0/0
(খণ্ড: ১) আল-হিজরাতুন নাবাবিয়্যাতুশ শারীফাহ দুরুসুন ওয়া ফাওয়ায়িদুন ওয়া লাতায়িফ (পৃষ্ঠা: -)
الهجرة النبوية الشريفة دروس وفوائد ولطائف   (محمد مهدي قشلان)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: الهجرة النبوية الشريفة دروس وفوائد ولطائف

المؤلف: محمد مهدي قشلان

عدد الصفحات: 6

تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الأول 1442

সম্মানীত নববী হিজরত: শিক্ষা, উপকারিতা ও সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ   (মুহাম্মদ মাহদী কাশলান)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


গ্রন্থ: সম্মানীত নববী হিজরত: শিক্ষা, উপকারিতা ও সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ

লেখক: মুহাম্মদ মাহদী কাশলান

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-হিজরাতুন নাবাবিয়্যাতুশ শারীফাহ দুরুসুন ওয়া ফাওয়ায়িদুন ওয়া লাতায়িফ (পৃষ্ঠা: ১)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحِيمِ الرَّحْمَنِ

إنَّ الحمد لله، نحمده ونستعين به ونسترشده، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، مَن يهده اللهُ فهو المهتد، ومن يضلل فلن تجد له ولياً مرشداً …

وأشهد أن لا إله إلا الله: يُعطي الحقُّ -سبحانه- الدُّنْيَا مَنْ يُحِبُّ وَمَنْ لَا يُحِبُّ، وَلَا يُعْطِي الدِّينَ إِلَّا مَنْ أَحَبَّ، يقول صلوات الله عليه: "مَنْ كَانَتِ الدُّنْيَا هَمَّهُ، فَرَّقَ اللَّهُ عَلَيْهِ أَمْرَهُ، وَجَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلَاّ مَا كُتِبَ لَهُ، وَمَنْ كَانَتِ الآخِرَةُ نِيَّتَهُ، جَمَعَ اللَّهُ لَهُ أَمْرَهُ، وَجَعَلَ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ، وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ(1) " أخا الإسلام:

تَاللَّهِ لَوْ عَاشَ الْفَتَى فِي أَهْلِهِ … أَلْفًا مِنَ الْأَعْوَامِ مَالِكَ أَمْرِه

مُتَلَذِّذًا مَعَهُمْ بِكُلِّ لَذِيذَةٍ … مُتَنَعِّمًا بِالْعَيْشِ مُدَّةَ عُمْرِه

لَا يَعْتَرِيهِ النَّقْصُ فِي أَحْوَالِهِ … كَلَّا وَلَا تَجْرِي الْهُمُومُ بِباله

مَا كَانَ هذا كُلُّهُ في أن يَفِي … بِمبيت أَوَّلِ لَيْلَةٍ فِي قَبْرِه

وأشهد أن سيدنا ونبينا وحبيبنا محمداً رسول الله: لما دخل المدينة المنورة -التي نورها الله بوجوده- ألقى بياناً جامعاً مانعاً شافياً حازماً حاسماً يُسطَّر كميثاق لسَّلام بين الأمم، تفوح منه رائحة الحبِّ والود، قال فيه: "أَيُّها الناسُ، أَفْشُوا السلامَ، وأَطْعِمُوا الطعامَ، وصَلُّوا بالليلِ والناسُ نِيَامٌ، تَدْخُلُوا الجنةَ بسَلَامٍ(2) ". سيدي أبا القاسم يا رسول الله: …

لو أنَّ إنساناً تخير ملةً … ما اختار إلا دينكَ الفقراءُ

الْمُصلِحونَ أَصابِعٌ جُمِعَت يَدًا … هِيَ أَنتَ بَل أَنتَ اليَدُ البَيضاءُ

أنصفتَ أهلَ الفقر من أهل الغنى … فالكلُّ في حقِّ الحياة سواءُ

--------------------------------------------

(1) قال الحافظ المنذري: رواه ابن ماجة، ورواته ثقات، والطبراني، بلفظ قريب

(الترغيب والترهيب 4/ 121)

(2) أخرجه الترمذي برقم (2487) في صفة القيامة، باب رقم (43)، وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح.
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে পথনির্দেশ যাচনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাওয়া যাবে না …

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই: মহান আল্লাহ দুনিয়া তাকেও দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন এবং তাকেও দেন যাকে তিনি ভালোবাসেন না; কিন্তু তিনি দ্বীন কেবল তাকেই দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: "দুনিয়া যার প্রধান চিন্তার বিষয় হবে, আল্লাহ তার বিষয়সমূহকে বিক্ষিপ্ত করে দেবেন, তার দারিদ্র্যকে তার দুই চোখের সামনে এনে দেবেন এবং দুনিয়া থেকে ততটুকুই তার কাছে আসবে যতটুকু তার তকদিরে লেখা আছে। আর আখিরাত যার নিয়ত হবে, আল্লাহ তার বিষয়সমূহকে গুছিয়ে দেবেন, তার অন্তরকে ঐশ্বর্যমণ্ডিত করে দেবেন এবং দুনিয়া তার কাছে লাঞ্ছিত হয়ে (বাধ্য হয়ে) উপস্থিত হবে।(১)" হে ইসলামের ভাই:

আল্লাহর কসম, যদি কোনো যুবক স্বীয় পরিজনদের মাঝে … হাজার বছর অতিবাহিত করে সবকিছুর মালিক হয়ে,

আস্বাদন করে তাদের সাথে সকল প্রকার সুখাদ্য … এবং যাপন করে বিলাসবহul জীবন তার আয়ুষ্কাল জুড়ে,

কোনো অবস্থায়ই তাকে কোনো অভাব স্পর্শ না করে … এবং কোনো দুশ্চিন্তাও তার অন্তরে উদিত না হয়,

তবুও এই সবকিছু কবরের প্রথম রজনীর যাপনের … সমতুল্য হতে পারবে না।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা, আমাদের নবী এবং আমাদের প্রিয়তম মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল: তিনি যখন মদিনা মুনাওয়ারায় প্রবেশ করলেন—যাকে আল্লাহ তাঁর উপস্থিতিতে আলোকিত করেছেন—তখন তিনি একটি সর্বজনীন, অর্থপূর্ণ, নিরাময়কারী ও চূড়ান্ত ভাষণ প্রদান করেন, যা জাতিসমূহের মধ্যে শান্তির সনদ হিসেবে লিপিবদ্ধ হওয়ার যোগ্য। তা থেকে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের সুঘ্রাণ বিচ্ছুরিত হয়। তিনি সেখানে বলেন: "হে লোকসকল, তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, অন্ন দান করো এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন রাতে সালাত আদায় করো; তবে তোমরা শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।(২)" হে আমার সরদার আবুল কাসিম, হে আল্লাহর রাসূল: …

যদি কোনো মানুষ কোনো আদর্শ বেছে নিতে চাইত … তবে দরিদ্ররা আপনার দ্বীন ছাড়া অন্য কিছু বেছে নিত না।

সংস্কারকরা হলো সেই অঙ্গুলিসমূহ যা একটি হাত গঠন করে … আর সেই হাত তো আপনিই, বরং আপনিই হলেন সেই শুভ্র হাত।

আপনি দরিদ্রদেরকে ধনীদের ওপর ইনসাফ প্রদান করেছেন … ফলে জীবনের অধিকারের ক্ষেত্রে সকলেই সমান।

--------------------------------------------

(১) হাফেজ আল-মুনজিরি বলেন: ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য, আর তাবারানিও কাছাকাছি শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন।

(আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব ৪/১২১)

(২) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন (হাদিস নং ২৪৮৭), কিয়ামতের বৈশিষ্ট্য অধ্যায়, অনুচ্ছেদ নং ৪৩; ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি হাসান সহিহ হাদিস।
(খণ্ড: ১) আল-হিজরাতুন নাবাবিয়্যাতুশ শারীফাহ দুরুসুন ওয়া ফাওয়ায়িদুন ওয়া লাতায়িফ (পৃষ্ঠা: ২)
أما بعد إخوة الإيمان …

فإنه لم تحفل سيرة بشر، منذ عهد أبينا آدم عليه السلام بالعناية والاهتمام وشديد المتابعة والتحري والتدقيق والتدوين، كما لقيته سيرة سيدنا محمد- صلى الله عليه وسلم ولا غرو في ذلك فهو سيد البشر أجمعين، وحبيب رب العالمين،

وخير الخلق أجمعين، ومما اعتنى به المسلمون غاية العناية حدث هجرته صلى الله عليه وسلم من مكة البلد الحرام إلى طيبة إلى مدينة الأنصار(1)، ولا شك أن حدث هجرته صلى الله عليه وسلم-حافل بالعبر والدروس، مليءٌ بالأحداث الكبار والأخبار العظام، التي غيرت مجرى التاريخ البشري وحولت وجهه، وأشرقت الأرض بنورها ضياء وابتهاجاً ..

ولا شك أن من الواجب علينا-والأمة الإسلامية تمر في محنٍ عصيبة ودماؤها ودماء أبناءها تسيل مخزاراً ومكثاراً-أن نقف مع سيرة رسول الله ومع ذكرى الهجرة النبوية لعنا نستقي منها الدروس والعبر، ولست هنا بصدد الحديث عن أحداث ومجريات الهجرة المباركة؛ فالوقت لا يسعفنا لكل ذلك، ولكنني بمشيئة الله سأقف عند بعض العبر والدروس التي تؤخذ من أحداث الهجرة، ثم نجعل من دروسها واقعاً نستفيد

منه لحياتنا التطبيقية، نجعل منها درساً نستفيد منه لحل مشاكلنا

ومعضلاتنا التي تتراكم في حياتنا اليوم.

واسمحوا لي أن أعيش معكم اليوم مع عبرتين اثنتين -من عبر الهجرة النبوية-لا أزيد عليهما(2):

--------------------------------------------

(1) بدأ الهجرة كان على الراجح في اليوم (الثاني من ربيع الأول) الموافق 20 أيلول سنة (622 م) بعد أن مضى ثلاث عشرة سنة من البعثة، ويوم الوصول إلى المدينة كان (لاثنتي عشرة ليلة خلت من ربيع الأول) على ما ذكره المسعودي.

وقد تم اتخاذ الهجرة النبوية بداية للتقويم الهجري، بأمر من سيدنا عمر بن الخطاب بعد استشارته بقية الصحابة في زمن خلافته.

(انظر فقه السيرة النبوية د. البوطي ص 133 - 135 - بتصرف)

(2) (فقه السيرة النبوية د. البوطي ص 136 وما بعدها بتصرف) (تفسير د راتب النابلسي 5/ 259 - 260 بتصرف) (السيرة النبوية لأبي الحسن الندوي ص: 240)
এরপর, হে ঈমানদার ভাইয়েরা …

আমাদের পিতা আদম আলাইহিস সালামের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত কোনো মানুষের জীবনীই এত অধিক যত্ন, গুরুত্ব, নিবিড় অনুসরণ, অনুসন্ধান, সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই ও সংকলনের সৌভাগ্য লাভ করেনি, যা লাভ করেছে আমাদের সর্দার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত। আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ তিনি সমগ্র মানবজাতির সর্দার, রাব্বুল আলামীনের প্রিয়তম এবং সৃষ্টির সেরা।

মুসলমানগণ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যে বিষয়টির প্রতি যত্নবান হয়েছেন, তা হলো পবিত্র নগরী মক্কা থেকে তয়্যিবা তথা আনসারদের নগরীতে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের ঘটনা(১)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের ঘটনা শিক্ষণীয় ও উপদেশমূলক পাঠে ভরপুর এবং এটি এমন সব মহান ঘটনা ও বিশাল সংবাদে সমৃদ্ধ, যা মানব ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছে এবং এর রূপ পরিবর্তন করে দিয়েছে। আর এর আলোতে পৃথিবী জ্যোতির্ময় ও আনন্দময় হয়ে উঠেছে...

নিঃসন্দেহে আমাদের ওপর এটি কর্তব্য—যখন মুসলিম উম্মাহ এক কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে এবং তার ও তার সন্তানদের রক্ত অঝোরে প্রবাহিত হচ্ছে—যে, আমরা আল্লাহর রাসূলের সীরাত এবং হিজরতের স্মৃতির সামনে দাঁড়াই, যাতে আমরা সেখান থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করতে পারি। আমি এখানে এই বরকতময় হিজরতের সমস্ত ঘটনা ও পর্যায় নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে আসিনি; কারণ সময় আমাদের সেই সুযোগ দেবে না। তবে আল্লাহর ইচ্ছায় আমি হিজরতের ঘটনাপ্রবাহ থেকে প্রাপ্ত কিছু উপদেশ ও শিক্ষার ওপর আলোকপাত করব। এরপর আমরা সেই শিক্ষাগুলোকে আমাদের ব্যবহারিক জীবনের জন্য বাস্তব পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করব,

যাতে আমরা তা থেকে উপকৃত হতে পারি এবং আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে

পুঞ্জীভূত সমস্যা ও জটিলতাসমূহ সমাধানের জন্য একে শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে পারি।

আজ আমাকে আপনাদের সাথে হিজরতের শিক্ষাগুলো থেকে মাত্র দুটি শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করার অনুমতি দিন, এর বেশি আমি বলব না(২):

--------------------------------------------

(১) অধিকতর বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, নবুওয়াতের তেরো বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর ২রা রবিউল আউয়াল (২০শে সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রিস্টাব্দ) হিজরত শুরু হয়। আর মদীনায় পৌঁছানোর দিনটি ছিল ১২ই রবিউল আউয়াল, যেমনটি মাসউদী উল্লেখ করেছেন।

আর আমাদের সর্দার উমর ইবনুল খাত্তাবের নির্দেশে তাঁর খিলাফতকালে অন্যান্য সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করার পর হিজরতকে হিজরি বর্ষপঞ্জির সূচনালগ্ন হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

(দেখুন: ফিকহুস সীরাতিন নববিয়্যাহ, ড. বুতি, পৃষ্ঠা ১৩৩-১৩৫ - কিছুটা পরিমার্জিত)

(২) (ফিকহুস সীরাতিন নববিয়্যাহ, ড. বুতি, পৃষ্ঠা ১৩৬ এবং পরবর্তী অংশ - কিছুটা পরিমার্জিত) (তাফসীর ড. রাতিব আন-নাবুলসি ৫/২৫৯-২৬০ - কিছুটা পরিমার্জিত) (আস-সীরাতুন নববিয়্যাহ, আবুল হাসান নদভী, পৃষ্ঠা: ২৪০)
(খণ্ড: ১) আল-হিজরাতুন নাবাবিয়্যাতুশ শারীফাহ দুরুসুন ওয়া ফাওয়ায়িদুন ওয়া লাতায়িফ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌العبرة الأولى: هي أن كل مَنْ عَبَد المال والمنصب فلا بدَّ أن يكون شقاؤه وذله وهلاكه على يد هذا المال، وكل من استخدام المال خادماً ذليلاً مَهِيناً لمرضاة الله عز وجل؛ لابدَّ أن يتحوّل المال في حياته إلى سُلَّمٍ؛ يرقى به إلى أعلى درجات العز بعد الذل، والغنى بعد الفقر، والقوة بعد الضعف. هذه هي العبرة الأولى، وإنكم لتلاحظون ذلك في معنى ترك أصحاب رسول الله-بل رسول الله ذاته-: (الوطن والأرض والمال وربما الأهل)؛ لحاقاً بما فيه مرضاة الله سبحانه وتعالى، لحاقاً بتنفيذ أمر الله وكأن أحدهم يتجه إلى شطر المدينة المنورة وهو يقول لربه: {وَعَجِلْتُ إِلَيْكَ رَبِّ لِتَرْضَى} [طه: 84] فماذا كانت النتيجة؟ !

كانت النتيجة أن تحوّل المال الذي استخدموه لمرضاة الله والذي أعرضوا عنه -بكل معنى الكلمة- في سبيل أن يستعيضوا عن المال رضى الله عز وجل؛ كانت النتيجة أن قَدَّم الله لهم من المال سُلَّماً أمام أقدامهم، ارتقوا بهذا السُّلَّم إلى أعلى درجات الغنى، وإلى أعلى درجات القوة، وإلى أعلى درجات الوحدة والترابط ..

مع أن الفراق في بادئ الأمر وظاهره كان صعباً وأليماً على رسول الله .. ، فمكة- فضلاً عن كونها مولداً ومنشأ للرسول وأصحابه- فهي كذلك مهوى للأفئدة بل هي مغناطيس القلوب، ففيها الكعبة البيت الحرام، الذي جرى حبّه منهم مجرى الروح والدم، ولكنَّ شيئاً من ذلك لم يمنعه وأصحابه من مغادرة الوطن، ومفارقة الأهل والسكن، حين ضاقت الأرض على هذه الدعوة والعقيدة، وتنكّر أهلها لهما.

وقد تجلّت هذه العاطفة المزدوجة- عاطفة الحنين الإنسانيّ وعاطفة الحبّ الإيمانيّ - في كلمته التي قالها مخاطبا لمكّة في وداعها: "مَا أَطْيَبَكِ مِنْ بَلَدٍ وأَحبَّكِ إلَيَّ، وَلَوْلَا أَنَّ قَوْمِي أَخْرَجُونِي مِنْكِ مَا سَكَنْتُ غَيْرَكِ" فطمأنه ربه بقوله: {إِنَّ الذي فَرَضَ عَلَيْكَ القرآن لَرَآدُّكَ إلى مَعَادٍ .. } [القصص: 85]. ستعود إليها يا محمد .. ، إن الذي فرض عليك القرآن وأنزله على قلبك هو الذي سيردّك إلى مكة يا حبيب الله، وانظروا إلى اختيار لفظ التطمين لرسول الله .. "لَرَآدُّكَ إلى مَعَادٍ" لماذا " لَرَآدُّكَ" بهذا التعبير بالذات؟ !
প্রথম শিক্ষা: তা হলো, যে ব্যক্তি সম্পদ ও পদের পূজা করে, অবশ্যই তার দুর্ভোগ, লাঞ্ছনা ও ধ্বংস সেই সম্পদের হাতেই হবে। আর যে ব্যক্তি সম্পদকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এক অনুগত ও তুচ্ছ সেবক হিসেবে ব্যবহার করে, তার জীবনে সেই সম্পদ অবশ্যই একটি সিঁড়িতে পরিণত হবে; যার মাধ্যমে সে লাঞ্ছনার পর সর্বোচ্চ সম্মান, দারিদ্র্যের পর ঐশ্বর্য এবং দুর্বলতার পর শক্তির শিখরে আরোহণ করবে। এটিই হলো প্রথম শিক্ষা। আপনারা আল্লাহর রাসূলের সাহাবীগণ—বরং স্বয়ং আল্লাহর রাসূলের—(মাতৃভূমি, জমি, সম্পদ এবং সম্ভবত পরিবার-পরিজন) ত্যাগের মহিমার মাঝে এটি লক্ষ্য করবেন; যা ছিল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য। মনে হচ্ছিল তাদের একেকজন মদিনা মুনাওয়ারার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন আর নিজের রবকে বলছেন: "হে আমার রব, আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য আপনার দিকে দ্রুত ছুটে এসেছি" [ত্বহা: ৮৪]। তাহলে এর ফলাফল কী হয়েছিল?!

ফলাফল এই হয়েছিল যে, যে সম্পদকে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যবহার করেছিলেন এবং যে সম্পদ থেকে তারা—শব্দের পূর্ণ অর্থেই—বিমুখ হয়েছিলেন আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সেই সম্পদের বিকল্প হিসেবে পাওয়ার জন্য; ফলাফল এই দাঁড়িয়েছিল যে, আল্লাহ সেই সম্পদকেই তাদের পায়ের সামনে একটি সিঁড়ি হিসেবে পেশ করলেন। এই সিঁড়ি বেয়ে তারা ঐশ্বর্যের সর্বোচ্চ স্তরে, শক্তির সর্বোচ্চ স্তরে এবং ঐক্য ও সংহতির সর্বোচ্চ স্তরে আরোহণ করেছিলেন...

যদিও শুরুতে এবং বাহ্যত বিচ্ছেদ আল্লাহর রাসূলের জন্য ছিল কঠিন ও বেদনাদায়ক... কারণ মক্কা—রাসূল ও তাঁর সাহাবীদের জন্মস্থান ও বেড়ে ওঠার জায়গা হওয়া ছাড়াও—ছিল হৃদয়ের আকর্ষণস্থল, বরং তা ছিল অন্তরের চুম্বক। সেখানে রয়েছে কাবা তথা বায়তুল হারাম, যার প্রতি ভালোবাসা তাদের মাঝে প্রাণ ও রক্তের মতো প্রবাহিত হতো। কিন্তু এসবের কিছুই তাঁকে এবং তাঁর সাহাবীদের স্বদেশ ত্যাগ এবং পরিবার ও বাসস্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হতে বাধা দেয়নি, যখন এই দাওয়াত ও আকিদার জন্য জমিন সংকুচিত হয়ে এসেছিল এবং মক্কাবাসীরা একে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

এই দ্বিমুখী আবেগ—মানবিক আকুলতা এবং ঈমানি ভালোবাসার আবেগ—প্রকাশ পেয়েছিল মক্কা থেকে বিদায়বেলায় তার উদ্দেশে বলা রাসূলের এই বাণীতে: "শহর হিসেবে তুমি কতই না উত্তম এবং আমার কাছে কতই না প্রিয়! যদি আমার কওম আমাকে তোমার থেকে বের করে না দিত, তবে আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কোথাও বসবাস করতাম না।" তখন তাঁর রব তাঁকে এই বলে আশ্বস্ত করলেন: "নিশ্চয়ই যিনি আপনার ওপর কুরআনকে অপরিহার্য করেছেন, তিনি আপনাকে আপনার প্রত্যাবর্তনস্থলে ফিরিয়ে আনবেন..." [কাসাস: ৮৫]। হে মুহাম্মদ, আপনি সেখানে ফিরে আসবেন... নিশ্চয়ই যিনি আপনার ওপর কুরআন ফরজ করেছেন এবং তা আপনার অন্তরে নাজিল করেছেন, তিনিই আপনাকে মক্কায় ফিরিয়ে আনবেন হে আল্লাহর প্রিয়জন। আর আল্লাহর রাসূলকে আশ্বস্ত করার জন্য শব্দের চয়নটি লক্ষ্য করুন... "আপনাকে আপনার প্রত্যাবর্তনস্থলে ফিরিয়ে আনবেন।" কেন বিশেষভাবে "ফিরিয়ে আনবেন" শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে এই অভিব্যক্তি প্রকাশ করা হলো?!
(খণ্ড: ১) আল-হিজরাতুন নাবাবিয়্যাতুশ শারীফাহ দুরুসুন ওয়া ফাওয়ায়িদুন ওয়া লাতায়িফ (পৃষ্ঠা: ৪)
كأنَّ الله يريد أن يذكِّر رسوله بقوله لأم موسى: {إِنَّا رَآدُّوهُ إِلَيْكِ وجَاعِلُوهُ مِنَ المرسلين} [القصص: 7] فكما رددتُ موسى إلى أمه؛ سأردُّ ك يا محمد منتصراً مكرماً .. {إِنَّ الذي فَرَضَ عَلَيْكَ القرآن لَرَآدُّكَ إلى مَعَادٍ … }(1).

إذن الفراق في بادئ الأمر وظاهره كان صعباً وأليماً على رسول الله .. ، لكن النتيجة كانت سبباً لنهضة الإسلام وانتشاره وتوطده …

وهكذا فرُبّ ضارّة نافعة، بل كم من مِحنةٍ محويّة في طيِّها مِنَحٌ ورحماتٌ مطويّة ..

وهذه المحن الأليمة العصيبة التي تعيشها الأمة الإسلامية

اليوم لها ظاهر وباطن، لها مظهر جلي ولها باطن خفي؛

أما الظاهر الجلي: فمأساة تتقطع لها القلوب، محنة ما أظن أن تاريخنا الإسلامي بحلوه ومره سجل مثل هذه الظاهرة الأليمة، هذا هو الظاهر محنةٌ وبلاء …

أما الباطن: فإنما هو منحةٌ من منح الله عز وجل ليستبين

الصادق من الكاذب، ولكي تتمزق أقنعة النفاق فيعرف المؤمن الصادق من غيره: {أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لا يُفْتَنُونَ، وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ} [العنكبوت: 2 - 3]

--------------------------------------------

(1) (تفسير الشعراوي - الخواطر 18/ 11046)
মনে হয় যেন আল্লাহ তাঁর রাসূলকে মুসা (আ.)-এর মায়ের প্রতি তাঁর সেই বাণীর কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাচ্ছেন: {নিশ্চয় আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করব} [আল-কাসাস: ৭]। সুতরাং আমি যেভাবে মুসাকে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম; হে মুহাম্মদ! আমি তোমাকেও বিজয়ী ও সম্মানিত অবস্থায় ফিরিয়ে দেব... {নিশ্চয় যিনি তোমার ওপর কুরআনকে অপরিহার্য করেছেন, তিনি তোমাকে অবশ্যই তোমার প্রত্যাবর্তনস্থলে ফিরিয়ে নেবেন...}(১).

সুতরাং এই বিচ্ছেদ প্রাথমিকভাবে এবং বাহ্যিক দিক থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য কঠিন ও বেদনাদায়ক ছিল.., কিন্তু এর ফলাফল ইসলামের জাগরণ, প্রসার এবং সুদৃঢ় হওয়ার কারণ হয়েছিল...

আর এভাবেই কত ক্ষতিকর বিষয় উপকারি হয়ে দাঁড়ায়, বরং কতই না বিপদ রয়েছে যার ভাঁজে ভাঁজে দান ও করুণা লুকায়িত আছে..

আর বর্তমানে ইসলামী উম্মাহ যে বেদনাদায়ক ও কঠিন বিপদের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে,

তারও একটি বাহ্যিক এবং একটি অভ্যন্তরীণ দিক রয়েছে; তার রয়েছে একটি প্রকাশ্য রূপ এবং একটি গোপন রহস্য;

প্রকাশ্য রূপটি হলো: এমন ট্র্যাজেডি যাতে হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে যায়, এমন এক বিপদ যা আমার মনে হয় না যে আমাদের ইসলামী ইতিহাস তার ভালো ও মন্দের মধ্য দিয়ে এমন বেদনাদায়ক কোনো ঘটনার নজির রেখেছে। এটিই হলো প্রকাশ্য রূপ: বিপদ ও পরীক্ষা...

আর অভ্যন্তরীণ রহস্যটি হলো: এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত দানসমূহের মধ্যে একটি বিশেষ দান, যাতে সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদীর পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়, এবং মুনাফিকির মুখোশ উন্মোচিত হয়ে যায়, ফলে সত্যনিষ্ঠ মুমিন অন্যদের থেকে পৃথকভাবে চেনা যায়: {মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আর আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছি; সুতরাং আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী এবং তিনি অবশ্যই জেনে নেবেন কারা মিথ্যাবাদী।} [আল-আনকাবুত: ২ - ৩]

--------------------------------------------

(১) (তাফসিরে শারাউই - আল-খাওয়াত্বির ১৮/ ১১০৪৬)
(খণ্ড: ১) আল-হিজরাতুন নাবাবিয়্যাতুশ শারীফাহ দুরুসুন ওয়া ফাওয়ায়িদুন ওয়া লাতায়িফ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌أما الدرس الثاني: الذي ينبغي أن نقطف منه العبرة، لا لنحفظه بل لنطبقه، فهو أن الله عز وجل يكلف عباده المؤمنين أن يعتمدوا في سلوكهم وفي أعمالهم على الأسباب المادية العادية التي وضعها بين أيديهم، كلّفهم الله عز وجل ألَاّ يدخروا وسعاً لاستخدام هذه الأسباب، ولكن عليهم مع ذلك وبعد ذلك ألَاّ يجعلوا معتمَدهم إلا على توفيق الله عز وجل ونصره، وألَاّ يلجئوا بقلوبهم وبثقة أفئدتهم وبعقولهم إلا إلى نصر الله سبحانه وتعالى وتأييده، وإنكم لتعلمون أن رسول الله في هجرته لم يدخر وسعاً في تجنيد كل الوسائل المادية التي وضعها الله سبحانه وتعالى بين يديه لإنجاح عمله مهاجراً من مكة إلى المدينة، فقد أخذ الرسول صلى الله عليه وسلم بالأسباب الكاملة في هجرته وكأنها كل شيء، لم يدعْ النبي مكاناً للحظوظ العمياء، فما من ثغرة إلا وقد غطاها الرسول صلى الله عليه وسلم، هيأ رجلاً يأتيه بالأخبار، وهيأ رجلاً يمحو الآثار، وهيأ من يأتيه بالطعام والشراب، وهيأ خطةً تبعد عنه الشبه اتجه جنوب مكة، واستقر في غار ثلاثة أيام حتى يخف الطلب عنه، وهيأ دليلاً غلب فيه الخبرة على الولاء ولم يدع ثغرةً إلا وغطاها، أخذ بالأسباب وكأنها كل شيء، فلما وصلوا إليه وأصبح أحدهم على بعد أمتار منه وقال الصديق رضي الله عنه لرسول صلى الله عليه وسلم: "لو أن أحدهم نظر إلى موطئ قدمه لرآنا". الآن لأنه أخذ بالأسباب طاعةً وأخذ بالأسباب تعبداً ولم يعتمد على الأسباب كما يفعل أهل الغرب، قال الرسول لأبي بكر مطمئناً له: "يا أبا بكر مَا ظَنُّكَ بِاثْنَيْنِ اللَّهُ ثَالِثُهُمَا" {إلَاّ تَنْصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللهُ، إِذْ أَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ؛ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ: لا تَحْزَنْ إِنَّ اللهَ مَعَنَا، فَأَنْزَلَ اللهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ، وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَمْ تَرَوْهَا، وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَى وَكَلِمَةُ اللهِ هِيَ الْعُلْيَا، وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} [التَّوْبِة: 40] وهكذا عناية الله تكون بعد أن يستنفذ العبد كل الأسباب التي جعلها الله بين يديه فإذا انقطعت ولم تكن فاعلة وجد العبدُ المدد والنصر الإلهي …
দ্বিতীয় পাঠটি হলো: যা থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত, কেবল মুখস্থ করার জন্য নয় বরং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার জন্য। তা হলো এই যে, মহান আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা তাদের আচরণ ও কর্মে সেই সকল জাগতিক ও সাধারণ উপকরণের ওপর নির্ভর করে যা তিনি তাদের আয়ত্তে করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা এই উপকরণগুলো ব্যবহারে কোনো প্রকার প্রচেষ্টাই বাকি না রাখে। তবে এর সাথে সাথে এবং এর পরেও তাদের কর্তব্য হলো মহান আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্য ছাড়া অন্য কিছুর ওপর নির্ভর না করা। আর তারা যেন তাদের অন্তর দিয়ে, হৃদয়ের গভীর বিশ্বাস নিয়ে এবং বুদ্ধি দিয়ে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্য ও সমর্থন ছাড়া অন্য কোথাও আশ্রয় না নেয়। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার সময় তাঁর এই কাজকে সফল করার জন্য মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর হাতে যে সমস্ত জাগতিক উপায়-উপকরণ অর্পণ করেছিলেন, তার প্রতিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি করেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হিজরতের ক্ষেত্রে সকল উপকরণ এমনভাবে গ্রহণ করেছিলেন যেন উপকরণগুলোই সবকিছু। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্ধ ভাগ্যের ওপর কোনো ভরসা রাখেননি; বরং প্রতিটি ছিদ্রপথ বা দুর্বল দিক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বন্ধ করেছিলেন। তিনি এমন এক ব্যক্তিকে প্রস্তুত করেছিলেন যে তাঁকে খবরাখবর পৌঁছে দেবে, এমন এক ব্যক্তিকে প্রস্তুত করেছিলেন যে পায়ের চিহ্ন মুছে দেবে, এমন একজনকে প্রস্তুত করেছিলেন যে তাঁর কাছে খাবার ও পানীয় পৌঁছে দেবে। তিনি এমন একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন যা তাঁর ওপর থেকে সমস্ত সন্দেহ দূর করে দেয়—তিনি মক্কার দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হলেন এবং তিন দিন একটি গুহায় অবস্থান করলেন যাতে তাঁর খোঁজে তল্লাশি ঝিমিয়ে আসে। তিনি এমন একজন পথপ্রদর্শক ঠিক করেছিলেন যার আনুগত্যের চেয়ে অভিজ্ঞতাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছিল এবং তিনি কোনো ফাঁকফোকরই বাকি রাখেননি। তিনি উপকরণগুলো এমনভাবে গ্রহণ করেছিলেন যেন সেগুলোই সবকিছু। অতঃপর যখন তারা (শত্রুরা) তাঁর কাছে পৌঁছে গেল এবং তাদের মধ্যে কেউ তাঁর থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থান করছিল, তখন সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: "তাদের কেউ যদি নিজ পায়ের নিচের দিকে তাকাতো, তবে অবশ্যই আমাদের দেখে ফেলতো।" এখন যেহেতু তিনি আনুগত্যের খাতিরে উপকরণগুলো গ্রহণ করেছেন এবং ইবাদত হিসেবে উপকরণগুলো ব্যবহার করেছেন, কিন্তু পাশ্চাত্যের লোকদের মতো উপকরণের ওপর চূড়ান্ত নির্ভরতা স্থাপন করেননি, তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বকরকে আশ্বস্ত করে বললেন: "হে আবূ বকর! সেই দুই ব্যক্তির ব্যাপারে তোমার ধারণা কী, যাদের তৃতীয়জন হলেন স্বয়ং আল্লাহ?" {যদি তোমরা তাকে সাহায্য না করো, তবে আল্লাহ তো তাকে সাহায্য করেছিলেন যখন কাফেররা তাকে বহিষ্কার করেছিল, সে ছিল দুইজনের দ্বিতীয় জন, যখন তারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিল; যখন সে তার সঙ্গীকে বলছিল: বিষণ্ণ হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে প্রশান্তি তার ওপর অবতীর্ণ করলেন এবং তাকে এমন এক বাহিনী দ্বারা শক্তিশালী করলেন যা তোমরা দেখনি, আর তিনি কাফেরদের কথাকে নিচু করে দিলেন এবং আল্লাহর কথাই হলো সর্বোচ্চ। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [আত-তাওবাহ: ৪০] এভাবেই আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধান তখন প্রকাশিত হয় যখন বান্দা তার আয়ত্তে থাকা সমস্ত উপায়-উপকরণ নিঃশেষ করে ফেলে। অতঃপর যখন উপকরণগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সেগুলো আর কার্যকর থাকে না, তখনই বান্দা ঐশী মদদ ও বিজয় লাভ করে ...
(খণ্ড: ১) আল-হিজরাতুন নাবাবিয়্যাতুশ শারীফাহ দুরুসুন ওয়া ফাওয়ায়িদুন ওয়া লাতায়িফ (পৃষ্ঠা: ৬)
لذلك قال الله تعالى: {إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُم} [محمد: 7] أي أن نصره سبحانه للمؤمنين مرهون بأمرين(1):

1 - الإعداد المادي والمعنوي لاستحقاق النصر كما قال تعالى: {وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ} [الأنفال: 60].

2 - نصرة دين الله بتطبيق شرعه وتنفيذ أحكامه، وأن تقف مع الحق، وتحكم بالعدل، ولا تأخذك في الله لومة لائم، إن فعلت ذلك فقد نصرت دينه، وسينصرك الله سبحانه.

أما الاتّكال على مجرد الاتّصاف بالإسلام قولاً لا عملاً، وأن نطلب النّصر بخوارق العادات، والأدعية فقط، دون إعداد ودون عمل بالأسباب، فكل ذلك لا يحقق شيئاً من النّصر المرتجى على أعداء الله ..

ولعل هذا الدرس من أهم الدروس التي نستفيدها من هجرته صلى الله عليه وسلم، "أن نأخذ دائماً بالأسباب، وكأنها كلُّ شيء، ثم نتوكل على الله وكأنها ليست بشيء .. "، فعند ذلك يكون التوفيق والمدد والنصر ....

أيها الأحبة: دروس وعبر الهجرة كثيرة وكثيرة .. نحتاج للوقوف علىها إلى خطب عديدة .. ، نفعني الله وإياكم بما سمعنا، وجعلنا دائماً ممن يستمعون القول فيتبعون أحسنه ....

كل عام وأنتم والأمة الإسلامية بخير .. أعاده الله على الأمة بالفرج والنصر والعزة إنه ولي ذلك والقادر عليه …

أقول قولي هذا واستغفر الله لي ولكم فيا فوز المستغفرين .. استغفروا الله ..(2).

--------------------------------------------

(1) (التفسير المنير في العقيدة والشريعة والمنهج 9/ 323 د. وهبة بن مصطفى الزحيلي).

(2) ألقيت هذه الخطبة في أحد مسجد عمَّان، (عام 1440 هـ 2018 م). كما ألقيت في بعض المراكز الإسلامية الدعوية.
এজন্য আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় করবেন} [মুহাম্মাদ: ৭]। অর্থাৎ মুমিনদের প্রতি মহান আল্লাহর সাহায্য দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল(১):

১ - বিজয় অর্জনের যোগ্য হওয়ার জন্য বস্তুগত ও আত্মিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তাদের মোকাবিলার জন্য তোমাদের সাধ্যমতো শক্তি প্রস্তুত করো} [আল-আনফাল: ৬০]।

২ - আল্লাহর শরীয়ত প্রয়োগ ও তাঁর বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করা, সত্যের পক্ষে অবস্থান করা, ন্যায়ের সাথে বিচার করা এবং আল্লাহর ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় না করা। যদি তুমি তা করো, তবে তুমি তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করলে, আর মহান আল্লাহ তোমাকে সাহায্য করবেন।

পক্ষান্তরে কর্মহীন নিছক মুখের দাবিতে ইসলামের পরিচয়ের ওপর নির্ভর করা এবং প্রস্তুতি গ্রহণ ও উপকরণ অবলম্বন ছাড়াই কেবল অলৌকিক কিছু ঘটা ও দোয়ার মাধ্যমে বিজয় কামনা করা—এসব আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত বিজয়ের কিছুই অর্জন করতে পারে না...

সম্ভবত এটিই সেই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা যা আমরা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরত থেকে লাভ করি, তা হলো: "আমরা সর্বদা উপায়-উপকরণ এমনভাবে গ্রহণ করব যেন তা-ই সবকিছু, অতঃপর আল্লাহর ওপর এমনভাবে তাওয়াক্কুল করব যেন সেই উপায়-উপকরণ কিছুই নয়...।" তখনই তাওফিক, সাহায্য ও বিজয় অর্জিত হয়....

হে প্রিয়জনেরা: হিজরতের শিক্ষা ও শিক্ষাগ্রহণের বিষয় অনেক অনেক... সেগুলো আলোচনার জন্য অনেকগুলো খুতবার প্রয়োজন... যা কিছু আমরা শুনলাম তা দিয়ে আল্লাহ আমাকে ও আপনাদের উপকৃত করুন এবং আমাদের সর্বদা তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে....

প্রতি বছর আপনারা এবং মুসলিম উম্মাহ কল্যাণের সাথে থাকুন... আল্লাহ এই সময়কে উম্মাহর নিকট মুক্তি, বিজয় ও সম্মানের সাথে বারবার ফিরিয়ে আনুন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এতে সক্ষম …

আমি আমার এই কথা বলছি এবং আমার ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আর ক্ষমা প্রার্থনাকারীরাই সফল... আপনারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন...(২)।

--------------------------------------------

(১) (আত-তাফসীরুল মুনীর ফিল আকিদাহ ওয়াশ শারীয়াহ ওয়াল মানহাজ ৯/ ৩২৩, ড. ওয়াহবাহ বিন মুস্তফা আয-জুহায়লী)।

(২) এই খুতবাটি আম্মানের একটি মসজিদে (১৪৪০ হিজরী ২০১৮ খ্রি.) প্রদান করা হয়েছিল। এছাড়াও কিছু ইসলামী দাওয়াতি সেন্টারে এটি প্রদান করা হয়েছে।