য এমন কোনো কণ্ঠস্বরের ওপর সাক্ষ্য (شهادة) দেওয়া বৈধ নয় যা সে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারেনি।

দ্বিতীয় মত: অন্ধ ব্যক্তি যা শুনেছে তার ওপর ভিত্তি করে তার সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণযোগ্য (مقبولة), যদি সে কণ্ঠস্বর সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। এটি মালিকি ও হাম্বলি মাযহাবের অভিমত।

আল-মুদাওওয়ানায় বলা হয়েছে: তালাকের ক্ষেত্রে কি অন্ধ ব্যক্তির সাক্ষ্য (شهادة) বৈধ? ইমাম মালিক বলেন: "হ্যাঁ, যদি সে কণ্ঠস্বর চিনতে পারে"(২).

ইবনে কুদামা বলেছেন: "অন্ধ ব্যক্তির সাক্ষ্য (شهادة) বৈধ যখন সে কণ্ঠস্বর সম্পর্কে নিশ্চিত হয়"(৩).

— এই মতের অনুসারীরা বেশ কিছু দলিল পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে(৪):

১ — মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের পুরুষদের মধ্য হতে দুইজন সাক্ষী গ্রহণ করো...} [আত-তাওবাহ: ২৮২]।

দালিলিক দিক: আল্লাহ তাআলা সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন এবং অন্ধ ও দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি, যা এর ব্যাপকতা প্রমাণ করে।

২ — আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((বেলাল রাতে আজান দেয়, তাই তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ইবনে উম্মে মাকতূম আজান দেয়, অথবা তিনি বলেছেন যতক্ষণ না তোমরা ইবনে উম্মে মাকতূমের আজান শোনো))(৫).

দালিলিক দিক:

এই হাদিস থেকে দালিলিক দিকটি দুটি দিক দিয়ে প্রকাশ পায়:

প্রথম দিক: ইবনে উম্মে মাকতূমের আজান সময় প্রবেশের ক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে একটি সাক্ষ্য (شهادة) হিসেবে গণ্য হয়। যদি তার সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণযোগ্য (مقبولة) না হতো, তবে তার জন্য আজান দেওয়া বৈধ হতো না।

الوجه الثاني: যে ব্যক্তি তার আজান শোনে, সে অন্ধের বিধানের অন্তর্ভুক্ত কারণ সে তাকে দেখতে পায় না। তা সত্ত্বেও, সে তার কণ্ঠস্বর শুনেছে বলে সাক্ষ্য (شهادة) দেওয়া তার জন্য সহিহ (صحيح) হয়(৬).

৩ — নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে যেতেন তখন ইবনে উম্মে মাকতূমকে মদিনার দায়িত্ব দিয়ে যেতেন। যদি তার সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণযোগ্য (مقبولة) না হতো, তবে তিনি তাকে দায়িত্ব প্রদান করতেন না(৭).

--------------------------------------------

(১) — ইবনে আব্দুল বার রচিত আল-ইসতিযকার ২/ ২৬১, এবং দেখুন: শারহুজ যুরকানি ১/ ৪৩২।

(২) — আল-মুদাওওয়ানাহ, ৫/ ১২২।

(৩) — আল-মুগনি: ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি, ১২/ ৬২।

(৪) — আকদুয যাওয়াজ আবরাল ইন্টারনেট: আল-মাযরু', কিছুটা পরিমার্জিত, পৃষ্ঠা ১ — ১১।

(৫) — ইমাম বুখারি এটি তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, অধ্যায়: অন্ধ ব্যক্তির সাক্ষ্য (شهادة), হাদিস নম্বর (২৫১৩)।

(৬) — দেখুন: ইবনে বাত্তাল রচিত শারহু সহিহিল বুখারি ৮/ ৩২, ইবনে আব্দুল বার রচিত আত-তামহিদ ১০/ ৬১, মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ৭/ ২০২, ইবনে রজব রচিত ফাতহুল বারি ৩/ ৫০০, ইরাকি রচিত তারহুত তাসরিব ২/ ১৮৫, ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারি ৫/ ২৬৫।

(৭) — মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক ৮/ ৩২৩।
(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الراجح:

يميل الباحث إلى مذهب القائلين بجواز انعقاد النكاح بوسائل الاتصالات الحديثة مكاتبة ومهاتفة مع مراعاة الشروط والضوابط والاحتياطات الآتية ومع أمن التلاعب والتدليس.

مناقشة أدلة المانعين:

أـ يظهر أن الإشكالات التي أوردها الفقهاء قديماً على إجراء عقد النكاح بالمكاتبة قد حُلّت بطرق الاتصال الحديثة.

ـ فاشتراطهم الموالاة بين الإيجاب والقبول أصبح ممكناً اليوم إذ إن العقد بالمكاتبة يتم في مجلس واحد ويتصل فيه الإيجاب والقبول بفاصل يسير.

ـ كما أن الشهود يمكنهم في مجلس العقد الاطلاع على الكتابة لحظة وصول الرسالة عبر شبكات الإنترنت وإعلان المرسل إليه القبول أمامهم.

ـ وكون إبرام العقد بين غائبين لا حرج فيه، فالعاقدان غائبان بأشخاصهما ولكنهما يعقدان عقد الحاضرين ، فوسائل الاتصال ألغت المسافات وقربت بين المتباعدين.

ـ ما علل به مجمع الفقه الإسلامي المنع بعدم وجود الإشهاد، غير مقبول فالشهود يسمعون الخطاب مهاتفة ويطلعون على الرسالة كتابة.

ب ـ وأما تعليل اللجنة الدائمة للإفتاء المنع بالتحوط في الفروج فهذا أمر معتبر ولكن الباحث لا يوافق على المنع، فالتحوط يلزم من اتخاذ الإجراءات التي تضمن سلامة إجراء العقد ولكنها لا تمنع ذلك فالشريعة وإن اعتنت بحفظ الفروج والأعراض واحتاطت في ذلك لكنها في المقابل جاءت بالتعريف على المكلفين في أمور معاملاتهم وعقودهم وعاداتهم ويمكن التحوط بالآتي:

1 ـ الأصل هو إجراء عقد النكاح بصورته المعهودة منذ صدر الإسلام وحتى يومنا هذا من اجتماع العاقدين والشهود في مجلس واحد والجواز الذي تحدثنا عنه إنما هو في أحوال ضيقة ولفئة محدودة من الناس لا تسمح لهم ظروفهم من الالتقاء في مجلس العقد.

2 ـ أن يتم العقد عن طريق التوكيل فقد ذكر الفقهاء جواز التوكيل من قبل الزوج أو من قبل الولي الشرعي فالتوكيل لعقد النكاح بين المتباعدين فيه احتياط وخروج من الخلاف.

3 ـ أن يقتصر عقد النكاح بالوسائل الحديثة على حالات الضرورة وعلى المتباعدين عن الأوطان الذين لا يمكنهم الالتقاء في مجلس واحد.
নির্ভরযোগ্য মত (الراجح):

গবেষক আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের (চিঠিপত্র ও টেলিফোনের) সাহায্যে বিবাহের আকদ সম্পন্ন করার বৈধতার প্রবক্তাদের মতের প্রতি ঝোঁক প্রকাশ করেছেন, তবে এক্ষেত্রে নিম্নে বর্ণিত শর্তাবলি, নিয়ম-নীতি ও সতর্কতা (التحوط) অবলম্বন করতে হবে এবং কারচুপি ও প্রতারণা (تدليس) থেকে নিরাপদ থাকতে হবে।

যারা নিষেধ করেন তাদের দলিলের পর্যালোচনা:

অ— প্রতীয়মান হয় যে, চিঠিপত্রের মাধ্যমে বিবাহের আকদ সম্পন্ন করার ব্যাপারে প্রাচীন ফকিহগণ যে সমস্ত জটিলতা উত্থাপন করেছিলেন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে তার সমাধান হয়ে গিয়েছে।

— কেননা প্রস্তাব (إيجاب) ও কবুল (قبول)-এর মধ্যে পারম্পর্য বজায় রাখার যে শর্ত তারা দিয়েছিলেন, তা বর্তমানে সম্ভব। কারণ লিখিত যোগাযোগের মাধ্যমে আকদ একটি বৈঠক বা মজলিসে (مجلس) সম্পন্ন হয় এবং প্রস্তাব (إيجاب) ও কবুল (قبول) সামান্য ব্যবধানে একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়।

— তদুপরি, ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছানোর মুহূর্তে এবং বার্তা প্রাপক তাদের সামনে কবুল (قبول) ঘোষণা করার সময় সাক্ষীরা সেই মজলিসে (مجلس) লিখিত বার্তার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

— আর দুই অনুপস্থিত ব্যক্তির মধ্যে চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই; কেননা চুক্তি সম্পাদনকারী ব্যক্তিদ্বয় সশরীরে অনুপস্থিত থাকলেও তারা মূলত উপস্থিত ব্যক্তিদের ন্যায় চুক্তি সম্পন্ন করছেন। যোগাযোগ মাধ্যমগুলো দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়েছে এবং দূরবর্তী ব্যক্তিদের নিকটবর্তী করেছে।

— সাক্ষীর অনুপস্থিতিকে কারণ দেখিয়ে 'মাজমাউল ফিকহ আল-ইসলামি' যে নিষেধাজ্ঞার কথা বলেছে তা গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ সাক্ষীরা টেলিফোনে বক্তব্য শুনতে পান এবং লিখিত বার্তাটি দেখতে পান।

আ— আর সতীত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে সতর্কতা (التحوط) অবলম্বনের কারণ দেখিয়ে 'আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ' যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা একটি বিচার্য বিষয়, কিন্তু গবেষক এই নিষেধাজ্ঞার সাথে একমত নন। সতর্কতা অবলম্বনের জন্য এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক যা চুক্তি সম্পাদনের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে, কিন্তু এটি চুক্তিটিকে নিষিদ্ধ করে না। শরিয়ত যদিও লজ্জাস্থান ও সম্মান রক্ষার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল এবং এতে সতর্কতা (التحوط) অবলম্বন করেছে, তবে বিপরীতে এটি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفين) লেনদেন, চুক্তি ও রীতিনীতির ক্ষেত্রে সহজীকরণের পদ্ধতিও নিয়ে এসেছে। নিম্নোক্ত উপায়ে সতর্কতা (التحوط) অবলম্বন করা সম্ভব:

১ — মূলনীতি (الأصل) হলো বিবাহের আকদ ইসলামের সূচনা লগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত প্রচলিত পদ্ধতিতেই সম্পাদন করা, যেখানে উভয় পক্ষ ও সাক্ষীরা একই মজলিসে (مجلس) উপস্থিত থাকবেন। আমরা যে বৈধতার কথা বলেছি তা কেবল সংকীর্ণ অবস্থায় এবং নির্দিষ্ট একদল মানুষের জন্য, যাদের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি একই মজলিসে (مجلس) উপস্থিত হওয়ার অনুমতি দেয় না।

২ — আকদ যেন ওকালতি বা প্রতিনিধির (توكيل) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফকিহগণ স্বামী বা শরিয়তসম্মত অভিভাবক (الولي الشرعي)-এর পক্ষ থেকে ওকালতি (توكيل) জায়েজ হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং দূরবর্তী ব্যক্তিদের মধ্যে বিবাহের ক্ষেত্রে ওকালতি বা প্রতিনিধিত্বের (توكيل) মাধ্যমে আকদ সম্পন্ন করা অধিক সতর্কতামূলক এবং মতভেদ থেকে বেরিয়ে আসার উত্তম পথ।

৩ — আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবাহের বিষয়টি কেবল জরুরি (ضرورة) অবস্থা এবং প্রবাসীদের জন্য সীমিত রাখা উচিত যাদের পক্ষে সশরীরে একই মজলিসে (مجلس) উপস্থিত হওয়া সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) ইবরামুল উক্বুদুন নিকাহ আবরা ওয়াসায়িলিল ইত্তিসালাতিল হাদীছাহ - দিরাসাতুন ফিক্বহিয়্যাতুন হাদীছিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
4 ـ إبرام عقد النكاح بالمحاكم الشرعية أو لدى الجهات الرسمية المعتمدة لديها كالقضاة والمحامين والأمناء الشرعيين المعتمد تصديقهم في المحاكم شريطة أن يكونوا من أهل الثقة والمتصفين بالنزاهة والمنضبطين بأحكام الشرع والمشهود لهم بالتحري والتثبت.

5 ـ التأكد من وسائل الإثبات الشخصية الخاصة بالمتعاقدين.

6 ـ التثبت من هوية الولي الشرعي ومعرفة رضى المعقود عليها.

7 ـ إبرام العقود بوسائل الاتصال التي تعمل بتقنية نقل الصوت والصورة كالإسكايبي والنمباز والياهو ماسنجر والهوتمايل ماسنجر فإنه أحوط وأدعى لمعرفة جميع أطراف العقد ورؤية بعضهم لبعض.

8 ـ أن يتم العقد عن طريق منتديات الزواج والمواقع المختصة بذلك والتي يقوم عليها الموثقون من العلماء والدعاة كبديل شرعي يحصن الشباب من منزلقات الرذيلة وغليان الشهوة وفق الضوابط الشرعية.

 

‌‌التوصيات:

في الختام فإن الباحث مع ميله لمذهب المجيزين إلا أنه ليوصي بالآتي:

1 ـ أن تنال هذه المسألة حقها من البحث والتدقيق من العلماء والمختصين نظراً لأهميتها وتعلقها بأمر الفروج ونظراً لتقنيات الاتصالات المتسارعة.

2 ـ أن يبحث هذا الموضوع في المجامع الفقهية في العالم الإسلامي وفق اجتهاد جماعي.

3 ـ أن يخصص له مؤتمر علمي عام يدعى إليه علماء الشريعة والمختصون بتقنيات الاتصالات وتقدم فيه أوراق عمل مشتركة تكشف عن مكنونه وتبين حكم الشرع فيه.

4 ـ أن تجهز قاعات المحاكم الشرعية بشبكة الإنترنت وشاشات العرض المتصلة بتقنيات الاتصالات التي تعمل بنظام الصورة والصوت لتمكن القاضي من إجراء العقود الشرعية عن طريقها ولتواكب مستجدات العصر وفق رؤية شرعية منضبطة.

5 ـ إنشاء منتديات ومواقع إسلامية توفر البديل الإسلامي في الزواج وفق دراسة شرعية ورؤية عصرية.

إعداد الباحث /

عبد المنان علي محمد التالبي

15 رجب 1434 هـ
4 ـ শরয়ী আদালত অথবা আদালত কর্তৃক স্বীকৃত নির্ভরযোগ্য কর্তৃপক্ষ যেমন বিচারক, আইনজীবী এবং শরয়ী আমীনদের মাধ্যমে বিবাহের চুক্তি সম্পাদন করা, যাদের সত্যায়ন আদালত গ্রহণ করে। শর্ত হলো তারা যেন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হন, সততার গুণে গুণান্বিত হন, শরীয়তের বিধিবিধানের অনুসারী হন এবং অনুসন্ধান ও যাচাইয়ের (تثبت) ক্ষেত্রে সুখ্যাত হন।

5 ـ চুক্তি সম্পাদনকারী পক্ষদ্বয়ের ব্যক্তিগত পরিচয়ের প্রমাণাদি নিশ্চিত করা।

6 ـ শরয়ী অভিভাবকের পরিচয় যাচাই (تثبت) করা এবং যার সাথে বিবাহ সম্পন্ন হচ্ছে তার সম্মতি সম্পর্কে অবগত হওয়া।

7 ـ অডিও এবং ভিডিও আদান-প্রদান প্রযুক্তিসম্পন্ন যোগাযোগ মাধ্যম যেমন স্কাইপি, নিমবাজ, ইয়াহু মেসেঞ্জার এবং হটমেইল মেসেঞ্জারের মাধ্যমে চুক্তি সম্পাদন করা; কারণ এটি অধিকতর সতর্কতামূলক এবং চুক্তির সকল পক্ষকে চেনা ও একে অপরকে দেখার জন্য অধিক সহায়ক।

8 ـ বিবাহ বিষয়ক ফোরাম এবং এ সংক্রান্ত বিশেষায়িত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে চুক্তি সম্পন্ন হওয়া, যা আলেম ও দাঈদের মতো নির্ভরযোগ্য (موثق) ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এটি একটি শরয়ী বিকল্প হিসেবে যুবসমাজকে চারিত্রিক পদস্খলন এবং কামনার উত্তেজনা থেকে শরয়ী নিয়মনীতির আলোকে সুরক্ষা প্রদান করবে।

 

‌‌সুপারিশমালা:

পরিশেষে, গবেষক যদিও (অনলাইনে বিবাহের) বৈধতা দানকারীদের মতের দিকেই ঝুঁকেছেন, তবুও তিনি নিম্নোক্ত সুপারিশমালা পেশ করছেন:

1 ـ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে এবং নারী-পুরুষের সম্পর্কের (লজ্জাস্থানের হালাল-হারাম) সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দ্রুত পরিবর্তনশীল যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রেক্ষিতে আলেম ও বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে এটি যেন যথাযথ গবেষণা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের (تدقيق) সুযোগ পায়।

2 ـ মুসলিম বিশ্বের ফিকহ একাডেমিগুলোতে সম্মিলিত ইজতিহাদ (اجتهاد) এর ভিত্তিতে এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করা।

3 ـ এর জন্য একটি সাধারণ বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের আয়োজন করা, যেখানে শরীয়াহ বিশেষজ্ঞ এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং সেখানে যৌথ গবেষণা পত্র উপস্থাপন করা হবে যা এর অন্তর্নিহিত বিষয়গুলো উন্মোচন করবে এবং এ বিষয়ে শরয়ী বিধান (حكم) স্পষ্ট করবে।

4 ـ শরয়ী আদালতের কক্ষগুলোকে ইন্টারনেট এবং অডিও-ভিডিও প্রযুক্তি সংবলিত ডিসপ্লে স্ক্রিনের মাধ্যমে সুসজ্জিত করা, যাতে বিচারক এর মাধ্যমে শরয়ী চুক্তিগুলো সম্পাদন করতে পারেন এবং সুশৃঙ্খল শরয়ী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আধুনিক যুগের নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন।

5 ـ এমন সব ইসলামি ফোরাম এবং ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠা করা যা শরয়ী গবেষণা ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বিবাহের ক্ষেত্রে ইসলামি বিকল্প সরবরাহ করবে।

প্রস্তুতকারক: গবেষক /

আব্দুল মান্নান আলী মুহাম্মদ আত-তালিবী

১৫ রজব ১৪৩৪ হিজরি