(খণ্ড: ১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: -)
البحر الذي زخر في شرح ألفية الأثر - قسم 1 - ت الأندونوسي   (الجلال السيوطي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: البحر الذي زخر في شرح ألفية الأثر

المؤلف: الحافظ جلال الدين أبو الفضل عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي (849 - 911 هـ)

تحقيق ودراسة: أبي أنس أنيس بن أحمد بن طاهر الأندونوسي

أصل هذا الكتاب: رسالة ماجستير بالجامعة الإسلامية

الناشر: مكتبة الغرباء الأثرية، المملكة العربية السعودية

عدد الأجزاء: 4 (متسلسلة الترقيم، والرابع فهارس)

تنبيه: لم يُكمِل السيوطي هذا الكتاب، لكن هذه الطبعة تُشكل الشطر الأول فقط مما ترَكَه السيوطي، وأما الشطر الثاني فحققه د. (عبدالباري بن حماد الأنصاري) في رسالتِه للماجستير بالجامعة الإسلامية أيضًا عام 1416 هـ ولم تُطبع حتى عام 1443 هـ، ثم طُبع الموجود من الكتاب كاملا بتحقيق (شعبان العودة) عن دار الذخائر والمكتبة العمرية بالقاهرة 1443 هـ= 2022 م في 3 مجلدات

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-বাহরুল্লাযি যাখার ফি শারহি আলফিয়াতিল আসার - খণ্ড ১ - তাহকীক: আল-ইন্দোনেশীয়   (আল-জালাল আস-সুয়ূতী)

বিভাগ: হাদীস শাস্ত্র


গ্রন্থ: আল-বাহরুল্লাযি যাখার ফি শারহি আলফিয়াতিল আসার

লেখক: হাফিজ জালালুদ্দীন আবুল ফজল আব্দুর রহমান বিন আবু বকর আস-সুয়ূতী (৮৪৯ - ৯১১ হিজরী)

সম্পাদনা ও গবেষণা: আবু আনাস আনিস বিন আহমাদ বিন তাহের আল-ইন্দোনেশীয়

এই গ্রন্থের মূল উৎস: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স থিসিস

প্রকাশক: মাকতাবাতুল গুরবা আল-আসারিয়্যাহ, সৌদি আরব

খণ্ড সংখ্যা: ৪ (ধারাবাহিক নম্বরকৃত, এবং চতুর্থটি নির্ঘণ্ট/সূচিপত্র)

সতর্কবার্তা: আস-সুয়ূতী এই গ্রন্থটি সম্পন্ন করেননি, তবে এই সংস্করণটি আস-সুয়ূতীর রেখে যাওয়া পাণ্ডুলিপির শুধুমাত্র প্রথমাংশকে উপস্থাপন করে, আর দ্বিতীয় অংশটি ড. (আব্দুল বারী বিন হাম্মাদ আল-আনসারী) ১৪১৬ হিজরী সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর মাস্টার্স থিসিস হিসেবেও সম্পাদনা করেছেন এবং এটি ১৪৪৩ হিজরী পর্যন্ত মুদ্রিত হয়নি, পরবর্তীতে গ্রন্থের বিদ্যমান পূর্ণাঙ্গ অংশ (শা'বান আল-আওদাহ)-এর সম্পাদনায় কায়রোস্থ দারুজ যাখায়ের এবং আল-মাকতাবাতুল উমরিয়্যাহ থেকে ১৪৪৩ হিজরী = ২০২২ সালে ৩ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: -)
البحر الذي زخر في شرح ألفية الأثر

 

تأليف

الحافظ جلال الدين أبي الفضل عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي

(849 هـ - 911 هـ)

 

تحقيق ودراسة

أبي أنس أنيس بن أحمد بن طاهر الأندونوسي

أستاذ مساعد بكلية الحديث بالجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية

 

[الجزء الأول]
আল-বাহরুল্লাযী যাখার ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার

 

রচনা করেছেন

হাফেয জালালুদ্দীন আবুল ফযল আব্দুর রহমান বিন আবু বকর আস-সুয়ূতী

(৮৪৯ হিজরী - ৯১১ হিজরী)

 

সম্পাদনা ও গবেষণা

আবু আনাস আনীস বিন আহমাদ বিন তাহির আল-ইন্দোনেশী

মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীস অনুষদের সহকারী অধ্যাপক

 

[প্রথম খণ্ড]
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌خطة البحث

كلمة حمد، وشكر، وتقدير.

ثم قمت بتقسيم البحث إلى قسمين:

أ- قسم الدراسة.

ب- قسم التحقيق.

أ- قسم الدراسة: ويشتمل على ما يلي:

أولًا: مقدمة وتتضمن ما يلي:

- السنة. مكانتها. وحجيتها.

- بيان أهمية علم مصطلح الحديث.

- نشاة علم المصطلح.

- أسباب اختيار الموضوع.

ثانيًا: ترجمة للسيوطي وتشتمل على التالي:

- اسمه، ونسبه.

- مولده، ونشأته، ودراسته.

- رحلاته.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌গবেষণার রূপরেখা

প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা ও মূল্যায়নের বক্তব্য।

অতঃপর আমি গবেষণাপত্রটিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছি:

ক- অধ্যয়ন মূলক অংশ।

খ- পাণ্ডুলিপি সম্পাদনামূলক অংশ।

ক- অধ্যয়ন মূলক অংশ: এটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথমত: ভূমিকা, যা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো ধারণ করে:

- সুন্নাহ। এর মর্যাদা। এর প্রামাণিকতা।

- ইলমে মুসতালাহুল হাদীসের গুরুত্বের বর্ণনা।

- পরিভাষা বিজ্ঞানের উৎপত্তি।

- বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ।

দ্বিতীয়ত: সুয়ূতী (রহ.)-এর জীবনী, যা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

- তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।

- তাঁর জন্ম, লালন-পালন ও শিক্ষা।

- তাঁর সফরসমূহ।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ৮)
- شيوخه وتلاميذه.

- عقيدته.

- تصديه للفتيا.

- خصوم السيوطي.

- المناصب التي تولاها.

- موقفه من الحكام والسلاطين.

- دعواه الاجتهاد.

- اعتزاله، وهروبه من الحياة، ووفاته.

- المؤلفون في السيوطي من المتقدمين والمعاصرين.

ثالثًا:

- جهود السيوطي في علوم الحديث عمومًا.

- وجهوده في المصطلح خصوصًا.

- دراسة كتبه -الموجود منها- في المصطلح.

رابعًا:

- دراسة كتابه (البحر الذي زخر)، ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: موضوع الكتاب، وأهميته.

المبحث الثاني: منهج السيوطي في الكتاب.
- তাঁর শিক্ষকগণ এবং ছাত্রবৃন্দ।

- তাঁর আকিদাহ।

- ফাতাওয়া প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ।

- সুয়ূতীর প্রতিপক্ষগণ।

- তাঁর অধিষ্ঠিত পদসমূহ।

- শাসক ও সুলতানদের প্রতি তাঁর অবস্থান।

- ইজতিহাদের সপক্ষে তাঁর দাবি।

- তাঁর নির্জনবাস, লোকালয় থেকে প্রস্থান এবং মৃত্যু।

- পূর্ববর্তী ও সমকালীন লেখকদের মধ্যে যারা সুয়ূতীকে নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।

তৃতীয়ত:

- সাধারণভাবে হাদিস শাস্ত্রে সুয়ূতীর অবদান।

- বিশেষভাবে হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রে তাঁর অবদান।

- হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রে তাঁর বিদ্যমান গ্রন্থাবলির পর্যালোচনা।

চতুর্থত:

- তাঁর ‘আল-বাহরুল্লাজি জাখার’ নামক গ্রন্থের পর্যালোচনা, যা দুটি পরিচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের বিষয়বস্তু ও এর গুরুত্ব।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে সুয়ূতীর কর্মপদ্ধতি।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ৯)
خامسًا:

شروح ألفية السيوطي.

سادسًا:

موازنة بين البحر والتدريب.

سابعًا:

ميزات ألفية السيوطي على ألفية العراقي.

ب- قسم التحقيق:

ويشتمل على التالي:

1 - اسم الكتاب وتوثيق نسبته إلى السيوطي.

2 - وصف نسخ الكتاب.

3 - وصف نسخ الألفية المخطوطة والمطبوعة.

4 - منهجي في تحقيق الكتاب.

* * *
পঞ্চম:

আলফিয়্যাতুস সুয়ূতী-র ব্যাখ্যাসমূহ।

ষষ্ঠ:

আল-বাহর এবং আত-তাদরীব-এর মধ্যে তুলনা।

সপ্তম:

আলফিয়্যাতুল ইরাকী-র ওপর আলফিয়্যাতুস সুয়ূতী-র বৈশিষ্ট্যসমূহ।

খ- তাহকীক (সম্পাদনা) বিভাগ:

এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

১ - কিতাবের নাম এবং সুয়ূতী-র প্রতি এর সম্বন্ধের প্রামাণিকতা।

২ - কিতাবের পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ।

৩ - আলফিয়্যার পাণ্ডুলিপি এবং মুদ্রিত কপিগুলোর বিবরণ।

৪ - কিতাবটি সম্পাদনায় আমার অনুসৃত পদ্ধতি।

* * *
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌كلمة حمد وشكر وتقدير

أحمد اللَّه عز وجل حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه، كما يجب ربنا ويرضى، وأشكره أولًا وآخرًا، وظاهرًا وباطنًا على أن هداني ووفقني، وحبب إليّ سنة نبيه الكريم عليه أفضل الصلاة وأزكى التسليم، وشرفني بالاشتغال بعلوم السنة الغراء. {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ} (1)، وأسأله سبحانه بأسمائه الحسنى وصفاته العلا أن يحشرني في زمرة الذين أنعم عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين، وأن يجعل نيل هذه الدرجة نيل أعلى درجات الجنة برحمته التي وسعت كل شيء.

ثم أتقدم بالشكر الجزيل لشيخي الفاضل الدكتور/ سعدي مهدي الهاشمي المشرف على الرسالة على حسن إرشاده وتوجيهه وتعليمه لي في سنوات الإشراف على الرسالة، كما أتقدم بخالص الدعاء والتقدير لشيخيّ الكريمين الشيخ/ حماد بن محمد الأنصاري رحمه اللَّه تعالى على ما أولاني به من رعاية أبوية علمية، ولشيخي الدكتور/ محمود ميره على حسن تعليمه وإرشاده وتوجيهه لي من كلية الحديث إلى أن أشار علي بأخذ هذا الموضوع بالدراسات العليا.

وأشكر لجميع مشايخي حسن تعليمهم، وإرشادهم لي.

--------------------------------------------

(1) سورة الأعراف: 43.
প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার বাণী

আমি মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রশংসা করছি এমন অনেক বেশি, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসার মাধ্যমে, যেমনটি আমাদের প্রতিপালকের জন্য উপযোগী এবং যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে। আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে; কারণ তিনি আমাকে হিদায়েত দিয়েছেন ও তাওফিক দান করেছেন এবং তাঁর সম্মানিত নবীর সুন্নাহকে—যাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক—আমার কাছে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং আমাকে সমুজ্জ্বল সুন্নাহর জ্ঞানচর্চায় নিয়োজিত করে সম্মানিত করেছেন। {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের হিদায়েত না দিলে আমরা পথ পেতাম না} (১), এবং আমি পবিত্র সত্তার নিকট তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলির উসিলায় প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে সেই সব ব্যক্তিদের দলে হাশর করেন যাদের ওপর তিনি অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সিদ্দিকগণ, শহীদগণ ও নেককার বান্দাগণ; আর তাঁর সেই রহমতের মাধ্যমে যা সব কিছুকে বেষ্টন করে আছে, এই ডিগ্রি অর্জনকে যেন জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম অর্জনের উসিলা বানিয়ে দেন।

অতঃপর আমি আমার শ্রদ্ধেয় শায়খ ডক্টর সাদী মাহদী আল-হাশিমীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি এই অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন; তত্ত্বাবধানের বছরগুলোতে তাঁর উত্তম দিকনির্দেশনা, পরামর্শ ও আমাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য। পাশাপাশি আমি আমার দুই সম্মানিত শায়খের প্রতি আন্তরিক দুআ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি; শায়খ হাম্মাদ বিন মুহাম্মদ আল-আনসারী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন), যিনি আমাকে পিতৃতুল্য ইলমী যত্ন প্রদান করেছেন; এবং আমার শায়খ ডক্টর মাহমুদ মিরা-র প্রতি, কুল্লিয়াতুল হাদিস থেকে শুরু করে উচ্চতর গবেষণায় এই বিষয়টি গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া পর্যন্ত তাঁর উত্তম পাঠদান, নির্দেশনা ও দিকনির্দেশনার জন্য।

আমি আমার সকল শায়খকে তাঁদের সুন্দর শিক্ষা ও নির্দেশনার জন্য ধন্যবাদ জানাই।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আরাফ: ৪৩।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ১১)
هذا وأبتهل إلى اللَّه جلّ في علاه، داعيًا من أعماق قلبي للمسئولين بالجامعة الإسلامية على اختلاف مرافقها، وبالدراسات العليا على وجه الخصوص أن يثيبهم ويجزيهم خيرًا، على ما يقدمونه من خدمة للعلم وطلابه، ورزقني اللَّه وإياهم الصلاح والسداد والإخلاص في جميع الأقوال والأعمال.

جزى اللَّه الجميع خير الجزاء، وأحسن لهم المئوبة والأجر، بفضله ومنّه، وآخر دعوانا أن الحمد للَّه رب العالمين واللهم صلِّ على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم، وبارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم في العالمين إنك حميد مجيد.

* * *
পরিশেষে আমি সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর কাছে বিনীত প্রার্থনা করছি এবং আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ইসলামিক ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগ ও বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা স্তরের দায়িত্বশীলদের জন্য দুআ করছি যেন আল্লাহ তাদেরকে উত্তম প্রতিদান ও সওয়াব দান করেন সেই খেদমতের বিনিময়ে যা তারা ইলম ও ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য আঞ্জাম দিচ্ছেন। আল্লাহ আমাকে এবং তাঁদেরকে সকল কথা ও কাজে সংশোধন, সঠিক পথ এবং ইখলাস নসীব করুন।

আল্লাহ সবাইকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় তাঁদের প্রত্যাবর্তন ও পুরস্কারকে সুন্দর করে দিন। আমাদের শেষ কথা হলো—সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন যেমনটি আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহীম ও ইব্রাহীমের পরিবারের ওপর। আর আপনি বরকত নাযিল করুন মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর যেমনটি আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইব্রাহীম ও ইব্রাহীমের পরিবারের ওপর বিশ্বজাহানের মধ্যে; নিশ্চয়ই আপনি চির প্রশংসিত ও পরম মহিমান্বিত।

* * *
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌أولًا: السنة مكانتها وحجيتها
প্রথমত: সুন্নাহ, এর মর্যাদা ও প্রামাণিকতা
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد للَّه نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده اللَّه فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وآله وسلم.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (1).

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (2).

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} (3).

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران: الآية 102.

(2) سورة النساء: آية 1

(3) سورة الأحزاب: الآية 70 - 71.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} (১)।

{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট (অধিকার) প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।} (২)।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তবেই তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করল।} (৩)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইমরান: আয়াত ১০২।

(২) সূরা আন-নিসা: আয়াত ১

(৩) সূরা আল-আহযাব: আয়াত ৭০ - ৭১।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ১৬)
أما بعد (1):

فإنّ اللَّه عز وجل أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، وأنزل عليه كتابه الكريم، الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه، ولا من خلفه، وأمره بتبليغه للناس وبيانه فقال عز وجل:

{يَاأَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ} (2).

وقال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (3).

وقال سبحانه: {وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} (4).

--------------------------------------------

(1) هذه خطبة الحاجة التي علمها رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أصحابه، وهي سنة: يبتدأ بها في النكاح وغيره.

رواها: أبو داود (كتاب النكاح - باب في خطبة النكاح 2/ 591) والترمذي - (كتاب النكاح - باب في خطبة النكاح 3/ 404) وقال: حديث حسن، والنسائي (كتاب النكاح - باب ما يستحب من الكلام عند النكاح 6/ 89) وغيرهم عن جمع من الصحابة، وهو حديث صحيح، وللألباني فيها كتاب سماه "خطبة الحاجة".

(2) سورة المائدة: 67.

(3) سورة النحل: 44.

(4) سورة النحل: 64.
অতঃপর: (১):

নিশ্চয় আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন সহকারে প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। আর তিনি তাঁর প্রতি নাযিল করেছেন তাঁর সম্মানিত কিতাব, যার সম্মুখ বা পশ্চাৎ কোনো দিক থেকেই মিথ্যা আসার অবকাশ নেই। তিনি তাঁকে তা মানুষের নিকট পৌঁছে দিতে এবং এর ব্যাখ্যা করতে আদেশ প্রদান করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন:

{হে রাসূল! আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না।} (২)।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) নাযিল করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য যা নাযিল করা হয়েছে তা তাদের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারেন এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।} (৩)।

সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আমি আপনার প্রতি এ কিতাব এ জন্যই নাযিল করেছি যে, তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে আপনি তা তাদের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবেন এবং এটি মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত স্বরূপ।} (৪)।

--------------------------------------------

(১) এটি হলো খুতবাতুল হাজাহ যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের শিক্ষা দিয়েছেন এবং এটি সুন্নাত: বিবাহ ও অন্যান্য মজলিসে এর মাধ্যমে সূচনা করা হয়।

এটি বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ (নিকাহ অধ্যায় - বিবাহে খুতবা অনুচ্ছেদ ২/৫৯১), তিরমিযী (নিকাহ অধ্যায় - বিবাহে খুতবা অনুচ্ছেদ ৩/৪০৪) এবং তিনি বলেছেন: হাদীসটি হাসান, নাসায়ী (নিকাহ অধ্যায় - বিবাহের সময় যা বলা মুস্তাহাব অনুচ্ছেদ ৬/৮৯) এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ সাহাবীদের একটি জামাত থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি একটি সহীহ হাদীস এবং আলবানীর এ বিষয়ে 'খুতবাতুল হাজাহ' নামক একটি কিতাব রয়েছে।

(২) সূরা আল-মায়িদাহ: ৬৭।

(৩) সূরা আন-নাহল: ৪৪।

(৪) সূরা আন-নাহল: ৬৪।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ১৭)
ثم أوجب اللَّه علينا طاعته، وامتثال أوامره، والانتهاء عن نواهيه فقال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ} (1).

وقال سبحانه: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} (2).

ومما لا شك فه أنّ الكتاب والسنة أصلان أصيلان لا ينفك أحدهما عن الآخر، ومنبعان للتشريع متعاضدان.

قال صلى الله عليه وسلم: "ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه. . " (3).

وقال أيضًا: "تركت فيكم شيئين ما إن تمسكتم بهما لن تضلوا: كتاب اللَّه، وسنتي، ولن يتفرقا حتى يردا عليّ الحوض" (4).

ولقد تكفل اللَّه عز وجل بحفظ شريعة الإسلام كتابًا وسنة،

--------------------------------------------

(1) سورة الأنفال: 20.

(2) سورة الحشر: 7.

(3) حديث صحيح رواه احمد (2/ 377)، وأبو داود (كتاب السنة باب لزوم السنة - 5/ 10)، والترمذي (كتاب العلم - باب ما نهي عنه أن يقال عند حديث النبي صلى الله عليه وآله وسلم 5/ 37) وقال: حسن صحيح، وابن ماجة (المقدمة - باب تعظيم حديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم 1/ 6) وغيرهم.

(4) حديث صحيح رواه الحاكم (1/ 93)، وعنه البيهقي (10/ 114)، ومالك (2/ 899) بلاغًا. صحيح الجامع (3/ 39)، والصحيحة (4/ 361).
অতঃপর আল্লাহ আমাদের ওপর তাঁর আনুগত্য, তাঁর নির্দেশসমূহ পালন এবং তাঁর নিষেধসমূহ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না, যখন তোমরা (তাঁর কথা) শুনছ।} (১)।

পবিত্র সত্তা বলেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।} (২)।

এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, কিতাব এবং সুন্নাহ হচ্ছে দুটি মৌলিক উৎস যা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না এবং এগুলো শরিয়ত প্রণয়নের ক্ষেত্রে পরস্পর সহযোগী দুটি ঝর্ণাধারা।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সাবধান! আমাকে কুরআন এবং তার সাথে তারই সদৃশ কিছু (সুন্নাহ) দেওয়া হয়েছে..." (৩)।

তিনি আরও বলেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ। হাউযে (কাওসারে) আমার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত এ দুটি কখনোই পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না।" (৪)।

এবং নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ ইসলামি শরিয়তকে কিতাব ও সুন্নাহ—উভয়সহ সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আনফাল: ২০।

(২) সূরা আল-হাশর: ৭।

(৩) এটি একটি সহীহ হাদীস; ইমাম আহমদ (২/ ৩৭৭), আবু দাউদ (কিতাবুস সুন্নাহ, পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর অপরিহার্যতা - ৫/ ১০), তিরমিযী (কিতাবুল ইলম - পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের সামনে যা বলা নিষেধ ৫/ ৩৭) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান সহীহ বলেছেন। ইবনে মাজাহ (মুকাদ্দিমা - পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসকে সম্মান করা ১/ ৬) এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) সহীহ হাদীস; হাকেম (১/ ৯৩) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে বায়হাকী (১০/ ১১৪), এবং মালিক (২/ ৮৯৯) বালাগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সহীহুল জামি' (৩/ ৩৯) এবং আস-সহীহাহ (৪/ ৩৬১)।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ১৮)
لأنها هي الشريعة التي ارتضاها، وكتب لها الخلود والبقاء إلى يوم القمامة، قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (1).

وقال سبحانه: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} (2).

والسنة لها مكانة عالية وكبيرة في الإسلام، فهي الأصل الثاني بعد كتاب اللَّه عز وجل المعتمد في التشريع، وقد جاءت السنة مفسرة لمبهم القرآن، مفصلة لمجمله، مقيدة لمطلقه، مخصصة لعمومه، شارحة لأحكامه وأهدافه ومراميه، وجاءت بأحكام زائدة مستقلة لم ينص عليها القرآن، ولما كان للسنة هذا القدر العظيم في الإسلام فقد اتفق علماء السنة قاطبة على حجيتها.

قال الإمام الشافعي رحمه الله:

"قد وضع اللَّه رسوله صلى الله عليه وسلم من دينه وفرضه وكتابه الموضع الذي أبان -جل ثناؤه- أنه جعله علمًا لدينه بما افترض من طاعته، وحرَّم من معصيته، وأبان من فضيلته، بما قرن بين رسوله مع الإيمان به، فقال تبارك وتعالى: {فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ. . .} (3).

--------------------------------------------

(1) سورة الحجر: 9.

(2) سورة المائدة: 3.

(3) سورة النساء: 171.
কারণ এটিই সেই শরীয়ত যা তিনি মনোনীত করেছেন এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত এর স্থায়িত্ব ও অবিনশ্বরতা অবধারিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি উপদেশ (কুরআন) নাযিল করেছি এবং অবশ্যই আমি এর হিফাযতকারী।" (১)।

এবং তিনি পবিত্র সত্তা বলেছেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।" (২)।

ইসলামে সুন্নাহর এক সুউচ্চ ও সুমহান মর্যাদা রয়েছে। এটি মহান আল্লাহর কিতাবের পর বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় নির্ভরযোগ্য মূল উৎস। সুন্নাহ কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়সমূহের ব্যাখ্যা প্রদানকারী, সংক্ষিপ্ত বিষয়সমূহের বিস্তারিত বর্ণনাকারী, নিঃশর্ত বিষয়সমূহের সীমাবদ্ধতা নির্ধারণকারী, সাধারণ হুকুমসমূহের বিশেষত্ব দানকারী এবং এর বিধানসমূহ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহের বিশদ বর্ণনাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এছাড়া সুন্নাহ এমন কিছু অতিরিক্ত ও স্বতন্ত্র বিধান প্রদান করেছে যা কুরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ইসলামে সুন্নাহর এই মহান মর্যাদার কারণেই সুন্নাহর সকল আলিম এর প্রামাণিকতার (হুজ্জিয়াত) বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

ইমাম শাফেঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন:

"আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীন, তাঁর নির্দেশিত ফরযসমূহ এবং তাঁর কিতাবের মাধ্যমে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এমন এক সুউচ্চ স্থানে আসীন করেছেন যা সম্পর্কে তিনি (আল্লাহ) স্বয়ং স্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন যে, তিনি তাঁকে তাঁর দ্বীনের জন্য একটি নিদর্শন বানিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি রাসূলের আনুগত্যকে ফরয করেছেন, তাঁর অবাধ্যতাকে হারাম করেছেন এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বকে ফুটিয়ে তুলেছেন; কেননা তিনি নিজের প্রতি ঈমান আনার সাথে তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনাকেও যুক্ত করেছেন। বরকতময় ও মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনো...} (৩)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হিজর: ৯।

(২) সূরা আল-মায়িদাহ: ৩।

(৩) সূরা আন-নিসা: ১৭১।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال عز وجل:

{إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِذَا كَانُوا مَعَهُ عَلَى أَمْرٍ جَامِعٍ لَمْ يَذْهَبُوا حَتَّى يَسْتَأْذِنُوهُ. . .} (1).

فجعل كمال ابتداء الإيمان الذي ما سواه تبع له الإيمان باللَّه ثم برسوله معه" (2).

وقال الإمام الشوكاني:

"إنّ ثبوت حجية السنة المطهرة، واستقلالها تشريع الأحكام ضرورة دينية، ولا يخالف في ذلك إلا من لا حظ له في الإسلام" (3).

ومن هذا المنطلق نجد الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم يحث أمته على التمسك بسنته، والعناية بها، ويبين لها أنّ التمسك بسنته نجاة من الضلال، وأنّ الوجه إليها بعد الفتور هداية ورشاد (4)،

--------------------------------------------

(1) سورة النور: 62.

(2) الرسالة: (ص 73 - 75).

(3) إرشاد الفحول: (ص 29).

(4) دليل ذلك حديث عبد اللَّه بن عمرو مرفوعًا: "إن لكل عمل شِرَّة. . . . الحديث".

صحيح على شرط الشيخين رواه الطحاوي في مشكل الآثار (2/ 88)، وأحمد (2/ 188)، وابن أبي عاصم في السنة (1/ 28).
এবং মহান আল্লাহ বলেন:

{মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে এবং যখন তারা তাঁর সাথে কোনো সামষ্টিক কাজে থাকে, তখন তাঁর অনুমতি না নিয়ে চলে যায় না...} (১)।

“সুতরাং তিনি ঈমানের সূচনার সেই পূর্ণতাকে—যা ব্যতীত অন্য সবকিছু এরই অনুগামী—আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর সাথে তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনার মাঝে নিহিত রেখেছেন” (২)।

এবং ইমাম আশ-শাওকানী বলেন:

“পবিত্র সুন্নাহর প্রামাণ্যতা সাব্যস্ত হওয়া এবং বিধান প্রবর্তনে এর স্বতন্ত্র ভিত্তি হওয়া একটি ধর্মীয় অপরিহার্যতা; কেবল সেই ব্যক্তিই এর বিরোধিতা করে, ইসলামে যার কোনো অংশ নেই” (৩)।

আর এই দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা দেখতে পাই যে, সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরতে এবং এর প্রতি যত্নশীল হতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি তাদের জন্য এটি স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা পথভ্রষ্টতা থেকে মুক্তির পথ, আর স্থবিরতার পর এর দিকে মনোনিবেশ করাই হলো হিদায়াত ও সঠিক পথপ্রাপ্তি (৪),

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নূর: ৬২।

(২) আর-রিসালাহ: (পৃষ্ঠা ৭৩ - ৭৫)।

(৩) ইরশাদুল ফুহুল: (পৃষ্ঠা ২৯)।

(৪) এর প্রমাণ হলো আব্দুল্লাহ ইবনে আমর কর্তৃক মারফূ সূত্রে বর্ণিত হাদীস: "নিশ্চয়ই প্রতিটি আমলের একটি উদ্যম রয়েছে..." (সম্পূর্ণ হাদীস)।

এটি শায়খাইনের শর্তানুযায়ী সহীহ। ইমাম তাহাভী 'মুশকিলুল আসার' (২/ ৮৮), আহমাদ (২/ ১৮৮) এবং ইবনু আবী আসিম 'আস-সুন্নাহ' (১/ ২৮)-তে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ২০)
وأن المتمسك بها عند وقوع الفتن له أجر خمسين من الصحابة (1) وأنها من مرجحات الإمامة في الصلاة (2)، وفي أمور أخرى، ويبرأ صلى الله عليه وآله وسلم ممن رغب عنها (3)، ولقد حفظت السنة في أماكن أمينة ومكينة؛ حفظت في صدور رجال صدقوا ما عاهدوا اللَّه عليه من صحابة فتابعين فأتباعهم، فمن بعدهم من علماء هذه الأمة الأفذاذ الذين تشبعت قلوبهم بحب رسولهم فحفظوا السنة ووعوها وعملوا بها، وتفيئوا ظلالها الوارفة، ثم أخرجوا لنا علمًا أصيلًا منها استخرجوه، وعليها بنوه، وحفاظًا لها أصّلوه وهو ما يسمى (بعلم مصطلح الحديث).

--------------------------------------------

(1) حديث صحيح رواه المروزي في السنة (ص 9)، وأبو داود (كتاب الملاحم -باب الأمر والنهي- 4/ 512)، والترمذي (كتاب التفسير - باب ومن سورة المائدة - 5/ 257)، وقال: هذا حديث حسن غريب، وابن ماجة (كتاب الفتن - باب قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ} - 2/ 1330) وغيرهم.

(2) دليل ذلك حديث ". . فإن كانوا في القراءة سواء فأعلمهم بالسنة. . الحديث". رواه مسلم (كتاب المساجد - باب من أحق بالإمامة - 1/ 465)

(3) الحديث في ذلك رواه البخاري (كتاب النكاح - باب الترغيب في النكاح 9/ 105)
এবং ফিতনার সময় যারা এর (সুন্নাহর) ওপর অবিচল থাকবে, তাদের জন্য পঞ্চাশজন সাহাবীর সমান সওয়াব রয়েছে (১)। আর এটি সালাতে ইমামতির ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য বিষয়েও অগ্রগণ্য হওয়ার অন্যতম মানদণ্ড (২); আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তার থেকে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করেছেন, যে ব্যক্তি এটি থেকে বিমুখ হয় (৩)। সুন্নাহকে অত্যন্ত নিরাপদ ও সুদৃঢ় স্থানে সংরক্ষণ করা হয়েছে; তা সংরক্ষিত হয়েছে এমন সব মানুষের অন্তরে, যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন—যাদের মধ্যে রয়েছেন সাহাবীগণ, অতঃপর তাবিঈগণ এবং তাঁদের অনুসারীগণ। অতঃপর এই উম্মতের সেই অনন্যসাধারণ উলামায়ে কেরামের অন্তরে সংরক্ষিত হয়েছে, যাদের হৃদয় তাঁদের রাসুলের ভালোবাসায় সিক্ত ছিল। ফলে তাঁরা সুন্নাহকে মুখস্থ করেছেন, আত্মস্থ করেছেন এবং তদনুযায়ী আমল করেছেন। তাঁরা এর সুনিবিড় ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন। অতঃপর তাঁরা আমাদের জন্য এক মৌলিক জ্ঞান বের করে এনেছেন যা তাঁরা সুন্নাহ থেকেই আহরণ করেছেন, এরই ওপর ভিত্তি করে তা গড়ে তুলেছেন এবং একে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই এর মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন; যা 'ইলমে মুসতালাহুল হাদিস' (হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি) নামে পরিচিত।

--------------------------------------------

(১) এটি একটি সহিহ হাদিস, যা ইমাম মারওয়াযী 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৯), আবু দাউদ (কিতাবুল মালাহিম, অধ্যায়: আদেশ ও নিষেধ, ৪/৫১২), তিরমিযী (কিতাবুত তাফসির, অধ্যায়: সূরা আল-মায়িদা থেকে, ৫/২৫৭) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি হাসান গরিব হাদিস। এছাড়াও ইবনে মাজাহ (কিতাবুল ফিতান, অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণী: 'হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের চিন্তা করো', ২/১৩৩০) এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) এর দলিল হলো হাদিস: "...অতঃপর যদি তারা কিরাআতের ক্ষেত্রে সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ... হাদিস"। ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন (কিতাবুল মাসাজিদ, অধ্যায়: ইমামতির জন্য কে অধিক হকদার, ১/৪৬৫)।

(৩) এ সংক্রান্ত হাদিসটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন (কিতাবুন নিকাহ, অধ্যায়: বিবাহের প্রতি উৎসাহ দান, ৯/১০৫)।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌علم المصطلح

أهميته - نشأته - مصنفاته
পরিভাষা বিদ্যা

এর গুরুত্ব - এর উদ্ভব - এর গ্রন্থাবলি
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ২৩)
علم مصطلح الحديث يعد مفخرة للأمة الإسلامية، وصفحة مشرفة من صفحاتها الخالدة، الوضاءة، المليئة بالمآثر والمكرمات، والفضائل، فما عرفت أمة من الأمم كيف تخلد أخبار علمائها وعظمائها، وقادتها وأبطالها كما عرفته الأمة الإسلامية، ولا عرفت كيف تصحح تاريخ رجالها كما عرفته الأمة المحمدية بواسطة علمائها وحفاظها ومحدثيها، وهذا الأمر من الخيرية التي خصها اللَّه به من بين بقية الأمم قال تعالى:

{كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ. . .} الآية (1).

 

ويمكن تلخيص أهمية هذا العلم الشريف في الأمور الآتية:

1 - علم المصطلح به يعرف صحيح السنة من سقيمها ومعلولها من سليمها، وحسبك بها من فائدة وثمرة فالمصطلح هو العلم الوحيد الذي تقف به على حال النقلة للحديث، وصفاتهم، وجرحهم وتعديلهم، وما تنضبط به أقوال الحفاظ في الرواة، ومدى سلامة الشد والمتن من العلل، وبالتالي يتحقق بذلك الأخذ بقول اللَّه تعالى:

{وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا. . . الآية} (2).

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران: 110.

(2) سورة الحشر: 7.
ইলমে মুসতালাহুল হাদিস ইসলামি উম্মাহর জন্য এক গৌরবের বিষয় এবং এর চিরন্তন ও উজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর মধ্যে একটি গৌরবময় অধ্যায়, যা কীর্তি, সম্মান ও ফযিলতে পরিপূর্ণ। কোনো জাতিই তাদের আলেম, মহীয়ান ব্যক্তি, নেতা ও বীরদের সংবাদকে এমনভাবে অমর করে রাখতে শেখেনি, যেভাবে ইসলামি উম্মাহ তা জেনেছে। আর কোনো জাতিই তাদের ব্যক্তিদের ইতিহাসকে এমনভাবে যাচাই-বাছাই করতে শেখেনি, যেভাবে মুহাম্মাদি উম্মাহ তাদের আলেম, হাফেজ ও মুহাদ্দিসদের মাধ্যমে তা অর্জন করেছে। এটি সেই শ্রেষ্ঠত্বের অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে আল্লাহ এই উম্মতকে অন্যান্য জাতির মাঝে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন:

{তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য যাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে...} আয়াত (১)।

 

এই মহান ইলমের গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরা যেতে পারে:

১ - মুসতালাহ শাস্ত্রের মাধ্যমে সুন্নাহর বিশুদ্ধ বর্ণনাকে অসুস্থ বর্ণনা থেকে এবং ত্রুটিযুক্ত বর্ণনাকে ত্রুটিমুক্ত বর্ণনা থেকে পৃথক করা যায়। আর ফায়দা ও ফল হিসেবে আপনার জন্য এটিই যথেষ্ট। কারণ মুসতালাহ হলো এমন একমাত্র ইলম যার মাধ্যমে হাদিস বর্ণনাকারীদের অবস্থা, তাদের গুণাবলী, তাদের সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা (জারহ ও তাদিল) এবং রাবিদের ব্যাপারে হাফেজদের উক্তিগুলো কিসের ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রিত হয় তা জানা যায়। সেইসাথে সনদ ও মতন ইল্লত বা সূক্ষ্ম ত্রুটি থেকে কতটা মুক্ত তাও এর দ্বারা নির্ণীত হয়। ফলস্বরূপ, এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর আমল করা সম্ভব হয়:

{রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো... আয়াত} (২)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান: ১১০।

(২) সূরা হাশর: ৭।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وبقوله سبحانه: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} (1) الآية إذ كيف يتم الاقتداء، والأخذ بشيء من السنة، والتعويل عليه في الاستدلال والاستنباط: ونحن نجهل صحته من ضعفه؟ ؟ .

2 - علم المصطلح يعد مفتاحًا لتحقيق نصوص كثيرةٍ من العلوم، فهذا العلم يعتني (بأسانيد) الأحاديث، والأخبار، ولو تتبعنا كثيرًا من العلوم في المصادر القديمة لوجدناها نقلت إلينا بأسانيد، فالقرآن الكريم حمله رواةٌ في صدورهم، ونقلوه إلينا، وهم كثر، بلغ بهم العدد حد التواتر، ولا سبيل لمعرفة ما صح من الطرق إلا بأن ندرس سند ذلك الطريق، وتلك القراءة، كما قال الناظم في القراءة المقبولة المعتبرة عند العلماء:

فَكُلُّ ما وافقَ وَجْهَ نَحْوِ … وكَانَ لِلرَسْم احتمالًا يَحْوِي

وصَحَّ إسْنَادًا هُوَ القُرآنُ … فهذه الثلاثةُ الأرْكَان (2)

وفي العقيدة نجدها قد نقلت إلينا عن نبي هده الأمة وسلفها بالأسانيد، فمثلًا: في إثبات الوجه للَّه عز وجل تقرأ في كتاب: "الأسماء والصفات" (3) لأبي بكر البيهقي (ت 459 هـ) في باب بيان الأسماء التي من أحصاها دخل الجنة، فتجد البيهقي يثبت لك العقيدة

--------------------------------------------

(1) سورة الأحزاب: 21.

(2) قالها ابن الجزري (ت 833) كما في طيبة النشر (ص 3).

(3) الأسماء والصفات (1/ 15).
এবং মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা: {তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে} (১) এই আয়াত। কেননা, কীভাবে অনুসরণ পূর্ণ হবে, সুন্নাহ থেকে কিছু গ্রহণ করা এবং দলিল প্রদান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তার উপর নির্ভর করা সম্ভব হবে—যখন আমরা তার বিশুদ্ধতা এবং দুর্বলতা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকব? .

২ - ইলমে মুসতালাহ (পরিভাষা বিজ্ঞান) অনেক শাস্ত্রের মূলপাঠ যাচাই-বাছাই করার জন্য একটি চাবিকাঠি হিসেবে গণ্য হয়। কারণ, এই শাস্ত্র হাদিস এবং সংবাদসমূহের 'সনদ' নিয়ে কাজ করে। আমরা যদি প্রাচীন উৎসগুলোতে অনেক শাস্ত্র অনুসন্ধান করি, তবে দেখতে পাব যে সেগুলো আমাদের কাছে সনদের মাধ্যমে পৌঁছেছে। এমনকি পবিত্র কুরআনও বর্ণনাকারীগণ তাদের অন্তরে ধারণ করেছেন এবং আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি, যা মুতাওয়াতির-এর পর্যায়ে পৌঁছেছে। কোনো একটি বর্ণনার শুদ্ধতা জানার অন্য কোনো পথ নেই কেবল সেই পথের সনদ এবং সেই কিরাতটি (পঠনরীতি) অধ্যয়ন করা ছাড়া। যেমনটি আলেমদের নিকট গ্রহণযোগ্য ও বিবেচিত কিরাত সম্পর্কে কবি বলেছেন:

অতএব যা কিছু ব্যাকরণের কোনো একটি দিকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় … এবং যা লিপির অনুকূলে হওয়ার সম্ভাবনা রাখে

এবং যার সনদ বিশুদ্ধ—সেটিই হলো কুরআন … এই তিনটিই হলো এর ভিত্তি (২)

আকিদার ক্ষেত্রেও আমরা দেখতে পাই যে, তা এই উম্মতের নবী এবং সালাফদের থেকে আমাদের কাছে সনদের মাধ্যমেই পৌঁছেছে। উদাহরণস্বরূপ: আল্লাহর জন্য চেহারার গুণ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আপনি আবু বকর আল-বায়হাক্বী (মৃত্যু ৪৫৯ হিজরি) রচিত "আল-আসমা ওয়াস-সিফাত" (৩) নামক গ্রন্থের সেই অধ্যায়ে পড়তে পারেন যেখানে ঐসব নামের বর্ণনা রয়েছে যা কেউ আয়ত্ত করলে জান্নাতে প্রবেশ করবে; সেখানে দেখবেন বায়হাক্বী আপনার জন্য আকিদা সাব্যস্ত করছেন—

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহজাব: ২১।

(২) এটি ইবনে আল-জাযারি (মৃত্যু ৮৩৩) তার 'তাইয়িবাতুন নাশর' (পৃষ্ঠা ৩) গ্রন্থে বলেছেন।

(৩) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত (১/ ১৫)।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ২৫)
بالسند فيقول:

أخبرنا أبو عبد اللَّه الحافظ، وأبو عبد اللَّه إسحاق بن محمد بن يوسف بن يعقوب السوسي وأبو بكر أحمد بن الحسن القاضي، قالوا: حدثنا أبو العباس محمد بن يعقوب نا محمد بن خالد بن حلي نا بش بن شعيب بن حمزة عن أبيه عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة قال: قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: "إن للَّه تسعةً وتسعينَ اسمًا، مِائةً إلا واحدًا، مَن أحصَاهَا دَخَل الجنَّة، إنَّه وِترٌ يُحِبُّ الوِترَ".

فدراسة هذا السند ضرورية جدًا لدراسة مثل هذا الحديث الوارد في (العقيدة)، ودراسة السند تحتاج إلى علم المصطلح، وكذلك (التفسير) نقل إلينا بالأسانيد، كتفسير ابن جرير الطبري (ت 310 هـ)، وتفسير البغوي (ت 516 هـ) (1)، وكذا (الفقه) ككتاب الأم إملاء الشافعي (ت 204 هـ) و (التاريخ) أيضًا لمصطلح الحديث عليه منةٌ، وقد ألَّف الدكتور عثمان موافي كتاب "منهج النقد التاريخي الإسلامي والمنهج الأوروبي" وبيَّن فيه أثر قواعد علوم الحديث في الروايات التاريخية في نقدها وتمحيصها، وللدكتور أكرم ضياء العمري كتاب: "المجتمع المدني"، قصد به: محاولة تطبيق قواعد المحدثين في مصطلح الحديث لنقد الروايات التاريخية.

--------------------------------------------

(1) مطبوعان.
সনদের সাথে, তিনি বলেন:

আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিয, আবু আবদুল্লাহ ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আস-সুসি এবং আবু বকর আহমদ ইবনে আল-হাসান আল-কাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেছেন: আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ইবনে হাল্লি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে শুয়াইব ইবনে হামজা তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ’রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যা এক কম একশ; যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। নিশ্চয়ই তিনি বিজোড় এবং বিজোড়কে ভালোবাসেন।"

সুতরাং (আকিদা) বিষয়ে বর্ণিত এই ধরনের হাদিস পর্যালোচনার জন্য এই সনদের অধ্যয়ন অত্যন্ত জরুরি। আর সনদ পর্যালোচনার জন্য হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রের প্রয়োজন হয়। একইভাবে (তাফসির) আমাদের নিকট সনদের মাধ্যমেই পৌঁছেছে, যেমন ইবনে জারির আত-তবারির তাফসির (মৃত্যু ৩১০ হি.), এবং আল-বাগাভির তাফসির (মৃত্যু ৫১৬ হি.) (১)। তদ্রূপ (ফিকহ) যেমন ইমাম শাফেয়ির (মৃত্যু ২০৪ হি.) শ্রুতিলিখনে রচিত 'কিতাবুল উম্ম', এবং (ইতিহাস)-এর ওপরও হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রের ঋণ রয়েছে। ডক্টর উসমান মাওয়াফি "ইসলামি ঐতিহাসিক সমালোচনা পদ্ধতি ও ইউরোপীয় পদ্ধতি" নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং এতে তিনি ঐতিহাসিক বর্ণনাসমূহ সমালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে হাদিস শাস্ত্রের নিয়মাবলির প্রভাব ব্যাখ্যা করেছেন। ডক্টর আকরাম যিয়া আল-উমারির "মাদানি সমাজ" নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি ঐতিহাসিক বর্ণনাসমূহ সমালোচনার ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদদের পরিভাষা শাস্ত্রের নিয়মাবলি প্রয়োগের প্রয়াস চালিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) উভয়টি মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ২৬)
بل وكتب اللغة والآدب نقلت إلينا بأسانيد، مثل كتاب "الأغاني" لأبي الفرج الأصبهاني، و"الأمالي" لأبي علي القالي، وقد ألّف الدكتور شرف الدين علي الراجحي كتابًا سماه: "مصطلح الحديث، وأثره على الدرس اللغوي عند العرب" (1) ذلك لأن علم المصطلح له منبعٌ دافقٌ ثَرٌ لا ينضب، وهو: السنة المطهرة.

يقول د/ محمد الصباغ: "تأثير الحديث النبوي على ثقافتنا العربية يفوق كل تصور، فلقد صبغت طريقته كل فنون ثقافتنا ومعارفنا، إنك تجد طريقة السند عمّت كل أنواع الكتب في مكتبتنا، من آدبية وتاريخية وغيرهما. . . " (2).

3 - إيجاد (الثقة) في نفوس المسلمين بتحقيق وعد اللَّه لهم بحفظ كتابه وسنة نبيه حيث قال سبحانه:

{إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (3).

فهذه القواعد تعد من أهم الأمور التي حفظ اللَّه بها السنة.

4 - "إيجاد (ملكةٍ) عد الدارس لهذا الفن يتمكن بها من تمحيص الأخبار الواردة، من حديث وتاريخ وغيرهما. . . (4) "،

--------------------------------------------

(1) طبع في مجلد.

(2) الحديث النبوي (ص 16).

(3) سورة الحجر: 9.

(4) مقدمة د/ مصطفى الخن لتقريب النووي (ص 18).
এমনকি ভাষা ও সাহিত্যের কিতাবগুলোও আমাদের কাছে সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, যেমন আবুল ফারাজ আল-আসফাহানির "আল-আগানি" এবং আবু আলী আল-কালির "আল-আমালি"। ডক্টর শরফুদ্দিন আলী আর-রাজিহি একটি কিতাব রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: "মুসতালাহুল হাদিস এবং আরবদের নিকট ভাষাতাত্ত্বিক পাঠের ওপর এর প্রভাব" (১)। এর কারণ হলো, পরিভাষা বিজ্ঞানের এমন একটি প্রবাহমান ও সমৃদ্ধ উৎস রয়েছে যা কখনো শেষ হয় না, আর তা হলো: পবিত্র সুন্নাহ।

ডক্টর মুহাম্মদ আস-সাব্বাগ বলেন: "আমাদের আরবি সংস্কৃতির ওপর নববী হাদিসের প্রভাব সকল কল্পনার অতীত। হাদিসের পদ্ধতি আমাদের সংস্কৃতির সকল শিল্প ও জ্ঞানশাখাকে রঞ্জিত করেছে। আপনি আমাদের লাইব্রেরির সকল প্রকার কিতাবেই সনদের পদ্ধতির ব্যাপকতা দেখতে পাবেন, তা সে সাহিত্যিক হোক বা ঐতিহাসিক কিংবা অন্য কিছু..." (২)।

৩ - মুসলমানদের অন্তরে (আস্থা) সৃষ্টি করা, আল্লাহর সেই ওয়াদা বাস্তবায়নের মাধ্যমে যা তিনি তাঁর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ সংরক্ষণের ব্যাপারে করেছেন। যেখানে মহান আল্লাহ বলেন:

{নিশ্চয় আমিই যিকর (উপদেশবাণী) নাজিল করেছি এবং নিশ্চয় আমিই তার সংরক্ষণকারী} (৩)।

সুতরাং এই মূলনীতিগুলো সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে আল্লাহ সুন্নাহকে সংরক্ষণ করেছেন।

৪ - "এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর মধ্যে এমন একটি (যোগ্যতা) তৈরি করা, যার মাধ্যমে সে বর্ণিত সংবাদসমূহ—তা হাদিস হোক বা ইতিহাস কিংবা অন্য কিছু—যাচাই-বাছাই করতে সক্ষম হয় (৪)।"

--------------------------------------------

(১) এক খণ্ডে মুদ্রিত।

(২) আল-হাদিস আন-নববী (পৃষ্ঠা ১৬)।

(৩) সূরা আল-হিজর: ৯।

(৪) ইমাম নববীর তাকরিব-এর ওপর ডক্টর মুস্তফা আল-খিন-এর ভূমিকা (পৃষ্ঠা ১৮)।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ২৭)
ويصير الدارس لهذا العلم دقيقًا في تعلمه وتعليمه لهذا العلم الشرعي بحميع فروعه، ولقد كان أحد شيوخي من المحدثين الأفاضل دائمًا يحثنا على تعلم علم الحديث، ويقول: تصبحون في يوم من الأيام حكامًا على أقوال الناس وأفعالهم لا محكومين.

أضف إلى ذلك: أن كثيرًا من الخلافيات في الفروع التي يبقى الكثير حائرًا عندها، يستطيع العالم وطالب العلم أن يرجح بين الأقوال بهذا العلم، وكلما رسخت قدمه في علم المصطلح، كلما استطاع أن يسبر غور الخلاف بين الأقوال المختلفة، لأنه يراجع أصول المذاهب والأقوال؛ بالرجوع إلى أدلتها بثبوتها أو عدم ثبوتها.

5 - بيان منهج (السلف) من المحدثين، ودقتهم في وضع قواعد معتمدة على الكتاب والسنة، ومنهجيتهم في ذلك، وتنظيمهم، وتنسيقهم، ودقتهم لحفظ سنة خير البشر صلى الله عليه وآله وسلم، وزيادة الثقة بهم، بأمانتهم العلمية في نقل شريعة اللَّه، وسنة رسوله صلى الله عليه وآله وسلم.

6 - ثم إنَّ علم المصطلح (تمهيدٌ ومقدمةٌ) للعلماء والمتخصصين في جميع علوم الشريعة، ليقوموا ببناء علومهم على أصولٍ ثابتةٍ، وقواعدَ راسخةٍ، فلا أحكام، ولا أقيسة، ولا اجتهاداتٍ تكون مصيبةً إذا لم تؤسس على نصوص القرآن والسنة الثابتة، والثبات لا يكون إلا بقواعد ثابتةٍ للنقد، والتمحيص النزيه، كقواعد مصطلح الحديث.
এই ইলম বা বিদ্যার শিক্ষার্থী এর সকল শাখায় এই শরয়ী জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত হয়ে ওঠেন। আমার শ্রদ্ধেয় মুহাদ্দিস উস্তাদদের একজন সর্বদা আমাদের ইলমে হাদিস শেখার ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন এবং বলতেন: "তোমরা একদিন মানুষের কথা ও কাজের বিচারক হবে, শাসিত বা বিচারপ্রার্থী হবে না।"

এর সাথে আরও যুক্ত করা যায়: ফিকহী শাখা-প্রশাখার এমন অনেক মতপার্থক্য যেখানে অনেকেই বিভ্রান্তিতে থাকেন, সেখানে একজন আলেম বা ইলম অন্বেষণকারী এই ইলমের মাধ্যমে বিভিন্ন মতের মাঝে অগ্রাধিকার প্রদান করতে পারেন। মুসতালাহ শাস্ত্রে তার পা যত দৃঢ় হবে, বিভিন্ন মতের মধ্যকার মতভেদের গভীরতা অনুধাবনে সে ততই সক্ষম হবে। কারণ সে মাজহাব ও মতাদর্শগুলোর মূল উৎসগুলো যাচাই করে; আর তা করে দলিলসমূহের নির্ভরযোগ্যতা বা অনির্ভরযোগ্যতার দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে।

৫ - মুহাদ্দিসগণের মধ্য থেকে পূর্বসূরিদের (সালাফ) মানহাজ বা কর্মপন্থা এবং কিতাব ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে নীতিমালা প্রণয়নে তাদের সূক্ষ্মতা স্পষ্ট করা। সেই সাথে এই কাজে তাদের কর্মপদ্ধতি, সংগঠন, বিন্যাস এবং মানবকুলের শ্রেষ্ঠ সত্তার (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) সুন্নাহ সংরক্ষণে তাদের নিখুঁত প্রয়াস তুলে ধরা। এর ফলে আল্লাহর শরীয়ত ও তাঁর রাসূলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) সুন্নাহ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের জ্ঞানগত আমানতদারির প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পায়।

৬ - অতঃপর, মুসতালাহ শাস্ত্র হলো শরীয়তের সকল শাখার আলেম ও বিশেষজ্ঞদের জন্য একটি (প্রস্তুতি ও ভূমিকা), যাতে তারা তাদের জ্ঞানকে সুদৃঢ় মূলনীতি ও মজবুত নিয়মের ওপর গড়ে তুলতে পারেন। কোনো বিধান, কিয়াস (অনুমান) বা ইজতিহাদ সঠিক হতে পারে না যদি তা কুরআন ও সুন্নাহর প্রমাণিত ভাষ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত না হয়। আর এই সুপ্রমাণিত হওয়া কেবল সমালোচনা ও নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের সুদৃঢ় নিয়মের মাধ্যমেই সম্ভব, যেমনটি হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষার (মুসতালাহুল হাদিস) নিয়মাবলী।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ২৮)
7 - قواعد علم المصطلح التي وضعها أجدادنا المسلمون تعلم المنهجية في الحكم على الأخبار دون أن يكون تأثرٌ بأي اعتبار آخر غير تطبيق تلك القواعد (1)، وفي هذا تربيةٌ للمسلم عالمًا أو متعلمًا على الإنصاف، والعدل، وأن الحق أكبر من كل كبير (2).

8 - وبهذا العلم يبرِّيء العالم ذمته، ويسلم حين نقل حديث رسول اللَّه من أن يشمله الوعيد الوارد في قول رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم:

"مَنْ حدَّث عنِّي بحديث يُرَى (3) أنَّه كَذِبٌ فهو أحدُ الكاذِبَين" (4)، وقوله صلى الله عليه وآله وسلم في الحديث المتواتر:

"مَن كَذَبَ عليَّ مُتَعَمِّدًا فَليَتَبَوأ مَقْعَدَهُ مِن النَّار" (5).

--------------------------------------------

(1) الحديث النبوي د/ الصباغ (ص 17).

(2) كان عبد الجبار بن أحمد من فقهاء الشافعية، وكان ينظر كثيرًا في مذهب الشافعي في الفروع والأصول، ولما وصل إلى قضية رأي الشافعي في عدم نسخ الكتاب بالسنة قال كلمةً حكيمةً قال: "الشافعي كبير والحق أكبر منه".

إرشاد الفحول (ص 191).

(3) برى: بضم الياء أو بفتحها: بمعنى: يظن أو يعلم.

شرح النووي (1/ 165) وإكمال إكمال المعلم (1/ 15).

(4) رواه مسلم (المقدمة 1/ 9).

(5) حديث متراتر، انظر قطف الأزهار (ص 23، ص 27) ولقط اللآليء المتناثرة للزبيدي (ص 261 - ص 282).
৭ - আমাদের মুসলিম পূর্বসূরিদের প্রণীত পরিভাষা বিজ্ঞানের মূলনীতিসমূহ অন্য কোনো বিবেচনার দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে কেবল সেই নিয়মগুলো প্রয়োগের মাধ্যমে সংবাদের ওপর হুকুম প্রদানের পদ্ধতি শেখায় (১)। এর মাধ্যমে আলেম বা শিক্ষার্থী—প্রত্যেক মুসলিমের ইনসাফ ও ন্যায়পরায়ণতার প্রশিক্ষণ হয় এবং এই শিক্ষা অর্জিত হয় যে, সত্য যে কোনো মহান ব্যক্তির চেয়েও মহত্তর (২)।

৮ - এই ইলমের মাধ্যমে আলেম নিজের দায়মুক্ত করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস বর্ণনা করার সময় সেই সতর্কবাণী থেকে রক্ষা পান যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীতে এসেছে:

"যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদীস বর্ণনা করবে যা মিথ্যা বলে মনে করা হয় (৩), তবে সেও মিথ্যুকদের একজন" (৪)। এবং মুতাওয়াতির হাদীসে বর্ণিত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বাণী:

"যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল বানিয়ে নেয়" (৫)।

--------------------------------------------

(১) আল-হাদীস আন-নাবাবী, ড. আস-সাব্বাগ (পৃষ্ঠা ১৭)।

(২) আব্দুল জাব্বার ইবনে আহমদ শাফেয়ী ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি শাখা ও মূল মাসআলায় ইমাম শাফেয়ীর মাযহাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। যখন তিনি সুন্নাহ দ্বারা কুরআন রহিত না হওয়া সংক্রান্ত ইমাম শাফেয়ীর মতামতের নিকট পৌঁছলেন, তখন তিনি এক প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা বললেন: "শাফেয়ী মহান ব্যক্তিত্ব, তবে সত্য তাঁর চেয়েও মহত্তর।"

ইরশাদুল ফুহুল (পৃষ্ঠা ১৯১)।

(৩) 'ইউরা' (يُرى): 'ইয়া' বর্ণে পেশ অথবা যবর সহযোগে; এর অর্থ হলো: ধারণা করা বা জানা।

শরহুন নববী (১/১৬৫) এবং ইকমালু ইকমালিল মুয়াল্লিম (১/১৫)।

(৪) ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন (মুকাদ্দিমা ১/৯)।

(৫) মুতাওয়াতির হাদীস, দেখুন: ক্বাতফুল আযহার (পৃষ্ঠা ২৩, পৃষ্ঠা ২৭) এবং যুবাইদী প্রণীত লাক্বতুল লাআলিল মুতানাসিরাহ (পৃষ্ঠা ২৬১ - পৃষ্ঠা ২৮২)।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ২৯)
9 - علم المصطلح "يعمل على تنقية الأذهان من الخرافات، وذلك أنَّ الإسرائيليين وغيرهم حاولوا نشر ما لديهم من الأقاصيص، والخرافات الكاذبة، والأباطيل، وهذه الأمور داء وبيل، يفت في عضد الشعوب، ويمزق الأمم. . . " (1).

هذا وقد مرَّ علم مصطلح الحديث بمراحل تاريخية مهمة جدًّا حتى كمل ونضج، وهذه المراحل تتلخص في التالي:

 

المرحلة الأولى:

وتمتد من أوائل القرن الأول الهجري إلى نهايته، وهو دور الصحابة رضي الله عنهم في وضع البنات الأولى لهذا العلم وذلك بحفظ السنة والتثبت حين أخذها وأدائها، ورحلاتهم في طلبها، ونقدهم لبعض حملتها.

 

المرحلة الثانية:

مرحلة تدوين السنة تدوينًا رسميًا، ومعها قواعد المصطلح منثورة مبثوثة فيها (2).

--------------------------------------------

(1) منهج النقد في علوم الحديث (ص 27).

(2) صحيح البخاري (1/ 194)، والبداية والنهاية (9/ 184).
৯ - পরিভাষা বিজ্ঞান "মস্তিষ্ককে কুসংস্কার থেকে পরিচ্ছন্ন করার কাজ করে। কারণ ইসরায়েলি এবং অন্যরা তাদের কাছে থাকা কিচ্ছা-কাহিনী, মিথ্যা কুসংস্কার এবং বাতিল বিষয়গুলো প্রচার করার চেষ্টা করেছিল। এই বিষয়গুলো এক মারাত্মক ব্যাধি, যা জাতিসমূহের শক্তিকে দুর্বল করে দেয় এবং উম্মতকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়... " (১)।

হাদিস পরিভাষা বিজ্ঞান পূর্ণতা ও পরিপক্বতা লাভ করা পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঐতিহাসিক পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। এই পর্যায়গুলো নিম্নে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

 

প্রথম পর্যায়:

এটি প্রথম হিজরি শতাব্দীর শুরু থেকে এর শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি হলো এই বিজ্ঞানের প্রথম ভিত্তি স্থাপনে সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ভূমিকার কাল; আর তা ছিল সুন্নাহর সংরক্ষণ এবং তা গ্রহণ ও বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন, সুন্নাহ অন্বেষণে তাঁদের সফর এবং বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করার মাধ্যমে।

 

দ্বিতীয় পর্যায়:

এটি সুন্নাহর দাপ্তরিক সংকলনের পর্যায়, যেখানে পরিভাষার নিয়মাবলি এর মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল (২)।

--------------------------------------------

(১) মানহাজুন নাকদ ফি উলুমিল হাদিস (পৃষ্ঠা ২৭)।

(২) সহিহ বুখারি (১/ ১৯৪), এবং আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (৯/ ১৮৪)।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ৩০)
المرحلة الثالثة:

تمتد هذه المرحلة تقريبًا من أواخر المائة الثانية إلى منتصف الرابعة، وقد أفردت في هذه المرحلة أنواع علوم الحديث بمصنفاتٍ مستقلةٍ كالعلل لعلي بن المديني (ت 234 هـ) (1).

إذًا فعلم المصطلح في هذه المرحلة عبارة إمّا عن أنواع مستقلةٍ، في كتب متفرقةٍ، ومختلفةٍ، وأمَّا عن قواعد مبثوثة في كتب الحديث على اختلاف نوعية تصنيفها.

 

المرحلة الرابعة:

جمع قواعد المصطلح في كتاب واحد:

وتبتدأ هذه المرحلة من متصف القرن الرابع إلى أوائل القرن السابع، عكف العلماء في هذه الفترة على كتب السابقين في قواعد الحديث والتي كانت التجربة الأولى في تدوين مصطلح الحديث، فجمعوا تلك القواعد المنثورة، والمتفرقة، والمستقلة بالتأليف في كتاب واحد، فأول من صنف تلك القواعد مجموعة هو:

1 - القاضي أبو محمد الحسن بن عبد الرحمن بن خلاد الرامهرمزي (ت 360 هـ)، في كتابه العظيم "المحدث الفاصل بن

--------------------------------------------

(1) طبع طبعتين: الأولى تحقيق د/ محمد مصطفى الأعظمي.

والأخرى بتحقيق د/ عبد المعطي قلعجي.
তৃতীয় পর্যায়:

এই পর্যায়টি আনুমানিক দ্বিতীয় হিজরি শতকের শেষভাগ থেকে চতুর্থ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পর্যায়ে হাদিস বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যেমন আলি ইবনুল মাদিনি (মৃত্যু ২৩৪ হিজরি) রচিত 'আল-ইলাল' (১)।

সুতরাং এই পর্যায়ে পরিভাষা শাস্ত্র হয় বিক্ষিপ্ত ও ভিন্ন ভিন্ন গ্রন্থে স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে ছিল, অথবা সংকলনের ভিন্নতা অনুযায়ী হাদিসের কিতাবসমূহের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা নীতিমালা হিসেবে বিদ্যমান ছিল।

 

চতুর্থ পর্যায়:

এক কিতাবে পরিভাষার নীতিমালাসমূহ একত্র করা:

এই পর্যায়টি চতুর্থ হিজরি শতকের মধ্যভাগ থেকে সপ্তম শতকের শুরু পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সময়ে আলিমগণ হাদিসের নীতিমালার ওপর পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহের প্রতি মনোনিবেশ করেন, যা ছিল হাদিসের পরিভাষা লিপিবদ্ধ করার প্রাথমিক প্রয়াস। অতঃপর তাঁরা সেই ছড়িয়ে থাকা, বিক্ষিপ্ত এবং স্বতন্ত্রভাবে রচিত নীতিমালাসমূহকে একটি কিতাবে একত্র করেন। এই নীতিমালাসমূহকে প্রথম যিনি একত্রে সংকলন করেছেন তিনি হলেন:

১ - আল-কাদি আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে খাল্লাদ আর-রামাহুরমুজি (মৃত্যু ৩৬০ হিজরি), তাঁর মহান গ্রন্থ "আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনা..."-তে।

--------------------------------------------

(১) এটি দুইবার মুদ্রিত হয়েছে: প্রথমটি ড. মুহাম্মদ মুস্তফা আল-আ'জমি'র তাহকীকে।

এবং অন্যটি ড. আব্দুল মুতি কালাজি'র তাহকীকে।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ৩১)
الراوي والواعي"، قال عنه الحافظ الذهبي: ". . . ما أحسنه من كتاب، قيل: إنّ السِّلفي كان لا يكاد يفارق كمّه، يعني في بعض عمره" (1).

وقال الحافظ ابن حجر في ترجمة شيخه إبراهيم بن أحمد التنوخي: "وقرأت عليه المحدث الفاصل بين الراوي والواعي لأبي محمد الحسن بن عبد الرحمن. . . وهو أول كتاب صنّف في علوم الحديث في غالب الظن، وإن كان يوجد قبله مصنفات مفردة في أشياء من فنونه، لكن هذا جمع ما جمع في ذلك في زمانه ثم توسعوا في ذلك (2).

وقال عنه في النزهة: "لكنه لم يستوعب" (3).

قلت: وقول الحافظ هذا لا ينقص من قدر الكتاب شيئًا لأنَّ أي كتاب يبتدأ به علم من العلوم لابد وأن يعتريه النقص، ولكن من يجيء بعده يتمم ما فاته، وهكذا حتى يبلغ العلم إلى الكمال والنضج

وقال الدكتور نور الدين العتر: وهو أكبر كتابٍ وضع في علوم الحديث حتى ذلك العصر. . . (4).

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء (16/ 73).

(2) المجمع المؤسس بالمعجم المفهرس (ق 27 - ق 28).

(3) نزهة النظر (ص 16).

(4) منهج النقد (ص 56).
'আর-রাবি ওয়াল-ওয়াঈ' (বর্ণনাকারী ও অনুধাবনকারী), হাফিজ আয-যাহাবি এটি সম্পর্কে বলেছেন: ". . . কতই না চমৎকার এই কিতাব! বলা হয়ে থাকে যে, আস-সিলাফি তাঁর জীবনের এক পর্যায়ে এটি (নিজ জামার) হাতা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্নই করতেন না" (১)।

হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর উস্তাদ ইব্রাহিম ইবনে আহমদ আত-তানুখির জীবনীতে বলেছেন: "আমি তাঁর নিকট আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আবদুর রহমানের রচিত 'আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল বাইনা আর-রাবি ওয়াল-ওয়াঈ' পড়েছি. . . প্রবল ধারণা অনুযায়ী এটিই হাদিস বিজ্ঞানের ওপর রচিত প্রথম গ্রন্থ। যদিও এর পূর্বে এই শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় বিচ্ছিন্ন কিছু রচনা ছিল, তবে এই কিতাবটি সে সময়ে ওই শাস্ত্রের যা কিছু ছিল তা একত্রিত করেছে, পরবর্তীতে অন্যরা এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত লিখেছেন (২)।

তিনি 'আন-নুজহাহ' গ্রন্থে এটি সম্পর্কে বলেছেন: "কিন্তু এটি সব কিছু অন্তর্ভুক্ত করেনি" (৩)।

আমি বলি: হাফিজের এই উক্তি কিতাবটির মর্যাদাকে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ করে না; কারণ যে কোনো শাস্ত্রের সূচনালগ্নে রচিত কিতাবে কিছুটা অপূর্ণতা থাকা অনিবার্য। তবে পরবর্তীতে যারা আসেন তারা পূর্ববর্তীদের বাদ পড়া অংশগুলো পরিপূরণ করেন। এভাবেই একটি শাস্ত্র পূর্ণতা ও পরিপক্বতা লাভ করে।

ডক্টর নুর উদ্দিন ইতর বলেছেন: এটিই ছিল সেই সময় পর্যন্ত হাদিস বিজ্ঞানের ওপর রচিত সর্ববৃহৎ গ্রন্থ. . . (৪)।

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৬/ ৭৩)।

(২) আল-মাজমাউল মুআসসিস বিল-মুজামিল মুফাহরাস (পত্র ২৭ - পত্র ২৮)।

(৩) নুজহাতুন নাযার (পৃ. ১৬)।

(৪) মানহাজুন নাকদ (পৃ. ৫৬)।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ৩২)
والكتاب جعله مصنفه في سبعة أجزاء متساوية الحجم تقريبًا، وقد حفظ لنا الرامهرمزي فيه نصوصًا تفرد بها، ولم ينقلها أحدٌ سواه (1).

يتكلم الرامهرمزي رحمه الله في هذا الكتاب عن فضل الناقل لسنة رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، وفضل الطالب لها، والراغب فيها، والمستن بها، والنية في طلب الحديث، وأوصاف الطالب وآدابه والعالي والنازل، وصيغ التحمل، . . . وعن التبويب والتصنيف، وغير ذلك من أبواب المصطلح (2).

وقد طبع الكتاب في مجلد ضخم بتحقيق الدكتور محمد عجاج الخطيب، طبعته دار الفكر ببيروت سنة 1391 هـ.

2 - ثم تلاه في التصيف الحاكم أبو عبد اللَّه محمد بن عبد اللَّه ابن البيّع النيسابوري (ت 405 هـ) في كتاب سماه: "معرفة علوم الحديث". ذكر رحمه الله في مقدمة الكتاب سبب التأليف فقال: "إني لما رأيت البدع في زماننا كثرت، ومعرفة الناس بأصول السنن قلَّت، مع إمعانهم في كتابة الأخبار، وكثرة طلبها على الإهمال، والإغفال، دعاني ذلك إلى تصنيف كتاب خفيف يشتمل على ذكر أنواع علم الحديث، مما يحتاج إليه طلبة الأخبار، والمواظبون على كتابة الآثار، وأعتمد في ذلك سلوك الاختصار، دون الإطناب في الإكثار، واللَّه

--------------------------------------------

(1) مقدمة المحقق (ص 28، 34، 35).

(2) مقدمة د/ محمد رأفت على "الجامع" للخطيب (1/ 62).
গ্রন্থকার বইটিকে প্রায় সমান আকারের সাতটি অংশে বিভক্ত করেছেন। আর-রামাহুরমুজি এতে এমন কিছু বর্ণনা সংরক্ষিত করেছেন যা তিনি ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি (১)।

আর-রামাহুরমুজি (রহিমাহুল্লাহ) এই গ্রন্থে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর বর্ণনাকারীর ফযিলত, এর অন্বেষণকারী, এতে আগ্রহী ব্যক্তি এবং সুন্নাহ অনুসরণকারীর ফযিলত সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এছাড়াও হাদীস অন্বেষণের নিয়ত, অন্বেষণকারীর গুণাবলি ও আদব, উচ্চ ও নিম্ন সনদ (আলি ও নাযিল), হাদীস গ্রহণের পদ্ধতি... এবং অনুচ্ছেদ বিন্যাস ও গ্রন্থনা এবং হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষার অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন (২)।

ডক্টর মুহাম্মাদ আজ্জাজ আল-খাতিব-এর তাহকীকে বইটি একটি বিশাল খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে; এটি ১৩৯১ হিজরীতে বৈরুতের দারুল ফিকর থেকে প্রকাশিত হয়।

২ - অতঃপর গ্রন্থ রচনায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ ইবনুল বাইয়ি‘ আন-নিশাপুরী (মৃত্যু: ৪০৫ হিজরী), তাঁর রচিত ‘মা‘রিফাতু উলূমিল হাদীস’ নামক গ্রন্থে। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) গ্রন্থের ভূমিকায় এটি রচনার কারণ উল্লেখ করে বলেন: "যখন আমি দেখলাম যে আমাদের সময়ে বিদআত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সুন্নাহর মূলনীতি সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান কমে গেছে, যদিও তারা সংবাদ বা হাদীস লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং সেগুলোর অন্বেষণ অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও তারা (মূলনীতির ব্যাপারে) উদাসীন ও গাফেল; তাই এটি আমাকে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ সংকলনে উদ্বুদ্ধ করেছে, যা হাদীস শাস্ত্রের বিভিন্ন প্রকারের আলোচনাকে অন্তর্ভুক্ত করবে, যা হাদীস অন্বেষণকারী এবং হাদীস লিপিবদ্ধকরণে যারা ব্রতী তাদের জন্য প্রয়োজনীয়। আমি এতে বাহুল্যবর্জন ও দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করে সংক্ষেপণের পথ অবলম্বন করেছি, আর আল্লাহর...

--------------------------------------------

(১) মুহাক্কিকের ভূমিকা (পৃ. ২৮, ৩৪, ৩৫)।

(২) খতিব-এর ‘আল-জামি’ গ্রন্থের ওপর ড. মুহাম্মাদ রাফাত আলী-এর ভূমিকা (১/ ৬২)।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الموفق لما قصدته، والمانّ في بيان ما أردته، إنه جواد كريم، رؤوف رحيم" (1).

وقد ذكر الحاكم اثنين وخمسين نوعًا من أنواع علوم الحديث، قال ابن حجر: لكنه لم يهذب، ولم يرتب (2)، وقد ذكر العلماء أن الحاكم فاته أمران في الكتاب:

1 - استيعاب أنواع الحديث.

2 - تهذيب العبارات، وضبطها حتى يتضح المراد من التعريف (3).

وقال طاهر الجزائري: "فيه فوائد مهمة، رائعة، ينبغي لطالبي هذا الفن الوقوف عليها. . . "، ثم لخصه في كتابه: "توجيه النظر" (4)،

--------------------------------------------

(1) معرفة علوم الحديث (ص 2).

(2) نزهة النظر (ص 16).

(3) انظر منهج النقد (ص 59).

(4) هذا الكتاب من نفائس ما كتبه المتأخرون في علم لمصطلح، وقد اعتمد فيه مؤلفه على كتب أصول الفقه، وأصول الحديث (ص 2)، وخصوصًا كتاب مقدمة ابن الصلاح فمن جاء بعده (ص 68)، وقد قسمه مؤلفه إلى ستة فصول رئيسية، وذكر بينها مسائل في فروع المصطلح منشورة في الكتاب، وأطلق عليها (فوائد) تارة، و (مطالب) تارة أخرى، كما أنه لخَّص كتابين مهمين وهما:

كتاب الحاكم كما ذكر (ص 162 - ص 201)، وكتاب (العلل) لابن أبي حاتم (ص 264 - ص 282)، وقد طبع الكتاب في حياة مؤلفه سنة (1328 هـ)، ويقع الكتاب في مجلد ضخم يحتوي على أربعمائة وتسع عشرة صفحة.
যিনি আমার অভীষ্ট লক্ষ্যে তাওফিক দানকারী এবং আমার অভিপ্রায় ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে অনুগ্রহকারী; নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় দানশীল ও পরম দয়ালু (১)।

ইমাম আল-হাকিম উলূমুল হাদীসের (হাদীস বিজ্ঞানের) বাহান্নটি প্রকার উল্লেখ করেছেন। ইবনে হাজার বলেছেন: কিন্তু তা পরিমার্জিত ছিল না এবং বিন্যস্তও ছিল না (২)। ওলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন যে, কিতাবটিতে ইমাম আল-হাকিম দুটি বিষয় এড়িয়ে গেছেন:

১ - হাদীসের সকল প্রকারের পূর্ণাঙ্গ সমাবেশ।

২ - বাক্যসমূহের পরিমার্জন এবং সেগুলোকে সুসংহত করা, যাতে সংজ্ঞা থেকে উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে (৩)।

তাহির আল-জাযাইরি বলেছেন: "এতে গুরুত্বপূর্ণ ও চমৎকার কিছু ফায়দা রয়েছে, এই বিদ্যার অন্বেষণকারীদের জন্য তা অবগত হওয়া আবশ্যক...", এরপর তিনি তা তাঁর কিতাব 'তাওজীহুন নাযার'-এ সংক্ষেপ করেছেন (৪),

--------------------------------------------

(১) মা'রিফাতু উলূমিল হাদীস (পৃষ্ঠা ২)।

(২) নুযহাতুন নাযার (পৃষ্ঠা ১৬)।

(৩) দেখুন: মানহাজুন নাকদ (পৃষ্ঠা ৫৯)।

(৪) এই কিতাবটি পরিভাষা বিজ্ঞানে (ইলমুল মুসতালাহ) পরবর্তী যুগের আলেমদের লেখা অমূল্য গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এর লেখক এতে উসূলে ফিকহ এবং উসূলে হাদীসের কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করেছেন (পৃষ্ঠা ২), বিশেষ করে ইবনুস সালাহর মুকাদ্দিমাহ ও তাঁর পরবর্তী লেখকদের কিতাবসমূহের ওপর (পৃষ্ঠা ৬৮)। লেখক একে ছয়টি প্রধান অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন এবং এর মাঝে কিতাবটিতে ছড়িয়ে থাকা মুসতালাহ শাস্ত্রের শাখা-প্রশাখার বিভিন্ন মাসআলা উল্লেখ করেছেন, যেগুলোকে তিনি কখনো 'ফাওয়াইদ' (উপকারিতা) এবং কখনো 'মাতালিব' (আলোচ্য বিষয়) হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়াও তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ কিতাব সংক্ষেপ করেছেন, সেগুলো হলো: ইমাম আল-হাকিমের কিতাব, যেমনটি উল্লিখিত হয়েছে (পৃষ্ঠা ১৬২ - পৃষ্ঠা ২০১), এবং ইবনু আবি হাতিমের 'আল-ইলাল' কিতাব (পৃষ্ঠা ২৬৪ - পৃষ্ঠা ২৮২)। কিতাবটি লেখকের জীবদ্দশায় ১৩২৮ হিজরীতে মুদ্রিত হয়েছে এবং এটি একটি বিশাল খণ্ডে সমাপ্ত যা চারশত উনিশ পৃষ্ঠা সম্বলিত।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقد ذكره أيضًا ابن خلدون في مقدمته، وامتدحه وزكاه كثيرًا (1).

وقد طبع الكتاب في مجلد بتحقيق: معظم حسين، بمطبعة مجلس دائرة المعارف العثمانية بحيدر أباد الدكن بالهند سنة (1385 هـ).

3 - ثم تلاه أبو نعيم أحمد بن عبد اللَّه الأصبهاني (ت 430 هـ) فعمل على كتابه (مستخرجًا) (2)، وأبقى أشياء للمتعقب (3)، وقد سمّاه الذهبي باسم: "علوم الحديث" (4).

وقال الشيخ علي بن سلطان القاري: "زاد أبو نعيم على الحاكم أشياء، واستدرك عليه ما فاته" (5).

4 - ثم جاء بعدهم الخطيب أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت البغدادي (ت 463) (6)، فألف كتابًا في قوانين الرواية سماه: "الكفاية في قوانين الرواية"، استوفى فيه البحث في قوانين الرواية،

--------------------------------------------

(1) مقدمة ابن خلدون (ص 281).

(2) مستخرجًا: بفتح الراء مفعول عمل، وبكسر الراء، حال من فاعله، فهو نزل منزلة اللازم حينئذ.

شرح نخبة الفكر (ص 10)، وإمعان النظر (ص 5).

(3) نزهة النظر (ص 16).

(4) سير أعلام النبلاء (17/ 456) والكتاب مفقود.

(5) شرح نخبة الفكر (ص 10)، ولقط الدرر (ص 23).

(6) نزهة النظر (ص 16).
ইবনে খালদুনও তাঁর মুকাদ্দিমায় এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর অনেক প্রশংসা ও গুণগান করেছেন (১)।

বইটি এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, যার তাহকিক করেছেন মোয়াজ্জম হোসেন। এটি ভারতের হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্যের মজলিসে দাইরাতিল মাআরিফ আল-উসমানিয়া প্রেসে ১৩৮৫ হিজরি সালে মুদ্রিত হয়েছে।

৩ - তারপর তাঁর অনুসরণ করেন আবু নুয়াইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসফাহানি (ওফাত ৪৩০ হিজরি)। তিনি তাঁর কিতাবের ওপর ভিত্তি করে একটি 'মুস্তাখরাজ' (২) রচনা করেন এবং পরবর্তী পর্যালোচকদের জন্য কিছু বিষয় অবশিষ্ট রাখেন (৩)। আয-যাহাবি একে 'উলুমুল হাদিস' (৪) নামে অভিহিত করেছেন।

শেখ আলি বিন সুলতান আল-কারি বলেন: "আবু নুয়াইম হাকেমের ওপর কিছু বিষয় সংযোজন করেছেন এবং তাঁর থেকে যা বাদ পড়েছিল তার ওপর ইস্তিদরাক করেছেন" (৫)।

৪ - এরপর তাঁদের পরে আসেন খতিব আবু বকর আহমদ বিন আলি বিন সাবিত আল-বাগদাদি (ওফাত ৪৬৩ হিজরি) (৬)। তিনি বর্ণনার নিয়মাবলি সম্পর্কে একটি গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দেন: 'আল-কিফায়াহ ফি কাওয়ানিনির রিওয়ায়াহ'। এতে তিনি বর্ণনার নিয়মাবলি সংক্রান্ত আলোচনা পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরেছেন।

--------------------------------------------

(১) মুকাদ্দিমা ইবনে খালদুন (পৃ. ২৮১)।

(২) মুস্তাখরাজান: 'রা' বর্ণে ফাতহা (জবর) সহ এটি 'আমাল' এর মাফউল (কর্মপদ), আর 'রা' বর্ণে কাসরা (জের) সহ এটি এর ফায়েল (কর্তা) থেকে হাল (অবস্থা), এমতাবস্থায় এটি লাজিম (অকর্মক) ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়।

শরহু নুখবাতিল ফিকার (পৃ. ১০), এবং ইমআনুন নাজর (পৃ. ৫)।

(৩) নুযহাতুন নাজর (পৃ. ১৬)।

(৪) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৭/ ৪৫৬) এবং বইটি বর্তমানে নিখোঁজ।

(৫) শরহু নুখবাতিল ফিকার (পৃ. ১০), এবং লাকতুদ দুরার (পৃ. ২৩)।

(৬) নুযহাতুন নাজর (পৃ. ১৬)।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وأبان فيه عن أصولها، وقواعدها الكلية، ومذاهب العلماه فيما اختلفت آراؤهم (1).

وقال الكتاني في كتابه: هو غايةٌ في بابه (2).

والكتاب يحتوي على مائةٍ وأربعين بابًا -مما صرَّح بتسميته بابًا- وأما ما لم يصرح بتسميته "بابًا" فهو تسعة وعشرون (3).

ومما ذكره في مقدمة الكتاب من أسباب التأليف، ومقاصد الكتاب قوله: "وأنا أذكر بمشيئة اللَّه تعالى وتوفيقه في هذا الكتاب ما بطالب الحديث حاجة إلى معرفته، وبالمتفقه فاقة إلى حفظه ودراسته، من بيان أصول علم الحديث وشرائطه، وأشرح من مذاهب سلف الرواة والنقلة في ذلك ما يكثر نفعه، وتعم فائدته، ويستدل به على فضل المحدثين، واجتهادهم في حفظ الدين، ونفيهم تحريف الغالين، وانتحال المبطلين. . . إلخ" (4).

وقد طبع الكتاب طبعتين، الأولى بالهند تحت إدارة جمعية دائرة المعارف العثمانية، بحيدر آباد الدكن، سنة 1357 هـ، وأشرف على تصحيحه مجموعة من العلماء، ثم طبع ثانية بمطبعة السعادة

--------------------------------------------

(1) منهج النقد (ص 57)، والمنهج الحديث (ص 23).

(2) الرسالة المستطرفة (ص 143).

(3) الخطيب البغدادي وأثره (ص 415).

(4) مقدمة الكفاية (ص 37).
এবং তিনি এতে এর মূলনীতিসমূহ, এর সামগ্রিক নিয়মাবলি এবং আলেমদের যে সকল বিষয়ে মতভেদ রয়েছে সে সম্পর্কে তাদের মাযহাবসমূহ স্পষ্ট করেছেন (১)।

এবং কাত্তানি তার গ্রন্থে বলেছেন: এটি তার বিষয়ের অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছেছে (২)।

গ্রন্থটি একশত চল্লিশটি অধ্যায় সংবলিত - যেগুলোকে তিনি স্পষ্টভাবে 'অধ্যায়' হিসেবে নামকরণ করেছেন - আর যেগুলোকে তিনি স্পষ্টভাবে 'অধ্যায়' হিসেবে নামকরণ করেননি তা হলো ঊনত্রিশটি (৩)।

গ্রন্থ রচনার কারণসমূহ এবং এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি গ্রন্থের ভূমিকায় যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্য থেকে তাঁর বক্তব্য হলো: "আমি আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ও তাঁর তাওফিকে এই গ্রন্থে এমন সব বিষয় উল্লেখ করব যা হাদীসের ছাত্রের জানার প্রয়োজন রয়েছে এবং ফকীহদের যা মুখস্থ করা ও অধ্যয়ন করা জরুরি; যেমন ইলমে হাদীসের মূলনীতি ও এর শর্তাবলির বর্ণনা। আর এতে আমি পূর্বসূরি বর্ণনাকারী ও হাদীস বিশেষজ্ঞগণের মাযহাবসমূহের মধ্য হতে এমন সব বিষয় ব্যাখ্যা করব যা অত্যন্ত উপকারী ও কল্যাণকর হবে, এবং যার মাধ্যমে মুহাদ্দিসগণের শ্রেষ্ঠত্ব, দ্বীন সংরক্ষণে তাঁদের কঠোর প্রচেষ্টা এবং বাড়াবাড়িকারীদের বিকৃতি ও বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার দূর করার ক্ষেত্রে তাঁদের অবদানের প্রমাণ পাওয়া যাবে... ইত্যাদি" (৪)।

গ্রন্থটি দুইবার মুদ্রিত হয়েছে। প্রথমটি ভারতে হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্যের জামঈয়্যাহ দাইরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়ার ব্যবস্থাপনায় ১৩৫৭ হিজরি সনে; একদল আলেমের তত্ত্বাবধানে এর সংশোধন সম্পন্ন হয়েছে। এরপর দ্বিতীয়বার সাআদাহ প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়েছে

--------------------------------------------

(১) মানহাজুন নাকদ (পৃ. ৫৭), এবং আল-মানহাজুল হাদীস (পৃ. ২৩)।

(২) আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ (পৃ. ১৪৩)।

(৩) আল-খাতীব আল-বাগদাদী ওয়া আসারুহু (পৃ. ৪১৫)।

(৪) মুকাদ্দিমাতুল কিফায়াহ (পৃ. ৩৭)।
(খণ্ড: ১১) আল-বাহরুল্লাযী জাখারা ফী শারহি আলফিয়্যাতিল আসার - কিসম ১ - তা. আল-ইন্দুনুসী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
بمصر بتحقيق وتعليق الأستاذين: عبد الحليم محمد عبد الحليم، وعبد الرحمن حسن محمود.

5 - الإلماع إلى معرفة أصول الرواية، وتقييد السماع (1) للقاضي عياض بن موسى اليحصبي (ت 544 هـ). وهو كتاب لطيف (2)، مختصر مفيد جدًا (3).

ذكر القاضي عياض الباعث له على تأليفه، ومادة كتابه باختصار، وأنَّ راغبًا رغب إليه في تلخيص فصول في معرفة الضبط، وتقييد السماع والرواية، وتبيين أنواعها، وما يصح وما يتزيف، وما يتفق من وجوهها، وما يختلف (4)، والكتاب مهم جدًا في موضوعه، قد اعتنى المصنف رحمه الله فيه بأنواع التحمل، وأطلق فيها قلمه، وأمعن فيها النظر، واستقصى الكلام عن الإجازة خاصة، وما يتعلق بها، حتى إنه قال عن هذا الضرب من ضروب الرواية:

(وقد تقصينا وجوه الإجازة بما لم نسبق إليه، وجمعنا فيه تفاريق -المجموعات، والمسموعات، والمشافهات، والمستنبطات) (5)،

--------------------------------------------

(1) التعريف بالقاضي عياض لابنه (ص 116)، ونزهة النظر (ص 17).

(2) نزهة النظر (ص 17).

(3) منهج النقد (ص 57).

(4) الإلماع (ص 3، 4).

(5) الإلماع (ص 25، 107)، ومقدمة الجامع للخطيب 1/ 76، 77.
মিশরে দুই অধ্যাপক: আব্দুল হালিম মুহাম্মদ আব্দুল হালিম এবং আব্দুর রহমান হাসান মাহমুদ কর্তৃক সম্পাদিত এবং টীকাযুক্ত।

৫ - কাযী ইয়াদ বিন মুসা আল-ইয়াহসুবি (মৃত্যু ৫৪৪ হিজরি) রচিত 'আল-ইলমা ইলা মারিফাতি উসুলির রিওয়াইয়াহ ওয়া তাকয়িদিদ সামা' (১)। এটি একটি চমৎকার কিতাব (২), যা সংক্ষিপ্ত এবং অত্যন্ত উপকারী (৩)।

কাযী ইয়াদ এটি রচনার কারণ এবং তাঁর কিতাবের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন। একজন আগ্রহী ব্যক্তি তাঁর কাছে নির্ভুলতা (দাবত) জানা, শ্রবণ (সামা) ও বর্ণনা (রিওয়াইয়াহ) লিপিবদ্ধ করা, এগুলোর প্রকারভেদ বর্ণনা করা, কোনটি সঠিক এবং কোনটি ত্রুটিপূর্ণ, এবং এর কোন দিকগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ আর কোনগুলো ভিন্নতর - সে সম্পর্কে অধ্যায়গুলোর সারসংক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন (৪)। কিতাবটি তার বিষয়ের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লেখক (রহিমাহুল্লাহ) এতে ইলম অর্জনের পদ্ধতিসমূহের (তাহাম্মুল) প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন, এ বিষয়ে বিস্তৃত কলম চালিয়েছেন, গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং বিশেষ করে 'ইজাযাহ' ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এমনকি বর্ণনার এই ধরনটি সম্পর্কে তিনি বলেছেন:

(এবং আমরা ইজাযাহ-র দিকগুলো এমনভাবে অনুসন্ধান করেছি যা আমাদের আগে কেউ করেনি, এবং আমরা এতে বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো একত্রিত করেছি - যেমন সংকলনসমূহ, শ্রুত বিষয়সমূহ, মৌখিক বর্ণনা এবং উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ) (৫),

--------------------------------------------

(১) তাঁর পুত্র রচিত 'আত-তারিফ বিল কাযী ইয়াদ' (পৃ. ১১৬), এবং 'নুযহাতুন নাযার' (পৃ. ১৭)।

(২) 'নুযহাতুন নাযার' (পৃ. ১৭)।

(৩) 'মানহাজুন নাকদ' (পৃ. ৫৭)।

(৪) 'আল-ইলমা' (পৃ. ৩, ৪)।

(৫) 'আল-ইলমা' (পৃ. ২৫, ১০৭), এবং খতীব বাগদাদীর 'আল-জামি' এর ভূমিকা ১/ ৭৬, ৭৭।