(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: -)
الصلاة - ابن القيم - ط زكريا يوسف القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الصلاة وأحكام تاركها
المؤلف: ابن قيم الجوزية [ت 751 هـ]
مطبوع بذيل: "الصلاة وما يلزم فيها" للإمام أحمد بن حنبل
كلاهما بتصحيح الناشر: زكريا علي يوسف - مصر، دون تاريخ نشر
توزيع: مكتبة الثقافة بالمدينة النبوية
الصفحات: من 29 إلى 176
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আস-সালাত - ইবনুল কাইয়্যিম - জাকারিয়া ইউসুফ সংস্করণ বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
কিতাব: আস-সালাত ওয়া আহকামু তারিকিহা (সালাত এবং এটি পরিত্যাগকারীর বিধান)
লেখক: ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ [মৃত্যু ৭৫১ হিজরি]
পরিশিষ্ট হিসেবে মুদ্রিত: "আস-সালাত ওয়া মা ইয়ালজামু ফিহা" ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল-এর
উভয়টি প্রকাশকের সম্পাদনায়: জাকারিয়া আলী ইউসুফ - মিশর، প্রকাশের তারিখ বিহীন
পরিবেশক: মাকতাবাতুস সাকাফাহ, মদিনা মুনাওয়ারাহ
পৃষ্ঠাসমূহ: ২৯ থেকে ১৭৬ পর্যন্ত
[কিতাবের পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
عشرة مسائل تتعلق بالصلاة الأولى ذنب ترك الصلاة أعظم من القتل والزنا…بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين ما يقول السادة العلماء الذين وفقهم الله وأرشدهم وهداهم وسددهم في تارك الصلاة عامدا هل يجب قتله أم لا؟ وإذا قتل فهل يقتل كما يقتل المرتد والكافر فلا يغسل ولا يصلي عليه ولا يدفن في مقابر المسلمين أم يقتل حدا مع الحكم بإسلامه وهل تحبط الأعمال وتبطل بترك الصلام أم لا وهل تقبل صلاة النهار الليل وصلاة الليل بالنهار أم لا وهل تصح صلاة من صلى وحده وهو يقدر على الصلاة جماعة أم لا وإذا صحت هل يأثم بترك الجماعة أم لا وهل يشترط حضور المسجد أم يجوز فعلها في البيت وما حكم من نقر الصلاة ولم يتم ركوعها وسجودها وما كان مقدار صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم وما حقيقة التخفيف الذي نبه عليه بقوله صلى الله عليه وسلم: "صل بهم صلاة أخفهم" وما معنى قوله لمعاذ: "أفتان أنت"؟.
والمسؤول سياق صلاته صلى الله عليه وسلم من حين كان يكبر إلى ان يفرغ منها سياقا مختصرا كأن السائل يشهده فأرشد الله من دل على سواء السبيل وجمع بين بيان الحكم والدليل وما أخذ الله الميثاق على أهل الجهل أن يتعلموا حتى أخذ الميثاق على أهل العلم أن يعلموا ويبينوا.
أجاب الشيخ الإمام العلامة بقية السلف ناصر السنة وقامع البدعة الشيخ شمس الدين محمد بن أبي بكر الحنبلي المعروف بابن قيم الجوزية رضي الله عنه وأرضاه وجعل جنة الخلد متقلبه ومثواه.
الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهد الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له واشهد أن لا إله إلا الله واشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وأزواجه وسلم تسليما كثيرا.
সালাত সম্পর্কিত দশটি মাসআলা; প্রথমটি হলো সালাত ত্যাগের গুনাহ হত্যা ও ব্যভিচারের চেয়েও বড়।…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
যাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সেই সকল বিদগ্ধ ওলামায়ে কেরাম—যাদের আল্লাহ তাওফিক দিয়েছেন, সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন এবং সুদৃঢ় করেছেন—ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগকারীর ব্যাপারে কী বলেন? তাকে কি হত্যা করা আবশ্যক (واجب) হবে কি না? আর যদি তাকে হত্যা করা হয়, তবে কি তাকে মুরতাদ (مرتد) ও কাফিরের (كافر) ন্যায় হত্যা করা হবে, যার ফলে তাকে গোসল দেওয়া হবে না, তার জানাজা পড়া হবে না এবং মুসলমানদের কবরস্থানে দাফন করা হবে না? নাকি তার ইসলামের হুকুম (حكم) বহাল রেখে হদ (حد) হিসেবে তাকে হত্যা করা হবে? সালাত বর্জনের কারণে কি আমলসমূহ বিনষ্ট ও বাতিল (باطل) হয়ে যায় নাকি নয়? দিনের সালাত কি রাতে এবং রাতের সালাত কি দিনে কবুল করা হয়? যে ব্যক্তি জামাতে (جماعة) সালাত আদায়ে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও একাকী সালাত আদায় করে, তার সালাত কি সহিহ (صحيح) হবে? যদি সহিহ (صحيح) হয়, তবে জামাত (جماعة) ত্যাগের কারণে সে কি গুনাহগার হবে? মসজিদে উপস্থিত হওয়া কি শর্ত (شرط), নাকি বাড়িতে সালাত আদায় করা জায়েজ (جائز)? আর যে ব্যক্তি সালাতে ঠোকর মারে এবং রুকু ও সিজদা পূর্ণ করে না, তার বিধান কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের পরিমাণ কেমন ছিল? সালাত সংক্ষেপ করার যে বিষয়ে তিনি এই বলে নির্দেশ দিয়েছেন যে, "তাদের নিয়ে এমনভাবে সালাত আদায় করো, যা তাদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তির সালাতের অনুরূপ"—তার প্রকৃত হাকিকত বা বাস্তবতা কী? আর মুয়াজ (রা.)-এর উদ্দেশ্যে তাঁর এই বাণীর অর্থ কী: "তুমি কি ফেতনা সৃষ্টিকারী?"
আবেদন এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত শুরু করার তাকবির থেকে শেষ করা পর্যন্ত এর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করা হোক, যেন প্রশ্নকারী তা সচক্ষে প্রত্যক্ষ করছেন। আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন, যিনি সরল পথ দেখান এবং হুকুম (حكم) ও দলিলের (دليل) মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন। আল্লাহ অজ্ঞদের ওপর শিক্ষা গ্রহণের অঙ্গীকার ততক্ষণ নেননি, যতক্ষণ না আলেমদের ওপর শিক্ষা দান ও বিষয়টি স্পষ্ট করার অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন।
উত্তর প্রদান করেছেন ইমাম, আল্লামা, সালাফদের যোগ্য উত্তরসূরি, সুন্নাহ (سنة) এর সাহায্যকারী ও বিদআত (بدعة) এর মূলোৎপাটনকারী শাইখ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আল-হাম্বলি, যিনি ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ নামে পরিচিত—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসকে তাঁর চিরস্থায়ী আবাসস্থল করুন।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাঁর সহধর্মিণীদের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
لا يختلف المسلمون أن ترك الصلاة المفروضة عمدا من اعظم الذنوب وأكبر الكبائر وأن اثمه ثم الله أعظم من إثم قتل النفس وأخذ الأموال ومن إثم الزنا والسرقة وشرب الخمر وأنه متعرض لعقوبة الله وسخطه وخزيه في الدنيا والآخرة ثم اختلفوا في قتله وفي كيفية قتله وفي كفره.
فأفتى سفيان بن سعيد الثوري وأبو عمرو الأوزاعي وعبد الله بن المبارك وحماد بن زيد ووكيع بن الجراح ومالك بن أنس ومحمد بن إدريس الشافعي وأحمد بن حنبل وإسحاق بن راهويه واصحابهم بأنه يقتل ثم اختلفوا في كيفية قتله فقال جمهورهم يقتل بالسيف ضربا في عنقه وقال بعض الشافعية يضرب بالخشب إلى ان يصلي أو يموت وقال ابن سريج ينخس بالسيف حتى يموت لأنه ابلغ في زجره وأرجى لرجوعه.
والجمهور يحتجون بقوله صلى الله عليه وسلم: "إن الله كتب الإحسان في كل شيء فإذا قتلتم فأحسنوا القتلة" وضرب العنق بالسيف أحسن القتلات وأسرعها إزهاقا للنفس وقد سن الله سبحانه في قتل الكفار المرتدين ضرب الأعناق دون النخس بالسيف وإنما شرع في حق الزاني المحصن القتل بالحجارة ليصل الألم إلى جميع بدنه حيث وصلت إليه اللذة بالحرام ولأن تلك القتلة أشنع القتلات والداعي إلى الزنا داع قوي في الطباع فجعلت غلظة في مقابلة قوة الداعي ولأن في تذكيرا لعقوبة الله لقوم الفاء بالرجم بالحجارة على ارتكاب الفاحشة.
"فصل"
وقال ابن شهاب الزهري وسعيد بن المسيب وعمر بن عبد العزيز وابو حنيفة وداود بن علي والمزاني يحبس حتى يموت أو يتوب ولا يقتل واحتج لهذا المذهب بما رواه أبو هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " امرت أن اقاتل الناس حتى يقولوا لا إله إلا الله فإذا قالوها عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحقها" رواه البخاري.
وعن ابن مسعود قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا يحل دم امرىء
মুসলমানদের মাঝে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ নামাজ বর্জন করা অন্যতম প্রধান পাপ এবং বড় গুনাহসমূহের (أكبر الكبائر) অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর নিকট এর পাপ কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করা ও সম্পদ লুণ্ঠন করা এবং ব্যভিচার, চুরি ও মদ্যপানের পাপের চেয়েও গুরুতর। এমন ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহর শাস্তি, ক্রোধ ও লাঞ্ছনার সম্মুখীন। অতঃপর উলামাগণ তাকে হত্যা করা, হত্যার পদ্ধতি এবং তার কুফরি (كفره) হওয়ার বিষয়ে মতভেদ করেছেন।
সুফিয়ান বিন সাঈদ আল-সাওরি, আবু আমর আল-আওযায়ী, আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক, হাম্মাদ বিন জায়েদ, ওয়াকি বিন আল-জাররাহ, মালিক বিন আনাস, মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফিয়ী, আহমাদ বিন হাম্বল, ইসহাক বিন রাহওয়াইহি এবং তাঁদের অনুসারীগণ ফতোয়া দিয়েছেন যে তাকে হত্যা করা হবে। অতঃপর তাঁরা তাকে হত্যার পদ্ধতির বিষয়ে মতভেদ করেছেন; তাঁদের অধিকাংশের (جمهورهم) মতে তরবারির আঘাতে তার শিরশ্ছেদ করা হবে। শাফিয়ী মাযহাবের কোনো কোনো ফকীহ বলেছেন যে, নামাজ পড়া অথবা মৃত্যু পর্যন্ত তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হবে। ইবনে সুরাইজ বলেন, তাকে তরবারি দিয়ে খুঁচিয়ে মারা হবে; কারণ এটি অপরাধীকে নিবৃত্ত করার জন্য অধিক কার্যকর এবং তার তওবা করে ফিরে আসার জন্য অধিক আশাব্যঞ্জক।
অধিকাংশ (الجمهور) উলামা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে ইহসান অবধারিত করেছেন; সুতরাং যখন তোমরা হত্যা করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে হত্যা করো।" আর তরবারির সাহায্যে শিরশ্ছেদ করাই হলো সর্বোত্তম এবং দ্রুততম উপায়ে প্রাণহানি ঘটানোর পদ্ধতি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ধর্মত্যাগী কাফেরদের হত্যার ক্ষেত্রে শিরশ্ছেদ করার বিধান দিয়েছেন, তরবারি দিয়ে খুঁচিয়ে মারা নয়। আর বিবাহিত ব্যভিচারীর ক্ষেত্রে পাথর নিক্ষেপে হত্যার বিধান রাখা হয়েছে যাতে শরীরের প্রতিটি অংশে ব্যথা পৌঁছে যেখানে সে হারামের মাধ্যমে আনন্দ লাভ করেছিল। কারণ এই মৃত্যু সবচেয়ে ভয়াবহ, আর ব্যভিচারের প্রবৃত্তি মানুষের স্বভাবজাতভাবে অত্যন্ত প্রবল; তাই সেই প্রবল প্রবৃত্তির বিপরীতে শাস্তির কঠোরতা রাখা হয়েছে। এছাড়া এতে মানুষের জন্য অশ্লীলতার দায়ে পাথরের আঘাতে আল্লাহর শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার অবকাশ রয়েছে।
"পরিচ্ছেদ"
ইবনে শিহাব আজ-যুহরি, সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব, উমর বিন আব্দুল আজিজ, আবু হানিফা, দাউদ বিন আলী এবং আল-মুযানী বলেছেন যে, তাকে তওবা করা অথবা মৃত্যু পর্যন্ত বন্দি রাখা হবে এবং হত্যা করা হবে না। এই মতের সপক্ষে তাঁরা আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত (رواه) হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; যখন তারা তা বলবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে ইসলামের হক ব্যতীত।" এটি সহীহ বুখারী বর্ণনা করেছেন।
ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির রক্ত হালাল নয়
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
مسلم يشهد أن لا إله الله وأني رسول الله إلا بإحدى ثلاث الثيب الزاني والنفس بالنفس والتارك لدينه المفارق للجماعة". أخرجاه في الصحيحين.
قالوا ولأنها من الشرائع العملية فلا يقتل بتركها كالصيام والزكاة والحج قال الموجبون لقتله قال الله تعالى: {فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ} فأمر بقتلهم حتى يتوبوا من شركهم ويقيموا الصلاة ويؤتوا الزكاة ومن قال لا يقتل تارك الصلاة يقول متى تاب من شركه سقط عنه القتل وإن لم يقم الصلاة ولا آتى الزكاة وهذا خلاف ظاهر القرآن.
وفي الصحيحين من حديث أبي سعيد الخدري قال بعث علي ابن أبي طالب رضي الله عنه وهو ظاهرا إلى النبي صلى الله عليه وسلم بذهيبة فقسمها بين أربعة فقال رجل يا رسول الله اتق الله فقال: "ويلك ألست أحق أهل الأرض أن يتقي الله" ثم ولى الرجل فقال خالد ابن الوليد يا رسول الله ألا أضرب عنقه فقال: "لا لعله أن يكون يصلي" فقال خالد فكم من مصل يقول بلسانه ما ليس في قلبه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إني لم أؤمر ان أنقب عن قلوب الناس ولا أشق بطونهم" فجعل النبي صلى الله عليه وسلم المانع من قتله كونه يصلي فدل على أن من لم يصل يقتل ولهذا قال في الحديث الآخر نهيت عن قتل المصلين أبو داود رقم والطبراني في الكبير مجمع الزوائد وهو يدل على المصلين لم ينهه الله عن قتلهم.
وروى الإمام أحمد والشافعي في مسنديهما مسند الإمام أحمد ومسند الإمام الشافعي رقم من حديث عبيد الله بن عدي بن الخيار أن رجلا من الأنصار حدثه أنه اتى النبي صلى الله عليه وسلم وهو في مجلس فساره يستأذنه في قتل رجل من المنافقين فجهر رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: "أليس يشهد أن لا إله إلا الله" فقال الأنصاري: بلى يا رسول الله ولا شهادة له قال: "أليس يشهد أن محمدا رسول الله" قال: بلى ولا شهادة له قال: "أليس يصلي الصلاة" قال: بلى ولا صلاة له قال: "أولئك الذين نهاني الله عن قتلهم" فدل على أنه لم ينهه عن قتل من لم يصل.
وفي صحيح مسلم رقم عن ام سلمة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إنه يستعمل عليكم أمراء
"কোনো মুসলিম, যে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল, তার রক্ত প্রবাহিত করা বৈধ নয় তিনটি কারণ ব্যতীত: বিবাহিত ব্যভিচারী, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ এবং যে নিজের দ্বীন পরিত্যাগকারী ও জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন।" তারা উভয়ে এটি সহিহাইন-এ সংকলন করেছেন।
তারা (বিপক্ষ দল) বলেন, যেহেতু এটি আমলি শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি ত্যাগের কারণে হত্যা করা যাবে না, যেমনটি রোজা, জাকাত ও হজের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। যারা তাকে (নামাজ ত্যাগকারীকে) হত্যা করার প্রবক্তা তারা বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর তোমরা মুশরিকদের যেখানেই পাবে হত্যা করো, তাদের বন্দি করো, তাদের অবরোধ করো এবং প্রতিটি ঘাঁটিতে তাদের জন্য ওত পেতে থাকো। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত দেয়, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও।" সুতরাং তিনি তাদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন যতক্ষণ না তারা শিরক থেকে তওবা করে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে। আর যারা বলেন যে নামাজ ত্যাগকারীকে হত্যা করা যাবে না, তারা বলেন যে যখন সে শিরক থেকে তওবা করবে তখনই তার ওপর থেকে হত্যার দণ্ড রহিত হয়ে যাবে, যদিও সে নামাজ কায়েম না করে এবং জাকাত প্রদান না করে। আর এটি কোরআনের প্রকাশ্য (ظاهر) নির্দেশের পরিপন্থী।
সহিহাইন-এ আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন, আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট কিছু স্বর্ণখণ্ড পাঠান। তিনি তা চারজনের মধ্যে বণ্টন করে দেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহকে ভয় করুন।' তিনি বললেন, 'তোমার দুর্ভোগ হোক! আমি কি পৃথিবীর বুকে আল্লাহকে ভয় করার সবচেয়ে বেশি হকদার নই?' এরপর লোকটি চলে গেলে খালেদ ইবনুল ওয়ালিদ (রা.) বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি তার ঘাড় উড়িয়ে দেব না?' তিনি বললেন, 'না, সম্ভবত সে নামাজ পড়ে।' খালেদ বললেন, 'কত নামাজিই তো আছে যারা মুখে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই।' রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, 'আমাকে মানুষের অন্তর খুঁড়ে দেখার কিংবা তাদের পেট চিরে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।' সুতরাং নবী (সা.) তার নামাজ পড়াকেই তাকে হত্যা না করার কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যা প্রমাণ করে যে যে ব্যক্তি নামাজ পড়ে না তাকে হত্যা করা হবে। এ কারণেই অন্য এক হাদিসে তিনি বলেছেন, 'আমাকে নামাজিদের হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে।' এটি আবু দাউদ এবং তাবারানি আল-কাবিরে বর্ণিত হয়েছে এবং মাজমাউজ জাওয়ায়েদ-এ উল্লেখ আছে। এটি নির্দেশ করে যে যারা নামাজ পড়ে না, আল্লাহ তাদের হত্যা করতে নিষেধ করেননি।
ইমাম আহমাদ এবং শাফেয়ি তাদের মুসনাদদ্বয় অর্থাৎ মুসনাদ ইমাম আহমাদ এবং মুসনাদ ইমাম শাফেয়িতে উবাইদুল্লাহ ইবনে আদি ইবনুল খিয়ার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক আনসারি সাহাবী তাকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে একটি মজলিসে আসলেন এবং জনৈক মুনাফিককে হত্যা করার অনুমতি চেয়ে ফিসফিস করে কথা বললেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) উচ্চস্বরে বললেন, "সে কি সাক্ষ্য দেয় না যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই?" আনসারি বললেন, "হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল, তবে তার সাক্ষ্যের কোনো ভিত্তি নেই।" তিনি বললেন, "সে কি সাক্ষ্য দেয় না যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তবে তার সাক্ষ্যের কোনো ভিত্তি নেই।" তিনি বললেন, "সে কি নামাজ পড়ে না?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তবে তার নামাজের কোনো মূল্য নেই।" তখন তিনি বললেন, "এরাই সেই লোক যাদের হত্যা করতে আল্লাহ আমাকে নিষেধ করেছেন।" এটি প্রমাণ করে যে, যে নামাজ পড়ে না তাকে হত্যা করতে তিনি নিষেধ করেননি।
সহিহ মুসলিম-এ উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "তোমাদের ওপর এমন কিছু আমির বা শাসক নিযুক্ত করা হবে...
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
فتعرفون وتنكرون فمن انكر فقد بريء ومن كره فقد سلم ولكن من رضي وتابع" فقالوا يا رسول الله ألا نقاتلهم فقال: "لا ما صلوا".
وفي الصحيحين من حديث عبد الله بن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله ويقيموا الصلاة ويؤتوا الزكاة فإذا فعلوا ذلك عصموا مني دماءهم وأموالهم إلا بحق الإسلام وحسابهم على الله". فوجه الاستدلال به من وجهين أحدهما أنه أمر بقتالهم إلى أن يقيموا الصلاة الثاني قوله: "إلا بحقها" والصلاة من أعظم حقها.
وعن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله ويقيموا الصلاة ويؤتوا الزكاة ثم قد حرمت علي دماؤهم وأموالهم وحسابهم على الله". رواه الإمام أحمد المسند وابن خزيمة في صحيحه رقم فأخبر صلى الله عليه وسلم أنه امر بقتالهم إلى أن يقيموا الصلاة وأن دماءهم وأموالهم إنما تحرم بعد الشهادتين وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة فدماؤهم وأموالهم قبل بل هي مباحة.
وعن أنس بن مالك قال لما توفي رسول الله ارتد العرب فقال عمر يا أبا بكر كيف تقاتل العرب فقال أبو بكر إنما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله وأني رسول الله ويقيموا الصلاة ويؤتوا الزكاة". رواه النسائي وهو حديث صحيح.
وتقييد هذه الأحاديث يبين مقتضى الحديث المطلق الذي احتجوا به على ترك القتل مع أنه حجة عليهم فإنه لم يثبت العصمة للدم والمال إلا بحق الإسلام والصلاة آكد حقوقه على الاطلاق.
وأما حديث ابن مسعود وهو لا يحل دم امريء مسلم إلا بإحدى ثلاث البخاري رقم مسلم رقم فهو حجة لنا في المسألة فإنه جعل منهم "التارك لدينه" والصلاة ركن الدين الأعظم ولا سيما إن قلنا بأنه كافر فقد ترك الدين بالكلية وإن لم يكفر فقد ترك عمود الدين.
قال الإمام أحمد وقد جاء في الحديث لا حظ في الإسلام لمن ترك الصلاة
“তোমরা (তাদের কিছু কাজ) চিনতে পারবে এবং কিছু অস্বীকার করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি ঘৃণা পোষণ করল সে দায়মুক্ত হলো এবং যে ব্যক্তি অপছন্দ করল সে রক্ষা পেল; কিন্তু যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট হলো এবং অনুসরণ করল (সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো)।” তারা বলল: “হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না?” তিনি বললেন: “না, যতক্ষণ তারা সালাত আদায় করবে।”
এবং সহীহাইন-এ আবদুল্লাহ ইবনে উমর বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। যখন তারা এগুলো করবে, তখন তারা আমার থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে, তবে ইসলামের হকের বিষয়টি ভিন্ন; আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।” এখান থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি দুটি; একটি হলো: তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন যতক্ষণ না তারা সালাত কায়েম করে। দ্বিতীয়টি হলো তাঁর বাণী: “তবে ইসলামের হকের বিষয়টি ভিন্ন”; আর সালাত হলো ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হক।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর তারা সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। অতঃপর আমার জন্য তাদের রক্ত ও সম্পদ হারাম হয়ে যাবে এবং তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।” ইমাম আহমাদ এটি মুসনাদ-এ এবং ইবনে খুজাইমাহ তাঁর সহীহ-তে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছেন যতক্ষণ না তারা সালাত কায়েম করে। আর তাদের রক্ত ও সম্পদ কেবল শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্য), সালাত কায়েম এবং জাকাত প্রদানের মাধ্যমেই সুরক্ষিত হয়। অতএব এর পূর্বে তাদের রক্ত ও সম্পদ (রক্ষণীয় নয়) বরং তা বৈধ (মুবাহ)।
আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করলেন এবং আরবরা ধর্মত্যাগী হয়ে গেল, তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, “হে আবু বকর! আপনি আরবদের সাথে কীভাবে যুদ্ধ করবেন?” তখন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো বলেছেন: “আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল, আর তারা সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে।” নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি সহীহ (صحيح) হাদিস।
আর এই হাদিসগুলোর সীমাবদ্ধকরণ (تقييد) সেই নিঃশর্ত (مطلق) হাদিসের দাবিকে স্পষ্ট করে দেয়, যা দিয়ে তারা হত্যা বর্জনের স্বপক্ষে দলিল পেশ করে; অথচ এটি মূলত তাদের বিপক্ষেই দলিল। কারণ ইসলামের হক ব্যতিরেকে রক্ত ও সম্পদের নিরাপত্তা সাব্যস্ত হয় না এবং সালাত হলো নিরঙ্কুশভাবে ইসলামের সবচেয়ে জোরালো হক।
আর ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস—“তিনটি কারণ ছাড়া কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্ত হালাল নয়” (বুখারি ও মুসলিম)—এটি এই মাসআলায় আমাদের স্বপক্ষে দলিল। কারণ তিনি তাদের মাঝে “স্বীয় দ্বীন ত্যাগকারীকে” অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর সালাত হলো দ্বীনের মহান স্তম্ভ (ركن), বিশেষ করে যদি আমরা বলি যে সে কাফির, তবে সে তো সম্পূর্ণরূপে দ্বীন ত্যাগ করেছে। আর যদি তাকে কাফির না-ও বলা হয়, তবুও সে দ্বীনের স্তম্ভ (রুকন) ত্যাগ করেছে।
ইমাম আহমাদ বলেন, হাদিসে এসেছে: “যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করে, ইসলামে তার কোনো অংশ নেই।”
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
راجع طبقات الحنابلة وقد كان عمر بن الخطاب يكتب إلى الآفاق إن أهم أموركم عندي الصلاة فمن حفظها حفظ دينه ومن ضيعها فهو لما سواها أضيع ولاحظ في الإسلام لمن ترك الصلاة.
قال فكل مستخف بالصلاة مستهين بها فهو مستخف بالإسلام مستهين به وإنما حظهم من الإسلام على قدر حظهم من الصلاة ورغبتهم في الإسلام على القادر رغبتهم في الصلاة فاعرف نفسك يا عبد الله واحذر أن تلقي الله ولا قدر للإسلام عندك فإن قدر الإسلام في قلبك كقدر الصلاة في قلبك.
وقد جاء الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "الصلاة عمود الدين" المقاصد الحسنة رقم ألست تعلم أن الفسطاط إذا سقط عموده سقط الفسطاط ولم ينتفع بالطنب ولا بالأوتاد وإذا قام عمود الفسطاط انتفعت بالطنب والأوتاد وكذلك الصلاة من الإسلام.
وجاء في الحديث "إن أول ما يسأل عنه العبد يوم القيامة من عمله صلاته فإن تقبلت منه صلاته تقبل منه سائر عمله وإن ردت عليه صلاته رد عليه سائر عمله" مجمع الزوائد فصلاتنا آخر ديننا وهي أول ما نسأل عنه غدا من اعمالنا يوم القيامة فليس بعد ذهاب الصلاة إسلام ولا دين إذا صارت الصلاة آخر ما يذهب من الإسلام هذا كله كلام أحمد. والصلاة أول فروض الإسلام وهي آخر ما يفقد من الدين فهي أول الإسلام وآخره فإذا ذهب أوله وآخره فقد ذهب جميعه وكل شيء ذهب أوله وآخره فقد ذهب جميعه. قال الإمام أحمد كل شيء يذهب آخره فقد ذهب جميعه، فإذا ذهبت صلاة المرء ذهب دينه والمقصود أن حديث عبد الله بن مسعود: " لا يحل دم امريء مسلم إلا بإحدى ثلاث الثيب الزاني والنفس بالنفس والتارك لدينه". من أقوى الحجج في قتل تارك الصلاة.
"فصل"
في اختلاف القائلين بقتل تارك الصلاة واختلف القائلون بقتله في مسائل إحداها: أنه هل يستتاب أم لا فالمشهور أنه يستتاب فإن تاب ترك وإلا قتل هذا قول الشافعي وأحمد
তাবাকাতুল হানাবিলা গ্রন্থটি দেখুন। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বিভিন্ন অঞ্চলে পত্রে লিখে পাঠাতেন যে, "আমার নিকট তোমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নামাজ। সুতরাং যে ব্যক্তি তা হিফাজত করল, সে তার দ্বীনকে হিফাজত করল। আর যে ব্যক্তি তা বিনষ্ট করল, সে অন্যান্য বিষয়কে আরও বেশি বিনষ্টকারী হবে। যে ব্যক্তি নামাজ ত্যাগ করে, ইসলামে তার কোনো অংশ নেই।"
তিনি বলেন, "প্রত্যেক নামাজে অবজ্ঞাকারী ও একে তুচ্ছজ্ঞানকারী ব্যক্তি মূলত ইসলামের প্রতিই অবজ্ঞাকারী ও একে তুচ্ছজ্ঞানকারী। ইসলামে তাদের অংশ কেবল নামাজের প্রতি তাদের অংশের পরিমাণ অনুযায়ী। আর ইসলামের প্রতি তাদের অনুরাগ কেবল নামাজের প্রতি তাদের অনুরাগের পরিমাণ অনুযায়ী। অতএব হে আল্লাহর বান্দা! নিজেকে যাচাই করো এবং আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করা থেকে সতর্ক থাকো যখন তোমার নিকট ইসলামের কোনো মর্যাদা নেই। কারণ তোমার অন্তরে ইসলামের মর্যাদা হলো তোমার অন্তরে নামাজের মর্যাদার সমান।"
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "নামাজ হলো দ্বীনের খুঁটি।" (আল-মাকাসিদুল হাসানাহ)। তুমি কি জান না যে, যখন তাঁবুর খুঁটিটি পড়ে যায়, তখন পুরো তাঁবুই পড়ে যায়? তখন না রশি উপকারে আসে, না খুঁটি। আর যখন তাঁবুর খুঁটিটি দাঁড়িয়ে থাকে, তখন রশি ও খুঁটি দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়। ইসলামের ক্ষেত্রে নামাজের বিষয়টিও ঠিক তদ্রূপ।
হাদিসে এসেছে: "কেয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম তার নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। যদি তার নামাজ কবুল করা হয়, তবে তার বাকি সকল আমলও কবুল করা হবে। আর যদি তার নামাজ প্রত্যাখ্যান (رد) করা হয়, তবে তার বাকি সকল আমলও প্রত্যাখ্যান করা হবে।" (মাজমাউজ যাওয়ায়েদ)। আমাদের নামাজ আমাদের দ্বীনের শেষ অংশ এবং এটিই আমাদের আমলসমূহের মধ্যে প্রথম বিষয় যা সম্পর্কে আগামীকাল কেয়ামতের দিন আমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে। নামাজ চলে যাওয়ার পর ইসলাম বা দ্বীন বলতে কিছু থাকে না যখন নামাজই ইসলাম থেকে বিদায় নেওয়া শেষ বস্তু হয়—এ সবই ইমাম আহমদের বক্তব্য। নামাজ ইসলামের প্রথম ফরজ (فرض) এবং এটিই দ্বীনের শেষ অংশ যা হারিয়ে যাবে। সুতরাং এটি ইসলামের শুরু ও শেষ। যখন এর শুরু ও শেষ বিদায় নেয়, তখন এর সম্পূর্ণ অংশই বিদায় নেয়। আর যে কোনো জিনিসের শুরু ও শেষ চলে গেলে তার পুরোটাই চলে যায়। ইমাম আহমদ বলেন, "যে জিনিসের শেষাংশ চলে যায়, তার পুরোটাই চলে যায়।" সুতরাং যখন কোনো ব্যক্তির নামাজ চলে যায়, তখন তার দ্বীনও চলে যায়। মূল উদ্দেশ্য হলো, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত হাদিস: "তিনটি কারণ ব্যতীত কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্ত হালাল নয়: বিবাহিত ব্যভিচারী, প্রাণের বদলে প্রাণ এবং যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিত্যাগকারী (التارك لدينه)"—এটি নামাজ ত্যাগকারীকে হত্যার স্বপক্ষে অন্যতম শক্তিশালী দলিল (حجة)।
পরিচ্ছেদ (فصل)
নামাজ ত্যাগকারীকে হত্যার প্রবক্তাদের মধ্যকার মতভেদ। যারা তাকে হত্যার প্রবক্তা, তারা কয়েকটি মাসআলায় মতভেদ করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো: তাকে তওবা করতে বলা হবে (يستتاب) কি না? প্রসিদ্ধ (مشهور) মত হলো তাকে তওবা করতে বলা হবে। যদি সে তওবা করে তবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে, অন্যথায় হত্যা করা হবে। এটি ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমদের অভিমত।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وأحد القولين في مذهب مالك وقال أبو بكر الطرطوشي في تعليقه مذهب مالك أنه يقال له صل ما دام الوقت باقيا فإن فعل ترك وإن امتنع حتى خرج الوقت قتل وهل يستتاب أم لا قال بعض اصحابنا يستتاب فإن تاب وإلا قتل وقال بعضهم لا يستتاب لأن هذا حد من الحدود يقام عليه فلا تسقطه التوبة كالزاني والسارق وهذا القول يلزم من قال يقتل حدا فإنه إذا كان حده على ترك الصلاة القتل كان كمن حده القتل على الزنا والمحاربة والحدود تجب ولا تسقطها التوبة بعد الرفع إلى الإمام.
وأما من قال يقتل لكفره فلا يلزمه هذا لأنه جعله كالمرتد وإذا أسلم سقط عنه القتل قال الطرطوشي وهكذا حكم الطهارة والغسل من الجنابة والصيام عندنا فإذا قال لا أتوضأ ولا أغتسل من الجنابة ولا أصوم قتل ولم يستتب سواء قال هي فرض علي أو جحد فرضها. قلت: هذا الذي حكاه الطرطوشي عن بعض اصحابه أنه يقتل استتابة هو رواية عن مالك.
وفي استتابه المرتد روايتان عن أحمد وقولان للشافعي ومن فرق بين المرتد وبين تارك الصلاة في الاستتابة فاستتاب المرتد دون تارك الصلاة كإحدى الروايتين عن مالك يقول الظاهر أن المسلم لا يترك دينه إلا لشبهة عرضت له تمنعه البقاء عليه فيستتاب رجاء زوالها والتارك للصلاة مع إقراره بوجوبها عليه لا مانع له فلا يمهل.
قال المستتيبون له: هذا قتل لترك واجب شرعت له الاستتابة فكانت واجبة كقتل الردة قالوا بل الاستتابة هاهنا أول ى لان احتمال رجوعه اقرب لأن التزامه للإسلام يحمله على التوبة مما يخلصه في الدنيا والآخرة وهذا القول هو الصحيح لأن اسوأ أحواله أن يكون كالمرتد وقد اتفق الصحابة على قبول توبة المرتدين ومانعي الزكاة.
وقد قال الله تعالى: {قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ} وهذا يعم المرتد وغيره والفرق بين قتل هذا حدا وقتل الزاني والمحارب أن قتل تارك
এটি ইমাম মালিকের মাযহাবের (مذهب) দুটি মতের একটি। আবু বকর আত-তোরতুশি তাঁর তালীক বা ব্যাখ্যাগ্রন্থে মালিকি মাযহাব (مذهب) সম্পর্কে বলেছেন যে, তাকে (নামাজ পরিত্যাগকারীকে) বলা হবে: যতক্ষণ নামাজের ওয়াক্ত বাকি আছে ততক্ষণ নামাজ পড়ো। সে যদি নামাজ পড়ে তবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে, আর যদি ওয়াক্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত সে বিরত থাকে তবে তাকে হত্যা করা হবে। এখন প্রশ্ন হলো, তাকে তওবা করার সুযোগ (استتابة) দেওয়া হবে কি না? আমাদের একদল আলেম বলেছেন, তাকে তওবা করার সুযোগ (استتابة) দেওয়া হবে; যদি সে তওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, তাকে তওবা করার সুযোগ (استتابة) দেওয়া হবে না। কারণ এটি একটি নির্ধারিত দণ্ড (حد), যা তার ওপর কার্যকর করা হবে। সুতরাং ব্যভিচারী ও চোরের মতো তওবার মাধ্যমে এই দণ্ড রহিত হবে না। এই মতটি তাদের জন্য আবশ্যক যারা একে নির্ধারিত দণ্ড (حد) হিসেবে হত্যার পক্ষপাতী। কেননা, নামাজ ত্যাগের দণ্ড (حد) যদি হত্যা হয়, তবে তা ব্যভিচার বা ডাকাতির কারণে প্রাপ্য মৃত্যুদণ্ডের মতোই হবে। আর ইমামের (إمام) কাছে বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার পর নির্ধারিত দণ্ড (حد) কার্যকর করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায় এবং তওবা দ্বারা তা রহিত হয় না।
আর যারা মনে করেন যে তাকে কুফরির (كفر) কারণে হত্যা করা হবে, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কারণ তারা তাকে ধর্মত্যাগী বা মুরতাদের (مرتد) সমতুল্য গণ্য করেছেন; আর সে যদি ইসলাম গ্রহণ করে তবে তার মৃত্যুদণ্ড রহিত হয়ে যায়। তোরতুশি বলেছেন: আমাদের নিকট পবিত্রতা (طهارة), জানাবত (جنابة) থেকে গোসল (غسل) এবং রোজা বা সিয়ামের (صيام) বিধানও অনুরূপ। যদি কেউ বলে যে সে ওজু করবে না, জানাবত (جنابة) থেকে গোসল (غسل) করবে না এবং রোজা বা সিয়াম (صيام) পালন করবে না, তবে তাকে হত্যা করা হবে এবং তওবার সুযোগ দেওয়া হবে না—সেটি এগুলোকে ফরজ (فرض) স্বীকার করে হোক বা অস্বীকার (جحد) করে হোক। আমি বলব: তোরতুশি তাঁর কিছু সাথীর বরাতে তওবা ছাড়াই হত্যার যে কথা বর্ণনা করেছেন, তা ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)।
মুরতাদের তওবা করানোর (استتابة) ব্যাপারে ইমাম আহমাদ থেকে দুটি বর্ণনা (رواية) এবং ইমাম শাফেয়ির দুটি মত রয়েছে। আর যারা মুরতাদ এবং নামাজ পরিত্যাগকারীর তওবার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে পার্থক্য করেছেন—অর্থাৎ মুরতাদকে তওবার সুযোগ দেওয়া হবে কিন্তু নামাজ পরিত্যাগকারীকে নয়—যেমনটি ইমাম মালিকের একটি বর্ণনা (رواية), তারা বলেন: বাহ্যত একজন মুসলিম কেবল কোনো সংশয়ের (شبهة) কারণেই ধর্ম ত্যাগ করে যা তাকে ধর্মে অটল থাকতে বাধা দেয়, তাই সেই সংশয় দূর হওয়ার আশায় তাকে তওবার সুযোগ (استتابة) দেওয়া হবে। অন্যদিকে, নামাজ পরিত্যাগকারী নামাজের আবশ্যকতা (وجوب) স্বীকার করার পরও তা ত্যাগ করছে, তার ক্ষেত্রে [ফিরে আসার] কোনো অন্তরায় নেই, তাই তাকে সময় দেওয়া হবে না।
যারা তওবা করানোর (استتابة) পক্ষে তারা বলেন: এটি একটি ওয়াজিব (واجب) ত্যাগের কারণে মৃত্যুদণ্ড যার জন্য তওবা করানোর বিধান রাখা হয়েছে, সুতরাং মুরতাদের মৃত্যুদণ্ডের ন্যায় এখানেও তওবা করানো ওয়াজিব (واجب)। বরং তারা বলেন, এখানে তওবা করানো অধিক যুক্তিযুক্ত; কারণ তার ফিরে আসার সম্ভাবনা বেশি। কেননা ইসলামের প্রতি তার দায়বদ্ধতা তাকে এমন তওবায় উদ্বুদ্ধ করবে যা তাকে ইহকাল ও পরকালে মুক্তি দেবে। এই মতটিই সঠিক (صحيح)। কারণ তার নিকৃষ্টতম অবস্থা হতে পারে একজন মুরতাদের মতো হওয়া; অথচ সাহাবায়ে কিরাম (صحابة) মুরতাদ এবং জাকাত প্রদান অস্বীকারকারীদের তওবা কবুল করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "কাফিরদেরকে বলুন, যদি তারা বিরত হয়, তবে তাদের অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" এটি মুরতাদ এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আর একে নির্ধারিত দণ্ড (حد) হিসেবে হত্যা করা এবং ব্যভিচারী ও আক্রমণকারীকে (محارب) হত্যার মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে, [নামাজ] পরিত্যাগকারীকে হত্যা...
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الصلاة إنما هو على إصراره على الترك في المستقبل وعلى الترك في الماضي بخلاف المقتول في الحد فإن سبب قتله على الحد لأنه لم يبق له سبيل إلى تداركها وهذا له سبيل الاستدراك بفعلها بعد خروج وقتها ثم الأئمة الأربعة وغيرهم ومن يقول من أصحاب أحمد لا سبيل له إلى الاستدراك كما هو قول طائفة من السلف يقول القتل ها هنا على ترك فيزول الترك بالفعل فأما الزنا والمحاربة فالقتل فيهما على فعل والفعل الذي مضى لا يزول بالترك.
সালাতের বিষয়টি (হত্যার দণ্ড) মূলত ভবিষ্যতে তা বর্জনের ওপর তার অবিচল থাকা এবং অতীতে তা বর্জন করার কারণে। এটি দণ্ডবিধি বা হদ (حد) হিসেবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির চেয়ে ভিন্ন; কারণ হদ (حد) এর ক্ষেত্রে হত্যার কারণ হলো, তার অপরাধ সংশোধনের আর কোনো পথ অবশিষ্ট থাকে না। পক্ষান্তরে, এক্ষেত্রে (সালাতের বেলায়) ওয়াক্ত অতিবাহিত হওয়ার পরও তা আদায়ের মাধ্যমে প্রতিকারের সুযোগ থাকে। এরপর চার ইমাম ও অন্যান্যগণ এবং ইমাম আহমদের অনুসারীদের মধ্যে যারা বলেন যে, তার প্রতিকারের কোনো পথ নেই—যেমনটি পূর্বসূরি (سلف) উলামাদের একটি দলের অভিমত—তারা বলেন: এখানে মৃত্যুদণ্ড মূলত বর্জনের কারণে, সুতরাং কর্ম (সালাত আদায়) সম্পাদনের মাধ্যমে সেই বর্জন দূরীভূত হয়ে যায়। আর ব্যভিচার ও ডাকাতির ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় কৃতকর্মের কারণে, আর অতীতে সংঘটিত কোনো কর্ম কেবল (পরবর্তীতে তা) বর্জনের মাধ্যমে মিটে যায় না।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
"فصل"
المسألة الثانية: أنه لا يقتل حتى يدعى إلى فعلها فيمتنع فالدعاء إليها لا يستمر ولذلك أذن النبي صلى الله عليه وسلم في الصلاة نافلة خلف الأمراء الذين يؤخرون الصلاة حتى يخرج الوقت ولم يأمر بقتالهم ولم يأذن في قتلهم لأنهم لم يصروا على الترك فإذا دعي فامتنع لا من عذر حتى يخرج الوقت تحقق تركه وإصراره.
পরিচ্ছেদ
দ্বিতীয় মাসআলাহ: তাকে ততক্ষণ পর্যন্ত হত্যা করা হবে না যতক্ষণ না তাকে তা (সালাত) আদায়ের জন্য আহ্বান জানানো হয় এবং সে অস্বীকৃতি জানায়। সুতরাং এর প্রতি আহ্বান অব্যাহত থাকে না; আর এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই সব আমিরদের পেছনে নফল সালাত আদায়ের অনুমতি দিয়েছেন যারা সালাতকে এতোটা বিলম্বিত করতেন যে সময় অতিবাহিত হয়ে যেত। তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেননি এবং তাদের হত্যা করার অনুমতিও দেননি, কারণ তারা সালাত ত্যাগের ওপর অবিচল ছিলেন না। অতএব, যখন তাকে আহ্বান জানানো হয় এবং সে কোনো ওজর ছাড়াই অস্বীকৃতি জানায় এমনকি সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, তখন তার সালাত ত্যাগ এবং ত্যাগের ওপর অনড় থাকা প্রমাণিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
"فصل"
المسألة الثالثة: بماذا يقتل هل بترك صلاة أو صلاتين أو ثلاث صلوات هذا فيه خلاف بين الناس فقال سفيان الثوري ومالك وأحمد في إحدى الروايات يقتل بترك صلاة واحدة وهو ظاهر مذهب الشافعي وأحمد وحجة هذا القول ما تقدم من الاحاديث الدالة على قتل تارك الصلاة.
وقد روى معاذ بن جبل أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "من ترك صلاة مكتوبة متعمدا فقد برئت منه ذمة الله". رواه الإمام أحمد في مسنده.
وعن أبي الدرداء قال أوصاني أبو القاسم أن لا أترك الصلاة متعمدا فمن تركها متعمدا فقد برئت منه الذمة رواه عبد الرحمن ابن أبي حاتم في سننه مجمع الزوائد ووباله ولأنه إذا دعي إلى فعلها في وقتها فقال لا أصلي ولا عذر له فقد ظهر إصراره فتعين إيجاب قتله وإهدار دمه واعتبار التكرار ثلاثا ليس عليه دليل من نص ولا إجماع ولا قول صاحب وليس أولى من اثنتين.
وقال إسحاق بن منصور المعروف بالكوسج من أصحاب أحمد إن كانت الصلاة المتروكة تجمع إلى ما بعدها كالظهر والعصر والمغرب والعشاء لم يقتل حتى يخرج وقت الثانية لأن وقتها وقت
"পরিচ্ছেদ"
তৃতীয় মাসআলা: কীসের ভিত্তিতে তাকে হত্যা করা হবে? একটি, দুইটি নাকি তিনটি নামাজ ত্যাগের কারণে? এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সুফিয়ান সাওরী, মালিক এবং আহমাদের একটি বর্ণনা অনুযায়ী, একটি নামাজ ত্যাগ করলেই তাকে হত্যা করা হবে। ইমাম শাফেয়ী ও আহমাদের মাযহাবের প্রকাশ্য অভিমত এটাই। আর এই মতের দলিল হলো নামাজ ত্যাগকারীকে হত্যা করার স্বপক্ষে পূর্বে বর্ণিত হাদিসসমূহ।
মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ফরজ নামাজ ত্যাগ করল, তার ওপর থেকে আল্লাহর জিম্মাদারি বা নিরাপত্তা উঠে গেল।" ইমাম আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবুল কাসিম (সা.) আমাকে অসিয়ত করেছেন যে, আমি যেন ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ বর্জন না করি। কেননা যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ বর্জন করে, তার ওপর থেকে নিরাপত্তা বা জিম্মাদারি উঠে যায়। এটি আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর এর কারণ হলো, যখন তাকে নামাজের ওয়াক্তের মধ্যে তা আদায় করার জন্য আহ্বান জানানো হয় এবং সে কোনো ওজর ছাড়াই বলে, 'আমি নামাজ পড়ব না', তখন তার একগুঁয়েমি প্রকাশ পায়। ফলে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব হওয়া এবং তার রক্ত বৈধ হওয়া অবধারিত হয়ে পড়ে। আর তিনবার নামাজ ত্যাগের পুনরাবৃত্তির শর্ত করার পেছনে কোনো অকাট্য পাঠ (نص), সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) কিংবা সাহাবীর কোনো উক্তি নেই। এমনকি তিনবারের বিষয়টি দুইবারের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্য নয়।
ইমাম আহমাদের অনুসারীদের মধ্যে ইসহাক ইবনে মানসুর (যিনি আল-কাউসাজ নামে পরিচিত) বলেছেন: যদি বর্জন করা নামাজটি এমন হয় যা তার পরবর্তী নামাজের সাথে একত্রে পড়া যায়—যেমন জোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশা—তবে দ্বিতীয় নামাজের ওয়াক্ত পার না হওয়া পর্যন্ত তাকে হত্যা করা যাবে না। কারণ এর সময় হলো...
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الأولى في حال الجمع فأورث شبهة هاهنا وإن كانت لا تجمع إلى ما بعدها كالفجر والعصر وعشاء الآخرة قتل بتركها وحدها إذ لا شبهة ها هنا في التأخير وهذا القول حكاه إسحاق عن عبد الله بن المبارك أو عن وكيع بن الجراح الشك من اسحاق في تعيينه. قال أبو البركات بن تيمية: والتسوية أصح وإلحاق التارك ها هنا بأهل الأعذار في الوقت لا يصح كما لم يصح إلحاقه بهم في أصل الترك.
قلت: وقول إسحاق اقوى وافقه لأنه قد ثبت أن هذا الوقت للصلاتين في الجملة فأورث ذلك شبهة في إسقاط القتل ولأن النبي صلى الله عليه وسلم منع من قتل الأمراء المؤخرين الصلاة عن وقتها وإنما كانوا يؤخرون الظهر إلى وقت العصر وقد يؤخرون العصر إلى آخر وقتها ولما قيل له ألا نقاتلهم؟ قال: "لا ما صلوا" فدل على أن ما فعلوه صلاة يعصمون بها دماءهم.
"فصل"
وعلى هذا فمتى دعي إلى الصلاة في وقتها فقال لا أصلي وامتنع حتى فاتت وجب قتله وإن لم يتضيق وقت الثانية نص عليه الإمام أحمد.
وقال القاضي محمد بن الحسين أبو يعلى وأصحابه كأبي الخطاب محفوظ بن محمد الكلواذاني وابن عقيل لا يقتل حتى يتضايق وقت التي بعدها قال الشيخ أبو البركات ابن تيمية من دعي إلى صلاة في وقتها فقال لا أصلي وامتنع حتى فاتت وجب قتله وإن لم يتضيق وقت الثانية نص عليه.
قال وإنما اعتبرنا تضايق وقت الثانية في المثال الذي ذكره يعني أبا الخطاب لأن القتل بتركها دون الأولى لأنه لما دعي إليها كانت فائتة والفوائت لا يقتل تاركها ولفظ أبي الخطاب الذي أشار إليه فإن أخر الصلاة حتى خرج وقتها جاحدا لوجوبها كفر ووجب قتله فإن أخرها تهاونا لا جحودا لوجوبها دعي إلى فعلها فإن لم يفعلها حتى تضايق وقت التي بعدها وجب قتله فالتي أخرها تهاونا هي التي أخرها حتى خرج وقتها فدعي إليها بعد خروج وقتها فإذا امتنع من فعلها حتى تضايق وقت الآخرة التي بعدها كان قتله بتأخير الصلاة التي دعي إليها حتى تضايق وقتها.
প্রথম ক্ষেত্রটি হলো নামাজ একত্রে আদায় করার অবস্থার সাথে সম্পর্কিত, যা এখানে একটি সংশয় তৈরি করে। যদিও সেই নামাজগুলো পরবর্তী নামাজের সাথে একত্রে পড়া যায় না, যেমন ফজর, আসর এবং শেষ ইশার নামাজ; এই নামাজগুলো এককভাবে বর্জন করার কারণে তাকে হত্যা করা হবে। কেননা এক্ষেত্রে নামাজ বিলম্বিত করার ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই। এই মতটি ইসহাক বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক অথবা ওকী ইবনুল জাররাহ থেকে; বর্ণনাকারীকে নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে ইসহাকের পক্ষ থেকে সন্দেহ (شك) তৈরি হয়েছে। আবু আল-বারাকাত ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: সবগুলোকে সমান গণ্য করাই অধিক বিশুদ্ধ (أصح), এবং এখানে নামাজ বর্জনকারীকে সময়ের ক্ষেত্রে ওজরগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক নয় (لا يصح); ঠিক যেমন নামাজ ত্যাগের মূল বিধানের ক্ষেত্রে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক নয় (لا يصح)।
আমি বলছি: ইসহাকের বক্তব্যটি অধিক শক্তিশালী এবং ফিকহী দিক থেকে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা এটি সাধারণভাবে প্রমাণিত যে, এই সময়টি উভয় নামাজের জন্য নির্ধারিত, যা হত্যার দণ্ড মওকুফ করার ক্ষেত্রে একটি সংশয় তৈরি করে। তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই সব শাসকদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন যারা নামাজকে তার নির্দিষ্ট সময় থেকে বিলম্বিত করত। তারা জোহরের নামাজ আসরের সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করত এবং কখনো আসরকে তার শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত নিয়ে যেত। যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: "আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না?" তিনি বললেন: "না, যতক্ষণ তারা নামাজ পড়বে।" এটি প্রমাণ করে যে, তারা যা করেছে তা নামাজ হিসেবে গণ্য, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের জীবন রক্ষা করেছে।
"অনুচ্ছেদ"
এর ভিত্তিতে, যখন কাউকে নামাজের ওয়াক্তের মধ্যে নামাজের জন্য ডাকা হয় এবং সে বলে "আমি নামাজ পড়ব না" এবং সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত বিরত থাকে, তবে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব। এমনকি যদি দ্বিতীয় নামাজের সময় সংকীর্ণ নাও হয়, তবুও; ইমাম আহমাদ এর ওপর সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) প্রদান করেছেন।
কাদী মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আবু ইয়ালা এবং আবু আল-খাত্তাব মাহফুজ বিন মুহাম্মদ আল-কালওয়াযানী ও ইবনে আকীলের মতো তাঁর অনুসারীগণ বলেছেন: পরবর্তী নামাজের সময় সংকীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হত্যা করা হবে না। শেখ আবু আল-বারাকাত ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: যাকে নামাজের ওয়াক্তের মধ্যে নামাজের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সে অস্বীকার করে সময় পার করে দিয়েছে, তাকে হত্যা করা ওয়াজিব, যদিও দ্বিতীয় নামাজের সময় সংকীর্ণ না হয়; এটিই ইমামের সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص)।
তিনি বলেন: আবু আল-খাত্তাব যে উদাহরণটি উল্লেখ করেছেন সেখানে আমরা দ্বিতীয় নামাজের সময় সংকীর্ণ হওয়াকে বিবেচনায় নিয়েছি কারণ হত্যা করা হবে দ্বিতীয় নামাজটি বর্জনের কারণে, প্রথমটির জন্য নয়। কেননা তাকে যখন (দ্বিতীয়বার) আহ্বান করা হয়েছিল তখন প্রথম নামাজের ওয়াক্ত চলে গিয়েছিল, আর নামাজ কাজা হওয়ার কারণে কাউকে হত্যা করা হয় না। আবু আল-খাত্তাব যে ভাষ্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন তা হলো: "যদি কেউ নামাজের বাধ্যবাধকতা অস্বীকার করে তা সময় পার হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করে, তবে সে কুফরি করল এবং তাকে হত্যা করা ওয়াজিব। আর যদি সে অলসতাবশত বিলম্ব করে, অস্বীকার করে নয়, তবে তাকে নামাজ আদায়ের জন্য আহ্বান জানানো হবে। সে যদি নামাজ আদায় না করে যতক্ষণ না পরবর্তী নামাজের সময় সংকীর্ণ হয়ে যায়, তবে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব।" সুতরাং যে নামাজটি সে অলসতাবশত বিলম্বিত করেছে সেটিই সে সময় পার হওয়ার পর পর্যন্ত রেখে দিয়েছে এবং সময় পার হওয়ার পর তাকে সেটির জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এমতাবস্থায় যদি সে পরবর্তী নামাজের সময় সংকীর্ণ হওয়া পর্যন্ত তা আদায়ে বিরত থাকে, তবে তাকে হত্যা করা হবে সেই নামাজের বিলম্বের কারণে যার জন্য তাকে আহ্বান জানানো হয়েছিল এবং যার সময় সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
هذا تقرير ما ذكره الشيخ قال وقال بعض أصحابنا يقتل لترك الأول ي ولترك قضاء كل فائتة إذا أمكنه عذر لأن القضاء عندنا على الفور فعلى هذا لا يعتبر تضايق وقت الثانية قال والأول أصح لأن قضاء الفوائت موسع على التراخي ثم الشافعي وجماعة من العلماء والقتل لا يجب في مختلف في إباحته وحظره.
وعن أحمد رواية أخرى أنه إنما يجب قتله إذا ترك ثلاث صلوات وتضايق وقت الرابعة وهذا اختيار الإصطخري من الشافعية ووجه هذا القول أن الموجب للقتل هو الإصرار على ترك الصلاة والإنسان قد يترك الوقوف لكسل أو ضجر أو شغل يزول قريبا ولا يدوم فلا يسمى بذلك تاركا للصلاة فإذا كرر الترك مع الدعاء إلى الفعل علم أنه إصرار. وعن أحمد رواية ثالثة أنه يجب قتله بترك صلاتين ولهذه الرواية مأخذان: "أحدهما" أن الترك الموجب للقتل هو الترك المتكرر لا مطلق الترك حتى يطلق عليه أنه تارك الصلاة وأقل ما يثبت به الترك المتكرر مرتين.
"المأخذ الثاني" أن الصلاة ما تجمع إحداهن إلى الأخرى فلا يتحقق تركها إلا بخروج وقت الثانية فجعل ترك الوقوف موجبا للقتل.
وأبو إسحاق وافق هذه الرواية في المجموعتين.
"فصل"
وحكم ترك الوضوء والغسل من الجنابة واستقبال القبلة وستر العورة حكم تارك الصلاة وكذلك حكم ترك القيام للقادر عليه هو كترك الصلاة وكذلك ترك الركوع والسجود وإن ترك ركنا أو شرطا مختلفا فيه وهو يعتقد وجوبه فقال ابن عقيل حكمه حكم تارك الصلاة ولا بأس أن نقول بوجوب قتله وقال الشيخ أبو البركات ابن تيمية عليه الإعادة ولا يقتل من أجل ذلك بحال فوجه قول ابن عقيل أنه تارك للصلاة ثم نفسه وفي عقيدته فصار كتارك الزكاة طاعة المجمع عليه ووجه قول أبي البركات ابن تيمية أنه لا يباح الدم بترك المختلف في وجوبه وهذا أقرب إلى مأخذ الفقه وقول ابن عقيل أقرب إلى الأصول
এটি শায়খ যা উল্লেখ করেছেন তার একটি প্রতিবেদন; তিনি বলেন যে, আমাদের কোনো কোনো সঙ্গী বলেছেন, প্রথম সালাতটি ত্যাগ করার কারণে এবং প্রত্যেকটি ছুটে যাওয়া সালাত কাজা করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা বর্জন করার কারণে তাকে হত্যা করা হবে, কারণ আমাদের নিকট কাজা অবিলম্বে (على الفور) আদায় করা ওয়াজিব। এই ভিত্তি অনুযায়ী, দ্বিতীয় সালাতের সময় সংকীর্ণ হওয়া গণ্য করা হবে না। তিনি বলেন, প্রথম মতটিই অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح); কারণ ছুটে যাওয়া সালাত আদায়ের সময় প্রশস্ত ও বিলম্বযোগ্য (على التراخي)। ইমাম শাফিঈ ও একদল আলিমের মতে, যে কাজের বৈধতা ও অবৈধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, সে ক্ষেত্রে হত্যা করা ওয়াজিব নয়।
আহমাদ থেকে অন্য একটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে যে, তাকে কেবল তখনই হত্যা করা ওয়াজিব হবে যখন সে তিনটি সালাত ত্যাগ করবে এবং চতুর্থটির সময় সংকীর্ণ হয়ে আসবে। এটি শাফিঈ মাযহাবের আল-ইসতাখরি-এর চয়ন। এই মতের যুক্তি হলো, হত্যার কারণ হলো সালাত ত্যাগের ওপর অটল থাকা; আর মানুষ অলসতা, বিরক্তি বা সাময়িক ব্যস্ততার কারণে সালাত বর্জন করতে পারে যা দীর্ঘস্থায়ী হয় না, তাই তাকে ‘সালাত বর্জনকারী’ বলা যায় না। কিন্তু যখন বারবার বর্জনের সাথে সাথে তাকে সালাত আদায়ের আহ্বান জানানোর পরও সে তা বর্জন করে, তখন প্রমাণিত হয় যে এটি তার একগুঁয়েমি। আহমাদ থেকে তৃতীয় একটি বর্ণনা (رواية) পাওয়া যায় যে, দুটি সালাত ত্যাগের কারণে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব হবে। এই বর্ণনার দুটি ভিত্তি রয়েছে: "প্রথমটি" হলো, যে বর্জন হত্যার কারণ তা হলো বারবার বর্জন করা, কেবল সাধারণ বর্জন নয় যতক্ষণ না তাকে 'সালাত ত্যাগকারী' বলা যায়; আর বারবার বর্জন করার বিষয়টি ন্যূনতম দুবার বর্জনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়।
"দ্বিতীয় ভিত্তি" হলো, সালাত এমন ইবাদত যার একটির সাথে অন্যটি একত্রিত করা যায়, তাই দ্বিতীয়টির সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত বর্জন করা পূর্ণরূপে সাব্যস্ত হয় না। ফলে সালাত বর্জন করাকে হত্যার কারণ সাব্যস্ত করা হয়েছে।
আবু ইসহাক উভয় সমষ্টিতে এই বর্ণনা (رواية)-এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
"পরিচ্ছেদ (فصل)"
অজু, জানাবাত থেকে গোসল, কিবলামুখী হওয়া এবং সতর ঢাকার বিধান সালাত ত্যাগকারীর বিধানের অনুরূপ। তদ্রূপ সক্ষম ব্যক্তির জন্য কিয়াম (দাঁড়ানো) ত্যাগ করার বিধানও সালাত ত্যাগের ন্যায়। একইভাবে রুকু ও সিজদা ত্যাগ করার বিধানও একই। যদি কেউ এমন কোনো স্তম্ভ (ركن) বা শর্ত (شرط) ত্যাগ করে যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, অথচ সে এর আবশ্যকতা (وجوب) বিশ্বাস করে, তবে ইবন আকিল বলেছেন যে, তার বিধান সালাত ত্যাগকারীর বিধানের ন্যায় এবং তাকে হত্যার কথা বলাতে কোনো দোষ নেই। আর শায়খ আবু আল-বারাকাত ইবনে তাইমিয়া বলেছেন, তাকে কেবল পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে এবং এ কারণে কোনো অবস্থাতেই তাকে হত্যা করা যাবে না। ইবন আকিলের মতের যুক্তি হলো, সে তার নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী সালাত ত্যাগকারী, ফলে সে সর্বসম্মত (مجمع عليه) আনুগত্যের বিষয়ে যাকাত ত্যাগকারীর মতো গণ্য হবে। আবু আল-বারাকাত ইবনে তাইমিয়ার মতের যুক্তি হলো, যে বিষয়ের আবশ্যকতা (وجوب) নিয়ে মতভেদ আছে তা ত্যাগের কারণে রক্ত হালাল হয় না। এটি ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গির অধিকতর নিকটবর্তী এবং ইবন আকিলের বক্তব্যটি উসুল বা মূলনীতি (أصول) এর অধিকতর নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
فإن تارك ذلك عازم وجازم على باطلة فهو كما لو ترك مجمعا عليه وللمسألة غور بعيد يتعلق بأصول الإيمان وأنه من أعمال القلوب واعتقادها.
"فصل"
في حكم تارك الجمعة روى مسلم في صحيحه رقم من حديث ابن مسعود أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لقوم يتخلفون عن الجمعة "لقد هممت أن آمر رجلا يصلي بالناس ثم أحرق على رجال يتخلفون عن الجمعة بيوتهم".
وعن أبي هريرة وابن عمر أنهما سمعا رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: على أعواد منبره " لينتهين أقوام عن ودعهم الجمعات أو ليختمن الله على قلوبهم ثم ليكونن من الغافلين". رواه مسلم في صحيحه.
وفي السنن كلها أبو داود من حديث أبي الجعد الضمري وله البغوي أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من ترك ثلاث جمع تهاونا طبع الله على قلبه". رواه الإمام أحمد من حديث جابر.
وأخطأ على الشافعي من نسب إليه القول بأن صلاة الجمعة فرض على الكفاية إذا قام بها قوم سقطت عن الباقين فلم يقل الشافعي هذا قط فإنما غلط عليه من نسب ذلك إليه بسبب قوله في صلاة العيد إنها تجب على من تجب عليه صلاة الجمعة بل هذا نص من الشافعي أن صلاة العيد واجبة على الأعيان.
وهذا هو الصحيح في الدليل فإن صلاة العيد من اعاظم شعائر الإسلام الظاهرة ولم يكن يتخلف عنها أحد من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تركها رسول الله صلى الله عليه وسلم مرة واحدة ولو كانت سنة لتركها ولو مرة واحدة كما ترك قيام رمضان بيانا لعدم وجوبه وترك الوضوء لكل صلاة بيانا لعدم وجوبه وغير ذلك.
وأيضا فإنه سبحانه وتعالى أمر بالعيد كما أمر بالجمعة فقال: {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} سورة الكوثر الآية فأمر النبي صلى الله عليه وسلم الصحابة أن يغدوا إلى مصلاهم لصلاة العيد معه إن فات وقتها وثبت الشهر بعد الزوال أبو داود رقم وأمر النبي صلى الله عليه وسلم العواتق1 وذوات الخدور وذوات الحيض أن يخرجن إلى العبد وتعتزل الحيض المصلي البخاري رقم مسلم رقم ولم يأمر بذلك في الجمعة قال شيخنا ابن تيمية فهذا يدل على ان العيد آكد من الجمعة
--------------------------------------------
কারণ যে ব্যক্তি এটি বর্জন করে, সে বাতিলের ওপর সংকল্পবদ্ধ ও অটল; তাই এটি এমন যেন সে সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত (مجمع عليه) কোনো বিষয়কে বর্জন করল। এই মাসআলাটির গভীরতা অনেক বেশি, যা ঈমানের মূলনীতির (أصول الإيمان) সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এটি অন্তরের আমল ও বিশ্বাসের সাথে যুক্ত।
"পরিচ্ছেদ"
জুমার নামাজ বর্জনকারীর বিধান সম্পর্কে। ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ (صحيح) গ্রন্থে ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই সব লোকদের সম্পর্কে বলেছেন যারা জুমা থেকে পিছিয়ে থাকে: “আমি সংকল্প করেছি যে, কোনো ব্যক্তিকে মানুষকে নামাজ পড়াতে আদেশ দেব, অতঃপর যারা জুমা থেকে পিছিয়ে থাকে তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেব।”
আবু হুরায়রা ও ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর মিম্বরের কাঠের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন: “লোকেরা যেন অবশ্যই জুমার নামাজ ছেড়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকে, নতুবা আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর (يختم) মেরে দেবেন, ফলে তারা উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।” এটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ (صحيح) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
এবং সকল সুনান গ্রন্থে, যেমন আবু দাউদে আবুল জাদ আদ-দুমারী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে—ইমাম বাগাবীও এটি বর্ণনা করেছেন—যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি অলসতাবশত তিনটি জুমা ত্যাগ করবে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর (طبع) মেরে দেবেন।” ইমাম আহমাদ এটি জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন।
যারা ইমাম শাফেয়ীর প্রতি এই কথাটি নেসবত করে যে, জুমার নামাজ ফরজে কিফায়া (فرض على الكفاية)—অর্থাৎ যদি কোনো এক দল তা আদায় করে তবে বাকিদের পক্ষ থেকে তা বাতিল হয়ে যাবে—তারা ভুল করেছে। শাফেয়ী কখনো এ কথা বলেননি। মূলত ভুলটি তারাই করেছে যারা তাঁর দিকে এটি নেসবত করেছে, কারণ ঈদের নামাজ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য ছিল যে, ঈদের নামাজ তাদের ওপর ওয়াজিব (تجب) যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব। বরং এটি শাফেয়ীর পক্ষ থেকে একটি সুষ্পষ্ট বক্তব্য (نص) যে, ঈদের নামাজ প্রত্যেকের ওপর ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (واجبة على الأعيان)।
এবং দলিলের দিক থেকে এটিই সঠিক (الصحيح)। কেননা ঈদের নামাজ ইসলামের মহান প্রকাশ্য নিদর্শনগুলোর (شعائر) অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের কেউ এটি থেকে পিছিয়ে থাকতেন না এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেও একবারও এটি বর্জন করেননি। যদি এটি সুন্নত (سنة) হতো, তবে তিনি অন্তত একবার হলেও তা বর্জন করতেন, যেমনটি তিনি রমজানের কিয়াম (قيام رمضان) বর্জন করেছিলেন এটি আবশ্যক (وجوب) নয় তা বুঝানোর জন্য, এবং প্রতি নামাজের জন্য নতুন করে অজু বর্জন করেছিলেন তা ওয়াজিব (وجوب) নয় তা বুঝানোর জন্য, ইত্যাদি।
তাছাড়া মহান আল্লাহ ঈদের নির্দেশ দিয়েছেন যেমন তিনি জুমার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন: {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন} সূরা আল-কাউসার। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা ঈদের নামাজের জন্য তাঁর সাথে ইদগাহে গমন করেন, যদি নামাজের সময় পার হয়ে যাওয়ার পর এবং সূর্য ঢলে যাওয়ার পর মাস শুরু হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয় (সুনানে আবু দাউদ)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবিবাহিত তরুণী (العواتق), পর্দানশীন নারী এবং ঋতুবতী নারীদের ঈদের জামাতে বের হতে নির্দেশ দিয়েছেন, তবে ঋতুবতীরা নামাজের স্থান থেকে দূরে থাকবে (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)। কিন্তু তিনি জুমার ক্ষেত্রে এমন নির্দেশ দেননি। আমাদের শায়খ ইবনে তাইমিয়াহ বলেছেন: এটি প্রমাণ করে যে, ঈদের গুরুত্ব জুমার চেয়েও বেশি তাকিদপূর্ণ (آكد)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وقوله صلى الله عليه وسلم: "خمس صلوات كتبهن الله على العبد في اليوم والليلة". لا ينفي صلاة العيد فإن الصلوات الخمس وظيفة اليوم والليلة وأما العيد فوظيفة العام ولذلك لم يمنع ذلك من وجوب ركعتي الطواف ثم كثير من الفقهاء لأنها ليست من وظائف اليوم والليلة المتكررة ولم يمنع وجوب صلاة الجنازة ولم يمنع من وجوب سجود التلاوة ثم من أوجبه وجعله صلاة ولم يمنع من وجوب صلاة الكسوف ثم من أوجبها من السلف وهو قول قوي جدا.
والمقصود أن الشافعي رحمه الله نص على أن من وجبت عليه الجمعة وجب عليه العيد ولكن قد يقال إن هذا لا يستفاد منه وجوبه على الأعيان فإن فرض الكفاية يجب على الجميع لبعض بفعل البعض وفائدة ذلك تظهر في مسألتين إحداهما أنه لو اشترك الجميع في فعله أثيبوا ثواب من أدى الواجب لتعلق الوجوب الثانية لو اشتركوا في تركه استحق الجميع الذم والعقاب فلا يلزم من قوله تجب صلاة العيد على من تجب عليه صلاة الجمعة أن تكون واجبة على الأعيان كالجمعة فهذا يمكن أن يقال ولكن ظاهر تشيبه العيد بالجمعة والتسوية بين من تجب عليه الجمعة ومن يجب عليه العيد يدل على استوائهما في الوجوب ولا يختلف قوم أن الجمعة واجبة على الأعيان فكذا العيد.
والمقصود بيان حكم تارك الجمعة قال أبو عبد الله ابن حامد ومن جحد وجوب الجمعة كفر فإن صلاها أربعا مع اعتقاد وجوبها قال فإن قلنا هي ظهر مقصورة لم يكفر وإلا كفر حكم تارك الصوم والحج والزكاة وهل يلحق تارك الصوم والحج والزكاه بتارك الصلاة في وجوب قتله فيه ثلاث روايات عن الإمام أحمد:
إحداها: يقتل بترك ذلك كله كما يقتل بترك الصلاة وحجة هذه الرواية أن الزكاة والصيام والحج من مباني الإسلام فيقتل بتركها جميعا كالصلاة ولهذا قاتل الصديق مانعي الزكاة وقال: "والله لأقاتلن من فرق بين الصلاة والزكاة إنها لقرينتها في كتاب الله".
وأيضا فإن هذه المباني من حقوق الإسلام والنبي صلى الله عليه وسلم لم يأمر برفع القتال إلا عمن التزم كلمة الشهادة وحقها وأخبر أن عصمة الدم لا تثبت إلا بحق
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "পাঁচটি সালাত আল্লাহ দিনে ও রাতে বান্দার ওপর নির্ধারণ করেছেন।" এটি ঈদের সালাতকে নাকচ করে না, কেননা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত হলো দিন ও রাতের নিয়মিত ইবাদত, আর ঈদ হলো বছরের ইবাদত। এই কারণেই এটি তাওয়াফের দুই রাকাতের আবশ্যকতাকে (وجوب) অনেক ফকিহদের নিকট বাধাগ্রস্ত করেনি, যেহেতু তা দিন ও রাতের পুনরাবৃত্তিমূলক ইবাদত নয়। এটি জানাজার সালাতের আবশ্যকতাকেও (وجوب) বাধা দেয়নি, কিংবা তিলাওয়াতের সিজদাহর আবশ্যকতাকেও (وجوب) বাধা দেয়নি তাদের নিকট যারা একে আবশ্যক (أوجبه) মনে করেন এবং একে সালাত হিসেবে গণ্য করেন। তদ্রূপ এটি কুসূফ বা সূর্যগ্রহণের সালাতের আবশ্যকতাকেও (وجوب) বাধাগ্রস্ত করেনি তাদের নিকট যারা পূর্বসূরীদের (سلف) মধ্য থেকে একে আবশ্যক (أوجبها) বলেছেন, আর এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মত।
মূল উদ্দেশ্য হলো, ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যার ওপর জুমার সালাত আবশ্যক (وجبت), তার ওপর ঈদের সালাতও আবশ্যক (وجب)। তবে এ কথা বলা যেতে পারে যে, এর দ্বারা ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যকতা (وجوبه على الأعيان) প্রমাণিত হয় না। কেননা সামষ্টিক আবশ্যকতা বা ফরজে কিফায়া (فرض الكفاية) বলতে সকলের ওপরই দায়বদ্ধতা বোঝায়, যা কিছু সংখ্যক লোকের পালনের মাধ্যমে অন্যদের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়। এর উপকারিতা দুটি বিষয়ে ফুটে ওঠে: প্রথমত, যদি সবাই মিলে তা সম্পাদন করে, তবে আবশ্যকতা সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে সকলেই ওয়াজিব (الواجب) আদায়কারীর সওয়াব লাভ করবে। দ্বিতীয়ত, যদি সবাই তা বর্জন করে, তবে সকলেই নিন্দা ও শাস্তির উপযুক্ত হবে। সুতরাং, "যার ওপর জুমা আবশ্যক তার ওপর ঈদের সালাতও আবশ্যক" — এই উক্তি থেকে এটি জরুরি নয় যে জুমার মতো ঈদের সালাতও ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (واجبة على الأعيান) হতে হবে। এটি বলা সম্ভব হতে পারে, কিন্তু ঈদের সালাতকে জুমার সাথে তুলনা করা এবং যার ওপর জুমা আবশ্যক তার ওপর ঈদের সালাতকেও সমভাবে আবশ্যক করা নির্দেশ করে যে, উভয়টিই আবশ্যকতার (الوجوب) ক্ষেত্রে সমান। আর কোনো আলেম দ্বিমত পোষণ করেন না যে জুমার সালাত ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক (واجبة على الأعيান), সুতরাং ঈদের সালাতও তদ্রূপ।
এখানে উদ্দেশ্য হলো জুমা পরিত্যাগকারীর বিধান বর্ণনা করা। আবু আবদুল্লাহ ইবনে হামিদ বলেন, যে ব্যক্তি জুমার আবশ্যকতাকে (وجوب) অস্বীকার করবে সে কাফির হয়ে যাবে। আর যদি সে জুমার আবশ্যকতা বিশ্বাস করা সত্ত্বেও তা চার রাকাত পড়ে, তবে তিনি বলেন: যদি আমরা একে সংক্ষিপ্ত যোহর বলি তবে সে কাফির হবে না, অন্যথায় কাফির হবে। রোজা, হজ ও জাকাত পরিত্যাগকারীর বিধান: রোজা, হজ ও জাকাত পরিত্যাগকারীকে কি সালাত পরিত্যাগকারীর মতো মৃত্যুদণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হবে? এ বিষয়ে ইমাম আহমদ থেকে তিনটি বর্ণনা (روايات) রয়েছে:
প্রথমটি: সালাত পরিত্যাগকারীর মতো এসব কিছু পরিত্যাগকারীকেও হত্যা করা হবে। এই বর্ণনার (الرواية) দলিল হলো জাকাত, রোজা ও হজ ইসলামের ভিত্তিগুলোর (مباني الإسلام) অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং সালাতের মতোই এগুলো বর্জনের কারণে তাকে হত্যা করা হবে। এই কারণেই সিদ্দীক (রা.) জাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব যে সালাত ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে, কেননা জাকাত হলো আল্লাহর কিতাবে সালাতের পরিপূরক।"
এছাড়াও এই ভিত্তিগুলো ইসলামের হকের অন্তর্ভুক্ত। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শাহাদাহ বাণী (كلمة الشهادة) এবং তার হক গ্রহণকারী ব্যতীত অন্য কারো থেকে যুদ্ধ স্থগিত করার নির্দেশ দেননি। তিনি জানিয়েছেন যে, জীবনের নিরাপত্তা কেবল তার হক আদায়ের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الإسلام فهذا قتال للفئة الممتنعة والقتل للواحد المقدوم عيله إنما هو لتركه حقوق الكلمة وشرائع الإسلام وهذا أصح الأقوال.
والرواية الثانية: لا يقتل الصلاة بترك غير الصلاة، لأن الصلاة عبادة بدنية لا تدخلها النيابة بحال، والحج والصوم والزكاة تدخلها النيابة.
ولقول عبد الله بن شقيق كان أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم شيئا من الأعمال تركه كفر إلا الصلاة الترمذي رقم ولأن الصلاة قد اختصت من سائر الأعمال بخصائص ليست لغيرها فهي أول ما فرض الله من الإسلام ولهذا امر النبي صلى الله عليه وسلم نوابه ورسله ان يبدؤوا بالدعوة إليها بعد الشهادتين.
فقال لمعاذ: "ستأتي قوما أهل كتاب فليكن أول ما تدعوهم إليه شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وأن الله فرض عليهم خمس صلوات في اليوم والليلة". ولأنها أول ما يحاسب عليها العبد من عمله ولأن الله فرضها في السماء ليلة المعراج ولأنها أكثر الفروض ذكرا في القرآن ولأن أهل النار لما يسألون {مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ} سورة المدثر الآية لم يبدؤوا ترك الصلاة ولأن فرضها لا يسقط عن العبد بحال دون حال ما دام عقله معه بخلاف سائر الفروض فإنها تجب في حال دون حال ولأنها عمود فسطاط الإسلام وإذا سقط الفسطاط وقع الفسطاط ولأنها آخر ما يفقد من الدين ولأنها فرض على الحر والعبد والذكر والأنثى والحاضر والمسافر والصحيح والمريض والغني والفقير ولم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم يقبل من إجابة إلى الإسلام إلا بالتزام الصلاة كما قال قتادة عن يروي لم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم يقبل من اجابه إلى الإسلام إلا بإقام الصلاة وإيتاء الزكاة ولأن قبول سائر الأعمال موقوف على فعلها فلا يقبل الله من تاركها صوما ولا حجا ولا صدقة ولا جهادا ولا شيئا من الأعمال كما قال عون بن عبد الله إن العبد إذا دخل قبره سئل عن صلاته أول شيء يسأل عنه فإن جازت له نظر فيما سوى ذلك من عمله وإن لم تجز له لم ينظر في شيء من عمله بعد ويدل على هذا الحديث الذي في المسند والسنن من رواية أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم: "أول ما يحاسب به العبد من عمله يحاسب بصلاته فإن صلحت فقد
ইসলাম, এটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর (الفئة الممتنعة) বিরুদ্ধে লড়াই এবং একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে যাকে কাবু করা সম্ভব হয়েছে, তাকে হত্যা করা হয় শুধুমাত্র কালিমার হকসমূহ এবং ইসলামের বিধানসমূহ পরিত্যাগ করার কারণে; আর এটিই হলো সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) অভিমত।
দ্বিতীয় বর্ণনা (الرواية): সালাত ছাড়া অন্য কিছু পরিত্যাগ করার কারণে হত্যা করা হবে না, কেননা সালাত হলো একটি শারীরিক ইবাদত (عبادة بدنية) যাতে কোনো অবস্থাতেই একজনের পক্ষ থেকে অন্যের প্রতিনিধিত্ব বা স্থলাভিষিক্ত হওয়া (النيابة) সম্ভব নয়; পক্ষান্তরে হজ, সিয়াম এবং জাকাতের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব (النيابة) প্রবেশ করতে পারে।
আর আবদুল্লাহ বিন শাকিকের উক্তি অনুযায়ী, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ সালাত ব্যতীত অন্য কোনো আমল পরিত্যাগ করাকে কুফর (كفر) মনে করতেন না (তিরমিজি নং...)। তাছাড়া সালাত অন্যান্য আমলের তুলনায় এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যা অন্যের নেই; এটিই ইসলামের সেই প্রথম বিধান যা আল্লাহ ফরজ করেছেন। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিনিধি ও দূতদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তারা শাহাদাতাইনের পর এর মাধ্যমেই দাওয়াত শুরু করেন।
তিনি মুয়াজ (রা.)-কে বলেছিলেন: "তুমি শীঘ্রই আহলে কিতাবদের একটি কওমের কাছে যাবে, সুতরাং তাদের প্রতি তোমার প্রথম দাওয়াত যেন হয় এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; আর আল্লাহ তাদের ওপর দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন।" এবং যেহেতু বান্দার আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম সালাতেরই হিসাব নেওয়া হবে, এবং আল্লাহ তা আসমানে মেরাজের রাতে ফরজ করেছেন, এবং কুরআনে অন্যান্য ফরজের তুলনায় এটিই সর্বাধিক উল্লিখিত হয়েছে। আর জাহান্নামবাসীদের যখন জিজ্ঞাসা করা হবে {তোমাদের কিসে সাকার-এ (জাহান্নামে) নিক্ষেপ করল?} (সূরা আল-মুদ্দাসসিরের আয়াত), তারা প্রথমেই বলবে সালাত ত্যাগ করার কথা। এবং যেহেতু সালাতের ফরজ হওয়া বান্দার ওপর থেকে কোনো অবস্থাতেই রহিত হয় না যতক্ষণ তার বুদ্ধি বা জ্ঞান অটুট থাকে, যা অন্যান্য ফরজের বিপরীত, কারণ সেগুলো বিশেষ অবস্থায় ওয়াজিব হয় আবার অন্য অবস্থায় হয় না। আর যেহেতু এটি ইসলামের তাবু বা শামিয়ানার খুঁটি (عمود فسطاط الإسلام), আর যখন খুঁটি পড়ে যায় তখন শামিয়ানাও পড়ে যায়। এটি দ্বীনের সেই শেষ অংশ যা বিলুপ্ত হবে। আর এটি স্বাধীন, ক্রীতদাস, পুরুষ, নারী, মুকিম, মুসাফির, সুস্থ, অসুস্থ, ধনী ও দরিদ্র সবার ওপর ফরজ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত পালনের অঙ্গীকার ব্যতিরেকে ইসলাম গ্রহণ কবুল করতেন না; যেমন কাতাদাহ (রহ.) থেকে বর্ণিত (يروي) হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত কায়েম এবং জাকাত প্রদান ছাড়া কারো ইসলাম গ্রহণ কবুল করতেন না। তাছাড়া অন্যান্য আমল কবুল হওয়া সালাত আদায়ের ওপর স্থগিত (موقوف)। সুতরাং সালাত ত্যাগকারীর সিয়াম, হজ, সদকা, জিহাদ বা অন্য কোনো আমল আল্লাহ কবুল করবেন না। যেমন আউন বিন আবদুল্লাহ বলেছিলেন: বান্দা যখন কবরে প্রবেশ করবে তখন সর্বপ্রথম তাকে সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে; যদি তা উত্তীর্ণ (جازت) হয় তবে তার অন্যান্য আমল দেখা হবে, আর যদি তা উত্তীর্ণ না হয় (لم تجز) তবে তার পরবর্তী কোনো আমলের দিকেই আর দৃষ্টি দেওয়া হবে না। আর এর প্রমাণ বহন করে মুসনাদ এবং সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত আবু হুরায়রা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত (رواية) সেই হাদিস যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত: "বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম যেটির হিসাব নেওয়া হবে তা হলো সালাত; যদি তা সঠিক (صلحت) হয় তবে..."
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
أفلح وأنجح وأن فسدت فقط فقد خاب وخسر". ولو قبل منه شيء من أعمال البر لم يكن من الخائبين الخاسرين.
الرواية الثالثة: يقتل بترك الزكاة والصيام ولا يقتل بترك الحج لأنه مختلف فيه هل هو على الفور أو على التراخي فمن قال هو على التراخي قال كيف يقتل بأمر موسع له في تأخيره.
وهذا المأخذ ضعيف جدا لأن من يقتله بتركه لا يقتله بمجرد التأخير وإنما صورة المسألة أن يعزم على ترك الحج ويقول هو واجب علي ولا أحج أبدا فهذا موضوع النزاع والصواب القول بقتله لأن الحج من حقوق الإسلام والعصمة تثبت لمن تكلم بالإسلام إلا بحقه والحج أعظم حقوقه.
"فصل"
وأما المسألة الثالثة: وهو انه هل يقتل حدا كما يقتل المحارب والزاني أم يقتل كما يقتل المرتد والزنديق هذا فيه قولان للعلماء وهما روايتان عن الإمام أحمد.
إحداهما: يقتل كما يقتل المرتد وهذا قول سعيد بن جبير وعامر الشعبي وإبراهيم النخعي وأبي عمرو الأوزاعي وأيوب السختياني وعبد الله بن المبارك وإسحاق بن راهويه وعبد الملك بن حبيب من المالكية وأحد الوجهين في مذهب الشافعي وحكاه الطحاوي عن الشافعي نفسه وحكاه أبو محمد ابن حزم عن عمر بن الخطاب ومعاذ بن جبل وعبد الرحمن بن عوف وأبي هريرة وغيرهم من الصحابة.
والثانية: يقتل حدا لا كفرا وهو قول مالك والشافعي واختار أبو عبد الله ابن بطة هذه الرواية ونحن نذكر حجج صليت أدلة الذين لا يكفرون تارك الصلاة قال الذين لا يكفرونه بتركها قد ثبت له حكم الإسلام بالدخول فيه فلا نخرجه عنه إلا بيقين.
قالوا وقد روى عبادة بن الصامت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "من شهد أن لا إله إلا الله وحده لاشريك له وأن محمدا عبده ورسوله وأن عيسى عبد الله ورسوله وكلمته ألقاها إلى مريم وروح منه والجنة حق والنار حق أدخله الله الجنة على ما كان من العمل". أخرجاه في الصحيحين.
সে সফল ও কামিয়াব হলো, আর যদি তা নষ্ট হয় তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। যদি তার নেক আমল থেকে কিছু গ্রহণ করা হতো, তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হতো না।
তৃতীয় বর্ণনা: জাকাত ও রোজা ত্যাগের কারণে তাকে হত্যা করা হবে, তবে হজ ত্যাগের কারণে তাকে হত্যা করা হবে না। কারণ হজ আদায় কি তাৎক্ষণিক (على الفور) ওয়াজিব নাকি বিলম্বযোগ্য (على التراخي) — এ বিষয়ে মতভেদ (مختلف فيه) রয়েছে। যারা বলেন এটি বিলম্বযোগ্য, তারা বলেন যে কাজে বিলম্ব করার অবকাশ রয়েছে, সেই কাজের জন্য তাকে কীভাবে হত্যা করা হবে?
আর এই যুক্তিটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا); কারণ যারা হজ ত্যাগের কারণে তাকে হত্যা করার কথা বলেন, তারা কেবল বিলম্ব করার কারণে তা বলেন না। বরং মাসআলার সুরত হলো— সে হজ ত্যাগের সংকল্প করে এবং বলে যে, এটি আমার ওপর ফরজ হওয়া সত্ত্বেও আমি কখনোই হজ করব না। এটিই বিতর্কের বিষয়। আর সঠিক (الصواب) মত হলো তাকে হত্যা করা; কারণ হজ ইসলামের অন্যতম হক (অধিকার)। আর যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে তার জান-মালের নিরাপত্তা সাব্যস্ত হয় ইসলামের হকের বিষয়টি ছাড়া, আর হজ হলো ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হক।
"পরিচ্ছেদ"
তৃতীয় মাসআলা: তাকে কি হদ (حدا) হিসেবে হত্যা করা হবে—যেভাবে আক্রমণকারী ও ব্যভিচারীকে হত্যা করা হয়, নাকি তাকে মুরতাদ (مرتد) ও যিনদিক (زنديق)-এর মতো হত্যা করা হবে? এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের দুটি বক্তব্য রয়েছে, যা ইমাম আহমাদের দুটি বর্ণনা (رواية)।
প্রথমটি হলো: তাকে মুরতাদ (مرتد)-এর মতো হত্যা করা হবে। এটি সাঈদ ইবনে জুবায়ের, আমির আশ-শাবি, ইবরাহিম আন-নাখায়ি, আবু আমর আল-আওযায়ি, আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ এবং মালিকি মাযহাবের আবদুল মালিক ইবনে হাবিবের অভিমত। শাফেয়ি মাযহাবের দুটি মতের মধ্যে এটি একটি। ইমাম তহাবি স্বয়ং ইমাম শাফেয়ি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম এটি উমর ইবনুল খাত্তাব, মুয়াজ ইবনে জাবাল, আবদুর রহমান ইবনে আউফ, আবু হুরায়রা এবং অন্যান্য সাহাবী (صحابة) থেকে বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয়টি হলো: তাকে হদ (حدا) হিসেবে হত্যা করা হবে, কুফর (كفرا) হিসেবে নয়। এটি ইমাম মালিক ও শাফেয়ির মত। আবু আবদুল্লাহ ইবনে বাত্তাহ এই বর্ণনাটি (رواية) পছন্দ করেছেন। যারা সালাত ত্যাগকারীকে কাফির বলেন না, আমরা তাদের জোরালো দলিলসমূহ উল্লেখ করছি। যারা সালাত ত্যাগের কারণে তাকে কাফির বলেন না, তারা বলেন: ইসলামে প্রবেশের মাধ্যমে তার জন্য ইসলামের বিধান সাব্যস্ত হয়েছে, সুতরাং নিশ্চিত প্রমাণ (يقين) ছাড়া আমরা তাকে ইসলাম থেকে বের করব না।
তারা বলেন, উবাদাহ ইবনে সামিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আর ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর কালিমা—যা তিনি মারইয়ামের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ; আর জান্নাত সত্য ও জাহান্নাম সত্য—আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমল যাই হোক না কেন।" তাঁরা উভয়ই এটি সহিহাইন-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
وعن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال ومعاذ رديفة على الرحل: "يا معاذ" قال: لبيك يا رسول الله وسعديك ثلاثا قال: "ما من عبد يشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله إلا حرمه الله على النار" قال: يا رسول الله أفلا أخبر بها الناس فيستبشروا قال: "إذا يتكلوا" فأخبر بها معاذ ثم موته تأثما متفق على صحته.
وعن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "أسعد الناس بشفاعتي من قال لاإله إلا الله خالصا من قلبه". رواه البخاري.
وعن أبي ذر أن النبي صلى الله عليه وسلم قام بآية من القرآن يرددها حتى صلاة الغداة وقال: "دعوت لامتي وأجبت بالذي لو يتحقق عليه كثير منهم تركوا الصلاة" فقال أبو ذر أفلا أبشر الناس قال: "بلى" فانطلق فقال عمر: إنك إن تبعث إلى الناس بهذا ينكلوا1 عن العبادة فناداه أن ارجع فرجع والآية: {إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} رواه الإمام أحمد في مسنده.
وفي المسند أيضا من حديث عائشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الدواوين عند الله ثلاثة ديوان لا يعبأ الله به شيئا وديوان لا يترك الله منه شيئا وديوان لا يغفره الله فأما الديوان الذي لا يغفره الله فالشرك بالله قال الله عز وجل: {إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ} وأما الديوان الذي لا يعبأ الله به شيئا فظلم العبد نفسه فيما بينه وبين ربه من صوم تركه أو صلاة تركها فإن الله عز وجل: يغفر ذلك ويتجاوز عنه إن شاء وأما الديوان الذي لا يترك الله منه شيئا فظلم العباد بعضهم بعضا القصاص لا محالة".
وفي المسند أيضا وعن عبادة بن الصامت قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "خمس صلوات كتبهن الله على العباد من أتى بهن كان له ثم الله عهد أن يدخله الجنة ومن لم يأت بهن فليس له ثم الله عهد إن شاء عذبه وإن شاء غفر له". وفي المسند أيضا من حديث أبي هريرة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أول ما يحاسب به العبد يوم القيامة الصلاة المكتوبة فإن أتمها وإلا قيل انظروا هل له من تطوع فإن كان له تطوع أكملت الفريضة من تطوعه ثم يفعل بسائر الأعمال المفروضة مثل ذلك". رواه أهل السنن.
--------------------------------------------
আনাস (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন—এমতাবস্থায় যে মুয়ায (রা.) তাঁর সওয়ারির পিছনে উপবিষ্ট ছিলেন: "হে মুয়ায!" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার খেদমতে হাজির ও ধন্য (তিনবার)। তিনি বললেন: "যে কোনো বান্দা যখন সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেন।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি মানুষকে এ সংবাদ দেব না যাতে তারা সুসংবাদ পেতে পারে? তিনি বললেন: "তাহলে তারা কেবল এর ওপরই নির্ভর করে বসে থাকবে।" অতঃপর মুয়ায (রা.) তাঁর মৃত্যুর সময় গুনাহগার হওয়ার ভয়ে এটি প্রকাশ করে দেন। এর বিশুদ্ধতার (صحته) ব্যাপারে ঐকমত্য (متفق) পোষণ করা হয়েছে।
আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "আমার শাফায়াতের মাধ্যমে সর্বাধিক সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি হবে, যে ব্যক্তি নিজ অন্তর থেকে নিষ্ঠার সাথে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।
আবু যার (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী (সা.) কুরআনের একটি আয়াত নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং ফজরের সালাত পর্যন্ত সেটি বারবার পাঠ করতে থাকলেন। তিনি বললেন: "আমি আমার উম্মতের জন্য প্রার্থনা করেছি এবং আমাকে এমন এক উত্তর দেওয়া হয়েছে যা তাদের অনেকে যদি জানতে পারত তবে তারা সালাত ছেড়ে দিত।" তখন আবু যার (রা.) বললেন: আমি কি মানুষকে এ সুসংবাদ দেব না? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" অতঃপর তিনি রওয়ানা হলেন, কিন্তু ওমর (রা.) বললেন: আপনি যদি এই সংবাদ নিয়ে মানুষের কাছে যান, তবে তারা ইবাদত থেকে বিরত থাকবে। তখন তিনি তাঁকে ডেকে ফিরিয়ে আনলেন। আয়াতটি হলো: "যদি আপনি তাদের শাস্তি দেন, তবে তারা আপনারই বান্দা; আর যদি আপনি তাদের ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
মুসনাদ গ্রন্থে আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসেও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আল্লাহর নিকট আমলনামা তিন প্রকার। এক প্রকার আমলনামা এমন যেটিকে আল্লাহ ভ্রুক্ষেপ করবেন না, এক প্রকার আমলনামা যার কিছুই আল্লাহ ছাড়বেন না এবং অন্যটি হলো এমন আমলনামা যা আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। যে আমলনামা আল্লাহ ক্ষমা করবেন না, তা হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: 'নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সাথে শরিক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন।' আর যে আমলনামা আল্লাহ কোনো ভ্রুক্ষেপ করবেন না, তা হলো বান্দার নিজের প্রতি জুলুম যা তার এবং তার রবের মাঝে সীমাবদ্ধ, যেমন রোজা ত্যাগ করা বা নামাজ ত্যাগ করা; কেননা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা চাইলে তা ক্ষমা করবেন এবং তা মার্জনা করবেন। আর যে আমলনামা থেকে আল্লাহ কিছুই ছাড়বেন না, তা হলো বান্দাদের একে অপরের প্রতি জুলুম; যেখানে কিসাস (القصاص) তথা প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবেই।"
মুসনাদ গ্রন্থে উবাদাহ বিন সামিত (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আল্লাহ বান্দাদের ওপর ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি এগুলো পূর্ণভাবে আদায় করবে, আল্লাহর কাছে তার জন্য প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর যে এগুলো আদায় করবে না, আল্লাহর কাছে তার জন্য কোনো প্রতিশ্রুতি নেই; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন এবং চাইলে ক্ষমা করবেন।" মুসনাদ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসেও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন বান্দার নিকট থেকে সর্বপ্রথম যে হিসাব নেওয়া হবে তা হলো ফরজ (مكتوبة) নামাজ। যদি তা পূর্ণাঙ্গ হয় তবে তো হলোই, অন্যথায় বলা হবে— দেখো তার কোনো নফল (تطوع) ইবাদত আছে কি না। যদি তার নফল (تطوع) ইবাদত থাকে, তবে তার মাধ্যমে ফরজ (مكتوبة) নামাজের ঘাটতি পূরণ করা হবে। এরপর অন্যান্য ফরজ (المفروضة) আমলের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করা হবে।" সুনান গ্রন্থকারগণ এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وقال الترمذي هذا حديث حسن قالوا وقد ثبت عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: "من كان آخر كلامه لا إله إلا الله دخل الجنة". وفي لفظ آخر: "من مات وهو يعلم أن لا إله إلا الله دخل الجنة".
وفي صحيح قصة عتبان بن مالك وفيها: "إن الله قد حرم على النار من قال لا إله إلا الله يبتغي بذلك وجه الله".
وفي حديث الشفاعة يقول الله عز وجل: "وعزتي وجلالي لأخرجن من النار من قال لا إله إلا الله". وفيه مجمع الزوائد: "فيخرج من النار من لم يعمل خيرا قط"، وفي السنن والمسانيد قصة صاحب البطاقة الذي ينشر له تسعة وتسعون سجلا كل سجل منها مد البصر ثم تخرج له بطاقة فيها شهادة أن لا إله إلا الله فترجح سيئاته ولم يذكر في الشهادة ولو كان فيها غيرها لقال ثم تخرج له صحائف حسناته فترجح سيئاته ويكفينا في هذا قوله فيخرج من النار من لم يعمل خيرا قط ولو كان كافرا لكان مخلدا في النار غير خارج منها.
فهذه الأحاديث وغيرها تمنع من التكفير والتخليد وتوجب من الرجاء له ما يرجى لسائر أهل الكبائر قالوا ولأن الكفر جحود التوحيد وإنكار الرسالة والمعاد وجحد ما جاء به الرسول وهذا يقر بالوحدانية شاهدا أن محمدا رسول الله مؤمنا بأن الله يبعث من في القبور فكيف يحكم بكفره والإيمان هو التصديق وضده التكذيب لا ترك العمل فكيف يحكم للمصدق بحكم المكذب الجاحد.
قال المكفرون: الذين رويت عنهم هذه الأحاديث التي استدللتم بها على عدم تكفير تارك الصلاة هم الذين حفظ عنهم الصحابة تكفير تارك الصلاة بأعيانهم قال أبو محمد ابن حزم:
وقد جاء عن عمر وعبد الرحمن بن عوف ومعاذ بن جبل وأبي هريرة وغيرهم من الصحابة رضي الله عنهم أن من ترك صلاة فرض واحدة متعمدا حتى يخرج وقتها فهو كافر مرتد قالوا ولا نعلم لهؤلاء مخالفا من الصحابة وقد دل على كفر تارك الصلاة الكتاب والسنة وإجماع الصحابة فصل في الاستدلال بالكتاب أما الكتاب فالدليل الأول قال الله تعالى: {أَفَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِينَ كَالْمُجْرِمِينَ مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ أَمْ لَكُمْ كِتَابٌ فِيهِ تَدْرُسُونَ
তিরমিজি বলেছেন, এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস। তারা বলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যার শেষ কথা হবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি এই জ্ঞান রেখে মৃত্যুবরণ করবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
এবং সহিহ গ্রন্থে ইতবান ইবনে মালিকের ঘটনা রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছে।"
শাফাআতের হাদিসে মহান আল্লাহ বলবেন: "আমার মর্যাদা ও প্রতাপের কসম! আমি অবশ্যই জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তিকে বের করব, যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছে।" এবং মাজমাউজ যাওয়াইদ-এ রয়েছে: "অতঃপর জাহান্নাম থেকে এমন ব্যক্তিকে বের করা হবে, যে কখনও কোনো নেক আমল করেনি।" আর সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহে সেই চিরকুটের মালিকের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে, যার জন্য নিরানব্বইটি আমলনামার দপ্তর খোলা হবে, যার প্রতিটি দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত। অতঃপর তার জন্য একটি চিরকুট বের করা হবে যাতে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর সাক্ষ্য থাকবে, ফলে তা তার পাপসমূহের ওপর ভারী হয়ে যাবে। এই সাক্ষ্যের বর্ণনায় অন্য কিছুর কথা উল্লেখ করা হয়নি; যদি সেখানে অন্য কিছু থাকত তবে তিনি বলতেন—অতঃপর তার নেক আমলের খাতাগুলো বের করা হবে এবং তা তার পাপগুলোর ওপর ভারী হয়ে যাবে। আমাদের জন্য এক্ষেত্রে তাঁর এই বাণীই যথেষ্ট যে, "জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তিকে বের করা হবে যে কখনও কোনো নেক আমল করেনি।" আর সে যদি কাফির (كافر) হতো, তবে সে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকত এবং সেখান থেকে বের হতে পারত না।
সুতরাং এই হাদিসগুলো এবং অন্যান্য বর্ণনা তাকে কাফির (كافر) বলা এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামী সাব্যস্ত করা থেকে বিরত রাখে এবং তার জন্য সেই আশার বিধান দেয় যা অন্যান্য কবিরা গুনাহগারদের (أهل الكبائر) জন্য করা হয়। তারা বলেছেন যে, কুফর (كفر) হলো তাওহিদকে অস্বীকার করা এবং রিসালাত ও পরকালকে অস্বীকার করা এবং রাসুল যা নিয়ে এসেছেন তা প্রত্যাখ্যান করা। অথচ এই ব্যক্তি একত্ববাদ স্বীকার করছে, মুহাম্মদ যে আল্লাহর রাসুল সেই সাক্ষ্য দিচ্ছে এবং আল্লাহ কবরে থাকা ব্যক্তিদের পুনরুত্থিত করবেন বলে বিশ্বাস (مؤمن) পোষণ করছে। এমতাবস্থায় কীভাবে তার ওপর কুফরের (كفر) হুকুম দেওয়া হবে? অথচ ঈমান (إيمان) হলো অন্তরের বিশ্বাস (تصديق) এবং এর বিপরীত হলো মিথ্যা প্রতিপন্ন করা (تكذيب), আমল ত্যাগ করা নয়। অতএব, যে ব্যক্তি বিশ্বাসকারী (مصدق), তাকে কীভাবে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী (مكذب) ও অস্বীকারকারীর (جاحد) হুকুমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে?
যারা কাফির (كافر) সাব্যস্ত করার পক্ষপাতি তারা বলেছেন: আপনারা সালাত ত্যাগকারীকে কাফির (كافر) না বলার সপক্ষে যাদের থেকে এই হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন, সাহাবীগণ তাঁদের থেকেই সুনির্দিষ্টভাবে সালাত ত্যাগকারীকে কাফির (كافر) সাব্যস্ত করার বিষয়টি সংরক্ষণ করেছেন। আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম বলেছেন:
উমর, আবদুর রহমান ইবনে আউফ, মুয়াজ ইবনে জাবাল, আবু হুরায়রা এবং অন্যান্য সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ফরজ সালাত পরিত্যাগ করে এমনকি তার সময়ও পার হয়ে যায়, সে কাফির (كافر) মুরতাদ (مرتد)। তারা বলেছেন যে, সাহাবীদের মধ্যে তাঁদের কোনো বিরোধিতাকারীর কথা আমাদের জানা নেই। আর কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবীদের ইজমা (إجماع) সালাত ত্যাগকারীর কুফরের (كفر) ওপর প্রমাণ পেশ করেছে। কুরআন থেকে দলিল পেশ করার পরিচ্ছেদ: প্রথম দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তবে কি আমি মুসলিমদের অপরাধীদের মত গণ্য করব? তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কেমন ফয়সালা করছ? না কি তোমাদের কাছে কোনো কিতাব আছে যা তোমরা পাঠ করছ?}
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
إِنَّ لَكُمْ فِيهِ لَمَا تَخَيَّرُونَ أَمْ لَكُمْ أَيْمَانٌ عَلَيْنَا بَالِغَةٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ} إلى قوله: {يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلا يَسْتَطِيعُونَ خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ وَقَدْ كَانُوا يُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ وَهُمْ سَالِمُونَ} فوجه الدلالة من الآية أنه سبحانه أخبر أنه لا يجعل المسلمين كالمجرمين وأن هذا الأمر لا يليق بحكمته ولا بحكمه ثم ذكر أحوال المجرمين الذين هم ضد المسلمين فقال: {يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ} وأنهم يدعون إلى السجود لربهم تبارك وتعالى فيحال بينهم وبينه فلا يستطيعون السجود مع المسلمين عقوبة لهم على ترك السجود له مع المصلين في دار الدنيا وهذا يدل على أنهم مع الكفار والمنافقين الذين تبقى ظهورهم إذا سجد المسلمون كصياصي "أي قرون"، البقر ولو كانوا من المسلمين لأذن لهم بالسجود كما أذن للمسلمين.
الدليل الثاني: قوله تعالى: {كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ إِلَّا أَصْحَابَ الْيَمِينِ فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ عَنِ الْمُجْرِمِينَ مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ حَتَّى أَتَانَا الْيَقِينُ} فلا يخلو إما أن يكون كل واحد من هذه الخصال هو الذي سلكهم في سقر وجعلهم من المجرمين أو مجموعها فإن كان كل واحد منها مستقلا بذلك فالدلالة ظاهرة وإن كان مجموع الأمور الأربعة فهذا إنما هو لتغليظ كفرهم وعقوبتهم وإلا فكل واحد منها مقتض للعقوبة إذ لا يجوز أن يضم ما لا تأثير له إلى ما هو مستقل بها.
ومن المعلوم أن ترك الصلاة وما ذكر معه ليس شرطا على التكذيب بيوم الدين بل هو وحده كاف فدل على أن كل وصف ذكر معه كذلك إذ لا يمكن لقائل أن يقول لا يعذب إلا من جمع هذه الأوصاف الأربعة فإذا كان كل واحد منها موجبا للإجرام وقد جعل الله سبحانه المجرمين ضد المسلمين كان تارك الصلاة من المجرمين السالكين في سقر وقد قال: {إِنَّ الْمُجْرِمِينَ فِي ضَلالٍ وَسُعُرٍ يَوْمَ يُسْحَبُونَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ ذُوقُوا مَسَّ سَقَرَ} وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ أَجْرَمُوا كَانُوا مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا يَضْحَكُونَ} فجعل المجرمين ضد المؤمنين المسلمين.
{নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য তাতে তাই রয়েছে যা তোমরা পছন্দ করো। অথবা তোমাদের কি আমাদের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত পৌঁছাবে এমন কোনো সুদৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে?} থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {যেদিন পায়ের নলা উন্মোচিত করা হবে এবং তাদেরকে সিজদার জন্য আহ্বান করা হবে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না। তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে, লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে; অথচ যখন তারা সুস্থ ও নিরাপদ ছিল, তখন তাদেরকে সিজদার জন্য আহ্বান করা হতো।} এই আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণের দিকটি হলো—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি মুসলিমদেরকে অপরাধীদের মতো করবেন না এবং এই বিষয়টি তাঁর প্রজ্ঞা কিংবা তাঁর বিধানের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। অতঃপর তিনি অপরাধীদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন যারা মুসলিমদের বিপরীত; তিনি বলেছেন: {যেদিন পায়ের নলা উন্মোচিত করা হবে}। আর তাদেরকে তাদের রব তাবারাকা ওয়া তায়ালার প্রতি সিজদা করার জন্য আহ্বান জানানো হবে, কিন্তু তাদের ও তাঁর মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করা হবে। ফলে তারা মুসলিমদের সাথে সিজদা করতে সক্ষম হবে না; এটি দুনিয়ার জীবনে নামাজিদের সাথে তাঁর প্রতি সিজদা বর্জন করার শাস্তি স্বরূপ। আর এটি নির্দেশ করে যে, তারা ওইসব কাফের ও মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত যাদের পিঠ—যখন মুসলিমরা সিজদা করবে—গরুর শিংয়ের মতো (শক্ত হয়ে) থাকবে। তারা যদি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে তাদেরকে সিজদা করার অনুমতি দেওয়া হতো যেমনটি মুসলিমদেরকে দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় দলিল: আল্লাহ তায়ালার বাণী: {প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ; তবে ডানদিকের লোকগুলো ছাড়া। তারা জান্নাতে থাকবে এবং অপরাধীদের সম্পর্কে একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে—'কিসে তোমাদেরকে সাকারে নিক্ষেপ করেছে?' তারা বলবে, 'আমরা নামাজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, আমরা অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করতাম না, আমরা অনর্থক আলোচনাকারীদের সাথে অনর্থক আলোচনায় লিপ্ত থাকতাম এবং আমরা বিচার দিবসকে অস্বীকার করতাম, যে পর্যন্ত না আমাদের কাছে নিশ্চিত বিশ্বাস (মৃত্যু) উপস্থিত হয়েছে'।} এখন বিষয়টি এই দুইয়ের বাইরে নয়; হয় এই বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রতিটিই তাদেরকে সাকারে প্রবেশ করিয়েছে এবং তাদেরকে অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত করেছে, অথবা এগুলোর সমষ্টি। যদি এগুলোর প্রতিটি স্বতন্ত্রভাবে এর কারণ হয়ে থাকে, তবে প্রমাণ সুস্পষ্ট। আর যদি এই চারটি বিষয়ের সমষ্টি কারণ হয়, তবে তা কেবল তাদের কুফর ও শাস্তিকে কঠোর করার জন্য। অন্যথায় এগুলোর প্রতিটিই শাস্তির দাবি রাখে; কারণ যার কোনো প্রভাব নেই তাকে এমন বিষয়ের সাথে যুক্ত করা বৈধ নয় যা নিজে নিজেই স্বতন্ত্রভাবে কার্যকর।
এটি সুবিদিত যে, নামাজ ত্যাগ করা এবং এর সাথে যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে তা বিচার দিবসকে অস্বীকার করার জন্য শর্ত নয়; বরং এটি একাই যথেষ্ট। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, এর সাথে উল্লিখিত প্রতিটি বৈশিষ্ট্যই অনুরূপ। কারণ কোনো বক্তার পক্ষেই এটি বলা সম্ভব নয় যে, যে পর্যন্ত না কেউ এই চারটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবে, সে পর্যন্ত তাকে আজাব দেওয়া হবে না। সুতরাং যখন এগুলোর প্রতিটিই অপরাধী হওয়ার কারণ এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা অপরাধীদেরকে মুসলিমদের বিপরীত সাব্যস্ত করেছেন, তখন নামাজ ত্যাগকারী সেই অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা সাকারে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {নিশ্চয়ই অপরাধীরা বিভ্রান্তি ও অগ্নিশিখায় রয়েছে। যেদিন তাদেরকে উপুড় করে আগুনের দিকে টেনে নেওয়া হবে (এবং বলা হবে), 'আস্বাদন করো সাকারের যন্ত্রণা'}। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা অপরাধ করেছিল, তারা মুমিনদের উপহাস করত}। সুতরাং তিনি অপরাধীদেরকে মুমিন মুসলিমদের বিপরীত পক্ষ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
الدليل الثالث: قوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} فوجه الدلالة أنه سبحانه علق حصول الرحمة لهم بفعل هذه الأمور فلو كان ترك الصلاة لا يوجب تكفيرهم وخلودهم في النار لكانوا مرحومين بدون فعل الصلاة والرب تعالى إنما جعلهم على رجاء الرحمة إذا فعلوها.
الدليل الرابع قوله تعالى: {فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلاتِهِمْ سَاهُونَ} وقد اختلف السلف في معنى السهو عنها، فقال سعد بن أبي وقاص ومسروق ابن الأجدع وغيرهما هو تركها حتى يخرج وقتها، روى في ذلك حديث مرفوع قال محمد بن نصر المروذي حدثنا سفيان بن أبي شيبة حدثنا عكرمة بن إبراهيم حدثنا عبد الملك بن عمير بم مصعب بن سعد عن أبيه أنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن الذين هم عن الصلاة ساهون، قال: "هم الذين يؤخرون الصلاة عن وقتها".
وقال حماد بن زيد حدثنا عاصم عن مصعب بن سعد قال قلت: لأبي يا ابتا أرأيت قول الله: {الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلاتِهِمْ سَاهُونَ} أينا لا يسهو أينا لا يحدث نفسه قال إنه ليس ذاك ولكنه إضاعة الوقت سنن البيهقي وقال حيوة بن شريح أخبرني أبو صخر أنه سأل محمد بن كعب القرظي عن قوله: {الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلاتِهِمْ سَاهُونَ} قال هو تاركها ثم سأله عن الماعون قال: منع المال عن حقه.
إذا عرف هذا فالوعيد بالويل اطرد في القرآن للكفار كقوله: وويل للمشركين: {الَّذِينَ لا يُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ} وقوله: {وَيْلٌ لِكُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ يَسْمَعُ آيَاتِ اللَّهِ تُتْلَى عَلَيْهِ ثُمَّ يُصِرُّ مُسْتَكْبِراً كَأَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا فَبَشِّرْهُ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ وَإِذَا عَلِمَ مِنْ آيَاتِنَا شَيْئاً اتَّخَذَهَا هُزُواً أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ} وقوله: {وَوَيْلٌ لِلْكَافِرِينَ مِنْ عَذَابٍ شَدِيدٍ} إلا في موضعين وهما {وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ} و {وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ} فعلق الويل بالتطفيف وبالهمز واللمز وهذا لا يكفر به بمجرده فويل تارك الصلاة إما ان يكون ملحقا بويل الكفار أو بويل الفساق فإلحاقه بويل الكفار أولى لوجهين:
أحدهما: أنه قد صح عن سعد ابن أبي وقاص في هذه الآية أنه قال لو تركوها لكانوا كفارا ولكن ضيعوا وقتها.
الثاني: ما سنذكر من الأدلة على كفره يوضحه:
তৃতীয় দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও}। এখানে প্রমাণের দিক হলো এই যে, মহান আল্লাহ রহমত প্রাপ্তিকে এই কাজগুলো করার সাথে শর্তযুক্ত করেছেন। যদি সালাত ত্যাগ করা তাদের কাফির (كافر) হওয়া এবং জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার কারণ না হতো, তবে সালাত আদায় না করেই তারা রহমতপ্রাপ্ত হতে পারত। অথচ মহান আল্লাহ তাদের রহমত প্রাপ্তির আশা কেবল তখনই রেখেছেন যখন তারা তা সম্পাদন করবে।
চতুর্থ দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর দুর্ভোগ সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন}। সালাতে উদাসীনতার অর্থ কী—সে বিষয়ে পূর্বসূরিদের (সালাফ) মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, মাসরুক ইবনুল আজদা এবং অন্যরা বলেছেন যে, এর অর্থ হলো সালাত ত্যাগ করা যতক্ষণ না তার সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে একটি মারফু (مرفوع) হাদিস বর্ণিত হয়েছে। মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মারওয়াযী বলেন: আমাদের কাছে সুফিয়ান বিন আবি শাইবাহ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইকরামা বিন ইব্রাহিম হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আব্দুল মালিক বিন উমাইর, মুসআব বিন সাদ-এর সূত্রে তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সেই লোকদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন। তিনি বললেন: "তারা হলো ঐসব লোক যারা সালাতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বিত করে।"
হাম্মাদ বিন যাইদ বলেছেন: আমাদের কাছে আসিম, মুসআব বিন সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বললাম: হে আব্বাজান! আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কী: {যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন}, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে ভুল করে না বা কার মনে অলীক চিন্তা আসে না? তিনি বললেন: এর অর্থ তা নয়, বরং এর অর্থ হলো সময় নষ্ট করা (Sunan al-Bayhaqi)। হায়ওয়াহ বিন শুরাইহ বলেছেন: আবু সাখর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরাযীকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: {যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন}। তিনি বললেন: সে হলো সালাত ত্যাগকারী। এরপর তিনি তাকে 'মাউন' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: সম্পদের হক (জাকাত) প্রদানে বিরত থাকা।
যখন এটি জানা গেল, তখন দেখা যায় যে কুরআনে 'ওয়াইল' (দুর্ভোগ/ধ্বংস) এর হুমকি সাধারণত কাফিরদের (كفار) ক্ষেত্রেই এসেছে। যেমন আল্লাহর বাণী: "মুশরিকদের (مشركين) জন্য দুর্ভোগ: যারা জাকাত দেয় না এবং তারা পরকালকে অস্বীকারকারী (كافرون)।" এবং তাঁর বাণী: "দুর্ভোগ প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী ও পাপীর জন্য, যে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করতে শোনে অথচ অহংকারের সাথে অটল থাকে যেন সে তা শোনেনি; তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও। আর যখন সে আমার আয়াতসমূহের কিছু জানতে পারে, তখন সে তা নিয়ে উপহাস করে; তাদের জন্যই রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।" এবং তাঁর বাণী: "আর কাফিরদের (كافرين) জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির দুর্ভোগ।" তবে দুটি স্থান ব্যতীত, যা হলো: {দুর্ভোগ মাপে কম দানকারীদের জন্য} এবং {দুর্ভোগ প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে নিন্দাকারীর জন্য}। এখানে 'ওয়াইল' বা দুর্ভোগকে মাপে কম দেওয়া এবং পরনিন্দা ও গীবতের সাথে যুক্ত করা হয়েছে, যা কেবল এ কাজের কারণেই কাউকে কাফির (كافر) করে না। সুতরাং সালাত ত্যাগকারীর জন্য যে 'ওয়াইল' বা দুর্ভোগের কথা বলা হয়েছে, তা হয় কাফিরদের (كفار) জন্য নির্ধারিত দুর্ভোগের অন্তর্ভুক্ত হবে অথবা ফাসেকদের (فساق) জন্য নির্ধারিত দুর্ভোগের অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে দুটি কারণে একে কাফিরদের (كفار) দুর্ভোগের সাথে সম্পৃক্ত করাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত:
প্রথমত: এই আয়াতের ব্যাখ্যায় সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে এটি সহিহ (صح) ভাবে প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: "যদি তারা তা (সালাত) পুরোপুরি ত্যাগ করত তবে তারা কাফির (كفار) হয়ে যেত, কিন্তু তারা কেবল এর সময় নষ্ট করেছে।"
দ্বিতীয়ত: তার কুফর (كفر) সম্পর্কে আমরা সামনে যেসব দলিল উল্লেখ করব, তা একে আরও স্পষ্ট করবে:
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
الدليل الخامس: وهو قوله سبحانه: {فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيّاً} .
قال شعبة بن الحجاج حدثنا أبو إسحاق عن أبي عبيدة عن عبد الله هو ابن مسعود في هذه الآية قال هو نهر في جهنم خبيث الطعم بعيد القعر قال محمد بن نصر حدثنا عبد الله بن سعد بن إبراهيم حدثنا محمد بن زياد بن زبار حدثني شرقي بن القطامي قال حدثني لقمان بن عامر الخزاعي قال جئت أبا أمامه الباهلي فقلت: حدثني حديثا سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "لو أن صخرة قذف بها من شفير 1 جهنم ما بلغت قعرها سبعين خريفا ثم تنتهي إلى غي وأثام" قلت: وما غي وأثام قال: "بئران في أسفل جهنم يسيل فيهما صديد أهل جهنم فهذا الذي ذكره الله في كتابه" {فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيّاً} وأثاما قال محمد بن نصر حدثنا الحسن بن عيسى حدثنا عبد الله بن المبارك أخبرنا هشيم بن بشير قال أخبرني زكريا ابن أبي مريم الخزاعي قال سمعت أبا أمامة الباهلي يقول إن ما بين شفير جهنم إلى قعرها مسيرة خمسين خريفا من حجر يهوي أو قال صخرة تهوي عظمها كعشر عشراوات عظام سمان2 فقال له مولى لعبد الرحمن بن خالد بن الوليد هل تحت ذلك من شيء يا أبا أمامة قال نعم غي وأثام وقال أيوب بن بشير عن شفي بن ماتع قال إن في جهنم واديا يسمى غيا يسيل دما وقيحا فهو لمن خلق له قال تعالى: {فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيّاً} .
فوجه الدلالة من الآية أن الله سبحانه جعل هذا المكان من النار لمن أضاع الصلاة واتبع الشهوات ولو كان مع عصاة المسلمين لكانوا في الطبقة العليا من طبقات النار ولم يكونوا في هذا المكان الذي هو أسفلها فإن هذا ليس من أمكنة أهل الإسلام بل من أمكنه الكفار ومن الآية دليل آخر وهو قوله تعالى: {فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيّاً إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحاً} فلو كان مضيع الصلاة مؤمنا لم يشترط في توبته الإيمان وأنه يكون تحصيلا للحاصل.
--------------------------------------------
পঞ্চম প্রমাণ: মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {অতঃপর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরিদের আগমন ঘটল, যারা সালাত নষ্ট করল এবং প্রবৃত্তির অনুগামী হলো; সুতরাং তারা শীঘ্রই 'গাই' (ধ্বংস বা পথভ্রষ্টতা) এর সম্মুখীন হবে}।
শু'বাহ বিন আল-হাজ্জাজ বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু ইসহাক, তিনি সূত্রে (عن) আবু উবাইদাহ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ—যিনি ইবনে মাসউদ—থেকে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এটি জাহান্নামের একটি নদী, যার স্বাদ কুরুচিপূর্ণ এবং তলদেশ অত্যন্ত গভীর। মুহাম্মাদ বিন নাসর বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদুল্লাহ বিন সাদ বিন ইবরাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ বিন যুব্বার, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) শারকী বিন আল-কাতামি, তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) লুকমান বিন আমির আল-খুযাঈ, তিনি বলেন, আমি আবু উমামা আল-বাহিলির নিকট এসে বললাম: আমাকে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করুন যা আপনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছেন। তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যদি জাহান্নামের কিনারা থেকে একটি পাথর নিক্ষেপ করা হয়, তবে সত্তর বছরেও তা তলদেশে পৌঁছাবে না, অতঃপর তা 'গাই' ও 'আসাম' পর্যন্ত পৌঁছাবে।" আমি বললাম: 'গাই' ও 'আসাম' কী? তিনি বললেন: "জাহান্নামের তলদেশের দুটি কূয়ো, যাতে জাহান্নামিদের শরীর হতে নিসৃত পুঁজ ও রক্ত প্রবাহিত হয়; এটিই তা যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন: {সুতরাং তারা শীঘ্রই 'গাই' ও 'আসাম'-এর সম্মুখীন হবে}।" মুহাম্মাদ বিন নাসর বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাসান বিন ঈসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) হুশাইম বিন বাশির, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) যাকারিয়া ইবনে আবি মারিয়াম আল-খুযাঈ, তিনি বলেন, আমি আবু উমামা আল-বাহিলিকে বলতে শুনেছি, জাহান্নামের কিনারা থেকে এর তলদেশ পর্যন্ত দূরত্ব হলো একটি পতনশীল পাথরের জন্য পঞ্চাশ বছরের পথ; অথবা তিনি বলেছেন, একটি পতনশীল বিশালাকার পাথর যার আকার দশটি বিশালাকার পুষ্ট গর্ভবতী উটনীর সমান। তখন আবদুর রহমান বিন খালিদ বিন ওয়ালিদের এক মুক্ত দাস তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবু উমামা! এর নিচে কি আর কিছু আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, 'গাই' এবং 'আসাম'। আইয়ুব বিন বাশির সূত্রে (عن) শুফাই বিন মাতি' থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, জাহান্নামে 'গাই' নামক একটি উপত্যকা রয়েছে যা রক্ত ও পুঁজ প্রবাহিত করে; এটি তাদের জন্য যাদের জন্য এটি সৃষ্টি করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {সুতরাং তারা শীঘ্রই 'গাই'-এর সম্মুখীন হবে}।
আয়াতের মাধ্যমে দলীলের ধরন হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জাহান্নামের এই স্থানটি তাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন যারা সালাত নষ্ট করেছে এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। তারা যদি পাপী মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে তারা জাহান্নামের উচ্চতর স্তরে থাকত, এই নিম্নতম স্থানে থাকত না যা এর তলদেশ। কারণ এটি মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত কোনো স্থান নয়, বরং কাফিরদের জন্য নির্ধারিত স্থান। এই আয়াত থেকে আরেকটি দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তারা শীঘ্রই 'গাই'-এর সম্মুখীন হবে, তবে তারা নয় যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে}। সুতরাং সালাত ত্যাগকারী যদি মুমিনই হতো, তবে তার তাওবার শর্ত হিসেবে ঈমান আনয়নকে যুক্ত করা হতো না; কারণ সেক্ষেত্রে এটি হতো অর্জিত বিষয়েরই পুনর্ার্জন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
الدليل السادس: قوله تعالى: {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ} الروضات الزكواة فإخوانكم في الدين سورة التوبة الآية فعلق إخوتهم للمؤمنين بفعل الصلاة فإذا لم يفعلوا لم يكونوا إخوة المؤمنين فلا يكونوا مؤمنين لقوله تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ} .
الدليل السابع: قوله تعالى: {فَلا صَدَّقَ وَلا صَلَّى وَلَكِنْ كَذَّبَ وَتَوَلَّى} فلما كان الإسلام تصديق الخبر والانقياد للأمر جعل سبحانه له ضدين عدم التصديق وعدم الصلاة وقابل التصديق بالتكذيب والصلاة بالتولي فقال: {وَلَكِنْ كَذَّبَ وَتَوَلَّى} فكما أن المكذب كافر فالمتولي عن الصلاة يزول الإسلام بالتكذيب يزول بالتولي عن الصلاة.
قال سعيد عن قتادة {فَلا صَدَّقَ وَلا صَلَّى} لا صدق بكتاب الله ولا صلى لله ولكن كذب بآيات الله وتولى عن طاعته {أَوْلَى لَكَ فَأَوْلَى ثُمَّ أَوْلَى لَكَ فَأَوْلَى} .
الدليل الثامن: قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلا أَوْلادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ} .
قال ابن جريج: سمعت عطاء ابن أبي رباح يقول هي الصلاة المكتوبة الدر المنثور ووجه الاستدلال بالآية إن الله حكم بالخسران المطلق لمن الهاه ماله وولده عن الصلاة والخسران المطلق لا يحصل إلا للكفار فإن المسلم ولو خسر بذنوبه ومعاصيه فآخر أمره إلى الربح يوضحه أنه سبحانه وتعالى اكد خسران تارك الصلاة في هذه الآية بأنواع من التأكيد:
أحدهما: إتيانه بلفظ الاسم الدال على ثبوت الخسران ولزومه دون الفعل الدال على التجدد والحدوث.
الثاني: تصدير الاسم بالألف واللام المؤدية لحصول كمال المسمى لهم فإنك إذا قلت: زيد العالم الصالح أفاد ذلك إثبات كمال ذلك له بخلاف قولك عالم صالح.
الثالث: إتيانه سبحانه بالمبتدأ والخبر معرفتين وذلك من علامات انحصار الخبر في المبتدأ كما في قوله تعالى: {وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} وقوله تعالى: {وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ} {أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقّاً} ونظائره.
الرابع: إدخال ضمير الفصل بين المبتدأ والخبر وهو يفيد مع الفصل فائدتين اخريين قوة الاسناد واختصاص المسند إليه بالمسند كقوله: {وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ
ষষ্ঠ দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তারা তওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে তারা দ্বীনের ক্ষেত্রে তোমাদের ভাই} (সুরা আত-তাওবাহ, আয়াত ১১)। এখানে মুমিনদের সাথে তাদের ভ্রাতৃত্বকে সালাত আদায়ের ওপর শর্তযুক্ত করা হয়েছে। সুতরাং তারা যদি সালাত আদায় না করে, তবে তারা মুমিনদের ভাই হিসেবে গণ্য হবে না। আর এমতাবস্থায় তারা মুমিনও হতে পারবে না, কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই}।
সপ্তম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {সে বিশ্বাস (تصديق) করেনি এবং সালাতও আদায় করেনি, বরং সে মিথ্যা প্রতিপন্ন (تكذيب) করেছে এবং মুখ ফিরিয়ে (تولي) নিয়েছে}। যেহেতু ইসলাম হলো সংবাদের প্রতি বিশ্বাস (تصديق) স্থাপন এবং নির্দেশের আনুগত্য করা, তাই মহান আল্লাহ এর বিপরীতে দুটি বিষয় সাব্যস্ত করেছেন: অবিশ্বস্ততা এবং সালাত ত্যাগ। তিনি বিশ্বাস (تصديق)-এর বিপরীতে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা (تكذيب) এবং সালাতের বিপরীতে বিমুখতাকে (تولي) স্থাপন করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: {বরং সে মিথ্যা প্রতিপন্ন (تكذيب) করেছে এবং মুখ ফিরিয়ে (تولي) নিয়েছে}। সুতরাং, যেভাবে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী ব্যক্তি কাফির (كافر), তেমনি সালাত থেকে বিমুখ ব্যক্তিও কাফির; বিশ্বাসের (تصديق) অভাবে যেমন ইসলাম বিলুপ্ত হয়, সালাত থেকে বিমুখ হওয়ার (تولي) কারণেও তেমনি ইসলাম বিলুপ্ত হয়ে যায়।
কাতাদাহ থেকে সাঈদ বর্ণনা করেছেন: {সে বিশ্বাসও করেনি এবং সালাতও আদায় করেনি} অর্থাৎ সে আল্লাহর কিতাবকে বিশ্বাস (تصديق) করেনি এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করেনি, বরং সে আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন (تكذيب) করেছে এবং তাঁর আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে (تولي) নিয়েছে। {তোমার ধ্বংসের ওপর ধ্বংস, অতঃপর তোমার ধ্বংসের ওপর ধ্বংস}।
অষ্টম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ না করে। আর যারা এরূপ করবে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত (خاسرون)}।
ইবনে জুরাইজ বলেন: আমি আতা ইবনে আবি রাবাহকে বলতে শুনেছি যে, এটি (আল্লাহর স্মরণ) হলো ফরয সালাত। (আদ্-দুররুল মানসুর)। এই আয়াত থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি হলো, আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির জন্য নিরঙ্কুশ ক্ষতির (خسران) ফয়সালা করেছেন যার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাকে সালাত থেকে বিমুখ রেখেছে। আর নিরঙ্কুশ ক্ষতি তো কেবল কাফিরদের (كفار) জন্যই হয়ে থাকে। কারণ একজন মুসলিম তার গুনাহ ও অবাধ্যতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শেষ পর্যন্ত সে লাভের অধিকারী হয়। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যে, মহান আল্লাহ এই আয়াতে সালাত ত্যাগকারীর ক্ষতিকে কয়েকভাবে তাকিদ (تأكيد) করেছেন:
প্রথমত: এখানে ‘ইসম’ (اسم) বা বিশেষ্য পদ ব্যবহার করা হয়েছে যা ক্ষতির স্থায়িত্ব ও অপরিহার্যতা নির্দেশ করে, ‘ফেল’ (فعل) বা ক্রিয়া পদ ব্যবহার করা হয়নি যা কেবল নতুন করে ঘটা বা সাময়িক হওয়াকে নির্দেশ করে।
দ্বিতীয়ত: বিশেষ্য পদের শুরুতে ‘আলিফ ও লাম’ যুক্ত করা হয়েছে যা সেই গুণের পূর্ণতা নির্দেশ করে। যেমন আপনি যখন বলেন: ‘যায়েদ অত্যন্ত জ্ঞানী ও সৎ’, তখন এটি তার মধ্যে সেই গুণের পূর্ণতা সাব্যস্ত করে, যা কেবল ‘জ্ঞানী ও সৎ’ বললে বোঝায় না।
তৃতীয়ত: মহান আল্লাহ এখানে মুবতাদা (উদ্দেশ্য) ও খবর (বিধেয়) উভয়কেই নির্দিষ্ট (معرفة) হিসেবে এনেছেন। আর এটি খবরকে মুবতাদার মধ্যে সীমাবদ্ধ (انحصار) করার অন্যতম আলামত। যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {তারাই সফলকাম}, এবং {কাফিররাই (كافرون) হলো জালিম}, {তারাই প্রকৃত মুমিন (مؤمنون)} এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াত।
চতুর্থত: মুবতাদা ও খবরের মাঝখানে জমিরুল ফাসল (ضمير الفصل) ব্যবহার করা হয়েছে। এটি বিভেদকরণের পাশাপাশি আরও দুটি উপকার প্রদান করে: সম্পর্কের দৃঢ়তা এবং বিশেষত্ব। যেমন আল্লাহর বাণী: {আর নিশ্চয়ই আল্লাহ, তিনিই তো...}
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ} سورة الحج الآية وقوله: {وَاللَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} ، وقوله: {إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} ونظائر ذلك الدليل.
التاسع: قوله سبحانه: {إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآياتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّداً وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لا يَسْتَكْبِرُونَ} ووجه الاستدلال بالآية أنه سبحانه نفى الإيمان عمن إذا ذكروا بآيات الله لم يخروا سجدا مسبحين بحمد ربهم ومن أعظم التذكير بآيات الله التذكير بآيات الصلاة فمن ذكر بها ولم يتذكر ولم يصل ولم يؤمن بها لأنه سبحانه خص المؤمنين بها بأنهم أهل السجود وهذا من أحسن الاستدلال واقربه فلم يؤمن بقوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ} إلا من التزم إقامتها.
الدليل العاشر: قوله تعالى: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ارْكَعُوا لا يَرْكَعُونَ وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ} ذكر هذا بعد قوله: {كُلُوا وَتَمَتَّعُوا قَلِيلاً إِنَّكُمْ مُجْرِمُونَ} ثم توعدهم على ترك الركوع وهو الصلاة إذا دعوا إليها ولا يقال إنما توعدهم على التكذيب فإنه سبحانه وتعالى إنما أخبر عن تركهم لها وعليه وقع الوعيد.
على أنا نقول لا يصر على ترك الصلاة إصرارا مستمرا من يصدق بأن الله أمر بها اصلا فإنه يستحيل في العادة والطبيعة أن يكون الرجل مصدقا تصديقا جازما أن الله فرض عليه كل يوم وليلية خمس صلوات وأنه يعاقبه على تركها أشد العقاب وهو مع ذلك مصر على تركها هذا من المستحيل قطعا فلا يحافظ على تركها مصدق بفرضها أبدا فإن الايمان يأمر صاحبه بها فحيث لم يكن في قلبه ما يأمر بها فليس في قلبه شيء من الإيمان.
ولا تصغى إلى كلام من ليس له خبره ولا علم بأحكام القلوب وأعمالها وتأمل في الطبيعة بأن يقوم بقلب العبد إيمان بالوعد والوعيد والجنة والنار وأن الله فرض عليه الصلاة وأن الله يعاقبه معاقبة على تركها وهو محافظ على الترك في صحته وعافيته وعدم الموانع المانعة له من الفعل.
وهذا القدر هو الذي خفي على من جعل الإيمان مجرد التصديق وإن لم يقارنه فعل واجب ولا ترك محرم وهذا من لأوامره المحال ان يقوم بقلب العبد إيمان جازم
{অভাবমুক্ত, প্রশংসিত} সূরা আল-হাজ্জ-এর আয়াত এবং তাঁর বাণী: {আর আল্লাহই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ}, এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} এবং অনুরূপ দলিলসমূহও এর প্রমাণ।
নবম: মহান আল্লাহর বাণী: {কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের ওপর ঈমান আনে, যাদেরকে যখন তা দ্বারা স্মরণ করানো হয়, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করে, আর তারা অহংকার করে না}। এই আয়াতের মাধ্যমে দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি হলো—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের থেকে ঈমানকে নাকচ করেছেন, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ দ্বারা স্মরণ করানোর পর সিজদায় লুটিয়ে রবের প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করে না। আর আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে উপদেশ প্রদানের মধ্যে সালাতের আয়াতসমূহের মাধ্যমে উপদেশ প্রদান অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিষয়। সুতরাং যাকে তা দ্বারা উপদেশ দেওয়া হয়েছে অথচ সে উপদেশ গ্রহণ করেনি, সালাত আদায় করেনি এবং এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেনি, সে ঈমান আনেনি; কারণ আল্লাহ তাআলা মুমিনদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে তারা সিজদাকারী। এটি অত্যন্ত চমৎকার এবং নিগূঢ় একটি দলিল। সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা সালাত কায়েম করো}-এর ওপর সেই ব্যক্তি ছাড়া কেউ ঈমান আনেনি যে তা কায়েম করার বাধ্যবাধকতা মেনে নিয়েছে।
দশম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, রুকু করো, তখন তারা রুকু করে না। সেদিন মিথ্যারোপকারীদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য}। আল্লাহ তাআলা এই কথাটি তাঁর এই বাণীর পর উল্লেখ করেছেন: {তোমরা আহার করো এবং সামান্য ভোগ করো, নিশ্চয়ই তোমরা অপরাধী}। এরপর তিনি তাদেরকে রুকু—যা মূলত সালাত—বর্জন করার কারণে শাস্তির ভীতি প্রদর্শন করেছেন যখন তাদের সেদিকে আহ্বান করা হয়। আর এমনটি বলা যাবে না যে, তাদেরকে কেবল মিথ্যারোপ করার কারণেই এই শাস্তির ভয় দেখানো হয়েছে; কেননা মহান আল্লাহ তাদের সালাত বর্জনের সংবাদ দিয়েছেন এবং সেটির ওপরই শাস্তির ঘোষণা এসেছে।
তদুপরি আমরা বলি যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা সালাতের আদেশ দিয়েছেন বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, সে কখনোই অবিরাম সালাত ত্যাগের ওপর অটল থাকতে পারে না। কেননা অভ্যাসগতভাবে এবং মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি অনুযায়ী এটি অসম্ভব যে, একজন ব্যক্তি সুদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবে যে আল্লাহ তার ওপর দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন এবং তা ত্যাগের কারণে তিনি তাকে কঠোরতম শাস্তি দেবেন, অথচ এরপরও সে তা বর্জনের ওপর অনড় থাকবে। এটি নিশ্চিতভাবেই অসম্ভব। সুতরাং সালাতের ফরজিয়াতের ওপর বিশ্বাস স্থাপনকারী ব্যক্তি কখনোই তা বর্জন করার ওপর অবিচল থাকতে পারে না। কারণ ঈমান তার অধিকারীকে সালাতের নির্দেশ দেয়; সুতরাং যখন তার অন্তরে এমন কিছু নেই যা তাকে সালাতের নির্দেশ দেয়, তখন তার অন্তরে ঈমানের অস্তিত্ব নেই।
আর ওই ব্যক্তির কথায় কর্ণপাত করবেন না যার অন্তরের বিধানাবলি ও তার আমলসমূহ সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা বা জ্ঞান নেই। আপনি মানুষের স্বভাবজাত বিষয়ে চিন্তা করুন যে, কোনো বান্দার অন্তরে কি পুরস্কার ও শাস্তির প্রতিশ্রুতি এবং জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর ঈমান থাকা সম্ভব, এমতাবস্থায় যে সে জানে আল্লাহ তার ওপর সালাত ফরজ করেছেন এবং তা ত্যাগের কারণে আল্লাহ তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন, অথচ সে সুস্থতা ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এবং কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত তা বর্জন করে চলেছে?
আর এই বিষয়টিই তাদের নিকট অস্পষ্ট রয়ে গেছে যারা ঈমানকে স্রেফ সত্যায়ন মনে করে, যদিও তার সাথে কোনো ওয়াজিব পালন কিংবা হারাম বর্জন যুক্ত না থাকে। আর এটি অসম্ভব বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যে, বান্দার অন্তরে একটি সুদৃঢ় ঈমান বিদ্যমান থাকবে (অথচ তার কোনো বহিঃপ্রকাশ থাকবে না)।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
لا يتقاضاه فعل طاعة ولا ترك معصية ونحن نقول الإيمان هو التصديق ولكن ليس التصديق مجردا اعتقادا صدق المخبر دون الانقياد له ولو كان مجرد اعتقاد التصديق إيمانا لكان إبليس وفرعون وقومه وقوم صالح واليهود الذين عرفوا أن محمدا رسول الله كما يعرفون أبناءهم مؤمنين مصدقين.
وقد قال تعالى: {فَإِنَّهُمْ لا يُكَذِّبُونَكَ} أي يعتقدون أنك صادق {وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ} والجحود لا يكون إلا بعد معرفة الحق قال تعالى: {وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْماً وَعُلُوّاً} وقال موسى لفرعون: {لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنْزَلَ هَؤُلاءِ إِلَّا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بَصَائِرَ} وقال تعالى عن اليهود: {يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ وَإِنَّ فَرِيقاً مِنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} .
وأبلغ من هذا قول النفرين اليهوديين لما جاءا إلى النبي صلى الله عليه وسلم وسألاه عما دلهما على نبوته فقالا نشهد أنك نبي فقال: "ما يمنعكما من اتباعي" قالا إن داود دعا أن لا يزال في ذريته نبي وإنا نخاف إن اتبعناك أن تقتلنا اليهود. فهؤلاء قد اقروا بألسنتهم إقرارا مطابقا لمعتقدهم أنه نبي ولم يدخلوا بهذا التصديق والإقرار في الإيمان لأنهم لم يلتزموا طاعته والانقياد لأمره.
ومن هذا كفر أبي طالب فإنه عرف حقيقة المعرفة أنه صادق وأقر بذلك بلسانه وصرح به في شعره ولم يدخل بذلك في الإسلام فالتصديق إنما يتم بأمرين: أحدهما: اعتقاد الصدق والثاني: محبة القلب وانقياده ولهذا قال تعالى لإبراهيم: {أَنْ يَا إِبْرَاهِيمُ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيا} وإبراهيم كان معتقدا لصدق رؤياه من حين رآها فإن رؤيا الأنبياء وحي وإنما جعله مصدقا لها بعد أن فعل ما أمر به.
وكذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "والفرج يصدق ذلك كله أو يكذبه". فجعل التصديق عمل الفرج لا ما يتمنى القلب والتكذيب تركه لذلك وهذا صريح في ان التصديق لا يصح إلا بالفعل.
وقال الحسن: ليس الإيمان بالتمني ولا بالتحلي ولكن ما وقر في القلب وصدقه العمل. وقد روي هذا مرفوعا الكامل لابن عدي والمقصود أنه يمتنع مع التصديق الجازم بوجوب الصلاة والوعد على فعلها والوعيد على تركها وبالله التوفيق.
কোনো আনুগত্যমূলক কাজ সম্পাদন বা পাপাচার বর্জন তাকে দাবি করে না। আমরা বলি যে, ঈমান হলো সত্যায়ন (تصديق); তবে সত্যায়ন কেবল সংবাদদাতার সত্যতা অন্তরে বিশ্বাস করা নয় যতক্ষণ না তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা হয়। যদি কেবল বিশ্বাসের মাধ্যমে সত্যায়ন করাকে ঈমান বলা হতো, তবে ইবলিস, ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়, সালেহ (আ.)-এর সম্প্রদায় এবং সেই ইহুদিরা যারা মুহাম্মদ (সা.)-কে নিজ সন্তানদের মতো চিনত, তারা সকলেই মুমিন ও সত্যায়নকারী (مصدقين) বলে গণ্য হতো।
মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় তারা আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না} অর্থাৎ তারা বিশ্বাস করে যে আপনি সত্যবাদী {বরং জালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে}। আর অস্বীকার করা (جحود) কেবল সত্যকে জানার পরই ঘটে থাকে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা অন্যায় ও ঔদ্ধত্যবশত সেগুলোকে অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর তা সত্য বলে নিশ্চিত জেনেছিল}। মুসা (আ.) ফেরাউনকে বলেছিলেন: {তুমি অবশ্যই জান যে, আসমান ও জমিনের রবই চাক্ষুষ প্রমাণস্বরূপ এগুলো নাজিল করেছেন}। ইহুদিদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা তাকে তেমনভাবেই চিনে যেমন তারা তাদের সন্তানদের চিনে। আর তাদের একটি দল জেনে-শুনে সত্য গোপন করে}।
এর চেয়েও জোরালো প্রমাণ হলো সেই দুই ইহুদি ব্যক্তির কথা, যখন তারা নবী (সা.)-এর নিকট এসে তাঁকে এমন কিছু বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিল যা তাঁর নবুওয়াতের প্রমাণ দেয়। তারা বলল, "আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি একজন নবী।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তবে আমার অনুসরণ করতে তোমাদের বাধা কিসের?" তারা বলল, "দাউদ (আ.) দোয়া করেছিলেন যেন তাঁর বংশধরে সর্বদা নবী থাকে। আর আমাদের ভয় হয় যে আমরা যদি আপনার অনুসরণ করি তবে ইহুদিরা আমাদের হত্যা করবে।" তারা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী মুখে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছিল যে তিনি নবী, কিন্তু তারা এই সত্যায়ন (تصديق) ও স্বীকারোক্তির মাধ্যমে ঈমানে দাখিল হতে পারেনি; কারণ তারা তাঁর আনুগত্য ও নির্দেশের প্রতি আত্মসমর্পণ করেনি।
এ কারণেই আবু তালিব কাফের হিসেবে গণ্য হয়েছে। সে প্রকৃত অর্থেই জানত যে রাসুল (সা.) সত্যবাদী এবং সে তার রসনায় তা স্বীকারও করেছিল এবং তার কবিতায় তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছিল। কিন্তু এর মাধ্যমে সে ইসলামে প্রবেশ করতে পারেনি। সুতরাং সত্যায়ন (تصديق) কেবল দুটি বিষয়ের সমন্বয়ে পূর্ণ হয়: প্রথমত, সত্যতা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা। দ্বিতীয়ত, অন্তরের ভালোবাসা ও আনুগত্য প্রকাশ করা। এই কারণেই মহান আল্লাহ ইব্রাহিম (আ.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: {হে ইব্রাহিম! তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ (صدقت الرؤيا)}। ইব্রাহিম (আ.) তো স্বপ্ন দেখার মুহূর্ত থেকেই তার সত্যতায় বিশ্বাসী ছিলেন, কারণ নবীদের স্বপ্ন হলো ওহি (وحي); কিন্তু আল্লাহ তাঁকে তখনই এর সত্যায়নকারী (مصدقا) হিসেবে গণ্য করেছেন যখন তিনি আদিষ্ট কাজ সম্পাদন করেছেন।
একইভাবে নবী (সা.)-এর বাণী: "লজ্জাঙ্কন (যৌনাঙ্গ) তার সত্যায়ন (يصدق) করে অথবা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।" এখানে তিনি সত্যায়নকে যৌনাঙ্গের কর্মের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, কেবল অন্তরের বাসনা নয়; আর সে কর্ম বর্জন করাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হিসেবে গণ্য করেছেন। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, কর্ম ব্যতীত সত্যায়ন (تصديق) শুদ্ধ হয় না।
হাসান (বসরী) রহ. বলেছেন: ঈমান কেবল আকাঙ্ক্ষা বা বাহ্যিক সজ্জার নাম নয়, বরং ঈমান হলো যা অন্তরে বদ্ধমূল হয় এবং কর্ম যাকে সত্যায়ন (صدقه) করে। এটি মারফু (مرفوع) হিসেবে ইবনে আদীর আল-কামিল গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো, সালাত ওয়াজিব হওয়া এবং তা পালনের পুরস্কার ও ত্যাগের শাস্তির বিষয়ে দৃঢ় সত্যায়ন (تصديق) থাকলে তা আমল করা থেকে বিরত থাকা অসম্ভব। আল্লাহর কাছেই তওফিক কামনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
"فصل"
وأما الاستدلال بالسنة على ذلك فمن وجوه:
الدليل الأول: ما رواه مسلم في صحيحه رقم عن جابر بن عبد الله قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "بين الرجل وبين الكفر ترك الصلاة" رواه أهل السنن وصححه الترمذي.
الدليل الثاني: ما رواه بريدة بن الحصيب الأسلمي قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة فمن تركها فقد كفر" رواه الإمام أحمد وأهل السنن وقال الترمذي حديث صحيح إسناده على شرط مسلم.
الدليل الثالث: ما رواه ثوبان مولى1 رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "بين العبد وبين الكفر والإيمان الصلاة فإذا تركها فقد أشرك". رواه هبة الله الطبري وقال إسناده صحيح على شرط مسلم.
الدليل الرابع: ما رواه عبد الله بن عمرو بن العاص عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه ذكر الصلاة يوما فقال: "من حافظ عليها كانت له نورا وبرهانا ونجاة يوم القيامة ومن لم يحافظ عليها لم تكن له نورا ولا برهانا ولا نجاة وكان يوم القيامة مع قارون وفرعون وهامان وأبي بن خلف". رواه الإمام أحمد في مسنده وأبو حاتم ابن حبان في صحيحه وإنما خص هؤلاء الاربعة بالذكر لأنهم من رؤس الكفرة.
وفيه نكتة بديعة وهو أن تارك المحافظة على الصلاة إما أن يشغله ماله أو ملكه أو رياسته أو تجارته فمن شغله عنها ماله فهو مع قارون ومن شغله عنها ملكه فهو مع فرعون ومن شغله عنها رياسة ووزارة فهو مع هامان ومن شغله عنها تجارته فهو مع أبي بن خلف.
الدليل الخامس: ما رواه عبادة بن الصامت قال فيزورون رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: "لا تشركوا بالله شيئا وإن قطعتم أو حرقتم أو صلبتم ولا تتركوا الصلاة عمدا فمن تركها عمدا متعمدا فقد خرج من الملة". رواه عبد الرحمن ابن أبي حاتم في سننه.
الدليل السادس: ما رواه معاذ بن جبل قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
--------------------------------------------
"পরিচ্ছেদ"
আর এই বিষয়ে সুন্নাহ থেকে দলিল গ্রহণের বেশ কিছু দিক রয়েছে:
প্রথম দলিল: মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ব্যক্তি এবং কুফরের মধ্যে (পার্থক্যকারী) হলো সালাত বর্জন করা।" এটি সুনান সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে সহীহ (صحيح) বলেছেন।
দ্বিতীয় দলিল: বুরাইদাহ ইবনুল হুসাইব আল-আসলামী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আমাদের এবং তাদের মধ্যে যে অঙ্গীকার রয়েছে তা হলো সালাত, সুতরাং যে ব্যক্তি তা বর্জন করল সে কুফরি করল।" এটি ইমাম আহমাদ ও সুনান সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি বলেছেন এটি একটি সহীহ (صحيح) হাদিস যার সনদ (إسناد) মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী।
তৃতীয় দলিল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস (مولى)১ সাওবান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "বান্দা এবং কুফর ও ঈমানের মাঝে (পার্থক্য) হলো সালাত, সুতরাং যখন সে তা বর্জন করল, সে শিরক করল।" এটি হিবাতুল্লাহ আত-তাবারী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন এর সনদ (إسناد) মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহীহ (صحيح)।
চতুর্থ দলিল: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সালাত সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বললেন: "যে ব্যক্তি এর যথাযথ হিফাজত করবে, কিয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর, দলিল ও নাজাতের মাধ্যম হবে। আর যে ব্যক্তি এর হিফাজত করবে না, কিয়ামতের দিন তার জন্য কোনো নূর, দলিল বা নাজাত থাকবে না; এবং কিয়ামতের দিন সে কারুন, ফেরাউন, হামান ও উবাই ইবনে খালাফের সাথে থাকবে।" এটি ইমাম আহমাদ তার মুসনাদ গ্রন্থে এবং আবু হাতিম ইবনে হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। মূলত এই চারজনকে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ তারা কুফরের শীর্ষনেতাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এতে একটি চমৎকার সূক্ষ্ম বিষয় নিহিত রয়েছে, আর তা হলো: সালাতের হিফাজত বর্জনকারী ব্যক্তি হয়তো তার সম্পদ, না হয় তার রাজত্ব, নতুবা তার পদমর্যাদা অথবা তার ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে ব্যস্ত থাকে। সুতরাং যাকে তার সম্পদ সালাত থেকে বিরত রাখে সে কারুনের সাথে থাকবে, যাকে তার রাজত্ব ব্যস্ত রাখে সে ফেরাউনের সাথে থাকবে, যাকে তার পদমর্যাদা ও মন্ত্রিত্ব ব্যস্ত রাখে সে হামানের সাথে থাকবে, আর যাকে তার ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যস্ত রাখে সে উবাই ইবনে খালাফের সাথে থাকবে।
পঞ্চম দলিল: উবাদাহ ইবনুস সামিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন (অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষাতে আসলেন), তখন তিনি বললেন: "তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না, যদিও তোমাদের টুকরো টুকরো করা হয় কিংবা পুড়িয়ে ফেলা হয় অথবা শূলে চড়ানো হয়। আর তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বর্জন করো না, কারণ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বর্জন করল সে ধর্মাদর্শ (الملة) থেকে বহিষ্কৃত হলো।" এটি আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম তার সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
ষষ্ঠ দলিল: মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
"من ترك صلاة مكتوبة متعمدا فقد برئت منه ذمة الله". رواه الإمام أحمد ولو كان باقيا على إسلامه لكانت له ذمة الإسلام.
الدليل السابع: ما رواه أبو الدرداء قال أوصاني أبو القاسم صلى الله عليه وسلم أن لا أترك الصلاة متعمدا فمن تركها متعمدا فقد برئت منه الذمة. رواه عبد الرحمن ابن أبي حاتم في سننه.
الدليل الثامن: ما رواه معاذ بن جبل عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "رأس الأمر الإسلام وعموده الصلاة" وهو حديث صحيح مختصر ووجه الاستدلال به أنه أخبر أن الصلاة من الإسلام بمنزلة العمود الذي تقوم عليه تسقط الخيمة بسقوط عمودها فهكذا يذهب الإسلام بذهاب الصلاة وقد احتج أحمد بهذا بعينه.
الدليل التاسع: في الصحيحين والسنن والمسانيد من حديث عبد الله بن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "بني الإسلام على خمس شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة وحج البيت وصوم رمضان". رواه الإمام أحمد وفي بعض ألفاظه الإسلام خمس فذكره.
ووجه الاستدلا به من وجوه: أحدها: أنه جعل الإسلام كالقبة المبنية على خمسة أركان فإذا وقع ركنها الأعظم وقعت قبة الإسلام.
الثاني: أنه جعل هذه الاركان في كونها أركانا لقبة الإسلام قرينة الشهادتين فهما ركن والصلاة ركن والزكاة ركن فما بال قبة الإسلام تبقى بعد سقوط أحد أركانها دون بقية أركانها.
الثالث: أنه جعل هذه الأركان نفس الإسلام وداخلة في مسمى اسمه وما كان أعطى لمجموع أمور إذا ذهب بعضها ذهب ذلك المسمى ولا سيما إذا كان من أركانه لا من اجزائه التي ليست بركن له كالحائظ للبيت فإنه إذا سقط البيت بخلاف العود والخشبة واللبنة ونحوها.
الدليل العاشر: قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من صلى صلاتنا واستقبل قبلتنا وأكل ذبيحتنا فهو المسلم له ما لنا وعليه ما علينا" ووجه الدلالة فيه من وجهين:
أحدهما: أنه إنما جعله مسلما بهذه الثلاثة فلا يكون مسلما بدونها.
"যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ সালাত ছেড়ে দিল, তার থেকে আল্লাহর জিম্মাদারি (ذمة) উঠে গেল।" ইমাম আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন। যদি সে ইসলামের ওপর অবশিষ্ট থাকত, তবে তার জন্য ইসলামের জিম্মাদারি (ذمة) বলবৎ থাকত।
সপ্তম দলিল: আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবুল কাসেম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে অসিয়ত করেছেন যে, আমি যেন ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বর্জন না করি। কেননা যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তা বর্জন করে, তার থেকে জিম্মাদারি (ذمة) উঠে যায়। এটি আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
অষ্টম দলিল: মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সব বিষয়ের মূল হলো ইসলাম এবং এর খুঁটি হলো সালাত।" এটি একটি সঠিক (صحيح) সংক্ষিপ্ত হাদিস। এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি হলো, তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, ইসলামের ক্ষেত্রে সালাতের মর্যাদা হলো খুঁটির মতো যার ওপর এটি দণ্ডায়মান থাকে। খুঁটি পড়ে গেলে যেমন তাবু পড়ে যায়, তেমনি সালাত চলে গেলে ইসলামও বিলুপ্ত হয়ে যায়। ইমাম আহমদ ঠিক এ বিষয়টি দিয়েই দলিল পেশ করেছেন।
নবম দলিল: সহিহাইন, সুনান এবং মুসনাদ গ্রন্থসমূহে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা।" ইমাম আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর কিছু শব্দে এসেছে "ইসলাম পাঁচটি জিনিসের ওপর", এরপর তিনি সেগুলো উল্লেখ করেছেন।
এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের কয়েকটি দিক রয়েছে: প্রথমত, তিনি ইসলামকে একটি গম্বুজের সাথে তুলনা করেছেন যা পাঁচটি রুকন (أركان) বা স্তম্ভের ওপর নির্মিত। সুতরাং যখন এর প্রধান রুকন (ركن) বা স্তম্ভটি পড়ে যায়, তখন ইসলামের গম্বুজটিও পড়ে যায়।
দ্বিতীয়ত: তিনি এই রুকন (أركان) বা স্তম্ভগুলোকে ইসলামের গম্বুজের রুকন (أركان) হওয়ার ক্ষেত্রে শাহাদাতাইনের সহযোগী বানিয়েছেন। সুতরাং এই দুটি একটি রুকন (ركن), সালাত একটি রুকন (ركن) এবং জাকাত একটি রুকন (ركن)। অতএব ইসলামের গম্বুজ তার একটি রুকন (ركن) পড়ে যাওয়ার পর কীভাবে টিকে থাকতে পারে, যেখানে অন্য রুকনগুলো অবশিষ্ট নেই?
তৃতিয়ত: তিনি এই রুকন (أركان) বা স্তম্ভগুলোকে ইসলামের মূল সত্তা এবং ইসলামের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর যখন কোনো নাম কতগুলো বিষয়ের সমষ্টির ওপর প্রয়োগ করা হয়, তখন তার কিছু অংশ চলে গেলে সেই নামটিও বিলুপ্ত হয়ে যায়। বিশেষ করে যদি তা হয় তার রুকন (أركان) বা মূল স্তম্ভসমূহের অন্তর্ভুক্ত, সাধারণ কোনো অংশের মতো নয় যা রুকন (ركن) নয়; যেমন ঘরের দেয়াল, যা পড়ে গেলে ঘরই পড়ে যায়, কিন্তু খুঁটি বা কাঠ বা ইটের মতো বিষয়টি তেমন নয়।
দশম দলিল: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি আমাদের মতো সালাত আদায় করল, আমাদের কিবলামুখী হলো এবং আমাদের জবেহ করা পশু ভক্ষণ করল, সেই ব্যক্তিই মুসলিম; আমাদের জন্য যা প্রাপ্য তার জন্যও তা প্রাপ্য এবং আমাদের ওপর যা অর্পিত তার ওপরও তা অর্পিত।" এখান থেকে দলিল গ্রহণের দুটি দিক রয়েছে:
প্রথমটি হলো: তিনি তাকে এই তিনটি কাজের মাধ্যমেই মুসলিম হিসেবে গণ্য করেছেন। সুতরাং এগুলো ছাড়া সে মুসলিম হতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
الثاني: أنه إذا صلى إلى الشرق لم يكن مسلما حتى يصلي إلى قبلة المسلمين فكيف إذا ترك الصلاة بالكلية.
الدليل الحادي عشر: وما رواه الدارمي عبد الله عبد الله بن عبد الرحمن تعظيم قدرالصلاة رقم قال حدثنا يحيى بن حسان حدثنا سليمان بن قرم عن أبي يحيى القتات عن مجاهد عن جابر بن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "مفتاح الجنة الصلاة". وهذا يدل على أن من لم يكن من أهل الصلاة لم تفتح له الجنة وهي تفتح لكل مسلم فليس تاركها مسلم ولا تناقض بين هذا وبين الحديث الآخر وهو قوله: "مفتاح الجنة شهادة أن لا إله إلا الله". فإن الشهادة أصل المفتاح والصلاة وبقية الأركان أسنانه التي لا يحصل الفتح إلا بها إذ دخول الجنة موقوف على المفتاح وأسنانه. وقال البخاري: وقيل لوهب بن منبه أليس مفتاح الجنة لاإله إلا الله قال: بلى ولكن ليس مفتاح إلا وله أسنان فإن جئت بمفتاح له أسنان فتح لك وإلا لم يفتح لك.
الدليل الثاني عشر: ما رواه محجن بن الأدرع الأسلمي أنه كان في مجلس النبي صلى الله عليه وسلم فأذن بالصلاة فقام النبي صلى الله عليه وسلم ثم رجع ومحجن في مجلسه فقال له: "ما منعك أن تصلي ألست برجل مسلم"؟ . قال: بلى ولكني صليت في أهلي فقال له: "إذا جئت فصل مع الناس وإن كنت قد صليت". رواه الإمام أحمد المسند والنسائي.
فجعل الفارق بين المسلم والكافر الصلاة وأنت تجد تحت الفاظ الحديث أنك لو كنت مسلما لصليت وهذا كما تقول: مالك لا تتكلم ألست بناطق وما لك لا تتحرك ألست بحي؟ ولو كان الإسلام يثبت مع عدم الصلاة لما قال لمن رآه لا يصلي ألست برجل مسلم؟.
فصل:
وأما إجماع الصحابة فقال ابن زنجويه حدثنا عمر بن الربيع حدثنا يحيى بن أيوب عن يونس عن ابن شهاب قال حدثني عبيد الله بن عبد الله بن عتبة أن عبد الله بن عباس أخبره أنه جاء عمر بن الخطاب حين طعن في المسجد. قال: فاحتملته أنا ورهط كانوا معي في المسجد حتى أدخلناه بيته. قال: فأمر عبد الرحمن بن عوف أن يصلي بالناس. قال: فلما دخلنا على عمر بيته غشي عليه من الموت فلم يزل في غشيته حتى أسفر
দ্বিতীয়ত: যদি কেউ পূর্বদিকে মুখ করে সালাত আদায় করে, তবে সে ততক্ষণ পর্যন্ত মুসলিম হবে না যতক্ষণ না সে মুসলিমদের কিবলার দিকে ফিরে সালাত আদায় করে; তাহলে বিষয়টি কেমন হবে যদি সে পুরোপুরি সালাতই বর্জন করে?
একাদশ দলিল: ইমাম আদ-দারিমি এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান 'তা'জিমু কদরিস সালাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান বর্ণনা করেছেন, তিনি সুলাইমান ইবনে করম থেকে, তিনি আবু ইয়াহইয়া আল-কাত্তাত থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "সালাত হলো জান্নাতের চাবিকাঠি।" এটি প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত নয়, তার জন্য জান্নাত খোলা হবে না। অথচ জান্নাত প্রত্যেক মুসলিমের জন্য খোলা হবে; সুতরাং সালাত বর্জনকারী মুসলিম নয়। এই হাদিস এবং অন্য একটি হাদিসের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, যা হলো তাঁর বাণী: "জান্নাতের চাবিকাঠি হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।" কেননা সাক্ষ্য প্রদান হলো চাবিকাঠির মূল কাঠামো, আর সালাত ও অবশিষ্ট রুকনসমূহ হলো এর দাঁত, যা ছাড়া তালা খোলা সম্ভব নয়; যেহেতু জান্নাতে প্রবেশ চাবিকাঠি ও এর দাঁতসমূহের ওপর নির্ভরশীল। ইমাম বুখারি বলেছেন: ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "জান্নাতের চাবিকাঠি কি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' নয়?" তিনি বললেন, "অবশ্যই, তবে এমন কোনো চাবিকাঠি নেই যার দাঁত নেই। সুতরাং তুমি যদি দাঁতবিশিষ্ট চাবিকাঠি নিয়ে আসো, তবে তোমার জন্য (জান্নাত) খোলা হবে, নতুবা খোলা হবে না।"
দ্বাদশ দলিল: মিহজান ইবনুল আদরা আল-আসলামি থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মজলিসে ছিলেন। এরপর সালাতের আজান দেওয়া হলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উঠে গেলেন এবং ফিরে এসে দেখলেন মিহজান তখনও মজলিসে বসে আছেন। তিনি তাকে বললেন: "তোমাকে সালাত আদায় করতে কিসে বাধা দিল? তুমি কি একজন মুসলিম নও?" তিনি বললেন: "অবশ্যই (আমি মুসলিম), কিন্তু আমি আমার পরিবারে সালাত আদায় করে এসেছি।" তখন তিনি তাকে বললেন: "যখন তুমি আসবে, তখন মানুষের সাথে সালাত আদায় করবে, যদিও তুমি ইতিপূর্বে সালাত আদায় করে থাকো।" এটি ইমাম আহমদ মুসনাদে এবং নাসায়ি বর্ণনা করেছেন।
সুতরাং তিনি মুসলিম এবং অবিশ্বাসী (كافر)-এর মধ্যে পার্থক্যকারী বিষয় হিসেবে সালাতকে নির্ধারণ করেছেন। আপনি হাদিসের শব্দের গভীরে লক্ষ্য করলে দেখবেন যে, 'যদি তুমি মুসলিম হতে, তবে অবশ্যই সালাত আদায় করতে'। এটি অনেকটা এমন বলার মতো: "তোমার কী হয়েছে যে কথা বলছ না, তুমি কি বাকশক্তি সম্পন্ন নও?" অথবা "তোমার কী হয়েছে যে নড়াচড়া করছ না, তুমি কি জীবিত নও?" যদি সালাতহীন অবস্থায় ইসলাম সাব্যস্ত হতো, তবে তিনি যাকে সালাত আদায় না করতে দেখেছেন তাকে "তুমি কি একজন মুসলিম নও?" বলতেন না।
পরিচ্ছেদ:
আর সাহাবায়ে কিরামের ঐকমত্য (إجماع)-এর ব্যাপারে ইবনে জানজুয়াহ বলেন: আমাদের নিকট উমর ইবনুর রবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব বর্ণনা করেছেন ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেন: উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস তাকে জানিয়েছেন যে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট তখন এসেছিলেন যখন মসজিদে তাকে আঘাত করা হয়েছিল। তিনি বলেন: আমি এবং মসজিদে আমার সাথে থাকা একটি দল তাকে বহন করে তার ঘরে নিয়ে গেলাম। তিনি বলেন: উমর (রা.) আবদুর রহমান ইবনে আউফকে নির্দেশ দিলেন মানুষের সালাতের ইমামতি করতে। তিনি বলেন: আমরা যখন উমরের ঘরে প্রবেশ করলাম, তখন তিনি মৃত্যুর যন্ত্রণায় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় অচেতন ছিলেন যতক্ষণ না ভোর হলো।
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
ثم أفاق فقال: هل صلى الناس؟. قال: فقلنا نعم. فقال: لا إسلام لمن ترك الصلاة. وفي سياق آخر: لا حظ في الإسلام لمن ترك الصلاة، ثم دعا بوضوء فتوضأ وصلى، "وذكر القصة". فقال هذا بمحضر من الصحابة ولم ينكروه عليه وقد تقدم مثل ذلك عن معاذ بن جبل وعبد الرحمن بن عوف وأبي هريرة ولا يعلم عن صحابي خلافهم، وقال الحافظ عبد الحق الاشبيلي رحمه الله في كتابه في الصلاة: ذهب جملة من الصحابة رضي الله عنهم ومن بعدهم إلى تكفير تارك الصلاة متعمدا لتركها حتى يخرج جميع وقتها، منهم عمر بن الخطاب ومعاذ بن جبل وعبد الله بن مسعود وابن عباس وجابر وأبو الدرداء، وكذلك روي عن علي بن أبي طالب هؤلاء من الصحابة. ومن غيرهم: أحمد بن حنبل وإسحاق بن راهوية وعبد الله بن المبارك وإبراهيم النخعي والحكم بن عيينة وأيوب السختياني وأبو داود الطيالسي وأبو بكر ابن أبي شيبة وأبو خيثمة زهير بن حرب. قال: المانعون من التكفير يجب حمل هذه الأحاديث وما شاكلها على كفر النعمة دون كفر الجحود كقوله صلى الله عليه وسلم: "من تعلم الرمي ثم تركه فهي نعمة كفرها". وقوله: "لا ترغبوا عن آبائكم فإنه كفر بكم". وقوله: "تبرؤه من نسب وإن دق كفر بعد إيمان". وقوله: "سباب المسلم فسوق وقتاله كفر". وقوله: "من أتى امرأة في دبرها فقد كفر بما أنزل على محمد". وقوله: "من حلف بغير الله فقد كفر". رواه الحاكم في صحيحه بهذا اللفظ وقوله: "اثنتان في أمتي هما بهم كفر الطعن في الأنساب والنياحة على الميت". ونظائر ذلك كثيرة.
قالوا: وقد نفى النبي صلى الله عليه وسلم الإيمان عن الزاني والسارق وشارب الخمر والمنتهب ولم يوجب زوال هذا الاسم عنهم كفر الجحود والخلود في النار فكذلك كفر تارك الصلاة ليس بكفر جحود ولا يوجب التخليد في الجحيم وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا إيمان لمن لا أمانة له". فنفى عنه الإيمان ولا يوجب ترك أداء الأمانة أن يكون كافرا كفرا ينقل عن الملة. وقد قال ابن عباس في قوله تعالى: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} : ليس بالكفر الذي يذهبون إليه. وقد قال طاووس: سئل ابن عباس عن هذه الآية فقال: هو
এরপর তিনি চেতনা ফিরে পেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: "মানুষ কি নামাজ পড়েছে?" আমরা বললাম: "হ্যাঁ।" তখন তিনি বললেন: "যে নামাজ বর্জন করে ইসলামের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।" অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি নামাজ ত্যাগ করে ইসলামে তার কোনো অংশ নেই।" এরপর তিনি ওজুর পানি চাইলেন এবং ওজু করে নামাজ আদায় করলেন। [বর্ণনাকারী এখানে পুরো ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন]। তিনি সাহাবীদের উপস্থিতিতে এ কথা বলেছিলেন এবং তারা এর প্রতিবাদ করেননি। ইতিপূর্বে মুয়াজ বিন জাবাল, আবদুর রহমান বিন আউফ এবং আবু হুরায়রা থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং কোনো সাহাবী থেকে এর বিপরীতে কিছু জানা যায়নি। হাফেজ আব্দুল হক আল-ইশবিলি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাবুস সালাত-এ বলেছেন: একদল সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাঁদের পরবর্তীগণ ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ বর্জনকারীকে অবিশ্বাসী বা কাফের সাব্যস্ত করার (تكفير) অভিমত ব্যক্ত করেছেন, যতক্ষণ না নামাজের পুরো সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উমর বিন খাত্তাব, মুয়াজ বিন জাবাল, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, ইবনে আব্বাস, জাবির এবং আবু দারদা। একইভাবে আলী বিন আবি তালিব থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে; এঁরা সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত। আর অন্যদের মধ্যে রয়েছেন: আহমদ বিন হাম্বল, ইসহাক বিন রাহওয়াইহি, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, ইব্রাহিম নাখয়ি, হাকাম বিন উয়াইনা, আইয়ুব সাখতিয়ানি, আবু দাউদ তায়ালিসি, আবু বকর ইবনে আবি শাইবা এবং আবু খাইসামা জুহাইর বিন হারব। তিনি বলেন: যারা কাফের সাব্যস্ত করার (تكفير) বিপক্ষে, তারা এই সকল হাদিস ও এর সদৃশ বর্ণনাগুলোকে অকৃতজ্ঞতা জনিত কুফর (كفر النعمة) হিসেবে গণ্য করেছেন, অস্বীকারমূলক কুফর (كفر الجحود) হিসেবে নয়। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি তীর নিক্ষেপ শিখল অতঃপর তা ত্যাগ করল, সে একটি নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা করল।" এবং তাঁর বাণী: "তোমরা তোমাদের পিতৃপরিচয় থেকে বিমুখ হয়ো না, কেননা তা তোমাদের জন্য কুফর (كفر)।" এবং তাঁর বাণী: "বংশপরিচয় অস্বীকার করা, তা সামান্য হলেও ঈমানের পর কুফর (كفر) সমতুল্য।" এবং তাঁর বাণী: "মুসলিমকে গালি দেওয়া পাপাচার (فسوق) এবং তার সাথে লড়াই করা কুফর (كفر)।" এবং তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি স্ত্রীর মলদ্বার দিয়ে সঙ্গম করল, সে মুহাম্মদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার সাথে কুফর (كفر) করল।" এবং তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করল, সে কুফর (كفر) করল।" ইমাম হাকেম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এই শব্দেই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আর নবীজির বাণী: "আমার উম্মতের মাঝে দুটি বিষয় কুফর (كفر) হিসেবে গণ্য: বংশমর্যাদায় আঘাত করা এবং মৃতের জন্য বিলাপ করা।" এ জাতীয় দৃষ্টান্ত আরও অনেক রয়েছে।
তারা বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যভিচারী, চোর, মদ্যপায়ী এবং লুণ্ঠনকারীর ঈমান নাকচ করেছেন, অথচ এর দ্বারা তাদের ক্ষেত্রে অস্বীকারমূলক কুফর (كفر الجحود) সাব্যস্ত হওয়া কিংবা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়া আবশ্যক হয়ে যায়নি। অনুরূপভাবে নামাজ বর্জনকারীর কুফর (كفر) কোনো অস্বীকারমূলক কুফর (كفر الجحود) নয় এবং তা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার কারণও নয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: "যার আমানতদারি নেই তার ঈমান নেই।" এখানে তিনি ঈমান নাকচ করেছেন, কিন্তু আমানত আদায়ে অবহেলাকারীকে এমন কাফের (كافر) হওয়া আবশ্যক করে না যা তাকে ধর্ম থেকে বহিষ্কার করে দেয়। আল্লাহ তাআলার বাণী: {যারা আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই কাফের (الكافرون)}—এর প্রসঙ্গে ইবনে আব্বাস বলেছেন: "এটি সেই কুফর (كفر) নয় যেদিকে তারা ধাবিত হচ্ছে।" তাউস বলেন: ইবনে আব্বাসকে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "এটি হচ্ছে..."
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
به كفر، وليس كمن كفر بالله وملائكته وكتبه ورسله. وقال أيضا: كفر لا ينقل عن الملة. وقال سفيان عن ابن جريح عن عطاء: كفر دون كفر وظلم دون ظلم وفسق دون فسق.
فصل: في الحكم بين الفريقين، وفصل الخطاب بين الطائفين.
معرفة الصواب في هذه المسألة مبني على معرفة حقيقة الإيمان والكفر، ثم يصح النفي والإثبات بعد ذلك. فالكفر والإيمان متقابلان إذا زال أحدهما خلفه الآخر، ولما كان الإيمان أصلا له شعب متعددة وكل شعبة منها تسمى إيمانا فالصلاة من الإيمان وكذلك الزكاة والحج والصيام والأعمال الباطنة كالحياء والتوكل والخشية من الله والإنابة إليه حتى تنتهي هذه الشعب إلى إماطة1 الأذى عن الطريق فإنه شعبة من شعب الإيمان، وهذه الشعب منها ما يزول الإيمان بزوالها كشعبة الشهادة، ومنها ما لا يزول بزوالها كترك إماطة الأذى عن الطريق، وبينهما شعب متفاوتة تفاوتا عظيما منها ما يلحق بشعبة الشهادة ويكون إليها أقرب، ومنها ما يلحق بشعبة إماطة الأذى ويكون إليها أقرب.
وكذلك الكفر ذو أصل وشعب. فكما أن شعب الإيمان إيمان فشعب الكفر كفر، والحياء شعبة من الإيمان، وقلة الحياء شعبة من شعب الكفر، والصدق شعبة من شعب الإيمان والكذب شعبة من شعب الكفر، والصلاة والزكاة والحج والصيام من شعب الإيمان، وتركها من شعب الكفر، والحكم بما أنزل الله من شعب الإيمان والحكم بغير ما أنزل الله من شعب الكفر، والمعاصي كلها من شعب الكفر كما أن الطاعات كلها من شعب الإيمان. وشعب الإيمان قسمان: قولية وفعلية. وكذلك شعب الكفر نوعان: قولية وفعلية. ومن شعب الإيمان القولية شعبة يوجب زوالها زوال الإيمان، فكذلك من شعبه الفعلية ما يوجب زوالها زوال الإيمان وكذلك شعب الكفر القولية والفعلية. فكما يكفر بالإتيان بكلمة الكفر اختيارا وهي شعبة من شعب الكفر
--------------------------------------------
এতে কুফর (كفر) রয়েছে, তবে এটি আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসুলগণের প্রতি কুফর (كفر) পোষণকারীর মতো নয়। তিনি আরও বলেছেন: এটি এমন কুফর (كفر) যা দ্বীন বা ধর্মাদর্শ (الملة) থেকে বের করে দেয় না। সুফিয়ান ইবনে জুরাইজ হতে এবং তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেন: এক কুফর (كفر) অন্য কুফরের (كفر) চেয়ে নিম্নতর, এক জুলুম (ظلم) অন্য জুলুমের (ظلم) চেয়ে নিম্নতর এবং এক ফাসিকি (فسق) অন্য ফাসিকির (فسق) চেয়ে নিম্নতর।
পরিচ্ছেদ: দুই দলের মধ্যে বিচার এবং দুই পক্ষের মধ্যকার বিরোধ নিরসনকারী চূড়ান্ত বক্তব্য।
এই মাসআলায় সঠিক বিষয়টি জানা ঈমান (الإيمان) এবং কুফরের (الكفر) হাকীকত বা প্রকৃত স্বরূপ জানার ওপর নির্ভরশীল; এরপরই কেবল কোনো কিছুকে অস্বীকার (النفي) বা সাব্যস্ত (الإثبات) করা সঠিক হবে। কুফর (كفر) ও ঈমান (إيمان) একে অপরের বিপরীত; যখন একটি অপসারিত হয়, তখন অন্যটি তার স্থলাভিষিক্ত হয়। যেহেতু ঈমান (إيمان) এমন একটি মূল যার বহু শাখা (شعب) রয়েছে এবং এর প্রতিটি শাখাকেই ঈমান (إيمان) বলা হয়; তাই সালাত ঈমানের (إيمان) অন্তর্ভুক্ত, তেমনিভাবে জাকাত, হজ, সিয়াম এবং অভ্যন্তরীণ আমলসমূহ যেমন—লজ্জাশীলতা (الحياء), তাওয়াক্কুল (التوكل), আল্লাহভীতি (الخشية) এবং আল্লাহভিমুখী হওয়া (الإنابة); এমনকি এই শাখাগুলো (شعب) রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা (إماطة) পর্যন্ত বিস্তৃত, যা ঈমানের (إيمان) শাখাগুলোর (شعب) অন্তর্ভুক্ত। এই শাখাগুলোর (شعب) মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা বিলুপ্ত হলে ঈমান (إيمان) বিলুপ্ত হয়ে যায়, যেমন—সাক্ষ্য প্রদানের (الشهادة) শাখাটি। আবার এমন কিছু শাখা রয়েছে যা বিলুপ্ত হলেও ঈমান (إيمان) বিলুপ্ত হয় না, যেমন—রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো পরিত্যাগ করা। এই দুইয়ের মাঝে আরও অনেক শাখা (شعب) রয়েছে যেগুলোর মধ্যে বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান; কিছু সাক্ষ্য প্রদানের (الشهادة) শাখার অন্তর্ভুক্ত এবং তার অতি নিকটবর্তী, আবার কিছু রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোর শাখার অন্তর্ভুক্ত এবং তার অতি নিকটবর্তী।
অনুরূপভাবে, কুফরেরও (الكفر) মূল এবং বিভিন্ন শাখা (شعب) রয়েছে। ঈমানের (إيمان) শাখাগুলো যেমন ঈমান (إيمان), তেমনি কুফরের (كفر) শাখাগুলোও কুফর (كفر)। লজ্জাশীলতা (الحياء) ঈমানের (إيمان) একটি শাখা, আর নির্লজ্জতা কুফরের (كفر) একটি শাখা। সত্যবাদিতা ঈমানের (إيمان) একটি শাখা এবং মিথ্যাচার কুফরের (كفر) একটি শাখা। সালাত, জাকাত, হজ ও সিয়াম ঈমানের (إيمان) শাখাগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলো বর্জন করা কুফরের (كفر) শাখাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করা ঈমানের (إيمان) শাখা এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা বিচার করা কুফরের (كفر) শাখা। সমস্ত পাপাচার (المعاصي) কুফরের (كفر) শাখা, যেমন সমস্ত আনুগত্যপূর্ণ কাজ (الطاعات) ঈমানের (إيمان) শাখা। ঈমানের (إيمان) শাখা দুই প্রকার: মৌখিক (قولية) ও কর্মগত (فعلية)। একইভাবে কুফরের (كفر) শাখা দুই প্রকার: মৌখিক (قولية) ও কর্মগত (فعلية)। ঈমানের (إيمان) মৌখিক শাখাগুলোর মধ্যে এমন শাখা রয়েছে যার বিলুপ্তিতে ঈমান (إيمان) বিলুপ্ত হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে; একইভাবে কর্মগত শাখাগুলোর (فعليّة) মধ্যেও এমন কিছু রয়েছে যার বিলুপ্তিতে ঈমান (إيمان) বিলুপ্ত হওয়া অনিবার্য হয়। কুফরের (كفر) মৌখিক ও কর্মগত শাখার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যেমন—স্বেচ্ছায় কুফরি (كفر) বাক্য উচ্চারণ করলে ব্যক্তি কাফির হয়ে যায়, যা কুফরের (كفر) একটি শাখা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সালাহ - ইবনুল কায়্যিম - ত জাকারিয়া ইউসুফ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
فكذلك يكفر بفعل شعبة من شعبه كالسجود للصنم والاستهانة بالمصحف فهذا أصل، وها هنا أصل آخر: وهو أن حقيقة الإيمان مركبة من قول وعمل. والقول قسمان: قول القلب وهو الاعتقاد وقول اللسان وهوالتكلم بكلمة الإسلام، والعمل قسمان: عمل القلب وهو نيته وإخلاصه، وعمل الجوارح، فإذا زالت هذه الأربعة زال الإيمان بكماله وإذا زال تصديق القلب لم تنفع بقية الأجزاء فإن تصديق القلب شرط في اعتقادها وكونها نافعة، وإذا زال عمل القلب مع اعتقاد الصدق فهذا موضع المعركة بين المرجئة وأهل السنة.
فأهل السنة مجمعون على زوال الإيمان وأنه لا ينفع التصديق مع انتفاء عمل القلب، وهومحبته وانقياده كما لم ينفع إبليس وفرعون وقومه واليهود والمشركين الذين كانوا يعتقدون صدق الرسول صلى الله عليه وسلم بل ويقرون به سرا وجهرا ويقولون ليس بكاذب ولكن لا نتبعه ولا نؤمن به.
فإذا كان الإيمان يزول بزوال عمل القلب فغير مستنكر أن يزول بزوال أعظم أعمال الجوارح ولا سيما إذا كان ملزوما لعدم محبة القلب وانقياده الذي هو ملزوم لعدم التصديق الجازم كما تقدم تقريره فإنه يلزمه من عدم طاعة القلب عدم طاعة الجوارح إذ لو أطاع القلب وانقاد أطاعت الجوارح وانقادت، ويلزم من عدم طاعته وانقياده عدم التصديق المستلزم للطاعة وهو حقيقة الإيمان، فإن الإيمان ليس مجرد التصديق كما تقدم بيانه وإنما هو التصديق المستلزم للطاعة والانقياد وهكذا الهدى ليس هو مجرد معرفة الحق وتبينه بل هو معرفته المستلزمة لاتباعه والعمل بموجبه وإن سمي الأول هدى فليس هو الهدى التام المستلزم للاهتداء كما أن اعتقاد التصديق وإن سمي تصديقا فليس هو التصديق المستلزم للإيمان فعليك بمراجعة هذا الأصل ومراعاته.
"فصل": وها هنا أصل آخر وهو أن الكفر نوعان: كفر عمل وكفر جحود وعناد، فكفر الجحود أن يكفر بما علم أن الرسول جاء به من عند الله جحودا وعنادا من أسماء الرب وصفاته وأفعاله وأحكامه، وهذا الكفر يضاد الإيمان من كل وجه.
তেমনিভাবে, ইমানের শাখাগুলোর (شعبة) মধ্যে কোনো একটি শাখা সম্পাদনের মাধ্যমে ব্যক্তি কাফির হয়ে যায়, যেমন মূর্তিকে সেজদা করা এবং কুরআনকে অবমাননা করা। এটি একটি মূলনীতি; এখানে আরও একটি মূলনীতি রয়েছে: আর তা হলো, ইমানের হাকিকত বা প্রকৃত রূপ কথা (قول) এবং কর্মের (عمل) সমন্বয়ে গঠিত। আর কথা (قول) দুই প্রকার: হৃদয়ের কথা, যা হলো বিশ্বাস (اعتقاد) এবং জিহ্বার কথা, যা হলো ইসলামের কালিমা উচ্চারণ করা। আর কর্ম (عمل) দুই প্রকার: হৃদয়ের কর্ম, যা হলো নিয়ত (نية) ও ইখলাস (إخلاص), এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কর্ম (عمل الجوارح)। যখন এই চারটি বিষয় বিলুপ্ত হয়, তখন পূর্ণাঙ্গ ইমানও বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর যদি হৃদয়ের সত্যায়ন (تصديق) বিলুপ্ত হয়, তবে বাকি অংশগুলো কোনো উপকারে আসে না; কারণ হৃদয়ের সত্যায়ন (تصديق) হলো সেগুলোর বিশ্বাস (اعتقاد) এবং উপকারী হওয়ার জন্য শর্ত (شرط)। আর যদি সত্যের প্রতি বিশ্বাস (اعتقاد) থাকা সত্ত্বেও হৃদয়ের কর্ম (عمل القلب) বিলুপ্ত হয়, তবে এটিই হলো মুরজিয়া (المرجئة) এবং আহলুস সুন্নাহর (أهل السنة) মধ্যকার মূল বিরোধের জায়গা।
আহলুস সুন্নাহ (أهل السنة) এ ব্যাপারে একমত (مجمعون) যে, ইমান বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং হৃদয়ের কর্ম (عمل القلب) অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা (محبة) ও আনুগত্য (انقياد) ছাড়া কেবল সত্যায়ন (تصديق) কোনো উপকারে আসবে না; যেমন ইবলিস, ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়, ইহুদি এবং সেই মুশরিকদের কোনো উপকারে আসেনি যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্যতার প্রতি বিশ্বাস (اعتقاد) পোষণ করত, এমনকি তারা গোপনে ও প্রকাশ্যে তা স্বীকারও করত এবং বলত যে তিনি মিথ্যাবাদী নন, কিন্তু তারা বলত: "আমরা তাকে অনুসরণ করব না এবং তার প্রতি ইমান আনব না।"
সুতরাং যদি হৃদয়ের কর্ম (عمل القلب) বিলুপ্ত হওয়ার কারণে ইমান বিলুপ্ত হয়, তবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের শ্রেষ্ঠ আমলসমূহ (عمل الجوارح) বিলুপ্ত হওয়ার কারণেও ইমান বিলুপ্ত হওয়াটা অযৌক্তিক নয়। বিশেষ করে যখন এটি হৃদয়ের ভালোবাসা (محبة) ও আনুগত্যের (انقياد) অনুপস্থিতিকে আবশ্যক করে তোলে, যা আবার দৃঢ় সত্যায়ন (تصديق) না থাকাকেই আবশ্যক করে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। কেননা হৃদয়ের আনুগত্য (طاعة) না থাকলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আনুগত্যও (طاعة) থাকে না; কারণ যদি হৃদয় আনুগত্য করত ও অনুগত (انقاد) হতো, তবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গও আনুগত্য করত ও অনুগত হতো। আর হৃদয়ের আনুগত্য ও অনুগমন না থাকাটা সেই সত্যায়ন (تصديق) না থাকাকেই আবশ্যক করে যা আনুগত্যকে (طاعة) অপরিহার্য করে তোলে, আর এটিই ইমানের হাকিকত বা প্রকৃত রূপ। কেননা ইমান কেবল নিছক সত্যায়ন (تصديق) নয়, যেমনটি আগে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, বরং এটি এমন সত্যায়ন (تصديق) যা আনুগত্য (طاعة) ও অনুগমনকে (انقياد) অপরিহার্য করে। অনুরূপভাবে হিদায়াতও (الهدى) কেবল সত্যের পরিচয় লাভ ও তা স্পষ্ট হওয়া নয়, বরং এটি হলো এমন জ্ঞান যা সত্যের অনুসরণ (اتباع) এবং সেই অনুযায়ী আমল (عمل) করাকে আবশ্যক করে। যদিও প্রথমোক্ত বিষয়টিকে হিদায়াত (هدى) বলা হয়, তবে তা হিদায়াত প্রাপ্তিকে (اهتداء) নিশ্চিতকারী পূর্ণাঙ্গ হিদায়াত (الهدى التام) নয়। যেমন সত্যায়নের বিশ্বাসকে (اعتقاد) যদিও সত্যায়ন (تصديق) বলা হয়, তবে তা ইমানকে আবশ্যককারী সত্যায়ন (تصديق) নয়। সুতরাং আপনার উচিত এই মূলনীতিটি পুনরায় পর্যালোচনা করা এবং তা লক্ষ্য রাখা।
"পরিচ্ছেদ": এখানে আরেকটি মূলনীতি রয়েছে, আর তা হলো কুফর (كفر) দুই প্রকার: কর্মগত কুফর (كفر عمل) এবং অস্বীকার ও হঠকারিতামূলক কুফর (كفر جحود وعناد)। অস্বীকারমূলক কুফর (كفر الجحود) হলো—আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি, কার্যাবলি ও বিধানসমূহের মধ্য থেকে যা কিছু রাসূল আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন বলে প্রমাণিত, তা অস্বীকার (جحود) ও হঠকারিতার (عناد) বশবর্তী হয়ে প্রত্যাখ্যান করা। এই কুফর (كفر) সর্বদিক দিয়ে ইমানের পরিপন্থী।