(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الصواعق المرسلة الشهابية على الشبه الداحضة الشامية القسم: الفرق والردود
الكتاب: الصواعق المرسلة الشهابية على الشبه الداحضة الشامية
المؤلف: سليمان بن سحمان بن مصلح بن حمدان بن مصلح بن حمدان بن مسفر بن محمد بن مالك بن عامر الخثعمي , التبالي , العسيري , النجدي (ت 1349هـ)
الناشر: دار العاصمة، الرياض، المملكة العربية السعودية
عدد الصفحات: 324
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাতুশ শিহাবিয়্যাহ আলাশ-শুবাহিল দাহিদাতিশ শামিয়্যাহ বিভাগ: ফিরকাহ ও খণ্ডন
গ্রন্থ: আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাতুশ শিহাবিয়্যাহ আলাশ-শুবাহিল দাহিদাতিশ শামিয়্যাহ
লেখক: সুলাইমান বিন সাহমান বিন মুসলিহ বিন হামদান বিন মুসলিহ বিন হামদান বিন মুসফির বিন মুহাম্মাদ বিন মালিক বিন আমির আল-খাসআমি, আত-তাবালি, আল-আসীরি, আন-নাজদি (মৃত্যু ১৩৪৯ হি.)
প্রকাশক: দারুল আসিমাহ, রিয়াদ, সৌদি আরব সাম্রাজ্য
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة المحقق
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
أما بعد: فإن كتاب" الصواعق المرسلة الشهابية على الشبه الداحضة الشامية" للشيخ سليمان بن سحمان من أجل الكتب التي نافحت عن العقيدة السلفية، ودرأت الشبهات الشيطانية التي أثيرت حولها.
ومؤلف هذا الكتاب علم من أعلام أهل السنة النبوية، وصارم مسلول على أعداء الدعوة السلفية النجدية، له صولات وجولات في مضمار الردود نظما ونثرا، مما جعل لردوده قيمة علمية، ومكانة مرموقة عند العلماء وطلبة العلم.
ونظرا لأفول شمس هذا الكتاب القيم عن المكتبات منذ أكثر من ثلاثين سنة تقريبا، ومطالبة كثير من العلماء الأجلاء وطلبة العلم النبغاء بإخراجه، وجعله في متناول الأيدي سارعت بإخراجه في هذه الصورة التي أرجو من الله أن تكون خالصة له، مرضية للجميع.
هذا وقد أخرجت هذه الطبعة بعد مقابلتها على نسختين:
الأولى: النسخة الحجرية التي طبعت ببمبي في الهند سنة1335هـ
সম্পাদকের ভূমিকা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর।
অতঃপর: শেখ সুলাইমান বিন সাহমান রচিত "আস-সওয়াইকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিইয়াহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিজাহ আশ-শামিয়্যাহ" গ্রন্থটি সালাফী আকিদা রক্ষার ক্ষেত্রে এবং একে কেন্দ্র করে উত্থাপিত শয়তানি সংশয়সমূহ নিরসনের ক্ষেত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ।
এই গ্রন্থের লেখক আহলুস সুন্নাহর অন্যতম এক দিকপাল এবং নজদি সালাফী দাওয়াতের শত্রুদের বিরুদ্ধে এক উন্মুক্ত তরবারি। খণ্ডন ও প্রতিবাদের ময়দানে কবিতা ও গদ্য উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর বলিষ্ঠ বিচরণ রয়েছে, যা তাঁর প্রতিবাদী কর্মসমূহকে আলেম সমাজ ও জ্ঞানপিপাসু ছাত্রদের কাছে উচ্চতর ইলমি মান ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিত করেছে।
দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে লাইব্রেরিগুলো থেকে এই মূল্যবান গ্রন্থটি অনুপস্থিত থাকায় এবং বহু সম্মানিত আলেম ও মেধাবী ছাত্রদের পক্ষ থেকে এটি প্রকাশের দাবির প্রেক্ষিতে, আমি এটি সর্বসাধারণের নাগালে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান রূপে প্রকাশে ত্বরান্বিত করেছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, এই কাজ যেন একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য হয় এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।
উল্লেখ্য যে, বর্তমান সংস্করণটি দুটি পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করার পর প্রকাশ করা হয়েছে:
প্রথমটি: ১৩৩৫ হিজরিতে ভারতের বোম্বে থেকে মুদ্রিত লিথোগ্রাফি (পাথর মুদ্রণ) সংস্করণ।
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
على عهد المؤلف رحمه الله تعالى. والإشارة إلى هذه النسخة بـ"الأصل".
الثانية: النسخة المطبوعة في الرياض بأمر الملك سعود بن عبد العزيز ـ رحمه الله تعالى ـ سنة1376هـ.
ولم أثبت كثيرا من الفروق لعدم الفائدة في ذلك ـ عندي ـ هذا وقد اجتهدت في توثيق أغلب النصوص المنقولة، وتخريج بعض الأحاديث الواردة في ثنايا الكتاب، ووضع فهارس تكشف أسرار الكتاب، وتبين للقارئ محتواه.
والله تعالى أسأل أن يصلح نياتنا، وأن يستر عن الأعين خلاتنا، إنه ولي ذلك والقادر عليه.
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
كتبه الفقير إلى ربه القدير
عبد السلام بن برجس بن ناصر آل عبد الكريم
الرياض5/12/1408هـ
যা রচয়িতার (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) জীবদ্দশায় লিখিত। এই পাণ্ডুলিপিটিকে "মূল" হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দ্বিতীয়: ১৩৭৬ হিজরীতে বাদশাহ সউদ বিন আব্দুল আজিজ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর নির্দেশে রিয়াদে মুদ্রিত সংস্করণ।
আমার নিকট তা অধিক ফলপ্রসূ মনে না হওয়ায় পাঠভেদের অনেক পার্থক্য আমি লিপিবদ্ধ করিনি। তবে আমি উদ্ধৃত অধিকাংশ মূল পাঠের প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করতে, কিতাবের অভ্যন্তরে উল্লেখিত কিছু হাদীসের তাখরীজ (উৎস নির্ণয়) করতে এবং এমন নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করতে সচেষ্ট হয়েছি যা কিতাবটির গূঢ় রহস্যসমূহ উন্মোচন করবে এবং পাঠকের নিকট এর বিষয়বস্তু স্পষ্ট করবে।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের নিয়তসমূহ সংশোধন করে দেন এবং মানুষের দৃষ্টি থেকে আমাদের দোষত্রুটিসমূহ আবৃত রাখেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
তাঁর সর্বশক্তিমান রবের মুখাপেক্ষী বান্দা কর্তৃক লিখিত
আবদুস সালাম বিন বারজাস বিন নাসির আল আব্দুল কারীম
রিয়াদ, ৫/১২/১৪০৮ হিজরী
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي وفقنا لسلوك صراطه المستقيم، وجنبنا بفضله ورحمته طريق أصحاب الجحيم، ومنّ علينا بمتابعة نبيه الكريم، فضلا من الله ونعمة والله ذو الفضل العظيم، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له العزيز الحكيم، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله وخيرته من خلقه وأمينه على وحيه أفضل الصلاة وأتم التسليم، وعلى آله وأصحابه الذين هم نجوم الهداية والدراية والتعليم.
أما بعد: فإني وقفت على أوراق كتبها رجل من أهل الشام يقال له: " محمد عطا الكسم"1، وكان ممن تجانف للعدوان والإثم، جمع فيها من الترهات والأكاذيب الموضوعات ما يمج سماعه أولو العقول السليمة، والألباب الزاكية المستقيمة، وسماها
"الأقوال المرضية في الرد على الوهابية"، ورتبها على مقدمة وثلاثة أبواب وخاتمة، وقد اشتملت مقدمته الكاذبة الخاطئة على ألفاظ مبتدعة، ومعان وإشارات مخترعة، وأقوال مختلفة مفترعة، ليست من أقوال أهل الإسلام، ولم يقل بها أحد من الأئمة
--------------------------------------------
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে তাঁর সরল সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করেছেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতে জাহান্নামবাসীদের পথ থেকে আমাদেরকে দূরে রেখেছেন; আর তাঁর মহান নবীকে অনুসরণের মাধ্যমে আমাদের ধন্য করেছেন—যা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ ও নিয়ামত, আর আল্লাহ মহান অনুগ্রহের অধিকারী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তাঁর ওহীর আমানতদার। তাঁর প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কেরামের প্রতি—যাঁরা হিদায়ত, প্রজ্ঞা ও শিক্ষার উজ্জ্বল নক্ষত্রস্বরূপ—সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর: আমি সিরিয়াবাসী (শাম) জনৈক ব্যক্তির লিখিত কিছু পৃষ্ঠার ওপর দৃষ্টিপাত করলাম, যাকে "মুহাম্মদ আতা আল-কাসিম"১ বলা হয়। সে ছিল সীমালঙ্ঘন ও পাপের দিকে ঝুঁকে পড়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। সে তাতে এমন সব মিথ্যা ও বানোয়াট অসার কথা জমা করেছে, যা সুস্থ বিবেকসম্পন্ন ও পবিত্র বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে। সে এর নাম রেখেছে
"আল-আকওয়ালুল মারদিয়্যাহ ফির-রাদ্দি আলাল ওয়াহাবিয়্যাহ" (ওহাবিদের খণ্ডনে সন্তোষজনক উক্তি)। সে এটি একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারের ওপর বিন্যস্ত করেছে। তার সেই মিথ্যাচারপূর্ণ ও ভুলভ্রান্তিতে ভরা ভূমিকাটি এমন সব নবউদ্ভাবিত শব্দ, মনগড়া অর্থ ও ইঙ্গিত এবং বিভিন্ন বানোয়াট বক্তব্যে ঠাসা, যা ইসলামের অনুসারীদের কথা নয় এবং ইমামগণের মধ্যে কেউই তা বলেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الأعلام، وإنما هي أوضاع الفلاسفة ومن وافقهم من أهل الكلام، وأهل الاتحاد الطغاة اللئام، ومن وافقهم على أصولهم ممن يزعم أن معاني هذه الألفاظ حصلت له بطريق المشاهدة والمكاشفة التي هي عند التحقيق مكاشفة، وأن ذلك من الفتوحات الربانية والمواهب اللدنية، وفي الحقيقة إنما هي خيالات شيطانية، واصطلاحات وأوضاع فلسفية، وخلف من بعدهم خلف على طريقتهم عبّروا عن هذه المعاني الفلسفية بعبارات إسلامية، يخاطبون بها من لا يعرف معاني هذه الأوضاع، ويجعلون مراد الله ورسوله من الآيات والأحاديث على ما أرادوا من معاني هذه الأوضاع التي تخالف كتاب الله وسنة رسوله وأقوال سلف الأمة وأئمتها، كما يذكر أبو حامد الغزالي في مواضع من الفرق بين عالم الملك والملكوت والجبروت، وفي مواضع أخر قال فيها: إن أشرف أفعال الله وأعجبها وأدلها على جلالة صانعها ما لا يظهر للحس بل هو من عالم الملكوت، وهي الملائكة الروحانية والروح والقلب، أعني العارف بالله تعالى من جملة أجزاء الآدمي فإنها أيضا من جملة عالم الغيب والملكوت وخارج عن عالم الملك والشهادة.
قال شيخ الإسلام: ومعلوم أن ما جاء في الكتاب والسنة من لفظ الملكوت، كقوله: {بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ} [المؤمنون: 88] ، وقوله صلى الله عليه وسلم في ركوعه: " سبحان ذي الجبروت والملكوت والكبرياء والعظمة" 1، لم يرد به هذا باتفاق المسلمين، ولا دل كلام أحد من
--------------------------------------------
এগুলো কোনো স্বীকৃত নিদর্শন নয়, বরং এগুলো হলো দার্শনিকদের পরিভাষা এবং তাদের অনুসারী কালামশাস্ত্রবিদ ও পথভ্রষ্ট অদ্বৈতবাদীদের উদ্ভাবিত বানোয়াট মতবাদ মাত্র। আর তাদের অনুসারী ঐসব ব্যক্তিরাও এর অন্তর্ভুক্ত যারা দাবি করে যে, এই শব্দগুলোর অর্থ তাদের নিকট 'মুশাহাদা' (প্রত্যক্ষ দর্শন) ও 'মুকাশাফা' (রহস্য উন্মোচন) এর মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে—যা প্রকৃতপক্ষে নিছক বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছু নয়। তারা মনে করে যে এগুলো রব্বানী বিজয় ও ঐশ্বরিক বিশেষ দান, অথচ বাস্তবে এগুলো শয়তানি কল্পনা এবং দার্শনিক পরিভাষা ও পদ্ধতি মাত্র। তাদের পরবর্তী উত্তরসূরিরা তাদের এই পথই অনুসরণ করেছে এবং এই দার্শনিক অর্থগুলোকে ইসলামী পরিভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে তারা এমন লোকদের সম্বোধন করে যারা এই পরিভাষাগুলোর প্রকৃত অর্থ জানে না। তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আয়াত ও হাদিসের উদ্দেশ্যকে তাদের নিজেদের উদ্ভাবিত অর্থের আদলে পরিবর্তন করে নেয়, যা আল্লাহর কিতাব, রাসূলের সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফ ও ইমামগণের বক্তব্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। যেমনটি আবু হামিদ আল-গাজালি 'আল-মুলক', 'আল-ملكوت' (মালাকুত) এবং 'আল-জাবারুত' জগতের পার্থক্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছেন। অন্যান্য স্থানে তিনি বলেছেন: আল্লাহর কার্যাবলির মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ, আশ্চর্যজনক এবং তাঁর মহত্ত্বের বড় প্রমাণ হলো সেই সব বিষয় যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়, বরং তা মালাকুত জগতের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো হলো আধ্যাত্মিক ফেরেশতামন্ডলী, রুহ (আত্মা) এবং কলব (অন্তর)। অর্থাৎ মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে আল্লাহর পরিচয় লাভকারী (আরিফ) সত্তাটি মূলত গায়েব ও মালাকুত জগতের অন্তর্ভুক্ত এবং তা দৃশ্যমান ও প্রত্যক্ষ জগত (মুলক) এর বহির্ভূত।
শাইখুল ইসলাম বলেন: এটি সুপরিচিত যে, কুরআন ও সুন্নাহতে 'মালাকুত' শব্দটির যে প্রয়োগ এসেছে, যেমন আল্লাহর বাণী: {তাঁর হাতেই সবকিছুর সার্বভৌমত্ব (মালাকুত)} [সূরা আল-মুমিনুন: ৮৮], এবং রুকুতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দোয়া: "পবিত্রতা ঘোষণা করছি সেই সত্তার, যিনি মহাপরাক্রম (জাবারুত), রাজত্ব (মালাকুত), গরিমা ও মহত্ত্বের অধিকারী", মুসলমানদের ঐকমত্য অনুযায়ী এসকল ক্ষেত্রে এই দার্শনিক অর্থ গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি কোনো সালাফের বক্তব্যও এর সপক্ষে নয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
السلف والأئمة على التقسيم الذي يذكرونه بهذه الألفاظ، وهم يعبرون بهذه العبارات المعروفة عند المسلمين عن تلك المعاني التي تلقوها عن الفلاسفة وضعا وضعوه، ثم يريدون أن ينزلوا كلام الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم على ما وضعوه من اللغة والاصطلاح. انتهى.
وهذه المعاني التي ذكرها الفلاسفة يفسرون عالم الملك بعالم الأجسام، وعالم الملكوت بعالم النفوس، لأنها باطن الأجسام، وعالم الجبروت بالعقول، لأنها غير متصلة بالأجسام ولا متعلقة بها، ومنهم من يعكس، وقد يجعلون الإسلام والإيمان والإحسان مطابقا لهذه الأمور.
والمقصود بهذا أن ما ذكره هذا الملحد فيما يأتي من كلام القسطلاني وما بعده هو من هذا النمط المأخوذ عن الفلاسفة ومن وافقهم، فلما لم يكن هذا من كلام أهل الإسلام ولم يذكره أحد من أئمة الأعلام، وشبّه به هؤلاء الغلاة على الطغام من العوام، ومن لا معرفة له بمدارك الأحكام ومعاني الكلام استعنت الله تعالى على التنبيه على بعض ما في هذه
--------------------------------------------
সালাফগণ এবং ইমামগণ এই পরিভাষাগুলোর মাধ্যমে তাদের উল্লিখিত এই বিভাজনের প্রবক্তা ছিলেন না। তারা মুসলমানদের নিকট সুপরিচিত এই শব্দাবলি ব্যবহারের মাধ্যমে এমন সব অর্থ প্রকাশ করতে চান যা তারা দার্শনিকদের থেকে গ্রহণ করে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। অতঃপর তারা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীকে তাদের উদ্ভাবিত এই ভাষা ও পরিভাষার ওপর প্রয়োগ করতে চান। সমাপ্ত।
দার্শনিকদের উল্লিখিত এই অর্থগুলোর ব্যাখ্যায় তারা 'আলমে মুলক' (দৃশ্য জগত) দ্বারা জড় জগত, 'আলমে মালাকুত' (অদৃশ্য জগত) দ্বারা আত্মার জগত—যেহেতু তা দেহের অভ্যন্তরে বিদ্যমান—এবং 'আলমে জাবারুত' (প্রতাপের জগত) দ্বারা বুদ্ধিবৃত্তিক সত্তাসমূহকে বুঝিয়েছেন; কেননা এগুলো দেহের সাথে যুক্ত বা সম্পৃক্ত নয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর বিপরীত ব্যাখ্যাও করেছেন। তারা ইসলাম, ঈমান ও ইহসানকেও এই বিষয়গুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করে থাকেন।
এর উদ্দেশ্য হলো, এই নাস্তিক কাসতালানী এবং পরবর্তী বর্ণনাগুলোতে যা উল্লেখ করেছে, তা দার্শনিক এবং তাদের অনুসারীদের থেকে গ্রহণ করা এই ধারারই অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু এটি মুসলিমদের বক্তব্য নয় এবং প্রথিতযশা ইমামগণের কেউ এটি উল্লেখ করেননি, আর এই চরমপন্থীরা সাধারণ মানুষ এবং বিধান আহরণের উৎস ও বাক্যের গূঢ় রহস্য সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিদের বিভ্রান্ত করেছে, তাই আমি এতে বিদ্যমান বিষয়গুলোর প্রতি সতর্ক করার জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الأوراق من المخرفة والشقاق، وعلى كشف ما موه به من جواز الاستغاثة بالأنبياء والأولياء والصالحين، والتوسل بهم على اصطلاح هؤلاء الغلاة، وما ذكر من الأحاديث في ذلك وأقوال أهل العلم، مما هو موضوع مكذوب، أو ضعيف لا يحتج به ولا تثبت به الحجة الشرعية، وتركت كثيرا من كلامه مما هو متضمن للغلو والإطراء في حق نبينا صلى الله عليه وسلم مما يزعم أنه من تعظيمه وتوقيره، وكذلك ما ذكره عن السبكي في كتابه: " تعظيم المنة"، وما ذكره من المفاضلة بين الأنبياء وبين نبينا صلى الله عليه وسلم مما قد نهى عنه صلى الله عليه وسلم1، وأعقبت ذلك بذكر خاتمة في الفرق بين توحيد الربوبية وتوحيد الألوهية وأقوال بعض العلماء في معنى لا إله إلا الله، وسميت هذا الجواب: " الصواعق المرسلة الوهابية على الشبهات الداحضة الشامية"2 وأسأل الله تعالى أن يلهمنا الصواب، وأن يجزل لنا الأجر والثواب، بمنه وكرمه.
--------------------------------------------
এই পৃষ্ঠাগুলি বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অনৈক্য থেকে মুক্ত এবং নবীগণ, ওলীগণ ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করার বৈধতা সম্পর্কে তিনি যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন তার মুখোশ উন্মোচনকারী; বিশেষ করে এই চরমপন্থীদের পরিভাষা অনুযায়ী তাদের মাধ্যমে অসীলা গ্রহণ এবং এ বিষয়ে তারা যে সকল হাদীস ও আলিমদের বক্তব্য উল্লেখ করেছে যা মূলত বানোয়াট ও মিথ্যা অথবা এমন দুর্বল বর্ণনা যা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং যা দ্বারা শরয়ি প্রমাণ সাব্যস্ত হয় না। আমি তাঁর বক্তব্যের অনেক অংশই বর্জন করেছি যার মধ্যে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে অতিরঞ্জন ও অত্যধিক প্রশংসা অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং যা তিনি নবীজির প্রতি সম্মান ও মর্যাদার প্রদর্শন বলে দাবি করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি তাঁর 'তাযীমুল মিন্নাহ' গ্রন্থে সুবকী থেকে যা উল্লেখ করেছেন এবং নবীগণের মধ্যে ও আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ নিয়ে যে বিতর্কের অবতারণা করেছেন তাও বর্জন করা হয়েছে, যা থেকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং নিষেধ করেছেন১। পরিশেষে আমি তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ ও তাওহীদে উলুহিয়্যাহর পার্থক্য এবং 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর তাৎপর্য সম্পর্কে কিছু আলিমের বক্তব্য সম্বলিত একটি উপসংহার যুক্ত করেছি। আমি এই উত্তরটির নামকরণ করেছি: 'আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাতুল ওয়াহহাবিইয়াতু আলাশ শুবহাতিল দাহিদাতিশ শামিয়্যাহ'২। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করেন এবং তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ ও বদান্যতায় আমাদের সওয়াব ও প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
فصل: في نقض تسميته عباد القبور: أهل السنة والجماعة…فصل
"قال الملحد أما بعد: فيقول خويدم طلبت العلم الفقير إلى الله محمد عطا الكسم: إنه قد أخبرني بعض الإخوان أنه قد اجتمع برجل من الوهابية؛ يوسوس لأهل السنة المحمدية؛ بتحريم التوسل بخير البرية؛ عليه أفضل الصلاة وأتم التحية إلى آخر ما قال".
والجواب وبالله التوفيق أن أقول: قد سبق هذا الملحد إلى تسمية عباد القبور: أهل السنة المحمدية من أعمى الله بصيرة قلبه طاغية العراق داود بن جرجيس العراقي؛ وأجابه على ذلك الإمام وعلم الهداة الأعلام الشيخ عبد اللطيف؛ فنذكر من جوابه ما يبطل تسمية هذا الملحد عباد القبور أهل السنة المحمدية؛ قال رحمه الله تعالى1:
والجواب أن يقال أولا: تسمية عباد القبور أهل سنة وجماعة جهل عظيم بحدود ما أنزل الله على رسوله؛ وقلب
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ: কবরপূজারীদের ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত’ হিসেবে নামকরণের খণ্ডন প্রসঙ্গে...পরিচ্ছেদ
"সেই ধর্মত্যাগী বলেছে: অতঃপর, আল্লাহর নিকট মুখাপেক্ষী ইলম অন্বেষণকারী নগণ্য খাদেম মুহাম্মদ আতা আল-কাসম বলেন: জনৈক দ্বীনি ভাই আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি জনৈক ওহাবি মতাদর্শের ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করেছেন; সে ব্যক্তি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ হারাম হওয়ার বিষয়ে ‘মুহাম্মদী আহলে সুন্নাত’দের নিকট কুমন্ত্রণা দিচ্ছিল; তাঁর প্রতি সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণতম সালাম বর্ষিত হোক... (তার বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত)।"
এর উত্তর—আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক কামনা করছি—আমি বলব: এই ধর্মত্যাগী কবরপূজারীদের ‘মুহাম্মদী আহলে সুন্নাত’ হিসেবে নামকরণের ক্ষেত্রে ইরাকের সেই সীমালঙ্ঘনকারী দাউদ বিন জারজিস আল-ইরাকির পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে, যার অন্তর্দৃষ্টি আল্লাহ অন্ধ করে দিয়েছেন। ইমাম ও হেদায়েতের আলোকবর্তিকা প্রখ্যাত আলেম শায়খ আব্দুল লতিফ তার যথাযথ উত্তর দিয়েছেন। আমরা তাঁর উত্তর থেকে এমন কিছু উদ্ধৃত করব যা কবরপূজারীদের ‘মুহাম্মদী আহলে সুন্নাত’ হিসেবে অভিহিত করার এই ধর্মত্যাগীয় অপপ্রয়াসকে বাতিল করে দেবে। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
প্রথমত উত্তর হলো: কবরপূজারীদের ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত’ হিসেবে অভিহিত করা আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন সেই শরীয়তের সীমারেখা সম্পর্কে এক চরম মূর্খতা; এবং এটি বাস্তবতাকে উল্টে দেওয়ার শামিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
للمسميات الشرعية؛ وما يراد من الإسلام والإيمان والشرك والكفر؛ قال تعالى:
{الْأَعْرَابُ أَشَدُّ كُفْرًا وَنِفَاقًا وَأَجْدَرُ أَلَّا يَعْلَمُوا حُدُودَ مَا أَنزَلَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ} [التوبة: آية97]
وهذا وأمثاله أجدر من أولئك بالجهل وعدم العلم بالحدود لغربة الإسلام؛ وبعد العهد بآثر النبوة.
وأهل السنة والجماعة أهل الإسلام والتوحيد؛ المتمسكون بالسنن الثابتة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في العقائد والنحل والعبادات الباطنة والظاهرة؛ الذين لم يشوبوها ببدع أهل الأهواء وأهل الكلام في أبواب العلم والاعتقادات؛ ولم يخرجوا عنها في باب العلم والإرادات؛ كما عليه جهال أهل الطرائق والعبادات؛ فإن السنة في الأصل تقع على ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وما سنه أو أمر به من أصول الدين وفروعه حتى الهدى والسمت؛ ثم خصت في بعض الاطلاقات بما كان عليه أهل السنة من إثبات الأسماء والصفات خلافا للجهمية المعطلة النفاة؛ وخصت بإثبات القدر وبنفي الجبر خلافا للقدرية النفاة وللقدرية الجبرية العصاة؛ وتطلق أيضا على ما كان عليه السف الصالح في مسائل الإمامة والتفضيل والكف عما شجر بين أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وهذا من إطلاق الاسم على بعض مسمياته لأنهم يريدون بمثل هذا الإطلاق التنبيه على أن المسمى ركن أعظم وشرط أكبر كقوله " الحج عرفة " 1 ولأنه الوصف الفارق بينهم وبين غيرهم؛
--------------------------------------------
শরয়ী পরিভাষা এবং ইসলাম, ঈমান, শিরক ও কুফর দ্বারা যা উদ্দেশ্য; মহান আল্লাহ বলেন:
{"মরুবাসী আরবরা কুফর ও নিফাকের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর এবং তারা আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন, তার সীমারেখা না জানারই অধিক উপযুক্ত।" [আত-তাওবাহ: আয়াত ৯৭]}
ইসলামের অপরিচিতি এবং নবুওয়াতের শিক্ষা থেকে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানের কারণে এরা এবং এদের সমমনা ব্যক্তিরা ঐ সকল লোকদের তুলনায় অজ্ঞতা এবং শরীয়তের সীমারেখা না জানার অধিক নিকটবর্তী।
আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত হলো ইসলামের অনুসারী ও তাওহীদপন্থী; যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত সুন্নাহর ওপর আকীদা, মাযহাব এবং অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ইবাদতের ক্ষেত্রে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত; যারা জ্ঞান ও বিশ্বাসের অধ্যায়গুলোতে প্রবৃত্তি পূজারি এবং ইলমুল কালামপন্থীদের বিদআত দ্বারা সুন্নাহকে কলুষিত করেনি; এবং তারা জ্ঞান ও সংকল্পের ক্ষেত্রে তা থেকে বিচ্যুত হয়নি; যেমনটি বিভিন্ন তরীকা ও ইবাদতপন্থীদের জাহেলরা করে থাকে; কেননা 'সুন্নাহ' মূলত তাকেই বলা হয় যার ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন এবং দ্বীনের উসুল (মূলনীতি) ও ফুরু (শাখা-প্রশাখা), এমনকি হিদায়াত ও আচার-আচরণের ক্ষেত্রেও তিনি যা প্রবর্তন করেছেন বা যার আদেশ দিয়েছেন; পরবর্তীতে এটি কিছু ব্যবহারের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাতের ঐ অবস্থানের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে গেছে, যা হলো আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করা; যা আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারী ও অকেজো সাব্যস্তকারী জাহমিয়াদের মতাদর্শের পরিপন্থী; এবং তাকদীর সাব্যস্ত করা ও জবর (অবাধ্যতা) অস্বীকার করার ক্ষেত্রেও এটি নির্দিষ্ট হয়েছে; যা তাকদীর অস্বীকারকারী কাদরিয়া এবং গোনাহগার জবরিয়া কাদরিয়াদের বিপরীত; তদুপরি ইমামত (নেতৃত্ব), শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মাঝে সংঘটিত বিরোধপূর্ণ বিষয়ে নীরবতা পালনের ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের যে নীতি ছিল, তাকেও 'সুন্নাহ' বলা হয়; এবং এটি হলো কোনো নামের একটি অংশকে পুরো নাম হিসেবে ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এই ব্যবহারের মাধ্যমে তারা বুঝাতে চান যে, উক্ত বিষয়টি একটি মহান রুকন এবং প্রধান শর্ত; যেমনটি তাঁর বাণী "হজ হলো আরাফা" ১ এবং কারণ এটিই তাদের ও অন্যদের মাঝে পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্য;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ولذلك سمى العلماء كتبهم في هذه الأصول كتب السنة ككتاب السنة للالكائي والسنة لأبي بكر الأثرم؛ والسنة للخلال؛ والسنة لابن خزيمة والسنة لعبد الله بن أحمد ومنهاج السنة لشيخ الإسلام ابن تيمية وغيرهم. انتهى.
وهذا الملحد يرى أن أهل السنة المحمدية هم الذين يتوسلون ويدعون الأنبياء والأولياء والصالحين ويلتجؤون إليهم ويستغيثون بهم ويستعينون بهم في الشدائد والمهمات؛ ويرجونهم لكشف الكربات وإغاثة اللهفات؛ ويتقربون إليهم بأنواع القربات من الذبح لهم والنذر والخوف والتعظيم والدعاء والإنابة إليهم والتوكل عليهم والخضوع لهم. ومن عجيب أمر هؤلاء الغلاة ما ذكره حسين بن محمد النعيمي اليمني في بعض رسائله أن امرأة كف بصرها فنادت وليها: أما الله فقد صنع ما ترى؛ ولم يبق إلا حسبك
--------------------------------------------
এই কারণেই আলেমগণ এই মূলনীতিসমূহের ওপর রচিত তাঁদের গ্রন্থাবলিকে সুন্নাহর গ্রন্থ হিসেবে নামকরণ করেছেন, যেমন—লালকাঈর ‘কিতাবুস সুন্নাহ’, আবু বকর আল-আছরামের ‘আস-সুন্নাহ’, আল-খল্লালের ‘আস-সুন্নাহ’, ইবনে খুযাইমার ‘আস-সুন্নাহ’, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদের ‘আস-সুন্নাহ’ এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর ‘মিনহাজুস সুন্নাহ’ ও অন্যান্য। সমাপ্ত।
আর এই নাস্তিক মনে করে যে, মুহাম্মাদী আহলুস সুন্নাহ হলো তারাই যারা নবী, ওলী ও নেককার বান্দাদের অসীলা গ্রহণ করে, তাদের নিকট দোয়া করে, তাদের আশ্রয় প্রার্থনা করে, তাদের কাছে ফরিয়াদ জানায় এবং বিপদ-আপদ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদিতে তাদের সাহায্য কামনা করে; তারা বিপদ মুক্তি ও আর্তদের উদ্ধারের জন্য তাদের নিকট প্রত্যাশা রাখে এবং তাদের জন্য যবেহ করা, মানত করা, ভয় পাওয়া, সম্মান প্রদর্শন করা, দোয়া করা, তাদের দিকে ফিরে আসা (রুজু করা), তাদের ওপর ভরসা করা এবং তাদের প্রতি বিনয় প্রদর্শনের মতো বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে তাদের নৈকট্য তালাশ করে। আর এই চরমপন্থীদের কর্মকাণ্ড কতই না বিস্ময়কর! হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আন-নুআইমী আল-ইয়ামানী তাঁর কোনো এক রিসালায় উল্লেখ করেছেন যে, এক মহিলার দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছিল, তখন সে তার (তথাকথিত) ওলীকে সম্বোধন করে বলেছিল: 'আল্লাহ তো তাই করেছেন যা আপনি দেখছেন; এখন কেবল আপনার সাহায্যই অবশিষ্ট আছে।'
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
قال الشيخ عبد اللطيف رحمه الله "1": وحدثني سعد بن عبد الله بن سرور الهاشمي رحمه الله؛ أن بعض المغاربة قدموا مصر يريدون الحج فذهبوا إلى الضريح المنصوب إلى الحسين رضي الله عنه بالقاهرة فاستقبلوا القبر وأحرموا ووقفوا وركعوا وسجدوا لصاحب القبر؛ حتى أنكر عليهم سدنة المشهد وبعض الحاضرين؛ فقالوا: هذا محبة في سيدنا الحسين.
وذكر بعض المؤلفين من أهل اليمن أن مثل هذا وقع عندهم.
وقد حدثني الشيخ خليل الرشيدي بالجامع الأزهر أن بعض أعيان المدرسين هناك قال: لا يدق وتد بالقاهرة إلا بإذن السيد أحمد البدوي. قال فقلت له: هذا لا يكون إلا لله أو كلاما نحو هذا؛ فقال: حبي في سيدي أحمد البدوي اقتضى هذا.
وحتى أن رجلا سأل الآخر: كيف رأيت الجمع عند زيارة الشيخ الفلاني؟ فقال: لم أر أكثر منه إلا في جبال عرافا؛ إلا أني لم أرهم سجدوا لله سجدة قط؛ ولا صلوا مدة ثلاثة أيام؛ فقال السائل قد تحملها الشيخ؛ قال بعض الأفاضل: وباب تحمل الشيخ مصراعاه ما بين بصرى وعدن؛ 1
--------------------------------------------
শেখ আবদুল লতিফ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন ‘১’: সা‘দ বিন আবদুল্লাহ বিন সুরুর আল-হাশিমী (রহিমাহুল্লাহ) আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, মরক্কোর একদল লোক হজের উদ্দেশ্যে মিশরে আগমন করেন। তারা কায়রোতে হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নামে স্থাপিত সমাধিস্থলে গিয়ে কবরের দিকে মুখ করে দাঁড়ান এবং ইহরাম বাঁধেন; তারা সেখানে অবস্থান (উকুফ) করেন, রুকু করেন এবং কবরের অধিপতির উদ্দেশ্যে সিজদাহ করেন। এমনকি মাজারের খাদেমগণ এবং উপস্থিত কিছু লোক তাদের এই কাজের প্রতিবাদ করলেন। তখন তারা বলল: ‘এটি আমাদের নেতা হুসাইনের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন।’
ইয়েমেনের কিছু লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তাদের দেশেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে।
জামিউল আজহারের শেখ খলিল আল-রশিদী আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, সেখানকার একজন বিশিষ্ট শিক্ষক বলেছিলেন: ‘সাইয়্যেদ আহমাদ আল-বাদাবীর অনুমতি ব্যতীত কায়রোতে একটি খুঁটিও পোঁতা হয় না।’ তিনি (খলিল) বলেন, আমি তাকে বললাম: ‘এটি তো আল্লাহ ব্যতীত আর কারও ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত নয়’ বা এই জাতীয় কিছু। তখন তিনি বললেন: ‘আমার সাইয়্যেদ আহমাদ আল-বাদাবীর প্রতি ভালোবাসা আমাকে এটি বলতে প্ররোচিত করেছে।’
এমনকি এক ব্যক্তি অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করল: ‘অমুক শেখের জিয়ারতে মানুষের ভিড় কেমন দেখলে?’ সে উত্তর দিল: ‘আরাফাতের পাহাড়সমূহ ব্যতীত এত বিশাল সমাবেশ আমি আর কোথাও দেখিনি; তবে আমি তাদের কাউকেই আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি সিজদাহও করতে দেখিনি, এমনকি তিন দিন পর্যন্ত তারা সালাতও আদায় করেনি।’ তখন প্রশ্নকারী বলল: ‘শেখ তাদের এই দায়ভার (পাপ) বহন করে নিয়েছেন।’ এ প্রসঙ্গে জনৈক পণ্ডিত ব্যক্তি বলেছেন: ‘শেখের দায়ভার বহনের দরজার দুই কপাট তো বুসরা এবং আদনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান।’ ১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قد اتسع خرقه؛ وتتابع فتقه؛ ونال رشاش زقومه الزائر والمعتقد وساكن البلد. انتهى.
ولو ذهبنا نذكر ما يفعله عباد القبور والأولياء والصالحين لطال الكلام. فهؤلاء عند هذا الملحد أهل السنة والجماعة فنعوذ بالله من رين الذنوب وانتكاس القلوب.
إذا تحققت هذا وعرفته فقول هذا الملحد: إيه قد اجتمع برجل من الوهابية يوسوس لأهل السنة المحمدية بتحريم التوسل بخير البرية". مراده بالتوسل هنا: أن دعاء النبي صلى الله عليه وسلم والاستغاثة به والالتجاء إليه فيما لا يقدر عليه إلا الله يسمى توسلا وتشفعا؛ وهذا فرار منه أن يسمى شركا وكفرا؛ ومن المعلوم عند ذوي العلوم والفهوم أن لفظ التوسل بالشخص والتوجه به والسؤال به فيه إجمال واشتراك بحسب الاصطلاح؛ فمعناه في لغة الصحابة رضي الله عنهم وعرفهم أن يطلب منه الدعاء والشفاعة فيكون التوسل به والتوجه به في الحقيقة بدعائه وشفاعته وذلك لا محذور فيه؛ والتوسل له أقسام؛ فقسم مشروع؛ وهو التوسل بالأعمال الصالحة وبدعاء النبي صلى الله عليه وسلم في حياته وطلب الاستغفار منه وبدعاء الصالحين وأهل الفضل والعلم كما استسقى عمر رضي الله عنه بدعاء العباس1 ومعاوية رضي الله عنهما بدعاء يزيد بن الأسود
--------------------------------------------
এর ক্ষত প্রশস্ত হয়েছে; এর ফাটল ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে; এবং এর যাক্কুমের ছিটা দর্শনার্থী, বিশ্বাসী ও জনপদের অধিবাসী—সবার নিকট পৌঁছেছে। সমাপ্ত।
আমরা যদি কবরপূজারী এবং অলি ও নেককার বান্দাদের উপাসকদের কর্মকাণ্ড বর্ণনা করতে যাই, তবে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে। এই মুলহিদের নিকট এরাই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত। আমরা গুনাহের মরিচা এবং অন্তরের বিচ্যুতি হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আপনি যখন বিষয়টি অনুধাবন ও উপলব্ধি করলেন, তখন এই মুলহিদের উক্তিটি লক্ষ্য করুন: "ওহে, সে জনৈক ওয়াহহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করেছে, যে মুহাম্মাদী আহলুস সুন্নাহর লোকদের অন্তরে সৃষ্টির সেরা মানবের মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা হারাম হওয়ার কুমন্ত্রণা দিচ্ছে।" এখানে 'তাওয়াসসুল' দ্বারা তার উদ্দেশ্য হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট দোয়া করা, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা এবং এমন বিষয়ে তাঁর আশ্রয় গ্রহণ করা যা আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ করার ক্ষমতা রাখে না; একেই সে 'তাওয়াসসুল' ও 'তাশাফফু' (শাফায়াত কামনা) নামে অভিহিত করছে। একে শিরক ও কুফর বলা থেকে বাঁচার জন্যই সে এই পলায়নপর পথ অবলম্বন করেছে। জ্ঞান ও প্রজ্ঞাবানদের নিকট এটি সুবিদিত যে, কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে 'তাওয়াসসুল' করা, তাকে উসিলা করা এবং তার মাধ্যমে প্রার্থনা করা—এই শব্দগুলোর মধ্যে পারিভাষিক দিক থেকে কিছুটা অস্পষ্টতা ও একাধিক অর্থের অবকাশ রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের ভাষা ও পরিভাষায় এর অর্থ হলো—তাঁর নিকট দোয়া ও শাফায়াত প্রার্থনা করা; ফলে তাঁর মাধ্যমে 'তাওয়াসসুল' ও তাঁর উসিলা গ্রহণ করার প্রকৃত অর্থ দাঁড়ায় তাঁর দোয়া ও শাফায়াতের উসিলা নেওয়া, আর এতে কোনো আপত্তির বিষয় নেই। তাওয়াসসুলের বিভিন্ন প্রকার রয়েছে; একটি হলো শরয়ি বা বৈধ প্রকার। আর তা হলো—নেক আমলের মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় তাঁর দোয়ার মাধ্যমে এবং তাঁর নিকট ইস্তিগফারের অনুরোধের মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা, এবং নেককার, ফযীলতপূর্ণ ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের দোয়ার মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা; যেমন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আব্বাস এবং মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুমা ইয়াযিদ ইবনুল আসওয়াদের দোয়ার মাধ্যমে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الجرشي1؛ وكذلك بالأعمال الصالحة؛ وقسم محرم وبدعة مذمومة وهو التوسل بحق العبد وجاهه وحرمته نبيا كان ذلك أو وليا أو صالحا؛ كأن يقول الإنسان: اللهم إني أسألك بجاه نبيك محمد صلى الله عليه وسلم أو بجاه عباد الله الصالحين أو بحقهم أو بحرمتهم؛ ونحو ذلك لأن ذلك لم يرد به نص عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا فعله أحد من الصحابة ولا التابعين رضي الله عنهم؛ فإذا عرقت أن معنى التوسل في لغة الصحابة طلب الدعاء؛ وأن هذا هو الشرع؛ وأن ما عداه إما شرك أو محرم أو مكروه مبتدع؛ عرفت أن قصد هؤلاء بالتوسل هو دعاء الأنبياء والأولياء والصالحين؛ وصرف خالص حق الله تعالى لهم بجميع أنواع العبادات من الدعاء والخوف والرجاء والنذر والتوكل والاستغاثة والاستعانة والاستشفاع بهم وطلب الحوائج من الولائج في المهمات والملمات وكشف الكربات وإغاثة اللهفات ومعافاة أولى العاهات والبليات؛ إلى غير ذلك من الأمور التي صرفها المشركون لغير فاطر الأرض والسماوات؛ نعوذ بالله من موجبات غضبه وأليم عقابه؛ فمن صرف من هذه الأنواع شيئا لغير الله؛ فهو كافر مشرك بإجماع المسلمين؛ كما ذكر ذلك شيخ الإسلام وغيره من العلماء.
--------------------------------------------
আল-জুরাশি
১; এবং একইভাবে নেক আমলের মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা; আর [অন্যটি] একটি হারাম এবং নিন্দনীয় বিদ'আত বিভাগ, যা হলো কোনো দাসের হক (অধিকার), পদমর্যাদা বা সম্মানের উসিলায় তাওয়াসসুল করা, তিনি নবী হোন বা অলি কিংবা কোনো নেককার ব্যক্তি; যেমন মানুষের এই কথা বলা: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পদমর্যাদার উসিলায় অথবা আল্লাহর নেককার বান্দাদের পদমর্যাদা, হক বা সম্মানের উসিলায় প্রার্থনা করছি; এবং এই জাতীয় কথা; কারণ এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো দলিল বর্ণিত হয়নি এবং সাহাবী বা তাবিঈগণের (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) মধ্য থেকে কেউ এমনটি করেননি। সুতরাং যখন আপনি জানলেন যে সাহাবীগণের পরিভাষায় তাওয়াসসুলের অর্থ হলো দোয়ার আবেদন করা; এবং এটিই শরীয়তসম্মত; আর এর বাইরে যা কিছু আছে তা হয় শিরক, নতুবা হারাম অথবা মাকরূহ ও বিদ'আত; তখন আপনি বুঝতে পারলেন যে, এসকল লোকদের তাওয়াসসুল দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নবী, অলি এবং নেককার ব্যক্তিদের নিকট দোয়া করা; এবং আল্লাহর নিরঙ্কুশ প্রাপ্য ইবাদতসমূহ তাদের জন্য নিবেদন করা। যার মধ্যে রয়েছে দোয়া, ভয়, আশা, মানত, তাওয়াক্কুল (ভরসা), বিপদমুক্তি প্রার্থনা, সাহায্য প্রার্থনা, তাদের মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করা এবং কঠিন ও সংকটময় পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে অভাব পূরণ, বিপদ দূরীকরণ, আর্তনাদকারীর উদ্ধার এবং রোগ ও বালা-মুসিবতগ্রস্তদের আরোগ্য প্রার্থনা করা; এ ছাড়াও অন্যান্য বিষয়াবলি যা মুশরিকরা আসমান ও জমিনের স্রষ্টা ব্যতীত অন্যের জন্য নিবেদন করত। আমরা আল্লাহর ক্রোধের কারণসমূহ এবং তাঁর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। অতএব যে ব্যক্তি এই প্রকারসমূহের কোনো একটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য নিবেদন করবে, সে মুসলমানদের সর্বসম্মতিক্রমে কাফির ও মুশরিক; যেমনটি শায়খুল ইসলাম এবং অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فصل: قوله عن النبي صلى الله عليه وسلم "الآخذ باليد وقت الشدائد … " الخ.
…فصل
"ثم قال الملحد: ولكن من فرط المحبة لهذا المحبوب الذي هو صفوة علام الغيوب الآخذ باليد وقت الشدائد والخطوب".
والجواب أن يقال: إن قول هذا الملحد: " الآخذ باليد وقت الشدائد والخطوب" كلام متضمن لغاية الغلو والإطراء الذي وقعت فيه النصارى وأمثالهم وهو مناف لقوله تعالى:
{وَمَا أَدْرَاكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ * ثُمَّ مَا أَدْرَاكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ* يَوْمَ لَا تَمْلِكُ نَفْسٌ لِنَفْسٍ شَيْئًا وَالْأَمْرُ يَوْمَئِذٍ لِلَّهِ*} [الانفطار: آية 18-19] وقوله تعالى: {قُلْ إِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا رَشَدًا} [الجن: آية 21] وقوله تعلى: {قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي ضَرًّا وَلَا نَفْعًا} [يونس: آية 49] وللحديث الصحيح حيث قال لا بنته فاطمة وأحب الناس إليه: "يا فاطمة بنت محمد سليني من ما لي ما شئت لا أغني عنك من الله شيئا" 1.
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তাঁর উক্তি "সংকটকালে হাত ধারণকারী … " ইত্যাদি.
…পরিচ্ছেদ
"অতঃপর সেই সত্যবিচ্যুত ব্যক্তি বলেছে: কিন্তু সেই প্রিয়তমের প্রতি ভালোবাসার আতিশয্যের কারণে, যিনি অদৃশ্যের মহাজ্ঞানী কর্তৃক মনোনীত এবং সংকট ও বিপদের সময় হাত ধারণকারী।"
এর উত্তরে বলা হবে: এই সত্যবিচ্যুত ব্যক্তির উক্তি: "সংকট ও বিপদের সময় হাত ধারণকারী" এমন কথা যা চরম অতিরঞ্জন ও অতিশয়োক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে, যে বিপদে নাসারা (খ্রিস্টান) ও তাদের সমমনারা নিপতিত হয়েছে। আর এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর পরিপন্থী:
{আর আপনি কি জানেন বিচার দিবস কী? পুনরায় বলি, আপনি কি জানেন বিচার দিবস কী? যেদিন কোনো সত্তা অন্য কোনো সত্তার জন্য কোনো কিছুর মালিকানা রাখবে না; আর সেদিন সকল ফয়সালা হবে আল্লাহরই।} [সূরা আল-ইনফিতার: আয়াত ১৮-১৯] এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলুন, আমি তোমাদের কোনো অপকার বা সুপথ প্রদর্শনের মালিক নই।} [সূরা আল-জিন: আয়াত ২১] এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলুন, আমি আমার নিজের জন্য কোনো অপকার বা উপকারের মালিক নই।} [সূরা ইউনুস: আয়াত ৪৯] এবং সহীহ হাদীসের পরিপন্থী, যেখানে তিনি তাঁর কন্যা ও তাঁর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ ফাতেমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "হে মুহাম্মাদের কন্যা ফাতেমা! আমার সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা হয় চাও, কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে (বিপদাশঙ্কা এলে) আমি তোমার কোনো উপকারে আসব না।" ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فتأمل ما بين هذه النصوص وبين قول هذا الملحد من التضاد والتباين ثم الصادمة منه لما ذكره الله تعالى وذكره رسوله صلى الله عليه وسلم كقوله تعالى: {لَيْسَ لَكَ مِنْ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ} [آل عمران: آية 128] وتأمل ما ذكر العلماء في سبب نزولها1وأمثال هذه الآية كثير لم ينسخ حكمها ولم يغير؛ ومن ادعى ذلك فقد افترى على الله كذبا وأضل الناس بغير علم.
--------------------------------------------
সুতরাং এই সকল উদ্ধৃতি এবং এই নাস্তিকের বক্তব্যের মধ্যে যে বৈপরীত্য ও পার্থক্য রয়েছে তা নিয়ে চিন্তা করুন। এরপর চিন্তা করুন তার কথাগুলো মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর সাথে কতটা সাংঘর্ষিক, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বিষয়ে (ফয়সালা করার) আপনার কোনো অধিকার নেই, তিনি চাইলে তাদের ক্ষমা করবেন অথবা তাদের শাস্তি দেবেন, কারণ তারা জালিম।} [সূরা আলে ইমরান: আয়াত ১২৮]। আর এই আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে আলেমগণ যা উল্লেখ করেছেন তা নিয়ে চিন্তা করুন।১ এই আয়াতের সদৃশ আরও অনেক আয়াত রয়েছে যেগুলোর বিধান রহিত হয়নি এবং পরিবর্তিতও হয়নি; যে ব্যক্তি এর বিপরীত দাবি করবে, সে আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করল এবং জ্ঞান ছাড়াই মানুষকে বিভ্রান্ত করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فصل: نقل الملحد كلام القسطلاني المتضمن خلق العالم بما فيه من روح النبي … الخ.
…فصل
"ثم قال الملحد: قال القسطلاني في "المواهب اللدنية": اعلم يا ذا العقل السليم؛ والمتصف بأوصاف الكمال والتتميم؛ وفقني الله وإياك لهداية الصراط المستقيم؛ أنه لما تعلقت إرادة الحق تعالى بإيجاد خلقه؛ وتقدير رزقه؛ أبرز الحقيقة المحمدية من الأنوار الصمدية في الحضرة الأحدية؛ ثم سلخ منها العوالم كلها علوها وسفلها على صورة حكمه؛ كما سبق في سابق إرادته وعلمه؛ ثم أعلمه تعالى: بنبوته؛ وبشره برسالته؛ هذا وآدم لم يكن إلا كما قال: بين الروح والجسد ثم انبجست منه- صلى الله عليه وسلم عيون الأرواح.
قال الشارح الإمام الزرقاني: أي تفجرت منه –صلى الله عليه وسلم عيون الأرواح. أي: خالصها كأرواح الأنبياء؛ والمراد بالعيون الكمالات المفرغة من نوره على أرواح الأنبياء؛ عبر عنها بالعيون مجازا لمشابهتها لعيون الإنسان للكمال".
والجواب ومن الله أستمد الصواب أن نقول: هذا كلام مخترع مبتدع؛ لم يقل به أحد ممن يعتد بقوله من أهل
পরিচ্ছেদ: নাস্তিক কর্তৃক আল-কাসতালানির বক্তব্য উদ্ধৃতকরণ, যাতে নবীর রূহ থেকে বিশ্বজগত সৃষ্টির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে … ইত্যাদি.
…পরিচ্ছেদ
"অতঃপর নাস্তিক বলল: কাসতালানি 'আল-মাওয়াহিব আল-লাদুননিয়া' গ্রন্থে বলেছেন: হে সুস্থ বিবেকসম্পন্ন এবং পূর্ণতা ও পরিপক্কতার গুণে গুণান্বিত ব্যক্তি, আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে সরল পথের হিদায়াতের তাওফিক দান করুন; আপনি জেনে রাখুন যে, যখন সত্যস্বরূপ মহান আল্লাহর ইচ্ছা তাঁর সৃষ্টিজগত সৃষ্টি এবং তাদের রিযিক নির্ধারণের সাথে সংশ্লিষ্ট হলো, তখন তিনি তাঁর একক মহান উপস্থিতিতে স্বীয় অমুখাপেক্ষী নূরসমূহ হতে 'হাকিকতে মুহাম্মাদিয়া'কে (মুহাম্মাদী সত্তা) প্রকাশ করলেন; অতঃপর তা থেকে ঊর্ধ্ব ও নিম্ন জগতের সকল জগতকে তাঁর প্রজ্ঞার আদলে নিষ্কাশিত করলেন, যেমনটি তাঁর পূর্ববর্তী ইচ্ছা ও জ্ঞানে নির্ধারিত ছিল। এরপর মহান আল্লাহ তাঁকে তাঁর নবুওয়াত সম্পর্কে অবগত করলেন এবং তাঁর রিসালাতের সুসংবাদ দিলেন; অথচ তখন আদম কেবল রূহ ও শরীরের মধ্যবর্তী অবস্থায় ছিলেন। এরপর তাঁর—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—থেকে রূহসমূহের ঝরনাধারা বিচ্ছুরিত হলো।
ব্যাখ্যাকার ইমাম আল-যারকানি বলেন: অর্থাৎ তাঁর—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—থেকে রূহসমূহের ঝরনাধারা প্রবাহিত হলো। অর্থাৎ: সেগুলোর বিশুদ্ধতম অংশ, যেমন নবীদের রূহসমূহ; আর ঝরনাধারা বলতে সেই পূর্ণতাসমূহকে বোঝানো হয়েছে যা তাঁর নূর থেকে নবীদের রূহসমূহে ঢেলে দেওয়া হয়েছে; পূর্ণতার বিচারে মানুষের চোখের সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে রূপকভাবে একে 'চক্ষু' বা 'ঝরনাধারা' হিসেবে ব্যক্ত করা হয়েছে।"
এর উত্তর হলো—এবং আল্লাহর নিকট থেকেই আমি সঠিক দিশা প্রার্থনা করি—আমরা বলব: এটি একটি উদ্ভাবিত ও নবসৃষ্ট কথা; আহলে ইলমদের মধ্য হতে যাঁদের কথা নির্ভরযোগ্য, তাঁদের কেউই এ কথা বলেননি...
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الإسلام؛ ولم ينقله أحد من العلماء الأمناء عن الأئمة الأعلام؛ وليس هو في شيء من الكتب المعروفة المشهورة؛ كالصحاح والسنن والمساند وغيرها من الكتب المعتمدة؛ بل هو من الترهات التي يحكيها هؤلاء الغلاة المتهوكون؛ الحيارى المفتونون؛ الذين ليس لهم قدم صدق في العالمين؛ وليسوا من حملة سنة سيد المرسلين؛ ولا لهم معرفة بمدارك الأحكام؛ ولا أقول أهل السنة أئمة الإسلام؛ وإنما ينقلون مثل هذه الحكايات التي لا أصل لها في الكتاب والسنة عن مثل القسطلاني وغيره؛ ويغترون بها فضلوا وأضلوا كثيرا وضلوا عن سواء السبيل؛ إذ ليس لهم في ذلك مستند ولا حجة من البرهان والدليل؛ بل هذا مقتبس من أقوال الفلاسفة ومن نحا نحوهم من المتكلمين.
ومن المعلوم بالضرورة أن ما حكاه هذا الملحد عن القسطلاني إن كان صحيحا لا يدرك معرفة ذلك على التحقيق إلا من مشكاة النبوة؛ بنقل حملة السنة والقرآن؛ أهل المعرفة والحفظ والإتقان. ولا خبر بذلك بنقل صحيح عن رسول –صلى الله عليه وسلم يجب المسير إليه؛ فما كان هذا سبيله فهو مطرح ساقط لا يلتفت إليه؛ ولا يقول في الحكم عليه؛ إذا هو من الترهات الواهية؛ التي هي عن الدليل عارية؛ بل هو مصادم لصريح الكتاب والسنة كما سنبينه إن شاء الله تعالى. قال تعالى: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنثَى} [الحجرات: آية 13]
ইসলাম; এবং আমানতদার আলিমগণের কেউ একে নির্ভরযোগ্য ইমামগণের মাধ্যমে বর্ণনা করেননি; এটি সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের কোনোটিতেই বিদ্যমান নেই; যেমন সহীহ গ্রন্থসমূহ, সুনান, মুসনাদ এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ; বরং এটি সেই সকল অসার ও ভিত্তিহীন কথার অন্তর্ভুক্ত যা এই সকল চরমপন্থী ও বিভ্রান্ত ব্যক্তিরা বর্ণনা করে থাকে; যারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও প্রলোভিত; যাদের বিশ্ববাসীর নিকট সত্যের কোনো সুদৃঢ় অবস্থান নেই; এবং তারা রাসুলগণের সর্দার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর বাহকও নন; আহকামের (বিধানাবলির) উৎস ও ভিত্তি সম্পর্কেও তাদের কোনো জ্ঞান নেই; আমি তাদের আহলে সুন্নাত বা ইসলামের ইমাম হিসেবে গণ্য করি না; বরং তারা কাসতালানি ও অন্যান্যদের বরাত দিয়ে এ জাতীয় কাহিনী বর্ণনা করে যার কোনো ভিত্তি কিতাব ও সুন্নাহর মধ্যে নেই; তারা এগুলো দ্বারা প্রবঞ্চিত হয়েছে, ফলে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্য অনেককেও পথভ্রষ্ট করেছে এবং তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে; কেননা এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো প্রমাণ বা অকাট্য দলিল নেই; বরং এটি দার্শনিক এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী কালামশাস্ত্রবিদদের উক্তি থেকে গৃহীত।
এটি অকাট্যভাবে সুনিশ্চিত যে, এই ধর্মত্যাগী ব্যক্তি কাসতালানির বরাত দিয়ে যা বর্ণনা করেছে, তা যদি সঠিকও হয়ে থাকে, তবে তাহকীকের সাথে তার প্রকৃত জ্ঞান অর্জন কেবল নবুওয়াতের আলো (মিশকাতুন নবুওয়াত) থেকেই সম্ভব; যা কুরআন ও সুন্নাহর বাহক তথা অগাধ জ্ঞান ও মুখস্থ বিদ্যায় পারদর্শী বিজ্ঞ আলিমদের বর্ণনার মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়। অথচ এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন কোনো সহীহ বর্ণনা নেই যা অনুসরণ করা আবশ্যক; সুতরাং যে কথার উৎস এমন, তা বর্জনীয় ও বাতিল এবং তা ভ্রূক্ষেপ করার যোগ্য নয়; আর এর ওপর হুকুমের ক্ষেত্রে কিছু বলাও সমীচীন নয়; কারণ এটি দুর্বল ও ভিত্তিহীন প্রলাপের অন্তর্ভুক্ত; যা দলিল-প্রমাণহীন; বরং এটি কুরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট ভাষ্যের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক, যেমনটি আমরা অচিরেই ইনশাআল্লাহু তাআলা বর্ণনা করব। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {হে মানবমন্ডলী, আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে} [সূরা আল-হুজুরাত: আয়াত ১৩]
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وهذا خطاب للإنسان الذي هو روح وبدن؛ فدل على أن جملته مخلوقة بعد خلق الأبوين؛ وأصرح منه {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً} [النساء: آية 1] وهذا صريح في أن خلق جملة النوع الإنساني بعد خلق أصله.
وفي الموطأ: حدثنا زيد بن أبي أنيسة أن عند الحميد بن عبد الرحمن بن زيد بن الخطاب أخبره عن مسلم بن يسار الجهني أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه سئل عن هذه الآية: {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ} [الأعراف: آية 172] فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عنها فقال: "خلق الله آدم ثم مسح ظهره بيمينه فاستخرج منه ذريته؛ فقال: خلقت هؤلاء للنار وبعمل أهل النار يعملون؛ وخلقت هؤلاء للجنة وبعمل أهل الجنة يعملون" فقال رجل: يا رسول الله ففيم العمل؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم "إن الله إذا خلق الرجل للجنة استعمله بعمل أهل الجنة حتى يموت على عمل من أعمال الجنة فيدخل به الجنة؛ وإذا خلق العبد للنار استعمله بعمل أهل النار حتى يموت على عمل من أعمال النار فيدخل به النار" 1 قال الحاكم: هذا حديث على شرط
--------------------------------------------
এটি আত্মা ও দেহের সমন্বয়ে গঠিত মানুষের প্রতি সম্বোধন; যা নির্দেশ করে যে, মানবজাতির সামগ্রিক অস্তিত্ব তার আদি পিতা-মাতার সৃষ্টির পর সৃজিত হয়েছে। এর চেয়েও সুস্পষ্ট প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে একটি মাত্র সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন} [আন-নিসা: ১]। এটি এই বিষয়ে সুস্পষ্ট যে, মানবজাতির সামগ্রিক সৃষ্টি তার আদি উৎসের সৃষ্টির পরেই সংঘটিত হয়েছে।
আর মুয়াত্তা গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: জায়েদ ইবনে আবি আনিসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল হামিদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে জায়েদ ইবনুল খাত্তাব তাকে অবহিত করেছেন মুসলিম ইবনে ইয়াসার আল-জুহানি থেকে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: {আর যখন তোমার প্রতিপালক আদম সন্তানদের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করে আনলেন} [আল-আরাফ: ১৭২]। তখন তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি, তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহ তাআলা আদমকে সৃষ্টি করলেন, অতঃপর তাঁর ডান হাত দিয়ে তাঁর পৃষ্ঠদেশ স্পর্শ করলেন এবং তা থেকে তাঁর বংশধরদের বের করে আনলেন। তারপর বললেন: এদের আমি জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং তারা জাহান্নামীদের ন্যায় আমল করবে; আর এদের আমি জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং তারা জান্নাতীদের ন্যায় আমল করবে।" এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আমলের সার্থকতা কী? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন কোনো ব্যক্তিকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তাকে জান্নাতীদের আমলে নিয়োজিত করেন, এমনকি সে জান্নাতীদের কোনো আমলের ওপর থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে এবং এর মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করে। আর যখন কোনো বান্দাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন, তখন তাকে জাহান্নামীদের আমলে নিয়োজিত করেন, এমনকি সে জাহান্নামীদের কোনো আমলের ওপর থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে এবং এর মাধ্যমে জাহান্নামে প্রবেশ করে।" ১ আল-হাকিম বলেন: এই হাদিসটি (শায়খাইনের) শর্তানুসারে সহিহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
................................................................................................................................
--------------------------------------------
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
مسلم؛ وروى الحاكم أيضا من طريق هشام بن سعد عن زيد بن أسلم عن أبي صالح عن أبي هريرة مرفوعا: "لما خلق الله آدم مسح ظهره فسقط من ظهره كل نسمة هو خلقها إلى يوم القيامة أمثال الذر؛ ثم جعل بين عيني كل إنسان منهم
--------------------------------------------
মুসলিম; আল-হাকিমও হিশাম বিন সা'দ, তিনি যাইদ বিন আসলাম, তিনি আবু সালিহ এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যখন আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁর পিঠে হাত বুলিয়ে দিলেন। ফলে তাঁর পিঠ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত তিনি যত আত্মা সৃষ্টি করবেন, তারা সবাই ছোট পিঁপড়ার ন্যায় বের হয়ে আসল। অতঃপর তিনি তাদের প্রত্যেকের চোখের মাঝখানে স্থাপন করলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وبيصا من نور؛ ثم عرضهم على آدم فقال: من هؤلاء يا رب؟ فقال: هؤلاء ذريتك؛ فرأى رجلا منهم أعجبه وبيص ما بين عينيه فقال: يا رب من هذا؟ فقال: هذا ابنك داود يكون في آخر الأمم؛ قال آدم 1: كم جعلت له من العمر؟ قال: ستين سنة؛ قال: يا رب زده من عمري أربعين سنة "حتى يكون عمره مائة سنة"2 فقال الله: إذا يكتب ويختم فلا يبدل؛ فلما انقضى عمر آدم جاءه ملك الموت"لقبض روحه": 2 قال آدم: أولم يبق من عمري أربعون سنة:؟ فقال "له ملك الموت"2: أولم تجعلها لا بنك داود. قال: مجحد فجحدت ذريته؛ ونسى فنسيت ذريته؛ وخطأ فطئت ذريته" قال: هذا على شرط مسلم 3وفي صحيح الحاكم من حديث أبي جعفر الرازي حدثنا الربيع بن أنس 4 عن أبي العالية عن أبي بن
--------------------------------------------
উজ্জ্বল জ্যোতি; অতঃপর তিনি তাঁদেরকে আদমের নিকট পেশ করলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে আমার প্রতিপালক! এরা কারা? তিনি বললেন: এরা তোমার বংশধর। তাঁদের মধ্যে তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন যার দুই ভ্রুর মধ্যবর্তী নূরের চমক তাঁকে অভিভূত করল। তিনি বললেন: হে আমার প্রতিপালক! এ কে? তিনি বললেন: এ তোমার পুত্র দাউদ, সে শেষদিকের উম্মতদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আদম
১ জিজ্ঞেস করলেন: আপনি তার আয়ু কত নির্ধারণ করেছেন? তিনি বললেন: ষাট বছর। আদম বললেন: হে আমার প্রতিপালক! আমার আয়ু থেকে তাকে আরও চল্লিশ বছর দান করুন "যাতে তার আয়ু একশ বছর পূর্ণ হয়"
২। আল্লাহ তাআলা বললেন: যখন তা লিপিবদ্ধ হয়েছে এবং মোহরকৃত হয়েছে, তখন তা আর পরিবর্তন করা হবে না। অতঃপর যখন আদমের আয়ু ফুরিয়ে এল, তখন মালাকুল মাউত "তাঁর রূহ কবজ করার নিমিত্তে"
২ তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন। আদম বললেন: আমার আয়ুর কি আরও চল্লিশ বছর অবশিষ্ট নেই? তখন "মালাকুল মাউত তাঁকে"
২ বললেন: আপনি কি তা আপনার পুত্র দাউদকে দান করেননি? তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তিনি অস্বীকার করলেন, ফলে তাঁর বংশধরও অস্বীকার প্রবণ হলো; তিনি বিস্মৃত হলেন, ফলে তাঁর বংশধরও বিস্মৃত হলো; এবং তিনি ভুল করলেন, ফলে তাঁর বংশধরও ভুল করতে শুরু করল। তিনি (হাকিম) বলেন: এটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ।
৩ এবং হাকিমের সহিহ (মুস্তাদরাক) গ্রন্থে আবু জাফর আল-রাজির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট রবী বিন আনাস
৪ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবুল আলিয়াহ থেকে, তিনি উবাই ইবনে (কাব) থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
كعب في قوله: {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ} [الآية] قال: جمعهم له يومئذ جميعا"1" ما هو كائن إلى يوم القيامة فجعلهم أرواحا ثم صورهم واستنطقهم فتكلموا وأخذوا عليهم العهد والميثاق {وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ أَوْ تَقُولُوا إِنَّمَا أَشْرَكَ آبَاؤُنَا مِنْ قَبْلُ وَكُنَّا ذُرِّيَّةً مِنْ بَعْدِهِمْ أَفَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ الْمُبْطِلُونَ} 2 قال: فإني أشهد عليكم السماوات السبع والأرضين السبع؛ وأشهد عليكم أباكم آدم أن تقولوا يوم القيامة "لم نعلم أو تقولوا" إنا كنا عن هذا غافلين فلا تشركوا بي شيئا؛ فإني أرسلت إليكم رسلي يذكرونهم عهدي وميثاقي؛ وأنزل عليكم كتلي؛ فقالوا: "نشهد أنك ربنا وإلهنا لا رب لنا غيرك ولا إله لنا غيرك" 2 ورفع لهم أبوهم آدم " فنظر إليهم" 2 فرأى فيهم الغني والفقير وحسن الصورة وغير ذلك؛ فقال: يا رب لو سويت بين عبادك؛ فقال: إني أحب أن أشرك. ورأى فيهم الأنبياء مثل السرج؛ وخصوا بميثاق آخر بالرسالة والنبوة 3 فذلك قوله: {وَإِذْ أَخَذْنَا مِنْ
--------------------------------------------
কাব (রা.) মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেন: {আর যখন তোমার প্রতিপালক আদম সন্তানদের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করে আনলেন} [আয়াত]। তিনি বলেন: সেদিন আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু অস্তিত্ব লাভ করবে তাদের সকলকে সমবেত করেছিলেন। অতঃপর তাদের আত্মা হিসেবে সৃষ্টি করলেন, তাদের আকৃতি দান করলেন এবং তাদের বাকশক্তি দিলেন। ফলে তারা কথা বলল এবং তিনি তাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলেন। {আর তিনি তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষ্য রেখে জিজ্ঞেস করলেন: ‘আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই?’ তারা বলল: ‘অবশ্যই, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি।’ যাতে তোমরা কিয়ামতের দিন বলতে না পার যে, ‘আমরা তো এ বিষয়ে অসতর্ক ছিলাম।’ অথবা তোমরা বলতে না পার যে, ‘আমাদের পিতৃপুরুষরাই তো ইতিপূর্বে শিরক করেছে, আর আমরা তো তাদের পরবর্তী বংশধর; তবে কি বাতিলপন্থীদের কর্মের কারণে আপনি আমাদের ধ্বংস করবেন?’} তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের বিরুদ্ধে সাত আসমান ও সাত জমিনকে সাক্ষী রাখছি এবং তোমাদের পিতা আদমকেও তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী রাখছি, পাছে তোমরা কিয়ামতের দিন বলো যে ‘আমরা জানতাম না’ অথবা বলো ‘আমরা তো এ বিষয়ে অসতর্ক ছিলাম’। সুতরাং তোমরা আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে আমার রাসুলদের পাঠিয়েছি যাতে তারা তোমাদের আমার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং আমি তোমাদের প্রতি আমার কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছি।” তারা বলল: “আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনিই আমাদের প্রতিপালক এবং আমাদের ইলাহ; আপনি ছাড়া আমাদের অন্য কোনো প্রতিপালক নেই এবং আপনি ছাড়া আমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই।” এরপর তাদের পিতা আদমকে তাদের সামনে উপস্থাপন করা হলো এবং তিনি তাদের দিকে তাকালেন। তিনি তাদের মধ্যে ধনী, দরিদ্র, সুশ্রী এবং অন্য সব ধরনের মানুষ দেখতে পেলেন। তিনি বললেন: “হে প্রতিপালক, আপনি যদি আপনার বান্দাদের মাঝে সাম্য বিধান করতেন!” তিনি বললেন: “আমি পছন্দ করি যে আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হোক।” আর তিনি তাদের মধ্যে নবীদের প্রদীপের ন্যায় উজ্জ্বল দেখলেন; তাঁদেরকে রিসালাত ও নবুওয়তের জন্য অন্য এক বিশেষ অঙ্গীকারের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে। আর তা-ই হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন আমরা গ্রহণ করলাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ} [الأحزاب: آية 7] وهو قوله: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ} [الروم: آية 30] وهو قوله: {هَذَا نَذِيرٌ مِنْ النُّذُرِ الْأُولَى} [النجم: آية56] وقوله: {وَمَا وَجَدْنَا لِأَكْثَرِهِمْ مِنْ عَهْدٍ وَإِنْ وَجَدْنَا أَكْثَرَهُمْ لَفَاسِقِينَ} [الأعراف: آية 102] والآيات في هذا المعنى كثيرة.
والمقصود مما ذكرنا أن آدم رأى فيهم الأنبياء مثل السرج وذلك بعد إخراجهم من صلبه؛ فهذا فيه دلالة ظاهرة على بطلان من زعم أنعه لما تعلقت إرادة الحق لعالى بإيجاد خلقه وتقدير رزقه؛ أبرز الحقيقة المحمدية من الأنوار الصمدية في الحضرة الأحدية؛ ثم سلخ منها العوالم كلها علوها وسفلها؛ ثم انبجست منه – صلى الله عليه وسلم عيون الأرواح فعلى زعم هذا القائل أن الله لم يخلق جميع النوع الإنساني إلا من نور محمد؛ وأن
--------------------------------------------
...নবীগণের নিকট থেকে তাঁদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং আপনার নিকট থেকেও এবং নূহের নিকট থেকেও} [আল-আহজাব: আয়াত ৭]। আর এটিই আল্লাহর বাণী: {অতএব আপনি একনিষ্ঠ হয়ে দ্বীনের ওপর আপনার চেহারা প্রতিষ্ঠিত রাখুন। এটিই আল্লাহর সেই ফিতরাত (প্রকৃতি), যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন নেই} [আর-রুম: আয়াত ৩০]। এবং তাঁর বাণী: {ইনি পূর্ববর্তী সতর্ককারীদের মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী} [আন-নাজম: আয়াত ৫৬]। এবং তাঁর বাণী: {আমি তাদের অধিকাংশের মধ্যে কোনো অঙ্গীকার (পালনের দৃঢ়তা) পাইনি, বরং আমি তাদের অধিকাংশকেই ফাসিক হিসেবে পেয়েছি} [আল-আরাফ: আয়াত ১০২]। এই মর্মে আয়াতসমূহ অনেক রয়েছে।
আমাদের বর্ণনার উদ্দেশ্য হলো, আদম (আ.) তাঁদের মধ্যে নবীগণকে প্রদীপের ন্যায় দেখেছিলেন এবং তা ছিল তাঁদেরকে তাঁর পৃষ্ঠদেশ থেকে বের করার পর। এতে সেই ব্যক্তির দাবির অসারতার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, যে দাবি করে যে: যখন মহান সত্যের (আল্লাহর) ইচ্ছা তাঁর সৃষ্টিজগতকে অস্তিত্ব দান এবং তাদের রিযিক নির্ধারণের সাথে সংশ্লিষ্ট হলো, তখন তিনি একক সত্তার উপস্থিতিতে (হাজরাত আল-আহাদিয়্যাহ) অবিনশ্বর নূরসমূহ থেকে 'হাকিকতে মুহাম্মাদিয়া' (মুহাম্মাদী বাস্তবতা)-কে প্রকাশ করলেন; অতঃপর তা থেকে উচ্চ ও নিম্ন জগতসমূহকে বিযুক্ত করলেন; এরপর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকেই রূহসমূহের ঝরনাধারা প্রবাহিত হলো। সুতরাং এই প্রবক্তার দাবি অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা সমগ্র মানবজাতিকে কেবল মুহাম্মাদী নূর থেকেই সৃষ্টি করেছেন; এবং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الملائكة مخلوقون من نوره وعلى هذا فلا معنى لقوله تعالى: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنثَى} [الحجرات: آية 13] وقوله: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً} [النساء: آية 1] وأن هذه الأحاديث لا دلالة فيها؛ سبحانك هذا بهتان عظيم.
إذا عرفت هذا فهذه الأحاديث لا تدل على سبق الأرواح الأجساد سبقا مستقرا ثابتا؛ غايتها أنها تدل بعد صحتها وثبوتها على أن بارئها وفاطرها سبحانه صور النسم وقدر خلقها وآجالها وأعمالها؛ واستخرج تلك الصور من مادتها؛ ثم أعادها إليها؛ وقدر خروج كل فرد من أفرادها في وقته المقدر له؛ وهذا هو المطلوب ولا تدل على أنها خلقت خلقا مستقرا؛ ثم استقرت بوجوده حية عالمة ناطقة كلها في موضع واحد؛ ثم يرسل منها إلى الأبدان جملة بعد جملة كما يقول محمد بن حزم. نعم الرب سبحانه يخلق منها جملة على الوجه الذي سبق به التقدير أولا؛ فيجيء الخلق الخارجي مطابقا للتقدير السابق كشأنه تعالى في جميع مخلوقاته؛ فإنه قدر لها أقدارا وآجالا وصفاتا وهيئة ثم أبرزها إلى الوجود مطابقة لذلك التقدير الذي قدره الله لها لا يزيد عليه ولا ينقص منه؛ فالآثار المذكورة في هذا الباب إنما تدل على إثبات القدر السابق؛ وبعضها يدل على أنه سبحانه استخرج أمثالهم وصورهم وميز أهل السعادة
ফেরেশতারা তাঁর নূর থেকে সৃষ্ট—এই মত অনুযায়ী মহান আল্লাহর এই বাণীর কোনো অর্থ থাকে না: "হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি" [আল-হুজুরাত: আয়াত ১৩] এবং তাঁর বাণী: "হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন" [আন-নিসা: আয়াত ১]। আর এই হাদীসগুলোতে (এ বিষয়ে) কোনো প্রমাণ নেই; হে আল্লাহ! আপনি অতি পবিত্র, এটি এক গুরুতর অপবাদ।
আপনি যখন বিষয়টি জানলেন, তখন স্পষ্ট হয় যে, এই হাদীসগুলো দেহের পূর্বে রূহের কোনো স্থায়ী ও সুপ্রতিষ্ঠিত অস্তিত্ব বা অগ্রবর্তিতার প্রমাণ দেয় না; বরং এগুলোর বিশুদ্ধতা ও প্রামাণিকতা সাব্যস্ত হওয়ার পর বড়জোর এই অর্থ প্রদান করে যে, তাদের স্রষ্টা ও উদ্ভাবক মহান আল্লাহ প্রাণসত্তাসমূহের আকৃতি দান করেছেন এবং তাদের সৃষ্টি, আয়ু ও কর্ম নির্ধারণ করেছেন; আর তাদের মূল উপাদান থেকে সেই আকৃতিসমূহ নিষ্কাসিত করেছেন, অতঃপর পুনরায় সেগুলোকে তাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন; এবং তাদের প্রত্যেক ব্যক্তির পৃথিবীতে আগমনের সময়টি তার জন্য নির্ধারিত সময়ে সুনির্দিষ্ট করেছেন। এটাই মূল প্রতিপাদ্য বিষয়; এগুলো এই প্রমাণ দেয় না যে, রূহগুলো পূর্বেই স্থায়ীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল, অতঃপর সেগুলো জীবিত, জ্ঞানসম্পন্ন ও বাকশক্তি সম্পন্ন অবস্থায় এক স্থানে অবস্থান করছিল, আর তারপর মুহাম্মদ ইবনে হাজম যেমনটি বলেছেন—সেগুলো একে একে দেহে পাঠানো হয়। হ্যাঁ, প্রতিপালক মহান আল্লাহ সেগুলোর একটি অংশকে সেই রূপেই সৃষ্টি করেন যেভাবে আদি তাকদীরে সাব্যস্ত হয়েছিল; ফলে বাহ্যিক সৃষ্টি সেই পূর্বনির্ধারিত তাকদীরের অনুকূল হয়, যেমনটি তাঁর সকল সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাঁর চিরাচরিত নিয়ম। নিশ্চয়ই তিনি তাদের জন্য পরিমাণ, আয়ু, বৈশিষ্ট্য ও অবয়ব নির্ধারণ করেছেন, অতঃপর সেগুলোকে অস্তিত্বে আনয়ন করেছেন আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সেই পরিমাপ অনুযায়ী, যার মধ্যে কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে না। সুতরাং এই অধ্যায়ে বর্ণিত বর্ণনাগুলো মূলত পূর্বনির্ধারিত তাকদীর প্রমাণেরই সাক্ষ্য দেয়; আর এগুলোর কিছু নির্দেশ করে যে, তিনি তাদের সাদৃশ্য ও আকৃতি বের করেছেন এবং সৌভাগ্যবানদের পৃথক করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
من أهل الشقاوة. انتهى ملخصا من كتاب الروح لا بن القيم رحمه الله تعالى.
ثم قال بعد ذلك: فهذا بعض كلام السلف والخلف في هذه الآية؛ وعلى كل تقدير فلا يدل على خلق الأرواح قبل الأجساد خلقا مستقرا؛ وإنما غابته أن تدل على إخراج صورهم وأمثالهم في صور الذر واستنطاقهم؛ ثم ردهم إلى أصلهم إن صح الخبر بذلك؛ والذي صح إنما هو إثبات القدر السابق وتقسيمهم إلى شقي وسعيد. انتهى.
فتحصل لنا مما ذكر من كلام السلف إبطال دعوى من ادعى أن أرواح الأنبياء مخلوقة من نور محمد- صلى الله عليه وسلم قبل خلق السماوات والأرض وقبل العرش والقلم واللوح؛ وأن جميع المخلوقات تفرعت جزء ابعد جزء؛ وخلقا بعد خلق؛ إنسان؛ وجنها؛ وجنتها؛ ونارها؛ وحتى الملائكة من نور محمد- صلى الله عليه وسلم؛ وهذا مما يعلم بضرورة العقل أن هذا من الكذب والحكايات التي لا أصل لها؛ بل الذي ثبت عن النبي- صلى الله عليه وسلم أن الله قدر مقادير الخلق قبل أن يخلق السماوات والأرض بخمسين ألف سنة؛ ففي صحيح مسلم من حديث ابن وهب: أخبرني أبو هانىء الخولاني عن أبي عند الرحمن الحبلي عن عبد الله بن عمرو بن العاص قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: " كتب الله مقادير الخلائق قبل أن يخلق السماوات والأرض بخمسين
দুর্ভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) রচিত 'কিতাবুর রূহ' থেকে সংক্ষিপ্ত সারমর্ম এখানেই শেষ হলো।
এরপর তিনি বললেন: এই আয়াতের ব্যাখ্যায় সালাফ ও খালাফগণের (পূর্বসূরি ও উত্তরসূরি) কিছু বক্তব্য এই। যেকোনো বিচারেই এটি দেহের আগে রুহ বা আত্মার স্থায়ীভাবে সৃষ্টির প্রমাণ দেয় না। যদি বর্ণনাটি সহিহ হয়ে থাকে, তবে এর চূড়ান্ত অর্থ দাঁড়ায় এই যে, তাদের প্রতিকৃতি ও দৃষ্টান্তসমূহকে ক্ষুদ্র পিপীলিকার ন্যায় বের করে আনা হয়েছে এবং তাদের বাকশক্তি দান করা হয়েছে; অতঃপর তাদের মূল স্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর যা সহিহভাবে প্রমাণিত, তা হলো কেবল পূর্বনির্ধারিত ভাগ্য বা তাকদিরের বিষয়টি সাব্যস্ত হওয়া এবং সৃষ্টিজগতকে সৌভাগ্যবান ও দুর্ভাগ্যবান—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা। সমাপ্ত।
সালাফদের উল্লিখিত আলোচনা থেকে আমাদের কাছে সেই ব্যক্তির দাবি বাতিল ও অসার প্রমাণিত হলো, যে দাবি করে যে—আসমান-জমিন, আরশ, কলম ও লওহ সৃষ্টির পূর্বে নবীগণের রুহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে; এবং সমস্ত মাখলুকাত—মানুষ, জিন, জান্নাত, জাহান্নাম এমনকি ফেরেশতা পর্যন্ত সবকিছুই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নূর থেকে ধাপে ধাপে একটির পর একটি অংশ হিসেবে সৃষ্টি হয়েছে। সুস্থ বিবেকবুদ্ধি দ্বারাই এটি সুনিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, এগুলো ভিত্তিহীন কিচ্ছা-কাহিনী ও মিথ্যাচার মাত্র। বরং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত তা হলো, আল্লাহ তাআলা আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বেই সৃষ্টির তাকদির নির্ধারণ করেছেন। সহিহ মুসলিমে ইবনে ওয়াহাব বর্ণিত হাদিসে এসেছে: আবু হানি আল-খাওলানি আমাকে আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ তাআলা আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ [হাজার বছর আগে] সৃষ্টির তাকদিরসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ألف سنة وعرشه على الماء" 1.
وهذا الملحد يزعم أن الحقيقة المحمدية أبرزت من الأنوار الصمدية في الحضرة الأحدية؛ قبل خلق العرش والماء والقلم الذي كتب مقادير كل شيء قبل خلق السماوات السماوات والأرض بخمسين ألف سنة؛ وهذا التر مناف لصريح الكتاب والسنة ومناقض لهما أشد المناقضة؛ وهذه الترهات مقتبست من كلام ابن عربي صاحب الفصوص الذي هو من أكفر خلق الله؛ فإنه ذكر في "الفتوحات" من نمط هذا؛ وفي " الفصوص" في أثناء كلام له قال فيه: فإن فهمت ما أشرت به فقد حصل لك العلم النافع؛ فكل نبي من بني آدم إلى آخر النبي؛ ما منهم أحد يأخذ إلا من مشكاة خاتم النبيين؛ وإن تأخر وجود طينته؛ فإنه بحقيقته موجود وهو قوله: " كنت نبيا وآدم بين الماء والطين" وغيره ما كان نبيا إلى حين بعث؛ وكذلك خاتم الأولياء كان وليا وآدم بين الماء والطين؛ وغيره من الأولياء ما كان وليا إلا تعد تحصيل شرائط الولاية من الأخلاق الإلهية في الاتصاف بها من كون الله بالولي الحميد إلى آخر كلامه2.
--------------------------------------------
পঞ্চাশ হাজার বছর এবং তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর" ১.
আর এই নাস্তিক দাবি করে যে, হাকীকতে মুহাম্মাদী (মুহাম্মাদী বাস্তবতা) আহাদিয়্যাহর দরবারে সামাদিয়্যাহর নূরসমূহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে; আরশ, পানি এবং সেই কলম সৃষ্টিরও আগে যা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে সবকিছুর তাকদীর লিখেছিল। এই প্রলাপগুলো কিতাব ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট বাণীর পরিপন্থী এবং সেগুলোর সাথে চরমভাবে সাংঘর্ষিক। এই অন্তঃসারশূন্য কথাগুলো ফুসূসের লেখক ইবনে আরবির কথা থেকে সংগৃহীত, যে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে অন্যতম বড় কাফের। সে "ফুতুহাত"-এ এই ধরণের কথা উল্লেখ করেছে; এবং "ফুসূস"-এ তার আলোচনার এক পর্যায়ে বলেছে: "আমি যা ইশারা করেছি তা যদি তুমি বুঝতে পারো, তবে তুমি উপকারী জ্ঞান অর্জন করেছ। আদম সন্তান থেকে শুরু করে শেষ নবী পর্যন্ত সকল নবীর অবস্থা এমন যে, তাদের কেউই খাতামুন নাবিয়্যীনের (নবীগণের মোহর) প্রদীপাধার (মিশকাত) ব্যতীত অন্য কোনো উৎস থেকে গ্রহণ করেন না; যদিও তাঁর পার্থিব অস্তিত্ব বিলম্বে ঘটেছে। কিন্তু তাঁর হাকীকত বা প্রকৃত সত্তা বিদ্যমান ছিল, যা তাঁর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: 'আমি তখনো নবী ছিলাম যখন আদম পানি ও মাটির অন্তর্বর্তী অবস্থায় ছিলেন'। আর তিনি ব্যতীত অন্য কেউ নবী ছিলেন না যতক্ষণ না তাদের নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। তেমনিভাবে খাতামুল আউলিয়া (অলীগণের মোহর) তখনও অলী ছিলেন যখন আদম পানি ও মাটির অন্তর্বর্তী অবস্থায় ছিলেন; কিন্তু অন্যান্য আউলিয়াগণ ততক্ষণ পর্যন্ত অলী হননি যতক্ষণ না তারা মহান আল্লাহর 'অলীউল হামীদ' হওয়ার গুণে গুণান্বিত হয়ে ইলাহী আখলাক বা ঐশ্বরিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অর্জনের মাধ্যমে বেলায়েতের শর্তসমূহ পূর্ণ করেছেন" -তার আলোচনার শেষ পর্যন্ত। ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وبهذا تعلم أنهم إنما حذوا حذوه؛ وقفوا أثرهم؛ مع أن قوله: "كنت نبيا وآدم بين الماء والطين" مما يرويه العوام؛ وهذا باطل؛ واللفظ المعروف "بين الروح والجسد" 1؛ لأن بين الماء والطين مرتبة.
--------------------------------------------
এর মাধ্যমেই আপনি জানতে পারলেন যে, তারা কেবল তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে এবং তাঁদেরই পথ ধরে চলেছে। অথচ তাঁর বক্তব্য: "আমি তখন নবী ছিলাম যখন আদম পানি ও মাটির অন্তর্বর্তী অবস্থায় ছিলেন"—এটি সাধারণ মানুষের মুখে প্রচলিত একটি বর্ণনা; আর এটি বাতিল। এর পরিচিত পাঠ হলো "রূহ ও দেহের অন্তর্বর্তী অবস্থায়" (১); কারণ পানি ও মাটির মধ্যবর্তী অবস্থা একটি পর্যায় মাত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وكذلك قوله: "وغيره ما كان نبيا إلى حين بعث" فإنه مخالف لقوله صلى الله عليه وسلم " إن الله كتب مقادير الخلائق قبل أن يخلق السماوات والأرض بخمسين ألف سنة " ولقوله في حديث أبي بن كعب المتقدم " ورأى فيهم الأنبياء مثل السرج وخصوا بميثاق آخر بالرسالة والنبوية " إلى آخره.
وهؤلاء الغلاة يظنون أنهم بهذه الترهات معظمين الرسول؛ وهم بهذه الأمور ضارعوا النصارى في الغلو والإطراء؛ ويزعمون أنهم بهذا الغلو قد بالغوا في تعظيمه صلى الله عليه وسلم وتوقيره وتبجيله وتعزيره؛ وحاشا وكلا بل هو مما يكرهه صلى الله عليه وسلم ويسخطه وينهي عنه كما قال صلى الله عليه وسلم " لا تطروني كما أطرت النصارى ابن مريم إنما أنا عبد فقولوا عبد الله ورسوله " أخرجاه في الصحيحين "1؛ وقوله صلى الله عليه وسلم لما قيل له يا سيدنا وخيرنا وابن خيرنا فقال: " يا أيها الناس قولوا بقولكم أو بعض قولكم ولا يستجرينكم الشيطان أنا محمد عبد الله ورسوله ما أحب أن ترفعوني فوق منزلتي التي أنزلني الله عزوجل" 2.
--------------------------------------------
অনুরূপভাবে তাঁর এই বক্তব্য: "এবং তিনি ব্যতীত অন্য কেউ প্রেরিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নবী ছিলেন না"—নিশ্চয়ই এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর পরিপন্থী যে, "নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে মাখলুকের তকদির লিখে রেখেছেন।" এবং উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর পূর্বে উল্লিখিত হাদিসে বর্ণিত তাঁর এই বাণীরও পরিপন্থী যে, "তিনি তাদের মধ্যে নবীদের প্রদীপের ন্যায় দেখেছিলেন এবং তাঁদেরকে রিসালাত ও নবুওয়াতের বিশেষ অঙ্গীকার দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছিল" শেষ পর্যন্ত।
এই চরমপন্থীরা মনে করে যে, তারা এসব অসার কথার মাধ্যমে রাসুলকে সম্মান প্রদর্শন করছে; অথচ এসব বিষয়ে তারা চরমপন্থা ও অতিশয়োক্তির ক্ষেত্রে নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) সাদৃশ্য গ্রহণ করেছে। তারা ধারণা করে যে, এই চরমপন্থার মাধ্যমে তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মান, শ্রদ্ধা, মহিমা ও মর্যাদাবোধের চরম সীমায় পৌঁছে গেছে। অথচ কখনোই তা নয়; বরং এটি এমন বিষয় যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপছন্দ করতেন, এর প্রতি অসন্তুষ্ট হতেন এবং এ থেকে নিষেধ করেছেন। যেমন তিনি (সা.) বলেছেন: "তোমরা আমার প্রশংসায় এমন অতিরঞ্জন করো না যেমনটি নাসারারা ইবনে মারিয়ামের ক্ষেত্রে করেছে। আমি তো কেবল আল্লাহর একজন বান্দা। অতএব তোমরা বলো, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।" এটি বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।১; এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, যখন তাঁকে বলা হয়েছিল, "হে আমাদের নেতা, হে আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি এবং আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তির সন্তান!" তখন তিনি বলেছিলেন: "হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের কথা বলো অথবা তোমাদের কথার কিছু অংশ বলো, আর শয়তান যেন তোমাদের প্ররোচিত না করে। আমি মুহাম্মাদ, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাকে যে মর্যাদায় আসীন করেছেন, তোমরা আমাকে তার উপরে উঠাও—এটি আমি পছন্দ করি না।" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وإنما كره ذلك صلى الله عليه وسلم خشية أن يستجرينهم الشيطان في المبالغة في المدح والثناء فيخرج بهم إلى حد الإطراء فأرشد صلى الله عليه وسلم إلى الأدب في الألفاظ؛ وعلمهم كيفية الثناء عليه بأن يقولوا: عبد الله ورسوله.
فتبين من هذا الحديث أن أشرف مقامات النبي صلى الله عليه وسلم مقام العبودية والرسالة؛ ولذلك شرفه الله بهما في مقام التحدي وغيره؛ فقال تعالى: {وَإِنْ كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ} [البقر: آية 23] وقال تعالى: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنْ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} [الإسراء: آية 1] وقال تعالى: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ} [الكهف: آية 1] وقال تعالى: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا} [الفرقان: آية 1] وقال تعالى: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ} [القلم: آية 29] وقال تعالى: {وَأَنَّهُ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ} [الجن: آية 19] .
فتعظيمه صلى الله عليه وسلم إنما هو بطاعته؛ وامتثال أمره؛ والانتهاء عما نهى عنه؛ ولزوم متابعته؛ وتقديم قوله على قول كل أحد من
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি অপছন্দ করেছেন এই আশঙ্কায় যে, শয়তান যেন প্রশংসার ক্ষেত্রে অতিশয়োক্তির মাধ্যমে তাদেরকে প্ররোচিত না করে, যার ফলে তারা সীমালঙ্ঘন ও অত্যধিক স্তুতিতে লিপ্ত হতে পারে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শব্দ প্রয়োগের ক্ষেত্রে শিষ্টাচার প্রদর্শনের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং তাঁর প্রশংসা করার পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন যে, তারা যেন বলে: "আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।"
এই হাদিস থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বোচ্চ মর্যাদা হলো তাঁর 'উবুদিয়্যাত' (দাসত্ব) ও 'রিসালাত' (রাসূল হওয়া); এই কারণেই আল্লাহ তাআলা চ্যালেঞ্জ প্রদানের ক্ষেত্রসহ অন্যান্য স্থানে তাঁকে এই দুটি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা নাযিল করেছি, সে বিষয়ে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তোমরা তার মতো একটি সূরা নিয়ে এসো} [আল-বাকারা: আয়াত ২৩]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মাসজিদুল হারাম থেকে} [আল-ইসরা: আয়াত ১]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন} [আল-কাহফ: আয়াত ১]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {মহিমান্বিত সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান নাযিল করেছেন, যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন} [আল-ফুরকান: আয়াত ১]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল} [আল-কালাম: আয়াত ২৯]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর যখন আল্লাহর বান্দা তাঁকে ডাকার জন্য দাঁড়াল} [আল-জিন্ন: আয়াত ১৯]।
সুতরাং, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন হলো তাঁর আনুগত্য করা; তাঁর আদেশ পালন করা; তাঁর নিষেধসমূহ থেকে বিরত থাকা; তাঁর অনুসরণে অবিচল থাকা; এবং যে কারো বাণীর ওপর তাঁর বাণীকে প্রাধান্য দেওয়া...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সওয়ায়িকুল মুরসালাহ আশ-শিহাবিয়্যাহ আলাশ শুবাহ আদ-দাহিযাহ আশ-শামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الخلق بهديه وسنته؛ فصلوات الله وسلامه عله كما نصح الأمة؛ وكشف الغمة؛ وأدى الأمانة؛ وبلغ الرسالة؛ وقطع الوسيلة والذريعة المفضية إلى مجاوزة الحد بالغلو والإطراء في مدحه والثناء فليه كما أطرت النصارى عسى بن مريم وغلت فيه حتى تجاوزت الحد بدعواهم إلهيته وأنه هو الله أو ابن الله أو ثالث ثلاثة تعالى الله عما يقولون علوا كبيرا.
وقد تجاوز الحد في مدحه والثناء عليه من هذه الأمة أناس ضاهوا النصارى كما قال دحلان 1 في كتابه الذي سماه " الدرر السنية " فقال: "نعم يجب علينا أن لا نصفه بشيء من صفات الربوبية؛ فليس في تعظيمه بغير صفات الربوبية شيء من الكفر والإشراك؛ بل ذلك من أعظم الطاعات. ورحم الله البوصيري حيث قال:
دع ما ادعته النصارى في نبيهمو
… واحكم بما شئت مدحا فيه واحتكم
انتهى".
--------------------------------------------
সৃষ্টির হিদায়াত তাঁর প্রদর্শিত পথ ও সুন্নাহর মাধ্যমে; সুতরাং আল্লাহর দরুদ ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক, যেমন তিনি উম্মতকে নসিহত করেছেন, অন্ধকার দূরীভূত করেছেন, আমানত আদায় করেছেন, রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাঁর প্রশংসা ও গুণকীর্তনের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন ও অতিরঞ্জনের দিকে ধাবিত করার সমস্ত উপায় ও মাধ্যম রুদ্ধ করেছেন; যেভাবে খ্রিস্টানরা মরিয়ম-তনয় ঈসার প্রশংসায় অতিরঞ্জন করেছিল এবং তাঁর ব্যাপারে চরমপন্থা অবলম্বন করেছিল, এমনকি তারা তাঁর উপাস্য হওয়ার দাবি করে এবং তিনি স্বয়ং আল্লাহ, অথবা আল্লাহর পুত্র, কিংবা তিন উপাস্যের অন্যতম—এমন দাবি করে সীমা অতিক্রম করেছিল। তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি সুউচ্চ ও মহান।
এই উম্মতের মাঝেও এমন কিছু মানুষ সীমা লঙ্ঘন করেছে যারা খ্রিস্টানদের সাদৃশ্য গ্রহণ করেছে, যেমন দাহলান (১) তাঁর 'আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ' নামক কিতাবে বলেছেন: "হ্যাঁ, আমাদের ওপর কর্তব্য হলো তাঁকে রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের কোনো গুণে গুণান্বিত না করা; তবে রুবুবিয়্যাতের গুণাবলি ব্যতিরেকে তাঁর সম্মান প্রদর্শনের মধ্যে কুফর বা শিরকের কিছুই নেই; বরং তা শ্রেষ্ঠতম ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহ বুসিরির ওপর রহম করুন, যখন তিনি বলেছিলেন:
খ্রিস্টানরা তাদের নবীর ব্যাপারে যা দাবি করেছে তা বর্জন করো
… আর তাঁর প্রশংসায় তুমি যা ইচ্ছা বলো এবং ফয়সালা করো।
সমাপ্ত।"
--------------------------------------------