(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: -)
الدليل المغني لشيوخ الإمام أبي الحسن الدارقطني القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الدليل المغني لشيوخ الإمام أبي الحسن الدارقطني
المؤلف: أبو الطيب نايف بن صلاح بن علي المنصوري
تقديم: د/ سعد بن عبد الله الحميد، د/ حسن مقبولي الأهدل
الناشر: دار الكيان للطباعة والنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م
عدد الصفحات: 492
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 5 شوّال 1435
ইমাম আবুল হাসান আল-দারা কুতনী-র শিক্ষকবৃন্দের পরিচায়ক পর্যাপ্ত নির্দেশিকা বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: ইমাম আবুল হাসান আল-দারা কুতনী-র শিক্ষকবৃন্দের পরিচায়ক পর্যাপ্ত নির্দেশিকা
লেখক: আবু আল-তৈয়ব নায়েফ বিন সালাহ বিন আলী আল-মানসুরী
উপস্থাপনা: ড/ সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ، ড/ হাসান মাকবুলী আল-আহদাল
প্রকাশক: দার আল-কিয়ান লি আল-তিবাআহ ওয়া আল-নাশর ওয়া আল-তাওজি، সৌদি আরব কিংডম
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৮ হিজরী - ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৫ শাওয়াল ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ١)
الدليل المغني لشيوخ الإمام أبي الحسن الدارقطني
تأليف
أبي الطيب نايف بن صلاح بن علي المنصوري
راجعه وقدم له ولخص أحكامه
فضيلة الشّيخ المحدث
أبو الحسن السليماني
تقديم فضيلة الدكتور المحدث
… تقديم فضيلة الأستاذ الدكتور
سعد بن عبد الله الحميد
… حسن مقبولي الأهدل
دار الكيان
لِلطباعة والنشر والتوزيع
لِصاحبها/طلال حامد الأمير
ইমাম আবু আল-হাসান আদ-দারা কুতনীর শায়খদের পরিচয়মূলক পর্যাপ্ত গ্রন্থ
সংকলনে
আবু আল-তাইয়িব নায়েফ বিন সালাহ বিন আলী আল-মানসুরী
পর্যালোচনা, ভূমিকা এবং এর বিধানসমূহের সারসংক্ষেপ করেছেন
শ্রদ্ধেয় শায়খ মুহাদ্দিস
আবু আল-হাসান আস-সুলাইমানী
ভূমিকা প্রদান করেছেন শ্রদ্ধেয় ডক্টর মুহাদ্দিস
… ভূমিকা প্রদান করেছেন শ্রদ্ধেয় প্রফেসর ডক্টর
সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ
… হাসান মকবুলী আল-আহদাল
দার আল-কিয়ান
মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণের জন্য
স্বত্বাধিকারী/তালাল হামিদ আল-আমীর
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم فضيلة الشّيخ سعد بن عبد الله الحميد- حفظه الله -
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبيّنا محمّد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
أمّا بعد:
فقط اطّلعت علي الكتاب الّذي صنَّفه أخبرنا الفاضل/ نايف بن صلاح المنصوري بعنوان: "الدّليل المغني لشيوخ الإمام أبي الحسن الدارقطني"، الّذي جمع فيه شيوخ الإمام أبي الحسن الدراقطني، ثمّ قام بالترجمة لمن استطاع منهم. وقد وُفِّق بحمد الله تعالى، وقد زان عمله هذا بعرضه على الشّيخ الفاضل أبي الحسن مصطفى بن إسماعيل السليماني المأربي، الّذي قام بالحكم على هؤلاء الشيوخ جميعهم، معلِّلًا حكمه عليهم، وهو لذلك أهل، وكتابه: "شفاء العليل في الجرح والتعديل" شاهد على ذلك.
ومما لا شك فيه أنّ طلبة العلم بحاجة ماسَّة لمثل هذا العمل الّذي لا يدرك أهميته إِلَّا من عانى صنعة الأسانيد، ودراسة أحوال الرجال، والحكم على
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শ্রদ্ধেয় শাইখ সা'দ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ-এর ভূমিকা- আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন -
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
অতঃপর:
আমি আমাদের শ্রদ্ধেয় ভাই নায়েফ বিন সলাহ আল-মানসুরি কর্তৃক সংকলিত "আদ-দালিলুল মুগনি লি-শুয়ুখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারা কুতনি" শিরোনামের গ্রন্থটি দেখেছি, যেখানে তিনি ইমাম আবুল হাসান আদ-দারা কুতনির শাইখদের (শিক্ষকদের) একত্রিত করেছেন এবং তাদের মধ্যে যাদের ক্ষেত্রে সম্ভব হয়েছে তাদের জীবনী বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর প্রশংসায় তিনি এ কাজে সফল হয়েছেন এবং তিনি তাঁর এই কাজটিকে শ্রদ্ধেয় শাইখ আবুল হাসান মুস্তফা বিন ইসমাইল আস-সুলাইমানি আল-মারিবির নিকট পেশ করার মাধ্যমে আরও সুশোভিত করেছেন, যিনি এই সকল শাইখদের প্রত্যেকের ব্যাপারে হুকুম (মানদণ্ড) প্রদান করেছেন এবং তাঁর সেই হুকুমের সপক্ষে কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি নিশ্চিতভাবেই এই বিষয়ের যোগ্য এবং তাঁর রচিত "শিফাউল আলিল ফিল জারহি ওয়াত তাদিল" গ্রন্থটি এর উজ্জ্বল প্রমাণ।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য এ ধরণের কাজের অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে, যার গুরুত্ব কেবল তারাই অনুধাবন করতে পারেন যারা সনদ বা ইসনাদের শিল্প, বর্ণনাকারীদের অবস্থা পর্যালোচনা এবং তাদের ওপর মানদণ্ড নির্ধারণের কঠিন পরিশ্রমে নিয়োজিত থাকেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٤)
الأحاديث، فإنّه يقف حائرًا في أحايين كثيرة في العثور على ترجمة لشيوخ الإمام الدراقطني وأهل تلك الطبقة، ولربما كان الحكم على الحديث متوقِّفًا على معرفة حال ذلك الراوي.
ومما يدلُّك على هذا أنّ شيخنا ناصر الدِّين الألباني رحمه الله وحسبك به في معرفة أحوال الرجال- كثيرًا ما يتوقف عن معرفة أحوال بعض هؤلاء الشيوخ، لأنّه لم يقف على من ترجم لهم.
فنسأل الله تعالى أنّ يجزئ أخانا نايف بن صلاح خير الجزاء على هذا الجهد المبارك إنَّ شاء الله، ونحن نترقَّب منه أنّ يتحفنا بأمثاله من الأعمال الّتي تذلل الصِّعاب على طلبة العلم، ويبقى له ذخرها إنَّ شاء الله، وصلّى الله وسلم على نبيّنا محمّد، وعلى آله وصحبه وسلم.
كتبه
سعد بن عبد الله الحميد
হাদিসসমূহ; কেননা অনেক সময় ইমাম দারা কুতনীর শায়খগণ এবং সেই স্তরের ব্যক্তিদের জীবনী খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। অথচ সম্ভবত হাদিসের ওপর হুকুম প্রদান সেই রাবীর অবস্থা জানার ওপরই নির্ভরশীল ছিল।
এ বিষয়টি আপনার কাছে স্পষ্ট হবে যে, আমাদের শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)—রাবীদের অবস্থা সম্পর্কে যার জ্ঞানই আপনার জন্য যথেষ্ট—তিনিও অনেক সময় এই শায়খদের কারো কারো অবস্থা জানার ক্ষেত্রে থেমে যেতেন, কারণ তিনি তাদের জীবনী লিখেছেন এমন কাউকে পাননি।
অতএব আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদের ভাই নায়েফ বিন সালাহ-কে এই বরকতময় প্রচেষ্টার জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন, ইনশাআল্লাহ। আমরা তাঁর নিকট থেকে এমন আরও রচনার প্রত্যাশা করি যা ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য কঠিন বিষয়গুলোকে সহজ করে দেবে, এবং ইনশাআল্লাহ এটি তার জন্য পরকালীন সঞ্চয় হয়ে থাকবে। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
লিখেছেন
সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٥)
الدّليل المغني لشيوخ الإمام الحسن الدارقطني
ইমাম হাসান আদ-দারাকুতনীর শিক্ষকবৃন্দের পর্যাপ্ত নির্দেশিকা
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٦)
حُقوق الطبع محفُوظة
دَارُ الكيان
للطباعة والنشر والتوزيع
لصاحبها /طلال حامد الأمير
المملكة العربيّة السعودية -الرياض
ص. ب:57684 - 11584
هاتف وفاكس:2067067 - جوال0504197248
البريد الإلكتروني: Dar_alkayan@hotmail.com
التوزيع داخل دوله الإمارات
تليفون: 0097165639396 - جوال: 00971506339303
التوزيع داخل جمهورية مصر العربيّة
محمول: 0101110067
رقم الإيداع: 11926/ 2007
الطبعة الأولى: 1428 هـ - 2007 م
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
দারুল কিয়ান
মুদ্রণ, প্রকাশনা এবং বিতরণের জন্য
মালিক: তালাল হামিদ আল-আমীর
সৌদি আরব রাজ্য - রিয়াদ
পি.ও. বক্স: ৫৭৬৮৪ - ১১৫৮৪
ফোন ও ফ্যাক্স: ২০৬৭০৬৭ - মোবাইল: ০৫০৪১৯৭২৪৮
ইমেইল: Dar_alkayan@hotmail.com
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভেতরে বিতরণ
টেলিফোন: ০০৯৭১৬৫৬৩৯৩৯৬ - মোবাইল: ০০৯৭১৫০৬৩৩৯৩০৩
আরব প্রজাতন্ত্র মিশরের ভেতরে বিতরণ
মোবাইল: ০১০১১১০০৬৭
জমা সংখ্যা: ১১৯২৬/ ২০০৭
প্রথম সংস্করণ: ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة فضيلة الشّيخ المحدث/ أبي الحسن السليمانيالحمد لله وكفى، وسلام على عباده الذين اصطفى، أمّا بعد:
فإنَّ من رحمة الله سبحانه وتعالى بالنَّاسِ بقاء العلماء وطلاب العلم، وما من بلد يشتهر فيها علم الحديث والرجال؛ إِلَّا قُمِعَت فيها البدعة، واستوى عود السُّنَّة، وشُيِّد عرشها، وعكسه عكسه، ومن نوابغ طلاب العلم الحديثي في اليمن أخبرنا الفاضل، والطالب الماثل/ أبو الطيب نايف بن صلاح المنصوري -حفظه الله من فتنة المحيا والممات- فقد أتحف طلاب العلم والمكتبة الإسلامية الحديثة بكتابه النافع الماتع: "إرشاد القاصي والداني إلى تراجم شيوخ الطبراني" ذلكم الكتاب الّذي يُعَدُّ مفخرةً لطلاب علم الحديث النبوي باليمن -ولا أزكي على الله مؤلفه- وها هو يتحفنا بسِفْرٍ آخر، وبكنز جديد- ضمن سلسلته المباركة: "تقريب رواة السُّنَّة بين يدي الأمَّة"- ألا وهو الكتاب الخاص بتراجم شيوخ الإمام أبي الحسن الدارقطني- رحمة الله عليه-.
وقد سلك فيه المؤلِّف مسلكه السابق في الكتاب المشار إليه، وحاول في هذا الكتاب كسابقه أنّ يستوعب -ما استطاع- شيوخ الدارقطني، فوقف على أكثر من عشرين مصنفًا من كتب الدارقطني المطبوعة، ومع ذلك فقد وقف على مشايخ آخرين للدارقطني في غير كتبه بما يقارب خمسين ومائة شيخ لم يذكروا في كتب الدارقطني المطبوعة، وهذا إن دل فإنّما يدلُّ على علو الهمة، وسموَّ المقصد، وشرف الغاية،- ولا أزكي على الله أحدًا-.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্মানিত শাইখ মুহাদ্দিস আবুল হাসান আস-সুলাইমানীর ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট, আর তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:
মানুষের প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অন্যতম রহমত হলো আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীদের অস্তিত্ব বজায় থাকা। আর এমন কোনো ভূখণ্ড নেই যেখানে ইলমে হাদীস এবং রিজাল শাস্ত্রের প্রসিদ্ধি ঘটেছে অথচ সেখানে বিদআত দমন করা হয়নি, সুন্নাতের শাখা সমুন্নত হয়নি এবং তার আসন সুদৃঢ় হয়নি; আর এর বিপরীতটি ঘটলে এর ফলও বিপরীত হয়। ইয়ামেনের হাদীস শাস্ত্রের মেধাবী ছাত্রদের মধ্যে আমাদের সুযোগ্য ও আদর্শ ছাত্র আবু তাইয়িব নায়েফ বিন সালাহ আল-মানসুরি—আল্লাহ তাকে জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন—একজন। তিনি ইলম অন্বেষণকারী ও আধুনিক ইসলামী লাইব্রেরিকে তার উপকারী ও চমৎকার গ্রন্থ: "ইরশাদুল কাসি ওয়াদ দানি ইলা তরাজিম শিউখিত তবারানি" উপহার দিয়েছেন। এই কিতাবটি ইয়ামেনের নববী হাদীস শাস্ত্রের ছাত্রদের জন্য একটি গর্বের বিষয় হিসেবে গণ্য হয়—আমি আল্লাহর নিকট এর লেখকের পবিত্রতার দাবি করছি না—আর এখন তিনি আমাদের সামনে আরেকটি বৃহৎ গ্রন্থ এবং এক নতুন অমূল্য সম্পদ পেশ করছেন—তার বরকতময় ধারাবাহিক: "তকরিবু রুয়াতিল সুন্নাহ বাইনা ইয়াদাইল উম্মাহ"-এর অধীনে—আর সেটি হলো ইমাম আবুল হাসান আদ-দারাকুতনী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উস্তাদদের জীবনীর উপর বিশেষায়িত একটি কিতাব।
এ গ্রন্থে লেখক তার ইতিপূর্বে উল্লিখিত কিতাবের পদ্ধতিই অনুসরণ করেছেন এবং পূর্বের ন্যায় এই কিতাবেও তিনি যথাসম্ভব ইমাম দারাকুতনীর উস্তাদদের পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তিনি দারাকুতনীর মুদ্রিত গ্রন্থগুলোর মধ্য থেকে বিশটিরও বেশি রচনার অনুসন্ধান চালিয়েছেন। তা সত্ত্বেও তিনি দারাকুতনীর এমন আরও প্রায় একশত পঞ্চাশজন উস্তাদকে খুঁজে পেয়েছেন যারা তাঁর মুদ্রিত গ্রন্থসমূহে উল্লিখিত হননি। এটি যদি কোনো কিছুর প্রমাণ বহন করে, তবে তা উচ্চ হিম্মত, সুউচ্চ উদ্দেশ্য এবং মহান লক্ষ্যকেই প্রমাণ করে—আমি আল্লাহর নিকট কাউকে পবিত্র বলে দাবি করছি না।
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٨)
ومعلوم أنّ هذا الجهد لا يقدره إِلَّا من كابَدَ البحث في المشايخ النازلين، وقديمًا قيل:
لا يعرف الشوق إِلَّا من يكابده
… ولا الصبابة إِلَّا من يعانيها
وإن بعض الباحثين يكتب في مثل هذا الباب، ولا يؤدِّيه حقه، ولا يغلق الباب -في الجملة- على من بعده، بل يترك ثغرات، ويتعجَّل في دعوى عدم الوقوف على المترجم له، ونحو ذلك، ومع دعائي لهم بأن يوفقهم الله إلى إكمال ما نقص، واستدراك ما فات، وأن يجزي لهم العطاء على صالح قصدهم، وعلى ما بذلوه، إِلَّا أنّ البون شاسع، والفارق واسع بين هذا العمل وغيره، وحُقَّ لي أنّ أتمثل بقول القائل:
وما كُلَّ مخضوب البنان بثينة
… ولا كلّ مصقول السلاح يماني
وقد يسر الله سبحانه وتعالى لي فرصة التلخيص لأقوال الأئمة في المترجم لهم، وذكرت حكمًا ينبؤ عن أقوال الأئمة في الراوي، وكثيرًا ما أعلل حكمي على الراوي؛ ليكون عذرًا لي، ومنهجًا يستفيده طلبة العلم في كيفية الترجيح بين أقوال الأئمة الّتي ظاهرها التعارض، وقد ذكرتُ في مقدمة الكتاب الأوّل بعض التفاصيل في هذا الصدد، فأسأل الله سبحانه وتعالى أنّ يجعل هذا الكتاب نورًا وسراجًا لمؤلفه وقارئه صلّي ولجميع المسلمين، وصلّى الله على نبيّنا محمّد وعلى-آله وصحبه وسلم.
كتبه
أبو الحسن السليماني
دار الحديث بمأرب 21/ 6/ 1427هـ
এটা সুবিদিত যে, এই প্রচেষ্টার যথাযথ মূল্যায়ন কেবল তারাই করতে পারবেন যারা নিম্নস্তরের (নাযিল) শায়খদের অনুসন্ধানে শ্রম ও কষ্ট সহ্য করেছেন। অতীতে বলা হয়েছে:
অনুরাগের কষ্ট সেই জানে যে তা ভোগ করে
… আর প্রেমের ব্যাকুলতা সেই চেনে যে তাতে পর্যুদস্ত হয়
নিশ্চয়ই কিছু গবেষক এই বিষয়ে লিখেন, কিন্তু এর যথাযথ হক আদায় করেন না। তারা মোটের ওপর পরবর্তীদের জন্য এই দরজাটি বন্ধ করেন না; বরং অনেক ফাঁকফোকর রেখে দেন। তারা জীবনীকার সম্পর্কে তথ্য না পাওয়ার দাবিতে তাড়াহুড়ো করেন এবং এই জাতীয় কাজ করেন। যদিও আমি তাদের জন্য দোয়া করি যেন আল্লাহ তাদের অপূর্ণতা পূরণ করার এবং যা ছুটে গেছে তা সংশোধন করার তাওফিক দান করেন, এবং তাদের সৎ উদ্দেশ্য ও শ্রমের জন্য তাদের উত্তম প্রতিদান দেন; তবুও এই কাজ এবং অন্যান্য কাজের মধ্যে পার্থক্য অত্যন্ত প্রকট ও বিস্তর। আর আমার জন্য জনৈক কবির এই পঙ্ক্তিটি উদাহরণ হিসেবে পেশ করা সমীচীন হবে:
মেহেদি রাঙানো আঙুল বিশিষ্ট সবাই সুন্দরী বুছাইনা নয়
… আর ধারালো অস্ত্র মানেই তা শ্রেষ্ঠ ইয়ামানি তলোয়ার নয়
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমার জন্য জীবনীভুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে ইমামদের বক্তব্যসমূহ সারসংক্ষেপ করার সুযোগ সহজ করে দিয়েছেন। আমি বর্ণনাকারী সম্পর্কে ইমামদের বক্তব্যের আলোকে একটি সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেছি। আমি প্রায়শই বর্ণনাকারীর ব্যাপারে আমার সিদ্ধান্তের সপক্ষে কারণ দর্শিয়েছি, যাতে এটি আমার পক্ষ থেকে একটি যুক্তি এবং জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুসৃত পদ্ধতি হয়; যার মাধ্যমে তারা ইমামদের বাহ্যিক পরস্পরবিরোধী উক্তিগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার প্রদানের নিয়মাবলী শিখতে পারে। আমি প্রথম গ্রন্থের ভূমিকায় এই বিষয়ে কিছু বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সুতরাং আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই গ্রন্থকে এর লেখক, পাঠক এবং সকল মুসলিমের জন্য আলো ও প্রদীপ্ত চেরাগ স্বরূপ করে দেন। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সহচরদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
এটি লিখেছেন
আবুল হাসান আস-সুলাইমানি
দারুল হাদিস, মারিব ২১/ ০৬/ ১৪২৭ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٩)
مقدمة الأستاذ الدكتود/ حسن مقبولي الأهدلنائب رئيس الجامعة للشؤون الأكاديمية
عميد كلية الشّريعة والقانون سابقًا
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، والحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمّد وآله وصحبه أجمعين وبعد:
لقد اطلعت على ما كتبه الأخ الفاضل العلّامة أبو الطيب نايف بن صلاح المنصوري عن شيوخ الإمام الدارقطني والموسوم بـ "الدّليل المغني لشيوخ الإمام أبي الحسن الدارقطني " فقد أجاد الكاتب -فيما كتبه وحرره؛ تسهيلا للوقوف على رجال كتب الحديث المتأخرة في القرن الرّابع، وقد أفاد في هذا الموضوع إفادة عظيمة، حيث كان الكثير من الباحثين يصعب عليهم البحث والتحقيق في معرفة رجال القرن الرّابع من شيوخ الدارقطني والحاكم ومن كان في عصرهما، وقد سهل الباحث هذا الأمر وأصبح في متناول الباحثين من طلاب العلم بالحديث، وهو أهل لهذا البحث وغيره ممّا يخدم السُّنَّة تحقيقًا للرواية والدراية، وزاده الله خيرًا وعلما على ما قدم من جهد في هذا المضمار، ونسأل الله له التوفيق والسداد في جميع أعماله الّتي يرومها في مجال العلم وخدمة السُّنّة المطهرة.
وصلّى الله وسلم على سيدنا محمّد وعلى آله وصحبه وسلم.
كتبه
أ. د./ حسن محمد مقبولي الأهدل
كلية الشريعة والقانون - جامعة صنعاء
প্রফেসর ডক্টর হাসান মাকবুলি আল-আহদালের ভূমিকাএকাডেমিক বিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য
শরিয়াহ ও আইন অনুষদের প্রাক্তন ডিন
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য। আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর প্রতি দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
আমি সম্মানিত ভাই আল্লামা আবু তাইয়্যেব নায়েফ বিন সালাহ আল-মানসুরি কর্তৃক ইমাম দারা কুতনী-র শিক্ষকদের সম্পর্কে লিখিত পাণ্ডুলিপিটি পাঠ করেছি, যার শিরোনাম হলো: "আদ-দালিলুল মুগনি লি-শুয়ুখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারা কুতনী"। লেখক যা লিখেছেন এবং সম্পাদনা করেছেন তাতে তিনি অত্যন্ত মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন; চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর পরবর্তী হাদিস গ্রন্থসমূহের রাবিদের সম্পর্কে জানা সহজ করার ক্ষেত্রে তিনি এই বিষয়ে এক মহান উপকার সাধন করেছেন। কেননা অনেক গবেষকের জন্য ইমাম দারা কুতনী, হাকেম এবং তাদের সমসাময়িক চতুর্থ শতাব্দীর শায়খদের পরিচয় খুঁজে বের করা এবং যাচাই-বাছাই করা কঠিন ছিল। লেখক এই বিষয়টি সহজ করে দিয়েছেন এবং এটি এখন ইলমে হাদিসের ছাত্র ও গবেষকদের হাতের নাগালে চলে এসেছে। রিওয়ায়াত এবং দিরায়াত যাচাইয়ের মাধ্যমে সুন্নাহর খিদমত করার জন্য তিনি এই গবেষণা ও এই ধরনের অন্যান্য কাজের যোগ্য ব্যক্তি। এই ময়দানে তিনি যে প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, আল্লাহ তাঁর কল্যাণ ও ইলম বৃদ্ধি করে দিন। এবং আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর ইলমি অঙ্গনে ও পবিত্র সুন্নাহর খিদমতে অভীষ্ট সকল কাজে সফলতা ও সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করি।
আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
লিখছেন
প্রফেসর ড. হাসান মুহাম্মদ মাকবুলি আল-আহদাল
শরিয়াহ ও আইন অনুষদ - সান'আ বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ١١)
بسم الله الرحمن الرحيم
إنَّ الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أنّ لا إله إِلَّا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنّ محمدًا عبده ورسوله:
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النِّساء: 1]
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب:70،71].
أمّا بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وخير الهدي هدي محمّد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة.
وبعد: فإن ممّا يسرني ويسعدني أنّ أتقدم إلى إخواني الكرام، من محبي هذا العلم الشريف، والباحثين عن رواة الحديث، بهذه الرسالة الثّانية من "سلسلة تقريب رواة السُّنَّة بين يدي الأُمَّة" وهذه السلسلة أرجو الله عز وجل أنّ يجعلها مباركة لي ولإخواني طلاب العلم، ولكل من له شغف برواة الحديث، وما قيل في كلّ منهم من مدح أو تجريح، وعنوان هذه الرسالة: "الدّليل المغني لشيوخ الدارقطني" وهي رسالة ترشد الطالب والباحث إلى معرفة ثلة مباركة من رواة السُّنَّة الغراء على صاحبها أفضل الصّلاة وأتم التسليم، ولا شك أنّ معرفة الإنسان بأحوال العلماء، رفعة وزين، وإن جهل طلبة العلم وأهله بهم لوصمة وشين، ولقد علمت الأيقاظ أنّ العلم بذلك جم المصالح والمراشد، وأن الجهل به إحدى جوانب المناقص والمفاسد، من حيث كونهم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]।
{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয়ের থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১]
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহযাব: ৭০, ৭১]।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।
অতঃপর: এই মহান ইলম বা জ্ঞানের অনুরাগী এবং হাদিসের বর্ণনাকারীদের অনুসন্ধানকারী আমার সম্মানিত ভাইদের নিকট "সিলসিলাতু তাকরিব রওয়াতিল সুন্নাহ বাইনা ইয়াদাইল উম্মাহ" (উম্মাহর সামনে সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের সহজবোধ্য করার ধারাবাহিকতা) সিরিজের এই দ্বিতীয় পুস্তিকাটি পেশ করতে পেরে আমি আনন্দিত ও তৃপ্ত। আমি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই সিরিজটিকে আমার জন্য, আমার ইলম অন্বেষণকারী ভাইদের জন্য এবং হাদিসের বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে জানার আগ্রহ যাদের রয়েছে ও তাদের প্রত্যেকের বিষয়ে যে প্রশংসা বা সমালোচনা করা হয়েছে তা জানতে যারা আগ্রহী, তাদের সকলের জন্য বরকতময় করেন। এই পুস্তিকাটির শিরোনাম হলো: "আদ-দালীলুল মুগনি লি-শুয়ূখিদ দারা কুতনি" (ইমাম দারা কুতনির উস্তাদগণের পরিচিতিতে পর্যাপ্ত নির্দেশিকা)। এটি এমন একটি পুস্তিকা যা ইলম অন্বেষণকারী ও গবেষকদের উজ্জ্বল সুন্নাহর—যার অধিকারীর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক—একদল বরকতময় বর্ণনাকারীকে চিনতে পথ প্রদর্শন করবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আলেমদের অবস্থা সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান থাকা এক অনন্য মর্যাদা ও সৌন্দর্য; আর ইলম অন্বেষণকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাদের সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা একটি কলঙ্ক ও দোষের বিষয়। সচেতন ব্যক্তিগণ জানেন যে, এ বিষয়ক জ্ঞান প্রচুর কল্যাণ ও সঠিক নির্দেশনার উৎস, আর এ বিষয়ে অজ্ঞতা হলো ত্রুটি ও অনিষ্টের অন্যতম একটি দিক, যেহেতু তাঁরা হলেন...
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
حفظة الدِّين الّذي هو أس السعادة الباقية، ونقلة العلم الّذي هو المرقاة إلى المراتب العالية، فكمال أحدهم يكسب مؤدَّاه من العلم كمالًا، واختلالها يورث خللًا وخبالًا، وفي المعرفة لهم معرفة من هو أحق بالاقتداء، وأحرى بالاقتفاء، والجاهل بهم من مقتبسة العلم مسوٍّ لا محالة عند اختلافهم بين الغث والسمين، غير مميز بين الرَّث والوزين، وقد روي عن الإمام مسلم بن الحجاج أنّه قال: إنَّ أول ما يجب على مبتغي العلم وطلابه أنّ يعرف مراتب العلماء في العلم، ورجحان بعضهم على بعض؛ ولأن المعرفة بالخواص آصرة ونسب، وهي يوم القيامة وصلة إلى شفاعتهم وسبب؛ ولأن العالم بالنسبة إلى مقتبس علمه بمنزلة الوالد بل أفضل، فإذا كان جاهلًا به فهو كالجاهل بوالده بل أضل (1). وقد قيض الله من الحفاظ والوعاة ويسَّر من النقَلَة والرواة طائفة أذهبوا في تقييدهم أعمارهم، وأجالوا في نظم قلائدهم وأفكارهم، فجزاهم الله عنا وعن سنة نبيّنا صلى الله عليه وسلم خير الجزاء، وثقَّل بها موازينهم عند اللِّقاء، وبيَّض بها وجوههم يوم الجزاء، فهم القوم حقًّا لا يشقى جليسهم، وهم الرجال، وسائر من أنّ بعدهم عيال، وما نحن إِلَّا متشبهون، ومحبون، ومؤتسون.
وصدق من قال:
وتشبهوا إنَّ لم تكونوا مثلهم
… إنَّ التَّشَبه بالكرام فلاح
أمّا إدراك شأوهم، وبلوغ فضلهم، وقيل منازلهم، فهيهات هيهات، فالمغرور من ظن أنّه صار بين عشية وضحاها كأحدهم، فقال: هم رجال، ونحن رجال. فضلًا عن أنّ يظن أنّه خير من أدناهم، وما أوتي هذا المغرور إِلَّا من ترك التأدب بآداب المتعلمين، وغفل عن أنّ التخلية قبل التحلية؛ كما قيل (2). وتشبهًا بطريقة هؤلاء الأخيار في جمع رواة الأخبار، من الأجزاء والمشيخات، وبطون كتب الأحبار، فقد جمعتُ في هذه الرسالة شيوخ أحد الأئمة الأعلام، الذَّابين عن سنة خير الأنام، عليه أفضل الصّلاة
--------------------------------------------
দীন তথা ধর্মের সংরক্ষণকারীগণ হচ্ছেন চিরস্থায়ী সৌভাগ্যের মূল ভিত্তি, আর ইলম তথা জ্ঞানের বাহকগণ হচ্ছেন উচ্চ মাকামে আরোহণের সোপান। তাঁদের কারো পূর্ণতা তাঁর পরিবেশিত ইলম বা জ্ঞানকে পূর্ণতা দান করে, আর তাঁদের বিচ্যুতি তাতে ত্রুটি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তাঁদের পরিচয়ের মধ্যেই নিহিত রয়েছে সেইসব মহৎ ব্যক্তিদের চেনা যাঁরা অনুসরণের সর্বাধিক যোগ্য এবং যাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা একান্ত কর্তব্য। ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাঁদের সম্পর্কে অজ্ঞ, সে আলেমদের মতভেদের সময় অসার ও সারগর্ভ কিংবা মূল্যহীন ও মূল্যবান বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে না পেরে অনিবার্যভাবেই সব কিছুকে সমান করে ফেলে। ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "ইলম অন্বেষণকারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বপ্রথম যা আবশ্যক তা হলো ইলমের ক্ষেত্রে আলেমদের বিভিন্ন স্তর এবং একে অপরের ওপর তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবগত হওয়া।" কেননা বিশিষ্ট আলেমদের চেনা এক প্রকার সুদৃঢ় বন্ধন ও আত্মীয়তার সমতুল্য এবং কিয়ামতের দিন এটি তাঁদের সুপারিশ লাভের এক যোগসূত্র ও উপায় হবে। তদুপরি, একজন আলেম তাঁর ছাত্রের কাছে পিতার মতো, বরং তার চেয়েও উত্তম। সুতরাং যদি ছাত্র তাঁর সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, তবে সে তার পিতার সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির মতো, বরং তার চেয়েও বেশি পথভ্রষ্ট (১)। আল্লাহ তাআলা এমন কিছু হাফেজ ও সংরক্ষণকারী এবং বর্ণনাকারী ও বাহক নিযুক্ত করেছেন যাঁরা ইলমকে সুসংবদ্ধ করার জন্য তাঁদের পুরো জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং তাঁদের প্রজ্ঞা ও চিন্তাশক্তি দিয়ে একে সুবিন্যস্ত করেছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সুন্নাহর পক্ষ থেকে তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দিন, আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের দিন তাঁদের আমলের পাল্লা ভারি করুন এবং প্রতিদানের দিন তাঁদের চেহারা উজ্জ্বল করুন। তাঁরাই প্রকৃতপক্ষে সেই সম্প্রদায় যাঁদের সঙ্গী কখনো দুর্ভাগা হয় না; তাঁরাই প্রকৃত পুরুষ, আর তাঁদের পরবর্তী অন্য সবাই তাঁদের ওপর নির্ভরশীল। আমরা তো কেবল তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী, তাঁদের প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী এবং তাঁদের অনুকরণকারী মাত্র।
আর তিনি সত্যই বলেছেন যিনি বলেছেন:
যদি তাঁদের মতো হতে না-ও পারো, তবুও তাঁদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো; কেননা মহৎ ব্যক্তিদের সাদৃশ্য অবলম্বন করাই হলো সফলতা।
তবে তাঁদের উচ্চতায় পৌঁছানো, তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা কিংবা তাঁদের মাকাম লাভ করার স্বপ্ন—তা তো বহুদূরের বিষয়। সেই ব্যক্তিই বিভ্রান্ত যে মনে করে সে রাতারাতি তাঁদের সমকক্ষ হয়ে গেছে এবং বলে: "তাঁরাও মানুষ, আমরাও মানুষ"। এমনকি সে যদি মনে করে যে সে তাঁদের মধ্যে নিম্নতম ব্যক্তির চেয়েও উত্তম, তবে তা হবে চরম মূর্খতা। এই বিভ্রান্ত ব্যক্তি কেবল শিক্ষার্থীদের আদব-কায়দা বর্জন করার কারণেই এবং 'অলঙ্করণের আগে আত্মশুদ্ধি প্রয়োজন'—এই নীতিটি বিস্মৃত হওয়ার কারণেই এমন অবস্থায় পতিত হয়েছে (২)। বর্ণনাকারীদের জীবনী সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই মহৎ ব্যক্তিদের পন্থার অনুকরণে বিভিন্ন ক্ষুদ্র সংকলন, উস্তাদদের তালিকা এবং আলেমদের কিতাবসমূহের গভীর থেকে আমি এই পুস্তিকায় একজন প্রথিতযশা ইমামের উস্তাদদের তথ্য জমা করেছি, যিনি সৃষ্টির সেরা মানবের (তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত বর্ষিত হোক) সুন্নাহর এক অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
والسلام، وهو ذاك العَلَمُ الهمام، أبو الحسن علي بن عمر بن أحمد بن مهدي الدارقطني الإمام، قمت بجمع ذلك من جميع كتبه المطبوعة الّتي وقفت عليها، والتي بلغت أربعة وعشرين كتابًا، وكذا من كان منهم في "تاريخ بغداد" أو"لسان الميزان" ممّا نقله الحافظ عن الدارقطني من "غرائب مالك" أو"الأفراد" وكذا ما كان من ذلك في كتاب أبي الفضل بن طاهر المقدسي "أطراف الغرائب والأفراد" وغير ذلك ممّا هو مبثوث في بطون كتب الرجال، ممّا سيقف عليه الناظر -إنَّ شاء الله تعالى- في ثنايا هذا الكتاب.
وقد ذكرت بين يدي هذه الرسالة ترجمة للدارقطني، تكلمت فيها عن:
اسمه، ونسبه، وكنيته، وبلده، ومولده، وصفاته الخَلقِيَّة الخُلُقِيَّة، وطلبه للعلم، ونشأته فيه، ورحلاته، وبعض الفوائد المتعلِّقة بشيوخه وتلاميذه، وعقيدته، وتدليسه، ومذهبه الفقهي، وثناء أهل العلم عليه، والاتهامات الموجهة إليه، ومؤلفاته، ومرضه، ووفاته، ومكأنّها، والمنامات الّتي رويت له بعد موته.
وأمّا ما يتعلّق بالطريقة الّتي سلكتها في هذه الرسالة، فإني قد رتبتها على حروف المعجم، وسلكت في ذلك ما سلكته في الرسالة الأولى المتعلّقة بشيوخ الطبراني، إِلَّا أني هاهنا أنبه على أمور:
1 - الأصل أني في ذكر ما قيل في الراوي أبدأ بكلام تلميذه الدارقطني، مقدمًا في ذلك توثيقه الصريح.
2 - أذكر ما ظفرت به من عبارات المحققين والباحثين في عدم العثور على هذا الراوي وليس ما ذكرمن ذلك عن العلماء والمحققين من باب التنقص لهم، ولاهو بمزحزح لهم عن مُنيف مقامهم؛ لأنّ السَّيِّد من عُدَّت سقطاته، ولله در القائل:
شخص الأنام إلى كمالك فاستعذ
… من شر أعينهم بعيبٍ واحد
3 - أرتب المصادر على الوفيات، إِلَّا إذا كان للكتاب مختصرات أو تهذيبات، فإني -والحالة هذه- أقدم ما يتعلّق بهذا الكتاب وإن كان مختصره أو مهذبه متأخر الوفاة.
4 - إذا أطلقت "المؤتلف" فالمراد به كتاب الدارقطني.
সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক। তিনি হলেন সেই মহান ব্যক্তিত্ব, ইমাম আবুল হাসান আলী বিন উমর বিন আহমদ বিন মাহদী আদ-দারাকুতনী। আমি তাঁর সকল মুদ্রিত কিতাব থেকে এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছি যা আমার হস্তগত হয়েছে, যার সংখ্যা চব্বিশটি কিতাবে পৌঁছেছে। অনুরূপভাবে 'তারিখে বাগদাদ' বা 'লিসানুল মিজান'-এ বর্ণিত বর্ণনাকারীদের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করেছি, যা হাফেজ (ইবনে হাজার) আদ-দারাকুতনী থেকে তাঁর 'গারায়েবে মালিক' বা 'আল-আফরাদ' কিতাবের সূত্রে উদ্ধৃত করেছেন। এছাড়া আবু ফজল বিন তাহির আল-মাকদিসীর কিতাব 'আতরাফুল গারায়েব ওয়াল আফরাদ' এবং রিজাল শাস্ত্রের অন্যান্য কিতাবের ভেতরে ছড়িয়ে থাকা তথ্যসমূহও এতে সন্নিবেশিত হয়েছে, যা পাঠক ইনশাআল্লাহ এই কিতাবের বিভিন্ন স্থানে দেখতে পাবেন।
এই রিসালার প্রারম্ভে আমি ইমাম আদ-দারাকুতনীর একটি জীবনী উল্লেখ করেছি, যেখানে আমি আলোচনা করেছি:
তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম, দেশ, জন্ম, শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, ইলম অন্বেষণ, ইলমি পরিবেশে বেড়ে ওঠা, সফরসমূহ এবং তাঁর শাইখ ও ছাত্রদের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ফায়দা, তাঁর আকিদা, তাদলিস, ফিকহি মাযহাব, তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ, তাঁর রচনাবলি, অসুস্থতা, মৃত্যু, মৃত্যুর স্থান এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে দেখা স্বপ্নসমূহ।
এই রিসালায় আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা হলো, আমি এটিকে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি। এক্ষেত্রে আমি আমার প্রথম রিসালা (তাবারানীর শাইখদের বিষয়ক)-তে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলাম তাই অনুসরণ করেছি, তবে এখানে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক করছি:
১ - মূলনীতি হলো, কোনো বর্ণনাকারী সম্পর্কে মন্তব্য উল্লেখ করার সময় আমি তাঁর ছাত্র আদ-দারাকুতনীর বক্তব্য দিয়ে শুরু করব এবং এক্ষেত্রে তাঁর স্পষ্ট নির্ভরযোগ্যতা প্রদানকে (তাওসিক) অগ্রাধিকার দেব।
২ - কোনো বর্ণনাকারীর সন্ধান না পাওয়া সম্পর্কে মুহাক্কিক ও গবেষকগণের যে সকল বক্তব্য আমি পেয়েছি তা উল্লেখ করেছি। উলামা ও মুহাক্কিকদের পক্ষ থেকে এ ধরণের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করার অর্থ তাঁদের ছোট করা নয়, আর এটি তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদা থেকেও তাঁদের বিচ্যুত করে না; কারণ মহান ব্যক্তি তো তিনিই যাঁর ভুলগুলো গণনা করা যায়। কত চমৎকারই না বলেছেন সেই কবি:
মানুষ তোমার পূর্ণতার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে, তাই
… তাদের বদনজর থেকে বাঁচতে একটি খুঁত দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করো।
৩ - আমি উৎসগ্রন্থগুলোকে লেখকদের মৃত্যুসালের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি, তবে যদি কোনো কিতাবের সংক্ষিপ্তসার বা পরিমার্জিত সংস্করণ থাকে, তবে এই অবস্থায় আমি উক্ত কিতাব সংশ্লিষ্ট বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, যদিও সেই সংক্ষিপ্তসার বা পরিমার্জিত সংস্করণের লেখকের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে হয়ে থাকে।
৪ - আমি যদি কেবল 'আল-মু'তালিফ' শব্দটি ব্যবহার করি, তবে তা দ্বারা আদ-দারাকুতনীর কিতাবটিই উদ্দেশ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
5 - إذا كان الشّيخ مترجم في الكتاب الآخر "شيوخ الطبراني" فإني أكتفي بالإحالة إليه مع نقل حكم شيخنا المحدث أبي الحسن السليماني حفظه الله.
هذا ما أردت بيانه في هذه المقدِّمة، وأرجو أنّ لا يبور ما جمعته، ولا يضيع ما كتبته، وأثبته من ذلك، وصنفنه، وأسأل الله التوفيق في المقال، والتسديد في جميع الأفعال، إنّه بذلك ولي، والمرجو فيه ملي، وهو حسبي، وإليه في كلّ أمر مرجعي، وعليه توكلي، ولا حول ولا قوة إِلَّا به، إنّه نعم المولى ونعم الوكيل.
جزى الله خيرًا كلّ من كان ناظرًا
… لمجموعتي هذي بستر القبائح
وأصلح ما فيها من العيب كله
… فهذا الّذي أرجوه من كلِّ ناصح (1)
وصلّى الله على سيدنا محمّد وعلى آله وسلم تسليمًا كثيرا.
كتبه الفقير إلى عفو ربه
أبو الطيب
نايف بن صلاح بن علي المنصوري
بدار الحديث الخيرية بمأرب حرسها الله
والقائمين عليها من كلّ سوء ومكروه
ليلة الأحد 11/ 2/ 1427هـ.
--------------------------------------------
৫ - যদি শাইখ অপর গ্রন্থ "শুয়ুখুত তাবারানী"-তে আলোচিত হয়ে থাকেন, তবে আমি আমাদের শাইখ মুহাদ্দিস আবু হাসান আস-সুলাইমানী (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর সিদ্ধান্ত বর্ণনার পাশাপাশি কেবল সেই গ্রন্থের উদ্ধৃতি প্রদানের ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি।
এই ভূমিকায় আমি যা বর্ণনা করতে চেয়েছিলাম তা এখানেই শেষ। আমি আশা করি যে, আমি যা সংগ্রহ করেছি তা বৃথা যাবে না এবং যা আমি লিখেছি, প্রমাণ করেছি ও সংকলন করেছি তা হারিয়ে যাবে না। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি কথার ক্ষেত্রে তাওফিক এবং সকল কাজের ক্ষেত্রে সঠিকতা লাভের জন্য। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং যাঁর কাছে আশা করা হয় তিনি তা পূরণে সক্ষম। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট, এবং প্রতিটি বিষয়ে আমার প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে, আর তাঁর ওপরই আমার ভরসা। তাঁর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তিও নেই। নিশ্চয়ই তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন
… যিনি আমার এই সংকলনটি দোষ-ত্রুটি গোপন রেখে পাঠ করবেন
এবং এর ভেতরে থাকা সমস্ত খুঁত সংশোধন করে দেবেন
… কারণ প্রত্যেক কল্যাণকামীর কাছে এটাই আমার প্রত্যাশা (১)
আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর অফুরন্ত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী বান্দা কর্তৃক লিখিত
আবু তাইয়্যিব
নায়েফ ইবনে সালাহ ইবনে আলী আল-মানসুরী
দারুল হাদীস আল-খাইরিয়্যাহ, মা'রিব-এ, আল্লাহ একে হিফাযত করুন
এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে সকল অনিষ্ট ও অপছন্দনীয় বিষয় থেকে রক্ষা করুন
রবিবার রাত ১১/ ২/ ১৪২৭ হিজরী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
ترجمة أبي الحسن الدَّارقطني*
اسمه ونسبه وكنيته وبلده:هو علي بن عمر بن أحمد بن مهدي بن مسعود بن النعمان بن دينار بن عبد الله، أبو الحسن، البغدادي، الدارقطني (1).
*
مولده:ولد سنة ستّ وثلاثمائة، وقيل: كان مولده لخمس خلون من ذي القعدة سنة خمس وثلاثمائة، ونقل الخطيب القولين، وصدر كلامه بالقول الأوّل (2)، ويرجحه ما جاء في "سؤالات السلمي (3) " عن الدارقطني نفسه حيث قال: ولدت في سنة ستّ وثلاثمائة.
*
صفاته الخَلْقية:قال أبو القاسم بكر بن علي بن بكر بن علي بن حماد البندار: كان طويلًا أبيضًا (4).
* صفاته الخُلُقِيَّة:
قال الخطيب: كان فريد عصره
… مع الصدق والأمانة، والفقه، والعدالة، وقبول الشّهادة، وصحة الاعتقاد، وسلامة المذهب (5). وقال الحاكم: صار أوحد عصره في الحفظ والفهم والورع (6). ومع صدقه وأمانته وورعه، فقد جمع فصاحة اللسان، فقد
--------------------------------------------
আবুল হাসান আদ-দারা কুতনীর জীবনী*
তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম ও জন্মভূমি:তিনি হলেন আলী ইবনে ওমর ইবনে আহমদ ইবনে মাহদী ইবনে মাসউদ ইবনে নুমান ইবনে দীনার ইবনে আব্দুল্লাহ, আবুল হাসান, আল-বাগদাদী, আদ-দারা কুতনী (১)।
*
তাঁর জন্ম:তিনি তিনশত ছয় হিজরী সালে জন্মগ্রহণ করেন। আবার বলা হয়: তাঁর জন্ম তিনশত পাঁচ হিজরীর যিলকদ মাসের পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর। আল-খতীব উভয় মত বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর আলোচনার শুরুতে প্রথম মতটিই উল্লেখ করেছেন (২)। আর 'সুআলাতুস সুলামী' (৩)-তে স্বয়ং দারা কুতনী থেকে বর্ণিত তথ্যটি এই মতকে জোরালো করে যেখানে তিনি বলেছেন: আমি তিনশত ছয় হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেছি।
*
শারীরিক বৈশিষ্ট্য:আবু কাসিম বকর ইবনে আলী ইবনে বকর ইবনে আলী ইবনে হাম্মাদ আল-বান্দার বলেছেন: তিনি দীর্ঘকায় ও ফর্সা ছিলেন (৪)।
* চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য:
আল-খতীব বলেন: তিনি তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন
… সেই সাথে তিনি সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, ফিকহ, ন্যায়পরায়ণতা, সাক্ষ্য প্রদানের গ্রহণযোগ্যতা, সঠিক আকিদা এবং বিশুদ্ধ মাযহাবের অধিকারী ছিলেন (৫)। আল-হাকিম বলেন: তিনি হিফজ, প্রজ্ঞা ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে নিজ যুগের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন (৬)। তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা ও তাকওয়ার পাশাপাশি তাঁর মাঝে বাকপটুতারও সমন্বয় ঘটেছিল, তিনি ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
ذكر الأزهري أنّ أبا الحسن الدارقطني لما دخل مصر، وأراد قراءة كتاب "النسب" للزبير بن بكار؛ على شيخ علوي يقال له: مُسَلَّم بن عبيد الله وكان أحد الموصوفين بالفصاحة، المطبوعين علي العربيّة اجتمع إليه من كان فيها من أهل العلم والأدب والفضل، فحرصوا على أنّ يحفظوا على أبي الحسن لحنه، أو يظفروا منه بسقطة، فلم يقدروا على ذلك، حتّى جعل مسَلَّم يعجب، ويقول له: وعربيّة أيضًا (1). وقال المُعيطي الأديب: يا أبا الحسن أنت أجرًا من خاصي الأسد، تقرأ مثل هذا الكتاب مع ما فيه من الشعر والأدب، فلا يؤخذ عليك فيه لحنة (2).
وكان رحمه الله -أيضًا- موصوفًا بشدة الذكاء، فقد قال الأزهري: كان الدارقطني ذكيًّا، إذا ذوكر شيئًا من العلم -أيَّ نوع كان- وُجِدَ عنده منه نصيب وافر (3).
وموصوفًا كذلك بشدة الحافظة، فقد روي أنّه حضر في حداثته مجلس الصفَّار، فجلس ينسخ جزءًا كان معه، وإسماعيل الصفار يملي، فقال له بعض الحاضرين: لا يصح سماعك وأنت تنسخ، فقال له الدارقطني: فهمي للإملاء خلاف فهمك، ثمّ قال: تحفظ كما أملى الشّيخ من حديث إلى الآن؟ فقال: لا. فقال الدارقطني: أملى ثمانية عشر حديثًا فعُدَّت الأحاديث، فوجدت كما قال. ثمّ قال أبو الحسن: الحديث الأوّل منها عن فلان، عن فلان، ومتنه كذا، والحديث الثّاني عن فلان عن فلان ومتنه كذا، ولم يزل يذكر أسانيد الأحاديث ومتونها على ترتيبها في الإملاء حتّى أنّ على آخرها، فتعجب النَّاس منه (4).
--------------------------------------------
আল-আজহারি উল্লেখ করেছেন যে, আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি যখন মিসরে প্রবেশ করেন এবং তিনি জুবায়ের ইবনে বাক্কারের ‘আন-নাসাব’ গ্রন্থটি মুসলিম ইবনে উবায়দুল্লাহ নামক জনৈক আলবি শায়খের নিকট পাঠ করতে চাইলেন—যিনি সাবলীলতা ও বিশুদ্ধ আরবি ভাষার জন্য সুখ্যাত ছিলেন—তখন সেখানে উপস্থিত জ্ঞান, সাহিত্য ও মর্যাদাবান ব্যক্তিবর্গ তাঁর কাছে সমবেত হলেন। তারা আবুল হাসানের কোনো ভাষাগত ভুল ধরার জন্য বা তাঁর কোনো ত্রুটি খুঁজে বের করার জন্য সচেষ্ট ছিলেন। কিন্তু তারা তাতে সমর্থ হলেন না, এমনকি একপর্যায়ে মুসলিম বিস্মিত হয়ে তাঁকে বললেন: “আপনি কি আরবি ভাষাতেও সমান পারদর্শী!” (১)। সাহিত্যিক আল-মুআইতি বলেন: “হে আবুল হাসান, আপনি সিংহের অণ্ডকোষ কর্তনকারীর চেয়েও সাহসী; আপনি সাহিত্য ও কবিতায় ভরপুর এ ধরনের একটি কিতাব পাঠ করছেন অথচ আপনার একটি ভুলও ধরা যাচ্ছে না।” (২)।
তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—অত্যন্ত প্রখর মেধার জন্যও বিশেষিত ছিলেন। আল-আজহারি বলেন: “আদ-দারা কুতনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন; যখনই কোনো জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতো—তা যে বিষয়েরই হোক না কেন—তাঁর কাছে সেই বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান পাওয়া যেত।” (৩)।
অনুরূপভাবে তিনি অত্যন্ত প্রখর মুখস্থ শক্তির অধিকারী ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁর যৌবনকালে আস-সাফফারের মজলিসে উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি তাঁর সাথে থাকা একটি পাণ্ডুলিপি নকল করতে বসেন, আর ইসমাইল আস-সাফফার হাদিস শ্রুতিলিখনের (ইমলা) জন্য পাঠ করছিলেন। উপস্থিতদের একজন তাঁকে বললেন: “আপনি নকল করার কাজে ব্যস্ত থাকায় আপনার শ্রবণ শুদ্ধ হবে না।” আদ-দারা কুতনি তাকে বললেন: “শ্রুতিলিখনের বিষয়ে আমার উপলব্ধি তোমার উপলব্ধির চেয়ে ভিন্ন।” এরপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: “শায়খ এ পর্যন্ত যা পাঠ করিয়েছেন, তা কি তোমার মুখস্থ আছে?” সে উত্তর দিল: “না।” তখন আদ-দারা কুতনি বললেন: “তিনি আঠারোটি হাদিস পাঠ করিয়েছেন।” এরপর হাদিসগুলো গণনা করে দেখা গেল তাঁর কথাই ঠিক। অতঃপর আবুল হাসান বললেন: “প্রথম হাদিসটি অমুক ব্যক্তি থেকে, তিনি অমুক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর মূল পাঠ হলো এই... দ্বিতীয় হাদিসটি অমুক থেকে, তিনি অমুক থেকে এবং এর মূল পাঠ হলো এই...।” এভাবে তিনি শ্রুতিলিখনের ক্রমানুসারে প্রতিটি হাদিসের সনদ ও মূল পাঠ শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করে গেলেন, যা দেখে উপস্থিত লোকজন বিস্মিত হলো। (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وقال محمّد بن طلحة النعالي: حضرت مع أبي الحسن في دعوة عند بعض النَّاس ليلة، فجرى شيءٍ من ذكر الأكلة، فاندفع أبو الحسن يورد أخبار الأكلة وحكاياتهم ونوادرهم حتّى قطع ليلته أو أكثرها بذلك (1).
وقال العتيقي: حضرت أبا الحسن وقد جاءه أبو الحسين البيضاوي ببعض الغرباء وسأله أنّ يقرأ له شيئًا، فامتنع واعتلَّ ببعض العلّل، فقال: هذا غريب، وسأله أنّ يُملي عليه أحاديث، فأملى عليه أبو الحسن من حفظه مجلسًا يزيد عدد أحاديثه على العشرة متون، جميعها: "نعم الشيء الهدية أمام الحاجة" وانصرف الرَّجل ثمّ جاء بعد وقد أهدى له شيئًا، فقربه وأملى عليه من حفظه بضعة عشر حديثًا، متونها جميعًا: "إذا أتاكم كريم قوم فأكرموه (2) " قال الذهبي: هذه حكايات صحيحة، وهي دالة على سعة حفظ هذا الإمام (3).
قال مقيده -عفا الله عنه -: ومما يدلُّ على سعة حفظه وقوته، ما ذكره الخطيب عن شيخه البرقاني قال: قلت له: هل أبو الحسن يملي عليك "العلّل" من حفظه؟ فقال: نعم. ثمّ شرح لي قصة جمع العلّل (4). قال الذهبي: قلت: إن كان كتاب "العلل" الموجود قد أملاه الدارقطني من حفظه، كما دلت عليه هذه الحكاية فهذا أمر عظيم، يقضى به للدارقطني أنّه أحفظ أهل الدنيا، وإن كان قد أملى بعضه من حفظه فهذا ممكن (5). وقال في "التاريخ (6)،: قلت: وهذا شيءٍ مدهش؛ كونه يملي "العلّل" من حفظه، فمن أراد أنّ يعرف قدر ذلك فليطالع كتاب "العلّل" للدارقطني ليعرف كيف كان الحفاظ.
وكان رحمه الله جيد الخط، وقد أكثر الخطيب من النقل عنه، ومن الكتب الّتي
--------------------------------------------
মুহাম্মদ বিন তালহা আন-নিআলী বলেন: আমি এক রাতে কোনো এক ব্যক্তির আমন্ত্রণে আবুল হাসানের সাথে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে অতিভোজীদের সম্পর্কে কিছু আলোচনা উঠল। তখন আবুল হাসান অতিভোজীদের সংবাদ, তাদের কাহিনী এবং তাদের দুর্লভ ঘটনাবলী বর্ণনা করতে শুরু করলেন, এমনকি তিনি এভাবে তাঁর পুরো রাত অথবা রাতের অধিকাংশ সময় পার করে দিলেন (১)।
আল-আতিকী বলেন: আমি আবুল হাসানের নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় আবুল হুসাইন আল-বায়দাভী জনৈক আগন্তুককে নিয়ে তাঁর নিকট আসলেন এবং তাঁকে কিছু পড়ে শোনানোর অনুরোধ করলেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালেন এবং কিছু ওজর পেশ করলেন। তখন তিনি বললেন: "ইনি একজন আগন্তুক", এবং তাঁর নিকট কিছু হাদিস বর্ণনা করার (ইমলা করার) অনুরোধ করলেন। তখন আবুল হাসান তাঁর স্মৃতি থেকে একটি মজলিস বর্ণনা করলেন যাতে হাদিসের সংখ্যা দশটিরও বেশি ছিল, যেগুলোর সবকটির মূল পাঠ ছিল: "প্রয়োজনের পূর্বে উপহার কতই না চমৎকার বস্তু।" এরপর সেই ব্যক্তি চলে গেলেন এবং পরবর্তীতে কিছু উপহার নিয়ে আসলেন। তখন তিনি তাঁকে কাছে ডাকলেন এবং স্মৃতি থেকে দশটিরও বেশি হাদিস বর্ণনা করলেন, যেগুলোর সবকটির মূল পাঠ ছিল: "যখন তোমাদের নিকট কোনো সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তি আসে, তখন তাকে সম্মান করো (২)।" ইমাম যাহাবী বলেন: এই বর্ণনাগুলো সঠিক, এবং এগুলো এই ইমামের মুখস্থ শক্তির বিশালতার পরিচায়ক (৩)।
গ্রন্থকার —আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন— বলেন: তাঁর মুখস্থ শক্তির বিশালতা ও প্রখরতার আরেকটি প্রমাণ হলো যা আল-খতিব তাঁর উস্তাদ আল-বারকানী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, "আবুল হাসান কি আপনার নিকট 'আল-ইলাল' গ্রন্থটি মুখস্থ থেকে বর্ণনা করে লিখিয়ে দেন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ"। এরপর তিনি আমার নিকট 'আল-ইলাল' সংকলনের কাহিনী বর্ণনা করলেন (৪)। যাহাবী বলেন: আমি বলি, যদি বর্তমান বিদ্যমান "আল-ইলাল" কিতাবটি দারাকুতনী তাঁর স্মৃতি থেকে বর্ণনা করে লিখিয়ে থাকেন, যেমনটি এই বর্ণনাটি নির্দেশ করছে, তবে এটি এক মহান ব্যাপার। এর মাধ্যমে দারাকুতনী সম্পর্কে এই ফয়সালা দেওয়া যায় যে, তিনি পৃথিবীর মানুষের মধ্যে সর্বাধিক প্রখর স্মৃতির অধিকারী ছিলেন। আর যদি তিনি এর কিছু অংশ মুখস্থ থেকে বর্ণনা করে থাকেন, তবে তাও সম্ভব (৫)। তিনি "আত-তারিখ" (৬) গ্রন্থে বলেছেন: আমি বলি, এটি একটি বিস্ময়কর বিষয়; তাঁর স্মৃতি থেকে "আল-ইলাল" বর্ণনা করে লেখানো। কেউ যদি এর মর্যাদা বুঝতে চায়, তবে সে যেন দারাকুতনীর "আল-ইলাল" কিতাবটি পাঠ করে, যাতে সে জানতে পারে হাফেযগণ কেমন ছিলেন।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সুন্দর হস্তাক্ষরের অধিকারী ছিলেন। আল-খতিব তাঁর থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। আর যে সকল কিতাব থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
كتبها بخطه، ونقلت إلينا كتاب "الكنى والأسماء" للإمام مسلم (1).
*
طلبه للعلّم ونشأته فيه:نشأ الدارقطني - رحمه الله تعالى- في بيت علم، فقد كان والده رحمه الله من أهل العلم بالحديث، وقد روى عنه ولده أبو الحسن (2) وبدأ الكتابة في سن التّاسعة، حيث يقول عن نفسه: كتبت في أول سنة خمس عشر وثلاثمائة (3). ويبدو أنّه حفظ القرآن أيضًا في هذه المرحلة، وكان جميل الصوت، فقد قال عن نفسه: كنت أنا والكتاني نسمع الحديث، فكانوا يقولون: يخرج الكتاني محدث البلد، ويخرج الدارقطني مقرئ البلد - يعني لحسن صوته- فخرجت أنا محدثًا والكتاني مقرئًا (4)، ولم يكن محدثًا فحسب بل كان إمامًا أيضًا في القراءات، وقد تصدر في أواخر عمره للإقراء، وألف في ذلك كتابًا جليلًا لم يؤلَّف مثله، وهو أول من وضع أبواب الأصول قبل الفرش، ولم يعرف مقدار هذا الكتاب إِلَّا من وقف عليه (5). قال الذهبي: لكن لم يبلغنا ذكر من قرأ عليه وسأفحص عن ذلك إنَّ شاء الله تعالى (6). قلت: قال ابن الجزري في "غاية النهاية (7) ": روى عنه الحروف من كتابه محمّد بن إبراهيم بن أحمد.
وكان ممّن بكَّرَ في حضور مجالس العلماء والسماع منهم، فسمع من أبي القاسم البغوي، وابن صاعد، وابن أبي داود، وغيرهم، وهو صبي؛ كما قال الذهبي (8). وقال ابن القوَّاس: كنا نمر إلى ابن منيع، والدارقطني صبي يمشي خلفنا بيده رغيف كامخ،
--------------------------------------------
তিনি তা নিজ হাতে লিখেছেন এবং ইমাম মুসলিমের "আল-কুনা ওয়াল আসমা" বইটি আমাদের কাছে পৌঁছেছে (১)।
*
তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ ও এতে তাঁর বেড়ে ওঠা:দারাকুতনী -রহিমাহুল্লাহ তা'আলা- একটি ইলমি পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা -রহিমাহুল্লাহ- হাদীস শাস্ত্রের আলিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর পুত্র আবুল হাসান তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন (২)। তিনি নয় বছর বয়সেই (হাদীস) লিখতে শুরু করেন। যেমনটি তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন: "আমি ৩১৫ হিজরির শুরুতে লিখতে শুরু করি" (৩)। আর প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এই পর্যায়েই কুরআন মুখস্থ করেছিলেন। তিনি সুমধুর কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছেন: "আমি ও কাত্তানি হাদীস শ্রবণ করতাম। তখন তারা বলত— কাত্তানি হবে শহরের মুহাদ্দিস, আর দারাকুতনী হবে শহরের ক্বারি (অর্থাৎ তাঁর কণ্ঠের মাধুর্যের কারণে)। কিন্তু আমি হলাম মুহাদ্দিস এবং কাত্তানি হলেন ক্বারি" (৪)। তিনি কেবল একজন মুহাদ্দিসই ছিলেন না, বরং কিরাত শাস্ত্রেরও একজন ইমাম ছিলেন। জীবনের শেষ দিকে তিনি কিরাত শিক্ষাদানে নিজেকে নিয়োজিত করেন এবং এ বিষয়ে তিনি একটি মহান কিতাব রচনা করেন, যার সমতুল্য কোনো কিতাব ইতিপূর্বে রচিত হয়নি। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি 'ফারশ' (বিশদ নিয়মাবলি) এর পূর্বে 'উসুল' (মূলনীতি) এর অধ্যায়গুলো বিন্যস্ত করেছেন। যে ব্যক্তি এই কিতাবটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি ছাড়া আর কেউ এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেননি (৫)। যাহাবি বলেন: "তবে তাঁর নিকট কিরাত পড়েছেন এমন কারোর নাম আমাদের কাছে পৌঁছেনি, ইনশাআল্লাহ আমি এ বিষয়ে অনুসন্ধান করব" (৬)। আমি (গ্রন্থকার) বলি: ইবনুল জাযারি 'গায়াতুন নিহায়া' (৭)-তে বলেছেন: "মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন আহমাদ তাঁর কিতাব থেকে তাঁর নিকট বর্ণনার ভিন্নতাগুলো (হুরুফ) বর্ণনা করেছেন।"
তিনি সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা শৈশব থেকেই আলিমদের মজলিসে উপস্থিত হতে ও তাঁদের থেকে শ্রবণ করতে তৎপর ছিলেন। তিনি বালক থাকা অবস্থাতেই আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ি, ইবনে সা'ইদ, ইবনে আবি দাউদ এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে (হাদীস) শ্রবণ করেন, যেমনটি যাহাবি বলেছেন (৮)। ইবনুল কাওয়াস বলেন: "আমরা ইবনে মানি'র নিকট যেতাম, তখন দারাকুতনী বালক হিসেবে আমাদের পেছনে হাঁটতেন এবং তাঁর হাতে আচার মাখানো রুটি থাকত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
فدخلنا إلى ابن منيع ومنعناه، فقعد على الباب يبكي (1)، ولذا وقع له أحاديث رباعيات. قال الذهبي: وعنده رباعيات قليلة لينة الإسناد (2)، وقد جمعها الدارقطني في مصنف (3).
*
رحلاته:بعد أنّ سمع الإمام الدارقطني - رحمه الله تعالى- من شيوخ بلدته "بغداد" وأمعن في الأخذ عنهم، وعن القادمين إليها جريا على سنة السلف في ذلك، رحل إلى بعض الأقطار الإسلامية، ويظهر أنّه بدأ بالمدن المجاورة.
فرحل إلى البصرة في حدود العشرين وثلاثمائة (4)، وسمع بها من شيوخ عدة؛ كمحمد بن سليمان المالكي (5)، وأحمد بن محمّد العطَّار (6)، ويعقوب بن يوسف الخلال (7)، وغيرهم.
ودخل الكوفة، وسمع بها من محمّد بن القاسم بن زكريا المحاربي السوداني (8)، وعبد الله بن يحيى الطلحي (9)، وغيرهما.
وواسط، وسمع بها من أحمد بن عمرو بن عثمان المعدل (10)، وأحمد بن محمّد بن سعدان (11)، ومحمد بن محمود بن محمّد السراج (12)، وغيرهم.
--------------------------------------------
অতঃপর আমরা ইবনে মানি'-এর কাছে প্রবেশ করলাম এবং তাকে বাধা দিলাম, ফলে তিনি দরজায় বসে কাঁদতে লাগলেন (১), আর এই কারণেই তাঁর নিকট কিছু রুবাইয়াত (চার রাবী বিশিষ্ট) হাদিস রয়ে গেছে। আয-যাহাবী বলেন: তাঁর কাছে অল্প কিছু রুবাইয়াত হাদিস রয়েছে যার সনদ দুর্বল (২), আর আদ-দারা কুতনী সেগুলো একটি গ্রন্থে সংকলন করেছেন (৩)।
*
তাঁর সফরসমূহ:ইমাম আদ-দারা কুতনী—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—তাঁর নিজ শহর "বাগদাদ"-এর শায়েখদের থেকে শ্রবণ করার এবং সালাফদের অনুসৃত রীতি অনুযায়ী তাঁদের থেকে ও সেখানে আগমনকারীদের থেকে ইলম অর্জনে নিবিষ্ট হওয়ার পর, বিভিন্ন ইসলামী জনপদে সফর করেন। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি পার্শ্ববর্তী শহরগুলো থেকেই সফর শুরু করেছিলেন।
তিনি ৩২০ হিজরীর কাছাকাছি সময়ে বসরায় সফর করেন (৪), এবং সেখানে বেশ কয়েকজন শায়েখের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন; যেমন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-মালিকী (৫), আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-আত্তার (৬), ইয়াকুব বিন ইউসুফ আল-খাল্লাল (৭) এবং আরও অনেকে।
তিনি কুফায় প্রবেশ করেন এবং সেখানে মুহাম্মদ বিন কাসেম বিন জাকারিয়া আল-মুহারিবী আস-সুদানী (৮), আব্দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া আত-তালহী (৯) এবং আরও অনেকের নিকট শ্রবণ করেন।
এবং ওয়াসিতেও (সফর করেন), সেখানে তিনি আহমদ বিন আমর বিন উসমান আল-মুয়াদদিল (১০), আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সাদা'ন (১১), মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মদ আস-সাররাজ (১২) এবং আরও অনেকের নিকট শ্রবণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
والمَفْتَح، وسمع بها من الحسن بن علي بن قومي (1)، ومحمد بن الحسن بن أبي الشوارب (2).
والمباركة، وسمع بها من إسحاق بن إدريس المباركي (3).
والأُبلة، وسمع بها من يحيى بن موسى بن إسحاق بن وهب (4).
وذكر ابن نقطة أنّه ارتحل أيضًا إلى الأهواز (5)، وخوزستان (6).
ثمّ ارتحل إلى الحجاز للحج (7)، وسمع بمكة من الحسن بن الخضر المعدَّل (8).
ثمّ رحل إلى الشّام، ومصر. قال الحاكم: ثمّ دخل الشّام ومصر على كبر السنن (9). وقال ابن عساكر: قدم دمشق مجتازًا إلى مصر (10)، لكن هذا لم يمنع من سماعه من بعض مشايخها، إذ مرَّ على بعض مدنها كالرملة؛ فسمع بها من أبي العباس عبيد الله بن محمّد الشّافعيّ (11)، ومحمد بن عمر بن أيوب المعدَّل (12).
ودخل طبرية، وكتب بها تاريخ محمّد بن خُزَز الطبراني، كما صرح هو نفسه بذلك (13).
--------------------------------------------
এবং আল-মাফতাহ, সেখানে তিনি হাসান ইবনে আলী ইবনে কাওমী (১) এবং মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে আবিল শাওয়ারিব (২) থেকে শুনেছেন।
এবং আল-মুবারাকা, সেখানে তিনি ইসহাক ইবনে ইদ্রিস আল-মুবারাকী (৩) থেকে শুনেছেন।
এবং আল-উবুল্লা, সেখানে তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মুসা ইবনে ইসহাক ইবনে ওয়াহাব (৪) থেকে শুনেছেন।
ইবনে নুকতা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আহওয়াজ (৫) এবং খুজিস্তানও (৬) সফর করেছিলেন।
এরপর তিনি হজের উদ্দেশ্যে হিজাজে সফর করেন (৭), এবং মক্কায় হাসান ইবনে খিজর আল-মুআদ্দাল (৮) থেকে শুনেছেন।
এরপর তিনি শামে ও মিসরে সফর করেন। আল-হাকিম বলেন: এরপর তিনি বার্ধক্য বয়সে শামে ও মিসরে প্রবেশ করেন (৯)। ইবনে আসাকির বলেন: তিনি মিসর গমনের পথে দামেস্কে এসেছিলেন (১০), তবে এটি সেখানকার কিছু শায়খদের থেকে তাঁর শ্রবণের পথে বাধা হয়নি, যেহেতু তিনি সেখানকার কিছু শহর অতিক্রম করেছিলেন যেমন রামলা; সেখানে তিনি আবুল আব্বাস উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাফিঈ (১১) এবং মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে আইয়ুব আল-মুআদ্দাল (১২) থেকে শুনেছেন।
তিনি তবারিয়ায় প্রবেশ করেন এবং সেখানে মুহাম্মদ ইবনে খুজাজ আত-তবারানীর ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেন, যেমনটি তিনি স্বয়ং স্পষ্ট করেছেন (১৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وأمّا رحلته إلى مصر فكانت سنة سبع وخمسن وثلاثمائة (1)، وسمع بها من علي بن عبد الله بن الفضل (2)، ومحمد بن عبد الله مُسَلَّم (3)، وعلي بن أحمد بن الأزرق (4)، وغيرهم. وقد انتفع به أهل مصر كثيرًا، ولما أراد الخروج منها خرجوا يودعونه وهم يبكون لفراقه، فقال لهم: تبكون وعندكم عبد الغني بن سعيد، وفيه الخلف (5)، وكان من أشهر تلامذته، وارتحل منها إلى جزيرة تِنِّيس ليسمع بها من شيخه محمّد بن علي بن الحسن النقاش، ويحدث عنه (6).
*
شيوخه:أمّا شيوخه فهم موضوع هذه الرسالة، ولكن يمكنني أنّ أذكر في هذا المقام بعض الفوائد المتعلِّقة بهم، وبالله التوفيق.
الفائدةُ الأولي: فيما يتعلّق بذكر ما قيل في عددهم.
قال الدكتور الرحيلي: لم يُذكر أنّه صنف معجمًا لشيوخه رحمه الله فإذا أردتُ أنّ أقدر عددهم، فأرى أنّهم لا يقلون عن ألف شيخ (7).
وقال الدكتور موفق بن عبد الله بن عبد القادر: لدي قائمة بأسماء شيوخه الذين روى عنهم في "السنن" و"المؤتلف والمختلف" و"العلل" أو ذكرهم الخطيب في "تاريخ بغداد" مرتبة على حروف المعجم، وفي النية إخراجها في "مشيخة الدارقطني، إنَّ شاء الله تعالى (8).
--------------------------------------------
আর মিশরে তাঁর সফরের কথা বলতে গেলে তা ছিল তিনশত সাতান্ন হিজরি সালে (১)। সেখানে তিনি আলী ইবন আবদুল্লাহ ইবনুল ফাদল (২), মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ মুসাল্লাম (৩), আলী ইবন আহমদ ইবনুল আজরাক (৪) এবং আরও অনেকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। মিশরের অধিবাসীগণ তাঁর দ্বারা ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছিলেন। আর যখন তিনি সেখান থেকে প্রস্থানের ইচ্ছা করলেন, তখন তারা তাঁকে বিদায় জানাতে বের হলেন এবং তাঁর বিচ্ছেদে কাঁদছিলেন। তিনি তাঁদেরকে বললেন: "আপনারা কাঁদছেন অথচ আপনাদের কাছে আবদুল গনি ইবন সাঈদ রয়েছেন, আর তাঁর মাঝেই রয়েছে যোগ্য উত্তরসূরি (৫) [অর্থাৎ তিনি আমার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার যোগ্য]।" উল্লেখ্য, তিনি তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রদের অন্যতম ছিলেন। এরপর তিনি সেখান থেকে তিন্নীস দ্বীপে সফর করেন যাতে সেখানে তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ ইবন আলী ইবনুল হাসান আন-নাক্কাশের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করতে পারেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করতে পারেন (৬)।
*
তাঁর উস্তাদগণ:তাঁর উস্তাদগণই মূলত এই গবেষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু, তবে এই স্থানে আমি তাঁদের সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করতে পারি; আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।
প্রথম বিষয়: তাঁদের সংখ্যার ব্যাপারে যা বলা হয়েছে তার বিবরণ।
ডক্টর আর-রুহায়লি বলেন: এটি বর্ণিত হয়নি যে তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর উস্তাদদের কোনো 'মু'জাম' (নামের তালিকা সম্বলিত গ্রন্থ) সংকলন করেছেন। তবে আমি যদি তাঁদের সংখ্যার একটি অনুমান করতে চাই, তবে আমার মতে তাঁদের সংখ্যা এক হাজারের কম হবে না (৭)।
ডক্টর মুওয়াফফাক ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবদুল কাদির বলেন: আমার কাছে তাঁর সেই সকল উস্তাদদের নামের একটি তালিকা রয়েছে যাদের থেকে তিনি 'আস-সুনান', 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' ও 'আল-ইলাল'-এ বর্ণনা করেছেন অথবা খতিব 'তারিখু বাগদাদ'-এ বর্ণানুক্রমিকভাবে তাঁদের নাম উল্লেখ করেছেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা, ভবিষ্যতে এটি 'মাশয়াখাতুদ দারাকুতনি' নামে প্রকাশ করার নিয়ত রয়েছে (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وقال الدكتور محفوظ الرّحمن السلفي: سمع أبو الحسن الدارقطني من خلق كثير لا يحصون، والمشايخ الّذي روى عنهم في كتاب "العلل" يربو عددهم على مائتن (1).
وقال الدكتور عبد الله بن محمّد بن حسن دَمْفُو: وقد أحسن الدكتور محفوظ الرّحمن السلفي فأحصى شيوخ الدارقطني الذين روى عنهم في "كتاب العلل" ووضع فهرسًا لهم، مع ذكر عدد النصوص الّتي رواها كلّ واحدٍ منهم، وأرقام الأسئلة، أو الأجزاء والأوراق، وبلغ عددهم ثلاثة عشر ومائتي راوٍ، وجعل هذا الفهرس في آخر رسالته للدكتوراه (2).
وقال الدكتور دَمْفُو أيضًا: وقد أورد له الخطيب البغدادي في "تاريخه" تسعة عشر شيخًا، وأجمل الآخرين بقوله: وخلقًا كثيرًا من هذه الطبقة ومن بعدهم.
وكذلك فعل الذهبي في "سير أعلام النبلاء" لكنه زاد عليهم ثمانية عشر راويًا (3).
وقال الدكتور الرحيلي: وقد تتبعت شيوخ الذين روى عنهم في كتاب "السنن" ورتبتهم على حروف المعجم سأذكرهم قريبًا (4).
وقال أيضًا: وحصرت شيوخه في "السنن" وفهرست أسمائهم على حروف المعجم، فبلغوا واحدًا وتسعين ومائتي شخص (5).
قال مقيده - عفا الله عنه -: وقد ذكرهم فبلغوا حسب ترقيمه لهم تسعين ومائتي راوٍ. ولي على ما ذكر عدَّة ملاحظات من أهمها ما يلي:
أولها: أنّه جعل إبراهيم بنيزيد الخوزي، المتوفى سنة إحدى وخمسن ومائة؛ كما في "التقريب" شيخًا للدارقطني وبين وفاته وولادة الدارقطني (155) سنة، وكذا أحمد بن
--------------------------------------------
ডক্টর মাহফুজুর রহমান আস-সালাফী বলেন: আবুল হাসান আদ-দারা কুতনী অসংখ্য মানুষের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন, আর 'আল-ইলাল' গ্রন্থে তিনি যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন সেই সব শাইখদের সংখ্যা দুইশতেরও বেশি (১)।
ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন হাসান দামফু বলেন: ডক্টর মাহফুজুর রহমান আস-সালাফী চমৎকার কাজ করেছেন, তিনি 'কিতাবুল ইলাল'-এ আদ-দারা কুতনী যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন এমন শাইখদের গণনা করেছেন এবং তাদের একটি নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছেন। সেখানে তিনি প্রত্যেকের বর্ণিত উদ্ধৃতিসমূহের সংখ্যা, প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর অথবা খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছেন। তাদের সংখ্যা দুইশ তেরোজন বর্ণনাকারীতে পৌঁছেছে। তিনি এই নির্ঘণ্টটি তাঁর ডক্টরেট থিসিসের শেষে যুক্ত করেছেন (২)।
ডক্টর দামফু আরও বলেন: আল-খতীব আল-বাগদাদী তাঁর 'তারিখ'-এ তাঁর (দারা কুতনীর) উনিশজন শাইখের উল্লেখ করেছেন এবং অন্যদের ব্যাপারে সংক্ষেপে বলেছেন: "এই স্তরের এবং তাদের পরবর্তী স্তরের আরও অসংখ্য মানুষ"।
ইমাম আয-যাহাবীও 'সিয়ারু আলামিন নুবালা'-তে অনুরূপ করেছেন, তবে তিনি তাদের ওপর আরও আঠারোজন বর্ণনাকারীকে যুক্ত করেছেন (৩)।
ডক্টর আর-রুহাইলি বলেন: আমি 'আস-সুনান' গ্রন্থে তিনি যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন এমন শাইখদের অনুসন্ধান করেছি এবং তাদেরকে বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেছি, আমি শীঘ্রই তাদের কথা উল্লেখ করব (৪)।
তিনি আরও বলেন: আমি 'আস-সুনান'-এ তাঁর শাইখদের সীমাবদ্ধ করেছি এবং বর্ণানুক্রমিকভাবে তাঁদের নামের একটি তালিকা তৈরি করেছি, ফলে তাঁদের সংখ্যা দুইশ একানব্বই জনে পৌঁছেছে (৫)।
এর সংকলক (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন) বলেন: তিনি তাঁদের উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর নম্বর অনুযায়ী তাঁদের সংখ্যা দুইশ নব্বই জন বর্ণনাকারী হয়েছে। তিনি যা উল্লেখ করেছেন সে বিষয়ে আমার বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিম্নরূপ:
প্রথমত: তিনি ইবরাহীম বিন ইয়াযিদ আল-খুযীকে আদ-দারা কুতনীর শাইখ হিসেবে গণ্য করেছেন, যিনি (তাকরীবুত তাহযীব অনুযায়ী) ১৫১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন; অথচ তাঁর মৃত্যু এবং আদ-দারা কুতনীর জন্মের মধ্যে ব্যবধান হলো (১৫৫) বছর। অনুরূপভাবে আহমাদ বিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
سنان، المتوفى سنة تسع وخمسين ومائتين كما في "التقريب" فبين وفاته وولادة الدارقطني تسعة وأربعون، هذا مع أنّ الدارقطني إنّما يروي عنه بواسطة، انظر "السنن" (1/ 105، 217) وكذا الحارث بن مسكين، المتوفى سنة خمسين ومائتين كما في "التقريب" فبين وفاته وولادة الدارقطني ستٍّ وخمسين سنة، وكذا حسين بن عبد الله بن ضُمير، المتوفى سنة ثمانون ومائة تقريبًا كما في "تاريخ الإسلام " (83/ 11) فبين وفاته وولادة الدارقطني ستٍ وعشرين ومائة، أضف إلى هذا أنّ الدارقطني إنّما يروي عنه بواسطة ثلاثة من الرواة، انظر "السنن" (2/ 218) وكذا محمّد بن عبد الله الخَلَنْجي، ترجمه الحافظ في "التقريب" وقال: من كبار العاشرة، وكبار العاشرة كما في مقدمة "التقريب" هم من مات بعد المائتين، وتقدم أنّ الدارقطني إنّما ولد بعد الثلاثمائة، أضف إلى هذا أنّ الدارقطني إنّما روى عنه بواسطة رجلين. انظر "السنن" (4/ 193)، و"إتحاف المهرة" (9/ 183/ 1/ 84/ 10) والله الموفق.
ثانيًا: أنّه وقع له تكرار لتسعة عشر راويًا وإليك أرقامهم حسب ترقيمه (26، 50، 51، 66، 96، 99، 113، 155، 158، 171، 178، 186، 194، 216، 223، 525، 231، 238، 267).
ثالثًا: أنّه قد فاته أربعة وثلاثون راويًا فلم يذكرهم في ثبته هذا الّذي بلغ عددهم على حد قوله: واحدًا وتسعين ومائتي شخص، وإليك أسماءهم ومواضعها من "السنن":
1 - أحمد بن إبراهيم بن أبي قتادة المقرئ (4/ 232).
2 - أحمد بن إسحاق بن محمّد بن الفضل الزَّيَّات (4/ 285).
3 - أحمد بن الحسن أبو حامد الهمداني (3/ 311).
4 - أحمد بن علي بن حبيش الرازي (2/ 216).
5 - أحمد بن عمرو بن جابر الرملي (1/ 269).
6 - أحمد بن محمّد بن بحر العطار (3/ 64، 78)، (4/ 263).
সিনান, যিনি 'তাকরীব' অনুযায়ী ২৫৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। সুতরাং তাঁর মৃত্যু এবং দারাকুতনীর জন্মের মাঝে ব্যবধান উনপঞ্চাশ বছর। তাছাড়া, দারাকুতনী তাঁর থেকে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বর্ণনা করেন। দেখুন 'আস-সুনান' (১/ ১০৫, ২১৭)। একইভাবে হারিস ইবনে মিসকীন, যিনি 'তাকরীব' অনুযায়ী ২৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। সুতরাং তাঁর মৃত্যু এবং দারাকুতনীর জন্মের মাঝে ব্যবধান ছাপ্পান্ন বছর। অনুরূপভাবে হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে দুমায়র, যিনি 'তারীখুল ইসলাম' (১১/ ৮৩) অনুযায়ী আনুমানিক ১৮০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। সুতরাং তাঁর মৃত্যু এবং দারাকুতনীর জন্মের মাঝে ব্যবধান একশ ছাব্বিশ বছর। এর সাথে যোগ করুন যে, দারাকুতনী তাঁর থেকে তিনজন বর্ণনাকারীর মধ্যস্থতায় বর্ণনা করেন। দেখুন 'আস-সুনান' (২/ ২১৮)। একইভাবে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খালানজি, হাফেজ (ইবনে হাজার) 'তাকরীব'-এ তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি দশম স্তরের বড়দের অন্তর্ভুক্ত। আর দশম স্তরের বড়রা হলেন তারা, যারা দুইশত হিজরির পরে মৃত্যুবরণ করেছেন, যেমনটি 'তাকরীব'-এর ভূমিকায় রয়েছে। আর পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দারাকুতনী তিনশত হিজরির পরে জন্মগ্রহণ করেছেন। এর সাথে আরও যোগ করুন যে, দারাকুতনী তাঁর থেকে দুইজন ব্যক্তির মধ্যস্থতায় বর্ণনা করেছেন। দেখুন 'আস-সুনান' (৪/ ১৯৩), এবং 'ইতহাফুল মাহারা' (৯/ ১৮৩/ ১/ ৮৪/ ১০)। আর আল্লাহই তাওফীক দাতা।
দ্বিতীয়ত: তাঁর ক্ষেত্রে উনিশজন বর্ণনাকারীর পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এবং তাঁর দেওয়া ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী তাদের নম্বরগুলো হলো: (২৬, ৫০, ৫১, ৬৬, ৯৬, ৯৯, ১১৩, ১৫৫, ১৫৮, ১৭১, ১৭৮, ১৮৬, ১৯৪, ২১৬, ২২৩, ৫২৫, ২৩১, ২৩৮, ২৬৭)।
তৃতীয়ত: তাঁর থেকে চৌত্রিশজন বর্ণনাকারী বাদ পড়েছেন যাদের তিনি তাঁর এই তালিকায় উল্লেখ করেননি, যাদের সংখ্যা তাঁর কথা অনুযায়ী ২৯১ জনে পৌঁছেছে। নিচে 'আস-সুনান' থেকে তাদের নাম এবং স্থানগুলো উল্লেখ করা হলো:
১ - আহমাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে আবি কাতাদাহ আল-মুকরি (৪/ ২৩২)।
২ - আহমাদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল ফজল আজ-জাইয়াত (৪/ ২৮৫)।
৩ - আহমাদ ইবনুল হাসান আবু হামিদ আল-হামদানি (৩/ ৩১১)।
৪ - আহমাদ ইবনে আলী ইবনে হুবাইশ আর-রাজি (২/ ২১৬)।
৫ - আহমাদ ইবনে আমর ইবনে জাবির আর-রামলি (১/ ২৬৯)।
৬ - আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বাহর আল-আত্তার (৩/ ৬৪, ৭৮), (৪/ ২৬৩)।
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
7 - أحمد بن محمّد بن عثمان القطان (3/ 287).
8 - أحمد بن محمّد بن علي الديباجي (2/ 143).
9 - أحمد بن محمّد بن موسى بن أبي حامد، أبو بكر (1/ 310)، (2/ 171).
10 - أسامة بن محمّد بن مسعود (3/ 208).
11 - سهل بن إسماعيل القاضي (1/ 308).
12 - عبد الرّحمن بن الحسن الهمذاني، القاضي (3/ 220).
13 - عبد الرّحمن بن سمانا (2/ 218).
14 - عبد الله بن إبراهيم الجرجاني (3/ 279).
15 - عبد الله بن أحمد بن إسحاق المصري (4/ 170).
16 - عبد الله بن إسحاق بن إبراهيم البغوي (4/ 131).
17 - عبد الله بن محمّد بن إسحاق بن يزيد بن نصر بن مهران المروزي. (2/ 141).
18 - عبد الله بن محمّد بن سعيد المقرئ (3/ 195)، (4/ 74).
19 - عثمان بن علي الصَّيدلُّاني (4/ 220).
20 - علي بن الحسن السواق (2/ 153).
21 - علي بن عبد الرّحمن بن عيسى أبو الحسن الكاتب (1/ 355).
22 - عمر بن أحمد بن محمّد المعدل (1/ 354).
23 - عمر بن محمّد بن علي الصيرفي (3/ 315).
24 - محمّد بن إبراهيم أبو أحمد الجرجاني (4/ 17).
25 - محمّد بن أحمد بن هارون العسكري (4/ 294).
26 - محمّد بن أحمد بن يوسف بن يزيد، أبو بكر الكوفي (4/ 7).
27 - محمّد بن العباس بن نجيح، أبو بكر البزاز (3/ 118).
৭ - আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন উসমান আল-কাত্তান (৩/ ২৮৭)।
৮ - আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আদ-দীबाजी (২/ ১৪৩)।
৯ - আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুসা বিন আবি হামিদ, আবু বকর (১/ ৩১০), (২/ ১৭১)।
১০ - উসামা বিন মুহাম্মাদ বিন মাসউদ (৩/ ২০৮)।
১১ - সাহল বিন ইসমাইল আল-কাদি (১/ ৩০৮)।
১২ - আব্দুর রহমান বিন আল-হাসান আল-হামাদানি, আল-কাদি (৩/ ২২০)।
১৩ - আব্দুর রহমান বিন সামানা (২/ ২১৮)।
১৪ - আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-জুরজানি (৩/ ২৭৯)।
১৫ - আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন ইসহাক আল-মিসরি (৪/ ১৭০)।
১৬ - আব্দুল্লাহ বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-বাগাওয়ি (৪/ ১৩১)।
১৭ - আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন ইয়াজিদ বিন নাসর বিন মিহরান আল-মারওয়াজি। (২/ ১৪১)।
১৮ - আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ আল-মুকরি (৩/ ১৯৫), (৪/ ৭৪)।
১৯ - উসমান বিন আলী আস-সাইদালানি (৪/ ২২০)।
২০ - আলী বিন আল-হাসান আস-সাওয়াক (২/ ১৫৩)।
২১ - আলী বিন আব্দুর রহমান বিন ঈসা আবুল হাসান আল-কাতিব (১/ ৩৫৫)।
২২ - উমর বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মুয়াদ্দাল (১/ ৩৫৪)।
২৩ - উমর বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আস-সাইরাফি (৩/ ৩১৫)।
২৪ - মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম আবু আহমাদ আল-জুরজানি (৪/ ১৭)।
২৫ - মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হারুন আল-আসকারি (৪/ ২৯৪)।
২৬ - মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন ইউসুফ বিন ইয়াজিদ, আবু বকর আল-কুফি (৪/ ৭)।
২৭ - মুহাম্মাদ বিন আল-আব্বাস বিন নাজিহ, আবু বকর আল-বাজ্জাজ (৩/ ১১৮)।
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
28 - محمّد بن عبد الله بن الحسن، أبو بكر العلّاَّف (3/ 225).
29 - محمّد بن عبد الله بن موسى البزاز (3/ 119).
30 - محمّد بن عبيد الله بن طاهر بن يحيى بن الحسن العلّوي، مسَلَّم (1/ 308).
31 - محمّد بن علي بن جعفر العطَّار (3/ 137).
32 - هبة الله بن جعفر المقرئ (4/ 220).
33 - يحيى بن عبد الله العطار (2/ 143)، (4/ 121).
34 - يعقوب بن محمّد بن عبد الوهّاب، أبو عيسى الدوري (3/ 277).
الفائدةُ الثّانية: فيما يتعلَّق بالمترجِمِين لهم.
سبق أنّ الإمام الدارقطني - رحمه الله تعالى- لم يذكر أنّه صنف معجمًا لشيوخه، ولكن قد اهتم بجمعهم طائفة من العلماء والباحثين، فمنهم من ذكرهم ضمن دراسة علمية تتعلّق بالدارقطني، أو ببعض كتبه، ومنهم من أفردهم بالتصنيف، فمن هؤلاء:
(1) الحافظ أبي الحسن علي بن محمّد بن عبد الملك بن القطان الفاسي، ت 628 هـ.
فقد ذكر العلّامة ابن عبد الملك المراكشي في كتابه "الذيل والتكملة" (1/ 8/ 167) قائمة طويلة بكتب ابن القطان، وذكر منها "شيوخ الدارقطني" مجلد وسط (1).
(2) الحافظ أبو عبد الله محمّد بن يحيى بن الموَّاق القرطبي المراكشي، ت 642 هـ فقد ذكر ابن عبد الملك -أيضًا - في ترجمته من كتابه "الذيل والتكملة" (1/ 8/ 273) طائفة من كتبه، ومنها "شيوخ الدارقطني" انظر "تراث المغاربة" (ص 199)
ومن القسم الأوّل:
(أ) الحافظ زين الدِّين العراقي، ت 806 هـ فقد ذكر السخاوي في "الإعلان
… (2) "
--------------------------------------------
২৮ - মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবনুল হাসান, আবু বকর আল-আল্লাফ (৩/ ২২৫)।
২৯ - মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন মুসা আল-বাযযায (৩/ ১১৯)।
৩০ - মুহাম্মদ ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন তাহির ইবন ইয়াহইয়া ইবনুল হাসান আল-আলাভি, মুসাল্লাম (১/ ৩০৮)।
৩১ - মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন জাফর আল-আত্তার (৩/ ১৩৭)।
৩২ - হিবাতুল্লাহ ইবন জাফর আল-মুকরি (৪/ ২২০)।
৩৩ - ইয়াহইয়া ইবন আবদুল্লাহ আল-আত্তার (২/ ১৪৩), (৪/ ১২১)।
৩৪ - ইয়াকুব ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুল ওয়াহহাব, আবু ঈসা আদ-দাওরি (৩/ ২৭৭)।
দ্বিতীয় ফায়দা: তাঁদের জীবনীকারদের প্রসঙ্গে।
পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম দারাকুতনী - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন - তাঁর শায়খদের (শিক্ষকগণের) কোনো সংকলন বা মু'জাম রচনা করার কথা উল্লেখ করেননি। তবে একদল আলেম ও গবেষক তাঁদের শায়খদের তথ্য সংগ্রহে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দারাকুতনী সংক্রান্ত কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা তাঁর কোনো গ্রন্থের আলোচনায় তাঁদের কথা উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ কেউ তাঁদের নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
(১) হাফেজ আবুল হাসান আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আবদুল মালিক ইবনুল কাত্তান আল-ফাসি, মৃত্যু ৬২৮ হি.।
আল্লামা ইবন আবদুল মালিক আল-মাররাকুশি তাঁর "আয-যাইল ওয়াত তাকমিলা" (১/ ৮/ ১৬৭) গ্রন্থে ইবনুল কাত্তানের বইসমূহের একটি দীর্ঘ তালিকা উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে মাঝারি এক খণ্ডে "শুইউখ আদ-দারাকুতনী" (দারাকুতনীর শায়খগণ) গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন (১)।
(২) হাফেজ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবনুল মাওয়াক আল-কুরতুবি আল-মাররাকুশি, মৃত্যু ৬৪২ হি.। ইবন আবদুল মালিক তাঁর "আয-যাইল ওয়াত তাকমিলা" (১/ ৮/ ২৭৩) গ্রন্থে তাঁর জীবনীতেও একদল গ্রন্থের তালিকা দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে "শুইউখ আদ-দারাকুতনী"। দেখুন "তুরাতুল মাগারিবা" (পৃ. ১৯৯)।
আর প্রথম প্রকারের মধ্য থেকে:
(ক) হাফেজ যাইনুদ্দীন আল-ইরাকি, মৃত্যু ৮০৬ হি.। সাখাভী "আল-ই'লান... (২)" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
أنّه أفرد رجال الدارقطني بتأليف.
(ب) الحافظ شهاب الدِّين ابن حجر العسقلاني ت 852 هـ فقد ذكر السخاوي في كتابه "الجواهر والدرر" (2/ 683) أنّ شيخه الحافظ كان قد شرع في كتابة تراجم الرجال كتب "إتحاف المهرة " ممّن لم يذكر في "تهذيب الكمال" وكتب منه جملة، ثمّ فتر عزمه عنه. قال السخاوي: ولو كَمُل لجاء في خمسة مجلدات.
(ج) ومنهم شيخنا علامة اليمن أبو عبد الرّحمن مقبل بن هادي الوادعي - رحمه الله تعالى- ت 1422هـ. فقد كان - رحمه الله تعالى- يحز في صدره ما يواجهه الكثير من الباحثين من صعوبة وتعسر في البحث عن رجال الكتب النازلة ككتب الحاكم، والدارقطني وغيرهما، أو رجال الكتب العالية الذين ليسوا في "تهذيب التهذيب" فقام رحمه الله بحل بعض هذه المشكلات الّتي تواجه الكثير من طلاب العلم، فترجم تراجم مختصرة لرجال الحاكم ث مبيِّنًا بذلك ومقربًا للباحثين أنّ هذا الشّيخ أو الراوي مترجم فيتوسع حينذاك الباحث في ترجمة هذا الراوي، ثمّ يحكم عليه بما يستحق، ومن فضل الله عليَّ ومنَّته أني كنت ممّن شارك في هذا الكتاب وقد استفدت من شيخنا كثيرًا.
ثمّ قام هو وبعض إخواننا الباحثين من طلابه بتراجم مختصرة أيضًا لرجال الدارقطني الذين ليسوا من رجال "التهذيب" ولا من "رجال الحاكم" ومكانة شيخنا في هذا الميدان مكانة سامية، أصلها ثابت وفرعها في السَّماء، فقد حارٍّ في هذا الفن قصب السبق، وفاز فيه بالقدح المعلى، وجاوز الأقران، وأشارت إليه أكف المعالي بالبنان، وتبوَّأ فيه مكانًا عليًّا، وقد كان آية باقية ناطقة بأنّه أعجوبة في سعة حفظه لهم، ووفرة معرفته بأحوالهم، ونفاذ الهمة في البحث عنهم والتحقيق، وليس هذا الكلام مبنيًّا على حسن الظن والتخرصات والحدس والتخمين والرجم بالغيب، ولكنها الحقيقة والواقع الحق (1)، ولقد صدق الشاعر في مرثيته الجميلة حين قال معبرًا عن مدى إعجابه في هذا الشأن:
--------------------------------------------
তিনি দারাকুতনীর বর্ণনাকারীদের (রিজাল) ওপর একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন।
(খ) হাফেজ শিহাব উদ্দিন ইবনে হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু ৮৫২ হিজরী): সাখাভী তাঁর 'আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার' (২/৬৮৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর উস্তাদ হাফেজ (ইবনে হাজার) 'ইতিহাফুল মাহারা' গ্রন্থের সেইসব বর্ণনাকারীদের জীবনী রচনা করতে শুরু করেছিলেন যাদের নাম 'তাহযিবুল কামাল'-এ উল্লেখ করা হয়নি। তিনি এর একটি অংশ লিখেছিলেন, তবে পরে তাঁর সংকল্পে শৈথিল্য আসে। সাখাভী বলেন: এটি পূর্ণাঙ্গ হলে পাঁচ খণ্ডে সমাপ্ত হতো।
(গ) তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আমাদের শাইখ, ইয়েমেনের আল্লামা আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদী আল-ওয়াদিয়ী (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা), মৃত্যু ১৪২২ হিজরী। তিনি (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা) মনে মনে খুব পীড়িত বোধ করতেন যখন দেখতেন অনেক গবেষক হাকীম, দারাকুতনী ও অন্যদের পরবর্তী স্তরের (নাযিল) গ্রন্থগুলোর বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে অথবা সেইসব উচ্চ স্তরের (আলি) গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের অনুসন্ধানে কষ্ট ও কাঠিন্যের সম্মুখীন হচ্ছেন যারা 'তাহযিবুত তাহযিব'-এ অন্তর্ভুক্ত নন। তাই তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ইলম অন্বেষণকারীদের সম্মুখীন হওয়া এই কিছু সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হন। তিনি ইমাম হাকীম-এর বর্ণনাকারীদের সংক্ষিপ্ত জীবনী সংকলন করেন, যার মাধ্যমে তিনি গবেষকদের জন্য এটা স্পষ্ট ও সহজ করে দেন যে, অমুক শাইখ বা বর্ণনাকারীর জীবনী এখানে বিদ্যমান। ফলে গবেষক তখন সেই বর্ণনাকারীর জীবনী বিস্তারিত অধ্যয়ন করতে পারেন এবং তার ওপর উপযুক্ত হুকুম প্রদান করতে পারেন। এটা আমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দান যে, আমিও এই গ্রন্থ সংকলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একজন ছিলাম এবং আমি আমাদের শাইখের নিকট থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি।
অতঃপর তিনি এবং তাঁর ছাত্র গবেষক ভাইদের কেউ কেউ মিলে দারাকুতনীর সেইসব বর্ণনাকারীদেরও সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রস্তুত করেন যারা 'তাহযিব'-এর বর্ণনাকারী নন এবং 'হাকীম'-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্তও নন। এই ময়দানে আমাদের শাইখের মর্যাদা অত্যন্ত সুউচ্চ; এর মূল সুদৃঢ় এবং শাখা আকাশে বিস্তৃত। তিনি এই বিদ্যায় শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে পৌঁছেছেন, সর্বোচ্চ গৌরব অর্জন করেছেন এবং সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেছেন। শ্রেষ্ঠত্বের হাতগুলো তাঁর দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে এবং তিনি এতে উচ্চ স্থান লাভ করেছেন। তিনি এক চিরস্থায়ী ও জীবন্ত নিদর্শন ছিলেন, যা তাঁর বর্ণনাকারীদের স্মরণে রাখার বিস্ময়কর ক্ষমতা, তাদের অবস্থা সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান এবং তাদের সম্পর্কে গবেষণা ও যাচাই-বাছাইয়ে তাঁর সুদৃঢ় সংকল্পের সাক্ষ্য দেয়। এই বক্তব্য কোনো সুধারণা, অনুমান, আন্দাজ বা অদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং এটিই বাস্তবতা এবং ধ্রুব সত্য (১)। কবি তাঁর সুন্দর শোকগাথায় সত্যই বলেছেন যখন তিনি এই বিষয়ে তাঁর গভীর বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
يغربل أقوال الرسول بحنكة
… وحزمٍ حصيفٍ تتقيه الرواسب
إذا قال {بِسْمِ اللهِ} في بحث مسند
… تنحت عن الإسناد تلك الشوائب
يعدد أسماء الرجال كأنّهم
… بنو عمه أو هم إليه الأقارب
فرحمه الله رحمة الأبرار، وأنزله منازل الشهداء الأخيار.
وكتاب "رجال الدارقطني" لا يخفى على اللَّبيب أنّه أجود ما كتب في بابه، إِلَّا أنّ الدكتور الرحيلي -حفظه الله- قال في كتابه (1): وعلى الكتاب بعض المآخذ - كما سبقت الإشارة إليه في مقدمة هذا البحث - وأهمها: أنّه يعزو جميع الأخطاء الواقعة في السنن المطبوعة الّتي استدركها إلى الإمام الدارقطني وهذا ليس بصحيح، وماذا على الإمام الدارقطني من أخطاء النُّسَّاخ. اهـ.
قال مقيده- عفا الله عنه -: وفيما ذكر الدكتور- وفَّقه الله- نظر بين فإن عبارة شيخنا رحمه الله لا تدل على ما ذكره البتَّة، وهاك نصّ عبارة الشّيخ من آخر كتابه "تصويب أخطاء الجزء الأوّل من السنن"، و"تصويب أخطاء الجزء الثّاني من السنن"، و"تصويب أخطاء الجزء الثّالث من السنن"، و"تصويب أخطاء الجزء الرّابع من السنن (2) ". وهذه عبارات واضحات في رد ما فهمه الدكتور- وفَّقه الله- فالشيخ لم ينسب في هذه العبارات إلى الدارقطني أي خطأ وإنّما قال: تصويب أخطاء الجزء كذا وكذا
… إلخ أي تصويب الأخطاء الواقعة من الطباعة، أو من النُّسَّاخ، وفي مقدمة الكتاب (3) ما يرشد إلى ذلك فإن فيها ما نصه:
… إذا ذكر الرَّجل في "السنن" بغير ما هو مترجم به أو مصَحَّفًا فتتضمن الإحالة إصلاح التصحيف قدر الإمكان
… إلخ والله المستعان.
وكما سبق أنّه لا يخفى على ذي لب قدر ومكانة شيخنا وكتابه، وأنّه من المفيد جدًّا
--------------------------------------------
তিনি প্রজ্ঞার সাথে রাসুলের বাণীসমূহকে যাচাই-বাছাই করেন
… এবং এমন বিচক্ষণ দৃঢ়তার সাথে যা থেকে ভুলভ্রান্তির তলানিগুলো দূরে থাকে।
যখন তিনি মুসনাদ গবেষণায় {বিসমিল্লাহ} বলেন
… তখন সনদ থেকে সেই কলুষতাগুলো সরে যায়।
তিনি বর্ণনাকারীদের নাম এমনভাবে গণনা করেন যেন তারা
… তাঁর চাচার ছেলে বা তাঁর নিকটাত্মীয়।
সুতরাং আল্লাহ তাঁকে নেককারদের মতো রহমত দান করুন এবং তাঁকে উত্তম শহীদদের মর্যাদায় আসীন করুন।
এবং "রিজালুদ দারা কুতনী" গ্রন্থটি যে তার বিষয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম লেখা, তা কোনো বুদ্ধিমানের কাছে গোপন নয়; তবে ডক্টর আল-রুহাইলি -আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন- তাঁর বইয়ে (১) বলেছেন: এবং বইটির ওপর কিছু আপত্তি রয়েছে - যেমনটি এই গবেষণার ভূমিকায় আগে উল্লেখ করা হয়েছে - এবং সেগুলোর মধ্যে প্রধান হলো: তিনি মুদ্রিত সুনান গ্রন্থে ঘটা সমস্ত ভুল যা তিনি সংশোধন করেছেন, সেগুলোকে ইমাম দারা কুতনীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, অথচ এটি সঠিক নয়। পাণ্ডুলিপি লেখকদের ভুলের দায় ইমাম দারা কুতনীর ওপর কেন পড়বে? (সমাপ্ত)।
এর সংকলক -আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন- বলেন: ডক্টর যা উল্লেখ করেছেন -আল্লাহ তাঁকে তাওফীক দিন- তাতে স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ রয়েছে; কেননা আমাদের শাইখের (রহিমাহুল্লাহ) বক্তব্য তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা বিন্দুমাত্র নির্দেশ করে না। আর এই তো শাইখের বক্তব্যের পাঠ যা তাঁর বই "সুনানের প্রথম খণ্ডের ভুলসমূহের সংশোধন", "সুনানের দ্বিতীয় খণ্ডের ভুলসমূহের সংশোধন", "সুনানের তৃতীয় খণ্ডের ভুলসমূহের সংশোধন" এবং "সুনানের চতুর্থ খণ্ডের ভুলসমূহের সংশোধন (২)" এর শেষে রয়েছে। আর এগুলো ডক্টর যা বুঝেছেন -আল্লাহ তাঁকে তাওফীক দিন- তা খণ্ডন করার ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য। শাইখ এই বাক্যগুলোতে দারা কুতনীর দিকে কোনো ভুল সম্বন্ধ করেননি; বরং তিনি বলেছেন: অমুক অমুক খণ্ডের ভুলসমূহের সংশোধন... ইত্যাদি। অর্থাৎ মুদ্রণজনিত বা পাণ্ডুলিপি লেখকদের পক্ষ থেকে ঘটা ভুলসমূহের সংশোধন। আর বইয়ের ভূমিকায় (৩) এমন কিছু রয়েছে যা সেই দিকেই পথপ্রদর্শন করে, কেননা তাতে এই পাঠ রয়েছে: … যদি "সুনান" গ্রন্থে কোনো ব্যক্তির নাম তাঁর পরিচিতি ব্যতিরেকে ভিন্নভাবে বা বিকৃতভাবে উল্লেখ করা হয়, তবে উদ্ধৃতিটি যথাসম্ভব সেই বিকৃতি সংশোধনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করবে... ইত্যাদি। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়।
এবং যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, কোনো বুদ্ধিমানের কাছে আমাদের শাইখের মর্যাদা ও অবস্থান এবং তাঁর কিতাব সম্পর্কে কোনো সংশয় নেই, আর এটি অত্যন্ত উপকারী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
للباحثين عن تراجم من ليس في "تهذيب التهذيب" فلقد استفدنا كثيرًا من علوم هذا الشّيخ الهمام، ومن هذا السير الّذي سار عليه من تقريب رواة السُّنَّة، وخاصة من ليس منهم في "تهذيب التهذيب" الّذي تتقاعس العزائم وتضعف الهمم، وبالذات في مثل هذه الأزمان عن البحث عن أمثال هؤلاء الرواة، لا سيما من كان منهم من رجال الكتب النازلة، فكم من راوٍ قال في عدد من الباحثين والدكاترة: لم أجد له ترجمة، أو: لم أعرفه، أو: يُبحث عنه، ونحو ذلك من العبارات، فجزى الله شيخنا خيرًا على ما قام به وبذله من جهدٍ عظيم في هذا المضمار، وعنه - رحمه الله تعالى - تعلمنا شطرًا من هذه المسيرة المباركة -إنَّ شاء الله تعالى- فجزاه المولى عنا الخير ولقَّاه الحسنى، وجميع مشايخنا وأئمتنا، إِلَّا أنّ الكمال والتمام والعصمة من الزلل والخطأ والنِّسيان، لا يدعيها لنفسه أو لكتابه أحد من الإنس والجان، وقد قال الإمام الشّافعيّ - رحمه الله تعالى-: لقد ألَّفت هذه الكتب، ولم آل جهدًا فيها، ولا بد أنّ يوجد فيها الخطأ لأنّ الله تعالى يقول: {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} (1) [النِّساء: 82]، وفي هذه العجالة أنبه - بمشيئة الله تعالى- على بعض ما قد يكون تتميمًا لكتاب شيخنا، أو تبيينًا لما قد يكون مغلقًا أو غامضًا فيه، وليس هذا تزهيدًا وتنقُّصًا من قدر الكتاب ولا كاتبه، قال الشّيخ حماد الأنصاري - رحمه الله تعالى-: كون العالم يُتعقب في علمه من أهل العلم، لا يدلُّ على أنّه ليس بعالم (2). فأقول مستعينًا بالله عز وجل:
إنَّ لي مع هذا الكتاب الفذ عدَّة وقفات منها:
الوقفة الأولى: في ذكر تراجم سقطت من الكتاب وهي قليلة وليست كثيرة، وإليكها:
(1) عبد الله بن أحمد بن بكر. السنن (4/ 304).
(2) عثمان بن علي الصَّيدلاني. السنن (4/ 220).
--------------------------------------------
যারা 'তহজীবুত তহজীব' গ্রন্থে নেই এমন ব্যক্তিদের জীবনী যারা অনুসন্ধান করছেন, তাদের জন্য আমরা এই মহান শাইখের জ্ঞান থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি এবং সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে তিনি যে পথ অনুসরণ করেছেন তা থেকেও। বিশেষ করে যারা 'তহজীবুত তহজীব'-এ নেই, যাদের সম্পর্কে বর্তমান সময়ে অনুসন্ধান করতে সংকল্প শিথিল হয়ে যায় এবং হিম্মত কমে যায়, বিশেষত যারা নিম্ন স্তরের কিতাবসমূহের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। কত বর্ণনাকারী সম্পর্কে অনেক গবেষক ও ডক্টরেট ডিগ্রিধারী বলেন: "আমি তার জীবনী খুঁজে পাইনি", অথবা: "তাকে চিনতে পারিনি", অথবা: "তার ব্যাপারে অনুসন্ধান প্রয়োজন" ইত্যাদি। সুতরাং আমাদের শাইখ এই অঙ্গনে যে মহান প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, আল্লাহ তাকে তার উত্তম প্রতিদান দিন। তাঁর থেকে—আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন—আমরা এই বরকতময় সফরের একটি অংশ শিখেছি—ইনশাআল্লাহ তায়ালা। মহান রব আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁকে ও আমাদের সকল শাইখ ও ইমামদের কল্যাণের সাথে সাক্ষাৎ করান। তবে পূর্ণতা এবং ভুল-ত্রুটি ও বিস্মৃতি থেকে মুক্ত থাকার দাবি মানুষ বা জিনের মধ্য থেকে কেউ নিজের জন্য বা নিজের কিতাবের জন্য করে না। ইমাম শাফিঈ—আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন—বলেছেন: "আমি এই কিতাবগুলো রচনা করেছি এবং এতে কোনো প্রচেষ্টাই ত্রুটি করিনি, তবুও এতে অবশ্যই ভুল পাওয়া যাবে; কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেন: 'যদি এটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত' [আন-নিসা: ৮২]।" এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে—আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায়—আমি এমন কিছু বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যা আমাদের শাইখের কিতাবের পরিপূরক হতে পারে অথবা যা অস্পষ্ট বা জটিল রয়ে গেছে তার ব্যাখ্যা হতে পারে। এটি কিতাব বা লেখকের মর্যাদাকে খাটো করার বা অবজ্ঞা করার জন্য নয়। শাইখ হাম্মাদ আল-আনসারী—আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন—বলেছেন: "একজন আলেম তাঁর জ্ঞানের বিষয়ে অন্য আলেমদের দ্বারা পর্যালোচিত হওয়া মানে এই নয় যে তিনি আলেম নন।" অতএব, মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে আমি বলছি:
এই অনন্য কিতাবটির ব্যাপারে আমার কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
প্রথম পর্যবেক্ষণ: কিতাব থেকে বাদ পড়া কিছু জীবনী উল্লেখ করা, যা সংখ্যায় খুবই কম, আর সেগুলো হলো:
(1) আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে বকর। আস-সুনান (৪/৩০৪)।
(2) উসমান ইবনে আলী আস-সাইদালানী। আস-সুনান (৪/২২০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
(3) علي بن عبد الله بن الفضل، أبو الحسن البغدادي. السنن (4/ 295).
(4) هبة الله بن جعفر بن محمّد البغدادي. السنن (4/ 220).
الوقفة الثّانية: في ذكر تراجم فات الوقوف عليها، وقد وفقني الله في الوقوف عليها:
(1) أحمد بن محمّد بن بحر العطار، البصري.
(2) أحمد بن محمّد بن عثمان القطان.
(3) إسحاق بن إدريس بن عبد الرحيم المباركي.
(4) الحسن بن حمزة بن الحسين بن حفص الأشناني، الخثعمي.
(5) سهل بن إسماعيل القاضي.
(6) علي بن الحسين السواق. يراجع قسم التراجم.
(7) عمر بن الحسن بن عمر، القراطيسي.
(8) محمّد بن إبراهيم، أبو أحمد الجرجاني.
(9) محمّد بن أحمد بن الصلت، الأطروش. يراجع قسم التراجم.
(10) محمّد بن عمر بن أيوب، المعدَّل.
(11) يحيى بن موسى بن إسحاق الأبُلي يراجع قسم التراجم.
(12) يعقوب بن يوسف، الخلال.
الوقفة الثّالثة: في ذكر ما وقع في الكتاب، وحقه أنّ يحول إلى الكتاب الآخر "رجال الحاكم" أو ظُن أنّه أحد رجال كتاب الحاكم وليس كذلك فحقه أنّ يحول إلى "تراجم رجال الدارقطني":
(1) علي بن سالم بن مهران، أبو الحسن، الوزان.
(2) عمر بن أحمد بن علي بن عبد الرّحمن الجوهري.
(৩) আলি বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-ফাদল, আবু আল-হাসান আল-বাগদাদি। আস-সুনান (৪/ ২৯৫)।
(৪) হিবাতুল্লাহ বিন জাফর বিন মুহাম্মদ আল-বাগদাদি। আস-সুনান (৪/ ২২০)।
দ্বিতীয় বিষয়: ওই সকল জীবনী উল্লেখ করা যা পূর্বে খুঁজে পাওয়া যায়নি, আর আল্লাহ আমাকে সেগুলো খুঁজে পাওয়ার তাওফিক দান করেছেন:
(১) আহমাদ bin মুহাম্মদ বিন বাহর আল-আত্তার, আল-বাসরি।
(২) আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন উসমান আল-কাত্তান।
(৩) ইসহাক বিন ইদরিস বিন আব্দুর রাহিম আল-মুবারকি।
(৪) আল-হাসান বিন হামজাহ বিন আল-হুসাইন বিন হাফস আল-উশনানি, আল-খাসআমি।
(৫) সাহল বিন ইসমাইল আল-কাদি।
(৬) আলি বিন আল-হুসাইন আস-সাওয়াক। জীবনী বিভাগ দ্রষ্টব্য।
(৭) উমর বিন আল-হাসান বিন উমর, আল-কারাতিসি।
(৮) মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম, আবু আহমাদ আল-জুরজানি।
(৯) মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আস-সালত, আল-আত রুশ। জীবনী বিভাগ দ্রষ্টব্য।
(১০) মুহাম্মদ বিন উমর বিন আইয়ুব, আল-মুআদ্দিল।
(১১) ইয়াহইয়া বিন মুসা বিন ইসহাক আল-উবুল্লি। জীবনী বিভাগ দ্রষ্টব্য।
(১২) ইয়াকুব বিন ইউসুফ, আল-খাল্লাল।
তৃতীয় বিষয়: কিতাবটিতে যা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং যার উপযুক্ত স্থান ছিল অন্য কিতাব "রিজালুল হাকিম"-এ স্থানান্তরিত করা, অথবা ধারণা করা হয়েছিল যে তিনি ইমাম হাকিমের কিতাবের অন্যতম বর্ণনাকারী কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়, ফলে তা "তরাজিমু রিজালিদ দারাকুতনি" (দারাকুতনির বর্ণনাকারীদের জীবনী)-তে স্থানান্তরিত করাই সংগত:<
(১) আলি বিন সালিম বিন মিহরান, আবু আল-হাসান, আল-ওয়াযান।
(২) উমর বিন আহমাদ বিন আলি বিন আব্দুর রহমান আল-জাওহারি।
(খণ্ড: ১)
আদ-দালীলুল মুগনী লি-শুয়ূখিল ইমাম আবিল হাসান আদ-দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
الوقفة الرّابعة:
في ذكر ما وقع في الكتاب من عَدِّ بعض الرواة شيوخًا للدارقطني وليسوا كذلك، وإنّما منشأ ذلك التصحيف والتحريف الواقعين في النسخة المطبوعة من "السنن" فإنها مليئة بذلك، ولم يكن كتاب الحافظ "إتحاف المهرة" الّذي عالج كثيرًا من هذه التصحيفات موجودًا لدى شيخنا حين كتابة "تراجم رجال الدارقطني" وإن كان بعضه قد يكون مطبوعًا إِلَّا أنّه لم يصل إلى الشّيخ حتّى يتسنى له النظر فيه، لإصلاح ما تقدّم، والله أعلم.
(1) أحمد بن محمّد بن عثمان، القطان.
(2) محمّد بن جعفر بن إلياس بن صدقة.
الفائدةُ الثّالثة: في ذكر الشيوخ الذين روى عنهم الطبراني والدارقطني معًا:
سبق وأن ذكرنا أنّ الدارقطني ممّن بكر في حضور مجالس العلماء والسماع منهم، وأنّه بدأ كتابة الحديث وهو في سن التّاسعة من عمره؛ فلأجل هذه الهمة العالية فقد شارك الطبراني المتوفى 360 هـ والذي روى عنه بالإجازة كما سيأتي في عدة شيوخ، وهم:
(1) إبراهيم بن حماد بن إسحاق بن إسماعيل بن حماد بن زيد، الأزدي، المتوفى سنة 323 هـ.
(2) أحمد بن إسحاق بن بهلول الأنباري، المتوفى سنة 318 هـ
(3) أحمد بن عمير بن يوسف بن جوصا الدمشقي، المتوفى سنة 320 هـ
(4) أحمد بن محمّد بن زياد بن بشر البصري ابن الأعرابي، المتوفى سنة 340 هـ
(5) أحمد بن محمّد بن سعيد بن عبد الرّحمن، أبو العباس ابن عقدة، المتوفى سنة 332 هـ.
(6) إسماعيل بن العباس بن عمر بن مهران بن فيروز، الوراق، البغدادي، المتوفى سنة 323 هـ.
চতুর্থ বিরতি:
কিতাবটিতে কিছু বর্ণনাকারীকে দারাকুতনীর উস্তাদ হিসেবে গণ্য করার যে বিষয়টি ঘটেছে সে সম্পর্কে আলোচনা, যদিও তারা তেমনটি ছিলেন না। এর মূল কারণ হলো "সুনান"-এর মুদ্রিত কপিতে বিদ্যমান লিখনগত ও শব্দগত বিকৃতি, কারণ এটি এজাতীয় ত্রুটিতে পূর্ণ। হাফেজ (ইবনে হাজার)-এর কিতাব "ইতহাফুল মাহারা", যা এই ধরনের অনেক লিখনগত ভুল সংশোধন করেছে, আমাদের শায়খের কাছে "তারাজিমু রিজালিদ দারাকুতনী" লেখার সময় বিদ্যমান ছিল না। যদিও এর কিছু অংশ হয়তো মুদ্রিত হয়েছিল, কিন্তু তা শায়খের নিকট পৌঁছায়নি যাতে তিনি সেটি দেখার সুযোগ পান এবং পূর্বোক্ত বিষয়গুলো সংশোধন করতে পারেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
(১) আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উসমান, আল-কাত্তান।
(২) মুহাম্মাদ ইবনে জা’ফর ইবনে ইলিয়াস ইবনে সাদাকাহ।
তৃতীয় ফায়দা: সেইসব উস্তাদগণের আলোচনা যাদের থেকে তাবারানী এবং দারাকুতনী উভয়েই বর্ণনা করেছেন:
আমরা ইতিপূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, দারাকুতনী সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা খুব অল্প বয়সেই আলেমদের মজলিসে উপস্থিত হওয়া এবং তাদের থেকে (হাদীস) শ্রবণ করার কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি নয় বছর বয়সেই হাদীস লেখা শুরু করেন। এই উচ্চ হিম্মতের কারণে তিনি ৩৬০ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী তাবারানীর সাথে বেশ কয়েকজন উস্তাদের ক্ষেত্রে অংশীদার হয়েছেন, যার থেকে তিনি ইজাজতের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যেমনটি সামনে আসবে। তাঁরা হলেন:
(১) ইবরাহিম ইবনে হাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইসমাঈল ইবনে হাম্মাদ ইবনে যাইদ, আল-আযদি, মৃত্যু ৩২৩ হিজরী।
(২) আহমাদ ইবনে ইসহাক ইবনে বাহলুল আল-আনবারী, মৃত্যু ৩১৮ হিজরী।
(৩) আহমাদ ইবনে উমায়ের ইবনে ইউসুফ ইবনে জাওসা আদ-দিমাশকী, মৃত্যু ৩২০ হিজরী।
(৪) আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ ইবনে বিশর আল-বাসরী ইবনুল আ’রাবী, মৃত্যু ৩৪০ হিজরী।
(৫) আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান, আবু আব্বাস ইবনে উকদাহ, মৃত্যু ৩৩২ হিজরী।
(৬) ইসমাঈল ইবনুল আব্বাস ইবনে উমর ইবনে মিহরান ইবনে ফাইরুজ, আল-ওয়াররাক, আল-বাগদাদী, মৃত্যু ৩২৩ হিজরী।