(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: -)
أحكام الصيام والقيام وزكاة الفطر   (أبو ذر القلموني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: أحكام الصيام والقيام وزكاة الفطر

المؤلف: أبو ذر القلموني، عبد المنعم بن حسين بن حنفي بن حسن بن الشاهد

الناشر: مكتبة الصفا، القاهرة

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م

عدد الصفحات: 58

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 شوّال 1432

সিয়াম, কিয়াম এবং জাকাতুল ফিতরের বিধানসমূহ   (আবু যর আল-কালামুনি)

বিভাগ: ফিকহী মাসায়েল


কিতাব: সিয়াম, কিয়াম এবং জাকাতুল ফিতরের বিধানসমূহ

লেখক: আবু যর আল-কালামুনি، আব্দুল মুনইম বিন হুসাইন বিন হানাফি বিন হাসান বিন আশ-শাহিদ

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাফা، কায়রো

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮

[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১১ শাওয়াল ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

أحكام صيام رمضان والقيام وزكاة الفطر.

 

«خطبة جمعة» لأبي ذر القلموني.

مختصرة وملخصة من «فقه السنة» للسيد سابق، و «تمام المنة» للألباني، و «منهاج المسلم» للجزائري - أثابهم الله تعالى -.

 

{وَيَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مَالًا إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ}
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

রমজানের সিয়াম, কিয়াম এবং জাকাতুল ফিতরের বিধিবিধান।

 

আবু যার আল-কালামুনির একটি ‘জুমআর খুতবা’।

সাইয়্যেদ সাবিকের ‘ফিকহুস সুন্নাহ’, আলবানীর ‘তামামুল মিন্নাহ’ এবং আল-জাযায়িরীর ‘মিনহাজুল মুসলিম’ হতে সংক্ষেপিত ও সারসংক্ষেপকৃত—আল্লাহ তাআলা তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

 

{হে আমার জাতি, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো ধন-সম্পদ চাই না; আমার প্রতিদান কেবল আল্লাহরই নিকট।}
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ৫)
الحمد لله، وأشهد أن لا إله إلا الله، والصلاة والسلام على رسول الله

أما بعد

قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ {183} أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ وَأَن تَصُومُواْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ {184} شَهْرُ رَمَضَانَ
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর।

অতঃপর

আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। {১৮৩} নির্দিষ্ট কয়েক দিন; তবে তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তাকে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। আর যাদের জন্য তা অত্যন্ত কষ্টকর, তাদের ওপর ফিদিয়া তথা একজন মিসকিনকে অন্নদান করা কর্তব্য। আর যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো কল্যাণকর কাজ করবে, তা তার জন্য উত্তম। আর সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্য অধিকতর শ্রেয়, যদি তোমরা জানতে। {১৮৪} রমজান মাস
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ৬)
الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ اللهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ {185}} [البقرة].
যাতে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাসটি পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে। আর যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তাকে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কঠোরতা চান না, যেন তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূর্ণ করতে পারো এবং তোমাদেরকে যে হেদায়েত দেওয়া হয়েছে তার জন্য আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো, আর যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো। {১৮৫} [আল-বাকারা]।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌1 - المقصود بالصيام: الإمساك عن المفطرات، من طلوع الفجر إلى غروب الشمس، مع النية. عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من صام رمضان إيمانًا واحتسابًا غفر له ما تقدم من ذنبه» [متفق عليه]. (ومعنى «احتسابًا»: أي طالبًا وجه الله وثوابه).
১ - সিয়ামের উদ্দেশ্য: নিয়তসহ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াব লাভের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে» [সর্বসম্মত (متفق عليه)]। (আর «ইহতিসাবান» শব্দের অর্থ হলো: আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর প্রতিদান কামনা করা)।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌2 - بما يثبت الشهر: يثبت شهر رمضان برؤية الهلال، ولو من واحد عدل، أو إكمال عدة شعبان ثلاثين يومًا.

‌‌3 - اختلاف المطالع: الرأى الأول: ذهب الجمهور: إلى أنه لا عبرة باختلاف المطالع. فمتى رأى الهلال أهل بلد، وجب الصوم على جميع البلاد، لقول الرسول صلى الله عليه وسلم «صوموا لرؤيته، وأفطروا لرؤيته» [متفق عليه].
২ - মাস যেভাবে সাব্যস্ত হয়: রমজান মাস চাঁদ দেখার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়, যদিও তা একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির পক্ষ থেকে হয়, অথবা শাবান মাসের সংখ্যা ত্রিশ দিন পূর্ণ করার মাধ্যমে।

৩ - উদয়স্থলের ভিন্নতা: প্রথম মত: জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমগণ এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, উদয়স্থলের ভিন্নতার কোনো গুরুত্ব নেই। সুতরাং যখনই কোনো একটি ভূখণ্ডের অধিবাসী চাঁদ দেখবে, তখন সকল ভূখণ্ডের ওপর রোজা রাখা আবশ্যিক (واجب) হয়ে যাবে। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ করো।" [মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)]।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ৯)
الرأى الثاني: أنه يعتبر لأهل كل بلد رؤيتهم، ولا يلزمهم رؤية غيرهم. وهذا هو المشاهد، ويتفق مع الواقع.

দ্বিতীয় মত: প্রতিটি ভূখণ্ডের অধিবাসীদের জন্য তাদের নিজস্ব চাঁদ দেখা (رؤية) গণ্য হবে এবং অন্যদের চাঁদ দেখা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক (لازم) হবে না। আর এটিই পর্যবেক্ষণলব্ধ বিষয় এবং বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌4 - حكم من رأى الهلال وحده: فيه تفصيل ذكره شيخ الإسلام ابن تيمية: والراجح أنه يصوم مع الناس ويفطر مع الناس، وهذا أظهر الأقوال، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «صومكم يوم تصومون، وفطركم يوم تفطرون» [رواه الترمذي - صحيح الجامع]. ثم قال ابن تيمية: «لكن من كان في مكان ليس فيه غيره، إذا رآه صام، فإنه ليس هناك غيره».

سؤال هام: ما حكم من صام يوم الشك؟ «يوم الشك» - كما في تحفة الأحوذي -:
‌৪ - একাকী চাঁদ দেখার বিধান: এ বিষয়ে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন: এবং প্রধান অভিমত (الراجح) হলো যে, তিনি সাধারণ মানুষের সাথেই রোজা রাখবেন এবং মানুষের সাথেই ইফতার করবেন। এটিই মতসমূহের মধ্যে সবচেয়ে সুস্পষ্ট মত (أظهر الأقوال), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কারণে: «তোমাদের রোজা সেই দিন যেদিন তোমরা সকলে রোজা রাখো, এবং তোমাদের ইফতার সেই দিন যেদিন তোমরা সকলে ইফতার করো» [তিরমিযী বর্ণনা করেছেন - সহীহুল জামি]। অতঃপর ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: «কিন্তু যে ব্যক্তি এমন কোনো স্থানে থাকে যেখানে সে ব্যতীত অন্য কেউ নেই, সে যখন চাঁদ দেখবে তখন রোজা রাখবে, কারণ সেখানে সে ব্যতীত অন্য কেউ নেই।»

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: সন্দেহযুক্ত দিনে (يوم الشك) রোজা রাখার বিধান কী? «সন্দেহযুক্ত দিন» (يوم الشك) —যেমনটি তুহফাতুল আহওয়াযী গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে—:
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ১১)
المراد منه اليوم الذي يُشَك فيه، [وهو] يوم الثلاثين من شعبان، إذا لم يُرَ الهلال في ليلته بغيم ساتر أو نحوه، فيجوز كونه من رمضان وكونه من شعبان -. عن عمار رضي الله عنه قال: «من صام اليوم الذي يُشَكُّ فيه فقد عصى أبا القاسم صلى الله عليه وسلم» [صحيح كما في «صحيح أبي داود»]. وعن أبي هريرة: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقدموا صوم رمضان بيوم، ولا يومين، إلا أن يكون صوم يصومه رجل، فليصم ذلك اليوم»

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সন্দেহের দিন, [আর তা হলো] শাবান মাসের ত্রিশতম দিন, যদি মেঘ বা অন্য কোনো আবরণের কারণে সেই রাতে চাঁদ দেখা না যায়, তবে দিনটি রমজানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যেমন সম্ভাবনা থাকে তেমনি শাবানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। আম্মার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «যে ব্যক্তি সন্দেহের দিনে রোজা রাখল, সে আবুল কাসেম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অবাধ্য হলো» [সহিহ (صحيح), যেমনটি সহিহ আবু দাউদ-এ রয়েছে]। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা রমজানের একদিন বা দুইদিন আগে রোজা শুরু করো না; তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে নিয়মিত কোনো রোজা পালন করে, সে যেন সেই দিনে রোজা রাখে।»

(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ১২)
رواه الجماعة. الرأى الأول وهو الصحيح: يرى أكثر العلماء أنه إن صامه - أى: يوم الشك - وكان من شهر رمضان، أن يقضي يومًا مكانه، فإن صامه لموافقته عادة له - كأن وافق يوم الاثنين أو الخميس - جاز له الصيام حينئذ بدون كراهة. الرأى الثاني: عند الحنفية: إن ظهر أنه من رمضان وصامه أجزأه عنه.
এটি জামাআত (الجماعة) বর্ণনা করেছেন। প্রথম মত এবং এটিই বিশুদ্ধ (الصحيح): অধিকাংশ আলেমগণের অভিমত হলো, যদি কেউ সেই দিন—অর্থাৎ সন্দেহের দিন—রোজা রাখে এবং তা রমজান মাসের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তাকে উক্ত দিনের পরিবর্তে একদিন কাজা পালন করতে হবে। আর যদি সে তার নিয়মিত অভ্যাসের সাথে মিলে যাওয়ার কারণে রোজা রাখে—যেমন সেটি সোমবার বা বৃহস্পতিবারের সাথে মিলে যায়—তবে সেক্ষেত্রে কোনো অপছন্দনীয়তা ছাড়াই তার জন্য রোজা রাখা বৈধ। দ্বিতীয় মত: হানাফি মাযহাব অনুযায়ী: যদি প্রকাশ পায় যে এটি রমজানের অংশ ছিল এবং সে রোজা পালন করে থাকে, তবে তা তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌5 - أركان الصوم: للصيام ركنان: الركن الأول: الإمساك عن المفطرات، من طلوع الفجر إلى غروب الشمس. الركن الثاني: النية. ولابد أن تكون - أى: النية - قبل الفجر، من كل ليلة من ليالي شهر رمضان. لقوله صلى الله عليه وسلم: «من لم يُجْمِع الصيام قبل الفجر، فلا صيام له» [صحيح أبي داود]. (ومعنى «يُجْمِع» من الإجماع، وهو إحكام النية والعزيمة).
‌‌৫ - সিয়ামের রুকনসমূহ: সিয়ামের দুইটি রুকন রয়েছে: প্রথম রুকন: ফজর উদয় হওয়া থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সিয়াম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা। দ্বিতীয় রুকন: নিয়ত। আর রমজান মাসের প্রতি রাতে ফজর হওয়ার পূর্বেই নিয়ত —অর্থাৎ নিয়ত— করা আবশ্যক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে সিয়ামের সংকল্প করল না, তার কোনো সিয়াম নেই" [সহীহ আবু দাউদ]। ("ইউজমি" শব্দটি ইজমা থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো নিয়ত ও সংকল্পকে সুদৃঢ় করা)।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ১৪)
وتصح في أي جزء من أجزاء الليل، ولا يصح التلفظ بها، فإنها عمل قلبي، لا دخل للسان فيه، فمن تسحر بالليل، قاصدًا الصيام، تقربًا إلى الله بهذا الإمساك، فهو ناو. ومن عزم على الكف عن المفطرات، أثناء النهار، مخلصا لله، فهو ناو كذلك وإن لم يتسحر.

لكن هل تشترط النية قبل الفجر لصيام التطوع؟ الجواب: قال كثير من الفقهاء: إن نية صيام التطوع تجزئ من النهار إن لم يكن قد طعم.
এটি রাতের যেকোনো অংশে সহিহ (صحيح) হয় এবং এটি মুখে উচ্চারণ করা সহিহ (صحيح) নয়; কারণ এটি অন্তরের আমল, এতে জিহ্বার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি রোজা রাখার উদ্দেশ্যে এবং এই বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় রাতে সাহরি গ্রহণ করল, সে নিয়তকারী হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে দিনের বেলা রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকার দৃঢ় সংকল্প করল, সেও একইভাবে নিয়তকারী হিসেবে গণ্য হবে, যদিও সে সাহরি না খেয়ে থাকে।

তবে নফল (تطوع) রোজার ক্ষেত্রে কি ফজরের আগে নিয়ত করা শর্ত? উত্তর: অনেক ফকিহ বলেছেন: নফল (تطوع) রোজার নিয়ত দিনের বেলাতেও যথেষ্ট হবে, যদি ইতিপূর্বে কিছু পানাহার করা না হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ১৫)
وهي تجزئ قبل الزوال وبعده على السواء، [والزوال: الوقت الذي تكون فيه الشمس في كبد السماء - كذا فى «المعجم الوسيط»]. ويُراعَى أنَّ الصائم المتطوع يجوز له أن يفطر، ولا يجب عليه قضاء ذلك اليوم الذي صامه متطوعًا، واستحب له العلماء أن يقضِيَ ذلك اليوم. لقوله صلى الله عليه وسلم: «أفطِر وصُم يومًا مكانه إن شئت» رواه البيهقى وإسناده حسن، لكن لا يجب عليه.
এটি সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বে ও পরে সমানভাবে যথেষ্ট হবে, [আর সূর্য ঢলে পড়া হলো: সেই সময় যখন সূর্য আকাশের ঠিক মধ্যভাগে অবস্থান করে—‘আল-মুজামুল ওয়াসিত’-এ এভাবেই বর্ণিত হয়েছে]। এটিও লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন যে, নফল রোজা পালনকারীর জন্য রোজা ভেঙে ফেলা বৈধ, এবং নফল হিসেবে রাখা সেই দিনের কাজা আদায় করা তার ওপর আবশ্যক নয়; তবে আলেমগণ তার জন্য সেই দিনের কাজা করাকে পছন্দনীয় হিসেবে গণ্য করেছেন। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তুমি রোজা ভেঙে ফেলো এবং চাইলে এর পরিবর্তে অন্য একদিন রোজা রাখো»; বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن), তবে এটি তার ওপর আবশ্যক নয়।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌6 - على من يجب الصوم: أجمع العلماء: على أنه يجب الصيام على المسلم العاقل البالغ، الصحيح المقيم، ويجب أن تكون المرأة طاهرة من الحيض والنفاس.
৬ - কাদের ওপর সিয়াম পালন করা আবশ্যক (واجب): ওলামায়ে কেরাম ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন যে: প্রত্যেক মুসলিম, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন (عاقل), প্রাপ্তবয়স্ক (بالغ), সুস্থ (صحيح) এবং স্থায়ীভাবে বসবাসকারীর (مقيم) ওপর সিয়াম পালন করা আবশ্যক (واجب); আর নারীকে অবশ্যই ঋতুস্রাব (حيض) ও প্রসবোত্তর রক্তস্রাব (نفاس) থেকে পবিত্র হতে হবে।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌7 - صيام الصبي: والصبي - وإن كان الصيام غير واجب عليه - إلا أنه ينبغي لولي أمره أن يأمره به، ليعتاده من الصغر، مادام مستطيعًا له، وقادرًا عليه.
৭ - শিশুর সিয়াম: শিশু—যদ্যপি তার ওপর সিয়াম পালন করা আবশ্যক (واجب) নয়—তবুও তার অভিভাবকের উচিত তাকে এর নির্দেশ দেওয়া, যাতে সে শৈশব থেকেই এতে অভ্যস্ত হতে পারে, যতক্ষণ সে এর সামর্থ্য রাখে এবং এতে সক্ষম হয়।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌8 - أقسام الصائمين: القسم الأول: من يرخص لهم في الفطر، وتجب عليهم الفدية - أى: يجوز لهم أن يفطروا، ولكن تجب عليهم الفدية: أى الإطعام -: يرخص الفطر للشيخ الكبير، والمرأة العجوز، والمريض الذي لا يرجى برؤه، هؤلاء جميعًا يرخص لهم في الفطر، إذا كان الصيام يجهدهم، ويشق عليهم مشقة شديدة في جميع فصول السنة. وعليهم أن يطعموا عن كل يوم مسكينًا.
৮ - রোজা পালনকারীদের প্রকারভেদ: প্রথম প্রকার: যাদের জন্য রোজা ভঙ্গের অনুমতি (رخصة) রয়েছে এবং তাদের ওপর ফিদয়া (فدية) প্রদান করা আবশ্যক (واجب) — অর্থাৎ: তাদের জন্য রোজা ভঙ্গ করা বৈধ (جائز), কিন্তু তাদের ওপর ফিদয়া (فدية) তথা খাদ্যদান (إطعام) আবশ্যক (واجب) —: অতিবৃদ্ধ পুরুষ, অতিবৃদ্ধা নারী এবং এমন অসুস্থ ব্যক্তি যার আরোগ্য লাভের কোনো আশা নেই; বছরের সকল ঋতুতে রোজা রাখা যদি তাদের জন্য সাধ্যাতীত হয় এবং তা তাদের জন্য তীব্র কষ্টের কারণ হয়, তবে তাদের সবার জন্য রোজা ভঙ্গের অনুমতি (رخصة) রয়েছে। আর তাদের দায়িত্ব হলো প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে একজন মিসকিনকে (مسكين) খাদ্যদান (إطعام) করা।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ১৯)
-‌‌ الحامل والمرضع: قال ابن كثير: إذا خافتا على أنفسهما أو ولديهما ففيهما خلاف كثير بين العلماء: فمنهم من قال: يفطران ويفديان ويقضيان. وقيل: يفديان فقط ولا قضاء. وقيل: يجب القضاء بلا فدية. . . أ. هـ والمقصود بالفدية: إطعام مسكين عن كل يوم.

القسم الثاني: من يرخص لهم في الفطر، ويجب عليهم القضاء: يباح الفطر للمريض الذي يرجى برؤه، والمسافر، ويجب عليهما
গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারী: ইবনে কাসীর বলেন: যদি তাঁরা নিজেদের বা তাঁদের সন্তানদের বিষয়ে আশঙ্কা করেন, তবে এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে অনেক মতভেদ রয়েছে: তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তাঁরা রোজা ভঙ্গ করবেন, ফিদয়া (فدية) দেবেন এবং কাজা (قضاء) করবেন। আবার বলা হয়েছে: তাঁরা কেবল ফিদয়া (فدية) প্রদান করবেন এবং কোনো কাজা (قضاء) নেই। আরও বলা হয়েছে: ফিদয়া (فدية) ব্যতীত কেবল কাজা (قضاء) করা ওয়াজিব (واجب)। . . (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আর ফিদয়া (فدية) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: প্রতিদিনের বিনিময়ে একজন মিসকিনকে অন্নদান করা।

দ্বিতীয় প্রকার: যাদের রোজা ভঙ্গের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং যাদের ওপর কাজা (قضاء) করা ওয়াজিব (واجب): যে রোগীর সুস্থ হওয়ার আশা করা যায় এবং মুসাফিরের জন্য রোজা ভঙ্গ করা বৈধ (مباح), এবং তাঁদের উভয়ের ওপর ওয়াজিব (واجب)
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ২০)
القضاء. والمرض المبيح للفطر، هو المرض الشديد الذي يزيد بالصوم، أو يخشى تأخر برئه، ويُعْرَف ذلك، إما بالتجربة أو بإخبار الرفيق (أى: الطبيب الثقة) أو بغلبة الظن. والصحيح الذي يخاف المرض بالصيام يفطر مثل المريض، وكذلك من غلبه الجوع أو العطش، فخاف الهلاك، لزمه الفطر وإن كان صحيحًا مقيمًا وعليه القضاء. وقد كان بعض الصحابة يصوم على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم في السفر، وبعضهم يفطر، متابعين في ذلك فتوى
কাজা (قضاء)। আর যে অসুস্থতা রোজা ভঙ্গের বৈধতা দান করে, তা হলো সেই তীব্র অসুস্থতা যা রোজা রাখলে বৃদ্ধি পায় অথবা যার ফলে আরোগ্য লাভে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর তা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে, অথবা কোনো সঙ্গীর (অর্থাৎ: নির্ভরযোগ্য (ثقة) চিকিৎসকের) তথ্যের ভিত্তিতে কিংবা প্রবল ধারণার (غلبة الظن) মাধ্যমে জানা যায়। সুস্থ ব্যক্তি যে রোজা রাখার কারণে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা করে, সে অসুস্থ ব্যক্তির মতোই রোজা ভঙ্গ করতে পারবে। অনুরূপভাবে, যাকে ক্ষুধা বা তৃষ্ণা এমনভাবে পরাভূত করে যে সে মৃত্যুর আশঙ্কা করে, তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা আবশ্যক; যদিও সে সুস্থ ও মুকিম (مقيم) হয়, তবুও তাকে কাজা (قضاء) আদায় করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সফরকালে কিছু সাহাবি রোজা রাখতেন এবং কেউ কেউ রোজা ভঙ্গ করতেন; তারা এ ক্ষেত্রে ফতোয়া (فتوى) অনুসরণ করতেন...
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ২১)
الرسول صلى الله عليه وسلم. لكن أيهما أفضل؟ الرأى الأول: أن الصيام أفضل، لمن قوي عليه، والفطر أفضل لمن لا يقوى على الصيام. الرأى الثاني: قال الإمام أحمد: الفطر أفضل. الرأى الثالث: قال عمر بن عبد العزيز: أفضلهما أيسرهما، فمن يسهل عليه حينئذ، ويشق عليه قضاؤه بعد ذلك، فالصوم في حقه أفضل.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তবে এ দুটির মধ্যে কোনটি অধিকতর উত্তম? প্রথম অভিমত: যার সামর্থ্য রয়েছে তার জন্য সাওম পালন করাই অধিকতর উত্তম এবং যার সাওম পালনের সামর্থ্য নেই তার জন্য সাওম ভঙ্গ করা অধিকতর উত্তম। দ্বিতীয় অভিমত: ইমাম আহমাদ বলেছেন: সাওম ভঙ্গ করাই অধিকতর উত্তম। তৃতীয় অভিমত: উমর ইবনে আবদুল আজিজ বলেছেন: এ দুটির মধ্যে যেটি অধিকতর সহজ সেটিই অধিকতর উত্তম; সুতরাং যার জন্য সেই সময়ে সাওম পালন করা সহজ এবং পরবর্তীতে তা কাজা করা কঠিন হয়, তবে তার ক্ষেত্রে সাওম পালন করাই অধিকতর উত্তম।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ২২)
-‌‌ ما هو السفر المبيح للفطر: السفر المبيح للفطر، هو السفر الذي تقصر الصلاة بسببه، ومدة الإقامة التي يجوز للمسافر أن يفطر فيها، هي المدة التي يجوز له أن يقصر الصلاة فيها. والمقصود بذلك السفر العرفي، فطالما أنه يُطلق عليه لفظ «السفر» فله أن يفطر، ولا دليل على التحديد بعدد معين من الأميال وما يسمى بالكيلو مترات.

القسم الثالث من أقسام الصائمين: من يجب عليه الفطر والقضاء معًا:
রোজা ভঙ্গের বৈধতা দানকারী সফর কোনটি: রোজা ভঙ্গের অনুমতি প্রদানকারী সফর হলো সেই সফর, যার কারণে নামাজ সংক্ষিপ্ত করা (قصر) হয় এবং মুসাফির (مسافر) কতদিন অবস্থান করলে রোজা ভঙ্গ করতে পারবে, তার সময়সীমা হলো ওই সময় পর্যন্ত যতক্ষণ পর্যন্ত তার জন্য নামাজ সংক্ষিপ্ত করা (قصر) বৈধ। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী সফর (السفر العرفي), সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত একে "সফর" শব্দ দ্বারা অভিহিত করা যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে রোজা ভঙ্গ করতে পারবে। নির্দিষ্ট সংখ্যক মাইল বা তথাকথিত কিলোমিটারের মাধ্যমে এর সীমা নির্ধারণ করার কোনো দলিল নেই।

রোজা পালনকারীদের তৃতীয় প্রকার: যাদের ওপর রোজা ভঙ্গ করা এবং কাজা (قضاء) করা—উভয়টিই আবশ্যিক (واجب):
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ২৩)
اتفق الفقهاء على أنه يجب الفطر على الحائض والنفساء ويحرم عليهما الصيام، وإذا صامتا لا يصح صومهما، ويقع باطلاً، وعليهما قضاء ما فاتهما.
ফকিহগণ এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ঋতুবতী ও নিফাসগ্রস্ত নারীর জন্য রোজা ভঙ্গ করা আবশ্যক এবং তাদের জন্য রোজা রাখা হারাম। যদি তারা রোজা রাখে তবে তা সহীহ (صحيح) হবে না বরং তা বাতিল (باطل) হিসেবে গণ্য হবে; এবং তাদের ওপর উক্ত রোজাগুলোর কাজা আদায় করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌9 - آداب الصيام: الأدب الأول: السُّحور. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تسحروا فإن في السُّحور بركة» [متفق عليه]. وسبب البركة: أنه يقوي الصائم، وينشطه، ويهون عليه الصيام. («السَّحُور» بالفتح المأكول، و «السُّحور» بالضم المصدر والفعل). يعني: نحن في السُّحور نأكل السَّحور.

بم يتحقق السحور: ويتحقق السحور بكثير الطعام وقليله، ولو بجرعة ماء. وأما وقته:
৯ - সিয়ামের শিষ্টাচার: প্রথম শিষ্টাচার: সাহরি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা সাহরি গ্রহণ করো, কেননা সাহরিতে বরকত রয়েছে» [সর্বসম্মত (متفق عليه)]। আর বরকতের কারণ হলো: এটি রোজাদারকে শক্তিশালী করে, তাকে প্রাণবন্ত করে এবং তার জন্য সিয়াম পালন সহজ করে দেয়। («আস-সাহুর» জবর সহযোগে অর্থ খাদ্যবস্তু, এবং «আস-সুহুর» পেশ সহযোগে অর্থ কাজ বা ক্রিয়া)। অর্থাৎ: আমরা সুহুর (সাহরি করার কাজ) করার সময় সাহুর (খাদ্য) খেয়ে থাকি।

সাহরি কিসের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়: অধিক কিংবা অল্প খাবার, এমনকি এক ঢোক পানির মাধ্যমেও সাহরি সম্পন্ন হয়। আর এর সময়ের ব্যাপারে:
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ২৫)
فمن منتصف الليل إلى طلوع الفجر، والمستحب تأخيره. ولو شك الصائم في طلوع الفجر، فله أن يأكل، ويشرب، حتى يستيقن طلوعه، ولا يعمل بالشك، فإن الله عز وجل جعل نهاية الأكل والشرب التبين نفسه، لا الشك فقال: {وكلوا واشربوا حتى يتبين لكم الخيط الأبيض من الخيط الأسود من الفجر}.

الأدب الثاني من آداب الصيام: تعجيل الفطر: ويستحب للصائم أن يعجل الفطر،
এর সময় মধ্যরাত থেকে ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত এবং তা বিলম্বিত করা মুস্তাহাব (مستحب)। যদি কোনো রোজাদার ফজর উদিত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ (شك) পোষণ করেন, তবে ফজর উদিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি পানাহার করতে পারবেন; তিনি সন্দেহের (شك) ওপর ভিত্তি করে আমল করবেন না। কারণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা পানাহারের সমাপ্তি হিসেবে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়াকেই নির্ধারণ করেছেন, সন্দেহকে (شك) নয়। তিনি বলেছেন: "আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়।"

সিয়ামের দ্বিতীয় আদব: দ্রুত ইফতার করা। রোজাদারের জন্য দ্রুত ইফতার করা মুস্তাহাব (مستحب)।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ২৬)
متى تحقق غروب الشمس. ويستحب أن يكون الفطر على رطبات وترًا، فإن لم يجد فعلى الماء، ولم يَرِد تحديد معين لعدد التمر.

الأدب الثالث من آداب الصيام: الدعاء عند الفطر: ثبت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: «ذهب الظمأ، وابتلت العروق، وثبت الأجر إن شاء الله تعالى» [حسن - «كما في «صحيح أبي داود»].

الأدب الرابع من آداب الصيام: الكف عما
যখন সূর্যাস্ত নিশ্চিত হবে। আর তাজা খেজুরের মাধ্যমে বেজোড় সংখ্যায় ইফতার করা মুস্তাহাব, যদি তা না পাওয়া যায় তবে পানি দিয়ে; আর খেজুরের সংখ্যার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বর্ণিত হয়নি।

সিয়ামের আদবসমূহের মধ্যে তৃতীয় আদব: ইফতারের সময় দুআ করা: এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন: «পিপাসা দূর হয়েছে, শিরাসমূহ সিক্ত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ সওয়াব নির্ধারিত হয়েছে» [হাসান (حسن) — যেমনটি ‘সহীহ আবু দাউদ’ গ্রন্থে রয়েছে]।

সিয়ামের আদবসমূহের মধ্যে চতুর্থ আদব: তা থেকে বিরত থাকা যা থেকে...
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ২৭)
يتنافي مع الصيام: ينبغي أن يتحفظ الصائم من الأعمال التي تخدِش صومه، حتى ينتفع بالصيام، وتحصل له التقوى التي ذكرها الله في قوله: {لعلكم تتقون}. روى الجماعة - إلا مسلمًا - عن أبي هريرة، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من لم يَدَع قول الزور والعمل به، فليس لله حاجة في أن يدع طعامه وشرابه» («من لم يَدَع»: أي من لم يترك. «قول الزور»: يشمل الأغاني والتمثيليات والنرد.

রোজার পরিপন্থী বিষয়সমূহ: রোজাদারের উচিত এমন সকল কাজ থেকে নিজেকে রক্ষা করা যা তার রোজাকে কলুষিত করে, যাতে সে রোজা দ্বারা উপকৃত হতে পারে এবং তার মাঝে সেই তাকওয়া অর্জিত হয় যা আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন: {যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো}। ইমাম মুসলিম ব্যতীত বর্ণনাকারীদের সমষ্টি (আল-জামা'আহ) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী কাজ করা বর্জন করেনি, তার পানাহার বর্জন করাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই» («যে বর্জন করেনি»: অর্থাৎ যে ব্যক্তি ছেড়ে দেয়নি। «মিথ্যা কথা»: এর মধ্যে গান-বাজনা, অভিনয় এবং পাশা খেলা অন্তর্ভুক্ত)।

(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ২৮)
«فليس لله حاجة في أن يدع طعامه وشرابه»: أي ليس لله إرادة في قبول صيامه، أي: أن الله لا يقبل صيامه).

الأدب الخامس من آداب الصيام: السواك: ويستحب للصائم أن يتسوك أثناء الصيام، ولا فرق بين أول النهار وآخره.

الأدب السادس: الجود ومدارسة القرآن: وهما مستحبان في كل وقت، إلا أنهما آكد في رمضان. روى البخاري عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس، وكان أجود ما يكون
«আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই যে সে তার পানাহার বর্জন করুক»: অর্থাৎ তার রোজা কবুল করার ব্যাপারে আল্লাহর কোনো ইচ্ছা নেই, অর্থাৎ আল্লাহ তার রোজা কবুল করেন না।

রোজার আদবসমূহের মধ্যে পঞ্চম আদব: মেসওয়াক করা: রোজাদারের জন্য রোজা থাকা অবস্থায় মেসওয়াক করা পছন্দনীয় (مستحب), আর দিনের শুরু ও শেষ ভাগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

ষষ্ঠ আদব: দানশীলতা ও কুরআন অধ্যয়ন: এই দুটি কাজ সব সময়ই পছন্দনীয় (مستحب), তবে রমজান মাসে এগুলোর প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ (آكد) করা হয়েছে। বুখারি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল, আর তিনি সবচেয়ে বেশি দানশীল হতেন
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ২৯)
في رمضان حين يلقاه جبريل، وكان يلقاه في كل ليلة من رمضان فيدارسه القرآن، فلرسول الله صلى الله عليه وسلم أجود بالخير من الريح المرسلة». (أى: في الإسراع والعموم).

الأدب السابع: الاجتهاد في العبادة في العشر الأواخر من رمضان: عن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم: «كان إذا دخل العشر الأواخر أحيا الليل، وأيقظ أهله، وشد المئزر» [متفق عليه]. وفي رواية لمسلم: «كان يجتهد في العشر الأواخر ما لا يجتهد في غيره».
রমজানে যখন জিবরাঈল (আ.) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, আর তিনি রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁকে কুরআন পাঠ করে শোনাতেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কল্যাণ সাধনে প্রবাহিত বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল ছিলেন। (অর্থাৎ: ক্ষিপ্রতা ও ব্যাপকতার ক্ষেত্রে)।

সপ্তম আদব: রমজানের শেষ দশকে ইবাদতে কঠোর পরিশ্রম করা: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম): «যখন (রমজানের) শেষ দশক প্রবেশ করত, তখন তিনি রাত্রি জাগরণ করতেন, তাঁর পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন এবং লুঙ্গি শক্ত করে বাঁধতেন (ইবাদতের বিশেষ প্রস্তুতি নিতেন)» [সর্বসম্মত (متفق عليه)]। মুসলিম-এর এক বর্ণনায় রয়েছে: «তিনি শেষ দশকে (ইবাদতে) এমন কঠোর পরিশ্রম করতেন, যা অন্য সময়ে করতেন না»।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌10 - مباحات الصيام:

1 - نزول الماء والانغماس فيه: سواءً كان ذلك من العطش أو الحر. فإن دخل الماء في جوف الصائم من غير قصد فصومه صحيح.

2 - الاكتحال: والقطرة ونحوهما مما يدخل العين: سواء أوجد طعمه في حلقه أم لم يجده، لأن العين ليست بمنفذ إلى الجوف.
১০ - রোজার বৈধ বিষয়সমূহ:

১ - পানিতে নামা এবং তাতে ডুব দেওয়া: চাই তা পিপাসা অথবা গরমের কারণে হোক না কেন। যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে রোজাদারের পেটে পানি প্রবেশ করে, তবে তার রোজা সঠিক (صحيح) হবে।

২ - সুরমা লাগানো: এবং চোখের ড্রপ বা অনুরূপ যা চোখে প্রবেশ করে: চাই সেটির স্বাদ গলায় অনুভূত হোক বা না হোক, কারণ চোখ উদরে পৌঁছানোর কোনো প্রবেশপথ নয়।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ৩১)
3 - القُبْلة: لمن قدر على ضبط نفسه. فإن حركت شهوة شاب، أو شيخ قوي، كرهت. وإن لم تحركها لشيخ أو شاب ضعيف، لم تكره، والأولى تركها. والمعانقة لها حكم القُبلة.

4 - الحقنة: مطلقًا، سواء أكانت للتغذية، أم لغيرها، وسواء أكانت في العروق، أم تحت الجلد، فإنها وإن وصلت إلى الجوف، فإنها تصل إليه من غير المنفذ المعتاد. وكذلك الحقنة الشرجية لا
3 - চুম্বন: যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণে সক্ষম তার জন্য। যদি তা কোনো যুবক বা শক্তিশালী বৃদ্ধের কামোত্তেজনা জাগ্রত করে, তবে তা অপছন্দনীয় হবে। আর যদি তা কোনো বৃদ্ধ বা দুর্বল (ضعيف) যুবকের কামোত্তেজনা জাগ্রত না করে, তবে তা অপছন্দনীয় হবে না; তবে তা বর্জন করাই উত্তম। আর কোলাকুলির বিধান চুম্বনের বিধানের অনুরূপ।

4 - ইনজেকশন: সাধারণভাবে, চাই তা পুষ্টির জন্য হোক বা অন্য কোনো কারণে, এবং চাই তা শিরায় হোক বা চামড়ার নিচে; কেননা যদিও তা শরীরের অভ্যন্তরে পৌঁছে, তবে তা স্বাভাবিক প্রবেশপথ ব্যতিরেকে পৌঁছে থাকে। অনুরূপভাবে এনিমা (ডুশ) ব্যবহারের ক্ষেত্রেও না (রোজা ভঙ্গ হবে না)।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সিয়াম ওয়াল কিয়াম ওয়া যাকাতিল ফিতর (পৃষ্ঠা: ৩২)
تفطر الصائم. قال ابن تيمية: فإنها لا تغذي، بل تستفرغ ما في البدن.

5 - الحجامة: إلا إذا كانت تضعف الصائم فإنها تكره له.

6 - المضمضة والاستنشاق: إلا أنه تكره المبالغة فيهما للصائم، والمقصود بالاستنشاق: إدخال الماء في الأنف. وقد كره أهل العلم السَّعُوط للصائم، ورأوا: أن ذلك يفطر. والمقصود بـ «السَّعُوط»: وضع الدواء في
রোজাদারের রোজা ভঙ্গ করে (تفطر)। ইবনে তাইমিয়া বলেন: কেননা তা পুষ্টি যোগায় না, বরং শরীরের ভেতর যা আছে তা নির্গত করে দেয়।

৫ - হিজামা (حجامة): তবে যদি তা রোজাদারকে দুর্বল করে দেয়, তবে তা তার জন্য অপছন্দনীয় (مكروه)।

৬ - কুলকুচি করা (مضمضة) ও নাকে পানি দেওয়া (استنشاق): তবে রোজাদারের জন্য এই উভয় ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা অপছন্দনীয় (مكروه)। আর নাকে পানি দেওয়া (استنشاق) বলতে বোঝায়: নাকের ভেতরে পানি প্রবেশ করানো। আলেমগণ রোজাদারের জন্য নাকে ওষুধ দেওয়াকে (سعوط) অপছন্দ (كره) করেছেন এবং তারা অভিমত দিয়েছেন যে, তা রোজা ভঙ্গকারী (يفطر)। আর 'সাউত' (سعوط) বলতে বোঝায়: ওষুধ রাখা...