(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: -)
طبقات الشعراء لابن المعتز   (ابن المعتز)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: طبقات الشعراء

المؤلف: عبد الله بن محمد ابن المعتز العباسي (ت 296هـ)

المحقق: عبد الستار أحمد فراج

الناشر: دار المعارف - القاهرة

الطبعة: الثالثة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 464

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনুল মুতাযের তাবাকাতুশ শুয়ারা (কবিদের জীবনীগ্রন্থ)   (ইবনুল মুতায)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: তাবাকাতুশ শুয়ারা

লেখক: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুতায আল-আব্বাসি (মৃত্যু ২৯৬ হিজরি)

মুহাক্কিক: আবদুস সাত্তার আহমদ ফরাজ

প্রকাশক: দারুল মাআরিফ - কায়রো

সংস্করণ: তৃতীয়

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬৪

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌وبه نستعين

الحمد لله الذي أقحم مصاقع الفصحاء بمعجز كلامه، وأخرس شقاشق البلغاء بترتيبه ونظامه، وبهر العرب العرباء باختراع مفتحه وختامه، الذي لا يرتقي نز الأوهام إلى زلازل كنه جبروته، ولا يستحوذ لهام الأفهام على سبر نقطة من مساحة بيداء ملكوته، ولا تؤمل أفكار الحكماء الراسخين، إدراك لمعة من أثيريات لاهوته.

ميز نوع الإنسان عن جنسه بفصل الكلام، وفضلّ منه صنف الملوك فعظمت فضائلهم المشتركة بين الخاص والعام. واختص من خلقه نبينا محمداً عليه أفضل الصلاة والسلام.

أحمده حمد معترف بالقصور عن أداء ما يجب منه عليه، وأشكره شكر مغترف من بحور فضله منيباً بكليته إليه. والصلاة والسلام على من اهتزت بأرواح نصرة أعطاف دولة العرب، فماج بها خضم دول الأكاسرة والقياصرة فاضطرب، وخضع من إعمال حسامه ربّ التاج والسرير لصاحب
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি

প্রশংসা মাত্রই সেই আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মুজিজাপূর্ণ কালামের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ বাগ্মীদের পরাভূত করেছেন, তাঁর বাণীর সুশৃঙ্খল বিন্যাস ও পদ্ধতির মাধ্যমে অলঙ্কারবিদদের মুখ স্তব্ধ করে দিয়েছেন এবং এর সূক্ষ্ম প্রারম্ভ ও সমাপ্তির অভিনবত্বে বিশুদ্ধভাষী আরবদের চমৎকৃত করেছেন। যাঁর মহত্ত্বের প্রকৃত রহস্যের গভীরতায় কল্পনার অস্থিরতাও পৌঁছাতে পারে না, যাঁর রাজত্বের সুবিশাল মরূদ্যানের একটি বিন্দুর পরিমাপও সূক্ষ্ম মেধার পক্ষে সম্ভব নয় এবং যাঁর খোদায়ী জগতের নূরানি আভার সামান্য অংশ উপলব্ধি করাও সুগভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন হেকিমদের চিন্তার অতীত।

তিনি মানুষকে তার স্বজাতীয়দের থেকে বাকশক্তির পার্থক্যের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং তাদের মধ্য থেকে বাদশাহদের শ্রেণীকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, ফলে বিশেষ ও সাধারণ সকল স্তরেই তাঁদের মর্যাদা সুমহান হয়েছে। আর তিনি তাঁর সমগ্র সৃষ্টির মধ্য থেকে আমাদের নবী মুহাম্মাদকে (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) বিশেষভাবে মনোনীত করেছেন।

আমি তাঁর এমন প্রশংসা করছি যেমনটি তাঁর প্রাপ্য হক আদায়ে নিজের অক্ষমতা স্বীকারকারী করে থাকে এবং আমি তাঁর এমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যেমনটি তাঁর অনুগ্রহের সমুদ্র থেকে অঞ্জলি গ্রহণকারী এবং তাঁর দিকে পূর্ণরূপে প্রত্যাবর্তনকারী করে থাকে। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁর সাহায্যের বারিবর্ষণে আরব রাষ্ট্রের মর্তবা সমুন্নত হয়েছে, যার ফলে পারস্য ও রোম সম্রাটদের বিশাল সাম্রাজ্যগুলো টালমাটাল ও প্রকম্পিত হয়েছে এবং যাঁর তলোয়ার চালনার কাছে মুকুট ও সিংহাসনের অধিপতিরা বশ্যতা স্বীকার করেছে সেই অধিকারীর প্রতি যিনি...
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ١٨)
الشاة والبعير، فعطست العرب فرحاً بأنف العز الشامخ، وجرت مرحاً ذيل الشرف الباذخ الذي أبكى بمولده عيون الكفرة فخمدت نار فارس، وضعضع دعائم الفجرة فأصبح إيوان كسرى وهو طلل دارس، محمد المبعوث لامتطاء العباد جادة الرشاد، المبلغ عن الخالق إلى الخلائق قوانين الصواب والقواعد السداد، وعلى آله الذين شيدوا من بيوت الدين قواعد، وشرفوا بأقدامهم أعواد المنابر وساحات المساجد، وأصحابه أئمة الدين ورؤساء أهل اليقين بدور التمام ومصابيح الظلام، ما لمع البرق وغنّى الحمام، وأضحك الروض بكاء الغمام وبعد: فيقول أفقر العباد إلى الله عبد الله بن المعتز بالله بن المتوكل على الله بن محمد المعتصم بالله بن الرشيد بن هارون بن المهدي محمد بن أبي جعفر المنصور عبد الله بن محمد بن علي بن عبد الله بن العباس رضي الله عنه: عقد الفكر طرفي ليلة بالنجوم، لوارد ورد عليّ من الهموم، نفض عن عيني كحل الرقاد، وألبس مقلتي حلل السهاد، فتأملت فخطر على الخاطر في بعض الأفكار، أن أذكر في نسخة ما وضعته الشعراء من الأشعار، في مدح الخلفاء والوزراء والأمراء من بني العباس، ليكون مذكوراً عند الناس، متابعاً لما ألفه ابن نجيم قبلي بكتابه المسمى طبقات الشعراء الثقات، مستعيناً بالله المسهل الحاجات، وسميته طبقات الشعراء المتكلمين، من الأدباء المتقدمين.
ভেড়া ও উট; ফলে আরবরা সুউচ্চ মর্যাদার নাসিকা দ্বারা আনন্দে নিঃশ্বাস নিল এবং সুমহান সম্মানের উত্তরীয় গর্বের সাথে টেনে চলল। যাঁর আবির্ভাবে কাফিরদের চক্ষু অশ্রুসজল হলো, ফলে পারস্যের অগ্নি নির্বাপিত হলো এবং পাপাচারীদের স্তম্ভসমূহ নড়বড়ে হয়ে গেল; আর কিসরার রাজপ্রাসাদ এক জরাজীর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো। মুহাম্মাদ (সা.), যিনি বান্দাদের হিদায়াতের পথে আরোহণের জন্য প্রেরিত হয়েছেন, যিনি স্রষ্টার পক্ষ থেকে সৃষ্টির নিকট নির্ভুল বিধান ও সুদৃঢ় মূলনীতিসমূহ পৌঁছে দিয়েছেন। আর তাঁর পরিবারবর্গের ওপর, যারা দ্বীনের গৃহসমূহের ভিত্তি মজবুত করেছেন এবং নিজেদের পদযুগল দ্বারা মিম্বারের কাষ্ঠখণ্ড ও মসজিদের প্রাঙ্গণসমূহকে সম্মানিত করেছেন; এবং তাঁর সাহাবীবৃন্দের ওপর, যারা দ্বীনের ইমাম, ইয়াকীনপন্থীদের নেতা, পূর্ণিমার চাঁদ ও অন্ধকারের প্রদীপস্বরূপ; যতদিন বিদ্যুৎ চমকাবে, কবুতর কুজন করবে এবং মেঘের রোদন কাননসমূহকে হাসাবে। অতঃপর: আল্লাহর নিকট সর্বাধিক মুখাপেক্ষী বান্দা আবদুল্লাহ ইবনুল মু'তায বিল্লাহ ইবনুল মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-মু'তাসিম বিল্লাহ ইবনুর রশীদ ইবনে হারুন ইবনুল মাহদী মুহাম্মাদ ইবনে আবী জাফর আল-মানসূর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: চিন্তার উদ্রেক আমার রাত্রির দুই প্রান্তকে নক্ষত্ররাজির সাথে গেঁথে দিল এমন এক দুশ্চিন্তার কারণে যা আমার ওপর আপতিত হয়েছিল; তা আমার চক্ষু থেকে নিদ্রার অঞ্জন ঝেড়ে ফেলল এবং আমার চোখের মণিদ্বয়কে বিনিদ্রতার পোশাক পরিয়ে দিল। অতঃপর আমি নিবিষ্ট হলাম এবং মনের গহীনে কিছু ভাবনা উঁকি দিল যে, বনু আব্বাসের খলিফা, উজির এবং আমিরদের প্রশংসায় কবিগণ যেসব কবিতা রচনা করেছেন, আমি তা একটি সংকলনে উল্লেখ করি যাতে তা মানুষের নিকট স্মরণীয় হয়ে থাকে। এটি আমার পূর্বে ইবনে নুজাইম কর্তৃক রচিত 'তাবাকাতুশ শু'আরা আস-সিকাত' নামক গ্রন্থের অনুকরণে; আমি প্রয়োজন সহজকারী আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। আর আমি এর নাম দিয়েছি 'তাবাকাতুশ শু'আরিল মুতাকাল্লিমীন মিনাল উদাবাইল মুতাকাদ্দিমীন' (পূর্ববর্তী সাহিত্যিকদের মধ্য হতে বাকপটু কবিদের জীবনী)।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ١٩)
فكان أول ترجمة ابن نجيم بشار بن برد وما له من الأشعار والآثار فنظرت في ذلك أن أجمعهم في هذا الكتاب، فرأيت الاختصار لأشعارهم عين الصواب، ولو اقتصيت جميع ما لهم من الأشعار لطال الكتاب، وخرج عن حد القصد، فاختصرت ذلك وذكرت ما كان شاذاً من دواوينهم، وما لم يذكر في الكتب من أشعارهم، واقتصرت على ما كان من مطولات قصائدهم، وبالله الاستعانة والتوفيق، وإليه المرجع والمآب، وما توفيقي إلا بالله، وعليه فليتوكل المتوكلون، ومنه يطلب الطالبون، وهو حسبي ونعم الوكيل، نعم المولى ونعم النصير.

ইবনে নুজাইমের প্রথম জীবনীটি ছিল বাশার ইবনে বুরদ এবং তাঁর কবিতা ও নিদর্শনাদি প্রসঙ্গে। আমি তাঁদের সকলকে এই কিতাবে একত্রিত করার ইচ্ছা পোষণ করলাম। অতঃপর আমি তাঁদের কবিতার সংক্ষিপ্তসার করাকেই সঠিক ও সমীচীন মনে করেছি; কারণ যদি আমি তাঁদের সমস্ত কবিতা সবিস্তারে উল্লেখ করতাম, তবে কিতাবটি দীর্ঘ হয়ে যেত এবং তা অভীষ্ট সীমার বাইরে চলে যেত। অতএব, আমি তা সংক্ষেপ করেছি এবং তাঁদের কাব্যসমগ্রের (দেওয়ান) দুর্লভ অংশসমূহ এবং যা অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়নি এমন সব কবিতা উল্লেখ করেছি। আর আমি তাঁদের দীর্ঘ কাসিদাসমূহের নির্বাচিত অংশের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। আল্লাহর কাছেই সাহায্য ও তৌফিক প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন ও প্রত্যাবর্তনস্থল। আমার তৌফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; ভরসাকারীরা যেন তাঁর ওপরই ভরসা করে এবং অন্বেষণকারীরা যেন তাঁর কাছেই প্রার্থনা করে। তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক; তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।

(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌أخبار ابن هرمة

هو إبراهيم بن علي بن سلمة بن عامر بن هرمة القرشي، أحد بني قيس بن الحارث بن فهر، ويقال لهم: الخلج. حجازي سكن المدينة، ويكنى أبا إسحاق.

قال الأصمعي: ختم الشعر بابن هرمة، فإنه مدح ملوك بني مروان، وبقي إلى آخر أيام المنصور.

فمن شعره في عبد الواحد بن سليمان:

إذا قيل من خير من يجتدى … لمعترّ فهرٍ ومحتاجها

ومن يعجل الخيل يوم الوغى … بإلجامها قبل إسراجها

أشارت نساء بني مالك … إليك بها قبل أزواجها

وكانت له مدائح في عبد الله بن حسن بن حسن بن علي بن أبي طالب وفي حسن بن زيد عليهما السلام، وكان منقطعاً إليهما، فلما خرج محمد ابن عبد الله علي المنصور قعد عنه وقيل له يوماً، وقد أتهم في التشيع أنت القائل:

ومهما ألام على حبّة … فإني أحبّ بني فاطمة
ইবনে হারমার বৃত্তান্ত

তিনি হলেন ইব্রাহিম ইবনে আলী ইবনে সালামা ইবনে আমির ইবনে হারমা আল-কুরাশি, বনু কায়েস ইবনে আল-হারিস ইবনে ফিহর গোত্রের অন্যতম সদস্য, যাদের 'আল-খালাজ' বলা হয়। তিনি হিজাজি ছিলেন, মদিনায় বসবাস করতেন এবং তার উপনাম ছিল আবু ইসহাক।

আল-আসমাঈ বলেন: ইবনে হারমার মাধ্যমেই উৎকৃষ্ট কবিতার সমাপ্তি ঘটেছে। তিনি বনু মারওয়ান বংশের রাজাদের প্রশংসা করেছেন এবং খলিফা মানসুরের শেষ সময় পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।

আবদুল ওয়াহিদ ইবনে সুলাইমান সম্পর্কে তার কাব্য থেকে কিছু অংশ:

যখন প্রশ্ন করা হয়, ফিহর গোত্রের আগন্তুক ও অভাবীদের জন্য সাহায্য চাওয়ার মতো শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি কে …

এবং কে সেই ব্যক্তি যে যুদ্ধের দিনে ঘোড়ায় জিন বাঁধার আগেই দ্রুত লাগাম পরিয়ে সেগুলোকে প্রস্তুত করে? …

বনু মালিকের নারীরা তাদের স্বামীদের আগেই তোমার দিকে ইঙ্গিত করেছিল। …

আবদুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব এবং হাসান ইবনে যায়েদ (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর প্রশংসায় তার অনেক কবিতা ছিল এবং তিনি তাঁদের প্রতি একনিষ্ঠ ছিলেন। যখন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-মানসুরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন, তখন তিনি তা থেকে বিরত থাকলেন। একদিন তাঁকে শিয়া মতাদর্শের জন্য অভিযুক্ত করে বলা হলো, আপনিই কি সেই ব্যক্তি যিনি বলেছিলেন:

তাঁর প্রতি ভালোবাসার কারণে আমাকে যতই তিরস্কার করা হোক না কেন, … আমি তো ফাতেমার সন্তানদেরই ভালোবাসি।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٢١)
بني بنت من جاء بالمحكما … ت والدين والسنة القائمة

فقال: قائلها من عضَ بظر أمه، فقال له ابنه، يا أبت ألست تقولهما في وقت كذا وكذا؟ فقال: يا بني أيهما خير، أعض بظر أمي، أم يأخذني ابن قحطبة؟ وله في الحكم بن المطلب يمدحه:

لا عيب يوجد فيك إلا أنني … أمسى عليك من المنون شفيقا

قال ابن المعتز: ومما يستجاد من شعره قوله:

قد يدرك الشرف الفتى ورداؤه … خلق وجيب قميصه مرقوع

 

‌‌بشار بن برد

كان شاعراً مجيداً مفلقاً ظريفاً محسناً، خدم الملوك وحضر مجالس الخلفاء، وأخذ فوائدهم، وكان يمدح المهدي ويخضر مجلسه، وكان يأنس به ويدنيه ويجزل في العطايا، وكان صاحب صوت حسن ومنادمة، وكان حضر المهدي في مجلس مع جواريه بعث إليه لأجل المسامرة والمحادثة وكان بشار يعد من الخطباء البلغاء الفصحاء وله قصائد وأشعار كثيرة، فوشى به بعض من يبغضه إلى المهدي بأنه يدين بدين الخوارج فقتله المهدي. وقيل: بل قيل للمهدي: إنه يهجوك، فقتله والذي صح من الأخبار في قتل بشار أنه كان يمدح المهدي، والمهدي ينعم عليه، فرمي بالزندقة فقتله. وقيل: ضربه سبعين سوطاً فمات؛ وقيل ضرب عنقه. وكانت وفاته سنة سبع، وقيل: ثمان وستين ومائة في أيام المهدي.
যিনি সুস্পষ্ট বিধানসমূহ... দীন এবং সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ নিয়ে এসেছেন তাঁর কন্যার সন্তান …

তিনি বললেন: এর বক্তা সেই ব্যক্তি যে তার মায়ের বিশেষ অঙ্গ কামড়ে ধরে। তখন তাঁর পুত্র তাঁকে বলল: হে পিতা, আপনি কি অমুক অমুক সময়ে এই কথা দুটি বলেননি? তিনি বললেন: হে বৎস, কোনটি উত্তম—আমি আমার মায়ের বিশেষ অঙ্গ কামড়ে ধরব, নাকি ইবনে কাহতাবা আমাকে পাকড়াও করবে? এবং আল-হাকাম বিন আল-মুত্তালিবের প্রশংসায় তাঁর পঙ্ক্তি রয়েছে:

আপনার মাঝে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায় না, কেবল আমিই... আপনার মৃত্যু আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছি।

ইবনুল মু’তায বলেন: তাঁর পঙ্ক্তিগুলোর মধ্যে যা উৎকৃষ্ট বলে গণ্য তা হলো:

যুবক হয়তো মর্যাদা লাভ করে অথচ তার চাদরটি... জীর্ণ এবং তার কামিজের কলার তালি দেওয়া।

 

‌‌বাশশার ইবনে বুরদ

তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞ, অপ্রতিদ্বন্দ্বী, রসিক ও শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি রাজন্যবর্গের সেবা করেছেন এবং খলিফাদের মজলিসে উপস্থিত থাকতেন এবং তাঁদের দান-অনুগ্রহ গ্রহণ করতেন। তিনি মাহদীর প্রশংসা করতেন এবং তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতেন। মাহদী তাঁর প্রতি হৃদ্যতা পোষণ করতেন, তাঁকে কাছে টানতেন এবং প্রচুর দান করতেন। তিনি সুললিত কণ্ঠস্বর ও উত্তম সহচর্য গুণের অধিকারী ছিলেন। একদা মাহদী তাঁর দাসীদের সাথে একটি মজলিসে থাকাকালে নৈশকালীন গল্পগুজব ও আলোচনার জন্য তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। বাশশার অত্যন্ত সাবলীল, বাগ্মী ও অলঙ্কারপূর্ণ বক্তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর প্রচুর কাসিদা ও কবিতা রয়েছে। তাঁর প্রতি বিদ্বেষপোষণকারী কেউ মাহদীর কাছে তাঁর বিরুদ্ধে চোগলখুরি করল যে, তিনি খাওয়ারিজদের মতবাদ পোষণ করেন; ফলে মাহদী তাঁকে হত্যা করেন। কেউ কেউ বলেন: বরং মাহদীকে বলা হয়েছিল যে, সে আপনার নিন্দা করে, তাই তিনি তাঁকে হত্যা করেন। তবে বাশশারের হত্যার ব্যাপারে সংবাদসমূহের মধ্যে যা সঠিক তা হলো, তিনি মাহদীর প্রশংসা করতেন এবং মাহদী তাঁর ওপর অনুগ্রহ করতেন, অতঃপর তাঁর ওপর যিন্দিক হওয়ার অপবাদ দেওয়া হয় এবং তিনি তাঁকে হত্যা করেন। বলা হয়, তাঁকে সত্তরটি বেত্রাঘাত করা হয়েছিল এবং তিনি মারা যান; আবার বলা হয় তাঁর শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১৬৭ হিজরিতে, মতান্তরে ১৬৮ হিজরিতে মাহদীর শাসনামলে।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٢٢)
ولما توفي تذكره المهدي وحسن معاشرته له. كان أنيس مجلسه وقد كان معجباً به وبشعره، وكان يدنيه، وكان بشار كفيفاً قبل موته بأربعين سنة، ولهذا كان يحضر المجلس والجواري عند المهدي لكونه لا يبصرهن. وحكى أن المهدي لما قتل بشاراً ندم على قتله وأحبّ أن يجد شيئاً يتعلق به، فبعث إلى كتبه، فأحضرها وأمر بتفتيشها طمعاً في أن يجد فيها شيئاً مما حزبه عليه، فلم يجد من ذلك شيئاً، ومرّ بطومار مختوم، فظن أن فيه شيئاً، فأمر بنشره، فإذا فيه: بسم الله الرحمن الرحيم، إني أردت أن أهجو آل سليمان بن علي بن عبد الله بن العباس، فذكرت قرابتهم من رسول الله صلى الله عليه وسلم وآله، فمنعني ذلك من هجوهم، ووهبت جرمهم لله عز وجل، وقد قلت بيتين لم أذكر فيهما عرضاً ولم أقدح في دين، وهما:

دينار آل سليمان ودرهمهم … كالبابليين شدّاً بالعفاريت

لا يوجدان ولا يرجى لقاؤهما … كما سمعت بهاروت وماروت

فقال: الآن والله صح الندم.

وحدثني أبو جعفر قال: قال ابن أبي أفلح: قال رجل لبشار: إن الله عز وجل ما سلب أحداً كريمتيه إلا عوضه عنهما حسن صوت أو ذكاء، فأنت فماذا عوضك من بصرك؟ فقال: عوضني فقدان النظر إلى ابن زانية مثلك منذ أربعين سنة.

قال السدري: كان عمي بشار من أفقه الناس وأعلمهم بكتاب الله،
যখন তিনি মারা গেলেন, আল-মাহদি তাকে এবং তার সাথে তার উত্তম সাহচর্যের কথা স্মরণ করলেন। তিনি ছিলেন তার মজলিসের অন্তরঙ্গ বন্ধু এবং মাহদি তার প্রতি ও তার কবিতার প্রতি মুগ্ধ ছিলেন। তিনি তাকে নিজের কাছে স্থান দিতেন। বাশশার তার মৃত্যুর চল্লিশ বছর আগে থেকেই দৃষ্টিহীন ছিলেন, আর এ কারণেই তিনি আল-মাহদির দরবারে দাসীদের উপস্থিতিতেও উপস্থিত হতেন, কারণ তিনি তাদের দেখতে পেতেন না। বর্ণিত আছে যে, আল-মাহদি যখন বাশশারকে হত্যা করলেন, তখন তিনি তাকে হত্যার জন্য অনুতপ্ত হলেন এবং এমন কিছু খুঁজে পেতে চাইলেন যা তার এই কাজের পক্ষে যুক্তি হিসেবে কাজ করে। তাই তিনি তার পাণ্ডুলিপিগুলো আনতে পাঠালেন এবং সেগুলো তল্লাশি করার নির্দেশ দিলেন এই আশায় যে, সেখানে এমন কিছু পাবেন যা তাকে তার বিরুদ্ধে উস্কানি দিয়েছিল। কিন্তু তিনি সেরকম কিছুই পেলেন না। এরপর তিনি একটি মোহরযুক্ত কাগজের মোড়ক পেলেন এবং মনে করলেন এতে নিশ্চয়ই কিছু আছে। তিনি সেটি খোলার নির্দেশ দিলে দেখা গেল তাতে লেখা আছে: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমি সুলাইমান ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের বংশধরদের নিন্দা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর বংশধরদের সাথে তাদের আত্মীয়তার কথা আমার স্মরণে এল। এটিই আমাকে তাদের নিন্দা করা থেকে বিরত রাখল এবং আমি তাদের অপরাধ মহান আল্লাহর জন্য ক্ষমা করে দিলাম। তবে আমি এমন দুটি পঙক্তি বলেছি যাতে কারো সম্মানে আঘাত করিনি এবং দীনের কোনো নিন্দা করিনি, তা হলো:

সুলাইমানের বংশধরদের দিনার ও দিরহাম … যেন বাবেলের জাদুকরদের কঠোর জাদুমন্ত্র।

সেগুলোর অস্তিত্ব নেই এবং তা পাওয়ার আশাও করা যায় না … যেমনটি তুমি হারুত ও মারুত সম্পর্কে শুনেছ।

তখন তিনি বললেন: "এখন আল্লাহর কসম, অনুশোচনা যথার্থ হলো।"

আবু জাফর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি আফলাহ বলেছেন: এক ব্যক্তি বাশশারকে বলল: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কারো দুটি প্রিয় চোখ কেড়ে নেন না যার বিনিময়ে তাকে সুন্দর কণ্ঠস্বর অথবা প্রজ্ঞা দান করেন না। তো আপনার চোখের বদলে আপনাকে কী বিনিময় দেওয়া হয়েছে?" তিনি বললেন: "তিনি আমাকে গত চল্লিশ বছর ধরে তোমার মতো জারজ সন্তানের দিকে না তাকানোর সুযোগ দিয়ে এর বিনিময় দিয়েছেন।"

আল-সাদরি বলেন: আমার চাচা বাশশার ছিলেন মানুষের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ এবং আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٢٣)
فعاشر قوماً من الحرانيين فخبث دينه. وكان مفتنا بارعاً، وكان من الشعر بمكان لم يكن به أحد غيره، وكان يقول: ما أعلم شيئاً مما عندي أقل من الشعر.

حدَّثني ابن أبي أفلح قال: أخبرني أبو حاتم السجستاني قال: سئل أبو عبيدة - وأنا حاضر - عن شعر بشار فقال شذرة ونقرة.

قال: ودخل المهدي أيام خلافته على جماعة من جواريه، وهن مجتمعات في حجرة بعضهن، فجلس عندهن يشرب، فقلن له: لو أذنت لبشار في الدخول علينا لنسامره ونحادثه - وكان من أحسن الناس حديثاً وأظرفهم مجلساً، وأكثرهم ملحا - فأمر به فأحضر. واجتمعن عليه فحدثهن، وجعل يسرد عليهن من نوادره وملحه وينشدهن عيون شعره، فسررن بذلك سروراً شديداً، وقلن له: يا بشار، ليتك أبونا فلا نفارقك أبداً. قال: نعم، وأنا على دين كسرى. فضحك منه المهدي، وأمر له بجائزة.

واطلع المهدي يوماً على بعض جواريه، وهي عريانة تغتسل، فأحست به، فضمت فخذيها، وسترت متاعها بكفيها، فلم يشملاه، حتى انثنت
তিনি হাররানিদের একটি দলের সংস্পর্শে আসেন, ফলে তাঁর দীন (ধর্ম) কলুষিত হয়ে যায়। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী। কাব্যের ক্ষেত্রে তিনি এমন এক সুউচ্চ অবস্থানে ছিলেন যেখানে অন্য কেউ ছিল না। তিনি বলতেন: "আমার নিকট গচ্ছিত বিদ্যার মধ্যে কবিতার চেয়ে নগণ্য আর কিছুই আমি জানি না।"

ইবনে আবি আফলাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাতিম আস-সিজিস্তানি আমাকে জানিয়েছেন যে, আবু উবায়দাহকে বাশশারের কবিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—এমতাবস্থায় যে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম—তখন তিনি উত্তর দিলেন, "তা স্বর্ণকণা ও রৌপ্যপিণ্ডের ন্যায়।"

তিনি বলেন: আল-মাহদী তাঁর খিলাফতের দিনগুলোতে তাঁর দাসীদের এক দলের নিকট প্রবেশ করলেন, যারা তাদের একজনের কক্ষে সমবেত ছিল। তিনি সেখানে বসে পানীয় পান করছিলেন। তারা তাঁকে বলল: "আপনি যদি বাশশারকে আমাদের কাছে আসার অনুমতি দিতেন, তবে আমরা তাঁর সাথে নৈশকালীন আলাপচারিতা ও গল্পগুজব করতে পারতাম।" বাশশার ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম কথোপকথনকারী, মজলিসে অত্যন্ত রসিক এবং অধিক কৌতুকপ্রিয়। মাহদী তাঁকে উপস্থিত করার আদেশ দিলেন। দাসীরা তাঁকে ঘিরে বসল এবং তিনি তাদের সাথে কথা বলতে শুরু করলেন। তিনি ধারাবাহিকভাবে তাঁর দুর্লভ ও সরস কৌতুকগুলো বর্ণনা করতে লাগলেন এবং তাঁর কবিতার শ্রেষ্ঠ পংক্তিগুলো আবৃত্তি করে শোনালেন। এতে তারা অত্যন্ত আনন্দিত হলো এবং তাঁকে বলল: "হে বাশশার, আপনি যদি আমাদের পিতা হতেন, তবে আমরা আপনার থেকে কখনও বিচ্ছিন্ন হতাম না।" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আর আমি কিসরার ধর্মের অনুসারী।" মাহদী এতে হাসলেন এবং তাঁকে পুরস্কার প্রদানের নির্দেশ দিলেন।

একদিন মাহদী তাঁর জনৈক দাসীর প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন যখন সে নগ্ন অবস্থায় গোসল করছিল। সে মাহদীর উপস্থিতি বুঝতে পেরে নিজ উরুদ্বয়কে সংকুচিত করল এবং তার দুই হাতের তালু দিয়ে তার গুপ্তাঙ্গ আবৃত করার চেষ্টা করল, কিন্তু হাত দুটি তা পূর্ণরূপে ঢাকতে পারল না, যতক্ষণ না সে নিজেকে গুটিয়ে নিল।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٢٤)
فسترته بعكن بطنها، فخرج المهدي ضاحكاً، وبشار في الدار، فقال: أجز هذا البيت. " أبصرت عيني لحيني " فقال بشار على البديهة:

................. … منظراً وافق شيني

سترته إذ رأتني … تحت بطن الراحتين

فبدت منهُ فضول … لم توار باليدين

فانثنت حتى توارت … بين طيٍّ العكنتين

فقال المهدي: والله ما أنت إلاّ ساحر، ولولا أنك أعمى لضربت عنقك، ولقد حكيت الأمر على وجهه حتى كأنك رأيته، ولكني أعلم أن ذلك من فرط ذكائك، وجودة فطنتك.

وكان بشار مولى لبنى عقيل. وقال بعضهم: لبنى سدوس، وكان يلقب المرعث. والمرعث: المقرط، والرعاث: القرط. وكان يرمي بالزندقة، وهو القائل:

كيف يبكي لمحبس في طلول … من سيبكي لحبس يوم طويل

إنّ في البعث والحساب لشغلا … عن وقوف برسم دارٍ محيل

وهذان البيتان يدلان على صحة إيمانه بالبعث. وكان مطبوعاً جدّاً لا يتكلف، وهو أستاذ المحدثين وسيدهم، ومن لا يقدم عليه، ولا يجارى في ميدانه. والصحيح عند أهل العلم أن المهدي قتله بهجوه يعقوب بن داوود وزيره بقوله:
সুতরাং তিনি তাকে তার পেটের ভাঁজের নিচে লুকিয়ে ফেললেন। তখন মাহদি হাসতে হাসতে বেরিয়ে এলেন, আর বাশার ঘরেই ছিলেন। তিনি বললেন: "এই পঙক্তিটি সম্পন্ন করো: 'আমার চোখ আমার ধ্বংসের কারণ অবলোকন করল'।" তখন বাশার তাৎক্ষণিকভাবে বললেন:

................. … এমন এক দৃশ্য যা আমার কুৎসিত অবস্থার সাথে মানানসই।

আমাকে দেখামাত্র সে তাকে লুকিয়ে ফেলল … দুই হাতের তালুর নিচে।

কিন্তু তার দেহের অবশিষ্টাংশ প্রকাশ হয়ে পড়ল … যা দুই হাত দিয়ে ঢাকা সম্ভব হয়নি।

অতঃপর সে কুঁচকে গেল এমনকি তা অদৃশ্য হয়ে গেল … পেটের দুই ভাঁজের মাঝখানে।

মাহদি বললেন: আল্লাহর কসম, তুমি তো একজন জাদুকর ছাড়া আর কিছুই নও। তুমি অন্ধ না হলে আমি অবশ্যই তোমার গর্দান উড়িয়ে দিতাম। তুমি ঘটনাটি এমন হুবহু বর্ণনা করেছ যেন তুমি তা সচক্ষে দেখেছ। তবে আমি জানি যে, এটি তোমার প্রখর বুদ্ধি এবং তীক্ষ্ণ মেধারই ফল।

বাশার ছিলেন বনু আকিল গোত্রের মুক্ত দাস। কেউ কেউ বলেন: বনু সাদূস গোত্রের। তাকে 'মুরা’য়াস' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। 'মুরা’য়াস' অর্থ কর্ণালঙ্কার পরিধানকারী, আর 'রি’আস' অর্থ কর্ণালঙ্কার। তার বিরুদ্ধে ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হতো, আর তিনিই বলেছিলেন:

যে ব্যক্তি এক সুদীর্ঘ দিনের বন্দিত্বের ভয়ে ক্রন্দন করবে … সে কীভাবে ধ্বংসাবশেষের মাঝে আটকা পড়ে থাকার জন্য কাঁদতে পারে?

নিশ্চয়ই পুনরুত্থান এবং হিসাব-নিকাশের ব্যস্ততা … কোনো জনশূন্য বাড়ির চিহ্নের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার অবকাশ দেয় না।

এই পঙক্তি দুটি পুনরুত্থানের প্রতি তার ঈমানের বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে। তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্বভাবজাত কবি এবং কৃত্রিমতামুক্ত। তিনি ছিলেন আধুনিক কবিদের শিক্ষক ও তাদের নেতা, যার সমকক্ষ কেউ হতে পারে না এবং তার ময়দানে কেউ তার মোকাবিলা করতে পারে না। আলেমদের নিকট সঠিক তথ্য হলো, মাহদি তাকে হত্যা করেছিলেন কারণ তিনি তার উজির ইয়াকুব ইবনে দাউদকে ব্যঙ্গ করে নিম্নোক্ত পঙক্তি বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٢٥)
بني أمية هبوا طال نومكم … إنّ الخليفة يعقوب بن داوود

ضاعت خلافتكم يا قوم فالتمسوا … خليفة الله بين الزقّ والعود

وقال قوم: بل قتله على قوله:

لا يؤيسنك من مخبأة … قول تغلظه وإن قبحا

عسر النساء إلى مياسرة … والصعب يمكن بعدما جمحا

فقال المهدي: رميت جميع نساء العالمين بالفاحشة. والقول الأول أثبت.

وكان حماد عجرد يهجو بشاراً ولا يلتفت إليه حتى قال فيه:

ويا أقبح من قرد … إذا ما عمي القرد

وما اشتد عليه قوله:

لو طليت جلدته عنبرا … لنتنت جلدته العنبرا

أو طليت مسكاً ذكياً إذا … تحول المسك عليه خرا

وكان حماد مفلقاً مجيداً، إلا أن موضعه لم يدان بشاراً ولا يقاربه.

ومن جيد شعر بشار كلمته في عمر بن العلاء:

إذا نبهتك حروب العداة … فنبه لها عمراً ثم نم

ولولا الذي زعموا لم أكن … لأمدح ريحانة قبل شمّ

وحضر بشار يوماً مجلس عقبة بن سلم الهنائي، وقد حضر عقبة بن رؤبة بن العجاج ينشده أرجوزة، فاستحسنها بشار. فقال عقبة: يا أبا معاذ، هذا طراز لا تحسنه أنت ولا نظراؤك، فغضب بشار فقال: تقول هذا؟ والله إني لأرجز منك ومن أبيك ومن جدك. ثم غدا على عقبة ابن سلم الهنائي بأرجوزته الدالية التي يقول فيها:

يا طلل الدار بذات الصمد … بالله خبر كيف كنت بعدي
হে বনু উমাইয়া, জেগে ওঠো, তোমাদের তন্দ্রা দীর্ঘ হয়েছে … নিশ্চয়ই খলিফা হলেন ইয়াকুব ইবনে দাউদ।

তোমাদের খেলাফত ধ্বংস হয়ে গেছে হে কওম, অতএব তোমরা তালাশ করো … আল্লাহর খলিফাকে শরাবের মশক আর বাদ্যযন্ত্রের মাঝে।

একদল লোক বললেন: বরং তাকে তার এই উক্তির কারণে হত্যা করা হয়েছে:

কোনো পর্দানশীন নারীর কঠোর কথা যেন তোমাকে নিরাশ না করে … যদিও তার কথা রুক্ষ ও কদর্য হয়।

নারীদের কঠিন স্বভাব কোমলতায় পর্যবসিত হয় … আর অবাধ্য হওয়ার পর দুর্দমও বশীভূত হতে পারে।

আল-মাহদী বললেন: তুমি জগতের সকল নারীর ওপর অশ্লীলতার অপবাদ আরোপ করেছ। আর প্রথম উক্তিটিই অধিক শক্তিশালী।

হাম্মাদ আজরাদ বাশারকে ব্যঙ্গ করতেন এবং বাশার তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করতেন না, যতক্ষণ না তিনি তার সম্পর্কে বললেন:

হে বানরের চেয়েও অধিক কদর্য … যখন সেই বানরটি অন্ধ হয়ে যায়।

আর তার এই উক্তিটি তার জন্য অধিক অসহনীয় ছিল না:

যদি তার চামড়ায় আম্বর লেপন করা হয় … তবে তার চর্ম আম্বরকেও দুর্গন্ধময় করে দেবে।

অথবা যদি তীব্র সুগন্ধযুক্ত কস্তুরী মাখানো হয় … তবে সেই কস্তুরী তার ওপর বিষ্ঠায় রূপান্তরিত হবে।

হাম্মাদ ছিলেন একজন প্রতিভাবান ও দক্ষ কবি, তবে মর্যাদার দিক থেকে তিনি বাশারের সমকক্ষ বা নিকটবর্তী ছিলেন না।

ওমর ইবনে আল-আলা সম্পর্কে বাশারের পঙক্তিগুলো তার উৎকৃষ্ট কবিতার অন্তর্ভুক্ত:

যখন শত্রুদের যুদ্ধ তোমাকে সজাগ করে তুলবে … তখন ওমরের সাহায্য কামনা করো এবং নিশ্চিন্তে ঘুমাও।

তারা যা দাবি করে তা যদি না হতো, তবে আমি … কোনো সুগন্ধি ফুলের ঘ্রাণ নেওয়ার আগেই তার প্রশংসা করতাম না।

একদা বাশার ওকবা ইবনে সালম আল-হুনাইর মজলিসে উপস্থিত হলেন; সেখানে ওকবা ইবনে রুবা ইবনুল আজ্জাজ উপস্থিত হয়ে একটি রাজজ কবিতা পাঠ করছিলেন যা বাশারের নিকট প্রশংসিত হলো। তখন ওকবা বললেন: হে আবু মুয়াজ, এটি এমন এক শৈলী যা আপনি বা আপনার সমকক্ষরা আয়ত্ত করতে পারবেন না। এতে বাশার ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন: আপনি এই কথা বলছেন? আল্লাহর কসম, আমি আপনার চেয়ে, আপনার পিতার চেয়ে এবং আপনার পিতামহের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাজজ রচয়িতা। এরপর তিনি ওকবা ইবনে সালম আল-হুনাইর সমীপে তার 'দাল' অন্ত্যমিলের রাজজটি উপস্থাপন করলেন, যাতে তিনি বলছেন:

হে যাতুস সামাদ প্রান্তরের গৃহের ধ্বংসাবশেষ … আল্লাহর কসম, আমাদের সংবাদ দাও আমার বিদায়ের পর তোমার অবস্থা কেমন ছিল।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وفيها يقول:

الحر يلحى والعصا للعبد … وليس للمحلف مثل الردّ

وصاحب كالدمل الممد … حملته في رقعة في جلد

فأعجب به عقبة، وقال لأبن رؤبة: والله ما قلت أنت ولا أبوك ولا جدك مثل هذا. ووصل بشاراً وأجزل له العطية.

وكان بشار أستاذ أهل عصره من الشعراء غير مدافع، ويجتمعون إليه وينشدونه ويرضون بحكمه.

وتشبيهاته - على أنه أعمى لا يبصر - من كل ما لغيره أحسن. ومن ذلك قوله:

كأن مثار النقع فوق رءوسنا … وأسيافنا ليل تهاوت كواكبه

ومن خبيث هجائه قوله:

فلا تبخلا بخل ابن قزعة إنه … مخافة أن يرجي نداه حزين

إذا جئته للعرف أغلق بابه … فلم تلقه إلا وأنت كمين

فقل لأبي يحيى: من تبلغ العلا … وفي كل معروف عليك يمين؟

وفيه يقول:

بجدك يا بن قزعة نلت مالاً … ألا إن اللئام بهم جدود
তিনি এতে বলেন:

মুক্ত পুরুষ ভর্ৎসিত হয় আর দাসের জন্য লাঠি … আর শপথকারীর জন্য প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মতো কিছু নেই।

আর এমন এক বন্ধু যেন পুঁজভর্তি ফোড়া … আমি তাকে চামড়ার এক টুকরো কাপড়ে বহন করেছি।

উকবা এতে অভিভূত হলেন এবং ইবনে রুবাহকে বললেন: আল্লাহর কসম, আপনি, আপনার পিতা বা আপনার দাদা কেউই এর মতো কিছু বলেননি। তিনি বাশারকে পুরস্কৃত করলেন এবং তাকে প্রচুর দান করলেন।

বাশার ছিলেন তাঁর যুগের কবিদের অবিসংবাদিত উস্তাদ; তারা তাঁর কাছে সমবেত হতো, তাঁকে কবিতা শোনাত এবং তাঁর বিচারে সন্তুষ্ট থাকত।

এবং তাঁর উপমাসমূহ—অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও—অন্য যে কারও উপমার চেয়ে অধিক সুন্দর। তার মধ্যে একটি হলো তাঁর এই উক্তি:

যেন আমাদের মাথার উপরে উড্ডীয়মান ধুলিকণা … এবং আমাদের তলোয়ারগুলো এমন এক রাত যার নক্ষত্ররাজি খসে পড়ছে।

এবং তাঁর তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক কবিতার মধ্যে রয়েছে তাঁর এই উক্তি:

ইবনে কাযা’আহ-র মতো কার্পণ্য করো না, কারণ সে … এই ভয়ে থাকে পাছে কোনো দুঃখী ব্যক্তি তার বদান্যতার আশা করে।

যখন তুমি তাঁর কাছে অনুগ্রহের জন্য আসবে সে তার দরজা বন্ধ করে দেবে … ফলে ওত পেতে থাকা ছাড়া তুমি তাঁর দেখা পাবে না।

সুতরাং আবু ইয়াহইয়াকে বলো: তুমি কীভাবে উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে … যখন প্রতিটি ভালো কাজের ব্যাপারে তোমার কসম (বাধা) হয়ে দাঁড়ায়?

এবং তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন:

হে ইবনে কাযা’আহ, ভাগ্যের জোরেই তুমি সম্পদ লাভ করেছ … জেনে রেখো, নিচ প্রকৃতির লোকেরাও ভাগ্যের জোরে সম্পদশালী হয়।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٢٧)
ومن حذر الزيادة في الهدايا … أقمت دجاجة فيمن يزيد

ومما يستحسن لبشار، لإحكام رصفه، وحسن وصفه كلمته التي يقول فيها بيته الذي ذكرناه في التشبيه، فأولها:

جفا جفوة فازور إذ مل صاحبه … وأزرى به أن لا يزال يصاحبه

خليلي لا تستكثرا لوعة الهوى … ولا لوعة المحزون شطت حبائبه

شفى النفس ما يلقى بعبدة مغرماً … وما كان يلقى قلبه وضرائبه

فأقصر عن داعي الفؤاد وإنما … يميل به أمس الهوى ويطالبه

إذا كان ذواقاً أخوك الهوى … توجّهه في كلّ أوب ركائبه

فخّل له وجه الطريق ولا تكن … مطيّة رحّال كثير مذاهبه

أخوك الذي إن ربته قال إنما … أربت وإن عاتبته لان جانبه

إذا كنت في كل الأمور معاتباً … أخاً لك لم تلق الذي لا تعاتبه

فعش واحداً أو صل أخاك فإنه … مقارف ذنب مرة ومجانبه

إذا أنت لم تشرب مراراً على القذى … ظمئت وأي الناس تصفو مشاربه؟

من الحيّ قيس قيس عيلان إنها … عيون الندى منها تروي سحائبه

وما زال منها ممسك بمدينة يراقب أو ثغر تخاف مرازبه
এবং উপহারের ক্ষেত্রে যারা মাত্রাতিরিক্ততা থেকে সতর্ক করেছেন … আমি নিলামে দর বৃদ্ধিকারীদের মধ্যে একটি মুরগি নির্ধারণ করেছি।

বাশারের যা কিছু চমৎকার বলে গণ্য হয়—তার শব্দবিন্যাসের সুদৃঢ়তা এবং বর্ণনার সৌন্দর্যের কারণে—তা হলো তার সেই কবিতাটি, যাতে সেই পঙ্‌ক্তিটি রয়েছে যা আমরা উপমার আলোচনায় উল্লেখ করেছি। তার সূচনা হলো:

সে রূঢ় আচরণ করল এবং বিমুখ হয়ে গেল যখন তার সঙ্গী বিরক্ত হলো … আর তাকে লাঞ্ছিত করল এই বিষয়টি যে, সে সর্বদা তার সঙ্গেই ছিল।

হে আমার দুই বন্ধু! তোমরা প্রেমের দহনকে অনেক বেশি মনে করো না … আর না সেই শোকাতুর ব্যক্তির দহনকে, যার প্রিয়জনেরা দূরে সরে গেছে।

আবদাহর প্রতি তার যে আসক্তি এবং তার হৃদয় ও প্রকৃতি যা কিছুর সম্মুখীন হয়েছে, তা আত্মাকে প্রশান্ত করেছে।

সুতরাং সে হৃদয়ের আহ্বান থেকে নিবৃত্ত হলো, মূলত … গতকালের প্রেমই তাকে আবিষ্ট করে এবং তার কাছে দাবি জানায়।

যদি তোমার ভাই অনুরাগের স্বাদ আস্বাদনকারী হয় … তবে তার সওয়ারিগুলো তাকে প্রতিটি পথেই চালিত করবে।

তাই তার জন্য পথের দিকটি ছেড়ে দাও এবং এমন এক … মুসাফিরের বাহন হয়ো না যার গন্তব্য অনেক।

তোমার ভাই তো সেই, যাকে যদি তুমি সন্দেহের চোখে দেখো তবে সে বলে: "আমিই … সন্দেহ সৃষ্টি করেছি", আর যদি তুমি তাকে অনুযোগ করো তবে সে নমনীয় হয়।

যদি তুমি প্রতিটি বিষয়ে তোমার ভাইয়ের প্রতি … অনুযোগকারী হও, তবে তুমি এমন কাউকেই পাবে না যার প্রতি অনুযোগ করার প্রয়োজন হবে না।

অতএব হয় একাকী জীবন যাপন করো, অথবা তোমার ভাইয়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখো; কেননা সে … কখনো পাপে লিপ্ত হয় আবার কখনো তা পরিহার করে।

যদি তুমি পানীয়তে আবর্জনা থাকা সত্ত্বেও বারংবার পান না করো … তবে তুমি তৃষ্ণার্তই থাকবে; আর কোন মানুষের পানীয় নির্মল হয়?

কায়স গোত্র থেকে, কায়স আয়লান—তারা হলো … বদান্যতার এমন উৎস যেখান থেকে মেঘমালা সিক্ত হয়।

আর তাদের মধ্য থেকে কেউ না কেউ সর্বদা কোনো নগরীর দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে তা পর্যবেক্ষণ করে, অথবা এমন কোনো সীমান্ত রক্ষা করে যার অধিপতিদের ভয় পাওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٢٨)
إذا الملك الجبار صعر خدّه … مشينا إليه بالسيوف نعاتبه

وكنّا إذا دبّ العدوّ لسخطنا … وراقبنا في ظاهر لا نراقبه

غدونا له جهراً بكلّ مثقف … وأبيض تستسقي الدماء مضاربه

كأن مثار النقع فوق رءوسنا … وأسيافنا ليل تهاوت كواكبه

وأرعن يعشى الشمس لون حديده … وتخلس أبصار الكماة كتائبه

تغص به الأرض الفضاء إذا غدا … تزاحم أركان الجبال مناكبه

تركنا به كلبا وقحطان تبتغي … مجيراً من الهبل المطلّ مغالبه

وكان بشار يعد في الخطباء والبلغاء. ولا أعرف أحداً من أهل العلم والفهم دفع فضله ولا رغب عن شعره. وكان شعره أنقى من الراحة، وأصفى من الزجاجة وأسلس على اللسان من الماء العذب. ومما يستحسن من شعره - وإن كان كله حسناً - قوله:

أمن تجنّي حبيب راح غضبانا … أصبحت في سكرات الموت سكرانا

لا تعرف النوم، من شوق إلى شجن … كأنما لا ترى للناس أشجانا

أود من لم ينلني من مودته … إلا سلاماً يردّ القلب حيرانا

يا قوم أذني لبعض الحيّ عاشقة … والأذن تعشق قبل العين أحيانا
যখন কোনো পরাক্রমশালী রাজা অবজ্ঞায় তার গাল বাঁকায় … তখন আমরা তরবারি হাতে তার দিকে এগিয়ে যাই তাকে শাসন করতে।

যখন শত্রু আমাদের ক্রোধ জাগিয়ে তুলতে চুপিসারে আসত, তখন আমরা এমন ছিলাম যে … আমরা তাদের প্রকাশ্যে পর্যবেক্ষণ করতাম যখন তারা আমাদের দেখত না।

আমরা প্রকাশ্যেই প্রতিটি সুঠাম বর্শা নিয়ে তার দিকে অগ্রসর হতাম … এবং এমন শুভ্র উজ্জ্বল তরবারি নিয়ে যার ধারগুলো রক্ত পান করতে উন্মুখ।

আমাদের মাথার উপরে উড্ডীয়মান ধূলিকণা যেন এক নিবিড় অন্ধকার রাত … আর আমাদের তরবারিগুলো যেন সেই রাতের খসে পড়া নক্ষত্ররাজি।

সেই বিশাল বাহিনী যার লোহার উজ্জ্বলতা সূর্যের চোখ ধাঁধিয়ে দেয় … আর যার সেনাদল দুর্ধর্ষ বীর যোদ্ধাদের দৃষ্টি হরণ করে নেয়।

সেই বাহিনী যখন যাত্রা করে তখন বিশাল প্রান্তরও যেন সংকীর্ণ হয়ে যায় … আর তার সেনাদলের কাঁধগুলো পাহাড়ের চূড়াগুলোর সাথে ভিড় জমায়।

আমরা এর দ্বারা কালব ও কাহতান গোত্রকে এমন অবস্থায় ফেলে এসেছি যে তারা খুঁজছে … এক আশ্রয়দাতার, সেই ধ্বংসের বিভীষিকা থেকে যা বিজয়ীর বেশে তাদের গ্রাস করতে উদ্যত।

বাশশার বাগ্মী ও অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের মধ্যে গণ্য হতেন। আমি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী এমন কাউকে জানি না যিনি তার শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করেছেন কিংবা তার কবিতার প্রতি বিমুখ হয়েছেন। তার কবিতা ছিল হাতের তালুর চেয়েও নির্মল, স্ফটিকের চেয়েও স্বচ্ছ এবং সুপেয় পানির চেয়েও জিহ্বায় অধিক প্রাঞ্জল। তার যে সকল কবিতা প্রশংসিত হয়—যদিও তার সকল কালামই চমৎকার—তার মধ্যে অন্যতম হলো:

প্রিয়ার অহেতুক অপবাদের কারণে কি সে রাগান্বিত হয়ে চলে গেল? … যার ফলে তুমি মৃত্যুযন্ত্রণার ন্যায় নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে।

দুঃখের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষায় তোমার চোখে ঘুম নেই … যেন তুমি মানুষের মাঝে অন্য কোনো দুঃখ দেখতে পাও না।

আমি তাকেই ভালোবাসি যার ভালোবাসা থেকে আমি কিছুই পাইনি … কেবল একটি সালাম (শুভেচ্ছা) ব্যতীত যা হৃদয়কে বিভ্রান্ত করে ফিরিয়ে দেয়।

হে আমার জাতি! এই জনপদের কারো প্রেমে আমার কান পড়েছে … আর কর্ণ কখনো কখনো চোখের পূর্বেই প্রেমে নিপতিত হয়।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وهذا معنى بديع لم يسبقه إليه أحد. وهذه قصيدة طويلة وقد قدمنا في كتابنا هذا أنا نروم الإيجاز والاختصار.

ومما يستحسن من شعره أيضاً وهو المعنى الذي لم يسبق إليه:

لم يطل ليلي ولكن لم أنم … ونفى عني الكرى طيف ألمّ

فاهجر الشوق إلى رؤيتها … أيها المهجور إلا في الحلم

حدثني عن كتابٍ جاءني … منك بالذم وما كنت أذم

ومن مستحسن شعره رائيته العجيبة البديعة المعاني الرفيعة المباني:

رأيت صحابتي بخناصرات … حمولا بعد ما متع النّهار

فكاد القلب من طرب إليهم … ومن طول الصّبابة يستطار

وفي الحيّ الذين رأيت خود … خلوب الدل آنسةٌ نوار

برود العارضين كأن فاها … بعيد النوم عانقه عقار

كأنّ فؤاده كرةٌ تنزّى … حذار البين لو نفع الحذار

يروّعه السرار بكلّ شيءٍ … مخافة أن يكون به السّرار

وودّا لليل زيد إليه ليلٌ … ولم يخلق له أبداً نهارُ

جفت عيني عن التغميض حتّى … كأنّ جفونها عنها قصار

وبلغني أن مسلم بن الوليد وجماعة، منهم أبو الشيص وأبو نواس وغيرهما، كانوا عند بعض الخلفاء، فسألهم عن ديباج الشعر الذي لا يتفاوت نمطه،
এটি এক অপূর্ব ভাব যা তাঁর আগে আর কেউ ব্যক্ত করেনি। এটি একটি দীর্ঘ কসিদা, আর আমরা আমাদের এই কিতাবে পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে আমরা সংক্ষেপণ ও সংক্ষিপ্তসার উপস্থাপন করার ইচ্ছা রাখি।

তাঁর কবিতার মধ্যে যা প্রশংসিত হয়েছে এবং যে ভাবের ক্ষেত্রেও কেউ তাঁর অগ্রবর্তী ছিল না, তা হলো:

আমার রাত দীর্ঘ হয়নি কিন্তু আমি ঘুমাতে পারিনি … এক আগন্তুক কল্পমূর্তি আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছে

অতএব তাকে দেখার আকুলতা ত্যাগ করো … হে স্বপ্ন ছাড়া আর সবখানে পরিত্যক্ত ব্যক্তি!

আমাকে সেই পত্রটি সম্পর্কে বলো যা তোমার পক্ষ থেকে আমার কাছে এসেছে … যাতে নিন্দা করা হয়েছে, অথচ আমি নিন্দনীয় ছিলাম না

তাঁর চমৎকার কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে তাঁর সেই বিস্ময়কর 'রায়িয়া' (র-অন্ত্যমিল বিশিষ্ট কবিতা), যার ভাবসমূহ অতি চমৎকার এবং নির্মাণশৈলী অত্যন্ত উচ্চাঙ্গের:

আমি খানাছিরাতে আমার সঙ্গীদের দেখেছি … যারা দিনের প্রখরতার পর যাত্রার সরঞ্জাম বোঝাই করছিল

তাদের প্রতি আনন্দের আতিশয্যে এবং দীর্ঘ বিরহ-বেদনায় … আমার হৃদয় যেন উড়ে যেতে চাইছিল

আর সেই জনপদে যাদের আমি দেখেছি, তারা ছিল এমন সুন্দরী তরুণী … যাদের হাবভাব মনোমুগ্ধকর, যারা লাজুক ও পবিত্র

শীতল গণ্ডদেশ বিশিষ্ট, তার মুখ যেন … নিদ্রা থেকে জাগার পর মদিরা সিক্ত হয়েছে

বিচ্ছেদের আশঙ্কায় তার হৃদয় যেন একটি স্পন্দিত বলের মতো … যদি এই সতর্কতা কোনো কাজে আসত!

সবকিছুর গোপন ফিসফিসানি তাকে আতঙ্কিত করে … এই ভয়ে যে তার মধ্যেই হয়তো বিচ্ছেদের বার্তা লুকিয়ে আছে

সে কামনা করত রাতের সাথে যদি আরও রাত যুক্ত হতো … আর তার জন্য যদি কখনো দিন সৃষ্টি না হতো!

আমার চোখ দু’টো পলক ফেলতে অস্বীকার করল, যেন … চোখের পাতাগুলো চোখের জন্য খাটো হয়ে গেছে

আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, মুসলিম বিন ওয়ালিদ এবং একটি দল, যাদের মধ্যে আবুশ শিস ও আবু নুওয়াসসহ আরও অনেকে ছিলেন, তারা কোনো এক খলিফার দরবারে উপস্থিত ছিলেন। খলিফা তাদেরকে কবিতার সেই কারুকার্যময় শৈলী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যার মান বা ধরনে কোনো তারতম্য ঘটে না,
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٣٠)
فأنشدوه لجماعة من المتقدمين والمحدثين، فكأنه لم يقع منه بالغرض، وسأل عن أحسن من ذلك، فقال أبو نواس: أنا لها يا أمير المؤمنين. وأنشد هذه الأبيات الرائية لبشار، فاستحسنها جدّاً، وقال: ومما أجاد فيه وأفرط قوله في الافتخار:

إذا ما غضبنا غضبة مضريّةٌ … هتكنا حجاب الشمس أو قطرت دماً

إذا ما أعرنا سيّداً من قبيلة … ذرى منبر صلّى علينا وسلّما

ومما يستحسن له قوله في عقبة بن سلم:

حيّيا صاحبيّ أمّ العلاء … واحذرا طرف عينها الحوراءِ

إن في طرفها دواء وداءً … لمحبّ، والداء قبل الدواء

عذبتني بالحب عذبها الل … هـ بما تشتهي من الأهواء

يقع الطير حيث يلتقط الح … ب وتغشى منازل الكرماء

إنما همة الجواد ابن سلم … في عطاء وموكب أو لقاء

ليس يعطيك للرجاء وللخو … ف ولكن يلذ طعم العطاء

ومما يختار من مديحه قوله في ابن العلاء

فتى لا يبيت على دمنة … ولا يلعق الشهد إلا بسمّ

ثم يأخذ في الافتخار في قوله منها:

ألا أيّها السائلي جاهلاً … لتعرفني أنا أنف الكرم
তারা তাকে পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী একদল কবির কবিতা পাঠ করে শোনালেন। কিন্তু মনে হলো সেগুলো তার উদ্দেশ্য পূর্ণ করতে পারেনি। তিনি এর চেয়েও উত্তম কিছুর সন্ধান চাইলেন। তখন আবু নুওয়াস বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন! এই কাজের জন্য আমিই আছি। অতঃপর তিনি বাশশারের এই 'রা' অন্ত্যমিল বিশিষ্ট পঙক্তিগুলো আবৃত্তি করলেন। তিনি (আমীরুল মুমিনীন) এটি অত্যন্ত পছন্দ করলেন এবং বললেন: বাশশার যে সকল বিষয়ে অত্যন্ত চমৎকার ও নিপুণ বর্ণনা দিয়েছেন, তার মধ্যে স্বীয় বংশের গৌরব প্রকাশ করে বলা এই উক্তিটি অন্যতম:

আমরা যখন মুদার গোত্রের ন্যায় ক্রোধে ফেটে পড়ি … তখন আমরা সূর্যের পর্দা বিদীর্ণ করি অথবা তা থেকে রক্ত ঝরতে থাকে।

আমরা যখন কোনো গোত্রের নেতাকে মিম্বরের চূড়া ধার দেই … তখন সে আমাদের প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ করে।

উকবা ইবন সালম সম্পর্কে তার প্রশংসিত পঙক্তিগুলোর মধ্যে এটিও রয়েছে:

হে আমার দুই সাথী! তোমরা উম্মুল আলা-কে অভিবাদন জানাও … এবং তার ডাগর কালো চোখের ইশারা থেকে সতর্ক থেকো।

নিশ্চয়ই তার চোখের চাহনিতে প্রেমিকের জন্য নিরাময় ও ব্যাধি উভয়ই আছে … তবে নিরাময়ের আগে আসে ব্যাধি।

সে আমাকে প্রেমের মাধ্যমে দহন করেছে; আল্লাহ তাকে … তার পছন্দসই প্রবৃত্তির মাধ্যমেই দহন করুন।

যেখানে শস্যদানা থাকে সেখানেই পাখি নামে … আর মহানুভব ব্যক্তিদের গৃহেই মানুষের সমাগম হয়।

দানশীল ইবন সালমের সমস্ত সংকল্প কেবল … দান-খয়রাত, রাজকীয় সফর অথবা সাক্ষাতের মধ্যেই নিহিত।

তিনি আপনাকে কোনো আশা কিংবা ভয়ের কারণে দান করেন না … বরং তিনি দানের আস্বাদন লাভ করতেই পছন্দ করেন।

ইবনুল আলার প্রশংসায় তার নির্বাচিত কাব্যগাথার মধ্যে এটিও রয়েছে:

এমন এক যুবক যে কখনো লাঞ্ছনার আবর্জনায় রাত কাটায় না … এবং বিষের ঝুঁকি ছাড়া মধুর আস্বাদ গ্রহণ করে না।

অতঃপর তিনি সেই কবিতারই পরবর্তী অংশে গর্ব প্রকাশ করে বলেন:

হে অজ্ঞ প্রশ্নকারী! আমাকে চেনার জন্য যদি জিজ্ঞেস করো … তবে জেনে রেখো, আমিই হলাম আভিজাত্যের শিখর।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٣١)
نمتني الجياد: بنو عامر … فروعي وأصلي قريش العجم

وإنّي لأغني مقام الفتى … وأصبي الفتاة ولا تعتصم

ومن غزله الطيب الحسن المليح قوله:

يا منية القلب إنّي لا أسميك … أكني بأخرى أسميها وأعنيك

يا أطيب الناس ريقاً غير مختبر … إلاّ شهادة أطراف المساويك

قد زرتنا زورة في الدّهر واحدة … فاثني ولا تجعليها بيضة الديك

يا رحمة الله حلّى في منازلنا … حسبي برائحة الفردوس من فيك

ومن بدائعه قوله:

وخريدة سودٍ ذوائبها … قد ضمخت بالمسك والورس

أقبلن في رأد الضحاء بها … فسترن عين الشمس بالشمس

وله القصيدة المشهورة التي يقول فيها هذا البيت " يا رحمة الله … الخ " وقد ضمنه أبو نواس بشعره وهو هذا البيت:

يا رحمة الله حلي في منازلنا … وجاورينا فدتك النفس من جار

وأخبار بشار كثيرة ونوادره في الشعر وطرائفه أكثر من أن يتضمنها هذا الكتاب على ما قدمنا فيه من إيثارها الإيجاز والاختصار وقد أتينا بما يستدل على ما سواه.
উন্নত অশ্বারোহীরা অর্থাৎ বানু আমির আমাকে লালন-পালন করেছে … আমার শাখা-প্রশাখা ও মূল হলো অনারব কুরাইশ।

আর আমি যুবকের অভাব পূরণ করি … এবং আমি তরুণীকে মোহিত করি, সে নিজেকে সংবরণ করতে পারে না।

তাঁর উত্তম, সুন্দর ও চমৎকার গজলসমূহের (প্রেমের কবিতা) মধ্যে রয়েছে তাঁর এই উক্তি:

হে হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা, আমি তোমার নাম নিই না … আমি অন্য একজনের নাম উল্লেখ করি যার দ্বারা আমি তোমাকেই উদ্দেশ্য করি।

হে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুগন্ধযুক্ত লালার অধিকারী, যা পরখ করা হয়নি … কেবল মিসওয়াকের অগ্রভাগের সাক্ষ্য ছাড়া।

তুমি সারা জীবনে মাত্র একবার আমাদের দেখতে এসেছ … সুতরাং এর পুনরাবৃত্তি করো এবং একে মোরগের ডিম (অসম্ভব বা দুর্লভ কিছু) বানিয়ে দিও না।

হে আল্লাহর রহমত, তুমি আমাদের নিবাসে অবতরণ করো … তোমার মুখের জান্নাতুল ফিরদাউসের সুঘ্রাণই আমার জন্য যথেষ্ট।

তাঁর চমৎকার কাব্যশৈলীর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর এই উক্তি:

আর কালো বেণীবিশিষ্ট এক লাজুক তরুণী … যাকে কস্তুরি ও ওয়ারাস (সুগন্ধি) দিয়ে সুরভিত করা হয়েছে।

তারা পূর্বাহ্ণের উজ্জ্বল আলোতে তাকে নিয়ে উপস্থিত হলো … ফলে তারা আকাশের সূর্যকে এই রূপসী সূর্য (তরুণী) দিয়ে আড়াল করে দিল।

তাঁর একটি বিখ্যাত কাসিদা রয়েছে যাতে তিনি এই চরণটি বলেছেন: "হে আল্লাহর রহমত... ইত্যাদি"। আবু নুওয়াস তাঁর কবিতায় এই চরণটি ব্যবহার করেছেন, আর তা হলো এই চরণটি:

হে আল্লাহর রহমত, তুমি আমাদের নিবাসে অবতরণ করো … এবং আমাদের প্রতিবেশী হও, এমন প্রতিবেশীর জন্য প্রাণ উৎসর্গিত হোক।

বাশশারের সংবাদ অনেক এবং কবিতায় তাঁর দুর্লভ ও চমৎকার বিষয়াদি এত বেশি যে, সংক্ষেপ ও সংক্ষিপ্তকরণের যে নীতি আমরা এই গ্রন্থে অবলম্বন করেছি তাতে তা সংকুলান করা সম্ভব নয়। তবে আমরা এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করেছি যা অন্য সবকিছুর প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٣٢)
‌‌أخبار السيد الحميري

هو إسماعيل ين محمد بن يزيد بن ربيعة بن مفرغ الحميري، وكان شاعراً ظريفاً حسن النمط مطبوعاً جدّاً، محكم الشعر مع ذلك، وكان أحذق الناس بسوق الأحاديث والأخبار المناقب في الشعر. لم يترك لعلي بن أبي طالب عليه السلام فضيلة معروفة إلا نقلها إلى الشعر.

حدَّثني محمد بن عبد الله السدوسي عن المدائني قال: كان أبو هاشم ينال من هذا الشراب، وولي سليمان بن حبيب بن المهلب الأهواز - وكان للسيد صديقاً - فرحل إليه من الكوفة، فأكرمه ورفع مجلسه ونادمه، وأقام عنده حيناً، وكان سليمان لا يشرب الشراب ويمنع من شربه ويتشدد فيه. فامتنع السيد من شربه فأضر ذلك به وتغير لونه، فقال له يوماً: أراك قد تغيرت عن الحال التي قدمت عليها، فقال: أصدقك أيها الأمير، كنت أنال من هذا الشراب فيمرئ طعامي ويشد عضدي ويقوي بدني، فأمسكت عنه مساعدة للأمير أصلحه الله، فصرت إلى ما ترى. فتبسم سليمان وقال: أحق ما يجب علينا من حق من يمدح آل الرسول صلى الله عليه وآله أن نحتمل له شرب النبيذ، فأصب منه فإنه غذاؤك. ثم كتب إلى عامله بالجبل أن احمل إلى أبي هاشم مائتي دورق ميفختج. ودفع الرقعة إلى السيد فقال: أصلح الله الأمير، البليغ من يوجز الكلام ويختصره، قال سليمان: وما رأيت من العيّ؟ قال: جمعك بين كلمتين مستغني بإحداهما، دع
আস-সাইয়্যিদ আল-হিমইয়ারি সংক্রান্ত সংবাদ

তিনি হলেন ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে রাবিআ ইবনে মুফাররাগ আল-হিমইয়ারি। তিনি ছিলেন একজন মার্জিত ও অত্যন্ত স্বভাবজাত কবি এবং সেই সাথে তাঁর কবিতা ছিল অত্যন্ত সুসংহত। কবিতার ছন্দে হাদিস, ঐতিহাসিক বর্ণনা ও গুণাবলি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সমকালীন মানুষদের মধ্যে সর্বাধিক দক্ষ। আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর এমন কোনো সুপরিচিত ফজিলত বা গুণ ছিল না, যা তিনি কবিতায় রূপান্তর করেননি।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-সাদুসি আল-মাদায়েনি থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হাশিম এই পানীয় (নবীয) পান করতেন। সুলাইমান ইবনে হাবিব ইবনে আল-মুহাল্লাব যখন আহওয়াজের শাসনকর্তা নিযুক্ত হলেন—এবং তিনি ছিলেন সাইয়্যিদের বন্ধু—তখন সাইয়্যিদ কুফা থেকে তাঁর কাছে গমন করলেন। সুলাইমান তাঁকে সম্মানিত করলেন, নিজের মজলিসে তাঁকে উচ্চ মর্যাদা দিলেন এবং তাঁর সাথে অন্তরঙ্গ সময় কাটালেন। তিনি সেখানে কিছুদিন অবস্থান করলেন। সুলাইমান নিজে মদ্যজাতীয় পানীয় পান করতেন না, অন্যদের তা পান করতে নিষেধ করতেন এবং এ ব্যাপারে বেশ কঠোর ছিলেন। ফলে সাইয়্যিদও তা পান করা থেকে বিরত রইলেন, যা তাঁর স্বাস্থ্যের ক্ষতি করল এবং তাঁর শারীরিক বর্ণ মলিন হয়ে গেল। একদিন সুলাইমান তাঁকে বললেন: "আমি দেখছি আপনি যে অবস্থায় এসেছিলেন, আপনার সে অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে গেছে।" তিনি বললেন: "হে আমির, আমি আপনার কাছে সত্য বলছি; আমি এই পানীয় পান করতাম যা আমার খাদ্য হজম করতে সাহায্য করত, আমার বাহুকে সবল করত এবং আমার শরীরকে শক্তিশালী করত। কিন্তু আমিরের প্রতি শ্রদ্ধাবশত আমি তা থেকে বিরত থেকেছি—আল্লাহ আমিরকে সংশোধন করুন—যার ফলে আমার অবস্থা এখন এমন হয়েছে যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন।" সুলাইমান মুচকি হাসলেন এবং বললেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি)-এর পরিবারের প্রশংসাকারীর যে হক আমাদের ওপর বর্তায়, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো তাঁর নবীয পান করাকে আমাদের পক্ষ থেকে মেনে নেওয়া। সুতরাং আপনি তা গ্রহণ করুন, কারণ এটি আপনার জন্য পুষ্টিস্বরূপ।" এরপর তিনি জাবাল অঞ্চলের তাঁর কর্মকর্তার কাছে চিঠি লিখলেন যেন আবু হাশিমের কাছে দুইশ কলস 'মায়ফুখতাজ' পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি চিরকুটটি সাইয়্যিদের হাতে তুলে দিলেন। সাইয়্যিদ বললেন: "আল্লাহ আমিরকে সংশোধন করুন, সাবলীল ব্যক্তি তো সেই যে কথা সংক্ষেপ ও সংক্ষিপ্ত করে।" সুলাইমান বললেন: "আপনি আমার কথায় কী অসারতা দেখলেন?" তিনি বললেন: "আপনি এমন দুটি শব্দকে একত্র করেছেন যার একটি থাকলেই অন্যটির প্রয়োজন ছিল না, বর্জন করুন"
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٣٣)
" مي " وامح فختج فقال: صدقت وحمل إليه ما أراد.

وحدثني محمد بن عبد الله قال: قال لي السيد: اختصم رجلان في أبي بكر وعلي فأطالا ثم رضيا بأن يحكم بينهما أول طالع يطلع عليهما. فكنت ذاك - وأنا على بغلة، وهما لا يعرفانني - قال محمد: وكان السيد وسيماً جسيماً - فابتدر إليّ الشيعيّ منهما وقال: أصلحك الله، إنا اختلفنا؟ في شيء ورضينا بأول طالع علينا حكماً فقلت ففي ماذا اختلفتما قال: أنا أقول: إن علياً خير الناس بعد رسول الله. قال: فقلت: فماذا يقول هذا ابن الزانية؟ وحدثني محمد بن عبد الله قال: قال السدري راوية السيد: كان السيد أول زمانه كيسانياً يقول برجعة محمد بن الحنيفة وأنشدني في ذلك:

حتى متى؟ وإلى متى؟ ومتى المدى؟ … يا بن الوصيّ وأنت حيّ ترزق

والقصيدة مشهورة.

وحدثني محمد بن عبد الله قال: قال السدري: ما زال السيد يقول: بذلك حتى لقي الصادق عليه السلام. بمكة أيام الحج، فناظره وألزمه الحجة فرجع عن ذلك. فذلك قوله في تركه تلك المقالة، ورجوعه عما كان عليه ويذكر الصادق عليه السلام:

تجعفرت باسم الله والله أكبر … وأيقنت أن الله يعفو ويغفر

ويثبت مهما شاء ربي بأمره … ويمحو ويقضي في الأمور ويقدر

وقال الأنصاري: قال العتبي: ادعى رجل على رجلٍ مالاً عند سوار
"মি" এবং মুছে ফেলুন অতঃপর বেরিয়ে গেলেন এবং বললেন: আপনি সত্য বলেছেন এবং তিনি যা চেয়েছিলেন তা তার কাছে নিয়ে আসলেন।

এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সায়্যিদ আমাকে বললেন: আবু বকর এবং আলী সম্পর্কে দুইজন ব্যক্তি তর্কে লিপ্ত হলো এবং তারা দীর্ঘক্ষণ তা চালিয়ে গেল। অতঃপর তারা এই মর্মে সম্মত হলো যে, তাদের সামনে প্রথম যে ব্যক্তি আবির্ভূত হবে, সে-ই তাদের মাঝে ফয়সালা করবে। আমিই ছিলাম সেই ব্যক্তি—আর আমি একটি খচ্চরের পিঠে সওয়ার ছিলাম এবং তারা আমাকে চিনত না। মুহাম্মদ বলেন: সায়্যিদ ছিলেন সুশ্রী এবং সুঠাম দেহের অধিকারী। তাদের মধ্যকার শিয়া ব্যক্তিটি দ্রুত আমার দিকে এগিয়ে এল এবং বলল: আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন, আমরা একটি বিষয়ে মতবিরোধ করেছি এবং আমাদের সামনে প্রথম যে ব্যক্তি আবির্ভূত হবে তাকে বিচারক হিসেবে মেনে নিতে সম্মত হয়েছি। আমি বললাম: তোমরা কোন বিষয়ে মতবিরোধ করেছ? সে বলল: আমি বলছি যে, আল্লাহর রাসূলের পর আলী মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তিনি (সায়্যিদ) বললেন: আমি বললাম: তাহলে এই ব্যভিচারিণীর পুত্র কী বলছে? এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সায়্যিদের বর্ণনাকারী সুদরি বলেছেন: সায়্যিদ তার প্রাথমিক জীবনে কায়সানিয়া মতাদলম্বী ছিলেন এবং মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহর প্রত্যাবর্তনের কথা বলতেন। আর এ বিষয়ে তিনি আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন:

আর কতকাল? আর কতদিন? আর শেষ সীমানাই বা কতদূর? … হে ওয়াসীর পুত্র, অথচ আপনি জীবিত এবং রিযিকপ্রাপ্ত হচ্ছেন।

এবং এই কাসিদাটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ।

এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুদরি বলেছেন: সায়্যিদ সবসময় এই বিশ্বাসেই অটল ছিলেন যতক্ষণ না হজ্বের দিনগুলোতে মক্কায় আস-সাদিক (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে তার সাক্ষাৎ হলো। অতঃপর তিনি (সাদিক) তার সাথে বিতর্ক করলেন এবং অকাট্য দলীল পেশ করলেন, ফলে তিনি সেই বিশ্বাস থেকে ফিরে এলেন। সেই মতবাদ ত্যাগ করা এবং যা তিনি বিশ্বাস করতেন তা থেকে ফিরে আসার ব্যাপারে এবং আস-সাদিক (আলাইহিস সালাম)-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন:

আমি আল্লাহর নামে জাফরি হয়েছি এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ … এবং আমি নিশ্চিত বিশ্বাস করেছি যে, আল্লাহ ক্ষমা করেন ও মার্জনা করেন।

এবং আমার রব তাঁর আদেশে যা ইচ্ছা তা বহাল রাখেন … এবং তিনি বিলুপ্ত করেন, বিষয়াবলির ফয়সালা করেন ও নির্ধারিত করেন।

এবং আনসারী বলেছেন: উতবি বলেছেন: জনৈক ব্যক্তি সাওয়ারের নিকট অপর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থের দাবি করল।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٣٤)
القاضي، فطالبه سوار بالبينة، فلم يكن له شاهد إلا السيد ورجل آخر، فأحضرهما؛ فقال سوار: قد قبلنا شهادة أبي هاشم ولكن زدنا في الشهود، فظن السيد أنه رد الشاهد الآخر، فلما خرجا قال له الرجل: والله ما رد إلا شهادتك ولم يفصح بذلك خوفاً من لسانك وتبين الأمر على ما قال: فغضب السيد على سوار وهجاه وخرقه، وفيه يقول:

يا أمين الله يا من … صور يا خير الولاة

إنّ سوار بن عبد الل … هـ من شر القضاة

إن سواراً الأعمى … من ذوي جهر جناة

جملي نعثلي … لكم غير موات

جدّه سارق عنز … فجرة من فجرات

لرسول الله والقا … ذفه بالمنكرات

والذي قام ينادي … من وراء الحجرات

يا هناه أخرج إلينا … إننا أهل هناة

فاكفنيه لا كفاه الل … هـ شرّ الطارقات

فهجوناه ومن نه … ج يصب بالفاقرات
বিচারক; অতঃপর সাওয়ার তার কাছে প্রমাণ দাবি করলেন। তার কাছে আস-সাইয়্যিদ এবং অন্য একজন ব্যক্তি ছাড়া আর কোনো সাক্ষী ছিল না। তিনি তাদের উপস্থিত করলেন। তখন সাওয়ার বললেন: "আমরা আবু হাশিমের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি, তবে সাক্ষীর সংখ্যা বৃদ্ধি করো।" আস-সাইয়্যিদ ধারণা করলেন যে, তিনি অপর সাক্ষীকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। যখন তারা বের হলেন, তখন সেই ব্যক্তি তাকে বললেন: "আল্লাহর কসম, তিনি কেবল আপনার সাক্ষ্যই প্রত্যাখ্যান করেছেন, কিন্তু আপনার জিহ্বার ভয়ে তা স্পষ্টভাবে বলেননি।" এবং বিষয়টি তেমনই প্রকাশ পেল যেমনটি সে বলেছিল। ফলে আস-সাইয়্যিদ সাওয়ারের ওপর রাগান্বিত হলেন এবং তাকে ব্যঙ্গ করলেন ও তাকে লাঞ্ছিত করলেন; আর এই বিষয়ে তিনি বলেন:

হে আল্লাহর আমানতদার, হে তিনি … যিনি চিত্রিত করেন, হে শ্রেষ্ঠ শাসক

নিশ্চয়ই সাওয়ার ইবনে আব্দুল … ল্লাহ নিকৃষ্টতম বিচারকদের একজন

নিশ্চয়ই অন্ধ সাওয়ার … প্রকাশ্য অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত

সে এক উষ্ট্রারোহী ও বৃদ্ধ নির্বোধ … যে তোমাদের প্রতি অনুগত নয়

তার দাদা ছিল ছাগল চোর … পাপাচারীদের মধ্যে এক পাপাচারী

আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং (নিন্দাকারীদের ন্যায়) … তাঁকে জঘন্য অপবাদ প্রদানকারী

আর যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে চিৎকার করে ডাকছিল … হুজরাসমূহের পেছন থেকে

হে অমুক, আমাদের কাছে বেরিয়ে এসো … নিশ্চয়ই আমরা হীন প্রকৃতির লোক

আপনি আমাকে তার থেকে রক্ষা করুন, আল্লাহ যেন তাকে রক্ষা না করেন … নৈশকালীন অনিষ্টসমূহ থেকে

অতঃপর আমরা তাকে ব্যঙ্গ করলাম, আর যে ব্যক্তি এই পথ … অনুসরণ করবে সে কোমর ভাঙা বিপদে পতিত হবে
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٣٥)
وبعث هذه الأبيات إلى المنصور. وكتب إليه سوار: يا أمير المؤمنين إن السيد رافضي يقول بالرجعة ويرى المتعة. فكتب إليه المنصور: إن بعثناك قاضياً ولم نبعثك ساعياً. وعزله وأقطع السيد أرضاً بالبصرة من أراضي الحجاج.

ومن جيد شعره قصيدته التي تسمى المذهبة وهي التي أولها:

ين التطرف بالولاء وبالهوى … أإلى الكواذب من بروق الخلب

إلى أمية؟ أم إلى الشيع التي … جاءت على الجمل الخدب الشوقب

تهوي من البلد الحرام فنبهت … بعد الهدو كلاب أهل الحوأب

وهي قصيدة مشهورة جداً، فاقتصرنا على ما أردناه منها. ومن مستحسن شعره في آل رسول الله صلى الله عليه وآله:

أتى حسناً والحسين الرسولُ … وقد برزا ضحوة يلعبان

وضمّهما ثم فدّاهما … وكان لديه بذاك المكان

وطأطأ تحتهما عاتقيه … فنعم المطية والراكبان
তিনি এই কবিতাগুলো মানসুরের নিকট পাঠালেন। সাওয়ার তাকে লিখে পাঠালেন: হে আমিরুল মুমিনীন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদ একজন রাফিযী, সে রাজআ (পুনরাবর্তন) এর আকিদা পোষণ করে এবং মুতআকে বৈধ মনে করে। তখন মানসুর তাকে লিখে পাঠালেন: আমি তোমাকে বিচারক হিসেবে পাঠিয়েছি, চোগলখোর হিসেবে পাঠাইনি। অতঃপর তিনি তাকে পদচ্যুত করলেন এবং সাইয়্যিদকে বসরার হাজ্জাজ বিন ইউসুফের ভূমি থেকে একখণ্ড জমি দান করলেন।

তার চমৎকার কাব্যসমূহের মধ্যে রয়েছে তার সেই কাসিদা যাকে 'আল-মুযাহহাবা' বলা হয়, যার সূচনা হলো:

আনুগত্য ও ভালোবাসার আতিশয্য নিয়ে কোথায় যাওয়া? … বিভ্রান্তিকর ও অলীক বিদ্যুৎ ঝলকের দিকে কি?

বনু উমাইয়ার দিকে? নাকি সেই দলের দিকে যারা … সেই বিশালাকৃতির দীর্ঘদেহী উটের ওপর চড়ে এসেছিল?

যা পবিত্র শহর থেকে দ্রুতবেগে ধাবিত হয়েছিল, অতঃপর তারা নিস্তব্ধতার পর … হাউয়াবের কুকুরগুলোকে সজাগ করে দিয়েছিল।

এটি একটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ কাসিদা, তাই আমরা এর মধ্য থেকে যতটুকু প্রয়োজন মনে করেছি ততটুকুর ওপরই সীমাবদ্ধ থাকলাম। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবার সম্পর্কে তার সুন্দর কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

রাসূলুল্লাহ (সা.) হাসান ও হুসাইনের নিকট আসলেন … যখন তারা দিনের চাশতের সময় খেলতে বের হয়েছিল।

তিনি তাদের জড়িয়ে ধরলেন এবং তাদের ওপর উৎসর্গিত হলেন … আর সেই স্থানে তিনি তাদের নিকটেই ছিলেন।

তিনি তাদের নিচে নিজের দুই কাঁধ অবনমিত করে দিলেন … সুতরাং বাহনটি কতই না চমৎকার, আর আরোহী দুজনও কতই না উত্তম!
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٣٦)
والقصيدة أيضاً مشهورة، فاقتصرنا على ما ذكرناه فقط، وقصائد الجياد كثيرة لو اشتغلنا بذكرها لطال شغلنا، وقد حكوا عن بعضهم أنه قال: رأيت حمالاً عليه حمل ثقيل وقد جهده. فقلت: ما هذا؟ قال: ميميات السيد. وحكى عن السدري، أنه كان له أربع بنات، وأنه كان حفظ. كل واحدة منهن أربعمائة قصيدة من شعره، فحسبك هذا.

وحدثني الأنصاري قال: أخبرني المنذري قال: لما احتضر السيد نظر إليه غلامه وبكى، فقال له: ما يبكيك؟ قال: وكيف لا أبكي وأنت تموت وليس لك كفن؟ فقال: إذا أنا قضيت فصر إلى صف الخزازين، فقل ألا أن السيد الحميري مادح آل رسول الله صلى الله عليه وآله قد مات ففعل، فوافاه سبعون كفنا فيها الوشي والدبيقي. فهذا خبره، وكان شعره رحمه الله.
কবিতাটিও সুপ্রসিদ্ধ, তাই আমরা কেবল যা উল্লেখ করেছি তাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। তার চমৎকার কবিতাসমূহ এতই অধিক যে, আমরা যদি সেগুলোর বর্ণনায় প্রবৃত্ত হতাম, তবে আমাদের কর্ম দীর্ঘায়িত হতো। বর্ণিত আছে যে, জনৈক ব্যক্তি বলেছিলেন: আমি এক বাহককে দেখলাম যার ওপর একটি ভারী বোঝা ছিল এবং তা তাকে ক্লান্ত করে ফেলেছিল। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, "এটি কী?" সে উত্তর দিল, "সাইয়্যিদের মিমিয়্যাসমূহ (মিম অন্ত্যমিলের কবিতা)।" সাদরি থেকে বর্ণিত আছে যে, তার চারটি কন্যা ছিল এবং তিনি তাদের প্রত্যেককে সাইয়্যিদের কবিতার চারশতটি করে কাসিদা মুখস্থ করিয়েছিলেন; আপনার জন্য কেবল এটিই যথেষ্ট।

আনসারি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুনজিরি আমাকে জানিয়েছেন যে, যখন সাইয়্যিদের অন্তিম সময় উপস্থিত হলো, তখন তার ভৃত্য তার দিকে তাকিয়ে ক্রন্দন করতে লাগল। তিনি তাকে বললেন, "তুমি কেন কাঁদছ?" সে বলল, "আমি কেন কাঁদব না যখন আপনি মৃত্যুবরণ করছেন অথচ আপনার জন্য কোনো কাফন নেই?" তিনি বললেন, "আমি যখন প্রাণত্যাগ করব, তখন তুমি রেশম ব্যবসায়ীদের সারিতে গিয়ে বলবে—সাবধান! আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বংশধরদের প্রশংসাকারী সাইয়্যিদ আল-হিমইয়ারি ইন্তেকাল করেছেন।" সে তাই করল। ফলে তার নিকট সত্তরটি কাফন পৌঁছে গেল, যার মধ্যে কারুকার্যখচিত এবং দাবিকি বস্ত্র ছিল। এই ছিল তার বৃত্তান্ত এবং এটিই ছিল তার কাব্য, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٣٧)
‌‌أخبار سديف

كان سديف شاعراً مفلقاً وأديباً بارعاً وخطيباً مصقعاً، وكان مطبوع الشعر حسنه. حدَّثني العوفي قال: حدَّثني أحمد بن إبراهيم الرياحي قال: سلم سديف بن ميمون على رجل من بني عبد الدار فقال له الرجل: من أنت؟ قال سديف: أصلحك الله أنا أحد أهلك، أنا سديف بن ميمون. قال العبدي: والله ما أعرف في أهلي ميموناً قال سديف ولا مباركاً.

وحدثني جعفر بن إبراهيم الجعفري: كان سديف مولى لامرأة من خزاعة وكان لها زوج من اللهبيين وادعى سديف بذلك ولاء بني هاشم، وزعم المدائني أنه مولى بني العباس وشاعرهم.

وكان سديف في أيام بني أمية يقول: هو برئ من جورهم وظلمهم وعدوانهم، اللهم صار فيئنا دولة بعد القسمة، وإمارتنا غلبة بعد المشورة
সুদাইফের বৃত্তান্ত

সুদাইফ ছিলেন একজন অত্যন্ত উচ্চমানের কবি, নিপুণ সাহিত্যিক এবং সুপ্রসিদ্ধ বাগ্মী; তাঁর কবিতা ছিল স্বভাবজাত ও অত্যন্ত চমৎকার। আল-আওফী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আল-রিয়াহি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুদাইফ ইবনে মাইমুন বনু আবদুদ দারের জনৈক ব্যক্তিকে সালাম প্রদান করলেন। তখন সেই ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করল: আপনি কে? সুদাইফ বললেন: আল্লাহ আপনার অবস্থা সংশোধন করুন, আমি আপনারই স্বজনদের একজন, আমি সুদাইফ ইবনে মাইমুন। আবদী ব্যক্তিটি বলল: আল্লাহর কসম, আমি আমার স্বজনদের মধ্যে মাইমুন (বরকতময়) নামের কাউকে চিনি না। তখন সুদাইফ বললেন: এমনকি মুবারাক (কল্যাণময়) নামের কাউকে নয় কি?

জাফর ইবনে ইবরাহিম আল-জাফরী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: সুদাইফ খুজাআ গোত্রের জনৈক মহিলার আযাদকৃত দাস (মাওলা) ছিলেন। সেই মহিলার স্বামী ছিলেন লাহবী বংশের এবং এর মাধ্যমে সুদাইফ বনু হাশিমের সাথে সম্পর্ক (ওয়ালা) দাবি করতেন। আল-মাদায়িনী দাবি করেছেন যে, তিনি বনু আব্বাসের মাওলা এবং তাঁদের কবি ছিলেন।

বনু উমাইয়ার শাসনকালে সুদাইফ বলতেন: তিনি তাদের অবিচার, জুলুম এবং সীমালঙ্ঘন হতে মুক্ত। হে আল্লাহ! আমাদের লব্ধ সম্পদ (ফাই) সুষম বণ্টনের পরিবর্তে এখন সংকীর্ণ সম্পদে পরিণত হয়েছে যা কেবল ক্ষমতাশালীদের হাতে আবর্তিত হয়, আর আমাদের শাসনব্যবস্থা পরামর্শভিত্তিক থাকার পরিবর্তে এখন জবরদস্তিমূলক আধিপত্যে রূপ নিয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٣٨)
وعهدنا ميراثاً بعد الاختيار للأمة، واشتريت المعازف والملاهي بمال اليتيم والأرملة، وحكم في أبشار المسلمين أهل الذمة، وتولى القيام بأمرهم فاسق كل محلة، فلا ذائد يذود عن هلكة، ولا مشفق ينظر إليهم بعين الرحمة، ولا رادع يردع من أوى إليهم بمظلمة، ولا ذو شفقة يشبع الكبد الحرى من السغب، فهم أهل ضرع وضيعة وحلفاء كآبة وذلة قد استحصد زرع الباطل وبلغ نهايته، واستجمع طريده، واستوسق، وضرب بجرانه. اللهم فأتح له يداً من الحق حاصدة تجتث سنامه، وتهشم سوقه، وتبدد شمله وتفرق كلمته، ليظهر الحق في أحسن صورته، وأتم نوره، وأعظم بركته. اللهم - وقد عرفنا من أنفسنا خلالاً تقعد بنا عن استجابة الدعوة، وأنت المفضل على الخلائق أجمعين، والمتولى الإحسان إلى السائلين - فآت لنا من أمرنا حسب كرمك وجودك وامتنانك، فإنك تقضي ما تشاء، وتفعل ما تريد.

حدَّثني جعفر ابن إبراهيم بن ميمون قال: حدَّثني إسحاق بن منصور قال: حدَّثني أبو الخصيب الأسدي قال: لما تناهت أيام بني أمية وانقضت دولتهم وأفضت الخلافة إلى بني العباس، وولى منهم السفاح - وهو ابن الحارثية - اتصل الخبر بسديف وهو إذ ذاك بمكة، فاستوى على راحلته وتوجه نحو أبي العباس - وكان به عارفاً - فلما وصل إليه قال له: من أنت؟ قال: أنا سديف بن ميمون. قال: مولاي سديف؟ نعم يا أمير المؤمنين، ثم هنأه بالخلافة، ودعا له بالبركة، وأنشده قصيدة التي أولها:
আর আমরা নির্বাচনের পর উম্মতের জন্য আমাদের উত্তরাধিকারকে আমানত হিসেবে সোপর্দ করেছিলাম। কিন্তু এতিম ও বিধবাদের অর্থ দিয়ে বাদ্যযন্ত্র ও আমোদ-প্রমোদের সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। জিম্মিরা মুসলমানদের জান-মালের উপর হুকুমত চালিয়েছে এবং প্রত্যেক মহল্লার পাপাচারীরা তাদের শাসনভার গ্রহণ করেছে। এমতাবস্থায় বিনাশ থেকে রক্ষা করার মতো কোনো রক্ষক নেই, করুণার দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকানোর মতো কোনো দয়ালু ব্যক্তি নেই, এবং যারা তাদের উপর জুলুম করে তাদের প্রতিহত করার মতো কোনো বাধা প্রদানকারী নেই। ক্ষুধার তীব্রতায় দগ্ধ কলিজাকে শান্ত করার মতো কোনো দয়াশীল ব্যক্তি নেই। তারা এখন অসহায়ত্ব ও লাঞ্ছনার শিকার এবং বিষণ্নতা ও অবমাননার সঙ্গী। মিথ্যার ফসল কর্তনের উপযোগী হয়েছে এবং তা চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে; এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রিত হয়েছে, সুসংহত হয়েছে এবং শক্তভাবে গেঁড়ে বসেছে। হে আল্লাহ! আপনি সত্যের পক্ষ থেকে এর জন্য এমন এক কর্তনকারী হাত নিযুক্ত করুন যা এর অহংকারের চূড়াকে উপড়ে ফেলবে, এর কাণ্ডগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করবে, এর শক্তিকে তছনছ করে দেবে এবং এর একতাকে ছিন্নভিন্ন করে দেবে; যাতে সত্য তার সুন্দরতম অবয়বে, পূর্ণতম নূরে এবং সুমহান বরকতে প্রকাশিত হয়। হে আল্লাহ! আমরা নিজেদের মাঝে এমন সব ত্রুটি খুঁজে পেয়েছি যা আমাদের দোয়া কবুল হওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু আপনি সকল সৃষ্টির উপর অনুগ্রহকারী এবং যাঞ্চাকারীদের প্রতি দয়া প্রদর্শনকারী। অতএব, আপনার মহত্ব, বদান্যতা ও মেহেরবানি অনুযায়ী আমাদের বিষয়টি ফয়সালা করুন; নিশ্চয়ই আপনি যা ইচ্ছা তা-ই ফয়সালা করেন এবং যা চান তা-ই করেন।

জাফর ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মাইমুন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসহাক ইবনে মনসুর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-খাসিব আল-আসাদি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন বনু উমাইয়্যাদের দিনগুলো শেষ হয়ে এল এবং তাদের শাসনের অবসান ঘটল এবং খেলাফত বনু আব্বাসের কাছে হস্তান্তরিত হলো, আর তাদের মধ্য থেকে আস-সাফফাহ—যিনি আল-হারিছিয়ার পুত্র—ক্ষমতা গ্রহণ করলেন, তখন সুদায়েফের কাছে এই সংবাদ পৌঁছাল। তিনি তখন মক্কায় ছিলেন। অতঃপর তিনি তার সওয়ারির উপর উঠলেন এবং আবু আল-আব্বাসের অভিমুখে যাত্রা করলেন—তিনি তার পরিচিত ছিলেন। যখন তিনি তার কাছে পৌঁছালেন, তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কে? তিনি বললেন: আমি সুদায়েফ ইবনে মাইমুন। তিনি বললেন: আমার মাওলা সুদায়েফ? তিনি বললেন: হ্যাঁ, হে আমিরুল মুমিনিন। এরপর তিনি তাকে খেলাফতের জন্য অভিনন্দন জানালেন, তার বরকতের জন্য দোয়া করলেন এবং তাকে এমন একটি কাসিদা শুনিয়েছিলেন যার প্রারম্ভ হলো:
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٣٩)
أصبح الملك ثابت الآساس … بالبهاليل من بني العباس

لا تقيلن عبد شمس عثاراً … واقطعن كل رقلة وغِراس

ولقد ساءني وساءَ سوائي … قربهم من منابر وكراسي

فاذكروا مصرع الحسين وزيد … وقتيلاً بجانب المهراس

والقتيل الذي بحران أضحى … رهن رمس وغربة وتناسى

ذلهما أظهر التودد منها … وبها منكم كحز المواسي

أنزلوها بحيث أنزلها الل … هـ بدار الإتعاس والإنكاس

فعملت كلمته في أبي العباس وحركت منه، وعنده قوم من بني أمية فقالوا: أعرابي جلف جاف لا يدري ما يخرج من رأسه. فتفرق القوم على ذلك، فلما كان من الغد، وجه أبو العباس إليهم: أن اجتمعوا واغدوا على أمير المؤمنين مع سيدكم سليمان بن هشام ليفرض لكم ويجيزكم - وكان سليمان يكنى أبا الغمر، وكان صديقاً لأبي العباس من قبل أن تفضى إليه الخلافة، يكاتبه ويقضي حوائجه - فلما أصبحوا تهيئوا بأجمعهم، وبكروا إلى أبي العباس مع أبي الغمر، فأذن لهم ورفع مجالسهم، وأجلس أبا الغمر سليمان بن هشام عن يمينه على سريره، وجاء سديف حين سمع باجتماعهم حتى استأذن عليه، فلما مثل بين يديه ونظر إلى مجالسهم كهيئتها بالأمس ورأى أبا الغمر على السرير - وفيهم رجل من كلب من أخوال أبي الغمر، وكان منعه الحاجب وقت دخولهم، فنادى: يا أبا الغمر هذا يمنعني من
বনু আব্বাসের মহান নেতাদের দ্বারা রাজত্বের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে …

আবদু শামসের কোনো পদস্খলন ক্ষমা করো না … এবং তাদের প্রতিটি লম্বা খেজুর গাছ ও চারাগাছ কেটে ফেলো।

মিম্বর ও সিংহাসনগুলোর কাছে তাদের অবস্থান আমাকে এবং আমার মতো অন্যদের ব্যথিত করেছে …

সুতরাং হুসাইন ও যায়িদের শাহাদাত বরণ এবং মিহরাসের পাশে নিহত ব্যক্তির কথা স্মরণ করুন …

এবং হাররানে নিহত সেই ব্যক্তির কথা, যে কবরের অন্ধকার, প্রবাস ও বিস্মৃতির বন্দি হয়ে আছে …

তাদের লাঞ্ছনা তাদের পক্ষ থেকে ভালোবাসা প্রকাশ করিয়েছে, অথচ তোমাদের প্রতি তাদের অন্তরে রয়েছে ক্ষুরের কাটার মতো ঘৃণা। …

আল্লাহ তাদের যেখানে নামিয়ে দিয়েছেন, অর্থাৎ দুর্গতি ও ধ্বংসের আবাসে, তোমরাও তাদের সেখানেই নামিয়ে দাও। …

তাঁর কথাগুলো আবুল আব্বাসের ওপর প্রভাব ফেলল এবং তাঁকে আন্দোলিত করল। সে সময় তাঁর কাছে বনু উমাইয়ার একদল লোক উপস্থিত ছিল। তারা বলল: "একজন অভদ্র ও রূঢ় গ্রাম্য আরব, সে জানে না তার মাথা থেকে কী বের হচ্ছে।" এই অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই দলটি চলে গেল। পরদিন আবুল আব্বাস তাদের কাছে বার্তা পাঠালেন: "তোমরা একত্রিত হও এবং তোমাদের নেতা সুলায়মান বিন হিশামের সাথে আমিরুল মুমিনীনের কাছে সকালে আসো, যাতে তিনি তোমাদের জন্য ভাতা নির্ধারণ করেন এবং পুরস্কার প্রদান করেন।" সুলায়মানের উপনাম ছিল আবুল গামর। খিলাফতের দায়িত্ব পাওয়ার আগে থেকেই তিনি আবুল আব্বাসের বন্ধু ছিলেন; তিনি তাঁকে চিঠি লিখতেন এবং তাঁর প্রয়োজনগুলো পূরণ করতেন। যখন ভোর হলো, তারা সকলে প্রস্তুতি নিল এবং আবুল গামরের সাথে খুব ভোরেই আবুল আব্বাসের কাছে গেল। তিনি তাদের অনুমতি দিলেন এবং তাদের বসার স্থান উচ্চ করলেন। তিনি আবুল গামর সুলায়মান বিন হিশামকে তাঁর সিংহাসনে নিজের ডান পাশে বসালেন। তাদের সমাবেশের কথা শুনে সুদায়েফ সেখানে আসলেন এবং ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। যখন তিনি তাঁর সামনে উপস্থিত হলেন এবং দেখলেন তাদের বসার ব্যবস্থা গতকালের মতোই রয়েছে এবং আবুল গামরকে সিংহাসনের ওপর উপবিষ্ট দেখলেন—তাদের মধ্যে কালব গোত্রের এক ব্যক্তি ছিল, যে আবুল গামরের মামাদের একজন ছিল। তাদের প্রবেশের সময় দ্বাররক্ষী তাকে বাধা দিয়েছিল। তখন সে চিৎকার করে বলল: "হে আবুল গামর, এই ব্যক্তি আমাকে বাধা দিচ্ছে..."
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٤٠)
الدخول، فقال أبو الغمر: هذا رجل من أخوالي فاتركه، فقال له الحاجب: ويلك ارجع فهو خير لك، فقال لا والله لأدخلن، قال: أنت أعلم - ثم أنشأ سديف يقول:

لا يغرنك ما ترى من رجال … إن تحت الضلوع داءً دوياً

فضع السيف وارفع السوط حتى … لا ترى فوق ظهرها أمويا

واستمر في القصيدة حتى أتى على آخرها، وأبو العباس يغتاظ. ويحنق ويتلون. فقال سليمان بن هشام لسديف: يا ابن الفاعلة ألا تسكت؟ فلما قال ذلك اشتد غضب أبي العباس. ونظر إلى رجال خراسان وهم وقوف بالأعمدة فقال لهم بالفارسية: دهيد، يعني اضربوا. فشدخوا رءوسهم بالأعمدة حتى أتوا على آخرهم، ثم نظر إلى سليمان وقال له: يا أبا الغمر مالك في الحياة خير بعد هؤلاء، فقال: أجل، فشدخوا رأسه وجروه برجله حتى ألقوه مع القوم، وصاج الرجل الكلبي فقال: يا أمير المؤمنين أنا رجل من كلب، فقال أبو العباس: ساعدت القوم في سرائهم فساعدهم في ضرائهم، وأومأ أن اضربوه فإذا هو مع القوم، ثم جمعهم وأمر بالأنطاع فبسطت عليهم ثم جلس فوقهم، ودعا بالغداء فتغدى، وإن بعض القوم ليتحرك، وفيهم من يسمع أنينه، فلما فرغ من غدائه قيل له هلا أمرت بهم فدفنوا أو حولوا إلى مكان آخر فإن رائحتهم تؤذيك؟ قال: والله إن هذه الرائحة لأطيب عندي من رائحة المسك والعنبر الآن سكن غليلي.

ومما يستحسن من قول سديف في الغزل:

أعيب التي أهوى وأطري جواريا … يرين لها فضلا عليهن بينا
প্রবেশের প্রাক্কালে আবু আল-গামর বললেন: এই ব্যক্তি আমার মামাদের বংশের লোক, তাকে ছেড়ে দাও। তখন দ্বাররক্ষী তাকে বলল: তোমার ধ্বংস হোক! ফিরে যাও, সেটাই তোমার জন্য কল্যাণকর। তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, না, আমি অবশ্যই প্রবেশ করব। দ্বাররক্ষী বলল: তুমিই ভালো জানো। এরপর সুদায়ফ আবৃত্তি করতে লাগলেন:

আপনি যে পুরুষদের দেখছেন তারা যেন আপনাকে প্রতারিত না করে … নিশ্চয়ই পাঁজরের নিচে এক কঠিন ব্যাধি লুকিয়ে আছে।

সুতরাং তলোয়ার খাপবদ্ধ করুন এবং চাবুক উঠান যতক্ষণ না … আপনি এই জমিনে আর কোনো উমাইয়াকে দেখতে পান।

তিনি কাসিদাটির শেষ পর্যন্ত আবৃত্তি করে চললেন, আর আবু আল-আব্বাস রাগান্বিত হচ্ছিলেন, ক্ষুব্ধ হচ্ছিলেন এবং তাঁর গাত্রবর্ণ পরিবর্তন হচ্ছিল। তখন সুলায়মান ইবন হিশাম সুদায়ফকে বললেন: হে ব্যভিচারিণীর পুত্র, তুমি কি চুপ করবে না? যখন তিনি এ কথা বললেন, আবু আল-আব্বাসের ক্রোধ তীব্রতর হলো। তিনি গদা হাতে দণ্ডায়মান খোরাসানিদের দিকে তাকিয়ে ফার্সি ভাষায় বললেন: ‘দেহিদ’, অর্থাৎ ‘প্রহার করো’। তারা গদা দিয়ে তাদের মাথাগুলো চূর্ণবিচূর্ণ করে দিল যতক্ষণ না তাদের শেষ ব্যক্তিটি প্রাণ হারাল। এরপর তিনি সুলায়মানের দিকে তাকিয়ে বললেন: হে আবু আল-গামর, এদের পর তোমার জীবনে আর কোনো কল্যাণ নেই। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তখন তারা তার মাথা চূর্ণ করল এবং তাকে পা ধরে টেনে নিয়ে অন্যদের সাথে নিক্ষেপ করল। তখন কালবী গোত্রের লোকটি চিৎকার করে বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, আমি তো কালব গোত্রের লোক। আবু আল-আব্বাস বললেন: তুমি তাদের সুসময়ে তাদের সহযোগী ছিলে, সুতরাং তাদের দুঃসময়েও তাদের সহযোগী হও। তিনি তাকে প্রহার করার ইঙ্গিত দিলেন এবং সেও ওই দলের সাথে যুক্ত হলো। এরপর তিনি তাদের একত্রিত করলেন এবং চামড়ার দস্তরখান বিছানোর নির্দেশ দিলেন। সেগুলো তাদের লাশের ওপর বিছিয়ে দেওয়া হলো এবং তিনি তার ওপর বসলেন। এরপর তিনি দুপুরের খাবার আনিয়ে আহার করলেন, অথচ তখনো তাদের কেউ কেউ নড়াচড়া করছিল এবং তাদের গোঙানি শোনা যাচ্ছিল। যখন তিনি আহার শেষ করলেন, তখন তাঁকে বলা হলো: আপনি কি তাদের দাফন করার অথবা অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেবেন না? কারণ তাদের দুর্গন্ধ আপনাকে কষ্ট দেবে। তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, এই গন্ধ আমার কাছে মিশক ও আম্বরের সুগন্ধির চেয়েও অধিক প্রিয়; এখন আমার মনের জ্বালা প্রশমিত হলো।

প্রেমকাব্য বা গজলের ক্ষেত্রে সুদায়ফের যে উক্তিগুলো চমৎকার বলে গণ্য হয়:

আমি যাকে ভালোবাসি তার নিন্দা করি আর দাসীদের প্রশংসা করি … যারা নিজেদের ওপর তার সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব দেখতে পায়।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٤١)
برغمي أطيل الصد عنها إذا بدت … أحاذر آذاناً عليها وأعينا

ومن قول سديف في أمير كان على مكة من بني جمح:

وأمير من بني جمح … طيب الأعراق ممتدح

إن أبحناه مدائحنا … عاضنا منهن بالوضح

ولما ظهر إبراهيم بن عبد الله بن الحسن بالبصرة صار إليه سديف هارباً من المنصور، وأظهر عداوة بني العباس. وصعد يوماً المنبر يخطب فقام سديف مقبلاً عليه بوجهه وقال:

إيه أبا إسحاق مليتها … في صحة منك وعمر طويل

اذكر هداك الله ذحل الألى … يسرى بهم في مصمتات الكبول

يعني أباه ومن حمل معه. فلما قتل إبراهيم هرب سديف وتوارى حتى
যদিত্ত আমি তার দর্শনে বিমুখতা দীর্ঘায়িত করি … মূলত আমি তার প্রতি নিবদ্ধ কান এবং চক্ষুসমূহকে ভয় করি।

বনু জুমাহর এক আমীর, যিনি মক্কার গভর্নর ছিলেন, তাঁর সম্পর্কে সুদাইফের উক্তি থেকে:

বনু জুমাহর এক আমীর … তিনি আভিজাত্যপূর্ণ বংশের অধিকারী ও প্রশংসিত।

যদি আমরা তাঁর প্রতি আমাদের প্রশংসাসমূহ নিবেদন করি … তবে তিনি এর বিনিময়ে আমাদের শুভ্রতা (অঢেল দান) প্রদান করেন।

যখন ইব্রাহিম ইবন আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান বসরায় আত্মপ্রকাশ করলেন, তখন সুদাইফ আল-মানসুরের নিকট থেকে পলায়ন করে তাঁর কাছে চলে এলেন এবং বনু আব্বাসের প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করলেন। একদিন ইব্রাহিম মিম্বরে আরোহণ করে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন সুদাইফ তাঁর দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বললেন:

সাবাশ হে আবু ইসহাক, আপনি এটি পূর্ণরূপে উপভোগ করুন … আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর সাথে।

আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন, আপনি সেই পূর্ববর্তীদের রক্তের প্রতিশোধের কথা স্মরণ করুন … যাদেরকে নিরেট লৌহনিগড়ে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

অর্থাৎ তিনি তাঁর পিতা এবং তাঁর সাথে যাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদের উদ্দেশ্য করেছেন। অতঃপর যখন ইব্রাহিম নিহত হলেন, তখন সুদাইফ পলায়ন করলেন এবং আত্মগোপন করলেন যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٤٢)
سكنت تلك الفورة ثم كتب إلى المنصور يسأله أن يمن عليه بالعفو وكتب إليه بهذه الأبيات:

أيها المنصور يا خير العرب … خير من ينميه عبد المطلب

أنا مولاكم وأرجو عفوكم … فاعف عني اليوم قبل العطب

فوقع المنصور في كتابه بخطه:

لم يلدني محمد بن علي … إن تسميت بعدها بوليّ

ثم كتب إلى عبد الصمد بن علي عمه يأمره بقتله فيقال: أنه قطع يديه ورجليه ثم ضرب عنقه، وقيل أيضاً: إنه حمل إلى المنصور فدفنه حياً. وحدثني محمد بن حازم عن النمري الشاعر - وكان كثير الرواية لشعر سديف - قال: ما كان في زمان سديف أشعر منه ولا أطبع منه ولا أقدر على ما يريده من الشعر. وكان النمري ينكر أن يكون المنصور قتله ويقول:

ويحكم، ما نزل ببني أمية ما نزل إلا بسديف، وكان يقول: ما فارق سديف أبا العباس ثم من بعده المنصور إلى أن مات. قال: وأشعاره ونوادره كثيرة، ولكن اقتصرنا منه على هذه الجملة.

 

‌‌أخبار مروان بن أبي حفصة

هو مروان بن سليمان بن يحيى بن أبي حفصة: وكان أبو حفصة مولى لمروان بن الحكم أعتقه يوم الدار لأنه أبلى
সেই উত্তেজনা প্রশমিত হলো, অতঃপর তিনি মনসুরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে পত্র লিখলেন এবং তাতে এই কবিতাগুলো লিখে পাঠালেন:

হে মনসুর, হে আরবদের শ্রেষ্ঠ সন্তান … আব্দুল মুত্তালিবের বংশধরদের মধ্যে আপনিই সর্বোত্তম।

আমি আপনাদেরই একজন অনুগত এবং আপনাদের ক্ষমার প্রত্যাশী … তাই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পূর্বেই আজ আমাকে ক্ষমা করুন।

অতঃপর মনসুর নিজ হাতে সেই পত্রে এই মন্তব্যটি লিখলেন:

মুহাম্মদ বিন আলী আমাকে জন্ম দেননি … যদি এর পর আমি তোমার সাথে বন্ধুর মতো আচরণ করি।

এরপর তিনি তার চাচা আব্দুল সামাদ বিন আলীকে তাকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি লিখলেন। বলা হয় যে: তিনি তার দুই হাত ও দুই পা কেটে ফেলেন এবং এরপর তার শিরশ্ছেদ করেন। আবার এও বলা হয় যে: তাকে মনসুরের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি তাকে জীবিত অবস্থায় কবরে পুঁতে ফেলেন। মুহাম্মদ বিন হাজিম কবি আল-নুমায়রির সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন—যিনি সুুদাইফের কবিতা প্রচুর বর্ণনা করতেন—তিনি বলেছেন: সুুদাইফের যুগে তার চেয়ে বড় কোনো কবি ছিল না, না ছিল তার চেয়ে অধিক স্বভাবজাত প্রতিভাসম্পন্ন কেউ, আর কবিতার মাধ্যমে নিজের উদ্দেশ্য প্রকাশে তার মতো সক্ষম আর কেউ ছিল না। আল-নুমায়রি এটি অস্বীকার করতেন যে মনসুর তাকে হত্যা করেছেন এবং তিনি বলতেন:

তোমাদের ধ্বংস হোক, বনু উমাইয়্যাদের ওপর যা কিছু আপতিত হয়েছিল তা সুুদাইফের কারণেই হয়েছিল। তিনি আরও বলতেন: সুুদাইফ আবুল আব্বাস এবং তার পরবর্তী শাসক মনসুরের সঙ্গ আমৃত্যু ত্যাগ করেননি। তিনি বলেন: তার কবিতা ও দুর্লভ ঘটনাসমূহ প্রচুর, তবে আমরা এখানে কেবল এই কয়েকটি বাক্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলাম।

 

‌মারওয়ান বিন আবি হাফসার সংবাদ

তিনি হলেন মারওয়ান বিন সুলাইমান বিন ইয়াহইয়া বিন আবি হাফসা: আবু হাফসা ছিলেন মারওয়ান বিন হাকামের মুক্তদাস; তিনি তাকে 'ইয়াওমুত দারে'র (অবরোধের দিন) দিন মুক্তি দিয়েছিলেন কারণ তিনি সেখানে অত্যন্ত বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٤٣)
يومئذ. والدليل على ذلك قول مروان يذكر عتق أبي حفصة:

بنو مروان قوم أعتقوني … وكل الناس بعدهم عبيد

حدَّثني عبد الرحمن بن محمد التميمي عن أبيه محمد بن حنظلة قال: قال شراحيل بن معن بن زائدة: عرضت في طريق مكة ليحيى بن خالد وهو في قبة وعديله يوسف القاضي وهما يريدان الحج، فإني لأسير تحت القبة إذ عرض له رجل من بني أسد في شارة حسنة فأنشده شعراً؛ فقال يحيى في بيت: ألم أقل لك ألا ترجع إلى مثل هذا المعنى؟ ثم قال: يا أخا بني أسد، إذا قلت الشعر فقل كقول الذي يقول:

بنو مطر يوم اللقاء كأنهم … أسودٌ لها في بطن خفّان أشبل

همُ يمنعون الجار حتى كأنّما … لجارهم بين السماكين منزل

لهاميم في الإسلام سادوا ولم يكن … كأوّلهم في الجاهلية أوّل

هم القوم إن قالوا أصابوا وإن دعوا … أجابوا وإن أعطوا أطابوا وأجزلوا

وما يستطيع الفاعلون فعالهم … وإن أحسنوا في النائبات وأجملوا

ثلاث بأمثال الجبال حباهم … وأحلامهم منها لدى الوزن أثقل

فقال له أبو يوسف: - وقد أعجبته الأبيات -: من قائل هذه الأبيات يا أبا علي؟ قال يحيى: قائلها مروان بن أبي حفصة يمدح أبا هذا الفتى الذي تحت القبة؛ قال شراحيل: فرمقني أبو يوسف بعينه وأنا على فرسي.
সেইদিন। এর প্রমাণ হলো আবু হাফসার মুক্তি সম্পর্কে মারওয়ানের উক্তি:

বনু মারওয়ান এমন এক সম্প্রদায় যারা আমাকে মুক্ত করেছে … আর তাদের পরে সমস্ত মানুষই তাদের গোলাম।

আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আত-তামিমী তাঁর পিতা মুহাম্মদ ইবনে হানজালা থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শারাহিল ইবনে মান ইবনে জায়িদাহ বলেছেন: আমি মক্কার পথে ইয়াহইয়া ইবনে খালিদের সামনে উপস্থিত হলাম, তখন তিনি একটি গম্বুজাকৃতির শিবিরের ভেতর ছিলেন এবং তাঁর সাথে ভারসাম্য রক্ষাকারী সহযাত্রী হিসেবে ছিলেন বিচারক ইউসুফ, তাঁরা উভয়ে হজ্জের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। আমি যখন শিবিরের নিচ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন বনু আসাদ গোত্রের সুন্দর বেশভূষার এক ব্যক্তি তাঁর সামনে উপস্থিত হয়ে তাঁকে একটি কবিতা শোনালেন; তখন ইয়াহইয়া একটি চরণের প্রেক্ষিতে বললেন: আমি কি তোমাকে বলিনি যে এই ধরণের প্রসঙ্গের দিকে পুনরায় ফিরে যেও না? অতঃপর তিনি বললেন: হে বনু আসাদ গোত্রের ভাই, তুমি যখন কবিতা বলবে তখন তার ন্যায় বলো যে বলে:

যুদ্ধের দিন বনু মাতার যেন … খাফফান অরণ্যের গহীনে শাবকসহ সিংহসমূহ।

তারা প্রতিবেশীকে এমনভাবে সুরক্ষা প্রদান করে যেন … তাদের প্রতিবেশীর আবাসস্থল দুই সিমাক নক্ষত্রের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

ইসলামের মহান নেতা হিসেবে তারা শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন এবং … জাহেলিয়াত যুগেও তাদের পূর্বসূরিদের ন্যায় শ্রেষ্ঠ কেউ ছিল না।

তারা এমন এক জাতি যারা কথা বললে সত্য ও সঠিক বলে, আহ্বান করলে সাড়া দেয় এবং দান করলে উত্তম ও অঢেল দান করে।

অন্যান্য কর্মবীরগণ তাদের শ্রেষ্ঠ কর্মসমূহের সমকক্ষ হতে পারে না … যদিও তারা বিপদ-আপদে উত্তম ও সুন্দর কাজ সম্পাদন করে।

পাহাড়ের ন্যায় তিনটি সুমহান বৈশিষ্ট্য তিনি (আল্লাহ) তাদের দান করেছেন … আর ওজনের সময় তাদের প্রজ্ঞা ও গাম্ভীর্য সেই পাহাড়গুলো অপেক্ষাও অধিক ভারী হয়।

তখন আবু ইউসুফ তাঁকে বললেন—কবিতাগুলো তাঁর নিকট অত্যন্ত চমৎকার মনে হয়েছিল—: হে আবু আলী, এই কবিতাগুলোর রচয়িতা কে? ইয়াহইয়া বললেন: এর রচয়িতা মারওয়ান ইবনে আবি হাফসা, তিনি এই শিবিরের নিচে থাকা যুবকের পিতার প্রশংসা করছেন; শারাহিল বলেন: তখন আবু ইউসুফ আমার দিকে দৃষ্টিপাত করলেন, আর আমি তখন আমার ঘোড়ার পিঠে ছিলাম।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٤٤)
وقال: من أنت يا فتى حياك الله؟ قلت: شراحيل بن معن بن زائدة. قال شراحيل: فوالله ما مرت عليّ ساعة قط. كانت أقر لعيني من تلك الساعة ارتياحاً وسروراً.

وكان يحيى بن أبي حفصة تزوج عمرة بنت إبراهيم بن النعمان بن بشير الأنصاري على صداق عشرين ألف درهم، وسير إليها مهرها قبل أن يبنى بها، ولام الناس إبراهيم في ذلك وقالوا: زوجت عبداً وفضحت نفسك وأباك.

وأرادوه على انتزاعها فأبى وعظم الأمر في ذلك جداً ففي ذلك يقول إبراهيم:

فما تركت عشرون ألفاً لقائل … مقالاً ولم أحفل مقالة لائم

فإن كنت قد زوجت مولى فقد مضت … به سنّةٌ قبلي وحب الدراهم

ويقال: إن أبا حفصة كان يهودياً، فأسلم على يدي عثمان، فأثرى وكثر ماله، وتولى الخزن لبني أمية، وتزوج خولة بنت مقاتل بن طلبة بن قيس بن عاصم، وكان قيس بن عاصم سيد أهل الوبر، فقال في ذلك القلاخ الشاعر يهجو مقاتل بن طلبة:

نبئت خولة قالت حين أنكحها … لطالما كنت منك العار أنتظر

أنكحت عبدين ترجو فضل مالهما … في فيك مما رجوت الترب والحجر

لله در جياد أنت قائدها … برذنتها وبها التحجيل والغرر
তিনি বললেন: "হে যুবক, তুমি কে? আল্লাহ তোমার কল্যাণ করুন।" আমি বললাম: "শারাহিল ইবনে মা'ন ইবনে জায়েদা।" শারাহিল বলেন: "আল্লাহর কসম, আমার জীবনে এমন কোনো মুহূর্ত অতিক্রান্ত হয়নি যা সেই সময়ের চেয়ে আমার চোখের জন্য অধিক প্রশান্তিদায়ক এবং আনন্দদায়ক ছিল।"

আর ইয়াহইয়া ইবনে আবি হাফসাহ বিশ হাজার দিরহাম মোহরানায় ইব্রাহিম ইবনে নুমান ইবনে বশির আল-আনসারির কন্যা আমরাহকে বিবাহ করেছিলেন এবং বাসর হওয়ার আগেই তার কাছে মোহরানা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এ কারণে লোকজন ইব্রাহিমকে তিরস্কার করেছিল এবং বলেছিল: "তুমি একজন দাসের সাথে বিবাহ দিয়েছ এবং নিজের ও তোমার পিতার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছ।"

তারা তাকে (কন্যাকে) ছিনিয়ে নিতে বাধ্য করতে চেয়েছিল কিন্তু তিনি অস্বীকার করেন এবং এ নিয়ে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর হয়ে ওঠে। সে সম্পর্কে ইব্রাহিম বলেন:

এই বিশ হাজার দিরহাম কোনো বক্তার জন্য … কিছু বলার সুযোগ রাখেনি, আর আমি কোনো তিরস্কারকারীর কথায় ভ্রুক্ষেপ করিনি।

যদি আমি কোনো আযাদকৃত দাসের সাথে বিবাহ দিয়ে থাকি, তবে আমার আগেও … এমন রীতি গত হয়েছে এবং দিরহামের প্রতি ভালোবাসাও ছিল।

বলা হয়ে থাকে যে, আবু হাফসাহ একজন ইহুদি ছিলেন, পরে তিনি উসমানের হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি বিত্তশালী হন এবং তাঁর ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায়। তিনি বনু উমাইয়াদের কোষাগারের দায়িত্ব পালন করেন এবং কায়েস ইবনে আসিমের বংশধর মুকাতিল ইবনে তলাবার কন্যা খাওলাকে বিবাহ করেন। কায়েস ইবনে আসিম ছিলেন যাযাবর বা মরুবাসীদের নেতা। সে সম্পর্কে কবি আল-কালাখ মুকাতিল ইবনে তলাবাকে বিদ্রুপ করে বলেন:

আমাকে জানানো হয়েছে যে, খাওলা যখন তাকে বিবাহ দেওয়া হয়েছিল তখন বলেছিল … আমি দীর্ঘকাল ধরে তোমার পক্ষ থেকে কেবল অপমানেরই প্রতীক্ষায় ছিলাম।

তুমি সম্পদের আশায় দুজন দাসের সাথে বিবাহ দিয়েছ … তুমি যা আশা করেছিলে তার বদলে তোমার মুখে ধুলো আর পাথর পড়ুক।

আল্লাহর প্রশংসা সেই শ্রেষ্ঠ ঘোড়াগুলোর জন্য যেগুলোর চালক তুমি … তুমি সেগুলোকে খচ্চরে পরিণত করেছ অথচ তাদের পায়ে ও কপালে ছিল শুভ্র আভিজাত্যের চিহ্ন।
(খণ্ড: ১) তাবাকাতুশ শুয়ারা লি-ইবনিল মুতায (পৃষ্ঠা: ٤٥)
ومروان من المجيدين المحككين للشعر ومما يستحسن له مراثيه في معن بن زائدة، ومدائحه أيضاً العجيبة فيه. ويقال: إنه دخل على جعفر ابن يحيى البرمكي، وقد امتدحه بهذه القصيدة، فوقف ينشد:

أبر فما يرجو جواد لحاقه … أبو الفضل سباق اللهاميم جعفر

وزير إذا ناب الخليفة حادث … أشار بما عنه الخليفة يصدر

فقال ويحكّ! أنشدني مرثيتك في معن:

وكان الناس كلهم لمعن إلى أن زار حفرته عيالا

فأنشده إياها حتى فرغ من القصيدة، وجعفر يرسل دموعه، فلما سكن قال: أثابك أحد من ولده وأهله على هذه شيئاً؟ قال: لا. قال جعفر: فلو كان معن حياً ثم سمعها منك، كم كان يثيبك عليها؟ قال: أربعمائة دينار. قال جعفر: لكني أظن أنه كان لا يرضى لك بذاك، وقد أمرنا لك عن معن بضعف ما قلت، وزدنا نحن مثل ذلك، فاقبض من الخازن ألفاً وسبعمائة دينار قبل أن تنصرف إلى رحلك. فقال مروان يذكر ذلك، ويمدح جعفر، وزادها في مرثيته لمعن:

نفحت مكارماً عن قبر معن … لنا ممّا تجود به سجالا

فعجلت العطية يا بن يحيى … بتأدية ولم ترد المطالا

فكافي عن صدى معن جواد … بأجواد راحةٍ بذلت نوالا
মারওয়ান ছিলেন কাব্য বিশারদ ও নিপুণ কবিদের অন্তর্ভুক্ত। মা'ন ইবনে জাইদার শানে রচিত তাঁর শোকগাথা এবং তাঁর প্রতি তাঁর বিস্ময়কর প্রশস্তিগীতিগুলো অত্যন্ত চমৎকার বলে গণ্য করা হয়। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি জাফর ইবনে ইয়াহইয়া আল-বারমাকীর নিকট উপস্থিত হলেন এবং এই কাসিদাটির মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে আবৃত্তি করতে লাগলেন:

তিনি শ্রেষ্ঠত্বে এমন উচ্চতায় পৌঁছেছেন যে কোনো দানশীল ব্যক্তি তাঁকে ধরার আশা করতে পারে না … আবুল ফজল জাফর হলেন মহান ব্যক্তিদের অগ্রগামী

তিনি এমন এক মন্ত্রী যে, খলিফার ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে … তিনি এমন পরামর্শ দেন যা খলিফা বাস্তবায়ন করেন

তখন জাফর বললেন, "তোমার জন্য আক্ষেপ! আমাকে মা'নের ব্যাপারে তোমার সেই শোকগাথাটি শোনাও":

মা'ন কবরস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সকল মানুষ তাঁর ওপর নির্ভরশীল ছিল

অতঃপর তিনি তাঁকে কাসিদাটি শেষ পর্যন্ত শোনালেন, আর জাফর অশ্রু বিসর্জন করছিলেন। যখন তিনি শান্ত হলেন, তখন বললেন: "তাঁর সন্তান বা পরিবারের কেউ কি তোমাকে এর জন্য কোনো পুরস্কার দিয়েছে?" তিনি বললেন: "না।" জাফর বললেন: "যদি মা'ন জীবিত থাকতেন এবং তোমার কাছ থেকে এটি শুনতেন, তবে তিনি তোমাকে কত পুরস্কার দিতেন?" তিনি বললেন: "চারশ দিনার।" জাফর বললেন: "কিন্তু আমি মনে করি তিনি এতে তোমার জন্য সন্তুষ্ট হতেন না। আমরা মা'নের পক্ষ থেকে তুমি যা বলেছ তার দ্বিগুণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছি এবং আমরা নিজের পক্ষ থেকেও সমপরিমাণ বৃদ্ধি করেছি। সুতরাং তোমার আবাসে ফিরে যাওয়ার আগে কোষাধ্যক্ষের কাছ থেকে এক হাজার সাতশ দিনার গ্রহণ করো।" অতঃপর মারওয়ান এই ঘটনার উল্লেখ করে এবং জাফরের প্রশংসা করে মা'নের শোকগাথায় এই পঙক্তিগুলো যুক্ত করলেন:

আপনি মা'নের কবরের পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি বদান্যতা বর্ষণ করেছেন … আপনার উদারতা থেকে আমাদের জন্য অবিরাম ধারা প্রবাহিত করেছেন

হে ইয়াহইয়ার পুত্র! আপনি উপঢৌকন প্রদানে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন … তা যথাযথভাবে আদায় করেছেন এবং কোনো টালবাহানা করতে চাননি

অতঃপর এক দানশীল ব্যক্তি মা'নের তৃষ্ণার্ত আত্মার প্রতিদান দিয়েছেন … এমন এক হাতের দানে যা অকাতরে অনুগ্রহ বিলিয়ে দেয়