(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: -)
جلسات رمضانية للعثيمين   (ابن عثيمين)

القسم: الفقه العام


الكتاب : جلسات رمضانية 1410 هـ - 1415 هـ

المؤلف : محمد بن صالح بن محمد العثيمين (المتوفى : 1421هـ)

مصدر الكتاب : دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 23 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-উসাইমীনের রমযান মজলিসসমূহ   (ইবনে উসাইমীন)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই : রমযান মজলিসসমূহ ১৪১০ হিজরী - ১৪১৫ হিজরী

লেখক : মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমীন (মৃত্যু : ১৪২১ হিজরী)

বইয়ের উৎস : অডিও দরসসমূহ যা ইসলাম ওয়েব ওয়েবসাইট কর্তৃক অনুলিখন করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বর দেওয়া হয়েছে، এবং খণ্ড নম্বর হলো দরস নম্বর - ২৩টি দরস]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌جلسات رمضانية لعام 1410هـ[1]

رمضان شهر كريم، وفرصة غالية يجب استغلالها في تكثير الحسنات والتقرب إلى رب السماوات بجميع أنواع النوافل والطاعات، وفي هذه المادة بيان منزلة هذا الشهر العظيم وفضله، والحث على الإكثار من الصلوات، وقراءة القرآن، وفضل تناول السحور.
১৪১০ হিজরি সালের রমজানকালীন মজলিসসমূহ [১]

রমজান একটি বরকতময় মাস এবং এটি একটি মূল্যবান সুযোগ, যা নেক আমল বৃদ্ধি এবং সকল প্রকার নফল ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে আসমানসমূহের রবের নৈকট্য অর্জনে কাজে লাগানো আবশ্যক। এই পাঠ্যে এই মহান মাসের মর্যাদা ও ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে এবং অধিক পরিমাণে সালাত আদায়, কুরআন তিলাওয়াত ও সাহরি গ্রহণের ফজিলতের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌استغلال شهر رمضان للتزود من الأعمال الصالحة

إن الحمد لله؛ نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونؤمن به ونتوكل عليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهدِ الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، أرسله الله تعالى بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله، فبلَّغ النبي صلى الله عليه وسلم الرسالة، وأدى الأمانة، ونصح الأمة، وجاهد في الله حق جهاده، وأظهره الله تعالى على ما سواه، حتى ملكت هذه الأمة مشارق الأرض ومغاربها، وهذا من نعمة الله عز وجل، فصلوات الله وسلامه على محمد، وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد: أيها الإخوة الكرام: فإن الذي نصر أوَّل هذه الأمة، وأظهر دينها على جميع الأديان، ودك به صروح كسرى وقيصر وغيرهم من أئمة الكفر، قادر على أن ينصر آخر هذه الأمة؛ لأن سنة الله تعالى في عباده واحدة، ولكن الناس إذا أضاعوا أمر الله أضاعهم الله، وإذا نسوا الله نسيهم الله، وإلا فلو رجعنا رجوعاً حقيقياً إلى ربنا عز وجل لوجدنا النصر والكرامة والعزة، ولكن مع الأسف الشديد أن كثيراً من المسلمين أضاعوا أمر الله فأضاعهم الله عز وجل.

أيها الإخوة الكرام: إن الإنسان في هذه الحياة الدنيا لن يعمَّر، ولن يبقى، فهو موجود من العدم، وصائر إلى العدم، وإن الساعات التي تمر بالإنسان في هذه الدنيا كأنها لحظات، بل هي لحظات: لحظة تتلوها لحظة، وهكذا إلى أن يصل الإنسان إلى آخر نهايته، وهذا أمر يشعر به كل واحدٍ منا.

لقد مضى على رمضان العام الماضي اثنا عشر شهراً برمضان، يعني: بعد رمضان أحد عشر شهراً كلها مضت، ومع ذلك فكأنها أحد عشر ساعة، كأننا بالأمس القريب نصلي رمضان عام (1409هـ) ، والآن نصلي عام (1410هـ) ، وما هي إلا لحظات زالت، وهكذا أيضاً ما بقي من أعمارنا سوف يزول بهذه السرعة، إذاً فالواجب علينا -أيها الإخوة- أن ننتهز هذه الفرصة، أن ننتهز فرصة وجودنا في الدنيا حتى نعمل للآخرة، والعجب أن الذي يعمل للآخرة ينال الدنيا والآخرة، والذي يعمل للدنيا يخسر الدنيا والآخرة، لا أقول ذلك من عند نفسي ولكني أقول ذلك بكتاب الله، قال الله عز وجل: {مَنْ عَمِلَ صَالِحاً مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [النحل:97] الحياة الطيبة الدنيا {وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [النحل:97] في الآخرة.

أما عكس ذلك فاستمع: {قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالاً * الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعاً * أُولَئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآياتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْناً} [الكهف:103-105] .

أيها الإخوة الكرام: إذا علمنا هاتين الحقيقتين، وهما: أولاً: سرعة الدنيا وزوالها، وأنها تمضي لحظة بعد أخرى، حتى يأتي الإنسان الموت، وعلمنا أيضاً أن الكاسب والرابح هو المؤمن، وأن من لم يكن مؤمناً عاملاً بالصالحات فهو خاسر، استدللنا لذلك بالواقع وبكتاب الله عز وجل، فإنه جدير بنا أن ننتهز فرصة وجودنا في هذه الدنيا لأننا لابد أن ننتقل، لابد أن نُذكر كما كنا نَذكر غيرنا، الذين كانوا من قبلنا وأدركناهم، كانوا يتحدثون كما نتحدث، ويخبرون كما نخبر، وأصبحوا الآن خبراً من الأخبار.

 

بينا يرى الإنسان فيها مخبراً حتى يرى خبراً من الأخبار

هو في الأول مخبر ويكون خبراً يخبر عنه: فلان رحمه الله، هذا هو الحقيقة.

إذاً فلننتهز -يا إخواني- هذه الفرصة لا سيما في المواسم، مواسم الخيرات التي جعلها الله لعباده، كالأسواق التجارية بل هي التجارة حقيقة: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ * تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ} [الصف:10-11] .

علينا أن ننتهز هذه الفرصة، رمضان متى يأتي؟ ربما يموت الإنسان قبل أن يدركه رمضان الثاني، كما تعلمون أن هناك أناساً كانوا معكم في العام الماضي الآن هم في قبورهم مرتهنون بأعمالهم، لا يملكون أن يزيدوا حسنة في حسناتهم ولا أن ينقصوا سيئة من سيئاتهم، هذا الذي مر عليهم ربما يمر عليك، بل قطعاً سيمر عليك، لكن ربما يمر عليك قبل أن يعود إليك رمضان، إذاً: فانتهز الفرصة! ونحن الليلة في الليلة الثالثة من رمضان انظروا سرعة ذهابه، يعني: مضى منه يومان كاملان، ونحن الليلة في الليلة الثالثة، وسيمر سريعاً فلننتهز هذه الفرصة.
নেক আমল বৃদ্ধির জন্য রমজান মাসের সদ্ব্যবহার

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছে তওবা করি। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান রাখি এবং তাঁর ওপর ভরসা করি। আমরা আমাদের নফসের মন্দ কাজ থেকে এবং আমাদের আমলের অশুভ ফলাফল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাআলা তাঁকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সমস্ত দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে অন্য সবার ওপর বিজয়ী করেছেন, এমনকি এই উম্মত পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের মালিক হয়েছে। এটি মহান আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মদের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।

অতঃপর: হে সম্মানিত ভাইয়েরা! নিশ্চয়ই যিনি এই উম্মতের প্রথম অংশকে সাহায্য করেছিলেন এবং তাঁদের দ্বীনকে সমস্ত ধর্মের ওপর বিজয়ী করেছিলেন এবং যাঁর মাধ্যমে কিসরা, কায়সার ও কুফরের অন্যান্য নেতাদের প্রাসাদসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছিলেন, তিনি এই উম্মতের শেষ অংশকেও সাহায্য করতে সক্ষম। কারণ তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে আল্লাহর সুন্নাহ অভিন্ন। কিন্তু মানুষ যখন আল্লাহর আদেশ অমান্য করে, তখন আল্লাহও তাদের ধ্বংস করেন। আর তারা যখন আল্লাহকে ভুলে যায়, তখন আল্লাহও তাদের ভুলে যান। অন্যথায় আমরা যদি প্রকৃত অর্থেই আমাদের মহান রবের দিকে ফিরে আসতাম, তবে আমরা বিজয়, মর্যাদা ও সম্মান খুঁজে পেতাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, অনেক মুসলিম আল্লাহর আদেশ অমান্য করেছে, ফলে মহান আল্লাহও তাদের লাঞ্ছিত করেছেন।

হে সম্মানিত ভাইয়েরা! মানুষ এই দুনিয়ার জীবনে চিরকাল থাকবে না এবং সে দীর্ঘস্থায়ী হবে না। সে অস্তিত্বহীনতা থেকে এসেছে এবং অস্তিত্বহীনতার দিকেই যাচ্ছে। দুনিয়াতে মানুষের ওপর দিয়ে যে সময় অতিবাহিত হয় তা যেন একেকটি মুহূর্ত। বরং এগুলো মুহূর্তই; এক মুহূর্তের পর আরেক মুহূর্ত আসে, এভাবেই মানুষ তার শেষ গন্তব্যে পৌঁছায়। এটি এমন এক বিষয় যা আমাদের প্রত্যেকেই অনুভব করি।

গত বছরের রমজান থেকে বারো মাস অতিবাহিত হয়েছে; অর্থাৎ রমজানের পর এগারোটি মাস গত হয়েছে। তবুও মনে হচ্ছে যেন তা এগারোটি ঘণ্টা মাত্র। মনে হচ্ছে এই তো সেদিন আমরা ১৪০৯ হিজরি সালের রমজানের নামাজ আদায় করছিলাম, আর এখন আমরা ১৪১০ হিজরি সালের নামাজ আদায় করছি। এগুলো তো মুহূর্ত মাত্র যা শেষ হয়ে গেছে। এভাবেই আমাদের আয়ুর যা অবশিষ্ট আছে তাও এমন দ্রুত গতিতে শেষ হয়ে যাবে। অতএব, হে ভাইয়েরা! আমাদের জন্য অপরিহার্য হলো এই সুযোগকে কাজে লাগানো। দুনিয়াতে আমাদের অস্তিত্বের সুযোগকে কাজে লাগানো যাতে আমরা আখেরাতের জন্য আমল করতে পারি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে ব্যক্তি আখেরাতের জন্য কাজ করে সে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ই লাভ করে, আর যে ব্যক্তি কেবল দুনিয়ার জন্য কাজ করে সে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ই হারায়। আমি এটি নিজের পক্ষ থেকে বলছি না, বরং আল্লাহর কিতাব থেকে বলছি। মহান আল্লাহ বলেছেন: "যে মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করবে, পুরুষ হোক বা নারী, তাকে আমি অবশ্যই পবিত্র জীবন দান করব এবং আমি অবশ্যই তাদের পুরস্কার দেব তাদের কৃত সর্বোত্তম আমল অনুযায়ী।" [সূরা নাহল: ৯৭]। পবিত্র জীবন দুনিয়াতে, "এবং আমি অবশ্যই তাদের পুরস্কার দেব তাদের কৃত সর্বোত্তম আমল অনুযায়ী" [সূরা নাহল: ৯৭] এটি আখেরাতে।

এর বিপরীত অবস্থার কথা শুনুন: "বলুন, আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আমলকারীদের সংবাদ দেব? তারা সেইসব লোক, যাদের পার্থিব জীবনের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়েছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা ভালো কাজ করছে। তারাই সেইসব লোক যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ ও তাঁর সাথে সাক্ষাৎকে অস্বীকার করেছে, ফলে তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে গেছে; সুতরাং কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য কোনো ওজন কায়েম করব না।" [সূরা কাহফ: ১০৩-১০৫]।

হে সম্মানিত ভাইয়েরা! আমরা যদি এই দুটি সত্য জানতে পারি, যা হলো: প্রথমত: দুনিয়ার দ্রুত সমাপ্তি ও বিলুপ্তি এবং এটি এক মুহূর্তের পর অন্য মুহূর্ত অতিবাহিত হওয়া, যতক্ষণ না মানুষের মৃত্যু উপস্থিত হয়। আর দ্বিতীয়ত: আমরা যদি এটিও জানি যে মুমিন ব্যক্তিই হলো বিজয়ী ও লাভবান এবং যে ব্যক্তি ঈমানদার ও সৎকর্মশীল নয় সে ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা বাস্তব অবস্থা এবং আল্লাহর কিতাব দ্বারা এর প্রমাণ পেয়েছি। সুতরাং আমাদের জন্য সমীচীন হলো এই দুনিয়াতে আমাদের উপস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করা, কারণ আমাদের অবশ্যই চলে যেতে হবে। আমাদের কথা অবশ্যই স্মরণ করা হবে যেমন আমরা অন্যদের স্মরণ করি, যারা আমাদের আগে ছিল এবং যাদের আমরা পেয়েছি। তারা কথা বলত যেমন আমরা কথা বলি, তারা খবর দিত যেমন আমরা খবর দেই, অথচ এখন তারা কেবল একটি সংবাদে পরিণত হয়েছে।

 

মানুষ কোনো এক সময় সংবাদ দাতা হিসেবে পরিগণিত হয়, শেষ পর্যন্ত সে নিজেও একটি সংবাদে পরিণত হয়।

প্রথমে সে সংবাদ দাতা থাকে, পরে সে এমন এক সংবাদে পরিণত হয় যার সম্পর্কে বলা হয়: "অমুক ব্যক্তি, আল্লাহ তাকে রহম করুন।" এটাই হলো বাস্তবতা।

অতএব হে আমার ভাইয়েরা! আসুন আমরা এই সুযোগকে কাজে লাগাই, বিশেষ করে এই মৌসুমে। কল্যাণের এই মৌসুমসমূহ যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন, এগুলো বাণিজ্যিক বাজারের মতো, বরং প্রকৃতপক্ষে এটিই হলো আসল ব্যবসা: "হে মুমিনগণ, আমি কি তোমাদের এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব যা তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং তোমাদের মাল ও জান দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।" [সূরা সাফ: ১০-১১]।

আমাদের এই সুযোগ গ্রহণ করতে হবে। রমজান কবে আসবে? সম্ভবত মানুষ পরবর্তী রমজান পাওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করবে। আপনারা জানেন যে, এমন অনেক মানুষ ছিল যারা গত বছর আপনাদের সাথে ছিল, কিন্তু এখন তারা তাদের কবরে নিজেদের আমল নিয়ে আটকা পড়ে আছে। তারা তাদের নেক আমল বৃদ্ধি করতে পারছে না এবং তাদের গুনাহও কমাতে পারছে না। তাদের ওপর দিয়ে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা হয়তো আপনার ওপর দিয়েও অতিক্রান্ত হবে, বরং নিশ্চিতভাবেই অতিক্রান্ত হবে। তবে হয়তো রমজান ফিরে আসার আগেই আপনার ওপর তা এসে পড়বে। সুতরাং সুযোগ কাজে লাগান! আজ রাতে আমরা রমজানের তৃতীয় রাতে পদার্পণ করেছি। দেখুন কত দ্রুত এটি চলে যাচ্ছে, অর্থাৎ রমজানের দুটি পূর্ণ দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে এবং আমরা এখন তৃতীয় রাতে আছি। এটি এভাবেই দ্রুত চলে যাবে, তাই আসুন আমরা এই সুযোগকে কাজে লাগাই।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الحث على الطاعات في ليالي رمضان
রমজানের রাতসমূহে আনুগত্যের কার্যাবলীর প্রতি উৎসাহিতকরণ
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌التعبد لله بالإفطار

أولاً: في الليل، يبدأ الإنسان ليله بالتقرب إلى الله تعالى بأكل الفطور، الإنسان يبتدئ ليله بالتقرب إلى الله تعالى بأكل الفطور، أكل الفطور هو مما يلائم الطبيعة، لأن الإنسان يشتهي الأكل.

ومع ذلك هو عبادة تتقرب بها إلى الله.

إذاً: نبتدئ ليلنا بالتقرب إلى الله تعالى بأكل الفطور، وأنا أقول لكم ذلك من أجل أن ينوي الإنسان عند فطره أنه يفطر طاعة لله ورسوله واتباعاً لرسول الله صلى الله عليه وسلم، هل منكم أحد يدرك هذه النية؟ أو إذا أذَّن وإذا هو يشتهي التمر والماء أكله تشهياً لا تعبداً، أكثر الناس هكذا، ونحن منهم نسأل الله أن يتوب علينا إلا أن يمن الله علينا بالتذكر، لابد أن يتذكر الإنسان.
ইফতারের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা

প্রথমত: রাতে, মানুষ ইফতার ভক্ষণের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের দ্বারা তার রাত শুরু করে; মানুষ মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে ইফতার গ্রহণের মাধ্যমে তার রাত আরম্ভ করে। ইফতার গ্রহণ করা মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির অনুকূল বিষয়, কারণ মানুষ খাদ্যের আকাঙ্ক্ষা করে।

তা সত্ত্বেও এটি একটি ইবাদত, যার মাধ্যমে আপনি আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেন।

সুতরাং: আমরা ইফতার ভক্ষণের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যমে আমাদের রাত শুরু করি। আর আমি আপনাদের এটি এই উদ্দেশ্যে বলছি যেন মানুষ ইফতারের সময় এই নিয়ত করে যে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যস্বরূপ এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণে ইফতার করছে। আপনাদের মধ্যে কেউ কি এই নিয়তটি উপলব্ধি করেন? নাকি যখন আযান হয় এবং সে খেজুর ও পানির আকাঙ্ক্ষা করে, তখন সে তা কেবল প্রবৃত্তির তাড়নায় বা স্বাদের জন্য খায়, ইবাদত হিসেবে নয়? অধিকাংশ মানুষই এমন, আর আমরাও তাদের অন্তর্ভুক্ত; আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের ক্ষমা করেন এবং আমাদের তওবা কবুল করেন। তবে আল্লাহ যদি আমাদের স্মরণ করার তাওফিক দিয়ে অনুগ্রহ করেন (তবেই তা সম্ভব)। মানুষকে অবশ্যই বিষয়টি স্মরণ করতে হবে।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌إحسان عبادة إجابة النداء والوضوء والصلاة

ثانياً: يجيب المؤذن وهو يفطر؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم يقول: (إذا سمعتم المؤذن فقولوا مثل ما يقول المؤذن) لكن في حيَّ على الصلاة تقول: لا حول ولا قوة إلا بالله! يجيب ويدعو وهو مفطر، يجمع بين عبادتين، ثم بعد ذلك يخرج من بيته يمشي إلى أي شيء؟ إلى المسجد متطهراً، لا يخطو خطوة واحدة إلا رفع الله له بها درجة، وحط عنه بها خطيئة، يقدم رجله اليمنى، هذه سنة قولية أو فعلية؟ فعلية، ويقول: باسم الله، والصلاة والسلام على رسول الله، اللهم اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب رحمتك، هذه سنة قولية، يسأل الله أن يفتح له أبواب رحمته.

ثم يدخل مع الإمام يصلي مع الإمام كما أمره النبي صلى الله عليه وسلم، فيتقرب إلى الله في هذه الصلاة من وجهين: الوجه الأول: أنه يؤدي فريضة من فرائض الإسلام وهي الصلاة.

الوجه الثاني: أنه يتابع الإمام، ومتابعة الإمام فيها أجر وعبادة؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمر بها، قال: (إذا كبر فكبروا، وإذا ركع فاركعوا، وإذا سجد فاسجدوا) إذاً: تكون عبادة، فيؤدي عبادتين: فريضة الإسلام، واتباع الإمام الذي أمره النبي صلى الله عليه وسلم باتباعه.

أما إذا أتينا إلى الصلاة أو نظرنا إلى الصلاة، فيالها من روضة يانعة فيها من كل فاكهة زوجان، تكبير لله قرآن تسبيح دعاء هيئات متعددة كلها تنبئ عن التعظيم، أنت ترفع يديك عند التكبير تعظيماً لله تركع تعظيماً لله، ولهذا تقول في ركوعك: سبحان ربي العظيم، لتجمع بين التعظيم القولي والتعظيم الفعلي، إذا رفعت تثني على الله عز وجل؛ لأنه مجيبٌ لمن حمده، سمع الله لمن حمده يعني: أجاب لمن حمده، وتحمد الله عز وجل، ثم تسجد على الأعضاء السبعة، هذه الأعضاء تتناول أدنى ما في البدن وأعلى ما في البدن، ما هو أدنى ما في البدن؟ القدمان، وأعلى ما في البدن؟ الوجه، تسجد كلك، من هامك إلى إبهامك تعظيماً لله عز وجل.

ترى أعلى ما فيك وأشرف ما فيك في مداس الناس في الأرض، والله! لو أمرك أكبر ملك في الدنيا أن تسجد له ما وافقت إطلاقاً، لأبيت أشد الإباء، لكنك ولله الحمد تنقاد وبكل سهولة، وتتلذذ بهذا أيضاً، لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (وجعلت قرت عيني في الصلاة) في سجودك تبتهل إلى الله عز وجل.

تجتهد في الدعاء؛ لأن الرسول صلى الله عليه وسلم قال: (وأما السجود فأكثروا في الدعاء، فقَمِنٌ أن يستجاب لكم) .

ثم ترفع وتجلس بين السجدتين وتسأل الله المغفرة والرحمة والهداية، وتعيد السجود مرة ثانية.

الله أكبر! الركوع مرة واحدة والسجود مرتين، لأن السجود أشد خضوعاً وخشوعاً، لأنك لست تنحني فقط بل تنحني وزيادة، وتضع أشرف ما فيك على الأرض ولهذا كُرِّر في الصلاة، ولم يكرر الركوع في الصلاة إلا في صلاة الكسوف، لأنها صلاة خوف ورهبة، فلهذا كرر فيها الركوع تعظيماً لله عز وجل، ثم عند ختام الصلاة تثني على الله بالتحيات، وبالسلام على النبي صلى الله عليه وسلم تسلم عليه، وبالسلام عليك وعلى عباد الله الصالحين، وبالصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، وبالاستعاذة بالله من عذاب جهنم وعذاب القبر وفتنة المحيا والممات وفتنة المسيح الدجال.

ما زلنا الآن في أول الليل، ما هي الصلاة التي أديناها؟ صلاة المغرب.
আজান তথা আহ্বানে সাড়া দেওয়া, অজু এবং সালাতের ইবাদতকে সুন্দরভাবে সম্পাদন করা

দ্বিতীয়ত: মুয়াজ্জিনের আজানের জবাব দেওয়া এবং একই সাথে ইফতার করা; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে শুনতে পাও, তখন সে যা বলে তোমরাও তদ্রূপ বলো)। কিন্তু 'হাইয়া আলাস সালাহ' এর ক্ষেত্রে বলবে: 'লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' (আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো পরিবর্তন বা শক্তি নেই)! সে ইফতার করা অবস্থায় আজানের জবাব দিবে এবং দোয়া করবে, ফলে সে দুটি ইবাদতকে একত্রে সম্পাদন করল। এরপর সে তার ঘর থেকে বের হয়ে কিসের দিকে হেঁটে যাবে? মসজিদের দিকে পবিত্রতা অর্জন করা অবস্থায়। তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে আল্লাহ তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার একটি গুনাহ মিটিয়ে দেন। সে তার ডান পা আগে বাড়িয়ে প্রবেশ করবে; এটি কি বাচনিক না কি প্রায়োগিক সুন্নাত? এটি প্রায়োগিক সুন্নাত। এবং সে বলবে: আল্লাহর নামে, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর। হে আল্লাহ, আপনি আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন। এটি একটি বাচনিক সুন্নাত, যেখানে সে আল্লাহর কাছে তাঁর রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়ার প্রার্থনা করছে।

অতঃপর সে ইমামের সাথে সালাতে শরিক হবে এবং ইমামের সাথে সালাত আদায় করবে যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং সে এই সালাতের মাধ্যমে দুই দিক থেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে: প্রথম দিক: সে ইসলামের অন্যতম ফরজ দায়িত্ব সালাত আদায় করছে।

দ্বিতীয় দিক: সে ইমামের অনুসরণ করছে, আর ইমামের অনুসরণের মধ্যে রয়েছে প্রতিদান ও ইবাদত; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: (যখন তিনি তাকবির দেন তখন তোমরাও তাকবির দাও, যখন তিনি রুকু করেন তখন তোমরাও রুকু করো, এবং যখন তিনি সিজদা করেন তখন তোমরাও সিজদা করো)। সুতরাং এটি ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে। এভাবে সে দুটি ইবাদত সম্পাদন করে: ইসলামের ফরজ বিধান পালন এবং ইমামের অনুসরণ—যার নির্দেশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দিয়েছেন।

আর আমরা যদি সালাতের বিষয়ে আসি বা সালাতের দিকে তাকাই, তবে তা এক সতেজ বাগানের মতো, যাতে প্রত্যেক প্রকারের ফল জোড়ায় জোড়ায় রয়েছে। আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা (তাকবির), কুরআন পাঠ, তাসবিহ, দোয়া এবং বিবিধ শারীরিক ভঙ্গি যার প্রতিটি আল্লাহর মহত্ত্ব প্রকাশ করে। আপনি তাকবিরের সময় আল্লাহর সম্মানে হাত তুলছেন, আল্লাহর সম্মানে রুকু করছেন। আর এ কারণেই আপনি রুকুতে বলেন: 'আমার মহান রব পবিত্র', যাতে আপনি বাচনিক এবং প্রায়োগিক সম্মানের সমন্বয় ঘটাতে পারেন। যখন আপনি রুকু থেকে মাথা তোলেন তখন আল্লাহর প্রশংসা করেন; কারণ তিনি তাঁর প্রশংসা যে করে তার ডাকে সাড়া দেন। 'আল্লাহ তাঁর প্রশংসা শ্রবণ করেন যে তাঁর প্রশংসা করে' অর্থ: আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন যে তাঁর প্রশংসা করে। অতঃপর আপনি আল্লাহর প্রশংসা করেন। এরপর আপনি সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদা করেন। এই অঙ্গগুলো শরীরের সর্বনিম্ন অংশ এবং সর্বোচ্চ অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে। শরীরের সর্বনিম্ন অংশ কোনটি? দুই পা। আর শরীরের সর্বোচ্চ অংশ কোনটি? মুখমণ্ডল। আপনি আপনার সর্বসত্তা দিয়ে সিজদা করেন, আপনার মাথার উপরিভাগ থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত আল্লাহর মহত্ত্বের সম্মানে।

আপনি দেখতে পান যে, আপনার শরীরের সবচেয়ে উঁচু এবং সম্মানিত অংশটি মানুষের চলার পথে মাটিতে রাখা হয়েছে। আল্লাহর কসম! দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বাদশাহও যদি আপনাকে তাঁর সামনে সিজদা করার নির্দেশ দিত, তবে আপনি কখনোই তা মানতেন না, বরং কঠোরভাবে অস্বীকার করতেন। কিন্তু আল্লাহর জন্য—সমস্ত প্রশংসা তাঁরই—আপনি অত্যন্ত সহজভাবে নতি স্বীকার করেন এবং এতে আনন্দও লাভ করেন। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (সালাতের মধ্যে আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে)। সিজদারত অবস্থায় আপনি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত বিনীতভাবে প্রার্থনা করেন।

আপনি দোয়া করার ব্যাপারে ঐকান্তিক চেষ্টা চালান; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (আর সিজদারত অবস্থায় তোমরা অধিক পরিমাণে দোয়া করো, কারণ এটি কবুল হওয়ার অধিক উপযুক্ত)।

অতঃপর আপনি মাথা তোলেন এবং দুই সিজদার মাঝে বসেন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত ও হেদায়েত প্রার্থনা করেন এবং দ্বিতীয়বার সিজদা করেন।

আল্লাহু আকবার! রুকু একবার আর সিজদা দুইবার। কারণ সিজদায় আনুগত্য ও বিনয় অনেক বেশি প্রকাশ পায়; যেহেতু আপনি শুধু নত হন না বরং তার চেয়েও বেশি অবনত হন এবং আপনার শরীরের সবচেয়ে সম্মানিত অংশটি মাটিতে রাখেন। এ কারণেই সালাতে এটি বারবার করা হয়। সালাতে রুকু বারবার করা হয় না একমাত্র কুসুফ (সূর্যগ্রহণ) এর সালাত ব্যতীত, কারণ তা ভয় ও শঙ্কার সালাত; তাই সেখানে আল্লাহর মহত্ত্বের খাতিরে রুকু বারবার করা হয়। অতঃপর সালাতের শেষে আপনি অভিবাদনের মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর সালাম পেশ করেন, নিজের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম পেশ করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করেন এবং জাহান্নামের আজাব, কবরের আজাব, জীবন ও মরণের ফিতনা এবং মাসিহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন।

আমরা এখন রাতের প্রথম ভাগে রয়েছি। আমরা কোন সালাত আদায় করলাম? মাগরিবের সালাত।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌فعل المباح بنية العبادة

ثم تذهب إلى البيت راجعاً يكتب لك ممشاك حيث احتسبته على الله ذاهباً وراجعاً، وتتعشى لتتقوى على طاعة الله، ولذلك ينبغي لنا -نسأل الله أن يوقظ قلوبنا- ألا ننوي بأكلنا وشربنا مجرد التشهي، أن ننوي به: أولاً: امتثال أمر الله عز وجل، لأن الله أمرنا بالأكل والشرب في أي آية؟ {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلا تُسْرِفُوا} [الأعراف:31] {كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُوا لِلَّهِ} [البقرة:172] .

ثانياً: ننوي بذلك حفظ أبداننا؛ لأن بدنك أمانة عندك ائتمنك الله عليه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَاراً} [التحريم:6] هذه الأمانة الدينية، والأمانة البدنية الدنيوية: {وَلا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ} [النساء:29] {وَلا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} [البقرة:195] إذاً: فننوي بالأكل حفظ هذا البدن الذي جعله الله أمانة عندك نقيه الشر في الدنيا والآخر.

ثالثاً: ننوي بذلك التنعم بنعم الله، التنعم بنعم الله قربة؟ نعم لأنه يدل على قبولك لنعمة الله عليك، قبولك لمنة الله عليك، ومعلوم أن قبول ذي المنة اعتراف بفضله عز وجل، فأنت تعترف بفضل الله، وتتمتع بنعمه، ولهذا جاء في الحديث: (إن الله يحب أن تؤتى رخصه) إذاً: ويحب أن يتبسط عباده بنعمه؛ لأن الكريم يحب أن ينتفع الناس بكرمه.

رابعاً: تنوي بذلك التقوِّي على الطاعة، ولهذا قال النبي عليه الصلاة والسلام: (تسحروا فإن في السحور بركة) أمرنا بالسحور من أجل التقوِّي على الصيام، فأنت تنوي بأكلك وشربك التقوِّي على طاعة الله.

إذاً انقلبت هذه النعمة التي يتمتع بها أكثر الناس تشهياً، انقلبت عبادة، فبإمكان الإنسان الموفق أن يقلب عاداته عبادات، والغافل تكون عباداته عادات، يروح يصلي على العادة، يتوضأ على العادة، يمكن لو عاش في بيئة أخرى غير مسلمة يمكن أن يمشي على ما هم عليه عادة، لكن الموفق يجعل من عاداته عبادات.
ইবাদতের নিয়তে মুবাহ (বৈধ) কাজ করা

অতঃপর তুমি ঘরে ফিরে যাবে, তোমার পদচারণা সওয়াব হিসেবে গণ্য হবে যেহেতু তুমি আল্লাহর নিকট এর প্রতিদান আশা করেছ। আর তুমি রাতের খাবার খাবে যাতে আল্লাহর আনুগত্যে শক্তি অর্জন করা যায়। এজন্য আমাদের উচিত—আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের অন্তরগুলোকে জাগ্রত করেন—আমরা যেন আমাদের পানাহারে কেবল প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণের নিয়ত না করি, বরং এর মাধ্যমে আমরা যেন নিয়ত করি: প্রথমত: মহান আল্লাহর নির্দেশের আনুগত্য করা। কারণ আল্লাহ কোন আয়াতে আমাদের পানাহারের নির্দেশ দিয়েছেন? "তোমরা খাও ও পান কর, তবে অপচয় করো না" [আল-আরাফ: ৩১]। "আমরা তোমাদের যে উত্তম রিজিক দিয়েছি তা থেকে তোমরা আহার কর এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর" [আল-বাকারা: ১৭২]।

দ্বিতীয়ত: এর মাধ্যমে আমাদের দেহ সংরক্ষণের নিয়ত করা; কেননা তোমার দেহ তোমার নিকট একটি আমানত যা আল্লাহ তোমার কাছে গচ্ছিত রেখেছেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর" [আত-তাহরীম: ৬]—এটি হলো দ্বীনি আমানত। আর শারীরিক ও দুনিয়াবি আমানত হলো: "তোমরা নিজেদের হত্যা করো না" [আন-নিসা: ২৯], "তোমরা নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না" [আল-বাকারা: ১৯৫]। সুতরাং, আমরা আহারের মাধ্যমে এই শরীর সংরক্ষণের নিয়ত করব যা আল্লাহ তোমার কাছে আমানত রেখেছেন, যাতে তুমি দুনিয়া ও আখেরাতে অনিষ্ট থেকে সুরক্ষিত থাকো।

তৃতীয়ত: এর মাধ্যমে আল্লাহর নিআমতগুলো ভোগ করার নিয়ত করা। আল্লাহর নিআমত ভোগ করা কি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়? হ্যাঁ, কারণ এটি তোমার ওপর আল্লাহর নিআমত গ্রহণ করার বহিঃপ্রকাশ এবং তোমার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ কবুল করার প্রমাণ। আর এটি সুবিদিত যে, দাতা বা অনুগ্রহকারীর দান গ্রহণ করা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বেরই স্বীকৃতি। সুতরাং তুমি আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দিচ্ছ এবং তাঁর নিআমত ভোগ করছ। এ কারণেই হাদীসে এসেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর দেওয়া সহজ সুযোগগুলো গ্রহণ করাকে পছন্দ করেন।" সুতরাং তিনি পছন্দ করেন যে তাঁর বান্দারা তাঁর নিআমতের মাধ্যমে প্রশস্ততা লাভ করুক; কারণ দাতা ব্যক্তি সর্বদা চান যে মানুষ তাঁর দানশীলতা থেকে উপকৃত হোক।

চতুর্থত: এর মাধ্যমে আনুগত্যের শক্তি অর্জনের নিয়ত করা। এ কারণেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা সাহরী গ্রহণ করো, কারণ সাহরীতে বরকত রয়েছে।" তিনি আমাদের সাহরী গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন যেন সিয়াম পালনের শক্তি অর্জিত হয়। সুতরাং তুমি তোমার পানাহারের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্যের জন্য শক্তি অর্জনের নিয়ত করবে।

সুতরাং এই নিআমত যা অধিকাংশ মানুষ কেবল রসনা তৃপ্তির জন্য ভোগ করে, তা ইবাদতে পরিণত হলো। অতএব, তৌফিকপ্রাপ্ত ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব তাঁর অভ্যাসগুলোকে ইবাদতে পরিণত করা। আর গাফেল বা উদাসীন ব্যক্তির ইবাদতগুলো অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। সে অভ্যাসবশত সালাত আদায় করতে যায়, অভ্যাসবশত ওযু করে। সে যদি অন্য কোনো অনৈসলামিক পরিবেশে বাস করত, তবে হয়ত তাদের অভ্যাস অনুযায়ী চলত। কিন্তু তৌফিকপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাঁর অভ্যাসগুলোকেও ইবাদতে রূপান্তর করেন।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌قيام رمضان وبعض أحكامه

بعد هذا تذهب إلى المسجد كما قلنا في الأول تتوضأ في البيت وتسبغ الوضوء، وهنا أنبه إلى أنه يحسن للإنسان أن يتوضأ في بيته أحسن من المسجد؛ لأجل أن يخرج وهو متطهر، فإن من توضأ في بيته فأسبغ الوضوء ثم خرج إلى المسجد لا يخرجه إلا الصلاة، لم يخط خطوة إلا رفع الله له بها درجة، وحط عنه بها خطيئة، فإذا وصل المسجد وصلى فإن الملائكة تصلي عليه ما دام في مصلاه، تقول: اللهم اغفر له، اللهم ارحمه، ولا يزال في صلاة ما انتظر الصلاة.

تدخل في صلاة العشاء، تدخل في قيام رمضان؛ لأن التراويح قيام رمضان، لولا أننا نعتقد أنه قيام رمضان لكنا لم نقم رمضان، هو قيام رمضان تماماً، انتبه لا تظن أنه صلاة فقط مجرد هو صلاة لكن هو قيام رمضان، الذي قال فيه صلى الله عليه وسلم: (من قام رمضان إيماناً واحتساباً غفر الله له ما تقدم من ذنبه) ولهذا كان الرسول صلى الله عليه وسلم يطيل فيه الصلاة، قالت عائشة رضي الله عنها لما سئلت: (كيف كانت صلاة النبي صلى الله عليه وسلم في رمضان، قالت: ما كان يزيد في رمضان ولا غيره على إحدى عشرة ركعة رضي الله عنها وهي من أعلم الناس بصلاته- يصلي أربعا، ً فلا تسأل عن حسنهن وطولهن، ثم يصلي أربعاً، فلا تسأل عن حسنهن وطولهن، ثم يصلي ثلاثاً) .

هذا الحديث إذاً أربع وأربع ثمان وثلاث إحدى عشر، لكن قولها: يصلي أربعاً، قد يحتمل أن المعنى يصليها جميعاً في تسليمة واحدة، ثم يصلي أربعاً في تسليمة واحدة، وهذا محتمل، لكن يحتمل وجهاً آخر، أنه يصلي أربعاً بتسليمتين يعني: يصلي ركعتين ثم ركعتين ثم يستريح، والدليل على هذا أمران: الأمر الأول: قول النبي صلى الله عليه وسلم: (صلاة الليل مثنى مثنى) ولم يعهد من الرسول عليه الصلاة والسلام أنه صلى أكثر من اثنتين إلا في الوتر، الوتر كان يوتر بخمس أو بسبع ولا يجلس إلا في آخرها، أو بتسع ويجلس في الثامنة ويتشهد ولا يسلم، ثم يصلي التاسعة ويتشهد ويسلم، لكن في الوتر ما عهد عنه أنه صلى أكثر من ركعتين، وقد قال هو عليه الصلاة والسلام قوله: (صلاة الليل مثنى مثنى) .

والوجه الثاني: مما يؤيد هذا أنها قالت (ثم) وثم هذه للترتيب والمهلة فيجعل بين الأربع والأربع شيئاً من المهلة، ولهذا أخذ الناس هذا العمل، فصار الناس في صدر هذه الأمة يصلون أربعاً ثم يستريحون ثم يصلون أربعاً، ولهذا سميت تراويح من الراحة، ما هي تراويح بمعنى السرعة، لا، من الراحة! يصلون صلاة طويلة ثم يستريحون، يصلي أربعاً ويستريح، ويصلي أربعاً ويستريح، ثم يصلي ثلاثاً.

وظاهر قولها رضي الله عنها أنه لا يسلم في هذه الثلاث، لأنه وتر والوتر إذا أوتر بثلاث يسردها، لكن قد صح عن ابن عمر أنه يسلم في الركعتين ويأتي بالثالثة، فإن فعلت هذا أو هذا فكله جائز، لكني أرجح أن الثلاث تكون سرداً بتسليمة واحدة.

انتهينا من صلاة أول الليل، بعد ذلك هل يكتب للإنسان أجر إلى الفجر؟ استمع: (أقام النبي صلى الله عليه وسلم بأصحابه ثلاث ليالٍ، فقالوا: يا رسول الله! لو نفلتنا بقية ليلتنا -يعني: لو زدت النفل هنا بمعنى الزيادة، لو زدتنا بقية الليلة انظر الهمة العالية، نحن لو أطلنا قال الناس: أطال فلان، ابحثوا عن غيره أخف منه، لكن الصحابة قالوا للرسول صلى الله عليه وسلم: انفلنا بقية الليلة زدنا قال النبي صلى الله عليه وسلم: من قام مع الإمام حتى ينصرف كتب له قيام ليلة) اللهم لك الحمد قيام ليلة وأنت نائم! نعم قيام ليلة وأنا نائم، هكذا قال النبي عليه الصلاة والسلام نعمة من الله، إذاً يكتب للإنسان الذي يقوم مع الإمام حتى ينصرف قيام ليلة كاملة قاله النبي صلى الله عليه وسلم.
কিয়ামে রমজান ও এর কিছু বিধান

এরপর আপনি মসজিদের দিকে যাবেন যেমনটি আমরা শুরুতে বলেছি। ঘরে অজু করবেন এবং পূর্ণাঙ্গভাবে অজু সম্পাদন করবেন। এখানে আমি সতর্ক করছি যে, মানুষের জন্য তার ঘরে অজু করা মসজিদের চেয়ে উত্তম; যাতে সে পবিত্র অবস্থায় ঘর থেকে বের হয়। কেননা, যে ব্যক্তি ঘরে পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করে অতঃপর মসজিদের দিকে বের হয় এবং সালাত ছাড়া অন্য কিছু তাকে বের করে না, তবে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং একটি পাপ মোচন করেন। যখন সে মসজিদে পৌঁছে সালাত আদায় করে, তখন ফেরেশতারা তার জন্য প্রার্থনা করতে থাকে যতক্ষণ সে তার সালাতের স্থানে অবস্থান করে। তারা বলে: হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! তার প্রতি দয়া করুন। আর সে যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ সে সালাতেই রত থাকে।

আপনি এশার সালাতে শামিল হবেন, কিয়ামে রমজানে শামিল হবেন; কারণ তারাবিহ হলো কিয়ামে রমজান। যদি আমরা বিশ্বাস না করতাম যে এটি কিয়ামে রমজান, তবে আমরা কিয়ামে রমজান পালন করতাম না। এটি পরিপূর্ণভাবেই কিয়ামে রমজান। সাবধান, মনে করবেন না যে এটি কেবল সাধারণ একটি সালাত; এটি সালাত ঠিকই কিন্তু এটিই কিয়ামে রমজান, যে সম্পর্কে নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: (যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম করবে, আল্লাহ তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন)। এই কারণেই রাসুলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এতে সালাত দীর্ঘ করতেন। আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত, যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: রমজানে নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সালাত কেমন ছিল? তিনি বললেন: (তিনি রমজানে বা অন্য কোনো সময়ে এগারো রাকাতের বেশি পড়তেন না—তিনি মানুষের মধ্যে নবীজির সালাত সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত ছিলেন—তিনি চার রাকাত পড়তেন, তুমি এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না; অতঃপর তিনি চার রাকাত পড়তেন, তুমি এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না; অতঃপর তিনি তিন রাকাত পড়তেন)।

এই হাদিস অনুযায়ী চার এবং চার মিলে আট এবং তিন মিলে এগারো রাকাত। তবে তাঁর এই কথা: "তিনি চার রাকাত পড়তেন", এর অর্থ হতে পারে যে তিনি সেগুলো এক সালামে পড়তেন, অতঃপর আবার চার রাকাত এক সালামে পড়তেন; এটি একটি সম্ভাবনা। কিন্তু এর আরেকটি ব্যাখ্যাও হতে পারে যে, তিনি চার রাকাত দুই সালামে পড়তেন। অর্থাৎ: দুই রাকাত, এরপর দুই রাকাত পড়ে বিরতি নিতেন। এর স্বপক্ষে দুটি প্রমাণ রয়েছে: প্রথমত: নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর বাণী: (রাতের সালাত দুই দুই রাকাত করে)। আর বিতর ছাড়া রাসুলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে দুই রাকাতের বেশি একসাথে পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না। বিতরের ক্ষেত্রে তিনি কখনো পাঁচ বা সাত রাকাত পড়তেন এবং কেবল শেষ রাকাতে বসতেন; অথবা নয় রাকাত পড়তেন এবং অষ্টম রাকাতে বসে তাশাহহুদ পড়তেন কিন্তু সালাম ফিরাতেন না, অতঃপর নয় রাকাত পূর্ণ করে তাশাহহুদ পড়ে সালাম ফিরাতেন। কিন্তু বিতর ব্যতীত অন্য সালাতে তাঁর থেকে দুই রাকাতের বেশি পড়ার প্রমাণ নেই, আর তিনি তো নিজেই বলেছেন: (রাতের সালাত দুই দুই রাকাত)।

দ্বিতীয় দিক: এই মতকে যা সমর্থন করে তা হলো তাঁর (আয়েশা) উক্তি 'অতঃপর' (সুম্মা)। এই 'অতঃপর' শব্দটি ক্রমধারা ও বিরতি বুঝাতে ব্যবহৃত হয়, ফলে তিনি প্রথম চার ও দ্বিতীয় চারের মাঝে কিছুটা বিরতি নিতেন। এই কারণেই মানুষ এই আমলটি গ্রহণ করেছে, এবং এই উম্মতের প্রথম যুগে মানুষ চার রাকাত পড়তেন, অতঃপর বিশ্রাম নিতেন, অতঃপর আবার চার রাকাত পড়তেন। এ কারণেই এর নাম রাখা হয়েছে 'তারাবিহ', যা 'রাহাত' (বিশ্রাম) থেকে উদ্ভূত। তারাবিহ মানে দ্রুতগতি নয়, বরং বিশ্রাম! তাঁরা দীর্ঘ সালাত আদায় করতেন এবং এরপর বিশ্রাম নিতেন। চার রাকাত পড়ে বিশ্রাম নিতেন, আবার চার রাকাত পড়ে বিশ্রাম নিতেন, এরপর তিন রাকাত পড়তেন।

আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)-এর উক্তির বাহ্যিক অর্থ হলো তিনি এই তিন রাকাতে সালাম ফিরাতেন না। কারণ এটি বিতর, আর বিতর যখন তিন রাকাত পড়া হয় তখন তা একসাথেই পড়া হয়। তবে ইবনে উমর থেকে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরাতেন এবং পরে তৃতীয় রাকাতটি পড়তেন। আপনি যদি এর যেকোনোটি করেন তবে সবই বৈধ। তবে আমি তিন রাকাত বিরতিহীনভাবে এক সালামে পড়াকেই প্রাধান্য দিই।

আমরা রাতের প্রথম ভাগের সালাত শেষ করলাম। এরপর কি মানুষের জন্য ফজর পর্যন্ত সওয়াব লেখা হবে? শুনুন: (নবী—আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—তাঁর সাহাবীদের নিয়ে তিন রাত কিয়াম করেছিলেন। তখন তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি যদি আমাদের রাতের অবশিষ্ট অংশটুকু নফল সালাত পড়াতেন—অর্থাৎ আপনি যদি বাড়িয়ে দিতেন; এখানে নফল অর্থ অতিরিক্ত। যদি আপনি রাতের বাকি অংশটুকু আমাদের জন্য বাড়িয়ে দিতেন। সাহাবীদের সুউচ্চ আকাঙ্ক্ষা দেখুন! আমরা যদি দীর্ঘ করি তবে মানুষ বলে: অমুক দীর্ঘ করেছেন, তাঁর চেয়ে হালকা কাউকে খুঁজুন। কিন্তু সাহাবীগণ রাসুলুল্লাহ—আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—কে বলেছিলেন: আমাদের জন্য রাতের অবশিষ্ট অংশটুকু বাড়িয়ে দিন। নবী—আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—বললেন: যে ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাত শেষ করা পর্যন্ত কিয়াম করবে, তার জন্য পুরো রাত কিয়ামের সওয়াব লেখা হবে)। হে আল্লাহ! আপনারই প্রশংসা, আমি ঘুমিয়ে থাকব অথচ পুরো রাত কিয়ামের সওয়াব! হ্যাঁ, আমি ঘুমিয়ে থাকব অথচ পুরো রাত কিয়ামের সওয়াব, নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এভাবেই বলেছেন। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশাল অনুগ্রহ। সুতরাং যে ব্যক্তি ইমাম বিদায় নেওয়া পর্যন্ত তাঁর সাথে কিয়াম করবে, তার জন্য পুরো রাত কিয়ামের সওয়াব লেখা হবে—এটি নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌السحور فضله وأحكامه

تقوم في آخر الليل تأكل وتشرب، وهذا الأكل والشرب كله خير، أمر به النبي صلى الله عليه وسلم فقال: (تسحروا فإن في السحور بركة) وقال: (فصل ما بيننا وبين صيام أهل الكتاب أكلة السحور) اليهود والنصارى يصومون، لكن صيامهم هباء منثوراً بعد بعثة النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأنهم كفار لا ينفعهم إيمانهم، لو صاموا سنةً كاملة ليست بشيء، ولا تقبل منهم: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلامِ دِيناً فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ} [آل عمران:85] متى يتسحر اليهود والنصارى؟ في نصف الليل؛ لأن نهارهم يبدأ من نصف الليل، لكن المسلمين هم الموافقون للواقع، متى يبدأ نهارهم؟ إذا بدأ النهار وبدأ الصبح، فأوفق من يكون للواقع هم المسلمون، يصومون في النهار ويفطرون في الليل، فهل هذا السحور فيه فائدة؟ نعد الفوائد: أولاً: امتثال أمر النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأنه قال: تسحروا.

ثانياً: الاقتداء بالرسول صلى الله عليه وسلم، لأنه كان يتسحر، ولم يكن بين سحوره وبين صلاته إلا مقدار خمسين آية، أيضاً يؤخر السحور.

ثالثاً: أن في هذه الأكلة معونة على طاعة الله؛ لأن الإنسان إذا تسحر كفاه ذلك كل اليوم، كم تشرب كل يوم إذا لم تكن صائماً؟ كثير، لكن إذا كنت صائماً سبحان الله! الشرب الذي في السحور يكفيك، هذا من بركته قال النبي صلى الله عليه وسلم: (تسحروا فإن في السحور بركة) .

رابعاً: إظهار المخالفة لليهود والنصارى؛ لأن هذا السحور هو فصل ما بيننا وبين صيام اليهود والنصارى، ولا شك أن إظهار مخالفة اليهود والنصارى مما يقرب إلى الله: (من تشبه بقوم فهو منهم) بل إغاظة اليهود والنصارى مما يقرب إلى الله، بل إغاظة كل كافر مما يقرب إلى الله، قال الله تعالى: {وَلا يَطَأُونَ مَوْطِئاً يُغِيظُ الْكُفَّارَ وَلا يَنَالُونَ مِنْ عَدُوٍّ نَيْلاً إِلَّا كُتِبَ لَهُمْ بِهِ عَمَلٌ صَالِحٌ} [التوبة:120] وقال الله تعالى في وصف الرسول صلى الله عليه وسلم ومن معه قال: {لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ} [الفتح:29] .

ما نصانع الكفار لأن الكفار لا يصانعوننا، ولكنا نفعل كل ما يغيظهم، نتقرب بذلك إلى الله، ونعلم أن هذا قربة لنا؛ لأن هذا لنا فيه أجر وهذا وصف محمد صلى الله عليه وسلم وأصحابه.

الخامس: أنه فيه ما ذكرنا من قبل من فوائد الأكل، يعني: السحور أكل، فيه التنعم بنعم الله، حفظ البدن، امتثال أمر الله، وغير ذلك.

إذاً: تسحرنا -يا إخواني- أجر أم غير أجر؟ أجر، ولكن كل هذه الأمور تحتاج إلى أن الإنسان يتذكر، أكثر الناس لا يتذكر يأكل الأكل يتنعم به ترفهاً بدنياً لا أنه يتنعم به تنعماً عبادياً، لا.

إلا أن يشاء الله، إذا استيقظ الإنسان واستحضر انتفع، أما في النهار فأنت في عبادة من طلوع الفجر إلى غروب الشمس، ميزان هذه العبادة ما هي؟ مرتبتها في الإسلام، ركن من أركان الإسلام، تقوم به من طلوع الفجر إلى غروب الشمس، ولو كنت نائماً، ولو كنت تبيع أو تشتري، أو تتحدث مع أصحابك، أنت في ركن من أركان الإسلام، سبحان الله!
সহুর: এর ফযীলত ও বিধানসমূহ

আপনি রাতের শেষাংশে জাগ্রত হন এবং পানাহার করেন; আর এই পানাহার পুরোটাই কল্যাণকর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: (তোমরা সহুর গ্রহণ করো, কেননা সহুরে বরকত রয়েছে)। তিনি আরও বলেছেন: (আমাদের রোজা এবং আহলে কিতাবদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সহুর খাওয়া)। ইহুদি ও খ্রিস্টানরা রোজা রাখে, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রেরণের পর তাদের রোজা ধূলিকণার মতো নিরর্থক; কারণ তারা কাফের, তাদের ঈমান তাদের কোনো উপকারে আসবে না। তারা যদি পূর্ণ এক বছরও রোজা রাখে, তবে তা কিছুই নয় এবং তাদের থেকে তা কবুল করা হবে না: {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন তালাশ করবে, তার থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না} [আলে ইমরান: ৮৫]। ইহুদি ও খ্রিস্টানরা কখন সহুর খায়? মাঝরাতে; কারণ তাদের দিন শুরু হয় মাঝরাত থেকে। কিন্তু মুসলমানরা বাস্তবসম্মত রীতির অনুসারী; তাদের দিন কখন শুরু হয়? যখন দিন তথা সকাল শুরু হয়। সুতরাং বাস্তবতার সাথে সবচেয়ে বেশি সংগতিপূর্ণ হলো মুসলমানরা। তারা দিনে রোজা রাখে এবং রাতে ইফতার করে। তাহলে এই সহুরে কি কোনো ফায়দা আছে? আমরা ফায়দাগুলো গণনা করি: প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশের আনুগত্য করা; কারণ তিনি বলেছেন: তোমরা সহুর গ্রহণ করো।

দ্বিতীয়ত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করা; কারণ তিনি সহুর গ্রহণ করতেন। আর তাঁর সহুর গ্রহণ এবং তাঁর সালাতের মাঝে মাত্র পঞ্চাশটি আয়াত পাঠ করার মতো সময় থাকত। তিনিও সহুর দেরিতে করতেন।

তৃতীয়ত: এই আহারের মধ্যে আল্লাহর আনুগত্যের ওপর সাহায্য লাভ হয়। কারণ মানুষ যখন সহুর খায়, তা তাকে সারা দিনের জন্য যথেষ্ট হয়। আপনি যখন রোজা থাকেন না, তখন প্রতিদিন কতটুকু পান করেন? অনেক বেশি। কিন্তু যখন আপনি রোজা থাকেন, সুবহানাল্লাহ! সহুরের সময় যে পানীয় পান করেন, তা-ই আপনার জন্য যথেষ্ট হয়। এটিই এর বরকত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমরা সহুর গ্রহণ করো, কেননা সহুরে বরকত রয়েছে)।

চতুর্থত: ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বিরোধিতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো; কারণ এই সহুরই হলো আমাদের এবং ইহুদি-খ্রিস্টানদের রোজার মধ্যবর্তী পার্থক্যকারী। আর ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বিরোধিতা প্রদর্শন করা যে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম—তাতে কোনো সন্দেহ নেই: (যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত)। বরং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ক্রোধান্বিত করা আল্লাহর নৈকট্য লাভের কাজ। বরং প্রত্যেক কাফেরকে রাগান্বিত করা আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তারা এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে না যা কাফেরদের মনে ক্রোধের সৃষ্টি করে এবং শত্রুর পক্ষ থেকে এমন কিছু অর্জন করে না যা তাদের জন্য নেক আমল হিসেবে লিপিবদ্ধ হয় না} [আত-তাওবাহ: ১২০]। আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সঙ্গীদের বর্ণনায় বলেছেন: {যাতে তাদের মাধ্যমে তিনি কাফেরদের ক্রোধান্বিত করেন} [আল-ফাতহ: ২৯]।

আমরা কাফেরদের সাথে আপস করি না কারণ তারা আমাদের সাথে আপস করে না। বরং আমরা এমন প্রতিটি কাজ করি যা তাদের ক্রোধান্বিত করে, এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য খুঁজি। আমরা জানি যে এটি আমাদের জন্য একটি ইবাদত; কারণ এতে আমাদের জন্য সওয়াব রয়েছে এবং এটিই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের বৈশিষ্ট্য।

পঞ্চম: এর মধ্যে খাবারের সেই ফায়দাগুলো রয়েছে যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। অর্থাৎ: সহুর হলো একটি আহার, যাতে আল্লাহর নেয়ামত ভোগ করা, শরীরের সুরক্ষা করা, আল্লাহর আদেশের আনুগত্য করা ইত্যাদি নিহিত রয়েছে।

অতএব: হে আমার ভাইয়েরা! আমরা যে সহুর গ্রহণ করি—তাতে সওয়াব আছে কি নেই? সওয়াব আছে। কিন্তু এই সবকিছুর জন্য মানুষের স্মরণ করা বা নিয়ত করা প্রয়োজন। অধিকাংশ মানুষ এটি খেয়াল করে না; সে খাবার খায় কেবল শারীরিক তৃপ্তির জন্য, ইবাদতের তৃপ্তি লাভের জন্য নয়।

তবে আল্লাহ যদি চান, যখন মানুষ জাগ্রত হয় এবং এই বিষয়গুলো অন্তরে উপস্থিত করে, তখন সে উপকৃত হয়। আর দিনের বেলা তো আপনি ফজর উদয় হওয়া থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইবাদতের মধ্যেই থাকেন। এই ইবাদতের মানদণ্ড কী? ইসলামে এর মর্যাদা হলো এটি ইসলামের অন্যতম একটি রুকন। আপনি ফজর উদয় হওয়া থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এটি পালন করছেন; এমনকি আপনি যদি ঘুমিয়েও থাকেন, কিংবা কেনা-বেচা করেন অথবা বন্ধুদের সাথে কথা বলেন, তবুও আপনি ইসলামের অন্যতম একটি রুকনের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছেন। সুবহানাল্লাহ!
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌فضل قراءة القرآن في رمضان

هذه نعمة من الله عز وجل في هذا الشهر المبارك، تقرأ القرآن كل حرف من حروف القرآن فيه عشر حسنات.

قال ابن عصفور ويروى مرفوعاً عن النبي صلى الله عليه وسلم: (لا أقول: ألم حرف، ولكن ألف حرف، ولام حرف، وميم حرف) يعني: ثلاثة حروف تعتبر ثلاثين حسنة، وهذا أمر لا يدرك عدده إلا الله عز وجل، كل هذا لأنك تقرأ كلام رب العالمين عز وجل، خالق السماوات والأرض الذي هو أحب حبيب إليك، ما ظنك لو جاءتك رسالة من صديق لك، كل ساعة تطلعها من جيبك وتقرأها، كأنما تواجه صديقك أو حبيبك، أليس كذلك؟ أنت إذا قرأت كلام الله لا شك أن المؤمن أحب شيء عنده هو الله عز وجل، يقرأ كلام الله عز وجل، من جهة التعظيم ولذلك فإن النبي صلى الله عليه وسلم كان يكثر من قراءة القرآن في رمضان.

وكان جبريل يدارسه القرآن وكان يقرأ في كل سنة مرة، إلا السنة التي توفي فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإنه قرأه عليه مرتين، لماذا؟ من أجل الاستثبات، وأن القرآن ولله الحمد محفوظ إلى آخر حياة الرسول عليه الصلاة والسلام، لم يتغير، لا بنقص، ولا بزيادة، ولهذا قال العلماء: من أنكر حرفاً منه وهو عالمٌ به فهو كافر، حرف واحد تنكره وأنت تعلم تكون كافراً، لأنك مكذب لله ورسوله وإجماع المسلمين، أما الله فيقول: {هَذَا كِتَابُنَا يَنْطِقُ عَلَيْكُمْ بِالْحَقِّ} [الجاثية:29] ويقول عز وجل: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلامَ اللَّهِ} [التوبة:6] هذا كلام الله! أخبر به عن نفسه، وأما الرسول صلى الله عليه وسلم فقد بلَّغ أمته، وقال هذا كلام ربي، بلغهم: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ} [المائدة:67] أما المسلمون فأجمعوا كلهم على أن هذا القرآن الذي بين أيدينا، من فاتحته إلى خاتمته كلام الله، وأنه محفوظ، وأنه ليس فيه زيادة، وليس فيه نقص، بل هو محفوظ بحفظ الله: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9] فالحمد لله.

المهم أن كتاب الله عز وجل ينبغي للمؤمن أن يكثر من تلاوته لا سيما في هذا الشهر المبارك، ولا حرج أن يجعل الإنسان لنفسه شيئاً معيناً من القرآن يحافظ عليه، سواءً في رمضان أو في غيره، لا تقل هذا بدعة، أجعل كل يوم جزءاً أو كل يوم نصف جزء أو كل يوم جزئين أو ثلاثة، لأن بعض الناس يشتبه عليه الأمر، يقول: أخشى أني لو أجعل في اليوم شيء معين من القرآن أن هذا بدعة، هذا ليس بدعة هذا تنظيم، أنا لست أتقرب إلى الله عز وجل بهذا العدد المعين جزء أو جزئين، لكن أريد أن أحفظ وأنظم قراءتي للقرآن، لأن الإنسان لو يجعل أنه كل ما فرغ قرأ يمكن يمر عليه الشهرين وما قرأ، لكن إذا جعل له شيئاً معيناً؛ جزء أو نصف جزء أو جزئين أو ثلاثة، حافظ عليه، وسهل عليه، وقد قال النبي عليه الصلاة والسلام: (أحب الأعمال إلى الله أدومه وإن قل) فلو أن الإنسان منا حرص على أن يجعل له شيئاً معيناً في كل يوم في رمضان، وشيئاً معيناً في كل يوم في غير رمضان، حتى ينظم نفسه بالنسبة لقراءة القرآن كان هذا حسناً وليس ببدعة.

وهكذا يتقلب الإنسان في هذا الشهر من طاعة إلى أخرى، إذا وفق لاستغلال الفرصة، فأنا أوصيكم ونفسي في هذا الشهر بتقوى الله عز وجل واستغلال الفرصة بقدر المستطاع، مع الاستعانة بالله سبحانه وتعالى، ولهذا ينبغي لنا بل يجب علينا أن نقرن أفعالنا بالاستعانة بالله عز وجل، نقرنها بالاستعانة، الاستعانة عبادة أم غير عبادة؟ الاستعانة عبادة، إذاً أنت إذا فعلت شيئاً من العبادات مستعيناً بالله، أعانك الله ومع ذلك قربك إليه لأن الاستعانة عبادة.

أسأل الله تعالى أن يعينني وإياكم في هذا الشهر وفي غيره، على ذكره وشكره وحسن عبادته، وأن يثبتنا على الحق إلى أن نلقاه وهو راضٍ عنا، إنه جواد كريم، والحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.
রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত

এটি এই বরকতময় মাসে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নেয়ামত যে, আপনি কুরআন তিলাওয়াত করবেন এবং কুরআনের প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশটি করে নেকি রয়েছে।

ইবন আসফুর বলেন এবং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: (আমি বলছি না যে: আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ) অর্থাৎ: তিনটি হরফ যা ত্রিশটি নেকি হিসেবে গণ্য হবে। এটি এমন এক বিষয় যার সংখ্যা মহান আল্লাহ ছাড়া কেউ পরিমাপ করতে পারবে না। এসবই এই জন্য যে, আপনি বিশ্বজগতের রব মহান আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত করছেন, যিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা এবং আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আপনার কী ধারণা, যদি আপনার বন্ধুর কাছ থেকে আপনার কাছে একটি চিঠি আসে, যা আপনি প্রতি ঘণ্টায় পকেট থেকে বের করে পড়েন, যেন আপনি আপনার বন্ধু বা প্রিয়জনের মুখোমুখি হচ্ছেন, তাই নয় কি? আপনি যখন আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত করেন, তখন এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুমিনের কাছে সবচেয়ে প্রিয় সত্তা হলেন মহান আল্লাহ। সম্মানের জায়গা থেকে সে মহান আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত করে। আর এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করতেন।

জিবরাঈল তাঁর সাথে কুরআন পর্যালোচনা করতেন এবং প্রতি বছর একবার করে পড়তেন। তবে যে বছর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন, সেই বছর তিনি তাঁর কাছে দুইবার তিলাওয়াত করেছিলেন। কেন? এটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে, কুরআন আল্লাহর প্রশংসায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের শেষ পর্যন্ত সংরক্ষিত ছিল, এতে কোনো পরিবর্তন, হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটেনি। এ কারণে উলামায়ে কেরাম বলেছেন: যে ব্যক্তি এর একটি হরফকেও অস্বীকার করবে অথচ সে সম্পর্কে সে অবগত, তবে সে কাফির হবে। মাত্র একটি হরফ আপনি জেনে-বুঝে অস্বীকার করলে কাফির হয়ে যাবেন, কারণ আপনি আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং মুসলিমদের ঐকমত্যকে (ইজমা) মিথ্যা প্রতিপন্ন করছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {এটি আমাদের কিতাব, যা তোমাদের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলে} [আল-জাছিয়া: ২৯] এবং তিনি আরও বলেন: {আর মুশরিকদের মধ্যে কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়} [আত-তাওবা: ৬]। এটি আল্লাহর কালাম! তিনি নিজের সম্পর্কে এটি সংবাদ দিয়েছেন। আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের কাছে এটি পৌঁছে দিয়েছেন এবং বলেছেন এটি আমার রবের কালাম। তিনি তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন: {হে রাসুল, তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার কাছে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা পৌঁছে দাও। আর যদি তুমি তা না কর, তবে তুমি তাঁর রিসালাত পৌঁছালে না} [আল-মায়েদা: ৬৭]। আর মুসলিমরা সবাই এ বিষয়ে একমত যে, আমাদের হাতের নাগালে থাকা এই কুরআন, এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কালাম। আর এটি সংরক্ষিত, এতে কোনো বৃদ্ধি নেই এবং এতে কোনো ঘাটতি নেই, বরং এটি আল্লাহর হেফাজতে সংরক্ষিত: {নিশ্চয় আমিই জিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} [আল-হিজর: ৯]। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।

মূল কথা হলো, মুমিনের উচিত মহান আল্লাহর কিতাব অধিক পরিমাণে তিলাওয়াত করা, বিশেষ করে এই বরকতময় মাসে। আর মানুষ যদি নিজের জন্য কুরআনের নির্দিষ্ট একটি অংশ নির্ধারণ করে নেয় যা সে নিয়মিত বজায় রাখবে, তবে তাতে কোনো বাধা নেই, চাই তা রমজানে হোক বা রমজানের বাইরে। একে বিদআত বলবেন না যে, আমি প্রতিদিন এক পারা বা প্রতিদিন অর্ধেক পারা অথবা প্রতিদিন দুই বা তিন পারা নির্ধারণ করছি। কারণ কিছু মানুষের মনে এ বিষয়ে সংশয় জাগে, সে বলে: আমি ভয় পাচ্ছি যে যদি আমি দিনে কুরআনের নির্দিষ্ট কোনো অংশ নির্ধারণ করি তবে তা হয়তো বিদআত হবে। এটি বিদআত নয় বরং এটি হলো শৃঙ্খলা। আমি আল্লাহর কাছে এই নির্দিষ্ট সংখ্যা—এক পারা বা দুই পারা দিয়ে নৈকট্য লাভ করছি না, বরং আমি আমার কুরআন তিলাওয়াতকে মুখস্থ ও সুশৃঙ্খল করতে চাচ্ছি। কারণ মানুষ যদি মনে করে যে যখনই অবসর পাবে তখনই পড়বে, তবে দেখা যাবে দুই মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে অথচ সে পড়েনি। কিন্তু সে যদি নিজের জন্য নির্দিষ্ট কিছু নির্ধারণ করে নেয়; এক পারা বা অর্ধেক পারা অথবা দুই বা তিন পারা, তবে সে তা নিয়মিত করতে পারবে এবং তা তার জন্য সহজ হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়)। অতএব আমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি রমজানের প্রতিদিন এবং রমজানের বাইরের প্রতিদিন নিজের জন্য নির্দিষ্ট কিছু নির্ধারণ করতে সচেষ্ট হয়, যাতে কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে নিজেকে সুশৃঙ্খল করতে পারে, তবে তা উত্তম এবং এটি বিদআত নয়।

এভাবে মানুষ এই মাসে এক আনুগত্য থেকে অন্য আনুগত্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখে, যদি সে সুযোগ কাজে লাগানোর তাওফিক পায়। তাই আমি আপনাদেরকে এবং নিজেকে এই মাসে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করার এবং সাধ্যমতো সুযোগ কাজে লাগানোর উপদেশ দিচ্ছি, সাথে সাথে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সাহায্য প্রার্থনা করারও উপদেশ দিচ্ছি। এজন্য আমাদের উচিত, বরং আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো আমাদের কাজগুলোকে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার সাথে যুক্ত করা। সাহায্য চাওয়া ইবাদত নাকি ইবাদত নয়? সাহায্য চাওয়া একটি ইবাদত। সুতরাং আপনি যদি আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে কোনো ইবাদত করেন, তবে আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন এবং সেই সাথে আপনাকে তাঁর নিকটবর্তী করবেন, কারণ সাহায্য চাওয়া একটি ইবাদত।

আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এবং আপনাদেরকে এই মাসে এবং অন্যান্য মাসে তাঁর জিকির, শোকর এবং উত্তম ইবাদত করার তাওফিক দান করেন। আর তিনি যেন আমাদের সত্যের ওপর অবিচল রাখেন যতক্ষণ না আমরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করি এমতাবস্থায় যে তিনি আমাদের ওপর সন্তুষ্ট। নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা ও দয়ালু। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الأسئلة
প্রশ্নসমূহ
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌حكم التهنئة بقوله: مبروك أو كل عام وأنتم بخير

 

‌‌السؤال

ما حكم التهنئة في أول الشهر بقوله: مبروك أو كل عام وأنتم بخير، فهل هي من السنة أم لا؟

 

‌‌الجواب

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، التهنئة بشهر رمضان لا بأس بها، وهي عادة معروفة عند الناس يتخذونها من باب الدعاء، يدعو بعضهم لبعض بهذا ولا بأس به، وقد ذكر بعض أهل العلم أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يبشر أصحابه برمضان، يقول: (أتاكم رمضان) مبشراً لهم به، ولكن كلمة: (كل عام وأنتم بخير) هذه يظهر لي أنهم يريدون الدعاء بهذا، يعني جعلك الله في كل عام بخير، لكن لو قالوا كلمة أحسن من هذا وأخص، مثل أن يقول: بارك الله لك في الشهر وأعانك فيه على طاعته، وما أشبه ذلك لكان هذا أحسن من (كل عام وأنتم بخير) .
‌'মাবরুক' অথবা 'কুল্লু আমিন ওয়া আনতুম বিখাইর' বলে অভিনন্দন জানানোর বিধান

 

‌‌প্রশ্ন

মাসের শুরুতে 'মাবরুক' অথবা 'কুল্লু আমিন ওয়া আনতুম বিখাইর' বলে অভিনন্দন জানানোর বিধান কী? এটি কি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নাকি নয়?

 

‌‌উত্তর

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর প্রতি দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। রমজান মাস উপলক্ষ্যে অভিনন্দন জানানোতে কোনো দোষ নেই। এটি মানুষের মাঝে একটি পরিচিত প্রথা যা তারা দোয়ার অংশ হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। এর মাধ্যমে তারা একে অপরের জন্য দোয়া করে এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। কোনো কোনো আলেম উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে রমজানের সুসংবাদ দিতেন। তিনি বলতেন: "তোমাদের নিকট রমজান উপস্থিত হয়েছে," এর মাধ্যমে তিনি তাদের সুসংবাদ প্রদান করতেন। কিন্তু 'কুল্লু আমিন ওয়া আনতুম বিখাইর' বাক্যটির ব্যাপারে আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, তারা এর মাধ্যমে দোয়ার উদ্দেশ্য পোষণ করে থাকে। অর্থাৎ, আল্লাহ যেন আপনাকে প্রতি বছর কল্যাণের ওপর রাখেন। তবে তারা যদি এর চেয়েও উত্তম ও সুনির্দিষ্ট কোনো শব্দ ব্যবহার করত, যেমন: "আল্লাহ এই মাসে আপনার ওপর বরকত দান করুন এবং তাঁর আনুগত্য করার ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করুন," এবং এই জাতীয় শব্দাবলি ব্যবহার করা, তবে তা 'কুল্লু আমিন ওয়া আনতুম বিখাইর' বলার চেয়েও উত্তম হতো।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌حكم المزاح والضحك في رمضان

 

‌‌السؤال

نلاحظ على كثير من الناس ممن حسنت نياتهم أنهم يفرحون بمجيء رمضان، فيستعدون له بقلوبهم، ولكنهم إذا جاءهم رمضان فإننا لا نلاحظ عليهم أي تغير، فكلامهم يكثر فيه المزاح، وقلوبهم قبل الصلاة وبعد الصلاة وأثناء الصلاة واحدة لا تتغير إلى آخر ذلك، فماذا تنصحهم؟

 

‌‌الجواب

الواقع أن المسلمين يفرحون برمضان على وجهين: الوجه الأول: من يفرح برمضان لأنه ينشط في رمضان على العبادة، ويكثر من العبادة، وهذا لا شك هو الأصل، وهو المقصود، وهو الطيب.

الوجه الثاني: ومنهم من يفرح برمضان لكثرة خيراته، وكثرة نعم الله عز وجل وعفوه على عباده، ولما فيه من الأسباب الكثيرة التي يغفر الله بها للإنسان كالصيام مثلاً.

والذي ينبغي للإنسان أن يفرح في رمضان للأمرين جميعاً، يفرح لأنه ينشط على العبادة ويكثر منها، ويتعبد الله عز وجل بقدر ما يستطيع، ويفرح به أيضاً بما فيه من الخيرات والبركات ونعم الله عز وجل، فإن فيه ليلة القدر التي هي خير من ألف شهر.

وأما كون الإنسان في رمضان لا يضحك ولا يمزح مع أصحابه ولا يتحدث إليهم، فهذا ليس هو المقصود، المقصود ربما يكون ضحك الإنسان ومزحه مع إخوانه من أجل إدخال السرور عليهم، ربما يكون من العبادة أن يدخل الإنسان السرور على إخوانه.

ومع ذلك فإنه ينبغي له ألا يكثر من الضحك والمزاح.
রমজানে কৌতুক ও হাসাহাসির বিধান

 

প্রশ্ন

আমরা অনেক নেক নিয়ত সম্পন্ন মানুষের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করি যে, তারা রমজানের আগমনে আনন্দিত হয় এবং অন্তর দিয়ে এর প্রস্তুতি গ্রহণ করে। কিন্তু যখন রমজান আসে, তখন আমরা তাদের মাঝে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করি না; তাদের কথাবার্তায় কৌতুক ও রসিকতা অধিক মাত্রায় থাকে এবং নামাজের আগে, পরে ও নামাজের সময় তাদের অন্তরের অবস্থা একই থাকে, কোনো পরিবর্তন হয় না— ইত্যাদি। তাদের প্রতি আপনার উপদেশ কী?

 

উত্তর

প্রকৃতপক্ষে মুসলমানরা রমজান নিয়ে দুইভাবে আনন্দিত হয়: প্রথম প্রকার: যারা রমজানে আনন্দিত হয় কারণ তারা এই মাসে ইবাদতে উদ্যমী হয় এবং অধিক হারে ইবাদত করে। নিঃসন্দেহে এটিই হলো মূল ভিত্তি, এটিই কাঙ্ক্ষিত এবং এটিই উত্তম কাজ।

দ্বিতীয় প্রকার: তাদের মধ্যে কেউ কেউ রমজানে আনন্দিত হয় এর বহুবিধ কল্যাণ, মহান আল্লাহর অগণিত নেয়ামত এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি ক্ষমার কারণে। এছাড়া এতে এমন অনেক মাধ্যম রয়েছে যার দ্বারা মহান আল্লাহ মানুষকে ক্ষমা করে দেন, যেমন রোজা।

আর মানুষের উচিত উভয় কারণেই রমজানে আনন্দিত হওয়া। সে আনন্দিত হবে কারণ সে ইবাদতে উদ্যমী হয় ও ইবাদত বৃদ্ধি করে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী মহান আল্লাহর ইবাদত করে। আবার এতে বিদ্যমান কল্যাণ, বরকত ও মহান আল্লাহর নেয়ামতসমূহের কারণেও আনন্দিত হবে। কেননা এতে রয়েছে লাইলাতুল কদর যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।

আর রমজানে মানুষ হাসাহাসি করবে না, বন্ধুদের সাথে কৌতুক করবে না বা তাদের সাথে কথা বলবে না— বিষয়টি এমন নয়। মানুষের হাসাহাসি এবং তার ভাইদের সাথে কৌতুক করা কখনো তাদের মনে আনন্দ দেওয়ার উদ্দেশ্যে হতে পারে। আর কোনো মুসলিম ভাইয়ের মনে আনন্দ দেওয়া ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

তবে তা সত্ত্বেও, তার উচিত হবে অত্যধিক হাসাহাসি ও কৌতুক না করা।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌تبييت نية الصيام من الليل

 

‌‌السؤال

ما رأيكم في رجل في آخر يوم من شعبان لم يعلم بطلوع هلال رمضان ولم يستيقظ إلا بعد طلوع الفجر من أول يوم من رمضان، فهل يستكمل صومه وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: (من لم يبيت الصيام من الليل فلا صيام له) هل يلزمه القضاء؟ أفيدونا جزاكم الله خيراً.

 

‌‌الجواب

إذا كان هذا الإنسان نائماً على أنه إن كان غداً من رمضان فهو صائم فهذه نية صحيحة ويصح بها الصوم لقول النبي صلى الله عليه وسلم: (إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئٍ ما نوى) .

فهذا الرجل يقول في نفسه: إن كان غداً من رمضان فأنا صائم، فإذا تبين أنه من رمضان فقد نوى نية صحيحة، وأما الحديث الذي أشار إليه: (من لم يبيت النية من الليل فلا صيام له) فهذا حديث تكلم العلماء فيه، وضعفه كثير من أهل العلم، ورجحوا أنه موقوف وإذا كان موقوفاً، فليس فيه دليل، ثم نقول كما قال شيخ الإسلام ابن تيمية: إن المراد بذلك من علم؛ لأن النية تتبع العلم، فمن لم يعلم فكيف ينوي؟ فيكون الإنسان الذي يعلم أن غداً من رمضان ليس له الحق أن يؤخر النية حتى يطلع الفجر؛ لأنه عالم بل لابد أن ينوي قبل أن يطلع الفجر، إذا كان عالماً وكلامنا في الشخص الذي لم يعلم.
রাতে রোজার নিয়ত করা

 

‌‌প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী, যে শাবান মাসের শেষ দিনে রমজানের চাঁদ ওঠার সংবাদ জানত না এবং রমজানের প্রথম দিন ফজরের পর ছাড়া ঘুম থেকে ওঠেনি; সে কি তার রোজা পূর্ণ করবে? অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি রাত থেকে রোজার নিয়ত করল না, তার কোনো রোজা নেই।" তার কি কাজা করা আবশ্যক? আমাদের জানান, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

 

‌‌উত্তর

যদি এই ব্যক্তি এই অবস্থায় ঘুমিয়ে থাকে যে, যদি আগামীকাল রমজান হয় তবে সে রোজাদার, তবে এটি একটি সঠিক নিয়ত এবং এর মাধ্যমে রোজা শুদ্ধ হবে। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে।" সুতরাং এই ব্যক্তি মনে মনে বলছে: "যদি আগামীকাল রমজান হয় তবে আমি রোজাদার।" এরপর যদি প্রমাণিত হয় যে দিনটি রমজানের ছিল, তবে সে সঠিক নিয়তই করেছে। আর তিনি যে হাদিসটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন: "যে ব্যক্তি রাত থেকে নিয়ত করল না, তার কোনো রোজা নেই", এটি এমন একটি হাদিস যা নিয়ে আলেমগণ আলোচনা করেছেন। অনেক আলেম এটিকে দুর্বল বলেছেন এবং তারা মত দিয়েছেন যে এটি ‘মাওকুফ’ (সাহাবীর উক্তি)। আর যদি তা মাওকুফ হয়, তবে তাতে কোনো দলিল নেই। এরপর আমরা বলব, যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে ব্যক্তি জানে; কারণ নিয়ত জ্ঞানের অনুসারী। সুতরাং যে জানে না, সে কীভাবে নিয়ত করবে? অতএব, যে ব্যক্তি জানে যে আগামীকাল রমজান, তার জন্য ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত নিয়ত বিলম্বিত করার অধিকার নেই; কারণ সে অবগত। বরং সে যদি অবগত থাকে তবে ফজর উদিত হওয়ার আগেই তাকে নিয়ত করতে হবে। আর আমাদের আলোচনা ওই ব্যক্তিকে নিয়ে যে জানত না।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌صفة النية المتعلقة بالصيام

 

‌‌السؤال

هذا السؤال متعلق بالسؤال الذي سبق، يقول: سمعت لك جواباً في برنامج نور على الدرب أن كل يوم له نيته الخاصة به، فما هي صفة هذه النية، وهل هي قول أم نية في القلب؟

 

‌‌الجواب

لا أدري عن هذا السماع الذي سمعه، أنا أرى أن النية الواحدة في أول رمضان كافية عن كل رمضان، ولا حاجة إلى تبييت النية كل ليلة، إلا إذا قطع الإنسان صومه في أثناء رمضان بعذر؛ ثم أراد أن يصوم بعد زوال هذا العذر، فلابد من تجديد النية.

فمثلاً: أول ليلة من رمضان ينوي الإنسان الصوم، ولو سألته هل ستصوم غداً؟ يعني بعد اليوم الأول، لقال: نعم، فهو ناوٍ من حين يدخل رمضان إلى آخر رمضان ونيته واحدة، ثم إن الإنسان إذا قام في آخر الليل، وقرَّب الأكل وأكل وشرب ناوٍ أو غير ناوٍ؟ ناوٍ، لو قيل له: صم ولا تنوِ الصيام، يستطيع أو لا يستطيع؟ لا يستطيع، كما قال بعض العلماء: لو كلفنا الله عملاً بلا نية لكان من تكليف ما لا يطاق، صحيح! لو أن الله قال: يا عبادي! اعملوا ولا تنووا، لا نطيق، كيف نعمل ونحن نعمل باختيارنا ولا ننوي؟ ما من إنسان يفعل باختياره إلا وهو ناوٍ.

لكن مسألة أن الإنسان يقوم في آخر الليل ويتسحر معروف أنه ناوٍ، لكن لو فرضنا رجلاً نام قبل غروب الشمس اليوم، وما استيقظ إلا بعد طلوع الفجر من الغد، مضى عليه الليل كله وهو نائم، هنا يأتي الخلاف، من قال: إنه لابد أن ينوي لكل يوم من ليلته؛ فصومه على هذا غير صحيح؛ لأنه ما نوى! ومن قال: تكفي النية الأولى، قال: صومه صحيح، وهذا لا شك أنه هو القول الراجح الصحيح، لأن هذا النائم الذي نام بعد العصر اليوم، هل نيته أنه يصوم غداً أو لا يصوم؟ نيته أنه يصوم ما في ذلك إشكال، إلا إذا كان هناك عذر في أثناء الشهر، ثم يزول العذر فلابد أن يجدد النية، مثلاً: لو سافر الرجل وأفطر في سفره، ثم رجع إلى بلده، نقول: لابد أن تجدد النية؛ لأن النية الأولى انقطعت أفطرت، فلابد من أن تجدد النية، والمرأة إذا حاضت تجدد النية.
সিয়ামের নিয়তের স্বরূপ

 

‌প্রশ্ন

এই প্রশ্নটি পূর্ববর্তী একটি প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত। তিনি বলছেন: আমি 'নূরুন আলাদ দর্ব' অনুষ্ঠানে আপনার একটি উত্তর শুনেছি যে, প্রতিটি দিনের জন্য পৃথক নিয়ত আবশ্যক। সেই নিয়তের স্বরূপ কী? এটি কি মৌখিক উচ্চারণ নাকি অন্তরের সংকল্প?

 

‌উত্তর

তিনি যা শুনেছেন সে সম্পর্কে আমার জানা নেই। আমার মত হলো, রমজানের শুরুতে একবার নিয়ত করাই পুরো রমজানের জন্য যথেষ্ট। প্রতি রাতে নিয়ত নবায়ন করার প্রয়োজন নেই, যদি না কোনো ওজরের কারণে রমজানের মাঝে রোজা ভঙ্গ হয়; এরপর যখন সেই ওজর দূর হবে এবং তিনি পুনরায় রোজা রাখতে চাইবেন, তখন নিয়ত নবায়ন করা আবশ্যক।

উদাহরণস্বরূপ: রমজানের প্রথম রাতে একজন ব্যক্তি রোজা রাখার নিয়ত করেন। আপনি যদি তাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি আগামীকাল রোজা রাখবেন? অর্থাৎ প্রথম দিনের পরে—তবে সে বলবে: হ্যাঁ। সুতরাং রমজান শুরু হওয়া থেকে শেষ পর্যন্ত তার নিয়ত বিদ্যমান এবং তা একটিই নিয়ত। তাছাড়া মানুষ যখন শেষ রাতে উঠে খাবার সামনে নিয়ে আসে এবং পানাহার করে, তখন সে কি নিয়তসহ করে নাকি নিয়ত ছাড়া? অবশ্যই নিয়তসহ। তাকে যদি বলা হয়: রোজা রাখো কিন্তু রোজার নিয়ত করো না, তবে সে কি তা পারবে? পারবে না। যেমনটি কোনো কোনো আলেম বলেছেন: আল্লাহ যদি আমাদের নিয়ত ছাড়া কোনো কাজ করার দায়িত্ব দিতেন, তবে তা সাধ্যাতীত কাজের অন্তর্ভুক্ত হতো। এটি সত্য! আল্লাহ যদি বলতেন: হে আমার বান্দারা! তোমরা কাজ করো কিন্তু নিয়ত করো না, তবে আমরা তা পারতাম না। আমরা স্বেচ্ছায় কাজ করব অথচ নিয়ত থাকবে না—তা কীভাবে সম্ভব? কোনো মানুষ যখন স্বেচ্ছায় কোনো কাজ করে, তখন সে অবশ্যই নিয়তকারী হিসেবেই তা করে।

তবে মানুষ যখন শেষ রাতে উঠে সাহরি খায়, তখন এটি সুবিদিত যে সে নিয়তকারী। কিন্তু আমরা যদি ধরি, এক ব্যক্তি আজ সূর্যাস্তের আগে ঘুমিয়ে পড়ল এবং পরদিন ফজর উদয়ের পর ছাড়া জাগল না, তার পুরো রাত ঘুমের মধ্যে কেটে গেল—এখানে মতপার্থক্য তৈরি হয়। যারা বলেন: প্রতি রাতে প্রতিটি দিনের জন্য নিয়ত করা আবশ্যক, তাদের মতে এই ব্যক্তির রোজা সহিহ নয়; কারণ সে নিয়ত করেনি। আর যারা বলেন: প্রথম নিয়তই যথেষ্ট, তাদের মতে তার রোজা সহিহ। আর নিঃসন্দেহে এটিই অগ্রগণ্য ও সঠিক মত। কারণ আজ আসরের পর ঘুমিয়ে পড়া এই ব্যক্তির মনে কি এমন নিয়ত ছিল যে সে আগামীকাল রোজা রাখবে নাকি রাখবে না? অবশ্যই তার নিয়ত ছিল যে সে রোজা রাখবে, এতে কোনো সংশয় নেই। তবে যদি মাসের মাঝে কোনো ওজর দেখা দেয় এবং পরে তা দূর হয়, তবে নিয়ত নবায়ন করা জরুরি। যেমন: কোনো ব্যক্তি যদি সফরে যায় এবং সফরে রোজা না রাখে, এরপর যখন সে নিজ এলাকায় ফিরে আসে, তখন আমরা বলব: তোমাকে অবশ্যই নিয়ত নবায়ন করতে হবে; কারণ প্রথম নিয়তটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যেহেতু তুমি রোজা ভেঙেছ। সুতরাং নিয়ত নবায়ন করা আবশ্যক। একইভাবে নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব শুরু হলে পুনরায় নিয়ত নবায়ন করতে হবে।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌حكم التهاون في عدم تناول طعام السحور

 

‌‌السؤال

هناك بعض الناس يتهاونون في السحور حيث أنهم ينامون في الساعة الثالثة ويقولون: نقوم قبل الفجر ونشرب ماءً ويكفي ذلك، فما رأي فضيلتكم بذلك؟

 

‌‌الجواب

صحيح أن الأمر يكفي، أي: لو تسحر الإنسان في وسط الليل، ونام إلى قرب طلوع الفجر ثم قام وشرب كفى بلا شك، لكن الأفضل أن يؤخر السحور كله في آخر الليل، لأن هذا هو هدي النبي صلى الله عليه وسلم، ويذكر عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: (لا يزال الناس بخير ما عجلوا الفطر وأخروا السحور) أما الجملة الأولى: (عجلوا الفطر) فهي ثابتة في الصحيحين، وأما الثانية فهي مروية عن الرسول عليه الصلاة والسلام، ولكن هذا إن لم يصح من قوله فقد صح من فعله أنه كان يؤخر السحور.
‌‌সাহরি গ্রহণে উদাসীনতা প্রদর্শনের বিধান

 

‌‌প্রশ্ন

কিছু মানুষ সাহরির ব্যাপারে উদাসীনতা প্রদর্শন করে, যেখানে তারা রাত তিনটার সময় ঘুমিয়ে পড়ে এবং বলে: আমরা ফজরের আগে জেগে উঠব এবং পানি পান করব আর এটাই যথেষ্ট হবে, এ বিষয়ে আপনার সম্মানীত অভিমত কী?

 

‌‌উত্তর

এটি সঠিক যে বিষয়টি যথেষ্ট হবে, অর্থাৎ: যদি কোনো ব্যক্তি মধ্যরাতে সাহরি করে এবং ফজর উদয় হওয়ার নিকটবর্তী সময় পর্যন্ত ঘুমায়, অতঃপর উঠে পানি পান করে তবে নিঃসন্দেহে তা যথেষ্ট হবে, কিন্তু উত্তম হলো পূর্ণ সাহরি রাতের শেষাংশ পর্যন্ত বিলম্বিত করা, কারণ এটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ, এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: (মানুষ ততক্ষণ কল্যাণের ওপর থাকবে যতক্ষণ তারা দ্রুত ইফতার করবে এবং সাহরি বিলম্বিত করবে)। প্রথম অংশটি: (দ্রুত ইফতার করা) সহীহাইনে (বুখারী ও মুসলিম) প্রমাণিত রয়েছে, আর দ্বিতীয় অংশটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, তবে এটি যদি তাঁর কথা থেকে প্রমাণিত না-ও হয়, তবে তাঁর কর্ম থেকে এটি সহীহভাবে প্রমাণিত যে তিনি সাহরি বিলম্বিত করতেন।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌حكم استعمال بخاخ الربو للصائم

 

‌‌السؤال

هل استعمال بخاخ الربو يفطر في رمضان؟

 

‌‌الجواب

بخاخ الربو نوعان: النوع الأول المسدس الذي يجعل فيه حبوباً ثم يُطلق وتنفجر في الفم، وتنزل إلى المعدة هذا يفطِّر، وإذا كان الإنسان لا يستطيع أن يبقى كل النهار بدونه، فإنه لا بأس أن يفطر والأمر واسع لأنه داخل في قوله تعالى: {وَمَنْ كَانَ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} [البقرة:185] وإذا قدر أن هذا من الأمراض المستعصية التي لا يرجى زوالها، فإنه يطعم عن كل يومٍ مسكيناً، ثم إن قدر أن الله عافاه والله على كل شيء قدير؛ فإنه لا يلزمه إعادة الإطعام ولا الصوم، لأن هذا الرجل برئت ذمته في الإطعام فلا تعود مشغولة بدون سبب.

أما النوع الثاني من البخاخ الذي يزول فيه ضيق النفس فهو هواء غاز، لا يصل منه جرم إلى المعدة هذا لا بأس به ولو كان الإنسان صائماً ولا يفطر.
রোজাদারের জন্য হাঁপানির স্প্রে ব্যবহারের বিধান

 

‌‌প্রশ্ন

রমজান মাসে হাঁপানির স্প্রে ব্যবহার করলে কি রোজা ভেঙে যায়?

 

‌‌উত্তর

হাঁপানির স্প্রে দুই প্রকার: প্রথম প্রকার হলো এমন যন্ত্র যাতে ট্যাবলেট বা গুঁড়ো রাখা হয়, এরপর সেটি প্রয়োগ করলে মুখে নির্গত হয় এবং পাকস্থলীতে চলে যায়; এটি রোজা ভঙ্গ করে। যদি কোনো ব্যক্তি সারাদিন এটি ছাড়া থাকতে না পারে, তবে তার জন্য রোজা ভঙ্গ করাতে কোনো দোষ নেই এবং বিষয়টি সহজসাধ্য, কারণ এটি মহান আল্লাহর বাণীর অন্তর্ভুক্ত: {আর যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে, সে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করবে} [সূরা আল-বাকারা: ১৮৫]। আর যদি নির্ধারিত হয় যে, এটি এমন একটি দুরারোগ্য ব্যাধি যা থেকে আরোগ্য লাভের আশা নেই, তবে সে প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাবার খাওয়াবে। এরপর যদি আল্লাহ তাকে সুস্থ করে দেন—আর আল্লাহ সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান—তবে তার ওপর পুনরায় খাবার খাওয়ানো বা রোজা রাখা আবশ্যক হবে না। কারণ, খাবার খাওয়ানোর মাধ্যমে এই ব্যক্তি দায়মুক্ত হয়ে গেছে, তাই কোনো কারণ ছাড়া পুনরায় তার ওপর কোনো দায়িত্ব বর্তাবে না।

আর দ্বিতীয় প্রকারের স্প্রে, যা শ্বাসকষ্ট দূর করতে ব্যবহৃত হয়, সেটি হলো গ্যাসীয় বাতাস; এর কোনো স্থূল অংশ পাকস্থলীতে পৌঁছায় না। এটি ব্যবহারে কোনো অসুবিধা নেই, এমনকি মানুষ রোজা অবস্থায় থাকলেও, এবং এটি রোজা ভঙ্গ করে না।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌حكم صلاة النافلة بعد الوتر

 

‌‌السؤال

إذا صلى المرء صلاة التراويح وصلى الوتر، ثم خرج إلى منزله ثم ذهب إلى أحد المساجد لاستماع إحدى المحاضرات هل يصلي تحية المسجد إذا دخل ذلك المسجد؟

 

‌‌الجواب

هذه المسألة ينبغي أن نفهمها جيداً، قال النبي صلى الله عليه وسلم: (اجعلوا آخر صلاتكم بالليل وتراً) ولم يقل لا تصلوا بعد الوتر، وبين العبارتين فرق، لو قال: لا تصلوا بعد الوتر، قلنا: لا تصل بعد الوتر لا في بيتك، ولا في دخول المسجد، بل يكون هناك تعارض بين هذا الحديث وحديث: (إذا دخل أحدكم المسجد فلا يجلس حتى يصلي ركعتين) لكن الرسول صلى الله عليه وسلم قال: (اجعلوا آخر صلاتكم بالليل وتراً) يعني معنى ذلك أنك إذا ختمت صلاة الليل فأوتر فإذا قدر لك أن تصلي بعد ذلك فلا حرج ما دمت حين أوترت وأنت تظن أنك لن تصلي بعد ذلك فإنك إذا صليت بعده فلا حرج، مثال ذلك: رجل أوتر مع الإمام على أنه لن يصلي، ثم قُدِّر له في آخر الليل فقام، وقال: أحب أن أستغل آخر الليل بالصلاة، فصلى يجوز أم لا يجوز؟ يجوز؛ لأن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يقل لا تصلوا بعد الوتر، قال: (اجعلوا آخر صلاتكم في الليل وتراً) وأنا قد جعلت آخر صلاتي بالليل وتراً وأوترت لكن قدر لي أن أقوم أصلي ركعتين صلاة الليل مثنى مثنى، أما إذا وجد سبب فهذا أبين وأبين، إذا وجد سبب للصلاة بعد الوتر فهذا أبين وأبين، مثلاً: أوترت في مسجدك ثم ذهبت إلى مسجد آخر ووجدت الناس يصلون ادخل معهم وصلِّ، فإن أوتروا فقم بعد الوتر وصلِّ ركعة أكمل ليكون شفعاً؛ لأنك قد أوترت من قبل، وكذلك إذا دخلت المسجد فصلِّ ركعتين تحية المسجد؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إذا دخل أحدكم المسجد فلا يجلس حتى يصلي ركعتين) .
বিতরের পর নফল সালাত আদায়ের বিধান

 

প্রশ্ন

যদি কোনো ব্যক্তি তারাবীহ ও বিতর সালাত আদায় করে, অতঃপর তার বাড়িতে চলে যায় এবং পরে কোনো একটি মসজিদে কোনো আলোচনা শোনার জন্য যায়, তবে সে যখন সেই মসজিদে প্রবেশ করবে তখন কি তাহিয়্যাতুল মাসজিদ সালাত আদায় করবে?

 

উত্তর

এই বিষয়টি আমাদের ভালোভাবে বোঝা উচিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমরা রাতের শেষ সালাত বিতর করো)। তিনি এটি বলেননি যে, 'বিতরের পর আর সালাত আদায় করো না'। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যদি তিনি বলতেন, 'বিতরের পর সালাত আদায় করো না', তবে আমরা বলতাম: আপনার বাড়িতে হোক বা মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে হোক—বিতরের পর আর সালাত আদায় করবেন না। বরং সেক্ষেত্রে এই হাদিস এবং অন্য হাদিসটির মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দিত, যেখানে বলা হয়েছে: (তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় না করে না বসে)। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমরা রাতের শেষ সালাত বিতর করো)। অর্থাৎ এর অর্থ হলো, আপনি যখন রাতের সালাত সমাপ্ত করবেন তখন বিতর করবেন। এরপর যদি আপনার জন্য সালাত আদায় করা নির্ধারিত হয়, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই—যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি যখন বিতর আদায় করেছিলেন তখন আপনার ধারণা ছিল যে আপনি এরপর আর সালাত আদায় করবেন না; এমতাবস্থায় এরপর আপনি যদি সালাত আদায় করেন তবে তাতে কোনো দোষ নেই। উদাহরণস্বরূপ: এক ব্যক্তি ইমামের সাথে বিতর আদায় করল এই নিয়তে যে সে আর সালাত আদায় করবে না। অতঃপর রাতের শেষাংশে তার জন্য সুযোগ হলো এবং সে উঠে দাঁড়াল ও বলল: 'আমি সালাতের মাধ্যমে রাতের শেষ সময়ের সদ্ব্যবহার করতে চাই'। এরপর সে সালাত আদায় করল—এটি কি জায়েজ হবে না কি হবে না? এটি জায়েজ হবে; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেননি যে 'বিতরের পর সালাত আদায় করো না'। তিনি বলেছেন: (তোমরা রাতের শেষ সালাত বিতর করো)। আর আমি তো ইতিপূর্বেই আমার রাতের শেষ সালাত বিতর হিসেবে আদায় করেছি। কিন্তু পরবর্তীতে আমার জন্য উঠে দুই রাকাত দুই রাকাত করে রাতের সালাত আদায়ের সুযোগ হয়েছে। আর যদি কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে তবে তা আরও বেশি স্পষ্ট। যদি বিতরের পর সালাত আদায়ের কোনো কারণ থাকে তবে তা আরও সুস্পষ্ট। উদাহরণস্বরূপ: আপনি আপনার মসজিদে বিতর আদায় করেছেন, অতঃপর অন্য মসজিদে গেলেন এবং দেখলেন যে মানুষ সালাত আদায় করছে, তবে আপনি তাদের সাথে অন্তর্ভুক্ত হোন এবং সালাত আদায় করুন। যদি তারা বিতর সালাত আদায় করে তবে আপনি বিতরের পর উঠে দাঁড়ান এবং আরও এক রাকাত সালাত আদায় করে পূর্ণ করুন যেন তা জোড় হয়ে যায়; কারণ আপনি ইতিপূর্বেই বিতর আদায় করেছেন। অনুরূপভাবে আপনি যখন মসজিদে প্রবেশ করবেন তখন দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আদায় করবেন; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় না করে না বসে)।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌حكم التفريط في قضاء الصيام إلى بعد رمضان الثاني

 

‌‌السؤال

شخص عمره ثلاث عشرة سنة وعليه قضاء ستة عشر يوماً من رمضان الفائت، ولم يبدأ بقضائها إلا في يوم اثنين وعشرين، في هذه الحالة سوف يأتي رمضان قبل إكمال الأيام فهل يقضي بعض رمضان الثاني باقي الأيام، وهل هناك فرق بين البالغ وغير البالغ في هذه الحالة، جزاكم الله خيرا؟

 

‌‌الجواب

نعم هناك فرق بين البالغ وغيره، وهو أنه إذا كان هذا الرجل الذي له ثلاث عشرة سنة، إذا كان لم يبلغ فلا قضاء عليه هو حر، إن شاء قضى وإن شاء لم يقضِ؛ لأن الذي دون البلوغ لا يلزمه الصوم فلا يلزمه القضاء، وأما إن كان بالغاً فإنه يلزمه القضاء ولا يجوز أن يؤخره إلى ما بعد رمضان الثاني، وعلى هذا فإننا نقول لهذا الشخص: إن كنت مفرطاً في هذا التأخير، لأنك لم تبدأ إلا بعد اثنين وعشرين من شعبان، فإن كنت مفرطاً فاستغفر الله، وإذا انتهى رمضان فأكمل الباقي عليك، ستة أيام لأنه صام من ثلاثة وعشرين إلى تسعة وعشرين الجميع سبعة أيام ويبقى عليه ستة أيام يقضيها بعد رمضان، هذا مع التوبة والاستغفار مما حصل منه.
পরবর্তী রমজানের পর পর্যন্ত রোজা কাজা করার ক্ষেত্রে অবহেলার বিধান

 

‌প্রশ্ন

তেরো বছর বয়সী এক ব্যক্তির গত রমজানের ষোলো দিনের রোজা কাজা ছিল। সে শাবান মাসের বাইশ তারিখের আগে তা আদায় করতে শুরু করেনি। এই অবস্থায় দিনগুলো পূর্ণ করার আগেই রমজান চলে আসবে। সে কি পরবর্তী রমজানের পর অবশিষ্ট দিনগুলোর কাজা করবে? আর এই ক্ষেত্রে বালেগ এবং নাবালেক ব্যক্তির মাঝে কি কোনো পার্থক্য আছে? আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

 

‌উত্তর

হ্যাঁ, বালেগ এবং অন্যদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিষয়টি হলো, এই তেরো বছর বয়সী ব্যক্তি যদি বালেগ না হয়ে থাকে, তবে তার ওপর কোনো কাজা নেই এবং সে দায়মুক্ত। সে চাইলে কাজা করতে পারে, আর চাইলে নাও করতে পারে; কারণ যে ব্যক্তি এখনো বালেগ হয়নি তার ওপর রোজা রাখা আবশ্যক নয়, তাই তার ওপর কাজা করাও আবশ্যক নয়। কিন্তু সে যদি বালেগ হয়ে থাকে, তবে তার ওপর কাজা করা আবশ্যক এবং পরবর্তী রমজান আসা পর্যন্ত তা বিলম্বিত করা জায়েজ নয়। এমতাবস্থায় আমরা এই ব্যক্তিকে বলব: তুমি যদি এই দেরিতে অবহেলা করে থাকো—যেহেতু তুমি শাবানের বাইশ তারিখের আগে শুরু করোনি—তবে তুমি যদি অবহেলাকারী হয়ে থাকো তবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। আর রমজান শেষ হলে তোমার ওপর বাকি থাকা ছয় দিন পূর্ণ করো। কারণ সে তেইশ তারিখ থেকে উনত্রিশ তারিখ পর্যন্ত মোট সাত দিন রোজা রেখেছে এবং তার ওপর আরও ছয় দিন বাকি রয়েছে যা সে রমজানের পর কাজা করবে। এর সাথে যা ঘটেছে তার জন্য তওবা ও ইস্তেগফার করতে হবে।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الأفضلية في قراءة القرآن ليلاً

 

‌‌السؤال

مدارسة جبريل للنبي صلى الله عليه وسلم كانت في الليل، هل يؤخذ منه أن قراءة القرآن ليلاً أفضل من النهار؟

 

‌‌الجواب

لا شك أن قراءة القرآن في الليل في الغالب أشد حضوراً في القلب، ولا سيما إن كانت ناشئة وهي التي تكون بعد النوم، قال الله تعالى: {إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئاً وَأَقْوَمُ قِيلاً} [المزمل:6] ولكن هذا غير متعين بالنسبة لرسول الله صلى الله عليه وسلم، لأننا نعلم جميعاً أن رسول الله صلى الله عليه وسلم هو إمام الأمة، ومتولي أمورها، وهو في النهار مشغول في شأن الخلق، وتدبير أمورهم، وفي الليل لا شك أنه أفرغ، فاجتمع في ذلك أنه أفرغ، وأنه في الغالب أحضر للقلب، فدراسة الناس الآن إذا كان في النهار أفضل لقلبه، وفي الليل يشتغل قلبه، فإنه يقرأ في النهار، وإن نظرنا إلى الغالب فالغالب أنه في الليل أحضر للقلب، وأقرب إلى التدبر.
রাতে কুরআন তিলাওয়াতের শ্রেষ্ঠত্ব

 

‌প্রশ্ন

জিবরীল আলাইহিস সালাম কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কুরআন পর্যালোচনা করার বিষয়টি ছিল রাতে। এর থেকে কি এ কথা গ্রহণ করা যায় যে, রাতে কুরআন তিলাওয়াত করা দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ?

 

‌উত্তর

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাতে কুরআন তিলাওয়াত করা সাধারণত অন্তরে অধিক উপস্থিতির (একাগ্রতার) কারণ হয়, বিশেষ করে তা যদি রাতের শেষাংশে হয় যা ঘুমের পরে হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই রাতে ঘুম থেকে ওঠা (ইবাদতের জন্য) তা প্রবৃত্তি দমনে অধিক কার্যকর এবং তা বাকস্ফূর্তির জন্য অধিক সঠিক} [আল-মুযযাম্মিল: ৬]। কিন্তু এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নয়। কারণ আমরা সকলেই জানি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন উম্মতের ইমাম এবং তাদের যাবতীয় বিষয়ের দায়িত্বশীল। দিনের বেলা তিনি সৃষ্টির প্রয়োজনে এবং তাদের বিষয়াদি ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত থাকতেন। আর রাতে নিঃসন্দেহে তিনি অধিক অবসর থাকতেন। ফলে সেখানে দু’টি বিষয়ের সমাবেশ ঘটেছিল: তিনি অধিক অবসর থাকতেন এবং সাধারণত তা অন্তরের অধিক উপস্থিতির কারণ। সুতরাং বর্তমানে মানুষের তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে যদি দিনের বেলা তার অন্তরের জন্য অধিক উপযোগী হয় এবং রাতে তার অন্তর ব্যস্ত থাকে, তবে সে দিনের বেলাতেই পাঠ করবে। আর যদি আমরা সাধারণ অবস্থার দিকে তাকাই, তবে সাধারণত রাতে তিলাওয়াত করাটাই অন্তরের অধিক উপস্থিতির কারণ এবং তা অনুধাবনের অধিক নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌حكم الاشتراك في قراءة القرآن في رمضان

 

‌‌السؤال

هل يؤخذ من مدارسة جبريل للنبي صلى الله عليه وسلم للقرآن فضيلة الاشتراك في قراءته؟

 

‌‌الجواب

هذا لا يؤخذ منه فضيلة الاشتراك، ولهذا لا نفضل الاشتراك على الانفراد مطلقاً، ولا الانفراد على الاشتراك مطلقاً، فإذا كان الإنسان ضعيفاً في القراءة فالاشتراك مع شخص أقرأ منه أحسن، من أجل أن يقوِّم قراءته، إذا كان يكسل أو يأتيه النعاس فاشتراكه مع غيره أحسن، من أجل إذا جاءه النعاس قرص أذنه، حتى لا يأتيه النعاس، مثل ما كان الرسول يفعل مع عبد الله بن عباس رضي الله عنهما، عبد الله بن عباس لما أحسن أن النبي صلى الله عليه وسلم قام يصلي قام فصلى مع الرسول صلى الله عليه وسلم، فكان ينعس فكان النبي عليه الصلاة والسلام يأخذ بأذنه إذا نعس، إذا كان هناك مصلحة فالاشتراك أفضل، إذا كان الأصلح في الانفراد لأنه أقوى على التدبر، ولأنه يقرأ الكلام كله بلفظه لا باستماعه، صار الانفراد أفضل، المهم أن الانفراد أو الاشتراك لا يفضل أحدهما على الثاني بكل حال وإنما ينظر للمصلحة.

السؤال: هل يحصل الفضل الذي قال فيه النبي صلى الله عليه وسلم: (ما اجتمع قوم) الحديث، هل يحصل في الاجتماع في البيت أو المزرعة أو البر على قراءة القرآن؟ الجواب: الله أعلم، ظاهر الحديث أنه لا يحصل إلا إذا اجتمعوا في بيت من بيوت الله، وذلك في المساجد، لأنه يجتمع في ذلك شرف المكان، وشرف القرآن، أما إذا كانوا في مكان آخر فظاهر الحديث أنه لا يحصل لهم هذا.
রমজানে কুরআন পাঠে অংশীদারিত্বের বিধান

 

‌‌প্রশ্ন

জিবরাঈল আলাইহিস সালাম কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরআন পাঠ করানোর ঘটনা থেকে কি একত্রে কুরআন পাঠের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়?

 

‌‌উত্তর

এখান থেকে একত্রে পাঠ করার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয় না। এ কারণেই আমরা ঢালাওভাবে একাকী পাঠ করার চেয়ে একত্রে পাঠ করাকে কিংবা একত্রে পাঠ করার চেয়ে একাকী পাঠ করাকে উত্তম বলি না। যদি কোনো ব্যক্তি পাঠের ক্ষেত্রে দুর্বল হয়, তবে তার চেয়ে অধিক দক্ষ কারো সাথে একত্রে পাঠ করা উত্তম, যাতে সে তার পাঠ সংশোধন করে নিতে পারে। যদি সে অলসতা বোধ করে অথবা তার ঘুম পায়, তবে অন্যের সাথে একত্রে পাঠ করা উত্তম, যাতে ঘুম আসলে সে তার কান মলতে পারে এবং ঘুম চলে যায়। যেমনটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর সাথে করেছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস যখন অনুভব করলেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়েছেন, তিনি উঠে তাঁর সাথে সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাঁর ঘুম পাচ্ছিল, ফলে নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম তাঁর ঘুম আসলে কান ধরে টেনে দিতেন। যদি কোনো বিশেষ কল্যাণ থাকে তবে একত্রে পড়া উত্তম। আর যদি একাকী পড়া বেশি কল্যাণকর হয়—যেহেতু এতে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করার সামর্থ্য বেশি থাকে এবং সে নিজে প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করে পড়ে শুধু শোনার পরিবর্তে—তবে একাকী পড়াই উত্তম। মূল কথা হলো, ঢালাওভাবে একাকী বা একত্রে পাঠের কোনোটিই অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব পায় না, বরং কল্যাণের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

প্রশ্ন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে হাদীসে বলেছেন: "যখন কোনো সম্প্রদায় একত্রিত হয়...", সেই শ্রেষ্ঠত্ব কি ঘরে, খামারে বা প্রান্তরে কুরআন পাঠের জন্য একত্রিত হলেও অর্জিত হবে? উত্তর: আল্লাহ সর্বজ্ঞ। হাদীসের বাহ্যিক অর্থ অনুযায়ী এটি কেবল আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো ঘরে অর্থাৎ মসজিদে একত্রিত হলেই অর্জিত হবে। কেননা এতে স্থানের মর্যাদা এবং কুরআনের মর্যাদা উভয়টিই সমবেত হয়। কিন্তু তারা যদি অন্য কোনো স্থানে থাকে, তবে হাদীসের বাহ্যিক অর্থ অনুসারে তারা এই মর্যাদা লাভ করবে না।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌حكم الإفطار عند الغير لينال فضل تفطير الصائم

 

‌‌السؤال

ماذا يقول فضيلتكم برجل أراد الإفطار عند أخيه المسلم، لا لشيء إلا لأجل أن يتيح لأخيه الآخر فضل تفطير الصائم؟

 

‌‌الجواب

هذا جيد ولاشك، لكن خير منه أن يقول لأخيه: ائتِ إليَّ وافطر معي، لكي ينال هو أجر تفطير الصائم ويسلم من أن يكون للآخر عليه منة، وربما يضيق على الآخر، فلو قال: الليل سأفطر عندك، نعم.

ربما يكون ذاك في ضيق وما استعد له، أو لا يحب أن يفطر معه أحد، يحب أن يفطر هو وأهله، وإذا كان يحب هذا فأولى ما يبر نفسه، يقول: يا فلان! تفضل عندي.

قد يقول هذا الأخ: قال النبي صلى الله عليه وسلم: (لا يؤمن أحدكم حتى يحب لأخيه ما يحب لنفسه) وإذا كان أحب أن يفطر عندي الصائمون فأنا أحب لأخي أن يفطر عنده الصائمون، نقول: ألست أنت تحب أن يفطر عندك الصائمون؟ يقول: نعم أحب ذلك، نقول: هل تقدم بخيرك غيرك؟ لا، في مسائل العبادات أمرنا الله عز وجل بالاستباق إليها، قال: {فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ} [البقرة:148] {وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ} [آل عمران:133] لا تؤثر غيرك في القربات أبداً، ولهذا قال العلماء: يكره للإنسان أن يؤثر غيره بالطاعة فلا يؤثر غيره بالصف الأول ويتأخر هو مثلاً، كل طاعة لا تؤثر غيرك فيها، قالوا: لأن هذا دليل على قلة رغبته في الطاعة، لا سيما في مثل مسألتنا، تذهب تسأله أنك تأتي تأكل عنده فطوراً وعشاء، نعم.

مع أن الصحيح في مسألة الإيثار أن نقول: الإيثار بالواجب حرام، والإيثار بالمستحب خلاف الأولى إلا لمصلحة، والإيثار بالمباح حلال، فالإيثارات أقسامها ثلاثة: إيثار بالواجب وهذا حرام، إيثار بالمستحب وهذا خلاف الأولى إلا لمصلحة، إيثار بالمباح وهذا يحمد عليه الإنسان: {وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ} [الحشر:9] يؤثرون بالأكل يعطون غيرهم يأكلو ولو كانوا جائعين، هذا الشيء من المباح.

الإيثار بالواجب مثاله: رجل ليس معه إلا ماء قليل إن توضأ به كفاه، وإن آثر به غيره نقص عنه وبقي هو يريد يتيمم، نقول: هذا لا يجوز أن تؤثر غيرك، أنت توضأ به وجوباً، إنسان ليس عليه إلا ثوب، وأخوه عريان ولا يمكن أنه يعطيه، إلا وهو متعرٍ، نقول: لا تتعرَ، مع أن مسألة الثوب قد لا تصح مثالاً؛ لأننا نقول: صل به أولاً ثم أعطه صاحبك، لكن مسألة الماء منطبقة تماماً، مثال صحيح.

والإيثار بالمستحب مثل الصف الأول، رأيت إنساناً وأنت في الصف الأول قمت من مكانك وقلت: تفضل يا فلان! هذا خلاف الأولى والفقهاء نصوا بأنه مكروه، لكن الصحيح أنه خلاف الأولى، وأنه إذا وجدت مصلحة فلا بأس، مثل لو أنك تأخرت لهذا الرجل من باب التأليف، لأن بعض الناس إذا رأى أن الناس يؤثرونه ازداد رغبة في الخير والصلاة مع الجماعة، فأنت مثلاً تفعل هذا لأجل أن تؤلفه حتى يرغب هذا طيب، أو إنسان جاء أبوه وتأخر له، هذا أيضاً طيب، لأن أباك في هذه الحالة سوف يراها لك ويحسبها من برك.

أما المباح فهو معروف مثل أن تعطي غيرك الطعام وأنت تشتهيه، لكن تؤثره هذا طيب.
রোজাদারকে ইফতার করানোর সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে অন্যের নিকট ইফতার করার বিধান

 

প্রশ্ন

এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী, যে তার অন্য মুসলিম ভাইয়ের নিকট ইফতার করতে চায় কেবল এই উদ্দেশ্যে যেন তার সেই ভাই রোজাদারকে ইফতার করানোর সওয়াব লাভ করতে পারে?

 

উত্তর

এটি নিঃসন্দেহে ভালো কাজ, তবে এর চেয়েও উত্তম হলো সে তার ভাইকে বলবে: "তুমি আমার কাছে এসো এবং আমার সাথে ইফতার করো," যাতে সে নিজে রোজাদারকে ইফতার করানোর সওয়াব পায় এবং অন্যের অনুগ্রহ গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাকে। আর সম্ভবত এটি অন্যের জন্য কষ্টের কারণ হতে পারে। যদি সে বলে: "আজ রাতে আমি আপনার কাছে ইফতার করব," হ্যাঁ।

সম্ভবত সেই ব্যক্তি সংকটের মধ্যে থাকতে পারে এবং এজন্য সে প্রস্তুত ছিল না, অথবা সে হয়তো অন্যের সাথে ইফতার করতে পছন্দ করে না, বরং নিজের পরিবারের সাথে ইফতার করতে পছন্দ করে। আর যদি সে এমনটিই পছন্দ করে থাকে, তবে তার উচিত হবে নিজেকেই অগ্রাধিকার দেওয়া এবং বলা: "হে অমুক! আপনি আমার কাছে আসুন।"

সেই ভাই হয়তো বলতে পারে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।" আর যেহেতু আমি পছন্দ করি যে রোজাদাররা আমার কাছে ইফতার করুক, তাই আমি আমার ভাইয়ের জন্যও পছন্দ করি যে রোজাদাররা তার কাছে ইফতার করুক। আমরা উত্তরে বলব: আপনি কি এটা পছন্দ করেন না যে রোজাদাররা আপনার কাছে ইফতার করুক? সে বলবে: হ্যাঁ, আমি তা পছন্দ করি। আমরা বলব: আপনি কি আপনার কল্যাণের বিষয়ে অন্যকে অগ্রাধিকার দেবেন? না, ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা আমাদের একে অপরের ওপর অগ্রগামী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: {তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করো} [আল-বাকারা: ১৪৮] {এবং তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমার দিকে দ্রুত ধাবিত হও} [আলি ইমরান: ১৩৩]। ইবাদতের ক্ষেত্রে কখনো অন্যকে নিজের ওপর অগ্রাধিকার দেবেন না। এ কারণেই উলামায়ে কেরাম বলেছেন: ইবাদতের কাজে অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া মাকরূহ। যেমন, প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অন্যকে সুযোগ দিয়ে নিজে পেছনে সরে যাওয়া। প্রতিটি ইবাদতের ক্ষেত্রে আপনি অন্যকে নিজের ওপর অগ্রাধিকার দেবেন না। উলামায়ে কেরাম বলেছেন: কারণ এটি ইবাদতের প্রতি তার অনাগ্রহের প্রমাণ দেয়। বিশেষ করে আমাদের আলোচ্য বিষয়ের মতো ক্ষেত্রে, যেখানে আপনি গিয়ে জিজ্ঞেস করছেন যে আপনি তার বাড়িতে ইফতার এবং রাতের খাবার খাবেন। হ্যাঁ।

যদিও 'ঈসার' বা অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাসআলায় সঠিক মত হলো এই যে: ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় কাজের ক্ষেত্রে অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হারাম। মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় কাজের ক্ষেত্রে অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া অনুত্তম, তবে কোনো বিশেষ কল্যাণ থাকলে ভিন্ন কথা। আর মুবাহ বা জায়েজ কাজের ক্ষেত্রে অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হালাল। সুতরাং 'ঈসার' বা অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রকারভেদ তিনটি: ১. ওয়াজিব কাজের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া, যা হারাম। ২. মুস্তাহাব কাজের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া, যা অনুত্তম, তবে কোনো কল্যাণ থাকলে করা যেতে পারে। ৩. মুবাহ বা সাধারণ কাজের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া, যার জন্য মানুষের প্রশংসা করা হয়: {তারা নিজেদের ওপর অন্যকে অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত} [আল-হাশর: ৯]। তারা খাবারের ক্ষেত্রে অন্যকে অগ্রাধিকার দেয়, অর্থাৎ নিজেরা ক্ষুধার্ত থাকা সত্ত্বেও অন্যকে খেতে দেয়। এটি মুবাহ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

ওয়াজিব কাজের ক্ষেত্রে অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উদাহরণ হলো: এক ব্যক্তির কাছে সামান্য পানি আছে, যা দিয়ে ওজু করলে তার হয়ে যাবে। কিন্তু সে যদি তা অন্যকে দিয়ে দেয় তবে তার নিজের জন্য পানির অভাব হবে এবং তাকে তায়াম্মুম করতে হবে। আমরা বলব: এখানে অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া জায়েজ নেই। আপনার জন্য সেই পানি দিয়ে ওজু করা ওয়াজিব। তেমনি কোনো ব্যক্তির কাছে কেবল একটিই কাপড় আছে, আর তার ভাই উলঙ্গ। সে তাকে কাপড়টি দিতে পারছে না নিজে উলঙ্গ হওয়া ছাড়া। আমরা বলব: আপনি নিজে উলঙ্গ হবেন না। যদিও কাপড়ের বিষয়টি সঠিক উদাহরণ নাও হতে পারে; কারণ আমরা বলতে পারি: প্রথমে আপনি এটি দিয়ে সালাত আদায় করুন, এরপর আপনার ভাইকে দিন। কিন্তু পানির বিষয়টি পুরোপুরি সঠিক উদাহরণ।

মুস্তাহাব কাজের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার উদাহরণ হলো প্রথম কাতার। আপনি প্রথম কাতারে থাকাবস্থায় নিজের জায়গা ছেড়ে দিয়ে কাউকে বললেন: "হে অমুক, আপনি এখানে আসুন!" এটি অনুত্তম। ফকিহগণ একে মাকরূহ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে সঠিক মত হলো এটি অনুত্তম, কিন্তু কোনো বিশেষ কল্যাণ থাকলে এতে কোনো সমস্যা নেই। যেমন- আপনি যদি সেই ব্যক্তিকে দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য তাকে জায়গা ছেড়ে দিয়ে পেছনে সরে আসেন; কারণ কিছু মানুষ যখন দেখে অন্যরা তাকে সম্মান বা অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন তার মধ্যে ভালো কাজের এবং জামাতে সালাত আদায়ের আগ্রহ বেড়ে যায়। সুতরাং আপনি যদি তাকে দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য এটি করেন তবে তা ভালো। অথবা কোনো ব্যক্তি তার পিতার সম্মানে জায়গা ছেড়ে দিল, এটিও ভালো। কারণ আপনার পিতা এতে খুশি হবেন এবং এটি আপনার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত হবে।

আর মুবাহ বা সাধারণ বিষয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া তো সুপরিচিত। যেমন- আপনার নিজের খাবারের খুব ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আপনি অন্যকে তা দিয়ে দিলেন, এই অগ্রাধিকার প্রদান উত্তম কাজ।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌إجزاء صلاة التراويح مع الجماعة عن قيام الليل

 

‌‌السؤال

أنا شاب -ولله الحمد- أصلي التراويح مع الجماعة في المسجد، ولكن في بعض الأحيان أريد أن أصلي في الثلث الأخير من الليل، فهل لي ذلك؟

 

‌‌الجواب

الذي يظهر لي أن من قام مع الإمام حتى ينصرف لا يصلي في آخر الليل؛ لأن الصحابة أنفسهم طلبوا من النبي صلى الله عليه وسلم أن ينفلهم بقية ليلتهم فقال: (من قام مع الإمام حتى ينصرف كتب له قيام ليل) وفي هذا -والعلم عند الله- إشارة إلى ألا يشق الإنسان على نفسه ويكتفي بصلاته مع الإمام، فإذا اكتفى بصلاته مع الإمام كفى، لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يقل قوموا أنتم، إن شئتم فقوموا الباب مفتوح، ما قال هذا، بل قال: (من قام مع الإمام حتى ينصرف كتب له قيام ليلة) ولكن كما نعلم أن الأئمة فيما سبق يؤدون الصلاة تماماً، يعني يمكنون الناس من الدعاء، ومن سؤال الرحمة، ومن قراءة القرآن على الوجه الذي ينبغي، بخلاف كثير من الأئمة اليوم، كثير من الأئمة اليوم -الله يهدينا وإياهم- يسرعون إسراعاً عظيماً، ما يطمئن الإنسان، ولا يدعو؛ لأنهم يحبون أن الناس يملئون مساجدهم إلا من شاء الله، والناس يحبون العجلة، غالب الناس يحب العجلة، فكثير من الناس يفعل هذا.

أنا حدثني إنسان ثقة رحمة الله عليه يقول لي: دخلت مسجداً في زمان مضى-لكن الآن الحمد لله أخذ المساجد شباب طيب ملتزم، وصار يمشي أحسن من قبل- فأدركت أناساً يركضون ركضاً عظيماً، يقول: إنه دخل وصلى مع الجماعة التراويح، ولما نام في الليل، يقول: كأني دخلت هذا المسجد فوجدت أهله يحندون، الحند: مثل الرقص، كأنهم يرقصون، أي: أن صلاتهم في رؤياه صارت كأنها لعب، ليس فيها فائدة، وهذا لا شك أنه صحيح لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال للرجل الذي لا يطمئن: (ارجع فصل فإنك لم تصل) وقال عليه الصلاة والسلام: (تلك صلاة المنافق، تلك صلاة المنافق، تلك صلاة المنافق، يرقب الشمس حتى إذا كانت بين قرني الشيطان -أي: عند الغروب هذا في صلاة العصر- قام فنقر أربعاً لا يذكر الله فيها إلا قليلا) .
জামাতের সাথে তারাবিহ নামাজ আদায় করা কি কিয়ামুল লাইলের জন্য যথেষ্ট?

 

‌‌প্রশ্ন

আমি একজন যুবক -সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য- আমি মসজিদে জামাতের সাথে তারাবিহ নামাজ পড়ি, কিন্তু মাঝে মাঝে আমি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে নফল নামাজ পড়তে চাই, আমার জন্য কি তা করা বৈধ?

 

‌‌উত্তর

আমার কাছে যা স্পষ্ট হয় তা হলো, যে ব্যক্তি ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত নামাজ আদায় করে, সে যেন রাতের শেষ অংশে আর নামাজ না পড়ে; কারণ সাহাবীগণ নিজেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁদের রাতের বাকি অংশেও নফল নামাজ পড়ানোর আবেদন করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: (যে ব্যক্তি ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত নামাজ আদায় করবে, তার জন্য পূর্ণ রাত কিয়ামের সওয়াব লেখা হবে)। আর এতে -প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর নিকট- এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, মানুষ যেন নিজের ওপর কষ্ট না চাপায় এবং ইমামের সাথে তার নামাজটুকুর ওপরই তুষ্ট থাকে। সুতরাং যদি সে ইমামের সাথে তার নামাজের ওপর তুষ্ট থাকে তবে তাই যথেষ্ট। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি বলেননি যে, তোমরা নিজেরা আবার দাড়াও, চাইলে দাড়াও দরজা খোলা আছে; তিনি এমনটি বলেননি। বরং তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত নামাজ আদায় করবে, তার জন্য পূর্ণ রাত কিয়ামের সওয়াব লেখা হবে)। কিন্তু আমরা যেমন জানি যে, পূর্ববর্তী ইমামগণ নামাজ পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করতেন, অর্থাৎ তাঁরা মানুষকে দোয়া করার, রহমত প্রার্থনা করার এবং যথাযথভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার সুযোগ দিতেন। বর্তমান সময়ের অনেক ইমামের অবস্থা এর বিপরীত; বর্তমানের অনেক ইমাম -আল্লাহ আমাদের এবং তাঁদের হেদায়েত দিন- অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নামাজ পড়ান, যাতে মানুষ প্রশান্তিও পায় না, দোয়াও করতে পারে না। কারণ তাঁরা চান যে মানুষ যেন তাঁদের মসজিদ পূর্ণ করে রাখে -আল্লাহ যাকে তাওফিক দিয়েছেন সে ছাড়া- আর সাধারণ মানুষও তাড়াহুড়ো পছন্দ করে, অধিকাংশ মানুষই তাড়াহুড়ো পছন্দ করে, তাই অনেক মানুষ এমনটি করে থাকে।

আমাকে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি -আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন- বলেছিলেন: আমি বিগত সময়ে একটি মসজিদে প্রবেশ করেছিলাম- তবে এখন আলহামদুলিল্লাহ মসজিদগুলোর দায়িত্ব উত্তম ও দ্বীনদার যুবকরা নিয়েছে এবং আগের চেয়ে ভালোভাবে চলছে- সেখানে আমি দেখলাম কিছু লোক প্রচণ্ড তাড়াহুড়ো করছে। তিনি বলেন: তিনি প্রবেশ করলেন এবং জামাতের সাথে তারাবিহ পড়লেন। এরপর যখন তিনি রাতে ঘুমান, তিনি বলেন: স্বপ্নে মনে হলো আমি যেন সেই মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং সেখানে দেখলাম মুসল্লিরা 'হান্দ' করছে। 'হান্দ' মানে হলো নাচের মতো, যেন তারা নাচছে। অর্থাৎ তাঁর স্বপ্নে তাদের নামাজ এমন মনে হলো যেন তা নিছক খেলাধুলা, যাতে কোনো ফায়দা নেই। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি সঠিক, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যক্তিকে যার নামাজে প্রশান্তি ছিল না তাকে বলেছিলেন: (তুমি ফিরে যাও এবং নামাজ পড়, কারণ তুমি নামাজ পড়োনি)। এবং তিনি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: (এটি হলো মুনাফিকের নামাজ, এটি হলো মুনাফিকের নামাজ, এটি হলো মুনাফিকের নামাজ; সে সূর্যের অপেক্ষা করতে থাকে যতক্ষণ না তা শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝে পৌঁছে -অর্থাৎ সূর্যাস্তের সময় আসর নামাজের ক্ষেত্রে- তখন সে দাঁড়িয়ে মোরগের মতো চারটি ঠোকর দেয়, যাতে সে আল্লাহকে খুব সামান্যই স্মরণ করে)।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌حكم استعمال الإبر الطبية للصائم

 

‌‌السؤال

هناك امرأة أخذت في هذا اليوم إبرة في الرحم وهذه الإبرة ضرورية وهي على موعد لأخذ إشاعة ملونة، ويجب أخذ هذه الإبرة، وقد أخذت الإبرة وخرج على إثرها دم ليس بالقليل، فهل تقضي هذا اليوم؟

 

‌‌الجواب

الصحيح أن الإبر لا تفطر أبداً مهما كانت، إلا إذا كان يستغنى بها عن الأكل والشرب، يعني إذا كانت توضع في المريض بحيث لا يحتاج إلى الأكل والشرب فهذه نقول: إنها بمعنى الأكل والشرب، فتكون مفطرة لا يتناولها الإنسان إلا عند الضرورة، وإذا اضطر إليها تناولها وأفطر والحمد لله.

وأقول لكم بصراحة: نقول لكم هذا ونحن نسأل الله أن يغفر لنا، لأن الإنسان قد يقول قياسها على الأكل والشرب قياس مع الفارق، كيف الفارق؟ يقول: الأكل والشرب يحصل فيه لذة ومتعة بالأكل والشرب بخلاف هذه، هذه تنفع الجسم كما ينفع الأكل والشرب إن قدر أن نفعها للجسم مساوٍ لنفع الأكل والشرب، لكن التلذذ في الأكل والمضغ والحصول في المعدة هذا لا يحصل بهذه الإبر، فيمكن أن يكون الأكل والشرب حرمه الله لما فيه من اللذة والتغذية، ولهذا يقولون: إن المصاب المريض تجد في نفسه شوقاً عظيماً للأكل والشرب، ولو كان يتغذى بها، إذاً ففيها نقص، لكن نحن نقول: إنها تفطر وإن الإنسان إذا احتاج إليها فإنه لا يحتاج إليها إلا في مرض، وإذا كان مريضاً فإنه يحل له أن يفطر ويقضي.

أما الدم فلا يضر لأنها ليست حجامة ولم تأخذ هذا لأجل الدم.

ونسأل الله أن يلحقنا وإياكم خيراً وأن يجعل عملنا صالحاً وخالصاً لله.
রোজাদারের জন্য চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইনজেকশন ব্যবহারের বিধান

 

‌প্রশ্ন

জনৈক মহিলা আজ জরায়ুতে একটি ইনজেকশন নিয়েছেন। এই ইনজেকশনটি নেওয়া জরুরি ছিল এবং তার একটি কালার এক্স-রে করার নির্ধারিত সময় ছিল, যার জন্য ইনজেকশনটি গ্রহণ করা আবশ্যক ছিল। ইনজেকশনটি নেওয়ার পর তার শরীর থেকে বেশ কিছুটা রক্ত নির্গত হয়েছে। এমতাবস্থায় তাকে কি এই দিনের রোজা কাজা করতে হবে?

 

‌উত্তর

সঠিক মত হলো, ইনজেকশন চাই যে কোনো ধরণেরই হোক না কেন, তা কখনো রোজা ভঙ্গ করে না; তবে যদি সেটি খাদ্য ও পানীয়ের বিকল্প হিসেবে কাজ করে তবে ভিন্ন কথা। অর্থাৎ, যদি রোগীকে এমনভাবে ইনজেকশন দেওয়া হয় যাতে তার আর পানাহারের প্রয়োজন না পড়ে, তবে আমরা বলব: এটি পানাহারের সমার্থবোধক। এমতাবস্থায় এটি রোজা ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ এটি গ্রহণ করবে না। আর যদি কেউ তা গ্রহণে বাধ্য হয়, তবে সে তা গ্রহণ করবে এবং তার রোজা ভেঙে যাবে, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

আমি আপনাদের স্পষ্টভাবে বলছি: আমরা আপনাদের কাছে এই মত ব্যক্ত করছি এবং আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কারণ কোনো ব্যক্তি বলতে পারে যে, একে পানাহারের সাথে তুলনা করা একটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ তুলনা। বৈসাদৃশ্যটি কী? সে বলবে: পানাহারের মাধ্যমে এক প্রকার স্বাদ ও তৃপ্তি অর্জিত হয়, যা ইনজেকশনের ক্ষেত্রে হয় না। যদিও ধরে নেওয়া হয় যে শরীরে এর উপকারিতা পানাহারের উপকারের সমান, তবুও চিবিয়ে খাওয়ার স্বাদ এবং পাকস্থলীতে তা পৌঁছানোর অনুভূতি এই ইনজেকশনের মাধ্যমে অর্জিত হয় না। তাই হতে পারে আল্লাহ তাআলা পানাহারকে এর স্বাদ ও পুষ্টির কারণে নিষিদ্ধ করেছেন। এই কারণেই দেখা যায়, একজন অসুস্থ ব্যক্তি ইনজেকশনের মাধ্যমে পুষ্টি পেলেও তার মনে পানাহারের জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান থাকে। সুতরাং এতে (ইনজেকশনে) একটি অপূর্ণতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা বলি: এটি রোজা ভঙ্গ করবে এবং মানুষের যখন এর প্রয়োজন হয়, তখন সাধারণত অসুস্থতার কারণেই হয়। আর যদি সে অসুস্থ হয়, তবে তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা বৈধ এবং পরবর্তীতে তা কাজা করে নেবে।

আর রক্তের ব্যাপারে কথা হলো—এটি রোজার কোনো ক্ষতি করবে না, কারণ এটি হিজামা (রক্তমোক্ষণ) নয় এবং সে রক্ত বের করার উদ্দেশ্যে এই ইনজেকশন গ্রহণ করেনি।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এবং আপনাদের কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন এবং আমাদের আমলসমূহকে নেক ও একমাত্র আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করেন।
(খণ্ড: ১) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: -)
جلسات رمضانية للعثيمين   (ابن عثيمين)

القسم: الفقه العام


الكتاب : جلسات رمضانية 1410 هـ - 1415 هـ

المؤلف : محمد بن صالح بن محمد العثيمين (المتوفى : 1421هـ)

مصدر الكتاب : دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 23 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

উসাইমীনের রমাদান বিষয়ক মজলিসসমূহ   (ইবনে উসাইমীন)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ : রমাদান বিষয়ক মজলিসসমূহ ১৪১০ হি. - ১৪১৫ হি.

লেখক : মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-উসাইমীন (মৃত্যু : ১৪২১ হি.)

গ্রন্থের উৎস : ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অডিও পাঠসমূহ থেকে অনুলিখিত

http://www.islamweb.net

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ২৩টি পাঠ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজজাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ২) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌جلسات رمضانية لعام 1410هـ[2]

لأول وهلة ينظر إلى الصيام وكأنه جوع مجرد، ومشقة جوفاء، لكن الله الحكيم العظيم ما شرعه إلا لحكم عظيمة، أعظمها: التقوى.

وفي هذا اللقاء بيان لكثير من أحكام الصيام، وإجابات قيمة على أسئلة الحاضرين.
১৪১০ হিজরি সনের রমজানকালীন আলোচনা [২]

আপাতদৃষ্টিতে সিয়ামকে নিছক ক্ষুধা এবং অর্থহীন ক্লান্তি বলে মনে হয়; কিন্তু প্রজ্ঞাময় ও মহান আল্লাহ একে মহান উদ্দেশ্যসমূহ সাধনের লক্ষ্যেই বিধিবদ্ধ করেছেন, যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো: তাকওয়া।

এই আলোচনায় সিয়ামের বহুবিধ বিধানের বিশদ বর্ণনা এবং উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের প্রশ্নের মূল্যবান উত্তরসমূহ প্রদান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ২) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌الحكمة من الصوم

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه وسلم.

وبعد: فإننا في هذه الجلسة سنتحدث -إن شاء الله- عن الصيام وما يتعلق به من أحكام وذلك للأهمية؛ لأن كثيراً من الناس يجهل حكمة الصوم ويجهل كثيراً من مسائله، فنبدأ أولاً بذكر حكمة الصوم.

ما هي الحكمة من أن الله عز وجل فرض على عباده الصوم بل جعله أحد أركان الإسلام التي لا يقوم الإسلام إلا بها، مع أن فيه تعباً على الجسم وعلى النفس، يتجنب الإنسان فيه مشتهياته من الأكل والشرب والنكاح، ويلحقه من الضعف، ضعف النفس، وضعف البدن، ولا سيما في الأيام الطويلة الحارة، ما يجعله أو ما يلحقه المشقة؟ فنقول جواباً على هذا

 

‌‌السؤال

يجب أن نعلم قبل كل شيء أن الله سبحانه وتعالى من أسمائه الحكيم، وقد تكرر في القرآن كثيراً، والحكيم هو ذو الحكمة الذي يضع الأشياء في مواضعها {وَمَنْ أَحْسَنُ مِنْ اللَّهِ حُكْماً لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ} {أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَحْكَمِ الْحَاكِمِينَ} وبناءً على هذه العقيدة التي يجب أن يعتقدها كل مسلم، وهي أن الله عز وجل له الحكمة في شرعه وقدره، بناءً على ذلك يرضى المسلم ويسلم بشرع الله عز وجل، كما يرضى ويسلم بقضاء الله وقدره، قال الله تعالى: {مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ} [التغابن:11] قال علقمة -أحد أصحاب عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: هو الرجل تصيبه المصيبة فيعلم أنها من عند الله فيرضى ويسلِّم، ولما سئلت عائشة رضي الله عنها: [ما بال الحائض تقضي الصوم ولا تقضي الصلاة؟ قالت: كان يصيبنا ذلك فنؤمر بقضاء الصوم ولا نؤمر بقضاء الصلاة] .

فوظيفة المسلم الإيمان بقضاء الله وقدره، والإيمان بشرع الله وحكمه، فنقول: إن الله لم يشرع الصيام إلا لحكمٍ عظيمة، أهمها وأجلها وأعظمها: التقوى.

تقوى الله عز وجل، لقول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [البقرة:183] هذه الحكمة، من أجل تقوى الله عز وجل، حتى إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال للصائم: (إذا سابه أحد أو شاتمه فليقل: إني صائم) أي: لا يسبه ويرد عليه بالمثل، ليقل: إني امرؤ صائم، والصائم لا يسب ولا يشتم ولا يصخب، بل عنده الطمأنينة والوقار والسكينة، وتجنب المحرمات والأقوال البذيئة؛ لأن الصوم جنة، يتقي به الإنسان محارم الله ويتقي به النار يوم القيامة، هذه أعظم حكم الصيام.

ومن حكم الصيام: تعويد الإنسان على المشقة، على تحمل المشقات والتعب، لأن الترف والنعيم وتيسر الأكل والشرب لن يدوم، فيعوِّد الإنسان نفسه على تحمل المشاق.

ومن حكم الصوم كسر حدة النفس؛ لأن النفس إذا كمل لها نعيمها، من أكل وشرب ونكاح، حملها ذلك على الأشر والبطر ونسيان الغير، وأصبح الإنسان كالبهيمة ليس له هم إلا بطنه وفرجه، فإذا كبح جماح نفسه وعودها على تحمل المشاق، وتحمل الجوع، وتحمل الظمأ، وتحمل اجتناب النكاح، صار في هذا تربية عظيمة لها.

ومن حكم الصوم: أن الإنسان يذكر به نعمة الله عز وجل، بماذا؟ بتيسير الأكل والشرب والنكاح، لأن الإنسان لا يعرف الشيء إلا بضده، كما قيل: وبضدها تتبين الأشياء.

الإنسان لا يدري قدر النعمة إلا إذا فقدها، وانظر الآن مثالاً قريباً: لو أن النفس حبس، أي: صار الإنسان لا يستطيع أن يتنفس لوجد المشقة العظيمة، مع أننا نتنفس ونحن نتكلم، نتنفس ونحن نأكل، نتنفس ونحن نشرب، نتنفس ونحن في اليقظة، نتنفس ونحن في المنام، ولا نشعر بهذه النعمة العظيمة.

وكم مرة يتنفس الإنسان في الدقيقة في الساعة في اليوم في الشهر في السنة، ولا تعرف هذه النعمة، أو لا تعرف قدر هذه النعمة إلا إذا فقدتها، ولهذا إذا أصيب الإنسان بضيق النفس يجد الحرج العظيم، نسأل الله لنا ولكم العافية، لا يلتذ لا بنوم ولا بأكل ولا بشرب ولا بمخاطبة أحد، إذاً إذا صمت وامتنعت عن الأكل والشرب والنكاح عرفت قدر نعمة الله عليك بالأكل والشرب والنكاح، ففيه تذكر نعمة الله.

ومن حكمة الله عز وجل في إيجاب الصوم: أن يذكر الإنسان إخوة له مصابين بالجوع والعطش وفقد النكاح، فيرحمهم ويحنو عليهم ويعطيهم مما أعطاه الله عز وجل، ولهذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أجود الناس، وكان أجود ما يكون في رمضان، ينفق ويجود عليه الصلاة والسلام.

وهذه الذكرى -أي: ذكرى إخوانك المعوزين- تحملك على أن تتصدق عليهم، وأن تتبرع لهم، وأن تحسن إليهم، والحكم كثيرة في الصوم، لكن كثير من الناس اليوم نجد يوم صومهم ويوم فطرهم سواء، لا تجد عند الإنسان سكينة الصوم ولا الوقار ولا تجنب السب والشتم والكذب والخيانة أبداً، يوم فطره ويوم صومه سواء عنده، وهذا نقص عظيم في الصوم.

أما ما يصام عنه من الأمور الحسية، يعني: نحن الآن ذكرنا حكمة الصوم.
‌রোজার হিকমত

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাথীদের ওপর।

অতঃপর: আমরা এই মজলিসে —ইনশাআল্লাহ— রোজা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আহকাম বা বিধিবিধান নিয়ে আলোচনা করব, এর গুরুত্বের কারণে; কারণ অনেক মানুষই রোজার হিকমত এবং এর অনেক মাসআলা সম্পর্কে অজ্ঞ। তাই আমরা প্রথমে রোজার হিকমত উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করব।

আল্লাহ কেন তাঁর বান্দাদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন, বরং একে ইসলামের অন্যতম রুকন বানিয়েছেন যা ছাড়া ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় না? অথচ এতে শরীরের ওপর ও নফসের ওপর কষ্ট রয়েছে; মানুষ এতে তার কাম্য পানাহার ও দাম্পত্য মিলন থেকে বিরত থাকে, আর এর ফলে দুর্বলতা সৃষ্টি হয়—নফসের দুর্বলতা এবং শরীরের দুর্বলতা—বিশেষ করে দীর্ঘ ও তপ্ত দিনগুলোতে, যা তাকে কষ্টের মুখোমুখি করে? এর জবাবে আমরা বলি—

 

‌প্রশ্ন

সবকিছুর আগে আমাদের জানা উচিত যে, মহান আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে একটি হলো 'আল-হাকিম' (প্রজ্ঞাময়), যা কুরআনে বারবার এসেছে। 'হাকিম' হলেন সেই সত্তা যিনি প্রজ্ঞার অধিকারী, যিনি প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযথ স্থানে স্থাপন করেন। {কার ফয়সালা আল্লাহর চেয়ে উত্তম সেই কওমের জন্য যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে?} {আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক নন?} এই আকিদার ওপর ভিত্তি করেই—যা প্রত্যেক মুসলিমের পোষণ করা ওয়াজিব—যে মহান আল্লাহ তাঁর শরিয়ত ও তকদিরে প্রজ্ঞার অধিকারী। এর ওপর ভিত্তি করেই একজন মুসলিম আল্লাহর শরিয়তে সন্তুষ্ট থাকে এবং আত্মসমর্পণ করে, ঠিক যেমন সে আল্লাহর ফয়সালা ও তকদিরে সন্তুষ্ট থাকে ও আত্মসমর্পণ করে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদই আপতিত হয় না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ঈমান আনে, তিনি তার অন্তরকে হেদায়েত দান করেন।} [আত-তাগাবুন: ১১]। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর অন্যতম সাথী আলকামা (রহ.) বলেন: 'তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যাকে কোনো বিপদ স্পর্শ করলে সে জানে যে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, ফলে সে সন্তুষ্ট থাকে এবং আত্মসমর্পণ করে।' আর যখন আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: 'ঋতুবতী নারীর কী হলো যে সে রোজার কাজা করে কিন্তু নামাজের কাজা করে না?' তিনি উত্তরে বলেছিলেন: 'আমাদের এই অবস্থা হতো, তখন আমাদের রোজার কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো কিন্তু নামাজের কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো না।'

সুতরাং একজন মুসলিমের দায়িত্ব হলো আল্লাহর ফয়সালা ও তকদিরে ঈমান রাখা এবং আল্লাহর শরিয়ত ও তাঁর হুকুমের প্রতি ঈমান রাখা। আমরা বলি: আল্লাহ রোজা কেবলমাত্র মহান কিছু হিকমতের জন্যই বিধিবদ্ধ করেছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মহান ও শ্রেষ্ঠ হলো: তাকওয়া।

মহান আল্লাহর তাকওয়া অর্জন করা, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।} [আল-বাকারাহ: ১৮৩]। এটিই হলো হিকমত—আল্লাহর তাকওয়া অর্জনের জন্য। এমনকি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রোজাদারকে বলেছেন: 'যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা তার সাথে ঝগড়া করে, তবে সে যেন বলে: আমি রোজাদার।' অর্থাৎ সে তাকে পাল্টা গালি দেবে না বা অনুরূপ উত্তর দেবে না। সে যেন বলে: আমি একজন রোজাদার ব্যক্তি। আর রোজাদার ব্যক্তি গালিগালাজ করে না, ঝগড়া করে না এবং শোরগোল করে না; বরং তার মধ্যে প্রশান্তি, গাম্ভীর্য ও স্থিরতা থাকে। সে হারাম কাজ ও অশ্লীল কথা এড়িয়ে চলে; কারণ রোজা হলো একটি ঢাল, যা দিয়ে মানুষ আল্লাহর হারামকৃত বিষয়গুলো থেকে আত্মরক্ষা করে এবং কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পায়। এটিই রোজার সবচেয়ে বড় হিকমত।

রোজার আরও একটি হিকমত হলো: মানুষকে কষ্টের ওপর অভ্যস্ত করা, কষ্ট ও ক্লান্তি সহ্য করার ওপর অভ্যস্ত করা। কারণ বিলাসিতা, নেয়ামত এবং পানাহারের সহজলভ্যতা চিরকাল স্থায়ী হবে না, তাই মানুষ যেন নিজেকে কষ্ট সহ্য করার ওপর অভ্যস্ত করে তোলে।

রোজার আরও একটি হিকমত হলো নফসের তেজ বা উগ্রতা ভেঙে ফেলা। কারণ নফস যখন তার সকল নেয়ামত—যেমন পানাহার ও দাম্পত্য মিলন—পরিপূর্ণভাবে পায়, তখন তা তাকে অহংকার, দাম্ভিকতা এবং অন্যদের ভুলে যাওয়ার দিকে ধাবিত করে। তখন মানুষ পশুর মতো হয়ে যায় যার উদর ও লজ্জাস্থান ছাড়া আর কোনো চিন্তা থাকে না। কিন্তু যখন সে নিজের নফসকে লাগাম টেনে ধরে এবং তাকে কষ্ট সহ্য করা, ক্ষুধা সহ্য করা, পিপাসা সহ্য করা এবং দাম্পত্য মিলন থেকে বিরত থাকার ওপর অভ্যস্ত করে, তখন এতে তার জন্য এক মহান তরবিয়ত বা প্রশিক্ষণ সাধিত হয়।

রোজার আরও একটি হিকমত হলো: এর মাধ্যমে মানুষ মহান আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ করে। কীভাবে? পানাহার ও দাম্পত্য মিলনের সহজলভ্যতার মাধ্যমে। কারণ মানুষ কোনো জিনিসকে চিনতে পারে না তার বিপরীত অবস্থা ছাড়া। যেমন বলা হয়: 'বিপরীত জিনিসের মাধ্যমেই বিষয়সমূহ স্পষ্ট হয়।'

মানুষ নেয়ামতের কদর বুঝতে পারে না যতক্ষণ না সে তা হারায়। এখন একটি নিকটবর্তী উদাহরণ দেখুন: যদি শ্বাস রুদ্ধ হয়ে যায়, অর্থাৎ মানুষ যদি শ্বাস নিতে না পারে, তবে সে প্রচণ্ড কষ্টের সম্মুখীন হবে। অথচ আমরা কথা বলার সময় শ্বাস নিচ্ছি, খাওয়ার সময় শ্বাস নিচ্ছি, পান করার সময় শ্বাস নিচ্ছি, জাগ্রত অবস্থায় শ্বাস নিচ্ছি, ঘুমের মধ্যেও শ্বাস নিচ্ছি, কিন্তু আমরা এই মহান নেয়ামতটি অনুভব করি না।

মানুষ এক মিনিটে, এক ঘণ্টায়, এক দিনে, এক মাসে, এক বছরে কতবার শ্বাস নেয়! এই নেয়ামত সম্পর্কে আপনি জানতে পারেন না, অথবা এই নেয়ামতের কদর বুঝতে পারেন না যতক্ষণ না আপনি তা হারান। এ কারণেই যখন মানুষ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়, তখন সে প্রচণ্ড সংকীর্ণতা অনুভব করে—আমরা আমাদের ও আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে সুস্থতা কামনা করি—সে না ঘুমে তৃপ্তি পায়, না খাবারে, না পানীয়তে, না কারও সাথে কথা বলায়। অতএব, আপনি যখন রোজা রাখেন এবং পানাহার ও দাম্পত্য মিলন থেকে বিরত থাকেন, তখন আপনি আপনার ওপর আল্লাহর দেওয়া পানাহার ও দাম্পত্য মিলনের নেয়ামতের কদর বুঝতে পারেন। সুতরাং এতে আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ হয়।

রোজা ফরজ করার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর আরও একটি হিকমত হলো: মানুষ যেন তার সেই ভাইদের কথা স্মরণ করে যারা ক্ষুধা, পিপাসা এবং দাম্পত্য মিলনের অভাবগ্রস্ততায় আক্রান্ত। ফলে সে তাদের প্রতি দয়া করবে, তাদের প্রতি মমতা দেখাবে এবং আল্লাহ তাকে যা দান করেছেন তা থেকে তাদের দান করবে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল, আর রমজান মাসে তিনি সবচেয়ে বেশি দানশীল হতেন। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) খরচ করতেন ও অকাতরে দান করতেন।

আর এই স্মরণ—অর্থাৎ আপনার অভাবী ভাইদের কথা স্মরণ—আপনাকে তাদের সদকা করতে, তাদের জন্য দান করতে এবং তাদের প্রতি ইহসান করতে উদ্বুদ্ধ করে। রোজার আরও অনেক হিকমত রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে অনেক মানুষকে আমরা দেখি যাদের রোজার দিন এবং রোজাহীন দিন সমান; মানুষের মধ্যে রোজার প্রশান্তি পাওয়া যায় না, গাম্ভীর্য দেখা যায় না, আর না সে গালিগালাজ, মিথ্যা ও খেয়ানত থেকে বিরত থাকে। তার কাছে তার রোজাহীন দিন আর রোজার দিন সমান। আর এটি রোজার ক্ষেত্রে এক বিরাট ত্রুটি।

আর যেসব ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় থেকে রোজা রাখা হয়, অর্থাৎ: আমরা এতক্ষণ রোজার হিকমত উল্লেখ করলাম।
(খণ্ড: ২) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مفطرات الصوم

ًما هي الأشياء التي يصام عنها؟ الأشياء التي يصام عنها هي التي يسميها العلماء المفطرات، أو مفسدات الصوم، وهي الأكل والشرب والنكاح والقيء وخروج الدم بالحجامة والحيض والنفاس.

هذه المنصوص عليها وفيها أشياء مقيسة ليست منصوصاً عليها.

فالأكل والشرب والنكاح منصوص عليها في قوله تعالى: {فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ} [البقرة:187] .

القيء منصوص عليه في حديث أبي هريرة الذي رواه عن النبي صلى الله عليه وسلم: (من ذرعه القيء فلا قضاء عليه) ذرعه يعني: غلبه: (ومن استقاء عمداً فليقض) .

خروج الدم بالحجامة منصوص عليه أيضاً في قوله صلى الله عليه وسلم: (أفطر الحاجم والمحجوم) هذه خمسة.

خروج دم الحيض والنفاس منصوص عليه في قوله صلى الله عليه وسلم: (أليس إذا حاضت لم تصل ولم تصم) وقد أجمع العلماء على إلحاق النفاس بالحيض.

بقي علينا أشياء ليست منصوصاً عليها منها ما كان بمعنى الأكل والشرب، وهي: الإبر المغذية التي يستغنى بها عن الأكل والشرب، يعني: أن الإنسان إذا تناولها اكتفى بها عن الأكل والشرب، هذه تلحق بالأكل والشرب قياساً.

ومنها: خروج المني بشهوة بفعل من الإنسان، فإنه يفطر، من العلماء من قال: إنه ملحق بالجماع، لأن كلاً منهما يوجب الغسل، فكان كلٌ منهما مفسد للصوم ومنهم من قال: إنه منصوص عليه، وذلك أن خروج المني بشهوة هو أعلى أنواع الشهوة، والصوم صوم عن الأكل والشرب والشهوة، لقوله تعالى في الحديث القدسي: (يدع طعامه وشرابه وشهوته من أجلي) .

على كل حال، خروج المني بشهوة بفعل من الصائم يفسد الصوم هذا عليه والأئمة الأربعة: مالك وأبو حنيفة والشافعي وأحمد وأما خروج المذي بشهوة فلا يفسد الصوم، ولا يمكن أن يلحق بالمني لأن المذي لا يوجب الغسل، وليس هو الشهوة ولهذا يخرج من الإنسان من غير أن يشعر به بخلاف المني، وعلى هذا فلا يصح إلحاقه بالمني، والأصل بقاء الصوم وصحته حتى يقوم دليل على فساده، وهذه قاعدة ينبغي لطالب العلم أن يحفظها: كل ما ثبت في الشرع فإنه لا ينقض إلا بالشرع، يعني: ما ثبت بدليل شرعي لا ينقض إلا بدليل شرعي، فإذا ثبت هذا الصيام لا يمكن أن يفسده إلا بدليل من الشرع، ولا دليل على أن المذي ناقض ومفسد للصوم، وهذا هو اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، وهو أيضاً مذهب الظاهرية وهو صحيح.

ذكرنا الأكل، والشرب، والنكاح، وخروج القيء عمداً، وخروج الدم بالحجامة، وخروج دم الحيض والنفاس، وما كان بمعنى الأكل والشرب، وخروج المني بشهوة، بفعل من الصائم.

هذه الأشياء المفطرة هل فيها كفارة؟

 

‌‌الجواب

لا ليس فيها كفارة إلا واحداً فقط وهو الجماع، الجماع فيه كفارة بشرط أن يكون في نهار رمضان ممن يجب عليه الصوم، فإن كان في غير نهار رمضان مثل أن يكون الإنسان يقضي قضاءً، يعني: عليه أيام من رمضان يقضيها فحصل الجماع فإنه ليس فيه كفارة، فإذا كان في نهار رمضان ممن لا يجب عليه الصوم، فكذلك ليس فيه كفارة، مثل: أن يكون الإنسان مسافراً، ومعه أهله وقد صام هو وأهله، ولكن في أثناء النهار أتى أهله، فإنه ليس عليه كفارة ولا إثم أيضاً؛ لأن المسافر يجوز أن يفطر بأي شيء كان، مما أحله الله عز وجل، إذاً عليه القضاء لأنه أفطر فعليه القضاء، وما عدا الجماع ليس فيه كفارة حتى لو أنزل الإنسان فإنه لا كفارة عليه، لكن إذا كان صومه واجباً فعليه إثم وعليه القضاء.
সাওম ভঙ্গের কারণসমূহ

যে বিষয়গুলো থেকে বিরত থেকে সাওম পালন করা হয় সেগুলো কী কী? যে বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকতে হয়, সেগুলোকে উলামায়ে কেরাম 'মুফাত্তিরাত' (সাওম ভঙ্গকারী বিষয়) বা 'মুফসিদাতুস সাওম' (সাওম নষ্টকারী বিষয়) বলে অভিহিত করেন। সেগুলো হলো: পানাহার, সহবাস, বমি করা, হিজামার মাধ্যমে রক্ত বের করা এবং ঋতুস্রাব ও নিফাস।

এগুলো দলিলে স্পষ্টভাবে বর্ণিত বিষয়। এছাড়া এমন কিছু বিষয়ও রয়েছে যা কিয়াসের (অনুমান বা তুলনা) ভিত্তিতে সাব্যস্ত, যা দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লিখিত নয়।

পানাহার ও সহবাসের বিষয়টি মহান আল্লাহর এই বাণীতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে: "অতএব এখন তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা অন্বেষণ করো। আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর রাত পর্যন্ত সাওম পূর্ণ করো।" [আল-বাকারা: ১৮৭]।

বমি করার বিষয়টি আবু হুরাইরা বর্ণিত হাদীসে এসেছে, যা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: "যার অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়ে যায়, তার ওপর কাযা নেই।" 'অনিচ্ছাকৃত' অর্থ হচ্ছে যার ওপর বমি প্রবল হয়ে যায় (স্বতস্ফূর্তভাবে চলে আসে)। "আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, সে যেন কাযা আদায় করে।"

হিজামার মাধ্যমে রক্ত বের হওয়ার বিষয়টিও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে: "যে হিজামা করে এবং যার হিজামা করা হয়, উভয়েই সাওম ভঙ্গ করল।" এগুলো হলো পাঁচটি।

ঋতুস্রাব ও নিফাসের রক্ত বের হওয়ার বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: "নারী যখন ঋতুবতী হয়, তখন কি সে সালাত ও সাওম ত্যাগ করে না?" আর উলামায়ে কেরাম নিফাসকে ঋতুস্রাবের পর্যায়ভুক্ত করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

এখন এমন কিছু বিষয় বাকি রয়ে গেল যা দলিলে সরাসরি উল্লিখিত নয়, তবে তা পানাহারের স্থলাভিষিক্ত। যেমন: পুষ্টিবর্ধক ইনজেকশন, যা গ্রহণের মাধ্যমে পানাহার থেকে বিমুখ থাকা সম্ভব হয়। অর্থাৎ মানুষ এটি গ্রহণ করলে পানাহারের প্রয়োজন বোধ করে না। এগুলো কিয়াসের ভিত্তিতে পানাহারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এর মধ্যে আরেকটি হলো: মানুষের নিজের কোনো কর্মের মাধ্যমে কামভাবের সাথে বীর্যপাত হওয়া। এটি সাওম ভঙ্গ করে। কোনো কোনো আলিম বলেছেন: এটি সহবাসের পর্যায়ভুক্ত, কারণ উভয়ের ক্ষেত্রেই গোসল ওয়াজিব হয়; ফলে উভয়েই সাওম নষ্টকারী। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লিখিত, কারণ কামভাবের সাথে বীর্যপাত হওয়া হলো কামপ্রবৃত্তির সর্বোচ্চ স্তর। আর সাওম হলো পানাহার ও কামপ্রবৃত্তি থেকে বিরত থাকা, যেমনটি হাদীসে কুদসীতে মহান আল্লাহ বলেছেন: "সে আমার সন্তুষ্টির জন্য তার খাদ্য, পানীয় ও কামপ্রবৃত্তি বর্জন করে।"

যাই হোক, সাওম পালনকারীর নিজের কোনো কর্মের মাধ্যমে কামভাবসহ বীর্যপাত হওয়া সাওমকে নষ্ট করে দেয়—এটি চার ইমামের (মালিক, আবু হানিফা, শাফিয়ী ও আহমাদ) অভিমত। তবে কামভাবের সাথে মযী (পিচ্ছিল রস) নির্গত হওয়া সাওম নষ্ট করে না। একে বীর্যপাতের পর্যায়ভুক্ত করা সম্ভব নয়, কারণ মযী নির্গত হলে গোসল ওয়াজিব হয় না এবং এটি মূল কামপ্রবৃত্তিও নয়। এজন্যই বীর্যের বিপরীতে মযী অনেক সময় মানুষের অজান্তেই নির্গত হয়। অতএব, একে বীর্যের সাথে তুলনা করা সঠিক হবে না। আর মূল নীতি হলো, সাওম নষ্ট হওয়ার কোনো দলীল না পাওয়া পর্যন্ত তা বহাল ও সঠিক থাকবে। এটি এমন একটি মূলনীতি যা ইলম অন্বেষণকারীর মুখস্থ রাখা উচিত: শরীয়তের মাধ্যমে যা সাব্যস্ত হয়েছে, তা কেবল শরীয়তের দলীল দিয়েই বাতিল হতে পারে। অর্থাৎ যা শরয়ী দলীলের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে, তা শরয়ী দলীল ছাড়া ভঙ্গ হবে না। সুতরাং যখন এই সাওমটি সাব্যস্ত হয়েছে, তখন শরীয়তের দলীল ছাড়া তা নষ্ট করা সম্ভব নয়। আর মযী সাওম ভঙ্গকারী হওয়ার ওপর কোনো দলীল নেই। এটিই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পছন্দ এবং এটিই যাহেরী মাযহাবের অভিমত এবং এটিই সঠিক।

আমরা উল্লেখ করেছি: পানাহার, সহবাস, ইচ্ছাকৃত বমি করা, হিজামার মাধ্যমে রক্ত বের করা, ঋতুস্রাব ও নিফাসের রক্ত বের হওয়া, পানাহারের সমপর্যায়ভুক্ত বিষয় এবং সাওম পালনকারীর কর্মের মাধ্যমে কামভাবসহ বীর্যপাত হওয়া।

এই সাওম ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে কি কোনো কাফফারা আছে?

 

‌‌উত্তর

না, এগুলোর কোনোটিতে কাফফারা নেই কেবল একটি ছাড়া, আর তা হলো সহবাস। সহবাসে কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হলো—এটি রমযানের দিনে হতে হবে এবং এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হতে হবে যার ওপর সাওম রাখা ওয়াজিব। যদি তা রমযান মাস ছাড়া অন্য সময়ে হয়, যেমন কোনো ব্যক্তি কাযা সাওম পালন করছে (অর্থাৎ তার ওপর রমযানের যেসব দিন বাকি ছিল তা কাযা করছে) এবং তখন সহবাস হয়ে যায়, তবে তাতে কোনো কাফফারা নেই। তেমনিভাবে যদি রমযানের দিনেও এমন ব্যক্তির দ্বারা সহবাস সংঘটিত হয় যার ওপর সাওম ওয়াজিব নয়, তবে তাতেও কোনো কাফফারা নেই। যেমন: কোনো ব্যক্তি সফরে আছে এবং তার সাথে তার পরিবার রয়েছে। তারা উভয়ে সাওম পালন করেছিল, কিন্তু দিনের বেলা সে তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হলো। এক্ষেত্রে তার ওপর কোনো কাফফারা নেই এবং কোনো গুনাহও নেই; কারণ মুসাফিরের জন্য মহান আল্লাহ যা হালাল করেছেন তার যেকোনোটির মাধ্যমে সাওম ভঙ্গ করা জায়েয। তবে যেহেতু সে সাওম ভঙ্গ করেছে, তাই তাকে সেই দিনের কাযা আদায় করতে হবে। সহবাস ছাড়া অন্য কোনো কারণে যদি বীর্যপাতও হয়, তবুও তাতে কোনো কাফফারা নেই। তবে যদি তার সাওমটি ওয়াজিব হয়ে থাকে, তবে তার ওপর গুনাহ হবে এবং তাকে কাযা আদায় করতে হবে।
(খণ্ড: ২) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌حكم من أفطر ناسياً أو جاهلاً أو غير قاصد

ثم هذه المفطرات لا تفطِّر إلا إذا تناولها الإنسان عالماً ذاكراً قاصداً.

عالماً: وضده الجاهل.

ذاكراً: وضده الناسي.

قاصداً: وضده غير القاصد.

فلو أن الإنسان أكل وشرب يظن أن الفجر لم يطلع فتبين أنه طالع فليس عليه قضاء، بل صومه صحيح، لأنه جاهل ولو أكل ناسياً فصومه صحيح، ولو أكل مكرهاً أتاه إنسان وهدده بالحبس أو بالقتل أو بضرب يؤلمه، حتى أكل فلا قضاء عليه وصومه صحيح، وكذلك لو تمضمض ودخل الماء إلى جوفه بدون قصد فصومه صحيح، لأنه غير قاصد.

ما هو الدليل على أن الجاهل والناسي وغير القاصد لا يفطر؟ الدليل عموم وخصوص، أي: هناك أدلة عامة وأدلة خاصة، وأنا أقول لكم: الأدلة العامة يجب إبقاؤها على عمومها فلا يخرج منها أي صورة إلا بدليل، هذا أيضاً خذوها: الأدلة العامة يجب إبقاؤها على عمومها فلا يخرج منها أي صورة، أي: ما يخرج منها أي شيء إلا بدليل، لأن كلام الله عز وجل وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم محكم جاء باللغة العربية، فما كان داخلاً تحت الدلالة فإنه باقٍ على ما دل عليه اللفظ إلا بدليل.

الأدلة العامة: قوله تعالى: {رَبَّنَا لا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا} [البقرة:286] في أي شيء؟ لا تؤاخذني في أي شيء؟ في كل شيء يقع منا خطأ أو نسيان فلا تؤاخذنا فيه (قال الله: قد فعلت) هذه القاعدة العامة العظيمة من الله عز وجل إذا ادعى إنسان أن شيئاً خارجاً منها قلنا له: عليك الدليل.

دليل آخر من القرآن: {وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ مَا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ} [الأحزاب:5] .

إذاً ما لا نقصده فليس علينا جناح فيه ما وقع منا بغير قصد فليس علينا جناح فيه: {وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ مَا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ} [الأحزاب:5] .

هناك أدلة خاصة في مسألة الأكل جاهلاً أو ناسياً عدي بن حاتم رضي الله عنه أراد أن يصوم، فجعل تحت وسادته عقالين يعني: حبلين يعقل بهما البعير، وجعل يأكل ويشرب وينظر إلى العقالين الأسود والأبيض، لما تبين الأسود من الأبيض أمسك ظناً منه أن قوله تعالى: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ} [البقرة:187] أن المراد به الخيط الحبل، فلما أصبح أخبر النبي صلى الله عليه وسلم، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: (ذلك بياض النهار وسواد الليل) ولم يأمره بالإعادة مع أن الذي يأكل حتى يبين العقال الأسود والأبيض سوف يأكل وقد ارتفع النهار وقد ارتفع الفجر، لم يأمره بالإعادة لأنه جاهل بالحكم، يظن أن هذا معنى الآية.

أيضاً الجاهل بالوقت يظن أن الوقت وقت إفطار وقت أكل وليس كذلك، ما رواه البخاري عن أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنهما قالت: أفطرنا في يوم غيمٍ على عهد النبي صلى الله عليه وسلم ثم ظهرت الشمس، أكلوا وأفطروا في يوم غيم ظن منهم أن الشمس قد غربت، وبعد ذلك ظهرت الشمس إذاً أكلوا في النهار، لكن جهلاً منهم، جهلاً بالوقت، ما علموا أن الشمس لم تغرب، ولم يأمر النبي صلى الله عليه وسلم بالقضاء، ما أمرهم، لو كان القضاء واجباً لأمرهم به كما أمر الذي أساء في صلاته قال له: (صل فإنك لم تصل) لو كان القضاء واجباً لأمرهم به، ولو أمرهم به لنقل إليه لا يمكن أن يترك؛ لأنه لو أمر به لكان من الشرع، والشرع محفوظ لابد أن يصل إلى آخر الأمة كما وصل إلى أولهم.

إذاً نقول: لا قضاء، وكما أن هذا مقتضى دلالة الحديث، فهو أيضاً مقتضى الأدلة العامة، {رَبَّنَا لا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا} ربنا لا تؤاخذنا إن نسينا أو أخطأنا، وهو كذلك مقتضى القياس على ما صح به الحديث: (من نسي وهو صائم فأكل أو شرب فليتم صومه فإنما أطعمه الله وسقاه) والجهل والنسيان صنوان، يعني: قرينان فإذا عفي عن الإنسان بالنسيان، عفي عنه في جهل ولا فرق.

أما عدم القصد فيؤخذ من قوله تعالى: {مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْأِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْراً فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ} [النحل:106] ووجه الأخذ من هذه الآية أن الله رفع حكم الكفر عمن أكره عليه فما دون الكفر من معاصي من باب أولى، كما جاء في الحديث أيضاً أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (إن الله تجاوز عن أمتي الخطأ والنسيان وما استكرهوا عليه) .

هذه لمحة وجيزة سريعة فيما يتعلق بالمفطِّرات ولكن يجب أن نعلم أن الإنسان مأمور بالصوم عن أمرين عن أمور حسية وهي هذه المفطرات، وعن أمور معنوية وهي قول الزور والعمل به والجهل، فعلينا أن نحفظ صيامنا حتى يكون نافعاً مؤثراً، وحتى نتربى به، فلا يخرج رمضان إلا وقد تأثرنا بهذا الصوم، نسأل الله أن يعيننا وإياكم على ذكره وشكره وحسن عبادته.
ভুলে, না জেনে অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গকারীর বিধান

অতঃপর এই রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলো কেবল তখনই রোজা নষ্ট করবে যখন মানুষ তা জেনে, মনে রেখে এবং স্বেচ্ছায় করবে।

জেনে: এর বিপরীত হলো অজ্ঞতা।

মনে রেখে: এর বিপরীত হলো ভুলে যাওয়া।

স্বেচ্ছায়: এর বিপরীত হলো অনিচ্ছাকৃত।

যদি কোনো ব্যক্তি পানাহার করে এই মনে করে যে এখনও ফজর হয়নি, অতঃপর প্রকাশ পায় যে ফজর হয়ে গিয়েছিল, তবে তার উপর কাজা নেই, বরং তার রোজা সঠিক; কারণ সে অজ্ঞ ছিল। আর যদি ভুলে পানাহার করে তবে তার রোজা সঠিক। আর যদি বাধ্য হয়ে পানাহার করে—যেমন কেউ এসে তাকে জেল, হত্যা বা যন্ত্রণাদায়ক মারধরের হুমকি দিল, ফলে সে আহার করল—তবে তার উপর কোনো কাজা নেই এবং তার রোজা সঠিক। তেমনিভাবে যদি কুলি করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে পেটে পানি ঢুকে যায়, তবে তার রোজা সঠিক; কারণ সে এটি স্বেচ্ছায় করেনি।

অজ্ঞ, বিস্মৃত এবং অনিচ্ছাকৃত ব্যক্তির রোজা কেন ভঙ্গ হয় না তার দলিল কী? দলিল হলো সাধারণ ও বিশেষ। অর্থাৎ, এখানে সাধারণ দলিলও আছে আবার বিশেষ দলিলও আছে। আমি আপনাদের বলছি: সাধারণ দলিলগুলোকে সেগুলোর ব্যাপকতার উপরেই রাখা ওয়াজিব, দলিল ছাড়া সেখান থেকে কোনো সুরত বা অবস্থাকে বের করা যাবে না। এটিও আপনারা মনে রাখুন: সাধারণ দলিলগুলোকে সেগুলোর ব্যাপকতার উপরেই রাখতে হবে, ফলে সেখান থেকে কোনো কিছুই বের করা যাবে না দলিল ছাড়া। কারণ আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী অত্যন্ত সুসংহত যা আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং যা এই দলিলের অর্থের অন্তর্ভুক্ত, তা সেই শব্দের অর্থের উপরেই বহাল থাকবে যতক্ষণ না ভিন্ন কোনো দলিল পাওয়া যায়।

সাধারণ দলিলসমূহ: আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না} [আল-বাকারা: ২৮৬]। কোন বিষয়ে? কোন বিষয়ে পাকড়াও না করার কথা বলা হয়েছে? আমাদের থেকে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ভুল বা বিস্মৃতিতে আমাদের পাকড়াও করবেন না (আল্লাহ বললেন: আমি তা কবুল করলাম)। এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি মহান সাধারণ মূলনীতি। যদি কেউ দাবি করে যে কোনো কিছু এর বাইরে, তবে আমরা তাকে বলব: আপনাকে দলিল পেশ করতে হবে।

কুরআন থেকে অপর দলিল: {তোমরা যা ভুলবশত করে ফেল তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই, কিন্তু তোমাদের অন্তর যা স্বেচ্ছায় করে (তাতে গুনাহ রয়েছে)} [আল-আহজাব: ৫]।

সুতরাং যা আমরা স্বেচ্ছায় করি না, তাতে আমাদের কোনো গুনাহ নেই। যা আমাদের থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটে যায় তাতে কোনো গুনাহ নেই: {তোমরা যা ভুলবশত করে ফেল তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই, কিন্তু তোমাদের অন্তর যা স্বেচ্ছায় করে (তাতে গুনাহ রয়েছে)} [আল-আহজাব: ৫]।

না জেনে বা ভুলে আহার করার মাসআলায় কিছু বিশেষ দলিল রয়েছে। আদি ইবনে হাতিম রাদিয়াল্লাহু আনহু রোজা রাখার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি তাঁর বালিশের নিচে দুটি রশি রাখলেন—অর্থাৎ উট বাঁধার দুটি রশি। তিনি খেতে ও পান করতে থাকলেন এবং কালো ও সাদা রশি দুটির দিকে তাকাচ্ছিলেন। যখন কালোর থেকে সাদা রশিটি স্পষ্ট হলো, তখন তিনি পানাহার বন্ধ করলেন। তিনি মনে করেছিলেন যে আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না তোমাদের জন্য ফজরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়} [আল-বাকারা: ১৮৭]—এখানে সুতা বলতে প্রকৃত রশি বোঝানো হয়েছে। সকাল হলে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিষয়টি জানালেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন: (সেটি হলো দিনের শুভ্রতা এবং রাতের অন্ধকার)। তিনি তাঁকে পুনরায় রোজা রাখার নির্দেশ দেননি, অথচ যে ব্যক্তি কালো ও সাদা রশি স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত আহার করে, সে নিশ্চিতভাবেই ফজরের পর এবং দিন উঠে যাওয়ার পর আহার করেছে। তাঁকে পুনরায় রোজা রাখার নির্দেশ দেননি কারণ তিনি বিধানটি সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন, তিনি মনে করেছিলেন এটিই আয়াতের অর্থ।

তেমনিভাবে সময় সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তি মনে করে যে এটি ইফতার বা পানাহারের সময়, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। ইমাম বুখারি আসমা বিনতে আবি বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে একদিন মেঘাচ্ছন্ন দিনে আমরা ইফতার করলাম, এরপর সূর্য দেখা দিল। তারা মেঘলা দিনে সূর্য ডুবে গেছে মনে করে পানাহার ও ইফতার করেছিলেন, কিন্তু এর পরপরই সূর্য দেখা দিল। তার মানে তারা দিনের বেলা আহার করেছিলেন। কিন্তু এটি ছিল তাদের অজ্ঞতাবশত, সময় সম্পর্কে অজ্ঞতা। তারা জানতেন না যে সূর্য তখনও ডুবেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাজা করার নির্দেশ দেননি। তিনি নির্দেশ দেননি; যদি কাজা ওয়াজিব হতো তবে তিনি অবশ্যই তাদের নির্দেশ দিতেন, যেমনটি তিনি নামাজে ভুলকারী ব্যক্তিকে বলেছিলেন: (ফিরে গিয়ে নামাজ পড়ো, কারণ তোমার নামাজ হয়নি)। যদি কাজা ওয়াজিব হতো তবে তিনি তাদের নির্দেশ দিতেন, আর যদি তিনি নির্দেশ দিতেন তবে তা আমাদের পর্যন্ত বর্ণিত হতো, তা বাদ পড়া সম্ভব ছিল না। কারণ তিনি যদি নির্দেশ দিতেন তবে তা শরয়ি বিধানে পরিণত হতো, আর শরয়ি বিধান সংরক্ষিত থাকে, তা উম্মতের প্রথমাংশের কাছে যেভাবে পৌঁছেছে শেষাংশ পর্যন্ত সেভাবেই পৌঁছানো আবশ্যক।

সুতরাং আমরা বলি: কোনো কাজা নেই। যেমনটি এই হাদিসের দাবি, তেমনি এটি সাধারণ দলিলগুলোরও দাবি: {হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না}। তেমনি এটি সহিহ হাদিসের ওপর কিয়াসেরও দাবি: (যে ব্যক্তি রোজা থাকা অবস্থায় ভুলে পানাহার করল, সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। কারণ আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন এবং পান করিয়েছেন)। এখানে অজ্ঞতা এবং বিস্মৃতি সমগোত্রীয়, অর্থাৎ দুটিই পরস্পরের সমতুল্য। সুতরাং মানুষকে যদি বিস্মৃতির কারণে ক্ষমা করা হয়, তবে অজ্ঞতার কারণেও তাকে ক্ষমা করা হবে এবং এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

আর অনিচ্ছাকৃত হওয়ার বিষয়টি আল্লাহ তাআলার এই বাণী থেকে গৃহীত: {যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহর সাথে কুফরি করে—তবে তার ওপর আল্লাহর ক্রোধ এবং তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি—অবশ্যই সে নয় যাকে বাধ্য করা হয়েছে অথচ তার অন্তর ঈমানে অটল, বরং সে-ই যে কুফরিকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করেছে} [আন-নাহল: ১০৬]। এই আয়াত থেকে দলিল গ্রহণের দিকটি হলো, আল্লাহ তাআলা বাধ্য হওয়া ব্যক্তির ওপর থেকে কুফুরির বিধান তুলে নিয়েছেন, সুতরাং কুফুরির চেয়ে ছোট মাপের গুনাহের ক্ষেত্রে তো এটি আরও অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। যেমন হাদিসেও এসেছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুলভ্রান্তি, বিস্মৃতি এবং যা করতে তারা বাধ্য হয় তা ক্ষমা করে দিয়েছেন)।

রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে এটি ছিল একটি সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত আলোকপাত। তবে আমাদের জানা উচিত যে, মানুষকে দুটি বিষয়ে রোজা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: বাহ্যিক বা ইন্দ্রিয়গত বিষয় থেকে—যা হলো এই রোজা ভঙ্গকারী বস্তুসমূহ; এবং আত্মিক বা অর্থগত বিষয় থেকে—যা হলো মিথ্যা বলা, তদনুযায়ী আমল করা এবং মূর্খতা। অতএব আমাদের উচিত আমাদের রোজাকে হেফাজত করা যাতে তা উপকারী ও ফলপ্রসূ হয় এবং যাতে আমরা এর মাধ্যমে প্রশিক্ষিত হতে পারি। রমজান যেন এমনভাবে শেষ না হয় যে আমরা এই রোজা দ্বারা প্রভাবিত হইনি। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের ও আপনাদের তাঁর জিকির, শোকর এবং উত্তম ইবাদত করার তৌফিক দান করেন।
(খণ্ড: ২) জালাসাতুন রামাদানিয়্যাহ লিল-উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الأسئلة
প্রশ্নাবলি