(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: -)
دفع إيهام تعارض أحاديث الأحكام في كتاب الطهارة   (رقية المحارب)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: دفعُ إيهامِ تعارضِ أحاديث الأحكامِ في كتابِ الطَّهارةِ

رسالة: ماجستير - قسم الدراسات الإسلامية - تخصص "حديث وعلومه".

المؤلف: رقية بنت محمد المحارب

[الكتاب مرقم آليا]

عدد الصفحات: 219

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

পবিত্রতা অধ্যায়ের বিধান (أحكام) সংক্রান্ত হাদিসসমূহের মধ্যে আপাত (إيهام) বৈপরীত্য (تعارض) দূরীকরণ   (রুকাইয়াহ আল-মুহারিব)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


বই: পবিত্রতা অধ্যায়ের বিধান (أحكام) সংক্রান্ত হাদিসসমূহের মধ্যে আপাত (إيهام) বৈপরীত্য (تعارض) দূরীকরণ

গবেষণাপত্র: মাস্টার্স - ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ - বিশেষায়িত শাখা "হাদিস ও এর শাস্ত্রসমূহ (علومه)".

লেখক: রুকাইয়াহ বিনতে মুহাম্মদ আল-মুহারিব

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৯

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১)
دفعُ إيهامِ تعارضِ أحاديث الأحكامِ في كتابِ الطَّهارةِ

 

أصل هذا الكتاب

رسالة مقدمة إلى قسم الدراسات الإسلامية ضمن متطلبات الحصول على درجة الماجستير في الدراسات الإسلامية تخصص "حديث وعلومه".

 

إعداد: رقية بنت محمد بن محارب.

 

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله حمدا كثيرا طيباً، وصلى الله على النبي الأمين رسول رب العالمين وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد

فإن من فضل الله على عباده هدايتهم لسبيل الحق وإرشادهم للعلم النافع الذي به تأنس النفوس وتزكو الأرواح. وإن من أفضل وأشرف العلوم العلم بالكتاب والسنة وفهمها على وجهها الصحيح بعيدا عن الأهواء والشبه التي يدفع لها مصلحة دنيوية أو يمازجها جهالة أو تعصب مع صد عن اتباع ما عليه سلف الأمة خاصة من الصحابة والتابعين ومن تبعهم بإحسان.
পবিত্রতা অধ্যায়ে বিধান সংক্রান্ত হাদিসসমূহের আপাত বৈপরিত্য (تعارض) নিরসন

 

এই গ্রন্থের মূল ভিত্তি

এটি 'হাদিস ও এর বিজ্ঞান' (علوم) বিশেষায়িত বিষয়ে ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের প্রয়োজনীয় শর্তাবলির অংশ হিসেবে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে উপস্থাপিত একটি অভিসন্দর্ভ।

 

প্রস্তুতিতে: রুকাইয়্যাহ বিনতে মুহাম্মাদ বিন মুহারিব।

 

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, প্রচুর ও পবিত্র প্রশংসা। আর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক বিশ্বস্ত নবী, বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের রাসূল এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সহচরদের ওপর। অতঃপর—

নিশ্চয়ই বান্দাদের ওপর আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ হলো তাদের সত্যের পথে পরিচালিত করা এবং এমন উপকারী জ্ঞানের দিকে দিকনির্দেশনা দেওয়া, যার মাধ্যমে অন্তর প্রশান্তি লাভ করে এবং আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটে। আর সর্বশ্রেষ্ঠ ও অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান হলো কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞান এবং একে তার সঠিক (صحيح) রূপে অনুধাবন করা; সেই সকল প্রবৃত্তি ও সংশয় থেকে দূরে থেকে যা জাগতিক স্বার্থ দ্বারা চালিত হয় কিংবা যাতে অজ্ঞতা বা গোঁড়ামির সংমিশ্রণ থাকে, এবং উম্মাহর সালাফ (سلف) বা পূর্বসূরিদের—বিশেষ করে সাহাবী (صحابة), তাবেঈ (تابعين) এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন—তাঁদের অনুসরণের পথ থেকে বিমুখ না হয়ে।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২)
وقد كان يهمني جدا الاختلاف بين العلماء في المسائل الفقهية وما يسببه ذلك من تفرق واختلاف بين الأمة، فنظرت فإذا الاختلاف بينهم ناشيء من اختلافهم في فهم النصوص أو من واختلاف الأحاديث في معانيها ودلالاتها فأردت أن أجمع هذه الأحاديث وأألف بينها ما استطعت لذلك سبيلا. وكان هذا الاهتمام ناشئ معي بداية في مرحلة الماجستير ولذا جعلت بحث متطلب الحصول على الماجستير في هذا الموضوع قدمت عام 1410 هـ -1989م، وقد كان له أثر في الوقوف على مقاصد الشريعة وأسرارها وطرائق العلماء في التفقه والاستدلال وانتفعت كثيرا في الوقوف على علل الأحاديث عند تخريجها والحكم عليها، ولما رغب بعض الأخوات الاطلاع على البحث ونشره وجدت أنه لا يتناسب مع النشر بطوله وطريقته كبحث رسالة علمية لما سيكون فيه من إثقال القارئ بما لا يهمه كثيرا خاصة في الكلام على رجال الإسناد والطرق والمتابعات وأقوال العلماء في الحكم على الحديث فلخصت ذلك ببيان من أخرج الحديث وأقوال بعض أهل العلم في الحكم عليه اختصارا مع إعطاء الحكم الأخير الذي خلصت إليه كباحثة. ومن أراد التوسع فلابد أن يرجع للرسالة العلمية الأصل. ورأيت أن أذكر مقدمة البحث لتعم به الفائدة اسأل الله أن ينفع به من قرأه.

والحمد لله رب العالمين وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

كتبته

رقية بنت محمد المحارب

الاثنين الخامس عشر من شهر شعبان 1431هـ

 

‌‌المقدمة:

إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد:
ফিকহশাস্ত্রীয় মাসআলাসমূহে আলেমদের মধ্যকার মতভেদ এবং এর ফলে উম্মাহর মাঝে সৃষ্ট বিভক্তি ও অনৈক্য আমাকে গভীরভাবে ভাবিত করেছিল। আমি লক্ষ্য করলাম যে, তাঁদের মধ্যকার এই মতভেদ মূলত মূল পাঠ (النصوص) অনুধাবনের ভিন্নতা অথবা হাদিসসমূহের অর্থ ও নির্দেশনার বৈচিত্র্য থেকে উদ্ভূত। তাই আমি এই হাদিসগুলো একত্রিত করার এবং সাধ্যমতো সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার ইচ্ছা পোষণ করলাম। এই আগ্রহটি আমার মাঝে মাস্টার্স পর্যায়ের শুরু থেকেই বিদ্যমান ছিল, তাই আমি আমার মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণাপত্রটি এই বিষয়ের ওপরই নির্ধারণ করেছিলাম যা ১৪১০ হিজরি (১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ) সালে পেশ করা হয়েছিল। শরীয়তের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও এর নিগূঢ় রহস্য এবং ফিকহ ও দলীল উপস্থাপনে আলেমদের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। এছাড়া হাদিসের উৎস নির্দেশ (تخريج) ও সেগুলোর মান নির্ধারণের (الحكم) ক্ষেত্রে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علل) চিহ্নিত করার বিষয়ে আমি অনেক উপকৃত হয়েছি। যখন কিছু বোন এই গবেষণাপত্রটি পড়ার ও প্রকাশের আগ্রহ প্রকাশ করলেন, তখন আমি দেখলাম যে গবেষণাপত্র হিসেবে এর দীর্ঘ কলেবর ও পদ্ধতিটি সাধারণ প্রকাশের জন্য উপযোগী নয়। কারণ এতে সনদের বর্ণনাকারীগণ (رجال الإسناد), বর্ণনার সূত্রসমূহ (الطرق), সমান্তরাল সূত্রসমূহ (المتابعات) এবং হাদিসের মান নির্ধারণ (الحكم) সংক্রান্ত আলেমদের উক্তিগুলো পাঠককে এমন সব তথ্যের ভারে ভারাক্রান্ত করতে পারে যা তাদের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই আমি সংক্ষেপে হাদিসটি কে বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেছি এবং মান নির্ধারণের (الحكم) ক্ষেত্রে কিছু বিজ্ঞ আলেমের বক্তব্য সংক্ষেপে তুলে ধরেছি, পাশাপাশি একজন গবেষক হিসেবে আমি যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি তা প্রদান করেছি। যারা বিস্তারিত জানতে চান, তাদের অবশ্যই মূল গবেষণাপত্রটি দেখতে হবে। আমি গবেষণার ভূমিকাটি এখানে উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি যাতে এর মাধ্যমে ফায়দা ব্যাপক হয়। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর পাঠকের জন্য একে কল্যাণকর করেন।

যাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

এটি লিখেছেন

রুকাইয়াহ বিনতে মুহাম্মদ আল-মুহারিব

সোমবার, ১৫ই শাবান, ১৪৩১ হিজরি

 

‌‌ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শক হওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল; তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর:
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
فإن السنة هي المصدر الثاني للتشريع، لذا فقد لاقت من عناية المسلمين ما حفظها، ولا غرو؛ فهي قرينة القرآن، أوتيها رسول الله –صلى الله عليه وسلم ليخرج الناس من الظلمات إلى النور، وليبين للناس ما نُزِّلَ إليهم لعلهم يعلمون فيتقون، جاءت شاملة كاملة، لكن أهل الزيغ والضلال زعموا اختلافها وتعارضها، لمَّا لم يفهموا مرادها، فتشككوا وشككوا من غير تدقيق ولا نظر، فقام من أئمة الحديث مَن بيَّنَ خطأهم وردَّ شبهتهم، فجمع بعض الأحاديث المتعارضة وردَّ تعارضها، وذلك ببيان نسخ بعضها لبعض تارة، أو ترجيح بعضها على بعض، أو التوفيق تارة أخرى.

وممن صنف في ذلك الإمام الشافعي وابن قتيبة وغيرهما، وقد طالعت هذه المصنفات رغبة مني لأن أجد درء تعارض كل حديثين متعارضين فلم أجد.

كما أن أصحاب هذه المصنفات اقتصروا على جزء يسير من الأحاديث التي حفلت بها السنة الشريفة المطهرة، فبقي كثير من الأحاديث ظاهرها التعارض، ولم يجمعوا بينها أو يفندوا تعارضها.

 

فعزمتُ مستعينة بالله على جمع هذه الأحاديث مستقصية لها ومحققة إياها، ولأجل ترتيب كثير من كتب السنة بحسب الكتب والأبواب الفقهية، كان كتاب الطهارة هو أول كتاب بحثت فيه عن الأحاديث المتعارضة، فوجدته كافياً لمثل هذه الرسالة حيث وقفت فيه على تسع عشرة مسألة، يتعارض فيها خمسة عشر ومائة حديث.

 

وقد دفعني إلى البحث في هذا الموضوع أسباب متعددة، أذكر منها:

1- أهمية البحث البالغة لخاصة المسلمين وعامتهم، حيث يزيل اللبس عن أكثر الأمور أهمية في حياة المسلم.

2- وجود مادة هذا البحث مفرقة بين كتب الفقه والحديث.

3- وجوب إزالة التعارض عن أحاديث رسول الله –صلى الله عليه وسلم الذي يتراءى للقارئ حين يقف على كتب السنة.

4- أهميته للمكتبة الحديثية والفقهية، فخلوها منه خلل لا يسده غير هذا البحث.
নিশ্চয়ই সুন্নাহ হলো শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস, তাই এটি মুসলিমদের নিকট এমন যত্ন ও মনোযোগ লাভ করেছে যা একে সংরক্ষণ করেছে। আর এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই; কারণ এটি কুরআনের সহগামী, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রদান করা হয়েছে যাতে তিনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং মানুষের নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তা তাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা সম্ভবত জ্ঞান লাভ করতে পারে এবং তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে। এটি ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ হিসেবে এসেছে, কিন্তু বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট লোকেরা এর মধ্যে অনৈক্য ও বৈপরীত্যের (تعارض) দাবি করেছে যখন তারা এর উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম হয়নি। ফলে তারা কোনো সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ বা পর্যবেক্ষণ ছাড়াই নিজেরা সংশয়ে নিপতিত হয়েছে এবং অন্যদের মাঝেও সংশয় ছড়িয়েছে। অতঃপর হাদিসের ইমামগণের মধ্য থেকে এমন ব্যক্তিবর্গ আবির্ভূত হয়েছেন যারা তাদের ভুল স্পষ্ট করেছেন এবং তাদের সংশয়সমূহ খণ্ডন করেছেন। তাঁরা কিছু আপাত বৈপরীত্যপূর্ণ (متعارض) হাদিস একত্রিত করেছেন এবং সেগুলোর বৈপরীত্য নিরসন করেছেন। এটি কখনো একটির মাধ্যমে অন্যটির রহিতকরণ (نسخ) বর্ণনা করার মাধ্যমে, কখনো একটির ওপর অন্যটিকে প্রাধান্যদানের (ترجيح) মাধ্যমে, আবার কখনো উভয়ের মধ্যে সমন্বয়সাধনের (توفيق) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।

যাঁরা এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন তাঁদের মধ্যে ইমাম শাফেয়ী ও ইবনে কুতাইবা এবং আরও অনেকে রয়েছেন। আমি এই গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করেছি এই আকাঙ্ক্ষায় যে, প্রতিটি আপাত বৈপরীত্যপূর্ণ (متعارض) দুটি হাদিসের মধ্যকার বৈপরীত্য নিরসনের (درء تعارض) সমাধান খুঁজে পাব, কিন্তু আমি তা পাইনি।

তাছাড়া, এই গ্রন্থকারগণ পবিত্র সুন্নাহর বিশাল ভাণ্ডারের মধ্য থেকে মাত্র সামান্য কিছু হাদিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন। ফলে অনেক হাদিস এমন রয়ে গেছে যেগুলোর বাহ্যিক রূপ বৈপরীত্যপূর্ণ (تعارض), কিন্তু তাঁরা সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়সাধন করেননি অথবা সেগুলোর বৈপরীত্য খণ্ডন করেননি।

 

তাই আমি আল্লাহর সাহায্য নিয়ে এই হাদিসগুলো সংগ্রহ করার এবং সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান ও যাচাই (تحقيق) করার সংকল্প করেছি। যেহেতু হাদিসের অনেক কিতাব ফিকহি অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিন্যস্ত, তাই পবিত্রতা (طهارة) অধ্যায়টিই ছিল প্রথম অধ্যায় যেখানে আমি আপাত বৈপরীত্যপূর্ণ (متعارض) হাদিসসমূহ অনুসন্ধান করেছি। আমি একে এই গবেষণাপত্রের জন্য পর্যাপ্ত পেয়েছি, যেখানে আমি উনিশটি মাসআলা বা বিষয় পেয়েছি এবং তাতে একশত পনেরটি হাদিসের মধ্যে আপাত বৈপরীত্য (تعارض) পরিলক্ষিত হয়েছে।

 

এই বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে আমাকে বেশ কিছু কারণ অনুপ্রাণিত করেছে, যার কয়েকটি উল্লেখ করছি:

1- সাধারণ ও বিশিষ্ট সকল মুসলিমের জন্য এই গবেষণার অত্যন্ত গুরুত্ব, কারণ এটি একজন মুসলিমের জীবনের অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে অস্পষ্টতা দূর করে।

2- এই গবেষণার বিষয়বস্তু ফিকহ ও হাদিসের কিতাবসমূহের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে থাকা।

3- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহ থেকে সেই বৈপরীত্য (تعارض) দূর করা আবশ্যক যা সুন্নাহর কিতাবসমূহ পড়ার সময় পাঠকের নিকট প্রতীয়মান হয়।

4- হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থাগারের জন্য এর গুরুত্ব; কেননা এর শূন্যতা একটি বড় অভাব যা এই গবেষণা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
5- الوقوف على المسائل المختلف فيها في كتاب الطهارة، مما سببه تعارض الأحاديث واختلافها، والخروج برأي راجح في كل مسألة.

6- معرفة القواعد التي يعتمد عليها في التأليف بين الأحاديث جمعاً أو نسخاً أو ترجيحاً.

7- معرفة صحيح الأحاديث المتعارضة من سقيمها.

8- الرد على المشككين في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم والطاعنين فيها، ودحض شبههم بما يثلج صدر كل مسلم غيور.

‌‌منهجي في هذا البحث:

اتبعت في بحثي الخطوات التالية:

1- جمع الأحاديث المتعارضة ظاهراً في كتاب الطهارة بعد أن استقرأت أحاديث هذا الكتاب مستعينة بكتب مختلف الحديث أولاً، وبكتب السنة ثانياً، كما أنني استعنت بكتب أحاديث الأحكام وشروحها ثالثاً، وبكتب الفقه رابعاً.

2- اختيار الرواية الأنسب معنى لتكون الحديث المخرج سنداً ومتناً.

3- ذكر الرواية المختارة بسندها ثم ذكر الكتاب والباب والجزء والصحيفة.

4- تخريج الرواية المختارة عن نفس الصحابي، فإن كانت الرواية في الصحيحين أو أحدهما لم أبين طرق الحديث، وذلك لأن الطرق إنما تبين للإفادة منها في المتابعات وتقوية الحديث، وما كان في الصحيحين أو أحدهما فلا نحتاج فيه على بيان الطرق لصحة الحديث وثبوته. وإن كان في غير الصحيحين بينت طرق هذا الحديث بالمتابعة على سند الرواية المختارة والمصدر بها.

5- دراسة رجال الرواية المصدر بها، ببيان عدالتهم واتصال روايتهم.

6- ذكر أقوال العلماء في الحكم على الحديث سنداً ومتناً، وليس ذلك على سبيل الاستقصاء، وإنما على سبيل التغليب.

7- الحكم على الحديث سنداً ومتناً بعد تتبع الطرق وأقوال العلماء، مع بيان الشواهد التي يمكن أن ترتقي بالحديث أو تغير درجته.

8- ذكر الأحاديث المعارضة لهذا الحديث بنفس الطريقة التي قدمتها في دراسة الحديث الأول مروراً بجميع المراحل.

9- ذكر وجه التعارض بين هذه الأحاديث.
৫- 'পবিত্রতা' (Kitab al-Taharah) অধ্যায়ের মতভেদপূর্ণ মাসয়ালাসমূহ অনুধাবন করা, যা হাদিসসমূহের মধ্যে বৈপরীত্য ও পার্থক্যের কারণে সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রতিটি মাসয়ালায় একটি অগ্রগণ্য (راجح) মত গ্রহণ করা।

৬- হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয় (جمع), রহিতকরণ (نسخ) বা প্রাধান্যদানের (ترجيح) মাধ্যমে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য যেসব মূলনীতির ওপর নির্ভর করা হয় তা জানা।

৭- পরস্পর বিরোধী হাদিসসমূহের মধ্য থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) এবং ত্রুটিযুক্ত (سقيم) হাদিসসমূহ শনাক্ত করা।

৮- রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টিকারী ও আক্রমণকারীদের জবাব প্রদান এবং তাদের সন্দেহসমূহ এমনভাবে খণ্ডন করা যা প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলিমের হৃদয়কে প্রশান্ত করে।

‌‌এই গবেষণায় আমার অনুসৃত পদ্ধতি:

আমি আমার গবেষণায় নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করেছি:

১- 'পবিত্রতা' (Kitab al-Taharah) অধ্যায়ের হাদিসগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনার পর বাহ্যিকভাবে বৈপরীত্যপূর্ণ হাদিসগুলো সংগ্রহ করা; এক্ষেত্রে প্রথমত 'মুখতালিফুল হাদিস' (হাদিসের বৈপরীত্য বিষয়ক গ্রন্থাবলী) সংক্রান্ত কিতাবসমূহ, দ্বিতীয়ত সুন্নাহর কিতাবসমূহ, তৃতীয়ত 'আহকামুল হাদিস' (বিধান সংশ্লিষ্ট হাদিস) ও সেগুলোর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং চতুর্থত ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের সাহায্য নিয়েছি।

২- অর্থগতভাবে সবচেয়ে উপযুক্ত বর্ণনাটি নির্বাচন করা, যাতে সেটির সনদ (سند) ও মতন (متن) বিস্তারিতভাবে বর্ণনা (تخريج) করা যায়।

৩- নির্বাচিত বর্ণনাটি তার সনদ (سند) সহ উল্লেখ করা এবং এরপর কিতাব, অধ্যায়, খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করা।

৪- একই সাহাবী থেকে বর্ণিত নির্বাচিত হাদিসটির উৎস নির্দেশ (تخريج) করা। যদি বর্ণনাটি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা এই দুটির কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি হাদিসের বিভিন্ন সূত্র (طرق) বর্ণনা করিনি। কারণ, মূলত মুতাবা'আত (متابعات) ও হাদিসের শক্তি বৃদ্ধির উপযোগিতা অর্জনের জন্য সূত্রসমূহ বর্ণনা করা হয়। আর যা সহিহাইন বা এর কোনো একটিতে বিদ্যমান, তার বিশুদ্ধতা (صحة) ও প্রমাণের জন্য সূত্রসমূহ বর্ণনার প্রয়োজন নেই। তবে যদি হাদিসটি সহিহাইন-এর বাইরে হয়, তবে নির্বাচিত ও মূল হিসেবে গৃহীত বর্ণনার সনদের সমর্থক সূত্রসমূহ (متابعة) উল্লেখ করেছি।

৫- মূল হিসেবে গৃহীত বর্ণনার বর্ণনাকারীদের (رجال) সম্পর্কে গবেষণা করা এবং তাদের নির্ভরযোগ্যতা (عدالة) ও বর্ণনার নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) স্পষ্ট করা।

৬- হাদিসের সনদ (سند) ও মতন (متن) এর ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামের বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করা; তবে এটি পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রধান ও প্রসিদ্ধ মতামতের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

৭- বিভিন্ন সূত্র এবং আলেমদের মতামত পর্যালোচনার পর হাদিসের সনদ (سند) ও মতন (متন) এর ওপর হুকুম প্রদান করা; সাথে এমন সব সমর্থক বর্ণনা (شواهد) উল্লেখ করা যা হাদিসের মানকে উন্নত করতে পারে বা এর স্তরের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

৮- প্রথম হাদিসটি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি ও পর্যায়গুলো অনুসরণ করা হয়েছে, ঠিক একইভাবে এই হাদিসের বিরোধী হাদিসগুলো উল্লেখ করা।

৯- এই হাদিসগুলোর মধ্যে বৈপরীত্যের ধরন উল্লেখ করা।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
10- ذكر أقوال العلماء في درء التعارض بين الأحاديث متوخية الأهمية وزمان العالم، فتارة أذكر قول العالم برمته، وآونة ألَُخِّصه في نقاط، ومرة أخرى أختصره اختصاراً غير مخلٍ برأيه مع الإشارة إلى التصرف فيه.

11- أذكر ما توصلت إليه في نهاية كل مبحث.

 

ويشتمل هذا البحث على تمهيد وسبعة أبواب وخاتمة:

أما التمهيد فيشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: معنى التعارض وأسبابُه.

المبحث الثاني: معنى الترجيح وأسبابُه.

المبحث الثالث: المؤلفات السابقة في هذا الموضوع.

 

وأما الأبواب فهي:

1- باب المياه والنجاسات وفيه تسعة مباحث:

المبحث الأول: أينجس الماء بورود النجاسة عليه؟.

المبحث الثاني: أيغتسل الرجل أو يتوضأ بفضل المرأة؟.

المبحث الثالث: سؤر الكلب.

المبحث الرابع: سؤر الهر.

المبحث الخامس: ما جاء في المني.

المبحث السادس: جلود الميتة.

المبحث السابع: هل تستقبل القبلة أو تستدبر بالبول أو الغائط؟.

المبحث الثامن: كيف تطهر الأرض من البول؟.

المبحث التاسع: البول قائماً.

2- باب الآنية وفيه مبحث:

آنية الكفار.

3- باب الوضوء وفيه ثمانية مباحث:

المبحث الأول: هل أكل ما مست النار من نواقض الوضوء؟.

المبحث الثاني: هل يتوضأ من مسَّ ذكره أم لا؟.

المبحث الثالث: هل النوم من نواقض الوضوء؟.

المبحث الرابع: التسمية قبل الوضوء.

المبحث الخامس: هل تجب المضمضة والاستنشاق والاستنثار في الوضوء؟.

المبحث السادس: حكم تخليل اللحية الكثة في الوضوء.

المبحث السابع: الاطِّلاء بالنورة.

المبحث الثامن: التمندل (استعمال المنديل بعد الوضوء) .

 

4- باب الغسل وفيه ستة مباحث:

المبحث الأول: ماذا يجب على الجنب إذا أراد النوم أو الأكل أو المعاودة؟.

المبحث الثاني: هل يجب الغسل بالتقاء الختانين دون إنزال؟.

المبحث الثالث: غسل الجمعة.

المبحث الرابع: هل يجب الغسل من تغسيل الميت؟.

المبحث الخامس: هل يجب دلك الرأس في غسل الجنابة؟.
10- হাদিসসমূহের মধ্যে বৈপরীত্য (التعارض) নিরসনে ওলামায়ে কেরামের মতামতগুলো তাদের গুরুত্ব এবং সংশ্লিষ্ট আলেমের সময়কাল বিবেচনায় রেখে উল্লেখ করেছি। কখনও আমি কোনো আলেমের বক্তব্য পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছি, কখনও তা বিভিন্ন পয়েন্টে সংক্ষেপ করেছি, আবার কখনও মূল মতামতের কোনো ক্ষতি না করে অতি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি এবং সেক্ষেত্রে পরিমার্জনের বিষয়টি নির্দেশ করেছি।

11- প্রতিটি পরিচ্ছেদের শেষে আমি আমার গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেছি।

 

এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, সাতটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত:

ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তিনটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: বৈপরীত্যের (التعارض) অর্থ ও তার কারণসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্রাধান্যদানের (الترجيح) অর্থ ও তার কারণসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই বিষয়ে পূর্ববর্তী রচনাবলি।

 

অধ্যায়গুলো নিম্নরূপ:

1- পানি ও অপবিত্রতা (নাজাসাত) অধ্যায়, এতে নয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: অপবিত্রতা পতিত হওয়ার ফলে কি পানি অপবিত্র হয়ে যায়?

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পুরুষ কি মহিলার ব্যবহৃত উদ্বৃত্ত পানি দিয়ে অযু বা গোসল করতে পারবে?

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুকুরের উচ্ছিষ্ট।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিড়ালের উচ্ছিষ্ট।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বীর্য সংক্রান্ত বর্ণনা।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মৃত পশুর চামড়া।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: পেশাব বা পায়খানার সময় কি কিবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ দেওয়া যাবে?

অষ্টম পরিচ্ছেদ: মাটি কীভাবে পেশাব থেকে পবিত্র করতে হয়?

নবম পরিচ্ছেদ: দাঁড়িয়ে পেশাব করা।

2- পাত্র অধ্যায়, এতে একটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

অমুসলিমদের পাত্র।

3- অযু অধ্যায়, এতে আটটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আগুনে পাকানো খাবার খেলে কি অযু নষ্ট হয়ে যায়?

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লিঙ্গ স্পর্শ করলে কি অযু করতে হবে কি না?

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ঘুম কি অযু নষ্টকারী বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত?

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অযুর পূর্বে বিসমিল্লাহ বলা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: অযুতে কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া এবং নাক ঝাড়া কি ওয়াজিব?

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: অযুতে ঘন দাড়ি খিলাল করার বিধান।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: লোমনাশক পাউডার বা চুন ব্যবহার করা।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: অযুর পর রুমাল ব্যবহার করা।

 

4- গোসল অধ্যায়, এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: অপবিত্র/জুনুবি (جنب) ব্যক্তি যদি ঘুমানোর, খাওয়ার বা পুনরায় সহবাসের ইচ্ছা করে, তবে তার ওপর কী করণীয়?

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বীর্যপাত ব্যতীত কেবল দুই খতনা অঙ্গের মিলনে কি গোসল ওয়াজিব হয়?

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জুমার দিনের গোসল।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মৃতকে গোসল করানোর কারণে কি গোসল ওয়াজিব হয়?

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: জানাবাতের গোসলে কি মাথা ঘষা ওয়াজিব?
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
المبحث السادس: التستر عند الغسل الخلوة.

 

5- باب السواك وفيه مبحث:

حكم السواك للصائم.

6- باب الحيض والاستحاضة، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: ما يجوز الاستمتاع به من الحائض.

المبحث الثاني: المستحاضة ترد إلى العادة أو إلى التمييز.

المبحث الثالث: كيف تتطهر المستحاضة للصلاة؟.

 

7- باب التيمم، وفيه مبحث:

صفة التيمم.

وأما الخاتمة فذكرت فيها ما توصلت إليه من نتائج البحث.

 

دفع إيهام تعارض أحاديث الأحكام

في كتاب الطهارة

 

د. رقية بنت محمد المحارب.

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌التمهيد

وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: ويشتمل على معنى التعارض وأسبابه.

المبحث الثاني: ويشتمل على معنى الترجيح وأسبابه.

المبحث الثالث: ويشتمل على المؤلفات السابقة في هذا العلم.

 

‌‌المبحث الأول:

معنى التعارض وأسبابه
.

 

‌‌معنى التعارض في اللغة:

التعارض مصدر من باب " تفاعل" الذي يقتضي فاعلين فأكثر للاشتراك في أصله المشتق منه، وأصله المشتق منه (ع ر ض) .

 

قال ابن فارس: " وتقول عارضت فلاناً في السير إذا سرت حياله، وعارضته مثل ما صنع إذا أتيت إليه مثل ما أتى إليك.." (1) .

 

وقال ابن منظور: "واعترض: انتصب ومنع وصار عارضاً كالخشبة المنتصبة في النهر والطريق ونحوها تمنع السالكين سلوكها.

 

ويقال: اعترض الشيء دون الشيء أي حال دونه …

وفي التنزيل " ولا تجعلوا الله عرضة لأيمانكم أن تبروا وتتقوا وتصلحوا" (2) أي نصباً لأيمانكم.

قال الفراء: لا تجعلوا الحلف بالله معترضاً مانعاً لكم أن تبروا، فجعل العرضة بمعنى المعترض، ونحو ذلك … " (3) .

 

وقال الفيومي: "وعرض له أمر إذا ظهر … وعارضت الشيء بالشيء قابلته به" (4) .

 

وحاصل هذا أن للتعارض عدة معان:

--------------------------------------------

(1) معجم مقاييس اللغة 4/269-280 مادة (ع ر ض) .

(2) تمام الآية"..بين الناس والله سميع عليم" سورة البقرة آية: 224.

(3) لسان العرب 7/165-187 مادة (ع ر ض) .

(4) المصباح المنير 2/402-404 مادة (ع ر ض) .
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: নির্জনে গোসলের সময় পর্দা করা।

 

৫- মেসওয়াক অধ্যায় এবং এতে একটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

রোজাদারের জন্য মেসওয়াকের বিধান।

৬- ঋতুস্রাব ও ইস্তিহাজা অধ্যায়, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে যা যা ভোগ করা জায়েজ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারী তার অভ্যস্ত সময়কাল নাকি পার্থক্যের (تمييز) দিকে প্রত্যাবর্তন করবে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারী নামাজের জন্য কীভাবে পবিত্রতা অর্জন করবেন?

 

৭- তায়াম্মুম অধ্যায়, এতে একটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

তায়াম্মুমের পদ্ধতি।

আর উপসংহারে আমি গবেষণার মাধ্যমে যে সকল সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি তা উল্লেখ করেছি।

 

কিতাবুত তাহারাহ-তে আহকামের হাদিসসমূহের মধ্যে আপাত বৈপরীত্য (تعارض) নিরসন

কিতাবুত তাহারাহ

 

ড. রুকাইয়া বিনতে মুহাম্মদ আল-মুহারিব।

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌ভূমিকা

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এটি বৈপরীত্যের (تعارض) অর্থ ও এর কারণসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি প্রাধান্য প্রদানের (ترجيح) অর্থ ও এর কারণসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এটি এই শাস্ত্রের পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে।

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ:

বৈপরীত্যের (تعارض) অর্থ ও এর কারণসমূহ
।

 

‌‌আভিধানিক অর্থে বৈপরীত্য (تعارض):

বৈপরীত্য (التعارض) শব্দটি 'তাফাউল' (تفاعل) বাব থেকে আগত একটি ক্রিয়ামূল, যা এর মূল ধাতুর অর্থের ক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক পক্ষের অংশগ্রহণ দাবি করে। এর মূল ধাতু হলো (ع ر ض)।

 

ইবনে ফারিস বলেন: "আপনি বলবেন 'আমি চলার পথে অমুকের মোকাবিলা করেছি' (عارضت فلاناً) যখন আপনি তার সমান্তরালে চলেন। আর আপনি তার মোকাবিলা (عارضته) করেছেন তখন বলা হয় যখন আপনি তার সাথে অনুরূপ আচরণ করেন যা সে আপনার সাথে করেছে..." (১)।

 

ইবনে মানজুর বলেন: "আর ই'তরাদা (اعترض) অর্থ হলো: খাড়া হওয়া ও বাধা দেওয়া এবং প্রতিবন্ধক হওয়া, যেমন নদী বা রাস্তায় একটি কাঠ খাড়াভাবে স্থাপন করা হয় যা পথচারীদের পথ চলতে বাধা দেয়।

 

বলা হয়: 'এক বস্তু অন্য বস্তুর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে' (اعترض الشيء دون الشيء) অর্থাৎ সেটি তার মাঝে প্রতিবন্ধক হয়েছে...

 

আর মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে রয়েছে: "আর তোমরা তোমাদের শপথের জন্য আল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু বা বাধা বানিও না যাতে তোমরা সৎকাজ, তাকওয়া ও মানুষের মাঝে সংশোধনে ব্রতী হতে পার" (২)। অর্থাৎ তোমাদের শপথের জন্য প্রতিবন্ধক বানিও না।

আল-ফাররা বলেন: তোমরা আল্লাহর নামে শপথ করাকে তোমাদের সৎকাজ করার পথে প্রতিবন্ধক বা বাধা বানিও না। সুতরাং তিনি 'উরদাহ' (العرضة) শব্দটিকে 'মু'তারিদ' (المعترض) বা প্রতিবন্ধক অর্থে গ্রহণ করেছেন..." (৩)।

 

আল-ফাইয়ুমি বলেন: "তার সামনে একটি বিষয় 'আরাদা' (عرض) হয়েছে অর্থাৎ সেটি প্রকাশ পেয়েছে... এবং আমি একটি বিষয়কে অন্য বিষয়ের সাথে 'আরাদতু' (عارضت) করেছি অর্থাৎ সেটির মোকাবিলা বা তুলনা করেছি" (৪)।

 

সারকথা হলো, বৈপরীত্যের (التعارض) বেশ কয়েকটি অর্থ রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) মুজাম মাকায়িসুল লুগাহ ৪/২৬৯-২৮০, মাদ্দাহ (ع ر ض)।

(২) আয়াতের শেষাংশ "...মানুষের মাঝে, আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২২৪।

(৩) লিসানুল আরব ৭/১৬৫-১৮৭, মাদ্দাহ (ع ر ض)।

(৪) আল-মিসবাহুল মুনির ২/৪০২-৪০৪, মাদ্দাহ (ع ر ض)।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
1- المقابلة.

2- المساواة.

3- الظهور.

 

والمعنى المراد بالتعارض هنا هو المقابلة على سبيل الممانعة لأنه أنسب بالمعنى الاصطلاحي.

 

‌‌التعريف الاصطلاحي:

 

إن التعارض عند علماء الحديث يعرف بمختلف الحديث وقد عرفه الخطيب البغدادي فقال:

" معنى التعارض بين الخبرين، والقرآن من أمر ونهي وغير ذلك، أن يكون موجب أحدهما منافياً لموجب الآخر" (1) .

وقال بعد هذا التعريف:

 

" وذلك يبطل التكليف إن كانا خبرين أمراً ونهياً وإباحة وحظراً، أو يوجب كون أحدهما صدقاً والآخر كذباً إن كانا خبرين، والنبي صلى الله عليه وسلم منزه عن ذلك أجمع، ومعصوم منه باتفاق الأمة وكل مثبتٍ للنبوة، وإذا ثبتت هذه الجملة وجب متى علم أن قولين ظاهرهما التعارض، ونفي أحدهما لموجب الآخر، أن يحمل النفي والإثبات على أنهما في زمانين أو فريقين أو على شخصين أو على صفتين مختلفتين، هذا ما لا بد منه مع العلم بإحالة مناقضته صلى الله عليه وسلم في شيء من تقرير الشرع والبلاغ" (2) .

 

كما عرفه النووي فقال:

" هو أن يأتي حديثان متضادان في المعنى ظاهراً فيوفق بينهما أو يرجح أحدهما " (3) .

 

‌‌شرح تعريف النووي:

قوله: "حديثان" أخرج القرآن والقياس.

قوله: "متضادان" أي يدل أحدهما على ما يخالف دلالة الآخر، كأن يدل أحدهما على التحريم أو الكراهة، ويدل الآخر على الإيجاب أو الندب أو الإباحة.

قوله: "ظاهراً" أي أن التعارض لا يكون في حقيقة الأمر.

قوله: "يوفق بينهما" أي يجمع بين دلالتيهما كأن يقال فيما تعارض فيه نهي وإباحة: النهي في حال كذا؛ والإباحة في حال كذا، وذلك بالنظر في الحال التي قيل فيها الحديث.

قوله: "أو يرجح أحدهما" بإعمال أحدهما وإبطال الآخر لأمور في الأول تقوي الأخذ به.

 

ولما كان علماء الأصول قد تناولوا هذا المبحث بشيء من التفصيل؛ أحال المحدثون على كتب الأصوليين في هذا المبحث كثيراً.

--------------------------------------------

(1) الكفاية في علوم الرواية ص 433.

(3) التقريب ص 33.
১- মোকাবিলা (المقابلة)।

২- সমতা (المساواة)।

৩- প্রকাশমানতা (الظهور)।

 

এখানে বিরোধ (التعارض) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বাধা প্রদানের পন্থায় মোকাবিলা করা, কারণ এটি পারিভাষিক অর্থের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।

 

‌‌পারিভাষিক সংজ্ঞা:

 

হাদিস বিশারদগণের নিকট বিরোধ (التعارض) বিষয়টি 'মুখতালিফুল হাদিস' (مختلف الحديث) হিসেবে পরিচিত। খতিব আল-বাগদাদি এর সংজ্ঞা প্রদান করে বলেন:

"আদেশ, নিষেধ বা অন্য কোনো বিষয়ে দুটি বর্ণনা অথবা কোরআনের মধ্যে বিরোধের (التعارض) অর্থ হলো, একটির দাবি অন্যটির দাবির পরিপন্থী হওয়া।" (১)।

এই সংজ্ঞার পর তিনি বলেন:

 

"আর এটি আমলের বাধ্যবাধকতাকে বাতিল করে দেয় যদি বর্ণনা দুটি আদেশ, নিষেধ, বৈধতা বা নিষিদ্ধতা বিষয়ক হয়; অথবা এটি একটিকে সত্য ও অন্যটিকে মিথ্যা হওয়া আবশ্যক করে দেয় যদি বর্ণনা দুটি সংবাদ বিষয়ক হয়। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসব কিছু থেকে পবিত্র এবং উম্মতের সর্বসম্মত মতে ও নবুওয়তে বিশ্বাসী সকলের নিকট তিনি নিষ্পাপ (معصوم)। যখন এই মূলনীতিটি সাব্যস্ত হলো, তখন যখনই জানা যাবে যে দুটি কথার বাহ্যিক রূপ বিরোধপূর্ণ (التعارض) এবং একটি অন্যটির দাবিকে নাকচ করছে, তখন সেই না-বোধক ও হ্যাঁ-বোধক বিষয়গুলোকে ভিন্ন ভিন্ন দুই সময়, দুই দল, দুই ব্যক্তি অথবা ভিন্ন ভিন্ন দুটি অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শরিয়তের কোনো বিধান বা বার্তা প্রচারের ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী কোনো কিছু করবেন—এমন বিষয় অসম্ভব হওয়ার জ্ঞানের সাথে এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করা অপরিহার্য।" (২)।

 

অনুরূপভাবে ইমাম নববী এর সংজ্ঞা দিয়ে বলেন:

"তা হলো বাহ্যিক অর্থে পরস্পরবিরোধী (متضادان) দুটি হাদিস আসা, অতঃপর সে দুটির মধ্যে সমন্বয় (يوفق) করা হয় অথবা কোনো একটিকে প্রাধান্য (يرجح) দেওয়া হয়।" (৩)।

 

‌‌ইমাম নববীর সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:

তার উক্তি: "দুটি হাদিস"—এর মাধ্যমে কোরআন ও কিয়াসকে বহির্ভূত রাখা হয়েছে।

তার উক্তি: "পরস্পরবিরোধী (متضادان)" অর্থাৎ একটির নির্দেশনা অন্যটির নির্দেশনার বিপরীত হওয়া। যেমন: একটির দ্বারা হারাম বা মাকরূহ হওয়া বুঝানো এবং অন্যটির দ্বারা ওয়াজিব, মুস্তাহাব বা বৈধ হওয়া বুঝানো।

তার উক্তি: "বাহ্যিকভাবে (ظاهراً)" অর্থাৎ বিরোধ (التعارض) প্রকৃত অর্থে বিদ্যমান থাকে না।

তার উক্তি: "উভয়ের মধ্যে সমন্বয় (يوفق) করা হয়" অর্থাৎ উভয়টির নির্দেশনার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। যেমন কোনো বিষয়ে নিষেধ ও বৈধতা বিষয়ক হাদিসে বিরোধ দেখা দিলে বলা হয়: নিষেধটি অমুক অবস্থায় এবং বৈধতাটি অমুক অবস্থায়। আর এটি হাদিসটি বলার সময় বা প্রেক্ষিত বিবেচনার মাধ্যমে করা হয়।

তার উক্তি: "অথবা কোনো একটিকে প্রাধান্য (يرجح) দেওয়া হয়" অর্থাৎ প্রথম হাদিসটির মধ্যে এমন কিছু বিষয় থাকা যা সেটিকে শক্তিশালী করে, তার ভিত্তিতে সেটির ওপর আমল করা এবং অন্যটিকে বর্জন করা।

 

যেহেতু উসুল শাস্ত্রবিদগণ (علماء الأصول) এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন, তাই হাদিস বিশারদগণ এই আলোচনার ক্ষেত্রে প্রায়শই উসুলবিদদের কিতাবের রেফারেন্স প্রদান করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-কিফায়া ফি ইলমির রিওয়ায়াহ, পৃ. ৪৩৩।

(৩) আত-তাকরীব, পৃ. ৩৩।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
قال النووي مشيراً إلى ذلك:

" وإنما يكمل له الأئمة الجامعون بين الحديث والفقه، والأصوليون الغواصون على المعاني" (1) .

 

وقال صاحب توجيه النظر:

" ومبحث التعارض والترجيح من أهم مباحث أصول الفقه وأصعبها، وقد أطلق العلماء في ميدانه الفسيح الأرجاء أعنة أقلامهم، فمن أراد الاستيفاء فعليه بالكتب المبسوطة فيه، غير أنه ينبغي له أن يختار منها الكتب التي لأربابها براعة في نحو الأصول" (2) .

 

لذا رأيتُ أن أذكر من تعاريف الأصوليين ما يتضح به معنى التعارض، وسأكتفي بإيراد أشملها، وأقلها من حيث الاعتراض عليها، وهو تعريف الإسنوي، حيث قال:

" التعارض بين الأمرين هو تقابلهما على وجه يمنع كل منهما مقتضى صاحبه" (3) .

 

‌‌شرح التعريف:

قوله: "تقابل" جنس في التعريف يشمل كل تقابل، سواء أكان بين دليلين أم غيرهما، كتقابل شخص مع شخص.

والمراد بالتقابل هنا: هو أن يدل كل من الدليلين على منافي ما يدل عليه الآخر، وذلك كأن يدل أحدهما على الإيجاب والآخر على التحريم مثلاً.

قوله: "على وجه يمنع.....إلخ" قيد خرج به تقابل الدليلين على وجه لا يمنع ذلك، كأن يتقابل دليل مع دليل يفيد كل منهما ما يفيده الآخر ولا تتوافر فيهما شروط التعارض، وعليه فيكون كل منهما مؤكداً للآخر" (4) .

 

‌‌أسباب التعارض:

 

ذكر الإمام الشافعي رحمه الله بعض الأسباب التي من أجلها يتوهم التعارض بين الأحاديث، كما ذكر غيرُه أسباباً أخرى أضافها إلى ما ذكره الشافعي، منها:

--------------------------------------------

(1) التقريب ص 33.

(2) توجيه النظر- لطاهر بن صالح الجزائري الدمشقي ص 226.

(3) شرح المنهاج 2/117.

(4) التعارض والترجيح- محمد الحفناوي ص 40-42 بتصرف.
ইমাম নববী এ দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন:

"নিশ্চয়ই এটি সেই ইমামগণের মাধ্যমেই পূর্ণতা পায় যাঁরা হাদিস ও ফিকহের সমন্বয়কারী এবং সেই উসুলবিদগণের (الأصوليون) মাধ্যমে যাঁরা অর্থের গভীরে অবগাহনকারী।" (১)।

 

তাওজিহুন নাজার গ্রন্থের লেখক বলেছেন:

"বিরোধ (التعارض) ও প্রাধান্য (الترجيح) বিষয়ক আলোচনা উসুলে ফিকহের (أصول الفقه) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিনতম বিষয়। ওলামায়ে কেরাম এর সুবিস্তৃত ময়দানে তাঁদের কলম চালিয়েছেন, সুতরাং যে ব্যক্তি এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করতে চায় তাকে এ বিষয়ের বিস্তারিত কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করতে হবে। তবে তার উচিত হবে এমন সব কিতাব নির্বাচন করা যেগুলোর লেখকদের উসুলের (الأصول) ক্ষেত্রে বিশেষ পারদর্শিতা রয়েছে।" (২)।

 

তাই আমি উসুলবিদদের (الأصوليون) সংজ্ঞাগুলো থেকে এমন একটি সংজ্ঞা উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি যার মাধ্যমে বিরোধের (التعارض) অর্থ স্পষ্ট হয়। আমি এখানে সবচেয়ে ব্যাপক এবং আপত্তিমুক্ত সংজ্ঞাটি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হব, আর সেটি হলো ইমাম ইসনভীর দেওয়া সংজ্ঞা। তিনি বলেছেন:

"দুটি বিষয়ের মধ্যে বিরোধ (التعارض) হলো তাদের এমনভাবে মুখোমুখি হওয়া (تقابلهما) যা একে অপরের দাবিকে বাধাগ্রস্ত করে।" (৩)।

 

‌‌সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:

তাঁর উক্তি: "মুখোমুখি হওয়া" (تقابل) হলো সংজ্ঞার সাধারণ শব্দ যা সব ধরণের মোকাবিলাকে অন্তর্ভুক্ত করে; চাই তা দুটি দলিলের (دليلين) মধ্যে হোক কিংবা অন্য কিছুর মধ্যে, যেমন একজন ব্যক্তির সাথে অন্য ব্যক্তির মুখোমুখি হওয়া।

এখানে মুখোমুখি হওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: দুটি দলিলের (الدليلين) প্রত্যেকটি এমন বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করা যা অপরটির বিপরীত। যেমন— একটি দলিল (دليل) কোনো কাজ আবশ্যক হওয়ার প্রমাণ দিচ্ছে এবং অন্যটি তা হারাম হওয়ার প্রমাণ দিচ্ছে।

তাঁর উক্তি: "এমনভাবে যা বাধাগ্রস্ত করে... ইত্যাদি" এটি একটি শর্ত যা দ্বারা দুটি দলিলের (الدليلين) এমন মোকাবিলা বের হয়ে গেছে যা একে অপরকে বাধা দেয় না। যেমন— একটি দলিলের সাথে অন্য দলিলের মোকাবিলা হওয়া যেখানে প্রতিটি দলিল অপরটির মতো একই অর্থ প্রকাশ করে এবং সেখানে বিরোধের (التعارض) শর্তাবলি পাওয়া যায় না। এমতাবস্থায় একটি দলিল অপরটির জন্য সমর্থক (مؤكد) হিসেবে গণ্য হবে। (৪)।

 

‌‌বিরোধের (التعارض) কারণসমূহ:

 

ইমাম শাফিঈ (রহ.) এমন কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন যার ফলে হাদিসসমূহের মধ্যে আপাত বিরোধ (التعارض) প্রতীয়মান হয়। তেমনিভাবে অন্যান্যরা ইমাম শাফিঈর উল্লিখিত কারণগুলোর সাথে আরও কিছু কারণ যোগ করেছেন, সেগুলো হলো:

--------------------------------------------

(১) আত-তাকরিব, পৃ. ৩৩।

(২) তাওজিহুন নাজার- তাহির বিন সালিহ আল-জাজাইরি আদ-দিমাশকি, পৃ. ২২৬।

(৩) শারহুল মিনহাজ, ২/১১৭।

(৪) আত-তা'আরুদ ওয়াত-তারজিহ- মুহাম্মদ হাফনাভি, পৃ. ৪০-৪২ (সংক্ষেপিত)।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌1- قد يقول النبي صلى الله عليه وسلم القول العام يريد به العام، والعام يريد به الخاص.

مثاله:

تعارض نهيه صلى الله عليه وسلم فيما يرويه أبو هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: (أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلَاةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَعَنِ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ) (1) .

وكذا قوله: (لَا يَتَحَرَّى أَحَدُكُمْ فَيُصَلِّي عِنْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَلَا عِنْدَ غُرُوبِهَا) (2) .

وكذا قوله: (إنَّ الشّمْسَ تَطْلُعُ وَمَعَها قَرْن الشيطان فإذا ارْتَفَعَتْ فَارَقَها فإذا اسْتوت قَارَنها فإذا زَالَت فارقها فإِذا دنت للغُروب قَارَنها فإِذا غربت فارقها) (3) ، قال عبد الله الصنابحي -راوي الحديث-: " ونهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الصلاة تلك الساعة".

هذه الأحاديث في جملتها تعارض جملة من الأحاديث، كحديث ابن المسيب: (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نام عن الصبح فصلاها بعد أن طلعت الشمس، ثم قال: من نسي صلاة فليصلها إذا ذكرها، فإن الله عز وجل يقول: "أقم الصلاة لذكري" (4) (5) .

وكحديث جبير بن مطعم: (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ، مَنْ وَلِيَ مِنْكُمْ مِنْ أَمْرِ النَّاسِ شَيْئًا فَلا يَمْنَعَنَّ أَحَدًا طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ وَصَلَّى أَيَّ سَاعَةٍ شَاءَ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ) (6) .

 

وغيرها من الأحاديث التي في معناها (7) .

 

قال الشافعي:

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (2/61) ومسلم (6/110) وأحمد (2/19) .

(2) أخرجه البخاري (2/60) ومسلم (6/112) .

(3) أخرجه النسائي (1/275) .

(4) سورة طه الآية 14.

(5) أخرجه مسلم (5/181) عن أبي هريرة مطولاً.

(6) أخرجه البيهقي (2/456) .

(7) هذه الأحاديث ذكرها الشافعي بأسانيدها، وذكر غيرها، اختصرتُها منعاً من الإطالة، اختلاف الحديث ص 115-117.
‌১- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো সাধারণ (عام) কথা বলেন যার দ্বারা তিনি সাধারণ (عام) অর্থই উদ্দেশ্য নেন, আবার কখনো সাধারণ (عام) কথার দ্বারা তিনি বিশেষ (خاص) অর্থ উদ্দেশ্য নেন.

উদাহরণস্বরূপ:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঐ নিষেধাজ্ঞার বৈপরীত্য (تعارض) যা আবু হুরায়রা (রা.) মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: (নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত এবং ফজরের পর সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন) (১)।

অনুরূপভাবে তাঁর বাণী: (তোমাদের কেউ যেন সূর্য উদয়ের সময় বা সূর্যাস্তের সময় নামাজ পড়ার সংকল্প না করে) (২)।

তেমনিভাবে তাঁর বাণী: (নিশ্চয়ই সূর্য যখন উদিত হয়, তখন তার সাথে শয়তানের শিং থাকে। যখন সূর্য উপরে উঠে যায়, তখন শয়তান তা থেকে পৃথক হয়ে যায়। যখন সূর্য মধ্যাকাশে অবস্থান করে, তখন শয়তান তার সাথে অবস্থান করে। যখন সূর্য হেলে পড়ে, তখন শয়তান তা থেকে পৃথক হয়। যখন সূর্য হেলে পড়ে সূর্যাস্তের নিকটবর্তী হয়, তখন শয়তান তার সাথে অবস্থান করে। আর যখন সূর্য ডুবে যায়, তখন শয়তান তা থেকে পৃথক হয়ে যায়) (৩)। হাদিস বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহি (রা.) বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঐ সময়ে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন।"

এই হাদিসগুলো সামগ্রিকভাবে আরও একগুচ্ছ হাদিসের সাথে বৈপরীত্য (تعارض) তৈরি করে, যেমন ইবনুল মুসায়্যিবের বর্ণিত হাদিস: (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের নামাজ না পড়েই ঘুমিয়ে ছিলেন, ফলে সূর্য উদিত হওয়ার পর তিনি তা আদায় করেন। অতঃপর তিনি বলেন: যে ব্যক্তি কোনো নামাজ ভুলে যায়, সে যেন তা স্মরণ হওয়ামাত্রই আদায় করে নেয়। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমার স্মরণে নামাজ কায়েম করো") (৪) (৫)।

এবং জুবাইর ইবনে মুতয়িম (রা.)-এর হাদিসের মতো: (রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: হে বনী আবদু মানাফ! তোমাদের মধ্যে যারা মানুষের কোনো বিষয়ের দায়িত্বে আসবে, তারা যেন এই ঘরের (কাবার) তওয়াফকারী এবং দিন বা রাতের যেকোনো সময় নামাজ আদায়কারী কাউকেই বাধা না দেয়) (৬)।

 

এবং একই অর্থবোধক অন্যান্য হাদিসসমূহ (৭)।

 

ইমাম শাফেঈ বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (২/৬১), মুসলিম (৬/১১০) এবং আহমদ (২/১৯)।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (২/৬০) এবং মুসলিম (৬/১১২)।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন নাসায়ি (১/২৭৫)।

(৪) সূরা তাহা, আয়াত ১৪।

(৫) এটি মুসলিম (৫/১৮১) আবু হুরায়রা থেকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।

(৬) এটি বর্ণনা করেছেন বায়হাকি (২/৪৫৬)।

(৭) এই হাদিসগুলো ইমাম শাফেঈ তাঁর সনদসমূহ (أسانيد)-সহ উল্লেখ করেছেন এবং অন্যান্য হাদিসও উল্লেখ করেছেন; আমি দীর্ঘায়ন এড়াতে সেগুলো সংক্ষেপ করেছি। ইখতিলাফুল হাদিস, পৃ. ১১৫-১১৭।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
" وليس يعدُّ هذا اختلافاً في الحديث، بل بعض هذه الأحاديث يدل على بعض، فجماع نهي النبي صلى الله عليه وسلم والله أعلم- عن الصلاة بعد الصبح حتى تطلع الشمس، وبعدما تبدو وتبزغ، وعن الصلاة بعد العصر حتى تغرب الشمس، وبعد مغيب بعضها حتى يغيب كلها، وعن الصلاة نصف النهار حتى تزول الشمس إلا يوم الجمعة (1) ، وليس على كل صلاة لزمت المصلي بوجه من الوجوه، أو تكون الصلاة مؤكدة فأمر بها، وإن لم تكن فرضاً أو صلاة كان رجل يصليها فأغفلها، فإذا كانت الواحدة من هذه الصلوات صليت في هذه الأوقات بالدلالة عن رسول الله ثم إجماع الناس في الصلاة على الجنائز بعد الصبح والعصر" (2) .

 

‌‌2- أن يؤدي المخبر عنه الخبر متقصى، والخبر مختصراً:

مثاله:

تعارض حديث النهي عن الصيام في السفر وكراهية ذلك مع أحاديث إباحته:

 

أما أحاديث النهي فقوله صلى الله عليه وسلم من حديث كعب بن عاصم: (لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ أَنْ تَصُومُوا فِي السَّفَرِ) (3) .

وحديث جابر رضي الله عنه مرفوعاً: (أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ كُرَاعَ الْغَمِيمِ وَصَامَ النَّاسُ مَعَهُ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ شَقَّ عَلَيْهِمْ الصِّيَامُ وَإِنَّ النَّاسَ يَنْظُرُونَ فِيمَا فَعَلْتَ فَدَعَا بِقَدَحٍ مِنْ مَاءٍ بَعْدَ الْعَصْرِ فَشَرِبَ وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ فَأَفْطَرَ بَعْضُهُمْ وَصَامَ بَعْضُهُمْ فَبَلَغَهُ أَنَّ نَاسًا صَامُوا فَقَالَ أُولَئِكَ الْعُصَاةُ) (4) .

--------------------------------------------

(1) لحديث أبي قتادة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كره الصلاة نصف النهار إلا يوم الجمعة وقال: (إن جهنم تسجر إلا يوم الجمعة) أخرجه أبو داود (1/284) وضعفه ابن حجر في التلخيص الحبير (1/199) .

(2) اختلاف الحديث ص 116.

(3) أخرجه النسائي (4/174، 175) .

(4) أخرجه مسلم (7/222) .
"একে হাদিসের মধ্যে কোনো বৈপরিত্য (اختلاف) হিসেবে গণ্য করা হয় না, বরং এই হাদিসগুলোর কিছু অংশ অন্য অংশের ওপর নির্দেশ করে। নবী করীম (সা.)-এর নিষেধের মূল সারমর্ম হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সালাত আদায় করা, এবং সূর্য ওঠার পর থেকে পূর্ণ উদয় হওয়া পর্যন্ত; আর আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত, এবং সূর্যের কিছু অংশ ডোবার পর থেকে পূর্ণ অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত; আর ঠিক দ্বিপ্রহরে সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ার পূর্ব পর্যন্ত সালাত আদায় করা থেকে বিরত থাকা, তবে জুমার দিন ব্যতীত (১)। আর এই নিষেধাজ্ঞা এমন সকল সালাতের ক্ষেত্রে নয় যা মুসল্লির ওপর কোনো না কোনোভাবে আবশ্যক হয়ে গেছে, অথবা এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সালাত যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদিও তা ফরজ (فرض) নয়; অথবা এমন সালাত যা কোনো ব্যক্তি নিয়মিত আদায় করত কিন্তু কোনো কারণে তা ছুটে গেছে। সুতরাং যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশ অনুযায়ী এবং পরবর্তীকালে সুবহে সাদিক ও আসরের পর জানাজার সালাত আদায়ের ব্যাপারে উম্মতের ঐক্যমত (إجماع) দ্বারা সাব্যস্ত হয়, তখন এই সালাতগুলো এই সময়গুলোতে আদায় করা যাবে।" (২) .

 

‌‌২- সংবাদ প্রদানকারী কর্তৃক সংবাদটি বিস্তারিতভাবে এবং সংক্ষেপে বর্ণনা করা:

উদাহরণস্বরূপ:

সফরে রোজা রাখার নিষেধাজ্ঞা ও অপছন্দনীয়তা বিষয়ক হাদিসের সাথে এর বৈধতা বিষয়ক হাদিসগুলোর মধ্যকার বৈপরিত্য:

 

নিষেধাজ্ঞার হাদিসগুলোর মধ্যে রয়েছে কাব বিন আসিম থেকে বর্ণিত নবী করীম (সা.)-এর বাণী: (সফরে রোজা রাখা কোনো পুণ্য নয়) (৩) ।

এবং জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিস: (রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা বিজয়ের বছর মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি ‘কুরাউল গামিম’ নামক স্থানে পৌঁছানো পর্যন্ত রোজা থাকলেন এবং তাঁর সাথে লোকজনও রোজা থাকল। তখন তাঁকে বলা হলো যে, মানুষের জন্য রোজা রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে এবং মানুষ আপনি কী করেন সেদিকে তাকিয়ে আছে। এরপর তিনি আসরের পর এক পেয়ালা পানি চাইলেন এবং তা পান করলেন, আর মানুষ তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিল। ফলে তাদের মধ্যে কেউ ইফতার করল আবার কেউ রোজা বজায় রাখল। এরপর তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, কিছু লোক রোজা পালন করছে, তখন তিনি বললেন, তারাই হলো নাফরমান) (৪) ।

--------------------------------------------

(১) আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, নবী করীম (সা.) জুমার দিন ব্যতীত দিনের মধ্যভাগে সালাত আদায় অপছন্দ করতেন এবং তিনি বলেছেন: (জুমার দিন ব্যতীত (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুন উত্তপ্ত করা হয়)। এটি আবু দাউদ (১/২৮৪) বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হাজার তালখিসুল হাবির (১/১৯৯) গ্রন্থে একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন।

(২) ইখতিলাফুল হাদিস পৃষ্ঠা ১১৬।

(৩) এটি নাসায়ি (৪/১৭৪, ১৭৫) বর্ণনা করেছেন।

(৪) এটি মুসলিম (৭/২২২) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وقد عارض الحديثين السابقين وما في معناهما من الأحاديث حديثا أنس وعائشة رضي الله عنهما.

فعن أنس رضي الله عنه:

(سَافَرْنَا مع رسولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم فَمِنَّا الصائمُ ومنا المُفْطِرُ فلم يَعِبِ الصائمُ عَلَى المُفْطر وَلَا الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ) (1) .

وعن عائشة رضي الله عنها (إِنَّ حَمْزَةَ قَالَ لِرَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَصُومُ فِي السَّفَرِ وَكَانَ كَثِيرَ الصِّيَامِ فَقَالَ لَهُ رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ) (2) .

فهذه الأحاديث تتعارض في ظاهرها مع الأحاديث السابقة، ووجه الجمع بينهما أن يقال: إن الفطر في السفر رخصة وهي لمن يمرض أو يجهد، وإنما وقع التعارض لما لم يسق كعب بن عاصم جميع الحديث وإنما ساق حرفاً منه، وقد ساقه جابر رضي الله عنه مفسراً فقال:

(كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم زمان غزوة تبوك، ورسول الله صلى الله عليه وسلم يسير بعد أن أضحى، إذا هو بجماعة في ظل شجرة، فقال: من هذه الجماعة؟ قالوا: رجل صائم أجهده الصوم، أو كلمة نحو هذه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ليس من البر أن تصوموا في السفر) (3) .

فاحتمل: ليس من البر أن يبلغ هذا رجل بنفسه في فريضة صوم ولا نافلة وقد أرخص الله له وهو صحيح أن يفطر.

 

ويحتمل ليس من البر المفروض الذي من خالفه أثم.

 

فكعب بن عاصم ساق حرفاً من الحديث، وجابر ساق الحديث بتمامه، فتبين سبب الحديث وبقي القادر على الصيام الذي لا يجهد بذلك على الرخصة إن شاء صام وإن شاء أفطر (4) .

 

‌‌3- عدم إدراك الراوي لاختلاف الحال:

مثاله:

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (4/186) ومسلم (7/234) .

(2) أخرجه البخاري (4/179) .

(3) أخرجه البخاري (4/ 183) .

(4) اختلاف الحديث ص 81-87 بتصرف.
পূর্বোক্ত দুটি হাদিস এবং একই অর্থবোধক অন্যান্য হাদিসগুলোর সাথে আনাস ও আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসদ্বয় বাহ্যত বিরোধপূর্ণ।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত:

(আমরা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সাথে সফর করেছি। তখন আমাদের মধ্যে কেউ রোজা পালনকারী ছিলেন এবং কেউ ইফতারকারী (রোজাহীন) ছিলেন। ফলে রোজাদার ব্যক্তি ইফতারকারীকে দোষারোপ করেননি এবং ইফতারকারীও রোজাদারের প্রতি কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি) (১)।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত (হামযা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল صلى الله عليه وسلم, আমি কি সফরে রোজা রাখব? তিনি অধিক রোজা পালনকারী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাকে বললেন: তুমি চাইলে রোজা রাখো আর চাইলে ইফতার করো) (২)।

এই হাদিসগুলো বাহ্যিকভাবে পূর্বোক্ত হাদিসগুলোর সাথে সংঘাতপূর্ণ মনে হয়। এগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের (الجمع) পদ্ধতি হলো এই বলা যে: সফরে ইফতার করা একটি বিশেষ শিথিলতা (رخصة), যা মূলত অসুস্থ বা পরিশ্রান্ত ব্যক্তির জন্য। আর এই বিরোধটি তখনই তৈরি হয়েছে যখন কাব বিন আসিম হাদিসটি পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা না করে এর কেবল একটি অংশ (حرفاً) বর্ণনা করেছেন। তবে জাবির (রা.) হাদিসটি ব্যাখ্যাসহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

(আমরা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সাথে তাবুক যুদ্ধের সময় ছিলাম। সূর্য উপরে ওঠার পর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم পথ চলছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি একদল লোককে একটি গাছের ছায়ায় দেখতে পেলেন। তিনি বললেন: এই দলটি কার? তারা বলল: একজন রোজাদার ব্যক্তি যাকে রোজা অত্যন্ত পরিশ্রান্ত করে ফেলেছে—অথবা এই জাতীয় কোনো কথা। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বললেন: সফরে রোজা রাখা কোনো নেকির কাজ নয়) (৩)।

এর তাৎপর্য হতে পারে: কোনো ব্যক্তির নিজেকে এই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া নেকির কাজ নয়—চাই তা ফরজ রোজা হোক বা নফল—অথচ আল্লাহ তাকে শিথিলতা (أرخص) প্রদান করেছেন এবং সুস্থ অবস্থায় ইফতার করা তার জন্য বৈধ ছিল।

 

আবার এমন অর্থও হতে পারে যে, এটি সেই পর্যায়ের আবশ্যিক নেকি নয় যা পালন না করলে গুনাহ হবে।

 

সুতরাং কাব বিন আসিম হাদিসটির একাংশ বর্ণনা করেছেন এবং জাবির হাদিসটি পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করেছেন। ফলে হাদিসের প্রেক্ষাপট (سبب الحديث) স্পষ্ট হয়ে গেল। আর যে ব্যক্তি রোজা পালনে সক্ষম এবং এতে পরিশ্রান্ত হন না, তিনি এই শিথিলতার (رخصة) সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন; চাইলে রোজা রাখবেন আর চাইলে ইফতার করবেন (৪)।

 

‌‌৩- বর্ণনাকারীর (الراوي) অবস্থার ভিন্নতা উপলব্ধি করতে না পারা:

উদাহরণস্বরূপ:

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি (৪/১৮৬) ও মুসলিম (৭/২৩৪) বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি বুখারি (৪/১৭৯) বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি বুখারি (৪/১৮৩) বর্ণনা করেছেন।

(৪) ইখতিলাফুল হাদিস, পৃষ্ঠা ৮১-৮৭ (পরিমার্জিত)।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ما وقع من تعارض في أحاديث استقبال القبلة بالبول والغائط فقد روي فيها حديثان ظاهرهما التعارض، وهما حديثا أبي أيوب وابن عمر رضي الله عنهما.

فعن أبي أيوب الأنصاري رضي الله عنه قال:

(قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَتَى أَحَدُكُمْ الْغَائِطَ فَلَا يَسْتَقْبِل الْقِبْلَةَ وَلَا يُوَلِّهَا ظَهْرَهُ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا " (1) قال أبو أيوب: فَقَدِمْنَا الشَّامَ فَوَجَدْنَا مَرَاحِيضَ قَدْ بُنِيَتْ قِبَلَ الْقِبْلَةِ فَنَنْحَرِفُ عَنْهَا وَنَسْتَغْفِرُ اللَّهَ تعالى) (2) .

وعن ابن عمر رضي الله عنه: (رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى لَبِنَتَيْنِ مُسْتَقْبِلًا بَيْتَ الْمَقْدِسِ لِحَاجَتِهِ) (3) .

فأبو أيوب رضي الله عنه-سمع من رسول الله صلى الله عليه وسلم النهي وجهل الحال التي ورد النهي فيها، وابن عمر رضي الله عنه رأى فعل النبي صلى الله عليه وسلم المخالف لقوله، فعلم أن هذه الحال- وهي حال قضاء الحاجة في البناء- غير داخلة في النهي الذي رواه أبو أيوب رضي الله عنه ولم يعلم أبو أيوب ما علم ابن عمر رضي الله عنه فكان ينحرف عن استقبال القبلة في المراحيض، ويستغفر الله ظاناً أن استقبال القبلة مما نهي عنه في كل مكان (4) .

 

‌‌4- بعض الرواة يدرك جواباً لسؤال، ولا يدرك السؤال فيرويه فتخالف روايتُه روايةَ من أدرك السؤال ورواهما جميعاً:

مثاله:

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (1/245) وسيأتي تخريجه.

(2) رواه مسلم (3/153) .

(3) رواه البخاري (1/246) .

(4) تراجع هذه المسألة في الباب الأول من هذا البحث ص:
প্রস্রাব এবং মলত্যাগের সময় কিবলার দিকে মুখ করার বিষয়ে যে বিরোধ (تعارض) পরিলক্ষিত হয়, সে সম্পর্কে দুটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে যেগুলোর বাহ্যিক রূপ পরস্পর বিরোধী (تعارض); আর সেগুলো হলো আবু আইয়ুব এবং ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণিত দুটি হাদিস।

আবু আইয়ুব আল-আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন মলত্যাগের জন্য আসে, সে যেন কিবলার দিকে মুখ না করে এবং তার দিকে পিঠও না দেয়; বরং তোমরা পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে মুখ করো।" (১) আবু আইয়ুব বলেন: এরপর আমরা সিরিয়ায় আসলাম এবং সেখানে কিবলার দিকে মুখ করে নির্মিত কিছু শৌচাগার দেখতে পেলাম। ফলে আমরা সেগুলো থেকে কিছুটা ঘুরে বসতাম এবং মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতাম।) (২) ।

আর ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: (আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর প্রয়োজনে দুটি ইটের ওপর বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে বসতে দেখেছি।) (৩) ।

আবু আইয়ুব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে নিষেধ (النهي) শুনেছিলেন কিন্তু কোন অবস্থায় এই নিষেধ (النهي) প্রযোজ্য সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। অন্যদিকে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন আমল দেখেছিলেন যা তাঁর বাণীর পরিপন্থী ছিল। ফলে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই অবস্থাটি—অর্থাৎ দালানের ভেতরে হাজত পূরণ করা—আবু আইয়ুব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত সেই নিষেধের (النهي) অন্তর্ভুক্ত নয়। আবু আইয়ুব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তা জানতেন না যা ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জানতেন। তাই তিনি শৌচাগারের ভেতরেও কিবলার দিক থেকে ঘুরে বসতেন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন, এই ধারণা পোষণ করে যে কিবলার দিকে মুখ করা সব জায়গাতেই নিষিদ্ধ (منهي عنه) (৪)।

 

‌‌৪- কিছু বর্ণনাকারী (الرواة) কোনো প্রশ্নের উত্তর শুনতে পান, কিন্তু প্রশ্নটি শুনতে পান না; ফলে তিনি তা বর্ণনা করেন এবং এতে তাঁর বর্ণনা (رواية) সেই ব্যক্তির বর্ণনার (رواية) বিপরীত হয়ে যায় যিনি প্রশ্নটি শুনেছিলেন এবং উভয়টিই বর্ণনা করেছিলেন:

উদাহরণস্বরূপ:

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি (১/২৪৫) বর্ণনা করেছেন এবং সামনে এর উৎস বিশ্লেষণ (تخريج) আসবে।

(২) এটি মুসলিম (৩/১৫৩) বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি বুখারি (১/২৪৬) বর্ণনা করেছেন।

(৪) এই বিষয়টি অত্র গবেষণার প্রথম পরিচ্ছেদের ... পৃষ্ঠায় দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
تعارض حديث أسامة بن زيد رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إِنَّمَا الرِّبَا فِي النَّسِيئَةِ) (1) ، مع حديث عبادة بن الصامت رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لَا تَبِيعُوا الذَّهَبَ بِالذَّهَبِ وَلَا الْوَرِقَ بِالْوَرِقِ وَلَا الْبُرَّ بِالْبُرِّ وَلَا الشَّعِيرَ بِالشِّعِيرِ وَلَا التَّمْرَ بِالتَّمْرِ وَلَا الْمِلْحَ بِالْمِلْحِ إِلَاّ سْوَاءً بِسَوَاءٍ عَيْنًا بِعَيْنٍ يَدًا بِيَدٍ وَلَكِنْ بِيعُوا الذَّهَبَ بِالْوَرِقِ وَالْوَرِقَ بِالذَّهَبِ وَالْبُرَّ بِالشِّعِيرِ وَالشَّعِيرَ بِالْبُرِّ وَالتَّمْرَ بِالْمِلْحِ وَالْمِلْحَ بِالتَّمْرِ يَدًا بِيَدٍ كَيْفَ شِئْتُمْ " (2) .

فحديث أسامة يفيد أن الربا بالتأخير من غير تقابض هو الربا، وإن كان بغير زيادة، وأما حديث عبادة وما في معناه فيفيد خلاف ذلك، وقد بين الشافعي رحمه الله سبب هذا التعارض فقال:

" قد يحتمل أن يكون أسامة رضي الله عنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يُسئل عن الربا في صنفين مختلفين؛ ذهب بفضة، وتمر بحنطة، فقال: (إنما الربا في النسيئة) فحفظه، فأدى قول النبي صلى الله عليه وسلم ولم يؤدِّ مسألة السائل، فكان ما أدى منه عند سمعه أن لا ربا إلا في النسيئة" (3) .

 

‌‌5- عدم التمكن من معرفة صحيح الحديث من سقيمه، فيعارض الصحيح بالسقيم، والسقيم لا يخلو أن يكون وهماً أو غلطاً أو كذباً أو وضعاً:

مثاله:

ما ورد في سؤر الهر، فقد روي من حديث أبي قتادة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ، هِيَ مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ " (4) .

ويعارضه ما روي من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " لِطهورِ

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم (5/50) .

(2) أخرجه الترمذي (3/531) .

(3) اختلاف الحديث ص 204 بتصرف.

(4) سيأتي تخريجه ص:
উসামা বিন জায়েদ (রা.) বর্ণিত হাদিস, যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই সুদ কেবল বাকিতে লেনদেনের (النسيئة) মধ্যে" (১), এর সাথে উবাদাহ বিন সামিত (রা.) বর্ণিত হাদিসের বৈপরীত্য দেখা যায় যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রুপার বিনিময়ে রুপা, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবণের বিনিময়ে লবণ সমান সমান, পণ্য উপস্থিত থাকা অবস্থায় এবং হাতে হাতে (নগদ) ব্যতীত বিক্রয় করো না। তবে তোমরা স্বর্ণের বিনিময়ে রুপা, রুপার বিনিময়ে স্বর্ণ, গমের বিনিময়ে যব, যবের বিনিময়ে গম, খেজুরের বিনিময়ে লবণ এবং লবণের বিনিময়ে খেজুর যেভাবে ইচ্ছা হাতে হাতে (নগদ) বিক্রয় করো" (২)।

উসামার হাদিসটি এই অর্থ প্রদান করে যে, লেনদেন হাতে হাতে না হয়ে কেবল বিলম্বিত হওয়ার কারণেই সুদ হয়, যদিও তাতে অতিরিক্ত কিছু না থাকে। পক্ষান্তরে উবাদাহ-র হাদিস এবং এই অর্থবোধক অন্যান্য হাদিসগুলো এর বিপরীত অর্থ প্রদান করে। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) এই বৈপরীত্যের কারণ বর্ণনা করে বলেন:

"সম্ভবত উসামা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দুটি ভিন্ন প্রকারের পণ্য; যেমন স্বর্ণের বিনিময়ে রুপা এবং খেজুরের বিনিময়ে গম সম্পর্কে সুদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছিলেন। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ) বলেছিলেন: 'সুদ কেবল বাকিতে লেনদেনের (النسيئة) ক্ষেত্রে'। তিনি এটিই মুখস্থ করেছিলেন এবং তিনি কেবল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীটি বর্ণনা করেছেন কিন্তু প্রশ্নকারীর প্রশ্নটি বর্ণনা করেননি। ফলে তাঁর শোনা বাণী থেকে যা তিনি বর্ণনা করেছেন তাতে এই ধারণা হয়েছে যে, বাকিতে লেনদেন ব্যতীত অন্য কোনো সুদ নেই" (৩)।

 

‌‌৫- সহিহ (صحيح) হাদিস থেকে অসুস্থ বা দুর্বল (سقيم) হাদিসকে পৃথক করতে সক্ষম না হওয়া; ফলে সহিহ (صحيح) হাদিসের বিপরীতে অসুস্থ বা দুর্বল (سقيم) হাদিসকে উপস্থাপন করা হয়। অথচ অসুস্থ বা দুর্বল (سقيم) হাদিসটি কোনো না কোনো ভ্রম (وهم), ভুল (غلط), মিথ্যা (كذب) অথবা জালকরণ (وضع) থেকে মুক্ত নয়:

উদাহরণস্বরূপ:

বিড়ালের উচ্ছিষ্ট বা লালা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে; আবু কাতাদাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এটি অপবিত্র নয়, বরং এটি তোমাদের আশেপাশে অধিক বিচরণকারী প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত" (৪)।

এর বিপরীতে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করা হয় যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পবিত্রতার জন্য...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৫/৫০)।

(২) তিরমিজি এটি বের করেছেন (৩/৫৩১)।

(৩) ইখতিলাফুল হাদিস, পৃ. ২০৪ (সংক্ষেপিত)।

(৪) এর তাখরিজ (تخريج) সামনে আসবে, পৃ:
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
إِنَاءِ أَحدِكُم إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِيهِ أَنْ يُغْسَلَ سَبْعَ مَرَّاتٍ الأُولَى بِالتُّرَابِ، وَالْهِرَّةُ مِثْلُ ذَلِكَ " (1) .

فهذه الأحاديث يظن من لم يعرف صحتَها من سقمِها تعارضَها، فإذا درس هذه الأحاديث علم ضعف الحديث الثاني وبه يتبين أنه لا تعارض بين الحديثين.

 

‌‌6- عدم فهم النص، وحمله على غير ما عني به:

مثاله:

ما روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من قوله: "إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ آدَم عَلَى صُورَة الرَّحْمَن ".

فإن هذا الحديث رواه أحد الرواة بهذا اللفظ؛ وذلك لأنه فهم فهماً خاطئاً للنص الذي سمعه وهو قوله: "

إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ آدَمَ عَلَى صُورَتِهِ " (2) .

فإن الراوي باللفظ الأول فهم أن هاء الكناية تعود إلى لفظ الجلالة، فغير اللفظ على ما فهم، وليس ما فهمه صحيحاً؛ فإن هاء الكناية تعود إلى العبد الذي دل عليه الحديث الآخر، وذلك أن النبي -صلى الله عله وسلم- مرّ برجل يضرب ابنه أو عبده في وجهه لطماً ويقول: قبح الله وجهك ووجه من أشبه وجهك، فقال صلى الله عليه وسلم: " إذَا ضَرَبَ أَحَدُكُمْ عَبْدَه فَلْيَتَّقِ الْوَجْهَ فَإِنَّ اللَّهَ خَلَقَ آدَمَ عَلَى صُورَتِهِ " (3) .

وهذا يوقع في اللبس والإشكال المتحصل من رواية من لم يفهم النص.

 

‌‌المبحث الثاني:

معنى الترجيح وأسبابه
.

 

‌‌أولاً: معنى الترجيح:

 

‌‌الترجيح في اللغة:

أصل الترجيح الراء، والجيم، والحاء، أصل يدل على الرزانة والزيادة، والميل والثقل والتذبذب.

--------------------------------------------

(1) سيأتي تخريجه ص:

(2) أخرجه مسلم (16/165) .

(3) مشكل الحديث لابن فورك ص 6، 7.
"তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর মুখ দেয়, তবে তা সাতবার ধৌত করতে হবে যার প্রথমবার হবে মাটি দিয়ে; আর বিড়ালও এর অনুরূপ।" (১) .

এই হাদিসগুলো সম্পর্কে এমন ব্যক্তি বৈপরীত্যের ধারণা পোষণ করেন, যার এগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) ও ত্রুটিপূর্ণতা (سقم) সম্পর্কে জ্ঞান নেই। তবে তিনি যদি এই হাদিসগুলো অধ্যয়ন করেন, তবে দ্বিতীয় হাদিসটির দুর্বলতা (ضعف) সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হবে যে, হাদিস দুটির মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই।

 

‌‌৬- মূল পাঠ অনুধাবনে অক্ষমতা এবং একে অভীষ্ট অর্থ ব্যতীত অন্য অর্থে গ্রহণ করা:

উদাহরণস্বরূপ:

রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত তাঁর এই বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে দয়াময় (রহমান)-এর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন"‌।

নিশ্চয়ই জনৈক বর্ণনাকারী এই হাদিসটি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন; আর তা এই কারণে যে, তিনি যা শুনেছেন সেই পাঠটির ভুল অর্থ অনুধাবন করেছিলেন, আর তা হলো তাঁর এই বাণী: "

নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে তাঁর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন" (২) ।

প্রথম শব্দে বর্ণিত পাঠের বর্ণনাকারী এটি বুঝেছিলেন যে, ইঙ্গিতসূচক সর্বনামটি মহান আল্লাহর দিকে ফিরেছে, তাই তিনি তাঁর বুঝ অনুযায়ী শব্দ পরিবর্তন করেছিলেন। অথচ তাঁর এই বুঝ সঠিক নয়; কারণ সর্বনামটি সেই বান্দার দিকে ফিরেছে যার দিকে অন্য হাদিসটি ইঙ্গিত করে। আর তা হলো, নবী (সা.) এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে তার পুত্র বা দাসকে মুখে চড় মারছিল এবং বলছিল: আল্লাহ তোমার চেহারা এবং যার চেহারা তোমার চেহারার মতো তাদের চেহারা কুৎসিত করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "তোমাদের কেউ যখন তার দাসকে প্রহার করবে, তখন সে যেন চেহারা এড়িয়ে চলে, কারণ আল্লাহ আদমকে তার আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন" (৩) ।

এটি এমন ব্যক্তির বর্ণনার ফলে সৃষ্ট বিভ্রান্তি ও জটিলতার সৃষ্টি করে যে মূল পাঠ অনুধাবন করতে পারেনি।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:

তারজিহ (ترجيح - প্রাধান্য দান)-এর অর্থ ও এর কারণসমূহ
.

 

‌‌প্রথমত: তারজিহ (ترجيح)-এর অর্থ:

 

‌‌অভিধান অনুযায়ী তারজিহ (الترجيح):

তারজিহ (الترجيح) শব্দের মূল বর্ণ হলো 'রা', 'জিম' ও 'হা'; এটি এমন এক মূল ধাতু যা গাম্ভীর্য, আধিক্য, ঝোঁক, ভার ও দোদুল্যমানতা নির্দেশ করে।

--------------------------------------------

(১) এর তাখরিজ (تخريج - উৎস অনুসন্ধান) সামনে আসবে পৃষ্ঠা:

(২) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (১৬/১৬৫) ।

(৩) মুশকিুলুল হাদিস লি-ইবনে ফুরাক, পৃ. ৬, ৭।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
يقال: رَجَحَ الشيءَ بيده، رَزَنَه ونظر ما ثقله، ورَجَحَ الميزانُ إذا ثقلت كفَّتُه بالموزون، ورَجَحَ في مجلسه يرجُحُ: ثقل فلم يخِفّ، وترَجَّحَتْ به الأرجوحة مالت، وترَجَّح: تذبذب، والترجُّحُ: التذبذب، وراجحته فرجحته أي كنت أرزنَ منه (1) .

 

‌‌الترجيح في الاصطلاح:

 

لم يعرف المحدثون الترجيح بل أحالوا في ذلك على كتب الأصول التي ذكرت له تعاريف كثيرة لعدد من العلماء اخترت أجمعها وأمنعها وهو تعريف الآمدي، عرَّفه بقوله:

" أما الترجيح فعبارة عن: اقتران أحد الصالحين للدلالة على المطلوب مع تعارضهما بما يوجب العمل به وإهمال الآخر.

فقولنا: "اقتران أحد الصالحين" احتراز عما ليسا بصالحين للدلالة، أو أحدهما صالح والآخر ليس بصالح، فإن الترجيح إنما يكون مع تحقق التعارض ولا تعارض مع عدم الصلاحية للأمرين أو أحدهما.

قولنا: "مع تعارضهما" احتراز عن الصالحين اللذين لا تعارض بينهما، فإن الترجيح إنما يطلب عند التعارض لا مع عدمه، وهو عام بالمتعارضين مع التنافي في الاقتضاء، كالأدلة المتعارضة في الصور المختلف فيها نفياً وإثباتاً.

وقولنا: "بما يوجب العمل بأحدهما وإهمال الآخر" احتراز عما اختص به أحد الدليلين عن الآخر من الصفات الذاتية أو العرضية، ولا مدخل له في التقوية والترجيح" (2) .

كما عرَّفه الإمام الرازي بأنه:

" تقوية أحد الطريقين على الآخر ليعلم الأقوى، فيعمل به، ويطرح الآخر ".

وقال شارحاً للتعريف:

" وإنما قلنا "طريقين" لأنه لا يصح الترجيح بين أمرين إلا بعد تكامل كونهما طريقين، لو انفرد كل واحد منهما، فإنه لا يصح ترجيح الطريق على ما ليس بطريق" (3) .

--------------------------------------------

(1) لسان العرب (2/445، 446) مادة (ر ج ح) ، المصباح المنير (1/219) مادة (ر ج ح) ، القاموس المحيط (1/229)

مادة (رج ح) .

(2) الإحكام في أصول الأحكام (4/239) .

(3) المحصول 2/القسم الثاني ص 529.
বলা হয়: সে হাত দিয়ে কোনো বস্তুকে ওজন (رَجَحَ) করল, সেটির ভার পরীক্ষা করল এবং ওজন দেখল। পাল্লা ঝুঁকে পড়ল (رَجَحَ) যখন মাপার জিনিসের কারণে তার একদিকের পাল্লা ভারী হলো। তিনি তার মজলিসে গাম্ভীর্যপূর্ণ (رَجَحَ) হলেন: অর্থাৎ তিনি স্থির ও গম্ভীর হলেন এবং হালকা বা চপল হলেন না। দোলনাটি তাকে নিয়ে হেলে পড়ল অর্থাৎ ঝুঁকে পড়ল। আর দোদুল্যমান হওয়া (ترجَّح) অর্থ হলো অস্থির হওয়া বা দোল খাওয়া। 'আত-তরাজজুহ' (الترجُّحُ) অর্থ: অস্থিরতা বা দোদুল্যমানতা। আমি তার সাথে ওজনে পাল্লা দিলাম এবং জয়ী হলাম (راجحته فرجحته), অর্থাৎ আমি তার চেয়ে বেশি স্থির ও গাম্ভীর্যপূর্ণ ছিলাম (১)।

 

‌‌পারিভাষিক অর্থে প্রাধান্যদান (الترجيح):

 

মুহাদ্দিসগণ প্রাধান্যদান (الترجيح)-এর কোনো পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদান করেননি, বরং তারা এ বিষয়ে উসুল (মূলনীতি) শাস্ত্রের কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করেছেন, যেখানে আলিমগণ এর অনেক সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন। আমি সেগুলোর মধ্য থেকে আমেদির সংজ্ঞাটি গ্রহণ করেছি যা অত্যন্ত সুসংহত ও অর্থবহ। তিনি এর সংজ্ঞায় বলেছেন:

"আর প্রাধান্যদান (الترجيح) হলো: কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের ওপর নির্দেশক হিসেবে যোগ্য দুটি বিষয়ের মধ্যে বৈপরীত্য (تعارض) তৈরি হওয়ার সময় তাদের একটির সাথে এমন কিছু যুক্ত হওয়া যা তার ওপর আমল করা এবং অন্যটিকে বর্জন করা আবশ্যক করে।"

আমাদের এই কথা: "যোগ্য দুটি বিষয়ের একটির সাথে যুক্ত হওয়া" দ্বারা এমন বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকা উদ্দেশ্য যা নির্দেশক হওয়ার যোগ্য নয়, অথবা যেগুলোর একটি যোগ্য কিন্তু অন্যটি যোগ্য নয়। কেননা প্রাধান্যদান (الترجيح) কেবল তখনই কার্যকর হয় যখন বৈপরীত্য (تعارض) নিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত হয়। আর দুটি বিষয়ের মধ্যে বা কোনো একটির মধ্যে দলিল হওয়ার যোগ্যতা না থাকলে সেখানে কোনো বৈপরীত্য (تعارض) থাকে না।

আর আমাদের কথা: "যা একটির ওপর আমল করা এবং অন্যটিকে বর্জন করা আবশ্যক করে" দ্বারা ওইসব সত্তাগত বা বাহ্যিক গুণাবলিকে বাদ দেওয়া হয়েছে যা কোনো একটি দলিলে এককভাবে থাকে কিন্তু অন্যটিতে থাকে না, অথচ দলিলকে শক্তিশালী করা বা প্রাধান্যদান (الترجيح)-এর ক্ষেত্রে সেগুলোর কোনো ভূমিকা নেই" (২)।

অনুরূপভাবে ইমাম রাজি একে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে:

"দুটি পথের (সনদ বা দলিলের) একটিকে অন্যটির ওপর শক্তিশালী করা যাতে অধিক শক্তিশালী বিষয়টি জানা যায়, অতঃপর সে অনুযায়ী আমল করা হয় এবং অন্যটি বর্জন করা হয়।"

তিনি সংজ্ঞার ব্যাখ্যায় বলেন:

"আমরা 'দুটি পথ' বলেছি কারণ দুটি বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে দলিল হিসেবে সাব্যস্ত হওয়ার আগে তাদের মধ্যে প্রাধান্যদান (الترجيح) সঠিক হয় না। যদি তাদের প্রতিটি পৃথকভাবে দলিল হওয়ার যোগ্য হয় (তবেই এটি সম্ভব), কারণ যা দলিল হওয়ার যোগ্য নয় তার ওপর কোনো সঠিক দলিলকে প্রাধান্য দেওয়া শুদ্ধ নয়" (৩)।

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব (২/৪৪৫, ৪৪৬), শব্দমূল (ر ج ح); আল-মিসবাহুল মুনির (১/২১৯), শব্দমূল (ر ج ح); আল-কামুসুল মুহিত (১/২২৯), শব্দমূল (رج ح)।

(২) আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম (৪/২৩৯)।

(৩) আল-মাহসুল ২/দ্বিতীয় অংশ, পৃ. ৫২৯।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌ثانياً: أسباب الترجيح ووجوهه:

إن التعارض إذا وقع بين حديثين نظر؛ فإن كان بينهما نسخ-وذلك بمعرفة التاريخ- أبطل العمل بالأول وعمل بالآخر، فإن لم يعرف التاريخ نظر؛ فإن أمكن الجمع بينهما عمل به، فإن لم يمكن الجمع ولم يعرف التاريخ تعين المصير إلى ترجيح أحدهما على الآخر.

والترجيح له أسباب ووجوه كثيرة، منها ما يكون باعتبار السند، ومنها ما يكون باعتبار المتن.

 

وسأبدأ بذكر الأسباب التي تكون باعتبار السند، وهي إما تعود إلى الراوي وإما إلى الرواية، وإما إلى المروي، وإما إلى المروي عنه.

 

‌‌أما ما يعود إلى الراوي فأسباب منها:

1- أن تكون رواة أحدهما أكثر من رواة الآخر، فما كان رواته أكثر يكون مرجحَاً، لأنه أغلب على الظن من جهة أن احتمال وقوع الغلط والكذب على العدد الأكثر أبعد من احتمال وقوعه في العدد الأقل، ولأن خبر كل واحد من الجماعة يفيد الظن.

ولا يخفى أن الظنون المجتمعة كلما كانت أكثر كانت أغلب على الظن حيث ينتهي إلى القطع، ولهذا فإنه لما كان الحد الواجب في الزنا من أكبر الحدود وآكدها؛ جعلت الشهادة عليه أكثر عددا من غيره، وأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يعمل بقول ذي اليدين (أَقُصِرَتِ الصَّلَاةُ أَمْ نَسِيتَ) (1) ، حتى أخبره بذلك أبو بكر وعمر رضي الله عنهما.

2- أن يكون راوي أحد الحديثين مشهوراً بالعدالة والثقة بخلاف الآخر، أو أنه أشهر بذلك، فروايته مرجحة لأن سكون النفس إليه أشد والظن بقوله أقوى.

نحو: ما إذا اتفق مالك بن أنس وشعيب بن أبي حمزة في الزهري؛ فإن شعيباً وإن كان حافظاً ثقة غير أنه لا يوازي مالكاً في إتقانه وحفظه، ومن اعتبر حديثهما وجد بينهما بوناً بعيداً.

3- أن يكون أحد الراويين متفقاً على عدالته والآخر مختلفاً فيه، فالمصير إلى المتفق عليه أولى.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (1/565) .
‌‌দ্বিতীয়ত: তারজিহ (ترجيح) বা অগ্রাধিকার প্রদানের কারণ ও পদ্ধতিসমূহ:

যখন দুটি হাদিসের মধ্যে বৈপরীত্য (تعارض) দেখা দেয়, তখন তা পর্যালোচনা করা হয়। যদি তাদের মধ্যে নাসখ (نسخ) বা রহিতকরণ বিদ্যমান থাকে—যা ইতিহাস বা সময়কাল জানার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়—তবে প্রথমটির ওপর আমল বাতিল করা হয় এবং পরবর্তীটির ওপর আমল করা হয়। যদি ইতিহাস জানা না থাকে, তবে দেখা হয়; যদি তাদের মধ্যে সমন্বয় (الجمع) করা সম্ভব হয়, তবে সে অনুযায়ী আমল করা হয়। আর যদি সমন্বয় (الجمع) করা সম্ভব না হয় এবং ইতিহাসও জানা না থাকে, তখন একটিকে অপরটির ওপর তারজিহ (ترجيح) বা অগ্রাধিকার প্রদান করা অবধারিত হয়ে পড়ে।

তারজিহ (ترজিহ) এর অনেক কারণ ও দিক রয়েছে। তার কিছু সনদ (سند) তথা সূত্র বিবেচনার ভিত্তিতে হয়, আর কিছু মাতান (متن) তথা মূল পাঠ বিবেচনার ভিত্তিতে হয়।

 

আমি সনদ (سند) সংশ্লিষ্ট কারণগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করব। এগুলো হয় রাবি (راوي) তথা বর্ণনাকারী সংক্রান্ত, অথবা বর্ণনা (رواية) পদ্ধতি সংক্রান্ত, অথবা মারবি (مروي) তথা বর্ণিত বিষয় সংক্রান্ত, অথবা যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে (مروي عنه) তথা উৎস সংক্রান্ত।

 

‌‌রাবি (راوي) বা বর্ণনাকারী সংক্রান্ত কারণসমূহ হলো:

১- একটির রাবি (راوي) সংখ্যা অপরটির তুলনায় অধিক হওয়া। যেটির রাবি (راوي) সংখ্যা বেশি সেটিই অগ্রগণ্য (مرجح) হবে। কারণ এটি প্রবল ধারণার (الظن) অধিক নিকটবর্তী যে, কম সংখ্যক বর্ণনাকারীর তুলনায় অধিক সংখ্যক বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে ভুল হওয়া বা মিথ্যা বলার সম্ভাবনা অনেক কম। তাছাড়া দলের প্রত্যেক সদস্যের খবর একটি ধারণা (الظن) প্রদান করে।

এটা সুবিদিত যে, সম্মিলিত ধারণাগুলো যত বেশি হয়, তা প্রবল ধারণার (الظن) ক্ষেত্রে তত শক্তিশালী হয় এবং এক পর্যায়ে তা অকাট্যতার (القطع) পর্যায়ে পৌঁছে। এ কারণেই ব্যভিচারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দণ্ড যেহেতু সবচেয়ে বড় ও কঠোর দণ্ডসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তাই এর সাক্ষীর সংখ্যা অন্য বিষয়ের তুলনায় অধিক নির্ধারণ করা হয়েছে। তদ্রূপ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুল ইয়াদাইনের কথা—"নামাজ কি সংক্ষেপ করা হয়েছে নাকি আপনি ভুলে গেছেন?"—এর ওপর ততক্ষণ আমল করেননি, যতক্ষণ না আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁকে এ ব্যাপারে অবহিত করেছেন।

২- কোনো একটি হাদিসের রাবি (راوي) অপরটির রাবি (راوي)-র তুলনায় ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও নির্ভরযোগ্যতা (ثقة)-র জন্য প্রসিদ্ধ হওয়া, অথবা এ ক্ষেত্রে অধিক প্রসিদ্ধ হওয়া। এমতাবস্থায় তার বর্ণনাটি অগ্রগণ্য (مرجحة) হবে; কারণ তার প্রতি হৃদয়ের স্থিরতা অধিক থাকে এবং তার বর্ণনার ওপর ধারণা অধিক শক্তিশালী হয়।

উদাহরণস্বরূপ: ইমাম যুহরীর বর্ণনার ক্ষেত্রে যখন মালিক ইবন আনাস এবং শুআইব ইবন আবি হামযাহ একমত হন; শুআইব যদিও একজন হাফিজ (حافظ) ও নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী ছিলেন, তবুও তিনি মুখস্থশক্তি ও পারঙ্গমতার (إتقان) ক্ষেত্রে ইমাম মালিকের সমতুল্য নন। যে ব্যক্তি তাদের উভয়ের হাদিস বিচার-বিশ্লেষণ করবে, সে তাদের মাঝে এক বিশাল ব্যবধান দেখতে পাবে।

৩- কোনো একজন রাবি (راوي)-র ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) বিষয়ে সকল বিশেষজ্ঞ একমত হওয়া এবং অপরজনের ব্যাপারে মতভেদ থাকা। এমতাবস্থায় সর্বসম্মত রাবির বর্ণনার দিকে ধাবিত হওয়া উত্তম।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি (১/৫৬৫) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
مثاله: حديث بسرة بنت صفوان في مس الذكر مع ما يعارضه من حديث طلق، فحديث بسرة رواه مالك عن عبد الله بن أبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم عن عروة بن الزبير وليس فيهم إلا من هو عدل صدوق متفق على عدالته، وأما رواة حديث طلق فقد اختلف في عدالتهم، فالمصير إلى حديث بسرة أولى (1) .

4- أن يكون أحد الراويين قد عمل بما روى والآخر خالف ما روى، فمن لم يخالف روايته أولى لكونه أبعد عن الكذب بل هو أولى من رواية من لم يظهر منه العمل بروايته.

5- أن يكون أحد الراويين أعلم وأضبط من الآخر أو أورع وأتقى، فروايته أرجح لأنها أغلب على الظن.

6- أن يكون أحد الراويين حال روايته ذاكراً للرواية عن شيخه غير معتمد في ذلك على نسخة سماعه أو خط نفسه بخلاف الآخر، فهو أرجح لأنه يكون أبعد عن السهو والغلط.

7- أن يكون راوي أحد الحديثين حين سمع الحديث كان بالغاً، والثاني كان صغيراً حال الأخذ، فالمصير إلى حديث الأول أولى؛ لأن البالغ أفهم للمعاني وأتقن للألفاظ، وأبعد من غوائل الاختلاط وأحرص على الضبط وأشد اعتناءً بمراعاة أصوله من الصبي، ولأن الكبير سمعه في حال لو أخبر به لقبل منه بخلاف الصبي، ولهذا فإن بعض أهل المعرفة بالحديث لما ذُوكِر في أصحاب الزهري رجح مالكاً على سفيان بن عيينة لأن مالكاً أخذ عن الزهري وهو كبير، وابن عيينة إنما صحب الزهري وهو صغير دون الاحتلام.

8- أن يكونا مرسلين وقد عرف من حال أحد الراويين أنه لا يروي عن غير العدل كابن المسيب ونحوه، بخلاف الآخر، فرواية الأول تكون أولى (2) .

--------------------------------------------

(1) سيأتي الحديث في مسألة مس الذكر بالتفصيل في باب الوضوء ص

(2) وذلك لمن يحتج بالمرسل.
উদাহরণস্বরূপ: লিঙ্গ স্পর্শ করা সম্পর্কিত বুসরাহ বিনতে সাফওয়ানের হাদিস এবং এর বিপরীতে তালক-এর হাদিস। বুসরাহর হাদিসটি ইমাম মালিক বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের থেকে। তাদের মাঝে প্রত্যেকেই ন্যায়পরায়ণ (عدل) এবং সত্যবাদী (صدوق), যাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) বিষয়ে সকলে একমত। অপরদিকে তালক-এর হাদিসের বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অতএব, বুসরাহর হাদিসটি গ্রহণ করাই অধিকতর উত্তম (১)।

৪- দুই বর্ণনাকারীর মধ্যে একজন যদি তার বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী আমল করে থাকেন এবং অন্যজন তার বর্ণিত হাদিসের বিরোধিতা করেন, তবে যিনি তার বর্ণনার বিরোধিতা করেননি তারটি গ্রহণ করা অধিকতর উত্তম; কারণ এতে মিথ্যার সম্ভাবনা কম থাকে। বরং এটি এমন ব্যক্তির বর্ণনার চেয়েও অধিকতর অগ্রগণ্য যার আমল করার বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

৫- দুই বর্ণনাকারীর মধ্যে একজন যদি অপরজনের চেয়ে অধিক জ্ঞানী ও অধিকতর নির্ভুল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (أضبط) হন অথবা অধিক পরহেযগার ও খোদাভীরু হন, তবে তার বর্ণনাটি অধিকতর শক্তিশালী (أرجح) হবে; কারণ এটি সত্য হওয়ার প্রবল ধারণা দেয়।

৬- বর্ণনাকারীদের একজন যদি তার উস্তাদ থেকে হাদিস বর্ণনার সময় সরাসরি স্মৃতির ওপর নির্ভর করে বর্ণনা করেন এবং তার শ্রুত পাণ্ডুলিপি বা স্বহস্তে লিখিত কপির ওপর নির্ভরশীল না হন, তবে অন্যজনের বিপরীতে সেটি অধিকতর শক্তিশালী (أرجح); কারণ এতে ভুল ও বিচ্যুতি থেকে দূরে থাকার নিশ্চয়তা বেশি থাকে।

৭- কোনো একটি হাদিসের বর্ণনাকারী যদি হাদিস শ্রবণের সময় প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকেন এবং অপরজন গ্রহণের সময় ছোট বা অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকেন, তবে প্রথমজনের হাদিসটি গ্রহণ করাই অধিকতর উত্তম। কেননা একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অর্থের মর্ম বুঝতে অধিক সক্ষম, শব্দ চয়নে অধিক দক্ষ, স্মৃতিভ্রম (اختلاط) জনিত বিশৃঙ্খলা থেকে অধিক মুক্ত এবং কোনো শিশুর তুলনায় যথাযথভাবে নির্ভুল সংরক্ষণ (ضبط) ও মূল পাণ্ডুলিপি রক্ষায় অধিক মনোযোগী হয়ে থাকেন। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির শ্রবণ এমন অবস্থায় হয়েছে যে, তখন তিনি তা বর্ণনা করলে তা গ্রহণযোগ্য হতো, যা শিশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই কারণেই হাদিস বিশারদগণের কেউ কেউ যখন ইমাম যুহরীর ছাত্রদের ব্যাপারে আলোচনা করেন, তখন ইমাম মালিককে সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহর ওপর প্রাধান্য দেন। কারণ ইমাম মালিক যখন যুহরীর নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেন তখন তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন, আর ইবনে উয়াইনাহ যখন যুহরীর সাহচর্য লাভ করেন তখন তিনি শিশু ছিলেন এবং তখনও বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছাননি।

৮- উভয় বর্ণনা যদি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হয় এবং একজন বর্ণনাকারী সম্পর্কে জানা থাকে যে তিনি কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো থেকে বর্ণনা করেন না (যেমন ইবনুল মুসায়্যিব ও তাঁর সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ), পক্ষান্তরে অপরজনের ক্ষেত্রে এমনটি না হয়, তবে প্রথমজনের বর্ণনাটিই অধিকতর অগ্রগণ্য হবে (২)।

--------------------------------------------

(১) ওযুর অধ্যায়ে লিঙ্গ স্পর্শ করার মাসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত হাদিস সামনে আসবে।

(২) এটি তাদের জন্য যারা বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
9- أن يكون سماع أحد الراويين تحديثاً وسماع الثاني عرضاً، فالأول أولى بالترجيح، إذ لا طريق أبلغ من النطق بالثبوت، ولهذا قدم بعضهم عبيد الله بن عمر في الزهري على ابن أبي ذئب لأن سماع عبيد الله تحديث وسماع ابن أبي ذئب عرض (1) .

10-أن يكون أحد الراويين مباشراً لما رواه والثاني حاكياً، فالمباشر أعرف بالحال، مثاله: حديث ميمونة (أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَكَحَهَا وَهُوَ حَلَالٌ) (2) ، وبعضهم رواه (وهو حرام) (3) ، فممن رواه (نكحها وهو حلال) أبو رافع، وممن رواه (نكحها وهو حرام) ابن عباس، وحديث أبي رافع أولى بالتقديم لأن أبا رافع كان السفير بينهما فكان مباشراً للحال، وابن عباس كان حاكياً (4) ، ولهذا أحالت عائشة على علي لما سألوها عن المسح على الخفين وقالت: " سلوا علياً فإنه كان يسافر مع النبي صلى الله عليه وسلم" (5) .

11- أن يكون أحد الراويين صاحب القصة فيرجح حديثه لأن صاحب القصة أعرف بحاله من غيره وأكثر اهتماماً، ولذلك رجع نفر من الصحابة ممن يرى الماء من الماء إلى حديث عائشة رضي الله عنها من التقاء الختانين (6) .

12- أن يكون أحد الراويين أحسن سياقاً لحديثه من الآخر وأبلغ استقصاءً فيه، لأنه قد يحتمل أن يكون الراوي الآخر سمع بعض القصة فاعتقد أن ما سمعه مستقل بالإفادة، ويكون الحديث مرتبطاً بحديث آخر لا يكون هذا الراوي قد تنبه له، ولهذا من ذهب إلى الإفراد في الحج قدم حديث جابر (7) لأنه وصف خروج النبي صلى الله عليه وسلم من المدينة مرحلة مرحلة ودخوله مكة وحكى مناسكه على ترتيبه وانصرافه من المدينة، وغيره لم يضبطه ضبطه.

--------------------------------------------

(1) هذا عند من يقدم السماع على العرض.

(2) أخرجه مسلم (9/196، 197) .

(3) أخرجه مسلم (9/196) .

(4) المراد بالنكاح وهو حلال أي عقد عليها وليس معناه دخل بها.

(5) أخرجه مسلم (3/157) .

(6) سيأتي الكلام عن هذه المسألة مفصلاً من باب الغسل ص

(7) أخرجه البخاري (3/423) .
9- দুই জন বর্ণনাকারীর মধ্যে একজনের শ্রবণ যদি 'শিক্ষক কর্তৃক পাঠ' (تحديث) হয় এবং দ্বিতীয়জনের শ্রবণ 'ছাত্র কর্তৃক পাঠ' (عرض) হয়, তবে প্রথমটি প্রাধান্যযোগ্য (ترجيح)। কেননা শ্রুতির সত্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে মৌখিক উচ্চারণের চেয়ে অধিক বলিষ্ঠ আর কোনো পথ নেই। এই কারণেই কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ জুহরি থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে উবাইদুল্লাহ বিন উমরকে ইবনে আবি যিব-এর ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। কারণ উবাইদুল্লাহর শ্রবণ ছিল 'শিক্ষক কর্তৃক পাঠ' (تحديث) এবং ইবনে আবি যিব-এর শ্রবণ ছিল 'ছাত্র কর্তৃক পাঠ' (عرض) (১)।

10-দুই জন বর্ণনাকারীর একজন যদি যা বর্ণনা করছেন তাতে 'সরাসরি সম্পৃক্ত' (مباشر) হন এবং অন্যজন কেবল 'বর্ণনাকারী' (حاك) হন, তবে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তি অবস্থা সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত থাকেন। এর উদাহরণ: মায়মুনার হাদিস (যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করেছিলেন যখন তিনি হালাল বা ইহরামমুক্ত অবস্থায় ছিলেন) (২)। আবার বর্ণনাকারীদের কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন (যে তিনি এহরাম অবস্থায় ছিলেন) (৩)। যারা 'হালাল অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন' বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে আবু রাফে রয়েছেন। আর যারা 'এহরাম অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন' বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে ইবনে আব্বাস রয়েছেন। এক্ষেত্রে আবু রাফের হাদিসটি অগ্রগণ্য, কারণ আবু রাফে তাঁদের উভয়ের মধ্যে 'দূত' (سفير) হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন, ফলে তিনি ঘটনার সাথে 'সরাসরি সম্পৃক্ত' (مباشر) ছিলেন; অন্যদিকে ইবনে আব্বাস ছিলেন কেবল 'বর্ণনাকারী' (حاك) (৪)। এই কারণেই আয়েশা, যখন লোকেরা তাঁকে মোজার ওপর মাসেহ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল, তখন তিনি আলীর নিকট সোপর্দ করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "তোমরা আলীকে জিজ্ঞাসা করো, কারণ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সফরে থাকতেন" (৫)।

11- দুই জন বর্ণনাকারীর একজন যদি 'ঘটনার মূল ব্যক্তি' (صاحب القصة) হন, তবে তাঁর হাদিসকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। কারণ ঘটনার মূল ব্যক্তি নিজের অবস্থা সম্পর্কে অন্যদের চেয়ে বেশি জানেন এবং অধিক গুরুত্ব প্রদান করেন। এই কারণেই সাহাবীদের একদল—যারা বীর্যপাত ব্যতীত গোসল আবশ্যক মনে করতেন না—তারা দুই খাতনা একত্রিত হওয়ার বিষয়ে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদিসের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন (৬)।

12- এক জন বর্ণনাকারীর হাদিসের 'বিবরণ' (سياق) যদি অন্যজনের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর হয় এবং তাতে অধিক 'পুঙ্খানুপুঙ্খতা' (استقصاء) থাকে, তবে তা অগ্রগণ্য। কারণ এটি সম্ভব যে, অন্য বর্ণনাকারী ঘটনার কেবল অংশবিশেষ শুনেছেন এবং মনে করেছেন যে তিনি যা শুনেছেন তা-ই পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রদানের জন্য যথেষ্ট। অথচ সেই হাদিসটি অন্য আরেকটি হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে যার প্রতি এই বর্ণনাকারী লক্ষ্য করেননি। এই কারণেই যারা হজের ক্ষেত্রে 'ইফরাদ' (একক হজ)-এর প্রবক্তা, তারা জাবিরের হাদিসকে (৭) প্রাধান্য দেন। কারণ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মদিনা থেকে বের হওয়ার প্রতিটি পর্যায়, মক্কায় প্রবেশ, হজের কার্যাবলীর ধারাবাহিক বিবরণ এবং মদিনায় প্রত্যাবর্তন বর্ণনা করেছেন, যা অন্য কেউ তেমন নিখুঁতভাবে 'সংরক্ষণ' (ضبط) করতে পারেননি।

--------------------------------------------

(১) এটি তাদের নিকট যারা 'শিক্ষক কর্তৃক পাঠ'-কে 'ছাত্র কর্তৃক পাঠ'-এর ওপর প্রাধান্য দেন।

(২) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৯/১৯৬, ১৯৭)।

(৩) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৯/১৯৬)।

(৪) হালাল অবস্থায় বিবাহের অর্থ হলো তাঁর সাথে বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন হয়েছিল, এর অর্থ বাসর করা নয়।

(৫) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৩/১৫৭)।

(৬) গোসল অধ্যায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

(৭) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (৩/৪২৩)।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
13- أن يكون أحد الراويين أكثر ملازمة لشيخه، فإن المحدث قد ينشط تارة فيسوق الحديث على وجهه ويتكاسل في بعض الأوقات فيقتصر على البعض أو يرويه مرسلاً، وهذا الضرب يوجد كثيراً في حديث مالك بن أنس، ولهذا قدم يونس بن يزيد الأيلي في الزهري على النعمان بن راشد وغيره من الشاميين أصحاب الزهري، لأن يونس كان كثير الملازمة للزهري حتى كان يلازمه في أسفاره، وطول الصحبة له زيادة تأثير فيرجح به.

14- أن يكون أحد الراويين فقيهاً والآخر غير فقيه، أو أفقه وأعلم بالعربية، فخبره يكون مرجحاً لكونه أعرف بما يرويه لتمييزه بين ما يجوز ومالا يجوز.

15- أن يكون رواة أحد الحديثين ممن لا يجوزون نقل الحديث بالمعنى ورواة الآخر يرون ذلك، فحديث من يحافظ على اللفظ أولى لأن العلماء اختلفوا في جواز نقل الحديث بالمعنى مع اتفاقهم على أولوية نقله لفظاً، والحيطة الأخذ بالمتفق عليه دون غيره.

16- أن يكون أحد الراويين لم يضطرب لفظه والآخر قد اضطرب لفظه، فيرجح خبر من لم يضطرب لفظه لأنه يدل على حفظه وضبطه وسوء حفظ صاحبه (1) .

 

‌‌هذا ما يعود إلى الراوي، أما ما يعود إلى الرواية فأسباب الترجيح فيها كثيرة، منها:

 

1- أن يكون أحد الخبرين متواتراً والآخر آحاداً، فالمتواتر لتيقنه أرجح من الآحاد لكونه مظنوناً.

2- أن يكون أحد الخبرين مسنداً والآخر مرسلاً، فالمسند أولى لتحقق المعرفة براويه والجهالة بالراوي الآخر، ولهذا تقبل شهادة الفرع إذا عرف شاهد الأصل، ولا تقبل إذا شهد مرسلاً.

--------------------------------------------

(1) الإحكام في أصول الأحكام 4/242-245 بتصرف، وثمة أسباب لم أذكرها بغية الاختصار وليست في الأهمية بمثل ما سبق. وللاستزادة ينظر " التقييد والإيضاح" ص246، 247.
13- দুই বর্ণনাকারীর মধ্যে একজনের তার শাইখের (শিক্ষক) সাথে অধিক দীর্ঘ সাহচর্য থাকা। কেননা, মুহাদ্দিস কখনো কখনো উদ্যমের সাথে হাদিসটি যথাযথভাবে বর্ণনা করেন, আবার কখনো অলসতাবশত সংক্ষেপে বর্ণনা করেন অথবা সেটি বিচ্ছিন্ন (مرسلاً) ভাবে বর্ণনা করেন। এই বিষয়টি ইমাম মালিক ইবনে আনাসের হাদিসে প্রচুর পরিলক্ষিত হয়। এই কারণেই ইমাম জুহরির বর্ণনার ক্ষেত্রে ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ আল-আইলি-কে নুমান ইবনে রাশিদ এবং ইমাম জুহরির অন্যান্য শামি সঙ্গীদের তুলনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কারণ ইউনুস ইমাম জুহরির সাথে অধিক সময় অতিবাহিত করতেন, এমনকি সফরের সময়ও তিনি তাঁর সাথে থাকতেন। দীর্ঘ সাহচর্যের ফলে বর্ণনায় সূক্ষ্মতা ও প্রভাব বৃদ্ধি পায়, যা অগ্রাধিকারের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

14- দুই বর্ণনাকারীর মধ্যে একজন ফকিহ (فقيه) হওয়া এবং অন্যজন ফকিহ না হওয়া; অথবা একজনের অধিক ফকিহ এবং আরবি ভাষায় অধিক পারদর্শী হওয়া। এমতাবস্থায় তাঁর বর্ণিত সংবাদকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, কারণ তিনি যা বর্ণনা করছেন সে সম্পর্কে অধিক প্রজ্ঞাবান এবং তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনটি অনুমোদিত আর কোনটি নয় তা আলাদা করতে সক্ষম।

15- দুই হাদিসের মধ্যে একটির বর্ণনাকারীরা এমন হওয়া যারা হাদিসকে অর্থানুসারে বর্ণনা করা বৈধ মনে করেন না, আর অন্য হাদিসের বর্ণনাকারীরা তা বৈধ মনে করেন। এক্ষেত্রে যিনি শব্দের মূল রূপ বজায় রাখার ব্যাপারে অধিক যত্নবান তাঁর হাদিসটিই অগ্রাধিকারযোগ্য। কারণ উলামায়ে কেরাম হাদিসকে অর্থানুসারে বর্ণনা করার বৈধতা নিয়ে মতভেদ করলেও শব্দ অক্ষুণ্ণ রেখে বর্ণনা করার শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। তাই সতর্কতা হলো মতভেদপূর্ণ বিষয় পরিহার করে সর্বসম্মত বিষয়টি গ্রহণ করা।

16- দুই বর্ণনাকারীর মধ্যে একজনের বর্ণনাভঙ্গিতে কোনো বৈচিত্র্য বা অসংগতি (اضطراب) না থাকা এবং অন্যজনের বর্ণনায় অসংগতি থাকা। এক্ষেত্রে যাঁর বর্ণনায় অসংগতি নেই তাঁর বর্ণিত সংবাদটিই অগ্রাধিকার পাবে; কারণ এটি তাঁর প্রখর মুখস্থ শক্তি (حفظ) ও নিখুঁত সংরক্ষণ (ضبط) ক্ষমতার পরিচায়ক এবং অপরজনের দুর্বল মুখস্থ শক্তির প্রমাণ।

 

‌এগুলি বর্ণনাকারী সংক্রান্ত বিষয়; আর খোদ বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকারের কারণসমূহ অনেক। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

 

1- দুই খবরের মধ্যে একটি অকাট্যভাবে বর্ণিত (متواتر) হওয়া এবং অন্যটি একক বর্ণনা (آحاد) হওয়া। এক্ষেত্রে অকাট্যভাবে বর্ণিত (متواتر) বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার কারণে একক বর্ণনা (آحاد) অপেক্ষা অগ্রগণ্য, কারণ একক বর্ণনাটি ধারণাপ্রসূত।

2- দুই খবরের একটি সংযুক্ত (مسند) এবং অন্যটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হওয়া। এক্ষেত্রে সংযুক্ত (مسند) বর্ণনাটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য, কারণ এতে বর্ণনাকারী সম্পর্কে সুনিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা যায়, যেখানে অন্যটির ক্ষেত্রে বর্ণনাকারী অজ্ঞাত থেকে যায়। এ কারণেই যখন মূল সাক্ষীর পরিচয় জানা থাকে তখন শাখা সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়, কিন্তু বিচ্ছিন্ন (مرسل) ভাবে সাক্ষ্য দিলে তা গ্রহণ করা হয় না।

--------------------------------------------

(১) আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম ৪/২৪২-২৪৫ (সংক্ষেপিত)। সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে এখানে এমন কিছু কারণ উল্লেখ করা হয়নি যা পূর্বোল্লিখিত কারণগুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন "আত-তাকিয়িদ ওয়াল ইদাহ", পৃষ্ঠা ২৪৬, ২৪৭।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
3- إن يكون ثابتاً بطريق الشهرة والآخر بالإسناد إلى كتاب من كتب المحدثين، فالمسند إلى كتب المحدثين أولى من جهة أن احتمال تطرق الكذب إلى ما دخل في صنعة المحدثين وإن لم يكن في كتبهم المشهورة بهم والمنسوبة إليهم أبعد من احتمال تطرقه إلى ما اشتهر وهو غير منسوب إليهم، ولهذا فإن كثيراً ما اشتهر الخبر مع كذبه ورد المحدثين له.

4- أن تكون رواية أحدهما لقراءة الشيخ عليه والآخر بقراءته هو على الشيخ أو بإجازته، أو مناولته له، أو بخط رآه في كتاب، فالرواية فيه بقراءة الشيخ أرجح، لأنه أبعد عن غفلة الشيخ عما يرويه.

5- أن يكون أحد الخبرين أعلى إسناداً من الآخر فيكون أولى، لأنه كلما قلَّت الرواة كان أبعد عن احتمال الغلط والكذب.

6- أن يكون أحد الخبرين قد اختلف في كونه موقوفاً على الراوي، والآخر متفق على رفعه إلى النبي –صلى الله عليه وسلم، فالمتفق على رفعه أولى لأنه أغلب على الظن.

7- أن تكون إحدى الروايتين بلفظ النبي صلى الله عليه وسلم والأخرى بمعناه، فرواية اللفظ أولى لكونها أضبط وأغلب على الظن بقول النبي صلى الله عليه وسلم.

8- أن تكون الراويتين بسماع من غير حجاب والأخرى مع الحجاب، كراوية القاسم بن محمد عن عائشة رضي الله عنها من غير حجاب لكونها عمة له (أن بريرة عتقت وكان زوجها عبداً) (1) فإنها تقدم على رواية أسود عنها (أن زوجها كان حراً) (2) لسماعه عنها مع الحجاب لأن الرواية من غير حجاب شاركت الرواية مع الحجاب في السماع وزادت تيقن عين المسموع منه.

 

9- إذا كانت إحدى الروايتين قد اختلفت دون الأخرى فالتي لا اختلاف فيها أولى لبعدها عن الاضطراب.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (9/406) .

(2) أخرجه الترمذي (3/452) .
3- একটি সংবাদ সুখ্যাতির (الشهرة) মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়া এবং অন্যটি মুহাদ্দিসগণের কোনো কিতাবের সনদ (الإسناد) সহকারে বর্ণিত হওয়া। এক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের কিতাবসমূহে যা সনদসহ বর্ণিত হয়েছে তা-ই উত্তম। কারণ মুহাদ্দিসগণের শাস্ত্রীয় কর্মের অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের মধ্যে মিথ্যার অনুপ্রবেশ ঘটার সম্ভাবনা—যদিও তা তাদের নামে প্রসিদ্ধ ও তাদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত কিতাবসমূহে না থাকে—অধিক দূরবর্তী সেই সংবাদের তুলনায় যা লোকমুখে প্রসিদ্ধ (مشهور) কিন্তু তাদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত নয়। এই কারণেই অনেক সংবাদ মিথ্যা হওয়া সত্ত্বেও তা প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং মুহাদ্দিসগণ তা প্রত্যাখ্যান (الرد) করে থাকেন।

4- দুই বর্ণনার একটিতে শায়খের নিজের পাঠ (قراءة الشيخ) থাকা এবং অন্যটিতে শায়খের নিকট রাবির নিজস্ব পাঠ অথবা অনুমতি (إجازة), কিংবা হস্তান্তরের (مناولة) মাধ্যমে প্রাপ্তি, অথবা কোনো কিতাবে দেখা শায়খের হস্তলিপি হওয়া। এক্ষেত্রে শায়খের পাঠ সম্বলিত বর্ণনাটি অধিক অগ্রগণ্য (أرجح); কারণ এতে শায়খ যা বর্ণনা করছেন সে বিষয়ে তাঁর অসতর্ক থাকার সম্ভাবনা অধিক দূরবর্তী।

5- দুই সংবাদের একটির সনদ উচ্চতর (علو الإسناد) হওয়া; এমতাবস্থায় সেটিই হবে উত্তম। কারণ বর্ণনাকারীদের (الرواة) সংখ্যা যত কম হবে, তা ভুল ও মিথ্যার সম্ভাবনা থেকে তত অধিক দূরবর্তী হবে।

6- দুই সংবাদের একটি বর্ণনাকারীর ওপর স্থগিত (موقوف) হওয়ার বিষয়ে মতভেদ থাকা এবং অন্যটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছানো বা মারফূ (مرفوع) হওয়ার বিষয়ে সকলে একমত হওয়া। সেক্ষেত্রে মারফূ (مرفوع) হিসেবে ঐক্যমত হওয়া বর্ণনাটিই উত্তম, কারণ তা প্রবল ধারণার অধিক নিকটবর্তী।

7- দুই বর্ণনার একটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিজস্ব শব্দে (باللفظ) হওয়া এবং অন্যটি তাঁর মর্মার্থে (بالمعنى) হওয়া। এক্ষেত্রে শাব্দিক বর্ণনাটিই উত্তম, কারণ এটি অধিক সংবদ্ধ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর ক্ষেত্রে প্রবল ধারণার অধিক অনুকূল।

8- দুই বর্ণনার একটি পর্দা ব্যতিরেকে সরাসরি শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে হওয়া এবং অন্যটি পর্দার অন্তরাল হতে হওয়া। যেমন কাসেম ইবনে মুহাম্মাদ কর্তৃক আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে পর্দা ছাড়াই শ্রবণ (سماع) করা—যেহেতু তিনি তাঁর ফুফু ছিলেন—যে, 'বারিরা স্বাধীন হয়েছিলেন অথচ তার স্বামী ছিল দাস'। এই বর্ণনাটি আসওয়াদ কর্তৃক তাঁর থেকে বর্ণিত 'তার স্বামী স্বাধীন ছিল' বর্ণনার ওপর প্রাধান্য পাবে; কেননা আসওয়াদ পর্দার অন্তরাল হতে তা শ্রবণ করেছিলেন। কারণ পর্দা ব্যতিরেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে শ্রবণের (سماع) পাশাপাশি যাকে শ্রবণ করা হচ্ছে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি অতিরিক্ত বিদ্যমান থাকে।

 

9- যখন একটি বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ (اختلاف) থাকে এবং অন্যটিতে না থাকে, তখন যাতে কোনো মতভেদ নেই সেটিই উত্তম; কারণ তা অস্থিরতা বা বৈচিত্র্য (اضطراب) থেকে মুক্ত।

--------------------------------------------

(1) বুখারী (৯/৪০৬)।

(2) তিরমিযী (৩/৪৫২)।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
10- أن يكون أحد الحديثين سمعه الراوي من مشائخ بلده، والثاني سمعه من الغرباء فيرجح الأول لأن أهل كل … بلد لهم اصطلاح في كيفية الأخذ من التشدد والتساهل وغير ذلك، والشخص أعرف باصطلاح أهل بلده، ولذلك اعتبر أئمة النقل حديث إسماعيل بن عياش فما وجدوه من الشاميين احتجوا به، وما كان من الحجازيين والكوفيين وغيرهم لم يلتفتوا إليه لما يوجد في حديثه من النكارة إذا رواه عن الغرباء.

11- أن يكون أحد الحديثين له مخارج عدة، والحديث الثاني لا يعرف له سوى مخرج واحد وإن كان قد رواه نفر ذو عدد، فيكون المصير إلى الأول أولى لأن الحكم الواحد إذا عمل به في بلدان شتى يكون أقوى من الحكم المعمول به في بلد واحد، وإن كان عدد هؤلاء أكثر.

12- أن يكون أحد الحديثين منسوباً إلى النبي صلى الله عليه وسلم نصاً وقولاً، والآخر ينسب إليه استدلالاً واجتهاداً، فيكون الأول مرجحاً نحو ما رواه عبد الله بن عمر رضي الله عنهما: أن النبي صلى الله عليه وسلم نهَى عَن بيع أُمَّهَات الْأَوْلَاد وَقَالَ: لَا يبعن وَلَا يوهبن وَلَا يورثن، يسْتَمْتع بهَا سَيِّدهَا مَا بدا له، فَإِذا مَاتَ فَهِيَ حرَّة " (1) .

فهذا أولى بالعمل من الحديث الذي رواه أبو سعيد الخدري رضي الله عنه: "كنا نبيع أمهات الأولاد على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم" (2) ، لأن حديث ابن عمر قوله صلى الله عليه وسلم ولا خلاف في كونه حجة، وحديث أبي سعيد ليس فيه تنصيص منه صلى الله عليه وسلم، فيحتمل أن من كان يرى هذا لم يسمع من النبي صلى الله عليه وسلم خلافه وكان ذلك اجتهاداً منه، فكان تقديم ما نسب إلى النبي صلى الله عليه وسلم نصاً أولى.

وأكتفي بذلك منعاً للإطالة.

--------------------------------------------

(1) مالك (2/139) .

(2) أحمد (3/22) .
১০- দুটি হাদিসের মধ্যে একটি যদি বর্ণনাকারী তার নিজ শহরের শিক্ষকমণ্ডলী (مشائخ) থেকে শুনে থাকেন এবং দ্বিতীয়টি বহিরাগত (غرباء) কোনো ব্যক্তি থেকে শুনে থাকেন, তবে প্রথমটি প্রাধান্য পাবে। কারণ প্রতিটি অঞ্চলের অধিবাসীদের হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোরতা বা শিথিলতা ইত্যাদি বিষয়ে নিজস্ব রীতিনীতি থাকে এবং একজন ব্যক্তি তার নিজ শহরের অধিবাসীদের রীতিনীতি সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞাত থাকেন। এই কারণেই হাদিস বিশারদগণ ইসমাইল বিন আইয়াশ-এর বর্ণিত হাদিস বিবেচনা করেছেন; তিনি সিরীয়দের থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা তারা দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتجوا به) করেছেন, আর হিজাজী, কুফী বা অন্যদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা তারা গ্রাহ্য করেননি। কারণ তিনি যখন বহিরাগতদের থেকে বর্ণনা করেন, তখন তার বর্ণনায় অস্বীকৃতিযোগ্যতা (نكارة) পরিলক্ষিত হয়।

১১- দুটি হাদিসের মধ্যে একটির যদি একাধিক সূত্র (مخارج) থাকে এবং দ্বিতীয়টির কেবল একটিই সূত্র (مخرج) জানা থাকে—যদিও সেটি বর্ণনাকারীর একটি দল বর্ণনা করে থাকে—তবুও প্রথমটিকে গ্রহণ করাই উত্তম হবে। কারণ একটি বিধান যখন বিভিন্ন জনপদে প্রচলিত থাকে, তখন সেটি কেবল একটি জনপদে প্রচলিত বিধানের চেয়ে অধিক শক্তিশালী হয়, যদিও পরবর্তী ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর সংখ্যা অধিক হয়।

১২- দুটি হাদিসের মধ্যে একটি যদি সরাসরি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী হিসেবে স্পষ্টভাবে (نصا) এবং মৌখিকভাবে (قولا) বর্ণিত হয়, আর অন্যটি প্রমাণের ভিত্তিতে (استدلالا) বা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهادا) অনুযায়ী তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তবে প্রথমটিই প্রাধান্য পাবে। যেমন—আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মাহাতুল আওলাদ (সন্তানবতী দাসী) বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "তাদের বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং তারা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হওয়া যাবে না; যতদিন তার মালিক জীবিত থাকবে সে তাদের মাধ্যমে উপকৃত হবে, আর মালিকের মৃত্যু হলে সে মুক্ত হয়ে যাবে।" (১)

আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এই হাদিসটির তুলনায় এটিই আমল করার ক্ষেত্রে অধিক অগ্রগণ্য: "আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে উম্মাহাতুল আওলাদদের বিক্রি করতাম" (২)। কারণ ইবনে ওমরের হাদিসটি খোদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিজস্ব বাণী এবং এটি দলিল (حجة) হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। পক্ষান্তরে আবু সাঈদ খুদরির হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট উক্তি (تنصيص) নেই। সম্ভাবনা রয়েছে যে, যারা এটি বৈধ মনে করতেন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর বিপরীত কিছু শোনেননি এবং সেটি তাদের ব্যক্তিগত গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهادا) ছিল। সুতরাং যা স্পষ্টভাবে (نصا) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, তাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই অধিক সংগত।

দীর্ঘায়িত না করার লক্ষ্যে আমি এখানেই ইতি টানছি।

--------------------------------------------

(১) মালিক (২/১৩৯)।

(২) আহমদ (৩/২২)।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌وأما ما يعود إلى المروي فأسباب الترجيح منها:

1- أن تكون رواية أحد الخبرين عن سماع من النبي صلى الله عليه وسلم والأخرى عن كتاب، فرواية السماع أولى لبعدها عن تطرق الغلط.

2- أن يكون في إحدى الحديثين قول النبي صلى الله عليه وسلم يقارن فعله والآخر مجرد قوله لا غير، فيكون الأول أولى بالترجيح وذلك نحو ما روته حبيبة بنت أبي تجراة (1) قالت: (رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في بطن السيل وهو يسعى ويقول: "اسْعَوْا فَإِنَّ اللَّهَ كَتَبَ عَلَيْكُمُ السَّعْيَ " حتى أن ميزره ليدور به من شدة السعي) (2) ، فهذا الحديث أدل على المقصود من قوله صلى الله عليه وسلم: "الْحَجُّ عَرَفَةُ " (3) ، ولاشتماله على أنواع الترجيح؛ الأول:: قوله، والثاني: فعله ويجب الاقتداء به، والثالث: إخباره عن إيجاب الله تعالى ذلك علينا فهو أولى بالتقديم من مجرد القول.

 

‌‌وأما ما يعود إلى المروي عنه فأسباب كثيرة منها:

1- أن يكون أحد الراويين قد روى عمن أنكر روايته عنه كما في حديث الزهري (أَيُّمَا امْرَأَةٍ نُكِحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ) (4) ، فإن الزهري أنكر أن يكون حدث به سليمان بن موسى، بخلاف الآخر، فلما لم يقع فيه إنكار المروي عنه يكون أرجح لكونه أغلب على الظن.

2- أن يكون الأصل في أحد الخبرين قد أنكر رواية الفروع عنه إنكار نسيان ووقوف، والآخر إنكار تكذيب وجحود، فالأول أولى، لأن غلبة الظن بالرواية عنه أكثر من غلبة الظن بالثاني.

--------------------------------------------

(1) تجراة: بفتح المثناة وسكون الجيم وفتح الراء.

(2) أخرجه أحمد (6/421) .

(3) أخرجه الترمذي (5/214) .

(4) أخرجه الترمذي (3/399) .
আর যা বর্ণিত বিষয় (المروي) সংক্রান্ত, তবে অগ্রাধিকার প্রদানের (الترجيح) কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১- দুটি সংবাদের (الخبرين) একটির বর্ণনা (رواية) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সরাসরি শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে হওয়া এবং অন্যটি কিতাব বা পাণ্ডুলিপি থেকে হওয়া। এক্ষেত্রে শ্রবণের মাধ্যমে প্রাপ্ত বর্ণনাটি অগ্রাধিকারযোগ্য (أولى), কারণ এতে ভুল প্রবেশের সম্ভাবনা কম থাকে।

২- দুটি হাদিসের একটিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীর (قول) সাথে তাঁর কর্মের (فعل) সমন্বয় থাকা এবং অন্যটিতে কেবল তাঁর বাণী (قول) থাকা। এক্ষেত্রে প্রথমটিই অগ্রাধিকার প্রদানের (الترجيح) ক্ষেত্রে বেশি উপযোগী। যেমনটি হাবীবা বিনতে আবি তাজরাহ (১) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বাতনে সায়িলে দেখেছি যে তিনি সাঈ করছেন এবং বলছেন: 'তোমরা সাঈ করো, কেননা আল্লাহ তোমাদের উপর সাঈ ফরজ করেছেন', এমনকি সাঈর তীব্রতার কারণে তাঁর পরিহিত চাদরটি শরীরের চারপাশে ঘুরছিল" (২)। সুতরাং এই হাদিসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: "হজ হলো আরাফা" (৩) অপেক্ষা উদ্দিষ্ট বিষয়ের উপর অধিকতর স্পষ্ট দলিল। কারণ এটি একাধিক প্রকারের অগ্রাধিকার (الترجيح) শামিল করে; প্রথমত: তাঁর বাণী (قول), দ্বিতীয়ত: তাঁর কর্ম (فعل) যার অনুসরণ করা ওয়াজিব, এবং তৃতীয়ত: এটি আল্লাহ তাআলা কর্তৃক আমাদের উপর তা ফরজ করার সংবাদ প্রদান করে। তাই এটি নিছক বাণীর তুলনায় অগ্রাধিকারযোগ্য (التقديم)।

 

‌আর যা যাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে (المروي عنه) সেই সংক্রান্ত বহু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১- দুই বর্ণনাকারীর (الراويين) একজন এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যিনি তার কাছে এটি বর্ণনা করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। যেমন যুহরির হাদিসে এসেছে: "যে নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে, তার বিবাহ বাতিল" (৪)। এখানে ইমাম যুহরি সুলাইমান ইবনে মূসার নিকট এটি বর্ণনা করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, যা অন্য বর্ণনার বিপরীত। যেহেতু সেখানে যাঁর থেকে বর্ণিত (المروي عنه) তাঁর পক্ষ থেকে অস্বীকারের ঘটনা ঘটেনি, তাই সেটি প্রবল ধারণার (الظن) ভিত্তিতে অধিকতর অগ্রাধিকারযোগ্য (أرجح) বলে গণ্য হবে।

২- দুটি সংবাদের (الخبرين) একটির ক্ষেত্রে মূল বর্ণনাকারী (الأصل) তাঁর থেকে শাখা বর্ণনাকারীর (الفروع) বর্ণনাকে বিস্মৃতি বা সংশয়বশত অস্বীকার করেছেন, আর অন্যটির ক্ষেত্রে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা বা সরাসরি প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে অস্বীকার করেছেন। এক্ষেত্রে প্রথমটিই অগ্রাধিকারযোগ্য (أولى), কারণ দ্বিতীয়টির তুলনায় প্রথমটির বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রবল ধারণা (الظن) অধিক থাকে।

--------------------------------------------

(১) তাজরাহ: তা বর্ণে জবর, জিম বর্ণে সাকিন এবং রা বর্ণে জবর।

(২) এটি আহমদ (৬/৪২১) বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(৩) এটি তিরমিজি (৫/২১৪) বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।

(৪) এটি তিরমিজি (৩/৩৯৯) বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌وأما الترجيحات والأسباب العائدة إلى المتن فمنها:

1- أن يكون الحكم الذي تضمنه أحد الحديثين منطوقاً به، وما تضمنه الآخر يكون محتملاً، ولذلك يجب تقديم قوله صلى الله عليه وسلم (فِي أَرْبَعِينَ شَاةً شَاةٌ) (1) في إيجاب في مال الصبي على قوله صلى الله عليه وسلم: (رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلاثَةٍ: عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَحْتَلِمَ … ) (2) لأن قوله صلى الله عليه وسلم (في أربعين شاة شاة) نص على وجوب الزكاة في ملك من كانت له، وقوله صلى الله عليه وسلم: (رفع القلم..) لا ينبي عن سقوط الزكاة في مال الصبي، بأن يكون الخطاب فيه لغيره وهو الولي، فرفعُ القلمِ عنه يفيد نفي خطابه والتكليف له، ولا يعارض ذلك النص بوجه.

2- أن يكون أحد الحديثين مستقلاً بنفسه لا يحتاج إلى إضمار، والآخر لا يفيد إلا بعد تقدير وإضمار فيرجح الأول لأن المستقل بنفسه معلوم المراد منه، والمحذوف منه ربما التبس ما هو المضمر فيه.

3- أن يكون الحكم في أحد الحديثين مقروناً بالاسم نحو قوله صلى الله عليه وسلم: "مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ " (3) قدم هذا على نهيه صلى الله عليه وسلم عن قتل النساء والولدان (4) لأن تبديل الدين صفة موجودة في الرجل والمرأة، فصارت كالعلة وهي المؤثرة في الأحكام دون الأسامي.

4- أن يكون أحد الحديثين مطلقاً والآخر وارداً على سبب، فيقدم المطلق لظهور أمارات التخصيص في الوارد على سبب فيكون أولى بإلحاق التخصيص به، وعلى هذا يقدم قوله صلى الله عليه وسلم (مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ) (5) على نهيه عن قتل النساء والولدان (6) لأن النهي وارد على سبب في الحربية.

--------------------------------------------

(1) جزء حديث أخرجه الترمذي (3/8) .

(2) أخرجه البخاري (12/120) .

(3) أخرجه البخاري (6/149) .

(4) أخرجه البخاري 6/148) .

(5) تقدم تخريجه ص

(6) تقدم تخريجه ص
‌‌আর মতন (متن) বা মূল পাঠের সাথে সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকারের মানদণ্ড ও কারণসমূহ নিম্নরূপ:

১- দুটি হাদিসের একটিতে বর্ণিত বিধানটি যদি সুস্পষ্টভাবে উচ্চারিত (منطوق به) হয় এবং অন্যটিতে বর্ণিত বিধানটি সম্ভাব্য (محتمل) হয়; এই কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "চল্লিশটি ছাগলের যাকাত একটি ছাগল" (১)-কে নাবালকের সম্পদের ক্ষেত্রে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "তিন ব্যক্তি হতে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, এবং শিশু যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়..." (২)-এর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া আবশ্যক। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "চল্লিশটি ছাগলের যাকাত একটি ছাগল" হলো যার মালিকানায় সম্পদ রয়েছে তার ওপর যাকাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص)। আর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "কলম তুলে নেওয়া হয়েছে..." দ্বারা নাবালকের সম্পদ থেকে যাকাত রহিত হওয়া বুঝায় না, কারণ এখানে সম্বোধনটি তার পরিবর্তে অন্য কাউকে করা হয়েছে, আর তিনি হলেন তার অভিভাবক। সুতরাং তার থেকে কলম তুলে নেওয়ার অর্থ হলো তাকে সম্বোধন করা এবং তার ওপর শরয়ি দায়িত্ব অর্পণ করাকে নাকচ করা; আর এটি উক্ত সুস্পষ্ট বর্ণনার (نص) কোনোভাবেই বিরোধী নয়।

২- দুটি হাদিসের একটি যদি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় এবং কোনো উহ্য শব্দের (إضمار) প্রয়োজন না হয়, আর অন্যটি কোনো উহ্য বা প্রাক্কলিত শব্দ (تقدير وإضمار) ছাড়া পূর্ণ অর্থ প্রকাশ না করে, তবে প্রথমটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কারণ স্বয়ংসম্পূর্ণ বাক্যটির উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে জানা যায়, আর যে বাক্যে শব্দ উহ্য থাকে তাতে উহ্য বিষয়টি কী তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অবকাশ থাকে।

৩- কোনো একটি হাদিসের বিধান যদি বিশেষ নামের সাথে যুক্ত থাকে, যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করবে তাকে হত্যা করো" (৩); এই হাদিসটিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নারী ও শিশুদের হত্যা করার নিষেধাজ্ঞা (৪)-এর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কারণ দ্বীন পরিবর্তন করা এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা পুরুষ ও নারী উভয়ের মধ্যেই বিদ্যমান। ফলে এটি কারণ বা ইল্লত (علة)-এর মতো হয়ে যায়, আর বিধানের ক্ষেত্রে ইল্লতই প্রভাব বিস্তারকারী হয়, নাম বা পরিচয় নয়।

৪- যদি দুটি হাদিসের একটি নিরঙ্কুশ (مطلق) হয় এবং অন্যটি কোনো বিশেষ কারণ (سبب)-এর প্রেক্ষিতে বর্ণিত হয়, তবে নিরঙ্কুশ (مطلق) হাদিসটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কারণ বিশেষ কারণে বর্ণিত হাদিসে নির্দিষ্টকরণের (تخصيص) আলামত প্রকাশ পায়, তাই একে নির্দিষ্টকরণের (تخصيص) আওতাভুক্ত করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। এর ভিত্তিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করবে তাকে হত্যা করো" (৫)-কে নারী ও শিশুদের হত্যা করার নিষেধাজ্ঞার (৬) ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়; কারণ এই নিষেধাজ্ঞাটি যুদ্ধাবস্থার বিশেষ কারণ (سبب)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট।

--------------------------------------------

(১) হাদিসের অংশবিশেষ, তিরমিজি কর্তৃক সংকলিত (৩/৮)।

(২) বুখারি কর্তৃক সংকলিত (১২/১২০)।

(৩) বুখারি কর্তৃক সংকলিত (৬/১৪৯)।

(৪) বুখারি কর্তৃক সংকলিত (৬/১৪৮)।

(৫) পূর্বে এর উৎস উল্লেখ করা হয়েছে।

(৬) পূর্বে এর উৎস উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
5- أن يكون أحدهما آمراً والآخر مبيحاً، فالآمر وإن ترجح على المبيح نظراً إلى أنه إذا عمل به لا يصير مخالفاً للمبيح ولا كذلك بالعكس لاستواء طرفي المباح وترجح جانب المأمور به، إلا أن المبيح يترجح على الآمر من أربعة أوجه:

-الأول: أن مدلول المبيح متحد ومدلول الآمر متعدد فكان أولى.

-الثاني: أن غاية ما يلزم من العمل بالمبيح تأويل الأمر بصرفه عن محمله الظاهر إلى المحمل البعيد، والعمل بالأمر يلزم منه تعطيل المبيح بالكلية، والتأويل أولى من التعطيل.

- الثالث: أن المبيح قد يمكن العمل بمقتضاه على تقديرين، على تقدير مساواته بالآمر ورجحانه، والعمل بمقتضى الآمر متوقف على الترجيح وما يتم العمل به على تقديرين يكون أولى مما لم يتم العمل به إلا على تقدير واحد.

-الرابع: أن العمل بالمبيح بتقدير أن يكون الفعل مقصوداً للمكلف لا يختل لكونه مقدوراً له، والعمل بالآمر يوجب الإخلال بمقصود الترك بتقدير كون الترك مقصوداً.

6- أن يكون أحدهما أمراً والآخر خبراً، فالخبر يكون راجحاً.

7- أن يكونا مشتركَين إلا أن مدلولات أحدهما أقل من مدلولات الآخر، فالأول أولى لقلة اضطرابه وقرب استعماله فيما هو المقصود منه.

8- أن يكونا مجازَين إلا أن أحدهما منقول مشهور في محل التجوز كلفظ الغائط بخلاف الآخر، فالمنقول أولى لعدم افتقاره إلى قرينة.

9- أن تكون دلالة أحدهما مؤكدة دون الأخرى، فالمؤكدة أولى لأنه أقوى دلالة وأغلب على الظن وذلك كما في قوله صلى الله عليه وسلم: "فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ، بَاطِلٌ، بَاطِلٌ " (1) .

10- أن يكون أحدهما قد دل على الحكم وعلته، والآخر دل على الحكم دون علته، فالدال على العلة أولى لأنه أقرب إلى الإيضاح والبيان.

--------------------------------------------

(1) تقدم تخريجه. انظر ص
৫- যদি তাদের একটি নির্দেশদাতা (آمر) এবং অন্যটি বৈধতা প্রদানকারী (مبيح) হয়, তবে নির্দেশদাতাকে (آمر) যদিও বৈধতা প্রদানকারীর (مبيح) ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয় এই বিবেচনায় যে, যদি তার ওপর আমল করা হয় তবে তা বৈধতা প্রদানকারীর (مبيح) বিরোধী হয় না, কিন্তু বিপরীত ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়; কারণ বৈধতার (مباح) উভয় দিক সমান এবং নির্দেশিত বিষয়ের দিকটিই প্রাধান্য পায়। তবে চারটি কারণে বৈধতা প্রদানকারীকে (مبيح) নির্দেশদাতার (آمر) ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়:

-প্রথমত: বৈধতা প্রদানকারীর (مبيح) নির্দেশিত অর্থ একমুখী, অন্যদিকে নির্দেশদাতার (آمر) নির্দেশিত অর্থ বহুমুখী; তাই এটিই উত্তম।

-দ্বিতীয়ত: বৈধতা প্রদানকারীর (مبيح) ওপর আমল করার ফলে বড়জোর যা আবশ্যক হয় তা হলো আদেশকে (أمر) তার প্রকাশ্য অর্থ থেকে সরিয়ে দূরবর্তী অর্থে ব্যাখ্যা (تأويل) করা। অন্যদিকে আদেশের (أمر) ওপর আমল করলে বৈধতা প্রদানকারীর (مبيح) বক্তব্যটিকে সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর (تعطيل) করা আবশ্যক হয়। আর অকার্যকর (تعطيل) করার চেয়ে ব্যাখ্যা (تأويل) করা অধিক শ্রেয়।

-তৃতীয়ত: বৈধতা প্রদানকারীর (مبيح) দাবি অনুযায়ী আমল করা দুটি অনুমানের ভিত্তিতে সম্ভব—আদেশদাতার (آمر) সমপর্যায়ের হওয়া অথবা তার চেয়ে অগ্রগণ্য হওয়া। কিন্তু আদেশদাতার (آمر) দাবি অনুযায়ী আমল করা কেবল তার অগ্রগণ্যতার (ترجيح) ওপর নির্ভরশীল। যে বিষয়ের ওপর আমল দুটি অনুমানের ভিত্তিতে সম্ভব হয়, তা সেই বিষয়ের চেয়ে উত্তম যা কেবল একটি অনুমানের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়।

-চতুর্থত: কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে মুকাল্লাফের (শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকলে বৈধতা প্রদানকারীর (مبيح) ওপর আমল করার দ্বারা তা ব্যাহত হয় না, কারণ তা তার সামর্থ্যের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু আদেশদাতার (آمر) ওপর আমল করলে তা বর্জন করার উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে, যদি বর্জন করাই মূল উদ্দেশ্য হয়ে থাকে।

৬- যদি তাদের একটি আদেশ (أمر) এবং অন্যটি সংবাদ (خبر) হয়, তবে সংবাদ (خبر) প্রাধান্য পাবে।

৭- যদি উভয়টি একাধিক অর্থবোধক (مشترك) শব্দ হয় কিন্তু একটির অর্থগত ব্যাপ্তি অন্যটির চেয়ে কম হয়, তবে প্রথমটিই উত্তম; কারণ এতে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা কম এবং যা উদ্দেশ্য তার নিকটবর্তী ব্যবহারে এটি অধিক উপযোগী।

৮- যদি উভয়টি রূপক (مجاز) হয় কিন্তু একটি রূপক ব্যবহারের ক্ষেত্রে 'গাইত' (মলমূত্র ত্যাগের স্থান) শব্দের ন্যায় সুপরিচিত বা স্থানান্তরিত (منقول) হয় এবং অন্যটি তেমন না হয়, তবে সেই স্থানান্তরিত (منقول) শব্দই উত্তম; কারণ তা কোনো স্বতন্ত্র প্রাসঙ্গিক প্রমাণের (قرينة) মুখাপেক্ষী হয় না।

৯- যদি তাদের একটির অর্থ প্রদানের ধরন অন্যটির চেয়ে তাকিদযুক্ত বা জোরালো (مؤكدة) হয়, তবে তাকিদযুক্ত (مؤكدة) অংশটিই উত্তম; কারণ এর অর্থ প্রকাশের শক্তি অধিক এবং ধারণার ক্ষেত্রে এটি অধিক প্রবল। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে এসেছে: "তবে তার বিবাহ বাতিল (باطل), বাতিল (باطل), বাতিল (باطل)"।

১০- যদি তাদের একটি বিধান (حكم) এবং তার কারণ বা ইল্লত (علة) উভয়টি নির্দেশ করে, আর অন্যটি কারণ (علة) উল্লেখ ছাড়া কেবল বিধান (حكم) নির্দেশ করে, তবে যেটিতে কারণ (علة) বর্ণিত হয়েছে সেটিই উত্তম; কারণ তা স্পষ্টীকরণ ও ব্যাখ্যার অধিক নিকটবর্তী।

--------------------------------------------

(১) পূর্বে এর তাখরিজ করা হয়েছে। দেখুন পৃষ্ঠা...
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
11- أن يكون أحدهما قولاً والآخر فعلاً، فالقول أولى لأنه أبلغ في البيان من الفعل، فإن كان أحدهما قولاً وفعلاً والآخر قولاً فقط؛ فالقول والفعل أولى لأنه أقوى في البيان كما تقدم.

12- أن يكون أحدهما مشتملاً على زيادة لم يتعرض لها الآخر كرواية من روى أنه صلى الله عليه وسلم كبر في صلاة العيد سبعاً (1) ، فإنها مقدمة على رواية من روى أربعاً (2) ، لاشتمالها على زيادة علم خفي على الآخر (3) .

 

‌‌المبحث الثالث:

المؤلفات السابقة في هذا الموضوع
.

 

لقد اعتنى المسلمون عناية شديدة باختلاف الحديث فأفردوا له مصنفات خاصة منها الطويل ومنها الموجز، إلا أن هذه العناية لم تشتمل على جميع الأحاديث المختلفة، فبعض العلماء أفرد لأحاديث الأحكام مصنفاً واستوعب الأبواب الفقهية فأورد فيها ما يتعارض من الأحاديث كما فعل الإمام الطحاوي رحمه الله في كتاب "شرح معاني الآثار"، وبعضهم جمع المسائل التي كان سبب تعارض الأحاديث فيها النسخ فأفرد لها مصنفاً كما فعل الحازمي في كتابه " الاعتبار".

وبعضه جمع أحاديث متنوعة في موضوعات شتى كما فعل الإمام ابن قتيبة في كتابه "تأويل مختلف الحديث"، وسأتناول جملة من هذه المصنفات بإيجاز مرتبة ترتيباً زمنياً.

 

1- اختلاف الحديث للإمام محمد بن إدريس الشافعي المتوفى سنة 204هـ برواية الربيع بن سليمان المرادي المتوفى سنة 270هـ، وهو كتاب مطبوع طبع عدة مرات مع كتاب الأم وأخرى بتحقيق أحمد عبد العزيز وثالثه تحقيق عامر حيدر.

2- تأويل مختلف الحديث للإمام أبي عبد الله بن مسلم بن قتيبة المتوفى سنة 276هـ، وقد أورد فيه أحد عشر مسألة تتعلق بكتاب الطهارة، وهو في عرضه للمسألة يورد قول المعترضين والمشككين ثم يشرع في الرد عليه، وهو في هذا يوجز في الجواب ولا يستوعب المسألة. وهذا الكتاب مطبوع متداول.

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود (1/299) .

(2) أخرجه أبو داود (1/299) .

(3) الإحكام في أصول الأحكام (4/242-259) بتصرف.
১১- যখন একটি মৌখিক (قول) এবং অন্যটি কার্যগত (فعل) হয়, তখন মৌখিকটি অগ্রাধিকারযোগ্য হবে; কারণ এটি কার্যের চেয়ে বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিকতর স্পষ্ট। আর যদি দুটির মধ্যে একটি মৌখিক ও কার্যগত উভয়টিই হয় এবং অন্যটি কেবল মৌখিক হয়, তবে মৌখিক ও কার্যগতটিই অগ্রগণ্য হবে; কারণ পূর্বেই বলা হয়েছে যে, এটি বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিকতর শক্তিশালী।

১২- যখন দুটির মধ্যে একটিতে এমন অতিরিক্ত তথ্য (زيادة) অন্তর্ভুক্ত থাকে যা অন্যটিতে উল্লেখ করা হয়নি। যেমন সেই বর্ণনা (رواية) যেখানে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদের সালাতে সাতটি তাকবির দিয়েছেন (১); এটি সেই বর্ণনা (رواية) অপেক্ষা অগ্রগণ্য হবে যেখানে চারটি তাকবিরের কথা বর্ণিত হয়েছে (২)। কারণ এতে এমন অতিরিক্ত জ্ঞান রয়েছে যা অন্য বর্ণনাকারীর কাছে অস্পষ্ট ছিল (৩)।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ:

এই বিষয়ে পূর্ববর্তী রচনাবলি
.

 

মুসলিমগণ হাদিসের পারস্পরিক বৈচিত্র্য (اختلاف الحديث)-এর প্রতি অত্যন্ত গভীর মনোযোগ প্রদান করেছেন এবং এর জন্য বিশেষ গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে কিছু বিস্তারিত এবং কিছু সংক্ষিপ্ত। তবে এই গুরুত্বারোপ সকল বৈচিত্র্যপূর্ণ হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করেনি। কোনো কোনো আলেম কেবল আহকাম বা বিধান সংক্রান্ত হাদিসগুলোর জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং ফিকহি অধ্যায়গুলোকে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি পরস্পর বিরোধী (تعارض) হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন, যেমনটি ইমাম তাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'শারহু মাআনিল আসার' গ্রন্থে করেছেন। আবার কেউ কেউ এমন সব মাসআলা একত্রিত করেছেন যেখানে হাদিসের বৈপরীত্যের কারণ হলো রহিতকরণ (النسخ), এবং সেগুলোর জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমনটি আল-হাজিমি তাঁর 'আল-ইতিবার' গ্রন্থে করেছেন।

আবার কেউ কেউ বিভিন্ন বিষয়ের বৈচিত্র্যময় হাদিস সংগ্রহ করেছেন, যেমনটি ইমাম ইবনে কুতাইবা তাঁর 'তাউয়িলু মুখতালিফিল হাদিস' গ্রন্থে করেছেন। আমি এই গ্রন্থগুলোর মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ কালানুক্রমিক বিন্যাসে সংক্ষেপে আলোচনা করব।

 

১- ইমাম মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ২০৪ হিজরি) রচিত 'ইখতিলাফুল হাদিস', যা রবি বিন সুলাইমান আল-মুরাদি (মৃত্যু ২৭০ হিজরি)-এর বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী সংকলিত। এটি একটি মুদ্রিত গ্রন্থ যা কয়েকবার 'কিতাবুল উম্ম'-এর সাথে এবং অন্যবার আহমদ আব্দুল আজিজের সম্পাদনায় (تحقيق) এবং তৃতীয়বার আমির হায়দারের সম্পাদনায় (تحقيق) প্রকাশিত হয়েছে।

২- ইমাম আবু আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতাইবা (মৃত্যু ২৭৬ হিজরি) রচিত 'তাউয়িলু মুখতালিফিল হাদিস'। এতে তিনি পবিত্রতা অধ্যায় সংশ্লিষ্ট এগারোটি মাসআলা উল্লেখ করেছেন। তিনি মাসআলাটি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আপত্তিকারী ও সংশয়বাদীদের বক্তব্য উল্লেখ করেন এবং এরপর তার খণ্ডন শুরু করেন। তিনি উত্তরের ক্ষেত্রে সংক্ষেপ করেন এবং মাসআলাটি পরিপূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করেন না। এই বইটি মুদ্রিত এবং বহুল প্রচলিত।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন (১/২৯৯)।

(২) আবু দাউদ এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন (১/২৯৯)।

(৩) আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম (৪/২৪২-২৫৯) থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
3- كتاب في اختلاف الحديث لأبي يحيى زكريا بن يحيى الساجي الحافظ المتوفى سنة 307هـ.

4- كتاب في الحديث لأبي جعفر الطبري المتوفى سنة 310هـ، ولم أجد من تكلم عنه وإنما يذكرونه في كتب اختلاف الحديث، ذكره غير واحد منهم السخاوي في فتح المغيث.

5- شرح معاني الآثار للإمام أبي جعفر أحمد بن محمد بن سلامة الطحاوي المتوفى سنة 321هـ، وهو كتاب جليل من أكبر ما رأيت في اختلاف الحديث ذكر فيه مباحث عديدة، ورتبه على الأبواب الفقهية فابتدأ بكتاب الطهارة وبحث فيها ستاً وعشرين مسألة على المذهب الحنفي، وهو من أكثر المصنفات استيعاباً للمسائل وأغزرها علماً دراية ورواية. وهو مطبوع في أربعة مجلدات.

6- مشكل الآثار للإمام الطحاوي أيضاً، وهو كتاب ضخم يذكر فيه أحاديث مشكلة ثم يبين إشكالها ويرده.

وقد لخص هذا الكتاب القاضي أبو الوليد الباجي المتوفى سنة 474هـ، كما اختصر الملخص أبو المحاسن يوسف بن موسى الحنفي. وقد طبع مشكل الآثار إلا أنه لم تكتمل النسخة المطبوعة، وذلك لفقد جزء من أصل المخطوط.

7- مشكل الحديث لأبي بكر محمد بن الحسين بن فورك المتوفى سنة 406هـ، ذكره السخاوي في قسم مختلف الحديث (1) ، إلا أن هذا الكتاب لا يعد من كتب مختلف الحديث -فيما أرى-وذلك لأنه لم يذكر الأحاديث المختلفة فيما بينها كما يظن، وإنما يذكر الحديث الذي يوهم ظاهره التشبيه ثم يشرع في تأويل ذلك.

وقد ذكرت هذا الكتاب هنا لما قد يتوهم من عنوانه أنه مما يحسن أن يذكر في هذه الكتب لا سيما وقد عده بعض العلماء في كتب مختلف الحديث.

8- الآثار التي ظاهرها التعارض ونفي التناقض عنها للإمام أبي محمد علي بن أحمد بن سعيد بن حزم المتوفى سنة 456هـ.

--------------------------------------------

(1) فتح المغيث 1/82.
3- ৩০৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী হাফেজ (الحافظ) আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আস-সাজি-এর ইখতিলাফুল হাদিস বিষয়ক একটি কিতাব।

4- ৩১০ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু জাফর আত-তাবারির হাদিস বিষয়ক একটি কিতাব। আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, তবে লেখকরা একে ইখতিলাফুল হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহের আলোচনায় উল্লেখ করেন। সাখাভি সহ একাধিক ব্যক্তি ফাতহুল মুগিস গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

5- ৩২১ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইমাম আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সালামাহ আত-তাহাবির শারহু মাআনিল আসার। এটি একটি মহান গ্রন্থ এবং ইখতিলাফুল হাদিস বিষয়ে আমার দেখা অন্যতম বৃহৎ কিতাব। এতে তিনি অসংখ্য তাত্ত্বিক বিষয় উল্লেখ করেছেন এবং একে ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। তিনি পবিত্রতা অধ্যায় (কিতাবুত তাহারাত) দিয়ে শুরু করেছেন এবং হানাফি মাযহাব অনুযায়ী সেখানে ছাব্বিশটি মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটি মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্তিতে অন্যতম ব্যাপক এবং বর্ণনা (رواية) ও অনুধাবন (دراية) উভয় দিক থেকে ইলমের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। এটি চার খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

6- এটিও ইমাম তাহাবির রচিত মুশকিলুল আসার। এটি একটি বিশাল গ্রন্থ যাতে তিনি অস্পষ্ট (مشكلة) হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন এবং এরপর সেগুলোর অস্পষ্টতা ব্যাখ্যা ও নিরসন করেছেন। ৪৭৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী কাজি আবুল ওয়ালিদ আল-বাজি এই কিতাবটির সারসংক্ষেপ করেছেন, আবার সেই সারসংক্ষেপের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ তৈরি করেছেন আবু আল-মাহাসিন ইউসুফ বিন মুসা আল-হানাফি। মুশকিলুল আসার মুদ্রিত হয়েছে, তবে মুদ্রিত কপিটি পূর্ণাঙ্গ নয়, কারণ মূল পাণ্ডুলিপির একটি অংশ হারিয়ে গিয়েছে।

7- ৪০৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন ফুরাকের মুশকিলুল হাদিস। সাখাভি এটিকে মুখতালিফুল হাদিস (مختلف الحديث) অংশে উল্লেখ করেছেন (১), তবে আমার মতে এই কিতাবটি মুখতালিফুল হাদিসের গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ এতে ধারণা অনুযায়ী পরস্পর বিরোধী হাদিসসমূহ উল্লেখ করা হয়নি, বরং তিনি এমন হাদিস উল্লেখ করেছেন যার বাহ্যিক দিক থেকে সাদৃশ্যের (التشبيه) বিভ্রম তৈরি হয়, অতঃপর তিনি এর ব্যাখ্যা (تأويل) প্রদান করেন।

শিরোনাম দেখে ধারণা হতে পারে যে এটি এই ধারার কিতাবসমূহের মধ্যে উল্লেখ করা সমীচীন, বিশেষ করে কিছু আলেম যেহেতু এটিকে মুখতালিফুল হাদিস (مختلف الحديث) বিষয়ক গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তাই আমি এখানে এটি উল্লেখ করেছি।

8- ৪৫৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইমাম আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমদ বিন সাঈদ বিন হাজমের রচিত কিতাব 'আল-আসার আল্লাতি যাহিরুহুত তাআরুদ ওয়া নাফিয়ুত তানাকুদ আনহা' [অর্থাৎ: ওই সকল আসার বা বর্ণনা যার বাহ্যিক রূপ বৈপরীত্যপূর্ণ (التعارض) এবং সেগুলো থেকে বৈপরীত্য (التناقض) নিরসন সংক্রান্ত]।

--------------------------------------------

(1) ফাতহুল মুগিস ১/৮২।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
9- التحقيق في اختلاف الأحاديث للإمام أبي الفرج عبد الرحمن بن علي بن أحمد المعروف بابن الجوزي، والمتوفى سنة 597هـ، وهو كتاب كبير، ويدفع فيه الخلاف بالجمع بين الأدلة تارة، وتارة أخرى بالقول بالنسخ، وأحياناً يسكت فلا يعلق على ذلك الاختلاف.

وقد علق على هذا الكتاب الإمام الحافظ محمد بن أحمد بن عبد الهادي المتوفى سنة 744هـ في كتابه المسمى "التنقيح"، وقد طبع كتاب التحقيق مذيلاً بكتاب التنقيح بتحقيق محمد حامد الفقي، واختصر هذا الكتاب البرهان إبراهيم ابن علي بن عبد الحق المتوفى سنة 744هـ، كما أشار إلى ذلك صاحب كشف الظنون (1) .

 

وهذا ما تيسر لي جمعه من كتب المختلف.

ولما كان لعلم الناسخ والمنسوخ كبير اتصال بعلم مختلف الحديث رأيت أن أذكر جملة لمن كتب في الناسخ والمنسوخ، فإن كل ناسخ ومنسوخ مختلف، ولا عكس كما قال ذلك السخاوي (2) .

 

1- ألف فيه أحمد بن إسحاق الديناري المتوفى سنة 318هـ.

2- ومحمد بن بحر الأصبهاني المتوفى سنة 322هـ.

3- ومحمد بن محمد بن النحاس المتوفى سنة 338هـ.

4- وأبو محمد قاسم بن أصبع المتوفى سنة 340هـ.

5- ومحمد بن عثمان المعروف بالجعد الشيباني.

6- وهبة الله بن سلامة المتوفى سنة 410هـ.

7- وأبو حفص بن شاهين المتوفى سنة 385هـ، وقد اختصر كتابه ابن عبد الحق المتوفى 744هـ.

8- ومحمد بن موسى الحازمي المتوفى سنة548هـ.

9- وأبو الفرج ابن الجوزي المتوفى سنة 597هـ.

 

ومن أشهر كتب الناسخ والمنسوخ كتاب محمد بن موسى الحازمي المسمى بالاعتبار في الناسخ والمنسوخ من الآثار فهو من أجمع ما صنف في بابه، وقد طبع هذا الكتاب مراراً، كما طبع كتاب ابن الجوزي المسمى بإخبار أهل الرسوخ في الفقه والتحديث بمقدار المنسوخ من الحديث.

وطبع أيضاً كتاب ابن شاهين المسمى" ناسخ الحديث ومنسوخه" وهو مجلد متوسط صنفه على أبواب الفقه.

--------------------------------------------

(1) كشف الظنون 1/379.

(2) فتح المغيث 1/82.
9- আল-তাহকিক ফি ইখতিলাফিল আহাদিস; এটি ইমাম আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আলী বিন আহমদ, যিনি ইবনুল জাওযি নামে পরিচিত এবং মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি, তাঁর রচিত একটি বৃহৎ গ্রন্থ। এতে তিনি কখনো দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় (الجمع) সাধনের মাধ্যমে মতভেদ নিরসন করেন, আবার কখনো রহিতকরণ (النسخ) এর মত প্রদানের মাধ্যমে, আর কখনো কখনো তিনি নীরব থাকেন এবং সেই মতভেদের ওপর কোনো মন্তব্য করেন না।

ইমাম হাফিজ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবদুল হাদি (মৃত্যু ৭৪৪ হিজরি) তাঁর "আল-তানকিহ" নামক কিতাবে এই গ্রন্থটির ওপর টীকা প্রদান করেছেন। আল-তাহকিক কিতাবটি মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিক্কির সম্পাদনায় আল-তানকিহ কিতাবসহ পরিশিষ্ট আকারে মুদ্রিত হয়েছে। বোরহান ইবরাহিম ইবনে আলী ইবনে আবদুল হক (মৃত্যু ৭৪৪ হিজরি) এই গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ করেছেন, যেমনটি কাশফুয যুনুন (১)-এর লেখক উল্লেখ করেছেন।

 

ভিন্নধর্মী (المختلف) হাদিস সংক্রান্ত গ্রন্থাবলির মধ্য থেকে সংগ্রহ করা আমার পক্ষে যা সম্ভব হয়েছে তা এই।

যেহেতু রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) সংক্রান্ত বিজ্ঞানের সাথে ভিন্নধর্মী (المختلف) হাদিস বিজ্ঞানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তাই আমি যারা রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) বিষয়ে লিখেছেন তাদের একটি তালিকা উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি। কেননা প্রত্যেক রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) হাদিসই ভিন্নধর্মী (المختلف), কিন্তু এর বিপরীতটি সঠিক নয়, যেমনটি সাখাভি (২) বলেছেন।

 

1- এ বিষয়ে আহমদ বিন ইসহাক আল-দিনাওয়ারি (মৃত্যু ৩১৮ হিজরি) গ্রন্থ রচনা করেছেন।

2- এবং মুহাম্মদ বিন বাহর আল-আসফাহানি (মৃত্যু ৩২২ হিজরি)।

3- এবং মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আন-নাহহাস (মৃত্যু ৩৩৮ হিজরি)।

4- এবং আবু মুহাম্মদ কাসিম বিন আসবাগ (মৃত্যু ৩৪০ হিজরি)।

5- এবং মুহাম্মদ বিন উসমান, যিনি আল-জাদ আশ-শাইবানি নামে পরিচিত।

6- এবং হিবাতুল্লাহ বিন সালামাহ (মৃত্যু ৪১০ হিজরি)।

7- এবং আবু হাফস বিন শাহিন (মৃত্যু ৩৮৫ হিজরি), ইবনে আবদুল হক (মৃত্যু ৭৪৪ হিজরি) তাঁর কিতাবটি সংক্ষেপ করেছেন।

8- এবং মুহাম্মদ বিন মুসা আল-হাযিমি (মৃত্যু ৫৪৮ হিজরি)।

9- এবং আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযি (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি)।

 

রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) বিষয়ক প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলির অন্যতম হলো মুহাম্মদ বিন মুসা আল-হাযিমির গ্রন্থ "আল-ইতিবার ফিন নাসিখ ওয়াল মানসুখ মিনাল আসার"। এটি এই বিষয়ে সংকলিত পূর্ণাঙ্গতম গ্রন্থগুলোর একটি। এই কিতাবটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে। তেমনিভাবে ইবনুল জাওযির কিতাব "ইখবারু আহলির রুসুখ ফিল ফিকহি ওয়াত তাদদিসি বি মিকদারিল মানসুখি মিনাল হাদিস" মুদ্রিত হয়েছে।

এছাড়া ইবনে শাহিনের কিতাব "নাসিখুল হাদিস ওয়া মানসুখুহু"-ও মুদ্রিত হয়েছে, এটি একটি মাঝারি খণ্ড যা তিনি ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(1) কাশফুয যুনুন ১/৩৭৯।

(2) ফাতহুল মুগিস ১/৮২।
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
هذه جملة من كتب مختلف الحديث وكتب الناسخ والمنسوخ ذكرتها ليسهل على الباحث الرجوع للأحاديث التي يرى تعارضها ليجد فيها بغيته.

 

‌‌الباب الأول

باب المياه والنجاسات

 

وفيه مباحث:

‌‌المبحث الأول: أينجس الماء بورود النجاسة عليه.

المبحث الثاني: أيغتسل الرجل أو يتوضأ بفضل المرأة.

المبحث الثالث: سؤر الكلب.

المبحث الرابع: سؤر الهر.

المبحث الخامس: ما جاء في المني.

المبحث السادس: جلود الميتة.

المبحث السابع: هل تستقبل القبلة أو تستدبر بالبول أو الغائط.

المبحث الثامن: كيف تطهر الأرض من البول.

المبحث التاسع: البول قائماً.

 

المبحث الأول:

أينجس الماء بورود النجاسة عليه.

 

إن القارئ في كتب السنة ليجد أحاديث هذه المبحث تتعارض، فيجد أحاديث تفيد غير مفاد الأحاديث الأخرى، فيشكل عليه الأمر.

 

فمن الأحاديث المفيدة لطهارة الماء مع ورود النجاسة عليه:

1- (الماء طهور لا ينجسه شيء) .

2- (إذا بلغ الماء قلتين لم يحمل الخبث) .

 

ومن الأحاديث المفيدة لنجاسة الماء عند ورود النجاسة عليه:

1- (لا يبولن أحدكم في الماء الدائم الذي لا يجري ثم يغتسل فيه.

2- (إذا استيقظ أحدكم فلا يدخل يده في الإناء حتى يغسلها ثلاثاً) .

3- (إذا ولغ الكلب في إناء أحدكم فليرقه ثم ليغسله سبع مرار) .

 

الأحاديث المفيدة لطهارة الماء مع ورود النجاسة عليه:

 

الحديث الأول:
এখানে হাদীসের বৈপরীত্য নিরসন (مختلف الحديث) এবং রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) সংক্রান্ত কিতাবসমূহের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে, যা আমি উল্লেখ করেছি যাতে গবেষকের পক্ষে এমন সব হাদীসের শরণাপন্ন হওয়া সহজ হয় যেগুলোর মাঝে তিনি বাহ্যিক বৈপরীত্য দেখতে পান এবং এর মাধ্যমে তিনি তার কাঙ্ক্ষিত সমাধান খুঁজে পান।

 

‌‌প্রথম অধ্যায়

পানি ও অপবিত্রতা বিষয়ক পরিচ্ছেদ

 

এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: অপবিত্রতা পতিত হওয়ার ফলে কি পানি নাপাক হয়ে যায়?.

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পুরুষ কি নারীর ব্যবহৃত উদ্বৃত্ত পানি দিয়ে গোসল বা ওজু করতে পারবে?

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুকুরের উচ্ছিষ্ট।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিড়ালের উচ্ছিষ্ট।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বীর্য সংক্রান্ত বর্ণনা।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মৃত পশুর চামড়া।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: পেশাব বা পায়খানার সময় কি কিবলামুখী হওয়া বা কিবলার দিকে পিঠ দেওয়া যাবে?

অষ্টম পরিচ্ছেদ: পেশাব থেকে কীভাবে জমিন পবিত্র করতে হয়।

নবম পরিচ্ছেদ: দাঁড়িয়ে পেশাব করা।

 

প্রথম পরিচ্ছেদ:

অপবিত্রতা পতিত হওয়ার ফলে কি পানি নাপাক হয়ে যায়।

 

সুন্নাহর কিতাবসমূহের পাঠক এই পরিচ্ছেদের হাদীসগুলোর মধ্যে বৈপরীত্য খুঁজে পাবেন; তিনি এমন কিছু হাদীস পাবেন যা অন্য হাদীসগুলোর বিপরীত অর্থ প্রদান করে, ফলে বিষয়টি তার নিকট অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।

 

অপবিত্রতা পতিত হওয়া সত্ত্বেও পানি পবিত্র থাকার সপক্ষে বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১- (পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী, একে কোনো কিছুই অপবিত্র করতে পারে না) ।

২- (পানি যখন দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না) ।

 

আর অপবিত্রতা পতিত হওয়ার কারণে পানি নাপাক হয়ে যাওয়ার সপক্ষে বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১- (তোমাদের কেউ যেন এমন স্থির পানিতে পেশাব না করে যা প্রবাহিত হয় না, অতঃপর তাতে গোসল করে)।

২- (তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগে, সে যেন তিনবার ধৌত করার আগে পাত্রে হাত না ঢুকায়) ।

৩- (তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর মুখ দেয়, তবে সে যেন তা ঢেলে দেয় এবং সাতবার ধৌত করে) ।

 

অপবিত্রতা পতিত হওয়া সত্ত্বেও পানি পবিত্র থাকার সপক্ষে বর্ণিত হাদীসসমূহ:<

 

প্রথম হাদীস:
(খণ্ড: ১) দফউ ইহামি তাআরুদি আহাদীসিল আহকাম ফী কিতাবিত তাহারাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
عن أبي سعيد الخدري-رضي الله عنه –قيل يا رسول الله: أَنَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ وَهِيَ بِئْرٌ يُلْقَى فِيهَا الْحِيَضُ وَلُحُومُ الْكِلَابِ وَالنَّتْنُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ". (1)

الحديث الثاني:

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي (1/95) وقال حديث حسن، وأبو داود (1/17،18) ، والنسائي (1/174) ،وابن ماجة (1/173) ، وأحمد (3/15،16، 31) ، والطيالسي ص292،286، والدارقطني (1/30،31) ، والبيهقي (1/257،258) ، وعبد الرزاق (1/78) ، وابن أبي شيبة (1/243) ،،وأبو يعلى (2/476) ، والطحاوي (1/11،12،476) ، وصححه البغوي في شرح السنة (2/61) والنووي في المجموع (1/82) وابن الملقن في البدر المنير (315-317) وأحمد شاكر في تحقيقه للمحلى لابن حزم (1/156) والألباني في إرواء الغليل (1/45) . وقال ابن كثير في تحفة الطالب ص 258: في إسناده بعض الاضطراب. والحديث له شواهد من حديث سهل بن سعد وحديث ابن عباس وميمونة وعائشة مرفوعاً وموقوفاً ومن حديث جابر. قلت: وبهذه الشواهد يتقوى الحديث ويثبت، سيما أن ضعفه يسير، والله أعلم.
আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি বুদাআহ কূপের পানি দিয়ে অজু করব? অথচ এটি এমন এক কূপ যেখানে ঋতুবতী নারীদের ব্যবহৃত কাপড়, কুকুরের গোশত এবং দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু নিক্ষিপ্ত হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।" (১)

দ্বিতীয় হাদিস:

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন (১/৯৫) এবং একে হাসান (حسن) হাদিস বলেছেন; এছাড়া আবু দাউদ (১/১৭,১৮), নাসায়ি (১/১৭৪), ইবনে মাজাহ (১/১৭৩), আহমাদ (৩/১৫,১৬, ৩১), তায়ালিসি (পৃ. ২৯২, ২৮৬), দারাকুতনি (১/৩০,৩১), বায়হাকি (১/২৫৭,২৫৮), আবদুর রাজ্জাক (১/৭৮), ইবনে আবি শাইবাহ (১/২৪৩), আবু ইয়ালা (২/৪৭৬) এবং তহাবি (১/১১,১২,৪৭৬) এটি বর্ণনা করেছেন। বগবি 'শারহুস সুন্নাহ' (২/৬১) গ্রন্থে, নববি 'আল-মাজমু' (১/৮২) গ্রন্থে, ইবনুল মুলাক্কিন 'আল-বদরুল মুনির' (৩১৫-৩১৭) গ্রন্থে, আহমাদ শাকির ইবনে হাজমের 'আল-মুহাল্লা'র তাহকিকে (১/১৫৬) এবং আলবানি 'ইরওয়াউল গালিল' (১/৪৫) গ্রন্থে একে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন। ইবনে কাসির 'তুহফাতুত তালিব' (পৃ. ২৫৮) গ্রন্থে বলেছেন: এর বর্ণনাসূত্রে (إسناده) কিছুটা অসংলগ্নতা (الاضطراب) রয়েছে। তবে সহল বিন সাদ, ইবনে আব্বাস, মায়মুনা এবং আয়েশা থেকে মারফু (مرفوعاً) ও মাওকুফ (موقوفاً) হিসেবে এবং জাবির থেকে বর্ণিত এই হাদিসটির একাধিক সমার্থক সমর্থনকারী বর্ণনা (شواهد) রয়েছে। আমি বলি: এই সমর্থনকারী বর্ণনাগুলোর (شواهد) মাধ্যমে হাদিসটি শক্তিশালী (يتقوى) ও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, বিশেষ করে যেহেতু এর দুর্বলতা (ضعفه) সামান্য (يسير)। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।