(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: -)
التحصين من كيد الشياطين   (خالد الجريسي)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: التحصين من كيد الشياطين

دراسة تأصيليَّة مستفيضة لقضايا: (العين، والحسد، والسحر، والمسِّ وغيرها، مع بيان المشروع من التحصين، والرُّقي، وأصولِ التداوي)

المؤلف: د خالد بن عبد الرحمن بن علي الجريسي

عدد الصفحات: 452

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শয়তানদের ষড়যন্ত্র থেকে সুরক্ষা   (খালিদ আল-জুরায়সী)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ

কিতাব: শয়তানদের ষড়যন্ত্র থেকে সুরক্ষা

এসব বিষয়ের ওপর একটি বিস্তারিত মৌলিক গবেষণা: (বদনজর, হিংসা, জাদু, জিনের আছর এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ, সাথে শরীয়তসম্মত সুরক্ষা পদ্ধতি, রুকইয়াহ এবং চিকিৎসার মূলনীতিসমূহের বর্ণনা)

লেখক: ড. খালিদ বিন আবদুর রহমান বিন আলী আল-জুরায়সী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: -)
التحصين من

كيد الشياطين

 

تأليف

د. خالد بن عبد الرحمن الجريسي
সুরক্ষা

শয়তানদের চক্রান্ত থেকে

 

রচনায়

ড. খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরাইসী
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

الْحَمْدُ للهِ بَارِئِ الْبَرِيَّاتِ، عَالِمِ الظَّوَاهِرِ وَالْخَفِيَّاتِ، سُبْحَانَهُ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَحِلْمًا، نَجَّى بِرَحْمَتِهِ عِبَادَهُ الْمُؤْمِنِينَ، وَأَجَابَ بِلُطْفِهِ دُعَاءَ الْمُضْطَرِّينَ، وَأَوْهَنَ بِعِزَّتِهِ كَيْدَ الْكَافِرِينَ، وَأَضْعَفَ بِجَبَرُوتِهِ كَيْدَ الشَّيْطَانِ الْمَهِينِ، وَأَبْطَلَ بِقُدْرَتِهِ عَمَلَ أَوْلِيَاءِ الشَّيَاطِينِ؛ فَأَضَلَّ سَعْيَهُمْ، وَأَزْهَقَ بَاطِلَهُمْ، وَكَشَفَ السُّوءَ عَنْ عِبَادِهِ الصَّالِحِينَ.

أَحْمَدُهُ تَعَالى حَمْداً كَثِيرًا، وَمَا يَفِي بِمَحَامِدِهِ التَّحْمِيدُ، وَأَشْكُرُهُ جَلَّ ذِكْرُهُ شُكْرًا وَفِيرًا، أَبْتَغِي بِهِ مِنْ فَضْلِهِ الْمَزِيدَ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلهَ إِلَاّ اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ الْوَلِيُّ الْحَمِيدُ، فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ الْقَائِمُ حَقّاً بِنُصْرَةِ التَّوْحِيدِ، أَحْمَدُ النَّاسِ لِرَبِّهِ المَجِيدِ، الْمَاحِي كُفْرَ كُلِّ شَيْطَانٍ مَرِيدٍ، الحَاشِرُ يُحْْشَرُ عِنْدَ قَدَمَيْهِ الْعَبِيدُ، الْعَاقِبُ فَلَا نَبِيَّ بَعْدَهُ، وَلَا مَنَاصَ مِنِ اتِّبَاعِهِ لِطَالِبِ النَّجَاةِ وَلَا مَحِيدَ، الْمَحْفُوظُ حَقّاً بِدِرْعِ الْعِصْمَةِ لَا بِدِرْعِ الْحَدِيدِ، الْمَنْصُورُ بِرَبِّ الْعِزَّةِ سُبْحَانَهُ لَا بِعَدَدٍ مِنْ خَلْقٍ وَلَا عَدِيدٍ، قَصَمَ اللهُ تَعَالَى عَدُوَّهُ بِالرُّعْبِ وَالْوَعِيدِ قَبْلَ قِتَالٍ وَعُدَّةٍ وَتَجْنِيدٍ، اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الأُْمِّيِّ صَاحِبِ الْوَجْهِ الأَْنْوَرِ وَالْجَبِينِ الأَزْهَرِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ الْغُرِّ الْمَيَامِينَ، أُولِي الْفَضْلِ الْمَدِيدِ وَالْقَوْلِ السَّدِيدِ، وَعَلَى
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা, প্রকাশ্য ও গোপন সবকিছুর পরিজ্ঞাত। তিনি পবিত্র, তিনি তাঁর রহমত ও ধৈর্য দ্বারা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন। তিনি তাঁর রহমতে তাঁর মুমিন বান্দাদের নাজাত দিয়েছেন, তাঁর অনুগ্রহে আর্তদের দোয়া কবুল করেছেন, তাঁর ইজ্জতের মাধ্যমে কাফেরদের ষড়যন্ত্র হীনবল করেছেন, তাঁর মহিমা দ্বারা লাঞ্ছিত শয়তানের চক্রান্ত দুর্বল করেছেন এবং তাঁর কুদরতের মাধ্যমে শয়তানের বন্ধুদের আমল বাতিল করেছেন; ফলে তিনি তাদের প্রচেষ্টাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাদের বাতিলকে পর্যুদস্ত করেছেন এবং তাঁর নেককার বান্দাদের থেকে অনিষ্ট দূর করেছেন।

আমি মহান আল্লাহর অনেক প্রশংসা করছি, আর কোনো প্রশংসাই তাঁর যথাযথ প্রশংসার দাবি পূরণে সক্ষম নয়। আমি তাঁর মহান জিকিরের জন্য প্রচুর শুকরিয়া আদায় করছি, যার মাধ্যমে আমি তাঁর পক্ষ থেকে আরও অনুগ্রহ কামনা করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি পরম অভিভাবক ও অত্যন্ত প্রশংসিত, তিনি যা চান তা-ই করেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি যথাযথভাবে তাওহীদের সাহায্যে দণ্ডায়মান। তিনি তাঁর মহান রবের নিকট মানুষের মধ্যে সর্বাধিক প্রশংসাকারী। তিনি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানের কুফর মিটিয়ে দেন। তিনি আল-হাশির (সমবেতকারী), যাঁর পায়ের কাছে বান্দাদের সমবেত করা হবে। তিনি আল-আকিব (সর্বশেষ), যাঁর পরে কোনো নবী নেই। মুক্তির সন্ধানীর জন্য তাঁকে অনুসরণ করা ছাড়া অন্য কোনো আশ্রয় বা পথ নেই। তিনি লোহার বর্ম দিয়ে নয়, বরং যথাযথভাবে নিষ্পাপত্বের বর্ম দ্বারা সুরক্ষিত। তিনি সৃষ্টির কোনো সংখ্যা বা আধিক্য দ্বারা নয়, বরং ইজ্জতের রবের (পবিত্র সত্তা) পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত। আল্লাহ তাআলা যুদ্ধ, সরঞ্জাম ও সৈন্য সমাবেশের পূর্বেই তাঁর শত্রুদের ভীতি ও শাস্তির হুমকির মাধ্যমে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছেন। হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ—যিনি উম্মি নবী, উজ্জ্বল চেহারা ও দীপ্তিময় ললাটের অধিকারী—তাঁর প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও মর্যাদাবান ও কল্যাণময় সাহাবীদের প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, যাঁরা সুদীর্ঘ শ্রেষ্ঠত্ব ও সঠিক কথার অধিকারী। এবং তাঁদের প্রতি...
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ৪)
إِخْوَانِهِ النَّبِيِّينَ، وَآلِ كُلٍّ، وَسَائِرِ الصَّالِحِينَ؛ المُقْتَدِينَ بِهُدَاهُمْ، وَالْمُقْتَفِينَ أَثَرَهُمْ إِلَى يَوْمِ الدِّينِ.

أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّهُ لَمَّا تَوَالَتْ فِتَنُ الأَْعْمَالِ الْبَاطِلَةِ عَلَى قُلُوبِ المُؤْمِنِينَ، وَعُرِضَتْ عَلَيْهَا كَالْحَصِيرِ عُوداً عُوداً، وَزَاغَ كَثِيرٌ مِنْهَا عَنِ الْحَقِّ، وَكَثُرَ اشْتِغَالُ النَّاسِ بِمَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ، وَبَاعُوا آخِرَتَهُمْ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا قَلِيلٍ، وَأَعْرَضُوا عَمَّا جَاءَ فِي التَّنْزِيلِ، وَاسْتَبْدَلُوا الَّذِي هُوَ أَدْنَى بِالَّذِي هُوَ خَيْرٌ، وَصَارَتْ طِلَسْمَاتُ السَّحَرَةِ الأَْشْرَارِ، وَتَعَاوِيذُ الْكَهَنَةِ الْفُجَّارِ، مُقَدَّمَةً لَدَيْهِمْ عَلَى كَلَامِ سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ الأَْبْرَارِ صلى الله عليه وسلم مَا تَعَاقَبَ لَيْلٌ وَنَهَارٌ، رَأَيْتُ أَنَّ مِنْ وَاجِبِي، مَحَبَّةً ِلأَهْلِ الإِْسْلَامِ وَذَبّاً عَنْ حِيَاضِهِ الْمُطَهَّرَةِ، أَنْ أُبَيِّنَ عَوَارَ أَهْلِ الزَّيْغِ وَالضَّلَالِ، وَقَدِ اسْتَفْحَلَ خَطَرُهُمْ وَاسْتَشْرَى كَيْدُهُمْ، وَكَادَ - لَوْلَا لُطْفِ اللهِ بِهذِهِ الأُْمَّةِ الْمُكْرَمَةِ - أَنْ يَدُكَّ حِصْنَ تَوْحِيدِهَا، وَأَنْ يَزِلَّ قَدَمَهَا بَعْدَ ثُبُوتِهِا، فَإِنَّكَ تَكَادُ لَا تَجِدُ بَيْتاً أَوْ نَادِياً إِلَاّ تَعَلَّقَ أَهْلُهُ شَيْئاً وَلَوْ خَيْطاً، أَوْ تَمَسَّكُوا بِأَهْدابِ مُشَعْوِذٍ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ ذَلِكَ فَأَقَلُّهُ أَنْ يَكُونُوا قَدْ قَرَؤُوا فُنْجَاناً، أَوِ اسْتَبْشَرُوا بِمَطْلِعِ نَجْمٍ، وَتَشَاءَمُوا بِأُفُولِهِ، أَوْ كَرِهُوا رَقْماً وَأَحَبُّوا آخَرَ، حَتَّى صَارَتْْ ((مَوَاقِعُ الْفِتَنِ خِلَالَ بُيُوتِهِمْ كَمَوَاقِعِ الْقَطْرِ)) (1) ، لِذَلِكَ كُلِّهِ فَقَدِ اسْتَخَرْتُ اللهَ تَعَالَى فِي إِجَابَةِ مَنْ دَعَانِي لِبَيَانِ مَا يُحَصِّنُ الْمُؤْمِنَ وَيَكْفِيهِ - بِإِذْنِ

--------------------------------------------

(1) جزء من حديث أخرجه البخاري، كتاب أبواب فضائل المدينة، باب: آطام المدينة، برقم (1878) ، عن أسامة بن زيد رضي الله عنهما، ومسلمٌ؛ كتاب: الفتن، باب نزول الفتن كمواقع القطر، برقم (2885) ، عنه أيضاً، والقَطْر: هو المطر.
তাঁর নবী ভাইগণ, তাঁদের সকলের পরিবারবর্গ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যাঁরা তাঁদের প্রদর্শিত পথ ও পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন—সেই সকল নেককার বান্দাদের প্রতিও রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর, যখন মুমিনদের অন্তরে বাতিল কর্মসমূহের ফেতনা ক্রমাগত আপতিত হতে লাগল এবং চাটাইয়ের কাঠির মতো একটির পর একটি তাদের সামনে উপস্থাপিত হতে লাগল, তখন তাদের অনেকের অন্তরই সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ল। মানুষ এমন সব কাজে লিপ্ত হতে শুরু করল যা তাদের ক্ষতি করে কিন্তু কোনো উপকারে আসে না। তারা দুনিয়ার সামান্য তুচ্ছ সামগ্রীর বিনিময়ে তাদের আখেরাতকে বিক্রি করে দিল এবং ওহির মাধ্যমে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা থেকে বিমুখ হলো। তারা উত্তম বিষয়ের পরিবর্তে নিকৃষ্ট বিষয় গ্রহণ করল। পাপিষ্ঠ গণক ও দুষ্ট জাদুকরদের তিলসমাত ও মন্ত্রগুলো তাদের কাছে পুণ্যবান রাসূলগণের সরদার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর চেয়েও অগ্রগণ্য হয়ে উঠল—যতদিন দিন ও রাতের আবর্তন জারি থাকবে। আমি মনে করলাম যে, মুসলিমদের প্রতি ভালোবাসা থেকে এবং ইসলামের পবিত্র সীমানাকে রক্ষা করার নিমিত্তে বক্রতা ও পথভ্রষ্টদের দোষ-ত্রুটিগুলো স্পষ্ট করা আমার দায়িত্ব। তাদের বিপদ প্রকট হয়েছে এবং তাদের ষড়যন্ত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এই সম্মানিত উম্মতের প্রতি আল্লাহর দয়া না থাকলে তাদের এই তৎপরতা তাওহিদের দুর্গ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিত এবং তাদের সুদৃঢ় পা-কে বিচ্যুত করে দিত। কেননা আপনি প্রায় এমন কোনো ঘর বা মজলিস পাবেন না যেখানে মানুষ (তাবিজ হিসেবে) কোনো কিছু লটকে রাখেনি, হোক তা সামান্য সুতা; অথবা তারা কোনো ভণ্ড প্রতারকের আশ্রয় গ্রহণ করেনি। যদি তা-ও না হয়, তবে অন্তত তারা পেয়ালার পাঠ (গণনা) নেয়, অথবা নক্ষত্রের উদয়ে সুসংবাদ খোঁজে এবং তার অস্তগমনে কুলক্ষণ দেখে, অথবা কোনো সংখ্যাকে অপছন্দ করে আর কোনোটিকে পছন্দ করে। অবস্থা এমন হয়েছে যে, তাদের ঘরগুলোতে ফেতনার স্থানগুলো বৃষ্টির পতনের স্থানের মতো হয়ে গেছে (১)। এই সব কারণেই, মুমিনকে যা সুরক্ষিত রাখবে এবং তার জন্য যথেষ্ট হবে—তা বর্ণনা করার জন্য যারা আমাকে অনুরোধ করেছেন তাদের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার ব্যাপারে আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি—আল্লাহর অনুমতিক্রমে।

--------------------------------------------

(১) এটি একটি হাদিসের অংশ যা বুখারি, কিতাব: মদিনার ফজিলত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: মদিনার দুর্গসমূহ, হাদিস নং (১৮৭৮) উসামা বিন জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে এবং ইমাম মুসলিম; কিতাব: ফেতনা, পরিচ্ছেদ: বৃষ্টির পতনের স্থানের মতো ফেতনা নাজিল হওয়া, হাদিস নং (২৮৮৫) বর্ণনা করেছেন। 'আল-কতর' অর্থ হলো বৃষ্টি।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ৫)
اللهِ - مِمَّا قَدْ يَضُرُّهُ مِنْ عَيْنِ عَائِنٍ،

أَوْ حَسَدِ حَاسِدٍ، أَوْ كَيْدِ سَاحِرٍ، أَوْ مَسِّ شَيْطَانٍ، أَوْ اسْتِعَانَةِ كَاهِنٍ فَاجِرٍ بِجِنٍّ كَافِرٍ، وَغَيْْرِ ذَلِكَ مِمَّا يُورِثُ ضُرًّا بَالِغًا مِنْ عَمَلِ شِرَارِ الْخَلْقِ وَأَعْدَاءِ الْحَقِّ، قَاصِداً كَشْفَ أَحْوَالِهِمُ الْمَشِينَةِ وَأَعْمَالِهِمُ الْمَهِينَةِ، مَعَ بَيَانِ مَا رَجَحَ مِنْ أَحْكَامِ هَؤُلاءِ وَأَعْمَالِهِمْ فِي الشَّرِيعَةِ الغَرَاءِ المُبِينَةِ، مُسْتَعِيناً بِاللهِ تَعَالَى، مُسْتَهْدِياً بِكِتَابِهِ الْمَجِيْدِ، وَمُسْتَنِيراً بِمَنَارِ السُّنَّةِ العَلِيَّةِ، وَجَوَامِعِ كَلِمِ خَيْرِ الْبَرِيَّةِ صلى الله عليه وسلم، جَامِعاً مِنْ مَعِينِ ذلِكَ كُلِّهِ رُقًى مَشْرُوْعَةً - إِنْ شَاءَ اللهُ -، سَائِلاً اللهَ الْمَلِكَ الْعَلَاّمَ أَنْ يَجْعَلَهَا سَبَباً مُبَارَكاً لِدَفْعِ الضُّرِّ بِإِذْنِهِ عَنِ الأَْنَامِ، وَأَنْ يَتَقَبَّلَهَا بِقَبُولٍ حَسَنٍ وَيُنْبِتَهَا نَبَاتاً حَسَناً، فَيَضَعَ لَهَا قَبُولاً في قُلُوبِ عِبَادِهِ الأَْخْيَارِ، وَيُكَفِّلَهَا أَهْلَهَا مِنَ السَّادَةِ الأَْبْرَارِ.

هَذَا، وَقَدْ سَمَّيْتُ كِتَابِيَ هَذَا - بِحَوْلِ اللهِ وَقُوَّتِهِ - ((التحصين من كيد الشياطين)) ، وَجَعَلْتُهُ عَلَى أَرْبَعَةِ فُصُولٍ - بَعْدَ الْمُقَدِّمَةِ - مُرَتَّبَةٍ عَلَى النَّحْوِ الآتي:

* الفصل الأول: … بيان ألفاظ ومصطلحات مهمة.

* الفصل الثاني: … التحصينات الواقية.

* الفصل الثالث: … أنواع الأمراض بعامةٍ، وأصول التداوي المشروع.

* الفصل الرابع: … التداوي بالرقى المشروعة.

* خاتمة
আল্লাহর - যা তাকে ক্ষতি করতে পারে কুদৃষ্টিদানকারীর কুদৃষ্টি, হিংসুক ব্যক্তির হিংসা, জাদুকরের ষড়যন্ত্র, শয়তানের স্পর্শ, অথবা কোনো পাপাচারী গণকের কাফির জিনের সাহায্য গ্রহণ এবং সৃষ্টিজগতের নিকৃষ্টদের ও হকের শত্রুদের এমন অন্যান্য কার্যাবলী থেকে যা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়, তাদের ঘৃণ্য অবস্থা ও লাঞ্ছনাকর কার্যাবলী উন্মোচনের উদ্দেশ্যে, সাথে সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল শরীয়তে তাদের এবং তাদের কর্মের বিধানসমূহের মধ্যে যা অগ্রগণ্য তা বর্ণনা করার মাধ্যমে, মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে, তাঁর মহিমান্বিত কিতাব থেকে হেদায়াত নিয়ে এবং উচ্চমর্যাদাপূর্ণ সুন্নাহর আলোকবর্তিকা ও সৃষ্টির সেরা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সারগর্ভ বাণীর আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে, ইনশাআল্লাহ এই সবকিছুর উৎস হতে শরীয়তসম্মত ঝাড়ফুঁক সংগ্রহ করে; সর্বজ্ঞ বাদশাহ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন একে তাঁর অনুমতিতে সৃষ্টিজগত থেকে ক্ষতি দূর করার এক বরকতময় উপায় বানিয়ে দেন, একে উত্তমভাবে কবুল করেন এবং একে উত্তমরূপে বিকশিত করেন, অতঃপর তাঁর নেককার বান্দাদের অন্তরে এর গ্রহণযোগ্যতা দান করেন এবং পুণ্যবান শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে একে রক্ষা করেন।

অতঃপর, আমি আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের মাধ্যমে আমার এই বইটির নামকরণ করেছি— ‘শয়তানের ষড়যন্ত্র থেকে সুরক্ষা’, এবং ভূমিকার পর একে নিম্নোক্তভাবে চারটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি:

* প্রথম পরিচ্ছেদ: … গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও পরিভাষার বর্ণনা।

* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: … নিরাপত্তামূলক সুরক্ষাসমূহ।

* তৃতীয় পরিচ্ছেদ: … সাধারণভাবে রোগের প্রকারভেদ এবং শরীয়তসম্মত চিকিৎসার মূলনীতি।

* চতুর্থ পরিচ্ছেদ: … শরীয়তসম্মত ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা।

* উপসংহার
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ৬)
وَلَقَدْ عَلِمْتُ - خِتَاماً - أَنِّي أَدْلُو بِدَلْوٍ أَنْزَحُ بِهِ مَاءَ بِئْرٍ كَادَ مَاؤُهُ أَنْ يَنْضَبَ، لِكَثْرَةِ مَا نُزِحَ، وَأَجُولُ فِي مَيْدَانٍ صَالَ فِيهِ فُرْسَانٌ أَعْلَامٌ لَا يُشَقُّ لَهُمْ غُبَارٌ، إِلَاّ أَنِّي - مَعَ ذَلِكَ - أَحْبَبْتُ أَنْ أَنْزَحَ وَلَوْْ َقَطْرَةً، وَأَنْ أَصُولَ وَلَوْ جَوْلَةً، مُتَحَرِّياً لأَِثَرِهِمْ، مُتَّبِعاً سَنَنَهُمْ، رَاجِياً - إِنْ شَاءَ اللهُ - اللَّحَاقَ بِرَكْبِهِمْ.

د. خالد بن عبد الرحمن الجريسي
পরিশেষে আমি নিশ্চিতভাবেই অবগত হয়েছি যে, আমি এমন এক কূপ থেকে বালতি দিয়ে পানি সেঁচছি যার পানি অত্যধিক সেচনের কারণে প্রায় নিঃশেষ হয়ে আসার উপক্রম হয়েছে। আমি এমন এক ময়দানে বিচরণ করছি যেখানে প্রথিতযশা অশ্বারোহীগণ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন যাঁদের ধূলিকণা অতিক্রম করাও (তাঁদের সমকক্ষ হওয়া) অসম্ভব। তবুও আমি অন্তত এক ফোঁটা পানি হলেও সেঁচতে এবং অন্তত একবার হলেও সেই ময়দানে বিচরণ করতে চেয়েছি; তাঁদের পদাঙ্ক অন্বেষণ করে, তাঁদের পথ অনুসরণ করে এবং আল্লাহ চাহেন তো তাঁদের কাফেলার সঙ্গে মিলিত হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে।

ড. খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরাইসি
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الفصل الأول

بيان ألفاظ ومصطلحات مهمة
প্রথম পরিচ্ছেদ

গুরুত্বপূর্ণ শব্দাবলী ও পরিভাষার বর্ণনা
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ৯)
بيان ألفاظ ومصطلحات مهمة

‌‌تمهيد:

تَرِد على مسامع المسلم المعاصر ألفاظٌ ومصطلحات، يألف سماعها في المجالس العامة والخاصة، وفي المحاضرات العلمية والندوات التلفازية، ويتجاذب الناس أطراف الحديث بها ويتشوّف كثير منهم - كبيرهم وصغيرهم - إلى معرفة المزيد عنها، فينبري إذ ذاك ثلة من القوم لتصدُّر الحديث بشأنها، فيتلقَّوْنه بألسنتهم، فيهرفون بما لا يعرفون، وقد صار حال الناس في ذلك بين مقلٍّ ومُكثِر؛ فهذا جاهل بحقيقتها، وذاك له أَثارة مِنْ علمٍ بها، وذلك عالم بخفاياها لكنه قد أمسك عن التحدث بشأنها، أو قلّ تعرضه لبيانها، وهي بلا ريبٍ حديث الناس على مدار الساعة، وغالبًا ما يكون للجهلة - الذين امتهنوا الشعوذة، واستساغوا التدجيل - قصب السبق في الحديث عنها، فتنجذب إليهم قلوب العامة، بل وبعض الخاصة، يُغدِقون عليهم بعض ما حازوه من فُتات الدنيا، ومع أن ضر هؤلاء الدجاجلة أقرب من نفعهم، لكنك تلقى تهافت الناس على دُورهم منقطع النظير، حتى إنك قد تجد من لم يمسه ضُرٌّ، يُقبِل عليهم طالبًا نفعاً بهم، فيهرعون إذ ذاك إلى اهتبال هذه الفرصة السانحة، فيستخِفُّونه، ويصنعون له التمائم والحُروز ويحضِّرون له - بزعمهم - الأرواح الخيِّرة لتساعده، فيكون بعدها في ضَنْك العيش؛ تتجاذبه شياطين الإنس والجن، حتى يأذن الله تعالى بفَكاكِه من ذلك.
গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও পরিভাষার ব্যাখ্যা

‌‌ভূমিকা:

সমসাময়িক মুসলিমদের কানে এমন কিছু শব্দ ও পরিভাষা আসে, যা তারা সাধারণ ও বিশেষ মজলিসে, জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা এবং টেলিভিশন আলোচনা সভায় শুনে অভ্যস্ত। মানুষ এগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনায় লিপ্ত হয় এবং তাদের অনেকেই—আবালবৃদ্ধবনিতা—এসব সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এমতাবস্থায় একদল লোক এসব বিষয়ে আলোচনার ময়দান দখল করতে উদ্যত হয়; তারা লোকমুখে শোনা কথা গ্রহণ করে এবং না বুঝেই যা তা বলে বেড়ায়। এ ব্যাপারে মানুষের অবস্থা বর্তমানে নানামুখী; কেউ এর প্রকৃত সত্য সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ, কারো কাছে এ বিষয়ে সামান্য জ্ঞান রয়েছে, আবার কেউ এর গূঢ় রহস্য সম্পর্কে অবগত থাকলেও এ বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকেন অথবা এর ব্যাখ্যায় খুব কমই অবতীর্ণ হন। নিঃসন্দেহে এটি দিন-রাত মানুষের আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আর প্রায়শই দেখা যায় যে, অজ্ঞরা—যারা ভেল্কিবাজি বা কুহককে পেশা হিসেবে নিয়েছে এবং প্রতারণাকে সহজসাধ্য মনে করেছে—এসব বিষয়ে কথা বলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ফলে সাধারণ মানুষের, এমনকি কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির মনও তাদের দিকে আকৃষ্ট হয়। তারা তাদের অর্জিত দুনিয়ার তুচ্ছ বস্তু থেকে তাদের ওপর অকাতরে ঢেলে দেয়। যদিও এই প্রতারকদের ক্ষতি উপকারের চেয়ে অনেক বেশি নিকটবর্তী, তবুও তাদের আস্তানায় মানুষের নজিরবিহীন ভিড় পরিলক্ষিত হয়। এমনকি আপনি এমন ব্যক্তিকেও পাবেন যে কোনো বিপদে পড়েনি, তবুও সে তাদের কাছে উপকারের আশায় যায়। তখন তারা এই মোক্ষম সুযোগটি লুফে নিতে সচেষ্ট হয়। তারা তাকে বিভ্রান্ত করে এবং তার জন্য তাবিয ও কবচ তৈরি করে। তারা—তাদের দাবি অনুযায়ী—তার সাহায্যের জন্য 'নেক আত্মা' হাজির করে। এর ফলে পরবর্তী সময়ে সে এক মানবেতর ও সংকীর্ণ জীবনের সংকটে পড়ে যায়; মানুষ ও জিনের শয়তানরা তাকে নিয়ে টানাটানি করতে থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাকে তা থেকে মুক্তির অনুমতি দেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ১০)
لذا، وجب على المؤمن أن يكون على بينة من الأمر، فيحذر هؤلاء ويتقي شرهم، ولا سبيل إلى ذلك إلا بمعرفة ما بيَّنَتْه الشريعة الإسلامية من حقائق هذه الأمور، والتي سأسعى - جاهداً إن شاء الله - إلى استقصائها وبيانها بعون الله تعالى، وهي مصطلحات وَفّت الثلاثين لا يَحْسُن بمسلم الجهلُ بها.

هذا، ولا تتناول هذه المباحث بيان هذه المصطلحات لغة، حيث إن المقام لا يتسع لذلك، والغرض بيان حقائقها لتبصير المسلم المعاصر بها، ولتحذيره مما قد يضره منها، وهي إجمالاً:

الجن - المس - الاستعانة - المَنْدل - الزَّار - قياس الأثر - العرافة - الكهانة - التنجيم - قراءة الزهر المرقَّم - علم الأسارير - قراءة الفنجان - الضرب بالحصى - الخط بالرمل - حساب الطالع - حساب السُّبْحة - الحسد - العين - السحر - الطِّلَّسْم - النَّفْث - النفخ - الهمز - النَّزْغ - الرَّكْضة - الرَّبْط - التِّوَلة - النُّشْرة - التميمة - التحضير.

‌‌1- الجنّ (1) :

هم خَلْقٌ مِنْ خَلْقِ الله تعالى، خَلَقهم سبحانه لعبادته كالإنس، قال تعالى: [الذّاريَات: 56] {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنْسَ إِلَاّ لِيَعْبُدُونِ *} ، وهم يوافقون البشر بأوصاف، ويفارقونهم بأوصاف (2) .

أما موافقتهم للإنس فبأنهم:

‌‌1- مكلفون بالتكاليف الشرعية.

--------------------------------------------

(1) انظر في هذا المبحث كتاب: عالم الجن في ضوء الكتاب والسنة. د. عبد الكريم عبيدات، الباب الأول من ص (3) إلى ص (76) .

‌‌(2) ستأتي - إن شاء الله - أدلة هذه الأوصاف بعد تمام ذكرها.
অতএব, মুমিনের জন্য এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখা আবশ্যক, যাতে সে এদের থেকে সতর্ক থাকতে পারে এবং এদের অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকতে পারে। আর এটি সম্ভব নয় ইসলামি শরিয়ত এসকল বিষয়ের যে হাকিকত বা বাস্তবতা বর্ণনা করেছে তা জানা ব্যতীত। আমি আল্লাহর সাহায্যে আপ্রাণ চেষ্টা করব—ইনশাআল্লাহ—সেগুলো অনুসন্ধান ও বিস্তারিত বর্ণনা করার। এগুলো প্রায় ত্রিশটি পরিভাষা, যা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা কোনো মুসলিমের জন্য সমীচীন নয়।

এখানে এই পরিভাষাগুলোর ভাষাগত বিশ্লেষণ করা হবে না, কারণ স্থানাভাবে তা সম্ভব নয়। মূল উদ্দেশ্য হলো এদের বাস্তবতা বর্ণনা করা যাতে সমকালীন মুসলিমদের এ সম্পর্কে সচেতন করা যায় এবং তাদের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলো থেকে সতর্ক করা যায়। সংক্ষেপে সেগুলো হলো:

জিন - আছর বা স্পর্শ - সাহায্য প্রার্থনা - আয়না বা পাত্র দেখা (মানদাল) - যার (অশুভ আত্মা তাড়ানোর অনুষ্ঠান) - চিহ্ন মেপে দেখা - গণনা - ভাগ্য গণনা বা জ্যোতিষবিদ্যা - জ্যোতিষশাস্ত্র - ছক্কা বা সংখ্যার মাধ্যমে ভাগ্য পরীক্ষা - রেখা বিদ্যা বা চেহারা দেখে চেনা - কাপ বা পিয়ালা দেখে ভাগ্য বলা - পাথর ছুঁড়ে ভাগ্য নির্ণয় - বালিতে রেখা টেনে ভাগ্য নির্ণয় - রাশিফল গণনা - তসবিহ গণনা করে ভাগ্য দেখা - হিংসা - বদনজর - জাদু - তিলিসম বা কবচ - ফুঁ দেওয়া - দম করা - শয়তানি উসকানি - কুমন্ত্রণা - পদাঘাত - বন্ধন (যৌন অক্ষমতা তৈরি করা) - তিওয়ালা (স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার তাবিজ) - নুশরা (জাদু মুক্তির ঝাড়ফুঁক) - তামিমা (তাবিজ) - আত্মা হাজির করা।

‌‌১- জিন (১) :

তারা মহান আল্লাহর সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত এক সৃষ্টি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষের মতো তাদেরকেও তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: [সূরা আয-যারিয়াত: ৫৬] "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।" তারা কিছু বৈশিষ্ট্যে মানুষের সাথে সাদৃশ্য রাখে এবং কিছু বৈশিষ্ট্যে ভিন্নতর (২)।

মানুষের সাথে তাদের সাদৃশ্যের দিকগুলো হলো:

‌‌১- তারা শরিয়তের বিধান পালনে আদিষ্ট।

--------------------------------------------

(১) এই বিষয়ে দেখুন: ড. আব্দুল কারিম ওবাইদাত প্রণীত 'আলমুল জিন ফি দাউইল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ' (কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জিনের জগৎ) গ্রন্থটির প্রথম অধ্যায়, পৃষ্ঠা ৩ থেকে ৭৬।

‌‌(২) ইনশাআল্লাহ, এই বৈশিষ্ট্যগুলোর বর্ণনা শেষ হওয়ার পর এগুলোর দলিলসমূহ পেশ করা হবে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌2- يسكنون هذه الأرض.

‌‌3- يأكلون ويشربون.

‌‌4- يتناكحون ولهم ذرية.

‌‌5- يُنسَبون إلى أقوامٍ وعشائرَ وقرابات.

‌‌6- ينتسبون إلى أديان مختلفة، فمنهم المؤمنون [وهم درجات في الصلاح] ، ومنهم الكافرون.

‌‌7- … لهم أوصاف مشتقة من أحوالهم، فكما يقال للإنسي: شيطان لكثرة شقوته وإضلاله لبني جنسه، يقال للجني كذلك، وكما يقال طُفَيْلِيٌّ للإنسان إذا كَثُر اعتمادُه على غيره، يقال للجني إذا اتصف بذلك: تابع، وهكذا … ومن أوصافهم المشتهرة العِفْريت: وهو القوي الداهية، والخابل وهو الذي يتسبب بالجنون لإنسي، والغُول وهو الذي يَكْثُر تشكُّلُه بصور كثيرة، ليُفْزِع الناس، والزَّوْبعة، وهو من أكثر الجن شوكة وقوة، ومنهم الغوّاص وهو من له قدرة فائقة على الغوص لاستخراج مكنونات البحار من حُلِيٍّ وغيرها، ومن ذلك أيضًا: البنّاء، وهو: من يتصف بالمهارة النادرة في فن البناء. والله أعلم.

‌‌8- … ينتسبون إلى أوطانٍ، منها: الجزيرة (1) ، ومن مدنها:

--------------------------------------------

(1) هي: جزيرة أَقُور، وهي تقع بين دِجْلة والفُرات، مجاورة للشام، وسميت بالجزيرة لكونها بين دجلة والفرات، ومن أمهات مدنها حَرّان والرُّها والرقة ونصيبين. انظر: معجم البلدان للحَمَوي (2/156) . والمقصود بالجزيرة - حاليًا -: هي المنطقة الواقعة بين نهرَيْ دجلة والفرات، ويُطلق عليها أيضًا الجزيرة الفراتية ونصيبين من مدنها، وهي مدينة تركية عامرة الآن، وتقع شمال شرق سورية مباشرة، وجنوب غرب تركيا.
‌‌২- তারা এই পৃথিবীতে বসবাস করে।

‌‌৩- তারা পানাহার করে।

‌‌৪- তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং তাদের বংশধর রয়েছে।

‌‌৫- তাদের বিভিন্ন জাতি, গোত্র ও আত্মীয়তার সম্পর্কের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়।

‌‌৬- তারা বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী হয়; তাদের মধ্যে মুমিন রয়েছে [নেক আমলের ক্ষেত্রে যাদের বিভিন্ন স্তর রয়েছে] এবং তাদের মধ্যে কাফিরও রয়েছে।

‌‌৭- … তাদের অবস্থা থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য তাদের রয়েছে। যেমন কোনো মানুষকে তার চরম পাপাচার এবং স্বগোত্রীয়দের পথভ্রষ্ট করার আধিক্যের কারণে ‘শয়তান’ বলা হয়, জিনদের ক্ষেত্রেও তেমনই বলা হয়। আবার মানুষ যখন অন্যের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হয় তখন তাকে যেমন ‘তুফাইলী’ (পরজীবী) বলা হয়, জিনের মধ্যেও এই বৈশিষ্ট্য থাকলে তাকে ‘তাবে’ বলা হয়; এভাবেই আরও অনেক নাম রয়েছে... তাদের প্রসিদ্ধ বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে ‘ইফরীত’: যে শক্তিশালী ও ধূর্ত; ‘খাবিল’: যে কোনো মানুষকে পাগল করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়; ‘গুল’: যে মানুষকে আতঙ্কিত করার জন্য বারবার রূপ পরিবর্তন করে; এবং ‘যাওবাআহ’: যে জিনদের মধ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও শক্তিশালী। তাদের মধ্যে কেউ ডুবুরি (গাওওয়াস): সমুদ্রের গভীর থেকে অলঙ্কারাদি ও অন্যান্য সম্পদ আহরণে যার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। আরও রয়েছে ‘বান্না’ (রাজমিস্ত্রি): নির্মাণশৈলীতে যে বিরল দক্ষতার অধিকারী। আল্লাহই ভালো জানেন।

‌‌৮- … তারা বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসী হয়, তন্মধ্যে একটি হলো আল-জাজিরা (১), এবং এর শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) এটি হলো আল-জাজিরা আকুর, যা দজলা ও ফুরাত নদীর মধ্যবর্তী সিরিয়া সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। দজলা ও ফুরাত নদীর মাঝে অবস্থিত হওয়ার কারণে একে আল-জাজিরা (দ্বীপ) বলা হয়। এর প্রধান শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে হাররান, আল-রুহা, রাক্কা ও নাসিবীন। দেখুন: হামাভী রচিত মু’জামুল বুলদান (২/১৫৬)। বর্তমানে আল-জাজিরা বলতে দজলা ও ফুরাত নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বোঝানো হয়; একে ‘আল-জাজিরা আল-ফুরাতিয়্যাহ’ও বলা হয়। নাসিবীন এর একটি শহর, যা বর্তমানে তুরস্কের একটি জনবহুল শহর এবং সিরিয়ার ঠিক উত্তর-পূর্বে ও তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ১২)
نَصِيبين، وفيها جن هم نِعْمَ الْجِنُّ (1) ، وهم سادات الجن، ومن أوطانهم أيضاً نِينَوَى (2) ، وهكذا.

وأما مخالفتهم للإنس فبأمور منها:

‌‌1- … أن أصل خِلْقتهم من خالص اللهب.

‌‌2- … أنهم يتميزون بقدرات فائقة، منها: سرعة الحركة في التنقل، والقدرة الهائلة على إنجاز الأعمال الشاقة، والقدرة على التشكل بصورة ذي روح كإنسان أو حيوان، علماً أن الصورة التي يتشكّلون بها تصير حاكمة عليهم، فلو فُرِض تشكُّلُهم بصورة إنسي ثم طُعِن هذا الإنسي بخنجر مثلاً، فإن الجني يموت بسبب ذلك، بخلاف تشكُّل الملائكة عليهم السلام، فإن الصورة لا تحكم عليهم (3) ، وهم باقون على عظم خِلْقتهم وقوتهم كما قبل التشكل.

‌‌3- … أنهم ثلاثة أصناف:

- صنف لهم أجنحة يطيرون في الهواء.

- وصنف متشكلين بحيات وكلاب.

--------------------------------------------

(1) كما وصفهم بذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم، فيما أخرجه البخاري؛ كتاب: مناقب الأنصار، باب: ذِكر الجن، برقم (3860) ، عن أبي هريرة رضي الله عنه، ومسلم - بنحوه -؛ كتاب: الصلاة، باب: الجهر بالقراءة في الصبح والقراءةِ على الجن، برقم (450) ، عن ابن مسعود رضي الله عنه.

‌‌(2) وهي قرية الرسول يونس بن متى عليه السلام، بالموصل. انظر: معجم البلدان (5/391) .

‌‌(3) ودليل حكم الصورة على الجن عند تشكلهم على صورة ذي روح، قوله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ بِالْمَدِينَةِ جِنًّا قَدْ أَسْلَمُوا، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مِنْهُمْ شَيْئًا، فَآذِنُوهُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ، فَإِنْ بَدَا لَكُمْ بَعْدَ ذَلِكَ فَاقْتُلُوهُ، فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ» أخرجه مسلم، برقم (2236) ، عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه. وأما دليل عدم حكم الصورة على الملائكة _ت، قوله تعالى حكاية عن ضيف إبراهيم ولوط _ث: [هُود: 81] {قَالُوا يالُوطُ إِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَنْ يَصِلُوا إِلَيْكَ … } .
নাসীবীন, আর সেখানে এমন জিন রয়েছে যারা কতই না চমৎকার জিন (১), এবং তারা জিনদের সরদার। তাদের আবাসভূমির মধ্যে নিনাওয়াও (২) অন্তর্ভুক্ত, এবং এভাবেই আরও অন্যান্য স্থান রয়েছে।

আর মানুষের সাথে তাদের পার্থক্যের বিষয়গুলো নিম্নরূপ:

‌‌১- … তাদের সৃষ্টির মূল উপাদান হলো খাঁটি অগ্নিশিখা।

‌‌২- … তারা অসাধারণ ক্ষমতার অধিকারী, যার মধ্যে রয়েছে: চলাচলে অত্যন্ত দ্রুতগতি, কঠোর পরিশ্রমের কাজ সম্পন্ন করার বিশাল সক্ষমতা এবং মানুষ বা প্রাণীর মতো কোনো প্রাণধারী আকৃতি ধারণ করার ক্ষমতা। উল্লেখ্য যে, তারা যে আকৃতি ধারণ করে তা তাদের ওপর কার্যকর হয়ে যায়। যেমন যদি ধরে নেওয়া হয় যে তারা কোনো মানুষের রূপ ধারণ করল, অতঃপর সেই মানুষকে খঞ্জর দিয়ে আঘাত করা হলো, তবে জিনটি এর ফলে মারা যাবে। ফেরেশতাদের (আলাইহিমুস সালাম) রূপ ধারণ করার বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ ধারণকৃত রূপ তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে না (৩), বরং রূপ ধারণের পূর্বে তারা যেমন বিশাল সৃষ্টি ও শক্তিশালী ছিলেন তেমনই থাকেন।

‌‌৩- … তারা তিন প্রকারের:

- এক প্রকারের জিনদের ডানা রয়েছে, তারা শূন্যে উড়ে বেড়ায়।

- আরেক প্রকার সাপ এবং কুকুরের আকৃতি ধারণকারী।

--------------------------------------------

(১) যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, যা বুখারী বর্ণনা করেছেন; অধ্যায়: আনসারদের মর্যাদা, পরিচ্ছেদ: জিনদের আলোচনা, হাদিস নম্বর (৩৮৬০), আবু হুরায়রা (রা.) থেকে; এবং মুসলিমও -অনুরূপ- বর্ণনা করেছেন; অধ্যায়: সালাত, পরিচ্ছেদ: ফজরের সালাতে উচ্চস্বরে কিরাআত এবং জিনদের নিকট কিরাআত পাঠ প্রসঙ্গে, হাদিস নম্বর (৪৫০), ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে।

‌‌(২) এটি মসুলে অবস্থিত নবী ইউনুস ইবনে মাত্তা আলাইহিস সালামের গ্রাম। দেখুন: মুজামুল বুলদান (৫/৩৯১)।

‌‌(৩) জিনরা কোনো প্রাণীর রূপ ধারণ করলে সেই রূপটি তাদের ওপর কার্যকর হওয়ার দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "নিশ্চয় মদিনায় কিছু জিন রয়েছে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে। সুতরাং তোমরা যখন তাদের মধ্য হতে কিছু দেখতে পাও, তখন তাকে তিন দিন সময় দাও। এরপরও যদি তা তোমাদের সামনে প্রকাশ পায় তবে তাকে হত্যা করো, কারণ সে শয়তান।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর (২২৩৬), আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে। আর ফেরেশতাদের ওপর তাদের ধারণকৃত রূপ কার্যকর না হওয়ার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী যা তিনি ইব্রাহিম ও লুত (আলাইহিমাস সালাম)-এর মেহমানদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: [হুদ: ৮১] {তারা বলল: হে লুত, আমরা আপনার রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত দূত। তারা কখনোই আপনার কাছে পৌঁছাতে পারবে না...}।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
- وصنف يحلُّون ويظعنون، يصعدون وينزلون حيث يشاؤون.

‌‌4- … أنهم لا تمكن رؤيتهم على صورتهم الحقيقية.

‌‌5- … أنهم لم ينبّأ منهم أحد، ولم يكن منهم رسول، فأنبياء البشر ورسلهم عليهم السلام، هم أنبياء ورسل للجن كذلك.

‌‌6- … أن من طعامهم اللحم الذي يجدونه عند العظم، وأن علف داوبهم يجدونه عند الروث، يحل لهم ذلك كلُّه إذا ذكروا اسم الله عليه.

‌‌7- … يسكن الشياطين منهم - والعياذ بالله - في الأماكن المهجورة والحُشُوش (1) ، ويسكنون الأسواق لكثرة ما يكون فيها من التبرج، والغش، والأَيْمان الكاذبة، عياذاً بالله تعالى.

* وهاك - أخي القارئ - أدلةً على مجمل ما سبق ذكره من صفات الجن ما وافق منها صفاتِ الإنس وما خالف، مرتبةً بحسب إيرادها السابق إن شاء الله:

‌‌1- … هم مكلفون - كالبشر - مأمورون بأداء الطاعات منهيون عن مقارفة المعاصي، وأدلة ذلك عديدة، منها قوله تعالى: [الذّاريَات: 56] {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنْسَ إِلَاّ لِيَعْبُدُونِ *} ، وقوله سبحانه - حكايةً عن نفر منهم أنصتوا لتلاوة مباركة من النبي صلى الله عليه وسلم: [الأحقاف: 31] {يَاقَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ *} ، قال الإمام الشوكاني رحمه الله في تفسيره للآية

--------------------------------------------

(1) الحُشوش، ومفرده حَش أو حُشٌّ وهو: البستان من نخيل متكاثف بعضه على بعض، وكذلك يطلق على المَخْرج (مكان قضاء الحاجة) ؛ لأنهم كانوا يُبعِدون إليه، يقضون عنده الحاجة. انظر: مختار الصحاح مادة (حَشَشَ) .
আর এক শ্রেণি যারা এক স্থানে অবস্থান করে এবং অন্য স্থানে ভ্রমণ করে, তারা যেখানে ইচ্ছা আরোহণ করে এবং অবতরণ করে।

‌‌৪- … যে, তাদেরকে তাদের প্রকৃত আকৃতিতে দেখা সম্ভব নয়।

‌‌৫- … যে, তাদের মধ্য থেকে কাউকে নবুওয়াত প্রদান করা হয়নি এবং তাদের মধ্য থেকে কোনো রাসুল ছিলেন না। মূলত মানুষের মধ্য থেকে প্রেরিত নবী ও রাসুলগণ (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক), তাঁরা জিনদের জন্যও নবী ও রাসুল।

‌‌৬- … যে, হাড্ডির সাথে লেগে থাকা গোশত তাদের খাদ্য, আর পশুর গোবর তাদের চতুষ্পদ প্রাণীদের খাদ্য। এগুলোর ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হলে তবেই তা তাদের জন্য বৈধ হয়।

‌‌৭- … তাদের মধ্যকার শয়তানরা—আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই—পরিত্যক্ত স্থানে এবং শৌচাগারসমূহে (১) বসবাস করে। তারা বাজারগুলোতেও অবস্থান করে, কারণ সেখানে বেপর্দা চলাফেরা, প্রতারণা ও মিথ্যা শপথের আধিক্য থাকে; মহান আল্লাহর নিকট এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

* হে পাঠক ভাই, জিনদের যেসব গুণাবলি পূর্বে সংক্ষেপে উল্লিখিত হয়েছে—মানুষের সাথে যার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে—পূর্বোক্ত ধারাবাহিকতা অনুযায়ী ইনশাআল্লাহ সেগুলোর দলিলসমূহ এখানে উপস্থাপন করা হলো:

‌‌১- … তারা মানুষের মতোই শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত—তাদেরকে ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পাপাচার থেকে নিষেধ করা হয়েছে। এর দলিল অনেক, যার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: [আয-যারিয়াত: ৫৬] {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।}, এবং তাঁর বাণী—যা তিনি জিনদের একটি দলের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরকতময় তিলাওয়াত শ্রবণ করেছিল: [আল-আহকাফ: ৩১] {হে আমাদের সম্প্রদায়! আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দাও এবং তাঁর ওপর ঈমান আনো, তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন।}, ইমাম শাওকানি রহিমাহুল্লাহ আয়াতের তাফসিরে বলেন—

--------------------------------------------

(১) আল-হুশূশ, এর একবচন হলো হাশশ বা হুশশ; যা মূলত ঘন খেজুর বাগানকে বোঝায় যেখানে গাছগুলো একে অপরের ওপর ঝুঁকে থাকে। এছাড়া এটি শৌচাগার (প্রয়োজন সারার স্থান) অর্থেও ব্যবহৃত হয়; কারণ তারা মলমূত্র ত্যাগের জন্য লোকচক্ষুর অন্তরালে দূরে চলে যেত। দেখুন: মুখতারুস সিহাহ, শব্দমূল: (হ-শ-শ)।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
الكريمة: (في هذه الآية دليل على أن حكم الجن حكمُ الإنس في الثواب والعقاب والتعبُّد بالأوامر والنواهي) . اهـ (1) .

مسألة:

هل أرسل الله إلى الجن رسلاً منهم أم لا؟

ولا يَرِد على ما سبق الاحتجاجُ بمعنى قوله تعالى: [الأنعَام: 130] {يَامَعْشَرَ الْجِنِّ وَالإِنْسِ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي وَيُنْذِرُونَكُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَذَا قَالُوا شَهِدْنَا عَلَى أَنْفُسِنَا} . فإن ظاهر معنى الآية أفاد أن لهم رسلاً من جنسهم، كما أن للإنس رسلاً من جنسهم. لكن الراجح في ذلك عند أهل العلم أنه لم ينبأ منهم أحد ولم يكن منهم رسول، وقد استدلوا على ذلك بأدلة عديدة، منها:

قول الله تعالى: [يُوسُف: 109] {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلَاّ رِجَالاً نُوحِي إِلَيْهِمْ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى … } .

وقوله تعالى: [الفُرقان: 20] {وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ إِلَاّ إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الأَسْوَاقِ} ، وقوله عز وجل: [العَنكبوت: 27] {وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّتِهِ النُّبُوَّةَ وَالْكِتَابَ} . وفيه تصريح بأن كل نبي بعثه الله بعد إبراهيم عليه السلام فهو من ذريته.

وقال النبي صلى الله عليه وسلم: وَأُرْسِلْتُ إِلَى الْخَلْقِ كَافَّةً، وَخُتِمَ بِيَ النَّبِيُّونَ (2) .

--------------------------------------------

(1) انظر: فتح القدير، للإمام الشوكاني (5/26) .

‌‌(2) محل استدلالٍ من حديث أخرجه البخاري؛ كتاب: الجهاد والسِّيَر، باب: قول النبي صلى الله عليه وسلم: «نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ» ، عن أبي هريرة رضي الله عنه. ومسلم - بلفظه -؛ في استهلال كتاب: المساجد ومواضع الصلاة، برقم (523) ، عنه أيضًا.
সম্মানিত আয়াত: (এই আয়াতে এই বিষয়ে প্রমাণ রয়েছে যে, সওয়াব, শাস্তি এবং আদেশ ও নিষেধ পালনের মাধ্যমে ইবাদত করার ক্ষেত্রে জিনের বিধান মানুষের বিধানের মতোই)। সমাপ্ত। (১)।

মাসআলা:

আল্লাহ কি জিনদের মধ্য থেকে তাদের কাছে কোনো রাসূল পাঠিয়েছেন নাকি পাঠাননি?

মহান আল্লাহর এই বাণীর মর্ম দ্বারা পূর্বের কথার ওপর কোনো আপত্তি আসবে না: [আল-আনআম: ১৩০] {হে জিন ও মানব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের নিকট রাসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ বর্ণনা করত এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাত সম্বন্ধে তোমাদের সতর্ক করত? তারা বলবে, আমরা আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছি}। কারণ আয়াতের বাহ্যিক অর্থ প্রকাশ করে যে, মানুষের মতো জিনদের মধ্য থেকেও তাদের স্বজাতীয় রাসূল ছিল। কিন্তু আলেমদের নিকট এ বিষয়ে বিশুদ্ধ মত হলো এই যে, তাদের মধ্য থেকে কাউকে নবী করা হয়নি এবং তাদের মধ্য থেকে কোনো রাসূলও ছিলেন না। তাঁরা এর সপক্ষে অনেক দলীল পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

মহান আল্লাহর বাণী: [ইউসুফ: ১০৯] {আমি আপনার পূর্বে জনপদবাসীদের মধ্য থেকে পুরুষদেরই রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছি, যাদের কাছে আমি ওহী পাঠাতাম … }।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: [আল-ফুরকান: ২০] {আমি আপনার পূর্বে যত রাসূল পাঠিয়েছি, তারা সবাই তো খাদ্য গ্রহণ করত এবং বাজারে চলাফেরা করত}, এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: [আল-আনকাবুত: ২৭] {এবং আমি তার বংশধরদের মধ্যে নবুয়ত ও কিতাব দান করেছি}। এতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পর আল্লাহ যত নবী পাঠিয়েছেন, তারা সবাই তাঁরই বংশধর।

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আর আমাকে সমস্ত সৃষ্টির নিকট পাঠানো হয়েছে এবং আমার মাধ্যমেই নবীগণের সিলসিলা সমাপ্ত করা হয়েছে (২) ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতহুল কাদীর, ইমাম শাওকানী (৫/২৬) ।

‌‌(২) এটি বুখারী কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদীসের দলীলের অংশ; কিতাব: আল-জিহাদ ওয়াস-সিয়ার, অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «আমাকে এক মাসের দূরত্ব পর্যন্ত প্রভাব বিস্তারকারী ভীতি দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে», আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। এবং মুসলিম - হুবহু শব্দে -; কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিইস সালাহ-এর শুরুতে, হাদীস নং (৫২৩), তিনিও আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
ومعلوم - ولا ريب - أن الجن هم من بعض الخَلْق المكلّفين، فيدخلون في عموم رسالته صلى الله عليه وسلم، وقد أفاد الحديث أيضًا أنه ليس لأحد من إنس أو جن أو غيرهم ادعاء نبوة - أو رسالة من باب أولى - بعد النبي صلى الله عليه وسلم.

وهاك ثلاثة وجوه يرجح بها قول القائلين باختصاص الرسالة ببني آدم دون الجن:

الأول: … كثرة الأدلة - وقد أوردت بعضها - ومن صريح ما استدلوا به قوله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلَاّ رِجَالاً نُوحِي إِلَيْهِمْ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى … } [يُوسُف: 109] ، قال القرطبي رحمه الله: أي أرسلنا رجالاً ليس فيهم امرأة ولا جني ولا مَلَك (1) . اهـ.

الثاني: … أن المراد بقوله تعالى -، أي: من أحدكم (2) وقد بينه الإمام الشوكاني رحمه الله بقوله: هو من مجموع الجنسين، وصَدَقَ على أحدهما، وهم الإنس، كقوله تعالى: {يَخْرُجُ مِنْهُمَا اللُّؤْلُؤُ وَالْمَرْجَانُ *} [الرحمن: 22] ، والمراد: من أحدهما. اهـ (3) .

الثالث: … تضمُّن القرآن الكريم خطاباً للجن وتحدياً لهم وإعلاماً بمآلهم في الآخرة، وتوعُّداً لهم، فأما إفرادهم بالخطاب ففي قوله تعالى: {يَامَعْشَرَ الْجِنِّ قَدِ اسْتَكْثَرْتُمْ مِنَ الإِْنْسِ} [الأنعام: 128] ، وأما اقتران الخطاب بالإنس ففي قوله تعالى: {يَامَعْشَرَ الْجِنِّ وَالإِْنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ

--------------------------------------------

(1) انظر: الجامع لأحكام القرآن (9/272) .

‌‌(2) المرجع السابق (7/87) .

‌‌(3) انظر: فتح القدير للإمام الشوكاني (5/26) .
এটা সুবিদিত—এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই—যে জিনেরা সৃষ্টির অন্যতম আদিষ্ট (মুকাল্লাফ) জাতি, তাই তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের সাধারণ আওতাভুক্ত। হাদিস থেকে এটিও স্পষ্ট হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর কোনো মানুষ, জিন বা অন্য কারও পক্ষেই নবুওয়াত দাবি করার—আর স্বাভাবিকভাবেই রিসালাত দাবি করার—কোনো অবকাশ নেই।

এখানে তিনটি দিক তুলে ধরা হলো যার মাধ্যমে সেই প্রবক্তাদের মতটি প্রাধান্য পায় যারা মনে করেন যে, রিসালাত কেবল আদম সন্তানদের জন্য নির্দিষ্ট, জিনদের জন্য নয়:

প্রথমত: … দলিলের আধিক্য—যার কিছু আমি উল্লেখ করেছি—আর তাদের পেশকৃত সুস্পষ্ট দলিলসমূহের অন্যতম হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আপনার পূর্বে আমি জনপদবাসীদের মধ্য থেকে পুরুষদেরই রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছি যাদের কাছে আমি ওহি পাঠাতাম … } [ইউসুফ: ১০৯], ইমাম কুরতুবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: অর্থাৎ আমি পুরুষদের পাঠিয়েছি যাদের মধ্যে কোনো নারী, জিন বা ফেরেশতা নেই (১)। ইতি।

দ্বিতীয়ত: … মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—অর্থাৎ: তোমাদের মধ্য থেকে (২)। ইমাম শাওকানি (রাহিমাহুল্লাহ) এটি ব্যাখ্যা করে বলেন: এটি উভয় জাতির সমষ্টিগত উল্লেখ থেকে এসেছে এবং তাদের একটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে, আর তারা হলো মানুষ; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {উভয় সাগর থেকে মুক্তা ও প্রবাল উৎপন্ন হয়} [আর-রাহমান: ২২], অথচ উদ্দেশ্য হলো: উভয়ের যেকোনো একটি থেকে। ইতি (৩)।

তৃতীয়ত: … পবিত্র কুরআনে জিনদের প্রতি সম্বোধন, তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ, পরকালে তাদের পরিণাম সম্পর্কে অবহিত করা এবং তাদের প্রতি সতর্কবাণী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাদের এককভাবে সম্বোধন করা হয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা তো মানুষের অনেককেই বিভ্রান্ত করেছ} [আল-আনআম: ১২৮]। আর মানুষের সাথে যুগ্মভাবে সম্বোধন করা হয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {হে জিন ও মানব সম্প্রদায়, যদি তোমরা সক্ষম হও যে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন (৯/২৭২)।

‌‌(২) পূর্বোক্ত উৎস (৭/৮৭)।

‌‌(৩) দেখুন: ইমাম শাওকানি প্রণীত ফাতহুল কাদির (৫/২৬)।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
تَنْفُذُوا} [الرحمن: 33] ، وهو من التحدي لهم، ومن ذلك أيضاً قوله تعالى: {قُلْ لَئِنْ اجْتَمَعَتْ الإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا *} [الإسراء: 88] . ومن الإعلام بمصيرهم في الآخرة قوله تعالى: {أُولَئِكَ الَّذِينَ حَقَّ عَلَيْهِمُ الْقَوْلُ فِي أُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِمْ مِنَ الْجِنِّ وَالإِنْسِ إِنَّهُمْ كَانُوا خَاسِرِينَ *وَلِكُلٍّ دَرَجَاتٌ مِمَّا عَمِلُوا وَلِيُوَفِّيَهُمْ أَعْمَالَهُمْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ *} [الأحقاف: 18-19] ، ومن توعّده لهم قوله تعالى: {سَنَفْرُغُ لَكُمْ أَيُّهَا الثَّقَلَانِ *} [الرحمن: 31] . وقوله: {وَمِنَ … } [سبأ: 12] .

وخلاصة ما ذُكر آنفًا - في تقرير أن الجن مخاطبون بالتكليف من قِبَل رسل الإنس - هو ما ذكره الإمام القرطبي رحمه الله بقوله: (إن سورة الرحمن والأحقاف وقل أوحي - أي سورة الجن -، دليل على أن الجن مخاطبون مكلفون مأمورون منهيون، معاقبون كالإنس سواء بسواء، مؤمنهم كمؤمنهم، وكافرهم ككافرهم، لا فرق بيننا وبينهم في شيء من ذلك)) . اهـ (1) .

ووجه الاستدلال في ذلك: أن خطاب القرآن المتوجه إلى الجن دال على أن من أنزل عليه القرآن صلى الله عليه وسلم هو مرسل إلى الجن كما إلى الإنس، وإلا فكيف يفردون بالخطاب ثم يتوعدون بالعذاب، ويتم تحديهم بكتابٍ، هو في الأصل منزل على رسول خاص بالإنس، فلو حصل ذلك لكان لهم عندها أن يحتجوا بقولهم: لا شأن لنا بذلك كله،

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير القرطبي: (17/170) .
পার হবে} [আর-রাহমান: ৩৩], এবং এটি তাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত। আর এর অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর এই বাণীও: {বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ কিছু আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।} [আল-ইসরা: ৮৮]। এবং পরকালে তাদের পরিণাম সম্পর্কে অবহিত করার বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী: {এরাই তারা, যাদের উপর শাস্তির বাণী সত্য হয়েছে সেই সব উম্মতের সাথে যারা তাদের পূর্বে জিন ও মানুষের মধ্য থেকে অতিবাহিত হয়েছে; নিশ্চয়ই তারা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত। আর প্রত্যেকের জন্যই তাদের আমল অনুযায়ী মর্যাদা রয়েছে এবং যাতে তিনি তাদের আমলের পূর্ণ প্রতিফল দান করেন এবং তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।} [আল-আহকাফ: ১৮-১৯]। আর তাদের প্রতি তাঁর সতর্কবার্তার অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {হে দুই ভারী দল! শীঘ্রই আমি তোমাদের (হিসাব-নিকাশের) জন্য মনোনিবেশ করব।} [আর-রাহমান: ৩১]। এবং তাঁর বাণী: {এবং মধ্য থেকে … } [সাবা: ১২]।

জিনেরা যে মানুষের পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূলদের মাধ্যমে শরীয়তের বিধিবিধানের (তাকলিফ) সম্বোধিত—এই সত্যটি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সারসংক্ষেপ হলো ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এই বক্তব্য: ((নিশ্চয়ই সূরা আর-রাহমান, আল-আহকাফ এবং 'কুল উহিয়া'—অর্থাৎ সূরা আল-জিন—এই কথার দলিল যে, জিনেরা মানুষের মতোই শরীয়তের সম্বোধিত, আদিষ্ট, আমল করতে আদিষ্ট, নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য; তাদের মুমিনরা মানুষের মুমিনদের মতো এবং তাদের কাফিররা মানুষের কাফিরদের মতো। এসবের কোনো কিছুতেই আমাদের ও তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।)) সমাপ্ত (১)।

এর মাধ্যমে দলিল পেশের পদ্ধতি হলো: জিনদের প্রতি লক্ষ্য করে কুরআনের সম্বোধন একথার প্রমাণ দেয় যে, যাঁর প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তিনি মানুষের ন্যায় জিনদের প্রতিও প্রেরিত হয়েছেন। অন্যথায় কেন তাদের পৃথকভাবে সম্বোধন করা হবে এবং শাস্তির হুমকি দেওয়া হবে, আর কেনই বা তাদের এমন এক কিতাবের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হবে যা মূলত মানুষের জন্য বিশেষ একজন রাসূলের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে? যদি বিষয়টি তেমনই হতো, তবে তাদের এই বলে যুক্তি দেখানোর সুযোগ থাকত যে: এসবের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই,

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসীরে কুরতুবী: (১৭/১৭০)।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
فالقرآن إنما أنزل على رسول خاص بالإنس، ولمّا لم يفعلوا، دل ذلك على أن النبي صلى الله عليه وسلم مرسل لعموم الإنس والجن، والله أعلم.

‌‌2- … أما سكناهم لهذه الأرض فدليله قوله تعالى: {وَالأَرْضَ وَضَعَهَا لِلأَنَامِ *} [الرحمن: 10] ، قال ابن عباس رضي الله عنهما: الأنام: الناس، وقال الحسن البصري رحمه الله: الأنامُ الجنُّ والإنس (1) .

- … وقول النبي صلى الله عليه وسلم: إِنَّ فِي الْمَدِينَةِ جِنًّا قَدْ أَسْلَمُوا … (2) .

‌‌3- … وأما كونهم يأكلون ويشربون. فدليله قول النبي صلى الله عليه وسلم: إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَأْكُلْ بِيَمِينِهِ، وَإِذَا شَرِبَ فَلْيَشْرَبْ بِيَمِينِهِ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ وَيَشْرَبُ بِشِمَالِهِ (3) .

‌‌4- … ودليل كونهم يتناكحون ويتناسلون ولهم ذرية قولُ الله تعالى - محذِّراً من اتباع إبليس وذريته عياذاً بالله منهم -: {أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلاً} [الكهف: 50] . وقد كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا دخل الخلاء، يقول: اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ (4) . (والخُبُث جمع خبيث،

--------------------------------------------

(1) انظر كذلك تفسير القرطبي: (17/154) .

‌‌(2) جزء من حديث أخرجه مسلم؛ كتاب: السلام، باب: قتل الحيات وغيرها، برقم (2236) ، عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه.

‌‌(3) أخرجه مسلم؛ كتاب الأشربة باب: آداب الطعام والشراب وأحكامهما، برقم (2020) ، عن عبد الله بن عمر رضي لله عنهما.

‌‌(4) متفق عليه من حديث أنس رضي الله عنه: أخرجه البخاري؛ كتاب الوضوء، باب: ما يقول عند الخلاء، برقم (142) ، ومسلم؛ كتاب: الحيض. باب: ما يقول إذا أراد دخول الخلاء، برقم (375) . وضبط «الْخُبُثِ» ، بإسكان الباء، عند مسلم.
সুতরাং কুরআন তো কেবল মানুষের জন্য নির্দিষ্ট একজন রাসূলের ওপর নাযিল করা হয়েছে। আর যেহেতু তারা তা করেনি, তাই এটি প্রমাণ করে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমগ্র মানব ও জিনের জন্য প্রেরিত হয়েছেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

‌‌২- … আর এই জমিনে তাদের বসবাস করার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি জমিনকে সৃষ্টিজীবের জন্য স্থাপন করেছেন} [আর-রাহমান: ১০]। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: ‘আনাম’ (সৃষ্টিজীব) হলো মানুষ। আর হাসান বসরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ‘আনাম’ হলো জিন ও মানুষ (১)।

- … এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: নিশ্চয়ই মদিনায় কিছু জিন রয়েছে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে ... (২)।

‌‌৩- … আর তাদের আহার ও পান করার বিষয়টি। এর প্রমাণ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: যখন তোমাদের কেউ আহার করে, সে যেন তার ডান হাত দিয়ে আহার করে, আর যখন সে পান করে, সে যেন তার ডান হাত দিয়ে পান করে। কেননা শয়তান তার বাম হাত দিয়ে আহার করে এবং তার বাম হাত দিয়ে পান করে (৩)।

‌‌৪- … আর তাদের বিবাহ করা, বংশবৃদ্ধি করা এবং তাদের সন্তান-সন্ততি থাকার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী—যেখানে তিনি ইবলিস ও তার বংশধরদের অনুসরণ করা থেকে সতর্ক করেছেন, তাদের থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই—: {তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে ও তার বংশধরদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করছ, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? জালিমদের জন্য এই বিনিময় কতই না মন্দ} [আল-কাহফ: ৫০]। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন বলতেন: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট অপবিত্র পুরুষ ও নারী জিন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি (৪)। (আর ‘খুবুছ’ হলো ‘খাবীছ’-এর বহুবচন,

--------------------------------------------

(১) অনুরূপভাবে দেখুন তাফসীরে কুরতুবী: (১৭/১৫৪)।

‌‌(২) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদীসের অংশ; অধ্যায়: আস-সালাম, পরিচ্ছেদ: সাপ ইত্যাদি হত্যা করা, হাদীস নং (২২৩৬), আবু সাঈদ খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।

‌‌(৩) মুসলিম বর্ণনা করেছেন; পানীয় অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: পানাহারের আদব ও তার বিধানসমূহ, হাদীস নং (২০২০), আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত।

‌‌(৪) আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি: বুখারী বর্ণনা করেছেন; ওযু অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: শৌচাগারে যাওয়ার সময় যা বলতে হয়, হাদীস নং (১৪২), এবং মুসলিম; হায়েয অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: যখন কেউ শৌচাগারে প্রবেশের ইচ্ছা করে তখন যা বলবে, হাদীস নং (৩৭৫)। আর মুসলিমের নিকট ‘খুবুছ’ শব্দটি ‘বা’ বর্ণে সুকুন (জযম) দিয়ে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
والخبائث جمع خبيثة، يريد: ذُكْرانَ الشياطين وإناثهم) (1) . ومعلوم أن وجود الذكران والإناث مقتضٍ لحصول الجماع والتوالد، والله أعلم.

‌‌5- وأما انتسابهم إلى أقوام وعشائر، فلقول الله تعالى - حكاية عن نفرٍ من الجن استمعوا القرآن من الرسول صلى الله عليه وسلم: {يَاقَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ} [الأحقاف: 31] .

ولقوله صلى الله عليه وسلم لأبي هريرة رضي الله عنه: «إِنَّهُ أَتَانِي وَفْدُ جِنِّ نَصِيبِينَ (2) - وَنِعْمَ الْجِنُّ - فَسَأَلُونِي الزَّادَ، فَدَعَوْتُ اللهَ لَهُمْ أَنْ لَا يَمُرُّوا بِعَظْمٍ وَلَا بِرَوْثَةٍ إِلَاّ وَجَدُوا عَلَيْهَا طَعَاماً» (3) .

‌‌6- … وأما انتسابهم إلى أديان مختلفة، وكونهم طرائق عديدة من حيث الصلاح والفساد، فلقول الله تعالى - حكاية عن بعض الجن (4) -: [الجنّ: 11] {وَأَنَّا مِنَّا الصَّالِحُونَ وَمِنَّا دُونَ ذَلِكَ كُنَّا طَرَائِقَ قِدَدًا *} .

قال الإمام القرطبي رحمه الله: (المعنى: لم يكن كل الجن كفاراً، بل كانوا مختلفين، منهم كفار، ومنهم مؤمنون صُلَحاء، ومنهم مؤمنون غير صُلحاء) (5) .

‌‌7- … وأما أوصافهم التي اشتهروا بها فصارت كالأصناف لهم: فمنهم: الشياطين، ومنهم المردة - والعياذ بالله - قال تعالى: {إِنَّا زَيَّنَّا

--------------------------------------------

(1) الكلام لابن حجر رحمه الله. انظر: فتح الباري (1/243) .

‌‌(2) (نِصِّيبينَ) ، أو (نَصِيبِينَ) بالتخفيف: (وهي مدينة عامرة من بلاد الجزيرة على جادة القوافل من الموصل إلى الشام) . انظر: معجم البلدان، لياقوت الحَمَوي: (5/233) .

‌‌(3) جزء من حديث أخرجه البخاري؛ سبق تخريجه ص 12، بالهامش ذي الرقم (1) .

‌‌(4) وهم جن نصيبين، من ساكني جزيرة أقور، ونصيبين مدينة من أمهات مدن الجزيرة كما سبق بيانه ص11 بالهامش ذي الرقم (1) .

‌‌(5) انظر: الجامع لأحكام القرآن، للقرطبي (19/16) .
এবং 'খাবায়েস' শব্দটি 'খাবীসা' এর বহুবচন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: পুরুষ শয়তান এবং নারী শয়তান। (১) আর এটা জানা কথা যে, নর ও নারীর অস্তিত্ব যৌন মিলন ও বংশবৃদ্ধিকে অবধারিত করে, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

‌‌৫- আর বিভিন্ন কওম বা গোত্রের সাথে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আল্লাহ তাআলার বাণী—যা তিনি একদল জিনের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে কুরআন শুনেছিল: {হে আমাদের কওম! তোমরা আল্লাহর আহ্বায়কের ডাকে সাড়া দাও} [আল-আহকাফ: ৩১]।

এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে: «নিশ্চয়ই আমার কাছে নাসিবীন (২) এলাকার জিনের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল—আর তারা কতই না উত্তম জিন—অতঃপর তারা আমার কাছে পাথেয় (খাবার) চেয়েছিল। তখন আমি আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দুআ করলাম যেন তারা কোনো হাড় কিংবা গোবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম না করে যাতে তারা তাতে খাবার না পায়» (৩)।

‌‌৬- … আর বিভিন্ন ধর্মের প্রতি তাদের সম্পৃক্ততা এবং নেককার হওয়া ও ফাসেক হওয়ার দিক থেকে তাদের বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হওয়ার বিষয়ে আল্লাহ তাআলার বাণী—যা তিনি কিছু জিনের (৪) পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন—: [আল-জিন: ১১] {আর আমাদের মধ্যে কেউ নেককার, আবার কেউ তার ব্যতিক্রম; আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথে বিভক্ত}।

ইমাম কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (এর অর্থ: সকল জিন কাফের ছিল না, বরং তারা ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির ছিল; তাদের মধ্যে কেউ কাফের ছিল, কেউ নেককার মুমিন ছিল, আবার কেউ এমন মুমিন ছিল যারা নেককার নয়) (৫)।

‌‌৭- … আর তাদের সেসব বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে তারা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং যা তাদের প্রকারভেদে পরিণত হয়েছে: তাদের মধ্যে রয়েছে শয়তান এবং তাদের মধ্যে রয়েছে মারাদা (বিদ্রোহী শয়তান)—আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি সুশোভিত করেছি

--------------------------------------------

(১) কথাটি ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহর। দেখুন: ফাতহুল বারী (১/২৪৩)।

‌‌(২) (নাসিবীন): (এটি জাযিরা অঞ্চলের একটি জনবহুল শহর, যা মসুল থেকে শামের দিকে যাওয়ার কাফেলাগুলোর প্রধান রাস্তার ওপর অবস্থিত)। দেখুন: মু'জামুল বুলদান, ইয়াকুত আল-হামাভী: (৫/২৩৩)।

‌‌(৩) বুখারী কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিসের অংশ; ইতিপূর্বে ১২ পৃষ্ঠার ১ নং টীকায় এর তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।

‌‌(৪) তারা হলো নাসিবীন অঞ্চলের জিন, যারা আকুর দ্বীপের বাসিন্দা। আর নাসিবীন হলো জাযিরা অঞ্চলের প্রধান শহরগুলোর একটি, যেমনটি ইতিপূর্বে ১১ পৃষ্ঠার ১ নং টীকায় বর্ণিত হয়েছে।

‌‌(৫) দেখুন: আল-জামে' লি-আহকামিল কুরআন, কুরতুবী (১৯/১৬)।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةٍ الْكَوَاكِبِ *وَحِفْظًا مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ مَارِدٍ *} [الصافات: 6-7] . والشيطان المارد، هو: (الخبيث المتمرد العاتي، إذا أراد أن يسترق السمع أتاه شهاب ثاقب فأحرقه) (1) .

ومن أصناف الشياطين أيضاً البناؤون والغوّاصون قال تعالى: {وَالشَّيْاطِينَ كُلَّ بَنَّاءٍ وَغَوَّاصٍ *} [ص: 37] . وقد سخّرهم الله تعالى لعبده ونبيّه سليمان عليه السلام وسلّطه عليهم فهم يأتمرون بأمره {يَعْمَلُونَ لَهُ مَا يَشَاءُ مِنْ مَحَارِيبَ وَتَمَاثِيلَ وَجِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَقُدُورٍ رَاسِيَاتٍ} [سبأ: 13] ، [والمحراب مقدّم المجلس أو المصلّى أو البنيان، والتمثال صورة من نحاس أو زجاج، والجفان ج/جفنة وهي قدر متسع للطعام، بلغت من سعتها أن تكون كالجابية، أي: الحوض الذي يُجبى فيه الماء أي يجمع به، وقدور أخرى ثابتة لا تتحول من موضعها لِعِظَم حجمها] (2) .

ومن أصنافهم: العفاريت، قال تعالى: {قَالَ عِفْرِيتٌ مِنَ الْجِنِّ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَنْ تَقُومَ مِنْ مَقَامِكَ وَإِنِّي عَلَيْهِ لَقَوِيٌّ أَمِينٌ *} [النمل: 39] ، والعِفْريت هو: (النافذ في الأمر المبالغ فيه مع خبث ودهاء) (3) .

ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: إِنَّ عِفْرِيتاً مِنَ الْجِنِّ جَعَلَ يَفْتِكُ عَلَيَّ الْبَارِحَةَ، لِيَقْطَعَ عَلَيَّ الصَّلَاةَ، وَإِنَّ اللهَ أَمْكَنَنِي مِنْه فَذَعَتُّهُ … الحديث (4) .

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير القرآن العظيم، لابن كثير: ص 1443، ط - بيت الأفكار الدولية.

‌‌(2) انظر: جامع البيان عن تأويل آي القرآن. (تفسير الطبري) : (22/87) .

‌‌(3) انظر: لسان العرب لابن منظور: (4/585) .

‌‌(4) أخرجه البخاري بنحو هذا اللفظ، كتاب: التفسير، باب: قوله تعالى: [ص: 35] {وَهَبْ لِي مُلْكًا لَا يَنْبَغِي لأَِحَدٍ مِنْ بَعْدِي} ، برقم (4808) ، عن أبي هريرة رضي الله عنه. ومسلمٌ بلفظه، كتاب: المساجد، باب: جواز لعن الشيطان في أثناء الصلاة، برقم (541) عنه أيضاً. ومعنى: فَذَعَتُّهُ: خَنَقْتُهُ.
নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আসমানকে নক্ষত্ররাজির সৌন্দর্যে সুশোভিত করেছি এবং প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে সুরক্ষা দিয়েছি। [আস-সাফফাত: ৬-৭]। আর অবাধ্য শয়তান হলো: (সেই দুষ্ট, বিদ্রোহী ও উদ্ধত শয়তান, যে যখন কান পেতে কোনো কিছু চুরি করে শোনার চেষ্টা করে, তখন একটি প্রদীপ্ত উল্কাপিণ্ড এসে তাকে জ্বালিয়ে দেয়) (১)।

শয়তানদের প্রকারভেদের মধ্যে নির্মাতা এবং ডুবুরিরাও অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং সকল শয়তানকে (তার অধীন করে দিয়েছিলাম), যারা ছিল নির্মাতা ও ডুবুরি।" [সোয়াদ: ৩৭]। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তাঁর বান্দা ও নবী সুলায়মান আলাইহিস সালামের অনুগত করে দিয়েছিলেন এবং তাদের ওপর তাকে কর্তৃত্ব দান করেছিলেন, ফলে তারা তাঁর আদেশ অনুযায়ী কাজ করত। "তারা সুলায়মানের জন্য তৈরি করত সে যা চাইত— মিহরাব, প্রতিকৃতি, হাউজের ন্যায় বড় বড় পাত্র এবং সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত সুবিশাল ডেকচি।" [সাবা: ১৩]। [মিহরাব হলো মজলিসের অগ্রভাগ অথবা সালাত আদায়ের স্থান কিংবা অট্টালিকা; তিমসাল হলো তামা বা কাঁচের তৈরি ছবি বা প্রতিকৃতি; জিফান হলো জফনার বহুবচন, যা খাবারের জন্য প্রশস্ত বড় পাত্র, যা বিশালাকৃতির কারণে জাবিয়া বা পানি সংগ্রহের হাউজের মতো হতো; আর অন্যান্য ডেকচিগুলো ছিল অত্যন্ত ভারী হওয়ার কারণে নিজ স্থানে স্থির, যা সরানো যেত না] (২)।

তাদের একটি প্রকার হলো: ইফরিত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "জিনদের মধ্য থেকে এক ইফরিত বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে ওঠার আগেই আমি তা আপনার কাছে নিয়ে আসব এবং নিশ্চয় আমি এ কাজে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।" [আন-নামল: ৩৯]। আর ইফরিত হলো: (সেই সত্তা যে কোনো বিষয়ে অত্যন্ত পারদর্শী এবং ধূর্ততা ও শঠতার সাথে তাতে বাড়াবাড়ি করে) (৩)।

এ প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "গত রাতে জিনদের মধ্য থেকে এক ইফরিত অতর্কিতে আমার ওপর চড়াও হয়েছিল যাতে আমার সালাতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। কিন্তু আল্লাহ আমাকে তার ওপর সামর্থ্য দিলেন এবং আমি তার গলা টিপে ধরলাম..." হাদিস (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, ইবনে কাসির: পৃষ্ঠা ১৪৪৩, প্রকাশনা- বাইতুল আফকার আদ-দুওয়ালিয়্যাহ।

‌‌(২) দেখুন: জামিউল বায়ান আন তাবিলি আয়িল কুরআন (তাফসির তাবারী): (২২/৮৭)।

‌‌(৩) দেখুন: লিসানুল আরব, ইবনে মনজুর: (৪/৫৮৫)।

‌‌(৪) ইমাম বুখারি প্রায় এই শব্দেই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, কিতাব: আত-তাফসির, অধ্যায়: আল্লাহ তাআলার বাণী: [সোয়াদ: ৩৫] {এবং আমাকে এমন এক রাজত্ব দান করুন যা আমার পর আর কারো জন্য শোভা পাবে না}, হাদিস নং ৪৮০৮, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে। ইমাম মুসলিমও একই অর্থে বর্ণনা করেছেন, কিতাব: আল-মাসাজিদ, অধ্যায়: সালাতের মধ্যে শয়তানকে লানত করার বৈধতা, হাদিস নং ৫৪১, তিনিও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে। আর 'ফাজাততুহু' (فَذَعَتُّهُ) শব্দের অর্থ হলো: আমি তার গলা টিপে ধরেছিলাম বা শ্বাসরোধ করেছিলাম।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ২০)
ومنها أيضاً النَّخَسَة الخُبَّل، وهم الذين ينخسون المولود عند ولادته، وقد يتخبط الإنسانَ هذا النوعُ إذا ضلّ عن سبيل الله تعالى، فيُصيِّره لا يعي ما يقوله، وهو المسمى بالمس أو الصرع، والصحيح ثبوت حصوله، كما سيأتي بيانُه تفصيلاً إن شاء الله.

قال تعالى: {الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَاّ كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ} [البقرة: 275] .

وقال صلى الله عليه وسلم: مَا مِنْ مَوْلُودٍ يُولَدُ إِلاّ نَخَسَهُ الشَّيْطَانُ، فَيَسْتَهِلُّ صَارِخاً مِنْ نَخْسَةِ الشَّيْطَانِ إِلاّ ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُ (1) .

ومن أصنافهم كذلك الغِيلان، ومفرده غُول، وهو الجني يتصور بصور عدة، ويتبدل باستمرار.

قال النبي صلى الله عليه وسلم: … فَإِذَا تَغَوّلَتْ بِكُمُ الْغِيلَانُ فَبَادِرُوا بِالأَْذَانِ … (2) .

وكذا منهم الزَّوْبَعة، وهم - كما سبق - من أقوى الجن شوكة. قال تعالى: [الأحقاف: 29] {وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنْصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِمْ مُنْذِرِينَ *} ، (وفي سبب نزولها، قال ابن مسعود رضي الله عنه: (هبطوا على النبي صلى الله عليه وسلم وهو يقرأ القرآن ببطن

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري؛ كتاب: الأنبياء، باب: قوله تعالى: [مَريَم: 16] {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ … } برقم (3431) ، عن أبي هريرة رضي الله عنه. ومسلمٌ بلفظه؛ كتاب: الفضائل. باب: فضائل عيسى عليه السلام، برقم (2366) ، عنه أيضاً. … ومعنى: نَخَسه، أي: طعنه أو نزغه أو مسّه أو عصره أو لكزه أو ضربه على جنبه، كما يستفاد من مجموع روايات الحديث، والله أعلم.

‌‌(2) جزء من حديث أخرجه الإمام أحمد (3/382) ، من حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما.
আর তাদের মধ্যে 'নখসাহ আল-খুব্বাল'ও রয়েছে। তারা এমন শয়তান যারা নবজাতককে তার জন্মের সময় দংশন করে বা খোঁচা দেয়। মানুষ যখন আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়, তখন এই শ্রেণির জিন তাকে আক্রমণ করে বিভ্রান্ত করতে পারে, ফলে সে যা বলে তা সে বুঝতে পারে না। একেই 'আল-মাস' (স্পর্শ) বা মৃগীরোগ বলা হয়। আর এটি ঘটা সত্য হিসেবে প্রমাণিত, যা ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "যারা সুদ খায়, তারা সে ব্যক্তির ন্যায় দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা মোহাবিষ্ট করে দেয়।" [আল-বাক্বারা: ২৭৫] ।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এমন কোনো নবজাতক জন্মায় না যাকে শয়তান দংশন করে না; ফলে সে শয়তানের দংশনের কারণে চিৎকার করে ওঠে, মারইয়ামের পুত্র এবং তার মা ব্যতীত" (১) ।

তাদের প্রকারভেদের মধ্যে আরও রয়েছে 'গীলান' (একবচনে 'গুল')। এটি এমন জিন যা বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে এবং ক্রমাগত নিজের রূপ পরিবর্তন করে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: … "যখন গীলানরা তোমাদের সামনে নানারূপ ধরে আত্মপ্রকাশ করে, তখন তোমরা দ্রুত আযান দাও" … (২) ।

একইভাবে তাদের মধ্যে রয়েছে 'জাওবাআ'। তারা—যেমনটি আগে গত হয়েছে—জিনের মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রভাবশালী। আল্লাহ তাআলা বলেন: [আল-আহক্বাফ: ২৯] "স্মরণ করো, যখন আমি তোমার প্রতি একদল জিনকে আকৃষ্ট করেছিলাম, যারা কুরআন পাঠ শুনছিল। যখন তারা তার উপস্থিতিতে পৌঁছাল, তখন তারা বলল, 'চুপ থাকো।' যখন পাঠ শেষ হলো, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল।" (আর এটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অবতরণ করেছিল যখন তিনি বাতন নামক স্থানে কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন)

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন; কিতাব: আল-আম্বিয়া, অধ্যায়: আল্লাহ তাআলার বাণী: [মারইয়াম: ১৬] {এবং এই কিতাবে মারইয়ামের কথা স্মরণ করো...} হাদিস নম্বর (৩৪৩১), আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে। মুসলিমও সমার্থবোধক শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন; কিতাব: আল-ফাদায়িল, অধ্যায়: ঈসা আলাইহিস সালামের ফযীলতসমূহ, হাদিস নম্বর (২৩৬৬), তিনিও আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন। ... আর 'নখসাহু' শব্দের অর্থ হলো: তাকে খোঁচা দেওয়া, বা দংশন করা, বা স্পর্শ করা, বা চাপ দেওয়া, বা ঘুঁষি মারা বা তার পাঁজরে আঘাত করা, যেমনটি হাদিসের সকল বর্ণনা থেকে জানা যায়। আল্লাহই ভালো জানেন।

‌‌(২) এটি ইমাম আহমাদ (৩/৩৮২) কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিসের অংশ, যা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ২১)
نَخْلَةَ، فلما سمعوه قالوا: أنصتوا - قال: صَهْ -، وكانوا تسعةً أحدُهم زَوْبَعَةُ، فأنزل الله: {وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِنَ الْجِنِّ..} - الآية) (1) . [وقد آذنَتْه بهم - أي أعلمَتْه صلى الله عليه وسلم باستماعهم ووجودهم شجرةٌ] (2) .

وقال الإمام القرطبي رحمه الله: هم من بني الشيِّصيان، وهم أكثر الجن عدداً وأقواهم شوكة وأشرفهم نسباً (3) . وقد تعددت الروايات في تحديد نسبة هؤلاء النفر وعددهم، فقيل هم تسعة من الشيِّصيان كما تقدم، أو سبعة من نِصِّيبين، أو من جن نينوى، أو من أهل حرّان، وأن الاستماع كان في صلاة الفجر أو في صلاة العِشاء الآخرة. وأياً كان الحال، فالعبرة في إذعانهم - مع عِظَم شوكتهم - لمواعظ القرآن، وقبولهم بأن يكونوا رسلَ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم إلى قومهم، يدعونهم لإجابة داعي الله والإيمان به عليه الصلاة والسلام، بل إنهم قد دَعَوا بعض الإنس أيضاً للإسلام كما في حديث إسلام سواد بن قارب رضي الله عنه الطويل، وفيه أن داعي الجن أتاه ثلاث ليالٍ متواليات يدعوه في كل ليلة بقوله:

فانهضْ إلى الصَّفوة من بني هاشمٍ … ما مؤمنو الجن ككفارها

فأنشد سواد بين يدي النبي صلى الله عليه وسلم شعراً، ومنه:

وأنك أدنى المرسلين شفاعةً … إلى الله يا ابنَ الأكرمينَ الأطايبِ

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير القرآن العظيم ص 1565 ط - بيت الأفكار الدولية.

‌‌(2) حديث الإيذان في صحيحي البخاري ومسلم، الأول برقم (3859) ، والثاني برقم (450) .

‌‌(3) انظر: الجامع لأحكام القرآن (19/2) .
নাখলাহ (নামক স্থান), যখন তারা এটি শুনল, তারা বলল: চুপ করো - সে বলল: চুপ করো - এবং তারা ছিল নয়জন, যাদের একজনের নাম ছিল যাওবাআহ। ফলে আল্লাহ নাযিল করলেন: {আর স্মরণ করো, যখন আমি তোমার দিকে জিনের একটি দলকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম...} - আয়াত পর্যন্ত (১)। [একটি গাছ তাকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) তাদের ব্যাপারে জানিয়েছিল - অর্থাৎ তাদের শোনা এবং উপস্থিত থাকার কথা তাঁকে অবহিত করেছিল] (২)।

এবং ইমাম কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: তারা বনু শায়সিয়ান গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, তারা সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি জিন, তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বংশমর্যাদায় সবচেয়ে অভিজাত (৩)। এই জিনের দলের পরিচয় এবং সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্ণনাগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে; বলা হয়েছে তারা শায়সিয়ানের নয়জন (যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে), অথবা নিসসিবিনের সাতজন, অথবা নিনাওয়ার জিন, অথবা হাররান অঞ্চলের অধিবাসী। আর এই শোনাটা ছিল ফজরের সালাতে অথবা ইশার সালাতে। যাই হোক না কেন, তাদের বিশাল প্রভাব-প্রতিপত্তি থাকা সত্ত্বেও কুরআনের উপদেশের প্রতি তাদের বশ্যতা এবং তাদের জাতির কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বার্তাবাহক হতে রাজি হওয়াটিই মূলত শিক্ষণীয় বিষয়; তারা তাদের জাতিকে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিতে এবং তাঁর (রাসূলুল্লাহর) ওপর ঈমান আনার দাওয়াত দিচ্ছিল। এমনকি তারা কিছু মানুষকেও ইসলামের দিকে দাওয়াত দিয়েছিল, যেমনটি সাওয়াদ বিন কারিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইসলাম গ্রহণের দীর্ঘ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাতে আছে যে, একজন জিন আহ্বানকারী টানা তিন রাত তাঁর কাছে এসেছিলেন এবং প্রতি রাতে তাঁকে এই বলে আহ্বান করতেন:

সুতরাং বনু হাশেমের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির দিকে যাত্রা করো … কেননা মুমিন জিনরা তাদের কাফেরদের মতো নয়

অতঃপর সাওয়াদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে কবিতা আবৃত্তি করলেন, যার একাংশ হলো:

এবং নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর কাছে শাফায়াতের দিক থেকে রাসূলগণের মধ্যে সবচেয়ে নিকটবর্তী … হে অতি সম্মানিত ও পবিত্র বংশধরদের সন্তান

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, পৃষ্ঠা ১৫৬৫, বাইতুল আফকার আদ-দুওয়ালিয়া সংস্করণ।

‌‌(২) গাছ কর্তৃক অবহিত করার হাদীসটি সহীহ বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে, প্রথমটিতে হাদীস নম্বর (৩৮৫৯) এবং দ্বিতীয়টিতে (৪৫০)।

‌‌(৩) দেখুন: আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন (১৯/২)।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ২২)
فمُرْنا بما يأتيك يا خيرَ مُرْسَلٍ … وإن كان فيما جاء شَيْبُ الذوائبِ

وكن لي شفيعاً يوم لا ذو شفاعةٍ … سواك بمُغْنٍ عن سوادِ بن قاربِ

 

قال سواد رضي الله عنه: فَضَحِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ، وَقَالَ: أَفْلَحْتَ يَا سَوَادُ (1) .

‌‌8- … وأما انتسابهم إلى أوطانٍ ومواضعَ من الأرض، فمن أدلته:

- … قول النبي صلى الله عليه وسلم لأبي هريرة رضي الله عنه: «إِنَّهُ أَتَانِي وَفْدُ جِنِّ نَصِيبِينَ، وَنِعْمَ الْجِنُّ … » (2) الحديث.

- … وعند الإمام الشعبي رحمه الله: (إن الوفد الذي جاء ليلة استماع الجن القرآنَ من رسول الله صلى الله عليه وسلم، كانوا من جنّ الجزيرة) (3) .

--------------------------------------------

(1) جزء من حديث إسلام سواد بن قاربٍ رضي الله عنه، وقد أخرجه البيهقي بطوله في دلائل النبوة ومعرفة أحوال صاحب الشريعة: (2/248) ، كما أخرجه - باختلاف مختصراً - البخاريُّ في كتاب: مناقب الأنصار، باب: إسلام عمر بن الخطاب رضي الله عنه، برقم (3866) ، عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما ولم يصرّح فيه باسم كاهن الجن في الجاهلية. … - قال البيهقي رحمه الله: [حديث سواد بن قارب، ويشبه أن يكون هذا هو الكاهن الذي لم يذكر اسمه في الحديث الصحيح] . اهـ. … - وقال ابن كثير رحمه اللهفي تفسير القرآن العظيم (4/198) : وهذا الذي قاله البيهقي هو المُتَّجِه. اهـ.

‌‌(2) جزء من حديث تقدم تخريجه ص 12، بالهامش ذي الرقم (1) .

‌‌(3) سبق بيان معنى (الجزيرة) ، والقولُ ذكره الإمام مسلم؛ كتاب: الصلاة، باب: الجهر بالقراءة في الصبح والقراءة على الجن، برقم (450) . ولا تضادَّ بين كونهم من الجزيرة، أو من نصيبين، حيث إن نصيبين مدينة عامرة من بلاد الجزيرة على جادة القوافل من الموصل إلى الشام. كما سبق ذكره.
হে শ্রেষ্ঠ রাসূল, আপনার কাছে যা অবতীর্ণ হয় আমাদের তা পালনের আদেশ দিন … যদিও তাতে চুলের গোছা শুভ্র করে দেওয়ার মতো কঠিন বিষয় থাকে।

এবং আপনি আমার জন্য সেই দিন সুপারিশকারী হোন, যেদিন আপনি ছাড়া অন্য কারো সুপারিশ … সাওয়াদ ইবনে কারিবের জন্য যথেষ্ট হবে না।

 

সাওয়াদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হয়ে গেল এবং বললেন: "হে সাওয়াদ! তুমি সফল হয়েছ" (১)।

‌‌৮- … আর জমিনের বিভিন্ন স্বদেশ ও স্থানের সাথে তাদের সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার প্রমাণাদি নিম্নরূপ:

- … আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «নিশ্চয়ই আমার কাছে নাসিবিনের জিনদের একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল এবং তারা কতই না উত্তম জিন … » (২) হাদীসটির অংশবিশেষ।

- … ইমাম শাবি রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত: (নিশ্চয়ই যে প্রতিনিধি দলটি সেই রাতে এসেছিল যেদিন জিনেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে কুরআন শ্রবণ করেছিল, তারা জাজিরা অঞ্চলের জিন ছিল) (৩)।

--------------------------------------------

(১) সাওয়াদ ইবনে কারিব রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর ইসলাম গ্রহণের হাদীসের অংশবিশেষ। ইমাম বায়হাকী একে বিস্তারিতভাবে ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ ওয়া মারিফাতু আহওয়ালি সাহিবিশ শারিয়াহ’ গ্রন্থে (২/২৪৮) বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারীও সামান্য ভিন্নতা সহকারে সংক্ষেপে এটি বর্ণনা করেছেন ‘কিতাবুল মানাকিবিল আনসার’-এর ‘উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর ইসলাম গ্রহণ’ অধ্যায়ে, হাদীস নং (৩৮৬৬), যা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তবে এতে জাহিলী যুগের জিন গণকের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। … - ইমাম বায়হাকী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: [এটি সাওয়াদ ইবনে কারিবের হাদীস, এবং প্রতীয়মান হয় যে এটিই সেই গণক যার নাম সহীহ হাদীসে উল্লেখ করা হয়নি]। সমাপ্ত। … - ইমাম ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহ তাঁর 'তাফসীরুল কুরআনিল আযীম' (৪/১৯৮) গ্রন্থে বলেন: ইমাম বায়হাকী যা বলেছেন তাই সঠিক। সমাপ্ত।

‌‌(২) ইতিপূর্বে ১২ নং পৃষ্ঠার ১ নং পাদটীকায় তখরীজ করা হাদীসের অংশবিশেষ।

‌‌(৩) 'জাজিরা' শব্দের অর্থ ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। উক্তিটি ইমাম মুসলিম ‘কিতাবুস সালাত’-এর ‘ফজরের সালাতে উচ্চস্বরে তিলাওয়াত এবং জিনদের নিকট তিলাওয়াত’ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং (৪৫০)। তারা জাজিরা থেকে নাকি নাসিবিন থেকে এসেছিলেন—এর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। কেননা নাসিবিন হলো জাজিরা অঞ্চলের একটি জনবহুল শহর যা মসুল থেকে সিরিয়াগামী কাফেলাগুলোর যাতায়াতের পথে অবস্থিত। যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
- … وذكر الإمام القرطبي رحمه الله أن الوفد كانوا من جن حرّان، ومن نصيبين، والذين أتَوْا النبيَّ صلى الله عليه وسلم بنَخَلَةَ كانوا من جن نِينَوَى)) (1) .

* وأما أدلة مخالفتهم للإنس:

- … ومن ذلك أن أصل خِلْقتهم من خالص حَرِّ النار، ولَهَبِها، فلقول الله تعالى: {وَخَلَقَ الْجَآنَّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ *} [سورة الرحمن: 15] ، ولقوله تعالى: {وَالْجَآنَّ خَلَقْنَاهُ مِنْ قَبْلُ مِنْ نَارِ السَّمُومِ *} [الحِجْر: 27] . ولقول النبي صلى الله عليه وسلم: خُلِقَتِ الْمَلائِكَةُ مِنْ نُورٍ، وَخُلِقَ الجَّانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ، وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ (2) .

والمارج والسموم وَصْفان للنار، يعني الأولُ: لهب النار ولسانه، والثاني: خالص حرّ النار الذي ينفذ في المسام لشدته (3) .

- … ومن ذلك تميزهم عن الإنس بقدرات متفوقة منها: سرعة الحركة، فلقوله تعالى: {قَالَ عِفْرِيتٌ مِنَ الْجِنِّ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَنْ تَقُومَ مِنْ مَقَامِكَ وَإِنِّي عَلَيْهِ لَقَوِيٌّ أَمِينٌ *} [النمل: 39] . فقد تكفّل ذلك العِفْريت من الجن بإحضار عرش ملكة سبأ بلقيس، لسليمان عليه السلام، وذلك قبل قيامه عليه السلام من مجلسه.

--------------------------------------------

(1) انظر: الجامع لأحكام القرآن (19/3) . … وقد ذكر الإمام الألوسي في تفسيره (15/13) . أن وِفادات الجن على رسول الله صلى الله عليه وسلم كانت ست وِفادات. كما ذكرها مفصلةً الإمامُ البيهقي رحمه اللهفي دلائل النبوة (2/225) ، فانظرها - إن شئت -.

‌‌(2) أخرجه مسلم؛ كتاب: الزهد والرقائق باب: في أحاديث متفرقة، برقم (2996) ، عن عائشة رضي الله عنها.

‌‌(3) انظر: تفسير الطبري (27/126) . وانظر أيضاً: تفسير النَّسَفي (2/270) .
… এবং ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, প্রতিনিধি দলটি ছিল হাররান ও নাসিবিনের জিনদের মধ্য থেকে। আর যারা নাখলাহ নামক স্থানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসেছিল তারা ছিল নিনেভাহর জিন (১)।

* আর মানুষের সাথে তাদের পার্থক্যের প্রমাণাদি নিম্নরূপ:

- … এর মধ্যে একটি হলো যে, তাদের সৃষ্টির মূল উপাদান হলো আগুনের বিশুদ্ধ উত্তাপ ও তার শিখা। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তিনি জিনকে আগুনের শিখা থেকে সৃষ্টি করেছেন *} [সূরা আর-রহমান: ১৫], এবং মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং জিনকে আমি ইতিপূর্বে প্রখর অগ্নিশিখা থেকে সৃষ্টি করেছি *} [সূরা হিজর: ২৭]। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: ফেরেশতাদের নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, জিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে আগুনের শিখা থেকে এবং আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা থেকে যার বর্ণনা তোমাদের প্রদান করা হয়েছে (২)।

'মারিজ' ও 'সামুম' হলো আগুনের দুটি বৈশিষ্ট্য। প্রথমটির অর্থ: আগুনের শিখা ও তার লেলিহান অংশ, এবং দ্বিতীয়টি হলো: আগুনের বিশুদ্ধ উত্তাপ যা তার প্রচণ্ডতার কারণে লোমকূপ দিয়ে প্রবেশ করে (৩)।

- … এর মধ্যে অন্যতম হলো মানুষের তুলনায় তাদের বিশেষ শ্রেষ্ঠ ক্ষমতা, যার মধ্যে রয়েছে: দ্রুত চলাচলের ক্ষমতা। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {জিনদের মধ্য থেকে এক শক্তিশালী ইফরিত বলল, আপনি আপনার স্থান থেকে উঠার আগেই আমি তা আপনার কাছে নিয়ে আসব এবং নিশ্চয়ই আমি এ ব্যাপারে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত *} [সূরা আন-নামল: ৩৯]। জিনদের মধ্য থেকে সেই ইফরিত সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর মজলিস থেকে উঠার পূর্বেই তাঁর কাছে সাবার রানী বিলকিসের সিংহাসন হাজির করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন (১৯/৩)। ইমাম আলূসী তাঁর তাফসীরে (১৫/১৩) উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে জিনদের প্রতিনিধি দল আগমনের ঘটনা ছিল মোট ছয়টি। ইমাম বায়হাকী (রাহিমাহুল্লাহ) 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' (২/২২৫) গ্রন্থে এটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন, আপনি চাইলে তা দেখে নিতে পারেন।

‌‌(২) এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন; কিতাব: আয-যুহদ ওয়ার রাকায়েক, অধ্যায়: বিবিধ হাদীস সংক্রান্ত, হাদীস নম্বর (২৯৯৬), আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত।

‌‌(৩) দেখুন: তাফসীরে তবারী (২৭/১২৬)। আরও দেখুন: তাফসীরে নাসাফী (২/২৭০)।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
ومن قدراتهم المتفوقة - ولا ريب - قدرتهم على لمس السماء، قال تعالى حكاية عن مَرَدة الجن: {وَأَنَّا لَمَسْنَا السَّمَاءَ فَوَجَدْنَاهَا مُلِئَتْ حَرَسًا شَدِيدًا وَشُهُبًا *} [الجن: 8] .

- … ومن أدلة مخالفتهم الإنس في قدرتهم على التشكل بصورة ذي روح، فلقول الله تعالى: {وَإِذْ زَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ وَقَالَ لَا غَالِبَ لَكُمُ الْيَوْمَ مِنَ النَّاسِ وَإِنِّي جَارٌ لَكُمْ فَلَمَّا تَرَاءَتِ الْفِئَتَانِ نَكَصَ عَلَى عَقِبَيْهِ وَقَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِنْكُمْ إِنِّي أَرَى مَا لَا تَرَوْنَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَاللَّهُ شَدِيدُ الْعِقَابِ *} [الأنفال: 48] . وقد كان ذلك في مجيء إبليس - نعوذ بالله من الشيطان الرجيم - في صورة رجل من بني مُدْلج، وهو على هيئة سراقة بن مالك بن جعشم، فلما رأى جبريلَ عليه السلام أقبل مع جند من الملائكة نزع يده من يد رجل من المشركين، فقال الرجل: تزعم أنك جار لنا؟! فقال: إني أرى ما لا ترون إني أخاف الله والله شديد العقاب (1) .

وأما دليل تشكُّلهم من السنة النبوية، فقد سبق قول النبي صلى الله عليه وسلم: إِنَّ عِفْرِيتاً مِنَ الجِنِّ جَعَلَ يَفْتِكُ عَلَيَّ الْبَارِحَةَ، لِيَقْطَعَ عَلَيَّ الصَّلَاةَ، وَإِنَّ اللهَ أَمْكَنَنِي مِنْهُ فَذَعَتُّه، وَلَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَرْبِطَهَ إِلَى جَنْبِ سَارِيَةٍ مِنْ سَوَارِي الْمَسْجِدِ، حَتَى تَنْظُرُونَ إِلَيْهِ أَجْمَعُونَ، ثُمَّ ذَكَرْتُ قَوْلَ أَخِي سُلَيْمَانَ: [ص: 35] {رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لَا يَنْبَغِي لأَِحَدٍ مِنْ بَعْدِي} ، فَرَدَّهُ اللهُ خَاسِئاً (2) .

--------------------------------------------

(1) انظر: تفسير الطبري (10/18) . وانظر المروي في دلائل البيهقي (2/354) ، عن ابن عباس رضي الله عنهما.

‌‌(2) سبق تخريجه ص 19 بالهامش ذي الرقم (4) .
এবং তাদের উন্নত ক্ষমতাগুলোর মধ্যে—নিঃসন্দেহে—একটি হলো আকাশ স্পর্শ করার ক্ষমতা। মহান আল্লাহ অবাধ্য জীনদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন: "এবং আমরা আকাশ স্পর্শ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা সেটাকে কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিণ্ড দ্বারা পূর্ণ পেলাম।" [আল-জীন: ৮] ।

- … এবং মানুষের সাথে তাদের পার্থক্যের একটি প্রমাণ হলো প্রাণীর রূপ ধারণ করার ক্ষমতা। মহান আল্লাহর বাণী: "এবং স্মরণ করো, যখন শয়তান তাদের কাজগুলোকে তাদের সামনে সুশোভিত করেছিল এবং বলেছিল, আজ মানুষের মধ্যে তোমাদের ওপর বিজয়ী কেউ নেই এবং আমি তোমাদের পাশে আছি। অতঃপর যখন দল দুটি পরস্পরকে দেখল, তখন সে পেছন দিকে সরে পড়ল এবং বলল, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সাথে সম্পর্কহীন। আমি এমন কিছু দেখছি যা তোমরা দেখছ না। আমি আল্লাহকে ভয় করি এবং আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।" [আল-আনফাল: ৪৮] । আর এটি ঘটেছিল ইবলিসের আসার মাধ্যমে—আমরা বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—বনু মুদলিজ গোত্রের এক লোকের আকৃতিতে, আর সে ছিল সুরাকা বিন মালিক বিন জু'শুমের বেশে। অতঃপর যখন সে জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে ফেরেশতাদের এক বিশাল বাহিনীসহ আসতে দেখল, তখন সে জনৈক মুশরিকের হাত থেকে নিজের হাত ছিনিয়ে নিল। তখন সেই লোকটি বলল: "তুমি তো দাবি করেছিলে যে তুমি আমাদের পাশে আছো?!" সে বলল: "নিশ্চয়ই আমি এমন কিছু দেখছি যা তোমরা দেখছ না, আমি আল্লাহকে ভয় করি এবং আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা" (১) ।

আর সুন্নাহ থেকে তাদের রূপ পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে ইতিপূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী উল্লেখ করা হয়েছে: "গত রাতে জীনদের মধ্য থেকে একটি অবাধ্য জীন হঠাৎ আমার ওপর চড়াও হয়েছিল যাতে আমার সালাত বিঘ্নিত করতে পারে। কিন্তু আল্লাহ আমাকে তার ওপর ক্ষমতা দান করলেন এবং আমি তাকে গলা চেপে ধরলাম। আমি ইচ্ছা করেছিলাম তাকে মসজিদের খুঁটিগুলোর কোনো একটির সাথে বেঁধে রাখি যাতে তোমরা সবাই তাকে দেখতে পারো। অতঃপর আমি আমার ভাই সুলায়মানের উক্তি স্মরণ করলাম: [সোয়াদ: ৩৫] 'হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন এক রাজত্ব দান করুন যা আমার পরে আর কারো জন্য কাম্য হবে না।' ফলে আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত অবস্থায় তাড়িয়ে দিলেন" (২) ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাফসীরে তাবারী (১০/১৮)। এবং বায়হাকীর 'দালাইল' (২/৩৫৪)-এ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতটি দেখুন।

‌‌(২) এর তথ্যসূত্র ইতিপূর্বে ১৯ পৃষ্ঠার ৪ নম্বর টিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
ومن أدلته أيضاً: حديث أبي هريرة رضي الله عنه، إذ وكّله رسولُ الله صلى الله عليه وسلم بحفظ زكاة رمضان، فكَذَبَه شيطانٌ ليلتين يحثو في كلّ ليلةٍ من تمر الصدقة، مدَّعياً فاقتَه وعياله زاعماً عدمَ عودته، ثم يعود، حتى جاء الثالثة، فعلّم أبا هريرة أن يقرأ آية الكرسي بتمامها فيكون بعدها في حفظ الله تعالى ولا يقربنَّه شيطان حتى يُصبِح، فقال عليه الصلاة والسلام: أَمَا إِنَّهُ قَدْ صَدَقَكَ وَهُوَ كَذُوبٌ، تَعَلَمُ مَنْ تُخَاطِبُ مُنْذُ ثَلَاثِ لَيَالٍ يَا أَبَا هُرَيْرَة؟ قَالَ: لَا، قَالَ: ذَاكَ شَيْطَانٌ (1) .

- وأما تشكلهم على صورة ذي روح من الحيوان، فدليله قول النبي صلى الله عليه وسلم: لَا تَقتُلُوا الجِنَّانَ (2) ، إِلاّ كُلَّ أَبْتَرَ ذِي طُفْيَتَيْنِ، فَإِنَّهُ يُسقِطُ الْوَلَدَ، وَيُذهِبُ الْبَصَرَ، فَاقْتُلُوهُ (3) ، [واستثناء هذين النوعين (الأبتر وذي الطُّفْيَتَيْن) (4) ، من حيات البيوت يقتضي: أن الجني يتمثل في حيات البيوت، إلا في هذين النوعين فلا يتصوّر بصورتهما، لذا فإنه يسنّ

--------------------------------------------

(1) اختصار من معنى حديث أخرجه البخاري بطوله، في كتاب: الوكالة. باب: إذا وكل رجلاً فترك الوكيل شيئاً فأجازه الموكِّل … ، برقم (2311) ، عن أبي هريرة رضي الله عنه. وقد أفاد ابن حجر في الفتح (4/488) ، (أن زكاة رمضان كانت تمراً، وأن الشيطان المتشكل على صورة شيخ كبير، أتى من نصيبين) . اهـ.

‌‌(2) الجَِنَّان: الحيّات التي تكون في البيوت، كما أفادته زيادة مسلم رحمه الله، وفيها: «نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ قَتْلِ الْجِنَّانِ الَّتِي تَكُونُ فِي الْبُيُوتِ … » الحديث، وتخريجه في الهامش التالي.

‌‌(3) أخرجه البخاري؛ كتاب: بدء الخلق، باب: خير مال المسلم..، برقم (3311) ، عن أبي لبابة رضي الله عنه. ومسلم؛ كتاب: السلام، باب: قتل الحيّات وغيرها، برقم (2233) ، عنه أيضاً.

‌‌(4) هما نوعان لا نوع واحد كما يوهمه ظاهر مروي البخاري رحمه الله، فقد فرَّقت رواية مسلم بينهما بقوله صلى الله عليه وسلم: «اقْتُلُوا الْحَيَّاتِ، وَذَا الْطُّفْيَتَيْنِ وَالأَْبْتَرَ … » الحديث. انظر صحيح مسلم برقم (2233) ، وقد نبَّه على ذلك الإمام ابن حجر في الفتح، كما سيأتي في الهامش الذي يلي.
এর আরও দলিলের মধ্যে রয়েছে: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস, যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে রমযানের যাকাত (সাদাকাতুল ফিতর) সংরক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। তখন এক শয়তান পরপর দুই রাত তাঁর কাছে এসে সদকার খেজুর থেকে মুষ্টি ভরে নিতে লাগল এবং নিজের অভাব ও পরিবারের অভাবের দোহাই দিয়ে দাবি করল যে সে আর আসবে না, কিন্তু সে আবার ফিরে আসত। শেষ পর্যন্ত যখন তৃতীয় রাত এল, তখন সে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে শিখিয়ে দিল যে তিনি যেন পূর্ণ আয়াতুল কুরসী পাঠ করেন, তাহলে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে হেফাযতে থাকবেন এবং ভোর পর্যন্ত কোনো শয়তান তাঁর নিকটবর্তী হবে না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “শোনো, সে তোমাকে সত্য বলেছে অথচ সে চরম মিথ্যাবাদী। হে আবু হুরায়রা! তুমি কি জানো গত তিন রাত ধরে তুমি কার সাথে কথা বলছিলে?” তিনি বললেন: “না”। নবীজী বললেন: “সে ছিল শয়তান” (১)।

- আর প্রাণীর আকৃতি ধারণের ব্যাপারে দলিল হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: “তোমরা ঘরের সাপদের (জিন্নান) হত্যা করো না (২), তবে লেজকাটা ও পিঠে দুটি সাদা রেখাবিশিষ্ট সাপ ছাড়া; কারণ তারা গর্ভপাত ঘটায় এবং দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয়, তাই তাদের হত্যা করো (৩)।” [আর ঘরের সাপগুলোর মধ্য থেকে এই দুই প্রকারকে (লেজকাটা ও দুই রেখাবিশিষ্ট) (৪) ব্যতিক্রম করা একথাই নির্দেশ করে যে: জিনেরা ঘরের সাপের রূপ ধারণ করে, তবে এই দুই প্রকার সাপের রূপ তারা ধারণ করে না। তাই সুন্নাত হলো

--------------------------------------------

(১) বুখারী কর্তৃক বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হাদীসের সংক্ষিপ্ত সারমর্ম; কিতাব: আল-ওকালাহ (প্রতিনিধিত্ব), অনুচ্ছেদ: যখন কেউ কোনো ব্যক্তিকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করে এবং প্রতিনিধি কোনো কিছু ছেড়ে দেয় আর নিয়োগকর্তা তা অনুমোদন করে... , নং ২৩১১, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’তে (৪/৪৮৮) উল্লেখ করেছেন যে, (রমযানের যাকাত ছিল খেজুর, আর শয়তানটি একজন বৃদ্ধ লোকের রূপ ধারণ করে নাসিবিন নামক স্থান থেকে এসেছিল)। সমাপ্ত।

‌‌(২) আল-জিন্নান: ওইসব সাপ যা ঘরে থাকে, যেমনটি ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণনায় অতিরিক্ত অংশে এসেছে: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরের বসবাসকারী সাপদের (জিন্নান) হত্যা করতে নিষেধ করেছেন...» হাদীস। এর উৎস পরবর্তী টীকায় দেওয়া হয়েছে।

‌‌(৩) এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন; কিতাব: বাদউল খালক (সৃষ্টির সূচনা), অনুচ্ছেদ: মুসলিমের শ্রেষ্ঠ সম্পদ.., নং ৩৩১১, আবু লুবাবাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। এবং মুসলিম; কিতাব: আস-সালাম, অনুচ্ছেদ: সাপ ও অন্যান্য প্রাণী হত্যা, নং ২২৩৩, তাঁর থেকেই বর্ণিত।

‌‌(৪) এরা দুই প্রকার, এক প্রকার নয়—যেমনটি ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণনার বাহ্যিক পাঠে বিভ্রম হতে পারে; কারণ ইমাম মুসলিমের বর্ণনায় এ দুটিকে পৃথক করা হয়েছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর মাধ্যমে: «তোমরা সাপদের হত্যা করো, আর দুই রেখাবিশিষ্ট ও লেজকাটা সাপকেও...» হাদীস। দেখুন সহীহ মুসলিম নং ২২৩৩। ইমাম ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’তে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যেমনটি পরবর্তী টীকায় আসবে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
قتلُهما مطلقاً] اهـ (1) . وهذا النهي عن قتل حيات البيوت مقيد بوجوب استئذانها ثلاثة أيام، كما في قوله صلى الله عليه وسلم: إِنَّ بِالْمَدِينَةِ جِنّاً قَدْ أَسْلَمُوا، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مِنْهُمْ شَيْئاً (2) ، فَآذِنُوهُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ، فَإِنْ بَدَا لَكُمْ بَعْدَ ذَلِكَ فَاقْتُلُوهُ، فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ (3) .

- وأما اختلاف الجن وتبايُنهم من حيث الصورة وشكل الخِلْقة، فدليله قوله صلى الله عليه وسلم: الْجِنُّ عَلَى ثَلَاثَةٍ: فَثُلُثٌ لَهُمْ أَجْنِحَةٌ يَطِيرُونَ فِي الْهَوَاءِ، وَثُلُثٌ حَيَّاتٌ وَكِلَابٌ، وَثُلُثٌ يَحُلُّونَ وَيَظْعَنُونَ (4) .

- وأما كونهم لا تمكننا رؤيتهم على صورتهم الأصلية، فلقول الله تعالى: {إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ} [الأعراف: 27] . وهذه الآية دالّة - كما ذكر الإمام الشوكاني رحمه الله على عدم رؤيتنا لهم على صورتهم الأصلية، وليس معناها انتفاء رؤيتنا لهم في حالة تشكُّلهم بمختلف الصور التي ثبت تشكُّلُهم بها، لورود الأحاديث الصحيحة في ذلك (5) .

--------------------------------------------

(1) انظر: الفتاوى الحديثية لابن حجر الهيتمي ص: 22. والأبتر: جنس من الحيات أزرق اللون مقطوع الذنب أو قصيرُهُ، وذو الطفيتين: نوع آخر يميزه وجود خطين أبيضين على ظهره. كما أفاده في الفتح (6/347) .

‌‌(2) المعنى: إذا تمثلوا بصورة حية أو غيرها، كما أفاده سبب ورود الحديث.

‌‌(3) سبق ذكر جزء من هذا الحديث وتخريجه ص 17 بالهامش ذي الرقم (2) .

‌‌(4) أخرجه الحاكم في مستدركه (2/455) ، وقال: هذا حديث صحيح الإسناد، ولم يخرجاه. اهـ. - أي البخاري ومسلم في صحيحيهما، مع كونه على شرطهما -. وقال الذهبي: هو صحيح. اهـ. كما أخرجه البيهقي في الأسماء والصفات عن أبي ثعلبة الخُشَني رضي الله عنه. كما جاء بنحوه عن أبي الدرداء رضي الله عنه، وفي سنده ضعف. انظر الدَّمِيري، حياة الحيوان الكبرى (1/203) .

‌‌(5) انظر: فتح القدير الشوكاني رحمه الله، 2/197. وقال الإمام ابن حجر رحمه الله في فتح الباري (4/488) : إن قوله تعالى: ُ ق ف چ؛: 9 ژ؟ ِ [الأعرَاف: 27] {إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ} : هذا مخصوص بما إذا كان على صورته التي خُلِق عليها، وأنهم يظهرون للإنس بالشرط المذكور. اهـ. والشرط المذكور أي: شرط التشكُّل.
তাদের সাধারণভাবে হত্যা করা।] সমাপ্ত (১)। আর ঘরের সাপ হত্যা করার ব্যাপারে এই নিষেধটি তাদের তিন দিন সময় প্রদানের (সতর্ক করার) শর্তের সাথে যুক্ত, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে এসেছে: "নিশ্চয়ই মদিনায় কিছু জিন রয়েছে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে। সুতরাং তোমরা যদি তাদের কাউকে দেখ (২), তবে তাকে তিন দিন সময় দাও। এরপরও যদি সে তোমাদের সামনে প্রকাশ পায়, তবে তাকে হত্যা করো; কারণ সে কেবলই একজন শয়তান (৩)।"

- আর জিনদের আকৃতি ও দৈহিক গঠনের ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যের দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "জিন তিন প্রকার: এক প্রকার যাদের ডানা আছে এবং তারা বাতাসে উড়ে বেড়ায়, এক প্রকার সাপ ও কুকুরের রূপ ধারণকারী, আর এক প্রকার যারা এক স্থানে অবস্থান করে এবং অন্য স্থানে ভ্রমণ করে (৪)।"

- আর আমরা যে তাদের মূল আকৃতিতে দেখতে পাই না, তার কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই সে এবং তার দলবল তোমাদের এমনভাবে দেখে যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না} [আল-আরাফ: ২৭]। ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) যেমনটি উল্লেখ করেছেন, এই আয়াতটি আমাদের পক্ষে তাদের মূল আকৃতিতে দেখতে না পাওয়ার প্রমাণ। এর অর্থ এই নয় যে, তারা যখন বিভিন্ন রূপ ধারণ করে—যা সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত—তখনো আমরা তাদের দেখতে পাব না (৫)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে হাজার আল-হাইতামী বিরচিত ফাতাওয়া আল-হাদিসিয়াহ, পৃষ্ঠা: ২২। 'আল-আবতার' হলো নীল রঙের এক প্রজাতির সাপ যার লেজ কাটা বা ছোট। আর 'যুত-তুফায়তাইন' হলো অন্য এক প্রকার যার পিঠে দুটি সাদা রেখা থাকে। যেমনটি ফাতহুল বারীতে (৬/৩৪৭) উল্লেখ করা হয়েছে।

‌‌(২) অর্থ: যদি তারা সাপের রূপ বা অন্য কোনো রূপ ধারণ করে, যেমনটি হাদিস অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়।

‌‌(৩) এই হাদিসের কিছু অংশ এবং এর তথ্যসূত্র পূর্বে ১৭ নম্বর পৃষ্ঠার ২ নম্বর টিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

‌‌(৪) হাকিম এটি তার মুস্তাদরাক গ্রন্থে (২/৪৫৫) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদিসটির সনদ সহীহ, তবে তারা (অর্থাৎ বুখারী ও মুসলিম তাদের সহীহ গ্রন্থে) এটি বর্ণনা করেননি—যদিও এটি তাদের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। যাহাবী বলেছেন: এটি সহীহ। সমাপ্ত। বায়হাকী 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' গ্রন্থে আবু সা'লাবা আল-খুশানী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। অনুরূপ বর্ণনা আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে তার সনদে দুর্বলতা রয়েছে। দেখুন: আদ-দামিরি, হায়াতুল হাইওয়ান আল-কুবরা (১/২০৩)।

‌‌(৫) দেখুন: শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বিরচিত ফাতহুল কাদির, ২/১৯৭। ইমাম ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) ফাতহুল বারীতে (৪/৪৮৮) বলেন: মহান আল্লাহর বাণী—{নিশ্চয়ই সে এবং তার দলবল তোমাদের এমনভাবে দেখে যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না} [আল-আরাফ: ২৭]—এটি সেই অবস্থার সাথে নির্দিষ্ট যখন তারা তাদের মূল সৃষ্টিগত আকৃতিতে থাকে। তবে তারা মানুষের সামনে প্রকাশ পেতে পারে উল্লিখিত শর্তে। সমাপ্ত। উল্লিখিত শর্ত বলতে রূপ পরিবর্তনের শর্তকে বোঝানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
- وأما كون رسل البشر هم رسل للجن أيضًا، وأنه لم ينبأ من الجن أحد ولم يرسل إليهم، فقد سبق تفصيل ذلك، بما أغنى عن إعادته هاهنا (1) وهو الذي عليه جمهور العلماء كما ذكره ابن قيم الجوزية رحمه الله بقوله: (ولما كان الإنس أكملَ من الجن وأتمَّ عقولاً ازدادوا عليهم بثلاثة أصناف أُخَر ليس شيء منها للجن، وهم: الرسل والأنبياء والمقرّبون، فليس في الجن صنف من هؤلاء، بل حِلْيتهم الصلاح) . اهـ (2) .

- وأما كون طعامهم أوفر اللحم يجدونه عند كل عظم، وكون طعام دوابهم عند كل بَعْرَةٍ أو رَوْثٍ، فدليله قوله صلى الله عليه وسلم مخاطباً الجن - لَكُمْ كُلُّ عَظْمٍ ذُكِرَ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ يَقَعُ فِي أَيْدِيكُمْ أَوْفَرَ مَا يَكُونُ لَحْماً، وَكُلُّ بَعْرَةٍ عَلَفٌ لَدَوَابِّكُمْ (3) .

- وأما دليل وجود الشياطين منهم - والعياذ بالله - في أماكن قضاء الحاجة كالحشوش ونحوها، فلقوله عليه الصلاة والسلام: إِنَّ هَذِهِ الْحُشُوشَ مُحْتَضَرَةٌ، فَإِذَا أَتى أَحَدُكُمُ الْخَلَاءَ، فَلْيَقُلْ: أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ (4) .

--------------------------------------------

(1) انظر: ص14 وما بعدها.

‌‌(2) انظر: طريق الهجرتين وباب السعادتين (1/415) .

‌‌(3) جزء من حديث أخرجه البخاري بنحوه، كتاب: مناقب الأنصار، باب: ذِكْر الجن، برقم (3860) ، عن أبي هريرة رضي الله عنه. ومسلمٌ بلفظه؛ كتاب: الصلاة، باب: الجهر بالقراءة في الصبح، برقم (450) ، عن ابن مسعود رضي الله عنه.

‌‌(4) الحديث أخرجه أبوداود؛ كتاب الطهارة، باب: ما يقول إذا دخل الخلاء، برقم (6) ، عن زيد بن أرقم رضي الله عنه.
- আর মানুষের রাসূলগণ যে জিনদের জন্যও রাসূল, এবং জিনদের মধ্য থেকে কেউ নবী হননি বা তাদের কাছে কোনো রাসূল পাঠানো হয়নি, সেটির বিস্তারিত আলোচনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, যা এখানে তার পুনরাবৃত্তির প্রয়োজনীয়তা দূর করে (১)। এটিই অধিকাংশ আলেমদের অভিমত, যেমনটি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: (যেহেতু মানুষ জিনদের তুলনায় অধিকতর পূর্ণ এবং অধিকতর প্রজ্ঞাবান, তাই তারা জিনদের ওপর আরও তিনটি শ্রেণির মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে যা জিনদের মধ্যে নেই। সেগুলো হলো: রাসূল, নবী এবং নৈকট্যপ্রাপ্তগণ। জিনদের মধ্যে এই শ্রেণির কেউ নেই, বরং তাদের ভূষণ হলো নেক আমল বা সততা।) সমাপ্ত (২)।

- আর তাদের খাদ্য যে হাড়ের ওপর পাওয়া প্রচুর মাংস এবং তাদের পশুর খাদ্য যে বিষ্ঠা বা গোবর, তার দলিল হলো জিনদের সম্বোধন করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী— তোমাদের জন্য সেই প্রতিটি হাড়, যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে, তা তোমাদের হাতে এমনভাবে পড়বে যেন তাতে প্রচুর মাংস রয়েছে। আর প্রতিটি বিষ্ঠা তোমাদের পশুদের জন্য খাদ্য (৩)।

- আর তাদের মধ্য থেকে শয়তানদের অস্তিত্বের প্রমাণ—আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—প্রস্রাব-পায়খানার স্থান যেমন শৌচাগার ও অনুরূপ জায়গাগুলোতে, সেটির দলিল হলো তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বাণী: নিশ্চয়ই এই শৌচাগারগুলো (জিন ও শয়তানদের) উপস্থিত হওয়ার জায়গা। অতএব তোমাদের কেউ যখন পায়খানায় যাবে, তখন সে যেন বলে: আমি আল্লাহর কাছে অপবিত্র পুরুষ শয়তান ও অপবিত্র নারী শয়তানদের থেকে আশ্রয় চাই (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: পৃষ্ঠা ১৪ এবং পরবর্তী অংশ।

‌‌(২) দেখুন: ত্বরিকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সা'আদাতাইন (১/৪১৫)।

‌‌(৩) বুখারি কর্তৃক অনুরূপ শব্দে বর্ণিত হাদিসের অংশ, কিতাব: আনসারদের মর্যাদা, পরিচ্ছেদ: জিনদের আলোচনা, নম্বর (৩৮৬০), আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। এবং মুসলিম এই শব্দে বর্ণনা করেছেন; কিতাব: সালাত, পরিচ্ছেদ: ফজরের সালাতে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ, নম্বর (৪৫০), ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।

‌‌(৪) হাদিসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন; কিতাব: পবিত্রতা, পরিচ্ছেদ: পায়খানায় প্রবেশের সময় যা বলতে হয়, নম্বর (৬), যায়েদ বিন আরকাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
- وأما كثرة وجودهم - عياذاً بالله - في الأسواق، فلوصية سلمانَ رضي الله عنه، بقوله: ((لا تكونن، إن استطعتَ، أولَ من يدخل السوق ولا آخرَ من يخرج منها، فإنها معركة الشيطان، وبها يَنْصِبُ رايته)) (1) .

‌‌2- المسُّ، ومن أثره الصَّرْع: إن من المسلّم به لدى كل مسلم - ولله الحمد - الإيمان الجازم بما نُصَّ عليه في كتاب الله تعالى، وبما صحّ من سنة نبيه صلى الله عليه وسلم، ومما يدخل في ذلك التسليم بوجود الجن، وهذا مما أجمع عليه سلف هذه الأمة وخَلَفُها شرَّفها الله. ولكن، ما تأثير هذا الخلق على الإنس؟

إن جمهور أهل العلم يُثبِتون أثراً للجن على الإنس، فإنْ تسلَّط شيطان من شياطين الجن على إنسي تخبَّطه بمسٍ - والعياذ بالله -، وهذا المس له عندهم مفهوم شامل ينضوي تحته كل أثر له، ومن ذلك الوسوسة المعنوية، ومن أثرها اللمّة، وهي: خاطر يفضي إلى كثرة التردد في الأمور، أو الميل إلى الشر والانصراف عن الخير، وقد تبلغ الوسوسة في صدر الإنسي حدَّ سَلْبِه لإرادته، وقد يتبع ذلك الأذى النفسيَّ المسُّ الحسيُّ - وهو التخبط - وهو أذى وتعدٍّ مادي جسدي يؤدي إلى اختلال الحركات، فيتخبط الممسوس في مشيته مثلاً، أو يفقد السيطرة على تصرفاته، وهذا ما يسمَّى بالصَّرْع، وقد يصل الصَّرْع إلى حدّ التلبس التام، فيكون المسُّ عندئذ سيطرةً تامة على العقل والجسد، فيُعَلّ الممسوسُ بسببها جسداً ونفساً، ويؤثر ذلك على عقله، فيصيبه لمم (طرف جنون) أو جنون تام، والعياذ بالله، فلا يعي بعدها ما يقول، وقد

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم؛ كتاب: فضائل الصحابة، باب: فضائل أم سلمة أم المؤمنين رضي الله عنها، برقم (2451) ، عن سلمان رضي الله عنه.
আর বাজারে তাদের অধিক উপস্থিতির বিষয়টি—আল্লাহর নিকট এ থেকে আশ্রয় চাই—সালমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অসিয়তের কারণে, তিনি বলেছিলেন: "সাধ্য হলে তুমি বাজারে প্রবেশকারী প্রথম ব্যক্তি হয়ো না এবং সেখান থেকে বের হওয়া শেষ ব্যক্তি হয়ো না; কেননা তা শয়তানের যুদ্ধের ময়দান এবং সেখানেই সে স্বীয় ঝাণ্ডা উড্ডীন করে।" (১) .

‌‌২- আসর (স্পর্শ), এবং এর অন্যতম প্রভাব মৃগীরোগ: নিশ্চয়ই প্রত্যেক মুসলিমের নিকট—আল্লাহর প্রশংসা—একটি স্বীকৃত বিষয় হলো আল্লাহ তাআলার কিতাবে যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ থেকে যা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তার ওপর দৃঢ় ঈমান রাখা। এর অন্তর্ভুক্ত বিষয় হলো জিনের অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়া, আর এটি এমন একটি বিষয় যার ওপর এই উম্মতের পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিরা—আল্লাহ একে সম্মানিত করুন—ঐকমত্য পোষণ করেছেন। কিন্তু, মানুষের ওপর এই সৃষ্টির প্রভাব কী?

নিশ্চয়ই অধিকাংশ আলিম মানুষের ওপর জিনের প্রভাব সাব্যস্ত করেন। সুতরাং যদি জিন-শয়তানদের মধ্য থেকে কোনো শয়তান কোনো মানুষের ওপর চড়াও হয়ে তাকে আসরের (স্পর্শ) মাধ্যমে বিপর্যস্ত করে তোলে—আল্লাহর নিকট এ থেকে আশ্রয় চাই—তবে এই আসর বা স্পর্শের তাঁদের নিকট একটি ব্যাপক অর্থ রয়েছে, যার অধীনে জিনের প্রতিটি প্রভাব অন্তর্ভুক্ত হয়। এর মধ্যে রয়েছে আত্মিক কুমন্ত্রণা, যার একটি প্রভাব হলো 'লাম্মাহ' (মানসিক তাড়না); যা এমন এক চিন্তা যা বিভিন্ন বিষয়ে অধিক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি করে অথবা মন্দের প্রতি আসক্তি এবং কল্যাণের প্রতি বিমুখতার দিকে নিয়ে যায়। মানুষের অন্তরে এই কুমন্ত্রণা কখনও তার ইচ্ছাশক্তি হরণ করার পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। এই মানসিক কষ্টের পর কখনও দৃশ্যমান বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য আসর (স্পর্শ)—যা হলো শারীরিক বিপর্যয়—পিছু নেয়। এটি একটি বস্তুগত ও শারীরিক কষ্ট ও সীমালঙ্ঘন যা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নড়াচড়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি যেমন তার হাঁটাচলায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে অথবা তার আচরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। আর একেই বলা হয় মৃগীরোগ (বা জ্ঞান হারানো)। এই মৃগীরোগ কখনও পূর্ণাঙ্গভাবে ভর করার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, এমতাবস্থায় 'আসর' বা স্পর্শটি বুদ্ধি ও শরীরের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি দৈহিক ও মানসিকভাবে রুগ্ন হয়ে পড়ে এবং তা তার বুদ্ধিবৃত্তির ওপর প্রভাব ফেলে, ফলে সে আংশিক উম্মাদনা বা পূর্ণ উম্মাদনায় আক্রান্ত হয়—আল্লাহর নিকট এ থেকে আশ্রয় চাই—তখন সে কী বলছে তা আর উপলব্ধি করতে পারে না, এবং সম্ভবত

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন; কিতাব: সাহাবীগণের মর্যাদা, অধ্যায়: মুমিনদের জননী উম্মু সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মর্যাদা, হাদিস নম্বর (২৪৫১), সালমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
يقول ما لا يريد، أو ما لا يُفْهَم، وقد يؤذي غيره، وهو مسلوب الإرادة، وقد يكره العبادات، ويكون الكاره - على الحقيقة - هو الشيطان الذي استهواه فمسه فتلبَّس به.

وخلاصة ذلك أن المس من قِبَل شيطان من شياطين الجن لإنسان، هو التعرض له بأذىً: بدءاً بالوسوسة، مروراً بالصَّرْع، وانتهاءً بالتلبس، نسأل الله العافية.

قال تعالى: {الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَاّ كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ} [البقرة: 275] .

وقال تعالى: {كَالَّذِي اسْتَهْوَتْهُ الشَّيَاطِينُ فِي الأَْرْضِ حَيْرَانَ} [الأنعام: 71] . وقال تعالى: {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ *مَلِكِ النَّاسِ *إِلَهِ النَّاسِ *مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ *الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ *مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ *} [سورة الناس] .

وقال النبي صلى الله عليه وسلم لامرأة (1) أتت تشكو إليه أنها تُصرع وتتكشّف: «إِنْ شِئْتِ صَبَرْتِ وَلَكِ الْجَنَّةُ، وَإِنْ شِئْتِ دَعَوْتُ اللهَ أَنْ يُعَافِيَكِ، فقالت: أصبر، ثم قالت: إني أتكشّف، فادع الله لي أن لا أتكشف، فَدَعَا لَهَا صلى الله عليه وسلم» (2) .

--------------------------------------------

(1) هي: أم زُفَر، وكانت امرأة طويلة سوداء. كما روى البخاري - عقب الحديث - عن عطاء رحمه الله.

‌‌(2) أخرجه البخاري، كتاب: المرضى، باب: فضل من يُصْرَعُ من الريح، برقم (5652) ، عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما، ومسلمٌ؛ كتاب: البِرّ والصلة، باب: ثواب المؤمن فيما يصيبه من مرض، برقم (2576) ، عنه أيضاً.
তিনি যা চান না তা বলেন, অথবা যা বোধগম্য নয় তা বলেন এবং তিনি অন্যের ক্ষতি করতে পারেন। তিনি ইচ্ছাশক্তিহীন হয়ে পড়েন এবং ইবাদত অপছন্দ করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে, এই অপছন্দকারী হলো সেই শয়তান যে তাকে বিভ্রান্ত করেছে, অতঃপর তাকে স্পর্শ করেছে এবং তার ওপর ভর করেছে।

এর সারকথা হলো, জিন-শয়তানদের মধ্য থেকে কোনো শয়তান কর্তৃক মানুষের ওপর স্পর্শ হওয়া বলতে তাকে ক্ষতির সম্মুখীন করা বোঝায়: কুমন্ত্রণা থেকে শুরু করে মৃগীরোগ পর্যন্ত এবং পরিশেষে আবেশ বা জিনে ধরার মাধ্যমে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি।

মহান আল্লাহ বলেন: "যারা সুদ খায়, তারা সে ব্যক্তির ন্যায় দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে দিয়েছে।" [আল-বাকারা: ২৭৫]।

মহান আল্লাহ বলেন: "তার ন্যায় যাকে শয়তানরা যমীনে পথভ্রষ্ট করে ফেলেছে এবং সে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।" [আল-আন'আম: ৭১]। মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের কাছে, মানুষের মালিকের কাছে, মানুষের ইলাহের কাছে, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে, যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়, জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।" [সূরা আন-নাস]।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জনৈক মহিলার (১) উদ্দেশ্যে বললেন, যিনি তাঁর কাছে এসে অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁর মৃগীরোগ হয় এবং তিনি বিবস্ত্র হয়ে পড়েন: "তুমি চাইলে ধৈর্য ধারণ করতে পারো, তবে তোমার জন্য জান্নাত রয়েছে। আর তুমি চাইলে আমি আল্লাহর কাছে তোমার আরোগ্যের জন্য দোয়া করতে পারি।" তখন মহিলাটি বললেন: "আমি ধৈর্য ধারণ করব।" এরপর তিনি বললেন: "আমি বিবস্ত্র হয়ে পড়ি, তাই আপনি আল্লাহর কাছে আমার জন্য দোয়া করুন যেন আমি বিবস্ত্র না হই।" অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য দোয়া করলেন। (২) ।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: উম্মে যুফার, এবং তিনি একজন দীর্ঘদেহী কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা ছিলেন। যেমনটি ইমাম বুখারী—হাদিসের পর—আতা (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

‌‌(২) এটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন, অধ্যায়: রোগী, পরিচ্ছেদ: মৃগীরোগে আক্রান্ত হওয়ার ফজিলত, হাদিস নং (৫৬৫২), আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে। ইমাম মুসলিমও এটি বর্ণনা করেছেন; অধ্যায়: সদাচরণ ও আত্মীয়তা রক্ষা, পরিচ্ছেদ: মুমিন ব্যক্তির অসুস্থতার সওয়াব, হাদিস নং (২৫৭৬), তাঁর সূত্রেই।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
وقال عليه الصلاة والسلام: إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنِ ابْنِ آدَمَ مَجْرى الدَّمِ (1) .

‌‌3- الاستعانة: ويُعنى بها - اصطلاحًا -: قصد طلب العون من الجن خاصة، ومن شياطينهم بصورة أخص، وهو ما يسمى بـ (دعوة الجن) ، وقد يُلجأ إليه - والعياذ بالله - عند العلاج من مس أو سحر أو ربط ونحو ذلك.

- قال الله تعالى: [المَائدة: 2] {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِّرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ} .

- وقال سبحانه: {وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِنَ الإِنْسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا *} [الجن: 6] .

- وقال الله عز وجل: [سَبَإ: 41] {بَلْ كَانُوا يَعْبُدُونَ الْجِنَّ أَكْثَرُهُمْ بِهِمْ مُؤْمِنُونَ} .

وقد أفتى علماء أعلام في عدم جواز الاستعانة بالجن - فيما فيه إثم أو عدوان -؛ منهم شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، بقوله: (من كان يستعمل الجن فيما ينهى الله عنه ورسوله، إما في الشرك، وإما في قتل معصوم الدم، أو في العدوان عليه بغير القتل كتمريضه وإنسائه العلم وغير ذلك من الظلم، وإما في فاحشة كجلب من يطلب الفاحشة، فهذا

--------------------------------------------

(1) جزء من حديث أخرجه البخاري بنحوه؛ كتاب: الاعتكاف، باب: هل يخرج المعتكف … ، برقم (2035) عن صفية بنت حيي أم المؤمنين رضي الله عنها. ومسلم بلفظه؛ كتاب: السلام، باب: بيان أنه يُستحب لمن رُئي خالياً بامرأة....، برقم (2175) ، عنها أيضاً. … وكذا أخرجه أحمد في مسنده - بلفظه - (3/285) ، من حديث أنس بن مالك رضي الله عنه.
এবং তিনি (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: নিশ্চয়ই শয়তান আদম সন্তানের শরীরে রক্তের ন্যায় চলাচল করে (১) ।

‌‌৩- সাহায্য প্রার্থনা (আল-ইসতিআনা): এবং পারিভাষিক অর্থে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: বিশেষভাবে জিনদের নিকট থেকে সাহায্য প্রার্থনার সংকল্প করা, এবং আরও সুনির্দিষ্টভাবে তাদের মধ্য হতে শয়তানদের নিকট থেকে। একেই বলা হয় (জিনদের আহ্বান), এবং জিনের আছর, জাদু বা বন্ধন ইত্যাদি থেকে চিকিৎসার সময়—আল্লাহর নিকট তা থেকে আশ্রয় চাই—কখনও কখনও এর আশ্রয় নেওয়া হয়ে থাকে।

- মহান আল্লাহ বলেন: [আল-মায়িদাহ: ২] {তোমরা নেক কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সাহায্য করো, এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সাহায্য করো না}।

- এবং তিনি পবিত্র সত্তা বলেন: {এবং মানুষের মধ্য হতে কিছু লোক জিনের মধ্য হতে কিছু লোকের আশ্রয় গ্রহণ করত, ফলে তারা তাদের অহংকার বাড়িয়ে দিত} [আল-জিন: ৬] ।

- এবং মহান আল্লাহ বলেন: [সাবা: ৪১] {বরং তারা জিনদের ইবাদত করত; তাদের অধিকাংশ তাদের প্রতি ঈমান রাখত}।

আর প্রখ্যাত আলেমগণ জিনদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা জায়েজ না হওয়ার ব্যাপারে ফতোয়া দিয়েছেন—যে ক্ষেত্রে পাপ বা সীমালঙ্ঘন রয়েছে—তাঁদের মধ্যে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) রয়েছেন। তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি জিনকে এমন কাজে ব্যবহার করে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নিষেধ করেছেন, চাই তা শিরকের ক্ষেত্রে হোক, অথবা কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যার ক্ষেত্রে হোক, অথবা হত্যা ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কারো ওপর সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে হোক—যেমন তাকে অসুস্থ করে দেওয়া, তার ইলম ভুলিয়ে দেওয়া এবং এছাড়া অন্য কোনো জুলুমের ক্ষেত্রে হোক—অথবা কোনো অশ্লীল কাজে ব্যবহারের জন্য হোক, যেমন ব্যভিচারপ্রত্যাশীকে নিয়ে আসা; তবে এটি...

--------------------------------------------

(১) এটি একটি হাদিসের অংশ যা ইমাম বুখারী অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন; কিতাব: আল-ইতিকাফ, পরিচ্ছেদ: ইতিকাফকারী কি বের হতে পারবে... , হাদিস নং (২০৩৫), মুমিন জননী সাফিয়াহ বিনতে হুয়াই (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত। এবং ইমাম মুসলিম তাঁর কিতাবুস সালামে, পরিচ্ছেদ: কোনো পুরুষকে পরনারীর সাথে নির্জনে দেখা গেলে বিষয়টি স্পষ্ট করার মুস্তাহাব হওয়ার বর্ণনা... , হাদিস নং (২১৭৫) হিসেবে তাঁর থেকেই এটি বর্ণনা করেছেন। ... এবং ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন (৩/২৮৫), আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস হতে।
(খণ্ড: ১) আত-তাহসীন মিন কাইদিশ শায়াতীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
قد استعان بهم على الإثم والعدوان، ثم إن استعان بهم على الكفر فهو كافر، وإن استعان بهم على المعاصي فهو عاصٍ؛ إما فاسق وإما مذنب غير فاسق) . اهـ (1) . وكذا أفتى بذلك سماحة الشيخ عبد العزيز بن عبد الله ابن باز رحمه الله، وقد علل رحمه الله عدم جواز استخدامهم في العلاج بكون ذلك وسيلة إلى عبادتهم وتصديقهم، لأن فيهم من هو كافر ومن هو مسلم ومن هو مبتدع، ولا تُعرف أحوالهم فلا ينبغي الاعتماد عليهم ولا يُسأَلون ولو تمثلوا لك، بل عليك أن تسأل أهل العلم والطب من الإنس، وقد ذمّ الله المشركين بقوله تعالى: {وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِنَ الإِنْسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا *} [الجن: 6] ، ولأنه وسيلة للاعتقاد فيهم والشرك، وهو وسيلة لطلب النفع منهم والاستعانة بهم، وذلك كله من الشرك) . اهـ (2) .

وقد يحسن في هذا المقام ذكر بعض أقوال أهل العلم في معنى الرَّهَق من قوله تعالى: {فَزَادُوهُمْ رَهَقًا} [الجن: 6] .

قال الإمام القرطبي رحمه الله: (رهقاً، أي خطيئة وإثماً. قاله ابن عباس ومجاهد وقتادة، والرَّهَق: الإثم في كلام العرب وغشيان المحارم) (3) .

وقال الإمام ابن كثير رحمه الله: (رَهَقاً، أي: إثماً، وازداد الجن عليهم جراءة.... وقال عكرمة رحمه الله: فدَنَوْا من الإنس فأصابوهم بالخَبَل والجنون، وقال مجاهد رحمه الله: زاد الكفار طغياناً) (4) .

--------------------------------------------

(1) انظر: مجموع الفتاوى (11/309) .

‌‌(2) ينظر نص الفتوى بتمامها، في مجلة الدعوة، العدد: (162، ص: 34) .

‌‌(3) انظر: الجامع لأحكام القرآن، (19/12) .

‌‌(4) انظر: تفسير القرآن العظيم، (4/506) .
তিনি তাদের মাধ্যমে পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সাহায্য গ্রহণ করেছেন। অতঃপর তিনি যদি কুফরির বিষয়ে তাদের সাহায্য গ্রহণ করেন তবে তিনি কাফির, আর যদি পাপাচারের বিষয়ে তাদের সাহায্য গ্রহণ করেন তবে তিনি পাপিষ্ঠ; হয় তিনি ফাসিক অথবা ফাসিক নন এমন একজন অপরাধী) - সমাপ্ত (১)। অনুরূপভাবে মাননীয় শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহিমাহুল্লাহ) ফতোয়া প্রদান করেছেন। তিনি চিকিৎসাক্ষেত্রে তাদের ব্যবহার নাজায়েজ হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, এটি তাদের উপাসনা করা এবং তাদের সত্য বলে বিশ্বাস করার একটি মাধ্যম। কারণ তাদের মধ্যে কেউ কাফির, কেউ মুসলিম আবার কেউ বিদআতি হয়ে থাকে। তাদের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না, তাই তাদের ওপর নির্ভর করা সমীচীন নয় এবং তারা সামনে উপস্থিত হলেও তাদের কিছু জিজ্ঞাসা করা উচিত নয়। বরং আপনার কর্তব্য হলো মানুষের মধ্য থেকে যারা আলেম এবং চিকিৎসক, তাদের নিকট জিজ্ঞাসা করা। আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের নিন্দা জানিয়ে এরশাদ করেছেন: {আর মানুষের মধ্য থেকে কিছু লোক জ্বিনদের মধ্য থেকে কিছু লোকের আশ্রয় গ্রহণ করত, ফলে তারা তাদের অহংকার বাড়িয়ে দিত} [আল-জ্বিন: ৬]। এছাড়া এটি তাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ও শিরকের একটি মাধ্যম এবং তাদের কাছে উপকার প্রার্থনা ও সাহায্য চাওয়ার একটি উপায়, যার সবই শিরকের অন্তর্ভুক্ত) - সমাপ্ত (২)।

এই স্থানে মহান আল্লাহর বাণী: {ফলে তারা তাদের রাহাক বাড়িয়ে দিত} [আল-জ্বিন: ৬]-এর অন্তর্ভুক্ত 'রাহাক' শব্দের অর্থ সম্পর্কে আলেমগণের কিছু উক্তি উল্লেখ করা যুক্তিযুক্ত হবে।

ইমাম কুরতুবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ('রাহাকান' অর্থাৎ ভুল ও পাপ। এটি ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ ও কাতাদাহ বলেছেন। আরবদের ভাষায় 'রাহাক' অর্থ হলো পাপ এবং হারামে লিপ্ত হওয়া) (৩)।

ইমাম ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ('রাহাকান' অর্থাৎ পাপ, আর জ্বিনেরা তাদের ওপর আরও দুঃসাহসী হয়ে উঠল... ইকরিমাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: তারা মানুষের নিকটবর্তী হলো এবং তাদের মোহগ্রস্ত ও পাগল করে দিল। মুজাহিদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এটি কাফিরদের অবাধ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছিল) (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া (১১/৩০৯)।

‌‌(২) সম্পূর্ণ ফতোয়াটি দেখুন: মাজাল্লাতুত দাওয়াহ, সংখ্যা: (১৬২, পৃষ্ঠা: ৩৪)।

‌‌(৩) দেখুন: আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, (১৯/১২)।

‌‌(৪) দেখুন: তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, (৪/৫০৬)।