(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مصابيح الهدى   (محمد حسان)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب : سلسلة مصابيح الهدى

المؤلف : محمد بن إبراهيم بن إبراهيم بن حسان

مصدر الكتاب : دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 16 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাসাবীহুল হুদা (হেদায়েতের প্রদীপমালা) ধারাবাহিক   (মুহাম্মদ হাসান)

বিভাগ: জীবনী ও পর্যায়ক্রম


বই : মাসাবীহুল হুদা ধারাবাহিক

লেখক : মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন ইব্রাহিম বিন হাসান

বইয়ের উৎস : ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিপিকৃত অডিও দরসসমূহ

http://www.islamweb.net

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ বা দরস সংখ্যা - ১৬টি দরস]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরী

(খণ্ড: ١) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ١)
‌‌علي بن أبي طالب

علي بن أبي طالب أول من أسلم من الصبيان، تربى في بيت النبوة، وقدم نفسه فداءً للنبي عليه الصلاة والسلام يوم الهجرة، فكان من أشجع الرجال.

كانت له مواقف بطولية معروفة كموقفه في غزوة الخندق، وكذلك موقفه في غزوة خيبر الذي دل على محبة الله له، وكان موقفه الأخير -وهو من أعظم المواقف- في الفتنة، حيث كان الحق حليفه، وقد قتل رضي الله عنه وأرضاه غدراً.
আলী বিন আবী তালিব

আলী বিন আবী তালিব বালকদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন, তিনি নবুওয়াতের ঘরে লালিত-পালিত হন এবং হিজরতের দিন নবী (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) এর জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন, ফলে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত।

খন্দকের যুদ্ধের মতো তাঁর অনেক সুপরিচিত বীরত্বপূর্ণ অবস্থান ছিল, অনুরূপভাবে খায়বরের যুদ্ধেও তাঁর অবস্থান ছিল যা তাঁর প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার প্রমাণ দেয়। তাঁর শেষ অবস্থানটি—যা ছিল অন্যতম মহত্তম অবস্থান—ছিল ফিতনার সময়, যেখানে সত্য তাঁর পক্ষে ছিল। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন, তিনি বিশ্বাসঘাতকতামূলকভাবে নিহত হন।
(খণ্ড: ١) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ٢)
‌‌مواقف من حياة الإمام علي بن أبي طالب

الحمد لله رب العالمين نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله تعالى من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله وصفيه من خلقه وخليله، أدّى الأمانة وبلّغ الرسالة ونصح الأمة وكشف الله به الغمة وجاهد في الله حق جهاده حتى أتاه اليقين، فاللهم اجزه عنا خير ما جازيت نبياً عن أمته ورسولاً عن دعوته ورسالته، وصلِّ اللهم وسلم وزد وبارك عليه وعلى آله وأصحابه وأحبابه وأتباعه، وعلى كل من اهتدى بهديه واستن بسنته واقتفى أثره إلى يوم الدين.

أما بعد: فحيا الله هذه الوجوه الطيبة المشرقة وزكى الله هذه الأنفس المطمئنة بالإيمان، وشرح الله هذه الصدور، وأسأل الله جل وعلا أن يتقبل مني وإياكم صالح الأعمال، وأن يجمعني وإياكم في الدنيا دائماً وأبداً على طاعته، وفي الآخرة في جنته ومستقر رحمته، إنه ولي ذلك ومولاه وهو على كل شيء قدير.

أحبتي في الله: مع أئمة الهدى ومصابيح الدجى، ونحن اليوم على موعد مع العابد التقي الورع الذي تفوَّق على إغراء دنيا البشر، إننا اليوم على موعد مع خليفة آخر، من طراز عمر في شدته وعدله واستقامته وورعه وزهده وتواضعه، إنه الرجل والخطيب المفوه البارع الذي تهتز الدنيا لكلماته، وهي تخرج من وراء شفتيه كأنها نور يبدد الظلماء، إنه الفقيه العالم الذي يجري الحق على لسانه وقلبه، إنه تلميذ بيت النبوة الذي تربى في حجر المصطفى صلى الله عليه وسلم وكفى، إنه الرجل الذي أحب الله ورسوله وأحبه الله ورسوله، إنه الرجل الذي اضطر يوماً لأن يفخر بهذه الفضائل وبتلك المكارم فقال:

محمدٌ النبي أخي وصهري وحمزة سيد الشهداء عمي

وجعفر من يمسي ويضحي يطير مع الملائكة ابن أمي

وبنت محمد سكني وزوجي منوط لحمها بدمي ولحمي

وسبطا أحمد ولداي منها فأيكم له سهم كسهمي

إننا اليوم على موعد مع الشهيد المظلوم علي بن أبي طالب رضي الله عنه وأرضاه.

أحبتي في الله! الحق أقول لكم: لقد صحبت التاريخ طوال الأسبوع الماضي في مراجعه وأمهاته الكبار، لكي أدرس من جديد حياة الإمام دراسة دقيقة في فترة حرجة من أحرج فترات التاريخ الإسلامي، بيد أن محاولة تلخيص حياة الإمام في هذه الدقائق المعدودات محاولة صعبة وعسيرة، فحياة الإمام لاسيما في مراحلها الأخيرة التي بدأت باستخلافه وانتهت باستشهاده لم تكن حياة عادية وإنما كانت تتفجر بالعظمة والجلال، وتموج بالأسى والهول موجاً في آن واحد.

فهيا بنا سريعاً إلى هذه الحياة الحافلة بالبطولة والألم والعظمة والمأساة، والبأساء والضراء، والنصر والهزيمة، والرخاء والشدة، والبسمة والدمعة، والفرح والحزن، هيا بنا إلى حياة الإمام علي رضي الله عنه وأرضاه، وتعالوا بنا لنستهل هذه الحياة العامرة المباركة الكريمة بشهادات الحق وأوسمة الصدق التي منحها الحبيب المصطفى صلى الله عليه وسلم علياً رضي الله عنه وأرضاه.
ইমাম আলী ইবনে আবি তালিবের জীবনের কিছু উজ্জ্বল মুহূর্ত

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট হিদায়াত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসুল এবং তাঁর সৃষ্টিজগতের মধ্যে মনোনীত ও তাঁর বন্ধু। তিনি আমানত পৌঁছে দিয়েছেন, রিসালাতের দায়িত্ব পালন করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ উম্মতের দুঃখ-কষ্ট দূর করেছেন। তিনি আল্লাহর পথে প্রকৃত জিহাদ করেছেন যতক্ষণ না তাঁর নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়েছে। অতএব, হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে আমাদের পক্ষ থেকে এমন উত্তম প্রতিদান দান করুন, যা কোনো নবীকে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে এবং কোনো রাসুলকে তাঁর দাওয়াত ও রিসালাতের পক্ষ থেকে দান করেছেন। হে আল্লাহ! আপনি তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাথীবর্গ, তাঁর প্রিয়জন ও অনুসারীদের উপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর দেখানো পথে চলবে, তাঁর সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের সকলের উপর রহমত, শান্তি, প্রাচুর্য ও বরকত নাজিল করুন।

অতঃপর: আল্লাহ এই পবিত্র ও উজ্জ্বল মুখমণ্ডলগুলোকে সজীব রাখুন এবং ঈমানের দ্বারা প্রশান্ত এই আত্মাগুলোকে পবিত্র করুন। আল্লাহ এই বক্ষসমূহকে উন্মোচিত করে দিন। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার ও আপনাদের নেক আমলগুলো কবুল করেন এবং দুনিয়াতে সর্বদা তাঁর আনুগত্যের ওপর আমাদের একত্রিত করেন, আর আখিরাতে তাঁর জান্নাতে ও রহমতের আলয়ে আমাদের একত্র করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক ও অধিপতি এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

আল্লাহর ওয়াস্তে আমার প্রিয় ভাইয়েরা: আমরা হিদায়াতের ইমাম এবং অন্ধকারের প্রদীপদের নিয়ে আলোচনা করছি। আজ আমরা সেই আবেদ, মুত্তাকি ও পরহেজগার ব্যক্তিত্বের মুখোমুখি হয়েছি, যিনি মানবীয় দুনিয়ার প্রলোভনগুলোকে জয় করেছিলেন। আজ আমরা অন্য এক খিলাফতের আদর্শের মুখোমুখি, যিনি কঠোরতা, ন্যায়বিচার, সততা, পরহেজগারি, দুনিয়াবিমুখতা এবং বিনয়ে ওমরের মডেলে ছিলেন। তিনি সেই বাগ্মী সুবক্তা, যাঁর বাক্যে পৃথিবী কেঁপে উঠত এবং তাঁর ওষ্ঠদ্বয় থেকে নির্গত কথাগুলো অন্ধকারের বুক চিরে আলোর মতো বিচ্ছুরিত হতো। তিনি সেই ফকিহ ও আলেম, যাঁর জিহ্বা ও হৃদয়ে সত্য প্রবাহিত হতো। তিনি নবুওয়াতের গৃহের সেই ছাত্র, যিনি স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোলে লালিত-পালিত হয়েছেন এবং এটিই তাঁর জন্য যথেষ্ট। তিনি সেই ব্যক্তি, যিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবেসেছেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলও তাঁকে ভালোবেসেছেন। তিনি সেই ব্যক্তি, যিনি একদিন এই শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদাগুলোর কারণে গর্ব করতে বাধ্য হয়ে বলেছিলেন:

নবী মুহাম্মদ আমার ভাই ও ভগ্নিপতি, আর শহীদদের সরদার হামজা আমার চাচা

আর জাফর, যে সকাল-সন্ধ্যায় ফেরেশতাদের সাথে উড়ে বেড়ায়, সে আমার সহোদর ভাই

আর মুহাম্মদের কন্যা আমার প্রশান্তি ও স্ত্রী, যাঁর রক্ত-মাংস আমার রক্ত-মাংসের সাথে মিশে আছে

আর আহমদের দুই দৌহিত্র সেই স্ত্রীর গর্ভজাত আমারই সন্তান; তবে তোমাদের মধ্যে কার এমন মর্যাদা আছে যা আমার মর্যাদার সমান

আজ আমরা মজলুম শহীদ আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মুখোমুখি হয়েছি।

আল্লাহর ওয়াস্তে আমার প্রিয়জনেরা! আমি আপনাদের সত্য বলছি: গত এক সপ্তাহ ধরে আমি ইতিহাসের বড় বড় কিতাব ও মূল উৎসগুলোর সাথে সময় কাটিয়েছি, যাতে ইসলামী ইতিহাসের অন্যতম সংকটময় সময়ে ইমামের জীবন নিয়ে নতুন করে সূক্ষ্মভাবে গবেষণা করতে পারি। তবে এই সীমিত সময়ের মধ্যে ইমামের জীবন সংক্ষেপে তুলে ধরা অত্যন্ত কঠিন ও দুঃসাধ্য কাজ। কারণ ইমামের জীবন, বিশেষ করে তাঁর জীবনের শেষ পর্যায় যা তাঁর খিলাফত লাভের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এবং শাহাদাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছিল, তা কোনো সাধারণ জীবন ছিল না; বরং তা মহত্ত্ব ও গাম্ভীর্যে ভরপুর ছিল এবং একই সাথে দুঃখ ও ভয়াবহতায় আলোড়িত ছিল।

সুতরাং আসুন, আমরা দ্রুত বীরত্ব, বেদনা, মহত্ত্ব, ট্র্যাজেডি, বিপদ-আপদ, বিজয়-পরাজয়, সচ্ছলতা-কঠিন সময়, হাসি-অশ্রু এবং আনন্দ-বেদনায় ভরপুর এই জীবনের দিকে দৃষ্টিপাত করি। আসুন আমরা ইমাম আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর জীবনের দিকে এগিয়ে যাই। চলুন, আমরা এই বরকতময় ও মহিমান্বিত জীবনের আলোচনা শুরু করি সেই সত্য সাক্ষ্য ও সম্মানের পদকগুলো দিয়ে, যা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে প্রদান করেছিলেন।
(খণ্ড: ١) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌علي أول من أسلم من الصبيان

في أيام الرسالة الأولى يوم أن تنزل جبريل لأول مرة بوحي السماء على أرض مكة، كان هناك علي بن أبي طالب في بيت النبوة يستمع إلى القرآن غضاً طرياً من فم رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسرعان ما نطق هذا الصبي الصغير التقي النقي بشهادة الحق وقولة الصدق ليكون أول صبي يدخل في دين الله جل وعلا، كما ورد في الحديث الذي رواه الترمذي بسند حسن صحيح من حديث زيد بن أرقم أنه قال: (أول من أسلم علي) وليس هناك تناقض؛ فإن علياً هو أول من أسلم من الصبيان، وإن أبا بكر هو أول من أسلم من الرجال.
বালকদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী আলী

রিসালাতের প্রথম দিনগুলোতে, যে দিন মক্কার ভূমিতে জিবরীল প্রথমবার আসমানি ওহি নিয়ে অবতরণ করেছিলেন, তখন নবুওয়াতের ঘরে আলী ইবনে আবু তালিব অবস্থান করছিলেন এবং তিনি আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর পবিত্র মুখ থেকে সজীব ও সতেজ অবস্থায় কুরআন শ্রবণ করতেন। অচিরেই এই মুত্তাকী ও পবিত্র ছোট বালকটি সত্যের সাক্ষ্য এবং সত্য বাণী উচ্চারণ করলেন, যাতে তিনি মহামহিমান্বিত আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশকারী প্রথম বালক হতে পারেন। যেমনটি ইমাম তিরমিযী একটি হাসান সহীহ সনদে যায়িদ ইবনে আরকাম থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী হলেন আলী।" আর এর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই; কেননা আলী হলেন বালকদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী, আর আবু বকর হলেন পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী।
(খণ্ড: ١) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌علي في غزوة خيبر

وأنتقل سريعاً مع مواقف علي في حياته قبل الخلافة في غزوة خيبر، في السنة السابعة من الهجرة برزت وتجلت بطولة أسد الله، وظهرت مكانته عند الله وعند رسوله صلى الله عليه وسلم، فلقد خرج النبي صلى الله عليه وسلم إلى حصون خيبر آخر المعاقل لليهود في المدينة المنورة وحاصرها النبي حصاراً شديداً وطال الحصار، فقال النبي صلى الله عليه وسلم يوماً -كما ورد في الحديث الذي رواه البخاري ومسلم -: (لأعطين الراية غداً رجلاً يحب الله ورسوله ويحبه الله ورسوله يفتح الله على يديه) .

أسمعتم أيها الأحبة؟! رجل يحب الله ورسوله أمر عادي على أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولكن رجل يحبه الله ورسوله إنه أمر تشرئب إليه الأعناق، ولذا ورد في صحيح مسلم من حديث أبي هريرة أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: [والله ما تمنيت الإمارة إلا يومئذٍ] يقول سهل بن سعد راوي الحديث: [فبات الناس يدوكون ليلتهم أيهم يعطاها] أي: يخوضون ويتحدثون، يا ترى من سيكون هذا الرجل الذي سيفتح الله على يديه حصون خيبر المنيعة؟ يا ترى من سيكون هذا الرجل الذي يحبه الله ورسوله؟ فلما أصبح الناس غدوا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم واشرأبت الأعناق، وحاول كل فارس مغوار أن يقول لرسول الله: هأنذا، وسكن الجميع وصمت الجمع وشق هذا الصمت الرهيب وهذا السكون الدائم صوت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يقول: (أين علي بن أبي طالب؟ -إنه رجل الموقف وصاحب الراية- فقالوا: يا رسول الله! إنه يشتكي عينيه) لقد رمد علي وتخلف؛ لأنه يشتكي اليوم عينيه فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (فأرسلوا إليه، فأتي به رضي الله عنه وأرضاه، فمسح النبي صلى الله عليه وسلم على عينيه ودعا له فبرئ وكأنه لم يكن به وجع، وأعطاه الراية، فقال علي: على ماذا أقاتل الناس يا رسول الله؟ -وهذا لفظ مسلم من حديث أبي هريرة - فقال صلى الله عليه وسلم: قاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، فإذا فعلوا ذلك فقد منعوا منك دماءهم وأموالهم إلا بحقها وحسابهم على الله) وفي لفظ البخاري: (فوالله لأن يهدي الله بك رجلاً واحداًَ خير لك من حمر النعم) .

وانطلق البطل المغوار والفدائي العظيم الذي علَّم الدنيا شرف البطولة وحقيقة الفداء، وسرعان ما علا صوت النصر على لسان هذا البطل الكبير والفدائي العظيم الذي صرخ بأعلى صوته في وسط حصون خيبر: الله أكبر! خربت خيبر ، وتم الفتح بموعود الله وبكلام رسول الله صلى الله عليه وسلم على يد هذا الأسد والبطل الشريف والفدائي الكبير.
‌‌খায়বার যুদ্ধে আলী

আমি খিলাফতের পূর্ববর্তী সময়ে আলীর জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য থেকে খায়বার যুদ্ধের ঘটনাটি দ্রুত আলোচনা করছি। হিজরি সপ্তম সনে 'আল্লাহর সিংহ'-এর বীরত্ব সুষ্পষ্ট ও প্রকট হয়ে ওঠে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা প্রকাশিত হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনা মুনাওয়ারায় ইহুদিদের সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি খায়বারের দুর্গগুলোর দিকে অগ্রসর হলেন এবং নবী তা কঠোরভাবে অবরোধ করলেন। এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলো। ইমাম বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে এসেছে, একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (আগামীকাল আমি অবশ্যই এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা অর্পণ করব, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালোবাসেন; আল্লাহ তাঁর হাতে বিজয় দান করবেন)।

হে প্রিয়জনেরা, আপনারা কি শুনেছেন?! এমন একজন মানুষ যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে—তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের জন্য একটি সাধারণ বিষয় ছিল। কিন্তু এমন একজন মানুষ যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালোবাসেন, এটি এমন এক অনন্য বিষয় যার জন্য সকলে উদগ্রীব হয়ে প্রতীক্ষা করছিলেন। একারণেই সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদীসে এসেছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: [আল্লাহর কসম, আমি সেদিন ব্যতীত আর কখনো নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা করিনি]। হাদীস বর্ণনাকারী সাহল ইবনে সাদ বলেন: [লোকেরা সারা রাত এই আলোচনায় বিভোর থাকল যে, তাদের মধ্যে কাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে]। অর্থাৎ তারা জল্পনা-কল্পনা ও কথাবার্তা বলছিলেন—কে সেই ব্যক্তি যার মাধ্যমে আল্লাহ খায়বারের দুর্ভেদ্য দুর্গগুলোর বিজয় ত্বরান্বিত করবেন? কে সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালোবাসেন? অতঃপর ভোর হলে তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দরবারে উপস্থিত হলেন এবং প্রত্যেকেরই মনে প্রবল আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠল। প্রত্যেক অকুতোভয় বীর যোদ্ধা রাসূলুল্লাহকে যেন বলতে চাচ্ছিলেন: আমিই সেই ব্যক্তি। সকলে শান্ত হয়ে রইলেন এবং চারদিকে নিস্তব্ধতা বিরাজ করল। এই সুগভীর স্তব্ধতা ও নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হলো: (আলী ইবনে আবি তালিব কোথায়? -তিনিই সেই মোক্ষম সময়ের কাণ্ডারি এবং পতাকাধারী-)। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তিনি চোখে ব্যথা অনুভব করছেন। আলী চোখের অসুখে আক্রান্ত হয়ে যুদ্ধে যোগদান থেকে পিছিয়ে ছিলেন; কারণ আজ তিনি চোখে ব্যথা অনুভব করছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (তাঁকে ডেকে পাঠাও)। অতঃপর তাঁকে (রা.) নিয়ে আসা হলো। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দুই চোখের ওপর হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করলেন; অমনি তিনি এমনভাবে সুস্থ হয়ে গেলেন যেন ইতিপূর্বে তাঁর কোনো ব্যথাই ছিল না। তিনি তাঁকে যুদ্ধের পতাকা প্রদান করলেন। তখন আলী বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, কিসের ভিত্তিতে আমি তাদের সাথে লড়াই করব? -এটি আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত সহীহ মুসলিমের শব্দ-। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (লোকদের সাথে ততক্ষণ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। তারা যদি এটি পালন করে, তবে তারা তোমাদের থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিল, তবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী প্রাপ্য অংশ ব্যতীত; আর তাদের চূড়ান্ত হিসাব আল্লাহর জিম্মায়)। সহীহ বুখারীর বর্ণনায় এসেছে: (আল্লাহর কসম, তোমার মাধ্যমে আল্লাহ যদি একটি লোককেও সঠিক পথের দিশা দান করেন, তবে তা তোমার জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ লাল উট লাভের চেয়েও অধিক উত্তম)।

অতঃপর সেই অকুতোভয় বীর ও মহান আত্মোৎসর্গকারী ব্যক্তি রওয়ানা হলেন, যিনি বিশ্বকে বীরত্বের মর্যাদা ও আত্মত্যাগের প্রকৃত স্বরূপ শিক্ষা দিয়েছেন। অতি শীঘ্রই সেই মহান বীরের কণ্ঠে বিজয়ের ধ্বনি উচ্চকিত হলো। খায়বারের দুর্গগুলোর মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিনি উচ্চস্বরে ঘোষণা করলেন: আল্লাহু আকবর! খায়বার ধ্বংস হয়েছে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুসংবাদ অনুযায়ী এই সিংহপুরুষ, মর্যাদাবান বীর এবং মহান আত্মোৎসর্গকারীর হাতে বিজয় সম্পন্ন হলো।
(খণ্ড: ١) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌علي في غزوة تبوك

وفي السنة التاسعة من الهجرة خرج النبي صلى الله عليه وسلم لغزوة تبوك، وأمر النبي صلى الله عليه وسلم علياً أن يخلفه في أهله، وخرج علي يشتكي كما ورد في الحديث الذي رواه البخاري ومسلم من حديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه، وقال: (يا رسول الله! تخلفني في النساء والصبيان؟) أعيروني القلوب وأصغوا الأسماع لتستمعوا إلى هذه الشهادة، ولتأخذوا هذا الوسام الذي علقه النبي صلى الله عليه وسلم بيده الكريمة على صدر علي بن أبي طالب، فيقول له الحبيب: (يا علي! أما ترضى أن تكون مني بمنزلة هارون من موسى غير أنه لا نبي بعدي) ، الله أكبر! أي طراز من البشر كان علي؛ لينال هذه الشهادة الكريمة، وليحصل على هذه المنقبة الكبيرة العظيمة؟
তাবুক যুদ্ধে আলী

হিজরি নবম বর্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে তাঁর পরিবার-পরিজনের দেখাশোনার জন্য পিছনে রেখে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। আর আলী অভিযোগ পেশ করতে করতে বের হলেন, যেমনটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে নারী ও শিশুদের সাথে পিছনে রেখে যাচ্ছেন?" আপনারা আপনাদের হৃদয়গুলো নিবিষ্ট করুন এবং কান পেতে এই সাক্ষ্যটি শ্রবণ করুন, আর গ্রহণ করুন এই পদকটি যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং তাঁর সম্মানিত হাত দিয়ে আলী বিন আবি তালিবের বক্ষে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। তখন প্রিয় নবী তাঁকে বললেন: "হে আলী! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার কাছে মুসার নিকট হারুনের মর্যাদাসম্পন্ন, তবে আমার পরে আর কোনো নবী নেই?" আল্লাহু আকবার! আলী কেমন উচ্চমর্যাদার মানুষ ছিলেন যে তিনি এমন সম্মানিত সাক্ষ্য লাভ করেছেন এবং এই বিশাল ও মহান মর্যাদা অর্জন করেছেন?
(খণ্ড: ١) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ٦)
‌‌دراسة تحليلية لأحداث الفتنة بين علي ومعاوية

ولن أتوقف طويلاً -أيها الأحبة- عند حياة الإمام قبل الخلافة -فإني أرى عقارب الساعة بين يدي تطاردني لنخلِّف سريعاً الأحداث المؤلمة- لنعيش مع البطل في أحداث الفتنة الصماء البكماء العمياء؛ لنستخرج الحق من وسط هذا الركام الهائل من الأخبار الموضوعة والأقوال المكذوبة المصنوعة، التي شحنت بها الكتب والأسفار على أيدي الشيعة والخوارج وغيرهم من فرق الباطل والضلال.

وأعيروني القلوب فإن هذا العنصر من أخطر عناصر اللقاء والموضوع، ولو لم أتوقف في هذا اللقاء إلا معه لكفى، فلقد شوهت حقائق التاريخ، وشوهت صور هؤلاء الأطهار الأبطال الأبرار والعدول الثقات، الذين زكاهم وعدلهم محمد صلى الله عليه وسلم.
আলী ও মুয়াবিয়ার মধ্যকার ফিতনার ঘটনাবলির বিশ্লেষণমূলক পর্যালোচনা

হে প্রিয়জনেরা! খিলাফত লাভের পূর্বে ইমামের জীবন নিয়ে আমি দীর্ঘ সময় ব্যয় করব না—কেননা আমি দেখতে পাচ্ছি সময়ের কাঁটা আমাকে তাড়া করছে যাতে আমরা দ্রুত সেই বেদনাদায়ক ঘটনাবলি অতিক্রম করতে পারি—যাতে আমরা এই বীরের সাথে সেই বধির, বোবা ও অন্ধ ফিতনার ঘটনাবলির মধ্য দিয়ে চলতে পারি; যাতে সত্যকে বের করে আনা যায় সেই জাল সংবাদ এবং বানোয়াট ও মিথ্যা উক্তিগুলোর বিশাল স্তূপের মধ্য থেকে, যেগুলোর মাধ্যমে শিয়া, খারেজি এবং অন্যান্য বাতিল ও পথভ্রষ্ট দলগুলোর পক্ষ থেকে কিতাব ও গ্রন্থসমূহকে ঠাসা হয়েছে।

আপনারা আমাকে আপনাদের হৃদয়গুলো বিলিয়ে দিন (অর্থাৎ পূর্ণ মনোযোগ দিন), কেননা আলোচনার এই অংশটি এই মজলিস ও বিষয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল উপাদান। যদি এই আলোচনায় আমি কেবল এটি নিয়েই থাকতাম, তবে তাই যথেষ্ট হতো। কেননা ইতিহাসের সত্যকে বিকৃত করা হয়েছে এবং সেইসব পবিত্র, বীর, পুণ্যবান এবং নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের ভাবমূর্তিকে কলুষিত করা হয়েছে, যাদেরকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রশংসিত ও ন্যায়পরায়ণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ١) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌كُتَّاب التاريخ في الميزان مع الأحداث

يجب أن نعلم -أيها الأحبة- أن التاريخ الإسلامي لم يبدأ في تدوينه إلا بعد زوال دولة بني أمية، وقام على تدوينه ثلاث طوائف: الطائفة الأولى: طائفة طلبت العيش والرزق والكسب بما تكتبه وما تؤلفه، بالتقرب والتودد إلى مبغضي بني أمية من دولة بني العباس.

الطائفة الثانية: طائفة ظنت أن التقرب إلى الله جل وعلا لا يكون إلا بإطراء علي بالباطل والكذب، وبتشويه صورة أبي بكر وعمر وعثمان بل وبتكفيرهم.

الطائفة الثالثة: من أهل الصلاح وأهل الدين والاستقامة؛ كأمثال الأئمة الفطاحل الكبار كـ ابن جرير الطبري وابن عساكر وابن الأثير وابن كثير.

ولكن هؤلاء لظروف سياسية لا يتسع المجال لذكرها رأوا أن يجمعوا التاريخ كله ويسجلوا الحق؛ أن يجمعوا أخبار الإخباريين على اختلاف مذاهبهم وعقائدهم ومشاربهم، مع ذكر أسماء الرواة؛ ليرجع الباحث بعد ذلك إلى الخبر برجال إسناده؛ فيتعرف على صحة هذا الخبر من خلال معرفته بهؤلاء الرواة.

ولكن من الذي سيتعرف على ذلك؟ إنه لا يتعرف على ذلك إلا جهابذة النقاد والصيارفة من علماء الجرح والتعديل، وهكذا نقلت إلينا هذه التركة على أنها التاريخ الإسلامي بغثها وسمينها، وقام من لا يجيد النزال في وسط هذا الميدان اللجب الكبير؛ لينقل من هذه التركة بغير ميزان وبدون قيد ولا ضابط، فنقل الغث والسمين والصحيح والخاطئ والباطل والكذب وهو لا يدري، على أنها سيرة الصحابة وتاريخ الإسلام، وهو بريء من كل هذه التهم ومن كل هذه الأخبار التي دس معظمها الشيعة من ناحية، والخوارج من ناحية أخرى.

فلا بد من العودة إلى هذه التركة الضخمة لنستخلص الحق من الباطل والصحيح من الخطأ والصدق من الكذب، وإنها لمهمة صعبة، فإن هؤلاء الأبرار الذين زكاهم وعدلهم النبي صلى الله عليه وسلم، كما في الحديث الذي رواه البخاري ومسلم أنه صلى الله عليه وسلم قال -وهذا لفظ مسلم -: (لا تسبوا أصحابي، فوالذي نفسي بيده لو أنفق أحدكم مثل أحد ذهباً ما بلغ مد أحدهم ولا نصيفه) ، وفي رواية الترمذي في كتاب المناقب -وقال الترمذي: حديث غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه- أنه صلى الله عليه وسلم قال: (الله الله في أصحابي؛ لا تتخذوهم غرضاً بعدي فمن أحبهم فبحبي أحبهم، ومن أبغضهم فببغضي أبغضهم، ومن آذاهم فقد آذاني، ومن آذاني فقد آذى الله، ومن آذى الله يوشك الله أن يأخذه) ، شوه تاريخهم في هذه الفترة الحرجة وكذب عليهم، وهم أهل الصدق وأهل العدالة رضي الله عنهم، وإن من أشد الفترات التي شوهت تاريخهم هذه الفترة التي تبدأ تقريباً من النصف الثاني في خلافة عثمان رضي الله عنه وأرضاه والتي انتهت بمقتله ومقتل علي والحسن والحسين ومقتل عدد كبير رهيب من المسلمين، نسأل الله جل وعلا أن يتجاوز عنا وعنهم بمنه وكرمه.
তুলাদণ্ডে ইতিহাসের রচয়িতাগণ এবং ঘটনাবলী

হে প্রিয়জনরা! আমাদের অবশ্যই জানতে হবে যে, উমাইয়া খিলাফতের পতনের পরেই মূলত ইসলামি ইতিহাসের সংকলন শুরু হয়েছিল। এটি সংকলনের ক্ষেত্রে তিনটি গোষ্ঠী কাজ করেছে: প্রথম গোষ্ঠী: যারা তাদের লিখনী ও রচনার মাধ্যমে জীবিকা ও উপার্জনের অন্বেষণ করেছিল; তারা আব্বাসীয় খিলাফতের সেই সব ব্যক্তিদের নৈকট্য ও ভালোবাসা পেতে চেয়েছিল যারা উমাইয়াদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করত।

দ্বিতীয় গোষ্ঠী: এমন এক দল যারা মনে করেছিল যে, মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ কেবল মিথ্যা ও অলীক কথার মাধ্যমে আলীর (রা.) প্রশংসা করার মাধ্যমেই সম্ভব, এবং আবু বকর, উমর ও উসমানের (রা.) ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার মাধ্যমে—এমনকি তাদের কাফির সাব্যস্ত করার মাধ্যমে।

তৃতীয় গোষ্ঠী: নেককার, দ্বীনদার ও সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ; যেমন ইবনে জারির আত-তাবারী, ইবনে আসাকির, ইবনুল আসির এবং ইবনে কাসীরের মতো বড় বড় বিজ্ঞ ইমামগণ।

তবে তারা এমন কিছু রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে (যা এখানে সবিস্তারে বলার অবকাশ নেই) মনে করেছিলেন যে, সমগ্র ইতিহাস একত্র করা এবং সত্য লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন। অর্থাৎ, বর্ণনাকারীদের বিভিন্ন মতবাদ, আকিদা ও ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও তাদের দেওয়া সকল সংবাদ একত্রিত করা, সাথে বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করা; যাতে পরবর্তীতে কোনো গবেষক সনদের বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে পারেন এবং ওই সকল বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে জানার মাধ্যমে সংবাদের সঠিকতা উপলব্ধি করতে পারেন।

কিন্তু কে তা চিনতে পারবে? ‘জারহ ও তাদিল’ (সনদ যাচাই-বাছাই) শাস্ত্রের পারদর্শী সমালোচক ও বিজ্ঞ আলেমগণ ছাড়া অন্য কেউ তা অনুধাবন করতে পারে না। এভাবেই আমাদের কাছে এই উত্তরাধিকার ইসলামি ইতিহাস হিসেবে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ভালো-মন্দ সব মিশে আছে। পরবর্তীতে এই সুবিশাল ও কর্মমুখর ময়দানে যারা পারদর্শী ছিলেন না, তারা কোনো মানদণ্ড বা নীতিমালা ছাড়াই এই উত্তরাধিকার থেকে তথ্য গ্রহণ করতে শুরু করেন। ফলে তারা না জেনেই ভালো-মন্দ, সঠিক-ভুল এবং বাতিল ও মিথ্যা সবকিছুকে সাহাবীদের জীবনী ও ইসলামের ইতিহাস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অথচ ইসলাম এই সব অপবাদ ও বানোয়াট সংবাদ থেকে মুক্ত, যার অধিকাংশ একদিকে শিয়াদের দ্বারা এবং অন্যদিকে খারেজিদের দ্বারা প্রবিষ্ট হয়েছে।

তাই এই বিশাল ভাণ্ডারের দিকে ফিরে যাওয়া অপরিহার্য যাতে আমরা মিথ্যা থেকে সত্য, ভুল থেকে সঠিক এবং বানোয়াট থেকে সত্যকে পৃথক করতে পারি। আর এটি একটি কঠিন কাজ। নিশ্চয়ই এই পুণ্যবান ব্যক্তিদের (সাহাবীগণ) স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র ও ন্যায়পরায়ণ ঘোষণা করেছেন। যেমনটি ইমাম বুখারি ও মুসলিম বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—এবং এটি মুসলিমের শব্দাবলি—: "তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও ব্যয় করে, তবে তা তাদের এক মুদ (এক আঁজলা) কিংবা তার অর্ধেক পরিমাণ আমলের সমান হবে না।" তিরমিযীর 'মানাকিব' অধ্যায়ের বর্ণনায় এসেছে—তিরমিযী বলেছেন, এটি একটি গরীব হাদিস, যা কেবল এই সূত্রেই আমরা জানতে পেরেছি—যেখানে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার সাহাবীদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো। আমার পর তাদেরকে লক্ষ্যবস্তু বানিও না। যে তাদের ভালোবাসল, সে আমার ভালোবাসার কারণেই তাদের ভালোবাসল। আর যে তাদের ঘৃণা করল, সে আমার প্রতি ঘৃণার কারণেই তাদের ঘৃণা করল। যে তাদের কষ্ট দিল, সে মূলত আমাকেই কষ্ট দিল। আর যে আমাকে কষ্ট দিল, সে আল্লাহকেই কষ্ট দিল। আর যে আল্লাহকে কষ্ট দিল, আল্লাহ তাকে শীঘ্রই পাকড়াও করবেন।" এই সংকটময় সময়ে তাদের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে এবং তাদের নামে মিথ্যা রটানো হয়েছে, অথচ তারা ছিলেন পরম সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ণ (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। তাদের ইতিহাসকে সবচেয়ে বেশি বিকৃত করা হয়েছে সেই সময়ে যা উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতের আনুমানিক দ্বিতীয় অর্ধাংশ থেকে শুরু হয়ে তাঁর শাহাদাত এবং এরপর আলী, হাসান ও হুসাইনের শাহাদাত এবং বিপুল সংখ্যক মুসলমানের মৃত্যুর মাধ্যমে শেষ হয়েছিল। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর দয়া ও করুণায় আমাদের এবং তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন।
(খণ্ড: ١) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌محاولات علي بن أبي طالب في إخماد الفتنة

السؤال الذي يطرح نفسه: ما هو دور علي في هذه الفتنة الصماء البكماء العمياء؟ وانتبهوا -أيها الأحبة الأخيار- فلقد بدأ علي بدور الوساطة الصادقة الأمينة بين عثمان بن عفان وبين الموتورين من الثوار المجرمين الذين حاصروا بيت الخليفة رضي الله عنه، ولكن علياً رأى الفتنة تشتد، ورأى النار تتأجج وتشتعل، ورأى الموتورين من الثوار يحاصرون بيت الخليفة رضي الله عنه وأرضاه، فخرج من بيته معتماً بعمامة رسول الله صلى الله عليه وسلم متقلداً سيفه مع نفر من الصحابة من المهاجرين والأنصار؛ من بينهم عبد الله بن عمر وعبد الله بن الزبير والحسن والحسين وأبو هريرة وغيرهم من موالي عثمان رضي الله عنه، وكانوا تقريباً لا يزيدون على سبعمائة رجل، ولو تركهم عثمان لمنعوه، ولكن عثمان هو الذي رفض أن تهراق قطرة دم واحدة في مدينة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأن يكون سبباً في الفتنة التي لم يغلق بابها بعد.

فدخل علي بن أبي طالب على عثمان في داره وقال: [يا أمير المؤمنين! ما أرى القوم إلا قاتليك فمرنا فلنقاتل]-لا تنسوا هذه العبارة- فقال عثمان الأواب التواب التقي الحيي النقي الذي علم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد بشره بالشهادة بل وجاءه في الليلة السالفة الماضية ليقول له: (أفطر عندنا غداً يا عثمان) وهو ابن الثمانين فلماذا يقاتل؟ ولماذا تهراق الدماء بسببه؟ فنظر عثمان إلى علي وإلى رقيقه ومواليه وقال: [أقسم بالله على كل من لي عليه حق أن يغمد سيفه وأن يكف يده وأن يرجع إلى منزله] ، ونظر إلى مواليه وقد شهروا السيوف فقال لهم: [من أغمد سيفه فهو حر] ، وهكذا أعلن عثمان قولته الخالدة: [ما أحب أن ألقى الله وفي عنقي قطرة دم لامرئ مسلم] ، وآثر الشهادة في سبيل الله وألا تبدأ الفتنة رضي الله عنه وأرضاه.

وانطلق علي بن أبي طالب إلى المسجد فحان وقت الصلاة؛ فقال الناس: تقدم يا أبا الحسن! فصلِّ بالناس فقال: [والله ما كنت لأصلي بكم والإمام محصور] وصلّى علي وحده وتركهم وانصرف، ووقع ما قدر الله جل وعلا وكان؛ فقتل عثمان رضي الله عنه وأرضاه بعد أن حصره المجرمون في داره وكاد الظمأ أن يقتله لو أمهلوه بضعة أيام، وظلت المدينة خمسة أيام كاملة بلا خليفة، وأميرها الغافقي الوقح قاتل عثمان، وحار الناس واضطرب الأمر، وقال الجميع على صوت رجل واحد: لا يصلح لهذا الأمر إلا علي ، وذهب المهاجرون والأنصار فأبى، ثم ذهبوا إليه مرة أخرى فأبى، ثم ذهبوا إليه مرة ثالثة فأبى، فقالوا: إنه واجب! وانقاد علي بن أبي طالب لضغوط المهاجرين والأنصار، وعلم أن هذه التبعة قدر عليه أن يكون هو حاملها، وأن يكون هو رجلها الآن، فمن يحملها إن لم يحملها علي؟ والحق يقال: إنه لم يكن على ظهر الأرض قاطبة بعد عثمان رضي الله عنه من هو أحق بالخلافة من علي رضي الله عنه وأرضاه.
‌‌ফিতনা দমনে আলী বিন আবি তালিবের প্রচেষ্টাসমূহ

একটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই দেখা দেয়: এই বধির, মূক ও অন্ধ ফিতনায় আলীর ভূমিকা কী ছিল? হে প্রিয় সুহৃদগণ, লক্ষ্য করুন—উসমান বিন আফফান এবং খলিফার (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ঘর অবরুদ্ধকারী সেই অপরাধী বিদ্রোহী প্রতিহিংসাপরায়ণদের মধ্যে আলী একনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু আলী দেখলেন যে ফিতনা চরম আকার ধারণ করছে এবং যুদ্ধের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠছে। তিনি দেখলেন প্রতিহিংসাপরায়ণ বিদ্রোহীরা খলিফার (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ঘর ঘেরাও করে রেখেছে। এমতাবস্থায় তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাগড়ি পরিহিত হয়ে এবং নিজ তরবারি ধারণ করে মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের একটি দলসহ ঘর থেকে বের হলেন; তাঁদের মধ্যে ছিলেন আবদুল্লাহ বিন উমর, আবদুল্লাহ বিন যুবাইর, হাসান, হুসাইন, আবু হুরাইরা এবং উসমানের (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মুক্ত দাসেরাসহ আরও অনেকে। তাঁরা সংখ্যায় প্রায় সাতশত জনের বেশি ছিলেন না। উসমান যদি তাঁদের ছেড়ে দিতেন, তবে তাঁরা অবশ্যই বিদ্রোহীদের প্রতিহত করতেন; কিন্তু উসমান স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শহরে এক ফোঁটা রক্ত ঝরুক এবং তিনি নিজে এমন এক ফিতনার কারণ হোন যার দ্বার এখনো রুদ্ধ হয়নি—তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

অতঃপর আলী বিন আবি তালিব উসমানের ঘরে প্রবেশ করে বললেন: [হে আমিরুল মুমিনিন! আমি দেখছি এই লোকগুলো আপনাকে হত্যা করবেই, তাই আমাদের আদেশ দিন যেন আমরা লড়াই করি]—এই বাক্যটি ভুলে যাবেন না। তখন অতিশয় অনুতপ্ত, তওবাকারী, মুত্তাকি, লজ্জাশীল ও পবিত্র উসমান—যিনি জানতেন যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে শাহাদাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, এমনকি গত রাতেই নবীজি তাঁর কাছে এসে বলেছিলেন: (হে উসমান, আগামীকাল আমাদের সাথে ইফতার করো)—বললেন। তিনি তখন আশি বছর বয়সী বৃদ্ধ, তবে কেন তিনি লড়াই করবেন? কেন তাঁর কারণে রক্তপাত হবে? উসমান তখন আলীর দিকে এবং তাঁর নিজের দাস ও অনুসারীদের দিকে তাকিয়ে বললেন: [আমার ওপর যাদের অধিকার রয়েছে, আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, তারা যেন তাদের তরবারি কোষবদ্ধ করে, হস্ত সংবরণ করে এবং নিজ নিজ ঘরে ফিরে যায়]। তিনি তাঁর দাসদের দিকে তাকালেন যারা তরবারি উন্মুক্ত করেছিল এবং বললেন: [যে ব্যক্তি তার তরবারি কোষবদ্ধ করবে, সে মুক্ত]। এভাবেই উসমান তাঁর সেই চিরস্মরণীয় বাণী ঘোষণা করলেন: [আমি আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করি না যখন আমার কাঁধে কোনো মুসলিম ব্যক্তির এক ফোঁটা রক্তের দায়ভার থাকে]। তিনি আল্লাহর পথে শাহাদাতকে বেছে নিলেন এবং ফিতনা যেন তাঁর মাধ্যমে শুরু না হয় সেটিই অগ্রাধিকার দিলেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

এরপর আলী বিন আবি তালিব মসজিদের দিকে রওনা হলেন এবং নামাজের সময় হয়ে এল। লোকেরা বলল: হে আবুল হাসান! সামনে এগিয়ে যান এবং লোকদের নামাজ পড়ান। তিনি বললেন: [আল্লাহর কসম! ইমাম অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় আমি আপনাদের নামাজ পড়াতে পারি না]। আলী একা নামাজ পড়লেন এবং তাঁদের ছেড়ে চলে গেলেন। এরপর মহান আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছিলেন তাই ঘটল। অপরাধীরা তাঁর নিজ ঘরে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর উসমান (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) শহীদ হলেন; তারা যদি তাঁকে আরও কয়েকদিন সময় দিত, তবে তৃষ্ণাই তাঁকে মেরে ফেলত। মদিনা টানা পাঁচ দিন খলিফাশূন্য ছিল। তখন মদিনার আমির ছিল উসমানের হত্যাকারী ধৃষ্ট আল-গাফেকি। মানুষ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল এবং বিশৃঙ্খলা দেখা দিল। সবাই একস্বরে বলে উঠল: আলীকে ছাড়া এই কাজের (খিলাফতের) জন্য আর কেউ যোগ্য নয়। মুহাজির ও আনসাররা তাঁর কাছে গেলেন কিন্তু তিনি অস্বীকার করলেন। এরপর তাঁরা আবারও তাঁর কাছে গেলেন, আবারও তিনি মানা করলেন। তৃতীয়বার যাওয়ার পর তাঁরা বললেন: এটি এখন আপনার জন্য ওয়াজিব (আবশ্যক)! আলী বিন আবি তালিব তখন মুহাজির ও আনসারদের চাপের মুখে নতি স্বীকার করলেন এবং বুঝতে পারলেন যে এই দায়িত্বভার বহন করা তাঁর তকদিরে লেখা রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনিই এর যোগ্য ব্যক্তি। আলী যদি এই ভার গ্রহণ না করেন, তবে কে করবেন? সত্য বলতে কি: উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর পর আলীর চেয়ে খিলাফতের অধিক হকদার সমগ্র পৃথিবীর বুকে আর কেউই ছিল না।
(খণ্ড: ١) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌تولي علي الخلافة ومطالبة معاوية والناس بدم عثمان

وتولى علي الخلافة في وقت عصيب رهيب، وخرج إلى المسجد ليبايع الناس فبايعه المهاجرون والأنصار جميعاً، وما لبث علي أن بويع إلا ودخل عليه طلحة والزبير رضي الله عنهما مع رءوس الصحابة الكبار في المدينة المنورة وقالوا: يا أمير المؤمنين لا بد من قتل قتلة عثمان؟ -سبحان الله! - وهنا يبدأ الخلاف؛ فكل فريق له وجهة نظره، وكل فريق له اجتهاده، من الذي يقتله؟ وأي قوة تستطيع الآن أن تقتل قتلة عثمان؟! لقد تعصب وغضب إليهم كثير من الناس حتى زاد عددهم عن عشرة آلاف فارس مدججين بالسلاح ينتشرون في مدينة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فمن الذي يستطيع أن يقيم عليهم حد الله بالثأر لقتل دم عثمان في هذا الظرف؟ واعتذر علي وقال رضي الله عنه وأرضاه: [إن قتلة عثمان كثرة ولهم مدد وأعوان] والحق معه بكل المقاييس، إذاً أين القوة التي تستطيع أن تقيم عليهم الحد ولم تستطع أن تحول بينهم وبين قتل الخليفة؟ وخرج الصحابة في غضب وفي ثورة شديدة على علي بن أبي طالب رضي الله عنه وأرضاه، وكان من بين هؤلاء الذين ثاروا ثورة شديدة لدم عثمان رضي الله عنه؛ معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه وأرضاه، وحذار حذار من الخوض في هؤلاء الأطهار الأبرار، فإننا نسمع الآن ونقرأ من يتكلم على هؤلاء الأخيار كلاماً تقشعر له الأبدان وتضطرب له الأفئدة، وهم السابقون الأولون.

ثار معاوية وازدادت ثورته بعدما أرسلت نائلة زوجة عثمان بقميص عثمان الذي قتل فيه، ووضعت فيه أصابعها التي قطعت وهي تدافع عنه، وأرسلت بالقميص والأصابع إلى معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه وأرضاه الذي كان يعتبر نفسه من أوائل الناس ومن أحق الناس مطالبة بدم الخليفة الراحل، ولما رأى معاوية القميص بكى، وأخذ القميص وعلق فيه أصابع نائلة ، وعلق القميص على منبر المسجد الدمشقي ولما رآه الناس والصحابة بكوا بكاءً شديداً، وارتفعت الأصوات بالنحيب على موت عثمان رضي الله عنه وأرضاه، وبايعوا معاوية على الثأر لـ عثمان ولم يبايعوه على الخلافة، ما بويع معاوية على الخلافة ولم يطلب معاوية الخلافة قط، وإنما كان يطلب الثأر لدم عثمان أو أن يسلم علي لـ معاوية قتلة عثمان ليقتص منهم لـ عثمان رضي الله عنه وأرضاه، وهنا بدأ الخلاف الكبير.

فخرج طلحة والزبير إلى مكة المكرمة إلى أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها فلقد كانت عائشة بـ مكة لأداء مناسك الحج في هذا العام، ولما سمعت عائشة بخبر مقتل عثمان قامت تدعو الناس وتحث الناس للثأر لدم عثمان ، وقد تأولت قول الله جل وعلا الذي رددته كثيراً: {لا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ نَجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلاحٍ بَيْنَ النَّاسِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْراً عَظِيماً} [النساء:114] فخرجت عائشة رضي الله عنها فالتف الناس حولها وقالوا: يا أماه! نحن معك حيث سرت للمطالبة بدم عثمان ، واتفق هذا الجمع كله على الذهاب إلى البصرة ليكونوا قريبين من معاوية رضي الله عنه، وقد ضمن الأمر في المدينة علي بن أبي طالب ليستسمعوا همم الناس للمطالبة بدم عثمان رضي الله عنه، وخرجوا جميعاً إلى البصرة ، ولما سمع علي بذلك عزم على أن يخرج بنفسه، فقام عبد الله بن سلام الصحابي الجليل وأخذ بعنان فرسه وقال: [يا أمير المؤمنين! لا تخرج من مدينة رسول الله؛ فوالله لئن خرجت منها لا يعود إليها سلطان المسلمين أبداً بعد اليوم] ورفض الحسن أن يخرج أبوه رضي الله عنه، ولكن علياً قال: [والله ما خرجنا إلا لأنا نريد الإصلاح بين الناس لا نريد قتالاً] .

وإن أعظم دليل على ذلك أن علياً خرج من المدينة مع تسعمائة رجل، فهل هذا جيش يريد القتال؟ وفي الطريق التف حوله الناس من كل البقاع واجتمع عليه عدد كبير، ولما وصل إلى البصرة ، وكان قد اجتمع على عائشة وعلى طلحة والزبير عدد كبير من أهل البصرة للمطالبة بدم عثمان أرسل علي إليهما -أي: إلى طلحة والزبير - القعقاع بن عمرو التميمي رضي الله عنه وأرضاه.

فبدأ القعقاع بأم المؤمنين عائشة رضي الله عنها فقال: يا أماه! ما الذي جاء بك إلى هذه البلاد؟ فقالت: أي بني! ما جئت إلا لأصلح بين الناس.

فقال القعقاع: فأرسلي إلى طلحة والزبير ليحضرا، فحضرا طلحة والزبير.

فقال القعقاع بن عمرو: لقد سألت أمنا ما الذي أقدمك إلى هذه البلاد؟ فقالت: ما جئت إلا لأصلح بين الناس.

فنطق طلحة والزبير رضي الله عنهما وقالا: والله ما جئنا نحن إلا لذلك.

فقال القعقاع بن عمرو: إذاً فما الذي تريدون؟ نحقق ونتفق على الإصلاح فإن اتفقنا عليه اصطلحنا.

فقال طلحة والزبير رضي الله عنهما: لا نريد إلا أن نقتل قتلة عثمان، فإن تركنا قتلهم فقد تركنا القرآن الكريم.

فقال القعقاع بن عمرو: لقد أتيتم أنتم إلى البصرة فقتلتم قتلة عثمان من البصرة، فغضب لهم ستة آلاف فارس، فتركتموهم فإن تركتموهم وقعتم فيما تقولون، وإن حاربتموهم وقعت مفسدة هي أربى من الأولى، فاقتنع طلحة واقتنع الزبير.

فقالت عائشة رضي الله عنها: فماذا تقول أنت يا قعقاع؟ فقال القعقاع رضي الله عنه: أقول: بأن الدواء لهذا الأمر التسكين، وكونوا مفاتيح خير ولا تضيعونا، فإن ما حدث أمر عظيم، وإن كلمة الناس قد اختلفت في جميع الأمصار، وإن علياً رضي الله عنه وأرضاه معذور في تأخير قتلة عثمان حتى يتمكن منهم ويقدر عليهم.
আলীর খিলাফত লাভ এবং মুয়াবিয়া ও জনগণের পক্ষ থেকে উসমানের রক্তের দাবি

আলী এক অত্যন্ত কঠিন ও ভয়াবহ সময়ে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি মানুষের বায়আত গ্রহণের জন্য মসজিদে গেলে মুহাজির ও আনসারগণ সকলে তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করেন। আলীর বায়আত সম্পন্ন হতে না হতেই তালহা ও যুবায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) মদিনা মুনাওয়ারার শীর্ষস্থানীয় সাহাবীদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর কাছে উপস্থিত হলেন এবং বললেন: হে আমীরুল মুমিনীন! উসমানের হত্যাকারীদের হত্যা করা কি অপরিহার্য নয়? -সুবহানাল্লাহ! - এখান থেকেই মতভেদের সূচনা হয়; প্রতিটি দলেরই নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ইজতিহাদ ছিল। কে তাদের হত্যা করবে? আর কোন শক্তিরই বা এখন উসমানের হত্যাকারীদের হত্যা করার সামর্থ্য আছে?! বহু মানুষ তাদের পক্ষে উত্তেজিত ও সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল, এমনকি তাদের সংখ্যা দশ হাজার সশস্ত্র অশ্বারোহী ছাড়িয়ে গিয়েছিল যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদিনায় ছড়িয়ে ছিল। এমতাবস্থায় এই পরিস্থিতিতে উসমানের রক্তের প্রতিশোধ নিতে তাদের ওপর আল্লাহর হদ কায়েম করার ক্ষমতা কার আছে? আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অপারগতা প্রকাশ করে বললেন: "উসমানের হত্যাকারীরা সংখ্যায় অনেক এবং তাদের সাহায্যকারী ও সমর্থক রয়েছে।" সব বিচারেই সত্য তাঁর সাথে ছিল। তবে সেই শক্তি কোথায় যা তাদের ওপর হদ কায়েম করবে, অথচ তারা খলিফাকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়নি? সাহাবীগণ আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। উসমানের রক্তের দাবিতে যারা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তাদের মধ্যে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) অন্যতম ছিলেন। এই পবিত্র ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাবধান থাকা উচিত; কেননা আমরা এখন এমন লোকদের কথা শুনি ও পড়ি যারা এই মহান ব্যক্তিদের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করে যা শুনলে শরীর শিউরে ওঠে এবং অন্তর বিচলিত হয়, অথচ তাঁরাই ছিলেন ইসলামের প্রথম অগ্রগামী দল।

মুয়াবিয়া বিক্ষুব্ধ হলেন এবং তাঁর ক্ষোভ আরও বেড়ে গেল যখন উসমানের স্ত্রী নাইলা উসমানের সেই জামাটি পাঠালেন যাতে তাঁকে শহীদ করা হয়েছিল। তিনি সেই জামার সাথে তাঁর সেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া আঙুলগুলোও রেখেছিলেন যা তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে কাটা পড়েছিল। তিনি জামা ও আঙুলগুলো মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে পাঠালেন, যিনি নিজেকে প্রয়াত খলিফার রক্তের দাবিদারদের মধ্যে অন্যতম ও সবচেয়ে যোগ্য মনে করতেন। মুয়াবিয়া যখন জামাটি দেখলেন তখন তিনি কাঁদলেন। তিনি জামাটি নিলেন এবং তাতে নাইলার আঙুলগুলো লটকে দিলেন। অতঃপর তিনি দামেস্কের মসজিদের মিম্বরে জামাটি ঝুলিয়ে রাখলেন। যখন মানুষ ও সাহাবীগণ তা দেখলেন, তাঁরা উচ্চস্বরে কাঁদতে লাগলেন এবং উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মৃত্যুতে বিলাপ ও আর্তনাদ ধ্বনিত হলো। তাঁরা উসমানের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মুয়াবিয়ার হাতে বায়আত হলেন, খিলাফতের জন্য নয়। মুয়াবিয়া খিলাফতের জন্য বায়আত নেননি এবং তিনি কখনও খিলাফত দাবিও করেননি। বরং তিনি কেবল উসমানের রক্তের প্রতিশোধ চাচ্ছিলেন অথবা আলী যেন উসমানের হত্যাকারীদের মুয়াবিয়ার হাতে সোপর্দ করেন যাতে তিনি উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হত্যার কিসাস নিতে পারেন। এখান থেকেই বিশাল মতবিরোধের সূত্রপাত হলো।

অতঃপর তালহা ও যুবায়ের মক্কা মুকাররমায় উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে গেলেন। আয়েশা সে বছর হজ পালনের জন্য মক্কায় অবস্থান করছিলেন। যখন তিনি উসমানের হত্যাকাণ্ডের খবর শুনলেন, তখন তিনি মানুষকে উসমানের রক্তের প্রতিশোধ নিতে আহ্বান ও উদ্বুদ্ধ করতে লাগলেন। তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যা বা প্রয়োগ (তাউয়িল) করছিলেন যা তিনি বারবার পাঠ করতেন: "তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই, তবে যে সদকা, সৎকাজ বা মানুষের মধ্যে মীমাংসার নির্দেশ দেয় তার কথা ভিন্ন। আর যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এসব করবে, আমি তাকে মহা পুরস্কার দান করব।" [আন-নিসা: ১১৪]। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বেরিয়ে পড়লেন এবং মানুষ তাঁর চারদিকে সমবেত হয়ে বলতে লাগল: হে আম্মাজান! উসমানের রক্তের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আপনি যেখানে যাবেন আমরা আপনার সাথেই আছি। এই পুরো জনসমষ্টি বসরার দিকে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হলো যাতে তাঁরা মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছাকাছি থাকতে পারেন। ইতিমধ্যে আলী ইবনে আবি তালিব মদিনার পরিস্থিতি শান্ত করেন যাতে তাঁরা উসমানের রক্তের দাবির ব্যাপারে মানুষের মনোবল যাচাই করতে পারেন। তাঁরা সবাই বসরার দিকে রওনা হলেন। আলী যখন তা শুনলেন, তিনি নিজেও সশরীরে বের হওয়ার সংকল্প করলেন। তখন প্রখ্যাত সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে সালাম তাঁর ঘোড়ার লাগাম ধরে বললেন: "হে আমীরুল মুমিনীন! আল্লাহর রাসূলের মদিনা থেকে বের হবেন না; আল্লাহর কসম, আপনি যদি এখান থেকে বের হন, তবে মুসলিমদের কর্তৃত্ব আর কখনও এখানে ফিরে আসবে না।" হাসান তাঁর পিতার বাইরে যাওয়া অপছন্দ করেছিলেন, কিন্তু আলী বললেন: "আল্লাহর কসম! আমরা কেবল মানুষের মধ্যে মীমাংসা করার উদ্দেশ্যেই বের হচ্ছি, যুদ্ধ করতে নয়।"

এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো যে, আলী মদিনা থেকে মাত্র নয়শ লোক নিয়ে বের হয়েছিলেন। এটা কি এমন কোনো বাহিনী যা যুদ্ধ করতে চায়? পথে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ তাঁর সাথে যোগ দিলে এক বিশাল সংখ্যার সৃষ্টি হয়। যখন তিনি বসরায় পৌঁছালেন, তখন আয়েশা, তালহা ও যুবায়েরের পাশে উসমানের রক্তের দাবির জন্য বসরার অনেক লোক সমবেত হয়েছিল। আলী তাঁদের কাছে—অর্থাৎ তালহা ও যুবায়েরের কাছে—কাক্কা ইবনে আমর তামিমি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে পাঠালেন।

কাক্কা উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর মাধ্যমে আলোচনা শুরু করলেন। তিনি বললেন: হে আম্মাজান! কোন বিষয়টি আপনাকে এই জনপদে নিয়ে এসেছে? তিনি বললেন: হে বৎস! আমি কেবল মানুষের মধ্যে মীমাংসা করতেই এসেছি।

কাক্কা বললেন: তবে আপনি তালহা ও যুবায়েরকে সংবাদ দিন যেন তাঁরা উপস্থিত হন। অতঃপর তালহা ও যুবায়ের উপস্থিত হলেন।

কাক্কা ইবনে আমর বললেন: আমি আমাদের আম্মাজানকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, কী তাঁকে এই জনপদে নিয়ে এসেছে? তিনি বললেন: আমি কেবল মানুষের মধ্যে মীমাংসা করতেই এসেছি।

তখন তালহা ও যুবায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলে উঠলেন: আল্লাহর কসম! আমরাও কেবল এই উদ্দেশ্যেই এসেছি।

কাক্কা ইবনে আমর বললেন: তবে আপনারা কী চান? আসুন আমরা বিষয়টি যাচাই করি এবং মীমাংসার ব্যাপারে একমত হই। যদি আমরা একমত হতে পারি, তবে বিষয়টি সুরাহা হয়ে যাবে।

তালহা ও যুবায়ের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন: আমরা কেবল উসমানের হত্যাকারীদের শাস্তি দিতে চাই। যদি আমরা তাদের হত্যা না করি, তবে আমরা পবিত্র কুরআনকেই বর্জন করলাম।

কাক্কা ইবনে আমর বললেন: আপনারা বসরায় এসেছেন এবং এখানকার উসমানের হত্যাকারীদের হত্যা করেছেন। এতে তাদের স্বপক্ষে ছয় হাজার অশ্বারোহী ক্ষুব্ধ হয়েছে। এখন যদি আপনারা তাদের ছেড়ে দেন তবে আপনারা যা বলছেন তা-ই করলেন (অর্থাৎ হত্যাকারীদের ছাড়লেন), আর যদি তাদের সাথে যুদ্ধ করেন তবে এমন এক বিপর্যয় ঘটবে যা আগেরটির চেয়েও ভয়াবহ। এতে তালহা ও যুবায়ের আশ্বস্ত হলেন।

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন: হে কাক্কা! তুমি কী বলো? কাক্কা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমি মনে করি, এই বিষয়ের একমাত্র প্রতিকার হলো পরিস্থিতি শান্ত করা। আপনারা কল্যাণের চাবিকাঠি হোন এবং আমাদের ধ্বংস করবেন না। যা ঘটেছে তা এক ভয়াবহ বিষয়। সমস্ত জনপদে মানুষের মতামত বিভক্ত হয়ে গেছে। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উসমানের হত্যাকারীদের দণ্ড প্রদানে বিলম্ব করার ব্যাপারে সঙ্গত কারণেই অপারগ, যতক্ষণ না তিনি তাদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও সামর্থ্য লাভ করেন।
(খণ্ড: ١) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌موقعة الجمل

واقتنع الجميع، واتفق الطرفان على الصلح، واصطف الفريقان للصلح في الصبح الباكر وبات الفريقان بخير ليلة وأسعد ليلة.

بات قتلة عثمان بشر ليلة، -انظروا من أين تأتي الفتن؟ - وعلى رأسهم ابن السوداء عبد الله بن سبأ اليهودي الذي قال قولة عجيبة: والله إن علياً هو أعلم الناس بكتاب الله من المطالبين بدم عثمان ، وغداً يتفق الفريقان على الصلح ويجمع علي الناس عليكم، وإن القوم جميعاً لا يطلبون إلا أنتم، فوالله لئن كان ذلك لنلحقن علياً بـ عثمان ، فأجمعوا الأمر وفكروا ما الذي نفعل وما الذي نصنع! فاتفقوا جميعاً على أن ينقضوا في ظلمة الليل البهيم الدامس على فريق علي وعلى فريق طلحة والزبير ليضربوهم وليقاتلوهم ليظن كل فريق من الفريقين في ظلمة الليل أن أمر الصلح الذي كان بالأمس إنما هو خدعة، وأن كل فريق من الفريقين قد غدر بالآخر، ونشب القتال كفوران ماء يغلي بدون أسباب منطقية إطلاقاً، ونشبت موقعة الجمل الضارية التي صرخ فيها علي بن أبي طالب وهو يقول: [والله لوددت أني قد مت قبل هذا اليوم بعشرين سنة] .

وانتهت المعركة سريعاً كما بدأت سريعاً وذهب علي بنفسه إلى أم المؤمنين عائشة ليطمئن عليها، فقال لها: السلام عليك يا أماه! كيف حالك؟ فقالت: بخير.

فقال علي: غفر الله لك، وأمدها بالمراكب والمتاع وسير معها محمد بن أبي بكر رضي الله عنه إلى مكة ثم إلى المدينة.
উটের যুদ্ধ

সকলে আশ্বস্ত হলেন এবং উভয় পক্ষ সন্ধির ব্যাপারে একমত হলেন। পরদিন অতি প্রত্যুষে উভয় দল সন্ধির লক্ষ্যে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াল এবং উভয় পক্ষই অত্যন্ত কল্যাণময় ও সৌভাগ্যপূর্ণ রাত অতিবাহিত করল।

উসমানের হত্যাকারীরা অত্যন্ত অশুভ রাত কাটাল—দেখুন ফিতনা কোত্থেকে আসে?—তাদের মূলে ছিল 'ইবনুস সাওদা' আবদুল্লাহ ইবনে সাবা ইহুদি, যে এক বিস্ময়কর কথা বলেছিল: "আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই উসমানের রক্তের দাবিদারদের চেয়ে আলী আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অধিক প্রজ্ঞাবান। আগামীকাল উভয় পক্ষ সন্ধির বিষয়ে একমত হয়ে যাবে এবং আলী তোমাদের বিরুদ্ধে লোকদের একত্রিত করবেন। আর এই জাতি তোমাদের ছাড়া আর কাউকে খুঁজছে না। আল্লাহর কসম, যদি এমনটি ঘটে তবে আমরা আলীকেও উসমানের সাথে মিলিয়ে দেব (অর্থাৎ হত্যা করব)। অতএব তোমরা সম্মিলিত হও এবং ভেবে দেখো আমাদের কী করা উচিত এবং আমরা কী করব!" অতঃপর তারা সকলে এই মর্মে একমত হলো যে, তারা ঘোর অন্ধকার রাতে আলীর দল এবং তালহা ও জুবায়েরের দলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে এবং তাদের ওপর আক্রমণ চালাবে, যাতে রাতের অন্ধকারে উভয় পক্ষই মনে করে যে গতকালের সন্ধিটি ছিল নিছক একটি প্রতারণা এবং এক পক্ষ অপর পক্ষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ফলে কোনো প্রকার যৌক্তিক কারণ ছাড়াই টগবগ করে ফোটা পানির ন্যায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ল এবং ভয়াবহ উটের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল, যেখানে আলী ইবনে আবি তালিব উচ্চৈঃস্বরে বলছিলেন: [আল্লাহর কসম, আমি যদি আজকের এই দিনের বিশ বছর আগেই মারা যেতাম!]।

যুদ্ধটি যেমন দ্রুত শুরু হয়েছিল, তেমনই দ্রুত শেষ হয়ে গেল এবং আলী স্বয়ং উম্মুল মুমিনীন আয়েশার অবস্থা জানতে তাঁর কাছে গেলেন। তিনি তাঁকে বললেন: হে জননী, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক! আপনি কেমন আছেন? তিনি বললেন: ভালো।

আলী বললেন: আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। অতঃপর তিনি তাঁকে সওয়ারি ও আসবাবপত্র দিয়ে সাহায্য করলেন এবং তাঁর সাথে মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মক্কা এবং পরবর্তীতে মদিনার অভিমুখে পাঠিয়ে দিলেন।
(খণ্ড: ١) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌موقعة صفين بين علي ومعاوية

رجع علي بن أبي طالب إلى الكوفة لتبدأ فتنة أخرى حالكة في لقاء علي رضي الله عنه مع معاوية؛ يوم أن صمم علي على أن يذهب بنفسه إلى الشام وشاور وأرسل رسالة إلى معاوية يطلب فيها البيعة، فقد بايع علياً كل الناس وكل الولاة إلا معاوية رضي الله عنه.

فجمع معاوية رءوس الناس في الشام وعرض عليهم رسالة علي رضي الله عنه، فقالوا جميعاً: لا، لا نبايع علياً إلا إذا قتل قتلة عثمان، أو سلمهم إلينا لنقتلهم، وخرج علي بنفسه واستعد أهل الشام ونشبت فتنة القتال مرة أخرى وإنا لله وإنا إليه راجعون.

! ودارت الحرب الطاحنة -سبحان الله! - ولما رأى أهل الشام أن الحرب ضروس رفعوا المصاحف على أسنة السيوف والرماح، وقالوا: نحكم بيننا كتاب الله، وقبل الفريقان تحكيم كتاب الله جل وعلا، قبل أهل العراق مع علي وقبل أهل الشام مع معاوية بعدما رُفع كتاب الله جل وعلا بينهما، واختار الفريقان حكمين، اختار علي: أبا موسى الأشعري، واختار معاوية: عمرو، ولقد قال الناس ما قالوا في مسألة التحكيم، وشبهوها بلعبة سياسية حقيرة قذرة لا تتم إلا في مؤتمر من مؤتمرات الكذب والبهتان، وقالوا في أبي موسى وفي عمرو كلاماً لا ينبغي على الإطلاق أن يقال في أشراف الناس فضلاً عن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا يخلو كتاب من كتب التاريخ من هذه الأكذوبة الكبيرة، قالوا: لقد اتفق عمرو وأبو موسى على خلع علي ومعاوية ، وهل كان معاوية خليفة أو ادعى الخلافة ليخلعه أبو موسى أو عمرو؟ كلا.

انظروا إلى مغالطات التاريخ، وإنما الذي حدث أن قالوا: بأن أبا موسى وعمرواً قالا: نخلع علياً ونخلع معاوية ونترك الأمر شورى للمسلمين، هذا صحيح وهذا صدق وحق، ولكن البهتان يأتي، قالوا: فلما اتفقا على ذلك واجتمعا في الموعد المضروب بينهما، قال عمرو: تكلم يا أبا موسى ، فقام أبو موسى فقال: لقد اتفقت أنا وصاحبي على أن نخلع علياً ومعاوية، وعلى أن يترك الأمر شورى للمسلمين ليختاروا من يشاءون، فلما انتهى أبو موسى من بيانه، قام عمرو بن العاص وقال: لقد خلع صاحبي علياً ومعاوية، أما أنا فإني أخلع علياً وأثبت معاوية ، ما هذا.

؟! هذا يليق بمؤتمرات الكذب والبهتان، يليق بألاعيب السياسة.

أما مع هؤلاء الأطهار الأبرار؛ فلا وألف لا، ولدينا من الأدلة الصحيحة من روايات الأئمة الثقات الأثبات ما ينفي ذلك الكذب والبهتان عن هؤلاء الأطهار الأبرار والأخيار الأعلام، واقرءوا ما رواه الإمام العلم الثبت الدارقطني بسنده الصحيح أن حضير بن المنذر رضي الله عنه وأرضاه أرسله معاوية بن أبي سفيان إلى عمرو رضي الله عنه ليتحقق مما حدث، فذهب حضير بن المنذر ولقي عمرواً ، فقال: يا عمرو ما الذي صنعتماه أنت وأبو موسى؟ -أتدرون ماذا قال عمرو؟ قال: أنتركه ونذهب إلى هذا الغدر والكذب الذي لا يليق بأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال عمرو: ماذا ترى يا أبا موسى فقال أبو موسى رضي الله عنه وأرضاه: أرى أن نخلع علياً ومعاوية وأن يبقى هذا الأمر في النفر الذي توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو عنهم راض، فقال عمرو: فما تجعلني أنا ومعاوية؟ فقال أبو موسى الأشعري رضي الله عنه: أنتما إن طلب منكما، إن يستعن بكما ففيكما المعونة، وإن يستغن عنكما فطالما استغنى أمر الله عنكما، وانتهى الأمر.

أما هذه الأكاذيب والافتراءات فلا دخل لها إطلاقاً ولا وجود لها في عالم هؤلاء الأطهار، ليس معنى ذلك -أو لا يفهم من كلامي- أنني أقول: إن العصمة للصحابة! كلا، بل إننا على يقين أن منهم من قد زل باجتهاده! وهو اجتهاد مأجور عليه حتى وإن أخطأ؛ لأنه لا ينشد إلا الحق كما قال الأئمة الأعلام كشيخ الإسلام ابن تيمية والإمام أحمد وجميع أئمة أهل السنة والجماعة رحمهم الله جميعاً: إن كل فريق منهما قد اجتهد وهو مأجور على اجتهاده حتى وإن أخطأ، مع أننا نقول بيقين جازم مطلق بأن أولى الطائفتين بالحق كان علياً رضي الله عنه وأرضاه.

أقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم
আলী ও মুয়াবিয়ার মধ্যে সিফফীনের যুদ্ধ

আলী ইবনে আবি তালিব কুফায় ফিরে এলেন যেন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও মুয়াবিয়ার সাক্ষাতে আরেকটি অন্ধকার ফিতনা শুরু হয়; সেদিন যখন আলী নিজেই শামে যাওয়ার সংকল্প করলেন, পরামর্শ করলেন এবং মুয়াবিয়ার কাছে একটি পত্র পাঠালেন যাতে তিনি আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) দাবি করলেন। প্রকৃতপক্ষে সকল মানুষ ও সকল গভর্নর আলীর নিকট আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন কেবল মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ব্যতীত।

অতঃপর মুয়াবিয়া শামের প্রধান ব্যক্তিদের একত্র করলেন এবং তাদের সামনে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পত্রটি পেশ করলেন। তারা সকলে বলল: না, আমরা আলীর আনুগত্য করব না যতক্ষণ না উসমানের হত্যাকারীদের শাস্তি দেওয়া হয়, অথবা তিনি তাদের আমাদের কাছে সোপর্দ করেন যেন আমরা তাদের বিচার করতে পারি। আলী নিজে সসৈন্যে বের হলেন এবং শামের অধিবাসীরাও প্রস্তুতি নিল এবং পুনরায় যুদ্ধের ফিতনা ছড়িয়ে পড়ল; আর আমরা তো আল্লাহরই এবং তাঁরই কাছে আমাদের ফিরে যেতে হবে।

এবং সেই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চলতে থাকল—সুবহানাল্লাহ! যখন শামের অধিবাসীরা দেখল যে যুদ্ধ অত্যন্ত ভয়াবহ, তখন তারা তলোয়ার ও বল্লমের আগায় কুরআন উঁচিয়ে ধরল এবং বলল: আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবকে ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করি। উভয় পক্ষই মহান আল্লাহর কিতাবের ফয়সালা মেনে নিল; ইরাকবাসীরা আলীর পক্ষে এবং শামবাসীরা মুয়াবিয়ার পক্ষে তাদের মধ্যে মহান আল্লাহর কিতাব উত্তোলনের পর তা মেনে নিল। উভয় পক্ষ দুজন বিচারক নির্বাচন করল; আলী নির্বাচন করলেন আবু মুসা আল-আশআরীকে এবং মুয়াবিয়া নির্বাচন করলেন আমরকে। সালিশি বা তাহকিমের বিষয়ে লোকেরা যা বলার বলেছে এবং তারা একে একটি তুচ্ছ ও নোংরা রাজনৈতিক খেলার সাথে তুলনা করেছে যা কেবল মিথ্যা ও অপবাদের কোনো সম্মেলন ছাড়া সম্ভব নয়। তারা আবু মুসা ও আমর সম্পর্কে এমন সব কথা বলেছে যা সাধারণ সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্পর্কেও বলা একেবারেই অনুচিত, আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের কথা তো বহুদূরে। ইতিহাসের কোনো কিতাবই এই বড় মিথ্যা থেকে মুক্ত নয়। তারা বলে: আমর ও আবু মুসা আলী ও মুয়াবিয়া উভয়কে পদচ্যুত করার বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। অথচ মুয়াবিয়া কি তখন খলিফা ছিলেন বা তিনি কি খেলাফতের দাবি করেছিলেন যে আবু মুসা বা আমর তাকে পদচ্যুত করবেন? কক্ষনো না।

ইতিহাসের এই বিভ্রান্তিগুলোর দিকে লক্ষ্য করুন। যা ঘটেছিল তা হলো তারা বলেছিল: আবু মুসা ও আমর বলেছিলেন, আমরা আলী ও মুয়াবিয়া উভয়কে সরিয়ে দিচ্ছি এবং বিষয়টি মুসলিমদের পরামর্শের (শূরা) ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। এটি সঠিক এবং এটিই সত্য। কিন্তু অপবাদটি তখন আসে যখন তারা বলে: যখন তারা এই বিষয়ে একমত হলেন এবং নির্ধারিত সময়ে সমবেত হলেন, তখন আমর বললেন: হে আবু মুসা, আপনি কথা বলুন। তখন আবু মুসা দাঁড়িয়ে বললেন: আমি ও আমার সাথী আলী ও মুয়াবিয়াকে পদচ্যুত করার এবং বিষয়টি মুসলিমদের পরামর্শের ওপর ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছি যাতে তারা যাকে ইচ্ছা পছন্দ করতে পারে। আবু মুসা যখন তার বক্তব্য শেষ করলেন, তখন আমর ইবনুল আস দাঁড়িয়ে বললেন: আমার সাথী আলী ও মুয়াবিয়াকে পদচ্যুত করেছেন, কিন্তু আমি আলীকে পদচ্যুত করছি এবং মুয়াবিয়াকে বহাল রাখছি। এ কী কথা!

এটি মিথ্যা ও অপবাদের সম্মেলনের সাথে মানানসই, এটি রাজনীতির কূটচালের সাথে মানানসই।

কিন্তু এই পবিত্র ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে—না, কক্ষনো না। আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য ইমামদের বর্ণনায় এমন সব সহীহ দলিল রয়েছে যা এই পবিত্র, পুণ্যবান ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের থেকে এই মিথ্যা ও অপবাদকে দূর করে দেয়। প্রখ্যাত ইমাম আদ-দারাকুতনী তার সহীহ সনদে যা বর্ণনা করেছেন তা পড়ুন যে, হুদাইর বিন আল-মুনজির (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান আমরের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কাছে পাঠিয়েছিলেন কী ঘটেছে তা যাচাই করার জন্য। হুদাইর বিন আল-মুনজির গিয়ে আমরের সাথে দেখা করলেন এবং বললেন: হে আমর, আপনি ও আবু মুসা কী করেছেন? আপনারা কি জানেন আমর কী বলেছিলেন? তিনি কি বলেছিলেন যে, আমরা এটি ছেড়ে দিয়ে সেই বিশ্বাসঘাতকতা ও মিথ্যার দিকে যাব যা আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের জন্য শোভনীয় নয়? আমর বললেন: হে আবু মুসা, আপনার অভিমত কী? আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমার অভিমত হলো আমরা আলী ও মুয়াবিয়াকে পদচ্যুত করব এবং এই বিষয়টি সেই ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখব যাদের প্রতি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল পর্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলেন। আমর বললেন: তাহলে আমার ও মুয়াবিয়ার অবস্থান কী হবে? আবু মুসা আল-আশআরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: যদি তোমাদের সাহায্য চাওয়া হয় তবে তোমরা সাহায্য করবে, আর যদি তোমাদের প্রয়োজন না থাকে তবে আল্লাহর দ্বীন দীর্ঘকাল তোমাদের ছাড়াই অটল রয়েছে। এভাবেই বিষয়টি শেষ হয়েছিল।

আর এইসব মিথ্যা ও অপবাদের এই পবিত্র ব্যক্তিদের জগতে কোনো প্রবেশাধিকার নেই এবং এর কোনো অস্তিত্ব নেই। আমার কথার অর্থ এই নয় যে আমি সাহাবীদের ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে (মাসুম) বলছি। কক্ষনো না। বরং আমরা নিশ্চিত যে তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বীয় ইজতিহাদের কারণে ভুল করেছেন। আর ভুল করলেও সেই ইজতিহাদের জন্য তিনি সওয়াব পাবেন; কারণ তিনি সত্য ছাড়া অন্য কিছু অন্বেষণ করেননি, যেমনটি প্রখ্যাত ইমামগণ বলেছেন—শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইমাম আহমদ এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সকল ইমাম (রহিমাহুমুল্লাহ)। তারা বলেছেন: তাদের উভয় পক্ষই ইজতিহাদ করেছিলেন এবং ভুল করলেও তারা তাদের ইজতিহাদের জন্য সওয়াব পাবেন। তবে আমরা দৃঢ় ও অটল বিশ্বাসের সাথে বলি যে, সত্যের ক্ষেত্রে দুই দলের মধ্যে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ছিলেন।

আমি আমার এই কথা বলছি এবং আল্লাহর কাছে আমার ও আপনাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ١) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌مروق فرقة الخوارج

الحمد لله رب العالمين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، اللهم صلِّ وسلم وزد وبارك عليه وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد: وهنا -أيها الأحبة- مرقت فرقة الضلال من بين جيش علي رضي الله عنه وأرضاه؛ هؤلاء الذين قبلوا التحكيم في أول الأمر، بل وهم الذين أصروا على علي أن يذعن لكتاب الله، وهل عارض أو عاند، علي الذي تربى في أحضان الكتاب وبين آياته؟ هل أنكر حدود الله وضيع كتاب الله؟! خرجت هذه الفرقة فرقة الضلال، الخوارج الذين اعترضوا على علي وخرجوا عليه، وحكموا عليه بالكفر، قالوا: تحكم في كتاب الله بشراً -سبحان الله! - من أصحابك؟ إن الحكم إلا لله، وكفروا علياً بهذه المقولة حتى قال علي قولته الخالدة: [كلمة حق يراد بها باطل] .

وانطلقوا يعيثون في الأرض تقتيلاً وفساداً، هذه الفرقة التي قال عنها الحبيب الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم في أحاديث بلغت حد التواتر: (يقرءون القرآن لا يجاوز تراقيهم، يمرقون من الإسلام كما يمرق السهم من الرمية) .

وفي حديث أبي سعيد الخدري في صحيح مسلم أنه صلى الله عليه وسلم قال: (يقتل هذه الفرقة أولى الطائفتين بالحق) ، فشهد النبي للطائفتين، لطائفة علي ولطائفة معاوية بأنهما على الحق، ولكن هناك فرقة هي أولى بالحق من فرقة، وهي فرقة علي رضي الله عنه وأرضاه، وهذا هو ما يدين الله به أهل السنة والجماعة بأن الطائفتين على الحق، وأولى الطائفتين بالحق طائفة علي، وكلاهما مجتهد مأجور إلا أن اجتهاد علي ضعف اجتهاد معاوية ومن معه رضي الله عنهم جميعاً وأرضاهم.
খারেজি সম্প্রদায়ের বিচ্যুতি

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।

অতঃপর: হে প্রিয়জনেরা! এখানে আলি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর সেনাবাহিনী থেকে এই পথভ্রষ্ট দলটি বেরিয়ে গেল। এরা তারাই, যারা প্রথম দিকে সালিশি (তাহকিম) মেনে নিয়েছিল; বরং তারাই আলিকে আল্লাহর কিতাবের ফয়সালা মেনে নিতে বাধ্য করেছিল। অথচ আলি, যিনি কিতাবের কোলে ও এর আয়াতসমূহের মাঝে বেড়ে উঠেছেন, তিনি কি কখনো এর বিরোধিতা বা হঠকারিতা করতে পারেন? তিনি কি আল্লাহর হদসমূহকে অস্বীকার করেছেন কিংবা আল্লাহর কিতাবকে অবজ্ঞা করেছেন?! এই পথভ্রষ্ট দলটি অর্থাৎ খারেজিরা আত্মপ্রকাশ করল, যারা আলির বিরোধিতা করল, তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করল এবং তাঁকে কাফের ফতোয়া দিল। তারা বলল: "আপনি কি আল্লাহর কিতাবের ফয়সালার জন্য আপনার সাথীদের মধ্য থেকে মানুষকে বিচারক নিয়োগ করছেন? - সুবহানাল্লাহ! - ফয়সালা দেওয়ার নিরঙ্কুশ অধিকার তো একমাত্র আল্লাহর।" এই উক্তির মাধ্যমে তারা আলিকে কাফের সাব্যস্ত করল, এমনকি আলি তাঁর সেই চিরন্তন উক্তিটি করলেন: [কথাটি সত্য, কিন্তু এর মাধ্যমে বাতিল বা অসৎ উদ্দেশ্য অন্বেষণ করা হচ্ছে]।

এরপর তারা পৃথিবীতে হত্যা ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে ছড়িয়ে পড়ল। এই সেই দল, যাদের সম্পর্কে সত্যবাদী ও সত্যয়নকৃত প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন সব হাদিসে বর্ণনা করেছেন যা 'মুতাওয়াতির' (সুনিশ্চিত নিরবচ্ছিন্নতা) পর্যায়ে পৌঁছেছে: "তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন শিকার ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়।"

সহিহ মুসলিমের আবু সাঈদ আল-খুদরি বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দুইটি দলের মধ্যে যারা সত্যের অধিকতর নিকটবর্তী, তারা এই (বিদ্রোহী) দলটিকে হত্যা করবে।" এভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলির দল ও মুয়াবিয়ার দল—উভয় দলের পক্ষেই সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তারা সত্যের ওপর ছিলেন। তবে একটি দল অন্যটির চেয়ে সত্যের অধিকতর নিকটবর্তী ছিল, আর সেটি হলো আলি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর দল। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাহ হলো এই যে, উভয় দলই সত্যের ওপর ছিল, তবে আলি-এর দল ছিল সত্যের অধিকতর নিকটবর্তী। তাঁরা উভয় পক্ষই ছিলেন মুজতাহিদ এবং সওয়াবের অধিকারী, তবে আলির ইজতিহাদ মুয়াবিয়া ও তাঁর সাথীদের ইজতিহাদের চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী ছিল (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।
(খণ্ড: ١) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌مقتل علي بن أبي طالب على يد الخوارج

أيها الأحباب: اتفق الخوارج على قتل علي ومعاوية وعمرو بن العاص، ونجح عبد الرحمن بن ملجم في مهمته الحقيرة الخطيرة، وطعن علياً رضي الله عنه بسيف مسموم سمه شهراً كاملاً، طعنه وهو في الكوفة يخرج ليمشي في الشوارع والطرقات ليوقظ الناس بنفسه -وهو أمير المؤمنين- لصلاة الفجر، فطعنه المجرم الذي طعنه وهو يقول: يا علي! أتريد أن تحكم في كتاب الله أصحابك؟ إن الحكم إلا لله.

وظل يردد هذا الوقح قول الله جل وعلا: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَؤُوفٌ بِالْعِبَادِ} [البقرة:207] أسمعتم إلى هذا الهراء وإلى هذا الكذب؟ باسم الدين يقتل علي؟! باسم الدين يقتل عثمان؟! باسم الدين يقتل الحسن والحسين؟! إنه الكذب والزهد الكاذب، والورع المغلوط المقلوب، يقرأ قول الله وهو يقتل علياً: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ وَاللَّهُ رَؤُوفٌ بِالْعِبَادِ} [البقرة:207] .

وقتل علي رضي الله عنه ونام على فراش الموت وهو يردد: لا إله إلا الله، وظل يرددها مرات كثيرة حتى لقي الله جل وعلا ولسانه غظ طري بكلمة التوحيد.
খারিজিদের হাতে আলি ইবনে আবি তালিবের শাহাদাত

হে প্রিয় সুধী: খারিজিরা আলি, মুয়াবিয়া এবং আমর ইবনুল আসকে হত্যার ব্যাপারে একমত হয়েছিল। আর আব্দুর রহমান ইবনে মুলজিম তার হীন ও ভয়াবহ মিশনে সফল হয়। সে আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে এমন এক বিষাক্ত তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে যা দীর্ঘ এক মাস ধরে বিষে সিক্ত করা হয়েছিল। তিনি যখন কুফায় নিজে রাস্তাঘাটে বের হয়ে মানুষকে ফজরের সালাতের জন্য জাগিয়ে দিচ্ছিলেন—অথচ তিনি ছিলেন আমিরুল মুমিনিন—তখন সে তাঁকে আঘাত করে। সেই অপরাধী যখন তাঁকে আঘাত করছিল, তখন সে বলছিল: হে আলি! তুমি কি আল্লাহর কিতাবের ফয়সালার ক্ষেত্রে তোমার সাথীদের কর্তৃত্ব মানতে চাও? নিশ্চয়ই বিধান দেওয়ার অধিকার কেবল আল্লাহরই।

আর এই নির্লজ্জ ব্যক্তিটি মহান আল্লাহর এই বাণী বারবার উচ্চারণ করছিল: {আর মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টির সন্ধানে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দেয়; আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াশীল} [সূরা আল-বাকারা: ২০৭]। আপনারা কি এই প্রলাপ এবং এই মিথ্যাচার শুনেছেন? দ্বীনের নামে আলিকে হত্যা করা হচ্ছে?! দ্বীনের নামে উসমানকে হত্যা করা হচ্ছে?! দ্বীনের নামে হাসান ও হুসাইনকে হত্যা করা হচ্ছে?! এটি একটি ডাহা মিথ্যা এবং মিথ্যা জগতবিমুখতা, এটি একটি ভ্রান্ত ও বিকৃত তাকওয়া। সে আলিকে হত্যা করার সময় আল্লাহর এই বাণী পাঠ করছিল: {আর মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টির সন্ধানে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দেয়; আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াশীল} [সূরা আল-বাকারা: ২০৭]।

আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শাহাদাত বরণ করলেন এবং তিনি মৃত্যুশয্যায় শায়িত অবস্থায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই) পাঠ করছিলেন। তিনি বারবার এটি বলতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করলেন, এমতাবস্থায় যে তাঁর জিহ্বা তাওহিদের কালিমায় সিক্ত ও সজীব ছিল।
(খণ্ড: ١) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌اجتماع الأمة على معاوية

ولما مات علي ذهب الناس إلى الحسن ليبايعوه، فبايعوا الحسن بن علي رضي الله عنه وأرضاه، إلا أن الحسن تعالى على كل هذه الدماء والأشلاء، وحقن دماء المسلمين، وحقق ما قاله من قبل الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم، فتنازل الحسن عن الأمر لـ معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنهم جميعاً وحقن الحسن الدماء، وانتقل الملك إلى معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه وأرضاه، ليحقق الحسن دليلاً من دلائل النبوة الخالدة كما ورد في الحديث الذي رواه البخاري، أن النبي صلى الله عليه وسلم صعد يوماً على المنبر وأجلس إلى جانبه الحسن بن علي ثم نظر النبي إلى الناس ونظر إلى الحسن وقال: (أيها الناس! إن ابني هذا سيد سيصلح الله به بين فئتين عظيمتين من المسلمين) ، بأبي هو وأمي صلى الله عليه وسلم.

وأصلح الحسن بين فئتين عظيمتين من المسلمين، بل وحكم الله جل وعلا للفئتين بالإيمان إلا من مرق من مارقة فرق الضلال والباطل من الخوارج والشيعة وقتلة عثمان وغيرهم؛ فقال سبحانه: {وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ - فلم يخرجهم بالقتال والحرب من دائرة الإيمان، بل ولا من دائرة الأخوة- اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ فَإِنْ فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ} [الحجرات:9] ، ويحكم الله لهم جميعاً بالأخوة فيقول جلا وعلا: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [الحجرات:10] .

أحبتي في الله: أختم هذا اللقاء الساخن بهذه العبارة حتى لا تنسى وأقول: هذه فتنة عظيمة سلمت منها أيدينا فلتسلم منها ألسنتنا، وحذار أن نكون من الخائضين، وأن نكون من الهالكين بخصومة أصحاب رسول الله يوم القيامة أمام رب العالمين.

أسأل الله جل وعلا أن يتجاوز عنا وعنهم بمنه وكرمه، وأن يغفر لنا ولهم وأن يجزيهم عنا خير الجزاء.

اللهم ارض عن أبي بكر وعثمان وعمر وعلي ، اللهم ارض عنهم يا رب العالمين، وتجاوز عنا وعنهم بكرمك وأنت على كل شيء قدير.

اللهم اجمعنا بهم في دار كرامتك ومستقر رحمتك، مع إمام الهدى ومصباح الدجى وإمام النبيين وخاتم المرسلين محمد عليه الصلاة والسلام.

اللهم انصر الإسلام وأعز المسلمين، وأعل بفضلك كلمتي الحق والدين.

اللهم اجمع شملهم.

اللهم وحد صفهم، وزلزل الأرض من تحت أقدام أعدائهم بقدرتك يا أرحم الراحمين.

وأقول قولي هذا وأستغفر الله العظيم لي ولكم، وما كان من توفيق في هذا اللقاء فمن الله جل وعلا وحده، وما كان من خطأ أو سهو أو زلل أو نسيان فمني ومن الشيطان، والله ورسوله منه براء، وأعوذ بالله أن أذكركم به وأنساه.
মুয়াবিয়ার প্রতি উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ হওয়া

আলী (রা.)-এর মৃত্যুর পর মানুষ হাসান (রা.)-এর কাছে বায়আত গ্রহণের জন্য গেল। ফলে তারা হাসান বিন আলী (রা.)-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করল। তবে হাসান (রা.) এই সমস্ত রক্তপাত ও ছিন্নভিন্ন দেহের ঊর্ধ্বে উঠে মুসলিমদের রক্ত রক্ষা করেন এবং ইতিপূর্বে সত্যবাদী ও সত্যায়নকারী রাসূলুল্লাহ (সা.) যা বলেছিলেন তা সত্যে পরিণত করেন। হাসান (রা.) মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রা.)-এর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন এবং হাসান (রা.) রক্তপাত বন্ধ করেন। এভাবে শাসনভার মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রা.)-এর হাতে চলে যায়। এর মাধ্যমে হাসান (রা.) নবুওয়তের এক শাশ্বত নিদর্শনের বাস্তবায়ন করেন, যেমনটি ইমাম বুখারী বর্ণিত হাদিসে এসেছে— নবী (সা.) একদিন মিম্বারে উঠলেন এবং হাসান বিন আলীকে নিজের পাশে বসালেন। এরপর নবী (সা.) মানুষের দিকে তাকালেন এবং হাসানের দিকে তাকিয়ে বললেন: "হে লোকসকল! আমার এই সন্তান একজন নেতা, শীঘ্রই আল্লাহ তার মাধ্যমে মুসলিমদের দুটি বিশাল দলের মধ্যে মীমাংসা করিয়ে দেবেন।" আমার পিতা-মাতা তাঁর (সা.) জন্য উৎসর্গ হোক।

হাসান (রা.) মুসলিমদের দুটি বড় দলের মধ্যে মীমাংসা করলেন। বরং মহান আল্লাহ উভয় দলের জন্যই ঈমানের ফয়সালা দিয়েছেন, কেবল খারেজী, শিয়া, ওসমানের হত্যাকারী এবং বিভ্রান্ত ও বাতিল উপদলগুলোর মধ্য থেকে যারা ধর্মচ্যুত হয়েছে তারা ছাড়া। মহান আল্লাহ বলেন: {মুমিনদের দুটি দল যদি পরস্পরে যুদ্ধে লিপ্ত হয়—এখানে তিনি তাদের যুদ্ধ ও লড়াইয়ের কারণে ঈমানের গণ্ডি থেকে বের করে দেননি, এমনকি ভ্রাতৃত্বের গণ্ডি থেকেও নয়—তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর যদি তাদের একদল অন্য দলের ওপর সীমালঙ্ঘন করে, তবে তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী দলের বিরুদ্ধে লড়াই করো যতক্ষণ না তারা আল্লাহর আদেশের দিকে ফিরে আসে। যদি তারা ফিরে আসে তবে তাদের মধ্যে ইনসাফের সাথে মীমাংসা করে দাও এবং ন্যায়বিচার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচারকদের ভালোবাসেন।} [হুজুরাত: ৯]। মহান আল্লাহ তাদের সকলের জন্য ভ্রাতৃত্বের ফয়সালা দিয়ে বলেন: {নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই, সুতরাং তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।} [হুজুরাত: ১০]।

আল্লাহর ওয়াস্তে আমার প্রিয় ভাইয়েরা: আমি এই তপ্ত আলোচনাটি এই বাক্যের মাধ্যমে শেষ করছি যাতে এটি বিস্মৃত না হয় এবং আমি বলছি: এটি ছিল একটি বড় ফিতনা যা থেকে আমাদের হাত নিরাপদ ছিল, সুতরাং আমাদের জিহ্বাকেও যেন তা থেকে নিরাপদ রাখি। সাবধান! কিয়ামতের দিন রাব্বুল আলামীনের সামনে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীদের সাথে শত্রুতা করে আমরা যেন অনর্থক আলোচনায় লিপ্ত এবং ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত না হই।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাদের এবং তাঁদের মার্জনা করেন, আমাদের ও তাঁদের ক্ষমা করেন এবং তাঁদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।

হে আল্লাহ! আপনি আবু বকর, উসমান, ওমর ও আলীর প্রতি সন্তুষ্ট হোন। হে রাব্বুল আলামীন! আপনি তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং আপনার করুণায় আমাদের ও তাঁদের ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।

হে আল্লাহ! হেদায়েতের ইমাম, অন্ধকারের প্রদীপ, নবীদের নেতা এবং রাসূলদের শেষ নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাথে আপনার সম্মানের আবাসে এবং রহমতের স্থায়ী ঠিকানায় আমাদের তাঁদের সাথে একত্রিত করুন।

হে আল্লাহ! ইসলামকে সাহায্য করুন এবং মুসলিমদের সম্মানিত করুন। আপনার অনুগ্রহে সত্য ও দ্বীনের বাণীকে সমুন্নত করুন।

হে আল্লাহ! তাঁদের বিচ্ছিন্নতাকে ঐক্যবদ্ধ করে দিন।

হে আল্লাহ! তাঁদের কাতারবদ্ধতাকে সুসংহত করুন এবং আপনার ক্ষমতার মাধ্যমে তাঁদের শত্রুদের পায়ের নিচ থেকে জমিন প্রকম্পিত করে দিন, হে পরম দয়ালু।

আমি আমার এই কথা বলছি এবং মহান আল্লাহর কাছে আমার জন্য ও আপনাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এই আলোচনায় যা কিছু সঠিক হয়েছে তা একমাত্র মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল, বিচ্যুতি বা বিস্মৃতি হয়েছে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত। আমি আপনাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নিজে তা ভুলে যাওয়া থেকে তাঁরই আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة مصابيح الهدى   (محمد حسان)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب : سلسلة مصابيح الهدى

المؤلف : محمد بن إبراهيم بن إبراهيم بن حسان

مصدر الكتاب : دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 16 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হেদায়াতের প্রদীপমালা সিরিজ   (মুহাম্মদ হাসান)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ : হেদায়াতের প্রদীপমালা সিরিজ

লেখক : মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম বিন ইবরাহীম বিন হাসান

গ্রন্থের উৎস : অডিও দরসসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট দ্বারা অনুলিপি করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বর হলো দরস নম্বর - ১৬টি দরস]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ٢) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ١)
‌‌خالد بن الوليد

لقد شرف الله منزلة الجهاد والمجاهدين، وجعل الجهاد ذروة سنام الإسلام وعز هذه الأمة، ويوم أن ضيعت الأمة الجهاد ضاع شرفها، وضاعت هويتها، وأصبحت الأمة ذليلة كسيرة مهيضة الجناح، وحتماً لن يعود للأمة مجدها وهويتها إلا إذا رفعت لواء الجهاد في سبيل الله، وسارت على ما سار عليه الأبطال المجاهدون وإن من خير من ترسم خطاه في هذا الشأن ذلك البطل الأشم الذي كسر شوكة الأكاسرة وقصم ظهور القياصرة إنه سيف الله المسلول على أعدائه خالد بن الوليد.
খালিদ বিন ওয়ালিদ

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা জিহাদ ও মুজাহিদদের মর্যাদাকে সম্মানিত করেছেন এবং জিহাদকে ইসলামের সর্বোচ্চ শিখর ও এই উম্মাহর সম্মানের উৎস বানিয়েছেন। আর যেদিন এই উম্মাহ জিহাদকে পরিত্যাগ করেছে, সেদিন তার সম্মান ও আত্মপরিচয় বিলীন হয়ে গেছে এবং উম্মাহ লাঞ্ছিত, ভগ্নহৃদয় ও শক্তিহীন হয়ে পড়েছে। নিশ্চিতভাবেই এই উম্মাহর গৌরব ও পরিচয় ততক্ষণ ফিরে আসবে না, যতক্ষণ না সে আল্লাহর পথে জিহাদের ঝাণ্ডা উত্তোলন করবে এবং বীর মুজাহিদগণ যে পথে চলেছেন সেই পথে পরিচালিত হবে। আর এই ক্ষেত্রে যাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা সর্বোত্তম, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন সেই মহান বীর, যিনি পারস্য সম্রাটদের প্রতাপ চূর্ণ করেছিলেন এবং রোমান সম্রাটদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিলেন; তিনি হলেন তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কোষমুক্ত তলোয়ার খালিদ বিন ওয়ালিদ।
(খণ্ড: ٢) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ٢)
‌‌الجهاد ذروة سنام الإسلام

إن الحمد لله؛ نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله تعالى من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، اللهم صل وسلم وزد وبارك عليه، وعلى آله وأصحابه وأحبابه وأتباعه وعلى كل من اهتدى بهديه، واستن بسنته، واقتفى أثره إلى يوم الدين.

أما بعد: فحيا الله هذه الوجوه الطيبة المشرقة، وزكى الله هذه الأنفس، وشرح الله هذه الصدور، وأسأل الله جل وعلا أن يتقبل مني ومنكم صالح الأعمال، وأن يجمعنا في الدنيا دائماً وأبداً على طاعته، وفي الآخرة مع سيد النبيين في جنته ومستقر رحمته، إنه ولي ذلك ومولاه، وهو على كل شيء قدير.

أحبتي في الله: مع أئمة الهدى ومصابيح الدجى، تلك السلسلة الكريمة المباركة التي نقدمها في هذه الأيام لأبناء الصحوة الإسلامية خاصة، وللمسلمين عامة، للعبرة والعظة من ناحية، ولتقديم القدوة الصالحة الطيبة لتربية الأجيال عليها من ناحية أخرى، لا سيما بعد فترة التغريب الطويلة التي مسخت الهوية، وشوهت الفكر والتاريخ، وزعزعت الانتماء.

أحبتي في الله: رسالة رقيقة مؤثرة من ساحة الوغى، وميدان البطولة والشرف والجهاد، تلك الرسالة التي أرسل بها الإمام المجاهد العلم: عبد الله بن المبارك إلى أخيه التقي الزاهد الورع عابد الحرمين: الفضيل بن عياض يذكره فيها بشرف الجهاد في سبيل الله فيقول:

يا عابد الحرمين لو أبصرتنا لعلمت أنك بالعبادة تلعب

من كان يخضب خده بدموعه فنحورنا بدمائنا تتخضب

أو كان يتعب خيله في باطلٍ فخيولنا يوم الصبيحة تتعب

ريح العبير لكم ونحن عبيرنا رهج السنابك والغبار الأطيب

ولقد أتانا من مقال نبينا قولٌ صحيحٌ صادقٌ لا يُكذب

لا يستوي وغبار خيل الله في أنف امرئ ودخان نار تلهب

هذا كتاب الله ينطق بيننا ليس الشهيد بميتٍ لا يكذب

ذلكم هو شرف الجهاد أيها الأحباب الذي أمر الله جل وعلا به الأمة أمراً صريحاً صحيحاً واضحاً؛ لتعيش الأمة عزيزة، ولتلقى ربها سعيدة حميدة، فقال جل وعلا: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنجِيكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ * تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ * يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ * وَأُخْرَى تُحِبُّونَهَا نَصْرٌ مِنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ وَبَشِّرْ الْمُؤْمِنِينَ} [الصف:10-13] ذلكم هو شرف الجهاد الذي جعله الحبيب المصطفى صلى الله عليه وسلم ذروة سنام الإسلام، كما في حديث معاذ بن جبل الذي رواه الترمذي وقال: حسنٌ صحيح، وفيه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لـ معاذ: (يا معاذ! ألا أدلك على رأس الأمر وعموده وذروة سنامه؟ قلت: بلى يا رسول الله، فقال صلى الله عليه وسلم: رأس الأمر الإسلام، وعموده الصلاة، وذروة سنامه الجهاد في سبيل الله) ذلكم هو الجهاد الذي ضمن الله به السعادة والسيادة والريادة والقيادة لهذه الأمة.

ويوم أن ضيعت الأمة الجهاد ضاع شرفها، وضاعت هويتها، وأصبحت الأمة ذليلةً كسيرةً، مهيضة الجناح، مبعثرة كالغنم الشاتية في الليلة الممطرة.

وحتماً لن تعود للأمة هويتها إلا إذا عادت إلى الجهاد ورفعت لواءه في سبيل الله، ومن ثم حرص أعداء ديننا على أن يحولوا بين الأمة والجهاد، وعلى ألا تربى الأجيال المسلمة على الجهاد وسير الأبطال المجاهدين والقادة الفاتحين.
‌জিহাদ ইসলামের কুঁজের সর্বোচ্চ শিখর

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী, তাঁর প্রিয়ভাজন এবং তাঁর অনুসারীদের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর নির্দেশিত পথে চলবে, তাঁর সুন্নাত পালন করবে ও তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তাদের সকলের ওপর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষণ করুন।

এরপর: আল্লাহ এই পবিত্র ও উজ্জ্বল চেহারাগুলোকে সজীব রাখুন, আল্লাহ এই নফসগুলোকে পবিত্র করুন এবং এই বক্ষসমূহকে প্রশস্ত করে দিন। আমি আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা-র কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার ও আপনাদের নেক আমলসমূহ কবুল করে নেন। তিনি যেন আমাদের ইহকালে সর্বদা তাঁর আনুগত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ রাখেন এবং পরকালে তাঁর জান্নাতে ও তাঁর রহমতের আশ্রয়ে নবীকুল শিরোমণির সাথে আমাদের একত্রিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অধিকারী ও এর ওপর ক্ষমতাবান, আর তিনি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমার প্রিয়জনরা: হিদায়াতের ইমাম এবং অন্ধকারের প্রদীপদের নিয়ে সাজানো এই সম্মানিত ও বরকতময় ধারাবাহিকটি বর্তমানে আমরা বিশেষ করে ইসলামী জাগরণের সন্তানদের জন্য এবং সাধারণভাবে সকল মুসলিমদের জন্য পেশ করছি। এর একদিকে রয়েছে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ, আর অন্যদিকে রয়েছে পরবর্তী প্রজন্মকে গড়ে তোলার জন্য সর্বোত্তম আদর্শ উপস্থাপন; বিশেষ করে দীর্ঘদিনের বিজাতীয়করণের পর, যা মুসলিম পরিচয় বিলুপ্ত করেছে, চিন্তা ও ইতিহাসকে বিকৃত করেছে এবং আমাদের ধর্মীয় সংহতিকে নড়বড় করে দিয়েছে।

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমার প্রিয়জনরা: যুদ্ধের ময়দান এবং বীরত্ব, সম্মান ও জিহাদের প্রাঙ্গণ থেকে আসা একটি সূক্ষ্ম ও হৃদয়স্পর্শী বার্তা। এই সেই বার্তা যা প্রখ্যাত মুজাহিদ ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক তাঁর পরহেজগার, দুনিয়াবিমুখ ও ইবাদতগুজার ভাই—হারামাইনের ইবাদতকারী ফুদাইল ইবনে ইয়াজকে পাঠিয়েছিলেন। এতে তিনি তাকে আল্লাহর পথে জিহাদের মর্যাদা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন:

হে হারামাইনের ইবাদতকারী! আপনি যদি আমাদের দেখতেন, তবে বুঝতে পারতেন যে আপনি ইবাদত নিয়ে খেলা করছেন।

যার গাল অশ্রুতে সিক্ত হয়, (সে জেনে রাখুক) আমাদের কণ্ঠনালী আমাদের রক্তে রঞ্জিত হয়।

অথবা কেউ যদি তার ঘোড়াকে অনর্থক কাজে ক্লান্ত করে, তবে আমাদের ঘোড়াগুলো যুদ্ধের সকালে ক্লান্ত হয়।

আপনাদের জন্য সুগন্ধির ঘ্রাণ, আর আমাদের সুগন্ধি হলো ঘোড়ার খুরের নিচে উড়ন্ত ধূলিকণা যা অত্যন্ত পবিত্র।

আমাদের নবীর বাণী থেকে আমাদের কাছে একটি সহিহ ও সত্য কথা পৌঁছেছে যা মিথ্যা হওয়ার নয়:

আল্লাহর পথে ধাবমান ঘোড়ার ধূলিকণা আর প্রজ্জ্বলিত আগুনের ধোঁয়া কোনো ব্যক্তির নাসিকায় একত্রিত হতে পারে না।

এই যে আল্লাহর কিতাব আমাদের মাঝে কথা বলছে, শহীদ মৃত নয়—এ কথা মিথ্যা নয়।

হে প্রিয় ভাইয়েরা, এটাই হলো জিহাদের সম্মান, যার নির্দেশ আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা এই উম্মতকে অত্যন্ত স্পষ্ট, অকাট্য ও পরিষ্কারভাবে দিয়েছেন; যাতে উম্মত মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকতে পারে এবং অত্যন্ত সুখে ও প্রশংসিত অবস্থায় তার রবের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারে। আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ, আমি কি তোমাদের এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব যা তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা জানতে। তিনি তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদের দাখিল করবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত এবং চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহের উত্তম বাসগৃহসমূহে; এটাই মহা সাফল্য। এবং আরও একটি (পুরস্কার) যা তোমরা পছন্দ করো—আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং নিকটবর্তী বিজয়; আর মুমিনদের সুসংবাদ দাও।} [আস-সফ: ১০-১৩] এটাই জিহাদের সেই সম্মান যাকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামের কুঁজের সর্বোচ্চ শিখর হিসেবে অভিহিত করেছেন। যেমনটি মুয়ায ইবনে জাবাল বর্ণিত হাদিসে এসেছে, যা তিরমিযি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান-সহিহ। তাতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুয়াযকে বলেছিলেন: (হে মুয়ায! আমি কি তোমাকে সকল বিষয়ের মূল, তার স্তম্ভ এবং তার কুঁজের সর্বোচ্চ শিখর সম্পর্কে বলে দেব না? আমি বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: সকল বিষয়ের মূল হলো ইসলাম, তার স্তম্ভ হলো নামাজ এবং তার কুঁজের সর্বোচ্চ শিখর হলো আল্লাহর পথে জিহাদ)। এই সেই জিহাদ যার মাধ্যমে আল্লাহ এই উম্মতের জন্য সুখ, শ্রেষ্ঠত্ব, নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

যেদিন উম্মত জিহাদকে বিসর্জন দিয়েছে, সেদিন তার সম্মান হারিয়েছে, তার পরিচয় বিলুপ্ত হয়েছে এবং উম্মত লাঞ্ছিত ও ভগ্ন হৃদয়ে পরিণত হয়েছে; তার ডানা ভেঙে গেছে এবং বৃষ্টির রাতে বিচরণকারী ভেড়ার পালের মতো ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে।

আর নিশ্চিতভাবেই উম্মতের হারানো পরিচয় ফিরে আসবে না যতক্ষণ না তারা জিহাদের দিকে ফিরে আসে এবং আল্লাহর পথে জিহাদের পতাকা সমুন্নত করে। একারণেই আমাদের দ্বীনের শত্রুরা উম্মত ও জিহাদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে এবং মুসলিম প্রজন্ম যেন জিহাদ এবং বীর মুজাহিদ ও বিজয়ী সেনানায়কদের জীবনীর ওপর গড়ে না ওঠে সে বিষয়ে সর্বদা সচেষ্ট থেকেছে।
(খণ্ড: ٢) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌سيرة خالد بن الوليد رضي الله عنه

نقضي هذه الدقائق المعدودة مع قائد المجاهدين، وسيف من سيوف رب العالمين، وأستاذ فن الحروب والميادين، الفاتك بالمسلمين يوم أحد، والفاتك بأعداء الإسلام بقية الأيام، إنه فارس الإسلام والمسلمين، وسيف من سيوف رب العالمين، وترياق وساوس الشياطين من الكفار والمنافقين، والبطل القوي العنيد، والفارس القوي الرشيد.

إنه: خالد بن الوليد رضي الله عنه وأرضاه.

علم من أعلام الجهاد في سبيل الله، وعالم وحده في فن القيادة وإدارة الحروب، أحب المسلمون سيفه، وخافه أعداء الإسلام، وأقبل قادة الدنيا في كل زمان ومكان إلى عصر نابليون ينهلون من مورد خالد الخالد في فن القيادة، وإدارة الحروب، وقواعد القتال.

خالد بن الوليد رضي الله عنه وأرضاه الذي تحول في عالم الحرب ودنيا الميادين إلى أسطورة، وما زالت الأبحاث والدراسات إلى عصرنا هذا تنهل من مورد قيادة خالد، وفن إدارته للحروب والقتال، فمن هو خالد؟ وما الذي نعرفه نحن المسلمين عن خالد؟ والله لا نعرف عنه إلا القليل، في الوقت الذي نجد فيه كثيراً من المسلمون يعرفون الكثير والكثير عن نابليون، ولينين واستالين، وبسمر وغيرهم وغيرهم من هؤلاء الأقزام.

فمن هو خالد بن الوليد أيها الأحباب؟
খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর জীবনী

আমরা এই সীমিত মুহূর্তগুলো অতিবাহিত করব মুজাহিদদের সেনাপতি, রব্বুল আলামীনের তলোয়ারসমূহের মধ্যে একটি তলোয়ার, যুদ্ধবিদ্যা ও রণক্ষেত্রের শিল্পে পারদর্শী উস্তাদ—যিনি উহুদ যুদ্ধের দিন মুসলিমদের জন্য ছিলেন অত্যন্ত বিধ্বংসী, আর জীবনের বাকি দিনগুলোতে ছিলেন ইসলামের শত্রুদের জন্য বিধ্বংসী—তাঁর সাথে। তিনি ইসলাম ও মুসলিমদের অশ্বারোহী বীর, রব্বুল আলামীনের তলোয়ারসমূহের মধ্যে একটি তলোয়ার, কাফির ও মুনাফিক শয়তানদের কুমন্ত্রণার প্রতিষেধক, এক শক্তিশালী অজেয় বীর এবং এক সুদৃঢ় ও বিচক্ষণ অশ্বারোহী বীর।

তিনি হলেন: খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

তিনি আল্লাহর পথে জিহাদের সুউচ্চ মিনারসমূহের অন্যতম এক নিশান, এবং যুদ্ধ পরিচালনা ও নেতৃত্ব প্রদানের শিল্পে এক অনন্য পণ্ডিত। মুসলিমরা তাঁর তলোয়ারকে ভালোবাসত এবং ইসলামের শত্রুরা তাঁকে ভয় পেত। নেপোলিয়নের যুগ পর্যন্ত প্রতিটি সময়ের ও প্রতিটি স্থানের বিশ্বনেতারা নেতৃত্ব প্রদান, যুদ্ধ পরিচালনা এবং যুদ্ধের নিয়মকানুন শিখতে খালিদের সেই চিরন্তন উৎস থেকে জ্ঞান আহরণ করতে ছুটে এসেছেন।

খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু, যিনি যুদ্ধ ও রণক্ষেত্রের জগতে এক কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। বর্তমান যুগ পর্যন্ত পরিচালিত সকল গবেষণা ও অধ্যয়নগুলো আজও খালিদের নেতৃত্ব এবং তাঁর যুদ্ধ ও লড়াই পরিচালনার শিল্পকলা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে চলেছে। তবে কে এই খালিদ? আমরা মুসলিমরা খালিদ সম্পর্কে কী জানি? আল্লাহর কসম, আমরা তাঁর সম্পর্কে খুব সামান্যই জানি; অথচ আমরা দেখি অনেক মুসলিম নেপোলিয়ন, লেনিন, স্ট্যালিন, বিসমার্ক এবং এই ধরণের অন্যান্য বামনদের সম্পর্কে অনেক অনেক কিছু জানে।

হে প্রিয়জনরা, তবে কে এই খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ?
(খণ্ড: ٢) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌نشأة خالد بن الوليد رضي الله عنه

نشأ خالد بن الوليد في بيئة غنية ثرية مترفة، فأبوه هو: الوليد بن المغيرة الذي كان أغنى الناس في زمانه، وكان من كبريائه في جوده أنه كان ينهى عن أن توقد نارٌ في منى غير ناره لإطعام الحجيج، الوليد بن المغيرة الذي تحدث الله عنه وعن ثرائه وغناه في سورة المدثر فقال: {ذَرْنِي وَمَنْ خَلَقْتُ وَحِيداً * وَجَعَلْتُ لَهُ مَالاً مَمْدُوداً * وَبَنِينَ شُهُوداً * وَمَهَّدْتُ لَهُ تَمْهِيداً * ثُمَّ يَطْمَعُ أَنْ أَزِيدَ * كَلَاّ إِنَّهُ كَانَ لآيَاتِنَا عَنِيداً} [المدثر:11-16] ذلكم هو الوليد بن المغيرة، وتلك هي البيئة التي نشأ فيها خالد بن الوليد رضي الله عنه.

ومع هذا الغنى، وهذا الثراء نشأ خالد بن الوليد نشأةً خشنة، مروض نفسه على الغلظة، والقساوة، والخشونة، وحياة البداوة، لماذا؟ لأنه نشأ من صغره يحب الفروسية والقتال، وترك خالد هذا الثراء والمال والغنى، إلا أنه ورث الكره الشديد للإسلام من أبيه، فهو قائد الميمنة، وصاحب الحملة الشرسة في غزوة أحد التي شتت شمل المسلمين، وبعثرت صفوفهم، حتى جرح النبي صلى الله عليه وسلم، بل وأشيع في الميدان أن رسول الله قد قتل، بعد المباغتة السريعة لـ خالد بن الوليد الذي طوق من خلالها الرماة على الجبل، بعدما خالفوا أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وخالد بن الوليد هو الذي تولى قيادة الخيل في غزوة الخندق، ووكلت له مع كتيبة من الفرسان يركبون الخيول في هذه المعركة مهمةً عسيرة خطيرة ألا وهي: قتل النبي صلى الله عليه وسلم، إلا أن الله نصر عبده وأعز جنده، وهزم الأحزاب وحده، وتصدى خالد بعد ذلك في مائتي فارس إلى النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه وهو في طريقه إلى مكة في عام الحديبية، ولما رآه النبي صلى الله عليه وسلم اضطر أن يصلي بأصحابه يومها صلاة الخوف.

ولما اصطلح النبي مع مكة وعاد في عمرة القضاء لم يقبل خالد أن يرى النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه يطوفون ببيت الله الحرام، فترك خالد مكة وخرج حتى لا يرى هذا المشهد بعينيه.
খালিদ বিন ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বেড়ে ওঠা

খালিদ বিন ওয়ালিদ এক ঐশ্বর্যশালী, সম্পদশালী ও বিলাসপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা ছিলেন ওয়ালিদ বিন মুগীরাহ, যিনি তাঁর সময়ের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর দানশীলতার অহংকার এতটাই ছিল যে, হাজীদের খাওয়ানোর জন্য মিনায় তাঁর প্রজ্বলিত আগুন ছাড়া অন্য কোনো আগুন জ্বালাতে তিনি নিষেধ করতেন। এই সেই ওয়ালিদ বিন মুগীরাহ, যার সম্পর্কে এবং যার প্রাচুর্য ও ধন-সম্পদ সম্পর্কে আল্লাহ সূরা আল-মুদ্দাস্সিরে উল্লেখ করে বলেছেন: {ছেড়ে দাও আমাকে আর তাকে যাকে আমি একা সৃষ্টি করেছি, এবং তাকে দিয়েছি বিপুল ধন-সম্পদ, আর সদা উপস্থিত পুত্রসন্তানদের, আর আমি তার জন্য (জীবনযাত্রার) সকল পথ মসৃণ করে দিয়েছি। এরপরও সে লোভ করে যে, আমি আরও বাড়িয়ে দেব। কক্ষনো না! সে তো ছিল আমার নিদর্শনের ঘোর বিরোধী} [আল-মুদ্দাস্সির: ১১-১৬]। তিনিই হলেন ওয়ালিদ বিন মুগীরাহ, আর এটাই সেই পরিবেশ যেখানে খালিদ বিন ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বেড়ে উঠেছিলেন।

এই ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও খালিদ বিন ওয়ালিদ এক কঠোর পরিবেশে বেড়ে ওঠেন; নিজেকে অভ্যস্ত করেছিলেন রূঢ়তা, কাঠিন্য, কঠোরতা এবং মরুময় যাযাবর জীবনের সাথে। কেন? কারণ তিনি শৈশব থেকেই অশ্বারোহন ও যুদ্ধবিদ্যা পছন্দ করতেন। খালিদ এই ধন-সম্পদ ও প্রাচুর্য ত্যাগ করলেও পিতার কাছ থেকে ইসলামের প্রতি চরম বিদ্বেষ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন উহুদ যুদ্ধে ডান পার্শ্বের সেনাপতি এবং সেই বিধ্বংসী আক্রমণের নায়ক যা মুসলিমদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছিল এবং তাদের কাতারগুলোকে তছনছ করে দিয়েছিল, এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহত হয়েছিলেন। বরং রণক্ষেত্রে এই গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল যে আল্লাহর রাসূল নিহত হয়েছেন; আর তা ঘটেছিল খালিদ বিন ওয়ালিদের সেই ক্ষিপ্র অতর্কিত হামলার পর, যার মাধ্যমে তিনি পাহাড়ের ওপর থাকা তীরন্দাজদের ঘিরে ফেলেছিলেন যখন তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করেছিল।

খালিদ বিন ওয়ালিদই খন্দক যুদ্ধে অশ্বارোহী বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই যুদ্ধে একদল অশ্বারোহী সৈন্যসহ তাঁকে একটি অত্যন্ত কঠিন ও বিপজ্জনক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল, আর তা হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করা। কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সাহায্য করলেন, তাঁর বাহিনীকে বিজয়ী করলেন এবং একাই সম্মিলিত শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করলেন। এরপর হুদায়বিয়ার বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ যখন মক্কার পথে ছিলেন, তখন খালিদ দুইশত অশ্বারোহী নিয়ে তাঁদের মোকাবেলা করতে আসেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি সেদিন তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাতুল খওফ (ভীতির নামায) আদায় করতে বাধ্য হলেন।

যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কাবাসীদের সাথে সন্ধি করলেন এবং উমরাতুল কাযা পালনের জন্য মক্কায় ফিরে এলেন, তখন খালিদ এটা মেনে নিতে পারেননি যে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের আল্লাহর পবিত্র ঘর তাওয়াফ করতে দেখবেন। তাই খালিদ মক্কা ত্যাগ করে বাইরে চলে গেলেন যাতে তাঁকে নিজের চোখে এই দৃশ্য দেখতে না হয়।
(খণ্ড: ٢) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌إسلام خالد بن الوليد

تأتي كراهية خالد بن الوليد بعد كراهية أبيه للإسلام مباشرة، إلا أنه مع هذا كان يعيش صراعاً داخلياً رهيباً بين بيئته بموروثاتها الجاهلية، وبين هذا النداء الذي يصرخ في أعماقه على أنه الحق، ويقول له: إن الإسلام هو دين الله، وأن محمداً هو رسول الله، وأن الذي تركع وتسجد له يا خالد إنما هي حجارة لا تضر ولا تنفع، ولا تسمع ولا تبصر، ولا تملك لنفسها ضراً ولا نفعاً، ولا موتاً ولا حياةً ولا نشوراً.

وسرعان ما انتهى هذا الصراع الذي طال حقاً، وشرح الله صدر خالد، وقذف في قلبه حب الإسلام، وعلى الفور ينطلق خالد بن الوليد من مكة المكرمة إلى المدينة المنورة؛ ليبدأ حياةً جديدة من تلك اللحظة الباهرة الرائعة التي خشع فيها قلبه، وسكنت فيها جوارحه، وامتدت يده لتبايع الحبيب صلى الله عليه وسلم، وليشهد بين يدي رسول الله شهادة الحق والصدق وهو يقول: أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أنك رسول الله.

ويبتسم الحبيب صلى الله عليه وسلم، ويمد يده ليصافح خالد بن الوليد بوجه طلقٍ وهو يقول: (الحمد لله الذي هداك يا خالد، فلقد كنت أرى لك عقلاً، ورجوت ألا يسلمك إلا لخير) انظروا إلى شهادة النبي عليه الصلاة والسلام: (فلقد كنت أرى لك عقلاً، ورجوت ألا يسلمك إلا لخير) .
খালিদ বিন ওয়ালিদের ইসলাম গ্রহণ

খালিদ বিন ওয়ালিদের ইসলামের প্রতি ঘৃণা তার পিতার ঘৃণার পর পরই আসে। তবে তা সত্ত্বেও তিনি তার জাহেলি ঐতিহ্যের পরিবেশ এবং তার অন্তরের গভীর থেকে ধ্বনিত সেই সত্যের আহ্বানের মধ্যে এক ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিলেন। সেই আহ্বান তাকে বলছিল: নিশ্চয়ই ইসলাম আল্লাহর দ্বীন, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; আর হে খালিদ! তুমি যার সামনে রুকু ও সিজদা করছ তা নিছক পাথর মাত্র, যা কোনো ক্ষতি বা উপকার করতে পারে না, শোনে না, দেখে না এবং নিজের জন্য কোনো ক্ষতি, লাভ, মৃত্যু, জীবন বা পুনরুত্থানের মালিক নয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই দ্বন্দ্বের দ্রুতই অবসান ঘটল। আল্লাহ খালিদের বক্ষ উন্মোচন করে দিলেন এবং তার অন্তরে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা ঢেলে দিলেন। তৎক্ষণাৎ খালিদ বিন ওয়ালিদ মক্কা মুকাররমা থেকে মদিনা মুনাওয়ারার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন, যাতে সেই বিস্ময়কর ও চমৎকার মুহূর্ত থেকে এক নতুন জীবন শুরু করতে পারেন, যখন তার হৃদয় বিনীত হয়েছিল, তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির হয়েছিল এবং প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে বায়আত হওয়ার জন্য তিনি নিজের হাত প্রসারিত করেছিলেন। আর রাসূলুল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে সত্য ও সততার সাক্ষ্য দিয়ে তিনি বলছিলেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর রাসূল।

তখন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন এবং প্রফুল্ল চিত্তে খালিদ বিন ওয়ালিদের সাথে মুসাফাহা করার জন্য নিজের হাত বাড়িয়ে দিলেন। তিনি বলছিলেন: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তোমাকে হেদায়েত দান করেছেন হে খালিদ! আমি তোমার মাঝে প্রখর বুদ্ধিমত্তা দেখতাম এবং আশা করতাম যে তা তোমাকে কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছুর দিকে ধাবিত করবে না)। নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লামের সাক্ষ্যের দিকে লক্ষ্য করুন: (আমি তোমার মাঝে প্রখর বুদ্ধিমত্তা দেখতাম এবং আশা করতাম যে তা তোমাকে কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছুর দিকে ধাবিত করবে না)।
(খণ্ড: ٢) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ٦)
‌‌مشاركة خالد بن الوليد في غزوة مؤتة وفتح مكة

بعد شهرين أو ثلاثة فقط ينطلق خالد بن الوليد جندياً في صفوف كتائب التوحيد والإيمان، مع هذا الجيش الذي ذهب لمناطحة الصخور الصماء على حدود الشام في غزوة مؤتة، تلك الغزوة التي خرج النبي صلى الله عليه وسلم بنفسه يختار لها القادة، فقال كما ورد في صحيح البخاري في كتاب المغازي من حديث عبد الله بن عمر قال: (أمَّر رسول الله صلى الله عليه وسلم على غزوة مؤتة زيد بن حارثة، ثم قال عليه الصلاة والسلام: إن قتل زيد فـ جعفر بن أبي طالب، ثم قال عليه الصلاة والسلام: إن قتل جعفر فـ عبد الله بن رواحة) وانطلق الجيش الذي لا يزيد على ثلاثة آلاف مقاتل، ولما وصل الجيش إلى حدود الشام أذهلتهم المفاجئة الكبرى، فلقد رأوا الروم قد أعدوا لهم وجهزوا جيشاً جراراً يزيد على مائة ألف مقاتل، وهنا تردد المسلمون في القتال! كيف يدخلون هذه المعركة التي لا يمكن على الإطلاق أن نرى فيها ذرة من ذرات التكافؤ العددي والعُددي، وتردد الناس في القتال، مائة ألف إلى ثلاثة آلاف! وهنا قام الشهيد الشاعر صاحب السرير الذهبي: عبد الله بن رواحة رضي الله عنه وأرضاه ووقف في صفوف الجيش منادياً بأعلى صوته وهو يقول: [يا قوم! إن التي تخشون للتي خرجتم تطلبون، إنها الشهادة في سبيل الله، ووالله ما نقاتل عدونا بكثرةٍ ولا عدد، وإنما نقاتل عدونا بهذا الدين الذي أكرمنا به الله عز وجل، فانطلقوا، فإنها إحدى الحسنيين: إما النصر وإما الشهادة] .

وانطلق الناس للقتال، انطلق ثلاثة آلاف لقتال مائة ألف مقاتل، وتولى القيادة زيد بن حارثة وقاتل حتى قتل وسقط اللواء، فانقض إليه سريعاً جعفر بن أبي طالب وقاتل حتى سقط اللواء وسقط بعده طيار الشهداء، فانقض على اللواء عبد الله بن رواحة ورفع اللواء وقاتل حتى قتل وسقط اللواء، ودب الرعب والذعر في قلوب المسلمين، لا سيما بعد قتل القادة الثلاثة الذين حددهم واختارهم رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهنا انقض بسرعة الضوء ثابت بن أقرم رضي الله عنه على اللواء ليرفع اللواء خفاقاً عالياً، وأسرع ثابت بن أقرم ليبحث عن قائد الساعة وعن بطل الميدان عن أبي سليمان خالد بن الوليد رضي الله عنه، وذهب إليه ثابت وقال: [خذ اللواء يا خالد، فقال خالد -المؤدب المهذب- لا -وأبى أن يتقدم، هؤلاء الذين فيهم السابقون من المهاجرين والأنصار- وقال خالد المهذب لـ ثابت بن أقرم: أنت أولى به مني يا ثابت فأنت من السابقين الأولين، ممن شهدوا بدراً، لست أحق بهذا اللواء منك، فقال ثابت بن أقرم: خذ اللواء يا خالد والله أنت أدرى بالقتال مني، وما أخذت اللواء من على الأرض إلا لك يا أبا سليمان] .

ونادى ثابت بن أقرم في المسلمين بأعلى صوته وقال: [أيها المسلمون! هل ترضون إمرة خالد؟ قالوا: اللهم نعم] واعتلى العبقري جواده بعدما قد تحدد مصير المعركة بكل المقاييس، ودب الذعر والرعب، ومات قواد المعركة الثلاثة، وإن شئت فقل: لقد انتهت المعركة، واعتلى العبقري جواده، ودفع الراية عن يمينه كأنما يقرع بها أبواباً مغلقة قد آن لها أن تفتح بإذن الله على يد هذا البطل المغوار.

ونظر العبقري نظرةً سريعة إلى أرض الميدان بعينين كعيني الصقر، وعاد تنظيم الصفوف، وثبت خالد في هذا اليوم ثبوت الجبال الرواسي، حتى خيم الليل بظلامه، وهنا ظهرت عبقرية خالد، وظهر دهاؤه وبلاؤه وقتاله الذي قال عن نفسه: [والله لقد اندكت وتحطمت في يدي تسعة سيوف في يوم مؤتة] والحديث رواه البخاري، تسعة سيوف تحطمت في يد سيف الله، وأسد الله خالد بن الوليد رضي الله عنه.

نظر خالد بن الوليد وفي ظلام الليل وفي سرعة البرق والضوء وعدل صفوف الجيش، فجعل الميمنة مكان الميسرة، وجعل الميسرة مكان الميمنة، وجعل الساقة في المقدمة وأخر المقدمة إلى الساقة، وكلف طائفة من الجنود أن يتأخروا خلف الجيش، وعند مطلع الصباح أمرهم أن يثيروا غباراً، وأن يحدثوا صوتاً وصياحاً وجلبةً وضوضاء.

وفي الصباح الباكر بعدما بزغ الفجر، وجدت كتائب الروم وجوهاً غير الوجوه التي كانت تحاربها بالأمس، ورأت أعلاماً جديدة، ونظرت فوجدت غباراً، وسمعت صيحةً وصوتاً وجلبةً وضجيجاً، فظن الروم أن مدداً جديداً قد أقبل إلى جيوش المسلمين فدب الرعب في قلوبهم، وبدءوا في الانسحاب المذهل المروع، واستطاع خالد بذكائه وعبقريته أن يفتح ثغرة فسيحة في قلب هذا الجيش العرمرم الكبير الرهيب، وانسحب بجيشه انسحاباً آمناً دون أن يصيب الجيش بأي أذى.

وبلغت البشارة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ممن يعلم السر وأخفى، فلقد وقف الحبيب في المدينة المنورة يقص على المسلمين خبر غزوة مؤتة قبل أن يبلغه الخبر، فلقد أخبره علام الغيوب جل جلاله كما ورد في صحيح البخاري من حديث أنس: (وقف النبي صلى الله عليه وسلم ينعي للناس قادة غزوة مؤتة وعيناه تذرفان بأبي هو وأمي صلى الله عليه وسلم، فقال عليه الصلاة والسلام: لقد أخذ الراية زيد بن حارثة فأصيب، ثم أخذ الراية جعفر فأصيب، ثم أخذ الراية ابن رواحة فأصيب، وعيناه تذرفان ثم قال: حتى أخذ الراية سيف من سيوف الله ففتح الله عليهم) وانظروا إلى هذه العبارة النبوية، سمى النبي انتصار خالد فتحاً، وأي نصر؟ وأي فتح؟ ولما خرج المسلمون يقولون لهم: يا فرار قال لهم النبي عليه الصلاة والسلام: (لا تقولوا هذا ولكنهم الكرار وليسوا فراراً) سمى النبي انتصار خالد فتحاً (حتى أخذ الراية سيف من سيوف الله) ذلكم هو الوسام الذي عاد خالد إلى المدينة ليعلقه النبي على صدره، والله إنه وسامٌ لا تقوم له الدنيا، ومن يومها أحبتي سمي خالد بن الوليد بسيف الله المسلول.

ولم تمض إلا أشهراً معدودات حتى تقدم النبي في جيشه الكبير الجرار لفتح مكة، وولى النبي خالد بن الوليد وجعله قائداً للميمنة، وها هو خالد يدخل إلى مكة المكرمة قائداً من قواد جيش التوحيد، بعد أن كان بالأمس القريب قائداً من قواد جيش الشرك.
‌‌মুতা যুদ্ধ এবং মক্কা বিজয়ে খালিদ বিন ওয়ালিদের অংশগ্রহণ

মাত্র দুই বা তিন মাস পর খালিদ বিন ওয়ালিদ তাওহিদ ও ঈমানের সেনাদলে একজন সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। এই সেই সেনাবাহিনী যারা শাম দেশের সীমান্তে শক্তিশালী শত্রুর মোকাবিলা করতে মুতা যুদ্ধে গিয়েছিল। এটি এমন এক যুদ্ধ ছিল যার সেনাপতিদের মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে নির্বাচন করেছিলেন। সহীহ বুখারীর কিতাবুল মাগাজিতে আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুতা যুদ্ধের সেনাপতি হিসেবে যায়েদ বিন হারিসাকে নিযুক্ত করেন। এরপর তিনি বললেন: যদি যায়েদ নিহত হয়, তবে জাফর বিন আবি তালিব সেনাপতি হবে। এরপর তিনি বললেন: যদি জাফর নিহত হয়, তবে আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা সেনাপতি হবে)। তিন হাজার যোদ্ধার সেই বাহিনী রওনা হলো। যখন তারা শাম সীমান্তে পৌঁছাল, তারা এক বিশাল বিস্ময়ের সম্মুখীন হলো। তারা দেখল যে রোমানরা তাদের জন্য এক লক্ষাধিক যোদ্ধার এক বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করে রেখেছে। এখানে মুসলমানরা যুদ্ধের ব্যাপারে দ্বিধায় পড়ে গেলেন! সংখ্যার দিক থেকে এবং যুদ্ধ সরঞ্জামাদির দিক থেকে যেখানে বিন্দুমাত্র সামঞ্জস্য নেই, সেখানে তারা কীভাবে এই যুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন? এক লক্ষের বিপরীতে মাত্র তিন হাজার—এই ভেবে মানুষ ইতস্তত করছিল। তখন জান্নাতি স্বর্ণের খাটিয়ার অধিকারী শহীদ কবি আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রা.) দাঁড়িয়ে গেলেন এবং উচ্চস্বরে ঘোষণা করলেন: [হে কওম! যে জিনিসকে তোমরা ভয় পাচ্ছ, সেটিই তো তোমরা খুঁজতে বের হয়েছ, আর তা হলো আল্লাহর পথে শাহাদাত। আল্লাহর কসম, আমরা শত্রুর মোকাবিলা লোকবল বা শক্তির আধিক্য দিয়ে করি না; বরং আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করি এই দ্বীনের মাধ্যমে যার দ্বারা আল্লাহ আমাদের সম্মানিত করেছেন। সুতরাং চলো, আমাদের জন্য দুই কল্যাণের একটি অবধারিত: হয় বিজয়, নয়তো শাহাদাত]।

মানুষ যুদ্ধের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ল। এক লক্ষ যোদ্ধার বিরুদ্ধে তিন হাজার যোদ্ধা লড়াইয়ে অবতীর্ণ হলো। যায়েদ বিন হারিসা নেতৃত্ব দিলেন এবং শহীদ হওয়া পর্যন্ত লড়ে গেলেন, ফলে পতাকা পড়ে গেল। জাফর বিন আবি তালিব দ্রুত পতাকাটি হাতে নিলেন এবং শহীদ হওয়া পর্যন্ত লড়াই করলেন। এরপর শহীদদের ডানাওয়ালা পাখি (জাফর) পড়ে গেলেন। আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা দ্রুত পতাকাটি তুলে ধরলেন এবং শহীদ হওয়া পর্যন্ত লড়াই করলেন, পতাকাটি আবারও পড়ে গেল। বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক নির্ধারিত তিন সেনাপতির শাহাদাতের পর মুসলিমদের হৃদয়ে আতঙ্ক ও শঙ্কা দানা বাঁধল। এই মুহূর্তে সাবিত বিন আকরাম (রা.) বিদ্যুতের গতিতে পতাকাটি তুলে ধরলেন যাতে তা উড্ডীন থাকে। তিনি সেই সময়ের যোগ্য নেতা এবং রণক্ষেত্রের বীর আবু সুলায়মান খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)-কে খুঁজতে লাগলেন। সাবিত তার কাছে গিয়ে বললেন: [হে খালিদ, পতাকাটি গ্রহণ করো। তখন বিনয়ী খালিদ তা নিতে অস্বীকার করলেন এবং অগ্রসর হতে চাইলেন না—কারণ সেখানে মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে অগ্রবর্তী সাহাবীরা উপস্থিত ছিলেন। খালিদ সাবিত বিন আকরামকে বললেন: হে সাবিত, আপনিই এর জন্য আমার চেয়ে বেশি যোগ্য, কারণ আপনি শুরুর দিকের অগ্রবর্তীদের একজন এবং বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন; আপনার চেয়ে আমার এই পতাকার ওপর বেশি অধিকার নেই। সাবিত বিন আকরাম বললেন: হে খালিদ, আপনি পতাকাটি নিন, আল্লাহর কসম, আপনি আমার চেয়ে যুদ্ধ সম্পর্কে বেশি অভিজ্ঞ। হে আবু সুলায়মান, আমি মাটি থেকে এই পতাকাটি কেবল আপনার জন্যই তুলেছি]।

সাবিত বিন আকরাম মুসলমানদের মাঝে উচ্চস্বরে ঘোষণা করলেন: [হে মুসলিমগণ! আপনারা কি খালিদের নেতৃত্বে সন্তুষ্ট? তারা বললেন: হ্যাঁ, অবশ্যই]। সেই মহাপ্রতিভাবান বীর তার ঘোড়ায় সওয়ার হলেন, যখন সব বিচারে যুদ্ধের ভাগ্য প্রায় নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। যুদ্ধের তিন সেনাপতিই শহীদ হয়েছিলেন। আপনি চাইলে বলতে পারেন, যুদ্ধ তখন শেষই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিভাবান বীর অশ্বপৃষ্ঠে আরোহণ করলেন এবং নিজের ডানে পতাকাটি এমনভাবে নাড়ালেন যেন তিনি কোনো বন্ধ দরজায় করাঘাত করছেন, যা আল্লাহর নির্দেশে এই অকুতোভয় বীরের হাতে খোলার সময় হয়ে গিয়েছিল।

সেই প্রতিভা ঈগলের মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রণক্ষেত্রের ওপর এক দ্রুত নজর বুলালেন এবং নতুন করে ব্যুহ বিন্যাস করলেন। সেই দিন খালিদ সুউচ্চ পাহাড়ের ন্যায় অটল ছিলেন, যতক্ষণ না রাত তার অন্ধকার নিয়ে নেমে আসে। এখানে খালিদের মেধা, প্রজ্ঞা এবং বীরত্ব ফুটে উঠল। নিজের যুদ্ধ সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন: [আল্লাহর কসম, মুতার যুদ্ধের দিন আমার হাতে নয়টি তলোয়ার ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল]। হাদিসটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর তলোয়ার এবং আল্লাহর সিংহ খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)-এর হাতে নয়টি তলোয়ার চূর্ণ হয়েছিল।

খালিদ বিন ওয়ালিদ রাতের অন্ধকারে বিদ্যুতের গতিতে সেনাবাহিনীর বিন্যাস পরিবর্তন করলেন। তিনি ডান পাশের বাহিনীকে বাম পাশে এবং বাম পাশের বাহিনীকে ডান পাশে নিয়ে এলেন। পেছনের বাহিনীকে সামনে এবং সামনের বাহিনীকে পেছনে নিয়ে গেলেন। একদল সৈন্যকে নির্দেশ দিলেন তারা যেন বাহিনীর পেছনে অবস্থান নেয় এবং ভোর হওয়ার সাথে সাথে তারা যেন ধুলো উড়ায় এবং শোরগোল ও উচ্চ আওয়াজ সৃষ্টি করে।

ভোরবেলায় ফজর উদিত হওয়ার পর, রোমান বাহিনী এমন সব মুখ দেখতে পেল যা তারা আগের দিন দেখেনি। তারা নতুন সব পতাকা দেখতে পেল। তারা আরও দেখল ধুলোর উড়ানি এবং শুনল তীব্র গর্জন ও শোরগোল। ফলে রোমানরা ধারণা করল যে, মুসলিম বাহিনীর জন্য নতুন সাহায্য এসে পৌঁছেছে। এতে তাদের হৃদয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল এবং তারা আশ্চর্যজনকভাবে পিছু হটতে শুরু করল। খালিদ তার মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে সেই বিশাল ও ভয়াবহ বাহিনীর মাঝখানে এক প্রশস্ত পথ তৈরি করতে সক্ষম হলেন এবং তার বাহিনীকে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে এলেন।

যিনি গোপন ও অতি গোপন সব বিষয় জানেন, তাঁর পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ (সালلاًাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে সুসংবাদ পৌঁছে গিয়েছিল। মদীনা মুনাওয়ারায় দাঁড়িয়ে প্রিয় নবী (সালلاًাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসলিমদের কাছে মুতা যুদ্ধের সংবাদ বর্ণনা করছিলেন, তখনও খবর এসে পৌঁছায়নি। গায়েব বা অদৃশ্য বিষয়ে মহাজ্ঞানী আল্লাহ তাআলা তাঁকে খবর দিয়েছিলেন, যেমনটি আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত সহীহ বুখারীর হাদিসে এসেছে: (নবী সালلاًাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের কাছে মুতা যুদ্ধের সেনাপতিদের মৃত্যুসংবাদ দিচ্ছিলেন এবং তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। তিনি বললেন: পতাকা যায়েদ বিন হারিসা গ্রহণ করেছিল এবং সে শহীদ হয়েছে, তারপর জাফর গ্রহণ করেছিল এবং সে শহীদ হয়েছে, তারপর ইবনে রাওয়াহা গ্রহণ করেছিল এবং সে শহীদ হয়েছে—এ সময় তাঁর দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। এরপর তিনি বললেন: পরিশেষে আল্লাহর তলোয়ারসমূহের মধ্য থেকে একটি তলোয়ার পতাকা গ্রহণ করল এবং আল্লাহ তাদের বিজয় দান করলেন)। এই নববী বাণীর দিকে লক্ষ্য করুন, নবীজি খালিদের এই বিজয়কে 'ফাতহ' বা বিজয় বলে অভিহিত করেছেন। এ কেমন বিজয়? যখন মদীনার কিছু লোক ফিরে আসা সৈনিকদের 'পলায়নকারী' বলতে চাইল, তখন নবীজি তাদের বললেন: (এরূপ বলো না, বরং তারা পলায়নকারী নয়, বরং তারা পুনঃআক্রমণকারী)। নবীজি খালিদের বিজয়কে 'ফাতহ' বলেছেন (যতক্ষণ না আল্লাহর তলোয়ারসমূহের মধ্য থেকে একটি তলোয়ার পতাকা গ্রহণ করল)। এটি ছিল সেই সম্মাননা যা নিয়ে খালিদ মদীনায় ফিরেছিলেন এবং নবীজি তাঁর বুকে তা পরিয়ে দিয়েছিলেন। আল্লাহর কসম, এটি এমন এক সম্মাননা যার সমান গোটা দুনিয়াও হতে পারে না। হে প্রিয় ভাইসব, সেই দিন থেকেই খালিদ বিন ওয়ালিদকে 'সাইফুল্লাহ আল-মাসলুল' বা আল্লাহর উন্মুক্ত তলোয়ার নামে ডাকা হয়।

এর মাত্র কয়েক মাস অতিবাহিত না হতেই নবীজি মক্কা বিজয়ের জন্য তাঁর বিশাল বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হলেন। নবীজি খালিদ বিন ওয়ালিদকে ডান পাশের বাহিনীর সেনাপতি নিযুক্ত করলেন। আর এভাবেই খালিদ তাওহিদ বাহিনীর একজন সেনাপতি হিসেবে মক্কা মুকাররমায় প্রবেশ করলেন, অথচ কিছুদিন আগেও তিনি ছিলেন শিরকের বাহিনীর একজন সেনাপতি।
(খণ্ড: ٢) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌مشاركة خالد بن الوليد في حروب الردة

ومات الحبيب صلى الله عليه وسلم، ويتولى الصديق خلافة المسلمين، وتهب أعاصير الردة الغادرة الماكرة، ويجيش الصديق الجيوش، ويدفع الصديق الألوية للأمراء والقادة، ومن بين هؤلاء الأمراء والقادة جميعاً يتجه الصديق العبقري الذكي إلى قائد الساعة، وبطل الميدان، إلى سيف الله خالد ويقول له الصديق: (يا خالد! لقد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: نعم عبد الله وأخو العشيرة خالد بن الوليد، سيف من سيوف الله سله الله على الكفار والمنافقين) والحديث رواه أحمد، وقال الإمام الهيثمي: ورجاله رجال الصحيح.

وينطلق خالد بن الوليد ليشهد جميع معارك الردة من أولها إلى آخرها، وكانت أخطر معركة في هذه المعارك هي: معركة اليمامة بقيام الدعي الكذاب مسيلمة، الذي نجح في أن يجيش جيوشاً جرارة حتى هزم عكرمة بن أبي جهل هزيمةً منكرة، وأصدر الصديق رضي الله عنه الأوامر إلى قائده المظفر خالد بن الوليد أن ينطلق مسرعاً لقتال مسيلمة.

ويتحرك خالد بن الوليد بجيشه ليلتقي مع أخويه عكرمة بن أبي جهل، وشرحبيل بن حسنة، ويبدأ القتال الذي ليس لضراوته في عالم الحروب نظير، ويسقط الشهداء من المسلمين تباعاً بسرعة مذهلة كصقور حديقة طوحت بها عصيفة عاصفة عنيدة، ويعتلي العبقري بجواده ربوةً عالية وينظر بعينين كالصقر إلى أرض الميدان والمعركة، ثم يعود خالد ليصرخ بأعلى صوته في جنوده ويقول: [امتازوا اليوم لنرى بلاء كل حي ليتعرف من أين تأتي الهزيمة] ودب الحماس، ودبت الغيرة في قلوب الرجال، وصرخ خالد بأعلى صوته في الميدان، ونقل إخلاصه وحماسه إلى قلوب جنوده وإخوانه كما تنقل الكهرباء، وفي دقائق معدودة تحول اتجاه المعركة، وسقط الدعي الكذاب مسيلمة، وفر جنوده وسقط جنوده بالمئات بل بالألوف كذبابٍ قتل أنفاس الحياة فيه نفثات مبيدٍ صاعق.

وانتهت المعركة انتهت أكبر معركة في تاريخ الخلفاء انتهت موقعة اليمامة بنصر مؤزر من الله جل وعلا على يد القائد المظفر والبطل الفاتح خالد بن الوليد رضي الله عنه وأرضاه.
রিদ্দা (স্বধর্মত্যাগ) যুদ্ধে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের অংশগ্রহণ

প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেন এবং সিদ্দীক (আবু বকর) মুসলিমদের খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন বিশ্বাসঘাতক ও ষড়যন্ত্রকারী মুরতাদদের (স্বধর্মত্যাগীদের) ফিতনার প্রবল ঘূর্ণিঝড় বইতে শুরু করে। সিদ্দীক (রা.) সেনাবাহিনী সমবেত করেন এবং আমির ও সেনাপতিদের হাতে যুদ্ধের ঝাণ্ডা অর্পণ করেন। এই সমস্ত আমির ও সেনাপতিদের মধ্য থেকে বিচক্ষণ ও প্রতিভাশীল সিদ্দীক (রা.) সেই সময়ের শ্রেষ্ঠ সেনাপতি ও রণক্ষেত্রের বীর, 'সাইফুল্লাহ' (আল্লাহর তলোয়ার) খালিদের দিকে মনোনিবেশ করেন। সিদ্দীক (রা.) তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন: "হে খালিদ! আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: আল্লাহর কতই না চমৎকার বান্দা এবং বংশের কতই না উত্তম ভাই খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ; সে আল্লাহর তলোয়ারসমূহের মধ্যে একটি তলোয়ার, যা আল্লাহ কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে উন্মুক্ত করেছেন।" হাদীসটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম হাইসামী বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারী।

খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত রিদ্দার সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বেরিয়ে পড়েন। এই যুদ্ধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ইয়ামামার যুদ্ধ, যা মিথ্যা নবুওয়াতের দাবিদার মুসাইলামার বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল। সে এক বিশাল সেনাবাহিনী গঠন করতে সক্ষম হয়েছিল, এমনকি সে ইকরিমা ইবনে আবি জাহালকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছিল। অতঃপর সিদ্দীক (রা.) তাঁর বিজয়ী সেনাপতি খালিদ ইবনুল ওয়ালিদকে মুসাইলামার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য দ্রুত অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ তাঁর বাহিনী নিয়ে তাঁর দুই ভাই ইকরিমা ইবনে আবি জাহাল ও শুরাহবিল ইবনে হাসানার সাথে মিলিত হওয়ার জন্য রওনা হন। শুরু হয় এক প্রচণ্ড যুদ্ধ, যুদ্ধের ইতিহাসে যার তীব্রতার কোনো নজির নেই। মুসলিমদের মধ্য থেকে একের পর এক শহীদ ঝরতে থাকে বিস্ময়কর গতিতে, যেন কোনো বাগানের বাজপাখি প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে ভূপাতিত হচ্ছে। এই প্রতিভাধর বীর তাঁর ঘোড়ায় চড়ে এক উঁচু টিলায় আরোহণ করেন এবং বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতির দিকে তাকান। অতঃপর খালিদ ফিরে এসে তাঁর সৈন্যদের উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলেন: "আজ তোমরা নিজ নিজ গোত্রে বিভক্ত হয়ে যাও, যাতে আমরা প্রত্যেকের বীরত্ব দেখতে পাই এবং বুঝতে পারি পরাজয় কোথা থেকে আসছে।" সৈন্যদের হৃদয়ে উদ্দীপনা ও আত্মমর্যাদাবোধ জেগে ওঠে। খালিদ রণক্ষেত্রে উচ্চকণ্ঠে গর্জন করে ওঠেন এবং বিদ্যুতের মতো তাঁর নিষ্ঠা ও উদ্দীপনা তাঁর সৈন্য ও ভাইদের হৃদয়ে সঞ্চারিত করেন। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়; মিথ্যাবাদী ভণ্ড মুসাইলামা নিহত হয় এবং তার সৈন্যরা পালিয়ে যায়। তার শত শত, এমনকি হাজার হাজার সৈন্য মাছির মতো প্রাণ হারায়, যেন কোনো শক্তিশালী কীটনাশকের আঘাতে তাদের জীবনের স্পন্দন নিভে গেছে।

যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে; খলিফাদের ইতিহাসের বৃহত্তম যুদ্ধের অবসান হয়। বিজয়ী সেনাপতি ও দিগ্বিজয়ী বীর খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ (রা.)-এর হাতে মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক সুনিশ্চিত বিজয়ের মাধ্যমে ইয়ামামার যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন।
(খণ্ড: ٢) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌قتال خالد بن الوليد للفرس في موقعة القادسية

أيها الأحباب! انتهت حروب الردة في لمحات سريعة، وأصدر الخليفة العظيم المبارك رضي الله عنه وأرضاه أوامره إلى قائده العظيم المبارك أن يترك أرض الجزيرة العربية بعد انتهاء حروب الردة لينتقل إلى بلاد العراق.

إلى بلاد العراق؟! لماذا؟! لحرب أعظم امبراطورية في بلا الشرق، وللقضاء على امبراطورية فارس، وينطلق خالد مسرعاً ملبياً أوامر خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم في أوائل العام الثاني عشر للهجرة، ويبدأ خالد أعماله الميمونة المباركة في العراق بهذه الكتب التي أرسل بها إلى كسرى، وإلى ولاته وأمرائه في بلاد العراق، واسمعوا إلى هذه الرسالة، وإلى هذا الكتاب الذي أرسل به خالد رضي الله عنه وأرضاه: قال خالد: بسم الله الرحمن الرحيم "من خالد بن الوليد إلى مرازبة فارس، سلام على من اتبع الهدى أما بعد: فالحمد لله الذي فضح دمكم، وسلب ملككم، ووهن كيدكم، من صلى صلاتنا، واستقبل قبلتنا، وأكل ذبيحتنا فذلكم المسلم له ما لنا وعليه ما علينا، فإن جاءكم كتابي هذا فإني أخيركم بين ثلاثة: إما الإسلام، وإما أن تدفعوا الجزية عن يدٍ وأنتم صاغرون، وإما الحرب، فوالله الذي لا إله غيره لقد جئتكم بقومٍ يحبون الموت كما تحبون الحياة".

الله أكبر ودب الرعب في قلوب أهل فارس، فلقد نُصر خالد بن الوليد بالرعب، وبالإجمال أقول: إن خالد بن الوليد دخل في خمس عشرة موقعة مع الفرس ومع أوليائهم، ولم يهزم بإذن الله في موقعة واحدة قط، وكانت أخطر معاركه مع أهل الفرس هي: موقعة ذات السلاسل بقيادة هرمز، وفيها قيد الفرس أنفسهم بالسلاسل، حتى يضمنوا ألا يفروا من الميدان أمام ضربات خالد بن الوليد، وانتهت معارك الفرس، ودك خالد بن الوليد عرش الإمبراطورية الفارسية في عامٍ واحد، فعل خالد بن الوليد ما عجز الرومان أن يفعلوه في أجيالٍ متتابعة.

وانتهت المعارك في بلاد العراق، وبقي على موسم الحج أسبوعان، فنظر خالد فوجد نفسه فارغاً من القتال، ولكنه حتماً لا يكون فارغاً من طاعة الله عز وجل، وفي عزمة خالدية جريئة لا يقوى عليها إلا خالد، صمم خالد في سرية تامة أن ينال شرف أداء فريضة الحج لأول مرة بعدما منَّ الله عليه بهذه الانتصارات المروعة والرائعة، وفي سرعة البرق، وفي لمحة خاطفة، ولم يبق على موسم الحج إلا أسبوعين، ينطلق خالد بن الوليد من أقصى العراق إلى أقصى الحجاز ويؤدي فريضة الحج دون أن يشعر به أحد من الأعداء، ودون أن يشعر به أحدٌ من المسلمين في جيشه إلا من المقربين من قواده، بل حتى لم يعلم به خليفة رسول الله أبو بكر الذي كان أميراً للحج في هذا الموسم، ويرجع خالد مرةً أخرى إلى موقعه، ولما علم الصديق بذلك عاتبه عتاباً رقيقاً وأمره ألا يعود لمثلها، يقول المؤرخون: تلك عزمة خالدية وثقة مفرطة لا يقوى عليها إلا خالد.
কাদিসিয়ার যুদ্ধে পারস্যদের বিরুদ্ধে খালিদ বিন আল-ওয়ালিদের লড়াই

হে প্রিয় বন্ধুগণ! রিদ্দার (স্বধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধসমূহ অত্যন্ত দ্রুত সমাপ্ত হলো এবং মহান বরকতময় খলিফা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন) তাঁর মহান বরকতময় সেনাপতিকে নির্দেশ প্রদান করলেন যেন তিনি রিদ্দার যুদ্ধ সমাপ্তির পর আরব উপদ্বীপ ত্যাগ করে ইরাক অভিমুখে যাত্রা করেন।

ইরাক অভিমুখে কেন?! প্রাচ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এবং পারস্য সাম্রাজ্যকে নির্মূল করার লক্ষ্যে। হিজরি দ্বাদশ বর্ষের শুরুতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খলিফার নির্দেশে সাড়া দিয়ে খালিদ দ্রুতবেগে যাত্রা শুরু করলেন। খালিদ ইরাকে তাঁর বরকতময় অভিযান শুরু করলেন পারস্য সম্রাট কিসরা এবং ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চলের গভর্নর ও আমীরদের কাছে পত্র প্রেরণের মাধ্যমে। খালিদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন) যে পত্রটি প্রেরণ করেছিলেন তা শ্রবণ করুন: খালিদ বললেন: বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। "খালিদ বিন আল-ওয়ালিদের পক্ষ থেকে পারস্যের সেনাপতিদের প্রতি। যারা হেদায়েত অনুসরণ করে তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আপনাদের দম্ভকে ধূলিসাৎ করেছেন, আপনাদের রাজত্ব কেড়ে নিয়েছেন এবং আপনাদের ষড়যন্ত্রকে দুর্বল করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি আমাদের মতো সালাত আদায় করবে, আমাদের কিবলার দিকে মুখ করবে এবং আমাদের জবেহকৃত পশু ভক্ষণ করবে, সে-ই মুসলিম; আমাদের যে অধিকার আছে তারও তা থাকবে এবং আমাদের ওপর যা কর্তব্য তার ওপরও তা বর্তাবে। যখন আপনাদের কাছে আমার এই পত্র পৌঁছাবে, তখন আমি আপনাদের তিনটি বিষয়ের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছি: হয় ইসলাম গ্রহণ করুন, নতুবা অনুগত হয়ে জিজিয়া প্রদান করুন, অন্যথায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হোন। আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আমি আপনাদের কাছে এমন এক জাতিকে নিয়ে এসেছি যারা মৃত্যুকে তেমনি ভালোবাসে যেমন আপনারা জীবনকে ভালোবাসেন।"

আল্লাহু আকবার! পারস্যবাসীদের হৃদয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। কেননা খালিদ বিন আল-ওয়ালিদকে শত্রু হৃদয়ে ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছিল। সংক্ষেপে আমি বলব: খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ পারস্য ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে পনেরটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি কখনো একটি যুদ্ধেও পরাজিত হননি। পারস্যবাসীদের সাথে তাঁর সবচেয়ে বিপজ্জনক যুদ্ধ ছিল হোরমুজের নেতৃত্বে সংঘটিত 'জাতুস সালাসিল' (শিকলবদ্ধদের যুদ্ধ)। সেখানে পারসিকরা নিজেদের শিকল দিয়ে বেঁধে নিয়েছিল যাতে খালিদ বিন আল-ওয়ালিদের আঘাতের মুখে তারা রণক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে না যায়। পারস্য যুদ্ধগুলো সমাপ্ত হলো এবং খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ মাত্র এক বছরের মধ্যে পারস্য সাম্রাজ্যের সিংহাসন ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন। খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ তা-ই করে দেখালেন যা রোমানরা যুগ যুগ ধরে করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

ইরাক ভূখণ্ডে যুদ্ধ সমাপ্ত হলো এবং হজের মৌসুম আসতে মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি ছিল। খালিদ লক্ষ্য করলেন যে তিনি যুদ্ধ থেকে অবসর পেয়েছেন, তবে আল্লাহর আনুগত্য থেকে তো তিনি কখনো অবসর নিতে পারেন না। এক খালিদী দুঃসাহসিক সংকল্পে—যা কেবল খালিদের পক্ষেই সম্ভব—তিনি অত্যন্ত গোপনে হজের মর্যাদা অর্জনের সিদ্ধান্ত নিলেন। এই অভাবনীয় ও চমৎকার সব বিজয়ের পর আল্লাহ তাঁকে এ সুযোগ দিলেন। বিদ্যুতের গতিতে, চোখের পলকে হজের মৌসুমের মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকতে খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ ইরাকের শেষ প্রান্ত থেকে হিজাজের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যাত্রা করলেন এবং হজ পালন করলেন। তাঁর শত্রুরা তো দূরের কথা, তাঁর সেনাবাহিনীর নিকটতম সেনাপতিরা ব্যতীত আর কেউ তা টের পায়নি। এমনকি রাসুলুল্লাহর খলিফা আবু বকরও জানতেন না, যিনি সেই মৌসুমে হজের আমির ছিলেন। এরপর খালিদ পুনরায় তাঁর অবস্থানে ফিরে এলেন। আবু বকর সিদ্দিক যখন তা জানতে পারলেন, তখন তিনি তাঁকে কোমলভাবে তিরস্কার করলেন এবং ভবিষ্যতে এমনটি আর না করার নির্দেশ দিলেন। ঐতিহাসিকগণ বলেন: এটি ছিল খালিদী সংকল্প ও চরম আত্মবিশ্বাস যা কেবল খালিদের পক্ষেই সম্ভব।
(খণ্ড: ٢) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌قتال خالد بن الوليد ضد الروم في موقعة اليرموك

وكان الصديق رضي الله عنه بعدما انتهت معارك فارس قد جيش الجيوش إلى بلاد الشام للقضاء على أعظم امبراطورية في الغرب، إلا وهي امبراطورية الروم، وقد اختار الصديق لهذه الجيوش قادةً عظاماً، اختار أبا عبيدة بن الجراح، وعمرو بن العاص، ويزيد بن أبي سفيان، وجعل الصديق القيادة العامة لجيوش الشام في يد أبي عبيدة رضي الله عنه، ولما وصلت الجيوش إلى بلاد الشام، وسمع هرقل امبراطور الروم بهذه الجيوش قال قولته المشهورة: والله لأشفين أبا بكر ألا يورد خيله إلى أرضنا مرة أخرى، وجيش هذا الرجل جيشاً لا مثيل له، جيش جيشاً يزيد على مائتين وأربعين ألف مقاتل، ولما رأى قادة الجيوش المسلمة هذا الجمع الرهيب، أرسلوا إلى خليفة رسول الله إلى أبي بكر يخبروه بالصورة الجديدة والموقف الجديد، أتدرون ماذا قال الصديق رضي الله عنه؟ قال: والله لأشفين وساوس الروم بـ خالد بن الوليد، وأصدر الصديق الأوامر إلى قائده المظفر أن ينتقل من العراق من أقصى المشرق فوراً إلى بلاد الشام إلى أقصى المغرب فوراً، وفي أربعة أيام يا عباد الله من طريقٍ وعرٍ مذهل! استطاع خالد بن الوليد أن يكون على جبهة الشام، وأرسل الصديق في ذلك رسالةً إلى قائده البطل إلى خالد بن الوليد، وكانت تحتوي على كلماتٍ عذبة رقيقة، ومما كان في هذه الرسالة أن الصديق قال له: هنيئاً لك أبا سليمان النية والحظوة، لا يدخلنك عجبٌ فتخسر وتُخذل، وإياك أن تمن بعملٍ، فإن الله هو صاحب المن وهو ولي الجزاء، وأمره أن ينطلق مسرعاً إلى إخوانه من القادة في بلاد الشام، وأن يتولي خالد القيادة العامة على أبي عبيدة وإخوانه من القادة، وأرسل الصديق رسالة مماثلةً إلى قائد الجيوش في الشام إلى أبي عبيدة يقول فيها: بسم الله الرحمن الرحيم من أبي بكر إلى أبي عبيدة بن الجراح، سلام الله عليك أما بعد: فلقد أمرت خالد قيادة الجيوش في بلاد الشام، فلا تخالفه يا أبا عبيدة، واسمع له وأطع، وإني لم أبعثه عليك إلا لأني ظننت أن له فطنة في الحرب ليست لك، وإن كنت عندي أحب إلي منه، أراد الله بنا وبك خيراً والسلام.

ولما وصلت الرسالة إلى خالد وكلف فيها من خليفة رسول بالقيادة العامة انظروا إلى الأدب والإخلاص، أرسل خالد بن الوليد رسالة إلى الفور إلى قائد الجيوش في الشام، إلى أخيه أمين هذه الأمة: أبي عبيدة بن الجراح وقال فيها: بسم الله الرحمن الرحيم من خالد بن الوليد إلى أبي عبيدة بن الجراح، سلام الله عليك أما بعد: فلقد جاءني كتاب خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم، يأمرني فيه بالسير إلى بلاد الشام والقيام على جندها والتولي لأمرها، ووالله ما طلبت ذلك يا أبا عبيدة وما أردته، فأنت على حالك التي كنت عليها قبل ذلك لا نخالفك يا أبا عبيدة ونسمع لك ونطيع، فأنت سيد المسلمين، ولا يمكن أن ننسى فضلك ولا نستغني عن أمرك.

بالله ما أورعه! بالله ما أتقاه! بالله ما أنقاه! بالله ما أخلصه! هذه هي القلوب التي تجردت لله، التي لا تبحث عن الزعامة، ولا تريد الصدارة، ولا تريد القيادة، ولو كان على حساب دين الله جل وعلا، لا فرق عند خالد الذي رباه سيد النبيين محمد أن يكون جندياً مطيعاً بعد أن كان قائداً مطاعاً، أو أن يكون قائداً مطاعاً بعد أن كان جندياً مطيعاً، طالما أن راية التوحيد ستظل خفاقة عالية تعانق كواكب الجوزاء في عنان السماء.

ووصل خالد بن الوليد إلى إخوانه، والتقت الجيوش المسلمة، وقبل بدء القتال وقف سيف الله يخطب هذه الخطبة العصماء، وقال بعد أن حمد الله وأثنى عليه لإخوانه من القادة والجند: إن هذا يومٌ من أيام الله، لا ينبغي فيه البغي ولا الفخر، وإن هذا اليوم له ما بعده، فإن رددناهم اليوم لا نزال نردهم بعد اليوم، وإن هزمونا اليوم لن نفلح بعدها أبداً، -ثم قال-: فتعالوا بنا نتعاور -أي: نتبادل القيادة- فليكن أحدنا اليوم قائداً، وليكن بعد اليوم أحدنا قائداً -وهكذا ثم نظر إليهم خالد - وقال: وأطلب منكم أن تتركوا لي الإمارة في اليوم الأول، وتنازل القادة بمنتهى الحب والرضا للقيادة لأخيهم سيف الله المسلول وفارس الإسلام والمسلمين لـ خالد بن الوليد رضي الله عنه، وعاد البطل ينظم صفوف الجيش بطريقته الخالدية التي لا نظير لها في عالم الميادين، وفي عالم القيادة وفن الحروب، ونظم البطل صفوف جيشه، ورسم المسلمون في هذه الموقعة موقعة اليرموك صوراً من البطولة والفداء تبهر القلوب وتأخذ الألباب، فهذا رجلٌ جنديٌ في الصفوف يقترب من أبي عبيدة بن الجراح وينادي عليه في هذه الضجة وفي هذا الضجيج تحت رنين السيوف، ووقع الرماح وصهيل الخيول: يا أبا عبيدة! ويلتفت إليه أبو عبيدة: ماذا تريد؟ فيقول له هذا المسلم النقي: لقد عزمت على الشهادة فهل لك من حاجة أبلغها لرسول الله حين ألقاه، فقال أبو عبيدة: نعم، إذا لقيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقل له: يا رسول الله! لقد وجدنا ما وعدنا ربنا حقاً -في وسط هذه المعمعة- لقد وجدنا ما وعدنا ربنا حقاً.

وينادي عكرمة بن أبي جهل رضي الله عنه ويقول لنفسه: والله لطالما قاتلت رسول الله قبل أن يشرح الله صدري للإسلام، وهأنا اليوم أفر من الميدان أمام أعداء الله، فينادي بأعلى صوته: يا أصحاب محمد! من يبايع اليوم على الموت؟ ويبايعه كوكبة من الأبرار الأطهار الأخيار، ويدخلون في صفوف المعركة لا يبحثون عن النصر إنما يبحثون عن الشهادة، إنهم أبناء محمد بن عبد الله، إنهم تلاميذ المصطفى صلى الله عليه وسلم الذين عرفوا حقيقة الدنيا، وشرف الجهاد في سبيل الله، وبهذه القلوب، وبهؤلاء الرجال أعز الله دينه، وأعلى الله راية توحيده، وأعز الله رسوله صلى الله عليه وسلم، ولن تكون العزة ولا النصرة إلا بهذه القلوب، وإلا على هذه الأيدي الطاهرة، وإلا بهؤلاء الرجال الأطهار الأبرار الأخيار.

وانتهت المعركة أيها الأحباب: وفي وسط هذه الانتصارات المذهلة، وإذ بـ الصديق رضي الله عنه يودع الدنيا آمناً راضياً مطمئناً ليلقى حبيبه المصطفى صلى الله عليه وسلم بعدما أدى الأمانة التي كلف بها، وهنا يتولى عمر الفاروق رضي الله عنه لنرى مرة أخرى، وانتصاراً أعظم من جميع الانتصارات، مع عمر بن الخطاب رضي الله عنه، وأقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم.
ইয়ারমুকের যুদ্ধে রোমানদের বিরুদ্ধে খালিদ বিন ওয়ালিদ-এর লড়াই

পারস্যের যুদ্ধগুলো শেষ হওয়ার পর সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শামের দিকে বিশাল সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন যাতে পশ্চিমের শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য—অর্থাৎ রোমান সাম্রাজ্যকে নিশ্চিহ্ন করা যায়। সিদ্দীক এই বাহিনীগুলোর জন্য মহান নেতাদের নির্বাচিত করেছিলেন; তিনি আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ, আমর ইবনুল আস এবং ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ানকে মনোনীত করেন। শামের বাহিনীগুলোর সাধারণ সেনাপতিত্ব সিদ্দীক আবু উবাইদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে অর্পণ করেন। যখন বাহিনীগুলো শাম দেশে পৌঁছাল এবং রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস এই বাহিনীগুলোর সংবাদ শুনলেন, তখন তিনি তার সেই বিখ্যাত উক্তিটি করলেন: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই আবু বকরকে এর উপযুক্ত শিক্ষা দেব, যাতে তিনি আর কখনও আমাদের ভূমিতে তার ঘোড়াগুলো না পাঠান।" এই ব্যক্তি (হিরাক্লিয়াস) এমন এক বিশাল বাহিনী গঠন করলেন যার কোনো তুলনা নেই; তিনি দুই লক্ষ চল্লিশ হাজারেরও বেশি যোদ্ধার এক সেনাবাহিনী প্রস্তুত করলেন। মুসলিম বাহিনীর সেনাপতিরা যখন এই ভয়ংকর জনসমাবেশ দেখলেন, তখন তারা রাসূলুল্লাহর খলিফা আবু বকরের কাছে নতুন পরিস্থিতি ও অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করে সংবাদ পাঠালেন। আপনারা কি জানেন সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কী বলেছিলেন? তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই খালিদ বিন ওয়ালিদ-এর মাধ্যমে রোমানদের কু-মন্ত্রণা দূর করব।" অতঃপর সিদ্দীক তার বিজয় সেনাপতিকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি অবিলম্বে ইরাক থেকে অর্থাৎ দূর প্রাচ্য থেকে শাম দেশে অর্থাৎ দূর পশ্চিমে চলে যান। হে আল্লাহর বান্দারা! এক দুর্গম ও বিস্ময়কর পথ দিয়ে মাত্র চার দিনের মধ্যে খালিদ বিন ওয়ালিদ শাম রণাঙ্গনে উপস্থিত হতে সক্ষম হলেন। সিদ্দীক সেই মর্মে তার বীর সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ-এর কাছে একটি পত্র পাঠালেন, যাতে অত্যন্ত মধুর ও কোমল শব্দমালা ছিল। সেই পত্রে সিদ্দীক তাকে যা বলেছিলেন তার মধ্যে ছিল: "হে আবু সুলাইমান! তোমার নিয়ত ও সৌভাগ্যের জন্য তোমাকে অভিনন্দন। তোমার মনে যেন কখনও আত্মঅহংকার প্রবেশ না করে, অন্যথায় তুমি ক্ষতিগ্রস্ত ও লাঞ্ছিত হবে। সাবধান! নিজের কাজের জন্য কখনও বড়াই করো না, কারণ আল্লাহই হলেন অনুগ্রহকারী এবং তিনিই প্রতিদানদাতা।" তিনি তাকে শামের অন্যান্য সেনাপতি ভাইদের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর নির্দেশ দিলেন এবং আবু উবাইদাহ ও অন্যান্য সেনাপতিদের ওপর খালিদকে সাধারণ সেনাপতিত্ব অর্পণ করলেন। সিদ্দীক শামের বাহিনীগুলোর সেনাপতি আবু উবাইদাহর কাছেও অনুরূপ একটি পত্র পাঠালেন যাতে লেখা ছিল: "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আবু বকরের পক্ষ থেকে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহর প্রতি। আপনার ওপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর, আমি খালিদকে শামের বাহিনীগুলোর নেতৃত্বের দায়িত্ব দিয়েছি। সুতরাং হে আবু উবাইদাহ! আপনি তার বিরোধিতা করবেন না, বরং তার কথা শুনবেন ও আনুগত্য করবেন। আমি আপনাকে বাদ দিয়ে তাকে সেনাপতি করিনি বরং এজন্য করেছি যে, আমার ধারণা যুদ্ধে তার এমন এক বিচক্ষণতা আছে যা আপনার নেই। যদিও আপনি আমার কাছে তার চেয়ে বেশি প্রিয়। আল্লাহ আমাদের ও আপনার কল্যাণ দান করুন। আস-সালাম।"

যখন খালিদের কাছে পত্রটি পৌঁছাল এবং রাসূলের খলিফা তাকে সাধারণ সেনাপতিত্বের দায়িত্ব দিলেন, তখন তাদের আদব ও নিষ্ঠা লক্ষ্য করুন। খালিদ বিন ওয়ালিদ অবিলম্বে শামের বাহিনীর সেনাপতি, এই উম্মতের বিশ্বস্ত ব্যক্তি আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহর কাছে একটি পত্র পাঠালেন এবং তাতে বললেন: "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। খালিদ বিন ওয়ালিদের পক্ষ থেকে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহর প্রতি। আপনার ওপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর, আমার কাছে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খলিফার পত্র এসেছে, যাতে তিনি আমাকে শাম দেশে যাত্রা করার, সেখানকার সেনাবাহিনীর দায়িত্ব গ্রহণ করার এবং তার পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর কসম, হে আবু উবাইদাহ! আমি কখনও তা প্রার্থনা করিনি এবং তা চাইওনি। আপনি যে অবস্থায় ছিলেন সেভাবেই থাকবেন, আমরা আপনার বিরোধিতা করব না, বরং আপনার কথা শুনব ও আনুগত্য করব। কারণ আপনি মুসলিমদের সর্দার, আমরা আপনার মর্যাদা ভুলতে পারি না এবং আপনার পরামর্শ থেকে বিমুখ হতে পারি না।"

আল্লাহর কসম, তিনি কতই না মুত্তাকি ছিলেন! আল্লাহর কসম, তিনি কতই না আল্লাহভীরু ছিলেন! আল্লাহর কসম, তিনি কতই না পবিত্র হৃদয়ের ছিলেন! আল্লাহর কসম, তিনি কতই না একনিষ্ঠ ছিলেন! এরাই সেই হৃদয় যারা নিজেদের আল্লাহর জন্য সপে দিয়েছিল, যারা নেতৃত্ব খুঁজে বেড়াত না, যারা শ্রেষ্ঠত্ব চাইত না এবং সেনাপতিত্ব কামনা করত না—এমনকি যদি তা আল্লাহর দ্বীনের বিনিময়েও হতো। নবীকুল শিরোমণি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতে গড়া খালিদের কাছে এর মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না যে, তিনি একজন মান্যবর সেনাপতি হওয়ার পর একজন অনুগত সৈনিক হবেন, নাকি একজন অনুগত সৈনিক হওয়ার পর একজন মান্যবর সেনাপতি হবেন; যতক্ষণ পর্যন্ত তাওহীদের পতাকা সুউচ্চ থাকবে এবং আকাশের নক্ষত্ররাজির সাথে মিতালি করবে।

খালিদ বিন ওয়ালিদ তার ভাইদের কাছে পৌঁছালেন এবং মুসলিম বাহিনীগুলো একত্রিত হলো। যুদ্ধ শুরুর আগে আল্লাহর তলোয়ার (খালিদ) দাঁড়িয়ে এই সারগর্ভ ভাষণ দিলেন। তিনি আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠ করার পর তার সহযোদ্ধা সেনাপতি ও সৈনিকদের উদ্দেশ্যে বললেন: "নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর দিনগুলোর মধ্যে একটি দিন। এই দিনে কোনো সীমালঙ্ঘন বা অহংকার করা সাজে না। এই দিনের ওপর পরবর্তী দিনগুলো নির্ভর করছে। যদি আজ আমরা তাদের প্রতিহত করতে পারি, তবে ভবিষ্যতেও তাদের প্রতিহত করতে পারব। আর যদি আজ আমরা পরাজিত হই, তবে এরপর আমরা আর কখনও সফল হতে পারব না।" অতঃপর তিনি বললেন: "আসুন আমরা পালাক্রমে নেতৃত্ব দেই—অর্থাৎ নেতৃত্ব পরিবর্তন করি। আজ আমাদের মধ্যে একজন সেনাপতি থাকুক, কাল অন্যজন সেনাপতি হোক।" এভাবে বলার পর খালিদ তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন: "আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি প্রথম দিনের নেতৃত্ব যেন আমাকে দেওয়া হয়।" তখন সেনাপতিগণ অত্যন্ত ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির সাথে তাদের ভাই, আল্লাহর উন্মুক্ত তলোয়ার, ইসলাম ও মুসলিমদের বীর অশ্বারোহী খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে নেতৃত্ব ছেড়ে দিলেন। এরপর এই বীর তার সেই চিরঞ্জীব (খালিদী) পদ্ধতিতে সৈন্য বিন্যাস শুরু করলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে বা রণকৌশল ও যুদ্ধবিদ্যার জগতে যার কোনো নজির নেই। এই বীর তার সৈন্যবাহিনীকে সুসংগঠিত করলেন। ইয়ারমুকের এই যুদ্ধে মুসলিমরা বীরত্ব ও আত্মত্যাগের এমন চিত্র অঙ্কন করলেন যা হৃদয়কে বিমোহিত করে এবং বিবেককে স্তব্ধ করে দেয়। সৈন্যদের সারির মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহর কাছে এলেন এবং তরবারির ঝনঝনানি, বল্লমের আঘাত ও ঘোড়ার হ্রেষাধ্বনির এই প্রচণ্ড শোরগোলের মধ্যে তাকে ডেকে বললেন: "হে আবু উবাইদাহ!" আবু উবাইদাহ তার দিকে ফিরে তাকিয়ে বললেন: "তুমি কী চাও?" তখন এই পবিত্র মুসলিম বললেন: "আমি শাহাদাতের সংকল্প করেছি। আপনার কি এমন কোনো প্রয়োজন আছে যা আমি রাসূলুল্লাহর কাছে পৌঁছে দেব যখন আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করব?" আবু উবাইদাহ বললেন: "হ্যাঁ, যখন তুমি রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তাকে বলো: 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের রব আমাদের কাছে যে ওয়াদা করেছিলেন, আমরা তা সত্য পেয়েছি'—যুদ্ধের এই বিভীষিকার মধ্যে—'আমরা আমাদের রবের ওয়াদাকে সত্য পেয়েছি'।"

ইকরিমা ইবনে আবি জাহল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিজেকে ডেকে বলছিলেন: "আল্লাহর কসম, আল্লাহ যখন আমার অন্তরকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করেননি তার আগে আমি কতই না রাসূলুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি! আর আজ আমি আল্লাহর শত্রুদের সামনে রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাব?" অতঃপর তিনি উচ্চস্বরে চিৎকার করে বললেন: "হে মুহাম্মদের সাহাবীগণ! আজ মৃত্যুর ওপর কে বায়আত হবে?" তখন একদল পুণ্যবান ও শ্রেষ্ঠ মানুষ তার কাছে বায়আত হলেন এবং যুদ্ধের সারিতে প্রবেশ করলেন। তারা বিজয়ের খোঁজ করছিলেন না, বরং তারা শাহাদাত খুঁজছিলেন। তারা ছিলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহর সন্তানতুল্য, তারা ছিলেন মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ছাত্র, যারা দুনিয়ার হাকিকত এবং আল্লাহর পথে জিহাদের মর্যাদা অনুধাবন করেছিলেন। এই ধরনের হৃদয় ও এই ধরনের পুরুষদের মাধ্যমেই আল্লাহ তার দ্বীনকে সম্মানিত করেছেন, তার তাওহীদের পতাকাকে সমুন্নত করেছেন এবং তার রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিজয়ী করেছেন। আর এই ধরনের হৃদয়, এই ধরনের পবিত্র হাত এবং এই ধরনের পবিত্র ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের মাধ্যম ছাড়া কখনও সম্মান ও বিজয় আসবে না।

হে প্রিয় ভাইয়েরা, যুদ্ধ শেষ হলো। এই বিস্ময়কর বিজয়গুলোর মাঝেই সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার ওপর অর্পিত আমানত আদায় করার পর শান্ত ও তুষ্ট হৃদয়ে তার প্রিয় হাবীব মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন। এরপর উমর আল-ফারুক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যাতে আমরা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে আবারও এবং আগের সব বিজয়ের চেয়েও বড় কোনো বিজয় দেখতে পাই। আমি আমার এই কথাটি বলছি এবং আমি আমার ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ٢) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌حياة خالد الحربية بعد إسلامه

من هذه الساعة -أيها الأحباب- سنرى فارس قريش، وصاحب أعنة الخيل فيها، سنرى داهية العرب كافة في دنيا الكر والفر على الإطلاق، يستقبل عالماً جديداً مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومع أصحابه من المسلمين في المدينة المنورة.
ইসলাম গ্রহণের পর খালিদের সমর জীবন

এই মুহূর্ত থেকে -হে প্রিয়জনরা- আমরা কুরাইশদের সেই অশ্বারোহী বীর এবং তাদের অশ্ববাহিনীর লাগাম ধারণকারীকে দেখব; আমরা দেখব আক্রমণ ও পলায়ন তথা রণকৌশলের জগতে সমগ্র আরবের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ধীমানকে, যিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মদিনা মুনাওয়ারার মুসলিম সাহাবীদের সাথে এক নতুন বিশ্বকে স্বাগত জানাচ্ছেন।
(খণ্ড: ٢) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌خالد بن الوليد في غزوة مؤتة

بعد شهرين أو ثلاثة فقط ينطلق خالد بن الوليد جندياً في صفوف كتائب التوحيد والإيمان، مع هذا الجيش الذي ذهب لمناطحة الصخور الصماء على حدود الشام في غزوة مؤتة، تلك الغزوة التي خرج النبي صلى الله عليه وسلم بنفسه ليختار لها القادة، فقال كما ورد في صحيح البخاري في كتاب المغازي من حديث عبد الله بن عمر قال: (أمَّر رسول الله صلى الله عليه وسلم على غزوة مؤتة زيد بن حارثة، ثم قال عليه الصلاة والسلام: إن قتل زيد فـ جعفر بن أبي طالب، ثم قال عليه الصلاة والسلام: إن قتل جعفر فـ عبد الله بن رواحة) وانطلق الجيش الذي لا يزيد على ثلاثة آلاف مقاتل.

ولما وصل الجيش إلى حدود الشام أذهلتهم المفاجئة الكبرى، فلقد رأوا الروم قد أعدوا لهم وجهزوا جيشاً جراراً يزيد على مائة ألف مقاتل، وهنا تردد المسلمون في القتال! كيف يدخلون هذه المعركة التي لا يمكن على الإطلاق أن نرى فيها ذرة من ذرات التكافؤ العددي والعُددي، وتردد الناس في القتال، مائة ألف إلى ثلاثة آلاف! وهنا قام الشهيد الشاعر صاحب السرير الذهبي: عبد الله بن رواحة رضي الله عنه وأرضاه ووقف في صفوف الجيش منادياً بأعلى صوته وهو يقول: [يا قوم! إن التي تخشون للتي خرجتم تطلبون، إنها الشهادة في سبيل الله، ووالله ما نقاتل عدونا بكثرةٍ ولا عدد، وإنما نقاتل عدونا بهذا الدين الذي أكرمنا به الله عز وجل، فانطلقوا.

فإنها إحدى الحسنيين: إما النصر أو الشهادة] .

وانطلق الناس للقتال، انطلق ثلاثة آلاف لقتال مائة ألف مقاتل، وتولى القيادة زيد بن حارثة وقاتل حتى قتل وسقط اللواء، فانقض إليه سريعاً جعفر بن أبي طالب وقاتل حتى سقط اللواء وسقط بعده طيار الشهداء، فانقض على اللواء عبد الله بن رواحة ورفع اللواء وقاتل حتى قتل وسقط اللواء، ودب الرعب والذعر في قلوب المسلمين، لا سيما بعد قتل القادة الثلاثة الذين حددهم واختارهم رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهنا انقض بسرعة الضوء ثابت بن أقرم رضي الله عنه على اللواء ليرفع اللواء خفاقاً عالياً، وأسرع ثابت بن أقرم ليبحث عن قائد الساعة وبطل الميدان عن أبي سليمان خالد بن الوليد رضي الله عنه، وذهب إليه ثابت وقال: خذ اللواء يا خالد، فقال خالد المؤدب المهذب: لا.

وأبى أن يتقدم، هؤلاء الذين فيهم السابقون من المهاجرين والأنصار، وقال خالد المهذب لـ ثابت بن أقرم: [أنت أولى به مني يا ثابت فأنت من السابقين الأولين، ممن شهدوا بدراً، لست أحق بهذا اللواء منك، فقال ثابت بن أقرم: خذ اللواء يا خالد والله أنت أدرى بالقتال مني، وما أخذت اللواء من على الأرض إلا لك يا أبا سليمان] .

ونادى ثابت بن أقرم في المسلمين بأعلى صوته وقال: [أيها المسلمون! هل ترضون إمرة خالد؟ قالوا: اللهم نعم] واعتلى العبقري جواده بعد أن تحدد مصير المعركة بكل المقاييس، ودب الذعر والرعب، ومات قواد المعركة الثلاثة، وإن شئت فقل: لقد انتهت المعركة، واعتلى العبقري جواده، ودفع الراية عن يمينه كأنما يقرع بها أبواباً مغلقة قد آن لها أن تفتح بإذن الله على يد هذا البطل المغوار.

ونظر العبقري نظرةً سريعة إلى أرض الميدان بعينين كعيني الصقر، وأعاد تنظيم الصفوف، وثبت خالد في هذا اليوم ثبوت الجبال الرواسي، حتى خيم الليل بظلامه، وهنا ظهرت عبقرية خالد، وظهر دهاؤه وبلاؤه وقتاله الذي قال عن نفسه: [والله لقد اندكت في يدي تسعة سيوف في يوم مؤتة] والحديث رواه البخاري، تسعة سيوف تحطمت في يد سيف الله، وأسد الله خالد بن الوليد رضي الله عنه.

نظر خالد بن الوليد وفي ظلام الليل وفي سرعة البرق والضوء وعدل صفوف الجيش، فجعل الميمنة مكان الميسرة، وجعل الميسرة مكان الميمنة، وجعل الساقة في المقدمة وأخر المقدمة إلى الساقة، وكلف طائفة من الجنود أن يتأخروا خلف الجيش، وعند مطلع الصباح أمرهم أن يثيروا غباراً، وأن يحدثوا صوتاً وصياحاً وجلبةً وضوضاء.

وفي الصباح الباكر بعدما بزغ الفجر، وجدت كتائب الروم وجوهاً غير الوجوه التي كانت تحاربها بالأمس، ورأت أعلاماً جديدة، ونظرت فوجدت غباراً، وسمعت صيحةً وصوتاً وجلبةً وضجيجاً، فظن الروم أن مدداً جديداً قد أقبل إلى جيوش المسلمين، فدب الرعب في قلوبهم، وبدءوا في الانسحاب المذهل المروع، واستطاع خالد بذكائه وعبقريته أن يفتح ثغرة فسيحة في قلب هذا الجيش العرمرم الكبير الرهيب، وانسحب بجيشه انسحاباً آمناً دون أن يصاب الجيش بأي أذى.

وبلغت البشارة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ممن يعلم السر وأخفى، فلقد وقف الحبيب في المدينة المنورة يقص على المسلمين خبر غزوة مؤتة قبل أن يبلغه الخبر، فلقد أخبره علام الغيوب جل جلاله كما ورد في صحيح البخاري من حديث أنس: (وقف النبي صلى الله عليه وسلم ينعي للناس قادة غزوة مؤتة وعيناه تذرفان بأبي هو وأمي صلى الله عليه وسلم، فقال عليه الصلاة والسلام: لقد أخذ الراية زيد بن حارثة فأصيب، ثم أخذ الراية جعفر فأصيب، ثم أخذ الراية ابن رواحة فأصيب، وعيناه تذرفان ثم قال: حتى أخذ الراية سيف من سيوف الله ففتح الله عليهم) وانظروا إلى هذه العبارة النبوية، سمى النبي انتصار خالد فتحاً، وأي نصر؟ وأي فتح؟ ولما خرج المسلمون يقولون لهم: يا فرار قال لهم النبي عليه الصلاة والسلام: (لا تقولوا هذا ولكنهم الكرار وليسوا الفرار) سمى النبي انتصار خالد فتحاً (حتى أخذ الراية سيف من سيوف الله) ذلكم هو الوسام الذي عاد خالد إلى المدينة ليعلقه النبي على صدره، والله إنه وسامٌ لا تقوم له الدنيا، ومن يومها أحبتي سمي خالد بن الوليد بسيف الله المسلول.

ولم تمض إلا أشهراً معدودات حتى تقدم النبي في جيشه الكبير الجرار لفتح مكة، وولى النبي خالد بن الوليد وجعله قائداً للميمنة، وها هو خالد يدخل إلى مكة المكرمة قائداً من قواد جيش التوحيد، بعد أن كان بالأمس القريب قائداً من قواد جيش الشرك.
মুতা যুদ্ধে খালিদ বিন ওয়ালিদ

মাত্র দুই বা তিন মাস পর, খালিদ বিন ওয়ালিদ তাওহীদ ও ঈমানের সেনাদলের সারিতে একজন সৈনিক হিসেবে শাম দেশের সীমান্তে সেই কঠিন পাথরে আঘাত হানার জন্য রওনা হন। মুতা যুদ্ধের জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই সেনাপতি নির্বাচন করেছিলেন। সহীহ বুখারীর মাগাজি অধ্যায়ে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুতা যুদ্ধের জন্য যাইদ বিন হারিসাহকে আমির নিযুক্ত করেন এবং বলেন: "যদি যাইদ নিহত হয় তবে জাফর বিন আবি তালিব সেনাপতি হবে, জাফর নিহত হলে আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা হবে।" সেই বাহিনীতে সৈন্য সংখ্যা তিন হাজারের বেশি ছিল না।

যখন বাহিনী শামের সীমান্তে পৌঁছাল, তারা এক বিশাল বিস্ময়ের সম্মুখীন হলো। তারা দেখল যে রোমানরা এক লক্ষেরও অধিক সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করে রেখেছে। এখানে মুসলমানরা যুদ্ধের ব্যাপারে দ্বিধায় পড়ে গেলেন! কীভাবে এই যুদ্ধে প্রবেশ করবেন যেখানে সংখ্যার দিক থেকে বিন্দুমাত্র সামঞ্জস্য নেই? এক লক্ষের বিপরীতে মাত্র তিন হাজার! তখন সেই শহীদ কবি আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে ঘোষণা করলেন: [হে কওম! তোমরা যা অপছন্দ করছ (শাহাদাত), মূলত তা অন্বেষণ করতেই তোমরা বের হয়েছ। তা হলো আল্লাহর পথে শাহাদাত। আল্লাহর কসম, আমরা আমাদের শত্রুর সাথে সংখ্যা বা শক্তি দিয়ে লড়ি না, বরং আমরা লড়ি সেই দ্বীনের মাধ্যমে যা দিয়ে আল্লাহ আমাদের সম্মানিত করেছেন। অতএব তোমরা এগিয়ে চল।

কেননা এতে দুটি কল্যাণের একটি অবশ্যই অর্জিত হবে: হয় বিজয় নতুবা শাহাদাত।]

মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল। তিন হাজার সৈনিক লড়ল এক লক্ষের বিরুদ্ধে। যাইদ বিন হারিসাহ নেতৃত্ব দিলেন এবং শহীদ হওয়া পর্যন্ত লড়াই করলেন। পতাকা পড়ে গেলে দ্রুত জাফর বিন আবি তালিব তা তুলে নিলেন এবং শহীদ হওয়া পর্যন্ত লড়লেন। এরপর আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা পতাকা তুলে নিলেন এবং তিনিও শহীদ হলেন। তিন সেনাপতির মৃত্যুতে মুসলমানদের অন্তরে আতঙ্ক ও ত্রাস ছড়িয়ে পড়ল, বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যাদের নাম নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন তাদের সবার শাহাদাতের পর। তখন সাবিত বিন আকরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বিদ্যুতের গতিতে পতাকাটি তুলে নিলেন এবং এই সংকট মুহূর্তের বীর খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সন্ধানে ছুটলেন। তিনি খালিদকে বললেন: হে খালিদ, পতাকা হাতে নিন। কিন্তু বিনয়ী খালিদ বললেন: না।

তিনি অগ্রগামী হতে চাইলেন না কারণ সেখানে মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে অগ্রবর্তী সাহাবায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন। খালিদ সাবিত বিন আকরামকে বললেন: [হে সাবিত, আপনিই এর জন্য বেশি যোগ্য। আপনি অগ্রবর্তী সাহাবী এবং বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী। আপনার চেয়ে এই পতাকার অধিকার আমার বেশি নয়।] সাবিত বিন আকরাম বললেন: [হে আবু সুলাইমান, পতাকাটি নিন। আল্লাহর কসম, আপনি আমার চেয়ে যুদ্ধ সম্পর্কে বেশি অভিজ্ঞ। আমি মাটি থেকে পতাকাটি কেবল আপনার জন্যই তুলেছি।]

সাবিত বিন আকরাম উচ্চস্বরে মুসলমানদের ডাকলেন এবং বললেন: [হে মুসলমানগণ! আপনারা কি খালিদের নেতৃত্বে রাজি? তারা বললেন: হে আল্লাহ, হ্যাঁ।] রণকৌশলী খালিদ তার ঘোড়ায় চড়লেন এমন এক সময়ে যখন যুদ্ধের ভাগ্য সব দিক থেকে প্রায় নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল এবং চরম আতঙ্ক বিরাজ করছিল। তিন সেনাপতি তখন শহীদ। বলা যায় যুদ্ধ প্রায় শেষ। সেই মহাবীর তার ঘোড়ায় চড়ে এমনভাবে পতাকাটি ডানে সরালেন যেন এর মাধ্যমে তিনি সেই বন্ধ দরজাগুলো খুলে দেবেন যা আল্লাহর হুকুমে তার হাতেই খোলার সময় হয়েছিল।

সেই রণকৌশলী বীর বাজপাখির মতো দৃষ্টিতে ময়দানের চারদিকে তাকালেন এবং সৈন্যদের নতুন করে বিন্যস্ত করলেন। সেই দিন খালিদ পাহাড়ের মতো অটল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন যতক্ষণ না রাত নেমে এল। এখানেই খালিদের রণকৌশল ও সাহসিকতা প্রকাশ পেল। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছিলেন: [আল্লাহর কসম, মুতা যুদ্ধের দিন আমার হাতে নয়টি তলোয়ার ভেঙেছিল।] হাদিসটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর তলোয়ার ও আল্লাহর সিংহ খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে নয়টি তলোয়ার ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল।

রাতের অন্ধকারে এবং বিদ্যুতের গতিতে খালিদ সৈন্যদের সারি পরিবর্তন করলেন। তিনি ডানের অংশকে বামে এবং বামের অংশকে ডানে পাঠালেন। পেছনের অংশকে সামনে আনলেন এবং সামনের অংশকে পেছনে পাঠালেন। একদল সৈন্যকে নির্দেশ দিলেন বাহিনীর পেছনে পিছিয়ে থাকতে এবং ভোরে এমনভাবে ধূলি ও চিৎকার-চেঁচামেচি তৈরি করতে যেন মনে হয় সাহায্যকারী বাহিনী আসছে।

পরদিন ভোরে রোমান বাহিনী দেখল তারা আগের দিন যাদের সাথে লড়েছিল তাদের পরিবর্তে নতুন সব চেহারা। তারা নতুন নতুন ঝাণ্ডা দেখল এবং ধুলোবালি ও শোরগোল শুনতে পেল। রোমানরা ভাবল মুসলমানদের জন্য নতুন সাহায্যকারী বাহিনী এসেছে। এতে তাদের হৃদয়ে ত্রাস সৃষ্টি হলো এবং তারা পিছু হটতে শুরু করল। খালিদ তার বুদ্ধিমত্তা ও রণকৌশল দিয়ে সেই বিশাল শত্রুবাহিনীর ব্যুহ ভেদ করে নিজের বাহিনীকে কোনো বড় ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে সরিয়ে আনতে সক্ষম হলেন।

যিনি গোপন ও অতি গোপন বিষয় জানেন, তাঁর পক্ষ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে সুসংবাদ পৌঁছাল। মদীনায় প্রিয় নবী খবর আসার আগেই মুসলমানদের কাছে মুতা যুদ্ধের সংবাদ বর্ণনা করছিলেন। অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা মহান আল্লাহ তাঁকে সব জানিয়ে দিয়েছিলেন। বুখারীর আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এসেছে: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুতার সেনাপতিদের শাহাদাতের খবর দিচ্ছিলেন এবং তাঁর চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল। তিনি বললেন: যাইদ পতাকা নিল এবং শহীদ হলো, জাফর পতাকা নিল এবং শহীদ হলো, ইবনে রাওয়াহা পতাকা নিল এবং শহীদ হলো। এরপর আল্লাহর তলোয়ার সমূহের মধ্য থেকে এক তলোয়ার পতাকা হাতে নিল এবং আল্লাহ তাদের বিজয় দান করলেন)। দেখুন, নবীজী খালিদের এই সফলতাকে 'বিজয়' হিসেবে নাম দিয়েছেন। যখন মুসলমানরা মদীনায় ফিরে এলে মানুষ তাদের 'পলায়নকারী' বলতে লাগল, তখন নবীজী বললেন: (এ কথা বলো না, তারা পলায়নকারী নয় বরং তারা আক্রমণকারী)। নবীজী খালিদের এই বিজয়কে 'ফাতাহ' (বিজয়) নাম দিয়েছেন। সেই দিন থেকেই খালিদ বিন ওয়ালিদ 'সাইফুল্লাহ' বা আল্লাহর তরবারি উপাধিতে ভূষিত হলেন।

এর মাত্র কয়েক মাস পরেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের জন্য বিশাল বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হন। সেখানে তিনি খালিদ বিন ওয়ালিদকে ডান দিকের বাহিনীর সেনাপতি নিযুক্ত করেন। এই তো সেই খালিদ, যিনি গত কাল পর্যন্ত শিরকের বাহিনীর নেতা ছিলেন, আজ তিনি তাওহীদের বাহিনীর অন্যতম সেনাপতি হিসেবে মক্কায় প্রবেশ করছেন।
(খণ্ড: ٢) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ١٢)
‌‌خالد بن الوليد في حروب الردة

مات الحبيب صلى الله عليه وسلم، وتولى الصديق خلافة المسلمين، وتهب أعاصير الردة الغادرة الماكرة، ويجيش الصديق الجيوش، ويدفع الألوية للأمراء والقادة، ومن بين هؤلاء الأمراء والقادة جميعاً يتجه الصديق العبقري الذكي إلى قائد الساعة، وبطل الميدان، إلى سيف الله خالد ويقول له الصديق: (يا خالد! لقد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: نعم عبد الله وأخو العشيرة خالد بن الوليد، سيف من سيوف الله سله الله على الكفار والمنافقين) والحديث رواه أحمد، وقال الإمام الهيثمي: ورجاله رجال الصحيح.

وينطلق خالد بن الوليد ليشهد جميع معارك الردة من أولها إلى آخرها، وكانت أخطر معركة في هذه المعارك هي: معركة اليمامة بقيام الدعي الكذاب مسيلمة، الذي نجح في أن يجيش جيوشاً جرارة حتى هزم عكرمة بن أبي جهل هزيمةً منكرة، وأصدر الصديق رضي الله عنه الأوامر إلى قائده المظفر خالد بن الوليد أن ينطلق مسرعاً لقتال مسيلمة.

ويتحرك خالد بن الوليد بجيشه ليلتقي مع أخويه عكرمة بن أبي جهل، وشرحبيل بن حسنة، ويبدأ القتال الذي ليس لضراوته في عالم الحروب نظير، ويسقط الشهداء من المسلمين تباعاً بسرعة مذهلة كصقور حديقة طوحت بها عاصفة عنيدة، ويعتلي العبقري بجواده ربوةً عالية وينظر بعينين كالصقر إلى أرض الميدان والمعركة، ثم يعود خالد ليصرخ بأعلى صوته في جنوده ويقول: [امتازوا اليوم لنرى بلاء كل حي لنعرف من أين تأتي الهزيمة] ودب الحماس، ودبت الغيرة في قلوب الرجال، وصرخ خالد بأعلى صوته في الميدان، ونقل إخلاصه وحماسه إلى قلوب جنوده وإخوانه كما تنقل الكهرباء، وفي دقائق معدودة تحول اتجاه المعركة، وسقطوا الدعي الكذاب مسيلمة، وفر جنوده وسقط جنوده بالمئات بل بالألوف كذبابٍ قتل أنفاس الحياة فيه نفثات مبيدٍ صاعق.

وانتهت المعركة انتهت أكبر معركة في تاريخ الخلفاء انتهت موقعة اليمامة بنصر مؤزر من الله جل وعلا على يد القائد المظفر والبطل الفاتح خالد بن الوليد رضي الله عنه وأرضاه.
মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে খালিদ বিন ওয়ালিদ

প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন এবং সিদ্দিক মুসলিমদের খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। তখন বিশ্বাসঘাতক ও প্রতারক মুরতাদদের ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করল। সিদ্দিক (রা.) সেনাবাহিনী প্রস্তুত করলেন এবং আমির ও সেনাপতিদের হাতে পতাকা তুলে দিলেন। এই সমস্ত আমির ও সেনাপতিদের মধ্য থেকে মেধাবী ও বুদ্ধিমান সিদ্দিক (রা.) সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ সেনাপতি ও রণক্ষেত্রের বীর ‘আল্লাহর তরবারি’ খালিদের দিকে মনোনিবেশ করলেন। সিদ্দিক (রা.) তাকে বললেন: (হে খালিদ! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: খালিদ বিন ওয়ালিদ আল্লাহর কতই না চমৎকার বান্দা এবং গোত্রের কতই না উত্তম ভাই, সে আল্লাহর তরবারিগুলোর মধ্যে একটি তরবারি, যা আল্লাহ কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে কোষমুক্ত করেছেন)। হাদীসটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম হাইসামি বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারী।

এরপর খালিদ বিন ওয়ালিদ মুরতাদদের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য যাত্রা করেন। এই যুদ্ধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক যুদ্ধ ছিল ইয়ামামার যুদ্ধ; যা মিথ্যা দাবিদার মুসাইলামা কাজ্জাবের উত্থানের কারণে সংঘটিত হয়েছিল। মুসাইলামা এক বিশাল বাহিনী সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিল, এমনকি সে ইকরিমা ইবনে আবি জাহলকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছিল। এমতাবস্থায় সিদ্দিক (রা.) তার বিজয়ী সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদকে মুসাইলামার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য দ্রুত অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

খালিদ বিন ওয়ালিদ তার বাহিনী নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং তার দুই ভাই ইকরিমা ইবনে আবি জাহল ও শুরাহবিল ইবনে হাসানার সাথে মিলিত হলেন। এরপর শুরু হলো এমন এক ভয়াবহ যুদ্ধ, যার তীব্রতার নজির সমর ইতিহাসে বিরল। মুসলিমদের মধ্য থেকে একের পর এক শহীদদের পতন ঘটতে থাকল বিস্ময়কর ক্ষিপ্রতায়, যেন বাগানের বাজপাখিগুলো কোনো প্রচণ্ড ঝড়ে ভূপাতিত হচ্ছে। এই মহাপ্রতিভাধর সেনাপতি তার ঘোড়ায় চড়ে এক উঁচু টিলায় উঠলেন এবং বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতির দিকে তাকালেন। এরপর খালিদ তার সৈন্যদের উদ্দেশ্যে উচ্চস্বরে চিৎকার করে বললেন: [আজ তোমরা নিজ নিজ পরিচয় অনুযায়ী আলাদা হয়ে যাও, যাতে আমরা প্রত্যেকের পরীক্ষা ও বীরত্ব দেখতে পাই এবং বুঝতে পারি পরাজয় কোন দিক থেকে আসছে]। এতে সৈন্যদের হৃদয়ে উদ্দীপনা ও আত্মমর্যাদাবোধ জেগে উঠল। খালিদ রণক্ষেত্রে উচ্চস্বরে চিৎকার করলেন এবং তার নিষ্ঠা ও উদ্দীপনা সৈন্যদের হৃদয়ে বিদ্যুতের মতো সঞ্চারিত করলেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেল এবং মিথ্যা দাবিদার মুসাইলামা কাজ্জাব নিপাতিত হলো। তার সৈন্যরা পালিয়ে গেল এবং শত শত নয় বরং হাজার হাজার সৈন্য এমনভাবে প্রাণ হারাল, যেন কীটনাশকের আঘাতে মাছি ধ্বংস হচ্ছে।

যুদ্ধ শেষ হলো, খলিফাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যুদ্ধের অবসান ঘটল। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার পক্ষ থেকে বিজয়ী সেনাপতি ও বীর বিজেতা খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে ইয়ামামার যুদ্ধে এক মহিমান্বিত বিজয় অর্জিত হলো।
(খণ্ড: ٢) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌خالد بن الوليد في موقعة القادسية

أيها الأحباب! انتهت حروب الردة في لمحات سريعة، وأصدر الخليفة العظيم المبارك رضي الله عنه وأرضاه أوامره إلى قائده العظيم المبارك أن يترك أرض الجزيرة العربية بعد انتهاء حروب الردة لينتقل إلى بلاد العراق.

ولماذا بلاد العراق؟! لحرب أعظم امبراطورية في بلا الشرق، وللقضاء على امبراطورية فارس.

وينطلق خالد مسرعاً ملبياً أوامر خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم في أوائل العام الثاني عشر للهجرة، ويبدأ خالد أعماله الميمونة المباركة في العراق بهذه الكتب التي أرسل بها إلى كسرى، وإلى ولاته وأمرائه في بلاد العراق، واسمعوا إلى هذه الرسالة، وإلى هذا الكتاب الذي أرسل به خالد رضي الله عنه وأرضاه: قال خالد: [بسم الله الرحمن الرحيم من خالد بن الوليد إلى مرازبة فارس، سلام على من اتبع الهدى أما بعد: فالحمد لله الذي فضح دمكم، وسلب ملككم، ووهن كيدكم، من صلى صلاتنا، واستقبل قبلتنا، وأكل ذبيحتنا فذلكم المسلم له ما لنا وعليه ما علينا، فإن جاءكم كتابي هذا فإني أخيركم بين ثلاثة: إما الإسلام، وإما أن تدفعوا الجزية عن يدٍ وأنتم صاغرون، وإما الحرب، فوالله الذي لا إله غيره لقد جئتكم بقومٍ يحبون الموت كما تحبون الحياة] .

الله أكبر ودب الرعب في قلوب أهل فارس، فلقد نُصر خالد بن الوليد بالرعب، وبالإجمال أقول: إن خالد بن الوليد دخل في خمس عشرة موقعة مع الفرس وأوليائهم، ولم يهزم بإذن الله في موقعة واحدة قط، وكانت أخطر معاركه مع أهل الفرس هي: موقعة ذات السلاسل بقيادة هرمز، وفيها قيد الفرس أنفسهم بالسلاسل، حتى يضمنوا ألا يفروا من الميدان أمام ضربات خالد بن الوليد، وانتهت معارك الفرس، ودك خالد بن الوليد عرش الامبراطورية الفارسية في عامٍ واحد، فعل خالد بن الوليد ما عجز الرومان أن يفعلوه في أجيالٍ متتابعة.

وانتهت المعارك في بلاد العراق، وبقي على موسم الحج أسبوعان، فنظر خالد فوجد نفسه فارغاً من القتال، ولكنه حتماً لا يكون فارغاً من طاعة الله عز وجل، وفي عزمة خالدية جريئة لا يقوى عليها إلا خالد، صمم خالد في سرية تامة أن ينال شرف أداء فريضة الحج لأول مرة بعدما منَّ الله عليه بهذه الانتصارات المروعة والرائعة، وفي سرعة البرق، ولمحة خاطفة، ينطلق خالد بن الوليد من أقصى العراق إلى أقصى الحجاز ويؤدي فريضة الحج دون أن يشعر به أحد من الأعداء، ودون أن يشعر به أحدٌ من المسلمين في جيشه إلا المقربون من قواده، بل حتى لم يعلم به خليفة رسول الله أبو بكر الذي كان أميراً للحج في هذا الموسم، ويرجع خالد مرةً أخرى إلى موقعه، ولما علم الصديق بذلك عاتبه عتاباً رقيقاً وأمره ألا يعود لمثلها، يقول المؤرخون: تلك عزمة خالدية، وثقة مفرطة لا يقوى عليها إلا خالد.
কাদিসিয়া যুদ্ধে খালিদ বিন ওয়ালিদ

হে প্রিয়জনগণ! রিদ্দার যুদ্ধসমূহ চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল, এবং মহান ও বরকতময় খলিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর মহান ও বরকতময় সেনাপতিকে নির্দেশ দিলেন যে, রিদ্দার যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আরব উপদ্বীপ ত্যাগ করে ইরাক অভিমুখে যাত্রা করতে।

আর কেন ইরাক অভিমুখে?! প্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এবং পারস্য সাম্রাজ্যকে নির্মূল করার জন্য।

হিজরি দ্বাদশ সালের শুরুর দিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খলিফার আদেশে সাড়া দিয়ে খালিদ দ্রুতবেগে রওনা হলেন, এবং খালিদ ইরাকে তাঁর শুভ ও বরকতময় কাজগুলো শুরু করেন কিসরা এবং ইরাকে অবস্থানরত তার গভর্নর ও আমিরদের কাছে প্রেরিত সেই চিঠিপত্রগুলোর মাধ্যমে। শুনুন সেই বার্তা ও সেই চিঠির কথা যা খালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পাঠিয়েছিলেন: খালিদ বললেন: [পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। খালিদ বিন ওয়ালিদের পক্ষ থেকে পারস্যের সেনাপতিদের প্রতি, যারা হেদায়াত অনুসরণ করবে তাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর: সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তোমাদের রক্তকে লাঞ্ছিত করেছেন, তোমাদের রাজত্ব ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং তোমাদের চক্রান্তকে দুর্বল করে দিয়েছেন। যে আমাদের মতো সালাত আদায় করবে, আমাদের কিবলার দিকে মুখ করবে এবং আমাদের যবেহ করা পশু ভক্ষণ করবে, সেই মুসলিম; আমাদের যা অধিকার তারও তা অধিকার এবং আমাদের উপর যা দায়িত্ব তার উপরও তা দায়িত্ব। তোমাদের কাছে আমার এই চিঠি পৌঁছালে আমি তোমাদের তিনটি বিষয়ের যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছি: হয় ইসলাম গ্রহণ করা, না হয় নতজানু হয়ে স্বহস্তে জিযিয়া প্রদান করা, অথবা যুদ্ধ। অতঃপর সেই আল্লাহর শপথ, যাঁর ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, আমি তোমাদের কাছে এমন এক কওমকে নিয়ে এসেছি যারা মৃত্যুকে তেমন ভালোবাসে যেমন তোমরা জীবনকে ভালোবাসো।]

আল্লাহু আকবার! পারস্যবাসীদের হৃদয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল, কেননা খালিদ বিন ওয়ালিদকে আতঙ্কের মাধ্যমেই সাহায্য করা হয়েছিল। সংক্ষেপে আমি বলব: খালিদ বিন ওয়ালিদ পারসিক ও তাদের মিত্রদের সাথে পনেরটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি একটি যুদ্ধও পরাজিত হননি। পারসিকদের সাথে তাঁর সবচেয়ে ভয়ংকর যুদ্ধটি ছিল হুরমুজের নেতৃত্বে পরিচালিত 'জাতুস সালাসিল' (শৃঙ্খলবদ্ধদের যুদ্ধ), যেখানে পারসিকরা নিজেদেরকে শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলেছিল, যাতে তারা নিশ্চিত করতে পারে যে খালিদ বিন ওয়ালিদের আক্রমণের মুখে ময়দান থেকে পালিয়ে যাবে না। পারসিকদের যুদ্ধগুলো শেষ হলো এবং খালিদ বিন ওয়ালিদ এক বছরের মধ্যেই পারস্য সাম্রাজ্যের সিংহাসন ধুলিসাৎ করে দিলেন। রোমানরা যা করতে বংশপরম্পরায় ব্যর্থ হয়েছিল, খালিদ বিন ওয়ালিদ তা করে দেখালেন।

ইরাকে যুদ্ধগুলো শেষ হলো এবং হজ মৌসুমের মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি ছিল। তখন খালিদ দেখলেন তিনি যুদ্ধ থেকে অবসর পেয়েছেন, কিন্তু আল্লাহর আনুগত্য থেকে তো তিনি কখনো অবসর থাকতে পারেন না। এক সাহসী 'খালিদীয়' সংকল্পে, যা কেবল খালিদের পক্ষেই সম্ভব, আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত এসব বিস্ময়কর ও চমৎকার বিজয়ের পর খালিদ সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সাথে প্রথমবারের মতো হজের ফরয আদায়ের সম্মান অর্জনের সিদ্ধান্ত নিলেন। বিদ্যুতের গতিতে এবং চোখের পলকে খালিদ বিন ওয়ালিদ ইরাকের প্রান্তসীমা থেকে হিজাজের প্রান্তসীমায় পৌঁছে গেলেন এবং শত্রুপক্ষের কেউ টের পাওয়ার আগেই হজের ফরয আদায় করলেন। এমনকি তাঁর বাহিনীর উচ্চপদস্থ সেনাপতিরা ছাড়া অন্য কোনো মুসলিমও তা টের পায়নি, এমনকি রাসূলুল্লাহর খলিফা আবু বকরও তা জানতে পারেননি, যিনি সেই মৌসুমে হজের আমির ছিলেন। এরপর খালিদ পুনরায় তাঁর নিজ অবস্থানে ফিরে গেলেন; আর যখন সিদ্দিক বিষয়টি জানতে পারলেন, তখন তিনি তাঁকে কোমলভাবে ভর্ৎসনা করলেন এবং পুনরায় এমনটি না করতে আদেশ দিলেন। ঐতিহাসিকরা বলেন: এটি ছিল এক খালিদীয় সংকল্প এবং প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস যা খালিদ ছাড়া আর কারও পক্ষে সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ٢) সিলসিলাতু মাসাবিহিল হুদা (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌خالد بن الوليد في موقعة اليرموك

كان الصديق رضي الله عنه بعدما انتهت معارك فارس قد جيش الجيوش إلى بلاد الشام للقضاء على أعظم امبراطورية في الغرب، ألا وهي امبراطورية الروم، وقد اختار الصديق لهذه الجيوش قادةً عظاماً، اختار أبو عبيدة بن الجراح، وعمرو بن العاص، ويزيد بن أبي سفيان، وجعل الصديق القيادة العامة لجيوش الشام في يد أبي عبيدة رضي الله عنه، ولما وصلت الجيوش إلى بلاد الشام، وسمع هرقل امبراطور الروم بهذه الجيوش قال قولته المشهورة: والله لأشفين أبا بكر ألا يورد خيله إلى أرضنا مرة أخرى، وجيش هذا الرجل جيشاً لا مثيل له، جيش جيشاً يزيد على مائتين وأربعين ألف مقاتل، ولما رأى قادة الجيوش المسلمة هذا الجمع الرهيب، أرسلوا إلى أبي بكر يخبروه بالصورة الجديدة والموقف الجديد، أتدرون ماذا قال الصديق رضي الله عنه؟ قال: والله لأشفين وساوس الروم بـ خالد بن الوليد، وأصدر الصديق الأوامر إلى قائده المظفر أن ينتقل من العراق من أقصى المشرق فوراً إلى بلاد الشام إلى أقصى المغرب فوراً، وفي أربعة أيام يا عباد الله من طريقٍ وعرٍ مذهل! استطاع خالد بن الوليد أن يكون على جبهة الشام، وأرسل الصديق في ذلك رسالةً إلى قائده البطل خالد بن الوليد، وكانت تحتوي على كلماتٍ عذبة رقيقة، ومما كان في هذه الرسالة أن الصديق قال له: هنيئاً لك أبا سليمان النية والحظوة، لا يدخلنك عجبٌ فتخسر وتُخذل، وإياك أن تمنُّ بعملٍ، فإن الله هو صاحب المنِّ وهو ولي الجزاء، وأمره أن ينطلق مسرعاً إلى إخوانه من القادة في بلاد الشام، وأن يتولي خالد القيادة العامة على أبي عبيدة وإخوانه من القادة، وأرسل الصديق رسالة مماثلةً إلى قائد الجيوش في الشام إلى أبي عبيدة يقول فيها: بسم الله الرحمن الرحيم [من أبي بكر إلى أبي عبيدة بن الجراح، سلام الله عليك أما بعد: فلقد أمرت خالد قيادة الجيوش في بلاد الشام، فلا تخالفه يا أبا عبيدة، واسمع له وأطع، وإني لم أبعثه عليك إلا لأني ظننت أن له فطنة في الحرب ليست لك، وإن كنت عندي أحب إلي منه، أراد الله بنا وبك خيراً والسلام] .

ولما وصلت الرسالة إلى خالد وكلف فيها من خليفة رسول الله بالقيادة العامة، انظروا إلى الأدب والإخلاص، أرسل خالد بن الوليد رسالة إلى الفور إلى قائد الجيوش في الشام، إلى أخيه أمين هذه الأمة: أبي عبيدة بن الجراح وقال فيها: [بسم الله الرحمن الرحيم من خالد بن الوليد إلى أبي عبيدة بن الجراح، سلام الله عليك أما بعد: فلقد جاءني كتاب خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم، يأمرني فيه بالسير إلى بلاد الشام والقيام على جندها والتولي لأمرها، ووالله ما طلبت ذلك يا أبا عبيدة وما أردته، فأنت على حالك التي كنت عليها قبل ذلك لا نخالفك يا أبا عبيدة ونسمع لك ونطيع، فأنت سيد المسلمين، ولا يمكن أن ننسى فضلك ولا نستغني عن أمرك] .

بالله ما أورعه! بالله ما أتقاه! بالله ما أنقاه! بالله ما أخلصه! هذه هي القلوب التي تجردت لله، التي لا تبحث عن الزعامة، ولا تريد الصدارة، ولا القيادة، ولو كان على حساب دين الله جل وعلا، لا فرق عند خالد الذي رباه سيد النبيين محمد أن يكون جندياً مطيعاً بعد أن كان قائداً مطاعاً، أو أن يكون قائداً مطاعاً بعد أن كان جندياً مطيعاً، طالما أن راية التوحيد ستظل خفاقة عالية تعانق كوكب الجوزاء في عنان السماء.

ووصل خالد بن الوليد إلى إخوانه، والتقت الجيوش المسلمة، وقبل بدء القتال وقف سيف الله يخطب هذه الخطبة العصماء، وقال بعد أن حمد الله وأثنى عليه لإخوانه من القادة والجند: [إن هذا يومٌ من أيام الله، لا ينبغي فيه البغي ولا الفخر، وإن هذا اليوم له ما بعده، فإن رددناهم اليوم لا نزال نردهم بعد اليوم، وإن هزمونا اليوم لن نفلح بعدها أبداً -ثم قال-: فتعالوا بنا نتعاور -أي: نتبادل القيادة- فليكن أحدنا اليوم قائداً، وليكن بعد اليوم أحدنا قائداً -ثم نظر إليهم خالد - وقال: وأطلب منكم أن تتركوا لي الإمارة في اليوم الأول] .

وتنازل القادة بمنتهى الحب والرضا للقيادة لأخيهم سيف الله المسلول وفارس الإسلام والمسلمين لـ خالد بن الوليد رضي الله عنه، وعاد البطل ينظم صفوف الجيش بطريقته الخالدية التي لا نظير لها في عالم الميادين، وفي عالم القيادة وفن الحروب، ونظم البطل صفوف جيشه، ورسم المسلمون في هذه الموقعة موقعة اليرموك صوراً من البطولة والفداء تبهر القلوب وتأخذ الألباب، فهذا رجلٌ جنديٌ في الصفوف يقترب من أبي عبيدة بن الجراح وينادي عليه في هذه الضجة وفي هذا الضجيج تحت رنين السيوف، ووقع الرماح وصهيل الخيول: [يا أبا عبيدة! ويلتفت إليه أبو عبيدة: ماذا تريد؟ فيقول له هذا المسلم النقي: لقد عزمت على الشهادة فهل لك من حاجة أبلغها لرسول الله حين ألقاه، فقال أبو عبيدة: نعم.

إذا لقيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقل له: يا رسول الله! لقد وجدنا ما وعدنا ربنا حقاً -في وسط هذه المعمعة- لقد وجدنا ما وعدنا ربنا حقاً] .

وينادي عكرمة بن أبي جهل رضي الله عنه ويقول لنفسه: [والله لطالما قاتلت رسول الله قبل أن يشرح الله صدري للإسلام، وهأنا اليوم أفر من الميدان أمام أعداء الله، فينادي بأعلى صوته: يا أصحاب محمد! من يبايع اليوم على الموت؟] ويبايعه كوكبة من الأبرار الأطهار الأخيار، ويدخلون في صفوف المعركة لا يبحثون عن النصر إنما يبحثون عن الشهادة، إنهم أبناء محمد بن عبد الله، إنهم تلاميذ المصطفى صلى الله عليه وسلم الذين عرفوا حقيقة الدنيا، وشرف الجهاد في سبيل الله، وبهذه القلوب، وبهؤلاء الرجال أعز الله دينه، وأعلى الله راية توحيده، وأعز الله رسوله صلى الله عليه وسلم، ولن تكون العزة ولا النصرة إلا بهذه القلوب، وعلى هذه الأيدي الطاهرة، وبهؤلاء الرجال الأطهار الأبرار الأخيار.

وانتهت المعركة أيها الأحباب: وفي وسط هذه الانتصارات المذهلة، وإذ بـ الصديق رضي الله عنه يودع الدنيا آمناً راضياً مطمئناً ليلقى حبيبه المصطفى صلى الله عليه وسلم بعدما أدى الأمانة التي كلف بها، وهنا يتولى عمر الفاروق رضي الله عنه لنرى مرة أخرى انتصاراً أعظم من جميع الانتصارات، مع عمر بن الخطاب رضي الله عنه.

وأقول قولي هذا وأستغفر الله لي ولكم.
ইয়ারমুকের যুদ্ধে খালিদ বিন ওয়ালিদ

পারস্যের যুদ্ধসমূহ শেষ হওয়ার পর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রোমান সাম্রাজ্য—যা ছিল পশ্চিমের সর্বশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য—তাকে নির্মূল করার জন্য শামের ভূমিতে সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন। সিদ্দিক এই বাহিনীর জন্য মহান নেতাদের মনোনীত করেছিলেন; তিনি আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ, আমর ইবনুল আস এবং ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ানকে নির্বাচন করেছিলেন। সিদ্দিক শামের বাহিনীর সাধারণ নেতৃত্বের ভার আবু উবাইদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে ন্যস্ত করেন। যখন বাহিনীগুলো শাম দেশে পৌঁছালো এবং রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস এই বাহিনীর কথা শুনলেন, তখন তিনি তার বিখ্যাত কথাটি বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই আবু বকরকে উচিত শিক্ষা দেব যাতে সে আমাদের ভূমিতে আর কখনো তার ঘোড়া না পাঠায়।" এই ব্যক্তি এমন এক বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করলেন যার কোনো নজির ছিল না; তিনি দুই লক্ষ চল্লিশ হাজারেরও বেশি যোদ্ধার এক বাহিনী গঠন করলেন। যখন মুসলিম বাহিনীর সেনাপতিগণ এই ভয়াবহ জনসমাবেশ দেখলেন, তখন তারা আবু বকরের কাছে পত্র পাঠিয়ে নতুন পরিস্থিতি ও অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করলেন। আপনারা কি জানেন সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কী বলেছিলেন? তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই খালিদ বিন ওয়ালিদের মাধ্যমে রোমানদের কুমন্ত্রণা দূর করব।" সিদ্দিক তার বিজয়ী সেনাপতিকে আদেশ দিলেন যেন তিনি অবিলম্বে ইরাক থেকে অর্থাৎ দূর প্রাচ্য থেকে শামের উদ্দেশ্যে তথা দূর পশ্চিমে যাত্রা করেন। হে আল্লাহর বান্দারা, মাত্র চার দিনে এক বিস্ময়কর দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে খালিদ বিন ওয়ালিদ শামের রণক্ষেত্রে উপস্থিত হতে সক্ষম হলেন! সিদ্দিক এই প্রসঙ্গে তার বীর সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদের কাছে একটি পত্র পাঠিয়েছিলেন, যাতে ছিল অত্যন্ত মিষ্ট ও কোমল কিছু কথা। সেই পত্রের একটি অংশ ছিল এমন যে, সিদ্দিক তাকে বললেন: "হে আবু সুলাইমান, তোমার নিয়ত এবং সৌভাগ্যের জন্য তোমাকে মোবারকবাদ। তোমার মনে যেন কখনো অহংকার প্রবেশ না করে, তাহলে তুমি ক্ষতিগ্রস্ত ও লাঞ্ছিত হবে। আর খবরদার, নিজের কাজের জন্য কখনো অনুগ্রহ প্রদর্শন করবে না, কেননা আল্লাহই হলেন অনুগ্রহের মালিক এবং তিনিই প্রতিদানদাতা।" তিনি তাকে দ্রুত শামের অন্যান্য সেনাপতি ভাইদের কাছে যাওয়ার এবং আবু উবাইদাহ ও অন্যান্য সেনাপতিদের ওপর খালিদকে সাধারণ নেতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দিলেন। সিদ্দিক শামের সেনাপতি আবু উবাইদাহর কাছেও অনুরূপ একটি পত্র পাঠিয়েছিলেন যাতে লেখা ছিল: [বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আবু বকরের পক্ষ থেকে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহর প্রতি, আপনার ওপর আল্লাহর সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর: আমি খালিদকে শামের বাহিনীর সেনাপতিত্বের দায়িত্ব দিয়েছি। সুতরাং হে আবু উবাইদাহ, আপনি তার বিরোধিতা করবেন না; তার কথা শুনবেন ও আনুগত্য করবেন। আমি তাকে আপনার ওপর নিযুক্ত করিনি এই জন্য যে সে আপনার চেয়ে আমার কাছে বেশি প্রিয়, বরং আমি মনে করেছি যে যুদ্ধবিদ্যার ক্ষেত্রে তার এমন কিছু বিচক্ষণতা রয়েছে যা আপনার নেই। আল্লাহ আমাদের ও আপনার মঙ্গল করুন। আসসালামু আলাইকুম।]

যখন খালিদের কাছে পত্র পৌঁছালো এবং রাসূলুল্লাহর খলিফার পক্ষ থেকে তাকে সাধারণ নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হলো, তখন তাদের শিষ্টাচার ও ইখলাস লক্ষ্য করুন। খালিদ বিন ওয়ালিদ অবিলম্বে শামের বাহিনীর প্রধান, এই উম্মতের আমানতদার ভাই আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহর কাছে একটি পত্র পাঠালেন। তাতে তিনি বললেন: [বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। খালিদ বিন ওয়ালিদের পক্ষ থেকে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহর প্রতি, আপনার ওপর আল্লাহর সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর: আমার কাছে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খলিফার পত্র এসেছে, যাতে তিনি আমাকে শামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার এবং এর বাহিনীর দায়িত্ব ও বিষয়াবলী পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর কসম, হে আবু উবাইদাহ, আমি কখনো তা চাইনি এবং এর আকাঙ্ক্ষাও করিনি। আপনি যে অবস্থায় ছিলেন সে অবস্থাতেই থাকবেন, আমরা আপনার বিরোধিতা করব না এবং আপনার কথা শুনব ও আনুগত্য করব। আপনি মুসলিমদের সরদার, আপনার মর্যাদা আমরা কখনো ভুলতে পারি না এবং আপনার পরামর্শ ছাড়াও আমরা চলতে পারি না।]

আল্লাহর কসম, তিনি কতই না মুত্তাকি ছিলেন! আল্লাহর কসম, তিনি কতই না পরহেজগার ছিলেন! আল্লাহর কসম, তিনি কতই না পরিচ্ছন্ন হৃদয়ের ছিলেন! আল্লাহর কসম, তিনি কতই না একনিষ্ঠ ছিলেন! এগুলোই সেই অন্তর যা আল্লাহর জন্য নিবেদিত, যা নেতৃত্ব খোঁজে না, পদমর্যাদা বা কর্তৃত্ব চায় না—এমনকি তা যদি আল্লাহর দ্বীনের বিনিময়েও হয়। নবীগণের সরদার মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যাকে গড়ে তুলেছেন সেই খালিদের কাছে এর কোনো পার্থক্য নেই যে, তিনি একজন মান্যবর নেতা হওয়ার পর একজন অনুগত সৈন্য হবেন, নাকি একজন অনুগত সৈন্য হওয়ার পর একজন মান্যবর নেতা হবেন; যতক্ষণ পর্যন্ত তাওহীদের পতাকা সুউচ্চ থাকবে এবং আকাশের দিগন্তে জাওজা নক্ষত্রকে আলিঙ্গন করবে।

খালিদ বিন ওয়ালিদ তার ভাইদের কাছে পৌঁছালেন এবং মুসলিম বাহিনীগুলো একত্রিত হলো। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে আল্লাহর তলোয়ার দাঁড়িয়ে এই অনন্য ভাষণ প্রদান করলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর সেনাপতি ও সৈন্যদের উদ্দেশ্যে বললেন: [নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর দিনগুলোর একটি দিন। এই দিনে কোনো সীমালঙ্ঘন বা অহংকার করা উচিত নয়। আর এই দিনের গুরুত্ব এর পরবর্তী সময়ের জন্য অপরিসীম। আজ যদি আমরা তাদের প্রতিহত করতে পারি, তবে এরপরও আমরা তাদের প্রতিহত করতে পারব। আর আজ যদি তারা আমাদের পরাজিত করে, তবে এরপর আমরা কখনো সফল হতে পারব না। তারপর তিনি বললেন: এসো আমরা পালাক্রমে নেতৃত্ব দেই—অর্থাৎ আজ আমাদের একজন নেতা হোক, আর অন্য দিন অন্য কেউ নেতা হোক। তারপর খালিদ তাদের দিকে তাকালেন এবং বললেন: তবে আমি আপনাদের কাছে প্রথম দিনের নেতৃত্বের আবেদন করছি।]

সেনাপতিগণ অত্যন্ত ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির সাথে তাদের ভাই, আল্লাহর উন্মুক্ত তলোয়ার এবং ইসলাম ও মুসলিমদের বীর খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে নেতৃত্ব ছেড়ে দিলেন। সেই বীর বীরত্বের ময়দানে এবং যুদ্ধের শিল্প ও নেতৃত্বের জগতে তার সেই অতুলনীয় 'খালিদি' পদ্ধতিতে সৈন্যবাহিনী বিন্যস্ত করতে শুরু করলেন। সেই বীর তার সৈন্যবাহিনী সাজালেন এবং মুসলিমরা এই যুদ্ধে—ইয়ারমুকের যুদ্ধে—বীরত্ব ও আত্মত্যাগের এমন সব চিত্র অংকন করলেন যা অন্তরকে বিমোহিত করে এবং বুদ্ধিকে স্তম্ভিত করে দেয়। সারিবদ্ধ সৈন্যদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহর কাছে আসলেন এবং তলোয়ারের ঝনঝনানি, বল্লমের আঘাত আর ঘোড়ার হ্রেষা ধ্বনির সেই কোলাহলের মাঝে তাকে ডাকলেন: [হে আবু উবাইদাহ! আবু উবাইদাহ তার দিকে ফিরে তাকিয়ে বললেন: তুমি কী চাও? তখন সেই পবিত্র মুসলিম ব্যক্তিটি বললেন: আমি শাহাদাতের সংকল্প করেছি, রাসূলুল্লাহর সাথে যখন আমার সাক্ষাৎ হবে তখন আপনার কি কোনো খবর তাকে পৌঁছে দেওয়ার আছে? আবু উবাইদাহ বললেন: হ্যাঁ।

যখন তুমি রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তাকে বলো: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের প্রতিপালক আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমরা তা সত্য হিসেবে পেয়েছি—এই যুদ্ধের ঘনঘটার মাঝে—আমাদের প্রতিপালক আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমরা তা সত্য হিসেবে পেয়েছি।]

ইকরিমা ইবনে আবি জাহল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) চিৎকার করে নিজেকে বলছিলেন: [আল্লাহর কসম, আল্লাহ যখন আমার অন্তরকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করেননি তার আগে আমি দীর্ঘকাল রাসূলুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি, আর আজ কি আমি আল্লাহর শত্রুদের সামনে রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাব? এরপর তিনি উচ্চস্বরে ডাক দিলেন: হে মুহাম্মাদের সাথীরা! আজ মৃত্যুর ওপর কে বায়আত হবে?] তখন একদল পুণ্যবান, পবিত্র ও শ্রেষ্ঠ মানুষ তার হাতে বায়আত হলেন এবং যুদ্ধের সারিতে প্রবেশ করলেন। তারা বিজয় খুঁজছিলেন না বরং তারা শাহাদাত খুঁজছিলেন। তারা ছিলেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর সন্তান, তারা ছিলেন মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ছাত্র যারা দুনিয়ার হাকিকত এবং আল্লাহর পথে জিহাদের সম্মান বুঝতে পেরেছিলেন। এই সকল অন্তরের মাধ্যমে এবং এই সকল পুরুষের মাধ্যমে আল্লাহ তার দ্বীনকে সম্মানিত করেছেন, তার তাওহীদের পতাকাকে উন্নত করেছেন এবং তার রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জয়যুক্ত করেছেন। আর এই সকল পবিত্র অন্তর, এই সকল পবিত্র হাত এবং এই সকল মহান ও শ্রেষ্ঠ পুরুষদের মাধ্যমেই কেবল সম্মান ও বিজয় আসবে।

হে প্রিয় ভাইয়েরা, যুদ্ধ শেষ হলো: এই বিস্ময়কর বিজয়ের মাঝে সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তার অর্পিত আমানত আদায় করে তার প্রিয় বন্ধু মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মিলিত হওয়ার জন্য শান্ত, সন্তুষ্ট ও নিশ্চিত মনে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন। এরপর উমর আল-ফারুক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, যাতে আমরা উমর বিন খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে আবারও পূর্বের সকল বিজয়ের চেয়ে মহান এক বিজয় দেখতে পাই।

আমি আমার এই কথা বলছি এবং আমার ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।