(খণ্ড: ১)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: -)
المحلى بالآثار القسم: الفقه العام
الكتاب: المُحلَّى بالآثار
المؤلف: أبو محمد، علي بن أحمد بن سعيد بن حزم الأندلسي [الظاهري، ت 456 هـ]
وقد أتم ابنُ حزم منه 10 مجلدات حسب هذه الطبعة ثم تُوفّي، فأُكمِل بقيتُه (جـ 11 - 12) مِن كتابه "الإيصال" الذي اختصر منه "المحلى" (جـ 11 - 12)
المحقق: د. عبد الغفار سليمان البنداري، وكتب مقدمتها سنة 1405 هـ - 1984 م
الناشر: دار الفكر - بيروت، دون تاريخ نشر (!)
وطَبَعتْها أيضا: دار الكتب العلمية - بيروت، سنة 1408 هـ - 1988 م (بنفس الحرف وترقيم الصفحات!)، ثم أعادت طبعها تصويرا مرارا بتواريخ لاحقة
عدد الأجزاء: 12
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মুহাল্লা বিল আসার বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: আল-মুহাল্লা বিল আসার
লেখক: আবু মুহাম্মদ، আলী ইবনে আহমাদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি [আজ-জাহিরি، মৃত্যু ৪৫৬ হি.]
এই সংস্করণ অনুযায়ী ইবনে হাজম এর ১০ খণ্ড সম্পন্ন করেছিলেন এবং এরপর তিনি মৃত্যুবরণ করেন، ফলে এর অবশিষ্টাংশ (খণ্ড ১১ - ১২) তাঁর "আল-ঈসাল" গ্রন্থ থেকে পূর্ণ করা হয়েছে যা থেকে তিনি "আল-মুহাল্লা" (খণ্ড ১১ - ১২) সংক্ষেপ করেছিলেন
সম্পাদক: ড. আব্দুল গাফফার সুলাইমান আল-বান্দারি، এবং তিনি এর ভূমিকা লিখেছেন ১৪০৫ হি. - ১৯৮৪ খ্রি. সালে
প্রকাশক: দার আল-ফিকর - বৈরুত، প্রকাশের তারিখ বিহীন (!)
এটি আরও ছেপেছে: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত، ১৪০৮ হি. - ১৯৮৮ খ্রি. সালে (একই ফন্ট এবং পৃষ্ঠা নম্বর সহ!)، এরপর তারা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন তারিখে বারবার এটি পুনর্মুদ্রণ করেছে
খণ্ড সংখ্যা: ১২
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٢١)
[خِطْبَة المؤلف وَمَوْضُوع الْكتاب]بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ. قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ حَزْمٍ رضي الله عنه: الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ خَاتَمِ النَّبِيِّينَ وَالْمُرْسَلِينَ، وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا وَنَسْأَلُ اللَّهَ تَعَالَى أَنْ يُصْحِبَنَا الْعِصْمَةَ مِنْ كُلِّ خَطَإٍ وَزَلَلٍ، وَيُوَفِّقَنَا لِلصَّوَابِ فِي كُلِّ قَوْلٍ وَعَمَلٍ. آمِينَ آمِينَ.
(أَمَّا بَعْدُ) وَفَّقَنَا اللَّهُ وَإِيَّاكُمْ لِطَاعَتِهِ، فَإِنَّكُمْ رَغِبْتُمْ أَنْ نَعْمَلَ لِلْمَسَائِلِ الْمُخْتَصَرَةِ الَّتِي جَمَعْنَاهَا فِي كِتَابِنَا الْمَوْسُومِ " بِالْمُحَلَّى " شَرْحًا مُخْتَصَرًا أَيْضًا، نَقْتَصِرُ فِيهِ عَلَى قَوَاعِدِ الْبَرَاهِينِ بِغَيْرِ إكْثَارٍ، لِيَكُونَ مَأْخَذُهُ سَهْلًا عَلَى الطَّالِبِ وَالْمُبْتَدِئِ، وَدَرَجًا لَهُ إلَى التَّبَحُّرِ فِي الْحِجَاجِ وَمَعْرِفَةِ الِاخْتِلَافِ وَتَصْحِيحِ الدَّلَائِلِ الْمُؤَدِّيَةِ إلَى مَعْرِفَةِ الْحَقِّ مِمَّا تَنَازَعَ النَّاسُ فِيهِ وَالْإِشْرَافِ عَلَى أَحْكَامِ الْقُرْآنِ وَالْوُقُوفِ عَلَى جَمْهَرَةِ السُّنَنِ الثَّابِتَةِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَمْيِيزِهَا مِمَّا لَمْ يَصِحَّ، وَالْوُقُوفِ عَلَى الثِّقَاتِ مِنْ رُوَاةِ الْأَخْبَارِ وَتَمْيِيزِهِمْ مِنْ غَيْرِهِمْ وَالتَّنْبِيهِ عَلَى فَسَادِ الْقِيَاسِ وَتَنَاقُضِهِ وَتَنَاقُضِ الْقَائِلِينَ بِهِ، فَاسْتَخَرْتُ اللَّهَ عز وجل عَلَى عَمَلِ ذَلِكَ، وَاسْتَعَنْته تَعَالَى عَلَى الْهِدَايَةِ إلَى نَصْرِ الْحَقِّ، وَسَأَلْته التَّأْيِيدَ عَلَى بَيَانِ ذَلِكَ وَتَقْرِيبِهِ، وَأَنْ يَجْعَلَهُ لِوَجْهِهِ خَالِصًا وَفِيهِ مَحْضًا آمِينَ آمِينَ رَبَّ الْعَالَمِينَ. وَلْيَعْلَمْ مَنْ قَرَأَ كِتَابَنَا هَذَا أَنَّنَا لَمْ نَحْتَجَّ إلَّا بِخَبَرٍ صَحِيحٍ مِنْ رِوَايَةِ الثِّقَاتِ مُسْنَدٍ وَلَا خَالَفْنَا إلَّا خَبَرًا ضَعِيفًا فَبَيَّنَّا ضَعْفَهُ، أَوْ مَنْسُوخًا فَأَوْضَحْنَا نَسْخَهُ. وَمَا تَوْفِيقُنَا إلَّا بِاَللَّهِ تَعَالَى.
[লেখকের ভূমিকা এবং কিতাবের বিষয়বস্তু]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর। আলী ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাযম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের মোহর মুহাম্মাদের ওপর। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সকল ভুল ও বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করেন এবং প্রতিটি কথা ও কাজে সঠিক পথের তাওফীক দান করেন। আমীন, আমীন।
(অতঃপর) আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদেরকে তাঁর আনুগত্যের তাওফীক দান করুন। আপনারা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যেন আমরা আমাদের "আল-মুহাল্লা" নামক গ্রন্থে সংকলিত সংক্ষিপ্ত মাসআলাগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রস্তুত করি, যেখানে আমরা বাহুল্য বর্জন করে কেবল দলীল-প্রমাণের মূলনীতিসমূহের ওপর সীমাবদ্ধ থাকব; যাতে শিক্ষার্থী ও নতুনদের জন্য তা সহজসাধ্য হয় এবং বিতর্কিত বিষয়গুলোতে সত্য উদ্ঘাটন, মতভেদ জানা এবং সঠিক দলীলসমূহ যাচাইয়ের মাধ্যমে ইলমের গভীরে প্রবেশের একটি সোপান হয়। আর যেন এর মাধ্যমে কুরআনের বিধানসমূহ অনুধাবন করা যায় এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত প্রমাণিত সুন্নাহর বিশাল ভাণ্ডার সম্পর্কে অবগত হওয়া ও সেগুলোকে যঈফ বর্ণনা থেকে পৃথক করা যায়, এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের পরিচয় লাভ ও অন্যদের থেকে তাঁদেরকে পৃথক করা সম্ভব হয়, সেই সাথে কিয়াসের অসারতা ও স্ববিরোধিতা এবং এর প্রবক্তাদের বৈপরীত্যের বিষয়ে সচেতন হওয়া যায়। তাই আমি এই কাজের জন্য মহামহিমান্বিত আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং সত্যের সাহায্যের নিমিত্তে হিদায়াতের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি। আমি তাঁর কাছে এ বিষয়টি স্পষ্ট ও সহজ করার জন্য সাহায্য চেয়েছি এবং প্রার্থনা করেছি যেন তিনি একে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আমীন, আমীন, হে জগতসমূহের প্রতিপালক। আমাদের এই গ্রন্থ যে ব্যক্তি পাঠ করবেন তিনি যেন জেনে রাখেন যে, আমরা নির্ভরযোগ্য রাবীদের মাধ্যমে বর্ণিত মুসনাদ সহীহ হাদীস ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা দলীল পেশ করিনি। আর আমরা কেবল সেসব হাদীসেরই বিরোধিতা করেছি যা দুর্বল—যার দুর্বলতা আমরা স্পষ্ট করেছি, অথবা যা রহিত—যার নাসেখ হওয়ার বিষয়টি আমরা ব্যাখ্যা করেছি। আমাদের তাওফীক কেবল আল্লাহর সাহায্যেই।
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
[كِتَابُ التَّوْحِيدِ] [
مَسْأَلَة بَيَان أَوَّل مَا يَلْزَم كُلّ أَحَد وَلَا يَصِحّ الْإِسْلَام إلَّا بِهِ]ِ 1 - مَسْأَلَةٌ: قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ رضي الله عنه: أَوَّلُ مَا يَلْزَمُ كُلَّ أَحَدٍ وَلَا يَصِحُّ الْإِسْلَامُ إلَّا بِهِ أَنْ يَعْلَمَ الْمَرْءُ بِقَلْبِهِ عِلْمَ يَقِينٍ وَإِخْلَاصٍ لَا يَكُونُ لِشَيْءٍ مِنْ الشَّكِّ فِيهِ أَثَرٌ وَيَنْطِقَ بِلِسَانِهِ وَلَا بُدَّ بِأَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ. بُرْهَانُ ذَلِكَ: مَا حَدَّثَنَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ نا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ نا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى نا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ نا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ نا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ نا أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامٍ نا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ نا رَوْحٌ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَيُؤْمِنُوا بِي وَبِمَا جِئْتُ بِهِ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إلَّا بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ» .
وَقَدْ رَوَى مَعْنَى هَذَا مُسْنَدًا مُعَاذٌ وَابْنُ عَبَّاسٍ وَغَيْرُهُمْ.
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [آل عمران: 85] وَهُوَ قَوْلُ جَمِيعِ الصَّحَابَةِ وَجَمِيعِ أَهْلِ الْإِسْلَامِ. وَأَمَّا وُجُوبُ عَقْدِ ذَلِكَ بِالْقَلْبِ فَلِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَمَا أُمِرُوا إِلا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} [البينة: 5] . وَالْإِخْلَاصُ فِعْلُ النَّفْسِ. وَأَمَّا وُجُوبُ النُّطْقِ بِاللِّسَانِ، فَإِنَّ الشَّهَادَةَ بِذَلِكَ الْمُخْرِجَةُ لِلدَّمِ وَالْمَالِ مِنْ التَّحْلِيلِ إلَى التَّحْرِيمِ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا تَكُونُ إلَّا بِاللِّسَانِ ضَرُورَةً.
2 - مَسْأَلَةٌ: قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: وَتَفْسِيرُ هَذِهِ الْجُمْلَةِ: هُوَ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى إلَهُ كُلِّ شَيْءٍ دُونَهُ، وَخَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ دُونَهُ. بُرْهَانُ ذَلِكَ: أَنَّ الْعَالَمَ بِكُلِّ مَا فِيهِ ذُو زَمَانٍ لَمْ يَنْفَكَّ عَنْهُ قَطُّ، وَلَا يُتَوَهَّمُ وَلَا يُمْكِنُ أَنْ يَخْلُوَ الْعَالَمُ عَنْ زَمَانٍ. وَمَعْنَى الزَّمَانِ هُوَ مُدَّةُ
[তাওহিদ অধ্যায়] [প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর সর্বপ্রথম যা আবশ্যক এবং যা ব্যতীত ইসলাম বিশুদ্ধ হয় না তার বর্ণনা সংক্রান্ত মাসআলা]১ - মাসআলা: আবু মুহাম্মদ (রা.) বলেন: প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর সর্বপ্রথম যা আবশ্যক এবং যা ব্যতীত ইসলাম বিশুদ্ধ হয় না তা হলো, মানুষ তার অন্তরে সুনিশ্চিত জ্ঞান ও একনিষ্ঠতার সাথে এ কথা জানবে যাতে সন্দেহের সামান্যতম প্রভাব থাকবে না, এবং অবশ্যই জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণ করবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল। এর প্রমাণ হলো: যা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, তিনি আহমদ ইবনে ফাতহ থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহহাব ইবনে ঈসা থেকে, তিনি আহমদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আহমদ ইবনে আলি থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ থেকে, তিনি উমাইয়া ইবনে বিসতাম থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে জুরাই থেকে, তিনি রাওহ থেকে, তিনি আলা ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ইয়াকুব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এবং তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: «আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং তারা আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান আনে। তারা যখন তা করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নিল, তবে ইসলামের হক ব্যতীত; আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়»।
আর মুয়াজ, ইবনে আব্বাস এবং অন্যান্যরাও মুসনাদ হিসেবে এই মর্মার্থ বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন তালাশ করবে, তবে তার থেকে তা গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} [আলে ইমরান: ৮৫]। আর এটিই সকল সাহাবি এবং সকল আহলে ইসলামের বক্তব্য। আর অন্তরে তা বিশ্বাস করার আবশ্যকতা হলো আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {আর তাদেরকে কেবল এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে} [আল-বাইয়্যিনাহ: ৫]। আর ইখলাস বা একনিষ্ঠতা হলো আত্মার কাজ। আর জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণের আবশ্যকতা হলো, এই সাক্ষ্য প্রদানই রক্ত ও সম্পদকে বৈধতা থেকে হারামে (নিরাপত্তায়) নিয়ে আসে, যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন; আর এটি অপরিহার্যভাবেই কেবল জিহ্বা দ্বারাই হওয়া সম্ভব।
২ - মাসআলা: আবু মুহাম্মদ বলেন: এই বিষয়টির ব্যাখ্যা হলো: আল্লাহ তাআলা হলেন তিনি ছাড়া অন্য সবকিছুর ইলাহ (উপাস্য) এবং তিনি ছাড়া অন্য সবকিছুর স্রষ্টা। এর প্রমাণ হলো: এই মহাবিশ্ব তার ভেতরে থাকা সবকিছু সহ সময়ের অধীন, যা থেকে সে কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি। সময় ব্যতিরেকে মহাবিশ্বের অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায় না এবং তা সম্ভবও নয়। আর সময়ের অর্থ হলো এমন এক সময়কাল...
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
بَقَاءِ الْجِسْمِ مُتَحَرِّكًا أَوْ سَاكِنًا وَمُدَّةُ وُجُودِ الْعَرَضِ فِي الْجِسْمِ، وَإِذْ الزَّمَانُ مُدَّةٌ كَمَا ذَكَرْنَا فَهُوَ عَدَدٌ مَعْدُودٌ، وَيَزِيدُ بِمُرُورِهِ وَدَوَامِهِ، وَالزِّيَادَةُ لَا تَكُونُ أَلْبَتَّةَ إلَّا فِي ذِي مَبْدَأٍ وَنِهَايَةٍ مِنْ أَوَّلِهِ إلَى مَا زَادَ فِيهِ. وَالْعَدَدُ أَيْضًا ذُو مَبْدَأٍ وَلَا بُدَّ، وَالزَّمَانُ مُرَكَّبٌ بِلَا شَكٍّ مِنْ أَجْزَائِهِ، وَكُلُّ جُزْءٍ مِنْ أَجْزَاءِ الزَّمَانِ فَهُوَ بِيَقِينٍ ذُو نِهَايَةٍ مِنْ أَوَّلِهِ وَمُنْتَهَاهُ وَالْكُلُّ لَيْسَ هُوَ شَيْئًا غَيْرَ أَجْزَائِهِ، وَأَجْزَاؤُهُ كُلُّهَا ذَاتُ مَبْدَأٍ، فَهُوَ كُلُّهُ ذُو مَبْدَأٍ ضَرُورَةً، فَلَمَّا كَانَ الزَّمَانُ لَا بُدَّ لَهُ مِنْ مَبْدَأٍ ضَرُورَةً، وَكَانَ الْعَالَمُ كُلُّهُ لَا يَنْفَكُّ عَنْ زَمَانٍ وَالزَّمَانُ ذُو مَبْدَأٍ، فَمَا لَمْ يَتَقَدَّمْ ذَا الْمَبْدَأِ فَهُوَ ذُو مَبْدَأٍ وَلَا بُدَّ، فَالْعَالَمُ كُلُّهُ جَوْهَرُهُ وَعَرَضُهُ ذُو مَبْدَأٍ وَإِذْ هُوَ ذُو مَبْدَأٍ فَهُوَ مُحْدَثٌ، وَالْمُحْدَثُ يَقْتَضِي مُحْدِثًا ضَرُورَةً إذْ لَا يُتَوَهَّمُ أَصْلًا وَلَا يُمْكِنُ مُحْدَثٌ إلَّا وَلَهُ مُحْدِثٌ، فَالْعَالَمُ كُلُّهُ مَخْلُوقٌ وَلَهُ خَالِقٌ لَمْ يَزَلْ، وَهُوَ مَلِكُ كُلِّ مَا خَلَقَ، فَهُوَ إلَهُ كُلِّ مَا خَلَقَ وَمُخْتَرِعُهُ لَا إلَهَ إلَّا هُوَ.
[مَسْأَلَة فِي بَيَان أَنْ اللَّه تَعَالَى وَاحِد لَمْ يزل وَلَا يزال]3 - مَسْأَلَةٌ: قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: هُوَ اللَّهُ لَا إلَهَ إلَّا هُوَ، وَأَنَّهُ تَعَالَى وَاحِدٌ لَمْ يَزَلْ وَلَا يَزَالُ. بُرْهَانُ ذَلِكَ: أَنَّهُ لَمَّا صَحَّ ضَرُورَةً أَنَّ الْعَالَمَ كُلَّهُ مَخْلُوقٌ وَأَنَّ لَهُ خَالِقًا وَجَبَ أَنْ لَوْ كَانَ الْخَالِقُ أَكْثَرَ مِنْ وَاحِدٍ أَنْ يَكُونَ قَدْ حَصَرَهُمَا الْعَدَدُ، وَكُلُّ مَعْدُودٍ فَذُو نِهَايَةٍ كَمَا ذَكَرْنَا، وَكُلُّ ذِي نِهَايَةٍ فَمُحْدَثٌ. وَأَيْضًا فَكُلُّ اثْنَيْنِ فَهُمَا غَيْرَانِ، وَكُلُّ غِيَرَيْنِ فَفِيهِمَا أَوْ فِي أَحَدِهِمَا مَعْنًى مَا صَارَ بِهِ غَيْرَ الْآخَرِ، فَعَلَى هَذَا كَانَ يَكُونُ أَحَدُهُمَا وَلَا بُدَّ مُرَكَّبًا مِنْ ذَاتِهِ وَمِمَّا غَايَرَ بِهِ الْآخَرَ، وَإِذَا كَانَ مُرَكَّبًا فَهُوَ مَخْلُوقٌ مُدَبَّرٌ فَبَطَلَ كُلُّ ذَلِكَ وَعَادَ الْأَمْرُ إلَى وُجُوبِ أَنَّهُ وَاحِدٌ وَلَا بُدَّ، وَأَنَّهُ بِخِلَافِ خَلْقِهِ مِنْ جَمِيعِ الْوُجُوهِ، وَالْخَلْقُ كَثِيرٌ مُحْدَثٌ، فَصَحَّ أَنَّهُ تَعَالَى بِخِلَافِ ذَلِكَ، وَأَنَّهُ وَاحِدٌ لَمْ يَزَلْ، إذْ لَوْ لَمْ يَكُنْ كَذَلِكَ لَكَانَ مِنْ جُمْلَةِ الْعَالَمِ - تَعَالَى اللَّهُ عَنْ ذَلِكَ - قَالَ تَعَالَى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى: 11] وَقَالَ تَعَالَى: {وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص: 4] .
[مَسْأَلَة فِي بَيَان أَنْ اللَّه خلق كُلّ شَيْء لِغَيْرِ عِلَّة وبرهان ذَلِكَ]4 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّهُ خَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ لِغَيْرِ عِلَّةٍ أَوْجَبَتْ عَلَيْهِ أَنْ يَخْلُقَ. بُرْهَانُ ذَلِكَ أَنَّهُ لَوْ فَعَلَ شَيْئًا مِمَّا فَعَلَ لِعِلَّةٍ لَكَانَتْ تِلْكَ الْعِلَّةُ إمَّا لَمْ تَزَلْ مَعَهُ وَإِمَّا مَخْلُوقَةً مُحْدَثَةً وَلَا سَبِيلَ إلَى قِسْمٍ ثَالِثٍ، فَلَوْ كَانَتْ لَمْ تَزَلْ مَعَهُ لَوَجَبَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئَانِ مُمْتَنِعَانِ: أَحَدُهُمَا أَنَّ مَعَهُ تَعَالَى غَيْرَهُ لَمْ يَزَلْ، فَكَانَ يُبْطِلُ التَّوْحِيدَ الَّذِي قَدْ أَبَنَّا بُرْهَانَهُ آنِفًا؛ وَالثَّانِي أَنَّهُ كَانَ يَجِبُ إذْ كَانَتْ عِلَّةُ الْخَلْقِ لَمْ تَزَلْ أَنْ يَكُونَ الْخَلْقُ لَمْ يَزَلْ، لِأَنَّ الْعِلَّةَ لَا تُفَارِقُ الْمَعْلُولَ، وَلَوْ فَارَقَتْهُ لَمْ تَكُنْ عِلَّةً لَهُ، وَقَدْ أَوْضَحْنَا آنِفًا بُرْهَانَ وُجُوبِ حُدُوثِ الْعَالَمِ كُلِّهِ. وَأَيْضًا فَلَوْ كَانَتْ هَهُنَا عِلَّةٌ مُوجِبَةٌ عَلَيْهِ تَعَالَى أَنْ يَفْعَلَ مَا فَعَلَ لَكَانَ مُضْطَرًّا
শরীরের গতিশীল বা স্থির থাকা এবং শরীরে আকস্মিক গুণের (আরাজ) বিদ্যমান থাকার সময়কাল। যেহেতু সময় হচ্ছে একটি সময়সীমা যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি, সুতরাং এটি একটি গণনাযোগ্য সংখ্যা। এটি অতিবাহিত হওয়া এবং স্থায়িত্বের সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়। আর বৃদ্ধি অবশ্যই শুরু এবং শেষ বিশিষ্ট বস্তুর মধ্যেই ঘটে থাকে, যা তার শুরু থেকে যা বৃদ্ধি পেয়েছে তা পর্যন্ত বিস্তৃত। সংখ্যাও অবশ্যই শুরু বিশিষ্ট। আর সময় নিঃসন্দেহে তার অংশসমূহ দ্বারা গঠিত। সময়ের প্রতিটি অংশ নিশ্চিতভাবেই তার শুরু ও শেষ অনুযায়ী সসীম। আর সমষ্টি তার অংশগুলো ছাড়া অন্য কিছু নয়। যেহেতু এর সকল অংশ শুরু বিশিষ্ট, সুতরাং অপরিহার্যভাবেই সমগ্র সময়টি শুরু বিশিষ্ট। যেহেতু সময়ের অবশ্যই একটি শুরু থাকা অপরিহার্য, এবং যেহেতু সমগ্র জগত সময় থেকে বিচ্ছিন্ন নয় আর সময় শুরু বিশিষ্ট, তাই যা এই শুরু বিশিষ্ট বিষয়টির আগে আসেনি তাও অবশ্যই শুরু বিশিষ্ট। সুতরাং সমগ্র জগত—তার সারসত্তা (জাওহার) ও আকস্মিক গুণ (আরাজ) সহ—শুরু বিশিষ্ট। আর যেহেতু এটি শুরু বিশিষ্ট, তাই এটি সৃজিত (মুহদাস)। আর সৃজিত বিষয় অপরিহার্যভাবেই একজন স্রষ্টাকে (মুহদিস) দাবি করে, কেননা স্রষ্টা ছাড়া কোনো সৃষ্টি মূলত কল্পনা করা যায় না এবং সম্ভবও নয়। সুতরাং সমগ্র জগত সৃজিত এবং এর একজন অনাদি স্রষ্টা রয়েছেন। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার সবকিছুর অধিপতি। তিনি তাঁর সকল সৃষ্টির ইলাহ এবং উদ্ভাবক, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই।
[বিষয়: আল্লাহ তাআলা এক, তিনি অনাদি ও অনন্ত—এর বর্ণনায়]৩ - মাসআলা: আবু মুহাম্মদ বলেন: তিনি আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। তিনি তাআলা এক, তিনি অনাদি ও অনন্ত। এর প্রমাণ হলো: যখন অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে সমগ্র জগত সৃজিত এবং এর একজন স্রষ্টা রয়েছেন, তখন স্রষ্টা যদি একের অধিক হতেন তবে অবশ্যই সংখ্যা তাদের সীমাবদ্ধ করত। আর প্রতিটি গণনাযোগ্য বিষয়ই সসীম, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। আর প্রতিটি সসীম বিষয়ই সৃজিত। তদুপরি, যে কোনো দুটি বস্তু একে অপরের থেকে ভিন্ন। আর দুটি ভিন্ন বস্তুর মধ্যে অথবা তাদের কোনো একটির মধ্যে এমন কোনো বৈশিষ্ট্য থাকে যার মাধ্যমে সে অপরটি থেকে ভিন্ন হয়। এই ভিত্তিতে, তাদের যে কোনো একজনকে অবশ্যই তার নিজস্ব সত্তা এবং যা দ্বারা সে অন্যজন থেকে ভিন্ন হয়েছে তার সমন্বয়ে গঠিত হতে হতো। আর যা গঠিত, তা সৃজিত ও পরিচালিত। ফলে এই সব কিছুই বাতিল হয়ে গেল এবং বিষয়টি এই অপরিহার্যতায় ফিরে এল যে, তিনি অবশ্যই এক। আর তিনি সকল দিক থেকে তাঁর সৃষ্টির বিপরীত। সৃষ্টি হচ্ছে বহু এবং সৃজিত; সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে আল্লাহ তাআলা এর বিপরীত, এবং তিনি এক ও অনাদি। কারণ তিনি যদি এমন না হতেন, তবে তিনি জগতেরই অন্তর্ভুক্ত হতেন—আল্লাহ তাআলা এ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই" [শুরা: ১১] এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই" [ইখলাস: ৪]।
[বিষয়: আল্লাহ সব কিছু কোনো কারণ ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন—এর বর্ণনায় এবং তার প্রমাণ]৪ - মাসআলা: এবং তিনি প্রতিটি বস্তু কোনো কারণ ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন যা তাঁকে সৃষ্টি করতে বাধ্য করেছে। এর প্রমাণ হলো: তিনি যা কিছু করেছেন তার কোনোটি যদি কোনো কারণের জন্য করতেন, তবে সেই কারণটি হয় তাঁর সাথে অনাদিকাল থেকে থাকত অথবা তা সৃজিত ও নব্য হতো। এর বাইরে তৃতীয় কোনো পথ নেই। যদি তা তাঁর সাথে অনাদিকাল থেকে থাকত, তবে এর দ্বারা দুটি অসম্ভব বিষয় আবশ্যক হয়ে পড়ত: প্রথমটি হলো, তাঁর সাথে অনাদিকাল থেকে অন্য কিছু থাকত, যা তাওহিদকে বাতিল করে দিত যার প্রমাণ আমরা এইমাত্র স্পষ্ট করেছি। দ্বিতীয়টি হলো, সৃষ্টির কারণ যেহেতু অনাদি, তাই সৃষ্টিকেও অনাদি হওয়া আবশ্যক হতো, কারণ কারণ (ইল্লত) তার কার্য (মা’লুল) থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না। আর যদি তা বিচ্ছিন্ন হতো তবে সেটি তার কারণ হতো না। অথচ আমরা কিছুক্ষণ আগেই সমগ্র জগতের সৃজিত হওয়ার অকাট্য প্রমাণ স্পষ্ট করেছি। তদুপরি, আল্লাহ তাআলা যা করেছেন তা করতে বাধ্য করার মতো যদি কোনো কারণ থাকত, তবে তিনি বাধ্য হতেন...
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
مَطْبُوعًا أَوْ مُدَبِّرًا مَقْهُورًا لِتِلْكَ الْعِلَّةِ، وَهَذَا خُرُوجٌ عَنْ الْإِلَهِيَّةِ، وَلَوْ كَانَتْ الْعِلَّةُ مُحْدَثَةً لَكَانَتْ وَلَا بُدَّ إمَّا مَخْلُوقَةً لَهُ تَعَالَى وَإِمَّا غَيْرَ مَخْلُوقَةٍ، فَإِنْ كَانَتْ غَيْرَ مَخْلُوقَةٍ فَقَدْ أَوْضَحْنَا آنِفًا وُجُوبَ كَوْنِ كُلِّ شَيْءٍ مُحْدَثٍ مَخْلُوقًا، فَبَطَلَ هَذَا الْقِسْمُ. وَإِنْ كَانَتْ مَخْلُوقَةً وَجَبَ وَلَا بُدَّ أَنْ تَكُونَ مَخْلُوقَةً لِعِلَّةٍ أُخْرَى أَوْ لِغَيْرِ عِلَّةٍ، فَإِنْ وَجَبَ أَنْ تَكُونَ مَخْلُوقَةً لِعِلَّةٍ أُخْرَى وَجَبَ مِثْلُ ذَلِكَ فِي الْعِلَّةِ الثَّانِيَةِ وَهَكَذَا أَبَدًا، وَهَذَا يُوجِبُ وُجُوبَ مُحْدِثِينَ لَا نِهَايَةَ لِعَدَدِهِمْ. وَهَذَا بَاطِلٌ لِمَا ذَكَرْنَا آنِفًا وَبِأَنَّ كُلَّ مَا خَرَجَ إلَى الْفِعْلِ فَقَدْ حَصَرَهُ الْعَدَدُ ضَرُورَةً بِمِسَاحَتِهِ أَوْ بِزَمَانِهِ وَلَا بُدَّ، وَكُلُّ مَا حَصَرَهُ الْعَدَدُ فَهُوَ مُتَنَاهٍ. فَبَطَلَ هَذَا الْقِسْمُ أَيْضًا وَصَحَّ مَا قُلْنَاهُ وَلِلَّهِ تَعَالَى الْحَمْدُ. وَإِنْ قَالُوا: بَلْ خُلِقَتْ الْعِلَّةُ لَا لِعِلَّةٍ. سَأَلُوا: مِنْ أَيْنَ وَجَبَ أَنْ يَخْلُقَ الْأَشْيَاءَ لِعِلَّةٍ وَيَخْلُقَ الْعِلَّةَ لَا لِعِلَّةٍ؟ وَلَا سَبِيلَ إلَى دَلِيلٍ.
[مَسْأَلَة فِي أَنْ النَّفْس مخلوقة وَأَن الرُّوح نَفْس الجسد وبرهان ذَلِكَ]5 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ النَّفْسَ مَخْلُوقَةٌ. بُرْهَانُ هَذَا: أَنَّنَا نَجِدُ الْجِسْمَ فِي بَعْضِ أَحْوَالِهِ لَا يَحُسُّ شَيْئًا وَأَنَّ الْمَرْءَ إذَا فَكَّرَ فِي شَيْءٍ مَا فَإِنَّهُ كُلَّمَا تَخَلَّى عَنْ الْجَسَدِ كَانَ أَصَحَّ لِفَهْمِهِ وَأَقْوَى لِإِدْرَاكِهِ، فَعَلِمْنَا أَنَّ الْحَسَّاسَ الْعَالِمَ الذَّاكِرَ هُوَ شَيْءٌ غَيْرُ الْجَسَدِ وَنَجِدُ الْجَسَدَ إذَا تَخَلَّى مِنْهُ ذَلِكَ الشَّيْءُ مَوْجُودًا بِكُلِّ أَعْضَائِهِ وَلَا حِسَّ لَهُ وَلَا فَهْمَ إمَّا بِمَوْتٍ وَإِمَّا بِإِغْمَاءٍ وَإِمَّا بِنَوْمٍ، فَصَحَّ أَنَّ الْحَسَّاسَ الذَّاكِرَ هُوَ غَيْرُ الْجَسَدِ، وَهُوَ الْمُسَمَّى فِي اللُّغَةِ نَفْسًا وَرُوحًا، وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى ذِكْرُهُ: {اللَّهُ يَتَوَفَّى الأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا فَيُمْسِكُ الَّتِي قَضَى عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الأُخْرَى إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى} [الزمر: 42] فَكَانَتْ النُّفُوسُ كَمَا نَصَّ تَعَالَى كَثِيرَةً، وَكَذَلِكَ وَجَدْنَاهَا نَفْسًا خَبِيثَةً وَأُخْرَى طَيِّبَةً، وَنَفْسًا ذَاتَ شَجَاعَةٍ وَأُخْرَى ذَاتَ جُبْنٍ، وَأُخْرَى عَالِمَةً وَأُخْرَى جَاهِلَةً، فَصَحَّ يَقِينًا أَنَّ لِكُلِّ حَيٍّ نَفْسًا غَيْرَ نَفْسِ غَيْرِهِ، فَإِذَا تَيَقَّنَ ذَلِكَ وَكَانَتْ النُّفُوسُ كَثِيرَةً مُرَكَّبَةً مِنْ جَوْهَرِهَا وَصِفَاتِهَا، فَهِيَ مِنْ جُمْلَةِ الْعَالَمِ، وَهِيَ مَا لَمْ يَنْفَكَّ قَطُّ مِنْ زَمَانٍ وَعَدَدٍ فَهِيَ مُحْدَثَةٌ مُرَكَّبَةٌ، وَكُلُّ مُحْدَثٍ مُرَكَّبٍ مَخْلُوقٌ. وَمَنْ جَعَلَ شَيْئًا مِمَّا دُونَ اللَّهِ تَعَالَى غَيْرَ مَخْلُوقٍ فَقَدْ خَالَفَ اللَّهَ تَعَالَى فِي قَوْلِهِ: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ} [الأنعام: 101] وَخَالَفَ مَا جَاءَتْ بِهِ النُّبُوَّةُ وَمَا أَجْمَعَ عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ وَمَا قَامَ بِهِ الْبُرْهَانُ الْعَقْلِيُّ.
6 - مَسْأَلَةٌ: وَهِيَ الرُّوحُ نَفْسُهُ، بُرْهَانُ ذَلِكَ: أَنَّهُ قَدْ قَامَ الْبُرْهَانُ كَمَا ذَكَرْنَا بِأَنَّ هَهُنَا شَيْئًا مُدَبِّرًا لِلْجَسَدِ هِيَ الْحَيُّ الْحَسَّاسُ الْمُخَاطَبُ، وَلَمْ يَقُمْ بُرْهَانٌ قَطُّ بِأَنَّهُمَا شَيْئَانِ، فَكَانَ مَنْ زَعَمَ بِأَنَّ الرُّوحَ غَيْرُ النَّفْسِ قَدْ زَعَمَ بِأَنَّهُمَا شَيْئَانِ وَقَالَ مَا لَا بُرْهَانَ لَهُ
স্বভাবজাত অথবা সেই কারণের দ্বারা পরিচালিত ও বাধ্য হওয়া বোঝাবে। আর এটি খোদায়িত্বের গুণাবলির বহির্ভূত বিষয়। যদি সেই কারণটি নতুনভাবে সৃষ্ট হতো, তবে সেটি অবধারিতভাবেই হয় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সৃষ্ট হতো অথবা সৃষ্ট হতো না। যদি তা সৃষ্ট না হতো, তবে আমরা ইতিপূর্বে স্পষ্ট করেছি যে, নতুনভাবে উৎপন্ন প্রতিটি বস্তুই সৃষ্ট হওয়া অনিবার্য; সুতরাং এই ভাগটি বাতিল সাব্যস্ত হলো। আর যদি তা সৃষ্ট হতো, তবে অবশ্যই সেটি অন্য কোনো কারণের দ্বারা সৃষ্ট হওয়া আবশ্যক হতো অথবা কোনো কারণ ছাড়াই। যদি সেটি অন্য কোনো কারণের দ্বারা সৃষ্ট হওয়া আবশ্যক হয়, তবে দ্বিতীয় কারণটির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য হবে এবং এভাবে অনন্তকাল চলতে থাকবে। এটি এমন এক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে যাতে অগণিত সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব আবশ্যক হয়ে পড়ে। এটি বাতিল, যার কারণ আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি এবং এজন্যও যে, যা কিছু বাস্তবে প্রকাশিত হয়, তার আয়তন বা সময়ের সীমানার কারণে তা সংখ্যা দ্বারা পরিবেষ্টিত হতে বাধ্য। আর যা কিছু সংখ্যা দ্বারা পরিবেষ্টিত, তা সসীম। ফলে এই ভাগটিও বাতিল সাব্যস্ত হলো এবং আমরা যা বলেছি তা-ই সত্য বলে প্রমাণিত হলো; আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। আর যদি তারা বলে: বরং কারণটি কোনো কারণ ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাদের প্রশ্ন করা হবে: কোন প্রমাণের ভিত্তিতে কিছু জিনিসকে কারণসহ সৃষ্টি করা এবং কারণটিকে কারণ ছাড়াই সৃষ্টি করা আবশ্যক হলো? আর এর কোনো প্রমাণ পেশ করার পথ নেই।
[মাসআলা: নফস বা আত্মা যে সৃষ্ট এবং রূহ ও দেহের নফস একই হওয়া প্রসঙ্গে ও এর প্রমাণ]৫ - মাসআলা: নফস (আত্মা) সৃষ্ট। এর প্রমাণ হলো: আমরা দেহকে তার কিছু অবস্থায় দেখতে পাই যে সে কিছুই অনুভব করে না। মানুষ যখন কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তা করে, তখন সে দেহ থেকে যত বেশি মুক্ত হতে পারে, তার উপলব্ধির জন্য তা তত বেশি সঠিক ও অনুধাবনের জন্য শক্তিশালী হয়। এর দ্বারা আমরা জানতে পারলাম যে, অনুভূতিসম্পন্ন, জ্ঞানী ও স্মরণকারী সত্তাটি দেহ ছাড়া ভিন্ন কিছু। আমরা দেহকে দেখতে পাই যে, যখন তার থেকে সেই সত্তাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন তার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বর্তমান থাকা সত্ত্বেও তার কোনো অনুভূতি বা বোধশক্তি থাকে না; তা মৃত্যুর কারণেই হোক বা মূর্ছা যাওয়া কিংবা ঘুমের কারণে। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, অনুভূতিসম্পন্ন ও স্মরণকারী সত্তাটি দেহ থেকে ভিন্ন। আর একেই ভাষায় 'নফস' এবং 'রূহ' বলা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ প্রাণগুলো (নফস) হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মরেনি তাদের ঘুমের সময়। অতঃপর যার জন্য তিনি মৃত্যু নির্ধারণ করেন তার প্রাণ রেখে দেন এবং অন্যগুলো এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছেড়ে দেন।} [যুমার: ৪২]। সুতরাং নফসসমূহ সংখ্যায় অনেক, যেমনটি আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। তেমনিভাবে আমরা কোনো নফসকে অপবিত্র ও মন্দ পাই এবং অন্যটিকে পবিত্র ও উত্তম পাই; কোনো নফস সাহসী এবং অন্যটি ভীরু; কোনোটি জ্ঞানী এবং অন্যটি অজ্ঞ। সুতরাং নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হলো যে, প্রত্যেক জীবিত প্রাণীর নফস তার অপরজনের নফস থেকে ভিন্ন। যখন এটি সুনিশ্চিত হলো এবং নফসসমূহ সংখ্যায় অনেক এবং তা তার মৌলিক উপাদান ও গুণাবলি দ্বারা গঠিত, তবে তা মহাবিশ্বের অন্তর্ভুক্ত। আর যা কিছু সময় ও সংখ্যা থেকে কখনো মুক্ত হয় না, তা নতুনভাবে সৃষ্ট ও গঠিত। আর নতুনভাবে সৃষ্ট ও গঠিত প্রতিটি বস্তুয়ই সৃষ্ট। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কিছুকে অসৃষ্ট বলে গণ্য করল, সে আল্লাহর বাণীর বিরোধিতা করল: {তিনিই প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছেন} [আনআম: ১০১]। সে নবুওয়াতের আনীত বার্তার, মুসলিমদের ঐকমত্যের (ইজমা) এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের বিরোধিতা করল।
৬ - মাসআলা: আর রূহ ও নফস একই সত্তা। এর প্রমাণ হলো: যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি, এর স্বপক্ষে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, দেহের জন্য এখানে একজন পরিচালক আছে যা জীবিত, অনুভূতিসম্পন্ন এবং সম্বোধিত সত্তা। আর এ দুটি (নফস ও রূহ) যে ভিন্ন দুটি সত্তা, তার ওপর কখনোই কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে রূহ ও নফস ভিন্ন জিনিস, সে মূলত প্রমাণ ছাড়াই এগুলোকে দুটি ভিন্ন সত্তা বলে দাবি করল।
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
بِصِحَّتِهِ، وَهَذَا بَاطِلٌ. قَالَ تَعَالَى: {قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} [البقرة: 111] فَمَنْ لَا بُرْهَانَ لَهُ فَلَيْسَ صَادِقًا، فَصَحَّ أَنَّ النَّفْسَ وَالرُّوحَ اسْمَانِ لِمُسَمًّى وَاحِدٍ. حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبِيعٍ نا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ نا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ نا أَبُو دَاوُد السِّجِسْتَانِيُّ نا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي يُونُسُ هُوَ ابْنُ زَيْدٍ - عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ ابْنِ الْمُسَيِّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - فِي حَدِيثٍ ذَكَرَهُ «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِبِلَالٍ: اكْلَأْ لَنَا اللَّيْلَ فَغَلَبَتْ بِلَالًا عَيْنَاهُ فَلَمْ يَسْتَيْقِظْ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَلَا بِلَالٌ وَلَا أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ حَتَّى ضَرَبَتْهُمْ الشَّمْسُ، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوَّلَهُمْ اسْتِيقَاظًا فَقَالَ: يَا بِلَالُ فَقَالَ: أَخَذَ بِنَفْسِي الَّذِي أَخَذَ بِنَفْسِك بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ» وَذَكَرَ الْحَدِيثَ. وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {اللَّهُ يَتَوَفَّى الأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا} [الزمر: 42] إلَى قَوْلِهِ {أَجَلٍ مُسَمًّى} [الزمر: 42] . وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبِيعٍ نا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ نا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ نا أَبُو دَاوُد نا عَلِيُّ بْنُ نَصْرٍ هُوَ الْجَهْضَمِيُّ ثنا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ نا الْأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ نا خَالِدُ بْنُ سَمِيرٍ نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبَاحٍ حَدَّثَنِي أَبُو قَتَادَةَ الْأَنْصَارِيُّ فِي حَدِيثٍ ذَكَرَ فِيهِ نَوْمَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى طَلَعَتْ الشَّمْسُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَلَا إنَّا نَحْمَدُ اللَّهَ أَنَّا لَمْ نَكُنْ فِي شَيْءٍ مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا يَشْغَلُنَا عَنْ صَلَاتِنَا، وَلَكِنَّ أَرْوَاحَنَا كَانَتْ بِيَدِ اللَّهِ عز وجل فَأَرْسَلَهَا أَنَّى شَاءَ» فَعَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْأَنْفُسِ وَبِالْأَرْوَاحِ عَنْ شَيْءٍ وَاحِدٍ، وَلَا يَثْبُتُ عَنْهُ عليه السلام -
এর সত্যতা প্রসঙ্গে, অথচ এটি বাতিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ করো} [আল-বাকারা: ১১১]। সুতরাং যার কাছে কোনো প্রমাণ নেই, সে সত্যবাদী নয়; ফলে এটি প্রমাণিত হলো যে, 'নাফস' ও 'রূহ' একই সত্তার দুটি নাম। আবদুল্লাহ ইবনে রাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উমর ইবনে আব্দুল মালিক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে বকর থেকে, তিনি আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি থেকে, তিনি আহমাদ ইবনে সালিহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে ইউনুস—যিনি ইবনে যায়েদ—ইবনে শিহাব থেকে, তিনি ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালকে বললেন: 'আমাদের জন্য রাতের পাহারাদারি করো।' কিন্তু বিলালের চোখে ঘুম প্রবল হয়ে এল, ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), বিলাল কিংবা তাঁর সাহাবীদের কেউ জাগ্রত হতে পারলেন না যতক্ষণ না সূর্যের তাপ তাঁদের গায়ে লাগল। তাঁদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বপ্রথম জাগ্রত হলেন এবং বললেন: 'হে বিলাল!' তখন বিলাল বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আপনার প্রাণকে যে সত্তা গ্রহণ করেছিলেন, তিনিই আমার প্রাণকে গ্রহণ করেছিলেন'।" — তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ প্রাণসমূহ (নাফসসমূহ) গ্রহণ করেন তাদের মৃত্যুর সময়} [আয-যুমার: ৪২] থেকে তাঁর বাণী {একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত} [আয-যুমার: ৪২]। এবং আবদুল্লাহ ইবনে রাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উমর ইবনে আব্দুল মালিক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে বকর থেকে, তিনি আবু দাউদ থেকে, তিনি আলী ইবনে নাসর—যিনি আল-জাহদামি—থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনে জারীর থেকে, তিনি আসওয়াদ ইবনে শায়বান থেকে, তিনি খালিদ ইবনে সামীর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে রাবাহ থেকে, আবু কাতাদা আল-আনসারী (রা.) আমার নিকট একটি হাদিসে বর্ণনা করেছেন যাতে তিনি সূর্যোদয় পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঘুমের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জেনে রেখো, আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি যে আমরা দুনিয়ার কোনো কাজে লিপ্ত ছিলাম না যা আমাদের সালাত থেকে বিমুখ করে রাখে, বরং আমাদের রূহসমূহ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার হাতে ছিল, অতঃপর তিনি যেখানে চেয়েছেন তা পাঠিয়েছেন।" সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'নাফস' ও 'রূহ' শব্দ দুটি দ্বারা একই জিনিস বুঝিয়েছেন এবং তাঁর (আলাইহিস সালাম) থেকে অন্য কিছু প্রমাণিত নয়—
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
فِي هَذَا الْبَابِ خِلَافٌ لِهَذَا أَصْلًا. وَبِاَللَّهِ تَعَالَى نَتَأَيَّدُ.
[مَسْأَلَة فِي برهان أَنْ العرش مَخْلُوق]7 - مَسْأَلَةٌ: وَالْعَرْشُ مَخْلُوقٌ؛ بُرْهَانُ ذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى: {رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ} [النمل: 26] وَكُلُّ مَا كَانَ مَرْبُوبًا فَهُوَ مَخْلُوقٌ.
[مَسْأَلَة الدليل عَلَى أَنْ اللَّه لَيْسَ كمثله شَيْء]8 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّهُ تَعَالَى لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَلَا يَتَمَثَّلُ فِي صُورَةِ شَيْءٍ مِمَّا خَلَقَ. قَدْ مَضَى الْكَلَامُ فِي هَذَا، وَلَوْ تَمَثَّلَ تَعَالَى فِي صُورَةِ شَيْءٍ لَكَانَتْ تِلْكَ الصُّورَةُ مِثْلًا لَهُ وَهُوَ تَعَالَى يَقُولُ: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى: 11] .
[مَسْأَلَة فِي بَيَان أَنْ النُّبُوَّة حَقّ وبرهان ذَلِكَ]9 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ النُّبُوَّةَ حَقٌّ؛ بُرْهَانُ ذَلِكَ: أَنَّ مَا غَابَ عَنَّا أَوْ كَانَ قَبْلَنَا فَلَا يُعْرَفُ إلَّا بِالْخَبَرِ عَنْهُ. وَخَبَرُ التَّوَاتُرِ يُوجِبُ الْعِلْمَ الضَّرُورِيَّ وَلَا بُدَّ، وَلَوْ دَخَلَتْ فِي نَقْلِ التَّوَاتُرِ دَاخِلَةٌ أَوْ شَكٌّ لَوَجَبَ أَنْ يَدْخُلَ الشَّكُّ هَلْ كَانَ قَبْلَنَا خَلْقٌ أَمْ لَا؛ إذْ لَمْ نَعْرِفْ كَوْنَ الْخَلْقِ مَوْجُودًا قَبْلَنَا إلَّا بِالْخَبَرِ، وَمَنْ بَلَغَ هَهُنَا فَقَدْ فَارَقَ الْمَعْقُولَ وَبِنَقْلِ التَّوَاتُرِ الْمَذْكُورِ صَحَّ أَنَّ قَوْمًا مِنْ النَّاسِ أَتَوْا أَهْلَ زَمَانِهِمْ يَذْكُرُونَ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى خَالِقُ الْخَلْقِ أَوْحَى إلَيْهِمْ يَأْمُرُهُمْ بِإِنْذَارِ قَوْمِهِمْ بِأَوَامِرَ أَلْزَمَهُمْ اللَّهُ تَعَالَى إيَّاهَا، فَسَأَلُوا بُرْهَانًا عَلَى صِحَّةِ مَا قَالُوا: فَأَتَوْا بِأَعْمَالٍ هِيَ خِلَافٌ لِطَبَائِعِ مَا فِي الْعَالَمِ لَا يُمْكِنُ أَلْبَتَّةَ فِي الْعَقْلِ أَنْ يَقْدِرَ عَلَيْهَا مَخْلُوقٌ، حَاشَا خَالِقَهَا الَّذِي ابْتَدَعَهَا كَمَا شَاءَ، كَقَلْبِ عَصًا حَيَّةً تَسْعَى، وَشَقِّ الْبَحْرِ لِعَسْكَرٍ جَازُوا فِيهِ وَغَرِقَ مَنْ اتَّبَعَهُمْ؛ وَكَإِحْيَاءِ مَيِّتٍ قَدْ صَحَّ مَوْتُهُ، وَكَإِبْرَاءِ أَكْمَهٍ وُلِدَ أَعْمَى، وَكَنَاقَةٍ خَرَجَتْ مِنْ ` `` صَخْرَةٍ، وَكَإِنْسَانٍ رُمِيَ فِي النَّارِ فَلَمْ يَحْتَرِقْ، وَكَإِشْبَاعِ عَشَرَاتٍ مِنْ النَّاسِ مِنْ صَاعِ شَعِيرٍ، وَكَنَبَعَانِ الْمَاءِ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِ إنْسَانٍ حَتَّى رُوِيَ الْعَسْكَرُ كُلُّهُ. فَصَحَّ ضَرُورَةً أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى شَهِدَ لَهُمْ بِمَا أَظْهَرَ عَلَى أَيْدِيهِمْ فَصِحْ مَا أَتَوْا بِهِ عَنْهُ وَأَنَّهُ تَعَالَى صَدَّقَهُمْ فِيمَا قَالُوهُ.
[مَسْأَلَة بَيَان أَنْ مُحَمَّدًا أَرْسَلَ إلَى جَمِيع الْجِنّ والإنس والدليل عَلَى ذَلِكَ]10 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَسُولُ اللَّهِ إلَى جَمِيعِ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ، كَافِرِهِمْ وَمُؤْمِنِهِمْ، بُرْهَانُ ذَلِكَ: أَنَّهُ عليه السلام أَتَى بِهَذَا الْقُرْآنِ الْمَنْقُولِ إلَيْنَا بِأَتَمِّ مَا يَكُونُ مِنْ نَقْلِ التَّوَاتُرِ، وَأَنَّهُ دَعَا مَنْ خَالَفَهُ إلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِهِ
এই অধ্যায়ে মূলত এর কোনো বিরোধিতা নেই। আর আমরা মহান আল্লাহর মাধ্যমেই শক্তি লাভ করি।
[আরশ সৃষ্ট হওয়ার প্রমাণ সম্পর্কিত মাসআলা]৭ - মাসআলা: আরশ সৃষ্ট; এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি মহা আরশের রব} [আন-নামল: ২৬]। আর যারই কোনো রব (প্রতিপালক) থাকে, সে-ই সৃষ্ট।
[আল্লাহর সদৃশ কোনো কিছু নেই—এর প্রমাণ সম্পর্কিত মাসআলা]৮ - মাসআলা: আর মহান আল্লাহর সদৃশ কোনো কিছু নেই এবং তিনি তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর অবয়ব ধারণ করেন না। এ বিষয়ে আলোচনা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। মহান আল্লাহ যদি কোনো কিছুর অবয়ব ধারণ করতেন, তবে সেই অবয়বটি তাঁর সদৃশ হয়ে যেত; অথচ মহান আল্লাহ বলছেন: {তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই} [আশ-শুরা: ১১]।
[নবুওয়াত সত্য হওয়ার বর্ণনা ও তার প্রমাণ সম্পর্কিত মাসআলা]৯ - মাসআলা: আর নবুওয়াত সত্য; এর প্রমাণ হলো: যা আমাদের দৃষ্টির আড়ালে কিংবা আমাদের পূর্বের ঘটনা, তা সংবাদ ব্যতিরেকে জানা সম্ভব নয়। আর মুতাওয়াতির সংবাদ (অবিচ্ছিন্ন বর্ণনা) অপরিহার্যভাবেই নিশ্চিত জ্ঞান দান করে। মুতাওয়াতির বর্ণনার মধ্যে যদি কোনো ত্রুটি বা সন্দেহ প্রবেশ করে, তবে আমাদের পূর্বে কোনো সৃষ্টি ছিল কি না—সে বিষয়েও সন্দেহ করা আবশ্যক হয়ে পড়বে; কারণ আমাদের পূর্বে সৃষ্টির অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা সংবাদ ব্যতিরেকে জানতে পারিনি। আর যে ব্যক্তি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে, সে বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। উল্লিখিত মুতাওয়াতির বর্ণনার মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, মানুষের মধ্য থেকে একদল লোক তাঁদের সমকালীন জনপদের নিকট আগমন করেছিলেন। তাঁরা উল্লেখ করতেন যে, মহান আল্লাহ সৃষ্টির স্রষ্টা, তিনি তাঁদের নিকট ওহি পাঠিয়েছেন এবং তাঁদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তাঁরা তাঁদের সম্প্রদায়কে সেই সব আদেশ সম্পর্কে সতর্ক করেন যা মহান আল্লাহ তাঁদের জন্য আবশ্যক করেছেন। অতঃপর তাঁরা যা বলেছেন তার সত্যতার প্রমাণ চাওয়া হলো; তখন তাঁরা এমন কিছু কর্ম নিয়ে আসলেন যা জগতের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের বিপরীত, যা কোনো সৃষ্টির পক্ষে করা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মোটেও সম্ভব নয়; কেবল সেই স্রষ্টা ছাড়া যিনি এগুলোকে নিজের ইচ্ছামতো নতুনভাবে সৃষ্টি করেছেন। যেমন—লাঠিকে সচল সাপে রূপান্তরিত করা, বাহিনীর জন্য সমুদ্র বিদীর্ণ করা যারা তা অতিক্রম করেছিল এবং যারা তাদের পিছু নিয়েছিল তাদের ডুবে মরা; যেমন—মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এমন মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করা, জন্মান্ধকে সুস্থ করা, পাথর থেকে উষ্ট্রী বের হওয়া, কোনো মানুষকে আগুনে নিক্ষেপ করা সত্ত্বেও সে দগ্ধ না হওয়া, এক সা যব দ্বারা দশ দশজন মানুষকে তৃপ্ত করা এবং মানুষের আঙুলের মধ্য থেকে পানি নির্গত হওয়া এমনকি পুরো বাহিনী তৃপ্ত হওয়া। অতএব, এটি অপরিহার্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, মহান আল্লাহ তাঁদের হাতের মাধ্যমে যা প্রকাশ করেছেন তার দ্বারা তাঁদের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। সুতরাং তাঁরা তাঁর পক্ষ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা সত্য এবং তাঁরা যা বলেছেন মহান আল্লাহ সে বিষয়ে তাঁদের সত্যায়ন করেছেন।
[মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমস্ত জিন ও মানুষের নিকট প্রেরিত হয়েছেন—তার বর্ণনা ও দলীল সম্পর্কিত মাসআলা]১০ - মাসআলা: আর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব সমস্ত মানুষ ও জিনের নিকট আল্লাহর রাসূল, তাদের কাফের ও মুমিন সকলের নিকট। এর প্রমাণ হলো: তিনি (আলাইহিস সালাম) আমাদের নিকট বর্ণিত এই কুরআন নিয়ে এসেছেন যা মুতাওয়াতির বর্ণনার সর্বোচ্চ স্তরে সাব্যস্ত, এবং তিনি তাঁর বিরোধীদের এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
فَعَجَزُوا كُلُّهُمْ عَنْ ذَلِكَ، وَأَنَّهُ شُقَّ لَهُ الْقَمَرُ. قَالَ اللَّهُ عز وجل: {اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ} [القمر: 1] {وَإِنْ يَرَوْا آيَةً يُعْرِضُوا وَيَقُولُوا سِحْرٌ مُسْتَمِرٌّ} [القمر: 2] {وَكَذَّبُوا وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ وَكُلُّ أَمْرٍ مُسْتَقِرٌّ} [القمر: 3] {وَلَقَدْ جَاءَهُمْ مِنَ الأَنْبَاءِ مَا فِيهِ مُزْدَجَرٌ} [القمر: 4] {حِكْمَةٌ بَالِغَةٌ فَمَا تُغْنِ النُّذُرُ} [القمر: 5] . وَحَنَّ الْجِذْعُ إذْ فَقَدَهُ حَنِينًا سَمِعَهُ كُلُّ مَنْ حَضَرَهُ، وَهُمْ جُمُوعٌ كَثِيرَةٌ؛ وَدَعَا الْيَهُودَ إلَى تَمَنِّي الْمَوْتِ إنْ كَانُوا صَادِقِينَ؛ وَأَخْبَر هُمْ أَنَّهُمْ لَا يَتَمَنَّوْنَهُ فَعَجَزُوا كُلُّهُمْ عَنْ تَمَنِّيهِ جِهَارًا. وَدَعَا النَّصَارَى إلَى مُبَاهَلَتِهِ فَأَبَوَا كُلُّهُمْ. وَهَذَانِ الْبُرْهَانَانِ مَذْكُورَانِ جَمِيعًا فِي نَصِّ الْقُرْآنِ، كَمَا ذُكِرَ فِيهِ تَعْجِيزَهُ جَمِيعَ الْعَرَبِ عَنْ أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِهِ أَوَّلَهُمْ عَنْ آخِرِهِمْ؛ وَنَبَعَ لَهُمْ الْمَاءُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ، وَأَطْعَمَ مِئِينَ مِنْ النَّاسِ مِنْ صَاعِ شَعِيرٍ وَجَدْيٍ، وَأَذْعَنَ مُلُوكُ الْيَمَنِ وَالْبَحْرَيْنِ وَعُمَانَ لِأَمْرِهِ لِلْآيَاتِ الَّتِي صَحَّتْ عِنْدَهُمْ عَنْهُ، فَنَزَلُوا عَنْ مُلْكِهِمْ كُلِّهِمْ طَوْعًا دُونَ رَهْبَةٍ أَصْلًا، وَلَا خَوْفًا مِنْ أَنْ يَغْزُوَهُمْ وَلَا بِرَغْبَةٍ رَغَّبَهُمْ بِهَا، بَلْ كَانَ يَتِيمًا فَقِيرًا.
وَهُنَاكَ قَوْمٌ يَدَّعُونَ النُّبُوَّةَ كَصَاحِبِ صَنْعَاءَ وَكَصَاحِبِ الْيَمَامَةِ، كِلَاهُمَا أَقْوَى جَيْشًا وَأَوْسَعُ مِنْهُ بِلَادًا، فَمَا الْتَفَتَ لَهُمْ أَحَدٌ غَيْرُ قَوْمِهِمَا، وَكَانَ هُوَ أَضْعَفَهُمْ جُنْدًا وَأَضْعَفَهُمْ بَلَدًا وَأَبْعَدَهُمْ مِنْ بِلَادِ الْمُلُوكِ دَارًا، فَدَعَا الْمُلُوكَ وَالْفُرْسَانَ الَّذِينَ قَدْ مَلَئُوا جَزِيرَةَ الْعَرَبِ - وَهِيَ نَحْوُ شَهْرَيْنِ فِي نَحْوِ ذَلِكَ - إلَى إقَامَةِ الصَّلَاةِ وَأَدَاءِ الزَّكَاةِ وَإِسْقَاطِ الْفَخْرِ وَالتَّجَبُّرِ، وَالْتِزَامِ التَّوَاضُعِ وَالصَّبْرِ لِلْقِصَاصِ فِي النَّفْسِ فَمَا دُونَهَا مِنْ كُلِّ حَقِيرٍ أَوْ رَفِيعٍ دُونَ أَنْ يَكُونَ مَعَهُ مَالٌ وَلَا عَشِيرَةٌ تَنْصُرُهُ، بَلْ اتَّبَعَهُ كُلُّ مَنْ اتَّبَعَهُ مُذْعِنًا لِمَا بَهَرَهُمْ مِنْ آيَاتِهِ؛ وَلَمْ يَأْخُذْ قَطُّ بَلْدَةً عَنْوَةً وَغَلَبَةً إلَّا خَيْبَرَ وَمَكَّةَ فَقَطْ وَفِي الْقُرْآنِ الْعَظِيمِ: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا} [الأعراف: 158] وَقَالَ تَعَالَى: {يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالإِنْسِ} [الأنعام: 130] وَقَالَ تَعَالَى: {قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا} [الجن: 1] {يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ} [الجن: 2] إلَى قَوْلِهِ {وَأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُونَ وَمِنَّا الْقَاسِطُونَ فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُولَئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا} [الجن: 14] {وَأَمَّا الْقَاسِطُونَ فَكَانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا} [الجن: 15] وَقَالَ تَعَالَى: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [آل عمران: 85] .
[مَسْأَلَة الدليل عَلَى أَنْ ملة الْإِسْلَام نسخت كُلّ ملة تقدمتها]11 - مَسْأَلَةٌ: نَسَخَ عز وجل بِمِلَّتِهِ كُلَّ مِلَّةٍ وَأَلْزَمَ أَهْلَ الْأَرْضِ جِنَّهُمْ وَإِنْسَهُمْ اتِّبَاعَ شَرِيعَتِهِ الَّتِي بَعَثَهُ بِهَا وَلَا يَقْبَلُ مِنْ أَحَدٍ سِوَاهَا؛ وَأَنَّهُ عليه السلام خَاتَمُ النَّبِيِّينَ لَا
তারা সবাই তাতে অক্ষম হলো, আর তাঁর জন্য চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছিল। মহান আল্লাহ বলেছেন: {কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে} [কামার: ১] {আর তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, 'এ তো এক চলমান জাদু'} [কামার: ২] {তারা সত্যকে অস্বীকার করেছে এবং নিজেদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেছে; আর প্রত্যেক বিষয়ই তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে স্থির} [কামার: ৩] {অবশ্যই তাদের কাছে এমন সংবাদ এসেছে যাতে (পাপ থেকে) বিরত রাখার উপকরণ রয়েছে} [কামার: ৪] {এটি এক পূর্ণাঙ্গ হিকমত; তবে সতর্ককারীদের কোনো প্রচেষ্টা তাদের উপকারে আসে না} [কামার: ৫]। আর কাঠের গুঁড়িটি তাঁর বিচ্ছেদে এমন করুণ সুরে ফুঁপিয়ে কেঁদেছিল যা উপস্থিত সকলেই শুনতে পেয়েছিল, অথচ তারা সেখানে এক বিশাল জনসমাবেশ ছিল। তিনি ইয়াহুদীদের মৃত্যু কামনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন যদি তারা সত্যবাদী হয়; আর তিনি তাদের সংবাদ দিয়েছিলেন যে তারা কখনোই তা কামনা করবে না, ফলে তারা সবাই জনসমক্ষে মৃত্যু কামনা করতে অক্ষম হয়েছিল। তিনি নাসারাদের (খ্রিষ্টানদের) মুবাহালা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু তারা সবাই তা করতে অস্বীকার করেছিল। এই দুটি প্রমাণই পবিত্র কুরআনের ভাষ্যে উল্লিখিত রয়েছে, যেমনটি সেখানে উল্লিখিত হয়েছে যে তিনি সমস্ত আরবকে এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম করে দিয়েছিলেন, তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলকে। তাঁর আঙুলসমূহের মাঝ থেকে তাদের জন্য পানি প্রবাহিত হয়েছিল এবং তিনি মাত্র এক সা' যব ও একটি ছাগলছানা দিয়ে কয়েকশ মানুষকে খাইয়েছিলেন। ইয়ামেন, বাহরাইন ও ওমানের রাজারা তাঁর নির্দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন সেই সব নিদর্শনের কারণে যা তাঁর পক্ষ থেকে তাদের কাছে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছিল; ফলে তাঁরা সবাই স্বেচ্ছায় স্বীয় রাজত্ব ত্যাগ করেছিলেন, কোনো প্রকার ভীতি বা তিনি তাদের ওপর আক্রমণ করবেন—এমন ভয় ছাড়াই, এমনকি কোনো পার্থিব প্রলোভন ছাড়াই, বরং তিনি তো ছিলেন একজন ইয়াতীম ও দরিদ্র।
সেখানে এমন কিছু লোক ছিল যারা নবুওয়াতের দাবি করেছিল, যেমন সান'আ ও ইয়ামামার অধিপতিদ্বয়, তারা উভয়েই সৈন্যবাহিনীতে অধিক শক্তিশালী এবং তাঁর চেয়ে অধিকতর বিস্তৃত ভূখণ্ডের অধিকারী ছিল। কিন্তু তাদের স্বজাতি ছাড়া আর কেউ তাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি। অথচ তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সৈন্য ও ভূখণ্ডের দিক থেকে দুর্বলতম এবং রাজন্যবর্গের দেশ থেকে তাঁর আবাসস্থল ছিল অনেক দূরে। এরপর তিনি আরব উপদ্বীপ পূর্ণ করে রাখা রাজা ও বীর যোদ্ধাদেরকে—যাদের দূরত্ব ছিল প্রায় দুই মাসের পথ—সালাত কায়েম করতে, জাকাত আদায় করতে, অহঙ্কার ও ঔদ্ধত্য বিসর্জন দিতে এবং বিনয় ও ধৈর্য অবলম্বন করতে আহ্বান জানালেন যাতে প্রতিটি তুচ্ছ বা মহান মানুষের প্রাণ ও অন্যান্য বিষয়ে হকের কিসাস নিশ্চিত হয়। তাঁর কাছে কোনো ধন-সম্পদ ছিল না, না ছিল তাঁকে সাহায্য করার মতো কোনো শক্তিশালী গোত্র; বরং যারা তাঁর অনুসরণ করেছিল তারা তাঁর মোজেজা দেখে বিমোহিত হয়েই তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেছিল। তিনি খয়বর ও মক্কা ব্যতীত কোনো জনপদ কখনো জোরপূর্বক বা যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় করেননি। মহান কুরআনে রয়েছে: {হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রাসূল} [আরাফ: ১৫৮]। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {হে জিন ও মানুষের দল!} [আনআম: ১৩০]। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {বলুন, আমার কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, জিনের একটি দল মনোযোগ দিয়ে কুরআন শুনেছে এবং বলেছে, 'আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি'} [জিন: ১] {যা সঠিক পথের দিশা দেয়, ফলে আমরা তাতে ঈমান এনেছি} [জিন: ২] মহান আল্লাহর বাণী পর্যন্ত: {আর আমাদের মধ্যে কিছু রয়েছে মুসলিম এবং কিছু রয়েছে বিপথগামী; যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তারাই সঠিক পথ বেছে নিয়েছে} [জিন: ১৪] {আর যারা বিপথগামী, তারা তো জাহান্নামের ইন্ধন} [জিন: ১৫]। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম অনুসরণ করবে, তার থেকে তা কখনো কবুল করা হবে না এবং আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} [আলে ইমরান: ৮৫]।
[ইসলাম ধর্ম যে তার পূর্ববর্তী সকল ধর্মকে রহিত করে দিয়েছে তার প্রমাণের মাসআলা]১১ - মাসআলা: মহান আল্লাহ তাঁর ধর্ম দ্বারা পূর্ববর্তী সকল ধর্মকে রহিত করেছেন এবং পৃথিবীর জিন ও ইনসান সবার ওপর তাঁর প্রেরিত শরীয়ত অনুসরণ করা আবশ্যক করেছেন যা দিয়ে তিনি তাঁকে প্রেরণ করেছেন, এবং তিনি তা ব্যতীত অন্য কারো থেকে অন্য কিছু গ্রহণ করবেন না। আর তিনি আলাইহিস সালাম হলেন শেষ নবী।
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
نَبِيَّ بَعْدَهُ؛ بُرْهَانُ ذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى: {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} [الأحزاب: 40] .
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْجَسُورِ نا وَهْبُ بْنُ مَسَرَّةَ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ وَضَّاحٍ ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إدْرِيسَ عَنْ الْمُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إنَّ النُّبُوَّةَ وَالرِّسَالَةَ قَدْ انْقَطَعَتْ، فَجَزَعَ النَّاسُ فَقَالَ: قَدْ بَقِيَتْ مُبَشِّرَاتٌ وَهُنَّ جُزْءٌ مِنْ النُّبُوَّةِ» .
[مَسْأَلَة بَيَان أَنْ عِيسَى بْن مريم سينزل آخِر الزمان]12 - مَسْأَلَةٌ: إلَّا أَنَّ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ عليه السلام سَيَنْزِلُ وَقَدْ كَانَ قَبْلَهُ عليه السلام أَنْبِيَاءُ كَثِيرَةٌ مِمَّنْ سَمَّى اللَّهُ تَعَالَى وَمِنْهُمْ لَمْ يُسَمِّ؛ وَالْإِيمَانُ بِجَمِيعِهِمْ فَرْضٌ. بُرْهَانُ ذَلِكَ مَا حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا الْوَلِيدُ بْنُ شُجَاعٍ وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَحَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ؛ قَالُوا: حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ وَهُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ - عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: سَمِعْت النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ. قَالَ: فَيَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ صلى الله عليه وسلم فَيَقُولُ أَمِيرُهُمْ: تَعَالَ صَلِّ لَنَا. فَيَقُولُ: لَا، إنَّ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ أُمَرَاءُ، تَكْرِمَةُ اللَّهِ هَذِهِ الْأُمَّةِ» .
তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই; এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী} [আল-আহযাব: ৪০]।
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-জাসুর, তিনি ওয়াহাব বিন মাসাররাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ওয়াদদাহ থেকে, তিনি আবু বকর বিন আবি শায়বাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন ইদরিস থেকে, তিনি মুখতার বিন ফুলফুল থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই নবুওয়াত এবং রিসালাত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এতে লোকেরা ঘাবড়ে গেল, তখন তিনি বললেন: তবে সুসংবাদসমূহ (মুবাশশিরাত) অবশিষ্ট রয়েছে এবং সেগুলো নবুওয়াতের একটি অংশ»।
[আখেরী জামান বা শেষ সময়ে ঈসা ইবনে মারিয়ামের অবতরণ বিষয়ক মাসআলা]১২ - মাসআলা: তবে ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিস সালাম) অবতীর্ণ হবেন। আর তাঁর পূর্বে অনেক নবী ছিলেন যাদের কাউকে আল্লাহ নাম ধরে উল্লেখ করেছেন এবং কাউকে করেননি; তাঁদের সকলের প্রতি ঈমান আনা ফরজ। এর প্রমাণ হলো যা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ, তিনি আহমাদ বিন ফাতহ থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব বিন ঈসা থেকে, তিনি আহমাদ বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আহমাদ বিন আলী থেকে, তিনি মুসলিম বিন হাজ্জাজ থেকে, তিনি ওয়ালিদ বিন শুজা', হারুন বিন আব্দুল্লাহ এবং হাজ্জাজ বিন শাইর থেকে; তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ—যিনি ইবনে মুহাম্মদ—তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু যুবাইর যে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর লড়াই করতে থাকবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত বিজয়ী থাকবে। তিনি বললেন: অতঃপর ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিস সালাম) অবতীর্ণ হবেন, তখন তাদের আমীর বলবেন: আসুন, আমাদের সালাতে ইমামতি করুন। তখন তিনি বলবেন: না, নিশ্চয়ই তোমাদের একজন অন্যজনের ওপর আমীর; এটি এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মানস্বরূপ»।
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
وَذَكَرَ اللَّهُ تَعَالَى فِي الْقُرْآنِ آدَمَ وَنُوحًا وَإِدْرِيسَ وَإِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَيُوسُفَ وَمُوسَى وَهَارُونَ وَدَاوُد وَسُلَيْمَانَ وَيُونُسَ وَاَلْيَسَع وَإِلْيَاسَ وَزَكَرِيَّا وَيَحْيَى وَأَيُّوبَ وَعِيسَى وَهُودًا وَصَالِحًا وَشُعَيْبًا وَلُوطًا. وَقَالَ تَعَالَى: {وَرُسُلا قَدْ قَصَصْنَاهُمْ عَلَيْكَ مِنْ قَبْلُ وَرُسُلا لَمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ} [النساء: 164] وَقَالَ تَعَالَى: {وَيُرِيدُونَ أَنْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ اللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيَقُولُونَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ وَنَكْفُرُ بِبَعْضٍ وَيُرِيدُونَ أَنْ يَتَّخِذُوا بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلا} [النساء: 150] {أُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ حَقًّا} [النساء: 151] .
[مَسْأَلَة أَنْ جَمِيع النبيين وعيسى وَمُحَمَّد عَبِيد لِلَّهِ ومخلوقون لِلَّهِ تَعَالَى]13 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ جَمِيعَ النَّبِيِّينَ وَعِيسَى وَمُحَمَّدًا عليهم السلام عَبِيدًا لِلَّهِ تَعَالَى مَخْلُوقُونَ؛ نَاسٌ كَسَائِرِ النَّاسِ؛ مَوْلُودُونَ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى؛ إلَّا آدَمَ وَعِيسَى؛ فَإِنَّ آدَمَ خَلَقَهُ اللَّهُ تَعَالَى مِنْ تُرَابٍ بِيَدِهِ؛ لَا مِنْ ذَكَرٍ وَلَا مِنْ أُنْثَى؛ وَعِيسَى خُلِقَ فِي بَطْنِ أُمِّهِ مِنْ غَيْرِ ذَكَرٍ. قَالَ اللَّهُ عز وجل عَنْ الرُّسُلِ عليهم السلام أَنَّهُمْ قَالُوا: {إِنْ نَحْنُ إِلا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَمُنُّ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ} [إبراهيم: 11] . وَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى} [الحجرات: 13] وَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ} [آل عمران: 59] وَقَالَ تَعَالَى: {مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص: 75] وَقَالَ تَعَالَى عَنْ جِبْرِيلَ عليه السلام أَنَّهُ قَالَ لِمَرْيَمَ عليها السلام: {إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لأَهَبَ لَكِ غُلامًا زَكِيًّا} [مريم: 19] {قَالَتْ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلامٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا} [مريم: 20] {قَالَ كَذَلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ} [مريم: 21] وَقَالَ تَعَالَى: {وَمَرْيَمَ ابْنَتَ عِمْرَانَ الَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهِ مِنْ رُوحِنَا} [التحريم: 12] .
[مَسْأَلَة الْجَنَّة حَقّ مخلوقة للمؤمنين]14 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ الْجَنَّةَ حَقٌّ دَارٌ مَخْلُوقَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَدْخُلُهَا كَافِرٌ أَبَدًا؛ قَالَ تَعَالَى: {وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ} [آل عمران: 133] وَقَالَ تَعَالَى: {وَنَادَى أَصْحَابُ النَّارِ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَنْ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى الْكَافِرِينَ} [الأعراف: 50] .
[مَسْأَلَة النَّار حَقّ لَا يخلد فِيهَا مؤمن]15 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ النَّارَ حَقٌّ دَارٌ مَخْلُوقَةٌ لَا يَخْلُدُ فِيهَا مُؤْمِنٌ. قَالَ تَعَالَى:
এবং মহান আল্লাহ কুরআনে আদম, নূহ, ইদরীস, ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব, ইউসুফ, মূসা, হারূন, দাঊদ, সুলায়মান, ইউনুস, আল-ইয়াসা‘, ইলিয়াস, যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, আইয়ূব, ঈসা, হূদ, সালিহ, শুয়াইব ও লূত-এর কথা উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং এমন অনেক রাসূল পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি আপনার নিকট ইতোপূর্বে বর্ণনা করেছি এবং এমন অনেক রাসূল পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি আপনার নিকট বর্ণনা করিনি} [আন-নিসা: ১৬৪]। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের মাঝে পার্থক্য করতে চায় এবং বলে যে, আমরা কিছু সংখ্যক (রাসূলের) ওপর ঈমান আনি এবং কিছু সংখ্যককে অস্বীকার করি, আর তারা এর মধ্যবর্তী কোনো পথ অবলম্বন করতে চায়} [আন-নিসা: ১৫০] {মূলত এরাই হলো প্রকৃত কাফির} [আন-নিসা: ১৫১]।
[মাসআলা: সকল নবী এবং ঈসা ও মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা এবং আল্লাহর সৃষ্টি]১৩ - মাসআলা: এবং সকল নবী এবং ঈসা ও মুহাম্মদ (আলাইহিমুস সালাম) মহান আল্লাহর বান্দা ও সৃষ্টি; তাঁরা অন্যান্য মানুষের মতোই মানুষ; তাঁরা পুরুষ ও নারীর মিলনে জন্মগ্রহণ করেছেন; তবে আদম ও ঈসা ব্যতিরেকে। কেননা আদমকে মহান আল্লাহ মাটি থেকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন; কোনো পুরুষ বা নারী থেকে নয়। আর ঈসা তাঁর মায়ের গর্ভে কোনো পুরুষ ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছেন। মহান আল্লাহ রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) সম্পর্কে বলেছেন যে তাঁরা বলেছিলেন: {আমরা তো তোমাদের মতোই মানুষ বৈ আর কিছুই নই, কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার ওপর ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন} [ইবরাহীম: ১১]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি} [আল-হুজুরাত: ১৩]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্তের ন্যায়, তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন} [আলে ইমরান: ৫৯]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {যাকে আমি আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদাবনত হতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?} [সোয়াদ: ৭৫]। এবং জিবরীল (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে তিনি মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-কে বলেছিলেন: {আমি তো কেবল তোমার রবের প্রেরিত দূত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করতে পারি} [মারইয়াম: ১৯] {তিনি বললেন: আমার কীভাবে পুত্র হবে যখন কোনো মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও নই?} [মারইয়াম: ২০] {তিনি বললেন: এরূপই হবে, তোমার রব বলেছেন এটা আমার জন্য সহজ} [মারইয়াম: ২১]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর ইমরান-কন্যা মারইয়ামের দৃষ্টান্ত, যে তার সতীত্ব রক্ষা করেছিল, ফলে আমি তার মধ্যে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছিলাম} [আত-তাহরীম: ১২]।
[মাসআলা: জান্নাত সত্য এবং মুমিনদের জন্য সৃষ্ট]১৪ - মাসআলা: এবং জান্নাত সত্য, এটি মুমিনদের জন্য একটি সৃজিত আবাস এবং কোনো কাফির কখনোই তাতে প্রবেশ করবে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং সেই জান্নাতের দিকে (ধাবিত হও) যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের সমান, যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে} [আলে ইমরান: ১৩৩]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর জাহান্নামীরা জান্নাতীদের সম্বোধন করে বলবে, আমাদের ওপর সামান্য পানি ঢেলে দাও অথবা আল্লাহ তোমাদের যে রিযিক দিয়েছেন তা থেকে কিছু দাও। তারা বলবে, আল্লাহ এ দুই-ই কাফিরদের জন্য হারাম করেছেন} [আল-আরাফ: ৫০]।
[মাসআলা: জাহান্নাম সত্য এবং কোনো মুমিন সেখানে চিরস্থায়ী হবে না]১৫ - মাসআলা: এবং জাহান্নাম সত্য, এটি একটি সৃজিত আবাস যেখানে কোনো মুমিন চিরস্থায়ী হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
{لا يَصْلاهَا إِلا الأَشْقَى} [الليل: 15] {الَّذِي كَذَّبَ وَتَوَلَّى} [الليل: 16] {وَسَيُجَنَّبُهَا الأَتْقَى} [الليل: 17] .
[مَسْأَلَة يَدْخُل النَّار مِنْ الْمُسْلِمِينَ الَّذِينَ رجحت سيئاتهم عَلَى حَسنَاتهمْ]16 - مَسْأَلَةٌ: يَدْخُلُ النَّارَ مَنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى مِنْ الْمُسْلِمِينَ الَّذِينَ رَجَحَتْ كَبَائِرُهُمْ وَسَيِّئَاتُهُمْ عَلَى حَسَنَاتِهِمْ ثُمَّ يَخْرُجُونَ مِنْهَا بِالشَّفَاعَةِ وَيَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ. قَالَ عز وجل: {إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُمْ مُدْخَلا كَرِيمًا} [النساء: 31] وَقَالَ تَعَالَى: {وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا وَكَفَى بِنَا حَاسِبِينَ} [الأنبياء: 47] . وَقَالَ تَعَالَى: {فَأَمَّا مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ} [القارعة: 6] {فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَاضِيَةٍ} [القارعة: 7] {وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ} [القارعة: 8] {فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ} [القارعة: 9] {وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهْ} [القارعة: 10] {نَارٌ حَامِيَةٌ} [القارعة: 11] .
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا أَبُو غَسَّانِ الْمِسْمَعِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَا ثنا مُعَاذٌ هُوَ ابْنُ هِشَامٍ الدَّسْتُوَائِيُّ - ثنا أَبِي عَنْ قَتَادَةَ ثنا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ «يَخْرُجُ مِنْ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ مِنْ الْخَيْرِ مَا يَزِنُ شَعِيرَةً، ثُمَّ يَخْرُجُ مِنْ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ مِنْ الْخَيْرِ مَا يَزِنُ بُرَّةً، ثُمَّ يَخْرُجُ مِنْ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إلَه إلَّا اللَّهُ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ مِنْ الْخَيْرِ مَا يَزِنُ ذَرَّةً» .
[مَسْأَلَة بَيَان أَنْ الْجَنَّة وَالنَّار لَا يفنيان وَلَا أَحَد ممن فِيهِمَا]17 - مَسْأَلَةٌ: لَا تَفْنَى الْجَنَّةُ وَلَا النَّارُ وَلَا أَحَدٌ مِمَّنْ فِيهِمَا أَبَدًا. بُرْهَانُ ذَلِكَ: قَوْلُ اللَّهِ عز وجل مُخْبِرًا عَنْ كُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْ هَاتَيْنِ الدَّارَيْنِ وَمَنْ فِيهِمَا: {خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا} [البينة: 8] وَ {خَالِدِينَ فِيهَا مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالأَرْضُ إِلا مَا شَاءَ رَبُّكَ عَطَاءً غَيْرَ مَجْذُوذٍ} [هود: 108] .
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ بْنِ نَامِي ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ عَمْرَوَيْهِ الْجُلُودِيُّ ثنا إبْرَاهِيمُ بْنُ سُفْيَانَ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالَا ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «يُجَاءُ بِالْمَوْتِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُ كَبْشٌ أَمْلَحُ فَيُقَالُ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا؟ فَيَشْرَئِبُّونَ وَيَنْظُرُونَ وَيَقُولُونَ: نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ، وَيُقَالُ: يَا أَهْلَ النَّارِ هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا؟ فَيَشْرَئِبُّونَ وَيَنْظُرُونَ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ، فَيُؤْمَرُ بِهِ فَيُذْبَحُ ثُمَّ يُقَالُ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ خُلُودٌ فَلَا مَوْتَ، وَيَا أَهْلَ النَّارِ خُلُودٌ فَلَا مَوْتَ. ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
{এতে অত্যন্ত হতভাগা ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করবে না} [আল-লাইল: ১৫] {যে মিথ্যারোপ করেছে ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে} [আল-লাইল: ১৬] {আর তা থেকে পরম মুত্তাকীকে দূরে রাখা হবে} [আল-লাইল: ১৭] ।
[মাসআলা: সেই সকল মুসলিমদের জাহান্নামে প্রবেশ করা যাদের মন্দ কাজসমূহ তাদের নেক আমলের চেয়ে ভারী হয়ে গিয়েছে]১৬ - মাসআলা: মুসলিমদের মধ্য হতে আল্লাহ তাআলা যাকে ইচ্ছা করেন, যাদের কবীরা গুনাহ ও মন্দ আমলসমূহ তাদের নেক আমলসমূহের তুলনায় ভারী হয়ে গিয়েছে, তাদের তিনি জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। অতঃপর তারা সুপারিশের মাধ্যমে সেখান থেকে বের হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা যদি নিষিদ্ধ বড় গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকো, তবে আমরা তোমাদের ছোট মন্দ কাজগুলো মোচন করে দেব এবং তোমাদের সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব} [আন-নিসা: ৩১]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর কিয়ামতের দিন আমরা ন্যায়বিচারের পাল্লাসমূহ স্থাপন করব, সুতরাং কারও প্রতি সামান্যতম জুলুম করা হবে না। যদি কোনো আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমরা তা উপস্থিত করব। আর হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে আমরাই যথেষ্ট} [আল-আম্বিয়া: ৪৭]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {অতঃপর যার পাল্লা ভারী হবে} [আল-কারিআহ: ৬] {সে সন্তোষজনক জীবনে থাকবে} [আল-কারিআহ: ৭] {আর যার পাল্লা হালকা হবে} [আল-কারিআহ: ৮] {তার ঠিকানা হবে হাভিয়া} [আল-কারিআহ: ৯] {আর কিসে তোমাকে জানাবে যে সেটি কী?} [আল-কারিআহ: ১০] {তা হলো প্রজ্বলিত আগুন} [আল-কারিআহ: ১১]।
আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, তিনি আহমদ ইবন ফাতহ থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহহাব ইবন ঈসা থেকে, তিনি আহমদ ইবন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আহমদ ইবন আলী থেকে, তিনি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ থেকে, তিনি আবু গাসসান আল-মিসমায়ি ও মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না থেকে বর্ণনা করেন, তারা দুজনে বলেন: আমাদের কাছে মুয়ায (যিনি ইবন হিশাম আদ-দস্তুওয়ায়ী) বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে বলেছে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এবং তার অন্তরে একটি যব পরিমাণ পুণ্য রয়েছে। অতঃপর জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে বলেছে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং তার অন্তরে একটি গমের দানা পরিমাণ পুণ্য রয়েছে। অতঃপর জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে বলেছে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং তার অন্তরে একটি অণু পরিমাণ পুণ্য রয়েছে»।
[মাসআলা: জান্নাত ও জাহান্নাম এবং তথায় অবস্থানকারী কেউ কখনও ধ্বংস না হওয়ার বর্ণনা]১৭ - মাসআলা: জান্নাত ও জাহান্নাম কখনও ধ্বংস হবে না এবং তথায় অবস্থানকারীদেরও কখনও বিনাশ ঘটবে না। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী, যা তিনি এই দুই আবাসস্থল এবং এতে অবস্থানকারীদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন: {তারা সেখানে চিরকাল থাকবে} [আল-বাইয়্যিনাহ: ৮] এবং {তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে যতদিন আসমান ও যমিন বিদ্যমান থাকে, তবে তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা করেন; এটি এমন এক নিরবচ্ছিন্ন দান যা কখনও শেষ হবে না} [হূদ: ১০৮]।
আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ ইবন নামি বর্ণনা করেছেন, তিনি আহমদ ইবন ফাতহ থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহহাব ইবন ঈসা থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবন ঈসা ইবন আমরওয়াইহ আল-জুলুদি থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবন সুফিয়ান থেকে, তিনি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ থেকে, তিনি আবু বকর ইবন আবি শায়বাহ ও আবু কুরায়ব থেকে বর্ণনা করেন, তারা দুজনে বলেন: আমাদের কাছে আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে একটি সাদা-কালো ভেড়ারূপে নিয়ে আসা হবে। অতঃপর বলা হবে: হে জান্নাতবাসী! তোমরা কি একে চিনতে পারো? তখন তারা ঘাড় উঁচিয়ে দেখবে এবং বলবে: হ্যাঁ, এটিই মৃত্যু। অতঃপর বলা হবে: হে জাহান্নামবাসী! তোমরা কি একে চিনতে পারো? তখন তারাও ঘাড় উঁচিয়ে দেখবে এবং বলবে: হ্যাঁ, এটিই মৃত্যু। তখন সেটিকে জবাই করার নির্দেশ দেওয়া হবে এবং জবাই করা হবে। এরপর বলা হবে: হে জান্নাতবাসী! এখন কেবলই অনন্তকাল, আর কোনো মৃত্যু নেই; এবং হে জাহান্নামবাসী! এখন কেবলই অনন্তকাল, আর কোনো মৃত্যু নেই। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠ করলেন: (আয়াতটি হলো...)»।
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٣١)
{وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لا يُؤْمِنُونَ} [مريم: 39] وَأَشَارَ بِيَدِهِ إلَى أَهْلِ الدُّنْيَا» زَادَ أَبُو كُرَيْبٍ فِي رِوَايَتِهِ بَعْدَ كَبْشٍ أَمْلَحَ «فَيُوقَفُ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ» . وَقَالَ عز وجل فِي أَهْلِ الْجَنَّةِ: {لا يَذُوقُونَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلا الْمَوْتَةَ الأُولَى} [الدخان: 56] وَقَالَ فِي أَهْلِ النَّارِ {لا يُقْضَى عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُوا وَلا يُخَفَّفُ عَنْهُمْ مِنْ عَذَابِهَا} [فاطر: 36] وَبِاَللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيقُ.
[مَسْأَلَة بَيَان أَنْ أَهْل الْجَنَّة يَأْكُلُونَ ويشربون وَلَا يرون بؤسا أبدا]18 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ يَأْكُلُونَ وَيَشْرَبُونَ وَيَطَئُونَ وَيَلْبَسُونَ وَيَتَلَذَّذُونَ وَلَا يَرَوْنَ بُؤْسًا أَبَدًا؛ وَكُلُّ ذَلِكَ بِخِلَافِ مَا فِي الدُّنْيَا؛ لَكِنْ مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ؛ وَحُورُ الْعِينِ حَقٌّ نِسَاءٌ مُطَهَّرَاتٌ خَلَقَهُنَّ اللَّهُ عز وجل لِلْمُؤْمِنِينَ. قَالَ تَعَالَى: {يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ} [الواقعة: 17] {بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِنْ مَعِينٍ} [الواقعة: 18] {لا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلا يُنْزِفُونَ} [الواقعة: 19] {وَفَاكِهَةٍ مِمَّا يَتَخَيَّرُونَ} [الواقعة: 20] {وَلَحْمِ طَيْرٍ مِمَّا يَشْتَهُونَ} [الواقعة: 21] {وَحُورٌ عِينٌ} [الواقعة: 22] {كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ} [الواقعة: 23] {جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الواقعة: 24] وَقَالَ تَعَالَى: {وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ} [الحج: 23] وَقَالَ تَعَالَى: {وَحُلُّوا أَسَاوِرَ مِنْ فِضَّةٍ وَسَقَاهُمْ رَبُّهُمْ شَرَابًا طَهُورًا} [الإنسان: 21] .
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى ثنا إبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ ثنا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «قَالَ اللَّهُ عز وجل: أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِينَ مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ مِصْدَاقُ ذَلِكَ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى: {فَلا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [السجدة: 17] » .
وَبِهِ إلَى مُسْلِمٍ حَدَّثَنِي الْحَسَنُ الْحُلْوَانِيُّ ثنا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ؛ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَأْكُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ فِيهَا وَيَشْرَبُونَ وَلَا يَتَغَوَّطُونَ وَلَا يَتَمَخَّطُونَ وَلَا يَبُولُونَ، وَلَكِنَّ طَعَامَهُمْ ذَلِكَ جُشَاءٌ كَرَشْحِ
{আর আপনি তাদেরকে পরিতাপের দিন সম্পর্কে সতর্ক করে দিন, যখন সব বিষয়ের ফয়সালা হয়ে যাবে, অথচ তারা গাফলতির মধ্যে রয়েছে এবং তারা ঈমান আনছে না} [মারইয়াম: ৩৯] আর তিনি তাঁর হাত দিয়ে দুনিয়াবাসীদের দিকে ইশারা করলেন। আবু কুরাইব তাঁর বর্ণনায় একটি সাদা-কালো মিশ্রিত মেষের উল্লেখের পর যোগ করেছেন: ‘অতঃপর সেটিকে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে দাঁড় করানো হবে।’ আর জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে মহামহিম আল্লাহ বলেছেন: {তারা সেখানে প্রথম মৃত্যু ছাড়া আর কোনো মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে না} [আদ-দুখান: ৫৬] আর জাহান্নামীদের সম্পর্কে বলেছেন: {তাদের ওপর মৃত্যুর ফয়সালা দেওয়া হবে না যে তারা মারা যাবে, আর তাদের থেকে জাহান্নামের আযাবও লাঘব করা হবে না} [ফাতির: ৩৬] আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে।
[জান্নাতবাসীরা পানাহার করবে এবং তারা কখনো কোনো দুঃখ-কষ্ট দেখবে না—এই বিষয়ের বর্ণনা]১৮ - মাসআলা: জান্নাতবাসীরা সেখানে আহার করবে, পান করবে, সহবাস করবে, পোশাক পরিধান করবে এবং পরম সুখে লিপ্ত থাকবে; তারা কখনো কোনো দুঃখ-কষ্ট দেখবে না। এসব কিছুই দুনিয়াতে যা রয়েছে তার বিপরীত হবে; বরং তা এমন হবে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শুনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়েও তা কখনো কল্পনা আসেনি। আর ডাগর চক্ষুবিশিষ্টা হুরগণ সত্য, তারা পবিত্রা নারী যাদেরকে মহামহিম আল্লাহ মুমিনদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাদের আশেপাশে ঘুরাফেরা করবে চিরকিশোররা} [আল-ওয়াকিআ: ১৭] {পানপাত্র, জগ ও খাঁটি সুরাপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে} [আল-ওয়াকিআ: ১৮] {তা পানে তাদের শিরঃপীড়া হবে না এবং তারা জ্ঞানও হারাবে না} [আল-ওয়াকিআ: ১৯] {আর তাদের পছন্দমতো ফলমূল নিয়ে} [আল-ওয়াকিআ: ২০] {এবং তাদের রুচিমতো পাখির গোশত নিয়ে} [আল-ওয়াকিআ: ২১] {আর সেখানে থাকবে ডাগর চক্ষুবিশিষ্টা হুরগণ} [আল-ওয়াকিআ: ২২] {যেন তারা আবরণে রাখা মুক্তা} [আল-ওয়াকিআ: ২৩] {তাদের কৃতকর্মের প্রতিদানস্বরূপ} [আল-ওয়াকিআ: ২৪] আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের} [আল-হাজ্জ: ২৩] আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তাদের পরানো হবে রূপার কঙ্কণ এবং তাদের রব তাদেরকে পবিত্র পানীয় পান করাবেন} [আল-ইনসান: ২১]।
আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আহমাদ বিন ফাতহ থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহহাব বিন ঈসা থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ঈসা থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি মুসলিম বিন হাজ্জাজ থেকে, তিনি যুহাইর বিন হারব থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আরায থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ‘আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছি যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শুনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়েও তা কখনো উদিত হয়নি।’ আল্লাহর কিতাবে এর সত্যতা রয়েছে: {কেউ জানে না তাদের জন্য তাদের চোখ জুড়ানো কী পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদানস্বরূপ।} [আস-সাজদাহ: ১৭]»।
এবং একই সনদে ইমাম মুসলিম পর্যন্ত, তিনি বলেন: আমার কাছে হাসান আল-হুলওয়ানি বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আসিম থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি বলেন: আমাকে আবুয যুবাইর অবহিত করেছেন যে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «জান্নাতবাসীরা জান্নাতে আহার করবে ও পান করবে, কিন্তু তারা মলত্যাগ করবে না, সর্দি ঝাড়বে না এবং প্রস্রাবও করবে না। বরং তাদের সেই খাদ্য ঢেকুর হিসেবে বের হবে যা হবে কস্তুরীর সুগন্ধিযুক্ত ঘামের মতো...»
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
الْمِسْكِ، يُلْهَمُونَ التَّسْبِيحَ وَالْحَمْدَ كَمَا يُلْهَمُونَ النَّفَسَ» وَهَذَا نَصٌّ عَلَى أَنَّهُ خِلَافُ مَا فِي الدُّنْيَا.
[مَسْأَلَة أَهْل النَّار يعذبون بالسلاسل والأغلال وأكلهم الزقوم وشربهم الحميم]19 - مَسْأَلَةٌ: وَأَهْلُ النَّارِ يُعَذَّبُونَ بِالسَّلَاسِلِ وَالْأَغْلَالِ وَالْقَطِرَانِ وَأَطْبَاقِ النِّيرَانِ؛ أَكْلُهُمْ الزَّقُّومُ وَشُرْبُهُمْ مَاءٌ كَالْمُهْلِ وَالْحَمِيمِ؛ نَعُوذُ بِاَللَّهِ مِنْ ذَلِكَ. وَقَالَ تَعَالَى: {سَرَابِيلُهُمْ مِنْ قَطِرَانٍ} [إبراهيم: 50] وَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ سَلاسِلَ وَأَغْلالا وَسَعِيرًا} [الإنسان: 4] وَقَالَ تَعَالَى: {يُرِيدُونَ أَنْ يَخْرُجُوا مِنَ النَّارِ وَمَا هُمْ بِخَارِجِينَ مِنْهَا} [المائدة: 37] وَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّ شَجَرَتَ الزَّقُّومِ - طَعَامُ الأَثِيمِ} [الدخان: 43 - 44] وَقَالَ تَعَالَى: {فِي سَمُومٍ وَحَمِيمٍ} [الواقعة: 42] وَقَالَ تَعَالَى: {وَإِنْ يَسْتَغِيثُوا يُغَاثُوا بِمَاءٍ كَالْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ} [الكهف: 29] .
[مَسْأَلَة كُفْر بِمَا بلغه وصح عِنْده عَنْ النَّبِيّ أَوْ أجمع عَلَيْهِ الْمُؤْمِنُونَ]20 - مَسْأَلَةٌ: وَكُلُّ مَنْ كَفَرَ بِمَا بَلَغَهُ وَصَحَّ عِنْدَهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ أَجْمَعَ عَلَيْهِ الْمُؤْمِنُونَ مِمَّا جَاءَ بِهِ النَّبِيُّ عليه السلام فَهُوَ كَافِرٌ؛ كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ} [النساء: 115] .
[مَسْأَلَة الْقُرْآن كَلَام اللَّه ووحيه أنزله عَلَى قَلْب نبيه مُحَمَّد]21 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ الْقُرْآنَ الَّذِي فِي الْمَصَاحِفِ بِأَيْدِي الْمُسْلِمِينَ شَرْقًا وَغَرْبًا فَمَا بَيْنَ ذَلِكَ مِنْ أَوَّلِ أُمِّ الْقُرْآنِ إلَى آخِرِ الْمُعَوِّذَتَيْنِ كَلَامُ اللَّهِ عز وجل وَوَحْيُهُ أَنْزَلَهُ عَلَى قَلْبِ نَبِيِّهِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مَنْ كَفَرَ بِحَرْفٍ مِنْهُ فَهُوَ كَافِرٌ. قَالَ تَعَالَى: {فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلامَ اللَّهِ} [التوبة: 6] وَقَالَ تَعَالَى: {نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأَمِينُ} [الشعراء: 193] {عَلَى قَلْبِكَ} [الشعراء: 194] وَقَالَ تَعَالَى: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ قُرْآنًا عَرَبِيًّا} [الشورى: 7] . وَكُلُّ مَا رُوِيَ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ مِنْ أَنَّ الْمُعَوِّذَتَيْنِ وَأُمَّ الْقُرْآنِ لَمْ تَكُنْ فِي مُصْحَفِهِ فَكَذِبٌ مَوْضُوعٌ لَا يَصِحُّ؛ وَإِنَّمَا صَحَّتْ عَنْهُ قِرَاءَةُ عَاصِمٍ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ وَفِيهَا أُمُّ الْقُرْآنِ وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ
[كل ما فيه من خبر عن نبي من الأنبياء أو مسخ أو عذاب أو نعيم]22 - مَسْأَلَةٌ: وَكُلُّ مَا فِيهِ مِنْ خَبَرٍ عَنْ نَبِيٍّ مِنْ الْأَنْبِيَاءِ أَوْ مَسْخٍ أَوْ عَذَابٍ أَوْ نَعِيمٍ أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ فَهُوَ حَقٌّ عَلَى ظَاهِرِهِ لَا رَمْزَ فِي شَيْءٍ مِنْهُ، قَالَ تَعَالَى {قُرْآنًا عَرَبِيًّا} [الزمر: 28] وَقَالَ تَعَالَى {تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [النحل: 89] وَأَنْكَرَ تَعَالَى عَلَى قَوْمٍ خَالَفُوا هَذَا فَقَالَ تَعَالَى {يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ} [النساء: 46] .
[مَسْأَلَة لَا سُرّ فِي الدِّين عِنْد أَحَد يختص بِهِ]23 - مَسْأَلَةٌ: وَلَا سِرَّ فِي الدِّينِ عِنْدَ أَحَدٍ. قَالَ اللَّهُ عز وجل:
কস্তুরীর ন্যায়, তাঁদেরকে তাসবিহ ও হামদ (আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা) করার ইলহাম করা হবে, যেমনটি তাঁদেরকে শ্বাস-প্রশ্বাসের ইলহাম করা হয়। আর এটিই এর প্রমাণ যে, এটি দুনিয়াতে যা রয়েছে তার বিপরীত।
[মাসয়ালা: জাহান্নামীদেরকে শেকল, বেড়ি দ্বারা শাস্তি প্রদান করা হবে এবং তাদের খাদ্য হবে জাক্কুম ও পানীয় হবে অত্যন্ত উত্তপ্ত পানি]১৯ - মাসয়ালা: জাহান্নামীদেরকে শেকল, বেড়ি, আলকাতরা এবং আগুনের স্তরে স্তরে শাস্তি প্রদান করা হবে; তাদের খাদ্য হবে জাক্কুম এবং তাদের পানীয় হবে বিগলিত ধাতুর ন্যায় ও অত্যন্ত উত্তপ্ত পানি; আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তাদের পোশাক হবে আলকাতরার" [ইবরাহীম: ৫০]। তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি শেকল, বেড়ি ও প্রজ্বলিত অগ্নি" [আল-ইনসান: ৪]। তিনি আরও বলেছেন: "তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, কিন্তু তারা সেখান থেকে বের হতে পারবে না" [আল-মায়িদাহ: ৩৭]। তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই জাক্কুম গাছ হবে অপরাধীদের খাদ্য" [আদ-দুখান: ৪৩-৪৪]। তিনি আরও বলেছেন: "উত্তপ্ত বাতাস ও অত্যন্ত উত্তপ্ত পানির মধ্যে" [আল-ওয়াকিয়াহ: ৪২]। তিনি আরও বলেছেন: "তারা যদি পানীয়র জন্য আর্তনাদ করে, তবে তাদেরকে এমন পানি দেওয়া হবে যা বিগলিত ধাতুর ন্যায়, যা তাদের মুখমণ্ডলকে দগ্ধ করবে" [আল-কাহাফ: ২৯]।
[মাসয়ালা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা পৌঁছেছে এবং সহিহ প্রমাণিত হয়েছে অথবা মুমিনগণ যার ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন, তা অস্বীকার করা কুফরি]২০ - মাসয়ালা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন, তার মধ্য থেকে যা কারো নিকট পৌঁছেছে এবং তাঁর নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ প্রমাণিত হয়েছে অথবা মুমিনগণ যার ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন, তা যে অস্বীকার করবে সে কাফির; যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর যে ব্যক্তি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ছেড়ে অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই পরিচালিত করব যা সে গ্রহণ করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব" [আন-নিসা: ১১৫]।
[মাসয়ালা: কুরআন আল্লাহর কালাম ও তাঁর ওহি, যা তিনি তাঁর নবী মুহাম্মাদের হৃদয়ে অবতীর্ণ করেছেন]২১ - মাসয়ালা: পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত এবং এর মধ্যবর্তী স্থানে মুসলমানদের হাতে সংরক্ষিত মাসহাফসমূহে যে কুরআন রয়েছে—উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা)-এর শুরু থেকে মুআওবিযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস)-এর শেষ পর্যন্ত—তা মহান আল্লাহর কালাম ও তাঁর ওহি, যা তিনি তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হৃদয়ে অবতীর্ণ করেছেন। যে ব্যক্তি এর একটি অক্ষরও অস্বীকার করবে সে কাফির। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তবে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়" [আত-তাওবাহ: ৬]। তিনি আরও বলেছেন: "বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরাঈল) এটি নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন" [আশ-শুআরা: ১৯৩] "তোমার হৃদয়ে" [আশ-শুআরা: ১৯৪]। তিনি আরও বলেছেন: "এবং এভাবেই আমি তোমার প্রতি আরবি কুরআন ওহি করেছি" [আশ-শূরা: ৭]। আর ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর মাসহাফে মুআওবিযাতাইন ও উম্মুল কুরআন ছিল না, তা মিথ্যা ও বানোয়াট, যা সঠিক নয়; বরং তাঁর থেকে যির বিন হুবাইশ-এর মাধ্যমে আসিমের কিরাতটি সহিহভাবে প্রমাণিত, যাতে উম্মুল কুরআন ও মুআওবিযাতাইন বিদ্যমান রয়েছে।
[কুরআনে কোনো নবী সম্পর্কে সংবাদ, আকৃতি পরিবর্তন, আজাব অথবা নেয়ামত সম্পর্কে যা কিছু রয়েছে]২২ - মাসয়ালা: কুরআনে কোনো নবী সম্পর্কে সংবাদ, আকৃতি পরিবর্তন, আজাব, নেয়ামত বা অন্য যা কিছুই রয়েছে, তা তার বাহ্যিক অর্থেই সত্য, এর কোনো কিছুতেই কোনো রূপক সংকেত নেই। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আরবি কুরআন" [আয-যুমার: ২৮]। তিনি আরও বলেছেন: "প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ" [আন-নাহল: ৮৯]। আল্লাহ তাআলা সেই সম্প্রদায়ের নিন্দা করেছেন যারা এর বিরোধিতা করেছে, তিনি বলেছেন: "তারা শব্দগুলোকে তাদের নির্ধারিত স্থান থেকে বিকৃত করে" [আন-নিসা: ৪৬]।
[মাসয়ালা: দ্বীনের এমন কোনো গোপন বিষয় কারো কাছে নেই যা তার জন্য সুনির্দিষ্ট]২৩ - মাসয়ালা: দ্বীনের ক্ষেত্রে কারো নিকট কোনো গোপন বিষয় নেই। মহান আল্লাহ বলেছেন:
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
{إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللاعِنُونَ} [البقرة: 159] {إِلا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا} [البقرة: 160] وَقَالَ تَعَالَى {لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلا تَكْتُمُونَهُ} [آل عمران: 187] .
[مَسْأَلَة الْمَلَائِكَة حَقّ وهم مخلوقون مكرمون لَا يعصون اللَّه مَا أمرهم]24 - مَسْأَلَةٌ: وَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ حَقٌّ؛ وَهُمْ خَلْقٌ مِنْ خَلْقِ اللَّهِ عز وجل مُكْرَمُونَ كُلُّهُمْ رُسُلُ اللَّهِ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَالْمَلائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِمْ مِنْ كُلِّ بَابٍ} [الرعد: 23] وَقَالَ تَعَالَى: {بَلْ عِبَادٌ مُكْرَمُونَ} [الأنبياء: 26] وَقَالَ تَعَالَى: {جَاعِلِ الْمَلائِكَةِ رُسُلا أُولِي أَجْنِحَةٍ} [فاطر: 1] .
[مَسْأَلَة الْمَلَائِكَة خلقوا مِنْ نور وَآدَم مِنْ مَاء وتراب والجن مِنْ نار]25 - مَسْأَلَةٌ: خُلِقُوا كُلُّهُمْ مِنْ نُورٍ وَخُلِقَ آدَم مِنْ مَاءٍ وَتُرَابٍ وَخُلِقَ الْجِنُّ مِنْ نَارٍ. حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى ثنا إبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ ثنا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خُلِقَتْ الْمَلَائِكَةُ مِنْ نُورٍ وَخُلِقَ الْجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ وَخُلِقَ آدَم مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ» وَقَالَ تَعَالَى: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا الإِنْسَانَ مِنْ سُلالَةٍ مِنْ طِينٍ} [المؤمنون: 12] .
[مَسْأَلَة الْمَلَائِكَة أَفْضَل خلق اللَّه وَلَا يعصون اللَّه]26 - مَسْأَلَةٌ: وَالْمَلَائِكَةُ أَفْضَلُ خَلْقِ اللَّهِ تَعَالَى؛ لَا يَعْصِي أَحَدٌ مِنْهُمْ فِي صَغِيرَةٍ وَلَا كَبِيرَةٍ وَهُمْ سُكَّانُ السَّمَاوَاتِ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {لا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} [التحريم: 6] وَقَالَ تَعَالَى: {لَنْ يَسْتَنْكِفَ الْمَسِيحُ أَنْ يَكُونَ عَبْدًا لِلَّهِ وَلا الْمَلائِكَةُ الْمُقَرَّبُونَ} [النساء: 172] فَهَذَا تَفْضِيلٌ لَهُمْ عَلَى الْمَسِيحِ عليه السلام. وَقَالَ تَعَالَى: {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلا} [الإسراء: 70] وَلَمْ يَقُلْ تَعَالَى عَلَى كُلِّ مَنْ خَلَقْنَا. وَلَا خِلَافَ فِي أَنَّ بَنِي آدَمَ أَفْضَلُ مِنْ كُلِّ خَلْقٍ سِوَى الْمَلَائِكَةِ فَلَمْ يَبْقَ إلَّا الْمَلَائِكَةُ، وَإِسْجَادُهُ تَعَالَى الْمَلَائِكَةَ لِآدَمَ - عَلَى جَمِيعِهِمْ السَّلَامُ - سُجُودُ تَحِيَّةٍ؛ فَلَوْ لَمْ يَكُونُوا أَفْضَلَ مِنْهُ لَمْ يَكُنْ لَهُ فَضِيلَةٌ فِي أَنْ يُكَرَّمَ بِأَنْ يُحَيُّوهُ. وَقَدْ تَقَصَّيْنَا هَذَا الْبَابَ فِي كِتَابِ الْفِصَلِ غَايَةَ التَّقَصِّي وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ. وَقَالَ تَعَالَى: {وَتَرَى الْمَلائِكَةَ حَافِّينَ مِنْ حَوْلِ الْعَرْشِ} [الزمر: 75] .
[مَسْأَلَة الْجِنّ حَقّ مخلوقون فِيهِمْ الْكَافِر والمؤمن يروننا وَلَا نراهم]27 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ الْجِنَّ حَقٌّ وَهُمْ خَلْقٌ مِنْ خَلْقِ اللَّهِ عز وجل؛ فِيهِمْ الْكَافِرُ
{নিশ্চয়ই যারা গোপন করে আমি যা নাযিল করেছি সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ ও হিদায়াত থেকে, কিতাবে মানুষের জন্য তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পর—আল্লাহ তাদের লানত দেন এবং লানতকারীরাও তাদের লানত দেয়। তবে যারা তাওবা করে, সংশোধন করে এবং স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে (তাদের ব্যতীত)।} [বাকারা: ১৫৯-১৬০] এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {অবশ্যই তোমরা তা মানুষের জন্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না।} [আল-ইমরান: ১৮৭] ।
[মাসআলা: ফেরেশতাগণ সত্য এবং তারা সৃষ্টি করা সম্মানিত মাখলুক যারা আল্লাহ তাদের যা নির্দেশ দিয়েছেন সে ব্যাপারে তাঁর অবাধ্য হয় না]২৪ - মাসআলা: আর নিশ্চয়ই ফেরেশতাগণ সত্য; তারা মহান আল্লাহর সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত এক সৃষ্টি, তারা সকলে সম্মানিত এবং আল্লাহর রাসূল (প্রেরিত)। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর ফেরেশতারা তাদের কাছে প্রতিটি দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।} [রাদ: ২৩] এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {বরং তারা সম্মানিত বান্দা।} [আম্বিয়া: ২৬] এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {যিনি ফেরেশতাদের রাসূল হিসেবে নিযুক্ত করেছেন, যারা ডানা বিশিষ্ট।} [ফাতির: ১] ।
[মাসআলা: ফেরেশতাদের নূর থেকে, আদমকে পানি ও মাটি থেকে এবং জিনদের আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে]২৫ - মাসআলা: তারা সকলে নূর (আলো) থেকে সৃষ্টি হয়েছেন, আদম সৃষ্টি হয়েছেন পানি ও মাটি থেকে এবং জিন সৃষ্টি হয়েছে আগুন থেকে। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ফাতহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহাব ইবনে ঈসা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ঈসা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদ ইবনে হুমাইদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মা'মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ফেরেশতাদের সৃষ্টি করা হয়েছে নূর থেকে, জিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে আগুনের শিখা থেকে এবং আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা থেকে যা তোমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে» এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর অবশ্যই আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।} [মুমিনুন: ১২] ।
[মাসআলা: ফেরেশতাগণ আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি এবং তারা আল্লাহর অবাধ্য হয় না]২৬ - মাসআলা: আর ফেরেশতাগণ মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি; তাদের কেউ ছোট বা বড় কোনো গুনাহে লিপ্ত হয়ে অবাধ্যতা করে না এবং তারা আসমানের অধিবাসী। মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা আল্লাহ তাদের যা নির্দেশ দিয়েছেন সে ব্যাপারে তাঁর অবাধ্য হয় না এবং তারা যা আদিষ্ট হয় তাই করে।} [তাহরীম: ৬] এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {মসীহ আল্লাহর বান্দা হতে কখনো অবজ্ঞা করেন না, আর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণও নয়।} [নিসা: ১৭২] এটি মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর অবশ্যই আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি এবং তাদের স্থলে ও জলে বহন করেছি এবং তাদের পবিত্র রিযিক দান করেছি এবং আমি যা সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।} [ইসরা: ৭০] মহান আল্লাহ 'আমার সকল সৃষ্টির ওপর' বলেননি। আর এতে কোনো মতভেদ নেই যে, আদম সন্তান ফেরেশতা ব্যতীত অন্য সব সৃষ্টির চেয়ে শ্রেষ্ঠ, তাই কেবল ফেরেশতাগণই অবশিষ্ট থাকলেন। আর আদমের প্রতি মহান আল্লাহর ফেরেশতাদের সিজদা করার নির্দেশ ছিল অভিবাদনের সিজদা; যদি তাঁরা তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ না হতেন, তবে তাঁদের অভিবাদনের মাধ্যমে তাঁকে সম্মানিত করার মাঝে তাঁর জন্য কোনো বিশেষ মর্যাদা থাকত না। আর আমি 'আল-ফিসাল' গ্রন্থে এই অধ্যায়টি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে আলোচনা করেছি, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আপনি ফেরেশতাদের দেখতে পাবেন যে তারা আরশের চারপাশ ঘিরে রেখেছে।} [যুমার: ৭৫] ।
[মাসআলা: জিন সত্য এবং তারা সৃষ্টি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কাফির ও মুমিন রয়েছে; তারা আমাদের দেখে কিন্তু আমরা তাদের দেখি না]২৭ - মাসআলা: আর নিশ্চয়ই জিন সত্য এবং তারা মহান আল্লাহর সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত এক সৃষ্টি; তাদের মধ্যে কাফির রয়েছে...
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
وَالْمُؤْمِنُ؛ يَرَوْنَنَا وَلَا نَرَاهُمْ؛ يَأْكُلُونَ وَيَنْسِلُونَ وَيَمُوتُونَ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالإِنْسِ} [الأنعام: 130] وَقَالَ تَعَالَى: {وَالْجَانَّ خَلَقْنَاهُ مِنْ قَبْلُ مِنْ نَارِ السَّمُومِ} [الحجر: 27] وَقَالَ تَعَالَى حَاكِيًا عَنْهُمْ أَنَّهُمْ قَالُوا {وَأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُونَ وَمِنَّا الْقَاسِطُونَ فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُولَئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا} [الجن: 14] {وَأَمَّا الْقَاسِطُونَ فَكَانُوا لِجَهَنَّمَ حَطَبًا} [الجن: 15] وَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لا تَرَوْنَهُمْ} [الأعراف: 27] وَقَالَ تَعَالَى: {أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِي} [الكهف: 50] وَقَالَ تَعَالَى: {كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ} [الرحمن: 26] وَقَالَ تَعَالَى: {كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ} [آل عمران: 185] . حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْجَسُورِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبِيعٍ؛ قَالَ أَحْمَدُ أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ مَسَرَّةَ نا مُحَمَّدُ بْنُ وَضَّاحٍ نا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ؛ وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: نا مُحَمَّدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ نا أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبٍ نا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ؛ ثُمَّ اتَّفَقَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَهَنَّادٌ قَالَا: نا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ دَاوُد الطَّائِيِّ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَسْتَنْجُوا بِالْعِظَامِ وَلَا بِالرَّوْثِ فَإِنَّهُمَا زَادُ إخْوَانِكُمْ مِنْ الْجِنِّ» .
এবং মুমিন জিনরা; তারা আমাদের দেখে কিন্তু আমরা তাদের দেখি না; তারা আহার করে, বংশবৃদ্ধি করে এবং মৃত্যুবরণ করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে জিন ও মানব সম্প্রদায়} [আল-আনআম: ১৩০]। তিনি আরও বলেছেন: {আর এর আগে আমি জিনকে অতি উত্তপ্ত অগ্নিশিখা থেকে সৃষ্টি করেছি} [আল-হিজর: ২৭]। তিনি তাদের পক্ষ থেকে বর্ণনা করে বলেছেন যে তারা বলেছিল: {আর আমাদের মধ্যে কেউ আত্মসমর্পণকারী এবং কেউ বিপথগামী। সুতরাং যারা আত্মসমর্পণ করেছে, তারাই সঠিক পথ অন্বেষণ করেছে} [আল-জিন: ১৪]। {আর যারা বিপথগামী, তারা তো জাহান্নামের জ্বালানি} [আল-জিন: ১৫]। তিনি আরও বলেছেন: {নিশ্চয়ই সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে এমনভাবে দেখে যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না} [আল-আরাফ: ২৭]। তিনি আরও বলেছেন: {তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে ও তার বংশধরদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করছ?} [আল-কাহফ: ৫০]। তিনি আরও বলেছেন: {ভূপৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবই নশ্বর} [আর-রহমান: ২৬]। তিনি আরও বলেছেন: {প্রত্যেক প্রাণ সত্তাই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে} [আল-ইমরান: ১৮৫]। আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল জাসুর এবং আব্দুল্লাহ ইবনে রাবি’ বর্ণনা করেছেন; আহমাদ বলেছেন, ওয়াহাব ইবনে মাসাররাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াদদাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন; এবং আব্দুল্লাহ বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে মুআবিয়াহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে শুআইব আমাদের বর্ণনা করেছেন, হান্নাদ ইবনে আস-সাররি আমাদের বর্ণনা করেছেন; অতঃপর ইবনে আবি শাইবাহ ও হান্নাদ একমত হয়েছেন এবং বলেছেন: আমাদের নিকট হাফস ইবনে গিয়াস দাউদ আত-তাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আশ-শা’বি থেকে, তিনি আলকামা থেকে, আর তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা হাড় এবং গোবর দিয়ে শৌচকার্য করো না। কারণ এগুলি তোমাদের জিন ভাইদের খাদ্য»।
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
[مَسْأَلَة الْبَعْث حَقّ]مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ الْبَعْثَ حَقٌّ؛ وَهُوَ وَقْتٌ يَنْقَضِي فِيهِ بَقَاءُ الْخَلْقِ فِي الدُّنْيَا فَيَمُوتُ كُلُّ مَنْ فِيهَا؛ ثُمَّ يُحْيِي الْمَوْتَى؛ يُحْيِي عِظَامَهُمْ الَّتِي فِي الْقُبُورِ وَهِيَ رَمِيمٌ وَيُعِيدُ الْأَجْسَامَ كَمَا كَانَتْ وَيَرُدُّ إلَيْهَا الْأَرْوَاحَ كَمَا كَانَتْ؛ وَيَجْمَعُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ يُحَاسَبُ فِيهِ الْجِنُّ وَالْإِنْسُ فَيُوَفَّى كُلُّ أَحَدٍ قَدْرَ عَمَلِهِ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّهُ يُحْيِي الْمَوْتَى وَأَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [الحج: 6] {وَأَنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ لا رَيْبَ فِيهَا وَأَنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ مَنْ فِي الْقُبُورِ} [الحج: 7] وَقَالَ تَعَالَى: {قَالَ مَنْ يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ} [يس: 78] {قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ} [يس: 79] وَقَالَ تَعَالَى: {يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [النور: 24] وَقَالَ تَعَالَى: {قُلْ إِنَّ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ} [الواقعة: 49] {لَمَجْمُوعُونَ إِلَى مِيقَاتِ يَوْمٍ مَعْلُومٍ} [الواقعة: 50] وَقَالَ تَعَالَى: {فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ} [المعارج: 4] وَقَالَ تَعَالَى: {الْيَوْمَ تُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ لا ظُلْمَ الْيَوْمَ إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ} [غافر: 17] .
[مَسْأَلَة الوحوش تحشر يَوْم الْقِيَامَة]29 - مَسْأَلَةٌ: وَإِنَّ الْوُحُوشَ تُحْشَرُ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَإِذَا الْوُحُوشُ حُشِرَتْ} [التكوير: 5] وَقَالَ تَعَالَى: {وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الأَرْضِ وَلا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلا أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ} [الأنعام: 38] . حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ نا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ نا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى نا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ نا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ نا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ نا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ نا إسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَتُؤَدُّنَّ الْحُقُوقَ إلَى أَهْلِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُقَادَ لِلشَّاةِ الْجَلْحَاءِ مِنْ الشَّاةِ الْقَرْنَاءِ» .
[পুনরুত্থানের বিষয়টি সত্য]মাসআলা: এবং নিশ্চয়ই পুনরুত্থান সত্য; এটি এমন এক সময় যখন দুনিয়ায় সৃষ্টিজগতের স্থায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে এবং এতে অবস্থানকারী সকলে মৃত্যুবরণ করবে; অতঃপর তিনি মৃতদের জীবিত করবেন; তিনি তাদের হাড়গুলোকে জীবিত করবেন যা কবরে জীর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং দেহগুলোকে পূর্বের ন্যায় ফিরিয়ে আনবেন এবং তাতে রূহসমূহ পূর্বের ন্যায় ফিরিয়ে দিবেন; আর তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে এমন এক দিনে একত্রিত করবেন যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর, যে দিনে জিন ও মানবজাতির হিসাব নেওয়া হবে এবং প্রত্যেককে তার আমল অনুযায়ী পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এটি এজন্য যে, আল্লাহই সত্য এবং তিনি মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান} [আল-হাজ্জ: ৬] {এবং কিয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং কবরে যারা আছে আল্লাহ তাদের পুনরুত্থিত করবেন} [আল-হাজ্জ: ৭] এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {সে বলে, কে এই হাড়গুলোকে জীবিত করবে যখন সেগুলো জীর্ণ হয়ে গেছে?} [ইয়া-সীন: ৭৮] {বলুন, তিনিই সেগুলোকে জীবিত করবেন যিনি প্রথমবার সেগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত} [ইয়া-সীন: ৭৯] এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {যেদিন তাদের বিরুদ্ধে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা সাক্ষ্য দিবে তারা যা করত সে বিষয়ে} [আন-নূর: ২৪] এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {বলুন, নিশ্চয়ই পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ সবাই} [আল-ওয়াকিআহ: ৪৯] {একত্রিত হবে এক নির্দিষ্ট দিনের নির্ধারিত সময়ে} [আল-ওয়াকিআহ: ৫০] এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {এমন এক দিনে যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর} [আল-মাআরিজ: ৪] এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আজ প্রত্যেককে তার অর্জন অনুযায়ী প্রতিদান দেওয়া হবে, আজ কোনো জুলুম নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী} [গাফির: ১৭]।
[কিয়ামতের দিন বন্যপ্রাণীদের হাশর হওয়ার বিষয়টি]২৯ - মাসআলা: এবং নিশ্চয়ই বন্যপ্রাণীদের হাশর করা হবে (একত্রিত করা হবে)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং যখন বন্যপ্রাণীদের একত্রিত করা হবে} [আত-তাকভীর: ৫] এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর জমিনের বুকে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই এবং এমন কোনো পাখি নেই যা তার দুই ডানা দিয়ে ওড়ে, যারা তোমাদের মতোই একেকটি উম্মত নয়; আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি, অতঃপর তাদের রবের নিকট তাদের হাশর করা হবে} [আল-আনআম: ৩৮]। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, তিনি আহমদ ইবনে ফাতহ থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহহাব ইবনে ঈসা থেকে, তিনি আহমদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আহমদ ইবনে আলী থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ থেকে, তিনি কুতাইবা ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে জাফর থেকে, তিনি আলা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামতের দিন তোমরা অবশ্যই হকদারদের পাওনা পরিশোধ করবে, এমনকি শিংবিহীন ছাগলের জন্য শিংধারী ছাগল থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে (হক আদায় করা হবে)»।
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
[مَسْأَلَة الصراط حَقّ وَهُوَ طَرِيق بَيْن ظهراني جهنم يَمُرّ عَلَيْهِ الخلق]مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ الصِّرَاطَ حَقٌّ وَهُوَ طَرِيقٌ يُوضَعُ بَيْنَ ظَهْرَانَيْ جَهَنَّمَ فَيَنْجُو مَنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى وَيَهْلِكُ مَنْ شَاءَ. حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ ثنا يَعْقُوبُ بْنُ إبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ ثنا أَبِي عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي حَدِيثٍ «وَيُضْرَبُ الصِّرَاطُ بَيْنَ ظَهْرَيْ جَهَنَّمَ» وَقَالَ عليه السلام فِي هَذَا الْحَدِيثِ أَيْضًا: «وَفِي جَهَنَّمَ كَلَالِيبُ مِثْلُ شَوْكِ السَّعْدَانِ، هَلْ رَأَيْتُمْ شَوْكَ السَّعْدَانِ؟ فَإِنَّهَا مِثْلُ شَوْكِ السَّعْدَانِ غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَعْلَمُ قَدْرَ عِظَمِهَا إلَّا اللَّهُ عز وجل تَخْطَفُ النَّاسَ بِأَعْمَالِهِمْ فَمِنْهُمْ، يَعْنِي الْمُوبَقَ بِعَمَلِهِ، وَمِنْهُمْ الْمُخَرْدَلُ حَتَّى يُنَجَّى» وَذَكَرَ بَاقِيَ الْخَبَرِ.
[مَسْأَلَة الموازين حَقّ تُوزَن فِيهَا أَعْمَال الْعِبَاد نؤمن بِهَا وَلَا نَدْرِي كيف هِيَ]31 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ الْمَوَازِينَ حَقٌّ تُوزَنُ فِيهَا أَعْمَالُ الْعِبَادِ؛ نُؤْمِنُ بِهَا وَلَا نَدْرِي كَيْفَ هِيَ. قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا وَكَفَى بِنَا حَاسِبِينَ} [الأنبياء: 47] وَقَالَ تَعَالَى: {وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ} [الأعراف: 8] وَقَالَ تَعَالَى: {فَأَمَّا مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ} [القارعة: 6] {فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَاضِيَةٍ} [القارعة: 7] {وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ} [القارعة: 8] {فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ} [القارعة: 9] {وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهْ} [القارعة: 10] {نَارٌ حَامِيَةٌ} [القارعة: 11] .
[مَسْأَلَة الحوض حَقّ مِنْ شَرب مِنْهُ لَمْ يظمأ أبدا]32 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ الْحَوْضَ حَقٌّ مَنْ شَرِبَ مِنْهُ لَمْ يَظْمَأْ أَبَدًا. ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ الْعَمِّيُّ عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ «قُلْت: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا آنِيَةُ الْحَوْضِ؟ قَالَ: وَاَلَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَآنِيَتُهُ أَكْثَرُ مِنْ عَدَدِ نُجُومِ السَّمَاءِ وَكَوَاكِبِهَا فِي اللَّيْلَةِ الْمُظْلِمَةِ الْمُصْحِيَةِ؛ آنِيَةُ الْجَنَّةِ مَنْ شَرِبَ مِنْهَا لَمْ يَظْمَأْ آخِرَ مَا عَلَيْهِ يَشْخَبُ فِيهِ مِيزَابَانِ مِنْ الْجَنَّةِ مَنْ شَرِبَ مِنْهُ لَمْ يَظْمَأْ، عَرْضُهُ مِثْلُ طُولِهِ مَا بَيْنَ عَمَّانَ إلَى أَيْلَةَ؛ مَاؤُهُ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنْ اللَّبَنِ وَأَحْلَى مِنْ الْعَسَلِ» .
[মাসয়ালা: সিরাত সত্য এবং তা জাহান্নামের মধ্যস্থলে স্থাপিত একটি পথ যার ওপর দিয়ে সৃষ্টিজগত অতিক্রম করবে]মাসয়ালা: নিশ্চয়ই সিরাত সত্য এবং তা এমন একটি পথ যা জাহান্নামের মাঝখানে স্থাপন করা হবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা যাকে ইচ্ছা করবেন সে নাজাত পাবে এবং যাকে ইচ্ছা করবেন সে ধ্বংস হবে। আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আহমদ বিন ফাতহ থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহাব বিন ঈসা থেকে, তিনি আহমদ বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আহমদ বিন আলী থেকে, তিনি মুসলিম বিন হাজ্জাজ থেকে, তিনি যুহায়ের বিন হারব থেকে, তিনি ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম বিন সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আতা বিন ইয়াজিদ আল-লাইসি থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু হুরায়রা তাঁকে অবহিত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি হাদীসে বলেছেন: "আর জাহান্নামের দুই পিঠের মাঝখানে সিরাত স্থাপন করা হবে।" তিনি আলাইহিস সালাম এই হাদীসে আরও বলেছেন: "আর জাহান্নামে 'সা'দান' কাঁটার মতো বহু আঁকশি থাকবে। তোমরা কি সা'দান কাঁটা দেখেছ? নিশ্চয়ই সেগুলো সা'দান কাঁটার মতো, তবে সেগুলো কত বিশাল তা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল ছাড়া কেউ জানে না। সেগুলো মানুষকে তাদের আমল অনুযায়ী ছোঁ মেরে ধরবে। তাদের মধ্যে কেউ তার আমলের কারণে ধ্বংস হবে, আর কেউ হবে টুকরো টুকরো, অবশেষে মুক্তি পাবে।" এবং তিনি সংবাদের বাকি অংশ উল্লেখ করেছেন।
[মাসয়ালা: মিযান (দাঁড়িপাল্লা) সত্য, যাতে বান্দাদের আমল ওজন করা হবে; আমরা এতে বিশ্বাস করি কিন্তু তা কেমন তা আমরা জানি না]৩১ - মাসয়ালা: নিশ্চয়ই মিযানসমূহ সত্য, যাতে বান্দাদের আমলসমূহ ওজন করা হবে; আমরা এতে ঈমান রাখি এবং জানি না তা কেমন। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেছেন: {আর আমি কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের পাল্লাসমূহ স্থাপন করব, সুতরাং কারও প্রতি সামান্যতম যুলুম করা হবে না। আর যদি তা সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব; আর হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে আমিই যথেষ্ট।} [আল-আম্বিয়া: ৪৭] এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর সেদিনকার পরিমাপ হবে সত্য।} [আল-আরাফ: ৮] এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর যার পাল্লাসমূহ ভারী হবে,} [আল-কারিয়াহ: ৬] {সে সন্তোষজনক জীবনে থাকবে।} [আল-কারিয়াহ: ৭] {আর যার পাল্লাসমূহ হালকা হবে,} [আল-কারিয়াহ: ৮] {তার ঠিকানা হবে হাবিয়া।} [আল-কারিয়াহ: ৯] {আর আপনি কি জানেন তা কী?} [আল-কারিয়াহ: ১০] {তা হলো উত্তপ্ত অগ্নি।} [আল-কারিয়াহ: ১১]।
[মাসয়ালা: হাওয সত্য, যে ব্যক্তি তা থেকে পান করবে সে আর কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না]৩২ - মাসয়ালা: নিশ্চয়ই হাওয সত্য, যে ব্যক্তি তা থেকে পান করবে সে আর কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না। আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আহমদ বিন ফাতহ থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহাব বিন ঈসা থেকে, তিনি আহমদ বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আহমদ বিন আলী থেকে, তিনি মুসলিম বিন হাজ্জাজ থেকে, তিনি আবু বকর বিন আবি শায়বা থেকে, তিনি আবদুল আজিজ বিন আবদুল সামাদ আল-আম্মি থেকে, তিনি আবু ইমরান আল-জাওনি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন সামিত থেকে, তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেন, আবু যার বলেন: "আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, হাওযের পাত্রগুলো কেমন? তিনি বললেন: সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই এর পাত্রের সংখ্যা অন্ধকার পরিষ্কার রাতের আকাশের নক্ষত্র ও গ্রহরাজির চেয়েও বেশি; এগুলো জান্নাতের পাত্র, যে ব্যক্তি তা থেকে পান করবে সে আর কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না। জান্নাত থেকে আসা দুটি নালা তাতে প্রবাহিত হবে, যে ব্যক্তি তা থেকে পান করবে সে তৃষ্ণার্ত হবে না। এর প্রস্থ এর দৈর্ঘ্যের সমান, যা আম্মান থেকে আয়লা (আকাবা) পর্যন্ত বিস্তৃত। এর পানি দুধের চেয়েও বেশি সাদা এবং মধুর চেয়েও বেশি মিষ্টি।"।
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
[مَسْأَلَة شَفَاعَة رَسُول اللَّه فِي أَهْل الْكَبَائِر مِنْ أمته حَقّ]مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ شَفَاعَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِهِ حَقٌّ فَيَخْرُجُونَ مِنْ النَّارِ وَيَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ. قَالَ اللَّهُ عز وجل: {مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلا بِإِذْنِهِ} [البقرة: 255] . حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ ثنا مُعَاذٌ يَعْنِي ابْنَ هِشَامٍ الدَّسْتُوَائِيَّ - ثنا أَبِي عَنْ قَتَادَةَ ثنا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةٌ دَعَاهَا لِأُمَّتِهِ وَإِنِّي اخْتَبَأْتُ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لِأُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ» . وَبِهِ إلَى مُسْلِمٍ: ثنا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ ثنا بِشْرٌ يَعْنِي ابْنَ الْمُفَضَّلِ - عَنْ أَبِي مَسْلَمَةَ هُوَ سَعِيدُ بْنُ يَزِيدَ - عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «أَمَّا أَهْلُ النَّارِ الَّذِينَ هُمْ أَهْلُهَا فَإِنَّهُمْ لَا يَمُوتُونَ فِيهَا وَلَا يَحْيَوْنَ، وَلَكِنْ نَاسٌ أَصَابَتْهُمْ النَّارُ بِذُنُوبِهِمْ، أَوْ قَالَ بِخَطَايَاهُمْ، فَأَمَاتَهُمْ اللَّهُ إمَاتَةً حَتَّى إذَا كَانُوا فَحْمًا أَذِنَ بِالشَّفَاعَةِ فَجِيءَ بِهِمْ ضَبَائِرَ ضَبَائِرَ فَبُثُّوا عَلَى أَنْهَارِ الْجَنَّةِ، ثُمَّ قِيلَ: يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ أَفِيضُوا عَلَيْهِمْ فَيَنْبُتُونَ نَبَاتَ الْحِبَّةِ تَكُونُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ» .
[مَسْأَلَة الصحف الَّتِي تكتب فِيهَا أَعْمَال الْعِبَاد والملائكة حَقّ]34 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ الصُّحُفَ تَكْتُبُ فِيهَا أَعْمَالَ الْعِبَادِ الْمَلَائِكَةُ حَقٌّ نُؤْمِنُ بِهَا وَلَا نَدْرِي كَيْفَ هِيَ. قَالَ اللَّهُ عز وجل: {إِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيدٌ} [ق: 17] {مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ} [ق: 18] وَقَالَ عز وجل: {إِنَّا كُنَّا نَسْتَنْسِخُ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ} [الجاثية: 29] وَقَالَ تَعَالَى: {وَكُلَّ إِنْسَانٍ أَلْزَمْنَاهُ طَائِرَهُ فِي عُنُقِهِ وَنُخْرِجُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كِتَابًا يَلْقَاهُ مَنْشُورًا} [الإسراء: 13] {اقْرَأْ كِتَابَكَ} [الإسراء: 14] .
[مَسْأَلَة الْمُؤْمِنُونَ يعطون كتبهم يَوْم الْقِيَامَة بأيمانهم والكفار بشمائلهم]35 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ النَّاسَ يُعْطَوْنَ كُتُبَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؛ فَالْمُؤْمِنُونَ الْفَائِزُونَ الَّذِينَ لَا يُعَذَّبُونَ يُعْطَوْنَهَا بِأَيْمَانِهِمْ؛ وَالْكُفَّارُ بِأَشْمَلِهِمْ وَالْمُؤْمِنُونَ أَهْلُ الْكَبَائِرِ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ. قَالَ اللَّهُ عز وجل: {فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ} [الانشقاق: 7] {فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا} [الانشقاق: 8] {وَيَنْقَلِبُ إِلَى أَهْلِهِ مَسْرُورًا} [الانشقاق: 9] {وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ وَرَاءَ ظَهْرِهِ} [الانشقاق: 10] {فَسَوْفَ يَدْعُو ثُبُورًا} [الانشقاق: 11] {وَيَصْلَى سَعِيرًا} [الانشقاق: 12] {إِنَّهُ كَانَ فِي أَهْلِهِ مَسْرُورًا} [الانشقاق: 13] {إِنَّهُ ظَنَّ أَنْ لَنْ يَحُورَ} [الانشقاق: 14]
[মসআলা: উম্মতের কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য রাসূলুল্লাহর শাফায়াত সত্য]মসআলা: আর নিশ্চয়ই উম্মতের কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াত (সুপারিশ) সত্য; ফলে তারা জাহান্নাম থেকে বের হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ইরশাদ করেছেন: {তাঁর অনুমতি ছাড়া কে আছে যে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?} [আল-বাকারাহ: ২৫৫]। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে ফাতহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আব্দুল ওয়াহাব ইবনে ঈসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে আলী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু গাসসান আল-মিসমায়ী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুয়ায অর্থাৎ ইবনে হিশাম আদ-দাস্তুওয়ায়ী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার পিতা কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «প্রত্যেক নবীর জন্য একটি দোয়া রয়েছে যা তিনি তাঁর উম্মতের জন্য করেছেন। আর আমি আমার দোয়াটি কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের শাফায়াতের জন্য জমা রেখেছি।» এবং একই সনদে ইমাম মুসলিম পর্যন্ত: নাসর ইবনে আলী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বিশর অর্থাৎ ইবনুল মুফাদ্দাল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু মাসলামাহ অর্থাৎ সাঈদ ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি আবু নাযরাহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «জাহান্নামবাসী যারা মূলত জাহান্নামেরই অধিবাসী, তারা সেখানে মরবেও না এবং বাঁচবেও না। কিন্তু কিছু মানুষ যাদেরকে তাদের পাপের কারণে অথবা গুনাহের কারণে আগুন স্পর্শ করবে, আল্লাহ তাদের একটি মৃত্যু দিবেন। এমনকি যখন তারা কয়লায় পরিণত হবে, তখন শাফায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। অতঃপর তাদেরকে দলে দলে নিয়ে আসা হবে এবং জান্নাতের নদীসমূহের তীরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এরপর বলা হবে: হে জান্নাতবাসী! তোমরা তাদের ওপর (পানি) ঢেলে দাও। ফলে তারা শস্যদানার মতো গজিয়ে উঠবে যেমন প্লাবনের স্রোতে বাহিত পলিমাটিতে শস্যদানা গজিয়ে উঠে।»
[মসআলা: যে পাতাসমূহে ফেরেশতারা বান্দাদের আমল লিখে রাখেন তা সত্য]৩৪ - মসআলা: আর নিশ্চয়ই পাতাসমূহ (আমলনামা), যাতে ফেরেশতারা বান্দাদের আমল লিখে রাখেন তা সত্য; আমরা এর প্রতি ঈমান রাখি, যদিও তা কেমন সে সম্পর্কে আমরা জানি না। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ইরশাদ করেছেন: {যখন দুই গ্রহণকারী (ফেরেশতা) ডানে ও বামে বসে গ্রহণ করে।} [ক্বাফ: ১৭] {সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তার কাছে একজন সদা উপস্থিত পর্যবেক্ষণকারী রয়েছে।} [ক্বাফ: ১৮] এবং আযযা ওয়া জাল্লা আরও ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই তোমরা যা করতে আমরা তা লিপিবদ্ধ করাতাম।} [আল-জাসিয়াহ: ২৯] আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: {আমি প্রত্যেক মানুষের কাজ তার গলায় লেপ্টে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য একটি আমলনামা বের করব, যা সে উন্মুক্ত অবস্থায় পাবে।} [আল-ইসরা: ১৩] {তুমি তোমার কিতাব পাঠ করো।} [আল-ইসরা: ১৪]।
[মসআলা: মুমিনদেরকে কিয়ামতের দিন তাদের আমলনামা ডান হাতে এবং কাফেরদের বাম হাতে দেওয়া হবে]৩৫ - মসআলা: আর নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন মানুষকে তাদের আমলনামা দেওয়া হবে। সফল মুমিনগণ, যাদের আযাব দেওয়া হবে না, তারা তা ডান হাতে পাবে; আর কাফেররা পাবে তাদের বাম হাতে এবং কবীরা গুনাহে লিপ্ত মুমিনরা পাবে তাদের পিঠের পেছন দিক থেকে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে,} [আল-ইনশিক্বাক্ব: ৭] {তার হিসাব সহজ করা হবে,} [আল-ইনশিক্বাক্ব: ৮] {এবং সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে হৃষ্টচিত্তে ফিরে যাবে।} [আল-ইনশিক্বাক্ব: ৯] {আর যাকে তার আমলনামা তার পিঠের পেছন দিক থেকে দেওয়া হবে,} [আল-ইনশিক্বাক্ব: ১০] {শীঘ্রই সে ধ্বংসকে ডাকবে (মৃত্যু কামনা করবে),} [আল-ইনশিক্বাক্ব: ১১] {এবং সে জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।} [আল-ইনশিক্বাক্ব: ১২] {নিশ্চয়ই সে (পৃথিবীতে) তার পরিবারে আনন্দিত ছিল।} [আল-ইনশিক্বাক্ব: ১৩] {নিশ্চয়ই সে ধারণা করেছিল যে সে কখনো ফিরে আসবে না।} [আল-ইনশিক্বাক্ব: ১৪]
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
وَقَالَ تَعَالَى: {وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُوتَ كِتَابِيَهْ} [الحاقة: 25] {وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيَهْ} [الحاقة: 26] {يَا لَيْتَهَا كَانَتِ الْقَاضِيَةَ} [الحاقة: 27] {مَا أَغْنَى عَنِّي مَالِيَهْ} [الحاقة: 28] {هَلَكَ عَنِّي سُلْطَانِيَهْ} [الحاقة: 29] {خُذُوهُ فَغُلُّوهُ} [الحاقة: 30] {ثُمَّ الْجَحِيمَ صَلُّوهُ} [الحاقة: 31] {ثُمَّ فِي سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا فَاسْلُكُوهُ} [الحاقة: 32] {إِنَّهُ كَانَ لا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ} [الحاقة: 33] {وَلا يَحُضُّ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ} [الحاقة: 34] .
[مَسْأَلَة عَلَى كُلّ إنْسَان حافظان مِنْ الْمَلَائِكَة يحصيان أقواله وأعماله]36 - مَسْأَلَةٌ: وَإِنَّ عَلَى كُلِّ إنْسَانٍ حَافِظَيْنِ مِنْ الْمَلَائِكَةِ يُحْصِيَانِ أَقْوَالَهُ وَأَعْمَالَهُ قَالَ عز وجل: {إِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيدٌ} [ق: 17] {مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ} [ق: 18] .
[مَسْأَلَة هُمْ بِحَسنَة فَلَمْ يعملها]37 - مَسْأَلَةٌ: وَمَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كُتِبَتْ لَهُ حَسَنَةً؛ فَإِنْ عَمِلَهَا كُتِبَتْ لَهُ عَشْرًا. وَمَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَإِنْ تَرَكَهَا لِلَّهِ تَعَالَى كُتِبَتْ لَهُ حَسَنَةً؛ فَإِنْ تَرَكَهَا بِغَلَبَةٍ أَوْ نَحْوِ ذَلِكَ لَمْ تُكْتَبْ عَلَيْهِ، فَإِنْ عَمِلَهَا كُتِبَتْ لَهُ سَيِّئَةً وَاحِدَةً. حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «قَالَ اللَّهُ عز وجل: إذَا تَحَدَّثَ عَبْدِي بِأَنْ يَعْمَلَ حَسَنَةً فَأَنَا أَكْتُبُهَا لَهُ حَسَنَةً مَا لَمْ يَعْمَلْ، فَإِذَا عَمِلَهَا فَأَنَا أَكْتُبُهَا بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، وَإِذَا تَحَدَّثَ بِأَنْ يَعْمَلَ سَيِّئَةً فَأَنَا أَغْفِرُهَا لَهُ مَا لَمْ يَعْمَلْهَا، فَإِذَا عَمِلَهَا فَأَنَا أَكْتُبُهَا لَهُ بِمِثْلِهَا» . وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «قَالَتْ الْمَلَائِكَةُ: رَبِّ ذَاكَ عَبْدُكَ يُرِيدُ أَنْ يَعْمَلَ سَيِّئَةً - وَهُوَ أَبْصَرُ بِهِ - فَقَالَ اُرْقُبُوهُ فَإِنْ عَمِلَهَا فَاكْتُبُوهَا لَهُ بِمِثْلِهَا وَإِنْ تَرَكَهَا فَاكْتُبُوهَا لَهُ حَسَنَةً إنَّمَا تَرَكَهَا مِنْ جَرَّايَ» وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إذَا أَحْسَنَ أَحَدُكُمْ إسْلَامَهُ فَكُلُّ حَسَنَةٍ يَعْمَلُهَا تُكْتَبُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ، وَكُلُّ سَيِّئَةٍ تُكْتَبُ لَهُ بِمِثْلِهَا حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ عز وجل» .
আর মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যার আমলনামা তার বাম হাতে দেওয়া হবে, সে বলবে, ‘হায়, আমাকে যদি আমার আমলনামা দেওয়া না হতো!’} [আল-হাক্কাহ: ২৫] {‘আর আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব কী!’} [আল-হাক্কাহ: ২৬] {‘হায়, মৃত্যুই যদি শেষ হতো!’} [আল-হাক্কাহ: ২৭] {‘আমার ধন-সম্পদ আমার কোনো উপকারে আসল না!’} [আল-হাক্কাহ: ২৮] {‘আমার ক্ষমতা আমার থেকে বিলীন হয়ে গেল!’} [আল-হাক্কাহ: ২৯] {‘তাকে ধরো এবং তার গলায় বেড়ি পড়িয়ে দাও’} [আল-হাক্কাহ: ৩০] {‘অতঃপর তাকে প্রজ্জ্বলিত আগুনে নিক্ষেপ করো’} [আল-হাক্কাহ: ৩১] {‘তারপর তাকে সত্তর গজ দীর্ঘ শিকলে আবদ্ধ করো’} [আল-হাক্কাহ: ৩২] {‘নিশ্চয়ই সে মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করত না’} [আল-হাক্কাহ: ৩৩] {‘এবং সে অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানে উৎসাহিত করত না’} [আল-হাক্কাহ: ৩৪]।
[মাসআলা: প্রত্যেক মানুষের ওপর দুজন ফেরেশতা রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে নিয়োজিত আছেন, যারা তার কথা ও কাজসমূহ গণনা করেন]৩৬ - মাসআলা: নিশ্চয়ই প্রত্যেক মানুষের ওপর ফেরেশতাদের মধ্য থেকে দুজন রক্ষণাবেক্ষণকারী নিয়োজিত আছেন, যারা তার কথা ও কাজসমূহ গণনা করেন। মহান ও মহীয়ান আল্লাহ বলেছেন: {যখন দুই গ্রহণকারী (ফেরেশতা) ডানে ও বামে বসে গ্রহণ করে (লিপিবদ্ধ করে)} [ক্বাফ: ১৭] {সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তার কাছে একজন সদা উপস্থিত পর্যবেক্ষক প্রস্তুত থাকে} [ক্বাফ: ১৮]।
[মাসআলা: যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের সংকল্প করল কিন্তু তা সম্পাদন করল না]৩৭ - মাসআলা: যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের সংকল্প করল কিন্তু তা সম্পাদন করল না, তার জন্য একটি পুণ্য লেখা হয়; আর যদি সে তা সম্পাদন করে, তবে তার জন্য দশগুণ পুণ্য লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজের সংকল্প করল, অতঃপর মহান আল্লাহর ভয়ে তা বর্জন করল, তার জন্য একটি পুণ্য লেখা হয়; আর যদি সে কোনো প্রতিকূলতা বা এই জাতীয় কারণে তা বর্জন করে, তবে তার বিরুদ্ধে কোনো পাপ লেখা হয় না। আর যদি সে তা সম্পাদন করে, তবে তার জন্য একটি মাত্র পাপ লেখা হয়। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, তিনি আহমাদ ইবনে ফাতহ থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহহাব ইবনে ঈসা থেকে, তিনি আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আহমাদ ইবনে আলী থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে রাফে থেকে, তিনি আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা'মার থেকে, তিনি হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ থেকে। এটি সেই হাদিস যা আবু হুরায়রা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে; এরপর তিনি কিছু হাদিস উল্লেখ করেন যার মধ্যে ছিল: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মহান আল্লাহ বলেছেন: যখন আমার বান্দা কোনো নেক আমল করার ইচ্ছা পোষণ করে, তখন আমি তা তার জন্য একটি পুণ্য হিসেবে লিখি যতক্ষণ না সে তা সম্পাদন করে। অতঃপর যখন সে তা সম্পাদন করে, তখন আমি তা দশগুণ পুণ্য হিসেবে লিখি। আর যখন সে কোনো মন্দ কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে, তখন আমি তা তার জন্য ক্ষমা করে দেই যতক্ষণ না সে তা সম্পাদন করে। অতঃপর যখন সে তা সম্পাদন করে, তখন আমি তা তার জন্য অনুরূপ একটি পাপ হিসেবে লিখি»। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: «ফেরেশতারা বলল: হে রব, আপনার এই বান্দা একটি মন্দ কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করছে —অথচ তিনি তার সম্পর্কে অধিক অবগত— তখন তিনি বললেন: তাকে পর্যবেক্ষণ করো; যদি সে তা সম্পাদন করে তবে তার জন্য অনুরূপ একটি পাপ লেখো, আর যদি সে তা বর্জন করে তবে তার জন্য একটি পুণ্য লেখো, কেননা সে আমার কারণেই তা বর্জন করেছে»। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উত্তমভাবে ইসলাম গ্রহণ করে, তখন সে যে নেক আমল করে তার প্রতিটি আমল দশগুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করে লেখা হয়। আর প্রতিটি মন্দ কাজ তার অনুরূপ (একটিই) লেখা হয়, যতক্ষণ না সে মহান ও মহীয়ান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে»।
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
[مَسْأَلَة مِنْ عَمَل فِي كفره عملا سيئا ثُمَّ أسلم]مَسْأَلَةٌ: وَمَنْ عَمِلَ فِي كُفْرِهِ عَمَلًا سَيِّئًا ثُمَّ أَسْلَمَ؛ فَإِنْ تَمَادَى عَلَى تِلْكَ الْإِسَاءَةِ حُوسِبَ وَجُوزِيَ فِي الْآخِرَةِ بِمَا عَمِلَ مِنْ ذَلِكَ فِي شِرْكِهِ وَإِسْلَامِهِ؛ وَإِنْ تَابَ عَنْ ذَلِكَ سَقَطَ عَنْهُ مَا عَمِلَ فِي شِرْكِهِ. وَمَنْ عَمِلَ فِي كُفْرِهِ أَعْمَالًا صَالِحَةً ثُمَّ أَسْلَمَ جُوزِيَ فِي الْجَنَّةِ بِمَا عَمِلَ مِنْ ذَلِكَ فِي شِرْكِهِ وَإِسْلَامِهِ؛ فَإِنْ لَمْ يُسْلِمْ جُوزِيَ بِذَلِكَ فِي الدُّنْيَا وَلَمْ يَنْتَفِعْ بِذَلِكَ فِي الْآخِرَةِ.
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ مَيْمُونٍ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ دِينَارٍ وَاللَّفْظُ لَهُ قَالَا ثنا حَجَّاجٌ وَهُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ - عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يَعْلَى بْنُ مُسْلِمٍ أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ «أَنَّ نَاسًا مِنْ أَهْلِ الشِّرْكِ قَتَلُوا فَأَكْثَرُوا وَزَنَوْا فَأَكْثَرُوا، ثُمَّ أَتَوْا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا: إنَّ الَّذِي تَقُولُ وَتَدْعُو إلَيْهِ لَحَسَنٌ، وَلَوْ تُخْبِرُنَا أَنَّ لِمَا عَمِلْنَا كَفَّارَةً فَنَزَلَتْ: {وَالَّذِينَ لا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلا بِالْحَقِّ وَلا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا} [الفرقان: 68] {يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا} [الفرقان: 69] {إِلا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلا صَالِحًا} [الفرقان: 70] » فَلَمْ يُسْقِطْ اللَّهُ عز وجل تِلْكَ الْأَعْمَالَ السَّيِّئَةَ إلَّا بِالْإِيمَانِ مَعَ التَّوْبَةِ مَعَ الْعَمَلِ الصَّالِحِ. وَبِهِ إلَى مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ثنا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: «قَالَ أُنَاسٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنُؤَاخَذُ بِمَا عَمِلْنَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ؟ قَالَ - أَمَّا مَنْ أَحْسَنَ مِنْكُمْ فِي الْإِسْلَامِ فَلَا يُؤَاخَذُ بِهَا وَمَنْ أَسَاءَ أُخِذَ بِعَمَلِهِ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَالْإِسْلَامِ» . وَبِهِ إلَى مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ثنا وَكِيعٌ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: «قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنُؤَاخَذُ بِمَا عَمِلْنَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ؟ فَقَالَ مَنْ أَحْسَنَ فِي الْإِسْلَامِ لَمْ يُؤَاخَذْ بِمَا عَمِلَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَمَنْ أَسَاءَ فِي الْإِسْلَامِ أُخِذَ بِالْأَوَّلِ وَالْآخِرِ» .
[মাসআলা: যে ব্যক্তি কুফরি অবস্থায় মন্দ কাজ করেছে এবং পরে ইসলাম গ্রহণ করেছে]মাসআলা: যে ব্যক্তি কুফরি অবস্থায় কোনো মন্দ কাজ করেছে এবং পরে ইসলাম গ্রহণ করেছে; যদি সে সেই মন্দ আচরণে অটল থাকে, তবে তাকে পরকালে তার শিরক ও ইসলাম উভয় অবস্থায় কৃত আমলের হিসাব দিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী প্রতিদান (শাস্তি) দেওয়া হবে। আর যদি সে তা থেকে তওবা করে, তবে শিরক অবস্থায় সে যা করেছিল তা তার ওপর থেকে রহিত হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি কুফরি অবস্থায় নেক আমল করেছে এবং পরে ইসলাম গ্রহণ করেছে, সে তার শিরক ও ইসলাম উভয় অবস্থায় কৃত নেক আমলের জন্য জান্নাতে প্রতিদান পাবে। কিন্তু যদি সে ইসলাম গ্রহণ না করে, তবে দুনিয়াতেই তাকে তার প্রতিদান দিয়ে দেওয়া হবে এবং পরকালে সে এর দ্বারা কোনো উপকৃত হবে না।
আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে ফাতহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে হাতিম ইবনে মাইমুন এবং ইব্রাহিম ইবনে দিনার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—শব্দ বিন্যাস তাঁর (ইব্রাহিমের)—তাঁরা উভয়ে বলেন হাজ্জাজ (ইবনে মুহাম্মদ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন ইয়ালা ইবনে মুসলিম আমাকে খবর দিয়েছেন যে তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়েরকে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, "মুশরিকদের কিছু লোক অনেক হত্যা করেছিল এবং অনেক ব্যভিচার করেছিল। অতঃপর তারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল: আপনি যা বলেন এবং যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানান তা অবশ্যই সুন্দর; আপনি যদি আমাদের জানাতেন যে আমরা যা করেছি তার কোনো কাফফারা আছে কি? তখন অবতীর্ণ হলো: {আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না, আর আল্লাহ যাকে হারাম করেছেন সেই প্রাণকে যথার্থ কারণ ছাড়া হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে ব্যক্তি তা করবে সে শাস্তির সম্মুখীন হবে। [আল-ফুরকান: ৬৮] কিয়ামতের দিন তার আযাব দ্বিগুণ করা হবে এবং সে সেখানে লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল থাকবে। [আল-ফুরকান: ৬৯] তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে। [আল-ফুরকান: ৭০]}" সুতরাং আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তওবা ও নেক আমলের সাথে ঈমান গ্রহণ করা ব্যতীত সেই মন্দ কাজগুলোকে রহিত করেননি। এবং উক্ত সনদেই মুসলিম পর্যন্ত, উসমান ইবনে আবু শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন জারীর আমাদের নিকট মনসুর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! জাহেলি যুগে আমরা যা করেছি সেজন্য কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে উত্তম আচরণ করবে, তাকে সে কাজের জন্য পাকড়াও করা হবে না। আর যে ব্যক্তি (ইসলাম গ্রহণের পর) মন্দ কাজ করবে, তাকে জাহেলি যুগ ও ইসলাম উভয় অবস্থায় কৃত কর্মের জন্য পাকড়াও করা হবে।" এবং উক্ত সনদেই মুসলিম পর্যন্ত, আবু বকর ইবনে আবু শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ওকী' আমাদের নিকট আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! জাহেলি যুগে আমরা যা করেছি সেজন্য কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? তখন তিনি বললেন: যে ব্যক্তি ইসলামে উত্তম আচরণ করবে, তাকে জাহেলি যুগে কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে মন্দ আচরণ করবে, তাকে প্রথম এবং শেষ (উভয় যুগের) কর্মের জন্য পাকড়াও করা হবে।"
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
وَبِهِ إلَى مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا حَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ ثنا يَعْقُوبُ هُوَ ابْنُ إبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ ثنا عَنْ صَالِحٍ هُوَ ابْنُ كَيْسَانَ - عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنَا عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ حَكِيمَ بْنَ حِزَامٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَيْ رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ أُمُورًا كُنْت أَتَحَنَّثُ بِهَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ مِنْ صَدَقَةٍ أَوْ عَتَاقَةٍ أَوْ صِلَةِ رَحِمٍ أَفِيهَا أَجْرٌ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَسْلَمْت عَلَى مَا أَسْلَفْت مِنْ خَيْرٍ» . فَإِنْ ذَكَرُوا قَوْلَ اللَّهِ عز وجل: {قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ} [الأنفال: 38] . وَقَوْلَهُ عليه السلام لِعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ «إنَّ الْإِسْلَامَ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ، وَإِنَّ الْهِجْرَةَ تَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهَا وَإِنَّ الْحَجَّ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ» . قُلْنَا: إنَّ كَلَامَهُ عليه السلام لَا يُعَارِضُ كَلَامَهُ وَلَا كَلَامَ رَبِّهِ، وَلَوْ كَانَ ذَلِكَ - وَقَدْ أَعَاذَ اللَّهُ مِنْ هَذَا - لَمَا كَانَ بَعْضُهُ أَوْلَى مِنْ بَعْضٍ وَلَبَطَلَتْ حُجَّةُ كُلِّ أَحَدٍ بِمَا يَتَعَلَّقُ بِهِ مِنْهُ. وَكَذَلِكَ الْقُرْآنُ لَا يُعَارِضُ الْقُرْآنَ وَلَا السُّنَّةَ. قَالَ عز وجل: {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافًا كَثِيرًا} [النساء: 82] فَأَمَّا قَوْله تَعَالَى: {إِنْ يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ} [الأنفال: 38] فَنَعَمْ هَذَا هُوَ نَفْسُ قَوْلِنَا: إنَّ مَنْ انْتَهَى غُفِرَ لَهُ. وَأَمَّا مَنْ لَمْ يَنْتَهِ عَنْهُ فَلَمْ يَقُلْ اللَّهُ تَعَالَى أَنَّهُ يَغْفِرُهُ لَهُ، فَبَطَلَ تَعَلُّقُهُمْ بِالْآيَةِ. وَأَمَّا قَوْلُهُ عليه السلام: «إنَّ الْإِسْلَامَ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ» فَحَقٌّ وَهُوَ قَوْلُنَا؛ لِأَنَّ الْإِسْلَامَ اسْمٌ وَاقِعٌ عَلَى جَمِيعِ الطَّاعَاتِ، وَالتَّوْبَةُ مِنْ عَمَلِ السُّوءِ مِنْ الطَّاعَاتِ. وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ عليه السلام فِي الْهِجْرَةِ إنَّمَا هِيَ التَّوْبَةُ مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ، كَمَا صَحَّ عَنْهُ عليه السلام «الْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ» . حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَالِدٍ ثنا إبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفَرَبْرِيُّ ثنا الْبُخَارِيُّ ثنا آدَم بْنُ أَبِي إيَاسٍ ثنا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي السَّفَر
এবং তাঁর মাধ্যমে ইমাম মুসলিম পর্যন্ত (সনদ পৌঁছেছে), তিনি বলেন: হাসান আল-হুলওয়ানি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াকুব (যিনি ইবরাহিম ইবনে সা’দ-এর পুত্র) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সালিহ (যিনি ইবনে কায়সান) থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের আমাদের অবহিত করেছেন যে, হাকিম ইবনে হিযাম তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: «হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি মনে করেন যে, আমি জাহেলিয়াতের যুগে যে সকল ইবাদত-বন্দেগির কাজ করতাম, যেমন সদকা করা, দাস মুক্ত করা অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা—তাতে কি কোনো প্রতিদান আছে?» রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তুমি অতীতে যে সওয়াবের কাজ করেছিলে, তার ওপর ভিত্তি করেই ইসলাম গ্রহণ করেছ (অর্থাৎ সেই নেকিও তুমি পাবে)»। অতঃপর তারা যদি মহান আল্লাহর এই বাণী উল্লেখ করে: {আপনি কাফিরদের বলুন, যদি তারা বিরত হয়, তবে অতীতে যা হয়ে গেছে তা ক্ষমা করে দেওয়া হবে} [আল-আনফাল: ৩৮]। এবং আমর ইবনুল আস-এর প্রতি তাঁর (রাসূলুল্লাহর) এই বাণী: «নিশ্চয়ই ইসলাম তার পূর্ববর্তী সকল কাজকে ধূলিসাৎ করে দেয়, আর হিজরত তার পূর্ববর্তী সকল কাজকে ধূলিসাৎ করে দেয় এবং হজ তার পূর্ববর্তী সকল কাজকে ধূলিসাৎ করে দেয়»। তবে আমরা বলব: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা তাঁর অন্য কোনো কথার সাথে বিরোধপূর্ণ নয় এবং তাঁর প্রতিপালকের কথার সাথেও বিরোধপূর্ণ নয়। আর যদি এমনটা হতো—অথচ আল্লাহ এ থেকে আশ্রয় দান করেছেন—তবে একটি অংশ অপরটির চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য হতো না এবং প্রত্যেকের দালিলিক প্রমাণ এর সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে বাতিল হয়ে যেত। তেমনিভাবে কুরআন কুরআনের সাথে কিংবা সুন্নাহর সাথে বিরোধ করে না। মহান আল্লাহ বলেন: {যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নিকট থেকে হতো, তবে তারা তাতে অনেক মতপার্থক্য খুঁজে পেত} [আন-নিসা: ৮২]। আর মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে: {যদি তারা বিরত হয়, তবে অতীতে যা হয়ে গেছে তা ক্ষমা করে দেওয়া হবে} [আল-আনফাল: ৩৮]—হ্যাঁ, এটি আমাদেরই কথা: যে ব্যক্তি বিরত হবে, তাকে ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি বিরত হবে না, মহান আল্লাহ বলেননি যে তিনি তাকে ক্ষমা করবেন। ফলে এই আয়াতের মাধ্যমে তাদের দলিল দেওয়ার সুযোগ বাতিল হয়ে গেল। আর তাঁর (রাসূলুল্লাহর) এই বাণী: «নিশ্চয়ই ইসলাম তার পূর্ববর্তী সকল কাজকে ধূলিসাৎ করে দেয়»—এটি ধ্রুব সত্য এবং এটাই আমাদের বক্তব্য; কেননা 'ইসলাম' এমন একটি নাম যা সকল প্রকার আনুগত্যের কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর মন্দ কাজ থেকে তওবা করা আনুগত্যের কাজেরই অংশ। তেমনিভাবে হিজরত সম্পর্কে তাঁর বাণী হলো—তা মূলত সকল গুনাহ থেকে তওবা করা, যেমনটি তাঁর থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: «মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করে»। আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে খালিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম ইবনে আহমদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-ফারাবরি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইমাম বুখারী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আদম ইবনে আবি ইয়াস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি আস-সফর থেকে।
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤١)
وَإِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ» . حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ثنا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ دَاوُد عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَتْ «قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إنَّ ابْنَ جُدْعَانَ كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ يَصِلُ الرَّحِمَ وَيُطْعِمُ الْمِسْكِينَ، فَهَلْ ذَلِكَ نَافِعُهُ؟ قَالَ: لَا يَنْفَعُهُ إنَّهُ لَمْ يَقُلْ يَوْمًا رَبِّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي يَوْمَ الدِّينِ» . حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى ثنا إبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا مُسْلِمٌ ثنا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ثنا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «إنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مُؤْمِنًا حَسَنَةً يُعْطَى بِهَا فِي الدُّنْيَا وَيُجْزَى بِهَا فِي الْآخِرَةِ، وَأَمَّا الْكَافِرُ فَيُعْطَى بِحِسَابِ مَا عَمِلَ بِهَا لِلَّهِ فِي الدُّنْيَا حَتَّى إذَا أَفْضَى إلَى الْآخِرَةِ لَمْ تَكُنْ لَهُ حَسَنَةٌ يُجْزَى بِهَا» .
[مَسْأَلَة عَذَاب الْقَبْر ومساءلة الأرواح بَعْد الْمَوْت حَقّ]39 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ عَذَابَ الْقَبْرِ حَقٌّ وَمُسَاءَلَةَ الْأَرْوَاحِ بَعْدَ الْمَوْتِ حَقٌّ وَلَا يَحْيَا أَحَدٌ بَعْدَ مَوْتِهِ إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى ثنا إبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارِ بْنِ عُثْمَانَ الْعَبْدِيُّ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ هُوَ غُنْدَرٌ - ثنا شُعْبَةُ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ
ইসমাঈল বিন আবি খালিদ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা এবং হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে। আর প্রকৃত মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করে।» আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ, তিনি আহমদ বিন ফাতহ থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব বিন ঈসা থেকে, তিনি আহমদ বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আহমদ বিন আলী থেকে, তিনি মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ থেকে, তিনি আবু বকর বিন আবি শায়বা থেকে, তিনি হাফস বিন গিয়াস থেকে, তিনি দাউদ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি মুমিনদের জননী আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: «আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ইবনে জুদআন জাহেলিয়াতের যুগে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করত এবং অভাবীদের খাবার খাওয়াত। এটা কি তাকে কোনো উপকার দেবে? তিনি বললেন: তা তাকে উপকার দেবে না। কারণ সে কোনোদিন বলেনি—হে আমার রব! কিয়ামতের দিন আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিন।» আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ, তিনি আহমদ বিন ফাতহ থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব বিন ঈসা থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ঈসা থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি মুসলিম থেকে, তিনি জুহায়ের বিন হারব থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন হারুন থেকে, তিনি হাম্মাম বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনের কোনো সৎকাজের প্রতি জুলুম করেন না, যার বিনিময়ে তাকে দুনিয়াতেও প্রতিদান দেওয়া হয় এবং আখিরাতেও প্রতিদান দেওয়া হবে। আর কাফেরকে তার আল্লাহর জন্য করা সৎকাজের হিসাব অনুযায়ী দুনিয়াতেই প্রতিদান দেওয়া হয়, এমনকি সে যখন আখিরাতে পৌঁছায়, তখন তার এমন কোনো সৎকাজ থাকে না যার বিনিময়ে তাকে প্রতিদান দেওয়া হবে।»
[মাসয়ালা: কবরের আজাব এবং মৃত্যুর পর রুহদের জিজ্ঞাসাবাদ সত্য]৩৯ - মাসয়ালা: নিশ্চয়ই কবরের আজাব সত্য এবং মৃত্যুর পর রুহদের জিজ্ঞাসাবাদ সত্য; আর মৃত্যুর পর কিয়ামতের দিন পর্যন্ত কেউ জীবিত হবে না।
আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ, তিনি আহমদ বিন ফাতহ থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব বিন ঈসা থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ঈসা থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন বাশশার বিন উসমান আল-আবদি থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন জাফর—যিনি গুন্দার—থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি আলক্বামাহ বিন মারসাদ থেকে, তিনি সাদ বিন উবাইদাহ থেকে...
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: « {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ} [إبراهيم: 27] . قَالَ: نَزَلَتْ فِي عَذَابِ الْقَبْرِ، يُقَالُ لَهُ: مَنْ رَبُّكَ؟ فَيَقُولُ رَبِّي اللَّهُ وَنَبِيِّي مُحَمَّدٌ» . وَبِهِ إلَى مُسْلِمٍ ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ ثنا بُدَيْلٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ «إذَا خَرَجَتْ رُوحُ الْمُؤْمِنِ تَلَقَّاهَا مَلَكَانِ يُصْعِدَانِهَا، وَيَقُولُ أَهْلُ السَّمَاءِ: رُوحٌ طَيِّبَةٌ جَاءَتْ مِنْ قِبَلِ الْأَرْضِ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْكِ وَعَلَى جَسَدٍ كُنْتِ تَعْمُرِينَهُ، فَيَنْطَلِقُوا بِهِ إلَى رَبِّهِ ثُمَّ يَقُولُ: انْطَلِقُوا بِهِ إلَى آخِرِ الْأَجَلِ. قَالَ: وَإِنَّ الْكَافِرَ إذَا خَرَجَتْ رُوحُهُ يَقُولُ أَهْلُ السَّمَاءِ: رُوحٌ خَبِيثَةٌ جَاءَتْ مِنْ قِبَلِ الْأَرْضِ فَيُقَالُ انْطَلِقُوا بِهِ إلَى آخِرِ الْأَجَلِ. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَرَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَيْطَةً كَانَتْ عَلَيْهِ عَلَى أَنْفِهِ» وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {وَكُنْتُمْ أَمْوَاتًا فَأَحْيَاكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ} [البقرة: 28] فَصَحَّ أَنَّهُمَا حَيَاتَانِ وَمَوْتَانِ فَقَطْ، وَلَا تُرَدُّ الرُّوحُ إلَّا لِمَنْ كَانَ ذَلِكَ آيَةً، كَمَنْ أَحْيَاهُ عِيسَى عليه السلام، وَكُلُّ مَنْ جَاءَ فِيهِ بِذَلِكَ نَصٌّ، وَهُوَ قَوْلُ مَنْ رُوِيَ عَنْهُ فِي ذَلِكَ قَوْلٌ مِنْ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم. حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ نَبَاتٍ ثنا إسْمَاعِيلُ بْنُ إِسْحَاقَ ثنا عِيسَى بْنُ حَبِيبٍ ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ ثنا جَدِّي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ مَنْصُورِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أُمِّهِ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ قَالَتْ " دَخَلَ ابْنُ عُمَرَ الْمَسْجِدَ فَأَبْصَرَ ابْنَ الزُّبَيْرِ مَطْرُوحًا قَبْلَ أَنْ يُصْلَبَ، فَقِيلَ لَهُ هَذِهِ أَسْمَاءُ، فَمَالَ إلَيْهَا وَعَزَّاهَا وَقَالَ: إنَّ هَذِهِ الْجُثَثَ لَيْسَتْ بِشَيْءٍ وَإِنَّ الْأَرْوَاحَ عِنْدَ اللَّهِ عز وجل، فَقَالَتْ لَهُ أَسْمَاءُ: وَمَا يَمْنَعُنِي وَقَدْ أُهْدِيَ رَأْسُ يَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا إلَى بَغِيٍّ مِنْ بَغَايَا بَنِي إسْرَائِيلَ وَلَمْ يَرْوِ أَحَدٌ أَنَّ فِي عَذَابِ الْقَبْرِ رَدَّ الرُّوحِ إلَى الْجَسَدِ إلَّا الْمِنْهَالُ بْنُ عَمْرٍو، وَلَيْسَ بِالْقَوِيِّ.
[مَسْأَلَة الْحَسنَات تذهب السيئات والتوبة تسقطها]40 - مَسْأَلَةٌ: وَالْحَسَنَاتُ تُذْهِبُ السَّيِّئَاتِ بِالْمُوَازَنَةِ، وَالتَّوْبَةُ تُسْقِطُ السَّيِّئَاتِ
বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "{আল্লাহ মুমিনদের সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন} [ইব্রাহিম: ২৭]। তিনি বলেন: এটি কবরের আযাব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, তাকে বলা হয়: তোমার রব কে? সে বলে: আমার রব আল্লাহ এবং আমার নবী মুহাম্মদ।" এবং ইমাম মুসলিমের সনদ অনুযায়ী, উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল-কাওয়ারীরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "যখন মুমিনের রূহ বের হয়, তখন দুজন ফেরেশতা তা গ্রহণ করে উপরে নিয়ে যান। আসমানবাসীরা বলেন: এক পবিত্র রূহ জমিন থেকে এসেছে, আল্লাহ তোমার ওপর এবং তুমি যে দেহে অবস্থান করতে তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন। অতঃপর তারা তা নিয়ে তার রবের নিকট চলে যান। এরপর তিনি বলেন: তাকে শেষ সময় পর্যন্ত নিয়ে যাও। তিনি বলেন: আর কাফিরের রূহ যখন বের হয়, তখন আসমানবাসীরা বলেন: এক অপবিত্র রূহ জমিন থেকে এসেছে। তখন বলা হয়: তাকে শেষ সময় পর্যন্ত নিয়ে যাও। আবু হুরায়রা বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট থাকা একটি চাদর দিয়ে নিজের নাক ঢাকলেন।" এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা ছিলে প্রাণহীন, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে জীবন দিয়েছেন, এরপর তিনি তোমাদের মৃত্যু দিবেন এবং পুনরায় তোমাদের জীবন দিবেন} [বাকারা: ২৮]। সুতরাং এটি প্রমাণিত যে জীবন দুটি এবং মৃত্যুও দুটি মাত্র। আর রূহ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না কেবল তাদের ছাড়া যাদের ক্ষেত্রে এটি অলৌকিক নিদর্শন হিসেবে হয়, যেমন যাদেরকে ঈসা (আলাইহিস সালাম) জীবিত করেছিলেন এবং যাদের ব্যাপারে এ সম্পর্কিত সুস্পষ্ট দলিল বর্ণিত হয়েছে। আর এটিই সেই সকল সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বক্তব্য যাদের থেকে এ বিষয়ে বর্ণনা পাওয়া যায়। মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে নাবাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবনে ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবনে হাবীব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ আল-মুকরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার দাদা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের নিকট মানসুর ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর মা সাফিয়্যাহ বিনতে শায়বাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "ইবনে উমর মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং ইবনে যুবায়েরকে শূলে চড়ানোর আগে পড়ে থাকতে দেখলেন। তাঁকে বলা হলো, এই যে আসমা (এখানে আছেন)। তিনি তাঁর দিকে গেলেন এবং তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন: নিশ্চয়ই এই মৃতদেহগুলো কিছুই নয়, আর আত্মাগুলো মহান আল্লাহর নিকট থাকে। তখন আসমা তাঁকে বললেন: আমাকে (ধৈর্য ধারণ করতে) কিসে বাধা দিবে যখন ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়ার মস্তক বনী ইসরাঈলের এক ব্যভিচারিণীর নিকট উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছিল?" এবং মিনহাল ইবনে আমর ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেননি যে কবরের আযাবের সময় দেহে রূহ ফেরত দেওয়া হয়; আর তিনি শক্তিশালী নন।
[মাসআলা: নেক আমল গুনাহ দূর করে দেয় এবং তাওবাহ গুনাহ মিটিয়ে দেয়]40 - মাসআলা: নেক আমল পাল্লায় ওজনের মাধ্যমে গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয় এবং তাওবাহ গুনাহসমূহকে সমূলে বিনাশ করে।
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
وَالْقِصَاصُ مِنْ الْحَسَنَاتِ. قَالَ اللَّهُ عز وجل: {وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِمَنْ تَابَ} [طه: 82] وَقَالَ تَعَالَى: {إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ} [هود: 114] . حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ ثنا إسْمَاعِيلُ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا الْمُفْلِسُ؟ قَالُوا الْمُفْلِسُ فِينَا مَنْ لَا دِرْهَمَ لَهُ وَلَا مَتَاعَ، فَقَالَ: إنَّ الْمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلَاةٍ وَصِيَامٍ وَزَكَاةٍ وَيَأْتِي قَدْ شَتَمَ هَذَا وَقَذَفَ هَذَا وَأَكَلَ مَالَ هَذَا وَسَفَكَ دَمَ هَذَا وَضَرَبَ هَذَا، فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ، فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْضَى مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ ثُمَّ طُرِحَ فِي النَّارِ» وَقَالَ عز وجل: {الْيَوْمَ تُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ} [غافر: 17] .
[مَسْأَلَة نبي اللَّه عِيسَى لَمْ يقتل وَلَمْ يصلب]41 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ عِيسَى عليه السلام لَمْ يُقْتَلْ وَلَمْ يُصْلَبْ وَلَكِنْ تَوَفَّاهُ اللَّهُ عز وجل ثُمَّ رَفَعَهُ إلَيْهِ. وَقَالَ عز وجل {وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ} [النساء: 157] وَقَالَ تَعَالَى: {إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ} [آل عمران: 55] وَقَالَ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ {وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ} [المائدة: 117] وَقَالَ تَعَالَى: {اللَّهُ يَتَوَفَّى الأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا} [الزمر: 42] فَالْوَفَاةُ قِسْمَانِ: نَوْمٌ وَمَوْتٌ فَقَطْ وَلَمْ يُرِدْ عِيسَى عليه السلام بِقَوْلِهِ {فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي} [المائدة: 117] وَفَاةَ النَّوْمِ، فَصَحَّ أَنَّهُ إنَّمَا عَنَى وَفَاةَ الْمَوْتِ، وَمَنْ قَالَ إنَّهُ عليه السلام قُتِلَ أَوْ صُلِبَ فَهُوَ كَافِرٌ مُرْتَدٌّ حَلَالٌ دَمُهُ وَمَالُهُ لِتَكْذِيبِهِ الْقُرْآنَ وَخِلَافِهِ الْإِجْمَاعَ.
[مَسْأَلَة لَا يرجع مُحَمَّد وَلَا أَحَد مِنْ أصحابه إلَّا يَوْم الْقِيَامَة]42 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّهُ لَا يَرْجِعُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ رضي الله عنهم إلَّا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إذَا رَجَّعَ (اللَّهُ) الْمُؤْمِنِينَ وَالْكَافِرِينَ لِلْحِسَابِ وَالْجَزَاءِ. هَذَا إجْمَاعُ جَمِيعِ أَهْلِ الْإِسْلَامِ الْمُتَّقِينَ قَبْلَ حُدُوثِ الرَّوَافِضِ الْمُخَالِفِينَ لِإِجْمَاعِ أَهْلِ الْإِسْلَامِ الْمُبَدِّلِينَ لِلْقُرْآنِ الْمُكَذِّبِينَ بِصَحِيحِ سُنَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُجَاهِرِينَ بِتَوْلِيدِ الْكَذِبِ الْمُتَنَاقِضِينَ فِي كَذِبِهِمْ أَيْضًا، وَقَالَ عز وجل: {وَكُنْتُمْ أَمْوَاتًا فَأَحْيَاكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ} [البقرة: 28]
নেক আমল দ্বারা প্রতিশোধ। মহান আল্লাহ বলেন: {আর নিশ্চয়ই আমি তার প্রতি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, যে তওবা করে} [ত্বহা: ৮২] এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ মন্দ আমলসমূহকে মিটিয়ে দেয়} [হুদ: ১১৪]। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, তিনি আহমাদ ইবনে ফাতহ থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে ঈসা থেকে, তিনি আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি আহমাদ ইবনে আলী থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ থেকে, তিনি কুতায়বা ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ইসমাইল থেকে, তিনি আলা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: «তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে? তারা বললেন, আমাদের মধ্যে নিঃস্ব সেই ব্যক্তি যার কোনো দিরহাম (টাকা) ও আসবাবপত্র নেই। তখন তিনি বললেন: আমার উম্মতের মধ্যে সেই ব্যক্তিই প্রকৃত নিঃস্ব, যে কিয়ামতের দিন সালাত, সিয়াম ও জাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে, অথচ সে একে গালি দিয়েছে, তাকে অপবাদ দিয়েছে, এর সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, ওর রক্তপাত করেছে এবং তাকে প্রহার করেছে। ফলে এই ব্যক্তিকে তার নেক আমল থেকে প্রদান করা হবে এবং ওই ব্যক্তিকে তার নেক আমল থেকে প্রদান করা হবে। এরপর যদি তার পাওনা পরিশোধের আগেই তার নেক আমল শেষ হয়ে যায়, তবে তাদের গুনাহসমূহ থেকে নিয়ে তার ওপর নিক্ষেপ করা হবে এবং এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে»। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আজ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কৃতকর্মের প্রতিদান দেওয়া হবে} [গাফির: ১৭] ।
[মাসআলা: আল্লাহর নবী ঈসাকে হত্যা করা হয়নি এবং ক্রুশবিদ্ধও করা হয়নি]৪১ - মাসআলা: এবং নিশ্চয়ই ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে হত্যা করা হয়নি এবং ক্রুশবিদ্ধও করা হয়নি, বরং আল্লাহ তাকে মৃত্যু দান করেছেন (উঠিয়ে নিয়েছেন) এবং তারপর তাকে নিজের দিকে তুলে নিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা তাকে হত্যা করেনি এবং তাকে ক্রুশবিদ্ধও করেনি} [নিসা: ১৫৭]। এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আমি তোমাকে মৃত্যু দান করব (উঠিয়ে নেব) এবং তোমাকে আমার দিকে তুলে নেব} [আল-ইমরান: ৫৫]। এবং মহান আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে বলেন যে তিনি (ঈসা) বলেছেন: {আর আমি তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম যতক্ষণ আমি তাদের মধ্যে ছিলাম; অতঃপর যখন আপনি আমাকে মৃত্যু দান করলেন (উঠিয়ে নিলেন), তখন আপনিই ছিলেন তাদের ওপর পর্যবেক্ষক এবং আপনি সর্ববিষয়ে সাক্ষী} [মায়িদা: ১১৭]। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ প্রাণসমূহ নিয়ে নেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যাদের মৃত্যু আসেনি তাদের ঘুমের সময়} [যুমার: ৪২]। সুতরাং ওয়াফাত (গ্রহণ করা) দুই প্রকার: কেবল ঘুম এবং মৃত্যু। আর ঈসা (আলাইহিস সালাম) {যখন আপনি আমাকে মৃত্যু দান করলেন} বলার দ্বারা ঘুমের ওয়াফাত উদ্দেশ্য নেননি, ফলে এটি সঠিক যে তিনি কেবল মৃত্যুর ওয়াফাতই উদ্দেশ্য করেছেন। আর যে ব্যক্তি বলবে যে তাকে (ঈসাকে) হত্যা করা হয়েছে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে, সে কাফির, মুরতাদ এবং তার রক্ত ও সম্পদ বৈধ; কারণ সে কুরআনকে অস্বীকার করেছে এবং ইজমার বিরোধিতা করেছে।
[মাসআলা: মুহাম্মাদ বা তাঁর সাহাবীদের কেউ কিয়ামত দিবস ব্যতীত ফিরে আসবেন না]৪২ - মাসআলা: এবং নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সা.) এবং তাঁর সাহাবীদের (রা.) কেউ ফিরে আসবেন না কিয়ামতের দিন ব্যতীত, যখন আল্লাহ মুমিন ও কাফিরদের হিসাব ও প্রতিদানের জন্য পুনরায় জীবিত করবেন। এটি সমস্ত ধর্মভীরু মুসলিমদের ইজমা, রাফেযীদের আবির্ভাবের পূর্বে, যারা মুসলিমদের ইজমার বিরোধিতা করেছে, কুরআন পরিবর্তন করেছে, আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সহীহ সুন্নাহকে অস্বীকার করেছে, প্রকাশ্য মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে এবং তাদের মিথ্যাচারের মধ্যেও তারা স্ববিরোধী। মহান আল্লাহ বলেন: {অথচ তোমরা ছিলে মৃত, অতঃপর তিনি তোমাদের জীবিত করেছেন, এরপর তিনি তোমাদের মৃত্যু দেবেন এবং পুনরায় জীবিত করবেন} [বাকারা: ২৮]
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
وَقَالَ تَعَالَى: {ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُونَ} [الزمر: 31] فَادَّعَوْا مِنْ رُجُوعِ عَلِيٍّ رضي الله عنه مَا لَا يَعْجِزُ أَحَدٌ عَنْ أَنْ يَدَّعِيَ مِثْلَهُ لِعُمَرَ أَوْ لِعُثْمَانَ أَوْ لِمُعَاوِيَةَ رضي الله عنهم أَوْ لِغَيْرِ هَؤُلَاءِ: إذَا لَمْ يُبَالِ بِالْكَذِبِ وَالدَّعْوَى بِلَا بُرْهَانٍ لَا مِنْ قُرْآنٍ وَلَا مِنْ سُنَّةٍ وَلَا مِنْ إجْمَاعٍ وَلَا مِنْ مَعْقُولٍ وَبِاَللَّهِ التَّوْفِيقُ.
[مَسْأَلَة الأنفس الَّتِي رَآهَا رَسُول اللَّه لَيْلَة الإسراء]43 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ الْأَنْفُسَ حَيْثُ رَآهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ أَرْوَاحُ أَهْلِ السَّعَادَةِ عَنْ يَمِينِ آدَمَ عليه السلام، وَأَرْوَاحُ أَهْلِ الشَّقَاءِ عَنْ شِمَالِهِ عِنْدَ سَمَاءِ الدُّنْيَا، لَا تَفْنَى وَلَا تَنْتَقِلُ إلَى أَجْسَامٍ أُخَرَ، لَكِنَّهَا بَاقِيَةٌ حَيَّةٌ حَسَّاسَةٌ عَاقِلَةٌ فِي نَعِيمٍ أَوْ نَكَدٍ إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَتُرَدُّ إلَى أَجْسَادِهَا لِلْحِسَابِ وَلِلْجَزَاءِ بِالْجَنَّةِ أَوْ النَّارِ، حَاشَا أَرْوَاحِ الْأَنْبِيَاءِ عليهم السلام وَأَرْوَاحِ الشُّهَدَاءِ فَإِنَّهَا الْآنَ تُرْزَقُ وَتُنَعَّمُ. وَمَنْ قَالَ بِانْتِقَالِ الْأَنْفُسِ إلَى أَجْسَامٍ أُخَرَ بَعْدَ مُفَارَقَتِهَا هَذِهِ الْأَجْسَادَ فَقَدْ كَفَرَ. بُرْهَانُ هَذَا مَا حَدَّثَنَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى ثنا ابْنُ وَهْبٍ أَنَا يُونُسُ هُوَ ابْنُ يَزِيدَ - عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ أَبُو ذَرٍّ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ «فُرِجَ سَقْفُ بَيْتِي وَأَنَا بِمَكَّةَ فَنَزَلَ جِبْرِيلُ عليه السلام فَفَرَجَ صَدْرِي ثُمَّ غَسَلَهُ مِنْ مَاءِ زَمْزَمَ ثُمَّ جَاءَ بِطَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ مُمْتَلِئٍ حِكْمَةً وَإِيمَانًا فَأَفْرَغَهَا فِي صَدْرِي ثُمَّ أَطْبَقَهُ ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِي فَعَرَجَ بِي إلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَلَمَّا جِئْنَا السَّمَاءَ الدُّنْيَا. قَالَ جِبْرِيلُ عليه السلام لِخَازِنِ السَّمَاءِ الدُّنْيَا افْتَحْ، قَالَ مَنْ هَذَا؟ قَالَ جِبْرِيلُ، قَالَ هَلْ مَعَكَ أَحَدٌ؟ قَالَ: نَعَمْ مَعِي مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَأُرْسِلَ إلَيْهِ؟ قَالَ نَعَمْ فَفَتَحَ فَلَمَّا عَلَوْنَا السَّمَاءَ الدُّنْيَا فَإِذَا رَجُلٌ عَنْ يَمِينِهِ أَسْوِدَةٌ وَعَنْ يَسَارِهِ أَسْوِدَةٌ، فَإِذَا نَظَرَ قِبَلَ يَمِينِهِ ضَحِكَ، وَإِذَا نَظَرَ قِبَلَ شِمَالِهِ بَكَى، قَالَ: فَقَالَ مَرْحَبًا بِالنَّبِيِّ الصَّالِحِ وَالِابْنِ الصَّالِحِ، فَقُلْتُ يَا جِبْرِيلُ مَنْ هَذَا؟ قَالَ هَذَا آدَم صلى الله عليه وسلم وَهَذِهِ الْأَسْوِدَةُ الَّتِي عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ نَسَمُ بَنِيهِ، فَأَهْلُ الْيَمِينِ أَهْلُ الْجَنَّةِ وَالْأَسْوِدَةُ الَّتِي عَنْ شِمَالِهِ أَهْلُ النَّارِ، فَإِذَا نَظَرَ قِبَلَ يَمِينِهِ ضَحِكَ وَإِذَا نَظَرَ قِبَلَ شِمَالِهِ بَكَى، قَالَ ثُمَّ عَرَجَ بِي جِبْرِيلُ عليه السلام حَتَّى أَتَى السَّمَاءَ الثَّانِيَةَ.
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন তোমরা তোমাদের রবের নিকট বিবাদে লিপ্ত হবে} [যুমার: ৩১]। সুতরাং তারা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে এমন দাবি করেছে, যা উমর, উসমান কিংবা মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) অথবা তারা ছাড়া অন্য কারোর ব্যাপারেও যে কেউ অনায়াসেই দাবি করতে পারে; যদি সে মিথ্যার পরোয়া না করে এবং কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা কিংবা যুক্তি—কোনোটিরই প্রমাণ ছাড়া দাবি উত্থাপন করে। আর আল্লাহর কাছেই তাওফীক প্রার্থনা করি।
[মিরাজ বা ইসরার রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেসব আত্মা দেখেছিলেন সেই সংক্রান্ত মাসআলা]৪৩ - মাসআলা: ইসরার রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সব আত্মা দেখেছিলেন—অর্থাৎ প্রথম আসমানে আদম (আলাইহিস সালাম)-এর ডানে সৌভাগ্যবানদের রুহ এবং তাঁর বামে দুর্ভাগাদের রুহ; সেগুলো ধ্বংস হবে না এবং অন্য কোনো দেহে স্থানান্তরিতও হবে না। বরং সেগুলো কিয়ামত পর্যন্ত জীবিত, অনুভূতিশীল ও বুদ্ধিদীপ্ত অবস্থায় নেয়ামত অথবা কষ্টের মধ্যে অবশিষ্ট থাকবে। অতঃপর হিসাব-নিকাশ এবং জান্নাত বা জাহান্নামের মাধ্যমে প্রতিদান প্রদানের লক্ষ্যে পুনরায় সেগুলোকে দেহসমূহে ফিরিয়ে দেয়া হবে। তবে নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) রুহ এবং শহীদদের রুহ এর ব্যতিক্রম, কেননা তারা এখনই রিযিকপ্রাপ্ত হচ্ছেন এবং নেয়ামতের মধ্যে রয়েছেন। আর যে ব্যক্তি এই দেহগুলো ত্যাগ করার পর আত্মাসমূহ অন্য দেহে স্থানান্তরিত হওয়ার কথা বলবে, সে কুফরি করল। এর প্রমাণ হলো যা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ, তিনি বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন ফাতহ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহহাব বিন ঈসা থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আলী থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন মুসলিম বিন হাজ্জাজ থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন হারমালা বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস—যিনি হলেন ইবনে ইয়াযীদ—এর মাধ্যমে ইবনে শিহাব থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে, তিনি বলেন: আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করতেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি মক্কায় থাকা অবস্থায় আমার ঘরের ছাদ বিদীর্ণ করা হলো এবং জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) অবতরণ করলেন। এরপর তিনি আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন এবং তা যমযমের পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেন। এরপর হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি স্বর্ণের পাত্র নিয়ে আসলেন এবং তা আমার বক্ষে ঢেলে দিয়ে সেটি জুড়ে দিলেন। এরপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে নিয়ে প্রথম আসমানের দিকে আরোহণ করলেন। যখন আমরা প্রথম আসমানে আসলাম, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) প্রথম আসমানের দ্বাররক্ষীকে বললেন: 'দরজা খুলুন'। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'কে ইনি?' তিনি বললেন: 'জিবরাঈল'। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'আপনার সাথে কি কেউ আছেন?' জিবরাঈল বললেন: 'হ্যাঁ, আমার সাথে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আছেন'। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'তাঁকে কি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে?' জিবরাঈল বললেন: 'হ্যাঁ'। তখন তিনি দরজা খুলে দিলেন। যখন আমরা প্রথম আসমানে উঠলাম, তখন দেখলাম এক ব্যক্তি বসে আছেন, যাঁর ডান পাশে অনেকগুলো কালো অবয়ব এবং বাম পাশে অনেকগুলো কালো অবয়ব। তিনি যখন ডান দিকে তাকাচ্ছেন তখন হাসছেন, আর যখন বাম দিকে তাকাচ্ছেন তখন কাঁদছেন। তিনি বললেন: 'স্বাগতম হে সৎ নবী এবং হে সৎ পুত্র'। আমি জিজ্ঞেস করলাম: 'হে জিবরাঈল, ইনি কে?' তিনি বললেন: 'ইনি আদম (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর ডানে ও বামে যে কালো অবয়বগুলো রয়েছে তারা হলো তাঁর সন্তানদের আত্মা। ডান দিকের দলটি হলো জান্নাতবাসী এবং বাম দিকের দলটি হলো জাহান্নামী। তাই তিনি যখন ডান দিকে তাকান তখন হাসেন এবং যখন বাম দিকে তাকান তখন কাঁদেন'। তিনি বলেন: এরপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আমাকে নিয়ে উপরে আরোহণ করলেন এবং দ্বিতীয় আসমানে পৌঁছালেন।"
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
قَالَ أَنَسٌ: فَذَكَرَ أَنَّهُ وَجَدَ فِي السَّمَاوَاتِ آدَمَ وَإِدْرِيسَ وَعِيسَى وَمُوسَى وَإِبْرَاهِيمَ - صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ - وَلَمْ يَثْبُتْ كَيْفَ مَنَازِلُهُمْ غَيْرَ أَنَّهُ ذَكَرَ أَنَّهُ قَدْ وَجَدَ آدَمَ فِي السَّمَاءِ الدُّنْيَا وَإِبْرَاهِيمَ فِي السَّمَاءِ السَّادِسَةِ.» وَذَكَرَ الْحَدِيثَ.
فَفِي هَذَا الْخَبَرِ مَكَانُ الْأَرْوَاحِ، وَأَنَّ أَرْوَاحَ الْأَنْبِيَاءِ فِي الْجَنَّةِ. وَأَمَّا الشُّهَدَاءُ فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل يَقُولُ: {وَلا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَكِنْ لا تَشْعُرُونَ} [البقرة: 154] وَقَالَ تَعَالَى: {وَلا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ} [آل عمران: 169] {فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ} [آل عمران: 170] وَلَا خِلَافَ بَيْنَ مُسْلِمَيْنِ فِي أَنَّ الْأَنْبِيَاءَ عليهم السلام أَرْفَعُ قَدْرًا وَدَرَجَةً وَأَتَمُّ فَضِيلَةً عِنْدَ اللَّهِ عز وجل وَأَعْلَى كَرَامَةً مِنْ كُلِّ مَنْ دُونَهُمْ، وَمَنْ خَالَفَ فِي هَذَا فَلَيْسَ مُسْلِمًا.
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى ثنا إبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ ثنا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إذَا مَاتَ الرَّجُلُ عُرِضَ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ، إنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَالْجَنَّةُ، وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَالنَّارُ، ثُمَّ يُقَالُ لَهُ: هَذَا مَقْعَدُكَ الَّذِي تُبْعَثُ إلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» .
فَفِي هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّ الْأَرْوَاحَ حَسَّاسَةٌ عَالِمَةٌ مُمَيِّزَةٌ بَعْدَ فِرَاقِهَا الْأَجْسَادَ. وَأَمَّا مَنْ زَعَمَ أَنَّ الْأَرْوَاحَ تُنْقَلُ إلَى أَجْسَادٍ أُخَرَ فَهُوَ قَوْلُ أَصْحَابِ التَّنَاسُخِ، وَهُوَ كُفْرٌ عِنْدَ جَمِيعِ أَهْلِ الْإِسْلَامِ. وَبِاَللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيقُ.
আনাস (রা.) বলেন: তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আসমানসমূহে আদম, ইদ্রিস, ঈসা, মুসা এবং ইব্রাহিমকে—তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক—পেয়েছেন। তাঁদের মর্যাদার স্তরগুলো কেমন তা সুনিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত হয়নি, তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি আদমকে নিকটবর্তী আসমানে এবং ইব্রাহিমকে ষষ্ঠ আসমানে পেয়েছেন। এবং তিনি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
এই সংবাদে রূহ বা আত্মাদের অবস্থানের কথা রয়েছে এবং নবীদের রূহসমূহ জান্নাতে থাকার কথা বলা হয়েছে। আর শহীদদের সম্পর্কে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: "আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদের মৃত বোলো না, বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা অনুভব করতে পারো না" [আল-বাকারা: ১৫৪]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের কখনও মৃত মনে করো না, বরং তারা তাদের রবের নিকট জীবিত, তারা রিযিকপ্রাপ্ত হয়" [আল ইমরান: ১৬৯]। "আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাঁদের দিয়েছেন, তাতে তাঁরা আনন্দিত" [আল ইমরান: ১৭০]। আর নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) মর্যাদা ও স্তর আল্লাহর নিকট অধিক উঁচু, তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব অধিক পূর্ণাঙ্গ এবং তাঁদের সম্মান তাঁদের নিম্নস্তরের সকলের চেয়ে অধিক মহান—এ ব্যাপারে কোনো দুইজন মুসলিমের মধ্যেও মতবিরোধ নেই। যে ব্যক্তি এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে, সে মুসলিম নয়।
আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আহমদ বিন ফাতহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল ওয়াহহাব বিন ঈসা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ঈসা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুসলিম বিন হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদ বিন হুমাইদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের আব্দুর রাজ্জাক সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট মা’মার বর্ণনা করেছেন জুহরি থেকে, তিনি সালেম থেকে, তিনি ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি মারা যায়, তখন সকাল ও সন্ধ্যায় তার সামনে তার অবস্থানস্থলটি পেশ করা হয়; যদি সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে জান্নাত, আর যদি সে জাহান্নামিদের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে জাহান্নাম। এরপর তাকে বলা হয়: এটাই তোমার সেই অবস্থানস্থল যেদিকে কিয়ামতের দিন তোমাকে পুনরুত্থিত করা হবে।"
এই হাদিসে প্রমাণিত হয় যে, আত্মা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তা সংবেদনশীল, অবগত এবং পার্থক্য করতে সক্ষম থাকে। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, আত্মা অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয়, তা জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসীদের বক্তব্য; যা সমস্ত ইসলাম অনুসারীদের নিকট কুফর। আর আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফিক অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
[مَسْأَلَة انْقِطَاع الوحي بموت النَّبِيّ]مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ الْوَحْيَ قَدْ انْقَطَعَ مُذْ مَاتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: بُرْهَانُ ذَلِكَ أَنَّ الْوَحْيَ لَا يَكُونُ إلَّا إلَى نَبِيٍّ، وَقَدْ قَالَ عز وجل: {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} [الأحزاب: 40] .
[مَسْأَلَة الدِّين تَمَّ فَلَا يزاد فِيهِ وَلَا يَنْقُص مِنْهُ وَلَا يبدل]45 - مَسْأَلَةٌ: وَالدِّينُ قَدْ تَمَّ فَلَا يُزَادُ فِيهِ وَلَا يُنْقَصُ مِنْهُ وَلَا يُبَدَّلُ. قَالَ تَعَالَى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} [المائدة: 3] وَقَالَ تَعَالَى: {لا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ} [يونس: 64] وَالنَّقْصُ وَالزِّيَادَةُ تَبْدِيلٌ.
[مَسْأَلَة بلغ رَسُول اللَّه الدِّين كله كَمَا أمره اللَّه]46 - مَسْأَلَةٌ: قَدْ بَلَّغَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الدِّينَ كُلَّهُ وَبَيَّنَ جَمِيعَهُ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى: قَالَ تَعَالَى {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [الشورى: 52] {صِرَاطِ اللَّهِ} [الشورى: 53] وَقَالَ تَعَالَى: {لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل: 44] .
[مَسْأَلَة حَجَّة اللَّه قَدْ قامت لِكُلِّ مِنْ بلغته النذارة]47 - مَسْأَلَةٌ: وَحُجَّةُ اللَّهِ تَعَالَى قَدْ قَامَتْ وَاسْتَبَانَتْ لِكُلِّ مَنْ بَلَغَتْهُ النِّذَارَةُ مِنْ مُؤْمِنٍ وَكَافِرٍ وَبَرٍّ وَفَاجِرٍ. قَالَ اللَّهُ عز وجل: {لا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ} [البقرة: 256] وَقَالَ تَعَالَى: {لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَا مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ} [الأنفال: 42] .
[مَسْأَلَة الْأَمْر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَنْ الْمُنْكَر فرضان كُلّ عَلَى حسب الطاقة]48 - مَسْأَلَةٌ: وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيُ عَنْ الْمُنْكَرِ فَرْضَانِ عَلَى كُلِّ أَحَدٍ - عَلَى قَدْرِ طَاقَتِهِ - بِالْيَدِ، فَمَنْ لَمْ يَقْدِرْ فَبِلِسَانِهِ، فَمَنْ لَمْ يَقْدِرْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ لَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنْ الْإِيمَانِ شَيْءٌ. قَالَ عز وجل: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [آل عمران: 104] وَقَالَ تَعَالَى: {وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ} [الحجرات: 9] . حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ ثنا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، وَقَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى ثنا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ ثنا شُعْبَةُ، ثُمَّ اتَّفَقَ سُفْيَانُ وَشُعْبَةُ، كِلَاهُمَا عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ قَالَ: قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «مَنْ رَأَى مِنْكُمْ
[নবীর মৃত্যুতে ওহী বন্ধ হওয়ার মাসআলা]মাসআলা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর থেকে ওহী বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রমাণ হলো, ওহী কেবল নবীর কাছেই আসে। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী।" [আল-আহযাব: ৪০]।
[দ্বীন পূর্ণাঙ্গ হয়ে গেছে, এতে কোনো কিছু বাড়ানো যাবে না, কমানো যাবে না এবং পরিবর্তন করা যাবে না - এই মাসআলা]৪৫ - মাসআলা: দ্বীন পূর্ণাঙ্গ হয়ে গেছে, সুতরাং এতে কোনো কিছু বাড়ানো যাবে না, তা থেকে কোনো কিছু কমানো যাবে না এবং একে পরিবর্তনও করা যাবে না। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম।" [আল-মায়িদাহ: ৩] আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "আল্লাহর বাণীর কোনো পরিবর্তন নেই।" [ইউনুস: ৬৪] আর (দ্বীনে) হ্রাস বা বৃদ্ধি করা হলো পরিবর্তনেরই নামান্তর।
[আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী আল্লাহর রাসূল দ্বীনের সবটুকু পৌঁছে দিয়েছেন - এই মাসআলা]৪৬ - মাসআলা: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বীনের সবটুকু পৌঁছে দিয়েছেন এবং এর সবকিছু স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করেন।" [আশ-শূরা: ৫২] "আল্লাহর পথ।" [আশ-শূরা: ৫৩] আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "যাতে আপনি মানুষের জন্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে।" [আন-নাহল: ৪৪]।
[যার কাছে সতর্কবাণী পৌঁছেছে তার বিরুদ্ধে আল্লাহর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে - এই মাসআলা]৪৭ - মাসআলা: যার কাছেই (আল্লাহর) সতর্কবাণী পৌঁছেছে, চাই সে মুমিন হোক বা কাফের, পুণ্যবান হোক বা পাপিষ্ঠ, তার বিরুদ্ধে আল্লাহর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সুস্পষ্ট হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই; ভ্রান্ত পথ থেকে সঠিক পথ সুস্পষ্ট হয়ে গেছে।" [আল-বাকারা: ২৫৬] আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "যাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং জীবিত ব্যক্তি সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে।" [আল-আনফাল: ৪২]।
[সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ সামর্থ্য অনুযায়ী প্রত্যেকের ওপর ফরয - এই মাসআলা]৪৮ - মাসআলা: সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ প্রত্যেকের ওপর ফরয - তার সামর্থ্য অনুযায়ী - হাত দিয়ে, যে এতে সক্ষম নয় সে যেন জিহ্বা দিয়ে (মুখে), আর যে এতেও সক্ষম নয় সে যেন অন্তর দিয়ে করে; আর তা হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর, এর বাইরে ঈমানের আর কিছু নেই। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম।" [আলে ইমরান: ১০৪] আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "আর যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তোমরা তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দাও। অতঃপর যদি তাদের এক দল অন্য দলের ওপর সীমালঙ্ঘন করে, তবে তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে।" [আল-হুজুরাত: ৯]। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আহমদ ইবনে ফাতহ থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে ঈসা থেকে, তিনি আহমদ ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি আহমদ ইবনে আলী থেকে, তিনি মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ এবং মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না থেকে; ইবনে আবি শাইবাহ বলেছেন, ওকী' আমাদের কাছে সুফিয়ান সওরী থেকে বর্ণনা করেছেন, আর ইবনে মুসান্না বলেছেন, মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের কাছে শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর সুফিয়ান ও শু'বাহ উভয়ই কায়েস ইবনে মুসলিম থেকে এবং তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে একমত হয়ে বর্ণনা করেছেন, তিনি (তারিক) বলেন: আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তোমাদের মধ্যে যে কেউ..."
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ» . وَبِهِ إلَى مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ ثنا يَعْقُوبُ بْنُ إبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ ثنا أَبِي عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ الْحَارِثِ هُوَ ابْنُ الْفُضَيْلِ الْخِطْمِيُّ - عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ عَنْ أَبِي رَافِعٍ هُوَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ «مَا مِنْ نَبِيٍّ بَعَثَهُ اللَّهُ فِي أُمَّةٍ قَبْلِي إلَّا كَانَ لَهُ مِنْ أُمَّتِهِ حَوَارِيُّونَ وَأَصْحَابٌ يَأْخُذُونَ بِسُنَّتِهِ وَيَقْتَدُونَ بِأَمْرِهِ، ثُمَّ إنَّهَا تَخَلَّفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلُوفٌ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ، وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ، فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ، فَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنْ الْإِيمَانِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ» . قَالَ عَلِيٌّ: لَمْ يَخْتَلِفْ أَحَدٌ مِنْ الْمُسْلِمِينَ فِي أَنَّ الْآيَتَيْنِ الْمَذْكُورَتَيْنِ مُحْكَمَتَانِ غَيْرُ مَنْسُوخَتَيْنِ، فَصَحَّ أَنَّ مَا عَارَضَهُمَا أَوْ عَارَضَ الْأَحَادِيثَ الَّتِي فِي مَعْنَاهُمَا هُوَ الْمَنْسُوخُ بِلَا شَكٍّ.
[مَسْأَلَة عجز لجهله عَنْ معرفة أُمُور دِينه]49 - مَسْأَلَةٌ: فَمَنْ عَجَزَ لِجَهْلِهِ أَوْ عَتَمَتِهِ عَنْ مَعْرِفَةِ كُلِّ هَذَا فَلَا بُدَّ لَهُ أَنْ يَعْتَقِدَ بِقَلْبِهِ وَيَقُولَ بِلِسَانِهِ - حَسَبَ طَاقَتِهِ بَعْدَ أَنْ يُفَسَّرَ لَهُ - لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ كُلُّ مَا جَاءَ بِهِ حَقٌّ وَكُلُّ دِينٍ سِوَاهُ بَاطِلٌ. حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ ثنا أَحْمَدُ بْنُ فَتْحٍ ثنا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عِيسَى ثنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ثنا مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ ثنا أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامٍ ثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ ثنا رَوْحٌ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَيُؤْمِنُوا بِي وَبِمَا جِئْتُ بِهِ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إلَّا بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ» .
...অন্যায় দেখে, সে যেন তা নিজ হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়; যদি সে তাতে সক্ষম না হয় তবে যেন তার জিহ্বা দিয়ে (প্রতিবাদ করে); যদি তাতেও সক্ষম না হয় তবে যেন তার অন্তর দিয়ে (তা ঘৃণা করে); আর এটিই হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর। এবং তাঁর (ইমাম মুসলিমের) সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদ ইবনে হুমাইদ, তিনি ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম ইবনে সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সালিহ ইবনে কায়সান থেকে, তিনি হারিস—যিনি ইবনুল ফুদাইল আল-খিতমি—থেকে, তিনি জাফর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদিল হাকাম থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে মিসওয়ার ইবনে মাখরামা থেকে, তিনি আবু রাফি—যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস—থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার পূর্বে আল্লাহ কোনো উম্মতের নিকট এমন কোনো নবী প্রেরণ করেননি, যার উম্মতের মধ্যে তাঁর কিছু সহচর (হাওয়ারী) এবং সঙ্গী ছিল না, যারা তাঁর সুন্নাতকে গ্রহণ করত এবং তাঁর আদেশ অনুসরণ করত। অতঃপর তাদের পরে এমন কিছু অপদার্থের উদ্ভব ঘটে যারা যা বলে তা করে না এবং যা তাদের আদেশ করা হয়নি তা-ই করে। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজ হাত দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে মুমিন, যে ব্যক্তি নিজ জিহ্বা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে মুমিন এবং যে ব্যক্তি নিজ অন্তর দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে-ও মুমিন। এর বাইরে সরিষা দানা পরিমাণও ঈমান নেই।" আলী (ইবনে হাজম) বলেন: মুসলমানদের মধ্যে কেউ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেননি যে, উল্লিখিত আয়াত দুটি সুসংহত (মুহকাম) এবং রহিত (মানসুখ) নয়। সুতরাং এটি প্রমাণিত যে, যা এই দুই আয়াতের অথবা এগুলোর সমার্থবোধক হাদিসসমূহের পরিপন্থী, তা নিঃসন্দেহে রহিত।
[পরিচ্ছেদ: অজ্ঞতাবশত দ্বীনের বিষয়াবলি জানতে অক্ষম হওয়া প্রসঙ্গে]৪৯ - মাসআলা: যে ব্যক্তি তার অজ্ঞতা বা বুদ্ধিস্বল্পতার কারণে এই সবকিছুর পরিচিতি লাভে অক্ষম, তার জন্য আবশ্যক হলো অন্তরে বিশ্বাস করা এবং জিহ্বা দিয়ে—তাকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেওয়ার পর তার সামর্থ্য অনুযায়ী—বলা যে: "আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; তিনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার সবই সত্য এবং তিনি ছাড়া অন্য সব ধর্ম বাতিল।" আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, তিনি আহমদ ইবনে ফাতহ থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহহাব ইবনে ঈসা থেকে, তিনি আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ থেকে, তিনি আহমদ ইবনে আলী থেকে, তিনি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ থেকে, তিনি উমাইয়া ইবনে বিসতাম থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে জুরাই' থেকে, তিনি রাওহ থেকে, তিনি আল-আলা ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ইয়াকুব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান আনে। যখন তারা তা করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে তার (ইসলামের) হক ব্যতীত; আর তাদের হিসাব আল্লাহর কাছে।"
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
وَقَالَ عز وجل: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [آل عمران: 85] .
[مَسْأَلَة أَفْضَل الْجِنّ والإنس الرُّسُل ثُمَّ الْأَنْبِيَاء ثُمَّ الصَّحَابَة ثُمَّ الصالحون]50 - مَسْأَلَةٌ: وَبَعْدَ هَذَا فَإِنَّ أَفْضَلَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ الرُّسُلُ ثُمَّ الْأَنْبِيَاءُ - عَلَى جَمِيعِهِمْ مِنْ اللَّهِ تَعَالَى ثُمَّ مِنَّا أَفْضَلُ الصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ - ثُمَّ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ الصَّالِحُونَ. قَالَ تَعَالَى: {جَاعِلِ الْمَلائِكَةِ رُسُلا} [فاطر: 1] وَقَالَ تَعَالَى: {اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلائِكَةِ رُسُلا وَمِنَ النَّاسِ} [الحج: 75] وَهَذَا لَا خِلَافَ فِيهِ مِنْ أَحَدٍ، وَقَالَ عز وجل: {لا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى} [الحديد: 10] حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبِيعٍ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ السُّلَيْمِ ثنا ابْنُ الْأَعْرَابِيِّ ثنا أَبُو دَاوُد السِّجِسْتَانِيُّ ثنا مُسَدَّدٌ ثنا أَبُو مُعَاوِيَةَ هُوَ مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ الضَّرِيرُ - ثنا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي فَوَاَلَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنْفَقَ أَحَدُكُمْ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيفَهُ» . حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبِيعٍ ثنا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ ثنا أَبُو دَاوُد السِّجِسْتَانِيُّ ثنا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ وَمُسَدَّدٌ قَالَا: ثنا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «خَيْرُ أُمَّتِي الْقَرْنُ الَّذِينَ بُعِثْتُ فِيهِمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ يَظْهَرُ قَوْمٌ يَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ، وَيَنْذِرُونَ وَلَا يُوفُونَ، وَيَحْرُبُونَ وَلَا يُؤْتَمَنُونَ وَيَفْشُو فِيهِمْ السِّمَنُ» هَكَذَا حَدَّثَنَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبِيعٍ " يَحْرُبُونَ " بِحَاءٍ غَيْرِ مَنْقُوطَةٍ وَرَاءٍ مَرْفُوعَةٍ وَبَاءٍ مَنْقُوطَةٍ وَاحِدَةٌ مِنْ أَسْفَلُ وَرُوِّينَاهُ
এবং পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: {আর যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তার থেকে তা কখনোই কবুল করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} [আলে ইমরান: ৮৫]।
[মাসআলা: মানুষ ও জিনের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন রাসুলগণ, অতঃপর নবীগণ, অতঃপর সাহাবীগণ, অতঃপর নেককারগণ]৫০ - মাসআলা: আর এরপরে নিশ্চয়ই মানুষ ও জিনের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন রাসুলগণ, অতঃপর নবীগণ—আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এবং অতঃপর আমাদের পক্ষ থেকে তাঁদের সকলের প্রতি সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—অতঃপর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ, অতঃপর নেককারগণ। মহান আল্লাহ বলেছেন: {যিনি ফেরেশতাদেরকে বার্তাবাহক নিয়োগ করেন} [ফাতির: ১] এবং তিনি আরও বলেছেন: {আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে বার্তাবাহক মনোনীত করেন এবং মানুষদের থেকেও} [হজ: ৭৫]। এ বিষয়ে কারও কোনো মতপার্থক্য নেই। এবং পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং লড়াই করেছে তারা (পরবর্তীদের) সমান নয়; তারা মর্যাদায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যারা পরবর্তীকালে ব্যয় করেছে এবং লড়াই করেছে; তবে আল্লাহ প্রত্যেকের সাথে কল্যাণের ওয়াদা করেছেন} [হাদিদ: ১০]। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে রাবী, তিনি বলেছেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে সুলাইম, তিনি বলেছেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনুল আরাবী, তিনি বলেছেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, তিনি বলেছেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ, তিনি বলেছেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া—যিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে খাযিম আদ-দারীর—তিনি বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম করে বলছি, তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করো, তবুও তাদের একজনের এক মুদ (এক অঞ্জলি) বা তার অর্ধেক পরিমাণ সওয়াবেরও সমকক্ষ হবে না»। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে রাবী, তিনি বলেছেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে আব্দুল মালিক, তিনি বলেছেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বকর, তিনি বলেছেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, তিনি বলেছেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আউন এবং মুসাদ্দাদ, তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানা, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি যুরারাহ ইবনে আওফা থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম সেই প্রজন্মের লোক যাদের মধ্যে আমি প্রেরিত হয়েছি, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী। এরপরে এমন এক কওমের আবির্ভাব হবে যারা সাক্ষ্য দিবে কিন্তু তাদের সাক্ষ্য চাওয়া হবে না, তারা মানত করবে কিন্তু তা পূর্ণ করবে না, তারা খিয়ানত করবে ফলে তাদের বিশ্বাস করা হবে না এবং তাদের মধ্যে স্থূলতা প্রকাশ পাবে»। আবদুল্লাহ ইবনে রাবী আমাদের কাছে এভাবেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন "ইয়াহরুবুনা" শব্দে—নুকতাহীন 'হা', পেশযুক্ত 'রা' এবং নিচে একটি নুকতাযুক্ত 'বা' দিয়ে। আর এটি আমাদের কাছে বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ١)
আল-মুহাল্লা বিল আসার
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
مِنْ طُرُقٍ كَثِيرَةٍ " يَخُونُونَ " بِالْخَاءِ الْمَنْقُوطَةِ مِنْ فَوْقُ وَوَاوٍ بَعْدَهَا نُونٌ، وَمَنْ خَانَ فَقَدْ حَرَبَ.
[مَسْأَلَة اللَّه خالق كُلّ شَيْء لَا خالق سواه]51 - مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ سِوَاهُ لَا خَالِقَ سِوَاهُ. قَالَ اللَّهُ عز وجل {خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ} [الأنعام: 102] وَقَالَ تَعَالَى: {هَذَا خَلْقُ اللَّهِ فَأَرُونِي مَاذَا خَلَقَ الَّذِينَ مِنْ دُونِهِ} [لقمان: 11] وَقَالَ تَعَالَى: {خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا} [الفرقان: 59] .
[مَسْأَلَة لَا يُشْبِه اللَّه عز وجل مِنْ خَلْقه شَيْء]52 - مَسْأَلَةٌ: وَلَا يُشْبِهُهُ عز وجل شَيْءٌ مِنْ خَلْقِهِ فِي شَيْءٍ مِنْ الْأَشْيَاءِ. قَالَ عز وجل: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] وَقَالَ تَعَالَى: {وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص: 4] .
[مَسْأَلَة اعتقاد أَنْ اللَّه لَا فِي مَكَان وَلَا فِي زمان بَلْ هُوَ خالقهما]بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّهُ تَعَالَى لَا فِي مَكَان وَلَا فِي زَمَانٍ، بَلْ هُوَ تَعَالَى خَالِقُ الْأَزْمِنَةِ وَالْأَمْكِنَةِ. قَالَ تَعَالَى: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا} [الفرقان: 2] وَقَالَ تَعَالَى {خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا} [الفرقان: 59] وَالزَّمَانُ وَالْمَكَانُ فَهُمَا مَخْلُوقَانِ، قَدْ كَانَ تَعَالَى دُونَهُمَا، وَالْمَكَانُ إنَّمَا هُوَ لِلْأَجْسَامِ، وَالزَّمَانُ إنَّمَا هُوَ مُدَّةُ كُلِّ سَاكِنٍ أَوْ مُتَحَرِّكٍ أَوْ مَحْمُولٍ فِي سَاكِنٍ أَوْ مُتَحَرِّكٍ، وَكُلُّ هَذَا مُبْعَدٌ عَنْ اللَّهِ عز وجل.
[مَسْأَلَة لَا يَحِلّ لِأَحَدِ أَنْ يسمي اللَّه بِغَيْرِ مَا سَمَّى بِهِ نَفْسه]54 - مَسْأَلَةٌ: وَلَا يَحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يُسَمِّيَ اللَّهَ عز وجل بِغَيْرِ مَا سَمَّى بِهِ نَفْسَهُ وَلَا أَنْ يَصِفَهُ بِغَيْرِ مَا أَخْبَرَ بِهِ تَعَالَى عَنْ نَفْسِهِ. قَالَ عز وجل: {وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ} [الأعراف: 180]
অনেকগুলো সূত্র থেকে "ইয়াখুনুনা" শব্দটি উপরের নুকতাহযুক্ত 'খা' বর্ণ দিয়ে, তারপর 'ওয়াও' এবং এরপর 'নূন' বর্ণসহ বর্ণিত হয়েছে। আর যে বিশ্বাসঘাতকতা করে, সে সর্বস্ব হারায় বা ধ্বংস হয়।
[মাসআলা: আল্লাহ সকল কিছুর স্রষ্টা, তিনি ব্যতীত কোনো স্রষ্টা নেই]৫১ - মাসআলা: আল্লাহ তাআলা তিনি ব্যতীত অন্য সব কিছুর স্রষ্টা, তিনি ছাড়া আর কোনো স্রষ্টা নেই। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "তিনি সব কিছুর স্রষ্টা" [আল-আন'আম: ১০২]। তিনি তাআলা আরও বলেন: "এটি আল্লাহর সৃষ্টি, সুতরাং তোমরা আমাকে দেখাও যে, তিনি ব্যতীত অন্যরা কী সৃষ্টি করেছে" [লুকমান: ১১]। তিনি তাআলা আরও বলেন: "তিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা সৃষ্টি করেছেন" [আল-ফুরকান: ৫৯]।
[মাসআলা: আল্লাহর সৃষ্টির কোনো কিছুই কোনো দিক থেকে তাঁর সদৃশ নয়]৫২ - মাসআলা: তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুই কোনো বিষয়েই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র সদৃশ নয়। তিনি আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা" [আশ-শুরা: ১১]। তিনি তাআলা আরও বলেন: "এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই" [আল-ইখলাস: ৪]।
[মাসআলা: এই বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ কোনো স্থান বা কালের মধ্যে নন, বরং তিনি এ দুটির স্রষ্টা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। মাসআলা: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কোনো স্থানে বা কোনো কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নন, বরং তিনি কাল ও স্থানের স্রষ্টা। তিনি তাআলা বলেন: "তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলোকে যথাযথ অনুপাতে নির্ধারণ করেছেন" [আল-ফুরকান: ২]। তিনি তাআলা আরও বলেন: "তিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা সৃষ্টি করেছেন" [আল-ফুরকান: ৫৯]। আর কাল ও স্থান উভয়ই সৃষ্ট; আল্লাহ তাআলা এ দুটি ছাড়াই বিদ্যমান ছিলেন। আর স্থান তো কেবল বস্তুর জন্য, আর কাল হলো প্রত্যেক স্থির বা গতিশীল অথবা কোনো স্থির বা গতিশীলের মধ্যে বাহিত বিষয়ের স্থায়িত্বকাল; আর এর সবকিছুই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা থেকে দূরবর্তী বিষয় (অর্থাৎ তিনি এসবের মুখাপেক্ষী নন)।
[মাসআলা: আল্লাহ নিজেকে যে নাম দেননি, সেই নামে তাঁকে ডাকা কারো জন্য বৈধ নয়]৫৪ - মাসআলা: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা নিজেকে যে নামে নামকরণ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কোনো নামে তাঁকে ডাকা কারো জন্য বৈধ নয়, এবং তিনি নিজের সম্পর্কে যা জানিয়েছেন তা ব্যতীত অন্য কোনো গুণাবলি দ্বারা তাঁকে বিশেষায়িত করাও জায়েজ নয়। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো; আর তাদেরকে বর্জন করো যারা তাঁর নামসমূহের বিকৃতি ঘটায়" [আল-আরাফ: ১৮০]