(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: -)
الكرم والجود للبرجلاني   (البرجلاني)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الكرم والجود وسخاء النفوس

المؤلف: أبو جعفر محمد بن الحسين البُرْجُلاني (ت 238هـ)

المحقق: د. عامر حسن صبري

الناشر: دار ابن حزم - بيروت

الطبعة: الثانية، 1412

عدد الصفحات: 58

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-কারাম ওয়াল জূদ লিল-বুরজুলানি   (আল-বুরজুলানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: আল-কারাম ওয়াল জূদ ওয়া সাখাউল নুফূস

গ্রন্থকার: আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-বুরজুলানি (মৃত্যু ২৩৮ হি.)

তাহকীক: ড. আমির হাসান সাবরি

প্রকাশক: দার ইবনে হাযম - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪১২

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ২৯)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الصَّالِحُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ سُلْمَانَ الْإِرْبِلِيُّ قِرَاءَةً، وَأَنَا أَسْمَعُ فِي يَوْمِ الْأَحَدِ ثَامِنِ عَشْرَ ذِي الْحِجَّةِ مِنْ سَنَةِ ثَلِاثٍ وَسِتِّمِائَةٍ، فَأَقَرَّ بِهِ، وَقَالَ: نَعَمْ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَسَاكِرِ بْنِ الْمُرَحَّبِ الْبَطَائِحِيُّ النَّحْوِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ فِي مَسْجِدِ الشَّيْخِ أَبِي الْفَضْلِ أَحْمَدَ بْنِ صَالِحٍ وَحُضُورِهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الثِّقَةُ الْأَمِينُ أَبُو طَالِبٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْقَادِرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ مُحَمَّدٍ رحمه الله قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ عِلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيُّ قِرَاءَةُ عَلَيْهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ الدَّقَّاقُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْعَسْكَرِيِّ رحمه الله قِرَاءَةً عَلَيْهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ مَسْرُوقٍ قَالَ:

 

1 - حَدَّثَنَا أَبُو شَيْخٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْبُرْجُلَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: ثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ عَجْلَانَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ صَالِحَ الْأَخْلَاقِ»
সৎ শায়খ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুসলিম ইবনে সালমান আল-ইরবিলি পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর আমি ৬০৩ হিজরি সনের ১৮ই জিলহজ, রবিবার দিন তা শুনছিলাম; তিনি এটি স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: হ্যাঁ। তিনি বলেন: আবুল হাসান আলি ইবনে আসাকির ইবনে আল-মুরাহহাব আল-বাতাইহি আন-নাহবি আমার পাঠ করার মাধ্যমে এবং তাঁর উপস্থিতিতে শায়খ আবু ফজল আহমদ ইবনে সালিহ-এর মসজিদে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত শায়খ আবু তালিব আবদুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কাছে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মদ আল-জাওহারি তাঁর কাছে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আদ-দাক্কাক, যিনি ইবনুল আসকারি (রহিমাহুল্লাহ) নামে পরিচিত, তাঁর কাছে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মাসরুক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

 

১ - আবু শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-বুরজুলানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে মানসুর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আজলান কায়কা ইবনে হাকিম থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে আমার কাছে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমি কেবল উত্তম চারিত্রিক গুণাবলিকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্যই প্রেরিত হয়েছি»
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩০)
2 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ: ثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: سَمِعْتُ قَتَادَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ مَوْلًى، لِآلِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ يُحَدِّثُ ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: كَانَ نَبِيُّ اللَّهِ‌‌ أَشَدَّ حَيَاءً مِنْ جَارِيَةٍ عَذْرَاءَ فِي خِدْرِهَا ، وَكَانَ إِذَا كَرِهَ أَمْرًا عُرِفَ ذَلِكَ فِي وَجْهِهِ
২ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট রাওহ ইবনে উবাদাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কাতাদাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিকের পরিবারের জনৈক আযাদকৃত দাসকে আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর নবী পর্দানশীন কুমারী কন্যার চেয়েও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। যখন তিনি কোনো কিছু অপছন্দ করতেন, তখন তা তাঁর চেহারায় ফুটে উঠত।
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩০)
3 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ سَلْمٍ الْعَلَوِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‌‌ لَا يُوَاجِهُ أَحَدًا فِي وَجْهِهِ بِشَيْءٍ يَكْرَهُهُ
৩ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সুলাইমান ইবনে হারব বর্ণনা করেছেন, তিনি হাম্মাদ থেকে, তিনি সালম আল-আলাভি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারো সামনে সরাসরি তার মুখে এমন কিছু বলতেন না যা সে অপছন্দ করত।
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩১)
4 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ الْقَرْنِيُّ، قَالَ: ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيُّ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ بَابَنُوسَ، قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى عَائِشَةَ رضي الله عنها فَقُلْنَا: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ ، كَيْفَ كَانَ خُلُقُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَتِ:‌‌ الْقُرْآنُ ، ثُمَّ قَالَتْ: أَتَقْرَأُونَ سُورَةَ الْمُؤْمِنِينَ؟ قُلْنَا: نَعَمْ ، قَالَتْ: {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ} [المؤمنون: 1] حَتَّى بَلَغَتْ: {وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ} [المعارج: 34] قَالَتْ: كَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
৪ - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবনে ইয়াযীদ আল-কারনী আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবনে সুলাইমান আদ-দুবায়ী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু ইমরান আল-জাওনী থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে বাবানুস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট প্রবেশ করলাম এবং বললাম: হে উম্মুল মুমিনীন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চরিত্র কেমন ছিল? তিনি বললেন: কুরআন, তারপর তিনি বললেন: তোমরা কি সূরা আল-মুমিনুন পাঠ করো? আমরা বললাম: হ্যাঁ, তিনি বললেন: {নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে} [সূরা আল-মুমিনুন: ১] থেকে {এবং যারা তাদের সালাতের হিফাযত করে} [সূরা আল-মাআরিজ: ৩৪] পর্যন্ত। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমনই ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩১)
5 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَنْصَارِيُّ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ أَبِي الرِّجَالِ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: سَأَلْنَاهَا: كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَلَا مَعَ نِسَائِهِ؟ قَالَتْ: كَانَ‌‌ كَرَجُلٍ مِنْ رِجَالِكُمْ ، كَانَ كَأَحْسَنِ النَّاسِ خُلُقًا ، وَأَكْرَمِهِمْ كَرْمًا
৫ - মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি বুকাইর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মূসা ইবনে মুহাম্মাদ আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারিসাহ ইবনে আবিুর রিজাল থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাঁর স্ত্রীদের সাথে নিভৃতে থাকতেন তখন কেমন ছিলেন? তিনি বললেন: তিনি ছিলেন তোমাদের পুরুষদের মধ্য হতে একজন সাধারণ পুরুষের মতো; তিনি ছিলেন চরিত্রের দিক থেকে মানুষের মাঝে সর্বোত্তম এবং মহানুভবতায় তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩২)
6 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْبُرْجُلَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: ثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ، قَالَ: قُلْتُ لِعَائِشَةَ: كَيْفَ كَانَ خُلُقُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أَهْلِهِ؟ قَالَتْ: كَانَ‌‌ أَحْسَنَ النَّاسِ خُلُقًا ، لَمْ يَكُنْ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا ، وَلَا صَخَّابًا فِي الْأَسْوَاقِ ، وَلَا يَجْزِي بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ ، وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَصْفَحُ
৬ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-বুরজুলানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াযিদ ইবনে হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট যাকারিয়া ইবনে আবি যাইদাহ বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-জাদালি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম: তাঁর পরিবারে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চরিত্র কেমন ছিল? তিনি বললেন: তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে চরিত্রের দিক থেকে সর্বোত্তম; তিনি অশ্লীলভাষী ছিলেন না, অশ্লীল আচরণকারীও ছিলেন না, এবং বাজারে শোরগোলকারী ছিলেন না। তিনি মন্দের বিনিময়ে মন্দ প্রদান করতেন না, বরং তিনি ক্ষমা করতেন ও উপেক্ষা করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩২)
7 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: ثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَأَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّ لِي ذَوِي أَرْحَامٍ ، أَصِلُ وَيَقْطَعُونَ ، وَأَعْفُو وَيَظْلِمُونَ ، وَأُحْسِنُ وَيُسِيئُونَ ، أَفَأُكَافِئُهُمْ؟ قَالَ: ‌‌«لَا ، إِذًا يُتْرَكُوا ، وَلَكِنِ اعْفُ عَنْهُمْ وَاصْفَحْ ، وَأَحْسِنْ»
৭ - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযীদ ইবনে হারূন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ ইবনে আরতাত আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, নিশ্চয়ই আমার এমন কিছু আত্মীয়-স্বজন আছে যাদের সাথে আমি সুসম্পর্ক বজায় রাখি কিন্তু তারা তা ছিন্ন করে, আমি তাদের ক্ষমা করি কিন্তু তারা আমার প্রতি জুলুম করে, আমি তাদের সাথে সদাচরণ করি কিন্তু তারা আমার সাথে মন্দ আচরণ করে; আমি কি তাদের সাথে অনুরূপ বিনিময় করব? তিনি বললেন: «না, তবে তো তারা পরিত্যক্ত হবে; বরং তুমি তাদের ক্ষমা করো, মার্জনা করো এবং সদাচরণ করো»
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
8 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ: ثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: ثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيَّ، يَقُولُ: سَأَلْتُ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ عَائِشَةَ عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَتْ:‌‌ لَمْ يَكُنْ فَاحِشًا ، وَلَا مُتَفَحِّشًا ، وَلَا صَخَّابًا فِي الْأَسْوَاقِ ، وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَصْفَحُ
৮ - মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাওহ ইবনে উবাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু’বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ আল-জাদালিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুমিনদের জননী আয়িশাকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন: তিনি অশ্লীলভাষী ছিলেন না, কটুভাষী ছিলেন না এবং বাজারে শোরগোলকারীও ছিলেন না; বরং তিনি ক্ষমা করতেন ও উপেক্ষা করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
9 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَسْرُوقٍ، قَالَ: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، - قَالَ يَزِيدُ: لَا أَعْلَمُهُ إِلَّا عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنِّي أُحِبُّ الْحَمْدَ ، أَيْ أُحِبُّ الْحَمْدَ ، كَأَنَّهُ يَخَافُ عَلَى نَفْسِهِ ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«وَمَا يَمْنَعُكَ أَنْ تُحِبَّ أَنْ تَعِيشَ حُمَيْدًا ، وَتَمُوتَ فَقِيدًا ، وَإِنَّمَا بُعِثْتُ عَلَى مَحَاسِنِ الْأَخْلَاقِ»
৯ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে মাসরুক, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ ইবনে হারুন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর, আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি হুসাইন থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণনা করেন, - ইয়াযীদ বলেন: আমি এটি আবদুর রহমান ইবনে গানম ব্যতীত অন্য কোনো সূত্রে জানি না, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমি তো প্রশংসা পছন্দ করি, অর্থাৎ আমি প্রশংসা পেতে ভালোবাসি; মনে হচ্ছিল তিনি নিজের ব্যাপারে (লোকদেখানোর) ভয় পাচ্ছিলেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: «আর তোমাকে কিসে বাধা দেয় যে, তুমি প্রশংসিত হয়ে বেঁচে থাকতে এবং বিচ্ছেদ অনুভূত হয় (যাকে মানুষ স্মরণ করবে) এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে পছন্দ করবে? আমি তো কেবল উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।»
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
10 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا قَبِيصَةُ بْنُ عُقْبَةَ، قَالَ: ثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ:‌‌ مَا سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا قَطُّ فَقَالَ لَا
১০ - মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাবীসাহ ইবনে উকবাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কখনও এমন কিছু চাওয়া হয়নি যার উত্তরে তিনি ‘না’ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
11 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: ثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَأَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ سُحَيْمٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَرِيزٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل‌‌ جَوَادٌ يُحِبُّ الْجُودَ ، وَيُحِبُّ مَعَالِيَ الْأَخْلَاقِ ، وَيَكْرَهُ سَفْسَافَهَا»
১১ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে হারুন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ ইবনে আরতাত, সুলায়মান ইবনে সুহাইম থেকে, তিনি তালহা ইবনে উবায়দিল্লাহ ইবনে কারিজ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী পরম দাতা, তিনি বদান্যতা পছন্দ করেন; তিনি উন্নত চরিত্র পছন্দ করেন এবং নিকৃষ্ট চরিত্র অপছন্দ করেন।»
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
12 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ بِشْرِ بْنِ سَلْمٍ، قَالَ: ثَنَا الْمُعَافَى بْنُ عِمْرَانَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ إِلْيَاسَ، عَنْ مُهَاجِرِ بْنِ مِسْمَارٍ، قَالَ: أَشْهَدُ لَحَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ‌‌ طَيِّبٌ يُحِبُّ الطَّيِّبَ ، نَظِيفٌ يُحِبُّ النَّظَافَةَ ، كَرِيمٌ يُحِبُّ الْكَرَمَ ، جَوَادٌ يُحِبُّ الْجُودَ ، فَنَظِّفُوا أَفْنِيَتَكُمْ ، وَلَا تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ ، تَجْمَعُ الْأَكْبَاءَ فِي دُورِهِمْ»
12 - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-হাসান ইবনু বিশর ইবনু সালম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-মুআফা ইবনু ইমরান বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনু ইলিয়াস থেকে, তিনি মুহাজির ইবনু মিসমার থেকে, তিনি বলেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমির ইবনু সা’দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সা’দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ‌‌ পবিত্র, তিনি পবিত্রতা পছন্দ করেন; পরিচ্ছন্ন, তিনি পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন; মহানুভব, তিনি মহানুভবতা পছন্দ করেন; দানশীল, তিনি দানশীলতা পছন্দ করেন; অতএব তোমরা তোমাদের আঙিনাগুলো পরিচ্ছন্ন রাখো, এবং ইয়াহুদিদের সদৃশ হয়ো না, যারা তাদের বাড়িতে ময়লা-আবর্জনা জমা করে রাখে।»
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
13 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: ثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي بَزَّةَ، عَنْ عَطَاءٍ الْكَيْخَارَانِيِّ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا مِنْ شَيْءٍ يُوضَعُ فِي الْمِيزَانِ أَفْضَلَ مِنْ خُلُقٍ حَسَنٍ»
১৩ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াযীদ ইবনে হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু'বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি কাসেম ইবনে আবি বাযযাহ হতে, তিনি আতা আল-কাইখারানি হতে, তিনি উম্মুদ দারদা হতে, তিনি আবু দারদা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মিযানে রাখা হয় এমন কোনো বস্তুই উত্তম চরিত্রের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ নয়»
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
14 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ بِشْرِ بْنِ سَلْمٍ، قَالَ: ثَنَا الْحَكَمُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، قَالَ: قُلْتُ لِعَائِشَةَ رضي الله عنها: أَخْبِرِينِي عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَتْ:‌‌ أَوَمَا تَقْرَأُ الْقُرْآنَ؟ قُلْتُ: بَلَى ، قَالَتْ: قَوْلُهُ {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم: 4]
১৪ - মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান ইবনে বিশর ইবনে সালম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাকাম ইবনে আবদুল মালিক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ থেকে, তিনি যুরারাহ ইবনে আওফা থেকে, তিনি সা’দ ইবনে হিশাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে বললাম: আমাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চরিত্র সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: তুমি কি কুরআন পাঠ করো না? আমি বললাম: অবশ্যই করি। তিনি বললেন: তাঁর বাণী {আর নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের অধিকারী} [আল-কালাম: ৪]
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
15 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ الْأَسَدِيُّ، قَالَ: ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْعُمَرِيُّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ‌‌ الرَّجُلَ لِيَبْلُغُ بِحُسْنِ خُلُقِهِ دَرَجَةَ الصَّائِمِ الْقَائِمِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ»
১৫ - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম আল-আসাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আল-উমরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই ব্যক্তি তার উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে আল্লাহর পথে সিয়াম পালনকারী ও (রাতে ইবাদতে) দণ্ডায়মান ব্যক্তির স্তরে পৌঁছে যায়।»
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
16 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ: ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ غِيَاثٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَقِيقٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَيُّ شَيْءٍ أَفْضَلُ؟ قَالَ: ‌‌«حُسْنُ الْخُلُقِ» - مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا -
১৬ - আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে রাওহ বিন উবাদাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে উসমান বিন গিয়াস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবদুল্লাহ বিন শাকিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, কোন জিনিসটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: «উত্তম চরিত্র» - দুইবার বা তিনবার -
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
17 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ الْمَكِّيُّ، قَالَ: ثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ، أَنَّ نَفَرًا أَرَادُوا سَفَرًا ، فَأَتَوْا عَائِشَةَ رضي الله عنها ، فَقَالُوا: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ ، مَنْ يَؤُمُّنَا؟ قَالَتْ:‌‌ أَقْرَأُكُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ جَلَّ وَعَزَّ ، قَالُوا: كُلُّنَا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءٌ ، قَالَتْ: أَعْلَمُكُمْ بِالسُّنَّةِ ، قَالُوا: كُلُّنَا فِي السُّنَّةِ سَوَاءٌ ، قَالَتْ: فَأَقْدَمُكُمْ هِجْرَةً ، قَالُوا: كُلُّنَا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءٌ ، قَالَتْ: فَأَحْسَنُكُمْ خُلُقًا
১৭ - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে হারব আল-মাক্কী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লাইস ইবনে সাদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে বর্ণনা করেন যে, একদল লোক সফরে বের হওয়ার ইচ্ছা করলেন, অতঃপর তারা আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট এসে বললেন: হে মুমিন জননী, আমাদের ইমামতি কে করবেন? তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে যিনি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর কিতাব পাঠে সবচেয়ে পারদর্শী। তারা বললেন: কিরাতের ক্ষেত্রে আমরা সবাই সমান। তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে সুন্নাহ সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী। তারা বললেন: সুন্নাহর ক্ষেত্রেও আমরা সবাই সমান। তিনি বললেন: তবে তোমাদের মধ্যে হিজরতে যে অগ্রগামী। তারা বললেন: হিজরতের ক্ষেত্রেও আমরা সবাই সমান। তিনি বললেন: তবে তোমাদের মধ্যে যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
18 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا سُرَيْجٌ، قَالَ: ثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي مُصْعَبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«اطْلُبُوا الْحَوَائِجَ إِلَى حِسَانِ الْوجُوهِ»
১৮ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুরাইজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন আব্দুল হামীদ ইবনে জাফর থেকে, তিনি আবু মুসআব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «সুন্দর চেহারা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিকট তোমাদের প্রয়োজনসমূহ তালাশ করো»
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
19 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَلِيلِ بْنُ عَطِيَّةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، قَالَتْ: قَامَ أَبُو الدَّرْدَاءِ يُصَلِّي ، فَجَعَلَ يَبْكِي وَيَقُولُ: اللَّهُمَّ حَسَّنْتَ خَلْقِي ، فَحَسِّنْ خُلْقِي ، حَتَّى أَصْبَحَ ، قَالَتْ أُمُّ الدَّرْدَاءِ: فَقُلْتُ: يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ ، مَا كَانَ دُعَاؤُكَ اللَّيْلَةَ إِلَّا فِي حُسْنِ الْخُلُقِ ، فَقَالَ: يَا أُمَّ الدَّرْدَاءِ ، إِنَّ‌‌ الْعَبْدَ الْمُسْلِمَ يُحَسِّنُ خُلُقَهُ حَتَّى يُدْخِلَهُ حُسْنُ خُلُقِهِ الْجَنَّةَ ، وَإِنَّهُ لَيُسِيءُ خُلُقَهُ حَتَّى يُدْخِلَهُ سُوءُ خُلُقِهِ النَّارَ
১৯ - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল জলীল ইবনে আতিয়্যা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: শাহর ইবনে হাওশাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, উম্মুদ দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু দারদা (রা.) সালাত আদায় করতে দাঁড়িয়েছিলেন, অতঃপর তিনি কাঁদতে লাগলেন এবং বলছিলেন: হে আল্লাহ! আপনি আমার সৃষ্টি সুন্দর করেছেন, সুতরাং আমার চরিত্রকেও সুন্দর করে দিন। এভাবে ভোর হয়ে গেল। উম্মুদ দারদা (রা.) বলেন: আমি বললাম: হে আবু দারদা! আজ রাতে আপনার দোয়া কেবল সুন্দর চরিত্র লাভের বিষয়েই ছিল। তখন তিনি বললেন: হে উম্মুদ দারদা! নিশ্চয়ই একজন মুসলিম বান্দা তার চরিত্রকে সুন্দর করে, এমনকি তার সুন্দর চরিত্রই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করায়। আর নিশ্চয়ই সে তার চরিত্রকে মন্দ করে, এমনকি তার মন্দ চরিত্রই তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করায়।
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
20 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، قَالَ: ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، عَنْ عِمْرَانَ الْبَصْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: خَدَمْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَشْرَ سِنِينَ ، فَمَا أَمَرَنِي بِشَيْءٍ قَطُّ فَتَوَانَيْتُ فِيهِ أَوْ ضَيَّعْتُهُ فَلَامَنِي فِيهِ فَإِنْ لَامَنِي أَحَدٌ مِنْ أَهْلِهِ قَالَ: ‌‌«دَعُوهُ ، فَلَوْ قُدِّرَ أَنْ يَكُونَ لَكَانَ»
২০ - মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবনে বুরকান ইমরান আল-বসরী থেকে এবং তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি দশ বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমত করেছি। তিনি আমাকে এমন কোনো নির্দেশ দেননি যাতে আমি অলসতা করেছি বা তা অবহেলা করেছি আর তিনি সেজন্য আমাকে তিরস্কার করেছেন। যদি তাঁর পরিবারের কেউ আমাকে তিরস্কার করত, তবে তিনি বলতেন: «তাকে ছেড়ে দাও, কারণ যা হওয়ার নির্ধারিত ছিল তা অবশ্যই ঘটত»
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
21 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، ثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي كَثِيرٍ الزُّبَيْدِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ‌‌ لَا يُحِبُّ الْفُحْشَ وَلَا التَّفَحُّشَ»
২১ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট জুহাইর বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে, তিনি আবু কাসীর আজ-জুবাইদী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীলতা ও কটুভাষিতা পছন্দ করেন না।»
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৪০)
22 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى {خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ} [الأعراف: 199] قَالَ: ‌‌«خُذْ مَا عَفَا مِنْ مَحَاسِنِ أَخْلَاقِ النَّاسِ»
২২ - মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনু সালামাহ থেকে, তিনি হিশাম ইবনু উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী {আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন এবং সৎকাজের নির্দেশ দিন} [আল-আরাফ: ১৯৯] প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «মানুষের সচ্চরিত্রের যা কিছু সহজসাধ্য (স্বতঃস্ফূর্ত), তা গ্রহণ করো»
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৪০)
23 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ: ثَنَا عَوْفٌ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "‌‌ قَالَ دَاوُدُ عليه السلام لِابْنِهِ سُلَيْمَانَ عليهما السلام: يَا بُنَيَّ ، أَيُّ شَيْءٍ أَبْرَدُ؟ قَالَ: عَفْوُ اللَّهِ عَنِ الْعِبَادِ ، وَعَفْوُ الْعِبَادِ بَعْضِهِمْ عَنْ بَعْضٍ "
২৩ - মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাওহ ইবনে উবাদাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আওফ হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "‌‌দাউদ আলাইহিস সালাম তাঁর পুত্র সুলাইমান আলাইহিস সালামকে বললেন: হে বৎস, কোন বস্তু শীতলতম? তিনি বললেন: বান্দাদের প্রতি আল্লাহর ক্ষমা এবং একে অপরের প্রতি বান্দাদের ক্ষমা।"
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৪০)
24 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: ثَنَا أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ سُلَيْمٍ، مَوْلَى لَيْثٍ - وَكَانَ قَدِيمًا ، أَدْرَكَ أُسَامَةَ وَمَرْوَانَ - قَالَ: مَرَّ مَرْوَانُ بِأُسَامَةَ وَهُوَ يُصَلِّي ، فَحَكَاهُ ، فَقَالَ أُسَامَةُ: يَا مَرْوَانُ ، إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ‌‌ لَا يُحِبُّ كُلَّ فَاحِشٍ مُتَفَحِّشٍ»
২৪ - মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হুসাইন বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মা'শার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুলাইম থেকে, যিনি লাইসের মুক্তদাস ছিলেন—তিনি প্রাচীন ছিলেন এবং উসামা ও মারওয়ানকে পেয়েছিলেন—তিনি বলেন: মারওয়ান উসামার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তাকে (ব্যঙ্গার্থে) অনুকরণ করলেন। তখন উসামা বললেন: হে মারওয়ান, আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই আল্লাহ‌‌ কোনো অশ্লীলভাষী ও কটুভাষীকে পছন্দ করেন না।»
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৪১)
25 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ: ثَنَا عَوْفٌ، وَهِشَامٌ، عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ‌‌ الْحَيَاءَ مِنَ الْإِيمَانِ ، وَإِنَّ الْإِيمَانَ فِي الْجَنَّةِ ، وَإِنَّ الْبَذَاءَ مِنَ الْجَفَاءِ ، وَالْجَفَاءُ فِي النَّارِ»
২৫ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট রাওহ ইবনে উবাদাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আউফ এবং হিশাম বর্ণনা করেছেন আল-হাসান থেকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই‌‌ লজ্জা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, আর ঈমান জান্নাতে; এবং নিশ্চয়ই অশ্লীলতা রূঢ়তার অন্তর্ভুক্ত, আর রূঢ়তা জাহান্নামে।»
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৪১)
26 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: ثَنَا خَالِدُ بْنُ رَبَاحٍ أَبُو الْفَضْلِ، قَالَ: ثَنَا أَبُو السَّوَّارِ الْعَدَوِيُّ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«الْحَيَاءُ خَيْرٌ كُلُّهُ»
২৬ - মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজীদ ইবনে হারুন আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবনে রাবাহ আবুল ফযল আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুস সাওয়ার আল-আদাভী আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «লজ্জাশীলতা পুরোটাই কল্যাণকর»
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৪২)
27 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، قَالَ: ثَنَا أَبُو نَعَامَةَ الْعَدَوِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا السَّوَّارِ الْعَدَوِيَّ يَذْكُرُ ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«الْحَيَاءُ كُلُّهُ خَيْرٌ» ، فَقَالَ بَشِيرُ بْنُ كَعْبٍ: مِنْهُ ضَعْفٌ ، وَمِنْهُ وَقَارٌ ، فَقَالَ: مَنْ هَذَا يَا أَبَا قَتَادَةَ؟ فَقَالَ: هَذَا بَشِيرُ بْنُ كَعْبٍ ، فَقَالَ: يُسْمِعُنِي أُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَيَقُولُ: مِنْهُ ضَعْفٌ ، وَمِنْهُ وَقَارٌ؟ وَاللَّهِ لَا أُحَدِّثُكُمْ بِحَدِيثٍ الْيَوْمَ ، فَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ: إِنَّ هَذَا رَجُلٌ لَيْسَ بِهِ بَأْسٌ
২৭ - মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাওহ ইবনে উবাদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নাআমা আল-আদাভী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবুস সাওয়ার আল-আদাভীকে ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে উল্লেখ করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «লজ্জাশীলতার পুরোটাই কল্যাণ», তখন বাশীর ইবনে কাব বললেন: «তার কিছু অংশ দুর্বলতা এবং কিছু অংশ গাম্ভীর্য», তখন তিনি বললেন: হে আবু কাতাদাহ, ইনি কে? তিনি বললেন: ইনি বাশীর ইবনে কাব। তখন তিনি বললেন: সে আমাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনছে আর বলছে: «তার কিছু অংশ দুর্বলতা এবং কিছু অংশ গাম্ভীর্য»? আল্লাহর কসম, আজ আমি তোমাদের নিকট কোনো হাদীস বর্ণনা করব না। তখন আবু কাতাদাহ বললেন: নিশ্চয়ই এই ব্যক্তির মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৪২)
28 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، قَالَ: ثَنَا عَفَّانُ بْنُ جُبَيْرٍ الطَّائِيُّ، يَرْفَعُ الْحَدِيثَ إِلَى كَعْبٍ قَالَ: ‌‌«لَمْ يَكُنِ الْحَيَاءُ فِي رَجُلٍ قَطُّ فَتَطْعَمَهُ النَّارُ»
২৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে আউন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফফান ইবনে জুবাইর আত-তাঈ, তিনি হাদিসটি কাব পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন, তিনি বলেন: «কোনো ব্যক্তির মধ্যে কখনো লজ্জা ছিল না যাকে জাহান্নামের আগুন গ্রাস করবে»
(খণ্ড: ১) আল-কারামু ওয়াল জুদু লিল বারজালানী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
29 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: ثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، قَالَ: ثَنَا حَسَنُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ بَعْضِ، أَصْحَابِهِ قَالَ: قَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ: رَأَيْتُ رَجُلًا يَصْنَعُ شَيْئًا مِمَّا أُنْكِرُهُ ، فَقِيلَ لَهُ: أَلَا نَهَيْتَهُ؟ قَالَ: ‌‌«اسْتَحْيَيْتُ مِنْهُ»
২৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফাদল ইবনু দুকাইন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনু সালিহ, তাঁর জনৈক সাথীর সূত্রে, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনু জুবাইর বলেছেন: আমি এক ব্যক্তিকে এমন কিছু করতে দেখলাম যা আমি অপছন্দ করি, তখন তাঁকে বলা হলো: আপনি কি তাকে নিষেধ করলেন না? তিনি বললেন: «আমি তার কাছে লজ্জা বোধ করেছি»