(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
الكافي في علوم الحديث القسم: علوم الحديث
الكتاب: الكافي في علوم الحديث
المؤلف: أبو الحسن علي بن أبي محمد عبد الله بن الحسن الأردبيلي التبريزي (677 - 746 هـ)
المحقق: أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان
الناشر: الدار الأثرية، عمان - الأردن
الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م
عدد الصفحات: 916
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 شعبان 1443
আল-কাফি ফি উলুমিল হাদিস বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: আল-কাফি ফি উলুমিল হাদিস
লেখক: আবু আল-হাসান আলী বিন আবি মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-আরদাবিলি আত-তাবরিজি (৬৭৭ - ৭৪৬ হিজরি)
গবেষক: আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
প্রকাশক: আদ-দারুল আসারিয়্যাহ, আম্মান - জর্ডান
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯১৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১৫ শাবান ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২)
الكَافِي فِي عُلُوم الحَديثِ
تَأليف العَلَّامَة
أَبِي الحسَن علي بن أبي محمَّد عبْد اللَّه بن الحسَن الأرْدبيلي التبريزي
(677 - 746 هـ)
قرأهُ وشرحَه وخرّج أحَاديثه وَوَثقَ نصُوصَهُ
أبو عبيْدة مشهور بن حسَن آل سَلمان
হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) পর্যাপ্ত গ্রন্থ: আল-কাফি
মহাজ্ঞানী আল্লামার রচনা
আবু আল-হাসান আলি বিন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-আরদাবিলি আত-তাবরিজি
(৬৭৭ - ৭৪৬ হিজরি)
গ্রন্থটি পাঠ ও ব্যাখ্যা করেছেন, হাদিসসমূহের সূত্র নির্ণয় (تخريج) করেছেন এবং পাঠ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (توثيق) করেছেন
আবু উবায়দাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة المحققإن الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ باللّه من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فهو المهتد، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلَّا الله، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، أما بعد:
فهذا تحقيق لكتاب مهم ومفيد في علم مصطلح الحديث، اختصر فيه صاحبه كتاب "علوم الحديث" لابن الصلاح، وأعاد ترتيب مادته بدقة متناهية، وزاد عليه كثيرًا من الفروع، وكاد أن يستوعب زيادات النووي في "الإرشاد"، وابن دقيق العيد في "الاقتراح". ونكّت عليه تنكيتات بديعة، وحرر مباحثه بتقريرات دقيقة، احتفل بها العلماء، وتناقلوها في كتبهم، واعتنوا بدراستها وفحصها، وهي تنبئ عن إمامة في هذا الفن، ولعل كتابنا هذا هو من اللبنات الأولى في التنكيت على كتاب ابن الصلاح، وصاحبه هو الذي فتح - أو وسع - الباب لمن جاء بعده في هذا المضمار.
وكانت تمر بي فوائد فرائد، ودقائق وزوائد، في كثير من المباحث المطروقة في علم المصطلح، وكنت أستودعها كناشاتي تارة، وأضعها على بطون المراجع أُخري، أنتظر لمَّها وجمعها لتكون في مكان واحد، على حسب تيسير الله سبحانه وقضائه، مع حبِّي الشديد لتحقيق كتاب متفرد وفيه تميّز في هذا النوع من العلم.
فلما وقفت على "الكافي" لأبي الحسن التِّبْريزي؛ وجدتُ - ولله الحمد - بُغيتي، ورأيت أن أعتني به عنايةً جيّدةً، بتوضيح مباحثه، وتفريع
সম্পাদকের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর:
এটি হাদিস পরিভাষা বিজ্ঞানের (مصطلح الحديث) একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق)। এর লেখক এতে ইবনুল সালাহ-র উলূমুল হাদিস গ্রন্থটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং এর বিষয়বস্তু অত্যন্ত নিপুণভাবে পুনরায় বিন্যস্ত করেছেন। তিনি এতে অনেক শাখা-প্রশাখা (الفروع) যুক্ত করেছেন এবং ইমাম নববীর আল-ইরশাদ ও ইবনু দাকীকিল ঈদের আল-ইকতিরাহ গ্রন্থদ্বয়ের অতিরিক্ত সংযোজনগুলোকেও প্রায় পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি এতে চমৎকার কিছু সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক নোট (تنكيتات) প্রদান করেছেন এবং এর আলোচনাগুলো (مباحث) নির্ভুল বিশ্লেষণের (تقريرات) মাধ্যমে পরিমার্জিত করেছেন, যা আলেমদের নিকট সমাদৃত হয়েছে এবং তাঁরা তাঁদের কিতাবসমূহে তা উদ্ধৃত করেছেন। তাঁরা এই গ্রন্থটির পঠন-পাঠন ও পর্যালোচনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এটি এই শিল্পে লেখকের ইমামত বা শ্রেষ্ঠত্বের (إمامة) পরিচায়ক। সম্ভবত আমাদের এই কিতাবটি ইবনুল সালাহ-র কিতাবের ওপর সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক আলোচনার (التنكিত) ক্ষেত্রে প্রাথমিক ভিত্তিগুলোর একটি; আর এর লেখকই তাঁর পরবর্তীদের জন্য এই ময়দানে পথ উন্মোচিত বা প্রশস্ত করেছেন।
পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم المصطلح) বিভিন্ন আলোচিত বিষয়ে আমি অনেক বিরল ফায়দা ও সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক সংযোজন লাভ করতাম। আমি কখনো সেগুলো আমার নোটখাতায় লিখে রাখতাম, আবার কখনো মূল রেফারেন্স বইগুলোর ভেতরে টুকে রাখতাম। আমি আল্লাহর তাওফিক ও ফয়সালার ওপর নির্ভর করে সেগুলো এক জায়গায় সংকলিত করার প্রতীক্ষায় ছিলাম। সেই সাথে এই শাস্ত্রের কোনো অনন্য ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কিতাব সম্পাদনা (تحقيق) করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমার ছিল।
যখন আমি আবুল হাসান আত-তাবরিজীর আল-কাফী গ্রন্থটির সন্ধান পেলাম, তখন আলহামদুলিল্লাহ আমি আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দেখা পেলাম। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, এর আলোচনাগুলো (مباحث) স্পষ্ট করার এবং শাখা-প্রশাখা বিন্যাসের (تفريع) মাধ্যমে এর যথাযথ যত্ন নেব।
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬)
مسائله، وتيسير فوائده، وتحرير دقائقه، وتدقيق تنكيتاته، وتنكيت غرائبه وتحقيق اعتراضاته، و "غرضي بذلك جمع ما تفرق من الفوائد، واقتناص ما لاح من الشوارد"
(1).
وإمامنا أبو الحسن علي بن عبد اللّه التبريزي لم ينشر له شيء - فيما أعلم - قبل تدوين هذه السطور
(2)، نعم، هو مسبوق بتلخيص واختصار "علوم الحديث"، وهذا ما وقفتُ عليه من ذلك
(3):
*
مختصرات "علوم الحديث" لابن الصلاح:- " إرشاد طلاب الحقائق إلى معرفة سنن خير الخلائق"، طبع أكثر من مرّة، أحسنها بتحقيق صديقنا الشيخ عبد الباري فتح اللّه الهندي السَّلفي.
- "التقريب والتيسير في معرفة سنن البشير النذير"، طبع أكثر من مرّة، كلاهما للإمام أبي زكريا يحيى بن شرف النووي (676 هـ).
- "المنهج المبهج عند الاستماع لمن رغب في علوم الحديث على الاطلاع"
(4)، لقطب الدين أبي بكر محمد بن أحمد بن أحمد القسطلاني (ت 686 هـ).
- "في أصول علم الحديث"، لعلاء الدين ابن النفيس الطبيب المصري (ت 689 هـ)، مطبوع.
--------------------------------------------
এর মাসয়ালাসমূহ, এর ফায়দাহগুলো সহজীকরণ, এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর বিন্যাস, এর টীকা-টিপ্পনীগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ, এর বিরল (غريب) বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত এবং এর আপত্তিগুলোর নিরূপণ; আর "আমার উদ্দেশ্য হলো বিক্ষিপ্ত ফায়দাহগুলোকে একত্রিত করা এবং উদ্ভাসিত দুর্লভ বিষয়গুলোকে আহরণ করা"
(১)।
এবং আমাদের ইমাম আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ আত-তাবরিজি—আমার জানামতে—এই পঙ্ক্তিগুলো লিপিবদ্ধ করার আগে তাঁর কোনো কাজ প্রকাশিত হয়নি
(২)। হ্যাঁ, তাঁর আগে "উলুমুল হাদিস" এর সারসংক্ষেপ ও সংক্ষিপ্তকরণ করা হয়েছে; এবং আমি সে বিষয়ে যা জানতে পেরেছি তা নিম্নরূপ
(৩):
*
ইবনুস সালাহ-র "উলুমুল হাদিস" এর সংক্ষিপ্তসারসমূহ:- "ইরশাদু তুল্লাবিল হাকায়িক ইলা মা'রিফাতি সুনানি খাইরিল খালায়িক", এটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে; এর মধ্যে সর্বোত্তম সংস্করণটি আমাদের বন্ধু শায়খ আব্দুল বারি ফাতহুল্লাহ আল-হিন্দি আস-সালাফি-র সম্পাদনায় প্রকাশিত।
- "আত-তাক্বরিব ওয়াত-তাইসির ফি মা'রিফাতি সুনানিল বাশিরিন নাযির", এটিও একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে; এই উভয় গ্রন্থই ইমাম আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন শারাফ আন-নববী (৬৭৬ হি.)-র লেখা।
- "আল-মানহাজুল মুবজিহ ইনদাল ইস্তিমা' লিমান রগিবা ফি উলুমিল হাদিস আলাল ইত্তিলা'"
(৪), কুতুবুদ্দিন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আহমাদ আল-কাসতাল্লানি (মৃ. ৬৮৬ হি.)-র রচিত।
- "ফি উসুল ইলমিল হাদিস", যা মিশরীয় চিকিৎসক আলাউদ্দিন ইবনুন নাফিস (মৃ. ৬৮৯ হি.)-র লেখা, এটি মুদ্রিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭)
- "الاقتراح
(1) في بيان الاصطلاح وما أُضيف إلى ذلك من الأحاديث المعدودة من الصحاح"، لأبي الفتح محمد بن علي بن وهب، الشهير بـ"ابن دقيق العيد" (ت 702 هـ)، طبع أكثر من مرّة.
- "ملخص علوم الحديث"
(2)، لأبي إسحاق إبراهيم بن محمد بن إبراهيم الطبري (ت 722 هـ).
- "مشكاة الأنوار في أنواع علوم السنن والآثار"، لعبد الرَّحمن بن عمر الأبهري (ت 730 هـ)، منه نسخة في مكتبة عارف حكمت (64 - أصول حديث)، وانظر "الفهرس الشامل" (1475 - حديث).
- "رسوم التحديث"، لأبي إسحاق إبراهيم بن عمر بن إبراهيم الجعبري (ت 732 هـ)، وكتابه مطبوع بتحقيق الأستاذ إبراهيم بن شريف الميلي، سنة 1421 هـ في (248) صفحة، عن دار ابن حزم.
- "المنهل الروي في مختصر علوم الحديث النبوي"، لبدر الدين محمد بن إبراهيم بن جماعة (ت 733 هـ)، طبع أكثر من مرّة، أحسنها وأقدمها
(3) بتحقيق محيي الدين عبد الرَّحمن رمضان، عن دار الفكر، دمشق، سنة 1395 هـ، في (183) صفحة.
--------------------------------------------
- "আল-ইকতিরাহ
(১) ফি বায়ানিল ইস্তিলাহ ওয়া মা উদিফা ইলা যালিকা মিনাল আহাদিসিল মা’দুদাহ মিনাস সহিহ (الصحاح)", আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন ওয়াহাব, যিনি "ইবনে দাকীক আল-ঈদ" (ওফাত ৭০২ হি.) নামে পরিচিত, এটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে।
- "মুলাখখাস উলূমিল হাদিস"
(২), আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আত-তাবারী (ওফাত ৭২২ হি.)-এর রচিত।
- "মিশকাতুল আনোয়ার ফি আনওয়ায়ি উলূমিস সুনানি ওয়াল আসার", আবদুর রহমান বিন উমর আল-আভহারী (ওফাত ৭৩০ হি.)-এর রচিত, এর একটি পাণ্ডুলিপি আরিফ হিকমত লাইব্রেরিতে (৬৪ - হাদিসের মূলনীতি (أصول حديث)) সংরক্ষিত আছে, দেখুন: "আল-ফিহরাস আশ-শামিল" (১৪৭৫ - হাদিস)।
- "রুসুমুত তাহদিস", আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন উমর বিন ইবরাহিম আল-জা’বারী (ওফাত ৭৩২ হি.)-এর রচিত, তাঁর এই গ্রন্থটি উস্তাদ ইবরাহিম বিন শরীফ আল-মীলীর সম্পাদনায় ১৪২১ হিজরিতে দার ইবনে হাজম থেকে (২৪৮) পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে।
- "আল-মানহালুর রবী ফি মুখতাসার (مختصر) উলূমিল হাদিসিন নববী", বদরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন জামা’আহ (ওফাত ৭৩৩ হি.)-এর রচিত, এটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও প্রাচীন
(৩) সংস্করণটি মুহিউদ্দিন আবদুর রহমান রামাদানের সম্পাদনায় দামেস্কের দারুল ফিকর থেকে ১৩৯৫ হিজরিতে (১৮৩) পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৮)
- "مشكاة الأنوار"، لأبي القاسم هبة اللَّه بن عبد الرحيم البارزي الجهني الحموي (ت 738 هـ).
- "الخلاصة في علوم الحديث"، للحسين بن عبد اللَّه بن محمد الطيبي (ت 743 هـ)، مطبوع أكثر من مرّة، ولخصه من اختصارات النووي وابن جماعة، وزاد عليه من "جامع الأصول" وغيره.
- "مختصر علوم الحديث"، لعلاء الدين علي بن عثمان المارديني (ت 745 هـ)، منه عدة نسخ خطية، وفرغت من تنضيده، ولعل يعمل به غيري بإشرافي ومراجعتي.
هذه هي (المختصرات) لـ "علوم الحديث" لابن الصلاح التي أُلِّفت قبل وفاة مؤلِّف كتابنا هذا
(1)، وهنالك جهود أُخرى قامت حوله،
نجملها في المحاور الآتية:
--------------------------------------------
- "মিশকাতুল আনওয়ার", আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুর রহিম আল-বারিজী আল-জুহানী আল-হামাভী (মৃত্যু ৭৩৮ হিজরি) রচিত।
- "আল-খুলাসাহ ফি উলুমিল হাদিস", আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আত-তিবি (মৃত্যু ৭৪৩ হিজরি) রচিত; এটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে। তিনি এটি নববী এবং ইবনে জামাআহ-এর সংক্ষিপ্তসারসমূহ (اختصارات) থেকে সারসংক্ষেপ করেছেন এবং এতে "জামি আল-উসুল" ও অন্যান্য গ্রন্থ থেকে সংযোজন করেছেন।
- "মুখতাসার উলুমিল হাদিস", আলাউদ্দিন আলী বিন উসমান আল-মারদিনী (মৃত্যু ৭৪৫ হিজরি) রচিত। এর বেশ কিছু পাণ্ডুলিপি রয়েছে। আমি এর বিন্যাস ও মুদ্রণ-প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করেছি। সম্ভবত আমার তত্ত্বাবধান ও পর্যালোচনায় অন্য কেউ এটি নিয়ে কাজ করবেন।
এগুলো হলো ইবনে আল-সালাহ রচিত "উলুমিল হাদিস"-এর সেই সংক্ষিপ্তসারসমূহ (المختصرات), যা আমাদের এই গ্রন্থের লেখকের মৃত্যুর পূর্বে রচিত হয়েছে
(১)। এ গ্রন্থটিকে কেন্দ্র করে আরও অন্যান্য প্রচেষ্টা সম্পন্ন হয়েছে,
আমরা সেগুলোকে নিম্নোক্ত আলোচ্য বিষয়সমূহে সংক্ষেপে তুলে ধরছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৯)
*
نظم "علوم الحديث" لابن الصلاح:نظمه محمد بن أحمد بن خليل الخُوَيِّي القاضي (ت 693 هـ) في "أقصى الأمل والسول في علوم حديث الرسول"، منه عدة نسخ خطية؛ في برلين (1046)، ومكتبة البلدية، الإسكندرية (18 - حديث)، ودار الكتب المصرية (1/ 69)، و"متحف الجزائر" (545)
(1). وتجد نماذج منه في مقدمة محقق "التبصرة والتذكرة" (ص 18 - 19/ ط المنهاج) للعراقي، وهي سلسلة عذبة، يسهل حفظها وتردادها، ونظمها غير واحد بعد حياة المصنف
(2).
--------------------------------------------
ইবনে আস-সালাহ রচিত "উলুমুল হাদিস"-এর কাব্যরূপ (نظم):কাজী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন খলিল আল-খুওয়ায়্যি (মৃত্যু ৬৯৩ হিজরি) "আকসা আল-আমাল ওয়াস-সুল ফি উলুমি হাদিসির রাসূল" শিরোনামে একে কাব্যরূপ দান (نظم) করেছেন। এর বেশ কিছু পাণ্ডুলিপি (نسخ خطية) বিদ্যমান; বার্লিনে (১০৪৬), মাকতাবাতুল বালাদিয়া, আলেকজান্দ্রিয়া (১৮ - হাদিস), দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ (১/ ৬৯) এবং "মিউজিয়াম অফ আলজেরিয়া" (৫৪৫)-এ সংরক্ষিত রয়েছে
(১)। আল-ইরাকি রচিত "আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ" (আল-মিনহাজ সংস্করণ, পৃ. ১৮ - ১৯) এর সম্পাদক (محقق)-এর ভূমিকায় এর কিছু নমুনা পাওয়া যাবে। এটি একটি সুমিষ্ট কাব্যধারা, যা মুখস্থ করা ও আবৃত্তি করা সহজ। মূল লেখকের ইন্তেকালের পর একাধিক ব্যক্তি একে কাব্যরূপ (نظم) দিয়েছেন
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১০)
*
التنكيت والشرح على "علوم الحديث" لابن الصلاح:لم أجد أحدًا ممَّن شرح ونكَّت على كتاب "علوم الحديث" لابن الصلاح قبل المصنف في كتابه هذا، نعم؛ وجدت الزركشي في مواطن من "نكته" ينقل عن كتاب ابن أبي الدّم (إبراهيم بن عبد اللّه الحموي، ت 642 هـ) - وهو معاصر لابن الصلاح - واسمه "تدقيق العناية في تحقيق الرواية" (1) وفي بعض نقولاته منازعة لابن الصلاح، كما تراه -
--------------------------------------------
ইবনে আল-সালাহ রচিত "উলুম আল-হাদিস" গ্রন্থের ওপর সূক্ষ্ম টীকা (تنكيت) ও ব্যাখ্যা (شرح):আমি এই গ্রন্থের লেখকের পূর্বে ইবনে আল-সালাহ রচিত "উলুম আল-হাদিস" গ্রন্থের ওপর ব্যাখ্যা (شرح) এবং সূক্ষ্ম টীকা (تنكيت) প্রদানকারী অন্য কাউকে খুঁজে পাইনি। হ্যাঁ, আমি আল-যারকাশিকে তাঁর "আল-নুকাতি" গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে ইবনে আবি আল-দাম (ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-হামাউয়ি, মৃত্যু ৬৪২ হিজরি) —যিনি ইবনে আল-সালাহ-এর সমসাময়িক ছিলেন— রচিত কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিতে দেখেছি, যার নাম হলো "তাদকি আল-ইনায়াহ ফি তাহকিক আল-রিওয়ায়াহ" (১)। তাঁর কিছু উদ্ধৃতিতে ইবনে আল-সালাহ-এর সাথে মতপার্থক্য লক্ষ্য করা যায়, যেমনটি আপনি দেখতে পাবেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১১)
مثلًا - في "3/ 492 - 493 و 524 و 550
(1)، 586) وفي بعضها مما يشير إلى أن لكلامه صلة بما في "مقدمة ابن الصلاح" انظر - على سبيل المثال - (3/ 531، 546). أما مَنْ نكَّت أو شرح كتاب "علوم الحديث" لابن الصلاح بعد المصنّف، فكثر، وهذا ما وقفت عليه من ذلك:
- محمد بن أحمد بن عبد المؤمن الأسعردي الدمشقي، الشهير بـ (ابن اللبان) (ت 749 هـ) وكان نزيل القاهرة، وهو مفسر من علماء العربية، له "النكت على ابن الصلاح".
- علاء الدين مُغلطاي بن قليج البكجري الحنفي (ت 762 هـ)، له "إصلاح كتاب ابن الصلاح"، فرغت من تنضيده على نسخة وحيدة، ونقلتُ منه كثيرًا في تعليقي على هذا الكتاب، ودفعتُه لبعض النبهاء من الطلبة، وكاد أن يفرغ من المحاكمة بينه وبين ابن الصلاح، وسيطبع قريبًا - إن شاء الله تعالى - بإشرافي وتقديمي عن الدار الأثرية، عمان.
- بدر الدين محمد بن بهادر بن عبد الله الزركشي (ت 794 هـ)، له "النكت على مقدمة ابن الصلاح"، طبع عن أضواء السلف، بتحقيق الدكتور زين العابدين بن محمد بلا فريج، في (4) مجلدات.
- برهان الدين إبراهيم بن موسى بن أيوب، الشهير بـ "الأنباسي" (ت 802 هـ) له "الشذا الفياح من علوم ابن الصلاح"، له أكثر من نسخة خطية، وطبع أكثر من مرّة، أجودها في مجلدين، بتحقيق صلاح هلل عن مكتبة الرشد.
- عمر بن رسلان بن نصير البُلقيني (ت 805 هـ) له "محاسن الاصطلاح
--------------------------------------------
उदाहरणस्वरूप - "৩/ ৪৯২ - ৪৯৩ এবং ৫২৪ ও ৫৫০
(১), ৫৮৬) তে এবং এর কোনো কোনো স্থানে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে তার বক্তব্যের সাথে "মুকাদ্দিমাহ ইবনে আল-সালাহ"-তে যা রয়েছে তার যোগসূত্র আছে। দেখুন - উদাহরণস্বরূপ - (৩/ ৫৩১, ৫৪৬)। তবে গ্রন্থকারের পরে যারা ইবনে আল-সালাহ এর "উলুমুল হাদিস" গ্রন্থের ওপর টীকা (نكت) লিখেছেন বা ব্যাখ্যা (شرح) করেছেন, তাদের সংখ্যা অনেক। আমি এ বিষয়ে যা অবগত হয়েছি তা নিচে দেওয়া হলো:
- মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল মুমিন আল-আসআরদি আদ-দিমাশকি, যিনি (ইবনুল লাব্বান) (মৃ. ৭৪৯ হিজরি) নামে প্রসিদ্ধ। তিনি কায়রোতে বসবাস করতেন এবং তিনি আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞদের মধ্য থেকে একজন মুফাসসির (مفسر) ছিলেন। তার "আন-নুকাত আলা ইবনিস সালাহ" নামক গ্রন্থ রয়েছে।
- আলাউদ্দিন মুগলতাই বিন কলিজ আল-বাকজারি আল-হানাফি (মৃ. ৭৬২ হিজরি)। তার "ইসলাহ কিতাব ইবনিস সালাহ" নামক গ্রন্থ রয়েছে। আমি একটি মাত্র পাণ্ডুলিপি (نسخة) থেকে এর মুদ্রণ-বিন্যাস সম্পন্ন করেছি এবং এই গ্রন্থের ওপর আমার টীকায় (تعليق) তা থেকে অনেক উদ্ধৃতি দিয়েছি। আমি এটি ছাত্রদের মধ্যে মেধাবী একজনকে দিয়েছিলাম, সে এর এবং ইবনে আল-সালাহ এর মধ্যকার তুলনামূলক পর্যালোচনার (محاكمة) কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে। আম্মানের আদ-দারুল আসারিয়্যাহ থেকে অচিরেই এটি ইনশাআল্লাহ আমার তত্ত্বাবধানে এবং ভূমিকাসহ মুদ্রিত হবে।
- বদরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন বাহাদুর বিন আব্দুল্লাহ আজ-জারকাশি (মৃ. ৭৯৪ হিজরি)। তার "আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ" রয়েছে, যা ড. জয়নুল আবেদিন বিন মুহাম্মদ বেলা ফরিজ-এর সম্পাদনায় (تحقيق) 'আদওয়াউস সালাফ' থেকে (৪) খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।
- বুরহানুদ্দিন ইবরাহিম বিন মুসা বিন আইয়ুব, যিনি "আল-আনবাসি" (মৃ. ৮০২ হিজরি) নামে প্রসিদ্ধ। তার "আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলুমি ইবনিস সালাহ" রয়েছে। এর একাধিক পাণ্ডুলিপি (نسخة) বিদ্যমান এবং এটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে। এর মধ্যে মাকতাবাতুর রুশদ থেকে প্রকাশিত সালাহ হালাল-এর সম্পাদনায় (تحقيق) দুই খণ্ডের সংস্করণটি সবচেয়ে উন্নত।
- উমর বিন রাসলান বিন নাসির আল-বুলকিনি (মৃ. ৮০৫ হিজরি)। তার "মাহাসিনুল ইসতিলাহ"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১২)
في تضمين ابن الصلاح"
(1)، طبع بتحقيق عائشة عبد الرَّحمن بمصر، سنة 1396 هـ وفي بيروت مرات.
- عبد الرحيم بن الحسين العراقي (ت 806 هـ)، له "التقييد والإيضاح لما أطلق وأغلق من كتاب ابن الصلاح"
(2)، طبع أكثر من مرّة، أولها مع ذيل بعنوان "المصباح على مقدمة ابن الصلاح" لشيخ مشايخنا محمد راغب الطباخ، ثم تعليقات عبد الرَّحمن محمد عثمان، وآخرها وأجودها في مجلدين ضخمين بتحقيق الشيخ أسامة الخياط، عن دار البشائر.
- عز الدين محمد بن أبي بكر بن عبد العزيز بن جماعة (ت 819 هـ)، ذكر السيوطي في ترجمته من "البغية" (1/ 63) أن له كتابين يتعلقان بـ "علوم الحديث" لابن الصلاح، هما: "شرح علوم الحديث" والآخر: "المنهج السوي شرح المنهل الروي"، والكتاب شرح لـ "مختصر ابن جماعة"، وهو جد المصنف، وسمى السيوطي في "البحر الذي زخر" (1/ 239 - 245) اختصارًا له، سماه "الإقناع"، وانظر "كشف الظنون" (1162).
"النكت على ابن الصلاح" لابن حجر العسقلاني (ت 852 هـ). ويسمى "الإيضاح لتكملة التنكيت على ابن الصلاح"، و "الإفصاح على نكت ابن الصلاح"، نشر أكثر من موة بتحقيق الشيخ ربيع بن
--------------------------------------------
ইবনে আল-সালাহর কিতাবকে অন্তর্ভুক্তকরণ (تضمين) প্রসঙ্গে"
(১), এটি মিসরে আয়েশা আবদুর রহমানের সম্পাদনায় (تحقيق) ১৩৯৬ হিজরি সনে এবং বৈরুতে একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে।
- আবদুর রহিম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬ হি.), তাঁর রচিত গ্রন্থ হলো 'আল-তাকয়িদ ওয়াল-ইদাহ লিমা উতিলাকা ওয়া উগলিয়া মিন কিতাব ইবনে আল-সালাহ'
(২); এটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে, যার প্রথম সংস্করণটি আমাদের উস্তাদদের উস্তাদ মুহাম্মাদ রাগিব আল-তাব্বাখের 'আল-মিসবাহ আলা মুকাদ্দিমা ইবনে আল-সালাহ' শিরোনামের পরিশিষ্টসহ প্রকাশিত হয়। এরপর আবদুর রহমান মুহাম্মাদ উসমানের টীকা (تعليقات) সহ এবং সর্বশেষ ও সর্বোত্তম সংস্করণটি শায়খ উসামা আল-খাইয়াতের সম্পাদনায় (تحقيق) দারুল বাশাইর থেকে দুই বিশাল খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।
- ইজ্জুদ্দিন মুহাম্মাদ বিন আবু বকর বিন আব্দুল আজিজ বিন জামাআহ (মৃত্যু ৮১৯ হি.), আল-সুয়ূতি তাঁর জীবনীতে 'আল-বুগইয়াহ' (১/৬৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث) বিষয়ে ইবনে আল-সালাহর কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট তাঁর দুটি কিতাব রয়েছে, সেগুলো হলো: 'শারহু উলুমিল হাদিস' এবং অন্যটি হলো 'আল-মানহাজ আল-সাবি শারহুল মানহাল আল-রবি'। দ্বিতীয় কিতাবটি তাঁর দাদা ইবনে জামাআহ রচিত 'মুখতাসার' (مختصر)-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح)। আল-সুয়ূতি 'আল-বাহরুল্লাজি জাখার' (১/২৩৯-২৪৫) গ্রন্থে এর একটি সংক্ষিপ্তসার (اختصار)-এর কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন 'আল-ইকনা'। আরও দেখুন 'কাশফুয যুনুন' (১১৬২)।
ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হি.) রচিত 'আন-নুকাতি আলা ইবনি আল-সালাহ'। একে 'আল-ইদাহ লি-তাকমিলাতি আল-তানকিত আলা ইবনি আল-সালাহ' এবং 'আল-ইফসাহ আলা নুকাতি ইবনি আল-সালাহ'-ও বলা হয়। এটি শায়খ রবি বিন... এর সম্পাদনায় (تحقيق) একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
هادي المدخلي. ولم يكمله ابن حجر، وبلغ فيه إلى (النوع الثاني والعشرين) وهو (المقلوب).
هذه هي أسماء المؤلفات
(1) التي تخصُّ "علوم الحديث" لابن الصلاح
(2)، والملاحظ أن جلَّ المعتنين به تجمعهم أوصاف، هي:
أولًا: التفنُّن في العلم.
ثانيًا: كثرة التصنيف والتأليف.
ثالثًا: أنهم من مصر.
رابعًا: جلهم في القرن الثامن والتاسع.
ومن أوائل من جمع بين حسن الاختصار، ودقة التعقب، وكثرة التنكيت: الإمام أبو الحسن التبريزي في كتابه "الكافي" هذا، ولذا نقل منه كلّ من جاء بعده ممن نكَّت أو شرح "علوم الحديث" لابن الصلاح.
وبعد هذه الجولة السريعة في بيان الجهود المبذولة حول كتاب ابن الصلاح، نخص كتابنا "الكافي" بدراسة مستقلة، ونبدأ بـ:
--------------------------------------------
হাদী আল-মাদখালী। এবং ইবনে হাজার এটি সমাপ্ত করতে পারেননি, তিনি এতে (দ্বাবিংশ প্রকার) পর্যন্ত পৌঁছেছেন, যা হলো (পরিবর্তিত (المقلوب))।
এগুলো হলো ইবনুস সালাহ-এর "উলুমুল হাদিস" সংশ্লিষ্ট গ্রন্থাবলির নাম
(১), এবং লক্ষণীয় যে এর প্রতি যত্নবান অধিকাংশ ব্যক্তিদের মাঝে কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, সেগুলো হলো:
প্রথমত: জ্ঞানে পারদর্শিতা।
দ্বিতীয়ত: গ্রন্থ রচনা ও সংকলনের আধিক্য।
তৃতীয়ত: তাঁরা মিসরীয় ছিলেন।
চতুর্থত: তাঁদের অধিকাংশ অষ্টম ও নবম শতাব্দীর।
আর যারা চমৎকার সংক্ষেপণ, সূক্ষ্ম পর্যালোচনামূলক অনুগমন এবং অধিক পরিমাণ টীকা-টিপ্পনী (التنكيت) প্রদানের সমন্বয় ঘটিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন ইমাম আবুল হাসান আত-তাবরিজি তাঁর এই "আল-কাফি" গ্রন্থে; এই কারণে তাঁর পরবর্তী যারাই ইবনুস সালাহ-এর "উলুমুল হাদিস"-এর ওপর টীকা (نكَّت) লিখেছেন বা ব্যাখ্যা (شرح) করেছেন, তাঁরা সকলেই তাঁর থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।
ইবনুস সালাহ-এর গ্রন্থের ওপর পরিচালিত প্রচেষ্টাসমূহ বর্ণনার এই সংক্ষিপ্ত পরিক্রমা শেষে, আমরা আমাদের "আল-কাফি" গ্রন্থটি নিয়ে একটি স্বতন্ত্র অধ্যয়ন শুরু করছি, এবং আমরা আরম্ভ করছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
*
نسبة الكتاب لصاحبه:هذا الكتاب صحيح النسبة لصاحبه على وجه اليقين، والأدلة على ذلك كثيرة، منها:
أولًا: ذكره المصنف في كتابه "المعيار" (1/ 11) فقد جعل (مقدمة) الكتاب لبيان أقسام الحديث وذكر (الحديث الصحيح) وأقسامه باختصار، ثم قال (1/ 11): "وقد بسطت الكلام في سائر أقسام الصحيح في كتابي المسمى "الكافي في علوم الحديث"، فليُطلب منه مَنْ أراده".
ثانيًا: ذكره له غير واحد من مترجميه، فقال - مثلًا - السيوطي في "بغية الوعاة" (2/ 171): "واختصر كتاب ابن الصلاح"، وهذه عبارة الحافظ ابن حجر في "الدرر الكامنة" (3/ 73) إلَّا أنه زاد عليها زيادة حسنة، فقال: "واختصر "علوم الحديث" لابن الصلاح اختصارًا مفيدًا". ومثلها في "طبقات الشافعية" لابن قاضي شهبة (3/ 189)، وبنحوها في "تاريخه" (1/ 468) ففيه "حسنًا" بدل "مفيدًا".
ونقل ابن، حجر عن ابن أيبك - وهو الصفدي، عصري المصنف - ذكره هذا الكتاب لصاحبنا أبي الحسن التبريزي، وعبارته: "واختصر "علوم الحديث""، ولم أجدها في "أعيان العصر" ولا في "الوافي بالوفيات" من كتب الصفدي، وفيهما ترجمة حسنة للتبريزي.
وممن ذكره له: كحالة في "معجم المؤلفين" (7/ 134) وسماه "مختصر علوم الحديث" لابن الصلاح، والزِّرِكْليّ في "الأعلام" (4/ 306) وسماه: "الكافي في علوم الحديث".
ثالثًا: نقل منه غير واحد ممن ألَّف في المصطلح، ولا سيما ممن
লেখকের প্রতি কিতাবটির সম্বন্ধযুক্ত হওয়া:এই কিতাবটি নিশ্চিতভাবে তার লেখকের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হওয়া সঠিক (صحيح), আর এর স্বপক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি হলো:
প্রথমত: গ্রন্থকার এটি তাঁর "আল-মিয়ার" (১/১১) কিতাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি কিতাবটির ভূমিকা (مقدمة) হাদিসের প্রকারভেদ বর্ণনার জন্য নির্ধারণ করেছেন এবং সংক্ষেপে সহিহ (صحيح) হাদিস ও এর প্রকারসমূহ উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি (১/১১) বলেছেন: "আমি সহিহ (صحيح) এর অন্যান্য সকল প্রকারের আলোচনা আমার 'আল-কাফি ফি উলুমিল হাদিস' নামক কিতাবে বিস্তারিতভাবে করেছি, সুতরাং যে এটি কামনা করে সে যেন সেখানে তা তালাশ করে।"
দ্বিতীয়ত: তাঁর একাধিক জীবনীকার এটি উল্লেখ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, সুয়ূতী "বুগয়াতুল উয়াহ" (২/১৭১) গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি ইবনুল সালাহর কিতাব সংক্ষেপ করেছেন।" হাফেজ ইবনে হাজার "আদ-দুরার আল-কামিনাহ" (৩/৭৩) গ্রন্থেও একই অভিব্যক্তি ব্যবহার করেছেন, তবে তিনি এতে একটি উত্তম (حسن) সংযোজন করেছেন। তিনি বলেছেন: "তিনি ইবনুল সালাহর 'উলুমুল হাদিস' এর একটি উপকারী সংক্ষিপ্তসার তৈরি করেছেন।" অনুরুপ বর্ণনা ইবনে কাজী শুহবার "তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ" (৩/১৮৯) গ্রন্থে এবং তাঁর "তারিখ" (১/৪৬৮) গ্রন্থেও পাওয়া যায়, যেখানে "উপকারী" শব্দের স্থলে "উত্তম (حسن)" শব্দ রয়েছে।
ইবনে হাজার ইবনে আইবাক—যিনি আস-সাফাদী এবং গ্রন্থকারের সমসাময়িক ছিলেন—থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আমাদের লেখক আবুল হাসান আত-তাবরিজীর এই কিতাবটি সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল: "তিনি 'উলুমুল হাদিস' সংক্ষেপ করেছেন।" তবে আমি সাফাদীর কিতাবসমূহের মধ্যে "আ’য়ানুল আসর" কিংবা "আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত" গ্রন্থে এটি খুঁজে পাইনি, যদিও এই দুটি গ্রন্থে আত-তাবরিজীর একটি উত্তম (حسن) জীবনী রয়েছে।
যারা তাঁর এই কিতাবটি উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: কাহহালা, তাঁর "মু’জামুল মুয়াল্লিফিন" (৭/১৩৪) গ্রন্থে, তিনি এর নাম দিয়েছেন ইবনুল সালাহর "মুখতাসার উলুমুল হাদিস"; এবং যিরিকলী তাঁর "আল-আলাম" (৪/৩০৬) গ্রন্থে এর নাম দিয়েছেন "আল-কাফি ফি উলুমিল হাদিস" ।
তৃতীয়ত: পরিভাষা (المصطلح) বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, বিশেষ করে তাদের মধ্যে যারা...
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
له عناية بكتاب "علوم الحديث" لابن الصلاح، مثل: العراقي
(1) في "التقييد والإيضاح" (ص 44، 294) والزركشي في "نكته على ابن الصلاح" (1/ 305، 341 و 3/ 378، 426) وابن حجر في "نكته" (1/ 405، 445 و 2/ 696).
ونقل منه أيضًا السيوطي في مواطن من "البحر الذي زخر في شرح ألفية الأثر" منها: (3/ 950) وسماه فيه "الكافي"، وقال: "ومن خطه نقلت"، ومنها (3/ 952، 129) وسماه في (3/ 952): "المختصر" وسماه في (3/ 1218، 1226): "الكافي" وذكره أيضًا فيه (1/ 238) عند سرده (مختصرات) "علو الحديث" لابن الصلاح، ونقل منه أيضًا السخاوي في مواطن من "فتح المغيث" (1/ 59، 117، 152 و 2/ 274 و 3/ 72 - ط/ المنهاج)، وبيّنت ذلك في تعليقي على مادة الكتاب، وذكرتُ من نقل كلام المصنف العلماء، وستأتي بعض النقول من ذلك عند الكلام على أهمية هذا الكتاب.
رابعًا: الموجود على طرة المخطوط، فقد نسبه له ناسخ الأصل وهو قريب عهد بالمصنف، بل من تلاميذه فقال: "كتاب" الكافي في علوم الحديث" مما اعتنى بجمعه سيدنا وشيخنا وإمامنا وفريد دهره، ونسيج وحده، الإمام العلّامة تاج الدين أبو الحسن علي بن أبي محمد عبد اللّه بن الحسين بن أبي بكر التبريزي، أحسن الله تعالى إليه، ولطف به، وغفرله ولوالديه، ولجميع المسلمين، آمين، رب العالمين، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين".
--------------------------------------------
ইবনে আল-সালাহ এর ‘উলূমুল হাদিস’ গ্রন্থের প্রতি তাঁর বিশেষ মনোযোগ ছিল, যেমন: আল-ইরাকি
(১) ‘আত-তাকয়ীদ ওয়াল ইদাহ’ (পৃ. ৪৪, ২৯৪) গ্রন্থে, আজ-যারকাশি ‘নুকাত আলা ইবনিস সালাহ’ (১/৩০৫, ৩৪১ এবং ৩/৩৭৮, ৪২৬) গ্রন্থে এবং ইবনে হাজার তাঁর ‘নুকাত’ (১/৪০৫, ৪৪৫ এবং ২/৬৯৬) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
আস-সুয়ুতিও ‘আল-বাহরুল্লাজি যাখার ফি শারহি আলফিয়াতিল আসার’ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে এটি থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: (৩/৯৫০), সেখানে তিনি একে ‘আল-কাফি’ নামে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন: “আমি তাঁর স্বহস্তলিখন থেকে এটি নকল করেছি”। এছাড়া (৩/৯৫২, ১২৯) এর মধ্যে (৩/৯৫২) তে একে ‘আল-মুখতাসার’ এবং (৩/১২১৮, ১২২৬) এ ‘আল-কাফি’ নামে উল্লেখ করেছেন। ইবনে আল-সালাহ এর ‘উলূমুল হাদিস’ এর সংক্ষিপ্তসারসমূহের (مختصرات) বর্ণনার সময়ও (১/২৩৮) তিনি এটি উল্লেখ করেছেন। আস-সাখাভিও ‘ফাতহুল মুগিস’ (১/৫৯, ১১৭, ১৫২ এবং ২/২৭৪ এবং ৩/৭২ - আল-মিনহাজ সংস্করণ) এর বিভিন্ন স্থানে এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। আমি এই গ্রন্থের মূল পাঠের ওপর আমার টিকায় তা স্পষ্ট করেছি এবং সেইসব আলেমদের কথা উল্লেখ করেছি যারা লেখকের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। এই গ্রন্থের গুরুত্ব আলোচনার সময় এ জাতীয় কিছু উদ্ধৃতি সামনে আসবে।
চতুর্থত: পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে যা বিদ্যমান; মূল পাণ্ডুলিপির লিপিকার এটি লেখকের দিকেই নিসবত করেছেন, যিনি লেখকের সমসাময়িক ছিলেন, বরং তাঁর অন্যতম ছাত্র ছিলেন। তিনি বলেন: “কিতাবুল কাফি ফি উলূমিল হাদিস, যা সংকলনে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন আমাদের সায়্যিদ, শায়খ, ইমাম, তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ও অনন্য ব্যক্তিত্ব, ইমাম আল্লামা তাজউদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আবু বকর আত-তাবরিজি। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি ইহসান করুন, তাঁর প্রতি সদয় হোন, তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন। আমিন, রাব্বুল আলামিন। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
خامسًا: ذكره ممن اعتنى بذكر الجهود التي بذلت على "علوم الحديث "لابن الصلاح، انظر "جامع الشروح والحواشي" (2/ 1419).
*
اسم الكتاب:سبق أن تبين معنا أن "الكافي في علوم الحديث" هو الذي ارتضاه المصنف لكتابه، وهو الذي تحمله النسخة الوحيدة منه، وهكذا سماه السيوطي في "البحر الذي زخر" (1218/ 3، 1226) وهو الذي نص عليه المصنف في "ديباجة) كتابه، لما قال: "وسميته "كافيًا" لكفاية من أقبل عليه بقراءته في درايته".
*
الباعث على تأليف الكتاب:أفصح المصنف عن هدفه من تأليف الكتاب بقوله في (ديباجته): "فإني رأيتُ جماعة من أئمة السلف، وأمناء الخلف، وناصري الملّة، ومنتخبي الأمة، صنفوا في علوم الحديث، ومهدوا أساس قواعده، ورصنوا معاقد شواهده، ورصفوا بذلك بُنيان السُّنَّة، محرسًا عن ثلمهِ بحصائد الالسنة، وجعلوه معيارًا لصحيحه وسقيمه، ومسبارًا لمعلله وسليمه"، قال: "أردتُ أن أتشبَّث بأهداب تصنيفهم وتحقيقهم، وأتعقق بأذيال تفسيرهم وتحديثهم، متشبِّهًا بهم؛ لأُعدَّ منهم، وأحشر في زمرتهم؛ تصنيف مختصر في علوم الحديث
… ".
فباعثه أمران:
الأول: الثواب والأجر من الله، بأن يحشر يوم القيامة مع أهل الحديث.
والآخر: أن يكون في الحياة متعلِّقًا بأذيال وأهداب هذه الطائفة المباركة، وأن يتشبّه بأعلامها، بحيث يصبح واحدًا منهم، ويسلك في
পঞ্চম: ইবনে আস-সালাহ-এর "উলুমুল হাদিস"-এর ওপর ব্যয়িত প্রচেষ্টাগুলো যারা উল্লেখ করেছেন, তাঁদের মধ্যে তিনি এটি উল্লেখ করেছেন, দেখুন "জামি’ আশ-শুরুহ ওয়াল-হাওয়াশি" (২/ ১৪১৯)।
*
গ্রন্থের নাম:ইতিপূর্বেই আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে, "আল-কাফি ফি উলুমিল হাদিস" নামটিই লেখক তাঁর গ্রন্থের জন্য পছন্দ করেছেন এবং এটিই এর একমাত্র পাণ্ডুলিপিতে সংরক্ষিত রয়েছে। একইভাবে সুয়ূতী একে "আল-বাহর আল্লাজি যাখার" (৩/ ১২১৮, ১২২৬) গ্রন্থে এই নামেই অভিহিত করেছেন। লেখক নিজেই তাঁর গ্রন্থের "ভূমিকা"-য় এটি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যখন তিনি বলেছেন: "আমি এর নাম রেখেছি 'কাফি' (পর্যাপ্ত), কারণ যে ব্যক্তি এর পঠন-পাঠনের মাধ্যমে এর তত্ত্বীয় অনুধাবনের (دراية) দিকে অগ্রসর হবে, তার জন্য এটিই যথেষ্ট হবে।"
*
গ্রন্থ রচনার প্রেক্ষাপট:লেখক তাঁর গ্রন্থের (ভূমিকা)-য় রচনার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি পূর্ববর্তী ইমামদের (সালাফ) একদলকে, পরবর্তী প্রজন্মের (খালাফ) আমানতদারদের, দ্বীনের সাহায্যকারীদের এবং উম্মতের মনোনীত ব্যক্তিদের দেখেছি যে, তাঁরা হাদিস বিজ্ঞানের ওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন, এর মূলনীতির (قواعد) ভিত্তি স্থাপন করেছেন, এর সাক্ষ্য-প্রমাণের (شواهد) বন্ধনীগুলোকে সুদৃঢ় করেছেন এবং এর মাধ্যমে সুন্নাহর ইমারতকে এমনভাবে সুবিন্যস্ত করেছেন যা একে বিদ্রূপকারীদের জিহ্বার আঘাত থেকে রক্ষা করে। তাঁরা একে বিশুদ্ধ (صحيح) ও অশুদ্ধ (سقيم) নির্ণয়ের মানদণ্ড এবং ত্রুটিযুক্ত (معلل) ও ত্রুটিমুক্ত (سليم) হাদিস পরখ করার মাপকাঠি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।" তিনি আরও বলেন: "আমি তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাদের রচনা ও গবেষণার (تحقيق) রশি এবং তাদের ব্যাখ্যা ও হাদিস বর্ণনার (تحديث) প্রান্ত আঁকড়ে ধরতে চেয়েছি—তাদের সাদৃশ্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে; যাতে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি এবং তাদের দলেই হাশরিত হতে পারি; হাদিস বিজ্ঞানের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত (مختصر) গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে
… "।
সুতরাং তাঁর প্রেরণা ছিল দুটি বিষয়:
প্রথমত: আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াব ও প্রতিদান লাভ করা, যেন কিয়ামতের দিন আহলে হাদিসের সাথে হাশর নসিব হয়।
দ্বিতীয়ত: ইহকালে এই বরকতময় দলের অনুসারী ও অনুগামী হওয়া এবং তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা, যাতে তাঁদেরই একজন হওয়া যায় এবং তাঁদের পথে চলা সম্ভব হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
زمرتهم، وأنعم بهما من غاية! وحشرنا اللّه معهم، ومَنّ علينا بفضله أن نكون منهم، ونذب عنهم.
*
متى ألف الكتاب؟
لم يذكر المصنف تاريخ تأليفه للكتاب، إلا أني أُرجح أنه كان في مصر
(1)، وبعد قراءته لمختصر شيخه ابن جماعة لكتاب ابن الصلاح، وهو المسمى بـ "المنهل الروي في مختصر علوم الحديث النبوي"، وكان ذلك في العشر الآخر من ذي الحجة، سنة اثنتين وعشرين وسبع مئة، كما تراه بخط المصنف عند ترجمتنا له في هذا الكتاب.
والذي أُراه - واللّه أعلم - أن فكرة هذا الكتاب نمت مع المؤلِّف، وأُعجب بمادة ابن الصلاح، وترتيب شيخه ابن جماعة في "المنهل الروي" لها، وحصل له مع انكبابه على القراءة والتحصيل فوائد فرائد، وتنكيات وتعقبات، فكانت حصيلتها هذا الكتاب، وكان ذلد، قبل سنة (733 هـ) تاريخ وفاة شيخه ابن جماعة (بدر الدين محمد بن إبراهيم)؛ لأنه ذكره فيه في آخر فقرة فيه فقرة (99)، وقال عنه: "أبقاه اللّه تعالى"، فكان عند تأليفه حيًّا.
*
طريقة اختصاره للكتاب ومنهجه فيه:مشى أبو الحسن التبريزي في كتابه هذا على منهج رسمه لنفسه، وذكر معالمه في (ديباجته) له، ونستطيع بعد رحلتنا معه أن نخلص إلى الأمور الآتية:
--------------------------------------------
তাদের দলভুক্ত করুন, আর এই লক্ষ্য কতই না উত্তম! আল্লাহ যেন আমাদের তাদের সাথে হাশর করেন এবং তাঁর অনুগ্রহে আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং তাদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করার তাওফিক দান করেন।
*
গ্রন্থটি কখন রচিত হয়েছে?গ্রন্থকার এটি রচনার সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করেননি, তবে আমি মনে করি এটি মিশরে
(১) থাকাকালীন রচিত হয়েছিল, এবং এটি তাঁর উস্তাদ ইবনুল জামাআহ কর্তৃক ইবনুস সালাহ-এর গ্রন্থের যে সংক্ষিপ্তসার (مختصر) - যার নাম "আল-মানহালুর রাবী ফি মুখতাসারি উলুমিল হাদিসিন নাবাবী" - তা পড়ার পরের ঘটনা। এটি ছিল ৭২২ হিজরি সনের জিলহজ মাসের শেষ দশকে, যেমনটি এই গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনার সময় তাঁর নিজের হস্তাক্ষরে দেখা যাবে।
আমার কাছে যা মনে হয়—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—তা হলো, এই কিতাবের ধারণা লেখকের মনে ধীরে ধীরে দানা বেঁধেছে। তিনি ইবনুস সালাহ-এর বিষয়বস্তু এবং "আল-মানহালুর রাবী" গ্রন্থে তাঁর উস্তাদ ইবনুল জামাআহ-এর বিন্যাসের প্রতি মুগ্ধ হয়েছিলেন। অধ্যয়ন ও ইলম অর্জনে তাঁর একনিষ্ঠতার ফলে তিনি অনেক দুর্লভ উপকারিতা (فوائد فرائد), সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা (تنكيات وتعقبات) লাভ করেন; যার ফসল হলো এই গ্রন্থটি। এটি ছিল ৭৩৩ হিজরি সনের আগে, যা তাঁর উস্তাদ ইবনুল জামাআহ (বদরুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম)-এর মৃত্যুর বছর; কারণ তিনি গ্রন্থের শেষ অনুচ্ছেদে (অনুচ্ছেদ ৯৯) তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা তাঁকে জীবিত রাখুন", সুতরাং এটি রচনার সময় তিনি জীবিত ছিলেন।
*
গ্রন্থটির সংক্ষিপ্তকরণের পদ্ধতি এবং এতে তাঁর অনুসৃত মানহাজ (منهج):আবুল হাসান আত-তাবরিজি তাঁর এই গ্রন্থে নিজের জন্য নির্ধারিত একটি পদ্ধতি (منهج) অনুসরণ করেছেন, যার বৈশিষ্ট্যসমূহ তিনি এর মুখবন্ধে (ديباجة) উল্লেখ করেছেন। তাঁর সাথে আমাদের এই সফরের পর আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে উপনীত হতে পারি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أولًا: اشتمل هذا المختصر جميع مادة كتاب ابن الصلاح "علوم الحديث "الذي اشتهر بـ "المقدمة" قال في (الديباجة): "اختصرتُ حسب ما أردتُ، محافظًا على مسائل جميع الأنواع وأضرابه، محترزًا عما يخل بغرض في مرامه".
ثانيًا: غيَّر المصنف طريقة ترتيب ابن الصلاح لمادته، بأن قدم وأخَّر في أنواعه، واستفاد في ذلك من مختصر شيخه ابن جماعة، وسيأتي إبراز ذلك لاحقًا، تحت، عنوان (منهج المؤلف في ترتيب مادة الكتاب).
ثالثًا: حذف المكرر
(1) تجنُّبًا للإطناب، وأشار إلى ذلك في محله.
*
زيادات أبي الحسن التبريزي على كتاب ابن الصلاح:رابعًا: زاد على كتاب ابن الصلاح بعض المباحث وكثيرًا من الفروع، ويمكن إجمال الكلام على الزيادات على النحو الآتي:
1 - أراد المصنف في كتابه استيعاب جميع مباحث علوم الحديث، والتعرض لجلّ تفصيلاته، على وجه يغني ويكفي بنوع من الاختصار دون إطناب أو إسهاب.
قال في (ديباجة) الكتاب: "
… تصنيف مختصر في علوم الحديث، حاويًا لجميع مقاصدها، كافلًا لإبراز محاسنها، كافيًا فيما يحتاج إليه فيها".
2 - الإضافات والزيادات التي ذكرها أبو الحسن التبريزي على كتاب ابن الصلاح أنواع، فجلها فروع لها صلة بمباحث، وبعضها أمثلة
--------------------------------------------
প্রথমত: এই সংক্ষেপিত গ্রন্থটি (مختصر) ইবনে আল-সালাহ-এর ‘উলূম আল-হাদিস’ নামক গ্রন্থের সমস্ত বিষয়বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা ‘আল-মুকাদ্দিমাহ’ নামে সমধিক পরিচিত। তিনি (প্রস্তাবনায়) বলেছেন: "আমি আমার ইচ্ছা অনুযায়ী সংক্ষেপ করেছি, এতে সকল প্রকারভেদ (أنواع) ও তার সমজাতীয় বিষয়াবলী বজায় রেখেছি এবং লক্ষ্য অর্জনে বিঘ্ন ঘটায় এমন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলেছি।"
দ্বিতীয়ত: গ্রন্থকার ইবনে আল-সালাহ-এর বিষয়বস্তু বিন্যাসের পদ্ধতি পরিবর্তন করেছেন। তিনি এর প্রকারভেদগুলোর (أنواع) ক্রম পরিবর্তন করেছেন এবং এক্ষেত্রে তিনি তাঁর উস্তাদ ইবনে জামাআহ-এর সংক্ষেপিত গ্রন্থ (مختصر) থেকে উপকৃত হয়েছেন। এই বিষয়টি পরবর্তীতে ‘গ্রন্থের বিষয়বস্তু বিন্যাসে লেখকের পদ্ধতি’ শীর্ষক শিরোনামের অধীনে বিস্তারিতভাবে আসবে।
তৃতীয়ত: বাহুল্য (إطناب) বর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি পুনরাবৃত্ত বিষয়গুলো বাদ দিয়েছেন এবং যথাযথ স্থানে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন।
(১) *
ইবনে আল-সালাহ-এর গ্রন্থে আবু আল-হাসান আল-তাবরিজির সংযোজনসমূহ:চতুর্থত: তিনি ইবনে আল-সালাহ-এর গ্রন্থে কিছু আলোচ্য বিষয় (مباحث) এবং অনেক শাখা-প্রশাখা (فروع) যুক্ত করেছেন। এই সংযোজনগুলোর উপর আলোচনার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ করা যেতে পারে:
১ - গ্রন্থকার তাঁর এই গ্রন্থে উলূম আল-হাদিস-এর সকল আলোচ্য বিষয়কে (مباحث) অন্তর্ভুক্ত করতে এবং এর অধিকাংশ খুঁটিনাটি এমনভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন, যা বাহুল্য (إطناب) বা দীর্ঘসূত্রতা (إسهاب) ছাড়াই এক প্রকার সংক্ষিপ্ততার মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও যথেষ্ট হয়।
গ্রন্থের (প্রস্তাবনায়) তিনি বলেছেন: " ... উলূম আল-হাদিস বিষয়ে একটি সংক্ষেপিত গ্রন্থ (مختصر) সংকলন করছি, যা এর সকল উদ্দেশ্যকে (مقاصد) ধারণ করবে, এর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং এর প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর জন্য যথেষ্ট হবে।"
২ - আবু আল-হাসান আল-তাবরিজি ইবনে আল-সালাহ-এর গ্রন্থে যে অতিরিক্ত বিষয় ও সংযোজনগুলো উল্লেখ করেছেন তা বিভিন্ন প্রকারের (أنواع); যার অধিকাংশই মূল আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট শাখা-প্রশাখা (فروع) এবং কিছু হলো উদাহরণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
واستطرادات وشروحات تدل على إدمان نظر، وحضور فكر، وحُسن ربط، وبعضها تعقبات واستدراكات
(1)، تدل على دقة فهم، وحصول ملكة.
3 - جعل أبو الحسن هذه الزيادات في أماكنها، قال في (ديباجة) الكتاب: "وإضافة ما لا بد للطالب منه كلّ في بابه".
4 - اعتمد التبريزي في زياداته كثيرًا على محيي الدين النووي في كتابه "إرشاد طلاب الحقائق إلى معرفة سنن خير الخلائق" وعلى ابن دقيق العيد في كتابه "الاقتراح" وكلاهما مختصر لكتاب ابن الصلاح، ونص على ذلك في الديباجة أيضًا، قال أبو الحسن التبريزي عقب النقل السابق عنه: "مع زيادة مما ذكره قاضي القضاة العلَّامة الحافظ تقي الدين، ابن دقيق العيد، والشيخ الإمام الجليل الحافظ محيي الدين النووي - تغمَّدهما اللّه بغفرانه - في "مختصريهما"
… ".
وينقل المصنف كثيرًا عنهما، ويقول
(2) قبل ذلك: "قال تقي الدين" أو "قال محيي الدين"، وينقل كلامهما بالحرف.
5 - يشير المصنف إلى زياداته بطرق شتي، فتارة يقول: "لم يذكره" كما في (الدرجة الخامسة) من (ألفاظ التعديل)
(3)، وتارة يقول: "لم يورده"، كما في (الفصل الثالث) من (الباب الرابع) وهو (في أتباع التابعين) قال: "ولم يورده الشيخ تقي الدين، وفيه
--------------------------------------------
এবং এতে এমন কিছু প্রাসঙ্গিক প্রসারণ ও ব্যাখ্যা রয়েছে যা গভীর পর্যবেক্ষণ, চিন্তার সজাগ উপস্থিতি এবং উত্তম সংযোগের পরিচয় দেয়। এর কিছু অংশ হলো পর্যবেক্ষণ (تعقبات) ও সংশোধনী (استدراكات)
(১), যা সূক্ষ্ম বুঝ এবং পাণ্ডিত্যের (ملكة) বহিঃপ্রকাশ।
৩ - আবুল হাসান এই অতিরিক্ত সংযোজনগুলো (زيادات) তাদের যথাস্থানে সন্নিবেশিত করেছেন। তিনি কিতাবের মুখবন্ধে (ديباجة) বলেছেন: "এবং প্রতিটি অধ্যায়ে ছাত্রের জন্য যা অপরিহার্য তা যোগ করা হয়েছে।"
৪ - তিবরিজি তাঁর অতিরিক্ত সংযোজনসমূহে (زيادات) বহুলাংশে মুহিউদ্দিন আন-নববীর 'ইরশাদু তুল্লাবিল হাকাইক ইলা মারিফাতি সুনানি খাইরিল খালাইক' এবং ইবনু দাকিকিল ঈদের 'আল-ইকতিরাহ' গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন। এই উভয় গ্রন্থই ইবনুস সালাহর কিতাবের সংক্ষেপিত রূপ (مختصر)। তিনি মুখবন্ধেও (ديباجة) স্পষ্টভাবে এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। আবুল হাসান তিবরিজি তাঁর পূর্বোক্ত উদ্ধৃতির পর বলেন: "সাথে সেই অতিরিক্ত সংযোজনসহ (زيادة), যা প্রধান বিচারপতি আল্লামা হাফেজ তাকিউদ্দীন ইবনু দাকিকিল ঈদ এবং মহান ইমাম শায়খ হাফেজ মুহিউদ্দিন আন-নববী—আল্লাহ তাঁদের উভয়কে তাঁর ক্ষমা দ্বারা আবৃত করুন—তাঁদের সংক্ষেপিত গ্রন্থদ্বয়ে (مختصر) উল্লেখ করেছেন..."।
গ্রন্থকার তাঁদের থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেন এবং তার আগে বলেন
(২): "তাকিউদ্দীন বলেছেন" অথবা "মুহিউদ্দিন বলেছেন", এবং তাঁদের বক্তব্য হুবহু বর্ণনা করেন।
৫ - গ্রন্থকার তাঁর অতিরিক্ত সংযোজনগুলোর (زيادات) দিকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ইঙ্গিত করেন। কখনো তিনি বলেন: "তিনি এটি উল্লেখ করেননি", যেমনটি প্রশংসামূলক শব্দাবলীর (ألفاظ التعديل)
(৩) পঞ্চম স্তরে (الدرجة الخامسة) দেখা যায়। আবার কখনো বলেন: "তিনি এটি আনেননি", যেমনটি চতুর্থ পরিচ্ছেদের (যা তাবিয়ীগণের অনুসারী (أتباع التابعين) প্রসঙ্গে) তৃতীয় অনুচ্ছেদে তিনি বলেছেন: "শায়খ তাকিউদ্দীন এটি আনেননি, অথচ এতে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২০)
أبحاث"
(1)، وأورد أربعة منها.
وأغلب المواطن التي زاد فيها المصنف مسبوقة بقوله: "قلت"
(2)، وإن كان الكثير منها في التعقبات، كما سيأتي إن شاء اللّه تعالى، وقد يزيد دون أي إشارة لذلك.
*
نماذج من زيادات المصنف على "علوم الحديث" لابن الصلاح:6 - هذه نماذج
(3) من زيادات المصنف على ما عند ابن الصلاح:
1 - زيادة نفي النكارة في حد الصحيح، انظر فقرة (15).
2 - زيادة كلام ابن طاهر في بيان شروط الأئمة الخمسة في كتبهم، ونقل مذهب الحاكم ورده، انظر فقرة رقم (42).
3 - زاد بيتين
(4) في ذكر المعمّرين من الوضاعين، انظر آخر فقرة (67).
4 - زاد كلامًا للحافظ المقدسي في أقسام الغريب والمفرد، انظر فقرة (79).
5 - ثبوت التعديل بقول العبد والمرأة، انظر فقرة (86).
--------------------------------------------
গবেষণাসমূহ"
(1), এবং তিনি এর মধ্য থেকে চারটি উল্লেখ করেছেন।
লেখক (المصنف) যেখানে অতিরিক্ত অংশ যোগ করেছেন তার অধিকাংশের শুরুতে তাঁর এই উক্তি রয়েছে: "আমি বলছি"
(2), যদিও এর অনেকগুলোই হচ্ছে পর্যালোচনা (التعقبات) বা সমালোচনার ক্ষেত্রে, যা ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহ চাইলেন তো সামনে আসবে। আর কখনও কখনও তিনি কোনো প্রকার ইঙ্গিত ছাড়াই অতিরিক্ত কিছু যোগ করেন।
*
ইবনে আস-সালাহ-এর "উলূমুল হাদীস"-এর ওপর লেখকের সংযোজনসমূহের (زيادات) কিছু নমুনা:6 - ইবনে আস-সালাহ যা বর্ণনা করেছেন তার ওপর লেখকের অতিরিক্ত সংযোজনসমূহের (زيادات) নমুনা
(3) নিম্নরূপ:
1 - সহিহ (صحيح)-এর সংজ্ঞায় মুনকার হওয়ার (النكارة) বিষয়টি না থাকার শর্ত যোগ করা। দেখুন অনুচ্ছেদ (১৫)।
2 - ইবনে তাহিরের বক্তব্য সংযোজন করা যেখানে তিনি পাঁচজন ইমামের তাঁদের কিতাবসমূহে অনুসৃত শর্তাবলি (شروط) বর্ণনা করেছেন এবং হাকিমের মাযহাব বর্ণনা ও তা খণ্ডন করেছেন। দেখুন অনুচ্ছেদ নং (৪২)।
3 - হাদীস জালকারী বা মিথ্যুকদের (الوضاعين) মধ্যে দীর্ঘজীবী ব্যক্তিদের বর্ণনায় তিনি দুটি পংক্তি
(4) সংযোজন করেছেন। দেখুন অনুচ্ছেদ (৬৭) এর শেষাংশ।
4 - হাফেজ মাকদিসীর বক্তব্য সংযোজন করেছেন যেখানে গরীব (غريب) এবং মুফরাদ (مفرد) হাদীসের প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। দেখুন অনুচ্ছেদ (৭৯)।
5 - দাস এবং নারীর কথার মাধ্যমে নির্ভরযোগ্যতা বা ন্যায়পরায়ণতা সাব্যস্তকরণ (التعديل) হওয়া। দেখুন অনুচ্ছেদ (৮৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২১)
6 - تحرير مذهب الشافعية في تقديم الجرح على التعديل، انظر فقرة (90).
7 - زيادة المرتبة الخامسة من ألفاظ التعديل، انظر فقرة (98).
8 - زاد بعض صور المسلسل، انظر فقرة (99).
9 - زاد شرطًا في قبول تدليس الشيوخ، انظر فقرة (102).
10 - زاد كلامًا فيه دفاع عن الحاكم، وأورد نصًا من "مستدركه"، انظر فقرة (111).
11 - زاد تعريفًا بكعب الأحبار في فقرة (112) قال: "وهو كعب بن ماتع يدعى أبا إسحاق، أورده ابن الأثير".
12 - زاد مثالا على صحة التحمل حال الكفر، وبيانًا لحال عبد اللّه بن سَرْجِس، انظر فقرة (113).
13 - زاد قصة النسائي مع الحارث بن مسكين، انظر فقرة (116).
14 - زاد دليلًا على أن السماع من لفظ الشيخ أرجح من القراءة عليه، انظر فقرة (117).
15 - زاد احتمالًا على آخر طرق ثبوت الصُّحبة، انظر فقرة (204).
16 - زاد فصلًا كاملًا في أتباع التابعين، انظر الفقرات (214، 215، 216)، وختمه بقوله: "وهذا باب واسع، ومحلُّ استيعابه غيرُ ما نحن فيه"
(1).
17 - زاد (النوع الخامس) من (الفصل الخامس) من (الباب الرابع)، انظر فقرة (225).
--------------------------------------------
6 - গুণকীর্তনের (التعديل) ওপর ত্রুটি বর্ণনার (الجرح) অগ্রাধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে শাফেয়ি মাযহাবের বিশ্লেষণ, অনুচ্ছেদ (৯০) দেখুন।
7 - গুণকীর্তনের (التعديل) শব্দমালার পঞ্চম স্তরের সংযোজন, অনুচ্ছেদ (৯৮) দেখুন।
8 - মুসালসাল (المسلسل) হাদিসের কিছু রূপ বৃদ্ধি করেছেন, অনুচ্ছেদ (৯৯) দেখুন।
9 - শায়খদের তাদলীস (تدليس الشيوخ) গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি শর্ত বৃদ্ধি করেছেন, অনুচ্ছেদ (১০২) দেখুন।
10 - ইমাম হাকিমের সমর্থনে কিছু বক্তব্য বৃদ্ধি করেছেন এবং তাঁর 'মুস্তাদরাক' থেকে একটি উদ্ধৃতি পেশ করেছেন, অনুচ্ছেদ (১১১) দেখুন।
11 - অনুচ্ছেদ (১১২)-তে কাব আল-আহবার-এর পরিচয় বৃদ্ধি করে বলেছেন: "তিনি হলেন কাব বিন মাতি', যাঁকে আবু ইসহাক বলা হয়; ইবনুল আসির এটি উল্লেখ করেছেন।"
12 - কুফরি অবস্থায় হাদিস গ্রহণ (التحمل) শুদ্ধ হওয়ার একটি উদাহরণ এবং আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস-এর অবস্থার বর্ণনা বৃদ্ধি করেছেন, অনুচ্ছেদ (১১৩) দেখুন।
13 - হারিস বিন মিসকিনের সাথে ইমাম নাসায়ি-র ঘটনাটি বৃদ্ধি করেছেন, অনুচ্ছেদ (১১৬) দেখুন।
14 - উস্তাদের মুখ থেকে শ্রবণ করা (السماع) তাঁর নিকট পাঠ করার (القراءة) চেয়ে অধিক উত্তম হওয়ার একটি দলিল বৃদ্ধি করেছেন, অনুচ্ছেদ (১১৭) দেখুন।
15 - সাহাবি হওয়া (الصحبة) সাব্যস্ত হওয়ার সর্বশেষ পদ্ধতির ওপর একটি সম্ভাবনা বৃদ্ধি করেছেন, অনুচ্ছেদ (২০৪) দেখুন।
16 - তাবে-তাবেয়িনদের (أتباع التابعين) বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচ্ছেদ বৃদ্ধি করেছেন, অনুচ্ছেদ (২১৪, ২১৫, ২১৬) দেখুন; এবং তিনি তা এই বলে শেষ করেছেন: "এটি একটি বিস্তৃত অধ্যায়, আর এটি পূর্ণাঙ্গরূপে আলোচনার স্থান আমাদের বর্তমান প্রসঙ্গের বাইরে"
(1)।
17 - চতুর্থ অধ্যায়ের পঞ্চম পরিচ্ছেদের (পঞ্চম প্রকার) সংযোজন করেছেন, অনুচ্ছেদ (২২৫) দেখুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২২)
18 - زاد ذكر كتاب ابن نقطة "الإكمال" ومن ذيَّل عليه، وذلك في خلال فقرة (233).
19 - زاد أمثلة كثيرة في (المؤتلف والمختلف) في فقرة (233)، وسبقت بقوله: "قلت"، مثل (عمرو بن أبي سفيان)، ومن اسمه (خازم)
(1) في "الصحيحين"، وزاد: (رياح بن عبيدة) و (عبيدة بن عمرو الحذاء) و (بشر بن ثابت البزار)، و (ابن السلماني)، وزاد في غير الرواة (عبد المطلب).
20 - زاد في التمثيل حديث عائثمة المذكور آخر فقرة (250).
21 - زاد في (الفصل الثامن) من (الباب الرابع) معنى كلمة (التاريخ) انظر فقرة (254).
22 - وزاد في الفصل نفسه فقرة رقم (257) جماعة ممن عاشوا مئة وعشرين سنة، وقال عقب سردهم: "فعلى هذا هؤلاء جماعة كثيرة زائدة على ما ذكره الشيخ تقي الدين من اثنين" ثم زاد فائدة عن عمر سلمان رضي الله عنه، نقلها من النووي في "تهذيب الأسماء واللغات".
23 - زاد في فقرة (258) جماعة من أعيان العلماء من الفقهاء خير الذين سماهم ابن الصلاح.
24 - زاد في فقرة (260) على (الحفاظ الذين أحسنوا التصنيف، وعظم به الانتفاع)
(2).
25 - زاد في آخر فقرة (262) كلامًا للنسائي في "الضعفاء".
--------------------------------------------
১৮ - তিনি ইবনে নুকতাহ-এর গ্রন্থ "আল-ইকমাল" এবং এর পরিশিষ্ট রচনাকারীদের কথা (২৩৩) নম্বর অনুচ্ছেদে যুক্ত করেছেন।
১৯ - তিনি (২৩৩) নম্বর অনুচ্ছেদে 'নামের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য' (المؤتلف والمختلف) বিষয়ে অনেক উদাহরণ যুক্ত করেছেন, যা তাঁর "আমি বলছি" উক্তি দ্বারা শুরু হয়েছে; যেমন (আমর ইবনে আবি সুফিয়ান), এবং সহিহাইন-এ যাদের নাম (খাজিম)
(১); এবং আরও যুক্ত করেছেন: (রিয়াহ ইবনে উবায়দাহ), (উবায়দাহ ইবনে আমর আল-হাদ্দা), (বিশর ইবনে সাবিত আল-বায্যার) এবং (ইবনে আস-সালমানি)। বর্ণনাকারীদের বাইরে তিনি (আবদুল মুত্তালিব)-এর নামও যুক্ত করেছেন।
২০ - তিনি (২৫০) নম্বর অনুচ্ছেদের শেষে উল্লিখিত আইসামাহ-এর হাদিসটি উদাহরণ হিসেবে যুক্ত করেছেন।
২১ - তিনি চতুর্থ অধ্যায়ের অষ্টম পরিচ্ছেদে 'ইতিহাস' (التاريخ) শব্দটির অর্থ যুক্ত করেছেন; দেখুন অনুচ্ছেদ (২৫৪)।
২২ - তিনি একই পরিচ্ছেদের (২৫৭) নম্বর অনুচ্ছেদে এমন একদল লোকের নাম যুক্ত করেছেন যারা একশ বিশ বছর বেঁচেছিলেন। তাদের তালিকা উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: "এই হিসেবে তারা একটি বড় দল, যা শায়খ তাকিউদ্দিন বর্ণিত দুইজনের চেয়েও বেশি।" এরপর তিনি সালমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বয়স সম্পর্কে একটি অতিরিক্ত তথ্য যুক্ত করেন, যা তিনি নববী-র "তাহজীবুল আসমা ওয়াল লুগাত" থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
২৩ - তিনি (২৫৮) নম্বর অনুচ্ছেদে ফকিহদের (الفقهاء) মধ্য থেকে একদল বিশিষ্ট আলেমের নাম যুক্ত করেছেন, যারা ইবনে আস-সালাহ কর্তৃক নামোল্লিখিত ব্যক্তিদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
২৪ - তিনি (২৬০) নম্বর অনুচ্ছেদে "সেইসব হাফিজগণ (الحفاظ) যারা চমৎকার গ্রন্থনা করেছেন এবং যার দ্বারা উপকারিতা ব্যাপক হয়েছে" শিরোনামে অতিরিক্ত সংযোজন করেছেন
(২)।
২৫ - তিনি (২৬২) নম্বর অনুচ্ছেদের শেষে নাসায়ি-র "আদ-দুয়াফা" গ্রন্থের একটি বক্তব্য যুক্ত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
26 - زاد جميع أسماء رواة البلدان، المذكورين في فقرة رقم (269).
27 - الخاتمة، وهي آخر الكتاب، وجعلها على حد قوله: "في أحوال سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم على سبيل الإجمال" وهي من فقرة (269) إلى آخر الكتاب فقرة (290)، وجميع ما فيها زيادة من عند المصنف.
*
اعتماد المصنف على النووي وابن جماعة:من الأمور المنهجية التي يستحق ذكرها، والإشارة إليها، والدندنة حولها: أن أبا الحسن التبريزي في اختصاره لكتاب ابن الصلاح اعتمد على كتاب النووي "الإرشاد"، ولم يقتصر اعتماده عليه بنقل الزيادات التي أضافها على مادة ابن الصلاح فحسب، وإنما نقل كثيرًا من عباراته، وصرح بذلك تارة، وأدرجها ضمن كتابه
(1) بشيء من التصرف تارة أخرى، وهكذا فعل ابن الملقن في كتابه: "المقنع" أيضًا.
ومن الجدير بالذكر أن للمصنف تعقبات على النووي من جهة، ونقولات من كتبه الأخرى
(2) من جهة ثانية، وأن النقل عنه يفوق كثيرًا ما صنعه أبو الحسن التبريزي مع ابن دقيق العيد في "الاقتراح".
ولا ينسى في هذا المقام أيضًا شيخه بدر ابن جماعة، الذي تدرب ونشأ في علم الحديث عليه، وقرأ اختصاره كتاب ابن الصلاح في مجالس عليه
(3)، ولذا ضمن أيضًا عباراته وزياداته في كتابه هذا، وأكثر ما تظهر الاستفادة من ابن جماعة في ترتيب المصنف لمادة كتاب
--------------------------------------------
26 - ২৬৯ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লিখিত বিভিন্ন অঞ্চলের বর্ণনাকারীদের (رواة) সমস্ত নাম তিনি সংযোজন করেছেন।
27 - উপসংহার, যা গ্রন্থের শেষ অংশ; তিনি একে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী এভাবে নির্ধারণ করেছেন: "রাসূলগণের সরদারের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবস্থা সম্পর্কে সংক্ষেপিত বর্ণনা।" এটি ২৬৯ নম্বর অনুচ্ছেদ থেকে গ্রন্থের শেষ ২৯০ নম্বর অনুচ্ছেদ পর্যন্ত বিস্তৃত, এবং এর মধ্যে যা কিছু রয়েছে সবই গ্রন্থকারের পক্ষ থেকে সংযোজন।
*
ইমাম নববী এবং ইবনে জামাআহর উপর গ্রন্থকারের নির্ভরতা:পদ্ধতিগত বিষয়গুলোর মধ্যে যা উল্লেখ করার, ইঙ্গিত দেওয়ার এবং সবিস্তারে আলোচনা করার দাবি রাখে তা হলো: আবুল হাসান আত-তাবরিজি ইবনে আস-সালাহ-এর গ্রন্থের সংক্ষেপিত রূপ (اختصار) রচনার ক্ষেত্রে ইমাম নববীর 'আল-ইরশাদ' গ্রন্থের উপর নির্ভর করেছেন। তাঁর এই নির্ভরশীলতা কেবল ইবনে আস-সালাহ-এর মূল উপাদানের উপর ইমাম নববীর করা অতিরিক্ত সংযোজনগুলো বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি তাঁর অনেক বর্ণনাও উদ্ধৃত করেছেন; কখনও তিনি তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন, আবার কখনও কিছুটা পরিমার্জন সহকারে নিজ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইবনুল মুলাক্কিনও তাঁর 'আল-মুকনি' গ্রন্থে অনুরূপ করেছেন।
এটিও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, একদিকে গ্রন্থকারের ইমাম নববীর উপর কিছু পর্যালোচনা রয়েছে, অন্যদিকে তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতিও রয়েছে। আর ইমাম নববী থেকে তাঁর উদ্ধৃতি গ্রহণের মাত্রা আবুল হাসান আত-তাবরিজি কর্তৃক ইবনে দাকিক আল-ঈদ-এর 'আল-ইকতিরাহ' গ্রন্থ থেকে যা করেছেন তার চেয়ে অনেক বেশি।
এক্ষেত্রে তাঁর শাইখ বদর ইবনে জামাআহর কথাও বিস্মৃত হওয়া যাবে না, যাঁর নিকট তিনি হাদিস শাস্ত্র (علم الحديث) চর্চা করেছেন ও বেড়ে উঠেছেন এবং তাঁর মজলিসে ইবনে আস-সালাহ-এর গ্রন্থের তাঁর কৃত সংক্ষেপিত রূপটি (اختصار) পাঠ করেছেন। এজন্যই তিনি তাঁর এই গ্রন্থে তাঁর (ইবনে জামাআহর) বক্তব্য ও সংযোজনগুলোও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। গ্রন্থকারের এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু বিন্যাসের ক্ষেত্রে ইবনে জামাআহর থেকে উপকৃত হওয়ার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ابن الصلاح، فإنه قدّم فيه وأخَّر وتلاشى نقدًا وجِّه إليه في هذا، وسنفرد الحديث عنه في:
منهج المؤلف في ترتيب مادة الكتاب:اعتنى أبو الحسن التبريزي في كتابه "الكافي" هذا عناية مميزة، وأَتى على جُلّ ما عند ابن الصلاح في كتابه "علوم الحديث"، وأعاد ترتيبه، وزاد عليه فروعًا عديدة، ونكّت عليه تنكياتٍ مفيدةً، مما جعل الحافظ ابن حجر - رحمه الله تعالى - يقول في ترجمته له: "اختصر "علوم الحديث" لابن الصلاح اختصارًا مفيدًا"
(1).
وقال ابن قاضي شهبة: "اختصر "علوم الحديث" اختصارًا حسنًا"
(2).
واستفاد أبو الحسن التبريزي في ترتيب اختصاره لمادة كتاب "علوم الحديث" لابن الصلاح من كتاب شيخه بدر الدين محمد بن إبراهيم بن جماعة (ت 733 هـ) المسمى "المنهل الروي في مختصر علوم الحديث النبوي"
(3) فجعل الكتاب في مقدمتين، وأربعة أبواب، وخاتمة.
فجعل المقدمة الأولى في مناقب الحديث وأصحابه، والمقدمة الثانية في بيان ألفاظ مستعملة على اصطلاح هذا الشأن.
بينما اكتفى ابن جماعة بالمقدمة الثانية، وجعل الأبواب أربعة أيضًا
--------------------------------------------
ইবনে আস-সালাহ; তিনি এতে বিষয়বস্তুর অগ্র-পশ্চাত করেছেন এবং এই বিষয়ে তাঁর প্রতি করা সমালোচনা তিনি খণ্ডন করেছেন। আমরা এ সম্পর্কে স্বতন্ত্র আলোচনা করব এখানে:
গ্রন্থের বিষয়বস্তু বিন্যাসে লেখকের কর্মপদ্ধতি (منهج):আবু হাসান আত-তাবরিজি তাঁর এই "আল-কাফি" গ্রন্থে বিশেষ যত্নারোপ করেছেন এবং ইবনে আস-সালাহর "উলূমুল হাদিস" গ্রন্থের অধিকাংশ বিষয় এতে নিয়ে এসেছেন। তিনি গ্রন্থটি পুনর্গঠন করেছেন, অনেক শাখা-প্রশাখা যোগ করেছেন এবং এতে বেশ কিছু উপকারী সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা (نكّت) প্রদান করেছেন। যার ফলে হাফেজ ইবনে হাজার -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- তাঁর জীবনী আলোচনায় বলেছেন: "তিনি ইবনে আস-সালাহর 'উলূমুল হাদিস'-এর একটি অত্যন্ত উপকারী সংক্ষেপণ (اختصار) করেছেন।"
(১).
এবং ইবনে কাদি শুহবাহ বলেছেন: "তিনি 'উলূমুল হাদিস'-এর একটি চমৎকার সংক্ষেপণ (اختصار) করেছেন।"
(২).
আবু হাসান আত-তাবরিজি ইবনে আস-সালাহর "উলূমুল হাদিস" গ্রন্থের বিষয়বস্তুর এই সংক্ষেপণ (اختصار) বিন্যাসের ক্ষেত্রে তাঁর উস্তাদ বদরুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে জামাআহ (মৃত্যু ৭৩৩ হি.)-এর রচিত গ্রন্থ "আল-মানহালুর রাওয়ি ফি মুখতাসার উলূমুল হাদিস আন-নাবাউয়ি" থেকে উপকৃত হয়েছেন। ফলে তিনি গ্রন্থটিকে দুটি ভূমিকা, চারটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছেন।
তিনি প্রথম ভূমিকাটি হাদিস ও হাদিস বিশারদদের মর্যাদাবিষয়ক করেছেন এবং দ্বিতীয় ভূমিকাটি এই শাস্ত্রের পরিভাষা (اصطلاح) অনুযায়ী ব্যবহৃত শব্দাবলির বর্ণনায় নির্ধারণ করেছেন।
পক্ষান্তরে ইবনে জামাআহ কেবল দ্বিতীয় ভূমিকার ওপর নির্ভর করেছেন এবং তিনিও অধ্যায়গুলোকে চারটিতে বিন্যস্ত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ولكنه سماها (أطراف)، قال في (ديباجة) كتابه (ص 26): "ورتبته على مقدمة، وأربعة أطراف".
وهذه الأبواب الأربعة عند أبي الحسن التبريزي مقارنًا بما في "المنهل الروي":
الباب الأول: في متن الحديث، وقسمه التبريزي إلى ثلاثة فصول:
الفصل الأول: في أقسامه: الصحيح، والحسن، والضعيف.
وتعرض فيه للحديث الحسن عند الترمذي، وأنواع التركيب التي استخدمها معه، والفرق بين الحسن والصحيح.
ثم أتى للضعيف، وأنه على أصناف، وذكر أنواعه من حيث عدم الاتصال ومحال الانقطاع، وبدأ بالمعلَّق، وذكر المعلقات في "الصحيحين"، ثم انتقل إلى ما سقط من آخره - وهو ذكر الصحابي - ثم ما سقط منه التابعي، وفرع فروعًا؛ تعرض فيها إلى ما رواه بعضهم مرسلًا وبعضهم متصلًا، وجرَّه هذا إلى الحديث عن زيادة الثقة، ثم ذكر المرسل الخفي.
ثم ذكر أنواع الضعيف لا من جهة عدم اتصال إسناده، وجعله ستة أصناف:
1 - الموضوع، وذكر فيه: أسباب الوضع، وأصناف الوضّاعين - وجعلهم خمسة -، وطرق معرفة الحديث الموضوع، وجعلها ثلاثة.
2 - المقلوب.
3 - المضطرب.
4 - المدرج، وجعله على ثلاثة أقسام.
5 - في بيان المعلّل والشاذ والمنكر.
তবে তিনি এগুলোর নাম দিয়েছেন আতরাফ (أطراف), তিনি তাঁর গ্রন্থের (২৬ নং পৃষ্ঠায়) ভূমিকা (ديباجة)-য় বলেছেন: "এবং আমি এটি একটি ভূমিকা ও চারটি আতরাফ (أطراف)-এর ওপর বিন্যস্ত করেছি।"
আর আবু হাসান আত-তাবরিজির নিকট এই চারটি অধ্যায় "আল-মানহাল আল-রাবি" গ্রন্থের বিষয়বস্তুর সাথে তুলনামূলকভাবে নিম্নরূপ:
প্রথম অধ্যায়: হাদিসের মাতন (متن) প্রসঙ্গে, আর তাবরিজি এটিকে তিনটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছেন:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এর প্রকারভেদ প্রসঙ্গে: সহিহ (الصحيح), হাসান (الحسن) এবং জয়িফ (الضعيف)।
এতে তিনি ইমাম তিরমিজির নিকট হাসান (الحسن) হাদিস এবং এর সাথে তিনি যে সকল যৌগিক পরিভাষা (تركيب) ব্যবহার করেছেন, এবং হাসান (الحسن) ও সহিহ (الصحيح)-এর মধ্যকার পার্থক্য আলোচনা করেছেন।
অতঃপর তিনি জয়িফ (الضعيف) প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং এটি যে বিভিন্ন শ্রেণির হতে পারে তা উল্লেখ করেছেন। তিনি সনদের ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন হওয়ার (عدم الاتصال) দিক এবং বিচ্ছিন্নতার স্থানসমূহ অনুযায়ী এর প্রকারভেদগুলো উল্লেখ করেছেন। তিনি মুআল্লাক (المعلَّق) দিয়ে শুরু করেছেন এবং "সহিহাইন"-এ বিদ্যমান মুআল্লাক বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি সনদের শেষ প্রান্ত থেকে যা বিলুপ্ত হয়েছে—অর্থাৎ সাহাবীর উল্লেখ—সেটি আলোচনা করেছেন, অতঃপর যা থেকে তাবেয়ি বিলুপ্ত হয়েছে তা বর্ণনা করেছেন। তিনি এখান থেকে আরও কিছু শাখা বের করেছেন; যেখানে কোনো বর্ণনাকারী হাদিসটিকে মুরসাল (مرسلًا) হিসেবে এবং কেউ মুত্তাসিল (متصلًا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এমন বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন। এটি তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত তথ্য বা জিয়াদাতুথ থিকাহ (زيادة الثقة) সম্পর্কে আলোচনার দিকে নিয়ে গেছে, অতঃপর তিনি মুরসাল খাফি (المرسل الخفي) উল্লেখ করেছেন।
অতঃপর তিনি জয়িফ (الضعيف)-এর প্রকারভেদগুলো সনদের ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন হওয়ার দিক ছাড়া অন্য দিক থেকে উল্লেখ করেছেন এবং একে ছয়টি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করেছেন:
1 - জাল (الموضوع), এতে তিনি জালকরণের কারণসমূহ, জালকারীদের (الوضّاعين) শ্রেণিবিভাগ—যাদের তিনি পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন—এবং জাল (الموضوع) হাদিস চেনার উপায়সমূহ উল্লেখ করেছেন, যা তিনি তিনটি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
2 - মাকলুব (المقلوب)।
3 - মুজতারিব (المضطرب)।
4 - মুদরাজ (المدرج), একে তিনি তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন।
5 - মুআল্লাল (المعلّل), শায (الشاذ) এবং মুনকার (المنكر)-এর বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
6 - في بيان الغريب والعزيز وضدهما، وقسمه إلى قسمين، وبحث تحته: المشهور، والمتواتر.
وجره هذا إلى الكلام على:
الفصل الثاني: الاعتبار والمتابعات والشواهد، وما يدخل فيها، ثم رجع إلى تقسيم الغريب والمفرد إلى خمسة أقسام على حسب الاعتبارات والشواهد.
ثم ختم هذا الباب بقوله:
الفصل الثالث: بقية ما يتعلَّق بالمتن، وجعله ثلاثة أنواع:
الأول: في مختلف الحديث، وجعله على قسمين، وجعل القسم الثاني على ضربين.
الثاني: في ناسخ الحديث ومنسوخه، وذكر أهميته، والضرورة إليه، وعدَّد الأمور التي يعرف بها النسخ، وجعلها أربعة.
الثالث: المصحَّف، وبيَّن مكان وقوعه، ومثَّل عليه.
وبهذا ختم الباب الأول.
ونجد في "المنهل الروي" الذي قرأه أبو الحسن التبريزي على مؤلفه ابن جماعة - رحمهما الله - نحوه، ففيه:
الطرف الأول: في الكلام على المتن وأقسامه، وأنواعه، قال: "فأقسامه ثلاثة: الصحيح، والحسن، والضعيف، وأنواعه ثلاثون:
… وسردهم"
(1)، وزاد فيه: (المسلسل) و (غريب الحديث)، بينما جعل التبريزي هذين النوعين في (الباب الثاني) كما سيأتي، فالملاحظ أن
--------------------------------------------
6 - একক (غريب), আজিজ (عزيز) এবং এগুলোর বিপরীত বর্ণনা প্রসঙ্গে; একে তিনি দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং এর অধীনে আলোচনা করেছেন: প্রসিদ্ধ (المشهور) ও মুতাওয়াতির (المتواتر)।
এটি তাকে আলোচনার দিকে নিয়ে গেছে:
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অনুসন্ধান (الاعتبار), অনুগামী বর্ণনা (المتابعات) ও সাক্ষী বর্ণনা (الشواهد) এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলি। এরপর তিনি পুনরায় অনুসন্ধান ও সাক্ষী বর্ণনার নিরিখে একক (غريب) ও বিচ্ছিন্ন (المفرد) বর্ণনার প্রকারসমূহকে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করেছেন।
অতঃপর তিনি এই অধ্যায়টি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ করেছেন:
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মূলপাঠ (المتن) সংশ্লিষ্ট অবশিষ্ট বিষয়াবলি, যেগুলোকে তিনি তিন প্রকারে বিন্যস্ত করেছেন:
প্রথম: পরস্পরবিরোধী প্রতীয়মান (مختلف الحديث) হাদিস প্রসঙ্গে। একে তিনি দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং দ্বিতীয় ভাগটিকে পুনরায় দুই প্রকারে বিন্যস্ত করেছেন।
দ্বিতীয়: হাদিসের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বর্ণনা প্রসঙ্গে। তিনি এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন এবং রহিতকরণ (النسخ) চেনার উপায়সমূহ গণনা করেছেন, যা সংখ্যায় চারটি।
তৃতীয়: বিকৃত বা ভুল পঠিত (المصحَّف) বর্ণনার প্রকার; তিনি এটি ঘটার ক্ষেত্রসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং এর উদাহরণ দিয়েছেন।
এর মাধ্যমেই প্রথম অধ্যায় সমাপ্ত হয়েছে।
আমরা "আল-মানহাল আল-রাওয়ি" গ্রন্থেও অনুরূপ দেখতে পাই, যা আবুল হাসান আল-তাবরিজি এর লেখক ইবনে জামাআহ—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন—এর নিকট পাঠ করেছিলেন। তাতে রয়েছে:
প্রথম অংশ: মূলপাঠ (المتن), এর শ্রেণিবিভাগ ও প্রকারভেদ প্রসঙ্গে। তিনি বলেছেন: "এর শ্রেণিবিভাগ তিনটি: সহিহ (الصحيح), হাসান (الحسن) ও দুর্বল (الضعيف) এবং এর প্রকারভেদ ত্রিশটি:
… তিনি সেগুলো ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন"
(১)। এতে তিনি আরও যোগ করেছেন: ধারাবাহিক (المسلسل) এবং হাদিসের দুর্বোধ্য শব্দাবলি (غريب الحديث)। অন্যদিকে তাবরিজি এই দুই প্রকারকে 'দ্বিতীয় অধ্যায়ে' রেখেছেন যা সামনে আসছে। লক্ষণীয় যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ابن جماعة في "المنهل الروي" سرد الأنواع سردًا، ولم يعمل على التقسيم والتنويع، بينما كان أبو الحسن التبريزي أكثر دقة منه، وأحسن تنويعًا، إذ ضمَّ كلَّ مجموعة من هذه الأنواع إلى فصل، ونوّع في كلّ فصل على وجه مليح، ح إذ العلاقة بين كلّ نوع متجانسة، وبينها رابط حسن.
وأما الباب الثاني عند صاحبنا أبي الحسن التبريزي فهو: في السند، وهو كذلك عند ابن جماعة في "المنهل الروي" قال فيه (ص 27): "الطرف الثاني: في السند وما يتعلق به، وهو أحد عشر نوعًا" وسردها.
بينما جمع التبريزي بين بعض هذه الأنواع في فصول، واشتركا فيمن تقبل روايته ومن ترد روايته، فهو (النوع) الأول من هذا (الطرف الثاني) عند ابن جماعة، بينما جعله التِّبريزيُّ (الفصلَ) الأول من (الباب) الثاني.
وجعل ابن جماعة تحت هذا النوع (ثلاثة عشر فصلًا) وسماها التبريزي (مسائل)، وبحثها فيه تحت (أربعة عشرة مسألة)، في تفريع وتنويع وبسط وتمثيل أوعب وأزيد.
والذي زاده هنا التبريزي:
المسألة الرابعة عشرة: في بيان ألفاظ مستعملة في هذا الشأن من الجرح والتعديل
(1).
فتغيَّر التنويع عند التبريزي، ولم يتقيد بترتيب فصول شيوخه ابن جماعة في هذا (الطرف).
--------------------------------------------
ইবনে জামাআহ তার "আল-মানহাল আল-রাবি" গ্রন্থে প্রকারগুলোকে (الأنواع) ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বিভাজন বা বিন্যাস করার ক্ষেত্রে কাজ করেননি। পক্ষান্তরে, আবুল হাসান আত-তিবরিজি তার চেয়ে অধিক সূক্ষ্ম এবং উত্তম বিন্যাসকারী ছিলেন। কেননা তিনি এই প্রকারগুলোর (الأنواع) প্রতিটি সমষ্টিকে একটি পরিচ্ছেদের (فصل) অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদে (فصل) চমৎকারভাবে বিন্যাস করেছেন; কারণ প্রতিটি প্রকারের (نوع) মাঝে সাজুয্য রয়েছে এবং সেগুলোর মধ্যে সুন্দর যোগসূত্র বিদ্যমান।
আর আমাদের লেখক আবুল হাসান আত-তিবরিজির নিকট দ্বিতীয় অধ্যায়টি (الباب) হলো: সনদ (السند) সম্পর্কে। ইবনে জামাআহর "আল-মানহাল আল-রাবি" গ্রন্থেও বিষয়টি তদ্রূপ। তিনি সেখানে (পৃষ্ঠা ২৭) বলেছেন: "দ্বিতীয় দিক (الطرف): সনদ (السند) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি সম্পর্কে, আর এটি এগারোটি প্রকার (نوع) সম্বলিত।" অতঃপর তিনি সেগুলো ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন।
পক্ষান্তরে তিবরিজি এই প্রকারগুলোর (الأنواع) কয়েকটিকে বিভিন্ন পরিচ্ছেদে (فصول) একত্রিত করেছেন। যার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য (تقبل روايته) এবং যার বর্ণনা বর্জনীয় (ترد روايته) - এই বিষয়ে তারা উভয়ে একমত হয়েছেন। ইবনে জামাআহর নিকট এটি এই দ্বিতীয় দিকের (الطرف الثاني) প্রথম প্রকার (النوع), যেখানে তিবরিজি একে দ্বিতীয় অধ্যায়ের (الباب) প্রথম পরিচ্ছেদ (الفصل) হিসেবে গণ্য করেছেন।
ইবনে জামাআহ এই প্রকারের (النوع) অধীনে তেরোটি পরিচ্ছেদ (فصلًا) রেখেছেন, আর তিবরিজি এগুলোকে মাসআলা (مسائل) হিসেবে নামকরণ করেছেন। তিনি এতে চৌদ্দটি মাসআলা (مسألة) নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা অধিকতর বিস্তারিত শ্রেণিবিভাগ, বিন্যাস, ব্যাখ্যা এবং উদাহরণের মাধ্যমে আরও ব্যাপক ও সমৃদ্ধ হয়েছে।
তিবরিজি এখানে যা বৃদ্ধি করেছেন তা হলো:
চৌদ্দতম মাসআলা (المسألة): জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل)
(১) শাস্ত্রের ব্যবহৃত শব্দাবলির বর্ণনা প্রসঙ্গে।
ফলে তিবরিজির নিকট বিন্যাসশৈলী পরিবর্তিত হয়েছে এবং তিনি এই অংশে (الطرف) তার উস্তাদ ইবনে জামাআহর পরিচ্ছেদগুলোর (فصول) বিন্যাসের অনুসারী হননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأما (الفصل الثاني) من هذا الباب عند التبريزي فهو في تقسيم السند)، قال: "وفيه ثلاثة أنواع"
(1). وهي:
الأول: في المسلسل.
الثاني: المزيد في متصل الأسانيد.
الثالث: التدليس، وحكم المدلِّس.
وسبق أن موقع (المسلسل) عند ابن جماعة في "الطرف الأول: في الكلام على المتن)! وافتتح التبريزي أبو الحسن قوله عنه: "وهو نعت للإسناد"
(2). وأما النوعان الآخران فهما عند ابن جماعة في (الطرف) أو (الباب) نفسه.
ثم ذكر أبو الحسن من هذا الباب: (الفصل الثالث: فيما يقع في الإسناد من العُلوِّ والنُّزول) وفرَّعه إلى تسعة أنواع، وهي على وجه مبسوط فيه بالنسبة إلى ما في "المنهل الروي" (ص 69 - 71).
وأما النوع الأول فجعله طرفين- واستخدامه (الطرف) هنا غير استخدام شيخه ابن جماعة، إذ هي عند الأخير بمعنى (الباب) - وقسم الطرف الأول إلى خمسة أقسام، وهكذا أخذ يفرعِّ في سائر الأنواع الثمانية المتبقية؛ في تقسيم دقيق، وتفريع متسلسل سهل ينبئ عن حُسن ملكة في التأليف، وفهم جيد لهذا العلم، وارتباط مباحثه مع بعضها بعضًا.
وأما الباب الثالث: فهو (فيما يتعلّق بالسند والمتن) هكذا بوَّب عليه التبريزي، بينما قال ابن جماعة: (الطرف الثالث: في تحمل
--------------------------------------------
আর তাবরিজীর নিকট এই অধ্যায়ের (দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ) হলো সনদের শ্রেণিবিভাগ (تقسيم السند) সংক্রান্ত; তিনি বলেছেন: "এতে তিনটি প্রকার রয়েছে"
(১)। সেগুলো হলো:
প্রথমটি: ধারাবাহিক (المسلسل) হাদিস সম্পর্কে।
দ্বিতীয়টি: নিরবচ্ছিন্ন সনদে অতিরিক্ত বর্ণনাকারী (المزيد في متصل الأسانيد) প্রসঙ্গে।
তৃতীয়টি: বর্ণনার তথ্য গোপন করা (التدليس) এবং তথ্য গোপনকারীর (المدلس) বিধান।
ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইবনে জামা’আহর নিকট ধারাবাহিক (المسلسل) বিষয়ের অবস্থান ছিল "প্রথম অংশ (الطرف الأول): মতন (المتن) সংক্রান্ত আলোচনা"-তে! আবুল হাসান আত-তাবরিজী এটি সম্পর্কে তাঁর আলোচনা এভাবে শুরু করেছেন: "এটি সনদের একটি বিশেষণ (نعت للإسناد)"
(২)। আর অন্য দুটি প্রকার ইবনে জামা’আহর নিকট একই অংশ (الطرف) বা অধ্যায় (الباب)-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অতঃপর আবুল হাসান এই অধ্যায় থেকে উল্লেখ করেছেন: (তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সনদে উচ্চমান (العلو) ও নিম্নমান (النزول) যা পরিলক্ষিত হয়) এবং একে নয়টি প্রকারে বিভক্ত করেছেন। "আল-মানহাল আল-রাবি" (পৃষ্ঠা ৬৯ - ৭১)-এর তুলনায় এখানে তা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।
প্রথম প্রকারটিকে তিনি দুটি ভাগে বা প্রান্তে বিভক্ত করেছেন—এখানে তাঁর 'অংশ' (الطرف) শব্দের ব্যবহার তাঁর শিক্ষক ইবনে জামা’আহর ব্যবহারের মতো নয়, কারণ ইবনে জামা’আহর নিকট এর অর্থ হলো 'অধ্যায়' (الباب)—এবং তিনি প্রথম অংশটিকে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করেছেন। এভাবে তিনি অত্যন্ত সুক্ষ্ম বিভাজন এবং সহজ ধারাবাহিক শাখা-প্রশাখা বিন্যাসের মাধ্যমে বাকি আটটি প্রকার বর্ণনা করেছেন; যা রচনাশৈলীতে তাঁর চমৎকার দক্ষতা, এই শাস্ত্র সম্পর্কে গভীর প্রজ্ঞা এবং এর বিভিন্ন বিষয়ের পারস্পরিক সম্পর্কের পরিচয় দেয়।
আর তৃতীয় অধ্যায়টি হলো: (সনদ (السند) ও মতন (المتن) সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি) তাবরিজী এভাবেই শিরোনাম দিয়েছেন, যেখানে ইবনে জামা’আহ বলেছেন: (তৃতীয় অংশ: হাদিস গ্রহণ (تحمل)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الحديث وطرق نقله وضبطه وروايته وآداب ذلك وما يتعلق به)
(1) وجعله في ستة أنواع:
النوع الأول: في أهلية التحمّل.
النوع الثاني: في طرق تحمل الحديث، وهي ثمانية - على اتفاق في بعضها، واختلاف في بعض - وهي: السماع، القراءة على الشيخ - وذكر تحته ثمانية فروع -، الإجازة المجردة - وقسمها إلى ثمانية أنواع، وذكر بعد ذلك ثلاثة فروع -، المناولة - وجعلها نوعين، وذكر فرعًا - والكتابة، والإعلام، والوصية، والوجادة.
النوع الثالث: في كتابة الحديث وضبطه، وذكر تحته عشرة فصوله.
النوع الرابع: في رواية الحديث، وسرد تحته ستة عشر فصلًا.
النوع الخامس: في أدب الراوي، ووراءه خمسة فصول.
النوع السادس: في أدب طالب الحديث، ووراءه ستة فصول، ولم يشبع الكلام عليه، اكتفاءً بقوله: "وقد بسطت من الآداب في هذا النوع وفي الذي قبله في كتابي "في أدب العالم والمتعلم" ما لا يحتمله هذا المختصر، فمن أراده فعليه به، أوما في فنّه"
(2).
بينما بسط أبو الحسن التبريزي - رحمه اللّه تعالى - الكلام على هذا الباب المشترك بين السند والمتن، وخالف شيخه ابن جماعة ابتداءًا في التسمية، إذ جعلها فيما يتعلق بالسند والمتن)، وفصل في فحوى هذا الباب لما قال: "وذلك يشتمل على كيفية سماع الحديث، وتحمّله،
--------------------------------------------
হাদিস এবং এটি স্থানান্তর, সংরক্ষণ (ضبطه), বর্ণনা (روايته) করার পদ্ধতিসমূহ, এর আদবসমূহ এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি)
(১) এবং তিনি একে ছয়টি প্রকারে (أنواع) বিভক্ত করেছেন:
প্রথম প্রকার: হাদিস গ্রহণের (التحمّل) যোগ্যতা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় প্রকার: হাদিস গ্রহণের (تحمل) পদ্ধতিসমূহ প্রসঙ্গে, যা আটটি—যার কয়েকটির ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে এবং কয়েকটির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে—সেগুলো হলো: শ্রবণ (السماع), শাইখের নিকট পাঠ (القراءة على الشيخ) —এবং তিনি এর অধীনে আটটি শাখা উল্লেখ করেছেন—, শর্তহীন অনুমতি (الإجازة المجردة) —তিনি একে আটটি প্রকারে (أنواع) ভাগ করেছেন এবং এরপর তিনটি শাখা উল্লেখ করেছেন—, হস্তান্তর (المناولة) —তিনি একে দুই প্রকারে বিভক্ত করেছেন এবং একটি শাখা উল্লেখ করেছেন— এবং লিখন (الكتابة), জ্ঞাপন (الإعلام), অসিয়ত (الوصية) এবং প্রাপ্তি (الوجادة)।
তৃতীয় প্রকার: হাদিস লিখন ও সংরক্ষণ (ضبطه) প্রসঙ্গে, এবং তিনি এর অধীনে দশটি পরিচ্ছেদ (فصول) উল্লেখ করেছেন।
চতুর্থ প্রকার: হাদিস বর্ণনা (رواية) প্রসঙ্গে, এবং এর অধীনে ষোলটি পরিচ্ছেদ (فصلًا) ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছেন।
পঞ্চম প্রকার: বর্ণনাকারীর (الراوي) আদব প্রসঙ্গে, এবং এর পরে পাঁচটি পরিচ্ছেদ (فصول) রয়েছে।
ষষ্ঠ প্রকার: হাদিস অন্বেষণকারীর আদব প্রসঙ্গে, এবং এর পরে ছয়টি পরিচ্ছেদ (فصول) রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত করেননি, বরং তাঁর এই উক্তির মাধ্যমেই সন্তুষ্ট থেকেছেন: "আমি এই প্রকার এবং এর পূর্ববর্তী প্রকারে আদবসমূহ সম্পর্কে আমার 'আদাবুল আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম' গ্রন্থে যা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, তা এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে সংকুলান সম্ভব নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি তা ইচ্ছুক, সে যেন ঐ গ্রন্থটি অথবা এই শাস্ত্রের অন্য কোনো গ্রন্থ দেখে নেয়।"
(২)।
পক্ষান্তরে আবুল হাসান আত-তাবরিজি —রাহিমাহুল্লাহু তাআলা— সনদ (السند) ও মতন (المتن) এর মধ্যে এই অভিন্ন অধ্যায়টির আলোচনা দীর্ঘায়িত করেছেন এবং শুরুতে নামকরণের ক্ষেত্রে তিনি তাঁর উস্তাদ ইবনে জামাআহ-এর ভিন্নমত পোষণ করেছেন, যেহেতু তিনি একে 'সনদ ও মতন সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি' শিরোনাম দিয়েছেন। তিনি এই অধ্যায়ের বিষয়বস্তুর বিস্তারিত ব্যাখ্যায় বলেছেন: "আর এটি হাদিস শ্রবণ ও তা গ্রহণের (تحمّله) পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وصفة ضبطه وروايته، وآداب رُواته وطالبيه"
(1) وجعل هذا الباب فصولًا، ورتَّبها بطريقة علمية دقيقة، وتنويع سهل، وتقسيم بديع، وتفريع فيه حصر، على هذا النحو:
الفصل الأول: في أهلية التحمل، وبحث تحته: وقت التحمل، زمن كتابة الحديث، أول زمان يصح فيه سماع الصغير.
الفصل الثاني: في طرق تحمل الحديث من السماع والإجازة والمناولة وغيرها، وذكر الأنواع الثمانية المذكورة آنفًا في كلام ابن جماعة، ولكن في صنيع التبريزي تفصيل وتفريع أوعب، وتمثيل أكثر وأسهب، وهكذا يقال في جميع الأقسام والفروع المبحوثة تحت كلّ نوع من الأنواع الثمانية.
الفصل الثالث: في كتابة الحديث وكيفية ضبط الكتاب وتقييده، وذكر تحته اثني عشر فرعًا، فزاد في التفريع اثنين بالنسبة إلى ما عند شيخه ابن جماعة.
الفصل الرابع: في رواية الحديث وشروط أدائه، وزاد أيضًا فرعين بالنسبة إلى ما عند ابن جماعة، فختمه بـ (الفرع الثامن عشر).
الفصل الخامس: في آداب المحدث وطالب الحديث وما يتعلّق بهما
(2)، وجعله طرفين:
الأول: في آداب المحدّث، وسرد جملة حسنة من ذلك.
--------------------------------------------
"এবং এটি নির্ভুলভাবে সংরক্ষণের (ضبط) ও বর্ণনার (رواية) পদ্ধতি এবং এর বর্ণনাকারী (رواة) ও শিক্ষার্থীদের আদব বা শিষ্টাচার।"
(১) তিনি এই অধ্যায়টিকে কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন এবং সেগুলোকে অত্যন্ত সুক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে, সহজ বৈচিত্র্যের সাথে, চমৎকার বিন্যাসে এবং সুনির্দিষ্ট শাখা-প্রশাখায় সুবিন্যস্ত করেছেন, যা নিম্নরূপ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রহণ (تحمل)-এর যোগ্যতা প্রসঙ্গে; এর অধীনে আলোচনা করা হয়েছে: হাদিস গ্রহণের সময়, হাদিস লিপিবদ্ধ করার সময় এবং শিশুর হাদিস শ্রবণ (سماع) সহিহ হওয়ার সর্বনিম্ন বয়সসীমা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শ্রবণ (سماع), অনুমতি (إجازة), হস্তান্তরণ (مناولة) এবং অন্যান্য উপায়ে হাদিস গ্রহণের (تحمل) পদ্ধতিসমূহ প্রসঙ্গে। এখানে ইবনে জামাআহ-এর বক্তব্যে ইতিপূর্বে উল্লিখিত আটটি প্রকারেরই উল্লেখ করা হয়েছে, তবে তাবরিজির উপস্থাপনায় বর্ণনাটি আরও বিস্তারিত, অধিক শাখা-প্রশাখাযুক্ত এবং অধিক ও বিস্তৃত উদাহরণসহ বর্ণিত হয়েছে। একইভাবে এই আটটি প্রকারের প্রতিটির অধীনে আলোচিত সমস্ত শাখা ও উপশাখার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিস লিপিবদ্ধ করা এবং কিতাবের নির্ভুলতা (ضبط) ও তা সংরক্ষণের পদ্ধতি প্রসঙ্গে। এর অধীনে তিনি বারোটি শাখা উল্লেখ করেছেন, যা তার উস্তাদ ইবনে জামাআহ-এর বর্ণনার তুলনায় দুটি শাখা বেশি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হাদিস বর্ণনা (رواية) এবং তা পরিবেশনের (أداء) শর্তাবলী প্রসঙ্গে। এখানেও তিনি ইবনে জামাআহ-এর তুলনায় দুটি শাখা বৃদ্ধি করেছেন এবং একে 'অষ্টাদশ শাখা' দিয়ে সমাপ্ত করেছেন।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: হাদিস বিশারদ (محدث) ও হাদিসের শিক্ষার্থীর আদব এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াদি প্রসঙ্গে
(২); তিনি একে দুটি অংশে বিভক্ত করেছেন:
প্রথম অংশ: হাদিস বিশারদ (محدث)-এর আদব বা শিষ্টাচার প্রসঙ্গে, এখানে তিনি এ সংক্রান্ত চমৎকার একটি সংকলন পেশ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الثاني: في آداب طالب الحديث، وسرد جملة حسنة من ذلك.
ثم ختمه ببيان طرق العلماء في تصنيف الحديث، وشيء من آداب التأليف، واستوعب تحته النوعين الخامس والسادس التي عند شيخه ابن جماعة، مع زيادة في الاختيار، واستطراد في بعض النقول.
وأما الباب الرابع: - وهو الأخير - فهو عند أبي الحسن التبريزي بعنوان (في أسماء الرجال، وطبقات الحفاظ، وما يتعلّق بها)
(1) بينما عنون عليه ابن جماعة (الطرف الرابع: في أسماء الرجال وطبقات العلماء وما يتصل بذلك)، وقال: "والكلام فيه في أحد وعشرين نوعًا
… "
(2) وسردها.
بيد أنك تجد عند أبي الحَسَن فصولًا، فذكر (الفصل الأول: في الصحابة) وفيه أنواع: النوع الأول: في الصحابي. الثاني: في عدالتهم. الثالث: أكثر الصحابة حديثًا. الرابع: جعله في عدد الصحابة وطبقاتهم وأولهم إسلامًا. الخامس: جعله في أفضلية الصحابة. السادس: جعله في آخر الصحابة موتًا.
وجعل الفصل الثاني في التابعين، وفيه أبحاث.
والفصل الثالث: في أتباع التابعين، قال: "ولم يورده الشيخ تقي الدين، وفيه أبحاث"
(3) وهو ليس عند ابن جماعة، وهكذا يستفيد من حسن ترتيب كتاب شيخه ابن جماعة، ويزيد على مادته مادة إضافية تارةً، ومباحث وفروع في داخل الفصول والفروع والمسائل تارة أُخرى.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: হাদিস অন্বেষণকারীর শিষ্টাচার প্রসঙ্গে এবং এ সংক্রান্ত বেশ কিছু উত্তম বিষয়ের অবতারণা।
অতঃপর তিনি হাদিস সংকলনের (تصنيف) ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামের পদ্ধতিসমূহ এবং গ্রন্থ রচনার শিষ্টাচার বর্ণনার মাধ্যমে এর সমাপ্তি টেনেছেন। তিনি এর অধীনে তাঁর উস্তাদ ইবনে জামাআহর নিকট থাকা পঞ্চম ও ষষ্ঠ প্রকারকে (نوع) অন্তর্ভুক্ত করেছেন; সাথে রয়েছে চয়নের ক্ষেত্রে পরিবর্ধন এবং কিছু উদ্ধৃতির বিস্তারিত আলোচনা।
আর চতুর্থ অধ্যায়টি—যা সর্বশেষ—তা আবুল হাসান আত-তাবরিজির নিকট শিরোনাম ছিল 'রাবিগণের নাম (أسماء الرجال), হাফিজগণের স্তর (طبقات الحفاظ) এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি'
(১) পক্ষান্তরে ইবনে জামাআহ একে শিরোনাম দিয়েছেন 'চতুর্থ দিক: রাবিগণের নাম (أسماء الرجال), আলিমগণের স্তর এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি', এবং বলেছেন: "এর আলোচনা একুশটি প্রকারের (نوع) ওপর ভিত্তি করে..."
(২) এবং তিনি সেগুলো বর্ণনা করেছেন।
তবে আপনি আবুল হাসানের নিকট কিছু পরিচ্ছেদ পাবেন; তিনি উল্লেখ করেছেন, (প্রথম পরিচ্ছেদ: সাহাবি প্রসঙ্গে)। এতে কয়েকটি প্রকার (نوع) রয়েছে: প্রথম প্রকার: সাহাবি প্রসঙ্গে। দ্বিতীয়: তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) প্রসঙ্গে। তৃতীয়: সাহাবিদের মধ্যে সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী। চতুর্থ: একে সাহাবিদের সংখ্যা, তাঁদের স্তরসমূহ (طبقات) এবং তাঁদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের বিষয়ে নির্ধারণ করেছেন। পঞ্চম: একে সাহাবিদের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ে রেখেছেন। ষষ্ঠ: একে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী সাহাবিদের বিষয়ে নির্ধারণ করেছেন।
এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি তাবিয়িগণ প্রসঙ্গে করেছেন এবং তাতে কিছু আলোচনা রয়েছে।
আর তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তবে-তাবিয়িগণ প্রসঙ্গে। তিনি বলেন: "শায়খ তাকিউদ্দিন এটি উল্লেখ করেননি, আর এতে কিছু আলোচনা রয়েছে"
(৩) এবং এটি ইবনে জামাআহর নিকট নেই। এভাবে তিনি তাঁর উস্তাদ ইবনে জামাআহর কিতাবের উত্তম বিন্যাস থেকে উপকৃত হন এবং কখনও মূল বিষয়ের ওপর অতিরিক্ত উপাদান যোগ করেন, আবার কখনও পরিচ্ছেদ, শাখা ও মাসআলাগুলোর ভেতরে নতুন আলোচনা ও উপশাখা যুক্ত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাফী ফী উলূমিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وأما الخاتمة؛ فهي عند أبي الحسن التبريزي بعنوان (في أحوال سيد المرسلين على سبيل الإجمال)
(1) ولم يخل آخر كتاب ابن جماعة من شيء من ذلك مع زيادات في فوائد مختلفة، استفاد التبريزي منها، فضمَّها إلى أصل مادة الكتاب. فذكر ابن جماعة - مثلًا - في آخره (أصحاب المذاهب)
(2) وهي في "الكافي".
وختم ابن جماعة كتابه بـ (سبعة من الحفاظ أحسنوا التصنيف، وعظم بهم
(3) الانتفاع) وهي كذلك في "الكافي" ولكن في صلب الكتاب.
وإنْ كان السيوطي قد انتقد ترتيب كتاب ابن الصلاح بقوله في "تدريب الراوي" (1/ 60 - ط العاصمة): "لم يحصل ترتيبه على الوضع المناسب، بأن يذكر ما يتعلق بالمتن وحده، وما يتعلق بالسند وحده، وما يشتركان معًا، وما يختص بكيفيّة التحمل والأداء وحده، وما يختص بصفات الرواة وحده"
(4)، فالمتأمل فيما صنع ابن جماعة - وتبعه المصنف - يجد أن السيوطي يرضى ترتيبهما، بل أُعجب بصنيعهما
(5)، لدرجة أنه اعترض بفعلهما وحسن عرضهما، على ابن الصلاح،
--------------------------------------------
আর উপসংহারের কথা বলতে গেলে, তা আবু হাসান আত-তাবরিজির নিকট (সংক্ষেপে সাইয়্যেদুল মুরসালিনের অবস্থাসমূহ সম্পর্কে) শিরোনামে রয়েছে
(১)। ইবনে জামাআহর কিতাবের শেষাংশও এই বিষয়ের কোনো অংশ থেকে খালি ছিল না, সাথে ছিল বিভিন্ন কল্যাণকর বিষয়ের সংযোজন, যা থেকে তাবরিজি উপকৃত হয়েছেন এবং সেগুলোকে কিতাবের মূল বিষয়ের সাথে যুক্ত করেছেন। উদাহরণস্বরূপ ইবনে জামাআহ তার কিতাবের শেষে (মাজহাবের অনুসারীদের) কথা উল্লেখ করেছেন
(২), যা "আল-কাফি" কিতাবেও রয়েছে।
ইবনে জামাআহ তার কিতাবটি (সাতজন হাফিজ (الحفاظ), যারা সুন্দরভাবে গ্রন্থনা করেছেন এবং যাদের মাধ্যমে ব্যাপক উপকার সাধিত হয়েছে) শিরোনামের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন। এটি "আল-কাফি" কিতাবেও একইভাবে রয়েছে, তবে তা কিতাবের মূল অংশে।
যদিও সুয়ূতি "তাদরিবুর রাবি" (১/৬০ - আসিমা সংস্করণ) কিতাবে ইবনে আস-সালাহর কিতাবের বিন্যাসের সমালোচনা করে বলেছেন: "এর বিন্যাস যথাযথ পদ্ধতিতে করা হয়নি, যেখানে কেবল মতন (المتن) সংক্রান্ত বিষয়, কেবল সনদ (السند) সংক্রান্ত বিষয়, যে বিষয়গুলোতে উভয়টি অংশীদার তা, যা কেবল শ্রবণ ও বর্ণনার পদ্ধতি (التحمل والأداء) সংক্রান্ত এবং যা কেবল রাবিদের গুণাবলি (صفات الرواة) সংক্রান্ত বিষয়গুলো পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়নি"
(৪), তবে ইবনে জামাআহ যা করেছেন — এবং গ্রন্থকার যাকে অনুসরণ করেছেন — তা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, সুয়ূতি তাদের বিন্যাসে সন্তুষ্ট ছিলেন, বরং তিনি তাদের কাজে মুগ্ধ হয়েছিলেন
(৫); এমনকি তিনি তাদের কর্ম ও সুন্দর উপস্থাপনার মাধ্যমে ইবনে আস-সালাহর বিন্যাসের ওপর আপত্তিও উত্থাপন করেছেন।
--------------------------------------------