(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: -)
الشيخ محمد بن عبد الوهاب في مرآة علماء الشرق والغرب   (محمود مهدي الإستانبولي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الشيخ محمد بن عبد الوهاب في مرآة علماء الشرق والغرب

المؤلف: محمود مهدي الإستانبولي (ت 1420هـ)

الناشر: *

الطبعة: 1400هـ-1980م

عدد الصفحات: 142

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের আলেমদের দর্পণে শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব   (মাহমুদ মাহদী আল-ইস্তাম্বুলী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের আলেমদের দর্পণে শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব

লেখক: মাহমুদ মাহদী আল-ইস্তাম্বুলী (ওফাত ১৪২০ হিজরী)

প্রকাশক: *

সংস্করণ: ১৪০০ হিজরী-১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الشيخ محمد بن عبد الوهاب في مرآة علماء الشرق وأدبائه

‌‌ابن بشر

…

ابن بشر

ذكر ابن بشر أن الشيخ محمد بن عبد الوهاب كان يحمد الله تعالى كثيراً ويشكره على تلك النعم التي أسداها إليه ربه من العلم والفضل والورع والقيام بتصحيح عقائد المسلمين والنجاح في هذه المهمة العظيمة، وكان كثيراً ما يلهج بقوله سبحانه: {رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحاً تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِين} ، ويتمثل بقوله:

بأي لسان أشكر الله إنه … لذو نعمة قد أعجزت كل شاعر

حباني بالإسلام فضلاً ونعمة … عليّ وبالقرآن نور البصائر

قال ابن بشر في كتابه "عنوان المجد في تاريخ نجد"1:

..واعلم رحمك الله أن هذه الجزيرة النجدية هي موضع الاختلاف والفتن ومأوى الشرور والمحن والقتل والنهب والعدوان بين أهل القرى والبلدان المجاورة بين قبائل العربان يتقاتلون في وسط البيوت والأسواق، والحرب بينهم قائمة على ساق وتندرت الأسفار فيها من قديم وحديث. والطيب فيها مغلوب تحت يد الخبيث.

فقام الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله تعالى بهذا النور، وزالت هذه الشرور، وساعده بالجهاد ملوكها، وجهزوا الجيوش لأقصى نواحيها وسلوكها حتى افتتحوا بلادها الشاسعة بالصدق في الحرب وأخذوا أعداءهم بقوة الطعان والضرب.

--------------------------------------------

1 ج2 ص 6.
প্রাচ্যের আলিম ও সাহিত্যিকদের দৃষ্টিতে শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব

‌ইবনে বিশর

…

ইবনে বিশর

ইবনে বিশর উল্লেখ করেছেন যে, শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল্লাহ তাআলার অধিক প্রশংসা করতেন এবং তাঁর প্রতিপালক তাঁকে জ্ঞান, মর্যাদা, তাকওয়া এবং মুসলিমদের আকিদা সংশোধনের যে নেয়ামত দান করেছেন এবং এই মহান কাজে যে সফলতা দিয়েছেন, তার জন্য তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন। তিনি প্রায়ই মহান আল্লাহর এই বাণীটি উচ্চারণ করতেন: {হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সামর্থ্য দাও যাতে আমি তোমার সেই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি যা তুমি আমাকে ও আমার পিতামাতাকে দান করেছ এবং যাতে আমি এমন সৎকর্ম করতে পারি যা তুমি পছন্দ করো, আর আমার জন্য আমার সন্তানদের সংশোধন করে দাও; নিশ্চয়ই আমি তোমার কাছে তওবা করছি এবং আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত}। তিনি এই কবিতাটি আবৃত্তি করতেন:

কোন জিহ্বায় আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করব, নিশ্চয়ই তিনি … এমন নেয়ামত দানকারী যা বর্ণনা করতে প্রতিটি কবিই অক্ষম।

তিনি আমাকে অনুগ্রহ ও নেয়ামত স্বরূপ ইসলাম দান করেছেন … এবং অন্তর্দৃষ্টির আলো হিসেবে কুরআন দান করেছেন।

ইবনে বিশর তাঁর ‘উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নাজদ’১ কিতাবে বলেন:

..তুমি জেনে রাখো—আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন—এই নজদ উপদ্বীপটি ছিল মতভেদ ও ফিতনার জায়গা, মন্দ ও পরীক্ষার আশ্রয়স্থল এবং গ্রামবাসী ও প্রতিবেশী জনপদগুলোর মানুষের মধ্যে হত্যা, লুণ্ঠন ও শত্রুতার কেন্দ্রস্থল। আর আরব গোত্রগুলোর মধ্যে ঘরবাড়ি ও বাজারের ভেতরে লড়াই চলত, তাদের মধ্যে যুদ্ধ ছিল চরম পর্যায়ে এবং প্রাচীন ও আধুনিক কালে সেখানে সফর করা ছিল অত্যন্ত দুষ্কর। সেখানে ভালো মানুষরা পাপিষ্ঠদের হাতে পরাস্ত ছিল।

অতঃপর শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) এই আলো নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং এই অনিষ্টগুলো দূর হয়ে গিয়েছিল। এখানকার রাজন্যবর্গ জিহাদের মাধ্যমে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন এবং তাঁরা এর দূরদূরান্তের এলাকাগুলোর জন্য বাহিনী প্রস্তুত করেছিলেন ও সেখানে অগ্রসর হয়েছিলেন, এমনকি তাঁরা যুদ্ধে সততার মাধ্যমে এর বিশাল অঞ্চলগুলো জয় করেছিলেন এবং বল্লম ও আঘাতের শক্তির মাধ্যমে শত্রুদের পরাস্ত করেছিলেন।

--------------------------------------------

১ ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌الجبرتي

قال هذا المؤرخ في أول حوادث 1277هـ نقلاً عن بعض كبار رجال جيش محمد علي الذين قاتلوا "الوهابية" في الحجاز، ولقد قال لي بعضهم من الذين يدعون الصلاح والتورع:

أين لنا بالنصر وأكثر عساكرنا على غير الله، ومنهم لا يتدين بدين ولا ينتحل مذهباً، وصحبتنا صناديق المسكرات، ولا يسمع في عرصاتنا أذان ولا تقام فيه فريضة، ولا يخطر في بالهم ولا خاطرهم شعائر الدين.

والقوم –يعني الوهابية- إذا دخل الوقت أذن المؤذنون وينتظمون صفوفاً خلف إمام واحد بخشوع وخضوع … وعسكرنا يتعجبون من ذلك، لأنهم لم يسمعوا به فضلاً عن رؤيته.

وقال الجبرتي في "تاريخه" الشّهير في حوادث 22 شوال "8فبراير شباط 1809م":

شاع بين الناس أن الشيخ محمد بن عبد الوهاب بمعاونة أنصاره من السعوديين منع الناس في الشام ومصر عن الحج.

والحال ليس كذلك، فإنه لم يمنع أحداً يأتي إلى الحج على الطريقة المشروعة وإنما يمنع من يأتي بخلاف ذلك من البدع التي لا يجيزها الشرع: مثل المحمل والطبل والزمر وحمل الأسلحة. وقد وصل طائفة من الحجاج المغاربة، وحجوا ورجعوا في هذا العام وما قبله، ولم يتعرض لهم أحد بشيء.

ولما امتنعت قوافل الحج المصري والشامي وانقطع عن أهل المدينة ومكة ما كان يصل إليهم من الصدقات والعلائف والصّرر التي كانوا يتعيشون منها.. خرجوا من أوطانهم بأولادهم ونسائهم. ولم يمكث إلاّ الذي ليس له إيرادٌ من ذلك. وأتوا
‌‌আল-জাবারতি

এই ঐতিহাসিক ১২৭৭ হিজরীর ঘটনাবলীর শুরুতে মুহাম্মদ আলীর বাহিনীর কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যারা হিজাজে "ওয়াহাবীদের" বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। তাদের মধ্যে যারা নিজেদের নেককার ও পরহেজগার বলে দাবি করেন, তাদের একজন আমাকে বলেছেন:

আমাদের বিজয় কীভাবে আসবে, যখন আমাদের অধিকাংশ সৈন্য আল্লাহর পথে নেই? তাদের মধ্যে কেউ কোনো ধর্ম পালন করে না এবং কোনো মাযহাবের অনুসরণ করে না। আমাদের সাথে থাকে মদের বাক্স। আমাদের প্রাঙ্গণগুলোতে আযান শোনা যায় না এবং সেখানে কোনো ফরজ ইবাদতও কায়েম করা হয় না। দ্বীনের নিদর্শনসমূহ পালনের কথা তাদের মনে বা চিন্তায়ও আসে না।

আর সেই কওম—অর্থাৎ ওয়াহাবীরা—যখন নামাজের সময় হয়, তখন মুয়াজ্জিনরা আযান দেয় এবং তারা বিনয় ও নম্রতার সাথে এক ইমামের পেছনে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় … আমাদের সৈন্যরা তা দেখে বিস্মিত হয়, কারণ তারা দেখার কথা তো দূরে থাক, এমন কথা কখনো শুনেনি।

জাবারতি তার বিখ্যাত "তারিখ" গ্রন্থে ২২ শাওয়াল (৮ ফেব্রুয়ারি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দ)-এর ঘটনাবলীতে বলেছেন:

মানুষের মাঝে এটি রটে গিয়েছিল যে, শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব তার সৌদি সমর্থকদের সহায়তায় শাম ও মিশরের মানুষদের হজ করতে বাধা দিচ্ছেন।

অথচ বিষয়টি তেমন নয়। প্রকৃতপক্ষে তিনি শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে হজ করতে আসা কাউকে বাধা দেননি; বরং তিনি শরীয়ত পরিপন্থী সেই সব বিদআত নিয়ে আসা ব্যক্তিদের বাধা দিতেন যা শরীয়ত অনুমোদন করে না। যেমন: মাহমাল (হজের বিশেষ পালকি), ঢোল-তবলা, বাদ্যযন্ত্র এবং অস্ত্র বহন করা। মরক্কোর একদল হাজি এসেছিলেন, তারা এই বছর এবং এর আগের বছর হজ সম্পাদন করে ফিরে গেছেন, কেউ তাদের বিন্দুমাত্র হয়রানি করেনি।

যখন মিশরীয় ও শামি হজের কাফেলা আসা বন্ধ হয়ে গেল এবং মদিনা ও মক্কার অধিবাসীদের কাছে পৌঁছানো সদকা, পশুখাদ্য এবং ভাতার থলে যা দিয়ে তারা জীবিকা নির্বাহ করত, তা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল—তখন তারা তাদের সন্তানসন্ততি ও স্ত্রীদের নিয়ে নিজেদের জন্মভূমি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ল। শুধু তারাই রয়ে গেল যাদের এই সব উৎস থেকে কোনো আয় ছিল না। এবং তারা আসল...
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ৭)
إلى مصر والشام ومنهم من ذهب إلى اسلامبول يشتكون من الوهابي، ويستغيثون بالدولة في خلاص الحرمين لتعود لهم الحالة التي كانوا عليها من إجراء الأرزاق واتصال الصلات، والنيابات والخدم في الوظائف التي بأسماء الدولة كالفراشة والكناسة ونحو ذلك، ويذكرون أن الوهابي استولى على ما كان بالحجرة الشريفة من الذخائر والجواهر. نقلها وأخذها فيرون أنّ أخذه لذلك من الكبائر العظام.

وهذه الأشياء أرسلها ووضعها سخفاء العقول من الأغنياء والملوك والسلاطين والأعاجم وغيرهم. إما حرصاً على الدنيا وكراهة أن يأخذها من يأتي بعدهم. أو لنوائب الزمان. فتكون مدخرة ومحفوظة لوقت الاحتياج إليها. فيستعان بها على الجهاد. ودفع الأعداء. فلما تقادمت عليها الأزمنة، وتوالت عليها السنون والأعوام الكثيرة –وهي في الزيادة- رصدت معنى لا حقيقة، وارتسم في الأذهان حرمة تناولها، وأنّها صارت مالاً للنبي صلى الله عليه وسلم فلا يجوز لأحدٍ أخذها ولا إنفاقها والنبي عليه الصلاة والسلام منزه عن ذلك ولم يدخر شيئاً من عرض الدنيا في حياته وقد أعطاه الله الشرف الأعلى. وهو الدعوة إلى الله تعالى والنبوة والكتاب. واختار أن يكون نبياً عبداً، ولم يختر أن يكون نبياً ملكاً وثبت في الصحيحين وغيرهما أنّه قال: "اللهم اجعل رزق آل محمد قوتاً".

وروى الترمذي بسنده عن أبي أمامة رضي الله تعالى عنه. عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "عرض عليّ ربي ليجعل لي بطحاء مكّة ذهباً. قلت لا يارب. ولكن أشبع يوماً وأجوع يوماً – أو قال: ثلاثاً. أو نحو ذلك فإذا جعت تضرعت إليك وذكرتك وإذا شبعت شكرتك وحمدتك".

ثم إن كانوا وضعوا هذه الذّخائر والجواهر صدقة على الرسول. ومحبّة فيه. فهو فاسد لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "إنّ الصدقة لا تنبغي لآل محمد.. إنما هي أوساخ الناس" ومنع بني هاشم من تناول الصدقة وحرمها عليهم..
মিসর ও সিরিয়ায়, এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইস্তাম্বুলে গিয়ে ওয়াহাবিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এবং হারামাইন (দুই পবিত্র শহর) উদ্ধারের জন্য রাষ্ট্রের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। যাতে তাদের পূর্বাবস্থা পুনরায় ফিরে আসে; যেমন জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা, উপঢৌকন প্রাপ্তি এবং রাষ্ট্রের নামে বরাদ্দকৃত পদসমূহে প্রতিনিধি ও খাদেম হিসেবে নিয়োগ—যেমন ঝাড়ুদার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং এই জাতীয় কাজগুলো। তারা উল্লেখ করেন যে, ওয়াহাবিরা হুজরা শরীফে থাকা সম্পদ ও রত্নভাণ্ডার দখল করে নিয়েছে। তারা সেগুলো সরিয়ে নিয়েছে ও গ্রহণ করেছে। তারা মনে করেন যে, এটি গ্রহণ করা একটি কবীরা গুনাহ।

আর এই বস্তুগুলো ধনী ব্যক্তি, রাজা-বাদশাহ, অনারব এবং অন্যরা পাঠিয়েছে ও গচ্ছিত রেখেছে, যারা ছিল অল্পবুদ্ধি সম্পন্ন। হয় দুনিয়ার প্রতি আসক্তির কারণে এবং তাদের পরবর্তী বংশধররা যেন তা গ্রহণ করতে না পারে সেই অনীহা থেকে, অথবা কালের বিপদের কথা চিন্তা করে; যাতে প্রয়োজনের সময় ব্যবহারের জন্য তা সঞ্চিত ও সংরক্ষিত থাকে। ফলে তা জিহাদে এবং শত্রু দমনে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু যখন দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো এবং অনেক বছর ও কাল পার হয়ে গেল—আর সেই সম্পদ কেবল বৃদ্ধিই পাচ্ছিল—তখন একটি কাল্পনিক ধারণা বদ্ধমূল হলো, যার কোনো বাস্তবতা নেই। মানুষের মনে এই ধারণা অঙ্কিত হলো যে, এগুলো স্পর্শ করা হারাম এবং এগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্পদ হয়ে গেছে; ফলে কারো জন্য তা গ্রহণ করা বা ব্যয় করা জায়েজ নেই। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সমস্ত কিছু থেকে পবিত্র। তিনি তাঁর জীবনে পার্থিব কোনো সম্পদ সঞ্চয় করেননি। আল্লাহ তাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেছেন—আর তা হলো মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত, নবুওয়াত এবং কিতাব। তিনি একজন বান্দা-নবী হওয়া পছন্দ করেছেন এবং বাদশাহ-নবী হওয়া পছন্দ করেননি। সহীহাইন ও অন্যান্য কিতাবে প্রমাণিত আছে যে তিনি বলেছেন: "হে আল্লাহ! মুহাম্মাদের পরিবারের রিযিক কেবল জীবন ধারণের সমপরিমাণ করে দাও।"

তিরমিযী তাঁর সনদসহ আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমার প্রতিপালক আমার সামনে এই প্রস্তাব পেশ করলেন যে, তিনি আমার জন্য মক্কার কঙ্করময় ভূমিকে স্বর্ণে পরিণত করে দেবেন। আমি বললাম, না হে আমার প্রতিপালক! বরং আমি একদিন পেট ভরে খাব এবং একদিন ক্ষুধার্ত থাকব—অথবা বললেন: তিন দিন, বা এই জাতীয় কিছু—যাতে যখন আমি ক্ষুধার্ত থাকব তখন আপনার কাছে বিনয়াবনত হব এবং আপনাকে স্মরণ করব, আর যখন তৃপ্ত হব তখন আপনার শোকর আদায় করব এবং আপনার প্রশংসা করব।"

অতঃপর, তারা যদি এই সম্পদ ও রত্নভাণ্ডারগুলো রাসূলের প্রতি সদকা এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ রেখে থাকে, তবে তাও বাতিল। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই সদকা মুহাম্মাদের পরিবারের জন্য শোভনীয় নয়... এটি কেবল মানুষের মালের ময়লা মাত্র।" তিনি বনী হাশেমের জন্য সদকা গ্রহণ করা নিষিদ্ধ করেছেন এবং তাদের জন্য তা হারাম করেছেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ৮)
والمراد الانتفاع في حال الحياة لا بعدها فإن المال أوجده المولى سبحانه وتعالى من أمور الدنيا لا من أمور الآخرة قال تعالى: {أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلادِ} وهو من جملة السبعة التي ذكرها الله سبحانه وتعالى في كتابه العزيز في قوله تعالى: {زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنْطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ذَلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَاللَّهُ عِنْدَهُ حُسْنُ الْمَآبِ} . فهذه السبعة بها تكون الخبائث والقبائح وليست هي في نفسها أموراً مذمومة – بل قد تكون معينة على الآخرة إذا صرفت في محلها.

وعن مطرف عن أبيه قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم وهو يقرأ {أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ} ، قال: "يقول ابن آدم مالي مالي. فهل لك يا بن آدم من مالك إلاّ ما أملكت فأفنيت، أو لبست فأبليت أو تصدقت فأمضيت" إلى غير ذلك.

ومحبة الرسول بتصديقه واتباع شريعته وسنّته لا بمخالفة أوامره، وكنز المال بحجرته وحرمان مستحقيه من الفقراء والمساكين، وباقي الأصناف الثمانية.

وإن قال المدّخر: اكنزها لنوائب الزمان ليستعان بها على مجاهدة الكفار والمشركين عند الحاجة إليها قلنا: قد رأينا شدة احتياج ملوك زماننا، واضطرارهم في مصالحات المتغلبين عليهم من قادة الإفرنج وخلو خزائنهم من الأموال التي أفنوها بسوء تدبيرهم وتفاخرهم ورفاهيتهم.

فيصالحون المتغلبين بالمقادير العظيمة بكفالة أحد الفرق من الإفرنج المسالمين لهم واحتالوا على تحصيل المال من رعاياهم بزيادة المكوس والمصادرات والطلبات. والاستيلاء على الأموال بغير الحقّ. حتى أفقروا تجارتهم ورعاياهم. ولم يأخذوا من هذه المدّخرات شيئاً.. بل ربما كان عندهم أو عند خونداتهم جوهر نفيس من بقايا المدخرات فيرسلونه هدية إلى الحجرة، ولا ينتفعون به في مهماتهم، فضلاً عن إعطائه لمستحقّه من المحتاجين، وإذا صار في ذلك المكان لا ينتفع به أحد.. إلاّ ما يختلسه العبيد المخصيون الذين يقال لهم أغوات الحرم.
এর উদ্দেশ্য হলো পার্থিব জীবনে উপকৃত হওয়া, এর পরে নয়। কেননা মহান রব সুবহানাহু ওয়া তাআলা সম্পদকে দুনিয়াবী বিষয়াদির অন্তর্ভুক্ত করেছেন, পরকালের বিষয়াদির অন্তর্ভুক্ত করেননি। মহান আল্লাহ বলেন: "জেনে রেখো, পার্থিব জীবন কেবল খেলাধুলা, আমোদ-প্রমোদ, জাঁকজমক, তোমাদের পারস্পরিক গর্ব-অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্য লাভের প্রতিযোগিতা মাত্র।" এটি সেই সাতটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর মহিমান্বিত কিতাবে উল্লেখ করেছেন তাঁর এই বাণীতে: "মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে প্রবৃত্তির প্রতি আসক্তি—নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশি রাশি সোনা-রূপা, চিহ্নিত ঘোড়া, গবাদি পশু এবং খেতখামার। এসব হলো পার্থিব জীবনের ভোগ্যসামগ্রী। আর আল্লাহর নিকটই রয়েছে উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।" এই সাতটি বিষয়ের মাধ্যমেই মন্দ ও কুৎসিত কাজগুলো সংঘটিত হয়, তবে এগুলো সয়ং নিন্দনীয় বিষয় নয়—বরং এগুলো যদি সঠিক স্থানে ব্যয় করা হয় তবে তা পরকালের জন্য সহায়িকা হতে পারে।

মুতাররিফ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম যখন তিনি তিলাওয়াত করছিলেন: "প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে।" তিনি বললেন: "আদম সন্তান বলে, আমার সম্পদ! আমার সম্পদ! অথচ হে আদম সন্তান, তোমার সম্পদ কি তা ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে যা তুমি খেয়ে শেষ করেছ, অথবা যা পরিধান করে জীর্ণ করেছ, অথবা যা দান করে কার্যকর করেছ?" এবং আরও যা বর্ণিত হয়েছে।

রাসূলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পায় তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করার এবং তাঁর শরীয়ত ও সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে; তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাঁর প্রকোষ্ঠে সম্পদ পুঞ্জীভূত করে এবং এর হকদার দরিদ্র, মিসকিন ও বাকি আট প্রকারের হকদারদের বঞ্চিত করার মাধ্যমে নয়।

যদি সম্পদ সঞ্চয়কারী ব্যক্তি বলে: "আমি এগুলো বিপদকালের জন্য সঞ্চয় করে রাখছি যাতে প্রয়োজনে কাফির ও মুশরিকদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য নেওয়া যায়," তবে আমরা বলব: আমরা আমাদের জামানার রাজাদের চরম অভাবগ্রস্ততা দেখেছি। তারা তাদের ওপর বিজয়ী ফিরিঙ্গি নেতাদের সাথে সন্ধি করতে বাধ্য হচ্ছে, অথচ তাদের কোষাগার সেই ধন-সম্পদ থেকে শূন্য হয়ে গেছে যা তারা তাদের কু-ব্যবস্থাপনা, অহংকার ও বিলাসিতার মাধ্যমে অপচয় করেছে।

তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে বিজয়ীদের সাথে সন্ধি করে, যা তাদের সাথে শান্তিতে বসবাসকারী কোনো এক ফিরিঙ্গি দলের জিম্মাদারিতে সম্পন্ন হয়। তারা তাদের প্রজাদের নিকট থেকে অতিরিক্ত শুল্ক, জবরদখল ও বিভিন্ন চাহিদার অজুহাতে অর্থ সংগ্রহের অপকৌশল অবলম্বন করে এবং অন্যায়ভাবে সম্পদ ছিনিয়ে নেয়। এভাবে তারা তাদের ব্যবসায়ী ও প্রজাদের নিঃস্ব করে ফেলেছে। অথচ তারা এই সঞ্চিত সম্পদ থেকে কিছুই গ্রহণ করেনি... বরং সম্ভবত তাদের কাছে বা তাদের বেগমদের কাছে কোনো মূল্যবান রত্ন সঞ্চিত সম্পদের অবশিষ্টাংশ হিসেবে ছিল, যা তারা হুজরায় উপহার হিসেবে পাঠিয়ে দেয়, অথচ তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজে তা থেকে উপকৃত হতে পারে না; অভাবীদের হক দান করা তো দূরের কথা। আর যখন তা সেই স্থানে পৌঁছে যায়, তখন তা দ্বারা কেউ উপকৃত হতে পারে না... কেবল সেই খাসিকৃত দাসেরা ছাড়া যাদেরকে হারামের আগওয়াত বলা হয় এবং তারা তা থেকে চুরি করে।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ৯)
والفقراء من أولاد الرسول، وأهل العلم والمحتاجون وأبناء السبيل يموتون جوعاً وهذه الذّخائر محجورٌ عليها وممنوعون عنها إلى أن حضر الوهابي واستولى على المدينة وأخذ تلك الذخائر. فيقال إنه عبّأ أربعة شمعدانات من الزمرد، وبدل الشمعة قطعة الماس مستطيلة يضيء نورها في الظلام، ونحو مائة سيف: قراباتها بالماس والياقوت، العظيمة القدر، ومن ذلك أربع شمعدانات من الزمرد، وبدل ملبسة بالذهب الخالص، ومنزل عليها الماس وياقوت، ونصابها من الزمرد واليشم ونحو ذلك، وسلاحها من الحديد الموصوف. كل سيفٍ منها لا قيمة له، وعليها دمغات باسم الملوك والخلفاء السالفين وغير ذلك.

রাসুলের বংশধরদের মধ্যে দরিদ্রগণ, ইলমের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ, অভাবী এবং মুসাফিরগণ ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করছিলেন; অথচ এই ধনভাণ্ডারগুলো অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল এবং তাদের এগুলো থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল, যতক্ষণ না ওয়াহাবিরা উপস্থিত হলো এবং মদিনা দখল করে এই ধনভাণ্ডারগুলো নিয়ে নিল। বলা হয় যে, তারা পান্নার তৈরি চারটি শামাদান পূর্ণ করেছিল, যেখানে মোমবাতির পরিবর্তে ছিল আয়তাকার হীরার টুকরো যা অন্ধকারে আলো বিকিরণ করত। এছাড়া প্রায় একশটি অত্যন্ত মূল্যবান তলোয়ার ছিল, যেগুলোর খাপ হীরা ও ইয়াকুত খচিত ছিল। এর মধ্যে বিশুদ্ধ স্বর্ণমণ্ডিত এবং হীরা ও ইয়াকুত বসানো চারটি পান্নার শামাদানও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এগুলোর হাতল ছিল পান্না, ইয়াসব এবং অনুরূপ রত্নপাথরের তৈরি, আর অস্ত্রগুলো ছিল উন্নতমানের লৌহ নির্মিত। এগুলোর প্রতিটি তলোয়ারই ছিল অমূল্য এবং সেগুলোতে পূর্ববর্তী রাজা ও খলিফাদের নামসহ বিভিন্ন সিলমোহর অঙ্কিত ছিল।

(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌محمد رشيد رضا

قال في التعريف بكتاب "صيانة الإنسان" بعد أن ذكر فشو البدع بسبب ضعف العلم والعمل بالكتاب والسنّة، ونصر الملوك والحكام لأهلها. وتأييد المعممين لها. قال رمه الله ما نصّه:

لم يخل قرن من القرون التي فيها البدع من علماء ربانيين، يجددون لهذه الأمة أمر دينها بالدعوة والتعليم وحسن القدوة، وعدول ينفون عنه تحريف الغالين وانتحال المبطلين وتأويل الجاهلين. كما ورد في الأحاديث. ولقد كان الشيخ محمد بن عبد الوهاب النجدي من هؤلاء العدول المجددين، قام يدعوا إلى تجريد التوحيد وإخلاص العبادة لله وحده، بما شرعه في كتابه وعلى لسان رسوله خاتم النبيين صلى الله عليه وسلم وترك البدع والمعاصي وإقامة شعائر الإسلام المتروكة وتعظيم حرماته المنتهكة المنهوكة فهبت لمناهضته واضطهاده، القوى الثلاث قوة الدولة والحكام، وقوة أنصارها من علماء النفاق، وقوة العوام الطغام.

وكان أقوى سلاحهم في الرد عليه، أنه خالف جمهور المسلمين.
মুহাম্মদ রশীদ রিদা

তিনি "সিয়ানাতুল ইনসান" গ্রন্থের পরিচিতি প্রদানকালে ইলম ও কিতাব-সুন্নাহ অনুযায়ী আমলের দুর্বলতা এবং বিদআতপন্থীদের প্রতি বাদশাহ ও শাসকদের সাহায্য ও পাগড়িধারী আলেমদের সমর্থনের কারণে বিদআত ছড়িয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করার পর বলেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—তাঁর বক্তব্যের পাঠ নিম্নরূপ:

বিদআত বিদ্যমান ছিল এমন শতাব্দীগুলোর কোনোটিই এমন রব্বানী আলেমদের থেকে শূন্য ছিল না, যারা দাওয়াত, শিক্ষা ও উত্তম আদর্শের মাধ্যমে এই উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনের বিষয়াদি সংস্কার করেন; এবং এমন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিগণ যারা দ্বীন থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করেন, যেমনটি হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে। আর নিশ্চয়ই শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব আন-নাজদী ছিলেন এই ন্যায়নিষ্ঠ সংস্কারকদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাওহীদকে বিশুদ্ধ করার এবং একমাত্র আল্লাহর ইবাদতকে একনিষ্ঠ করার দিকে আহ্বান জানাতে দাঁড়িয়েছিলেন—যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূল, সর্বশেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জবানীতে বিধিবদ্ধ করেছেন। তিনি বিদআত ও পাপাচার বর্জন, ইসলামের পরিত্যক্ত নিদর্শনসমূহ প্রতিষ্ঠা এবং এর পদদলিত ও লাঞ্ছিত পবিত্র বিষয়গুলোর মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ফলে তাঁর বিরোধিতা ও নিপীড়নের জন্য তিনটি শক্তি সোচ্চার হয়েছিল: রাষ্ট্র ও শাসকদের শক্তি, মুনাফিক আলেমদের মধ্য থেকে তাদের সমর্থকদের শক্তি এবং মূর্খ সাধারণ মানুষের শক্তি।

তাঁর প্রতিবাদে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র ছিল এই যে, তিনি মুসলমানদের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর বিরোধিতা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১০)
من هؤلاء المسلمون الذين خالفهم الشيخ محمد بن عبد الوهاب في دعوته؟

هم أعراب في البوادي شرٌّ من أهل الجاهليّة، يعيشون بالسلب والنهب ويستحلون قتل المسلم وغيره لأجل الكسب ويتحاكمون إلى طواغيتهم في كلّ أمر، ويجحدون كثيراً من أمور الإسلام المجمع عليها، التي لا يسع مسلماً جهلها.
সেই সকল মুসলিম কারা, যাদের শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব তাঁর দাওয়াতের ক্ষেত্রে বিরোধিতা করেছেন?

তারা হলো মরুচারী এমন বেদুঈন যারা জাহেলিয়াত আমলের লোকদের চেয়েও জঘন্য; তারা লুণ্ঠন ও দস্যুবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে এবং অর্থ উপার্জনের স্বার্থে মুসলিম ও অন্যদের হত্যা করাকে বৈধ মনে করে। তারা সকল বিষয়ে তাদের তাগুতদের নিকট বিচারপ্রার্থী হয় এবং ইসলামের এমন অনেক সর্বসম্মত বিষয়কে অস্বীকার করে, যা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা কোনো মুসলিমের পক্ষে সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌عبد المتعال الصعيدي

قال في كتابه "المجددون في الإسلام": هو الشيخ محمد بن عبد والوهاب، ثم ذكر ولادته ونشأته ورحلاته لتحصيل العلوم ثمّ قال:

وقد رجع إلى بلده بعد هذه الرحلة العلمية الطويلة، وقد تهيّأ له مالم يتهيّأ لغيره من علماء نجد، فكان أوسع منهم علماً، وأعرف العلماء السابقين الذين كانت لهم جولة في الإصلاح، ولم يقع في ذلك الجمود والركود الذي وقع فيه علماء عصره حتى ألفوا فيه من البدع وأخذوها على أنّها أصول الدين وأركانه. فلما عاد الشيخ إلى بلده، ولم يرض بما رضي به علماء نجد، من السكوت على تلك البدع، وأراد أن يعيد محاربتها عهد أسلافه من العلماء، ولا سيما الشيخ الإمام ابن تيمية رحمه الله.

وكان قد درس كتبه ورسائله الإصلاحية فيما درسه في نشأته. وأخذ يدعو إلى مثل ما دعا إليه ابن تيمية قبله، من التوحيد بالعبادة لله وحد، وإنكار التوجه إلى أصحاب القباب والقبور، وإنكار الاستغاثة والتوسل بالأولياء والأنبياء إلى الله تعالى في قضاء الحاجات.

وقد بدأ الشيخ محمد بن عبد الوهاب دعوته في بلده بلين ورفق ثم أخذ يرسل بها إلى أمراء الحجاز وغيره من الأقطار.

ولما رأى أهل بلده مثابرته على دعوته قاموا باضطهاده، فتركهم إلى بلدة
আব্দুল মুতাআল আস-সাঈদী

তিনি তার "আল-মুজাদ্দিদুনা ফিল ইসলাম" গ্রন্থে বলেছেন: তিনি হলেন শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব। অতঃপর তিনি তার জন্ম, শৈশব এবং জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে দেশভ্রমণের কথা উল্লেখ করে বলেন:

এই দীর্ঘ ইলমি সফর শেষে তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তার জন্য এমন কিছু সুযোগ ও উপকরণ সহজলভ্য হয়েছিল যা নজদ অঞ্চলের অন্য আলেমদের জন্য হয়নি। ফলে তিনি ইলমের দিক থেকে তাদের চেয়ে অধিক প্রশস্ত ছিলেন এবং সেই পূর্বসূরি আলেমদের সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ ছিলেন যাদের সংস্কার আন্দোলনে পদচারণা ছিল। তিনি সেই স্থবিরতা ও জড়তার মধ্যে নিপতিত হননি যার মধ্যে তার সমসাময়িক আলেমরা নিমজ্জিত ছিলেন; এমনকি তারা বিদআতসমূহ রচনা করেছিল এবং সেগুলোকে দ্বীনের মূলনীতি ও রুকন হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছিল। অতঃপর শায়খ যখন স্বদেশে ফিরলেন, তখন তিনি নজদের আলেমদের মতো সেই বিদআতগুলোর ব্যাপারে নীরব থাকাকে মেনে নেননি। বরং তিনি তার পূর্বসূরি আলেমদের যুগের ন্যায় সেই বিদআতগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ধারা পুনর্জীবিত করতে চাইলেন, বিশেষ করে শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর আদর্শ অনুযায়ী।

তিনি তার শৈশবের পড়াশোনার সময়ই ইবনে তাইমিয়্যাহর কিতাবসমূহ এবং সংস্কারমূলক রিসালাসমূহ অধ্যয়ন করেছিলেন। তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহর ন্যায় এককভাবে আল্লাহর ইবাদতের তাওহীদের দিকে দাওয়াত দিতে শুরু করলেন। সেই সাথে গম্বুজ ও কবরের অধিবাসীদের অভিমুখী হওয়া এবং প্রয়োজন পূরণের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ওলী ও নবীদের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা) ও উসিলা তালাশ (তাওয়াসসুল) করার বিষয়টিকে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করলেন।

শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব তার দাওয়াত নিজ এলাকায় অত্যন্ত নম্রতা ও কোমলতার সাথে শুরু করেছিলেন। অতঃপর তিনি হিজাজের আমির ও অন্যান্য অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের কাছেও দাওয়াতনামা পাঠাতে শুরু করেন।

যখন তার এলাকার লোকেরা তার দাওয়াতের ওপর এই অবিচলতা দেখল, তখন তারা তার ওপর নির্যাতন শুরু করল। ফলে তিনি তাদের ছেড়ে অন্য একটি জনপদে চলে গেলেন...
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১১)
"الدرعية" بنجد، وكان أميرها محمد بن سعود، فعرض عليه دعوته فقبلها وقام بحمايتها ونشرها في بلاد العرب ولم يزل الشيخ يقوم بدعوته في حماية هذه الإمارة إلى أن مات رحمه الله سنة 1206 هـ.

নজদ অঞ্চলের "দিরইয়াহ", যার আমির ছিলেন মুহাম্মদ বিন সাউদ। অতঃপর তিনি (শেখ) তাঁর নিকট নিজের দাওয়াত পেশ করেন, যা তিনি গ্রহণ করেন এবং আরব ভূখণ্ডে তা রক্ষা ও প্রচারের দায়িত্ব পালন করেন। এই আমিরাতের ছত্রছায়ায় শেখ তাঁর দাওয়াতি কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন, যতক্ষণ না তিনি ১২০৬ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)।

(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أحمد بن عبد الغفور

قال في كتابه " محمد بن عبد الوهاب":

كان محمد بن عبد الوهاب الشاب الناهض من أكبر أنصار الحرية الفكرية، المتمشي على نهج الإسلام، يدعوا إليها في إخلاصٍ وحماسةٍ واستطاع أن يتحرر من قيود البيئة، ويخرج على تقاليد قومه البالية.

فثار ثورته المشهورة على الجمود والتأخر وحاربهما حرباً ضروساً قاسيةً سائراً في كلّ شؤونه على الطريقة العلميّة والنّقد العلميّ النزيه.
আহমদ ইবনে আব্দুল গফুর

তিনি তাঁর ‘মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব’ গ্রন্থে বলেছেন:

উদীয়মান যুবক মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব ছিলেন চিন্তার স্বাধীনতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমর্থক এবং ইসলামের পন্থার অনুসারী; তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও উদ্দীপনার সাথে এর দিকে আহ্বান জানাতেন। তিনি পরিবেশের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে এবং তাঁর কওমের জীর্ণ প্রথাগুলো ভেঙে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন।

ফলে তিনি স্থবিরতা ও পশ্চাৎপদতার বিরুদ্ধে তাঁর সেই বিখ্যাত বিপ্লব শুরু করেন এবং এ দুটোর বিরুদ্ধে এক তীব্র ও কঠোর যুদ্ধ পরিচালনা করেন, যেখানে তিনি তাঁর যাবতীয় বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক সমালোচনার পথ অবলম্বন করেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌طه حسين

قال الدكتور طه حسين في محاضراته الأدبية في جزيرة العرب:

إن الباحث عن الحياة العقلية والأدبية في جزيرة العرب، لا يستطيع أن يهمل حركة عنيفةً نشأت فيها أثناء القرن الثامن عشر، فلفتت إليها العالم الحديث في الشرق والغرب، واضطرته أن يهتم بأمرها، وأحدثت فيها آثاراً خطيرةً هان شأنها بعض الشيء، ولكنها عادت فاشتدّت في هذه الأيام وأخذت تؤثّر لا في الجزيرة وحدها، بل في علاقاتها بالأمم الأوربيّة، هذه الحركة الإصلاحيّة التي أحدثها محمد بن عبد الوهاب، شيخ من شيوخ نجد، ثمّ ذكر نزراً يسيراً عن نشأة الشيخ ورحلاته العلمية ودعوته إلى أن قال:
ত্বহা হুসাইন

ডক্টর ত্বহা হুসাইন আরব উপদ্বীপে প্রদত্ত তাঁর সাহিত্যিক বক্তৃতামালায় বলেছেন:

নিশ্চয়ই আরব উপদ্বীপের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাহিত্যিক জীবন সম্পর্কে অনুসন্ধানকারী কোনো ব্যক্তি সেখানে আঠারো শতকে উদ্ভূত এক শক্তিশালী আন্দোলনকে উপেক্ষা করতে পারেন না। এটি পূর্ব ও পশ্চিমের আধুনিক বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং তাদেরকে এর বিষয়াবলীতে গুরুত্ব দিতে বাধ্য করেছে। এটি সেখানে সুদূরপ্রসারী প্রভাব সৃষ্টি করেছে, যার গুরুত্ব একসময় কিছুটা হ্রাস পেলেও বর্তমানে তা পুনরায় তীব্রতর হয়েছে এবং কেবল উপদ্বীপেই নয়, বরং ইউরোপীয় জাতিগুলোর সাথে এর সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এই সংস্কারবাদী আন্দোলনটি নজদের জনৈক শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব প্রবর্তন করেছিলেন। অতঃপর তিনি শায়খের বেড়ে ওঠা, তাঁর জ্ঞানার্জনের সফরসমূহ এবং তাঁর দাওয়াত সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করার পর বলেন:
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১২)
قلت إنّ هذا المذهب الجديد قديم المعنى، والواقع أنّه جديد بالنسبة إلى المعاصرين، ولكنه قديمٌ في حقيقة الأمر لأنّه ليس إلاّ الدّعوة القويّة إلى الإسلام الخالص النّقيّ المطهّر من شوائب الشرك والوثنيّة، هو الدّعوة إلى الإسلام، كما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم خالصاً لله، ملغياً كلّ واسطة بين الله وبين الناس. هو إحياء للإسلام وتطهيره، مما أصابه من نتائج الجهل ومن نتائج الاختلاط بغير العرب، فقد أنكر محمد بن عبد الوهاب على أهل نجد ما كانوا قد عادوا إليه من جاهلية في العقيدة والسيرة، إلى أن قال:

ولولا أن الترك والمصريين اجتمعوا على حرب هذا المذهب وحاربوه في داره بقوىً وأسلحةٍ لا عهد لأهل البادية بها –لكان من المرجو جداً أن يوحد هذا المذهب كلمة العرب في القرن الثاني عشر، ولثالث عشر الهجري. كما وحد ظهور الإسلام كلمتهم في القرن الأول. ولكن الذي يعنينا من هذا المذهب أثره في الحياة العقلية والأدبية عند العرب فقد كان هذا الأثر عظيماً خطيراً من نواحٍ مختلفة. فهو قد أيقظ النّفس العربيّة فوضع أمامها مثلاً أعلى أحبته وجاهدت في سبيله، بالسيف والقلم والسنان، وهو لفت المسلمين جميعاً وأهل العراق والشام ومصر بنوعٍ خاصٍّ إلى جزيرة العرب.
আমি বলেছি যে, এই নতুন মতাদর্শটি অর্থের দিক থেকে প্রাচীন। প্রকৃতপক্ষে এটি সমসাময়িকদের কাছে নতুন মনে হলেও বস্তুত এটি প্রাচীন; কারণ এটি শিরক ও পৌত্তলিকতার কলুষতা থেকে মুক্ত একনিষ্ঠ, বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন ইসলামের দিকে একটি শক্তিশালী আহ্বান মাত্র। এটি ইসলামের দিকেই সেই আহ্বান, যা নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে নিয়ে এসেছিলেন এবং যা আল্লাহ ও মানুষের মধ্যবর্তী সকল মাধ্যমকে বিলুপ্ত করে দেয়। এটি ইসলামের পুনর্জাগরণ এবং তাকে অজ্ঞতার কুফল ও অনারবদের সাথে সংমিশ্রণের ফলে সৃষ্ট কলুষতা থেকে পবিত্রকরণ। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব নজদবাসীদের আকিদা ও জীবনধারার মধ্যে পুনরায় জেঁকে বসা জাহেলিয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি বলেন:

তুর্কি ও মিশরীয়রা যদি এই মতাদর্শের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হতে একতাবদ্ধ না হতো এবং এর নিজ ভূখণ্ডে এমন শক্তি ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ না করত যার সাথে মরুচারী বেদুইনদের কোনো পরিচয় ছিল না—তবে অত্যন্ত জোরালো সম্ভাবনা ছিল যে, এই মতাদর্শ দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ হিজরি শতাব্দীতে আরবদের ঐক্যবদ্ধ করত; যেভাবে ইসলামের আবির্ভাব প্রথম শতাব্দীতে তাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল। তবে আমাদের কাছে এই মতাদর্শের যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো আরবদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাহিত্যিক জীবনে এর প্রভাব। বিভিন্ন দিক থেকে এই প্রভাব ছিল সুমহান ও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি আরবীয় সত্তাকে জাগ্রত করেছিল এবং তাদের সামনে এক উচ্চতর আদর্শ স্থাপন করেছিল যা তারা ভালোবেসেছিল এবং যার তরে তারা তলোয়ার, কলম ও বর্শা হাতে সংগ্রাম করেছিল। এটি সকল মুসলিমকে এবং বিশেষভাবে ইরাক, শাম ও মিশরের অধিবাসীদের আরব উপদ্বীপের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে বাধ্য করেছিল।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌حافظ وهبه.

قال حافظ وهبه، في كتابه جزيرة العرب:

بعد أن ذكر نبذةً يسيرة عن تاريخ الشيخ، قال: لم يكن الشيخ محمد بن عبد الوهاب نبياً، كما ادّعى نيبهر الدانمركي. ولكنه مصلحٌ مجدد، داع إلى الرجوع إلى الدين الحقّ، فليس للشيخ محمد، تعاليم خاصّة ولا آراء خاصّة وكل ما يطبق في نجد، هو طبق مذهب الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله. وأما في العقائد، فهم يتبعون السلف الصالح، ويخالفون من عاداهم، وتكاد تكون تعاليمهم مطابقة تمام المطابقة لما كتبه ابن تيمية وتلاميذه في كتبهم.
হাফিজ ওয়াহবা.

হাফিজ ওয়াহবা তার ‘জাজিরাতুল আরব’ গ্রন্থে বলেছেন:

শায়খের ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর তিনি বলেন: শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব কোনো নবী ছিলেন না, যেমনটি ডেনিশ নিবুর দাবি করেছেন। বরং তিনি ছিলেন একজন সংস্কারক ও পুনর্জাগরণকারী, যিনি সত্য দ্বীনের দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। শায়খ মুহাম্মদের নিজস্ব কোনো শিক্ষা বা বিশেষ কোনো মতবাদ নেই। নজদে যা কিছু প্রয়োগ করা হয়, তা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব অনুযায়ী। আকিদার ক্ষেত্রে তারা সালাফে সালেহীনদের অনুসরণ করেন এবং যারা তাদের বিরোধিতা করে তাদের বিরুদ্ধাচরণ করেন। তাদের শিক্ষাগুলো ইবনে তাইমিয়া ও তাঁর ছাত্রগণ তাঁদের কিতাবসমূহে যা লিখে গেছেন, তার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌محمد بهجة الأثري.

قال هذا الأديب الكبير في رسالته "الاتجاهات الحديثة في الإسلام":

إن الحركة الوهابية التي دعا إليها الشيخ محمد بن عبد الوهاب كانت خليقة أن تدعى: "حركة المحمديين" نسبة إلى باعثها، وطبيعة دعوته هي التوحيد الخالص الذي بعث به الرسول "صلى الله عليه وسلم" ولكنها نسبت إلى أبيه، وأبوه لا يد له فيها لأمر أرادته السياسة العثمانية وأتباعها حينما أشفقت من انتشار سلطانه أشدّ الإشفاق، فقاومتها ما وسعتها المقاومة، وبالغت في تشويه غايتها وعزتها إلى الابتداع والخروج على الدين وجعلت هذا عنواناً على ما تزعمه من ضلالها.

وندع التاريخ السياسي لهذه الحركة، لنفرغ لوجهتها في الإسلام كما تهدي إليها كتب زعيمها ودراسات الباحثين المحايدين من الشرقيين والغربيين.

والمجمع عليه أنّ هذه الحركة في الإسلام جديدة وقديمة معاً والواقع أنّها جديدة بالنسبة إلى المعاصرين، ولكنها قديمة في حقيقة الأمر.

والمتقصي لأطوار الإصلاح في العالم الإسلاميّ، وعلاقة بعضها ببعض، يرى في هذه الحركة امتداداً لانتفاضات قديمة عرفتها العصور الإسلاميّة في آثار "ابن حزم" الأندلسي، ثم في حركة الإمام أحمد بن حنبل وأتباعه ببغداد حين كانوا يرون ما يعرض له الإسلام من لوثات أهل البدع والأهواء ثم في انتفاضة شيخ الإسلام الإمام "تقي الدين أحمد بن تيمية" في بلاد الشام في القرن الثامن الهجري، وهي أروعها تجديداً وأبعدها أثراً في إصلاح الفكر الإسلاميّ، ومن كتب ابن تيمية وأتباعه كابن القيم وابن قدامة وابن كثير وغيرهم اقتبس "الشيخ محمد بن عبد الوهاب" جذوته الإصلاحيّة"، فدرس القرآن والسنة ومتجردة من أوهام المخرفين وأهل الأهواء، وبعثته إلى هذا التجديد الذي وفق فيه توفيقاً لم يكتب لأولئك،
মুহাম্মাদ বাহজাত আল-আসারি.

এই বিশিষ্ট সাহিত্যিক তাঁর "আল-ইত্তিজাহাত আল-হাদিসাহ ফিল ইসলাম" (ইসলামে আধুনিক ধারাসমূহ) নামক প্রবন্ধে বলেছেন:

শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব যে ওয়াহাবি আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তা তার প্রবর্তকের নামানুসারে "মুহাম্মাদি আন্দোলন" নামে অভিহিত হওয়ার যোগ্য ছিল। তাঁর দাওয়াতের প্রকৃতি ছিল সেই বিশুদ্ধ তাওহিদ, যা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরিত হয়েছিলেন। কিন্তু একে তাঁর পিতার সাথে সম্পর্কিত করা হয়েছে, অথচ এতে তাঁর পিতার কোনো ভূমিকা ছিল না। এটি করা হয়েছে উসমানীয় রাজনীতি ও তাদের অনুসারীদের একটি বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য, যখন তারা এই আন্দোলনের প্রভাব বিস্তারের ব্যাপারে প্রচণ্ড ভীত হয়ে পড়েছিল। ফলে তারা তাদের সাধ্যমতো এর প্রতিরোধ করেছিল এবং এর উদ্দেশ্যকে বিকৃত করার ক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি করেছিল। তারা একে বিদআত ও ধর্ম থেকে বিচ্যুতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল এবং তাদের দাবিকৃত গোমরাহির শিরোনাম হিসেবে একে প্রচার করেছিল।

আমরা এই আন্দোলনের রাজনৈতিক ইতিহাস পরিহার করছি, যাতে ইসলামের দিকে এর লক্ষ্য ও অভিমুখের ওপর আলোকপাত করতে পারি, যেমনটি এর নেতার কিতাবসমূহ এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের নিরপেক্ষ গবেষকদের অধ্যয়ন আমাদের পথ দেখায়।

এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে যে, ইসলামের এই আন্দোলনটি একই সাথে নতুন এবং পুরাতন। বাস্তবতা হলো, সমসাময়িকদের বিচারে এটি নতুন, তবে প্রকৃতপক্ষে এটি চিরন্তন ও পুরাতন।

যে ব্যক্তি মুসলিম বিশ্বের সংস্কারের পর্যায়সমূহ এবং একে অপরের সাথে তাদের সম্পর্কের বিষয়ে অনুসন্ধান করবেন, তিনি এই আন্দোলনের মাঝে পূর্ববর্তী সেই জাগরণগুলোরই বিস্তার দেখতে পাবেন যা ইসলামী যুগসমূহ প্রত্যক্ষ করেছে। যেমন: আন্দালুসের "ইবনে হাজম"-এর লেখনীর মাঝে, এরপর বাগদাদে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল ও তাঁর অনুসারীদের আন্দোলনের মাঝে যখন তাঁরা ইসলামের ওপর বিদআতি ও প্রবৃত্তিপূজারীদের কলঙ্ক লেপন প্রত্যক্ষ করেছিলেন; এরপর হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে শামে শাইখুল ইসলাম ইমাম "তাকীউদ্দিন আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ"-এর বিপ্লবের মাঝে, যা ছিল সংস্কারের দিক থেকে সবচেয়ে চমৎকার এবং ইসলামী চিন্তাধারার সংশোধনে সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী। ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর অনুসারী যেমন ইবনুল কাইয়্যিম, ইবনে কুদামা, ইবনে কাসির ও অন্যদের কিতাবসমূহ থেকেই "শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব" তাঁর সংস্কারের মশাল প্রজ্জ্বলিত করেছিলেন। তিনি কুরআন ও সুন্নাহ অধ্যয়ন করেছেন কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও প্রবৃত্তিপূজারীদের বিভ্রান্তিমুক্ত হয়ে। আর এটিই তাঁকে সেই সংস্কারের দিকে ধাবিত করেছে যে কাজে তিনি এমনভাবে সফল হয়েছেন যা পূর্ববর্তীদের ভাগ্যে জোটেনি,
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১৪)
لأنّهم خذلتهم السياسات، ووجد هو من السياسة حماية له، ومن قوتها نصراً لدعوته، فكان له هذا الأثر البعيد الذي يصفه "لوثروب ستودارت" في عالم الإسلام الحديث، وهو أثرٌ يطولُ شرحه جداً إذا تقصيناه في مصر والشام والعراق والحجاز واليمن وبلاد شمال إفريقية والهند وتركية وغيرها. والمهمّ في تأثير ذلك في نفسية المسلمين وتوجيهها على المثل الكامل، ثم تأتي من بعد هذا وذاك دلالته على الحيوية الكامنة في الإسلام، وما يجيش في نفسه من إرادة الحياة الراقية للمسلمين، وإن كان لا يزال يجد من جلائهم وبعض حكامهم وساستهم وعلمائهم1 أيضاً أزوراراً حيناً، وحرباً عليه وعلى الإصلاح حيناً آخر، لغايات في أنفسهم لم يصهرها الزّمن ولم يطهرها من لوثاتها الموروثة بعد.

--------------------------------------------

1 بل المتعالين وأدعياء الإسلام، وإلا فإن العلماء الحقيقيين المخلصين أرفع من أن يحاربوا هذه الحركة الإصلاحية الكبرى التي يتوقف عليها مجد المسلمين وقوتهم "م. م".
কারণ রাজনীতি তাদেরকে ব্যর্থ করেছিল, আর তিনি রাজনীতির মাঝে নিজের সুরক্ষা এবং এর শক্তির মাধ্যমে তাঁর দাওয়াতের বিজয় খুঁজে পেয়েছিলেন। ফলে আধুনিক ইসলামি বিশ্বে তাঁর সেই সুদূরপ্রসারী প্রভাব সৃষ্টি হয়েছিল, যা "লোথ্রোপ স্টোডার্ড" বর্ণনা করেছেন। আর যদি আমরা মিসর, শাম, ইরাক, হিজাজ, ইয়েমেন, উত্তর আফ্রিকার দেশসমূহ, ভারত, তুরস্ক ও অন্যান্য দেশে এর অনুসন্ধান করি, তবে সেই প্রভাবের ব্যাখ্যা হবে অত্যন্ত দীর্ঘ। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মুসলিম মানসে এর প্রভাব এবং তাকে পূর্ণাঙ্গ আদর্শের দিকে পরিচালিত করা। অতঃপর এসবের মধ্য দিয়ে ইসলামের মাঝে সুপ্ত প্রাণশক্তি এবং মুসলমানদের জন্য এক উন্নত জীবন যাপনের যে ইচ্ছা ইসলামের অন্তরে আলোড়িত হয়, তার প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও তিনি এখনও তাদের অজ্ঞ সাধারণ মানুষ এবং কোনো কোনো শাসক, রাজনীতিবিদ ও আলিমদের১ নিকট হতে কখনো বিমুখতা এবং কখনো তাঁর ও এই সংস্কার আন্দোলনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সম্মুখীন হচ্ছেন; আর তা হচ্ছে তাদের অন্তরের এমন কিছু উদ্দেশ্যের কারণে, যাকে মহাকাল এখনো বিগলিত করতে পারেনি এবং তাদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত কলুষতা থেকে পবিত্র করতে পারেনি।

--------------------------------------------

১ বরং তারা হলো দাম্ভিক এবং ইসলামের দাবিদার; নতুবা প্রকৃত মুখলিস আলিমগণ এই মহান সংস্কার আন্দোলনের বিরোধিতা করার চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে, যার ওপর মুসলমানদের মর্যাদা ও শক্তি নির্ভর করে। "মা. মু."।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌محمد بن إسماعيل الصنعاني.

لما بلغت هذا العلامة مؤلف كتاب "سبل السلام" دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وثورته على البدع والخرافات وقيامه بالدين الصحيح والسنة المطهرة وإرشاد الناس إلى أن يتمسكوا بالوحيين أثنى عليه بقصيدةٍ رائعةٍ جاء فيها:

سلامي على نجدٍ ومن حلّ في نجد … وإن كان تسليمي على البعد لا يجدي

وقد صدرت من سفح صنعا سقى الحيا … رباها وأحياها بقهقهة الرّعد

قفي واسألي عن عالمٍ حلّ سوحها … به يهتدي من ضلّ عن منهج الرشد

محمد الهادي لسنة أحمد … فيا حبّذا الهادي ويا حبّذا المهدي

وقد أنكرت كل الطوائف قوله … بلا صدر في الحق منهم ولا ورد

وما كل قول بالقبول مقابل … وما كلّ قول واجب الردّ والطرد
মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আস-সানআনি.

'সুবুলুস সালাম' গ্রন্থের রচয়িতা এই বিদগ্ধ পন্ডিত যখন শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত, বিদআত ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তাঁর বিপ্লব, সঠিক দ্বীন ও পবিত্র সুন্নাহর ওপর অটল থাকা এবং মানুষকে দুই ওহীর (কুরআন ও সুন্নাহ) রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধারণ করার আহ্বানের সংবাদ পেলেন, তখন তিনি তাঁর প্রশংসায় একটি চমৎকার কাসিদা রচনা করেন, যাতে বলা হয়েছে:

নজদ এবং নজদে বসবাসকারীদের প্রতি আমার সালাম … যদিও দূর থেকে জানানো আমার এই সালাম হয়তো কোনো কাজে আসবে না।

সানআর পাদদেশ থেকে এটি প্রেরিত হয়েছে, বৃষ্টি যেন তার উচ্চভূমিকে সিক্ত করে … আর বজ্রের গর্জনে তাকে যেন প্রাণবন্ত করে তোলে।

থামো এবং সেই আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো যিনি এর প্রাঙ্গণে অবস্থান করছেন … তাঁর মাধ্যমেই সেই ব্যক্তি সঠিক পথের দিশা পায় যে হেদায়েতের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

তিনি মুহাম্মাদ, যিনি আহমদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর দিকে পথপ্রদর্শক … কতই না চমৎকার সেই পথপ্রদর্শক এবং কতই না উত্তম সেই ব্যক্তি যিনি সঠিক পথ পেয়েছেন।

সকল গোষ্ঠী ও দল তাঁর কথাকে অস্বীকার করেছে … অথচ সত্যের ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো উৎস বা ভিত্তি নেই।

সব কথা যেমন গ্রহণের মাধ্যমে সমাদৃত হয় না … তেমনি সব কথা প্রত্যাখ্যান ও বিতাড়নের যোগ্যও নয়।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১৫)
سوى ما أتى عن ربنا ورسوله … فذلك قول جلّ، يا ذا، عن الرد

وأما أقاويل الرجال فإنّها … تدور على قدر الأدلة في النقد

وقد جاءت الأخبار عنه بأنّه … يعيد لنا الشرع الشريف بما يبدي

وينشر جهراً ما طوى كلّ جاهلٍ … ومبتدع منه، فوافق ما عندي

ويعمر أركان الشريعة هادماً … مشاهد ضل الناس فيها عن الرشد

أعادوا بها معنى سواع مثله … يغوث وود، بئس ذلك من ود

وقد هتفوا عند الشدائد باسمها … كما يهتف المضطر بالصمد الفرد

وكم عقروا في سوحها من عقيرة … أهلت لغير الله جهراً على عمد

وكم طائف حول القبور مقبّلٌ … ومستلم الأركان منهن بالأيدي

لقد سرّني ما جاءني من طريقة … وكنت أرى هذي الطريقة لي وحدي

يصب عليه صوت ذمٍّ وغيبةٍ … ويجفوه من قد كان يهوه عن بعد

ويعزى إليه كلّ ما لا يقوله … لتنغيصه عند التهامي والنجدي

فيرميه أهل الرفض بالنصب فرية … ويرميه أهل النصب بالرفض والجحد

وليس له ذنب سوى أنه أتى … بتحكيم قول الله في الحل والعقد

ويتبع أقوال النبي محمد … وهل غيره بالله في الشرع من يهدي

لئن عدّه الجهال ذنباً فحبذا … به حبذا يوم انفرادي في لحدي

سلامي على أهل الحديث فإنني … نشأت على حبّ الأحاديث من مهدي

هم بذلوا في حفظ سنة أحمد … وتنقيحها من جهدهم غاية الجهد

أأنتم أهدى من صحابة أحمد … وأهل الكسا هيهات ما الشوك كالورد

أولئك أهدى في الطريقة منكمو … فهم قدوتي حتى أوسد في لحدي
আমাদের প্রতিপালক ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যা এসেছে তা ব্যতীত … হে বন্ধু, তা প্রত্যাখ্যান করার ঊর্ধ্বে মহান এক বাণী।

আর মানুষের বক্তব্যের ক্ষেত্রে তা … পর্যালোচনার সময় দলিলের শক্তির ওপর নির্ভর করে।

তাঁর সম্পর্কে এই সংবাদ এসেছে যে তিনি … তাঁর কর্মতৎপরতার মাধ্যমে আমাদের কাছে সম্মানিত শরীয়তকে ফিরিয়ে আনবেন।

এবং প্রত্যেক মূর্খ ও বিদআতী যা গোপন করেছিল তা তিনি প্রকাশ্যে প্রচার করেন … ফলে তা আমার কাছে যা আছে তার সাথে মিলে যায়।

আর তিনি শরীয়তের রুকনসমূহকে আবাদ করেন এবং ধ্বংস করেন … সেইসব মাযার যেখানে মানুষ সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

তারা সেখানে সুওয়া'র মতো অর্থ ফিরিয়ে এনেছে, তেমনি … ইয়াগূস ও ওয়াদ্দকেও; কতই না মন্দ সেই ভালোবাসা।

আর তারা বিপদের সময় সেগুলোর নাম ধরে ডেকেছে … ঠিক যেভাবে একজন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি অমুখাপেক্ষী একক সত্তাকে ডাকে।

সেগুলোর প্রাঙ্গণে তারা কতই না পশু বলি দিয়েছে … যা প্রকাশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে।

আর কবরের চারদিকে কতই না তাওয়াফকারী রয়েছে যারা চুমু খাচ্ছে … এবং হাত দিয়ে সেগুলোর কোণা স্পর্শ করছে।

আমার কাছে যে পদ্ধতির খবর এসেছে তা আমাকে আনন্দিত করেছে … অথচ আমি মনে করতাম এই পথ কেবল আমার একার।

তার ওপর নিন্দা ও গীবতের আওয়ায ঢেলে দেওয়া হয় … আর যে তাকে দূর থেকে ভালোবাসত সেও এখন তাকে এড়িয়ে চলে।

এবং সে যা বলেনি তাও তার দিকে সম্বন্ধ করা হয় … যাতে তিহামী ও নজদীদের কাছে তাকে লাঞ্ছিত করা যায়।

ফলে রাফেযীরা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে নসবের (আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ) দোষে অভিযুক্ত করে … আর নাসেবীরা তাকে রাফেযী হওয়া ও অস্বীকারের অপবাদ দেয়।

আর তাঁর কোনো অপরাধ নেই কেবল এটি ছাড়া যে তিনি এসেছেন … সকল বিষয়ে আল্লাহর বাণীর ফয়সালা নিয়ে।

এবং তিনি নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর বাণীসমূহ অনুসরণ করেন … আর আল্লাহর কসম, শরীয়তের পথে তিনি ছাড়া আর কে পথ দেখাবে?

মূর্খরা যদি একে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে, তবে কতই না উত্তম … আমার কবরে একাকী হওয়ার দিনে এটি কতই না চমৎকার হবে।

আহলে হাদীসদের প্রতি আমার সালাম, কারণ আমি … দোলনা থেকেই হাদীসের ভালোবাসায় বেড়ে উঠেছি।

তারা আহমাদ (সা.)-এর সুন্নাহ সংরক্ষণ … এবং তা পরিমার্জনে তাদের সাধ্যের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছেন।

তোমরা কি আহমাদ (সা.)-এর সাহাবীগণ … এবং আহলে কিসা বা চাদরওয়ালাদের চেয়েও বেশি হিদায়াতপ্রাপ্ত? অসম্ভব! কাঁটা কখনো গোলাপের মতো নয়।

তাঁরা তোমাদের চেয়ে অধিক সঠিক পথের অনুসারী … তাই কবরে শায়িত হওয়া পর্যন্ত তাঁরাই আমার আদর্শ।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌محمد بن قاسم.

قال في كتابه: "تاريخ أوربا":

كان الوهابيون في عقيدتهم ومذهبهم على طريقة أهل السنة والجماعة، والأساس الأصلي لمذهبهم: هو توحيد عبادة الله!.
মুহাম্মদ বিন কাসিম.

তিনি তাঁর "ইউরোপের ইতিহাস" গ্রন্থে বলেন:

ওয়াহাবীগণ তাঁদের আকিদা ও মাযহাবের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পদ্ধতির উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং তাঁদের মাযহাবের মূল ভিত্তি হলো: আল্লাহর ইবাদতে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা!
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌منح هارون.

قال الأستاذ منح هارون في الرد على الكاتب الانكليزي "ويلز" ما يأتي:

ولما اتسعت حركة السعوديين في ذلك الحين، وأخذت تهدد العراق والشام والحجاز واليمن، لم تر السلطة العثمانيّة أو السياسة الغاشمة بداً من أن تعمل لصرف فلول العرب عن هذا الأمير، يعني عبد العزيز بن محمد بن سعود الطامح لاسترداد مجد العرب، فأوعزت إلى بعض عمالها من المشايخ، فأخذوا يدسون على الشيخ ابن عبد الوهاب أقوالاً ما أنزل الله بها من سلطان. ويتخذون من المسائل الخلافيّة بين مذهب الإمام أحمد وبين المذاهب الإسلاميّة الأخرى وسيلة للطعن على الوهابيين الذين ألصقوا بهم هذا الاسم، تضليلاً للرأي العام الإسلامي، وإيهاماً بأنّهم ذوو مذهب جديد غير معترف به، مع أنهم لم يخرجوا في شيء عن مذهب الإمام أحمد، الذي هو مذهب السلف الصالح ولم يقولوا شيئاً مبتدعا في الدين وكل ما قاله الشيخ ابن عبد الوهاب، قال به غيره ممن سبقه من الأئمة الأعلام. ومن الصحابة الكرام ولم يخرج في شيء عما قاله الإمام أحمد، وابن تيمية رحمهما الله تعالى.
মিনাহ হারুন.

উস্তাদ মিনাহ হারুন ইংরেজ লেখক "ওয়েলস"-এর জবাব দিতে গিয়ে নিম্নলিখিত কথাগুলো বলেছেন:

যখন সেই সময়ে সৌদিদের আন্দোলন বিস্তৃতি লাভ করল এবং ইরাক, শাম, হিজাজ ও ইয়েমেনকে হুমকির মুখে ফেলল, তখন উসমানীয় কর্তৃপক্ষ বা জালিম শাসকগোষ্ঠী আরবদের অবশিষ্টাংশকে এই আমীর—অর্থাৎ আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন সাউদ, যিনি আরবদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন—তাঁর থেকে বিমুখ করার প্রচেষ্টা ছাড়া অন্য কোনো উপায় খুঁজে পেল না। ফলে তারা তাদের অনুগত কিছু শাইখকে নির্দেশ দিল, আর তারা শাইখ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের বিরুদ্ধে এমন সব কথা রটাতে লাগল যার কোনো প্রমাণ আল্লাহ নাযিল করেননি। তারা ইমাম আহমাদের মাযহাব ও অন্যান্য ইসলামী মাযহাবগুলোর মধ্যে বিদ্যমান মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোকে সেই "ওয়াহাবী"দের অপবাদ দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করল—যেই নাম তারা তাদের ওপর লেপন করে দিয়েছিল। এটি করা হয়েছিল মুসলিম জনমতকে বিভ্রান্ত করার জন্য এবং এই ধারণা দেওয়ার জন্য যে, তারা একটি নতুন ও অস্বীকৃত মাযহাবের অনুসারী। অথচ তারা ইমাম আহমাদের মাযহাব থেকে কোনো কিছুতেই বিচ্যুত হননি, যা ছিল সালাফে সালেহীনের মাযহাব। তারা দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত (বিদআতি) কোনো কথা বলেননি। শাইখ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব যা কিছু বলেছেন, তাঁর পূর্ববর্তী বিশিষ্ট ইমামগণ এবং সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামও তাই বলেছেন। তিনি ইমাম আহমাদ এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন)-এর বক্তব্যের বাইরে কোনো কিছু বলেননি।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌عمر أبو النصر

قال عمر أبو النصر في كتابه "ابن سعود" عن الشيخ محمد بن عبد الوهاب ما يلي:

والواقع أنّ دعوة ابن عبد الوهاب ليست غير دعوة صالحة موفقة لنبذ البدع والمفاسد التي أنهكت دين الإسلام. والتي عمل بعض المشايخ على الترويج لها وذيوعها وانتشارها بين الناس.

إذا ذهبنا نبحث عن الدعوة في مصادرها، ونتولاها بالنقد والبحث والتحقيق وجدنا أنّها لا تختلف عن مذهب الإمام أحمد بن حنبل إلاّ في بعض التبسيط والتطويل. وليس للوهابيين مذهب خاص يدعى باسمهم، كما يقول بعض المتحاملين عليهم، وإنما مذهبهم مذهب الإمام أحمد وليس فيما يطلبونه ويدعون إليه ما ينافي السنّة ولا يتفق مع القرآن الكريم وهم ينكرون هذا التضليل، الذي يحاوله بعض الشيوخ وغير الشيوخ، وهذا الإغراق في إقامة القباب حول الأضرحة والقبور والصلاة فيها وإقامة المباخر وطلب الشفاعة من أصحابها، والإسلام ينهى عن هذا، وليس في الإسلام وسيط، وليس هناك من يشفع عنده تعالى إلاّ بإذنه.
ওমর আবু আন-নাসর

ওমর আবু আন-নাসর তাঁর ‘ইবনে সাউদ’ গ্রন্থে শেখ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব সম্পর্কে নিম্নোক্ত কথাগুলো বলেছেন:

বস্তুত ইবনে আবদুল ওয়াহাবের দাওয়াত হলো সেই সব বিদআত ও পাপাচার বর্জনের একটি সৎ ও সফল দাওয়াত, যা ইসলাম ধর্মকে দুর্বল করে দিয়েছে। যেগুলোর প্রচার ও প্রসারে এবং মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কিছু মাশায়েখ কাজ করেছিলেন।

আমরা যদি এই দাওয়াতের মূল উৎসগুলো অনুসন্ধান করি এবং সমালোচনা, গবেষণা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তা যাচাই করি, তবে আমরা দেখতে পাব যে, এটি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের মাযহাব থেকে কেবল কিছু সরলীকরণ এবং দীর্ঘায়িতকরণ ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়। ওহাবিদের নিজস্ব কোনো মাযহাব নেই যা তাদের নামে নামকরণ করা হয়েছে, যেমনটি তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী কেউ কেউ বলে থাকে; বরং তাদের মাযহাব হলো ইমাম আহমদের মাযহাব। তারা যা দাবি করে বা যার দিকে আহ্বান করে, তাতে সুন্নাহর পরিপন্থী কিংবা পবিত্র কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যহীন কিছুই নেই। তারা সেই পথভ্রষ্টতাকে প্রত্যাখ্যান করেন যা করার চেষ্টা কিছু শেখ ও অ-শেখ করে থাকেন এবং মাজার ও কবরের চারপাশে গম্বুজ নির্মাণ, সেখানে সালাত আদায় করা, ধূপ জ্বালানো এবং কবরবাসীদের কাছে শাফায়াত কামনার এই বাড়াবাড়িকে তারা অস্বীকার করেন। ইসলাম এসব থেকে নিষেধ করে। ইসলামে কোনো মধ্যস্থতাকারী নেই এবং মহান আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে তাঁর কাছে সুপারিশ করার মতো কেউ নেই।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌محمد كرد علي.

قال في "القديم والحديث" بعد أن ذكر فصلاً ممتعاً عن الحركة الوهابية قال:

وما ابن عبد الوهاب إلاّ داعية، هدى الناس من الضلال وساقهم إلى الدين السمح وإذا بدت شدّة من بعضهم فهي ناشئة من نشأة البادية، وقلما رأينا شعباً من أهل الإسلام يغلب عليه التدين والصدق والإخلاص مثل هؤلاء القوم، وقد اختبرنا عامتهم وخاصتهم سنين طويلة فلم نرهم حادوا عن الإسلام قيد أنملة، وما يتهمهم به أعداؤهم فزور لا أصل له!
মুহাম্মদ কুর্দ আলী.

তিনি "আল-কাদীম ওয়াল-হাদীস" গ্রন্থে ওয়াহাবী আন্দোলন সম্পর্কে একটি মনোজ্ঞ অধ্যায় বর্ণনা করার পর বলেছেন:

ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব একজন দাঈ ব্যতীত অন্য কিছু নন, তিনি মানুষকে পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েত করেছেন এবং তাদের উদার দ্বীনের দিকে পরিচালিত করেছেন। আর যদি তাদের কারো মধ্যে কোনো কঠোরতা প্রকাশ পায়, তবে তা মরুভূমির পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে সৃষ্ট। আমরা মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এমন কোনো সম্প্রদায় খুব কমই দেখেছি যাদের মাঝে এই জাতির মতো ধর্মপরায়ণতা, সত্যবাদিতা এবং একনিষ্ঠতা প্রবল। আমরা দীর্ঘ বছর যাবৎ তাদের সাধারণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পরীক্ষা করেছি এবং তাদের ইসলামের পথ থেকে এক তিল পরিমাণও বিচ্যুত হতে দেখিনি। আর তাদের শত্রুরা তাদের বিরুদ্ধে যে অপবাদ দেয় তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, যার কোনো ভিত্তি নেই!
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌محمد الشوكاني.

رثى العلامة محمد بن علي الشوكاني صاحب نيل الأوطار الشيخ محمد بن عبد الوهاب مثنياً عليه بالقصيدة التالية:

مصاب دهى قلبي فأذكى غلائلي … وأصمى بسهم الافتجاع مقاتلي

وخطب به أعشر أحشاي صدعت … فأمست بفرط الوجد أي تواكلي

مصاب به الدنيا قد اغبرّ وجهها … وأنهلني قسراً أمرّ المناهل

مصاب به ذابت حشاشة مهجتي … وعن حمله قد كلّ متني وكاهلي

مصاب به الدنيا قد اغبر وجهها … وقد شمخت أعلام قوم أسافل

به انهد ركن الدين وانبت حبله … وشيد بناء الغي مع كلّ باطل

وقال على الإسلام جهراً وأهله … نعيق غراب بالمذلة هائل

وسيم منار الاتباع لأحمد … هوان انهدام جاء من كل جاهل

لقد مات طود العلم قطب رحى العلا … ومركز أدوار الفحول الأفاضل

وماتت علوم الدين طراً بموته … وغيب وجه الحقّ تحت الجنادل

إمام الورى علامة العصر قدوتي … وشيخ شيوخ الجد فرد الفضائل

"محمد" ذو المجد الذي عز دركه … وجل مقاماً عن لحوق المطاول

إلى عابد الوهاب يغري وإنّه … سلالة أنجاب زكي الخصائل

عليه من الرحمن أعظم رحمة … تبل ثراه بالضحى والأصائل
মুহাম্মদ আল-শাওকানি.

নাইলুল আওতার গ্রন্থের রচয়িতা আল্লামা মুহাম্মদ বিন আলী আল-শাওকানি, শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের প্রশংসায় নিম্নোক্ত কাসিদাটির মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন:

এমন এক মুসিবত আমার অন্তরে হানা দিয়েছে যা আমার যন্ত্রণাকে প্রজ্বলিত করেছে … আর শোকের তীর আমার প্রাণকেন্দ্রকে বিদ্ধ করেছে

এমন এক বিপর্যয় যাতে আমার পাঁজরের অভ্যন্তরভাগ বিদীর্ণ হয়েছে … ফলে চরম বিষাদে আমি আজ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি

এমন এক মুসিবত যাতে পৃথিবীর মুখমণ্ডল ধূলিধূসরিত হয়ে গেছে … আর যা আমাকে জোরপূর্বক অত্যন্ত তিক্ত পানীয় পান করিয়েছে

এমন এক মুসিবত যাতে আমার প্রাণের শেষ বিন্দুটিও গলে গেছে … এবং তা বহন করতে গিয়ে আমার পিঠ ও কাঁধ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে

এমন এক মুসিবত যাতে দুনিয়ার চেহারা ধূলিমলিন হয়েছে … আর নিচ প্রকৃতির লোকদের ঝাণ্ডাগুলো উচ্চকিত হয়েছে

এর ফলে দ্বীনের স্তম্ভ ধসে পড়েছে এবং এর রজ্জু ছিন্ন হয়েছে … আর প্রতিটি বাতিলের সাথে গোমরাহির ইমারত সুদৃঢ় হয়েছে

ইসলাম ও এর অনুসারীদের ওপর প্রকাশ্যে উচ্চকিত হয়েছে … লাঞ্ছনার এক ভয়াবহ কাকের ডাক

আহমাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণের আলোকবর্তিকা আজ সইছে … ধ্বংসাত্মক অবমাননা, যা ধেয়ে এসেছে প্রতিটি মূর্খের পক্ষ থেকে

জ্ঞানের সুবিশাল পাহাড় এবং উচ্চমর্যাদার অক্ষশক্তি আজ ইন্তেকাল করেছেন … যিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ বিদগ্ধ মণীষীদের আবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু

তার মৃত্যুতে দ্বীনি জ্ঞানসমূহ আজ পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে … এবং সত্যের চেহারা কবরের পাথরের নিচে ঢাকা পড়ে গেছে

সৃষ্টিজগতের ইমাম, যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম ও আমার আদর্শ … নিষ্ঠাবান শায়খদের শায়খ এবং অনন্য গুণাবলীর আধার

"মুহাম্মদ", সেই সুমহান গৌরবের অধিকারী যা অর্জন করা দুষ্কর … এবং যার উচ্চ মাকাম স্পর্শ করা প্রতিদ্বন্দ্বীদের নাগালের বাইরে

তিনি আব্দুল ওয়াহহাবের বংশধর এবং নিশ্চয়ই তিনি … এক পবিত্র চরিত্রের অভিজাত বংশের সন্তান

তার ওপর রহমানের পক্ষ থেকে বর্ষিত হোক সুমহান রহমত … যা সকাল ও সন্ধ্যায় তার কবরের মাটিকে সিক্ত করবে।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ১৯)
لقد أشرقت نجدٌ بنور ضيائه … وقام مقامات الهدى بالدلائل

ومن شأنه قمع الضلال، ونصره … لمن كان مظلوما وليس بخاذل

وكم كان في الدين الحنيف مجاهداً … بماضي سنان دامغ للأباطل

وكم ذب عن سامي حماه وذاد مِن … مضل وبعي ومعفو ونائل

ففيم استباح اهل الضلال لعرضه … وكم نكست أعلامه من أراذل

فلولاه لم تحرز رحى الدين مركزاً … ولا اشتدّ للإسلام ركن المعاقل

ولا كان للتوحيد واضح لاحبٍ … يقيم اعوجاج السير من كل عاذل

فما هو إلاّ قائمٌ في زمانه … مقام النبي في إماتة باطل

ستبكيه أجفاني حياتي، وإن أمت … ستبكيه عني جفن طلٍّ ووابل

أفق يا معيب الشيخ ماذا تعيبه … لقد عبت حقاً وارتحلت بباطل

نعم ذنبه التقليد جذّ حبله … وفلّ التعصب بالسيوف الصواقل

ولما دعا لله في الخلق صارخاً … صرختم له بالقذف مثل الزواجل

أفيقوا أفيقوا إنّه ليس داعياً … إلى دين آباء له وقبائل

دعا لكتاب الله والسنة التي … أتانا بها طه1 النبي خير قائل

--------------------------------------------

1 جرى الشاعر عل اعتبار طه اسماً للنبي صلى الله عليه وسلم، وهو خطأ والصواب أنه من نوع فواتح بعض السور
নজদ তাঁর আলোর উজ্জ্বলতায় উদ্ভাসিত হয়েছে … আর তিনি দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে হিদায়াতের মাকামসমূহে দণ্ডায়মান হয়েছেন

তাঁর বৈশিষ্ট্য ছিল গোমরাহী নির্মূল করা এবং সাহায্য করা … তাদের, যারা মজলুম; তিনি কখনও সাহায্য ত্যাগকারী ছিলেন না

হানিফ দ্বীনের পথে তিনি কতই না বড় মুজাহিদ ছিলেন … বাতিলকে চূর্ণকারী ধারালো বর্শার ফলার মাধ্যমে

কতই না তিনি এর সুউচ্চ সীমানা রক্ষা করেছেন এবং প্রতিরোধ করেছেন … পথভ্রষ্ট, সীমালঙ্ঘনকারী, অমার্জনীয় ও যাঞ্চাকারীদের

তবে কেন পথভ্রষ্টরা তাঁর সম্মানহানিকে বৈধ করে নিল? … আর কতই না ইতর ব্যক্তিরা তাঁর পতাকাসমূহকে অবনমিত করতে চাইল

তিনি না থাকলে দ্বীনের যাঁতাকল কোনো কেন্দ্র খুঁজে পেত না … আর ইসলামের দুর্গের স্তম্ভগুলোও শক্তিশালী হতো না

তাওহীদের কোনো সুস্পষ্ট প্রশস্ত পথ থাকত না … যা প্রত্যেক নিন্দুকের বক্র চলনকে সোজা করে দেয়

তিনি তো তাঁর যুগে কেবল … বাতিলকে মিটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নবীর স্থলাভিষিক্ত হিসেবেই দণ্ডায়মান হয়েছিলেন

আমার চোখের পাতা সারাজীবন তাঁর জন্য কাঁদবে, আর যদি আমি মারা যাই … তবে আমার পক্ষ থেকে শিশির ও মুষলধারে বৃষ্টির ধারা তাঁর জন্য ক্রন্দন করবে

হে শাইখের দোষ অন্বেষণকারী, সচেতন হও! তুমি তাঁর কোন দোষ খুঁজছ? … তুমি তো হকেরই নিন্দা করলে এবং বাতিলকে সঙ্গে নিয়ে প্রস্থান করলে

হ্যাঁ, তাঁর 'অপরাধ' ছিল এই যে, তিনি তাকলীদের রশি কেটে দিয়েছেন … এবং শাণিত তলোয়ার দিয়ে অন্ধ গোঁড়ামিকে চূর্ণ করেছেন

যখন তিনি উচ্চকণ্ঠে সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর দিকে আহ্বান করলেন … তখন তোমরা দ্রুতগামী বার্তার মতো তাঁর প্রতি অপবাদ ছুড়ে দিলে

সচেতন হও, সচেতন হও! তিনি তো … তাঁর পূর্বপুরুষ বা গোত্রীয় ধর্মের দিকে আহ্বানকারী নন

তিনি আল্লাহর কিতাব ও সেই সুন্নাহর দিকেই ডেকেছেন যা … সর্বশ্রেষ্ঠ বক্তা নবী ত্বহা১ আমাদের কাছে নিয়ে এসেছেন

--------------------------------------------

১ কবি এখানে 'ত্বহা'-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম হিসেবে গণ্য করেছেন, যা ভুল। সঠিক হলো, এটি বিভিন্ন সূরার শুরুতে ব্যবহৃত বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহের (হুরূফে মুকাত্তাআত) অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌حسين بن غنام الأحسائي

هو مؤلف "روضة الأفكار والأفهام": قال يرثي الشيخ محمد بن عبد الوهاب ويثني عليه بما هو أهله:

إلى الله في كشف الشدائد نفزع … وليس إلى غير المهيمن مفزع

لقد كسفت شمس المعارف والهدى … فسالت دماء في الخدود وأدمع

إمام أصيب الناس طراً بفقده … وطاف بهم خطبٌ من البين موجِعُ

وأظلم أرجاء البلاد بموته … وحلّ بهم كربٌ من الحزن مفظع

شهاب هوى من أفقه وسمائه … ونجمٌ ثوى في الترب واراه بلقع

وكوكب سعد مستنير سناؤه … وبدر له في منزل اليمن مطلع

وصبحٌ تبدّى للأنام ضياؤه … فداجي الدياجي بعده متقشع

لقد غاض بحر العلم والفهم والندى … وقد كان فيه للبرية مرتع

فقوم جلا عنهم صدى الرين فاهتدوا … فأسماعهم للحق تصغي وتسمع

وقوم ذوو فقرٍ وجهدٍ وفاقة … حووا واقتنوا ما فيه للعيش مطمع

لقد رفع المولى به رتبة الهدى … بوقت به يعلى الضلال ويرفع

أبان له من لمعة الحق لمعة … أزيل بها عنه حجاب وبرقع

سقاه نمير الفهم مولاه فارتوى … وعام بتيار المعارف يقطع

فأحيا به التوحيد بعد اندراسه … وأقوى به من مظلم الشرك مهيع

فأنوار صبح الحق باد سناؤها … ومصباحه عال ورياه طيع
হুসাইন ইবন গুন্নাম আল-আহসাঈ

তিনি হলেন "রওদাতুল আফকার ওয়াল আফহাম"-এর লেখক। তিনি শায়খ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাবের শোকগাথা এবং তাঁর প্রাপ্য প্রশংসা বর্ণনা করে বলেন:

বিপদ-আপদ দূরীকরণে আমরা আল্লাহর নিকটই ফরিয়াদ করি … আর পরাক্রমশালী (আল্লাহ) ব্যতীত কোনো আশ্রয়স্থল নেই

প্রজ্ঞা ও হিদায়াতের সূর্য গ্রহণ লেগেছে (অস্তমিত হয়েছে) … ফলে গণ্ডদেশে রক্ত ও অশ্রু প্রবাহিত হয়েছে

এমন এক ইমাম, যাঁর বিয়োগে সকল মানুষ শোকার্ত হয়েছে … আর বিচ্ছেদের এক যন্ত্রণাদায়ক বিপদ তাদের ঘিরে ধরেছে

তাঁর মৃত্যুতে দেশের সকল প্রান্ত অন্ধকার হয়ে গেছে … আর তাদের মাঝে শোকের এক ভয়াবহ দুঃখ নেমে এসেছে

এক উল্কা তার দিগন্ত ও আকাশ থেকে খসে পড়েছে … আর এক নক্ষত্র মাটিতে শায়িত হয়েছে যাকে নির্জন প্রান্তর আড়াল করে ফেলেছে

আর সৌভাগ্যের এক নক্ষত্র যার দ্যুতি ছিল আলোকোজ্জ্বল … এবং এক পূর্ণিমার চাঁদ যার উদয়স্থল ছিল বরকতময় আবাসে

আর এমন এক প্রভাত যার আলো সৃষ্টির নিকট প্রকাশিত হয়েছিল … যার ফলে তাঁর পরে ঘোর অন্ধকার বিদূরিত হয়েছে

জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বদান্যতার সমুদ্র শুকিয়ে গেছে … অথচ তা ছিল সৃষ্টির জন্য এক বিচরণস্থল

এক কওম যাদের অন্তর থেকে তিনি কলুষতার মরিচা দূর করেছেন ফলে তারা হিদায়াত পেয়েছে … এখন তাদের কর্ণ হকের প্রতি মনোযোগী ও শ্রবণকারী

আর এক দল যারা ছিল দরিদ্র, মেহনতী ও অনাহারী … তারা এমন সম্পদ লাভ করেছে যাতে জীবনধারণের পাথেয় রয়েছে

নিশ্চয়ই মহান প্রতিপালক তাঁর মাধ্যমে হিদায়াতের মর্যাদাকে উচ্চ করেছেন … এমন এক সময়ে যখন পথভ্রষ্টতা ছিল মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ও উচ্চকিত

তিনি তাঁর সামনে সত্যের এক বিশেষ জ্যোতি উদ্ভাসিত করেছেন … যার মাধ্যমে পর্দা ও আবরণ অপসারিত হয়েছে

তাঁর প্রতিপালক তাঁকে প্রজ্ঞার সুপেয় সলিলে সিক্ত করেছেন ফলে তিনি পরিতৃপ্ত হয়েছেন … আর তিনি জ্ঞানের প্রবল স্রোতধারায় সাতার কেটে তা পাড়ি দিয়েছেন

তিনি তাঁর মাধ্যমে তাওহীদকে বিলুপ্ত হওয়ার পর পুনরুজ্জীবিত করেছেন … আর শিরকের অন্ধকার পথকে তিনি জনশূন্য (বিপর্যস্ত) করেছেন

এখন সত্যের প্রভাতের নূর প্রকাশিত … এর প্রদীপ সুউচ্চ এবং এর সুবাস মনোরম ও অনুগত।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ২১)
سما ذروة المجد التي ارتقى لها … سواه ولا حاذى سناها سميدع

وشمر في منهاج سنة أحمد … يشيد ويحيي ما … ويرفع

وينفي الأعادي عن حماه وسوحه … ويدمغ أرباب الضلال ويدفع

يناظر بالآيات والسنة التي … أمرنا إليها في التنازع نرجع

فأضحت به السمحاء يبسم ثغرها … وأمسى محيّاها يضيء ويلمع

وعاد به نهج الغواية طامساً … وقد كان مسلوكاً به الناس تربع

وجرت به نجد ذيول افتخارها … وحق لها بالألمعي ترفّع

فآثاره فيها سوام سوافرٍ … وأنواره فيها تضيء وتسطع

لقد وجد الإسلام يوم فراقه … مصاباً خشينا بعده يتصدّع

وطاشت أولوا الأحلام والفضل والنهى … وكادت له الأرواح تترى وتتبع

وطارت قلوب المسلمين بموته … فظنوا به أن القيامة تقرع

فضجوا جميعاً بالبكاء تأسّفاً … وكادت قلوب بعده تتفجّع

وفاضت عيونٌ واستهلّت مدامعٌ … يخالطها مزجٌ من الدم يهمع

بكته ذوو الحاجات يوم فراقه … وأهل الهدى والحق والدين أجمع

إلى أن قال:

لئن كان في الدنيا له القبر موضعاً … فيوم الجزا يرجى له الخلد موضعا

سقى قبره من هاطل العفو ديمةً … وباكره سحب من البر همع

وأسكنه بحبوحة الفوز والرضا … ولا زال بالرضوان فيها يمتّع
তিনি মর্যাদার সেই শিখরে আরোহণ করেছেন … যেখানে অন্য কেউ পৌঁছাতে পারেনি এবং কোনো মহান নেতাও তাঁর সেই ঔজ্জ্বল্যের সমকক্ষ হতে পারেনি।

তিনি আহমাদ (সা.)-এর সুন্নাহর পথে সচেষ্ট ছিলেন … যা বিলুপ্ত হয়েছিল তা তিনি পুনর্গঠন ও পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং সমুন্নত করেছেন।

তিনি এর (দীনের) পবিত্র প্রাঙ্গণ থেকে শত্রুদের বিতাড়িত করেন … এবং পথভ্রষ্টদের মূলোৎপাটন ও প্রতিহত করেন।

তিনি আয়াত ও সুন্নাহর মাধ্যমে বিতর্ক করেন … বিবাদের সময় যেগুলোর দিকে ফিরে যেতে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফলে এই উদার দ্বীন (ইসলাম) সহাস্যবদন হয়েছে … এবং এর অবয়ব আলোকিত ও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

তাঁর মাধ্যমে গোমরাহির পথ বিলুপ্ত হয়েছে … অথচ আগে সেই পথে মানুষের অবাধ বিচরণ ছিল।

তাঁর কারণে 'নাজদ' অঞ্চল তার গৌরবের চাদর টেনেছে … আর এমন এক প্রতিভাবান ব্যক্তির মাধ্যমে তার উচ্চ মর্যাদা লাভ করাই সংগত।

সেখানে তাঁর কীর্তিসমূহ সুস্পষ্টভাবে বিরাজমান … এবং তাঁর নূর সেখানে আলোকিত ও বিকিরিত হচ্ছে।

তাঁর বিদায়ের দিনে ইসলাম এমন এক বিপদের সম্মুখীন হয়েছে … যার ফলে আমরা এটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করেছিলাম।

বিজ্ঞ, গুণী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন … এবং প্রাণগুলো একে অপরের অনুগামী হয়ে বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

তাঁর মৃত্যুতে মুসলমানদের অন্তরসমূহ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল … তারা মনে করেছিল কিয়ামত বুঝি কড়া নাড়ছে।

তারা সকলেই অনুশোচনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছিল … এবং তাঁর বিরহে অন্তরসমূহ বিদীর্ণ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

চক্ষুসমূহ প্লাবিত হলো এবং অশ্রুধারা বইতে শুরু করল … যার সাথে প্রবহমান রক্তের সংমিশ্রণ ছিল।

তাঁর বিচ্ছেদের দিনে অভাবী মানুষ তাঁর জন্য কেঁদেছে … এবং হেদায়েত, সত্য ও দ্বীনের সকল অনুসারীও ক্রন্দন করেছে।

অবশেষে তিনি বলেন:

দুনিয়াতে যদি কবরই তাঁর আবাসস্থল হয় … তবে প্রতিদান দিবসে তাঁর জন্য জান্নাতুল খুলদই হবে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানা।

ক্ষমার অবিরাম বারিধারা তাঁর কবরকে সিক্ত করুক … এবং পুণ্যময় মেঘমালা সকালেই তাঁর কবরে অঝোরে বর্ষিত হোক।

আল্লাহ তাঁকে চিরসাফল্য ও সন্তুষ্টির সর্বোত্তম স্থানে আবাস দান করুন … এবং সেখানে তিনি যেন সর্বদা আল্লাহর সন্তুষ্টির নেয়ামত ভোগ করতে থাকেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌أحمد بن مشرف الأحسائي

قال قصيدة في مدح فيصل بن تركي وذكر فيها عن الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله تعالى:

وآووا إماماً قام لله داعياً … يسمى بشيخ المسلمين محمد

لقد أوضح الإسلام عند اغترابه … وقد جد في إخفائه كل ملحد

وجدد منهاج الشريعة إذ عفت … فأكرم به من عالمٍ ومجدد

وأحيا بدرس العلم دارس رسمها … كما قد أمات الشرك بالقول واليد

فكم شبهة للمشركين أزاحها … بكل دليل كاشفٍ للتردد

وألف في التوحيد أوجز نبذة … بها قد هدى الرحمن للحق من هدي

نصوصاً من القرآن تشفي من العمى … وكل حديث للأئمة مسند

فوازره عبد العزيز ورهطه … على قلة منهم وعيش منكد

فما خاف في الرحمن لومة لائم … ولم يثنه صولات باغٍ ومعتدي
আহমদ বিন মুশাররাফ আল-আহসায়ী

তিনি ফয়সাল বিন তুর্কির প্রশংসায় একটি কাসিদা রচনা করেছেন এবং তাতে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন:

তারা এমন এক ইমামকে আশ্রয় দিয়েছেন যিনি আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী হিসেবে দণ্ডায়মান হয়েছিলেন … যাকে মুসলিমদের শায়খ মুহাম্মদ নামে অভিহিত করা হয়

ইসলাম যখন অপরিচিত হয়ে পড়েছিল তখন তিনি একে সুস্পষ্ট করেছেন … অথচ প্রত্যেক নাস্তিক একে মিটিয়ে দিতে সচেষ্ট ছিল

তিনি শরীয়তের পথকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন যখন তা বিলীন হয়ে গিয়েছিল … সুতরাং তিনি কতই না শ্রেষ্ঠ আলেম ও সংস্কারক!

ইলম চর্চার মাধ্যমে তিনি এর মিটে যাওয়া চিহ্নসমূহকে পুনর্জীবিত করেছেন … যেমনটি তিনি কথা ও হাতের মাধ্যমে শিরককে মিটিয়ে দিয়েছেন

মুশরিকদের কতই না সন্দেহ তিনি দূর করেছেন … সংশয় দূরকারী প্রতিটি দলিলের মাধ্যমে

তিনি তাওহীদের বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা রচনা করেছেন … যার মাধ্যমে পরম করুণাময় সেই ব্যক্তিকে সত্যের দিশা দিয়েছেন যাকে হিদায়াত দেওয়া হয়েছে

এতে রয়েছে কুরআনের এমন সব নস যা অন্ধত্ব থেকে আরোগ্য দান করে … এবং ইমামগণের বর্ণিত প্রতিটি মুসনাদ হাদীস

অতঃপর আব্দুল আজিজ ও তার দলবল তাকে সাহায্য করেছেন … যদিও তাদের সংখ্যা ছিল অল্প এবং জীবন ছিল অত্যন্ত কষ্টকর

তিনি আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করেননি … আর কোনো বিদ্রোহী বা সীমা লঙ্ঘনকারীর আক্রমণ তাকে দমাতে পারেনি
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌محمود شكري الألوسي

قال في آخر تاريخه لنجد:

كان الشيخ محمد من بيت علم في نواحي نجد، وكان أبوه الشيخ عبد الوهاب عالماً على مذهب الإمام أحمد، وكان قاضياً في "العيينة" ثم في "حريملاء" وذلك في أوائل القرن الثاني عشر وله معرفة تامة بالحديث والفقه، وله أسئلة وأجوبة.

وكان والد عبد الوهاب الشيخ سليمان، عالماً فقيهاً أعلم علماء نجد في عصره، له اليد الطولى في العلم، وانتهت إليه رياسة العلم في نجد وصنّف ودرس وأفتى.

إلاّ أن الشيخ محمد لم يكن على طريقة أبيه وجده، وكان شديد التمسك للسنة، كثير الإنكار على من خالف الحقّ من العلماء، والحاصل أنه كان من العلماء الآمرين بالمعروف والناهين عن المنكر، وكان يعلم الناس الصلاة وأحكامها وسائر أركان الدين ويأمر بالجماعات.

وقد جد في تعليم الناس، وحثهم على الطاعة وأمرهم بتعلم أصول الإسلام وشرائطه وسائر أحكام الدين وأمر جميع أهل البلاد بالمذاكرة في المساجد كل يوم بعد صلاة الصبح، وبين العشائين، بمعرفة الله، ومعرفة دين الإسلام ومعرفة
মাহমুদ শুকরী আল-আলুসী

তিনি নজদের ইতিহাস বিষয়ক তাঁর গ্রন্থের শেষাংশে বলেন:

শায়খ মুহাম্মদ নজদ অঞ্চলের এক জ্ঞানালোকিত পরিবারের সন্তান ছিলেন। তাঁর পিতা শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব ছিলেন ইমাম আহমাদের মাযহাব অনুযায়ী একজন আলেম। তিনি দ্বাদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে 'উয়াইনা' এবং পরবর্তীতে 'হুরায়মিলায়' বিচারক (কাযী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর পূর্ণ পাণ্ডিত্য ছিল এবং তাঁর সংকলিত প্রশ্নোত্তর ও ফাতাওয়া বিদ্যমান রয়েছে।

আব্দুল ওয়াহহাবের পিতা শায়খ সুলাইমান ছিলেন একজন বিজ্ঞ ফকীহ এবং তাঁর সমসাময়িক নজদ অঞ্চলের আলেমদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল এবং নজদে ইলমের নেতৃত্ব তাঁর মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়। তিনি গ্রন্থ রচনা, অধ্যাপনা ও ফাতাওয়া প্রদানের কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন।

তবে শায়খ মুহাম্মদ তাঁর পিতা ও পিতামহের চিরাচরিত পন্থায় সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি সুন্নাহর অনুসরণে অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন এবং সত্যের বিরুদ্ধাচরণকারী আলেমদের কঠোর প্রতিবাদ জানাতেন। সারকথা হলো, তিনি ছিলেন সৎকাজের আদেশদানকারী ও অসৎকাজের নিষেধকারী আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি মানুষকে সালাত ও এর আহকামসহ দ্বীনের অন্যান্য রোকন শিক্ষা দিতেন এবং জামায়াতের সাথে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন।

তিনি মানুষকে শিক্ষা প্রদানে কঠোর পরিশ্রম করতেন, তাঁদের আনুগত্যের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন এবং ইসলামের মূলনীতি, এর শর্তাবলী ও দ্বীনের অন্যান্য বিধিবিধান শিক্ষা করার আদেশ দিতেন। তিনি জনপদের সকল মানুষকে প্রতিদিন ফজরের সালাতের পর এবং মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে মসজিদে সমবেত হয়ে আল্লাহ সম্পর্কে জানা, ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানা এবং ... সম্পর্কে আলোচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ২৩)
أركانه، ومعرفة النبي محمد صلى الله عليه وسلم ونسبه ومبعثه وهجرته.

وأول ما دعا إليه كلمة التوحيد، وسائر العبادات التي لا تنبغي إلا لله، كالدعاء والذبح والنذر، والخوف، والرجاء، والخشية، والرغبة، والتوكل، والإنابة، وغير ذلك. فلم يبق أحد من عوام أهل نجد جاهلاً بأحكام دين الإسلام بل كلهم تعلموا ذلك، بعد أن كانوا جاهلين، إلاّ الخواص منهم وانتفع الناس به من هذه الجهة الحميدة أي من سيرته المرضية وإرشاده النافع1.

--------------------------------------------

1 هناك صفحة ناصعة مجهولة لدور المرأة العظيم في نجاح حركة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، لا ينبغي لنا أن ننساها أو نغفل عنها وهي أن دلت على شيء فإنما تدل على ما وهب الله تعالى كثيراً من النساء من أريحية وإلهام وقد يفوق عقل الرجل فما عليه إلا أن يصغي إليها …

ذكر الألوسي الذي تحدث عنه في تاريخه بعدما تحدث طويلاً عن نقمة سليمان بن محمد بن عبد العزيز الحميدي صاحب الأحساء والقطيف على الشيخ محمد بن عبد الوهاب بسبب أمره بالمعروف ونهيه عن المنكر فأمر بقتله ففر إلى الدرعية بعدما قاسى من أهوال الحر والتعب في الطريق فنزل بيت عبد الله بن سويلم العريني فلما دخل عليه ضاقت به داره وخاف على نفسه من محمد بن سعود صاحب الدرعية فوعظه الشيخ وسكّن جأشه وروعه وقال: سيجعل الله لنا ولك فرجاً، فاستقر فأراد –عبد الله- أن يخبر محمد بن سعود بحال الشيخ ويرغبه في نصرته، فالتجأ إلى أخويه وزوجته "موضي بنت أبي وحطان آل الزبير" وكانت ذات عقل وفهم، فأخبروها بحال الشيخ وصفته من الحث على الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر فقذف الله محبة الشيخ في قلبها، فأخبرت زوجها محمد بن سعود بحاله وقالت له – وما أعظم ما قالت-:

"إن هذا الرجل أتى إليك! وهو غنيمة ساقها الله تعالى إليك، فأكرمه وعظمه، واغتنم نصرته".

فقبل قولها وألقى الله محبته في قلبه.

ولم تكتف هذه المرأة الصالحة بما سبق، بل رغبت محمد بن سعود في زيارته بعدما كان يأمل العكس بزيارة الشيخ له، قائلة: بل أنت قم لزيارته والذهاب إليه، لعل ذلك يكون سبباً في تعظيم الناس له وإكرامه!

فسار محمد بن سعود إليه فلما دخل عليه ضجت دار ابن سويلم "يا للموقف التاريخي الخطير" فرحب به الأمير وقال: أبشر بالخير والعزة والمنعة!

فقال له الشيخ: وأنا أبشرك بالعز والتمكين والغلبة على جميع بلاد نجد. وهذه كلمة لا إله إلا الله، من تمسّك بها وعمل بها ونصرها ملك بها البلاد والعباد، وهي كلمة التوحيد، وأول ما دعت إليه الرسل من أولهم إلى آخرهم.
এর রুকনসমূহ, এবং নবী মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-কে জানা, তাঁর বংশপরিচয়, তাঁর নবুয়ত প্রাপ্তি এবং তাঁর হিজরত।

আর তিনি সর্বপ্রথম যে বিষয়ের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন তা হলো তাওহিদের বাণী এবং অন্যান্য সকল ইবাদত যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য যোগ্য নয়, যেমন- দোয়া (প্রার্থনা), জবেহ (কুরবানি), মানত, ভয়, আশা, শঙ্কা, আগ্রহ, তাওয়াক্কুল (ভরসা), ইনাবত (আল্লাহর অভিমুখী হওয়া) এবং অন্যান্য বিষয়। ফলে নজদবাসীদের সাধারণ মানুষের মধ্যে কেউ ইসলামি দ্বীনের বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ থাকেনি, বরং তারা সবাই তা শিখে নিয়েছে—আগে তারা অজ্ঞ থাকা সত্ত্বেও; তবে তাদের মধ্যকার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ ব্যতীত (যারা আগে থেকেই জানতেন)। আর মানুষ তাঁর এই প্রশংসনীয় দিক থেকে অর্থাৎ তাঁর সন্তোষজনক সীরাত ও উপকারী দিকনির্দেশনা থেকে উপকৃত হয়েছে১।

--------------------------------------------

১ এখানে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের আন্দোলনের সাফল্যে নারীর মহান ভূমিকার একটি উজ্জ্বল অথচ অজানা অধ্যায় রয়েছে, যা আমাদের ভুলে যাওয়া বা অবহেলা করা উচিত নয়। এটি যদি কোনো কিছু প্রমাণ করে তবে তা এই যে, আল্লাহ তাআলা অনেক নারীকে যে প্রজ্ঞা ও অনুপ্রেরণা দান করেছেন তা পুরুষের বুদ্ধিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে; তাই পুরুষের উচিত কেবল তার কথা শোনা …

আলুসি তাঁর ইতিহাসে এটি উল্লেখ করেছেন, যখন তিনি আল-আহসা ও আল-কাতিফের অধিপতি সুলাইমান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-হুমায়দির শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের ওপর ক্ষোভ সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। শায়খ সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করার কারণে তিনি তাঁকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে শায়খ পথে প্রচণ্ড গরম ও ক্লান্তির ভয়াবহ কষ্ট সহ্য করে দিরইয়াহতে পালিয়ে যান এবং আবদুল্লাহ বিন সুওয়াইলাম আল-উরাইনির বাড়িতে অবস্থান করেন। যখন শায়খ তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন, তখন ইবনে সুওয়াইলামের কাছে তাঁর ঘরটি সংকীর্ণ মনে হতে লাগল এবং তিনি দিরইয়াহর অধিপতি মুহাম্মদ বিন সাউদের পক্ষ থেকে নিজের প্রাণের ভয় পেলেন। তখন শায়খ তাঁকে নসিহত করলেন এবং তাঁর হৃদয়কে শান্ত করে ভয় দূর করলেন। তিনি বললেন: "আল্লাহ শীঘ্রই আমাদের ও আপনার জন্য মুক্তির পথ করে দেবেন।" ফলে ইবনে সুওয়াইলাম শান্ত হলেন। এরপর আবদুল্লাহ চাইলেন মুহাম্মদ বিন সাউদকে শায়খের অবস্থা জানাতে এবং তাঁকে সাহায্য করতে উৎসাহিত করতে। তিনি তাঁর দুই ভাই এবং তাঁর স্ত্রী "মওদ্বি বিনতে আবি ওয়াহতান আল-জুবায়ের"-এর শরণাপন্ন হলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও সমঝদার। তাঁরা তাঁকে শায়খের অবস্থা এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের ব্যাপারে তাঁর উৎসাহ প্রদানের কথা জানালেন। ফলে আল্লাহ সেই নারীর হৃদয়ে শায়খের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিলেন। এরপর তিনি তাঁর স্বামী মুহাম্মদ বিন সাউদকে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জানালেন এবং তাঁকে বললেন—আর তিনি কতই না মহান কথা বলেছিলেন!—

"এই ব্যক্তি আপনার কাছে এসেছেন! তিনি এমন এক গনিমত (সম্পদ) যা আল্লাহ তাআলা আপনার দিকে চালিত করেছেন। সুতরাং তাঁকে সম্মান ও মর্যাদা দিন এবং তাঁকে সাহায্য করার সুযোগকে লুফে নিন।"

তিনি তাঁর কথা গ্রহণ করলেন এবং আল্লাহ তাঁর অন্তরে শায়খের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিলেন।

এই নেককার নারী কেবল আগের কথাতেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি মুহাম্মদ বিন সাউদকে শায়খের কাছে গিয়ে দেখা করার জন্য উৎসাহিত করলেন—যদিও তিনি এর বিপরীত অর্থাৎ শায়খ তাঁর কাছে আসবেন এমনটি আশা করেছিলেন। তিনি বললেন: "বরং আপনি নিজে উঠে তাঁর কাছে গিয়ে দেখা করুন; সম্ভবত এটি মানুষের কাছে তাঁর মর্যাদা ও সম্মানের কারণ হবে!"

অতঃপর মুহাম্মদ বিন সাউদ তাঁর কাছে গেলেন। যখন তিনি প্রবেশ করলেন, তখন ইবনে সুওয়াইলামের বাড়িটি মুখরিত হয়ে উঠল— "কী এক গুরুতর ঐতিহাসিক মুহূর্ত!" আমির তাঁকে স্বাগত জানালেন এবং বললেন: "কল্যাণ, সম্মান ও নিরাপত্তার সুসংবাদ গ্রহণ করুন!"

শায়খ তাঁকে বললেন: "আর আমিও আপনাকে সম্মান, ক্ষমতা এবং সমগ্র নজদ ভূখণ্ডের ওপর বিজয়ের সুসংবাদ দিচ্ছি। আর এটি হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) বাণী; যে ব্যক্তি এটি শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে, এর ওপর আমল করবে এবং একে সাহায্য করবে, সে এর মাধ্যমে দেশ ও জনগণের মালিক হবে। এটিই হলো তাওহিদের বাণী এবং প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল রাসুল সর্বপ্রথম এই বাণীর দিকেই দাওয়াত দিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১) আশ-শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মিরআতি উলামাইশ শারকি ওয়াল গারবি (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌الأمير شكيب أرسلان

قال في الجزء الرابع من حاضر العالم الإسلامي تحت عنوان "تاريخ نجد الحديث":

طلب محمد بن عبد الوهاب العلم في دمشق ورحل على بغداد والبصرة وتشرب مبادئ الحافظ حجة الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم، وابن عروة الحنبلي وغيرهم من فحول أئمة الحنابلة، وأخذ بإعادة الإسلام لنقاوته الأولى فلذلك يسمي الوهابية مذهبهم عقيدة السلف، ومن هنا أنكر الاعتقاد1 بالأولياء وزيارة القبور والاستغاثة بغير الله، وغير ذلك مما جعله من باب الشرك واستدل على صحة آرائه بالآيات القرآنية والأحاديث المصطفوية ولا أظنه أورد ثمة شيئاً غير ما أورده ابن تيمية.

--------------------------------------------

1 الحق أن الشيخ محمد بن عبد الوهاب أنكر الاستغاثة بالأولياء والزيارة البدعية للقبور المشتملة على دعائهم والذبح لهم والتمسح بأعتابهم والصلاة عندهم.
আমির শাকিব আরসালান

তিনি 'হাজিরুল আলামিল ইসলামি' (ইসলামি বিশ্বের বর্তমান অবস্থা) গ্রন্থের চতুর্থ খণ্ডে "নজদের আধুনিক ইতিহাস" শিরোনামের অধীনে বলেছেন:

মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব দামেস্কে ইলম অন্বেষণ করেন এবং বাগদাদ ও বসরায় সফর করেন। তিনি হাফেজ ও হুজ্জাতুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, তাঁর ছাত্র ইবনুল কায়্যিম, ইবনে উরওয়াহ আল-হাম্বলি এবং হাম্বলি মাজহাবের অন্যান্য শ্রেষ্ঠ ইমামদের নীতিসমূহ গভীরভাবে গ্রহণ করেন। তিনি ইসলামকে তার আদি বিশুদ্ধতায় ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন, এ কারণেই ওয়াহাবিরা তাদের মতবাদকে সালাফদের আকিদা নামে অভিহিত করে। এখান থেকেই তিনি ওলিদের প্রতি (ভুল) বিশ্বাস১, কবর যিয়ারত এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা) সহ অন্যান্য বিষয়গুলোকে প্রত্যাখ্যান করেন, যা তিনি শিরকের অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন। তিনি তাঁর মতামতের সত্যতার পক্ষে কুরআনের আয়াত এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহ থেকে দলিল পেশ করেছেন। আমার মনে হয় না যে, তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহ যা উপস্থাপন করেছেন তার বাইরে নতুন কিছু সেখানে উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

১ প্রকৃত সত্য হলো এই যে, শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ওলিদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা) এবং কবরের সেইসব বিদআতি যিয়ারতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাদের নিকট দোয়া করা, তাদের উদ্দেশ্যে জবেহ করা, তাদের কবরের চৌকাঠ স্পর্শ করা এবং তাদের কবরের পাশে নামাজ পড়া।