(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: -)
الجامع المسند الصحيح القسم: كتب السنة
الكتاب: الجامع المسند الصحيح «خلاصة منتخبة مستوعبة لما صح من أحاديث كتب عصر الرواية ابتداء بموطأ مالك، وانتهاء بمسند الشاشي»
المؤلف: أبو علي الحارث بن علي الحسني
الناشر: مكتبة دار البيان، دمشق
الطبعة: الأولى، 1438 هـ - 2017 م
عدد الأجزاء: 5
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 صفر 1442
আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহিহ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহিহ «বর্ণনা যুগের হাদিসগ্রন্থসমূহে বর্ণিত সহিহ হাদিসগুলোর একটি নির্বাচিত ও সংকলিত নির্যাস; যা ইমাম মালিকের মুয়াত্তা দিয়ে শুরু এবং আল-শাশীর মুসনাদ দিয়ে সমাপ্ত»
লেখক: আবু আলী আল-হারিস বিন আলী আল-হাসানী
প্রকাশক: মাকতাবাতু দারিল বায়ান، দামেস্ক
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৮ হিজরী - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৫
[বইটির নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ২৬ সফর ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১)
الجامع المسند الصحيح
خلاصة منتخبة مستوعبة لما صح من أحاديث كتب عصر الرواية ابتداء بموطأ مالك، وانتهاء بمسند الشاشي
تصنيف
أبي علي الحارث بن علي الحسني
[المجلد الأول]
مقدمة المصنف
من الألف إلى الزاي
আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহিহ
বর্ণনা যুগের গ্রন্থসমূহের সহিহ হাদিসগুলোর একটি নির্বাচিত ও সংগৃহীত সারসংক্ষেপ, যা ইমাম মালিকের মুয়াত্তা থেকে শুরু করে আশ-শাশির মুসনাদ পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত
গ্রন্থনায়
আবু আলি আল-হারিস বিন আলি আল-হাসানি
[প্রথম খণ্ড]
গ্রন্থকারের ভূমিকা
আলিফ থেকে যা পর্যন্ত
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
جميع الحقوق محفوظة
الطَّبْعَة الأُولَى
1438 هـ - 2017 م
مَكْتَبَةُ دَارِ البَيَانْ
دمشق - ساحة الحجاز - بناء ملا وماضي
هاتف: 2229045 - فاكس: 2236502 - ص. ب: 2854
E-mail: Albayan_in@hotmail.com
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪৩৮ হিজরী - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
মাকতাবাতু দারিল বায়ান
দামেস্ক - আল-হিজাজ চত্বর - মোল্লা ও মাদি ভবন
ফোন: ২২২৯০৪৫ - ফ্যাক্স: ২২৩৬৫০২ - পি. ও. বক্স: ২৮৫৪
ই-মেইল: Albayan_in@hotmail.com
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الكتاب الجامع المسند الصحيح
ما أخرجتُ في هذا الكتاب من حديثٍ، ولا أسقطتُه منه إلا .... وَلي فيه بيني وبين الله تبارك وتعالى حُجَّة. فاللَّهم
… رحمتك ومغفرتك
أبو عليّ الحارث بن عليّ الحسنيّ
আল-কিতাবুল জামিউল মুসনাদুস সহীহ
আমি এই কিতাবে যে হাদিসই বর্ণনা করেছি এবং যা কিছুই তা থেকে বাদ দিয়েছি, তা কেবল... আর এ বিষয়ে আমার এবং বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহর মাঝে একটি প্রমাণ রয়েছে। হে আল্লাহ
… আপনার রহমত ও আপনার ক্ষমা
আবু আলী আল-হারিস বিন আলী আল-হাসানী
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدِّمَةالحمد لله والصَّلاة والسَّلام على أنبياء الله ومن تبعهم، وبعد:
قال تعالى: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} [آل عمران: 164].
وقال الإمام أحمد بن حنبل: حَدَّثنا يزيدُ بنُ هَارُونَ، قَالَ: أخبرنا حَرِيزٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَوْفٍ الجرشيِّ، عَنِ المِقْدَامِ بن مَعْدِي كَرِبَ الكِنْدِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: «ألَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ، ألَا إِنِّي أُوتِيتُ الْقُرْآنَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ، ألَا يُوشِكُ رَجُلٌ يَنْثَني شَبْعَانًا عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُولُ: عَلَيْكُمْ بِالْقُرْآنِ، فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَلَالٍ فَأَحِلُّوهُ، وَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوهُ، ألَا لَا يَحلُّ لَكُمْ لَحْمُ الحِمَارِ الأَهْلِيِّ، وَلَا كُلُّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ، ألَا وَلَا لُقَطَةٌ مِنْ مَالِ مُعَاهَدٍ إِلَّا أَنْ يَسْتَغْنيَ عَنْهَا صَاحِبُها، وَمَنْ نَزَلَ بِقَوْمٍ، فَعَلَيْهِمْ أَنْ يَقْرُوهُمْ، فَإِنْ لَمْ يَقْرُوهُمْ، فَلَهُمْ أَنْ يُعْقِبُوهُمْ بِمِثْلِ قِرَاهُمْ». أخرجه أحمد (17036)، وأبو داود (4604).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর নবীগণ ও তাঁদের অনুসারীদের প্রতি দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
মহান আল্লাহ বলেছেন: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যখন তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল} [আল-ইমরান: ১৬৪]।
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: ইয়াযীদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারীয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে আবি আওফ আল-জুরাশি থেকে, তিনি মিকদাম ইবনে মাদী কারিব আল-কিন্দি থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সাবধান, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু প্রদান করা হয়েছে। সাবধান, আমাকে কুরআন এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু প্রদান করা হয়েছে। সাবধান, শীঘ্রই এমন এক তৃপ্ত ব্যক্তি আসবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বলবে: "তোমরা কেবল কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো; তাতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল মানবে এবং তাতে যা হারাম পাবে তাকেই হারাম মনে করবে।" সাবধান, তোমাদের জন্য গৃহপালিত গাধার গোশত হালাল নয় এবং শিকারি দাঁতবিশিষ্ট কোনো হিংস্র প্রাণীও নয়। সাবধান, কোনো চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তির হারানো সম্পদও তোমাদের জন্য বৈধ নয়, যতক্ষণ না তার মালিক তা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়। আর কোনো ব্যক্তি যদি কোনো সম্প্রদায়ের নিকট মেহমান হয়, তবে তাকে মেহমানদারি করা তাদের দায়িত্ব। যদি তারা তাকে মেহমানদারি না করে, তবে তাদের থেকে তার প্রাপ্য মেহমানদারির সমপরিমাণ আদায় করে নেওয়ার অধিকার তার রয়েছে।» এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (১৭০৩৬) এবং আবু দাউদ (৪৬০৪)।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وَقَالَ أبو دَاوُد: حَدَّثَنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنا أبو عَمْرِو بْنُ كَثِيرِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ حَرِيزِ بْنِ عُثْمانَ، به.
اعلم يا رحمك الله: أنَّ طلب الحديث الصحيح ومعرفته رأس مال المحدثين وغاية أمالهم وثمرة جهدهم، أحيوا أعمارهم من أجله، وهجروا ملذاتهم للذته. وروى أحمد بن محمد بن الأزهر
(1)، قال سمعت عبد الله بن الخليل بن إبراهيم العمي، سمعت أبي يقول: كان عبد الله بن المبارك يقول لنا: في صحيح الحديث شغل عن سقيمه. «الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع» (2/ 159)
وقد صنَّف في «الصحيح» السيدان الكبيران الفاضلان خلاصة النخبة المتقدمة البخاري ومسلم وما كان لهما شرط سوى ما درج عليه أرباب الصنعة في عصرهما وما قبله.
ثم جاء بعدهما ابن خزيمة فصنف ولم ينسج على منوالهما، بَلْ ولم يقرب، ثم تابعه ابن حبان فجمع أصول «الصحيحين» بما وقع له من أسانيد وزاد عليها نحوًا من ألفين وخمسمائة حديث؛ خرج بالجملة فيها عن شرط أهل الحديث المعتبر في التصحيح فإخرج لجملة من الضعفاء وجملة مما يُعَلّ.
--------------------------------------------
আবু দাউদ বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে নাজদাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আমর ইবনে কাসীর ইবনে দীনার বর্ণনা করেছেন, হারীয ইবনে উসমান থেকে, তাঁর সূত্রে।
জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনাকে রহম করুন: সহীহ হাদিসের অনুসন্ধান ও তার জ্ঞান হলো মুহাদ্দিসগণের মূলধন, তাঁদের আকাঙ্ক্ষার চরম লক্ষ্য এবং তাঁদের প্রচেষ্টার ফসল। তাঁরা এর জন্য তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং এর স্বাদের জন্য নিজেদের ভোগ-বিলাস ত্যাগ করেছেন। আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আযহার
(১) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল খলীল ইবনে ইবরাহীম আল-আম্মীকে বলতে শুনেছি, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের বলতেন: সহীহ হাদিস চর্চার মধ্যে দুর্বল হাদিস থেকে বিমুখ হওয়ার যথেষ্ট উপায় রয়েছে। «আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামি» (২/ ১৫৯)
আর "সহীহ" (গ্রন্থ) সংকলন করেছেন পূর্ববর্তী বরণীয় ব্যক্তিদের নির্যাসস্বরূপ দুই মহান ও ফজিলতপূর্ণ সরদার বুখারী ও মুসলিম। তাঁদের শর্তাবলি তাই ছিল যা তাঁদের যুগের এবং তাঁদের পূর্ববর্তী যুগের এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ অনুসরণ করে আসছিলেন।
এরপর তাঁদের পরে ইবনে খুযায়মাহ আসলেন এবং সংকলন করলেন, কিন্তু তিনি তাঁদের পদ্ধতি অনুসরণ করেননি, এমনকি তার নিকটেও পৌঁছাননি। এরপর তাঁর অনুসরণ করলেন ইবনে হিব্বান; তিনি "সহীহাইন"-এর মূল হাদিসগুলো তাঁর কাছে প্রাপ্ত সনদ অনুযায়ী একত্রিত করলেন এবং তাতে প্রায় দুই হাজার পাঁচশ হাদিস বৃদ্ধি করলেন। তিনি এতে সামগ্রিকভাবে সহীহ নির্ণয়ে মুহাদ্দিসগণের নির্ভরযোগ্য শর্তাবলি থেকে বিচ্যুত হয়েছেন এবং এতে একদল দুর্বল বর্ণনাকারী ও ত্রুটিযুক্ত হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ثم إنَّ الحاكم النيسابوري انتفض يرد على من يستقل عدة الصحيح فجمع «المستدرك» أودع فيه ما يظهر أول الأمر أنه صحيح فكان أن جمع مادة كتابه؛ فربما خلط الأباطيل والمنكرات فضلًا عن الضعيف في صعيد الصحيحات والمقبولات وجاء لينقحه فبلغ ربعه فمات، وتركه عرضة الانتقادات.
ثم إنَّ ابن السَّكن تابع القوم فيما يُصَنَّفُ في الصحيح خاصة ولكن كتابه مفقود.
ومن ثم جاء الضياء المقدسيِّ فترخص في الشرط ولم يتم كتابه.
وكتابي ابن خزيمة «الصحيحين» وبقي الأمر على هذا الحال يحتج الناس بما في وابن حبان، وعلى تحرز من كتابي الحاكم والضياء.
وبقي أمر الصحيح على نقص في إفراده بمصنف مستوعبًا له.
وقد ذكر البعض أنَّ الصحيح لا يتجاوز السبعة آلاف حديث، فإذا كان الجمع بين «الصحيحين» نحوًا من أربعة آلاف حديث بحذف المكرر فيبقى ما يتمم السبعة آلاف.
ولطالما حدثتني نفسي أن أجمع بين «الصحيحين» وأزيد عليهما مما ليس فيهما مستوفيًا شرط أئمة الحديث المتقدمين في الصحيح، وهو:
ما كان راويه ثقة لم يُعلم أنه اخطأ أو وهم فيه، أو خالف الأرجح، أو تفرد بما لا يحتمل التفرد، أو أدخل عليه ما ليس من حديثه، أو علم أنه دلس، أو أرسل ما
ـ
এরপর ইমাম হাকিম নিশাপুরী ঐ সকল ব্যক্তিদের খণ্ডন করতে তৎপর হন যারা সহীহ হাদীসের সংখ্যাকে অল্প মনে করেন। তিনি ‘আল-মুস্তাদরাক’ সংকলন করেন এবং এতে এমন সব হাদীস অন্তর্ভুক্ত করেন যা প্রাথমিকভাবে সহীহ বলে মনে হয়। তিনি তার গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেন; কিন্তু সম্ভবত তিনি সহীহ ও গ্রহণযোগ্য হাদীসসমূহের সাথে দুর্বল হাদীস ছাড়াও বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত বর্ণনা মিশ্রিত করে ফেলেছিলেন। তিনি এটি পরিমার্জন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু যখন এর এক-চতুর্থাংশ সম্পন্ন করলেন তখন তিনি ইন্তেকাল করেন এবং গ্রন্থটি সমালোচনার সম্মুখীন অবস্থায় রেখে যান।
অতঃপর ইবনে আস-সাকান বিশেষ করে সহীহ বিষয়ের ওপর গ্রন্থ রচনায় পূর্ববর্তীদের অনুকরণ করেন, কিন্তু তার কিতাবটি হারিয়ে গিয়েছে।
এরপর যিয়া আল-মাকদিসী আসেন এবং তিনি শর্তারোপের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেন এবং তার কিতাবটি সমাপ্ত করতে পারেননি।
আর বিষয়টি এই অবস্থায় চলতে থাকে যে, মানুষ ইবনে খুযাইমাহ ও ইবনে হিব্বানের ‘সহীহাইন’ কিতাবদ্বয়ের হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করতে থাকে, তবে তারা হাকিম ও যিয়া-এর কিতাবদ্বয়ের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করেন।
আর সহীহ হাদীসসমূহকে একটি পূর্ণাঙ্গ সংকলনে একত্রিত করার বিষয়টি অপূর্ণাঙ্গই থেকে যায়।
কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, সহীহ হাদীসের সংখ্যা সাত হাজারের বেশি নয়। যদি পুনরাবৃত্তি বাদ দিয়ে ‘সহীহাইন’ (বুখারী ও মুসলিম)-এর সম্মিলিত হাদীস সংখ্যা প্রায় চার হাজার হয়, তবে সাত হাজার পূর্ণ করতে অবশিষ্ট অংশ বাকি থেকে যায়।
দীর্ঘকাল ধরে আমার মনে এই আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত ছিল যে, আমি ‘সহীহাইন’-কে একত্রিত করব এবং তাতে এমন সব হাদীস বৃদ্ধি করব যা এই কিতাবদ্বয়ে নেই, যা সহীহ হাদীসের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণের শর্তসমূহকে পূর্ণ করবে। আর তা হলো:
যার বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য, যার সম্পর্কে এটি জানা নেই যে তিনি ভুল করেছেন বা বিভ্রান্ত হয়েছেন, অথবা তিনি অধিকতর বিশুদ্ধ বর্ণনার বিরোধিতা করেছেন, অথবা এমন বিষয়ে একক বর্ণনা দিয়েছেন যা এককভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, অথবা তার বর্ণনায় এমন কিছু অনুপ্রবেশ করানো হয়েছে যা তার হাদীসের অংশ নয়, অথবা এটি জানা গিয়েছে যে তিনি তাদলিস করেছেন কিংবা এমন কিছু মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা
—
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
رواه، أو لقن، أو اختلط، وليست روايته مما هو قبل اختلاطه جزمًا، أو خالف أصلًا عامًا ثابتًا.
ولقد عَزَّ هذا الشرط وقلَّ من استوفاه فكان أنْ جمعت أول الأمر بين «الصحيحين، ثم تتبعت ما في «موطأ مالك»، «جامع ابن وهب»، و «مصنفي عبد الرزاق» و «ابن أبي شيبة» و «مسانيد ابن المبارك»، وابن الجعد»، و «أحمد»، و «سنن سعيد ابن منصور»، و «سنن الأثرم»، ثم عرجت على ما في «المطالب العالية» من زوائد، ومن ثم «سنن الدارمي، و «ابن ماجة»، و «أبي داود»، و «الترمذي»، و «النسائي، ومسندي «الروياني»، و «الشاشي».
ثم أتيت على «زوائد الأمالي والأجزاء» فيما جمعها الفاضل نبيل سعد الدين سليم في كتابه المبارك «الإيماء إلى زوائد الأمالي والأجزاء» وهي جملة معاجم، ومشيخات، وأربعينات، وأما، وفوائد، ومجالس، وأجزاء حديثية قد بلغ بها ثلاثمائة وست وأربعين مؤلفًا زائدًا على الكتب الستة والموطأ ومسند الإمام أحمد.
وقد تتبعت هذه الزوائد واستخلصتها فكانت عدتها ما يلي:
زوائد ابن المبارك ستة أحاديث، وزوائد ابن وهب في الجامع أربعة وعشرون حديثًا، وزوائد مسند علي بن الجعد اثنان وعشرون حديثًا، وزوائد سنن سعيد بن منصور عشرة أحاديث، وزوائد الأثرم خمسة أحاديث، وزوائد الشاشي نحو من
...বর্ণনা করেছেন, অথবা তাকে মুখস্থ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, অথবা তার স্মৃতিভ্রম ঘটেছে এবং তার বর্ণনাটি নিশ্চিতভাবেই তার স্মৃতিভ্রম হওয়ার আগের সময়ের নয়, অথবা তা কোনো সুসাব্যস্ত সাধারণ মূলনীতির পরিপন্থী।
এই শর্তটি অত্যন্ত দুর্লভ এবং খুব কম সংখ্যকই তা পূরণ করতে পেরেছেন। ফলে আমি সর্বপ্রথম ‘সহিহাইন’ (বুখারি ও মুসলিম)-কে একত্রিত করেছি, অতঃপর ‘মুয়াত্তা মালিক’, ‘জামে ইবনু ওয়াহাব’, আব্দুর রাজ্জাক ও ইবনু আবি শাইবাহর ‘মুসান্নাফ’ দ্বয়, ইবনুল মুবারক, ইবনুল জা’দ ও আহমাদের ‘মুসনাদ’ সমূহ এবং ‘সুনানে সাঈদ ইবনে মানসুর’ ও ‘সুনানে আসরাম’-এ যা রয়েছে তা নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করেছি। অতঃপর আমি ‘আল-মাতালিবুল আলিয়া’-তে থাকা অতিরিক্ত (যাওয়ায়েদ) হাদিসগুলোর দিকে নিবিষ্ট হয়েছি এবং সেখান থেকে ‘সুনানে দারিমি’, ‘ইবনে মাজাহ’, ‘আবু দাউদ’, ‘তিরমিজি’, ‘নাসায়ি’ এবং ‘রুয়ানি’ ও ‘শাশি’-র মুসনাদদ্বয়ের দিকে ফিরেছি।
এরপর আমি ‘যাওয়ায়েদুল আমালি ওয়াল আজজা’ (আমালি ও আজজা গ্রন্থসমূহের অতিরিক্ত হাদিসসমূহ) গ্রহণ করেছি, যা বিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব নাবিল সাদউদ্দীন সালিম তার বরকতময় গ্রন্থ ‘আল-ইমা ইলা যাওয়ায়েদিল আমালি ওয়াল আজজা’-তে সংকলন করেছেন। এটি মূলত বেশ কিছু মু'জাম, মাশয়াখাহ, আরবাঈন, আমালি, ফাওয়ায়িদ, মাজালিস এবং হাদিসের আজজা-র (খণ্ড) সমষ্টি, যার সংখ্যা কুতুবে সিত্তা, মুয়াত্তা ও ইমাম আহমাদের মুসনাদ ব্যতিরেকে তিনশত ছিচল্লিশটি গ্রন্থে উন্নীত হয়েছে।
আমি এই অতিরিক্ত হাদিসগুলো (যাওয়ায়েদ) অনুসন্ধান করেছি এবং সেগুলো নির্যাস আকারে বের করেছি, যার সংখ্যা ছিল নিম্নরূপ:
ইবনুল মুবারকের যাওয়াইদ ছয়টি হাদিস, জামে গ্রন্থে ইবনু ওয়াহাবের যাওয়াইদ চব্বিশটি হাদিস, আলী ইবনুল জা’দের মুসনাদে যাওয়াইদ বাইশটি হাদিস, সুনানে সাঈদ ইবনে মানসুরের যাওয়াইদ দশটি হাদিস, আসরামের যাওয়াইদ পাঁচটি হাদিস এবং শাশি-র যাওয়াইদ প্রায়...
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
مائة حديث، وزوائد الروياني نحو من مائتي حديث، وزوائد الأمالي والأجزاء سبعة آلاف وأربعمائة وسبع وثلاثون حديثًا، ما صحَّ منها شيء إما من طريق ضعيف، أو معل.
وبلغت زوائد المطالب العالية ألفًا وثمانمائة وخمسة وثلاثين (1835) حديثًا بالموقوفات والمقطوعات. ولم أظفر منها إلَّا بسبعة أحاديث صحيحة، وذلك أن الزوائد في الغالب موقوفة أو من «مسند أبي بكر بن أبي شيبة» وهي في المصنف غالبها، أو من «مسند الحميدي» وهي في الجامع المسند الأصل الذي أعمل عليه وكذا في «مسند عبد بن حميد» أو «مسند أبي يعلى» وفلهذا قلت الزوائد المطلوبة، بالنسبة لكمها الكبير.
هذا كان أول أمري وكنت أتممت جمع المادة وحررت كثيرًا من أصول الكتاب وأنجزت جزءه الأول ونصف الثاني؛ حتي وقفت على المصنف العظيم المبارك «المسند المصنف المعلل» للسيد المحقق أبي المعاطي النوري ومجموعته.
وقد حوى أصول «مصنفي عبد الرزاق»، و «ابن أبي شيبة»، و «مسند الحميدي»، و «مسند أحمد»، و «المنتخب من مسند عبد بن حُميد»، و «سنن الدارمي»، و «صحيحي البخاري ومسلم»، و «سنن ابن ماجة»، و «أبي داود»، و «الترمذي»، و «النسائي»، و «صحيحي ابن خزيمة»، و «ابن حبان»، و «مسند أبي يعلى»، و «الأدب المفرد للبخاري»، و «الشمائل» للترمذي.
একশটি হাদীস, আর রুয়ানি-এর অতিরিক্ত হাদীসসমূহ প্রায় দুইশটি, এবং আমালি ও আজজা-এর অতিরিক্ত হাদীসসমূহ সাত হাজার চারশ সাইত্রিশটি; এর মধ্যে কোনোটিই সহীহ নয়, হয় তা দুর্বল সূত্রে বর্ণিত নতুবা ত্রুটিযুক্ত।
আর 'আল-মাতালিবুল আলিয়া'-এর অতিরিক্ত হাদীসের সংখ্যা মাওকুফ ও মাকতু বর্ণনাসহ এক হাজার আটশ পঁয়ত্রিশটি (১৮৩৫) হাদীসে পৌঁছেছে। আমি এর মধ্যে মাত্র সাতটি সহীহ হাদীস পেয়েছি। এর কারণ হলো, অতিরিক্ত হাদীসগুলোর অধিকাংশ হয় মাওকুফ, অথবা 'মুসনাদে আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ' থেকে সংকলিত যা মূলত তাঁর 'মুসান্নাফ'-এর অন্তর্ভুক্ত, অথবা 'মুসনাদে হুমায়দি' থেকে সংকলিত যা সেই মূল 'জামেউল মুসনাদ'-এ রয়েছে যেটির ওপর আমি কাজ করছি; একইভাবে 'মুসনাদে আবদ ইবনে হুমাইদ' বা 'মুসনাদে আবু ইয়ালা'-তেও তা রয়েছে। আর এ কারণেই এর বিশাল পরিমাণের তুলনায় কাঙ্ক্ষিত অতিরিক্ত হাদীসের সংখ্যা কমে গেছে।
এটি ছিল আমার প্রাথমিক অবস্থা, আমি বিষয়বস্তু সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করেছিলাম এবং গ্রন্থের অনেক মূল পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেছিলাম এবং এর প্রথম খণ্ড ও দ্বিতীয় খণ্ডের অর্ধেক শেষ করেছিলাম; অবশেষে আমি গবেষক সাইয়্যেদ আবু আল-মাআতি আন-নুরি ও তাঁর দলের সংকলিত মহান ও বরকতময় গ্রন্থ 'আল-মুসনাদ আল-মুসান্নাফ আল-মুআল্লাল'-এর সন্ধান পেলাম।
এটি 'মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক', 'মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ', 'মুসনাদে হুমায়দি', 'মুসনাদে আহমাদ', 'আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদি আবদ ইবনে হুমাইদ', 'সুনানে দারেমি', 'সহীহ বুখারী ও মুসলিম', 'সুনানে ইবনে মাজাহ', 'সুনানে আবু দাউদ', 'জামে তিরমিযী', 'সুনানে নাসাঈ', 'সহীহ ইবনে খুযাইমাহ', 'সহীহ ইবনে হিব্বান', 'মুসনাদে আবু ইয়ালা', বুখারীর 'আল-আদাবুল মুফরাদ' এবং তিরমিযীর 'আশ-শামাইল'-এর মূল পাঠসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فنظرت فيه فرأيته جمع ما لم يجمع في غيره من الكتب الجوامع، فرأيت أن أغير في بعض وجهتي، وذلك أن أنتخب من الكتاب ما كان بشرطي الذي بينت صورة أصوله مستوفيًا في كتابي «منتقى الألفاظ بتقريب علوم الحديث للحفاظ»
(1)، ومن ثم أزيد عليه ما جمعته من مادة الزوائد عليه من الكتب التي جمعتها أصلًا والتي تقدَّم ذكرها.
وقد كان يسيرًا عليَّ وأنا طالب الحديث أن أجمع بين «الصحيحين» وما زاد عليه مما صرح بقبوله إمام معتبر في الصنعة من المتقدمين ومن المتأخرين ومن اشتهر بالحكم على الأحاديث من المعاصرين
(2).
--------------------------------------------
আমি এতে দৃষ্টিপাত করলাম এবং দেখলাম যে এটি এমন কিছু একত্রিত করেছে যা অন্য কোনো সংকলন গ্রন্থে একত্রিত হয়নি, ফলে আমি আমার কর্মপন্থা কিছুটা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলাম। তা হলো, আমি এই গ্রন্থ থেকে তা-ই নির্বাচন করব যা আমার নির্ধারিত শর্তানুযায়ী হবে, যার মূলনীতির চিত্র আমি আমার 'মুনতাক্বাল আলফায বিতাক্বরীবি উলূমিল হাদীসি লিল হুফফায'
(১) গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। এরপর আমি এতে সেই অতিরিক্ত বিষয়গুলো যোগ করব যা আমি এমন সব গ্রন্থ থেকে সংগ্রহ করেছি যা মূলত আমি সংকলন করেছি এবং যার উল্লেখ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
আমি যখন হাদীসের ছাত্র ছিলাম, তখন আমার জন্য 'সহীহাইন' (বুখারী ও মুসলিম) এবং এর অতিরিক্ত যা কোনো গ্রহণযোগ্য ইমাম (পূর্ববর্তী, পরবর্তী বা সমসাময়িকদের মধ্যে যারা হাদীসের হুকুম প্রদানে প্রসিদ্ধ) গ্রহণ করেছেন বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তা একত্রিত করা সহজ ছিল।
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ـوما كان هذا ليكلفني غير جمع المادة وترتيبها وأجعل العهدة فيه على المصحح، وأترك الناس تَبعًا مُقَلِدةً خصوصًا للمتأخرين والمعاصرين.
ولكن هيهات فإن الأمر أعسر من ذا بكثير بل يشبه زحزحة جبل عن موضعه لموضع دونه.
وذلك أنَّ المتأخرين من لدن النووي إلى عصرنا لا يكاد أحدٌ منهم يوافق من المتقدمين في منهج التصحيح والحكم على الأحاديث لظاهريتهم في الحكم على الأسانيد، فقد تبين لي أنَّ الحاكم منهم إنما يحكم على الحديث لمجرد ثقة رواته دون الالتفات لإعلال الأئمة النقاد - خصوصًا ما صرحوا بإعلاله - وقد كان يسعهم أن يلزموا غرزهم ويقيموا لعلمهم ودرايتهم بأحكام الأحاديث وزنًا، فكثر تصحيحهم للشاذات والمنكرات والبواطيل.
قال الحاكم: وإنما يُعلل الحديث من أوجه ليس للجرح فيها مدخل، فإن حديث المجروح ساقط واهٍ، وعلة الحديث يكثر في أحاديث الثقات أن يحدثوا بحديث له علة فيخفى عليهم علمه فيصير الحديث معلولًا، والحجة فيه عندنا الحفظ، والفهم، والمعرفة لا غير. معرفة علوم الحديث (ص: 112)
وقال ابن الجوزي: وقد يكون الإسناد كله ثقات ويكون الحديث موضوعًا أو مقلوبًا، أو قد جرى فيه تدليس وهذا من أصعب الأمور ولا يعرف ذلك إلَّا النقاد. اهـ. الموضوعات (1/ 99).
আর এটি উপাদান সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা এবং এর দায়ভার সংশোধকের ওপর অর্পণ করা এবং মানুষকে বিশেষ করে পরবর্তী ও সমসাময়িকদের অন্ধ অনুসারী হিসেবে ছেড়ে দেওয়া ব্যতীত আমার জন্য আর কোনো বাড়তি পরিশ্রমের কাজ হতো না।
কিন্তু হায়! বিষয়টি এর চেয়ে অনেক বেশি কঠিন; বরং এটি পাহাড়কে তার স্থান থেকে সরিয়ে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার সদৃশ।
আর তা একারণে যে, ইমাম নববী থেকে শুরু করে আমাদের এই যুগ পর্যন্ত পরবর্তীকালীন আলেমদের মধ্যে প্রায় কেউই হাদিস সংশোধন এবং হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের পদ্ধতিতে পূর্ববর্তী ইমামদের সাথে একমত পোষণ করেন না; কারণ সনদের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে তারা কেবল বাহ্যিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করেন। আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তাদের মধ্যে যারা হুকুম প্রদান করেন, তারা কেবল বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার ওপর ভিত্তি করেই হাদিসের ওপর হুকুম দেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞ সমালোচক ইমামদের চিহ্নিত করা ত্রুটিগুলোর (ইল্লাত) প্রতি লক্ষ্য করেন না—বিশেষ করে যেগুলোকে তারা স্পষ্টভাবে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন। তাদের জন্য উচিত ছিল পূর্ববর্তীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা এবং হাদিসের হুকুম সম্পর্কে তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে মূল্যায়ন করা। যার ফলে তাদের মাঝে শায (বিচ্ছিন্ন), মুনকার (অস্বীকৃত) এবং ভিত্তিহীন বর্ণনাগুলোকে 'সহিহ' বলার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইমাম আল-হাকিম বলেন: "হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাত) এমন সব দিক থেকে বের করা হয় যেখানে বর্ণনাকারীর ব্যক্তিগত অযোগ্যতার (জারহ) কোনো প্রবেশ নেই। কেননা অযোগ্য বর্ণনাকারীর হাদিস তো এমনিতেই পরিত্যক্ত ও দুর্বল। হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাত) বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের হাদিসেই দেখা যায়; তারা এমন হাদিস বর্ণনা করেন যাতে কোনো ত্রুটি থাকে কিন্তু সেই জ্ঞান তাদের কাছে গোপন থেকে যায়, ফলে হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত (মা'লুল) হয়ে পড়ে। আর আমাদের কাছে এর প্রমাণ হলো মুখস্থ শক্তি (হিফজ), অনুধাবন এবং প্রজ্ঞা, অন্য কিছু নয়।" মারিফাতু উলুমিল হাদিস (পৃষ্ঠা: ১১২)
ইবনুল জাওযী বলেন: "কখনো কখনো পুরো সনদের বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য হতে পারে, অথচ হাদিসটি বানোয়াট বা ওলটপালট হতে পারে, অথবা তাতে 'তাদলীস' (বর্ণনাকারীর নাম গোপন করা) থাকতে পারে। এটি অত্যন্ত কঠিন বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং বিশেষজ্ঞ সমালোচকগণ ছাড়া আর কেউ এটি অনুধাবন করতে পারে না।" সমাপ্ত। আল-মাউযুআত (১/৯৯)।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قال ابن رجب
(1) رحمه الله: وأما الفقهاء المتأخرين فكثير منهم نظرإلى ثقة رجاله فظن صحته، وهؤلاء يظنون أن كل حديث رواه ثقة فهو صحيح، ولا يتفطنون لدقائق علم علل الأحاديث. فتح الباري (1/ 323)
وصدقوا رحمهم الله وذلك أنَّ علم العلل قضى على علوم الحديث من جرح وتعديل ومصطلح ورسوم إسناد وفنونه.
فكم من حديث رواته ثقات، بل قد يكون مرويًا بأصح الأسانيد ظاهرًا ويكون إسناده معلًا؛ إمَّا وهمًا وإمًا مركبًا وإما منقطعًا وإما شاذًا.
كحديث: إسماعيل بن أبي خالد عن قيس بن أبي حازم عن عائشة مرفوعًا: «أيتكن تنبح عليها كلاب الحوأب».
أخرجه ابن أبي شيبة (38926) و «أحمد» (24758) و «أَبو يَعلى» (4868)
وهذا إسناد من أصح الأسانيد في ظاهره، وعدَّه يحيى بن سعيد القطان في منكرات قيس.
فتجاسر بعض الخلف فرد إعلاله بحجة واهية.
فجرأ علينا الروافض ومن تملق لهم ونافق.
لذا كثر تصحيحهم لمثل هذه الأحاديث، حتى تعبد الناس رب العباد بما لم يشرع.
--------------------------------------------
ইবন রাজাব
(১) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: আর পরবর্তী যুগের ফকিহদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তাদের অনেকেই রাবিদের (বর্ণনাকারীদের) নির্ভরযোগ্যতার দিকে লক্ষ্য করেন এবং এর ভিত্তিতে হাদিসটি সহিহ বলে ধারণা করেন। তারা মনে করেন যে, কোনো নির্ভরযোগ্য রাবি যে হাদিস বর্ণনা করেন সেটিই সহিহ। তারা হাদিসের 'ইলমুল ইলাল' বা সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো উপলব্ধি করেন না। ফাতহুল বারি (১/৩২৩)
তারা (ইমামগণ) সত্যই বলেছেন, আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন। কারণ 'ইলমুল ইলাল' বা ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান হাদিস বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখা যেমন জারাহ-তাদিল, পরিভাষা এবং সনদের প্রকার ও শিল্পকলাগুলোর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে।
এমন কত হাদিস আছে যার বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, এমনকি বাহ্যিকভাবে যা সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত বলে মনে হয়, অথচ তার সনদে কোনো ত্রুটি লুকিয়ে থাকে; চাই তা ভ্রমের কারণে হোক, কিংবা কৃত্রিমভাবে সাজানো হওয়ার কারণে, অথবা বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে কিংবা শায (ব্যতিক্রমধর্মী) হওয়ার কারণে।
যেমন একটি হাদিস: ইসমাইল ইবন আবি খালিদ থেকে বর্ণিত, তিনি কায়াস ইবন আবি হাযিম থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: «তোমাদের মধ্যে কার ওপর হাওয়াবের কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করবে?»
এটি বর্ণনা করেছেন ইবন আবি শাইবাহ (৩৮৯২৬), আহমাদ (২৪৭৫৮) এবং আবু ইয়ালা (৪৮৬৮)
এটি বাহ্যিকভাবে অত্যন্ত বিশুদ্ধ একটি সনদ, অথচ ইয়াহইয়া ইবন সাইদ আল-কাত্তান একে কায়াসের মুনকার (অস্বীকৃত) বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
কিন্তু পরবর্তী যুগের কেউ কেউ দুঃসাহস দেখিয়ে দুর্বল যুক্তির মাধ্যমে এর ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এর ফলে আমাদের বিরুদ্ধে রাফেজি এবং যারা তাদের চাটুকারিতা ও নিফাক করে, তারা স্পর্ধা দেখানোর সুযোগ পেয়েছে।
একই কারণে এ জাতীয় হাদিসগুলোকে সহিহ বলার প্রবণতা বেড়ে গেছে, এমনকি মানুষ বান্দাদের রবের ইবাদত করতে শুরু করেছে এমন সব উপায়ে যা তিনি শরিয়তসিদ্ধ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وكم من حديث رواته دون الثقات بل ممن ضُعِّفَ وحديثه مردود بالجملة، علم النقاد بدرايتهم التي انعدمت اليوم بأنه ضبط مرويه فقبلوا حديثه.
كأحاديث: هشام بن سعد عن زيد بن أسلم، وكذا أحاديث أبي معاوية عن الأعمش، وأحاديث عكرمة بن عمار عن إياس بن سلمة، وأحاديث خالد بن مخلد عن سليمان بن بلال، وأحاديث عبد الرحمن بن أبي الزناد عن هشام بن عروة.
على أنهم لا يقبلونها مطلقًا دون النظر في القرائن، فإنه قد وجدت كذلك أحاديث عن هؤلاء فيها نكارة لم يقبلوها.
ومن عافس عملهم تبين له كم المرسلات التي قبلوها، والمتصلات قد ردوها.
كمراسيل من لا يروي إلَّا عن ثقة.
ومما ردوه من المتصلات، كثيرٌ من أحاديث معمر عن قتادة، وأيوب السختياني عن يحيى بن أبي كثير، وهشام بن حسان عن عطاء بن أبي رباح.
ولطالما قبلوا كثيرًا من معنعنات المدلس.
كحديث: الأعمش عن أبي وائل، وإبراهيم، وأبي صالح.
وما أكثر ما صرحوا ببطلان التصريح بالسماع في أخبار يشق على المتتبع عدها.
এমন অনেক হাদিস রয়েছে যেগুলোর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য স্তরের নিচের, এমনকি তারা এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের দুর্বল বলা হয়েছে এবং যাদের হাদিস সাধারণত প্রত্যাখ্যাত; তবুও হাদিস বিশারদগণ তাদের সেই প্রজ্ঞার মাধ্যমে—যা আজ বিলুপ্ত—জানতে পেরেছিলেন যে উক্ত বর্ণনাকারী এই নির্দিষ্ট বর্ণনাটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেছেন, তাই তাঁরা তার হাদিস গ্রহণ করেছেন।
যেমন: জায়েদ বিন আসলাম থেকে হিশাম বিন সা’দের বর্ণিত হাদিসসমূহ, অনুরূপভাবে আমাশ থেকে আবু মুয়াবিয়ার হাদিসসমূহ, ইয়াস বিন সালামাহ থেকে ইকরিমা বিন আম্মারের হাদিসসমূহ, সুলাইমান বিন বিলাল থেকে খালিদ বিন মাখলাদের হাদিসসমূহ এবং হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে আব্দুর রহমান বিন আবিয যিনাদের হাদিসসমূহ।
তবে তাঁরা পারিপার্শ্বিক আলামত বিবেচনা না করে এগুলোকে ঢালাওভাবে গ্রহণ করতেন না; কারণ এই বর্ণনাকারীদের থেকে এমন কিছু হাদিসও পাওয়া গিয়েছে যাতে অসামঞ্জস্যতা (নাকারাহ) বিদ্যমান ছিল, যা তাঁরা গ্রহণ করেননি।
যে ব্যক্তি তাঁদের কর্মপদ্ধতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, তাঁর নিকট স্পষ্ট হবে যে কত কত মুরসাল হাদিস তাঁরা গ্রহণ করেছেন এবং অনেক মুত্তাসিল হাদিস তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
যেমন সেই ব্যক্তির মুরসাল বর্ণনাসমূহ যে কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকেই বর্ণনা করে।
আর মুত্তাসিল হাদিসের মধ্যে তাঁরা যা প্রত্যাখ্যান করেছেন, তার মধ্যে কাতাদাহ থেকে মা’মারের অনেক হাদিস, ইয়াহইয়া বিন আবি কাসীর থেকে আইয়ুব সাখতিয়ানির হাদিস এবং আতা বিন আবি রাবাহ থেকে হিশাম বিন হাসসানের অনেক হাদিস অন্তর্ভুক্ত।
এবং প্রায়শই তাঁরা মুদাল্লিসের অনেক ‘আনআনা’ (সূত্রহীন বর্ণনা) কবুল করেছেন।
যেমন: আবু ওয়ায়েল, ইবরাহীম এবং আবু সালিহ থেকে আমাশের হাদিস।
এবং এমন অনেক বর্ণনা রয়েছে যেখানে সরাসরি শ্রবণ করার কথা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা সেগুলোকে বাতিল বলে ঘোষণা করেছেন, যা একজন অনুসন্ধানকারীর পক্ষে গণনা করা দুঃসাধ্য।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قال ابن رجب: وكان أحمد يستنكر دخول التحديث في كثير من الأسانيد، ويقول: هو خطأ؛ يعني: ذكر السماع. قال في رواية هدبة، عن قتادة، ثنا خلاد الجهني، وهو خطأ، خلاد قديم ما رأى قتادة خلادًا. وذكروا لأحمد قول من قال: عن عراك بن مالك سمعت عائشة، فقال: هذا خطأ. وأنكره وقال: عراك من أين سمع عائشة؟ إنما يروى عن عروة، عن عائشة. شرح علل الترمذي (1/ 140)
فلم يكونوا يعبؤون بمجرد نظافة الإسناد الظاهرة، بل رأيتهم كثيرًا ما يهابون نظافة الإسناد إذ العلة في ثناياه كامنة.
وما على هذا كله يجري من جاء بعد الدارقطني، إلَّا قلة منهم وفي مواضع، كابن عبد الهادي وابن رجب.
حتى رأينا الإسراف المفرط في تصحيح الأحاديث عند المتأخرين، ومن ثم بلغ حد الهوس بقبول الأحاديث عند المعاصرين، فإن أفلت الحديث منهم في قبوله بظاهر الإسناد استعانوا عليه بالمتابعات والشواهد وهذه أطم وأكبر.
وقد بلغت مخالفة أصول التحديث على رسم النقاد الحفاظ أن يكون أسهل شيء على المتأخر من المشتغلين بالحديث خصوصًا المعاصرين منهم أن يجسر على رد إعلال الحافظ الناقد بقولتهم المشهورة (وقد أعل بما لا يقدح) بأوهى الحجج وبقواعد وضوابط غير أهل الحديث من الفقهاء والأصوليين.
ইবনে রজব বলেন: ইমাম আহমাদ অনেক ইসনাদে 'তাহদীস' (বর্ণনাসূচক শব্দ) ব্যবহারকে অপছন্দ করতেন এবং বলতেন: এটি ভুল; অর্থাৎ: সরাসরি শ্রবণ (সামা') উল্লেখ করা। হুদবার বর্ণনায় কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: খাল্লাদ আল-জুহানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—এই সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেন, এটি ভুল; খাল্লাদ অনেক প্রাচীন ব্যক্তি, কাতাদাহ খাল্লাদকে দেখেননি। জনৈক ব্যক্তির বক্তব্য সম্পর্কে ইমাম আহমাদকে বলা হলো যে, তিনি বলেছেন: "ইরাক ইবন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি আয়েশা (রা.)-কে বলতে শুনেছি।" ইমাম আহমাদ বললেন: এটি ভুল। তিনি এটি প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বললেন: ইরাক কোথা থেকে আয়েশা (রা.)-এর নিকট শ্রবণ করলেন? তিনি তো কেবল উরওয়ার সূত্রে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। [শারহু ইলালিত তিরমিযী (১/১৪০)]
তারা কেবল ইসনাদের বাহ্যিক স্বচ্ছতা নিয়ে সন্তুষ্ট হতেন না, বরং আমি তাদের অনেককেই ইসনাদের বাহ্যিক স্বচ্ছতা দেখেও শঙ্কা প্রকাশ করতে দেখেছি, কেননা এর ভাঁজে ভাঁজে গোপন ত্রুটি (ইল্লত) লুকিয়ে থাকতে পারে।
আদ-দারাকুতনীর পরে যারা এসেছেন, তাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক ছাড়া আর কেউই এই পদ্ধতির ওপর চলেননি, যেমন ইবনু আবদিল হাদী এবং ইবনে রজব।
এমনকি আমরা পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে হাদীস সহীহ করার ক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি দেখেছি, যার ফলে বর্তমান যুগের অনেকের মাঝে হাদীস গ্রহণের ক্ষেত্রে বিষয়টি এক প্রকার উম্মাদনার পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদি হাদীসটি ইসনাদের বাহ্যিক অবস্থায় তাদের নিকট গ্রহণযোগ্য হওয়া থেকে ফসকেও যায়, তবে তারা এর স্বপক্ষে মুতাবা’আত ও শাওয়াহিদ (সমর্থনকারী বর্ণনা)-এর সাহায্য নেন, যা আরও ভয়াবহ ও বড় সমস্যা।
হাফেয সমালোচক মুহাদ্দিসগণের নির্ধারিত মূলনীতির এই বিরোধিতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হাদীস শাস্ত্রের পরবর্তী ও বিশেষ করে বর্তমান যুগের চর্চাকারীদের কাছে সবচেয়ে সহজ কাজ হলো একজন হাফেয সমালোচকের ত্রুটি চিহ্নিতকরণকে (ই’লাল) অত্যন্ত দুর্বল যুক্তিতে তাদের সেই বিখ্যাত উক্তি— “এমন ত্রুটি দ্বারা ত্রুটিযুক্ত করা হয়েছে যা ক্ষতিকারক নয়”—বলে প্রত্যাখ্যান করার দুঃসাহস দেখানো। আর তারা এ ক্ষেত্রে হাদীস বিশেষজ্ঞ নয় এমন ফকীহ ও উসূলবিদদের নিয়ম ও নীতিমালা প্রয়োগ করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وهذا كله مما تجدونه مستوفى في الكتاب الآخر «الجامع المسند المحرر» بإذن الله.
كحديث: «عليكم بالإثمد عند النوم، فإنه يجلو البصر وينبت الشعر»: أخرجه ابن ماجة (3496)
وحديث: معاذ بن جَبَل: أن النبيَّ صلى الله عليه وسلم كان في غزوة تبوك إذا ارتحل قبلَ أن تزيغَ الشمسُ، أخر الظهرَ حتى يجمعها إلى العصر
… الحديثأخرجه أبو داود (1220)
فكانت طريقتي في انتخاب الصحيح من هذا الكم الهائل من المرويات في المادة التي جمعتها أن:
أنتخب أحاديث «الموطأ» المتصل منها، وما كان في «الصحيحين» أو أحدهما، وما حكم إمام من أئمة النقاد بقبوله كأحمد وابن المديني وابن معين وأبي زرعة والبخاري والنسائي والعقيلي والدارقطني قبلته.
كحديث: عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده: أن النبي صلى الله عليه وسلم كبّر في عيدٍ ثنْتَيْ عَشْرة تكبيرة، سبعًا في الأولى، وخمسًا في الآخرة، ولم يصلِّ قبلها ولا بعدها.
صححه أحمد، وابن المديني، والبخاري، والدارقطني.
فإن صححه أحدهم وضعفه نظيره، وكان الراجح فيه قول المصحح: قبلته.
ومثال كثير ممَّا انتقد على «الصحيحين».
এবং এই সব বিষয় আপনারা পূর্ণাঙ্গভাবে অপর কিতাব 'আল-জামি আল-মুসনাদ আল-মুহাররার'-এ পাবেন, ইনশাআল্লাহ।
যেমন হাদীস: "তোমরা ঘুমানোর সময় ইসমদ (সুরমা) ব্যবহার করো, কারণ তা দৃষ্টিশক্তি উজ্জ্বল করে এবং চুল গজায়": এটি ইবনে মাজাহ (৩৪৯৬) বর্ণনা করেছেন।
এবং মুআয বিন জাবাল-এর হাদীস: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাবুক যুদ্ধে যখন সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বে যাত্রা শুরু করতেন, তখন যোহরের নামাযকে পিছিয়ে আসরের সাথে একত্রে আদায় করতেন
… হাদীসটি আবু দাউদ (১২২০) বর্ণনা করেছেন।
আমার সংগৃহীত উপকরণের এই বিশাল সংখ্যক বর্ণনা থেকে সহীহ হাদীসসমূহ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি ছিল এই যে:
আমি 'মুয়াত্তা'-এর মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন) হাদীসসমূহ নির্বাচন করেছি, এবং যা 'সহীহাইন' বা এই দুটির কোনো একটিতে রয়েছে, আর যে হাদীসকে মুহাদ্দিস ও সমালোচক ইমামগণের মধ্য হতে আহমদ, ইবনুল মাদীনী, ইবনে মাঈন, আবু যুরআ, বুখারী, নাসাঈ, উকাইলী ও দারাকুতনী প্রমুখ গ্রহণযোগ্য বলে রায় দিয়েছেন, তা আমি গ্রহণ করেছি।
যেমন আমর বিন শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদের নামাযে বারোটি তাকবীর প্রদান করেছেন—প্রথম রাকাতে সাতটি এবং শেষ রাকাতে পাঁচটি; আর তিনি এর পূর্বে বা পরে কোনো নামায পড়েননি।
একে আহমদ, ইবনুল মাদীনী, বুখারী ও দারাকুতনী সহীহ বলেছেন।
যদি তাঁদের মধ্য হতে কোনো একজন একে সহীহ বলেন এবং তাঁর সমপর্যায়ের কেউ একে যয়ীফ বলেন, আর এমতাবস্থায় সহীহ আখ্যাদানকারীর কথাটিই প্রাধান্যযোগ্য হয়, তবে আমি তা গ্রহণ করেছি।
আর এর উদাহরণ অনেক, যা 'সহীহাইন'-এর ওপর কৃত সমালোচনার অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ـوما أخرجه الحميدي في «مسنده»، والنَّسائي في «الصغرى» وسكت عنه أبو داود، واستوفى إسناده شروط القبول، ولم يعرف نقده من إمام معتبر من المتقدمين، ولم تظهر له علة فالأصل صحته فأنتخبه.
وأستعين بابن الجارود في «منتقاه» وبالبيهقي في تخريجه في «سننه الصغرى» فقد تدبرت صنيعه فتبين لي أنه انتخب فيها ما صح عنده، إلَّا ما تبين لي أنه إنما أخرجه لخلو الباب من الصحيح فأورَدَ أصحَّ شيء فيه.
وأنا في كل هذا شديد الحرص على تفقد أحكام الأئمة المتقدمين على الأحاديث مما هو منقول ثابت عنهم في كتب المتون والعلل والسؤالات والجرح والتعديل والتواريخ، فما ثبت طعنهم فيه اجتنبته، ما لم أقف على اختلاف بينهم فيه، فالمصير إلى الترجيح على أصولهم.
فإن عدم الحكم عن إمام متقدم من لدن مالك إلى الدارقطني وكان ظاهر الحديث الصحة، اجتهدت في تحكيم أصولهم فيه فما استوفى الشروط من اتصال سند وثقة رواة وخلا من شذوذ وغرابة نازلة وتفرد من لا يحتمل تفرده من الثقات، ممن روى عن إمام عرف بكثرة الرحلة وكثرة الأصحاب المعتنين بجمع حديث فهذا أنتخبه كما أنتخب غيره.
كحديث: يعقوب بن عبد الرَّحمن، عن أبي حازمٍ، أنهُ رَأى سَهْلَ بنَ سعد رضي الله عنه، بَالَ بَوْلَ الشَّيْخِ الْكَبِيرِ، وَهُوَ قَائِمٌ يَكَادُ يَسْبِقُهُ، ثُمَّ تَوَضَّأَ، وَمَسَحَ
আল-হুমায়দী তাঁর ‘মুসনাদ’-এ যা বর্ণনা করেছেন, আন-নাসায়ী ‘আস-সুগরা’-তে যা উল্লেখ করেছেন এবং যে বিষয়ে আবু দাউদ নীরব থেকেছেন, আর যার সনদ গ্রহণযোগ্যতার শর্তসমূহ পূর্ণ করেছে এবং পূর্ববর্তী নির্ভরযোগ্য ইমামদের পক্ষ থেকে যার কোনো সমালোচনা জানা যায়নি এবং তাতে কোনো ত্রুটি প্রকাশ পায়নি, তবে মূলনীতি অনুযায়ী তা সহীহ; তাই আমি এটি নির্বাচন করেছি।
আমি ইবনুল জারুদের ‘আল-মুনতাকা’ এবং আল-বায়হাকীর ‘সুনান আস-সুগরা’-তে তাঁর হাদীস চয়নের সহায়তা নিয়েছি। আমি তাঁর কর্মপদ্ধতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি সেখানে তাঁর নিকট যা সহীহ প্রমাণিত হয়েছে তাই নির্বাচন করেছেন; তবে যে ক্ষেত্রে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, তিনি কোনো হাদীস কেবল এই কারণে উল্লেখ করেছেন যে সেই অধ্যায়ে আর কোনো সহীহ হাদীস নেই, সেক্ষেত্রে তিনি সেই বিষয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হাদীসটিই বর্ণনা করেছেন।
আমি এই পুরো প্রক্রিয়ায় হাদীসের ওপর পূর্ববর্তী ইমামদের সিদ্ধান্তের অনুসন্ধানে অত্যন্ত যত্নশীল থেকেছি, যা মতন, ইল্লাল, সুয়ালাত, জারহ ওয়া তা'দীল এবং ইতিহাসের কিতাবসমূহে তাঁদের থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং যাতে তাঁদের সমালোচনা প্রমাণিত হয়েছে তা আমি বর্জন করেছি, যদি না সেই বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য পেয়ে থাকি; সেক্ষেত্রে তাঁদের মূলনীতি অনুযায়ী প্রাধান্য দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছি।
যদি ইমাম মালিক থেকে শুরু করে দারা কুতনী পর্যন্ত কোনো পূর্ববর্তী ইমামের কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া না যায় এবং হাদীসটি বাহ্যত সহীহ মনে হয়, তবে আমি সেই হাদীসের ওপর তাঁদের মূলনীতি প্রয়োগে সাধনা করেছি। সুতরাং যে হাদীস সনদের ধারাবাহিকতা ও রাবীদের নির্ভরযোগ্যতার শর্তসমূহ পূরণ করেছে এবং যা বিচ্যুতি ও নিম্নমানের অস্বাভাবিকতা থেকে মুক্ত, আর এমন নির্ভরযোগ্য রাবীর একক বর্ণনা নয় যার একক বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়—যিনি এমন এক ইমাম থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি অধিক সফরের জন্য এবং হাদীস সংগ্রহে যত্নবান অনেক ছাত্রের উপস্থিতির জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন—তবে আমি এটিকেও অন্যান্য হাদীসের মতোই নির্বাচন করেছি।
যেমন ইয়াকুব বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি সাহল বিন সা'দ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দেখেছেন যে, তিনি বৃদ্ধ ব্যক্তির মতো দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন যা প্রায় তাঁর নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত হয়ে যাচ্ছিল, এরপর তিনি ওযু করেছেন এবং মাসাহ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
عَلَى الخُفَّيْنِ، فَقُلْتُ: ألَا تَنْزِعُ الخُفَّيْنِ قَالَ: لَا رَأَيْتُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي (وَمِنْكَ) مَسَحَ عَلَيْهَا - يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم.
أخرجه ابن أبي شيبة «المسند» المطالب العالية (44)، وسعيد بن مَنْصور في كنز العمال (27659).
فهذا لا أعلم حكمًا بقبوله من إمام من المتقدمين، وهو صحيح غاية وهذا من سلسلة أسانيد سهل بن سعد، وليس فيه ما يستنكر.
وإذا كان الحديث في «الصحيحين» أو أحدهما فهو مُغنٍ عن ذكر من صححه، وإن كان خارج «الصحيح» وظفرت بقول إمام من المتقدمين تصريحًا أو تلميحًا أبرزته، كأحمد وأبي حاتم وأبي زرعة والترمذي والنسائي والدارقطني، وأشباههم.
وإن كان الحديث خارج الصحيحين أو أحدهما وصرح إمامٌ برده ولم يخالفه من هو مثله تركته، ولو اجتمع من بعد الدارقطني على تصحيحه.
ثم إني أصنع ما يصنع الأئمة المتقدمون بأن أقسم الحديث إلى أقسام:
العقائد، والأحكام، والترغيب والسير.
فما كان في العقائد والأحكام شددت في شرط القبول فلا أقبل إلَّا ما استوفى أكمل الشروط.
وما كان في الترغيب والترهيب والسير، فهذا أنْزل فيه بشرطهم في النزول، كأن يكون الحديث من رواية ثقة عاصر ثقة لم يعلم سماعه منه ولا ثبت نفي سماعه كأحاديث ابن سيرين عن عائشة، وأبي معبد الزماني عن أبي قتادة
(1)--------------------------------------------
...মোজা দুটির ওপর। তখন আমি বললাম: আপনি কি মোজা দুটি খুলবেন না? তিনি বললেন: না; আমি এমন একজনকে দেখেছি যিনি আমার চেয়েও (এবং তোমার চেয়েও) উত্তম, তিনি এ দুটির ওপর মাসেহ করেছেন—অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
ইবনে আবি শাইবা ‘আল-মুসনাদ’ আল-মাতালিব আল-আলিয়া (৪৪), এবং সাঈদ ইবনে মানসুর ‘কানজুল উম্মাল’ (২৭৬৫৯)-এ এটি বর্ণনা করেছেন।
সুতরাং এটি কবুল করার ব্যাপারে পূর্ববর্তী ইমামদের কারো ফয়সালা আমার জানা নেই, তবে এটি অত্যন্ত সহিহ এবং এটি সাহল ইবনে সা'দ-এর সনদসমূহের একটি সিলসিলাভুক্ত, আর এতে আপত্তিকর কিছু নেই।
আর হাদিসটি যদি ‘সহিহাইন’ অথবা এর যেকোনো একটিতে থাকে, তবে তা কে সহিহ বলেছেন তা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। আর যদি ‘সহিহ’-এর বাইরে থাকে এবং আমি কোনো পূর্ববর্তী ইমামের স্পষ্ট বা ইঙ্গিতমূলক কোনো বক্তব্য পাই, তবে আমি তা ফুটিয়ে তুলি; যেমন আহমদ, আবু হাতিম, আবু যুরআহ, তিরমিজি, নাসায়ি, দারা কুতনি এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।
আর হাদিসটি যদি সহিহাইন অথবা এর যেকোনো একটির বাইরে থাকে এবং কোনো ইমাম তা প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে স্পষ্ট মত প্রকাশ করেন এবং তাঁর সমপর্যায়ের কেউ তাঁর বিরোধিতা না করেন, তবে আমি তা বর্জন করি; যদিও দারা কুতনির পরবর্তী সকলে তা সহিহ বলার ব্যাপারে একমত হন।
এরপর আমি পূর্ববর্তী ইমামগণ যা করতেন তা-ই করি, অর্থাৎ হাদিসকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করি:
আকিদাহ, আহকাম, এবং তারগিব ও সিরাত।
সুতরাং যা আকিদাহ ও আহকাম বিষয়ক, সেক্ষেত্রে আমি কবুলের শর্তে কঠোরতা অবলম্বন করি; তাই আমি পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি পূরণকারী হাদিস ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করি না।
আর যা তারগিব, তারহিব ও সিরাত বিষয়ক, সেক্ষেত্রে আমি তাঁদের শিথিলতার শর্ত অনুযায়ী মান কিছুটা শিথিল করি। যেমন হাদিসটি এমন কোনো বিশ্বস্ত রাবির বর্ণনা হওয়া যিনি অন্য একজন বিশ্বস্ত রাবির সমসাময়িক ছিলেন কিন্তু তাঁর থেকে সরাসরি শোনার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা নেই, আবার শোনার বিষয়টি নাকচ করার মতো প্রমাণও নেই; যেমন আয়েশা থেকে ইবনে সিরিনের হাদিসসমূহ এবং আবু কাতাদা থেকে আবু মা'বাদ আল-যামানির হাদিসসমূহ
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
أو مراسيل من لا يرسل إلَّا عن ثقة كابن سيرين والشعبي وعروة
(1)أو منقطعات من استجازوا دخول مروياته المنقطعة في المسند.
كرواية أبي عبيدة بن مسعود عن أبيه
(2).
قال يعقوب بن شيبة: إنما استجاز أصحابنا أن يدخلوا حديث أبي عبيدة عن أبيه في المسند، يعني في الحديث المتصل، لمعرفة أبي عبيدة بحديث أبيه وصحتها، وأنه لم يأت فيها بحديث منكر. شرح علل الترمذي (1/ 544)
أو ما اعتضد بما يصلح للاعتضاد
(3).
كحديث: «استقيموا ولن تحصوا، واعلموا أن خير أعمالكم الصلاة
… » الحديث. أخرجه ابن أبي شيبة وأحمد والدارمي وابن ماجة من طريق ثوبان. وابن أبي شيبة من طريق ابن عمرو.
وهنا ثمة أصل لا بد من ضبطه والاعتناء به وتقديمه:
إذا ظفر طالب العلم بحكم من إمام متقدم على حديث سواء تصحيحًا أو ردًا فليتمسك به، وليحفظه، ولا يخالفه إلى من هو دونه من المتأخرين، فإنَّ الخلاف المعتبر ما كان بين المتقدمين.
--------------------------------------------
অথবা এমন ব্যক্তিদের মুরসাল বর্ণনা যারা কেবল বিশ্বস্ত রাবি থেকে ছাড়া মুরসাল করেন না, যেমন ইবনে সিরিন, শাবি এবং উরওয়াহ
(১)অথবা এমন বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি) বর্ণনা যাদের বিচ্ছিন্ন বর্ণনাগুলো মুসনাদে অন্তর্ভুক্ত করাকে উলামাগণ বৈধ মনে করেছেন।
যেমন তাঁর পিতার সূত্রে আবু উবাইদাহ ইবনে মাসউদের বর্ণনা
(২)।
ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ বলেন: আমাদের সাথীরা আবু উবাইদাহর তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত হাদিসকে মুসনাদের অন্তর্ভুক্ত করা—অর্থাৎ মুত্তাসিল হাদিসের অন্তর্ভুক্ত করা—বৈধ মনে করেছেন আবু উবাইদাহর তাঁর পিতার হাদিস সম্পর্কে গভীর জ্ঞান এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতার কারণে, এবং তিনি তাতে কোনো মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস নিয়ে আসেননি। শারহু ইলালিল তিরমিজি (১/ ৫৪৪)
অথবা এমন বর্ণনা যা এমন কিছুর মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে যা সমর্থনযোগ্য হওয়ার যোগ্য
(৩)।
যেমন হাদিস: «তোমরা অবিচল থাকো, তবে তোমরা তা পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারবে না। জেনে রেখো, তোমাদের সর্বোত্তম আমল হলো সালাত...» হাদিস। এটি ইবনে আবি শায়বাহ, আহমাদ, দারেমি এবং ইবনে মাজাহ সাওবানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে আবি শায়বাহ ইবনে আমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
এখানে একটি মূলনীতি রয়েছে যা অবশ্যই আয়ত্ত করতে হবে, খেয়াল রাখতে হবে এবং অগ্রাধিকার দিতে হবে:
যখন কোনো ইলম অন্বেষণকারী কোনো হাদিসের ওপর পূর্ববর্তী (মুতাকাদ্দিম) কোনো ইমামের ফয়সালা পেয়ে যান—চাই তা সহিহ বলা হোক বা প্রত্যাখ্যান করা হোক—সে যেন তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে এবং তা স্মরণ রাখে। আর সে যেন পরবর্তী (মুতাআখখিরিন) আলেমদের কারণে তাঁর বিরোধিতা না করে। কেননা গ্রহণযোগ্য মতপার্থক্য কেবল মুতাকাদ্দিম ইমামদের মাঝেই হয়ে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
منهجي في إخراج أحاديث الكتاب:الكتاب كما أردته أن يكون لطلاب العلم الحفاظ، فجعلته على المسانيد، وفي العزم بعد انتهاء الطبعة الأولى أنْ أصنفه على الأبواب بإذن الله تعالى.
فأخرج الحديث مسندًا من عند الراوي الذي دار عليه الحديث.
وقد يدور الحديث على تابعي عن صحابي فلا أخرجه من عنده، إنما أخرجه عن جملة من أصحاب التابعي عنه، وذلك لأمور منها:
أن يكون مخرجوه اختلفوا عن التابعي في الواسطة، فأخرجه عن عدة عنه لبيان أصح الوجوه المحفوظة فيه.
وقد يكون لبيان الرد على إعلال له من وجه آخر فأبين المتابع للرواية الخالية من العلة.
وقد يكون لإزالة الغرابة في السند.
وقد يكون لبيان الوجه المحفوظ.
وإذا كان للحديث عدة طرق كلها صحاح اكتفيت بأحسنها مما أراعي فيه قوة الرواة، وتقدم طبقتهم، ومخرِّج الحديث، وزيادة الألفاظ، ولست ذاكرًا باقي الأسانيد الصحيح للحديث ولا أشير إليها وإنما محل هذا الكتاب الآخر (الجامع المسند المحرر) بإذن الله.
وقد أخرج الحديث مما يعِلُّ إسناده بعض النقاد، ويكون الإعلال مما يحتمل ويصححه بعض النقاد ممن يعتد بقوله، كحديث:
গ্রন্থের হাদিস সংকলনে আমার পদ্ধতি:গ্রন্থটিকে আমি তালিবে ইলম হাফেজদের উপযোগী করে তৈরি করতে চেয়েছি, তাই আমি এটি মুসনাদ অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় প্রথম সংস্করণ শেষ হওয়ার পর এটিকে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করার সংকল্প রয়েছে।
হাদিসটি যে বর্ণনাকারীকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, তার সূত্র থেকে আমি হাদিসটি সনদসহ সংকলন করেছি।
কখনও কখনও হাদিসটি কোনো সাহাবি থেকে বর্ণনাকারী কোনো তাবেয়ির ওপর আবর্তিত হয়; এমতাবস্থায় আমি কেবল তার থেকেই সেটি বর্ণনা করি না, বরং উক্ত তাবেয়ির একদল ছাত্রের সূত্রে তার থেকে সেটি বর্ণনা করি। আর এটি বেশ কিছু কারণে হয়ে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে:
তাবেয়ির পরবর্তী সূত্রে বর্ণনাকারীদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, ফলে এর মধ্যে সবচেয়ে সংরক্ষিত ও সঠিক দিকটি স্পষ্ট করার জন্য আমি উক্ত তাবেয়ির একাধিক ছাত্রের সূত্রে তা উল্লেখ করি।
আবার কখনও অন্য কোনো দিক থেকে আসা কোনো ত্রুটির অভিযোগ খণ্ডন করার জন্য এমনটি করা হয়, যাতে আমি ত্রুটিমুক্ত বর্ণনার জন্য উপযুক্ত সমর্থক বর্ণনা স্পষ্ট করতে পারি।
আবার কখনও সনদের একাকীত্ব বা অস্বাভাবিকতা দূর করার জন্য এমনটি করা হয়।
আবার কখনও সংরক্ষিত দিকটি স্পষ্ট করার জন্য এমনটি করা হয়।
হাদিসের একাধিক সূত্র যদি সবগুলোই সহিহ হয়, তবে আমি তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তমটি গ্রহণ করি। এক্ষেত্রে আমি বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা, তাদের স্তরের অগ্রগণ্যতা, হাদিসের উৎস এবং অতিরিক্ত শব্দাবলির বিষয়টি বিবেচনা করি। আমি হাদিসের অন্যান্য সহিহ সনদগুলো উল্লেখ করি না এবং সেদিকে ইশারাও করি না; বরং এগুলোর স্থান হলো আল্লাহর ইচ্ছায় আমার অপর গ্রন্থ ‘আল-জামেউল মুসনাদুল মুহাররার’।
কখনও কখনও আমি এমন হাদিসও সংকলন করি যার সনদে কোনো কোনো সমালোচক ত্রুটি দেখিয়েছেন, অথচ সেই ত্রুটিটি ক্ষমার যোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য মতামত প্রদানকারী কোনো কোনো সমালোচক তাকে সহিহ বলেছেন। যেমন সেই হাদিসটি:
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ميمون بن أبي شبيب، عن سمرة بن جندب، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «البسوا الثياب البيض، وكفنوا فيها موتاكم».
أخرجه عبد الرزاق (6199)، وابن أبي شيبة (11237)، وأحمد (20417)، وابن ماجة (3567)، والتِّرمِذي (2810)، والنَّسائي (9564).
- قال أَبو عيسى التِّرمِذي: هذا حديث حسن صحيح.
- قال عَمرو بن علي الفلاس: ميمون بن أبي شبيب، حدث عن سمرة بن جندب، وليس عندنا في شيء منه يقول سمعت "تحفة التحصيل" 1/ 322.
وحديث: إِسْمَاعِيل بْن عَيَّاشٍ، عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ الْكِنْدِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِلشَّهِيدِ عِنْدَ الله عز وجل قَالَ الْحَكَمُ: سِتَّ خِصَالٍ - أَنْ يُغْفَرَ لَهُ فِي أَوَّلِ دَفْعَةٍ مِنْ دَمِهِ، وَيَرَى - قَالَ الحَكَمُ: وَيُرى - مَقْعَدَهُ مِنَ الجَنَّةِ، وَيُحلَّى حُلَّةَ الإِيمَانِ، وَيُزوَّجَ مِنَ الحُورِ العِينِ، وَيُجارَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَيَأمَنَ مِنَ الفَزَعِ الأَكْبَرِ - قَالَ الحَكَمُ: يَوْمَ الفزَعِ الأَكْبَرِ - وَيُوضَعَ عَلَى رَأسِهِ تَاجُ الوَقَارِ، اليَاقُوتَةُ مِنْهُ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، وَيُزوَّجَ اثْنَتيْنِ وَسَبْعِينَ زَوْجَةً مِنَ الحُورِ العِينِ، وَيُشَفَّعَ فِي سَبْعِينَ إِنْسَانًا مِنْ أقَارِبِهِ».
أخرجه عبد الرزاق (9559)، وأحمد (17314)، وابن ماجة (2799).
- قال التِّرمِذي: هذا حديثٌ صحيحٌ غريبٌ.
- وقال الاسماعيلي: بين خالد والمقدام جبير بن نفير. أهـ.
قلت: ولا يضر مثل هذا الإعلال فإن هذا الباب فيه سعة، وموضع الشك في الانقطاع في تابعين عن صحابة، وكون جبير بينهما لا يمنع من أن يكون إمكان لقياهما، وأهل الشام يندر فيهم التدليس، فليس كل ما يزيد في السند يقطعه.
মাইমুন ইবনে আবি শাবিব থেকে বর্ণিত, সামুরা ইবনে জুনদুব থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা সাদা পোশাক পরিধান করো এবং তোমাদের মৃতদের তাতে কাফন দাও।»
এটি বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক (৬১৯৯), ইবনে আবি শাইবাহ (১১২৩৭), আহমাদ (২০৪১৭), ইবনে মাজাহ (৩৫৬৭), তিরমিযী (২৮১০) এবং নাসায়ী (৯৫৬৪)।
- আবু ঈসা তিরমিযী বলেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
- আমর ইবনে আলী আল-ফাল্লাস বলেন: মাইমুন ইবনে আবি শাবিব সামুরা ইবনে জুনদুব থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে আমাদের কাছে এমন কোনো বর্ণনা নেই যেখানে তিনি ‘আমি শুনেছি’ বলেছেন। "তুহফাতুত তাহসিল" ১/ ৩২২।
এবং হাদীস: ইসমাইল ইবনে আইয়াশ থেকে, বাহীর ইবনে সাদ থেকে, খালিদ ইবনে মাদান থেকে, মিকদাম ইবনে মাদি কারিব আল-কিন্দি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর নিকট শহীদের জন্য —হাকাম বলেন: ছয়টি বৈশিষ্ট্য রয়েছে— তার রক্তের প্রথম প্রবাহেই তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, সে জান্নাতে তার আবাসস্থল দেখতে পায় —হাকাম বলেন: তাকে দেখানো হয়— তাকে ঈমানের পোশাকে সজ্জিত করা হয়, হুরুল ঈনের (ডাগর চোখের হুর) সাথে তার বিবাহ দেওয়া হয়, তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করা হয় এবং সে মহা ভীতি থেকে নিরাপদ থাকে —হাকাম বলেন: মহা ভীতির দিনে— তার মাথায় মর্যাদার মুকুট পরানো হয় যার একটি ইয়াকুত পাথর দুনিয়া ও তার মধ্যবর্তী সবকিছুর চেয়ে উত্তম, বাহাত্তর জন হুরুল ঈন স্ত্রীর সাথে তার বিবাহ দেওয়া হয় এবং তার নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে সত্তর জন ব্যক্তির জন্য তার সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।»
এটি বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক (৯৫৫৯), আহমাদ (১৭৩১৪) এবং ইবনে মাজাহ (২৭৯৯)।
- তিরমিযী বলেন: এই হাদীসটি সহীহ গরীব।
- এবং ইসমাঈলী বলেন: খালিদ এবং মিকদামের মাঝে জুবায়ের ইবনে নুফাইর রয়েছেন। (সমাপ্ত)
আমি বলি: এ ধরণের ত্রুটি (ইলাল) ক্ষতিকর নয়, কারণ এই বিষয়টি প্রশস্ত। আর সাহাবী থেকে তাবেঈর বর্ণনার ক্ষেত্রে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার যে সন্দেহ, তাতে তাদের দুজনের মাঝে জুবায়েরের অবস্থান তাদের সাক্ষাতের সম্ভাবনাকে নাকচ করে না। আর শামের অধিবাসীদের মধ্যে ‘তাদলিস’ অত্যন্ত বিরল, তাই সনদে যা কিছু বৃদ্ধি পায় তা সর্বদা সনদকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় না।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد يأتي الحديث في مسندين أحدهما يعل إسناد الآخر فلا أصحح كلا الطريقين، إنما أخرجه من مسند من صح طريقه وأعرض عن الأخرى.
كحديث: سيد الاستغفار، فقد جاء من مسند بريدة، ومن مسند شداد بن أوس والذي في مسند شداد يعل الذي في مسند بريدة، فأعرضت عن طريق بريدة.
وما كان من الرواة مختلف في حديثه من حيث الاتصال أو التوثيق، فلا أصحح من حديثه إلَّا ما صرح النقاد بصحته، أو ما كان له شواهد.
كأحاديث الحسن عن سمرة، فإنَّ النزاع في سماعه منه مشهور.
تنبيه: وقع لي بعض الوهم النادر في أرقام بعض الأحاديث ممن عزوت له الحديث، ولم أنشط لمراجعة الأرقام، فإنَّ هذا يأخذ وقتًا ليس باليسير، والأمر سهل، فالله يغفر لي.
عدة أحاديث الصحيح:اعلم أن الصحيح الثابت عن النبي صلى الله عليه وسلم ليس بكثير كما ظنه المتأخرون ومن تابعهم، وإنما وقع هذا الظن منهم لتوسعهم في التصحيح كما تقدم، وكلمات الأئمة النقاد في تعيين حد الصحيح متقاربة.
فذكر أبو جعفر محمد بن الحسين البغدادي في كتاب «التمييز» له عن الثوري وشعبة، ويحيى بن سعيد القطان، وابن مهدي وأحمد بن حنبل وغيرهم: أن جملة
কখনও কখনও হাদিস দুটি মুসনাদে আসে যার একটি অন্যটির সনদকে ত্রুটিযুক্ত করে, ফলে আমি উভয় পথকেই সহীহ বলি না। আমি কেবল সেই মুসনাদ থেকে হাদিসটি উদ্ধৃত করি যার পথ সহীহ এবং অন্যটি বর্জন করি।
যেমন: সাইয়িদুল ইস্তিগফারের হাদিস; এটি বুরাইদাহর মুসনাদ থেকে এবং শাদ্দাদ বিন আউসের মুসনাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে। শাদ্দাদের মুসনাদে যা রয়েছে তা বুরাইদাহর মুসনাদে যা আছে তাকে ত্রুটিযুক্ত করে, তাই আমি বুরাইদাহর পথটি বর্জন করেছি।
আর যেসব বর্ণনাকারীর হাদিসের নিরবচ্ছিন্নতা কিংবা নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তাদের হাদিসের মধ্যে কেবল সেগুলোকেই আমি সহীহ বলি যেগুলোকে সমালোচকগণ স্পষ্টভাবে সহীহ বলেছেন অথবা যার সপক্ষে অন্যান্য সাক্ষ্য বিদ্যমান।
যেমন সামুরাহ থেকে হাসানের বর্ণিত হাদিসসমূহ, কেননা তার থেকে তার শ্রুতির (শোনার) ব্যাপারে বিতর্ক সুপ্রসিদ্ধ।
সতর্কতা: আমি যাদের দিকে হাদিসটি সম্পৃক্ত করেছি, তাদের কিছু হাদিসের নম্বরের ক্ষেত্রে আমার পক্ষ থেকে কিছু বিরল ভুল হয়েছে। আমি নম্বরগুলো পুনঃনিরীক্ষণ করার ব্যাপারে সচেষ্ট হইনি, কারণ এটি করতে বেশ দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন, আর বিষয়টি সহজ; আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন।
সহীহ হাদিসের সংখ্যা:জেনে রাখুন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত সহীহ হাদিস সংখ্যায় খুব বেশি নয় যেমনটি পরবর্তী যুগের আলিমগণ এবং তাদের অনুসারীরা ধারণা করেছেন। তাদের এই ধারণা কেবল সহীহ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাদের শিথিলতার কারণে তৈরি হয়েছে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। সহীহ হাদিসের সীমা নির্ধারণে পারদর্শী সমালোচক ইমামদের বক্তব্যসমূহ কাছাকাছি।
আবু জাফর মুহাম্মদ বিন হুসাইন আল-বাগদাদী তার ‘আত-তাময়ীয’ গ্রন্থে সাওরী, শু'বাহ, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, ইবনে মাহদী, আহমাদ বিন হাম্বল এবং অন্যদের থেকে উল্লেখ করেছেন যে, মোট
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأحاديث المسندة عن النبي صلى الله عليه وسلم يعني الصحيحة بلا تكرير - أربعة آلاف وأربعمائة حديث.
وعن إسحاق بن راهويه أنه سبعة آلاف ونيف. النكت على كتاب ابن الصلاح (300/ 1)
وقد وقع لي في كتابي هذا من الصحيح (4629).
وما كان فيه من مكرر إنما هو من طريق صحابي آخر، وليس هو بكثير.
توضيحات
1 - ما أصدر به الحديث من حرف [ح] فمعناه: حديث.
2 - أقدم في التخريج المصنفين حسب الوفيات
فأقدم همام ثم مالك ثم ابن وهب ثم الطيالسي ثم عبد الرزاق وهكذا فيما سترونه بإذن الله في التخريجات.
3 -
الطبعات التي نقل عنها الأرقام: ما اعتمده مصنفو المسند المصنف المعلل.
والباقي كما يلي:
صحيفة همام بن منبه طبعة المكتب الإسلامي، دار عمار.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত মুসনাদ হাদিসসমূহ অর্থাৎ পুনরাবৃত্তি ছাড়া সহিহ হাদিসসমূহ - চার হাজার চারশত হাদিস।
এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ থেকে বর্ণিত যে, এটি সাত হাজার এবং কিছু বেশি। আন-নুয়াকাত আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ (১/৩০০)
এবং আমার এই কিতাবে সহিহ হাদিসের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে (৪৬২৯)।
আর এতে যা কিছু পুনরাবৃত্তি হয়েছে তা অন্য সাহাবির সূত্রের কারণে, এবং তা সংখ্যায় খুব বেশি নয়।
ব্যাখ্যাসমূহ
১ - হাদিসের শুরুতে যে [হা] অক্ষরটি ব্যবহার করা হয়েছে তার অর্থ হলো: হাদিস।
২ - তাখরিজের ক্ষেত্রে আমি সংকলকদের মৃত্যুর তারিখ অনুযায়ী ক্রমানুসারে আগে রেখেছি।
ফলে আমি আগে রেখেছি হাম্মামকে, অতঃপর মালিক, অতঃপর ইবনু ওয়াহাব, অতঃপর আত-তায়ালিসি, অতঃপর আবদুর রাজ্জাক এবং একইভাবে ইনশাআল্লাহ আপনারা তাখরিজসমূহে দেখতে পাবেন।
৩ -
যে সকল সংস্করণ থেকে নম্বরগুলো উদ্ধৃত করা হয়েছে: আল-মুসনাদ আল-মুসান্নাফ আল-মুআল্লাল-এর সংকলকগণ যা অনুসরণ করেছেন।
এবং অবশিষ্টগুলো নিম্নরূপ:
সহিফায়ে হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ, আল-মাকতাব আল-ইসলামি সংস্করণ, দার আম্মার।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
جزء من نسخة إبراهيم بن سعد (مطبوع ضمن مجموع باسم الفوائد لابن منده! ) طبعة دار الكتب العلمية.
مسند ابن الجعد، طبعة مؤسسة نادر.
سنن سعيد بن منصور، طبعة الدار السلفية.
سنن الدارقطني، طبعة مؤسسة الرسالة.
مسند ابن أبي شيبة، طبعة دار الوطن.
مسند إسحاق بن راهويه، طبعة مكتبة الإيمان.
مسند البزار المنشور باسم البحر، طبعة مكتبة العلوم والحكم.
مسند الروياني، طبعة مؤسسة قرطبة.
مسند الشاشي، طبعة مكتبة العلوم والحكم.
من حديث الإمام سفيان بن سعيد الثوري، طبعة دار البشائر الإسلامية.
مسند عبد الله بن المبارك، طبعة مكتبة المعارف.
موطأ عبد الله بن وهب (قطعة من الكتاب)، طبعة دار ابن الجوزي.
نسخة عبد الله بن صالح كاتب الليث (مطبوع ضمن مجموع باسم الفوائد لابن منده! )، طبعة دار الكتب العلمية.
مسند خليفة بن خياط، طبعة مؤسسة الرسالة.
ইবরাহিম বিন সা'দ-এর পাণ্ডুলিপির অংশ (ইবনে মানদাহ-এর 'আল-ফাওয়াইদ' নামক সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত!), দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ সংস্করণ।
মুসনাদ ইবনুল জা'দ, মুয়াসসাসাতু নাদির সংস্করণ।
সুনানে সাঈদ বিন মানসুর, আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ সংস্করণ।
সুনানে দারাকুতনি, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ সংস্করণ।
মুসনাদ ইবনে আবি শায়বাহ, দারুল ওয়াতান সংস্করণ।
মুসনাদ ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, মাকতাবাতুল ঈমান সংস্করণ।
আল-বাহর নামে প্রকাশিত মুসনাদুল বাজার, মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম সংস্করণ।
মুসনাদুর রুয়ানি, মুয়াসসাসাতু কুরতুবা সংস্করণ।
মুসনাদুশ শাশী, মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম সংস্করণ।
ইমাম সুফিয়ান বিন সাঈদ আস-সাওরীর হাদিস থেকে, দারুল বাশাইরিল ইসলামিয়্যাহ সংস্করণ।
মুসনাদ আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, মাকতাবাতুল মাআরিফ সংস্করণ।
মুওয়াত্তা আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব (গ্রন্থের অংশবিশেষ), দার ইবনুল জাওযী সংস্করণ।
লাইসের লেখক আব্দুল্লাহ বিন সালেহ-এর অনুলিপি (ইবনে মানদাহ-এর 'আল-ফাওয়াইদ' নামক সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত!), দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ সংস্করণ।
মুসনাদ খলিফা বিন খাইয়াত, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ সংস্করণ।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المطالب العالية بزوائد المسانيد الثمانية، طبعة دار العاصمة.
المسند المصنف المعلل، طبعة دار الغرب الإسلامي.
أسانيديإلى أصحاب الكتب المُسنِدَة لأصول كتابي «الجامع المسند الصحيح».
قد أجازني بحمد الله جمع من مسندي العصر أخص منهم الكبار المسنين:
الشيخ محدث العراق «صبحي بن جاسم بن حُميِّد السامرائي»، والشيخ «يحيى بن عثمان المدرس»، وقد كانوا أجازوني عن عدة من أشياخهم أكتفي بذكر أسانيدي عن الشيخ صبحي السامرائي، وقد كانت إجازته لي عن عشرة من أشياخه هم:
الأول: الشيخ عبد الكريم الصاعقة.
الثاني: الشيخ عبيد الله الرحماني.
الثالث: الشيخ حبيب الرحمن الأعظمي.
الرابع: الشيخ محمد الحافظ الحسيني.
الخامس: الشيخ محمد الشاذلي النيفر.
আল-মাতালিবুল আলিয়া বি-যাওয়াইদিল মাসানিদিল সামানিয়া, দারুল আসিমা সংস্করণ।
আল-মুসনাদ আল-মুসান্নাফ আল-মুআল্লাল, দারুল গারবিল ইসলামী সংস্করণ।
আমার সনদসমূহআমার গ্রন্থ ‘আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহীহ’-এর মূল উৎসসমূহের সনদধারী গ্রন্থকারদের পর্যন্ত।
আল্লাহর প্রশংসায়, বর্তমান যুগের একদল মুসনিদ (সনদধারী আলেম) আমাকে ইজাযত প্রদান করেছেন, যাদের মধ্যে আমি বিশেষভাবে বয়োজ্যেষ্ঠদের কথা উল্লেখ করছি:
ইরাকের মুহাদ্দিস শাইখ সুবহি বিন জাসিম বিন হুমাইদ আস-সামাররায়ী এবং শাইখ ইয়াহইয়া বিন উসমান আল-মুদাররিস; তাঁরা তাঁদের একাধিক উস্তাদের পক্ষ থেকে আমাকে ইজাযত দিয়েছেন। আমি কেবল শাইখ সুবহি আস-সামাররায়ীর মাধ্যমে প্রাপ্ত আমার সনদসমূহ বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থাকছি। তাঁর থেকে আমার প্রাপ্ত ইজাযতটি ছিল তাঁর দশজন উস্তাদের সূত্রে, তাঁরা হলেন:
প্রথম: শাইখ আব্দুল কারীম আস-সাইকা।
দ্বিতীয়: শাইখ উবাইদুল্লাহ রহমানী।
তৃতীয়: শাইখ হাবিবুর রহমান আল-আযমী।
চতুর্থ: শাইখ মুহাম্মাদ আল-হাফিজ আল-হুসাইনী।
পঞ্চম: শাইখ মুহাম্মাদ আশ-শাযিলী আন-নাইফার।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
السادس: الشيخ شاكر البدري.
السابع: الشيخ محمد البحيري.
الثامن: الشيخ محمد التهامي.
التاسع: الشيخ محمود المفتي الباكستاني.
العاشر: الشيخ محمود البريفكاني.
فأكتفي بذكر إسنادي عن شيخ واحد من شيوخه وهو الشيخ (عبد الكريم بن عباس) المعروف بصاعقة رحمه الله، حتى لا يطول السند، ومن أراد باقي الأسانيد عن الأشياخ فأثباتهم معروفة كثبت شيخنا صبحي السامرائي المعروف بنعمة المنان، وثبت شيخنا يحيى العثمان المعروف بالنجم البادي.
والغاية من عرض بعض أسانيدي في الكتاب ليكون الكتاب متصل السند إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فإن الحديث الصحيح لا يكون صحيحًا إلَّا أن يكون مسندًا.
حدَّثني شيخنا الشيخ محدث العراق «صبحي بن جاسم بن حُميِّد السامرائي» إجازة عن السيد عبد الكريم الصاعقة، عن زين الفرقدين السيد حسين بن محسن الأنصاري السبيعي الخزرجي الحديدي اليماني، عن محمد بن ناصر الحازمي، وأحمد بن محمد الشوكاني، عن والد الثاني محمد بن علي الشوكاني، عن عبد القادر ابن أحمد الكوكباني، عن محمد حياة السندي، عن سالم بن عبد الله البصري، عن
ষষ্ঠ: শায়খ শাকির আল-বাদরি।
সপ্তম: শায়খ মুহাম্মাদ আল-বুহাইরি।
অষ্টম: শায়খ মুহাম্মাদ আত-তুহামি।
নবম: শায়খ মাহমুদ আল-মুফতি আল-পাকিস্তানি।
দশম: শায়খ মাহমুদ আল-বারিফকানি।
আমি তাঁর উস্তাদদের মধ্য থেকে মাত্র একজন উস্তাদের সূত্রে আমার সনদ উল্লেখ করার ওপর ক্ষান্ত থাকব, আর তিনি হলেন শায়খ (আব্দুল কারীম বিন আব্বাস), যিনি ‘সা’ইকাহ’ নামে পরিচিত (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন); যেন সনদ দীর্ঘ না হয়। আর যারা অন্যান্য শায়খদের সূত্রে অবশিষ্ট সনদগুলো জানতে ইচ্ছুক, তাদের সংকলিত গ্রন্থসমূহ (আসবাত) সুপরিচিত; যেমন আমাদের শায়খ সুব্হি আস-সামাররাঈ-এর সংকলন (সাবাত) ‘নি'মাতুল মান্নান’ এবং আমাদের শায়খ ইয়াহইয়া আল-উসমান-এর সংকলন (সাবাত) ‘আন-নাজমুলবাদী’।
বইটিতে আমার কিছু সনদ উপস্থাপনের উদ্দেশ্য হলো যেন কিতাবটি নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সনদযুক্ত হয়। কারণ কোনো সহিহ হাদিস সনদযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তা সহিহ হিসেবে গণ্য হয় না।
ইরাকের মুহাদ্দিস আমাদের শায়খ ‘সুব্হি বিন জাসিম বিন হুমাইয়িদ আস-সামাররাঈ’ আমাকে ইজাজাত প্রদান করেছেন সাইয়িদ আব্দুল কারীম আস-সা’ইকাহ-এর সূত্রে, তিনি যয়নুল ফারকাদাইন সাইয়িদ হুসাইন বিন মুহসিন আল-আনসারি আস-সুবাইয়ি আল-খাযরাজি আল-হাদিদি আল-য়ামানি-এর সূত্রে, তিনি মুহাম্মাদ বিন নাসির আল-হাযিমি এবং আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আশ-শাওকানি-এর সূত্রে, তিনি দ্বিতীয়জনের পিতা মুহাম্মাদ বিন আলি আশ-শাওকানি-এর সূত্রে, তিনি আব্দুল কাদির ইবনে আহমাদ আল-কাওকাবানি-এর সূত্রে, তিনি মুহাম্মাদ হায়াত আস-সিন্ধি-এর সূত্রে, তিনি সালিম বিন আব্দুল্লাহ আল-বাসরি-এর সূত্রে,
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أبيه عبد الله، عن البابلي، عن السنهوري، عن الغيطي، عن زكريا، عن ابن حجر أحمد بن علي العسقلاني.
الموطأللإمام مالك بن أنس الأصبحي، من رواية يحيى الليثي ابن حجر، عن نجم الدين محمد بن علي بن الإمام نجم الدين محمد بن عقيل البالسي، أنبأنا محمد بن علي بن عبد الحميد الملقي، عن زين الدين محمد بن محمد ابن أبي الفتوح الدلاصي، أنبأنا أبو الفضل عبد العزيز بن عبد الوهاب بن إسماعيل بن مكي الزهري، أنبأنا أبو بكر محمد بن الوليد الطرطوشي، أنبأنا أبو الوليد سليمان بن خلف الباجي، أنبأنا يونس بن عبد الله بن مغيث الصفار مناولة، أنبأنا أبو عيسى يحيى بن عبد الله بن يحيى بن يحيى بن يحيى الليثي، أنبأنا عمُّ أبي عبيدُ الله بن يحيى بن يحيى الليثي، أنبأنا أبي يحيى بن يحيى الليثي المصمودي، أنبأنا مالك بن أنس بن مالك الأصبحي.
بجميع الموطأ سوى ما فاته سماعه منه على مالك فرواه عن زياد بن عبد الرحمن المعروف بشبطون عن مالك، وكان يحيى بن يحيى قد سمع الموطأ من زياد بسماعه من مالك قبل أن يرحل يحيى بن يحيى.
তাঁর পিতা আবদুল্লাহ থেকে, আল-বাবিলি থেকে, আস-সানহুরি থেকে, আল-গাইতি থেকে, যাকারিয়া থেকে, ইবনে হাজার আহমদ বিন আলী আল-আসকালানি থেকে।
আল-মুয়াত্তাইমাম মালিক বিন আনাস আল-আসবাহীর রচিত, ইয়াহইয়া আল-লাইসির বর্ণনায়; যা ইবনে হাজার বর্ণনা করেছেন নাজমুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আলী বিন ইমাম নাজমুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আকীল আল-বালিসী থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন আব্দুল হামীদ আল-মুলকী থেকে, তিনি যাইনুদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ ইবনে আবিল ফুতুহ আদ-দালাসী থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন ইসমাঈল বিন মক্কী আজ-জুহরী থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালীদ আত-তারতুশী থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ওয়ালীদ সুলাইমান বিন খালাফ আল-বাজী থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস বিন আব্দুল্লাহ বিন মুগীস আস-সাফফার থেকে মুনাওয়ালা (হস্তান্তর) পদ্ধতিতে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আল-লাইসী থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর পিতার চাচা উবায়দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আল-লাইসী থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর পিতা ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আল-লাইসী আল-মাসমুদী থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালিক বিন আনাস বিন মালিক আল-আসবাহী থেকে।
সম্পূর্ণ মুয়াত্তার ক্ষেত্রে, কেবল ইমাম মালিকের কাছ থেকে সরাসরি শোনা যা তাঁর ছুটে গিয়েছিল তা ব্যতীত, যা তিনি শাবতুন নামে পরিচিত যিয়াদ বিন আব্দুর রহমান থেকে মালিকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া (সফর করে মালিকের নিকট যাওয়ার) পূর্বেই যিয়াদের নিকট থেকে মুয়াত্তা শুনেছিলেন, যিনি ইমাম মালিকের নিকট থেকে তা সরাসরি শ্রবণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المسند لأبي داود سليمان بن داود بن الجارود الطيالسيابن حجر، عن عبد الرحمن بن أحمد بن المبارك بن حماد بن تركي الغزي ثم القاهري البزار، عن أحمد بن منصور الجوهري، عن الفخر علي بن أحمد بن عبد الواحد المقدسي ابن البخاري، عن أحمد بن محمد اللبان، عن حسن بن أحمد بن الحسين الحداد، عن أبي نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد الأصبهاني، عن عبد الله ابن جعفر بن أحمد بن فارس، أنبأنا يونس بن حبيب، حدَّثنا أبو داود الطيالسي.
* * *
المصنف لأبي بكر عبد الرزاق بن همام الصنعانيابن حجر، عن أبي علي الفاضلي، عن يونس بن إبراهيم، عن أبي الحسن بن المقير، عن أبي الفضل بن ناصر، عن أبي القاسم بن أبي عبد الله بن منده، عن أبي الفضل محمد عمر الكوكبي، وأبي بكر محمد بن حسن الفقيه، وأبي عثمان سهل بن محمد بن الحسن، عن أبي القاسم الطبراني، حدثنا إسحاق بن إبراهيم الدبري، انبأنا عبد الرزاق الصنعاني.
আবু দাউদ সুলাইমান বিন দাউদ বিন আল-জারুদ আল-তায়ালিসির আল-মুসনাদইবনে হাজার, আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন আল-মুবারক বিন হাম্মাদ বিন তুর্কি আল-গাজ্জি অতঃপর আল-কাহিরি আল-বাযযার থেকে, তিনি আহমদ বিন মনসুর আল-জাওহারি থেকে, তিনি আল-ফাখর আলি বিন আহমদ বিন আবদুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি ইবনুল বুখারি থেকে, তিনি আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-লাব্বান থেকে, তিনি হাসান বিন আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-হাদ্দাদ থেকে, তিনি আবু নুআইম আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ আল-আসফাহানি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে জাফর বিন আহমদ বিন ফারিস থেকে; ইউনুস বিন হাবিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু দাউদ আল-তায়ালিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
* * *
আবু বকর আবদুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম আস-সানআনির আল-মুসান্নাফইবনে হাজার, আবু আলি আল-ফাজিলি থেকে, তিনি ইউনুস বিন ইবরাহিম থেকে, তিনি আবুল হাসান বিন আল-মুকার থেকে, তিনি আবুল ফজল বিন নাসির থেকে, তিনি আবুল কাসিম বিন আবি আবদুল্লাহ বিন মানদাহ থেকে, তিনি আবুল ফজল মুহাম্মদ উমর আল-কাওকাবি, আবু বকর মুহাম্মদ বিন হাসান আল-ফকিহ এবং আবু উসমান সাহল বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান থেকে; তাঁরা আবুল কাসিম আত-তাবারানি থেকে, ইসহাক বিন ইবরাহিম আদ-দাবারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক আস-সানআনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المسند لأبي بكر عبد الله بن الزبير الحميديابن حجر، عن عبد الرحمن بن أحمد بن المقداد، عن الحجار، عن عبد اللطيف ابن محمد القبيطي، عن محمد بن أحمد بن علي الخياط، عن عبد الغفار بن محمد بن جعفر المؤدب، عن محمد بن أحمد بن الحسن بن الصواف، عن بشر بن موسى، حدثنا أبو بكر عبد الله بن الزبير الحميدي به.
* * *
السنن لسعيد بن منصورابن حجر عن عمر بن محمد البالسي، عن محمد بن أبي بكر بن أحمد بن عبد الدائم، عن جده عن مسعود بن عبيد الله بن الناقد الصفار، أنبأنا أبو محمد عبد الوهاب بن المبارك الأنماطي، أنبأنا أبو الفضل أحمد بن الحسن بن خيرون، انبأنا أبو علي شاذان، أنبأنا دعلج بن أحمد بن دعلج، حدثنا محمد بن علي بن زيد الصائغ، حدثنا سعيد بن منصور.
* * *
المصنف لأبي بكر بن أبي شيبةابن حجر، عن أبي علي الفاضلي، عن يونس بن أبي إسحاق، عن عبد الرحمن ابن مكي، عن أبي القاسم بن بشكوال، عن عبد الرحمن بن محمد بن علي، عن أبي عمر بن عبد البر، عن أبي عمر أحمد بن عبد الله الباجي، عن أبيه عن عبد الله ابن يونس القبري، عن بقي بن مخلد عن أبي بكر بن أبي شيبة.
আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন আল-জুবায়ের আল-হুমাইদী রচিত আল-মুসনাদইবনে হাজার, আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন আল-মিকদাদ থেকে, তিনি আল-হাজ্জার থেকে, তিনি আব্দুল লতিফ ইবনে মুহাম্মদ আল-কুবাইতি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আলী আল-খাইয়াত থেকে, তিনি আব্দুল গাফফার বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-মুয়াদ্দিব থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-হাসান বিন আস-সাউওয়াফ থেকে, তিনি বিশর বিন মুসা থেকে, তিনি বলেন: আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন আল-জুবায়ের আল-হুমাইদী আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন।
* * *
সাঈদ বিন মনসুর রচিত আস-সুনানইবনে হাজার উমর বিন মুহাম্মদ আল-বালিসি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আহমাদ বিন আব্দুল দায়িম থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি মাসউদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আন-নাকিদ আস-সাফফার থেকে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-মুবারক আল-আনমাতি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফজল আহমাদ বিন আল-হাসান বিন খাইরুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী শাযান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দালাজ বিন আহমাদ বিন দালাজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন যাইদ আস-সাইগ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন মনসুর।
* * *
আবু বকর বিন আবি শায়বাহ রচিত আল-মুসান্নাফইবনে হাজার, আবু আলী আল-ফাজিলি থেকে, তিনি ইউনুস বিন আবি ইসহাক থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে মক্কি থেকে, তিনি আবু আল-কাসিম বিন বাশকুওয়াল থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আলী থেকে, তিনি আবু উমর বিন আব্দুল বারর থেকে, তিনি আবু উমর আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস আল-কাবরি থেকে, তিনি বাকি বিন মাখলাদ থেকে, তিনি আবু বকর বিন আবি শায়বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المسند لإسحاق بن راهويهابن حجر، عن مريم بنت أحمد الأذرعي، عن يونس بن أبي إسحاق العسقلاني، عن أبي الحسن بن المقير، عن أبي الفضل بن ناصر، عن أبي القاسم ابن أبي عبد الله بن منده، عن عبد العزيز بن محمد النسوي، أنبأنا محمد بن عبد الله الأزدي، عن عبد الله بن محمد بن شيرويه، أنبأنا إسحاق بن راهويه.
* * *
المسند للإمام أبي عبد الله أحمد بن حنبلابن حجر، عن أبي الفضل عبد الرحيم بن الحسين العراقي، وأبي الحسن الهيثمي، قالا أخبرنا محمد بن إسماعيل ابن إبراهيم الانصاري الدمشقي ابن الخباز، وأبي الحسن علي أحمد بن إبراهيم بن محمد بن صالح العرضي بالقاهرة، قال الأول أنا مسلم بن علان، وقال الثاني قرئ على زينب بنت مكي وأنا أسمع، وأجازنا الفخر بن البخاري إن لم يكن سماعًا، قالوا: أنبأنا حنبل بن عبد الله المكثر، أخبرنا أبو القاسم، عبد الله بن محمد بن عبد الواحد بن الحصين، أخبرنا أبو علي الحسن بن علي التميمي المذهب الواعظ، أخبرنا أبو بكر أحمد بن جعفر القطيعي، حدثنا عبد الله بن الإمام أحمد قال حدثنا أبي.
ইসহাক বিন রাহওয়াইহ-এর মুসনাদইবনে হাজার বর্ণনা করেন মরিয়াম বিনতে আহমাদ আল-আযরয়ি থেকে, তিনি ইউনুস বিন আবি ইসহাক আল-আসকালানি থেকে, তিনি আবুল হাসান বিন আল-মুকায়্যির থেকে, তিনি আবুল ফজল বিন নাসির থেকে, তিনি আবুল কাসেম ইবনে আবি আব্দুল্লাহ বিন মানদাহ থেকে, তিনি আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আন-নাসায়ি থেকে; মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আযদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন শিরাওয়াইহ থেকে, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
* * *
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হাম্বল-এর মুসনাদইবনে হাজার বর্ণনা করেন আবুল ফজল আব্দুর রহিম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকি এবং আবুল হাসান আল-হাইসামি থেকে; তাঁরা উভয়ে বলেন: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম আল-আনসারি আদ-দিমাশকি ইবনুল খাব্বায এবং কায়রোর আবুল হাসান আলি আহমাদ বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-ইরজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। প্রথমজন বলেছেন, মুসলিম বিন আল্লান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন; দ্বিতীয়জন বলেছেন, যয়নব বিনতে মাক্কির নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শ্রবণ করেছি, আর ফখর বিন বুখারি আমাদের অনুমতি প্রদান করেছেন যদি তা শ্রবণের মাধ্যমে না হয়ে থাকে। তাঁরা বলেন: হাম্বল বিন আব্দুল্লাহ আল-মুকাসসির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল কাসেম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলি আল-হাসান বিন আলি আত-তামিমি আল-মাযহাব আল-ওয়াইয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমাদ বিন জাফর আল-কাতিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইমাম আহমাদের পুত্র আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-জামি উল মুসনাদুস সহীহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المنتخب من المسند لعبد بن حميد الكشيابن حجر، عن أبي إسحاق التنوخي، عن أحمد بن أبي طالب، عن المنجا عبد الله بن عمر بن علي ابن زيد بن اللتي، عن عبد الأول بن عيسى عن عبد الرحمن ابن المظفر الداودي، عن عبد الله بن أحمد السرخسي، عن إبراهيم ابن خزيم الشاشي، أنبأنا عبد بن حميد.
* * *
المسند لعبد الله بن عبد الرحمن الدارمي المعروف بـ (سنن الدارمي)ابن حجر، عن أبي إسحاق التنوخي سماعًا عليه لجميعه، عن أحمد بن أبي طالب الحجار، عن أبي المنجا عبد الله بن عمر بن اللتي، عن أبي الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب، عن عبد الرحمن بن محمد بن مظفر، عن عبد الله ابن أحمد بن حمويه بن أحمد بن حمويه بن السرخسي، عن عيسى بن عمر بن العباس السمرقندي، عن عبد الله بن عبد الرحمن بن بهرام الدارمي السمرقندي به.
আবদ বিন হুমাইদ আল-কাশশি রচিত আল-মুসনাদ এর নির্বাচিত অংশইবনে হাজার, আবু ইসহাক আত-তানুখী থেকে, তিনি আহমাদ বিন আবি তালিব থেকে, তিনি আল-মুঞ্জা আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আলি বিন যাইদ বিন আল-লাত্তি থেকে, তিনি আবদুল আউয়াল বিন ঈসা থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনুল মুজাফ্ফর আদ-দাউদি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আহমাদ আস-সারখাসি থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবনে খুজাইম আশ-শাশি থেকে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদ বিন হুমাইদ।
* * *
আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আদ-দারিমি রচিত আল-মুসনাদ, যা (সুনানে দারিমি) নামে পরিচিতইবনে হাজার, আবু ইসহাক আত-তানুখী থেকে তার নিকট পূর্ণাঙ্গ শ্রবণের মাধ্যমে, তিনি আহমাদ বিন আবি তালিব আল-হাজ্জার থেকে, তিনি আবু আল-মুঞ্জা আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আল-লাত্তি থেকে, তিনি আবু আল-ওয়াকত আবদুল আউয়াল বিন ঈসা বিন শুয়াইব থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন মুজাফ্ফর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হামওয়াই বিন আহমাদ বিন হামওয়াই বিন আস-সারখাসি থেকে, তিনি ঈসা বিন উমর বিন আল-আব্বাস আস-সামারকান্দি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন বাহরাম আদ-দারিমি আস-সামারকান্দি থেকে বর্ণনা করেছেন।