(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: -)
شرح السنة للبغوي القسم: كتب السنة
الكتاب: شرح السنة
المؤلف: محيي السنة، أبو محمد الحسين بن مسعود بن محمد بن الفراء البغوي الشافعي (ت 516 هـ)
تحقيق: شعيب الأرنؤوط [ت 1438 هـ]- محمد زهير الشاويش [ت 1434 هـ]
الناشر: المكتب الإسلامي - دمشق، بيروت
الطبعة: الثانية، 1403 هـ - 1983 م
عدد الأجزاء: 15
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 28 ربيع الأول 1433
বাগাবীর শারহুস সুন্নাহ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: শারহুস সুন্নাহ
লেখক: মুহিউস সুন্নাহ, আবু মুহাম্মদ আল-হুসাইন ইবনে মাসউদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফাররা আল-বাগাবী আশ-শাফিঈ (ওফাত ৫১৬ হি.)
তাহকিক: শুআইব আল-আরনাউত [ওফাত ১৪৩৮ হি.]- মুহাম্মদ জুহাইর আশ-শাওয়িশ [ওফাত ১৪৩৪ হি.]
প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি - দামেস্ক, বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৩ হি. - ১৯৮৩ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ১৫
[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
وَبِه ثقتي ورجائي
الْحَمد لله الَّذِي لم يتَّخذ ولدا، وَلم يكن لَهُ شريك فِي الْملك، وَخلق كل شَيْء فقدره تَقْديرا، وَالْحَمْد لله الَّذِي نزل الْفرْقَان على عَبده ليَكُون للْعَالمين نذيرا، الَّذِي عجز الحامدون على الْقيام بأَدَاء شكر نعْمَة من نعمه، وكلت أَلْسِنَة الواصفين عَن بُلُوغ كنه عَظمته.
ونشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، لَهُ الْملك، وَله الْحَمد، وَهُوَ على كل شَيْء قدير، ونشهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله البشير النذير، الدَّاعِي إِلَيْهِ بِإِذْنِهِ، السراج الْمُنِير، أرْسلهُ بِالْهدى وَدين الْحق لِيظْهرهُ على الدَّين كُله، وَلَو كره الْمُشْركُونَ.
وَالْحَمْد لله الَّذِي أعظم علينا الْمِنَّة بِالْإِسْلَامِ وَالسّنة، ووفقنا بفضله لِلِاتِّبَاعِ، وعصمنا برحمته من الابتداع.
وَصلى الله على مُحَمَّد سيد الْمُرْسلين، وَإِمَام الْمُتَّقِينَ، وَخَاتم النَّبِيين فِي كل سَاعَة ولحظة على دوَام الْأَبَد مَا لَا يدْخل تَحت الْعدَد، وَلَا يَنْقَطِع عَنهُ المدد، وعَلى إخوانه من النَّبِيين وَالْمُرْسلِينَ وَالْمَلَائِكَة المقربين، وعَلى أَزوَاجه وَذريته، وَأَصْحَابه وعترته، وعَلى متبعي سنته، وَأهل إِجَابَة دَعوته بمنه وفضله وسعة رَحمته.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
তাঁর ওপরই আমার ভরসা ও প্রত্যাশা।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে যাঁর কোনো শরিক নেই এবং তিনি প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছেন ও তাকে যথাযথভাবে পরিমিত করেছেন। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন; প্রশংসাকারীরা যাঁর নেয়ামতসমূহের মধ্য হতে একটি নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়েও অক্ষম এবং বর্ণনাকারীদের জিহ্বা যাঁর মহত্ত্বের প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনায় পরিশ্রান্ত।
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁরই, আর তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী, তাঁর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ। তিনি তাঁকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যাতে তিনি একে সমস্ত দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ইসলাম ও সুন্নাহর মাধ্যমে আমাদের ওপর মহান অনুগ্রহ করেছেন, তাঁর অনুগ্রহে আমাদের অনুসরণের তাওফিক দিয়েছেন এবং তাঁর রহমতে আমাদের বিদআত থেকে রক্ষা করেছেন।
আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার, মুত্তাকীদের ইমাম এবং নবীগণের সমাপ্তিদানকারী মুহাম্মদের ওপর—প্রতিটি মুহূর্তে ও ক্ষণে, অনন্তকাল ধরে যা গণনার অতীত এবং যার ধারা কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না; এবং তাঁর ভাই নবী ও রাসূলগণের ওপর, নিকটবর্তী ফেরেশতাদের ওপর, তাঁর পত্নীগণ ও সন্তানদের ওপর, তাঁর সাহাবীগণ ও বংশধরদের ওপর, তাঁর সুন্নাহর অনুসারী এবং তাঁর দাওয়াতে সাড়াদানকারীদের ওপর—আল্লাহর নিজস্ব দান, অনুগ্রহ ও প্রশস্ত রহমতের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ২)
أما بعد: فَهَذَا كتاب فِي شرح السّنة، يتَضَمَّن إِن شَاءَ الله سبحانه وتعالى كثيرا من عُلُوم الْأَحَادِيث، وفوائد الْأَخْبَار المروية عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من حل مشكلها، وَتَفْسِير غريبها، وَبَيَان أَحْكَامهَا، يَتَرَتَّب عَلَيْهَا من الْفِقْه وَاخْتِلَاف الْعلمَاء، جمل لَا يَسْتَغْنِي عَن مَعْرفَتهَا المرجوع إِلَيْهِ فِي الْأَحْكَام، والمعول عَلَيْهِ فِي دين الْإِسْلَام.
وَلم أودع هَذَا الْكتاب من الْأَحَادِيث إِلَّا مَا اعْتَمدهُ أَئِمَّة السّلف الَّذين هم أهل الصَّنْعَة، الْمُسَلَّمُ لَهُم الْأَمر من أهل عصرهم، وَمَا أودعوه كتبهمْ، فَأَما مَا أَعرضُوا عَنهُ من المقلوب والموضوع والمجهول، وَاتَّفَقُوا على تَركه، فقد صنت الْكتاب عَنْهَا.
وَمَا لم أذكر أسانيدها من الْأَحَادِيث، فأكثرها مسموعة، وعامتها فِي كتب الْأَئِمَّة، غير أَنِّي تركت أسانيدها حذرا من الإطالة، واعتمادا على نقل الْأَئِمَّة.
وَإِنِّي فِي أَكثر مَا أوردته بل فِي عامته مُتبع، إِلَّا الْقَلِيل الَّذِي لَاحَ لي بِنَوْع من الدَّلِيل، فِي تَأْوِيل كَلَام مُحْتَمل، أَو إِيضَاح مُشكل، أَو تَرْجِيح قَول على آخر، إِذْ لعلماء السّلف رَحِمهم الله تَعَالَى سعي كَامِل فِي تأليف مَا جَمَعُوهُ، وَنظر صَادِق للخلف فِي أَدَاء مَا سَمِعُوهُ.
এরপর: এটি সুন্নাহর ব্যাখ্যা সম্বলিত একটি গ্রন্থ। এতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা চাইলে হাদিস শাস্ত্রের অনেক জ্ঞান এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সংবাদসমূহের বহুবিধ উপকারিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে; যার মধ্যে রয়েছে জটিল বিষয়সমূহের সমাধান, দুর্লভ শব্দাবলির ব্যাখ্যা এবং এ থেকে উদ্ভূত ফিকহ ও ওলামাদের মতপার্থক্যের বিধানসমূহের বর্ণনা। এখানে এমন সব সারসংক্ষেপ রয়েছে যা সম্পর্কে জ্ঞান রাখা বিধানের ক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তনকারী এবং ইসলাম ধর্মে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের জন্য একান্ত প্রয়োজন।
আমি এই গ্রন্থে সেসব হাদিস ব্যতিরেকে অন্য কিছু অন্তর্ভুক্ত করিনি যা পূর্বসূরি বা সালাফ ইমামগণ নির্ভরযোগ্য মনে করেছেন, যারা এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং যাদের সমসাময়িক বিজ্ঞজনেরা তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন, আর যা তাঁরা তাঁদের কিতাবসমূহে সংকলন করেছেন। পক্ষান্তরে যে সকল উল্টোপাল্টা, বানোয়াট এবং অজ্ঞাত হাদিস তাঁরা পরিহার করেছেন এবং যেগুলি বর্জনের ব্যাপারে তাঁরা একমত হয়েছেন, আমি এই কিতাবকে সেসব থেকে মুক্ত রেখেছি।
আর যেসব হাদিসের সনদ আমি উল্লেখ করিনি, সেগুলোর অধিকাংশই শ্রুত এবং সেগুলোর সাধারণ অংশ ইমামদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান। তবে আমি দীর্ঘসূত্রিতার আশঙ্কায় এবং ইমামদের উদ্ধৃতির ওপর নির্ভর করে সেগুলোর সনদ উহ্য রেখেছি।
আমি যা বর্ণনা করেছি তার অধিকাংশ ক্ষেত্রে, বরং প্রায় সবক্ষেত্রেই আমি পূর্ববর্তীদের অনুসারী; কেবল সামান্য কিছু বিষয় ছাড়া যা দলিলের ভিত্তিতে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে—যেমন কোনো সম্ভাব্য বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান, অথবা কোনো জটিল বিষয় স্পষ্ট করা, কিংবা এক মতকে অন্য মতের ওপর প্রাধান্য দান। কেননা সালাফ ওলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তায়ালা তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যা সংগ্রহ করেছিলেন তা সংকলনে পূর্ণ শ্রম ব্যয় করেছেন এবং যা তাঁরা শুনেছিলেন তা পরবর্তীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ছিল একনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ৩)
وَالْقَصْد بِهَذَا الْجمع، مَعَ وُقُوع الْكِفَايَة بِمَا عملوه، وَحُصُول الغنية فِيمَا فَعَلُوهُ، الِاقْتِدَاء بأفعالهم، والانتظام فِي سلك أحد طَرفَيْهِ مُتَّصِل بصدر النُّبُوَّة، وَالدُّخُول فِي غمار قوم جدوا فِي إِقَامَة الدَّين، واجتهدوا فِي إحْيَاء السّنة، شفعا بهم، وحبا لطريقتهم، وَإِن قصرت فِي الْعَمَل عَن مبلغ سَعْيهمْ، طَمَعا فِي مَوْعُود الله سبحانه وتعالى على لِسَان رَسُوله صلى الله عليه وسلم أَن «الْمَرْء مَعَ من أحب»، ولأني رَأَيْت أَعْلَام الدَّين عَادَتْ إِلَى الدُّرُوس، وَغلب على أهل الزَّمَان هوى النُّفُوس، فَلم يبْق من الدَّين إِلَّا الرَّسْم، وَلَا من الْعلم إِلَّا الِاسْم، حَتَّى تصور الْبَاطِل عِنْد أَكثر أهل الزَّمَان بِصُورَة الْحق، وَالْجهل بِصُورَة الْعلم، وَظهر فيهم تَحْقِيق قَول
এই সংকলনের উদ্দেশ্য—পূর্ববর্তীদের কৃত কার্যাবলীর মাধ্যমে যথেষ্ট পাথেয় ও প্রয়োজন পূরণ হওয়া সত্ত্বেও—তাদের কর্মসমূহ অনুসরণ করা এবং এমন এক ধারায় নিজেকে সঙ্ঘবদ্ধ করা যার এক প্রান্ত নবুওয়তের সূচনালগ্নের সাথে সম্পৃক্ত। আর এমন এক জনসমষ্টির অন্তর্ভুক্ত হওয়া যারা দ্বীন প্রতিষ্ঠায় কঠোর শ্রম দিয়েছেন এবং সুন্নাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাধনা করেছেন; মূলত তাদের প্রতি একাত্মতা ও তাদের আদর্শের প্রতি ভালোবাসার টানেই এটি করা, যদিও আমলের দিক থেকে আমি তাদের উচ্চ স্তরে পৌঁছাতে সক্ষম হইনি। এটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সেই প্রতিশ্রুতির আশায়, যা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবানে ব্যক্ত হয়েছে যে, ‘ব্যক্তি তারই সঙ্গী হবে যাকে সে ভালোবাসে’। এছাড়া আমি দেখেছি যে, দ্বীনের নিদর্শনসমূহ বিলুপ্তির পথে ধাবিত হচ্ছে এবং বর্তমান সময়ের মানুষের ওপর কুপ্রবৃত্তি প্রবল হয়ে পড়েছে। ফলে দ্বীনের কেবল বাহ্যিক রূপ এবং ইলমের কেবল নামটুকু অবশিষ্ট রয়েছে। এমনকি বর্তমান জামানার অধিকাংশ মানুষের কাছে বাতিল সত্যের রূপে এবং মূর্খতা ইলমের রূপে প্রতিভাত হচ্ছে; আর তাদের মাঝে এই বাণীর বাস্তবতা প্রকাশ পেয়েছে—
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ৪)
الرَّسُول صلى الله عليه وسلم: «إِن الله لَا يقبض الْعلم انتزاعا ينتزعه من الْعباد، وَلَكِن يقبض الْعلم بِقَبض الْعلمَاء، حَتَّى إِذا لم يبْق عَالما اتخذ النَّاس رُءُوسًا جُهَّالًا، فسئلوا، فأفتوا بِغَيْر علم، فأضلوا وأضلوا».
وَلما كَانَ الْأَمر على مَا وَصفته لَك، أردْت أَن أجدد لأمر الْعلم ذكرا، لَعَلَّه ينشط فِيهِ رَاغِب متنبه، أَو ينبعث لَهُ وَاقِف متثبط، فَأَكُون كمن يسْعَى لإيقاد سراج فِي ظلمَة مطبقة، فيهتدي بِهِ متحير، أَو يَقع على الطَّرِيق مسترشد، فَلَا يخيب من السَّاعِي سَعْيه، وَلَا يضيع حَظه، وَالله الْمُسْتَعَان، وَعَلِيهِ التكلان، وَهُوَ حسبي وَنعم الْوَكِيل.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে ইলমকে সরাসরি ছিনিয়ে নিয়ে উঠিয়ে নেবেন না; বরং তিনি আলেমদের উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম উঠিয়ে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। অতঃপর তাদের নিকট কোনো বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া প্রদান করবে; ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।”
বিষয়টি যখন আপনার নিকট ইতিপূর্বে বর্ণিত অবস্থার ন্যায় দাঁড়িয়েছে, তখন আমি ইলমের চর্চাকে পুনরায় উজ্জীবিত করার সংকল্প করেছি; যাতে কোনো সচেতন আগ্রহী ব্যক্তি এতে অনুপ্রাণিত হয় অথবা কোনো উদ্যমহীন ব্যক্তি পুনরায় সজাগ হয়। ফলে আমি সেই ব্যক্তির ন্যায় হব, যে ঘুটঘুটে অন্ধকারে প্রদীপ প্রজ্বলনের চেষ্টা করে, যার আলোকবর্তিকা দ্বারা কোনো বিভ্রান্ত ব্যক্তি পথ খুঁজে পায় অথবা কোনো সত্যসন্ধানী ব্যক্তি সঠিক পথের দিশা লাভ করে। আর প্রচেষ্টাকারীর প্রচেষ্টা যেন বৃথা না যায় এবং তার প্রাপ্য অংশ যেন নষ্ট না হয়। আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর ওপরই একমাত্র ভরসা। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ৫)
1 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ الْخَطِيبُ الْحُمَيْدِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ، أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَصْبهَانِيُّ، نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقَاضِي، نَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ.
ح وَأَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي تَوْبَةَ الْكُشْمِيهَنِيُّ، وَاللَّفْظُ لَهُ، نَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَارِثِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْكِسَائِيُّ الْبَابَانِيُّ، أَنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَحْمُودٍ، أَنا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخَلالُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّةِ، وَإِنَّمَا لامْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ، فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ»، هَذَا حَدِيثٌ مُتَّفَقٌ عَلَى صِحَّتِهِ، أَخْرَجَهُ الشَّيْخَانِ: مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ
১ - আবু সাদ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস আল-খাতিব আল-হুমাইদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ আল-আসবাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাইল ইবন ইসহাক আল-কাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-কানাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবন সাইদ থেকে।
এবং আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবি তাওবা আল-কুশমিহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন — শব্দাবলি তার — আবু তাহির মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবনুল হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবন ইয়াকুব আল-কিসায়ি আল-বাবানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবন মাহমুদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবন আবদুল্লাহ আল-খাল্লাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবন সাইদ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি আলকামা ইবন ওয়াক্কাস আল-লায়সি থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তা-ই সে পাবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অভিমুখে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অভিমুখেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সেদিকেই গণ্য হবে যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।» এটি এমন একটি হাদিস যার বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য পোষণ করা হয়েছে, শাইখাইন এটি বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইল।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ৬)
الْبُخَارِيُّ، وَمُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ الْقُشَيْرِيُّ فِي الصَّحِيحَيْنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيِّ، وَأَخْرَجَاهُ مِنْ أَوْجُهٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ، وَعَلْقَمَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ اللَّيْثِيِّ الْعُتْوَارِيِّ الْمَدَنِيِّ، مَاتَ فِي وِلايَةِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ
বুখারী এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরী ‘সহীহাইন’-এ আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ আল-কা’নাবী থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী এবং আলকামাহ ইবনে আবী ওয়াক্কাস আল-লাইসী আল-উতওয়ারী আল-মাদানী থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের শাসনকালে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ৭)
1 - كِتَابُ الإِيمَانِقَالَ اللَّهُ سبحانه وتعالى: {هُدًى لِلْمُتَّقِينَ {2} الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ {3}} [الْبَقَرَة: 2 - 3].
وَقَالَ اللَّهُ عز وجل: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الإِسْلامُ} [آل عمرَان: 19]، {وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلامَ دِينًا} [الْمَائِدَة: 3]، {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ} [آل عمرَان: 85].
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ بُوَيْهِ الزَّرَّادُ الْبُخَارِيُّ، أَنا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ الْخُزَاعِيُّ، ثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْهَيْثَمُ بْنُ كُلَيْبِ بْنِ سُرَيْجِ بْنِ مَعْقِلٍ الشَّاشِيُّ، نَا أَبُو أَحْمَدَ عِيسَى بْنُ أَحْمَدَ الْعَسْقَلانِيُّ، أَنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ، قَالَ: كَانَ أَوَّلَ مَنْ تَكَلَّمَ فِي الْقَدَرِ، يَعْنِي بِالْبَصْرَةِ، مَعْبَدٌ الْجُهَنِيُّ،
১ - ঈমান অধ্যায়আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক {২} যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে {৩}} [আল-বাকারা: ২ - ৩]।
এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম} [আলে ইমরান: ১৯], {এবং আমি তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছি} [আল-মায়িদাহ: ৩], {এবং যে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তার নিকট থেকে তা কখনোই কবুল করা হবে না} [আলে ইমরান: ৮৫]।
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন বুওয়াইহ আল-জাররাদ আল-বুখারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আলী ইবন আহমাদ আল-খুযাঈ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আল-হায়সাম ইবন কুলাইব ইবন সুরাইজ ইবন মা'কিল আশ-শাশী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ ঈসা ইবন আহমাদ আল-আসকালানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াযীদ ইবন হারুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাহমাস ইবনুল হাসান, আবদুল্লাহ ইবন বুরাইদাহ থেকে, ইয়াহইয়া ইবন ইয়া'মুর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বসরায় তাকদীর সম্পর্কে যিনি সর্বপ্রথম আলোচনা করেন তিনি হলেন মা'বাদ আল-জুহানী,
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ৮)
فَخَرَجْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ نُرِيدُ مَكَّةَ، فَقُلْنَا لَوْ لَقِينَا أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَسَأَلْنَاهُ عَمَّا يَقُولُ؟ فَلَقِينَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، فَاكْتَنَفْتُهُ أَنَا وَصَاحِبِي، أَحَدُنَا عَنْ يَمِينِهِ، وَالآخَرُ عَنْ شِمَالِهِ، فَعَلِمْتُ أَنَّهُ سَيَكِلُ الْكَلامَ إِلَيَّ، فَقُلْتُ: أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، إِنَّهُ قَدْ ظَهَرَ قِبَلَنَا نَاسٌ يَتَقَفَّرُونَ هَذَا الْعِلْمَ، وَيَطْلُبُونَهُ، يَزْعُمُونَ أَنْ لَا قَدَرَ، إِنَّمَا الأَمْرُ أُنُفٌ؟ قَالَ: فَإِذَا لَقِيتَ أُولَئِكَ، فَأَخْبِرْهُمْ أَنِّي مِنْهُمْ بَرِيءٌ، وَأَنَّهُمْ مِنِّي بُرَآءُ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ لأَحَدِهِمْ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا، فَأَنْفَقَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، مَا قَبِلَ اللَّهُ مِنْهُ شَيْئًا حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ، وَشَرِّهِ، ثُمَّ قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، رضي الله عنهما، قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، إِذْ أَقْبَلَ رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ، شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ، مَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ، وَلا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ، فَأَقْبَلَ حَتَّى جَلَسَ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَرُكْبَتُهُ تَمَسُّ رُكْبَتَهُ، قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَخْبِرْنِي عَنِ الإِسْلامِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: تَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَتُقِيمُ الصَّلاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، وَتَحُجُّ الْبَيْتَ إِنِ
অতঃপর আমি এবং হুমায়দ ইবনে আবদুর রহমান মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমরা বললাম, যদি আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সাহাবীর সাক্ষাৎ পেতাম, তবে তারা (তকদির অস্বীকারকারীরা) যা বলছে সে সম্পর্কে আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করতাম। এরপর আমাদের সাক্ষাৎ হলো আবদুল্লাহ ইবনে উমরের সাথে। আমি এবং আমার সাথী তাঁকে দুই দিক থেকে ঘিরে ধরলাম; আমাদের একজন তাঁর ডান পাশে এবং অন্যজন তাঁর বাম পাশে। আমি বুঝতে পারলাম যে আমার সাথী কথা বলার দায়িত্ব আমার ওপরই অর্পণ করবেন। তাই আমি বললাম: হে আবু আবদুর রহমান! আমাদের এলাকায় এমন কিছু লোকের উদ্ভব হয়েছে যারা ইলম অন্বেষণ করে এবং তা চর্চা করে; তারা দাবি করে যে তকদির বলে কিছু নেই এবং সব বিষয়ই তাৎক্ষণিক (পূর্বনির্ধারিত নয়)। তিনি বললেন: যখন তুমি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তাদের জানিয়ে দিও যে, আমি তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার থেকে মুক্ত। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যদি তাদের কারো নিকট ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং সে তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে দেয়, তবে আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করবেন না, যতক্ষণ না সে তকদিরের ভালো এবং মন্দের ওপর ঈমান আনবে। এরপর তিনি বললেন: উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসা ছিলাম, হঠাৎ আমাদের সামনে এক ব্যক্তি উপস্থিত হলেন যাঁর পোশাক ছিল ধবধবে সাদা এবং চুল ছিল কুচকুচে কালো। তাঁর ওপর সফরের কোনো চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁকে চিনত না। তিনি অগ্রসর হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে বসলেন এবং তাঁর হাঁটুর সাথে নিজের হাঁটু মিলিয়ে দিলেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (ইসলাম হলো) তুমি এ সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; আর তুমি সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, রমজানের সিয়াম পালন করবে এবং বায়তুল্লাহর হজ সম্পন্ন করবে যদি...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ৯)
اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلا ".
فَقَالَ: صَدَقْتَ.
فَتَعَجَّبْنَا مِنْ سُؤَالِهِ وَتَصْدِيقِهِ، ثُمَّ قَالَ: فَمَا الإِيمَانُ؟ قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَحْدَهُ، وَمَلائِكَتِهِ، وَرُسُلِهِ، وَبِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ، وَبِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ».
فَقَالَ: صَدَقْتَ.
ثُمَّ قَالَ: فَمَا الإِحْسَانُ؟ قَالَ: " أَنْ تَعْمَلَ لِلَّهِ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ.
قَالَ: صَدَقْتَ.
ثُمَّ قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ.
فَقَالَ: " مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ بِهَا مِنَ السَّائِلِ.
قَالَ: صَدَقْتَ.
قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَتِهَا.
قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّهَا، وَأَنْ تَرَى الْعُرَاةَ الْحُفَاةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي بُنْيَانِ الْمَدَرِ».
قَالَ: صَدَقْتَ.
ثُمَّ انْطَلَقَ، فَلَمَّا كَانَ بَعْدَ ثَالِثَةٍ، قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا عُمَرُ، هَلْ تَدْرِي مَنِ الرَّجُلُ؟»، قَالَ: قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ.
قَالَ: «ذَاكَ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ أَمْرَ دِينِكُمْ، وَمَا أَتَانِي فِي صُورَةٍ إِلا عَرَفْتُهُ فِيهَا، إِلا فِي صُورَتِهِ هَذِهِ».
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ، أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيِّ، عَنْ
সাধ্য থাকে।"
তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন।
আমরা তাঁর প্রশ্ন করা এবং তাঁর সত্যায়ন করার কারণে বিস্ময় বোধ করলাম। এরপর তিনি বললেন: ঈমান কী? তিনি বললেন: "তা হলো এই যে, আপনি একমাত্র আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাগণের ওপর, তাঁর রাসূলগণের ওপর, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের ওপর, জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ওপর ঈমান আনবেন।"
তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন।
এরপর তিনি বললেন: ইহসান কী? তিনি বললেন: "আপনি আল্লাহর জন্য এমনভাবে আমল করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন; আর আপনি যদি তাঁকে দেখতে না-ও পান, তবে নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেখছেন।"
তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন।
এরপর তিনি বললেন: আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে অবহিত করুন।
তিনি বললেন: "এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন।"
তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন।
তিনি বললেন: আমাকে এর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে অবহিত করুন।
তিনি বললেন: "দাসী যখন তার মালিককে জন্ম দেবে, আর আপনি যখন বস্ত্রহীন, নগ্নপদ মেষপালকদের সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতে দেখবেন।"
তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন।
এরপর তিনি চলে গেলেন। তিন দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: "হে উমর, তুমি কি জানো সেই ব্যক্তিটি কে ছিলেন?" তিনি বললেন: আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত।
তিনি বললেন: "তিনি ছিলেন জিবরীল; তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীনের বিষয়সমূহ শিক্ষা দিতে তোমাদের নিকট এসেছিলেন। তিনি যখনই কোনো আকৃতিতে আমার নিকট এসেছেন আমি তাঁকে চিনতে পেরেছি, কেবল তাঁর এই আকৃতিটি ব্যতীত।"
এটি একটি সহীহ হাদীস, ইমাম মুসলিম এটি উবায়দুল্লাহ বিন মুয়ায আল-আনবারী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ১০)
أَبِيهِ، عَنْ كَهْمَسٍ.
وَاتَّفَقَا عَلَى إِخْرَاجِهِ مِنْ رِوَايَةِ أَبِي هُرَيْرَةَ
وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بْنِ نُفَيْلٍ أَبُو حَفْصٍ الْقُرَشِيُّ الْعَدَوِيُّ، قُتِلَ سَنَةَ ثَلاثٍ وَعِشْرِينَ، وَهُوَ ابْنُ ثَلاثٍ وَسِتِّينَ سَنَةً فِي ذِي الْحِجَّةِ، قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: وَلِيَ عَشْرَ سِنِينَ حَجَّهَا كُلَّهَا.
قَوْلُهُ: «يَتَقَفَّرُونَ الْعِلْمَ» أَيْ: يَتَّبِعُونَ أَثَرَهُ وَيَطْلُبُونَهُ، وَالتَّقَفُّرُ: تَتَبُّعُ أَثَرِ الشَّيْءِ.
وَقَوْلُهُ: «إِنَّمَا الأَمْرُ أُنُفٌ»، يُرِيدُ: مُسْتَأْنَفٌ لَمْ يَتَقَدَّمْ فِيهِ قَدَرٌ، وَلا مَشِيئَةٌ، يُقَالُ: رَوْضَةٌ أُنُفٌ: إِذَا لَمْ تُرْعَ، وَأُنُفُ الشَّيْءِ: أَوَّلُهُ.
وَقَوْلُهُ: «فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَتِهَا» أَيْ: عَلامَتِهَا، يُقَالُ: أَمَارُ مَا بَيْنِي وَبَيْنَكَ كَذَا، وَأَمَارَةُ مَا بَيْنِي وَبَيْنَكَ، بِالْهَاءِ وَغَيْرِ الْهَاءِ، وَقِيلَ: الأَمَارُ: جَمْعُ الأَمَارَةِ.
قَالَ الشَّيْخُ الإِمَام رحمه الله: جَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْحَدِيثِ الإِسْلامَ اسْمًا لِمَا ظَهَرَ مِنَ الأَعْمَالِ، وَجَعَلَ الإِيمَانَ اسْمًا لِمَا بَطَنَ مِنَ الاعْتِقَادِ، وَلَيْسَ ذَلِكَ، لأَنَّ الأَعْمَالَ لَيْسَتْ مِنَ الإِيمَانِ، أَوِ التَّصْدِيقَ بِالْقَلْبِ لَيْسَ مِنَ الإِسْلامِ، بَلْ ذَلِكَ تَفْصِيلٌ لِجُمْلَةٍ هِيَ كُلُّهَا شَيْءٌ وَاحِدٌ، وَجِمَاعُهَا الدِّينُ، وَلِذَلِكَ قَالَ: «ذَاكَ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ أَمْرَ دِينِكُمْ».
وَالتَّصْدِيقُ وَالْعَمَلُ يَتَنَاوَلُهُمَا اسْمُ الإِيمَانِ وَالإِسْلامِ جَمِيعًا، يَدُلُّ عَلَيْهِ قَوْلُهُ سبحانه وتعالى: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الإِسْلامُ} [آل عمرَان: 19]، {وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلامَ دِينًا} [الْمَائِدَة: 3]، {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ
তার পিতা হতে, তিনি কাহমাস হতে।
তারা উভয়েই (ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর বর্ণনা হতে এটি উদ্ধৃত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
আর উমর ইবনুল খাত্তাব ইবনে নুফাইল আবু হাফস আল-কুরাইশি আল-আদাবি, তিনি তেইশ হিজরিতে শহিদ হন এবং তখন যিলহজ মাসে তাঁর বয়স ছিল তেষট্টি বছর। ইবনে শিহাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: তিনি দশ বছর খিলাফত পরিচালনা করেছেন এবং এর প্রতি বছরই হজ সম্পাদন করেছেন।
তাঁর উক্তি: "তারা ইলম অন্বেষণ করে" অর্থাৎ: তারা এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং তা তালাশ করে। আর 'আত-তাকাফ্ফুর' অর্থ হলো কোনো বিষয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করা।
আর তাঁর উক্তি: "নিশ্চয়ই বিষয়টি নতুনভাবে শুরু হওয়া", তিনি এর দ্বারা বুঝিয়েছেন: এটি সূচনাকৃত যার পেছনে কোনো পূর্বনির্ধারিত তাকদির বা ইচ্ছা নেই। বলা হয়: 'রওজাতুন উনুফ' অর্থাৎ এমন চারণভূমি যা ইতিপূর্বে পশুপাল দ্বারা চরানো হয়নি। আর কোনো কিছুর 'উনুফ' হলো তার শুরু বা প্রারম্ভ।
আর তাঁর উক্তি: "অতঃপর আমাকে এর আলামত সম্পর্কে সংবাদ দিন" অর্থাৎ: এর লক্ষণসমূহ সম্পর্কে। বলা হয়: আমার ও তোমার মধ্যকার 'আমার' হলো এই, এবং আমার ও তোমার মধ্যকার 'আমারাহ' হলো এই— এটি 'হা' যুক্ত এবং 'হা' মুক্ত উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। আর বলা হয়েছে যে, 'আমার' হলো 'আমারাহ' এর বহুবচন।
শায়খ ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই হাদিসে বাহ্যিক আমলসমূহের নাম দিয়েছেন 'ইসলাম', আর অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসের নাম দিয়েছেন 'ঈমান'। বিষয়টি এমন নয় যে, আমলসমূহ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয় কিংবা অন্তরের বিশ্বাস ইসলামের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং এটি একটি সামগ্রিক বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা যা মূলত অভিন্ন এবং যার সমষ্টিই হলো 'দীন'। এই কারণেই তিনি বলেছেন: "ইনি ছিলেন জিবরাঈল, যিনি তোমাদেরকে তোমাদের দীনের বিষয় শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।"
আর অন্তরের বিশ্বাস ও বাহ্যিক আমল— এই উভয়কেই 'ঈমান' ও 'ইসলাম' উভয় নামই অন্তর্ভুক্ত করে। এর প্রমাণ হিসেবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দীন হলো ইসলাম} [আলে ইমরান: ১৯], {এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দীন হিসেবে পছন্দ করলাম} [আল-মায়েদাহ: ৩], {এবং যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন তালাশ করবে, তার থেকে তা কখনো কবুল করা হবে না...}
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ১১)
مِنْهُ} [آل عمرَان: 85].
فَأَخْبَرَ أَنَّ الدِّينَ الَّذِي رَضِيَهُ وَيَقْبَلُهُ مِنْ عِبَادِهِ هُوَ الإِسْلامُ، وَلَنْ يَكُونَ الدِّينُ فِي مَحَلِّ الْقَبُولِ وَالرِّضَا إِلا بِانْضِمَامِ التَّصْدِيقِ إِلَى الْعَمَلِ.
قَالَ أَبُو سُلَيْمَانَ الْخَطَّابِيُّ: الْمُسْلِمُ قَدْ يَكُونُ مُؤْمِنًا فِي بَعْضِ الأَحْوَالِ، وَقَدْ لَا يَكُونُ مُؤْمِنًا فِي بَعْضِهَا، وَالْمُؤْمِنُ مُسْلِمٌ فِي جَمِيعِ الأَحْوَالِ، لأَنَّ أَصْلَ الإِسْلامِ: الاسْتِسْلامُ وَالانْقِيَادُ، وَأَصْلُ الإِيمَانِ: التَّصْدِيقُ، وَقَدْ يَكُونُ الْمَرْءُ مُسْتَسْلِمًا فِي الظَّاهِرِ غَيْرَ مُنْقَادٍ فِي الْبَاطِنِ، وَلا يَكُونُ صَادِقَ الْبَاطِنِ، غَيْرَ مُنْقَادٍ فِي الظَّاهِرِ، فَإِذًا كُلُّ مُؤْمِنٍ مُسْلِمٌ، وَلَيْسَ كُلُّ مُسْلِمٍ مُؤْمِنًا.
وَقَوْلُهُ: «مَا الإِحْسَانُ؟» فَإِنَّ مَعْنَى الإِحْسَانِ هَهُنَا: الإِخْلاصُ، وَهُوَ شَرْطٌ فِي صِحَّةِ الإِيمَانِ وَالإِسْلامِ مَعًا.
وَقَوْلُهُ: «أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّهَا» مَعْنَاهُ: أَنْ يَتَّسِعَ الإِسْلامُ، وَيَكْثُرَ السَّبْيُ، وَيَتَّخِذَ النَّاسُ السَّرَارِيَّ، وَيَكْثُرَ مِنْهُنَّ الأَوْلادُ، فَيَكُونَ ابْنُ الرَّجُلِ مِنْ أَمَتِهِ فِي مَعْنَى السَّيِّدِ لأُمِّهِ، إِذْ كَانَتْ مَمْلُوكَةً لأَبِيهِ، وَمِلْكُ الأَبِ رَاجِعٌ إِلَى الْوَلَدِ.
وَقَوْلُهُ: «وَأَنْ تَرَى الْعُرَاةَ الْحُفَاةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ»، قَالَ أَبُو سُلَيْمَانَ الْخَطَّابِيُّ: يُرِيدُ الْعَرَبَ الَّذِينَ هُمْ أَرْبَابُ الإِبِلِ وَرُعَاتُهَا، أَيْ: يَتَّسِعُ الإِسْلامُ، وَيَفْتَتِحُ هَؤُلاءِ الْبِلادَ، وَيَسْكُنُونَهَا، وَيَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ بَعْدَ أَنْ كَانُوا أَهْلَ النَّجْعِ لَا تَسْتَقِرُّ بِهِمْ دَارٌ.
وَقِيلَ: هَذَا كَمَا جَاءَ فِي حَدِيثٍ آخَرَ فِي أَشْرَاطِ السَّاعَةِ «وَيَتَكَلَّمُ فِيهِمُ الرُّوَيْبِضَةُ، وَهُوَ الرَّجُلُ التَّافِهُ يَنْطِقُ فِي أُمُورِ
তার থেকে [তা কবুল করা হবে না]} [আলে ইমরান: ৮৫]।
তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, সেই দীন যা তিনি তাঁর বান্দাদের নিকট থেকে পছন্দ করেন ও কবুল করেন তা হলো ইসলাম। আর কোনো ধর্ম ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল ও সন্তুষ্টির স্তরে উন্নীত হবে না যতক্ষণ না আমলের সাথে অন্তরের বিশ্বাসের সম্মিলন ঘটবে।
আবু সুলায়মান আল-খাত্তাবী বলেন: মুসলিম ব্যক্তি কোনো কোনো অবস্থায় মুমিন হতে পারে, আবার কোনো কোনো অবস্থায় মুমিন না-ও হতে পারে। কিন্তু মুমিন ব্যক্তি সর্বাবস্থায় মুসলিম। কারণ ইসলামের মূল হলো আত্মসমর্পণ ও আনুগত্য প্রকাশ করা, আর ঈমানের মূল হলো অন্তরের বিশ্বাস। মানুষ বাহ্যিকভাবে আত্মসমর্পণকারী হলেও অভ্যন্তরীণভাবে অনুগত না-ও হতে পারে, কিন্তু অভ্যন্তরীণভাবে বিশ্বাসী হয়ে বাহ্যিকভাবে অনুগত হবে না—এমনটি হয় না। সুতরাং প্রত্যেক মুমিনই মুসলিম, কিন্তু প্রত্যেক মুসলিম মুমিন নয়।
আর তাঁর উক্তি: "ইহসান কী?" এখানে ইহসানের অর্থ হলো ইখলাস বা নিষ্ঠা, যা ঈমান ও ইসলাম উভয়েরই সঠিক হওয়ার জন্য একটি শর্ত।
আর তাঁর উক্তি: "দাসী তার মালিককে জন্ম দেবে"—এর অর্থ হলো: ইসলামের প্রসার ঘটবে, যুদ্ধবন্দীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষ দাসীদের গ্রহণ করবে। তাদের থেকে অধিক হারে সন্তান জন্ম নেবে। ফলে কোনো ব্যক্তির দাসীর গর্ভজাত সন্তান তার মায়ের জন্য মনিবের সমতুল্য হবে, যেহেতু সে ছিল তার পিতার অধিকারভুক্ত, আর পিতার মালিকানা শেষ পর্যন্ত সন্তানের দিকেই বর্তায়।
আর তাঁর উক্তি: "আর তুমি দেখবে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন মেষপালকদের যারা অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করছে।" আবু সুলায়মান আল-খাত্তাবী বলেন: এর দ্বারা সেই সব আরবদের বুঝানো হয়েছে যারা উটের মালিক ও রাখাল ছিল। অর্থাৎ ইসলামের প্রসার ঘটবে এবং তারা বিভিন্ন ভূখণ্ড জয় করবে ও সেখানে বসবাস শুরু করবে। তারা অট্টালিকা নির্মাণে পরস্পর প্রতিযোগিতা করবে, অথচ এর আগে তারা ছিল যাযাবর যাদের কোনো স্থায়ী ঘরবাড়ি ছিল না।
আরও বলা হয়েছে: এটি কিয়ামতের আলামত সম্পর্কিত অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত কথার মতো, "আর তাদের মধ্যে রুওয়াইবিদা কথা বলবে।" সে হলো সেই তুচ্ছ ব্যক্তি যে জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ে কথা বলবে।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ১২)
الْعَامَّةِ»، وَقِيلَ: الرُّوَيْبِضَةُ: تَصْغِيرُ الرَّابِضَةِ، وَهُوَ رَاعِي الرَّبِيضِ، وَالرَّبِيضُ: الْغَنَمُ، وَالْهَاءُ لِلْمُبَالَغَةِ.
3 - أَنا أَبُو عُمَرَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَحْمَدَ الْمَلِيحِيُّ، أَنا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُعَيْمِ بْنِ الْخَلِيلِ السَّرَخْسِيُّ، أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ مَطَرٍ الْفَرَبْرِيُّ، حَدثنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْجُعْفِيُّ الْبُخَارِيُّ، نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، نَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدٍ هُوَ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ، دَخَلَ رَجُلٌ عَلَى جَمَلٍ، فَأَنَاخَهُ فِي الْمَسْجِدِ، ثُمَّ عَقَلَهُ، ثُمَّ قَالَ لَهُمْ: أَيُّكُمْ مُحَمَّدٌ؟ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُتَّكِئٌ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ، فَقُلْنَا: هَذَا الرَّجُلُ الأَبْيَضُ الْمُتَّكِئُ.
فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ: ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ! فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «قَدْ أَجَبْتُكَ».
فَقَالَ الرَّجُلُ: إِنِّي سَائِلُكَ فَمُشَدِّدٌ
সাধারণ জনগণের বিষয়াবলি; এবং বলা হয়েছে: 'রুওয়াইবিদ্বাহ' শব্দটি 'রাবিদ্বাহ' এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, যার অর্থ পালের রাখাল। আর 'রাবিদ্ব' হলো বকরি বা মেষের পাল। এখানে 'হা' (ة) বর্ণটি অতিশয়ার্থ বা আধিক্য বোঝাতে যুক্ত হয়েছে।
৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-মালিহি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হামিদ আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুআইম বিন আল-খালিল আস-সারাকসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন মাতার আল-ফিরাবরি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-জুয়ফি আল-বুখারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি শারিক বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি নামির থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আনাস বিন মালিককে বলতে শুনেছেন: একদা আমরা যখন মসজিদে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে উপবিষ্ট ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি উটের পিঠে সওয়ার হয়ে প্রবেশ করলেন। তিনি মসজিদের প্রাঙ্গণে উটটিকে বসালেন এবং সেটিকে বাঁধলেন। অতঃপর তিনি উপস্থিত সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন, "তোমাদের মধ্যে মুহাম্মদ কে?" তখন নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের মাঝে হেলান দিয়ে উপবিষ্ট ছিলেন। আমরা বললাম, "এই যে শ্বেতবর্ণের ব্যক্তিটি, যিনি হেলান দিয়ে বসে আছেন।"
তখন লোকটি তাকে সম্বোধন করে বললেন, "হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র!" নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, "আমি তোমার আহ্বানে সাড়া দিয়েছি।"
তখন লোকটি বললেন, "আমি আপনাকে কিছু বিষয় জিজ্ঞেস করব এবং প্রশ্নের ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করব..."
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
عَلَيْكَ فِي الْمَسْأَلَةِ، فَلا تَجِدْ عَلَيَّ فِي نَفْسِكَ.
فَقَالَ: «سَلْ عَمَّا بَدَا لَكَ».
فَقَالَ: أَسْأَلُكَ بِرَبِّكَ وَرَبِّ مَنْ قَبْلَكَ، آللَّهُ أَرْسَلَكَ إِلَى النَّاسِ كُلِّهِمْ؟ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ».
قَالَ: أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ، آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تُصَلِّيَ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ؟ قَالَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ».
قَالَ: أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ، آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَصُومَ هَذَا الشَّهْرَ مِنَ السَّنَةِ؟ قَالَ: «اللَّهُمَّ نَعَمْ».
قَالَ: أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ، آللَّهُ أَمَرَكَ أَنْ تَأْخُذَ هَذِهِ الصَّدَقَةَ مِنْ أَغْنِيَائِنَا فَتَقْسِمَهَا عَلَى فُقَرَائِنَا؟ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ نَعَمْ».
فَقَالَ الرَّجُلُ: آمَنْتُ بِمَا جِئْتَ بِهِ، وَأَنَا رَسُولُ مَنْ وَرَائِي مِنْ قَوْمِي، وَأَنَا ضِمَامُ بْنُ ثَعْلَبَةَ أَخُو بَنِي سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ ".
هَذَا حَدِيثٌ مُتَّفَقٌ عَلَى صِحَّتِهِ، وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ مِنْ طَرِيقِ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ، بِمَعْنَاهُ
قَوْلُهُ: أَنْشُدُكَ بِاللَّهِ، أَيْ: أَسْأَلُكَ، يُقَالُ: نَشَدْتُكَ اللَّهَ، أَيْ: سَأَلْتُكَ بِاللَّهِ بِرَفْعِ نَشِيدِي، أَيْ صَوْتِي، وَالنَّشِيدُ: رَفْعُ الصَّوْتِ، وَمِنْهُ: إِنْشَادُ الشِّعْرِ، وَهُوَ رَفْعُ الصَّوْتِ بِهِ، وَالنَّاشِدُ: الطَّالِبُ، سُمِّيَ
আপনার প্রতি প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে কঠোরতা হতে পারে, তাই আপনি আমার প্রতি মনে কিছু নেবেন না।
তিনি বললেন: "তোমার যা মনে আসে তা জিজ্ঞাসা করো।"
সে বলল: আমি আপনার রবের কসম দিয়ে এবং আপনার পূর্ববর্তীদের রবের কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কি আপনাকে সকল মানুষের প্রতি রসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: "হে আল্লাহ, হ্যাঁ।"
সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: "হে আল্লাহ, হ্যাঁ।"
সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে বছরের এই মাসটিতে সিয়াম পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: "হে আল্লাহ, হ্যাঁ।"
সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে আমাদের ধনীদের থেকে এই সদাকা গ্রহণ করতে এবং তা আমাদের দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করার নির্দেশ দিয়েছেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আল্লাহ, হ্যাঁ।"
তখন লোকটি বলল: আপনি যা নিয়ে এসেছেন আমি তার ওপর ঈমান আনলাম এবং আমি আমার পেছনে থাকা কওমের প্রতিনিধি। আমি দিমাম ইবনে সা'লাবা, বনু সা'দ ইবনে বকরের ভাই।"
এই হাদীসটি সহীহ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে, এবং ইমাম মুসলিম এটি সাবিতের সূত্রে আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "এক মরুবাসী ব্যক্তি আসল...", এই একই অর্থে।
তাঁর উক্তি: "আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি", অর্থাৎ: আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি। বলা হয়: "আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি", অর্থাৎ: আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি আমার 'নাশীদ' বা আওয়াজ উচ্চ করার মাধ্যমে। আর 'নাশীদ' হলো কণ্ঠস্বর উচ্চ করা। এর থেকেই এসেছে 'ইনশাদুশ শির' বা কবিতা আবৃত্তি করা, যা কণ্ঠ উচ্চ করার মাধ্যমেই হয়। আর 'নাশিদ' অর্থ হলো অন্বেষণকারী, একে অভিহিত করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بِهِ نَاشِدَ الضَّالَّةِ لِرَفْعِهِ صَوْتَهُ بِالطَّلَبِ.
وَقِيلَ فِي قَوْلِهِ سبحانه وتعالى: {وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ} [النِّسَاء: 1] أَيْ: تَطْلُبُونَ بِهِ حُقُوقَكُمْ، كَقَوْلِكَ: نَشَدْتُكَ بِاللَّهِ، أَيْ: سَأَلْتُكَ بِهِ.
وَفِي هَذَا الْحَدِيثِ دَلِيلٌ عَلَى جَوَازِ الْقِرَاءَةِ وَالْعَرْضِ عَلَى الْمُحَدِّثِ، ثُمَّ الرِّوَايَةِ عَنْهُ كَمَا لَوْ سَمِعَ مِنْهُ، وَهُوَ قَوْلُ جَمَاعَةٍ مِنْ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ، وَأَهْلِ الْعِلْمِ
4 - حَدَّثَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ، أَنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمُعَلِّمُ الطُّوسِيُّ، بِهَا، نَا الْقَاضِي أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ زَيْدٍ،
হারানো বস্তু অন্বেষণকারীর ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়, কারণ সে অনুসন্ধানের জন্য উচ্চকণ্ঠে আওয়াজ দেয়।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা করো} [আন-নিসা: ১] সম্পর্কে বলা হয়েছে: অর্থাৎ তোমরা যার মাধ্যমে তোমাদের অধিকারসমূহ দাবি করো; যেমন তোমার কথা: "আমি তোমাকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি", অর্থাৎ: আমি তাঁর মাধ্যমে তোমার কাছে চাচ্ছি।
এই হাদিসে মুহাদ্দিসের নিকট পাঠ করা এবং (হাদিস) পেশ করা, অতঃপর তাঁর থেকে এমনভাবে বর্ণনা করা যেন সরাসরি তাঁর নিকট থেকে শোনা হয়েছে—এর বৈধতার প্রমাণ রয়েছে। এটিই হাদিসের একদল ইমাম এবং বিজ্ঞ আলেমগণের অভিমত।
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইখ ইমাম আল-হুসাইন বিন মাসউদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-মুয়াল্লিম আত-তুসি—সেখানে (তুস শহরে)—তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিচারক আবু নাসর মুহাম্মদ বিন যাইদ,
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
إِمْلاءً، نَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْعَبْسِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ، نَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ هَاشِمٍ، نَا بَهْزٌ، نَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، قَالَ: قَالَ أَنَسٌ: كُنَّا نُهِينَا أَنْ نَسْأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ شَيْءٍ، وَكَانَ يُعْجِبُنَا أَنْ يَجِيءَ الرَّجُلُ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ الْعَاقِلُ، فَيَسْأَلُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: فَجَاءَ رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَتَانَا رَسُولُكَ، فَزَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ: «صَدَقَ».
قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ السَّمَاءَ؟ قَالَ: «اللَّهُ».
قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ الأَرْضَ؟ قَالَ: «اللَّهُ».
قَالَ: فَمَنْ نَصَبَ الْجِبَالَ؟ قَالَ: «اللَّهُ».
قَالَ: فَبِالَّذِي خَلَقَ السَّمَاءَ، وَخَلَقَ الأَرْضَ، وَنَصَبَ الْجِبَالَ، آللَّهُ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ».
قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِنَا وَلَيْلَتِنَا؟ قَالَ: «صَدَقَ».
قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ».
قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا زَكَاةً فِي أَمْوَالِنَا؟ قَالَ: «صَدَقَ».
قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ»،
শ্রুতিলিপি অনুযায়ী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-আবসি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ বিন আহমাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন হাশিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাহয, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইমান বিন আল-মুগিরাহ, সাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আনাস (রা.) বলেছেন: আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করতে নিষেধ করা হয়েছিল। তাই মরুচারী বেদুইনদের মধ্য থেকে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলে তা আমাদের খুব ভালো লাগত। তিনি বললেন: অতঃপর এক ব্যক্তি আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মাদ, আপনার প্রেরিত দূত আমাদের কাছে এসেছিলেন এবং আমাদের কাছে দাবি করেছেন যে আপনি নাকি দাবি করেন যে আল্লাহ আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: «সে সত্য বলেছে»।
তিনি বললেন: তবে আসমান কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: «আল্লাহ»।
তিনি বললেন: তবে জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? তিনি বললেন: «আল্লাহ»।
তিনি বললেন: তবে পাহাড়সমূহকে কে স্থাপন করেছেন? তিনি বললেন: «আল্লাহ»।
তিনি বললেন: অতএব, যিনি আসমান সৃষ্টি করেছেন, জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং পাহাড়সমূহ স্থাপন করেছেন, তাঁর শপথ করে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»।
তিনি বললেন: আপনার প্রেরিত দূত আরও দাবি করেছে যে আমাদের ওপর আমাদের দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত রয়েছে? তিনি বললেন: «সে সত্য বলেছে»।
তিনি বললেন: তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ করে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»।
তিনি বললেন: আপনার প্রেরিত দূত আরও দাবি করেছে যে আমাদের ধন-সম্পদে জাকাত রয়েছে? তিনি বললেন: «সে সত্য বলেছে»।
তিনি বললেন: তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ করে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»,
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا صَوْمَ شَهْرِ رَمَضَانَ فِي سُنَّتِنَا، فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: نَعَمْ.
قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا الْحَجَّ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلا؟ قَالَ: «صَدَقَ».
قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ، آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ».
قَالَ: ثُمَّ قَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا أَزْدَادُ عَلَيْهِنَّ وَلا أُنْقِصُ مِنْهُنَّ شَيْئًا، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ».
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هَاشِمٍ الْعَبْدِيِّ.
قَالَ: حَدَّثَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ، قَالَ: وَأَخْبَرَنَاهُ أَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الضَّبِّيُّ، ثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَرَّاحِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْمَحْبُوبِيُّ، ثَنَا أَبُو عِيسَى التِّرْمِذِيُّ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ: ثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ
وَأَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَبُو حَمْزَةَ النَّجَّارِيُّ الْخَزْرَجِيُّ، خَادِمُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، سَكَنَ الْبَصْرَةَ، مَاتَ بِهَا سَنَةَ ثَلاثٍ وَتِسْعِينَ، هُوَ وَجَابِرُ بْنُ زَيْدٍ فِي
তিনি বললেন: আপনার প্রেরিত দূত দাবি করেছেন যে আমাদের বছরগুলোতে আমাদের ওপর রমজান মাসের রোজা রাখা আবশ্যক। তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ করে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন: হ্যাঁ।
তিনি বললেন: আপনার প্রেরিত দূত আরও দাবি করেছেন যে আমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে তার ওপর হজ করা আবশ্যক? তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে।
তিনি বললেন: তবে যিনি আপনাকে পাঠিয়েছেন তাঁর শপথ করে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ।
তিনি বললেন: অতঃপর তিনি বললেন: সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি এগুলোর ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধি করব না এবং তা থেকে কোনো কিছু হ্রাসও করব না। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।
এটি একটি সহিহ হাদিস, যা ইমাম মুসলিম আবদুল্লাহ বিন হাশিম আল-আবদি থেকে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন: আমাদের নিকট শাইখ ইমাম আল-হুসাইন বিন মাসউদ বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট এটি সংবাদ দিয়েছেন আবু উসমান সাঈদ বিন ইসমাইল আদ-দাব্বি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল জাব্বার বিন মুহাম্মদ আল-জাররাহি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মাহবুবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ঈসা আত-তিরমিজি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আব্দুল হামিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলায়মান বিন আল-মুগিরা, এই একই সনদে।
আর আনাস বিন মালিক আবু হামজা আন-নাজ্জারি আল-খাযরাজি, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খাদেম, তিনি বসরায় বসবাস করতেন এবং সেখানেই তিরানব্বই হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন, তিনি এবং জাবির বিন যাইদ একই বছরে...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
جُمُعَةٍ، وَدُفِنَ بِالطَّفِّ عَلَى فَرْسَخَيْنِ مِنَ الْبَصْرَةِ، وَكَانَ آخِرَ مَنْ مَاتَ بِالْبَصْرَةِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، غَسَّلَهُ مُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ، وَقِيلَ: عَاشَ مِائَةَ سَنَةٍ إِلَّا سَنَةً، وَمَاتَ سَنَةَ إِحْدَى وَتِسْعِينَ، رَوَى عَنْهُ ثَابِتُ بْنُ أَسْلَمَ أَبُو مُحَمَّدٍ الْبُنَانِيُّ، مَاتَ ثَابِتٌ سَنَةَ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَمِائَةٍ.
بَابُ بَيَانِ أَعْمَالِ الإِسْلامِ وَثَوَابِ إِقَامَتِهَاقَالَ اللَّهُ سبحانه وتعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلا} [الْكَهْف: 107].
وَقَالَ: {الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ طُوبَى لَهُمْ وَحُسْنُ مَآبٍ} [الرَّعْد: 29].
6 - قَالَ: حَدَّثَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ: أَنا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَحْمَدَ الْمَلِيحِيُّ، أَنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النُّعَيْمِيُّ، أَنا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، نَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، نَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَنا حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رضي الله عنهما، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " بُنِيَ الإِسْلامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَأَنَّ
জুমুআর দিনে। তাকে বসরার দুই ফারসাখ দূরে তাফ নামক স্থানে দাফন করা হয়। তিনি ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে বসরার সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি। মুহাম্মদ ইবনে সিরিন তাঁকে গোসল করান। বলা হয় যে, তিনি এক বছর কম একশ বছর জীবিত ছিলেন এবং একানব্বই হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর থেকে সাবেত ইবনে আসলাম আবু মুহাম্মদ আল-বুনানী বর্ণনা করেছেন; সাবেত ১২৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
ইসলামের আমলসমূহ এবং সেগুলো পালনের সওয়াবের বর্ণনা পরিচ্ছেদআল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন: "নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে ফিরদাউস জান্নাত।" [আল-কাহফ: ১০৭]।
এবং তিনি বলেন: "যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের জন্য রয়েছে শুভ সংবাদ এবং উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।" [আর-রাদ: ২৯]।
৬ - তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শায়খ ইমাম হুসাইন ইবনে মাসউদ, আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমদ আল-মালিহি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নুয়াইমি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হানজালা ইবনে আবি সুফিয়ান, তিনি ইকরিমা ইবনে খালিদ থেকে, তিনি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই এবং..."
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالْحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ ".
هَذَا حَدِيثٌ مُتَّفَقٌ عَلَى صِحَّتِهِ، وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَنْظَلَةَ،
وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقُرَشِيُّ الْعَدَوِيُّ قَبِيلَةٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ، مَاتَ بِمَكَّةَ بَعْدَ الْحَجِّ، وَدُفِنَ بِالْمُحَصَّبِ سَنَةَ ثَلاثٍ وَسَبْعِينَ، وَهُوَ ابْنُ أَرْبَعٍ وَثَمَانِينَ سَنَةً.
وَعِكْرِمَةُ هُوَ عِكْرِمَةُ بْنُ خَالِدِ بْنِ الْعَاصِ الْمَخْزُومِيُّ الْقُرَشِيُّ، مَاتَ بَعْدَ عَطَاءٍ، وَمَاتَ عَطَاءٌ سَنَةَ خَمْسَ عَشْرَةَ، وَيُقَالُ: أَرْبَعَ عَشْرَةَ وَمِائَةٍ، انْتَهَتْ فَتْوَى أَهْلِ مَكَّةَ إِلَيْهِ وَإِلَى مُجَاهِدٍ، وَأَكْثَرُهَا إِلَى عَطَاءٍ.
7 - قَالَ: حَدَّثَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ، أَنا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الشِّيرَزِيُّ السَّرَخْسِيُّ، أَنا أَبُو عَلِيٍّ زَاهِرُ بْنُ أَحْمَدَ الْفَقِيهُ السَّرَخْسِيُّ، أَنا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ الْهَاشِمِيُّ السَّامريّ، أَنا أَبُو مُصْعَبٍ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الزُّهْرِيُّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ، ثَائِرَ الرَّأْسِ،
মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, হাজ্জ সম্পাদন করা এবং রমজানের সিয়াম পালন করা। ".
এটি একটি সর্বসম্মত বিশুদ্ধ হাদিস, এবং ইমাম মুসলিম এটি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর আল-হামদানি, তাঁর পিতা এবং হানজালাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব আবু আবদুর রহমান আল-কুরাশি আল-আদাউয়ি হলেন মুহাজিরদের একটি গোত্র থেকে; তিনি হজ্জের পর মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন এবং ৭৩ হিজরিতে আল-মুহাসসাবে তাকে দাফন করা হয়, সে সময় তার বয়স ছিল ৮৪ বছর।
আর ইকরিমা হলেন ইকরিমা ইবনে খালিদ ইবনুল আস আল-মাখজুমি আল-কুরাশি, তিনি আতা-এর পরে মৃত্যুবরণ করেন। আতা ১১৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, তবে বলা হয়ে থাকে যে ১১৪ হিজরিতে। মক্কাবাসীদের ফতোয়া প্রদানের কাজ তার এবং মুজাহিদের কাছে সমাপ্ত হয়েছিল, আর এর অধিকাংশ ছিল আতা-এর কাছে।
৭ - তিনি বলেন: শায়খ ইমাম হুসাইন ইবনে মাসউদ (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শিরাজি আস-সারখাসি আমাদের জানিয়েছেন, আবু আলী জাহির ইবনে আহমাদ আল-ফকিহ আস-সারখাসি আমাদের জানিয়েছেন, আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আবদুস সামাদ আল-হাশিমি আস-সামারি আমাদের জানিয়েছেন, আবু মুসআব আহমাদ ইবনে আবি বকর আজ-জুহরি আমাদের জানিয়েছেন মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি তাঁর চাচা আবু সুহাইল ইবনে মালিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, যিনি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহকে বলতে শুনেছেন যে: নজদ অঞ্চলের উসকোখুসকো চুলের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন,
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
نَسْمَعُ دَوِيَّ صَوْتِهِ، وَلا نَفْقَهُ مَا يَقُولُ حَتَّى دَنَا، فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الإِسْلامِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَمْسُ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ».
فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُنَّ؟ فَقَالَ: «لَا.
إِلا أَنْ تَطَّوَّعَ»، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَصِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ»، فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُ؟ قَالَ: «لَا.
إِلا أَنْ تَطَّوَّعَ»، قَالَ: وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الزَّكَاةَ، فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهَا؟ فَقَالَ: «لَا، إِلا أَنْ تَطَّوَّعَ».
قَالَ: فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ، وَهُوَ يَقُولُ: وَاللَّهِ لَا أُزِيدُ عَلَى هَذَا وَلا أُنْقِصُ مِنْهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَفْلَحَ الرَّجُلُ إِنْ صَدَقَ»، هَذَا حَدِيثٌ مُتَّفَقٌ عَلَى صِحَّتِهِ، أَخْرَجَهُ مُحَمَّدٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي أُوَيْسٍ، وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ، عَنْ قُتَيْبَةَ بْنِ سَعِيدٍ، كُلٌّ عَنْ مَالِكٍ.
আমরা তাঁর কণ্ঠের গুঞ্জন শুনতে পাচ্ছিলাম, কিন্তু তিনি কী বলছিলেন তা আমরা বুঝতে পারছিলাম না যতক্ষণ না তিনি নিকটবর্তী হলেন। অতঃপর দেখা গেল তিনি ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত।»
সে বলল: আমার ওপর কি এগুলি ব্যতীত অন্য কিছু কর্তব্য রয়েছে? তিনি বললেন: «না।
তবে যদি তুমি স্বেচ্ছায় (নফল) কিছু করো», আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «এবং রমজান মাসের সিয়াম», সে বলল: আমার ওপর কি এ ব্যতীত অন্য কিছু কর্তব্য রয়েছে? তিনি বললেন: «না।
তবে যদি তুমি স্বেচ্ছায় (নফল) কিছু করো», বর্ণনাকারী বলেন: এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট জাকাতের কথা উল্লেখ করলেন। সে বলল: আমার ওপর কি এ ব্যতীত অন্য কিছু কর্তব্য রয়েছে? তিনি বললেন: «না, তবে যদি তুমি স্বেচ্ছায় (নফল) কিছু করো।»
বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর লোকটি এই বলতে বলতে পিঠ ফিরিয়ে চলে গেল: আল্লাহর কসম, আমি এর ওপর বৃদ্ধি করব না এবং তা থেকে কমাবও না। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «সে যদি সত্য বলে থাকে তবে সে সফলকাম হবে», এটি এমন একটি হাদিস যার বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে। মুহাম্মাদ এটি ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস থেকে এবং মুসলিম এটি কুতাইবা ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সকলে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَطَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ أَبُو مُحَمَّدٍ تَيْمِيٌّ قُرَشِيٌّ، قُتِلَ يَوْمَ الْجَمَلِ، وَذَلِكَ سَنَةَ سِتٍّ وَثَلاثِينَ.
وَمَالِكٌ الَّذِي رَوَى عَنْهُ هُوَ مَالِكُ بْنُ أَبِي عَامِرٍ الأَصْبَحِيُّ، جَدُّ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، وَكُنْيَتُهُ أَبُو أَنَسٍ، رَوَى عَنْهُ ابْنُهُ أَبُو سُهَيْلٍ، وَاسْمُهُ نَافِعُ بْنُ مَالِكٍ.
قَوْلُهُ: «دَوِيَّ صَوْتِهِ» دَوِيُّ الشَّيْءِ: حَفِيفُهُ.
وَقَوْلُهُ: «أَفْلَحَ»، أَيْ: فَازَ، وَيُقَالُ لِكُلِّ مَنْ أَصَابَ خَيْرًا: مُفْلِحٌ، وَالْفَلاحُ: الْبَقَاءُ، وَقِيلَ مَعْنَى قَوْلِ الْمُؤَذِّنِ: حَيِّ عَلَى الْفَلاحِ، أَيْ هَلُمُّوا إِلَى سَبَبِ الْبَقَاءِ فِي الْجَنَّةِ
8 - قَالَ: حَدَّثَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ، أَخْبَرَنَا الإِمَامُ أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْقَاضِي، أَنا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَحْمِشٍ الزِّيَادِيُّ، نَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ الصَّيْدَلانِيُّ، نَا أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَصْرٍ، نَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، نَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ مُوسَى بْنُ طَلْحَةَ يَذْكُرُ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا عَرَضَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسِيرٍ لَهُ، فَقَالَ:
তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ আবু মুহাম্মাদ তাইমি কুরাশি, তিনি উটের যুদ্ধে নিহত হন, আর তা ছিল ছত্রিশ হিজরি সনে।
এবং মালিক যিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন মালিক ইবনে আবি আমির আল-আসবাহি, যিনি মালিক ইবনে আনাসের দাদা, এবং তাঁর উপনাম হলো আবু আনাস। তাঁর থেকে তাঁর পুত্র আবু সুহাইল বর্ণনা করেছেন, আর তাঁর নাম নাফি ইবনে মালিক।
তাঁর বাণী: "তাঁর কণ্ঠস্বরের গুঞ্জন", কোনো বস্তুর 'দাউই' হলো তার মৃদু গুঞ্জন।
এবং তাঁর বাণী: "সফল হয়েছে", অর্থাৎ: জয়ী হয়েছে। আর যে ব্যক্তিই কল্যাণ লাভ করে তাকে সফল বলা হয়। আর 'ফালাহ' অর্থ হলো স্থায়িত্ব। বলা হয়েছে যে, মুয়াজ্জিনের উক্তি "সাফল্যের দিকে এসো"-এর অর্থ হলো: তোমরা জান্নাতে চিরস্থায়ী হওয়ার কারণের দিকে এসো।
৮ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইখ ইমাম হুসাইন ইবনে মাসউদ, আল্লাহ তাঁর রুহকে পবিত্র করুন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আল-কাদি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহির মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মাহমিশ আজ-জিয়াদি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ইসহাক আস-সাইদালানি; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নাসর আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে নাসর; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুয়াইম আল-ফজল ইবনে দুকাইন; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে উসমান, তিনি বলেন: আমি মুসা ইবনে তালহাকে আবু আইয়ুব আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, জনৈক বেদুইন এক সফরে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথ আগলে দাঁড়াল এবং বলল:
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ২১)
أَخْبِرْنِي مَا يُقَرِّبُنِي مِنَ الْجَنَّةِ، وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ؟ قَالَ عليه الصلاة والسلام: «تَعْبُدُ اللَّهَ لَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصِلُ الرَّحِمَ»، هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ، أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ، عَنِ ابْنِ نُمَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ
وَأَبُو أَيُّوبَ الأَنْصَارِيُّ اسْمُهُ خَالِدُ بْنُ زَيْدٍ الْخَزْرَجِيُّ، شَهِدَ بَدْرًا، مَاتَ فِي زَمَنِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ.
وَمُوسَى بْنُ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ أَبُو عِيسَى التَّيْمِيُّ الْقُرَشِيُّ، مَاتَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَمِائَةٍ
9 - قَالَ: حَدَّثَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ، رحمه الله: أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الصَّالِحِيُّ، أَنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، نَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، نَا أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورٍ الرَّمَادِيُّ، نَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ.
ح نَا الإِمَامُ الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ، أَنا أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الطَّاهِرِيُّ، أَنا جَدِّي أَبُو سَهْلٍ عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْبَزَّازُ، أَنا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ عُذَافِرٍ، أَنا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبَّادٍ الدَّبَرِيُّ، نَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: انْتَهَيْتُ إِلَى رَجُلٍ يُحَدِّثُ قَوْمًا، فَجَلَسْتُ، فَقَالَ: وُصِفَ لِي
আমাকে এমন আমল সম্পর্কে অবহিত করুন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে? তিনি (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) বললেন: «তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে», এটি একটি সহিহ হাদিস, মুসলিম এটি ইবনে নুমাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আমর ইবনে উসমান থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর আবু আইয়ুব আল-আনসারী, তাঁর নাম খালিদ ইবনে যায়েদ আল-খাযরাজী, তিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার শাসনকালে ইন্তেকাল করেন।
আর মুসা ইবনে তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ আবু ইসা আত-তাইমী আল-কুরাশী, তিনি একশত চার হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
৯ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট শাইখ ইমাম হুসাইন ইবনে মাসউদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আস-সালিহী সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে মানসুর আর-রামাদী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন।
(সূত্র পরিবর্তন) আমাদের নিকট ইমাম হুসাইন ইবনে মাসউদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তাহিরী সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট আমার দাদা আবু সাহল আব্দুস সামাদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-বাযযায সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া ইবনে উযাফির সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে আব্বাদ আদ-দাবারী সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মা'মার সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি মুগিরা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এক ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হলাম যিনি একদল লোকের নিকট হাদীস বর্ণনা করছিলেন, তখন আমি বসলাম, তিনি বললেন: আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ২২)
رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا بِمِنًى غَادِيًا إِلَى عَرَفَاتٍ، فَجَعَلْتُ أَتَشَرَّفُ الرِّكَابَ، كُلَّمَا رُفِعَتْ لِي جَمَاعَةٌ دُفِعْتُ إِلَيْهِمْ، حَتَّى أَتَيْتُ إِلَى جَمَاعَةٍ مِنْ رَكْبٍ، فَانْطَلَقْتُ فَقَدَمْتُهُمْ، فَنَظَرْتُ فَعَرَفْتُهُ بِالصِّفَةِ، فَتَقَدَّمْتُ بَيْنَ يَدَيِ الرِّكَابِ، فَلَمَّا دَنَوْتُ، قَالَ بَعْضُهُمْ: خَلِّ عَنْ وُجُوهِ الرِّكَابِ يَا عَبْدَ اللَّهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «دَعُوهُ فَأَرَبٌ مَا لَهُ» ، فَدَنَوْتُ فَأَخَذْتُ بِالزِّمَامِ، أَوْ قَالَ: بِالْخِطَامِ.
فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، حَدِّثْنِي بِعَمَلٍ يُقَرِّبُنِي إِلَى الْجَنَّةِ وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ.
قَالَ: «تُقِيمُ الصَّلاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَحُجُّ الْبَيْتَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، وَتُحِبُّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ أَنْ يُؤْتَى إِلَيْكَ وَتَكْرَهُ لَهُمْ مَا تَكْرَهُ أَنْ يُؤْتَى إِلَيْكَ.
خَلِّ عَنْ وُجُوهِ الرِّكَابِ»
قَوْلُهُ: «فَأَرَبٌ مَا لَهُ»، أَيْ: فَحَاجَةٌ جَاءَتْ بِهِ، فَدَعُوهُ، وَ «مَا» صِلَةٌ،
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিনায় থাকাবস্থায় সকালে আরাফাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। আমি আরোহীদের দেখার জন্য উঁকি দিতে লাগলাম। যখনই আমার নিকট কোনো দল প্রকাশ পেত, আমি তাদের দিকে ছুটে যেতাম। অবশেষে আমি আরোহীদের একটি দলের কাছে পৌঁছলাম। আমি দ্রুত চলে তাদের সামনে উপস্থিত হলাম। আমি তাকিয়ে তাঁর বৈশিষ্ট্য দেখে তাঁকে চিনে ফেললাম। আমি আরোহীদের সামনে এগিয়ে গেলাম। যখন আমি নিকটে পৌঁছলাম, তখন তাদের কেউ বলল: ‘হে আল্লাহর বান্দা, আরোহীদের চলার পথ থেকে সরে যাও।’ তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ‘তাকে ছেড়ে দাও, তার একটি বিশেষ প্রয়োজন আছে।’ অতঃপর আমি নিকটে গিয়ে লাগাম ধরলাম, অথবা তিনি বলেছিলেন: নাকের দড়ি ধরলাম।
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।
তিনি বললেন: ‘তুমি সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, বায়তুল্লাহর হজ করবে, রমজানের সিয়াম পালন করবে এবং মানুষের জন্য তা-ই পছন্দ করবে যা তুমি নিজের জন্য পেতে পছন্দ করো, আর তাদের জন্য তা-ই অপছন্দ করবে যা তুমি নিজের জন্য অপছন্দ করো।
এখন আরোহীদের সম্মুখভাগ ছেড়ে দাও।’
তাঁর বাণী: ‘তার বিশেষ প্রয়োজন আছে’, অর্থাৎ: কোনো প্রয়োজন তাকে নিয়ে এসেছে, সুতরাং তাকে ছেড়ে দাও। এখানে ‘মা’ শব্দটি সংযোগকারী অব্যয় হিসেবে এসেছে।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَالأَرَبُ وَالإِرْبَةُ وَالْمَأْرُبَةُ: الْحَاجَةُ، وَرَوَى بَعْضُهُمْ: أَرِبَ عَلَى الْفِعْلِ الْمَاضِي، قَالَ ابْنُ الأَعْرَابِيِّ: مَعْنَاهُ: أَيِ احْتَاجَ فَسَأَلَ، فَمَا لَهُ.
وَقَالَ الْقُتَيْبِيُّ: أَرِبَ، أَيْ: سَقَطَتْ آرَابُهُ، أَيْ: أَعْضَاؤُهُ وَأُصِيبَتْ، وَهَذِهِ كَلِمَةٌ لَا يُرَادُ بِهَا وُقُوعُ الأَمْرِ، كَقَوْلِهِمْ: تَرِبَتْ يَدَاكَ، وَقِيلَ: ظَاهِرُهُ دُعَاءٌ، وَمَعْنَاهُ التَّعَجُّبُ، فَيَجْرِي مَجْرَى قَوْلِهِ: «لِلَّهِ دَرُّكَ».
وَيُرْوَى: أَرِبٌ، بِضَمِّ الْبَاءِ وَتَنْوِينِهَا، مَعْنَاهُ: الرَّجُلُ أَرِبٌ، أَيْ: حَاذِقٌ، أَيْ: ذُو أَرَبٍ وَخِبْرَةٍ، يُقَالُ: أَرُبَ الرَّجُلُ، بِضَمِّ الرَّاءِ، إِذَا صَارَ ذَا فِطْنَةٍ.
10 - قَالَ: حَدَّثَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ، رحمه الله، أَنا أَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الضَّبِّيُّ الْهَرَوِيُّ، أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْجَرَّاحِ الْمَرْوَزِيُّ، أَنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَحْبُوبِ بْنِ فُضَيْلٍ الْمَحْبُوبِيُّ، نَا أَبُو عِيسَى مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ سَوْرَةَ التِّرْمِذِيُّ الْحَافِظُ، نَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكِنْدِيُّ الْكُوفِيُّ، نَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، أَنا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي سُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ، فَقَالَ: «اتَّقُوا اللَّهَ، وَصَلُّوا خَمْسَكُمْ، وَصُومُوا شَهْرَكُمْ، وَأَدُّوا زَكَاةَ أَمْوَالِكُمْ، وَأَطِيعُوا ذَا أَمْرِكُمْ، تَدْخُلُوا جَنَّةَ رَبِّكُمْ».
قَالَ: قُلْتُ لأَبِي أُمَامَةَ: مُنْذُ كَمْ سَمِعْتَ هَذَا الْحَدِيثَ؟ قَالَ:
'আল-আরব', 'আল-ইরবাহ' এবং 'আল-মারুবাহ' এর অর্থ হলো অভাব বা প্রয়োজন। কেউ কেউ 'আরিবাহ' শব্দটিকে অতীতকাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল আরাবী বলেন: এর অর্থ হলো—সে অভাবগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রার্থনা করেছে, তাই তার যা হওয়ার ছিল তা হয়েছে।
আল-কুতাইবী বলেন: 'আরিবা' অর্থ হলো—তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ ঝরে পড়ুক এবং সে আক্রান্ত হোক। এটি এমন একটি শব্দ যা দ্বারা আক্ষরিকভাবে কোনো অশুভ ঘটনা ঘটা উদ্দেশ্য থাকে না, যেমন আরবদের প্রবাদতুল্য কথা: 'তোমার হাত ধূলিময় হোক'। আরও বলা হয়ে থাকে যে, বাহ্যত এটি অভিশাপমূলক মনে হলেও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো বিস্ময় প্রকাশ করা; ফলে এটি 'লিল্লাহি দাররুকা' (তোমার কল্যাণ হোক/তুমি কতই না চমৎকার) বাক্যটির ন্যায় ব্যবহৃত হয়।
আবার 'আরিবুন' (বা বর্ণে পেশ এবং তানভীন সহকারে) বর্ণিত হয়েছে, যার অর্থ হলো: ব্যক্তিটি অত্যন্ত কুশলী ও বিজ্ঞ অর্থাৎ সে প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার অধিকারী। বলা হয়: 'আরুবা' (রা বর্ণে পেশ সহকারে) অর্থাৎ যখন কোনো ব্যক্তি তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমান হয়ে ওঠে।
১০ - তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইখ ইমাম হুসাইন ইবন মাসউদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)। তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু উসমান সাঈদ ইবন ইসমাইল আদ-দাব্বি আল-হারাওয়ি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল জাব্বার ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আল-জাররাহ আল-মারওয়াযি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন মাহবুব ইবন ফুযাইল আল-মাহবুবি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবন ঈসা ইবন সাওরাহ আত-তিরমিযি আল-হাফিয। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবন আবদুর রহমান আল-কিন্দি আল-কুফি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদ ইবনুল হুবাব। আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন মুয়াবিয়া ইবন সালিহ। তিনি বলেন: সুলাইম ইবন আমির আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আবু উমামা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি বিদায় হজের ভাষণে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তোমাদের পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করো, তোমাদের (নির্ধারিত) মাসের সিয়াম পালন করো, তোমাদের ধন-সম্পদের যাকাত প্রদান করো এবং তোমাদের আদেশদাতার (নেতৃবৃন্দের) আনুগত্য করো; তবেই তোমরা তোমাদের রবের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।"
তিনি বলেন: আমি আবু উমামাকে বললাম, আপনি কতদিন আগে এই হাদিসটি শুনেছেন? তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
سَمِعْتُه وَأَنَا ابْنُ ثَلاثِينَ سَنَةً.
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ
وأَبُو أُمَامَةَ الْبَاهِلِيُّ اسْمُهُ صُدَيُّ بْنُ عَجْلانَ، مِنْ قَيْسِ عَيْلانَ بْنِ مُضَرَ، نَزَلَ الشَّامَ، وَمَاتَ سَنَةَ سِتٍّ وَثَمَانِينَ، وَهُوَ ابْنُ إِحْدَى وَتِسْعِينَ.
وَسُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ أَبُو عَلِيٍّ الْخَبَايِرِيُّ، وَيُقَالُ: الْكَلاعِيُّ الشَّامِيُّ
11 - قَالَ: حَدَّثَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَدَّسَ اللَّهُ رُوحَهُ، أَنا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ مَنْصُورٍ الْمُلَقَّبُ بِالصَّالِحِيِّ، أَنا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ السكْرِيُّ، بِبَغْدَادَ، أَنا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ سَيَّارٍ الرَّمَادِيُّ، نَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الإِمَامُ الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ: وَأَخْبَرَنَا أَبُو سَعِيدٍ الطَّاهِرِيُّ، أَنا جَدِّي عَبْدُ الصَّمَدِ الْبَزَّازُ، أَنا مُحَمَّدُ بْنُ زَكَرِيَّا الْعُذَافِرِيُّ،
আমি এটি শুনেছি যখন আমার বয়স ছিল ত্রিশ বছর।
এটি একটি হাসান হাদিস।
আর আবু উমামাহ আল-বাহিলি, তাঁর নাম হলো সুদাই ইবনে আজলান, তিনি কায়স আয়লান ইবনে মুদার বংশোদ্ভূত, তিনি সিরিয়ায় বসতি স্থাপন করেন এবং ছিয়াশি হিজরি সনে একানব্বই বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
আর সুলাইম ইবনে আমির আবু আলী আল-খাবাইরি, তাঁকে আল-কালায়ি আশ-শামিও বলা হয়।
১১ - তিনি বলেন: শায়খ ইমাম হুসাইন ইবনে মাসউদ—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হামিদ আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আলী ইবনে মনসুর আস-সালিহি উপাধিপ্রাপ্ত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হুসাইন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান আস-সুক্কারি বাগদাদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমদ ইবনে মনসুর ইবনে সাইয়ার আর-রমাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি (আহমদ ইবনে মনসুর) বলেন: ইমাম হুসাইন ইবনে মাসউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আত-তহিরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা আব্দুস সামাদ আল-বাযযার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আল-উজাফিরি।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أَنا إِسْحَاقُ الدَّبَرِيُّ، نَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنا مَعْمَرٌ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ، فَأَصْبَحْتُ يَوْمًا قَرِيبًا مِنْهُ وَهُوَ يَسِيرُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ، وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ؟ قَالَ: قَدْ سَأَلْتَ عَنْ عَظِيمٍ، وَإِنَّهُ لَيَسِيرٌ عَلَى مَنْ يَسَّرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ، تَعْبُدُ اللَّهَ وَلا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، وَتَحُجُّ الْبَيْتَ ".
ثُمَّ قَالَ: «أَلا أَدُلُّكَ عَلَى أَبْوَابِ الْخَيْرِ؟ الصَّوْمُ جُنَّةٌ، والصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ، وَصَلاةُ الرَّجُلِ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ»، ثُمَّ قَرَأَ: {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ.
حَتَّى بَلَغَ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [السَّجْدَة: 16 - 17]، ثُمَّ قَالَ: «أَلا أُخْبِرُكَ بِرَأْسِ الأَمْرِ، وَعَمُودِهِ، وَذِرْوَةِ سَنَامِهِ؟» قُلْتُ: بَلَى، يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: " رَأْسُ الأَمْرِ: الإِسْلامُ، وَعَمُودُهُ الصَّلاةُ، وَذِرْوَةُ سَنَامِهِ الْجِهَادُ ، ثُمَّ قَالَ: «أَلا أُخْبِرُكَ بِمِلاكِ ذَلِكَ كُلِّهِ؟» قُلْتُ: بَلَى، يَا نَبِيَّ
আমি ইসহাক আদ-দাবারী, আমাদের জানিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের জানিয়েছেন মা'মার, আসিম ইবনে আবি আন-নাজুদ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। একদিন সকালে আমি তাঁর খুব কাছে ছিলাম যখন তিনি পথ চলছিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তিনি বললেন: তুমি এক মহান বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ। আর আল্লাহ যার জন্য এটি সহজ করে দেন, তার জন্য এটি অবশ্যই সহজ। তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, রমজানের রোজা রাখবে এবং বায়তুল্লাহর হজ আদায় করবে।
অতঃপর তিনি বললেন: "আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাসমূহ সম্পর্কে জানাব না? রোজা হলো ঢাল, সদকা গুনাহকে মিটিয়ে দেয় এবং গভীর রাতে ব্যক্তির সালাত আদায় করা।" অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে পৃথক থাকে...
তারা যা করত তার প্রতিদানস্বরূপ পর্যন্ত} [আস-সাজদাহ: ১৬-১৭]। এরপর তিনি বললেন: "আমি কি তোমাকে দ্বীনের মূল বিষয়, এর স্তম্ভ এবং এর সর্বোচ্চ শিখর সম্পর্কে অবহিত করব না?" আমি বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: "দ্বীনের মূল বিষয় হলো ইসলাম, এর স্তম্ভ হলো সালাত এবং এর সর্বোচ্চ শিখর হলো জিহাদ।" এরপর তিনি বললেন: "আমি কি তোমাকে এই সবকিছুর মূল ভিত্তি সম্পর্কে বলে দেব না?" আমি বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর নবী।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
اللَّهِ، قَالَ: فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ، وَقَالَ: «اكْفُفْ عَلَيْكَ هَذَا».
فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَإِنَّا لَمُؤَاخَذُونَ بِمَا نَتَكَلَّمُ بِهِ؟ فَقَالَ: «ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مُعَاذُ، وَهَلْ يُكِبُّ النَّاسَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ»، أَوْ قَالَ: «عَلَى مَنَاخِرِهِمْ إِلا حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ؟» قَالَ أَبُو عِيسَى: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
وَمُعَاذُ بْنُ جَبَل أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَنْصَارِيُّ الْخَزْرَجِيُّ، مَاتَ فِي طَاعُونِ عَمْوَاسٍ سَنَةَ سَبْعٍ أَوْ ثَمَانِ عَشْرَةَ، وَأَبُو وَائِلٍ هُوَ شَقِيقُ بْنُ سَلَمَةَ الأَسَدِيُّ، أَدْرَكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْهُ شَيْئًا، وَذِرْوَةُ السَّنَامِ: أَعْلاهُ.
وَقَوْلُهُ: «إِلا حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ»، يَعْنِي: مَا يَقْتَطِعُهُ مِنَ الْكَلامِ، شُبِّهَ بِمَا يُحْصَدُ مِنَ الزَّرْعِ إِذَا جُزَّ.
وَقَوْلُهُ: {حَتَّى جَعَلْنَاهُمْ حَصِيدًا خَامِدِينَ} [الْأَنْبِيَاء: 15] أَيْ: حُصِدُوا بِالسَّيْفِ وَالْمَوْتِ حَتَّى خَمَدُوا، وَخُمُودُ الإِنْسَانِ: مَوْتُهُ.
12 - قَالَ الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ، رحمه الله: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَحْمَدَ الْمَلِيحِيُّ، أَنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ النُّعَيْمِيُّ، أَنا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ،
আল্লাহর। তিনি বললেন: অতঃপর তিনি তাঁর জিহ্বা ধরলেন এবং বললেন: "একে তোমার নিয়ন্ত্রণে রাখো।"
আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল, আমরা যা কথা বলি তার জন্য কি আমাদের পাকড়াও করা হবে?" তিনি বললেন: "তোমার মা তোমাকে হারাক হে মুয়ায! মানুষের জিহ্বার উপার্জিত ফসল ছাড়া আর কি কোনো কিছু মানুষকে তাদের চেহারার ওপর," অথবা তিনি বলেছেন: "তাদের নাকের ওপর ভর করে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করবে?" আবু ঈসা বলেন: এই হাদিসটি হাসান সহীহ।
আর মুয়ায ইবনে জাবাল আবু আবদুর রহমান আল-আনসারী আল-খাযরাজী সতেরো অথবা আঠারো হিজরি সনে আমওয়াস মহামারিতে মৃত্যুবরণ করেন। আর আবু ওয়াইল হলেন শাকীক ইবনে সালামা আল-আসাদী, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ পেয়েছেন কিন্তু তাঁর থেকে সরাসরি কিছু শুনেননি। আর 'যিরওয়াতুস সানাম' অর্থ হলো: কোনো কিছুর সর্বোচ্চ শিখর বা উপরিভাগ।
আর তাঁর বাণী: "তাদের জিহ্বার ফসল ব্যতীত", এর অর্থ হলো: মানুষ কথার মাধ্যমে যা অর্জন করে। ফসল কাটার সময় শস্যকে যেভাবে কর্তন করা হয়, তার সাথে মানুষের কথাকে তুলনা করা হয়েছে।
আর মহান আল্লাহর বাণী: "পরিশেষে আমি তাদেরকে করে দিলাম কর্তিত শস্য সদৃশ প্রাণহীন" [সূরা আল-আম্বিয়া: ১৫] অর্থাৎ: তলোয়ার ও মৃত্যুর মাধ্যমে তাদেরকে শস্যের ন্যায় কেটে সাবাড় করা হয়েছে এমনকি তারা নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। আর মানুষের নিস্তেজ হওয়া বলতে তার মৃত্যুকে বোঝায়।
১২ - শায়খ ইমাম হুসাইন ইবনে মাসউদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ আল-মালিহী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ আন-নুয়াইমী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ,
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
نَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، نَا زَكَرِيَّا، عَنْ عَامِرٍ، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ».
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ
وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ بْنِ وَائِلٍ السَّهْمِيُّ الْقُرَشِيُّ أَبُو مُحَمَّدٍ، مَاتَ سَنَةَ تِسْعٍ وَسِتِّينَ، وَيُقَالُ: ثَمَانٍ، وَأَبُوهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ.
وَعَامِرٌ هُوَ عَامِرُ بْنُ شَرَاحِيلَ أَبُو عَمْرٍو الشَّعْبِيُّ، كُوفِيٌّ أَدْرَكَ خَمْسَ مِائَةَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، مَاتَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَمِائَةٍ، وَقَالَ أَبُو مِجْلَزٍ: عَامِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَرَوَى عَنِ الشَّعْبِيِّ، زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي زَائِدَةَ أَبُو يَحْيَى الْأَعْمَى، هَمْدَانِيٌّ، كُوفِيٌّ، وَاسْمُ أَبِي زَائِدَةَ: خَالِدٌ.
قَوْلُهُ: «مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ»: أَرَادَ أَنَّ الْمُسْلِمَ الْمَمْدُوحَ، وَالْمُهَاجِرَ
মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুয়াইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাকারিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমের থেকে বর্ণিত, আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে এবং মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা ত্যাগ করে।"
এটি একটি সহিহ হাদিস।
আর আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস ইবনে ওয়ায়েল আস-সাহমি আল-কুরাশি আবু মুহাম্মদ, তিনি উনসত্তর হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং বলা হয় যে আটষট্টি সনে; তাঁর পিতা হলেন আবু আবদুল্লাহ আমর ইবনুল আস।
আর আমের হলেন আমের ইবনে শারাহিল আবু আমর আশ-শাবি, তিনি কুফার অধিবাসী ছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাঁচশত সাহাবীর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন, তিনি একশত চার হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। আবু মিজলাজ বলেন: আমের ইবনে আবদুল্লাহ; আর শাবি থেকে বর্ণনা করেছেন জাকারিয়া ইবনে আবি জায়েদা আবু ইয়াহিয়া আল-আ’মা, তিনি হামদানি ও কুফার অধিবাসী ছিলেন এবং আবু জায়েদার নাম ছিল খালিদ।
তাঁর বাণী: "যার থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে": এর দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য করেছেন যে সেই প্রশংসিত মুসলিম এবং মুহাজির...
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الْمَمْدُوحَ مَنْ هَذِهِ صِفَتُهُ، لَا أَنَّ الإِسْلامَ يَنْتَفِي عَمَّنْ لَمْ يَكُنْ بِهَذِهِ الصِّفَةِ، فَهُوَ كَقَوْلِهِمُ: النَّاسُ الْعَرَبُ، وَالْمَالُ الإِبِلُ، يُرِيدُ الأَفْضَلَ مِنْهَا، كَذَلِكَ أَفْضَلُ الْمُسْلِمِينَ مَنْ جَمَعَ إِلَى أَدَاءِ حُقُوقِ اللَّهِ تَعَالَى أَدَاءَ حُقُوقِ الْمُسْلِمِينَ، وَالْكَفَّ عَنْ أَعْرَاضِهِمْ، وَأَفْضَلُ الْمُهَاجِرِينَ مَنْ جَمَعَ إِلَى هِجْرَانِ وَطَنِهِ هِجْرَانَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ
13 - قَالَ الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ، رحمه الله: أَخْبَرَنَا الإِمَامُ أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقَاضِي، أَنا الْقَاضِي أَبُو زَيْدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَبِيبٍ النَّيْسَابُورِيُّ، نَا أَبُو الْوَلِيدِ حَسَّانُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَقِيهُ، نَا الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّا الْمُطَرِّزُ أَبُو بَكْرٍ، نَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى، نَا أَبِي، نَا بُرَيْدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الإِسْلامِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ».
هَذَا حَدِيثٌ مُتَّفَقٌ عَلَى صِحَّتِهِ، أَخْرَجَاهُ جَمِيعًا عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقُرَشِيِّ الأُمَوِيِّ
وَأَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَيْسٍ، وَابْنُهُ أَبُو بُرْدَةَ عَامِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ.
قَوْلُهُ: «أَيُّ الإِسْلامِ أَفْضَلُ»؟ أَيْ: أَيُّ خِصَالِ الإِسْلامِ أَفْضَلُ؟
14 - قَالَ الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ، رحمه الله: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي تَوْبَةَ، أَنا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَارِثِ، أَنا مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ
প্রশংসিত ব্যক্তি তিনি যার মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান; এমন নয় যে যার মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য নেই তার থেকে ইসলাম বিলুপ্ত হয়ে যায়। বরং এটি তাদের (আরবদের) কথার মতো: "মানুষ বলতে তো আরব" এবং "সম্পদ বলতে তো উট", এর দ্বারা তারা এগুলোর মধ্যে যা শ্রেষ্ঠ তা উদ্দেশ্য করে থাকে। তদ্রূপ মুসলমানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তিনি, যিনি মহান আল্লাহর হক আদায়ের পাশাপাশি মুসলমানদের হক আদায় এবং তাদের সম্মানহানি থেকে বিরত থাকাকে একত্রিত করেছেন। আর মুহাজিরদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তিনি, যিনি নিজ স্বদেশ ত্যাগ করার পাশাপাশি মহান আল্লাহ যা কিছু হারাম করেছেন তা বর্জন করাকে একত্রিত করেছেন।
১৩ - শায়খ ইমাম হুসাইন বিন মাসউদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-কাজী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজী আবু যাইদ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন হাবিব আন-নাইসাবুরি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়ালিদ হাসসান বিন মুহাম্মদ আল-ফকিহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর আল-কাসিম বিন জাকারিয়া আল-মুতাররিজ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন ইয়াহইয়া, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বুরাইদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি বুরদাহ, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! ইসলামের কোন বিষয়টি শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: "যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমানগণ নিরাপদ থাকে।"
এটি এমন একটি হাদিস যার বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে। তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) উভয়েই এটি সাঈদ বিন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কুরাশি আল-উমাবি থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর আবু মুসা আল-আশআরির নাম হলো আব্দুল্লাহ বিন কাইস, এবং তাঁর পুত্র আবু বুরদাহ হলেন আমির বিন আব্দুল্লাহ বিন কাইস।
তাঁর উক্তি: "কোন ইসলাম শ্রেষ্ঠ?" অর্থাৎ: ইসলামের কোন বৈশিষ্ট্যগুলো শ্রেষ্ঠ?
১৪ - শায়খ ইমাম হুসাইন বিন মাসউদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি তাওবাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-হারিস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব।
(খণ্ড: ১)
শারহুস সুন্নাহ লিল বাগাবী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الْكِسَائِيُّ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَحْمُودٍ، أَنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخَلالُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ لَيْثِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلانِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ الْجَنْبِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي فَضَالَةُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ: «أَلا أُخْبِرُكُمْ بِالْمُؤْمِنِ؟ الْمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ، وَالْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ النَّاسُ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي طَاعَةِ اللَّهِ، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ الْخَطَايَا وَالذُّنُوبَ»
فَضَالَةُ بْنُ عُبَيْدٍ الأَنْصَارِيُّ مِنْ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ، وَعَمْرُو بْنُ مَالِكٍ أَبُو عَلِيٍّ الْجَنْبِيُّ، يُعَدُّ فِي الْمِصْرِيِّينَ، وَجَنْبٌ قَبِيلَةٍ مِنَ الْيَمَنِ
15 - قَال الْحُسَيْنُ بْنُ مَسْعُودٍ، رحمه الله: أَخْبَرَنَا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الصَّالِحِيُّ، أَنا أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ الْفَضْلِ الصَّيْرَفِيُّ، أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ
কিসায়ী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে মাহমুদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম ইবনে আবদুল্লাহ আল-খাল্লাল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, লায়স ইবনে সা'দ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু হানি আল-খাওলানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে মালিক আল-জানবি থেকে, তিনি বলেন: ফাদালাহ ইবনে উবাইদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জে বলেছেন: «আমি কি তোমাদেরকে মুমিন সম্পর্কে জানাব না? মুমিন সেই ব্যক্তি, যার নিকট মানুষ তাদের ধন-সম্পদ ও প্রাণের ব্যাপারে নিরাপদ থাকে; আর মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে; আর মুজাহিদ সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর আনুগত্যের পথে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে; আর মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে ভুল-ত্রুটি ও গুনাহসমূহ বর্জন করে।»
ফাদালাহ ইবনে উবাইদ আল-আনসারী বনী আমর ইবনে আওফ গোত্রের, এবং আমর ইবনে মালিক আবু আলী আল-জানবি মিশরীয়দের অন্তর্ভুক্ত, আর জানব ইয়ামেনের একটি গোত্র।
১৫ - হুসাইন ইবনে মাসউদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হামিদ আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আস-সালিহি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনুল ফাদল আস-সাইরাফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ...