(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: -)
شرح الورقات في أصول الفقه - الددو   (محمد الحسن الددو الشنقيطي)

القسم: أصول الفقه

الكتاب : شرح الورقات في أصول الفقه

المؤلف : محمد الحسن ولد محمد الملقب بـ"الددو" الشنقيطي

مصدر الكتاب : دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 5 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে আল-ওয়ারাকাত-এর ব্যাখ্যা - আদ-দাদু   (মুহাম্মদ আল-হাসান আদ-দাদু আশ-শিনকীতি)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ

গ্রন্থ : উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে আল-ওয়ারাকাত-এর ব্যাখ্যা

লেখক : মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ, যিনি "আদ-দাদু" আশ-শিনকীতি নামে পরিচিত

গ্রন্থের উৎস : ইসলামওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপিকৃত অডিও দরসসমূহ

এইচটিটিপি://www.islamweb.net

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড নম্বরটি মূলত দরস বা পাঠ নম্বর হিসেবে গণ্য - ৫টি দরস]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شرح الورقات في أصول الفقه [1]

إن لعلم أصول الفقه مكانة عظيمة بين العلوم الشرعية، فهو العلم الذي تعرف به مدارك الأحكام، وكيفية الاستنباط، فكان خير زاد لطالب العلم حتى ينفع نفسه ودينه وأمته.

ومن المعلوم أن على طالب العلم أن يسلك سلم التدرج في شتى الفنون، لذا كانت رسالة الورقات للإمام الجويني من خير ما يبدأ به المبتدئون في هذا الفن، وقد بدأ المؤلف رحمه الله بذكر تعريف أصول الفقه لفظاً ولقباً، ثم شرع في ذكر الأحكام الشرعية وشرحها.
উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের আল-ওয়ারাকাত-এর ব্যাখ্যা [১]

নিশ্চয়ই শরয়ী বিজ্ঞানসমূহের মধ্যে উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের এক সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে; কেননা এটি এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে বিধানসমূহের উৎসস্থল এবং মাসআলা উদ্ভাবনের পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা যায়। সুতরাং এটি ইলম অন্বেষণকারীর জন্য এক সর্বোত্তম পাথেয়, যাতে সে নিজের, তার দ্বীনের এবং তার উম্মতের কল্যাণ সাধন করতে পারে।

এটি সর্বজনবিদিত যে, ইলম অন্বেষণকারীকে বিভিন্ন বিদ্যায় ক্রমানুসারে ধাপ অতিক্রমের পথ অবলম্বন করতে হয়; এই কারণেই ইমাম জুওয়াইনী (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'আল-ওয়ারাকাত' নামক পুস্তিকাটি এই শাস্ত্রে শিক্ষানবিশদের প্রারম্ভিক পাঠ হিসেবে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। লেখক (রহিমাহুল্লাহ) উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞাকে শাব্দিক এবং পারিভাষিক উভয় দিক থেকে বর্ণনা করার মাধ্যমে গ্রন্থটি শুরু করেছেন, অতঃপর তিনি শরয়ী বিধানসমূহ এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান শুরু করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌أصول الفقه: أهميته، ومبدأ نشأته

بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، وأصلي وأسلم على من بعث رحمة للعالمين، وعلى آله وأصحابه ومن اهتدى بهديه، واستن بسنته إلى يوم الدين.

هذا شرح ورقات إمام الحرمين في أصول الفقه، وهو تأليف صغير مختصر للتعريفات المبدئية في أصول الفقه، وضعه إمام الشافعية: أبو المعالي عبد الملك بن عبد الله بن يوسف بن محمد الجويني نسبة إلى جوينة من نيسابور، وقد ولد رحمه الله سنة (419هـ) ، وتوفي سنة (478هـ) ، وكان من مشاهير المتكلمين، والفقهاء الأصوليين، وقد ألف هذه الورقات لتكون مبدأً لطلاب العلم يعرفون به بعض مصطلحات أصول الفقه.
উসুলুল ফিকহ: এর গুরুত্ব এবং এর উৎপত্তির মূলনীতি

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি তাঁর প্রতি, যাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠানো হয়েছে, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করবেন ও তাঁর সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবেন তাদের প্রতি।

এটি উসুলুল ফিকহ বিষয়ে ইমামুল হারামাইনের 'ওয়ারাকাত'-এর ব্যাখ্যা। এটি উসুলুল ফিকহের প্রাথমিক সংজ্ঞাসমূহ সংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত ও ছোট রচনা। এটি সংকলন করেছেন শাফেয়ি মাযহাবের ইমাম: আবু আল-মাআলি আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি; নিশাপুরের জুওয়াইনা অঞ্চলের দিকে সম্বন্ধ করে তাঁকে জুওয়াইনি বলা হয়। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি ৪১৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৭৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইলমুল কালামের প্রসিদ্ধ পণ্ডিত এবং উসুলুল ফিকহ বিশারদ ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি এই 'ওয়ারাকাত' গ্রন্থটি রচনা করেছেন যাতে এটি ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য একটি প্রারম্ভিকা হতে পারে, যার মাধ্যমে তারা উসুলুল ফিকহের কিছু পরিভাষা সম্পর্কে জানতে পারে।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الكتاب والسنة يبحث فيهما من جهتين

أصول الفقه علم من أهم العلوم الشرعية؛ لأنه علم يتوصل به إلى فهم الكتاب والسنة وأخذ الأحكام منهما؛ وذلك أن الكتاب والسنة يبحث فيهما من جهتين: جهة الورود، وجهة الدلالة: أما جهة الورود فهي النقل، بمعنى: التحقق من ثبوت نسبة القرآن إلى الله، والتحقق من ثبوت الحديث إلى النبي صلى الله عليه وسلم؛ وذلك بالرواية والإسناد.

وأما جهة الدلالة، فمعناها: ما يراد بهذا الكلام، أي: ما يريده الله من عباده بهذا اللفظ، وما يريده النبي صلى الله عليه وسلم من أمته بهذا اللفظ، وهاتان الجهتان لم يحتج الصحابة رضوان الله عليهم إلى بحثهما، أما جهة الورود فلسماعهم من النبي المعصوم صلى الله عليه وسلم مباشرة، وأما جهة الدلالة فلأنهم أهل اللسان العربي على وجه السليقة، وكذلك لم تشتد حاجة التابعين إلى البحث فيهما.

أما جهة الورود فلسماعهم من الصحابة المعدلين بتعديل الله تعالى لهم؛ لأن الله تعالى يقول: {وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} [التوبة:100] ، ويقول: {فَإِنَّ اللَّهَ لا يَرْضَى عَنِ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ} [التوبة:96] ، فنفى عنهم الفسق بحلول الرضوان عليهم، وإذا انتفى عنهم الفسق وجب لهم ضده وهو العدالة؛ لأن المحل القابل للصفة لا يخلو منها أو من ضدها، ولم يحتج التابعون كذلك إلى البحث كثيراً في جهة الدلالة؛ لأنهم ما زالوا أهل اللسان العربي على وجه السليقة، ولم تختلط الحضارة العربية بعد بالحضارات الأخرى اختلاطاً مؤثراً، لكن حين جاء أتباع التابعين احتاجوا إلى البحث في الجهتين: أما جهة الورود فلأنهم لم يلقوا النبي المعصوم صلى الله عليه وسلم، ولم يلقوا الصحابة المعدلين بتعديل الله، وإنما لقوا التابعين وفيهم العدول وغير العدول، فاحتاجوا إلى البحث في جهة الورود، واحتاجوا كذلك إلى البحث في جهة الدلالة؛ لأن الحضارة العربية قد اختلطت بغيرها من حضارات أهل الأرض، وتغيرت الأوضاع عما كانت عليه، فانتقلت المدنية التي كانت في الحضارات الأخرى إلى جزيرة العرب، وانتقلت العرب أيضاً عن جزيرتهم، وتغيرت لغتهم، وداخلها كثير من المجاز ومن اللغات الأخرى، فاحتيج -إذاً- إلى البحث في الدلالة.

ومن هنالك جاءت نشأة المذاهب، فليس للصحابة مذاهب ولا للتابعين مذاهب، وإنما بدأت المذاهب مع أتباع التابعين؛ للحاجة إلى البحث في هاتين الجهتين.

وعلم أصول الفقه: هو علم اقتصاد الشريعة، فعلم الاقتصاد في علوم الدنيا: هو العلم الذي يمكن من خلاله تغطية الحاجيات غير المحصورة من الموارد المحصورة، وعلم أصول الفقه: هو العلم الذي يمكن من خلاله تغطية النوازل والوقائع غير المحصورة من النصوص المحصورة، فآيات القرآن الكريم بالعد الكوفي: (6214) آية، وبالعد المدني: (6234) آية.

وآيات الأحكام منها خمسمائة آية، وأحاديث النبي صلى الله عليه وسلم التي وصلت إلينا بالنقل لا تتجاوز ثلاثمائة ألف حديث، وأحاديث الأحكام منها لا تتجاوز أحد عشر ألف حديث، ومواقع الإجماع محصورة قليلة، ومع هذا فالنوازل والوقائع لا حصر لها، فكل يوم يتجدد منها الكثير، ولله تعالى حكم في كل مسألة، وإنما يؤخذ ذلك بالاجتهاد على طرق الاستدلال المعروفة والفهم، وإنما يتم ذلك بأصول الفقه، فلما كان هذا العلم بهذه المثابة؛ احتيج إلى وضع مؤلفات فيه تبين مصطلحات أصحابه، وتبين مرادهم بكثير من الأمور التي تخفى على من سواهم، وأول من جمع كتاباً مستقلاً في هذا العلم هو محمد بن إدريس الشافعي المطلبي القرشي رحمه الله، وقد ولد سنة (150هـ) وتوفي سنة (204هـ) ، وقد ألف فيه رسالته المشهورة، ثم بعده تتابع الناس على التأليف على هذا العلم.
কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে দুটি দিক থেকে আলোচনা করা হয়

উসুলুল ফিকহ হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শরয়ী ইলমসমূহের একটি; কারণ এটি এমন একটি জ্ঞান যার মাধ্যমে কুরআন ও সুন্নাহ অনুধাবন এবং তা থেকে বিধান আহরণ করা সম্ভব হয়। আর তা এজন্য যে, কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে দুটি দিক থেকে গবেষণা করা হয়: আগমনের দিক এবং অর্থের দিক। আগমনের দিক বলতে বুঝায় বর্ণনা বা সংকলন, অর্থাৎ: আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরআনের সংশ্লিষ্টতা সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি হাদিসের সম্পৃক্ততা সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া; আর এটি বর্ণনা এবং সনদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

আর অর্থের দিকটির অর্থ হলো: এই বক্তব্যের মাধ্যমে কী উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে; অর্থাৎ: আল্লাহ তাআলা এই শব্দের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের নিকট কী চেয়েছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই শব্দের মাধ্যমে তাঁর উম্মতের নিকট কী চেয়েছেন। এই দুটি দিক নিয়ে সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের গবেষণার প্রয়োজন হয়নি; আগমনের দিকটির ক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজন ছিল না কারণ তাঁরা সরাসরি নিষ্পাপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন, আর অর্থের দিকটির ক্ষেত্রে তাঁরা ছিলেন স্বভাবগতভাবেই আরবি ভাষার পারদর্শী। একইভাবে তাবিঈগণের ক্ষেত্রেও এ দুটি বিষয় নিয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অতটা তীব্র ছিল না।

প্রাপ্তির সূত্রের দিক থেকে বলতে গেলে, তারা সেই সাহাবীদের থেকে শুনেছেন যাদের নির্ভরযোগ্যতা মহান আল্লাহ নিজেই সাব্যস্ত করেছেন। কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে" [আত-তাওবাহ: ১০০]। তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন না" [আত-তাওবাহ: ৯৬]। সুতরাং তাদের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে তিনি তাদের থেকে পাপাচার বা ফাসেক হওয়াকে নাকচ করে দিয়েছেন। আর যখন তাদের থেকে পাপাচার নাকচ হয়ে গেল, তখন এর বিপরীত গুণ অর্থাৎ 'আদালাত' বা নির্ভরযোগ্যতা তাদের জন্য অবধারিত হয়ে গেল; কেননা কোনো গুণ গ্রহণ করার যোগ্য আধার সেই গুণ অথবা তার বিপরীতটি থেকে মুক্ত থাকে না। একইভাবে তাবিঈদের ভাষাগত অর্থের বা নির্দেশনার দিকটি নিয়ে খুব বেশি গবেষণার প্রয়োজন হয়নি; কারণ তারা তখনও সহজাত স্বভাবজাত আরবী ভাষার অধিকারী ছিলেন এবং তখন পর্যন্ত আরব্য সভ্যতা অন্যান্য সভ্যতার সাথে এমনভাবে মিশে যায়নি যা কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারে। কিন্তু যখন তাবি-তাবিঈদের যুগ এল, তখন তারা উভয় দিকেই গবেষণার প্রয়োজন বোধ করলেন: প্রাপ্তির সূত্রের দিক থেকে গবেষণার প্রয়োজন এই জন্য হয়েছিল যে, তারা নিষ্পাপ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ পাননি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ভরযোগ্য ঘোষিত সাহাবীদেরও সাক্ষাৎ পাননি। বরং তারা তাবিঈদের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন, যাদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য এবং অনির্ভরযোগ্য উভয় প্রকার লোকই ছিলেন। তাই সূত্রের নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে তাদের গবেষণার প্রয়োজন দেখা দেয়। একইভাবে তাদের ভাষাগত নির্দেশনার দিকটি নিয়েও গবেষণার প্রয়োজন হয়েছিল; কারণ তখন আরব্য সভ্যতা পৃথিবীর অন্যান্য সভ্যতার সাথে মিশে গিয়েছিল এবং পূর্বের বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। ফলে অন্যান্য সভ্যতায় বিদ্যমান নাগরিক জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি আরব উপদ্বীপে প্রবেশ করেছিল এবং আরবরাও তাদের উপদ্বীপ ছেড়ে বাইরে ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে তাদের ভাষায় পরিবর্তন আসে এবং তাতে অনেক রূপক অর্থ ও অন্যান্য ভাষার সংমিশ্রণ ঘটে। ফলে সেই সময় শব্দের অর্থ বা নির্দেশনার বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

সেখান থেকেই মাযহাবসমূহের উদ্ভব হয়েছে; সাহাবীদের কোনো মাযহাব ছিল না এবং তাবিঈদেরও কোনো মাযহাব ছিল না। বরং এই দুই ক্ষেত্রে গবেষণার প্রয়োজনেই তাবি-তাবিঈদের যুগ থেকে মাযহাবের সূচনা হয়েছে।

আর উসূলে ফিকহ শাস্ত্র হলো: শরীয়তের পরিমিতিব্যবহার (ইকতিসাদ) সংক্রান্ত বিদ্যা। জাগতিক জ্ঞানবিজ্ঞানে অর্থনীতি হলো এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে সীমিত সম্পদ দিয়ে অসীম প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হয়। আর উসূলে ফিকহ শাস্ত্র হলো এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে সীমিত মূলপাঠ (নস) থেকে অগণিত নতুন উদ্ভূত সমস্যা ও ঘটনাবলীর সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব। পবিত্র কুরআনের আয়াত সংখ্যা কুফী গণনা অনুযায়ী ৬২১৪টি এবং মাদানী গণনা অনুযায়ী ৬২৩৪টি।

এর মধ্যে বিধান সংক্রান্ত আয়াত হলো পাঁচশত। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে সকল হাদীস বর্ণনার মাধ্যমে আমাদের নিকট পৌঁছেছে তা তিন লক্ষের বেশি নয়। এর মধ্যে বিধান সংক্রান্ত হাদীস এগারো হাজারের বেশি নয়। ইজমার ক্ষেত্রগুলোও সীমিত ও নগণ্য। এতদসত্ত্বেও নিত্যনতুন উদ্ভূত সমস্যা ও ঘটনাবলী অগণিত; প্রতিদিন অসংখ্য নতুন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিটি মাসআলাতেই মহান আল্লাহর বিধান রয়েছে এবং তা সুপরিচিত দলীল প্রয়োগের পদ্ধতি ও প্রজ্ঞার আলোকে ইজতিহাদের মাধ্যমে আহরণ করা হয়। আর এটি কেবল উসূলে ফিকহের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। যেহেতু এই শাস্ত্রটি এই পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ, তাই এতে এমন সব গ্রন্থ রচনার প্রয়োজন অনুভূত হয়েছে যা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের পরিভাষাগুলো স্পষ্ট করবে এবং এমন অনেক বিষয়ে তাঁদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করবে যা অন্যদের নিকট অস্পষ্ট। এই শাস্ত্রে সর্বপ্রথম স্বতন্ত্র গ্রন্থ সংকলন করেন মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফিঈ আল-মুত্তালিবি আল-কুরাশি (রাহিমাহুল্লাহ)। তিনি ১৫০ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০৪ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তিনি এই শাস্ত্রে তাঁর প্রসিদ্ধ 'রিসালাহ' গ্রন্থটি রচনা করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে মানুষ এই শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করে চলেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌مدرستا العلماء في أصول الفقه

وقد اشتهر فيه مدرستان: إحداهما تسمى بمدرسة الفقهاء، وهي التي أخذ بها فقهاء الحنفية، وتنطلق من الفتاوي والمسائل التي تروى عن الأئمة، فيجمعون منها حشداً كبيراً فيجعلون منه قاعدة.

والمدرسة الثانية: هي التي اشتهرت بمدرسة المتكلمين، وعليها سار فقهاء المالكية والشافعية والحنابلة، وهي تنطلق من أصل القاعدة، فتمثل لها ببعض الفروع، ولا تذكر من الفروع إلا ما كان مثالاً للقاعدة فقط، وهذه الطريقة هي التي كثرت التآليف عليها، وقد حاول بعض المتأخرين الجمع بين الطريقتين فألفوا بعض الكتب التي تجمع بين طريقة المتكلمين وطريقة الحنفية، وكثرت التآليف في أصول الفقه ما بين مطول ومختصر، ونظم ونثر، وهذه الورقات قد وضع الله لها القبول، فلاقت شهرة ورواجاً منذ عصر المؤلف إلى وقتنا هذا، ولم يزل الناس يشرحونها وينظمونها ويدرسونها ويحفظونها لأولادهم الصغار.
উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে আলেমদের দুই পদ্ধতি

এ বিষয়ে দুটি পদ্ধতি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে: একটির নাম 'ফুকাহা পদ্ধতি', যা হানাফী ফকিহগণ গ্রহণ করেছেন। এটি ইমামগণের নিকট থেকে বর্ণিত ফতোয়া ও মাসআলাসমূহ হতে উৎসারিত হয়; ফলে তাঁরা তা থেকে এক বিশাল সংগ্রহ একত্রিত করেন এবং তা থেকে মূলনীতি বা নিয়ম প্রণয়ন করেন।

আর দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো: যা 'মুতাকাল্লিমীন পদ্ধতি' হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং এর ওপর মালিকি, শাফিয়ি ও হাম্বলি ফকিহগণ চলেছেন। এটি সরাসরি মূলনীতির ভিত্তি থেকে শুরু হয় এবং তার সপক্ষে কিছু শাখা বা গৌণ বিষয়ের উদাহরণ পেশ করে। এতে কেবল সেই শাখা বিষয়গুলোই উল্লেখ করা হয় যা মূলনীতির উদাহরণ হিসেবে প্রয়োজনীয়। এই পদ্ধতিতেই অধিকাংশ গ্রন্থ রচিত হয়েছে। পরবর্তীকালের কিছু আলেম উভয় পদ্ধতির মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা করেছেন এবং এমন কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন যা মুতাকাল্লিমীন ও হানাফী উভয় পদ্ধতির সংমিশ্রণ ঘটায়। উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত এবং পদ্য ও গদ্য আকারে প্রচুর গ্রন্থ রচিত হয়েছে। আর এই 'ওয়ারাকাত' নামক পুস্তিকাটির জন্য আল্লাহ বিশেষ কবুলিয়াত দান করেছেন, ফলে এটি লেখকের যুগ থেকে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত ব্যাপক খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। মানুষ নিরন্তর এর ব্যাখ্যা লিখছেন, একে কাব্যাকারে সাজাচ্ছেন, এটি পাঠদান করছেন এবং তাঁদের ছোট সন্তানদের এটি মুখস্থ করাচ্ছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة الورقات

بدأ المؤلف رحمه الله بقوله: (بسم الله الرحمن الرحيم) وذلك اقتداء بالقرآن الكريم، فإن الله افتتحه بالبسملة، وبعدها بحمد الله عز وجل، وشرح البسملة يطول الكلام فيه، وقد تعرضنا له في شرح بعض الكتب الماضية.

والمقصود هنا: أبدأ بسم الله الرحمن الرحيم.

أو: أؤلف بسم الله الرحمن الرحيم، أي: مستعيناً باسم الله الرحمن الرحيم.

قال رحمه الله: [هذه ورقات تشتمل على معرفة فصول من أصول الفقه، وذلك مؤلف من جزئين مفردين، أحدهما: الأصول والثاني الفقه] .

بهذه المقدمة افتتح كتابه للتعريف أولاً بالكتاب، فقال: (هذه ورقات) ، والورقات: جمع ورقة، وذلك للقلة، أي: أنها أوراق قليلة ولا يقصد بها التطويل والتكثير، وهي مع ذلك تشتمل على معرفة فصول من أصول الفقه.

فصول: الفصل ما اختص من العلم بما يجمعه، وغالباً ما تسمى الفصول لما يجتمع من مسائل العلم تحت باب واحد، فيفرق بحسب ما يجمعه إلى فصول، ولا يقصد بتلك الفصول المعروفة في الاصطلاح بهذا، وإنما يقصد بها مسائل من أصول الفقه، يهتم فيها أساساً بتعريف المقدمات الكبرى والاصطلاحات.

وقوله: (على معرفة) ، أي: على تعريف فصول من أصول الفقه، ثم بدأ ذلك بتعريف أصول الفقه، وقال (وذلك) أي: أصول الفقه (مؤلف من جزئين) أي: هذا الاسم مؤلف من جزئين، والمقصود بالجزئين هنا: الكلمتان اللتان ألف منهما المركب الإضافي، وهو أصول الفقه.

(من جزئين مفردين أحدهما الأصول) أي: أحد هذين الجزئين أصول، (والثاني الفقه) ، فهاتان الكلمتان منهما تألف اسم هذا العلم، فلهما تعريفان: تعريف بالمعنى الإضافي، وتعريف بالمعنى التركيبي، أما تعريفهما بالمعنى الإضافي فالمقصود به: تعريف الأصول بغض النظر عن إضافتها إلى الفقه، وتعريف الفقه بغض النظر عن إضافة الأصول إليه، ثم بعد ذلك التعريف يأتي التعريف بالمعنى اللقبي: وهو ما يدل عليه هذا الاسم.
আল-ওয়ারাখাত এর ভূমিকা

লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর বক্তব্য: (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) দ্বারা শুরু করেছেন এবং এটি আল-কুরআনুল কারীমের অনুসরণে করা হয়েছে, কেননা আল্লাহ তাআলা এটি বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেছেন এবং এরপর মহান আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে। বিসমিল্লাহর ব্যাখ্যা করতে গেলে আলোচনা দীর্ঘ হবে, যা আমরা পূর্ববর্তী কিছু কিতাবের ব্যাখ্যায় আলোচনা করেছি।

আর এখানে উদ্দেশ্য হলো: আমি পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

অথবা: আমি পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে রচনা করছি, অর্থাৎ: আল্লাহর নামের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করছি।

তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: [এগুলো হলো কিছু সংক্ষিপ্ত পৃষ্ঠা যা উসুলুল ফিকহের বিভিন্ন অধ্যায় বা পরিচ্ছেদের জ্ঞান ধারণ করে। আর এই বিষয়টি (উসুলুল ফিকহ) দুটি পৃথক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত, যার একটি হলো উসুল (মূলনীতি) এবং দ্বিতীয়টি হলো ফিকহ (ইসলামি আইনতত্ত্ব)]।

এই ভূমিকার মাধ্যমে তিনি প্রথমে কিতাবটির পরিচয় প্রদানের জন্য গ্রন্থটি শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন: (এগুলো হলো কিছু পৃষ্ঠা)। আর 'ওয়ারাখাত' শব্দটি 'ওয়ারাখাহ' এর বহুবচন, যা স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়; অর্থাৎ এগুলো সংখ্যায় অল্প পৃষ্ঠা এবং এর মাধ্যমে দীর্ঘায়ন বা বাহুল্য করা উদ্দেশ্য নয়। তাসত্ত্বেও এগুলো উসুলুল ফিকহের বিভিন্ন অধ্যায় বা পরিচ্ছেদের জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে।

অধ্যায়সমূহ: অধ্যায় বা 'ফাসল' হলো জ্ঞানের এমন অংশ যা তার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুকে ধারণ করে। সাধারণত একটি নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদের অধীনে জ্ঞানের যে বিষয়গুলো একত্রিত হয় সেগুলোকে 'ফাসল' বলা হয়; ফলে বিষয়বস্তুর সমষ্টি অনুযায়ী সেগুলোকে বিভিন্ন পরিচ্ছেদে বিভক্ত করা হয়। এখানে পারিভাষিক অর্থে প্রচলিত অধ্যায়গুলো উদ্দেশ্য নয়, বরং এর দ্বারা উসুলুল ফিকহের এমন কিছু মাসআলা বা বিষয়কে বোঝানো হয়েছে যেগুলোতে প্রধানত মৌলিক ভূমিকা এবং পরিভাষাগুলোর সংজ্ঞায়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এবং তাঁর উক্তি: (জ্ঞানের ওপর), অর্থাৎ: উসুলুল ফিকহের কিছু অধ্যায়ের সংজ্ঞায়নের ওপর। অতঃপর তিনি উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা প্রদানের মাধ্যমে তা শুরু করেছেন এবং বলেছেন (আর তা), অর্থাৎ: উসুলুল ফিকহ (দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত), অর্থাৎ: এই নামটি দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত। আর এখানে দুটি অংশ বলতে উদ্দেশ্য হলো: সেই দুটি শব্দ যা দ্বারা এই সম্বন্ধযুক্ত পদটি গঠিত হয়েছে, আর তা হলো উসুলুল ফিকহ।

(দুটি পৃথক অংশের সমন্বয়ে যার একটি হলো উসুল) অর্থাৎ: এই দুটি অংশের একটি হলো উসুল, (এবং দ্বিতীয়টি হলো ফিকহ)। সুতরাং এই দুটি শব্দ থেকেই এই শাস্ত্রের নাম গঠিত হয়েছে। এগুলোর দুটি সংজ্ঞা রয়েছে: সম্বন্ধযুক্ত অর্থের বিবেচনায় সংজ্ঞা এবং গাঠনিক অর্থের বিবেচনায় সংজ্ঞা। সম্বন্ধযুক্ত অর্থের বিবেচনায় তাদের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হলো: ফিকহের সাথে সম্বন্ধ করা ছাড়াই উসুলের সংজ্ঞা প্রদান করা এবং উসুলের সাথে সম্বন্ধ করা ছাড়াই ফিকহের সংজ্ঞা প্রদান করা। অতঃপর সেই সংজ্ঞায়নের পর পারিভাষিক বা উপাধিগত অর্থের সংজ্ঞা আসবে: আর তা হলো যা এই নামটি নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌تعريف أصول الفقه لفظاً ولقباً

فبدأ بتعريف هذين الجزئين، ومعنى قوله (مفردين) : أي: ليس واحد منهما مركباً، ولا يقصد الإفراد الذي يقابل التثنية والجمع، بل يقصد هنا أن كل واحد من هذين الجزئين غير مركب، فليس فيهما تركيب إضافي.

قال رحمه الله: [فالأصل ما يبنى عليه غيره] : بدأ بالجزء الأول وهو الأصول، فذكر أن الأصول: جمع أصل، وعرف الأصل فقال: هو ما يبنى عليه غيره، وهذا في الاصطلاح، والأصل في اللغة: هو ما يبنى عليه غيره من أساس الدار، وعلى ما ينبت عليه غيره كأصل الشجر.

قال رحمه الله: [والفرع ما يبنى على غيره] ذكر هنا مقابل الأصل وهو الفرع، وتعريفه في الاصطلاح: هو ما يبنى على غيره.

ثم عرف الفقه، فقال: [الفقه معرفة الأحكام الشرعية التي طريقها الاجتهاد] .

الفقه: مصدر فقه إذا فهم، وهو في اللغة الفهم، ومنه قوله تعالى: {قَالُوا يَا شُعَيْبُ مَا نَفْقَهُ كَثِيرًا مِمَّا تَقُولُ} [هود:91] أي: ما نفهم كثيراً مما تقول.

وفي الاصطلاح: معرفة الأحكام الشرعية التي طريقها الاجتهاد، وتعريفه هنا بالمعرفة: يقصد به الذي يقوم بنفس الفقيه، أي: الصفة التي تقوم بنفس الفقيه ليكون بها فقيهاً، وإذا أردنا تعريفه كعلم من العلوم قلنا: العلم المتعلق بالأحكام الشرعية التي طريقها الاجتهاد، فنجعله قسماً من أقسام العلوم يتعلق بالأحكام الشرعية التي طريقها الاجتهاد.

والأحكام: جمع حكم، وهو في اللغة: الإتقان، فيقال: أحكم الشيء.

أي: إحكاماً وحكماً إذا أتقنه، ومنه قوله تعالى: {الر كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ} [هود:1] .

ويطلق كذلك على الإمساك، فيقال: أحكم السفيه، إذا أمسكه عن سفهه ورده عنه، ومنه قول جرير: أبني حنيفة أحكموا سفهاءكم إني أخاف عليكم أن أغضبا أبني حنيفة إنني إن أهجكم أدع اليمامة لا تواري أرنبا وهو في الاصطلاح: إثبات أمر لأمر أو نفيه عنه.

إثبات أمر لأمر: كـ (قام زيد ومات زيد) ، و (هذا واجب وهذا حرام) .

أو نفيه عنه: كـ (لم يقم زيد ولم يمت زيد) ، و (ليس هذا بواجب وليس هذا بحرام) ، فكل ذلك يسمى حكماً، وهو ينقسم باعتبار أصله إلى ثلاثة أقسام: إلى حكم شرعي، وحكم عقلي، وحكم عادي، فالذي يثبت أمراً لأمر أو ينفي أمراً عن أمر لا يخلو أن يكون شرعاً.

أي: وحياً منزلاً من عند الله عز وجل، وما صدر عنه يسمى بالأحكام الشرعية.

والشرع: معناه: البيان والإظهار، ويطلق أيضاً على الشرب، فيقال: شرع الأمر إذا بينه، ومنه شراع السفينة؛ لوضوحه وإظهاره، ويقال: شرعت الدابة إذا دخلت في الماء لتشرب منه، وتطلق الشريعة على الماء كماء الغدير أو البركة التي يشرب منه.

وهو في الاصطلاح: ما أظهره الله من الأحكام لعباده وهيئه؛ لأن يكون معيناً تشرب منه المقاصد والتفصيلات.

قال رحمه الله: [والحكم الشرعي: هو خطاب الله المتعلق بفعل المكلف من حيث إنه مكلف به] (خطاب الله) أي: هذا الذي يؤخذ منه الحكم الشرعي وهو الوحي.

(خطاب الله) ، أي: كلامه الموجه إلى عباده سواء أنزل بلفظه ومعناه كالقرآن والحديث القدسي، أو أنزل بمعناه فعبر عنه النبي صلى الله عليه وسلم بكلامه، وهو السنة النبوية، أو جاء دليله مجملاً وكلف المكلف بالاجتهاد في استنباطه واستخراجه، فاستخرجه العلماء، سواءً أجمعوا عليه فكان إجماعاً قطعياً، أو لم يجمعوا عليه فكان اجتهاداً قابلاً للقبول والرد.

(خطاب الله المتعلق بفعل المكلف) فخرج بذلك خطاب الله المتعلق بذات الله، كقوله تعالى: {اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ} [البقرة:255] فهذا في ذات الله وصفاته، وخرج كذلك خطاب الله المتعلق بذات المخلوق، كقوله تعالى: {خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ} [الصافات:96] خلقكم: هذا خطاب الله المتعلق بذات المخلوق.

(من حيث إنه مكلف به) خرج بها خطاب الله المتعلق بفعل المكلف لا من حيث إنه مكلف به، بل من حيث هو مخلوق لله، كقوله: {خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ} [الصافات:96] .

(وما تعملون) هنا: خطاب الله المتعلق بفعل المكلف لا من حيث إنه مكلف به، بل من حيث هو مخلوق لله عز وجل.

والقسم الثاني: هو الحكم العقلي: وهو قضية، أي: أمر قابل للصدق والكذب لا يتوقف على شرع ولا على تجربة، إنما تؤخذ بالعقل المجرد، وعقول المكلفين متفاوتة، ودرجاتها متباينة، ولكن ما اتفق عليه من الإثبات والنفي هو حكم العقل، سواء كان ضرورياً أي: لا يحتاج في استنباطه إلى التأمل، أو كان نظرياً.

أي: يحتاج في استنباطه إلى تأمل.

والقسم الثالث: الحكم التجريبي العادي، وهو إثبات أمر لأمر أو نفيه عنه بواسطة التكرر مع صحة التخلف، كما يحصل في إثبات أن عقاراً من العقاقير دواء لمرض محدد، فلم ينزل بذلك وحي ولا يقتضيه عقل، وإنما عرف من خلال التجربة والتكرار، فتكرر تجريبه على المصابين بهذا المرض، فلوحظ تأثيره فيهم جميعاً، فجعل علاجاً لذلك المرض، فهذا النوع هو الحكم العادي، ويمكن تخلفه بأن يستعمل مريض هذا الدواء فلا يستفيد منه شيئاً، ويستعمله آخر -مريض بنفس المرض- فيستفيد منه؛ وذلك بقدر الله سبحانه وتعالى، ومثل هذا: الإحراق في النار، فإن الأصل أن النار تحرق الأشياء القابلة للاحتراق إذا لامستها، بحصول الشروط كالملامسة وانتفاء الموانع، كانتفاء الحائل، وأن يكون الشيء قابلاً للاحتراق، ولكن ذلك يمكن أن يستثنى منه، فإبراهيم عليه السلام رمي في النار فما احترق؛ وذلك بقدر الله سبحانه وتعالى وقدرته، فهذه هي الأحكام.

قوله: (التي طريقها الاجتهاد) فالأحكام الشرعية منها ما يأتي صريحاً في الوحي بنص القرآن أو بنص السنة، فلا يكون طريق معرفته الاجتهاد، وإنما طريق معرفته الوحي، فهذا لا يسمى فقهاً، بل هو من الأمور المتفق عليها التي جاءت في النص، فمثلاً: وجوب الصلاة والزكاة، ووجوب الطهارة، وإباحة البيع وتحريم الربا وتحريم الزنا، هذه أمور نصية لا يمكن أن تنسب إلى مذهب من المذاهب؛ لأنها ليست من اجتهاد أحد من الناس، وإنما هي وحي من عند الله سبحانه وتعالى.

(التي طريقها) أي: طريق معرفتها.

(الاجتهاد) ، والاجتهاد في اللغة: بذل الجهد في أيّ شيء، فيقال: اجتهد فلان في السير، أي: عدا فيه وجد، ويقال: اجتهد في الأمر.

أي: بذل قصارى جهده فيه.

والاجتهاد في الاصطلاح: بذل الفقيه وسعه في تحصيل ظن بالأحكام مأخوذ من أدلتها، فهو مختص بمن كان فقيهاً أي: متصفاً بشروط الاجتهاد، وبمن بذل كل وسعه -أي: كل طاقته- للوصول إلى ظن، فلا يلزم القطع بالاجتهادات، بل لا يمكن القطع بها، وقد كان مالك رحمه الله يقول: {إِنْ نَظُنُّ إِلَّا ظَنًّا وَمَا نَحْنُ بِمُسْتَيْقِنِينَ} [الجاثية:32] ، فكل ما طريقه الاجتهاد يتعذر فيه القطع بتفاوت عقول الناس.

وقوله: (في تحصيل علم) أي: الوصول إليه بتحصيل ظن.

(بالأحكام الشرعية) : أي: بحكم شرعي قد جاء أصله في الوحي، ثم بذل الجهد في استخراجه واستنباطه.

(بالأحكام الشرعية من أدلتها) أي: أن يكون ذلك مأخوذاً من الأدلة، وهذا التعريف الذي ذكره هنا للقفه تعريف مختصر، وللأصوليين تعريف مطول وهو: الفقه: هو العلم بالأحكام الشرعية العملية المكتسبة من أدلتها التفصيلة.

الفقه إذاً: هو العلم بالأحكام الشرعية، والعلم هنا لا يقصد به القطع، بل يقصد به الفهم والإدراك، فيشمل ذلك القطعيات والظنيات.

(بالأحكام الشرعية) سبق تعريفها.

(العملية) فذلك مخرج للعقائد، فإن العلم بها علم بالأحكام الشرعية غير العملية، بل النظرية المكتسب بخلاف الموحى، فالوحي لا يكتسب إنما هو اختيار من عند الله.
শব্দগত ও পারিভাষিক দিক থেকে উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা

তিনি এই দুটি অংশের সংজ্ঞা প্রদানের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেছেন। তাঁর ব্যবহৃত ‘একক’ শব্দের অর্থ হলো: এই অংশ দুটির কোনোটিই যৌগিক নয়। এখানে একক বলতে দ্বিবচন বা বহুবচনের বিপরীত উদ্দেশ্য নয়, বরং এখানে উদ্দেশ্য হলো এই দুটি অংশের প্রতিটি অংশই স্বতন্ত্র বা অযৌগিক, তাই এগুলোর মধ্যে কোনো সম্বন্ধবাচক বা ইজাফী সংমিশ্রণ নেই।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: [আসল বা মূল হলো তা, যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে]: তিনি প্রথম অংশ অর্থাৎ ‘উসুল’ দিয়ে শুরু করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, ‘উসুল’ হলো ‘আসল’ শব্দের বহুবচন। তিনি আসলের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: এটি এমন বিষয় যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে; আর এটি হলো এর পারিভাষিক সংজ্ঞা। আভিধানিক অর্থে আসল হলো: যার ওপর অন্য কিছু নির্মিত হয়, যেমন ঘরের ভিত্তি; অথবা যার ওপর অন্য কিছু উৎপন্ন হয়, যেমন গাছের শিকড়।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: [আর ফার’ বা শাখা হলো তা, যা অন্য কিছুর ওপর গড়ে ওঠে]: তিনি এখানে আসলের বিপরীত অর্থাৎ ‘ফার’ (শাখা) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এর পারিভাষিক সংজ্ঞা হলো: যা অন্য কিছুর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।

অতঃপর তিনি ফিকহের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন: [ফিকহ হলো ইজতিহাদের মাধ্যমে অর্জিত শরয়ী বিধানসমূহের জ্ঞান]।

ফিকহ: এটি একটি ক্রিয়ামূল, যার অর্থ সে অনুধাবন করেছে। আভিধানিক অর্থে ফিকহ মানে হলো বুঝ বা অনুধাবন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মহান আল্লাহর বাণী: {তারা বলল, হে শুআইব! তুমি যা বলছ তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না} [হুদ: ৯১], অর্থাৎ: তুমি যা বলছ তার অনেক কিছুই আমরা অনুধাবন করতে পারছি না।

পারিভাষিক অর্থে: শরয়ী বিধানসমূহ জানার নাম হলো ফিকহ, যা ইজতিহাদ বা গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত হয়। এখানে ফিকহের সংজ্ঞায় 'জ্ঞান' বলতে ফকীহ বা আইনবিদের সত্তায় বিদ্যমান সেই গুণকে বোঝানো হয়েছে, যা অর্জনের মাধ্যমে তিনি ফকীহ হিসেবে গণ্য হন। আর যদি আমরা ফিকহকে একটি শাস্ত্র হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে চাই, তবে বলব: এটি এমন একটি শাস্ত্র যা ইজতিহাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত শরয়ী বিধানসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট। ফলে আমরা একে জ্ঞানের এমন একটি শাখা হিসেবে গণ্য করব যা ইজতিহাদনির্ভর শরয়ী বিধানসমূহ নিয়ে আলোচনা করে।

আহকাম হলো হুকম শব্দের বহুবচন। আভিধানিক অর্থে এটি হলো: নিপুণতা বা সুদৃঢ় করা। তাই বলা হয়: সে বস্তুটিকে সুদৃঢ় বা নিপুণ করেছে।

অর্থাৎ: কোনো কাজ অত্যন্ত নিপুণ ও সুদৃঢ়ভাবে সম্পন্ন করা হলে তাকে ইহকাম ও হুকম বলা হয়। মহান আল্লাহর বাণীও এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত: "আলিফ, লাম, রা; এটি এমন একটি কিতাব যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করা হয়েছে, অতঃপর প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে তা বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।" [হুদ: ১]।

অনুরূপভাবে হুকম শব্দটি 'বিরত রাখা' বা 'নিয়ন্ত্রণ করা' অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়: সে নির্বোধকে বিরত রেখেছে, অর্থাৎ যখন সে তাকে তার নির্বুদ্ধিতা থেকে বাধা দেয় এবং তা থেকে ফিরিয়ে রাখে। কবি জারীরের উক্তিটি এই অর্থের সপক্ষে: "হে বনু হানিফা! তোমরা তোমাদের নির্বোধদের নিয়ন্ত্রণ করো, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ওপর রাগান্বিত হওয়ার ভয় করছি। হে বনু হানিফা! আমি যদি তোমাদের নিন্দা করি, তবে আমি ইয়ামামাকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেব যে সেখানে একটি খরগোশ আড়াল করার মতো জায়গাও অবশিষ্ট থাকবে না।" আর পারিভাষিক অর্থে হুকম হলো: কোনো বিষয়ের জন্য অন্য কোনো বিষয় সাব্যস্ত করা অথবা কোনো বিষয় থেকে অন্য বিষয়কে নাকচ করা।

কোনো বিষয়ের জন্য অন্য বিষয় সাব্যস্ত করার উদাহরণ যেমন: (যায়েদ দাঁড়িয়েছে এবং যায়েদ মারা গেছে), এবং (এটি ওয়াজিব ও এটি হারাম)।

অথবা কোনো বিষয় থেকে অন্য বিষয় নাকচ করার উদাহরণ যেমন: (যায়েদ দাঁড়ায়নি এবং যায়েদ মারা যায়নি), এবং (এটি ওয়াজিব নয় ও এটি হারাম নয়)। এই সব কিছুকেই হুকম বলা হয়। উৎসের বিবেচনায় হুকম তিন প্রকার: শরয়ী হুকম, আকলী বা বুদ্ধিবৃত্তিক হুকম এবং আদতগত বা প্রথাগত হুকম। সুতরাং যা কোনো বিষয়ের জন্য কোনো বিষয় সাব্যস্ত করে অথবা নাকচ করে, তা শরীয়তের বিধান হওয়া থেকে মুক্ত নয়।

অর্থাৎ: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী, আর তাঁর পক্ষ থেকে যা প্রকাশ পায় তাকেই শরয়ী বিধান বলা হয়।

এবং শার' (شرع): এর অর্থ হলো বর্ণনা এবং প্রকাশ করা। এটি পান করার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। বলা হয়, তিনি বিষয়টি শার' করেছেন যখন তিনি তা সুস্পষ্ট করেছেন। নৌকার পালকেও (শিরা') এর স্পষ্টতা ও দৃশ্যমানতার কারণে এ নাম দেওয়া হয়েছে। বলা হয়, চতুষ্পদ জন্তুটি শার' করেছে যখন সেটি পানি পান করার জন্য পানিতে প্রবেশ করেছে। শরিয়ত শব্দটি পানির ওপরও প্রয়োগ করা হয়, যেমন জলাশয় বা পুকুরের পানি যেখান থেকে পান করা হয়।

আর পারিভাষিক অর্থে এটি হলো: আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যেসকল বিধান প্রকাশ করেছেন এবং তা প্রস্তুত করেছেন; যাতে তা এমন এক উৎস হয় যেখান থেকে উদ্দেশ্যসমূহ এবং বিস্তারিত বিষয়াদি আহরণ করা যায়।

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [শারঈ হুকুম হলো: মুকাল্লাফের (শরীয়তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সম্বোধন, যে দিক থেকে সে এর দ্বারা আদিষ্ট]। (আল্লাহর সম্বোধন) অর্থাৎ: এটিই সেই উৎস যা থেকে শারঈ হুকুম গ্রহণ করা হয় এবং তা হলো ওহী।

(আল্লাহর সম্বোধন), অর্থাৎ: তাঁর বান্দাদের প্রতি নির্দেশিত তাঁর বাণী, চাই তা শব্দ এবং অর্থ উভয় সহকারে নাযিল হোক যেমন কুরআন ও হাদীসে কুদসী, অথবা কেবল অর্থ নাযিল হোক এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা তাঁর নিজের ভাষায় ব্যক্ত করেছেন এবং তা হলো নববী সুন্নাহ। অথবা তার দলীল সংক্ষিপ্তভাবে এসেছে এবং মুকাল্লাফকে তা থেকে বিধান উদ্ঘাটন ও বের করার জন্য ইজতিহাদ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, অতঃপর উলামায়ে কেরাম তা বের করেছেন; চাই তারা তাতে একমত হয়ে থাকুন ফলে তা অকাট্য ঐক্যমত্য (ইজমা) হিসেবে গণ্য হয়, অথবা তারা একমত না হয়ে থাকুন ফলে তা এমন এক ইজতিহাদে পরিণত হয় যা গ্রহণ বা বর্জনের অবকাশ রাখে।

(মুকাল্লাফের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সম্বোধন) এর মাধ্যমে আল্লাহর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সম্বোধনটি বের হয়ে গেল, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক} [আল-বাকারা: ২৫৫]। এটি আল্লাহর সত্তা এবং গুণাবলী সম্পর্কিত। তেমনিভাবে সৃষ্টির সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সম্বোধনটিও বের হয়ে গেল, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তিনি তোমাদের এবং তোমরা যা কর তা সৃষ্টি করেছেন} [আস-সাফফাত: ৯৬]। ‘তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন’: এটি সৃষ্টির সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সম্বোধন। (যেহেতু তিনি এর দ্বারা আদিষ্ট) এর মাধ্যমে আল্লাহর সেই সম্বোধন বাদ পড়েছে যা মুকাল্লাফের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট, তবে তা সে হিসেবে নয় যে সে এর জন্য আদিষ্ট, বরং তা আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে। যেমন আল্লাহর বাণী: "তিনি তোমাদের এবং তোমরা যা করো তা সৃষ্টি করেছেন" [আস-সাফফাত: ৯৬]।

(এবং তোমরা যা করো) এখানে: এটি আল্লাহর সেই সম্বোধন যা মুকাল্লাফের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট, তবে তা সে হিসেবে নয় যে সে এর দ্বারা আদিষ্ট, বরং তা মহান আল্লাহর সৃষ্টি হওয়ার দিক থেকে।

এবং দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: বুদ্ধিবৃত্তিক বিধান (হুকুম আকলি): এটি একটি প্রতিজ্ঞা, অর্থাৎ এমন একটি বিষয় যা সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে এবং যা শরিয়ত বা অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে না। এটি শুধুমাত্র নিছক বিবেকের মাধ্যমে গৃহীত হয়। মুকাল্লাফদের বুদ্ধি ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে এবং তাদের স্তরগুলোও পৃথক, কিন্তু যা কিছু ইতিবাচক বা নেতিবাচক সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ঐকমত্য হয়, তা-ই বুদ্ধিবৃত্তিক বিধান, চাই তা স্বতঃসিদ্ধ হোক—অর্থাৎ যার উদ্ভাবনে গভীর চিন্তার প্রয়োজন হয় না—অথবা তাত্ত্বিক হোক।

অর্থাৎ: যার উদ্ভাবনে গভীর চিন্তার প্রয়োজন হয়।

তৃতীয় বিভাগ: পরীক্ষালব্ধ জাগতিক বিধান, আর তা হলো পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে কোনো বিষয়ের জন্য অন্য কোনো বিষয়কে সাব্যস্ত করা অথবা তা থেকে কোনো বিষয়কে অস্বীকার করা, যদিও এর ব্যতিক্রম ঘটা সম্ভব। যেমনটি ঘটে থাকে কোনো একটি উপাদানকে একটি নির্দিষ্ট রোগের নিরাময় হিসেবে সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে। এ ব্যাপারে কোনো ওহি নাজিল হয়নি এবং বিবেকও একে আবশ্যক করে না; বরং তা অভিজ্ঞতা ও পুনরাবৃত্তির মাধ্যমেই জানা গিয়েছে। সুতরাং এই রোগে আক্রান্তদের ওপর এর বারবার প্রয়োগ পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের সকলের ওপর এর প্রভাব লক্ষ করা গিয়েছে, ফলে একে সেই রোগের চিকিৎসা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং এই প্রকারটিই হলো জাগতিক বিধান। আর এর ব্যতিক্রম হওয়া সম্ভব, যেমন কোনো রোগী এই ওষুধ ব্যবহার করল কিন্তু তা থেকে কোনো উপকার পেল না, আবার অন্য একজন—যে একই রোগে আক্রান্ত—সে তা ব্যবহার করল এবং উপকৃত হলো। আর তা মহান আল্লাহর ফয়সালা ও তকদির অনুযায়ী হয়ে থাকে। এর একটি উদাহরণ হলো: আগুনের দহনক্রিয়া। কেননা মূল নিয়ম হলো আগুন তার স্পর্শে আসা দহনযোগ্য বস্তুসমূহকে পুড়িয়ে ফেলে, যখন শর্তসমূহ বিদ্যমান থাকে—যেমন স্পর্শ লাগা—এবং প্রতিবন্ধকতা অনুপস্থিত থাকে—যেমন কোনো আড়াল না থাকা—এবং বস্তুটি দহনযোগ্য হওয়া। কিন্তু এ থেকে ব্যতিক্রম হওয়া সম্ভব; যেমন ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছিল কিন্তু তিনি পুড়েননি। আর তা মহান আল্লাহর ফয়সালা ও তাঁর কুদরতের মাধ্যমেই হয়েছে। সুতরাং এগুলোই হলো বিধানসমূহ।

তাঁর বক্তব্য: (যার পথ হলো ইজতিহাদ): শরীয়তের বিধানসমূহের মধ্যে এমন কিছু আছে যা কুরআন বা সুন্নাহর ভাষ্যের মাধ্যমে ওহীতে স্পষ্টভাবে এসেছে। ফলে তা জানার মাধ্যম ইজতিহাদ নয়, বরং তা জানার মাধ্যম হলো ওহী। একে ফিকহ বলা হয় না, বরং এটি ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যা সরাসরি দলিলের মাধ্যমে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ: সালাত ও যাকাত ওয়াজিব হওয়া, পবিত্রতা অর্জন ওয়াজিব হওয়া, ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হওয়া এবং সুদ ও ব্যভিচার হারাম হওয়া। এগুলো অকাট্য দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত বিষয়, যা কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের দিকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব নয়; কারণ এগুলো মানুষের ইজতিহাদপ্রসূত নয়, বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহী।

(যার পথ) অর্থাৎ: তা জানার পথ।

(ইজতিহাদ), আর আভিধানিক অর্থে ইজতিহাদ হলো: যেকোনো কাজে সামর্থ্য ব্যয় করা। যেমন বলা হয়: অমুক ব্যক্তি পথ চলায় ইজতিহাদ করেছে, অর্থাৎ সে দ্রুত চলেছে ও চেষ্টা করেছে। আরও বলা হয়: সে বিষয়ে ইজতিহাদ করেছে।

অর্থাৎ: সে বিষয়ে তার সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করেছে।

আর পারিভাষিক অর্থে ইজতিহাদ হলো: দলিল থেকে গৃহীত বিধানসমূহ সম্পর্কে প্রবল ধারণা অর্জনে একজন ফকীহর পূর্ণ সামর্থ্য ব্যয় করা। সুতরাং এটি কেবল তাঁর জন্য প্রযোজ্য যিনি ফকীহ অর্থাৎ ইজতিহাদের শর্তাবলি সম্পন্ন এবং যিনি প্রবল ধারণা বা অনুমানে পৌঁছানোর জন্য তাঁর পূর্ণ সামর্থ্য—অর্থাৎ তাঁর সকল শক্তি—ব্যয় করেছেন। তাই ইজতিহাদপ্রসূত বিষয়গুলোতে নিশ্চিত জ্ঞান থাকা আবশ্যক নয়, বরং সেগুলোতে নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা সম্ভবও নয়। ইমাম মালিক (রহ.) বলতেন: "আমরা কেবল ধারণা পোষণ করি এবং আমরা নিশ্চিত নই" [সূরা আল-জাসিয়া: ৩২]। সুতরাং যার পথ হলো ইজতিহাদ, মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক পার্থক্যের কারণে তাতে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো দুঃসাধ্য।

আর তাঁর কথা: (জ্ঞান অর্জনে) অর্থাৎ: প্রবল ধারণা বা অনুমান অর্জনের মাধ্যমে তাতে পৌঁছানো।

(শরীয়তের বিধানসমূহ সম্পর্কে): অর্থাৎ: এমন শরয়ী বিধান সম্পর্কে যার মূল উৎস ওহীতে এসেছে, অতঃপর তা আহরণ ও উদ্ভাবন করার ক্ষেত্রে শ্রম ব্যয় করা হয়েছে।

(শরয়ী বিধানসমূহ সেগুলোর দলিল হতে) অর্থাৎ: এটি দলিলসমূহ থেকে সংগৃহীত হওয়া। আর এখানে তিনি ফিকহের যে সংজ্ঞাটি উল্লেখ করেছেন তা একটি সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা। উসুলবিদদের নিকট একটি দীর্ঘ সংজ্ঞা রয়েছে, তা হলো: ফিকহ হলো বিস্তারিত দলিলসমূহ হতে অর্জিত আমলযোগ্য শরয়ী বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

সুতরাং ফিকহ হলো: শরয়ী বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান। আর এখানে জ্ঞান (ইলম) দ্বারা নিশ্চিত জ্ঞান (কাত'ই) উদ্দেশ্য নয়, বরং এর দ্বারা বুঝ ও উপলব্ধি উদ্দেশ্য, ফলে এর অন্তর্ভুক্ত হবে নিশ্চিত এবং প্রবল ধারণামূলক (জন্নিয়্যাত) উভয় প্রকারের বিষয়সমূহ।

(শরয়ী বিধানসমূহ) এর সংজ্ঞা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(আমলযোগ্য) এর মাধ্যমে আকিদাহ বা বিশ্বাসগত বিষয়সমূহ বের হয়ে গেছে। কেননা সেগুলো সম্পর্কে জ্ঞান হলো এমন শরয়ী বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান যা আমলযোগ্য নয়, বরং তা তাত্ত্বিক। আর 'অর্জিত' হওয়া ওহীর বিপরীত; কারণ ওহী অর্জন করা যায় না, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত একটি বিষয়।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تعريف الدليل وأقسامه

(من أدلتها) ، فاكتساب الأحكام لا يمكن أن يكون بالأوهام والتخمين، بل لابد فيه من الرجوع للأدلة، والأدلة جمع دليل، والدليل في اللغة المرشد، سواء أكان ذلك في الحسيات أو في المعنويات، فمن إطلاقه على الحسيات قول الشاعر: إذا حل دين على اليحصبي فقل له تزود بزاد واستعن بدليل سيصبح فوقي أقتم الريش واقعاً بقالي قلا أو من وراء دليل فالدليل هنا: هو الخريت الذي يعرف المسافات ويدل السائر فيها، ومن إطلاقه على المعنويات قول الله تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى رَبِّكَ كَيْفَ مَدَّ الظِّلَّ وَلَوْ شَاءَ لَجَعَلَهُ سَاكِنًا ثُمَّ جَعَلْنَا الشَّمْسَ عَلَيْهِ دَلِيلًا} [الفرقان:45] ، (جَعَلْنَا الشَّمْسَ عَلَيْهِ دَلِيلًا) أي: علامة عليه مرشدة لوجوده.

والدليل في الاصطلاح: هو ما يوصل بصحيح النظر فيه إلى العلم بمطلوب خبري، ويمكن أن تقول: ما يتوصل بصحيح النظر فيه -أي: بالنظر الصحيح فيه- إلى العلم بمطلوب خبري، فالتوصل إنما يكون بصحيح النظر -أي: النظر الصحيح- والنظر حركة النفس في المعقولات، وحركتها بالمحسوسات تسمى (بالتخيل) .

فالنظر إذاً: هو التفكير، وهو صحيح وفاسد، فالصحيح من النظر: ما كان من الجهة التي يدل منها الدليل على مدلوله.

والفاسد من النظر: ما كان من الجهة التي لا يدل منها على مدلوله، فمثلاً: الذي يريد أن يعمل دولاباً من خشب، إذا بحث في الخشب من جهة قدمه أو حداثته، أو من جهة ملك فلان له، أو نحو ذلك، فهذا الوجه لا يوصل إلى المراد، لكن إذا بحث من جهة استقامة الخشب واعوجاجه، ولينه وقساوته، أدى هذا إلى المطلوب؛ لأنه الوجه الذي يعين على صناعة الدولاب منه.

(إلى العلم) أغلب إطلاق الأصوليين للدليل على ما يوصل إلى العلم أو الظن، وبعضهم يخص ما يوصل إلى العلم بهذا المصطلح: الدليل، ويطلق على ما يوصل إلى الظن الأمارة، ولكن ذلك في اصطلاح مندرس لم يسر عليه المؤلفون.

وقوله: (إلى مطلوب خبري) المطلوب: ما تتعلق به النفس، والمقصود به: الأمر الذي يكون -قبل إقامة الدليل- عليه دعوى، ووقت إقامة الدليل مطلوباً، وبعد إقامة الدليل نتيجة، فهو نتيجة ذلك الدليل.

وقوله: (خبري) منسوب إلى الخبر، فالكلام ينقسم إلى قسمين: إلى إنشاء وخبر، فالإنشاء: إيقاع معنىً بلفظ يقارنه في الوجود، كالطلب: قم اجلس وهكذا، فهذا إنشاء، والمعنى لم يوجد قبل قوله قم، ولا يتعلق به التصديق ولا التكذيب.

وأما الخبر: فهو التحدث عن أمر سبق التحدث عنه، كقول: قمت بالأمس، أو كنت قائماً في مكان كذا، أو ستقوم، فهذا تحدث عن أمر لا يقارن وجوده التحدث به، وهو قابل للتصديق والتكذيب، فالخبر كله يقبل الصدق والكذب بخلاف الإنشاء فلا يقبلها، والذي يحتاج إلى الدليل هو ما يقبل الصدق والكذب؛ لأن ما لا يقبل التصديق أو التكذيب لا يحتاج فيه أصلاً إلى الدليل، إنما يحتاج إلى الدليل فيما يقبل التصديق والتكذيب، فلهذا قلنا: (إلى مطلوب خبري) .

والأدلة تنقسم إلى قسمين: إلى أدلة إجمالية وأدلة تفصيلية، فالأدلة الإجمالية هي أجناس الأدلة: كالكتاب، والسنة، والإجماع، والقياس.

والأدلة التفصيلية: هي جزئيات هذه الأجناس، فمثلاً: الأدلة التفصيلية من الكتاب مثل قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ} [المائدة:6] ، فهذا دليل على وجوب غسل الوجه في الوضوء، والآية هي دليل وجوب الوضوء وهكذا، فهذا دليل تفصيلي لا دليل إجمالي.

والفقه إنما يؤخذ من الأدلة التفصيلية، فهي التي يبحث فيها في علم الفقه، وأما أصول الفقه فإنما يتعلق البحث فيه بالأصول الإجمالية، والبحث فيه عن الكتاب كجنس للأدلة التفصيلية، والسنة كذلك وهكذا.

إذاً: هذا تعريف الفقه، وبه يعرف أصول الفقه، فأصول الفقه -إذاً- بالمعنى اللقبي: هو العلم بالأدلة الشرعية الإجمالية وطرق الاستفادة منها وحال المستفيد.

وإذا أردت الصفة التي يتصف بها الأصولي فتقول: هو العالم بالأدلة الشرعية الإجمالية وطرق الاستفادة منها وحال المستفيد.

إذاً: هذا معنى أصول الفقه في المعنى اللقبي أنه: العلم بالأدلة الشرعية الإجمالية، أي: أجناس الأدلة، وطرق الاستفادة منها، أي: طرق أخذ الأحكام منها، وهذا يدل على أن الأحكام أيضاً تبحث في أصول الفقه.

وحال المستفيد، أي: حال الذي يأخذ الأحكام من الأدلة وهو المجتهد.

إذاً: هذه ثلاثة أمور ينتظمها أصول الفقه في الاصطلاح: أولاً: الكلام في الأدلة نفسها.

ثانياً: الكلام في طرق دلالتها على الأحكام.

ثالثاً: الكلام في شروط آخذها من الأحكام وهو (المجتهد) .
দলিলের সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ

(তার দলিলসমূহ হতে), সুতরাং বিধানাবলী অর্জন করা কেবল কল্পনা ও অনুমানের ভিত্তিতে সম্ভব নয়, বরং এক্ষেত্রে দলিলের দিকে প্রত্যাবর্তন করা অপরিহার্য। 'আদিল্লাহ' হলো 'দলিল' শব্দের বহুবচন। আভিধানিক অর্থে দলিল হলো পথপ্রদর্শক, চাই তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে হোক কিংবা অর্থগত বা মানসিক বিষয়ের ক্ষেত্রে। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগের উদাহরণ হলো কবির এই উক্তি: "যদি ইয়াহসাবীর ওপর কোনো ঋণ অর্পিত হয়, তবে তাকে বলো সে যেন পাথেয় গ্রহণ করে এবং একজন পথপ্রদর্শকের সাহায্য নেয়। শীঘ্রই আমার ওপর অন্ধকার পালকবিশিষ্ট পাখি অবতরণ করবে 'কালি কালা' নামক স্থানে অথবা একজন পথপ্রদর্শকের পশ্চাতে।" এখানে 'দলিল' বলতে সেই দক্ষ পথপ্রদর্শককে বোঝানো হয়েছে যিনি পথ ও দূরত্ব সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং পথচারীকে পথ দেখান। আর মানসিক বা অর্থগত বিষয়ের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তুমি কি তোমার প্রতিপালকের প্রতি লক্ষ্য করো না, তিনি কীভাবে ছায়াকে প্রসারিত করেন? তিনি চাইলে একে স্থির রাখতে পারতেন; অতঃপর আমি সূর্যকে এর জন্য নির্দেশক করেছি।" [সূরা আল-ফুরকান: ৪৫]। 'আমি সূর্যকে এর ওপর নির্দেশক (দলিল) করেছি' অর্থাৎ সূর্য হলো ছায়ার অস্তিত্বের পরিচায়ক ও পথপ্রদর্শক একটি চিহ্ন।

পারিভাষিক অর্থে দলিল হলো: যার মধ্যে সঠিক চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে কোনো সংবাদমূলক উদ্দেশ্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। আবার এভাবেও বলা যায়: যার মধ্যে সঠিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কোনো সংবাদমূলক অভীষ্ট বিষয়ের জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয়। সুতরাং এই জ্ঞান লাভ কেবল সঠিক চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমেই হতে পারে। আর 'নযর' (চিন্তা-গবেষণা) হলো বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের ক্ষেত্রে আত্মার পরিভ্রমণ বা চিন্তা করা, আর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে আত্মার পরিভ্রমণকে 'তাখায়্যুল' (কল্পনা) বলা হয়।

অতএব, 'নযর' বা চিন্তা-গবেষণা হলো মূলত চিন্তা করা, যা সঠিকও হতে পারে আবার ভুলও হতে পারে। সঠিক চিন্তা-গবেষণা হলো সেটি, যা এমন দিক থেকে পরিচালিত হয় যে দিক থেকে দলিলটি তার উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর নির্দেশ করে।

ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা (নযর) হলো: যা এমন দিক থেকে আসে যেখান থেকে তা তার উদ্দিষ্ট বিষয়ের প্রমাণ প্রদান করে না। উদাহরণস্বরূপ: যে ব্যক্তি কাঠের চাকা তৈরি করতে চায়, সে যদি কাঠের প্রাচীনত্ব বা নতুনত্ব নিয়ে গবেষণা করে, অথবা অমুক ব্যক্তির মালিকানাধীন হওয়ার দিক থেকে অনুসন্ধান করে, বা এ জাতীয় কিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়, তবে এ দিকটি উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাবে না। কিন্তু যদি সে কাঠের সোজা হওয়া বা বাঁকা হওয়া এবং তার নমনীয়তা বা কঠোরতার দিক থেকে অনুসন্ধান করে, তবে তা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যাবে; কারণ এটিই সেই দিক যা দিয়ে চাকা তৈরিতে সহায়তা পাওয়া যায়।

(জ্ঞানের দিকে) উসুলবিদগণের অধিকাংশের মতে 'দলিল' শব্দটি এমন কিছুর ওপর প্রয়োগ হয় যা জ্ঞান বা ধারণার দিকে নিয়ে যায়। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ 'দলিল' পরিভাষাটিকে কেবল এমন কিছুর জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যা অকাট্য জ্ঞানের দিকে নিয়ে যায় এবং যা ধারণার দিকে নিয়ে যায় তাকে 'আমারা' (লক্ষণ) বলে অভিহিত করেছেন। তবে এটি একটি বিলুপ্ত পরিভাষা যা পরবর্তী লেখকগণ অনুসরণ করেননি।

এবং তাঁর কথা: (সংবাদমূলক উদ্দিষ্ট বিষয়ের দিকে); উদ্দিষ্ট হলো যার সাথে মন নিবিষ্ট থাকে। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: এমন বিষয় যা দলিল উপস্থাপনের আগে একটি 'দাবি' হিসেবে থাকে, দলিল উপস্থাপনের সময় তা 'উদ্দিষ্ট' হিসেবে থাকে এবং দলিল উপস্থাপনের পর তা 'ফলাফল' হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং এটি সেই দলিলেরই ফলাফল।

এবং তাঁর কথা: (সংবাদমূলক); এটি 'খবর' বা সংবাদের সাথে সম্পর্কিত। কথা দুই ভাগে বিভক্ত: ইনশা (সৃজনমূলক) এবং খবর (সংবাদমূলক)। ইনশা হলো শব্দের মাধ্যমে এমন একটি অর্থ তৈরি করা যা অস্তিত্ব লাভের ক্ষেত্রে সেই শব্দের সাথেই যুক্ত থাকে, যেমন আদেশ: দাঁড়াও, বোসো ইত্যাদি। এটিই হলো ইনশা; তার 'দাঁড়াও' বলার আগে সেই অর্থটির অস্তিত্ব ছিল না, এবং এর সাথে সত্যায়ন বা মিথ্যায়নের কোনো সম্পর্ক নেই।

আর 'খবর' (সংবাদ) হলো এমন বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা যা নিয়ে ইতিপূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে। যেমন কারো কথা: 'আমি গতকাল দাঁড়িয়েছিলাম', অথবা 'আমি অমুক স্থানে দাঁড়িয়েছিলাম', অথবা 'তুমি দাঁড়াবে'। এটি এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা যার অস্তিত্ব তার সম্পর্কে আলোচনার সমসাময়িক নয়। এটি সত্যয়ন বা মিথ্যায়নের সম্ভাবনা রাখে। সুতরাং সকল সংবাদই সত্য ও মিথ্যার সম্ভাবনা রাখে, 'ইনশা' (অনুজ্ঞা বা সৃজনমূলক বাক্য) এর বিপরীত, যা সত্য-মিথ্যার সম্ভাবনা রাখে না। আর যার জন্য প্রমাণের প্রয়োজন হয় তা হলো এমন বিষয় যা সত্য ও মিথ্যার সম্ভাবনা রাখে। কারণ যাতে সত্যয়ন বা মিথ্যায়নের অবকাশ নেই, তাতে মূলত প্রমাণের কোনো প্রয়োজন নেই। প্রমাণের প্রয়োজন কেবল সেই বিষয়গুলোতেই হয় যা সত্যয়ন ও মিথ্যায়নের অবকাশ রাখে। এই কারণেই আমরা বলেছি: (একটি সংবাদমূলক উদ্দেশের দিকে)।

আর দলিলসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত: ইজমালি (সামগ্রিক) দলিল এবং তাফসিলি (বিস্তারিত) দলিল। ইজমালি দলিল হলো দলিলের মূল প্রকারসমূহ: যেমন কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস।

আর তাফসিলি দলিল হলো এই মূল প্রকারসমূহের অন্তর্গত শাখা-প্রশাখাসমূহ। উদাহরণস্বরূপ: কিতাব থেকে তাফসিলি দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো} [আল-মায়িদাহ: ৬]। এটি ওজুর মধ্যে মুখমণ্ডল ধৌত করা ওয়াজিব হওয়ার একটি দলিল। আর এই আয়াতটি ওজু ওয়াজিব হওয়ার দলিল এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ। সুতরাং এটি একটি তাফসিলি দলিল, ইজমালি দলিল নয়।

আর ফিকহ কেবল তাফসিলি দলিলসমূহ থেকেই গৃহীত হয়। সুতরাং ফিকহ শাস্ত্রে এগুলো নিয়েই আলোচনা করা হয়। পক্ষান্তরে উসুলে ফিকহ শাস্ত্রে আলোচনা কেবল ইজমালি মূলনীতিসমূহ সংশ্লিষ্ট হয়। এখানে 'কিতাব' (কুরআন) সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তাফসিলি দলিলের একটি মূল উৎস বা প্রকার হিসেবে, আর সুন্নাহ এবং অন্যান্য বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ।

সুতরাং: এটি ফিকহের সংজ্ঞা, এবং এর মাধ্যমেই উসুলুল ফিকহ চেনা যায়। সুতরাং উসুলুল ফিকহ—পারিভাষিক অর্থে—হলো সামগ্রিক শারয়ি দলিলসমূহ, তা থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি এবং বিধান আহরণকারীর অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

আর আপনি যদি এমন গুণ বর্ণনা করতে চান যা দ্বারা একজন উসুলি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হন, তবে আপনি বলবেন: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি সামগ্রিক শারয়ি দলিলসমূহ, তা থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি এবং বিধান আহরণকারীর অবস্থা সম্পর্কে অবগত।

সুতরাং: পারিভাষিক অর্থে উসুলুল ফিকহের অর্থ হলো: সামগ্রিক শারয়ি দলিলসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা, অর্থাৎ দলিলের প্রকারসমূহ; এবং তা থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি, অর্থাৎ দলিল থেকে বিধান গ্রহণের তরিকাসমূহ। আর এটি নির্দেশ করে যে, উসুলুল ফিকহে বিধানসমূহ নিয়েও আলোচনা করা হয়।

এবং বিধান আহরণকারীর অবস্থা, অর্থাৎ যিনি দলিল থেকে বিধান গ্রহণ করেন তাঁর অবস্থা, আর তিনি হলেন মুজতাহিদ।

সুতরাং: পরিভাষায় উসুলুল ফিকহ এই তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে: প্রথমত: স্বয়ং দলিলসমূহ নিয়ে আলোচনা।

দ্বিতীয়ত: বিধানসমূহের ওপর দলিলের নির্দেশনার পদ্ধতিগুলো নিয়ে আলোচনা।

তৃতীয়ত: বিধান আহরণকারীর শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা, আর তিনি হলেন (মুজতাহিদ)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الأحكام الشرعية وأقسامها

وقد اختلف في موضوع أصول الفقه، فقيل: هو الأدلة الشرعية، وقيل: هو الأحكام الشرعية، والواضح أنه جامع للأمرين، فهو الأدلة الشرعية الإجمالية والأحكام الشرعية كذلك؛ لأن الأمرين يبحث فيهما في أصول الفقه، ولهذا بدأ هو بالأحكام فقال: (الأحكام الشرعية) ، عقد هذا الباب لبيان أقسام الحكم الشرعي.

قال: [والأحكام سبعة: الواجب، والمندوب، والمباح، والمحظور، والمكروه، والصحيح، والباطل] .

والأحكام الشرعية تنقسم إلى قسمين: القسم الأول يسمى: بالأحكام التكليفية، والقسم الثاني يسمى: بالأحكام الوضعية.

أما الأحكام التكليفية: فهي ما يكلف الله به الناس طلباً أو نهياً، طلباً لفعل أو تركاً أو تخييراً بينهما، فالطلب إما أن يكون جازماً أو غير جازم، فالجازم: هو الذي يسمى بالإيجاب، وغير الجازم: هو الذي يسمى بالندب، وطلب الترك إما أن يكون جازماً أيضاً، فهذا الذي يسمى بالتحريم، أو أن يكون غير جازم، وهذا الذي يسمى بالكراهة، والتخيير: هو الذي يسمى بالإباحة.

فهذه الخمسة هي الأحكام التكليفية وهي منسوبة إلى التكليف، والتكليف: هو طلب ما فيه كلفة.

أي: أن يطلب الشارع من عبده ما فيه كلفة.

أي: مشقة، وهي مشقة الامتثال، ولا يقصد بها أن كل ما يكلفنا الله سبحانه وتعالى به فيه مشقة، فالمشقة بمعنى ما لا يقدر عليه مرفوعة أصلاً؛ لقوله تعالى: {مَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} [الحج:78] ، وحصول المشقة يقتضى التيسير في الأحكام الشرعية، وإنما يقصد هنا: أن في ذلك طلباً لأمر لم يكن المكلف يفعله من تلقاء نفسه وإنما يفعله طاعة لله سبحانه وتعالى، ففيها التماس للطاعة التماس للقرب من الله تعالى، فهذا معنى كونها تكليفاً بما فيه مشقة.

وقد اختلف الناس في التكليف: هل هو إلزام ما فيه كلفة، أو طلب ما فيه كلفة؟ فمنهم من يعرفه بالإلزام؛ وذلك مقتضٍ لخروج المباح فليس فيه إلزام، ولخروج المندوب فليس فيه إلزام، ولخروج المكروه فليس فيه إلزام، فيدخل الواجب والمحرم فقط.

وبعضهم يقول: هو طلب ما فيه كلفة، وهذا يدخل الصبي؛ فإنه يطلب منه أداء الواجبات على وجه الندب، وترك المحرمات على وجه الندب أيضاً، فالمحرمات في حقه مكروهة، والواجبات في حقه مندوبة، وليس هو ملزماً بذلك؛ لأنه غير مكلف، فإذا قلنا: التكليف: هو إلزام ما فيه كلفة، فإنه يخرج منه المندوب والمكروه والمباح، وإذا قلنا: التكليف: هو طلب ما فيه كلفة، فإن ذلك يقتضي أن يكون الصبي مكلفاً، وكلا الأمرين غير صحيح، فلا يقصد بالإلزام هنا معناه المتبادر، وإنما يقصد به أن يكون ذلك مما يقصد به التعبد والطاعة.

قال: (والأحكام سبعة: الواجب والمندوب والمباح والمحظور والمكروه) وهذه في الواقع: هي متعلق الأحكام، فالحكم هو الخطاب، أي: الإيجاب والندب والإباحة والحظر الكراهة، فهذا هو الخطاب، أما متعلقه: فهو الواجب والمندوب والمباح والمحظور والمكروه.
শরয়ী বিধানসমূহ এবং সেগুলোর প্রকারভেদ

উসূলে ফিকহের আলোচ্য বিষয় নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন: এটি হলো শরয়ী দলিলসমূহ, আবার কেউ বলেছেন: এটি হলো শরয়ী বিধানসমূহ। স্পষ্ট বিষয় হলো এটি উভয় বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং এটি সামগ্রিক শরয়ী দলিল এবং অনুরূপভাবে সামগ্রিক শরয়ী বিধানসমূহকেও শামিল করে; কারণ উসূলে ফিকহের মধ্যে এই উভয় বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হয়। আর এই কারণেই তিনি বিধানসমূহ দিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন এবং বলেছেন: (শরয়ী বিধানসমূহ)। তিনি এই পরিচ্ছেদটি শরয়ী বিধানের প্রকারসমূহ বর্ণনার জন্য নির্ধারণ করেছেন।

তিনি বলেছেন: [বিধানসমূহ সাতটি: ওয়াজিব, মানদুব, মুবাহ, মাহযুর, মাকরুহ, সহীহ এবং বাতিল]।

শরয়ী বিধানসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথম ভাগকে বলা হয়: আহকাম তাকলিফিয়্যাহ (দায়িত্বারোপকারী বিধান), এবং দ্বিতীয় ভাগকে বলা হয়: আহকাম ওয়াদয়িয়্যাহ (নির্ধারক বিধান)।

আহকাম তাকলিফিয়্যাহ হলো: আল্লাহ মানুষকে কোনো কিছু করার বা বর্জন করার দাবি জানিয়ে অথবা করার ও না করার মাঝে স্বাধীনতা দিয়ে যা করার নির্দেশ দেন। কোনো কিছু করার দাবি হয় সুদৃঢ় হবে অথবা সুদৃঢ় নয় এমন হবে। সুদৃঢ় বা বাধ্যতামূলক দাবিকে বলা হয় ঈজাব, আর যা সুদৃঢ় নয় তাকে বলা হয় নাদব। কোনো কিছু বর্জনের দাবিও হয় সুদৃঢ় হবে, যাকে বলা হয় তাহরীম; অথবা সুদৃঢ় নয় এমন হবে, যাকে বলা হয় কারাহাহ। আর ইখতিয়ার বা স্বাধীনতা প্রদানকে বলা হয় ইবাহাহ।

এই পাঁচটি হলো আহকাম তাকলিফিয়্যাহ এবং এগুলো তাকলিফের সাথে সম্পর্কিত। তাকলিফ হলো: শ্রমসাধ্য কোনো কিছুর দাবি করা।

অর্থাৎ, বিধানদাতা তাঁর বান্দার কাছে এমন কিছু দাবি করা যাতে কষ্ট বা শ্রম রয়েছে।

অর্থাৎ: কষ্ট, আর এটি হলো পালনের কষ্ট; এর দ্বারা এটি উদ্দেশ্য নয় যে, মহান আল্লাহ আমাদের যা কিছু করার আদেশ দিয়েছেন তার সবটুকুই কষ্টদায়ক। বরং যে কষ্ট সহ্য করার সক্ষমতা মানুষের নেই, তা আদতেই রহিত করা হয়েছে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি" [হজ্জ: ৭৮]। কষ্টের উপস্থিতি শরয়ি বিধানসমূহে সহজীকরণের দাবি রাখে। এখানে মূলত উদ্দেশ্য হলো: এতে এমন একটি বিষয়ের তলব বা চাওয়া রয়েছে যা আদিষ্ট ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে করত না, বরং সে তা মহান আল্লাহর আনুগত্যস্বরূপ করে থাকে। সুতরাং এতে আনুগত্যের অনুসন্ধান ও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রচেষ্টা নিহিত রয়েছে। কষ্টসাধ্য বিষয় দ্বারা 'তাকলিফ' বা দায়িত্ব প্রদানের অর্থ এটাই।

'তাকলিফ' (শরয়ি দায়িত্ব অর্পণ) এর বিষয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে: এটি কি কষ্টসাধ্য বিষয়ের বাধ্যবাধকতা, নাকি কষ্টসাধ্য বিষয়ের তলব বা প্রার্থনা? তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ একে বাধ্যবাধকতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন; আর এটি 'মুবাহ' বা বৈধ বিষয়কে সংজ্ঞার বাইরে রাখার দাবি রাখে কারণ তাতে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, অনুরূপভাবে 'মানদুব' বা পছন্দনীয় বিষয়কেও বের করে দেয় কারণ তাতে বাধ্যবাধকতা নেই, এবং 'মাকরুহ' বা অপছন্দনীয় বিষয়কেও বের করে দেয় কারণ তাতেও বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে এর অধীনে কেবল 'ওয়াজিব' এবং 'হারাম' বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত হয়।

আর তাঁদের কেউ কেউ বলেন: এটি হলো কষ্টসাধ্য বিষয়ের তলব বা চাওয়া। এটি নাবালক শিশুকেও অন্তর্ভুক্ত করে; কেননা তার কাছে ওয়াজিবসমূহ পালন করা এবং হারামসমূহ বর্জন করার দাবি করা হয় মুস্তাহাব হিসেবে। সুতরাং তার ক্ষেত্রে হারাম কাজগুলো অপছন্দনীয় এবং ওয়াজিব কাজগুলো পছন্দনীয় হিসেবে গণ্য হয়, আর সে এগুলোর জন্য বাধ্য নয়; কারণ সে শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়। অতএব, আমরা যদি বলি: 'তাকলিফ' হলো কষ্টসাধ্য বিষয়ের বাধ্যবাধকতা, তবে তা থেকে মুস্তাহাব, মাকরুহ ও মুবাহ বিষয়গুলো বেরিয়ে যায়। আর আমরা যদি বলি: 'তাকলিফ' হলো কষ্টসাধ্য বিষয়ের তলব, তবে এটি নাবালক শিশুকে দায়িত্বপ্রাপ্ত গণ্য করার দাবি রাখে। আর এ উভয় বিষয়ের কোনোটিই সঠিক নয়। তাই এখানে বাধ্যবাধকতা দ্বারা তার আক্ষরিক অর্থ উদ্দেশ্য নয়, বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন বিষয় হওয়া যা দ্বারা ইবাদত ও আনুগত্যের উদ্দেশ্য সাধিত হয়।

তিনি বলেছেন: (আর বিধানসমূহ সাতটি: ওয়াজিব, মানদুব, মুবাহ, মাহজুর এবং মাকরূহ) আর এগুলো বাস্তবে হলো বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়। কারণ বিধান হলো আল্লাহর সম্বোধন, অর্থাৎ: ওয়াজিব করা, মুস্তাহাব করা, বৈধ করা, নিষিদ্ধ করা এবং অপছন্দ করা। সুতরাং এটিই হলো সম্বোধন, আর এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো হলো: ওয়াজিব, মানদুব, মুবাহ, মাহজুর এবং মাকরূহ।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌أقسام الخطاب الوضعي المستقل

فالمستقل أربعة أقسام هي: السبب، والعلة، والشرط والمانع.

أما السبب: فهو ما جعله الشارع علامة على الحكم، على وجود الحكم التكليفي، ولم يدرك العقل وجه ترتيبه عليه: كزوال الشمس سبب لوجوب صلاة الظهر، وكغروبها سبب لوجوب صلاة المغرب، والعقل لا يدرك العلاقة بين الزوال وصلاة أربع ركعات، وبين الغروب وصلاة ثلاث ركعات وهكذا، فهذا النوع هو السبب.

وقد عرفه القرافي: بأنه ما يلزم من وجوده الوجود ومن عدمه العدم؛ لأنه إذا وجد لزم أن يوجد ما علق عليه.

ومن عدمه العدم، أي: أنه إذا لم يوجد لم يصح حصول ما علق عليه، كدخول الوقت فإنه سبب لوجوب الصلاة، لكن إذا لم يدخل لا يمكن أن تؤدى وليست بواجبة، ويمكن أن يعرف: بأنه ما يلزم من عدمه العدم ولا يلزم من وجوده وجود ولا عدم لذاته، فلزوم الصلاة بدخول الوقت ليس بذات الوقت، إذ قد تدخل ولا تجب على الإنسان؛ لأنه غير مكلف -مثلاً- في ذلك الوقت بسبب عدم بلوغه أو بسبب إغماء أو جنون، أو بسبب تلبسه بمانع كالحيض والنفاس ونحو ذلك، فالسبب قد لا يلزم من وجوده الوجود دائماً لذاته، بل مع حصول الشروط وانتفاء الموانع، لكن يلزم من عدمه العدم، فإذا لم يوجد السبب لا يمكن أن يوجد الحكم كدخول الوقت مثلاً.

وأما العلة: فهي العلامة التي رتب الشارع الحكم التكليفي عليها، ويدرك العقل وجه ترتيبه عليها، كالإسكار علة لحرمة الخمر، والعقل يدرك وجه جعله كذلك، ووجه ذلك: أن الحفاظ على العقل من المقاصد الشرعية ومن ضرورات المكلفين، والخمر تذهب العقل؛ فلذلك يدرك العاقل وجه تحريم الشرع لشربها، ويعلم أن علة تحريمها أنها مسكرة.

أي: مزيلة للعقل.

وفي تعريف العلة اصطلاحاً يقال: (الوصف الظاهر) ؛ المنضبط الذي أناط الشارع به الحكم، فقوله: الوصف الظاهر: لأن العلة لا يمكن أن تكون أمراً خفياً لا يطلع عليه.

(المنضبط) أي: الذي يكون المكلفون فيه سواء، بخلاف الأمور التي لا تنضبط في المشقة، فلا يمكن أن تجعل علة لحكم لتفاوت درجاتها وتفاوت الناس فيها.

(الذي رتب الشارع عليه حكماً) ، أي: علقه به وأدرك المكلف وجه ترتيبه عليه.

وأما الشرط: فهو ما ربط الشارع بوجوده وجود الحكم التكليفي وبانتفائه انتفاءه، ولهذا عرفه القرافي: بأنه ما يلزم من عدمه العدم ولا يلزم من وجوده وجود ولا عدم لذاته كالطهارة للصلاة، فإنه يلزم من عدمها العدم؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: (لا يقبل الله صلاة أحدكم إذا أحدث ما لم يتوضأ) ، ولا يلزم من وجوده وجود ولا عدم لذاته، فإذا توضأ الإنسان لا تجب عليه الصلاة، فليس الوضوء موجباً للصلاة لكن عدمه مبطل لها.

وأما المانع: فهو ما رتب الشارع على وجوده انتفاء الحكم، وقد عرفه القرافي أيضاً بقول: ما يلزم من وجوده العدم ومن عدمه الوجود -أو- ولا يلزم من عدمه وجود ولا عدم لذاته، كوجود الحيض والنفاس، فالحيض مانع من الصلاة ووجوده مانع من وجوب الصلاة، وانعدامه ليس موجباً للصلاة دائماً، بل موجب لها بحصول الشروط والأسباب وانتفاء الموانع الأخرى.
স্বতন্ত্র বিধিবদ্ধ সম্বোধনের প্রকারভেদ

স্বতন্ত্র প্রকারগুলো হলো চারটি: সাবাব (কারণ), ইল্লাত (যৌক্তিক কারণ), শারত (শর্ত) এবং মানি’ (প্রতিবন্ধক)।

সাবাব (কারণ) হলো: যাকে শারঈ বিধানদাতা বিধানের অস্তিত্বের তথা তাকলিফী বিধানের উপস্থিতির চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, অথচ বিবেক এর সাথে বিধানের বিন্যাসের হেতু উপলব্ধি করতে পারে না। যেমন: সূর্যের ঢলে পড়া জোহরের সালাত ওয়াজিব হওয়ার কারণ এবং সূর্যাস্ত মাগরিবের সালাত ওয়াজিব হওয়ার কারণ। বিবেক সূর্যের ঢলে পড়া ও চার রাকাত সালাত এবং সূর্যাস্ত ও তিন রাকাত সালাতের মধ্যকার সম্পর্ক অনুধাবন করতে পারে না—অনুরূপ অন্যান্য ক্ষেত্রেও। এই প্রকারটিই হলো সাবাব।

ইমাম কারাফী একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: এটি এমন বিষয় যার উপস্থিতি থেকে বিধানের উপস্থিতি অনিবার্য হয় এবং যার অনুপস্থিতি থেকে বিধানের অনুপস্থিতি অনিবার্য হয়; কেননা এটি উপস্থিত থাকলে যার সাথে এটি সম্পৃক্ত করা হয়েছে তার উপস্থিত হওয়াও অনিবার্য হয়ে পড়ে।

আর যার অনুপস্থিতি থেকে অনুপস্থিতি অনিবার্য হয়, এর অর্থ হলো: যদি এটি না থাকে তবে যা এর সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে তা সংঘটিত হওয়া সঠিক হবে না। যেমন ওয়াক্তের প্রবেশ সালাত ওয়াজিব হওয়ার কারণ। কিন্তু যদি ওয়াক্ত প্রবেশ না করে, তবে তা আদায় করা সম্ভব নয় এবং তা ওয়াজিবও নয়। আবার একে এভাবেও সংজ্ঞায়িত করা যায়: যার অনুপস্থিতি থেকে অনুপস্থিতি অনিবার্য হয়, কিন্তু তার অস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব কোনটিই অনিবার্য হয় না তার স্বীয় সত্তার কারণে। কেননা ওয়াক্ত হওয়ার কারণে সালাত আবশ্যক হওয়াটা কেবল সময়ের অস্তিত্বের কারণে নয়, কারণ অনেক সময় ওয়াক্ত হতে পারে কিন্তু মানুষের উপর তা ওয়াজিব হয় না; কারণ সে তখন মুকাল্লাফ বা বিধানের অধীন নয়—উদাহরণস্বরূপ সেই সময়ে তার সাবালক না হওয়া অথবা অজ্ঞান থাকা কিংবা উন্মাদ হওয়া, অথবা কোনো প্রতিবন্ধক থাকা যেমন ঋতুস্রাব বা প্রসবোত্তর রক্তস্রাব ইত্যাদি। সুতরাং সাবাব বা কারণের অস্তিত্ব থেকে সবসময় বিধানের অস্তিত্ব অনিবার্য হয় না কেবল তার স্বীয় সত্তার কারণে, বরং তা শর্ত পূরণ হওয়া এবং প্রতিবন্ধক দূর হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু এর অনুপস্থিতি থেকে অনুপস্থিতি অনিবার্য হয়। অতএব, যদি কারণ না থাকে, তবে বিধানের অস্তিত্ব সম্ভব নয়; যেমন—ওয়াক্তের প্রবেশ।

আর ইল্লাত (আইনগত কারণ) হলো: এমন একটি চিহ্ন যার ওপর বিধানদাতা শরয়ী বিধান বিন্যস্ত করেছেন এবং বুদ্ধি এর ওপর ভিত্তি করে বিধান বিন্যস্ত করার তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারে। যেমন—মাতালতা হলো মদ হারাম হওয়ার কারণ, আর বুদ্ধি এর তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারে। এর কারণ হলো: বুদ্ধিকে সংরক্ষণ করা শরীয়তের অন্যতম উদ্দেশ্য এবং মুকাল্লাফ ব্যক্তিদের অপরিহার্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। মদ বুদ্ধি বিলোপ করে; তাই বুদ্ধিমান ব্যক্তি এটি পান করার বিষয়ে শরীয়তের হারামের তাৎপর্য বুঝতে পারে এবং সে জানে যে, এটি হারাম হওয়ার কারণ হলো এর মাদকতা।

অর্থাৎ: যা বুদ্ধি বিলোপকারী।

আর ইল্লাতের পারিভাষিক সংজ্ঞায় বলা হয়: (প্রকাশ্য গুণ); যা সুসংহত এবং বিধানদাতা যার সাথে হুকুমকে সংশ্লিষ্ট করেছেন। তাঁর উক্তি—'প্রকাশ্য গুণ': কারণ ইল্লাত এমন কোনো গোপন বিষয় হওয়া সম্ভব নয় যা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায় না।

(সুসংহত) অর্থাৎ: যাতে সকল মুকাল্লাফ সমান হয়ে থাকে; এর বিপরীতে এমন বিষয় যা কষ্টের ক্ষেত্রে সুসংহত নয়, তাকে কোনো বিধানের ইল্লাত বানানো সম্ভব নয়, কারণ তার পর্যায়ক্রম ও মানুষের অবস্থাভেদে এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

(যার ওপর বিধানদাতা কোনো হুকুম বিন্যস্ত করেছেন), অর্থাৎ: যা তিনি হুকুমের সাথে যুক্ত করেছেন এবং মুকাল্লাফ ব্যক্তি এর ওপর হুকুম বিন্যস্ত হওয়ার তাৎপর্য বুঝতে পেরেছে।

আর শর্ত হলো: যার অস্তিত্বের সাথে বিধানদাতা শরয়ী বিধানের অস্তিত্বকে এবং যার অনুপস্থিতির সাথে বিধানের অনুপস্থিতিকে যুক্ত করেছেন। এ কারণেই আল-কারাফী একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: এটি এমন বিষয় যার অনুপস্থিতি বিধানের অনুপস্থিতিকে অনিবার্য করে, কিন্তু তার অস্তিত্ব নিজস্ব সত্তার কারণে বিধানের অস্তিত্ব বা অনুপস্থিতিকে অনিবার্য করে না। যেমন—নামাজের জন্য পবিত্রতা; কেননা পবিত্রতার অনুপস্থিতি নামাজের অনুপস্থিতিকে অনিবার্য করে, যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যখন অপবিত্র হয়, তখন সে অজু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তার নামাজ কবুল করেন না।” কিন্তু তার অস্তিত্ব নিজস্ব সত্তার কারণে বিধানের অস্তিত্ব বা অনুপস্থিতিকে অনিবার্য করে না। ফলে কোনো ব্যক্তি অজু করলেই তার ওপর নামাজ ওয়াজিব হয়ে যায় না; সুতরাং অজু নামাজের জন্য ওয়াজিবকারী কোনো কারণ নয়, তবে এর অনুপস্থিতি নামাজকে বাতিল করে দেয়।

আর প্রতিবন্ধক প্রসঙ্গে: এটি হলো এমন বিষয় যার উপস্থিতির ওপর বিধানদাতা বিধানের অনুপস্থিতিকে বিন্যস্ত করেছেন। আল-কারাফীও একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: যা বিদ্যমান থাকলে বিধান না থাকা আবশ্যক হয় এবং যার অনুপস্থিতি বিধানের অস্তিত্বকে আবশ্যক করে—অথবা—যার অনুপস্থিতি তার নিজস্ব সত্তার কারণে বিধানের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি কোনোটিকেই আবশ্যক করে না। যেমন ঋতুস্রাব ও নিফাসের উপস্থিতি। ঋতুস্রাব সালাতের জন্য একটি প্রতিবন্ধক এবং এর উপস্থিতি সালাত ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা। আর এর অনুপস্থিতি সর্বদা সালাতকে আবশ্যক করে না, বরং শর্ত ও কারণসমূহ অর্জিত হওয়ার এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধকসমূহ অপসারিত হওয়ার মাধ্যমেই তা আবশ্যক হয়।

(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌أقسام الخطاب الوضعي التابع

وأما القسم التابع: فهو الصحة، والفساد، والعزيمة، والرخصة، والأداء، والقضاء، والإعادة، فهذه سبعة أقسام هي أقسام متعلق الخطاب الوضعي التابع للخطاب التكليفي.

أي: الذي لا يستقل بذاته.

فالصحة من أقسام متعلق الخطاب الوضعي، فيوصف بها الحكم الشرعي التكليفي، فتعلق الحكم التكليفي يوصف بالصحة ويوصف بالفساد والبطلان، فيقال: هذه الصلاة صحيحة أو باطلة، وهذا العقد صحيح أو باطل، ومثل ذلك العزيمة والرخصة، فيقال: هذا الحكم عزيمة وهذا الحكم رخصة، وسيأتينا تعريف ذلك.

فالصحة بمعنى موافقته للشرع، والبطلان بمعنى: مخالفته للشرع.

والعزيمة بمعنى: ثبات الحكم وعدم تغييره.

والرخصة بمعنى: تغيير الحكم إلى سهولة؛ بسبب عذر اقتضى ذلك مع بقاء سبب الحكم الأصلي، كأكل الميتة في حق من يخاف على نفسه الهلاك من الجوع، فهذا رخصة، فالحكم الشرعي الأصلي هو حرمة أكل الميتة: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ} [المائدة:3] ، وسبب تحريمها قائم وهو خبثها والضرر المترتب على أكلها، لكن الحكم الشرعي هنا تغير إلى سهولة؛ لعذر وهو جوع هذا الإنسان الذي أبيح له أكل الميتة، مع قيام سبب الحكم الأصلي الذي هو الخبث في الميتة.

وأما الأداء: فهو فعل العبادة في وقتها المحدد لها شرعاً.

وأما القضاء: فهو فعلها خارج وقتها المحدد لها شرعاً، وسيأتي الكلام في فعل بعضها في الوقت وبعضها خارج الوقت: هل يسمى أداءً أو قضاءً؟ فقيل: يسمى أداء باعتبار بدايتها، وقيل: يسمى قضاء باعتبار نهايتها، وقيل: ما في الوقت أداء، وما كان خارجه قضاء.

وأما الإعادة: فهي فعل العبادة ثانياً لخلل أو طلباً للأجر.

(فعل العبادة ثانياً) .

أي: بعد فعلها أولاً لخلل حصل فيها، كمن صلى إلى غير القبلة، فتلك الصلاة الأولى التي فعلها باطلة، فيصلها إلى القبلة في الوقت إعادة، وما كان منها لغير خلل كطلب الأجر، كمن صلى منفرداً ثم وجد جماعة في الوقت فأعاد تلك الصلاة مع الجماعة، ليس لأن صلاته الأولى باطلة، بل طلباً لزيادة الأجر، فهذه إذاً هي الإعادة، وهذه هي أقسام متعلق الخطاب الوضعي التابعة.
অনুবর্তী স্থানিক বিধানের (খিতাব ওয়াদয়ি) প্রকারভেদ

আর অনুবর্তী অংশ হলো: সঠিকতা (সিহাহ), ত্রুটিপূর্ণতা (ফাসাদ), মূল বিধান (আযীমত), সহজ বিধান (রুখসত), নির্ধারিত সময়ে আদায় (আদা), নির্ধারিত সময়ের পর আদায় (কাযা) এবং পুনরায় আদায় (ইআদাহ)। এই সাতটি হলো দায়িত্বারোপকারী বিধানের (খিতাব তাকলিফি) অনুবর্তী স্থানিক বিধানের (খিতাব ওয়াদয়ি) সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের প্রকারভেদ।

অর্থাৎ: যা নিজ সত্তায় স্বতন্ত্র নয়।

সুতরাং সঠিকতা (সিহাহ) হলো স্থানিক বিধানের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি প্রকার, যার মাধ্যমে শারঈ দায়িত্বারোপকারী বিধানকে বিশেষায়িত করা হয়। ফলে দায়িত্বারোপকারী বিধানের প্রয়োগকে সঠিকতা (সিহাহ), ত্রুটিপূর্ণতা (ফাসাদ) এবং অসারতা (বাতিল) দ্বারা বিশেষায়িত করা যায়। যেমন বলা হয়: এই সালাতটি সহীহ বা সঠিক অথবা বাতিল, এবং এই চুক্তিটি সহীহ অথবা বাতিল। তদ্রূপ আযীমত ও রুখসতও; যেমন বলা হয়: এই বিধানটি আযীমত এবং এই বিধানটি রুখসত। এগুলোর সংজ্ঞা আমাদের সামনে আসবে।

সঠিকতা (সিহাহ) অর্থ হলো শরীয়তের অনুকূলে হওয়া, আর অসারতা (বাতিল) অর্থ হলো শরীয়তের পরিপন্থী হওয়া।

আযীমত অর্থ হলো বিধানের স্থায়িত্ব এবং তা পরিবর্তন না হওয়া।

আর রুখসত অর্থ হলো কোনো ওজরের কারণে বিধানকে সহজীকরণের দিকে পরিবর্তন করা যা উক্ত পরিবর্তনের দাবি রাখে, অথচ মূল বিধানের কারণটি (সবব) বহাল থাকে। যেমন ক্ষুধার কারণে মৃত্যুভয় থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে মৃত প্রাণী ভক্ষণ করা; এটি একটি রুখসত। এখানে মূল শারঈ বিধান হলো মৃত প্রাণী ভক্ষণ হারাম হওয়া: "তোমাদের জন্য মৃত জানোয়ার হারাম করা হয়েছে" [আল-মায়িদাহ: ৩]। এটি হারাম হওয়ার কারণ বিদ্যমান রয়েছে, যা হলো এর অপবিত্রতা এবং তা ভক্ষণের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি। তবে এখানে শারঈ বিধান সহজীকরণের দিকে পরিবর্তিত হয়েছে একটি ওজরের কারণে, যা হলো সেই ব্যক্তির ক্ষুধা যার জন্য মৃত প্রাণী ভক্ষণ বৈধ করা হয়েছে, অথচ মূল বিধানের কারণ তথা মৃত প্রাণীর অপবিত্রতা তখনও বিদ্যমান।

আর আদা (যথাসময়ে আদায়) হলো: ইবাদতকে শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পাদন করা।

আর কাজা হলো: শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের বাইরে তা সম্পাদন করা। আর ইবাদতের কিছু অংশ সময়ের ভেতরে এবং কিছু অংশ সময়ের বাইরে সম্পাদন করার বিষয়ে আলোচনা সামনে আসবে যে: একে কি আদায় বলা হবে নাকি কাজা? কেউ কেউ বলেছেন: শুরুর দিক বিবেচনায় একে আদায় বলা হবে; আবার কেউ বলেছেন: শেষ অংশ বিবেচনায় একে কাজা বলা হবে; আবার কেউ বলেছেন: সময়ের ভেতর যা হয়েছে তা আদায় এবং যা বাইরে হয়েছে তা কাজা।

আর ইআদাহ (পুনরায় সম্পাদন) হলো: কোনো ত্রুটির কারণে অথবা সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয়বার ইবাদত সম্পাদন করা।

(দ্বিতীয়বার ইবাদত সম্পাদন করা)।

অর্থাৎ: ইবাদতটি প্রথমবার সম্পাদন করার পর তাতে কোনো ত্রুটি ঘটার কারণে পুনরায় তা করা; যেমন কেউ কিবলা ছাড়া অন্য দিকে ফিরে সালাত আদায় করল, ফলে তার কৃত সেই প্রথম সালাতটি বাতিল হয়ে গেল, অতঃপর সময়ের ভেতর কিবলার দিকে ফিরে তার সালাত আদায় করা হলো ইআদাহ। আর যা কোনো ত্রুটি ছাড়া করা হয় তা হলো সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে; যেমন কেউ একা সালাত আদায় করল, এরপর সময়ের মধ্যে জামাত পেয়ে সেই সালাতটি জামাতের সাথে পুনরায় আদায় করল। এটি এজন্য নয় যে তার প্রথম সালাতটি বাতিল ছিল, বরং সওয়াব বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে। সুতরাং এটিই হলো ইআদাহ। আর এগুলোই হলো খিতাবে ওয়াদয়ী সংশ্লিষ্ট অনুগামী প্রকারসমূহ।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أقسام الخطاب الوضعي

قال: (والصحيح والباطل) .

وهذان القسمان من أقسام الخطاب الوضعي، والخطاب الوضعي في الاصطلاح: هو ما جعله الشارع علامة لغيره.

وأقسام متعلق الخطاب الوضعي اثنان: القسم الأول: ما كان مستقلاً، والثاني: ما كان تابعاً.
ওয়াদয়ী বিধানের প্রকারভেদ

তিনি বলেন: (সহীহ এবং বাতিল)।

এবং এই দুটি প্রকার ওয়াদয়ী বিধানের প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর পারিভাষিক পরিভাষায় ওয়াদয়ী বিধান হলো: যা শারীয়াত প্রণেতা অন্য কিছুর জন্য নিদর্শন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

আর ওয়াদয়ী বিধান সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তুর প্রকারভেদ দুটি: প্রথম প্রকার: যা স্বতন্ত্র, এবং দ্বিতীয় প্রকার: যা অনুগামী।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌شرح أقسام الخطاب التكليفي

ثم شرح أقسام الخطاب التكليفي فقال: (فالواجب: ما يثاب على فعله ويعاقب على تركه) .
খিতাবে তাকলিফির (বিধানমূলক সম্বোধনের) প্রকারভেদের ব্যাখ্যা

অতঃপর তিনি খিতাবে তাকলিফির প্রকারভেদসমূহ ব্যাখ্যা করে বললেন: (ওয়াজিব হলো: এমন কাজ যার পালনে সওয়াব বা পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং যা বর্জন করলে শাস্তি প্রদান করা হয়)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المكروه

(والمكروه: ما يثاب على تركه ولا يعاقب على فعله) .

المكروه في الأصل يطلق -قديماً- على المحرمات؛ لأن الله تعالى في سورة الإسراء ذكر بعض المحرمات فقال: {كُلُّ ذَلِكَ كَانَ سَيِّئُهُ عِنْدَ رَبِّكَ مَكْرُوهًا} [الإسراء:38] وفي القراءة الأخرى: (كُلُّ ذَلِكَ كَانَ سَيِئَةً عِنْدَ رَبِّكَ مَكْرُوهًا) فالمكروه هنا بمعنى الحرام، ولكن النبي صلى الله عليه وسلم فرق بين المحرم والمكروه في بعض الأحاديث كقوله صلى الله عليه وسلم: (إن ربكم حرم عليكم عقوق الأمهات، ووأد البنات، ومنع وهات، وكره لكم قيل وقال، وكثرة السؤال، وإضاعة المال) ، فهذا الحديث يفهم منه التفريق بين التحريم والكراهة، وقد عرف المصنف المكروه بأنه: ما يثاب على تركه ولا يعاقب على فعله.

فالمكروه من تركه تقرباً إلى الله سبحانه وتعالى يثاب على ذلك الترك، ومن فعله لا يعاقب على فعله؛ لأن الشارع لم ينه عنه نهياً جازماً، وهذا التعريف مثل التعريفات السابقة يمكن أن يعترض عليه، بأن المكروه قد يتركه الإنسان بغير نية التقرب فلا يثاب على تركه، فالأولى في تعريف المكروه أن يقال: هو ما نهى الشارع عنه نهياً غير جازم.
মাকরুহ

(মাকরুহ হলো: যার বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং তা সম্পাদন করলে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না)।

মাকরুহ শব্দটি মূলত—প্রাচীনকালে—হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর ওপর প্রয়োগ করা হতো; কারণ মহান আল্লাহ সূরা আল-ইসরা-তে কিছু হারাম বিষয়ের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: {এসবের মধ্যে যা মন্দ, তা তোমার প্রতিপালকের নিকট অপছন্দনীয় (মাকরুহ)} [আল-ইসরা: ৩৮]। অন্য কিরাআতে রয়েছে: (এসবই তোমার প্রতিপালকের নিকট গুনাহ যা অপছন্দনীয় (মাকরুহ))। সুতরাং এখানে মাকরুহ শব্দটি হারাম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু হাদীসে হারাম ও মাকরুহের মধ্যে পার্থক্য করেছেন, যেমন তাঁর বাণী: (নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের ওপর মায়েদের অবাধ্য হওয়া, কন্যা সন্তানদের জীবন্ত দাফন করা এবং প্রাপ্য অধিকার প্রদান না করা ও যা প্রাপ্য নয় তা চাওয়াকে হারাম করেছেন; আর তোমাদের জন্য 'কে কী বলল' বা অনর্থক কথাবার্তা বলা, অধিক প্রশ্ন করা এবং সম্পদ নষ্ট করাকে অপছন্দ (মাকরুহ) করেছেন)। সুতরাং এই হাদীস থেকে হারাম (নিষিদ্ধ) ও কারাহাত (অপছন্দনীয়তা)-এর মধ্যে পার্থক্য বোঝা যায়। গ্রন্থকার মাকরুহের সংজ্ঞা এভাবে দিয়েছেন যে: যা বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং তা সম্পাদন করলে শাস্তি দেওয়া হয় না।

অতএব, মাকরুহ এমন বিষয় যা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে বর্জন করলে ওই বর্জনের জন্য সওয়াব পাওয়া যায়, আর যে ব্যক্তি তা সম্পাদন করে তাকে তার কাজের জন্য কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না; কারণ শরয়ি বিধানদাতা তা থেকে চূড়ান্তভাবে নিষেধ করেননি। এই সংজ্ঞাটি পূর্ববর্তী সংজ্ঞাগুলোর মতোই আপত্তির সম্মুখীন হতে পারে, আর তা হলো—মানুষ অনেক সময় আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়ত ছাড়াও মাকরুহ বর্জন করতে পারে, তখন সে ওই বর্জনের জন্য সওয়াব পাবে না। তাই মাকরুহের সংজ্ঞায় এটি বলাই অধিক উত্তম যে: শরয়ি বিধানদাতা যা চূড়ান্ত নয় এমনভাবে নিষেধ করেছেন, তাই মাকরুহ।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌المحظور

(والمحظور: ما يثاب على تركه ويعاقب على فعله) .

المحظور: في الأصل مشتق من الحظيرة.

أي: الذي جعل الشارع عليه حظيرةً، والمقصود به المحرم الذي أحاطت به حدود الله التي لا يحل تعديها: {تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلا تَعْتَدُوهَا} [البقرة:229] ، والله تعالى يقول: {وَمَا كَانَ عَطَاءُ رَبِّكَ مَحْظُورًا} [الإسراء:20] أي: ممنوعاً لا يمكن الوصول إليه، بل هو مبسوط للناس.

ثم عرف الحرام بقوله: (ما يثاب على تركه ولا يعاقب على فعله) ، فمن فعله يعاقب على ذلك كشرب الخمر ونحو ذلك من المحرمات، ومن تركه يثاب على تركه، ومن فعله يعاقب على فعله، وهذا التعريف مثل تعريفاته السابقة يعترض عليه، بأنه قد يتركه الإنسان من غير نية فلا يثاب على ذلك، وقد يفعله مكرهاً أو مضطراً فلا يعاقب على ذلك.

فالأولى في تعريف الحرام أن يقال: هو ما طلب الشارع تركه طلباً جازماً.
নিষিদ্ধ বিষয়

(নিষিদ্ধ বিষয় হলো: যা বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং যা করলে শাস্তি প্রদান করা হয়)।

নিষিদ্ধ (মাহজুর): এটি মূলত ‘হাযিরাহ’ (বেষ্টনী) শব্দ থেকে উদ্ভূত।

অর্থাৎ: যা শরীয়ত প্রণেতা একটি বেষ্টনী দ্বারা ঘিরে রেখেছেন। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হারাম বিষয়, যাকে আল্লাহর সীমারেখা ঘিরে রেখেছে যা অতিক্রম করা বৈধ নয়: {এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা, কাজেই এগুলো অতিক্রম করো না} [সূরা বাকারা: ২২৯]। মহান আল্লাহ বলেন: {আপনার পালনকর্তার দান নিষিদ্ধ নয়} [সূরা ইসরা: ২০] অর্থাৎ: যা বারণকৃত নয় যে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হবে না, বরং তা মানুষের জন্য অবারিত।

অতঃপর তিনি হারামের সংজ্ঞা দিয়েছেন এই বলে: (যা বর্জন করলে সওয়াব পাওয়া যায় এবং যা করলে শাস্তি প্রদান করা হয়)। সুতরাং যে ব্যক্তি তা করবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে, যেমন মদ পান করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য হারাম কাজ। আর যে তা বর্জন করবে সে সওয়াব পাবে এবং যে তা করবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। এই সংজ্ঞাটির ওপরও তাঁর পূর্ববর্তী সংজ্ঞাগুলোর মতো আপত্তি করা হয়েছে যে, মানুষ কখনো কোনো নিয়ত ছাড়াই কোনো কাজ বর্জন করতে পারে, এমতাবস্থায় সে সওয়াব পাবে না। আবার কখনো বাধ্য হয়ে বা নিরুপায় হয়ে তা করতে পারে, এমতাবস্থায় সে শাস্তির সম্মুখীন হবে না।

সুতরাং হারামের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এটি বলাই অধিকতর সংগত যে: যা শরীয়ত প্রণেতা আবশ্যিকভাবে বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الواجب

هذا تعريف للواجب بخاصة من خصائصه، وهو: أنه يترتب الثواب على فعله ويترتب العقاب على تركه كالصلاة، فمن فعلها يثاب عليها الثواب الجزيل العظيم، ومن تركها يعاقب على تركها العقاب العظيم.

إذاً: فهي واجبة، ولكن هذا التعريف هو تعريف بالخاصة لا بالفصل، فهو رسم ويتعلق بأمر خفي؛ لأن الثواب والعقاب كلاهما أخروي، فيمكن أن يصلي الإنسان صلاة ولا يثاب عليها؛ لأنه فعل ذلك رياءً أو كان غافلاًَ عن صلاته غير حاضر فيها، فيمكن أن لا يثاب على فعله، ويمكن أيضاً أن لا يعاقب على تركه، كمن يتركها مكرهاً أو عاجزاً فلا عقاب حينئذٍ، فلذلك مقصوده عند حصول الشروط وانتفاء الموانع.

والأولى في تعريف الواجب ما ذكرناه: ما أمر الشارع به أمراً جازماً، أو ما طلب الشارع من المكلف فعله طلباً جازماً.
ওয়াজিব

এটি ওয়াজিবের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে এর একটি সংজ্ঞা, আর সেটি হলো: যার পালনে সওয়াব অর্জিত হয় এবং বর্জনে শাস্তি অবধারিত হয়, যেমন সালাত; যে ব্যক্তি এটি আদায় করে সে এর বিনিময়ে বিপুল ও মহান সওয়াব লাভ করে, আর যে এটি বর্জন করে সে বর্জনের কারণে মহান শাস্তির সম্মুখীন হয়।

সুতরাং, এটি ওয়াজিব। তবে এই সংজ্ঞাটি একটি বৈশিষ্ট্যের (খাসসাহ) মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে, সংজ্ঞার্থের অপরিহার্য অংশ (ফাসল) দ্বারা নয়। অতএব এটি একটি 'রাসম' (লক্ষণভিত্তিক সংজ্ঞা) এবং এটি একটি অপ্রকাশ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট; কারণ সওয়াব এবং শাস্তি উভয়ই পরকালীন বিষয়। ফলে এমন হতে পারে যে একজন মানুষ সালাত আদায় করল কিন্তু তার বিনিময়ে সে সওয়াব পেল না; কারণ সে তা লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে করেছে অথবা সে তার সালাত সম্পর্কে গাফেল ছিল এবং তাতে মনোযোগী ছিল না। সুতরাং কর্মের জন্য সওয়াব না-ও পাওয়া যেতে পারে, আবার বর্জনের কারণে শাস্তি না-ও হতে পারে, যেমন কেউ যদি বাধ্য হয়ে বা অক্ষমতার কারণে সালাত বর্জন করে তবে সেক্ষেত্রে কোনো শাস্তি নেই। তাই এই সংজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো শর্তাবলি পূরণ হওয়া এবং প্রতিবন্ধকতাগুলো দূরীভূত হওয়ার সাপেক্ষে।

ওয়াজিবের সংজ্ঞায় অধিকতর উত্তম হলো যা আমরা উল্লেখ করেছি: শরয়ি বিধানদাতা যা পালন করার জন্য অকাট্য আদেশ প্রদান করেছেন, অথবা শরয়ি বিধানদাতা দায়বদ্ধ ব্যক্তির নিকট থেকে যা করার জন্য অকাট্য দাবি জানিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المندوب

ثم قال: (والمندوب: ما يثاب على فعله ولا يعاقب على تركه) .

فالمندوب: هو ما يثاب على فعله، فيتعلق بفعله الثواب عند الله عز وجل ولا يعاقب على تركه، فمن تركه لا يعاقب على ذلك؛ كالرواتب والنوافل، كلها يثاب فاعلها ولا يعاقب تاركها، وهذا التعريف مثل سابقه، تعريف بالرسم، وقد بينا وجه الاعتراض عليه؛ لأنه يمكن أن يفعله الإنسان رياءً أو غير حاضر فلا يثاب عليه، ويمكن أيضاً أن يفعله مكرهاً عليه أو نحو ذلك فلا يثاب عليه.
মানদুব

অতঃপর তিনি বললেন: (এবং মানদুব হলো: যার সম্পাদনে সওয়াব প্রদান করা হয় এবং যা পরিত্যাগ করলে শাস্তি প্রদান করা হয় না)।

সুতরাং মানদুব হলো এমন কাজ যার সম্পাদনে সওয়াব পাওয়া যায়; অর্থাৎ এর সম্পাদনের সাথে মহান আল্লাহর নিকট সওয়াব সংশ্লিষ্ট থাকে এবং এর পরিত্যাগের কারণে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না। অতএব, যে ব্যক্তি এটি পরিত্যাগ করবে তাকে তার জন্য শাস্তি দেওয়া হবে না; যেমন সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (রাওয়াতীব) এবং নফল ইবাদতসমূহ। এই সবগুলোর সম্পাদনকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হয় এবং বর্জনকারী শাস্তিপ্রাপ্ত হয় না। এই সংজ্ঞাটি পূর্বের সংজ্ঞার মতোই, যা লক্ষণ বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দ্বারা প্রদানকৃত সংজ্ঞা (তারীফ বি-রসম)। আমরা এর ওপর আপত্তির দিকটি ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি; কারণ এটি সম্ভব যে, মানুষ লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে (রিয়া) বা অমনোযোগী চিত্তে এটি পালন করতে পারে, ফলে সে এর জন্য সওয়াব পাবে না। আবার এটিও সম্ভব যে, সে এটি করতে বাধ্য হয়েছে বা অনুরূপ কোনো পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, ফলে সে এর জন্য সওয়াব পাবে না।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المباح

(والمباح: ما لا يثاب على فعله ولا يعاقب على تركه) .

المباح: ما لا يثاب فاعله ولا يعاقب تاركه؛ لأن الإنسان فيه بالخيار إن شاء فعل وإن شاء ترك، ولكن الواقع أن هذا التعريف مثل سابقه فيه خلل، فالمباح إذا فعله الإنسان بقصد استباحة ما أحل الله له، وأخذ نعمة الله عليه فإن ذلك سبب للثواب، ولهذا فإن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (وفي بضع أحدكم صدقة قالوا: يا رسول الله! أيأتي أحدنا شهوته ويكون له فيها أجر؟ قال: نعم.

أرأيتم إذا وضعها في حرام أكان عليه وزر؟! فكذلك إذا وضعها في حلال كان له أجر) .

ولكن الأمر مرتبط بالنية، فإذا نوى الإنسان استحلال ما أحل له، والاستغناء به عن الحرام فيثاب بهذه النية، وإذا لم ينوِ ذلك لم يثب على فعله ولا يعاقب على تركه مطلقاً.
মুবাহ

(মুবাহ হলো: যার সম্পাদন করলে কোনো সওয়াব নেই এবং যা বর্জন করলে কোনো শাস্তি নেই)।

মুবাহ: যার সম্পাদনকারী সওয়াব পায় না এবং বর্জনকারী শাস্তি পায় না; কারণ এতে মানুষের স্বাধীনতা রয়েছে, সে চাইলে তা করতে পারে এবং চাইলে বর্জন করতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো যে, পূর্ববর্তী সংজ্ঞার ন্যায় এই সংজ্ঞাতেও ত্রুটি রয়েছে। কারণ কোনো মানুষ যদি মুবাহ কাজ এই উদ্দেশ্যে করে যে, আল্লাহ তার জন্য যা হালাল করেছেন তা সে গ্রহণ করছে এবং তার ওপর আল্লাহর নেয়ামত লাভ করছে, তবে তা সওয়াবের কারণ হবে। আর এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমাদের প্রত্যেকের দাম্পত্য মিলনেও সদকা রয়েছে। সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ কি তার কামনা পূরণ করবে আর তাতেও তার জন্য সওয়াব হবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ।

তোমরা কি মনে করো, যদি সে তা হারামে লিপ্ত করত তবে কি তার ওপর গুনাহ হতো না?! ঠিক তেমনিভাবে যখন সে তা হালালে সম্পাদন করে, তখন তার জন্য সওয়াব থাকে)।

তবে বিষয়টি নিয়তের সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং মানুষ যখন তার জন্য যা হালাল করা হয়েছে তা গ্রহণ করার এবং এর মাধ্যমে হারাম থেকে বিমুখ থাকার নিয়ত করে, তখন সে এই নিয়তের কারণে সওয়াব পাবে। আর যদি সে এমন নিয়ত না করে, তবে সে তা করার কারণে সওয়াব পাবে না এবং তা বর্জন করার কারণে কোনোভাবেই শাস্তি পাবে না।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌شرح بعض الأحكام الوضعية

ثم عرف بعض الأحكام الوضعية، فقال: (والصحيح ما يتعلق به النفوذ ويعتد به) .
কতিপয় ওয়াদয়ি (পরিপ্রেক্ষিতমূলক) বিধানের ব্যাখ্যা

অতঃপর তিনি কতিপয় ওয়াদয়ি বিধানের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, তিনি বলেন: (সহিহ হলো তা-ই, যার সাথে কার্যকারিতা সংশ্লিষ্ট এবং যা ধর্তব্য হয়)।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الباطل

قال: (والباطل ما يتعلق به النفوذ ولا يعتد به) .

عرف الباطل بأنه ما لا يتعلق به النفوذ.

أي: لا يكون الحكم معه نافذاً، فلا يسقط الخطاب السابق، كمن صلى صلاة باطلة بغير طهارة مثلاً، فإن ذلك لا يسقط عنه الصلاة؛ لأن الشارع لا يعتد بها أصلاً، ومثل هذا العقد الباطل التزوج بالخامسة مثلاً أو نحوها، فهذا النكاح باطل لا يتوقف عليه التوارث، ولا وجوب الصداق، ولا جواز الاستمتاع، ولا تلزم به الحقوق كالنفقة والسكنى.
বাতিল

তিনি বলেছেন: (আর বাতিল হলো তা, যার সাথে কার্যকারিতা সম্পৃক্ত হয় না এবং যা ধর্তব্য নয়)।

বাতিলকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এভাবে যে, যার সাথে কার্যকারিতা সম্পৃক্ত হয় না।

অর্থাৎ: এর মাধ্যমে বিধান কার্যকর হয় না, ফলে পূর্ববর্তী নির্দেশ রহিত হয় না; যেমন উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি পবিত্রতা অর্জন ছাড়া বাতিল সালাত আদায় করে, তবে তা তার ওপর থেকে সালাতের আবশ্যকতা রহিত করে না; কারণ শরিয়ত প্রণেতা একে আদপেই ধর্তব্য মনে করেন না। অনুরূপ বাতিল চুক্তির উদাহরণ হলো যেমন পঞ্চম স্ত্রী বিবাহ করা বা এই জাতীয় কিছু; এই বিবাহ বাতিল বিধায় এর ওপর উত্তরাধিকার নির্ভর করে না, মোহরানা ওয়াজিব হয় না, উপভোগ বৈধ হয় না এবং এর দ্বারা ভরণপোষণ ও বাসস্থানের মতো অধিকারগুলোও বাধ্যতামূলক হয় না।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الصحيح

فالصحيح: ما يتعلق به النفوذ، أي: ينفذ ويلزم ترتب أثره عليه.

ويعتد به، أي: يعتبر قائماً شرعاً فيسقط التكليف عن المكلف بالفعل إذا أداه على ذلك الوجه، فالصلاة الصحيحة يعتد بها فلا تلزم إعادته إذ هي صحيحة.

والصحيح في اللغة: معناه السليم من المرض الذي ليس فيه عيب، ومنه قول الشاعر: وليل يقول المرء سواء صحيحات العيون وعورها (صحيحات العيون) ، أي: السليمات المبصرات.

(وعورها) ، أي: اللواتي لا تبصر، والصحيح توصف به العبادة والعقد، فيقال: هذه عبادة صحيحة.

أي: رافعة للتكليف بها، وحينئذ يوافقها الإجزاء، والإجزاء بمعنى: أنه لا يطلب إعادة تلك العبادة ولا قضاؤها؛ لأنها صحيحة.

(ويوصف به العقد فيقال: هذا بيع صحيح أو نكاح صحيح) .

ومعنى ذلك: أنه يترتب عليه الأثر، فالبيع الصحيح أثره: ملك البائع للثمن وملك المشتري للسلعة، والنكاح الصحيح يترتب عليه: جواز الاستمتاع وملك الزوجة للصداق، وترتب الحقوق التي تترتب على النكاح الصحيح من الإرث ووجوب النفقة والسكنى وغير ذلك.
সহীহ (বৈধ)

সহীহ হলো তা, যার সাথে কার্যকারিতা যুক্ত থাকে; অর্থাৎ যা কার্যকর হয় এবং যার আইনি ফলাফল বা প্রতিক্রিয়া অবধারিতভাবে এর ওপর বর্তায়।

এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে ধর্তব্য; অর্থাৎ একে শরীয়তসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠিত বলে গণ্য করা হয়। ফলে কোনো মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তি যদি কোনো কাজ সেই পদ্ধতিতে সম্পাদন করে, তবে সেই কাজের মাধ্যমে তার ওপর থাকা শরয়ী বাধ্যবাধকতা বা জিম্মাদারি বিলুপ্ত হয়ে যায়। সুতরাং একটি সহীহ সালাত ধর্তব্য বলে গণ্য হয়, তাই তা পুনরায় আদায় করার প্রয়োজন হয় না, যেহেতু তা সহীহ হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে।

ভাষাগতভাবে 'সহীহ' এর অর্থ হলো রোগমুক্ত থাকা, যাতে কোনো ত্রুটি নেই। এ প্রসঙ্গে কবির উক্তি: "এমন এক রাত যে সম্পর্কে মানুষ বলে, এর সুস্থ চোখ এবং অন্ধ চোখ উভয়ই সমান।" (সুস্থ চোখ) বলতে বোঝানো হয়েছে দৃষ্টিসম্পন্ন সুস্থ চোখগুলোকে।

(অন্ধ চোখ) বলতে বোঝানো হয়েছে সেই চোখগুলোকে যা দেখে না। 'সহীহ' শব্দটি ইবাদত এবং চুক্তি—উভয় বিষয়ের গুণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়: এটি একটি সহীহ ইবাদত।

অর্থাৎ যা উক্ত ইবাদতের বাধ্যবাধকতা থেকে ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়। এমতাবস্থায় তা 'ইজযা' বা পর্যাপ্ততার সাথে মিলে যায়। আর পর্যাপ্ততা (ইজযা) অর্থ হলো: সেই ইবাদত পুনরায় আদায় করা বা তার কাযা করার প্রয়োজন নেই; কারণ তা সহীহ বা বৈধ হয়েছে।

(চুক্তিকেও এর দ্বারা গুণান্বিত করা হয়, যেমন বলা হয়: এটি একটি সহীহ ক্রয়-বিক্রয় অথবা সহীহ বিবাহ)।

এর অর্থ হলো: এর ওপর এর আইনি ফলাফল বা প্রভাব কার্যকর হয়। সুতরাং একটি সহীহ ক্রয়-বিক্রয়ের ফলাফল হলো: বিক্রেতা মূল্যের মালিক হওয়া এবং ক্রেতা পণ্যের মালিক হওয়া। আর একটি সহীহ বিবাহের ফলে দাম্পত্য উপভোগের বৈধতা লাভ এবং স্ত্রীর মোহরানার মালিকানা সাব্যস্ত হওয়া এবং সহীহ বিবাহের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অধিকারসমূহ—যেমন উত্তরাধিকার, ভরণ-পোষণ ও বাসস্থানের বাধ্যবাধকতা এবং আরও অন্যান্য বিষয়সমূহ কার্যকর হওয়া।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌تعريف العلم والجهل

قال: (والفقه أخص من العلم) .

هذه بعض المصطلحات التي يقدم بها الأصوليون بين يدي البحث في هذا العلم، فيذكرون تعريف العلم والجهل وغير ذلك، فقال: والفقه أخص من العلم، أي: أن الفقه في الاصطلاح: هو العلم بالأحكام الشرعية العملية المكتسب من أدلته التفصيلية، فهو أخص من العلم؛ لأن العلم يشمل العلم بالأحكام الشرعية، والعلم بالأحكام العادية، والعلم بالأحكام العقلية، والعلم بغير الأحكام أصلاً، ويشمل أيضاً العلم بالأحكام الشرعية النظرية غير العملية، والعلم بالأحكام الشرعية العملية غير المكتسبة؛ كل ذلك يشمله العلم ولا يشمله الفقه.

وعرف العلم بقوله: (والعلم: معرفة المعلوم على ما هو به في الواقع) فالعلم: هو معرفة المعلوم.

أي: ما يتعلق به العلم على ما هو به.

أي: على حقيقته وصفاته.

(في الواقع) ، أي: الحاصل.

والمقصود: أن معرفة الشيء على حقيقته تسمى علماً به، أما معرفة الشيء على غير حقيقته -كمعرفته باعتقاد أمر غير واقع فيه- فيعد من الغلط والجهل به، فلا يسمى ذلك علماً.

وذكر المعلوم في هذا التعريف مقتض لحصول الدور؛ لأن العلم لا يعرف إلا بتعريفه وتعريفه فيه المعلوم، والمعلوم لا يعرف إلا بالعلم، فيقتضي هذا الدور؛ فلذلك لا يمكن أن يعرف الشيء بما تتوقف معرفته على معرفته، فيمكن أن يقال في تعريف العلم: معرفة الشيء على ما هو عليه، أو على ما هو به في الواقع.

قال: (والجهل: تصور الشيء على خلاف ما هو به في الواقع) العلم خلافه الجهل، والجهل يطلق على خلاف العلم وخلاف الحلم، فيقال: هذا جاهل.

بمعنى: غير عالم، ويقال: هذا جهول.

أي: صاحب نزق وخفة وطيش ونقص عقل، الأول من الجهل الذي هو خلاف العلم، والثاني من الجهل الذي هو خلاف الحلم.

والجهل في الاصطلاح: هو تصور الشيء على خلاف ما هو به في الواقع، إذا كان الإنسان يتصوره، وهذا النوع من الجهل هو الذي يسمى بالجهل المركب، فالجهل قسمان: عدم تصور الشيء أصلاً، وهذا الجهل البسيط، وتصوره على خلاف ما هو عليه، وهذا الجهل المركب، فكون الإنسان يظن أن الفقه هو علم الحساب فهذا جهل مركب؛ لأنه تصور هذا العلم على خلاف ما هو عليه، وكونه لا يعرف مدلول الفقه -أصلاً- فهذا هو الجهل البسيط.
জ্ঞান ও অজ্ঞতার সংজ্ঞা

তিনি বলেন: (আর ফিকহ হলো ইলম বা জ্ঞানের চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট)।

এগুলো এমন কিছু পরিভাষা যা উসুলবিদগণ এই শাস্ত্রের মূল আলোচনার প্রারম্ভে উপস্থাপন করে থাকেন। তারা এখানে ইলম ও জাহল ইত্যাদির সংজ্ঞা উল্লেখ করেন। তিনি বলেছেন: ফিকহ ইলমের চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট। অর্থাৎ, পারিভাষিক অর্থে ফিকহ হলো: বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ হতে অর্জিত ব্যবহারিক শরয়ি বিধানাবলি সম্পর্কিত জ্ঞান। সুতরাং এটি ইলমের চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট; কারণ ইলম বা জ্ঞান শব্দটির পরিধি ব্যাপক, যা শরয়ি বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান, অভ্যাসগত বা প্রাকৃতিক নিয়ম সংক্রান্ত জ্ঞান, যৌক্তিক বিধান সংক্রান্ত জ্ঞান এবং মোটেও কোনো বিধান নয় এমন বিষয়ের জ্ঞানকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এছাড়া এটি তাত্ত্বিক শরয়ি বিধান যা ব্যবহারিক নয়, এবং এমন ব্যবহারিক শরয়ি বিধান যা মানুষের প্রচেষ্টায় অর্জিত নয়—এই সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। ইলম এই সবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করলেও ফিকহ এই সবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে না।

তিনি ইলমের সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে বলেন: (আর ইলম হলো জ্ঞাত বিষয়কে বাস্তবে তা যেমন আছে তেমনভাবে জানা)। সুতরাং ইলম হলো কোনো জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে অবগত হওয়া।

অর্থাৎ, যার সাথে ইলম বা জ্ঞান সংশ্লিষ্ট তা যেমন আছে ঠিক তেমনভাবে জানা।

অর্থাৎ, তার প্রকৃত সত্তা ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী জানা।

(বাস্তবে), অর্থাৎ যা লব্ধ বা বিদ্যমান।

উদ্দেশ্য হলো: কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত রূপ অনুযায়ী জানাকেই ইলম বলা হয়। পক্ষান্তরে, কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত রূপের বিপরীতে জানা—যেমন কোনো বিষয়ে বাস্তবে নেই এমন কোনো ধারণা পোষণ করা—তাকে ভুল ও অজ্ঞতা হিসেবে গণ্য করা হয়, তাকে ইলম বলা হয় না।

এই সংজ্ঞায় 'মা’লুম' (জ্ঞাত বিষয়) শব্দটির উল্লেখ করা চক্রক যুক্তির (দাওর) অবতারণা করে; কারণ ইলম বা জ্ঞানকে তার সংজ্ঞা ব্যতীত চেনা যায় না, আর তার সংজ্ঞার মধ্যে 'মা’লুম' শব্দটি বিদ্যমান, আবার 'মা’লুম' ইলম ছাড়া চেনা যায় না। ফলে এটি চক্রক যুক্তির দাবি রাখে। এই কারণে, কোনো বস্তুকে এমন কিছুর মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয় যার পরিচিতি ঐ বস্তুর পরিচিতির ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং ইলমের সংজ্ঞায় বলা যেতে পারে: কোনো বিষয়কে বাস্তবিকভাবে সেটি যেমন আছে তেমনভাবে জানা, অথবা বাস্তবে বিষয়টি যে অবস্থায় আছে সেই অনুযায়ী তা জানা।

তিনি বলেছেন: (আর জাহল বা মূর্খতা হলো: কোনো বিষয়কে বাস্তবে সেটি যেমন তার বিপরীতভাবে কল্পনা করা)। ইলমের বিপরীত হলো জাহল। জাহল শব্দটি ইলমের বিপরীত এবং হিলম বা সহনশীলতার বিপরীত—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়: 'এ ব্যক্তি জাহিল (মূর্খ)'।

অর্থাৎ: সে জ্ঞানী নয়। আবার বলা হয়: 'এ ব্যক্তি জাহুল (অত্যধিক মূর্খ)'।

অর্থাৎ: খামখেয়ালি, চপলমতি, হঠকারী এবং বিবেকবুদ্ধিহীন ব্যক্তি। প্রথমটি হলো সেই জাহালত যা ইলমের বিপরীত, আর দ্বিতীয়টি হলো সেই জাহালত যা হিলম বা সহনশীলতার বিপরীত।

পারিভাষিক অর্থে জাহল হলো: কোনো বিষয়কে বাস্তবে সেটি যেমন তার বিপরীতভাবে কল্পনা করা, যখন মানুষ সেটি কল্পনা করে। এই প্রকারের জাহলকে 'জাহলে মুরাক্কাব' (জটিল মূর্খতা) বলা হয়। জাহল দুই প্রকার: কোনো বিষয়কে মোটেও কল্পনা বা উপলব্ধি করতে না পারা, এটি হলো 'জাহলে বাসীত' (সরল মূর্খতা); আর বিষয়টিকে বাস্তব অবস্থার বিপরীতভাবে কল্পনা করা, এটি হলো 'জাহলে মুরাক্কাব'। সুতরাং, কোনো ব্যক্তি যদি মনে করে যে ফিকহ হলো গণিত শাস্ত্র, তবে এটি হবে 'জাহলে মুরাক্কাব'; কারণ সে এই শাস্ত্রটিকে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতভাবে কল্পনা করেছে। আর যদি সে ফিকহ-এর মর্মার্থ একেবারেই না জানে, তবে তা হবে 'জাহলে বাসীত'।
(খণ্ড: ১) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: -)
شرح الورقات في أصول الفقه - الددو   (محمد الحسن الددو الشنقيطي)

القسم: أصول الفقه

الكتاب : شرح الورقات في أصول الفقه

المؤلف : محمد الحسن ولد محمد الملقب بـ"الددو" الشنقيطي

مصدر الكتاب : دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 5 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

উসুলুল ফিকহ-এর আল-ওয়ারাকাত গ্রন্থের ব্যাখ্যা - আদ-দাদু   (মুহাম্মদ আল-হাসান আদ-দাদু আশ-শানকিতী)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি)

গ্রন্থ : উসুলুল ফিকহ-এর আল-ওয়ারাকাত গ্রন্থের ব্যাখ্যা

লেখক : মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ, যিনি "আদ-দাদু" আশ-শানকিতী নামে পরিচিত

গ্রন্থের উৎস : ইসলামওয়েব ওয়েবসাইট কর্তৃক প্রতিলিপিকৃত অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড সংখ্যা মূলত পাঠের ক্রমিক সংখ্যা - ৫টি পাঠ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরী

(খণ্ড: ২) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شرح الورقات في أصول الفقه [2]

ينقسم العلم إلى قسمين: ضروري، ونظري، وله أربع مراتب: أعلاها اليقين، ثم الظن، ثم الشك، ثم الوهم.

أما الكلام فينقسم إلى: خبر، وإنشاء.

ومن وجه آخر ينقسم إلى: حقيقة، ومجاز.

وللأمر تعريف وصيغة، وقد لا يدل على الوجوب لقرينة حالية أو مقالية، ولا يقتضي التكرار ولا الفورية.

كذا النهي له تعريف وصيغة، وقد لا يدل على التحريم لقرينة حالية أو مقالية.
উসুলুল ফিকহের ক্ষেত্রে আল-ওয়ারাকাত-এর ব্যাখ্যা [২]

ইলম বা জ্ঞান দুই ভাগে বিভক্ত: আবশ্যকীয় এবং গবেষণালব্ধ। এর চারটি স্তর রয়েছে: যার সর্বোচ্চ হলো ইয়াকিন (দৃঢ় বিশ্বাস), এরপর যন (প্রবল ধারণা), এরপর শাক (সন্দেহ) এবং সবশেষে ওয়াহম (ক্ষীণ ধারণা)।

আর কালাম বা বাক্য দুই ভাগে বিভক্ত: খবর এবং ইনশা।

অন্য এক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বিভক্ত: হাকিকত এবং মাজায-এ।

আদেশের (আমর) একটি সংজ্ঞা ও নির্দিষ্ট শব্দরূপ রয়েছে। কখনো কখনো পারিপার্শ্বিক বা শাব্দিক সংকেতের কারণে তা ওয়াজিব বা আবশ্যকতা নির্দেশ করে না। এটি পুনরাবৃত্তি কিংবা তাৎক্ষণিকতাও দাবি করে না।

অনুরূপভাবে নিষেধেরও (নাহইয়) সংজ্ঞা ও শব্দরূপ রয়েছে; এবং পারিপার্শ্বিক বা শাব্দিক সংকেতের কারণে কখনো কখনো তা হারাম হওয়া বুঝায় না।
(খণ্ড: ২) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌أقسام العلم

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن والاه، أما بعد: فقد قال المصنف: [أقسام العلم] .

عقد هذا الباب لبيان تقسيمات العلم وتعريف أقسامه، بعد أن عرف العلم وما يقابله وهو الجهل.

فقال: [والعلم الضروري: ما لا يقع عن نظر واستدلال، كالعلم الواقع بإحدى الحواس الخمس] .

فقسم العلم هنا إلى ضروري ونظري.
জ্ঞানের প্রকারভেদ

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করে তাদের ওপর। অতঃপর: গ্রন্থকার বলেছেন: [জ্ঞানের প্রকারভেদ]।

জ্ঞান এবং এর বিপরীত অর্থাৎ অজ্ঞতার সংজ্ঞা প্রদানের পর, জ্ঞানের শ্রেণিবিভাগ এবং তার প্রকারসমূহের সংজ্ঞা বর্ণনার জন্য এই অধ্যায়টি নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেছেন: [আর আবশ্যকীয় জ্ঞান হলো তা, যা কোনো পর্যবেক্ষণ বা দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে অর্জিত হয় না; যেমন পঞ্চেন্দ্রিয়ের কোনো একটির মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান]।

তিনি এখানে জ্ঞানকে আবশ্যকীয় এবং তাত্ত্বিক—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ২) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌نسبته إلى غيره من العلوم

وكذلك نسبته إلى غيره من العلوم: فنسبة أصول الفقه إلى غيره من العلوم نسبة العموم والخصوص الوجهي؛ لاشتراكه مع بعض هذه العلوم في بعض الأبحاث، ولانفراده بكثير من البحوث التي يختص بها، فبعض الأبحاث تجدها في أصول الفقه وفي علم البلاغة، وبعضها تجدها في أصول الفقه وفي علم التفسير، وبعضها في أصول الفقه وفي علم الحديث وهكذا.

فمثلاً: الكلام على تعريف القرآن وبيان المتواتر منه وغير المتواتر هذا يدرس في أصول الفقه وفي علم القراءات والتفسير، والكلام على السنة بتعريفها وطرق نقلها وشروط الناقل، وما يشترط له من العدالة والضبط، كل ذلك يدرس في أصول الفقه وفي مصطلح الحديث، وكذلك الكلام في الحقيقة والمجاز مما يدرس في أصول الفقه ويدرس في علم البلاغة، وكذلك الأمر والنهي وهكذا.
অন্যান্য শাস্ত্রের সাথে এর সম্পর্ক

তদ্রূপ অন্যান্য শাস্ত্রের সাথে এর সম্পর্কও লক্ষণীয়: অন্যান্য শাস্ত্রের সাথে উসুলুল ফিকহের সম্পর্ক হলো আংশিক সাধারণ ও আংশিক বিশেষত্বের (উমুম ওয়া খুসুস আল-ওয়াজহি); কারণ এটি কিছু গবেষণার ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রগুলোর কয়েকটির সাথে অংশীদার, আবার এটি এমন অনেক গবেষণায় স্বতন্ত্র যা কেবল এরই বৈশিষ্ট্য। তাই কিছু গবেষণা আপনি উসুলুল ফিকহ এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে (ইলমুল বালাগাত) পাবেন, আবার কিছু উসুলুল ফিকহ ও তাফসীরশাস্ত্রে পাবেন, এবং কিছু উসুলুল ফিকহ ও হাদীসশাস্ত্রে পাবেন—এভাবেই চলতে থাকে।

উদাহরণস্বরূপ: কুরআনের সংজ্ঞা এবং এর মুতাওয়াতির ও অ-মুতাওয়াতির অংশগুলোর বর্ণনা উসুলুল ফিকহ, কিরাআত এবং তাফসীরশাস্ত্রে অধ্যয়ন করা হয়। আর সুন্নাহর সংজ্ঞা, এর বর্ণনার পদ্ধতিসমূহ, বর্ণনাকারীর শর্তাবলি এবং তার জন্য অপরিহার্য ন্যায়পরায়ণতা ও স্মৃতিশক্তির প্রখরতা (আদালাহ ও দাবত্) সংক্রান্ত আলোচনা—এসবই উসুলুল ফিকহ এবং হাদীসের পরিভাষা (মুসতালাহুল হাদীস) শাস্ত্রে অধ্যয়ন করা হয়। একইভাবে হাকীকত ও মাজায (প্রকৃত ও রূপক অর্থ) সংক্রান্ত আলোচনা উসুলুল ফিকহ ও অলঙ্কারশাস্ত্রে অধ্যয়ন করা হয়; তেমনি আদেশ ও নিষেধ সংক্রান্ত আলোচনাও, এবং এভাবেই অন্যান্য বিষয়গুলোও।
(খণ্ড: ২) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌فضله وفائدته

وأما فضله: فقد سبق ذلك في المقدمة التي قدمناها، وفائدته: هي الفهم عن الله وعن رسوله صلى الله عليه وسلم، وسير الإنسان على بصيرة من أمر دينه، بحيث لا يكون مقلداً تقليداً أعمى، واسم هذا العلم هو: أصول الفقه أو علم الأصول، ومسائله: وهي هذه التي ذكرها هنا في قوله: (وأبواب أصول الفقه) .

هذه هي المقدمات العشر التي يفتتح الناس بها العلوم للتعريف بها.
এর ফজিলত ও উপকারিতা

আর এর ফজিলতের ব্যাপারে কথা হলো: এটি ইতিপূর্বে আমরা যে ভূমিকা পেশ করেছি তাতে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর এর উপকারিতা হলো: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে সঠিক বুঝ লাভ করা এবং মানুষের তার দ্বীনের বিষয়ে অন্তর্দৃষ্টির সাথে পথ চলা, যাতে সে অন্ধ অনুসারী না হয়। আর এই ইলমের নাম হলো: উসুলুল ফিকহ বা উসুল শাস্ত্র। আর এর মাসআলাসমূহ হলো সেই বিষয়গুলো যা তিনি এখানে তাঁর এই বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন: (উসুলুল ফিকহের অধ্যায়সমূহ)।

এগুলোই হলো সেই দশটি প্রারম্ভিক বিষয় যা দ্বারা মানুষ কোনো শাস্ত্রের পরিচিতি প্রদানের উদ্দেশ্যে তা শুরু করে থাকে।
(খণ্ড: ২) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مراتب العلم

قال: [والظن: تجويز أمرين أحدهما أظهر من الآخر] .

بالنسبة للعلم ينقسم إلى أربعة أقسام: القسم الأول منه: اليقين: وهو الذي يقتضي حصول تمام العلم، بحيث لا يبقى الإنسان متردداً في معلومه، ويليه الظن: وهو حصول جمهور العلم، بحيث يكون الحصول أرجح لدى الإنسان من خلافه.

والشك: هو استواء الطرفين، فيبقى الإنسان متردداً بين الأمرين، واقفاً بينهما حائراً.

والوهم: هو مقابل الظن.

أي: الاحتمال المرجوح؛ فإن كانت الاحتمالات كلها على وجه واحد كان ذلك يقيناً، وإن كان جمهور الاحتمالات على وجه كان ذلك ظناً، والجانب الذي يقابله -وهو الاحتمالات القليلة- يسمى وهماً، وإن كانت الاحتمالات متساويه في الجانبين بحيث يتردد الإنسان فيهما فهذا الشك.

قال: (والظن: تجويز أمرين أحدهما أظهر من الآخر) أي: المظنون أظهر من الآخر والآخر هو الموهوم.

قال المصنف: [والشك: تجويز أمرين لا مزية لأحدهما على الآخر] ، فيكون الإنسان متردداً بينهما، ولم يعرف الوهم هنا: وهو تجويز أمرين أحدهما أظهر من الآخر، فالمرجوح منهما هو الوهم، فهو يقابل الظن.

ولم يعرف اليقين كذلك؛ لأن تعريفه هو تعريف العلم السابق: معرفة الشيء على ما هو به.

ثم عاد لتعريف الأصول بالمعنى اللقبي فقال: [وعلم أصول الفقه طرقه على سبيل الإجمال وكيفية الاستدلال بها] ، أي: أن علم أصول الفقه بمعناه اللقبي: هو أدلة على سبيل الإجمال، (بالطرق) المقصود بها الأدلة، على سبيل الإجمال.

أي: الإجمالية، وكيفية الاستدلال بها.

أي: كيفية أخذ الأحكام منها، فيشمل ذلك معرفة الأحكام أيضاً، ويشمل الكلام في المستدل الذي هو المجتهد ببيان شروط الاجتهاد والتقليد ومراتب المجتهدين، فكل ذلك داخل في الاستدلال بها.
‌‌জ্ঞানের স্তরসমূহ

তিনি বলেন: [আর ‘জান্ন’ (প্রবল ধারণা) হলো: দুটি বিষয়ের মধ্যে একটিকে অপরটির চেয়ে প্রবল সাব্যস্ত করা।]

জ্ঞানের ক্ষেত্রে একে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়: প্রথম ভাগ হলো: ‘ইয়াকিন’ (দৃঢ় নিশ্চিত জ্ঞান)। এটি পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জনকে অপরিহার্য করে তোলে, যার ফলে মানুষ তার জ্ঞাত বিষয়ের ক্ষেত্রে আর দ্বিধাগ্রস্ত থাকে না। এরপর হলো ‘জান্ন’ (প্রবল ধারণা): এটি হলো অধিকাংশ জ্ঞান অর্জিত হওয়া, যার ফলে মানুষের নিকট কোনো বিষয় অর্জিত হওয়া তার বিপরীত বিষয়ের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য মনে হয়।

আর ‘শাক্ক’ (সন্দেহ): তা হলো উভয় দিক সমান হওয়া। এর ফলে মানুষ দুটি বিষয়ের মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে এবং দিশেহারা অবস্থায় উভয়ের মাঝে অবস্থান করে।

আর ‘ওয়াহম’ (অমূলক ধারণা): এটি হলো ‘জান্ন’-এর বিপরীত।

অর্থাৎ: অপেক্ষাকৃত দুর্বল সম্ভাবনা। যদি সকল সম্ভাবনা একমুখী হয়, তবে তা ‘ইয়াকিন’ (নিশ্চিত জ্ঞান)। আর যদি অধিকাংশ সম্ভাবনা একদিকে থাকে, তবে তা ‘জান্ন’ (প্রবল ধারণা)। আর এর বিপরীত দিকটিকে—যা মূলত স্বল্প সম্ভাবনা—‘ওয়াহম’ বলা হয়। আর যদি সম্ভাবনা উভয় দিকে সমান হয়, যাতে মানুষ উভয়ের মাঝে দোদুল্যমান থাকে, তবে এটিই ‘শাক্ক’ (সন্দেহ)।

তিনি বলেন: (আর ‘জান্ন’ হলো: দুটি বিষয়ের মধ্যে একটিকে অপরটির চেয়ে প্রবল সাব্যস্ত করা)। অর্থাৎ: যা ধারণা করা হয়েছে তা অপরটির চেয়ে প্রবল, আর অপরটি হলো ‘মাওহুম’ (অমূলক ধারণা)।

গ্রন্থকার বলেন: [আর ‘শাক্ক’ হলো: এমন দুটি বিষয়কে গ্রহণ করা যেখানে একটির ওপর অপরটির কোনো বিশেষত্ব বা প্রাধান্য নেই]। ফলশ্রুতিতে মানুষ উভয়ের মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে। তিনি এখানে ‘ওয়াহম’-এর সংজ্ঞা দেননি। আর তা হলো এমন দুটি বিষয়ের সম্ভাবনা যেখানে একটি অপরটির চেয়ে প্রবল; তন্মধ্যে দুর্বলতর দিকটিই হলো ‘ওয়াহম’। সুতরাং এটি ‘জান্ন’-এর বিপরীত।

একইভাবে তিনি ‘ইয়াকিন’-এর সংজ্ঞাও দেননি; কারণ এর সংজ্ঞা হলো ইতিপূর্বে উল্লেখিত ‘ইলম’-এর সংজ্ঞার অনুরূপ: কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত বাস্তবতায় জানা।

এরপর তিনি পারিভাষিক অর্থে ‘উসুল’-এর সংজ্ঞার দিকে ফিরে গিয়ে বলেন: [আর উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র হলো সামগ্রিকভাবে এর উৎস বা প্রমাণসমূহ এবং সেগুলো থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি]। অর্থাৎ: পারিভাষিক অর্থে উসুলুল ফিকহ হলো সামগ্রিক দলিলসমূহ। এখানে ‘তুরুক’ (পথসমূহ) বলতে সামগ্রিক দলিলসমূহকে বোঝানো হয়েছে।

অর্থাৎ: সামগ্রিক ও নীতিগত বিষয়াদি এবং সেগুলো থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি।

অর্থাৎ: দলিলসমূহ থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি। এটি বিধানসমূহ জানাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এছাড়া এর অন্তর্ভুক্ত হলো ‘মুস্তাদিল’ বা দলিল অন্বেষণকারী সম্পর্কে আলোচনা, যিনি হলেন ‘মুজতাহিদ’; যেখানে ইজতিহাদ ও তাকলিদের শর্তাবলি এবং মুজতাহিদদের স্তরসমূহ বর্ণনা করা হয়। এই সব কিছুই দলিল গ্রহণের পদ্ধতির আওতাভুক্ত।
(খণ্ড: ২) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌أبواب أصول الفقه

قال: [وأبواب أصول الفقه] أي: الأبواب التي اشتهر تقسيم الأصول إليها في زمان المؤلف، وليس معنى ذلك: انحصار هذا العلم في هذه الأبواب التي ذكرها، بل قد اعتاد المتأخرون من الأصوليين تقسيمه على اعتبار الأدلة الإجمالية، فيعقدون الباب الأول للكتاب، والباب الثاني للسنة، والباب الثالث للإجماع، والباب الرابع للقياس، والباب الخامس للاستدلال بالأدلة الأخرى المختلف فيها، والباب السادس لتعارض الأدلة وطرق الجمع بينهما والترجيح، والباب السابع للاجتهاد.

فهذا الذي جرى عليه المتأخرون، وهو أضبط وأكمل، أما التبويب الذي ذكره المصنف في قوله: [وأبواب أصول الفقه أقسام الكلام، والأمر والنهي، والعام والخاص، والمجمل والمبين، والظاهر والمؤول، والأفعال، والناسخ والمنسوخ، والإجماع، والأخبار، والقياس، والحظر، والإباحة، وترتيب الأدلة، وصفة المفتي والمستفتي، وأحكام المجتهدين] .

فهذا التقسيم غير حاصل، وترتيبه أيضاً غير مبني على درجات القوة، وأقسام الكلام هو أول باب عقده من هذه الأبواب، ثم أتبعه بأنواع الأبواب الأخرى، بالكلام فيها على وجه الاختصار والتعريف، فلا نحتاج الآن إلى تعريف هذه الأمور؛ لأن كل واحد منها عقد له باب مستقل، وسنعرفه فيه، وإنما قصدنا وضع خطة كتابه، ليتبين ما سيتكلم عليه في هذا الكتاب، وهذا الذي يسميه المعرفون بالعلوم بالمسائل؛ فيجعلون لكل علم مقدمات وهي معرفة موضوعه، وقد سبق أن موضوع أصول الفقه: الأحكام الشرعية وأدلتها.

وواضعه: وهو أول من وضع مصطلحاته، وليس لهذا العلم واضع محدد، لكن أول من ألف فيه كتاباً مستقلاً الشافعي.

و (حده) : أي: تعريفه، وقد سبق تعريف أصول الفقه، و (مستمده) أي: ما أخذ منه، وهو النصوص الشرعية، وكلام العرب، ومصطلحات المتكلمين وعلم الكلام أيضاً.
উসুলুল ফিকহের পরিচ্ছেদসমূহ

তিনি বলেছেন: [উসুলুল ফিকহের পরিচ্ছেদসমূহ] অর্থাৎ: উসুলের যে বিভাজনটি লেখকের যুগে প্রসিদ্ধ ছিল। এর অর্থ এই নয় যে, এই জ্ঞান কেবল লেখকের উল্লিখিত এই পরিচ্ছেদসমূহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, বরং পরবর্তীকালের উসুলবিদগণ একে সামগ্রিক দলীলসমূহের ভিত্তিতে বিভক্ত করতে অভ্যস্ত ছিলেন। ফলে তাঁরা প্রথম পরিচ্ছেদ আল-কুরআনের জন্য, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ সুন্নাহর জন্য, তৃতীয় পরিচ্ছেদ ইজমার জন্য, চতুর্থ পরিচ্ছেদ কিয়াসের জন্য, পঞ্চম পরিচ্ছেদ অন্যান্য মতভেদপূর্ণ দলীলসমূহের মাধ্যমে দলীলায়নের জন্য, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ দলীলসমূহের পারস্পরিক বিরোধ এবং সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও অগ্রাধিকার প্রদানের পদ্ধতিসমূহের জন্য এবং সপ্তম পরিচ্ছেদ ইজতিহাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন।

পরবর্তীগণ এই পদ্ধতির ওপরই চলেছেন, আর এটিই অধিক সুশৃঙ্খল ও পূর্ণাঙ্গ। পক্ষান্তরে লেখক তাঁর এই বক্তব্যে যে পরিচ্ছেদবিন্যাস উল্লেখ করেছেন: [উসুলুল ফিকহের পরিচ্ছেদসমূহ হলো কালাম (বাক্য)-এর প্রকারভেদ, আমর (আদেশ) ও নাহি (নিষেধ), আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ), মুজমাল (সংক্ষিপ্ত) ও মুবায়্যান (সুস্পষ্ট), জাহির (প্রকাশ্য) ও মুআউওয়াল (ব্যাখ্যাকৃত), আফআল (কার্যাবলি), নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত), ইজমা (ঐক্যমত), আখবার (সংবাদসমূহ), কিয়াস (তুলনা), হাজর (নিষিদ্ধতা) ও ইবাহাত (বৈধতা), দলীলসমূহের বিন্যাস, মুফতি ও মুস্তাফতির বৈশিষ্ট্য এবং মুজতাহিদগণের আহকাম]।

এই বিভাজনটি স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং এর বিন্যাসটিও শক্তির স্তরের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়নি। ‘কালাম-এর প্রকারভেদ’ হলো এই পরিচ্ছেদসমূহের মধ্যে তাঁর আলোচিত প্রথম পরিচ্ছেদ, এরপর তিনি অন্যান্য প্রকারের পরিচ্ছেদগুলোকে সংক্ষেপে এবং সংজ্ঞাসহ আলোচনা করেছেন। তাই এখন এই বিষয়গুলোর সংজ্ঞা প্রদানের প্রয়োজন নেই; কারণ এগুলোর প্রত্যেকটির জন্য স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ রয়েছে এবং আমরা সেখানে এগুলোর সংজ্ঞা প্রদান করব। আমরা কেবল তাঁর কিতাবের পরিকল্পনাটি তুলে ধরতে চেয়েছি, যাতে এই কিতাবে তিনি কী বিষয়ে আলোচনা করবেন তা স্পষ্ট হয়। আর একেই ইলমের সংজ্ঞাপ্রদানকারীগণ ‘মাসায়েল’ (আলোচ্য বিষয়সমূহ) বলে অভিহিত করেন। তাঁরা প্রতিটি ইলমের জন্য কিছু ভূমিকা নির্ধারণ করেন, যা হলো সেই ইলমের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, উসুলুল ফিকহের আলোচ্য বিষয় হলো: শরয়ি বিধানসমূহ এবং সেগুলোর দলীলসমূহ।

এবং এর প্রবর্তক: অর্থাৎ যিনি প্রথম এর পরিভাষাগুলো প্রণয়ন করেছেন। এই ইলমের জন্য নির্দিষ্ট কোনো একক প্রবর্তক নেই, তবে ইমাম শাফেয়ি হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি এই বিষয়ে স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেছেন।

এবং (এর সংজ্ঞা): অর্থাৎ এর পরিচয়। উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এবং (এর উৎস): অর্থাৎ যা থেকে এটি গ্রহণ করা হয়েছে, আর তা হলো শরয়ি নস (পাঠসমূহ), আরবদের ভাষা, মুতাকাল্লিমদের পরিভাষা এবং ইলমুল কালাম।
(খণ্ড: ২) শারহুল ওরাকাত ফী উসূলিল ফিকহ - আদ-দাদাউ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌العلم الضروري

فالضروري: منسوب إلى الضرورة، بمعنى: الذي يضطر الإنسان إليه، فالإنسان مضطر لأن يعرفه بذاته.

قال: والعلم الضروري ما لا يقع عن نظر واستدلال، أي: ما لا يتوقف على نظر واستدلال، والنظر كما قلنا: هو الفكر.

والاستدلال: هو إقامة الدليل، فالضروري هو: ما لا يحتاج إلى التأمل، وما لا يحتاج إلى حركة النفس فيه.

قوله: (كالعلم الواقع بإحدى الحواس الخمس) فالمرئيات والمسموعات والمذوقات والمشمومات والملموسات كلها يحصل بها العلم الضروري، فلا يحتاج الإنسان فيها إلى تأمل، فمن سمع كلام إنسان جزم بأنه متكلم، وبأن هذا الكلام صدر منه، ومن رآه يفعل فعلاً جزم بذلك دون أن يحتاج إلى تأمل أو إقامة دليل عليه وهكذا، ولهذا قال: (كالعلم الواقع بإحدى الحواس الخمس: وهي السمع والبصر والشم واللمس والذوق) .

وهذه في الواقع ليست هي الحواس، بل هذه وظائف الحواس، فالحواس جمع حاسة، والحاسة التي تحس، وهي العين والأذن والفم والأنف واليد، فهذه هي الحواس، لكن وظيفتها هي الإحساس، والإحساس أنواعه هي هذه الخمس: السمع والبصر والشم واللمس والذوق.

قوله: (أو بالتواتر) وهو ما نقله عدد من الناس تحيل العادة تواطؤهم على الكذب عن عدد، حتى اتصل العدد بذلك المشاهد أو المحسوس، فهذا الذي يسمى بالتواتر، فهو إخبار عدد تحيل العادة تواطؤهم على الكذب عن مثلهم لمحسوس.

فالتواتر لا يكون إلا في المحسوسات، فالعقليات لا يحتاج فيها إلى الراوية بالتواتر ولا بالآحاد، وما لا تتعلق به الحواس الخمس لا ينفع فيه الخبر المتواتر ولا يثبته التواتر، وإنما التواتر فيما يشاهد بإحدى الحواس الخمس، والتواتر في الأصل التوافق، والعلم الذي يحصل بالتواتر قطعي، كقطع الإنسان الذي لم ير مكة بوجودها أو بوجود البيت الحرام، فهذا القطع ضروري لا يحتاج إلى التأمل؛ لأنه من عدد تحيل العادة تواطؤهم على الكذب، فاستقر في ذهنه، ولم يعد قابلاً للنقاش لديه.

ومثل ذلك: ما يحصل للإنسان بخبر من الأخبار سمعه من عدد كثير من الناس فاستيقن به، كمعرفة الإنسان أنه ابن فلان وأن فلاناً والده، وكمعرفة نسبه إلى أجداده وآبائه بالنقل المتواتر، فيستقر ذلك في ذهنه ويجزم به، ولم يعد قابلاً للنقاش لديه.

والتواتر: إنما يكون بحصول عدد الذين لا يمكن أن يتواطئوا على الكذب عادة، وهذا يختلف باختلاف الناس، فمن الناس من يحصل له العلم بإخبار عدد يسير، إذا جاءت الدواعي متوافرة على عدم كذبهم، ولم تقتض الدواعي كذبهم بوجه من الوجوه، فليسوا من سن واحدة، ولم يخبروا بذلك في مكان واحد، ولا في وقت واحد، فذلك يقطع به، ويعد متواتراً لحصول العلم اليقيني.

والمتواتر كالقرآن -مثلاً- فقد نقله في كل عصر من عصور هذه الأمة الملايين من الناس عمن فوقهم، إلى أن وصل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فكان متواتراً لا يمكن الشك فيه.
আবশ্যিক জ্ঞান

আবশ্যিক (জরুরি): শব্দটি আবশ্যকতা (জরুরত) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ: যার প্রতি মানুষ বাধ্য থাকে; অর্থাৎ মানুষ আপন সত্তাগতভাবেই এটি জানতে বাধ্য।

তিনি বলেন: আবশ্যিক জ্ঞান হলো তা, যা চিন্তা ও প্রমাণের মাধ্যমে অর্জিত হয় না; অর্থাৎ যা চিন্তা ও প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল নয়। আর 'নজর' (চিন্তা) যেমনটি আমরা বলেছি: তা হলো চিন্তা-ভাবনা।

আর 'ইস্তিদলাল' (প্রমাণ অনুসন্ধান) হলো প্রমাণ উপস্থাপন করা। সুতরাং আবশ্যিক জ্ঞান হলো তা, যা গভীর ধ্যানের মুখাপেক্ষী নয় এবং যাতে মনের কোনো প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয় না।

তাঁর উক্তি: (যেমন পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের কোনো একটির মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান)। সুতরাং দৃশ্যমান, শ্রবণযোগ্য, স্বাদযোগ্য, ঘ্রাণযোগ্য এবং স্পর্শযোগ্য বিষয়সমূহ—এই সবকিছুর মাধ্যমেই আবশ্যিক জ্ঞান অর্জিত হয়। এতে মানুষের গভীর ধ্যানের প্রয়োজন হয় না। যে ব্যক্তি কোনো মানুষের কথা শুনল, সে নিশ্চিত হলো যে ব্যক্তিটি কথা বলছে এবং এই কথাটি তার থেকেই নিঃসৃত হয়েছে। আবার যে ব্যক্তি কাউকে কোনো কাজ করতে দেখল, সে তা নিয়ে নিশ্চিত হলো কোনো প্রকার চিন্তা বা প্রমাণ উপস্থাপনের প্রয়োজন ছাড়াই। একইভাবে অন্যান্য বিষয়গুলো। এই কারণেই তিনি বলেছেন: (যেমন পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের কোনো একটির মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান: আর তা হলো শ্রবণ, দর্শন, ঘ্রাণ, স্পর্শ ও আস্বাদন)।

প্রকৃতপক্ষে এগুলো ইন্দ্রিয় নয়, বরং এগুলো ইন্দ্রিয়ের কাজ। ইন্দ্রিয়সমূহ হলো 'হাস্সাহ'-এর বহুবচন, আর 'হাস্সাহ' হলো যা অনুভব করে, যেমন—চোখ, কান, মুখ, নাক ও হাত। এগুলোই হলো ইন্দ্রিয়, তবে এগুলোর কাজ হলো অনুভব করা। আর অনুভবের প্রকারভেদ হলো এই পাঁচটি: শ্রবণ, দর্শন, ঘ্রাণ, স্পর্শ ও আস্বাদন।

তাঁর উক্তি: (অথবা নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে)। তা হলো এমন বিষয় যা একদল মানুষ বর্ণনা করেছেন যাদের সংখ্যাগত আধিক্যের কারণে সাধারণত মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব, এবং তারা তাদের পূর্ববর্তী এমন একদল থেকে বর্ণনা করেছেন যার মাধ্যমে এই সংখ্যাটি কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের সাথে যুক্ত হয়েছে। একেই বলা হয় 'তাওয়াতুর' বা নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা। এটি এমন একদল লোকের সংবাদ যাদের ক্ষেত্রে সাধারণত মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব এবং তারা কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ে তাদের মতো একদল থেকে বর্ণনা করেছেন।

সুতরাং নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়সমূহের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। বুদ্ধিগত বিষয়সমূহে নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা বা একক বর্ণনার প্রয়োজন হয় না। যে সকল বিষয় পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সাথে সম্পৃক্ত নয়, সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা কোনো উপকারে আসে না এবং তাওয়াতুর দ্বারা তা প্রমাণিতও হয় না। বরং তাওয়াতুর কেবল সেই বিষয়েই হয় যা পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের কোনো একটির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করা যায়। আর মূলগতভাবে তাওয়াতুর মানে হলো সামঞ্জস্যতা। নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে যে জ্ঞান অর্জিত হয় তা অকাট্য; যেমন একজন ব্যক্তির মক্কার অস্তিত্ব বা বায়তুল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যে ব্যক্তি মক্কা দেখেনি। এই নিশ্চয়তাটি আবশ্যিক যা চিন্তার মুখাপেক্ষী নয়; কারণ এটি এমন একদল মানুষের মাধ্যমে এসেছে যাদের ক্ষেত্রে সাধারণত মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব। ফলে এটি তার হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়ে গেছে এবং এটি তার কাছে আর বিতর্কের অবকাশ রাখে না।

এর উদাহরণ হলো: এমন কোনো সংবাদ যা মানুষ অনেক লোকের কাছ থেকে শোনার মাধ্যমে লাভ করে এবং তাতে তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে। যেমন মানুষের এই জ্ঞান রাখা যে সে অমুকের সন্তান এবং অমুক তার পিতা, অথবা নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে আপন পিতৃপুরুষ ও বংশধারা সম্পর্কে অবগত হওয়া। ফলে এটি তার হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়ে যায় এবং সে বিষয়ে সে নিশ্চিত হয়, যা তার কাছে আর বিতর্কের অবকাশ রাখে না।

আর নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা তখনই হয় যখন এমন একদল লোকের সংখ্যা অর্জিত হয় যাদের ক্ষেত্রে সাধারণত মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব। এটি মানুষের ভিন্নতার কারণে ভিন্ন হতে পারে। কিছু মানুষ অল্প সংখ্যক লোকের সংবাদের মাধ্যমেই জ্ঞান লাভ করে, যদি তাদের মিথ্যা না বলার অনুকূল অনুষঙ্গসমূহ বিদ্যমান থাকে এবং কোনো দিক থেকেই তাদের মিথ্যা বলার সম্ভাবনা না থাকে। যেমন তারা সবাই সমবয়সী নয় এবং তারা একই স্থানে বা একই সময়ে সংবাদটি দেয়নি। এমতাবস্থায় তা নিশ্চিত বলে গণ্য হয় এবং ইয়াকিনি (দৃঢ়) জ্ঞান অর্জিত হওয়ার কারণে একে মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্ন) হিসেবে ধরা হয়।

আর মুতাওয়াতির-এর উদাহরণ যেমন কুরআন—এই উম্মতের প্রতিটি যুগে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের পূর্ববর্তীদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে এটি মুতাওয়াতির এবং এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।