(খণ্ড: ১)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: -)
حجة الله البالغة القسم: الفقه العام
الكتاب: حجة الله البالغة
المؤلف: أحمد بن عبد الرحيم بن الشهيد وجيه الدين بن معظم بن منصور المعروف بـ «الشاه ولي الله الدهلوي» (ت 1176هـ)
المحقق: السيد سابق
الناشر: دار الجيل، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، سنة الطبع: 1426 هـ - 2005م
عدد المجلدات: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
কিতাব: হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
লেখক: আহমদ ইবনে আব্দুর রহিম ইবনে আশ-শহীদ ওয়াজিহউদ্দীন ইবনে মুয়াজ্জাম ইবনে মানসুর, যিনি «শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি» নামে পরিচিত (মৃ. ১১৭৬ হিজরি)
সম্পাদক: সাইয়্যেদ সাবিক
প্রকাশক: দারুল জীল, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, মুদ্রণ বর্ষ: ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
الْقسم الأول
فِي الْقَوَاعِد الْكُلية الَّتِي تستنبط مِنْهَا الْمصَالح المرعية
فِي الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة وَهِي سَبْعَة مبَاحث فِي سبعين بَابا
প্রথম ভাগ
সেই সব মৌলিক নীতিমালা প্রসঙ্গে যা থেকে শারয়ি বিধানসমূহের ক্ষেত্রে শরিয়ত কর্তৃক স্বীকৃত জনকল্যাণসমূহ চয়ন করা হয়
আর তা হলো সত্তরটি অধ্যায় সংবলিত সাতটি প্রধান আলোচনার বিষয়।
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٤١)
المبحث الأول
فِي أَسبَاب التَّكْلِيف والمجازاة
(بَاب الإبداع والخلق وَالتَّدْبِير)اعْلَم أَن الله تَعَالَى بِالنِّسْبَةِ إِلَى إِيجَاد الْعَالم ثَلَاث صِفَات مترتبة:
أَحدهَا: الإبداع وَهُوَ إِيجَاد شَيْء لَا من شَيْء فَيخرج الشَّيْء من كتم الْعَدَم بِغَيْر مَادَّة: وَسُئِلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن أول هَذَا الْأَمر؟ فَقَالَ: كَانَ الله وَلم يكن شَيْء قبله.
وَالثَّانيَِة: الْخلق وَهُوَ إِيجَاد الشَّيْء من شَيْء كَمَا خلق آدم من التُّرَاب:
{وَخلق الجان من مارج من نَار} .
وَقد دلّ الْعقل وَالنَّقْل على أَن الله تَعَالَى خلق الْعَالم أنواعا وأجناسا وَجعل لكل نوع وجنس خَواص، فنوع الْإِنْسَان مثلا خاصته النُّطْق، وَظُهُور الْبشرَة واستواء الْقَامَة، وَفهم الْخطاب، وَنَوع الْفرس خاصته الصهيل، وَكَون بَشرته شعراء، وقامته عوجاء، وَألا يفهم الْخطاب،
وخاصة السم إهلاك الْإِنْسَان الَّذِي يتَنَاوَلهُ، وخاصة الزنجبيل الْحَرَارَة واليبوسة، وخاصة الكافور الْبُرُودَة، وعَلى هَذَا الْقيَاس جَمِيع الْأَنْوَاع من الْمَعْدن والنبات وَالْحَيَوَان.
وَجَرت عَادَة الله تَعَالَى أَلا تنفك الْخَواص عَمَّا جعلت خَواص لَهَا، وَأَن تكون مشخصات الْأَفْرَاد خُصُوصا فِي تِلْكَ الْخَواص، وتعينا لبَعض محتملاتها، فَكَذَلِك مميزات الْأَنْوَاع خُصُوصا فِي خَواص أجناسها، وَأَن تكون مَعَاني هَذِه الْأَسَامِي المترتبة فِي الْعُمُوم وَالْخُصُوص، كالجسم والنامي وَالْحَيَوَان وَالْإِنْسَان وَهَذَا الشَّخْص متمازجة متشابكة فِي الظَّاهِر، ثمَّ يدْرك الْعقل الْفرق بَينهَا، ويضيف كل خَاصَّة إِلَى مَا هِيَ خَاصَّة لَهُ،
প্রথম পরিচ্ছেদ
শরয়ী দায়িত্বারোপ ও প্রতিদানের কারণসমূহ প্রসঙ্গে
(উদ্ভাবন, সৃষ্টি ও পরিচালনার অধ্যায়)জেনে রাখুন যে, মহাবিশ্ব অস্তিত্বে আনার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার তিনটি ধারাবাহিক স্তরের সিফাত বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
প্রথমটি হলো: উদ্ভাবন (ইবদা)। আর তা হলো কোনো কিছু ছাড়াই কোনো বস্তুর অস্তিত্ব দান করা, ফলে বস্তুটি কোনো উপাদান ছাড়াই অনস্তিত্বের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই বিষয়ের শুরু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর পূর্বে কিছুই ছিল না।"
দ্বিতীয়টি হলো: সৃষ্টি (খালক)। আর তা হলো এক বস্তু থেকে অন্য বস্তুর অস্তিত্ব দান করা, যেমন তিনি আদমকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন:
{আর তিনি জিনকে সৃষ্টি করেছেন আগুনের শিখা থেকে।}
বিবেক ও বর্ণিত প্রমাণাদি একথার সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ তাআলা এই জগতকে বিভিন্ন প্রজাতি ও শ্রেণিতে সৃষ্টি করেছেন এবং প্রতিটি প্রজাতি ও শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, মানব প্রজাতির বৈশিষ্ট্য হলো কথা বলা, ত্বক দৃশ্যমান হওয়া, শারীরিক গঠন সোজা হওয়া এবং সম্বোধন বুঝতে পারা। আর ঘোড়া প্রজাতির বৈশিষ্ট্য হলো হ্রেষা ধ্বনি করা, ত্বক লোমযুক্ত হওয়া, দেহের গঠন বাঁকা হওয়া এবং সম্বোধন বুঝতে না পারা।
বিষের বৈশিষ্ট্য হলো তা সেবনকারী মানুষকে ধ্বংস করা, আদার বৈশিষ্ট্য হলো উষ্ণতা ও শুষ্কতা এবং কর্পূরের বৈশিষ্ট্য হলো শীতলতা। এই নিয়মেই খনিজ, উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের সকল প্রজাতি বিন্যস্ত।
আল্লাহ তাআলার চিরন্তন নিয়ম হলো, কোনো বৈশিষ্ট্যকে যার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা থেকে তা বিচ্ছিন্ন হয় না। আর ব্যক্তিসত্তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যগুলো সেই সাধারণ বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই বিশেষ রূপ লাভ করে এবং তাদের সম্ভাব্য রূপগুলোর মধ্য থেকে নির্দিষ্ট রূপ পরিগ্রহ করে। একইভাবে, প্রজাতিসমূহের পার্থক্যকারী গুণাবলি তাদের মূল শ্রেণির বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই বিশেষায়িত হয়। আর এই নামগুলোর অর্থ—যা সাধারণ থেকে বিশেষের ক্রমে সাজানো, যেমন: দেহ, বর্ধনশীল সত্তা, প্রাণী, মানুষ এবং এই নির্দিষ্ট ব্যক্তি—বাহ্যিকভাবে একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে থাকে। এরপর বিবেক এগুলোর মধ্যকার পার্থক্য উপলব্ধি করে এবং প্রতিটি বৈশিষ্ট্যকে তার উপযুক্ত বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করে।
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
وَقد بَين النَّبِي صلى الله عليه وسلم خَواص كثير من الْأَشْيَاء، وأضاف الْآثَار إِلَيْهَا كَقَوْلِه صلى الله عليه وسلم:
" التلبينة مجمة لفؤاد الْمَرِيض ". وَقَوله فِي الْحبَّة السَّوْدَاء:
" شِفَاء من كل دَاء إِلَى السام " وَقَوله فِي أَبْوَال الْإِبِل وَأَلْبَانهَا:
" شِفَاء للذربة بطونهم " وَقَوله فِي الشبرم:
" حَار جَار ".
وَالثَّالِثَة تَدْبِير عَالم المواليد ومرجعه إِلَى تصيير حوادثها مُوَافقَة للنظام الَّذِي ترتضيه حكمته مفضية إِلَى الْمصلحَة الَّتِي اقتضاها وجوده كَمَا أنزل من السَّحَاب مَطَرا، وَأخرج بِهِ نَبَات الأَرْض ليَأْكُل مِنْهُ النَّاس والأنعام، فَيكون سَببا لحياتهم إِلَى أجل مَعْلُوم. وكما أَن إِبْرَاهِيم صلوَات الله عَلَيْهِ ألقِي فِي النَّار
فَجَعلهَا الله بردا وَسلَامًا؛ ليبقى حَيا، وكما أَن أَيُّوب عليه السلام كَانَ اجْتمع فِي بدنه مَادَّة الْمَرَض، فَأَنْشَأَ الله تَعَالَى عينا فِيهَا شِفَاء مَرضه. وكما أَن الله تَعَالَى نظر إِلَى أهل الأَرْض فمقتهم عربهم وعجمهم، فَأوحى إِلَى نبيه صلى الله عليه وسلم أَن ينذرهم ويجاهدم؛ ليخرج من شَاءَ من الظُّلُمَات إِلَى النُّور.
وتفصيل ذَلِك أَن القوى المودعة فِي المواليد الَّتِي لَا تنفك عَنْهَا لما تزاحمت وتصادمت أوجبت حِكْمَة الله حُدُوث أطوار مُخْتَلفَة بَعْضهَا جَوَاهِر وَبَعضهَا أَعْرَاض والأعراض إِمَّا أَفعَال أَو إرادات من ذَوَات الْأَنْفس أَو غَيرهَا، وَتلك الأطوار لَا شَرّ فِيهَا بِمَعْنى عدم صُدُور مَا يَقْتَضِيهِ سَببه أَو صُدُور ضد مَا يَقْتَضِيهِ، وَالشَّيْء الَّذِي اعْتبر بِسَبَبِهِ الْمُقْتَضى لوُجُوده كَانَ حسنا لَا محَالة كالقطع حسن من حَيْثُ أَنه يَقْتَضِيهِ جَوْهَر الْحَدِيد وَإِن كَانَ قبيحا من حَيْثُ فَوت بنية إِنْسَان، لَكِن فِيهَا شَرّ بِمَعْنى حُدُوث شَيْء غَيره أوفق بِالْمَصْلَحَةِ مِنْهُ بِاعْتِبَار الْآثَار أَو عدم حُدُوث شَيْء آثاره محمودة، وَإِذا تهيأت أَسبَاب هَذَا الشَّرّ اقْتَضَت رَحْمَة الله بعباده ولطفه بهم وَعُمُوم قدرته على الْكل وشمول علمه بِالْكُلِّ أَن يتَصَرَّف فِي تِلْكَ القوى والأمور الحاملة لَهَا بِالْقَبْضِ والبسط والإحالة والإلهام، حَتَّى تفضى تِلْكَ الْجُمْلَة إِلَى الْأَمر الْمَطْلُوب
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনেক বস্তুর গুণাগুণ বর্ণনা করেছেন এবং সেগুলোর সাথে প্রভাবকে সম্পৃক্ত করেছেন, যেমন তাঁর বাণী:
"তালবিনা রোগীর হৃদয়ে প্রশান্তি আনে।" এবং কালোজিরা সম্পর্কে তাঁর বাণী:
"সাম (মৃত্যু) ব্যতীত এটি সকল রোগের নিরাময়।" উটের মূত্র ও দুগ্ধ সম্পর্কে তাঁর বাণী:
"যাদের পেটে অসুখ রয়েছে তাদের জন্য এটি নিরাময়।" এবং শিবরুম সম্পর্কে তাঁর বাণী:
"এটি উষ্ণ ও বিরেচক।"
তৃতীয় প্রকার হলো সৃষ্টিজগতের (মাওয়ালিদ) ব্যবস্থাপনা। এর মূল বিষয় হলো জগতের ঘটনাবলিকে এমন একটি শৃঙ্খলার অনুগামী করা যা তাঁর হিকমত বা প্রজ্ঞা পছন্দ করে এবং যা তাঁর অস্তিত্বের দাবিকৃত জনকল্যাণের দিকে পরিচালিত করে। যেমন তিনি মেঘমালা হতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং এর মাধ্যমে জমিনের উদ্ভিদ উৎপন্ন করেন যাতে মানুষ ও চতুষ্পদ জন্তু তা আহার করতে পারে; ফলে এটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের জীবনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে যখন অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হয়েছিল
তখন আল্লাহ তা'আলা আগুনকে শীতল ও শান্তিদায়ক করে দিয়েছিলেন যাতে তিনি জীবিত থাকেন। আবার যেমন আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-এর শরীরে রোগের কারণসমূহ পুঞ্জীভূত হয়েছিল, তখন আল্লাহ তা'আলা একটি প্রস্রবণ সৃষ্টি করেছিলেন যাতে তাঁর রোগের নিরাময় ছিল। এবং যেমন আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীবাসীর প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং তাদের আরব ও অনারব সবার প্রতি রাগান্বিত হলেন, এরপর তিনি তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি ওহী পাঠালেন যেন তিনি তাদেরকে সতর্ক করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেন; যাতে তিনি যাকে ইচ্ছা অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনতে পারেন।
এর বিস্তারিত বিবরণ হলো, সৃষ্টিজগতের মাঝে নিহিত যে শক্তিগুলো রয়েছে এবং যা তা থেকে পৃথক হয় না, যখন সেগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংঘর্ষ ও সংঘাত সৃষ্টি হয়, তখন আল্লাহর প্রজ্ঞা বিভিন্ন স্তরের উদ্ভব ঘটানো আবশ্যক করে দেয়। এগুলোর কোনোটি মৌলিক সত্তা (জাওয়াহির) এবং কোনোটি আপতধর্ম (আ'রাজ)। আর এই আপতধর্মগুলো হয় কোনো কাজ, অথবা কোনো প্রাণীর ইচ্ছা, অথবা অন্য কিছু। এই স্তরগুলোর মধ্যে এমন কোনো অনিষ্ট (শার) নেই যার অর্থ হলো তার কারণের দাবিকৃত ফল প্রকাশ না পাওয়া বা তার বিপরীত ফল প্রকাশ পাওয়া। কোনো বস্তু তার অস্তিত্বের জন্য প্রয়োজনীয় কারণের বিবেচনায় অনিবার্যভাবে সুন্দরই হয়ে থাকে। যেমন কর্তন বা কাটা একটি সুন্দর বিষয় এই দিক থেকে যে, লোহার সারসত্তা এটি দাবি করে, যদিও তা মানুষের শারীরিক কাঠামো বিনষ্ট হওয়ার দিক থেকে মন্দ মনে হতে পারে। তবে তাতে অনিষ্ট (শার) থাকতে পারে এই অর্থে যে, পরিণামের বিবেচনায় অন্য কোনো বিষয় যা অধিকতর কল্যাণকর ছিল তা না ঘটা, অথবা প্রশংসনীয় পরিণামসম্পন্ন কোনো কাজ সংঘটিত না হওয়া। যখন এই অনিষ্টের কারণগুলো তৈরি হয়, তখন বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমত, করুণা, সর্বব্যপ্ত ক্ষমতা এবং সার্বিক জ্ঞান এটি দাবি করে যে, তিনি সেই শক্তিগুলো এবং সেই শক্তিগুলোর আধার বিষয়সমূহের ওপর সংকোচন, প্রসারণ, রূপান্তর এবং ইলহামের মাধ্যমে এমনভাবে কর্তৃত্ব করবেন যেন সেই সামগ্রিক অবস্থাটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হয়।
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
أما الْقَبْض فمثاله مَا ورد فِي الحَدِيث أَن الدَّجَّال يُرِيد أَن يقتل العَبْد الْمُؤمن فِي الْمرة الثَّانِيَة، فَلَا يقدر الله عَلَيْهِ مَعَ صِحَة دَاعِيَة الْقَتْل وسلامة أدواته وَأما الْبسط فمثاله أَن الله تَعَالَى أنبع عينا لأيوب صلوَات الله عَلَيْهِ بركضه الأَرْض وَلَيْسَ بِالْعَادَةِ أَن تقضي الركضة إِلَى نبوع المَاء، وأقدر بعض المخلصين من عباده فِي الْجِهَاد على مَا لَا يتصوره الْعقل من مثل تِلْكَ الْأَبدَان وَلَا من أضعافها، وَأما الأحالة ممثالها جعل النَّار هَوَاء طيبَة لإِبْرَاهِيم عليه السلام، وَأما الإلهام فمثاله قصَّة خرق السَّفِينَة وَإِقَامَة الْجِدَار وَقتل الْغُلَام وإنزال الْكتب والشرائع على الْأَنْبِيَاء عليهم السلام. . والإلهام تَارَة يكون
للمبتلى وَتارَة يكون لغيره لاجله وَالْقُرْآن الْعَظِيم بَين أَنْوَاع التَّدْبِير بِمَا لَا مزِيد عَلَيْهِ.
(بَاب ذكر عَالم الْمِثَال)اعْلَم أَنه دلّت أَحَادِيث كَثِيرَة على أَن فِي الْوُجُود عَالما غير عنصري تتمثل فِيهِ الْمعَانِي بأجسام مُنَاسبَة لَهَا فِي الصّفة، وتتحقق هُنَالك الْأَشْيَاء قبل وجودهَا فِي الأَرْض نَحوا من التحقق، فَإِذا وجدت كَانَت هِيَ هِيَ بِمَعْنى من مَعَاني هُوَ هُوَ، وَإِن كثير من الْأَشْيَاء مِمَّا لَا جسم لَهَا عِنْد الْعَامَّة تنْتَقل وتنزل، وَلَا يَرَاهَا جَمِيع النَّاس، قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم: " لما خلق الله الرَّحِم قَامَت فَقَالَت هَذَا مَكَان العائذ بك من القطيعة "، وَقَالَ: " أَن الْبَقَرَة وَآل عمرَان تأتيان يَوْم الْقِيَامَة كَأَنَّهُمَا غمامتان أَو غيايتان أَو فرقان من طير صواف تحاجان عَن أهلهما "، وَقَالَ: " تَجِيء الْأَعْمَال يَوْم الْقِيَامَة فتجيء الصَّلَاة ثمَّ تَجِيء الصَّدَقَة، ثمَّ يَجِيء الصّيام " الحَدِيث، وَقَالَ: " أَن الْمَعْرُوف وَالْمُنكر لخليقتان تنصبان للنَّاس يَوْم الْقِيَامَة، فَأَما الْمَعْرُوف فيبشر أَهله، وَأما الْمُنكر فَيَقُول: إِلَيْكُم إِلَيْكُم، وَلَا يَسْتَطِيعُونَ لَهُ إِلَّا لُزُوما " وَقَالَ: " أَن الله تَعَالَى يبْعَث الْأَيَّام يَوْم الْقِيَامَة كهيئتها، وَيبْعَث الْجُمُعَة زهراء منيرة ".
وَقَالَ: " يُؤْتى بالدنيا يَوْم الْقِيَامَة بِصُورَة عَجُوز شَمْطَاء زرقاء أنيابها، مُشَوه خلقهَا " وَقَالَ: " هَل ترَوْنَ مَا أرى؟ فَإِنِّي لأرى مواقع الْفِتَن خلال بُيُوتكُمْ
সংকুচিত করার (আল-কবজ) উদাহরণ হলো হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে যে, দাজ্জাল মুমিন বান্দাকে দ্বিতীয়বার হত্যা করতে চাইবে, কিন্তু আল্লাহ তাকে সেই ক্ষমতা দেবেন না, যদিও হত্যার প্রবৃত্তি প্রবল থাকবে এবং হাতিয়ারসমূহ সচল থাকবে। আর প্রশস্ত করার (আল-বস্ত) উদাহরণ হলো, আল্লাহ তাআলা আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য ভূমিতে পদাঘাতের মাধ্যমে একটি ঝরনা প্রবাহিত করেছিলেন, যদিও সাধারণত পদাঘাত পানি নির্গত হওয়ার কারণ হয় না। এবং তিনি তাঁর একনিষ্ঠ কিছু বান্দাকে জিহাদে এমন সামর্থ্য দান করেন যা সাধারণ শরীর বা তার কয়েকগুণ শক্তিশালী দেহের পক্ষেও কল্পনা করা অসম্ভব। আর রূপান্তরের (আল-ইহাহালা) উদাহরণ হলো ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য আগুনকে আরামদায়ক বাতাসে পরিণত করা। আর অনুপ্রেরণার (আল-ইলহাম) উদাহরণ হলো নৌকা ছিদ্র করার ঘটনা, প্রাচীর নির্মাণ, বালক হত্যা এবং নবীদের ওপর কিতাব ও শরিয়ত নাজিল হওয়া। অনুপ্রেরণা কখনো কখনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য হয়, আবার কখনো তার কারণে অন্যের জন্য হয়ে থাকে। মহান কুরআন এই ঐশ্বরিক ব্যবস্থাপনার ধরনসমূহ এমন নিখুঁতভাবে বর্ণনা করেছে যার ওপর আর কিছু বলার নেই।
(আলমে মিসাল বা রূপক জগতের বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়)
জেনে রাখুন যে, অনেক হাদিস একথার প্রমাণ দেয় যে, অস্তিত্বের জগতে এমন এক অবস্তুগত জগত রয়েছে যেখানে বিমূর্ত ভাবসমূহ তাদের গুণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবয়বে আত্মপ্রকাশ করে। সেখানে বস্তুসমূহ পৃথিবীতে অস্তিত্ব লাভের পূর্বে এক প্রকার অস্তিত্ব লাভ করে। অতঃপর যখন সেগুলো বাস্তবে আবির্ভূত হয়, তখন তারা মূল সত্তার সাথে কোনো না কোনোভাবে অভিন্ন থাকে। সাধারণ মানুষের নিকট দেহহীন অনেক বিষয় স্থানান্তরিত হয় এবং অবতরণ করে, যা সকল মানুষ দেখতে পায় না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন আল্লাহ আত্মীয়তার বন্ধন (রহিম) সৃষ্টি করলেন, তখন তা দাঁড়িয়ে গেল এবং বলল, আত্মীয়তা বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর স্থান এটি।" তিনি আরও বলেছেন: "সূরা আল-বাকারা এবং সূরা আলে ইমরান কিয়ামতের দিন এমনভাবে আসবে যেন তারা দুটি মেঘখণ্ড বা দুটি ছায়া অথবা সারিবদ্ধ পাখির দুটি ঝাঁক, তারা তাদের পাঠকারীর পক্ষ হয়ে বিতর্ক (সুপারিশ) করবে।" তিনি আরও বলেছেন: "কিয়ামতের দিন আমলসমূহ উপস্থিত হবে; তখন সালাত আসবে, তারপর সদকা আসবে, এরপর সিয়াম আসবে..." (হাদিস)। তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই সৎকাজ ও অসৎকাজ হলো দুটি সৃষ্টি যারা কিয়ামতের দিন মানুষের সামনে দণ্ডায়মান হবে। সৎকাজ তার অনুসারীদের সুসংবাদ দেবে, আর অসৎকাজ বলবে: তোমাদের থেকে দূরে থাকো, তোমাদের থেকে দূরে থাকো! অথচ তারা তা থেকে নিষ্কৃতি পাবে না।" তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন দিনগুলোকে তাদের নিজস্ব অবয়বে পুনরুত্থিত করবেন এবং জুমুআর দিনকে অত্যন্ত উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় অবস্থায় উপস্থিত করবেন।"
তিনি আরও বলেছেন: "কিয়ামতের দিন দুনিয়াকে এক বৃদ্ধা, সাদা-কালো চুলবিশিষ্ট, নীল চক্ষু ও লম্বা দাঁতওয়ালা এক বিকৃত আকৃতিতে উপস্থিত করা হবে।" তিনি আরও বলেছেন: "আমি যা দেখি তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ? আমি তোমাদের ঘরগুলোর মাঝে ফিতনা বা বিপর্যয়ের স্থানগুলো দেখতে পাচ্ছি।"
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
كمواقع الْقطر " وَقَالَ فِي حَدِيث الْإِسْرَاء: " فَإِذا أَرْبَعَة أَنهَار نهران باطنان ونهران ظاهران، فَقلت، مَا هَذَا يَا جِبْرِيل؟ قَالَ: أما الباطنان فَفِي الْجنَّة، وَأما الظاهران فالنيل والفرات " وَقَالَ فِي حَدِيث صَلَاة الْكُسُوف: " صورت لي الْجنَّة وَالنَّار " وَفِي لفظ " بيني وَبَين جِدَار الْقبْلَة " وَفِيه أَنه بسط
يَده ليتناول عنقوداً من الْجنَّة، وَأَنه تكعكع من النَّار، وَنفخ فِي حرهَا وَرَأى فِيهَا سَارِق الحجيج، وَالْمَرْأَة الَّتِي ربطة الْهِرَّة حَتَّى مَاتَت، وَرَأى فِي الْجنَّة امْرَأَة مومسة سقت الْكَلْب، وَمَعْلُوم أَن تِلْكَ الْمسَافَة لَا تتسع للجنة وَالنَّار بأجسادهما الْمَعْلُومَة عِنْد الْعَامَّة. وَقَالَ: " حفت الْجنَّة بالمكاره وحفت النَّار بالشهوات " ثمَّ أَمر جِبْرِيل أَن ينظر إِلَيْهِمَا وَقَالَ: " ينزل ينزل الْبلَاء فيعالجه الدُّعَاء ". وَقَالَ: " خلق الله الْعقل فَقَالَ لَهُ: أقبل فَأقبل وَقَالَ لَهُ أدبر فَأَدْبَرَ ". وَقَالَ: " هَذَانِ كِتَابَانِ من رب الْعَالمين " الحَدِيث، وَقَالَ: " يُؤْتى بِالْمَوْتِ كَأَنَّهُ كَبْش، فَيذْبَح بَين الْجنَّة وَالنَّار "، وَقَالَ تَعَالَى:
{فَأَرْسَلنَا إِلَيْهَا رُوحنَا فتمثل لَهَا بشرا سويا} .
واستفاض فِي الحَدِيث أَن جِبْرِيل كَانَ يظْهر للنَّبِي صلى الله عليه وسلم ويتراءى لَهُ فيكلمه، وَلَا يرَاهُ سَائِر النَّاس، وَأَن الْقَبْر يفسح سبعين ذِرَاعا فِي سبعين أَو يضم حَتَّى تخْتَلف أضلاع المقبور وَأَن الْمَلَائِكَة تنزل على المقبور، فتسأله وَأَن عمله يتَمَثَّل لَهُ، وَأَن الْمَلَائِكَة تنزل إِلَى المحتضر بِأَيْدِيهِم الْحَرِير أَو الْمسْح وَأَن الْمَلَائِكَة تضرب المقبور بِمِطْرَقَةٍ من حَدِيد، فَيَصِيح صَيْحَة يسْمعهَا مَا بَين الْمشرق وَالْمغْرب، وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم: " ليسلط على الْكَافِر فِي قَبره تِسْعَة وَتسْعُونَ تنينا تنهسه، وتلدغه حَتَّى تقوم السَّاعَة، وَقَالَ: " وَإِذا أَدخل الْمَيِّت الْقَبْر مثلت لَهُ الشَّمْس عِنْد غُرُوبهَا، فيجلس يمسح عَيْنَيْهِ، وَيَقُول: " دَعونِي أُصَلِّي " واستفاض فِي الحَدِيث: أَن الله تَعَالَى يتجلى بصور كَثِيرَة لأهل الْموقف، وَأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم يدْخل على ربه وَهُوَ على كرسيه وَأَن الله تَعَالَى يكلم ابْن آدم شفاها إِلَى غير ذَلِك مِمَّا لَا يُحْصى كَثْرَة.
والناظر فِي هَذِه الْأَحَادِيث بَين إِحْدَى ثَلَاثَة: إِمَّا أَن يقر بظاهرها فيضطر إِلَى إِثْبَات عَالم ذكرنَا شَأْنه وَهَذِه هِيَ الَّتِي تقتضيها قَاعِدَة أهل الحَدِيث نبه على ذَلِك السُّيُوطِيّ رَحمَه الله تَعَالَى، وَبهَا أَقُول، وإليها أذهب،
"...বৃষ্টির বিন্দুপাতের স্থানের ন্যায়।" আর তিনি ইসরা-এর হাদীসে বলেছেন: "সেখানে চারটি নদী ছিল; দুটি অপ্রকাশ্য আর দুটি প্রকাশ্য। আমি বললাম, হে জিবরীল! এগুলো কী? তিনি বললেন: অপ্রকাশ্য দুটি জান্নাতে অবস্থিত, আর প্রকাশ্য দুটি হলো নীল ও ফোরাত।" আর তিনি সূর্যগ্রহণের সালাত বিষয়ক হাদীসে বলেছেন: "আমার সামনে জান্নাত ও জাহান্নামকে চিত্রায়িত করা হয়েছে।" অন্য শব্দে রয়েছে: "আমার ও কিবলার দেয়ালের মাঝখানে।" এতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি জান্নাতের একটি আঙুরের থোকা ধরার জন্য
আল্লাহর হাত বাড়িয়েছিলেন এবং জাহান্নাম দেখে তিনি পিছিয়ে এসেছিলেন, আর তার উত্তাপের ঝাপটা তাঁর নিকট পৌঁছেছিল। তিনি সেখানে হাজীদের মালামাল চোরকে দেখেছিলেন এবং সেই নারীকে দেখেছিলেন যে একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল যতক্ষণ না সেটি মারা যায়। তিনি জান্নাতে এক ব্যভিচারিণী নারীকেও দেখেছিলেন যে একটি কুকুরকে পানি পান করিয়েছিল। অথচ এটা সর্বজনবিদিত যে, সাধারণ মানুষের পরিচিত জান্নাত ও জাহান্নামের বিশাল অবয়বের জন্য ওই সামান্য স্থান সংকুলান হওয়ার কথা নয়। তিনি আরও বলেছেন: "জান্নাতকে কষ্টদায়ক বিষয়াদি দ্বারা এবং জাহান্নামকে প্রবৃত্তি দ্বারা ঘিরে রাখা হয়েছে।" এরপর তিনি জিবরীলকে সে দুটির দিকে তাকাতে নির্দেশ দিলেন। তিনি আরও বলেছেন: "বিপদ অবতীর্ণ হয় এবং দুআ তার সাথে লড়াই করে তার প্রতিকার করার চেষ্টা করে।" তিনি বলেছেন: "আল্লাহ যখন আকল বা বিবেক সৃষ্টি করলেন, তখন তাকে বললেন: সামনে এসো, সে সামনে এলো। এরপর বললেন: পেছনে যাও, সে পেছনে গেল।" তিনি আরও বলেছেন: "এ দুটি রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে আসা দুটি কিতাব" - হাদীসের অবশিষ্টাংশ। তিনি আরও বলেছেন: "মৃত্যুকে একটি দুম্বার আকৃতিতে আনা হবে এবং জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে তাকে জবেহ করা হবে।" আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
{অতঃপর আমি তার নিকট আমার রূহকে পাঠালাম, সে তার সামনে একজন সুঠাম মানুষের রূপ ধারণ করল}।
হাদীসে এই বিষয়টি ব্যাপকভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, জিবরীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আত্মপ্রকাশ করতেন এবং তাঁর সামনে দৃশ্যমান হতেন ও কথা বলতেন, অথচ অন্য কোনো মানুষ তাঁকে দেখতে পেত না। এছাড়া কবরের ভেতর সত্তর হাত প্রশস্ত করা হয় অথবা কবর এমনভাবে সংকুচিত হয় যে মৃত ব্যক্তির পাঁজরের হাড়গুলো একটির ভেতর আরেকটি ঢুকে যায়। কবরে ফেরেশতারা অবতীর্ণ হয়ে তাকে প্রশ্ন করে এবং তার আমল তার সামনে মূর্ত হয়। মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট ফেরেশতারা তাদের হাতে রেশমি কাপড় বা চট নিয়ে অবতীর্ণ হয়। ফেরেশতারা মৃত ব্যক্তিকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে, ফলে সে এমনভাবে চিৎকার করে যা পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সব সৃষ্টি শুনতে পায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কবরে কাফিরের ওপর নিরানব্বইটি বিশাল সাপ নিয়োজিত করা হবে যা তাকে কিয়ামত পর্যন্ত দংশন করতে ও কামড়াতে থাকবে।" তিনি আরও বলেছেন: "যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখা হয়, তখন তার সামনে সূর্যাস্তের দৃশ্যটি চিত্রায়িত করা হয়। তখন সে বসে চোখ মুছতে থাকে এবং বলে: আমাকে সালাত আদায় করতে দাও।" হাদীসে আরও ব্যাপকভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা হাশরের ময়দানে উপস্থিতদের সামনে বিভিন্ন সূরতে আত্মপ্রকাশ করবেন, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের নিকট প্রবেশ করবেন যখন তিনি তাঁর কুরসীর ওপর থাকবেন, আর আল্লাহ তাআলা আদম সন্তানের সাথে সরাসরি কথা বলবেন - এ জাতীয় আরও অগণিত বর্ণনা রয়েছে।
যে ব্যক্তি এই হাদীসগুলো নিয়ে চিন্তা করবে, তার সামনে তিনটি অবস্থার একটি দেখা দেবে: হয় সে এগুলোর প্রকাশ্য অর্থের স্বীকৃতি দেবে, যার ফলে তাকে এমন এক জগতের অস্তিত্ব স্বীকার করতে হবে যার বর্ণনা আমরা ইতিপূর্বে দিয়েছি। আর এটিই আহলে হাদীসগণের মূলনীতির দাবি, যে বিষয়ে ইমাম সুয়ূতী (রহ.) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আমি নিজেও একথাই বলি এবং এই মতই পোষণ করি।
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
أَو يَقُول: أَن هَذِه الوقائع تتراءى لحس الرَّائِي، وتتمثل لَهُ فِي بَصَره، وَإِن لم تكن خَارج حسه، وَقَالَ بنظير ذَلِك عبد الله بن مَسْعُود فِي قَوْله تَعَالَى:
{يَوْم تَأتي السَّمَاء بِدُخَان مُبين} .
أَنهم أَصَابَهُم جَدب فَكَانَ أحدهم ينظر إِلَى السَّمَاء، فَيرى كَهَيئَةِ الدُّخان من الْجُوع، وَيذكر عَن ابْن الْمَاجشون أَن كل حَدِيث جَاءَ فِي التنقل والرؤية فِي الْمَحْشَر، فَمَعْنَاه أَنه يُغير أبصار خلقه، فيرونه نازلا متجليا ويناجي خلقه، ويخاطبهم وَهُوَ غير متغير عَن عَظمته وَلَا منتقل ليعلموا أَن الله على كل شَيْء قدير، أَو يَجْعَلهَا تمثيلا لتفهم معَان أُخْرَى، وَلست أرى المقتصر على الثَّالِثَة من أهل الْحق، وَقد صور الإِمَام الْغَزالِيّ فِي عَذَاب الْقَبْر تِلْكَ المقامات الثَّلَاث حِين قَالَ: أَمْثَال هَذِه الْأَخْبَار لَهَا ظواهر صَحِيحَة وأسرار خُفْيَة، وَلكنهَا عِنْد أَرْبَاب البصائر وَاضِحَة، فَمن لم ينْكَشف لَهُ حقائقها، فَلَا يَنْبَغِي أَن يُنكر ظواهرها، بل أقل دَرَجَات الْإِيمَان التَّسْلِيم والتصديق (فَإِن قلت) فَنحْن نشاهد الْكَافِر فِي قَبره مُدَّة، ونراقبه، وَلَا نشاهد شَيْئا من ذَلِك، فَمَا وَجه التَّصْدِيق على خلاف الْمُشَاهدَة
(فَاعْلَم) أَن لَك ثَلَاث مقامات فِي التَّصْدِيق بأمثال هَذَا:
أَحدهَا وَهُوَ الْأَظْهر والأصلح والأسلم: أَن تصدق بِأَنَّهَا مَوْجُودَة، وَهِي تلدغ الْمَيِّت، وَلَكِنَّك لَا تشاهد ذَلِك فَإِن هَذِه الْعين لَا تصلح لمشاهدة الْأُمُور الملكوتية، وكل مَا يتَعَلَّق فِي بِالآخِرَة فَهُوَ فِي علم الملكوت. . أما ترى الصَّحَابَة رضي الله عنهم كَيفَ كَانُوا يُؤمنُونَ بنزول جِبْرِيل عليه السلام،
وَمَا كَانُوا يشاهدونه، ويؤمنون بِأَنَّهُ عليه السلام يُشَاهِدهُ، فَإِن كنت لَا تؤمن بِهَذَا فتصحيح أصل الْإِيمَان بِالْمَلَائِكَةِ وَالْوَحي أهم عَلَيْك وَإِن كنت آمَنت بِهِ، وجوزت أَن يُشَاهد النَّبِي صلى الله عليه وسلم مَا لَا تشاهده الْأمة، فَكيف لَا تجوز هَذَا فِي الْمَيِّت، وكما أَن الْملك لَا يشبه الْآدَمِيّين والحيوانات، فالحياة والعقارب الَّتِي تلدغ فِي الْقَبْر لَيست من جنس حيات عالمنا، بل هِيَ جنس آخر، وتدرك بحاسة أُخْرَى.
الْمقَام الثَّانِي: أَن تتذكر أَمر النَّائِم، وَأَنه قد يرى فِي نَومه حَيَّة تلدغه، وَهُوَ يتألم بذلك حَتَّى ترَاهُ رُبمَا يَصِيح ويعرق جَبينه، وَقد ينزعج من مَكَانَهُ كل ذَلِك يُدْرِكهُ من نَفسه
অথবা তিনি বলেন: এই ঘটনাগুলো দ্রষ্টার ইন্দ্রিয়ের কাছে দৃশ্যমান হয় এবং তার দৃষ্টিতে প্রতিভাত হয়, যদিও তা বাহ্যিক ইন্দ্রিয়ের বাইরে বিদ্যমান না থাকে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) মহান আল্লাহর বাণী:
{যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আসবে} এর ব্যাখ্যায় অনুরূপ কথা বলেছেন।
তাদের ওপর দুর্ভিক্ষ আপতিত হয়েছিল, ফলে তাদের কেউ যখন আকাশের দিকে তাকাত, তখন ক্ষুধার তীব্রতায় ধোঁয়ার মতো অবয়ব দেখতে পেত। ইবনুল মাজিশুন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, হাশরের ময়দানে স্থান পরিবর্তন ও দর্শন সম্পর্কে যে সকল হাদিস এসেছে, তার অর্থ হলো তিনি তাঁর সৃষ্টির দৃষ্টিশক্তি পরিবর্তিত করে দেবেন, ফলে তারা তাঁকে অবতীর্ণ ও প্রকাশিত অবস্থায় দেখবে এবং তিনি তাঁর সৃষ্টির সাথে একান্তে কথা বলবেন ও তাদের সম্বোধন করবেন; অথচ তিনি তাঁর মহিমা থেকে পরিবর্তিত হন না এবং স্থানান্তরিতও হন না—যাতে তারা জানতে পারে যে আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। অথবা তিনি সেগুলোকে অন্যান্য অর্থ বোঝানোর জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ পেশ করেছেন। তবে আমি কেবল তৃতীয় মতটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকাকে হকপন্থীদের পথ মনে করি না। ইমাম গাজালি কবরের আজাব সম্পর্কে সেই তিনটি স্তরের চিত্র তুলে ধরেছেন যখন তিনি বলেছেন: এই ধরণের সংবাদগুলোর যেমন সঠিক প্রকাশ্য অর্থ রয়েছে, তেমনি গোপন রহস্যও রয়েছে; তবে প্রজ্ঞাবানদের নিকট সেগুলো স্পষ্ট। সুতরাং যার নিকট এগুলোর প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয়নি, তার জন্য এগুলোর প্রকাশ্য অর্থ অস্বীকার করা সমীচীন নয়, বরং ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর হলো তা মেনে নেওয়া এবং সত্যায়ন করা। (যদি আপনি বলেন) আমরা তো দীর্ঘক্ষণ কাফের ব্যক্তিকে তার কবরে পর্যবেক্ষণ করি, কিন্তু এর কিছুই দেখতে পাই না, তবে চাক্ষুষ দর্শনের বিপরীতে এই সত্যায়নের যৌক্তিকতা কী?
(জেনে রাখুন) এই জাতীয় বিষয়গুলো সত্যায়ন করার ক্ষেত্রে আপনার তিনটি স্তর রয়েছে:
প্রথমটি—যা সবচেয়ে স্পষ্ট, অধিকতর সংশোধনমূলক এবং নিরাপদ—তা হলো: আপনি বিশ্বাস করবেন যে সেগুলো বিদ্যমান এবং সেগুলো মৃত ব্যক্তিকে দংশন করে, কিন্তু আপনি তা দেখতে পান না। কারণ এই চাক্ষুষ চোখ মালাকুতি (অতীন্দ্রিয়) জগত পর্যবেক্ষণের যোগ্য নয়, আর পরকাল সংক্রান্ত সবকিছুই মালাকুতি জগতের অন্তর্ভুক্ত। আপনি কি দেখেননি যে সাহাবীগণ (রা.) কীভাবে জিবরাইল (আ.)-এর অবতরণের ওপর ঈমান আনতেন,
অথচ তারা তাঁকে দেখতে পেতেন না; কিন্তু তারা বিশ্বাস করতেন যে তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) তাঁকে দেখছেন। আপনি যদি এতে বিশ্বাস না করেন, তবে ফেরেশতা ও ওহীর প্রতি ঈমানের মূল ভিত্তি সংশোধন করা আপনার জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি আপনি এতে বিশ্বাস করেন এবং এটি সম্ভবপর মনে করেন যে নবী (সা.) এমন কিছু দেখেন যা উম্মত দেখে না, তবে মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে কেন এটি সম্ভবপর মনে করবেন না? আর ফেরেশতা যেমন মানুষ বা পশুপাখির সদৃশ নয়, তেমনি কবরের সাপ ও বিচ্ছুগুলো আমাদের জগতের সাপের প্রজাতির নয়, বরং সেগুলো ভিন্ন এক প্রজাতির এবং অন্য ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অনুভূত হয়।
দ্বিতীয় স্তর: আপনি নিদ্রিত ব্যক্তির অবস্থার কথা স্মরণ করুন; সে স্বপ্নে দেখতে পায় যে একটি সাপ তাকে দংশন করছে এবং সে তাতে যন্ত্রণাবোধ করে, এমনকি আপনি তাকে হয়তো চিৎকার করতে এবং তার কপাল ঘামতে দেখেন, আর সে নিজের স্থান থেকে বিচলিত হয়ে পড়ে—এই সবকিছুই সে নিজের ভেতর অনুভব করে।
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
ويتأذى بِهِ كَمَا يتَأَذَّى الْيَقظَان وَهُوَ يُشَاهِدهُ، وَأَنت ترى ظَاهره سَاكِنا وَلَا ترى حواليه حَيَّة وَلَا عقربا، والحية مَوْجُودَة فِي حَقه وَالْعَذَاب حَاصِل وَلكنه فِي حَقك غير مشَاهد، وَإِذا كَانَ الْعَذَاب فِي ألم اللدغ فَلَا فرق بَين حَيَّة تتخلل أَو تشاهد.
الْمقَام الثَّالِث: إِنَّك تعلم أَن الْحَيَّة بِنَفسِهَا لَا تؤلم بل الَّذِي يلقاك مِنْهَا هُوَ ألم السم، ثمَّ السم لَيْسَ هُوَ الْأَلَم، بل عذابك فِي الْأَثر الَّذِي يحصل فِيك من السم، فَلَو حصل مثل ذَلِك الْأَثر من غير سم لَكَانَ الْعَذَاب قد توفر وَكَانَ لَا يُمكن تَعْرِيف ذَلِك النَّوْع من الْعَذَاب إِلَّا بِأَن يُضَاف إِلَى السَّبَب الَّذِي يفضى إِلَيْهِ فِي الْعَادة، فَإِنَّهُ لَو خلق فِي الْإِنْسَان لَذَّة الوقاع مثلا من غير مُبَاشرَة صُورَة الوقاع لم يُمكن تَعْرِيفهَا إِلَّا بِالْإِضَافَة إِلَيْهِ لتَكون الْإِضَافَة للتعريف بِالسَّبَبِ وَتَكون ثَمَرَة السَّبَب حَاصِلَة وَإِن لم تحصل صُورَة السَّبَب، وَالسَّبَب يُرَاد لثمرته لَا لذاته، وَهَذِه الصِّفَات المهلكات تنْقَلب مهلكات مؤذيات ومؤلمات فِي النَّفس عِنْد الْمَوْت فَيكون آلامها كآلام لدغ الْحَيَّات من غير وجودهَا. انْتهى
(بَاب ذكر الْمَلأ الْأَعْلَى)قَالَ الله تَعَالَى:
{الَّذين يحملون الْعَرْش وَمن حوله يسبحون بِحَمْد رَبهم ويؤمنون بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ للَّذين آمنُوا رَبنَا وسعت كل شَيْء رَحْمَة وعلما فَاغْفِر للَّذين تَابُوا وَاتبعُوا سَبِيلك وقهم عَذَاب الْجَحِيم رَبنَا وأدخلهم جنَّات عدن الَّتِي وعدتهم وَمن صلح من آبَائِهِم وأزواجهم وذرياتهم إِنَّك أَنْت الْعَزِيز الْحَكِيم وقهم السَّيِّئَات وَمن تق السَّيِّئَات يَوْمئِذٍ فقد رَحمته وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْز الْعَظِيم} .
وَقَالَ رَسُول صلى الله عليه وسلم:
" إِذا قضى الله تَعَالَى الْأَمر فِي السَّمَاء ضربت الْمَلَائِكَة بأجنحتها خضعانا لقَوْله، كَأَنَّهُ صلصة على صَفْوَان فَإِذا فزع عَن قُلُوبهم قَالُوا: مَاذَا قَالَ ربكُم؟ قَالُوا: الْحق وَهُوَ الْعلي الْكَبِير " وَفِي رِوَايَة " إِذا قضى أمرا سبح حَملَة الْعَرْش، ثمَّ يسبح أهل السَّمَاء الَّذين يَلُونَهُمْ، حَتَّى يبلغ التَّسْبِيح أهل هَذِه السَّمَاء الدُّنْيَا، ثمَّ قَالَ: الَّذين يلون حَملَة الْعَرْش،
আর সে তার মাধ্যমে কষ্ট পায় যেমন জাগ্রত ব্যক্তি তা দেখে কষ্ট পায়। অথচ আপনি তার বাহ্যিক অবস্থা শান্ত দেখেন এবং তার আশেপাশে কোনো সাপ বা বিচ্ছু দেখতে পান না। কিন্তু তার ক্ষেত্রে সাপটি বিদ্যমান এবং আযাব সংঘটিত হচ্ছে, তবে আপনার ক্ষেত্রে তা দৃশ্যমান নয়। আর আযাব যদি দংশনের ব্যথায় হয়, তবে যে সাপ শরীরে প্রবেশ করে আর যাকে দেখা যায় তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
তৃতীয় মাকাম: আপনি জানেন যে, সাপ স্বয়ং কষ্ট দেয় না, বরং সাপের থেকে আপনার কাছে যা পৌঁছে তা হলো বিষের যন্ত্রণা। আবার বিষ নিজেও যন্ত্রণা নয়, বরং আপনার আযাব হলো সেই প্রভাবের মধ্যে যা বিষের কারণে আপনার মধ্যে সৃষ্টি হয়। সুতরাং যদি বিষ ছাড়াও অনুরূপ প্রভাব সৃষ্টি হতো, তবে আযাব পূর্ণ হতো। আযাবের এই প্রকারকে কেবল সেই কারণের সাথে সম্পর্কিত করেই সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব যা সাধারণত এর দিকে নিয়ে যায়। যেমন মানুষের মধ্যে যদি সঙ্গমের আকৃতি বা স্পর্শ ছাড়াই সঙ্গমের আনন্দ সৃষ্টি করা হয়, তবে তা ঐ বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত করা ছাড়া সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয়, যেন এই সম্পর্কটি কারণের পরিচয়ের জন্য হয় এবং কারণের ফল অর্জিত হয় যদিও কারণের বাহ্যিক রূপ অর্জিত না হয়। আর কারণকে চাওয়া হয় তার ফলের জন্য, তার সত্তার জন্য নয়। আর এই ধ্বংসাত্মক গুণাবলি মৃত্যুর সময় আত্মার জন্য ধ্বংসাত্মক, কষ্টদায়ক ও যন্ত্রণাদায়ক বিষয়ে পরিণত হয়, ফলে সেগুলোর যন্ত্রণা সাপ দংশনের যন্ত্রণার মতোই হয়, যদিও সেখানে সাপের অস্তিত্ব না থাকে। সমাপ্ত।
(উচ্চ জগতের আলোচনার অধ্যায়)আল্লাহ তাআলা বলেন:
{যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের রবের প্রশংসার সাথে তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তাঁর প্রতি ঈমান রাখে। আর তারা মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের রব! আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। সুতরাং যারা তওবা করেছে এবং আপনার পথ অনুসরণ করেছে তাদের ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। হে আমাদের রব! আর আপনি তাদের সেই জান্নাতে আদনে (স্থায়ী জান্নাতে) প্রবেশ করান যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাদের দিয়েছেন এবং তাদের পিতৃপুরুষ, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল হয়েছে তাদেরও। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। আর আপনি তাদের মন্দ কাজ থেকে রক্ষা করুন। ঐ দিন আপনি যাকে মন্দ কাজ থেকে রক্ষা করবেন, তাকে তো আপনি দয়াই করলেন। আর এটাই হলো মহাসাফল্য।}
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"যখন আল্লাহ তাআলা আকাশে কোনো বিষয়ের ফয়সালা করেন, তখন ফেরেশতারা তাঁর বাণীর প্রতি অনুগত হয়ে তাদের ডানাগুলো ঝাপটাতে থাকেন, যা মসৃণ পাথরের ওপর শিকল পড়ার শব্দের মতো শোনায়। যখন তাদের অন্তর থেকে ভয় দূর করা হয়, তখন তারা বলে: তোমাদের রব কী বলেছেন? তারা বলে: সত্য বলেছেন এবং তিনিই সুউচ্চ, মহান।" অন্য এক বর্ণনায় আছে "যখন তিনি কোনো বিষয়ের ফয়সালা করেন, তখন আরশ বহনকারীরা তাসবিহ পাঠ করে, তারপর তাদের নিকটবর্তী আসমানের অধিবাসীরা তাসবিহ পাঠ করে, এভাবে তাসবিহ দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এরপর যারা আরশ বহনকারীদের নিকটবর্তী তারা জিজ্ঞেস করে,"
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
لحملة الْعَرْش مَاذَا قَالَ ربكُم؟ فَيُخْبِرُونَهُمْ مَاذَا قَالَ، فيستخبر بعض أهل السَّمَوَات بَعْضًا حَتَّى يبلغ الْخَبَر أهل هَذِه السَّمَاء " وَقَالَ رَسُول صلى الله عليه وسلم:
" إِنِّي قُمْت من اللَّيْل، فَتَوَضَّأت، وَصليت مَا قدر لي، فنعست فِي صَلَاتي حَتَّى
استثقلت، فَإِذا أَنا بربي تبارك وتعالى فِي أحسن صُورَة فَقَالَ: يَا مُحَمَّد قلت: لبيْك رب قَالَ فِيمَا يخْتَصم الْمَلأ الْأَعْلَى؟ قلت: لَا أَدْرِي قَالَهَا ثَلَاثًا. قَالَ: فرأيته وضع كَفه بَين كَتِفي حَتَّى وجدت برد أنامله من ثديي، فتجلى لي كل شَيْء وَعرفت. فَقَالَ: يَا مُحَمَّد قلت: لبيْك رب. قَالَ: فيمَ يخْتَصم الْمَلأ الْأَعْلَى؟ قلت: فِي الْكَفَّارَات. قَالَ: وَمَا هن؟ قلت: مشي الْأَقْدَام إِلَى الْجَمَاعَات وَالْجُلُوس فِي الْمَسَاجِد بعد الصَّلَوَات، وإسباغ الْوضُوء حِين الكريهات. قَالَ: ثمَّ فيمَ؟ قَالَ: قلت: فِي الدَّرَجَات؟ قَالَ: وَمَا هن؟ قلت: إطْعَام الطَّعَام ولين الْكَلَام، وَالصَّلَاة بِاللَّيْلِ وَالنَّاس نيام " وَقَالَ رَسُول صلى الله عليه وسلم: " أَن الله إِذا أحب عبدا دَعَا جِبْرَائِيل فَقَالَ: إِنِّي أحب فلَانا فَأَحبهُ. قَالَ: فَيُحِبهُ جِبْرَائِيل. ثمَّ يُنَادي فِي السَّمَاء فَيَقُول: أَن الله يحب فلَانا فَأَحبُّوهُ، فَيُحِبهُ أهل السَّمَاء، ثمَّ يوضع لَهُ الْقبُول فِي الأَرْض. وَإِذا أبْغض عبدا دَعَا جِبْرَائِيل فَيَقُول إِنِّي أبْغض فلَان فَأَبْغضهُ قَالَ: فَيبْغضهُ جِبْرَائِيل ثمَّ يُنَادي فِي أهل السَّمَاء أَن الله يبغض فلَانا فَأَبْغضُوهُ قَالَ فَيبْغضُونَهُ ثمَّ يوضع لَهُ الْبغضَاء فِي الأَرْض " وَقَالَ رَسُول صلى الله عليه وسلم:
" الْمَلَائِكَة يصلونَ على أحدكُم مَا دَامَ فِي مَجْلِسه الَّذِي صلى فِيهِ يَقُولُونَ: اللَّهُمَّ ارحمه اللَّهُمَّ اغْفِر لَهُ اللَّهُمَّ تب عَلَيْهِ مَا لم يؤذ فِيهِ، مَا لم يحدث فِيهِ " وَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم. " مَا من يَوْم يصبح الْعباد فِيهِ إِلَّا وملكان ينزلان فَيَقُول أَحدهمَا: اللَّهُمَّ أعْط منفقا خلفا وَيَقُول: الآخر اللَّهُمَّ أعْط ممسكا تلفا ".
اعْلَم أَنه قد استفاض من الشَّرْع: أَن لله تَعَالَى عبادا هم أفاضل الْمَلَائِكَة ومقربو الحضرة لَا يزالون يدعونَ لمن أصلح نَفسه، وهذبها، وسعى فِي إصْلَاح النَّاس فَيكون دعاؤهم ذَلِك سَبَب نزُول البركات عَلَيْهِم، ويلعنون من عصى
الله، وسعى فِي الْفساد، فَيكون لعنهم سَببا لوُجُود حسرة وندامة فِي نفس الْعَامِل، وإلهامات فِي صُدُور الْمَلأ السافل أَن يبغضوا هَذَا الْمُسِيء، ويسيئوا إِلَيْهِ، أما فِي الدُّنْيَا، أَو حِين يتخفف عَنهُ جِلْبَاب بدنه بِالْمَوْتِ الطبيعي، وَأَنَّهُمْ يكونُونَ سفراء بَين الله وَبَين عباده، وَأَنَّهُمْ يُلْهمُون فِي قُلُوب بني آدم خيرا أَي يكونُونَ أسبابا لحدوث خواطر الْخَيْر فيهم بِوَجْه من وُجُوه السَّبَبِيَّة، وَأَن لَهُم اجتماعات
আরশ বহনকারীদের কাছে (জিজ্ঞেস করা হয়), "তোমাদের প্রতিপালক কী বলেছেন?" তারা তাদেরকে বলে তিনি কী বলেছেন। তখন আসমানবাসীদের একে অপরকে জিজ্ঞেস করতে থাকে যতক্ষণ না খবরটি এই আসমান পর্যন্ত পৌঁছায়। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"আমি রাতে জাগ্রত হলাম, অজু করলাম এবং আমার ভাগ্যে যতটুকু ছিল ততটুকু সালাত আদায় করলাম। সালাতের মধ্যে আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম এমনকি
আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলাম। তখন আমি আমার বরকতময় ও সুউচ্চ প্রতিপালককে অতি সুন্দর আকৃতিতে দেখলাম। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আমি বললাম: হে আমার প্রতিপালক! আমি উপস্থিত। তিনি বললেন: উচ্চ পরিষদ (ফেরেশতারা) কী নিয়ে বিবাদ করছে? আমি বললাম: আমি জানি না। তিনি এটি তিনবার বললেন। তিনি বললেন: এরপর আমি তাঁকে দেখলাম যে তিনি তাঁর হাতের তালু আমার দুই কাঁধের মাঝখানে রাখলেন, এমনকি আমি আমার বুকের ওপর তাঁর আঙুলের শীতলতা অনুভব করলাম। তখন আমার কাছে সবকিছু উদ্ভাসিত হয়ে গেল এবং আমি সব চিনে নিলাম। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আমি বললাম: হে আমার প্রতিপালক! আমি উপস্থিত। তিনি বললেন: উচ্চ পরিষদ কী নিয়ে বিবাদ করছে? আমি বললাম: কাফফারা (পাপমোচনকারী কাজ) নিয়ে। তিনি বললেন: সেগুলো কী? আমি বললাম: জামায়াতের দিকে হেঁটে যাওয়া, সালাতের পর মসজিদে বসে থাকা এবং কষ্টদায়ক মুহূর্তেও পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করা। তিনি বললেন: তারপর কিসে? তিনি বললেন: আমি বললাম: মর্যাদা বৃদ্ধি নিয়ে। তিনি বললেন: সেগুলো কী? আমি বললাম: অন্নদান করা, নম্রভাবে কথা বলা এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন রাতে সালাত আদায় করা।" আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তিনি জিবরাইলকে ডাকেন এবং বলেন: আমি অমুককে ভালোবাসি, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাসো। জিবরাইল তখন তাকে ভালোবাসেন। এরপর তিনি আসমানে ঘোষণা করে বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, সুতরাং তোমরাও তাকে ভালোবাসো। তখন আসমানবাসীরা তাকে ভালোবাসে। এরপর জমিনে তার জন্য গ্রহণযোগ্যতা স্থাপন করা হয়। আর যখন তিনি কোনো বান্দাকে ঘৃণা করেন, তখন জিবরাইলকে ডাকেন এবং বলেন: আমি অমুককে ঘৃণা করি, সুতরাং তুমিও তাকে ঘৃণা করো। তখন জিবরাইল তাকে ঘৃণা করেন। এরপর তিনি আসমানবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করেন যে, আল্লাহ অমুককে ঘৃণা করেন, সুতরাং তোমরাও তাকে ঘৃণা করো। তখন তারা তাকে ঘৃণা করে এবং এরপর জমিনে তার জন্য ঘৃণা বা বিদ্বেষ স্থাপন করা হয়।" আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার সালাত আদায়ের স্থানে অবস্থান করে, ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকে। তারা বলে: হে আল্লাহ! তাকে রহমত দান করুন। হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! তার তওবা কবুল করুন। যতক্ষণ না সে কাউকে কষ্ট দেয় অথবা যতক্ষণ না তার অজু নষ্ট হয়।" আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "বান্দারা যখনই ভোরে উপনীত হয়, প্রতিদিন দুজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাদের একজন বলেন: হে আল্লাহ! দানকারীকে প্রতিদান দিন। আর অন্যজন বলেন: হে আল্লাহ! কৃপণ ব্যক্তিকে ধ্বংস দিন" ।
জেনে রাখুন যে, শরীয়ত থেকে এটি সুপ্রসিদ্ধ যে: আল্লাহ তায়ালার এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যারা মর্যাদাবান ফেরেশতা এবং তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত। তারা সর্বদা ঐ ব্যক্তির জন্য দোয়া করতে থাকেন যে নিজের সংশোধন করেছে, নিজেকে পরিমার্জিত করেছে এবং মানুষের সংশোধনের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তাদের সেই দোয়া তাদের ওপর বরকত নাজিল হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এবং তারা ঐ ব্যক্তিকে অভিশাপ দেন যে
আল্লাহর অবাধ্যতা করে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে লিপ্ত থাকে। তাদের সেই অভিশাপ আমলকারীর মনে অনুশোচনা ও অনুতাপ সৃষ্টির কারণ হয় এবং নিম্ন জগতের অন্তরে এই ইলহাম জাগ্রত করে যে তারা এই পাপাচারীকে ঘৃণা করবে এবং তার প্রতি অসদাচরণ করবে; দুনিয়াতে অথবা যখন স্বাভাবিক মৃত্যুর মাধ্যমে তার দেহরূপ পোশাক হালকা হয়ে যায়। আর ফেরেশতারা আল্লাহ এবং তাঁর বান্দাদের মাঝে দূত হিসেবে কাজ করেন। তারা আদম সন্তানদের অন্তরে কল্যাণের ইলহাম দেন, অর্থাৎ কোনো না কোনোভাবে তাদের মধ্যে ভালো চিন্তার উদয় হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ান। আর তাদেরও বিশেষ সমাবেশ রয়েছে।
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
كَيفَ شَاءَ الله وَحَيْثُ شَاءَ الله يعبر عَنْهُم بِاعْتِبَار ذَلِك بالرفيق الْأَعْلَى، والندى الْأَعْلَى وَالْمَلَأ الْأَعْلَى وَأَن الْأَرْوَاح أفاضل الْآدَمِيّين دُخُولا فيهم ولحوقا بهم كَمَا قَالَ الله تَعَالَى:
{يَا أيتها النَّفس المطمئنة ارجعي إِلَى رَبك راضية مرضية فادخلي فِي عبَادي وادخلي جنتي} .
وَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم:
" رَأَيْت جَعْفَر بن أبي طَالب ملكا يطير فِي الْجنَّة مَعَ الْمَلَائِكَة بجناحين "
وَأَن هُنَالك ينزل الْقَضَاء، وَيتَعَيَّن الْأَمر الْمشَار إِلَيْهِ فِي قَوْله تَعَالَى:
{فِيهَا يفرق كل أَمر حَكِيم} .
وَأَن هُنَالك يَتَقَرَّر الشَّرَائِع بِوَجْه من الْوُجُوه.
وَاعْلَم أَن الْمَلأ الْأَعْلَى ثَلَاثَة أَقسَام: قسم علم الْحق أَن نظام الْخَيْر يتَوَقَّف عَلَيْهِم، فخلق أجساما نورية بِمَنْزِلَة نَار مُوسَى، فَنفخ فِيهَا نفوس كَرِيمَة.
وَقسم اتّفق حُدُوث مزاج فِي البخارات اللطيفة من العناصر اسْتوْجبَ فيضان نفوس شاهقة شَدِيدَة الرَّفْض للألواث البهيمية.
وَقسم هم نفوس إنسانية قريبَة المأخذ من الْمَلأ الْأَعْلَى مَا زَالَت تعْمل
أعمالا منجية تفِيد اللحوق بهم حَتَّى طرحت عَنْهُم جلابيب أبدانها، فانسلكت فِي سلكهم وعدت مِنْهُم، وَالْمَلَأ الْأَعْلَى شَأْنهَا أَنَّهَا تتَوَجَّه إِلَى بارئها توجها ممعنا لَا يصدها عَن ذَلِك الْتِفَات إِلَى شَيْء وَهُوَ معنى قَوْله تَعَالَى:
{يسبحون بِحَمْد رَبهم ويؤمنون بِهِ} .
وتتلقى من رَبهَا اسْتِحْسَان النظام الصَّالح واستهجان خِلَافه، فيقرع ذَلِك بَاب من أَبْوَاب الْجُود الإلهي وَهُوَ معنى قَوْله تَعَالَى:
{وَيَسْتَغْفِرُونَ للَّذين آمنُوا} .
وأفضالهم تَجْتَمِع أنوارهم، وتتداخل فِيمَا بَينهَا عِنْد الرّوح الَّذِي وَصفه النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِكَثْرَة الْوُجُوه والألسنة، فَتَصِير هُنَالك كشيء وَاحِد وَتسَمى حَظِيرَة الْقُدس، وَرُبمَا حصل فِي حَظِيرَة الْقُدس إِجْمَاع على إِقَامَة حِيلَة لنجاة بني آدم من الدَّوَاهِي المعاشية والمعادية بتكميل أزكى خلق الله يَوْمئِذٍ وتمشية أمره فِي النَّاس، فَيُوجب ذَلِك إلهامات فِي قُلُوب المستعدين من النَّاس أَن يتبعوه، ويكونوا أمة أخرجت للنَّاس، وَيُوجب تمثل عُلُوم فِيهَا صَلَاح الْقَوْم وهداهم فِي قلبه وَحيا ورؤيا وهتفا، وَأَن تتراءى لَهُ فتكلمه شفاها، وَيُوجب نصر
আল্লাহ যেভাবে চেয়েছেন এবং আল্লাহ যেখানে চেয়েছেন, সেই বিবেচনায় তাদের উচ্চ সঙ্গী, উচ্চ মহাসভা এবং উচ্চ পরিষদ হিসেবে অভিহিত করা হয়। আর আদম সন্তানদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের রূহসমূহ তাদের মধ্যে প্রবেশ করে এবং তাদের সাথে মিলিত হয়, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
“হে প্রশান্ত আত্মা! তোমার রবের নিকট ফিরে আস সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন অবস্থায়। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।”
আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“আমি জাফর ইবনে আবি তালিবকে একজন ফেরেশতা হিসেবে দেখেছি, যিনি জান্নাতে ফেরেশতাদের সাথে দুটি ডানা দিয়ে উড়ছেন।”
আর সেখানেই তাকদির অবতীর্ণ হয় এবং সেই বিষয়টি নির্ধারিত হয় যার দিকে আল্লাহ তাআলা এই বাণীতে ইঙ্গিত করেছেন:
“তাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় পৃথক করা হয়।”
আর সেখানেই কোনো এক পন্থায় শরিয়তসমূহ সাব্যস্ত হয়।
জেনে রাখো যে, উচ্চ পরিষদ তিন প্রকার: এক প্রকার হলো যাদের সম্পর্কে সত্য (আল্লাহ) জানেন যে কল্যাণের শৃঙ্খলা তাদের ওপর নির্ভরশীল, ফলে তিনি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর আগুনের ন্যায় নূরানি শরীর সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে সম্মানিত রূহসমূহ ফুঁকে দিয়েছেন।
দ্বিতীয় প্রকার হলো যাদের ক্ষেত্রে মৌলিক উপাদানসমূহের সূক্ষ্ম বাষ্পের মধ্যে এমন মেজাজ তৈরি হয়েছে যা উচ্চমর্যাদাবান নফস বা প্রাণের বিচ্ছুরণ দাবি করে, যারা পাশবিক কলুষতাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যানকারী।
তৃতীয় প্রকার হলো সেই সকল মানবিক নফস যারা উচ্চ পরিষদের খুব নিকটবর্তী এবং অনবরত নাজাতদানকারী আমলসমূহ করতে থাকে যা তাদের সাথে মিলিত হতে সাহায্য করে, যতক্ষণ না তারা তাদের শরীরের আবরণগুলো ছুড়ে ফেলে দেয় এবং তাদের দলভুক্ত হয় ও তাদেরই একজন হিসেবে গণ্য হয়। আর উচ্চ পরিষদের বৈশিষ্ট্য হলো তারা তাদের স্রষ্টার প্রতি এমন গভীর মনোনিবেশ করে যে কোনো কিছুর প্রতি ভ্রুক্ষেপই তাদের সেই মনোনিবেশ থেকে বিরত রাখতে পারে না; আর এটাই আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অর্থ:
“তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তাঁর প্রতি ঈমান রাখে।”
তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে সৎ ব্যবস্থার পছন্দনীয়তা এবং তার বিপরীত বিষয়ের অপছন্দনীয়তা লাভ করে, যা আল্লাহর বদান্যতার দ্বারসমূহের কোনো একটি দ্বারে করাঘাত করে; আর এটাই আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অর্থ:
“এবং তারা মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।”
তাদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাদের নূরসমূহ একত্রিত হয় এবং সেই রূহের নিকট পরস্পরের মধ্যে প্রবিষ্ট হয় যাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক মুখ ও জিহ্বা বিশিষ্ট হিসেবে বর্ণনা করেছেন; অতঃপর সেখানে তা একটি একক সত্তার ন্যায় হয়ে যায় এবং একে হাজিরাতুল কুদস বলা হয়। কখনও কখনও হাজিরাতুল কুদসে আদম সন্তানদের দুনিয়াবি ও পরকালীন বিপদাপদ থেকে রক্ষার কৌশল অবলম্বনের ব্যাপারে ঐক্যমত্য হয়, আর তা হয় সে সময়ের সবচেয়ে পবিত্র সৃষ্টিকে পরিপূর্ণতা দানের মাধ্যমে এবং মানুষের মধ্যে তার আদেশের প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে। অতঃপর এটি মানুষের মধ্যে যারা যোগ্য তাদের অন্তরে এই ইলহামের উদয় ঘটায় যে তারা তাকে অনুসরণ করবে এবং তারা হবে মানুষের কল্যাণে উত্থিত এক উম্মত; এবং এটি তার হৃদয়ে এমন ইলমের প্রতিফলন ঘটায় যাতে কওমের সংশোধন ও হেদায়েত নিহিত থাকে—তা ওহী, স্বপ্ন বা অদৃশ্য আহ্বানের মাধ্যমে হতে পারে—এবং এটিও যে ফেরেশতা তার সামনে দৃশ্যমান হয়ে তার সাথে সরাসরি কথা বলবে; আর এটি সাহায্যের আবশ্যকতা তৈরি করে।
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
أحبائه وتقريبهم من كل خير وَلعن من صد عَن سَبِيل الله وتقريبهم من كل ألم، وَهَذَا أصل من أصُول النُّبُوَّة، وَيُسمى إِجْمَاعهم المستمر بتأييد روح الْقُدس، ويثمر هُنَالك بَرَكَات لم تعهد فِي الْعَادة فتسمى بالمعجزات.
وَدون هَؤُلَاءِ نفوس اسْتوْجبَ فيضانها حُدُوث مزاج معتدل فِي بخارات لَطِيفَة لم تبلغ بهم السَّعَادَة مبلغ الْأَوَّلين، فَصَارَ كَمَا لَهُم أَن تكون
فارغة لانتظار مَا يترشح من فَوْقهَا، فَإِذا ترشح شَيْء بِحَسب استعداد الْقَابِل وتأثير الْفَاعِل انبعثوا إِلَى تِلْكَ الْأُمُور كَمَا تنبعث الطُّيُور والبهائم بالدواعي الطبيعية، وهم فِي ذَلِك فانون عَمَّا يرجع إِلَى أنفسهم، باقون بِمَا ألهموا من فَوْقهم فيؤثرون فِي قُلُوب الْبشر والبهائم، فتنقلب إرادتها وَأَحَادِيث نفوسها إِلَى مَا يُنَاسب الْأَمر المُرَاد، ويؤثرون فِي بعض الْأَشْيَاء الطبيعية فِي تضاعيف حركاتها وتحولاتها، كَمَا يدحرج حجر، فأثر فِيهِ ملك كريم عِنْد ذَلِك، فَمشى فِي الأَرْض أَكثر مِمَّا يتَصَوَّر فِي الْعَادة، وَرُبمَا ألْقى الصياد شبكة فِي النَّهر، فَجَاءَت أَفْوَاج من الْمَلَائِكَة تلهم فِي قلب هَذِه السَّمَكَة أَن تقتحم، وَهَذِه أَن تهرب وتقبض حبلا، وتبسط أُخْرَى، وَهِي لَا تعلم لما تفعل ذَلِك، وَلَكِن تتبع مَا ألهمت وَرُبمَا تقاتلت فئتان، فَجَاءَت الْمَلَائِكَة تزين فِي قُلُوب هَذِه الشجَاعَة والثبات بِأَحَادِيث وخيالات يقتضيها الْمقَام، وتلهم حيل الْغَلَبَة، وتؤيد فِي الرمى وأشباهه، وَفِي قُلُوب تِلْكَ أضداد هَذِه الْخِصَال ليقضي الله أمرا كَانَ مَفْعُولا، وَرُبمَا كَانَ المترشح إيلام نفس إنسانية أَو تنعيمها، فسعت الْمَلَائِكَة كل سعي، وَذَهَبت كل مَذْهَب مُمكن، وبإزاء أُولَئِكَ آخَرُونَ أولو خفَّة وطيش وأفكار مضادة للخير أوجب حدوثهم تعفن بخارات ظلمانية هم الشَّيَاطِين لَا يزالون يسعون فِي أضداد مَا سعت الْمَلَائِكَة فِيهِ وَالله أعلم.
(بَاب ذكر سنة الله الَّتِي أُشير إِلَيْهَا فِي قَوْله تَعَالَى {وَلنْ تَجِد لسنة الله تبديلا} )اعْلَم أَن بعض أَفعَال الله يَتَرَتَّب على القوى المودعة فِي الْعَالم بِوَجْه من وُجُوه الترتب، شهد بذلك النَّقْل وَالْعقل قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم:
" أَن الله خلق آدم من قَبْضَة
তাঁর প্রিয়জনদের প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁদেরকে যাবতীয় কল্যাণের নিকটবর্তী করা, আর যারা আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেয় তাদের প্রতি অভিশাপ এবং তাদেরকে যাবতীয় যন্ত্রণার নিকটবর্তী করা—এটি নবুওয়াতের মূলনীতিসমূহের অন্যতম একটি মূলনীতি। রুহুল কুদুসের (পবিত্র আত্মা) সহায়তায় তাঁদের এই নিরবচ্ছিন্ন ঐকমত্যকে [একটি বিশেষ নামে] অভিহিত করা হয়, এবং এর ফলে সেখানে এমন সব বরকত প্রকাশিত হয় যা সচরাচর দেখা যায় না, তাই সেগুলোকে মুজিজা বলা হয়।
এঁদের নিচে এমন কিছু আত্মা রয়েছে যাদের বিচ্ছুরণ সূক্ষ্ম বাষ্পের মধ্যে একটি পরিমিত মেজাজ বা প্রকৃতির সৃষ্টি হওয়াকে আবশ্যক করেছে; তবে তাদের সৌভাগ্য প্রথমোক্তদের পর্যায়ে পৌঁছেনি। ফলে তাদের পূর্ণতা এমন হয়েছে যে তারা
তাদের উপর থেকে যা নিঃসৃত হয় তার প্রতীক্ষায় রিক্ত হয়ে থাকে। অতঃপর যখন গ্রহণকারীর যোগ্যতা এবং প্রভাব বিস্তারকারীর ক্রিয়া অনুযায়ী কোনো কিছু নিঃসৃত হয়, তখন তারা সে বিষয়গুলোর দিকে এমনভাবে ধাবিত হয় যেমনটি পাখি ও চতুষ্পদ জন্তু তাদের স্বভাবজাত তাড়নায় ধাবিত হয়। এমতাবস্থায় তারা নিজেদের সত্তার প্রতি নিবদ্ধ থাকা থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং তাদের ওপর থেকে যা ইলহাম করা হয় তার মাধ্যমেই টিকে থাকে। ফলে তারা মানুষ ও পশুদের হৃদয়ে প্রভাব বিস্তার করে। এতে তাদের ইচ্ছা ও মনের জল্পনা-কল্পনা উদ্দিষ্ট বিষয়ের অনুকূলে পরিবর্তিত হয়ে যায়। তারা কিছু প্রাকৃতিক বস্তুর গতিবিধি ও রূপান্তরের ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করে, যেমন কোনো পাথর গড়িয়ে দেওয়া হলো এবং সে সময় কোনো সম্মানিত ফেরেশতা তার ওপর প্রভাব বিস্তার করলেন, ফলে তা পৃথিবীতে সচরাচর কল্পনার চেয়েও অধিক পথ অতিক্রম করল। আবার কখনও কোনো শিকারি নদীতে জাল ফেলল, তখন ফেরেশতাদের দল এসে এই মাছের হৃদয়ে জালে ঢুকে পড়ার জন্য ইলহাম করল, আর ওই মাছের হৃদয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য। তারা কোনো দড়ি টেনে ধরে, আবার কোনোটি ঢিলা করে দেয়; অথচ তারা জানে না কেন তারা তা করছে, বরং যা ইলহাম করা হয়েছে তারই অনুসরণ করে। কখনও দুটি দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তখন ফেরেশতারা এসে এক পক্ষের অন্তরে বীরত্ব ও অটলতাকে এমন কিছু জল্পনা ও ভাবনার মাধ্যমে সুশোভিত করেন যা পরিস্থিতির দাবি মেটায়। তারা বিজয়ের কৌশল ইলহাম করেন এবং তীর নিক্ষেপ বা অনুরূপ বিষয়ে সহায়তা প্রদান করেন। অন্যদিকে অপর পক্ষের অন্তরে এসব গুণের বিপরীত বিষয়গুলো ঢেলে দেন, যাতে আল্লাহ সেই ফয়সালা কার্যকর করতে পারেন যা পূর্বনির্ধারিত ছিল। কখনও এমন হয় যে, উপর থেকে কোনো মানবাত্মাকে কষ্ট দেওয়া কিংবা সুখ প্রদান করার বিষয়টি নির্গত হয়, তখন ফেরেশতারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালান এবং সম্ভবপর সব পথ অবলম্বন করেন। আর তাঁদের বিপরীতে রয়েছে এমন এক শ্রেণি যারা চপলতা, অস্থিরতা এবং কল্যাণের পরিপন্থী চিন্তার অধিকারী। অন্ধকারচ্ছন্ন বাষ্পের পচন তাদের সৃষ্টিকে অনিবার্য করেছে; তারা হলো শয়তান। ফেরেশতারা যা করার চেষ্টা করেন, তারা সর্বদা তার বিপরীতে চেষ্টা চালিয়ে যায়। আল্লাহই ভালো জানেন।
(পরিচ্ছেদ: আল্লাহর সেই রীতির বর্ণনা যার প্রতি মহান আল্লাহর এই বাণীতে ইঙ্গিত করা হয়েছে: “আর আপনি আল্লাহর রীতিতে কোনো পরিবর্তন পাবেন না”)জেনে রাখুন যে, আল্লাহর কিছু কাজ জগতের মধ্যে গচ্ছিত শক্তিগুলোর ওপর কোনো না কোনো বিন্যাস অনুযায়ী বিন্যস্ত হয়। কুরআন-সুন্নাহ ও বিবেক-বুদ্ধি এর সাক্ষ্য দেয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"নিশ্চয় আল্লাহ আদমকে এক মুষ্ঠি থেকে সৃষ্টি করেছেন"
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
قبضهَا من جَمِيع الأَرْض، فجَاء بَنو آدم على قدر الأَرْض، مِنْهُم الْأَحْمَر والأبيض وَالْأسود، وَبَين ذَلِك، والسهل والحزن، والخبيث وَالطّيب، وَسَأَلَهُ عبد الله بن سَلام مَا ينْزع الْوَلَد إِلَى أَبِيه أَو إِلَى أمه؟ فَقَالَ:
إِذا سبق مَاء الرجل مَاء الْمَرْأَة نزع الْوَلَد وَإِذا سبق مَاء الْمَرْأَة مَاء الرجل نزعت ".
وَلَا أرى أحدا يشك فِي أَن الإماتة تستند إِلَى الضَّرْب بِالسَّيْفِ أَو أكل السم، وَأَن خلق الْوَلَد فِي الرَّحِم يكون عقيب صب الْمَنِيّ، وَأَن خلق الْحُبُوب وَالْأَشْجَار يكون عقيب الْبذر وَالْغَرْس والسقي، وَلأَجل هَذِه الِاسْتِطَاعَة جَاءَ التَّكْلِيف، وَأمرُوا، ونهوا، وجوزوا بِمَا عمِلُوا، فَتلك القوى مِنْهَا خَواص العناصر وطبائعها، وَمِنْهَا الْأَحْكَام الَّتِي أودعها الله فِي كل صُورَة نوعية، وَمِنْهَا أَحْوَال عَالم الْمِثَال والوجود الْمقْضِي بِهِ هُنَالك قبل الْوُجُود الأرضي، وَمِنْهَا أدعية الْمَلأ الْأَعْلَى بِجهْد هممهم لمن هذب نَفسه، أَو سعى فِي إصْلَاح النَّاس، وعَلى من خَالف ذَلِك، وَمِنْهَا الشَّرَائِع الْمَكْتُوبَة على بني آدم وَتحقّق الْإِيجَاب وَالتَّحْرِيم فَإِنَّهَا سَبَب ثَوَاب الْمُطِيع وعقاب العَاصِي، وَمِنْهَا أَن يقْضِي الله تَعَالَى بِشَيْء، فيجر ذَلِك الشَّيْء شَيْئا آخر لِأَنَّهُ لَازمه فِي سنة الله، وخرم نظام اللُّزُوم غير مرضِي، وَالْأَصْل فِيهِ قَول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم:
" إِذا قضى الله لعبد أَن يَمُوت بِأَرْض جعل لَهُ إِلَيْهَا حَاجَة " فَكل ذَلِك نطقت بِهِ الْأَخْبَار، وأوجبته ضَرُورَة الْعقل.
وَاعْلَم أَنه إِذا تَعَارَضَت الْأَسْبَاب الَّتِي يَتَرَتَّب عَلَيْهَا الْقَضَاء بِحَسب جري الْعَادة، وَلم يُمكن وجود مقتضياتها أجمع - وَكَانَت الْحِكْمَة حِينَئِذٍ مُرَاعَاة أقرب الْأَشْيَاء إِلَى الْخَيْر الْمُطلق وَهَذَا هُوَ الْمعبر عَنهُ بالميزان فِي قَوْله صلى الله عليه وسلم:
" بِيَدِهِ الْمِيزَان يرفع الْقسْط وَيخْفِضهُ " وبالشأن فِي قَوْله تَعَالَى:
{كل يَوْم هُوَ فِي شَأْن} .
তিনি পুরো পৃথিবী থেকে এক মুঠো মাটি গ্রহণ করলেন, ফলে আদম সন্তানরা পৃথিবীর মাটির বৈচিত্র্য অনুযায়ী সৃষ্টি হলো। তাদের মধ্যে কেউ লাল, কেউ সাদা, কেউ কালো এবং কেউ এর মাঝামাঝি বর্ণের; কেউ কোমল, কেউ রুক্ষ, কেউ মন্দ আবার কেউ উত্তম। আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম তাঁকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন, সন্তান কেন তার পিতার সদৃশ হয় কিংবা কেন তার মাতার সদৃশ হয়? তিনি বললেন:
"যখন পুরুষের বীর্য স্ত্রীর বীর্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তখন সন্তান পিতার সদৃশ হয়। আর যখন স্ত্রীর বীর্য পুরুষের বীর্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তখন সন্তান মাতার সদৃশ হয়।"
আমি মনে করি না কেউ এতে সন্দেহ করবে যে, মৃত্যু তলোয়ারের আঘাত কিংবা বিষপানের সাথে সম্পৃক্ত; জরায়ুতে সন্তানের সৃষ্টি বীর্যপাতের পরবর্তী ফলাফল; এবং শস্য ও বৃক্ষের উৎপত্তি বীজ বপন, চারা রোপণ ও জলসেচনের পরবর্তী ফলাফল। এই সক্ষমতার কারণেই মানুষের ওপর শারয়ী দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তাদের আদেশ দেওয়া হয়েছে, নিষেধ করা হয়েছে এবং তাদের কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান বা সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং এই শক্তিগুলোর মধ্যে কিছু হলো মৌলিক উপাদানের গুণাগুণ ও প্রকৃতি, কিছু হলো সেই বিধানাবলি যা আল্লাহ প্রতিটি প্রজাতির কাঠামোর মধ্যে গচ্ছিত রেখেছেন, কিছু হলো আলম-ই মিসাল (উপমা জগৎ)-এর অবস্থা এবং পার্থিব অস্তিত্বের পূর্বে সেখানে নির্ধারিত অস্তিত্ব, কিছু হলো উর্ধ্ব জগতের ফেরেশতাদের ঐকান্তিক প্রার্থনা—যারা নিজেদের আত্মশুদ্ধি করে বা মানুষের সংশোধনের চেষ্টা করে তাদের জন্য এবং যারা এর বিরোধিতা করে তাদের বিরুদ্ধে প্রার্থনা। আবার কিছু হলো আদম সন্তানদের ওপর অর্পিত শরীয়ত এবং কর্তব্য ও নিষিদ্ধ কাজের বিধানাবলি; কেননা তা অনুগতদের পুরস্কার এবং অবাধ্যদের শাস্তির কারণ। আবার কিছু এমন যে, আল্লাহ তাআলা কোনো একটি বিষয়ের ফয়সালা করেন, যা অন্য একটি বিষয়কে টেনে আনে; কারণ এটি আল্লাহর চিরাচরিত নিয়মে প্রথমটির জন্য অপরিহার্য। আর এই অপরিহার্য শৃঙ্খলার লঙ্ঘন আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় নয়। এর মূল ভিত্তি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী:
"আল্লাহ যখন কোনো বান্দার মৃত্যু কোনো নির্দিষ্ট স্থানে হওয়ার ফয়সালা করেন, তখন তিনি সেখানে তার জন্য কোনো প্রয়োজন সৃষ্টি করে দেন।" এই সবকিছুই বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত এবং সুস্থ বিবেকের অনিবার্য দাবি।
জেনে রাখুন, যখন প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাকদির কার্যকর হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংঘর্ষ সৃষ্টি হয় এবং সেগুলোর সবকটির চাহিদা একসাথে পূরণ করা সম্ভব হয় না—তখন প্রজ্ঞার দাবি হলো এমন কিছুকে প্রাধান্য দেওয়া যা পরম কল্যাণের নিকটতর। আর এটিকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীতে 'মিজান' বা পাল্লা বলে অভিহিত করা হয়েছে:
"আল্লাহর হাতে রয়েছে পাল্লা, তিনি ইনসাফের পাল্লাকে উপরে উঠান এবং নিচে নামান।" আর মহান আল্লাহর এই বাণীতে 'শান' বা বিশেষ কাজ দ্বারা এটিই বুঝানো হয়েছে:
{প্রতিটি দিন তিনি কোনো না কোনো মহিমান্বিত কাজে রত।}
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٥١)
ثمَّ التَّرْجِيح يكون تَارَة بِحَال الْأَسْبَاب أَيهَا أقوى، وَتارَة بِحَال الْآثَار المترتبة أَيهَا أَنْفَع، وبتقديم بَاب الْخلق على بَاب التَّدْبِير وَنَحْو ذَلِك من الْوُجُوه، فَنحْن أَن قصر علمنَا عَن إحاطة الْأَسْبَاب وَمَعْرِفَة الأحق عَن تعارضها نعلم قطعا أَنه لَا يُوجد شَيْء إِلَّا وَهُوَ أَحَق بِأَن يُوجد، وَمن أَيقَن بِمَا ذكرنَا استراح عَن اشكالات كَثِيرَة.
أما هيآت الْكَوَاكِب فَمن تأثيرها مَا يكون ضَرُورِيًّا كاختلاف الصَّيف والشتاء وَطول النَّهَار وقصره باخْتلَاف أَحْوَال الشَّمْس وكاختلاف الجزر وَالْمدّ باخْتلَاف أَحْوَال الْقَمَر، وَجَاء فِي الحَدِيث:
" إِذا طلع النَّجْم ارْتَفَعت العاهة " يَعْنِي بِحَسب جري الْعَادة لَكِن كَون الْفقر والغنى والجدب وَالْخصب وَسَائِر حوادث الْبشر بِسَبَب حركات الْكَوَاكِب فمما لم يثبت فِي الشَّرْع، قد نهى النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن الْخَوْض فِي ذَلِك فَقَالَ: " من اقتبس شُعْبَة من النُّجُوم اقتبس شُعْبَة من السحر " وشدد فِي قَول: مُطِرْنَا بِنَوْء كَذَا وَلَا أَقُول نصت الشَّرِيعَة على أَن الله لم يَجْعَل فِي النُّجُوم خَواص تتولد مِنْهَا الْحَوَادِث بِوَاسِطَة تغير الْهَوَاء المكتنف بِالنَّاسِ وَنَحْو ذَلِك، وَأَنت خَبِير بِأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم نهى عَن الكهانة وَهِي الْأَخْبَار عَمَّن الْجِنّ، وَبرئ من أَتَى كَاهِنًا وَصدقه، ثمَّ لما سُئِلَ عَن حَال الْكُهَّان أخبر أَن الْمَلَائِكَة تنزل فِي الْعَنَان فَتذكر الْأَمر قضي فِي السَّمَاء، فتسترق الشَّيَاطِين السّمع، فتوحيه إِلَى الْكُهَّان، فيكذبون مَعهَا مائَة كذبة وَأَن الله تَعَالَى قَالَ:
{يأيها الَّذين آمنُوا لَا تَكُونُوا كَالَّذِين كفرُوا وَقَالُوا لإخوانهم إِذا ضربوا فِي الأَرْض أَو كَانُوا غزى وَلَو كَانُوا عندنَا مَا مَاتُوا وَمَا قتلوا} .
وَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: " لن يدْخل أحدكُم الْجنَّة عمله " وَقَالَ: " إِنَّمَا أَنْت رَفِيق والطبيب الله " وَبِالْجُمْلَةِ فالنهي يَدُور على مصَالح كَثِيرَة وَالله أعلم.
(بَاب حَقِيقَة الرّوح)قَالَ الله تَعَالَى:
{يَسْأَلُونَك عَن الرّوح قل الرّوح من أَمر رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ من الْعلم إِلَّا قَلِيلا} .
অতঃপর প্রাধান্য প্রদান কখনও কারণসমূহের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হয় যে কোনটি অধিক শক্তিশালী, আর কখনও এর ওপর নির্ভরশীল ফলাফলের অবস্থার প্রেক্ষিতে হয় যে কোনটি অধিক কল্যাণকর, এবং সৃষ্টির বিষয়টিকে পরিচালনার বিষয়ের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে অথবা এই জাতীয় অন্যান্য দিক থেকে। সুতরাং আমাদের জ্ঞান যদি কারণসমূহকে পরিবেষ্টন করতে এবং তাদের পারস্পরিক বিরোধের ক্ষেত্রে কোনটি অধিক সঠিক তা জানতে অক্ষম হয়, তবুও আমরা অকাট্যভাবে জানি যে, কোনো কিছুই অস্তিত্ব লাভ করে না যদি না তা অস্তিত্ব লাভের জন্য অধিক সঠিক বিবেচিত হয়। আর আমরা যা উল্লেখ করেছি সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপন করলে সে অনেক জটিলতা থেকে মুক্তি পাবে।
নক্ষত্রপুঞ্জের বিন্যাসের ক্ষেত্রে বলা যায়, এর প্রভাবের মধ্যে কিছু প্রভাব রয়েছে যা অপরিহার্য, যেমন সূর্যের বিভিন্ন অবস্থার কারণে গ্রীষ্ম ও শীতের পার্থক্য এবং দিন বড় ও ছোট হওয়া, এবং চাঁদের বিভিন্ন অবস্থার কারণে জোয়ার-ভাটার পার্থক্য। হাদীসে এসেছে:
"যখন নক্ষত্র উদিত হয়, তখন আপদ দূরীভূত হয়।" অর্থাৎ এটি স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী ঘটে থাকে। কিন্তু দারিদ্র্য ও সচ্ছলতা, দুর্ভিক্ষ ও সুজলা অবস্থা এবং মানুষের অন্যান্য ঘটনাবলি নক্ষত্রের গতির কারণে হওয়া—এমনটি শরীয়াতে প্রমাণিত নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে অহেতুক আলোচনা করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "যে ব্যক্তি নক্ষত্রবিদ্যার কোনো অংশ শিক্ষা করল, সে জাদুরই একটি অংশ শিক্ষা করল।" এবং "অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে" এই কথার ব্যাপারে তিনি কঠোরতা অবলম্বন করেছেন। আমি এ কথা বলছি না যে, শরীয়াহ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে আল্লাহ নক্ষত্রসমূহের মধ্যে এমন কোনো বৈশিষ্ট্য রাখেননি যার মাধ্যমে মানুষের পরিবেষ্টনকারী বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ঘটনা জন্ম নিতে পারে। আর আপনি অবগত আছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণকগিরি থেকে নিষেধ করেছেন—যা মূলত জিনদের থেকে সংবাদ গ্রহণ করা—আর যে ব্যক্তি গণকের কাছে আসে এবং তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, তিনি তার সাথে সম্পর্কহীনতা প্রকাশ করেছেন। অতঃপর যখন তাকে গণকদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি জানালেন যে ফেরেশতারা মেঘমালাতে অবতরণ করেন এবং আকাশে ফয়সালা হওয়া বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, তখন শয়তানরা গোপনে তা শুনে ফেলে এবং তা গণকদের কাছে পৌঁছে দেয়, আর তারা এর সাথে একশত মিথ্যা মিশ্রিত করে। আর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
"হে মুমিনগণ, তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা কুফরি করেছে এবং তাদের ভাইদের সম্পর্কে বলেছে যখন তারা জমিনে সফর করছিল কিংবা যুদ্ধে লিপ্ত ছিল যে, 'যদি তারা আমাদের কাছে থাকত তবে তারা মারা যেত না এবং নিহত হতো না'।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কারো আমল তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে না।" তিনি আরও বলেছেন: "তুমি তো কেবল একজন সঙ্গী, আর আল্লাহই প্রকৃত চিকিৎসক।" মোদ্দাকথা হলো, এই নিষেধসমূহ অনেক কল্যাণকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(রূহের হাকীকত বা প্রকৃত স্বরূপ অধ্যায়)আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
"তারা তোমাকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো, রূহ আমার রবের আদেশঘটিত বিষয়। আর তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
وَقَرَأَ الْأَعْمَش عَن رِوَايَة ابْن مَسْعُود (وَمَا أُوتُوا من الْعلم إِلَّا قَلِيلا) وَيعلم من هُنَالك أَن الْخطاب للْيَهُود والسائلين عَن الرّوح وَلَيْسَت الْآيَة نصافي إِنَّه لَا يعلم أحد من الْأمة المرحومة حَقِيقَة الرّوح كَمَا يظنّ، وَلَيْسَ كل ماسكت عَنهُ الشَّرْع لَا يُمكن مَعْرفَته الْبَتَّةَ، بل كثيرا مَا يسكت عَنهُ لأجل أَنه معرفَة دقيقة لَا يصلح لتعاطيها جُمْهُور الْأمة وَأَن أمكن لبَعْضهِم.
وَاعْلَم أَن الرّوح أول مَا يدْرك من حَقِيقَتهَا أَنَّهَا مبدأ الْحَيَاة فِي الْحَيَوَان وَأَنه يكون حَيا بنفخ الرّوح فِيهِ، وَيكون مَيتا بمفارقتها مِنْهُ، ثمَّ إِذا أمعن فِي التَّأَمُّل ينجلي أَن فِي الْبدن بخارا لطيفا متولدا فِي الْقلب من خُلَاصَة الأخلاط يحمل القوى الحساسة والمحركة والمدبرة للغذاء يجْرِي فِي حكم الطِّبّ، وَتكشف التجربة أَن لكل من أَحْوَال هَذَا البخار من رقته وغلظه وصفائه وكدرته أثرا خَاصّا فِي القوى والأفاعيل المنبجسة من تِلْكَ القوى وَأَن الآفة الطارئة على كل عُضْو وعَلى توليد البخار الْمُنَاسب لَهُ تفْسد هَذَا البخار، وتشوش أفاعيله ويستلزم تكونه الْحَيَاة، وتحلله الْمَوْت فَهُوَ الرّوح فِي أول النّظر، والطبقة السُّفْلى من الرّوح فِي النّظر الممعن، مثله فِي الْبدن كَمثل مَاء
الْورْد وكمثل النَّار فِي الفحم، ثمَّ إِذا أمعن فِي النّظر أَيْضا أنجلى أَن هَذَا الرّوح مَطِيَّة للروح الْحَقِيقِيَّة ومادة لتعلقها، وَذَلِكَ أَنا نرى الطِّفْل يشب، ويشيب، وتتبدل أخلاط بدنه وَالروح المتولدة من تِلْكَ الأخلاط أَكثر من ألف مرّة، ويصغر تَارَة، وَيكبر أُخْرَى، ويسود تَارَة ويبيض أُخْرَى، وَيكون جَاهِلا مرّة وعالما أُخْرَى إِلَى غير ذَلِك من الْأَوْصَاف المتبدلة والشخص هُوَ هُوَ، وَإِن نُوقِشَ فِي بعض ذَلِك فلنا أَن نفرض تِلْكَ التغيرات والطفل هُوَ هُوَ، أَو نقُول لَا نجزم بِبَقَاء تِلْكَ الْأَوْصَاف بِحَالِهَا، ونجزم بِبَقَائِهِ فَهُوَ غَيرهَا فالشيء الَّذِي هُوَ بِهِ هُوَ لَيْسَ هَذَا الرّوح، وَلَا هَذَا الْبدن، وَلَا هَذِه المشخصات الَّتِي تعرف، وَترى ببادئ الرَّأْي، بل الرّوح فِي الْحَقِيقَة حَقِيقَة فردانية ونقطة نورانية يجل طورها عَن طور هَذِه الأطوار المتغيرة المتغايرة الَّتِي بَعْضهَا جَوَاهِر وَبَعضهَا أَعْرَاض وَهِي مَعَ الصَّغِير كَمَا هِيَ مَعَ الْكَبِير وَمَعَ الْأسود كَمَا هِيَ مَعَ الْأَبْيَض إِلَى غير ذَلِك من المتقابلات، وَلها تعلق خَاص بِالروحِ الهوائي، أَولا وبالبدن ثَانِيًا من حَيْثُ إِن الْبدن مَطِيَّة النَّسمَة وَهِي كوَّة من عَالم الْقُدس ينزل مِنْهَا على النَّسمَة كل مَا استعدت لَهُ، فالأمور المتغيرة إِنَّمَا جَاءَ تغيرها من قبل
আল-আমাশ ইবনে মাসউদের বর্ণনা থেকে পাঠ করেছেন, "আর তোমাদেরকে জ্ঞান থেকে সামান্যই প্রদান করা হয়েছে"। আর এখান থেকেই জানা যায় যে, এই সম্বোধন ছিল ইয়াহুদি এবং রূহ সম্পর্কে প্রশ্নকারীদের প্রতি। এবং এই আয়াতটি এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নয় যে, এই রহমতপ্রাপ্ত উম্মতের কেউই রূহের হাকিকত বা প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জানবে না, যেমনটি অনেকে ধারণা করে থাকেন। আর শরিয়ত যে বিষয়ে নীরব থেকেছে তার অর্থ এই নয় যে, তা কোনোভাবেই জানা সম্ভব নয়; বরং অনেক সময় এ কারণে নীরবতা অবলম্বন করা হয় যে, এটি একটি সূক্ষ্ম জ্ঞান যা উম্মতের সাধারণ জনগণের চর্চার জন্য উপযুক্ত নয়, যদিও তা তাদের কারো কারো পক্ষে জানা সম্ভব হতে পারে।
জেনে রাখুন যে, রূহের প্রকৃত অবস্থার মধ্য থেকে প্রথমে যা উপলব্ধি করা যায় তা হলো, এটি প্রাণীর মধ্যে জীবনের মূল উৎস; রূহ ফুঁকে দেওয়ার মাধ্যমে সে জীবিত হয় এবং রূহ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মাধ্যমে সে মৃত হয়ে যায়। এরপর যদি গভীর চিন্তা করা হয়, তবে স্পষ্ট হয় যে, শরীরের ভেতরে একটি সূক্ষ্ম বাষ্প রয়েছে যা শারীরিক উপাদানসমূহের সারাংশ থেকে হৃদযন্ত্রে উৎপন্ন হয়। এটি অনুভবকারী, সঞ্চালনকারী এবং পুষ্টির ব্যবস্থাপক শক্তিকে বহন করে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নীতি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। আর অভিজ্ঞতা থেকে প্রকাশ পায় যে, এই বাষ্পের প্রতিটি অবস্থা—তার সূক্ষ্মতা, স্থূলতা, স্বচ্ছতা ও আবিলতা—সেই শক্তিগুলো এবং তা থেকে নিঃসৃত কার্যাবলির ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলে। আর প্রতিটি অঙ্গের ওপর আপতিত ব্যাধি এবং সেই অঙ্গের উপযোগী বাষ্প উৎপাদনের ব্যাঘাত এই বাষ্পকে কলুষিত করে এবং এর কার্যাবলিকে বিশৃঙ্খল করে দেয়। এর অস্তিত্ব জীবনের জন্য অপরিহার্য এবং এর ক্ষয় মৃত্যুর কারণ। সুতরাং প্রাথমিক দৃষ্টিতে এটিই রূহ, আর গভীর পর্যবেক্ষণে এটি রূহের নিম্নস্তর; শরীরে এর উদাহরণ হলো পানির মতো
গোলাপের পানির মতো অথবা কয়লার ভেতরে আগুনের মতো। অতঃপর আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, এই রূহটি হলো প্রকৃত রূহের বাহন এবং তার সাথে সংযুক্ত হওয়ার মাধ্যম। এর কারণ হলো আমরা দেখি যে শিশু বড় হয়, বার্ধক্যে উপনীত হয় এবং তার শরীরের উপাদানসমূহ ও সেই উপাদানগুলো থেকে উৎপন্ন রূহ হাজার বারেরও বেশি পরিবর্তিত হয়। সে কখনো ছোট থাকে, কখনো বড় হয়; কখনো কালো হয়, কখনো ফর্সা হয়; কখনো অজ্ঞ থাকে এবং কখনো জ্ঞানী হয়—এরূপ আরও বহু পরিবর্তনশীল গুণাবলি তার ওপর অতিবাহিত হয়, অথচ ব্যক্তিটি সেই একই ব্যক্তি থাকে। আর যদি এর কোনোটিতে আপত্তি করা হয়, তবে আমরা এই পরিবর্তনগুলোকে ধরে নিয়ে বলতে পারি যে শিশুটি সেই একই ব্যক্তি, অথবা আমরা বলতে পারি যে আমরা সেই গুণাবলি একই অবস্থায় স্থায়ী থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত নই, কিন্তু তার অস্তিত্বের ব্যাপারে নিশ্চিত। সুতরাং সত্তা ঐ গুণাবলি থেকে ভিন্ন কিছু। অতএব, যে সত্তার কারণে সে সেই ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত, তা এই (ভৌত) রূহ নয়, এই দেহও নয় এবং বাহ্যিক দৃষ্টিতে চেনা ও দেখা যায় এমন বৈশিষ্ট্যসমূহও নয়। বরং রূহ আসলে একটি একক হাকিকত এবং একটি জ্যোতির্ময় বিন্দু, যার অবস্থা এই পরিবর্তনশীল ও বৈচিত্র্যময় অবস্থাসমূহ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে, যার কিছু হলো মৌলিক উপাদান (জাওহার) এবং কিছু হলো আপতিত গুণ (আরাজ)। এটি ছোটর সাথে যেমন থাকে, বড়র সাথেও তেমনই থাকে; কালোর সাথে যেমন, সাদার সাথেও তেমন—এরূপ অন্যান্য বৈপরীত্যের ক্ষেত্রেও একই কথা। এর একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে প্রথমত বায়বীয় রূহের সাথে এবং দ্বিতীয়ত শরীরের সাথে, যেহেতু শরীর হলো প্রাণের বাহন। আর এটি পবিত্র জগত (আলমে কুদস) থেকে আগত একটি বাতায়ন, যা থেকে প্রাণের ওপর তা-ই অবতীর্ণ হয় যার জন্য সে যোগ্যতা অর্জন করে। সুতরাং পরিবর্তনশীল বিষয়সমূহের পরিবর্তন কেবল এর দিক থেকেই সংঘটিত হয়...
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
الاستعدادات الأرضية بِمَنْزِلَة حر الشَّمْس يبيض الثَّوْب ويسود الْقصار وَقد تحقق عندنَا بالوجدان الصَّحِيح أَن الْمَوْت انفكاك النَّسمَة، عَن الْبدن لفقد استعداد الْبدن لتوليدها لَا انفكاك الرّوح الْقُدسِي عَن النَّسمَة، وَإِذا تحللت النَّسمَة فِي الْأَمْرَاض المدنفة وَجب فِي حِكْمَة الله أَن يبْقى الشَّيْء من النَّسمَة بِقدر مَا يَصح ارتباط الرّوح الإلهي بهَا، كَمَا أَنَّك إِذا مصصت الْهَوَاء من القارورة تخَلّل الْهَوَاء حَتَّى تبلغ إِلَى حد لَا تخَلّل بعده، فَلَا تَسْتَطِيع المص، أَو تنفقئ القارورة، وَمَا ذَلِك إِلَّا لسر نَاشِئ من طبيعة الْهَوَاء، فَكَذَلِك سر فِي النَّسمَة وحد لَهَا لَا يجاوزهما الْأَمر، وَإِذا مَاتَ الْإِنْسَان كَانَ للنسمة نشأة أُخْرَى فينشئ فيض الرّوح الإلهي
فِيهَا قُوَّة فِيمَا بَقِي من الْحس الْمُشْتَرك تَكْفِي كِفَايَة السّمع وَالْبَصَر وَالْكَلَام بمدد من عَالم الْمِثَال أَعنِي الْقُوَّة المتوسطة بَين الْمُجَرّد والمحسوس المنبثة فِي الافلاك كشيء وَاحِد، وَرُبمَا تستعد النَّسمَة حِينَئِذٍ للباس نوراني أَو ظلماني بمدد من عَالم الْمِثَال، وَمن هُنَالك تتولد عجائب عَالم البرزخ، ثمَّ إِذا نفخ فِي الصُّور أَي جَاءَ فيض عَام من بارئ الصُّور بِمَنْزِلَة الْفَيْض الَّذِي كَانَ مِنْهُ فِي بَدْء الْخلق حِين نفخت الْأَرْوَاح فِي الأجساد، وَأسسَ عَالم المواليد أوجب فيض الرّوح الإلهي أَن يكتسي لباسا جسمانيا أَو لباسا بَين الْمِثَال والجسم فَيتَحَقَّق جَمِيع مَا أخبر بِهِ الصَّادِق المصدوق عَلَيْهِ أفضل الصَّلَوَات وأيمن التَّحِيَّات، وَلما كَانَت النَّسمَة برزخا متوسطا بَين الرّوح الإلهي وَالْبدن الأرضي وَجب أَن يكون لهالا وَجه إِلَى هَذَا، وَوجه إِلَى ذَلِك، وَالْوَجْه المائل إِلَى الْقُدس هُوَ الملكية، وَالْوَجْه المائل إِلَى الأَرْض هُوَ البهيمية، ولنقتصر من حَقِيقَة الرّوح على هَذِه الْمُقدمَات لتسلم فِي هَذَا الْعلم، وتفرع عَلَيْهَا التفاريع قبل أَن ينْكَشف الْحجاب فِي علم أَعلَى من هَذَا الْعلم وَالله أعلم.
(بَاب سر التَّكْلِيف)قَالَ الله تَعَالَى:
{إِنَّا عرضنَا الْأَمَانَة على السَّمَاوَات وَالْأَرْض وَالْجِبَال فأبين أَن يحملنها وأشفقن مِنْهَا وَحملهَا الْإِنْسَان إِنَّه كَانَ ظلوما جهولا ليعذب الله الْمُنَافِقين والمنافقات وَالْمُشْرِكين والمشركات وَيَتُوب الله على الْمُؤمنِينَ وَالْمُؤْمِنَات وَكَانَ الله غَفُورًا رحِيما}
نبه الْغَزالِيّ والبيضاوي وَغَيرهمَا على أَن المُرَاد بالأمانة تقلد عُهْدَة
التَّكْلِيف بِأَن
পার্থিব যোগ্যতাসমূহ সূর্যের উত্তাপের ন্যায়, যা কাপড়কে সাদা করে এবং ধোপাকে কালো করে। আমাদের নিকট সঠিক অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে যে, মৃত্যু হলো শরীর থেকে নাসামা (প্রাণবায়ু) বিযুক্ত হওয়া; যা শরীরের উক্ত প্রাণবায়ু উৎপাদনের যোগ্যতা হারানোর কারণে ঘটে। এটি পবিত্র রূহ থেকে নাসামা বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়। যখন মরণব্যাধিতে নাসামা বিলীন হয়ে যায়, তখন আল্লাহর হিকমত অনুযায়ী নাসামার কিছু অংশ বাকি থাকা আবশ্যক যাতে তার সাথে রূহ ইলাহী বা ঐশ্বরিক রূহের সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে। যেমন তুমি যদি কোনো শিশি থেকে বাতাস চুষে নাও, তবে বাতাস ততক্ষণই হালকা হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা একটি সীমায় না পৌঁছায় যার পর আর লঘু হওয়া সম্ভব নয়; তখন তুমি আর চুষতে পারবে না অথবা শিশিটি ফেটে যাবে। এটি বাতাসের প্রকৃতি থেকে উদ্ভূত একটি রহস্য। তদ্রূপ নাসামার মধ্যেও একটি রহস্য ও সীমা রয়েছে যা এই বিষয়টিকে অতিক্রম করতে দেয় না। যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন নাসামার এক নতুন জন্ম হয়। ফলে রূহ ইলাহীর বিচ্ছুরণ বা ফয়য তাতে এমন শক্তি সৃষ্টি করে যা 'হিসসে মুশতারাক' (সাধারণ সংবেদনশীলতা)-এর অবশিষ্ট অংশে শ্রবণ, দর্শন ও বাকশক্তির জন্য পর্যাপ্ত হয়; আর এটি 'আলমে মিসাল' বা উদাহরণ জগত থেকে সাহায্যের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আমি সেই শক্তির কথা বলছি যা বিমূর্ত (মুজাররাদ) ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (মাহসুস)-এর মধ্যবর্তী এবং যা মহাকাশীয় গোলকসমূহে একক বস্তুর ন্যায় পরিব্যপ্ত। সেই সময় নাসামা 'আলমে মিসাল'-এর সাহায্যে কোনো জ্যোতির্ময় অথবা অন্ধকারাচ্ছন্ন পোশাক পরিধানের জন্য প্রস্তুত হয়। সেখান থেকেই বরযখ জগতের বিস্ময়কর বিষয়সমূহ উৎপন্ন হয়। অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে—অর্থাৎ রূপদানকারী আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ব্যাপক ফয়য বা বিচ্ছুরণ আসবে যেমনটি সৃষ্টির শুরুতে ছিল যখন দেহের মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রাণীকুল ও জড় জগত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল—তখন রূহ ইলাহীর ফয়য তাকে পুনরায় একটি দেহগত পোশাক অথবা উদাহরণ জগত ও জড় জগতের মধ্যবর্তী কোনো পোশাকে আবৃত করা আবশ্যক করবে। তখন সেই সত্যবাদী ও সত্যায়নকারী (রাসূলুল্লাহ ﷺ)-এর বর্ণিত সকল সংবাদ বাস্তব রূপে প্রকাশ পাবে, যাঁর প্রতি বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও কল্যাণময় অভিবাদন। যেহেতু নাসামা রূহ ইলাহী এবং পার্থিব শরীরের মধ্যবর্তী একটি বরযখ (সেতুবন্ধন), তাই আবশ্যক যে এর এক দিক থাকবে রূহ ইলাহীর দিকে এবং অন্য দিক থাকবে শরীরের দিকে। পবিত্রতার দিকে ঝুঁকে থাকা দিকটি হলো 'মালাইকিয়্যাত' (ফেরেশতাকুলোচিত বৈশিষ্ট্য) এবং মাটির দিকে ঝুঁকে থাকা দিকটি হলো 'বাহিমিয়্যাত' (পশুসুলভ বৈশিষ্ট্য)। রূহের হাকীকত বা প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে আমরা এই প্রাথমিক আলোচনার ওপরই ক্ষান্ত করছি যাতে এই জ্ঞান নিরাপদ থাকে এবং উচ্চতর জ্ঞান প্রকাশিত হওয়ার আগেই এর আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ শাখা-প্রশাখায় বিন্যস্ত হয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞাত।
(শরয়ী দায়বদ্ধতা বা তাকলীফের রহস্য পরিচ্ছেদ)আল্লাহ তাআলা বলেন:
নিশ্চয় আমি আসমানসমূহ, যমীন ও পাহাড়ের নিকট আমানত পেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে তারা ভীত হলো; আর মানুষ তা বহন করল। নিশ্চয় সে বড়ই যালিম ও অজ্ঞ। যাতে আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও মুশরিক নারীদের শাস্তি দেন এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের তওবা কবুল করেন। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।
ইমাম গাযালী, বায়যাবী এবং অন্যান্যগণ সতর্ক করেছেন যে, আমানত বলতে শরয়ী বিধান পালনের দায়ভার গ্রহণ করাকে বোঝানো হয়েছে যে, এর মাধ্যমে...
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
تتعرض لخطر الثَّوَاب وَالْعِقَاب بِالطَّاعَةِ وَالْمَعْصِيَة، وبعرضها عَلَيْهِنَّ اعْتِبَارهَا بِالْإِضَافَة إِلَى استعدادهن، وبإبائهن الْآبَاء الطبيعي الَّذِي هُوَ عدم اللياقة والاستعداد، وبحمل الْإِنْسَان قابليته واستعداده لَهَا.
أَقُول وعَلى هَذَا فَقَوله تَعَالَى {إِنَّه كَانَ ظلوما جهولا} خرج مخرج التَّعْلِيل؛ فَإِن الظلوم من لَا يكون عادلا، وَمن شَأْنه أَن يعدل، والجهول من لَا يكون عَالما، وَمن شَأْنه أَن يعلم، وَغير الْآدَمِيّ إِمَّا عَالم عَادل لَا يتَطَرَّق إِلَيْهِ الظُّلم وَالْجهل كالملائكة، وَإِمَّا لَيْسَ بعادل وَلَا عَالم وَلَا من شَأْنه أَن يكسبها كَالْبَهَائِمِ، وَإِنَّمَا يَلِيق بالتكليف، ويستعد لَهُ من كَانَ لَهُ كَمَال بِالْقُوَّةِ لَا بِالْفِعْلِ، وَاللَّام فِي قَوْله تَعَالَى {ليعذب} لَام الْعَاقِبَة كَأَنَّهُ قَالَ عَاقِبَة حمل الْأَمَانَة التعذيب والتنعيم، وَإِن شِئْت أَن تستجلي حَقِيقَة الْحَال فَعَلَيْك أَن تتَصَوَّر حَال الْمَلَائِكَة فِي تجردها لَا يزعجها حَالَة ناشئة من تَفْرِيط الْقُوَّة البهيمية كالجوع والعطش وَالْخَوْف والحزن، أَو إفراطها كالشبق وَالْغَضَب والتيه وَلَا يهمها التغذية والتنمية وَلَو أحقهما، وَإِنَّمَا تبقى فارغة لانتظار مَا يرد عَلَيْهَا من فَوْقهَا، فَإِذا ترشح عَلَيْهَا أَمر من فَوْقهَا من إِجْمَاع على إِقَامَة نظام مَطْلُوب أَو رضَا من شَيْء، أَو بغض شَيْء امْتَلَأت بِهِ، وانقادت لَهُ، وانبعثت إِلَى مُقْتَضَاهُ وَهِي فِي ذَلِك فانية عَن مُرَاد نَفسهَا بَاقِيَة بِمُرَاد مَا فَوْقهَا، ثمَّ تتَصَوَّر حَال الْبَهَائِم فِي تلطخها بالهيآت الخسيسة لَا تزَال مشغوفة بمقتضيات الطبيعة فانية فِيهَا لَا تنبعث إِلَى شَيْء إِلَّا انبعاثا بهيميا يرجع إِلَى نفع جَسَدِي واندفاع إِلَى مَا تعطيه الطبيعة فَقَط.
ثمَّ تعلم أَن الله تَعَالَى قد أودع الْإِنْسَان بِحِكْمَتِهِ الباهرة قوتين: قُوَّة ملكية تتشعب من فيض الرّوح الْمَخْصُوصَة بالإنسان على الرّوح الطبيعية السارية فِي الْبدن وقبولها ذَلِك الْفَيْض وانقهارها لَهُ، وَقُوَّة بهيمية تتشعب من النَّفس الحيوانية الْمُشْتَرك فِيهَا كل حَيَوَان المتشبحة بالقوى الْقَائِمَة بِالروحِ الطبيعية واستقلالها بِنَفسِهَا وإذعان الرّوح الإنسانية لَهَا وقبولها الحكم مِنْهَا، ثمَّ تعلم أَن بَين القوتين تزاحما وتجاذبا، فَهَذِهِ تجذب إِلَى الْعُلُوّ دون تِلْكَ إِلَى
আনুগত্য ও অবাধ্যতার মাধ্যমে এটি প্রতিদান ও শাস্তির ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। আর সেগুলোর নিকট যখন এটি পেশ করা হয়েছিল, তখন তাদের যোগ্যতার নিরিখে তা বিবেচনা করা হয়েছিল। তাদের অস্বীকার ছিল একটি স্বভাবজাত অস্বীকার, যা মূলত যোগ্যতা ও প্রস্তুতির অভাবেরই নামান্তর; আর মানুষের এটি বহন করা ছিল তার উপযুক্ততা ও প্রস্তুতির কারণে।
আমি বলি, এই ভিত্তিতে মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয় সে ছিল অতিশয় অবিচারকারী ও অত্যন্ত অজ্ঞ} মূলত কারণ দর্শানোর প্রেক্ষাপটে বর্ণিত হয়েছে। কেননা 'জুলুমকারী' বা অবিচারকারী সে-ই যে ন্যায়পরায়ণ নয়, অথচ ন্যায়পরায়ণ হওয়া যার স্বভাবজাত সামর্থ্যের অন্তর্ভুক্ত। আর 'জাহুল' বা অত্যন্ত অজ্ঞ সে-ই যে জ্ঞানী নয়, অথচ জ্ঞান অর্জন করা যার স্বভাবজাত সামর্থ্যের অন্তর্ভুক্ত। মানুষ ব্যতিরেকে অন্যান্য সৃষ্টিরা হয় ফেরেশতাদের মতো জ্ঞানী ও ন্যায়পরায়ণ হবে যাদের মধ্যে অন্যায় ও অজ্ঞতার অনুপ্রবেশ ঘটে না; অথবা তারা চতুষ্পদ জন্তুদের মতো হবে যারা ন্যায়পরায়ণও নয়, জ্ঞানীও নয় এবং এগুলো অর্জন করাও যাদের স্বভাবজাত সামর্থ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। প্রকৃতপক্ষে ধর্মীয় দায়বদ্ধতা বা তাকলিফ কেবল তার জন্যই উপযুক্ত এবং সে-ই এর জন্য প্রস্তুত হতে পারে, যার মধ্যে পূর্ণতা সুপ্ত সম্ভাবনায় বিদ্যমান, সরাসরি কর্মতৎপরতায় নয়। আর মহান আল্লাহর বাণী {যাতে তিনি শাস্তি দেন}-এ ব্যবহৃত 'লাম' অক্ষরটি পরিণামবাচক; যেন তিনি বলছেন, আমানত বহনের পরিণাম হলো শাস্তি কিংবা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য লাভ। আর তুমি যদি প্রকৃত অবস্থা স্পষ্টভাবে দেখতে চাও, তবে ফেরেশতাদের সেই পার্থিবতামুক্ত অবস্থার কথা কল্পনা করো যেখানে পশুসুলভ শক্তির অভাবজনিত অবস্থা যেমন—ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ভয় ও দুঃখ, কিংবা পশুসুলভ শক্তির আধিক্যজনিত অবস্থা যেমন—কামলিপ্সা, ক্রোধ ও দম্ভ তাদের বিচলিত করে না। পুষ্টি সাধন বা দৈহিক বৃদ্ধি তাদের উদ্বেগের বিষয় নয়, যদি এগুলোর প্রয়োজন তাদের থাকতো। বরং তারা কেবল তাদের ঊর্ধ্বজগত থেকে যা অবতীর্ণ হয়, তার অপেক্ষায় নিরাসক্ত হয়ে থাকে। অতঃপর যখন তাদের ওপর ঊর্ধ্বজগত থেকে কোনো অভীষ্ট শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ঐকমত্য কিংবা কোনো বিষয়ে সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির আদেশ নির্গত হয়, তখন তারা তা দিয়ে পূর্ণ হয়ে যায়, তার প্রতি অনুগত হয় এবং তার দাবি অনুযায়ী কর্মতৎপর হয়। এমতাবস্থায় তারা নিজ ইচ্ছা হতে বিলীন হয়ে যায় এবং তাদের ঊর্ধ্বস্থিত সত্তার ইচ্ছাতেই অবশিষ্ট থাকে। এরপর তুমি চতুষ্পদ জন্তুদের অবস্থার কথা কল্পনা করো যারা হীন প্রবৃত্তিগুলোতে লিপ্ত; তারা সর্বদা প্রকৃতির চাহিদার মোহে আচ্ছন্ন এবং তাতেই বিলীন। তারা কেবল পাশবিক তাড়নাতেই কোনো কাজে প্রবৃত্ত হয়, যা কেবল দৈহিক উপকার লাভ এবং প্রকৃতির অর্জিত বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
অতঃপর জেনে রেখো যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বিস্ময়কর প্রজ্ঞাবলে মানুষের মাঝে দুটি শক্তি গচ্ছিত রেখেছেন: একটি ফেরেশতাসুলভ শক্তি, যা মানুষের জন্য নির্দিষ্ট রূহ থেকে বিচ্ছুরিত হয়ে দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত প্রাকৃতিক রূহের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং প্রাকৃতিক রূহ সেই প্রভাবকে গ্রহণ করে ও তার নিকট পরাভূত হয়। আর অন্যটি হলো পশুসুলভ শক্তি, যা ওই জান্তব আত্মা থেকে উৎসারিত যা সকল প্রাণীর মধ্যে বিদ্যমান এবং যা প্রাকৃতিক রূহের ওপর প্রতিষ্ঠিত শক্তিগুলোর অবয়ব ধারণ করে এবং এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে মানুষের রূহকে নিজের অনুগত করে নেয় এবং তার নিকট থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরপর তুমি জানতে পারবে যে, এই দুই শক্তির মধ্যে নিরন্তর দ্বন্দ্ব ও আকর্ষণ বিদ্যমান; এর মধ্যে একটি ঊর্ধ্বলোকে আকর্ষণ করে আর অন্যটি নিম্নলোকে...
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
السّفل وَإِذا برزت البهيمية، وغلبت آثارها كمنت الملكية، وَكَذَلِكَ الْعَكْس، وَأَن للباري جلّ شَأْنه عناية بِكُل نظام، وجودا بِكُل مَا يسْأَله الاستعداد الْأَصْلِيّ والكسبي، فَإِن كسب هيآت بهيمية أمد فِيهَا، وَيسر لَهُ مَا يُنَاسِبهَا، وَإِن كسب هيآت ملكية أمد فِيهَا، وَيسر لَهُ مَا يُنَاسِبهَا كَمَا قَالَ الله عز وجل.
{فَأَما من أعْطى وَاتَّقَى وَصدق بِالْحُسْنَى فسنيسره لليسرى وَأما من بخل وَاسْتغْنى وَكذب بِالْحُسْنَى فسنيسره للعسرى} . وَقَالَ: {كلا نمد هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاء من عَطاء رَبك وَمَا كَانَ عَطاء رَبك مَحْظُورًا} .
وَأَن لكل قُوَّة لَذَّة وألما، فاللذة أَدْرَاك مَا يلائمها، والألم إِدْرَاك مَا يُخَالِفهَا وَمَا أشبه حَال الْإِنْسَان بِحَال من اسْتعْمل مخدرا فِي بدنه، فَلم يجد ألم لفح النَّار حَتَّى إِذا ضعف أَثَره، وَرجع إِلَى مَا تعطيه الطبيعة وجد الْأَلَم أَشد مَا يكون أَو بِحَال الْورْد على مَا ذكره الْأَطِبَّاء أَن فِيهِ ثَلَاث قوى: قُوَّة أرضية تظهر عِنْد السحق والطلاء، وَقُوَّة مائية تظهر عِنْد الْعَصْر وَالشرب، وَقُوَّة هوائية تظهر عِنْد الشم، فَتبين أَن التَّكْلِيف من مقتضيات النَّوْع، وَأَن الْإِنْسَان يسْأَل ربه بِلِسَان استعداده أَن يُوجب عَلَيْهِ مَا يُنَاسب الْقُوَّة الملكية، ثمَّ يثيب على ذَلِك، وَأَن يحرم عَلَيْهِ الانهماك فِي البهيمية، ويعاقب على ذَلِك وَالله أعلم.
...অধঃপতন; আর যখন পশুত্ব প্রকাশ পায় এবং এর প্রভাব প্রবল হয়, তখন ফেরেশতাসুলভ স্বভাব সুপ্ত হয়ে পড়ে; তদ্রূপ এর বিপরীতও ঘটে। আর সুমহান স্রষ্টার প্রতিটি ব্যবস্থার প্রতি বিশেষ যত্ন রয়েছে এবং তিনি মূল ও অর্জিত যোগ্যতা যা কিছু প্রার্থনা করে, তা প্রদান করেন। সুতরাং যদি কেউ পশুসুলভ স্বভাব অর্জন করে, তবে তিনি তাকে সে পথেই সহায়তা করেন এবং তার জন্য সেটির উপযোগী বিষয়সমূহ সহজ করে দেন। আর যদি কেউ ফেরেশতাসুলভ স্বভাব অর্জন করে, তবে তিনি তাকে সে পথেই সহায়তা করেন এবং তার জন্য সেটির উপযোগী বিষয়সমূহ সহজ করে দেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন।
{অতঃপর যে দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে বিশ্বাস করে, আমি তার জন্য সহজ পথকে সুগম করে দেব। আর যে কার্পণ্য করে, বেপরোয়া হয় এবং উত্তম বিষয়কে অস্বীকার করে, আমি তার জন্য কঠিন পথকে সুগম করে দেব।}। আর তিনি বলেছেন: {আমি এদেরকে ও ওদেরকে—প্রত্যেককেই আপনার রবের দান থেকে সহায়তা করি; আর আপনার রবের দান অবারিত।}।
আর প্রতিটি শক্তিরই সুখ ও দুঃখ রয়েছে। সুখ হলো তার অনুকূল বিষয় উপলব্ধি করা, আর দুঃখ হলো তার প্রতিকূল বিষয় উপলব্ধি করা। মানুষের অবস্থা সেই ব্যক্তির অবস্থার মতো, যে তার শরীরে চেতনানাশক ব্যবহার করেছে। ফলে সে আগুনের দহনের যন্ত্রণা অনুভব করে না, যতক্ষণ না সেই ওষুধের প্রভাব দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীর যখন তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তখন সে তীব্রভাবে সেই যন্ত্রণা অনুভব করে। অথবা চিকিৎসকদের বর্ণনা অনুযায়ী গোলাপের অবস্থার মতো, যাতে তিনটি শক্তি রয়েছে: একটি পার্থিব শক্তি যা চূর্ণ করা ও লেপনের সময় প্রকাশ পায়, একটি জলীয় শক্তি যা নিংড়ানো ও পান করার সময় প্রকাশ পায়, এবং একটি বায়বীয় শক্তি যা ঘ্রাণ নেওয়ার সময় প্রকাশ পায়। সুতরাং স্পষ্ট হলো যে, শরিয়তের বিধিবিধান পালন মানুষের স্বভাবজাত দাবি। মানুষ তার যোগ্যতার ভাষায় আপন রবের নিকট প্রার্থনা করে যেন তিনি তার ওপর ফেরেশতাসুলভ শক্তির উপযোগী বিষয়সমূহ আবশ্যক করে দেন এবং এরপর তার ওপর পুরস্কার প্রদান করেন; আর যেন তার ওপর পশুত্বের গভীরে মগ্ন হওয়া হারাম করে দেন এবং এর জন্য তাকে শাস্তি প্রদান করেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
(بَاب انْشِقَاق التَّكْلِيف من التَّقْدِير)اعْلَم أَن لله تَعَالَى آيَات فِي خلقه يَهْتَدِي النَّاظر فِيهَا إِلَى أَن الله لَهُ الْحجَّة الْبَالِغَة فِي تَكْلِيفه لِعِبَادِهِ بالشرائع، فَانْظُر إِلَى الْأَشْجَار وأوراقها وأزهارها وثمراتها، وَمَا فِي كل ذَلِك من الكيفيات المبصرة والمذوقة وَغَيرهَا، فَإِنَّهُ جعل لكل نوع أوراقا بشكل خَاص، وأزهارا بلون خَاص، وثمارا مُخْتَصَّة بطعوم، وبتلك الْأُمُور يعرف أَن هَذَا الْفَرد من نوع كَذَا وَكَذَا، وَهَذِه كلهَا تَابِعَة للصورة النوعية ملتوية مَعهَا إِنَّمَا تَجِيء من حَيْثُ جَاءَت الصُّورَة النوعية، وَقَضَاء الله تَعَالَى بِأَن تكون هَذِه الْمَادَّة نَخْلَة مثلا مشتبك مَعَ قَضَائِهِ التفصيلي بِأَن تكون ثَمَرَتهَا كَذَا وخواصها كَذَا.
وَمن خَواص النَّوْع مَا يُدْرِكهُ كل من لَهُ بَال، وَمن خواصه مَا لَا يُدْرِكهُ إِلَّا الألمعي الفطن كتأثير الْيَاقُوت فِي نفس حامله بالتفريح والتشجيع، وَمن خواصه مَا يعم كل الْأَفْرَاد، وَمن خواصه مَا لَا يُوجد إِلَّا فِي بَعْضهَا حَيْثُ تستعد الْمَادَّة، كالأهليلج الَّذِي يسهل بطن من قبض عَلَيْهِ بِيَدِهِ، وَلَيْسَ لَك أَن تَقول لما كَانَت ثَمَرَة النّخل على هَذِه الصّفة؟ فَإِنَّهُ سُؤال بَاطِل لِأَن وجود لَوَازِم الماهيات مَعهَا لَا يطْلب (بلم، ثمَّ أنظر إِلَى أَصْنَاف الْحَيَوَان تَجِد لكل نوع شكلا وخلقة، كَمَا تَجِد فِي الْأَشْجَار، وتجد مَعَ ذَلِك لَهَا حركات اختيارية، وإلهامات طبيعية، وتدبيرات جبلية يمتاز كل نوع بهَا، فبهيمة الْأَنْعَام ترعى الْحَشِيش، وتجتر، وَالْفرس وَالْحمار والبغل ترعى الْحَشِيش، وَلَا تجتر، وَالسِّبَاع تَأْكُل اللَّحْم، وَالطير يطير فِي الْهَوَاء، والسمك يسبح فِي المَاء، وَلكُل نوع من الْحَيَوَان صَوت غير صَوت الآخر، ومسافدة غير مسافدة الآخر، وحضانة للأولاد غير حضَانَة الآخر، وَشرح هَذَا يطول، وَمَا ألهم نوعا من الْأَنْوَاع إِلَّا علوما تناسب مزاجه، وَإِلَّا مَا يصلح بِهِ ذَلِك النَّوْع.
وكل هَذِه الإلهامات تترشح عَلَيْهِ من جَانب بارئها من كوَّة الصُّورَة النوعية، وَمثلهَا كَمثل تخاطيط الأزهار، وطعوم الثمرات فِي تشابكها مَعَ الصُّورَة النوعية، وَمن أَحْكَام النَّوْع مَا يعم الْأَفْرَاد، وَمِنْهَا مَا لَا يُوجد إِلَّا فِي الْبَعْض حَيْثُ تستعد الْمَادَّة، وتتفق الْأَسْبَاب، وَإِن كَانَ أصل الاستعداد يعم الْكل، كاليعسوب من بَين النَّحْل، والببغاء يتَعَلَّم محاكاة أصوات النَّاس بعد تَعْلِيم وتمرين، ثمَّ أنظر إِلَى نوع الْإِنْسَان تَجِد لَهُ مَا وجدت فِي الْأَشْجَار، وَمَا وجدت فِي أَصْنَاف الْحَيَوَان كالسعال والتمطي والجشاء وَدفع الفضلات ومص الثدي فِي أول نشأته، وتجد مَعَ ذَلِك فِيهِ خَواص يمتاز بهَا من سَائِر الْحَيَوَان: مِنْهَا النُّطْق، وَفهم الْخطاب، وتوليد الْعُلُوم الكسبية من تَرْتِيب الْمُقدمَات البديهية، أَو من التجربة والاستقراء والحدس وَمن الاهتمام بِأُمُور يستحسنها بعقله، وَلَا يجدهَا بحسه، وَلَا وهمه، كتهذيب النَّفس، وتسخير الأقاليم تَحت حكمه، وَلذَلِك يتوارد على أصُول هَذِه الْأُمُور جَمِيع الْأُمَم حَتَّى سكان شَوَاهِق الْجبَال، وَمَا ذَلِك إِلَّا لسر نَاشِئ من جذر صورته النوعية، وَذَلِكَ السِّرّ أَن مزاج الْإِنْسَان يَقْتَضِي أَن يكون عقله قاهرا على قلبه، وَقَلبه قاهرا على نَفسه.
ثمَّ انْظُر إِلَى تَدْبِير الْحق لكل نوع، وتربيته إِيَّاه، ولطفه بِهِ، فَلَمَّا كَانَ النَّبَات لَا يحس، وَلَا يَتَحَرَّك جعل لَهُ عروقا تمص الْمَادَّة المجتمعة من المَاء والهواء ولطيف التُّرَاب، ثمَّ يفرقها فِي الأغصان وَغَيرهَا على تَقْسِيم تعطيه الصُّورَة النوعية، وَلما كَانَ الْحَيَوَان حساسا
(তাকদির থেকে শরিয়তের বিধানসমূহের উদ্ভব সংক্রান্ত অধ্যায়)জেনে রেখো যে, আল্লাহর সৃষ্টিরাজিতে তাঁর অনেক নিদর্শন রয়েছে, যার প্রতি দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তি এ কথা বুঝতে সক্ষম হয় যে, তাঁর বান্দাদের ওপর শরিয়তের বিধানসমূহ অর্পণ করার ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে অকাট্য প্রমাণ বিদ্যমান। অতএব, তুমি গাছপালা, তাদের পাতা, ফুল ও ফলের দিকে তাকাও; এবং এগুলোর মাঝে বিদ্যমান দৃশ্যমান ও আস্বাদযোগ্য গুণাবলি ও অন্যান্য বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করো। তিনি প্রতিটি প্রজাতির জন্য বিশেষ আকৃতির পাতা, বিশেষ রঙের ফুল এবং নির্দিষ্ট স্বাদের ফল নির্ধারণ করেছেন। এসব বিষয়ের মাধ্যমেই চেনা যায় যে, এই ব্যক্তিটি অমুক বা তমুক প্রজাতির। আর এ সব কিছুই তার প্রজাতিগত বৈশিষ্ট্যের অনুসারী এবং তার সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই প্রজাতিগত বৈশিষ্ট্য যে উৎস থেকে এসেছে, এই গুণাবলিও সে উৎস থেকেই এসেছে। আর এই উপাদানটি একটি খেজুর গাছ হবে—আল্লাহ তাআলার এই ফয়সালা তাঁর সেই বিস্তারিত ফয়সালার সাথেই জড়িত যে, তার ফল এমন হবে এবং তার বৈশিষ্ট্যসমূহ এমন হবে।
প্রজাতির এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা সামান্য বোধশক্তিসম্পন্ন যে কেউ উপলব্ধি করতে পারে। আবার কিছু বৈশিষ্ট্য এমন আছে যা প্রখর বুদ্ধিমান ও সচেতন ব্যক্তি ছাড়া কেউ বুঝতে পারে না; যেমন—ইয়াকুত পাথর বহনকারীর মনে আনন্দ ও সাহসের সঞ্চার করে। প্রজাতির কিছু বৈশিষ্ট্য সব ব্যক্তির মধ্যে সাধারণভাবে পাওয়া যায়, আবার কিছু বৈশিষ্ট্য কেবল তখনই পাওয়া যায় যখন সংশ্লিষ্ট উপাদানটি তার উপযুক্ত হয়। যেমন হরিতকী, যা হাতের মুঠোয় রাখলে পেট নরম হয়। তোমার এ কথা বলার সুযোগ নেই যে, খেজুরের ফল কেন এমন বৈশিষ্ট্যের হলো? কারণ এটি একটি অসার প্রশ্ন; কেননা সত্তার অনিবার্য গুণাবলি কেন বিদ্যমান থাকে, তার কারণ অনুসন্ধান করা হয় না। এরপর তুমি পশুর বিভিন্ন শ্রেণির দিকে তাকাও। তুমি দেখতে পাবে যে, প্রতিটি প্রজাতির জন্য বিশেষ আকৃতি ও গঠন রয়েছে, যেমনটি তুমি উদ্ভিদের ক্ষেত্রে দেখেছ। এর পাশাপাশি তুমি তাদের মধ্যে কিছু স্বেচ্ছাধীন গতিবিধি, প্রাকৃতিক প্রেরণা ও মজ্জাগত ব্যবস্থাপনা দেখতে পাবে, যার দ্বারা প্রতিটি প্রজাতি অন্যদের থেকে পৃথক হয়। চতুষ্পদ জন্তুরা ঘাস খায় ও জাবর কাটে; ঘোড়া, গাধা ও খচ্চর ঘাস খায় কিন্তু জাবর কাটে না; হিংস্র প্রাণীরা গোশত খায়; পাখিরা আকাশে ওড়ে; মাছ পানিতে সাঁতার কাটে। প্রতিটি প্রজাতির ডাক অন্য প্রজাতির থেকে ভিন্ন, তাদের প্রজনন প্রক্রিয়া অন্যদের থেকে ভিন্ন, তাদের সন্তান লালন-পালন পদ্ধতি অন্যদের থেকে ভিন্ন—এসবের বর্ণনা দীর্ঘ হবে। আল্লাহ প্রতিটি প্রজাতিকে কেবল তার স্বভাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ জ্ঞানই দান করেছেন এবং কেবল সেই জ্ঞানই দিয়েছেন যা সেই প্রজাতির কল্যাণের জন্য উপযোগী।
এই সকল অনুপ্রেরণা তাদের সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে প্রজাতিগত বৈশিষ্ট্যের গবাক্ষ দিয়ে বিচ্ছুরিত হয়। প্রজাতিগত বৈশিষ্ট্যের সাথে এদের নিবিড় সম্পর্ক ঠিক তেমন, যেমন ফুলের রেখা ও ফলের স্বাদের সম্পর্ক। প্রজাতির কিছু বিধান সাধারণ সব ব্যক্তির জন্যই প্রযোজ্য হয়, আবার কিছু কেবল বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয় যখন উপাদানটি উপযুক্ত হয় এবং কারণগুলো অনুকূল হয়, যদিও সক্ষমতার মূল ভিত্তি সকলের মধ্যেই বিদ্যমান থাকে। যেমন মৌমাছিদের মধ্যে রানী মৌমাছি এবং তোতাপাখি শিক্ষা ও অনুশীলনের পর মানুষের কণ্ঠস্বরের অনুকরণ শিখতে পারে। অতঃপর তুমি মানব প্রজাতির দিকে তাকাও। তাদের মধ্যে তুমি তা-ই পাবে যা তুমি উদ্ভিদের মধ্যে পেয়েছ এবং যা তুমি পশুদের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে পেয়েছ—যেমন কাশি, হাই তোলা, ঢেকুর তোলা, মলমূত্র ত্যাগ করা এবং জন্মের শুরুতে স্তন্যপান করা। এর পাশাপাশি তুমি তার মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য পাবে যার মাধ্যমে সে অন্য সব প্রাণী থেকে স্বতন্ত্র। তার মধ্যে রয়েছে কথা বলার শক্তি, সম্বোধন বোঝার ক্ষমতা এবং স্বতঃসিদ্ধ ভূমিকাগুলো সাজিয়ে কিংবা অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও অনুমানের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান উদ্ভাবন করার শক্তি। এছাড়া তার মধ্যে এমন সব বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে যা সে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পছন্দ করে, অথচ তা ইন্দ্রিয় বা কল্পনায় পাওয়া যায় না—যেমন আত্মশুদ্ধি এবং বিভিন্ন ভূখণ্ডকে নিজের শাসনের অধীন করা। একারণেই পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসকারী জাতিসমূহ থেকে শুরু করে সকল জাতির মধ্যে এই মূল বিষয়গুলো পাওয়া যায়। আর এটি মূলত তার প্রজাতিগত বৈশিষ্ট্যের মূল থেকে উদ্ভূত একটি রহস্য। সেই রহস্যটি হলো এই যে, মানুষের স্বভাব দাবি করে তার বুদ্ধি যেন তার হৃদয়ের ওপর প্রভাবশালী হয় এবং তার হৃদয় যেন তার নফসের ওপর প্রভাবশালী হয়।
এরপর তুমি প্রতিটি প্রজাতির জন্য আল্লাহর ব্যবস্থাপনা, লালন-পালন ও তাঁর অনুগ্রহের দিকে তাকাও। যখন উদ্ভিদ অনুভব করতে পারে না এবং নড়াচড়া করতে পারে না, তখন তিনি তার জন্য এমন শিকড় তৈরি করেছেন যা পানি, বাতাস ও মাটির সূক্ষ্ম কণা থেকে সংগৃহীত উপাদান শুষে নেয়। অতঃপর প্রজাতিগত বৈশিষ্ট্যের নির্ধারিত বণ্টনের মাধ্যমে তিনি সেগুলোকে শাখা-প্রশাখায় ও অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে দেন। আর যেহেতু প্রাণী অনুভব করতে পারে...
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
متحركا بالإرادة لم يَجْعَل لَهُ عروقا تمص الْمَادَّة من الأَرْض، بل ألهمه طلب الْحُبُوب والحشيش وَالْمَاء من مظانها، وألهمه جَمِيع مَا يحْتَاج إِلَيْهِ من الارتفاقات، وَالنَّوْع الَّذِي لَا يتكون من الأَرْض تكون الديدان مِنْهَا دبر الله تَعَالَى لَهُ بِأَن أودع فِيهِ قوى التناسل،
وَخلق فِي الْأُنْثَى رُطُوبَة يصرفهَا إِلَى تربية الْجَنِين، ثمَّ حولهَا لَبَنًا خَالِصا، وألهم الْمُتَوَلد مص الثدي وازدراد اللَّبن، وَجعل فِي الدَّجَاجَة رُطُوبَة يصرفهَا إِلَى تكون الْبيض، فَإِذا باضت أَصَابَهَا يبس وخلو جَوف يحملانها على جُنُون يَسْتَدْعِي ترك مُخَالطَة بني نوعها، واستحباب حضَانَة شَيْء تسد بِهِ جوفها، وَجعل من طبع الْحَمَامَة الْأنس بَين ذكرهَا وأنثاها، وَجعل خلو جوفها هُوَ الْحَامِل على حضَانَة الْبيض، ثمَّ جعل رطوبتها البالية تتَوَجَّه إِلَى التهوع، وَجعل لَهَا رَحْمَة على الفرخ، وَجعل رحمتها مَعَ الرُّطُوبَة البالية سَببا لتهوعها وَدفع الْحُبُوب وَالْمَاء إِلَى جَوف فرخها، وَجعل الذّكر مِنْهَا بِسَبَب الْأنس يُقَلّد أنثاها، وَخلق للفراخ مزاجا رطبا ثمَّ حول رطوبتها ريشا تطير بِهِ.
وَلما كَانَ الْإِنْسَان مَعَ احساسه وقبوله للالهامات الجبلية والعلوم الطبيعية ذَا عقل وتوليد للعلوم الكسبية - ألهمه الزَّرْع وَالْغَرْس وَالتِّجَارَة والمعاملة، وَجعل مِنْهُم السَّيِّد بالطبع والاتفاق، وَالْعَبْد بالطبع والاتفاق، وَجعل مِنْهُم الْمُلُوك والرعية، وَجعل مِنْهُم الْحَكِيم الْمُتَكَلّم بالحكمة الإلهية والطبيعية والرياضية والعملية، وَجعل مِنْهُم الْغَنِيّ الَّذِي لَا يَهْتَدِي لذَلِك إِلَّا بِضَرْب من تَقْلِيد، وَلذَلِك ترى أُمَم النَّاس من أهل الْبَوَادِي والحضر متواردين على هَذِه
… ، وَهَذَا كُله شرح الْخَواص والتدبيرات الظَّاهِرَة الْمُتَعَلّقَة بقوته البهيمية وارتفاقاته المعيشية، ثمَّ انْتقل إِلَى قوته الملكية.
وَاعْلَم أَن الْإِنْسَان لَيْسَ كَسَائِر أَنْوَاع الْحَيَوَان، بل لَهُ إِدْرَاك أشرف من إدراكاتهم، وَمن علومه الَّتِي يتوارد عَلَيْهَا أَكثر أَفْرَاده غير من عَصَتْ مادته أَحْكَام نَوعه - التفتيش عَن سَبَب إيجاده وتربيته، والتنبيه بِإِثْبَات مُدبر
فِي الْعَالم هُوَ أوجده ورزقه، والتضرع بَين يَدي بارئه ومدبره بهمته وَعلمه حسب مَا يتَضَرَّع إِلَيْهِ هُوَ وَجَمِيع أَبنَاء جنسه دَائِما سر مدا بِلِسَان الْحَال وَهُوَ قَوْله تَعَالَى:
ইচ্ছাধীন চলাফেরা করতে সক্ষম হওয়ার দরুন তিনি তার জন্য মাটি থেকে রসদ শুষে নেওয়ার মতো কোনো মূল বা শিকড় তৈরি করেননি, বরং তাকে তার সম্ভাব্য স্থানসমূহ থেকে দানাশস্য, লতাপাতা এবং পানি খুঁজে নেওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তাকে তার প্রয়োজনীয় সকল জীবনোপকরণ ও সুযোগ-সুবিধার ইলহাম বা অনুপ্রেরণা দান করেছেন। আর যে প্রজাতি মাটির সেই কীট-পতঙ্গের মতো উৎপন্ন হয় না যারা মাটি থেকেই জন্ম নেয়, মহান আল্লাহ তাদের জন্য এমন ব্যবস্থা করেছেন যে তাদের মাঝে প্রজনন শক্তি আমানত হিসেবে গচ্ছিত রেখেছেন।
তিনি মাদি বা স্ত্রীর মধ্যে আর্দ্রতা সৃষ্টি করেছেন যা তিনি ভ্রূণের লালন-পালনের কাজে ব্যয় করেন, অতঃপর তা বিশুদ্ধ দুগ্ধে রূপান্তরিত করেন। তিনি নবজাতককে স্তন চোষা ও দুধ গিলতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি মুরগির মধ্যে এমন এক জলীয় উপাদান রেখেছেন যা ডিম উৎপাদনে ব্যয় হয়। যখন সে ডিম পাড়ে, তখন তার মধ্যে এক প্রকার শুষ্কতা ও উদরশূন্যতা সৃষ্টি হয়, যা তাকে এমন এক উন্মাদনায় তাড়িত করে যার ফলে সে স্বজাতীয়দের সঙ্গ ত্যাগ করতে এবং কোনো কিছুর ওপর তা দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা করতে অনুপ্রাণিত হয় যা দিয়ে তার শূন্যতা পূরণ হয়। তিনি কবুতরের স্বভাবজাত চরিত্রে নর ও মাদি পাখির মধ্যে হৃদ্যতা দান করেছেন এবং উদরশূন্যতাকে ডিমের ওপর তা দেওয়ার প্রভাবক বানিয়েছেন। অতঃপর তিনি তার পুরাতন আর্দ্রতাকে বমিভাবের দিকে ফিরিয়ে দেন এবং তার অন্তরে শাবকের প্রতি মমতা দান করেন। তিনি এই মমতাবোধ ও জলীয় আর্দ্রতাকে তার বমি করার এবং শাবকের উদরে দানা ও পানি পৌঁছে দেওয়ার কারণ সাব্যস্ত করেছেন। নর পাখিটিও হৃদ্যতার কারণে মাদি পাখির অনুকরণ করে। তিনি শাবকদের জন্য আর্দ্র মেজাজ সৃষ্টি করেছেন এবং পরবর্তীতে সেই আর্দ্রতাকে পাখায় রূপান্তরিত করেছেন যা দিয়ে সে উড়তে পারে।
যেহেতু মানুষ তার অনুভূতি এবং সৃষ্টিগত অনুপ্রেরণা ও প্রাকৃতিক জ্ঞান গ্রহণের পাশাপাশি বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন এবং অর্জিত জ্ঞান উৎপাদনে সক্ষম, তাই তিনি তাকে চাষাবাদ, বৃক্ষরোপণ, ব্যবসা ও লেনদেনের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তিনি তাদের মাঝে স্বভাবগত ও দৈবক্রমে কাউকে প্রভু বা নেতা বানিয়েছেন আবার কাউকে স্বভাবগত ও দৈবক্রমে দাস বা সেবক বানিয়েছেন। তিনি তাদের মধ্য থেকে কাউকে বাদশাহ ও কাউকে প্রজা বানিয়েছেন। তিনি তাদের মধ্য থেকে কাউকে প্রজ্ঞাবান বানিয়েছেন যিনি ঐশী, প্রাকৃতিক, গাণিতিক ও ব্যবহারিক প্রজ্ঞার কথা বলেন। আবার তাদের মধ্য থেকে কাউকে করেছেন ধনী যে এক প্রকার অনুকরণ ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা দিশা পায় না। এই কারণেই আপনি মরুবাসী ও শহরবাসী সব ধরণের মানবজাতিকে এই
... এর ওপর একমত দেখতে পাবেন। এ সবটুকুই হলো তার পাশবিক শক্তি এবং জীবনযাত্রার সুযোগ-সুবিধার সাথে সংশ্লিষ্ট বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য ও ব্যবস্থাপনার ব্যাখ্যা। অতঃপর তা তার ফেরেশতাসুলভ ক্ষমতার দিকে স্থানান্তরিত হয়।
জেনে রাখুন যে, মানুষ অন্যান্য সাধারণ প্রাণীর মতো নয়, বরং তার উপলব্ধি তাদের উপলব্ধির চেয়ে অধিকতর মহিমান্বিত। তার সেই জ্ঞানসমূহের মধ্যে —যেগুলোতে তার অধিকাংশ ব্যক্তি একমত হয় (ব্যতিক্রম তারা যাদের মূল সত্তা নিজ প্রজাতির বিধানের বিরুদ্ধাচরণ করেছে)— অন্যতম হলো নিজের সৃষ্টি ও লালন-পালনের কারণ অনুসন্ধান করা এবং জগতে একজন ব্যবস্থাপকের অস্তিত্ব সম্পর্কে সজাগ হওয়া,
যিনি এই জগতে তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং রিজিক দান করেছেন। এছাড়া নিজের সমস্ত একাগ্রতা ও জ্ঞান নিয়ে তার স্রষ্টা ও ব্যবস্থাপকের সামনে বিনীত হওয়া, যেভাবে সে এবং তার স্বজাতীয় সকলে সর্বদা এবং চিরকাল তাদের বর্তমান অবস্থার ভাষায় বিনতি করে থাকে, যা মহান আল্লাহর বাণী:
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
{ألم ترى أَن الله يسْجد لَهُ من فِي السَّمَوَات وَمن فِي الأَرْض وَالشَّمْس وَالْقَمَر والنجوم وَالْجِبَال وَالشَّجر وَالدَّوَاب وَكثير من النَّاس وَكثير حق عَلَيْهِ الْعَذَاب} .
أَلَيْسَ أَن كل جُزْء من الشَّجَرَة من أَغْصَانهَا وأوراقها وأزهارها متكفف يَده إِلَى النَّفس النباتية الْمُدبرَة فِي الشَّجَرَة دَائِما سر مدا، فَلَو كَانَ لكل جُزْء مِنْهَا عقل لحمد النَّفس النباتية حمدا غير حمد الآخر، وَلَو كَانَ لَهُ فهم لَا نطبع التكفف الحالي فِي علمه وَصَارَ تكففا بالهمة.
فَاعْلَم من هُنَاكَ أَن الْإِنْسَان لما كَانَ ذَا عقل ذكي انطبع فِي نَفسه التكفف العلمي حسب التكفف الحالي، وَمن خواصه أَيْضا أَن يكون فِي نوع الْإِنْسَان من لَهُ خلوص إِلَى منبع الْعُلُوم الْعَقْلِيَّة يتلقاها مِنْهُ وَحيا أَو حدسا أَو رُؤْيا، وَأَن يكون آخَرُونَ قد تفرسوا من هَذَا الْكَامِل آثَار الرشد وَالْبركَة، فانقادوا لَهُ فِيمَا يَأْمر، وَينْهى، وَلَيْسَ فَرد من أَفْرَاد الْإِنْسَان إِلَّا لَهُ قُوَّة للتخلص إِلَى الْغَيْب برؤيا يَرَاهَا، أَو بِرَأْي يبصره، أَو هتيف يسمعهُ، أَو حدس يتفطن لَهُ، إِلَّا أَن مِنْهُم الْكَامِل، وَمِنْهُم النَّاقِص، والناقص يحْتَاج إِلَى الْكَامِل، وَله صِفَات يجل طورها عَن طور صِفَات الْبَهَائِم كالخشوع والنظافة وَالْعَدَالَة والسماحة، وكظهور بوارق الجبروت والملكوت من استجابة الدُّعَاء وَسَائِر الكرامات وَالْأَحْوَال والمقامات.
والأمور الَّتِي يمتاز بهَا الْإِنْسَان من سَائِر أَفْرَاد الْحَيَوَان كَثِيرَة جدا لَكِن جماع الْأَمر وملاكه خصلتان:
أَحدهمَا زِيَادَة الْقُوَّة الْعَقْلِيَّة وَلها شعبتان شُعْبَة غائصة فِي الارتفاقات لمصْلحَة نظام الْبشر واستنباط دقائقها، وَشعْبَة مستعدة للعلوم الغيبية الفائضة بطرِيق الوهب.
وَثَانِيهمَا براعة الْقُوَّة العملية، وَلها أَيْضا شعبتان: شُعْبَة هِيَ ابتلاعها للأعمال من طَرِيق بلعوم اخْتِيَارهَا وإرادتها، فالبهائم تفعل أفعالا بِالِاخْتِيَارِ، وَلَا تدخل أفعالا فِي جدر أَنْفسهَا، وَلَا تتلون أَنْفسهَا بأرواح تِلْكَ الْأَفْعَال، وَإِنَّمَا تلتصق بالقوى الْقَائِمَة بِالروحِ الهوائي فَقَط، فيسهل عَلَيْهَا صُدُور أَمْثَالهَا.
وَالْإِنْسَان يفعل أفعالا، فتفنى الْأَفْعَال، وتنزع مِنْهَا أرواحها، فتبلعها النَّفس، فَيظْهر فِي النَّفس إِمَّا نور وَإِمَّا ظلم، وَقَول الشَّرْع شَرط الْمُؤَاخَذَة على الْأَفْعَال أَن يَفْعَلهَا بِالِاخْتِيَارِ بِمَنْزِلَة قَول الطَّبِيب شَرط الضَّرَر بالسم وَالِانْتِفَاع بالترياق أَن يدخلا فِي البلعوم، وينزلا فِي الْجوف، وأمارة مَا قُلْنَا أَن النَّفس الإنسانية تبلع من أَرْوَاح الْأَعْمَال مَا اتّفق عَلَيْهِ أُمَم بني آدم من عمل الرياضات والعبادات وَمَعْرِفَة أنوار كل ذَلِك وجدانا، وَمن الْكَفّ عَن الْمعاصِي والمنهيات ورؤية قسوة كل ذَلِك وجدانا.
আপনি কি দেখেন না যে, আসমানসমূহে যারা আছে এবং জমিনে যারা আছে, আর সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রমণ্ডলী, পাহাড়সমূহ, বৃক্ষলতা, জীবজন্তু এবং মানুষের মধ্যে অনেকে আল্লাহকে সিজদা করে? আবার অনেকের ওপর আজাব অবধারিত হয়ে আছে।
বৃক্ষের প্রতিটি অংশ—তার শাখা-প্রশাখা, পাতা ও ফুলসমূহ—কি সর্বদা সেই উদ্ভিদীয় আত্মার (নফস আল-নাবাতিয়্যাহ) দিকে তার হাত বাড়িয়ে নেই যা বৃক্ষটিকে পরিচালনা করে? যদি এর প্রতিটি অংশের বুদ্ধি থাকত, তবে প্রত্যেকেই সেই উদ্ভিদীয় আত্মার এমন প্রশংসা করত যা অন্যের প্রশংসার চেয়ে ভিন্ন হতো। আর যদি এর বোধশক্তি থাকত, তবে এই বর্তমান অবস্থার হাত বাড়ানো তার জ্ঞানে মুদ্রিত হতো এবং তা সংকল্পের মাধ্যমে হাত বাড়ানোতে পরিণত হতো।
এখান থেকে জেনে নিন যে, মানুষ যখন প্রখর বুদ্ধিমান হয়, তখন তার সত্তায় তার অবস্থার হাত বাড়ানোর অনুরূপ জ্ঞানগত হাত বাড়ানো মুদ্রিত হয়। তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মানবজাতির মধ্যে এমন কেউ থাকেন যার বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানভাণ্ডারের সাথে একনিষ্ঠ সংযোগ থাকে, যেখান থেকে তিনি ওহি, স্বজ্ঞা বা স্বপ্নের মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করেন। আর অন্যান্যরা এই পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তির মধ্যে সঠিক পথ ও বরকতের নিদর্শনসমূহ দেখতে পান, ফলে তারা তার আদেশ-নিষেধের অনুগত হন। প্রতিটি মানুষের মধ্যেই স্বপ্নের মাধ্যমে, চাক্ষুষ মতামতের মাধ্যমে, কোনো অশরীরী আওয়াজ শোনার মাধ্যমে বা অনুধাবিত স্বজ্ঞার মাধ্যমে অদৃশ্যের (গায়েব) সাথে যুক্ত হওয়ার শক্তি রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কেউ পূর্ণাঙ্গ এবং কেউ অপূর্ণাঙ্গ। আর অপূর্ণাঙ্গ ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তির মুখাপেক্ষী। মানুষের এমন কিছু গুণাবলি রয়েছে যা চতুষ্পদ জন্তুর গুণের চেয়ে অনেক উন্নত, যেমন—বিনয়, পরিচ্ছন্নতা, ন্যায়পরায়ণতা ও উদারতা; এবং দোয়া কবুল হওয়া ও অন্যান্য কেরামত, অবস্থা (আহওয়াল) ও মাকামাতের মাধ্যমে জাবারুত ও মালাকুত জগতের জ্যোতি বিচ্ছুরিত হওয়া।
যেসব বিষয়ে মানুষ অন্যান্য প্রাণী থেকে স্বতন্ত্র, তা সংখ্যায় অনেক। তবে মূল ভিত্তি ও সারকথা হলো দুটি বৈশিষ্ট্য:
প্রথমটি হলো—বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির আধিক্য। এর দুটি শাখা রয়েছে: একটি শাখা মানব সমাজের শৃঙ্খলা ও কল্যাণের জন্য জীবনযাত্রার কলাকৌশলের গভীরে নিমজ্জিত থাকে এবং এর সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ আহরণ করে। আর অপর শাখাটি দানস্বরূপ প্রাপ্ত অতীন্দ্রিয় জ্ঞান আহরণের জন্য প্রস্তুত থাকে।
দ্বিতীয়টি হলো—ব্যবহারিক বা কর্মশক্তির উৎকর্ষ। এরও দুটি শাখা রয়েছে: একটি শাখা হলো ইচ্ছা ও সংকল্পের গলধঃকরণের মাধ্যমে কর্মকাণ্ডকে আত্মস্থ করা। চতুষ্পদ জন্তুরাও ইচ্ছাধীন কাজ করে, কিন্তু তারা সেই কাজগুলোকে তাদের আত্মার গভীরে প্রবেশ করায় না এবং তাদের আত্মা সেসব কাজের প্রকৃত সত্তা দ্বারা রঞ্জিত হয় না। বরং সেগুলো কেবল তাদের জৈবিক প্রাণের সাথে সংশ্লিষ্ট শক্তির সাথে লেগে থাকে, ফলে তাদের জন্য অনুরূপ কাজ করা সহজ হয়।
কিন্তু মানুষ যখন কোনো কাজ করে, তখন কাজগুলো শেষ হয়ে গেলেও সেগুলোর নির্যাস বা প্রাণটুকু আত্মা আত্মস্থ করে নেয়। এর ফলে আত্মায় হয় নূর না হয় অন্ধকার প্রকাশ পায়। শরিয়তের এই বিধান যে—কাজের জন্য দায়বদ্ধ হওয়ার শর্ত হলো তা ইচ্ছাধীন হওয়া, তা চিকিৎসকের সেই কথার মতো যে—বিষের ক্ষতি হওয়া এবং প্রতিষেধকের উপকার পাওয়ার শর্ত হলো তা কণ্ঠনালী দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করা এবং উদরে পৌঁছানো। আমাদের এই কথার প্রমাণ হলো, মানবাত্মা আমল বা কাজের সেই নির্যাসটুকু আত্মস্থ করে নেয় যার ওপর মানবজাতি একমত হয়েছে, যেমন—রিয়াজত (সাধনা) ও ইবাদত এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সেগুলোর নূর বা জ্যোতি অনুভব করা। একইভাবে গুনাহ ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সেগুলোর কঠোরতা বা কালিমা প্রত্যক্ষ করা।
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
وَشعْبَة: هِيَ أَحْوَال ومقامات سنية، كمحبة الله والتوكل عَلَيْهِ مِمَّا لَيْسَ فِي الْبَهَائِم جِنْسهَا.
وَاعْلَم أَنه لما كَانَ اعْتِدَال مزاح الْإِنْسَان بِحَسب مَا تعطيه الصُّورَة النوعية لَا يتم إِلَّا بعلوم لَا يتَخَلَّص إِلَيْهَا أزكاهم، ثمَّ يقلده الْآخرُونَ وبشريعة تشْتَمل على معارف إلهية وتدبيرات ارتفاقية وقواعد تبحث عَن الْأَفْعَال
الاختيارية وتقسمها إِلَى الْأَقْسَام الْخَمْسَة من الْوَاجِب، وَالْمَنْدُوب إِلَيْهِ، والمباح وَالْمَكْرُوه، وَالْحرَام، ومقدمات تبين مقامات للإحسان وَجب فِي حِكْمَة الله تَعَالَى وَرَحمته أَن يهئ فِي غيب قدسه رزق قوته الْعَقْلِيَّة يخلص إِلَيْهِ أزكاهم فيتلقاه من هُنَالك، وينقاد لَهُ سَائِر النَّاس بمنزله مَا ترى فِي نوع النَّحْل من يعسوب يدبر لسَائِر أفرادها لَوْلَا هَذَا التلقي بِوَاسِطَة، وَلَا بِوَاسِطَة لم يكمل كَمَاله الْمَكْتُوب لَهُ، فَكَمَا أَن المستبصر إِذا رأى نوعا من أَنْوَاع الْحَيَوَان لَا يتعيش إِلَّا بالحشيش استيقن أَن الله دبر لَهُ مرعى فِيهِ حشيش كثير، فَكَذَلِك المستبصر فِي صنع الله يستيقن أَن هُنَاكَ طَائِفَة من الْعُلُوم يسد بهَا الْعقل خلته فيكمل كَمَا لَهُ الْمَكْتُوب لَهُ، وَتلك الطَّائِفَة مِنْهَا علم التَّوْحِيد وَالصِّفَات، وَيجب أَن يكون مشروحا بشرح يَنَالهُ الْعقل الإنساني بطبيعته لَا مغلقا لَا يَنَالهُ إِلَّا من ينْدر وجود مثله، فشرح هَذَا الْعلم بالمعرفة الْمشَار إِلَيْهَا بقوله سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ، فَأثْبت لنَفسِهِ صِفَات يعرفونها، ويستعملونها، بَينهم من الْحَيَاة والسمع وَالْبَصَر وَالْقُدْرَة والإرادة وَالْكَلَام وَالْغَضَب والسخط وَالرَّحْمَة وَالْملك والغنى، وَأثبت مَعَ ذَلِك أَنه لَيْسَ كمثله شَيْء فِي هَذِه الصِّفَات؛ فَهُوَ حَيّ لَا كحياتنا، وبصير لَا كبصرنا، قدير لَا كقدرتنا، مُرِيد لَا كإرادتنا، مُتَكَلم لَا ككلامنا، وَنَحْو ذَلِك، ثمَّ فسر عدم الْمُمَاثلَة بِأُمُور مستبعدة فِي جنسنا مثل أَن يُقَال يعلم عدد قطر الأمطار، وَعدد رمل الفيافي، وَعدد أوراق الْأَشْجَار، وَعدد أنفاس الْحَيَوَانَات، ويبصر دَبِيب النَّمْل فِي اللَّيْلَة الظلماء، وَيسمع مَا يتوسوس بِهِ تَحت اللحف فِي الْبيُوت المغلقة عَلَيْهَا أَبْوَابهَا، وَنَحْو ذَلِك، وَمِنْهَا علم الْعِبَادَات، وَمِنْهَا علم الارتفاقات، وَمِنْهَا علم الْمُخَاصمَة. أَعنِي أَن النُّفُوس السفلية إِذا تولدت بَينهَا شُبُهَات تدافع بهَا الْحق كَيفَ يحل تِلْكَ العقد، وَمِنْهَا علم التَّذْكِير بآلاء الله، وبأيام الله
وبوقائع البرزخ والمحشر فَنظر الْحق تبارك وتعالى فِي الْأَزَل إِلَى نوع الْإِنْسَان، وَإِلَى استعداده الَّذِي يتوارثه أَبنَاء النَّوْع، وَنظر إِلَى قوته الملكية وَالتَّدْبِير الَّذِي يصلحه من الْعُلُوم المشروحة حسب استعداده، فتمثلت تِلْكَ الْعُلُوم كلهَا فِي غيب الْغَيْب
এবং শাখা (শু'বাহ): তা হলো উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন অবস্থা ও মাকামসমূহ, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করা, যা চতুষ্পদ জন্তুদের প্রজাতির মধ্যে নেই।
জেনে রেখো যে, মানুষের স্বভাবের ভারসাম্য যখন তার প্রজাতিগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়, তখন তা এমন কিছু জ্ঞান ছাড়া পূর্ণ হয় না যা তাদের মধ্যে সর্বাধিক পবিত্র ব্যক্তিরা ছাড়া কেউ অর্জন করতে পারে না, অতঃপর অন্যরা তাদের অনুসরণ করে। এবং এমন এক শরীয়তের মাধ্যমে যা ঐশী জ্ঞান, জীবনোপকরণের ব্যবস্থাপনা এবং এমন সব মূলনীতির সমন্বয়ে গঠিত যা ঐচ্ছিক কাজসমূহ নিয়ে আলোচনা করে এবং সেগুলোকে ওয়াজিব, মানদুব (পছন্দনীয়), মুবাহ (বৈধ), মাকরূহ এবং হারাম—এই পাঁচ ভাগে বিভক্ত করে, আর এমন সব ভূমিকা যা ইহসানের মাকামসমূহ বর্ণনা করে।
এমতাবস্থায় আল্লাহর হিকমত ও রহমতের দাবি হলো যে, তিনি তাঁর পবিত্র অদৃশ্যে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির রিযিক প্রস্তুত করবেন, যা তাদের মধ্যে সর্বাধিক পবিত্র ব্যক্তিরা লাভ করবেন এবং সেখান থেকে তা গ্রহণ করবেন। অতঃপর অন্যান্য মানুষ তাদের আনুগত্য করবে, ঠিক যেমন মৌমাছির প্রজাতির মধ্যে তুমি দেখ যে একজন রানী মৌমাছি অন্যান্য সকল সদস্যের জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে। যদি মাধ্যম বা মাধ্যম ছাড়া এই জ্ঞান অর্জন না হতো, তবে মানুষের জন্য নির্ধারিত পূর্ণতা সাধিত হতো না। যেমন একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি যখন কোনো প্রজাতির প্রাণীকে দেখে যে তারা ঘাস ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে না, তখন সে নিশ্চিত হয় যে আল্লাহ তাদের জন্য প্রচুর ঘাস বিশিষ্ট চারণভূমির ব্যবস্থা করেছেন। ঠিক তেমনিভাবে আল্লাহর সৃষ্টিশৈলী নিয়ে গবেষণাকারী ব্যক্তি নিশ্চিত হয় যে, সেখানে এমন কিছু জ্ঞান রয়েছে যার মাধ্যমে আকল তার অভাব পূরণ করে এবং তার জন্য নির্ধারিত পূর্ণতা অর্জন করে। আর সেই জ্ঞানের একটি অংশ হলো তাওহীদ ও সিফাত সংক্রান্ত ইলম। এবং এটি এমন এক ব্যাখ্যার মাধ্যমে ব্যাখ্যাত হওয়া আবশ্যক যা মানুষের আকল তার প্রকৃতি অনুযায়ী উপলব্ধি করতে পারে, এটি এমন দুর্বোধ্য হওয়া উচিত নয় যা কেবল বিরল প্রতিভার অধিকারীরাই বুঝতে পারে। সুতরাং এই ইলমকে সেই মারেফত বা জ্ঞানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যা "আল্লাহ পবিত্র এবং সকল প্রশংসা তাঁরই" এই বাণীর দিকে ইশারা করে। অতঃপর তিনি তাঁর নিজের জন্য এমন কিছু গুণাবলী (সিফাত) সাব্যস্ত করেছেন যা তারা চেনে এবং নিজেদের মধ্যে ব্যবহার করে; যেমন জীবন, শ্রবণ, দর্শন, ক্ষমতা, ইচ্ছা, কথা, ক্রোধ, অসন্তুষ্টি, রহমত, রাজত্ব এবং অমুখাপেক্ষিতা। এর পাশাপাশি তিনি এটিও সাব্যস্ত করেছেন যে, এই সিফাতসমূহে তাঁর সদৃশ কেউ নেই; সুতরাং তিনি চিরঞ্জীব কিন্তু আমাদের জীবনের মতো নয়, সর্বদ্রষ্টা কিন্তু আমাদের দর্শনের মতো নয়, ক্ষমতাবান কিন্তু আমাদের ক্ষমতার মতো নয়, ইচ্ছাকারী কিন্তু আমাদের ইচ্ছার মতো নয়, কথা বলেন কিন্তু আমাদের কথার মতো নয়, এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। অতঃপর তিনি সাদৃশ্যহীনতাকে এমন সব বিষয়ের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন যা আমাদের প্রজাতির ক্ষেত্রে অসম্ভব; যেমন বলা হয় যে, তিনি বৃষ্টির প্রতিটি ফোটার সংখ্যা জানেন, বিস্তীর্ণ মরুভূমির বালুকণার সংখ্যা জানেন, গাছের পাতার সংখ্যা এবং প্রাণীকুলের নিশ্বাসের সংখ্যা জানেন। এবং অন্ধকার রাতে পিঁপড়ার পদচারণা দেখেন এবং বন্ধ দরজার ঘরসমূহে লেপের নিচে যা ফিসফিস করা হয় তা শোনেন, এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ। আর এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো ইবাদতের ইলম, জীবনোপকরণের ইলম এবং বিতর্ক বা মোকাবিলার ইলম। অর্থাৎ যখন নিম্নস্তরের আত্মাগুলোর মধ্যে এমন সংশয় জন্ম নেয় যার মাধ্যমে তারা সত্যকে প্রতিহত করতে চায়, তখন কীভাবে সেই জটগুলো খোলা যাবে; আরও রয়েছে আল্লাহর নিআমতসমূহ, আল্লাহর দিবসসমূহ (ইতিহাসের ঘটনাবলী) এবং বারযাখ ও হাশরের ঘটনাবলীর স্মরণের ইলম।
অতঃপর মহান সত্য আল্লাহ অনাদিকাল থেকে মানবজাতির প্রতি এবং তাদের সেই যোগ্যতার প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন যা এই প্রজাতির সন্তানরা উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করে। তিনি মানুষের ফেরেশতাসুলভ শক্তি এবং তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যাখ্যাকৃত জ্ঞানসমূহের মধ্য থেকে তাদের সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন। অতঃপর সেই সমস্ত জ্ঞান অদৃশ্যের অদৃশ্যে মূর্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
محدودة ومحصاة، وَهَذَا التَّمْثِيل هُوَ الَّذِي يعبر عَنهُ الاشاعرة بالْكلَام النَّفْسِيّ، وَهُوَ غير الْعلم وَغير الْإِرَادَة وَالْقُدْرَة، ثمَّ لما جَاءَ وَقت خلق الْمَلَائِكَة علم الْحق أم مصلحَة أَفْرَاد الْإِنْسَان لَا تتمّ إِلَّا بنفوس كَرِيمَة، نسبتها إِلَى نوع الْإِنْسَان كنسبة القوى الْعَقْلِيَّة فِي الْوَاحِد منا إِلَى نَفسه، فأوجدهم بِكَلِمَة (كن) بمحض الْعِنَايَة بأفراد الْإِنْسَان فأودع فِي صُدُورهمْ ظلا من تِلْكَ الْعُلُوم المحدودة المحصاة فِي غيب غيبه، فتصورت بِصُورَة روحية، وإليهم الْإِشَارَة فِي قَوْله تبارك وتعالى:
{الَّذين يحملون الْعَرْش وَمن حوله} . الْآيَة.
ثمَّ لما جَاءَ بعض القرانات المقتفية لتغيير الدول والملل، قضى بِوُجُود روحاني آخر لتِلْك الْعُلُوم، فَصَارَت مشروحة مفصلة بِحَسب مَا يَلِيق بِتِلْكَ القرانات، وإليها الْإِشَارَة فِي قَوْله تَعَالَى:
{إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَة مباركة إِنَّا كُنَّا منذرين فِيهَا يفرق كل أَمر حَكِيم} .
ثمَّ انتظرت حِكْمَة الله لوُجُود رجل زكي يستعد للوحي قد قضى بعلو شَأْنه وارتفاع مَكَانَهُ حَتَّى إِذا وجد اصطنعه لنَفسِهِ، واتخذه جارحة لإتمام مُرَاده وَأنزل عَلَيْهِ كِتَابه، وَأوجب طَاعَته على عباده، وَهُوَ قَوْله تَعَالَى لمُوسَى عليه السلام:
{واصطنعتك لنَفْسي}
فَمَا أوجب تعْيين تِلْكَ الْعُلُوم فِي غيب الْغَيْب إِلَّا الْعِنَايَة بالنوع، وَلَا سَأَلَ الْحق فيضان نفوس الْمَلأ الْأَعْلَى إِلَّا استعداد النَّوْع، وَلَا ألح عِنْد القرانات بسؤال تِلْكَ الشَّرِيعَة الْخَاصَّة إِلَّا أَحْوَال النَّوْع، فَللَّه الْحجَّة الْبَالِغَة.
" فَإِن قيل " من أَيْن وَجب على الْإِنْسَان أَن يُصَلِّي، وَمن أَيْن وَجب عَلَيْهِ أَن ينقاد للرسول، وَمن أَيْن حرم عَلَيْهِ الزِّنَا وَالسَّرِقَة؟ " فَالْجَوَاب " وَجب عَلَيْهِ هَذَا، وَحرم عَلَيْهِ ذَلِك من حَيْثُ وَجب على الْبَهَائِم أَن ترعى الْحَشِيش، وَحرم عَلَيْهَا أكل اللَّحْم، وَوَجَب على السبَاع أَن تَأْكُل اللَّحْم، وَلَا ترعى الْحَشِيش، وَمن حَيْثُ وَجب على النَّحْل أَن يتبع اليعسوب إِلَّا أَن الْحَيَوَان اسْتوْجبَ تلقي علومها إلهاما جبليا، واستوجب الْإِنْسَان تلقي علومه كسبا ونظرا، أَو وَحيا، أَو تقليدا.
(بَاب اقْتِضَاء التَّكْلِيف المجازاة)اعْلَم أَن النَّاس مجزيون بأعمالهم، إِن خيرا فَخير، وَإِن شرا فشر من أَرْبَعَة وُجُوه:
সীমিত ও সুনির্দিষ্ট, আর এই রূপায়ণকেই আশআরীগণ ‘কালামে নাফসি’ (মানসিক কথা) হিসেবে ব্যক্ত করেন; যা জ্ঞান, ইচ্ছা ও শক্তি থেকে ভিন্ন। অতঃপর যখন ফেরেশতাদের সৃষ্টির সময় এলো, তখন আল্লাহ অবগত হলেন যে, মানবজাতির ব্যক্তিদের কল্যাণ কেবল তখনই পূর্ণ হবে যদি এমন কিছু মহান আত্মার অস্তিত্ব থাকে যাদের সাথে মানবজাতির সম্পর্ক হবে আমাদের প্রত্যেকের সাথে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির সম্পর্কের মতো। তখন তিনি নিছক মানবজাতির প্রতি বিশেষ অনুগ্রহবশত ‘কুন’ (হও) শব্দের মাধ্যমে তাদের অস্তিত্ব দান করলেন। অতঃপর তিনি তাদের অন্তরে তাঁর গায়িবের গায়িব জগতের সেই সীমিত ও সুনির্দিষ্ট জ্ঞানসমূহের একটি ছায়া গচ্ছিত রাখলেন। ফলে তা একটি আধ্যাত্মিক রূপ পরিগ্রহ করল। আর মহান আল্লাহর এই বাণীতে তাদের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে:
{যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশ ঘিরে রয়েছে।} - আয়াত।
অতঃপর যখন রাষ্ট্র ও ধর্মের পরিবর্তনের অনুসারী বিশেষ কিছু সময়-সংযোগের মুহূর্ত উপস্থিত হলো, তখন তিনি সেই জ্ঞানসমূহের জন্য অন্য এক আধ্যাত্মিক অস্তিত্বের ফয়সালা করলেন। ফলে সেই সময়ের উপযুক্ততা অনুযায়ী সেগুলো ব্যাখ্যায়িত ও বিস্তারিত হলো। আর মহান আল্লাহর এই বাণীতে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে:
{নিশ্চয়ই আমি তা এক বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি; নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। তাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় ফয়সালা করা হয়।}
অতঃপর আল্লাহর প্রজ্ঞা এমন একজন পবিত্র ব্যক্তির আগমনের প্রতীক্ষা করছিল যিনি ওহী গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হবেন, যাঁর উচ্চ মর্যাদা ও সুউচ্চ অবস্থানের ফয়সালা পূর্বেই করা হয়েছিল। অবশেষে যখন তাঁকে পাওয়া গেল, তখন আল্লাহ তাঁকে নিজের জন্য মনোনীত করলেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করার জন্য তাঁকে একটি মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করলেন এবং তাঁর ওপর তাঁর কিতাব নাযিল করলেন এবং তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর আনুগত্য আবশ্যক করলেন। আর মূসা আলাইহিস সালামের প্রতি মহান আল্লাহর বাণী হলো:
{আর আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য তৈরি করেছি।}
সুতরাং গায়িবুল গায়িবে সেই জ্ঞানসমূহ নির্ধারিত হওয়া কেবল মানবজাতির প্রতি অনুগ্রহের কারণেই হয়েছে। আর ‘মালাউল আলা’ বা উচ্চতর পরিষদের আত্মাসমূহের বিচ্ছুরণ কেবল মানবজাতির যোগ্যতার কারণেই ঘটেছে। আর নির্দিষ্ট সেই শরীয়তের প্রার্থনার জন্য বিশেষ সময়ের সংযোগের সময় যে তাগিদ সৃষ্টি হয়েছিল, তা কেবল মানবজাতির অবস্থার কারণেই হয়েছিল। সুতরাং আল্লাহর দলিলই অকাট্য।
“যদি প্রশ্ন করা হয়” মানুষের ওপর নামাজ পড়া কেন ওয়াজিব হলো? রাসূলের আনুগত্য করা কেন ওয়াজিব হলো? ব্যভিচার ও চুরি করা কেন হারাম হলো? “তবে উত্তর হলো” তার ওপর এগুলো ওয়াজিব হয়েছে এবং ওগুলো হারাম হয়েছে ঠিক তেমনিভাবে যেভাবে চতুষ্পদ জন্তুর ওপর ঘাস খাওয়া ওয়াজিব হয়েছে এবং গোশত খাওয়া হারাম হয়েছে, আর হিংস্র প্রাণীর ওপর গোশত খাওয়া ওয়াজিব হয়েছে এবং ঘাস খাওয়া হারাম হয়েছে; আর যেভাবে মৌমাছির ওপর তার নেতার অনুসরণ করা ওয়াজিব হয়েছে। তবে পার্থক্য হলো, পশু-পাখি তাদের এই জ্ঞান লাভ করে সৃষ্টিগত স্বভাব বা ইলহামের মাধ্যমে, আর মানুষ তার জ্ঞান লাভ করে অর্জন, গবেষণা, ওহী অথবা অনুকরণের মাধ্যমে।
(অধ্যায়: শরীয়তের বিধান পালনের জন্য প্রতিদান প্রাপ্তির অপরিহার্যতা)জেনে রাখুন, মানুষ তাদের কর্মের প্রতিদান লাভ করবে; যদি ভালো হয় তবে ভালো, আর যদি মন্দ হয় তবে মন্দ—তা চারভাবে হতে পারে:
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٦١)
أَحدهَا مُقْتَضى الصُّورَة النوعية، فَكَمَا أَن الْبَهِيمَة إِذا علفت الْحَشِيش، والسبع إِذا علف اللَّحْم - صَحَّ مزاجهما، وَإِذا علفت الْبَهِيمَة اللَّحْم، والسبع الْحَشِيش - فسد مزاجهما، فَكَذَلِك الْإِنْسَان إِذا بَاشر أعمالا أرواحها الْخُشُوع بِجَانِب الْحق، وَالطَّهَارَة والسماحة وَالْعَدَالَة صلح مزاجه الملكي، وَإِذا بَاشر أعمالا أرواحها أضداد هَذِه الْخِصَال فسد مزاجه الملكي، فَإِذا تخفف عَن ثقل الْبدن أحس بالملاءمة والمنافرة شبه مَا يحس أَحَدنَا من ألم الاحتراق
وَثَانِيها جِهَة الْمَلأ الْأَعْلَى، فَكَمَا أَن الْوَاحِد مِنْهَا لَهُ قوى إدراكية مودعة فِي الدِّمَاغ، يحس بهَا مَا وَقعت عَلَيْهِ قدمه من جَمْرَة أَو ثلجة، فَكَذَلِك بِصُورَة الْإِنْسَان المتمثلة من الملكوت خدام من الْمَلَائِكَة أوجدها عناية الْحق بِنَوْع الْإِنْسَان، لِأَن نوع الْإِنْسَان لَا يصلح إِلَّا بهم، كَمَا أَن الْوَاحِد منا لَا يصلح إِلَّا بِالْقُوَّةِ الإدراكية، فَكلما فعل فَرد من أَفْرَاد الْإِنْسَان فعلا منجيا خرجت من تِلْكَ الْمَلَائِكَة أشعة بهجة وسرور، وَكلما فعل فعلا مهْلكا خرجت مِنْهَا أشعة نفرة وبغض، فَحلت تِلْكَ الأشعة فِي نفس هَذَا الْفَرد، فأورثت بهجة، أَو وَحْشَة، أَو فِي نفوس بعض الْمَلَائِكَة، أَو بعض النَّاس، فانعقد الإلهام أَن يحبوه، ويحسنوا إِلَيْهِ، أَو يبغضوه، ويسيئوا إِلَيْهِ شبه مَا نرى من أَن أَحَدنَا وَإِذا وَقعت رجله على جَمْرَة أحست قواه الإدراكية بألم الاحتراق ثمَّ خرجت مِنْهَا أشعة تُؤثر فِي الْقلب، فيحزن، وَفِي الطَّبْع فيحم وتأثير أُولَئِكَ الْمَلَائِكَة فِينَا شَبيه بتأثير الإدراكات فِي أبداننا، فَكَمَا أَن الْوَاحِد منا قد يتَوَقَّع ألما أَو ذلا فترتعد فرائصه، ويصفر لَونه، ويضعف جسده وَرُبمَا تسْقط شَهْوَته، ويحمر بَوْله، وَرُبمَا بَال أَو خرئ من شدَّة الْخَوْف، فَهَذَا كُله تَأْثِير الْقُوَّة الإدراكية فِي الطبيعة ووحيها إِلَيْهَا وقهرها عَلَيْهَا، فَكَذَلِك الْمَلَائِكَة الموكلة ببني آدم يترشح مِنْهَا عَلَيْهِم وعَلى نفوس الْمَلَائِكَة السفلية إلهامات جبلية، وحالات طبيعية، وأفراد الْإِنْسَان كلهَا بِمَنْزِلَة القوى الطبيعية لهَذِهِ الْمَلَائِكَة بِمَنْزِلَة القوى الإدراكية لَهُم، وكما تهبط تِلْكَ الأشعة إِلَى السّفل فَكَذَلِك يصعد إِلَى حَظِيرَة الْقُدس مِنْهَا لون يعد لفيضان هَيْئَة تسمى، بِالرَّحْمَةِ والرضى وَالْغَضَب واللعن مثل إعداد مجاورة النَّار المَاء لتسخينه، وإعداد الْمُقدمَات للنتيجة، وإعداد الدُّعَاء للإجابة، فَيتَحَقَّق التجدد فِي الجبروت من هَذَا الْوَجْه، فَيكون غضب، ثمَّ تَوْبَة، وَيكون رَحْمَة، ثمَّ نقمة قَالَ الله تَعَالَى:
{إِن الله لَا يُغير مَا بِقوم حَتَّى يُغيرُوا مَا بِأَنْفسِهِم} .
وَقد أخبر النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي أَحَادِيث كَثِيرَة أَن الْمَلَائِكَة ترفع أَعمال بني آدم إِلَى الله
প্রথমটি হলো প্রজাতিগত আকৃতির দাবি। যেভাবে চতুষ্পদ জন্তু যখন ঘাস আহার করে এবং হিংস্র পশু যখন মাংস আহার করে, তখন তাদের মেজাজ সুস্থ থাকে; আর যখন চতুষ্পদ জন্তুকে মাংস এবং হিংস্র পশুকে ঘাস খাওয়ানো হয়, তখন তাদের মেজাজ বিকৃত হয়ে যায়। তদ্রূপ মানুষ যখন এমন সব কাজ করে যার প্রাণসত্তা হলো মহান সত্যের সম্মুখে বিনয়, পবিত্রতা, উদারতা এবং ন্যায়পরায়ণতা, তখন তার ফেরেশতাসুলভ মেজাজ সংশোধিত হয়। আর যখন সে এমন সব কাজে লিপ্ত হয় যার প্রাণসত্তা এই গুণাবলির বিপরীত, তখন তার ফেরেশতাসুলভ মেজাজ কলুষিত হয়। অতঃপর যখন সে শারীরিক স্থূলতা থেকে হালকা হয়, তখন সে এমন সামঞ্জস্য ও বৈপরীত্য অনুভব করে যা আমাদের কারো অগ্নিদাহের যন্ত্রণার অনুভূতির সদৃশ।
দ্বিতীয়টি হলো উচ্চ জগতের দিক। যেভাবে মানুষের মস্তিষ্কে কিছু উপলব্ধি করার ক্ষমতা আমানত রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে সে অনুভব করে যখন তার পা কোনো জ্বলন্ত অঙ্গার বা বরফের ওপর পতিত হয়। তদ্রূপ মালাকুত জগত থেকে চিত্রিত মানব-আকৃতির জন্য একদল খাদেম ফেরেশতা রয়েছেন, যাদেরকে মহান সত্য মানবজাতির প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন; কারণ মানবজাতি তাদের মাধ্যম ছাড়া সংশোধিত হতে পারে না, যেমন আমাদের কেউ উপলব্ধি করার ক্ষমতা ছাড়া সঠিক থাকতে পারে না। সুতরাং যখনই কোনো মানুষ কোনো মুক্তিদায়ক কাজ করে, তখন সেই ফেরেশতাদের থেকে আনন্দ ও উল্লাসের রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়। আর যখনই সে কোনো ধ্বংসাত্মক কাজ করে, তখন তাদের থেকে ঘৃণা ও বিদ্বেষের রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়। ফলে সেই রশ্মি উক্ত ব্যক্তির আত্মার মধ্যে পতিত হয় এবং আনন্দ অথবা অস্থিরতা সৃষ্টি করে, কিংবা কোনো ফেরেশতা বা মানুষের অন্তরে এমন প্রভাব ফেলে যার ফলে তাদের মধ্যে এই ইলহাম বা প্রেরণা জাগ্রত হয় যে তারা তাকে ভালোবাসবে ও তার প্রতি সদাচরণ করবে, অথবা তাকে ঘৃণা করবে ও তার প্রতি মন্দ আচরণ করবে। এটি ঠিক সেরূপ যেমন আমরা দেখি যে, যখন আমাদের কারো পা জ্বলন্ত অঙ্গারের ওপর পড়ে, তখন তার উপলব্ধি করার ক্ষমতা দহন যন্ত্রণা অনুভব করে, এরপর সেখান থেকে এমন রশ্মি নির্গত হয় যা হৃদয়ে প্রভাব ফেলে ফলে সে ব্যথিত হয়, এবং তার প্রকৃতিতে প্রভাব ফেলে ফলে সে জ্বরাক্রান্ত হয়। আমাদের ওপর সেই ফেরেশতাদের প্রভাব আমাদের দেহে ইন্দ্রিয়লব্ধ উপলব্ধির প্রভাবের সদৃশ। যেভাবে আমাদের কেউ কোনো দুঃখ বা অপমানের আশঙ্কা করলে তার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাঁপতে থাকে, চেহারার রং ফ্যাকাশে হয়ে যায়, দেহ দুর্বল হয়ে পড়ে, অনেক সময় ক্ষুধা লোপ পায়, প্রস্রাব লাল বর্ণ ধারণ করে, এমনকি প্রবল ভয়ে কেউ মলমূত্রও ত্যাগ করে ফেলে। এই সবই হলো প্রকৃতির ওপর উপলব্ধি ক্ষমতার প্রভাব এবং তার প্রতি এর ইশারা ও আধিপত্য। একইভাবে আদম সন্তানের জন্য নিয়োজিত ফেরেশতাদের থেকে তাদের ওপর এবং নিম্নস্তরের ফেরেশতাদের আত্মার ওপর স্বভাবজাত ইলহাম ও প্রাকৃতিক অবস্থার বিচ্ছুরণ ঘটে। সমস্ত মানুষ এই ফেরেশতাদের জন্য প্রাকৃতিক ক্ষমতার স্থলাভিষিক্ত এবং ফেরেশতারা মানুষের জন্য উপলব্ধি ক্ষমতার স্থলাভিষিক্ত। যেভাবে সেই রশ্মিগুলো নিচের দিকে অবতীর্ণ হয়, তদ্রূপ হাজিরাতুল কুদস বা পবিত্র প্রাঙ্গণে সেখান থেকে এমন একটি রঙ উর্ধ্বারোহণ করে যা রহমত, সন্তুষ্টি, ক্রোধ ও অভিশাপ নামক অবস্থার বিচ্ছুরণের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে; যেমন আগুনের নৈকট্য পানি গরম করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে, ভূমিকা যেমন ফলাফলের জন্য এবং দুআ যেমন কবুলের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। এভাবে জাবরুত জগতে এই দিক থেকে পরিবর্তন সাধিত হয়; ফলে ক্রোধের পর ক্ষমা আসে এবং রহমতের পর শাস্তি আসে। মহান আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে।”
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক হাদিসে সংবাদ দিয়েছেন যে, ফেরেশতারা আদম সন্তানের আমলসমূহ আল্লাহর কাছে উত্তোলন করেন।
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٢)
تَعَالَى، وَأَن الله يسألهم كَيفَ تركْتُم عبَادي؟ وَأَن عمل النَّهَار يرفع إِلَيْهِ قبل عمل اللَّيْل يُنَبه صلى الله عليه وسلم على ضرب من توَسط الْمَلَائِكَة بَين بني آدم وَبَين نور الله الْقَائِم وسط حَظِيرَة الْقُدس.
وَثَالِثهَا مُقْتَضى الشَّرِيعَة الْمَكْتُوبَة عَلَيْهِم، فَكَمَا يعرف المنجم أَن الْكَوَاكِب إِذا كَانَ لَهَا نظر من النظرات حصلت روحانية ممتزجة من قواها متمثلة فِي جُزْء من الْفلك، فَإِذا نقلهَا إِلَى الأَرْض ناقل أَحْكَام الفلكيات - اعني الْقَمَر - انقلبت خواطرهم حسب تِلْكَ الروحانية، فَكَذَلِك يعرف الْعَارِف بِاللَّه أَنه إِذا جَاءَ وَقت من الْأَوْقَات تسمى فِي الشَّرْع بالليلة الْمُبَارَكَة الَّتِي فِيهَا يفرق كل أَمر حَكِيم حصلت روحانية فِي الملكوت ممتزجة من أَحْكَام نوع الْإِنْسَان، وَمُقْتَضى هَذَا الْوَقْت يترشح من هُنَالك إلهامات على أذكى خلق الله يَوْمئِذٍ، وعَلى نفوس تليه فِي الذكاء بواسطته، ثمَّ يلهم سَائِر النَّاس قبُول تِلْكَ الإلهامات واستحسانها، وَيُؤَيّد ناصرها، ويخذل معاندها، وتلهم الْمَلَائِكَة السفلية الْإِحْسَان لمطيعها، والإساءة إِلَى عاصيها، ثمَّ يصعد مِنْهَا لون إِلَى الْمَلأ الْأَعْلَى وحظيرة الْقُدس، فَيحصل هُنَالك رضَا وَسخط.
وَرَابِعهَا أَن النَّبِي إِذا بعث فِي النَّاس، وَأَرَادَ الله تَعَالَى ببعثه لطفا بهم وتقريبا لَهُم إِلَى الْخَيْر، وَأوجب طَاعَته عَلَيْهِم صَار الْعلم الَّذِي يُوحى إِلَيْهِ متشخصا متمثلا، وامتزج بهمة هَذَا النَّبِي ودعائه وَقَضَاء الله تَعَالَى بالنصر لَهُ، فتأكد وَتحقّق.
أما المجازاة فِي الْوَجْهَيْنِ الْأَوَّلين ففطرة فطر الله النَّاس عَلَيْهَا، وَلنْ
تَجِد لفطرة الله تبديلا، وَلَيْسَ ذَلِك إِلَّا فِي أصُول الْبر والاثم، وكلياتها دون فروعها وحدودها، وَهَذِه الْفطْرَة هُوَ الدّين الَّذِي لَا يخْتَلف باخْتلَاف الاعصار، والأنبياء كلهم مجمعون عَلَيْهِ كَمَا قَالَ تبارك وتعالى.
{إِن هَذِه أمتكُم أمة وَاحِدَة} .
وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: " الْأَنْبِيَاء بَنو علات، أبوهم وَاحِد، وأمهاتهم شَتَّى " والمؤاخذة على هَذَا الْقدر متحققة قبل بعثة الْأَنْبِيَاء وَبعدهَا سَوَاء.
وَأما المجازاه بِالْوَجْهِ الثَّالِث فمختلفة باخْتلَاف الْأَعْصَار، وَهِي الحاملة على بعث الْأَنْبِيَاء وَالرسل، وإليها الْإِشَارَة فِي قَوْله صلى الله عليه وسلم: " إِنَّمَا مثلي وَمثل مَا بَعَثَنِي الله بِهِ كَمثل رجل أَتَى قوما، فَقَالَ يَا قوم أَنِّي رَأَيْت الْجَيْش بعيني، وَأَنِّي أَنا النذير الْعُرْيَان، فالنجا
মহান আল্লাহ্ তাদের জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা আমার বান্দাদের কী অবস্থায় ছেড়ে এসেছ? এবং রাতের আমলের পূর্বে দিনের আমল তাঁর নিকট উন্নীত হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদম সন্তান এবং হাজিরাতুল কুদসের কেন্দ্রে দণ্ডায়মান আল্লাহর নূরের মাঝে ফেরেশতাদের এক প্রকার মধ্যস্থতার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
আর এর তৃতীয়টি হলো তাদের ওপর লিপিবদ্ধ শরীয়তের দাবি। যেভাবে একজন জ্যোতিষী জানে যে, গ্রহসমূহ যখন কোনো বিশেষ অবস্থানে থাকে, তখন তাদের শক্তিসমূহের সংমিশ্রণে একটি আধ্যাত্মিক অবস্থা তৈরি হয় যা আসমানের কোনো অংশে প্রতিভাত হয়; অতঃপর যখন আসমানি ঘটনাবলির বিধান স্থানান্তরকারী—অর্থাৎ চাঁদ—তাকে জমিনে স্থানান্তরিত করে, তখন মানুষের চিন্তাভাবনা সেই আধ্যাত্মিক অবস্থা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। ঠিক তেমনি আল্লাহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানধারী ব্যক্তি জানেন যে, যখন এমন কোনো সময় আসে যাকে শরীয়তে বরকতময় রাত বলা হয়—যাতে সকল প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়—তখন ফেরেশতাদের জগতে মানবজাতির অবস্থা ও এই সময়ের দাবির সমন্বয়ে একটি আধ্যাত্মিক ভাব উৎপন্ন হয়। সেখান থেকে সে সময়ের আল্লাহর সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান সৃষ্টির ওপর কিছু অনুপ্রেরণা বর্ষিত হয় এবং তার মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে তার নিকটবর্তী ব্যক্তিদের নফসের ওপরও তা বর্ষিত হয়। এরপর অন্যান্য মানুষের অন্তরে সেই অনুপ্রেরণা গ্রহণ ও তা পছন্দ করার উপলব্ধি জাগিয়ে দেওয়া হয়, এর সাহায্যকারীকে শক্তিশালী করা হয় এবং বিরোধিতাকারীকে লাঞ্ছিত করা হয়। আর নিম্নজগতের ফেরেশতাদেরকে অনুগতদের প্রতি কল্যাণ করার এবং অবাধ্যদের প্রতি মন্দ আচরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অতঃপর সেখান থেকে এক প্রকার প্রতিফলন উচ্চতর জগত ও হাজিরাতুল কুদসের দিকে উন্নীত হয়, ফলে সেখানে সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির উদয় হয়।
চতুর্থত, যখন মানুষের মধ্যে নবী প্রেরিত হন এবং মহান আল্লাহ তাঁর প্রেরণের মাধ্যমে তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে ও তাদেরকে কল্যাণের নিকটবর্তী করতে চান এবং তাদের ওপর তাঁর আনুগত্য আবশ্যক করেন, তখন যে জ্ঞান তাঁর নিকট ওহী করা হয় তা মূর্ত ও প্রতিভাত রূপ ধারণ করে। আর তা নবীর সংকল্প, তাঁর দুআ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে সাহায্য করার ফয়সালার সাথে মিশে একাকার হয়ে যায়; ফলে তা সুদৃঢ় ও সুনিশ্চিত হয়।
প্রথম দুই প্রকারের প্রতিদান বা শাস্তি হলো মানুষের সেই প্রকৃতিগত স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আর আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন আপনি পাবেন না। এটি কেবল নেকি ও গুনাহর মূল বিষয়সমূহ এবং এর সামগ্রিক বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, শাখা-প্রশাখা ও সীমার ক্ষেত্রে নয়। আর এই প্রকৃতিগত স্বভাবই হলো সেই দ্বীন যা যুগের আবর্তনে পরিবর্তিত হয় না এবং সকল নবী এর ওপর একমত ছিলেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন:
“নিশ্চয় তোমাদের এই জাতি তো একই জাতি।”
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নবীগণ বৈমাত্রেয় ভাইদের মতো, তাদের পিতা এক এবং তাদের মাতাগণ ভিন্ন।” আর এই পর্যায়ের জবাবদিহিতা নবী প্রেরণের পূর্বে এবং পরে সমানভাবে কার্যকর।
আর তৃতীয় প্রকারের প্রতিদান বা শাস্তি যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে ভিন্ন হয়। এটিই নবী ও রাসূল প্রেরণের মূল কারণ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীতে সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে: “আমার উদাহরণ এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তার উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো যে কোনো জাতির কাছে এসে বলল, হে আমার জাতি! আমি নিজ চোখে শত্রুবাহিনী দেখেছি এবং আমি একজন স্পষ্ট নগ্ন সতর্ককারী, সুতরাং মুক্তি ও নিরাপত্তার পথ ধরো...”
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
النَّجَاء، فأطاعه طَائِفَة من قومه، فأدلجوا، فَانْطَلقُوا على مهلهم، فنجوا، وكذيت طَائِفَة مِنْهُم، فَأَصْبحُوا مكانهم، فصبحهم الْجَيْش، فأهلكهم واجتاحهم، فَكَذَلِك مثل من أَطَاعَنِي، فَاتبع مَا جِئْت بِهِ، وَمثل من عَصَانِي، وَكذب مَا جِئْت بِهِ من الْحق ".
وَأما المجازاة بِالْوَجْهِ الرَّابِع، فَلَا تكون إِلَّا بعد بعثة الْأَنْبِيَاء، وكشف الشُّبْهَة وَصِحَّة التَّبْلِيغ.
{ليهلك من هلك عَن بَيِّنَة وَيحيى من حَيّ عَن بَيِّنَة} .
(بَاب اخْتِلَاف النَّاس فِي جبلتهم المستوجب لاخْتِلَاف أَخْلَاقهم وأعمالهم ومراتب كمالهم)وَالْأَصْل فِيهِ مَا روى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ: " إِذا سَمِعْتُمْ بجبل زَالَ عَن مَكَانَهُ، فصدقوه، وَإِذا سَمِعْتُمْ بِرَجُل تغير عَن خلقه، فَلَا تصدقوا بِهِ، فَإِنَّهُ يصير إِلَى مَا جبل عَلَيْهِ " وَقَالَ: " أَلا إِن بني آدم خلقُوا على طَبَقَات شَتَّى.
فَمنهمْ من يُولد مُؤمنا " فَذكر الحَدِيث بِطُولِهِ، وَذكر طبقاتهم فِي الْغَضَب تقاضي الدّين وَقَالَ: " النَّاس معادن كمعادن الذَّهَب وَالْفِضَّة " وَقَالَ الله تَعَالَى:
{قل كل يعْمل على شاكلته} .
أَي طَرِيقَته الَّتِي جبل عَلَيْهَا
وَأَن شِئْت أَن تستجلي مَا فتح الله عَليّ فِي هَذَا الْبَاب، وفهمني من مَعَاني هَذِه الْأَحَادِيث (فَاعْلَم) أَن الْقُوَّة الملكية تخلق فِي النَّاس على وَجْهَيْن: أَحدهمَا الْوَجْه الْمُنَاسب بالملأ الْأَعْلَى الَّذِي شَأْنهمْ الانصباغ بعلوم الْأَسْمَاء وَالصِّفَات، وَمَعْرِفَة دقائق الجبروت، وتلقي النظام على وَجه الْإِحَاطَة بِهِ، واجتماع الهمة على طلب وجوده، وَالثَّانِي الْوَجْه الْمُنَاسب بالملأ السافل الَّذِي شَأْنهمْ انبعاث بداعية تترشح عَلَيْهِم من فَوْقهم من غير إحاطة، وَلَا اجْتِمَاع الهمة، وَلَا الْمعرفَة ونورانيه، ورفض للالواث البهيمية
وَكَذَلِكَ الْقُوَّة الْبَهِيمَة تخلق على وَجْهَيْن:
মুক্তি! মুক্তি! অতঃপর তার কওমের একদল তার আনুগত্য করল, তারা রাতের শেষভাগে যাত্রা করল এবং ধীরস্থিরভাবে চলে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে গেল ও মুক্তি পেল। কিন্তু তাদের অন্য একদল তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং তারা নিজ স্থানেই রয়ে গেল। ফলে সকালবেলাতেই শত্রু বাহিনী তাদের ওপর আক্রমণ করল এবং তাদের ধ্বংস ও সমূলে নির্মূল করে দিল। এটিই হলো ওই ব্যক্তির উদাহরণ যে আমার আনুগত্য করল এবং আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসরণ করল, আর ওই ব্যক্তির উদাহরণ যে আমার অবাধ্য হলো এবং আমি যে সত্য নিয়ে এসেছি তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল।
আর চতুর্থ প্রকারের প্রতিদান কেবল নবীদের প্রেরণের পর, সংশয় নিরসন এবং সঠিকভাবে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে যাওয়ার পরেই কার্যকর হয়।
{যেন যে ধ্বংস হয় সে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পরই ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকে সেও যেন সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পরেই জীবিত থাকে}।
(মানুষের সহজাত স্বভাবের ভিন্নতা সংক্রান্ত অধ্যায়, যা তাদের চরিত্র, আমল এবং পূর্ণতার স্তরের ভিন্নতাকে আবশ্যক করে)এর মূল ভিত্তি হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিস, যেখানে তিনি বলেছেন: "যখন তোমরা শুনবে যে কোনো পাহাড় তার স্থান থেকে সরে গেছে, তবে তা বিশ্বাস করো। কিন্তু যখন শুনবে যে কোনো মানুষের স্বভাব পরিবর্তিত হয়ে গেছে, তখন তা বিশ্বাস করো না; কেননা সে তার সহজাত স্বভাবের দিকেই ফিরে যায়।" তিনি আরও বলেছেন: "জেনে রেখো, আদম সন্তান ভিন্ন ভিন্ন স্তরে সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের মধ্যে কেউ মুমিন হিসেবে জন্মগ্রহণ করে"—অতঃপর তিনি দীর্ঘ হাদিসটি উল্লেখ করলেন। তিনি রাগ এবং ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন স্তরের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "মানুষ খনিসমূহের ন্যায়, যেমন সোনা ও রুপার খনি হয়ে থাকে।" আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
{বলুন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বভাব অনুযায়ী কাজ করে}।
অর্থাৎ ওই পথ যার ওপর সে স্বভাবত সৃষ্টি হয়েছে।
আর তুমি যদি এই বিষয়ে আল্লাহ আমার জন্য যা উন্মোচন করেছেন এবং এই হাদিসগুলোর মর্ম সম্পর্কে যা আমাকে বুঝিয়েছেন তা স্পষ্টভাবে জানতে চাও, তবে (জেনে রাখো) যে, ফেরেশতাসুলভ শক্তি মানুষের মধ্যে দুইভাবে সৃষ্টি হয়: প্রথমটি হলো মালা-ই-আ'লা (উচ্চতর জগত)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দিক, যাদের বৈশিষ্ট্য হলো আল্লাহর নাম ও গুণাবলির জ্ঞানে রঞ্জিত হওয়া, জবরুত জগতের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ অনুধাবন করা, পূর্ণ বেষ্টনীসহকারে মহাজাগতিক শৃঙ্খলাকে গ্রহণ করা এবং এর অস্তিত্ব অন্বেষণে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হওয়া। আর দ্বিতীয়টি হলো মালা-ই-সাফিল (নিম্নতর জগত)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দিক, যাদের বৈশিষ্ট্য হলো তাদের ওপর ঊর্ধ্বজগত থেকে বিচ্ছুরিত কোনো প্রেরণা দ্বারা চালিত হওয়া, তবে তাতে কোনো জ্ঞানগত বেষ্টনী, সংকল্পের একাগ্রতা, মারেফত বা নূরানিয়্যাত থাকে না; বরং এতে কেবল পশুসুলভ কলুষতা বর্জন করা হয়।
অনুরূপভাবে পশুসুলভ শক্তিও দুইভাবে সৃষ্টি হয়:
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
أَحدهمَا البهيمية الشَّدِيدَة الصفيقة كَهَيئَةِ الْفَحْل الفاره الَّذِي نَشأ فِي غذَاء عُزَيْر، وتدبير مُنَاسِب
فَكَانَ عَظِيم الْجِسْم شديده، وجهوري الصَّوْت، قوي الْبَطْش، ذَا همة نَافِذَة وتيه عَظِيم، وَغَضب وحسد قويين، وشبق وافر، منافسا فِي الْغَلَبَة والظهور، شُجَاع الْقلب.
وَالثَّانِي البهيمية الضعيفة المهلهلة كَهَيئَةِ الْحَيَوَان الخصى المخدج الَّذِي نَشأ فِي جَدب وتدبير غير مُنَاسِب، فَكَانَ حقير الْجِسْم ضعيفه، رَكِيك الصَّوْت، ضَعِيف الْبَطْش، جبان الْقلب، غير ذِي همة، وَلَا مُنَافَسَة فِي الْغَلَبَة والظهور، والقوتان جَمِيعًا لَهما جبلة تخصص أحد وجهيها، وَكسب يُؤَيّدهُ، ويقويه، ويمد فِيهِ
واجتماع القوتين فيهم أَيْضا يكون على وَجْهَيْن: فَتَارَة تجتمعان بالتجاذب تكون كل وَاحِدَة متوفرة فِي طلب مقتضياتها، طامحة فِي أقْصَى غاياتها مريدة سننها الطبيعي، فَلَا جرم أَن يَقع بَينهمَا التجاذب، فَإِن غلبت هَذِه اضمحلت آثَار تِلْكَ، وَكَذَلِكَ الْعَكْس، وَتارَة بالاصطلاح بِأَن تنزل الملكية عَن طلب حكمهَا الصراح إِلَى مَا يقرب مِنْهُ من عقل وسخاوة نفس وعفة وطبع، وإيثار النَّفْع الْعَام على انْتِفَاع نَفسه خَاصَّة، وَالنَّظَر إِلَى الآجل دون الِاقْتِصَار على العاجل، وَحب النَّظَافَة فِي جَمِيع مَا يتَعَلَّق بِهِ، وتترقي البهيمية من طلب حكمهَا الصراح إِلَى مَا لَيْسَ بِبَعِيد من الرَّأْي الْكُلِّي، وَلَا مضاد لَهُ، فتصطلحان وَيحصل مزاج لَا تخَالف فِيهِ، وَلكُل من مرتبتي الملكية والبهيمية والاجتماع طرفان ووسط وَمَا يقرب من طرف أَو وسط، وَكَذَلِكَ تذْهب الْأَقْسَام إِلَى غير النِّهَايَة إِلَّا أَن رُءُوس الْأَقْسَام المنفرزة بأحكامها، وَالَّتِي يعرف غَيرهَا بمعرفتها ثَمَانِيَة حَاصِلَة من انقسام الِاجْتِمَاع بالتجاذب إِلَى أَرْبَعَة ملكية عالية تَجْتَمِع مَعَ بهيمية شَدِيدَة، أَو
ضَعِيفَة،
তন্মধ্যে একটি হলো অতিশয় তীব্র ও স্থূল পাশবিক প্রবৃত্তি, যা এক শক্তিশালী ও বলিষ্ঠ পুরুষ-প্রাণীর ন্যায়, যে প্রচুর পুষ্টিকর খাদ্য ও উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় লালিত-পালিত হয়েছে।
ফলে সে হয় বিশাল ও শক্তিশালী দেহবিশিষ্ট, গুরুগম্ভীর কণ্ঠস্বরসম্পন্ন, প্রবল পরাক্রমশালী, সুদূরপ্রসারী সংকল্প ও চরম ঔদ্ধত্যের অধিকারী, প্রচণ্ড ক্রোধ ও হিংসা এবং অত্যধিক কামলিপ্সাসম্পন্ন। সে আধিপত্য ও প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিযোগী এবং সাহসী হৃদয়ের অধিকারী হয়ে থাকে।
দ্বিতীয়টি হলো দুর্বল ও জরাজীর্ণ পাশবিক প্রবৃত্তি, যা এমন এক খাসিকৃত ও অপূর্ণাঙ্গ প্রাণীর ন্যায়, যে অভাব-অনটন ও অনুপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় বেড়ে উঠেছে। ফলে সে হয় তুচ্ছ ও দুর্বল দেহবিশিষ্ট, ক্ষীণ কণ্ঠস্বরসম্পন্ন, হীনবল, ভীরু হৃদয়ের অধিকারী এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষাহীন। আধিপত্য ও আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রে তার কোনো প্রতিযোগিতা থাকে না। আর এই উভয় শক্তিরই এমন এক প্রকৃতি রয়েছে যা তাদের কোনো একটি দিককে নির্দিষ্ট করে দেয় এবং অর্জিত অভ্যাস একে সমর্থন ও শক্তিশালী করে এবং এতে প্রসার ঘটায়।
তাদের মধ্যে এই দুই শক্তির মিলনও দুইভাবে হয়ে থাকে: কখনো তারা পারস্পরিক সংঘাতের মাধ্যমে একত্রিত হয়, যেখানে প্রতিটি শক্তি তার নিজস্ব চাহিদাকে পূর্ণরূপে পেতে চায়, স্বীয় লক্ষ্যের চরম সীমায় পৌঁছাতে প্রয়াসী হয় এবং নিজের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী চলতে চায়। ফলে অবশ্যই তাদের মধ্যে টানাপোড়েন বা সংঘাত সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় যদি এই শক্তিটি জয়ী হয় তবে ওই শক্তির প্রভাব বিলুপ্ত হয়ে যায়, আর বিপরীত ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটে। আবার কখনো সন্ধির মাধ্যমে একত্রিত হয়। তা এভাবে যে, ফেরেশতাসুলভ শক্তি তার স্পষ্ট ও নগ্ন দাবি ত্যাগ করে তার কাছাকাছি কোনো গুণের দিকে নেমে আসে—যেমন বুদ্ধি, উদারতা, পবিত্রতা ও চারিত্রিক মাধুর্য। সে নিজের ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে সাধারণ জনকল্যাণকে প্রাধান্য দেয় এবং কেবল উপস্থিত নগদ প্রাপ্তিতে সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতের (পরকালের) দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এবং নিজের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করে। অন্যদিকে পাশবিক প্রবৃত্তি তার নগ্ন দাবি হতে উন্নীত হয়ে এমন স্তরে পৌঁছায় যা সামষ্টিক প্রজ্ঞার (আল-রা’য়ুল কুল্লি) চেয়ে দূরে নয় এবং তার বিরোধীও নয়। ফলে উভয়ের মধ্যে সন্ধি স্থাপিত হয় এবং এমন এক মেজাজ বা স্বভাব তৈরি হয় যাতে কোনো বৈপরীত্য থাকে না। ফেরেশতাসুলভ শক্তি, পাশবিক শক্তি এবং এই দুইয়ের মিলনের প্রতিটি স্তরেরই দুটি প্রান্তসীমা ও একটি মধ্যম পন্থা রয়েছে, অথবা এমন কিছু যা প্রান্ত বা মধ্যবর্তী অবস্থার কাছাকাছি। এভাবে এই উপবিভাগগুলো অসীম পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তবে প্রধান প্রধান উপবিভাগগুলো, যা নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র এবং যাদের পরিচয়ের মাধ্যমে অন্যদের জানা যায়, তা হলো আটটি। এগুলো সংঘাতপূর্ণ মিলনের বিভাজন থেকে উদ্ভূত হয়েছে; যথা: উচ্চস্তরের ফেরেশতাসুলভ শক্তি যখন তীব্র পাশবিক শক্তির সাথে মিলিত হয়, অথবা
দুর্বল (পাশবিক শক্তির সাথে),
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
أَو ملكية سافلة تَجْتَمِع مَعَ بهيمية شَدِيدَة أَو ضَعِيفَة والاجتماع بالاصطلاح أَيْضا إِلَى أَرْبَعَة مثلهَا، وَلكُل قسم حكم لَا يخْتَلف من وفْق لمعْرِفَة أَحْكَامهَا استراح من تشويشات كَثِيرَة.
وَنحن نذْكر هَهُنَا من ذَلِك مَا نحتاج إِلَيْهِ فِي هَذَا الْكتاب فأحوج النَّاس إِلَى الرياضات الشاقة من كَانَت بهيميته شَدِيدَة لَا سِيمَا صَاحب التجاذب، وأحظاها بالكمال من كَانَت ملكيته عالية لَكِن صَاحب الِاصْطِلَاح أحْسنهم عملا وآدبهم، وَصَاحب التجاذب إِذا انفلت من أسر البهيمية أَكْثَرهم علما، وَلَا يُبَالِي بآداب الْعَمَل كثير مبالاة، وأزهدهم فِي الْأُمُور الْعِظَام أضعفهم بهيمية، لَكِن صَاحب الْعَالِيَة يتْرك الْكل تفرغا للتوجه إِلَى الله، وَصَاحب السافلة إِن انفلت يتْركهُ للآخرة وَإِلَّا يتْركهُ كسلا ودعة، وأشدهم اقتحاما فِي الْأُمُور الْعِظَام أَشَّدهم بهيمية لَكِن صَاحب الْعَالِيَة أقومهم بالرياسات وَنَحْوهَا مِمَّا يُنَاسب الرَّأْي الْكُلِّي، وَصَاحب السافلة أَشَّدهم اقتحاما فِي نَحْو الْقِتَال وَحمل الأثقال، وَصَاحب التجاذب إِذا انْدفع إِلَى الْأَسْفَل أشتغل بِالْأَمر الدنيوي فَقَط، وَإِذا ترقى إِلَى الْأَعْلَى اشْتغل بِالْأَمر الديني وتهذيب النَّفس وتجريدها فَقَط، وَصَاحب الِاصْطِلَاح يشْتَغل بهما جَمِيعًا، ويقصدهما مرّة وَاحِدَة، وَمن كَانَت عاليته مِنْهُم فِي غَايَة الْعُلُوّ ينبعث إِلَى رياسة الدّين وَالدُّنْيَا مَعًا، وَيصير بَاقِيا بِمُرَاد الْحق وبمنزلة الْجَارِحَة. لَهُ فِي تَمام نظام كلي كالخلافة وإمامة الْملَّة، وَأُولَئِكَ هم الْأَنْبِيَاء وورثتهم، وأساطين النَّاس وسلاطينهم، وأولو الْأَمر مِنْهُم وَالَّذين يجب انقيادهم فِي دين الله أهل الِاصْطِلَاح، الْعَالِيَة ملكيتهم، وأطوعهم لأولئك أهل الِاصْطِلَاح السافلة ملكيتهم، فَإِنَّهُم يتلقون النواميس بأشباحها
وهيئاتها، وأطرفهم مِنْهُم أهل التجاذب، لأَنهم إِمَّا منهمكون فِي ظلمات الطبيعة، فَلَا يُقِيمُونَ السّنة الراشدة، أَو قاهرون عَلَيْهَا، فَإِن كَانُوا أهل علو عضوا على أَرْوَاح النواميس، وَكَانَت لَهُم مُسَامَحَة فِي أشباحها، وَكَانَ أَكثر همتهم معرفَة دقائق الجبروت والانصباغ بصبغها، وَإِن كَانُوا دون ذَلِك اهتموا بالرياضات والأوراد، وأعجبوا ببوارق الملكية من كشف وإشراف واستجابة الدُّعَاء وَنَحْو ذَلِك، وَلم يعضوا من النواميس بجذر قُلُوبهم إِلَّا على حيل قهر الطبيعة وجلب الْأَنْوَار،
অথবা নিম্নমানের ফেরেশতাসুলভ স্বভাব, যা তীব্র বা দুর্বল পশুসুলভ স্বভাবের সাথে সম্মিলিত হয়। সমন্বয়ের (ইস্তিলাহ) ভিত্তিতেও এই সম্মিলন একইভাবে চার প্রকারের হয়ে থাকে। প্রতিটি প্রকারের জন্য এমন বিধান রয়েছে যা অপরিবর্তনীয়; যে ব্যক্তি এই বিধানগুলো অনুধাবনে সক্ষম হয়েছে, সে অনেক বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছে।
আমরা এখানে এই কিতাবে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু উল্লেখ করছি। যাদের পশুসুলভ স্বভাব প্রবল, তাদের জন্য কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, বিশেষ করে যারা সংঘাতপূর্ণ (তাজাযুব) স্বভাবের অধিকারী। যাদের ফেরেশতাসুলভ স্বভাব উচ্চমার্গীয়, তারা পূর্ণতা লাভের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অগ্রগামী। তবে সমন্বয়পন্থী (আহলুল ইস্তিলাহ) ব্যক্তিরা আমল ও আদবের দিক থেকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম। আর সংঘাতপূর্ণ স্বভাবের অধিকারী ব্যক্তি যখন পশুসুলভ স্বভাবের বন্দিত্ব থেকে মুক্তি পায়, তখন সে তাদের মধ্যে অধিক জ্ঞানবান হয়ে থাকে, যদিও সে আমলের আদবসমূহের ব্যাপারে খুব একটা ভ্রুক্ষেপ করে না। বিশাল বিষয়াবলীতে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিরাগী বা যাহিদ হলো সেই ব্যক্তি যার পশুসুলভ স্বভাব সবচেয়ে দুর্বল। তবে উচ্চমার্গীয় স্বভাবের অধিকারী ব্যক্তি আল্লাহর দিকে নিমগ্ন হওয়ার উদ্দেশ্যে সবকিছু ত্যাগ করে। পক্ষান্তরে নিম্নস্তরের স্বভাবের অধিকারী ব্যক্তি যদি মুক্তি পায়, তবে সে আখেরাতের জন্য দুনিয়া ত্যাগ করে, অন্যথায় সে অলসতা ও বিলাসিতার কারণে তা ত্যাগ করে। মহৎ কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগামী হলো সেই ব্যক্তি যার পশুসুলভ স্বভাব সবচেয়ে প্রবল। তবে উচ্চমার্গীয় স্বভাবের অধিকারী ব্যক্তি নেতৃত্ব এবং এ জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে সবচেয়ে পারদর্শী হয়, যা সামষ্টিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর নিম্নস্তরের স্বভাবের অধিকারী ব্যক্তি যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং ভারী বোঝা বহনের মতো কাজে অধিক সাহসী হয়। সংঘাতপূর্ণ স্বভাবের অধিকারী ব্যক্তি যখন নিম্নমুখী হয়, তখন সে কেবল পার্থিব কাজে লিপ্ত হয়; আর যখন সে উচ্চমার্গে উন্নীত হয়, তখন সে কেবল দ্বীনি কাজে, নফসের সংশোধন এবং তাকে পার্থিব সংস্রবমুক্ত করার কাজে নিয়োজিত হয়। অন্যদিকে সমন্বয়পন্থী (আহলুল ইস্তিলাহ) ব্যক্তি উভয় কাজে একসাথে ব্যাপৃত থাকে এবং একই সাথে উভয়টির সংকল্প করে। তাদের মধ্যে যার উচ্চমার্গীয় স্বভাব চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, সে দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ের নেতৃত্বের দিকে ধাবিত হয় এবং সে হকের (আল্লাহর) উদ্দেশ্য অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং একটি অঙ্গের ন্যায় হয়ে যায়। পূর্ণাঙ্গ সামষ্টিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তার অবস্থান হলো খিলাফত ও উম্মাহর ইমামতের ন্যায়। এরাই হলেন নবীগণ এবং তাঁদের উত্তরসূরিগণ, মানুষের স্তম্ভ ও সম্রাটগণ। তাদের মধ্য হতে উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল ব্যক্তি) এবং আল্লাহর দ্বীনের ক্ষেত্রে যাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব, তারা হলেন সেই সমন্বয়পন্থী (আহলুল ইস্তিলাহ) ব্যক্তিবর্গ যাদের ফেরেশতাসুলভ স্বভাব উচ্চমার্গীয়। আর তাদের প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুগত হলো সেই সমন্বয়পন্থীগণ যাদের ফেরেশতাসুলভ স্বভাব নিম্নস্তরের; কারণ তারা ঐশী বিধানসমূহকে তার অবয়ব ও কাঠামোসহ গ্রহণ করে।
তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রান্তিক বা ব্যতিক্রমী হলো সংঘাতপূর্ণ (তাজাযুব) স্বভাবের অধিকারীরা। কারণ তারা হয় প্রকৃতির অন্ধকারাচ্ছন্নতায় মগ্ন থাকে, ফলে তারা সঠিক সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা করে না; অথবা তারা প্রকৃতির ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী হয়। তারা যদি উচ্চমার্গীয় হয়, তবে তারা ঐশী বিধানের মূল রুহ বা সারবস্তু দৃঢ়ভাবে ধারণ করে এবং বিধানের বাহ্যিক কাঠামোর ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করে। তাদের অধিকাংশ প্রচেষ্টা ব্যয় হয় জাবারুতের (ঐশী পরাক্রম) নিগূঢ় রহস্য জানা এবং তার রঙে রঞ্জিত হওয়ার ক্ষেত্রে। আর যদি তারা এর চেয়ে নিম্নস্তরের হয়, তবে তারা কৃচ্ছ্রসাধনা ও ওজিফা পালনে সচেষ্ট হয় এবং ফেরেশতাসুলভ স্বভাবের স্ফুরণ যেমন— কাশফ (উন্মোচন), ইশরাফ এবং দোয়া কবুল হওয়া ইত্যাদিতে বিমোহিত হয়। তারা ঐশী বিধানসমূহকে হৃদয়ের মূল থেকে আঁকড়ে ধরে না, বরং কেবল প্রকৃতিকে পরাভূত করার কৌশল এবং নূর বা জ্যোতি হাসিল করার উদ্দেশ্যেই তা করে থাকে।
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
فَهَذِهِ أصُول أعطانيها رَبِّي من أتقنها استجلى أَحْوَال أهل الله، ومبلغ كمالهم، ومطمح إشارتهم عَن أنفسهم، وَخرج مَرَاتِب سلوكهم:
{ذَلِك من فضل الله علينا وعَلى النَّاس وَلَكِن أَكثر النَّاس لَا يشكرون} .
(بَاب فِي أَسبَاب الخواطر الباعثة على الْأَعْمَال)اعْلَم أَن الخواطر الَّتِي يجدهَا الْإِنْسَان فِي نَفسه، وتبعثه على الْعَمَل بموجبها لَا جرم أَن لَهَا أسبابا كَسنة الله تَعَالَى فِي سَائِر الْحَوَادِث.
وَالنَّظَر والتجربة يظهران أَن مِنْهَا - وَهُوَ أعظمها - جبلة الْإِنْسَان الَّتِي خلق عَلَيْهَا، كَمَا نبه النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي الحَدِيث الَّذِي روينَاهُ من قبل.
وَمِنْهَا مزاجه الطبيعي الْمُتَغَيّر بِسَبَب التَّدْبِير الْمُحِيط بِهِ من الْأكل وَالشرب وَنَحْو ذَلِك، كالجائع يطْلب الطَّعَام، والظمآن يطْلب المَاء، والمغتلم يطْلب
النِّسَاء، وَرب إِنْسَان يَأْكُل غذَاء يُقَوي الْبَاءَة، فيميل إِلَى النِّسَاء، وَيحدث نَفسه بِأَحَادِيث تتَعَلَّق بِهن، وَتصير هَذِه مهيجة لَهُ على كثير من الْأَفْعَال، وَرب إِنْسَان يتغذى غذَاء شَدِيدا، فيقسو قلبه، ويجترئ على الْقَتْل: ويغضب فِي كثير مِمَّا لَا يغْضب فِيهِ غَيره، ثمَّ إِذا ارتاض هَذَانِ أَنفسهمَا بالصيام وَالْقِيَام، أَو شَابًّا وكبرا، أَو مَرضا مَرضا مدنفا تغير أَكثر مَا كَانَ عَلَيْهِ، ورقت قلوبهما، وعفت نفوسهما، وَلذَلِك ترى الِاخْتِلَاف بَين الشُّيُوخ والشباب، وَرخّص النَّبِي صلى الله عليه وسلم للشَّيْخ فِي الْقبْلَة وَهُوَ صَائِم وَلم يرخص للشاب.
وَمِنْهَا الْعَادَات والمألوفات فَإِن من أَكثر مُلَابسَة شَيْء، وَتمكن من لوح نَفسه مَا يُنَاسِبه من الهيئات والأشكال - مَال إِلَيْهِ كثير من خواطره.
وَمِنْهَا أَن النَّفس الناطقة فِي بعض الْأَوْقَات تَنْفَلِت من أسر البهيمية، فتختطف من حيّز الْمَلأ الْأَعْلَى مَا ييسر لَهَا من هَيْئَة نورانية، فَتكون تَارَة من بَاب الْأنس والطمأنينة، وَتارَة من بَاب الْعَزْم على فعل.
এগুলো হলো সেই মূলনীতি যা আমার রব আমাকে দান করেছেন। যে এগুলো আয়ত্ত করবে, সে আল্লাহর ওলিদের অবস্থাসমূহ, তাদের পূর্ণতার উচ্চতা এবং তাদের নফস সম্পর্কে তাদের ইশারার লক্ষ্যবস্তু স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করবে এবং তাদের আধ্যাত্মিক পথচলার স্তরসমূহ উদঘাটন করবে:
{এটি আমাদের ও মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না}।
(আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধকারী অন্তরের ভাবনার কারণসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়)জেনে রাখুন যে, মানুষ নিজের অন্তরে যে ভাবনাগুলো অনুভব করে এবং যা তাকে সেই অনুযায়ী আমল করতে উদ্বুদ্ধ করে, সেগুলোর অবশ্যই কিছু কারণ রয়েছে; যেমনটি অন্যান্য সকল ঘটনার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার চিরন্তন রীতি।
পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতা স্পষ্ট করে যে, এগুলোর মধ্যে অন্যতম—যা সবচেয়ে বড়—হলো মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি যার ওপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই হাদিসে ইঙ্গিত দিয়েছেন যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি।
অন্যটি হলো তার প্রাকৃতিক মেজাজ, যা আহার-পানীয় ও এই জাতীয় আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনার কারণে পরিবর্তিত হয়। যেমন ক্ষুধার্ত ব্যক্তি খাদ্য খোঁজে, তৃষ্ণার্থ ব্যক্তি পানি খোঁজে এবং কামাসক্ত ব্যক্তি নারী অন্বেষণ করে। অনেক সময় মানুষ এমন খাদ্য গ্রহণ করে যা কামশক্তি বৃদ্ধি করে, ফলে সে নারীর প্রতি ঝুঁকে পড়ে এবং নিজের মনে তাদের সংক্রান্ত নানা কল্পনা তৈরি করে, যা তাকে অনেক কাজের দিকে প্ররোচিত করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার অনেক সময় মানুষ এমন কঠোর খাদ্য গ্রহণ করে যার ফলে তার হৃদয় কঠিন হয়ে যায় এবং সে হত্যার মতো কাজে সাহসী হয়ে ওঠে; সে এমন অনেক বিষয়ে রাগান্বিত হয় যাতে অন্য কেউ রাগান্বিত হয় না। অতঃপর এই দুই প্রকার ব্যক্তিই যখন রোজা ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেদের নফসকে রিয়াজত বা সাধনা করায়, অথবা তারা বার্ধক্যে উপনীত হয়, কিংবা কোনো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, তখন তাদের পূর্বের অবস্থার অধিকাংশ বদলে যায়; তাদের অন্তর কোমল হয় এবং নফস পবিত্র হয়ে যায়। এই কারণেই আপনি বৃদ্ধ ও যুবকদের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পান। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজাদার বৃদ্ধকে চুম্বনের অনুমতি দিয়েছেন, কিন্তু যুবককে অনুমতি দেননি।
অন্যটি হলো অভ্যাস ও পরিচিত বিষয়সমূহ। কেননা যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ের সাথে অধিক সম্পৃক্ত থাকে এবং তার নফস-ফলকে সেই বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থা ও আকৃতি গেঁথে যায়, তার অধিকাংশ ভাবনাই সেই বিষয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
আরেকটি কারণ হলো, মানুষের বাকশক্তি সম্পন্ন আত্মা বা নফসে নাতিফা কোনো কোনো সময়ে পশুত্বের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পায় এবং ঊর্ধ্বজগত বা মালা-ই-আলা থেকে তার জন্য সহজসাধ্য কোনো নূরানি অবস্থা গ্রহণ করে। ফলে তা কখনো হয় প্রশান্তি ও নিবিড়তার মাধ্যমে, আবার কখনো কোনো কাজের দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
وَمِنْهَا أَن بعض النُّفُوس الخسيسة تتأثر من الشَّيَاطِين وتنصبغ بِبَعْض صبغهم، وَرُبمَا اقْتَضَت تِلْكَ الْهَيْئَة خواطر وأفعالا.
وَاعْلَم أَن المنامات أمرهَا كأمر الخواطر غير أَنَّهَا تتجرد لَهَا النَّفس، فتتشبح لَهَا صورها، وهيئاتها. قَالَ مُحَمَّد بن سِرين: الرُّؤْيَا ثَلَاث: حَدِيث النَّفس، وتخويف الشَّيْطَان، وبشرى من الله.
(بَاب لصوق الْأَعْمَال بِالنَّفسِ وأحصائها عَلَيْهَا)قَالَ الله تَعَالَى:
{وكل إِنْسَان ألزمناه طَائِره فِي عُنُقه وَنخرج لَهُ يَوْم الْقِيَامَة كتابا يلقاه منشورا اقْرَأ كتابك كفى بِنَفْسِك الْيَوْم عَلَيْك حسيبا} .
وَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم رَاوِيا عَن ربه تبارك وتعالى: " إِنَّمَا هِيَ أَعمالكُم أحصيها عَلَيْكُم، ثمَّ أوفيكم إِيَّاهَا، فَمن وجد خيرا فليحمد الله، وَمن وجد غير ذَلِك، فَلَا يَلُومن الا نَفسه " وَقَالَ صلى الله عليه وسلم: " النَّفس تتمنى وتشتهي والفرج يصدق ذَلِك، ويكذبه ".
اعْلَم أَن الْأَعْمَال الَّتِي يقصدها الْإِنْسَان قصدا مؤكدا، والأخلاق الَّتِي هِيَ راسخة فِيهِ، تنبعث من أصل النَّفس الناطقة، ثمَّ تعود إِلَيْهَا، ثمَّ تتشبث بذيلها، وتحصي عَلَيْهَا إِمَّا الانبعاث مِنْهَا، فَلَمَّا عرفت أَن للملكية والبهيمية واجتماعهما أقساما وَلكُل قسم حكما، وَغَلَبَة المزاج الطبيعي والانصباغ من الْمَلَائِكَة وَالشَّيَاطِين وَنَحْو ذَلِك من الْأَسْبَاب لَا تكون إِلَّا حسب مَا تعطيه الجبلة، وَتحصل فِيهِ الْمُنَاسبَة، فَلذَلِك كَانَ الْمرجع إِلَى أصل النَّفس بوسط أَو بِغَيْر وسط. أَلَسْت ترى المخنث يخلق فِي أول مرّة على مزاج رَكِيك، فيستدل بِهِ الْعَارِف على أَنه أَن شب على مزاجه وَجب أَن يعْتَاد بعادات النِّسَاء، ويتزيا بزيهن، وينتحل رسومهن، وَكَذَلِكَ يدْرك الطَّبِيب أَن الطِّفْل إِن شب على مزاجه، وَلم يفجأه عَارض كَانَ قَوِيا فارها، أَو ضَعِيفا ضارعا، وَأما الْعود إِلَيْهَا فلَان الْإِنْسَان إِذا عمل عملا، فَأكْثر مِنْهُ
اعتادته النَّفس، وَسَهل صدوره مِنْهَا، وَلم يحْتَج إِلَى روية وتجشم دَاعِيَة، فَلَا جرم أَن النَّفس تأثرت مِنْهُ، وَقبلت لَونه، وَلَا جرم أَن لكل عمل من تِلْكَ الْأَعْمَال المتجانسة
এর মধ্যে একটি হলো এই যে, কিছু নিকৃষ্ট আত্মা শয়তান দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং তাদের রঙে রঞ্জিত হয়, ফলে সেই অবস্থাটি সম্ভবত কিছু কুচিন্তা ও কার্যাবলির জন্ম দেয়।
জেনে রাখুন যে, স্বপ্নের বিষয়টি মনের সংকল্প বা চিন্তার মতোই, তবে পার্থক্য হলো আত্মা স্বপ্নের জন্য নিবিষ্ট হয়, ফলে তার সামনে তার চিত্র ও আকৃতিগুলো প্রতিভাত হয়। মুহাম্মদ ইবনে সিরীন বলেন: স্বপ্ন তিন প্রকার: মনের কথা (কল্পনা), শয়তানের ভীতি প্রদর্শন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ।
(অধ্যায়: আমলসমূহ আত্মার সাথে লেগে থাকা এবং সেগুলোর পরিসংখ্যান রাখা)মহান আল্লাহ বলেন:
{আমি প্রত্যেক মানুষের ভাগ্যকে তার গলায় সংলগ্ন করেছি এবং কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য একটি আমলনামা বের করব যা সে উন্মুক্ত অবস্থায় পাবে। (বলা হবে) তোমার কিতাব পাঠ করো; আজ নিজের হিসাব গ্রহণের জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট।}
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বরকতময় ও মহান রব থেকে বর্ণনা করে বলেন: “এগুলো তো তোমাদেরই আমল যা আমি তোমাদের জন্য গণনা করে রাখি, অতঃপর তোমাদেরকে তার পূর্ণ প্রতিদান প্রদান করি। সুতরাং যে ব্যক্তি কল্যাণ লাভ করবে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে, আর যে ব্যক্তি তা ব্যতীত অন্য কিছু পাবে সে যেন নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে তিরস্কার না করে।” তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: “মন কামনা ও বাসনা করে, আর লজ্জাস্থান তাকে সত্য অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।”
জেনে রাখুন, যে সকল কাজ মানুষ সুদৃঢ় সংকল্পের সাথে সম্পাদন করে এবং যে সকল চরিত্র তার মধ্যে বদ্ধমূল, তা মূলত ‘নাফসে নাতেকা’ বা বাক্-সম্পন্ন আত্মার মূল থেকে উৎসারিত হয়, অতঃপর তা পুনরায় সেদিকেই ফিরে আসে, এরপর তার প্রান্তদেশকে আঁকড়ে ধরে এবং তার উপর হিসাব রক্ষা করে। আর আত্মা থেকে উৎসারিত হওয়ার বিষয়টি হলো— আপনি যেহেতু জেনেছেন যে ফেরেশতাসুলভ গুণ, পশুসুলভ গুণ এবং এই দুয়ের সংমিশ্রণের নানাবিধ প্রকার রয়েছে এবং প্রতিটি প্রকারের আলাদা বিধান রয়েছে; আর প্রাকৃতিক মেজাজের প্রাবল্য এবং ফেরেশতা বা শয়তানের রঙে রঞ্জিত হওয়া ইত্যাদি কারণগুলো কেবল মানুষের জন্মগত স্বভাবের চাহিদা অনুযায়ী এবং তাতে বিদ্যমান সামঞ্জস্যের ভিত্তিতেই ঘটে থাকে। তাই এর মূল উৎস হলো আত্মা, তা কোনো মাধ্যমেই হোক বা মাধ্যম ছাড়াই হোক। আপনি কি দেখেন না যে, হিজড়াকে (লিঙ্গান্তরী) প্রথম থেকেই এক দুর্বল মেজাজে সৃষ্টি করা হয়, যার দ্বারা তত্ত্বজ্ঞানী ব্যক্তি বুঝতে পারেন যে, সে যদি এই মেজাজেই বড় হয় তবে অবশ্যই সে নারীদের অভ্যাসে অভ্যস্ত হবে, তাদের পোশাক পরিধান করবে এবং তাদের রীতিনীতি গ্রহণ করবে। অনুরূপভাবে চিকিৎসকও বুঝতে পারেন যে, কোনো শিশু যদি তার স্বাভাবিক মেজাজে বড় হয় এবং আকস্মিক কোনো বিঘ্ন না ঘটে, তবে সে শক্তিশালী ও দক্ষ হবে অথবা দুর্বল ও কাতর হবে। আর আত্মার দিকে ফিরে আসার বিষয়টি হলো— মানুষ যখন কোনো কাজ করে এবং তা অধিক পরিমাণে করে,
তখন আত্মা তাতে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং তা সম্পাদন করা তার জন্য সহজ হয়ে পড়ে। তখন সেটির জন্য কোনো গভীর চিন্তা বা প্রেরণা সৃষ্টির কষ্ট করতে হয় না। সুতরাং এটা অনস্বীকার্য যে, আত্মা এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে এবং তার রঙ গ্রহণ করেছে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই জাতীয় সমগোত্রীয় প্রতিটি আমলের জন্যই...
(খণ্ড: ١)
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ
(পৃষ্ঠা: ٦٨)
مدخلًا فِي ذَلِك التأثر، وَإِن دق، وخفي مَكَانَهُ، وَإِلَيْهِ الْإِشَارَة فِي قَوْله: صلى الله عليه وسلم " تعرض الْفِتَن على الْقُلُوب كالحصير عودا عودا، فَأَي قلب أشر بهَا نكتت فِيهِ نُكْتَة سَوْدَاء، وَأي قلب، أنكرها نكتت فِيهِ نُكْتَة بَيْضَاء حَتَّى تصير على قلبين أَبيض مثل الصَّفَا، فَلَا تضره فتْنَة مَا دَامَت السَّمَوَات وَالْأَرْض، وَالْآخر أسود مربادا كالكوز مجخيا لَا يعرف مَعْرُوفا، وَلَا يُنكر مُنْكرا إِلَّا مَا أشْرب من هَوَاهُ ".
وَأما التشبث بذيلها فلَان النَّفس فِي أول أمرهَا تخلق هيولانية فارغة عَن جَمِيع مَا تنصبغ بِهِ، ثمَّ لَا تزَال تخرج من الْقُوَّة إِلَى الْفِعْل يَوْمًا فيوما، وكل حَالَة مُتَأَخِّرَة لَهَا معد من قبلهَا، والمعدات كلهَا سلسلة مترتبة، لَا يتَقَدَّم متأخرها على مُتَقَدم مستصحب فِي هَيْئَة النَّفس الْمَوْجُودَة الْيَوْم حكم كل معد قبلهَا وَإِن خَفِي عَلَيْهَا بِسَبَب اشتغالها بِمَا هُوَ خَارج مِنْهَا اللَّهُمَّ إِلَّا أَن يفنى حَامِل الْقُوَّة المنبعثة تِلْكَ الْأَعْمَال مِنْهَا كَمَا ذكرنَا فِي الشَّيْخ وَالْمَرِيض، أَو تهجم عَلَيْهَا هَيْئَة من فَوْقهَا نظامها كالتغير الْمَذْكُور كَمَا قَالَ الله تَعَالَى:
{أَن الْحَسَنَات يذْهبن السَّيِّئَات} .
وَقَالَ: {لَئِن أشركت ليحبطن عَمَلك}
وَأما الإحصاء عَلَيْهَا، فسره على مَا وجدته بالذوق أَن فِي الحيز الشاهق تظهر صُورَة لكل إِنْسَان بِمَا يُعْطِيهِ النظام الفوقاني وَالَّتِي ظَهرت فِي قصَّة الْمِيثَاق شُعْبَة مِنْهَا، فَإِذا وجد هَذَا الشَّخْص انطبقت الصُّورَة عَلَيْهِ، واتحدت مَعَه، فَإِذا عمل عملا انشرحت هَذِه الصُّورَة بذلك الْعَمَل انشراحا طبيعيا بِلَا اخْتِيَار مِنْهُ، فَرُبمَا تظهر فِي الْمعَاد أَن أَعمالهَا محصاة عَلَيْهَا من فَوْقهَا، وَمِنْه قِرَاءَة الصُّحُف، وَرُبمَا تظهر أَن أَعمالهَا فِيهَا متشبثة بأعضائها، وَمِنْهَا نطق الْأَيْدِي والأرجل.
ثمَّ كل صُورَة عمل مفصحة عَن ثَمَرَته فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة، وَرُبمَا تتَوَقَّف الْمَلَائِكَة فِي تَصْوِيره، فَيَقُول الله تَعَالَى اكتبوا الْعَمَل كَمَا هُوَ، قَالَ الْغَزالِيّ: كل مَا قدرَة الله تَعَالَى من ابْتِدَاء خلق الْعَالم إِلَى آخِره مسطور ومثبت
এই প্রভাবের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, যদিও তা সূক্ষ্ম হয় এবং এর স্থানটি গুপ্ত থাকে, সেদিকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীতে ইঙ্গিত করা হয়েছে: "হৃদয়ের ওপর ফিতনাগুলো চাটাইয়ের বুননের মতো একটির পর একটি পেশ করা হয়। অতঃপর যে হৃদয় তা গ্রহণ করে নেয়, তাতে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। আর যে হৃদয় তা প্রত্যাখ্যান করে, তাতে একটি সাদা দাগ পড়ে যায়। এভাবে হৃদয়গুলো দুই প্রকারের হয়ে যায়; একটি হলো মসৃণ পাথরের মতো সাদা, যা আসমান ও জমিন যতদিন বিদ্যমান থাকবে ততদিন কোনো ফিতনা এর ক্ষতি করতে পারবে না। আর অন্যটি হলো ছাই রঙের কালো, উল্টানো কলসীর মতো, যা তার প্রবৃত্তি থেকে যা গ্রহণ করেছে তা ব্যতীত কোনো ভালোকে চেনে না এবং কোনো মন্দকেও প্রত্যাখ্যান করে না।"
আর কর্মের পরিণতির সাথে লেগে থাকার বিষয়টি এই যে, আত্মা তার প্রারম্ভিক অবস্থায় সকল প্রকার রঞ্জিত হওয়া থেকে মুক্ত এক আধারে রূপ হিসেবে সৃষ্টি হয়। অতঃপর দিন দিন তা সুপ্ত শক্তি থেকে কর্মতৎপরতায় বিকশিত হতে থাকে। আত্মার প্রতিটি পরবর্তী অবস্থা তার পূর্ববর্তী অবস্থার মাধ্যমে প্রস্তুত হয়। আর এই প্রস্তুতির উপকরণসমূহ একটি সুশৃঙ্খল ধারাবাহিকতা রক্ষা করে, যেখানে পরবর্তী কোনো বিষয় পূর্ববর্তী বিষয়ের আগে আসে না। বর্তমান অবস্থায় আত্মার যে রূপ বিদ্যমান, তাতে পূর্ববর্তী প্রতিটি প্রস্তুতির প্রভাব বিদ্যমান থাকে, যদিও তার বাহ্যিক ব্যস্ততার কারণে তা আত্মার নিকট গোপন থাকতে পারে। তবে হাঁ, যদি সেই কর্মসমূহ থেকে উৎসারিত সুপ্ত শক্তির ধারক নিঃশেষ হয়ে যায়, যেমনটি আমরা বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি; অথবা ওপর থেকে এমন কোনো বিশেষ অবস্থা তার ওপর আপতিত হয় যা তার অবস্থাকে বদলে দেয়, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন:
{নিশ্চয়ই নেক কাজসমূহ গুনাহসমূহকে দূর করে দেয়।}
এবং তিনি বলেছেন: {যদি তুমি শিরক করো, তবে তোমার আমল অবশ্যই নষ্ট হয়ে যাবে।}
আর আমলসমূহ গণনা করার বিষয়টি আধ্যাত্মিক উপলব্ধির মাধ্যমে আমি যেভাবে পেয়েছি তার ব্যাখ্যা এই যে, এক উচ্চতর স্তরে প্রতিটি মানুষের একটি রূপ ফুটে ওঠে যা ঊর্ধ্বজাগতিক শৃঙ্খলা থেকে প্রাপ্ত। অঙ্গীকারের (মীসাক) ঘটনায় যা প্রকাশ পেয়েছিল তা এরই একটি শাখা। যখন এই ব্যক্তি অস্তিত্ব লাভ করে, তখন সেই রূপটি তার ওপর আপতিত হয় এবং তার সাথে একীভূত হয়ে যায়। অতঃপর সে যখন কোনো কাজ করে, তখন সেই রূপটি সেই কর্মের প্রভাবে তার কোনো ইচ্ছা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয়। সম্ভবত পরকালে এটি প্রকাশিত হবে যে, তার আমলসমূহ ওপর থেকে তার ওপর সংরক্ষিত বা গণনাকৃত রয়েছে, আর আমলনামা পাঠ করাও এরই অন্তর্ভুক্ত। আবার কখনো এমনভাবে প্রকাশ পাবে যে, তার আমলসমূহ তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে মিশে আছে, যার অন্তর্ভুক্ত হলো হাত ও পা সমূহের কথা বলা।
অতঃপর প্রতিটি কর্মের রূপ দুনিয়া ও আখেরাতে তার ফলাফল সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে। কখনও ফেরেশতারা এর রূপ চিত্রায়নে বিরত থাকেন, তখন মহান আল্লাহ বলেন: 'আমলটি যেমন আছে তেমনই লিখে রাখো'। ইমাম গাজালী বলেছেন: জগত সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহ যা কিছু নির্ধারণ করেছেন, তা সবই লিপিবদ্ধ ও সুপ্রতিষ্ঠিত।