(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: -)
الطبقات الكبرى - متمم التابعين   (ابن سعد)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الطبقات الكبرى، القسم المتمم لتابعي أهل المدينة ومن بعدهم

(من ربع الطبقة الثالثة إلى منتصف الطبقة السادسة)

المؤلف: ابن سعد

دراسة وتحقيق: د زياد محمد منصور

أصل التحقيق: رسالة ماجستير، قسم الدراسات العليا - الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، بإشراف د أكرم ضياء العمري

الناشر: مكتبة العلوم والحكم - المدينة المنورة

الطبعة: الثانية، 1408 هـ - 1987 م

عدد الصفحات: 493

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আত-তবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন   (ইবনে সাদ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: আত-তবাকাতুল কুবরা، মদিনার তাবিইন এবং তাদের পরবর্তী উত্তরসূরিদের পরিপূরক অংশ

(তৃতীয় স্তরের এক-চতুর্থাংশ থেকে ষষ্ঠ স্তরের মাঝামাঝি পর্যন্ত)

লেখক: ইবনে সাদ

গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. জিয়াদ মুহাম্মদ মনসুর

সম্পাদনার উৎস: মাস্টার্স থিসিস، উচ্চশিক্ষা বিভাগ - মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়، তত্ত্বাবধানে ড. আকরাম জিয়া আল-উমারি

প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম - মদিনা মুনাওয়ারা

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌تقديم

بقلم فضيلة الدكتور عبد الله بن عبد الله الزّايد

نائب رئيس الجامعة الإسلامية بالمدينة المنوّرة.

 

الحمد لله الموفق لكل خير، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصبحه ومن تبع سُنته إلى يوم الدين.

وبعد: فإن إحياء التراث القديم من أولى ما ينبغي السعي إليه والاهتمام به، لأمور يدركها الباحثون وذوو التخصص.

وإن كتاب الطبقات الكبرى للإمام محمد بن سعد كاتب الواقدي هو من هذا التراث القديم الأم، وقد سبق المستشرقون إلى طباعته منذ أكثر من مائة عام، ثم طبع في بيروت -مرتين- ومصر عن تلك الطبعة.

وجاءت مطبوعة المستشرقين ناقصة من مواضع متعددة، ولم يوفقوا آنذاك لاستكمال الكتاب وسد ثغراته، لنقص في النسخ الخطية التي اعتمدوها، وقد نبهوا إلى وجود هذه الثغرات والأسقاط -وهي متعددة في ثنايا الكتاب-. ومع ذلك فإن كثيراً من الناس كان مغتراً بنسختهم زاعماً أنه عمل استشراقي لا يدخله خلل!!.

وقد وجد المحدَّثون والمؤرخون بغيتهم في هذا الكتاب من قديم الزمن ثم طبع الكتاب فتداوله المحدثون والباحثون ووجدوا فيه ضالتهم، لغزارة مادته، وترتيبها وحسن عرضها وتوثيقها بالرواية والإسناد.
ভূমিকা

লিখেছেন ফযীলাতুশ শাইখ ডক্টর আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ আয-যায়েদ

মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর।

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল মঙ্গলের তৌফিক দানকারী, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং যারা বিচার দিবস পর্যন্ত তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করবে তাদের ওপর।

অতঃপর: প্রাচীন ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ হলো সেই সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যার জন্য প্রচেষ্টা চালানো এবং গুরুত্ব প্রদান করা সর্বাধিক অগ্রগণ্য, এমন কিছু কারণের প্রেক্ষিতে যা গবেষক ও বিশেষজ্ঞগণ অনুধাবন করেন।

ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সাদ কাতিব আল-ওয়াকিদী রচিত 'আত-তাবাকাতুল কুবরা' গ্রন্থটি এই প্রাচীন মূল ঐতিহ্যেরই অংশ। একশ বছরেরও বেশি সময় আগে প্রাচ্যবিদরা এটি মুদ্রণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন, এরপর বৈরুতে -দুইবার- এবং মিশরে সেই সংস্করণের ওপর ভিত্তি করেই এটি মুদ্রিত হয়েছিল।

প্রাচ্যবিদদের মুদ্রিত সংস্করণটি বিভিন্ন স্থানে অপূর্ণাঙ্গ ছিল এবং তারা সেই সময় গ্রন্থটি সম্পূর্ণ করতে এবং এর শূন্যস্থানগুলো পূরণ করতে সক্ষম হননি, কারণ তারা যে পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর নির্ভর করেছিলেন সেগুলোতে ঘাটতি ছিল। তারা নিজেরাও এই শূন্যস্থান ও বিচ্যুতিগুলো সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন—যা বইটির বিভিন্ন অংশে বিদ্যমান। তা সত্ত্বেও অনেক মানুষ তাদের সংস্করণের মাধ্যমে বিভ্রান্ত হয়েছিল এই দাবি করে যে, এটি একটি প্রাচ্যবাদী কাজ যাতে কোনো ত্রুটি থাকতে পারে না!!

মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকগণ প্রাচীনকাল থেকেই এই গ্রন্থের মাঝে তাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তু খুঁজে পেয়েছেন। অতঃপর যখন বইটি মুদ্রিত হলো, তখন মুহাদ্দিস ও গবেষকগণ এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু করলেন এবং এর মাঝে তাদের উদ্দিষ্ট লক্ষ্য খুঁজে পেলেন। এর কারণ হলো এর তথ্যের প্রাচুর্য, বিন্যাস, উপস্থাপনার চমৎকারিত্ব এবং বর্ণনা ও সনদের মাধ্যমে এর নির্ভরযোগ্যতা।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٦)
وإن كتاباً بهذه المثابة لجدير بالاهتمام كل الاهتمام: طباعة محققة تحقيقاً علمياً دقيقاً، وفنياً أنيقاً. بأقلام مسلمة أمينة خبيرة، مع السعي الجّاد الحثيث وراء بقاياه وتتماته، ليكون الكتاب ماثلاً بين أيدي ورّاده كما صنفه مؤلفه وأراده له.

وإن من نعم الله تعالى علينا أن وفقنا لسد قسم من هذه الأسقاط والثغرات، بنشر هذه القطعة التي تتم الجزء الخامس من الطبعة البيروتية، من آخر ترجمة عمر بن عبد العزيز فما بعدها، وهو هذا الجزء النفيس الذي نقدمه للقراء اليوم، ضمن سلسلة مطبوعاتنا التي صدر منها:

1 - (الإيمان) لابن منده، بتحقيق فضيلة الدكتور علي ناصر الفقيهي.

2 - (منتخب كتاب أزواج النبي صلى الله عليه وسلم لمحمد بن الحسن بن زبالة، تحقيق فضيلة الدكتور أكرم ضياء العمري. وكلاهما طبع بمطبعة الجامعة الإسلامية.

3 - أبو زرعة الرازي وجهوده في السنة النبوية، مع تحقيق كتابه (أسامي الضعفاء) و (وأجوبته عن أسئلة البزدعي) لفضيلة الدكتور سعدي مهدي الهاشمي.

4 - (البيهقي وموقفه من الإلهيات) لفضيلة الدكتور أحمد عطية الغامدي.

5 - (مرويات غزوة بني المصطلق) لأستاذ الشيخ إبراهيم القريبي. وكتابنا هذا هو الحلقة السادسة من هذه السلسة.

والكتاب السابع فيها هو (سؤالات أبي عبيد الآجري لأبي داود السجستاني) تحقيق الأستاذ الشيخ محمد علي قاسم العمري.

يرى القارئ لهذا القسم الذي نقدمه من طبقات ابن سعد أنه فوت كبير من الطبقات السابقة، فقد حوى سبع ترجمات وأربعمائة ترجمة، هي تراجم
এমন মর্যাদার একটি গ্রন্থ সর্বতোভাবে গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য: অর্থাৎ একটি নির্ভুল বৈজ্ঞানিক ও শৈল্পিকভাবে মার্জিত সম্পাদিত মুদ্রণ। এটি বিশ্বস্ত ও বিশেষজ্ঞ মুসলিম গবেষকদের দ্বারা প্রস্তুতকৃত, যার সাথে এর অবশিষ্টাংশ এবং সম্পূরক অংশগুলো খুঁজে বের করার জন্য নিরলস ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, যেন বইটি তার পাঠকদের সামনে এমনভাবে উপস্থাপিত হয় যেভাবে এর লেখক এটি সংকলন করেছিলেন এবং চেয়েছিলেন।

আমাদের প্রতি মহান আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত এই যে, তিনি আমাদের এই বিচ্যুতি ও শূন্যস্থানগুলোর একটি অংশ পূরণের তাওফীক দান করেছেন। এটি সেই অংশটি প্রকাশের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে যা বৈরুত সংস্করণের পঞ্চম খণ্ডকে পূর্ণতা দান করে, যেখানে উমর ইবনে আবদুল আজিজের জীবনীর শেষ অংশ থেকে পরবর্তী অংশগুলো রয়েছে। এটি সেই মূল্যবান খণ্ড যা আমরা আজ পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করছি, আমাদের প্রকাশনা সিরিজের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে যেখান থেকে ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে:

১ - (আল-ঈমান) - ইবনে মানদাহ রচিত, সম্পাদনায় ডক্টর আলী নাসির আল-ফাকীহী।

২ - (মুহাম্মাদ বিন হাসান বিন যাবালাহ রচিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের বিষয়ক গ্রন্থের নির্বাচিত অংশ), সম্পাদনায় ডক্টর আকরাম যিয়া আল-উমারী। উভয়টি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপাখানায় মুদ্রিত হয়েছে।

৩ - আবু যুরআহ আর-রাযী এবং সুন্নাহর ক্ষেত্রে তাঁর অবদান, সাথে তাঁর গ্রন্থ (আসামী উদ-দুয়াফা) এবং (আল-বাযদাওয়ীর প্রশ্নের উত্তরসমূহ) এর সম্পাদনা - ডক্টর সা’দী মাহদী আল-হাশিমী কর্তৃক।

৪ - (আল-বায়হাকী এবং ইলাহিয়্যাত বিষয়ে তাঁর অবস্থান) - ডক্টর আহমাদ আতিয়্যাহ আল-গামিদী কর্তৃক।

৫ - (গাযওয়া বনীল মুসতালিকের বর্ণনাগুলো) - শায়খ ইবরাহীম আল-কুরাইবী কর্তৃক। আর আমাদের এই বইটি এই সিরিজের ষষ্ঠ অংশ।

আর এর সপ্তম গ্রন্থটি হলো (আবু দাউদ আস-সিজিস্তানীকে আবু উবাইদ আল-আজুরীর প্রশ্নসমূহ), সম্পাদনায় শায়খ মুহাম্মাদ আলী কাসিম আল-উমারী।

ইবনে সা’দের ‘তাবাকাত’-এর যে অংশটি আমরা উপস্থাপন করছি, তাতে পাঠক দেখতে পাবেন যে এটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলো থেকে বাদ পড়া একটি বিশাল অংশ। এতে চারশত সাতটি জীবনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা মূলত...
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٧)
لخيرة رجالات المدينة المنوّرة من كبار التابعين وصغارهم، لعل أقدمهم وفاة هو عبد الرحمن بن مسور (90 هـ) وآخرهم وفاة هو شعيب بن طلحة (174 أو 175 هـ).

ويجد فيه من تراجم الأئمة: ترجمة ابن شهاب الزهري -وهي أطول ترجمة فيه- وابن أبي ذئب، وربيعة الرأي.

ومن تراجم العُبّاد الصالحين: تراجم الأخوة الثلاثة النجوم الزواهر من آل المنكدر محمد وعمر وأبي بكر، وغيرهم كثير.

ومن تراجم الأشراف: ترجمة عبد الله بن حسن وولديه محمد النفس الزكية، وإبراهيم، ووقائعهم مع بني العباس مشهورة.

وفيه من التراجم النادرة التي لم يقف المحقق على ذكر لصاحبها في موضع آخر: ترجمة قُرين بن المطلب بن السائب بن أبي وداعة، وأبوه المطلب هو الذي زوجّه سعيد بن المسيب، ابنته، في قصة مشهورة له، فأنجبا هذا الرجل (قرين).

فهو -إذاً- جزء تتجلى أهميته من حيث أنه متمم لكتاب أصيل في بابه ومادته، ومن حيث احتواؤه لتراجم عدد كبير من رجالات أعظم مركز إسلامي علماً وحضارة في تلك الفترة.

ولذلك كان إخراجه لزاماً على عارفيه، وقد جعل الله تعالى لجامعتنا قصب السبق لذلك، والحمد لله. كما كان من توفيق الله عز وجل أن هيأ لتحقيقه شاباً جلداً نفاذاً من مشكلاته، دؤوباً على العمل والتحقيق، فقدم في أوله ترجمة للمؤلف، ودراسة عن هذا القسم خاصة، وفكرة موجز عن الطبعات السابقة.

ثم قدم للقراء نص الكتاب نصاً سليماً بالرغم من أن نسخته وحيدة غير متعددة، وحققه وضبط أعلامه وشرح غريبه، وخرج أحاديثه وتتبع حال المترجم عند أئمة الجرح ونقل أقوالهم في موافقة ابن سعد أو مخالفته عندما يتكلم عن
মদিনা মুনাওয়ারার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের জন্য, যারা প্রবীণ এবং নবীন তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত। তাদের মধ্যে সম্ভবত যার মৃত্যু সর্বপ্রথম হয়েছে তিনি হলেন আবদুর রহমান বিন মিসওয়ার (৯০ হিজরি) এবং সর্বশেষ যার মৃত্যু হয়েছে তিনি হলেন শুআইব বিন তালহা (১৭৪ বা ১৭৫ হিজরি)।

এতে ইমামগণের জীবনীর মধ্য থেকে পাওয়া যাবে: ইবনে শিহাব আল-জুহরির জীবনী—যা এই গ্রন্থের দীর্ঘতম জীবনী—এবং ইবনে আবি জিব ও রাবিয়াতুর রায়ের জীবনী।

নেককার ইবাদতগুজারদের জীবনী থেকে এতে রয়েছে: আল-মুনকাদির পরিবারের উজ্জ্বল নক্ষত্র সমতুল্য তিন ভাই মুহাম্মদ, উমর ও আবু বকরের জীবনী, এবং আরও অনেকের।

সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনী থেকে এতে রয়েছে: আবদুল্লাহ বিন হাসান এবং তাঁর দুই পুত্র মুহাম্মদ আন-নাফস আল-জাকিয়া ও ইব্রাহিমের জীবনী; বনু আব্বাসের সাথে তাঁদের ঘটনাবলী সুপরিচিত।

এতে এমন কিছু বিরল জীবনী রয়েছে যেগুলোর কথা গবেষক অন্য কোথাও পাননি: যেমন কুরাইন বিন মুত্তালিব বিন সায়েব বিন আবি ওয়াদাআ-এর জীবনী। তাঁর পিতা মুত্তালিব হলেন সেই ব্যক্তি, যাঁর সাথে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এক বিখ্যাত ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁর কন্যার বিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাঁদের ঘরেই এই ব্যক্তি (কুরাইন) জন্ম গ্রহণ করেন।

সুতরাং এটি এমন একটি খণ্ড যার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় এই দিক থেকে যে, এটি তার বিষয়বস্তু ও উপাদানের ক্ষেত্রে একটি মৌলিক গ্রন্থের পরিপূরক। এছাড়া এতে তৎকালীন জ্ঞান ও সভ্যতার শ্রেষ্ঠতম ইসলামী কেন্দ্রের বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিত্বের জীবনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তাই যারা এটি সম্পর্কে জানেন, তাদের জন্য এটি প্রকাশ করা অপরিহার্য ছিল। মহান আল্লাহ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে এই কাজের ক্ষেত্রে অগ্রগামী হওয়ার তাওফিক দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ। এটিও মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ছিল যে, তিনি এর সম্পাদনার জন্য এমন এক পরিশ্রমী যুবককে প্রস্তুত করেছেন, যিনি এর জটিলতাগুলো নিরসনে দক্ষ এবং কাজ ও গবেষণায় অবিচল। তিনি এর শুরুতে লেখকের একটি জীবনী, বিশেষভাবে এই অংশটি নিয়ে একটি পর্যালোচনা এবং পূর্ববর্তী সংস্করণগুলো সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা পেশ করেছেন।

অতঃপর তিনি পাঠকদের সামনে বইটির একটি নির্ভুল পাঠ উপস্থাপন করেছেন, যদিও এর পাণ্ডুলিপিটি ছিল একক। তিনি এটি সম্পাদন করেছেন, ব্যক্তিনামগুলো নির্ভুল করেছেন, কঠিন শব্দগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং এর হাদিসগুলোর উৎস নির্ণয় করেছেন। এছাড়া তিনি সমালোচক ইমামগণের নিকট জীবনীকারদের অবস্থা অনুসরণ করেছেন এবং ইবনে সা’দ যখন কোনো বিষয়ে আলোচনা করেন, তখন তাঁর সাথে অন্যান্যদের একমত হওয়া বা দ্বিমত পোষণ করার বিষয়ে তাঁদের বক্তব্যগুলো উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٨)
الرجل جرحاً وتعديلاً، أو في الزيادة عليه حينما يقتصر ابن سعد على قوله (قليل الحديث) أو (كثير الحديث) مثلاً ولا يقول: ثقة، أ، ضعيف. فيبين محققه حال الرجل من هذه الجهة، كل ذلك لييسر للقارئ الاستفادة من الكتب، وليزيده منها.

جزاه الله خيراً وأثابه على ما بذل من جهد وعناء.

 

وختاماً: نحمد الله الكريم على أفضاله علينا، ثم نزجي شكرنا لجلالة الملك خالد وسمو ولي العهد على سعيهما قدماً بالجامعة الإسلامية لتكون في مقدمة زميلاتها من جامعات المملكة، في ميدان العلوم الإسلامية والعربية والإعلامية، زادهما الله توفيقاً لكل خير.

والحمد لله رب العالمين
একজন ব্যক্তির নির্ভরযোগ্যতা ও অযোগ্যতা (জারহ ও তাদীল) নিরূপণ করা, অথবা তার ওপর অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করা—যেমন যখন ইবনে সাদ কেবল 'অল্প হাদিস বর্ণনাকারী' বা 'অধিক হাদিস বর্ণনাকারী' বলার ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন এবং 'নির্ভরযোগ্য' বা 'দুর্বল' বলেন না। তখন এর গবেষক এই দিক থেকে উক্ত ব্যক্তির অবস্থা স্পষ্ট করেন; এই সবকিছুই করা হয়েছে যাতে পাঠকের জন্য এই গ্রন্থগুলো থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয় এবং এর মাধ্যমে তাদের জ্ঞান আরও বৃদ্ধি পায়।

আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তিনি যে শ্রম ও কষ্ট স্বীকার করেছেন তার জন্য তাকে সওয়াব দান করুন।

 

পরিশেষে: আমাদের প্রতি মহান আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য আমরা তাঁর প্রশংসা করছি, অতঃপর আমরা মহামান্য বাদশাহ খালিদ এবং মাননীয় যুবরাজকে ধন্যবাদ জানাই ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার জন্য, যাতে এটি ইসলামি বিজ্ঞান, আরবি ভাষা ও গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে রাজ্যের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে অগ্রগণ্য হতে পারে; আল্লাহ তাঁদের উভয়কে প্রতিটি কল্যাণের জন্য অধিক তাওফিক দান করুন।

আর সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌بين يدي الكتاب

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا المرسلين، سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

وبعد:

فإن من فضل الله على الأمة الإسلامية خاصة، وعلى الناس عامة، أن حفظ لهم هذا الدين. وذلك بحفظ الكتاب والسنة، وتسخير العلماء لخدمتهما عبر عصور طويلة.

ولما كانت السنة النبوية هي المصدر التشريعي الثاني بعد كتاب الله، إذ جاءت مفصلة لمجمله، وموضحة لمشكله، ومخصصة لعامه، ومقيدة لمطلقه لذلك عظمت منزلتها، فهي المصدر الثاني للتشريع، ولا يمكن فهم الإسلام بدونها.

ومن هذا المنطلق سار موكب العلماء، للحفاظ على دينهم القويم، ونزلوا في معترك العمل الدائب، لتمحيص الروايات التي تصلهم عن النبي صلى الله عليه وسلم وآثار الصحابة، وفتاوى الفقهاء، والروايات التاريخية … الخ.

وكان جلُّ اهتمامهم منصباً على دراسة الحديث في نقله بالأسانيد، وهي مزية للأمة الإسلامية لم تعرفها الأمم الأخرى، فأمعنوا النظر في هذه الأسانيد، وقوّموا رجالها لتمييز صحيح الحديث من سقيمه، ومنقطعه من موصوله، فنشأت
গ্রন্থের উপক্রমণিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের প্রধান আমাদের নেতা মুহাম্মাদ-এর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সকল সঙ্গী-সাথী এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের সবার ওপর।

অতঃপর:

বিশেষ করে মুসলিম উম্মাহর ওপর এবং সাধারণভাবে সকল মানুষের ওপর আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ হলো যে, তিনি তাদের জন্য এই দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছেন। আর তা সম্পন্ন হয়েছে কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহর সংরক্ষণের মাধ্যমে এবং দীর্ঘকাল ধরে এই দুইয়ের সেবায় আলেমদের নিয়োজিত করার মাধ্যমে।

যেহেতু সুন্নাহে নববী হলো আল্লাহর কিতাবের পর শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস—কেননা এটি কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে, অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করে, সাধারণ বিষয়গুলোকে নির্দিষ্ট করে এবং শর্তহীন বিষয়গুলোকে শর্তযুক্ত করে—তাই এর মর্যাদা অত্যন্ত মহান। এটি শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস এবং এটি ছাড়া ইসলাম অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ওলামায়ে কেরামের কাফেলা তাঁদের সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনকে রক্ষা করার জন্য অগ্রসর হয়েছেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ, সাহাবীগণের আসর (কথা ও কাজ), ফকীহগণের ফতোয়া এবং ঐতিহাসিক বর্ণনা ... ইত্যাদি যাচাই-বাছাই করার জন্য নিরলস কর্মতৎপরতায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

তাঁদের প্রধান মনোযোগ নিবদ্ধ ছিল সনদ বা সূত্রসহ হাদীস বর্ণনার অধ্যয়নের ওপর, যা মুসলিম উম্মাহর এমন এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য যা অন্য কোনো জাতি জানত না। তাঁরা এই সনদগুলোর ওপর গভীর দৃষ্টিপাত করেছেন এবং হাদীসের বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা এবং বিচ্ছিন্ন ও অবিচ্ছিন্ন বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য বর্ণনাকারীদের মূল্যায়ন করেছেন। এর ফলে উদ্ভব ঘটেছে...
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ١٠)
علوم الحديث المختلفة، منها ما يتعلق بهذه الأسانيد، كعلم الطبقات والجرح والتعديل والكنى والألقاب وغيرها، ومنها ما يتعلق بدراسة المتون. والمهم في دراستي علم الطبقات وعلم الجرح والتعديل، اللذان استقلا بمصنفات خاصة، ونبغ فيهما نقاد أفذاذ تكلموا في الرواة وأحوالهم، وحكموا على كل راوٍ بالحكم الذي يستحقه، أمثال: يحي القطان، وابن معين، وابن المديني، وابن حنبل، وأبي حاتم وأبي زرعة الرازيين، والبخاري مسلم وغيرهم من النقاد الأوائل. وكان من بين هؤلاء النقاد المتقدمين، محمد بن سعد مؤلف (الطبقات الكبرى) أهم كتب الطبقات المبكرة، وقد استعمل فيه ألفاظ الجرح والتعديل عند إرادته الحكم على الرجل. فاشتمل على مادة جيدة في علم الجرح والتعديل، واعتبر السخاويّ كلام ابن سعد في نقد الرجال كلاماً جيداً مقبولاً(1). إلاَّ أن المعلومات المتعلقة بمادَتْيَ النسب، والتاريخ الثقافي والحضاري، طغت لسعتها وغزارتها على مادة الجرح والتعديل، فاشتهر الكتاب في أوساط المؤرخين أكثر من المحدثين.

ويعتبر كتاب (الطبقات الكبرى) لابن سعد من أقدم ما وصل إلينا من كتب الطبقات، لأن كتب التي دونت قبله على نظام الطبقات مازالت مفقودة(2).

كما تظهر أهمية الكتاب في تنوع مادته، وفي دقة المؤلف بذكر الأسانيد -وفق منهج المحدثين- للروايات الحديثية، والتأريخية، وحتى الأخبار المتعلقة بالأوصاف الشخصية.

ولعل أهمية تكمن أيضاً في حسن اختيار المؤلف لمعلوماته المتنوعة من مصادرها المتخصصة، بأمانة علمية متناهية.

ومع هذا كله فلم يحظ الكتاب بالعناية العلمية التي يستحقها. فكان أول

--------------------------------------------

(1) انظر: الإعلان بالتوبيخ لمن ذم أهل التاريخ 342.

(2) انظر: بحوث في تاريخ السنة المشرفة للدكتور / أكرم ضياء العمري 75 - 76.

হাদীস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা রয়েছে। তন্মধ্যে কিছু এই সনদগুলোর সাথে সম্পর্কিত, যেমন: স্তরের জ্ঞান (ইলমুত তাবাকাত), সমালোচনা ও গুণাগুণ বিশ্লেষণ (আল-জারহু ওয়াত-তাদিল), উপনাম (আল-কুনা) ও লকব (আল-আলকাব) ইত্যাদি। আর কিছু শাখা মতনের (মূল পাঠের) পর্যালোচনার সাথে সম্পর্কিত। তাবাকাত শাস্ত্র এবং জারহ-তাদিল শাস্ত্রের অধ্যয়নে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, এ দুটি বিষয়ের ওপর স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়েছে এবং এতে এমন সব অনন্য দক্ষ সমালোচক আবির্ভূত হয়েছেন যারা বর্ণনাকারী এবং তাদের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা প্রত্যেক বর্ণনাকারীর ব্যাপারে তার প্রাপ্য যথাযথ হুকুম প্রদান করেছেন। যেমন: ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, ইবনে মাঈন, ইবনে আল-মাদিনী, ইবনে হাম্বল, আবু হাতিম ও আবু যুরআ আর-রাযীদ্বয়, বুখারী, মুসলিম এবং পূর্ববর্তী অন্যান্য সমালোচকগণ। এই পূর্ববর্তী সমালোচকদের মধ্যে মুহাম্মাদ ইবনে সাদ অন্যতম, যিনি প্রাথমিক যুগের তাবাকাত শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ কিতাব 'আত-তাবাকাতুল কুবরা'-এর রচয়িতা। তিনি কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে হুকুম প্রদানের ইচ্ছায় এতে জারহ-তাদিলের শব্দাবলি ব্যবহার করেছেন। ফলে এটি জারহ-তাদিল শাস্ত্রের উত্তম বিষয়বস্তু ধারণ করেছে। ইমাম সাখাবী বর্ণনাকারীদের সমালোচনায় ইবনে সাদের কথাকে উত্তম ও গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করেছেন(১)। তবে বংশপরম্পরা এবং সাংস্কৃতিক ও সভ্যতার ইতিহাসের তথ্যের বিশালতা ও প্রাচুর্যের কারণে তা জারহ-তাদিলের বিষয়বস্তুর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে। ফলে গ্রন্থটি মুহাদ্দিসদের তুলনায় ঐতিহাসিকদের নিকট অধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।

ইবনে সাদের 'আত-তাবাকাতুল কুবরা' গ্রন্থটি আমাদের কাছে পৌঁছানো তাবাকাত বিষয়ক প্রাচীনতম গ্রন্থগুলোর অন্যতম। কারণ এর পূর্বে তাবাকাত পদ্ধতিতে সংকলিত গ্রন্থগুলো এখনো নিখোঁজ রয়েছে(২)।

গ্রন্থটির গুরুত্ব এর বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্যে এবং মুহাদ্দিসদের মানহাজ অনুযায়ী হাদীসের বর্ণনা, ঐতিহাসিক তথ্যাদি এমনকি ব্যক্তিগত গুণাবলি সংক্রান্ত সংবাদের ক্ষেত্রে লেখকের সূক্ষ্মভাবে সনদ উল্লেখ করার মধ্যেও পরিলক্ষিত হয়।

সম্ভবত এর গুরুত্ব লেখকের বিশেষায়িত উৎসগুলো থেকে চরম বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার সাথে তার বিবিধ তথ্য নিপুণভাবে নির্বাচনের মধ্যেও নিহিত রয়েছে।

এতদসত্ত্বেও গ্রন্থটি তার প্রাপ্য ইলমী মনোযোগ লাভ করেনি। এটি ছিল প্রথম

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ই'লান বিত-তাওবীখ লিমান যাম্মা আহলাত-তারীখ, ৩৪২।

(২) দেখুন: বুহুস ফী তারীখিস সুন্নাহ আল-মুশাররাফাহ, ডক্টর আকরাম যিয়া আল-উমারী, ৭৫ - ৭৬।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ١١)
من بادر إلى نشره، طائفة من المستشرقين، غير أنهم لم يعطوا المؤلف حقه في الترجمة، ولا الكتاب حقه في التحقيق. وعلى هذه الصورة طبع الكتاب في (ليدن) ولكن يبقى لهم فضل السبق في نشره على ضخامة حجمه. وقد فقدت صفحات كثيرة من تابعي أهل المدينة، في المجلد الخامس من الكتاب. لفت نظري وأرشدني إلى هذا السقط -مشكوراً- (الدكتور أكرم ضياء العمري) فوقفت على قطعة الساقطة، وحددت بدايتها ونهايتها، ورغبت في تحقيقها لأمور منها:

1 - أنها تكمل كتاباً هاماً اعتمده أصحاب المغازي والسير، والمؤرخون والنسابون وأئمة الجرح والتعديل.

2 - أنها من أقدم وأوفى ما كتب في التاريخ الثقافي للمدينة المنورة في القرنين الأولين من الهجرة، وقد فقدت المؤلفات المبكرة التي تناولت التاريخ الثقافي للمدينة، مما يجعل لهذه القطعة أهمية خاصة.

ولما شرعتُ بتحقيق واجهتني بعض الصعوبات التي أمكنني التغلب على بعضها، وهي:

1 - كون النسخة الفريدة. إذ كانت الصعوبة تمكن في مقابلة النصوص بالكتب اللاحقة.

2 - طول النسخة الخطية، البالغة اثنتين وثلاثين ومائتي صفحة.

3 - وجود أسماء مبهمة لبعض الأعلام، الذين لا يمكن تمييزهم إلا بعد تعب ودقة فحص، وإمعان نظر. فالمؤلف يذكر مثلاً، أبا سلمة الذي يروي جعفر بن سليمان، وعنه أحمد ابن أبي إسحاق العبدي، والمُكَنَّوْن بأبي سلمة كثيرون، فلم أستطيع تمييزه لو لم يصرح أبو نعيم باسمه في الحلية.

4 - وقد ترد بعض الأسماء المختصرة، التي تتعب الباحث في معرفة الاسم الكامل للحصول على المعلومات المتعلقة به والتي يحتاجها الباحث. فصاحب الترجمة 161 (محمد بن حلحلة الدَّيلي) بحثت عنه في الكتب
একদল প্রাচ্যবিদ এটি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে তাঁরা গ্রন্থকারের জীবনীর ক্ষেত্রে তাঁর প্রাপ্য যথাযথ মর্যাদা দেননি এবং কিতাবটির সঠিক সম্পাদনার ক্ষেত্রেও হক আদায় করেননি। এই অবস্থায় কিতাবটি (লাইডেন) থেকে মুদ্রিত হয়, তবে বিশাল কলেবর হওয়া সত্ত্বেও এটি প্রকাশের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনের কৃতিত্ব তাঁদের প্রাপ্য। কিতাবটির পঞ্চম খণ্ডে মদিনার তাবিঈদের বর্ণনাসংবলিত অনেকগুলো পৃষ্ঠা হারিয়ে গিয়েছিল। এই বিচ্যুতি বা বাদ পড়ার বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর করেন এবং আমাকে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন—যিনি প্রশংসার যোগ্য—(ডক্টর আকরাম জিয়া আল-উমারি)। অতঃপর আমি হারিয়ে যাওয়া অংশটি খুঁজে পাই এবং এর শুরু ও শেষ নির্ধারণ করি। বেশ কিছু কারণে আমি এটি সম্পাদনা করার ইচ্ছা পোষণ করি, যার মধ্যে রয়েছে:

1 - এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কিতাবকে পূর্ণতা দান করে, যার ওপর মাগাজি ও সিরাত রচয়িতাগণ, ঐতিহাসিকগণ, বংশতত্ত্ববিদগণ এবং জারাহ-তাদিলের ইমামগণ নির্ভর করেছেন।

2 - হিজরি প্রথম দুই শতাব্দীতে মদিনা মুনাওয়ারার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের ওপর এটি অন্যতম প্রাচীন ও পরিপূর্ণ লেখা। মদিনার সাংস্কৃতিক ইতিহাস বিষয়ক প্রাথমিক যুগের কিতাবগুলো হারিয়ে যাওয়ার কারণে এই খণ্ডটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

যখন আমি সম্পাদনার কাজ শুরু করলাম, তখন কিছু সমস্যার সম্মুখীন হলাম, যার কয়েকটিকে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। সেগুলো হলো:

1 - পান্ডুলিপিটি ছিল একক কপি। ফলে পরবর্তী কিতাবগুলোর সাথে এর পাঠ্যসমূহ মিলিয়ে দেখার ক্ষেত্রে অসুবিধা দেখা দিয়েছিল।

2 - হাতে লেখা পান্ডুলিপিটি ছিল দীর্ঘ, যার পৃষ্ঠাসংখ্যা ছিল দুইশত বত্রিশ।

3 - কিছু ব্যক্তির অস্পষ্ট নামের উপস্থিতি, যাঁদেরকে কঠোর পরিশ্রম, সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই এবং গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া শনাক্ত করা সম্ভব নয়। যেমন, লেখক আবু সালামার কথা উল্লেখ করেছেন যিনি জাফর ইবনে সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেন এবং তাঁর থেকে আহমাদ ইবনে আবি ইসহাক আল-আবদি বর্ণনা করেন। আবু সালামা উপনামধারী অনেক ব্যক্তি রয়েছেন। ফলে আবু নুআইম যদি তাঁর 'হিলইয়া' কিতাবে তাঁর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করতেন, তবে আমি তাঁকে শনাক্ত করতে সক্ষম হতাম না।

4 - কখনো কখনো কিছু সংক্ষিপ্ত নাম আসে, যা একজন গবেষককে তাঁর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য পূর্ণ নাম খুঁজে বের করতে ক্লান্ত করে দেয়। যেমন ১৬১ নম্বর জীবনীতে উল্লিখিত ব্যক্তি (মুহাম্মাদ ইবনে হালহালা আদ-দাইলি), আমি তাঁর সম্পর্কে বিভিন্ন কিতাবে অনুসন্ধান করেছি...
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ١٢)
المختلفة، فلم أعثر على ترجمته، وبعد مُضِيّ فترة، وجدته في أحد الكتب وأنا أبحث عن راوٍ آخر، فوقع نظري على كلمة (حلحلة) فتذكرت صاحبي الذي كنت أبحث عنه، وإذ هو (محمد بن عمرو بن حلحلة).

5 - وجود عدد لا بأس به من أصحاب التراجم في هذه القطعة لم أعثر على تراجمهم في الكتب الأخرى.

ولا يسعني في خاتمة هذا التقديم إلا التوجه بفائق الاحترام والتقدير، للرعاية الأبوية والعناية العلمية، اللتين حباني بهما فضيلة الدكتور (أكرم ضياء العمري) طيلة فترة إشرافه على هذه الرسالة.

وأتقدم بجزيل الشكري، للأستاذين الفاضلين: الدكتور (السيد محمد الحكيم)، والشيخ (حماد الأنصاري، تقديراً للجهد الذي بذلاه في إعدادي خلال السنة التحضيرية.

ولا يفوتني التنزيه بفضل الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة علَّي، حيث أحاطتني بالرعاية خلال مراحلة الدراسة، وتولت نشر رسالتي هذه، التي تقدمت بها لنيل مرتبة الماجستير من قسم الدراسات العليا فيها. وفق الله القائمين عليها لما يحبه ويرضاه.

وآخر دعونا أن الحمد لله رب العالمين.
বিভিন্ন গ্রন্থে, আমি তার জীবনী খুঁজে পাইনি; এবং কিছুকাল অতিবাহিত হওয়ার পর, অন্য একজন বর্ণনাকারীর সন্ধান করার সময় আমি একটি কিতাবে তাকে খুঁজে পেলাম। আমার দৃষ্টি (হালহালা) শব্দটির ওপর পড়ল, তখন আমার সেই ব্যক্তির কথা মনে পড়ল যাকে আমি খুঁজছিলাম; আর তিনি হলেন (মুহাম্মাদ বিন আমর বিন হালহালা)।

৫ - এই অংশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এমন জীবনী রয়েছে যাদের পরিচিতি আমি অন্য কোনো গ্রন্থে খুঁজে পাইনি।

এই উপক্রমণিকার শেষে আমি সেই পিতৃসুলভ তত্ত্বাবধান ও জ্ঞানতাত্ত্বিক যত্নের জন্য গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, যা শ্রদ্ধেয় ডক্টর (আকরাম জিয়া আল-উমারি) এই গবেষণাপত্রটির তত্ত্বাবধানের পুরো সময় জুড়ে আমাকে প্রদান করেছেন।

আমি দুই জন সম্মানিত উস্তাদের প্রতি আন্তরিক শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি: ডক্টর (আস-সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ আল-হাকিম) এবং শায়খ (হাম্মাদ আল-আনসারি), প্রস্তুতিমূলক বর্ষে আমাকে গড়ে তোলার পেছনে তাদের মেহনতের কদরস্বরূপ।

মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করতেও আমি ভুলছি না, যা আমার শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আমাকে আগলে রেখেছিল এবং আমার এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যা আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর গবেষণা বিভাগ হতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য পেশ করেছিলাম। আল্লাহ এর পরিচালকদের সেই কাজের তাওফিক দান করুন যা তিনি ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।

আর আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ١٣)
المقَدّمَة

تشتمل على:

أولاً- حياة المؤلف؛ ودراسة تحليلية لهذا القسم الساقط من كتاب (الطبقات الكبرى) من تابعي أهل المدينة

ثانيا- دراسة الكتاب
ভূমিকা

এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

প্রথমত- লেখকের জীবনী; এবং মদিনার তাবেঈগণের জীবনী সংবলিত (আল-তাবাকাত আল-কুবরা) কিতাবের এই বিলুপ্ত অংশের বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়ন

দ্বিতীয়ত- কিতাবটির পর্যালোচনা
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ١٥)
أولاً- حياة المؤلف
প্রথমত- লেখকের জীবনী
(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌أولاً حياة المؤلّف

‌‌اسمه ونسبه:

هو محمد بن سعد بن منيع الهاشمي مولاهم، أبو عبد الله البصري، المعروف بابن سعد(1)، وبكاتب الواقدي، لكونه لازم شيخه محمد بن عمر الواقدي زمناً طويلاً، وكتب له(2).

وقد ظهر بين المصادر خلاف في نسبه، فورد في بعضها أن ولاءه لبني هاشم(3)، حيث كان مولَّى للحسين بن عبد الله(4) بن عبيد الله بن العباس(5)، أو أن أحد أجداده مولى الحسين(6)، وذكرت بعض المصادر أنه زُهريّ

--------------------------------------------

(1) انظر هدية العارفين 2/ 11.

(2) انظر: تاريخ بغداد 5/ 321. ووفيات الأعيان ى 4/ 351. والأعلام للزركلي 7/ 6. والرسالة المستطرفة 138.

(3) انظر: تاريخ بغداد 5/ 321. وتهذيب الكمال للمزّي 6/ 600. وتذكرة الحفاظ للذهبي 2/ 425. وتذهيب التهذيب له 3/ 206 أ. والوافي بالوفيات الصفدي 3/ 88. وتهذيب التهذيب لابن حجر 9/ 182. والنجوم الزاهرة لابن تغري بردي 2/ 258. والرسالة المستطرفة 138.

(4) ستأتي ترجمته رقم 133.

(5) انظر: طبقات ابن سعد 7/ 364. وتاريخ بغداد 5/ 351.

(6) انظر: المغازي الأولى ومؤلفوها لهورفتس 126. ومقدمة طبقات ابن سعد -دار صادر- لإحسان عباس 1/ 6.

প্রথমত: গ্রন্থকারের জীবনকথা

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন সা'দ বিন মানি' আল-হাশেমি (তাদের মুক্তদাস), আবু আব্দুল্লাহ আল-বাসরি, যিনি ইবনে সা'দ(১) নামে এবং 'কাতেবুল ওয়াকিদি' (ওয়াকিদির লেখক) হিসেবে পরিচিত; কারণ তিনি দীর্ঘকাল তাঁর উস্তাদ মুহাম্মাদ বিন উমর আল-ওয়াকিদির সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর জন্য লেখালেখি করতেন(২)।

তাঁর বংশপরিচয়ের ক্ষেত্রে উৎসগ্রন্থগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যায়। কোনো কোনো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর বংশীয় সম্পর্ক (বিলা) বনু হাশেমের সাথে(৩); কেননা তিনি আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ(৪) বিন উবাইদুল্লাহ বিন আল-আব্বাসের মুক্তদাস ছিলেন(৫), অথবা তাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ হুসাইনের মুক্তদাস ছিলেন(৬)। আবার কোনো কোনো উৎসগ্রন্থে তাঁকে 'জুহরি' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: হাদিয়াতুল আরিফীন ২/১১।

(২) দেখুন: তারিখু বাগদাদ ৫/৩২১; ওফায়াতুল আইয়ান ৪/৩৫১; আল-আ'লাম লিয-যিরিকলি ৭/৬; এবং আর-রিসালাতুল মুসতাতরিফাহ ১৩৮।

(৩) দেখুন: তারিখু বাগদাদ ৫/৩২১; মিযযি-কৃত তাহযিবুল কামাল ৬/৬০০; যাহাবি-কৃত তাযকিরাতুল হুফফায ২/৪২৫; তাঁর কৃত তাযহিবুত তাহযিব ৩/২০৬ (ক); সাফাদি-কৃত আল-ওয়াফি বিল ওফায়াত ৩/৮৮; ইবনে হাজার-কৃত তাহযিবুত তাহযিব ৯/১৮২; ইবনে তাগরি বারদি-কৃত আন-নুজুমুয যাহিরা ২/২৫৮; এবং আর-রিসালাতুল মুসতাতরিফাহ ১৩৮।

(৪) অচিরেই তাঁর জীবনী আসবে, ক্রমিক নং ১৩৩।

(৫) দেখুন: তাবাকাতে ইবনে সা'দ ৭/৩৬৪; তারিখু বাগদাদ ৫/৩৫১।

(৬) দেখুন: হোরোভিটস-কৃত আল-মাগাযিল উলা ওয়া মুআল্লিফুহা ১২৬; এবং ইহসান আব্বাস কর্তৃক সম্পাদিত 'দার সাদির' সংস্করণের তাবাকাতে ইবনে সা'দ-এর ভূমিকা ১/৬।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ١٨)
الولاء(1). كما جردته مصادر أخرى من عهدة الولاء على أنه زُهري النسب(2) وعندما وُصف بصفة الولاء للحسين بن عبد الله بن عبيد الله بن العباسي الهاشمي، فإن ذلك لا يعني أنه هو نفسه كان مولًى له، وإنما جده، وربما أبوه أيضاً(3). لأن حسين بن عبد الله توفي سنة أربعين ومائة، أو إحدى وأربعين ومائة أو إحدى وأربعين ومائة(4). وكان مولد محمد بن سعد سنة ثمان وستين ومائة(5). أي بعد وفاة الحسين بن عبد الله ابن عبد الله العباسي بسبع وعشرين سنة- وبالإضافة إلى أن الحسين بن عبد الله لم يكن له ولد غير عبد الله الذي مات ولم يعقب، فورثته زوجته أم عيسى بنت علي بن عبد الله بن العباس(6). ومن ذلك يتضح أن هذا الفرع الهاشمي الذي كان ابن سعد ينتمي بالولاء إليه قد انقرض، ولعله قد انتسب هو أو أبوه قبله إلى بني زُهرة من قريش(7).

وعلى العموم فإن هذا الخلاف الذي أوردته المصادر حول نسبه لا يهمنا كثيرا بقدر ما تهمنا تلك المعلومات التي تعطينا صورة واضحة عن حياة ابن سعد، فلم نجد مصدراً من المصادر الكثيرة التي ترجمت له يعطينا معلومات غزيرة نستطيع من خلالها إبراز حياة المؤلف إبرازا يتناسب مع سعة علمه.

والحق أن هذه الملاحظة تنطيق أيضاً على الكثيرين من المؤلفين المعاصرين له أو القريبين من عصره(8).

--------------------------------------------

(1) انظر: الأعلام للزركلي 7/ 6. ومعجم المؤلفين 10/ 21.

(2) انظر: وفيات الأعيان 4/ 351. وكشف الظنون 2/ 1099. وهدية العارفين 2/ 11. وتاريخ الأدب العربي لبروكلمان 3/ 19. وتاريخ الثرات لسزكين 1/ 480.

(3) انظر: المغازي الأولى ومؤلفوها 126.

(4) انظر: الترجمة 133.

(5) انظر: تقريب التهذيب 298. والأعلام للزركلي 7/ 6. وتاريخ التراث لسزكين 1/ 480.

(6) انظر: الترجمة 133.

(7) انظر: المغازي الأولى ومؤلفوها لهورفتس 126.

(8) من لمسات المشرق.

আনুগত্য (ওয়ালা)(১)। অনুরূপভাবে অন্যান্য উৎসসমূহ তাকে আনুগত্যের দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত করে তাকে যুহরি বংশোদ্ভূত হিসেবে উল্লেখ করেছে(২)। আর যখন তাকে হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আল-আব্বাসি আল-হাশিমির অনুগত (মাওলা) হিসেবে বর্ণনা করা হয়, তখন এর অর্থ এই নয় যে তিনি নিজেই তার মাওলা ছিলেন; বরং তার দাদা এবং সম্ভবত তার পিতাও (মাওলা ছিলেন)(৩)। কেননা হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ একশত চল্লিশ হিজরি সনে, অথবা একশত একচল্লিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন(৪)। আর মুহাম্মদ বিন সা’দের জন্ম হয়েছিল একশত আটষট্টি হিজরি সনে(৫)। অর্থাৎ হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ আল-আব্বাসির মৃত্যুর সাতাশ বছর পর। তদুপরি, হুসাইন বিন আব্দুল্লাহর আব্দুল্লাহ ব্যতীত আর কোনো সন্তান ছিল না, যে নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে; ফলে তার স্ত্রী উম্মু ঈসা বিনতে আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস তার উত্তরাধিকারী হন(৬)। এর থেকে স্পষ্ট হয় যে, হাশেমি বংশের এই শাখাটি—যার প্রতি ইবনে সা’দ আনুগত্যের (ওয়ালা) মাধ্যমে সম্পৃক্ত ছিলেন—তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সম্ভবত তিনি অথবা তার পূর্বে তার পিতা কুরাইশের বনু যুহরার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছিলেন(৭)।

সাধারণভাবে বলতে গেলে, তার বংশপরিচয় নিয়ে উৎসসমূহে উল্লিখিত এই মতবিরোধ আমাদের কাছে ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যতটা গুরুত্বপূর্ণ সেই তথ্যগুলো যা আমাদের ইবনে সা’দের জীবন সম্পর্কে একটি পরিষ্কার চিত্র প্রদান করে। কেননা যে অসংখ্য উৎস তার জীবনী বর্ণনা করেছে, তার মধ্যে এমন কোনো উৎস আমরা পাইনি যা আমাদের এমন প্রচুর তথ্য দেয় যার মাধ্যমে আমরা লেখকের জীবনকে তার ইলমের ব্যাপকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারি।

সত্য কথা হলো, এই পর্যবেক্ষণটি তার সমসাময়িক বা তার যুগের কাছাকাছি সময়ের অনেক লেখকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য(৮)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আয-যিরিকলি রচিত আল-আলাম ৭/৬ এবং মু’জামুল মুআল্লিফিন ১০/২১।

(২) দেখুন: ওফায়াতুল আইয়ান ৪/৩৫১, কাশফুয যুনুন ২/১০৯৯, হাদিয়াতুল আরিফিন ২/১১, ব্রোকেলম্যান রচিত তারিখুল আদাবিল আরবি ৩/১৯ এবং সেজগিন রচিত তারিখুত তুরাস ১/৪৮০।

(৩) দেখুন: আল-মাগাযিল উলা ওয়া মুআল্লিফুহা ১২৬।

(৪) দেখুন: আত-তারজামা ১৩৩।

(৫) দেখুন: তাকরিবুত তাহযিব ২৯৮, আয-যিরিকলি রচিত আল-আলাম ৭/৬ এবং সেজগিন রচিত তারিখুত তুরাস ১/৪৮০।

(৬) দেখুন: আত-তারজামা ১৩৩।

(৭) দেখুন: হরভিৎস রচিত আল-মাগাযিল উলা ওয়া মুআল্লিফুহা ১২৬।

(৮) লামাসাতুল মাশরিক থেকে।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌ولادته:

لقد أجمعت المصادر التي ذكرت ولادته أنها كانت في البصرة سنة ثمان وستين ومائة من الهجرة(1)، لكن بعض المصادر ترجمته سكتت عن تاريخ ولادته(2).

 

‌‌نشأته ورحلاته العلمية:

ولد ابن سعد ونشأ في البصرة، التي كانت مركزاً علمياً هاماً في ذلك العصر وقد ازدانت بعدد كبير من العلماء والمفكرين والأدباء والشعراء، فشَبَّ في تلك البيئة العلمية، وأفاد من علماء عصره، فسمع من الكثرين منهم.

ثم قدم بغداد وسكن فيها ملازماً لشيخه محمد بن عمر الواقدي (ت (207) هـ)، يكتب له مدة طويلة من الزمن فعُرف به(3).

كما قدم الكوفة سعياً في طلب العلم(4).

وكانت له رحلة إلى المدينة المنورة، وأخرى إلى مكة، غير أن الترتيب الزمني لهذه الرحلات كان غامضاً، فلم أقف على دراسة بحثت رحلاته العلمية

--------------------------------------------

(1) انظر: تاريخ بغداد 5/ 322. والأنساب للسنعاني 470. ووفيات الأعيان 4/ 352. وتهذيب الكمال للمزي 6/ 600. والعبر للذهبي 1/ 407. وتذكرة الحفاظ 2/ 425. وتقريب التهذيب 298. وشذرات الذهب 2/ 69.

(2) انظر: الجرح والتعديل 3/ 2/262. والكامل في التاريخ لابن الأثير 7/ 18. وكشف الظنون 2/ 1099. وطبقات الحفاظ للسيوطي 183.

(3) انظر: ص 17 تعليق 2 من هذه المقدمة.

(4) انظر: مقدمة ساخاو لطبقات ابن سعد 3/ 25 (طبعة دار التحرير). ومقدمة إحسان عباس للطبقات 1/ 6 (تصوير بيروت).

তাঁর জন্ম:

তাঁর জন্মের উল্লেখকারী উৎসসমূহ একমত পোষণ করেছে যে, তাঁর জন্ম হিজরি একশত আটষট্টি সালে বসরায় হয়েছিল(১), তবে তাঁর জীবনী বিষয়ক কিছু উৎস তাঁর জন্মের তারিখ সম্পর্কে নীরব থেকেছে(২)।

 

‌তাঁর বেড়ে ওঠা ও ইলমি সফরসমূহ:

ইবনে সাদ বসরায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন, যা সেই যুগে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানতাত্ত্বিক কেন্দ্র ছিল এবং বিপুল সংখ্যক আলেম, চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক ও কবিদের পদচারণায় তা সুশোভিত ছিল। ফলে তিনি সেই তাত্ত্বিক পরিবেশেই শৈশব অতিবাহিত করেন এবং তাঁর সমসাময়িক আলেমদের থেকে উপকৃত হন ও তাঁদের অনেকের কাছ থেকেই ইলম অর্জন করেন।

এরপর তিনি বাগদাদে আসেন এবং সেখানে তাঁর শায়খ মুহাম্মদ বিন উমর আল-ওয়াকিদী (মৃত্যু ২০৭ হিজরি)-এর সান্নিধ্যে বসবাস শুরু করেন। তিনি দীর্ঘকাল তাঁর সচিব হিসেবে কাজ করেন, যার ফলে তিনি তাঁর মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করেন(৩)।

একইভাবে তিনি ইলম অন্বেষণের প্রচেষ্টায় কুফায় আগমন করেন(৪)।

তাঁর মদিনা মুনাওয়ারা এবং মক্কায় সফরের বর্ণনা পাওয়া যায়, তবে এই সফরগুলোর কালানুক্রমিক বিন্যাস অস্পষ্ট ছিল; ফলে আমি তাঁর ইলমি সফরসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে এমন কোনো গবেষণা পাইনি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখ বাগদাদ ৫/ ৩২২; আল-আনসাব লিস-সানআনি ৪৭০; ওফায়াতুল আইয়ান ৪/ ৩৫২; তাহযিবুল কামাল লিল-মিযযি ৬/ ৬০০; আল-ইবার লিয-যাহাবি ১/ ৪০৭; তাযকিরাতুল হুফফাজ ২/ ৪২৫; তাকরিবুত তাহযিব ২৯৮; শাযারাতুয যাহাব ২/ ৬৯।

(২) দেখুন: আল-জারহু ওয়াত-তাদিল ৩/ ২/ ২৬২; আল-কামিল ফিত-তারিখ লি-ইবনিল আসির ৭/ ১৮; কাশফুয যুনুন ২/ ১০৯৯; তাবাকাতুল হুফফাজ লিস-সুয়ুতি ১৮৩।

(৩) দেখুন: এই ভূমিকার ১৭ পৃষ্ঠার ২ নং টীকা।

(৪) দেখুন: তাবাকাতু ইবনে সা'দ-এর সাখাউ-এর ভূমিকা ৩/ ২৫ (দারুত তাহরির সংস্করণ); এবং তাবাকাত-এর জন্য ইহসান আব্বাসের ভূমিকা ১/ ৬ (বৈরুত সংস্করণ)।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٢٠)
بحثاً تفصيليا إلاَّ ما ذكره كل من ساخاو وإحسان عباس، أن، رحلته إلى المدينة كانت قبل سنة مائتين من الهجرة، إذ أن بعض شيوخه المدنين أدركتهم المنيَّة قبل بداية القرن الثالث، فمعن بن عيسى مثلاً توفي سنة ثمان وتسعين ومائة(1).

أما طبيعة تنقله بين المدن الخمس-البصرة، وبغداد، والكوفة والمدينة المنورة ومكة المكرمة-من حيث التسلسل الزمني، فمازالت مبهمة ولإيضاح لا بد ذلك من دراسة شاملة لشيوخ المؤلف، والوقوف على تواريخ وفياتهم لضبط أوقات حِلِّه وترحاله.

وفي هذا المقام تجدر الإشارة إلى الحركة العلمية التي شهدتها هذه المدن، لتتعرف على البيئة العلمية التي نشأ فيها ابن سعد، وعلى الأوساط الثقافية التي ارتحل إليها.

لقد شهدت مدن الحجاز والمدن الهامة في الأمصار الإسلامية الأخرى كالمدينة المنورة والكوفة والبصرة وبغداد ودمشق والفسطاط، حركة فكرية واسعة، شملت العلوم الإسلامية واللغوية، كما شملت العلوم والعقلية أيضاً، ومن الصعب الإحاطة بجوانب هذه الحركة في هذا التمهيد، لأن القصد التعريف بالأوساط الفكرية التي تأثر بها ابن سعد.

وفيما يلي عرض سريع لهذه الحركة في تلك المراكز:

 

‌‌1 - الحركة العلمية في البصرة:

قبل أن نستعرض الحركة العلمية المعاصرة لابن سعد في البصرة لابد من الإشارة إلى النواة الأولى التي بدأت منها هذه الحركة بعد أنَّ مُصِر البلد(2) و.

--------------------------------------------

(1) انظر: المصدرين السابقين.

(2) فتحت البصرة سنة أربع عشرة، على يد عتبة بن غزوان، أيام عمر بن الخطاب، والمشهور أنها مُصَّرت في نفس السنة. وقيل غير ذلك.

(انظر: طبقات ابن سعد 5/ 7. والكامل في التاريخ 2/ 485. ومعجم البلدان 1/ 430 - 4/ 490).

সাখাউ এবং ইহসান আব্বাসের বর্ণনা ব্যতীত এ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো আলোচনা নেই যে, মদিনায় তাঁর সফর হিজরি দুইশত সালের পূর্বেই ছিল; কেননা তাঁর মদিনাবাসী কোনো কোনো শিক্ষক তৃতীয় শতাব্দীর শুরুর আগেই ইন্তেকাল করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, মা'ন ইবনে ঈসা ১৯৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন(১)।

কালানুক্রমিক দিক থেকে পাঁচটি শহর—বসরা, বাগদাদ, কুফা, মদিনা মুনাওয়ারা এবং মক্কা মুকাররামা—এর মধ্যে তাঁর যাতায়াতের প্রকৃতি এখনও অস্পষ্ট। বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য লেখকের শিক্ষকদের সম্পর্কে একটি বিস্তারিত অধ্যয়ন এবং তাঁদের মৃত্যুর তারিখগুলো জানা আবশ্যক, যাতে তাঁর অবস্থান ও ভ্রমণের সময়কাল সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা যায়।

এই পর্যায়ে উক্ত শহরগুলোতে যে জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন সূচিত হয়েছিল সেদিকে ইঙ্গিত করা সমীচীন হবে, যাতে ইবনে সা'দ যে ইলমি পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন এবং তিনি যেসব সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ভ্রমণ করেছেন, সে সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।

হিজাজের শহরসমূহ এবং অন্যান্য প্রধান ইসলামি জনপদসমূহ যেমন—মদিনা মুনাওয়ারা, কুফা, বসরা, বাগদাদ, দামেস্ক এবং ফুস্তাত এক ব্যাপক বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের সাক্ষী হয়েছে। এই আন্দোলন ইসলামি ও ভাষাতাত্ত্বিক বিজ্ঞানের পাশাপাশি যুক্তিবিদ্যাকেও (আকলি বিজ্ঞান) অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এই ভূমিকার মধ্যে সেই আন্দোলনের সকল দিক বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা কঠিন, কেননা এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো সেই বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যার দ্বারা ইবনে সা'দ প্রভাবিত হয়েছিলেন।

নিম্নে সেই কেন্দ্রসমূহের এই আন্দোলনের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরা হলো:

 

‌‌১ - বসরায় জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন:

বসরার ইবনে সা'দের সমকালীন জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন পর্যালোচনার পূর্বে, শহরটি পত্তন হওয়ার পর যেখান থেকে এই আন্দোলনের প্রথম বীজ উপ্ত হয়েছিল, সেদিকে ইঙ্গিত করা আবশ্যক(২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎসদ্বয়।

(২) চৌদ্দ হিজরিতে উমর ইবনুল খাত্তাবের শাসনামলে উতবা বিন গাজওয়ানের হাতে বসরা বিজিত হয় এবং প্রসিদ্ধ মতে একই বছর একে শহর হিসেবে পত্তন করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে।

(দেখুন: তবাকাত ইবনে সা'দ ৫/৭; আল-কামিল ফিত তারিখ ২/৪৮৫; মু'জামুল বুলদান ১/৪৩০ - ৪/৪৯০)।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٢١)
فقد بعث عمر بن الخطاب عدداً من الصحابة إليها ليفقهوا أهلها من بينهم عمران بن الحصين (ت (52) هـ)(1)، وغيره. وكان ممن عُرف من الصحابة القائمين على هذه المدرسة أيضاً: أبو موسى الأشعري (ت بعد سنة (60) هـ)(2) وعبد الله بن عباس (ت (68) هـ)(3) وأنس بن مالك (ت (93) هـ)(4) وغيرهم من الصحابة الذين وفدوا إليها وأقاموا فيها(5) ووضعوا البذور الأولى، التي كانت فيما بعد بدء انطلاقة قوية لحركة فكرية تمثلت بالدروس القرآنية أولاً، وبالحديث ثانياً، ثم بالأبحاث اللغوية ثالثاً(6).

وهكذا تربى شباب البصرة على أيدي من تربوا على يد رسول الله صلى الله عليه وسلم فلا غرابة إذن أن تنشط الحركة العلمية، وتنتقل دفتها إلى أيدي التابعين، أمثال الحسن البصري (ت (110) هـ)(7)، ومحمد بن سيرين (ت (110) هـ)(8).

ثم تتابعت الأيام وتوالت السنون، وأشرف القرن الأول على النهاية وقد نضجت بذور المتكلمين، الذين لم يقتنعوا بالمنقول، واضطروا خضوعاً لموقفهم الفكري إلى التأويل(9). وقد قال ابن قتيبة في حديثه عنهم: يقولون على الله ما لا يعلمون ويفتون الناس بما يأتون، ويتهمون غيرهم في النقل، ولا يتهمون

--------------------------------------------

(1) انظر: طبقات ابن سعد 7/ 9.

(2) واسم أبي موسى: عبد الله بن قيس. (انظر: الإصابة 2/ 360).

(3) المصدر السابق 2/ 334.

(4) وكان أنس آخر من مات من الصحابة في البصرة. (انظر: طبقات ابن سعد 7/ 26).

(5) انظر: القائمة التي ذكرها ابن سعد في طبقاته 7/ 5 - 89 من الصحابة الذين نزلوا البصرة.

(6) انظر: الجاحظ في البصرة وبغداد وسامراء لشارل بلات 121.

(7) انظر: طبقات ابن سعد 7/ 177.

(8) المصدر السابق 7/ 206.

(9) انظر: حياة الأدبية في البصرة لأحمد زكي 153.

উমর ইবনুল খাত্তাব সেখানে একদল সাহাবীকে পাঠিয়েছিলেন যাতে তাঁরা সেখানকার অধিবাসীদের দ্বীনি জ্ঞান দান করেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইমরান ইবনুল হুসাইন (মৃত্যু ৫২ হিজরি)(১) এবং আরও অনেকে। এই মাদরাসার দায়িত্বে থাকা সাহাবীদের মধ্যে যারা পরিচিত ছিলেন তাঁরা হলেন: আবু মুসা আল-আশআরি (মৃত্যু ৬০ হিজরির পর)(২), আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (মৃত্যু ৬৮ হিজরি)(৩), আনাস ইবনে মালিক (মৃত্যু ৯৩ হিজরি)(৪) এবং অন্যান্য সাহাবী যারা সেখানে আগমন করেছিলেন এবং বসবাস করেছিলেন(৫)। তাঁরা সেই প্রাথমিক বীজ বপন করেছিলেন, যা পরবর্তীতে একটি শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের সূচনা করেছিল। এই আন্দোলনটি প্রথমত কুরআন পাঠ, দ্বিতীয়ত হাদীস এবং তৃতীয়ত ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার রূপ পরিগ্রহ করেছিল(৬)।

এভাবে বসরার যুবসমাজ তাঁদের হাতে গড়ে উঠেছিল যারা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সান্নিধ্যে গড়ে উঠেছিলেন। সুতরাং এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, সেখানে ইলমি তৎপরতা সক্রিয় হয়ে উঠবে এবং এর নেতৃত্বের হাল তাবিঈদের হাতে চলে আসবে, যেমন হাসান বসরী (মৃত্যু ১১০ হিজরি)(৭) এবং মুহাম্মদ ইবনে সিরীন (মৃত্যু ১১০ হিজরি)(৮)।

অতঃপর দিন ও বছর অতিবাহিত হতে থাকল এবং প্রথম শতাব্দী সমাপ্তির পথে এগিয়ে চলল। ইতোমধ্যেই কালামশাস্ত্রবিদদের বীজ পরিপক্ব হয়ে উঠল, যারা কেবল শ্রুত দলিলের ওপর তুষ্ট থাকতে পারেনি এবং নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থানের কারণে ব্যাখ্যার আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল(৯)। তাঁদের সম্পর্কে ইবনে কুতায়বাহ বলেছেন: তারা আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলে যা তারা জানে না এবং তারা যা নিয়ে আসে তা দিয়েই মানুষকে ফতোয়া দেয়। তারা অন্যদের বর্ণনার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত করে কিন্তু নিজেদের ক্ষেত্রে করে না।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাবাকাত ইবনে সাদ ৭/ ৯।

(২) আবু মুসার নাম: আবদুল্লাহ ইবনে কায়স। (দেখুন: আল-ইসাবাহ ২/ ৩৬০)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস ২/ ৩৩৪।

(৪) আনাস ছিলেন বসরার সাহাবীদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি। (দেখুন: তাবাকাত ইবনে সাদ ৭/ ২৬)।

(৫) দেখুন: বসরার সাহাবীদের যে তালিকা ইবনে সাদ তাঁর তাবাকাতের ৭/ ৫-৮৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।

(৬) দেখুন: শার্ল প্লাত রচিত আল-জাহিজ ফিল বসরা ওয়া বাগদাদ ওয়া সামারা ১২১।

(৭) দেখুন: তাবাকাত ইবনে সাদ ৭/ ১৭৭।

(৮) পূর্বোক্ত উৎস ৭/ ২০৬।

(৯) দেখুন: আহমাদ জাকি রচিত হায়াতুল আদাবিয়্যাহ ফিল বসরা ১৫৩।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٢٢)
آراءهم في التأويل .... الخ(1). فكثرت الخصومات، وعُقدت المناظرات التي تغلغلت في الحياة العامة بين الناس. وتصدى المحدثون لهؤلاء المتكلمين، وضعفوا منهجهم في الاعتماد على الرأي. فكان ذلك من أسباب نشاط العلم والعلماء(2). ويظهر هذا النشاط جلياً في النصف الأخير من القرن الثاني، حيث كثر التدوين، واهتم العلماء بالتأليف (كما يشير إلى ذلك السيوطي) فيما ينقله عن الذهبي: "منذ عام ثلاث وأربعين ومائة كثر تدوين العلم وتبويبه، ودونت كتب العربية، والتاريخ وأيام الناس. وقبل هذا العصر كان الأئمة يتكلمون من حفظهم، أو يروون العلم من صحف صحيحة غير مرتبة)(3).

فنبغ في البصرة عدد كبير من العلماء الذين اشتغلوا في مختلف العلوم. فقد اشتهر من القراء: يعقوب بن إسحاق الحضرمي (ت (205) هـ) صاحب كتاب (الجامع) في القراءات، وكان عالماً بالنحو(4).

ومن المفسرين: أبو زيد الأنصاري سعيد بن أوس (ت (215) هـ) صاحب كتاب (لغات القرآن)(5).

ومن المحدثين: إسماعيل بن عُليَّة (ت (193) هـ)، صاحب كتابي (التفسير) و (الطهارة) وغيرهما(6). وعفان بن مسلم (ت (220) هـ)(7). وأبو الوليد الطيالسي (ت (227) هـ)(8)، والثلاثة من شيوخ ابن سعد.

--------------------------------------------

(1) أنظر: تأويل مختلف الحديث لابن قتيبة 12 وما بعدها.

(2) انظر: الجاحظ حياته وآثاره للحاجري 41. والحياة الأدبية في البصرة لأحمد زكي 156.

(3) انظر: الحياةالأدبية في البصرة لأحمد زكي 146.

(4) انظر: تاريخ التراث لسزكين 1/ 23.

(5) انظر: طبقات المفسرين للداودي 1/ 179.

(6) انظر: الفهرست لابن النديم 317.

(7) انظر: طبقات ابن سعد 7/ 298.

(8) واسم أبي الوليد: هشام بن عبد الملك. (انظر: المصدر السابق 7/ 300).

তাদের ব্যাখ্যার (তাউইল) মতামতসমূহ... ইত্যাদি(১)। ফলে বিতর্ক বেড়ে গেল এবং এমন সব মুনাজারা (বিতর্ক সভা) অনুষ্ঠিত হতে লাগল যা মানুষের সাধারণ জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করল। মুহাদ্দিসগণ এই মুতাকাল্লিমদের (কালামশাস্ত্রবিদ) মোকাবিলা করলেন এবং মতামতের (রায়) ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে তাদের মানহাজ বা পদ্ধতিকে দুর্বল সাব্যস্ত করলেন। এটিই ছিল জ্ঞান ও জ্ঞানীদের তৎপরতার অন্যতম কারণ(২)। দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর শেষার্ধে এই তৎপরতা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, যেখানে গ্রন্থায়ন বা সংকলন বৃদ্ধি পায় এবং উলামায়ে কেরাম গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন। (যেমনটি সুয়ূতী ইঙ্গিত করেছেন) ইমাম যাহাবী থেকে উদ্ধৃতি দিতে গিয়ে তিনি বলেন: "১৪৩ হিজরি সাল থেকে জ্ঞান সংকলন ও অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস বৃদ্ধি পায়; আরবি ভাষা, ইতিহাস ও আইয়ামুন নাস (আরবদের প্রাচীন ঘটনাবলি) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ সংকলিত হয়। এই যুগের পূর্বে ইমামগণ তাঁদের মুখস্থ স্মৃতি থেকে কথা বলতেন অথবা অবিন্যস্ত সঠিক পাণ্ডুলিপি থেকে ইলম বর্ণনা করতেন"(৩)।

ফলে বসরায় বিপুল সংখ্যক আলেম আত্মপ্রকাশ করেন যারা বিভিন্ন জ্ঞানচর্চায় ব্যাপৃত ছিলেন। ক্বারীগণের মধ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেন: ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-হাদরামি (মৃ. ২০৫ হি.), যিনি কিরাআত বিষয়ক গ্রন্থ 'আল-জামি' এর রচয়িতা এবং তিনি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রেও পণ্ডিত ছিলেন(৪)।

মুফাসসিরদের মধ্যে রয়েছেন: আবু যাইদ আল-আনসারি সাঈদ ইবনে আওস (মৃ. ২১৫ হি.), যিনি 'লুগাতুল কুরআন' গ্রন্থের রচয়িতা(৫)।

মুহাদ্দিসদের মধ্যে রয়েছেন: ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যা (মৃ. ১৯৩ হি.), যিনি 'আত-তাফসির' ও 'আত-তাহারাহ' সহ অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা(৬)। আফফান ইবনে মুসলিম (মৃ. ২২০ হি.)(৭) এবং আবুল ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি (মৃ. ২২৭ হি.)(৮)। তাঁরা তিনজনই ইবনে সা’দের উস্তাদগণের অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে কুতায়বার 'তাউইলু মুখতালিফিল হাদিস' ১২ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহ।

(২) দেখুন: আল-হাজিরি রচিত 'আল-জাহিজ: হায়াতুহু ওয়া আসারুহু' ৪১; এবং আহমদ জাকি রচিত 'আল-হায়াতুল আদাবিয়্যাহ ফিল বাসরা' ১৫৬।

(৩) দেখুন: আহমদ জাকি রচিত 'আল-হায়াতুল আদাবিয়্যাহ ফিল বাসরা' ১৪৬।

(৪) দেখুন: সেজগিন রচিত 'তারিখুত তুরাস' ১/২৩।

(৫) দেখুন: আদ-দাউদি রচিত 'তাবাকাতুল মুফাসসিরিন' ১/১৭৯।

(৬) দেখুন: ইবনু নাদিম রচিত 'আল-ফিহরিস্ত' ৩১৭।

(৭) দেখুন: 'তাবাকাত ইবনে সাদ' ৭/২৯৮।

(৮) আবুল ওয়ালিদের নাম হলো: হিশাম ইবনে আবদুল মালিক। (দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস ৭/৩০০)।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٢٣)
ومن الفقهاء: عيسى بن أبان القاضي (ت (221) هـ) صاحب كتاب (اجتهاد الرأي)(1). وإسماعيل بن عُليَّة، وشيخ ابن سعد، تقدم آنفاً.

ومن أصحاب السير والمغازي: عبد الملك بن هشام (ت (208) أو (213) هـ). صاحب السيرة، وكان مؤرخاً ونسابةً ونحوياً(2).

ومن المؤرخين: سهل بن هارون البصري (ت (215) هـ) سكن بغداد(3).

ومن أئمة اللغة والنحو: الخليل بن أحمد (ت (170) هـ) صاحب كتاب (العين)(4) وسيبويه عمرو بن عثمان (ت (183) هـ) صاحب (الكتاب) في النحو(5). والأخفش (ت (221) هـ) صاحب الكتاب (الأوسط) في النحو، وغيره(6).

وعلى هذا المحيط الحافل بالعلماء والمؤلفات، فتح ابن سعد عينيه، فارتوى من معينه، وتعلق بالعلم والمعرفة، مما دفع به إلى العواصم العلوم الأخرى وصاحبة الريادة فيه، كالكوفة، وبغداد، والمدينة، ومكة.

 

‌‌2 ـ الحركة العلمية في الكوفة:

لم تكن الكوفة(7) أقل أهمية من شقيقتها البصرة، في الدور الذي لعبته في النهضة العلمية عبر العصر العباسي الأول. فهذه توأم تلك، من حيث المجتمع

--------------------------------------------

(1) انظر: فهرست 289. وتاريخ التراث لسزكين 2/ 75.

(2) انظر: تاريخ التراث 1/ 475.

(3) المصدر السابق.

(4) انظر الفهرست 63 - 76 - 77. على الترتيب.

(5) انظر الفهرست 63 - 76 - 77. على الترتيب.

(6) انظر الفهرست 63 - 76 - 77. على الترتيب.

(7) كان تمصيرها سنة سبع عشرة وقيل بعدها، في عهد عمر بن الخطاب. (انظر: معجم البلدان 4/ 490. وبلدان الخلافة الشرقية 101).

ফকিহদের মধ্যে রয়েছেন: ‘ইজতিহাদুর রায়’ কিতাবের রচয়িতা কাজী ঈসা ইবনে আবান (মৃত্যু: ২২১ হিজরি)(১)। এবং ইসমাইল ইবনে উলইয়াহ এবং ইবনে সা’দের শায়খ, যাঁদের কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিরাত ও মাগাজি শাস্ত্রের পণ্ডিতদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম (মৃত্যু: ২০৮ বা ২১৩ হিজরি)। তিনি ‘সিরাত’ এর রচয়িতা এবং তিনি একজন ঐতিহাসিক, বংশলতিকাবিদ ও ভাষাবিদ ছিলেন(২)।

ঐতিহাসিকদের মধ্যে রয়েছেন: সাহল ইবনে হারুন আল-বাসরি (মৃত্যু: ২১৫ হিজরি), তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন(৩)।

ভাষা ও নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের ইমামদের মধ্যে রয়েছেন: ‘আল-আইন’ কিতাবের রচয়িতা খলিল ইবনে আহমদ (মৃত্যু: ১৭০ হিজরি)(৪) এবং নাহু শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ ‘আল-কিতাব’ এর রচয়িতা সিবওয়াইহ আমর ইবনে উসমান (মৃত্যু: ১৮৩ হিজরি)(৫)। আর নাহু শাস্ত্রের ‘আল-আওসাত’ কিতাবের রচয়িতা আল-আখফাশ (মৃত্যু: ২২১ হিজরি) এবং অন্যান্যরা(৬)।

আলেম ও রচনার প্রাচুর্যে ভরপুর এই জ্ঞানসমুদ্রে ইবনে সা’দ তাঁর চোখ উন্মোচন করেন এবং এর প্রস্রবণ থেকে পরিতৃপ্ত হন। তিনি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সাথে এমনভাবে সম্পৃক্ত হন, যা তাঁকে জ্ঞানের অন্যান্য কেন্দ্র ও শীর্ষস্থানীয় শহরগুলোর দিকে ধাবিত করে, যেমন— কুফা, বাগদাদ, মদিনা এবং মক্কা।

 

‌‌২. কুফার জ্ঞানতাত্ত্বিক তৎপরতা:

প্রথম আব্বাসীয় যুগে জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণে কুফার(৭) ভূমিকা তার সহোদর বসরা থেকে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। সমাজের দিক থেকে এটি ছিল বসরার যমজ তুল্য।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ফিহরিস্ত ২৮৯; এবং সেজগিনের তারিখুত তুরাস ২/৭৫।

(২) দেখুন: তারিখুত তুরাস ১/৪৭৫।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস।

(৪) দেখুন: আল-ফিহরিস্ত ৬৩ - ৭৬ - ৭৭, ক্রমানুসারে।

(৫) দেখুন: আল-ফিহরিস্ত ৬৩ - ৭৬ - ৭৭, ক্রমানুসারে।

(৬) দেখুন: আল-ফিহরিস্ত ৬৩ - ৭৬ - ৭৭, ক্রমানুসারে।

(৭) এর নগরায়ণ হয়েছিল ১৭ হিজরিতে, আবার কারো মতে এর পরে, উমর ইবনে আল-খাত্তাব (রা.)-এর যুগে। (দেখুন: মু’জামুল বুলদান ৪/৪৯০; এবং বুলদানুল খিলাফাহ আশ-শারকিয়্যাহ ১০১)।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٢٤)
البشري الذي نزلها، والأساس العلمي الذي قامت عليه. فنفس القبائل التي نزلت في الأولى نزلت في الثانية(1)، وعلى يدي خريجي مدرسة واحدة -مدرسة محمد صلى الله عليه وسلم بُني الأساس العلمي للبلدين، فكما أرسل عمر بن الخطاب رضي الله عنه عدداً من الصحابة إلى البصرة لتعليم الناس أمور دينهم، أرسل عدداً آخر إلى الكوفة لنفس الغرض. كسعد بن أبي وقاص (ت (55) هـ)(2) وعبد الله بن مسعود (ت (32) هـ)(3)، والبراء بن عازب (ت (72) هـ)(4) وغيرهم(5) ممن علموا الناس القرآن والحديث، والفقه فنبغ على أيديهم عدد كبير من أئمة التابعين، من بينهم، سعيد بن جبير (ت (94) هـ)(6)، وإبراهيم النخعي (ت (96) هـ)(7) وغيرهم. فكثر العلماء، في العصر الأموي، ونشط العلم الذي كانت نواته القرآن والحديث، واستنباط الأحكام الفقهية منهما(8)، اعتماداً على الجانب العقلي أكثر من الجانب النقلي، حتى عُرفت بمدرسة أهل الرأي، إضافة إلى شهرتها النحوية التي نافست بها مدرسة البصرة التي سبقتها إلى ذلك بمائة عام. وفي العصر العباسي نزلت بغداد إلى الميدان العلمي فاشتد التنافس بين الأمصار الثلاثة وكثرت المناظرات، والمفاخرات بين علماء الأمصار(9)، مما أدى إلى نهضة علمية واسعة النطاق، فأصاب الكوفة حظ وافر من هذه النهضة على أكتاف علمائها المشتغلين في ميادين القرآن والحديث والفقه، واللغة والنحو، وغيرها.

--------------------------------------------

(1) انظر: الجاحظ حياته وآثاره للحاجري 6/ 13.

(2) انظر: طبقات ابن سعد 6/ 13.

(3) انظر: المصدر السابق 6/ 13.

(4) انظر: المصدر السابق 6/ 13.

(5). انظر: قائمة الصحابة الذين نزلوا الكوفة في المصدر السابق جـ/6.

(6) المصدر السابق 6/ 256.

(7) المصدر السابق 6/ 270.

(8) انظر: ضحى الإسلام لأحمد أمين 2/ 11.

(9) انظر: ضحى الإسلام 2/ 78 - 284.

সেই মানবগোষ্ঠী যারা সেখানে বসতি স্থাপন করেছিল এবং যে জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তির ওপর তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যে গোত্রগুলো প্রথমটিতে (বসরা) বসতি স্থাপন করেছিল, সেই একই গোত্রগুলো দ্বিতীয়টিতেও (কুফা) বসতি স্থাপন করে(১)। একটি মাত্র বিদ্যাপীঠ—মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিদ্যাপীঠ—থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতেই এই দুই শহরের জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি নির্মিত হয়েছিল। যেমন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু মানুষের মাঝে দ্বীনি বিষয়সমূহ শিক্ষার উদ্দেশ্যে একদল সাহাবীকে বসরায় পাঠিয়েছিলেন, তেমনি একই উদ্দেশ্যে তিনি কুফাতেও আরেক দল সাহাবীকে পাঠিয়েছিলেন। যেমন সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (মৃত্যু ৫৫ হিজরি)(২), আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (মৃত্যু ৩২ হিজরি)(৩), বারা ইবনে আজেব (মৃত্যু ৭২ হিজরি)(৪) এবং আরও অনেকে(৫) যারা মানুষকে কুরআন, হাদিস ও ফিকহ শিক্ষা দিয়েছিলেন। ফলে তাঁদের সান্নিধ্যে বিপুল সংখ্যক তাবিঈ ইমামগণ অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন; তাঁদের মধ্যে সাঈদ ইবনে জুবায়ের (মৃত্যু ৯৪ হিজরি)(৬), ইবরাহিম আন-নাখয়ী (মৃত্যু ৯৬ হিজরি)(৭) এবং অন্যান্যরা উল্লেখযোগ্য। উমাইয়া যুগে আলেমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং জ্ঞানচর্চা আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, যার মূল ভিত্তি ছিল কুরআন ও হাদিস এবং এই দুটি উৎস থেকে ফিকহি বিধান উদ্ভাবন করা(৮)। এক্ষেত্রে শ্রুত প্রমাণের (নকলি) তুলনায় বুদ্ধিবৃত্তিক (আকলি) দিকের ওপর অধিক নির্ভর করার কারণে এটি ‘আহলুর রায়’-এর বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এর পাশাপাশি এর নাহু বা ব্যাকরণগত খ্যাতিও ছড়িয়ে পড়ে, যা তার একশ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বসরা বিদ্যাপীঠের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়। আব্বাসীয় যুগে বাগদাদ যখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের ময়দানে প্রবেশ করে, তখন এই তিন শহরের মধ্যে জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয় এবং বিভিন্ন জনপদের আলেমদের মধ্যে জ্ঞানগর্ভ বিতর্ক ও শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই বৃদ্ধি পায়(৯)। এর ফলে এক সুদূরপ্রসারী জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণ সাধিত হয়। কুরআন, হাদিস, ফিকহ, ভাষা ও ব্যাকরণসহ অন্যান্য জ্ঞানশাখায় নিয়োজিত আলেমদের প্রচেষ্টায় কুফা এই জাগরণে এক বিশাল অংশ লাভ করে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: হাজেরী রচিত 'আল-জাহিজ: হায়াতুহু ওয়া আসারুহু' ৬/১৩।

(২) দেখুন: তবাকাত ইবনে সাদ ৬/১৩।

(৩) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস ৬/১৩।

(৪) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস ৬/১৩।

(৫) দেখুন: কুফায় বসতি স্থাপনকারী সাহাবীদের তালিকা, পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড/৬।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস ৬/২৫৬।

(৭) পূর্বোক্ত উৎস ৬/২৭০।

(৮) দেখুন: আহমদ আমিনের 'দুহাল ইসলাম' ২/১১।

(৯) দেখুন: 'দুহাল ইসলাম' ২/৭৮ - ২৮৪।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٢٥)
فمن أعلامها في القراءات: أبو بكر بن عياش (ت (193) هـ)، وكان من المحدثين(1). وإسحاق بن محمد المسيبي (ت (206) هـ)(2)، وعنه محمد بن سعدان الضرير (ت (231) هـ)(3)، الذي أخذ ابن سعد القراءة عنه(4).

وفي التفسير: محمد بن يوسف الفريابي (ت (212) هـ)(5). وغيره.

وفي الحديث: وكيع بن الجراح: "ت (197) هـ) صاحب (كتاب الزهد) و (المصنف) و (التفسير) وله كتب كثيرة في الحديث(6). والفضل بن دكين (ت (219) هـ) صاحب كتاب (التفسير) و (الصلاة) و (التاريخ) وغيرها(7) وكلاهما من شيوخ ابن سعد.

وفي الفقه: الإمام أبو حنيفة النعمان (ت (150) هـ)(8) وأبو يوسف القاضي (ت (182) هـ)(9) ومحمد بن الحسن الشيباني (ت (189) هـ)(10) وعلي بن الحسن بن الحسن بن زياد اللؤلؤي (204) صاحب الكتاب (أدب القاضي)(11) وغيره.

--------------------------------------------

(1) انظر: طبقات ابن سعد 6/ 386. ومعرفة القراء للذهبي 1/ 110.

(2) انظر: معرفة القراء للذهبي 1/ 121.

(3) المصدر السابق 1/ 177.

(4) انظر: غاية النهاية في طبقات القراء للجزري 2/ 142.

(5) انظر: طبقات المفسرين للداودي 2/ 292.

(6) انظر: طبقات للداودي 2/ 357.

(7) انظر: المصدر السابق 2/ 29. وتاريخ التراث لسزكين 1/ 147.

(8) انظر: المعارف لابن قتيبة 499.

(9) انظر: تهذيب التهذيب 11/ 123.

(10) انظر: ضحى الإسلام لأحمد أمين 3/ 180. حيث يرسم جدولاً يرتب فيه طبقات الفقهاء من الكوفين.

(11) انظر تاريخ التارث لسزكين 2/ 73.

কিরাআতের ক্ষেত্রে এর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন: আবু বকর ইবন আইয়াশ (মৃত্যু ১৯৩ হি.), তিনি মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন(১)। এবং ইসহাক ইবন মুহাম্মদ আল-মুসাইয়্যিবী (মৃত্যু ২০৬ হি.)(২), তার নিকট থেকে মুহাম্মদ ইবন সাদাআন আদ-দারীর (মৃত্যু ২৩১ হি.) শিক্ষা গ্রহণ করেছেন(৩), যার নিকট থেকে ইবন সা'দ কিরাআত গ্রহণ করেছিলেন(৪)।

এবং তাফসীরের ক্ষেত্রে: মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ আল-ফিরয়াবী (মৃত্যু ২১২ হি.)(৫) এবং অন্যান্যরা।

এবং হাদীসের ক্ষেত্রে: ওয়াকী' ইবনুল জাররাহ (মৃত্যু ১৯৭ হি.), তিনি 'কিতাবুয যুহদ', 'আল-মুসান্নাফ' ও 'আত-তাফসীর' গ্রন্থের রচয়িতা এবং হাদীস শাস্ত্রে তার অনেক গ্রন্থ রয়েছে(৬)। এবং আল-ফাদল ইবন দুকাইন (মৃত্যু ২১৯ হি.), তিনি 'আত-তাফসীর', 'আস-সালাত', 'আত-তারীখ' সহ অন্যান্য কিতাবের রচয়িতা(৭) এবং তারা উভয়েই ইবন সা'দের উস্তাদ ছিলেন।

এবং ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে: ইমাম আবু হানিফা আন-নুমান (মৃত্যু ১৫০ হি.)(৮) এবং আবু ইউসুফ আল-কাজী (মৃত্যু ১৮২ হি.)(৯) এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী (মৃত্যু ১৮৯ হি.)(১০) এবং আলী ইবনুল হাসান ইবনুল হাসান ইবন যিয়াদ আল-লু'লুয়ী (২০৪ হি.) যিনি 'আদাবুল কাজী' গ্রন্থের রচয়িতা(১১) এবং অন্যান্যরা।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাবাকাতে ইবন সা'দ ৬/ ৩৮৬; এবং আয-যাহাবীর মা'রিফাতুল কুররা ১/ ১১০।

(২) দেখুন: আয-যাহাবীর মা'রিফাতুল কুররা ১/ ১২১।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস ১/ ১৭৭।

(৪) দেখুন: ইবনুল জাযারীর গায়াতুন নিহায়া ফি তাবাকাতিল কুররা ২/ ১৪২।

(৫) দেখুন: আদ-দাউদী-র তাবাকাতুল মুফাসসিরীন ২/ ২৯২।

(৬) দেখুন: দাউদীর তাবাকাত ২/ ৩৫৭।

(৭) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস ২/ ২৯; এবং সেজগিনের তারিখুত তুরাস ১/ ১৪৭।

(৮) দেখুন: ইবন কুতায়বার আল-মা'আরিফ ৪৯৯।

(৯) দেখুন: তাহযীবুত তাহযীব ১১/ ১২৩।

(১০) দেখুন: আহমদ আমীনের দুহাল ইসলাম ৩/ ১৮০; যেখানে তিনি কুফাবাসী ফকীহদের স্তরবিন্যাস করে একটি তালিকা উপস্থাপন করেছেন।

(১১) দেখুন: সেজগিনের তারিখুত তুরাস ২/ ৭৩।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وفي السيرة والمغازي: إبراهيم بن محمد بن الحارث الفزاري (ت (188) هـ) صاحب كتاب (السير في الأخبار) وكان قد قدم بغداد(1). وسعيد بن يحي بن سعيد الأموي صاحب كتاب (المغازي) الذي سكن بغداد وتوفي بها سنة (249 هـ)(2).

وفي التاريخ والنسب: لقيط المحاربي (ت (190) هـ)(3)، وهشام بن محمد ابن السائب الكلبي (ت (204) أو (206) هـ) صاحب (النسب الكبير ـ الجمهرة) وله كتب كثيرة في الأخبار(4).

أما اللغة والنحو: فقد ظهر فيهما أمثال علي بن حمزة الكسائي (ت (189) هـ) صاحب كتاب (مختصر النحو) وغيره(5). ويحي بن زياد الفراء (ت (207) هـ) صاحب كتاب (معاني القرآن) و (اللغات) و (المذكر والمؤنث) وغيرها(6).

ويتضح مما تقدم الدور الذي لعبته الكوفة، بنشاطها المشترك مع البصرة في النهضة العلمية التي أتت أكلها في بغداد أيام الرشيد (170 - (193) هـ) والمأمون (198 - (218) هـ).

 

‌‌3 - الحركة العلمية في بغداد:

بعد أن أتم المنصور (136 - (158) هـ) بناء مدينة بغداد(7)، جمع إليه المترجمين، وعُني بترجمة الكتب إلى العربية(8) وكان عهده قد أظل عدداً من العلماء الذين لم يألوا جهداً في الميدان العلمي والأدبي.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق 1/ 467.

(2) انظر: تذكرة الحفاظ 1/ 325. وتقريب التهذيب 127.

(3) انظر: تاريخ التراث 430.

(4) انظر: الفهرست لابن النديم 140، وتاريخ بغداد 14/ 45.

(5) انظر: المصدرين السابقين 97 و 11/ 413.

(6) انظر: المصدرين السابقين 99 و 14/ 419.

(7) بدأ في بنائها سنة خمس وأربعين ومائة، وأئمة في السنة التالية (انظر: تاريخ الطبري 7/ 614، 650، وفتوح البلدان للبلاذري 2/ 361. تاريخ بغداد 1/ 66).

(8) انظر: تاريخ الخلفاء للسيوطي 269.

সীরাত এবং মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) শাস্ত্রে: ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হারিস আল-ফাযারি (মৃত্যু ১৮৮ হিজরি), তিনি 'আস-সিয়ার ফিল আখবার' গ্রন্থের প্রণেতা এবং তিনি বাগদাদে এসেছিলেন(১)। এবং সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-উমাবি, যিনি 'আল-মাগাজি' গ্রন্থের প্রণেতা, যিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং ২৪৯ হিজরিতে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন(২)।

ইতিহাস এবং বংশতালিকাবিদ্যায়: লাকীত আল-মুহারিবি (মৃত্যু ১৯০ হিজরি)(৩) এবং হিশাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুস সায়েব আল-কালবি (মৃত্যু ২০৪ অথবা ২০৬ হিজরি), যিনি 'আন-নাসাবুল কাবীর - আল-জামহারা' গ্রন্থের প্রণেতা এবং ইতিহাস বিষয়ে তার অনেক গ্রন্থ রয়েছে(৪)।

ভাষা ও ব্যাকরণ শাস্ত্রে: এতে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন আলি ইবনে হামযা আল-কিসায়ি (মৃত্যু ১৮৯ হিজরি) এর মতো ব্যক্তিবর্গ, যিনি 'মুখতাসারুন নাহু' এবং অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা(৫)। এবং ইয়াহইয়া ইবনে যিয়াদ আল-ফাররা (মৃত্যু ২০৭ হিজরি), যিনি 'মাআনিল কুরআন', 'আল-লুগাত', 'আল-মুযাক্কার ওয়াল মুআন্নাস' সহ আরও অনেক গ্রন্থের রচয়িতা(৬)।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে কুফার সেই ভূমিকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা বসরার সাথে যৌথ তৎপরতার মাধ্যমে সেই জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণে তারা পালন করেছিল, যার সুফল বাগদাদে হারুনুর রশীদ (১৭০ - ১৯৩ হিজরি) এবং মামুনের (১৯৮ - ২১৮ হিজরি) শাসনামলে দৃশ্যমান হয়েছিল।

 

‌‌৩ - বাগদাদে ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন:

আল-মানসুর (১৩৬ - ১৫৮ হিজরি) বাগদাদ নগরীর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার পর(৭), তিনি তার নিকট অনুবাদকদের একত্র করেন এবং বিভিন্ন গ্রন্থ আরবিতে অনুবাদের বিষয়ে যত্নশীল হন(৮)। তার যুগ এমন একদল আলিম বা বিদ্বানকে প্রত্যক্ষ করেছিল যারা জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং সাহিত্যের ময়দানে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেননি।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস ১/ ৪৬৭।

(২) দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফায ১/ ৩২৫ এবং তাকরীবুত তাহযীব ১২৭।

(৩) দেখুন: তারিখুত তুরাস ৪৩০।

(৪) দেখুন: ইবনু নদিমের আল-ফিহরিস্ত ১৪০ এবং তারিখে বাগদাদ ১৪/ ৪৫।

(৫) দেখুন: পূর্বোক্ত উভয় উৎস ৯৭ এবং ১১/ ৪১৩।

(৬) দেখুন: পূর্বোক্ত উভয় উৎস ৯৯ এবং ১৪/ ৪১৯।

(৭) এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ১৪৫ হিজরিতে এবং সম্পন্ন হয়েছিল পরবর্তী বছরে (দেখুন: তারিখে তাবারী ৭/ ৬১৪, ৬৫০; এবং বালাযুরীর ফুতুহুল বুলদান ২/ ৩৬১; তারিখে বাগদাদ ১/ ৬৬)।

(৮) দেখুন: সুয়ূতী রচিত তারিখুল খুলাফা ২৬৯।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٢٧)
فشهدت بغداد في عهد مؤسسها نشاطاً علمياً كان أساساً للنهضة العلمية التي شهدتها فيما بعد.

ولما صارت الخلافة إلى المهدي (158 - (169) هـ)(1) لم تفقد الحركة العلمية نشاطها، إلاَّ أن اهتمامه الأكبر كان منصرفاً إلى النواحي المعمارية(2)، وتتبع الزنادقة(3). وسار الهادي على سياسة أبيه في تتبع الزنادقة، ولم يُعمَّر في الخلافة طويلاً حتى أدركته المنيَّة بعد سنة وشهر من تولَّيه الخلافة(4).

ولم يتجلّ النشاط في عهده بوضوح إلى أن جاء عهد الرشيد (170 - (193) هـ)(5) فكثرت الفتوحات، وزادت العناية بترجمة الكتب التي عُثر عليها أثناء الحروب. كما أسس الرشيد بيت الحكمة، وزوده بالكتب المختلفة وأنشأ المدارس والمكتبات(6)، فبلغت بغداد درجة لم تصل إليها من قبل واحتضنت عدداً كبيراً من العلماء في مختلف العلوم.

فمن المفسرين: هُشيم بن بشير السلمي الوسطي (ت (183) هـ) وكان محدثاً وفقهياً، وله من الكتب (القراءات) و (المغازي) و (السنن في الفقه)(7).

ومن المحدثين: هُشيم بن بشير الواسطي المتقدم. وإسماعيل بن عُليَّة البصري (ت (193) هـ) المحدث الفقيه المفسر، صاحب كتاب (التفسير) و (الطهارة) و (الصلاة) و (المناسك)(8). وكلاهما من شيوخ ابن سعد.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق 270.

(2) انظر: التاريخ الإسلامي العالم لعلي إبراهيم حسن 362.

(3) انظر: تاريخ الخلفاء للسيوطي 271.

(4) انظر: المعارف لابن قتيبة 380، وتاريخ الخلفاء 279.

(5) انظر: المصدرين السابقين 381 - 283.

(6) انظر: تاريخ الإسلام السياسي لحسن إبراهيم حسن 2/ 346، 348.

(7) انظر الفهرست لابن النديم 318. وتاريخ التراث لسزكين 1/ 64.

(8) انظر: الفهرست 317 تكرار العَلَم في الحركات العلمية المختلفة يدل على مساهمته في النشاط العلمي لتلك البلد التي يذكر فيها.

বাগদাদ তার প্রতিষ্ঠাতার যুগে এমন এক বৈজ্ঞানিক তৎপরতা প্রত্যক্ষ করেছিল যা পরবর্তীকালে সেখানে সংঘটিত বৈজ্ঞানিক জাগরণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

যখন খিলাফত আল-মাহদীর (১৫৮ - ১৬৯ হি.) নিকট হস্তান্তরিত হলো(১), তখনো জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন তার গতি হারায়নি; তবে তার প্রধান মনোযোগ নিবদ্ধ ছিল স্থাপত্য শিল্পের দিকে(২) এবং যিনদীকদের (ধর্মদ্রোহীদের) দমনের ক্ষেত্রে(৩)। আল-হাদী যিনদীকদের দমনের ক্ষেত্রে তার পিতার নীতিই অনুসরণ করেছিলেন। তিনি খিলাফতে বেশিদিন অতিবাহিত করতে পারেননি, বরং ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর এক মাস পরেই তার মৃত্যু হয়(৪)।

তার যুগে জ্ঞানতাত্ত্বিক তৎপরতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেনি যতক্ষণ না রশীদের যুগ (১৭০ - ১৯৩ হি.) আসে(৫)। তখন অনেক বিজয় অর্জিত হয় এবং যুদ্ধের সময় প্রাপ্ত বইসমূহ অনুবাদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। রশীদ ‘বাইতুল হিকমাহ’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং একে বিভিন্ন ধরনের বই দ্বারা সমৃদ্ধ করেন, সেই সাথে বিদ্যালয় ও গ্রন্থাগারসমূহ গড়ে তোলেন(৬)। ফলে বাগদাদ এমন এক উচ্চশিখরে পৌঁছায় যেখানে ইতিপূর্বে কখনো পৌঁছায়নি এবং এটি বিভিন্ন শাস্ত্রের বিপুল সংখ্যক আলেমকে আশ্রয় প্রদান করে।

মুফাসসিরগণের মধ্যে ছিলেন: হুশাইম ইবনে বাশির আস-সুলামি আল-ওয়াসিতি (মৃ. ১৮৩ হি.)। তিনি একজন মুহাদ্দিস ও ফকিহ ছিলেন এবং তার রচিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে: (আল-কিরাআত), (আল-মাগাযি) এবং (আস-সুনান ফিল ফিকহ)(৭)।

মুহাদ্দিসগণের মধ্যে ছিলেন: পূর্বে উল্লিখিত হুশাইম ইবনে বাশির আল-ওয়াসিতি। আর ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যাহ আল-বাসরি (মৃ. ১৯৩ হি.), যিনি মুহাদ্দিস, ফকিহ ও মুফাসসির ছিলেন। তিনি (আত-তাফসির), (আত-তাহারাহ), (আস-সালাত) এবং (আল-মানাসিক) গ্রন্থসমূহের প্রণেতা(৮)। তাঁরা উভয়েই ইবনে সা’দ-এর উস্তাদ ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস ২৭০।

(২) দেখুন: আলি ইবরাহিম হাসান রচিত ‘আত-তারিখুল ইসলামি আল-আলাম’ ৩৬২।

(৩) দেখুন: সুয়ূতি রচিত ‘তারিখুল খুলাফা’ ২৭১।

(৪) দেখুন: ইবনে কুতাইবাহ রচিত ‘আল-মাআরিফ’ ৩৮০ এবং ‘তারিখুল খুলাফা’ ২৭৯।

(৫) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎসদ্বয় ৩৮১ - ২৮৩।

(৬) দেখুন: হাসান ইবরাহিম হাসান রচিত ‘তারিখুল ইসলাম আস-সিয়াসি’ ২/ ৩৪৬, ৩৪৮।

(৭) দেখুন: ইবনু নাদিম রচিত ‘আল-ফিহরিস্ত’ ৩১৮ এবং সেজগিন রচিত ‘তারিখুত তুরাস’ ১/ ৬৪।

(৮) দেখুন: আল-ফিহরিস্ত ৩১৭। বিভিন্ন জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনে একই ব্যক্তির নামের পুনরাবৃত্তি ঐ জনপদে তার জ্ঞানতাত্ত্বিক তৎপরতায় অবদানের প্রমাণ বহন করে যেখানে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٢٨)
ومن الفقهاء: أبو يوسف يعقوب بن إبراهيم القاضي (ت (182) هـ) صاحب كتاب (الخراج) وغيره(1).

ومن أصحاب السير والمغازي: الفزاري إبراهيم بن محمد بن الحارث الكوفي (ت (188) هـ) صاحب كتاب (السير في الأخبار)(2).

ومن أصحاب النحويين: سيبويه عمرو بن عثمان البصري (ت (183) هـ)(3)، والكسائي علي بن حمزة الكوفي (ت (189) هـ)(4).

فأصبحت بغداد مقصد رجال العلم، ومكتبة لمؤلفاتهم، ومركزاً تجارياً هاماً. ولما آلت الخلافة إلى أمين بن الرشيد (193 - 198) نشبت الفتنة بينه وبين أخيه المأمون، واحتدم الصراع بينهما، إلى أن أخمدت الفتنة بقتل الأمين(5). وانتقل زمام الأمر إلى المأمون (198 - (218) هـ)(6) فعاد إلى بغداد نشاطها، وأصبحت مهد الحضارة في ذلك الوقت.

فقد اهتم المأمون بحركة الترجمة، فأرسل المترجمين إلى بلاد الروم لنقل ما فيها من العلوم إلى العربية، فأحضروا طرائف الكتب في مختلف الفنون(7).

كما طوّر بيت الحكمة الذي أسسه الرشيد، وقسمه إلى الأجنحة للترجمة والتأليف، والدرس والنسخ(8). فزخرت بغداد بجمٍّ غفير من العلماء الذين

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق 286.

(2) انظر: تاريخ التراث 1/ 467.

(3) انظر: الفهرست 76. وتاريخ بغداد 12/ 198.

(4) انظر المصدريين السابقين 97، 11/ 414.

(5) انظر: التاريخ الإسلامي العام 370 - 371.

(6) انظر: تاريخ الخلفاء للسيوطي 306.

(7) انظر: الفهرست لابن النديم 339 - 340.

(8) انظر: ضحى الإسلام 2/ 61. وتاريخ الإسلام السياسي 2/ 348. والعصر العباسي الأول لشوقي ضيف 113.

এবং ফকিহদের মধ্যে রয়েছেন: আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম আল-কাজি (মৃত্যু ১৮২ হিজরি), যিনি 'কিতাবুল খারাজ' এবং অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা(১)।

আর সিরাত ও মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রয়েছেন: আল-ফাজারি ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আল-হারিস আল-কুফি (মৃত্যু ১৮৮ হিজরি), যিনি 'আস-সিয়ার ফিল আখবার' গ্রন্থের রচয়িতা(২)।

এবং ব্যাকরণবিদদের মধ্যে রয়েছেন: সিবওয়াইহ আমর বিন উসমান আল-বাসরি (মৃত্যু ১৮৩ হিজরি)(৩) এবং আল-কিসায়ি আলি বিন হামজাহ আল-কুফি (মৃত্যু ১৮৯ হিজরি)(৪)।

ফলে বাগদাদ জ্ঞানপিপাসুদের গন্তব্যস্থল, তাদের রচনাবলির পাঠাগার এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। যখন খিলাফত হারুনুর রশিদের পুত্র আমিনের হাতে আসে (১৯৩ - ১৯৮ হিজরি), তখন তার ও তার ভাই মামুনের মধ্যে ফিতনা (গৃহযুদ্ধ) শুরু হয় এবং তাদের মধ্যকার সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে, অবশেষে আমিনকে হত্যার মাধ্যমে এই ফিতনা প্রশমিত হয়(৫)। এরপর শাসনের ক্ষমতা মামুনের (১৯৮ - ২১৮ হিজরি) হাতে স্থানান্তরিত হয়(৬), ফলে বাগদাদ তার কর্মচঞ্চলতা ফিরে পায় এবং তৎকালীন সভ্যতার দোলনায় পরিণত হয়।

মামুন অনুবাদ আন্দোলনের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেন, তাই তিনি রোমীয় সাম্রাজ্যে অনুবাদকদের প্রেরণ করেন যাতে সেখানে বিদ্যমান জ্ঞানসমূহ আরবিতে স্থানান্তরিত করা যায়। ফলে তারা বিভিন্ন বিষয়ের চমৎকার ও দুর্লভ সব গ্রন্থ নিয়ে আসেন(৭)।

এছাড়াও তিনি রশিদের প্রতিষ্ঠিত 'বাইতুল হিকমাহ'কে উন্নত করেন এবং একে অনুবাদ, রচনা, পাঠদান ও অনুলিপিকরণের জন্য বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত করেন(৮)। ফলে বাগদাদ বিশাল সংখ্যক আলেম বা জ্ঞানীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে যারা

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২৮৬।

(২) দেখুন: তারিখুত তুরাস ১/ ৪৬৭।

(৩) দেখুন: আল-ফিহরিস্ত ৭৬ এবং তারিখু বাগদাদ ১২/ ১৯৮।

(৪) পূর্বোক্ত উৎসদ্বয় দেখুন ৯৭, ১১/ ৪১৪।

(৫) দেখুন: আত-তারিখুল ইসলামি আল-আম ৩৭০ - ৩৭১।

(৬) দেখুন: সুয়ুতির তারিখুল খুলাফা ৩০৬।

(৭) দেখুন: ইবনুন নাদিমের আল-ফিহরিস্ত ৩৩৯ - ৩৪০।

(৮) দেখুন: দোহাল ইসলাম ২/ ৬১; তারিখুল ইসলাম আস-সিয়াসি ২/ ৩৪৮; এবং শাওকি দাইফের আল-আসরুল আব্বাসি আল-আউয়াল ১১৩।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٢٩)
ساهموا في نشر العلم، وتربية الأجيال ثقافة وأخلاقاً، حتى صار لبغداد شهرتها العلمية في مختلف الميادين.

فنبغ فيها من القراء: شيخ ابن سعد رُويم بن يزيد المقرئ البغدادي (ت (211) هـ)(1). وأبو عبيد القاسم بن سلاَّم البغدادي (ت (224) هـ) صاحب كتاب (القراءات)، و (مجاز القرآن)، و (غريب القرآن)، و (غريب الحديث)، و (الأموال)، و (الطهارة) وغيرها(2).

ومن المحدثين: أبو زكريا السيلحيني (ت (210) هـ)(3). وعفان بن مسلم البصري (ت (220) هـ)(4). والفضل بن دُكين الكوفي (218 هـ، وقيل غير ذلك)(5). والثلاثة من شيوخ ابن سعد.

ومن الفقهاء المعلَّى بن منصور الرازي (ت (211) هـ) صاحب كتاب (النوادر في الفقه)(6). وأبو عبيد القاسم بن سلاَّم، المتقدم.

ومن أصحاب المغازي والسير يحيى بن سعد الأموي الكوفي ت (194) هـ صاحب كتاب المغازي الواقدي ت (307) هـ صاحب كتاب (المغازي)(7) وكان من أهل المدينة(8). ومعمر بن المثنىَّ البصري (ت (209) هـ) صاحب (مجاز القرآن)، وصاحب التصانيف الكثيرة في التاريخ، وغريب الحديث وغير ذلك(9).

--------------------------------------------

(1) انظر: تاريخ بغداد 8/ 430.

(2) انظر: الفهرست 106، ومعرفة القراء الكبار 1/ 141.

(3) انظر طبقات ابن سعد 7/ 340. وتاريخ بغداد 14/ 158. واسمه يحي بن إسحاق البجلي.

(4) انظر: تاريخ بغداد 12/ 277.

(5) المصدر السابق 12/ 355 - 357.

(6) انظر: تاريخ التراث لسزكين 2/ 74.

(7) المصدر السابق 1/ 468.

(8) انظر: الفهرست 144. وتاريخ بغداد 3/ 3.

(9) انظر: الفهرست 79. وتاريخ بغداد 13/ 353.

তারা জ্ঞান প্রচার এবং সংস্কৃতি ও নৈতিকতার মাধ্যমে প্রজন্মের লালন-পালনে অবদান রেখেছেন, যার ফলে বাগদাদ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার বৈজ্ঞানিক খ্যাতি অর্জন করেছে।

সেখানে ক্বারীগণের মধ্য থেকে যারা প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনে সা'দের শায়খ রুয়াইম বিন ইয়াজিদ আল-মুক্বরী আল-বাগদাদী (মৃত্যু ২১১ হিজরী)(১) এবং আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সালাম আল-বাগদাদী (মৃত্যু ২২৪ হিজরী), যিনি 'আল-কিরাআত', 'মাজাযুল কুরআন', 'গারীবুল কুরআন', 'গারীবুল হাদীস', 'আল-আমওয়াল', 'আত-তাহারাহ' এবং অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা(২)।

আর মুহাদ্দিসগণের মধ্যে রয়েছেন: আবু জাকারিয়া আস-সাইলাহীনি (মৃত্যু ২১০ হিজরী)(৩), আফফান বিন মুসলিম আল-বাসরী (মৃত্যু ২২০ হিজরী)(৪) এবং ফাদল বিন দুকাইন আল-কুফী (২১৮ হিজরী, মতান্তরে অন্য কিছু)(৫)। এই তিনজনই ইবনে সা'দের শায়খদের অন্তর্ভুক্ত।

ফকীহগণের মধ্যে রয়েছেন মুআল্লা বিন মানসুর আর-রাযী (মৃত্যু ২১১ হিজরী), যিনি 'আন-নাওয়াদির ফিল ফিকহ' গ্রন্থের রচয়িতা(৬) এবং ইতিপূর্বে উল্লিখিত আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সালাম।

আর মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) ও সীরাত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াহইয়া বিন সা'দ আল-উমাবী আল-কুফী (মৃত্যু ১৯৪ হিজরী), যিনি 'আল-মাগাযী' গ্রন্থের রচয়িতা; আল-ওয়াকিদী (মৃত্যু ৩০৭ হিজরী), 'আল-মাগাযী' গ্রন্থের রচয়িতা(৭) এবং তিনি মদিনাবাসীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন(৮); এবং মুয়াম্মার বিন আল-মুসান্না আল-বাসরী (মৃত্যু ২০৯ হিজরী), 'মাজাযুল কুরআন'-এর রচয়িতা এবং ইতিহাস, গারীবুল হাদীস ও অন্যান্য বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থের প্রণেতা(৯)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখ বাগদাদ ৮/ ৪৩০।

(২) দেখুন: আল-ফিহরিসত ১০৬ এবং মারিফাতুল ক্বুররাউল কিবার ১/ ১৪১।

(৩) দেখুন: তাবাকাত ইবনে সা'দ ৭/ ৩৪০ এবং তারিখ বাগদাদ ১৪/ ১৫৮। তার নাম ইয়াহইয়া বিন ইসহাক আল-বাজালী।

(৪) দেখুন: তারিখ বাগদাদ ১২/ ২৭৭।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস ১২/ ৩৫৫ - ৩৫৭।

(৬) দেখুন: সেজকিন প্রণীত তারিখুত তুরাহ ২/ ৭৪।

(৭) পূর্বোক্ত উৎস ১/ ৪৬৮।

(৮) দেখুন: আল-ফিহরিসত ১৪৪ এবং তারিখ বাগদাদ ৩/ ৩।

(৯) দেখুন: আল-ফিহরিসত ৭৯ এবং তারিখ বাগদাদ ১৩/ ৩৫৩।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٣٠)
ومن المؤرخين: سهل بن هارون البصري (ت (215) هـ)(1).

ومن النسابين: هشام بن محمد بن السائب الكلبي الكوفي (ت (204) أو (206) هـ) صاحب كتاب (النسب الكبير) وغيره(2). ومصعب بن عبد الله بن مصعب بن الزبيري (ت (233) هـ) صاحب كتاب (النسب الكبير)، و (نسب قريش)(3).

ومن اللغويين: مؤرج بن عمر السدوسي البصري (ت (195) هـ) صاحب كتاب (المعاني) وغيره(4).

ومن النحويين: يحي بن زياد الفراء الكوفي (ت (207) هـ)(5).

وإلى جانب هؤلاء العلماء، ظهر المتكلمون، وتكلم الناس في مسألة خلق القرآن، وتدخل المأمون في ذلك، وعقد المجالس للمناظرة، فتحولت مجالس المأمون إلى ندوات علمية، مما ساعد على نشاط الحياة العلمية في عصره(6)، رغم الآثار السيئة التي تركتها هذه الفتنة في الحياة الإسلامية.

هكذا فتحت بغداد أبوابها لاستقبال العلماء من كل حدب وصوب حتى مسرحاً واسعاً للترجمة والتأليف، ولانتشار المؤلفات المتنوعة.

--------------------------------------------

(1) انظر: تاريخ التراث لسزكين 1/ 439.

(2) انظر: الفهرست 140. وتاريخ بغداد 14/ 45.

(3) انظر: الفهرست 160.

(4) انظر: الفهرست 71. وتاريخ بغداد 13/ 258.

(5) تقدم ذكره في آواخر الحديث عن الحركة في الكوفة.

(6) انظر: تاريخ التمدن الإسلامي 159. وعصر الإسلام الذهبي لعلي محمد راضي 59 - 63. والعصر العباسي الأول لشوقي ضيف 133. وسأتعرض لهذه المسألة أثناء الكلام عن العقيدة المؤلف، ص 36.

ঐতিহাসিকদের মধ্যে রয়েছেন: সাহল ইবনে হারুন আল-বাসরি (মৃত ২১৫ হিজরি)(১)।

বংশবিদদের মধ্যে রয়েছেন: হিশাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সায়েব আল-কালবি আল-কুফি (মৃত ২০৪ বা ২০৬ হিজরি), তিনি 'আন-নাসাব আল-কাবির' ও অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা(২)। এবং মুসআব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুসআব ইবনে আজ-জুবাইরি (মৃত ২৩৩ হিজরি), তিনি 'আন-নাসাব আল-কাবির' ও 'নাসাবু কুরাইশ' গ্রন্থের রচয়িতা(৩)।

ভাষাবিদদের মধ্যে রয়েছেন: মুয়ররিজ ইবনে উমর আস-সাদুসি আল-বাসরি (মৃত ১৯৫ হিজরি), তিনি 'আল-মাআনি' ও অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা(৪)।

ব্যাকরণবিদদের মধ্যে রয়েছেন: ইয়াহইয়া ইবনে জিয়াদ আল-ফাররা আল-কুফি (মৃত ২০৭ হিজরি)(৫)।

এই আলেমদের পাশাপাশি ইলমে কালামের পণ্ডিতদের (মুতাকাল্লিমুন) আবির্ভাব ঘটে এবং মানুষ 'খলকে কুরআন' (কুরআন সৃষ্টি) সংক্রান্ত মাসআলা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। মামুন এতে হস্তক্ষেপ করেন এবং বিতর্কের জন্য সভা বা মজলিস কায়েম করেন। এর ফলে মামুনের মজলিসগুলো জ্ঞানতাত্ত্বিক সেমিনারে রূপ নেয়, যা তাঁর যুগে জ্ঞানচর্চাকে গতিশীল করতে সহায়তা করেছিল(৬), যদিও এই ফিতনা ইসলামি জীবনে কিছু নেতিবাচক প্রভাব রেখে গিয়েছিল।

এভাবেই বাগদাদ সব দিক থেকে আসা আলেমদের বরণ করে নেওয়ার জন্য তার দ্বার উন্মোচন করে দেয়, যা অনুবাদ, গ্রন্থ রচনা এবং বিভিন্ন ধরনের রচনার প্রসারের এক বিশাল ক্ষেত্রে পরিণত হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখুত তুরাস, সেজগিন ১/৪৩৯।

(২) দেখুন: আল-ফিহরিস্ত ১৪০; এবং তারিখু বাগদাদ ১৪/৪৫।

(৩) দেখুন: আল-ফিহরিস্ত ১৬০।

(৪) দেখুন: আল-ফিহরিস্ত ৭১; এবং তারিখু বাগদাদ ১৩/২৫৮।

(৫) কুফার (জ্ঞানতাত্ত্বিক) আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনার শেষাংশে এর উল্লেখ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(৬) দেখুন: তারিখুত তামাদ্দুনিল ইসলামি ১৫৯; আসরুল ইসলাম আয-যাহাবি, আলী মুহাম্মদ রাযি ৫৯-৬৩; আল-আসরুল আব্বাসি আল-আউয়াল, শাওকি দাইফ ১৩৩। গ্রন্থকারের আকীদা বিষয়ক আলোচনার সময় আমি এই মাসআলাটি নিয়ে আলোচনা করব, পৃষ্ঠা ৩৬।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٣١)
وكان عصر المأمون من أزهى عصور العلم في الدولة العباسية، حتى وصف بأنه (عصر الإسلام الذهبي)(1).

ونهج المعتصم (218 - 227) نهج أخيه في حمل الناس على القول بخلق القرآن تنفيذاً لوصية أخيه المأمون له بذلك عند موته(2). ولم تُعدم بغداد كيانها العلمي في أيامه الأولى، حتى انتقل إلى سامراء (سنة (221) هـ) بسبب الإضطربات الداخلية(3). ومن ثم بدأت الحركة العلمية نحو الانحدار، وبالتالي فقدت نشاطها أيام الواثق (227 - (232) هـ) وران عليها الركود، وعلى ذلك انتهى العصر العباسي الأول(4).

هذا عرض سريع للحركة العلمية الشريعة الخطا التي عايشها ابن سعد في عنفوان قوتها. وشارك في القيام بنهضتها منذ أن بدأت تخطو خطاها الواسعة المديدة.

 

‌‌4 - الحركة العلمية في المدينة المنوّرة:

لا شك أن المدينة المنورة هي الأم التي أنجبت تلك المراكز الإسلامية الثلاثة -البصرة، الكوفة، بغداد- بل مراكز العالم الإسلامي كله. حيث إليها هاجر النبي صلى الله عليه وسلم وأنشأ مدرسته العظمى التي ربى فيها أصحابه رضوان الله عليهم، ومنها زحفت الجيوش الإسلامية لإعلاء كلمة الله، فهي مركز الإشعاع الذي انبثق منه نور الإسلام إلى البلدان المختلفة.

ومنها خرج ابن عباس إلى البصرة وابن مسعود إلى الكوفة، وغيرهم إلى الأمصار المختلفة لتعيلم الناس أمور دينهم. فأخذوا عنهم القراءات والتفسير والحديث، والفقه.

--------------------------------------------

(1) ألّف علي محمد راضي كتاباً بهذا العنوان"عصر الإسلام الذهبي المأمون العباسي". طبع في مصر بالدار القومية للطباعة.

(2) انظر: تاريخ الطبري 9/ 648.

(3) انظر: التاريخ الإسلامي العام 408 وما بعدها.

(4) انظر: تاريخ الخلفاء للسيوطي 340. والتاريخ الإسلامي العام 416 - 418.

আল-মামুনের যুগ ছিল আব্বাসীয় খিলাফতের জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম উজ্জ্বল যুগ, এমনকি একে (ইসলামের স্বর্ণযুগ)(১) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

আল-মুতাসিম (২১৮ - ২২৭ হিজরী) তাঁর ভাই আল-মামুনের মৃত্যুর সময়ের অসিয়ত বাস্তবায়নে মানুষকে কুরআন সৃষ্টির মতবাদে বাধ্য করার ক্ষেত্রে তাঁর ভাইয়ের পথ অনুসরণ করেছিলেন(২)। অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে সামাররায় (২২১ হিজরী সালে) স্থানান্তরিত হওয়ার আগে পর্যন্ত বাগদাদ তার প্রাথমিক দিনগুলোতে তার জ্ঞানতাত্ত্বিক সত্তা বা মর্যাদা হারায়নি(৩)। এরপর থেকে জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন নিম্নমুখী হতে শুরু করে এবং ফলশ্রুতিতে আল-ওয়াসিকের (২২৭ - ২৩২ হিজরী) সময়ে তা তার সক্রিয়তা হারায় এবং এর ওপর স্থবিরতা জেঁকে বসে; এর মাধ্যমেই প্রথম আব্বাসীয় যুগের সমাপ্তি ঘটে(৪)।

এটি ছিল সেই দ্রুতগামী জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা যার পূর্ণ শক্তির সময়ে ইবনে সাদ বেঁচে ছিলেন। তিনি এর পুনর্জাগরণে অংশ নিয়েছিলেন যখন এটি তার সুদীর্ঘ ও বিস্তৃত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেছিল।

 

‌‌৪ - মদিনা মুনাওয়ারার জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মদিনা মুনাওয়ারা হলো সেই জননী যা এই তিনটি ইসলামি কেন্দ্র—বসরা, কুফা, বাগদাদ—বরং সমগ্র ইসলামি বিশ্বের কেন্দ্রগুলোর জন্ম দিয়েছে। যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করেছিলেন এবং তাঁর সেই মহান শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যেখানে তিনি তাঁর সাহাবীদের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) গড়ে তুলেছিলেন এবং সেখান থেকেই আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য ইসলামি বাহিনীগুলো অগ্রসর হয়েছিল। এটিই সেই বিকিরণ কেন্দ্র যেখান থেকে ইসলামের আলো বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিল।

সেখান থেকেই ইবনে আব্বাস বসরার উদ্দেশ্যে এবং ইবনে মাসউদ কুফার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন এবং অন্যরা বিভিন্ন জনপদে গিয়েছিলেন মানুষকে তাদের দ্বীনের বিষয়াদি শিক্ষা দেওয়ার জন্য। ফলে মানুষ তাঁদের কাছ থেকে কিরাত, তাফসির, হাদিস এবং ফিকহ গ্রহণ করেছিল।

--------------------------------------------

(১) আলী মুহাম্মদ রাজি এই শিরোনামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন "আসরে ইসলাম আজ-জাহাবি আল-মামুন আল-আব্বাসি" (ইসলামের স্বর্ণযুগ: আব্বাসীয় আল-মামুন)। এটি মিশরের আদ-দারুল কওমিয়া লিত-তিবাআহ থেকে মুদ্রিত।

(২) দেখুন: তারিখুত তাবারী ৯/৬৪৮।

(৩) দেখুন: আত-তারিখুল ইসলামি আল-আম ৪০৮ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো।

(৪) দেখুন: সুয়ূতী রচিত তারিখুল খুলাফা ৩৪০ এবং আত-তারিখুল ইসলামি আল-আম ৪১৬ - ৪১৮।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٣٢)
إلا أن من بقى فيها من الصحابة أكثر بكثير ممن خرج منها(1). فلا غرابة إذا ما حافظت على كيانها العلمي الذي زخرت به في أيامها الأولى حتى بداية العصر العباسي (132 هـ) حيث بدأت الخلافات السياسية بين الخلفاء العراق والخارجين عليهم في المدينة. فأخذ العباسيون ينكَّلون بالمدينة وأهلها، وبالتالي أرخت الجفوة أسدالها بين الطرفين حتى بدأ النشاط العلمي في المدينة يخبو قليلاً، بسبب إهمال الخلفاء لها، وتكريس جهودهم للنهوض ببغداد عاصمة الخلافة. ومع هذا كله فقد كان لوجود الأعداد الهائلة من التابعين ومن بعدهم في المدينة أكبر الأثر في الحفاظ على هذه الثقافة التي تناقلوها عن آبائهم آنذاك.

كما كانت فريضة الحج الدائمة سبباً هاماً في اتصالهم بعلماء الأمصار لتبادل العلوم فيما بينهم. فكانت الثقافة في المدينة ترتكز على الحديث وما يبني عليه من فقه، وما يتصل بذلك من أخبار وسير(2)، بالإضافة إلى تعليم القرآن وغيره.

وقد اشتهر من القراء: أبو جعفر القارئ يزيد بن القعقاع (ت (132) هـ)(3). وأبو رُويم نافع بن عبد الرحمن (ت (169) هـ)، أحد أصحاب القراءات السبع الصحيحة(4). وقالون عيسى بن مينا (ت (220) هـ)(5) وغيرهم.

واشتهر من المفسرين: عبد الرحمن بن زيد بن أسلم (ت (182) هـ)، صاحب كتاب (الناسخ والمنسوخ) و (التفسير)(6).

--------------------------------------------

(1) انظر: ضحى الإسلام 2/ 151. وذكر أن ألفي صحابي تفرقوا في الأمصار، وعشرة آلاف ماتوا في المدينة.

(2) انظر: ضحى الإسلام 2/ 75.

(3) انظر ترجمته رقم 60.

(4) انظر: ترجمته رقم 382. ومعرفة القراء الكبار 1/ 89.

(5) انظر: معرفة القراء الكبار 1/ 128.

(6) انظر: الفهرست 57. وطبقات المفسرين للداودي 1/ 265.

তবে যারা সেখানে থেকে গিয়েছিলেন এমন সাহাবীদের সংখ্যা সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়াদের তুলনায় অনেক বেশি ছিল(১)। তাই এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, মদিনা তার সেই ইলমি সত্তা বজায় রেখেছিল যা তার প্রাথমিক দিনগুলোতে সমৃদ্ধ ছিল, এমনকি আব্বাসীয় যুগের শুরু (১৩২ হিজরি) পর্যন্ত, যখন ইরাকের খলিফাদের এবং মদিনায় তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারীদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ শুরু হয়। তখন আব্বাসীয়রা মদিনা এবং মদিনাবাসীদের ওপর চড়াও হতে শুরু করে, যার ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে দূরত্বের দেয়াল তৈরি হয় এবং খলিফাদের অবহেলা ও খিলাফতের রাজধানী বাগদাদকে উন্নত করার জন্য তাদের সমস্ত প্রচেষ্টা নিয়োজিত করার কারণে মদিনার ইলমি তৎপরতা কিছুটা স্তিমিত হতে শুরু করে। এসব সত্ত্বেও, মদিনায় বিপুল সংখ্যক তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের উপস্থিতি এই সংস্কৃতি সংরক্ষণে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছিল, যা তারা সেই সময়ে তাদের পূর্বসূরিদের কাছ থেকে লাভ করেছিলেন।

অনুরূপভাবে, হজের স্থায়ী ফরজ বিধানটি বিভিন্ন অঞ্চলের আলেমদের সাথে জ্ঞান বিনিময়ের লক্ষ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল। মদিনার সংস্কৃতি প্রধানত হাদিস এবং তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ফিকহ, এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ইতিহাস ও জীবনীর ওপর আবর্তিত হতো(২), পাশাপাশি কুরআনের শিক্ষা ও অন্যান্য বিষয়ও সেখানে ছিল।

কারীদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন: আবু জাফর আল-কারি ইয়াজিদ ইবনুল কা'কা (মৃত্যু ১৩২ হিজরি)(৩)। এবং আবু রুয়াইম নাফে বিন আব্দুর রহমান (মৃত্যু ১৬৯ হিজরি), যিনি সাতটি বিশুদ্ধ কিরাতের অন্যতম ইমাম(৪)। এবং কালুন ঈসা বিন মিনা (মৃত্যু ২২০ হিজরি)(৫) ও অন্যান্যরা।

মুফাসসিরদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন: আব্দুর রহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম (মৃত্যু ১৮২ হিজরি), যিনি 'আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ' এবং 'আত-তাফসির' গ্রন্থের লেখক(৬)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: দুহাল ইসলাম ২/১৫১। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুই হাজার সাহাবী বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং দশ হাজার মদিনায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

(২) দেখুন: দুহাল ইসলাম ২/৭৫।

(৩) দেখুন তার জীবনী নং ৬০।

(৪) দেখুন: তার জীবনী নং ৩৮২ এবং মারিফাতুল কুররা আল-কিবার ১/৮৯।

(৫) দেখুন: মারিফাতুল কুররা আল-কিবার ১/১২৮।

(৬) দেখুন: আল-ফিহরিস্ত ৫৭ এবং আদ-দাউদির তাবাকাতুল মুফাসসিরিন ১/২৬৫।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٣٣)
ومن المحدثين: الزهري (ت (124) هـ)(1). ويحي بن سعيد الأنصاري (ت (144) هـ)(2). ومالك ابن أنس (ت (179) هـ)، صاحب (الموطأ)(3). وشيخا ابن سعد: يعقوب بن إبراهيم بن سعد بن إبراهيم الزهري (ت (208) هـ)(4)، وله نسخة في الحديث تُعرف بـ (نسخة إبراهيم)(5) ومعن بن عيسى القزاز (ت (198) هـ)(6).

وأما الفقه، فكانت مدرسته تعتمد على الحديث(7)، بخلاف ما كانت عليه العراق وعلى وجه الخصوص الكوفة، مدرسة أهل الرأي(8). ولهذا كان إذا تجادل الحجازيون والعراقيون في هذا الباب كان الحجازيون أقوى وأقهر(9). فكان في المدينة من الفقهاء: السبعة المشهورون، ومن جاء بعدهم أمثال الزهري، ويحي الأنصاري، ومالك بن أنس(10)، ويحي بن يحي الليثي (ت (234) هـ)(11).

وكان ممن اهتم بالسيرة ومغازي الرسول صلى الله عليه وسلم، ومحمد بن إسحاق (ت (150) هـ)، صاحب (السيرة)(12). والواقدي (ت (207) هـ)، صاحب

--------------------------------------------

(1) انظر تراجمهم على الترتيب 70 - 244 - 372.

(2) انظر تراجمهم على الترتيب 70 - 244 - 372.

(3) انظر تراجمهم على الترتيب 70 - 244 - 372.

(4) انظر تاريخ بغداد 14/ 269.

(5) انظر: تاريخ التراث لسزكين 1/ 138.

(6) انظر: تقريب التهذيب 344.

(7) انظر: التراجم 16 - 72 - 77 - 113.

(8) انظر: تاريخ الإسلام السياسي 1/ 331.

(9) انظر: ضحى الإسلام 2/ 152.

(10) ستأتي تراجم الثلاثة رقم 70 - 244 - 372 على الترتيب.

(11) انظر: ضحى الإسلام 2/ 208. حيث يرسم جدولاً "لطبقات الفقهاء" والفقهاء السبعة هم: عبيد الله بن عبد الله بن عتبة، عروة بن الزبير، والقاسم بن أبي بكر، وسعيد بن المسيب، وسليمان بن يسار، وخارجة بن زيد، وسالم بن عبد الله.

(12) انظر: ترجمته رقم 330. والفهرست لابن النديم 136.

মুহাদ্দিসদের (হাদিস বিশারদ) মধ্যে ছিলেন: যুহরি (মৃত্যু ১২৪ হিজরি)(১)। এবং ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারি (মৃত্যু ১৪৪ হিজরি)(২)। এবং মালিক ইবনে আনাস (মৃত্যু ১৭৯ হিজরি), (আল-মুওয়াত্তা) গ্রন্থের রচয়িতা(৩)। এবং ইবনে সা'দ-এর দুই উস্তাদ: ইয়াকুব বিন ইবরাহিম বিন সা'দ বিন ইবরাহিম আজ-যুহরি (মৃত্যু ২০৮ হিজরি)(৪), হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যা (ইবরাহিমের পাণ্ডুলিপি) নামে পরিচিত(৫) এবং মা'ন বিন ঈসা আল-কাযযায (মৃত্যু ১৯৮ হিজরি)(৬)।

আর ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে, তাঁর শিক্ষা পদ্ধতি হাদিসের ওপর নির্ভরশীল ছিল(৭), যা ইরাক এবং বিশেষ করে কুফার শিক্ষা পদ্ধতির বিপরীত ছিল, যা ছিল আহলুর রায় (যুক্তিনির্ভর মতাবলম্বী) দের শিক্ষা পদ্ধতি(৮)। আর এই কারণেই যখন হিজাজি এবং ইরাকিরা এই বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হতো, তখন হিজাজিরা অধিক শক্তিশালী ও বিজয়ী হতো(৯)। মদিনার ফকিহদের মধ্যে ছিলেন: বিখ্যাত সাতজন ফকিহ এবং তাঁদের পরে যারা এসেছেন যেমন যুহরি, ইয়াহইয়া আনসারি এবং মালিক বিন আনাস(১০) এবং ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আল-লাইসি (মৃত্যু ২৩৪ হিজরি)(১১)।

আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিরাত ও মাগাযি (যুদ্ধাভিযান) নিয়ে যারা আগ্রহী ছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক (মৃত্যু ১৫০ হিজরি), (আস-সিরাত) গ্রন্থের রচয়িতা(১২) এবং ওয়াকিদি (মৃত্যু ২০৭ হিজরি), যিনি গ্রন্থের রচয়িতা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন তাঁদের জীবনী যথাক্রমে ৭০ - ২৪৪ - ৩৭২।

(২) দেখুন তাঁদের জীবনী যথাক্রমে ৭০ - ২৪৪ - ৩৭২।

(৩) দেখুন তাঁদের জীবনী যথাক্রমে ৭০ - ২৪৪ - ৩৭২।

(৪) দেখুন তারিখু বাগদাদ ১৪/ ২৬৯।

(৫) দেখুন: সেজগিনের তারিখুত তুরাস ১/ ১৩৮।

(৬) দেখুন: তাকরিবুত তাহযিব ৩৪৪।

(৭) দেখুন: জীবনীসমূহ ১৬ - ৭২ - ৭৭ - ১১৩।

(৮) দেখুন: তারিখুল ইসলাম আস-সিয়াসি ১/ ৩৩১।

(৯) দেখুন: দুহাল ইসলাম ২/ ১৫২।

(১০) এই তিনজনের জীবনী সামনে যথাক্রমে ৭০ - ২৪৪ - ৩৭২ নম্বরে আসবে।

(১১) দেখুন: দুহাল ইসলাম ২/ ২০৮। যেখানে তিনি "ফকিহদের স্তরের" একটি ছক অঙ্কন করেছেন এবং সাতজন ফকিহ হলেন: উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবা, উরওয়াহ বিন যুবায়ের, আল-কাসিম বিন আবু বকর, সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব, সুলাইমান বিন ইয়াসার, খারিজাহ বিন যায়েদ এবং সালিম বিন আব্দুল্লাহ।

(১২) দেখুন: তাঁর জীবনী নম্বর ৩৩০ এবং ইবনু নাদিমের আল-ফিহরিসত ১৩৬।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٣٤)
كتاب (المغازي)، وهو شيخ ابن سعد(1).

هذه نماذج من التابعين، ومن بعدهم، ممن احتضنتهم المدينة ونهضت بهم، لتزويد الأمصار المختلفة، العلوم الإسلامية المتنوعة التي زخرت بها من مدرستها الأولى.

والمجلد الخامس بما فيه هذا القسم من طبقات ابن سعد -تُرجم فيه لسبعة وثمانين وثمانمائة رجل من أهل العلم- يعكس نشاط الحركة العلمية التي عايشتها المدينة، ومدى تأثيرها على الأقطار الأخرى إلى نهاية العصر العباسي الأول تقريباً.

 

‌‌5 - الحركة العلمية في مكة المكرمة:

وقد انحدر ابن سعد في ترحاله إلى مكة، والحركة العلمية فيها محدودة النشاط إذا قيست بزميلاتها من المراكز العليمة الأخرى، لأن نشاط البلد كان يتناسب طرداً مع مقر الخلافة، فحيث وجد الخليفة وجد النشاط. فالبلد الذي يستقر فيه الخليفة، هو الذي يكون صاحب الحظ الأوفر ثقافياً، واقتصادياً، وعسكرياً … الخ.

ففي فجر الإسلام، كان الحجاز -مكة والمدينة- صاحب الريادة العلمية ولما انتقلت الخلافة إلى الشام في العهد الأموي، نشطت الحركة العلمية فيها أكثر منها في الأمصار الأخرى. وعندما صار زمام الأمر بيد العباسيين انتقلت الريادة العلمية إلى العراق -البصرة، الكوفة، وبغداد- معقل بني العباس.

وعلى كل حال كانت مكة وإلى جانبها من أغنى مصادر روايات التشريع الإسلامي لأن الأولى دار نشأة النبي صلى الله عليه وسلم، والثانية دار هجرته، وكلاهما منشأ المهاجرين والأنصار، الذين عاشروا النبي صلى الله عليه وسلم، وحدثوا عنه، وتناقل التابعون ومن بعدهم ما سمعوا منه(2).

--------------------------------------------

(1) انظر: الفهرست لابن النديم 144. وتاريخ التراث 1/ 470 - 475.

(2) انظر ضحى الإسلام لأحمد أمين 2/ 75.

কিতাবুল মাগাযী, আর তিনি ছিলেন ইবনে সা’দের শিক্ষক(১).

এরা হলেন তাবেঈন এবং তাদের পরবর্তী স্তরের একদল প্রতিনিধি, যাদেরকে মদীনা লালন-পালন করেছে এবং যাদের মাধ্যমে সে অগ্রসর হয়েছে, যাতে বিভিন্ন জনপদকে সেই বৈচিত্র্যময় ইসলামী জ্ঞান দ্বারা সমৃদ্ধ করা যায়, যা তার প্রথম বিদ্যাপীঠ থেকে উপচে পড়েছিল।

ইবনে সা’দের ‘তাবাকাত’-এর এই অংশটিসহ পঞ্চম খণ্ডটি —যাতে আটশত সাতাশি জন ইলম অন্বেষণকারীর জীবনী বর্ণিত হয়েছে— মদীনা যে ইলমি আন্দোলনের সাক্ষী হয়েছিল এবং প্রায় প্রথম আব্বাসী যুগের শেষ পর্যন্ত অন্যান্য অঞ্চলের ওপর তার প্রভাবের যে ব্যাপ্তি ছিল, তারই প্রতিফলন ঘটায়।

 

‌‌৫ - মক্কা মুকাররামায় ইলমি আন্দোলন:

ইবনে সা’দ তার সফরের সময় মক্কায় পদার্পণ করেন। অন্য সকল ইলমি কেন্দ্রের সাথে তুলনা করলে সেখানকার ইলমি তৎপরতা কিছুটা সীমিত ছিল। কারণ একটি শহরের তৎপরতা খিলাফতের সদর দপ্তরের সাথে সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেত; অর্থাৎ যেখানে খলিফা থাকতেন, সেখানেই তৎপরতা পরিলক্ষিত হতো। যে শহরে খলিফা অবস্থান করতেন, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক ইত্যাদি দিক থেকে সেই শহরই সর্বাধিক সৌভাগ্যের অধিকারী হতো... ইত্যাদি।

ইসলামের উষালগ্নে হিজাজ —মক্কা ও মদীনা— ইলমি নেতৃত্বের অধিকারী ছিল। যখন উমাইয়া যুগে খিলাফত সিরিয়ায় স্থানান্তরিত হলো, তখন অন্যান্য জনপদের তুলনায় সেখানে ইলমি আন্দোলন অধিকতর গতিশীল হয়ে ওঠে। আর যখন শাসনক্ষমতা আব্বাসীয়দের হাতে চলে গেল, তখন ইলমি নেতৃত্ব ইরাকে —বনি আব্বাসের দুর্গ বসরা, কুফা ও বাগদাদে— স্থানান্তরিত হলো।

যাই হোক, মক্কা এবং তার পাশাপাশি (মদীনা) ছিল ইসলামী শরীয়াহর বর্ণনাসমূহের সবচেয়ে সমৃদ্ধ উৎস; কারণ প্রথমটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বেড়ে ওঠার স্থান এবং দ্বিতীয়টি ছিল তাঁর হিজরতের স্থান। উভয় স্থানই ছিল মুহাজির ও আনসারদের সূতিকাগার, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন, তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছিলেন এবং তাবেঈন ও তাদের পরবর্তীগণ যা তাঁর থেকে শুনেছেন তা একে অপরের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন(২).

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনুন নাদীম রচিত আল-ফিহরিস্ত ১৪৪। এবং তারিখুত তুরাস ১/ ৪৭০ - ৪৭৫।

(২) দেখুন: আহমদ আমীন রচিত যুহাল ইসলাম ২/ ৭৫।

(খণ্ড: ১) আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুত তাবিইন (পৃষ্ঠা: ٣٥)
بالإضافة إلى حركة الحج الدائمة التي كانت تصل العالم الإسلامي بعلماء الحرمين الشريفين، فكان أناس يذهبون للحج ويقصدون لقاء العلماء أيضاً وفي ذلك يقول الداودي: "فقد كان خلق يحجون والباعث لهم لقي ابن عيينة فيزدحمون عليه أيام الحج"(1).

وكان سفيان بن عيينة محدثاً ومفسراً وفقيهاً، ولد بالكوفة (107 هـ)، ونشأ وتوفي في مكة (196 هـ). له كتاب (التفسير)، وكتب في الحديث(2). وكان من شيوخ ابن سعد(3)

وممن قدم مكة وسكنها ومات فيها من العلماء: العلاء بن عبد الجبار البصري (ت (212) هـ) المحدث الثقة، شيخ ابن سعد(4). وسعيد بن منصور المروزي (ت (227) هـ) رواية إسماعيل بن عُليَّة، كما أخذ عن ابن عيينة(5). وله كتاب (السنن) وأحاديث (العوالي) و (التفسير)(6).

وكان فيها من المؤرخين: أحمد بن محمد بن الوليد الأزرقي (ت (217) هـ أو (222) هـ)، صاحب كتاب (تاريخ مكة)، روى عن ابن سعد(7)، وروى عنه ابن سعد(8)، وكان محدثاً ثقةً، وقد أخرج له البخاري(9).

--------------------------------------------

(1) انظر: طبقات المفسرين للداودي 1/ 190.

(2) انظر: المصدر السابق، وتاريخ التراث لسزكين 1/ 139.

(3) انظر: تهذيب التهذيب 9/ 182.

(4) انظر طبقات ابن سعد 5/ 501. وتهذيب التهذيب 8/ 185.

(5) انظر: المصدرين السابقين 5/ 502. و 4/ 89 - 90.

(6) انظر: تاريخ التارث لسزكين 1/ 153 وقد طبع مجلدان من سننه.

(7) انظر: تاريخ التراث لسزكين 1/ 553.

(8) انظر: ترجمة "محمد بن عبد الله بن عمرو بن عثمان بن عفان" رقم 141 حيث ينقل ابن سعد عنه فيها.

(9) انظر: تقريب التهذيب 16.

স্থায়ী হজ কাফেলার পাশাপাশি যা ইসলামী বিশ্বকে দুই পবিত্র হারামের আলেমদের সাথে সংযুক্ত করত, অসংখ্য মানুষ হজের উদ্দেশ্যে আসত এবং আলেমদের সাথে সাক্ষাতের সংকল্পও করত। এ প্রসঙ্গে আদ-দাউদি বলেন: "অসংখ্য মানুষ হজ করতে আসত এবং তাদের মূল চালিকাশক্তি ছিল ইবনে উয়াইনার সাথে সাক্ষাৎ করা, ফলে হজের দিনগুলোতে তারা তাঁর চারপাশে ভিড় জমাত।"(১).

সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা ছিলেন একজন মুহাদ্দিস, মুফাসসির এবং ফকিহ। তিনি কুফায় জন্মগ্রহণ করেন (১০৭ হিজরি), এবং মক্কায় বেড়ে ওঠেন ও সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন (১৯৬ হিজরি)। তাঁর (আত-তাফসির) নামক একটি গ্রন্থ এবং হাদিস বিষয়ক কিতাবাদি রয়েছে।(২) তিনি ইবনে সা'দের শায়খদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।(৩)

আলেমদের মধ্যে যারা মক্কায় এসেছিলেন, সেখানে বসবাস করেছিলেন এবং মৃত্যুবরণ করেছিলেন তাদের অন্যতম হলেন: আল-আলা ইবনে আবদিল জাব্বার আল-বাসরি (মৃত্যু ২১২ হিজরি), যিনি একজন নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস এবং ইবনে সা'দের শায়খ ছিলেন।(৪) আর সাঈদ ইবনে মানসুর আল-মারওয়াযি (মৃত্যু ২২৭ হিজরি), যিনি ইসমাইল ইবনে উল্লাইয়্যার বর্ণনাকারী ছিলেন এবং ইবনে উয়াইনা থেকেও জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।(৫) তাঁর (আস-সুনান), (আল-আওয়ালি) এবং (আত-তাফসির) নামক গ্রন্থ রয়েছে।(৬)

সেখানে ঐতিহাসিকদের মধ্যে ছিলেন: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ওয়ালিদ আল-আযরাকি (মৃত্যু ২১৭ হিজরি অথবা ২২২ হিজরি), যিনি (তারিখে মক্কা) গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি ইবনে সা'দ থেকে বর্ণনা করেছেন(৭), এবং ইবনে সা'দও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন(৮)। তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস এবং ইমাম বুখারি তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।(৯)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আদ-দাউদি রচিত তাবাকাতুল মুফাসসিরিন ১/১৯০।

(২) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস, এবং সেজগিন রচিত তারিখুত তুরাস ১/১৩৯।

(৩) দেখুন: তাহযিবুত তাহযিব ৯/১৮২।

(৪) দেখুন: তাবাকাত ইবনে সা'দ ৫/৫০১ এবং তাহযিবুত তাহযিব ৮/১৮৫।

(৫) দেখুন: পূর্বোক্ত উভয় উৎস ৫/৫০২ এবং ৪/৮৯-৯০।

(৬) দেখুন: সেজগিন রচিত তারিখুত তুরাস ১/১৫৩; তাঁর সুনান গ্রন্থের দুই খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে।

(৭) দেখুন: সেজগিন রচিত তারিখুত তুরাস ১/৫৫৩।

(৮) দেখুন: "মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে উসমান ইবনে আফফান"-এর জীবনী, নম্বর ১৪১; যেখানে ইবনে সা'দ তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।

(৯) দেখুন: তাকরিবুত তাহযিব ১৬।