(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: -)
الحذر من السحر   (خالد الجريسي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الحذر من السحر

دراسة علمية لحقيقة السحر، وواقع أهله من منظور الكتاب والسنة، مع بيان المشروع في الوقاية والعلاج

المؤلف: د خالد بن عبد الرحمن بن علي الجريسي

الناشر: مؤسسة الجريسي للتوزيع والإعلان، الرياض

عدد الصفحات: 371

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জাদুর ব্যাপারে সতর্কতা   (খালেদ আল-জুরাইসি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


বই: জাদুর ব্যাপারে সতর্কতা

জাদুর হাকিকত এবং কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে এর সাথে সংশ্লিষ্টদের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে একটি তাত্ত্বিক গবেষণা, সেই সঙ্গে জাদু প্রতিরোধ ও প্রতিকারের শরয়ি পন্থাসমূহের বর্ণনা

লেখক: ড. খালেদ বিন আব্দুর রহমান বিন আলী আল-জুরাইসি

প্রকাশক: আল-জুরাইসি ফাউন্ডেশন ফর ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং, রিয়াদ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: -)
الحذر من السحر

 

تأليف

د. خالد بن عبد الرحمن الجريسي
জাদু থেকে সতর্কতা

 

রচনায়

ড. খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরায়সী
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

الْحَمْدُ للهِ الَّذِي أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ خُبْرًا، وَنَشَرَ رَحْمَتَهُ عَلَى الْعَالَمِينَ نَشْرًا، يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ، وَيَحْكُمُ مَا يُرِيدُ؛ وَعَدَ الْمُؤْمِنِينَ، وَأَوْعَدَ الْكَافِرِينَ، وَأَضَلَّ الظَّالِمِينَ، وَأَسْبَلَ عَلَى الْعَاصِينَ سِتْرًا، سبحانه وتعالى قَدْ جَعَلَ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا، أَحْمَدُهُ جَلَّ وَعَلَا أَبْلَغَ حَمْدٍ وَأَزْكَاهُ سِرًّا وَجَهَرًا، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلهَ إِلَاّ اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ شَهَادَةً أَدَّخِرُهَا لِيَومِ الْفَصْلِ ذُخْرًا، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أَزْكَى الْوَرَى طُرًّا، اصْطَفَاهُ رَبُّهُ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ بِشَارَةً وَنُذْرًا، وَامْتَنَّ عَلَيْهِ فَشَرَحَ لَهُ صَدْرًا، وَوَضَعَ عَنْهُ وِزْرًا، وَرَفَعَ لَهُ ذِكْرًا. اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ وَبَارِكْ عَلَيْهِ، وَهُوَ الْقَائِلُ: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا» (1) ، فَصَلَاةُ رَبِّي وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ تَتْرًا، وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَتَابِعِيهِمْ، وَعَظِّمِ اللَّهُمَّ لَهُمْ أَجْرًا.

أَمَّا بَعْدُ؛

فَإِنَّ مِمَّا يَسْتَهْوِي النَّفْسَ، وَتَعْظُمُ الرَّغْبَةُ إِلَيْهِ، تَشُوُّفَهَا لِمَعْرِفَةِ الْغَيْبِ، وَمَا يَنْطَوِي عَلَيْهِ ذَلِكَ الْعَالَمُ مِنْ أَسْرَارٍ مَخْزُونَةٍ وَعُلُومٍ مَكْنُونَةٍ، وَهِيَ تَسْعَى جَاهِدَةً إِلَى تَلَمُّسِ مَعَالِمِ ذَلِكَ الْمَسْتُورِ، مَا اسْتَطَاعَتْ إِلَى ذَلِكَ سَبِيلاً، فَتَتَشَعَّبُ بِهَا الْمَسَالِكُ، تَارَةً بِالْحَدْسِ وَأُخْرَى بِالْكَهَانَةِ، وَطَوْرًا بِالْعِرَافَةِ وَالتَّنْجِيمِ، وَآخَرُ بِالسِّحْرِ وَالتَّسْخِيرِ، حَتَّى إِنَّكَ لَتَجِدُ أَنْفُسًا انْحَدَرَتْ فَاسْتَخَفَّتْ بِعُقُولِ أَهْلِهَا، فَسَوَّلَتْ لَهُمْ تَلَمُّسَ الْغَيْبِ بِقَرَاءَةِ كَفٍّ،

--------------------------------------------

(1) جزء من حديث أخرجه مسلم؛ كتاب الصلاة، باب: استحباب القول مثل قول المؤذن، برقم (384) ، عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما.
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর জ্ঞান দ্বারা সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন এবং জগতসমূহের ওপর তাঁর রহমত বিস্তৃত করেছেন। তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন এবং যা চান সেই ফয়সালাই দেন। তিনি মুমিনদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং কাফেরদের ধমক দিয়েছেন, জালিমদের পথভ্রষ্ট করেছেন এবং পাপিষ্ঠদের ওপর ক্ষমার আবরণ টেনে দিয়েছেন। তিনি পবিত্র ও মহান, তিনি সবকিছুর জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন। আমি তাঁর প্রশংসা করি—যিনি মহিয়ান ও গরীয়ান—গোপনে ও প্রকাশ্যে অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ও পবিত্রতম প্রশংসার মাধ্যমে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যা আমি বিচার দিবসের জন্য পাথেয় হিসেবে সঞ্চয় করে রাখছি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল, যিনি সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে পবিত্রতম। তাঁর রব তাঁকে জগতসমূহের জন্য রহমতস্বরূপ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে মনোনীত করেছেন। তিনি তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, ফলে তাঁর বক্ষ প্রশস্ত করেছেন, তাঁর বোঝা অপসারিত করেছেন এবং তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন। হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন; তিনিই বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন» (১), সুতরাং আমার রবের রহমত ও শান্তি নিরন্তর তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও তাঁদের অনুসারীদের (تابعين) ওপর বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ! তাঁদের পুরস্কারকে আপনি মহান করুন।

অতঃপর;

নিশ্চয়ই মানুষের মনকে যা মোহিত করে এবং যার প্রতি আগ্রহ প্রবল হয়, তা হলো অদৃশ্যের জ্ঞান অন্বেষণের আকাঙ্ক্ষা এবং সেই জগতের ভেতর লুকিয়ে থাকা রহস্য ও গোপন জ্ঞানসমূহ। সাধ্যানুযায়ী সেই লুক্কায়িত জগতের রহস্য উন্মোচনের জন্য মন আপ্রাণ চেষ্টা করে। ফলে তার সামনে বিভিন্ন পথ উন্মোচিত হয়; কখনো অনুমানের মাধ্যমে, কখনো গণকগিরির মাধ্যমে, কখনো ভাগ্যগণনা ও নক্ষত্রবিদ্যার মাধ্যমে এবং কখনো জাদুর ও বশীকরণের মাধ্যমে। এমনকি আপনি এমন কিছু আত্মাকে খুঁজে পাবেন যারা নিম্নগামী হয়েছে এবং তাদের অনুসারীদের বুদ্ধিবৃত্তিকে তুচ্ছজ্ঞান করেছে; ফলে তারা হাতের তালু গণনার মাধ্যমে অদৃশ্যের জ্ঞান তালাশ করার কুমন্ত্রণা দিয়েছে,

--------------------------------------------

(১) এটি একটি হাদিসের অংশ যা মুসলিম সংকলন করেছেন; সালাত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মুয়াজ্জিনের কথার অনুরূপ বলা মুস্তাহাব, হাদিস নং (৩৮৪), আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ৬)
أَوْ تَبْصِيرٍ بِفُنْجَانٍ، أَوْ بَلَغَتْ فِي شَطَطِهَا أَنِ ادَّعَتْ تَحَكُّمًا بِالْقَدَرِ، بِمَا وَسِعَ عِلْمُهَا مِنْ أَسْرَارٍ لِحُرُوفٍ، أَوْ خَوَاصٍّ لأَِرْقَامٍ، أَوْ أَشْكَالٍ لأَِوْفَاقٍ، أَوْ رُسُومٍ طِلَّسْمِيَّةٍ، وَخُطُوطٍ رَمْلِيَّةٍ!! فَلَمْ يَدَعْ أُوْلَئِكَ الدَّجَاجِلَةُ مَسْلَكًا فِي تِلْكَ الْغِيَاهِبِ إِلَاّ سَلَكُوهُ، ضَارِبينَ عُرْضَ الْحَائِطِ بِمُسَلَّمَاتِ الشَّرِيعَةِ، وَمُغْمِضِينَ طَرْفًا عَنْ مَغَبَّةِ مَا اشْتَرَوْهُ في دُنْيَاهُمْ قَبْلَ خِزْيِهِمْ في عُقْبَاهُمْ.

هَذَا، وَإِنَّ مِمَّا يَبْلُغُ بِهِ العَجَبُ كُلَّ مَبْلَغٍ أَنَّكَ إِذَا وَلَجْتَ بَعْضًا مِنْ دُوْرِ الكُتُبِ، أَوْ سَارَتْ بِكَ قَدَمَاكَ مُعْتَلِيَةً أَرْصِفَةَ الطُّرُقِ، لَوَجَدتَّ كَمًّا هَائِلاً مَطْبُوعًا أَوْ مَخْطُوطًا، مِمَّا سَطَّرَتْهُ أَنَامِلُ آثِمَةٌ ثُمَّ سَمَّتْهُ زُورًا وَبُهْتَانًا - عُلُومًا رُوحَانِيَّةً، وَأَسْرَارًا نُورَانِيَةً، وَدُرَرًا حِكْمِيَّةً، وَعُهُودًا سُلَيْمَانِيَّةً، إِلى آخِرِ تِلْكَ المَنْظُومَةِ الَّتِي لَا تَكَادُ تَنْقَضِي، اسْتَبْدَلَ أَهْلُهَا الَّذِي هُوَ شَرٌّ مَحْضٌ بِالَّذِي هُوَ خَيْرٌ؛ فَأَعْرَضُوا عَمَّا نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأَْمِينُ عَلَى قَلْبِ النَّبِيِّ الْكَرِيمِ صلى الله عليه وسلم، وَهُرِعُوا إِلَى زُخْرُفِ الْقَوْلِ غُرُورًا، وَمَا تُلْقِيهِ الشَّيَاطِينُ عَلَى قَلْبِ كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ، فَخَطَّتْ يَرَاعُهُمُ الْغَثَّ وَالسَّمِينَ، حَتَّى كَادَ الْمِدَادُ أَنْ يَنْفَدَ، وَالأَْنَامِلُ أَنْ تَكِلَّ. نَعَمْ، إِنَّ حَدِيثَ السِّحْرِ قَدْ مَلَأَ عَلَى النَّاسِ دُنْيَاهُمْ، وَطَبَّقَ ذِكْرُهُ الآفَاقَ، إِنَّهُ عَالمٌ يَتَتَبَّعُ أَسْرَارَهُ، وَيَهْرِفُ فِيهِ بِمَا لَا يَعْرِفُ: كُلُّ مَنْ دَبَّ، وَلَوْ كَانَ أَكْذَبَ مَنْ دَبَّ وَدَرَجَ، وَلَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ عَرَضَ مَكْتُوبَهُ عَلَى عَقْلِهِ فِي بُرْهَةِ إِنْصَافٍ لَهَبَّ عَقْلُهُ مُنْكِرًا عَلَيْهِ جُلَّ مَا كَتَبَ!

لِذَلِكَ كُلِّهِ وَجَدتُّ لِزَامًا عَلَيَّ - وَقَدْ تَحَصَّلَ لِي بَعْضُ اطِّلَاعٍ عَلَى زَيْفِ مَذْهَبِ أُولَئِكَ الْقَوْمِ - أَنْ أُبَيِّنَ لأَِهْلِ الإِسْلَامِ المَسْلَكَ الأَقْوَمَ لِمَعْرِفَةِ حَقِيقَةِ السِّحْرِ، وَغَايَةِ أَثَرِهِ، مَعَ الْمُبَالَغَةِ فِي تَحْذِيرِهِمْ مِنْ مُقَارَبَتِهِ أَوْ فَعْلِهِ، وَتَبْيِينِ جَسِيمِ خَطَرِهِ عَلَى المُجْتَمَعِ وَأَهْلِهِ، ثُمَّ أَتْبَعْتُ ذَلِكَ بِذِكْرِ
অথবা পেয়ালা দেখে ভাগ্য গণনা, কিংবা বাড়াবাড়ি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা তাকদিরের ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি করে বসেছে। তারা দাবি করে যে তাদের কাছে বর্ণের রহস্য, সংখ্যার বৈশিষ্ট্য, জ্যামিতিক নকশার প্রভাব বা তিলজিমী নকশা এবং বালুর রেখার জ্ঞান রয়েছে!! এই দাজ্জাল সদৃশ প্রতারকরা সেই অন্ধকার পথগুলোর কোনোটিই বাকি রাখেনি যাতে তারা বিচরণ করেনি। তারা শরিয়তের অকাট্য বিষয়গুলোকে তুচ্ছজ্ঞান করেছে এবং পরকালের লাঞ্ছনার আগে দুনিয়াতে তারা যা বিনিময় করেছে, তার অশুভ পরিণতির দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

এমতাবস্থায়, আশ্চর্যের বিষয় এই যে, আপনি যখন কোনো গ্রন্থাগারে প্রবেশ করবেন কিংবা রাস্তার পাশের ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাবেন, তখন দেখতে পাবেন বিপুল পরিমাণ মুদ্রিত বা হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি। এগুলো পাপিষ্ঠ আঙুলগুলো দ্বারা লিখিত হয়েছে, যা তারা মিথ্যা ও অপবাদ হিসেবে নামকরণ করেছে— আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান, নূরানি রহস্য, প্রজ্ঞাপূর্ণ মুক্তো এবং সুলায়মানি অঙ্গীকার—ইত্যাদি নামে। এই ধারার যেন শেষ নেই। এর অনুসারীরা যা উত্তম তার বদলে নিরেট মন্দকে গ্রহণ করে নিয়েছে; তারা রুহুল আমিন (জিবরাইল আ.) নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হৃদয়ে যা অবতীর্ণ করেছেন, তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং ধোঁকাবাজিমূলক চাকচিক্যময় কথা এবং শয়তান কর্তৃক প্রত্যেক পাপিষ্ঠ মিথ্যাবাদীর হৃদয়ে যা নিক্ষিপ্ত হয়, সেদিকে দ্রুত ধাবিত হয়েছে। তাদের কলম অসার ও অসংলগ্ন সব কিছু লিখে গেছে, এমনকি কালি ফুরিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং আঙুলগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। হ্যাঁ, জাদুর হাদিস মানুষের দুনিয়াকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে এবং এর চর্চা দিগন্তব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এটি এমন এক জগত যার রহস্যের পেছনে সবাই ছুটছে এবং সে বিষয়ে না বুঝেই মন্তব্য করছে; প্রতিটি বিচরণকারীই এতে যুক্ত হচ্ছে, এমনকি সে যদি বিচরণকারীদের মধ্যে চরম মিথ্যাবাদী (أكذب) হয় তবুও। যদি তাদের কেউ ইনসাফের সাথে মুহূর্তের জন্য নিজের লেখাগুলোকে বিবেকের সামনে উপস্থাপন করত, তবে তার বিবেকই তার অধিকাংশ লেখার ওপর অস্বীকৃতি (منكر) জ্ঞাপন করত!

এসব কারণেই আমি আমার ওপর এটি আবশ্যক মনে করেছি—যেহেতু ঐ সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত মতাদর্শ সম্পর্কে আমার কিছুটা জানাশোনা হয়েছে—যেন আমি মুসলিমদের সামনে জাদুর হাকিকত ও এর প্রভাবের সীমা জানার সঠিক পথটি স্পষ্ট করি। সেই সাথে তাদেরকে জাদুর নিকটবর্তী হওয়া বা তা চর্চা করা থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করি এবং সমাজ ও ব্যক্তির ওপর এর ভয়াবহ বিপদ সম্পর্কে বর্ণনা করি। অতঃপর আমি এর পরে উল্লেখ করেছি...
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ৭)
مَا دَلَّتْ عَلَيْهِ الشَّرِيعَةُ مَنْ ضَرُورَةِ تَحَصُّنِ المُؤْمِنِ مِنْ هَذَا الضُّرِّ، الَّذِي قَدْ يَتَهَدَّدُه عَلَى حِينِ غَفْلَةٍ مِنْهُ، فَإِنْ مَسَّهُ شَيْءٌ مِنْ أَثَرِهِ بَعْدَ ذَلِكَ - نَسْأَلُ اللهَ العَافِيَةَ - دَلَلْتُهُ عَلَى عِلَاجِ ذَلِكَ بِرُقًى مَشْرُوعةٍ، تَقْصِمُ ظَهْرَ السَّحَرَةِ الفَجَرَةِ، وَتُبْطِلُ كَيْدَهُمْ، وَتَقْطَعُ دَابِرَهُمْ، بَحَمْدِ اللهِ رَبِّ العَالَمِينَ.

هَذَا، وَقَدْ سَمَّيْتُ كِتَابِي - بِعَوْنِ اللهِ -[الْحِذْرُ مِنْ السِّحْرِ] ، وَجَعَلْتُهُ عَلَى فُصُولٍ سَبْعَةٍ بَعْدَ المُقَدَّمَةِ، رَتَّبْتُهَا كَالآتِي:

* الفصل الأول: … «آيَةُ السِّحْرِ» وَ «حَدِيثُ السِّحْرِ» ، وَمَبَاحِثُ فِي فِقْهِ العُلَمَاء لَهُمَا.

* الفصل الثاني: … بَيَانُ مَعْنى السِّحْرِ، وَمَا يَتَعَلَّقُ بِهِ مِنْ مُصْطَلَحَاتٍ.

* الفصل الثالث: … بَيَانُ أَنْوَاعِ السِّحْرِ، وَتَعَلُّقِهَا بِمَا يُسَمَّى عُلُومًا رُوحَانِيَّةً.

* الفصل الرابع: … السِّحْرُ؛ بِاعْتِبَارِهِ ظَاهِرَةً اجْتِمَاعِيَّةٍ.

* الفصل الخامس: … عَلَامَاتٌ يُعْرَفُ بِهَا كُلٌّ مِنَ السَّاحِرِ وَالْمَسْحُورِ.

* الفصل السادس: … بَيَانُ أَحْكَامِ السِّحْرِ وَالسَّحْرَةِ فِي الشَّرِيعَةِ الْمُطَهَّرَةِ.

* الفصل السابع: … فِي التَّوَقِّي مِنَ السِّحْرِ، وَعِلَاجُه.

* خاتمة: … وَفِيهَا خُلَاصَةٌ لِمُهِمَّاتِ نَتَائِجِ الْبَحْثِ، وَذِكْرٌ لِبَعْضِ التَّوْصِيَاتِ.

وَإِنِّي لَأَرْجُو اللهَ تَعَالَى أَنْ يَجْعَلَ عَمَلِي هَذَا خَالِصًا مِنْ أَجْلِهِ، وَأَنْ يُثِيبَنِي عَلَيْهِ مِنْ عَظِيمِ فَضْلِهِ، إِنَّهُ سُبْحَانَهُ وَلِيُّ مَنِ اسْتَعَانَ بِهِ وَالْتَجَأَ إِلَيْهِ، وَالآخِذُ بِيَدِ مَنْ عَوَّلَ عَلَيْهِ، وَحَسَبُ مَنْ تَوَكَّلَ عَلَيْهِ.

 

د. خالد بن عبد الرحمن الجريسي
শরীয়ত মুমিনকে এই অনিষ্ট থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার যে অপরিহার্যতা নির্দেশ করেছে, যা তাকে অসতর্ক অবস্থায় আক্রান্ত করতে পারে; অতঃপর যদি এর কোনো প্রভাব তাকে স্পর্শ করে - আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি - তবে আমি তাকে এর চিকিৎসার দিকনির্দেশনা দিয়েছি এমন শরীয়তসম্মত রুকইয়াহ দ্বারা, যা পাপাচারী জাদুকরদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়, তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে এবং তাদের মূল উৎপাটন করে; সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

অতঃপর, আল্লাহর সাহায্যে আমি আমার এই কিতাবটির নামকরণ করেছি - [আল-হিযরু মিনাস সিহর (জাদু থেকে সতর্কতা)], এবং ভূমিকা পরবর্তী একে সাতটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি, যা নিম্নরূপ:

* প্রথম অধ্যায়: … «জাদুর আয়াত» ও «জাদুর হাদিস», এবং এ সংক্রান্ত ওলামায়ে কেরামের ফিকহ (فقه) বিষয়ক আলোচনা।

* দ্বিতীয় অধ্যায়: … জাদুর অর্থ এবং এ সংশ্লিষ্ট পরিভাষা (مصطلحات) সমূহের বর্ণনা।

* তৃতীয় অধ্যায়: … জাদুর প্রকারভেদ এবং তথাকথিত আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের সাথে এর সম্পৃক্ততার বর্ণনা।

* চতুর্থ অধ্যায়: … সামাজিক প্রেক্ষাপটে জাদু।

* পঞ্চম অধ্যায়: … জাদুকর ও জাদুগ্রস্ত ব্যক্তিকে চেনার নিদর্শনসমূহ।

* ষষ্ঠ অধ্যায়: … পবিত্র শরীয়তে জাদু ও জাদুকরদের বিধানসমূহ (أحكام) বর্ণনা।

* সপ্তম অধ্যায়: … জাদু থেকে আত্মরক্ষা ও এর প্রতিকার প্রসঙ্গে।

* উপসংহার: … এতে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলের সারসংক্ষেপ এবং কিছু সুপারিশমালা উল্লেখ করা হয়েছে।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজটিকে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং তাঁর মহান অনুগ্রহে আমাকে এর প্রতিদান দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র, তিনি তাঁর সাহায্যপ্রার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর অভিভাবক, তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তির সহায় এবং তাঁর ওপর ভরসাকারীর জন্য যথেষ্ট।

 

ড. খালেদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরায়সী
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الفصل الأول

«آية السحر» ، و «حديث السحر» ، ومباحث في فقه العلماء لهما
প্রথম পরিচ্ছেদ

‘জাদুর আয়াত’ ও ‘জাদুর হাদিস’ এবং এ উভয় বিষয়ে আলেমগণের ফিকহ ও গবেষণাসমূহ
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأول

«آية السحر» ، و «حديث السحر» ، ومباحث في فقه العلماء لهما

تمهيد:

إن الشريعة الإسلامية الغرَّاء - وهي خاتمة الشرائع - لم تكن لِتدعَ الناسَ يخبِطون خَبْط عشواءَ في شأنٍ بالغ الخطر كالسحر، ذلك الخَطْب الجلل الذي بقي مرافقًا لمسيرة كثير من الأمم السابقة، ومزاحمًا - بغير حق - لدعوات الأنبياء _ت ورسالاتهم، بل قد بلغت الصفاقة بقوم مبلغًا ادّعَوا معه أن السحر حقيقة رسالة نبيٍ قد امتن الله عليه بمُلك لا ينبغي لأحد من بعده، ذلك نبي الله سليمان عليه السلام، الذي ادعى يهودُ - ظلمًا وعدوانًا - أنه كان ساحرًا وحسب، استمد عونًا من سحره ليوطد بذلك ملكه، ويبسط نفوذه على الجن والطير والحديد والرياح، فاستساغوا عندها تعلُّمَ السحر، بل وتعليمَه، والعملَ به، وليس ذلك بمستغرب من قوم لم يَدَعوا نقيصة إلا وألصقوها - زورًا وبهتانًا - بأنبياء الله، ليستبيحوا بعدها كل معصية يشيعونها، وكل معصية يقارفونها. لذلك كله نزلت الآيات القرآنية كالصواعق على قلوبهم؛ تحرق أباطيلهم، وتعيد الأمر إلى نصابه، وتدعوهم ليثوبوا إلى رشدهم، وليدركوا مغبَّة افترائهم، فيتداركوا ما فاتهم، فلا يُؤثِرون السحر على الحق، ولا حطامَ الدنيا على ثواب الآخرة.

نعم، لقد حَفَلت نصوص الكتاب والسنة، بالآيات والأحاديث، التي بينت منشأ علم السحر، والحِقْبة التي اشتهر فيها، والقوم الذين تولَّوا كِبْر تعلُّمِه وتعليمه والعملِ به، وكثرة افتتان الخلق إنسهم وجنهم به، كما بيَّنَتْ هذه النصوص - بحمد الله - حقيقة السحر وغاية تأثيره، وإمكان إبطاله، وأنه لا يعدو في حقيقته أن يكون: كيدًا زيفًا باطلاً وهمًا مموِّهًا، مغايرًا تمام المغايرة للحق الواقع البيِّن.
প্রথম পরিচ্ছেদ

‘জাদুর আয়াত’ ও ‘জাদুর হাদিস’ এবং এতদুভয় বিষয়ে আলেমগণের ফিকহি পর্যালোচনাসমূহ

ভূমিকা:

নিশ্চয়ই মহিমান্বিত ইসলামি শরিয়ত—যা সকল শরিয়তের পরিসমাপ্তি—মানুষকে জাদুর মতো অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়ে লক্ষ্যহীনভাবে বিভ্রান্ত অবস্থায় ছেড়ে দেয়নি। এই গুরুতর বিষয়টি পূর্ববর্তী অনেক জাতির পথচলার সঙ্গী ছিল এবং অন্যায়ভাবে নবীদের দাওয়াত ও তাঁদের রিসালাতের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। এমনকি কোনো এক কওমের ধৃষ্টতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তারা দাবি করেছিল—জাদুই হলো সেই নবীর রিসালাতের প্রকৃত রূপ, যাঁর ওপর আল্লাহ এমন এক রাজত্ব দান করে অনুগ্রহ করেছেন যা তাঁর পরে আর কারো জন্য শোভা পায় না। তিনি হলেন আল্লাহর নবী সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)। ইয়াহুদিরা—অন্যায় ও শত্রুতা বশত—দাবি করেছিল যে তিনি কেবল একজন জাদুকর ছিলেন, যিনি স্বীয় রাজত্ব সুসংহত করতে এবং জিন, পাখি, লোহা ও বাতাসের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে জাদুর সাহায্য নিতেন। ফলে তারা তখন জাদু শেখা, এমনকি তা শেখানো এবং সেই অনুযায়ী আমল করাকে বৈধ মনে করেছিল। আর এমন এক জাতির কাছ থেকে এটি বিস্ময়কর কিছু নয়, যারা আল্লাহর নবীদের ওপর মিথ্যা ও অপবাদ আরোপের মাধ্যমে এমন কোনো দোষ নেই যা তাঁদের ওপর চাপিয়ে দেয়নি, যাতে তারা পরবর্তীতে তাদের প্রচারিত প্রতিটি পাপাচার এবং কৃত প্রত্যেক গুনাহকে বৈধ করে নিতে পারে। একারণেই কোরআনের আয়াতসমূহ তাদের হৃদয়ে বজ্রের মতো অবতীর্ণ হয়েছে; তাদের অসারতা পুড়িয়ে দিতে, বিষয়গুলোকে সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে এবং তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ার জন্য আহ্বান জানাতে। যাতে তারা তাদের মিথ্যাচারের অশুভ পরিণাম উপলব্ধি করতে পারে এবং যা তারা হারিয়েছে তা সংশোধন করে নেয়। ফলে তারা যেন সত্যের ওপর জাদুকে এবং আখেরাতের সওয়াবের ওপর দুনিয়ার নশ্বর সম্পদকে অগ্রাধিকার না দেয়।

হ্যাঁ, কিতাব ও সুন্নাহর বর্ণনাগুলো এমন সব আয়াত ও হাদিস দ্বারা সমৃদ্ধ, যা জাদুর উৎপত্তি, এটি যে যুগে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল এবং যে জাতি এর শিক্ষা প্রদান ও প্রয়োগের মূল দায়ভার গ্রহণ করেছিল, সেই সাথে মানুষ ও জিন জাতির এতে ব্যাপকভাবে মোহাচ্ছন্ন হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। পাশাপাশি এই বর্ণনাগুলো—আল্লাহর প্রশংসায়—জাদুর প্রকৃত স্বরূপ, এর প্রভাবের পরিসীমা এবং এটি অকার্যকর করার সম্ভাবনাও স্পষ্ট করেছে। আর এটিও প্রতীয়মান করেছে যে, জাদুর প্রকৃত সত্তা কেবল একটি কৃত্রিম চক্রান্ত, অসার অসংলগ্নতা ও প্রতারণামূলক কল্পনা বৈ কিছু নয়, যা সুনিশ্চিত ও বাস্তব সত্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১২)
وإليك - أخي القارئ - ما يُعَدّ بحقٍّ أُمَّات النصوص في شأن السحر، والتي حُقَّ لمؤمنٍ أن يُمعِن النظر بها، ويستنبط منها كل ما يبصِّره بحقيقة السحر، وما يدعوه - في آنٍ - إلى الحذر منه، ومعاداة أهله. وقد عنيتُ بذلك نصَّيْن كريمين؛ الأول آية كريمة، والآخر حديث شريف، ولنصطلح على تسمية الآية: (آية السحر) ، والحديث: (حديث السحر) . وسأذكر كلاًّ، ثم أُتبِع ذلك ببعض ما استنبطه جهابذة أهل العلم في فقه ما يتعلق به.

‌‌أ- النص الأول: آية السحر:

قال الله تعالى: [البَقَرَة: 102] {وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُوا الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَمَا هُمْ بِضَآرِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَاّ بِإِذْنِ اللَّهِ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اُشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ *} .

‌‌أولاً: تناسب مطلع الآية مع سِباقها:

إن سِباق الآية هو قوله تعالى: [البَقَرَة: 101] {وَلَمَّا جَاءَهُمْ رَسُولٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ كِتَابَ اللَّهِ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ *} ، فما مناسبة ذلك مع آية السحر؟

إن سنة الله عز وجل جارية بأنه: ما أمات أحدٌ سُنَّةً إلا زاد في خذلانه، وذلك بأن يحيي الله على يد ذلك المُعرِض عن الحق بدعةَ ضلالةٍ، لذا فقد أعقب الله يهودَ حين نبذوا كلام الله - وهو سبحانه أَوْلى الأولياء -، أعقبهم إقبالاً على كلام الشياطين الذين هم أعدى الأعداء، فقال تعالى: [البَقَرَة: 102] {وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُوا الشَّيَاطِينُ … } .
হে পাঠক ভাই! আপনার সম্মুখে জাদুর বিষয়ে সেই মৌলিক পাঠসমূহ উপস্থাপন করা হলো, যা প্রকৃতপক্ষে জাদুর বিষয়ে মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। একজন মুমিনের জন্য এগুলোর প্রতি গভীর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা এবং তা থেকে এমন সব বিষয় অনুধাবন করা আবশ্যক যা তাকে জাদুর হাকিকত সম্পর্কে সজাগ করবে এবং একই সাথে তাকে এ থেকে সতর্ক থাকতে ও জাদুকরদের সাথে শত্রুতা পোষণ করতে উদ্বুদ্ধ করবে। আমি এখানে দুটি সম্মানিত পাঠ নির্বাচন করেছি; প্রথমটি একটি মহান আয়াত এবং অন্যটি একটি হাদিস। আসুন আমরা আয়াতটির নাম দেই: (জাদুর আয়াত) এবং হাদিসটির নাম দেই: (জাদুর হাদিস)। আমি উভয়টি উল্লেখ করব এবং এরপর এ সংক্রান্ত ফিকহ বিষয়ে বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞগণ (جهابذة) যা উদ্ভাবন করেছেন তার কিছু অংশ তুলে ধরব।

‌‌ক- প্রথম পাঠ: জাদুর আয়াত:

আল্লাহ তাআলা বলেন: [আল-বাকারা: ১০২] {আর তারা অনুসরণ করল শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বকালে যা পাঠ করত। অথচ সুলাইমান কুফরি করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল। তারা মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত এবং বাবেলে হারূত ও মারূত নামক দুই ফেরেশতার ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল তাও। তারা কাউকে তা শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না এই কথা বলত যে— ‘আমরা তো কেবল পরীক্ষা, কাজেই তুমি কুফরি করো না।’ এরপরও তারা তাদের কাছ থেকে এমন কিছু শিখত যা দিয়ে তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত। অথচ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তারা তা দিয়ে কারও কোনো ক্ষতি করতে পারত না। আর তারা এমন কিছু শিখত যা তাদের ক্ষতি করত এবং তাদের কোনো উপকারে আসত না। আর তারা নিশ্চিতভাবে জানত যে, যে কেউ তা ক্রয় করবে, আখিরাতে তার কোনো অংশ থাকবে না। যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে তা কতই না মন্দ, যদি তারা জানত!}।

‌‌প্রথমত: আয়াতের প্রারম্ভিক অংশের সাথে এর পূর্বাপর বিষয়ের সামঞ্জস্য:

আয়াতটির পূর্ববর্তী আলোচনা হলো মহান আল্লাহর বাণী: [আল-বাকারা: ১০১] {আর যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের কাছে একজন রাসুল আসলেন—যিনি তাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারী—তখন যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের একদল আল্লাহর কিতাবকে তাদের পিঠের পেছনে নিক্ষেপ করল, যেন তারা কিছুই জানে না।} তো জাদুর আয়াতের সাথে এর সামঞ্জস্য কী?

আল্লাহ তাআলার চিরাচরিত নিয়ম হলো: যখনই কেউ কোনো সুন্নাহকে বিলুপ্ত করে, আল্লাহ তার লাঞ্ছনা ও ভ্রষ্টতা বাড়িয়ে দেন। আর তা এভাবে যে, সত্য বিমুখ সেই ব্যক্তির মাধ্যমে আল্লাহ কোনো ভ্রান্ত বিদআত (بدعة) পুনরুজ্জীবিত করেন। তাই ইয়াহুদিরা যখন আল্লাহর কালামকে পরিত্যাগ করল—অথচ তিনি হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ অভিভাবক—তখন আল্লাহ তাদের শয়তানদের কথার প্রতি অনুরাগী করে দিলেন যারা হলো চরম শত্রু। আল্লাহ তাআলা বলেন: [আল-বাকারা: ১০২] {আর তারা অনুসরণ করল শয়তানরা … }।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৩)
ثانيًا: تناسب مقطع الآية - أي: ختامها - مع لَحاقها:

إن لحاق الآية هو قوله تعالى: [البَقَرَة: 103] {وَلَوْ أَنَّهُمْ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ خَيْرٌ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ *} . فما مناسبة هذا اللحاق مع آية السحر؟

إن الله تعالى لما أخبر باجتماع المذامِّ والقبائح بيهود، حيث باعوا أنفسهم ونصيبهم في الجنة بعَرَضٍ من الدنيا قليل، فآثروا السحر على ما ينفعهم من الإيمان، وأَعْلَمَ سبحانه بأن هذا الفعل الشنيع لا يُقدِم عليه من كان في قلبه مثقال ذرة من إيمان، أو كان له أدنى أثارةٍ من علم نافع، فكان علم يهود الذي بقي حبيس كتبهم، وصار سبيلاً لاستكبارهم وتفاخرهم، هذا العلم هو الذي أورثهم هذه الجرأة على اتباع الشياطين، فكان عدم العلم خير لهم من هذا العلم الذي أوردهم المهالك.

فلمّا بيّن سبحانه ما تسبب لهم ذلك العلم بالسحر من مضارّ لا يرضاها عاقل على نفسه أتبع ذلك ببيان ما في الإعراض عن تعلم السحر من منافع جمة، من علو منزلة الثواب ودوامه، نزلاً من عند الرحمن، مما تقصر عنه الأذهان ويعجز عن وصفه إنس أو جان، فقال تعالى: [البَقَرَة: 103] {وَلَوْ أَنَّهُمْ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ خَيْرٌ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ *} . فالله تعالى يرشد العلماء بأن لا خير في علم لا يمنع صاحبه عن مقارفة شر ولا يحدوه إلى نيل الخير (1) .

‌‌ثالثًا: سبب نزول آية السحر:

عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: إن الشياطين كانوا يسترقون السمع من السماء، فإذا سمع أحدهم بكلمة حقٍّ كَذَب معها ألف كِذبة، فأُشْرِبَتْها قلوب

--------------------------------------------

(1) انظر: نَظْم الدرر في تناسب الآيات والسور، للإمام برهان الدين البقاعي (1/205-210) .
দ্বিতীয়ত: আয়াতের শেষাংশ—অর্থাৎ এর সমাপ্তির—সাথে তার পরবর্তী অংশের সঙ্গতি:

আয়াতের পরবর্তী অংশ হলো মহান আল্লাহর বাণী: [আল-বাকারা: ১০৩] {আর তারা যদি ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সওয়াব অবশ্যই উত্তম হতো, যদি তারা তা জানত}। জাদুর আয়াতের সাথে এই পরবর্তী অংশের সঙ্গতি কী?

মহান আল্লাহ যখন ইহুদিদের মধ্যে নিন্দনীয় ও কদর্য স্বভাবের একত্র হওয়ার সংবাদ দিলেন, যেখানে তারা সামান্য পার্থিব সম্পদের বিনিময়ে নিজেদের অস্তিত্ব এবং জান্নাতের অংশকে বিক্রি করে দিয়েছিল; ফলে তারা ঈমানের মতো উপকারী বিষয়ের পরিবর্তে জাদুকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। মহান আল্লাহ আরও জানিয়ে দিয়েছেন যে, যার অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান আছে কিংবা যার সামান্যতম উপকারী জ্ঞান রয়েছে, সে কখনো এমন জঘন্য কাজে অগ্রসর হতে পারে না। ইহুদিদের যে জ্ঞান তাদের কিতাবসমূহের মাঝে সীমাবদ্ধ ছিল এবং যা তাদের অহংকার ও গর্বের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, মূলত সেই জ্ঞানই তাদের শয়তানদের অনুসরণের এই ধৃষ্টতা জুগিয়েছিল। সুতরাং এমন জ্ঞান যা তাদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে, তার চেয়ে জ্ঞানহীনতাই তাদের জন্য উত্তম ছিল।

যখন মহান আল্লাহ জাদুর সেই জ্ঞানের কারণে সৃষ্ট এমন সব ক্ষতির কথা বর্ণনা করলেন যা কোনো বিবেকবান ব্যক্তি নিজের জন্য পছন্দ করতে পারে না, তখন তিনি জাদুর শিক্ষা থেকে বিমুখ হওয়ার মধ্যে যে প্রভূত কল্যাণ রয়েছে তা বর্ণনা করলেন। এর মধ্যে রয়েছে সওয়াবের উচ্চ মর্যাদা ও স্থায়িত্ব, যা রহমান আল্লাহর পক্ষ থেকে আতিথেয়তা স্বরূপ—যা মানুষের চিন্তা ও উপলব্ধির ঊর্ধ্বে এবং কোনো মানুষ বা জিন যার বর্ণনা দিতে সক্ষম নয়। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: [আল-বাকারা: ১০৩] {আর তারা যদি ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সওয়াব অবশ্যই উত্তম হতো, যদি তারা তা জানত}। আল্লাহ তাআলা আলেমদের এই নির্দেশনা দিচ্ছেন যে, এমন জ্ঞানে কোনো কল্যাণ নেই যা তার অধিকারীকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে না এবং কল্যাণের পথে ধাবিত করে না (১)।

‌‌তৃতীয়ত: জাদুর আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার কারণ (سبب نزول):

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত (عن), তিনি বলেন: শয়তানরা আসমান থেকে সংবাদ চুরি করত। যখন তাদের কেউ একটি সত্য কথা শুনতে পেত, তখন সে তার সাথে এক হাজার মিথ্যা মিশিয়ে দিত। ফলে মানুষের অন্তরে তা গেঁথে যেত...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইমাম বুরহানুদ্দিন আল-বিকায়ি প্রণীত নাযমুদ দুরার ফি তানাসুবিল আয়াতি ওয়াস সুওয়ার (১/২০৫-২১০)।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৪)
الناس، واتخذوها دواوين، فأَطْلع الله على ذلك سليمانَ بن داود، فأخذها فدفنها تحت كرسيّه، فلما مات سليمان قام شيطان بالطريق، فقال: ألا أدلّكم على كنز سليمان الذي لا كنز لأحد مثل كنزه؟ قالوا: نعم، فأخرجوه فإذا هو سحر، فتناسختها الأمم، وأنزل الله عذر سليمان فيما قالوا من السحر، فقال: [البَقَرَة: 102] {وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُوا الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ … } (1) .

‌‌رابعًا: من تفسير آية السحر:

1- … يقول تعالى: {واتبعوا} ، فمن هم المتَّبِعون؟ الصواب من القول في تأويل ذلك عموم يهود، الذين لم يزل أمر السحر فيهم، من عهد سليمان إلى أن بعث الله نبيَّه بالحق، وأن في ذلك توبيخ من الله لأحبار اليهود الذين أدركوا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فجحدوا نبوته، وهم يعلمون أنه لله نبيٌّ مرسَل، وتأنيب منه لهم في رفضهم تنزيله، وهجرهم العملَ به، وهو - أي: التوراة - في أيديهم يعلمونه ويعرفون أنه كتاب الله (2) .

فاليهود - المتَّبِعون للسحر - من لدن عهد سليمان إلى زمن نبوة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم داخلون في توبيخ الله لهم على استبدالهم السحر بآيات الله في التوراة وفي الإنجيل وفي القرآن.

2- … يقول تعالى: {مَا تَتْلُوا الشَّيَاطِينُ} فما معنى {تتلوا} ؟ وما هو المتلوّ؟ ولِم عُبِّر عنه بالتلاوة؟

--------------------------------------------

(1) أخرجه الحاكم في المستدرك (2/265) ، وصحّحه - كمافي «الدر المنثور» للسيوطي (1/233) - وسكت عنه الذهبي. وأخرجه سعيد بن منصور (2/594 برقم 207) ، والطبري في تفسيره (2/415/1662) ، وذكره الواحدي في أسباب النزول ص31.

(2) اختار هذا التأويل الإمام الطبري، ثم أتبعه بقوله: وإنما اخترنا هذا التأويل، لأن المتبعة ما تلته الشياطين، في عهد سليمان وبعده إلى أن بعث الله نبيه بالحق، وأمر السحر لم يزل في اليهود. فكل متبع ما تلته الشياطين على عهد سليمان من اليهود داخل في معنى الآية. اهـ. أي ليس مقصورًا على أسلافهم وحسب. انظر: تفسير الطبري (1/491) .
মানুষ, এবং তারা সেগুলোকে কিতাব হিসেবে গ্রহণ করল। অতঃপর আল্লাহ সুলাইমান ইবনে দাউদকে সে বিষয়ে অবহিত করলেন। তিনি সেগুলো নিয়ে তাঁর সিংহাসনের নিচে দাফন করলেন। যখন সুলাইমান (আ.) মৃত্যুবরণ করলেন, তখন এক শয়তান পথে দাঁড়িয়ে বলল: আমি কি তোমাদের সুলাইমানের সেই গুপ্তধনের সন্ধান দেব না, যার মতো গুপ্তধন আর কারো কাছে নেই? তারা বলল: হ্যাঁ। তখন তারা তা বের করল এবং দেখা গেল তা ছিল যাদু। এরপর জাতিসমূহ তা একের পর এক নকল করতে লাগল। আর তারা সুলাইমান (আ.)-এর প্রতি যাদুর যে অপবাদ দিয়েছিল, আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর নির্দোষিতা নাজিল করলেন। তিনি বললেন: [আল-বাকারাহ: ১০২] {এবং তারা অনুসরণ করেছিল শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বকালে যা তিলাওয়াত করত। সুলাইমান কুফরি করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল, তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত … } (১) ।

‌‌চতুর্থত: যাদুর আয়াতের তাফসির থেকে:

১- … মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তারা অনুসরণ করল}, তবে এই অনুসরণকারী কারা? এই আয়াতের ব্যাখ্যায় (التأويل) সঠিক কথা হলো, এর দ্বারা সাধারণভাবে সকল ইহুদিকে বোঝানো হয়েছে, যাদের মধ্যে সুলাইমান (আ.)-এর যুগ থেকে শুরু করে আল্লাহর সত্য নবী পাঠানো পর্যন্ত যাদুর বিষয়টি বিদ্যমান ছিল। আর এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই ইহুদি ধর্মগুরুদের প্রতি তিরস্কার রয়েছে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর নবুওয়াতকে অস্বীকার করেছিলেন। অথচ তারা জানতেন যে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন নবী। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি ভর্ৎসনা স্বরূপ, কারণ তারা তাঁর নাজিলকৃত কিতাবকে বর্জন করেছিল এবং সে অনুযায়ী আমল করা ছেড়ে দিয়েছিল; অথচ তাওরাত তাদের হাতেই ছিল এবং তারা জানত যে এটি আল্লাহর কিতাব (২) ।

সুতরাং সুলাইমান (আ.)-এর যুগ থেকে শুরু করে আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের কাল পর্যন্ত যাদুর অনুসরণকারী ইহুদিরা আল্লাহর সেই তিরস্কারের অন্তর্ভুক্ত, যা তিনি তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনের আয়াতের পরিবর্তে যাদুকে গ্রহণ করার কারণে করেছেন।

২- … মহান আল্লাহ বলেন: {শয়তানরা যা তিলাওয়াত করত}, তবে {তিলাওয়াত করত} এর অর্থ কী? আর যা তিলাওয়াত করা হতো তা কী ছিল? এবং কেন একে তিলাওয়াত হিসেবে ব্যক্ত করা হয়েছে?

--------------------------------------------

(১) এটি হাকিম তাঁর মুস্তাদরাক (২/২৬৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (أخرجه) এবং একে সহিহ (صححه) বলেছেন—যেমনটি সুয়ূতী তাঁর আদ-দুররুল মানসুর (১/২৩৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—তবে যাহাবী এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন। সাঈদ বিন মানসুর (২/৫৯৪, নং ২০৭) এবং তাবারী তাঁর তাফসির (২/৪১৫/১৬৬২) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه), এবং ওয়াহিদী আসবাবুন নুযূল (পৃ. ৩১) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

(২) ইমাম তাবারী এই ব্যাখ্যাটি (التأويل) পছন্দ করেছেন, অতঃপর তিনি তাঁর বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় বলেন: আমরা এই ব্যাখ্যাটি (التأويل) এজন্যই পছন্দ করেছি যে, যারা অনুসরণ করেছে তারা তা-ই অনুসরণ করেছে যা শয়তানরা সুলাইমানের যুগে এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে আল্লাহ সত্যসহ তাঁর নবীকে পাঠানো পর্যন্ত তিলাওয়াত করত। আর যাদুর বিষয়টি ইহুদিদের মধ্যে সর্বদা বিদ্যমান ছিল। সুতরাং সুলাইমানের যুগে ইহুদিদের মধ্যে যারা শয়তানদের তিলাওয়াতকৃত বিষয়ের অনুসরণ করত, তারা সকলেই এই আয়াতের মর্মার্থের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ এটি কেবল তাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেখুন: তাফসিরে তাবারী (১/৪৯১)।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৫)
[أما معنى {تتلوا} ، فهو: تقرأ، أي من التلاوة، أو: تَتْبع، كما تقول: جاء القوم يَتْلو بعضُهم بعضًا، أو أن معناها: تفضِّل، لأن كل من اتبع شيئًا وجعله إمامه فقد فضّله على غيره. والتعبير بـ {تتلوا} ، يعني: تَلَتْهُ، فهو بمعنى المُضِيّ] (1) . فيصير المعنى - على ما سبق -: قد فضّلت سحرة يهود، ومن تشبّه بهم، واتبعوا - وهم من شياطين الإنس - ما قرأته شياطين الجن، مما افترته كذبًا، وتقوَّلَتْه زورًا، على عهد ملك سليمان، بأن سبب ملكه إنما كان السحر وما أنزل على الملكين، والله أعلم.

[أما المتلو هنا فهو: السحر. وقد عُبر عن ذلك بالتلاوة، لأن التلاوة إنما تكون - في كلام العرب - بمعنيين؛ أحدهما: الاتباع، فيكون المعنى واتبعوا ما تتّبعه الشياطين مما دفنوه تحت كرسي سليمان عليه السلام من السحر والكفر. والمعنى الآخر: القراءة والدراسة، فيكون المعنى: واتبع اليهود ما تلته الشياطين عليهم دراسة ورواية، فسارت على منهاجها في ذلك، وعملت به وروته. فيتحصل بذلك: أن اليهود اتبعوا ما تبعته الشياطين بالعمل به، وتدارسوه بالرواية عنهم] (2) .

3- … يقول تعالى: [البَقَرَة: 102] {عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ} ، فما وجه التعبير بـ {على} ، مع أن التلاوة - كما سبق - تكون بمعنى الاتباع أو الدراسة؟ وما هو ملك سليمان؟ وهل يُحجر ذلك المُلك العظيم عن غيره من الخلق عامة؟

إن الدراسة - كما لا يخفى - تتضمن معنى التحديث والإخبار، وهذا

--------------------------------------------

(1) انظر: الجامع لأحكام القرآن، للإمام القرطبي (2/42) .

(2) المرجع السابق (1/492) .
[আর {তাতলু} শব্দের অর্থ হলো: সে পাঠ করে, অর্থাৎ তিলাওয়াত থেকে; অথবা: সে অনুসরণ করে, যেমনটি আপনি বলেন: একদল লোক এল যাদের একজন অপরজনকে অনুসরণ করছে; অথবা এর অর্থ হতে পারে: সে প্রাধান্য দেয়, কারণ যে ব্যক্তি কোনো কিছুকে অনুসরণ করে এবং সেটিকে নিজের ইমাম হিসেবে গ্রহণ করে, সে আসলে তাকে অন্য সবকিছুর ওপর প্রাধান্য দেয়। আর {তাতলু} শব্দটির মাধ্যমে এখানে অতীত কাল বুঝানো হয়েছে] (১)। ফলে এর অর্থ দাঁড়ায়—পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে—ইহুদি জাদুকর এবং যারা তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করেছে তারা শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছে, এবং তারা—যারা মানুষরূপী শয়তান—অনুসরণ করেছে সেই বিষয়গুলোকে যা জিন শয়তানরা পাঠ করত, যা তারা মিথ্যা অপবাদ হিসেবে রটনা করেছিল এবং সুলাইমানের রাজত্বকালে মিথ্যাভাবে প্রচার করেছিল যে, তাঁর রাজত্বের ভিত্তি ছিল কেবল জাদু এবং যা দুই ফেরেশতার ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

[এখানে যা পাঠ করা হয়েছে তা হলো: জাদু। একে তিলাওয়াত শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে, কারণ আরবি ভাষায় তিলাওয়াত শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়; একটি হলো: অনুসরণ করা, এমতাবস্থায় অর্থ হবে: শয়তানরা সুলাইমান আলাইহিস সালামের সিংহাসনের নিচে জাদু ও কুফরি যা কিছু পুঁতে রেখেছিল এবং তারা নিজে যার অনুসরণ করত, ইহুদিরা তারই অনুসরণ করেছিল। আর দ্বিতীয় অর্থটি হলো: পাঠ করা ও অধ্যয়ন করা, এমতাবস্থায় অর্থ হবে: ইহুদিরা সেই বিষয়ের অনুসরণ করেছে যা শয়তানরা তাদের সামনে অধ্যয়ন এবং বর্ণনা (رواية) করার মাধ্যমে পাঠ করেছিল; ফলে তারা সেই পথেই পরিচালিত হয়েছে এবং তা চর্চা ও বর্ণনা করেছে। সুতরাং সারকথা হলো: ইহুদিরা শয়তানদের কর্মপন্থা অনুসরণ করেছে এবং তাদের নিকট থেকে বর্ণনার (رواية) মাধ্যমে তা পাঠ ও অধ্যয়ন করেছে] (২)।

৩- … মহান আল্লাহ বলেন: [বাকারা: ১০২] {সুলাইমানের রাজত্বের ওপর}, এখানে {আলা} অব্যয়টি ব্যবহারের রহস্য কী, যেখানে তিলাওয়াত—পূর্বেই যেমন আলোচিত হয়েছে—অনুসরণ বা অধ্যয়ন অর্থে ব্যবহৃত হয়? সুলাইমানের রাজত্ব কী? আর সেই বিশাল রাজত্ব কি সাধারণভাবে অন্য কোনো সৃষ্টির জন্য নিষিদ্ধ?

অধ্যয়ন করা—যেমনটি স্পষ্ট—এর মাঝে বর্ণনা করা (التحديث) এবং সংবাদ প্রদান করার (الإخبار) অর্থ নিহিত রয়েছে, আর এটি...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-জামে লি আহকামিল কুরআন, ইমাম কুরতুবি (২/৪২)।

(২) প্রাগুক্ত (১/৪৯২)।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৬)
الإخبار من الشياطين بأن سبب ملك سليمان هو علمه بالسحر، قد تضمن معنى الكذب على سليمان، لذلك فقد عدّي فعل {تتلو} ، بـ {على} ، فيكون المعنى: واتبع اليهود - الذين أوتوا الكتاب من بعد إعراضهم عن كتاب الله الذي بأيديهم ومخالفتهم لرسول الله صلى الله عليه وسلم ما تتلوه الشياطين وتخبر به وتحدّثه كذبًا على ملك سليمان، وقد صدّقوا ذلك التقول، وعملوا بمقتضاه!! (1) ، وثَمَّ وجه آخر للتعبير بـ {على} ، وهو [أن العرب تضع «في» موضع «على» ، و «على» موضع «في» ، ومن ذلك قول الله جلّ ثناؤه: [طه: 71] {وَلأَُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ} ، يعني به: على جذوع النخل. وكما قالوا: «فعلت كذا في عهد كذا، وعلى عهد كذا» بمعنى واحد] (2) . فيكون المعنى واتبعوا ما تلته الشياطين كذبًا في عهد سليمان عليه السلام.

[أما ملك سليمان عليه السلام، فهو مما لا يبلغه بيان البشر، وقد ذكره الله تعالى بقوله: [سَبَإ: 12-13] {وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيحَ غُدُوُّهَا شَهْرٌ وَرَوَاحُهَا شَهْرٌ وَأَسَلْنَا لَهُ عَيْنَ الْقِطْرِ وَمِنَ الْجِنِّ مَنْ يَعْمَلُ بَيْنَ يَدَيْهِ بِإِذْنِ رَبِّهِ وَمَنْ يَزِغْ مِنْهُمْ عَنْ أَمْرِنَا نُذِقْهُ مِنْ عَذَابِ السَّعِيرِ *يَعْمَلُونَ لَهُ مَا يَشَاءُ مِنْ مَحَارِيبَ وَتَمَاثِيلَ وَجِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَقُدُورٍ رَاسِيَاتٍ اعْمَلُوا آلَ دَاوُودَ شُكْرًا وَقَلِيلٌ مِنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ *} .

وبقوله سبحانه: [ص: 34-40] {وَلَقَدْ فَتَنَّا سُلَيْمَانَ وَأَلْقَيْنَا عَلَى كُرْسِيِّهِ جَسَدًا ثُمَّ أَنَابَ *قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لَا يَنْبَغِي لأَِحَدٍ مِنْ بَعْدِي إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ *فَسَخَّرْنَا لَهُ الرِّيحَ تَجْرِي بِأَمْرِهِ رُخَاءً حَيْثُ أَصَابَ *وَالشَّيْاطِينَ كُلَّ بَنَّاءٍ وَغَوَّاصٍ *وَآخَرِينَ مُقَرَّنِينَ فِي الأَصْفَادِ *هَذَا عَطَاؤُنَا فَامْنُنْ أَوْ أَمْسِكْ بِغَيْرِ حِسَابٍ *وَإِنَّ لَهُ عِنْدَنَا لَزُلْفَى وَحُسْنَ مَآبٍ *} .

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير ابن كثير (1/141) ، وانظر كذلك: نور الإيمان في تفسير القرآن، للشيخ محمد مصطفى أبي العِلا رحمه الله ص146.

(2) انظر: تفسير الطبري (1/493) .
শয়তানদের পক্ষ থেকে এই সংবাদ দেওয়া যে, সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর রাজত্বের কারণ ছিল তাঁর জাদুর জ্ঞান, তা সুলাইমানের প্রতি মিথ্যারোপ (كذب) করার অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই কারণেই ‘তাতলু’ {تتلو} ক্রিয়াটিকে ‘আলা’ {على} অব্যয় দ্বারা পরবর্তী পদের সাথে যুক্ত করা হয়েছে, ফলে এর অর্থ দাঁড়ায়: আর ইয়াহুদিরা—যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের নিকট থাকা আল্লাহর কিতাব থেকে বিমুখ হওয়ার এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণ করার পর—সেই বিষয়ের অনুসরণ করেছিল যা শয়তানরা সুলাইমানের রাজত্বের বিরুদ্ধে মিথ্যা (كذب) হিসেবে পাঠ করত, প্রচার করত এবং বর্ণনা করত। তারা সেই মিথ্যা রটনাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল এবং সে অনুযায়ী কাজ করেছিল!! (১)। ‘আলা’ {على} ব্যবহারের আরেকটি দিক রয়েছে, আর তা হলো [আরবরা ‘ফী’ (في) এর স্থানে ‘আলা’ (على) এবং ‘আলা’ (على) এর স্থানে ‘ফী’ (في) ব্যবহার করে থাকে। মহান আল্লাহর বাণী এর অন্যতম উদাহরণ: [ত্বহা: ৭১] {আমি অবশ্যই তোমাদেরকে খেজুর গাছের কান্ডে (فِي) ক্রুশবিদ্ধ করব}, যার অর্থ হলো: খেজুর গাছের কান্ডের ওপর (على)। ঠিক যেমন তারা বলে থাকে: ‘আমি অমুক যুগে (في) একাজ করেছি’ এবং ‘অমুক যুগে (على) একাজ করেছি’, যা একই অর্থ প্রদান করে] (২)। সুতরাং অর্থটি হবে: সুলাইমান আলাইহিস সালামের রাজত্বকালে শয়তানরা যা মিথ্যা (كذب) হিসেবে পাঠ করত তারা সেটিরই অনুসরণ করেছিল।

[সুলাইমান আলাইহিস সালামের রাজত্বের কথা বলতে গেলে, তা মানুষের বর্ণনার সীমার ঊর্ধ্বে। মহান আল্লাহ এ সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন: [সাবা: ১২-১৩] {আর আমি সুলাইমানের জন্য বায়ুকে অনুগত করেছিলাম, যা সকালে এক মাসের পথ এবং বিকেলে এক মাসের পথ অতিক্রম করত। আমি তার জন্য গলিত তামার ঝরনা প্রবাহিত করেছিলাম। আর জিনদের মধ্যে কিছুসংখ্যক তার রবের নির্দেশে তার সম্মুখে কাজ করত। তাদের মধ্যে যে আমার নির্দেশ অমান্য করত, তাকে আমি প্রজ্বলিত আগুনের শাস্তি আস্বাদন করাতাম। তারা সুলাইমানের ইচ্ছানুযায়ী মেহরাব (উপাসনালয়), ভাস্কর্য, হাউজসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত ডেগ নির্মাণ করত। হে দাউদ পরিবার! কৃতজ্ঞতার সাথে কাজ করে যাও। আমার বান্দাদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই কৃতজ্ঞ।}।

এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: [ছোয়াদ: ৩৪-৪০] {আমি সুলাইমানকে পরীক্ষা করলাম এবং তার সিংহাসনের ওপর একটি নিথর দেহ নিক্ষেপ করলাম; অতঃপর সে আমার অভিমুখী হলো। সে বলল, ‘হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন এক রাজত্ব দান করুন যা আমার পরে আর কারো জন্য শোভা পাবে না। নিশ্চয় আপনি পরম দাতা।’ তখন আমি বায়ুকে তার অনুগত করে দিলাম, যা তার আদেশে যেখানে সে ইচ্ছা করত সেখানে মৃদুভাবে প্রবাহিত হতো। আর শয়তানদেরকেও (তার অনুগত করে দিলাম), যারা ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরি। এবং আরও অনেককে (তার অনুগত করে দিলাম), যারা শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল। ‘এগুলো আমার অনুগ্রহ, সুতরাং তুমি কাউকে দাও অথবা নিজের কাছে রাখো, এর কোনো হিসাব দিতে হবে না।’ আর নিশ্চয় আমার কাছে তার জন্য রয়েছে উচ্চ মর্যাদা ও শুভ পরিণাম।}।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসীরে ইবনে কাসীর (১/১৪১), এবং আরও দেখুন: নূরুল ঈমান ফী তাফসীরিল কুরআন, শায়খ মুহাম্মদ মুস্তফা আবিল ইলা রহিমাহুল্লাহ, পৃষ্ঠা ১৪৬।

(২) দেখুন: তাফসীরে তাবারী (১/৪৯৩)।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৭)
نعم، إن الملك الذي وهبه الله عز وجل لعبده سليمان عليه السلام قد فاق - بفضل الله - ما قد يطلبه طالب أو يطمح إليه طامح، ذلك أنه من عطاء الله الذي لا ينفد، وقد ذكرَتِ الآياتُ الكريمات التي أوردتها صنوفًا من هذا العطاء، وهي:

(أ) … تسخير الريح له، وذلك أنه عليه السلام لما عقر الخيل غضبًا لله عز وجل، عوّضه الله ما هو خير منها وأسرع: الريح اللينة تحمل بساطه يغدو عليه حيث أراد من مكان كدمشق مثلاً، إلى آخرَ يتغدّى به، كإصطخر (1) مثلاً - وهي تبعد عن دمشق شهرًا كاملاً للمسرع على دابته، كل ذلك في الغداة صباحًا، أما في الرواح مساءً فقد يروح عليه السلام ببساطه من إصطخر مثلاً إلى كابُل - المعروفة اليوم - وبين إصطخر وكابل شهر كامل للمسرع، كلُّ ذلك في المساء.

(ب) … تملُّك عينٍ تسيل بالنحاس، وهي باليمن، وقد أجراها الله لسليمان عليه السلام ثلاثة أيام، فكل ما يصنع الناس، من النحاس - إلى يومنا هذا - هو مما أخرج الله تعالى لعبده سليمان عليه السلام (2) .

(ج) … تسخير الجن له - مقهورين منقادين إليه - يعملون بين يديه بقَدَر الله، فيأمرهم سليمان بما شاء من عمل أبنيةٍ حسنة، كالمساجد والقصور والمساكن، وكذلك الصُّوَر من نحاس أو من طين أو زجاج، ويصنعون له أحواضًا عظيمة الاتساع كالجَوْبة من

--------------------------------------------

(1) إِصْطَخْر: بلدة من أقدم مدن فارس وأشهرها، بها مسجد يعرف بمسجد سليمان عليه السلام، وبين إصطخر وشيراز - المعروفة اليوم - اثنا عشر فرسخًا، أي ما يقارب 66.5 كلم، وكان فتح إصطخر الأخير سنة ثمان وعشرين وسط خلافة عثمان رضي الله عنه. انظر: معجم البلدان لياقوت الحَمَوي (1/250) . والروض المعطار للحِمْيري ص 44.

(2) هذا مروي عن ابن عباس وقتادة والسُّدِّي وغيرهم. انظر: تفسير الطبري (20/363-364) ، و «الدر المنثور» للسيوطي (1/678) .
হ্যাঁ, মহান আল্লাহ তাঁর বান্দা সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)-কে যে রাজত্ব দান করেছেন, তা আল্লাহর অনুগ্রহে এমন এক স্তরে পৌঁছেছে যা কোনো প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা বা উচ্চাভিলাষীর আকাঙ্ক্ষাকে ছাড়িয়ে গেছে। কারণ এটি আল্লাহর সেই দান যা কখনো ফুরিয়ে যায় না। আপনি যে পবিত্র আয়াতগুলো উল্লেখ করেছেন, তাতে এই দানের বিভিন্ন প্রকার বর্ণিত হয়েছে, তা হলো:

(ক) … বাতাসকে তাঁর বশীভূত করা। আর তা এভাবে যে, তিনি (আলাইহিস সালাম) যখন আল্লাহর মহত্ত্বের জন্য ঘোড়াগুলোকে জবেহ করেছিলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে এর বিনিময়ে তার চেয়েও উত্তম ও দ্রুতগামী বস্তু দান করেন; আর তা হলো মৃদু বাতাস। এটি তাঁর সিংহাসন বহন করে নিয়ে যেত এবং তিনি যেখানে ইচ্ছা সকালের এক প্রহরেই পৌঁছে যেতেন। যেমন দামেস্ক থেকে রওয়ানা হয়ে দুপুরের খাবারের সময়ের মধ্যে ইস্তখর (১) পৌঁছে যেতেন। অথচ কোনো দ্রুতগামী আরোহীর জন্য দামেস্ক থেকে ইস্তখর পৌঁছাতে পূর্ণ এক মাস সময় লাগত। এই পুরো যাত্রাটি কেবল সকালের এক প্রহরেই সম্পন্ন হতো। আর বিকালের ভ্রমণে তিনি তাঁর সিংহাসনে করে ইস্তখর থেকে বর্তমানে পরিচিত কাবুলে পৌঁছে যেতেন—ইস্তখর ও কাবুলের মাঝে দ্রুতগামী আরোহীর এক মাসের পথ, যা তিনি কেবল এক বিকেলেই পাড়ি দিতেন।

(খ) … গলিত তামার ঝরনা লাভ করা, যা ইয়েমেনে অবস্থিত। আল্লাহ তাআলা সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য এটি তিন দিন পর্যন্ত প্রবাহিত রেখেছিলেন। আজ অবধি মানুষ তামার যা কিছু তৈরি করে, তা আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)-এর জন্যই বের করে দিয়েছিলেন (২)।

(গ) … জিনদেরকে তাঁর অনুগত ও বশীভূত করে দেওয়া—তারা আল্লাহর হুকুমে তাঁর সামনে কাজ করত। সুলায়মান (আলাইহিস সালাম) তাদেরকে সুন্দর সুন্দর ইমারত নির্মাণের আদেশ দিতেন, যেমন মসজিদ, প্রাসাদ ও বাসস্থান। তদ্রূপ তামা, মাটি বা কাঁচের তৈরি প্রতিকৃতি। তারা তাঁর জন্য বিশাল সব জলাধার তৈরি করত যা অনেকটা বিশাল গর্তের মতো

--------------------------------------------

(১) ইস্তখর: পারস্যের অন্যতম প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ শহর। সেখানে একটি মসজিদ রয়েছে যা সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)-এর মসজিদ নামে পরিচিত। ইস্তখর ও বর্তমানে পরিচিত শিরাজের মধ্যবর্তী দূরত্ব বারো ফারসাখ, অর্থাৎ প্রায় ৬৬.৫ কিলোমিটার। উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতের মধ্যবর্তী সময়ে হিজরি ২৮ সনে ইস্তখরের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়। দেখুন: ইয়াকুত আল-হামাভী রচিত মুজামুল বুলদান (১/২৫০) এবং হিময়ারী রচিত আর-রওযুল মিতার, পৃষ্ঠা ৪৪।

(২) এটি ইবনে আব্বাস, কাতাদাহ, সুদ্দী ও অন্যদের থেকে বর্ণিত (مروي)। দেখুন: তাফসীরে তাবারী (২০/৩৬৩-৩৬৪) এবং আদ-দুররুল মানসুর লিস-সুয়ূতী (১/৬৭৮)।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৮)
الأرض (1) ، تُجمع فيها المياه، كما يعملون له آنية يُطبخ فيها، وهي - من عظم اتساعها - ثابتات في أماكنها لا تتحول ولا تتحرك، حيث إن ركائز هذه القدور هي جزء منها، فلا حاجة لنقلها وتثبيتها!!

هذا الملك العظيم، الذي وهبه الله لنبيِّه سليمان عليه السلام كان سببه شرع سليمان عليه السلام الحق، ونبوته العظيمة، لا السحر كما تقولته الشياطين واتبعته اليهود، فقد امتن الله عليه بتلك الهبة الربانية، التي يتصرف بها سليمان عليه السلام كيف يشاء، [ص: 39] {هَذَا عَطَاؤُنَا فَامْنُنْ أَوْ أَمْسِكْ بِغَيْرِ حِسَابٍ *} .

وهنا مسألة: هل كان هذا العطاء الإلهي حِجْرًا على سليمان عليه السلام، فلا يوهب لأحد من بعده، أو لا يوهب ما يوازيه أو يزيد عليه؟

قال بعضهم: معنى قوله تعالى: [ص: 35] {لَا يَنْبَغِي لأَِحَدٍ مِنْ بَعْدِي} . أي: لا يصلح لأحد أن يسلبنيه، كما كان من قضية الجسد الذي ألقي على كرسيّه، لا أنه يُحجر على مَن بعدَه من الناس. والصحيح أنه سأل من الله مُلْكًا لا يكون لأحد من البشر مثلُه من بعده، وهذا هو ظاهر السياق من الآية، وبه وردت الأحاديث من طُرُقٍ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم (2) .

--------------------------------------------

(1) الجَوْبة من الأرض: ما يستنقع فيها الماء، فهي كالحياض التي تردها الإبل من عِظَمها. انظر: تفسير الطبري (12/89) .

(2) انظر: تفسير القرآن العظيم، للإمام ابن كثير رحمه الله. ص1469 ط - بيت الأفكار. وانظر: كذلك: الجامع لأحكام القرآن، للإمام القرطبي رحمه الله (1/43) .

 

أما الأحاديث التي وردت من طرق عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وهي تثبت أن سليمان عليه السلام قد سأل الله مُلكًا لا يكون لأحد من البشر مثله من بعده - فعديدة، منها: حديث أبي هريرة رضي الله عنه: «إن عفريتًا من الجنّ تفلّت عليَّ البارحةَ، ليقطع عليّ الصلاة، فأمكنني اللهُ منه، وأردتُ أن أربطَه إلى سارية من سواري المسجد، حتى تصبحوا فتنظروا إليه كلُّكم، فذكرت قول أخي سليمان: {رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لَا يَنْبَغِي لأَِحَدٍ مِنْ بَعْدِي} فردّه خاسئًا. متفق عليه، البخاري (4808) ، … ومسلم (541) . وعند أحمد في مسنده (3/82) من حديث أبي سعيد رضي الله عنه: «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قام يصلّي صلاة الصبح وهو خلفه، فقرأ فالتبست عليه القراءة، فلمّا فرغ من صلاته قال: لو رأيتموني وإبليسَ، فأهويتُ بيدي، فما زلت أخنقه حتى وجدت بَرْد لُعابه بين إصبعيّ هاتين - الإبهام والتي تليها - ولولا دعوة أخي سليمان لأصبح مربوطًا بسارية من سواري المسجد يتلاعب به صبيان المدينة، فمن استطاع منكم أن لا يحول بينه وبين القبلة أحدٌ فليفعل» . والحديث صحّحه - بشواهده - الألبانيُّ. انظر: الصحيحة برقم (3251) . ومن ذلك أيضًا ما أخرجه أحمد في مسنده (2/176) ، من حديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما: «إن سليمان بن داود عليهما السلام، سأل الله ثلاثًا أعطاه اثنتين، ونحن نرجو أن تكون له الثالثة، فسأله حُكمًا يُصادِف حكمَه، فأعطاه الله إياه، وسأله ملكًا لا ينبغي لأحد من بعده، فأعطاه إياه، وسأله أيّما رجل خرج من بيته لا يريد إلا الصلاة في هذا المسجد - أي بيت المقدس - خرج من خطيئته مثلَ يوم ولدته أمّه، فنحن نرجو أن يكون الله عز وجل قد أعطاه إياه» . والحديث أخرجه أيضًا من حديث ابن عمرو: النسائي (2/34) ، وابنُ ماجه (1408) ، وصحّحه ابن خزيمة، وابن حِبّان، والحاكم ووافقه الذهبي. رحم الله الجميع.
ভূমি (১), যেখানে পানি জমা করা হতো, তেমনিভাবে তারা তাঁর জন্য রান্নার পাত্র তৈরি করত, যা তাদের বিশালত্বের কারণে নিজেদের স্থানে স্থির থাকত, স্থানচ্যুত হতো না এবং নড়াচড়াও করত না। কেননা এসব ডেকচির পায়াগুলো ছিল এরই অংশ, তাই এগুলো স্থানান্তর করার বা পুনরায় স্থাপনের প্রয়োজন হতো না!!

মহান এই রাজত্ব, যা আল্লাহ তাঁর নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামকে দান করেছিলেন, তার মূলে ছিল সুলাইমান আলাইহিস সালামের সত্য শরীয়ত এবং তাঁর সুমহান নবুয়ত; শয়তানদের অপবাদ দেওয়া এবং ইহুদিদের অনুসরণ করা কোনো জাদু নয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সেই রব্বানি অনুগ্রহের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন, যা সুলাইমান আলাইহিস সালাম তাঁর ইচ্ছামতো পরিচালনা করতেন। [সোয়াদ: ৩৯] "এটিই আমার দান, অতএব তুমি কাউকে অনুগ্রহ করো বা না করো, এর কোনো হিসাব নেওয়া হবে না।"

এখানে একটি মাসয়ালা হলো: এই খোদায়ী দান কি সুলাইমান আলাইহিস সালামের জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল, যা তাঁর পরে আর কাউকে দেওয়া হবে না, অথবা এর সমতুল্য বা এর চেয়ে বেশি কিছু কাউকে দেওয়া হবে না?

কেউ কেউ বলেছেন, আল্লাহ তাআলার বাণী: [সোয়াদ: ৩৫] "যা আমার পরে আর কারো জন্য শোভনীয় নয়" এর অর্থ হলো: এটি কেড়ে নেওয়া কারো জন্য সমীচীন নয়, যেমনটি ঘটেছিল তাঁর সিংহাসনে রাখা লাশের ঘটনার ক্ষেত্রে। এমন নয় যে এটি তাঁর পরবর্তী মানুষের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সঠিক (الصحيح) মত হলো, তিনি আল্লাহর কাছে এমন রাজত্ব চেয়েছিলেন যার সদৃশ তাঁর পরে আর কোনো মানুষের জন্য হবে না। আয়াতের প্রাসঙ্গিক বর্ণনা থেকেও এটিই প্রতীয়মান হয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিভিন্ন সূত্রে (طرق) বর্ণিত হাদিসসমূহ এই অর্থেই এসেছে (২)।

--------------------------------------------

(১) ভূমির গর্ত (الجَوْبة): যেখানে পানি জমা হয়। এগুলো বিশালত্বের কারণে সেই জলাধারের মতো যেখানে উট পানি পান করতে আসে। দেখুন: তাফসিরে তবারি (১২/৮৯)।

(২) দেখুন: তাফসিরে কুরআনিল আজিম, ইমাম ইবনে কাসির রাহিমাহুল্লাহ। পৃষ্ঠা ১৪৬৯, বাইতুল আফকার সংস্করণ। আরও দেখুন: আল-জামি লি আহকামিল কুরআন, ইমাম কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ (১/৪৩)।

 

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিভিন্ন সূত্রে (طرق) বর্ণিত যে হাদিসগুলো প্রমাণ করে যে, সুলাইমান আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে এমন রাজত্ব চেয়েছিলেন যা তাঁর পরে আর কোনো মানুষের জন্য হবে না—সেগুলো অনেক। তার মধ্যে রয়েছে: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস: «গত রাতে একটি শক্তিশালী জিন (عفريت) আমার ওপর চড়াও হয়েছিল যাতে আমার নামাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। কিন্তু আল্লাহ আমাকে তার ওপর শক্তি দান করলেন। আমি ইচ্ছা করেছিলাম তাকে মসজিদের খুঁটিগুলোর কোনো একটির সাথে বেঁধে রাখি, যাতে সকালে তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাও। তখন আমার ভাই সুলাইমানের এই উক্তিটি মনে পড়ে গেল: "হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন রাজত্ব দান করুন যা আমার পরে আর কারো জন্য শোভনীয় হবে না।" ফলে আল্লাহ তাকে অপদস্থ অবস্থায় তাড়িয়ে দিলেন।» এটি সর্বসম্মত (متفق عليه), সহিহ বুখারি (৪৮০৮)... এবং সহিহ মুসলিম (৫৪১)। মুসনাদ আহমদে (৩/৮২) আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবহে সাদিকের নামাজ পড়াতে দাঁড়ালেন এবং আবু সাঈদ তাঁর পিছনে ছিলেন। তিনি কিরাত পড়লেন কিন্তু তাতে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা দিল। নামাজ শেষ করে তিনি বললেন: তোমরা যদি আমাকে ও ইবলিসকে দেখতে পেতে! আমি আমার হাত বাড়িয়ে তাকে ধরলাম এবং তার শ্বাসরোধ করতে থাকলাম যতক্ষণ না আমার এই দুই আঙুলের—বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তার পাশের আঙুল—মাঝে তার লালার শীতলতা অনুভব করলাম। যদি আমার ভাই সুলাইমানের দোয়া না থাকত, তবে তাকে মসজিদের খুঁটিগুলোর একটির সাথে বেঁধে রাখা হতো এবং মদিনার বালকরা তাকে নিয়ে খেলা করত। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে কিবলার মাঝে কাউকে আড়াল হতে বাধা দিতে সক্ষম, সে যেন তা করে।» আলবানি তাঁর অন্যান্য সমর্থিত বর্ণনার (شواهد) ভিত্তিতে হাদিসটিকে বিশুদ্ধ (صححه) বলেছেন। দেখুন: আস-সহিহাহ, হাদিস নং ৩২৫১। অনুরূপভাবে আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস যা মুসনাদ আহমদে (২/১৭৬) সংকলিত হয়েছে: «সুলাইমান ইবনে দাউদ আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে তিনটি জিনিস চেয়েছিলেন। আল্লাহ তাঁকে দুটি দান করেছেন এবং আমরা আশা করি যে তৃতীয়টিও তাঁকে দেওয়া হয়েছে। তিনি আল্লাহর কাছে এমন বিচার বিভাগীয় প্রজ্ঞা চেয়েছিলেন যা আল্লাহর হুকুমের সাথে মিলে যায় এবং আল্লাহ তাঁকে তা দান করেন। তিনি এমন রাজত্ব চেয়েছিলেন যা তাঁর পরে আর কারো জন্য শোভনীয় হবে না এবং আল্লাহ তাঁকে তা দান করেন। আর তিনি চেয়েছিলেন যে ব্যক্তি শুধু নামাজের উদ্দেশ্যেই এই মসজিদে—অর্থাৎ বায়তুল মাকদিসে—আসবে, সে তার গুনাহ থেকে সেই দিনের মতো পবিত্র হয়ে বের হবে যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল। আমরা আশা করি আল্লাহ তাআলা তাঁকে সেটিও দান করেছেন।» হাদিসটি ইবনে আমর থেকে নাসায়ি (২/৩৪) এবং ইবনে মাজাহ (১৪০৮) সংকলন করেছেন। ইবনে খুজাইমা, ইবনে হিব্বান ও হাকেম এটিকে বিশুদ্ধ (صححه) বলেছেন এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন (وافقه)। আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ১৯)
ويتفرع عما سبق مسألتان؛ الأولى: ما هو الجسد الذي ألقي على كرسيّ سليمان عليه السلام؟ كما في قوله تعالى: [ص: 34] {وَلَقَدْ فَتَنَّا سُلَيْمَانَ وَأَلْقَيْنَا عَلَى كُرْسِيِّهِ جَسَدًا ثُمَّ أَنَابَ *} .

[الجسد الذي ألقي على كرسيّ سليمان؛ هو شيطان اسمه آصِف، أو آصِر، أو صخر، أو حقيق، قال له سليمان: كيف تفتن الناس؟ قال: أرني خاتمك أخبرك، فأعطاه، فنبذه آصف في البحر، فذهب مُلك سليمان، وقعد آصف على كرسيه، ومنع الله آصفَ نساءَ سليمانَ فلم يقربهن، وأنكرته أمُّ سليمان، وكان سليمان يستطعم ويُعرِّفهم بنفسه فيكذبونه، حتى أعطته امرأة حوتًا - أي سمكة كبيرة - فطيَّب بطنَه فوجد خاتمه في بطنه، فردّ الله إليه ملكه، وفرّ آصف فدخل البحر. وقد حكى النقّاش في تفسيره (1) أن الجسد الذي ألقي على كرسيّ سليمان هو ولده، الذي حملت به إحدى نسائه وقد وُلد ساقطًا أحد شِقَّيْه - أي كان نصف إنسان -، وذلك حين «قال

--------------------------------------------

(1) تفسير النقاش - وهو: محمد بن الحسن بن محمد بن زياد - لا يعتمد عليه، كما سيأتي من كلام ابن حجر رحمه الله بقوله: والنقاش صاحب مناكير.
পূর্বোক্ত বিষয়সমূহ থেকে দুটি মাসআলা বা বিষয়ের উদ্ভব হয়; প্রথমটি হলো: সুলাইমান আলাইহিস সালাম-এর সিংহাসনে কোন শরীর নিক্ষেপ করা হয়েছিল? যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {আর অবশ্যই আমি সুলাইমানকে পরীক্ষা করেছি এবং তার সিংহাসনের ওপর একটি দেহ নিক্ষেপ করেছি, অতঃপর সে প্রত্যাবর্তন করল} [সুরা সদ: ৩৪]।

[সুলাইমানের সিংহাসনে যে দেহটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল; সেটি ছিল একটি শয়তান যার নাম আসিফ, অথবা আসির, অথবা সাখর, অথবা হাকিক। সুলাইমান তাকে বললেন: তুমি কীভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করো? সে বলল: আপনার আংটিটি আমাকে দেখান, তবেই আপনাকে বলব। তিনি সেটি তাকে দিলে আসিফ তা সমুদ্রে নিক্ষেপ করল এবং সুলাইমানের রাজত্ব চলে গেল। আসিফ তাঁর সিংহাসনে বসল, তবে আল্লাহ আসিফকে সুলাইমানের স্ত্রীদের থেকে দূরে রাখলেন ফলে সে তাদের নিকটবর্তী হতে পারল না। সুলাইমানের মাতা তাকে অস্বীকার করলেন। সুলাইমান মানুষের নিকট খাদ্য প্রার্থনা করতেন এবং তাদের কাছে নিজের পরিচয় দিতেন কিন্তু তারা তাঁকে মিথ্যা সাব্যস্ত করত। অবশেষে এক নারী তাঁকে একটি হুত—অর্থাৎ বড় মাছ—প্রদান করলেন। তিনি সেটির পেট পরিষ্কার করতেই তার অভ্যন্তরে নিজের আংটিটি পেয়ে গেলেন। ফলে আল্লাহ তাঁর রাজত্ব ফিরিয়ে দিলেন এবং আসিফ পলায়ন করে সমুদ্রে প্রবেশ করল। নাক্কাশ তাঁর তাফসিরে (১) বর্ণনা করেছেন যে, সুলাইমানের সিংহাসনে যে দেহটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল তা ছিল তাঁর পুত্র, যাকে তাঁর জনৈক স্ত্রী গর্ভে ধারণ করেছিলেন এবং সে শরীরের একদিকের অংশ ছাড়াই—অর্থাৎ অর্ধেক মানুষ হিসেবে—জন্মগ্রহণ করেছিল। আর তা হয়েছিল যখন তিনি বলেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) তাফসিরে নাক্কাশ—যিনি হলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ—অনির্ভরযোগ্য (لا يعتمد عليه), যেমনটি সামনে ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য থেকে আসবে, যেখানে তিনি বলেছেন: “নাক্কাশ হলেন অগ্রহণযোগ্য (مناكير) বর্ণনাসমূহ বর্ণনাকারী।”
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২০)
سليمان: لأطوفنّ الليلة على سبعين امرأةً تَحمِل كلُّ امرأة فارسًا يجاهد في سبيل الله، فقال له صاحبه: إن شاء الله، فلم يقل، ولم تحمل شيئًا إلا واحدًا ساقطًا أحد شقّيه، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: لو قالها لجاهدوا في سبيل الله» (1) . لكن عامّة المفسّرين على أن المراد بالجسد المذكور: شيطان، وهو المعتمد، والنقّاش صاحب مناكير] (2) .

والمسألة الثانية: وقع في رواية مسلم أن عدد النساء اللائي حلف سليمان ليطوفنّ بهنّ في ليلة: ستون امرأة، وعند البخاري سبعون، فما وجه الجمع بين الروايات في ذلك؟

[إن محصّل الروايات في ذلك أنهن: ستون، وسبعون، وتسعون، وتسع وتسعون، ومائة، والجمع بينها أن الستين كنّ حرائر، وما زاد عليهن كن سراري أو بالعكس، وأما السبعون فللمبالغة، وأما التسعون والمائة فكنّ دون المائة وفوق التسعين، فمن قال: تسعون ألغى الكسر - أي الزائد عن التسعين -، ومن قال: مائة جبر الكسر، ومن ثَمَّ وقع التردد في ذلك. وسليمان عليه السلام كان له ألف امرأة؛ ثلاثمائة منهن صريحة - أي حرائر - وسبعمائة سريّة، أي من الجواري] (3) .

4- … يقول تعالى: [البَقَرَة: 102] {وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا} ، فما وجه نفي الكفر عن سليمان عليه السلام، ولم يأت ذكر اتهامه بالكفر فيما سبق؟

[وجه ذلك: أن اليهود الذين اتبعوا ما تلته الشياطين على عهد سليمان عليه السلام، من سحر وكفر، قد نسبوا ذلك إلى سليمان عليه السلام، وزعموا أن

--------------------------------------------

(1) متفق عليه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه: أخرجه البخاري؛ كتاب: أحاديث الأنبياء، باب: قول الله تعالى: [ص: 30] {وَوَهَبْنَا لِدَاوُودَ سُلَيْمَانَ نِعْمَ الْعَبْدُ إِنَّهُ أَوَّابٌ *} ، برقم (3424) ، ومسلم؛ كتاب: الأيمان، باب: الاستثناء، برقم (1654) .

(2) انظر: فتح الباري، لابن حجر (6/529 وما بعدها) .

(3) المرجع السابق (6/531) .
সুলায়মান (আ.) বলেছিলেন: "আজ রাতে আমি অবশ্যই সত্তরজন স্ত্রীর নিকট গমন করব, যাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর পথে জিহাদ করার জন্য একজন করে অশ্বারোহী বীর প্রসব করবে।" তখন তাঁর সঙ্গী তাঁকে বললেন: "ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চান) বলুন," কিন্তু তিনি তা বললেন না। ফলে একজন ব্যতীত তাঁদের কেউ কোনো সন্তান প্রসব করলেন না, আর সেই সন্তানটিও ছিল অর্ধাঙ্গহীন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যদি তিনি তা বলতেন, তবে তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করত।" (১)। তবে অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে উল্লিখিত 'দেহ' (جسد) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শয়তান, আর এটিই নির্ভরযোগ্য (المعتمد) মত। আর আন-নাক্কাশ হলেন অপরিচিত বা বর্জনীয় (مناكير) বর্ণনার অধিকারী (২)।

দ্বিতীয় মাসআলা: মুসলিম-এর বর্ণনায় এসেছে যে, সুলায়মান (আ.) এক রাতে যতজন স্ত্রীর নিকট যাওয়ার শপথ করেছিলেন তাদের সংখ্যা ছিল ষাটজন, আর বুখারি-তে আছে সত্তরজন। তাহলে এই বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের পদ্ধতি কী?

[এই সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর সারসংক্ষেপ হলো যে, সংখ্যাগুলো ছিল: ষাট, সত্তর, নব্বই, নিরানব্বই এবং একশ। এগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের পদ্ধতি হলো—ষাটজন ছিলেন স্বাধীন নারী, আর অতিরিক্তরা ছিলেন উপপত্নী অথবা এর বিপরীত। আর সত্তর সংখ্যাটি আধিক্য বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আর নব্বই ও একশ-র বিষয়টি হলো, সংখ্যাটি নব্বইয়ের উপরে কিন্তু একশ-র নিচে ছিল। ফলে যিনি নব্বই বলেছেন তিনি ভগ্নাংশ—অর্থাৎ নব্বইয়ের অতিরিক্ত অংশ—বাদ দিয়েছেন, আর যিনি একশ বলেছেন তিনি ভগ্নাংশকে পূর্ণ সংখ্যায় ধরেছেন; আর সেখান থেকেই এই বিষয়ে সংখ্যার ভিন্নতা তৈরি হয়েছে। সুলায়মান (আ.)-এর এক হাজার স্ত্রী ছিল; তাদের মধ্যে তিনশ জন ছিলেন স্বাধীন নারী এবং সাতশ জন ছিলেন দাসী বা উপপত্নী] (৩)।

4- … মহান আল্লাহ বলেন: [আল-বাকারাহ: ১০২] {সুলায়মান কুফরি করেনি, বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল}। সুলায়মান (আ.)-এর থেকে কুফরি নাকচ করার কারণ কী, অথচ ইতিপূর্বে তাঁর প্রতি কুফরির অভিযোগের কোনো উল্লেখ আসেনি?

[এর কারণ হলো: সুলায়মান (আ.)-এর রাজত্বকালে ইহুদিরা শয়তানদের পঠিত জাদু ও কুফরির অনুসরণ করত। তারা এগুলোকে সুলায়মান (আ.)-এর দিকে সম্বন্ধ করত এবং দাবি করত যে...

--------------------------------------------

(১) আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসটি সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন; কিতাব: আহাদিসুল আম্বিয়া, অধ্যায়: আল্লাহর বাণী: [সোয়াদ: ৩০] {আমি দাউদকে সুলায়মান দান করেছিলাম, সে কতই না চমৎকার বান্দা, নিশ্চয়ই সে ছিল আল্লাহ অভিমুখী}, হাদিস নং (৩৪২৪); এবং মুসলিম; কিতাব: আল-আইমান, অধ্যায়: আল-ইসতিসনা, হাদিস নং (১৬৫৪)।

(২) দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজার কৃত ফাতহুল বারি (৬/৫২৯ এবং পরবর্তী অংশ)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (৬/৫৩১)।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২১)
ذلك كان من علمه وروايته، وأنه إنما كان يستعبد من يستعبد من الإنس والجن والشياطين وسائر الخلق بالسحر، وهم إنما يريدون بذلك أن يحسِّنوا لأنفسهم العمل بالسحر، ذلك أن نبيًا قد علمه وعمل به - بزعمهم -، فلِمَ لا يفعلون هم ذلك؟! وأرادوا أيضًا أن يحسّنوا أنفسهم وفعلتهم الشنيعة عند من كان جاهلاً بأمر الله ونهيه، وعند من كان لا علم له بما أنزل الله في ذلك من التوراة، فبرَّأ الله نبيَّه سليمان عليه السلام مما نسبوه زورًا وبهتانًا إليه، وأعلمهم أنهم إنما اتبعوا - في عملهم بالسحر - ماتلته الشياطين في عهد سليمان، وأن سليمان إنما كان يأمرهم بطاعة الله، واتباع أمر الله الذي أنزله في التوراة على موسى عليهما وعلى نبينا أفضل الصلاة والسلام (1) .

والحاصل: [أن اليهود لما نسبت سليمانَ إلى السحر، صاروا بمنزلة مَن نَسَبه إلى الكفر، لأن السحر يوجب ذلك، فبرَّأ الله نبيَّه من السحر، وأثبته للشياطين، وأَعْلم بأنهم كفروا بتعليمهم الناس السحر] (2) .

5- … يقول تعالى: [البَقَرَة: 102] {يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ} ، [ولعل قائلاً أن يقول: أوَ ما كان السحر إلا أيام سليمان؟ فيُقال له: بلى، قد كان السحر قبل ذلك، وقد أخبر الله عن سَحَرة فرعون ما أخبر عنهم، وقد كانوا قبل سليمان، وأخبر سبحانه عن قوم نوح أنهم قالوا لنوح إنه ساحر، وإنما خص الله ذكر تعليم الشياطين السحر للناس في هذا الموضع، لأن الشياطين وأتباعهم اليهود أضافوا ذلك العلم إلى سليمان عليه السلام، فأراد الله تعالى تبرئته مما نَحَلوه وأضافوه إليه، وإن كانت الشياطين تاليةً للسحر والكفرِ قبل ذلك] (3) ، أي: قبل عهد سليمان عليه السلام.

[أما السحر الذي تعلّمه الشياطين الناسَ، فهو - بالإجمال - علم بأمرٍ

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير الطبري، (1/493) .

(2) انظر: تفسير الشوكاني (1/119) .

(3) انظر: تفسير الطبري (1/497) ، وتفسير ابن كثير ص 123، ط - بيت الأفكار.
এটাই ছিল তাঁর জ্ঞান ও বর্ণনার (رواية) অন্তর্ভুক্ত; আর তারা মনে করত যে তিনি যাদুবিদ্যার মাধ্যমে মানুষ, জিন, শয়তান ও অন্যান্য সৃষ্টিজগতকে বশীভূত করে রাখতেন। মূলত তারা এর মাধ্যমে যাদুচর্চার বিষয়টিকে নিজেদের জন্য সুন্দর করে উপস্থাপন করতে চেয়েছিল। তাদের দাবি ছিল—একজন নবী এটি জানতেন এবং এর ওপর আমল করতেন, তবে তারা কেন তা করবে না?! তারা তাদের এই জঘন্য কর্মকাণ্ডকে সেই সব ব্যক্তির কাছেও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে চেয়েছিল যারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল এবং আল্লাহ তওরাত কিতাবে এ বিষয়ে যা নাযিল করেছেন সে সম্পর্কে যাদের কোনো জ্ঞান ছিল না। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামকে সেই মিথ্যা অপবাদ থেকে নির্দোষ ঘোষণা করলেন যা তারা তাঁর প্রতি আরোপ করেছিল। তিনি তাদের অবহিত করলেন যে, তারা যাদুচর্চার ক্ষেত্রে কেবল সেই বিষয়েরই অনুসরণ করেছে যা সুলাইমান আলাইহিস সালামের রাজত্বকালে শয়তানরা পাঠ করত। আর সুলাইমান আলাইহিস সালাম কেবল তাদের আল্লাহর আনুগত্য করার এবং তওরাত কিতাবে মুসা আলাইহিস সালামের প্রতি আল্লাহর নাযিলকৃত আদেশসমূহ অনুসরণের নির্দেশ দিতেন—তাঁদের উভয়ের ওপর এবং আমাদের নবীর ওপর সর্বোত্তম রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক (১)।

সারকথা: [ইহুদিরা যখন সুলাইমান আলাইহিস সালামের প্রতি যাদুচর্চার সম্বন্ধ করল, তখন তারা মূলত তাঁকে কুফরের (كفر) দিকেই সম্বন্ধিত করার স্থলাভিষিক্ত হলো। কারণ যাদু একে (কুফরকে) অনিবার্য করে তোলে। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নবীকে যাদু থেকে নির্দোষ ঘোষণা করলেন এবং একে শয়তানদের কাজ হিসেবে সাব্যস্ত করলেন। তিনি জানিয়ে দিলেন যে, শয়তানরাই মানুষকে যাদু শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে কুফরি (كفر) করেছিল] (২)।

৫- … আল্লাহ তাআলা বলেন: [সূরা আল-বাকারাহ: ১০২] {তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত}। [হয়তো কোনো প্রশ্নকারী বলতে পারে: যাদু কি কেবল সুলাইমান আলাইহিস সালামের যুগেই ছিল? তাকে বলা হবে: অবশ্যই না, যাদু এর আগেও বিদ্যমান ছিল। ফেরাউনের যাদুকরদের সম্পর্কে আল্লাহ যা সংবাদ দিয়েছেন তা সুলাইমান আলাইহিস সালামের পূর্বের ঘটনা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নূহ আলাইহিস সালামের কওম সম্পর্কেও সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা নূহ আলাইহিস সালামকে যাদুকর বলেছিল। এখানে বিশেষভাবে শয়তানদের মানুষকে যাদু শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে কারণ শয়তান এবং তাদের অনুসারী ইহুদিরা এই বিদ্যাকে সুলাইমান আলাইহিস সালামের প্রতি নিসবত বা সম্বন্ধ করেছিল। তাই আল্লাহ তাআলা তাদের আরোপিত ও মিথ্যাচার থেকে তাঁকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চেয়েছেন, যদিও শয়তানরা এর পূর্বেই যাদু ও কুফরের (كفر) চর্চা করত] (৩), অর্থাৎ: সুলাইমান আলাইহিস সালামের যুগের আগে থেকেই।

[শয়তানরা মানুষকে যে যাদু শিক্ষা দিত, তা মূলত সংক্ষেপে এমন একটি বিষয়ের জ্ঞান—

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসিরে তবারি, (১/৪৯৩)।

(২) দেখুন: তাফসিরে শাওকানি (১/১১৯)।

(৩) দেখুন: তাফসিরে তবারি (১/৪৯৭) এবং তাফসিরে ইবনে কাসির, পৃষ্ঠা ১২৩, প্রকাশনা: বাইতুল আফকার।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২২)
مؤثِّرٍ حقيقةً، ضارٍّ غير نافع، تقوم به نفوس قوية مؤثرة باستعانة بمخلوق من شيطان أو كوكب، أو دُخَن وعُقد. وقد يطلق السحر على ما يقع بخداع وتخييلات لا حقيقة لها، نحو ما يفعله المشعوذ من صرف الأبصار عما يتعاطاه بخفة يده] (1) .

6- … يقول تعالى: [البَقَرَة: 102] {وَمَا أُنْزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ} . وهذا النص من الآية الكريمة قد حوى مسألتين من مهمات المسائل:

الأولى: هَل (ما) نافيةٌ بمعنى: لم؟ أم هي موصولة بمعنى (الذي) ، أم أنها تحتمل المعنيين؟

[اختلف أهل التأويل في هذا المقام - اختلافًا بيّنًا - فذهب الإمام القرطبيٌّ رحمه الله إلى أن «ما» نافية (2) ، وأن {هاروت وماروت} بدل من {الشياطين} ، فيكون المعنِيُّ بِـ {الملكين} ، جبريل وميكائيل عليهما السلام. ذلك أن اليهود قد نسبوا السحر إليهما، فنفى الله ذلك عنهما. وعلى ذلك يكون في الكلام تقديم وتأخير، والتقدير: وما كفر سليمان، وما أنزل السحر على

--------------------------------------------

(1) ما بين معقوفتين كلام للإمام ابن حجر رحمه الله. الفتح [10/232] . وسيأتي بعون الله تعالى - بيان معنى السحر تفصيلاً وأنواعه، في الفصلين: الثاني والثالث.

(2) وقال - بعد أن رجّح كون (ما) نافية، {هاروت وماروت} بدل من {الشيطان} - ما لفظه: (هذا أَوْلى ما حُمِلت عليه الآية من التأويل، وأصحُّ ما قيل فيها، ولا يُلتفت إلى سواه) . ثم علل مذهبه بقوله: (فالسحر من استخراج الشياطين، لِلَطافة جوهرهم، ودقة أفهامهم) ، ثم شرع رحمه الله في الرد على ما يَرِد عند استبعاد كون الاثنين [هاروت وماروت] بدلاً من الجمع [الشياطين] بخاصة أنه قد تقرر في اللغة وجوب أن يكون البدل على حد المبدل منه، فذكر ثلاثة وجوه؛ الأول: أن الاثنين قد يطلق عليهما اسم الجمع، والثاني: أن هاروت وماروت لما كانا الرأس في التعليم نُصَّ عليهما دون أتباعهما. والثالث: أنهما إنما خُصّا بالذّكر من بين الشياطين لتمردهما، ثم استشهد لما قال، وذكر أن هذا كثير في القرآن وفي كلام العرب] . انظر: تفسيره (2/50) . وممن ذهب إلى كون «ما» نافية، الأستاذ سيد قطب رحمه الله، مع إقراره بأن هاروت وماروت مَلَكان كانا يعلّمان من أصرّ على تعلّم السحر، ما يفرق به بين المرء وزوجه! انظر: الظلال (1/95-96) .
প্রকৃতপ্রস্তাবেই প্রভাব বিস্তারকারী, ক্ষতিকারক কিন্তু উপকারী নয়, যা শয়তান বা নক্ষত্রের মতো কোনো সৃষ্টি (مخلوق)-এর সাহায্য নিয়ে অথবা ধোঁয়া ও গিট ব্যবহারের মাধ্যমে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী আত্মাসমূহ সম্পাদন করে। আবার জাদুকে কখনও কখনও এমন বিভ্রম বা কল্পনার ওপরও প্রয়োগ করা হয় যার কোনো বাস্তবতা নেই, যেমন ভোজবাজি প্রদর্শনকারী তার হাতের কারসাজির মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে সরিয়ে দিয়ে যা করে থাকে।] (১) ।

৬- … মহান আল্লাহ বলেন: [আল-বাক্বারাহ: ১০২] "এবং যা বাবিলে হারুত ও মারুত নামক দুই ফেরেশতার ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছিল।" এই সম্মানিত আয়াতের এই উদ্ধৃতিটি গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে:

প্রথমটি: এখানে 'মা' (ما) কি না-বাচক (نافية) অর্থাৎ 'না' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? নাকি তা সম্বন্ধসূচক (موصولة) অর্থাৎ 'যা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? অথবা এটি কি উভয় অর্থেরই সম্ভাবনা রাখে?

[ব্যাখ্যাকারগণ (أهل التأويل) এই ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে মতভেদ করেছেন—ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) এই মত পোষণ করেছেন যে, 'মা' (ما) হলো না-বাচক (نافية) (২), এবং 'হারুত ও মারুত' শব্দটি 'শয়তানদের' থেকে বদল (بدل) হিসেবে এসেছে। এমতাবস্থায় 'দুই ফেরেশতা' বলতে জিবরাইল ও মিকাইল (আলাইহিমুস সালাম)-কে বোঝানো হবে। কেননা ইয়াহুদিরা জাদুবিদ্যাকে তাঁদের উভয়ের দিকে সম্বন্ধ করেছিল, অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁদের থেকে তা অস্বীকার করেছেন। সে অনুযায়ী এই বাক্যে শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ বিন্যাস (تقديم وتأخير) রয়েছে; আর এর মূল অর্থ দাঁড়াবে: সুলাইমান কুফরি করেননি এবং জাদুকে অবতীর্ণ করা হয়নি...

--------------------------------------------

(১) তৃতীয় বন্ধনীর ভেতরের কথাগুলো ইমাম ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর। ফাতহুল বারী [১০/২৩২]। অচিরেই আল্লাহর সাহায্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পরিচ্ছেদে জাদুর অর্থ ও এর প্রকারভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

(২) তিনি—'মা' (ما) না-বাচক (نافية) হওয়া এবং 'হারুত ও মারুত' শব্দ দুটি 'শয়তান' থেকে বদল (بدل) হওয়াকে প্রাধান্য দেওয়ার পর—বলেন: "আয়াতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এটিই সর্বাধিক উত্তম পন্থা এবং এ বিষয়ে যা বলা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ। এটি ছাড়া অন্য কোনো মতের দিকে ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না।" এরপর তিনি তাঁর মতের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন: "কেননা জাদু হলো শয়তানদের উদ্ভাবন, তাদের সূক্ষ্ম সত্তা এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিবৃত্তির কারণে।" এরপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সেই আপত্তির খণ্ডন শুরু করেন যা দুই ব্যক্তি [হারুত ও মারুত]-কে বহুবচন [শয়তানদের] থেকে বদল (بدل) ধরার ক্ষেত্রে উত্থাপিত হতে পারে; বিশেষ করে যেহেতু ব্যাকরণশাস্ত্রে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, বদল (بدل) এবং যার থেকে বদল করা হচ্ছে (مبدل منه) তাদের মধ্যে সমতা রক্ষা করা আবশ্যক। তিনি এ ক্ষেত্রে তিনটি দিক উল্লেখ করেন; প্রথমটি: কখনও কখনও দুইজনের ওপরও বহুবচনের শব্দ প্রয়োগ করা হয়। দ্বিতীয়টি: হারুত ও মারুত যেহেতু জাদুর শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রধান ছিলেন, তাই তাদের অনুসারীদের বাদ দিয়ে কেবল তাঁদের নামই সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। তৃতীয়টি: শয়তানদের মধ্য থেকে কেবল তাঁদের দুজনকে তাঁদের চরম অবাধ্যতার কারণে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তিনি যা বলেছেন তার স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করেন এবং উল্লেখ করেন যে, কুরআন ও আরবদের কথাবার্তায় এর প্রচুর ব্যবহার রয়েছে।] দেখুন: তাঁর তাফসীর (২/৫০)। আর 'মা' (ما)-কে না-বাচক (نافية) বলার প্রবক্তাদের মধ্যে উস্তাদ সাইয়্যেদ কুতুব (রহিমাহুল্লাহ)-ও রয়েছেন, যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে হারুত ও মারুত ছিলেন এমন দুই ফেরেশতা যারা সেই ব্যক্তিকে জাদু শেখাতেন যে তা শিখতে জেদ ধরত, যা দিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হতো! দেখুন: ফী জিলালিল কুরআন (১/৯৫-৯৬)।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২৩)
الملَكين جبريل وميكائيل، ولكنّ الشياطين - هاروت وماروت - كفروا يعلمون الناس السحر ببابل.

أما الإمام الطبري رحمه الله، فقال: - بعد أن ذكر احتمال كون (ما) نافية أو موصولة، وجواز كونها محتملة للأمرين، واستدل لكل وجه من هذه الأوجه الثلاثة - قال: [والصواب من القول في ذلك عندي، قولُ من وجَّه (ما) التي في قوله تعالى: {وما أنزل على الملكين} إلى أنها موصولة بمعنى «الذي» ، دون معنى (ما) التي هي بمعنى الجَحْد] (1) . فيكون المعنى على ذلك: واتبع اليهود ما تقولته الشياطين في عهد سليمان، من سحر زعموا افتراءً أنه سبب مُلكه، وكذلك اتبعوا الذي تعلموه مما أنزل على الملكين ببابل هاروت وماروت.

وأما الإمام ابن كثير رحمه الله، فبعد أن نسب القولين السابقين كلاً إلى قائله، وساق الأحاديث التي أوردها، كل منهما، وكذلك الآثار في ذلك عن الصحابة والتابعين رضي الله عنهم أجمعين، لم يصرّح رحمه الله بعد ذلك بترجيح كون (ما) نافية فينتفي بذلك إنزال السحر عليهما، أو موصولة، فيثبت ذلك لهما (2) !! إلا أنه رحمه الله ذكر بعدها ما يُشعر باختياره كون (ما) نافية، حيث قال: [وادّعى - أي الإمام الطبري - أن هاروت وماروت مَلَكان أنزلهما الله إلى الأرض، وأَذِن لهما في تعليم السحر اختبارًا لعباده وامتحانًا، بعد أن بيّن لعباده أن ذلك مما يَنهى عنه على ألسنة الرسل _ت، وادعى أن هاروت وماروت مطيعان في تعلّم ذلك، لأنهما امتثلا ما أُمِرا به. وهذا الذي سلكه - أي الإمام الطبري - غريب جدًا … ] (3) ، ثم إن ابن كثير رحمه الله، قد أشار إلى هذا الترجيح بتصريحه أن ما ذكر من تعليم هاروت وماروت الناس ما يفرقون به بين الأزواج، إنما هو من صنيع الشياطين،

--------------------------------------------

(1) وقد علل الإمام رحمه الله مطوَّلاً - لاختياره، انظر: تفسير الطبري (1/499) .

(2) انظر: تفسير ابن كثير (1/139-148) .

(3) المرجع السابق (1/142) .
দুই ফেরেশতা জিবরাঈল এবং মিকাঈল; কিন্তু শয়তানরা—হারুত ও মারুত—কুফরি করেছিল, তারা বাবেলে মানুষকে জাদু শিক্ষা দিত।

পক্ষান্তরে ইমাম তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন— (মা) শব্দটি না-বোধক (نافية) অথবা সংযোজক (موصولة) হওয়ার সম্ভাবনা এবং উভয়টির অবকাশ থাকার কথা উল্লেখ করার পর এবং এই তিনটি দিকের প্রত্যেকটির স্বপক্ষে দলিল উপস্থাপনের পর— তিনি বলেন: [এ বিষয়ে আমার নিকট সঠিক বক্তব্য হলো সেই ব্যক্তির কথা, যে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে দুই ফেরেশতার ওপর} এর মধ্যে (মা) শব্দটিকে 'যা' অর্থে সংযোজক (موصولة) হিসেবে গ্রহণ করেছে, অস্বীকৃতিজ্ঞাপক (الجحد) অর্থ প্রদানকারী না-বোধক (ما) অর্থে নয়] (১)। সুতরাং সে অনুযায়ী অর্থ দাঁড়াবে: সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর রাজত্বকালে শয়তানরা যে জাদুর কথা রটনা করেছিল, ইয়াহুদিরা তারই অনুসরণ করেছিল—যা তারা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দাবি করেছিল যে এটিই ছিল তাঁর রাজত্বের কারণ। অনুরূপভাবে তারা বাবেলে হারুত ও মারুত নামক দুই ফেরেশতার ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা থেকে তারা যা শিখেছিল তারও অনুসরণ করেছিল।

আর ইমাম ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) এর ব্যাপারে কথা হলো, তিনি পূর্বোক্ত মতদ্বয়কে স্ব-স্ব প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধ করার পর এবং তাঁদের উভয়ের বর্ণিত হাদিসসমূহ ও তেমনিভাবে এ বিষয়ে সাহাবী (الصحابة) এবং তাবেঈগণের (التابعين) আসার (الآثار) সমূহ উল্লেখ করার পর, তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) এরপর (মা) শব্দটিকে না-বোধক (نافية) হওয়ার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট প্রাধান্য প্রদান (ترجيح) করেননি—যাতে তাদের ওপর জাদু অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়টি নাকচ হয়ে যায়, কিংবা সংযোজক (موصولة) হওয়ার বিষয়েও না—যাতে তা তাদের জন্য সাব্যস্ত হয় (২)!! তবে তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) এর পরে এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা (মা) শব্দটিকে না-বোধক (نافية) হিসেবে তাঁর পছন্দ করার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন: [তিনি—অর্থাৎ ইমাম তাবারী—দাবি করেছেন যে, হারুত ও মারুত এমন দুই ফেরেশতা যাদেরকে আল্লাহ জমিনে অবতীর্ণ করেছিলেন এবং তাঁর বান্দাদের যাচাই ও পরীক্ষার জন্য জাদু শেখানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। অথচ তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য রাসূলগণের যবানে এটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তা নিষিদ্ধ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, হারুত ও মারুত তা শেখানোর ক্ষেত্রে অনুগত ছিলেন, কেননা তারা যা আদিষ্ট হয়েছিলেন তা-ই পালন করেছিলেন। আর তিনি (ইমাম তাবারী) যে পথ অবলম্বন করেছেন তা অত্যন্ত বিস্ময়কর (غريب) ...] (৩)। অতঃপর ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) এই প্রাধান্য প্রদানের (ترجيح) দিকে তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইশারা করেছেন যে, হারুত ও মারুতের পক্ষ থেকে মানুষকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টিকারী বিষয় শিক্ষা দেওয়ার যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা মূলত শয়তানদেরই কাজ।

--------------------------------------------

(১) ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর পছন্দের সপক্ষে দীর্ঘ কারণ দর্শিয়েছেন, দেখুন: তাফসীরে তাবারী (১/৪৯৯)।

(২) দেখুন: তাফসীরে ইবনে কাসীর (১/১৩৯-১৪৮)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (১/১৪২)।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২৪)
حيث قال رحمه الله: [وقوله تعالى: [البَقَرَة: 102] {فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ} ، أي: فيتعلم الناس من هاروت وماروت من علم السحر، ما يتصرّفون به فيما يتصرّفون فيه من الأفاعيل المذمومة، ما إنهم ليفرّقون به بين الزوجين، مع ما بينهما من الخُلطة والائتلاف، وهذا من صنيع الشياطين، كما رواه مسلم في «صحيحه» (1) ؛ أن النبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: «إِنَّ إِبْلِيسَ يَضَعُ عَرْشَهُ عَلَى الْمَاءِ، ثُمَّ يَبْعَثُ سَرَايَاهُ، فَأَدْنَاهُمْ مِنْهُ مَنْزِلَةً أَعْظَمُهُمْ فِتْنَةً؛ يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ: فَعَلْتُ كَذَا وَكَذَا، فَيَقُولُ: مَا صَنَعْتَ شَيْئًا، قَالَ: ثُمَّ يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ: مَا تَرَكْتُهُ حَتَّى فَرَّقْتُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ امْرَأَتِهِ، قَالَ: فَيُدْنِيهِ مِنْهُ، وَيَقُولُ: نِعْمَ أَنْتَ» (2) .

القول المختار في ذلك (3) : لعل ما ذهب إليه الطبري رحمه الله، من كون (ما) موصولة هو الصواب، فيكون التقدير - كما سبق -: وأقبل بعض أحبار يهود على تعلم السحر من الشياطين الذين ادَّعَوا كذبًا أنه كان سبب ملك سليمان،

--------------------------------------------

(1) الحديث أخرجه مسلم؛ كتاب: صفة القيامة والجنة والنار، باب: تحريش الشيطان وبعثه سراياه لفتنة الناس، برقم (2813) ، عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما.

(2) انظر: تفسير ابن كثير، (1/148) ، وقد روى حديث مسلم السابق باختلافٍ فيه يسير.

(3) اختار هذا القولَ الإمامُ الطبري رحمه الله، وقد فصّل في الردِّ على من رجَّح عدم إنزال السحر على الملكين، انظر: تفسيره (1/497) ، كما الشوكانيُّ في تفسيره (1/130) ، وقد التمس عذرًا لجزم الإمام القرطبي بأن (ما) نافية، فقال: ولعل وجه الجزم بهذا التأويل - مع بُعدِه وظهورِ تكلُّفِه - تنزيه الله سبحانه أن ينزل السحر إلى أرضه فتنةً لعباده على ألسن ملائكته. ثم عقب رحمه الله على هذا الوجه من التفسير بقوله: وعندي أنه لا مُوجِب لهذا الوجه من التعسُّف لما هو الظاهر، فإن لله سبحانه أن يمتحن عباده بما شاء، كما امتحن بنَهَرِ طالوتَ، ولهذا يقول الملَكان: [البَقَرَة: 102] {إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ} . اهـ. وقد اختار هذا الترجيح أيضًا الإمام ابن حجر رحمه الله في الفتح (10/234) ، حيث قال: [وقوله: {وما أنزل} ، «ما» موصولة، ومحلها النصب عطفًا على السحر، والتقدير: يعلِّمون الناس السحر، والمُنْزَلَ على الملكين] ، ثم ذكر رحمه الله وجه النفي، وقال بعده: [والجمهور على خلافه وأنها موصولة] .
যেখানে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [এবং মহান আল্লাহর বাণী: [আল-বাকারাহ: ১০২] {অতঃপর তারা তাদের দুজনের কাছ থেকে এমন কিছু শিখত, যা দিয়ে তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত}, অর্থাৎ: মানুষ হারুত ও মারুতের কাছ থেকে জাদুর এমন কিছু জ্ঞান শিখত, যার মাধ্যমে তারা এমন সব নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত যার ফলে তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ঘনিষ্ঠতা ও সদ্ভাব থাকা সত্ত্বেও তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিত। আর এটি শয়তানদের কাজ, যেমনটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ-তে (১) বর্ণনা করেছেন; যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই ইবলিস পানির উপরে তার সিংহাসন স্থাপন করে, এরপর সে তার বাহিনী প্রেরণ করে। তাদের মধ্যে সেই তার কাছে মর্যাদায় সবচেয়ে নিকটবর্তী, যে পরীক্ষা (فتنة) সৃষ্টিতে সবচেয়ে বড়। তাদের একজন এসে বলে: আমি এই এই করেছি। তখন সে বলে: তুমি কিছুই করোনি। তিনি বলেন: এরপর তাদের অন্য একজন এসে বলে: আমি তাকে (আদম সন্তানকে) ততক্ষণ ছাড়িনি যতক্ষণ না তার ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছি। তিনি বলেন: তখন সে তাকে তার নিকটবর্তী করে এবং বলে: তুমি কতই না চমৎকার!» (২)।

এ বিষয়ে অগ্রগণ্য মত (৩): সম্ভবত ইমাম তাবারী (রহিমাহুল্লাহ) যে মতটি গ্রহণ করেছেন যে, (ما) শব্দটি অব্যয় পদ (موصولة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, সেটিই সঠিক। ফলে বাক্যটির মর্মার্থ হবে - যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে -: ইয়াহুদি পণ্ডিতদের এক অংশ শয়তানদের কাছ থেকে জাদু শিখতে আগ্রহী হয়েছিল, যারা মিথ্যা দাবি করেছিল যে এই জাদুই ছিল সুলায়মানের রাজত্বের কারণ।

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন; কিতাব: সিফাত আল-কিয়ামাহ ওয়া আল-জান্নাহ ওয়া আন-নার, অধ্যায়: তাহরিশুশ শাইতানি ওয়া বা’সুহু সারায়াহু লি-ফিতনাতিন নাস, হাদিস নং (২৮১৩), জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত।

(২) দেখুন: তাফসির ইবনে কাসির, (১/১৪৮), তিনি ইমাম মুসলিমের পূর্বোক্ত হাদিসটি সামান্য শব্দগত পার্থক্যের সাথে বর্ণনা করেছেন।

(৩) ইমাম তাবারী (রহিমাহুল্লাহ) এই মতটিকে বেছে নিয়েছেন এবং তিনি সেই সব ব্যক্তিদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যারা মনে করেন দুই ফেরেশতার ওপর জাদু অবতীর্ণ হয়নি। দেখুন: তাঁর তাফসির (১/৪৯৭)। একইভাবে শাওকানী তাঁর তাফসির (১/১৩০)-এ এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি ইমাম কুরতুবী (ما) শব্দটিকে না-বাচক (نافية) হিসেবে নিশ্চিত করে যে মত দিয়েছেন তার পক্ষে একটি ওজর পেশ করে বলেছেন: সম্ভবত এই ব্যাখ্যাকে নিশ্চিত করার কারণটি হলো - যদিও তা দূরবর্তী এবং স্পষ্টত কষ্টকল্পিত - আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে এটি থেকে পবিত্র রাখা যে তিনি তাঁর ফেরেশতাদের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের পরীক্ষার (فتنة) জন্য পৃথিবীতে জাদু অবতীর্ণ করবেন। এরপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাফসিরের এই দিকের ওপর মন্তব্য করে বলেন: আমার মতে, যা স্পষ্ট তার বিরুদ্ধে গিয়ে এমন কৃত্রিম ব্যাখ্যার কোনো প্রয়োজন নেই। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদের যা দিয়ে ইচ্ছা পরীক্ষা করতে পারেন, যেমনটি তিনি তালুতের নহর (নদী) দিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন। আর এই কারণেই ফেরেশতাদ্বয় বলতেন: [আল-বাকারাহ: ১০২] {আমরা তো কেবল পরীক্ষা (فتنة)}। সমাপ্ত। ইমাম ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) ফাতহুল বারী (১০/২৩৪)-তে এই প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতটিকে পছন্দ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: [এবং তাঁর বাণী: {এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে}, এখানে 'মা' (ما) হলো অব্যয় পদ (موصولة), এবং এর স্থানটি জাদুর ওপর সংযোজন (عطف) হওয়ার কারণে মানসুব হয়েছে। এর মর্মার্থ হলো: তারা মানুষকে জাদু এবং ফেরেশতাদ্বয়ের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা শিক্ষা দিত]। এরপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) না-বাচক (نفي) হওয়ার দিকটি উল্লেখ করেন এবং এরপর বলেন: [সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) ওলামাগণ এর বিপরীত মত পোষণ করেন এবং তারা মনে করেন এটি অব্যয় পদ (موصولة)]।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২৫)
وما كفر سليمان بعمل السحر ولكن الشياطين هم الذين كفروا بافترائهم ذلك، وتعليمهم السحر للناس، وتعليمهم أيضًا ما أُلهِم الملكين ببابل (1) هاروت وماروت (2) وعُلِّماه - فتنة واختبارًا للناس - من سحر التفريق.

--------------------------------------------

(1) بابِل المذكورة في الآية، هي بابل العراق، - كما اختاره الإمام ابن كثير في تفسيره، لا بابل دُنْبَاوَنْد - كما ذكره الإمام الطبري عن السُّدِّي رحمه الله، في تفسيره [1/504] ، وقد حدّد الإمام ابن كثير بدقة متناهية موضع بابل من العراق! فقال رحمه الله: [وقال أصحاب الهيئة: وبُعد ما بين بابل - وهي من إقليم العراق - عن البحر المحيط الغربي، ويقال له: أوقيانوس: سبعون درجة، ويسمّون هذا طولاً، وأما عرضها وهو بُعد ما بينها وبين وسط الأرض من ناحية الجنوب، وهو المسامت - أي: المقابل والموازي - لخط الاستواء: اثنان وثلاثون درجة، والله أعلم] . اهـ. انظر: تفسير ابن كثير ص128، ط - بيت الأفكار.

 

وأصحاب الهيئة، هم: المشتغلون بعلم الهيئة - أي علم الفلك -[وهو (علم يُبْحَث فيه عن أحوال الأجرام البسيطة العلوية والسُّفلية، من حيث الكمية والكيفية والوضع والحركة اللازمة لها وما يلزم منها] انظر: موسوعة كشّاف اصطلاحات الفنون. للعلاّمة محمد التهانوي [1/61] .

وذكر الحَمَوي في معجم البلدان [1/367] أن بابل - بكسر الباء - اسم ناحيةٍ من الكوفة والحِلَّة، ينسب إليها السحر والخمر. وبابل هي غير (بَابِلْيون) ، التي هي اسمٌ عام لديار مصرَ بلغة القدماء وأهل الكتاب كما ذكره الحَمَويُّ ايضًا [1/370] .

أما سبب تسمية بابل، فذكر القرطبي [2/53] (عن ابن عبد البر أنه قال: أخصر وأحسن ما قيل في ذلك ما رواه عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما: أن نوحًا عليه السلام لما هبط إلى أسفل الجُودِيّ ابتنى قرية وسمّاها ثمانين، فاصبح ذات يوم، وقد تَبَلْبَلَتْ ألسنتهم على ثمانين لغة إحداها اللسان العربي، وكان لا يفهم بعضهم عن بعض) .

أما دُنْبَاوَنْد فذكر الحموي في معجم البلدان [2/541] أنها لغة في دُبَاوند، وهو جبل - من نواحي الرَّيِّ - عالٍ مشرف شاهق شامخ، لا يفارق أعلاه الثلج شتاءً ولا صيفًا، وزعم العامّة أن سليمان ابن داود عليهما السلام قد حبس فيه ماردًا من مردة الشياطين، يقال له: صخرٌ المارد.

(2) ذكر القرطبي [2/53] أنهما اسما عَلَم على المَلَكين، وهما أعجميان لا ينصرفان، والجمع: هَوَاريت ومَوَاريت، مثل طواغيت، ويقال: هَوَارتة وهَوَار، ومَوَارتة ومَوَار، ومِثْلُه جالوت وطالوت.

 

[وقد كان إنزال الملكين هاروت وماروت للتمييز بين السحر وبين المعجزة، التي هي أمر خارق للعادة يظهر على يد النبيِّ، حيث كَثُر السحر في ذلك الزمان، وأظهر السحرة من الأمور الغريبة ما يُوقِع الشكَّ في النبوَّة، فبعث الله هذين الملكين لتعليم أبواب السحر، … حتى يزيلا الشُّبَه، ويميطا الأذى عن الطريق. والظاهر: أنهما نزلا بصورة آدميةٍ، ولا بُعْدَ في ذلك، فقد كان جبريل عليه السلام ينزل بصورة دحية الكلبي، وغيره] . انظر: تفسير نور الإيمان للشيخ محمد مصطفى أبي العلا ص 147.

أما ما ورد في شأن قصة هاروت وماروت فقد ذكر ابن كثير في تفسيره [1/146] بعد أن استوعب جميع المرويّ في ذلك أنه [مع كثرة الروايات عن خلق من المفسرين من المتقدمين والمتأخرين، إلا أن حاصلها راجع في تفصيلها إلى أخبار بني إسرائيلَ، إذ ليس فيها حديث مرفوع صحيح متصل الإسناد إلى الصادق المصدوق المعصوم الذي لا ينطق عن الهوى، وظاهر سياق القرآن إجمالُ القصةِ، من غير بَسْطٍ ولا إطناب فيها، فنحن نؤمن بما ورد في القرآن على ما أراده الله تعالى، والله أعلم بحقيقة الحال] .

لكنْ مع ذلك فإن الإمام ابن حجر رحمه الله ذهب إلى أن لقصة الملكين أصلاً، فقال: [وقصة هاروت وماروت جاءت بسند حسن من حديث ابن عمر رضي الله عنهما في مسند أحمد، وأطنب الطبري في إيراد طرقها بحيث يُقضى بمجموعها على أن للقصة أصلاً، خلافًا لمن زعم بطلانها كالقاضي عياض ومن تبعه] . انظر: الفتح (10/235) .

 

ولعل سبيل الجمع بين مذاهب أهل العلم في ذلك: أن ما يرويه المفسرون في قصة هاروت وماروت لا يصح رفعه إلى النبيِّ صلى الله عليه وسلم، وذلك لكونه لم يستجمع شروط الصحيح، المُصطلَح عليها عند أهل الحديث، ولكون تفصيلاتها من جملة أخبار بني إسرائيل، التي لا يعوّل عليها، لذا فقد أنكرها جمعٌ من ثقات الأئمة وعلماء الإسلام، كالقاضي عياض، والفخر الرازي، والشهاب العراقي، والإمام ابن كثير، والعلاّمة الآلوسي والأستاذ سيد قطب رحم الله الجميع، إلا أن كثرة المروي في ذلك، واستفاضة طرقه، يشير بوضوح - حسبما يرى الإمام ابن حجر رحمه الله إلى أن للقصة أصلاً، لكن غاية ما هنالك أنهم لم يجيزوا تصحيح رفعها عند من أنكرها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، واقتصروا على ما في القرآن مجملاً على ما أراده الله تعالى، والله أعلم.
আর সুলাইমান জাদু করে কুফরি করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল তাদের সেই মিথ্যা অপবাদের মাধ্যমে, এবং মানুষকে জাদু শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে; আর যা ব্যাবিলনের (১) দুই ফেরেশতা হারুত ও মারুতকে (২) ইলহাম করা হয়েছিল তা শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে। আর মানুষের জন্য পরীক্ষা ও যাচাইস্বরূপ বিচ্ছেদের জাদু তাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) আয়াতে উল্লেখিত ব্যাবিলন হলো ইরাকের ব্যাবিলন—যেমনটি ইমাম ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে গ্রহণ করেছেন, এটি দুনবাওয়ান্দ-এর ব্যাবিলন নয়—যেমনটি ইমাম তাবারী তাঁর তাফসিরে [১/৫০৪] সুদ্দী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম ইবনে কাসির অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ইরাকের ব্যাবিলনের অবস্থান নির্ধারণ করেছেন! তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [জ্যোতির্বিদগণ বলেছেন: ব্যাবিলন—যা ইরাক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত—এবং পশ্চিম মহাসাগর, যাকে ওকিয়ানোস (আটলান্টিক) বলা হয়, এর মধ্যবর্তী দূরত্ব সত্তর ডিগ্রি, তারা একে দ্রাঘিমাংশ বলেন। আর এর অক্ষাংশ অর্থাৎ এটি এবং পৃথিবীর মধ্যভাগের দক্ষিণ দিকের দূরত্ব, যা বিষুবরেখার সমান্তরাল—বত্রিশ ডিগ্রি, আল্লাহই ভালো জানেন]। সমাপ্ত। দেখুন: তাফসির ইবনে কাসির পৃ. ১২৮, বাইতুল আফকার সংস্করণ।

 

আর জ্যোতির্বিদ (আসহাবুল হাইআহ) হলেন তারা: যারা জ্যোতির্বিজ্ঞান—অর্থাৎ মহাকাশবিজ্ঞান—নিয়ে চর্চা করেন। [এটি এমন এক জ্ঞান যা ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতের সরল বস্তুসমূহের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে, এর পরিমাণ, গুণাগুণ, অবস্থান এবং এগুলোর জন্য আবশ্যকীয় গতিবিধি ও এর ফলাফল সম্পর্কে]। দেখুন: আল্লামা মুহাম্মদ আল-তহনবী রচিত ‘মাওসুআতু কাশশাফি ইস্তিলাহাতিল ফুনুন’ [১/৬১]।

হামাউই ‘মুজামুল বুলদান’ [১/৩৬৭] গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ব্যাবিলন—বা’ অক্ষরে কাসরা (জের) সহ—হলো কুফা ও হিল্লাহ অঞ্চলের একটি জনপদের নাম, যার দিকে জাদু ও মদ্যপানের সম্পর্ক আরোপ করা হয়। আর এই ব্যাবিলন ‘ব্যাবিলিয়ন’ থেকে ভিন্ন, যা প্রাচীন ও কিতাবীদের ভাষায় সমগ্র মিশরীয় ভূখণ্ডের সাধারণ নাম ছিল, যেমনটি হামাউইও উল্লেখ করেছেন [১/৩৭০]।

ব্যাবিলন নামকরণের কারণ সম্পর্কে কুরতুবি [২/৫৩] উল্লেখ করেছেন (ইবনে আবদিল বার থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: এ বিষয়ে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ও উত্তম কথা হলো যা ইকরিমাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন: নুহ (আলাইহিস সালাম) যখন জুদি পাহাড়ের পাদদেশে নামলেন, তখন তিনি একটি গ্রাম তৈরি করেন এবং এর নাম দেন ‘সামানিন’ (আশি)। একদিন সকালে দেখা গেল যে, তাদের ভাষা আশিটি ভাষায় বিভক্ত হয়ে গেছে, যার একটি ছিল আরবি ভাষা, ফলে তারা একে অপরের কথা বুঝতে পারছিল না)।

আর দুনবাওয়ান্দ সম্পর্কে হামাউই ‘মুজামুল বুলদান’ [২/৫৪১] গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এটি ‘দুবাহওয়ান্দ’ শব্দের একটি রূপ, যা রায় অঞ্চলের একটি সুউচ্চ ও বিশাল পাহাড়, যার চূড়া শীত বা গ্রীষ্ম কোনো ঋতুতেই তুষারমুক্ত হয় না। সাধারণ মানুষের ধারণা যে, সুলাইমান ইবনে দাউদ (আলাইহিস সালাম) সেখানে শয়তানদের মধ্যকার ‘সাখর’ নামক এক অবাধ্য জিনকে বন্দী করে রেখেছিলেন।

(২) কুরতুবি [২/৫৩] উল্লেখ করেছেন যে, এ দুটি হলো দুই ফেরেশতার নাম। এগুলো অনারবি শব্দ যা রূপান্তরহীন (لا ينصرف), এবং এর বহুবচন হলো: হাওয়াারিত ও মাওয়াারিত, যেমন তাওয়াগিত। আবার হাওয়াারিতাহ, হাওয়াার, মাওয়াারিতাহ ও মাওয়াার-ও বলা হয়; এর উদাহরণ হলো জালুত ও তালুত।

 

[হারুত ও মারুত নামক দুই ফেরেশতাকে পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিল জাদু এবং মুজিজার (অলৌকিক ঘটনা) মধ্যে পার্থক্য করা। মুজিজা হলো স্বভাববিরুদ্ধ বিষয় যা নবীর হাতে প্রকাশ পায়। যেহেতু ওই সময় জাদুর ব্যাপক বিস্তার ঘটেছিল এবং জাদুকররা এমন সব আশ্চর্যজনক বিষয় প্রকাশ করছিল যা নবুওয়াতের বিষয়ে সংশয় তৈরি করত, তাই আল্লাহ এই দুই ফেরেশতাকে জাদুর বিভিন্ন শাখা শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন... যাতে তারা সংশয় দূর করতে পারেন এবং পথ থেকে জঞ্জাল সরাতে পারেন। স্পষ্টত তারা মানবাকৃতিতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং এতে অসম্ভব কিছু নেই, কেননা জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) দিহইয়া আল-কালবী ও অন্যদের আকৃতিতে অবতীর্ণ হতেন]। দেখুন: শেখ মুহাম্মদ মোস্তফা আবু আল-উলা রচিত ‘তাফসিরু নূরিল ঈমান’, পৃ. ১৪৭।

হারুত ও মারুতের কাহিনীর বর্ণনার ক্ষেত্রে ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে [১/১৪৬] এ সংক্রান্ত সকল বর্ণনা পর্যালোচনার পর উল্লেখ করেছেন যে, [পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অনেক মুফাসসির থেকে বর্ণিত অসংখ্য বর্ণনা থাকলেও, এর বিস্তারিত বিবরণ মূলত বনী ইসরায়েলের সংবাদের দিকেই ফিরে যায়। কেননা এ বিষয়ে এমন কোনো নবী পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع), বিশুদ্ধ (صحيح) ও নিরবচ্ছিন্ন সনদবিশিষ্ট (متصل الإسناد) হাদিস নেই যা সেই সত্যবাদী, সত্যয়নকারী ও মাসুম সত্তার দিকে পৌঁছেছে, যিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। আর কুরআনের বাহ্যিক প্রেক্ষাপটে কাহিনীটি সংক্ষিপ্তভাবেই এসেছে, এতে কোনো বিস্তার বা অতিশয়োক্তি নেই। অতএব আমরা কুরআনে যা এসেছে তার ওপর এবং আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী ঈমান আনছি, আর প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই ভালো জানেন]।

তবে এতদসত্ত্বেও ইমাম ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, দুই ফেরেশতার এই কাহিনীর মূল ভিত্তি রয়েছে। তিনি বলেছেন: [ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মুসনাদে আহমাদ-এ হারুত ও মারুতের কাহিনী ‘হাসান’ (حسن) সনদে বর্ণিত হয়েছে। তাবারী এর অসংখ্য সূত্র উল্লেখ করেছেন যা সমষ্টিগতভাবে এই ফায়সালা দেয় যে, এই কাহিনীর একটি ভিত্তি রয়েছে। যারা এই কাহিনী বাতিল বলে দাবি করেন—যেমন কাজি আয়াজ ও তাঁর অনুসারীরা—তাদের দাবি এর পরিপন্থী]। দেখুন: ফাতহুল বারী (১০/২৩৫)।

 

সম্ভবত এ বিষয়ে আলেমগণের মতামতের মধ্যে সমন্বয়ের পথ হলো: হারুত ও মারুতের কাহিনীতে মুফাসসিরগণ যা বর্ণনা করেন, তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে মারফু (مرفوع) হিসেবে সাব্যস্ত হওয়া শুদ্ধ নয়। কারণ এটি হাদিস বিশারদগণের নিকট পরিভাষাসম্মত বিশুদ্ধ (صحيح) হওয়ার শর্তাবলি পূরণ করেনি। এছাড়া এর বিস্তারিত বিবরণগুলো বনী ইসরায়েলের সংবাদের অন্তর্ভুক্ত, যার ওপর নির্ভর করা যায় না। এই কারণে নির্ভরযোগ্য (ثقة) ইমামগণের একটি জামাত ও ইসলামের আলেমগণ একে অস্বীকার করেছেন, যেমন: কাজি আয়াজ, ফখর রাযী, শিহাব ইরাকি, ইমাম ইবনে কাসির, আল্লামা আলূসী এবং উস্তাদ সাইয়্যেদ কুতুব (রহিমাহুমুল্লাহ)। তবে এ সংক্রান্ত বর্ণনার আধিক্য এবং এর সূত্রের ব্যাপকতা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে—যেমনটি ইমাম ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) মনে করেন—যে এই কাহিনীর একটি মূল ভিত্তি রয়েছে। তবে মূল বিষয় হলো, যারা এটি অস্বীকার করেছেন তারা এটিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বিশুদ্ধ (صحيح) করার অনুমতি দেননি, বরং তারা কুরআনে বর্ণিত সংক্ষিপ্ত বিবরণের ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন যা আল্লাহ তাআলা উদ্দেশ্য করেছেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২৬)
أما وجه هذا الاختيار، فلأمور منها:

أ- … أن إدراج التقديم والتأخير في عبارات الآية الكريمة، يتنافى مع مقام القرآن أحسن الحديث، والبالغ شأوًا لا يُقارَب من درجات البلاغة وإعجازًا لا يبارى في منازل الفصاحة.

ب - … أن ثمة فرقًا شاسعًا بين نبل غاية الملكين من تعليم السحر، وخبث مرمى الشياطين في ذلك، فالنص الكريم قد صرّح بكون الملكين فتنة
এই পছন্দের কারণসমূহ কয়েকটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত:

ক- … পবিত্র আয়াতের শব্দাবলির বিন্যাসে শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ হওয়া বা আগে-পিছে আসাকে (التقديم والتأخير) অন্তর্ভুক্ত করা কুরআনের সুমহান মর্যাদার পরিপন্থী; যে কুরআন হলো সর্বোত্তম হাদিস এবং যা অলঙ্কারশাস্ত্রের এমন এক সুউচ্চ শিখরে পৌঁছেছে যার নাগাল পাওয়া অসম্ভব এবং প্রাঞ্জলতার এমন এক মুজিজাস্বরূপ (إعجاز) স্তরে অধিষ্ঠিত যার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

খ - … জাদু শিক্ষার ক্ষেত্রে ফেরেশতাদ্বয়ের সুমহান উদ্দেশ্য এবং এক্ষেত্রে শয়তানদের হীন অভিসন্ধির মাঝে বিস্তর ব্যবধান বিদ্যমান। কেননা পবিত্র নস (النص) বা পাঠে স্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে যে, ফেরেশতাদ্বয় ছিলেন একটি পরীক্ষা (فتنة)।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২৭)
وأن تعليمهم السحر للناس، إنما هو ابتلاء لهم، وتبرئة لسليمان عليه السلام مما افترته الشياطين عليه، وأنهما لا يعلمان أحدًا حتى يبذلا قصارى جهدهما في النصيحة له بنهيه عن ذلك التعلُّم، وإعلامه بمغبة ما يُقدِم عليه، ووقوعه بالكفر باعتقاده حقِّيَّته، وخسرانه المبين في آخرته. بينا كان تعليم الشياطين السحر للناس، افتراء على سليمان عليه السلام، وكفرًا بنبوته وشرعه، ودعوة إلى العمل بالسحر، وإضلالاً لعباد الله تعالى، فشتَّانَ بين مُحَذِّرٍ من ضلالة، وبين داعٍ إليها.

جـ- … أن السحرة قد كثروا في ذلك الزمان ببابل، وأن بعضهم قد افتتن الناس به، حتى ادَّعَوا له نبوة، فبعث الله هذين الملكين ليعلما الناس أبواب السحر، حتى يزيلا اللبس الحاصل عند الناس بين معجزات الأنبياء وأباطيل السحرة.

د- … أن في جعل (هاروت وماروت) بدلاً من الشياطين، ما لا يخفى من تكلُّفٍ، لا يتناسب مع قواعد العربية التي توجب أن يكون البدل مطابقًا للمبدل منه، فكيف يكون اثنان بدلاً من جمع، وهو نادر في لغة العرب، فضلاً عن أن السياق هنا يأباه.

هـ- … أن دأْب الشياطين ودَيْدنهم هو تزيين الباطل، وتسويل الإضلال والدعوة إلى الكفر، كما قال تعالى: [الحَشر: 16] {كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ إِذْ قَالَ لِلإِنْسَانِ اكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِنْكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ *} . فكيف يسوغ أن يكون هاروت وماروت من الشياطين، مع كونهما - بنص الآية - يحذران المتعلم أشد التحذير من تعلّم السحر، وينهيانه أعظم النهي عن الوقوع بما يتسبب بكفره؟ ثم هما لا يعلّمان إلا من أبى أن ينزجر عما زجراه عنه، فلو كانا شيطانين لرحّبا به أيما ترحيب، فهو قد أقبل عليهما بكلّيته لا يريد إلا غاية ما يسعيان لأجله، وهو إضلال الناس.
আর মানুষের কাছে তাদের জাদু (سحر) শিক্ষা দেওয়া ছিল কেবল তাদের জন্য একটি পরীক্ষা (ابتلاء), এবং শয়তানরা সুলাইমান আলাইহিস সালামের ওপর যে মিথ্যাচার করেছিল তা থেকে তাঁকে দায়মুক্ত করার উদ্দেশ্য। তারা কাউকে শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না তাকে সেই শিক্ষা গ্রহণ থেকে বিরত রাখার জন্য নসিহত প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করত এবং যে পথে সে অগ্রসর হচ্ছে তার ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে তাকে অবহিত করত। আর জাদুকে সত্য মনে করার মাধ্যমে যে কুফর (كفر) সংঘটিত হয় এবং পরকালে তার যে স্পষ্ট ক্ষতি হবে, সে সম্পর্কেও তারা তাকে সতর্ক করত। অন্যদিকে শয়তানদের মানুষকে জাদু (সحر) শিক্ষা দেওয়া ছিল সুলাইমান আলাইহিস সালামের ওপর অপবাদ, তাঁর নবুওয়াত ও শরিয়তের প্রতি কুফর (كفر), জাদুর ওপর আমল করার আহ্বান এবং আল্লাহর বান্দাদের পথভ্রষ্ট করা। সুতরাং বিভ্রান্তি থেকে সতর্ককারী এবং বিভ্রান্তির দিকে আহ্বানকারীর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।

গ- … সেই যুগে বাবেলে জাদুকরদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং তাদের কেউ কেউ মানুষকে এমনভাবে বিভ্রান্ত করেছিল যে, তারা নবুওয়াতের দাবিও করেছিল। ফলে আল্লাহ এই দুই ফেরেশতাকে পাঠিয়েছিলেন যাতে তারা মানুষকে জাদুর বিভিন্ন দিক শিক্ষা দেন, যাতে মানুষের মাঝে নবীদের অলৌকিক নিদর্শন (معجزات) এবং জাদুকরদের অসার কার্যাবলির মধ্যে বিদ্যমান অস্পষ্টতা দূর হয়।

ঘ- … শয়তানদের পরিবর্তে (হারুত ও মারুত)-কে অনুবর্তী পদ বা বদল (بدل) হিসেবে গণ্য করার মধ্যে যে কৃত্রিমতা রয়েছে তা গোপন নয়; যা আরবি ভাষার ব্যাকরণগত নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ নিয়ম অনুযায়ী অনুবর্তী পদ বা বদল (بدل) এবং যার পরিবর্তে বদল হয় (مبدل منه)-এর মধ্যে মিল থাকা আবশ্যক। অথচ এখানে কীভাবে বহুবচনের পরিবর্তে দ্বিবচন অনুবর্তী পদ বা বদল (بدل) হতে পারে? এটি আরবি ভাষায় বিরল, তদুপরি বর্তমান প্রেক্ষাপট (سياق)-ও এটি সমর্থন করে না।

ঙ- … শয়তানদের স্বভাব ও চিরন্তন রীতি হলো বাতিলকে সুশোভিত করা, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং কুফর (كفر)-এর দিকে আহ্বান জানানো; যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: [আল-হাশর: ১৬] {তারা শয়তানের মতো, যে মানুষকে বলে ‘কুফর (كفر) করো’; এরপর যখন সে কুফর (كفر) করে, তখন শয়তান বলে, ‘তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, আমি তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি’}। এমতাবস্থায় হারুত ও মারুত কীভাবে শয়তানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে? অথচ আয়াতের অকাট্য পাঠ্য অনুযায়ী (بنص الآية) তারা শিক্ষার্থীকে জাদু (سحر) শেখার ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করত এবং যা তার কুফর (كفر)-এর কারণ হয় তা থেকে সর্বোচ্চ পন্থায় বিরত রাখত। উপরন্তু, তারা কেবল তাকেই শিক্ষা দিত যে তাদের নিষেধ করা সত্ত্বেও তা থেকে বিরত হতে অস্বীকার করত। তারা যদি শয়তান হতো তবে তাকে সানন্দে স্বাগত জানাত; কেননা সে তো সর্বান্তকরণে তাদের কাছে এসেছে এবং সে কেবল তা-ই চাচ্ছে যা অর্জনের জন্য তারা চেষ্টা করে থাকে, আর তা হলো মানুষকে পথভ্রষ্ট করা।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২৮)
أخي القارئ الكريم:

هذا ما وفقني الله تعالى لاختياره من اجتهاد أهل العلم في هذه المسألة، ولا أجزم بترجيح فيه، إلا أنه - كما ذكر آنفًا - هو قول الجمهور منهم، ولغيرهم اجتهاده، ولكلٍّ منهم أدلته وتعليله، والله أعلم بمراده.

المسألة الثانية: قد يلتبس على البعض جواز تعليم الملائكة الناس التفريقَ بين المرء وزوجه، مع ما ثبت من الدلائل على عصمة الملائكة عن المعصية، فكيف يمكن التوفيق بين هذا وذاك؟

[إن السحر مما قد نهى الله عباده من بني آدم عنه، فغيرُ منكَرٍ أن يكون جلّ ثناؤه علّمه الملكين الذين سمّاهما في تنزيله، وجعلهما فتنة لعباده من بني آدم - كما أخبر عنهما أنهما يقولان لمن يتعلم ذلك منهما: [البَقَرَة: 102] {إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ} ، ليختبر بهما عباده الذين نهاهم عن التفريق بين المرء وزوجه، وعن السحر، فيمحِّصَ المؤمنَ بتركه التعلم منهما، ويخزي الكافر بتعلمه السحر والكفرَ منهما، فيكون الملكان في تعليمهما مَنْ علّماه ذلك لله مطيعَيْن، إذ كانا - عن إذن الله لهما - يعلّمان. وقد عُبد من دون الله جماعة من أولياء الله، فلم يكن ذلك لهم ضائرًا، إذ لم يكن ذلك بأمرهم إياهم به، بل عُبد بعضهم والمعبود عنه ناهٍ. فذلك الملكان غير ضائرهما سحرُ مَن سَحَر، ممن تعلم ذلك منهما، بعد نهيهما إياه عنه، وعِظتهما له بقولهما: {إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ} إذا كانا قد أدّبا ما أُمِرا به بقيلهما ذلك] (1) كذلك [فإن هذين الملكين قد سبق في علم الله تعالى لهما إنزالها بابل، وإنزال علم التفريق بين المرء وزوجه عليهما، فيكن هذ … اتخصيص لهما من جملة الملائكة عليه السلام، فلا تعارض حينئذ، وذلك كما سبق في علمه تعالى من أمر إبليس من استكباره عن السجود لآدم، مع كونه في الملأ الأعلى وقد

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير الطبري (1/501) .
হে প্রিয় পাঠক ভাই:

আল্লাহ তাআলা আমাকে এই মাসআলা (المسألة) বা বিষয়ে বিজ্ঞ আলিমগণের ইজতিহাদ (اجتهاد) থেকে যা নির্বাচন করার তাওফিক দিয়েছেন তা-ই এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি এ ক্ষেত্রে কোনো মতকে চূড়ান্তভাবে অগ্রাধিকার দিচ্ছি না; তবে পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে—এটি জমহুর (الجمهور) বা সংখ্যাগুরু আলিমদের অভিমত। অন্যদের নিজস্ব ইজতিহাদ (اجتهاد) রয়েছে এবং প্রত্যেকেরই নিজস্ব দলিল ও ব্যাখ্যা রয়েছে। আল্লাহ-ই তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সবচাইতে ভালো জানেন।

দ্বিতীয় মাসআলা (المسألة): ফিরিশতাদের নিষ্পাপ হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য দলিল থাকা সত্ত্বেও তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো শেখানোর বৈধতা কারো কারো কাছে অস্পষ্ট মনে হতে পারে। সুতরাং, এ দুয়ের মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করা সম্ভব?

[নিশ্চয়ই জাদু এমন একটি বিষয় যা থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁর আদম সন্তান বান্দাদের নিষেধ করেছেন। সুতরাং মহান আল্লাহ তাঁর অবতীর্ণ কিতাবে যে দু’জন ফিরিশতার নাম উল্লেখ করেছেন, তাঁদের এটি শিক্ষা দেওয়া এবং তাঁদের আদম সন্তানদের জন্য পরীক্ষা হিসেবে নির্ধারণ করা অযৌক্তিক নয়— যেমনটি তিনি তাঁদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁরা শিক্ষা গ্রহণকারীদের উদ্দেশ্য করে বলতেন: {আমরা তো কেবল একটি পরীক্ষা, কাজেই তোমরা কুফরি করো না} [আল-বাকারা: ১০২]। যাতে তিনি তাঁদের মাধ্যমে সেই সব বান্দাদের পরীক্ষা করতে পারেন যাদের তিনি স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ এবং জাদু করতে নিষেধ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি মুমিনকে তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ বর্জন করার দ্বারা পরিশুদ্ধ করবেন এবং কাফিরকে তাঁদের নিকট থেকে জাদু ও কুফরি শেখার মাধ্যমে লাঞ্ছিত করবেন। এমতাবস্থায় ফিরিশতাগণ যাঁদেরকে এটি শিক্ষা দিয়েছেন সেই শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁরা আল্লাহর অনুগতই থাকবেন; যেহেতু তাঁরা আল্লাহর অনুমতিক্রমেই শিক্ষা দান করছিলেন। ইতিপূর্বে আল্লাহর অনেক ওলিদেরও ইবাদত করা হয়েছে, কিন্তু তাতে তাঁদের কোনো ক্ষতি হয়নি; কেননা তাঁরা লোকদের তেমন নির্দেশ দেননি, বরং তাঁদের ইবাদত করা হয়েছে অথচ ইবাদতকৃত ব্যক্তি তা নিষেধ করেছিলেন। অনুরূপভাবে, ঐ ফিরিশতাগণ যাঁদের জাদুর শিক্ষা দিয়েছেন, তাঁদের পক্ষ থেকে নিষেধ করা এবং "আমরা তো কেবল একটি পরীক্ষা, কাজেই তোমরা কুফরি করো না" এই নসিহত প্রদানের মাধ্যমে সতর্ক করার পর যদি কেউ জাদুকর হয়, তবে তাতে ফিরিশতাগণের কোনো ক্ষতি হবে না; যেহেতু তাঁরা যা আদিষ্ট হয়েছিলেন তা পালনের মাধ্যমে আদব রক্ষা করেছেন।] (১) একইভাবে [এই দুই ফিরিশতার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার ইলমে পূর্ব থেকেই এটি নির্ধারিত ছিল যে, তাঁদের বাবিলে অবতরণ করানো হবে এবং তাঁদের ওপর স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের ইলম নাযিল করা হবে। সুতরাং এটি ফিরিশতাদের (আলাইহিমুস সালাম) সাধারণ জামাতের মধ্য থেকে তাঁদের জন্য একটি বিশেষ নির্ধারণ … তখন আর কোনো বিরোধ থাকে না। যেমনটি আল্লাহ তাআলার ইলমে ইবলিসের বিষয়টি পূর্ব থেকেই নির্ধারিত ছিল— উচ্চতর পরিষদে থাকা সত্ত্বেও আদমের প্রতি সিজদা করতে তার অহংকার প্রদর্শন করা, যদিও সে

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসিরে তাবারি (১/৫০১)।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ২৯)
قيل إنه كان من الملائكة، لقوله تعالى: [البَقَرَة: 34] {وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لآِدَمَ فَسَجَدُوا إِلَاّ إِبْلِيسَ أَبَى} ، إلى غير ذلك من الآيات الدالة على ذلك، مع أن شأن هاروت وماروت - على ما ذُكِر - أخفُّ مما وقع من إبليس لعنه الله] (1) .

7- … يقول تعالى: [البَقَرَة: 102] {وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ} .

[تأويل ذلك: وما يعلِّم الملكان أحدًا من الناس الذي أنزل عليهما من التفريق بين المرء وزوجه، حتى يقولا له: إنما نحن بلاء وفتنة لبني آدم، فلا تكفر بربّك، فيأبَوْن قبول ذلك منهما، فيتعلمون منهما السحر الذي يفرقون به بين الرجل وامرأته] (2) [وفي معنى {يعلمان} قولان؛ أحدهما: أنه من باب التعليم، الثاني: أنه من الإعلام لا من التعليم، فـ {يعلمان} بمعنى يُعْلِمان، وقد جاء في كلام العرب تعلّم بمعنى: اعْلَم] (3) . فيكون المعنى على القول الثاني: [أن الملكين يعلّمان الناس تعليم إنذار من السحر لا تعليم دعاء إليه] (4) ، فيخبرانهم أن تعلمه والعمل به موجب لكفرهم، ولحرمانهم من نصيبهم من التنعُّم في الآخرة.

[وأما الفتنة، فهي المحنة والاختبار، كما قال تعالى إخبارًا عن موسى عليه السلام: [الأعرَاف: 155] {إِنْ هِيَ إِلَاّ فِتْنَتُكَ} ، أي ابتلاؤك واختبارك وامتحانك] (5) .

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير ابن كثير ص 124، ط - بيت الأفكار.

(2) انظر: تفسير الطبري (1/506-507) .

(3) انظر: تفسير القرطبي (2/54) .

(4) المرجع السابق (2/53) .

(5) انظر: تفسير ابن كثير (1/148) .
বলা হয়েছে যে তিনি ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: [আল-বাকারা: ৩৪] {আর যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমের সামনে সেজদা করো, তখন ইবলিস ব্যতীত সকলে সেজদা করল; সে অস্বীকার করল}, এছাড়া আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা এর ওপর প্রমাণ দেয়। যদিও হারুত ও মারুতের বিষয়টি—যেমনটি বর্ণিত হয়েছে—ইবলিসের (আল্লাহর অভিশাপ তার ওপর হোক) কৃতকর্মের চেয়ে হালকা।

৭- … মহান আল্লাহ বলেন: [আল-বাকারা: ১০২] {আর তারা কাউকে তা শিক্ষা দিত না যতক্ষণ না তারা বলত: আমরা কেবল একটি পরীক্ষা (فتنة), সুতরাং তোমরা কুফরি (كفر) করো না}।

[এর ব্যাখ্যা: ফেরেশতাদ্বয় মানুষের কাউকে সেই বিষয় শিক্ষা দিত না যা তাদের ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছিল—স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর পদ্ধতি—যতক্ষণ না তারা তাকে বলত: আমরা বনী আদমের জন্য কেবল একটি বিপদ ও পরীক্ষা (فتنة), সুতরাং তোমার প্রতিপালকের সাথে কুফরি (كفر) করো না। এরপর তারা ফেরেশতাদ্বয়ের এই সতর্কবার্তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করত এবং তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত যা দিয়ে তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত।] [আর {يعلمان} শব্দের অর্থের ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে; প্রথমটি: এটি শিক্ষা প্রদান (تعليم) এর অন্তর্ভুক্ত, দ্বিতীয়টি: এটি অবহিত করা (إعلام) থেকে এসেছে, শিক্ষা প্রদান থেকে নয়। ফলে {يعلمان} শব্দটি 'অবহিত করা' (يُعْلِمان) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আরবদের কথাবার্তায় ‘তাল্লাম’ (تعلّم) শব্দটি ‘জেনে রাখো’ (اعْلَم) অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।]। সুতরাং দ্বিতীয় অভিমত অনুযায়ী অর্থটি হবে: [ফেরেশতাদ্বয় মানুষকে জাদুর ব্যাপারে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে শিক্ষা দিতেন, জাদুর প্রতি আহ্বান করার উদ্দেশ্যে নয়], তারা মানুষকে এই সংবাদ দিতেন যে, এটি শিক্ষা করা এবং এর ওপর আমল করা তাদের কুফরি (كفر) এর কারণ হবে এবং পরকালে জান্নাতের নেয়ামত থেকে তাদের বঞ্চিত করবে।

[আর 'ফিতনাহ' (فتنة) হলো মূলত বিপদ ও পরীক্ষা, যেমনটি মহান আল্লাহ মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: [আল-আ’রাফ: ১৫৫] {এটি কেবল আপনার পক্ষ থেকে পরীক্ষা (فتنة)}, অর্থাৎ আপনার পক্ষ থেকে পরীক্ষা ও যাচাই।]

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসির ইবনে কাসির, পৃষ্ঠা ১২৪, বাইতুল আফকার সংস্করণ।

(২) দেখুন: তাফসির তাবারী (১/৫০৬-৫০৭)।

(৩) দেখুন: তাফসির কুরতুবী (২/৫৪)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস (২/৫৩)।

(৫) দেখুন: তাফসির ইবনে কাসির (১/১৪৮)।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ৩০)
8- … يقول تعالى: [البَقَرَة: 102] {فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ} ، وهنا مسألتان أيضًا:

الأولى: هل ما أُنزل على الملكين من تفريق بين المرء وزوجه، هو عينُه السحر الذي تُعلِّمه الشياطين، أم هو معنىً غير السحر؟ وهل يقدر الساحر على أكثر من التفريق؟

قال قتادة رحمه الله: (السحر سِحران: سحر تعلّمه الشياطين، وسحر يعلّمه هاروت وماروت) (1) ، وعلى ذلك يكون السحر الذي أنزل على الملكين هو سحر خاص بالتفريق بين المرء وزوجه. [ويكون عطف: {وما أنزل} على لفظ {السحر} ، لتنزيل تغاير المفهوم منزلة تغاير الذات] (2) ، فما أنزل على الملكين هو مغاير في ذاته لما تعلمه الشياطين الناس من ضروب السحر، ثم تفتري على ملك سليمان بأنه كان يسخّر من يسخّر بالسحر.

والثانية: كيف يمكن للساحر التفريق بين المرء وزوجه، مع عِظم ما بينهما من الخِلْطة والائتلاف؟!

[إن سبب التفريق بين الزوجين بالسحر ما يخيَّل إلى الرجل أو المرأة من الآخر من سوء منظرٍ أو خُلُقٍ أو نحو ذلك، أو عَقْدٍ أو بَغْضَةٍ، أو نحو ذلك من الأسباب المقتضية للفُرقة] (3) . ذلك أن [السحر تخييل الشيء إلى المرء بخلاف ما هو به في عَيْنه وحقيقته، فتفريق الساحر بين المرء وزوجه يكون بإحداثه السبب الذي كان منه فُرْقَةُ ما بينهما] (4) . حيث لا يرى كل منهما إلا مساوئ صاحبه، ولو كانت غير ذات بالٍ، فإن الساحر يعمل بسحره على

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن جرير الطبري في تفسيره (1/498) ، بإسناد صحيح.

(2) انظر: نور الإيمان في تفسير القرآن للشيخ محمد أبي العلا ص 147.

(3) انظر: تفسير ابن كثير 128، ط - بيت الأفكار.

(4) انظر: تفسير الطبري (1/508) .
৮- … মহান আল্লাহ বলেন: [আল-বাকারা: ১০২] {অতঃপর তারা তাদের উভয়ের কাছ থেকে এমন বিদ্যা শিখত, যা দিয়ে তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত}। এখানে আরও দুটি বিষয় রয়েছে:

প্রথমত: স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের বিষয়ে ফেরেশতাদ্বয়ের ওপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছিল, তা কি হুবহু সেই জাদু যা শয়তানরা শিক্ষা দিত, নাকি এটি জাদু ছাড়া অন্য কোনো অর্থ বহন করে? আর জাদুকর কি বিচ্ছেদ ঘটানো ছাড়া অন্য কিছু করতে সক্ষম?

কাতাদাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (জাদু দুই প্রকার: এক প্রকার জাদু যা শয়তানরা শিক্ষা দেয়, আর অন্য প্রকার জাদু যা হারুত ও মারুত শিক্ষা দেয়) (১)। আর সেই ভিত্তিতে, ফেরেশতাদ্বয়ের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল তা হলো এমন এক বিশেষ জাদু যা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর জন্য নির্দিষ্ট। [আর {وما أنزل} (যা অবতীর্ণ হয়েছে) বাক্যটি {السحر} (জাদু) শব্দের ওপর আতফ বা সংযোজন করা হয়েছে, যাতে ধারণাগত ভিন্নতাকে সত্তাগত ভিন্নতার মর্যাদায় গণ্য করা যায়] (২)। সুতরাং ফেরেশতাদ্বয়ের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্তাগতভাবে শয়তানরা মানুষকে যে বিভিন্ন প্রকারের জাদু শিক্ষা দিত তার থেকে ভিন্ন; শয়তানরা সুলায়মানের রাজত্ব সম্পর্কে এই বলে অপবাদ দিত যে, তিনি জাদুর মাধ্যমে সবকিছু বশীভূত করতেন।

দ্বিতীয়ত: স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সুগভীর মেলামেশা ও হৃদ্যতা থাকা সত্ত্বেও জাদুকর কীভাবে তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে?!

[জাদুর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের কারণ হলো পুরুষ বা নারীর কাছে অপরজন সম্পর্কে কদর্য রূপ বা স্বভাব অথবা এই জাতীয় কিছু কল্পনাপ্রসূত হওয়া, কিংবা কোনো গিঁট বা ঘৃণা অথবা বিচ্ছেদের দাবি রাখে এমন অন্য কোনো কারণ তৈরি হওয়া] (৩)। এর কারণ হলো [জাদু হচ্ছে কোনো বিষয়কে মানুষের সামনে তার প্রকৃত রূপ ও হাকিকতের বিপরীতভাবে কল্পনাপ্রসূত করে তোলা। সুতরাং স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে জাদুকরের বিচ্ছেদ ঘটানো হলো এমন একটি কারণ সৃষ্টির মাধ্যমে যার ফলে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে যায়] (৪)। সেখানে তাদের প্রত্যেকেই কেবল তার সঙ্গীর দোষগুলোই দেখতে পায়, যদিও তা সামান্য বিষয় হয়; কেননা জাদুকর তার জাদুর মাধ্যমে কাজ করে...

--------------------------------------------

(১) ইবনে জারির আত-তাবারী তার তাফসিরে (১/৪৯৮) এটি বর্ণনা করেছেন, একটি সহিহ (صحيح) সনদের (إسناد) মাধ্যমে।

(২) দেখুন: শাইখ মুহাম্মদ আবি আল-উলা রচিত নূরুল ঈমান ফি তাফসিরিল কুরআন, পৃষ্ঠা ১৪৭।

(৩) দেখুন: তাফসিরে ইবনে কাসির ১২৮, বাইতুল আফকার সংস্করণ।

(৪) দেখুন: তাফসিরে তাবারী (১/৫০৮)।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ৩১)
تبغيض كلٍّ منهما بالآخر، ليرى كلاهما تلك المساوئ البسيطة الهيِّنة عظيمةً مَهُولة، حتى يكاد كل منهما لا يطيق احتمالاً لذلك ولو لمرة واحدة، فما الحال إذًا عند تكرار ذلك؟ عندها تستحيل بنظر كل منهما الحياة الزوجية، فيتمّ فِراق ما بينهما، والعياذ بالله تعالى.

9- … يقول تعالى: [البَقَرَة: 102] {وَمَا هُمْ بِضَآرِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَاّ بِإِذْنِ اللَّهِ} ، فمَنْ هؤلاء؟ وكيف يكون ضرر السحر؟ وهل (مِنْ) في الآية زائدة؟ وما معنى (بإذن الله) ؟ في قوله سبحانه: [البَقَرَة: 102] {فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ} ، ثم نفي ذلك بقوله تعالى: [البَقَرَة: 102] {وَمَا هُمْ بِضَآرِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَاّ بِإِذْنِ اللَّهِ} ؟

هذه ستُّ مسائلَ يَجْمُل بيانُها ليتبين المقصود من الآية الكريمة.

أ- … أما الضمير في قوله تعالى: {وما هم} ، فهو يشير إلى: السحرة؛ سواء منهم من تعلم سحر الشياطين، أم سحر التفريق من الملكين، ويستوي في ذلك السحرة من اليهود أو من غيرهم.

[ففي قوله تعالى: {وما هم} إشارة إلى السحرة، وقيل إلى اليهود، وقيل إلى الشياطين] (1) .

والمعنى: (وما المتعلمون من الملكين هاروت وماروت المعنى الذي يفرّقون به بين المرء وزوجه، بضارين من أحد من الناس إلا

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير القرطبي (2/55) .
একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করা, যাতে তারা উভয়ই সেই সাধারণ ও নগণ্য ত্রুটিগুলোকে বিশাল ও ভয়াবহ হিসেবে দেখে, এমনকি তাদের কেউ একবারের জন্যও তা সহ্য করতে পারে না। তাহলে এর পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে অবস্থা কী হবে? তখন তাদের উভয়ের দৃষ্টিতে বৈবৈহিক জীবন অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে যায়, আল্লাহ তাআলার কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই।

৯- … মহান আল্লাহ বলেন: [আল-বাকারা: ১০২] {আর তারা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তা দিয়ে কারও কোনো ক্ষতি করতে পারে না}। তবে এরা কারা? জাদুর ক্ষতি কীভাবে হয়? আর আয়াতে কি (মিন) শব্দটি অতিরিক্ত (زائدة)? এবং ‘আল্লাহর অনুমতিতে’ (بإذن الله) বলতে কী বোঝানো হয়েছে? মহান আল্লাহর বাণী: [আল-বাকারা: ১০২] {অতঃপর তারা তাদের দুজনের কাছ থেকে এমন কিছু শিখত, যা দিয়ে তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিত}—এখানে বিচ্ছেদের কথা বলে পুনরায় তা নাকচ করা হয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: [আল-বাকারা: ১০২] {আর তারা আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তা দিয়ে কারও কোনো ক্ষতি করতে পারে না}?

এই ছয়টি বিষয় বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন যাতে মহিমান্বিত আয়াতের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়।

অ- … মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা... নয়} (وما هم)-এ ব্যবহৃত সর্বনামটি জাদুকরদের প্রতি নির্দেশ করছে; চাই তারা শয়তানদের জাদু শিখে থাকুক অথবা ফেরেশতাদ্বয়ের কাছ থেকে বিচ্ছেদের জাদু শিখে থাকুক। এক্ষেত্রে জাদুকর ইহুদি হোক বা অন্য কেউ, তারা সকলেই এর অন্তর্ভুক্ত।

[মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা... নয়} (وما هم)-এ জাদুকরদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, মতান্তরে ইহুদিদের প্রতি, আবার মতান্তরে শয়তানদের প্রতি] (১)।

এর অর্থ হলো: (হারুত ও মারুত ফেরেশতাদ্বয়ের নিকট হতে যারা শিক্ষা গ্রহণ করত, যার মাধ্যমে তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত, তারা মানুষের মধ্য হতে কারো ক্ষতি করতে পারত না কেবল...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসিরে কুরতুবি (২/৫৫)।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ৩২)
من قضى الله عليه - بإرادته الكونية القدرية - أن ذلك يضرّه، فأما من دفع الله عنه ضُرّه، وحفظه من مكروه السحر والنفث والرقى - أي رقى الجاهلية - فإن ذلك غير ضارِّه، ولا نائله أذاه] (1) .

ب - … أما ضرر السحر، [ففي إسناد - الآية - التفريق إلى السحرة وجعلها السحر سببًا لذلك، دليل على أن للسحر تأثيرًا في القلوب بالحب والبغض والجمع والفرقة والقرب والبعد] (2) ، أما كيفية تأثير السحر بالتفريق، فقد سبق أن الساحر يُحدِث تخييلاً للمساوئ لكلٍّ من الزوجين، بخلاف ما هو به على الحقيقة. لكنْ بعد ثبوت ذلك من ضرر السحر، هل يستطيع الساحر تجاوز هذا الحد من الضرر، أم أن ذلك هو غاية ما يمكنه فعله؟

[ذهبت طائفة من العلماء إلى أن الساحر ليس يقدر على أكثر مما أخبر الله عنه من التفرقة، لأن الله تعالى ذكر ذلك في معرض الذمّ للسحر وبيّن ما هو الغاية في تعليمه؛ فلو كان الساحر يقدِر على أكثر من ذلك لَذَكَره، وقالت طائفة: إن ذلك خرج مخرج الأغلب، - أي أن أغلب عمل السحرة متعلق بالتفريق - لكن الساحر يقدر على غير المنصوص عليه] (3) . [فلا يُنكَر أن يظهر على يد الساحر خَرْق العادات مما ليس في مقدور البشر؛ من مرض وتفريق وزوال عقل وتعويج عضوٍ، ولا يبعد في السحر أن يستدقَّ جسم الساحر حتى يتولّج في الكُوَّات والخوخات والانتصاب على رأس قصبةٍ، والجري على خيط مستدِقٍ،

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير الطبري (1/509) .

(2) انظر: تفسير الشوكاني (1/170) .

(3) انظر: تفسير القرطبي (2/54) .
[যাকে আল্লাহ—তাঁর মহাজাগতিক ও তাকদীরী ইচ্ছার (الإرادة الكونية القدرية) মাধ্যমে—ফয়সালা করেছেন যে এটি তাকে ক্ষতি করবে, (সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে)। আর আল্লাহ যার থেকে এর ক্ষতি দূর করেছেন এবং যাকে জাদুটোনা, ফুঁক ও মন্ত্রের—অর্থাৎ জাহেলী যুগের মন্ত্রের—অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেছেন, তা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না এবং তার কোনো অনিষ্ট পৌঁছাতে পারবে না।] (১) .

খ - … আর জাদুর ক্ষতির ব্যাপারে বলতে গেলে, [আয়াতে—বিচ্ছেদ ঘটানোর বিষয়টি—জাদুকরদের দিকে সম্বন্ধ (إسناد) করা এবং জাদুকে এর কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করা এই বিষয়ের দলিল যে, ভালোবাসা ও ঘৃণা, মিলন ও বিচ্ছেদ এবং নৈকট্য ও দূরত্বের ক্ষেত্রে অন্তরের ওপর জাদুর প্রভাব রয়েছে।] (২) , আর বিচ্ছেদ ঘটানোর ক্ষেত্রে জাদুর প্রভাবের পদ্ধতি সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, জাদুকর স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকের সামনে একে অপরের দোষত্রুটির এক কাল্পনিক রূপ ফুটিয়ে তোলে, যা বাস্তবে বিদ্যমান বিষয়ের বিপরীত। কিন্তু জাদুর এই ক্ষতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর প্রশ্ন থাকে যে, জাদুকর কি ক্ষতির এই সীমা অতিক্রম করতে সক্ষম, নাকি এটাই তার সামর্থ্যের সর্বোচ্চ সীমা?

[একদল আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা বিচ্ছেদ ঘটানোর যে সংবাদ দিয়েছেন, জাদুকর তার চেয়ে বেশি কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। কারণ আল্লাহ তাআলা জাদুর নিন্দা করার প্রসঙ্গে এটি উল্লেখ করেছেন এবং জাদু শিক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য কী তা বর্ণনা করেছেন; জাদুকর যদি এর চেয়ে বেশি কিছু করতে সক্ষম হতো, তবে তিনি অবশ্যই তা উল্লেখ করতেন। অপর একদল বলেছেন যে, এটি অধিকাংশ অবস্থার প্রেক্ষিতে এসেছে—অর্থাৎ জাদুকরদের অধিকাংশ কাজ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত—তবে জাদুকর যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত (المنصوص عليه) নয় এমন বিষয়ের ওপরও ক্ষমতা রাখে।] (৩) . [সুতরাং জাদুকরের হাতে এমন অলৌকিক বিষয় (خرق العادات) প্রকাশ পাওয়াকে অস্বীকার করা যায় না, যা মানুষের সাধ্যাতীত; যেমন রোগব্যাধি, বিচ্ছেদ, উম্মাদনা এবং অঙ্গ বিকল হওয়া। জাদুর প্রভাবে জাদুকরের শরীর অত্যন্ত সূক্ষ্ম হয়ে যাওয়াও অসম্ভব নয়, যার ফলে সে সরু ছিদ্র বা জানালা দিয়ে প্রবেশ করতে পারে, কিংবা কোনো কঞ্চির মাথায় স্থির থাকতে পারে অথবা চিকন সুতার ওপর দিয়ে দৌড়াতে পারে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসিরে তাবারী (১/৫০৯) ।

(২) দেখুন: তাফসিরে শাওকানী (১/১৭০) ।

(৩) দেখুন: তাফসিরে কুরতুবী (২/৫৪) ।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ৩৩)
والطيران في الهواء، والمشي على الماء، وركوب كلبٍ، وغير ذلك] (1) . لكنْ [قد أجمع المسلمون على أنه ليس في السحر ما يفعل الله عنده إنزال الجراد والقُمَّل والضفادع وفلق البحر وقلب العصا وإحياء الموتى وإنطاق العجماء، وأمثال ذلك من عظيم آيات الرسل عليهم السلام. فهذا ونحوه مما يجب القطع بأنه لا يكون ولا يفعله الله عند إرادة الساحر] (2) .

جـ- … أما كون «من» زائدة في قوله تعالى: {من أحد} - في الموضعين -، كما ذكر عامّة المفسرين.

فليس مقصودهم بذلك - كما قد يفهم البعض أن أهل التفسير يدّعون أن ثمة ألفاظًا مزيدة لا عمل لها!! لكنّ مقصودهم أنها قد زِيدت إلى السياق لإفادة معنى لا بدّ منه، كالتوكيد مثلاً (3) ، فيكون المعنى هنا: أنه ليس من أحد على الإطلاق يعلمه الملكان إلا بعد إنذاره وتبيين عاقبة أمر متعلم السحر والعامل به. كذلك فإن السحر، بعد أن يتعلمه السحرة ويعملوا به، ليس يضر مسحورًا على الإطلاق إلا من قضى الله عليه - بإرادته الكونية القدرية - أن ذلك يضره.

د- … قد تقرر أن السحر لا يضر مسحورًا إلا بإذن الله، فهل الإذن هنا بمعنى السماح لهم بفعل ذلك الضر؟!

نقول: حاشَ لله تعالى أن يسمح بما فيه ضر لعباده، دون

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق (2/46) .

(2) انظر: تفسير القرطبي (2/47) .

(3) انظر: تفسير الشوكاني (1/120) . والقرطبي (2/55) . والطبري (1/509) .
এবং শূন্যে উড়া, পানির ওপর দিয়ে হাঁটা, কুকুরে সওয়ার হওয়া এবং এজাতীয় অন্যান্য বিষয়] (১)। তবে [মুসলিমগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, জাদুর মধ্যে এমন কিছু নেই যার মাধ্যমে আল্লাহ পঙ্গপাল, উকুন ও ব্যাঙ বর্ষণ করেন, সমুদ্র দ্বিখণ্ডিত করেন, লাঠিকে সাপে রূপান্তরিত করেন, মৃতকে জীবিত করেন এবং অবলা প্রাণীকে কথা বলান— রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) এজাতীয় মহান নিদর্শনসমূহের মতো কিছু ঘটে। সুতরাং এই বিষয়গুলো এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলো সম্পর্কে এই সুনিশ্চিত বিশ্বাস রাখা আবশ্যক যে, জাদুকরের ইচ্ছায় এমন কিছু ঘটে না এবং আল্লাহও তা করেন না] (২)।

গ- … আর মহান আল্লাহর বাণী: {কোনো একজন}-এর মধ্যে 'মিন' শব্দটি অতিরিক্ত হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া—উভয় স্থানে—যেমনটি সাধারণ মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেছেন।

এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য এমন নয়—যেমনটি কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, তাফসিরবিদগণ দাবি করছেন যে এখানে এমন কিছু অতিরিক্ত শব্দ রয়েছে যার কোনো অর্থগত উপযোগিতা নেই!! বরং তাদের উদ্দেশ্য হলো, প্রসঙ্গের দাবি অনুযায়ী একটি অপরিহার্য অর্থ প্রদানের জন্য তা অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে, যেমন উদাহরণস্বরূপ গুরুত্বারোপের জন্য (৩)। অতএব, এখানে অর্থ হবে: ফেরেশতাদ্বয় কাউকে শিক্ষা দেওয়ার আগে অবশ্যই তাকে সতর্ক করেন এবং জাদু শিক্ষা করা ও তা চর্চাকারীর পরিণাম স্পষ্ট করে দেন। একইভাবে, জাদুকররা জাদু শেখার ও তা প্রয়োগ করার পর, আল্লাহর সৃষ্টিগত ও তাকদিরি ইচ্ছা ব্যতীত তা মোটেও কোনো জাদুক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষতি করতে পারে না।

ঘ- … এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত জাদু কোনো জাদুক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষতি করতে পারে না। এখন প্রশ্ন হলো, এখানে 'অনুমতি' বলতে কি তাদের সেই ক্ষতির কাজ করার ক্ষেত্রে সম্মতি দেওয়া বোঝানো হয়েছে?!

আমরা বলব: আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ক্ষতি হয় এমন কোনো বিষয়ে সম্মতি দেওয়া থেকে অত্যন্ত পবিত্র, ব্যতিরেকে

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (২/৪৬)।

(২) দেখুন: তাফসির কুরতুবি (২/৪৭)।

(৩) দেখুন: তাফসির শাওকানি (১/১২০), কুরতুবি (২/৫৫) এবং তাবারি (১/৫০৯)।
(খণ্ড: ১) আল-হাযারু মিনাস সিহর (পৃষ্ঠা: ৩৪)
استحقاق منهم لذلك. فإن الله جل ثناؤه قد حرّم التفريق بين المرء وحليلته بغير سحر، فكيف بذلك على وجه السحر؟ ثم إن الله تعالى لا يأمر بالفحشاء ويقضي على الخلق بها. فإن تقرر ما سبق، فما معنى إذن الله بضر المسحور؟

قد ذكر أهل التأويل في ذلك وجوهًا محصّلها (1) أن الإذن، قد يكون بمعنى: إرادة الله تعالى الكونية والقدرية، وقضاؤه بذلك. وهذا يكون بتخلية الله تعالى بين المأذون له (الساحر) والمخلّى (المسحور) بما سبق في علم الله سبحانه ومشيئته وخلقه.

فيكون المعنى - على ذلك -: أن السحرة لا يضرون بسحرهم إلا من سبق في قضاء الله أن السحر يضره، ومَنْ سبق بعلمه تعالى وقوع ذلك له، فيخلّي سبحانه - عند وقوع السحر - بين ضرر سحر الساحر، وبين المسحور فيخلق سبحانه أثر السحر فيتأثر المسحور عندها فيضره السحر، وذلك بما سبق بمشيئة الله تعالى. وبذلك تحق الفتنة على المفتونين من السحرة إن هم أصروا على تعلم السحر والعمل به، ويختبر الله من سبق كذلك علمه سبحانه أن السحر يضره، فيبتليه بالصبر على ما أصابه ولم يكن ليخطئه، كذلك يبتلي الله الناس عامة - بوصول ضرر السحر إلى المسحور -: هل ترتاب قلوبهم في صدق الأنبياء ومعجزاتهم، فيعتقد بعضهم أنهم سحرة - والعياذ بالله - فيكفر بذلك الاعتقاد، ثم يزداد كفرًا بتعلّمه السحر والعمل به؟ أم يثبت الناس على جادة الحق فيميز أحدهم بين النبيِّ والساحر، والمعجزة والسحر، فيكون

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير فتح القدير للإمام الشوكاني (1/121) ، وتفسير الطبري (1/489) .

তাদের পক্ষ থেকে এর উপযুক্ত হওয়ার কারণে। কারণ আল্লাহ তাআলা জাদু ব্যতীতও স্বামী ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হারাম করেছেন, তবে জাদুর মাধ্যমে তা করা কেমন হতে পারে? অধিকন্তু, আল্লাহ তাআলা অশ্লীলতার আদেশ দেন না এবং সৃষ্টিজগতের ওপর তা নির্ধারণ করেন না। যদি পূর্বোক্ত বিষয়টি সাব্যস্ত হয়, তবে জাদুগ্ৰস্ত ব্যক্তির ক্ষতির ক্ষেত্রে আল্লাহর অনুমতির (إذن) অর্থ কী?

ব্যাখ্যাকারগণ (أهل التأويل) এ বিষয়ে কয়েকটি দিক উল্লেখ করেছেন যার সারসংক্ষেপ হলো (১) এই অনুমতি আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিগত ও তাকদিরি ইচ্ছা (إرادة كونية وقدرية) এবং সেই বিষয়ে তাঁর ফয়সালার (قضاء) অর্থে হতে পারে। এটি সংঘটিত হয় অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি (জাদুকর) এবং যার ওপর জাদু করা হয়েছে (জাদুগ্ৰস্ত) তাদের মাঝে আল্লাহ তাআলার প্রতিবন্ধকতা দূর করে দেওয়ার (تخلية) মাধ্যমে, যা মহান আল্লাহর পূর্বজ্ঞান, ইচ্ছা ও সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এর অর্থ হলো—এই হিসেবে—জাদুকররা তাদের জাদুর মাধ্যমে কারো কোনো ক্ষতি করতে পারে না, তবে আল্লাহ তাআলার ফয়সালায় (قضاء) যার ক্ষতি হওয়া পূর্বেই নির্ধারিত হয়েছে এবং আল্লাহর জ্ঞানে যার ক্ষেত্রে তা ঘটা অবধারিত ছিল, তার ভিন্ন কথা। সুতরাং যখন জাদু সংঘটিত হয়, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জাদুকরের জাদুর অনিষ্ট এবং জাদুগ্ৰস্ত ব্যক্তির মাঝে প্রতিবন্ধকতা তুলে নেন; ফলে তিনি জাদুর প্রভাব সৃষ্টি করেন এবং জাদুগ্ৰস্ত ব্যক্তি তখন এর দ্বারা প্রভাবিত হয় ও জাদু তার ক্ষতি করে। আর এটি আল্লাহ তাআলার পূর্ব নির্ধারিত ইচ্ছানুসারেই ঘটে। এর মাধ্যমে জাদুকরদের মধ্যে যারা জাদু শিক্ষা ও এর প্রয়োগে লিপ্ত থাকে, তাদের ওপর ফিতনা (فتنة) আপতিত হয়। আর আল্লাহ তাকেও পরীক্ষা করেন যার ক্ষতি হওয়া সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানে পূর্বেই নির্ধারিত ছিল; ফলে তিনি তাকে ধৈর্যের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন এমন বিপদে যা তাকে স্পর্শ করারই ছিল এবং যা থেকে সে রক্ষা পেত না। একইভাবে আল্লাহ তাআলা জাদুগ্ৰস্ত ব্যক্তির ওপর জাদুর ক্ষতি পৌঁছানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকেও পরীক্ষা করেন: তাদের অন্তর কি নবীদের সত্যতা এবং তাদের মুজিজা (معجزة) সম্পর্কে সংশয়ে নিপতিত হবে, ফলে তাদের কেউ কেউ কি বিশ্বাস করবে যে নবীরাও জাদুকর—নাউযুবিল্লাহ—এবং এই বিশ্বাসের কারণে কি তারা কুফরি করবে এবং এরপর জাদু শিক্ষা ও চর্চা করার মাধ্যমে তাদের কুফর কি বৃদ্ধি পাবে? নাকি মানুষ সত্য পথে অবিচল থাকবে এবং প্রত্যেকে নবী ও জাদুকরের মধ্যে এবং মুজিজা (معجزة) ও জাদুর মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে, ফলে হবে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইমাম শাওকানি রচিত তাফসির ফাতহুল কাদির (১/১২১) এবং তাফসির তাবারী (১/৪৮৯)।