(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: -)
المصباح لما أعتم من شواهد الإيضاح القسم: النحو والصرف
الكتاب: المصباح لما أعتم من شواهد الإيضاح
المؤلف: أبو الحجاج يوسف بن يبقي بن يسعون
تحقيق ودراسة: محمد بن حمود الدعجاني
الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة - السعودية
الطبعة: الأولى، 1429 هـ - 2008 م
عدد الأجزاء: 2 (متسسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 شعبان 1443
আল-মিসবাহ লিমা আ'তামা মিন সাওয়াহিদিল ইদাহ বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: আল-মিসবাহ লিমা আ'তামা মিন সাওয়াহিদিল ইদাহ
লেখক: আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ বিন ইয়াবকা বিন ইয়াসউন
সম্পাদনা ও গবেষণা: মুহাম্মাদ বিন হামুদ আদ-দা'জানি
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ, মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৯ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ শাবান ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
مقدّمة معالي مدير الجامعة الإسلاميَّة الحمد للَّه الذي علّم بالقلم علّم الإنسان ما لم يعلم، والصَّلاة والسَّلام على رسول الهدى الذي أمر بالعلم قبل العمل، فبه ارتفع وتقدّم، وعلى آله وأصحابه ومَنْ بأثره اقتفى والتزم. وبعد:
فإنَّ الاشتغال بطلب العلم والتفقّه في الدّين من أجلّ المقاصد وأعظم الغايات وأولى المهمّات؛ لذلك ندب إليه الشَّارع الحكيم في كثير من نصوص كتابه، وأمَرَ نبيّه صلى الله عليه وسلم بالزيادة منه؛ فقال تعالى: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة: 122].
وقال جلَّ وعلا: {وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا} [طه: 114].
وقد رتّب النبي صلى الله عليه وسلم الخير كلَّه على التفقّه في الدّين فقال صلى الله عليه وسلم: "من يرد اللَّه به خيرًا يفقّه في الدين" متّفق عليه. وقال صلى الله عليه وسلم: "النَّاس معادن خيارهم في الجاهلية خيارهم في الإسلام إذا فقهوا" متّفق عليه. وهذا مما يدلّ على أهميته وعظم شأنه.
لذلك كان الاهتمام بالعلم الشّرعيّ المستمّد من الكتاب والسنّة وفهمِ السَّلف الصَّالح هو الهدف الأسمى لمؤسس هذه الدّولة المباركة الملك عبد العزيز -يرحمه اللَّه- وكذلك أبناؤه من بعده الذين كانت لهم اليد الطولى وقَدَمُ السبقِ في الاهتمام بالعلم وأهله؛ فأولوه عنايةً فائقةً، وخصّوه بجهود مباركة، ظهرت آثارها على البلاد والعباد.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
মান্যবর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালকের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে তা শিখিয়েছেন যা সে জানত না। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক হিদায়াতের রাসূলের প্রতি, যিনি আমলের পূর্বে ইলম অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন, যার দ্বারা তিনি উন্নত ও অগ্রগামী হয়েছেন। আর তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন ও নিষ্ঠার সাথে তা আঁকড়ে ধরেছেন, তাঁদের সবার ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই ইলম অন্বেষণে ব্যাপৃত হওয়া এবং দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য, মহান লক্ষ্য এবং অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্যই প্রজ্ঞাবান শরীয়ত প্রণেতা তাঁর কিতাবের বহু বাণীতে এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইলম বৃদ্ধির প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর মুমিনদের সকলের একত্রে অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়। তবে তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসার পর তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হয়।} [আত-তাওবা: ১২২]।
মহিমান্বিত ও সুউচ্চ আল্লাহ বলেন: {আর আপনি বলুন: হে আমার রব! আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন।} [ত্বহা: ১১৪]।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাবতীয় কল্যাণকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।" (সর্বসম্মত)। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "মানুষ খনি সদৃশ, জাহেলি যুগে তাদের মধ্যে যারা শ্রেষ্ঠ ছিল, ইসলাম গ্রহণ করার পর যদি তারা দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন করে তবে তারাই শ্রেষ্ঠ।" (সর্বসম্মত)। এটি এর গুরুত্ব ও সুমহান মর্যাদার প্রমাণ বহন করে।
এ কারণেই কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের বুঝ অনুযায়ী অর্জিত শরয়ি ইলমের প্রতি গুরুত্বারোপ করাই ছিল এই বরকতময় রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা কিং আব্দুল আজিজ -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন- এর প্রধান লক্ষ্য। অনুরূপভাবে তাঁর পরবর্তী উত্তরসূরিদের লক্ষ্যও ছিল তাই, ইলম ও উলামাদের প্রতি গুরুত্বারোপের ক্ষেত্রে যাদের ছিল বিশাল অবদান এবং অগ্রণী ভূমিকা। তাঁরা এর প্রতি বিশেষ মনোযোগ প্রদান করেছেন এবং একে বরকতময় প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছেন, যার প্রভাব দেশ ও জনগণের ওপর প্রকাশ পেয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وكان لخادم الحرمين الشَّريفين الملك عبد اللَّه بن عبد العزيز -حفظه اللَّه- جهودٌ واضحةٌ استوتْ على سوقها ووفّقتْ لمقصودها، ومن ذلك أمره بزيادة عدد الجامعات، وفتح جميع الوسائل ذات العلاقة بالتطوير والتنقيح والتأليف والنَّشر كعمادات ومراكز البحث العلميّ في شتّى الجامعات وعلى رأسها الجامعة الإسلاميَّة -العالمية العلمية- التي أولت البحث العلميّ اهتمامًا بالغًا وجعلته غاية من غاياتها وهدفًا من أهدافها.
ومن هنا فعمادة البحث العلميّ بالجامعة تهتم بالبحوث العلميَّة نشرًا وجمعًا وترجمة وتحكيمًا في داخل الجامعة وخارجها؛ من أجل النُّهوض بالبحث العلميّ، والتشجيع على التَّأليف والنّشر، ومن ذلك كتاب:
[لمصباح لما أعتم من شواهد الإيضاح - لابن يسعون]
تحقيق: د/ محمَّد بن حمود الدَّعجاني.
أسأل اللَّه أنْ يوفّقنا جميعًا لما يحبّ ويرضى ويرزقنا الإخلاص في القول والعمل، وصلّى اللَّه وسلَّم وبارك على نبيِّنا محمَّدٍ وعلى آله وأصحابه أجمعين، وآخر دعوانا أن الحمد للَّه ربِّ العالمين.
معالي مدير الجامعة الإسلاميَّة
أ. د/ محمد بن علي العقلا
দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ -আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন- এর সুস্পষ্ট কিছু প্রচেষ্টা ছিল যা আপন কাণ্ডের ওপর সুদৃঢ় হয়ে উঠেছিল এবং আপন লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছিল। এর অন্তর্ভুক্ত হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য তাঁর আদেশ দান এবং উন্নয়ন, পরিমার্জন, রচনা ও প্রকাশনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল মাধ্যম উন্মুক্তকরণ, যেমন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ ও কেন্দ্রসমূহ। আর এর শীর্ষে রয়েছে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় -আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক- যা বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে অত্যধিক গুরুত্ব প্রদান করেছে এবং একে তার অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে পরিণত করেছে।
এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রকাশনা, সংগ্রহ, অনুবাদ ও পর্যালোচনার গুরুত্ব দিয়ে থাকে; যাতে বৈজ্ঞানিক গবেষণার উন্নতি ঘটে এবং গ্রন্থ রচনা ও প্রকাশনায় উৎসাহ সৃষ্টি হয়। এরই অংশ হিসেবে এই গ্রন্থটি:
[আল-মিসবাহ লিমা আ’তামা মিন সাওয়াহিদুল ইদাহ - ইবন ইয়াসউন]
তাহকিক: ড. মুহাম্মদ বিন হামুদ আদ-দা'জানি।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সকলকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজের তাওফিক দান করেন এবং আমাদের কথা ও কাজে ইখলাস দান করেন। আর আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম এবং বরকত নাজিল করুন। আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় রেক্টর
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ বিন আলী আল-উকলা
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدِّمة المحقِّقإن الحمد للَّه نحمده ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده اللَّه فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أنْ لا إله إلَّا اللَّه، وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمَّدًا عبده ورسوله، أرسله بالهدى ودين الحقّ ليظهره على الدِّين كلِّه، ولو كره المشركون، صلّى اللَّه وسلّم وبارك عليه وعلى آله وأصحابه ومن سلك سبيله، واهتدى بهديه إلى يوم الدِّين.
"اللَّهُمَّ إنا نحمدك على ما مننت به من نعمة الايمان، ونشكرك على ما أوليتنا من النّعم بتلاوة القرآن، والنظر من أجله في علم البيان، حتّى اقتطفنا يانع ثماره، وروينا من عذب أنهاره، بتعليل يرق، ومعنى جليل يدق، وتصريف يعتاص ويشقّ؛ إذ كان باعث النشاط، وداعية الاستنباط، به تستنبط الأحكام، ومنه يقتنص الحلال والحرام، ولولاه ما عُلم المحكم والمجمل، ولا اتضح الظاهر والمؤوّل، ولا عرفت دلالة اللّفظ بفحواه ومفهومه ومعقوله؛ إذْ ذلك ثان عن معرفة اللّفظ ومدلوله، وإذ كانت المعاني في النفس خفيّة، والألفاظ الدّالة عليها هى البيّنة الجليّة، وكيف يعرف مردود المعنى ومقبوله، من لا يعرف موضوع اللّفظ ومدلوله، هذا بيِّن لا إشكال فيه، وواضح بأول النظر فيه، فكيف مَنْ ينقِّح النظر ويستوفيه؛ فيجب على الطالب الموفق أن ينظر في علم اللسان أوَّلًا، ويتخذ قراءته عملًا يتقرّب به إلى مولاه، ليحمد في الآخرة مستقره ومثواه، وبعد ذلك ينظر في العلوم
সম্পাদকের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যেন তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পথে চলবেন ও তাঁর নির্দেশিত পথে হিদায়াত লাভ করবেন তাদের ওপর।
"হে আল্লাহ! আমরা আপনার প্রশংসা করছি ঈমানের যে নিআমত আপনি আমাদের দান করেছেন সেজন্য, এবং আপনার শুকরিয়া আদায় করছি কুরআন তিলাওয়াতের যে নিআমত আপনি আমাদের দিয়েছেন এবং সেই উদ্দেশ্যে অলঙ্কারশাস্ত্রের (ইলমে বয়ান) প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করার সুযোগ প্রদানের জন্য। ফলে আমরা এর পরিপক্ক ফল আহরণ করেছি এবং এর সুপেয় নহর থেকে তৃষ্ণা মিটিয়েছি; এমন সূক্ষ্ম যুক্তি, গাম্ভীর্যপূর্ণ সূক্ষ্ম অর্থ এবং জটিল ও দুরূহ শব্দরূপান্তরের মাধ্যমে যা কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করে এবং বিধান আহরণে উদ্বুদ্ধ করে। এর মাধ্যমেই বিধি-বিধান উদ্ভাবন করা হয় এবং এর মাধ্যমেই হালাল ও হারাম নির্ণয় করা হয়। এটি না থাকলে মুহকাম (সুস্পষ্ট) ও মুজমাল (সংক্ষিপ্ত) সম্পর্কে জানা যেত না, আর জাহির (প্রকাশ্য) ও মুআওয়াল (ব্যাখ্যাকৃত) স্পষ্ট হতো না। শব্দের দাবি, মর্মার্থ ও যুক্তিসিদ্ধ অর্থ দ্বারা শব্দের নির্দেশনা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যেত না; কেননা এটি শব্দের গঠন ও অর্থ সম্পর্কে জানার পরবর্তী ধাপ। যেহেতু অর্থসমূহ মনের গহীনে প্রচ্ছন্ন থাকে এবং সেগুলোকে প্রকাশকারী শব্দসমূহ হলো সুস্পষ্ট ও প্রোজ্জ্বল মাধ্যম; সুতরাং যে ব্যক্তি শব্দের প্রয়োগস্থল ও এর অর্থ জানে না, সে কীভাবে অর্থের গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয় দিকগুলো চিনতে পারবে? এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয় যাতে কোনো সংশয় নেই এবং প্রাথমিক দৃষ্টিতেই এটি পরিষ্কার। এমতাবস্থায় সেই ব্যক্তির অবস্থা কী হবে যে গভীর ও পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ করতে চায়? অতএব, তাওফিকপ্রাপ্ত জ্ঞানান্বেষীর উচিত প্রথমে ভাষাতত্ত্বের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া এবং এর পঠন-পাঠনকে এমন এক আমল হিসেবে গ্রহণ করা যার মাধ্যমে সে তার প্রতিপালকের নৈকট্য লাভ করবে, যাতে পরকালে তার আবাসস্থল প্রশংসিত হয়। এরপর সে অন্যান্য ইলমের প্রতি দৃষ্টি দেবে..."
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الشَّرعيّة، ويحمل المآخذ الدّينية، وعند هذا يكون نظره جاريًا على طريق السَّداد، ويعدّ من أهل النظر والاجتهاد، فإنْ حاد عن هذه الحالة، فهو مقلِّد لا محالة، على هذا درج الأئمَّة، وبهذا أوصى علماء الأُمّة،. . . وإذا بان الحقّ وأضاء، فليقل الآخر ما شاء، أجرى اللَّه كلامنا على وجهه، وجعله خالصًا لوجهه، وكتبنا فيمن عرف الحقّ واتبع سنَنَه، واستمع القول فاتبع أحسنه، بمنِّه وامتنانه، وفضله وإحسانه، وصلَّى اللَّه على صفوة أنبيائه، ونخبة أصفيائه، محمّد سيِّد البشر، الشفيع في المحشر، الذي ختمتَ به النبيّين، وأعليتَ درجته في عليِّين، فقلتَ وأنت اصدق القائلين: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ}
(1).
ورضي اللَّه عن أصحابه الذين اجتهدوا في تشييد الإيمان، وأطفأوا نار البهتان، وأذلوا عبدة الأوثان، الذين استضاءت لهم مدارك العلوم. . . جعلنا اللَّه ممن اقتدى بآثارهم، واهتدى بأنوارهم، وتخلق بآدابهم، وعرف منازع كلامهم، وحشرنا في زمرتهم ولا عدل بنا سنّتهم، وأحظانا بمحبّتهم. . . "
(2).
أما بعد، فهذا كتاب "المصباح لما اعتم من شواهد الإيضاح" لابن يسعون، عرفتُه وخبرته عندما كنتُ أُحقِّق كتاب "إيضاح شواهد الإيضاح" للقيسي الذي تقدمت به موضوعًا لرسالة الدّكتوراه بجامعة أم القرى عام 1403 هـ.
--------------------------------------------
শরয়ী এবং দ্বীনি ভিত্তি ধারণ করে, এমতাবস্থায় তার দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক পথে পরিচালিত হয় এবং তাকে গভীর দৃষ্টি ও ইজতিহাদের অধিকারী হিসেবে গণ্য করা হয়। আর যদি সে এই অবস্থা থেকে বিচ্যুত হয়, তবে সে নিঃসন্দেহে একজন মুকাল্লিদ (অন্ধ অনুসারী)। এই পথেই ইমামগণ চলেছেন এবং উম্মাহর উলামায়ে কেরাম এর মাধ্যমেই উপদেশ দিয়েছেন। আর যখন সত্য স্পষ্ট ও উদ্ভাসিত হয়, তখন অন্যেরা যা ইচ্ছা বলুক। আল্লাহ যেন আমাদের কথাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন। আর তিনি যেন আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা সত্যকে চিনেছে এবং এর পথ অনুসরণ করেছে, এবং যারা কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে অতঃপর তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে; তাঁর অনুগ্রহ, দান, শ্রেষ্ঠত্ব ও দয়ার মাধ্যমে। আর আল্লাহর সালাত (রহমত) বর্ষিত হোক তাঁর নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের মধ্যে নির্বাচিত ব্যক্তি মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যিনি মানবজাতির সরদার এবং হাশরের ময়দানে সুপারিশকারী; যাঁর মাধ্যমে আপনি নবীদের আগমনের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং যাঁর মর্যাদাকে ‘ইল্লিয়্যিন’-এ উচ্চকিত করেছেন। এরপর আপনি বলেছেন—আর আপনিই সত্যবাদীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সত্যবাদী—: "আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।"
(১)এবং আল্লাহ তাঁর সেই সাহাবীদের ওপর সন্তুষ্ট হোন, যাঁরা ঈমান মজবুত করতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, মিথ্যা অপবাদের আগুন নির্বাপিত করেছেন এবং মূর্তিপূজকদের লাঞ্ছিত করেছেন, যাঁদের জন্য জ্ঞানের উৎসসমূহ উদ্ভাসিত হয়েছিল। আল্লাহ আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে, তাদের নূর দ্বারা হেদায়েত লাভ করেছে, তাদের আদব বা শিষ্টাচার দ্বারা নিজেদের চরিত্র গঠন করেছে এবং তাদের বক্তব্যের গূঢ় অর্থ উপলব্ধি করেছে। তিনি আমাদের তাদের দলের সাথে হাশর করুন এবং আমাদের যেন তাদের সুন্নাহ বা আদর্শ থেকে বিচ্যুত না করেন এবং তাদের ভালোবাসার মাধ্যমে আমাদের ধন্য করেন।
(২)অতঃপর, এটি ইবনে ইয়াসউন রচিত "আল-মিসবাহ লিমা আ'তামা মিন শাওয়াাহিদিল ইযদাহ" নামক গ্রন্থ। আমি এটি চিনেছি এবং পরীক্ষা করেছি যখন আমি কায়সীর "ইযদাহ শাওয়াাহিদিল ইযদাহ" গ্রন্থটি সম্পাদনা করছিলাম, যা ১৪০৩ হিজরিতে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার পিএইচডি গবেষণাপত্রের বিষয় ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
أقول: عرفتُ الكتابَ وأكبرتُ مؤلفَه؛ لما وجدته فيه من علم غزير يشهد بتمكّن صاحبه من علوم اللّغة والنحو والصرف والأدب، وعزمت على تحقيقه؛ فطفقت ألتمس أخبار الرَّجُل، وأجمع آراءه النَّحوية؛ حتّى تكوّنت لدي مادة علميَّة ليست بالقليلة، تسعف في إعداد دراسة موسعة عن ابن يسعون، لكني فوجئت بنشر كتاب عن المصنِّف من إعداد الدّكتور عبد اللَّه الحسيني هلال، الأستاذ المساعد بكلية اللّغة العربية - جامعة الأزهر بالقاهرة عنوانه (ابن يسعون النَّحوي: حياته وآراؤه) مع دراسة كتابه "المصباح في شرح أبيات الإيضاح". وقد تلطف بإرساله إليّ زميلى المفْضال الأستاذ الدّكتور عيَّاد بن عيد الثبيتي جزاه اللَّه عني خيرًا، وكم له من أيادٍ عليَّ لا تنكر!
وَمَن لك بالحُر الذي يحفظ اليدَا
فلما وقع الكتاب تحت يديَّ قرأته واستفدت منه، ورأيت صاحبه أفاد وأجاد في جوانب من دراسته، وقصر في جوانب أخرى، وسأستدرك ما فاته، وأصرف النظر عن الحديث في الجوانب التي أجاد فيها، ومنها آراء ابن يسعون النَّحوية، وسأعطي القارئ الكريم نبذةً مختصرة عن محتويات هذا الكتاب:
المقدِّمة: من 3 - 4 تحدّث فيها عن ابن يسعون وعن كتابه.
الباب الأوَّل: ابن يسعون وعصره 5 - 63.
الفصل الأوَّل: عصر ابن يسعون 7 - 14.
أوَّلًا: الحياة السياسية: 7.
ثانيًا: الحياة الثقافية: 10.
আমি বলছি: আমি গ্রন্থটি সম্পর্কে জেনেছি এবং এর রচয়িতাকে উচ্চাসনে স্থান দিয়েছি; কারণ এতে আমি এমন জ্ঞান-সমুদ্রের সন্ধান পেয়েছি যা ভাষা, ব্যাকরণ (নাহু), রূপতত্ত্ব (সরফ) ও সাহিত্যে এর রচয়িতার গভীর পারদর্শিতার সাক্ষ্য দেয়। আমি এটি সম্পাদনা করার সংকল্প করেছিলাম; ফলে আমি এই ব্যক্তির জীবনের ইতিহাস অনুসন্ধান করতে এবং তাঁর ব্যাকরণিক মতাদর্শসমূহ সংগ্রহ করতে শুরু করি; এমনকি আমার নিকট এমন পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক উপাদান সংগৃহীত হয়, যা ইবনে ইয়াসুন সম্পর্কে একটি বিস্তৃত গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রস্তুত করতে সহায়ক হবে। কিন্তু আমি কায়রোর আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ভাষা অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-হুসাইনি হিলাল কর্তৃক রচয়িতাকে নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশের সংবাদে বিস্মিত হই, যার শিরোনাম ছিল 'নাহুবিদ ইবনে ইয়াসুন: তাঁর জীবন ও মতাদর্শ' এবং সেই সাথে তাঁর 'আল-ইদাহ-এর কবিতাগুলোর ব্যাখ্যায় আলোকবর্তিকা' নামক গ্রন্থটির একটি পর্যালোচনা। আমার পরম শ্রদ্ধেয় সহকর্মী প্রফেসর ড. আইয়াদ বিন ঈদ আল-থুবাইতি অনুগ্রহপূর্বক এটি আমার নিকট পাঠিয়েছেন, আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমার ওপর তাঁর যে কত হাত রয়েছে তা অস্বীকার করার সাধ্য নেই!
আর তুমি এমন স্বাধীনচেতা ব্যক্তি কোথায় পাবে যে (অন্যের) হাতকে স্মরণে রাখে?
অতঃপর গ্রন্থটি যখন আমার হস্তগত হলো, আমি তা পাঠ করলাম এবং তা দ্বারা উপকৃত হলাম। আমি দেখলাম এর রচয়িতা তাঁর গবেষণার কিছু ক্ষেত্রে সার্থকতা ও শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিয়েছেন, আবার কিছু ক্ষেত্রে কমতি রেখেছেন। তিনি যা এড়িয়ে গিয়েছেন আমি তা পূরণ করব, আর যে দিকগুলোতে তিনি নৈপুণ্য দেখিয়েছেন সে বিষয়ে আলোচনা থেকে নিবৃত্ত থাকব, যার মধ্যে রয়েছে ইবনে ইয়াসুনের ব্যাকরণিক মতাদর্শসমূহ। আমি সম্মানিত পাঠকদের জন্য এই গ্রন্থের বিষয়বস্তুর একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ পেশ করছি:
ভূমিকা: ৩ - ৪ পৃষ্ঠা, যাতে তিনি ইবনে ইয়াসুন এবং তাঁর গ্রন্থ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে ইয়াসুন এবং তাঁর যুগ ৫ - ৬৩।
প্রথম অধ্যায়: ইবনে ইয়াসুনের যুগ ৭ - ১৪।
প্রথমত: রাজনৈতিক জীবন: ৭।
দ্বিতীয়ত: সাংস্কৃতিক জীবন: ১০।
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الفصل الثَّاني: حياة ابن يسعون 15 - 28 وتحدّت فيه عن اسم ابن يسعون ونسبه وشهرته وكنيته ومولده ووفاته، نشأته وحياته، موطنه، أخلاقه، ثقافته ومكانته العلمية، أدبه وأسلوبه، شيوخه، وتلاميذه، مؤلفاته.
الفصل الثَّالث: أثر ابن يسعون فيمن بعده 29 - 63 وفي هذا الفصل تحدث عن أثره في ابن بري المتوفى سنة 582 كل، وأبى حيَّان المتوفى 745 هـ وابن هشام المتوفى سنة 761 هـ والعيني المتوفى سنة 855 هـ والسيوطى المتوفى سنة 911 هـ، والبغدادي المتوفى سنة 1093 هـ.
الباب الثَّاني: آرؤه النَّحوية 65 - 209.
تمهيد: 67.
الفصل الأوَّل: آراؤه المعلّقة بالمفردات والأبنية 69 - 124.
وتحدّث فيه عن: تي الإشارية، عسى، إلَّا، ربَّ، إذا، منع صرف ما ينصرف لضرورة الشعر، أبي حباحب، مهما، كائن، مجئ التصغير للتعظيم.
الفصل الثَّاني: آراؤه المتعلِّقة بالتراكيب 125 - 177.
وقد قصره على الحديث على المباحث التالية:
خطاب الواحد بخطاب الاثنين، الاسم المرفوع بعد لولا، عدا، لا أبالك، امتناع إضافة الموصوف إلى الصفة، تأنيث وقع، تقدير محذوفات ثلاثة في قول النابغة: كأنَّ مجر. . .، جواز مجيء الحال من المنادى، قام ليست بزائدة في قول حسان: على ما قام. . .، المتن في قول ساعدة: لدن بهز. . .
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে ইয়াসউনের জীবন ১৫ - ২৮ এবং এতে তিনি ইবনে ইয়াসউনের নাম ও বংশপরিচয়, তাঁর খ্যাতি ও উপনাম, তাঁর জন্ম ও মৃত্যু, তাঁর বেড়ে ওঠা ও জীবনকাল, তাঁর স্বদেশ, তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি, তাঁর সংস্কৃতি ও ইলমি মর্যাদা, তাঁর সাহিত্য ও লিখনশৈলী, তাঁর উস্তাদগণ এবং তাঁর ছাত্রবৃন্দ ও তাঁর রচনাবলি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পরবর্তী মনীষীদের ওপর ইবনে ইয়াসউনের প্রভাব ২৯ - ৬৩ এবং এই পরিচ্ছেদে তিনি ইবনে বাররি (মৃত্যু ৫৮২ হিজরি), আবু হাইয়ান (মৃত্যু ৭৪৫ হিজরি), ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি), আল-আইনি (মৃত্যু ৮৫৫ হিজরি), আস-সুয়ুতি (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) এবং আল-বাগদাদি (মৃত্যু ১০৯৩ হিজরি)-এর ওপর তাঁর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর নাহু বিষয়ক (ব্যাকরণগত) অভিমতসমূহ ৬৫ - ২০৯।
ভূমিকা: ৬৭।
প্রথম পরিচ্ছেদ: শব্দ ও গঠন সংশ্লিষ্ট তাঁর অভিমতসমূহ ৬৯ - ১২৪।
এবং এতে তিনি আলোচনা করেছেন: ইশারা সূচক 'তি', আসা, ইল্লা, রুব্বা, ইযা, কাব্যিক প্রয়োজনে রূপান্তরযোগ্য শব্দের রূপান্তর নিষিদ্ধকরণ, আবি হুবাহিব, মাহমা, কাইন, এবং মহত্ব প্রকাশের জন্য তাসগির (ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ) ব্যবহারের বিষয়ে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বাক্য গঠন সংশ্লিষ্ট তাঁর অভিমতসমূহ ১২৫ - ১৭৭।
আর তিনি এটিকে নিম্নোক্ত বিষয়াবলীর আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন:
একজনকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে দ্বিবচনের সম্বোধন ব্যবহার করা, 'লাওলা'-এর পরবর্তী মারফু বিশেষ্য, 'আদা', 'লা আবা লাকা', মাওসুফকে সিফাতের দিকে ইজাফাত করার অসম্ভাব্যতা, 'ওয়াকা'আ' ক্রিয়াকে স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করা, নাবিগার উক্তিতে তিনটি ঊহ্য বিষয় নির্ধারণ করা: 'কান্না মাজর...', মুনাদা থেকে 'হাল' আসা বৈধ হওয়া, হাসসানের উক্তিতে 'ক্বামা' অতিরিক্ত না হওয়া: 'আলা মা ক্বামা...', সায়িদার উক্তিতে 'আল-মাতন': 'লাদুন বাহায...'।
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الثالث: إعراباته: 179 - 209.
وقد تحدّث فيه عن؛ يكون تامة في قول هدبة: عسى الكرب. . . {أَكَانَ لِلنَّاسِ عَجَبًا}، الجار والمجرور متعلق بكان الناقصة. "أبقل" صفة مزنة في قول عامر: فلا مزنة. . .
توجيه نصب "الليان" في قول الراجز: قد كنت داينت. . .
من متعلقة بأخذوا في قول الراعي: أخذوا المخاض. . .
الباء في "بهز" متعلقة بيعسل. . .
ما نكرة موصوفة في وقوله تعالى: {رُبَمَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ} الواو واو ربَّ، والكاف الثانية في قول خطام المجاشعي:
وصاليت ككما يؤثفين
"إعراب خمسة الأشبار" في قول الفرزدق: "ما زال مذ عقدت. . . "، "أخفية الكرى" منتصبة على التشبيه في قول الكميت: "لقد علم الأيقاظ. . . "، توجيه نصب: "زاد الكسل" في قول الراجز: "رُبَّ ابن عمّ. . . ".
الباب الثَّالث: دراسة كتاب "المصباح في شرح أبيات الإيضاح" 211 - 330.
مقدمات: 213 - 219.
أوَّلًا: نبذة عن الكتاب.
ثانيًا: اسمه.
ثانيًا: توثيق نسبته إلى ابن يسعون.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণসমূহ: ১৭৯ - ২০৯।
এতে তিনি আলোচনা করেছেন; হুদবাহ-এর উক্তি—‘আসা আল-কারবু...’ (সম্ভবত সংকট...)-এ ‘য়াকুনু’ ক্রিয়াটি ‘তাম্মাহ’ (পরিপূর্ণ) হওয়া সম্পর্কে। {মানুষের জন্য কি এটি বিস্ময়কর ছিল}, এখানে যার এবং মাজরুর (অব্যয় ও তার পরবর্তী শব্দ) ‘কানা নাকিসাহ’ (অসম্পূর্ণ ক্রিয়া)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। আমির-এর উক্তি—‘ফালা মুজনাহ...’ (কোনো মেঘ নেই...)-তে ‘আবকালা’ শব্দটি ‘মুজনাহ’ শব্দের বিশেষণ (সিফাত)।
রাজজ পাঠকারীর উক্তি—‘কাদ কুনতু দায়ানতু...’ (আমি ঋণ দিয়েছিলাম...)-এ ‘আল-লায়ান’ শব্দটির মানসুব (যবরযুক্ত) হওয়ার ব্যাখ্যা।
রাঈ-এর উক্তি—‘আখাযু আল-মাখাদ...’ (তারা গর্ভবতী উটগুলো গ্রহণ করল...)-এ ‘মিন’ অব্যয়টি ‘আখাযু’ ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট।
‘বিহায্যা’ শব্দে ‘বা’ অব্যয়টি ‘ইয়া’সিলু’ ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট...
মহান আল্লাহর বাণী: {হয়তো কাফিররা আকাঙ্ক্ষা করবে যে তারা যদি মুসলিম হতো}—এতে ‘মা’ শব্দটি নাকিরাহ মাওসুফাহ (বিশেষায়িত অনির্দিষ্ট বিশেষ্য), ওয়াও-টি হলো ‘রুব্বা’-এর ওয়াও এবং খিত্তাম আল-মুজাশাঈ-এর উক্তিতে দ্বিতীয় ‘কাফ’ অক্ষরটি:
ওয়া সলাইতু কাকামা ইউতসাফিনা
ফারাজদাক-এর উক্তি—‘মা যলা মুয আকাদাত...’ (যখন থেকে বাঁধা হয়েছে তখন থেকে বন্ধ হয়নি...)-এ ‘খামসাতুল আশবার’ (পাঁচ বিঘত)-এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ; কুমাইত-এর উক্তি—‘লাকাদ আলিম আল-আইকাজ...’ (জাগ্রত ব্যক্তিরা জেনেছে...)-এ ‘আখফিয়াতুল কারা’ (নিদ্রার আবরণসমূহ) শব্দটি উপমার (তাশবিহ) ভিত্তিতে মানসুব হয়েছে; রাজজ পাঠকারীর উক্তি—‘রুব্বা ইবনু আম্মিন...’ (অনেক চাচাতো ভাই...)-এ ‘যাদা আল-কাসাল’ (অলসতা বৃদ্ধি পাওয়া) অংশটির মানসুব হওয়ার কারণ।
তৃতীয় অধ্যায়: ‘আল-মিসবাহ ফি শারহি আবয়াতিল ঈদাহ’ গ্রন্থের পর্যালোচনা ২১১ - ৩৩০।
উপস্থাপনা: ২১৩ - ২১৯।
প্রথমত: গ্রন্থটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা।
দ্বিতীয়ত: এর নামকরণ।
দ্বিতীয়ত: ইবনে ইয়াসুন-এর প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের প্রামাণিকতা।
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
رابعًا: مصادره من كتب الشِّعر والأدب.
خامسًا: وصف نسخته المخطوطة، وقد اعتمد الحسيني على نسخة فيها نقص كبير.
الفصل الأوَّل: مصادره 22 - 233.
أوَّلًا: المصادر اللّغوية.
ثانيًا: المصادر النَّحويّة والصَّرفيَّة.
ثالثًا: مصادره من شروح الشواهد.
رابعًا: مصادره من كتب الشعر والأدب.
الفصل الثَّاني: منهج ابن يسعون في شرح الشَّواهد 235 - 256.
أَوَّلًا: ينسب البيت. . .
ثانيًا: يوضح استشهاد أبي عليّ بالبيت. . .
ثالثًا: يورد الروايات.
رابعًا: يشرح الألفاظ الغريبة.
خامسًا: نبه على ما حدث في بعض أبيات الإيضاح من تصحيف وتحريف.
سادسًا: حرص في بعض الأحيان على أن يقرن بالشَّاهد نظيره.
سابعًا: عني بالتنبيه على ما تكرر من الشَّواهد، والإشارة إلى انتهاء شواهد الأبواب في الإيضاح.
ثامنًا: أدار حول كثير من ألفاظ الشَّواهد وأساليبها ورواياتها عديدًا من البحوث النحويَّة والصرفيَّة الجيدة.
চতুর্থত: কাব্য ও সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থাবলি থেকে তাঁর উৎসসমূহ।
পঞ্চমত: তাঁর পাণ্ডুলিপির বর্ণনা; আল-হুসাইনী এমন একটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন যাতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
প্রথম অধ্যায়: তাঁর উৎসসমূহ ২২ - ২৩৩।
প্রথমত: ভাষাতাত্ত্বিক উৎসসমূহ।
দ্বিতীয়ত: ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব বিষয়ক উৎসসমূহ।
তৃতীয়ত: কাব্য-প্রমাণের (শাওয়াহিদ) ব্যাখ্যাসমূহ থেকে তাঁর উৎসসমূহ।
চতুর্থত: কাব্য ও সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থাবলি থেকে তাঁর উৎসসমূহ।
দ্বিতীয় অধ্যায়: কাব্য-প্রমাণের ব্যাখ্যায় ইবনে ইয়াসউনের পদ্ধতি ২৩৫ - ২৫৬।
প্রথমত: তিনি কাব্য-পঙ্ক্তিটির রচয়িতার নাম উল্লেখ করেন...
দ্বিতীয়ত: পঙ্ক্তিটি আবু আলীর দলিল হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেন...
তৃতীয়ত: তিনি পাঠান্তরসমূহ উল্লেখ করেন।
চতুর্থত: তিনি দুর্লভ শব্দাবলি ব্যাখ্যা করেন।
পঞ্চমত: ‘আল-ইজাহ’ গ্রন্থের কিছু পঙ্ক্তিতে সংঘটিত বর্ণ-বিভ্রাট (তাসহিফ) ও বিকৃতি (তাহরিফ) সম্পর্কে তিনি সতর্ক করেছেন।
ষষ্ঠত: মাঝে মাঝে তিনি একটি কাব্য-প্রমাণের সাথে তার অনুরূপ অন্য প্রমাণ যুক্ত করতে সচেষ্ট হয়েছেন।
সপ্তমত: পুনরাবৃত্ত কাব্য-প্রমাণগুলো সম্পর্কে সতর্ক করতে এবং ‘আল-ইজাহ’ গ্রন্থের পরিচ্ছেদগুলোর কাব্য-প্রমাণের সমাপ্তি নির্দেশ করতে যত্নবান হয়েছেন।
অষ্টমত: কাব্য-প্রমাণের অনেক শব্দ, শৈলী ও বর্ণনার আলোকে তিনি অনেকগুলো মানসম্মত ব্যাকরণিক ও রূপতাত্ত্বিক গবেষণা পরিচালনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تاسعًا: اهتمّ بالمعنى، وربط بينه وبين الإعراب. . .
عاشرًا: نهج منهج الاختصار، ونأى غالبًا عن الاستطراد، ولم يتطرّق إلى غوامض الإعراب.
الفصل الثالث: السَّماع والقياس والتعليل في الكتاب 257 - 265.
أوَّلًا: السماع.
ثانيًا: القياس.
ثالثًا: التعليل.
الفصل الرَّابع: شواهده 267 - 287.
أوَّلًا: شواهده من القرآن الكريم وقراءاته.
- أهمية الشواهد القرآنية.
- عناية ابن يسعون واعتماده عليها.
- ملحوظات على استشهاده بالقرآن.
- موقف النَّحويّين من الاستشهاد بالقراءات القرآنية.
- استشهاد ابن يسعون بالقراءات القرآنية الصحيحة على اختلاف أنواعها، وعنايته بتخريجها.
ثانيًا: شواهده من الحديث: 276.
- الخلاف في الاستشهاد بالحديث في الدِّراسات النَّحويَّة.
- ترجيح جواز الاستشهاد به، والاحتجاج لذلك وردّ ما احتجّ به المانعون.
নবম: তিনি অর্থের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং তার সাথে ইরাবের (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) সংযোগ স্থাপন করেছেন।
দশম: তিনি সংক্ষেপণের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক দীর্ঘ আলোচনা থেকে দূরে থেকেছেন এবং ইরাবের জটিল বিষয়গুলোতে প্রবেশ করেননি।
তৃতীয় অধ্যায়: গ্রন্থে সামা‘ (শ্রুতি), কিয়াস (সাদৃশ্য) এবং তা‘লীল (কারণ নির্ণয়) ২৫৭ - ২৬৫।
প্রথম: সামা‘ (শ্রুতি)।
দ্বিতীয়: কিয়াস (সাদৃশ্য)।
তৃতীয়: তা‘লীল (কারণ নির্ণয়)।
চতুর্থ অধ্যায়: তাঁর প্রমাণাদি ২৬৭ - ২৮৭।
প্রথম: পবিত্র কুরআন ও এর কিরাআতসমূহ থেকে তাঁর সংগৃহীত প্রমাণাদি।
- কুরআনিক প্রমাণাদির গুরুত্ব।
- ইবনে ইয়াসউনের এগুলোর প্রতি যত্নশীলতা এবং এগুলোর ওপর তাঁর নির্ভরতা।
- কুরআন থেকে তাঁর দলিল পেশ করার বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ।
- কুরআনের কিরাআতসমূহ থেকে দলিল গ্রহণের ব্যাপারে বৈয়াকরণদের অবস্থান।
- বিভিন্ন প্রকারের সহীহ কুরআনি কিরাআত থেকে ইবনে ইয়াসউনের দলিল পেশ এবং সেগুলোর উৎস নির্ণয়ে তাঁর বিশেষ যত্ন।
দ্বিতীয়: হাদীস থেকে তাঁর সংগৃহীত প্রমাণাদি: ২৭৬।
- ব্যাকরণিক গবেষণায় হাদীস থেকে দলিল গ্রহণের ব্যাপারে বিদ্যমান মতভেদ।
- হাদীস থেকে দলিল গ্রহণের বৈধতাকে প্রাধান্য দান, এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন এবং যারা এটি নিষেধ করেন তাদের যুক্তিসমূহ খণ্ডন।
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
- استشهاد ابن يسعون بالحديث في المباحث اللّغويَّة والنَّحويَّة، وعناية بتوجيهه إذا كان في ظاهره خروج عن القواعد.
ثالثًا: شواهده من الشِّعر: 280.
- ما يحتجّ به من الشعر وما لا يحتجّ به.
- استشهاد ابن يسعون بمجموعة كبيرة من الشَّواهد الشِّعريَّة.
ملحوظات: على استشهاده بالشعر - أمثلة لشواهده الشِّعريَّة.
رابعًا: شواهده من أمثال العرب وأقوالهم: 284.
- إجماع اللّغويّين والنَّحويِّين على الاستشهاد بأمثال العرب وأقوالهم.
- استشهاد ابن يسعون ببعضها وعنايته بتوجيهها.
الفصل الخامس: مباحثه: 289 - 319.
أؤَلًا: المباحث النَّحويَّة - وعناية ابن يسعون بها.
وقد جعلها الباحث في أربعة عناصر، وهى: حرصه على إعراب كثير من الشواهد. عنايته بالتوجيه الإعرابي للروايات المختلفة. اهتمامه بإدارة البحوث النَّحويَّة في المسائل الخلافية ووقوفه منها موقف الناقد البصير.
بيان أهم مسائل الحلاف التي عرضها ابن يسعون في المصباح أو أشار إليها.
ثانيًا: المباحث الصرفيَّة: 204.
عناية ابن يسعون بها، زخر المصباح بالحديث عن الأوزان والصيغ والجموع والاشتقاق وأصل الكلمات.
ভাষাগত ও ব্যাকরণিক আলোচনায় ইবনে ইয়াসুনের হাদীস দ্বারা দলিল প্রদান এবং হাদীসের প্রকাশ্য রূপ ব্যাকরণিক নিয়মের পরিপন্থী হলে তার ব্যাখ্যা প্রদানের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ।
তৃতীয়ত: কাব্য থেকে তাঁর সংগৃহীত প্রমাণাদি: ২৮০।
- কবিতার ক্ষেত্রে যা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য এবং যা দলিল হিসেবে অযোগ্য।
- ইবনে ইয়াসুন কর্তৃক কাব্যিক প্রমাণাদির একটি বিশাল সংকলন ব্যবহার।
টীকা: তাঁর কাব্যিক প্রমাণাদি ব্যবহারের ওপর - তাঁর কাব্যিক প্রমাণাদির উদাহরণসমূহ।
চতুর্থত: আরবদের প্রবাদ ও প্রবচন থেকে তাঁর সংগৃহীত প্রমাণাদি: ২৮৪।
- আরবদের প্রবাদ ও প্রবচনকে দলিল হিসেবে গ্রহণের ব্যাপারে ভাষাবিদ ও ব্যাকরণবিদদের ঐকমত্য।
- ইবনে ইয়াসুন কর্তৃক এগুলোর মধ্য থেকে কিছু ব্যবহার এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদানের প্রতি তাঁর যত্ন।
পঞ্চম অধ্যায়: তাঁর গবেষণার বিষয়সমূহ: ২৮৯ - ৩১৯।
প্রথমত: ব্যাকরণিক আলোচনা - এবং এর প্রতি ইবনে ইয়াসুনের গুরুত্বারোপ।
গবেষক একে চারটি উপাদানে বিভক্ত করেছেন, সেগুলো হলো: অসংখ্য প্রমাণের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ই'রাব) প্রদানে তাঁর আগ্রহ। বিভিন্ন বর্ণনার ব্যাকরণিক ব্যাখ্যার প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন। মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহে ব্যাকরণিক গবেষণা পরিচালনা এবং সেগুলোর ক্ষেত্রে একজন দূরদর্শী সমালোচকের ভূমিকা পালন।
ইবনে ইয়াসুন আল-মিসবাহ গ্রন্থে যেসব গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করেছেন বা ইঙ্গিত করেছেন সেগুলোর বর্ণনা।
দ্বিতীয়ত: রূপমূলতত্ত্ব বা সরফ সংক্রান্ত আলোচনা: ২০৪।
এর প্রতি ইবনে ইয়াসুনের বিশেষ গুরুত্ব; আল-মিসবাহ গ্রন্থটি শব্দের ওজন, রূপ, বহুবচন, শব্দমূল নির্গমন (ইশতিকাক) এবং শব্দের মূল উৎস সংক্রান্ত আলোচনায় সমৃদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ثالثًا: المباحث اللّغويَّة: 308.
براعة ابن يسعون في اللّغة، وتمكّنه من أسرارها ودقائقها، وبصره بإشاراتها ولطائفها، عنايته بالمباحث اللّغويَّة. وقد جعلها الدُّكتور عبد اللَّه في ستَّة عناصر:
- شرح معاني الألفاظ.
- إدارة البحوث اللّغوية حول بعض الكلمات. ذكر اللّغات المختلفة.
- إيضاح العلاقة بين المعنى الجديد والأصليّ للكلمات.
- وضعه الضوابط اللّغويّة، وتقريره بعض القواعد الكليَّة.
- المصطلحات اللّغويَّة كالاشتراك والتضاد وغيرهما.
رابعًا: المباحث الأخرى: 317.
بعض المباحث البلاغية.
بعض المباحث العروضيَّة.
بعض المباحث المتصلة بعلم الكلام.
الفصل السَّادس: تقويم الكتاب: 320.
أوَّلًا: بعض المزايا.
ثانيًا: بعض المآخذ على الكتاب.
خاتمة: 331.
فهرس أهمّ المراجع: 341.
فهرس الموضوعات: 357.
তৃতীয়: ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনা: ৩০৮।
ভাষায় ইবনে ইয়াসউনের দক্ষতা, এর রহস্য ও সূক্ষ্মতায় তাঁর পারদর্শিতা, এর ইঙ্গিত ও গূঢ় রহস্যে তাঁর অন্তর্দৃষ্টি এবং ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনার প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন। ডক্টর আবদুল্লাহ একে ছয়টি উপাদানে বিন্যস্ত করেছেন:
- শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা।
- নির্দিষ্ট কিছু শব্দের ওপর ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার পরিচালনা। বিভিন্ন উপভাষার উল্লেখ।
- শব্দের মূল ও নতুন অর্থের মধ্যে সম্পর্ক স্পষ্টকরণ।
- ভাষাতাত্ত্বিক মানদণ্ড নির্ধারণ এবং কিছু সামগ্রিক মূলনীতি প্রণয়ন।
- ভাষাতাত্ত্বিক পরিভাষাসমূহ, যেমন: অনেকার্থকতা, বিপরীতার্থকতা এবং অন্যান্য।
চতুর্থ: অন্যান্য আলোচনা: ৩১৭।
অলংকারশাস্ত্রীয় কিছু আলোচনা।
ছন্দশাস্ত্রীয় কিছু আলোচনা।
ইলমুল কালাম (ধর্মতত্ত্ব) সংশ্লিষ্ট কিছু আলোচনা।
ষষ্ঠ অধ্যায়: গ্রন্থের মূল্যায়ন: ৩২০।
প্রথম: কিছু বৈশিষ্ট্য।
দ্বিতীয়: গ্রন্থের কিছু সীমাবদ্ধতা।
উপসংহার: ৩৩১।
প্রধান তথ্যসূত্রসমূহের তালিকা: ৩৪১।
বিষয়সূচি: ৩৫৭।
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
هذه لمحة موجزة عن دراسة الدّكتور عبد اللَّه هلال ذكرتها لكيلا أبخس الرّجل حقّه، ولكيلا يظنّ أنني أغرت على جهوده ونسبتها لنفسي شأن كثير من ضعاف النفوس في هذا الزّمان، وشيء آخر أيضًا ليظهر الفرق بين العملين، ويميز بين العسجد واللّجين!!
هذا وقد قدّمت لتحقيق الكتاب بدراسة جعلتها في فصلين:
الفصل الأوَّل: عن ابن يسعون، تحدثت فيه عن اسمه ونسبه وكنيته ومن شاركه فيها، وعن نشأته، وموطنه وشيوخه وتلاميذه، ومكانته العلميَّة وآثاره.
الفصل الثَّاني: دراسة الكتاب، تحدثت فيها عن اسمه وتوثيق نسبته، ومصادره، وشواهده، ومنهجه، وموازنته بشرحين من شروح شواهد الإيضاح، وتقويمه.
أمَّا النصّ المحقّق فمهدتُ له. بوصف نسخ الكتاب الخطيَّة ومنهجي في التَّحقيق.
{رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ}.
{رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ}.
وآخر دعوانا أن الحمد للَّه ربِّ العالمين، والصَّلاة والسَّلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبيّنا محمَّد بن عبد اللَّه، وعلى آله وصحبه ومن والاه إلى يوم الدّين.
محمَّد بن حمود الدَّعجاني
طيبة الطيبة - حى العزيزية - يوم الخميس 17/ 11/ 1414 هـ
এটি ডক্টর আবদুল্লাহ হিলালের গবেষণার উপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত যা আমি উল্লেখ করেছি যাতে আমি সেই ব্যক্তির প্রাপ্য অধিকার ক্ষুণ্ণ না করি এবং যাতে কেউ মনে না করে যে আমি তাঁর পরিশ্রম আত্মসাৎ করেছি এবং এই যামানার অনেক দুর্বল চিত্তের অধিকারীদের মতো তা নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছি। এছাড়া অন্য একটি উদ্দেশ্য হলো যেন উভয় কর্মের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয় এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যের মাঝে পার্থক্য করা যায়!!
গ্রন্থটির সম্পাদনার পূর্বে আমি একটি গবেষণামূলক ভূমিকা পেশ করেছি যা আমি দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে ইয়াসউন সম্পর্কে; এতে আমি তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম এবং যাঁরা তাঁর সাথে একই উপনামে শরীক ছিলেন, তাঁর বেড়ে ওঠা, আবাসস্থল, শিক্ষক ও ছাত্রবৃন্দ এবং তাঁর ইলমি মাকাম ও রচনাবলি সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ সম্পর্কিত আলোচনা; এতে আমি এর নাম, এর রচয়িতার দিকে এর নিসবত বা সম্পৃক্ততার প্রমাণিকতা, এর উৎসসমূহ, এর উদ্ধৃতিসমূহ, এর পদ্ধতি এবং 'শাওয়াহিদুল ইযাহ'-এর দুটি ব্যাখ্যার সাথে এর তুলনা ও মূল্যায়ন সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
আর মূল সম্পাদিত পাঠ্যের পূর্বে আমি একটি ভূমিকা প্রদান করেছি, যেখানে গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ এবং সম্পাদনায় আমার অনুসৃত পদ্ধতি বর্ণনা করেছি।
{হে আমাদের পালনকর্তা, যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করে দিও।}
{হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করো যারা ঈমানে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের পালনকর্তা, নিশ্চয়ই তুমি অতি দয়ালু, পরম করুণাময়।}
আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো যে, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আম্বিয়া ও মুরসালিনদের মাঝে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব আমাদের নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁকে অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
মুহাম্মদ বিন হামুদ আদ-দা’জানি
তৈয়্যিবাতুত তৈয়্যিবা - আল-আজিজিয়া এলাকা - বৃহস্পতিবার ১৭/ ১১/ ১৪১৪ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الأوَّل: ابن يسعون
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে ইয়াসউন
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الفصل الأوَّل: ابن يسعون
اسمه ونسبه:هو يوسف بن أبي عبد الملك يبقى بن يوسف بن مسعود بن عبد الرحمن بن يسعون التجيبي التاجلي
(1) من أهل تاجلة، حصن بمقربة من برجانه -ويقال أيضًا: برشانة- من نظر المرية
(2).
وجعله الدّكتور عبد اللَّه هلال "الباجلي"، ومصادره الأعلام، ومعجم المؤلفين، ثم قال وهو يتحدّث عن نسبه: ". . . وأورد ابن الآبار والضبي والسيوطي سلسلة نسبه خالية من اثنين من أجداده، هما: مسعود وعبد الرحمن، فجاءت هكذا: يوسف بن يبقى بن يوسف بن يسعون"
(3).
وأقول: إنها العجلة، وعدم الدِّقة في إطلاق الأحكام، ولو عاد الدّكتور لكتاب التكملة لابن الأبار -732 - لوجده يقول: "يوسف بن يبقى بن يوسف بن مسعود بن عبد الرحمن بن يسعون. . . "، ولرأى أنَّ ابن الأبار لم يسقط اثنين من أجداده كما زعم! ولَمْ يجعله الباجلي وهو التاجلي! والتُجيْبي
(4): بضم فكسر فسكون هذه النسبة إلى تجيب،
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: ইবনে ইয়াসউন
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন ইউসুফ বিন আবি আব্দুল মালিক ইয়াবকা বিন ইউসুফ বিন মাসউদ বিন আব্দুর রহমান বিন ইয়াসউন আত-তুজিবি আত-তাজিলি
(১)। তিনি তাজিলার অধিবাসী, যা আল-মারিয়্যাহ অঞ্চলের বুরজানাহ্—একে বারশানাহ্-ও বলা হয়—এর নিকটবর্তী একটি দুর্গ
(২)।
ডক্টর আব্দুল্লাহ হিলাল তাঁকে "আল-বাজিলি" হিসেবে উল্লেখ করেছেন, এবং তাঁর উৎস হলো আল-আলাম এবং মু'জামুল মুআল্লিফিন। অতঃপর তিনি তাঁর বংশপরিচয় সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "...ইবনুল আব্বার, আদ-দাব্বি এবং আস-সুয়ূতী তাঁর বংশপরম্পরা উল্লেখ করেছেন যেখানে তাঁর দুইজন পূর্বপুরুষ বাদ পড়েছেন, তাঁরা হলেন: মাসউদ এবং আব্দুর রহমান; ফলে তা এভাবে এসেছে: ইউসুফ বিন ইয়াবকা বিন ইউসুফ বিন ইয়াসউন"
(৩)।
আমি বলি: এটি তাড়াহুড়ো এবং সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিকতার অভাব। যদি ডক্টর ইবনুল আব্বারের 'আত-তাকমিলা' গ্রন্থের ৭৩২ নং পৃষ্ঠায় ফিরে যেতেন, তবে তিনি তাঁকে বলতে দেখতেন: "ইউসুফ বিন ইয়াবকা বিন ইউসুফ বিন মাসউদ বিন আব্দুর রহমান বিন ইয়াসউন...", এবং তিনি দেখতেন যে ইবনুল আব্বার তাঁর দাবির মতো তাঁর দুইজন পূর্বপুরুষকে বাদ দেননি! আর তিনি তাঁকে "আল-বাজিলি" বলেননি, বরং তিনি ছিলেন "আত-তাজিলি"! আর 'আত-তুজিবি'
(৪): পেশ, এরপর জের, এরপর সাকিন—এই নিসবত বা সম্বন্ধটি 'তুজিব'-এর দিকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وهو اسم أم عدي وسعد ابني أشرس بن شبيب بن السكون، وهي تجيب بنت ثوبان بن سليم ابن رهاء من مذجح، نسبوا إليها.
وإلى محلة بمصر، ويجوز فتح التاء في النسبة إليها.
والتَّاجلي: نسبة إلى تاجلة، حصن بمقربة من برجانة من نظر المريَّة
(1). وجعله الدّكتور هلال (الباجلي)، وقال: "نسبه إلى باجلة، وهي قرية من قرى إشبيلية بالأندلس، قريبة من مدينة المريَّة"
(2) وأحال على المعجم 316 لابن الأبار، وبالرّجوع إليه وجدته يقول بعد أن ساق نسب ابن يسعون: "من أهل المرية، والمسلم له في صناعة العربية، أصله من تاجلة وقيل: من برشانة، وهما من عمل المرية".
وابن الأبار رحمه الله أجلّ من أن يقول ما قوّله الدّكتور هلال -سامحه اللَّه- الذى ينطبق عليه قول القائل:
يصيب ما يدري ويخطئ ما درى!
بدليل قول المقري رحمه الله: "واعلم أنَّ جزيرة الأندلس -أعادها اللَّه للإسلام- مشتملة على موسطة وشرق وغرب، فالموسطة فيها من القواعد الممصرة التي كلّ مدينة مملكة مستقلة لها أعمال ضخام، وأحكام متسعة: قرطبة. . . والمرية. . . وأمَّا غرب الأندلس ففيه: إشبيلية ومارده. . . "
(3).
--------------------------------------------
এটি আদি এবং সা'দ নামক আশরাস ইবনে শাবীব ইবনে আল-সুকুন-এর দুই পুত্রের মাতার নাম। তিনি হলেন তুজীব বিনতে সাওবান ইবনে সুলাইম ইবনে রাহা, যিনি মাজহিজ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত; তারা তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত।
এবং মিসরের একটি মহল্লার দিকেও সম্বন্ধ করা হয়, আর এর নিসবত বা সম্বন্ধের ক্ষেত্রে 'তা' বর্ণে ফাতহা (যবর) প্রদান করা জায়েজ।
আর আত-তাজিলী: এটি তাজিলার দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা আল-মারিয়্যা অঞ্চলের অন্তর্গত বারজানার নিকটবর্তী একটি দুর্গ
(১)। ডক্টর হিলাল একে (আল-বাজিলী) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বলেছেন: "তাঁর নিসবত বাজিলার দিকে, যা আন্দালুসের ইশবিলিয়ার গ্রামগুলোর মধ্যবর্তী একটি গ্রাম, যা আল-মারিয়্যা শহরের নিকটবর্তী"
(২)। তিনি ইবনুল আব্বার রচিত আল-মু'জাম-এর ৩১৬ পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি দিয়েছেন। আর সেখানে প্রত্যাবর্তন করে আমি তাকে ইবনে ইয়াসউন-এর বংশপরম্পরা বর্ণনার পর বলতে দেখেছি: "তিনি আল-মারিয়্যার অধিবাসী এবং আরবি ব্যাকরণশাস্ত্রে তাঁর পারদর্শিতা সর্বজনস্বীকৃত; তাঁর মূল আবাস তাজিলা, আবার বলা হয় বারশানা, আর এ উভয়টিই আল-মারিয়্যার অন্তর্ভুক্ত এলাকা।"
ইবনুল আব্বার (রহিমাহুল্লাহ) এর মর্যাদা এর চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে যে, ডক্টর হিলাল তাঁর প্রতি যা আরোপ করেছেন তিনি তা বলবেন—আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন—যার ক্ষেত্রে এই প্রবাদটি প্রযোজ্য:
সে যা জানে না তাতে সে সঠিক বলে, আর যা জেনেছে তাতে ভুল করে!
এর প্রমাণ হিসেবে আল-মাক্বরী (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তিটি লক্ষণীয়: "জেনে রেখো যে, আন্দালুস উপদ্বীপ—আল্লাহ তা পুনরায় ইসলামের অধীনে ফিরিয়ে দিন—মধ্যঞ্চল, পূর্বাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে গঠিত। এর মধ্যঞ্চলী প্রধান শহরগুলোর মধ্যে এমন কিছু মহানগরী রয়েছে যার প্রতিটিই এক একটি স্বতন্ত্র রাজ্য, যার রয়েছে বিশাল এলাকা এবং বিস্তৃত শাসনব্যবস্থা: যেমন কুরতুবা... আল-মারিয়্যা... আর আন্দালুসের পশ্চিমাঞ্চলে রয়েছে: ইশবিলিয়া ও মারিদাহ..."
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
والشنشي: قال الدّكتور هلال: "وإذا كان صاحبنا قد عُرف بابن يسعون وأبي الحجاج فقد عرف بالشنشي أيضًا
(1) "، ولم يزد على ذلك. وقال ابن الزبير رحمه الله: "وكان يعرف أيضًا بالشنشي، ولعلّ أصله من حصن شنش من الجهة المذكورة"
(2).
وقال ابن سعيد وهو يتحدّث عن مملكة المرية: "كتاب نقش الحنش في حُلى حصن شَنَشَ" على مرحلة من المرية، وفيه شجر التوت كثير. . .
(3).
كنية المصنف:ليوسف بن يبقى كنيتان عرف بهما لدى المصنفين. الأولى: أبو الحجاج، والثَّانية: ابن يسعون.
وقد شاركه في الأولى كثير من العلماء منهم:
1 - أبو الحجاج يوسف بن سليمان المعروف بالأعلم، المتوفى سنة 476 هـ
(4).
2 - أبو الحجاج يوسف بن عبد العزيز بن علي اللّخمي، المتوفى سنة 523 هـ
(5).
3 - أبو الحجاج يوسف بن علي القضاعي المعروف بالقفال والحداد، المتوفى سنة 542 هـ.
--------------------------------------------
আল-শানশি: ডক্টর হিলাল বলেছেন: "আমাদের এই পরিচিত ব্যক্তি যদি ইবনে ইয়াসউন এবং আবু আল-হাজ্জাজ নামে পরিচিত হয়ে থাকেন, তবে তিনি আল-শানশি নামেও পরিচিত ছিলেন
(১)", তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু বলেননি। ইবনে আল-যুবাইর (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তিনি আল-শানশি নামেও পরিচিত ছিলেন, সম্ভবত তাঁর আদি নিবাস উল্লিখিত অঞ্চলের শানাশ দুর্গ থেকে"
(২)।
ইবনে সাঈদ আল-মেরিয়া রাজ্য সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: "শানাশ দুর্গের অলংকারে সাপের নকশা কিতাব" আল-মেরিয়া থেকে এক মনজিল দূরত্বে অবস্থিত, সেখানে প্রচুর তুঁত গাছ রয়েছে...
(৩)।
গ্রন্থকারের উপনাম:ইউসুফ বিন ইয়াবকার দুটি উপনাম ছিল যার মাধ্যমে তিনি গ্রন্থকারদের নিকট পরিচিত ছিলেন। প্রথমটি: আবু আল-হাজ্জাজ, এবং দ্বিতীয়টি: ইবনে ইয়াসউন।
প্রথম উপনামটিতে তাঁর সাথে অনেক আলেম অংশীদার ছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ বিন সুলায়মান, যিনি আল-আলাম নামে পরিচিত, মৃত্যু ৪৭৬ হিজরি
(৪)।
২ - আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আব্দুল আজিজ বিন আলী আল-লাখমি, মৃত্যু ৫২৩ হিজরি
(৫)।
৩ - আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আলী আল-কুদায়ী, যিনি আল-কাফফাল এবং আল-হাদ্দাদ নামে পরিচিত, মৃত্যু ৫৪২ হিজরি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
4 - يوسف بن فتوح بن محمد المعروف بالعشاب، المتوفى سنة 562 هـ.
5 - أبو الحجاج يوسف بن بكر الصريحي، المتوفى قبل سنة 540 هـ.
6 - يوسف بن محمّد بن سماجة الداني أبو الحجاج، المتوفى بعد سنة 542 هـ.
7 - يوسف بن إسماعيل المخزومي القرطبي المعروف بالمرادي أبي الحجاج، المتوفى سنة 575 هـ.
8 - أبو الحجاج يوسف ين موسى الأزدي الكفيف.
9 - يوسف بن إبراهيم بن عثمان العبدري أبو الحجاج الغرناطي المعروف الثغري أبي الحجاج، المتوفى سنة 579 هـ.
10 - أبو الحجاج يوسف بن عبد اللَّه الفهري الداني، المتوفى سنة 592 هـ.
11 - يوسف بن عبد الرحمن بن غصن أبو الحجاج، المتوفى سنة 598 هـ.
12 - أبو الحجاج يوسف بن سليمان بن يوسف بن عبد الرحمن، المتوفى قبل الستمائة هـ.
13 - أبو الحجاج يوسف بن علي بن يوسف الأنصاري، المتوفى سنة 605 هـ.
14 - يوسف بن محمّد بن عبد اللَّه البلوي المعروف بابن الشيخ، المتوفى سنة 604 هـ.
15 - يوسف بن أحمد بن علي أبو الحجاج، المتوفى سنة 619 هـ.
16 - يوسف بن إبراهيم بن عبد العزيز القيسي أبو الحجاج المعروف بابن معزوز، المتوفى بعد سنة 620 هـ.
17 - يوسف بن أحمد بن طاووس أبو الحجاج المتوفى سنة 620 هـ.
৪ - ইউসুফ বিন ফুতুহ বিন মুহাম্মাদ, আল-আশশাব নামে পরিচিত, মৃত্যু ৫৬২ হিজরি।
৫ - আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন বাকর আস-সারিহি, মৃত্যু ৫৪০ হিজরির পূর্বে।
৬ - ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন সামাজাহ আদ-দানি আবুল হাজ্জাজ, মৃত্যু ৫৪২ হিজরির পরে।
৭ - ইউসুফ বিন ইসমাইল আল-মাখজুমি আল-কুরতুবি, আল-মুরাদি আবুল হাজ্জাজ নামে পরিচিত, মৃত্যু ৫৭৫ হিজরি।
৮ - আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন মুসা আল-আজদি আল-কাফিফ।
৯ - ইউসুফ বিন ইবরাহিম বিন উসমান আল-আবদারি আবুল হাজ্জাজ আল-গারনাতি, আস-সাগরি আবুল হাজ্জাজ নামে পরিচিত, মৃত্যু ৫৭৯ হিজরি।
১০ - আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ আল-ফিহরি আদ-দানি, মৃত্যু ৫৯২ হিজরি।
১১ - ইউসুফ বিন আব্দুর রহমান বিন গুসন আবুল হাজ্জাজ, মৃত্যু ৫৯৮ হিজরি।
১২ - আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন সুলাইমান বিন ইউসুফ বিন আব্দুর রহমান, মৃত্যু ৬০০ হিজরির পূর্বে।
১৩ - আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আলি বিন ইউসুফ আল-আনসারি, মৃত্যু ৬০৫ হিজরি।
১৪ - ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বালাউয়ি, ইবনে আশ-শাইখ নামে পরিচিত, মৃত্যু ৬০৪ হিজরি।
১৫ - ইউসুফ বিন আহমাদ বিন আলি আবুল হাজ্জাজ, মৃত্যু ৬১৯ হিজরি।
১৬ - ইউসুফ বিন ইবরাহিম বিন আব্দুল আজিজ আল-কায়সি আবুল হাজ্জাজ, ইবনে মাজুজ নামে পরিচিত, মৃত্যু ৬২০ হিজরির পরে।
১৭ - ইউসুফ বিন আহমাদ বিন তাউস আবুল হাজ্জাজ, মৃত্যু ৬২০ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
18 - يوسف بن يحيى بن عبد اللَّه اللَّخمي، المتوفى سنة 631 هـ.
19 - يوسف بن محمّد بن علي أبو الحجاج، المتوفى سنة 635 هـ.
20 - يوسف بن عبد الرحمن بن محمّد أبو الحجاج المعروف بابن المرينة، المتوفى سنة 636 هـ.
21 - أبو الحجاج يوسف بن عيسى بن على الملقب بالملجوم، المتوفى سنة 513 هـ.
22 - يوسف بن عبد الصمد بن يوسف المعروف بابن نمز، المتوفى سنة 614 هـ.
هؤلاء وغيرهم من العلماء ممن شارك ابن يسعون في اسمه وكنيته ولم يذكر منهم الدّكتور هلال إلَّا الأعلم وابن مَعْزوز
(1).
أمَّا كنيته الثانية فقد كانت أشهر وأدلّ عليه من الأولى.
حياته:لا تذكر كتب التراجم الى اطلعت عليها من حياة ابن يسعون وأخباره إلَّا نزرًا يسرًا، لا يرسم معالم واضحة لهذه الحياة، ولا يكشف عن مراحل تطوره الفكري؛ إذ لا نعرف عن مولده ونشأته وأسرته شيئًا.
والراجح أنَّه ولد في تاجلة، حصن بمقربة من برشانة من نظرية المرية، وأن أصله من حصن شنش الذي سبق التعريف به وكرر الدّكتور هلال الخطأ الذي سبق التنبيه عليه وقال: "واعتمادي في ذلك على قول
--------------------------------------------
১৮ - ইউসুফ ইবন ইয়াহইয়া ইবন আবদুল্লাহ আল-লাখমি, মৃত্যু ৬৩১ হিজরি।
১৯ - ইউসুফ ইবন মুহাম্মদ ইবন আলী আবু আল-হাজ্জাজ, মৃত্যু ৬৩৫ হিজরি।
২০ - ইউসুফ ইবন আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মদ আবু আল-হাজ্জাজ, ইবনুল মারিনা নামে পরিচিত, মৃত্যু ৬৩৬ হিজরি।
২১ - আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবন ঈসা ইবন আলী, আল-মালজুম উপাধিতে ভূষিত, মৃত্যু ৫১৩ হিজরি।
২২ - ইউসুফ ইবন আবদুস সামাদ ইবন ইউসুফ, ইবন নামায নামে পরিচিত, মৃত্যু ৬১৪ হিজরি।
তারা এবং অন্যান্য আলেমগণ যাদের নাম ও কুনিয়াত ইবন ইয়াসউনের সাথে মিল রয়েছে, অথচ ডক্টর হিলাল তাদের মধ্য থেকে কেবল আল-আলাম এবং ইবন মাজূজ ব্যতীত অন্য কারো কথা উল্লেখ করেননি
(১)।
তার দ্বিতীয় কুনিয়াতটি প্রথমটির তুলনায় অধিক প্রসিদ্ধ এবং তাকে নির্দেশ করার ক্ষেত্রে অধিক স্পষ্ট ছিল।
তার জীবন:আমি যেসব জীবনীগ্রন্থ অধ্যয়ন করেছি, তাতে ইবন ইয়াসউনের জীবন ও সংবাদ সম্পর্কে কেবল অতি সামান্য তথ্যই পাওয়া যায়, যা এই জীবনের কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা অঙ্কন করে না এবং তার বুদ্ধিভিত্তিক বিবর্তনের পর্যায়গুলো উন্মোচন করে না; কেননা আমরা তার জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং পরিবার সম্পর্কে কিছুই জানি না।
প্রবল ধারণা এই যে, তিনি তাজলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যা আল-মারিয়া অঞ্চলের বারশানা-র নিকটবর্তী একটি দুর্গ। আর তার আদি উৎস শানশ দুর্গ থেকে, যার পরিচয় পূর্বে দেয়া হয়েছে। ডক্টর হিলাল সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করেছেন যে বিষয়ে ইতিপূর্বে সতর্ক করা হয়েছিল এবং তিনি বলেছেন: "এ বিষয়ে আমার নির্ভরতা হলো এই উক্তির ওপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ابن الأبار، وهو أقدم من ترجم لابن يسعون أصله من باجلة، وقيل: من برشانة وهما من عمل المرية"
(1).
وأقول: "باجلة" الدّكتور التي كرّرها في بحثه في أكثر من موضع هي "تاجلة" بالتَّاء المثناة بدليل ما ذكر ابن الأبار في "المعجم"
(2) الذي جعله الدّكتور هلال من مصادره وأحال عليه، وما أشار إليه ابن الزبير في "صلة الصلة"
(3) ولو عاد إلى المغرب لوجد ابن سعيد يقول فيه 2/ 84 "الكتاب العاشر من الكتب التي يشتمل عليها: كتاب مملكة جيان وهو: كتاب الفوائد المفصلة في حُلى تاجلة" من عمل بسطة على وادي المنصورة" وأمَّا برشانه أو برجانة فهي حصن على مجتمع نهرين وهو من أمنع الحصون مكانًا، وأوثقها بيانًا، وأكثرها عمرانًا.
وفي المغرب 2/ 81 "كتاب الخَيْزرانة، في حُلى حصن بُرْشَانَه" من حصون بسطة على نهر المنصورة المشهور بالحسن، لما عليه من الضياع والحصون والجنان".
وأمَّا "المرية" التي استوطنها ابن يسعودت فإنها "مدينة محدثة أمر ببنائها أمير المؤمنين الناصر لدين اللَّه عبد الرحمن بن محمَّد سنة أربع وأربعين وثلاثمائة، وكان النَّاس ينتجعونها ويرابطون بها، وهي اليوم أشهر مراسي
--------------------------------------------
ইবনুল আব্বার, যিনি ইবনু ইয়াসুনের জীবনী রচয়িতাদের মধ্যে প্রাচীনতম, (উল্লেখ করেছেন যে) তার আদি নিবাস ছিল 'বাজিলা' থেকে, এবং বলা হয়েছে: 'বরশানা' থেকে; আর এ দুটি স্থানই আলমাইরিয়ার (আল-মেরিয়া) প্রশাসনিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত
(১)।
আমি বলছি: ডক্টর তার গবেষণায় একাধিক স্থানে যে 'বাজিলা' শব্দটি পুনরাবৃত্তি করেছেন, তা মূলত দুই নুকতা বিশিষ্ট 'তা' সহযোগে 'তাজিলা'। এর প্রমাণ ইবনুল আব্বার তার 'আল-মু'জাম'
(২) গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন, যাকে ডক্টর হিলাল তার অন্যতম উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং যার উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। আরও প্রমাণ হলো ইবনুয যুবাইর তার 'সিলাতুস সিলাহ'
(৩) গ্রন্থে যা ইশারা করেছেন। তিনি যদি 'আল-মাগরিব' গ্রন্থের দিকে ফিরে তাকাতেন, তবে ইবনু সাঈদকে সেখানে বলতে দেখতেন ২/৮৪: "এর অন্তর্ভুক্ত দশম গ্রন্থটি হলো: জায়ান রাজ্যের বর্ণনা সম্বলিত গ্রন্থ। আর তা হলো: 'তাজিলার সৌন্দর্যে বিস্তারিত উপকারের গ্রন্থ', যা মানসুরা উপত্যকার বাসতা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।" আর বরশানা বা বারজানা হলো দুই নদীর মোহনায় অবস্থিত একটি দুর্গ। এটি অবস্থানের দিক থেকে অন্যতম দুর্ভেদ্য দুর্গ, বর্ণনার দিক থেকে অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং জনবসতির দিক থেকে সমৃদ্ধ।
এবং 'আল-মাগরিব' ২/৮১ গ্রন্থে রয়েছে: "কিতাবুল খয়জরানা, বরশানা দুর্গের বর্ণনায়"; যা মানসুরা নদীর তীরে অবস্থিত বাসতার দুর্গসমূহের অন্যতম, যা তার সৌন্দর্যের জন্য প্রসিদ্ধ, কারণ সেখানে অনেক জনপদ, দুর্গ ও উদ্যান রয়েছে।
আর 'আলমাইরিয়া' (আল-মেরিয়া) যেখানে ইবনু ইয়াসুন বসতি স্থাপন করেছিলেন, তা হলো একটি নবনির্মিত শহর, যা নির্মাণের আদেশ দিয়েছিলেন আমীরুল মু'মিনীন আন-নাসির লিদীনিল্লাহ আবদুর রহমান ইবনু মুহাম্মাদ ৩৪৪ হিজরীতে। মানুষ সেখানে জীবিকার অন্বেষণে আসত এবং সীমান্ত প্রহরায় (রিবাত) লিপ্ত থাকত। আজ এটি অন্যতম প্রসিদ্ধ বন্দর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الأندلس وأعمرها، ومن أجل أمصارها وأشهرها، وعليها سور منيع بناه أمير المؤمنين عبد الرَّحمن. . . وكانت أيام الملثمين مدينة الإسلام، وبها من كلّ الصناعات كلّ غريبة. . . "
(1).
وقال عنها ابن سعيد: "مملكة المرية وهو كتاب النفحة العطرية، في حُلى حضرة المرية" من كتاب الرازي: سورها على ضفة البحر، وبها دار الصناعة، وهي باب الشرق، ومفتاح الرّزق.
ومن المسهب: وأمَّا المرية فلها على غيرها من نظرائها أظهرُ مريَّة؛ بنهرها الفضي، وبحرها الزبرجدي، وساحلها التبري، وحصاها المجزع، ومنظرها المرصع، وأسوارها العالية الراسخة، وقلعتها المنيعة الرفيعة الشَّامخة، وبنى فيها خيران العامري قلعته العظيمة المنسوبة إليه، ومما تفضل به اعتدال الهواء، وحسن خراج أهلها وطيب أخلاقهم ولطف أذهانهم.
قال ابن فرج: "حَدَثَ فيها من صنعة الوشي والديباج على اختلاف أنواعه، ومن صنعة الخز وجميع ما يعمل من الحرير، ما لم يبصر مثله في المشرق ولا في بلاد النصارى. وأعظم مبانيها الصُّمادحية التي بناها المعتصم بن صمادح، ومن متفرجاتها مُنى عبدوس، ومُنى غسان، والنجاد، وبركة الصفر، وعين النطية، ونهرها من أحسن الأنهار. . . "
(2).
--------------------------------------------
আন্দালুস এবং এর সর্বাধিক জনবহুল শহর, আর এর শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম মহৎ ও প্রসিদ্ধ। এর ওপর রয়েছে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর যা আমিরুল মুমিনীন আবদুর রহমান নির্মাণ করেছিলেন... আর আল-মুরাবিতুনদের যুগে এটি ছিল ইসলামের নগরী, এবং এতে সকল শিল্পের বিচিত্র সব নিদর্শন বিদ্যমান ছিল..."
(১).
তার সম্পর্কে ইবনে সাঈদ বলেছেন: "আল-মেরিয়া রাজ্য, আর এটি হলো 'আন-নাফহাতুল আতিরিয়্যাহ ফি হুলা হাদরাতি আল-মেরিয়া' গ্রন্থ"; আর রাজির গ্রন্থ থেকে বর্ণিত: এর প্রাচীর সমুদ্রতীরবর্তী, সেখানে রয়েছে শিল্পালয় (কারখানা), আর এটি হলো প্রাচ্যের প্রবেশদ্বার এবং জীবিকার চাবিকাঠি।
আল-মুসহিব গ্রন্থ থেকে: আর আল-মেরিয়ার কথা বলতে গেলে, এর সমসাময়িক অন্য শহরগুলোর ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব অত্যন্ত সুস্পষ্ট; এর রূপালি নদী, মরকত সদৃশ সমুদ্র, স্বর্ণালি উপকূল, বিচিত্র বর্ণিল নুড়ি পাথর, রত্নখচিত দৃশ্যপট, সুউচ্চ ও সুদৃঢ় প্রাচীর এবং দুর্ভেদ্য ও সমুন্নত দুর্গের কারণে। খাইরান আল-আমিরি সেখানে তার নামে পরিচিত বিশাল দুর্গটি নির্মাণ করেছিলেন। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া, এর অধিবাসীদের উত্তম চরিত্র এবং তাদের প্রখর মেধা।
ইবনে ফারাজ বলেছেন: "সেখানে বিভিন্ন প্রকার কারুকাজখচিত অলঙ্করণ ও রেশমি বস্ত্রের (দিবাজ) শিল্প, এবং পশমি বস্ত্র (খাযয) ও রেশম দ্বারা তৈরি সকল পণ্যের এমন শিল্পশৈলী গড়ে উঠেছিল যা প্রাচ্যে কিংবা খ্রিস্টানদের দেশেও দেখা যেত না। এর সর্ববৃহৎ স্থাপনাগুলোর অন্যতম হলো আস-সুমাদিহিয়্যাহ, যা মুতাসিম বিন সুমাদিহ নির্মাণ করেছিলেন। এর ভ্রমণস্থলগুলোর মধ্যে রয়েছে মুনা আবদুস, মুনা গাসসান, আন-নাজাদ, বারকাতুস সাফর, আইনুন নাতিয়্যাহ এবং এর নদীটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ নদী..."
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
"دخلها الإفرنج -خذلهم اللَّه- من البر والبحر في سنة 542 ثم استرجعها المسلمون سنة 552 هـ"
(1).
وأمَّا قول الدّكتور هلال: "بأنَّ ابن الأبار هو أقدم من ترجم لابن يسعون"، فقول عار عن الصحّة؛ إذْ سبقه الضبي المتوفى سنة 599 هـ في كتابه "بغية الملتمس 497".
وقال ابن الزبير رحمه الله وهو يتحدّث عن ابن يسعون: "وذكروه، وذكره ابن عات وغير واحد"
(2).
وابن عات: هو أبو عمر أحمد بن هارون بن أحمد بن جعفر بن عات المحدث الراوية الورع الزاهد المؤرخ، المتوفى سنة 609 هـ في وقيعة العقاب الى أفضت بالأندلس إلى الخراب، قال عنه ابن الأبار: "حدَّث عنه بعض شيوخنا الجلّة. . . "
(3).
ومن مؤلفاته رحمه الله "النزهة في التَّعريف بشيوخ الوجهة" و"ريحانة النفس وراحة الأنفس في ذكر شيوخ الأندلس" كلاهما تراجم ولعلّ ذكره لابن يسعون في كتابه الأخير.
وأغلب الظن أنَّ ابن يسعون قضى طفولته في تاجلة، وعندما أدرك سن الطلب تجوَّل في حواضر الأندلس، طلبًا للعلم ورغبةً في تحصيله،
--------------------------------------------
"ফ্রাঙ্করা -আল্লাহ তাদের অপদস্থ করুন- ৫৪২ হিজরিতে স্থল ও জলপথ দিয়ে সেখানে প্রবেশ করে, অতঃপর ৫৫২ হিজরিতে মুসলিমরা তা পুনরায় উদ্ধার করেন।"
(১).
আর ডক্টর হিলালের এই বক্তব্য যে: "ইবনুল আব্বার হলেন ইবনু ইয়াসুনের জীবনী রচয়িতাদের মধ্যে প্রাচীনতম", তা সত্যের অপলাপ; কেননা ৫৯৯ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আয-যাব্বি তার "বুগইয়াতুল মুলতামিস ৪৯৭" গ্রন্থে তার পূর্বেই এটি উল্লেখ করেছেন।
ইবনুয যুবাইর (রাহিমাহুল্লাহ) ইবনু ইয়াসুন সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "তারা তাকে উল্লেখ করেছেন, এবং ইবনু আত ও একাধিক ব্যক্তি তাকে স্মরণ করেছেন"
(২)।
আর ইবনু আত হলেন: আবু উমর আহমাদ বিন হারুন bin আহমাদ বিন জাফর বিন আত, যিনি একজন মুহাদ্দিস, বর্ণনাকারী, পরহেযগার, যাহিদ ও ঐতিহাসিক ছিলেন। তিনি ৬০৯ হিজরিতে 'আল-উক্বাব' এর যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন, যা আন্দালুসকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। তার সম্পর্কে ইবনুল আব্বার বলেন: "আমাদের কতিপয় প্রথিতযশা উস্তাদ তার থেকে বর্ণনা করেছেন..."
(৩)।
তার (রাহিমাহুল্লাহ) রচনাবলির মধ্যে রয়েছে "আন-নুযহাতু ফিত তা'রিফি বিশুয়ুখিল উইজহাহ" এবং "রাইহানাতুন নাফসি ওয়া রাহাতুল আনফুসি ফী যিকরি শুয়ুখিল আন্দালুস", এই উভয় গ্রন্থই জীবনীমূলক এবং সম্ভবত ইবনু ইয়াসুন সম্পর্কে তার আলোচনা শেষোক্ত গ্রন্থটিতে রয়েছে।
প্রবল ধারণা এই যে, ইবনু ইয়াসুন তার শৈশব তাজিলায় কাটিয়েছেন এবং যখন তিনি জ্ঞানার্জনের বয়সে উপনীত হন, তখন তিনি ইলম অন্বেষণ ও তা অর্জনের আকাঙ্ক্ষায় আন্দালুসের প্রধান শহরগুলোতে ভ্রমণ করেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وفرحل إلى مدينة بطليوس، وأخذ عن ابن السيد فيها وغيره، ثم انتقل إلى قرطبة وأخذ عن شيوخها، ومنهم أبو علي الغساني المحدِّث الأديب.
ثم ألقى عصا الترحال، واستقر به المقام في مدينة المرية وبها قرأ وأقرأ وولى أحكامها"
(1).
شيوخه:هذا المبحث قصَّر فيه الدّكتور هلال تقصيرًا واضحًا؛ حيث لم يعرف بشيوخ ابن يسعون تعريفًا يكشف عن مكانتهم العلمية، بل اكتفى بسردهم بكناهم، وأخطأ في بعضهم، وسأنقل ما قاله حتّى لا أظلم الرَّجل.
"مما لا شكّ فيه أنَّ ابن يسعون التقى بكثير من العلماء، وسعى إلى العديد من الأئمَّة والأدباء، فأخذ عنهم، وسمع منهم، وروى عنهم، وأفاد من غزير علمهم وتنوّع ثقافتهم.
وقد أخذ اللّغة والنَّحو عن أبي محمَّد عبد اللَّه بن محمَّد بن السيد البطليوسي، وقرأ على الإمام أبي علي الصدفي بجامع المرية، وسمع منه مسند البزار، وكتاب الغربين للهروي، والشمائل للترمذي، ورياضة المتعلمين لأبي نعيم وغير ذلك.
وكذلك تلمذ ابن يسعون لمالك بن عبد اللَّه العتبي، ويحيى بن عبد اللَّه الفرضي، وأبي علي الغساني وابن فرج وأبي الحسن بن سراج وروى عنهم جميعًا.
--------------------------------------------
তিনি বদলিয়ুস শহরে সফর করেন এবং সেখানে ইবনুল সায়্যিদ ও অন্যদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কর্ডোভায় চলে যান এবং সেখানকার উস্তাদদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন, যাদের মধ্যে মুহাদ্দিস ও সাহিত্যিক আবু আলী আল-গাসসানি অন্যতম।
অতঃপর তিনি সফরের ইতি টানেন এবং আলমেরিয়া শহরে স্থায়িভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানেই তিনি অধ্যয়ন করেন ও অধ্যাপনা করেন এবং সেখানকার বিচারিক কার্যাবলী পরিচালনা করেন।"
(1).
তাঁর উস্তাদগণ:এই পরিচ্ছেদে ডক্টর হিলাল স্পষ্টত ঘাটতি রেখেছেন; কেননা তিনি ইবনে ইয়াসউনের উস্তাদদের এমন কোনো পরিচয় তুলে ধরেননি যা তাঁদের ইলমি মর্যাদা প্রকাশ করে। বরং তিনি কেবল তাঁদের উপনাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন এবং তাঁদের কারও কারও ক্ষেত্রে ভুলও করেছেন। আমি তাঁর বক্তব্যটি এখানে উদ্ধৃত করব যাতে তাঁর প্রতি অন্যায় না হয়।
"এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইবনে ইয়াসউন বহু আলিমের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং অনেক ইমাম ও সাহিত্যিকের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। তিনি তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, হাদীস শুনেছেন এবং বর্ণনা করেছেন, আর তাঁদের অগাধ জ্ঞান ও বহুমুখী সংস্কৃতি থেকে উপকৃত হয়েছেন।
তিনি আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আস-সায়্যিদ আল-বদলিয়ুসির নিকট ভাষা ও নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষা করেন এবং আলমেরিয়ার জামে মসজিদে ইমাম আবু আলী আস-সাফি-এর নিকট অধ্যয়ন করেন। তাঁর নিকট থেকে তিনি মুসনাদে বাজ্জার, হারাবীর কিতাবুল গারিবাইন, তিরমিযীর শামায়েল এবং আবু নুআইমের রিয়াদাতুল মুতাআল্লিমীনসহ অন্যান্য কিতাব শুনেছেন।
একইভাবে ইবনে ইয়াসউন মালিক বিন আবদুল্লাহ আল-উতবি, ইয়াহইয়া বিন আবদুল্লাহ আল-ফারদি, আবু আলী আল-গাসসানি, ইবনে ফারাজ এবং আবু হাসান বিন সিরাজের নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁদের সবার থেকে বর্ণনা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ومن شيوخه أيضًا أبو بكر محمَّد بن حازم القرطبي. . . "
(1).
وأقول: تلمذ ابن يسعون لمشيخة جليلة من علماء عصره منهم:
1 - أحمد بن عبد اللَّه المعروف بابن شانجة، من أهل المعرفة بالآداب واللّغات ومعاني الأشعار، صحب أبا مروان عبد اللَّه بن سراج أربعين عامًا، توفي سنة 514 هـ
(2).
2 - أبو علي الحسين بن محمَّد بن أحمد الغساني الجياني "شيخ الأندلس في وقته، وصاحب رحلتهم، وأضبط النَّاس لكتاب، وأتقنهم لرواية مع الحظ الوافر من الأدب والنسب، والمعرفة بأسماء الرجال، وسعة السماع" صاحب كتاب "تقييد المهمل وتمييز المشكل" الذي ألفه على الصَّحيحين، ولد سنة 427، وتوفي سنة 498
(3).
3 - أبو علي الحسين بن محمَّد بن فيّرة بن حَيُّون بن سكرة الصدفي الأندلسي السرقسطي الإمام القاضى المحدِّث الضابط الورع، "برع في الحديث متنًا وإسنادًا مع حسن الخط والضبط، وحسن التأليف، والفقه والأدب مع الدّين والخير والتواضع، ولد سنة 454 واستشهد في ملحمة قتنده سنة 514 هـ"
(4).
--------------------------------------------
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে আবু بকর মুহাম্মদ বিন হাজেম আল-কুরতুবিও রয়েছেন... "
(১).
আমি বলছি: ইবনে ইয়াসউন তাঁর যুগের একদল প্রথিতযশা আলেমদের নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - আহমদ বিন আবদুল্লাহ, যিনি ইবনে শাঞ্জাহ নামে পরিচিত; তিনি সাহিত্য, ভাষা এবং কবিতার অর্থ সংক্রান্ত জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি আবু মারওয়ান আবদুল্লাহ বিন সিরাজের সাথে চল্লিশ বছর অতিবাহিত করেন এবং ৫১৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(২)।
২ - আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-গাসসানি আল-জাইয়ানি; তিনি ছিলেন "তাঁর সময়ের আন্দালুসের শাইখ, তাঁদের ইলমি সফরের গন্তব্যস্থল, কিতাব সংরক্ষণে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভুল এবং বর্ণনায় সর্বাধিক পারদর্শী; এর পাশাপাশি সাহিত্য, বংশবিদ্যা, বর্ণনাকারীদের পরিচয় সংক্রান্ত জ্ঞান এবং হাদিস শ্রবণে তাঁর বিশাল ব্যাপ্তি ছিল।" তিনি 'তাকয়িদ আল-মুহমাল ওয়া তামিয আল-মুশকিলে'র লেখক, যা তিনি সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) এর ওপর রচনা করেছেন। তিনি ৪২৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৯৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন
(৩)।
৩ - আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন ফাইরাহ বিন হাইয়ুন বিন সুক্কারাহ আস-সাদাফি আল-আন্দালুসি আস-সারাউস্তি; তিনি ছিলেন ইমাম, বিচারপতি, মুহাদ্দিস, সূক্ষ্ম সংকলক ও পরহেজগার। "তিনি হাদিসের মতন (মূল পাঠ) ও ইসনাদ (বর্ণনাসূত্র), সুন্দর হস্তাক্ষর ও নির্ভুলতা, চমৎকার রচনাশৈলী, ফিকহ ও সাহিত্যের পাশাপাশি দ্বীনদারি, কল্যাণকামিতা এবং বিনয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। তিনি ৪৫৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫১৪ হিজরিতে কুতানদাহর মহাযুদ্ধে শাহাদাতবরণ করেন"
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
4 - أبو بكر خازم بن محمَّد بن خازم القرطبي القارئ الأديب اللّغوي الشَّاعر ولكنه لم يكن ضابطًا لا يرويه، ولد سنة 410 هـ، وتوفي سنة 496 هـ
(1).
وصرّح ابن يسعون بتلمذته عند حديثه عن الشَّاهد:
يبكيك ناءٍ بعيد الدار مغتربُ
… يا للكهول وللشبان للعجب
"قال أبو الحسن بن سيّدة: يقول: إذا مت في دار غربة بكاك الغريب الذي هو مثلك في الاغتراب. . . وتبعه في هذا التَّأويل شيخنا أبو بكر خازم بن محمَّد بن خازم القرطبي"
(2).
وجعله الدّكتور هلال "أبا بكر محمَّد بن حازم"
(3) فأسقط الشيخ، لاعتماده على نسخة ناقصة، وصحفه إلى "حازم" بالحاء المهملة، وإنصافًا للرجل أقول: إنه هكذا في النسخ المصورة عن مخطوطات الكتاب وقد تبعت كثيرًا وأنا أبحث في كتب التَّراجم عن أبي بكر حازم بن محمَّد حتّى مللت، وبأخرة يسَّر اللَّه معرفة الصَّواب فيه، فله الحمد والمنَّة.
--------------------------------------------
৪ - আবু বকর খাজিম বিন মুহাম্মদ বিন খাজিম আল-কুরতুবি; কারী, সাহিত্যিক, ভাষাবিদ ও কবি। তবে তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ছিলেন না, তিনি ৪১০ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৯৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন
(১).
ইবনে ইয়াসউন তার ছাত্রত্বের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যখন তিনি এই শাহিদ (কাব্যিক প্রমাণ) সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন:
আপনার বিরহে কাঁদছে সেই দূরবাসী যে গৃহ থেকে বিচ্ছিন্ন ও প্রবাসী
… হে বৃদ্ধ ও যুবক সম্প্রদায়, এটি কতই না বিস্ময়কর!
"আবুল হাসান ইবনে সিদাহ বলেন: তিনি বলছেন: যদি তুমি প্রবাসে মৃত্যুবরণ করো, তবে সেই প্রবাসী তোমার জন্য কাঁদবে যে তোমার মতোই প্রবাস যাপন করছে... এবং আমাদের শায়খ আবু বকর খাজিম বিন মুহাম্মদ বিন খাজিম আল-কুরতুবি এই ব্যাখ্যায় তাকে অনুসরণ করেছেন"
(২).
ডক্টর হিলাল তাকে "আবু বকর মুহাম্মদ বিন হাজিম"
(৩) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি একটি ত্রুটিপূর্ণ পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করার কারণে 'শায়খ' শব্দটি বাদ দিয়েছেন এবং 'খাজিম' শব্দটিকে নুকতাহীন 'হা' দিয়ে 'হাজিম' হিসেবে ভুল পাঠ করেছেন। লোকটির প্রতি ইনসাফ করে আমি বলছি: গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে ধারণকৃত কপিগুলোতে এটি এভাবেই ছিল। আমি জীবনীগ্রন্থগুলোতে আবু বকর হাজিম বিন মুহাম্মদ সম্পর্কে খুঁজতে খুঁজতে অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ এ বিষয়ে সঠিক বিষয়টি জানার পথ সহজ করে দিয়েছেন, তাই সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহরই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
5 - أبو الحُسين سراج بن عبد الملك بن سراج بن عبد اللَّه بن محمَّد ابن سراج القرطبي الوزير الفقيه الأديب اللّغوي الشَّاعر اسم وافق مسمَّاه، ولفظ "طابق معناه؛ فإنه سراج علم وأدب، وبحر لغة لسان العرب، وإليه شدّ الأقتاب، وإنضاء الركاب في الاقتباس منه"
(1).
6 - أبو محمَّد عبد القادر بن محمَّد الصدفي القروي المعروف بابن الحناط الفقيه المحدِّث المولود سنة 424 هـ، والمتوفى سنة 507 هـ
(2).
7 - أبو الحسن علي بن خلف بن ذي النون بن أحمد بن عبد اللَّه بن هذيل بن جحيش العبسي المقرئ المحدِّث، كان ثقة فيما رواه، ضابطًا لما كتبه مع الخير والصلاح والتواضع والزهد، ولد سنة 417 هـ، وتوفى سنة 498 هـ
(3).
8 - أبو الوليد مالك بن عبد اللَّه بن محمَّد العتبي اللّغويّ الأديب الثقة كان حسن الخط، جيد الضبط، ولد سنة 437 هـ، وتوفي سنة 507 هـ
(4).
9 - أبو عبد اللَّه محمَّد بن فرج، مولى محمَّد بن يحيى البكري، يعرف بابن الطلاع الفقيه الفاضل، بقية الشيوخ الأكابر في وقته، وزعيم المفتين بحضرته مع الخير والدين، وكثرة الصدقة، وطول الصَّلاة، وقول الحقّ،
--------------------------------------------
৫ - আবু আল-হুসাইন সিরাজ বিন আবদ আল-মালিক বিন সিরাজ বিন আবদিল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন সিরাজ আল-কুরতুবি। তিনি ছিলেন উজির, ফকিহ, সাহিত্যিক, ভাষাবিদ ও কবি। তার নাম তার ব্যক্তিত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শব্দ তার অর্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ; কেননা তিনি ছিলেন জ্ঞান ও সাহিত্যের এক প্রদীপ (সিরাজ), আরবি ভাষার এক সমুদ্র। তার থেকে জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে বাহন প্রস্তুত করে সফর করা হতো
(১)।
৬ - আবু মুহাম্মদ আবদুল কাদির বিন মুহাম্মদ আস-সাদাফি আল-কারাউয়ি, যিনি ইবনুল হান্নাত নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন ফকিহ ও মুহাদ্দিস। তিনি ৪২৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫০৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(২)।
৭ - আবু আল-হাসান আলি বিন খালাফ বিন যিন-নুন বিন আহমদ বিন আবদিল্লাহ বিন হুদাইল বিন জুহাইশ আল-আবসি। তিনি ছিলেন ক্বারি ও মুহাদ্দিস। তিনি যা বর্ণনা করতেন তাতে নির্ভরযোগ্য ছিলেন এবং যা লিখতেন তাতে অত্যন্ত নির্ভুল ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি কল্যাণ, নেক আমল, বিনয় ও দুনিয়াবিমুখতার গুণে গুণান্বিত ছিলেন। তিনি ৪১৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৯৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(৩)।
৮ - আবু আল-ওয়ালিদ মালিক বিন আবদিল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-উতবি। তিনি ছিলেন ভাষাবিদ, সাহিত্যিক ও নির্ভরযোগ্য। তিনি সুন্দর হস্তাক্ষর ও চমৎকার নির্ভুলতার অধিকারী ছিলেন। তিনি ৪৩৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫০৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(৪)।
৯ - আবু আবদিল্লাহ মুহাম্মদ বিন ফারাজ, মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-বাকরির আযাদকৃত ব্যক্তি, যিনি ইবনুত তাল্লা' নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন ফকিহ ও গুণী ব্যক্তি, তার সময়ের প্রবীণ শায়খদের উত্তরসূরি এবং সেই সময়ের মুফতিদের প্রধান। এর পাশাপাশি তিনি কল্যাণ, দ্বীনদারি, প্রচুর দান-সদকা, দীর্ঘ সালাত এবং সত্য কথা বলার গুণে গুণান্বিত ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
سمع منه الآباء والأبناء وكانت الرحلة إليه في وقته، ولد سنة 404 هـ، وتوفي رحمه الله سنة 497 هـ
(1).
10 - أبو بكر يحيى بن عبد اللَّه بن محمَّد المعروف بالفرضي الأستاذ النحويّ الأديب. روى عنه الأستاذ أبو الحجاج بن يسعون وذكره، وكان حيًا سنة 500 هـ
(2).
11 - أبو محمَّد عبد اللَّه بن محمَّد بن السيّد البطليوسي النَّحويّ اللّغويّ الأديب، ولد سنة 444 هـ، وتوفي رحمه الله سنة 521 هـ، وقد صرّح ابن يسعون في المصباح بأنه أحد شيوخه
(3).
12 - مالك بن يحيى بن أحمد بن عامر الأزديّ النَّحويّ واللّغويّ الأديب الفيلسوفي الشاعر الأندلسى الجليسي، المتوفى سنة 525 هـ
(4).
هولاء هم شيوخ ابن يسعون الذين ذكرهم مترجموه، ولم يصرّح ابن يسعون في "المصباح" بأيّ منهم إلَّا بأبي بكر خازم بن محمَّد وابن السيد وابن وهيب، وقد سبقت الإشارة إلى ذلك.
--------------------------------------------
তাঁর নিকট থেকে পিতা ও পুত্রগণ (উভয় প্রজন্ম) ইলম শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর সময়ে তাঁর দিকেই জ্ঞানান্বেষীদের সফরের গন্তব্য ছিল। তিনি ৪০৪ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৯৭ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)
(১)।
১০ - আবু বকর ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, যিনি আল-ফারদি নামে পরিচিত; উস্তাদ, নাহুবিদ ও সাহিত্যিক। তাঁর থেকে উস্তাদ আবুল হাজ্জাজ বিন ইয়াসউন বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি ৫০০ হিজরি সনে জীবিত ছিলেন
(২)।
১১ - আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাইয়িদ আল-বাতালইউসি, নাহুবিদ, ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক। তিনি ৪৪৪ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫২১ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)। ইবনে ইয়াসউন 'আল-মিসবাহ' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর অন্যতম শিক্ষক ছিলেন
(৩)।
১২ - মালিক বিন ইয়াহইয়া বিন আহমদ বিন আমির আল-আজদি; নাহুবিদ, ভাষাবিদ, সাহিত্যিক, দার্শনিক, আন্দালুসিয় কবি ও আল-জালিসি। তিনি ৫২৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন
(৪)।
এরা হলেন ইবনে ইয়াসউনের সেই সকল শিক্ষক যাদের কথা তাঁর জীবনীকারগণ উল্লেখ করেছেন। তবে ইবনে ইয়াসউন 'আল-মিসবাহ' গ্রন্থে আবু বকর খাজিম বিন মুহাম্মদ, ইবনে আস-সাইয়িদ এবং ইবনে উহাইব ব্যতীত আর কারও কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। ইতিপূর্বেই এ বিষয়ে ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
تلاميذه:هذا المبحث قصَّر فيه الدّكتور هلال أكثر من تقصيره في مبحث شيوخه، حيث لم يذكر لابن يسعون إلَّا تلميذين حرَّف اسم أحدهما وسأضطر لنقل كلامه حتَّى تظهر الحقيقة، ويظهر الفرق بين العملين. يقول: "كان ابن يسعون متعدد المعارف، متنوع الثقافات فقد حفظ اللّغة وتذوقها، وأتقن النَّحو والتَّصريف، وأحاط بدقائقهما، وجمع أوابدهما، وحاز قصب السبق في الأدب، وأكثر من رواية الشعر، وفاق الأقران في الحديث والفقه والتراجم والأنساب والسير وغيرها.
ومن الطبيعي أن يقبل عليه طلاب العلم من كلّ مكان، ويفد عليه التلاميذ من كلّ صوب وحدب، ليرتشفوا من رحيقه، وينهلوا من عذب مورده، ويفيدوا من علمه الغزير، وثقافته المتوّعة، ومباحثه الدقيقة وتحقيقاته المفيدة
ويبدو أنَّ ابن يسعون كان غالبًا يجلس لتلاميذه جلوسًا عامًا، ولا يؤثر أحدًا منهم بدرس أو إملاء، ولذلك لم يعين المترجمون له غير اثنين من تلاميذه، وهما أبو بكر بن سمحون، وأبو العباس الأندرشي، وهاك ترجمة مختصرة لكلّ منهما. . . "
(1) ثم أحال على بغية الوعاة.
وهذا النصّ فيه ظلم عبقري لعلمائنا الأفاضل الذين دوَّنوا التاريخ وحفظوا لنا سيرة أعلامنا الأماثل من أمثال ابن يسعون وغيره، وفيه أيضًا ظلم لابن يسعون رحمه الله الذي أحصيت له ثلاثة عشر تلميذًا
--------------------------------------------
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:এই পরিচ্ছেদে ডক্টর হিলাল তাঁর শিক্ষকদের আলোচনার চেয়েও অধিক সংক্ষিপ্ততা ও ত্রুটি করেছেন। তিনি ইবনে ইয়াসউনের মাত্র দুইজন ছাত্রের কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে একজনের নাম আবার বিকৃত করেছেন। সত্য উন্মোচন করতে এবং উভয় কর্মের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করার জন্য আমি তাঁর বক্তব্যটি উদ্ধৃত করতে বাধ্য হচ্ছি। তিনি বলেন: "ইবনে ইয়াসউন বহুমুখী জ্ঞান ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অধিকারী ছিলেন। তিনি ভাষা মুখস্থ করেছিলেন ও এর রস আস্বাদন করেছিলেন এবং নাহু ও সারফ শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। তিনি এগুলোর সূক্ষ্ম বিষয়গুলো আয়ত্ত করেছিলেন, বিরল বিষয়াবলি সংকলন করেছিলেন এবং সাহিত্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। তিনি অধিক পরিমাণে কবিতা বর্ণনা করতেন এবং হাদীস, ফিকহ, জীবনীগ্রন্থ, বংশপরম্পরা ও সীরাতসহ অন্যান্য বিষয়ে সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।
এমতাবস্থায় এটি স্বাভাবিক যে, সব জায়গা থেকে জ্ঞানপিপাসুরা তাঁর দিকে ধাবিত হবে এবং ছাত্ররা চারপাশ থেকে তাঁর কাছে আসবে তাঁর জ্ঞানসুধা পান করতে, তাঁর প্রস্রবণের মিষ্টতা গ্রহণ করতে এবং তাঁর অগাধ জ্ঞান, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, সূক্ষ্ম আলোচনা ও উপকারী তাহকীক থেকে উপকৃত হতে।
প্রতীয়মান হয় যে, ইবনে ইয়াসউন সাধারণত ছাত্রদের জন্য সাধারণ বৈঠকে বসতেন এবং কাউকেই পাঠদান বা শ্রুতলিখনের জন্য বিশেষায়িত করতেন না। এই কারণেই জীবনীকারগণ তাঁর মাত্র দুইজন ছাত্রের নাম নির্দিষ্ট করেছেন, তাঁরা হলেন আবু বকর ইবনে সামহুন এবং আবু আব্বাস আল-আন্দারাশি। এখানে তাদের প্রত্যেকের সংক্ষিপ্ত জীবনী দেওয়া হলো..."
(১) অতঃপর তিনি বুগইয়াতুল উয়াত গ্রন্থের হাওয়ালা দিয়েছেন।
এই পাঠ্যটিতে আমাদের সেই বরেণ্য আলেমদের প্রতি চরম অবিচার করা হয়েছে যারা ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন এবং ইবনে ইয়াসউনের মতো আমাদের মহান মনীষীদের জীবনী আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন। এছাড়া এটি ইবনে ইয়াসউন (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতিও অবিচার, যাঁর আমি তেরো জন ছাত্রের সন্ধান পেয়েছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
من العُلماء النابهين مع علمى بأنه قد فاتني بعض شيوخه وبعض تلامذته، رغم حرصي وتتبعي وبذلي الجهد، وفوق كلّ ذي علم عليم.
وفيه دلالة أيضًا على سطحية الدّكتور هلال، وعدم منهجيته، وإطلاقه للأحكام العامَّة التي ينبغي أن تنزه البحوث العلميَّة عنها، مثل قوله: "ولذلك لم يعين المترجمون له غير اثنين من تلاميذه، وهما أبو بكر ابن سمحون وأبو العباس الأندلسي" مع أنه لم يرجع إلَّا إلى بغية الوعاة للسيوطى رحمه الله وليته كان دقيقًا في نقله إذْ حرّف اسم أحد التلميذين فجعله "سمحون" وهو "حسنون" أحشفا وسوء كلية"!.
وأقول: لقد تتلمذ على ابن يسعون رحمه الله جلّة من العُلماء النابهين منهم:
1 - إبراهيم بن يوسف بن أدهم بن عبد اللَّه بن القائد القائدي الوهراني -شهر بالحمزي؛ لأنَّه أصله من حمزة موضع بناحية المسيلة عمل بجاية- يكنّى أبا إسحاق، ويعرف بابن قرقول، أخذ عن جلة من العُلماء منهم أبو بكر ابن العربي وأبو محمَّد بن السيد وأبو الحجاج بن يسعون.
وهو محدِّث فقيه أديب، مصنف مع براعة الخط وحسن الوراقة والرحلة في طلب العلم، والحرص على لقاء الشيوخ، ولد بالمرية سنة 505 هـ، وتوفي سنة 569 هـ
(1).
--------------------------------------------
তিনি বিশিষ্ট আলেমদের অন্তর্ভুক্ত, যদিও আমি জানি যে আমার ঐকান্তিক আগ্রহ, অনুসন্ধান এবং প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর কিছু উস্তাদ এবং কিছু ছাত্রের নাম আমার থেকে বাদ পড়ে গেছে; আর প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরেই রয়েছেন মহাজ্ঞানী।
এটি ডক্টর হিলালের অগভীরতা, তাঁর পদ্ধতিগত ত্রুটি এবং এমন সাধারণ রায় প্রদানের প্রমাণ দেয় যা থেকে বৈজ্ঞানিক গবেষণা পবিত্র থাকা উচিত। যেমন তাঁর উক্তি: "এ কারণেই জীবনীকাররা তাঁর ছাত্রদের মধ্যে কেবল দুইজনকে চিহ্নিত করেছেন, তাঁরা হলেন আবু বকর ইবনে সামহুন এবং আবু আব্বাস আল-আন্দালুসি।" অথচ তিনি সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর 'বুগইয়াতুল উ'আত' ব্যতীত অন্য কোনো উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করেননি। আফসোস, তিনি যদি উদ্ধৃতিতে সঠিক হতেন! কেননা তিনি ছাত্রদের একজনের নাম বিকৃত করে 'সামহুন' বানিয়েছেন, অথচ তা হলো 'হাসনুন'। এটি তো যেন নিকৃষ্ট মানের খেজুর এবং ওজনে কম দেওয়ার শামিল!
আমি বলছি: ইবনে ইয়াসউন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট অনেক বিশিষ্ট ও প্রাজ্ঞ আলেম শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - ইব্রাহিম ইবনে ইউসুফ ইবনে আদহাম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল কায়িদ আল-কায়েদি আল-ওয়াহরানি —তিনি আল-হামজি নামে পরিচিত ছিলেন; কারণ তাঁর আদি নিবাস ছিল বেজাইয়া প্রদেশের মাসিলা অঞ্চলের নিকটবর্তী হামজা নামক স্থানে— তাঁর কুনিয়াত আবু ইসহাক, এবং তিনি ইবনে কারকুল নামে পরিচিত। তিনি অনেক প্রথিতযশা আলেমের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু বকর ইবনুল আরাবি, আবু মুহাম্মাদ ইবনে আস-সাইয়িদ এবং আবু হাজ্জাজ ইবনে ইয়াসউন।
তিনি ছিলেন একজন মুহাদ্দিস, ফকিহ এবং সাহিত্যিক; অনিন্দ্য সুন্দর হস্তলিপি ও পাণ্ডুলিপি লিখনশৈলী এবং ইলম অন্বেষণে ভ্রমণের পাশাপাশি উস্তাদদের সাথে সাক্ষাৎ করার প্রবল আগ্রহের অধিকারী একজন গ্রন্থকার। তিনি ৫০৫ হিজরিতে আলমেরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৬৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মিসবাহু লিমা আতামা মিন শাওয়াহিদিল ঈদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
2 - أبو العبَّاس أحمد بن عبد الجليل بن عبد اللَّه المعروف بالتُدْميري؛ لأنَّ أصله منها ونشأ بالمرية، روى على أبي علي الصدفي، وأبي محمَّد بن عطية، وأبي الحجاج بن يسعون، لغوي أديب شاعر مصنف له "نظم القرطين وضم أشعار السقطين" جمع فيه أشعار الكامل للمُبرِّد والنوادر للقالي، وشرح الفصيح وأبيات الجمل وغيرها، ومن شعره:
قيل اطرحت فقلت القوم في شغل
… عني بأهوائهم والحقّ مطرحُ
للقوم شربان من جهل ومن حمق
… صرفا فمغتبق طورًا ومصطبحُ
توفي رحمه الله سنة 555 هـ
(1). والتدميري: نسبة إلى تُدْمِير بالضم ثم السكون وكسر الميم وياء ساكنة، وراء: كورة بالأندلس تتصل بجيان، وهي شرقى قرطبة بينهما أيام، ينسب إليها جماعة من أهل العلم
(2).
3 - أبو العباس أحمد بن محمَّد بن عبد اللَّه بن أحمد الأنصاري بلنسي الأصل، وسكن كثيرًا أندرش ونسب إليها وهي مدينة من أعمال المرية، من أنزه البلدان
(3) ويعرف بالأندرشي وبالبلنسي وابن اليتيم، القارئ، النحويّ اللّغوي الأديب المحدِّث.
روى عن جلّة من العُلماء منهم أبو الحجاج بن يسعون، واختلف إليه مدّة وأكثر عنه، وتوفي سنة 581 هـ
(4).
--------------------------------------------
২ - আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল জলিল বিন আব্দুল্লাহ, যিনি আত-তুদমিরি নামে পরিচিত; কারণ তাঁর মূল উৎস সেখানে এবং তিনি আলমেরিয়ার বেড়ে উঠেছেন। তিনি আবু আলি আস-সাদাফি, আবু মুহাম্মদ বিন আতিয়্যাহ এবং আবু হাজ্জাজ বিন ইয়াসুন থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন একজন ভাষাবিদ, সাহিত্যিক, কবি ও গ্রন্থকার। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে "নাজমুল কারতাইন ওয়া দাম্মু আশআরিস সাকাতাইন", যাতে তিনি আল-মুবররাদের 'আল-কামিল' এবং আল-কালির 'আন-নাওয়াদির' এর কবিতাগুলো সংকলন করেছেন। এছাড়াও তিনি 'আল-ফাসিহ' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং 'আবইয়াতুল জামাল' ও অন্যান্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর কবিতার মধ্যে রয়েছে:
বলা হলো, আপনি কি পরিত্যক্ত হয়েছেন? আমি বললাম, লোকেরা তাদের কুপ্রবৃত্তিতে মত্ত হয়ে আমাকে ভুলে আছে, আর সত্য তো অনেক আগেই বর্জিত হয়েছে।
লোকদের জন্য অজ্ঞতা ও নির্বুদ্ধিতা হতে দুই প্রকার পানীয় রয়েছে—যা খাঁটি; কখনো তারা তা সন্ধ্যায় পান করে আবার কখনো প্রভাতে।
আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি ৫৫৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন
(১)। আর আত-তুদমিরি: এটি 'তুদমির' শব্দের সাথে সম্পর্কিত, যা তা-বর্ণে পেশ (দুম্মাহ), এরপর সাকিন, মিম-এ যের (কাসরাহ), ইয়া-তে সাকিন এবং শেষে রা দিয়ে গঠিত: এটি আন্দালুসের একটি জেলা যা জাইয়ানের সাথে যুক্ত। এটি কর্ডোভার পূর্বে অবস্থিত এবং উভয়ের মাঝে কয়েক দিনের পথ; বহু আলিম এই অঞ্চলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত
(২)।
৩ - আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-আনসারি, মূলত বালানসিয়া (ভ্যালেন্সিয়া) অঞ্চলের লোক। তিনি দীর্ঘ সময় আন্দারাশ-এ বসবাস করেছেন এবং সেটির দিকেই সম্বন্ধিত হন; এটি আলমেরিয়ার অন্তর্ভুক্ত একটি শহর এবং অন্যতম পরিচ্ছন্ন জনপদ
(৩)। তিনি আল-আন্দারাশি, আল-বালানসি এবং ইবনুল ইয়াতিম নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন ক্বারি, ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ, সাহিত্যিক ও মুহাদ্দিস।
তিনি একদল প্রথিতযশা আলিমের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আবু হাজ্জাজ বিন ইয়াসুন। তাঁর নিকট তিনি দীর্ঘকাল যাতায়াত করেছেন এবং তাঁর থেকে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি ৫৮১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন
(৪)।
--------------------------------------------