(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة الأسماء والصفات القسم: العقيدة
الكتاب : سلسلة الأسماء والصفات
المؤلف : محمد الحسن الددو الشنقيطي
مصدر الكتاب : دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 14 درس]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আসমা ও সিফাত ধারাবাহিকতা বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ : আসমা ও সিফাত ধারাবাহিকতা
লেখক : মুহাম্মদ আল-হাসান আদ-দাদাউ আশ-শানকীতি
গ্রন্থের উৎস : অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা হয়েছে
http://www.islamweb.net
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ১৪টি পাঠ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১)
سلسلة الأسماء والصفات [1]اشتملت سورة الإخلاص على إثبات وحدانية الله وصمديته، وأخذ منها العلماء الصفات الخمس السلبية في حق الله تعالى كما شرحها الشيخ حفظه الله تعالى.
নাম ও গুণাবলি ধারাবাহিক [১]সূরা আল-ইখলাস আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর অমুখাপেক্ষিতা প্রমাণের বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং আলেমগণ তা থেকে আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে পাঁচটি নেতিবাচক গুণাবলি গ্রহণ করেছেন, যেমনটি শাইখ (আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফজ করুন) ব্যাখ্যা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২)
انقسام الأشياء من حيث الغنى والحاجة إلى المحل والمخصصبسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
قال شيخنا حفظه الله في منظومته في الأسماء والصفات: [وهو تعالى أحد فرد صمد ألحد من قال بخلقه اتحد] بالنسبة للفظ (الفرد) فقد جاء في أحاديث ولم يرد في القرآن، وأما (الصمد) فإن صفة الصمدية مثبتة له، وهي الغنى المطلق عن خلقه، والغنى المطلق معناه: الاستغناء عن المحل والمخصص جميعاً.
والأشياء فيما يتعلق بالحاجة والغنى عن المحل والمخصص أربعة أقسام: النوع الأول: ما يحتاج إلى المحل والمخصص معاً: وهو صفات المخلوقين، فهي محتاجة إلى المحل الذي تقوم به؛ لأنها صفة والصفة لا تقوم بنفسها بل تحتاج إلى محل تكون فيه، وذلك مثل البياض والسواد، والطول والقصر، فهذه لا بد لها من ذات تقوم بها، وتحتاج إلى المخصص.
والمخصص المقصود به الخالق الذي يميز هذا المخلوق بست من اثنتي عشرة، وهي المسميات من الممكنات المتقابلات.
والممكنات المتقابلات هي: إما الوجود وإما العدم وهما متقابلان فيخصصه بواحدة منهما.
والصفات مثلاً البياض والسواد، صفتان متقابلتان يخصصه بواحدة منهما.
والأمكنة: هذا المكان والمكان الآخر كل ذلك ممكن فيخصصه الله تعالى بواحد منهما.
والأزمنة: اليوم وأمس وغداً، هذه أزمنة متقابلة يخصصه بما شاء منها.
والجهات: الشرق والغرب، والجنوب والشمال، والفوق والتحت ونحو ذلك، هذه جهات متقابلة يخصصه بما شاء منها.
المقادير: الضخامة والصغر، الكبر والصغر، وكذلك الزيادة والنقص، وغيرها من المقادير، وهي متقابلة وكلها ممكنة، فالشيء قبل وجوده يمكن في حقه ست من اثنتي عشرة، وهي الممكنات المتقابلات التي ذكرناها، وقد نظمها أحد العلماء بقوله: الممكنات المتقابلات وجودٌ العدمُ والصفات أمكنة أزمنة جهات ثم المقادير روى الثقات هذه الاثنتا عشرة كلها ممكنة عقلاً، كل اثنتين منها ممكن عقلاً أن يتصف بإحداهما، فمثلاً هذا ولد يولد لرجل فيمكن في حقه هذه الاحتمالات كلها: الوجود والعدم، والطول والقصر، والبياض والسواد، الوجود في هذا المكان وفي مكان آخر، في الليل أو في النهار، هذه كلها ممكنة، والذي يخصصه ببعضها هو المخصص، وهو الخالق، والشيء قبل أن يكون كان بالإمكان أن يكون وألا يكون، فلما كان دل ذلك على رجحانه، ولا ترجيح بدون مرجح، فالمرجح هو المخصص.
ومن هنا فإن صفات المخلوق محتاجة إلى المحل ومحتاجة إلى المخصص، فمثلاً: الفهم، هذا صفة من صفات المخلوق، لا يمكن أن يقوم بنفسه، أي: لا يمكن أن تجد فهماً يمشي في الشارع ليس له ذات يدخل فيها، ويحتاج أيضاً إلى مخصص؛ لأنه بالإمكان أن يكون كبيراً وأن يكون قليلاً وكذلك يمكن وجوده وعدمه إلى آخر الصفات، فإذا وجد وكان بقدر معين فهذا دليل على أن المخصص أراد له ذلك وخصصه به.
النوع الثاني: ما يحتاج إلى المخصص لكنه غني عن المحل: وهو ذات المخلوق: ذات المخلوق لا تحتاج إلى ذات أخرى تقوم بها، لكنها محتاجة إلى المخصص الذي يخلقها، ويميزها بالصفات التي تحتاج إليها، فهذا هو الفرق بين ذات المخلوق وصفات المخلوق، فصفات المخلوق تحتاج إلى الأمرين معاً (المحل والمخصص) ، وذات المخلوق تحتاج إلى المخصص لكن لا تحتاج إلى المحل.
النوع الثالث: ما هو غني عن المحل وعن المخصص معاً: وهو ذات الله سبحانه وتعالى: فإنه غني عن المحل وعن المخصص معاً، لا يحتاج إلى المحل لأن له ذاتاً، ولا يحتاج إلى المخصص لأنه قديم.
النوع الرابع: صفات الله سبحانه وتعالى، فهذه غنية عن المخصص؛ لأنها قديمة، لكن هي قائمة بالمحل، ولا يقال محتاجة إلى المحل؛ لكن يقال: قائمة بالمحل؛ لأنها لا تفارق ذاته تعالى.
فإذاً الأشياء كلها أربعة أقسام: ما يحتاج إلى المحل والمخصص معاً، وما يستغني عن المحل والمخصص معاً، وما يحتاج إلى المحل فقط، وما يحتاج إلى المخصص فقط، فإذاً هذه أربعة أقسام، قد نظمها الشيخ محمد بن فال المتتالي رحمه الله بقوله: الأشياء أربع فمنها غني عن المحل والمخصص الغني وضده وهو صفات الخلق وقام بالمحل وصف الحق وما إلى المخصص احتاج فقط فهو بذات حادث قد ارتبط
স্থান এবং বৈশিষ্ট্য-নির্ধারক-এর প্রতি অমুখাপেক্ষিতা ও মুখাপেক্ষিতার বিচারে বস্তুসমূহের প্রকারভেদপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
আমাদের শায়খ (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন) তাঁর আসমা ও সিফাত বিষয়ক কবিতায় বলেছেন: [তিনি মহান, একক, অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী; যে তাঁকে তাঁর সৃষ্টির সাথে একীভূত বলে সে সত্য বিচ্যুত হয়েছে।] ‘আল-ফারদ’ (অদ্বিতীয়) শব্দটির ক্ষেত্রে এটি হাদিসে এসেছে কিন্তু কুরআনে আসেনি। আর ‘আস-সামাদ’ (অমুখাপেক্ষী) এর ক্ষেত্রে সামাদিয়্যাহ গুণটি আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত, আর তা হলো তাঁর সৃষ্টির প্রতি তাঁর নিরঙ্কুশ অমুখাপেক্ষিতা। নিরঙ্কুশ অমুখাপেক্ষিতার অর্থ হলো: স্থান এবং বৈশিষ্ট্য-নির্ধারক—উভয়টি থেকেই অমুখাপেক্ষী হওয়া।
স্থান ও বৈশিষ্ট্য-নির্ধারক-এর প্রতি অমুখাপেক্ষিতা ও মুখাপেক্ষিতার বিচারে বস্তুসমূহ চার প্রকার: প্রথম প্রকার: যা স্থান ও বৈশিষ্ট্য-নির্ধারক—উভয়টিরই মুখাপেক্ষী: আর তা হলো সৃষ্টির গুণাবলি। এগুলো সেই স্থানের মুখাপেক্ষী যার মাধ্যমে এগুলো বিদ্যমান থাকে; কারণ এগুলো গুণ, আর গুণ নিজে নিজে দণ্ডায়মান হতে পারে না বরং এমন একটি স্থানের প্রয়োজন হয় যেখানে সেটি অবস্থান করবে। যেমন: শুভ্রতা ও কৃষ্ণতা, দীর্ঘতা ও খর্বতা। এগুলোর জন্য এমন একটি সত্তা অপরিহার্য যাতে এগুলো বিদ্যমান থাকে এবং এগুলো বৈশিষ্ট্য-নির্ধারকেরও মুখাপেক্ষী।
আর বৈশিষ্ট্য-নির্ধারক বলতে সেই স্রষ্টাকে বোঝানো হয়েছে যিনি এই সৃষ্টিকে বারোটি বিষয়ের মধ্য থেকে ছয়টি দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেন, আর সেগুলোকে সম্ভাব্য বিপরীতধর্মী বিষয়াবলি বলা হয়।
আর সম্ভাব্য বিপরীতধর্মী বিষয়গুলো হলো: হয় অস্তিত্ব অথবা অনস্তিত্ব; এই দুটি বিপরীতধর্মী আর স্রষ্টা তাকে এর যেকোনো একটির জন্য নির্দিষ্ট করেন।
এবং গুণাবলি, যেমন শুভ্রতা ও কৃষ্ণতা—দুটি বিপরীতধর্মী গুণ, তিনি তাকে এর যেকোনো একটির জন্য নির্দিষ্ট করেন।
স্থানসমূহ: এই স্থান বা অন্য কোনো স্থান—এসবই সম্ভব, তাই আল্লাহ তাআলা তাকে এর যেকোনো একটির জন্য নির্দিষ্ট করেন।
সময়সমূহ: আজ, গতকাল ও আগামীকাল—এগুলো বিপরীতধর্মী সময়, তিনি এর মধ্য থেকে যা ইচ্ছা তার জন্য তাকে নির্দিষ্ট করেন।
দিকসমূহ: পূর্ব, পশ্চিম, দক্ষিণ, উত্তর, উপর ও নিচ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো—এগুলো বিপরীতধর্মী দিক, তিনি এর মধ্য থেকে যা ইচ্ছা তার জন্য তাকে নির্দিষ্ট করেন।
পরিমাপ: স্থূলতা ও ক্ষুদ্রতা, বিশালতা ও ছোট হওয়া, তেমনিভাবে বৃদ্ধি ও হ্রাস এবং অন্যান্য পরিমাপ। এগুলো বিপরীতধর্মী এবং এ সবই সম্ভবপর। কোনো বস্তু অস্তিত্বে আসার পূর্বে তার ক্ষেত্রে বারোটি বিষয়ের মধ্যে ছয়টি সম্ভব থাকে, আর তা হলো সেই সম্ভাব্য বিপরীতধর্মী বিষয়সমূহ যা আমরা উল্লেখ করেছি। জনৈক আলেম এটিকে কবিতায় এভাবে গেঁথেছেন: "সম্ভাব্য বিপরীতধর্মী বিষয়গুলো হলো অস্তিত্ব, অনস্তিত্ব এবং গুণাবলি; স্থান, কাল, দিকসমূহ এবং অতঃপর পরিমাণ—বিশ্বস্তরা বর্ণনা করেছেন।" এই বারোটির প্রত্যেকটিই বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সম্ভব। এর প্রতি জোড়া থেকে যেকোনো একটির গুণে গুণান্বিত হওয়া বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তির ঘরে সন্তান জন্ম নিলে তার ক্ষেত্রে এই সবকটি সম্ভাবনা থাকে: অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব, দীর্ঘতা ও খর্বতা, শুভ্রতা ও কৃষ্ণতা, এই স্থানে অস্তিত্ব বা অন্য কোনো স্থানে, রাতে অথবা দিনে—এসবই সম্ভব। আর যে তাকে এর কোনো একটির সাথে নির্দিষ্ট করেন তিনি হলেন বৈশিষ্ট্য-নির্ধারক, আর তিনি হলেন স্রষ্টা। কোনো বস্তু অস্তিত্বশীল হওয়ার পূর্বে সেটি হওয়া বা না হওয়ার সম্ভাবনা সমান ছিল। যখন সেটি অস্তিত্ব লাভ করল, তখন তা এর একদিকের প্রাধান্য লাভকে প্রমাণ করে। আর কোনো প্রাধান্য দানকারী ব্যতীত প্রাধান্য লাভ সম্ভব নয়, আর সেই প্রাধান্য দানকারীই হলেন বৈশিষ্ট্য-নির্ধারক।
এখান থেকেই বোঝা যায় যে, সৃষ্টির গুণাবলি স্থানের মুখাপেক্ষী এবং বৈশিষ্ট্য-নির্ধারকেরও মুখাপেক্ষী। উদাহরণস্বরূপ: প্রজ্ঞা বা বোধশক্তি; এটি সৃষ্টির গুণাবলির একটি গুণ, যা নিজে নিজে দণ্ডায়মান হতে পারে না। অর্থাৎ, আপনি রাস্তায় এমন কোনো প্রজ্ঞা বা বোধশক্তি হেঁটে বেড়াতে দেখবেন না যার কোনো সত্তা নেই যার ভেতরে সে অবস্থান করবে। এটি আবার বৈশিষ্ট্য-নির্ধারকেরও মুখাপেক্ষী; কারণ এটি অনেক বেশি হওয়াও সম্ভব আবার কম হওয়াও সম্ভব, তেমনিভাবে এর অস্তিত্ব থাকা বা না থাকাও সম্ভব—অন্যান্য গুণাবলির মতোই। সুতরাং যখন এটি পাওয়া যায় এবং একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকে, তখন এটি এই কথার প্রমাণ যে, বৈশিষ্ট্য-নির্ধারক তার জন্য সেটিই চেয়েছেন এবং তাকে সেই বৈশিষ্ট্যেই নির্দিষ্ট করেছেন।
দ্বিতীয় প্রকার: যা বৈশিষ্ট্য-নির্ধারকের মুখাপেক্ষী কিন্তু স্থানের মুখাপেক্ষী নয়: আর তা হলো সৃষ্টির সত্তা। সৃষ্টির সত্তা অন্য কোনো সত্তার মুখাপেক্ষী নয় যাতে সে বিদ্যমান থাকবে, কিন্তু সে সেই বৈশিষ্ট্য-নির্ধারকের মুখাপেক্ষী যিনি তাকে সৃষ্টি করেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় গুণাবলি দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেন। সুতরাং এটিই সৃষ্টির সত্তা এবং সৃষ্টির গুণের মধ্যে পার্থক্য। সৃষ্টির গুণ উভয়টিরই (স্থান ও বৈশিষ্ট্য-নির্ধারক) মুখাপেক্ষী, আর সৃষ্টির সত্তা বৈশিষ্ট্য-নির্ধারকের মুখাপেক্ষী হলেও স্থানের মুখাপেক্ষী নয়।
তৃতীয় প্রকার: যা স্থান ও বৈশিষ্ট্য-নির্ধারক—উভয়টি থেকেই অমুখাপেক্ষী: আর তা হলো মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সত্তা। তিনি স্থান এবং বৈশিষ্ট্য-নির্ধারক—উভয়টি থেকেই অমুখাপেক্ষী। তাঁর কোনো স্থানের প্রয়োজন নেই কারণ তাঁর নিজস্ব সত্তা রয়েছে, আর তাঁর কোনো বৈশিষ্ট্য-নির্ধারকের প্রয়োজন নেই কারণ তিনি অনাদি।
চতুর্থ প্রকার: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার গুণাবলি। এগুলো বৈশিষ্ট্য-নির্ধারক থেকে অমুখাপেক্ষী; কারণ এগুলো অনাদি। তবে এগুলো তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান। এখানে স্থানের মুখাপেক্ষী বলা হবে না; বরং বলা হবে ‘সত্তার সাথে বিদ্যমান’; কারণ এগুলো আল্লাহ তাআলার সত্তা থেকে পৃথক হয় না।
অতএব সমস্ত বস্তু মোট চার প্রকার: যা স্থান ও বৈশিষ্ট্য-নির্ধারক—উভয়টির মুখাপেক্ষী, যা স্থান ও বৈশিষ্ট্য-নির্ধারক—উভয়টি থেকে অমুখাপেক্ষী, যা শুধুমাত্র স্থানের মুখাপেক্ষী এবং যা শুধুমাত্র বৈশিষ্ট্য-নির্ধারকের মুখাপেক্ষী। এই হলো চার প্রকার। শেখ মুহাম্মাদ ইবনে ফাল আল-মুত্তালি রহিমাহুল্লাহ তাঁর কবিতায় এগুলো এভাবে গেঁথেছেন: "বস্তুসমূহ চার প্রকার; তার মধ্যে অমুখাপেক্ষী হলো সেই সত্তা যিনি স্থান ও বৈশিষ্ট্য-নির্ধারক থেকে অমুখাপেক্ষী। আর তার বিপরীত হলো সৃষ্টির গুণাবলি যা স্থানে বিদ্যমান। আর আল্লাহর গুণাবলিও সত্তার সাথে বিদ্যমান। আর যা কেবল বৈশিষ্ট্য-নির্ধারকের মুখাপেক্ষী, তা নব্য সৃষ্ট সত্তার সাথে সম্পৃক্ত।"
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৩)
ذكر الثالثة والرابعة والخامسة من الصفات السلبية للهوالصفة الثالثة: هي قوله: {لَمْ يَلِدْ} [الإخلاص:3] فإنها تقتضي البقاء؛ لأن المخلوق الذي يفنى فهو غير باق وهو الذي يحتاج إلى ولد يكون استمراراً له، والله سبحانه وتعالى لا يحتاج إلى ولد؛ لأنه باق، فوجوده لا يلحقه العدم، فإذاً هذا أثبت له صفة البقاء، والبقاء معناه: نفي العدم اللاحق للوجود.
والصفة الرابعة قوله: {وَلَمْ يُولَدْ} [الإخلاص:3] وهي إثبات لصفة الأولية التي سبقت، ومعناها نفي العدم السابق للوجود.
{وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ} [الإخلاص:4] هذه الصفة الخامسة وهي المخالفة للحوادث، أي: المخالفة لخلقه.
فإذاً هذه خمس صفات تسمى بالسلبية؛ لأن كل واحدة منها تفسر بالعدم.
الوحدانية: هي عدم التعدد، والغنى المطلق: هو عدم الاحتياج إلى المحل وإلى المخصص، والقدم: هو عدم الحدوث، والبقاء: هو عدم الفناء، والمخالفة للحوادث: وهي عدم المشابهة للحوادث، فهذه تسمى الصفات السلبية؛ لأن تفسيرها نفي فكلها يبدأ تفسيرها بعدم كذا، وهي التي ذكرها هنا في قوله: (وهو تعالى أحد فرد صمد)
আল্লাহর নেতিবাচক গুণাবলির (সিফাতে সালবিয়্যাহ) তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চমের আলোচনাতৃতীয় গুণটি হলো তাঁর বাণী: {তিনি জন্ম দেননি} [আল-ইখলাস: ৩]। কেননা এটি স্থায়িত্ব বা চিরন্তনতার (বাকা) দাবি রাখে; কারণ যে সৃষ্টি নশ্বর সে স্থায়ী নয়, আর সেই-ই সন্তানের মুখাপেক্ষী হয় যেন তা তার অস্তিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সন্তানের মুখাপেক্ষী নন; কারণ তিনি চিরস্থায়ী, তাই তাঁর অস্তিত্বের পর বিনাশ বা ধ্বংস নেই। সুতরাং এটি তাঁর জন্য স্থায়িত্বের গুণটি সাব্যস্ত করে। আর স্থায়িত্ব (বাকা) অর্থ হলো: অস্তিত্বের পরবর্তী অনস্তিত্ব বা ধ্বংসকে অস্বীকার করা।
চতুর্থ গুণটি হলো তাঁর বাণী: {এবং তাকে জন্ম দেওয়া হয়নি} [আল-ইখলাস: ৩]। এটি পূর্বে আলোচিত অনাদ্যতা (আউওয়ালিয়্যাহ) গুণেরই প্রমাণ, আর এর অর্থ হলো অস্তিত্বের পূর্ববর্তী অনস্তিত্বকে অস্বীকার করা।
{এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই} [আল-ইখলাস: ৪]। এটি হলো পঞ্চম গুণ, যা হলো সৃষ্টির সাথে ভিন্নতা (মুখালাফাতুন লিল-হাওয়াদিস), অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টির সাথে বৈসাদৃশ্য।
সুতরাং, এই পাঁচটি গুণকে নেতিবাচক (সালবিয়্যাহ) গুণ বলা হয়; কারণ এগুলোর প্রত্যেকটিই 'অভাব' বা 'না-বোধক' শব্দ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।
একত্ববাদ (ওয়াহদানিয়্যাহ): হলো বহুত্বের অভাব। পরম অমুখাপেক্ষিতা (গিনা মুতলাক): হলো কোনো স্থান বা নির্ধারণকারীর মুখাপেক্ষী না হওয়া। অনাদ্যতা (কিদাম): হলো নতুনভাবে সৃষ্টি না হওয়া। স্থায়িত্ব (বাকা): হলো ধ্বংস না হওয়া। এবং সৃষ্টির সাথে ভিন্নতা (মুখালাফাতুন লিল-হাওয়াদিস): হলো সৃষ্টির সাথে সদৃশ না হওয়া। এগুলোকে নেতিবাচক গুণ বলা হয় কারণ এগুলোর ব্যাখ্যা হলো অস্বীকার করা বা না-বোধক; অর্থাৎ এগুলোর প্রত্যেকটির ব্যাখ্যা 'অমুক জিনিসের অভাব' দিয়ে শুরু হয়। আর এগুলোই তিনি এখানে তাঁর এই বাণীতে উল্লেখ করেছেন: (আর তিনি অতি মহান, একক, অনন্য, অমুখাপেক্ষী)
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৪)
تنزيه الله عن الاتحاد بخلقه(ألحد من قال بخلقه اتحد) ؛ فأحديته تقتضي إثبات الذات له، وهذا مقتض لئلا يتحد بأي ذات أخرى، فالناظم نفى دعوى الاتحاد، ودعوى الاتحاد يدعيها النصارى في الأصل، وهم أول من ادعاها، وقد ادعاها بعض الطوائف من المسلمين.
ومعنى الاتحاد: التقاء ذات الخالق بذات المخلوق حتى تتشكل منهما ذات واحدة، وهذا مستحيل في كل شيء، حتى المخلوق لا يمكن أن يتحد بالمخلوق فضلاً عن الخالق، فهذا الماء إذا خالطه سكر وذاب فيه فلا يمكن أن يقال اتحد الماء والسكر؛ لأن خاصة الماء بعد ذوبان السكر فيه غير خاصته قبله وغير خاصة السكر، وهذه القاعدة قاعدة فقهية أصولية وهي: (الشيء مع غيره غيره، لا هو مع غيره) فكل شيء إذا كان مع غيره فهو مادة غيرهما لا هو مع غيره.
والاتحاد بالنسبة لذات الخالق بذوات المخلوقين أشد بعداًَ، فالصفات متباينة تماماً، والمشابهة منتفية، والمخلوق محصور والخالق غير محصور، والمخلوق سبقه العدم وسيلحقه العدم، والخالق لم يسبقه عدم ولا يلحقه عدم فكيف يقع الإتحاد؟! فمن أبلغ المستحيلات الاتحاد، والذين يقولون هذا يقولون: اتحد اللاهوت بالناسوت، واللاهوت: يقصدون به خصائص الألوهية، والناسوت: يقصدون به خصائص الإنسانية، وهذا في الأصل قال به النصارى حين زعموا أن الله واحد وهو في نفس الوقت ثلاثة، وهم يربون أولادهم على هذا، يقولون: هو واحد وهو في نفس الوقت ثلاثة، وعقولهم تتشرب هذا؛ تعالى الله عما يقولون علواً كبيراً، يقولون: الثلاثة اتحدت فحصل منها واحد.
وقال بهذا بعض الطوائف المنحرفة من الشيعة والصوفية، فبعض طوائف الشيعة المنحرفة وهم الذين يسمون بالحشاشين، وينتسبون إلى إسماعيل بن جعفر الصادق بن محمد الباقر، ولذلك ينسبون إليه ويقال فيهم الإسماعيلية، ويسمون أيضاً بالقرامطة نسبةً إلى رجل اسمه: حمدان بن قرمط، ونشأ منهم طوائف منها النصيرية، ومنها الدروز، فكلهم في الأصل من الحشاشين الإسماعيلية القرامطة، ومعنى الحشاشين: أنهم كانوا يسكنون في الحشوش ويغتالون الناس، ويسطون على أموالهم في الليل، ويقطعون الطرق في الشام فهؤلاء يسمون الحشاشين، وقبل ذلك تمركزوا في القرن السادس والسابع في بعض المناطق في الشام وبالأخص في لبنان، وحصلت بينهم وبين أهل السنة حروب حين قطعوا الطرق وأهانوا الناس وأذلوهم، وساعدوا التتار لما أتوا إلى الشام، وكان ممن قاتلهم شيخ الإسلام ابن تيمية فقاتلهم بنفسه وشارك في قتالهم، وهؤلاء يزعمون أن الله سبحانه وتعالى اتحد بأئمتهم، تعالى عما يقولون علواً كبيراً.
ومثلهم بعض غلاة أهل التصوف الذين يزعمون أن الله سبحانه وتعالى مكن لبعضهم تمكيناً مطلقاً حتى اتحد العابد والمعبود، ويظنون أنه يصل إلى ذلك بمستوىً من العبادة فترتفع عنه التكاليف به، ويسمون هذا المقام: مقام وحدة الوحدة.
وعندهم مقامات مختلفة: مقام الوحدة فقط، ومقام الجمع، ومقام الفرق، ومقام جمع الجمع، ومقام فرق الفرق، وكل هذه اصطلاحات لهم، بعضها مسلم صحيح مثل ما تقرءونه في كتاب مدارج السالكين لـ ابن القيم يشرحها شرحاً صحيحاً في مقام الجمع، ومقام الفرق، ومقام جمع الجمع إلى آخره، لكن بعضها يرجع إلى الاتحاد.
সৃষ্টির সাথে আল্লাহর একীভূত হওয়া থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করা(যে ব্যক্তি বলে যে তিনি তাঁর সৃষ্টির সাথে একীভূত হয়েছেন, সে ধর্মবিচ্যুত হয়েছে); কারণ তাঁর একত্ব তাঁর সত্তাকে সাব্যস্ত করার দাবি রাখে, আর এটি অপরিহার্য করে যে তিনি অন্য কোনো সত্তার সাথে একীভূত হবেন না। সুতরাং লেখক একীভূত হওয়ার দাবিকে অস্বীকার করেছেন। একীভূত হওয়ার দাবিটি মূলত খ্রিস্টানদের আদি দাবি, তারাই প্রথম এটি দাবি করেছিল এবং পরবর্তীতে মুসলিমদের কিছু দলও এই দাবি করেছে।
একীভূত হওয়া বা ইত্তিহাদ-এর অর্থ হলো: স্রষ্টার সত্তার সাথে সৃষ্টির সত্তার এমন মিলন যাতে উভয়টি মিলে একটি সত্তায় পরিণত হয়। এটি সবকিছুর ক্ষেত্রেই অসম্ভব, এমনকি সৃষ্টির সাথে সৃষ্টিরও একীভূত হওয়া সম্ভব নয়, স্রষ্টার সাথে তো বহু দূরের কথা। যেমন পানির সাথে যদি চিনি মেশানো হয় এবং তা দ্রবীভূত হয়, তবে বলা সম্ভব নয় যে পানি ও চিনি একীভূত হয়ে গেছে; কারণ চিনি দ্রবীভূত হওয়ার পর পানির বৈশিষ্ট্য তার আগের বৈশিষ্ট্য এবং চিনির বৈশিষ্ট্য থেকে আলাদা হয়ে যায়। এটি একটি ফিকহি ও উসুলি মূলনীতি, যা হলো: (কোনো বস্তু অন্য কিছুর সাথে থাকলে তা ভিন্ন কিছুতে পরিণত হয়, সে নিজে আর অন্য বস্তুর সাথে এক থাকে না)। সুতরাং কোনো বস্তু যখন অন্য কিছুর সাথে থাকে, তখন তা উভয়টি থেকে ভিন্ন একটি পদার্থে পরিণত হয়, সে নিজে অন্যটির সাথে এক হয়ে থাকে না।
সৃষ্টির সত্তার সাথে স্রষ্টার সত্তার একীভূত হওয়া আরও অনেক বেশি অসম্ভব। কারণ গুণাবলি সম্পূর্ণ ভিন্ন, সাদৃশ্য অনুপস্থিত, সৃষ্টি সীমাবদ্ধ এবং স্রষ্টা অসীম। সৃষ্টির আগে অনস্তিত্ব ছিল এবং পরে অনস্তিত্ব আসবে, কিন্তু স্রষ্টার আগে কোনো অনস্তিত্ব ছিল না এবং পরেও কোনো অনস্তিত্ব আসবে না। তাহলে কীভাবে একীভূত হওয়া সম্ভব?! সুতরাং একীভূত হওয়া অন্যতম চূড়ান্ত অসম্ভব বিষয়। যারা এটি বলে, তারা বলে: লাহুত (খোদাভাব) নাসুতের (মানবভাব) সাথে একীভূত হয়েছে। লাহুত বলতে তারা উপাস্য হওয়ার বৈশিষ্ট্যসমূহ বোঝায় এবং নাসুত বলতে তারা মানবীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ বোঝায়। এটি মূলত খ্রিস্টানরা বলেছিল যখন তারা দাবি করেছিল যে আল্লাহ এক এবং একই সাথে তিন। তারা তাদের সন্তানদের এভাবেই গড়ে তোলে, তারা বলে: তিনি এক এবং একই সাথে তিন, আর তাদের মস্তিষ্ক এটি গ্রহণ করে নেয়; তারা যা বলে আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে এবং পবিত্র। তারা বলে: এই তিন একীভূত হয়ে একটিতে পরিণত হয়েছে।
শিয়া ও সুফিদের কিছু বিচ্যুত দলও এই কথা বলেছে। শিয়াদের কিছু বিচ্যুত দল যাদের 'হাশাশিন' বলা হয়, তারা ইসমাঈল ইবনে জাফর আস-সাদিক ইবনে মুহাম্মদ আল-বাকিরের দিকে নিজেদের সম্পর্কিত করে। এ কারণে তাদের ইসমাইলিয়া বলা হয়। তাদেরকে 'কারামিতা'ও বলা হয় হামদান ইবনে কারমাত নামক এক ব্যক্তির নামানুসারে। তাদের থেকে নুসায়রিয়া এবং দ্রুজদের মতো দলগুলোর সৃষ্টি হয়েছে। তারা সবাই মূলত হাশাশিন ইসমাইলি কারামিতা থেকে আগত। হাশাশিন শব্দের অর্থ হলো: তারা ঝোপঝাড়ে বা জনহীন স্থানে বাস করত এবং মানুষকে গুপ্তহত্যা করত, রাতে তাদের ধন-সম্পদ লুটে নিত এবং সিরিয়ার রাস্তাঘাটে ডাকাতি করত। তাদের হাশাশিন বলা হয়। এর আগে ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দীতে তারা সিরিয়ার কিছু অঞ্চলে বিশেষ করে লেবাননে ঘাঁটি গেড়েছিল। যখন তারা পথরোধ করত এবং মানুষকে অপমান ও লাঞ্ছিত করত, তখন আহলে সুন্নতের সাথে তাদের যুদ্ধ হয়েছিল। তাতাররা যখন সিরিয়ায় এসেছিল তখন তারা তাতারদের সাহায্য করেছিল। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, তিনি নিজে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। এই দলগুলো দাবি করে যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের ইমামদের সাথে একীভূত হয়েছেন; তারা যা বলে আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে এবং পবিত্র।
তাদের মতোই সুফিদের কিছু চরমপন্থী দলও আছে যারা দাবি করে যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের কাউকে কাউকে এমন নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দিয়েছেন যে ইবাদতকারী এবং মা'বুদ (উপাস্য) একীভূত হয়ে গেছে। তারা মনে করে যে ইবাদতের একটি নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছালে ইবাদতের বাধ্যবাধকতা তাদের ওপর থেকে উঠে যায় এবং তারা এই স্তরকে 'মাকামে ওয়াহদাতুল ওয়াহদাহ' (একত্বের একত্ব) বলে অভিহিত করে।
তাদের কাছে বিভিন্ন স্তর রয়েছে: শুধুমাত্র ওয়াহদাহ (একত্ব), মাকামে জাম' (একত্রীকরণ), মাকামে ফারক (পার্থক্যকরণ), মাকামে জামউল জাম' (একত্রীকরণের একত্রীকরণ), মাকামে ফারকুল ফারক (পার্থক্যকরণের পার্থক্যকরণ) এবং এ জাতীয় আরও অনেক পরিভাষা তাদের আছে। এর মধ্যে কিছু পরিভাষা গ্রহণযোগ্য ও সঠিক, যেমন ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর মাদারিজুস সালিকিন গ্রন্থে মাকামে জাম', মাকামে ফারক, মাকামে জামউল জাম' ইত্যাদির সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। কিন্তু এই পরিভাষাগুলোর কিছু অংশ একীভূত হওয়ার ধারণার দিকে ধাবিত হয়।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
نشوء نظرية وحدة الوجود عن نظرية الاتحادوترتب على نظرية الاتحاد هذه نظرية أخرى أخطر منها، وهي نظرية وحدة الوجود التي يقول بها ابن عربي الحاتمي، فهو لما عرف أن الاتحاد بين أبدان المخلوقين مستحيل فكيف بالاتحاد بين ذات الله وذوات الخلق، صرف الأمر فأتى بنظرية فلسفية وهي أنه قال: إنّ (لا إله إلا الله) معناها: لا موجود إلا الله، فليس في الوجود شيء إلا الله، لكنك لا تعرف هذا إلا إذا وصلت إلى مقام الذوق فعرفته معرفةًَ حقة، فقبل أن تعرفه يمكن أن تزعم أن في الكون شيئاً سواه، وحينئذٍ يختلف عليك العابد عن المعبود، لكن إذا عرفته ووصلت إليه لم يكن هناك عابد ولا معبود، حيث إن فرعون أعلم بالله من موسى، يقول: فإن فرعون قال: {أَنَا رَبُّكُمْ الأَعْلَى} [النازعات:24] ؛ لأنه بلغ مقام وحدة الوجود، وموسى لم يبلغ هذا المقام، ولذلك يقول أبياته المشهورة: بذكر الله تزداد الذنوب وتنطمس البصائر والقلوب إلى آخر ما قاله، وهو بهذا يزعم أن كلام المخلوقين كله من كلام الله كما قال: وكل كلام في الوجود كلامه سواء علينا نثره ونظامه وأراد بهذا تطوير نظرية الاتحاد التي قال بها قبله الحلاج وقتل بسببها بعد أن حاكمه المسلمون، لكنه وجد طوائف تدافع عنه، ووجد من يعتقد أقواله، وألف عدداً من الكتب منها: الفصوص، ومنها: الفتوحات المكية وغيرها، واليوم يتبنى أفكاره عدد من الناس وينشرون كتبه من مطابع في الشام، ومكتبات تنشر كتبه الآن وتتبنى أفكاره، وقد ألف البقاعي رداً عليه، ومن أحسن الردود رد يسمى: (تنبيه الغبي إلى تكفير ابن عربي) وقد طبع اليوم مع كتاب آخر للبقاعي بعنوان: مصرع التصوف، وهو عنوان أحدثه الطابع فقط وليس هو اسم الكتاب.
ইত্তিহাদ তত্ত্ব থেকে ওয়াহদাতুল উজুদ তত্ত্বের উৎপত্তিএই ইত্তিহাদ (একীভূত হওয়া) তত্ত্বের ফলস্বরূপ তার চেয়েও বিপজ্জনক অন্য একটি তত্ত্বের উদ্ভব হয়েছে, আর তা হলো ওয়াহদাতুল উজুদ (অস্তিত্বের অদ্বৈতবাদ) তত্ত্ব, যার কথা ইবনে আরাবি আল-হাতীমি বলেন। তিনি যখন বুঝতে পারলেন যে সৃষ্টজীবদের দেহসমূহের মধ্যে মিলন বা একীভূত হওয়া অসম্ভব, তবে আল্লাহর সত্তা ও সৃষ্টির সত্তাসমূহের মধ্যে মিলন কীভাবে সম্ভব? তাই তিনি বিষয়টি ঘুরিয়ে দিয়ে একটি দার্শনিক তত্ত্ব নিয়ে আসলেন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো অস্তিত্বশীল সত্তা নেই। সুতরাং অস্তিত্ব জগতে আল্লাহ ছাড়া আর কিছুই নেই। কিন্তু আপনি এটি ততক্ষণ জানতে পারবেন না যতক্ষণ না আপনি আধ্যাত্মিক স্বাদের স্তরে (মাকামে যাওক) পৌঁছাবেন এবং একে যথার্থভাবে জানতে পারবেন। এটি জানার আগে আপনি দাবি করতে পারেন যে মহাবিশ্বে তিনি ছাড়া অন্য কিছু রয়েছে এবং তখন আপনার কাছে ইবাদতকারী ও উপাস্যের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে। কিন্তু যখন আপনি একে জানবেন এবং সেখানে পৌঁছাবেন, তখন সেখানে কোনো ইবাদতকারী বা উপাস্য থাকবে না। এমনকি তাঁর মতে ফেরাউন আল্লাহর ব্যাপারে মুসা (আ.)-এর চেয়েও বেশি জ্ঞানী ছিল; তিনি বলেন: ফেরাউন বলেছিল: "আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ রব" [আন-নাজিআত: ২৪]; কারণ সে ওয়াহদাতুল ওজুদ-এর স্তরে পৌঁছেছিল, আর মুসা (আ.) সেই স্তরে পৌঁছাতে পারেননি। এই কারণেই তিনি তাঁর সেই বিখ্যাত পঙক্তিগুলো বলেছেন: "আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে পাপ বৃদ্ধি পায় এবং অন্তর্দৃষ্টি ও হৃদয়সমূহ বিলুপ্ত হয়ে যায়..." তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত। এর মাধ্যমে তিনি দাবি করেন যে, সৃষ্টজীবের সকল কথা মূলত আল্লাহরই কথা, যেমনটি তিনি বলেছেন: "অস্তিত্বে বিদ্যমান সকল কথাই তাঁর কথা, আমাদের কাছে এর গদ্য ও পদ্য উভয়ই সমান।" তিনি এর মাধ্যমে ইত্তিহাদ তত্ত্বকে আরও বিস্তৃত করতে চেয়েছিলেন যা তাঁর আগে হাল্লাজ প্রচার করেছিলেন এবং যার কারণে মুসলমানদের বিচারের পর তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইবনে আরাবি এমন কিছু দল পেয়েছিলেন যারা তাঁকে সমর্থন করে এবং তাঁর বক্তব্যে বিশ্বাসী এমন লোকও তিনি পেয়েছিলেন। তিনি অনেকগুলো গ্রন্থ রচনা করেছেন যার মধ্যে রয়েছে: আল-ফুসুস, আল-ফুতুহাত আল-মাক্কিয়াহ ইত্যাদি। বর্তমানে একদল লোক তাঁর চিন্তাধারা গ্রহণ করছে এবং শামের বিভিন্ন ছাপাখানা থেকে তাঁর বইগুলো প্রকাশ করছে; বর্তমানে কিছু লাইব্রেরিও তাঁর বইগুলো প্রচার করছে এবং তাঁর চিন্তাধারা লালন করছে। আল-বিক্বায়ি তাঁর প্রতিবাদে গ্রন্থ রচনা করেছেন, আর শ্রেষ্ঠ প্রতিবাদী গ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি হলো: 'তানবিহুল গাবি ইলা তাকফিরি ইবনে আরাবি'। এটি বর্তমানে আল-বিক্বায়ির অন্য একটি বইয়ের সাথে মুদ্রিত হয়েছে যার শিরোনাম: 'মাসরাউত তাসাউফ', যা কেবল প্রকাশকের দেওয়া একটি শিরোনাম, কিতাবটির প্রকৃত নাম নয়।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
نظرية وحدة الشهود التي جاء بها الغزاليثم جاء الغزالي بعد هذا فطور النظرية، فأتى بنظرية وحدة الشهود، فقال: الواقع أن المخلوق لا يمكن أن يتصل بالخالق بوجه من الوجوه، لكن يصل المخلوق من تطهير نفسه وتزكيتها وصقل بصيرته إلى أن يكون بحيث لا يشاهد غير الله سبحانه وتعالى، وتكون المخلوقات عنده وإن كانت موجودةً إلا أنها في قيمة المعدوم، فلا يخاف شيئاً، ولا يرجو شيئاً، ولا يحس بشيء غير الله سبحانه وتعالى.
وهذه بعضها يصل إلى درجة التكفير، وبعضها ليس كذلك، فهي نظرية عموماً فيها المقبول والمردود، ما كان منها مقبولاً هو: أن تعبد الله كأنك تراه، فإن لم تكن تراه فإنه يراك، وهو مقام المراقبة، وما كان منها مردوداً فهو ما زاد على هذا من الغلو الذي أضافه من وحدة الشهود، وهي أيضاً من المزالق الصعبة، ولذلك أخذ بها بعض الذين اقتدوا بـ الغزالي من بعده، ومنهم: الهروي الحنبلي مؤلف كتاب منازل السائرين، وقد دافع عنه ابن القيم وأراد أن يلتمس له العذر في كتابه مدارج السالكين، وكذلك تأثر به الشيخ عبد القادر الجيلاني ودافع عنه شيخ الإسلام ابن تيمية في بعض المواقف، وإن كان بعض كلامه لا يحتمل الدفاع، لكن شيخ الإسلام يقول عنه: إنه قاله في الشطح بزوال العقل فهو مرفوع عنه التكليف في ذلك الوقت، وهذا مثل قوله: (قدمي هذه على رقبة كل ولي لله تعالى في السماء أو في الأرض) ونحو هذا من الكلام، وهو الذي يقول: زيارة أرباب التقى مَرْهمٌ يُبري ومفتاح أبواب الهداية والخير وتحدث في القلب الخلي إرادةً وتشرح صدراً ضاق من شدة الوزر وتنصر مظلوماً وترفع خاملاً وتكسب معدوماً وتجبر ذا كسر إلى أن يقول: ولا فرق في أحكامها بين سالك ورب ومخدوم وحي وذي قبر وذي الزهد والعباد والكل منعم عليهم ولكن ليست الشمس كالبدر فزر وتأدب بعد تصحيح نية تأدب مملوك مع المالك الحر البيت الأخير فيه مبالغة واضحة.
ونظير هذا ما حصل لعدد من المنتسبين إليه في مختلف الفترات، فكلهم يدخل في مقام وحدة الشهود هذه، فيتكلمون بكلام من باب الشطح، مثل ما حصل لـ زروق مما يروى عنه أنه قال: أنا لمريدي جامع لشتاته إذا ما سطا طور الزمان بنكبة فكم كربة تجلى إذا ذكر اسمنا وكم طرفة تجنى بأثمار صحبتي فإن كنت في هم وضيق وكربة فناد أيا زروق هات بسرعة ومثل هذا حصل لعدد من الناس حتى لوالد أبي بكر ابن العربي رحمه الله في قصة ذهابه إلى الغزالي، لكن كل هذه الأقوال إنما تصدر ممن كان منهم صالحاً في وقت غيبوبة عقله، ومن كان منهم فاسداً مثل عدد منهم يقع منه هذا لفساد عقيدته وفساد حقيقة أمره، فمن كان منهم صالحاً التمس له من عرفه العذر، مثل عبد القادر الجيلاني، ومثل زروق، ومثل ذي النون المصري وغيره، ومن كان معروفاً بعدم الالتزام والصلاح لا يلتمس له العذر في مثل هذا، ومع هذا فإنه لا يلتمس العذر لأتباعهم الذين وافقوهم على هذا مطلقاً؛ لأن أتباعهم ليسوا مثلهم فيما يتعلق بالشطح الذي قالوه في هذا الكلام، ومن هنا فكان كتاب شيخ الإسلام ابن تيمية في الرد على الإخنائي ورسالته للبكري، وكذلك وصيته الكبرى التي يرد بها على أتباع عدي بن مسافر، كلها من هذا القبيل، يقول: إن هؤلاء المشايخ عرفوا بالصلاح والورع، وحصلت منهم أقوال غير مرضية، وكل أحد يؤخذ من قوله ويرد، فلا تتبعوهم في تلك الأقوال التي أخطئوا فيها.
গাযালী কর্তৃক প্রবর্তিত ওয়াহদাতুশ শুহুদ (সাক্ষ্যগত একত্ববাদ) তত্ত্বএরপর গাযালী আসলেন এবং এই তত্ত্বের উন্নয়ন ঘটালেন, তিনি ওয়াহদাতুশ শুহুদ তত্ত্বটি নিয়ে আসলেন। তিনি বললেন: বাস্তবতা হলো, সৃষ্টি কোনোভাবেই স্রষ্টার সাথে যুক্ত হতে পারে না, তবে সৃষ্টি তার নফসের পবিত্রতা ও পরিশুদ্ধি এবং অন্তর্দৃষ্টির স্বচ্ছতার মাধ্যমে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ব্যতীত আর কাউকে দেখে না। তার কাছে সৃষ্টিজগত বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তা অস্তিত্বহীনের সমান হয়ে যায়; ফলে সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ব্যতীত অন্য কিছুকে ভয় পায় না, অন্য কিছুর আশা করে না এবং অন্য কিছু অনুভব করে না।
এর কিছু অংশ কুফর পর্যন্ত পৌঁছায়, আবার কিছু অংশ সেরকম নয়। এটি এমন এক তত্ত্ব যাতে গ্রহণীয় ও বর্জনীয় উভয় দিক রয়েছে। যা গ্রহণীয় তা হলো: আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করা যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে তিনি তোমাকে দেখছেন—এটি হলো মুরাকাবা বা পর্যবেক্ষণের স্তর। আর এর মধ্যে যা বর্জনীয় তা হলো গাযালী এর সাথে ওয়াহদাতুশ শুহুদের যে বাড়াবাড়ি যোগ করেছেন। এটি একটি কঠিন পিচ্ছিল পথ। একারণে গাযালীর পরবর্তী কিছু অনুসারী এটি গ্রহণ করেছেন, যেমন: ‘মানাযিলুস সায়িরীন’ গ্রন্থের লেখক হারাবী হাম্বলী। ইবনুল কাইয়্যিম তার ‘মাদারিজুস সালিকীন’ গ্রন্থে তাকে সমর্থন করেছেন এবং তার পক্ষ থেকে ওজর পেশ করার চেষ্টা করেছেন। একইভাবে এর দ্বারা শাইখ আব্দুল কাদির জিলানী প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া কিছু ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষ সমর্থন করেছেন। যদিও তাঁর কিছু বক্তব্য সমর্থনের যোগ্য নয়, তবে শাইখুল ইসলাম তাঁর সম্পর্কে বলেন: তিনি জ্ঞান হারানো অবস্থায় (শতহ) এগুলো বলেছিলেন, তাই সেই সময়ে তাঁর উপর শরয়ী দায়িত্ব স্থগিত ছিল। যেমন তাঁর উক্তি: “আমার এই পা আকাশে বা জমিতে থাকা আল্লাহর প্রত্যেক অলীর ঘাড়ের ওপর।” এবং এজাতীয় অন্যান্য কথা। আর তিনিই বলেন: তাকওয়াবানদের যিয়ারত হলো নিরাময়কারী মলম এবং হিদায়াত ও কল্যাণের দুয়ারের চাবিকাঠি; এটি শূন্য হৃদয়ে সংকল্প জাগ্রত করে এবং পাপের ভারে সংকীর্ণ বক্ষকে প্রশস্ত করে; এটি মজলুমকে সাহায্য করে, অবহেলিতকে উন্নত করে, নিঃস্বকে সম্পদশালী করে এবং ভগ্ন হৃদয়কে জোড়া লাগায়। তিনি আরও বলেন: এর বিধানে পথিক, প্রভু, সেবক, জীবিত ও কবরস্থ ব্যক্তির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; নেই কোনো পার্থক্য দুনিয়াত্যাগী ও ইবাদতকারীর মধ্যে—সবার ওপরই নিআমত বর্ষিত হয়, তবে সূর্য আর চাঁদ এক নয়। সুতরাং বিশুদ্ধ নিয়তে যিয়ারত করো এবং আদব রক্ষা করো—যে আদব একজন ক্রীতদাস তার স্বাধীন মালিকের সাথে করে। শেষ পঙক্তিটিতে স্পষ্ট বাড়াবাড়ি রয়েছে।
বিভিন্ন যুগে তাঁর সাথে সম্পৃক্ত অনেক ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। তারা সবাই ওয়াহদাতুশ শুহুদের এই স্তরে প্রবেশ করে ‘শতহ’ বা বেপরোয়া আধ্যাত্মিক উক্তি মূলক কথা বলেন। যেমন যররুক সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: “যখনই যামানা কোনো বিপদ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, আমি আমার মুরিদের বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো একত্রিত করি। কত বিপদ দূর হয়ে যায় আমাদের নাম স্মরণ করলে, আর কত চমৎকার ফল লাভ হয় আমার সাহচর্যে। যদি তুমি চিন্তা, সংকীর্ণতা ও বিপদে থাকো, তবে ডাকো: হে যররুক! দ্রুত আসো!” এমন বিষয় অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটেছে, এমনকি আবু বকর ইবনুল আরাবীর পিতার ক্ষেত্রেও গাযালীর কাছে যাওয়ার ঘটনার সময় এটি ঘটেছিল। তবে এই সব উক্তি তাদের মধ্য থেকে যারা সৎ ছিলেন তাদের অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় নির্গত হয়েছে। আর যারা মন্দ ছিল, তাদের ক্ষেত্রে এটি ঘটেছে তাদের আকীদার ভ্রষ্টতা ও তাদের প্রকৃত অবস্থার নষ্ট হওয়ার কারণে। ফলে তাদের মধ্যে যারা সৎ ছিলেন, তাদের পরিচিতজনরা তাদের ওজর গ্রহণ করেছেন, যেমন আব্দুল কাদির জিলানী, যররুক এবং যুন-নুন মিসরী ও অন্যান্যরা। কিন্তু যারা দ্বীনদারী ও সততার জন্য পরিচিত ছিলেন না, তাদের এসব বিষয়ে ওজর গ্রহণ করা হবে না। তা সত্ত্বেও, তাদের অনুসারীদের জন্য কোনোভাবেই ওজর গ্রহণ করা হবে না যারা এই বিষয়ে তাদের সাথে একমত পোষণ করেছে; কারণ তাদের অনুসারীরা এই বেপরোয়া উক্তির ক্ষেত্রে তাদের মতো ছিল না। একারণেই আল-ইখনাঈ-র খণ্ডনে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার কিতাব, আল-বাকরীর প্রতি তাঁর রিসালাহ এবং তাঁর ‘আল-ওয়াসিয়্যাহ আল-কুবরা’ যাতে তিনি আদি ইবনে মুসাফিরের অনুসারীদের জবাব দিয়েছেন—এগুলো সবই এই পর্যায়ের। তিনি বলেন: এই মাশায়েখগণ সততা ও পরহেযগারীর জন্য পরিচিত ছিলেন, তবে তাদের থেকে কিছু অসন্তোষজনক বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে। আর প্রত্যেকের কথাই গ্রহণীয় অথবা বর্জনীয় হতে পারে; সুতরাং তাদের সেই ভুল কথাগুলোর অনুসরণ করো না যেগুলোতে তারা ভুল করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
الإلحاد في أسماء الله وصفاته(ألحد من قال بخلقه اتحد) : جعل هذا من باب الإلحاد، والإلحاد في الأصل التكذيب، ويقال: الإلحاد في آيات الله، والإلحاد في أسماء الله، والإلحاد في صفات الله، فكل ذلك يسمى إلحاداً.
فالإلحاد في آيات الله معناه: ضرب بعض القرآن ببعض أو الأخذ بمتشابهه، والإلحاد في أسماء الله معناه: إقرار الاسم وإنكار مدلوله كما هو حال المعتزلة، فالمعتزلة يثبتون أسماء الله وينفون الصفات ويرون أنها أسماء لا تدل على مسمىً ولا تدل على صفات أصلاً.
والإلحاد في صفات الله معناه: إنكارها وتعطيلها، فكل هذا يدخل في الإلحاد.
والإلحاد هو أعم من هذا، فمنه الإلحاد المطلق، ومعناه: إنكار وجود الله سبحانه وتعالى، وإنكار بعثة الرسل ونحو ذلك، فهذا أعظم الإلحاد، وأما الإلحاد بتحريف الأسماء ونقص بعضها كما يحصل لبعض ناقصي العقل حيث يحذفون بعض الحروف من بعض أسماء الله كما قال أحد العلماء: نفوا من اسم الله لفظ الهاء فألحدوا في أعظم الأسماء بعض الناس يقول: الل، عبد الل وهكذا يحذفون الهاء من اسم الله، فرأى العلماء أن هذا من الإلحاد في اسم الله؛ لأنهم حذفوا بعض حروفه.
فالذين يلحدون في أسمائه توعدهم الله تعالى في كتابه.
আল্লাহর নাম ও গুণাবলীতে বিচ্যুতি(যে ব্যক্তি বলল যে তিনি তাঁর সৃষ্টির সাথে একীভূত হয়েছেন, সে বিচ্যুতি বা ধর্মদ্রোহিতা করল) : একে তিনি বিচ্যুতির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মূলত 'ইলহাদ' (বিচ্যুতি) শব্দের অর্থ হলো অস্বীকার করা। বলা হয়ে থাকে: আল্লাহর নিদর্শনে বিচ্যুতি, আল্লাহর নামে বিচ্যুতি এবং আল্লাহর গুণাবলীতে বিচ্যুতি। এর সবটুকুই 'ইলহাদ' বা বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য।
আল্লাহর নিদর্শনে বিচ্যুতির অর্থ হলো: কুরআনের এক অংশকে অন্য অংশের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো অথবা এর রূপক বা অস্পষ্ট আয়াতগুলো গ্রহণ করা। আর আল্লাহর নামের ক্ষেত্রে বিচ্যুতির অর্থ হলো: নামকে স্বীকার করা কিন্তু তার অর্থ ও মর্মার্থকে অস্বীকার করা, যেমনটি মুতাজিলাদের অবস্থা। মুতাজিলারা আল্লাহর নামসমূহ সাব্যস্ত করে কিন্তু তাঁর গুণাবলীকে অস্বীকার করে। তারা মনে করে যে, এগুলো এমন কিছু নাম যা কোনো সত্তাকে নির্দেশ করে না এবং আদতে কোনো গুণের প্রমাণ দেয় না।
আর আল্লাহর গুণাবলীতে বিচ্যুতির অর্থ হলো: সেগুলো অস্বীকার করা এবং সেগুলোকে অর্থহীন করে দেওয়া। এই সবকিছুই বিচ্যুতির অন্তর্ভুক্ত।
বিচ্যুতি বা 'ইলহাদ' এর চেয়েও ব্যাপক। এর একটি হলো নিরঙ্কুশ বিচ্যুতি, যার অর্থ হলো: মহান আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করা, রাসুলদের প্রেরণ করাকে অস্বীকার করা এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। এটি হলো সবচেয়ে বড় বিচ্যুতি। আর নামের বিকৃতি এবং এর কিছু অংশ কমানোর মাধ্যমে যে বিচ্যুতি ঘটে, যেমনটি কিছু বুদ্ধিহীন লোকের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়, যারা আল্লাহর নামের কিছু অক্ষর বিলুপ্ত করে দেয়। যেমন একজন আলেম বলেছেন: "তারা আল্লাহর নাম থেকে 'হা' বর্ণটি বাদ দিয়েছে, ফলে তারা মহানতম নামের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটিয়েছে।" কিছু মানুষ বলে: 'আল্লা', 'আবদাল্লা', এভাবে তারা আল্লাহর নাম থেকে 'হা' বর্ণটি ফেলে দেয়। উলামায়ে কেরাম মনে করেন এটি আল্লাহর নামের ক্ষেত্রে বিচ্যুতির অন্তর্ভুক্ত; কারণ তারা তাঁর নামের কিছু অক্ষর বিলুপ্ত করেছে।
সুতরাং যারা আল্লাহর নামের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটায়, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে তাদেরকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة الأسماء والصفات القسم: العقيدة
الكتاب : سلسلة الأسماء والصفات
المؤلف : محمد الحسن الددو الشنقيطي
مصدر الكتاب : دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 14 درس]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আসমা ও সিফাত সিরিজ বিভাগ: আকিদাহ
বই : আসমা ও সিফাত সিরিজ
লেখক : মুহাম্মদ আল-হাসান আদ-দাদাউ আশ-শানকিতী
বইয়ের উৎস : ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিখনকৃত অডিও পাঠসমূহ
http://www.islamweb.net
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বরটি হলো পাঠ নম্বর - ১৪টি পাঠ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১)
سلسلة الأسماء والصفات [2]لقد جاءت صفات الإثبات مفصلة في القرآن والسنة، أما النفي فلم يفصل إلا في نفي الصاحبة والشريك والوالد والولد، وقد كان منهج السلف في التعامل مع صفات الله تعالى إثباتها والوقوف عند النصوص الواردة بها من غير تشبيه ولا تعطيل.
নাম ও গুণাবলির ধারাবাহিক আলোচনা [২]কুরআন ও সুন্নাহতে ইতিবাচক গুণাবলি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। পক্ষান্তরে, নেতিবাচক বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আসেনি—কেবল স্ত্রী, অংশীদার, পিতা ও সন্তানের অস্তিত্ব অস্বীকার করার বিষয়টি ছাড়া। মহান আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে সালাফদের অনুসৃত নীতি ছিল সেগুলোকে সাব্যস্ত করা এবং কোনো প্রকার সাদৃশ্য প্রদান কিংবা গুণাবলি নিষ্ক্রিয়করণ ছাড়াই এ সংক্রান্ত বর্ণিত মূল ভাষ্যের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা।
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২)
نفي وجود الصاحبة والوالد والولد لله عز وجل
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য স্ত্রী, পিতা ও সন্তানের অস্তিত্ব নাকচ করা
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقصود من نفي وجود الكفء للهثم قال: (ليس لَهُ كُفُواً أَحَدٌ) وهذا تقرير لكل ما سبق، ولا يحتاج إلى العطف فيه، يمكن أن تقول: لماذا لم يقل: (وليس لَهُ كُفُواً أَحَدٌ) ؟
و
الجواب أن معنى أنه (ليس لَهُ كُفُواً أحد) : أنه لا صاحبة له ولا ولد ولا والد؛ لأن الكفء هو النظير، يقال: الكفو بالواو، والكفء بالهمزة، والكفؤ بضمتين، وهذه كلها مقروءة، فقراءة نافع وابن كثير وابن عامر (كفؤاً) بالهمزة، وقراءة الكوفيين: (كفواً) بالواو لكن شعبة يقرؤها (كفْواً) بإسكان الفاء بالإسكان وغيره يقرؤها بالضم.
والمقصود بهذا أمران: أحدهما: نفي التشبيه مطلقاً؛ لأن الكفاءة مقتضية لقدر من الاشتراك في الشبه، فالبشر من جهة التمثيل أكفاء، لا أحد منهم يزيد على آخر بعضو مثلاً، بل هم صورة واحدة؛ ولهذا قال الشافعي رحمه الله: الناس من جهة التمثيل أكفاء أبوهم آدم والأم حواء والثاني: وهو المقصود الأساس من نفي الكفء: أنه لا يمكن أن يكافئه ولا أن يناظره أحد حتى يتزاوج معه، أو حتى يحصل بينهما اتحاد، أو حتى يحصل بينهما الاشتراك في أي شيء، فلذلك لا يمكن أن يحصل أي شرك به من أي وجه من الوجوه، فهذا ينفي الصاحبة، والولد، وينفي الوالد، وينفي كذلك المشابهة مطلقاً بأي شيء من مخلوقاته، وينفي كذلك استعانته بأي مخلوق من خلقه، وينفي الحاجة إلى أي مخلوق؛ لأن الخلق كلهم محتاجون إلى الخالق، ويحتاج بعضهم إلى بعض، والخالق غني لا يحتاج إلى شيءٍ من خلقه، فلم يستفد منهم أية صفة، أي: لم يستفد منهم صفة الخلق بعد أن خلقهم، ولا صفة الرزق بعد أن رزقهم، فقد كان خالقاً ولا مخلوق، وكان رازقاً ولا مرزوق، وهو على ما عليه كان، لا تحله الحوادث والآفات، ولا تأخذه سنة ولا نوم، هو الحي القيوم كما كان.
وهذه الصفات المذكورة في هذا البيت فيها نفي الصاحبة، ونفي الولد، ونفي الوالد، ونفي الكفو، ونفي الكفو متضمن لنفي الصاحبة، وقد جاء الثلاثة في سورة الإخلاص: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ * اللَّهُ الصَّمَدُ * لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ * وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ} [الإخلاص:1-4] وهذا شامل لنفي الصاحبة، فقصد بذلك على أن يكون تفسير: (لَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ) أنه ليست له صاحبة ولا ولد أو والد، و (أو) هنا بمعنى الواو، فقوله: (ولا ولد أو والد) معناه: ولا والده.
আল্লাহর জন্য কোনো সমকক্ষ থাকার অস্বীকৃতির উদ্দেশ্যতারপর তিনি বললেন: (তাঁর সমতুল্য কেউ নেই)। এটি পূর্ববর্তী সবকিছুর একটি সুদৃঢ়করণ, এবং এতে কোনো অব্যয় ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন: কেন (এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই) বলা হলো না?
এবং
উত্তর উত্তর হলো যে, (তাঁর সমতুল্য কেউ নেই) এর অর্থ হলো: তাঁর কোনো স্ত্রী নেই, কোনো সন্তান নেই এবং কোনো জন্মদাতাও নেই; কারণ সমকক্ষ বা 'কুফু' মানে হলো সদৃশ। একে ওয়াও দিয়ে 'কুফুউ', হামযা দিয়ে 'কুফউ' এবং দুই পেশ দিয়ে 'কুফুউন' বলা হয়; আর এ সবগুলোই পঠিত রূপ। নাফি, ইবনে কাসির এবং ইবনে আমিরের কিরাআত হলো হামযা সহকারে (কুফউআন), এবং কুফাবাসীদের কিরাআত হলো ওয়াও সহকারে (কুফুওয়ান), তবে শু'বা একে ফা বর্ণের সাকিন সহকারে (কুফওয়ান) পড়েন এবং অন্যরা পেশ দিয়ে পড়েন।
এর দ্বারা উদ্দেশ্য দুটি বিষয়: প্রথমত: নিরঙ্কুশভাবে সাদৃশ্য বা উপমা অস্বীকার করা; কারণ সমকক্ষতা সাদৃশ্যের ক্ষেত্রে কিছুটা অংশীদারিত্ব দাবি করে। দৈহিক গঠনের দিক থেকে মানুষ একে অপরের সমকক্ষ, তাদের কেউ অন্য কারো চেয়ে কোনো অঙ্গের দিক থেকে বেশি নয়, বরং তারা একই আকৃতি বিশিষ্ট। এই কারণেই ইমাম শাফিঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: রূপ বা গঠনের দিক থেকে মানুষ একে অপরের সমকক্ষ, তাদের পিতা আদম এবং মাতা হাওয়া। দ্বিতীয়ত: যা সমকক্ষতা অস্বীকারের মূল উদ্দেশ্য: তা হলো এটি অসম্ভব যে কেউ তাঁর সমকক্ষ হবে কিংবা কেউ তাঁর অনুরূপ হবে যাতে করে তাঁর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যায়, অথবা যাতে করে উভয়ের মধ্যে কোনো মিলন ঘটে, কিংবা কোনো বিষয়ে উভয়ের মধ্যে অংশীদারিত্ব সৃষ্টি হয়। সুতরাং এই কারণে কোনো দিক থেকেই তাঁর সাথে কোনো অংশীদারিত্ব বা শিরক ঘটা সম্ভব নয়। এটি তাঁর স্ত্রী ও সন্তান হওয়াকে অস্বীকার করে, তাঁর জন্মদাতা থাকাকে অস্বীকার করে এবং একইভাবে তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর সাথে তাঁর কোনো ধরনের সাদৃশ্য থাকাকে নিরঙ্কুশভাবে অস্বীকার করে। এটি তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর সাহায্য গ্রহণকেও অস্বীকার করে এবং কোনো সৃষ্টির প্রতি তাঁর মুখাপেক্ষী হওয়াকেও নাকচ করে; কারণ সকল সৃষ্টিই স্রষ্টার মুখাপেক্ষী এবং তারা একে অপরের মুখাপেক্ষী, আর স্রষ্টা অমুখাপেক্ষী, তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর প্রতি তাঁর প্রয়োজন নেই। তিনি সৃষ্টি করার মাধ্যমে কোনো নতুন গুণ অর্জন করেননি, অর্থাৎ সৃষ্টির পর তাঁর মধ্যে 'সৃষ্টিকর্তা' গুণটি সৃষ্টি হয়নি এবং তাদের রিযিক দেওয়ার পর তাঁর মধ্যে 'রিযিকদাতা' গুণটি সৃষ্টি হয়নি; বরং কোনো সৃষ্টি না থাকাবস্থায়ও তিনি স্রষ্টা ছিলেন এবং কোনো রিযিক গ্রহীতা না থাকাবস্থায়ও তিনি রিযিকদাতা ছিলেন। তিনি যেমন ছিলেন তেমনই আছেন, কোনো নতুন ঘটনা বা আপদ তাঁকে স্পর্শ করে না এবং তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে গ্রাস করে না। তিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক যেমনটি তিনি সর্বদা ছিলেন।
এই চরণে বর্ণিত এই গুণাবলির মধ্যে স্ত্রী অস্বীকার করা, সন্তান অস্বীকার করা, জন্মদাতা অস্বীকার করা এবং সমকক্ষ অস্বীকার করার বিষয়টি রয়েছে। আর সমকক্ষ অস্বীকার করার বিষয়টি স্ত্রী অস্বীকার করার বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। সূরা আল-ইখলাসে এই তিনটি বিষয়ই এসেছে: {বলুন, তিনি আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি। এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই} [আল-ইখলাস: ১-৪]। এটি স্ত্রী অস্বীকার করার বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তাই এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো (তাঁর সমতুল্য কেউ নেই)-এর ব্যাখ্যা যেন এমন হয় যে, তাঁর কোনো স্ত্রী নেই, সন্তান নেই বা জন্মদাতা নেই; আর এখানে ‘অথবা’ শব্দটি ‘এবং’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং তাঁর কথা: (কোনো সন্তান অথবা জন্মদাতা নেই)-এর অর্থ হলো: এবং তাঁর কোনো জন্মদাতাও নেই।
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৪)
الإيمان وقاية للعقل من الخرافاتيقول الشيخ حفظه الله: [ليست له صاحبة ولا ولد ووالد ليس له كفواً أحد] .
الذي جاء في نصوص الوحي في وصف الله سبحانه وتعالى ينقسم إلى قسمين: إلى إثبات ونفي، والإثبات جاء أكثره مفصلاً، والنفي جاء أكثره مجملاً، وقد جاء نفي مفصل وهو قليل، فبدأ به لقلته في النصوص، وإنما جاء النفي المفصل في النصوص فيما يتعلق بالصاحبة والولد والوالد فقط في قوله تعالى: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ * اللَّهُ الصَّمَدُ * لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ * وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ} [الإخلاص:1-4] ونحو ذلك.
والصاحبة: تطلق على القرينة فهي مؤنثة الصاحب بمعنى المصاحب، والمقصود بذلك: ما يخيل إلى بني آدم من أن حاجة الكائن أياً كان تقتضي وجود قرين له من جنسه.
ومن هنا نتذكر بعض الفوائد العقلية التي ذكرناها سابقاً والتي تفيد العقل من الإيمان، وقد ذكرنا أن الإيمان لمصلحة العقل، ومن فوائده: أنه ينفي الخرافات عن العقل؛ لأن الخرافات هي متاهات العقول، فلو لم ترد هذه النصوص من الوحي لبقيت عقائد الناس مثل ما كانت عقائد الإغريق اليونانيين، عندهم الآلهة ذكور وإناث، وهناك عندهم بعض الآلهة ابن زناً من الإله، أي: إله زنى بإلهة فأنجبت له ابناً من زناً وأصبح إلهاً لديهم!! وهكذا من خرافات عقلية لا نهاية لها، ولذلك هذا الإله (أولمبيك) يسمونه إله الرياضة، وهو ابن زنا عندهم، زنت إلهة بإله آخر فأنجبت منه هذا الولد فسميت عليه الرياضة، وإلى الآن تسمعون بالملاعب الأولمبية ونحو ذلك وكله من أولمبيك.
فعلى هذا فإن هذه النصوص هي التي حررت العقول من هذه الأوهام وهذه الخيالات التي منشؤها التشبيه بما يعهده العقل؛ ولذلك فإن نصوص التنزيل في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم كثيرة جداً، وهي التي تقتضي سد القلب بالكلية عن هذه الأوهام والتخيلات التي هي متاهات تضيع فيها العقول.
وكان العرب في الجاهلية يذهبون إلى أن الملائكة بنات الله، والتصور العقلي يقتضي أن البنات لا يمكن أن يوجدن إلا بعد أن توجد أم، والله سبحانه وتعالى فند هذه الفكرة تفنيداًَ قاطعاً في كثير من الآيات، ومن أبلغ ذلك ما كان فيه خطاب للعقل والعاطفة معاً، فقد جاء الخطاب في ذلك للعقل فقط في مثل قوله: {لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ} [الإخلاص:3] ، وجاء الخطاب فيه للعقل والعاطفة معاً في مثل قوله: {وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِمَا ضَرَبَ لِلرَّحْمَنِ مَثَلاً ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدّاً وَهُوَ كَظِيمٌ * أَوَمَنْ يُنَشَّأُ فِي الْحِلْيَةِ وَهُوَ فِي الْخِصَامِ غَيْرُ مُبِينٍ * وَجَعَلُوا الْمَلائِكَةَ الَّذِينَ هُمْ عِبَادُ الرَّحْمَنِ إِنَاثاً أَشَهِدُوا خَلْقَهُمْ سَتُكْتَبُ شَهَادَتُهُمْ وَيُسْأَلُونَ} [الزخرف:17-18] وفي القراءة السبعية الأخرى: (وجعلوا الملائكة الذين هم عند الرحمن إناثاً أأُشهدوا خلقهم ستكتب شهادتهم ويسألون) .
কুসংস্কার থেকে বুদ্ধির সুরক্ষায় ঈমানশায়খ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন: [তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই, কোনো সন্তান নেই, কোনো পিতা নেই এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই]।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার গুণাবলি বর্ণনায় ওহীর দলিলে যা এসেছে তা দুই ভাগে বিভক্ত: ইতিবাচক (ইসবাত) এবং নেতিবাচক (নাফি)। ইতিবাচক বর্ণনাগুলোর অধিকাংশই বিস্তারিতভাবে এসেছে, আর নেতিবাচক বর্ণনাগুলোর অধিকাংশই এসেছে সংক্ষিপ্ত ও সামগ্রিকভাবে। তবে কিছু বিস্তারিত নেতিবাচক বর্ণনাও এসেছে যা সংখ্যায় অত্যন্ত কম। দলিলে এর স্বল্পতার কারণেই তিনি এটি দিয়ে শুরু করেছেন। মূলত দলিলে বিস্তারিত নেতিবাচক বর্ণনা কেবল সঙ্গিনী, সন্তান এবং পিতার বিষয়সমূহের ক্ষেত্রেই এসেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।} [আল-ইখলাস: ১-৪] এবং এই জাতীয় অন্যান্য দলিল।
আর 'সাহিবাহ' (সঙ্গিনী): এটি স্ত্রীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যা 'সাহিব' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: আদম সন্তানদের মনে যে কল্পনা আসে যে, যেকোনো সত্তার অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে তার স্বজাতি থেকে একজন সঙ্গিনীর প্রয়োজন রয়েছে।
এখান থেকে আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক কিছু উপকারের কথা স্মরণ করতে পারি যা আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি এবং যা ঈমানের মাধ্যমে বুদ্ধি অর্জন করে থাকে। আমরা উল্লেখ করেছি যে, ঈমান বুদ্ধির কল্যাণের জন্যই কাজ করে। এর অন্যতম উপকারিতা হলো: এটি বুদ্ধি থেকে কুসংস্কার দূর করে; কারণ কুসংস্কার হলো বুদ্ধির গোলকধাঁধা। যদি ওহীর এই বর্ণনাগুলো না আসত, তবে মানুষের বিশ্বাস বা আকিদা গ্রিকদের বিশ্বাসের মতোই রয়ে যেত। তাদের নিকট দেব ও দেবী ছিল, এমনকি তাদের কোনো কোনো দেবতা ছিল দেবতার ব্যভিচারজাত সন্তান! অর্থাৎ, এক দেবতা অন্য দেবীর সাথে ব্যভিচার করল এবং তাতে একটি ব্যভিচারজাত সন্তান জন্ম নিল যা পরবর্তীতে তাদের নিকট দেবতা হিসেবে গণ্য হলো!! এভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক কুসংস্কারের কোনো শেষ নেই। এ কারণেই 'অলিম্পিক' নামক এই দেবতাকে তারা ক্রীড়ার দেবতা বলে থাকে, যে তাদের মতে একজন ব্যভিচারজাত সন্তান। এক দেবী অন্য দেবতার সাথে ব্যভিচার করেছিল এবং তার ফলে এই সন্তানের জন্ম হয়েছিল যার নামানুসারে ক্রীড়ার (অলিম্পিক) নামকরণ করা হয়েছে। আজ অবধি আপনারা অলিম্পিক স্টেডিয়াম ইত্যাদি সম্পর্কে শুনছেন, যার সবই এই অলিম্পিক থেকে এসেছে।
সুতরাং, এই দলিলগুলোই বুদ্ধিকে সেই সব ভ্রম ও কল্পনা থেকে মুক্ত করেছে যার উৎস হলো বুদ্ধির পরিচিত বিষয়ের সাথে মহান আল্লাহর সাদৃশ্য প্রদান করা। এ কারণেই মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহতে পবিত্রতার বর্ণনাসমূহ অত্যন্ত ব্যাপক। এগুলো অন্তরকে সেই সব ভ্রম ও কল্পনা থেকে সম্পূর্ণরূপে রুদ্ধ করে দেয় যা এমন এক গোলকধাঁধা যেখানে বুদ্ধি হারিয়ে যায়।
জাহেলি যুগে আরবরা মনে করত যে ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা। বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণা এটিই দাবি করে যে, মা ছাড়া কন্যার অস্তিত্ব সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ অনেক আয়াতে এই ধারণাকে চূড়ান্তভাবে খণ্ডন করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে অলঙ্কারপূর্ণ বর্ণনা হলো সেটি, যেখানে বুদ্ধি ও আবেগ উভয়কে একসাথে সম্বোধন করা হয়েছে। শুধু বুদ্ধিকে উদ্দেশ্য করে সম্বোধন এসেছে যেমন এই বাণীতে: {তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি} [আল-ইখলাস: ৩]। আর বুদ্ধি ও আবেগ উভয়কে উদ্দেশ্য করে সম্বোধন এসেছে এই বাণীতে: {যখন তাদের কাউকে সেই সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয় যা সে দয়াময় আল্লাহর প্রতি আরোপ করে, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়। (তারা কি আল্লাহর প্রতি এমন সন্তানকে আরোপ করে) যে অলঙ্কারে লালিত-পালিত হয় এবং ঝগড়া-বিবাদের সময় কথা পরিষ্কার বলতে পারে না? আর তারা দয়াময় আল্লাহর বান্দা ফেরেশতাদেরকে নারী গণ্য করেছে; তাদের সৃষ্টির সময় কি তারা উপস্থিত ছিল? তাদের এই সাক্ষ্য লিখে রাখা হবে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।} [আয-যুখরুফ: ১৭-১৮]। অন্য একটি সাবআ কিরাআতে এসেছে: (তারা ফেরেশতাদের যারা দয়াময় আল্লাহর নিকট আছে, নারী গণ্য করেছে; তাদের সৃষ্টির সময় কি তারা উপস্থিত ছিল? তাদের সাক্ষ্য লিখে রাখা হবে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে)।
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
مجيء النفي المفصل في صفات اللهفرد هذه الأوهام مهم جداً للعقول، ولهذا جاء النفي فيها مفصلاً، بخلاف بعض الأمور التي لا تكون من ورائها المتاهات الكبيرة فلم يرد النص بنفيها على التفصيل، وإنما جاء النفي الإجمالي في قوله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى:11] فقضى ذلك على التشبيه بالمخلوق كالجسم، والأعضاء، والجوارح وغير ذلك، ولم يأت التفصيل فيها، وإنما يفصل فيها المتكلمون ويذهبون فيها كل مذهب فيقولون: ليس بجوهر ولا بجسم وعرض كاللون أو كالطعم إلى آخره.
هذا التفصيل العقول في غنىً عنه، ولا تحتاج إليه أصلاً؛ لأنه لا يوجد وهم يميل إلى أن الله خالق هذا الكون كله عرض مثل الطعم أو مثل اللون، فلا يحتاج إلى نفي هذا إلا على سبيل الإجمال فيقال: (لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ) ومن هنا ندرك حاجة العقول إلى الإيمان وأنه لمصلحة هذه العقول، وحائل بينها وبين التخبط في المتاهات التي لا يمكن أن تخرج من هذا الوحل.
قوله: (ليست له صاحبة ولا ولد) هذا نفي، وزعم الولد قديم في البشرية، فقد زعم اليهود أن العزير ابن الله، وزعم النصارى أن المسيح ابن الله، وزعم المشركون أن الملائكة بنات الله، تعالى الله عما يقولون علواً كبيراً، وكل هذا بسبب أن بيئتهم وواقعهم لم تستنر بنور الوحي فتخبطت في الخرافات التي منشؤها ما يقيسون فيه على أنفسهم، فالذي يعظمونه في الأرض هم الملوك، والملوك لهم صواحب ولهم أولاد وبنات، فيرون أن من يقربه الملوك ويدنونه يمت لهم بصلة قرابة فيبحثون عن تلك القرابة، ومن هنا قال اليهود: {نَحْنُ أَبْنَاءُ اللَّهِ وَأَحِبَّاؤُهُ قُلْ فَلِمَ يُعَذِّبُكُمْ بِذُنُوبِكُمْ بَلْ أَنْتُمْ بَشَرٌ مِمَّنْ خَلَقَ} [المائدة:18] فرد هذا الوهم بالكلية.
وكذلك فإن النصارى يزعمون أن الله سبحانه وتعالى أب لعيسى، ثم يزعمون أنه من وراء ذلك أب للبشر كلهم، فالفكرة القديمة لدى النصارى أنه أب لعيسى فقط، واليوم يزعمون أنه أبٌ للعالم كله ويزعمون أن الناس جميعاً أبناء الله، تعالى الله عما يقولون علواً كبيراً.
ومن أجل هذا تجدون في الكتب المترجمة اليوم التي فيها بعض الأحاديث، مثلاً خرجت ترجمة لرياض الصالحين بالفرنسية: (الخلق كلهم عيال الله وأحبهم إلى الله أنفعهم لعياله) ، ترجموا هذا فقالوا: الخلق كلهم أبناء الله!! فهموها هذا الفهم فترجموها به؛ ولذلك فإن خطر التدوين فيما يتعلق بترجمة النصوص هو من جهة أن الأوهام ستسبق إلى ما تعودت عليه إذا لم تستنر بنور الوحي.
(أو والد) كذلك نفى الوالد، وقد نفاه الله عن نفسه في قوله: {لَمْ يُولَدْ} [الإخلاص:3] فهو نفي للوالد مطلقاً.
আল্লাহর গুণাবলীতে বিস্তারিত অস্বীকৃতির বর্ণনাএই ভ্রান্ত ধারণাগুলোকে খণ্ডন করা বিবেকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই এসব ক্ষেত্রে নেতিবাচক বর্ণনা বিস্তারিতভাবে এসেছে, যা এমন কিছু বিষয়ের বিপরীত যেগুলোর পেছনে বড় কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। তাই নস বা মূল দলীলগুলোতে সেগুলো বিস্তারিতভাবে অস্বীকার করা হয়নি, বরং আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে সংক্ষিপ্ত নেতিবাচক বর্ণনা এসেছে: "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই" [আশ-শুরা: ১১]। এর মাধ্যমে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য যেমন দেহ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং অন্যান্য বিষয়কে নাকচ করা হয়েছে। তবে এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দলীলগুলোতে আসেনি; বরং মুতাকাল্লিমগণ (ইলমে কালাম শাস্ত্রবিদরা) এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং প্রতিটি মতবাদ অনুসরণ করে বলেন: তিনি সারবস্তু (জাওহার) নন, দেহ (জিসম) নন এবং রঙ বা স্বাদের মতো কোনো আপতিক গুণ (আরায) নন—ইত্যাদি।
বিবেক এই বিস্তারিত বর্ণনার মুখাপেক্ষী নয় এবং এর কোনো প্রয়োজনও নেই। কারণ এমন কোনো ভ্রান্ত ধারণা নেই যা মনে করে যে, এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা আল্লাহ স্বাদের মতো কোনো স্বাদ বা রঙের মতো কোনো আপতিক গুণ। তাই সংক্ষিপ্তভাবে "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই" বলা ছাড়া এগুলোকে অস্বীকার করার কোনো প্রয়োজন নেই। এখান থেকেই আমরা ঈমানের প্রতি বিবেকের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করি এবং বুঝতে পারি যে এটি বিবেকের কল্যাণের জন্যই, যা তাকে এমন বিভ্রান্তির গোলকধাঁধায় হাবুডুবু খাওয়া থেকে রক্ষা করে যেখান থেকে বের হওয়া অসম্ভব।
তাঁর উক্তি: "তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই এবং কোনো সন্তানও নেই"—এটি একটি অস্বীকৃতি। সন্তান থাকার দাবি মানবজাতির মধ্যে প্রাচীন। ইয়াহুদিরা দাবি করেছিল যে উযাইর আল্লাহর পুত্র, নাসারারা (খ্রিস্টান) দাবি করেছিল যে মসীহ আল্লাহর পুত্র এবং মুশরিকরা দাবি করেছিল যে ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা। তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি মহান ও সুউচ্চ। এই সবকিছুর কারণ হলো তাদের পরিবেশ ও বাস্তবতা ওহীর আলোতে আলোকিত ছিল না, ফলে তারা এমন সব কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়েছিল যার উৎস ছিল নিজেদের সাথে তুলনা করা। পৃথিবীতে তারা যাদের সম্মান করে তারা হলো রাজা-বাদশাহ, আর রাজাদের সঙ্গিনী থাকে এবং পুত্র-কন্যা থাকে। তারা মনে করে রাজারা যাদের নিকটবর্তী করে তাদের সাথে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকে, ফলে তারা সেই আত্মীয়তা খুঁজতে থাকে। এই সূত্র ধরেই ইয়াহুদিরা বলেছিল: "আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়জন। বলুন, তবে কেন তিনি তোমাদের পাপের জন্য তোমাদের শাস্তি দেন? বরং তোমরা তাঁর সৃষ্ট মানুষের অন্তর্ভুক্ত।" [আল-মায়িদাহ: ১৮]। এভাবে এই ভ্রান্ত ধারণাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
একইভাবে নাসারারা দাবি করে যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ঈসার পিতা, এরপর তারা আরও দাবি করে যে তিনি সমস্ত মানুষের পিতা। নাসারাদের প্রাচীন ধারণা ছিল যে তিনি কেবল ঈসার পিতা, কিন্তু আজ তারা দাবি করে যে তিনি সারা বিশ্বের পিতা এবং সমস্ত মানুষ আল্লাহর সন্তান। তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি মহান ও সুউচ্চ।
এই কারণেই আজ আপনারা অনূদিত গ্রন্থগুলোতে কিছু হাদিস দেখতে পান, উদাহরণস্বরূপ ফরাসি ভাষায় রিয়াদুস সালিহীন-এর একটি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে যেখানে হাদিসটি হলো: "সৃষ্টিজগত আল্লাহর পরিবারভুক্ত এবং আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় সেই ব্যক্তি যে তাঁর পরিবারের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।" তারা এর অনুবাদ করেছে এভাবে: "সৃষ্টিজগত সবাই আল্লাহর সন্তান!!" তারা বিষয়টি এভাবেই বুঝেছে এবং সেভাবেই অনুবাদ করেছে। তাই মূল পাঠ অনুবাদের ক্ষেত্রে লিখনীর ঝুঁকি হলো এই যে, ওহীর আলোতে আলোকিত না হলে ভ্রান্ত ধারণাগুলো অভ্যস্ত বিষয়ের দিকে ধাবিত হবে।
(বা পিতা) একইভাবে তিনি পিতাকে অস্বীকার করেছেন। আল্লাহ তাঁর নিজ সত্তা থেকে এটি অস্বীকার করেছেন তাঁর এই বাণীতে: "তিনি জন্ম নেননি" [আল-ইখলাস: ৩]। এটি সাধারণভাবে পিতার অস্তিত্বের অস্বীকৃতি।
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
نفي وجود الشبيه لله لا يقتضي نفي صفاته عز وجلقال: [وليس مثله علا شيء ولا يلزم ذا نفي صفاته العلا] .
আল্লাহর সদৃশ বিদ্যমান থাকাকে অস্বীকার করা মহান আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করাকে আবশ্যক করে নাতিনি বলেন: [তাঁর ঊর্ধ্বে কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং এটি তাঁর সুউচ্চ গুণাবলি অস্বীকার করাকে আবশ্যক করে না]।
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
أقسام الناس في صفات اللهقال: (وليس مثله علا شيء) هذا هو النفي المجمل وهو الوارد في قوله: (لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ) وذلك أن الناس في صفات الله سبحانه وتعالى افترقوا إلى ثلاثة مذاهب: المذهب الأول: هم المشبهة الذين انطلقوا من أوهام العقول فشبهوه بالمخلوقات.
والقسم الثاني: هم المعطلة الذين نفوا عنه ما أثبته لنفسه من الصفات.
والقسم الثالث: هم أهل الحق الذين لم يشبهوه بخلقه، ولكنهم لم ينفوا عنه ما أثبته لنفسه، فيثبتون ما أثبته لنفسه على مقتضى ما يليق به، وينزهونه عن مشابهة خلقه، فهذه الآية جاءت رداً على الطائفتين المنحرفتين المشبهة والمعطلة، ففيها قول الله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى:11] وهو ردٌ على المشبهة، وقوله: {وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} [الشورى:11] وهو رد على المعطلة، وسنذكر إن شاء الله أن لدينا طائفتين هما طرفان: المشبهة والمعطلة، وأهل الحق في هذا وسط بين الطائفتين.
لكن هناك أيضاً طرفان لأهل الحق: طرف لديه زيادة قليلة في الإثبات، وطرف لدية زيادة قليلة في التنزيه، فلذلك كل واحد من الطرفين يتهم الآخر بانتسابه إلى الطرف الذي يليه، فالذين هم أهل إثبات وعندهم فيه زيادة قليلة يتهمهم من سواهم بأنهم مشبهة، وينسبونهم إلى من ورائهم، والذين لديهم تنزيه زائد أيضاً ينسبهم غيرهم إلى من ورائهم من المعطلة، وهم وسط بين هاتين الطائفتين، وهذا ما سنبينه إن شاء الله، والشيخ احترز من الطائفتين بقوله فيما سبق: (لا ما يقول من لذا أو ذا انتمى زعماً ولم يسر على ما رسما) فلذلك كثير من الأشاعرة ينسبون بعض الحنابلة إلى التشبيه وليسوا مشبهين، لكن نظراً للإثبات الذي فيه زيادة قليلة، وكذلك كثير من الحنابلة ينسبون الأشاعرة إلى التعطيل، وليسوا معطلة في أغلبهم، لكن مقصود ذلك أنهم بالغوا في التنزيه أيضاًَ.
قوله: (فليس مثله علا شيء) (شيء) هي اسم ليس، أي: وليس شيء مثله (علا) أي: تعالى، وفيه إثبات صفة العلو لله سبحانه وتعالى وسنذكرها إن شاء الله تعالى بالتفصيل.
قوله: (ولا يلزم ذا نفي صفاته العلا) أي: نفي التشبيه عنه لا يقتضي نفي صفاته التي أثبتها لنفسه، (ولا يلزم ذا) معناه: إذا نفينا عنه التشبيه، فلا يقتضي ذلك إلزامنا بنفي صفاته التي أثبتها لنفسه، بل نثبت له ما أثبته لنفسه ولا يقتضي ذلك تشبيهاً له بخلقه، لذلك قال:
আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে মানুষের শ্রেণিবিভাগতিনি বলেছেন: (আর তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, তিনি সমুন্নত) এটি হলো সংক্ষিপ্ত নেতিবাচক বর্ণনা যা আল্লাহর এই বাণীতে এসেছে: (তাঁর সদৃশ কিছুই নেই)। এর কারণ হলো, মহান আল্লাহর গুণাবলির বিষয়ে মানুষ তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছে: প্রথম মত: তারা হলো সাদৃশ্যদানকারী (মুসাব্বিহা), যারা বুদ্ধিবৃত্তিক কল্পনার বশবর্তী হয়ে তাঁকে সৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করেছে।
দ্বিতীয় শ্রেণি: তারা হলো গুণ অস্বীকারকারী (মুআত্তিলা), যারা আল্লাহ নিজের জন্য যেসব গুণ সাব্যস্ত করেছেন তা অস্বীকার করেছে।
তৃতীয় শ্রেণি: তারা হলো সত্যপন্থী (আহলে হক), যারা তাঁকে সৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করেননি, আবার আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তাও অস্বীকার করেননি। বরং আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, তাঁর শান অনুযায়ী তারা তা সাব্যস্ত করেন এবং সৃষ্টির সাদৃশ্য থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করেন। অতএব, এই আয়াতটি পথভ্রষ্ট দুই দল—সাদৃশ্যদানকারী ও অস্বীকারকারীদের খণ্ডন হিসেবে এসেছে। এতে মহান আল্লাহর বাণী: {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই} [আশ-শুরা: ১১] হলো সাদৃশ্যদানকারীদের প্রতিবাদ, এবং তাঁর বাণী: {আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [আশ-শুরা: ১১] হলো অস্বীকারকারীদের প্রতিবাদ। আমরা ইনশাআল্লাহ আলোচনা করব যে আমাদের সামনে দুটি চরমপন্থী দল রয়েছে: সাদৃশ্যদানকারী ও অস্বীকারকারী; আর সত্যপন্থীরা এই দুই দলের মাঝে মধ্যপন্থী।
তবে সত্যপন্থীদের মধ্যেও দুটি দিক রয়েছে: একদলের মধ্যে গুণ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সামান্য আধিক্য রয়েছে, আর অন্যদলের মধ্যে পবিত্রতা বর্ণনার (তানজিহ) ক্ষেত্রে সামান্য আধিক্য রয়েছে। এই কারণে উভয় পক্ষই অন্য পক্ষকে তাদের নিকটবর্তী চরমপন্থীদের সাথে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ আনে। যারা গুণ সাব্যস্ত করার পক্ষে এবং তাতে সামান্য আধিক্য রয়েছে, অন্যরা তাদের সাদৃশ্যদানকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে এবং তাদের পেছনের চরমপন্থীদের দিকে নিসবত করে। আবার যাদের মধ্যে পবিত্রতা বর্ণনায় আধিক্য রয়েছে, অন্যরা তাদের অস্বীকারকারীদের (মুআত্তিলা) দিকে নিসবত করে। অথচ তারা এই দুই চরমপন্থী দলের মাঝে মধ্যপন্থী, যা আমরা ইনশাআল্লাহ স্পষ্ট করব। শায়খ ইতিপূর্বে তাঁর বক্তব্যে এই দুই দল থেকে সতর্ক করেছেন এই বলে: (এরা বা ওরা যারা নিজেদের কোনো দলের সাথে সম্পৃক্ত দাবি করে অথচ নির্দেশিত পথে চলেনি, তাদের কথার মতো নয়)। এই কারণেই অনেক আশআরি কিছু হাম্বলিকে সাদৃশ্যদানকারী হিসেবে আখ্যা দেন, যদিও তারা সাদৃশ্যদানকারী নন; বরং গুণ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সামান্য আধিক্যের কারণে এমনটা করা হয়। তেমনিভাবে অনেক হাম্বলি আশআরিদের গুণ অস্বীকারকারী হিসেবে আখ্যা দেন, অথচ তাদের অধিকাংশই অস্বীকারকারী নন; বরং এর উদ্দেশ্য হলো তারা পবিত্রতা বর্ণনার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করেছেন।
তাঁর কথা: (আর তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, তিনি সমুন্নত) এখানে ‘কিছুই’ শব্দটি ‘নেই’ এর বিশেষ্য, অর্থাৎ: কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। ‘সমুন্নত’ অর্থাৎ: তিনি সুউচ্চ। এতে মহান আল্লাহর উচ্চতার গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা আমরা ইনশাআল্লাহ বিস্তারিত আলোচনা করব।
তাঁর কথা: (আর এটি তাঁর মহান গুণাবলি অস্বীকার করাকে আবশ্যক করে না) অর্থাৎ: তাঁর থেকে সাদৃশ্য অস্বীকার করা মানে এই নয় যে, তিনি নিজের জন্য যেসব গুণ সাব্যস্ত করেছেন তাও অস্বীকার করতে হবে। (আর এটি আবশ্যক করে না) এর অর্থ হলো: আমরা যখন তাঁর থেকে সাদৃশ্য অস্বীকার করি, তখন সেটি আমাদের জন্য তাঁর নিজের সাব্যস্ত করা গুণগুলো অস্বীকার করাকে আবশ্যক করে না। বরং তিনি নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন আমরা তা সাব্যস্ত করি, আর এটি তাঁকে সৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করাকে আবশ্যক করে না। এজন্যই তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
ذكر التفصيل لإثبات الإلهية والنبوة في سورة الطورذكرنا التشابه الجسمي، وقد نفي بقوله: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى:11] والثاني: المداناة في المكانة حتى يمكن أن يحصل التزاوج أو نحو ذلك.
والنفي الإجمالي يأتي على حسب أوهام العقول؛ ولذلك فإن التفصيل البليغ في سورة الطور عجيب جداً، ألا تلاحظون أن أول ما يخيل إلى من سمع رسولاً يقرأ كتاباً ويقول: أنا أرسلت من رب العالمين، أن يتخيل أن هذا الكلام الذي يقرؤه إنما هو شعر، أو سحر، أو كهانة على عادة الناس، هذا أول ما يبدأ في العقل، فرد الله هذه الفكرة بقوله: {أَمْ يَقُولُونَ شَاعِرٌ نَتَرَبَّصُ بِهِ رَيْبَ الْمَنُونِ * قُلْ تَرَبَّصُوا فَإِنِّي مَعَكُمْ مِنْ الْمُتَرَبِّصِينَ} [الطور:30-31] أي: فالشعراء يموتون وتنتهي أشعارهم معهم وليست لهم أذكار مستمرة.
بعد هذا يفكرون بهذا الوحي الذي أتاهم فيقولون: هذا الكلام إذا فهمنا أنه ليس مثل كلام البشر، لكن من أين أتى؟ هل هو كلام لا يلفت الانتباه ولا يمكن أن ينتبه له أحد، أو هو كلام أعظم من هذا؟ فلذلك رد الله هذه الفكرة بقوله: {أَمْ تَأْمُرُهُمْ أَحْلامُهُمْ بِهَذَا أَمْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ * أَمْ يَقُولُونَ تَقَوَّلَهُ بَل لا يُؤْمِنُونَ * فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِثْلِهِ} [الطور:32-34] أي: إذا كان هو تقوله من عند نفسه وادعاه، فليس بأبلغ من أن يقول لهم بعدها: (فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِثْلِهِ) .
وهنا عرفنا أن هذا ليس كلاماً من كلام البشر وأنه وحي منزل، لكن من أين أتى؟ هنا يأتي التفكير فيمن أنزله.
فالتفكير فيمن أنزله بدايته التفكير في الخالق، والناس لم يشاهدوا خلق آدم، ولم يشاهدوا خلق السماوات والأرض وإنما رأوا الناس يتكاثرون، وراو المطر ينزل فتنبت الأرض شجراً وييبس وينبت من جديد وهكذا؛ فلذلك يمكن أن يتخيل العقل في هذه اللحظة إنكار الألوهية أصلاً فرد هذه الفكرة بقوله: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمْ الْخَالِقُونَ * أَمْ خَلَقُوا السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ بَل لا يُوقِنُونَ} [الطور:35-36] .
هذه ثلاثة أفكار متسلسلة، بدايتها: (أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ) فنحن قطعاً خلقنا ونحن موجودون ولم نكن ثم كنا، فمن خلقنا؟! هل يمكن أن يكون الإنسان غير موجود ثم يوجد من غير تأثير أي شيء آخر؟ هذا مستحيل؛ لأن من مبادئ العقل أن وجود أثر بلا مؤثر مستحيل، وترجيح بلا مرجح مستحيل.
(أَمْ هُمْ الْخَالِقُونَ) هل خلقوا أنفسهم؟ هذا مستحيل أيضاً لا يقبله عقل، ولا يمكن أن يدعيه وهم، وإذا ادعى بعض الناس أن غلاماً خلقه أبوه، وأن ذلك خلقه أبوه وهكذا بالتسلسل، لكن من خلق هذه السماء وهذه الأرض، وما نراه من الخلق العظيم الذي لا يمكن أن يكون للإنسان فيه تأثير: (أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمْ الْخَالِقُونَ أَمْ خَلَقُوا السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ بَل لا يُوقِنُونَ) .
وبعد أن تثبت الألوهية لله الذي أنزل هذا الكتاب يأتي توهم آخر في العقل، فيقول: لكن لماذا خص هذا الإنسان بهذا الوحي من بين الناس؟ لماذا لم ينزل هذا على كل الناس أو يختار له منهم من هو أشرف في نظرهم منه؟ قال: {أَمْ عِنْدَهُمْ خَزَائِنُ رَبِّكَ أَمْ هُمْ الْمُسَيْطِرُونَ} [الطور:37] فلا يمكن أن يتحكموا في عطاء الله واختياره، وليس لهم ذلك.
وهنا يمكن أن يحصل في الوهم في خيال الإنسان أن الرسالة مكتسبه، وأنه إنما اكتسب ذلك بعمل تقرب به إلى الله حتى ينيله هذه المنزلة والرتبة، فيرد الله على هذا فيقول: {أَمْ لَهُمْ سُلَّمٌ يَسْتَمِعُونَ فِيهِ فَلْيَأْتِ مُسْتَمِعُهُمْ بِسُلْطَانٍ مُبِينٍ} [الطور:38] لو كانت القضية باكتساب وحيلة فإن لكم عقولاً ولكم حيلاً، فلماذا لم تكتسبوها ولم تحصلوا عليها؟! وبعد هذا نصل إلى الكلام على الواسطة التي تنزل هذا الوحي من السماء إلى الأرض؛ لأننا قطعنا النظر عن السلم إلى السماء، ولم ينقل بعد هذا إلا هذا الوحي المنزل من السماء؛ فمن أتى به؟ يأتي الوهم في الملائكة، فهم يزعمون أنهم بنات الله، فرد الله هذه الفكرة فقال: {أَمْ لَهُ الْبَنَاتُ وَلَكُمْ الْبَنُونَ} [الطور:39] ، كيف يكون هو الخالق الذي يهبكم البنيين، ويرزقكم هذه الأعداد الهائلة من الأولاد، ويختار لنفسه بنات فقط؟! هذا مستحيل.
فبطلت هذه الفكرة، ولم يبق إلا قضية العداوة الشخصية والحسد لهذا الرسول الذي اختاره الله، وأنزل عليه الملك بالوحي، فرد هذه الفكرة فقال: {أَمْ تَسْأَلُهُمْ أَجْراً فَهُمْ مِنْ مَغْرَمٍ مُثْقَلُونَ} [الطور:40] فهل لك عليهم مطالبات تطالبهم بها في مقابل الوحي حتى يحسدوك عليها؟! أم أنك لا تسألهم عليه أجراً، وإنما تريد هدايتهم وإيصالهم إلى الحق؛ فلذلك وجدنا أن العقول بتدرج أفكارها يأتي تنزيل الوحي لهدايتها، ورد كل هذا الخبث حتى يذهب جفاء.
সূরা আত-তূরে উলুহিয়াত (উপাস্যত্ব) ও নবুওয়াত প্রমাণের বিস্তারিত আলোচনাআমরা দৈহিক সাদৃশ্যের কথা উল্লেখ করেছি, যা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা নাকচ করা হয়েছে: "তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই" [আশ-শূরা: ১১]। দ্বিতীয়টি হলো: মর্যাদার দিক থেকে এমন নৈকট্য যাতে বিবাহ বা অনুরূপ কিছু ঘটা সম্ভব হয়।
সামগ্রিক অস্বীকৃতি আসে আকল বা বুদ্ধির কল্পনা অনুসারে; তাই সূরা আত-তূরের এই অলঙ্কারপূর্ণ বিস্তারিত বর্ণনা অত্যন্ত বিস্ময়কর। আপনারা কি লক্ষ্য করেন না যে, যে ব্যক্তি কোনো রাসূলকে একটি কিতাব পাঠ করতে শোনে এবং তাঁকে বলতে শোনে যে: "আমি রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে প্রেরিত হয়েছি", তার মনে প্রথম যে ধারণাটি আসে তা হলো—মানুষের অভ্যাস অনুযায়ী সে কল্পনা করে যে, এই কথা যা তিনি পাঠ করছেন তা কবিতা, জাদু অথবা গণকগিরি। এটিই বিবেকের মধ্যে প্রথম উদিত হয়। আল্লাহ তা'আলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে এই ধারণাটি খণ্ডন করেছেন: "নাকি তারা বলে: সে একজন কবি, আমরা তার সম্পর্কে কালের আবর্তনের (মৃত্যুর) প্রতীক্ষা করছি। বলুন: তোমরা প্রতীক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।" [আত-তূর: ৩০-৩১] অর্থাৎ: কবিরা মারা যায় এবং তাদের সাথে তাদের কবিতাও শেষ হয়ে যায় এবং তাদের কোনো নিরবচ্ছিন্ন চর্চা অবশিষ্ট থাকে না।
এরপর তারা তাদের কাছে আসা এই ওহী সম্পর্কে চিন্তা করে এবং বলে: যদি আমরা বুঝতে পারি যে এই কথা মানুষের কথার মতো নয়, তবে তা কোথা থেকে এসেছে? এটি কি এমন কথা যা মনোযোগ আকর্ষণ করে না এবং যার প্রতি কেউ ভ্রুক্ষেপ করবে না, নাকি এটি তার চেয়েও মহান কিছু? তাই আল্লাহ এই ধারণাটিকে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে খণ্ডন করেছেন: "তাদের বুদ্ধি কি তাদের একথার আদেশ দিচ্ছে নাকি তারা এক সীমালঙ্ঘনকারী জাতি? নাকি তারা বলে: সে এটি নিজে বানিয়ে বলছে? বরং তারা ঈমান আনবে না। তারা যদি সত্যবাদী হয় তবে এর মতো কোনো বাণী নিয়ে আসুক।" [আত-তূর: ৩২-৩৪] অর্থাৎ: যদি তিনি এটি নিজের পক্ষ থেকে বানিয়ে বলতেন এবং দাবি করতেন, তবে এর চেয়ে অলঙ্কারপূর্ণ কথা আর কিছু হতে পারে না যখন তিনি তাদের বললেন: "তারা এর মতো কোনো বাণী নিয়ে আসুক।"
এখানে আমরা জানতে পারলাম যে এটি মানুষের কোনো কথা নয় এবং এটি একটি নাযিলকৃত ওহী। কিন্তু এটি কোথা থেকে এসেছে? এখানে যিনি এটি নাযিল করেছেন তাঁর সম্পর্কে চিন্তার অবকাশ আসে।
সুতরাং যিনি এটি নাযিল করেছেন তাঁর সম্পর্কে চিন্তার শুরু হলো স্রষ্টা সম্পর্কে চিন্তা করা। মানুষ আদমের সৃষ্টি দেখেনি, আসমান ও যমীনের সৃষ্টিও দেখেনি; বরং তারা দেখেছে মানুষ বংশবৃদ্ধি করছে, বৃষ্টি বর্ষিত হতে দেখেছে যার ফলে ভূমি থেকে বৃক্ষ জন্মে, তারপর তা শুকিয়ে যায় এবং পুনরায় জন্মায়—এভাবেই চলতে থাকে। তাই বিবেক এই মুহূর্তে মূল উপাস্যত্ব বা উলুহিয়াতকেই অস্বীকার করার কল্পনা করতে পারে। আল্লাহ এই ধারণাটিকে খণ্ডন করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা? নাকি তারা আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না।" [আত-তূর: ৩৫-৩৬]
এগুলো ধারাবাহিকভাবে তিনটি ধারণা, যার শুরু হলো: "তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে?" কেননা আমরা নিশ্চিতভাবে সৃষ্টি হয়েছি এবং আমরা বিদ্যমান রয়েছি; আমরা ছিলাম না, অতঃপর অস্তিত্বে এসেছি। তবে কে আমাদের সৃষ্টি করেছেন?! কোনো মানুষের পক্ষে কি অস্তিত্বহীন থাকা এবং পরে কোনো প্রভাবক ছাড়াই অস্তিত্ব লাভ করা সম্ভব? এটি অসম্ভব; কারণ বুদ্ধির অন্যতম মূলনীতি হলো—প্রভাবক ছাড়া প্রভাব থাকা অসম্ভব এবং নির্ধারক ছাড়া কোনো কিছুর প্রাধান্য পাওয়া অসম্ভব।
"নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?" তারা কি নিজেদের সৃষ্টি করেছে? এটিও অসম্ভব, কোনো বুদ্ধি এটি গ্রহণ করে না এবং কোনো কল্পনাও এটি দাবি করতে পারে না। যদি কিছু মানুষ দাবি করে যে একটি সন্তানকে তার বাবা সৃষ্টি করেছে, আর তাকে তার বাবা সৃষ্টি করেছে—এভাবে ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে; তবে এই আসমান ও যমীন কে সৃষ্টি করেছে? আমরা যে বিশাল সৃষ্টিরাজি দেখছি যাতে মানুষের কোনো প্রভাব থাকা সম্ভব নয়, তা কে সৃষ্টি করেছেন? "তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা? নাকি তারা আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না।"
এই কিতাব নাযিলকারী আল্লাহর জন্য উলুহিয়াত বা উপাস্যত্ব সাব্যস্ত হওয়ার পর বিবেকের মধ্যে অন্য একটি ভ্রান্ত ধারণা আসে। সে বলে: তবে কেন মানুষের মধ্য থেকে এই ব্যক্তিকেই এই ওহীর জন্য নির্দিষ্ট করা হলো? কেন এটি সব মানুষের উপর নাযিল হলো না অথবা কেন তাদের মধ্য থেকে এমন কাউকে বেছে নেওয়া হলো না যিনি তাদের দৃষ্টিতে তাঁর চেয়ে বেশি সম্মানিত? আল্লাহ বলেন: "নাকি তাদের কাছে আপনার রবের ভাণ্ডার রয়েছে? নাকি তারা এর নিয়ন্ত্রক?" [আত-তূর: ৩৭] সুতরাং আল্লাহর দান ও তাঁর মনোনয়নের ওপর তারা কর্তৃত্ব করতে পারে না এবং এটি তাদের অধিকারও নয়।
এখানে মানুষের কল্পনায় এমন ভ্রম হতে পারে যে রিসালাত বা নবুওয়াত হয়তো অর্জনযোগ্য বিষয়, এবং তিনি আল্লাহর ইবাদত বা কর্মের মাধ্যমে এটি অর্জন করেছেন যতক্ষণ না তিনি এই মর্যাদা ও স্তরে পৌঁছেছেন। আল্লাহ এর উত্তরে বলেন: "নাকি তাদের কোনো সিঁড়ি আছে যাতে চড়ে তারা শ্রবণ করে? তবে তাদের শ্রবণকারী সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসুক।" [আত-তূর: ৩৮] বিষয়টি যদি অর্জন ও কৌশলের মাধ্যমে হতো, তবে তোমাদেরও তো বুদ্ধি ও কৌশল আছে, কেন তোমরা তা অর্জন করতে পারলে না এবং কেন তা লাভ করলে না?!
এরপর আমরা সেই মাধ্যম সম্পর্কে আলোচনায় আসি যা আসমান থেকে যমীনে এই ওহী নিয়ে অবতীর্ণ হয়; কারণ আমরা আসমানের দিকে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছি। এরপর আসমান থেকে নাযিলকৃত এই ওহী ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকে না। তবে কে এটি নিয়ে এসেছে? ফেরেশতাদের সম্পর্কে ভ্রম বা ভুল ধারণা তৈরি হয়; তারা দাবি করে যে ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা। আল্লাহ এই ধারণা খণ্ডন করে বলেন: "নাকি তাঁর জন্য রয়েছে কন্যা সন্তান এবং তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান?" [আত-তূর: ৩৯] তিনি কেমন স্রষ্টা যিনি তোমাদের পুত্র সন্তান দান করেন এবং তোমাদের এত বিশাল সংখ্যক সন্তান দিয়ে রিযিক দান করেন, আর নিজের জন্য কেবল কন্যাদের পছন্দ করেন?! এটি অসম্ভব।
সুতরাং এই ধারণাও বাতিল হয়ে গেল। এখন কেবল ব্যক্তিগত শত্রুতা ও হিংসার বিষয়টি অবশিষ্ট থাকে সেই রাসূলের প্রতি যাকে আল্লাহ মনোনীত করেছেন এবং যার ওপর ওহী সহ ফেরেশতা নাযিল করেছেন। আল্লাহ এই ধারণা খণ্ডন করে বলেন: "নাকি আপনি তাদের কাছে কোনো বিনিময় চাইছেন যে তারা ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়ছে?" [আত-তূর: ৪০] ওহীর বিনিময়ে কি তাদের কাছে আপনার এমন কোনো দাবি আছে যার কারণে তারা আপনাকে হিংসা করবে?! নাকি আপনি এর জন্য তাদের কাছে কোনো বিনিময় চান না, বরং কেবল তাদের হিদায়াত ও সত্যের পথে পৌঁছে দিতে চান? তাই আমরা দেখতে পাই যে, বিবেকের চিন্তার পর্যায়ক্রমিক ধারা অনুসারে হিদায়াতের জন্য ওহী নাযিল হয় এবং এই সমস্ত অসারতাকে দূর করে দেয় যাতে তা আবর্জনার মতো নিঃশেষ হয়ে যায়।
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
الكلام على صفتي السمع والبصرٍ
শ্রবণ ও দর্শন গুণদ্বয় সংক্রান্ত আলোচনা
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
أقسام السنة من حيث كونها وحياًوتنقسم السنة إلى ثلاثة أقسام: القسم الأول: أقوال نزلت بلفظها ومعناها من عند الله تعالى، لكنها غير معجزة، وهذه هي الأحاديث القدسية، وهي قطعاً وحي بلفظه ومعناه.
القسم الثاني: أقوال أنزل معناها إلى النبي صلى الله عليه وسلم فعبر عنها بلغته، وهذه هي السنة النبوية غير القدسية.
القسم الثالث: ما تكلم الرسول صلى الله عليه وسلم به بطبيعته البشرية، فهو بشر من الناس يستفهم ويسأل ويجيب، فهذه لا تعتبر وحياً.
إذاً فالسنة ثلاثة أقسام: قسمان من الوحي وقسم ليس وحياً، وإذا نظرنا إلى الآية التي جاء فيها الإطلاق وهي قوله تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنْ الْهَوَى * إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:3-4] فإن (وَمَا يَنْطِقُ عَنْ الْهَوَى) نفي نطقه عن هواه، ولكن ذلك لا يقتضي إثبات أنه ما ينطق إلا عن وحي، فلم يقل: وما ينطق إلا عن وحي، بل ذكر أنه لا ينطق عن الهوى، والهوى هو ميل النفس إلى الشهوات، فكل كلامه صلى الله عليه وسلم لا ينطق به عن هوى، لكن منه ما هو طبيعة بشرية فيه، وهي على أكمل أخلاق البشر وأكمل أوصافهم، فلا تكون مائلةً إلى الهوى، ومنه ما هو وحي منزل إليه من عند الله، ولهذا قال: {إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:4] والمقصود بذلك ما كان تشريعاً ونحوه مما أنزل إليه من عند الله سبحانه وتعالى.
وقد أثبت الله تنزيل السنة بالإطلاق وسماها الحكمة في قوله تعالى: {وَأَنزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيماً} [النساء:113] والمقصود بالحكمة المنزلة إليه السنة.
ওহি হওয়ার দিক থেকে সুন্নাহর প্রকারভেদসুন্নাহ তিন ভাগে বিভক্ত: প্রথম ভাগ: এমন সব বাণী যা শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, কিন্তু সেগুলো মুজিযা (অক্ষমকারী অলৌকিকতা) নয়। এগুলো হলো হাদিসে কুদসি, এবং এগুলো নিশ্চিতভাবে শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকেই ওহি।
দ্বিতীয় ভাগ: এমন সব বাণী যার অর্থ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, অতঃপর তিনি তা নিজের ভাষায় প্রকাশ করেছেন। এগুলো হলো হাদিসে কুদসি ব্যতীত সাধারণ সুন্নাহে নববী।
তৃতীয় ভাগ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মানবিক প্রকৃতির তাগিদে যা বলেছেন। তিনি মানুষের মধ্য থেকে একজন মানুষ ছিলেন, যিনি কোনো বিষয় জানতে চাইতেন, প্রশ্ন করতেন এবং উত্তর দিতেন। এগুলো ওহি হিসেবে গণ্য নয়।
অতএব, সুন্নাহ তিন প্রকার: দুই প্রকার ওহির অন্তর্ভুক্ত এবং এক প্রকার ওহি নয়। আমরা যদি সেই আয়াতের দিকে তাকাই যাতে সাধারণভাবে কথাটি এসেছে, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহি, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়} [নাজম: ৩-৪]। এখানে (তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না) বাক্যটি তাঁর প্রবৃত্তি থেকে কথা বলাকে নাকচ করে, কিন্তু এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে তিনি ওহি ছাড়া আর কিছুই বলেন না। কারণ আল্লাহ এটি বলেননি যে: তিনি ওহি ছাড়া আর কিছুই বলেন না, বরং উল্লেখ করেছেন যে তিনি প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। আর 'হাওয়া' বা প্রবৃত্তি হলো কামনাবাসনার দিকে নফসের ঝোঁক। সুতরাং তাঁর সকল কথার কোনোটিই তিনি প্রবৃত্তি থেকে বলেন না। তবে এর মধ্যে কিছু রয়েছে যা তাঁর মানবিক প্রকৃতির বিষয়, এবং তা মানুষের সর্বোত্তম চরিত্র ও গুণাবলির ওপর প্রতিষ্ঠিত, ফলে তা প্রবৃত্তির দিকে ঝুঁকে থাকে না। আর কিছু রয়েছে যা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অবতীর্ণ ওহি। এ কারণেই আল্লাহ বলেছেন: {এটি তো কেবল ওহি, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়} [নাজম: ৪]। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শরিয়ত সংক্রান্ত বিধিবিধান এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নিকট অবতীর্ণ হয়েছে।
আল্লাহ সুন্নাহ অবতীর্ণ হওয়াকে সাধারণভাবে সাব্যস্ত করেছেন এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না, আর আপনার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান} [নিসা: ১১৩] - এই আয়াতে একে 'হিকমত' (প্রজ্ঞা) বলে অভিহিত করেছেন। এখানে অবতীর্ণ হিকমত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সুন্নাহ।
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
الكلام على صفة العينوأما العين فقد جاء إثباتها صفة لله سبحانه وتعالى، والنص لم يرد فيه التصريح بأنها محل البصر، لكن اقتضاء ذلك وارد، فالعين التي ثبتت في النصوص تقتضي البصر، وتقتضي الإحاطة والإدراك، وتقتضي الرعاية والحفظ، كل ذلك من متعلقات هذه صفة العين.
وقد جاء لفظ العين في مثل قوله: {وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي} [طه:39] وقد جاء في بعض الأحاديث ذكر العينين، وإن كان اللفظ لا يصح فيه حديث واحد بعينه، ولكنه بطرق متعددة يمكن أن يجمع ذلك إلى عينين.
وأما الآية التي فيها: {تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا} [القمر:14] فإن الإمام أحمد رحمه الله تعالى قال: هذا من مجاز اللغة والمقصود بمجاز اللغة أن الضمير (نا) في أصل دلالته يطلق على الجمع، فإذا أضيف إليه تثنية كان هذا من القبيح في الاستعمال، أي: لو قلت (تجري بعينينا) كان هذا قبيحاً في الاستعمال اللغوي، ولهذا يقول الله تعالى: {فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا} [التحريم:4] وهما امرأتان ليس لهما إلا قلبان، لم يقل: (قد صغى قلباكما) وكذلك تقول: قطعت رءوس الكبشين، وليس للكبشين إلا رأسان لكن هذا هو الأفصح في اللغة، ولذلك يقول المختار بن بونا رحمه الله: ورجح الجمع فالإفراد فما ثنوا على الأصح في اثنين هما جزءاً مثنىً خفضا فالأرجح في اللغة الجمع فقالوا: قطعت رءوس الكبشين، (فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا) ثم بعد هذا الإفراد فتقول: قطعت رأس الكبشين، فهي أفصح في اللغة من قولك: قطعت رأسي الكبشين، وإن كانت التثنية واردةً في اللغة مثل قول الشاعر: أتبكي على ليلى ونفسك باعدت فزادك من ليلى وشعباكما معا فما حسن أن تأتي الأمر طائعاً وتجزع أن داعي الصبابة أسمعا شعباكما معاً: ثنى المضاف إلى الاثنين وهو خافض لهما.
وقوله: (المتصف) أبلغ مما لو قال الموصوف؛ لأن الموصوف لا تقتضي إثباتاً للصفة، وإنما تقتضي أنه وصف بذلك، أي: وصفه الواصفون بذلك، لكن (المتصف) تقتضي أنه متصف بذلك فعلاً، وهو أعم أيضاً من قولنا (الموصوف) ؛ لأن الموصوف معناه: ذكر الصفات المعلومة لنا التي وصفه بها الواصفون، أما المتصف فإنه يشمل ما ذكرناه نحن وما لم نذكره من كل أوصاف الكمال، فكل كمال هو ثابت له سواء عرفناه تفصيلاً أو لم نعرفه، وكل نقص فهو منتف عنه سواء عرفنا ذلك أم لم نعرفه، نطقنا بذلك أولم ننطق به، ولذلك قال: (المتصف بما به في نوعي الوحي وصف) .
أي: بما وصف به في نوعي الوحي، ونوعا الوحي هما الكتاب والسنة فكلاهما وحي، فالكتاب لا جرم أنه وحي من عند الله سبحانه وتعالى، والسنة كذلك.
চোখের সিফাত বা গুণাবলী সংক্রান্ত আলোচনাআর চোখের কথা যদি বলি, তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য সিফাত বা গুণ হিসেবে এর সাব্যস্ততা এসেছে। দলীলসমূহে এটি দৃষ্টির আধার হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি, তবে এর দাবি বিদ্যমান রয়েছে। কেননা দলীলসমূহে আল্লাহর যে চোখ সাব্যস্ত হয়েছে, তা দৃষ্টিশক্তি, বেষ্টন ও উপলব্ধি এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও হিফাযত করার দাবি রাখে। এসবই চোখের এই সিফাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি।
‘চোখ’ শব্দটি আল্লাহর এই বাণীর ন্যায় বর্ণিত হয়েছে: {যাতে তুমি আমার চোখের সামনে লালিত-পালিত হও} [ত্বহা: ৩৯]। কিছু হাদীসে ‘দুই চোখ’-এর উল্লেখও এসেছে; যদিও এককভাবে কোনো একটি নির্দিষ্ট হাদীসের শব্দে তা সহীহভাবে প্রমাণিত নয়, তবে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে তা একত্রিত করলে ‘দুই চোখ’ সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি প্রতিভাত হয়।
আর যে আয়াতে বলা হয়েছে: {যা আমার চোখের সামনে চলত} [কামার: ১৪], সে সম্পর্কে ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেন: এটি আরবী ভাষার একটি আলঙ্কারিক প্রয়োগ। এই আলঙ্কারিক প্রয়োগের উদ্দেশ্য হলো— ‘না’ (আমাদের) সর্বনামটি মূলত বহুবচনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এমতাবস্থায় এর সাথে দ্বিবচন যুক্ত করা ভাষাগত ব্যবহারের দিক থেকে অশোভন। অর্থাৎ যদি বলা হতো (তجري بعينينا - আমাদের দুই চোখের সামনে চলে), তবে তা আরবী ভাষার ব্যবহারের দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ হতো। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমাদের উভয়ের অন্তর ঝুঁকে পড়েছে} [তাহরীম: ৪]। এখানে দুইজন মহিলার কথা বলা হয়েছে যাদের কেবল দুটি অন্তরই রয়েছে, অথচ আল্লাহ (قلباكما - তোমাদের দুটি অন্তর) বলেননি। অনুরূপভাবে আপনি বলবেন: ‘আমি দু’টি ভেড়ার মাথাগুলো (বহুবচন) কেটেছি’, যদিও দু’টি ভেড়ার কেবল দু’টি মাথাই থাকে। কিন্তু আরবী ভাষায় এটিই অধিক সাবলীল প্রকাশভঙ্গি। এজন্যই মুখতার ইবনে বুনা (রহ.) বলেন: যখন দু’টি বস্তুর সাথে তাদের অংশবিশেষকে সম্বন্ধ করা হয়, তখন বিশুদ্ধতম মতানুসারে বহুবচন ব্যবহার করাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়, এরপর একবচনকে। সুতরাং আরবী ভাষায় অগ্রগণ্য প্রয়োগ হলো বহুবচন ব্যবহার করা, যেমন তারা বলত: ‘আমি দু’টি ভেড়ার মাথাগুলো কেটেছি’ এবং (তোমাদের উভয়ের অন্তর ঝুঁকে পড়েছে)। এর পরেই একবচনের স্থান, যেমন আপনি বলবেন: ‘আমি দু’টি ভেড়ার মাথা (একবচন) কেটেছি’। এটি আরবী ভাষায় আপনার ‘আমি দু’টি ভেড়ার দুই মাথা কেটেছি’ বলার চেয়ে অধিক সাবলীল, যদিও ভাষায় দ্বিবচনের ব্যবহারও বিদ্যমান রয়েছে। যেমন কবির বক্তব্য: ‘তুমি কি লায়লার জন্য কাঁদছো অথচ তোমার সত্তা দূরে সরে গেছে, ফলে লায়লা ও তোমার পথ তোমাদের উভয়কে একত্রে বৃদ্ধি করে দিয়েছে। তুমি অনুগত হয়ে বিষয়টি মেনে নেওয়া কি ভালো নয়? অথচ অনুরাগের আহ্বানকারী যখন শোনায় তখন তুমি অস্থির হয়ে পড়ো।’ এখানে ‘তোমাদের উভয়ের পথ’ শব্দে দ্বিবচনের দিকে সম্বন্ধকৃত শব্দটি দ্বিবচন হিসেবেই ব্যবহার করা হয়েছে।
আর লেখকের বক্তব্য: ‘মুত্তাসিফ’ (গুণান্বিত) শব্দটি ‘মাওসূফ’ (বর্ণিত) শব্দ অপেক্ষা অধিক অর্থবহ। কারণ ‘মাওসূফ’ বললে গুণের প্রকৃত সাব্যস্ততা আবশ্যক হয় না, বরং কেবল এটুকুই বুঝায় যে কেউ তাঁকে এ গুণে বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ বর্ণনাকারীরা তাঁকে এই গুণের অধিকারী বলেছে। কিন্তু ‘মুত্তাসিফ’ শব্দটি একথাই দাবি করে যে, তিনি প্রকৃতপক্ষে সেই গুণে গুণান্বিত। এছাড়া ‘মাওসূফ’ শব্দের চেয়ে ‘মুত্তাসিফ’ শব্দটি অধিক ব্যাপক; কেননা ‘মাওসূফ’ অর্থ হলো আমাদের জানা সেই গুণগুলোর উল্লেখ যা বর্ণনাকারীরা বর্ণনা করেছেন। পক্ষান্তরে ‘মুত্তাসিফ’ এমন সব পূর্ণতার গুণাবলীকে শামিল করে যা আমরা উল্লেখ করেছি এবং যা আমরা উল্লেখ করিনি। সকল প্রকার পূর্ণতা তাঁর জন্য সাব্যস্ত, চাই আমরা তা বিস্তারিত জানি বা না জানি। আর সকল প্রকার ত্রুটি তাঁর থেকে মুক্ত, চাই আমরা তা জানি বা না জানি এবং আমরা তা উচ্চারণ করি বা না করি। একারণেই তিনি বলেছেন: (ওহীর উভয় প্রকারের মাধ্যমে তিনি যেভাবে গুণান্বিত হয়েছেন)।
অর্থাৎ ওহীর দুই প্রকারে তিনি যেভাবে গুণান্বিত হয়েছেন। আর ওহীর এ দুই প্রকার হলো— কিতাব এবং সুন্নাহ। এ দু’টিই ওহী। সুতরাং কিতাব (কুরআন) যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে ওহী, তাতে কোনো সন্দেহ নেই; আর সুন্নাহর বিষয়টিও অনুরূপ।
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
إثبات صفتي السمع والبصر لله فيه إثبات كمال علمه وإدراكه تعالىٍ [فهو السميع والبصير المتصف بما به في نوعي الوحي وصف] (فهو السميع) معناه: المتصف بصفة السمع، والسميع في اللغة: يطلق على السامع وعلى المسمع، فالسامع الذي لا يفوته شيء يسمى سميعاً، والمسمِع -أي: المنادي- الذي يسمع الناس يسمى سميعاً أيضاً، وذلك أن فعيلاً تستعمل بمعنى فاعل وبمعنى مفعول، فالسميع بمعنى السامع هي الكثيرة في الاستعمال مثل قول الله تعالى: {وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} [الشورى:11] والسميع بمعنى المتكلم المسمع منه قول عمرو بن معدي كرب رضي الله عنه: أمن ريحانة الداعي السميع يؤرقني وأصحابي هجوع أي: الداعي المسمع.
(والبصير) : المتصف بصفة البصر.
وهاتان الصفتان بهما كمال العلم والإدراك، فالسميع يتعلق سمعه بالأصوات، والبصير يتعلق بصره بالمبصرات، وقد ذهب بعض المتكلمين مبالغةً منهم في التنزيه إلى أن سمع الله سبحانه وتعالى يتعلق بالأصوات وبالمحسوسات كلها، وأن بصره كذلك يبصر الذات والمعنى، ولكن هذه المبالغة في التنزيه مبالغة في إثبات مخالفته للحوادث، وفيه يقول أحدهم: وأنت بصير تبصر الذات والمعنى.
لكن هذا لا دليل عليه، وإنما أخذوه من نفي مشابهته لخلقه، فإنه لما كان سمع الحادث يتعلق بالأصوات فقط، وبصره يتعلق بالذوات فقط، أرادوا إثبات المخالفة له، لكن المخالفة لا تقتضي أن تكون من حيث المتعلق فقط، بل المخالفة من حيث مصدر السمع ومصدر البصر ونحو ذلك، فمصدر السمع والبصر بالنسبة للمحسوسات في الإنسان الأذن في السمع والعين في البصر، والله سبحانه وتعالى لا يمكن أن يقاس بخلقه، ولا يمكن أن يشبه بهم، فمجرد إثبات السمع له لا يقتضي إثبات الأذن، وإن كان جاء في الحديث: (وما أذن الله لشيء أذنه إلى قراءة نبي حسنة، أو: إلى نبي حسن الصوت بالقرآن) وسنذكر هذا إن شاء الله تعالى، لكن الأذن هنا بمعنى الاستماع، ولا يقتضي إثبات صفة الأذن.
আল্লাহর শ্রবণ ও দর্শন গুণ সাব্যস্ত করার মধ্যে তাঁর জ্ঞান ও উপলব্ধির পূর্ণতা প্রমাণের বিষয়টি নিহিত রয়েছে [তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, যিনি ঐ সকল গুণে গুণান্বিত যেগুলোর মাধ্যমে ওহীর দুই প্রকারে তাঁর বর্ণনা করা হয়েছে] (তিনিই সর্বশ্রোতা) এর অর্থ হলো: শ্রবণ গুণে গুণান্বিত হওয়া। ভাষাগতভাবে 'সামি' শব্দটি শ্রবণকারী এবং শ্রবণ করান এমন ব্যক্তি—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং এমন শ্রবণকারী যার অগোচরে কোনো কিছুই থাকে না, তাকে 'সামি' বলা হয়। আর যিনি শ্রবণ করান—অর্থাৎ আহ্বানকারী—যিনি মানুষকে শোনান, তাকেও 'সামি' বলা হয়। এর কারণ হলো 'ফাইল' ছন্দটি 'ফায়িল' (কর্তা) এবং 'মাফউল' (কর্ম) উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। শ্রবণকারী অর্থে 'সামি' শব্দের ব্যবহারই অধিক প্রচলিত, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" [সূরা আশ-শূরা: ১১]। আর কথা বলা বা শ্রবণ করানো অর্থে 'সামি' শব্দের উদাহরণ হলো আমর বিন মাদী কারিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি: "রাইহানার পক্ষ থেকে আহ্বানকারী সেই শ্রবণকারী কি আমাকে বিনিদ্র রাখছে, যখন আমার সঙ্গীরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন?" অর্থাৎ: সেই আহ্বানকারী যে শ্রবণ করাচ্ছে।
(সর্বদ্রষ্টা) : দর্শন গুণে গুণান্বিত সত্তা।
এই গুণ দুটির মাধ্যমেই জ্ঞান ও উপলব্ধির পূর্ণতা সাধিত হয়। সুতরাং সর্বশ্রোতার শ্রবণ শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর সর্বদ্রষ্টার দর্শন দৃশ্যমান বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট। কোনো কোনো কালামশাস্ত্রবিদ আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনায় অতিশয়োক্তি করতে গিয়ে এ মত পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার শ্রবণ শব্দ এবং সকল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তাঁর দর্শন একইভাবে সত্তা এবং অর্থ উভয়কেই প্রত্যক্ষ করে। কিন্তু পবিত্রতা বর্ণনার ক্ষেত্রে এই অতিশয়োক্তি মূলত সৃষ্টির সাথে তাঁর ভিন্নতা প্রমাণের ক্ষেত্রে একটি বাড়াবাড়ি। এ বিষয়ে তাদের একজন বলেন: "আর আপনি হলেন এমন সর্বদ্রষ্টা যিনি সত্তা এবং অর্থ উভয়কেই দেখেন।"
কিন্তু এর স্বপক্ষে কোনো দলীল নেই। তারা মূলত সৃষ্টির সাথে তাঁর সাদৃশ্য অস্বীকার করার ভিত্তি থেকে এটি গ্রহণ করেছে। কেননা সৃষ্টির শ্রবণ যেহেতু কেবল শব্দের সাথে এবং তার দর্শন কেবল সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই তারা আল্লাহর ক্ষেত্রে এর ভিন্নতা প্রমাণ করতে চেয়েছেন। কিন্তু এই ভিন্নতা কেবল সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দিক থেকেই হওয়া আবশ্যক নয়, বরং ভিন্নতা হতে পারে শ্রবণের উৎস এবং দর্শনের উৎস ইত্যাদির দিক থেকেও। মানুষের ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়গুলোর জন্য শ্রবণের উৎস হলো কান এবং দর্শনের উৎস হলো চোখ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করা চলে না এবং তাদের সাথে সদৃশ করাও সম্ভব নয়। সুতরাং কেবল তাঁর শ্রবণ গুণটি সাব্যস্ত করার অর্থ এই নয় যে, এর মাধ্যমে আল্লাহর কান সাব্যস্ত করা হচ্ছে; যদিও হাদীসে এসেছে: "আল্লাহ কোনো জিনিসের প্রতি তেমন কান দেন না, যেমনটি তিনি একজন নবীর সুন্দর তিলাওয়াতের প্রতি কান দেন।" ইনশাআল্লাহ আমরা সামনে এটি আলোচনা করব। তবে এখানে কান দেওয়া বলতে মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা বোঝানো হয়েছে, যা আল্লাহর কানের গুণ সাব্যস্ত করাকে আবশ্যক করে না।
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أقسام ما وصف الله به نفسه في الكتاب والسنة وكيف نتعامل معهقال: [يمر ما في وصفه جاء من الـ ـوحي كما يفهم من فيهم نزل] ما جاء في الكتاب والسنة مما وصف به ربنا جل وعلا، ينقسم إلى ثلاثة أقسام:
কুরআন ও সুন্নাহতে আল্লাহ তাআলা নিজের যে সকল গুণাবলি বর্ণনা করেছেন তার প্রকারভেদ এবং এগুলোর সাথে আমাদের আচরণের পদ্ধতিতিনি বলেন: [ওহির মাধ্যমে তাঁর যে সকল গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে, তা সেভাবেই গ্রহণ করা হবে যেভাবে তা যাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তারা বুঝেছিলেন।] আমাদের মহান ও পরাক্রমশালী প্রতিপালক কুরআন ও সুন্নাহতে নিজের যে সকল গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তা তিন ভাগে বিভক্ত:
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
إشكالية ترجمة بعض نصوص الصفات وغيرهاوهنا إشكال آخر وهو من ناحية الترجمة، إذا ترجمت بأية لغة أخرى، هل تتركها كما هي باللفظ العربي أو تفسرها بمعنى مقابل لها في تلك اللغة؟ هذا محل محير من الناحية الفقهية، فمن العلماء من قال: تفسرها باللفظ المطابق لها في تلك اللغة، لكن هذا يعترض عليه بأن الدلالات اللغوية في كل لغة متباينة؛ لأن اللفظ الواحد قد تتعدد دلالاته من لغة إلى لغة، ويطلق على أشياء بالحقيقة وأشياء بالمجاز، وبالأخص في اللغات غير الراتبة، والعربية لغة راتبة، قليلة التغير في الدلالة، ومن هنا فإن أي طفل عربي لو أنشدته الآن: قفا نبك من ذكرى حبيب ومنزل لأمكن أن يشرح لك هذه الكلمات، ولو سألت أي طفل إنجليزي عن معنى بيت لـ شكسبير أو أي واحد من الشعراء في القرن الماضي لما عرف منه كلمة واحدة؛ لأن اللغة تتغير دلالاتها وتختلف.
ومن هنا ففي مقام الترجمة، رأينا بعض الترجمات للقرآن تجرأ أصحابها على الله سبحانه وتعالى، وكانت تراجمهم عجيبة جداً، فأحدهم يترجم قول الله تعالى: {وَلا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْط} [الإسراء:29] فيقول: لا تعقد يدك مع رقبتك ولا تمدها مداً شديداً حتى تنقلع! وهذا مناف لمعنى الآية تماماً، وآخر يفسر قول الله تعالى: {وَتَرى الْمَلائِكَةَ حَافِّينَ مِنْ حَوْلِ الْعَرْشِ} [الزمر:75] قرأها بالتخفيف وظن أنها حافين، فقال: أي: بدون نعال!!
সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত কিছু নসের পাঠ ও অন্যান্য বিষয়ের অনুবাদের সমস্যাবলিএখানে অনুবাদের দিক থেকে আরেকটি সমস্যা রয়েছে, আর তা হলো—যদি অন্য কোনো ভাষায় অনুবাদ করা হয়, তবে কি আপনি শব্দটিকে আরবি শব্দের অবয়বেই রেখে দেবেন নাকি সেই ভাষায় এর সমার্থক কোনো অর্থ দ্বারা ব্যাখ্যা করবেন? ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি বিভ্রান্তিকর ক্ষেত্র। আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: আপনি সেই ভাষার সমার্থক শব্দ দিয়ে তা ব্যাখ্যা করবেন। কিন্তু এর বিপরীতে আপত্তি তোলা হয় যে, প্রতিটি ভাষার ভাষাগত ব্যঞ্জনা বা অর্থবোধকতা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে; কারণ একটি নির্দিষ্ট শব্দের অর্থ এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় ভিন্ন হতে পারে এবং তা প্রকৃত ও রূপক উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে অস্থিতিশীল ভাষাগুলোর ক্ষেত্রে এটি বেশি ঘটে, অথচ আরবি একটি সুসংগত ও স্থিতিশীল ভাষা, যার অর্থের পরিবর্তন খুব সামান্য। এ কারণেই কোনো আরবি শিশুকে যদি আপনি এখন আবৃত্তি করে শোনান: "থামো, আমরা প্রিয়জন ও গৃহের স্মৃতিতে ক্রন্দন করি", তবে সে আপনার কাছে এই শব্দগুলোর ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হবে। কিন্তু আপনি যদি কোনো ইংরেজ শিশুকে শেক্সপিয়রের কোনো পঙ্ক্তির অর্থ বা গত শতাব্দীর কোনো কবির কবিতার কথা জিজ্ঞাসা করেন, তবে সে তার একটি শব্দও বুঝতে পারবে না; কারণ ভাষার অর্থের পরিবর্তন ঘটে ও তা ভিন্নতর হয়।
আর এ কারণেই অনুবাদের ক্ষেত্রে আমরা কুরআনের এমন কিছু অনুবাদ দেখেছি যেখানে অনুবাদকগণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার শানে ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন এবং তাদের অনুবাদগুলো ছিল অত্যন্ত অদ্ভুত। তাদের মধ্যে একজন আল্লাহ তায়ালার বাণী: "আর তুমি তোমার হাত তোমার ঘাড়ের সাথে আবদ্ধ করে রেখো না এবং তা পুরোপুরি প্রসারিত করো না" [আল-ইসরা: ২৯]-এর অনুবাদ করতে গিয়ে বলেন: তোমার হাত তোমার ঘাড়ের সাথে গিঁট দিয়ে বেঁধে রেখো না এবং একে এমন জোরে প্রসারিত করো না যাতে তা উপড়ে যায়! এটি আয়াতের অর্থের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আবার অন্য একজন আল্লাহ তায়ালার বাণী: "আর আপনি ফেরেশতাদের দেখবেন তারা আরশের চারপাশ ঘিরে আছে" [আয-যুমার: ৭৫]-এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শব্দটিকে লঘু উচ্চারণে পড়েছেন এবং মনে করেছেন এটি 'হাফীন' (খালি পা), ফলে তিনি বলেছেন: অর্থাৎ: জুতা পরিধান করা ব্যতীত!!
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ما لا يختلف في كونه صفة لله تعالىالقسم الأول: ما يتضح أنه صفة لله سبحانه وتعالى، فهذا لا يختلف فيه اثنان، وهو مثل العلم والحياة والإرادة والقدرة والسمع والبصر والتكلم، فهذه الصفات لا يختلف اثنان في أنها صفات من صفات الله، ومثلها: الغنى، والكرم، والسخاء، العظمة، والجلال، والجبروت، والكبرياء، والقهر، فهذه صفات لا يختلف فيها اثنان.
আল্লাহ তাআলার সিফাত বা গুণ হওয়ার বিষয়ে যাতে কোনো দ্বিমত নেইপ্রথম প্রকার: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সিফাত হওয়া যা সুস্পষ্ট, সে বিষয়ে দু'জন ব্যক্তির মধ্যেও কোনো দ্বিমত নেই। আর তা হলো যেমন—জ্ঞান, জীবন, ইচ্ছা, ক্ষমতা, শ্রবণ, দর্শন ও কথা বলা; এই সিফাতগুলো আল্লাহর অন্যতম সিফাত হওয়ার ব্যাপারে দু'জন ব্যক্তির মধ্যেও কোনো মতভেদ নেই। অনুরূপভাবে—অমুখাপেক্ষিতা, মহানুভবতা, দানশীলতা, মহিমা, মহত্ত্ব, প্রতাপ, শ্রেষ্ঠত্ব ও পরাক্রম; এগুলো এমন সব সিফাত যে বিষয়ে দু'জন ব্যক্তির মধ্যেও কোনো দ্বিমত নেই।
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
صفات الأفعالالقسم الثاني: ما هو أفعال، لكن تلك الأفعال تدل على صفات، وتلك الصفات هي منشأ الفعل؛ لأن الفعل له طرفان: فعل وانفعال، فالفعل هو الصادر من الله سبحانه وتعالى، والانفعال هو الطرف الذي لدى المخلوق، فالخلق مثلاً: الله تعالى هو الخالق وأنت المخلوق، فالصفة من عند الله، والمخلوق خلق من عند الله وهو خالقه، لكن الخلق تعلق بذات المخلوق فأصبح مخلوقاً، ومن هنا فهذا النوع لا يطلق عليه صفة بإطلاق، وإنما يسمى: صفات الأفعال، كالخلق، والإحياء، والإماتة، والرزق، وتنزيل المطر، ونحو ذلك من الأفعال التي لها انفعالات تتبدى في المخلوق؛ لأنها لو كانت صفة محضة لما فارقت موصوفها، فلو كان الخلق صفة محضة في الله سبحانه وتعالى والصفة لا تفارق موصوفها؛ لما كنت أنت مخلوقاً، فالمخلوق منفعل للصفة، أي: أن الصفة تعلقت به، ومثل هذا: الغضب والرضا والرحمة، فكل هذه الصفات ذات طرفين، فعل وانفعال، فالفعل إلى الله والانفعال إلى المخلوق.
কর্মগত গুণাবলিদ্বিতীয় প্রকার: যা হলো কর্মসমূহ, তবে সেই কর্মগুলো গুণাবলির পরিচায়ক এবং সেই গুণাবলিই হলো কর্মের উৎস; কেননা কর্মের দুটি দিক রয়েছে: সম্পাদন এবং ফলশ্রুতি। সম্পাদন হলো যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়, আর ফলশ্রুতি হলো সেই দিক যা সৃষ্টির মাঝে বিদ্যমান থাকে। উদাহরণস্বরূপ সৃষ্টি করা: আল্লাহ তাআলা হলেন স্রষ্টা আর আপনি হলেন সৃষ্টি; সুতরাং গুণটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং সৃষ্টি আল্লাহর পক্ষ থেকে অস্তিত্ব লাভ করেছে আর তিনি তার স্রষ্টা। কিন্তু সৃষ্টি যখন সৃষ্টির সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট হলো তখন তা সৃষ্টি হিসেবে পরিগণিত হলো। আর এখান থেকেই এই প্রকারকে নিরঙ্কুশভাবে গুণ বলা হয় না, বরং একে বলা হয়: কর্মগত গুণাবলি, যেমন: সৃষ্টি করা, জীবন দান করা, মৃত্যু দান করা, জীবিকা দান করা, বৃষ্টি বর্ষণ করা এবং এই জাতীয় কর্মসমূহ যেগুলোর ফলশ্রুতি সৃষ্টির মাঝে পরিলক্ষিত হয়। কারণ এগুলো যদি নিছক সত্তাগত গুণ হতো তবে তা গুণান্বিত সত্তা থেকে পৃথক হতো না। সুতরাং সৃষ্টি করা যদি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার একটি নিছক গুণ হতো এবং গুণ যদি গুণান্বিত সত্তা থেকে পৃথক না হতো, তবে আপনি সৃষ্টি হিসেবে অস্তিত্ব লাভ করতেন না। অতএব সৃষ্টি হলো গুণের প্রভাবাধীন বা ফলশ্রুতি, অর্থাৎ গুণটি তার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে। আর এরই অনুরূপ হলো: ক্রোধ, সন্তুষ্টি এবং দয়া; এই সকল গুণেরই দুটি দিক রয়েছে: সম্পাদন এবং ফলশ্রুতি। সুতরাং সম্পাদন আল্লাহর দিকে সম্পর্কিত এবং ফলশ্রুতি সৃষ্টির দিকে সম্পর্কিত।
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ما لا يتعين كونه صفة ولا فعلاً مما وصف الله به نفسهالقسم الثالث: ما لا يتعين في الأصل كونه صفة ولا كونه فعلاً، وهو مثل الوجه، والعين، واليدين، والقدم، والساق، والأصابع، ونحو ذلك.
فهذه الأمور لا تفهم -من أصل اللغة العربية- معنى الصفة فيها، ولا يفهم معنى الفعل فيها، لكن مع ذلك إذا نظرنا إلى أنه منطلق للفعل فيمكن أن يعتبر صفةً، كاليد مثلاً فإن بها الكتابة، كتب الله التوراة بيمينه لموسى، وخلق آدم بيمينه، فهذا يقتضي أن اليد وأن اليمين صفة من هذا النوع، فاليد صفة لله، وآدم هو المخلوق باليد، فتعلقت به اليد والتوراة مكتوبة باليد فتعلقت بها اليد.
وهذا النوع قد أشكل على كثير من الناس، وهو سبب الخوض في باب الأسماء والصفات كما سنذكره، فأصل الخوض في الأسماء والصفات هو هذا النوع، والصحابة رضوان الله عليهم لم يسألوا عنه، ولم يستشكلوا شيئاً منه، وكذلك التابعون، وأول ما ظهر الإشكال فيه في أيام أتباع التابعين، فسئل عنه عدد من أئمة الهدى ومنهم: مالك بن أنس، والأوزاعي، وسفيان الثوري، وسفيان بن عيينة، ويزيد بن هارون، وعبد الملك بن صبيح، وهشيم بن بشير الواسطي، والليث بن سعد؛ فاتفق جوابهم وقالوا: (اقرءوها وأمروها) وفي رواية: (أمروها كما جاءت) ، وروى هذا عنهم: الوليد بن مسلم، وقال بعضهم: (قراءتها تفسيرها) فليس لها تفسير، ولا يمكن أن تفسر بكلام الحادث، وإنما تفسيرها قراءتها، فتقرأ وتترك كما أنزلت في الوحي ولا يتعدى بها ذلك.
ولهذا قال فيها أحمد بن حنبل: (لا كيف ولا معنى) وقوله: (لا معنى) معناه: لا تفسير، أي: لا تفسرها بأي شيء، فلو سألك سائل عن معنى الوجه أو العين أو اليد، فلا تفسرها بأي لفظ من الألفاظ؛ لأنه لم يرد ذلك في الوحي، ولا نطق به رسولنا صلى الله عليه وسلم، ولا نطق به أحد من أصحابه، ولا أحد من أتباعهم، والذين سئلوا عن ذلك من أتباع التابعين قالوا هذا، ولهذا تجدون كتب التفسير مع أنها تفسر الألفاظ المختلفة في القرآن، وكثير من الألفاظ يعتنون بتفسيرها باللغة وما جاء فيها، أما هذه الألفاظ فإنه لا يفسرها أهل السنة، وإنما يشتغل بتفسيرها المتأولون الذين يؤولونها من المتكلمين والمعتزلة، لكن أهل السنة ليس لهم تفسير لها، فإنما يقرءونها ويمرونها فيقولون: نعم، صدق الله، وما وصف به نفسه فهو حق، ونحن نؤمن بها على مراد الله، ولا نتعب أنفسنا في تفسيرها، وإذا كنا من أهل العربية الناطقين بها فنعرف معنى اليد في اللغة، ومعنى العين في اللغة، ومعنى الوجه في اللغة، لكن لا نتكلف أن نبين ذلك لمن سوانا.
আল্লাহ নিজের জন্য যে সকল গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, যার প্রকৃত রূপ গুণ নাকি কাজ হিসেবে নির্ধারিত নয়তৃতীয় বিভাগ: যা মূলত গুণ হিসেবেও নির্ধারিত নয়, আবার কাজ হিসেবেও নির্ধারিত নয়। এটি যেমন: চেহারা, চোখ, দুই হাত, পা, নলা, আঙুল এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি।
আরবি ভাষার মূল ভিত্তি অনুযায়ী এই বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে গুণের অর্থ বোঝা যায় না, আবার কাজের অর্থও বোঝা যায় না। তবে তা সত্ত্বেও আমরা যদি একে কাজের উৎস হিসেবে দেখি, তবে একে একটি গুণ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। যেমন: হাত, কারণ এর মাধ্যমেই লেখা সম্পন্ন হয়। আল্লাহ মূসার জন্য তাঁর ডান হাত দিয়ে তাওরাত লিখেছিলেন এবং তাঁর ডান হাত দিয়ে আদমকে সৃষ্টি করেছিলেন। এটি দাবি করে যে, হাত এবং ডান হাত হলো এই প্রকারের গুণ। সুতরাং হাত আল্লাহর জন্য একটি গুণ, আর আদম হলেন সেই সৃষ্টি যাকে আল্লাহর হাত দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে, ফলে হাতের সাথে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে; এবং তাওরাত হাত দিয়ে লেখা হয়েছে, ফলে হাতের সাথে তাওরাতের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
আর এই প্রকারটি অনেক মানুষের নিকট জটিল ঠেকেছে এবং এটিই নাম ও গুণাবলির অধ্যায়ে অনধিকার চর্চার কারণ হয়েছে, যা আমরা উল্লেখ করব। নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে অনধিকার চর্চার মূল কারণ হলো এই প্রকারটি। সাহাবীগণ এই বিষয়ে প্রশ্ন করেননি এবং তাঁরা এর কোনো কিছুই জটিল মনে করেননি। অনুরূপভাবে তাবিঈগণও প্রশ্ন করেননি। এই বিষয়ে প্রথম জটিলতা দেখা দেয় তাবি-তাবিঈদের যুগে। তখন হিদায়াতের ইমামদের অনেককে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: মালিক বিন আনাস, আওযাঈ, সুফিয়ান সাওরী, সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ, ইয়াযিদ বিন হারুন, আব্দুল মালিক বিন সাবিহ, হুশাইম বিন বাশির আল-ওয়াসিতি এবং লাইস বিন সাদ। তাঁদের উত্তর ছিল অভিন্ন এবং তাঁরা বলেছেন: (তোমরা এগুলো পাঠ করো এবং যেভাবে এসেছে সেভাবেই রেখে দাও)। অন্য বর্ণনায় এসেছে: (যেভাবে এসেছে সেভাবেই এগুলোকে অতিবাহিত হতে দাও)। তাঁদের পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ বিন মুসলিম। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: (এগুলোর পাঠ করাই হলো এগুলোর ব্যাখ্যা)। সুতরাং এগুলোর কোনো ব্যাখ্যা নেই এবং নশ্বর জগতের কোনো কথা দিয়ে এর ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। বরং এর ব্যাখ্যা হলো কেবল এটি পাঠ করা। সুতরাং যেভাবে ওহীর মধ্যে অবতীর্ণ হয়েছে সেভাবেই তা পাঠ করা হবে এবং রেখে দেওয়া হবে এবং এর বাইরে যাওয়া হবে না।
এই কারণেই আহমাদ বিন হাম্বল এই বিষয়ে বলেছেন: (ধরণও বর্ণনা করা যাবে না এবং কোনো অর্থও করা যাবে না)। তাঁর কথা "কোনো অর্থ নেই" এর অর্থ হলো: কোনো ব্যাখ্যা নেই। অর্থাৎ এর কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করবেন না। যদি কোনো প্রশ্নকারী আপনাকে আল্লাহর চেহারা, চোখ বা হাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তবে আপনি কোনো শব্দের মাধ্যমেই এর ব্যাখ্যা দেবেন না; কারণ ওহীর মধ্যে তা বর্ণিত হয়নি, আমাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা উচ্চারণ করেননি, তাঁর কোনো সাহাবীও তা বলেননি এবং তাঁদের অনুসারীদের মধ্য থেকেও কেউ তা বলেননি। তাবি-তাবিঈদের মধ্যে যাঁদেরকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁরাও একথাই বলেছেন। এই কারণেই আপনারা তাফসীরের কিতাবগুলোতে দেখতে পাবেন যে, যদিও সেখানে কুরআনের বিভিন্ন শব্দের ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং অনেক শব্দের আভিধানিক অর্থ ও প্রয়োগ বর্ণনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এই শব্দগুলোর ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করেন না। বরং এই শব্দগুলোর ব্যাখ্যায় কেবল সেই সকল অপব্যাখ্যাকারী লিপ্ত হয় যারা কালামশাস্ত্রবিদ এবং মুতাযিলাদের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু আহলুস সুন্নাহর কাছে এগুলোর কোনো ব্যাখ্যা নেই। তাঁরা কেবল এগুলো পাঠ করেন এবং সেভাবেই অতিবাহিত হতে দেন এবং বলেন: হ্যাঁ, আল্লাহ সত্য বলেছেন এবং তিনি নিজের যে গুণ বর্ণনা করেছেন তা ধ্রুব সত্য; আমরা আল্লাহর ইচ্ছার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করি এবং এর ব্যাখ্যার পেছনে নিজেদের ক্লান্ত করি না। আর যেহেতু আমরা আরবি ভাষাভাষী, তাই আমরা অভিধানে হাতের অর্থ জানি, অভিধানে চোখের অর্থ জানি এবং অভিধানে চেহারার অর্থ জানি, কিন্তু আমাদের ছাড়া অন্যদের কাছে তা ব্যাখ্যা করার অনর্থক কষ্ট আমরা করি না।
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بيان منهج السلف في فهم الصفات الخبرية
সিফাতে খবরিয়া (সংবাদ-নির্ভর গুণাবলি) অনুধাবনে সালাফদের মানহাজের বর্ণনা
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
منهج الصحابة في الصفات هو الإمرار والإقراروقوله: (كما يفهم من فيهم نزل) معناه: كما فهمه من نزل فيهم الوحي، وهم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، والتابعون الذين عاصروهم من المخضرمين، فإنهم فهموا هذه النصوص ولم يستشكلوا شيئاً منها، ولم يفهموا فيها تشبيهاً، ولم يفهموا أنها ألغاز، ولم يفهموا أنها لا معنى لها، بل فهموها وسلموا لها وانتهى الأمر عندهم، والشيخ في منظومة أخرى يقول: الظاهر الذي عليه نبقي موهم تشبيه لرب الخلق هو الذي أهل اللسان فهموا إذ نزل الوحي به عليهم فلا أبو بكر لخير الرسل يقول أشكل علي اشرحه لي ولا أبو جهل يقول اختلفا أثبت ما من التماثل نفى حين أنزلت هذه الآية: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} [الشورى:11] لا أبو بكر استشكل هذا وقال: كيف يكون مخالفاً للحوادث وهو مع ذلك السميع البصير، فأثبت له الصفات ولكن نفيت مشابهته للخلق مع أن هذه الصفات موجودة في الخلق؟ لم يستشكل أبو بكر هذا.
ولا أبو جهل أيضاً يلتمس فيه تناقضاً مع أنه يبحث عن أي تناقض: وهذا اللفظ الظاهر هو من الألفاظ التي يستفصل فيها، كما قال شيخ الإسلام ابن تيمية: الظاهر ظاهران: ظاهر هو الذي يفهمه أهل اللغة وقت نزول الوحي، وهذا هو الذي تقر عليه الصفات ويؤمن بها على حسبه، وظاهر هو الذي يفهمه من ليس من أهل اللغة بقياسه على المخلوق، وهذا قطعاً ممنوع، وكلاهما يتكلم فيه بعض العلماء، فيظن الناس أنهم على خلاف وعلى طرفي نقيض، والواقع خلاف ذلك، فمثلاً إذا قال المقري وهو من الأشاعرة: واللفظ إن أوهم غير اللائق بالله كالتشبيه بالخلائق فاصرفه عن ظاهره إجماعاً واقطع عن الممتنع الأطماعا فإنما يقصد الظاهر الذي يفهمه الإنسان تشبيهاً، ولذلك لم يقل: إن الألفاظ تقتضي هذا، وإنما قال: (واللفظ إن أوهم) فقط (فاصرفه عن ظاهره إجماعا) ، وهذا لا خلاف فيه بين العلماء.
والآخرون الذين يقولون: تقر النصوص على ظاهرها، مقصودهم بذلك معناها الذي فهمه أبو بكر وقت نزولها، وفهمه الصحابة وقت نزولها، وفهمه التابعون ولم يستشكلوا منها شيئاً، وهو الذي يفهمه أهل اللغة بسليقتهم.
وهذان المعنيان استوعبهما الشيخ في قوله بعد الأبيات التي ذكرناها عنه: وهو الذي في قول باب المرتضى سيف الهدى العضب الحسام المنتضى ما أوهم التشبيه في آيات وفي أحاديث عن الثقات فهو صفات وصف الرحمن بها وواجب بها الإيمان ثم على ظاهرها نبقيها ونحذر التأويل والتشبيها قال بذا الثلاثة القرون والخير باتباعهم مقرون وهو الذي فصّله القرآن والسنن الصحاح والحسان وكم رآه من إمام مرتضى من الخلاء في بني أولي الرضا ومن أجاز منهم التأويلا لم ينكروا ذا المذهب الأصيلا والحق أن من أصاب واحدْ لا سيما إن كان في العقائدْ ووافق النص وإجماع السلف فكيف لا يتْبع هذا من عرف فمن تأول فقد تكلفل وغير ما له به علم قفا وفي الذي هرب منه قد وقع وبعضهم عن قوله به رجع يقصد به الأشعري رحمه الله: حتى حكى في منعه الإجماعا وجعل اجتنابه اتباعا وقد نماه بعض أهل العلم من الأكابر لحزب جهم يقصد الإمام أحمد رحمه الله: فاشدد يديك أيها الموفق على الذي سمعته من الحق وظاهر فصرفه عنه يجب وهو الذي يفهمه من قد حُجب فهو يسير في الظلام الدامس رهن موانِ الفتنة الطوامس وهو الذي يقول فيه المقري المغربي المالكي الأشعري واللفظ إن أوهم غير اللائق بالله كالتشبيه بالخلائق فاصرفه عن ظاهره إجماعا واقطع عن الممتنع الأطماع وقول المقري هنا: (فاصرفه عن ظاهره) كان الأولى أن يقول: فاصرفه عن موهمه، أي: عن الذي يتوهمه به المشبه فقط.
قال: (كما يفهم من فيهم نزل) أي: من نزل الوحي فيهم، ولم يقل (من نزل عليهم) ؛ لأن الوحي لم ينزل إلا على محمد صلى الله عليه وسلم وحده، والصحابة لم ينزل عليهم الوحي، لكن نزل فيهم.
গুণের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরামের মানহাজ হলো তা যেমন আছে তেমন রাখা এবং সাব্যস্ত করাতাঁর উক্তি: (যেমনটি বুঝেছেন তারা যাদের মাঝে এটি অবতীর্ণ হয়েছে) এর অর্থ হলো: ওহি যাদের মাঝে অবতীর্ণ হয়েছে তারা যেভাবে এটি বুঝেছেন, আর তারা হলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবায়ে কিরাম এবং তাদের সমসাময়িক মুখাদরামুন তাবেয়িগণ। কেননা তাঁরা এই নসসমূহ (মূল পাঠ) বুঝেছিলেন এবং সেগুলোর কোনো কিছু নিয়ে সংশয়ে পড়েননি। তাঁরা এগুলোর মধ্যে কোনো সাদৃশ্য (তাশবিহ) খুঁজে পাননি, এগুলোকে কোনো ধাঁধাঁ হিসেবেও মনে করেননি, আবার এগুলো অর্থহীন বলেও মনে করেননি। বরং তাঁরা এগুলো বুঝেছিলেন, এগুলোর প্রতি আত্মসমর্পণ করেছিলেন এবং সেখানেই বিষয়টি সমাপ্ত হয়েছিল। শায়খ অন্য একটি কবিতায় বলেছেন: সেই জাহির (প্রকাশ্য অর্থ) যার ওপর আমরা অটল থাকি, যা সৃষ্টির রবের জন্য সাদৃশ্যের উদ্রেককারী মনে হয়, তা-ই হলো যা ভাষাভাষী লোকেরা বুঝেছিলেন যখন তাদের মাঝে ওহি নাজিল হয়েছিল। না আবু বকর শ্রেষ্ঠ রাসুলের কাছে এসে বলেছিলেন যে, এটি আমার কাছে অস্পষ্ট লাগছে, আমাকে তা ব্যাখ্যা করে দিন; আর না আবু জাহল বলেছিল যে, এখানে বৈপরীত্য রয়েছে—যাতে সাদৃশ্য অস্বীকারকারী বিষয়গুলো সাব্যস্ত করা যায়। যখন এই আয়াতটি নাজিল হলো: {তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [শুরা: ১১], তখন আবু বকর কোনো সংশয় প্রকাশ করেননি এবং বলেননি: তিনি কীভাবে সৃষ্টির বিপরীত হতে পারেন অথচ তিনি একইসাথে সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা? অর্থাৎ তাঁর জন্য গুণাবলি সাব্যস্ত করা হয়েছে, অথচ সৃষ্টির সাথে তাঁর সাদৃশ্য অস্বীকার করা হয়েছে, যদিও এই গুণগুলো সৃষ্টির মাঝেও বিদ্যমান? আবু বকর এ নিয়ে কোনো সংশয় প্রকাশ করেননি।
আবু জাহলও এতে কোনো বৈপরীত্য খুঁজেনি, যদিও সে কোনো না কোনো বৈপরীত্য খোঁজার চেষ্টায় লিপ্ত থাকত। আর এই ‘জাহির’ বা প্রকাশ্য শব্দটি এমন শব্দগুলোর অন্তর্ভুক্ত যেটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রয়োজন, যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: জাহির বা প্রকাশ্য অর্থ দুই ধরনের: একটি জাহির হলো যা ওহি নাজিলের সময় ভাষাভাষী লোকেরা বুঝেছেন; এটিই সেই অর্থ যার ওপর গুণাবলিকে বহাল রাখা হয় এবং সে অনুযায়ী ঈমান আনা হয়। আর অন্য জাহির হলো যা ভাষাভাষী নয় এমন ব্যক্তিরা মাখলুকের সাথে তুলনা করে বুঝে থাকে; এটি নিশ্চিতভাবেই নিষিদ্ধ। উলামায়ে কিরামের মধ্যে কেউ কেউ এই উভয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, ফলে মানুষ মনে করে যে তাঁরা মতবিরোধ করছেন এবং তাঁরা পরস্পরের সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছেন। কিন্তু বাস্তবতা এর বিপরীত। উদাহরণস্বরূপ, আল-মাক্বরী (যিনি একজন আশআরি) যখন বলেন: "যদি কোনো শব্দ আল্লাহর শানে বেমানান কোনো কিছুর ইঙ্গিত দেয়, যেমন সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য, তবে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে তার জাহির বা প্রকাশ্য অর্থ থেকে সরিয়ে দাও এবং অসম্ভব বিষয় থেকে প্রত্যাশা ছিন্ন করো।" তখন তিনি কেবল সেই জাহির বা প্রকাশ্য অর্থটিই উদ্দেশ্য করেন যা মানুষ সাদৃশ্য হিসেবে বুঝে থাকে। একারণেই তিনি বলেননি যে শব্দগুলো এটি দাবি করে, বরং তিনি বলেছেন: "শব্দটি যদি উদ্রেক করে" (فاصرفه عن ظاهره إجماعا), আর এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
আর অন্য যারা বলেন: নসসমূহকে তাদের জাহির বা প্রকাশ্য অর্থের ওপর বহাল রাখা হবে, তাদের উদ্দেশ্য হলো সেই অর্থ যা ওহি নাজিলের সময় আবু বকর বুঝেছিলেন, সাহাবায়ে কিরাম বুঝেছিলেন এবং তাবেয়িগণ বুঝেছিলেন, এবং তাঁরা এ নিয়ে কোনো সংশয় প্রকাশ করেননি; আর এটিই সেই অর্থ যা ভাষাভাষী লোকেরা তাঁদের সহজাত প্রবৃত্তি দিয়ে বুঝে থাকেন।
এই দুটি অর্থই শায়খ আমাদের উল্লিখিত কবিতাগুলোর পরের পংক্তিগুলোতে ব্যক্ত করেছেন: এটিই সেই কথা যা হেদায়েতের তলোয়ার, উন্মুক্ত ধারালো কৃপাণ মুরতাদার (আলী) দরবারে বিদ্যমান। আয়াত এবং নির্ভরযোগ্য হাদিসসমূহে যা সাদৃশ্যের উদ্রেক করে, সেগুলো সেই গুণাবলি যার দ্বারা রহমান নিজেকে গুণান্বিত করেছেন এবং সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব। এরপর সেগুলোকে আমরা তাদের জাহির বা প্রকাশ্য অর্থের ওপরই বহাল রাখি এবং ব্যাখ্যা (তাউয়িল) ও সাদৃশ্য (তাশবিহ) প্রদান থেকে সতর্ক থাকি। শ্রেষ্ঠ তিন প্রজন্মের মানুষ এটিই বলেছেন এবং কল্যাণ তাঁদের অনুসরণের সাথেই যুক্ত। এটিই কুরআন এবং সহিহ ও হাসান সুন্নাহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছে। আহলে রেজার সন্তানদের মধ্য থেকে কত বরেণ্য ইমাম এটি দেখেছেন। আর তাঁদের মধ্যে যারা তাউয়িল বা ব্যাখ্যার অনুমতি দিয়েছেন, তাঁরা এই মৌলিক মাযহাবকে অস্বীকার করেননি। সত্য হলো যে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত ব্যক্তি একজনই, বিশেষ করে যদি তা আকিদাহ সংক্রান্ত হয় এবং নস ও সালাফদের ইজমার অনুকূলে হয়। তবে যে ব্যক্তি তা জানল, সে কেন তা অনুসরণ করবে না? সুতরাং যে ব্যক্তি তাউয়িল (ব্যাখ্যা) করল, সে নিজেকে কষ্টে নিপতিত করল এবং এমন কিছুর অনুসরণ করল যা সম্পর্কে তার জ্ঞান নেই। সে যা থেকে পালাতে চেয়েছিল, তাতেই নিপতিত হলো, আর তাদের কেউ কেউ পরবর্তীতে তা থেকে ফিরে এসেছেন। এর দ্বারা তিনি আল-আশআরি (রহিমাহুল্লাহ)-কে বুঝিয়েছেন: এমনকি তিনি এটি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে ইজমা বা ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন এবং এটি বর্জন করাকেই অনুসরণ হিসেবে গণ্য করেছেন। কোনো কোনো বড় আলেম একে জহমিদের দলের দিকে নিসবত করেছেন (তিনি ইমাম আহমাদ রহিমাহুল্লাহকে বুঝিয়েছেন)। অতএব হে তাওফিকপ্রাপ্ত ব্যক্তি! তুমি যা সত্য হিসেবে শুনলে তাতে তোমার হাত শক্ত করো। আর যে জাহির বা প্রকাশ্য অর্থ থেকে সরিয়ে দেওয়া ওয়াজিব, তা হলো যা সেই ব্যক্তি বুঝে যে সত্য থেকে পর্দার অন্তরালে রয়েছে। সে ঘোর অন্ধকারের মধ্যে বিচরণ করছে এবং বড় বড় ফিতনার মোহে বন্দি। এটিই সেই কথা যা মাগরিবি মালিকি আশআরি আল-মাক্বরী বলেছেন: "যদি কোনো শব্দ আল্লাহর শানে বেমানান কোনো কিছুর ইঙ্গিত দেয়, যেমন সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য, তবে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে তার জাহির বা প্রকাশ্য অর্থ থেকে সরিয়ে দাও এবং অসম্ভব বিষয় থেকে প্রত্যাশা ছিন্ন করো।" মাক্বরীর এখানে বলা যে "তাঁকে তার জাহির থেকে সরিয়ে দাও", এর চেয়ে বরং এটি বলা উত্তম ছিল যে: "তাকে ভ্রান্ত ধারণা বা বিভ্রম থেকে সরিয়ে দাও", অর্থাৎ যা কেবল সাদৃশ্যবাদীরাই কল্পনা করে থাকে।
তিনি বলেছেন: (যেমনটি বুঝেছেন তারা যাদের মাঝে এটি অবতীর্ণ হয়েছে) অর্থাৎ যাদের মাঝে ওহি নাজিল হয়েছে। তিনি বলেননি (যাদের ওপর নাজিল হয়েছে); কারণ ওহি কেবলমাত্র মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপরই অবতীর্ণ হয়েছে, সাহাবায়ে কিরামের ওপর ওহি অবতীর্ণ হয়নি, তবে তাঁদের মাঝে অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ২)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
التفريق بين كلام السلف والخلف وبيان المقصود بالسلففهذا القسم الثالث هو المحير المشكل فيما يتعلق بالنصوص، ولذلك عده بعض العلماء من الصفات المشكلات، كما قال ابن السبكي في جمع الجوامع، ونظمه السيوطي رحمه الله في قوله: وما أتى به الهدى والسننُ من الصفات المشكلات نؤمنُ بها كما جاءت منزهينا مفوضين أو مؤولينا.
بالتفصيل ليس يقدح بالاتفاق والسكوت أصلح وهذا هو المقام الذي تسمعون فيه التفريق بين كلام السلف وكلام الخلف، فمذهب السلف أسلم ومذهب الخلف أعلم، مع أنه أحوج إلى مزيد علم، وسنذكر ذلك تفصيلاً إن شاء الله في موضعه.
والمقصود بالسلف هنا: مالك، والأوزاعي، والليث، ويزيد بن هارون وطبقتهم التي سمينا بعضها، فهم الذين تكلموا في هذا، ولا يدخل فيه الصحابة ولا التابعون فليس لهم كلام في هذا، لم يرو عن أحد منهم فيه كلام، بل هذه الإشكالات التي ترجع إلى الألفاظ، أول من روي عنه الكلام فيها: عمرو بن دينار وهو من أواسط التابعين، روي عنه الكلام فيما يتعلق بصفة الكلام لله فقط فقال: إن القرآن غير مخلوق، لكن من قبله لم يثبت عنه أي كلام فيما يتعلق بهذه الأمور الخلافية المتعلقة بالاعتقاد.
ومن هنا أطلق الشيخ وقال: (يمر ما في وصفه جاء من الـ ـوحي كما يَفهم من فيهم نزل) (يمر) معناه: يقرأ كما هو، فكأنك تمره على لسانك إلى قلبك، فتسلم به تسليماً مطلقاً، انطلاقاً من المبدأ الذي ذكرناه سابقاً، وهو أن مبدأ الاعتقاد هو التسليم بأن العقول لا تصل إلى هذه الحقائق، وأنها محتاجة فيها إلى الوحي، فمن هنا تسلم بها تماماً، وتنقاد لها غاية الانقياد، وتجعلها أقوى مما تراه أو تسمعه، وجزمك بها أقوى مما تراه أو تسمعه؛ لأنك قد ملأت عقلك بالتصديق بعجز العقل عن إدراكها، وملأت عاطفتك بمحبة الله، وإثبات هذه الصفات طريق إلى محبة الله سبحانه وتعالى، كما ذكرنا سابقاً أنك إذا عرفت صفاته أحببته بها.
من هنا قال: (يمر ما في وصفه جاء من الوحي) سواء كان كتاباً أو سنة.
সালাফ ও খালাফদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য এবং 'সালাফ' দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা বর্ণনাসুতরাং এই তৃতীয় বিভাগটিই হলো ধর্মতাত্ত্বিক ভাষ্যসমূহের (নুসুস) ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর ও জটিল বিষয়। এই কারণেই কোনো কোনো আলিম এগুলোকে জটিল গুণাবলি (সিফাতে মুশকিলত) হিসেবে গণ্য করেছেন, যেমনটি ইবনুল সুবকী তাঁর 'জমউল জাওয়ামি' গ্রন্থে বলেছেন। ইমাম সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর কবিতায় বিষয়টি এভাবে বর্ণনা করেছেন: "হিদায়াত ও সুন্নাহর মাধ্যমে যেসব জটিল গুণাবলি এসেছে, আমরা সেগুলোর ওপর যেভাবে এসেছে সেভাবেই ঈমান আনি; আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে হয় সেগুলোর অর্থ আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিই (তাফবীদ), অথবা সেগুলোর ব্যাখ্যা করি (তাবীল)।"
বিস্তারিত বর্ণনায় কোনো বিরোধ থাকে না এবং এ ক্ষেত্রে নীরব থাকাই অধিকতর সঠিক। আর এটিই সেই স্থান যেখানে আপনারা সালাফদের বক্তব্য ও খালাফদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্যের কথা শুনে থাকেন। বলা হয়, "সালাফদের মাযহাব অধিকতর নিরাপদ এবং খালাফদের মাযহাব অধিকতর জ্ঞানগর্ভ," যদিও এটি আরও অধিক ইলমের মুখাপেক্ষী। ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে আমরা এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
এখানে 'সালাফ' বলতে উদ্দেশ্য হলো: মালিক, আওযায়ী, লাইস, ইয়াযিদ ইবনে হারুন এবং তাঁদের স্তরের ব্যক্তিবর্গ যাদের নাম আমরা উল্লেখ করেছি। তাঁরাই এসব বিষয়ে কথা বলেছেন। সাহাবীগণ এবং তাবিঈগণ এর অন্তর্ভুক্ত নন, কারণ এসব বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য নেই। তাঁদের কারো কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো কথা বর্ণিত হয়নি। বরং শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট এই জটিলতাগুলো সম্পর্কে যাঁর কাছ থেকে প্রথম বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে তিনি হলেন আমর ইবনে দীনার, যিনি মধ্যবর্তী স্তরের তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর কাছ থেকে শুধুমাত্র আল্লাহর কথা বলার গুণ (সিফাতুল কালাম) সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে; তিনি বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট) নয়।" কিন্তু তাঁর পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে আকিদা সংক্রান্ত এই মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে কোনো বক্তব্য প্রমাণিত নয়।
এখান থেকেই শেখ (ইমাম) বলেছেন: (ওহীর মাধ্যমে আল্লাহর বর্ণনায় যা এসেছে তা সেভাবেই চলতে দাও যেমনটি তারা বুঝেছিলেন যাদের কাছে তা নাযিল হয়েছিল)। 'চলতে দেওয়া' বা 'অতিক্রম করানো' এর অর্থ হলো: এটি যেভাবে আছে সেভাবেই পাঠ করা। যেন আপনি এটি আপনার জিহ্বা দিয়ে আপনার হৃদয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন এবং এর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করছেন। এটি আমাদের পূর্বে বর্ণিত সেই মূলনীতির ভিত্তিতে, যা হলো—আকিদার মূল ভিত্তি হলো এটি মেনে নেওয়া যে, মানুষের বুদ্ধি এই পরম সত্যগুলোর কাছে পৌঁছাতে পারে না এবং এ ক্ষেত্রে বুদ্ধিকে ওহীর মুখাপেক্ষী হতে হয়। এই বিশ্বাস থেকেই আপনি এগুলোর প্রতি পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করবেন এবং চূড়ান্তভাবে অনুগত হবেন। এগুলোকে আপনি যা দেখেন বা শোনেন তার চেয়েও অধিক শক্তিশালী মনে করবেন। এগুলোর প্রতি আপনার দৃঢ় বিশ্বাস আপনার দেখা বা শোনার চেয়েও অধিক শক্তিশালী হবে; কারণ আপনি আপনার বুদ্ধিকে এই বিশ্বাসে পূর্ণ করেছেন যে, মানুষের বুদ্ধি এগুলো অনুধাবনে অক্ষম এবং আপনি আপনার অনুভূতিকে আল্লাহর ভালোবাসায় পূর্ণ করেছেন। আর আল্লাহর এই গুণাবলি (সিফাত) সাব্যস্ত করাই হলো মহান আল্লাহকে ভালোবাসার একটি পথ, যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি যে, যখন আপনি তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে জানবেন, তখন আপনি সেগুলোর মাধ্যমে তাঁকে ভালোবাসবেন।
এখান থেকেই তিনি বলেছেন: (ওহীর মাধ্যমে আল্লাহর বর্ণনায় যা এসেছে তা সেভাবেই চলতে দাও), তা কিতাব (কুরআন) হোক বা সুন্নাহ হোক।
(খণ্ড: ১)
সিলসিলাতুল আসমা ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: -)
سلسلة الأسماء والصفات القسم: العقيدة
الكتاب : سلسلة الأسماء والصفات
المؤلف : محمد الحسن الددو الشنقيطي
مصدر الكتاب : دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية
http://www.islamweb.net
[الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 14 درس]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আসমা ওয়া সিফাত (নাম ও গুণাবলী) ধারাবাহিকতা বিভাগ: আক্বীদা
গ্রন্থ : আসমা ওয়া সিফাত ধারাবাহিকতা
লেখক : মুহাম্মদ আল-হাসান আদ-দাদাউ আশ-শানকিতী
গ্রন্থের উৎস : ইসলামওয়েব (IslamWeb) সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা অডিও পাঠসমূহ
http://www.islamweb.net
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠ নম্বর - ১৪টি পাঠ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরী