(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: -)
مسائل خاصة بالمرأة   (رقية المحارب)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: مسائل خاصة بالمرأة

المؤلف: رقية بنت محمد المحارب

عام النشر: 1425 هـ

[الكتاب مرقم آليا]

عدد الصفحات: 52

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নারীদের বিশেষ মাসআলাসমূহ   (রুকাইয়াহ আল-মুহারিব)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: নারীদের বিশেষ মাসআলাসমূহ

লেখক: রুকাইয়াহ বিনতে মুহাম্মদ আল-মুহারিব

প্রকাশকাল: ১৪২৫ হিজরি

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ১)
مسائل خاصة بالمرأة

 

- حكم الصفرة والكدرة في زمن الحيض وفي غيره

- بم تطهر المرأة؟

- حكم الرطوبة في غير أيام الحيض

- الشك في الطهارة وكيف تفرق المرأة بين الحيض والاستحاضة وتتخلص من الوسوسة

 

تأليف

د. رقية بنت محمد المحارب

الأستاذ المساعد بكلية التربية بالرياض

1425

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله الذي من علينا بنعمه التي لا تحصى، وأسبغ علينا آلاءه التي لا تجزى، وجعل لنا دينا قويما وشرع لنا صراطا مستقيما، وبعث فينا نبيا فكان بنا رحيما، وصلى الله على خير خلقه، صفيه وخليله محمد بن عبد الله وسلم تسليما كثيرا، أما بعد …

فقد كنت كتبت كتابا في حكم الرطوبة، تفضلت بطباعته ونشره دار الوطن مشكورة، وقد لقي إقبالا كبيرا لأنه لامس حاجة ملحة، فطبعت الطبعة الأولى ونفدت في شهرين، ثم طبع ضعف العدد طبعة ثانية فنفدت، وأمسكت عن إعادة الطباعة إلى حين الانتهاء من إجراء التعديلات التي كنت أود تعديلها سواء بما استفدت من ملاحظات بعض طلبة العلم، أو مما ظهر لي من أسئلة القراء أو مما تبين لي أثناء القراءة والاطلاع والبحث، فرأيت تغيير الكتاب كلية فحذفت منه وأضفت إليه بما أظن أنه أنسب وأفضل، وأضفت مباحث رأيت مسألة النساء تكثر عنها، ومع تأخري في إعداده بهذه الصورة ظل يتابعني هاجس الخطأ، ولكن كثرة إلحاح النساء علي وعلى دار الوطن جعلني أقدم على نشره مرة أخرى، ومع أني تحريت وجه الحق قدر استطاعتي إلا أنه لا يزال النقص والعور يعتري أعمال البشر، فالله أسأل أن يجزي خيرا كل من أفادني وعلى رأسهم شيخنا الفاضل العلامة الذي أعطانا الكثير محمد بن صالح العثيمين رحمه الله وأسكنه فسيح جنانه وجعله من الأبرار.

ثم أشكر تلميذه الشيخ الكريم علي بن محمد نور الذي أمدني بملحوظاته فاستفدت منها وعدلت ما اقتنعت به ووافقته عليه.
নারীদের বিশেষ মাসআলাসমূহ (مسائل)

 

- ঋতুস্রাব (حيض) চলাকালীন এবং এর বাইরে পীতবর্ণ (صفرة) ও ঘোলাটে বর্ণের (كدرة) নির্গমনের বিধান

- নারী কীভাবে পবিত্রতা (طهارة) অর্জন করবে?

- ঋতুস্রাবের (حيض) দিনগুলো ব্যতীত অন্য সময়ে আর্দ্রতার (رطوبة) বিধান

- পবিত্রতা (طهارة) বিষয়ে সন্দেহ এবং নারী কীভাবে ঋতুস্রাব (حيض) ও দীর্ঘস্থায়ী রক্তস্রাবের (استحاضة) মধ্যে পার্থক্য করবে এবং কুমন্ত্রণা (وسوسة) থেকে মুক্তি পাবে

 

রচনা

ড. রুকাইয়াহ বিনতে মুহাম্মাদ আল-মুহারিব

সহকারী অধ্যাপক, শিক্ষা অনুষদ, রিয়াদ

১৪২৫ হিজরি

 

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের ওপর তাঁর অগণিত নেয়ামতরাজি দান করেছেন, আমাদের ওপর তাঁর অশেষ অনুগ্রহ বর্ষণ করেছেন, আমাদের জন্য একটি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন নির্ধারণ করেছেন এবং আমাদের জন্য একটি সরল পথ (صراط مستقيم) প্রবর্তন করেছেন। তিনি আমাদের মাঝে একজন নবী প্রেরণ করেছেন যিনি আমাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন। আল্লাহর সালাত ও অফুরন্ত সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা, তাঁর মনোনীত ও একান্ত বন্ধু মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহর ওপর। অতঃপর... …

আমি ইতিপূর্বে আর্দ্রতার (رطوبة) বিধান বিষয়ে একটি বই লিখেছিলাম, যা ‘দারুল ওয়াতান’ অত্যন্ত সদয়ভাবে মুদ্রণ ও প্রকাশ করেছিল। বইটি ব্যাপক সমাদৃত হয়েছিল কারণ এটি একটি অতি জরুরি প্রয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। এর প্রথম সংস্করণ মুদ্রিত হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এরপর দ্বিগুণ সংখ্যায় দ্বিতীয় সংস্করণ মুদ্রিত হয় এবং সেটিও শেষ হয়ে যায়। আমি প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন সম্পন্ন না করা পর্যন্ত পুনরায় মুদ্রণ থেকে বিরত থাকি। আমি ইলম অন্বেষণকারীদের (طلب العلم) বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ, পাঠকদের প্রশ্ন এবং পড়াশোনা ও গবেষণাকালে আমার কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে, তার আলোকে এই সংশোধনগুলো করতে চেয়েছিলাম। অতঃপর আমি পুরো বইটি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিই; এতে কিছু অংশ সংযোজন ও বিয়োজন করি যা আমার কাছে অধিক উপযুক্ত ও উত্তম মনে হয়েছে। আমি এমন কিছু পরিচ্ছেদ (مباحث) যোগ করেছি যে বিষয়ে নারীদের পক্ষ থেকে অধিক প্রশ্ন আসত। যদিও এটি এই আঙ্গিকে প্রস্তুত করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে এবং ভুলত্রুটির আশঙ্কা আমাকে তাড়া করছিল, তবুও নারীদের এবং ‘দারুল ওয়াতান’-এর পক্ষ থেকে ক্রমাগত তাগাদার কারণে আমি এটি পুনরায় প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিই। আমি সাধ্যমতো সত্য সন্ধানের চেষ্টা করেছি, তবে মানুষের কাজে ভুলভ্রান্তি ও অপূর্ণতা থেকেই যায়। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন কল্যাণ দান করেন তাদের সকলকে যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন, যাদের শীর্ষে রয়েছেন আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ (شيخ), আল্লামা (علامة) মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ), যিনি আমাদের অনেক কিছু দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন এবং নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

অতঃপর আমি তাঁর ছাত্র শ্রদ্ধেয় শায়খ (شيخ) আলী বিন মুহাম্মাদ নূরকে ধন্যবাদ জানাই, যিনি আমাকে তাঁর পর্যবেক্ষণগুলো দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। আমি সেগুলো থেকে উপকৃত হয়েছি এবং যে বিষয়গুলোতে তাঁর সাথে একমত হয়েছি তা সংশোধন করে নিয়েছি।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ২)
وأسأل الله الكريم أن يتغمد بواسع رحمته أخانا الدكتور عبد الرحمن الجمهور على ترجمته للكتاب باللغة الإنكليزية، وأثني على مؤسسة سليمان الراجحي التي تولت طباعة الكتاب باللغة الإنكليزية ونشره وتوزيعه بارك الله في جهود الجميع وتقبلها منهم أجمعين.

 

‌‌مقدمة كتاب حكم الرطوبة

 

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله. … أما بعد:

فإن مما يشكل على النساء مسائل الطهارة، ويحترن فيها ويقعن كثيراً في الوساوس أو الأخطاء، إما بسبب الجهل أو بسبب عدم الاهتمام.

وإن كانت مسائل الحيض والاستحاضة والنفاس جل استفتاء النساء ومدار اهتمامهن الفقهي؛ فهو بلا ريب مدعاة للبحث والاستقصاء، بيد أن أكثر هذه المسائل مبسوط في الكتب القديمة والحديثة، وفي المسائل من الأدلة ما يجليها فلا يجعل في النفس شك ما دامت مستندة إلى دليل شرعي صحيح.

والذي تجدر الإشارة إليه أن أكثر أسئلة النساء في هذا العصر عن الرطوبة التي تخرج من القبل فالسؤال عن نجاستها، وعن نقضها للوضوء، وهي مسألة قد بحثت فيه منذ أكثر من اثنتي عشرة سنة، وكنت قد اكتفيت بما توصلت إليه لنفسي رجاء أن يكفيني أحد العلماء أو طلبة العلم تجلية هذه المسألة بما يشفي، استقصاء للأدلة ولآراء أهل العلم ولكن لم أطلع إلى هذه الساعة في هذه المسألة على شيء عدا فتاوى لبعض العلماء - حفظهم الله- (1) وهم سماحة الشيخ /عبد العزيز بن باز، وفضيلة الشيخ / محمد بن صالح بن عثيمين، وفضيلة الشيخ / صالح الفوزان.

والفتاوى المذكورة لم يستند فيها على دليل من الكتاب أو السنة أو أقوال الصحابة أو التابعين.

--------------------------------------------

(1) كتبت المقدمة قبل وفاة الشيخين رحمهما الله تعالى
আমি পরম দয়ালু আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ভাই ডক্টর আব্দুর রহমান আল-জুমহুরকে তাঁর প্রশস্ত রহমত দ্বারা আবৃত করেন এই বইটি ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করার জন্য। আমি সুলাইমান আল-রাজিহি ফাউন্ডেশনের প্রশংসা করছি যারা এই বইটির ইংরেজি মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আল্লাহ প্রত্যেকের প্রচেষ্টায় বরকত দান করুন এবং সকলের পক্ষ থেকে তা কবুল করুন।

 

‌‌'হুকমুর রুতুবাহ' (নিঃসরণ সংক্রান্ত বিধান) গ্রন্থের ভূমিকা

 

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট হেদায়েত কামনা করছি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। … অতপর:

পবিত্রতা সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ মহিলাদের জন্য প্রায়শই অস্পষ্ট ও জটিল মনে হয়। তারা এই বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রে সন্দেহ-সংশয় বা ভুলের শিকার হয়; যা হয়তো অজ্ঞতার কারণে অথবা অবহেলার কারণে ঘটে থাকে।

যদিও ঋতুস্রাব, ইস্তিহাযা এবং নিফাস সংক্রান্ত মাসআলাগুলোই মহিলাদের অধিকাংশ জিজ্ঞাসার বিষয় এবং তাদের ফিকহী আগ্রহের মূল কেন্দ্র; নিঃসন্দেহে এগুলো গবেষণা ও পর্যালোচনার দাবি রাখে। তবে এই মাসআলাগুলোর বেশিরভাগই প্রাচীন ও আধুনিক গ্রন্থসমূহে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। এসকল মাসআলায় এমন সব দলিল বিদ্যমান যা বিষয়গুলোকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে, ফলে মনে কোনো সংশয় থাকে না যতক্ষণ পর্যন্ত তা কোনো সহিহ (صحيح) শরয়ী দলিলের ওপর ভিত্তি করে হয়।

এখানে যে বিষয়টি উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো, বর্তমান সময়ে মহিলাদের অধিকাংশ প্রশ্নই হলো যোনিপথ দিয়ে নির্গত আর্দ্রতা (রুতুবাহ) সম্পর্কে; বিশেষ করে এর অপবিত্রতা এবং অজু ভঙ্গের কারণ হওয়া নিয়ে। এই বিষয়টি নিয়ে আমি বারো বছরেরও বেশি সময় ধরে গবেষণা করেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি তাতেই সীমাবদ্ধ ছিলাম এই আশায় যে, কোনো আলেম বা ইলম অন্বেষী হয়তো দলিল-প্রমাণ এবং আলেমদের মতামতের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিষয়টি পর্যাপ্তভাবে স্পষ্ট করবেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি কতিপয় আলেম -আল্লাহ তাঁদের হিফাজত করুন- (১) তাঁদের ফতোয়া ব্যতীত অন্য কোনো গবেষণা নজরে পাইনি। তাঁরা হলেন: পরম শ্রদ্ধেয় শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ, শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন এবং শায়খ সালেহ আল-ফাওজান।

উল্লিখিত ফতোয়াগুলোতে কিতাবুল্লাহ (কুরআন), সুন্নাহ অথবা সাহাবী বা তাবেয়ীদের (تابعين) কোনো বাণীর ওপর সরাসরি নির্ভর করা হয়নি।

--------------------------------------------

(১) এই ভূমিকাটি দুই শায়খের মৃত্যুর পূর্বে লেখা হয়েছিল, আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ৩)
وبعد تردد طال، ألح علي بعض الأخوات بنشر هذا البحث وكنت أتوانى وأستحيي من التقدم في مسألة كهذه لم تطرق من قبل إلا لماما، وطال التواني سنوات حتى شرح الله صدري للكتابة في الموضوع، سيما وقد كنت عرضت المسألة على فضيلة الشيخ / محمد ناصر الدين الألباني قبل أكثر من عشر سنوات، فوافقني وأيد ما اخترته من رأي.

على أي حال رأيت أن أنشر هذا الموضوع بعد عرضه على عدد من العلماء؛ لئلا أستأثر به بنفسي وأتحمل تبعته وحدي، وإن كنت مؤمنة بما سلكته من منهج، وهو منهج أئمتنا وفقهائنا الأقدمين والمحدثين من السلف والصالحين.

فإن كان صواباً فمن الله، وإن كان خطأ فمن نفسي والشيطان، والله المستعان وأستغفر الله عما كان. (1)

 

‌‌أهمية الموضوع

 

لا تخلو مسلمة من الحاجة لمعرفة هذه المسألة؛ لأنه أمر يصيب الجميع من النساء، وهو خلقة فطر الله النساء عليها، وليست مرضاً ولا عيباً ولا نادراً يقول ماكسين ديفز: "والإفراز إذا كانت كميته معينة فإنه يعتبر طبيعياً؛ لأن سطح المهبل كأي سطح مخاطي آخر بالجسم، يجب أن يظل رطباً، وتختلف كمية الإفراز باختلاف أفراد النساء، ولكل امرأة نظرتها الخاصة بالنسبة له، فالبعض يشتد فزعهن عندما يلاحظن إفرازاً خفيفا ًيؤكد الطبيب لهن أنه طبيعي، بينما تتجاهل نساء أخريات إفرازاً ينظر الطبيب إليه بعين الارتياب على أنه شاذ ".

فقول: إن بعض النساء يصيبهن وبعضهن لا يصيبهن غير صحيح، فالذي يصيب بعضا ًدون بعض هو السيلان المرضي المسمى بالسيلان الأبيض، وهذا النوع من السيلان يصحبه حكة ورائحة كريهة، وأحياناً يختلط بصديد أو يكون دامياً أو مصفر اللون.

--------------------------------------------

(1) عرضت البحث قبل نشره على فضيلة الشيخ محمد بن عثيمين فعلق عليه

দীর্ঘ দ্বিধাদ্বন্দ্বের পর, কিছু বোন আমাকে এই গবেষণাটি প্রকাশের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন। ইতিপূর্বে এই বিষয়টি খুব সামান্যই আলোচিত হয়েছে, তাই এমন একটি বিষয়ে অগ্রসর হতে আমি ইতস্ততবোধ ও সংকোচ বোধ করছিলাম। এই দ্বিধা দীর্ঘ কয়েক বছর স্থায়ী হয়, অবশেষে আল্লাহ এই বিষয়ে লেখার জন্য আমার বক্ষ উন্মোচন করে দেন। বিশেষত, আমি দশ বছরেরও বেশি সময় পূর্বে বিষয়টি শ্রদ্ধেয় শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি এর নিকট উপস্থাপন করেছিলাম; তিনি আমার সাথে একমত পোষণ করেন এবং আমার গৃহীত মতটিকে সমর্থন করেন।

যা-ই হোক, আমি বিষয়টি বেশ কয়েকজন আলিমের নিকট উপস্থাপনের পর তা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি; যাতে আমি একাই এটি আঁকড়ে না থাকি এবং এর দায়ভার একাই বহন না করি। যদিও আমি আমার অনুসৃত পদ্ধতির (منهج) ওপর আস্থাশীল, আর এটিই হলো আমাদের সালাফ (السلف) ও পুণ্যবান (الصالحون) পূর্বসূরিদের মধ্য থেকে ইমামগণ, ফকিহগণ (الفقهاء) এবং হাদিস বিশারদগণের (المحدثون) অনুসৃত পদ্ধতি (منهج)।

যদি এটি সঠিক হয় তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি কোনো ভুল থাকে তবে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আল্লাহই সাহায্যকারী এবং যা হয়েছে তার জন্য আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। (১)

 

‌‌বিষয়ের গুরুত্ব

 

কোনো মুসলিম নারীই এই বিষয়টি জানার প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত নন; কারণ এটি এমন একটি বিষয় যা সকল নারীর ক্ষেত্রেই ঘটে। এটি একটি প্রাকৃতিক সৃষ্টি যার ওপর আল্লাহ নারীদের সৃষ্টি করেছেন; এটি কোনো রোগ, ত্রুটি বা বিরল কোনো বিষয় নয়। ম্যাক্সিন ডেভিস বলেন: "নিঃসরণের পরিমাণ যদি নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকে তবে তা স্বাভাবিক হিসেবে গণ্য হয়; কারণ যোনির উপরিভাগ শরীরের অন্য যেকোনো শ্লেষ্মাঝিল্লির মতোই, যা সর্বদা আর্দ্র থাকা আবশ্যক। নারীভেদে এই নিঃসরণের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং একেকজন নারীর দৃষ্টিভঙ্গি এর প্রতি একেক রকম। যেমন: অনেক নারী সামান্য নিঃসরণ দেখলেই অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, যদিও চিকিৎসক তাদের নিশ্চিত করেন যে এটি স্বাভাবিক। অন্যদিকে, কিছু নারী এমন নিঃসরণকেও উপেক্ষা করেন যা চিকিৎসক সন্দেহের চোখে দেখেন এবং অস্বাভাবিক মনে করেন।"

সুতরাং এই কথা বলা যে—কিছু নারীর এটি হয় এবং কিছু নারীর হয় না—তা সঠিক নয়। বরং যা কেবল কারো কারো ক্ষেত্রে ঘটে, তা হলো রোগাক্রান্ত নিঃসরণ যাকে 'সাদা স্রাব' বলা হয়। এই প্রকারের নিঃসরণের সাথে চুলকানি ও দুর্গন্ধ থাকে এবং কখনো কখনো এটি পুঁজ মিশ্রিত, রক্তাভ অথবা হলদেটে বর্ণের হয়ে থাকে।

--------------------------------------------

(১) প্রকাশের পূর্বে আমি গবেষণাটি শ্রদ্ধেয় শায়খ মুহাম্মদ বিন উসাইমিনের নিকট উপস্থাপন করেছিলাম এবং তিনি এর ওপর মন্তব্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ৪)
ولأن المرأة يجب أن تكون طاهرة لتؤدي الصلاة فلا بد من معرفة حكم هذا السائل، فهي إذا كانت تجهل حكمه ربما أعادت وضوءها مراراً، وربما أصابها الوسواس، وربما أعادت الصلاة؛ فلذا ينبغي أن يعلم حكم هذه الرطوبة بالدليل الشرعي على أصول سلفنا الصالح.

ولعدم وجود بحث خاص بهذه الرطوبة (1) ، بل ولا فتاوى واضحة من أئمة الفقه الأربعة، ولا من سبقهم من أهل العلم، ولا من تبعهم ممن عرف ببحثه عن الدليل كشيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم لزم البحث في هذا الموضوع بحثاً جاداً.

 

‌‌السبب الباعث على البحث:

بالإضافة إلى أهميته فإن بعض النساء أصابهن وسواس عظيم وأخريات ألزمن بما يشق وكلفن عسيراً والله تعالى يقول: (وما جعل عليكم في الدين من حرج) (2)

 

ثم إنه اتصلت بي إحدى الشابات وهي تسأل:

ماذا على من لم تطهر من الحيض منذ سنتين ونصف؟ فعجبت من هذا السؤال وقلت: وهي في هذه البلاد، وتدرس، ولها والدة مسلمة! هذا أمر يستغرب الجهل به! ويستبعد! وأدركت هذا ثم قالت: هي تتطهر من الحيض ولكنها لا تتطهر من شيء آخر، فقلت من الجنابة؟ ! قالت مثل ذلك، ثم علمت أنها غير متزوجة، فعزمت عليها بالإيضاح، فقالت من تحتلم ولم تغتسل؟ فعجبت كيف تحتلم ولم تغتسل منذ سنتين ونصف باستمرار، ففطنت إلى أن الشابة لم تكن تعرف الاحتلام، فوضحته لها، وقلت هل ترين هذا؟ قالت: لا! قلت إذن تعنين الرطوبة التي ترين، قالت نعم! فاسترجعت وعزمت على تبييض هذا البحث؛ لأن السائلة هذه نموذج من نماذج كثيرة ربما تدع الصلاة بهذا السبب، ولست مبالغة في هذا فقد صارحتني به غير واحدة. ولا حول ولا قوة إلا بالله.

--------------------------------------------

(1) لم أكن حينئذ قد اطلعت على كتاب " الافرازات الطبيعية عند المرأة بين الطهارة والنجاسة" للأخت الفاضلة المربية الدكتورة فاطمة بنت عمر نصيف حفظها الله.

(2) سورة الحج آية78
যেহেতু সালাত আদায় করার জন্য নারীর পবিত্র থাকা আবশ্যক, তাই এই তরল পদার্থের বিধান (حكم) জানা অপরিহার্য। তিনি যদি এর বিধান (حكم) সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকেন, তবে সম্ভবত তিনি বারবার অজু করবেন, অথবা তিনি সংশয়ে (وسواس) আক্রান্ত হবেন, কিংবা হয়তো সালাত পুনরায় আদায় করবেন; তাই আমাদের পুণ্যবান পূর্বসূরিদের (سلفنا الصالح) মূলনীতির আলোকে শরয়ী প্রমাণের (دليل شرعي) ভিত্তিতে এই আর্দ্রতার বিধান (حكم) জানা আবশ্যক।

এবং যেহেতু এই আর্দ্রতা বিষয়ে বিশেষ কোনো গবেষণা (১) নেই, এমনকি চার ফিকহ ইমামের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ফতোয়া নেই, না তাঁদের পূর্ববর্তী আলেমদের পক্ষ থেকে, আর না তাঁদের পরবর্তী এমন কারো থেকে যারা প্রমাণের (دليل) ভিত্তিতে গবেষণার জন্য সুপরিচিত—যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম; তাই এই বিষয়ে গুরুত্বের সাথে গবেষণা করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।

 

‌‌গবেষণার প্রেক্ষাপট:

এর গুরুত্বের পাশাপাশি, কিছু নারী গুরুতর সংশয়ে (وسواس) আক্রান্ত হয়েছেন এবং অন্যরা নিজেদের ওপর এমন কিছু আবশ্যিক করে নিয়েছেন যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এবং তারা নিজেদের কঠোরতায় নিপতিত করেছেন। অথচ মহান আল্লাহ বলেন: "তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি" (২)

 

এরপর একজন তরুণী আমার সাথে যোগাযোগ করে জিজ্ঞেস করলেন:

যে আড়াই বছর ধরে ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হতে পারেনি, তার কী করণীয়? আমি এই প্রশ্নে বিস্মিত হলাম এবং বললাম: তিনি এই দেশে থাকেন, পড়াশোনা করেন এবং তাঁর মা একজন মুসলিম! এই বিষয়ে অজ্ঞতা সত্যিই আশ্চর্যজনক এবং অবিশ্বাস্য! আমি বিষয়টি অনুধাবন করে তাকে প্রশ্ন করলাম। তখন সে বলল: সে ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হয়, কিন্তু অন্য কিছু থেকে পবিত্র হয় না। আমি বললাম: অপবিত্রতা (جنابة) থেকে?! সে সেরকমই কিছু বলল। এরপর জানতে পারলাম সে অবিবাহিতা। তখন আমি তাকে বিষয়টি স্পষ্ট করার দৃঢ় সংকল্প করলাম। সে বলল: যার স্বপ্নদোষ (الاحتلام) হয় অথচ সে গোসল করে না? আমি অবাক হলাম যে কীভাবে আড়াই বছর ধরে ক্রমাগত স্বপ্নদোষ (الاحتلام) হওয়া সত্ত্বেও সে গোসল করেনি! তখন আমি বুঝতে পারলাম যে সেই তরুণী স্বপ্নদোষ (الاحتلام) সম্পর্কে জানত না। আমি তাকে তা বুঝিয়ে বললাম এবং জিজ্ঞেস করলাম: তুমি কি এটি দেখতে পাও? সে বলল: না! আমি বললাম: তাহলে কি তুমি সেই আর্দ্রতার কথা বলছ যা তুমি দেখতে পাও? সে বলল: হ্যাঁ! তখন আমি ইন্নালিল্লাহ পড়লাম এবং এই গবেষণাটি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিলাম; কারণ এই প্রশ্নকারী অনেক নমুনার মধ্যে একটি মাত্র উদাহরণ, যারা হয়তো এই কারণে সালাত ছেড়ে দেয়। আমি এতে কোনো অতিরঞ্জন করছি না, কারণ একাধিক নারী আমার কাছে এই অকপট স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো সামর্থ্য বা শক্তি নেই।

--------------------------------------------

(১) সেই সময় পর্যন্ত আমি শ্রদ্ধেয় শিক্ষিকা ড. ফাতিমা বিনতে উমর নাসিফ (আল্লাহ তাকে হেফাযত করুন) রচিত "নারীদের স্বাভাবিক নিঃসরণ: পবিত্রতা ও অপবিত্রতার মাঝে" নামক গ্রন্থটি দেখার সুযোগ পাইনি।

(২) সূরা আল-হজ্জ, আয়াত ৭৮।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تمهيد

في السوائل الخارجة من المرأة

لأجل أن نقف على ماهية هذه الرطوبة ينبغي أن نذكر السوائل التي تخرج من المرأة، ونبين حكمها باختصار؛ لأن الأشياء تتميز بضدها، وتلحق في الأحكام بما اتصف بصفتها.

يخرج من المرأة سوائل من غير السبيلين: كالمخاط واللعاب والدمع والعرق والرطوبة، ويخرج منها سوائل من السبيلين، وهي نجسة، ناقضة للوضوء.

 

‌‌أنواع السوائل:

 

‌‌(1) البول: وهو ما يخرج من المثانة، وحكمه نجس، ناقض للوضوء بالنص والإجماع، قال تعالى: (أو جاء أحد منكم من الغائط) (1)

والغائط هو المكان المطمئن من الأرض، كني بذلك عن التغوط، وهو الحدث الأصغر.

قال ابن المنذر: " وحكي لي عن بعض أهل العلم أنه قال: البول والغائط داخلان في قوله: (أو جاء أحد منكم من الغائط) ؛ لأن ذهاب القوم إلى تلك المذاهب كان ذهاباً واحداً.

--------------------------------------------

(1) النساء: 43
উপক্রমনিকা

নারীর শরীর থেকে নির্গত তরল পদার্থ সম্পর্কে

এই আর্দ্রতার প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করার জন্য নারীর শরীর থেকে নির্গত তরল পদার্থসমূহ উল্লেখ করা এবং সংক্ষেপে সেগুলোর বিধান বর্ণনা করা সমীচীন; কারণ কোনো বিষয়কে তার বিপরীত বিষয়ের মাধ্যমেই সঠিকভাবে চেনা যায় এবং তা নিজ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়।

নারীর শরীর থেকে দুই রাস্তা (সাবিললাইন) ব্যতীত অন্য অঙ্গ দিয়েও তরল নির্গত হয়: যেমন শ্লেষ্মা, লালা, চোখের পানি, ঘাম ও আর্দ্রতা। আবার দুই রাস্তা দিয়েও তরল নির্গত হয়, যা অপবিত্র (نجس) এবং অজু ভঙ্গকারী (ناقض للوضوء)।

 

তরল পদার্থের প্রকারভেদ:

 

(১) প্রস্রাব: এটি মূত্রথলি থেকে নির্গত হয় এবং এর বিধান হলো এটি অপবিত্র (نجس), যা স্পষ্ট দলিল (نص) এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) অনুযায়ী অজু ভঙ্গকারী (ناقض للوضوء)। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: "অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসলে" (১)।

মূলত ‘গাইত’ হলো জমিনের নিচু স্থান, মলত্যাগের বিষয়টিকে বোঝাতে এই শব্দটি রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা ছোট অপবিত্রতা (حدث أصغر)।

ইবনুল মুনযির বলেন: "আমার কাছে কোনো কোনো আলেম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তারা বলেছেন: প্রস্রাব ও মলত্যাগ উভয়ই আল্লাহর বাণী 'অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসলে' এর অন্তর্ভুক্ত; কারণ লোকেদের এসব স্থানে যাওয়ার উদ্দেশ্য একই থাকে।"

--------------------------------------------

(১) আন-নিসা: ৪৩
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ৬)
قال أبو بكر: وجوب الوضوء من البول مأخوذ من أخبار الرسول صلى الله عليه وسلم -قولاً وفعلاً، وذكر حديث ذر بن حبيش قال: لقيت صفوان بن عسال أسأله عن المسح فقال: " كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمرنا أن لا ننزع خفافنا ثلاثة أيام ولياليهن إلا من جنابة، لكن من غائط أو بول أو نوم " (1) .

وكل ما خرج من مخرج البول من المرأة أو الرجل فهو ناقض للوضوء لما ذكرنا، وإن كان طاهراً.

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن حبان في باب ذكر الخبر الدال على أن الرقاد 3/381،، وابن خزيمة باب ذكر وجوب الوضوء من الغائط والبول1/13 وباب ذكر الدليل على أن الأمر بالمسح على الخفين 1/98،، والنسائي في باب المسح على الخفين 1/83،، والترمذي في باب فضل الوبة والاستغفار 5/545،، وابن ماجة في باب الوضوء من مس الذكر1/161،، والشافعي في المسند باب ما خرج من كتاب الطهارة 1/17،، وأحمد 2/389،، والبيهقي في باب الوضوء من النوم 1/118،، وباب التوقيت في المسح على الخفين1/276،، والطبراني في الكبير 8/56،، والطحاوي في شرح معاني الآثار 1/82. قال الترمذي حسن صحيح،، ونقل في تحفة المحتاج عن البخاري قوله: " إنه أصح شيء في الباب" 1/195 حكى النووي عن ابن عبد البرقوله: " شرح النووي على صحيح مسلم ج3/ص176

واختلف الرواة في رفع هذا الحديث ووقفه على على قال ومن رفعه أحفظ وأضبط" قال ابن حجر: "

قال الترمذي عن البخاري حديث حسن وصححه الترمذي والخطابي ومداره عندهم على عاصم بن أبي النجود عن زر بن حبيش عنه وذكر بن مندة أبو القاسم أنه رواه عن عاصم أكثر من أربعين نفسا وتابع عاصما عليه عبد الوهاب بن بخت وإسماعيل بن أبي خالد وطلحة بن مصرف والمنهال بن عمرو ومحمد بن سوقة وذكر جماعة معه ومراده أصل الحديث لأنه في الأصل طويل مشتمل على التوبة والمرء مع من أحب وغير ذلك لكن حديث طلحة عند الطبراني بإسناد لا بأس به" تلخيص الحبير ج1/ص157
আবু বকর বলেন: প্রস্রাব থেকে ওজু করার আবশ্যকতা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ও কর্ম দ্বারা সাব্যস্ত সংবাদসমূহ থেকে গৃহীত। এবং তিনি জির ইবনে হুবাইশ-এর হাদিস উল্লেখ করেন, তিনি বলেন: আমি সাফওয়ান ইবনে আসসালের সাথে দেখা করে তাঁকে মোজার ওপর মাসেহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিতেন, আমরা যেন তিন দিন ও তিন রাত আমাদের মোজা না খুলি জানাবাত (অপবিত্রতা) ব্যতীত; তবে মলত্যাগ, প্রস্রাব বা ঘুমের কারণে (মোজা খোলার প্রয়োজন নেই)।" (১) ।

এবং পুরুষ বা নারীর প্রস্রাবদ্বার দিয়ে যা কিছু বের হয়, তা ওজু ভঙ্গকারী (ناقض للوضوء), যা আমরা উল্লেখ করেছি; যদিও তা পবিত্র (طاهر) হয়।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে হিব্বান ঘুমের প্রমাণবাহী সংবাদ অধ্যায়ে ৩/৩৮১; ইবনে খুজাইমা মলত্যাগ ও প্রস্রাব থেকে ওজু করার আবশ্যকতা অধ্যায়ে ১/১৩ এবং মোজার ওপর মাসেহ করার নির্দেশের প্রমাণ অধ্যায়ে ১/৯৮; নাসায়ি মোজার ওপর মাসেহ অধ্যায়ে ১/৮৩; তিরমিজি তাওবা ও ইস্তেগফারের ফজিলত অধ্যায়ে ৫/৫৪৫; ইবনে মাজাহ লিঙ্গ স্পর্শ করার ফলে ওজু অধ্যায়ে ১/১৬১; শাফেয়ি আল-মুসনাদে তাহারাত অধ্যায় ১/১৭; আহমাদ ২/৩৮৯; বায়হাকি ঘুম থেকে ওজু অধ্যায়ে ১/১১৮ এবং মোজার ওপর মাসেহ করার সময়সীমা নির্ধারণ অধ্যায়ে ১/২৭৬; তাবারানি আল-কাবিরে ৮/৫৬ এবং তাহাবি শারহু মাআনী আল-আসার গ্রন্থে ১/৮২। ইমাম তিরমিজি একে হাসান সহিহ (حسن صحيح) বলেছেন এবং তুহফাতুল মুহতাজ-এ বুখারি থেকে বর্ণিত হয়েছে: "এই বিষয়ে এটি সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح شيء)।" ১/১৯৫; নববী ইবনে আবদিল বার থেকে তাঁর উক্তি বর্ণনা করেছেন: "শারহু নববী আলা সহিহ মুসলিম ৩/১৭৬।

বর্ণনাকারীদের মধ্যে এই হাদিসটি মারফু (مرفوع) হওয়া এবং আলীর ওপর মাওকুফ (موقوف) হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে; তিনি বলেন, যারা একে মারফু (مرفوع) করেছেন তাঁরা অধিক মুখস্থকারী (أحفظ) এবং অধিক সুসংরক্ষণকারী (أضبط)। ইবনে হাজার বলেন: "

তিরমিজি বুখারি থেকে বর্ণনা করেছেন যে এটি হাসান (حسن) হাদিস এবং তিরমিজি ও খাত্তাবি একে সহিহ (صححه) বলেছেন। তাঁদের নিকট এই হাদিসের মূল সূত্র আসিম ইবনে আবি নাজুদ, তিনি জির ইবনে হুবাইশ থেকে, তিনি তাঁর (সাফওয়ান) থেকে। আবুল কাসিম ইবনে মানদাহ উল্লেখ করেছেন যে, আসিম থেকে এটি চল্লিশ জনেরও বেশি লোক বর্ণনা করেছেন এবং আসিমকে এ বিষয়ে অনুসরণ (تابع) করেছেন আব্দুল ওয়াহাব ইবনে বাখত, ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ, তালহা ইবনে মুসাররিফ, মিনহাল ইবনে আমর এবং মুহাম্মদ ইবনে সাওকাহ এবং তিনি তাদের সাথে আরও একটি জামাতের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল মূল হাদিসটি, কারণ তা দীর্ঘ এবং এতে তাওবা, মানুষ যার সাথে ভালোবাসা রাখে তার সাথে থাকা ইত্যাদি বিষয় রয়েছে। তবে তাবারানির নিকট তালহার হাদিসটি এমন একটি সনদ (إسناد) দ্বারা বর্ণিত হয়েছে যাতে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به)।" তালখিসুল হাবির ১/১৫৭।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌(2) المذي: وهو سائل غليظ أبيض قليل يخرج من ذكر الرجل أو قبل المرأة - من طريق الرحم من مخرج الولد - عند الشهوة الخفيفة وهو موجب للوضوء لما جاء عن على رضى الله عنه قال: " كنت رجلاً مذاء فأمرت رجلاً أن يسأل النبى صلى الله عليه وسلم، لمكان ابنته فسأل، فقال: " توضأ واغسل ذكرك " رواه البخارى. وعن سهل بن حنيف رضى الله عنه قال: " كنت ألقى من المذى شدة وعناء، وكنت أكثر منه الاغتسال، فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: إنما يجزيك من ذلك الوضوء فقلت: يا رسول الله، كيف بما يصيب ثوبى منه؟ قال: " يكفيك أن تأخذ كفاً من ماء فتنضح به ثوبك حيث ترى أنه قد أصاب منه " رواه أبو داود وابن ماجه والترمذى

‌‌(3) المني: وهو سائل غليظ أبيض يخرج بدفق وهو كثير يخرج مع اشتداد الشهوة

حال الجماع أو الاحتلام، وهو من المرأة رقيق أصفر.

وهو موجب للغسل؛ لقوله تعالى: (ولا جنباً إلا عابري سبيل حتى تغتسلوا) (1) ، ولقوله تعالى: (وإن كنتم جنباً فاطهروا) (2) ، وسيأتي ذكر حكم المني من حيث الطهارة في فصل مستقل؛ لمساسه بالموضوع.

‌‌(4) الودي: وهو سائل يخرج من مخرج البول بعد انتهائه قال ابن حجر: " الودي بالمهملة وهو ماء أبيض شخين يخرج عقيب البول أو عند حمل شيء ثقيل" (3)

‌‌(5) الحيض: وهو دم أحمر ضارب للسواد، له ريح يخرج من رحم المرأة في وقت مخصوص، وهو موجب للغسل عند انقطاعه وبرء الرحم منه،؛لقوله تعالى: (ويسئلونك عن المحيض قل هو أذى فاعتزلوا النساء في المحيض ولا تقربوهن حتى يطهرن فإذا تطهرن فأتوهن من حيث أمركم الله إن الله يحب التوابين ويحب المتطهرين) (4) .

ويلحق بالحيض النفاس، وهو دم يخرج مع الولادة ويستمر مدة طويلة، هي عند أكثر النساء أربعين يوماً، وقد تقصر عن ذلك.

--------------------------------------------

(1) النساء 43

(2) المائدة 6

(3) نقله عنه في شرح سنن ابن ماجه ج1/ص38

(4) البقرة 222
(২) মযি (المذي): এটি একটি ঘন ও সাদা বর্ণের স্বল্প তরল পদার্থ যা কামোত্তেজনা বা হালকা উত্তেজনার সময় পুরুষ বা স্ত্রীর যৌনাঙ্গ থেকে—জরায়ুর পথ দিয়ে সন্তানের নির্গমন পথ হয়ে—নির্গত হয়। এটি অযু (الوضوء) ওয়াজিবকারী। এর দলিল হিসেবে আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস উল্লেখযোগ্য, তিনি বলেন: "আমি এমন একজন ব্যক্তি ছিলাম যার প্রচুর মযি নির্গত হতো। আমি এক ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য নির্দেশ দিলাম (রাসূলুল্লাহর কন্যার সাথে আমার সম্পর্কের কারণে)। সে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: 'অযু (توضأ) করো এবং তোমার যৌনাঙ্গ ধৌত করো'।" বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন। সাহল বিন হুনাইফ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "মযির কারণে আমি অত্যন্ত কষ্ট ও যন্ত্রণায় থাকতাম এবং এ কারণে আমি প্রচুর গোসল করতাম। আমি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন: 'তোমার জন্য শুধুমাত্র অযু (الوضوء) করাই যথেষ্ট।' আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমার কাপড়ে যা লাগে সেটির বিধান কী? তিনি বললেন: 'তোমার জন্য এক আঁজলা পানি নিয়ে কাপড়ের যেখানে লেগেছে বলে মনে হয় সেখানে ছিটিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট'।" এটি আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।

(৩) মানি (المني): এটি একটি ঘন ও সাদা তরল যা সজোরে নির্গত হয় এবং তীব্র উত্তেজনার সময় প্রচুর পরিমাণে নির্গত হয়।

সহবাস বা স্বপ্নদোষের সময় এটি নির্গত হয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি পাতলা ও হলদেটে হয়ে থাকে।

এটি গোসল (الغسل) ওয়াজিবকারী; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "তোমরা অপবিত্র (جنباً) অবস্থায় সালাতের কাছে যেও না, যতক্ষণ না তোমরা গোসল (تغتسلوا) করো, তবে মুসাফির অবস্থায় থাকলে ভিন্ন কথা" (১)। এছাড়া মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আর যদি তোমরা অপবিত্র (جنباً) হও তবে পবিত্রতা অর্জন করো (فاطهروا)" (২)। বিষয়ের গুরুত্বের কারণে পবিত্রতার দিক থেকে মানি-র হুকুম সামনে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে বিস্তারিত আলোচিত হবে।

(৪) ওয়াদি (الودي): এটি এমন এক তরল যা প্রস্রাব শেষ হওয়ার পর প্রস্রাবের পথ দিয়ে নির্গত হয়। ইবনে হাজার বলেন: "ওয়াদি—নুকতাহীন (المهملة) দাল দিয়ে—হলো একটি সাদা ও ঘন পানি যা প্রস্রাবের ঠিক পরে অথবা কোনো ভারী বস্তু বহন করার সময় নির্গত হয়" (৩)।

(৫) ঋতুস্রাব (الحيض): এটি একটি কালচে লাল বর্ণের রক্ত, যার একটি নির্দিষ্ট গন্ধ রয়েছে এবং যা নির্দিষ্ট সময়ে নারীর জরায়ু থেকে নির্গত হয়। রক্ত বন্ধ হওয়া এবং জরায়ু তা থেকে মুক্ত হওয়ার পর এটি গোসল (الغسل) ওয়াজিবকারী। মহান আল্লাহর বাণী: "লোকেরা তোমাকে ঋতুস্রাব (المحيض) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে; বলো, ওটা কষ্টদায়ক। সুতরাং তোমরা ঋতুকালে স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক এবং যতক্ষণ না তারা পবিত্র (يطهرن) হয়, ততক্ষণ তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। তারপর তারা যখন পবিত্র হবে (تطهرن), তখন তাদের কাছে সেইভাবে গমন করো যেভাবে আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন" (৪)।

ঋতুস্রাবের বিধানের সাথে নিফাস (النفاس)-ও অন্তর্ভুক্ত হবে। এটি প্রসবকালীন রক্ত যা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত নির্গত হয়। অধিকাংশ মহিলার ক্ষেত্রে এর সময়সীমা চল্লিশ দিন, তবে এর চেয়ে কমও হতে পারে।

--------------------------------------------

(১) আন-নিসা ৪৩

(২) আল-মায়িদাহ ৬

(৩) এটি তার থেকে শারহু সুনান ইবনে মাজাহ খণ্ড ১/পৃষ্ঠা ৩৮-এ উদ্ধৃত হয়েছে

(৪) আল-বাকারাহ ২২২
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ৮)
والمرأة تدع الصلاة والصوم ومس المصحف لهذين الحدثين حتى تطهر.

‌‌(6) الاستحاضة: وهو دم أحمر يخرج من المرأة في وقت غير معتاد من مخرج الحيض، ويختلف في كثرته، وهو نجس موجب للوضوء عند كل صلاة على الراجح، وفيه خلاف مفصل في كتاب الأوسط لابن المنذر فلينظر هناك. (1)

‌‌(7) السوائل الخارجة من سائر الجسد: كاللبن من الثدي والبزاق والمخاط والدمع وغيره، وهذه طاهرة لا توجب شيئاً.

قال ابن المنذر: " أجمع أهل العلم على أن خروج اللبن من ثدي المرأة لا ينقض الوضوء، وكذلك المخاط والبزاق والدمع الذي يسيل من العين والعرق الذي يخرج من سائر الجسد، والجشاء المتغير الذي يخرج من الفم، والنفس الخارج من الأنف، والدود الساقط من القرح، كل هذا لا ينقض طهارة، ولا يوجب وضوءاً" (2) .

‌‌(8) رطوبة فرج المرأة: وهي إفراز طبيعي عديم اللون عادة، ولزج بدرجة خفيفة، ويشبه بياض البيض غير المطبوخ عندما يزداد نشاط غدد عنق الرحم (3) .

وقد سألت عدداً من الطبيبات المتخصصات في أمراض النساء والولادة عن هذه الإفرازات، وهل هي طبيعية أم لا؟ فأفدنني بالإجماع بأنها طبيعية في كل امرأة.

--------------------------------------------

(1) 1/158ـ164

(2) الأوسط 1/157

(3) دليل المرأة إلى الصحة ص 245
এবং এই দুই প্রকার অশুচিতার (الحدثين) কারণে নারী পবিত্র (تطهر) না হওয়া পর্যন্ত নামাজ, রোজা এবং মুসহাফ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকবে।

‌‌(৬) ইস্তিহাজা (الاستحاضة): এটি একটি লাল রক্ত যা মাসিকের রাস্তা দিয়ে অস্বাভাবিক সময়ে নারীর শরীর থেকে নির্গত হয় এবং এর পরিমাণের ভিন্নতা দেখা যায়। এটি অপবিত্র (نجس) এবং অগ্রগণ্য (الراجح) মত অনুযায়ী প্রত্যেক নামাজের জন্য ওজু (وضوء) আবশ্যককারী। এ বিষয়ে ইবনুল মুনজিরের আল-আওসাত কিতাবে বিস্তারিত মতভেদ রয়েছে, সেখানে দেখা যেতে পারে। (১)

‌‌(৭) শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে নির্গত তরলসমূহ: যেমন স্তনের দুধ, থুতু, শ্লেষ্মা, চোখের পানি ইত্যাদি। এগুলো পবিত্র (طاهرة) এবং এগুলো কোনো কিছুই আবশ্যক করে না।

ইবনুল মুনজির বলেন: "আলেমগণ ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন যে, নারীর স্তন থেকে দুধ নির্গত হওয়া ওজু (وضوء) ভঙ্গ করে না। তদ্রূপ শ্লেষ্মা, থুতু, চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া পানি, শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে নির্গত ঘাম, মুখ থেকে নির্গত পরিবর্তিত ঢেকুর, নাক থেকে নির্গত বাতাস এবং ক্ষতস্থান থেকে ঝরে পড়া পোকা—এই সবই পবিত্রতা (طهارة) ভঙ্গ করে না এবং ওজু (وضوء) ওয়াজিব করে না।" (২) ।

‌‌(৮) নারীর যৌনাঙ্গের আর্দ্রতা (رطوبة فرج المرأة): এটি সাধারণত একটি বর্ণহীন স্বাভাবিক নিঃসরণ এবং সামান্য আঠালো হয়ে থাকে। যখন জরায়ুর গ্রীবার গ্রন্থিগুলোর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায়, তখন এটি কাঁচা ডিমের সাদা অংশের মতো দেখায় (৩)।

আমি প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বেশ কয়েকজন নারী চিকিৎসককে এই নিঃসরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি যে, এগুলো স্বাভাবিক কি না? তাঁরা আমাকে সর্বসম্মতিক্রমে (بالإجماع) জানিয়েছেন যে, এটি প্রত্যেক নারীর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক।

--------------------------------------------

(১) ১/১৫৮-১৬৪

(২) আল-আওসাত ১/১৫৭

(৩) দালিলুল মারআ ইলাস সিহহাহ পৃ. ২৪৫
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وكتبت لي دكتورة صفاء عثمان أخصائية النساء والولادة في مستشفى الرياض المركزي: " الإفرازات الطبيعية موجودة عند كل الإناث، ولكن الشكوى منها تعتمد على علم المرأة بطبيعتها أو تخوفها من تلك الإفرازات، وغالباً ما تكون الإفرازات الطبيعية لها قوام مخاطي وذات لون أبيض أو أصفر داكن أو شفاف، وقد تتغير رائحته بسبب تفاعله مع البكتريا الطبيعية، أما الإفرازات غير الطبيعية فهي مصاحبة بأعراض أخرى فتكون ذات لون أخضر أو متغير بألوان الدم القاتمة وقد تسبب حكة أو حرقة، أو تكون ذات رائحة كريهة بفعل بعض أنواع الجراثيم (1)

 

* … * … *

 

وسأذكر هنا مسائل تحتاج إليها المرأة وتسأل عنها باستمرار وتبالغ في السؤال، وهي:

-‌‌ حكم الصفرة والكدرة في زمن الحيض وفي غيره

- بم تطهر المرأة؟

- حكم الرطوبة في غير أيام الحيض

- الشك في الطهارة وكيف تفرق المرأة بين الحيض والاستحاضة وتتخلص من الوسوسة

 

وسأورد كل مسألة منها بالتفصيل:

 

حكم الصفرة والكدرة في زمن الحيض

اتفق العلماء على أن الصفرة في أيام الحيض حيض. (2)

--------------------------------------------

(1) اعتمدت الدكتورة صفاء على بعض المراجع الطبية الأجنبية في هذه الإفادة، وبعثت لي بشهادة سبعة من أطباء النساء والولادة لتقديمها لهيئة كبار العلماء؛ لإيضاح أن هذه الرطوبة لا تتصل بالنجاسة من الداخل. …

(2) الأوسط لابن المنذر 2/233، أحكام القرآن/ للجصاص، الاختلاف في الطهر العارض في حال الحيض ج 1
রিয়াদ কেন্দ্রীয় হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সাফা উসমান আমাকে লিখেছেন: "স্বাভাবিক নিঃসরণ সকল নারীর মধ্যেই বিদ্যমান, তবে এটি নিয়ে অভিযোগ নির্ভর করে নারীর নিজস্ব প্রকৃতি সম্পর্কে তার জ্ঞান অথবা এই নিঃসরণ নিয়ে তার ভয়ের ওপর। সাধারণত স্বাভাবিক নিঃসরণের গঠন শ্লেষ্মাজাতীয় এবং তা সাদা, গাঢ় হলুদ অথবা স্বচ্ছ বর্ণের হয়ে থাকে। স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার সাথে বিক্রিয়ার ফলে এর গন্ধে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে অস্বাভাবিক নিঃসরণ অন্যান্য উপসর্গের সাথে যুক্ত থাকে; যেমন তা সবুজ বর্ণের হতে পারে অথবা রক্তের গাঢ় রঙে পরিবর্তিত হতে পারে এবং এর ফলে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে, অথবা নির্দিষ্ট কিছু জীবাণুর কারণে এতে দুর্গন্ধ হতে পারে।" (১)

 

* … * … *

 

আমি এখানে এমন কিছু মাসয়ালা উল্লেখ করব যা একজন নারীর প্রয়োজন হয় এবং তিনি প্রতিনিয়ত সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন ও এর উত্তর জানতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন, আর সেগুলো হলো:

-‌‌ ঋতুকালীন (حيض) এবং ঋতুহীন সময়ে হলুদ বর্ণ (الصفرة) ও ঘোলাটে বর্ণের (الكدرة) বিধান

- নারী কিসের মাধ্যমে পবিত্র (طهر) হন?

- ঋতুস্রাব (حيض) বহির্ভূত দিনগুলোতে আর্দ্রতার বিধান

- পবিত্রতা (طهارة) বিষয়ে সন্দেহ এবং নারী কীভাবে ঋতুস্রাব (حيض) ও ইস্তিহাযার (استحاضة) মধ্যে পার্থক্য করবেন এবং ওয়াসওয়াসা (وسوسة) থেকে মুক্তি পাবেন

 

আমি এর প্রতিটি বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করছি:

 

ঋতুকালীন (حيض) সময়ে হলুদ বর্ণ (الصفرة) ও ঘোলাটে বর্ণের (الكدرة) বিধান

আলেমগণ এই মর্মে ঐক্যমত (اتفاق) পোষণ করেছেন যে, ঋতুকালীন দিনগুলোতে হলুদ বর্ণ (الصفرة) ঋতুস্রাব (حيض) হিসেবে গণ্য। (২)

--------------------------------------------

(১) ডাঃ সাফা এই বিবৃতির ক্ষেত্রে কিছু বিদেশী চিকিৎসা রেফারেন্সের ওপর নির্ভর করেছেন এবং তিনি আমার কাছে সাতজন স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য পাঠিয়েছেন যেন তা জ্যেষ্ঠ আলেম পরিষদের নিকট পেশ করা হয়; এটি স্পষ্ট করার জন্য যে, এই আর্দ্রতা অভ্যন্তরীণ অপবিত্রতার (نجاسة) সাথে যুক্ত নয়। …

(২) ইবনুল মুনযিরের আল-আওসাত ২/২৩৩, জাসসাসের আহকামুল কুরআন, আল-ইখতিলাফ ফিত তোহরিল আ’রিয ফি হালিল হায়দ (ঋতুকালীন অবস্থায় আকস্মিক পবিত্রতা বিষয়ে মতভেদ) খণ্ড ১।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وخالف في ذلك ابن حزم فذهب إلى أن الحيض هو الأسود، قال:" فإذا رأت أحمر أو كغسالة اللحم أو صفرة أو كدرة أو بياضا أو جفوفا فقد طهرت " (1) ونقل الكاساني في بدائع الصنائع الإجماع خلافا لأبي منصور حيث قال:" إذا رأت في أول أيام الحيض ابتداء كان حيضا، أما إذا رأت في آخر أيام الطهر، واتصل به أيام الحيض لا يكون حيضا. والعامة على أنها حيض كيفما كانت." (2)

أما الكدرة في أيام الحيض فالجمهور على أنها من الحيض منهم أبو حنيفة (3) ، ومالك (4) ، والشافعي (5) ، وأحمد (6) ، وإسحاق (7) ، وبه قال يحي الأنصاري (8) ، وربيعة (9) ، والثوري (10) ، والأوزاعي (11) ، وعبد الرحمن بن مهدي (12) ،وخالفهم أبو يوسف (13) ، وأبو ثور (14) فقالا: لا يكون حيضا إلا أن يتقدمه دم أسود (15) .

--------------------------------------------

(1) المحلى كتاب الحيض والاستحاضة/مسألة الحيض هو الدم الخاثر2/162

(2) كتاب الطهارة/فصل الحيض وأحكامه ج 1

(3) الأصل 1/337

(4) المدونة1/50

(5) المجموع2/395

(6) المغني1/413

(7) الأوسط1/235،المغني1/413،المجموع 2/395

(8) المرجع السابق

(9) ربيعة بن أبي عبد الرحمن، وانظر المرجع السابق

(10) المرجع السابق

(11) المرجع السابق

(12) المرجع السابق

(13) أحكام القرآن/ للجصاص1، بدائع الصنائع/ كتاب الطهارة/ فصل الحيض وأحكامه1/،الأوسط 1/235، المجموع2/395،

(14) الأوسط 1/235،وانظر المغني1/413

(15) ينظر الأصل لمحمد بن الحسن 1/337، الأوسط 2/237، بدائع الصنائع كتاب الطهارة/فصل الحيض وأحكامه ج 1
এ বিষয়ে ইবনে হাজম দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি এই মত গ্রহণ করেছেন যে, হায়েজ হলো কেবল কালো রঙের রক্ত। তিনি বলেন: "যদি সে লাল রঙের রক্ত দেখে, অথবা গোশত ধোয়া পানির ন্যায় লালচে পানি দেখে, অথবা হলুদ রঙ (صفرة) কিংবা মেটে রঙ (كدرة) অথবা সাদা স্রাব কিংবা শুষ্কতা দেখে, তবে সে পবিত্র হয়ে গেছে।" (১) কাসানি 'বাদায়েউস সানায়ে' গ্রন্থে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) বর্ণনা করেছেন আবু মানসুরের ভিন্নমতের বিপরীতে, যেখানে তিনি (আবু মানসুর) বলেছিলেন: "যদি কোনো নারী হায়েজের দিনগুলোর শুরুতে রক্ত দেখে তবে তা হায়েজ। কিন্তু যদি সে পবিত্রতার দিনগুলোর শেষে রক্ত দেখে এবং তা হায়েজের দিনগুলোর সাথে যুক্ত হয়, তবে তা হায়েজ হবে না। আর সাধারণ আলিমগণের (العامة) মত হলো, এটি যেভাবেই আসুক তা হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে।" (২)

আর হায়েজের দিনগুলোতে মেটে রঙ (كدرة) দেখার বিষয়ে জমহুর (الجمهور) আলিমগণ এই মত পোষণ করেন যে, এটি হায়েজেরই অন্তর্ভুক্ত। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু হানিফা (৩), মালিক (৪), শাফেয়ী (৫), আহমাদ (৬), ইসহাক (৭) এবং ইয়াহিয়া আনসারি (৮), রাবিয়া (৯), সাওরি (১০), আওজায়ি (১১) ও আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি (১২) এই মতই ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু আবু ইউসুফ (১৩) এবং আবু সাওর (১৪) তাঁদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন; তাঁরা বলেছেন: এর আগে কালো রঙের রক্ত না আসা পর্যন্ত এটি হায়েজ বলে গণ্য হবে না (১৫)।

--------------------------------------------

(১) আল-মুহাল্লা, কিতাবুল হায়েজ ওয়াল ইস্তিহাজা / মাসআলা: হায়েজ হলো গাঢ় রক্ত, ২/১৬২

(২) কিতাবুত তাহারাহ / হায়েজের পরিচ্ছেদ ও এর বিধানসমূহ, খণ্ড ১

(৩) আল-আসল, ১/৩৩৭

(৪) আল-মুদাওয়ানা, ১/৫০

(৫) আল-মাজমু, ২/৩৯৫

(৬) আল-মুগনি, ১/৪১৩

(৭) আল-আওসাত, ১/২৩৫, আল-মুগনি, ১/৪১৩, আল-মাজমু, ২/৩৯৫

(৮) পূর্বোক্ত উৎস

(৯) রাবিয়া ইবনে আবি আব্দুর রহমান, দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস

(১০) পূর্বোক্ত উৎস

(১১) পূর্বোক্ত উৎস

(১২) পূর্বোক্ত উৎস

(১৩) আহকামুল কুরআন (জাসসাস), ১; বাদায়েউস সানায়ে / কিতাবুত তাহারাহ / হায়েজের পরিচ্ছেদ ও এর বিধানসমূহ, ১/; আল-আওসাত, ১/২৩৫, আল-মাজমু, ২/৩৯৫

(১৪) আল-আওসাত, ১/২৩৫, আরও দেখুন: আল-মুগনি, ১/৪১৩

(১৫) দ্রষ্টব্য: আল-আসল (মুহাম্মদ ইবনুল হাসান), ১/৩৩৭, আল-আওসাত, ২/২৩৭, বাদায়েউস সানায়ে, কিতাবুত তাহারাহ / হায়েজের পরিচ্ছেদ ও এর বিধানসমূহ, খণ্ড ১
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ১১)
واستدل الجمهور بحديث أم عطية المتقدم، ومقتضاه أن الكدرة والصفرة بعد الطهر لا تعد من الحيض، وهو يقتضي أن الصفرة والكدرة قبل الطهر تعد من الحيض،وروي معنى حديث أم عطية عن علي بن أبي طالب (1) ،وثوبان (2) ،وإبراهيم (3) ،وابن سيرين (4) .

واستدل المخالفون بحديث عائشة رضي الله عنها:

(وكن نساء يبعثن إلى عائشة بالدرجة فيها الكرسف فيه الصفرة فتقول لا تعجلن حتى ترين القصة البيضاء تريد بذلك الطهر من الحيضة وبلغ ابنة زيد بن ثابت (5)

--------------------------------------------

(1) أخرجه عبد الرزاق باب ما ترى أيام حيضتها أو بعدها 1/302، وابن أبي شيبة في كتاب الطهارات/ باب في الطهر ما هو وبم يعرف1/90، وابن المنذر في الأوسط 2/236، عن علي بن أبي طالب قال:" إذا رأت المرأة بعد الطهر ما يريبها مثل غسالة اللحم، أو مثل غسالة المسك، أو مثل قطرات الدم قبل الرعاف، فإن ذلك ركضة من ركضات الشيطان في الرحم، فلتنضح بالماء ولتتوضأ ولتصل، زاد إسرائيل في حديثه: فإن كان دما عبيطا لاخفاء به فلتدع الصلاة "1/302، وإسناده ضعيف فيه الحارث بن عبد الله الأعور قال ابن حجر: كذبه الشعبي في رأيه ورمي بالرفض وفي حديثه ضعف. التقريب ص 146

(2) أخرج الطبراني في مسند الشاميين ج4/ ص335 بسنده عن مكحول قال: " قيل لثوبان المرأة ترى الصفرة بعد الطهر قال لا بأس لتتوضأ ثم لتصل قيل له أشيئا قلته أم سمعته قال بل سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم "

(3) أخرجه عبد الرزاق باب ما ترى أيام حيضتها أو بعدها 1/302، وابن ابي شيبة باب في المرأة تطهر ثم ترى الصفرة بعد الطهر1/89

(4) أخرجه ابن ابي شيبة في باب في المرأة تطهر ثم ترى الصفرة بعد الطهر1/89

(5) قال ابن حجر في فتح الباري ج1/ص420

 

"ابنة زيد بن ثابت كذا وقعت مبهمة هنا وكذا في الموطأ حيث روى هذا الأثر عن عبد الله بن أبي بكر أي بن محمد بن عمرو بن حزم عن عمته عنها وقد ذكروا لزيد بن ثابت من البنات حسنة وعمرة وأم كلثوم وغيرهن ولم أر لواحدة منهن رواية إلا لام كلثوم وكانت زوج سالم بن عبد الله بن عمر فكأنها هي المبهمة هنا وزعم بعض الشراح أنها أم سعد قال لأن بن عبد البر ذكرها في الصحابة انتهى وليس في ذكره لها دليل على المدعى لأنه لم يقل أنها صاحبة هذه القصة بل لم يأت لها ذكر عنده ولا عند غيره إلا من طريق عنبسة بن عبد الرحمن وقد كذبوه وكان مع ذلك يضطرب فيها فتارة يقول بنت زيد بن ثابت وتارة يقول امرأة زيد ولم يذكر أحد من أهل المعرفة بالنسب في أولاد زيد من يقال لها أم سعد وأما عمة عبد الله بن أبي بكر فقال بن الحذاء هي عمرة بنت حزم عمة جد عبد الله بن أبي بكر وقيل لها عمته مجازا قلت لكنها صحابية قديمة روى عنها جابر بن عبد الله الصحابي ففي روايتها عن بنت زيد بن ثابت بعد فإن كانت ثابتة فرواية عبد الله عنها منقطعة لأنه لم يدركها ويحتمل أن تكون المرادة عمته الحقيقية وهي أم عمرو أو أم كلثوم والله أعلم"
জুমহুর (বিদ্বানদের বড় অংশ) উম্মে আতিয়্যাহর পূর্বোল্লিখিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যার সারমর্ম হলো পবিত্রতা অর্জনের পর তামাটে বা হলুদাভ বর্ণ দেখা দিলে তা ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে না। এটি দাবি করে যে, পবিত্রতা অর্জনের আগে হলুদাভ বা তামাটে বর্ণ ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে। উম্মে আতিয়্যাহর হাদিসের এই মর্মার্থ আলী ইবনে আবি তালিব (১), সাওবান (২), ইব্রাহিম (৩) এবং ইবনে সিরিন (৪) থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

ভিন্ন মতাবলম্বীরা আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা)-এর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:

(মহিলারা আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহা)-এর নিকট পাত্রে তুলা রেখে পাঠাতেন যাতে হলুদাভ আভা থাকতো, তখন তিনি বলতেন: "তোমরা সাদা পরিষ্কার কিছু না দেখা পর্যন্ত তাড়াহুড়ো করো না।" এর মাধ্যমে তিনি ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়া বুঝাতেন। আর এই সংবাদ যায়েদ ইবনে সাবিত (৫)-এর কন্যার নিকট পৌঁছেছিল।

--------------------------------------------

(১) আব্দুর রাজ্জাক 'বাব মা তারা আইয়্যামা হায়যাতিহা আও বা'দাহা' ১/৩০২-এ; ইবনে আবি শায়বাহ 'কিতাবুত তাহারাত/ বাব ফিত তুহরি মা হুয়া ওয়া বিমা ইউ'রাফু' ১/৯০-এ; এবং ইবনুল মুনযির 'আল-আওসাত' ২/২৩৬-এ আলী ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "নারী যদি পবিত্র হওয়ার পর মাংস ধোয়া পানির মতো বা কস্তুরি ধোয়া পানির মতো অথবা নাক দিয়ে রক্ত পড়ার পূর্বের রক্তবিন্দুর মতো সন্দেহজনক কিছু দেখে, তবে তা জরায়ুতে শয়তানের পদাঘাতের ন্যায়। সে যেন পানি ছিটিয়ে দেয়, ওযু করে এবং সালাত আদায় করে।" ইসরাঈল তার বর্ণনায় বর্ধিত করেছেন: "যদি তা লাল ঘন রক্ত হয় যাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই, তবে সে যেন সালাত ছেড়ে দেয়।" ১/৩০২। এর সনদ দুর্বল (ضعيف), এতে আল-হারিস ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আ'ওয়ার রয়েছেন। ইবনে হাজার বলেন: আশ-শা'বী তাকে তার মতামতের ক্ষেত্রে মিথ্যাবাদী (كذبه) বলেছেন এবং তার বিরুদ্ধে রাফেযি মতবাদের (الرفض) অভিযোগ রয়েছে, আর তার বর্ণিত হাদিসে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে। আত-তাকরিব পৃ. ১৪৬

(২) তাবারানি 'মুসনাদুশ শামিয়্যিন' ৪র্থ খণ্ড/ ৩৩৫ পৃষ্ঠায় তার সনদে মাকহুল থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "সাওবানকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, কোনো নারী পবিত্র হওয়ার পর হলুদাভ আভা দেখলে কী করবে? তিনি বললেন: এতে কোনো অসুবিধা নেই, সে যেন ওযু করে সালাত আদায় করে। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: এটি কি আপনার নিজের কথা নাকি আপনি শুনেছেন? তিনি বললেন: বরং আমি এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি।"

(৩) আব্দুর রাজ্জাক 'বাব মা তারা আইয়্যামা হায়যাতিহা আও বা'দাহা' ১/৩০২ এবং ইবনে আবি শায়বাহ 'বাব ফিল মারআতি তাতহুরু সুম্মা তারাস সুফরাতা বা'দাত তুহরি' ১/৮৯-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) ইবনে আবি শায়বাহ 'বাব ফিল মারআতি তাতহুরু সুম্মা তারাস সুফরাতা বা'দাত তুহরি' ১/৮৯-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

(৫) ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারি' ১ম খণ্ড/ ৪২০ পৃষ্ঠায় বলেন:

 

"যায়েদ ইবনে সাবিতের কন্যা - এভাবে এখানে নামহীন (مبهمة) অবস্থায় এসেছে এবং মুওয়াত্তায়ও অনুরূপ এসেছে যেখানে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি বকর অর্থাৎ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম থেকে, তিনি তার ফুফু থেকে, তিনি তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা যায়েদ ইবনে সাবিতের কন্যাদের মধ্যে হাসনাহ, আমরাহ, উম্মু কুলসুম এবং অন্যদের নাম উল্লেখ করেছেন। আমি উম্মু কুলসুম ব্যতীত তাদের কারো কোনো বর্ণনা দেখিনি, তিনি সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের স্ত্রী ছিলেন। সম্ভবত তিনিই এখানে নামহীন (مبهمة) ব্যক্তি। কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারী দাবি করেছেন যে তিনি উম্মু সাদ, কারণ ইবনে আব্দুল বার সাহাবীগণের (الصحابة) তালিকায় তার কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তার এই উল্লেখ করা দাবির সপক্ষে দলিল নয়, কারণ তিনি বলেননি যে তিনিই এই ঘটনার বর্ণনাকারী। বরং ইবনে আব্দুল বার বা অন্য কারো কাছেই তার কোনো উল্লেখ আসেনি কেবল আনবাসাহ ইবনে আব্দুর রহমানের সূত্র ছাড়া। আর মুহাদ্দিসগণ তাকে মিথ্যাবাদী (كذبوه) বলেছেন। তা সত্ত্বেও তিনি এ বিষয়ে অসংলগ্নতা (يضطرب) প্রদর্শন করতেন; কখনো যায়েদ ইবনে সাবিতের কন্যা বলতেন, আবার কখনো যায়েদ ইবনে সাবিতের স্ত্রী বলতেন। বংশবিদ্যা বিশেষজ্ঞগণের কেউ যায়েদের সন্তানদের মধ্যে উম্মু সাদ নামক কারো কথা উল্লেখ করেননি। আর আব্দুল্লাহ ইবনে আবি বকরের ফুফু সম্পর্কে ইবনুল হাদ্দাহ বলেন: তিনি হলেন আমরাহ বিনতে হাযম, আব্দুল্লাহ ইবনে আবি বকরের দাদার ফুফু; তাকে রূপক অর্থে ফুফু বলা হয়েছে। আমি বলছি, তিনি একজন প্রাচীন সাহাবী (صحابية) ছিলেন, যাঁর থেকে সাহাবী জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যায়েদ ইবনে সাবিতের কন্যার থেকে তার এই বর্ণনা যদি সঠিকও ধরা হয়, তবে আব্দুল্লাহর সূত্রে এই বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (منقطعة); কারণ তিনি তাকে পাননি। হতে পারে এখানে তার আপন ফুফু উদ্দেশ্য, যিনি উম্মু আমর বা উম্মু কুলসুম। আল্লাহই ভালো জানেন।"
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ১২)
أن نساء يدعون بالمصابيح من جوف الليل ينظرن إلى الطهر فقالت ما كان النساء يصنعن هذا وعابت عليهن.) (1)

وروى عبد الرزاق (2) وابن أبي شيبة عنها مثله (3)

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري تعليقا في كتاب الحيض /باب إقبال المحيض وإدباره ج1/ص121،ووصله مالك في الموطأ1/59 كتاب الطهارة (2) باب طهر الحائض (27) حديث رقم (97) من طريق يحيى بن بكير.ومن طريق مالك أخرجه البيهقي في كتاب الحيض باب الصفرة والكدرة في أيام الحيض حيض 1/335.والدرجة بضم الدال وسكون الراء يريد بها خرقة تجمع فيها هذا الكرسف وهو القطن الذي احتشت به. مشارق الأنوار ج1/ص256 وهو أشبه بالحفاظة التي تستعملها النساء في عصرنا.

(2) كتاب الطهارة/باب كيف الطهر1/302

(3) أخرجه في كتاب الطهارات/باب المرأة تطهر ثم ترى الصفرة والكدرة 1/89
(বর্ণিত আছে যে,) মহিলারা গভীর রাতে প্রদীপ আনিয়ে পবিত্রতা পর্যবেক্ষণ করতেন। তখন তিনি (আয়েশা রা.) বললেন, "নারীরা এমনটি করতেন না" এবং তিনি তাদের এই কাজের সমালোচনা করলেন। (১)

আবদুর রাজ্জাক (২) এবং ইবনে আবি শাইবাহ তার থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন (৩)

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি 'কিতাবুল হায়জ' এর 'ঋতুস্রাবের আগমন ও প্রস্থান' অনুচ্ছেদে ১/১২১ পৃষ্ঠায় ঝুলন্ত সনদ (تعليقا) হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম মালিক এটি মুওয়াত্তায় ১/৫৯ পৃষ্ঠায় 'কিতাবুত তাহারাহ' (২), 'ঋতুবতী নারীর পবিত্রতা' অনুচ্ছেদে (২৭), হাদিস নম্বর (৯৭)-এ ইয়াহইয়া বিন বুকাইরের সূত্রের (طريق) মাধ্যমে সংযুক্ত (وصله) করেছেন। ইমাম মালিকের সূত্রের (طريق) মাধ্যমে বায়হাকি এটি 'কিতাবুল হায়জ' এর 'ঋতুকালীন পীত ও মেটে বর্ণ' অনুচ্ছেদে ১/৩৩৫ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন। আর 'দুরজাহ' (দাল বর্ণে পেশ ও রা বর্ণে জজমসহ) বলতে তিনি এমন এক খণ্ড কাপড় বুঝিয়েছেন যাতে এই তুলা বা কুনব একত্রিত করা হয় যা দিয়ে মহিলারা রক্ত রোধ করেন। মাশারিকুল আনওয়ার ১/২৫৬। এটি বর্তমান যুগে মহিলাদের ব্যবহৃত স্যানিটারি প্যাডের সদৃশ।

(২) কিতাবুত তাহারাহ/অনুচ্ছেদ: পবিত্রতা কেমন হবে ১/৩০২

(৩) এটি কিতাবুত তাহারাহ/অনুচ্ছেদ: নারী পবিত্র হওয়ার পর পীত ও মেটে বর্ণ দেখা ১/৮৯-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ومقتضاه أن الصفرة والكدرة داخلة في الحيض ولو رأت الجفاف واغتسلت، بل روي ذلك عن غير واحد من الصحابيات والصحابة والتابعين منهم أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنها (1) وعمرة (2) وعطاء (3) ومكحول (4) والزهري (5) .

وهذا سبب الاختلاف في هذه المسألة، فظاهر حديث أم عطية يخالف حديث عائشة رضي الله عنهما

--------------------------------------------

(1) أخرج ابن أبي شيبة في كتاب الطهارات/ باب في الطهر ما هو وبم يعرف1/90، والدارمي في كتاب الطهارة والصلاة/ باب الطهر كيف هو1/214، وابن المنذر في الأوسط 2/ 234كلهم من طريق محمد بن إسحاق عن فاطمة بنت المنذر عن أسماء بنت أبي بكر قالت:" كنا في حجرها مع بنات ابنتها فكانت إحدانا تطهر ثم تصلي ثم تنكس بالصفرة اليسيرة فتسألها فتقول: اعتزلن الصلاة ما رأيتن ذلك حتى لاترين إلا البياض خالصا".

(2) أخرج ابن أبي شيبة في كتاب الطهارات/ باب في الطهر ما هو وبم يعرف1/90، والدارمي في كتاب الطهارة والصلاة/ باب الطهر كيف هو1/213واللفظ له،عن فاطمة بنت محمد قالت:" أرسلت أمرأة من قريش إلى عمرة بكرسفة قطن فيها كالصفرة تسألها إذا لم تر المرأة من الحيضة إلا هذا أن قد طهرت؟ فقالت: لا حتى ترى البياض خالصا".

(3) أخرجه عبد الرزاق باب ما ترى أيام حيضتها أو بعدها 1/302، وأخرجه ابن أبي شيبة في كتاب الطهارات/ باب في الطهر ما هو وبم يعرف1/90، عن ابن جريج قال: "قلت لعطاء: الطهر ما هو؟ قال: الأبيض الخفوف الذي ليس معه صفرة ولا ماء، الخفوف الأبيض"

(4) أخرجه ابن أبي شيبة في كتاب الطهارات/ باب في الطهر ما هو وبم يعرف1/90، عن عبد الأعلى بن عبد الأعلى عن برد عن مكحول قال: " لا تغتسل حتى ترى طهرا أبيض كالفضة"

(5) أخرجه ابن أبي شيبة في كتاب الطهارات/ باب في الطهر ما هو وبم يعرف1/90، عن يونس الأيلي عن الزهري قال سألته عما يتبع الحيضة من الصفرة والكدرة قال: هو من الحيضة حتى تنقي.
এর মর্মার্থ হলো যে, হলদেটে (صفرة) ও মেটে (كدرة) রঙের স্রাব ঋতুস্রাবের (حيض) অন্তর্ভুক্ত, যদিও সে শুষ্কতা দেখে এবং গোসল করে ফেলে। বরং একাধিক নারী সাহাবী, পুরুষ সাহাবী এবং তাবেয়ীদের (تابعين) থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আসমা বিনতে আবি বকর (রা.), আমরাহ, আতা, মাকহুল এবং যুহরী।

আর এটাই এই মাসআলায় মতপার্থক্যের কারণ; কেননা উম্মে আতিয়্যাহর হাদিসের বাহ্যিক অর্থ আয়েশা (রা.)-এর হাদিসের পরিপন্থী।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবি শায়বাহ কিতাবুত তাহারাত / বাবু ফিল তুহরি মা হুওয়া ওয়া বিমা ইউ’রাফ ১/৯০-এ, দারেমি কিতাবুত তাহারাহ ওয়াস সালাত / বাবু তুহরি কাইফা হুওয়া ১/২১৪-এ এবং ইবনুল মুনযির আল-আওসাত ২/২৩৪-এ সংকলন করেছেন; তাঁরা সবাই মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক-এর সূত্র (طريق) হয়ে ফাতিমা বিনতে মুনযির থেকে, তিনি আসমা বিনতে আবি বকর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, আসমা (রা.) বলেন: "আমরা তাঁর তত্ত্বাবধানে তাঁর দৌহিত্রীদলের সাথে ছিলাম। আমাদের কেউ যখন পবিত্রতা (طهر) অর্জন করত এবং নামাজ পড়ত, এরপর সামান্য হলদেটে (صفرة) স্রাব ফিরে আসত, তখন তারা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করত। তিনি বলতেন: 'যতক্ষণ তোমরা এমনটি দেখবে ততক্ষণ নামাজ থেকে বিরত থাকো, যতক্ষণ না তোমরা স্বচ্ছ সাদা শুভ্রতা দেখতে পাও'।"

(২) ইবনে আবি শায়বাহ কিতাবুত তাহারাত / বাবু ফিল তুহরি মা হুওয়া ওয়া বিমা ইউ’রাফ ১/৯০-এ এবং দারেমি কিতাবুত তাহারাহ ওয়াস সালাত / বাবু তুহরি কাইফা হুওয়া ১/২১৩-এ এবং শব্দ বিন্যাস তাঁর, তিনি ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "কুরাইশ বংশীয় এক নারী আমরাহ-এর কাছে তুলার টুকরো পাঠালেন যাতে হলদেটে (صفرة) দাগের মতো ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, যদি নারী ঋতুস্রাব থেকে কেবল এটাই দেখে, তবে সে কি পবিত্র (طهر) হয়েছে? তিনি উত্তর দিলেন: 'না, যতক্ষণ না সে স্বচ্ছ সাদা শুভ্রতা দেখতে পায়'।"

(৩) আব্দুর রাজ্জাক বাবু মা তারা আইয়্যামা হাইদাতিহা আও বা’দাহা ১/৩০২-এ এবং ইবনে আবি শায়বাহ কিতাবুত তাহারাত / বাবু ফিল তুহরি মা হুওয়া ওয়া বিমা ইউ’রাফ ১/৯০-এ ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আতাকে জিজ্ঞেস করলাম: পবিত্রতা (طهر) কী? তিনি বললেন: 'শুভ্র নির্গত স্রাব যার সাথে কোনো হলদেটে ভাব (صفرة) বা পানি থাকবে না; স্বচ্ছ শুভ্রতা'।"

(৪) ইবনে আবি শায়বাহ কিতাবুত তাহারাত / বাবু ফিল তুহরি মা হুওয়া ওয়া বিমা ইউ’রাফ ১/৯০-এ আব্দুল আলা বিন আব্দুল আলা থেকে, তিনি বুর্দ থেকে, তিনি মাকহুল থেকে বর্ণনা করেন, মাকহুল বলেন: "সে ততক্ষণ গোসল করবে না যতক্ষণ না সে রূপার মতো সাদা পবিত্রতা (طهر) দেখে।"

(৫) ইবনে আবি শায়বাহ কিতাবুত তাহারাত / বাবু ফিল তুহরি মা হুওয়া ওয়া বিমা ইউ’রাফ ১/৯০-এ ইউনুস আল-আইলি থেকে, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি তাঁকে ঋতুস্রাবের পরে আসা হলদেটে (صفرة) ও মেটে (كدرة) রঙের স্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: "পরিচ্ছন্ন হওয়া পর্যন্ত তা ঋতুস্রাবেরই (حيضة) অন্তর্ভুক্ত।"
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن رأى الجمع بين الأحاديث قال: إن حديث أم عطية هو بعد انقطاع الدم، وحديث عائشة في أثر انقطاعه، أو إن حديث عائشة هو في أيام الحيض، وحديث أم عطية في غير أيام الحيض. (1)

والذي أراه أن الحائض تكون في حدث متيقن فلا تنتقل منه إلى الطهر إلا بيقين، والصفرة والكدرة ليست يقينا بالطهر؛ لأن المرأة تراها ثم ترى الدم بعدها أحيانا مما يدل على عدم براءة الرحم منه؛ لذا كانت عائشة رضي الله عنها تنهى عن الاستعجال بالغسل قبل التأكد من الطهر، أما إذا رأت الطهر وتيقنت منه ثم اغتسلت وصلت فإن عاودها الدم أو الكدرة لم تدع الصلاة لذلك؛ لأنه حينها صار حدثا غير متيقن فلا تترك الصلاة الواجبة للظن، ولهذا قالت أم عطية رضي الله عنها (كنا لا نعد الصفرة والكدرة بعد الطهر شيئا) .فإذا كان الدم بعد الطهر من الحيض لا يعد حيضا فلأن لا تعد الكدرة والصفرة بعد الطهر حيضا من باب أولى على ما روي عن عائشة رضي الله عنها: (أن رسول اللَّه صلى الله عليه وآله وسلم قال في المرأة التي ترى ما يريبها بعد الطهر إنما هو عرق أو قال عروق) . (2)

--------------------------------------------

(1) بداية المجتهد ونهاية المقتصد 1/54وينظرفتح الباري 1/426، وعمدة القاري

(2) الحديث بهذا اللفظ أخرجه أبو داود في كتاب الطهارة/ باب من روى أن المستحاضة تغتسل لكل صلاة 1/78، وابن ماجة في كتاب الطهارة وسننها/ باب ماجاء في الحائض ترى بعد الطهر الصفرة والكدرة 1/ 212. والبيهقي في كتاب الحيض / باب الصفرة والكدرة تراهما بعد الطهر 1/337 كلهم من طريق يحي بن أبي عن أبي سلمة عن أم بكر عن عائشة رضي الله عنها. قال في الزوائد اسناده صحيح ورجاله ثقات. وهو كما قال إلا أن أم بكر قال عنها الحافظ ابن حجر: لا يعرف حالها (التقريب ص 755) قال الشوكاني في نيل الأوطار ج1/ص346وذكر قول أبي البركات ابن تيمية:

 

"وأم بكر لا يعرف حالها وبقية الإسناد ثقات والحديث حسنه المنذري "وهو من الأدلة الدالة على عدم الاعتبار بما ترى المرأة بعد الطهر.

والحديث له أصل في الصحيحين من حديث الزهري عن عروة وعن عمرة عن عائشة رضي الله عنها (أن أم حبيبة استحيضت سبع سنين فسألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك فأمرها أن تغتسل فقال " هذا عرق" فكانت تغتسل لكل صلاة.) أخرجه البخاري في الحيض / باب عرق الاستحاضة 1/427 ومسلم في كتاب الحيض/ باب غسل المستحاضة 4/23وأبو داود في الباب السابق، والنسائي في كتاب الطهارة/ باب الفرق بين دم الحيض والاستحاضة 1/ 185، والدارمي في كتاب الطهارة /باب في غسل المستحاضة 1/198، وأحمد 41 /84 رقم (24538) ، وأبو يعلى (4405) والشافعي في الأم باب المستحاضة 1/77، والطحاوي في "شرح معاني الآثار" 1/99 وفي" شرح مشكل الآثار" وابن عبد البر في التمهيد16/66
এবং যারা হাদিসগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের পক্ষপাতি তারা বলেন: উম্মে আতিয়্যাহর হাদিসটি রক্ত বন্ধ হওয়ার পরের অবস্থা সম্পর্কিত, আর আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটি রক্ত বন্ধ হওয়ার রেশ থাকা সম্পর্কিত; অথবা আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটি ঋতুস্রাবের দিনগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর উম্মে আতিয়্যাহর হাদিসটি ঋতুস্রাবের দিনগুলো ব্যতীত অন্য সময়ের ক্ষেত্রে। (১)

আমার অভিমত হলো, ঋতুবর্তী নারী একটি নিশ্চিত অপবিত্রতা (حدث متيقن) এর মধ্যে থাকেন, তাই নিশ্চিত কারণ ব্যতীত তিনি সেই অবস্থা থেকে পবিত্রতার দিকে স্থানান্তরিত হতে পারেন না। হলুদ বর্ণ (صفرة) ও তামাটে বর্ণ (كدرة) পবিত্র হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত প্রমাণ নয়; কারণ নারী এগুলো দেখার পর কখনও কখনও পুনরায় রক্ত দেখতে পান, যা জরায়ু রক্তমুক্ত না হওয়ার প্রমাণ বহন করে। এ কারণেই আয়েশা (রা.) পবিত্রতা নিশ্চিত হওয়ার আগে গোসলের ব্যাপারে তড়িঘড়ি করতে নিষেধ করতেন। তবে যদি তিনি পবিত্রতা দেখেন এবং সে ব্যাপারে নিশ্চিত হন, অতঃপর গোসল করে নামাজ আদায় করেন, এরপর যদি পুনরায় রক্ত বা তামাটে বর্ণের (كدرة) দেখা দেয়, তবে তিনি সে কারণে নামাজ ত্যাগ করবেন না। কারণ তখন এটি একটি অনিশ্চিত অপবিত্রতা (حدث غير متيقن) হিসেবে গণ্য হয়, আর কেবল ধারণার বশবর্তী হয়ে ওয়াজিব নামাজ ত্যাগ করা যায় না। এই কারণেই উম্মে আতিয়্যাহ (রা.) বলেছেন, "আমরা পবিত্রতা অর্জনের পর হলুদ বর্ণ (صفرة) ও তামাটে বর্ণকে (كدرة) কিছুই গণ্য করতাম না।" সুতরাং ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়ার পর রক্ত যদি ঋতু হিসেবে গণ্য না হয়, তবে পবিত্রতার পর তামাটে বর্ণ (كدرة) ও হলুদ বর্ণ (صفرة) ঋতু হিসেবে গণ্য না হওয়াটাই স্বাভাবিক। যেমনটি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সা.) সেই নারী সম্পর্কে বলেছেন যে পবিত্রতার পর সন্দেহজনক কিছু দেখতে পায়—নিশ্চয়ই এটি একটি রক্তনালী (عرق) বা তিনি বলেছেন রক্তনালীসমূহ (عروق)।" (২)

--------------------------------------------

(১) বিদায়াতুল মুজতাহিদ ওয়া নিহায়াতুল মুকতাসিদ ১/৫৪; আরও দেখুন ফাতহুল বারি ১/৪২৬ এবং উমদাতুল কারি।

(২) হাদিসটি এই শব্দে আবু দাউদ সংকলন করেছেন তাহারাত অধ্যায়ে/ অনুচ্ছেদ: যে বর্ণনা করেছে মুস্তাহাযা নারী প্রত্যেক নামাজের জন্য গোসল করবে ১/৭৮; ইবনে মাজাহ তাহারাত ও এর সুন্নাতসমূহ অধ্যায়ে/ অনুচ্ছেদ: ঋতুবর্তী নারী পবিত্র হওয়ার পর হলুদ ও তামাটে বর্ণ দেখলে যা করণীয় ১/২১২; এবং বায়হাকি ঋতুস্রাব অধ্যায়ে/ অনুচ্ছেদ: পবিত্র হওয়ার পর হলুদ ও তামাটে বর্ণ দেখা ১/৩৩৭। তারা সবাই ইয়াহইয়া ইবনে আবি থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি উম্মে বকর থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। যাওয়াইদ গ্রন্থে বলা হয়েছে, এর সনদটি বিশুদ্ধ (صحيح) এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। বিষয়টি তেমনই, তবে উম্মে বকর সম্পর্কে হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন: তার অবস্থা অজ্ঞাত (لا يعرف حالها) (তাকরিব, পৃষ্ঠা ৭৫৫)। শাওকানি নাইলুল আওতার খণ্ড ১/পৃষ্ঠা ৩৪৬-এ আবু বারাকাত ইবনে তাইমিয়্যাহর উক্তি উল্লেখ করে বলেছেন:

 

"উম্মে বকরের অবস্থা অজ্ঞাত (لا يعرف حالها) এবং সনদের বাকি বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), আর আল-মুনজিরি হাদিসটিকে হাসান (حسن) বলেছেন।" এটি সেই দলিলের অন্তর্ভুক্ত যা প্রমাণ করে যে, নারী পবিত্র হওয়ার পর যা দেখে তা ধর্তব্য নয়।

হাদিসটির মূল ভিত্তি সহিহাইন-এ যুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ ও আমরাহ থেকে, তারা আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (উম্মে হাবিবা সাত বছর যাবত ইস্তিহাযায় আক্রান্ত ছিলেন, তিনি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে গোসল করার নির্দেশ দেন এবং বলেন "এটি একটি রক্তনালী (عرق)", তাই তিনি প্রত্যেক নামাজের জন্য গোসল করতেন)। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ঋতুস্রাব অধ্যায়ে/ অনুচ্ছেদ: ইস্তিহাযার রক্তনালী ১/৪২৭; মুসলিম ঋতুস্রাব অধ্যায়ে/ অনুচ্ছেদ: মুস্তাহাযা নারীর গোসল ৪/২৩; এবং আবু দাউদ পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে; নাসায়ি তাহারাত অধ্যায়ে/ অনুচ্ছেদ: ঋতুর রক্ত ও ইস্তিহাযার রক্তের মধ্যে পার্থক্য ১/১৮৫; দারেমি তাহারাত অধ্যায়ে/ অনুচ্ছেদ: মুস্তাহাযা নারীর গোসল প্রসঙ্গে ১/১৯৮; আহমাদ ৪১/৮৪ নম্বর (২৪৫৩৮); আবু ইয়ালা (৪৪০৫); শাফেয়ি আল-উম্ম-এর মুস্তাহাযা অনুচ্ছেদে ১/৭৭; তহাবি শারহু মাআনিল আসার ১/৯৯ ও শারহু মুশকিলিল আসার গ্রন্থে; এবং ইবনে আব্দুল বার আত-তামহিদ ১৬/৬৬ গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وإلى الجمع ذهب البخاري رحمه الله لذا ترجم لحديث أم عطية بقوله: (باب الصفرة والكدرة في غير أيام الحيض) قال ابن حجر: يشير بذلك إلى الجمع بين حديث عائشة المتقدم في قولها " حتى ترين القصة البيضاء " وبين حديث أم عطية المذكور في هذا الباب بان ذلك محمول على ما إذا رأت الصفرة أو الكدرة في أيام الحيض، وأما في غيرها فعلى ما قالته أم عطية. (1)

ورجح شيخ الإسلام مذهب الجمهور، قال: ـ وهو الصحيح ـ: إنها إن كانت في العادة مع الدم الأسود والأحمر فهي حيض، وإلا فلا؛ لأن النساء كن يرسلن إلى عائشة بالدرجة فيها الكرسف، فتقول لهن: لا تعجلن حتى ترين القصة البيضاء. وكذلك غيرها، فكن يجعلن ما قبل القصة البيضاء حيضا. وقالت أم عطية: كنا لا نعد الصفرة والكدرة بعد الطهر شيئا. (2)

‌‌بم تطهر الحائض؟

حدثت أم عطية في ذلك حديثا قالت: (كنا لا نعد الكدرة والصفرة شيئا) (3)

--------------------------------------------

(1) فتح الباري 1/ 426

(2) مجموع فتاوى ابن تيمية 26/220

(3) أخرجه النسائي في كتاب الحيض والاستحاضة/ باب الصفرة والكدرة 1/186، 368

وابن ماجة في كتاب الطهارة وسننها/ باب ما جاء في الحائض ترى بعد الطهر الصفرة والكدرة 1/212

والدارمي في كتاب الصلاة والطهارة/باب الطهر كيف هو 1/234

والحاكم في المستدرك على الصحيحين، كتاب الطهارة /باب أحكام الاستحاضة 1/282

وعبد الرزاق في المصنف، كتاب الحيض/ باب ما ترى أيام حيضتها أو بعدها1/317

والطبراني في المعجم الكبير 25/55/119، 25/63/151

ورواه أبو داود بزيادة" بعد الطهر" في كتاب الطهارة/ باب في المرأة ترى الكدرة والصفرة بعد الطهر 1/83 والحاكم في المستدرك على الصحيحين، كتاب الطهارة / باب أحكام الاستحاضة … 1/174 كلاهمامن طريق قتادة عن أم الهذيل عن أم عطية

والدارمي في كتاب الصلاة والطهارة/ باب الكدرة إذا كانت بعد الحيض 1/235 وابن المنذر في الأوسط 2/236بلفظ" بعد الغسل"

 

والطبراني في المعجم الكبير 25/63/151 بزيادة "بعد الغسل"، 25/64/125 كلهم من طريق قتادة عن أم الهذيل عنها

ورواه بلفظ" لا نرى التربة شيئا "ابن أبي شيبة، كتاب الطهارة / باب في المرأة تطهر ثم ترى الصفرة بعد الطهر 1/ 90و" إسحاق بن راهويه في … باب ما يروى عن نساء أهل البصرة … 5/217/ (23-2359) ، وابن المنذر في الأوسط2/236، والدارقطني كتاب الحيض 1/219/64 بلفظ" الترية"، بالمثناة التحتية، والحربي في غريب الحديث، باب تروية 2/779 كلهم من طريق هشام عن حفصة عن أم عطية
ইমাম বুখারি (রহ.) এই দুই মতের মধ্যে সমন্বয়ের পথ অবলম্বন করেছেন। এ কারণেই তিনি উম্মে আতিয়্যাহ-র বর্ণিত হাদিসের জন্য শিরোনাম নির্ধারণ করেছেন: (অধ্যায়: ঋতুস্রাবের দিনগুলো ব্যতীত হলুদ ও ঘোলাটে বর্ণের নিঃসরণ সম্পর্কে)। ইবনে হাজার বলেন: এর মাধ্যমে তিনি আয়েশা (রা.)-এর পূর্বে উল্লেখিত হাদিস—যাতে তিনি বলেছেন "যতক্ষণ না তোমরা সাদা স্রাব (القصة البيضاء) দেখতে পাও"—এবং এই অধ্যায়ে বর্ণিত উম্মে আতিয়্যাহ-র হাদিসের মধ্যে সমন্বয় করার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। এর অর্থ হলো, এটি তখনই ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে যখন হলুদ বা ঘোলাটে বর্ণ ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে দেখা যাবে। আর ঋতুস্রাবের দিনগুলো ব্যতীত অন্য সময়ে দেখা দিলে উম্মে আতিয়্যাহ যা বলেছেন সে অনুযায়ী গণ্য হবে। (১)

শাইখুল ইসলাম জমহুর বা সংখ্যাগুরু ওলামাদের মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন—এবং এটিই সঠিক (الصحيح)—: যদি তা অভ্যাসের দিনগুলোতে কালো ও লাল রক্তের সাথে থাকে, তবে তা ঋতুস্রাব; অন্যথায় নয়। কারণ নারীরা আয়েশা (রা.)-এর কাছে পাত্রে রাখা তুলার টুকরো পাঠাতেন, তখন তিনি তাদের বলতেন: "তাড়াহুড়ো করো না, যতক্ষণ না তোমরা সাদা স্রাব (القصة البيضاء) দেখতে পাও।" অন্যান্যরাও তদ্রূপ করতেন, ফলে তারা সাদা স্রাব দেখার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে ঋতুস্রাব গণ্য করতেন। আর উম্মে আতিয়্যাহ বলেছেন: "আমরা পবিত্রতা অর্জনের পর হলুদ ও ঘোলাটে নিঃসরণকে কিছুই (ঋতুস্রাব) মনে করতাম না।" (২)

‌ঋতুবতী নারী কিসের মাধ্যমে পবিত্র হন?

উম্মে আতিয়্যাহ এ বিষয়ে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "(ঋতুস্রাব পরবর্তী) ঘোলাটে ও হলুদ বর্ণকে আমরা কিছুই মনে করতাম না।" (৩)

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারি ১/ ৪২৬

(২) মাজমু আল-ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ ২৬/২২০

(৩) আন-নাসায়ি এটি বর্ণনা করেছেন ঋতুস্রাব ও ইস্তিহাজা কিতাবে/ অধ্যায়: হলুদ ও ঘোলাটে বর্ণ সম্পর্কে ১/১৮৬, ৩৬৮

এবং ইবনে মাজাহ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ কিতাবে/ অধ্যায়: পবিত্র হওয়ার পর ঋতুবতী নারী হলুদ ও ঘোলাটে বর্ণ দেখলে যা হবে ১/২১২

এবং আদ-দারেমি সালাত ও পবিত্রতা কিতাবে/ অধ্যায়: পবিত্রতা কেমন হয় ১/২৩৪

এবং আল-হাকেম মুসতাদরাক আলাস সহিহাইন-এ, পবিত্রতা কিতাবে/ অধ্যায়: ইস্তিহাজার বিধানসমূহ ১/২৮২

এবং আব্দুর রাজ্জাক আল-মুসান্নাফ-এ, ঋতুস্রাব কিতাবে/ অধ্যায়: ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে বা তার পরে যা দেখা যায় ১/৩১৭

এবং আত-তাবারানি আল-মুজাম আল-কাবির-এ ২৫/৫৫/১১৯, ২৫/৬৩/১৫১

আবু দাউদ এটি "পবিত্র হওয়ার পর" (بعد الطهر) অতিরিক্ত শব্দসহ বর্ণনা করেছেন পবিত্রতা কিতাবে/ অধ্যায়: নারী পবিত্র হওয়ার পর ঘোলাটে ও হলুদ বর্ণ দেখা সম্পর্কে ১/৮৩ এবং আল-হাকেম মুসতাদরাক আলাস সহিহাইন-এ, পবিত্রতা কিতাবে/ অধ্যায়: ইস্তিহাজার বিধানসমূহ … ১/১৭৪; তাঁরা উভয়ই কাতাদাহ-এর সূত্রে উম্মুল হুযাইল থেকে, তিনি উম্মে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন

এবং আদ-দারেমি সালাত ও পবিত্রতা কিতাবে/ অধ্যায়: ঋতুস্রাবের পর ঘোলাটে বর্ণ দেখা দিলে ১/২৩৫ এবং ইবনুল মুনযির আল-আওসাত-এ ২/২৩৬-এ "গোসলের পর" (بعد الغسل) শব্দে বর্ণনা করেছেন

 

এবং আত-তাবারানি আল-মুজাম আল-কাবির-এ ২৫/৬৩/১৫১-তে "গোসলের পর" (بعد الغسل) অতিরিক্ত শব্দসহ, ২৫/৬৪/১২৫; সকলেই কাতাদাহ-এর সূত্রে উম্মুল হুযাইল থেকে তাঁর বরাতে বর্ণনা করেছেন

আর ইবনে আবি শায়বা এটি "আমরা মাটির বর্ণ সদৃশ নিঃসরণকে (التربة) কিছুই মনে করতাম না" শব্দে বর্ণনা করেছেন পবিত্রতা কিতাবে/ অধ্যায়: নারী পবিত্র হওয়ার পর হলুদ বর্ণ দেখলে ১/ ৯০ এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়ায়হ … অধ্যায়: বসরার নারীদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে … ৫/২১৭/ (২৩-২৩৫৯), এবং ইবনুল মুনযির আল-আওসাত-এ ২/২৩৬, এবং আদ-দারা কুতনি ঋতুস্রাব কিতাবে ১/২১৯/৬৪-তে নিচের নুকতাযুক্ত 'ইয়া' যোগে "আল-তারিয়্যাহ" (الترية) শব্দে এবং আল-হারবি গরিবুল হাদিস-এ, অনুচ্ছেদ: তারবিয়া ২/৭৭৯; সকলেই হিশামের সূত্রে হাফসা থেকে, তিনি উম্মে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وروي بزيادة (بعد الطهر) وهي زيادة صحيحة.

واختلف الفقهاء في علامة الطهر، فرأى قوم أن علامة الطهر رؤية القصة البيضاء (1) وقال أخرون علامة الطهر الجفاف. قال ابن رشد:"وسبب اختلافهم أن منهم من راعى العادة ومنهم من راعى انقطاع الدم فقط، وقد قيل: إن التي عادتها الجفوف تطهر بالقصة البيضاء ولا تطهر التي عادتها القصة البيضاء بالجفوف، وقد قيل بعكس هذا وكله لأصحاب مالك" (2)

--------------------------------------------

(1) قال ابن الأثير في النهاية في غريب الأثر ج4/ص71 "القصة البيضاء هو أن تخرج القطنة أو الخرقة التي تحتشي بها الحائض كأنها قصة بيضاء لا يخالطها صفرة وقيل القصة شيء كالخيط الأبيض يخرج بعد انقطاع الدم كله"وقال في مشارق الأنوار ج2/ص188

القصة البيضاء بفتح القاف كناية عن النقاء القصة ماء أبيض يخرج آخر الحيض وعند انقطاعه كالخيط الأبيض وقال الحربي القصة القطعة من القطن لأنها بيضاء تقول تخرج بيضاء غير متغيرة ويدل عليه قوله في الحديث الآخر حتى ترين القصة بيضاء وقيل هو من خروج ما تحتثى به أبيض كالقصة وهو الجير لا تغيير فيه." وينظر غريب الحديث لابن سلام 1/278، وغريب الحديث للخطابي1/372، وغريب الحديث لابن الجوزي2/248

(2) بداية المجتهد 1/39
এবং অতিরিক্ত অংশ '(পবিত্র হওয়ার পর)' সহ বর্ণনা করা হয়েছে, যা একটি সহিহ (صحيحة) অতিরিক্ত অংশ।

ফকিহগণ পবিত্রতার নিদর্শনের বিষয়ে মতভেদ করেছেন; একদল মনে করেন যে, পবিত্রতার নিদর্শন হলো শ্বেত স্রাব (القصة البيضاء) প্রত্যক্ষ করা (১) এবং অন্যগণ বলেছেন পবিত্রতার নিদর্শন হলো শুষ্কতা (الجفاف)। ইবনে রুশদ বলেন: "তাদের মতভেদের কারণ হলো, তাদের কেউ কেউ অভ্যাসকে (العادة) প্রাধান্য দিয়েছেন আবার কেউ কেউ কেবল রক্ত বন্ধ হওয়াকেই বিবেচনা করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, যার অভ্যাস শুষ্কতা (الجفوف), সে শ্বেত স্রাব (القصة البيضاء) দ্বারা পবিত্র হয়, কিন্তু যার অভ্যাস শ্বেত স্রাব (القصة البيضاء), সে শুষ্কতা (الجفوف) দ্বারা পবিত্র হয় না। এর বিপরীতটিও বলা হয়েছে, আর এ সবই মালিকি মাযহাবের ইমাম মালিকের অনুসারীদের অভিমত।" (২)

--------------------------------------------

(১) ইবনুল আসির আন-নিহায়া ফি গারিবিল আসার খণ্ড ৪/পৃষ্ঠা ৭১-এ বলেন, "শ্বেত স্রাব (القصة البيضاء) হলো ঋতুবতী নারী যে তুলা বা কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করে, তা ধবধবে সাদা চুনের মতো বের হয়ে আসা, যাতে কোনো হলদে ভাব মিশ্রিত থাকবে না। কারো মতে, 'কাস্সাহ' হলো সাদা সুতার মতো কিছু যা রক্ত সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার পর বের হয়।" এবং মাশারিকুল আনোয়ার খণ্ড ২/পৃষ্ঠা ১৮৮-তে বলা হয়েছে:

'কাস্সাহ' (القصة) শব্দটি ক্বাফ বর্ণের জবর সহকারে পবিত্রতার রূপক অর্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 'কাস্সাহ' হলো সাদা পানি বা তরল যা ঋতুস্রাবের শেষে এবং তা বন্ধ হওয়ার সময় সাদা সুতার মতো বের হয়। হারবি বলেন, 'কাস্সাহ' হলো তুলার টুকরো, কারণ তা সাদা। বলা হয় যে, এটি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সাদা অবস্থায় বের হয়। অন্য একটি হাদিসের বক্তব্য 'যতক্ষণ না তোমরা শ্বেত স্রাব (القصة البيضاء) দেখতে পাও' এর প্রমাণ বহন করে। কারো মতে, এটি ব্যবহারের কাপড়ের টুকরো চুনের (القصة) মতো সাদা হয়ে বের হওয়াকে বোঝায়, যা হলো চুন (الجير), যার রঙে কোনো পরিবর্তন থাকে না।" আরও দেখুন: ইবনে সালামের গারিবুল হাদিস ১/২৭৮, খাত্তাবির গারিবুল হাদিস ১/৩৭২ এবং ইবনুল জাওযির গারিবুল হাদিস ২/২৪৮।

(২) বিদায়াতুল মুজতাহিদ ১/৩৯
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
واحتج من ذهب إلى أن الطهر لا يثبت حتى ترى الحائض القصة البيضاء بما روي عن عائشة رضي الله عنها" أن النساء كن يبعثن إليها بالدرجة فيها الكرسف فيه الصفرة فتقول لا تعجلن حتى ترين القصة البيضاء تريد بذلك الطهر من الحيضة وبلغ ابنة زيد بن ثابت أن نساء يدعون بالمصابيح من جوف الليل ينظرن إلى الطهر فقالت ما كان النساء يصنعن هذا وعابت عليهن" (1)

وممن رأى أن الطهر لا يكون إلا بالبياض: أسماء بنت أبي بكر (2) ، وعمرة (3) ، وعطاء (4) ، ومكحول (5) ، والزهري (6) ، وعبد الرحمن بن مهدي (7) ،

وبه قال أبو حنيفة (8) ، ومالك (9) ،والشافعي (10) ،وأحمد (11)

وممن قال تطهر بالجفاف: ابن حبيب من المالكية، حكى عنه ابن عبد البر قال:" تطهر بالجفوف وإن كانت ممن ترى القصة البيضاء.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري تعليقا في كتاب الحيض /باب إقبال المحيض وإدباره ج1/ص121،ووصله مالك في الموطأ1/59 كتاب الطهارة (2) باب طهر الحائض (27) حديث رقم (97) من طريق يحيى بن بكير.ومن طريق مالك أخرجه البيهقي في كتاب الحيض باب الصفرة والكدرة في أيام الحيض حيض 1/335.والدرجة بضم الدال وسكون الراء يريد بها خرقة تجمع فيها هذا الكرسف وهو القطن الذي احتشت به. مشارق الأنوار ج1/ص256 وهو أشبه بالحفاظة التي تستعملها النساء في عصرنا.

(2) تقدم ص 13هامش (39)

(3) تقدمص13هامش (40)

(4) تقدم ص13هامش (41)

(5) تقدم ص13هامش (42)

(6) تقدم ص13هامش (43)

(7) ذكره عنه ابن المنذر في الأوسط2/235، وابن حزم في المحلى2/229

(8) ينظر الأصل لمحمد بن الحسن1/337، والمبسوط للسرخسي2/19

(9) المدونةالكبرى1/50 إلا أنه قال: إن كانت ممن ترى القصة البيضاء فحين ترى القصة البيضاء وإن كانت ممن لاترى القصة البيضاء فحين ترى الجفوف فتغتسل وتصلي.قال ابن القاسم والجفوف عندي أن تدخل الخرقة فتخرجها جافة.

(10) الأم باب الرد على من قال لا يكون الحيض أقل من ثلاثة أيام 1/83،84، والمجموع 2/389

(11) ينظر المغني 1/202
যারা এই মত পোষণ করেন যে, ঋতুবতী নারী সাদা স্রাব না দেখা পর্যন্ত পবিত্রতা সাব্যস্ত হবে না, তারা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত (روي) একটি বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেন যে, "নারীরা তাঁর কাছে ছোট পাত্র পাঠাতেন যাতে তুলা থাকত এবং তাতে হলদেটে ভাব দেখা যেত। তখন তিনি বলতেন, 'তোমরা তড়িঘড়ি করো না যতক্ষণ না তোমরা সাদা স্রাব দেখতে পাও।' এর মাধ্যমে তিনি ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়াকে উদ্দেশ্য নিতেন। আর জায়েদ বিন সাবিতের কন্যার কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, মহিলারা গভীর রাতে বাতি জ্বালিয়ে পবিত্রতা পরীক্ষা করেন। তখন তিনি বললেন, 'আগের নারীরা এমনটি করত না' এবং তিনি তাদের এই কাজের সমালোচনা করেন।" (১)

এবং যারা মনে করেন যে শুভ্রতা (সাদা স্রাব) ছাড়া পবিত্রতা অর্জিত হয় না, তাদের মধ্যে রয়েছেন: আসমা বিনতে আবু বকর (২), আমরা (৩), আতা (৪), মাকহুল (৫), যুহরি (৬) এবং আব্দুর রহমান বিন মাহদি (৭)।

ইমাম আবু হানিফা (৮), মালিক (৯), শাফেয়ি (১০) এবং আহমাদ (১১) এই মতই ব্যক্ত করেছেন।

আর যারা বলেছেন যে শুষ্কতার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জিত হয়, তাদের মধ্যে রয়েছেন মালেকি মাযহাবের ইবনে হাবিব। ইবনে আব্দুল বার তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "সে শুষ্কতার মাধ্যমেই পবিত্র হয়ে যাবে, যদিও সে সেই মহিলাদের অন্তর্ভুক্ত হয় যারা সাদা স্রাব দেখে।"

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি কিতাবুল হায়েয/অধ্যায়: ঋতুস্রাবের আগমন ও প্রস্থান, খণ্ড ১/পৃষ্ঠা ১২১-এ ঝুলন্ত (تعليقا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম মালিক মুয়াত্তা ১/৫৯ কিতাবুত তাহারাহ (২) অধ্যায়: ঋতুবতীর পবিত্রতা (২৭) হাদিস নম্বর (৯৭)-এ ইয়াহইয়া বিন বুকাইর-এর সূত্রে এটিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে (وصله) বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম মালিকের সূত্রে বায়হাকি এটি কিতাবুল হায়েয, ঋতুকালীন হলদেটে ও মেটে রঙ সংক্রান্ত অধ্যায় ১/৩৩৫-এ বর্ণনা করেছেন। 'আদ-দুরজাহ' শব্দটি দাল বর্ণে পেশ এবং রা বর্ণে সাকিন যোগে, এর দ্বারা তিনি এমন কাপড়ের টুকরো বুঝিয়েছেন যাতে সেই তুলা (কারসুফ) রাখা হতো। আর কারসুফ হলো তুলা যা দ্বারা নারীরা রক্ত রোধ করার জন্য ব্যবহার করত। মাশারিকুল আনওয়ার খণ্ড ১/পৃষ্ঠা ২৫৬। এটি বর্তমান যুগে নারীদের ব্যবহৃত প্যাডের সদৃশ।

(২) পূর্বে ১৩ পৃষ্ঠার ৩৯ নং টিকায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৩) পূর্বে ১৩ পৃষ্ঠার ৪০ নং টিকায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৪) পূর্বে ১৩ পৃষ্ঠার ৪১ নং টিকায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৫) পূর্বে ১৩ পৃষ্ঠার ৪২ নং টিকায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৬) পূর্বে ১৩ পৃষ্ঠার ৪৩ নং টিকায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৭) ইবনুল মুনযির আল-আওসাত ২/২৩৫-এ এবং ইবনে হাজম আল-মুহাল্লা ২/২২৯-এ তাঁর থেকে এটি উল্লেখ করেছেন।

(৮) দ্রষ্টব্য: মুহাম্মদ বিন হাসানের আল-আসল ১/৩৩৭ এবং সারাখসির আল-মাবসুত ২/১৯।

(৯) আল-মুদাওওয়ানাতুল কুবরা ১/৫০; তবে তিনি বলেছেন: যদি সে সাদা স্রাব দেখতে পাওয়া নারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে যখন সাদা স্রাব দেখবে তখন পবিত্র হবে; আর যদি সে সাদা স্রাব দেখতে না পাওয়া নারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে যখন শুষ্কতা দেখবে তখন গোসল করে সালাত আদায় করবে। ইবনুল কাসিম বলেন, আমার মতে শুষ্কতা হলো এই যে, কাপড়ের টুকরো ভেতরে প্রবেশ করিয়ে বের করলে তা শুকনো বের হবে।

(১০) আল-উম্ম, অধ্যায়: যারা বলেন ঋতুস্রাব তিন দিনের কম হয় না তাদের খণ্ডন ১/৮৩, ৮৪; এবং আল-মাজমু ২/৩৮৯।

(১১) দ্রষ্টব্য: আল-মুগনি ১/২০২।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
قال والجفوف أبرأ للرحم من القصة البيضاء فمن كان طهرها القصة البيضاء فرأت الجفوف فقد طهرت، قال ولا تطهر التي طهرها الجفوف برؤيتها القصة البيضاء حتى ترى الجفوف

قال: وذلك أن أول الحيض دم ثم صفرة ثم كدرة ثم يكون نقاء كالقصة ثم ينقطع فإذا انقطع قبل هذه المنازل فقد برئت الرحم من الحيض.

قال والجفوف أبرأ وأوعب وليس بعد الجفوف انتظار شيء" (1)

وهذا خلاف الصواب فإن المرأة تجف أحيانا قرب انقطاع الحيض الفرض والفرضين والثلاثة ثم يعاودها الدم والكدرة والصفرة وهي ما تزال في مدة الحيض، أما إذا رأت القصة البيضاء فقط طهرت وأصبح الرحم نقيا ومن النادر أن تعاود الحيضة المرأة بعد رؤيتها، والقصة البيضاء معروفة عند النساء وهي الرطوبة السائلة اللزجة عديمة اللون التي تراها المرأة سائر الشهر.

قال ابن حجر:

"وفيه أن القصة البيضاء علامة لانتهاء الحيض ويتبين بها ابتداء الطهر، واعترض على من ذهب إلى أنه يعرف بالجفوف بأن القطنة قد تخرج جافة في أثناء الأمر فلا يدل ذلك على انقطاع الحيض، بخلاف القصة وهي ماء أبيض يدفعه الرحم عند انقطاع الحيض.

قال مالك: سألت النساء عنه فإذا هو أمر معلوم عندهن يعرفنه عند الطهر." (2)

--------------------------------------------

(1) الاستذكار ج1/ص325

(2) فتح الباري 1/420 كتاب الحيض باب إقبال الحيض وإدباره، وينظر المدونة 1/50، 51
তিনি বলেন, শুকিয়ে যাওয়া (الجفوف) জরায়ুর পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে সাদা স্রাব (القصة البيضاء) অপেক্ষা অধিক নির্ভরযোগ্য। অতএব, যার পবিত্রতা সাধারণত সাদা স্রাবের (القصة البيضاء) মাধ্যমে অর্জিত হয়, সে যদি শুকিয়ে যাওয়া (الجفوف) প্রত্যক্ষ করে, তবে সে পবিত্র (طهرت) হয়েছে বলে গণ্য হবে। তিনি আরও বলেন, যার পবিত্রতা শুকিয়ে যাওয়ার (الجفوف) মাধ্যমে হয়, সে সাদা স্রাব (القصة البيضاء) দেখার মাধ্যমে পবিত্র হবে না যতক্ষণ না সে শুকিয়ে যাওয়া (الجفوف) প্রত্যক্ষ করে।

তিনি বলেন: এর কারণ হলো ঋতুস্রাবের (الحيض) শুরুতে রক্ত দেখা যায়, এরপর হলদেটে ভাব (صفرة), এরপর ঘোলাটে ভাব (كدرة), অতঃপর সাদা স্রাবের ন্যায় স্বচ্ছতা (نقاء) প্রকাশ পায় এবং রক্ত বন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং যদি এই পর্যায়গুলোর পূর্বেই রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তবে জরায়ু ঋতুস্রাব (الحيض) থেকে মুক্ত হয়েছে বলে গণ্য হবে।

তিনি বলেন, শুকিয়ে যাওয়া (الجفوف) অধিকতর স্পষ্ট ও পরিপূর্ণ নিদর্শন এবং শুকিয়ে যাওয়ার (الجفوف) পর অন্য কিছুর জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। (১)

আর এটি সঠিক মতের পরিপন্থী; কেননা নারী অনেক সময় ঋতুস্রাব (الحيض) বন্ধ হওয়ার নিকটবর্তী সময়ে এক, দুই বা তিন ওয়াক্ত সালাতের সময় পর্যন্ত শুকনা (تجف) থাকতে পারে, কিন্তু এরপর পুনরায় রক্ত, ঘোলাটে ভাব (كدرة) বা হলদেটে ভাব (صفرة) ফিরে আসে যখন সে তখনও ঋতুস্রাবের (الحيض) মেয়াদের মধ্যেই থাকে। পক্ষান্তরে, যখন সে সাদা স্রাব (القصة البيضاء) দেখে তখন সে পবিত্র (طهرت) হয়ে যায় এবং জরায়ু পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠে; আর এটি বিরল যে সাদা স্রাব দেখার পর ঋতুস্রাব পুনরায় ফিরে আসবে। সাদা স্রাব (القصة البيضاء) নারীদের নিকট সুপরিচিত, আর তা হলো বর্ণহীন আঠালো তরল আর্দ্রতা যা নারী পুরো মাস জুড়েই দেখতে পায়।

ইবনে হাজার বলেন:

"এর মধ্যে প্রমাণ রয়েছে যে, সাদা স্রাব (القصة البيضاء) হলো ঋতুস্রাব (الحيض) সমাপ্ত হওয়ার নিদর্শন এবং এর মাধ্যমে পবিত্রতার (الطهر) সূচনা স্পষ্ট হয়। আর যারা মনে করেন যে শুকিয়ে যাওয়ার (الجفوف) মাধ্যমে পবিত্রতা নির্ণয় করা যায়, তাদের বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে এই বলে যে, ঋতুস্রাব চলাকালীন তুলা শুকনা অবস্থায় বেরিয়ে আসতে পারে, যা ঋতুস্রাব (الحيض) বন্ধ হওয়ার প্রমাণ বহন করে না; সাদা স্রাব (القصة البيضاء) এর ব্যতিক্রম, যা হলো জরায়ু থেকে নির্গত সাদা পানি যা ঋতুস্রাব (الحيض) বন্ধ হওয়ার সময় নির্গত হয়।

ইমাম মালিক বলেন: আমি এ সম্পর্কে নারীদের জিজ্ঞাসা করেছি, তখন দেখা গেল যে এটি তাদের নিকট একটি সুপরিচিত বিষয় যা তারা পবিত্রতার (الطهر) সময় চিনতে পারে।" (২)

--------------------------------------------

(১) আল-ইস্তিযকার খণ্ড ১/পৃষ্ঠা ৩২৫

(২) ফাতহুল বারি ১/৪২০ কিতাবুল হায়েজ, অধ্যায়: ঋতুস্রাবের শুরু ও শেষ; আরও দেখুন আল-মুদাওয়ানা ১/৫০, ৫১
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
فجعل الإمام مالك معرفة النساء حدا يرجع إليه، ونحن النساء نعرف ذلك، ولا عبرة بالمعتلة بمرض كالتي ترى الصفرة والخضرة سائر شهرها، ولا المصابة بوسوسة، فإنها تقلق إذا دخل وقت الصلاة وهي جافة خشية أن يكون عليها صلاة، فتبادر بالغسل والصلاة ثم يعاودها الكدرة والصفرة فتحتار، والسبب أنها استعجلت وتطهرت قبل أن تطهر طهرا صحيحا بينا، والذي يمكن أن يزيل القلق سؤال المرأة نفسها: هل استيقنت من الطهر؟ فإن كان الجواب: نعم، اغتسلت، وإن كان الجواب: لا. لم يكن لها أن تصلي إذا رأت الكدرة؛ لأنها حينئذ انتقلت من حكم الحيض المستيقن إلى حكم الطهر بغير يقين، فلابد أن تكون مستيقنة من الطهر حتى تنتقل إلى حاله ولوازمه. والله أعلم.

‌‌حكم الرطوبة في غير أيام الحيض

الرطوبة: هي إفراز طبيعي عديم اللون عادة ولزج بدرجة خفيفة، ويشبه بياض البيض غير المطبوخ عندما يزداد نشاط غدد الرحم. (1)

والكلام على الرطوبة ينقسم إلى قسمين: من حيث الطهارة، ومن حيث نقض الوضوء. ولأهمية هاتين المسألتين للنساء خاصة؛ فإني أفصل في كل منهما.

‌‌1ـ طهارة الرطوبة

اختلف العلماء في الرطوبة في غير أيام الحيض، فذهب المالكية وأبو إسحاق بن شاقلا وابن رزين من الحنابلة إلى نجاسة الرطوبة مطلقا، قالوا لأنها رطوبة متولدة من الباطن. وذهب محمد بن الحسن وأبو يوسف من الأحناف، والشافعية إلى نجاسة الرطوبة الباطنة واتفقوا على طهارة الرطوبة الظاهرة. والمشهور من مذهب الإمام أحمد طهارتها دون تفصيل. وزاد الشافعية قسما ثالثا وهو الرطوبة المتولدة في الداخل وليست من الرحم، وهي المتكونة في قناة المهبل، وهي عندهم طاهرة على الصحيح، وهذا القسم هو الذي تسأل عنه النساء وهو ما نبحثه هنا إذ الرطوبة الباطنة التي تخرج مع الولد ليست متكررة ولا تعاني منها النساء.

ولما كانت هذه المسألة مهمة جدا لنا أردت أن أذكر أقوال الفقهاء بالتفصيل وبالله التوفيق

--------------------------------------------

(1) دليل المرأة إلى الصحة ص 245
ইমাম মালিক নারীদের অভিজ্ঞতা বা জানাশোনাকে একটি মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যার দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে এবং আমরা নারীরা তা জানি। আর রোগের কারণে অসুস্থ নারী—যেমন যে তার সারা মাস পীতবর্ণ (صفرة) বা সবুজবর্ণ (خضرة) দেখে—তার কোনো ধর্তব্য নেই। অনুরূপভাবে কুমন্ত্রণা বা ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত নারীর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কেননা সে যখন নামাজের সময় প্রবেশ করে অথচ সে শুষ্ক থাকে, তখন সে এই ভয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে যে তার ওপর নামাজ ফরজ হয়ে আছে কি না। ফলে সে দ্রুত গোসল করে নামাজ আদায় করে নেয়, এরপর পুনরায় তার ঘোলাটে বর্ণ (كدرة) বা পীতবর্ণ (صفرة) দেখা দেয় এবং সে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এর কারণ হলো, সে তাড়াহুড়ো করেছে এবং একটি সঠিক ও সুস্পষ্ট পবিত্রতা (طهر) অর্জনের আগেই নিজেকে পবিত্র (طهرت) মনে করে নিয়েছে। যে বিষয়টি এই উদ্বেগ দূর করতে পারে তা হলো নারী নিজেকেই প্রশ্ন করবে: "আমি কি পবিত্রতার (طهر) ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি?" যদি উত্তর হয়: "হ্যাঁ", তবে সে গোসল করবে। আর যদি উত্তর হয়: "না", তবে ঘোলাটে বর্ণ (كدرة) দেখা অবস্থায় তার জন্য নামাজ পড়ার সুযোগ নেই। কারণ সে তখন সুনিশ্চিত ঋতুস্রাব (حيض)-এর বিধান থেকে কোনো নিশ্চয়তা ছাড়াই পবিত্রতার (طهر) বিধানে স্থানান্তরিত হয়েছে। সুতরাং তাকে অবশ্যই পবিত্রতার (طهر) ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে, যাতে সে এর অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের দিকে যেতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন।

‌‌ঋতুস্রাব (حيض)-এর দিনগুলো ব্যতিরেকে সিক্ততা বা আর্দ্রতার বিধান

সিক্ততা (رطوبة): এটি একটি স্বাভাবিক নিঃসরণ যা সাধারণত বর্ণহীন এবং সামান্য আঠালো হয়ে থাকে। যখন জরায়ুর গ্রন্থিগুলোর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায়, তখন এটি রান্না না করা ডিমের সাদা অংশের মতো দেখায়। (১)

এই সিক্ততার আলোচনা দুই ভাগে বিভক্ত: পবিত্রতার (طهارة) দিক থেকে এবং ওজু ভঙ্গের দিক থেকে। নারীদের জন্য এই দুটি বিষয়ের গুরুত্বের কারণে আমি এগুলোর প্রতিটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিচ্ছি।

‌‌১. সিক্ততার পবিত্রতা (طهارة)

ঋতুস্রাব (حيض)-এর দিনগুলো ছাড়া অন্য সময়ে নির্গত সিক্ততার ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। মালিকি মাজহাবের আলেমগণ, হাম্বলি মাজহাবের আবু ইসহাক বিন শাকলা এবং ইবনুল রাজীন এই সিক্ততাকে ঢালাওভাবে অপবিত্রতা (نجاسة) হিসেবে গণ্য করেছেন। তারা বলেন, কারণ এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ অংশ থেকে উৎপন্ন আর্দ্রতা। হানাফি মাজহাবের মুহাম্মদ ইবনুল হাসান ও আবু ইউসুফ এবং শাফিঈ মাজহাবের আলেমগণ অভ্যন্তরীণ সিক্ততাকে অপবিত্র (نجاسة) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং তারা বাহ্যিক সিক্ততার পবিত্রতার (طهارة) ব্যাপারে একমত হয়েছেন। ইমাম আহমদের মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো, কোনো বিস্তারিত বিভাজন ছাড়াই এটি পবিত্র (طهارة)। শাফিঈগণ এখানে তৃতীয় একটি ভাগ যুক্ত করেছেন, আর তা হলো সেই সিক্ততা যা শরীরের ভেতরে উৎপন্ন হয় কিন্তু তা জরায়ু থেকে নয়, বরং যা যোনিপথে তৈরি হয়। তাদের নিকট বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে এটি পবিত্র (طاهرة)। এই প্রকারটি নিয়েই নারীরা সাধারণত প্রশ্ন করে থাকেন এবং এটিই আমাদের আলোচনার বিষয়। কারণ প্রসবের সময় যে অভ্যন্তরীণ সিক্ততা নির্গত হয় তা সচরাচর ঘটে না এবং নারীরা সাধারণত তা নিয়ে সমস্যায় পড়েন না।

যেহেতু এই বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই আমি ফকিহগণের (فقهاء) মতামত বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে চেয়েছি। আল্লাহর কাছেই তাওফিক কামনা করছি।

--------------------------------------------

(১) দালিলুল মারআ ইলাস সিহহা, পৃষ্ঠা ২৪৫
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌القائلون بنجاسة الرطوبة مطلقا:

قال خليل بن إسحاق المالكي: " والنجس ما استثني وميت غير ما ذكر ولو قملة أو آدميا....ومني ومذي وودي وقيح وصديد ورطوبة فرج" (1) وعلق الشراح من المالكية على هذا القول بقول عياض: ماء الفرج ورطوبته عندنا نجسان قالوا: وهو المعتمد من المذهب (2)

وقال ابن قدامة من الحنابلة: " وَفِي رُطُوبَةِ فَرْجِ الْمَرْأَةِ احْتِمَالَانِ: أَحَدُهُمَا، أَنَّهُ نَجِسٌ؛ لِأَنَّهُ فِي الْفَرْجِ لَا يُخْلَقُ مِنْهُ الْوَلَدُ، أَشْبَهَ الْمَذْيَ. (3)

قال المرداوي في الإنصاف: " الرواية الثانية هي نجسة، اختارها أبو إسحاق بن شاقلا وجزم به في الإفادات، وقدمه ابن رزين في شرحه" (4)

--------------------------------------------

(1) المختصر ص7

(2) ينظر التاج والأكليل لمختصر خليل/ لمحمدحطاب باب في أحكام النجاسلت/ فصل تمييز الأعيان الطاهرة عن النجسة،، ومواهب الجليل له أيضا في كتاب الطهارة باب يرفع الحدث/ فصل الطاهر أنواع/ فرع الصلاة على جلود الميتة، وينظر فصل في التيمم،، وشرح مختصر خليل لمحمد الخرشي في باب الطهارة/ فصل بيان الطاهر والنجس،، وحاشية الدسوقي على الشرح الكبير لمحمد بن عرفة الدسوقي في باب أحكام الطهارة/ فصل بيان الأعيان الطاهرة والنجسة، وينظر فصل في بيان الحيض والنفاس/ مدة الحيض،، وبلغة السالك لأقرب المسالك المعروف بحاشيةالصاوي باب في بيان الطهارة/فصل في الحيض/ علامة الطهر،، ومنح الجليل شرح مختص خليل لمحمد بن عابدين في باب يرفع الحدث/ فصل في موجبات الغسل. وقال في حاشية العدوي1/186:" خروجها مبتلة من رطوبة الفرج لا يضر" وهو يخالف قول عياض السابق.

(3) المغني كتاب الصلاة / باب الصلاة بالنجاسة وغير ذلك / مسألة ما خرج من الإنسان أو البهيمة التي لا / فصل رطوبة فرج المرأة

(4) الإنصاف للمرداوي، كتاب الطهارة / باب إزالة النجاسة
যারা যোনির আর্দ্রতাকে নিঃশর্তভাবে অপবিত্র (نجس) মনে করেন:

খলিল ইবনে ইসহাক আল-মালিকি বলেন: "আর অপবিত্র (نجس) হলো সেই সব বস্তু যা ব্যতিক্রম করা হয়েছে এবং উল্লিখিত প্রাণী ব্যতীত অন্যান্য মৃত প্রাণী, যদিও তা উকুন বা মানুষ হয়.... এবং বীর্য, মজি, অদি, পুঁজ, রক্তপুঁজ ও যোনির আর্দ্রতা" (১) আর মালিকি মাযহাবের ব্যাখ্যাকারগণ এই উক্তির ওপর কাযী আয়াজের এই বক্তব্য দ্বারা টীকা প্রদান করেছেন: "আমাদের নিকট যোনির তরল ও তার আর্দ্রতা উভয়ই অপবিত্র (نجسان)।" তারা বলেছেন: "আর এটিই মাযহাবের নির্ভরযোগ্য (المعتمد) মত।" (২)

হাম্বলি মাযহাবের ইবনে কুদামাহ বলেন: "নারীর যোনির আর্দ্রতার বিষয়ে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে: তার একটি হলো, এটি অপবিত্র (نجস); কেননা এটি যোনিতে থাকে এবং তা থেকে সন্তান সৃষ্টি হয় না, তাই এটি মজি-এর সদৃশ।" (৩)

আল-মারদাউয়ি 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে বলেন: "দ্বিতীয় বর্ণনা (رواية) হলো এটি অপবিত্র (نجسة), যা আবু ইসহাক ইবনে শাকলা পছন্দ করেছেন এবং 'আল-ইফাদাত' গ্রন্থে এটি নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন, আর ইবনে রাজীন তার শরহ-এ একে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।" (৪)

--------------------------------------------

(১) আল-মুখতাসার, পৃষ্ঠা ৭

(২) দ্রষ্টব্য: মুহাম্মদ হাত্তাব কৃত আত-তাজ ওয়াল-ইকলিল লি-মুখতাসার খলিল, নাপাকির বিধান অধ্যায়/ পবিত্র ও অপবিত্র বস্তুসমূহের পার্থক্য পরিচ্ছেদ; এবং তারই মাওয়াহিবুল জলীল, পবিত্রতা অধ্যায়/ অপবিত্রতা দূরীকরণ অনুচ্ছেদ/ পবিত্র বস্তুর প্রকারভেদ পরিচ্ছেদ/ মৃত পশুর চামড়ার ওপর সালাত আদায় সংক্রান্ত শাখা; আরও দ্রষ্টব্য তায়াম্মুম পরিচ্ছেদ; এবং মুহাম্মদ আল-খরাশি কৃত শরহ মুখতাসার খলিল, পবিত্রতা অধ্যায়/ পবিত্র ও অপবিত্রের বর্ণনা পরিচ্ছেদ; এবং মুহাম্মদ ইবনে আরাফা আদ-দাসুকি কৃত হাশিয়াতুদ দাসুকি আলাশ শারহিল কাবির, পবিত্রতার বিধান অধ্যায়/ পবিত্র ও অপবিত্র বস্তুসমূহের বর্ণনা পরিচ্ছেদ; আরও দ্রষ্টব্য হায়েয ও নেফাস পরিচ্ছেদ/ হায়েযের মেয়াদ; এবং হাশিয়াতুস সাউয়ি নামে পরিচিত বুলগাতুস সালিক লি-আকরাবিল মাসালিক, পবিত্রতা অধ্যায়/ হায়েয পরিচ্ছেদ/ পবিত্রতার চিহ্ন; এবং মুহাম্মদ ইবনে আবিদিন কৃত মানহুল জলীল শরহ মুখতাসার খলিল, অপবিত্রতা দূরীকরণ অধ্যায়/ গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহ পরিচ্ছেদ। আল-আদউয়ি তার হাশিয়া (১/১৮৬)-তে বলেছেন: "যোনির আর্দ্রতার কারণে তা ভেজা অবস্থায় নির্গত হওয়া ক্ষতিকর নয়", যা কাযী আয়াজের পূর্বোক্ত উক্তির পরিপন্থী।

(৩) আল-মুগনি, সালাত অধ্যায় / নাপাকি নিয়ে সালাত আদায় ও অন্যান্য অনুচ্ছেদ / মানুষ বা পশু থেকে নির্গত বস্তু সংক্রান্ত মাসআলা / নারীর যোনির আর্দ্রতা পরিচ্ছেদ

(৪) আল-মারদাউয়ি কৃত আল-ইনসাফ, পবিত্রতা অধ্যায় / নাপাকি দূরীকরণ পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ورجحه شيخنا العلامة عبد العزيز بن باز رحمه الله (1) ، وشيخنا الشيخ صالح بن فوزان حفظه الله (2)

‌‌القائلون بنجاسة الرطوبة الباطنة:

ذهب أبو يوسف ومحمد بن الحسن للقول بنجاسة الرطوبة الباطنة خلافا لأبي حنيفة، قال أبو بكر الحدادي العبادي: " وأما رطوبة الفرج فهي طاهرة عند أبي حنيفة كسائر رطوبات البدن وعندهما نجسة؛ لأنها متولدة في محل النجاسة" (3) . قال ابن عابدين: "مطلب في رطوبة الفرج (قوله: الفرج) أي الداخل، أما الخارج فرطوبته طاهرة باتفاق بدليل جعلهم غسله سنة في الوضوء، ولو كانت نجسة عندهما لفرض غسله" (4)

وذهب الشافعية للقول بنجاسة الرطوبة الباطنة باتفاق، قال الهيتمي: (وَرُطُوبَةُ الْفَرْجِ) أَيْ الْقُبُلِ وَهُوَ مَاءٌ أَبْيَضُ مُتَرَدِّدٌ بَيْنَ الْمَذْيِ وَالْعَرَقِ يَخْرُجُ مِنْ بَاطِنِ الْفَرْجِ الَّذِي لَا يَجِبُ غَسْلُهُ بِخِلَافِ مَا يَخْرُجُ مِمَّا يَجِبُ غَسْلُهُ فَإِنَّهُ طَاهِرٌ قَطْعًا وَمِنْ وَرَاءِ بَاطِنِ الْفَرْجِ فَإِنَّهُ نَجِسٌ قَطْعًا كَكُلِّ خَارِجٍ مِنْ الْبَاطِنِ كَالْمَاءِ الْخَارِجِ مَعَ الْوَلَدِ أَوْ قُبَيْلَهُ (5)

--------------------------------------------

(1) فتاوى اللجنة الدائمة 5/258

(2) فتاوى المرأة المسلمة 1/222

(3) الجوهرة النيرة في كتاب الطهارة / باب الأنجاس

(4) رد المحتار على الدر المختار في كتاب الطهارة/ باب سنن الغسل

(5) تحفة المحتاج في شرح المنهاج / كتاب أحكام الطهارة / باب النجاسة وإزالتها
এবং আমাদের শায়খ আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ) (১) ও আমাদের শায়খ সালেহ বিন ফাওজান (হাফিজাহুল্লাহ) (২) এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

‌‌অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতা নাপাক (نجاسة) হওয়ার প্রবক্তাগণ:

আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আবু হানিফার মতের বিপরীতে অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতাকে নাপাক (نجاسة) বলার অভিমত গ্রহণ করেছেন। আবু বকর আল-হাদ্দাদি আল-আব্বাদি বলেন: "আর গোপনাঙ্গের আর্দ্রতা সম্পর্কে কথা হলো, এটি ইমাম আবু হানিফার নিকট শরীরের অন্যান্য আর্দ্রতার মতো পবিত্র (طاهرة), কিন্তু তাদের উভয়ের নিকট তা নাপাক (نجاسة); কারণ এটি নাপাকির স্থানে উৎপন্ন হয়।" (৩)। ইবনে আবিদিন বলেন: "গোপনাঙ্গের আর্দ্রতা বিষয়ক আলোচনা (তাঁর বক্তব্য: গোপনাঙ্গ) অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ অংশ; আর বাহ্যিক অংশের আর্দ্রতা সর্বসম্মতিক্রমে পবিত্র (طاهرة), যার প্রমাণ হলো ওজুতে তা ধোয়াকে তারা সুন্নাত হিসেবে গণ্য করেছেন। যদি তা তাদের উভয়ের নিকট নাপাক (نجاسة) হতো, তবে তা ধোয়া ফরজ হতো।" (৪)

এবং শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারীরা সর্বসম্মতিক্রমে অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতাকে নাপাক (نجاسة) বলার অভিমত গ্রহণ করেছেন। হাইতামি বলেন: (গোপনাঙ্গের আর্দ্রতা) অর্থাৎ সামনের অঙ্গের আর্দ্রতা, যা একটি সাদা তরল পদার্থ, যা মজি (مذي) ও ঘামের মাঝামাঝি; এটি গোপনাঙ্গের এমন অভ্যন্তরীণ অংশ থেকে বের হয় যা ধোয়া ওয়াজিব নয়। এর বিপরীত হলো যা ধোয়া ওয়াজিব এমন অংশ থেকে নির্গত হওয়া, কারণ সেটি নিশ্চিতভাবে পবিত্র (طاهرة)। আর যা গোপনাঙ্গের অভ্যন্তরীণ অংশের আরও গভীর থেকে বের হয়, তা নিশ্চিতভাবে নাপাক (نجاسة), যেমনটি ভেতর থেকে নির্গত হওয়া প্রতিটি বস্তুর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যেমন সন্তানের সাথে বা তার ঠিক আগে নির্গত হওয়া পানি। (৫)

--------------------------------------------

(১) ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ ৫/২৫৮

(২) ফাতাওয়া আল-মারআহ আল-মুসলিমাহ ১/২২২

(৩) আল-জাওহারাহ আন-নাইয়্যিরাহ ফি কিতাবিত তাহারাহ / নাপাকি (الأنجاس) অধ্যায়

(৪) রাদ্দুল মুহতার আলা আদ-দুররিল মুখতার ফি কিতাবিত তাহারাহ / গোসলের সুন্নাতসমূহ অধ্যায়

(৫) তুহফাতুল মুহতাজ ফি শারহিল মিনহাজ / পবিত্রতার বিধানসমূহ (أحكام الطهارة) কিতাব / নাপাকি (النجاسة) ও তা দূর করা অধ্যায়
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
قال البجيرمي:" وَالْحَاصِلُ أَنَّ رُطُوبَةَ: الْفَرْجِ ثَلَاثَةُ أَقْسَامٍ طَاهِرَةٌ قَطْعًا وَهِيَ مَا تَكُونُ فِي الْمَحَلِّ الَّذِي لَا يَظْهَرُ عِنْدَ جُلُوسِهَا، وَهُوَ الَّذِي يَجِبُ غَسْلُهُ فِي الْغُسْلِ وَالِاسْتِنْجَاءِ، وَنَجِسَةٌ قَطْعًا وَهِيَ مَا وَرَاءَ ذَكَرِ الْمُجَامِعِ (1) ، وَطَاهِرَةٌ عَلَى الْأَصَحِّ وَهِيَ مَا يَصِلُهُ ذَكَرُ الْمُجَامِعِ وَقِيلَ إنَّهَا نَجِسَةٌ مَعْفُوٌّ عَنْهَا" (2) واستدلوا" لِلنَّجَاسَةِ أَيْضًا بِحَدِيثِ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ رضي الله عنه أَنَّهُ سَأَلَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رضي الله عنه قَالَ: {أَرَأَيْتَ إذَا جَامَعَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَلَمْ يُمْنِ؟ قَالَ عُثْمَانُ: يَتَوَضَّأُ كَمَا يَتَوَضَّأُ لِلصَّلَاةِ وَيَغْسِلُ ذَكَرَهُ، قَالَ عُثْمَانُ: سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم} رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ، زَادَ الْبُخَارِيُّ فَسَأَلَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ وَالزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ وَطَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ وَأُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ فَأَمَرُوهُ بِذَلِكَ. وَعَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ: {يَا رَسُولَ اللَّهِ إذَا جَامَعَ الرَّجُلُ الْمَرْأَةَ فَلَمْ يُنْزِلْ؟ قَالَ: يَغْسِلُ مَا مَسَّ الْمَرْأَةَ مِنْهُ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وَيُصَلِّي} رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ، وَهَذَانِ الْحَدِيثَانِ فِي جَوَازِ الصَّلَاةِ بِالْوُضُوءِ بِلَا غُسْلٍ مَنْسُوخَانِ كَمَا سَبَقَ فِي بَابِ مَا يُوجِبُ الْغُسْلَ (3) .

--------------------------------------------

(1) المقصود بها ما يخرج مع الولد عند الولادة كما في قول الهيثمي المتقدم

(2) التجريد لنفع العبيد (حاشية البجيرمي على المنهج) > كتاب الطهارة > باب في النجاسة وإزالتها

(3) ينظر المجموع 2/136
আল-বুজাইরমি বলেন: "সারকথা এই যে, যোনিপথের আর্দ্রতা তিন প্রকার: (প্রথমত) নিশ্চিতভাবে পবিত্র (طاهرة), আর তা হলো সেই স্থানের আর্দ্রতা যা বসার সময় প্রকাশ পায় না, এবং গোসল ও শৌচকার্যের (এস্তেঞ্জা) সময় যা ধৌত করা ওয়াজিব। (দ্বিতীয়ত) নিশ্চিতভাবে অপবিত্র (نجسة), যা সহবাসকারীর লিঙ্গের পৌঁছানোর স্থানের চেয়েও অধিক ভেতরের অংশ থেকে নির্গত হয় (১)। (তৃতীয়ত) বিশুদ্ধতর (الأصح) মতানুযায়ী পবিত্র (طاهرة), যা সহবাসকারীর লিঙ্গ স্পর্শ করে; তবে কেউ কেউ বলেছেন যে এটি অপবিত্র (نجسة) কিন্তু ক্ষমাযোগ্য (معفو عنها)।" (২) তারা অপবিত্রতার (للنجاسة) স্বপক্ষে জায়েদ ইবনে খালিদ (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন যে, তিনি উসমান ইবনে আফফান (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "আপনার অভিমত কী, যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে কিন্তু বীর্যপাত না ঘটে?" উসমান (রা.) বললেন: "সে সালাতের ন্যায় অজু করবে এবং তার লিঙ্গ ধৌত করবে।" উসমান (রা.) আরও বলেন: "আমি এটি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট থেকে শুনেছি।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। বুখারি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, এরপর তিনি আলী ইবনে আবি তালিব, যুবাইর ইবনুল আওয়াম, তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ এবং উবাই ইবনে কাব (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তাঁরাও তাঁকে অনুরূপ নির্দেশই প্রদান করলেন। উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! যখন কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে সহবাস করে কিন্তু বীর্যপাত না করে (তখন করণীয় কী)?" তিনি বললেন: "নারীর শরীরের যে অংশ তার (পুরুষের) অঙ্গে লেগেছে তা সে ধৌত করবে, এরপর অজু করবে এবং সালাত আদায় করবে।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। গোসল ব্যতীত কেবল অজু করে সালাত আদায়ের বৈধতা সম্পর্কিত এই হাদিস দুটি রহিত (منسوخان), যেমনটি ইতিপূর্বে গোসল ওয়াজিব হওয়ার অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে (৩)।

--------------------------------------------

(1) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা সন্তান প্রসবের সময় সন্তানের সাথে নির্গত হয়, যেমনটি আল-হাইতামির পূর্বোক্ত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

(2) আত-তাজরিদ লি-নাফয়িল আবিদ (হাশিয়া আল-বুজাইরমি আলাল মানহাজ) > পবিত্রতা অধ্যায় > নাপাকি ও তা দূরীকরণ পরিচ্ছেদ

(3) দেখুন: আল-মাজমু ২/১৩৬
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَأَمَّا الْأَمْرُ بِغَسْلِ الذَّكَرِ وَمَا أَصَابَهُ مِنْهَا فَثَابِتٌ غَيْرُ مَنْسُوخٍ وَهُوَ ظَاهِرٌ فِي الْحُكْمِ بِنَجَاسَةِ رُطُوبَةِ الْفَرْجِ، وَالْقَائِلُ الْآخَرُ بِحَمْلِهِ عَلَى الِاسْتِحْبَابِ لَكِنْ مُطْلَقُ الْأَمْرِ لِلْوُجُوبِ عِنْدَ جُمْهُورِ الْفُقَهَاءِ" (1)

وقال في شرح مسلم: "وأجاب القائلون بنجاسة رطوبة فرج المرأة بجوابين:

أحدهما: جواب بعضهم أنه يمتنع استحالة الاحتلام منه صلى الله عليه وسلم وكونها من تلاعب الشيطان بل الاحتلام منه جائز صلى الله عليه وسلم وليس هو من تلاعب الشيطان بل هو فيض زيادة المنى يخرج في وقت.

والثاني أنه يجوز أن يكون ذلك المنى حصل بمقدمات جماع فسقط منه شيء على الثوب وأما المتلطخ بالرطوبة فلم يكن على الثوب " (2)

--------------------------------------------

(1) المجموع شرح المهذب / للنووي كتاب الطهارة / باب إزالة النجاسة /رطوبة فرج المرأة

(2) شرح النووي على صحيح مسلم ج3/ص198
আর পুরুষাঙ্গ এবং তাতে যা লেগেছে তা ধৌত করার নির্দেশটি সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابت), যা রহিত (منسوخ) নয়। এটি স্ত্রী-অঙ্গের আর্দ্রতা নাপাক (نجاسة) হওয়ার বিধানের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট (ظاهر)। অন্য মতাবলম্বীরা একে মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার ওপর প্রয়োগ করেছেন, তবে অধিকাংশ ফকিহদের (جمهور الفقهاء) নিকট যে কোনো সাধারণ নির্দেশই ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার দাবি রাখে।" (1)

শারহে মুসলিমে তিনি বলেছেন: "নারীর যৌনাঙ্গের আর্দ্রতাকে নাপাক (نجاسة) জ্ঞানকারীগণ দুটি উত্তর দিয়েছেন:

এক: তাদের কারো কারো উত্তর হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্বপ্নদোষ হওয়া অসম্ভব নয় এবং এটি শয়তানের প্ররোচনা থেকেও নয়; বরং তাঁর জন্য স্বপ্নদোষ হওয়া বৈধ (جائز) এবং এটি শয়তানের প্ররোচনা নয়, বরং তা বীর্যের অতিরিক্ত আধিক্য যা বিশেষ সময়ে নির্গত হয়।

দুই: এটি হতে পারে যে সেই বীর্য সহবাসের প্রারম্ভিক ক্রিয়ার ফলে নির্গত হয়েছিল এবং তার কিছু অংশ কাপড়ে লেগেছিল, তবে আর্দ্রতায় সিক্ত অংশটি কাপড়ে ছিল না।" (2)

--------------------------------------------

(1) আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব / নববী কৃত, কিতাবুত তাহারাত / নাপাকি দূরীকরণ অধ্যায় / নারীর যৌনাঙ্গের আর্দ্রতা

(2) সহিহ মুসলিমের শারহে নববী ৩য় খণ্ড/পৃষ্ঠা ১৯৮
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌القائلون بطهارة الرطوبة:

ذهب إلى القول بطهارة الرطوبةـ التي سبق تعريفهاـ الأحناف، قال أبو بكر الحدادي العبادي: … " وأما رطوبة الفرج فهي طاهرة عند أبي حنيفة كسائر رطوبات البدن " (1) ورجحه المحققون من الشافعية، قال النووي: " وَقَالَ الْبَغَوِيّ وَالرَّافِعِيُّ وَغَيْرُهُمَا: الْأَصَحُّ: الطَّهَارَةُ، وَقَالَ صَاحِبُ الْحَاوِي فِي بَابِ مَا يُوجِبُ الْغُسْلَ: نَصَّ الشَّافِعِيُّ رحمه الله فِي بَعْضِ كُتُبِهِ عَلَى طَهَارَةِ رُطُوبَةِ الْفَرْجِ، وَحُكِيَ التَّنْجِيسُ عَنْ ابْنِ سُرَيْجٍ فَحَصَلَ فِي الْمَسْأَلَةِ قَوْلَانِ مَنْصُوصَانِ لِلشَّافِعِيِّ، أَحَدُهُمَا مَا نَقَلَهُ الْمُصَنِّفُ، وَالْآخَرُ نَقَلَهُ صَاحِبُ الْحَاوِي، وَالْأَصَحُّ طَهَارَتُهُمَا" (2) .

--------------------------------------------

(1) ينظر هامش63، 64،، وينظر حاشية الطحطاويعلى مراقي الفلاح 1/64

(2) المجموع شرح المهذب / للنووي كتاب الطهارة / باب إزالة النجاسة /رطوبة فرج المرأة،، وينظرتحفة المحتاج في شرح المنهاج/للهيتمي كتاب أحكام الطهارة/ باب النجاسة وإزالتها،، ومغني المحتاج إلى معرفة ألفاظ المنهاج/ للخطيب كتاب الطهارة/ باب النجاسة،، وفتوحات الوهاب بتوضيح شرح منهج الطلاب المعروف بحاشية الجمل/ لسليمان الجمل كتاب الطهارة/ باب أركان التيمم،، وتحفة الحبيب على شرح الخطيب/ للبجيرمي كتاب بيان أحكام الطهارة / فصل فيما يطهر بدباغه، وفصل في موجب الغسل،، وأسنى المطالب/ باب الطهارة/ فصل في بيان النجاسة والماء النجس،، الغرر البهية في شرح البهجة الوردية/ لزكريا الأنصاري باب الطهارة فصل في بيان النجاسات وإزالتها،، حاشيتا قيلوبي وعميرة كتاب الطهارة باب النجاسة،، نهاية المحتاج إلى شرح المنهاج/ للرملي كتاب الطهارة /أنواع النجاسات،، وإعانة الطالبين 1/86 ونقل قول الإمام أحمد: سألت الشافعي عن القصة البيضاء فقال هو شيء يتبع دم الحيض فإذا رأته فهو طاهر.."،، وينظرالإقناع للشربيني 1/3،، والمنهج القويم 1/99،، وغاية البيان شرح زيد بن رسلان1/31،، منهاج الطالبين 1/6 نهاية الزين 1/40
আর্দ্রতা পবিত্র হওয়ার প্রবক্তাগণ:

হানাফীগণ আর্দ্রতা—যার সংজ্ঞা ইতোপূর্বে প্রদান করা হয়েছে—পবিত্র হওয়ার মত পোষণ করেছেন। আবু বকর আল-হাদ্দাদি আল-আব্বাদি বলেছেন: … "আর যৌনাঙ্গের আর্দ্রতা ইমাম আবু হানিফার নিকট শরীরের অন্যান্য আর্দ্রতার মতোই পবিত্র।" (১) শাফেঈ মাযহাবের গবেষকগণ একে প্রাধান্য দিয়েছেন। ইমাম নববী বলেছেন: "আল-বাগাওয়ী, আর-রাফেঈ এবং অন্যান্যরা বলেছেন: অধিকতর সঠিক মত হলো পবিত্রতা। আল-হাবি গ্রন্থের লেখক 'গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণ' অধ্যায়ে বলেছেন: ইমাম শাফেঈ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কোনো কোনো কিতাবে যৌনাঙ্গের আর্দ্রতা পবিত্র হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ইবনে সুরাইজ থেকে এটি অপবিত্র হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে; ফলে এ বিষয়ে ইমাম শাফেঈর দুটি সুস্পষ্ট বর্ণিত বক্তব্য পাওয়া যায়। একটি গ্রন্থকার বর্ণনা করেছেন এবং অন্যটি আল-হাবি গ্রন্থের লেখক বর্ণনা করেছেন। অধিকতর সঠিক মত হলো উভয়টিই পবিত্র।" (২) ।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: টীকা ৬৩, ৬৪; এবং দেখুন: হাশিয়াতুত তাহতাওয়ী আলা মারাকিল ফালাহ ১/৬৪

(২) আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব / ইমাম নববী, পবিত্রতা অধ্যায় / নাপাকি দূরীকরণ পরিচ্ছেদ / নারীর যৌনাঙ্গের আর্দ্রতা; এবং দেখুন: তুহফাতুল মুহতাজ ফী শারহিল মিনহাজ / হাইতামী, পবিত্রতার বিধান অধ্যায় / নাপাকি ও তা দূরীকরণ পরিচ্ছেদ; এবং মুগনীল মুহতাজ ইলা মা'রিফাতি আলফাযিল মিনহাজ / আল-খাতিব, পবিত্রতা অধ্যায় / নাপাকি পরিচ্ছেদ; এবং ফুতুহাতুল ওয়াহহাব বি-তাওদীহি শারহি মানহাজিত তুল্লাব যা হাশিয়াতুল জামাল নামে পরিচিত / সুলাইমান জামাল, পবিত্রতা অধ্যায় / তায়াম্মুমের রুকনসমূহ পরিচ্ছেদ; এবং তুহফাতুল হাবীব আলা শারহিল খাতিব / বুজাইরিমী, পবিত্রতার বিধান বর্ণনা অধ্যায় / চামড়া দাবাগাত করার পরিচ্ছেদ এবং গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ; এবং আসনী আল-মাতালিব / পবিত্রতা অধ্যায় / নাপাকি ও নাপাক পানি বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ; আল-গুরার আল-বাহিয়্যাহ ফী শারহিল বাহজাতিল ওয়ারদিয়্যাহ / যাকারিয়া আনসারী, পবিত্রতা অধ্যায়, নাপাকি ও তা দূরীকরণ বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ; হাশিয়াতা কলয়ুবী ওয়া উমাইরাহ, পবিত্রতা অধ্যায়, নাপাকি পরিচ্ছেদ; নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ / রামলী, পবিত্রতা অধ্যায় / নাপাকির প্রকারভেদ; এবং ইয়ানাতুত তালিবীন ১/৮৬, সেখানে ইমাম আহমদের উক্তি উদ্ধৃত হয়েছে: "আমি ইমাম শাফেঈকে সাদা স্রাব (আল-কাসসাহ আল-বায়দা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এটি এমন কিছু যা ঋতুরক্তের পরে আসে, সুতরাং যখন সে এটি দেখবে তখন সেটি পবিত্র..."; এবং দেখুন: আল-ইকনা লিশ শিরবিনী ১/৩; আল-মানহাজুল কায়্যিম ১/৯৯; গায়াতুল বায়ান শারহ যায়দ বিন রাসলান ১/৩১; মিনহাজুত তালিবীন ১/৬; নিহায়াতুয যাইন ১/৪০।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال:" وقد استدل جماعة من العلماء بهذا الحديث على طهارة رطوبة فرج المرأة وفيها خلاف مشهور عندنا وعند غيرنا والأظهر طهارتها وتعلق المحتجون بهذا الحديث بأن قالوا الاحتلام مستحيل في حق النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأنه من تلاعب الشيطان بالنائم فلا يكون المنى الذي على ثوبه صلى الله عليه وسلم إلا من الجماع ويلزم من ذلك مرور المنى على موضع أصاب رطوبة الفرج فلو كانت الرطوبة نجسة لتنجس بها المنى ولما تركه في ثوبه ولما اكتفى بالفرك " (1)

--------------------------------------------

(1) شرح النووي على صحيح مسلم ج3/ص198

তিনি বলেন: "একদল আলেম এই হাদিস দ্বারা নারীর যৌনাঙ্গের আর্দ্রতা পবিত্র (طهارة) হওয়ার সপক্ষে দলিল পেশ (استدلال) করেছেন। এ বিষয়ে আমাদের এবং অন্যদের নিকট প্রসিদ্ধ মতভেদ রয়েছে, তবে অধিকতর স্পষ্ট (الأظهر) মত হলো তা পবিত্র। যারা দলিল পেশ করেছেন তারা এই হাদিসটিকে এভাবে গ্রহণ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে স্বপ্নদোষ হওয়া অসম্ভব; কেননা এটি ঘুমন্ত ব্যক্তির সাথে শয়তানের ক্রীড়া মাত্র। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড়ে থাকা বীর্য সহবাস ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে আসা সম্ভব নয়। আর এর দ্বারা এটিই প্রমাণিত হয় যে, বীর্য এমন স্থান অতিক্রম করেছে যা যৌনাঙ্গের আর্দ্রতা স্পর্শ করেছিল। যদি সেই আর্দ্রতা অপবিত্র (نجسة) হতো, তবে বীর্যও তার সংস্পর্শে অপবিত্র (تنجس) হয়ে যেত এবং তিনি তা কাপড়ে রেখে দিতেন না কিংবা কেবল ঘষে পরিষ্কার করার ওপর যথেষ্ট মনে করতেন না।" (১)

--------------------------------------------

(১) শারহু নববী আলা সহিহ মুসলিম, খণ্ড ৩/পৃষ্ঠা ১৯৮
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وهو المشهور من مذهب الإمام أحمد، قال ابن قدامة:" وَالثَّانِي: طَهَارَتُهُ؛ لِأَنَّ عَائِشَةَ كَانَتْ تَفْرُكُ الْمَنِيَّ مِنْ ثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مِنْ جِمَاعٍ، فَإِنَّهُ مَا احْتَلَمَ نَبِيٌّ قَطُّ، وَهُوَ يُلَاقِي رُطُوبَةَ الْفَرْجِ، وَلِأَنَّنَا لَوْ حَكَمْنَا بِنَجَاسَةِ فَرْجِ الْمَرْأَةِ، لَحَكَمْنَا بِنَجَاسَةِ مَنِيِّهَا؛ لِأَنَّهُ يَخْرُجُ مِنْ فَرْجِهَا، فَيَتَنَجَّسُ بِرُطُوبَتِهِ. وَقَالَ الْقَاضِي: مَا أَصَابَ مِنْهُ فِي حَالِ الْجِمَاعِ فَهُوَ نَجِسٌ؛ لِأَنَّهُ لَا يَسْلَمُ مِنْ الْمَذْيِ، وَهُوَ نَجِسٌ. وَلَا يَصِحُّ التَّعْلِيلُ، فَإِنَّ الشَّهْوَةَ إذَا اشْتَدَّتْ خَرَجَ الْمَنِيُّ دُونَ الْمَذْيِ، كَحَالِ الِاحْتِلَامِ" (1)

وذهب لطهارة الرطوبة ابن حزم (2) ورجحه شيخنا محمد بن عثيمين رحمه الله (3) وشيخنا محمد ناصر الدين الألباني (4)

--------------------------------------------

(1) المغني كتاب الصلاة / باب الصلاة بالنجاسة وغير ذلك / مسألة ما خرج من الإنسان أو البهيمة التي لا / فصل رطوبة فرج المرأة،،وينظر الشرح الكبير1/153،، والمقنع 1/84،85،، وكشاف القناع على متن الإقناع للبهوتي كتاب الطهارة/ باب النجاسة الحكمية فصل لا يعفى عن يسير نجاسة ولو لم يدركها البصر،، ومطالب أولي النهى في شرح غاية المنتهى للرحيباني كتاب الطهارة/ باب إزالة النجاسة الحكمية،، والفروع لابن مفلح كتاب الطهارة/ باب التيمم/ فصل إذا تيمم لحدث،، ودقائق أولي النهى لشرح المنتهى المعروف بشرح منتهى الإرادات للبهوتي كتاب الطهارة /باب لإزالة النجاسة الحكمية/ فصل في النجاسات وما يعفى عنه،،والكافي 1/87

(2) المحلى 1/183مسألة139

(3) فتاوى المرأة المسلمة 1/224،، ودروس وفتاوى الحرم المكي 3/230،، الفتاوى الجامعة للمرأة المسلمة1/162

(4) أخذته عنه مشافهة بالهاتف عام 1407هـ
আর এটিই ইমাম আহমাদের মাযহাবের প্রসিদ্ধ (مشهور) মত। ইবনে কুদামা বলেন: "দ্বিতীয় মতটি হলো এর পবিত্রতা; কারণ আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাপড় থেকে বীর্য ঘষে পরিষ্কার করতেন এবং তা ছিল সহবাস জনিত বীর্য, কেননা কোনো নবী কখনও স্বপ্নদোষে আক্রান্ত হতেন না। আর এই বীর্য লজ্জাস্থানের আর্দ্রতার সংস্পর্শে আসত। এছাড়া যুক্তি হলো, যদি আমরা নারীর লজ্জাস্থানকে অপবিত্র হিসেবে গণ্য করতাম, তবে আমরা তার বীর্যকেও অপবিত্র হিসেবে গণ্য করতাম; কেননা তা তার লজ্জাস্থান থেকে নির্গত হয়, ফলে সেই স্থানের আর্দ্রতার মাধ্যমে তা অপবিত্র হয়ে যায়। কাজী (আবু ইয়ালা) বলেন: সহবাসের সময় যা নির্গত হয় তা অপবিত্র; কারণ তা মযি থেকে মুক্ত থাকে না, আর মযি হলো অপবিত্র। তবে এই যুক্তিটি সঠিক নয়, কেননা যখন কামভাব প্রবল হয় তখন মযি ছাড়াই বীর্য নির্গত হয়, যেমনটি স্বপ্নদোষের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।" (১)

আর লজ্জাস্থানের আর্দ্রতা পবিত্র হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন ইবনে হাযম (২) এবং একেই প্রাধান্য দিয়েছেন আমাদের শায়খ মুহাম্মদ বিন উসাইমিন (রহ.) (৩) ও আমাদের শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী (৪)

--------------------------------------------

(১) আল-মুগনি, কিতাবুস সালাত / পরিচ্ছেদ: অপবিত্রতাসহ সালাত ও অন্যান্য বিষয় / মাসআলা: মানুষ বা পশুর দেহ থেকে যা নির্গত হয় / অনুচ্ছেদ: নারীর লজ্জাস্থানের আর্দ্রতা। দ্রষ্টব্য: আশ-শারহুল কাবীর ১/১৫৩; আল-মুকনি ১/৮৪, ৮৫; আল-বাহুতির কাশশাফুল কিনা আলা মাতনিল ইকনা, কিতাবুত তাহারাহ / পরিচ্ছেদ: হুকমি অপবিত্রতা, অনুচ্ছেদ: স্বল্প পরিমাণ অপবিত্রতা যা চোখে দেখা যায় না তা ক্ষমাযোগ্য নয়; আর-রুহায়বানীর মাতালিবু উলিন-নুহা ফি শারহি গায়াতিল মুনতাহা, কিতাবুত তাহারাহ / পরিচ্ছেদ: হুকমি অপবিত্রতা দূরীকরণ; ইবনে মুফলিহের আল-ফুরু, কিতাবুত তাহারাহ / পরিচ্ছেদ: তায়াম্মুম / অনুচ্ছেদ: অপবিত্রতার কারণে তায়াম্মুম করলে; আল-বাহুতির দাকাইকু উলিন-নুহা লি-শারহিল মুনতাহা যা শারহু মুনতাহাল ইরাদাত নামে পরিচিত, কিতাবুত তাহারাহ / পরিচ্ছেদ: হুকমি অপবিত্রতা দূরীকরণ / অনুচ্ছেদ: অপবিত্রতা এবং যা ক্ষমাযোগ্য; এবং আল-কাফি ১/৮৭।

(২) আল-মুহাল্লা ১/১৮৩, মাসআলা ১৩৯

(৩) ফাতাওয়া আল-মারআহ আল-মুসলিমাহ ১/২২৪, এবং দুরুস ওয়া ফাতাওয়া আল-হারাম আল-মাক্কি ৩/২৩০, আল-ফাতাওয়া আল-জামিআহ লিল-মারআহ আল-মুসলিমাহ ১/১৬২

(৪) আমি এটি সরাসরি তাঁর কাছ থেকে ১৪০৭ হিজরি সালে টেলিফোনে মৌখিকভাবে গ্রহণ করেছি।
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
والذي يترجح عندي بعد عرض مذاهب الفقهاء وأدلتهم أن الرطوبة التي تكون مع الجماع نجسة لأنها مذي جاء النص على نجاسته كما مضى من حديث عثمان وأبي بن كعب رضي الله عنهما (1) أما ما لا يكون بشهوة فهو طاهر لما ذكر، ولأن الله تعالى سمى الحيض أذى وحرم إتيان الحائض لما يلازمها من الأذى وهو الدم النجس فلو كانت الرطوبة نجسة أيضا لما زال عنها الأذى ولما سميت طاهرة، والله تعالى سماها طاهرة حيث قال سبحانة: "وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ " (2)

‌‌2ـ هل تنقض الرطوبة الوضوء:

اختلف الفقهاء في الرطوبة هل تنقض الوضوء أم لا؟

فذهب ابن حزم إلى أن الرطوبة لا تنقض الوضوء قال: " لا ينقض الوضوء شيء غير ما ذكرنا، لا رعاف ولا دم سائل......ولا شيء يخرج من فرج المرأة من قصة بيضاء أو صفرة أو كدرة أو كغسالة اللحم...." وهو مذهب الشافعية في الرطوبة الظاهرة دون الباطنة، قال في تحفة المحتاج في شرح المنهاج في بيان أسباب الحدث الأصغر: " أو خرجت رطوبة فرجها إذا كانت من وراء ما يجب غسله يقينا وإلا فلا" (3) أي فلا تنقض وأشار إلى عدم نقضها للوضوء أيضا إذا قلنا يعفى عنها (4)

--------------------------------------------

(1) ينظر هامش 68

(2) سورة البقرة آية222

(3) كتاب الطهارة/ باب أسباب الحدث

(4) كتاب الطهارة/ باب التيمم /فصل في أركان التيمم
ফকীহগণের মাযহাবসমূহ এবং তাঁদের দলীলসমূহ পর্যালোচনার পর আমার নিকট যা অগ্রগণ্য (يترجح) বলে মনে হয় তা হলো, সহবাসের সময় যে আর্দ্রতা নির্গত হয় তা অপবিত্র (نجسة); কারণ তা হলো মজি (مذي), যার অপবিত্রতার (نجاسة) ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে যেমনটি উসমান ও উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর হাদিসে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। (১) পক্ষান্তরে যা কামভাব (شهوة) ব্যতিরেকে নির্গত হয়, তা ইতিপূর্বে বর্ণিত কারণে পবিত্র (طاهر)। কারণ আল্লাহ তাআলা ঋতুস্রাবকে কষ্টদায়ক (أذى) হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং ঋতুবতী স্ত্রীর নিকট গমন হারাম করেছেন তার সাথে লেগে থাকা কষ্টদায়ক বস্তুর কারণে, যা হলো অপবিত্র (النجس) রক্ত। সুতরাং যদি ওই আর্দ্রতাও অপবিত্র (نجسة) হতো তবে তার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর হতো না এবং তাকে পবিত্র (طاهرة) বলা হতো না। অথচ আল্লাহ তাআলা তাকে পবিত্র (طاهرة) হিসেবে নাম দিয়েছেন যখন তিনি সুবহানাহু বলেছেন: "এবং তারা তোমাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো, তা কষ্টদায়ক (أذى)। সুতরাং ঋতুকালীন সময়ে তোমরা স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকো এবং তারা পবিত্র (يطهرن) না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা উত্তমরূপে পবিত্রতা (تطهرن) অর্জন করবে তখন তাদের নিকট সেইভাবে আসো যেভাবে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের (المتطهرين) ভালোবাসেন।" (২)

‌‌২- আর্দ্রতা কি অজু ভঙ্গ (تنقض) করে?

আর্দ্রতা অজু ভঙ্গ (تنقض) করে কি না সে বিষয়ে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন।

ইবনে হাজম এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, আর্দ্রতা অজু ভঙ্গ (تنقض) করে না। তিনি বলেছেন: "আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ব্যতীত অন্য কিছু অজু ভঙ্গ (ينقض) করে না; নাক দিয়ে রক্ত পড়া (رعاف) নয়, প্রবাহিত রক্ত (دم سائل) নয়... এবং মহিলার লজ্জাস্থান থেকে নির্গত হওয়া সাদা স্রাব (قصة بيضاء), পীত বর্ণ (صفرة), ঘোলাটে বর্ণ (كدرة) কিংবা গোশত ধোয়া পানির মতো কোনো কিছু নয়...।" এটিই অভ্যন্তরীণ অংশ ব্যতীত বাহ্যিক আর্দ্রতার ক্ষেত্রে শাফেয়ি মাযহাবের অভিমত। তুহফাতুল মুহতাজ ফি শারহিল মিনহাজ গ্রন্থে ছোট অপবিত্রতার (الحدث الأصغر) কারণসমূহের বর্ণনায় বলা হয়েছে: "অথবা যদি তার লজ্জাস্থান থেকে আর্দ্রতা নির্গত হয় যখন তা নিশ্চিতভাবে ধোয়া ওয়াজিব এমন অংশের বহির্ভাগ থেকে হয়, নতুবা নয়।" (৩) অর্থাৎ তা অজু ভঙ্গ (تنقض) করবে না। তিনি অজু ভঙ্গ না হওয়ার প্রতি আরও ইঙ্গিত করেছেন যদি আমরা বলি যে তা ক্ষমার যোগ্য (يعفى عنها) বলে গণ্য হবে। (৪)

--------------------------------------------

(১) ৬৮ নং পাদটীকা দ্রষ্টব্য।

(২) সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২২২

(৩) কিতাবুত তাহারাহ/ বাব আসবাবুল হাদাস

(৪) কিতাবুত তাহারাহ/ বাবুত তায়াম্মুম/ ফাসলুন ফি আরকানিত তায়াম্মুম
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
لم أجد في كتب الأحناف (1) من اعتبر الرطوبة التي قالوا بطهارتها ناقضا بل الناقض عندهم خروج النجاسة من المخرج وليس خروج الطاهر، ودليل ذلك قول ابن الهمام في نواقض الوضوء:" فَإِنْ قِيلَ: الْكُلِّيَّةُ (يعني تعميم خروج النجاسة من المخرج) مُنْتَقِضَةٌ بِالرِّيحِ الْخَارِجِ مِنْ الذَّكَرِ وَالْقُبُلِ فَإِنَّ الْوُضُوءَ لَا يَنْتَقِضُ بِهِ فِي أَصَحِّ الرِّوَايَتَيْنِ: أُجِيبَ بِأَنَّهُ مَخْصُوصٌ مِنْ الْعُمُومِ ; لِأَنَّ الرِّيحَ لَا تَنْبَعِثُ مِنْ الذَّكَرِ ، وَإِنَّمَا هُوَ اخْتِلَاجٌ. وَالْقُبُلُ مَحَلُّ الْوَطْءِ لَيْسَ فِيهِ نَجَاسَةٌ تُنَجِّسُ الرِّيحَ بِالْمُرُورِ عَلَيْهَا وَهُوَ فِي نَفْسِهِ طَاهِرٌ عِنْدَ الْمُصَنِّفِ عَلَى مَا سَيَجِيءُ. وَوَجْهُ الِاسْتِدْلَالِ بِقَوْلِهِ تَعَالَى {أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنْ الْغَائِطِ} وَالْغَائِطُ: هُوَ الْمَكَانُ الْمُطْمَئِنُّ مِنْ الْأَرْضِ يَنْتَهِي إلَيْهِ الْإِنْسَانُ عِنْدَ إرَادَةِ قَضَاءِ الْحَاجَةِ تَسَتُّرًا أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى رَتَّبَ وُجُوبَ التَّيَمُّمِ عَلَى الْمَجِيءِ مِنْ الْغَائِطِ حَالَ عَدَمِ الْمَاءِ ، وَهُوَ لَازِمٌ لِخُرُوجِ النَّجِسِ. فَكَانَ كِنَايَةً عَنْ الْحَدَثِ لِكَوْنِهِ ذَكَرَ اللَّازِمَ ، وَأَرَادَ الْمَلْزُومَ ، وَالتَّرْتِيبُ يَدُلُّ عَلَى الْعِلِّيَّةِ ، وَإِذَا ثَبَتَ ذَلِكَ فِي التَّيَمُّمِ ثَبَتَ فِي الْوُضُوءِ لِمَا ذَكَرْنَا أَنَّ الْبَدَلَ لَا يُخَالِفُ الْأَصْلَ فِي السَّبَبِ " (2)

--------------------------------------------

(1) تم البحث عن طريق موسوعة جامع الفقه الإسلامي وهي تشمل 11 مصنفا في فقه الأحناف،، وموسوعة هبة الجزيرة ويشمل 16 مصنفا في فقه الأحناف أيضا.

(2) فتح القدير كتاب الطهارات/ فصل في نواقض الوضوء
আমি হানাফিগণের (১) কিতাবসমূহে এমন কাউকে পাইনি যারা সেই আর্দ্রতাকে ওজু ভঙ্গকারী (ناقض) হিসেবে গণ্য করেছেন যাকে তারা পবিত্র (طاهر) বলে অভিহিত করেছেন। বরং তাদের নিকট ওজু ভঙ্গকারী (ناقض) হলো অপবিত্র বস্তু (نجاسة) নির্গত হওয়া, পবিত্র বস্তু নির্গত হওয়া নয়। এর প্রমাণ হলো ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ সম্পর্কে ইবনুল হুমামের বক্তব্য: "যদি বলা হয়: এই সর্বজনীন নীতিটি (অর্থাৎ রাস্তা দিয়ে অপবিত্র বস্তু বের হওয়ার সাধারণ বিধান) লিঙ্গ বা যোনিপথ দিয়ে নির্গত বায়ুর মাধ্যমে ক্ষুণ্ণ হয়, কারণ বিশুদ্ধতর বর্ণনা (أصح الروايتين) অনুযায়ী এর মাধ্যমে ওজু ভঙ্গ হয় না। উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি সাধারণ বিধান (عموم) থেকে সুনির্দিষ্টভাবে আলাদা (مخصوص) করা হয়েছে; কারণ লিঙ্গ দিয়ে বায়ু নির্গত হয় না, বরং তা কেবল পেশির কম্পন মাত্র। আর যোনিপথ হলো সহবাসের স্থান, সেখানে এমন কোনো অপবিত্রতা (نجاسة) নেই যা এর ভেতর দিয়ে বায়ু অতিক্রান্ত হওয়ার সময় তাকে অপবিত্র করে দেবে। আর গ্রন্থকারের নিকট তা স্বয়ং পবিত্র (طاهر), যেমনটি সামনে আসবে। আর মহান আল্লাহর বাণী—{অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসলে}—এর মাধ্যমে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি হলো: 'গাইত' বলতে জমিনের সেই নিচু জায়গাকে বোঝায় যেখানে মানুষ প্রয়োজন পূরণের সময় আড়াল হওয়ার জন্য যায়। আল্লাহ তাআলা পানি না থাকা অবস্থায় শৌচাগার থেকে আসাকে তায়াম্মুম ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যা মূলত অপবিত্র বস্তু নির্গত হওয়ার আবশ্যিক ফলাফল। সুতরাং এটি হলো অপবিত্রতা (حدث)-এর একটি পরোক্ষ রূপক শব্দ (كناية); যেহেতু এখানে আবশ্যিক ফলাফল উল্লেখ করা হয়েছে এবং তদ্দ্বারা মূল কারণকে বোঝানো হয়েছে। আর এই ক্রমবিন্যাস কারণিকতা প্রমাণ করে। যখন তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে এটি প্রমাণিত হলো, তখন ওজুর ক্ষেত্রেও তা সাব্যস্ত হবে। কেননা আমরা উল্লেখ করেছি যে, স্থলাভিষিক্ত বস্তু কারণের ক্ষেত্রে তার মূলের বিরুদ্ধাচরণ করে না।" (২)

--------------------------------------------

(১) জামেউল ফিকহিল ইসলামি এনসাইক্লোপিডিয়ার মাধ্যমে অনুসন্ধান করা হয়েছে যা হানাফি ফিকহের ১১টি মূল গ্রন্থ অন্তর্ভুক্ত করে, এবং হিবাতুল জাজিরা এনসাইক্লোপিডিয়া যা হানাফি ফিকহের আরও ১৬টি গ্রন্থ অন্তর্ভুক্ত করে।

(২) ফাতহুল কাদির, কিতাবুত তাহারাত/ ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) মাসাইলু খাসসাহ বিল মারআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
قال ابن نجيم: "وَلَا يَرِدُ عَلَى الْمُصَنِّفِ الرِّيحُ الْخَارِجَةُ مِنْ الذَّكَرِ وَفَرْجِ الْمَرْأَةِ ، فَإِنَّهَا لَا تَنْقُضُ الْوُضُوءَ عَلَى الصَّحِيحِ ; لِأَنَّ الْخَارِجَ مِنْهُمَا اخْتِلَاجٌ ، وَلَيْسَ بِرِيحٍ خَارِجَةٍ ، وَلَوْ سُلِّمَ فَلَيْسَتْ بِمُنْبَعِثَةٍ عَنْ مَحَلِّ النَّجَاسَةِ وَالرِّيحُ لَا يَنْقُضُ إلَّا لِذَلِكَ لَا ; لِأَنَّ عَيْنَهَا نَجِسَةٌ ; لِأَنَّ الصَّحِيحَ أَنَّ عَيْنَهَا طَاهِرَةٌ" (1)

أما المالكية فاعتبروا نقض الوضوء بالحدث وهو الخارج المعتاد في الصحة قال خليل:"نقض الوضوء بحدث، وهو الخارج المعتاد في الصحة لا حصى ودود ولو ببلة، وبسلس فارق أكثر، كسلس مذي قدر على رفعه" (2) قال الخرشي:" وَأَخْرَجَ بِقَوْلِهِ: الْمُعْتَادُ مِنْ بَوْلٍ وَوَدْيٍ وَرِيحٍ مَا لَيْسَ مُعْتَادًا كَالْحَصَى وَالدُّودِ وَلَوْ كَانَ عَلَيْهِمَا أَذًى وَالرِّيحَ مِنْ قُبُلٍ وَلَوْ قُبُلَ امْرَأَةٍ لِأَنَّهُ كَالْجُشَاء" (3)

--------------------------------------------

(1) البحر الرائق شرح كنز الدقائق كتاب الطهارة/ أحكام الوضوء/نواقض الوضوء،، وينظر المبسوط1/82،، ورد المحتارعلى الدر المختاركتاب الطهارة/ سنن الوضوء

(2) مختصر خليل ص 13ا

(3) شرح مختصر خليل للخرشي كتاب الطهارة / نواقض الوضوء، وينظر فتح الجليل شرح مختصر خليل كتاب الطهارة/ باب نواقض الوضوء، وبلغة السالك لأقرب المسالك للصاوي باب في بيان الطهارة/ فصل في نواقض الوضوء باب الحدث، وحاشية الدسوقي على الشرح الكبير / محمد بن عرفة الدسوقي أحكام الطهارة/ فصل نواقض الوضوء. وينظر مواهب الجليل كتاب الطهارة/ فصل نواقض الوضوء.
ইবনে নুজাইম বলেন: "পুরুষের লিঙ্গ এবং নারীর যোনিপথ থেকে নির্গত বায়ু গ্রন্থকারের ওপর কোনো আপত্তি উত্থাপন করে না। কারণ বিশুদ্ধ (الصحيح) অভিমত অনুযায়ী এটি অজু ভঙ্গ করে না; কেননা এই উভয় পথ থেকে যা নির্গত হয় তা মূলত এক প্রকার স্পন্দন মাত্র, এটি প্রকৃতপক্ষে নির্গত বায়ু নয়। আর যদি একে বায়ু হিসেবে মেনেও নেওয়া হয়, তবুও তা নাপাকির স্থান থেকে উদ্ভূত হয় না। আর বায়ু কেবল বায়ু হওয়ার কারণেই অজু ভঙ্গ করে না, বরং নাপাকির স্থান থেকে বের হওয়ার কারণে করে; কারণ বিশুদ্ধ (الصحيح) অভিমত হলো যে, বায়ুর মূল সত্তা পবিত্র।" (১)

পক্ষান্তরে মালিকিগণ অজু ভঙ্গের কারণ হিসেবে 'হাদাস' (حدث) বা অপবিত্রতাকে গণ্য করেছেন, যা সুস্থ অবস্থায় সাধারণত নির্গত হয়। খলিল বলেন: "অজু ভঙ্গ হয় 'হাদাস' (حدث) বা অপবিত্রতার মাধ্যমে, যা সুস্থ অবস্থায় সাধারণত নির্গত হয়; পাথর বা কৃমি নির্গত হলে অজু ভঙ্গ হবে না, যদিও তা সিক্ত থাকে। আর এমন অবিরাম নিঃসরণের মাধ্যমে যা অধিকাংশ সময় বিচ্ছিন্ন থাকে, যেমন মযি-র অবিরাম নিঃসরণ যা বন্ধ করতে ব্যক্তি সক্ষম।" (২) আল-খারশি বলেন: "তিনি 'স্বাভাবিক' (المعتاد) বলার মাধ্যমে প্রস্রাব, ওয়াদি ও বায়ুর মতো বিষয়গুলো থেকে অস্বাভাবিক বিষয়গুলোকে বাদ দিয়েছেন, যেমন পাথর ও কৃমি—যদিও সেগুলোর সাথে অপবিত্রতা লেগে থাকে। তদ্রূপ সামনের পথ থেকে নির্গত বায়ুও এর অন্তর্ভুক্ত, এমনকি তা নারীর সামনের পথ দিয়ে হলেও, কারণ এটি ঢেকুরের মতো।" (৩)

--------------------------------------------

(১) আল-বাহরুর রায়েক শারহু কানযুদ দাকায়িক, কিতাবুত তাহারাত/ আহকামুল অজু/ নাওয়াকিদুল অজু; আরও দ্রষ্টব্য: আল-মাবসুত ১/৮২, এবং রাদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার, কিতাবুত তাহারাত/ সুনানুল অজু।

(২) মুখতাসারু খলিল, পৃষ্ঠা ১৩।

(৩) শারহু মুখতাসারি খলিল লিল খারশি, কিতাবুত তাহারাত/ নাওয়াকিদুল অজু; আরও দ্রষ্টব্য: ফাতহুল জলিল শারহু মুখতাসারি খলিল, কিতাবুত তাহারাত/ বাবু নাওয়াকিদিল অজু; এবং আস-সায়ি প্রণীত বুলগাতুস সালিক লি আকরাবিল মাসালিক, তাহারাত অধ্যায়/ অজু ভঙ্গকারী বিষয়াবলি সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ/ হাদাস অনুচ্ছেদ; এবং মুহাম্মাদ ইবনে আরাফা আদ-দুসুকি প্রণীত হাশিয়াতুদ দুসুকি আলাশ শারহিল কাবির, তাহারাতের বিধান/ অজু ভঙ্গকারী বিষয়াবলির অনুচ্ছেদ। আরও দ্রষ্টব্য: মাওয়াহিবুল জলিল, কিতাবুত তাহারাত/ অজু ভঙ্গকারী বিষয়াবলির অনুচ্ছেদ।