(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: -)
سنن الترمذي - ت بشار القسم: كتب السنة
الكتاب: الجامع الكبير (سنن الترمذي)
المؤلف: أبو عيسى محمد بن عيسى الترمذي (ت 279 هـ)
حققه وخرج أحاديثه وعلق عليه: بشار عواد معروف
الناشر: دار الغرب الإسلامي - بيروت
الطبعة: الأولى، 1996 م
عدد الأجزاء: 6
تنبيه: أثبتنا الأحاديث التي حذفها محقق المطبوعة، مع التنبيه عليها في الحاشية، وذكر النسخ التي ثبتت فيها
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو ضمن خدمة التخريج]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সুনান আত-তিরমিযী - তাহকীক বাশার বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-জামি আল-কাবীর (সুনান আত-তিরমিযী)
লেখক: আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিযী (মৃত্যু ২৭৯ হি.)
তাহকীক, হাদিস তাখরীজ ও টীকা প্রদান করেছেন: বাশার আওয়াদ মারুফ
প্রকাশক: দারুল গরব আল-ইসলামী - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৬
সতর্কবার্তা: আমরা সেই হাদিসগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছি যা মুদ্রিত সংস্করণের সম্পাদক বাদ দিয়েছিলেন, সেইসাথে পাদটীকায় সে সম্পর্কে অবহিত করেছি এবং যেসব পাণ্ডুলিপিতে সেগুলো বিদ্যমান রয়েছে তা উল্লেখ করেছি।
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ এবং এটি তাখরীজ সেবার অন্তর্ভুক্ত]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫১)
بسم الله الرحمن الرحيم
أَبْوَابُ الطَّهَارَةِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم
(1)
بَابُ مَا جَاءَ لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত পবিত্রতা সম্পর্কিত অধ্যায়সমূহ
(১)
পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল না হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অনুচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫১)
1 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ . (ح) وَحَدَّثَنَا هَنَّادٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، عَنْ إِسْرَائِيلَ ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ،» وَلَا صَدَقَةٌ مِنْ غُلُولٍ قَالَ هَنَّادٌ فِي حَدِيثِهِ: إِلَّا بِطُهُورٍ.
هَذَا الْحَدِيثُ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَحْسَنُ.
⦗ص: 52⦘وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ أَبِيهِ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَنَسٍ.
وَأَبُو الْمَلِيحِ بْنُ أُسَامَةَ اسْمُهُ عَامِرٌ، وَيُقَالُ: زَيْدُ بْنُ أُسَامَةَ بْنِ عُمَيْرٍ الْهُذَلِيُّ.
১ - কুতায়বা ইবনু সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সিমাক ইবনু হারব থেকে। (হা) এবং হান্নাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসরাঈল থেকে, সিমাক থেকে, তিনি মুসআব ইবনু সাদ থেকে, তিনি ইবনু উমর (রা.) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «পবিত্রতা ব্যতীত কোনো সালাত কবুল করা হয় না,» এবং আত্মসাৎকৃত মালের সদকাও কবুল হয় না। হান্নাদ তার বর্ণিত হাদীসে বলেছেন: পবিত্রতা অর্জন করা ছাড়া।
এই হাদীসটি এই অধ্যায়ে সবচেয়ে বিশুদ্ধ এবং উত্তম।
⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘এবং এই অধ্যায়ে আবুল মালিহ (তার পিতার সূত্রে), আবু হুরায়রা এবং আনাস (রা.) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
আর আবু আল-মালিহ ইবনু উসামার নাম হলো আমির, এবং বলা হয়: যায়দ ইবনু উসামা ইবনু উমাইর আল-হুযালী।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫২)
(2) بَابُ مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الطُّهُورِ
(২) পবিত্রতার মর্যাদা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫২)
2 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى الْقَزَّازُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ . (ح) وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ أَوِ الْمُؤْمِنُ» فَغَسَلَ وَجْهَهُ، خَرَجَتْ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ، أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ، أَوْ نَحْوَ هَذَا، وَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتْ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنَ الذُّنُوبِ.
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ، وَهُوَ حَدِيثُ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ.
⦗ص: 53⦘وَأَبُو صَالِحٍ وَالِدُ سُهَيْلٍ هُوَ أَبُو صَالِحٍ السَّمَّانُ، وَاسْمُهُ ذَكْوَانُ.
وَأَبُو هُرَيْرَةَ اخْتَلَفُوا فِي اسْمِهِ، فَقَالُوا: عَبْدُ شَمْسٍ، وَقَالُوا: عَبْدُ اللهِ بْنُ عَمْرٍو، وَهَكَذَا قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَهَذَا الْأَصَحُّ.
وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ، وَثَوْبَانَ، وَالصُّنَابِحِيِّ، وَعَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ، وَسَلْمَانَ، وَعَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو.
وَالصُّنَابِحِيُّ هَذَا الَّذِي رَوَى عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ لَيْسَ لَهُ سَمَاعٌ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَاسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُسَيْلَةَ، وَيُكْنَى: أَبَا عَبْدِ اللهِ، رَحَلَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقُبِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الطَّرِيقِ، وَقَدْ رَوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَادِيثَ.
وَالصُّنَابِحُ بْنُ الْأَعْسَرِ الْأَحْمَسِيُّ، صَاحِبُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، يُقَالُ لَهُ: الصُّنَابِحِيُّ أَيْضًا، وَإِنَّمَا حَدِيثُهُ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: إِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الْأُمَمَ، فَلَا تَقْتَتِلُنَّ بَعْدِي.
২ - ইসহাক বিন মুসা আল-আনসারী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা'ন বিন ঈসা আল-কাযযায আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক বিন আনাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। (হা) এবং কুতাইবা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মালিক থেকে, তিনি সুহাইল বিন আবি সালেহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন কোনো মুসলিম বা মুমিন বান্দা ওযু করে," অতঃপর তার মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার মুখমণ্ডল থেকে ঐসব গুনাহ নির্গত হয়ে যায় যা সে তার দুই চোখ দিয়ে দেখেছিল; অথবা অনুরূপ কিছু। এবং যখন সে তার দুই হাত ধৌত করে, তখন পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে তার দুই হাত থেকে ঐসব গুনাহ নির্গত হয়ে যায় যা তার দুই হাত দ্বারা সে করেছিল, যতক্ষণ না সে গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে বের হয়।
এটি একটি হাসান সহীহ হাদীস এবং এটি সুহাইল, তাঁর পিতা এবং আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত মালিকের হাদীস।
⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘সুহাইলের পিতা আবু সালেহ হলেন আবু সালেহ আস-সাম্মান, তাঁর নাম যাকওয়ান।
আবু হুরায়রার নামের ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। তারা কেউ বলেছেন: আব্দু শামস, আবার কেউ বলেছেন: আব্দুল্লাহ বিন আমর; মুহাম্মদ বিন ইসমাইল (ইমাম বুখারী) এভাবেই বলেছেন এবং এটিই অধিক বিশুদ্ধ।
এই অনুচ্ছেদে উসমান, সাওবান, আল-সুনাবিহী, আমর বিন আবাসা, সালমান এবং আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
এই আস-সুনাবিহী—যিনি আবু বকর আস-সিদ্দিক থেকে বর্ণনা করেছেন—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সরাসরি তাঁর কোনো শ্রবণ নেই। তাঁর নাম আব্দুর রহমান বিন উসাইলা এবং তাঁর উপনাম আবু আব্দুল্লাহ। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি পথে থাকাকালীনই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেন। তবে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে (মুরসাল) হাদীসসমূহ বর্ণনা করেছেন।
আর সুনাবিহ বিন আল-আ’সার আল-আহমাসী হলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একজন সাহাবী, তাকেও আস-সুনাবিহী বলা হয়। তাঁর বর্ণিত হাদীস হলো, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য দ্বারা অন্যান্য উম্মতদের উপর গর্ব করব, সুতরাং তোমরা আমার পরে একে অপরের সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হয়ো না।"
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
(3) بَابُ مَا جَاءَ أَنَّ مِفْتَاحَ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ
(৩)সালাতের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা—এ মর্মে যা বর্ণিত হয়েছে তার পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
3 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَهَنَّادٌ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ، قَالُوا: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ . (ح) وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ ، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مِفْتَاحُ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ،» وَتَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ، وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ.
هَذَا الْحَدِيثُ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَحْسَنُ.
وَعَبْدُ اللهِ بْنُ
⦗ص: 55⦘مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ هُوَ صَدُوقٌ، وَقَدْ تَكَلَّمَ فِيهِ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ، وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ: كَانَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَالْحُمَيْدِيُّ، يَحْتَجُّونَ بِحَدِيثِ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَهُوَ مُقَارِبُ الْحَدِيثِ.
وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ، وَأَبِي سَعِيدٍ.
৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতায়বাহ, হান্নাদ এবং মাহমুদ ইবন গায়লান, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকী, সুফিয়ান হতে। (হা) এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন বাশশার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবন মাহদী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আকীল হতে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ হতে, তিনি আলী (রা.) হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «সালাতের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা, এর তাহরীম (শুরু) হলো তাকবীর এবং এর তাহলীল (সমাপ্তি) হলো তাসলীম»।
এই হাদীসটি এই অনুচ্ছেদে সবচেয়ে বিশুদ্ধ এবং সর্বোত্তম।
আর আবদুল্লাহ ইবন
⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘মুহাম্মদ ইবন আকীল হলেন সত্যবাদী, তবে কোনো কোনো ইলম অন্বেষণকারী তাঁর মুখস্থ শক্তির দিক থেকে তাঁর সমালোচনা করেছেন। আমি মুহাম্মদ ইবন ইসমাইলকে (ইমাম বুখারী) বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আহমাদ ইবন হাম্বল, ইসহাক ইবন ইব্রাহীম এবং আল-হুমাইদী আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আকীলের হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করতেন। মুহাম্মদ (ইমাম বুখারী) বলেন: তাঁর হাদীস গ্রহণযোগ্য (মুকারিবুল হাদীস)।
এই অনুচ্ছেদে জাবির এবং আবু সাঈদ (রা.) হতেও বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ زَنْجُوَيْهِ الْبَغْدَادِيُّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ ، قَالُوا: حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ قَرْمٍ، عَنْ أَبِي يَحْيَى الْقَتَّاتِ ، عَنْ مُجَاهِدٍ ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مِفْتَاحُ الْجَنَّةِ الصَّلَاةُ،» وَمِفْتَاحُ الصَّلَاةِ الْوُضُوءُ.
৪ - আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জানজুওয়াইহ আল-বাগদাদি এবং আরও একাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট সুলায়মান ইবনে কারম বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহিয়া আল-কাত্তাত থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «জান্নাতের চাবিকাঠি হলো সালাত, এবং সালাতের চাবিকাঠি হলো অজু।»
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
(4) بَابُ مَا يَقُولُ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ
(৪) পরিচ্ছেদ: শৌচাগারে প্রবেশের সময় যা বলতে হয়
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
5 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ وَهَنَّادٌ قَالَا: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ» قَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ - قَالَ شُعْبَةُ: وَقَدْ قَالَ مَرَّةً أُخْرَى: أَعُوذُ بِاللهِ - مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبِيثِ، أَوِ: الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ.
وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ، وَزَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، وَجَابِرٍ، وَابْنِ مَسْعُودٍ.
حَدِيثُ أَنَسٍ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَحْسَنُ.
وَحَدِيثُ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ فِي إِسْنَادِهِ اضْطِرَابٌ: رَوَى هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ وَسَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، فَقَالَ سَعِيدٌ: عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَوْفٍ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، وَقَالَ هِشَامٌ: عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، وَرَوَاهُ شُعْبَةُ، وَمَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، فَقَالَ شُعْبَةُ: عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، وَقَالَ مَعْمَرٌ: عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ.
سَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا، فَقَالَ: يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ قَتَادَةُ رَوَى عَنْهُمَا
⦗ص: 57⦘جَمِيعًا.
৫ - কুতায়বাহ ও হান্নাদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: ওয়াকি' আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন শু'বাহ থেকে, তিনি আব্দুল আজীজ ইবনে সুহাইব থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন» তখন বলতেন: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি - শু'বাহ বলেন: তিনি অন্যবার বলেছিলেন: আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি - অপবিত্রতা ও অপবিত্রকারী হতে, অথবা: অপবিত্র নর-জিন ও অপবিত্র নারী-জিন হতে।
এই অনুচ্ছেদে আলী, যায়দ ইবনে আরকাম, জাবির এবং ইবনে মাসউদ থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
আনাস বর্ণিত হাদিসটি এই অনুচ্ছেদে সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও উত্তম।
যায়দ ইবনে আরকাম বর্ণিত হাদিসটির সনদে ইযতিরাব (অস্থিরতা) রয়েছে: হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ি এবং সাঈদ ইবনে আবি আরূবাহ কাতাদাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। সাঈদ বলেছেন: আল-কাসিম ইবনে আওফ আশ-শায়বানি থেকে, তিনি যায়দ ইবনে আরকাম থেকে। আর হিশাম বলেছেন: কাতাদাহ থেকে, তিনি যায়দ ইবনে আরকাম থেকে। শু'বাহ ও মা'মার এটি কাতাদাহ থেকে, নাদর ইবনে আনাসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন; শু'বাহ বলেছেন: যায়দ ইবনে আরকাম থেকে, আর মা'মার বলেছেন: নাদর ইবনে আনাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে।
আমি মুহাম্মাদকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: সম্ভাবনা আছে যে কাতাদাহ তাঁদের উভয় থেকেই
⦗পৃষ্ঠা: ৫৭⦘একত্রেই বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
6 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ الْبَصْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم «كَانَ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ قَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ» وَالْخَبَائِثِ.
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
৬ - আহমাদ ইবনে আবদাহ আদ-দাব্বী আল-বাসরী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল আযীয ইবনে সুহাইব থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র পুরুষ শয়তান ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"
এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
(5) بَابُ مَا يَقُولُ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ
(৫)পরিচ্ছেদ: শৌচাগার থেকে বের হওয়ার সময় যা বলতে হয়
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
7 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، عَنْ إِسْرَائِيلَ ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ، قَالَ: غُفْرَانَكَ».
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لَا نَعْرِفُهُ إِلَّا مِنْ حَدِيثِ إِسْرَائِيلَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، وَأَبُو بُرْدَةَ بْنُ أَبِي مُوسَى اسْمُهُ: عَامِرُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ قَيْسٍ الْأَشْعَرِيُّ، وَلَا يُعْرَفُ فِي هَذَا الْبَابِ إِلَّا حَدِيثُ
⦗ص: 58⦘عَائِشَةَ.
৭ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মালিক ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসরাঈল থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে আবি বুরদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন শৌচাগার থেকে বের হতেন, তখন বলতেন: গুফরা-নাকা (আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি)»।
এটি একটি হাসান গারীব হাদীস, ইসরাঈল-এর বর্ণিত ইউসুফ ইবনে আবি বুরদাহ-এর হাদীস ব্যতীত এটি আমাদের জানা নেই। আর আবু বুরদাহ ইবনে আবি মূসা-এর নাম হলো: আমির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস আল-আশআরী। আর এই অধ্যায়ে কোনো হাদীস জানা নেই কেবল
⦗পৃষ্ঠা: ৫৮⦘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদীসটি।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
(6) بَابٌ فِي النَّهْيِ عَنِ اسْتِقْبَالِ الْقِبْلَةِ بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ
(৬)মল বা মূত্র ত্যাগের সময় কিবলামুখী হওয়ার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
8 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أَتَيْتُمُ الْغَائِطَ» فَلَا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ وَلَا بَوْلٍ وَلَا تَسْتَدْبِرُوهَا، وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا قَالَ أَبُو أَيُّوبَ: فَقَدِمْنَا الشَّامَ فَوَجَدْنَا مَرَاحِيضَ قَدْ بُنِيَتْ مُسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةِ، فَنَنْحَرِفُ عَنْهَا، وَنَسْتَغْفِرُ اللهَ.
وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ الزُّبَيْدِيِّ، وَمَعْقِلِ بْنِ أَبِي الْهَيْثَمِ، وَيُقَالُ: مَعْقِلُ بْنُ أَبِي مَعْقِلٍ، وَأَبِي أُمَامَةَ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، وَسَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ.
حَدِيثُ أَبِي أَيُّوبَ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَصَحُّ.
وَأَبُو أَيُّوبَ اسْمُهُ: خَالِدُ بْنُ زَيْدٍ، وَالزُّهْرِيُّ اسْمُهُ: مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ
⦗ص: 59⦘بْنِ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ، وَكُنْيَتُهُ: أَبُو بَكْرٍ.
قَالَ أَبُو الْوَلِيدِ الْمَكِّيُّ: قَالَ أَبُو عَبْدِ اللهِ الشَّافِعِيُّ: إِنَّمَا مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: لَا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ وَلَا بَوْلٍ وَلَا تَسْتَدْبِرُوهَا، إِنَّمَا هَذَا فِي الْفَيَافِي، فَأَمَّا فِي الْكُنُفِ الْمَبْنِيَّةِ لَهُ رُخْصَةٌ فِي أَنْ يَسْتَقْبِلَهَا، وَهَكَذَا قَالَ إِسْحَاقُ.
وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ: إِنَّمَا الرُّخْصَةُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي اسْتِدْبَارِ الْقِبْلَةِ بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ، فَأَمَّا اسْتِقْبَالُ الْقِبْلَةِ فَلَا يَسْتَقْبِلُهَا. كَأَنَّهُ لَمْ يَرَ فِي الصَّحْرَاءِ، وَلَا فِي الْكُنُفِ، أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ.
৮ - আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে আবদুর রহমান আল-মাখজুমি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি জুহরি থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াজিদ আল-লাইসি থেকে, তিনি আবু আইয়ুব আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা যখন শৌচাগারে যাবে তখন মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলামুখী হবে না এবং কিবলাকে পেছনেও রাখবে না। বরং তোমরা পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে মুখ করো।» আবু আইয়ুব বলেন: এরপর আমরা সিরিয়ায় আসলাম এবং দেখলাম যে শৌচাগারগুলো কিবলার দিকে মুখ করে তৈরি করা হয়েছে। তখন আমরা কিবলা থেকে কিছুটা ঘুরে বসতাম এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতাম।
এ বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে জায আল-জুবাইদি, মাকিল ইবনে আবিল হাইসাম—যাকে মাকিল ইবনে আবি মাকিলও বলা হয়—আবু উমামাহ, আবু হুরায়রা এবং সাহল ইবনে হুনাইফ থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
আবু আইয়ুবের হাদিসটি এ বিষয়ে সবচেয়ে উত্তম এবং অধিক বিশুদ্ধ।
আর আবু আইয়ুবের নাম: খালিদ ইবনে যায়েদ, এবং জুহরির নাম: মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম
⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে শিহাব আজ-জুহরি, এবং তাঁর উপনাম: আবু বকর।
আবুল ওয়ালিদ আল-মাক্কি বলেন: আবু আবদুল্লাহ আশ-শাফিঈ বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী «মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলামুখী হবে না এবং কিবলাকে পেছনেও রাখবে না»—এর অর্থ হলো এটি কেবল খোলা প্রান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে নির্মিত শৌচাগারের ক্ষেত্রে কিবলামুখী হওয়ার অনুমতি রয়েছে। আর ইসহাকও অনুরূপ বলেছেন।
এবং আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কেবল মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলাকে পেছনে রাখার অনুমতি বা ছাড় পাওয়া যায়, তবে কিবলামুখী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। তিনি মনে হয় খোলা প্রান্তর বা নির্মিত শৌচাগার—কোনোক্ষেত্রেই কিবলামুখী হওয়াকে সংগত মনে করেননি।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
(7) بَابُ مَا جَاءَ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ
(7)এ বিষয়ে যে অবকাশ বর্ণিত হয়েছে তার পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
9 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَا: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ: «نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ بِبَوْلٍ،» فَرَأَيْتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْبَضَ بِعَامٍ يَسْتَقْبِلُهَا.
وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، وَعَائِشَةَ، وَعَمَّارٍ.
حَدِيثُ جَابِرٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ.
9 - মুহাম্মদ ইবনে বাশশার এবং মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: ওয়াহাব ইবনে জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আবান ইবনে সালিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্রাবের সময় কিবলার দিকে মুখ করতে নিষেধ করেছেন,» অতঃপর আমি তাঁকে তাঁর ইন্তিকালের এক বছর পূর্বে কিবলার দিকে মুখ করতে দেখেছি।
এবং এই অধ্যায়ে আবু কাতাদাহ, আয়েশা এবং আম্মার (রাযি.) থেকেও বর্ণনা রয়েছে।
এই অধ্যায়ে জাবিরের হাদীসটি হাসান গরীব হাদীস।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৬০)
10 - وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّهُ «رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَبُولُ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ» أَخْبَرَنَا بِذَلِكَ قُتَيْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ .
وَحَدِيثُ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ لَهِيعَةَ، وَابْنُ لَهِيعَةَ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ، ضَعَّفَهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، وَغَيْرُهُ.
১০ - এবং এই হাদিসটি ইবনে লাহিয়াহ বর্ণনা করেছেন আবুয যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি আবু কাতাদা থেকে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিবলামুখী হয়ে প্রস্রাব করতে দেখেছেন। কুতাইবা আমাদের এটি জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের ইবনে লাহিয়াহ জানিয়েছেন।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে জাবিরের হাদিসটি ইবনে লাহিয়াহর হাদিসের চেয়ে অধিক সহীহ। আর ইবনে লাহিয়াহ হাদিস বিশারদদের নিকট দুর্বল; ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং অন্যান্যরা তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৬০)
11 - حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدَةُ ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ ، عَنْ عَمِّهِ وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: «رَقِيتُ يَوْمًا عَلَى بَيْتِ حَفْصَةَ،» فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى حَاجَتِهِ مُسْتَقْبِلَ الشَّامِ مُسْتَدْبِرَ الْكَعْبَةِ.
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
১১ - হান্নাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাব্বান থেকে, তিনি তাঁর চাচা ওয়াসি' ইবনে হাব্বান থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «একদা আমি হাফসার ঘরের ছাদে আরোহণ করেছিলাম, তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শামের দিকে মুখ করে এবং কাবার দিকে পিঠ দিয়ে তাঁর হাজত (শৌচকার্য) পূরণ করতে দেখলাম।»
এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৬০)
(8) بَابُ النَّهْيِ عَنِ الْبَوْلِ قَائِمًا
(৮)দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৬০)
12 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنِ
الْمِقْدَامِ بْنِ ⦗ص: 61⦘شُرَيْحٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «مَنْ حَدَّثَكُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَبُولُ قَائِمًا فَلَا تُصَدِّقُوهُ»، مَا كَانَ يَبُولُ إِلَّا قَاعِدًا.
وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ، وَبُرَيْدَةَ.
حَدِيثُ عَائِشَةَ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي الْبَابِ وَأَصَحُّ.
وَحَدِيثُ عُمَرَ إِنَّمَا رُوِيَ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ أَبِي الْمُخَارِقِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ قَالَ: رَآنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَبُولُ قَائِمًا، فَقَالَ: يَا عُمَرُ، لَا تَبُلْ قَائِمًا، فَمَا بُلْتُ قَائِمًا بَعْدُ.
وَإِنَّمَا رَفَعَ هَذَا الْحَدِيثَ عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ أَبِي الْمُخَارِقِ، وَهُوَ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ، ضَعَّفَهُ أَيُّوبُ السَّخْتِيَانِيُّ، وَتَكَلَّمَ فِيهِ.
وَرَوَى عُبَيْدُ اللهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ عُمَرُ: مَا بُلْتُ
⦗ص: 62⦘قَائِمًا مُنْذُ أَسْلَمْتُ، وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْكَرِيمِ، وَحَدِيثُ بُرَيْدَةَ فِي هَذَا غَيْرُ مَحْفُوظٍ.
وَمَعْنَى النَّهْيِ عَنِ الْبَوْلِ قَائِمًا عَلَى التَّأْدِيبِ لَا عَلَى التَّحْرِيمِ، وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: إِنَّ مِنَ الْجَفَاءِ أَنْ تَبُولَ وَأَنْتَ قَائِمٌ.
১২ - আলী ইবনে হুজর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শারীক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি
মিকদাম ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘শুরাইহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "তোমাদের নিকট যদি কেউ হাদীস বর্ণনা করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতেন, তবে তাকে বিশ্বাস করো না; তিনি বসে ছাড়া প্রস্রাব করতেন না।"
এই অনুচ্ছেদে উমর এবং বুরাইদাহ (রাযি.) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
আয়েশা (রাযি.) বর্ণিত হাদীসটি এই অনুচ্ছেদে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট এবং বিশুদ্ধতম।
উমর (রাযি.) এর হাদীসটি মূলত আব্দুল কারীম ইবনে আবিল মুখারিক-এর সূত্রে নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে দেখলেন, অতঃপর বললেন: হে উমর! দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করো না। এরপর আমি আর কখনো দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করিনি।
এই হাদীসটি মূলত আব্দুল কারীম ইবনে আবিল মুখারিক মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি হাদীস বিশারদদের নিকট দুর্বল। আইয়ুব সাখতিয়ানী তাঁকে দুর্বল বলেছেন এবং তাঁর সমালোচনা করেছেন।
উবায়দুল্লাহ নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রাযি.) বলেছেন: আমি যখন থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছি,
⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘তখন থেকে আর দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করিনি। এটি আব্দুল কারীমের বর্ণিত হাদীসের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ। আর এ বিষয়ে বুরাইদাহ বর্ণিত হাদীসটি সংরক্ষিত নয়।
দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তার অর্থ হলো শিষ্টাচার শেখানো, তা হারাম বা নিষিদ্ধ করার জন্য নয়। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা রূঢ়তা বা অভদ্রতার অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৬২)
(9) بَابُ مَا جَاءَ فِي الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ
(৯)এ বিষয়ে যে অবকাশ বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৬২)
13 - حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ ، عَنْ حُذَيْفَةَ، «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَتَى سُبَاطَةَ» قَوْمٍ، فَبَالَ عَلَيْهَا قَائِمًا،
⦗ص: 63⦘فَأَتَيْتُهُ بِوَضُوءٍ، فَذَهَبْتُ لِأَتَأَخَّرَ عَنْهُ، فَدَعَانِي حَتَّى كُنْتُ عِنْدَ عَقِبَيْهِ، فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ.
১৩ - হান্নাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াকী‘ আমাদের নিকট আমাশ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি হুযাইফা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি গোত্রের আস্তাকুঁড়ে আসলেন এবং সেখানে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন।
[পৃষ্ঠা: ৬৩]অতঃপর আমি তাঁর নিকট ওযুর পানি নিয়ে আসলাম। আমি তাঁর থেকে দূরে সরে যেতে চাইলাম, কিন্তু তিনি আমাকে ডাকলেন, এমনকি আমি তাঁর দুই গোড়ালির নিকট এসে দাঁড়ালাম। এরপর তিনি ওযু করলেন এবং তাঁর চামড়ার মোজাদ্বয়ের উপর মাসাহ করলেন।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
13 (م 1) - وَسَمِعْتُ الْجَارُودَ يَقُولُ: سَمِعْتُ وَكِيعًا يُحَدِّثُ بِهَذَا الْحَدِيثِ، عَنِ الْأَعْمَشِ ثُمَّ قَالَ وَكِيعٌ: هَذَا أَصَحُّ حَدِيثٍ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْحِ.
13 (ম ১) - আমি জারুদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: আমি ওয়াকি’কে আ’মাশ থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করতে শুনেছি। অতঃপর ওয়াকি’ বললেন: মোজার ওপর মাসেহ করার বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত এটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদিস।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
13 (م 2) - وَسَمِعْتُ أَبَا عَمَّارٍ الْحُسَيْنَ بْنَ حُرَيْثٍ يَقُولُ: سَمِعْتُ وَكِيعًا، فَذَكَرَ نَحْوَهُ.
وَهَكَذَا رَوَى مَنْصُورٌ، وَعُبَيْدَةُ الضَّبِّيُّ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ مِثْلَ رِوَايَةِ الْأَعْمَشِ.
وَرَوَى حَمَّادُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، وَعَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَحَدِيثُ أَبِي وَائِلٍ عَنْ حُذَيْفَةَ أَصَحُّ.
⦗ص: 64⦘وَقَدْ رَخَّصَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْبَوْلِ قَائِمًا.
১৩ (ম ২) - আমি আবু আম্মার আল-হুসাইন ইবনুল হুরাইসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ওয়াকী'কে বলতে শুনেছি, অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এবং এভাবেই মানসুর ও উবায়দাহ আদ-দব্বী, আবু ওয়ায়িল থেকে, তিনি হুযাইফা থেকে আ'মাশ-এর বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আর হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান এবং আসিম ইবনে বাহদালা, আবু ওয়ায়িল থেকে, তিনি মুগীরা ইবনে শু'বাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন; তবে আবু ওয়ায়িল থেকে বর্ণিত হুযাইফার হাদীসটি অধিকতর সহীহ।
⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘আর একদল আহলে ইলম দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার ব্যাপারে শিথিলতা বা অনুমতি প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
(10) بَابٌ فِي الِاسْتِتَارِ عِنْدَ الْحَاجَةِ
(১০)প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের সময় আড়াল করা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
14 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ حَرْبٍ ، عَنِ الْأَعْمَشِ ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ الْحَاجَةَ لَمْ يَرْفَعْ ثَوْبَهُ حَتَّى يَدْنُوَ مِنَ الْأَرْضِ».
هَكَذَا رَوَى مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَنَسٍ هَذَا الْحَدِيثَ.
وَرَوَى وَكِيعٌ وَالْحِمَّانِيُّ، عَنِ الْأَعْمَشِ قَالَ: قَالَ ابْنُ عُمَرَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ الْحَاجَةَ لَمْ يَرْفَعْ ثَوْبَهُ حَتَّى يَدْنُوَ مِنَ الْأَرْضِ.
وَكِلَا الْحَدِيثَيْنِ مُرْسَلٌ، وَيُقَالُ: لَمْ يَسْمَعِ الْأَعْمَشُ مِنْ أَنَسِ بْنِ
⦗ص: 65⦘مَالِكٍ، وَلَا مِنْ أَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَقَدْ نَظَرَ إِلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: رَأَيْتُهُ يُصَلِّي، فَذَكَرَ عَنْهُ حِكَايَةً فِي الصَّلَاةِ.
وَالْأَعْمَشُ اسْمُهُ: سُلَيْمَانُ بْنُ مِهْرَانَ أَبُو مُحَمَّدٍ الْكَاهِلِيُّ، وَهُوَ مَوْلًى لَهُمْ. قَالَ الْأَعْمَشُ: كَانَ أَبِي حَمِيلًا فَوَرَّثَهُ مَسْرُوقٌ.
১৪ - আমাদের নিকট কুতায়বা ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুস সালাম ইবনে হারব বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজনে যেতেন, তখন মাটির কাছাকাছি না হওয়া পর্যন্ত নিজের কাপড় তুলতেন না।"
মুহাম্মদ ইবনে রাবিআ আমাশ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে এই হাদিসটি এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
ওয়াকি এবং হিমানী আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে উমর (রা.) বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজনে যেতেন, তখন মাটির কাছাকাছি না হওয়া পর্যন্ত নিজের কাপড় তুলতেন না।
উভয় হাদিসই মুরসাল, এবং বলা হয় যে, আমাশ আনাস ইবনে
⦗পৃষ্ঠা: ৬৫⦘মালিক (রা.) থেকে কিংবা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো সাহাবীর থেকে কিছুই শোনেননি। তবে তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.)-কে দেখেছেন; তিনি বলেন: আমি তাঁকে সালাত আদায় করতে দেখেছি, এরপর তিনি তাঁর সালাত সম্পর্কে একটি বিবরণ উল্লেখ করেছেন।
আমাশের নাম হলো: সুলাইমান ইবনে মিহরান আবু মুহাম্মদ আল-কাহিলী, তিনি তাদের মুক্তদাস ছিলেন। আমাশ বলেন: আমার পিতা যুদ্ধবন্দী ছিলেন, অতঃপর মাসরুক তাঁকে উত্তরাধিকারী বানিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
(11) بَابٌ فِي كَرَاهَةِ الِاسْتِنْجَاءِ بِالْيَمِينِ
(১১)ডান হাত দ্বারা শৌচকার্য করার অপছন্দনীয়তা বিষয়ক পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
15 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنْ مَعْمَرٍ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ ، عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم «نَهَى أَنْ يَمَسَّ الرَّجُلُ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ».
وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ، وَسَلْمَانَ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، وَسَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ.
⦗ص: 66⦘هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
وَأَبُو قَتَادَةَ اسْمُهُ: الْحَارِثُ بْنُ رِبْعِيٍّ.
وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ: كَرِهُوا الِاسْتِنْجَاءَ بِالْيَمِينِ.
১৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবু উমর আল-মাক্কি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ, মা'মার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আবু কাতাদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ব্যক্তি তার ডান হাত দিয়ে নিজের পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করতে নিষেধ করেছেন।
এই অনুচ্ছেদে আয়িশা, সালমান, আবু হুরায়রা এবং সাহল ইবনে হুনাইফ থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
⦗পৃষ্ঠা: ৬৬⦘এই হাদিসটি হাসান সহিহ।
আবু কাতাদাহর নাম হলো: আল-হারিস ইবনে রিব'য়ি।
আলেমগণের নিকট এর ওপর আমল বিদ্যমান: তারা ডান হাত দিয়ে ইস্তিনজা করা অপছন্দ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সুনানুত তিরমিযী - ত বাশার
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
(12) بَابُ الِاسْتِنْجَاءِ بِالْحِجَارَةِ
(১২)পাথর দ্বারা শৌচকর্ম করার পরিচ্ছেদ