(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: -)
الصفات الإلهية تعريفها، أقسامها القسم: العقيدة
الكتاب: الصفات الإلهية تعريفها، أقسامها
المؤلف: محمد بن خليفة بن علي التميمي
الناشر: أضواء السلف، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1422هـ/2002م
عدد الصفحات: 93
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল্লাহর গুণাবলি: সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ বিভাগ: আকিদাহ
বই: আল্লাহর গুণাবলি: সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
লেখক: মুহাম্মাদ বিন খলিফা বিন আলি আল-তামিমি
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি/২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৩
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
الصفات الإلهية تعريفها وأقسامها
إعداد: د. محمد بن خليفة بن علي التميمي
الأستاذ المشارك في كلية الدعوة وأصول الدين بالجامعة الإسلامية
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران 102] .
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} [النساء 1] .
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} [الأحزاب 71 - 72] .
أما بعد
فإن شرف العلم تابع لشرف المعلوم، ولا ريب أن أجل معلوم وأعظمه وأكبره هو الله الذي لا إله إلا هو رب العالمين، وقيوم السماوات والأرضين، الملك الحق المبين، الموصوف بالكمال كله، المنزه عن كل عيب ونقص، وعن كل تشبيه وتمثيل في كماله.
ولا ريب أن العلم بأسمائه وصفاته وأفعاله أجل العلوم وأفضلها، ونسبته إلى
আল্লাহর গুণাবলি: সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
প্রস্তুতিতে: ড. মুহাম্মাদ বিন খলিফা বিন আলি আত-তামিমি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকানিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল-ইমরান: ১০২]।
{হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং সতর্ক থাকো রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা বন্ধন অটুট রাখতে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [আন-নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১] ।
অতঃপর
নিশ্চয়ই ইলম বা জ্ঞানের মর্যাদা নির্ভর করে জ্ঞাত বিষয়ের (যার সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা হয়) মর্যাদার ওপর। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সবচেয়ে মহান, শ্রেষ্ঠ ও বড় জ্ঞাত বিষয় হলেন আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি জগতসমূহের রব এবং আসমান ও জমিনসমূহের ধারক। তিনি সত্য ও সুস্পষ্ট রাজাধিপতি, যিনি সর্বপ্রকার পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত, সর্বপ্রকার দোষ ও ত্রুটি থেকে মুক্ত এবং তাঁর পূর্ণতার ক্ষেত্রে সকল প্রকার সাদৃশ্য ও উপমা থেকে পবিত্র।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলি এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত জ্ঞানই হলো সবচেয়ে মহান ও শ্রেষ্ঠ জ্ঞান। আর এর সাথে অন্যান্য বিষয়ের সম্বন্ধ হলো...
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
سائر العلوم كنسبة معلومه إلى سائر المعلومات1.
وكما أنه أجل العلوم وأشرفها وأعظمها، فهو أصلها كلها، فكل علم هو تابع للعلم به، مفتقر في تحقيق ذاته إليه، فالعلم به أصلُ كل علم ومنشؤه، فمن عرف الله عرف ما سواه، ومن جهل ربه فهو لما سواه أجهل، فعلى أساس العلم الصحيح بالله وأسمائه وصفاته يقوم الإيمان الصحيح والتوحيد الخالص، وتنبني مطالب الرسالة جميعها، فلا حياة للقلوب ولا نعيم، ولا سرور، ولا أمان، ولا طمأنينة إلا بأن تعرف ربها ومعبودها وفاطرها ويكون أحب إليها مما سواه، والإنسان بدون الإيمان بالله لا يمكنه أن ينال معرفة ولا هداية، وبدون اهتدائه إلى ربه لا يكون إلا شقياً معذباً، كما هو حال الكافرين. لذلك فإن من في قلبه أدنى حياة أو محبة لربه، وإرادة لوجهه وشوق إلى لقائه، فطلبه لهذا الباب وحرصه على معرفته وازدياده من التبصر فيه، وسؤاله واستكشافه عنه هو أكبر مقاصده، وأعظم مطالبه، وأجل غاياته، فهذا هو الكمال الذي لا كمال للعبد بدونه؛ وله خُلِقَ الخلق؛ ولأجله نزل الوحي؛ وأرسلت الرسل؛ وقامت السماوات والأرض؛ ووجدت الجنة والنار، ولأجله شرعت الشرائع، وأسست الملة، ونصبت القبلة، وهو قطب رحى الخلق، والأمر الذي مداره عليه.
وهو بحق أفضل ما اكتسبته القلوب، وحصلته النفوس، وأدركته العقول، وليست القلوب الصحيحة والنفوس المطمئنة إلى شييء من الأشياء أشوق منها إلى معرفة هذا الأمر ولا فرحها بشييء أعظم من
--------------------------------------------
অন্যান্য বিজ্ঞানের তুলনায় এর সম্পর্ক হলো জানা বিষয়ের সাথে অন্যান্য সব তথ্যের সম্পর্কের মতো।১।
আর এটি যেহেতু বিজ্ঞানের মধ্যে সর্বাধিক মহিমান্বিত, সর্বশ্রেষ্ঠ এবং মহান, তাই এটি হলো সকল বিজ্ঞানের মূল। প্রতিটি বিজ্ঞানই তাঁর সম্পর্কিত জ্ঞানের অনুসারী এবং আপন অস্তিত্বের উপলব্ধিতে এর প্রতি মুখাপেক্ষী। সুতরাং তাঁর সম্পর্কিত জ্ঞানই সকল বিজ্ঞানের মূল ও উৎস। যে ব্যক্তি আল্লাহকে চিনল, সে অন্য সবকিছুকেও চিনল। আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালক সম্পর্কে অজ্ঞ রইল, সে অন্য সবকিছু সম্পর্কে অধিকতর অজ্ঞ। অতএব, আল্লাহ এবং তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলী সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের ভিত্তিতেই সঠিক ঈমান ও বিশুদ্ধ তাওহীদ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং রিসালাতের সকল দাবি এর উপরই নির্মিত হয়। অন্তরসমূহের জন্য কোনো জীবন নেই, নেই কোনো নেয়ামত, নেই কোনো আনন্দ, নেই কোনো নিরাপত্তা এবং নেই কোনো প্রশান্তি; যতক্ষণ না সে তার প্রতিপালক, মাবুদ ও স্রষ্টাকে চিনবে এবং তিনি তার কাছে অন্য সবকিছু অপেক্ষা অধিক প্রিয় হবেন। আল্লাহর প্রতি ঈমান ব্যতিরেকে মানুষের পক্ষে কোনো জ্ঞান বা হেদায়েত লাভ করা সম্ভব নয়। নিজ প্রতিপালকের প্রতি পথনির্দেশনা লাভ করা ছাড়া সে কেবল হতভাগা ও যন্ত্রণাকাতরই হবে, যেমনটি কাফেরদের অবস্থা। সুতরাং যার হৃদয়ে বিন্দুমাত্র জীবন বা তার প্রতিপালকের প্রতি ভালোবাসা আছে, এবং তাঁর সন্তুষ্টি লাভের ইচ্ছা ও তাঁর সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, তবে এই প্রসঙ্গের সন্ধান করা, এটি জানার ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া, এতে দূরদর্শিতা বৃদ্ধি করা এবং এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা ও অনুসন্ধান করাই তার সর্ববৃহৎ উদ্দেশ্য, মহান দাবি এবং সর্বোচ্চ লক্ষ্য। এটিই হলো সেই পূর্ণতা যা ব্যতীত বান্দার কোনো পূর্ণতা নেই। এরই জন্য সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এরই জন্য ওহী নাজিল হয়েছে, রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে। এরই জন্য শরীয়তসমূহ প্রবর্তন করা হয়েছে, ধর্মীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং কিবলা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটিই হলো সৃষ্টির আবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু এবং এমন এক বিষয় যাকে কেন্দ্র করেই সবকিছু আবর্তিত হয়।
এটিই প্রকৃতপক্ষে সেই সর্বোত্তম বস্তু যা অন্তরসমূহ অর্জন করেছে, আত্মাসমূহ হাসিল করেছে এবং বিবেকসমূহ উপলব্ধি করেছে। সুস্থ অন্তর ও প্রশান্ত আত্মাসমূহ অন্য কোনো কিছুর প্রতি ততটা ব্যাকুল নয় যতটা এই বিষয়টি জানার প্রতি ব্যাকুল, আর কোনো কিছুতেই তাদের আনন্দ এর চেয়ে মহান নয় যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
فرحها بالظفر بمعرفة الحق فيه1.
وبابٌ هذه أهميته حريّ بأن تُوْلَى مسائلهُ ومباحثهُ حقها من العناية والاهتمام والدراسة، وإن من بين مباحث هذا الباب مسألة: "تعريف الصفات الإلهية وبيان أقسامها".
فأحببت تناول هذه الجزئية بالبحث آخذاً في الاعتبار إعطاء الأهمية لتحرير قول أهل السنة والجماعة في المسألة مع الإشارة إلى أقوال المخالفين بحسب ما تدعو إليه الحاجة وذلك في فصلين تسبقهما مقدمة وتعقبهما خاتمة وفهارس فنيّة:
المقدمة.
الفصل الأول: تعريف الصفات والعلاقة بينها وبين باب الأسماء وباب الإخبار، وتحته ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: تعريف الصفات، وضَمَّ مطلبين:
المطلب الأول: تعريف الصفات.
المطلب الثاني: الفرق بين الوصف والصفة.
المبحث الثاني: أنواع المضافات إلى الله، وانتظم ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: التعريف بالنوعين.
المطلب الثاني: أقوال العلماء في تقرير المسألة.
المطلب الثالث: موقف المخالفين من المسألة.
المبحث الثالث: العلاقة بين باب الصفات وباب الأسماء وباب الإخبار، وفيه مطلبان:
--------------------------------------------
সত্যের জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে এতে যে আনন্দ অর্জিত হয় তা১।
আর এটি এমন গুরুত্বসম্পন্ন একটি অধ্যায় যে এর মাসআলাসমূহ ও গবেষণার বিষয়সমূহ যথাযথ যত্ন, মনোযোগ ও নিবিড় অধ্যয়নের দাবি রাখে। আর এই অধ্যায়ের আলোচনার বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত একটি মাসআলা হলো: "ইলাহী গুণাবলির সংজ্ঞা ও তার প্রকারভেদ বর্ণনা"।
তাই আমি গবেষণার মাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছি। এতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই মাসআলায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বক্তব্য সুনির্দিষ্ট করার প্রতি, সেই সাথে প্রয়োজনের নিরিখে বিরোধীদের মতামতের দিকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে। এটি দুটি অধ্যায়ে বিভক্ত, যার পূর্বে রয়েছে একটি ভূমিকা এবং পরে রয়েছে একটি উপসংহার ও নির্ঘণ্টসমূহ:
ভূমিকা।
প্রথম অধ্যায়: সিফাতের (গুণাবলি) সংজ্ঞা এবং সিফাত, আসমা (নাম) ও ইখবার (সংবাদ প্রদান) অধ্যায়সমূহের মধ্যকার সম্পর্ক। এর অধীনে রয়েছে তিনটি পরিচ্ছেদ:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সিফাতের সংজ্ঞা, যা দুটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: সিফাতের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ওয়াসফ ও সিফাতের মধ্যে পার্থক্য।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত বিষয়াদির প্রকারভেদ, যা তিনটি অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: উভয় প্রকারের পরিচয়।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বিষয়টি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আলেমদের অভিমত।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এই মাসআলায় বিরোধীদের অবস্থান।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সিফাত, আসমা ও ইখবার অধ্যায়সমূহের মধ্যকার সম্পর্ক, এতে রয়েছে দুটি অনুচ্ছেদ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
المطلب الأول: العلاقة بين الأبواب الثلاثة.
المطلب الثاني: الألفاظ المجملة وحكم دخولها في باب الصفات وموقف أهل السنة من استعمالها.
الفصل الثاني: أقسام الصفات، وهو في مبحثين:
المبحث الأول: أقسام الصفات عند أهل السنة والجماعة، واحتوى مطلبين:
المطلب الأول: أقسام الصفات عموماً.
المطلب الثاني: أقسام الصفات الثبوتية.
المبحث الثاني: أقسام الصفات عند المخالفين، واشتمل مطلبين:
المطلب الأول: أقسام الصفات عند من ينكر جميع الصفات الثبوتية.
المطلب الثاني: أقسام الصفات عند من يثبت بعض الصفات وينكر بعضها.
وختمت ذلك بخاتمة وثبت للمراجع وآخر للموضوعات، وإني لا أدعي أني وصلت بهذا البحث إلى درجة الكمال، ولكن حسبي أني اجتهدت، فإن وفقت فذلك فضل من الله وحده، وإن كان غير ذلك، فهذا من طبيعة البشر، فأرجو ممن وقف على شييء من ذلك أن يبادرني بالنصيحة، وأسأل الله عز وجل أن يتقبل مني هذا الجهد وأن يجعله عملاً صالحاً ولوجهه خالصاً، وأن لا يجعل لأحد فيه شيئا، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
প্রথম পরিচ্ছেদ: তিনটি অধ্যায়ের মধ্যে সম্পর্ক।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অস্পষ্ট শব্দাবলি এবং সিফাত বা গুণাবলির অধ্যায়ে এগুলোর অন্তর্ভুক্তির বিধান এবং এগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাহর অবস্থান।
দ্বিতীয় অধ্যায়: সিফাত বা গুণাবলির প্রকারভেদ, যা দুটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট সিফাত বা গুণাবলির প্রকারভেদ, যা দুটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাধারণভাবে সিফাত বা গুণাবলির প্রকারভেদ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাব্যস্তকৃত সিফাত বা গুণাবলির প্রকারভেদ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বিরোধীদের নিকট সিফাত বা গুণাবলির প্রকারভেদ, যা দুটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সকল সাব্যস্তকৃত সিফাত বা গুণাবলি অস্বীকারকারীদের নিকট সিফাতের প্রকারভেদ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিছু সিফাত বা গুণাবলি সাব্যস্তকারী এবং কিছু অস্বীকারকারীদের নিকট সিফাতের প্রকারভেদ।
আর আমি এই গবেষণাকে একটি উপসংহার, তথ্যসূত্রের তালিকা এবং একটি সূচিপত্র দ্বারা সমাপ্ত করেছি। আমি দাবি করি না যে আমি এই গবেষণার মাধ্যমে পূর্ণতার স্তরে পৌঁছেছি, তবে আমার জন্য এটিই যথেষ্ট যে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। সুতরাং যদি আমি সঠিক হয়ে থাকি, তবে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ। আর যদি এর ব্যতিক্রম কিছু হয়, তবে তা মানুষের মানবীয় স্বভাবজাত সীমাবদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ। তাই যার নিকট এমন কোনো বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হবে, আমি তার নিকট সদুপদেশ প্রদানের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং একে একটি নেক আমল হিসেবে গ্রহণ করে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, আর এতে অন্য কারো কোনো অংশ না রাখেন। আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأول: تعريف الصفات والعلاقة بينها وبين باب الأسماء وباب الإخبار
المبحث الأول: تعريف الصفات
المطلب الأول: تعريف الصفات…المطلب الأول: تعريف الصفات.
حدود الأشياء وتفسيرها الذي يوضحها، تتقدم أحكامها، فإن الحكم على الأشياء فرع عن تصورها. فمن حكم على أمر من الأمور - قبل أن يحيط علمه بتفسيره، ويتصوره تصوراً يميزه عن غيره - أخطأ خطأً فاحشاً1.
فلابد عند الحكم على الشييء من أن يكون مسبوقاً بتصور ماهية المحكوم عليه والمحكوم به، فإن كل تصديق بشييء لابد أن يكون مسبوقاً بتصور2.
والغرض من وضع الحدود والتعريفات هو التمييز بين المحدود وبين غيره من جهة.
وكذلك فإن من وظيفته تفصيل ما دل عليه الاسم بالإجمال، فالحدود والتعريفات تساعد على تصور حقيقة المحدود، ولذلك كان من شرطها أن تكون جامعة مانعة.
فلابد أن يكون الحد جامعاً حتى يتصور السامع حقيقة المحدود، ولابد كذلك أن يكون مانعاً ليتميز المحدود عن غيره3.
ومن هذا المنطلق لابد من تعريف للصفات يساعد على تصور مضمون هذا اللفظ من جهة ويحدد الفروق بين الصفة والاسم من جهة، وبين الصفة والخبر
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সিফাতের (গুণাবলির) সংজ্ঞা এবং আসমা (নামসমূহ) ও ইখবার (সংবাদ প্রদান) অধ্যায়ের সাথে এর সম্পর্ক
প্রথম অনুচ্ছেদ: সিফাতের সংজ্ঞা
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: সিফাতের সংজ্ঞা…প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: সিফাতের সংজ্ঞা।
বস্তুর সংজ্ঞা ও তার ব্যাখ্যামূলক বিশ্লেষণ যা তাকে স্পষ্ট করে, তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিধান প্রদানের অগ্রগামী হয়; কেননা কোনো বিষয়ের ওপর বিধান প্রদান করা সেই বিষয়টি সম্পর্কে ধারণালাভের একটি শাখা মাত্র। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ের ব্যাখ্যা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জনের আগে এবং বিষয়টিকে অন্য বিষয় থেকে পৃথক করার মতো স্পষ্ট ধারণা লাভের আগেই সেটির ওপর কোনো বিধান প্রদান করে, সে এক চরম ভুল করল।১
তাই কোনো বিষয়ের ওপর বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয় (মাহকুম আলাইহি) এবং বিধান (মাহকুম বিহি) সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা থাকা আবশ্যক, কারণ কোনো কিছুর সত্যায়নের পূর্বে সে সম্পর্কে ধারণা থাকা অপরিহার্য।২
একদিক থেকে সংজ্ঞা ও সীমানা নির্ধারণের উদ্দেশ্য হলো সংজ্ঞায়িত বিষয় ও অন্য বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা।
তদ্রূপ সংজ্ঞার কাজ হলো নাম (ইসম) সংক্ষেপে যা নির্দেশ করে তার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া। সুতরাং সংজ্ঞা ও সীমানা সংজ্ঞায়িত বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবনে সহায়তা করে; আর এ কারণেই সংজ্ঞার একটি শর্ত হলো একে 'জামে' (সর্বব্যাপী) ও 'মানি' (বর্জনকারী) হতে হয়।
সুতরাং সংজ্ঞাকে অবশ্যই 'জামে' হতে হবে যাতে শ্রবণকারী সংজ্ঞায়িত বিষয়ের হাকীকত বা প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারে, এবং একে অবশ্যই 'মানি' হতে হবে যাতে সংজ্ঞায়িত বিষয়টি অন্য বিষয় থেকে পৃথক হতে পারে।৩
এই দৃষ্টিকোণ থেকে সিফাতের এমন একটি সংজ্ঞা থাকা আবশ্যক যা একদিক থেকে এই শব্দের মূল বিষয়বস্তু অনুধাবনে সহায়তা করবে এবং অন্যদিকে সিফাত ও আসমা-র মধ্যে এবং সিফাত ও খবর-এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
من جهة أخرى؛ كما يحدد الفرق بين ما يضاف إلى الله إضافة صفة وما يضاف إلى الله إضافة تشريف وتكريم
والتعريف الذي سأذكره هاهنا هو تعريف الصفات الثبوتية، وأما تعريف الصفات السلبية (أي المنفية) فسيأتي عند ذكر أقسام الصفات.
ضابط الصفات: هي ما قام بالذات الإلهية مما يميزها عن غيرها، ووردت به نصوص الكتاب والسنة.
شرح مفردات التعريف:
أ- "ما قام بالذات" يخرج من هذا التقييد ما كان من إضافة المُلْك والتشريف، إذ الإضافة إلى الله نوعان:
النوع الأول: إضافة مُلْك وتشريف وضابطها: كل ما يضاف إلى الله ويكون عيناً قائمة بنفسها، أو حالاً في ذلك القائم بنفسه.
ومثال ما يضاف ويكون عيناً قائمة بنفسها قوله تعالى: {نَاقَةَ اللَّهِ وَسُقْيَاهَا} 1.
ومثال ما يكون حالاً في ذلك القائم بنفسه قوله تعالى: {فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي} 2 فهذا لا يكون صفة لأن الصفة قائمة بالموصوف.
النوع الثاني: إضافة الصفة إلى الله وضابطها: ما كان صفة قائمة بغيرها ليس لها محل تقوم به3 وهي المقصودة هنا.
فالله لا يتصف إلا بما قام به لا بما يخلقه في غيره، وهذا حقيقة الصفة، فإن كل موصوف لا يوصف إلا بما قام به لا بما هو مباين له، صفة لغيره4.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "وأما إضافة الوصف إلى الله فتعريفها: ما
--------------------------------------------
অন্য দিক থেকে; এটি আল্লাহর সাথে সিফাত (গুণ) হিসেবে যা সম্পর্কিত এবং আল্লাহর সাথে সম্মান ও মর্যাদা হিসেবে যা সম্পর্কিত, তার মধ্যকার পার্থক্য নির্ধারণ করে।
এখানে আমি যে সংজ্ঞাটি উল্লেখ করব তা হলো ইতিবাচক গুণাবলির (সিফাতে সুবুতীয়াহ) সংজ্ঞা। আর নেতিবাচক বা অস্বীকৃত গুণাবলির (সিফাতে সালবিয়াহ) সংজ্ঞা গুণাবলির প্রকারভেদ আলোচনার সময় আসবে।
গুণাবলির মূলনীতি: তা হলো এমন বিষয় যা আল্লাহর সত্তার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে বিদ্যমান এবং যা তাঁকে অন্য সবকিছু থেকে পৃথক করে, এবং যা কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্য দ্বারা প্রমাণিত।
সংজ্ঞার শব্দসমূহের ব্যাখ্যা:
ক- "যা সত্তার সাথে বিদ্যমান" - এই শর্তের মাধ্যমে মালিকানা ও সম্মানসূচক সম্পর্কের বিষয়গুলো বাদ পড়ে যায়। কেননা আল্লাহর দিকে কোনো কিছুর সম্পৃক্ততা (ইযাফাত) দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: মালিকানা ও সম্মানসূচক সম্পৃক্ততা। এর মূলনীতি হলো: আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত এমন প্রতিটি বিষয় যা নিজস্ব অস্তিত্বসম্পন্ন কোনো বস্তু (আইন) অথবা সেই অস্তিত্বসম্পন্ন বস্তুর কোনো অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য।
যা নিজস্ব অস্তিত্বসম্পন্ন বস্তু হিসেবে সম্পৃক্ত, তার উদাহরণ হলো আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর উটনী এবং তাকে পানি পান করানোর ব্যাপারে সতর্ক থাকো।} ১
আর অস্তিত্বসম্পন্ন বস্তুর অবস্থা হিসেবে যা সম্পৃক্ত, তার উদাহরণ হলো আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন আমি তাকে সুঠাম করলাম এবং তার মধ্যে আমার রূহ থেকে ফুঁক দিলাম।} ২ এটি সিফাত বা গুণ হিসেবে গণ্য হবে না, কারণ সিফাত সর্বদা মওসুফ বা গুণান্বিত সত্তার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে থাকে।
দ্বিতীয় প্রকার: আল্লাহর দিকে গুণের সম্পৃক্ততা। এর মূলনীতি হলো: যা অন্য কিছুর সাথে বিদ্যমান থাকা গুণ, যার নিজস্ব কোনো আধার নেই। ৩ আর এটিই এখানে উদ্দেশ্য।
সুতরাং আল্লাহ কেবল সেই বিষয়গুলো দ্বারাই গুণান্বিত হন যা তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান, অন্য কিছুর মধ্যে তিনি যা সৃষ্টি করেন তা দ্বারা নয়। আর এটাই সিফাতের প্রকৃত স্বরূপ। কারণ, প্রত্যেক গুণান্বিত সত্তা কেবল তাঁর সাথে বিদ্যমান গুণ দ্বারাই গুণান্বিত হয়, এমন কিছু দ্বারা নয় যা তাঁর থেকে পৃথক এবং অন্যের গুণ। ৪
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: "আর আল্লাহর দিকে গুণের সম্পৃক্ততার সংজ্ঞা হলো: যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
كان صفة قائمة بغيرها ليس لها محل تقوم به"1 أي قبل الإضافة والتخصيص.
ومن فوائد هذا التقييد الرد على زعم الجهمية والمعتزلة ومن وافقهم الذين زعموا أن الصفة هي مجرد قول الواصف2، فزعموا أن إضافة الصفات هي إضافة وصف من غير قيام معنى به3 وهذا باطل، فإن حقيقة الصفة هي ما قام بالموصوف، فإن كل موصوف لا يوصف إلا بما قام به لا بما هو مباين له4.
أـ "بالذات الإلهية"
لفظ "الذات" في أصل اللغة تأنيث ذو، وهذا اللفظ لا يستعمل إلا فيما كان مضافاً إلى غيره كأسماء الأجناس، ويتوصلون به إلى الوصف بذلك فيقال: فلان ذو علم وذو مال وشرف.
وحيث جاء لفظ ذو في القرآن أو لغة العرب وكذا لفظ "ذات" لم يجىء مقرونا إلا بالإضافة كقوله: {فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنِكُمْ} 5 وقوله: {عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ} 6، وقول خُبيب رضي الله عنه الذي في صحيح البخاري
وذلك في ذات الإله وإن يشأ
… يبارك على أوصال شلو ممزع7
فاسم الذات في كلام النبي صلى الله عليه وسلم، والصحابة، والعربية المحضة بهذا المعنى.
--------------------------------------------
"অন্য কিছুর উপর নির্ভরশীল এমন একটি গুণ ছিল যার অবস্থান করার মতো কোনো স্থান ছিল না"১ অর্থাৎ সম্বন্ধ ও নির্দিষ্টকরণের পূর্বে।
এই সীমাবদ্ধতার অন্যতম উপকারিতা হলো জাহমিয়া, মুতাজিলা এবং তাদের অনুসারীদের দাবির খণ্ডন করা, যারা দাবি করে যে গুণ বা সিফাত হলো নিছক বর্ণনাকারীর উক্তি মাত্র২। তারা দাবি করেছিল যে, গুণাবলির সম্বন্ধ হলো গুণের কোনো অর্থ সাব্যস্ত হওয়া ছাড়াই নিছক একটি বিবরণ মাত্র৩। আর এটি ভ্রান্ত; কারণ গুণের প্রকৃত অর্থ হলো যা গুণান্বিত সত্তার মাঝে বিদ্যমান থাকে। কেননা, প্রতিটি গুণান্বিত সত্তাকে কেবল সেই গুণের মাধ্যমেই বিশেষায়িত করা হয় যা তার মাঝে বিদ্যমান, এমন কিছুর মাধ্যমে নয় যা তার থেকে পৃথক৪।
ক— "ইলাহি সত্তার সাথে"
ভাষার মূল উৎস অনুযায়ী "জাত" শব্দটি "জু" শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ। এই শব্দটি কেবল অন্য কিছুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায় ব্যবহৃত হয়, যেমন জাতিবাচক বিশেষ্যসমূহ। এর মাধ্যমে কোনো গুণের বর্ণনা দেওয়া হয়, যেমন বলা হয়: অমুক ব্যক্তি জ্ঞানের অধিকারী, সম্পদের অধিকারী এবং মর্যাদার অধিকারী।
কুরআন বা আরবি ভাষায় যেখানেই "জু" শব্দটি এসেছে অথবা "জাত" শব্দটি এসেছে, তা কেবল সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায়ই এসেছে। যেমন আল্লাহর বাণী: {অতএব আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করে নাও}৫ এবং তাঁর বাণী: {তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত}৬। আর সহিহ বুখারিতে বর্ণিত খুবায়েব রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি—
আর তা ইলাহের সত্তার জন্য, এবং তিনি যদি চান
… তবে ছিন্নভিন্ন দেহের প্রতিটি অঙ্গে বরকত দান করবেন৭
সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম এবং বিশুদ্ধ আরবি ভাষায় "জাত" বা সত্তা শব্দটি এই অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ثم أطلقه المتكلمون وغيرهم على النَّفْس، فإنهم لما وجدوا الله في القرآن قال: {تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ} 1، {وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَه} 2 وصفوها فقالوا: نفس ذات علم، وقدرة، ورحمة، ومشيئة، ونحو ذلك. ثم حذفوا الموصوف وعرفوا الصفة فقالوا: الذات. وهي كلمة مولدة ليست من العربية العرباء.
فهذا لفظ يقتضي وجود صفات تضاف الذات إليها3، فأطلق بإزاء النفس4.
ب ـ "مما يميزها عن غيرها"
في هذا إشارة إلى وظيفة الصفة، فالله عز وجل وصف نفسه بصفات كثيرة، تَعَرَّفَ بها إلى عباده، وهذه الصفات هي التي تميز الخالق عز وجل عما سواه وتُظْهِرُ للعباد كمال الرب عز وجل وعظمة شأنه، وجلال قدرته، وتزيد العبد معرفة بالله عز وجل، ولا شك أن حاجة الناس إلى معرفة ربهم هي أعظم الحاجات، ولذلك تَعَرَّفَ الله لعباده بصفاته، ليكون ذكرهم له أعظم وأكثر، "وكلما كانت حاجة الناس إلى معرفة الشييء وذكره أشد وأكثر، كانت معرفتهم به وذكرهم له أعظم وأكثر، وكانت طرق معرفته أكثر وأظهر، وكانت الأسماء المعرِّفة له أكثر، وكانت على معانيه أدل"5.
وهذا الشأن حاصل في باب أسماء الله وصفاته، فالله هو أجل معلوم
--------------------------------------------
এরপর কালামশাস্ত্রবিদ ও অন্যান্যরা একে 'নফস' বা 'সত্তা' অর্থে প্রয়োগ করেছেন। কারণ তাঁরা যখন কুরআনে আল্লাহর বাণী পেলেন: "আপনি জানেন যা আমার অন্তরে আছে, কিন্তু আমি জানি না যা আপনার সত্তায় (নফসে) আছে" (১), এবং "আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের (নফসের) ব্যাপারে সতর্ক করছেন" (২), তখন তাঁরা একে গুণান্বিত করে বললেন: এটি এমন এক সত্তা যা জ্ঞান, ক্ষমতা, দয়া, ইচ্ছা এবং এই জাতীয় গুণের অধিকারী। এরপর তাঁরা বিশেষ্য পদটি বাদ দিয়ে বিশেষণটিকে সংজ্ঞায়িত করলেন এবং বললেন: 'জাত' (সত্তা)। এটি একটি নবগঠিত শব্দ যা আদি বিশুদ্ধ আরবি ভাষার অন্তর্ভুক্ত নয়।
সুতরাং এটি এমন একটি শব্দ যা এমন কিছু গুণের উপস্থিতিকে আবশ্যক করে যার দিকে 'জাত'-কে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, ফলে এটি 'নফস'-এর সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে (৩, ৪)।
খ — "যা তাকে অন্যদের থেকে পৃথক করে"
এখানে গুণের কার্যাবলীর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা নিজেকে অনেক গুণে গুণান্বিত করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের কাছে নিজের পরিচয় দিয়েছেন। এই গুণগুলোই সৃষ্টিকর্তা আযযা ওয়া জাল্লাকে তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক করে এবং বান্দাদের কাছে রবের পূর্ণতা, তাঁর সম্মানের মহানত্ব ও তাঁর ক্ষমতার মহিমা প্রকাশ করে এবং আল্লাহর ব্যাপারে বান্দার জ্ঞানকে বৃদ্ধি করে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মানুষের জন্য তাদের রবকে জানার প্রয়োজনীয়তা সবকিছুর চেয়ে বেশি। এজন্যই আল্লাহ তাঁর গুণাবলীর মাধ্যমে বান্দাদের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন, যাতে তাঁকে তাদের স্মরণ করা আরও মহান ও অধিক হয়। "কোনো বিষয় জানা ও তা স্মরণ করার প্রয়োজনীয়তা মানুষের কাছে যত তীব্র ও অধিক হয়, সেই বিষয় সম্পর্কে তাদের জ্ঞান ও স্মরণ তত বেশি ও মহান হয়, তা জানার পথগুলো তত বেশি ও সুস্পষ্ট হয়, তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো নামগুলো তত বৃদ্ধি পায় এবং সে নামগুলো তার অর্থের ওপর তত বেশি শক্তিশালী প্রমাণ পেশ করে" (৫)।
আর এই বিষয়টি আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে কার্যকর রয়েছে, কারণ আল্লাহই হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচিত সত্তা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأعظمه وأكبره. ولذلك كان العلم بأسماء الله وصفاته وأفعاله أجل العلوم وأشرفها وأعظمها، فمن عرف الله عرف ما سواه ومن جهل ربه فهو لما سواه أجهل، فالعلم بالله أصل كل علم وهو أصل علم العبد بسعادته وكماله ومصالح دنياه وآخرته، والجهل به مستلزم للجهل بنفسه ومصالحها وكمالها وما تزكو به وتفلح به، فالعلم به سعادة العبد والجهل به أصل شقاوته1.
وعلى أساس العلم الصحيح بالله وأسمائه وصفاته يقوم الإيمان الصحيح والتوحيد الخالص، وتنبني مطالب الرسالة جميعها.
فالمعرفة لله تَلْزَمُ العبد المؤمن لينعقد بها أصل الإيمان ولتجعله في سلامة من الكفر والشرك المخرجين من الإيمان.
جـ ـ "ووردت به نصوص الكتاب والسنة"
أي يجب الوقوف في هذا الباب على ما جاءت به نصوص الكتاب والسنة الصحيحة، فلا نثبت لله تعالى من الصفات إلا ما دل الكتاب والسنة على ثبوته.
قال الإمام أحمد: "لا يوصف الله إلا بما وصف به نفسه أو وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم لا يُتَجاوز القرآن والحديث"2.
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: "القول الشامل في جميع هذا الباب أن يوصف الله بما وصف به نفسه، أو وصفه به رسوله، وبما وصفه به السابقون الأولون لا يُتَجاوز القرآن والحديث"3.
ولدلالة الكتاب والسنة على ثبوت الصفات ثلاثة أوجه:
--------------------------------------------
এবং এটি সুমহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ। আর এই কারণেই আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলী এবং কার্যাবলী সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা হলো জ্ঞানের শাখাগুলোর মধ্যে সবথেকে মহান, মর্যাদাপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ। অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহকে চিনেছে, সে তাঁর ব্যতীত অন্য সব কিছুকেও চিনেছে। আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালক সম্পর্কে অজ্ঞ, সে অন্য সব বিষয়ে আরও অধিক অজ্ঞ। সুতরাং আল্লাহ সংক্রান্ত জ্ঞানই হলো সকল জ্ঞানের মূল, আর এটিই বান্দার নিজের সুখ, পূর্ণতা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ বিষয়ক জ্ঞানের মূল ভিত্তি। আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞতা নিজের নফস, এর কল্যাণ, এর পূর্ণতা এবং কিসে তা পবিত্র ও সফল হবে—সে সম্পর্কে অজ্ঞতাকেও আবশ্যক করে দেয়। সুতরাং আল্লাহ বিষয়ক জ্ঞানই হলো বান্দার পরম সৌভাগ্য, আর তাঁর সম্পর্কে অজ্ঞতাই হলো তার দুর্ভাগ্যের মূল উৎস ১।
আল্লাহ এবং তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলী সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের ভিত্তিতেই সঠিক ঈমান এবং বিশুদ্ধ তাওহীদ প্রতিষ্ঠিত হয়, আর এর ওপরই রিসালাতের সমস্ত দাবি বা উদ্দেশ্যসমূহ গড়ে ওঠে।
সুতরাং মুমিন বান্দার জন্য আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা অপরিহার্য যাতে এর মাধ্যমে ঈমানের মূল ভিত্তি সুদৃঢ় হয় এবং যা তাকে কুফর ও শিরক থেকে নিরাপদে রাখে, যে দুটি বিষয় ব্যক্তিকে ঈমান থেকে বের করে দেয়।
গ— "কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ দ্বারা এটি প্রমাণিত"
অর্থাৎ, এই অধ্যায়ে কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহর দলিলসমূহে যা এসেছে কেবল তার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক। সুতরাং কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহ যে সমস্ত গুণাবলী সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণ পেশ করেছে, সেগুলো ব্যতীত আল্লাহ তাআলার জন্য অন্য কোনো গুণ আমরা সাব্যস্ত করব না।
ইমাম আহমাদ বলেছেন: "আল্লাহ নিজেকে যে গুণে গুণান্বিত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে যে গুণে গুণান্বিত করেছেন, তা ব্যতীত আল্লাহকে অন্য কোনো গুণে গুণান্বিত করা যাবে না; কুরআন ও হাদীসের সীমা অতিক্রম করা যাবে না" ২।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: "এই সম্পূর্ণ অধ্যায়ের ব্যাপক বক্তব্য হলো—আল্লাহকে সেই গুণেই গুণান্বিত করতে হবে যে গুণে তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল তাঁকে গুণান্বিত করেছেন এবং পূর্ববর্তী অগ্রগণ্য সালাফগণ তাঁকে যে গুণে গুণান্বিত করেছেন; এক্ষেত্রে কুরআন ও হাদীসকে অতিক্রম করা যাবে না" ৩।
গুণাবলী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর প্রমাণের তিনটি দিক রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الوجه الأول: التصريح بالصفة.
كالعزة في قوله تعالى: {فَلِلَّهِ الْعِزَّةُ جَمِيعاً} 1.
وقوله صلى الله عليه وسلم: "أعوذ بعزتك الذي لا إله إلا أنت"2.
والقوة في قوله تعالى: {أَنَّ الْقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعاً} 3.
والرحمة في قوله تعالى: {وَرَبُّكَ الْغَنِيُّ ذُو الرَّحْمَةِ} 4.
واليدين في قوله تعالى: {بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ} 5.
والبطش في قوله تعالى: {إِنَّ بَطْشَ رَبِّكَ لَشَدِيدٌ} 6.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "إضافة الصفة إلى الموصوف كقوله تعالى: {ولا يحيطون بشيء من علمه} 7، وقوله: {إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ} 8، وفي حديث الاستخارة "اللهم إني أستخيرك بعلمك، واستقدرك بقدرتك" 9، وفي الحديث الآخر "اللهم بعلمك الغيب وقدرتك على الخلق" 10، فهذا في الإضافة الاسمية.
وأما بصيغة الفعل فكقوله: {عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُونَ أَنْفُسَكُمْ} 11، وقوله
{عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ} 12.
أما الخبر الذي هو جملة اسمية فمثل قوله تعالى: {وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} 13، وقوله تعالى: {وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} 14.
--------------------------------------------
প্রথম পদ্ধতি: সিফাত বা গুণের সুস্পষ্ট উল্লেখ।
যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে বর্ণিত সম্মান (ইয্যাহ): {সমস্ত সম্মান কেবল আল্লাহরই} ১।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি আপনার সম্মানের আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আপনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই" ২।
এবং মহান আল্লাহর বাণীতে বর্ণিত শক্তি (কুওয়াহ): {নিশ্চয় সমস্ত শক্তি আল্লাহরই} ৩।
এবং মহান আল্লাহর বাণীতে বর্ণিত দয়া (রাহমাহ): {আপনার প্রতিপালক অভাবমুক্ত, দয়ার অধিকারী} ৪।
এবং মহান আল্লাহর বাণীতে বর্ণিত আল্লাহর হাত দুটি (ইয়াদাইন): {বরং আল্লাহর হাত দুটি প্রসারিত} ৫।
এবং মহান আল্লাহর বাণীতে বর্ণিত পাকড়াও (বাত্শ): {নিশ্চয় আপনার প্রতিপালকের পাকড়াও অত্যন্ত কঠোর} ৬।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ বলেছেন: "গুণী (মাওসুফ)-এর সাথে গুণের সম্বন্ধ (ইদাফাত) করা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তারা আল্লাহর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না} ৭, এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয় আল্লাহই রিজিকদাতা, প্রবল শক্তির অধিকারী} ৮, এবং ইস্তিখারার হাদিসে এসেছে: 'হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং আপনার ক্ষমতার মাধ্যমে সামর্থ্য প্রার্থনা করছি' ৯, এবং অন্য হাদিসে আছে: 'হে আল্লাহ, আপনার অদৃশ্যের জ্ঞান এবং সৃষ্টির ওপর আপনার ক্ষমতার মাধ্যমে (আমি প্রার্থনা করছি)' ১০; এটি হলো বিশেষ্যমূলক সম্বন্ধ (ইদাফাত ইসমিয়্যাহ)-এর উদাহরণ।
আর ক্রিয়াবাচক রূপের ক্ষেত্রে উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ জেনেছেন যে, তোমরা তোমাদের নিজেদের সাথে খিয়ানত করছিলে} ১১, এবং তাঁর বাণী:
{তিনি জেনেছেন যে, তোমরা তা আয়ত্ত করতে পারবে না, তাই তিনি তোমাদের ক্ষমা করেছেন} ১২।
আর সংবাদ বা বর্ণনা যা নামবাচক বাক্য (জুমলা ইসমিয়্যাহ), তার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ} ১৩, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান} ১৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وذلك لأن الكلام الذي توصف به الذوات:
1- إما جملة 2- أو مفرد
فالجملة إما اسمية: كقوله تعالى: {وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} .
أو فعلية: كقوله: {عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوه} .
أما المفرد فلا بد فيه من:
1ـ إضافة الصفة لفظاً أو معنى كقوله: {بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ} وقوله: {هُوَ أَشَدُّ مِنْهُمْ قُوَّة} 1.
2ـ أو إضافة الموصوف كقوله: {ذُو الْقُوَّة} 2"3.
الوجه الثاني: تضمن الاسم للصفة.
فمن الأمور المتقررة في عقيدة أهل السنة والجماعة أن أسماء الله الحسنى متضمنة للصفات، فكل اسم يدل على معنى من صفاته ليس هو المعنى الذي دل عليه الاسم الآخر.
فالعزيز متضمن لصفة العزة وهو مشتق منها.
والخالق متضمن لصفة الخلق وهو مشتق منها.
والرحيم متضمن لصفة الرحمة وهو مشتق منها.
فأسماء الله مشتقة من صفاته.
وترجع أسماء الله الحسنى من حيث معانيها إلى أحد الأمور التالية:
1- إلى صفات معنوية: كالعليم، والقدير، والسميع، والبصير.
2- ما يرجع إلى أفعاله: كالخالق، والرازق، والبارئ، والمصور.
3- ما يرجع إلى التنزيه المحض ولا بد من تضمنه ثبوتاً إذ لا كمال في العدم
--------------------------------------------
এর কারণ হলো, সত্তাসমূহের বর্ণনায় ব্যবহৃত কথাগুলো:
১- হয় বাক্য ২- অথবা একক শব্দ হয়ে থাকে।
বাক্য হয় বিশেষ্যমূলক (ইসমিয়াহ) হতে পারে: যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ}।
অথবা ক্রিয়ামূলক (ফেলিইয়াহ) হতে পারে: যেমন তাঁর বাণী: {তিনি জানতেন যে তোমরা তা আয়ত্ত করতে পারবে না}।
আর একক শব্দের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো থাকা আবশ্যক:
১- শব্দগতভাবে বা অর্থগতভাবে গুণের সম্বন্ধ (ইদাফাত) করা, যেমন আল্লাহর বাণী: {তাঁর জ্ঞানের সামান্য অংশ} এবং তাঁর বাণী: {তিনি তাদের চেয়ে শক্তিতে অধিক প্রবল} ১।
২- অথবা গুণান্বিত সত্তার সম্বন্ধ করা, যেমন আল্লাহর বাণী: {প্রবল শক্তিধর} ২"৩।
দ্বিতীয় দিক: নামের অন্তর্ভুক্ত গুণ (সিফাত)।
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহর একটি প্রতিষ্ঠিত বিষয় হলো যে, আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ তাঁর গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং প্রতিটি নাম তাঁর গুণাবলির এমন একটি অর্থের ওপর প্রমাণ বহন করে যা অন্য নামের অর্থের চেয়ে ভিন্ন।
সুতরাং ‘আল-আযীয’ (পরাক্রমশালী) নামটি ‘ইয্যত’ (পরাক্রম) গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এটি তা থেকেই উদ্ভূত।
‘আল-খালিক’ (সৃষ্টিকর্তা) নামটি ‘খালক’ (সৃষ্টি করা) গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এটি তা থেকেই উদ্ভূত।
‘আর-রাহীম’ (পরম দয়ালু) নামটি ‘রাহমাত’ (দয়া) গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এটি তা থেকেই উদ্ভূত।
সুতরাং আল্লাহর নামসমূহ তাঁর গুণাবলি থেকেই উদ্ভূত।
আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ অর্থের দিক থেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর কোনো একটির দিকে ফিরে যায়:
১- ভাববাচক গুণাবলির দিকে: যেমন সর্বজ্ঞ (আল-আলীম), সর্বশক্তিমান (আল-কাদীর), সর্বশ্রোতা (আস-সামীয়ু) এবং সর্বদ্রষ্টা (আল-বাসীয়ু)।
২- যা তাঁর কার্যাবলির দিকে ফিরে যায়: যেমন সৃষ্টিকর্তা (আল-খালিক), রিযিকদাতা (আর-রাযযাক), উদ্ভাবক (আল-বারী) এবং রূপদানকারী (আল-মুসাওয়ির)।
৩- যা কেবলই পবিত্রতা বর্ণনার (তানযীহ) দিকে ফিরে যায়; তবে সেক্ষেত্রেও কোনো ইতিবাচক গুণ অন্তর্ভুক্ত থাকা আবশ্যক, কেননা অস্তিত্বহীনতার মাঝে কোনো পূর্ণতা নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المحض: كالقدوس، والسلام، والأحد.
4- ما دل على جملة أوصاف عديدة ولم يختص بصفة معينة بل هو دال على معنى مفرد نحو: المجيد، العظيم، الصمد1
الوجه الثالث: التصريح بفعل أو وصف دال عليها أي ما فيها معنى الصفة والفعل مثل قوله تعالى: {وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيماً} 2.
وقوله تعالى: {إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئاً أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} 3.
وقوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ} 4.
وقوله تعالى: {فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ} 5.
وقوله تعالى: {وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ} 6.
وقوله تعالى: {ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اتَّبَعُوا مَا أَسْخَطَ اللَّهَ وَكَرِهُوا رِضْوَانَه} 7.
وقوله تعالى: {رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} 8.
وقوله تعالى: {وَقُلْ رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ} 9.
وقوله تعالى: {خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ} 10.
وقوله تعالى: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْش} 11.
وقوله تعالى: {وَجَاءَ رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفّاً صَفّاً} 12.
وبما تقدم من شرح لمفردات التعريف أرى أنه هذا التعريف هو المناسب لتعريف الصفات والله أعلم.
--------------------------------------------
বিশুদ্ধ: যেমন আল-কুদ্দুস, আস-সালাম এবং আল-আহাদ।
৪- যা অনেকগুলো গুণাবলীর সমষ্টির ওপর দলালত করে এবং কোনো নির্দিষ্ট গুণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা একটি একক অর্থের ওপর দলালত করে। যেমন: আল-মাজীদ, আল-আযীম, আস-সামাদ১
তৃতীয় দিক: এমন কোনো ক্রিয়া বা গুণের সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকা যা গুণাবলীর ওপর দলালত করে; অর্থাৎ যাতে গুণ এবং ক্রিয়ার অর্থ বিদ্যমান থাকে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন} ২।
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {তাঁর নির্দেশ তো কেবল এই যে, তিনি যখন কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তাকে বলেন ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়} ৩।
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা-ই ফয়সালা করেন} ৪।
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই সম্পাদনকারী} ৫।
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং আল্লাহ তাঁর ওপর রাগান্বিত হয়েছেন এবং তাঁকে অভিশপ্ত করেছেন} ৬।
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {তা এই জন্য যে, তারা এমন বিষয়ের অনুসরণ করেছিল যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে এবং তারা তাঁর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করেছিল} ৭।
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছে} ৮।
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আপনি বলুন: হে আমার রব! আপনি ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন} ৯।
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {তিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন} ১০।
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} ১১।
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং আপনার রব আসবেন এবং ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবে} ১২।
সংজ্ঞার শব্দসমূহের উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমি মনে করি যে, গুণাবলীর (সিফাতের) সংজ্ঞায়নের জন্য এই সংজ্ঞাই উপযুক্ত। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المطلب الثاني: الفرق بين الوصف والصفة.
كل واحد من لفظ "الوصف" و"الصفة" مصدر في الأصل كـ "الوعد –والعِدَة" و"الوزن- والزِنة"1.
فالصفة: مصدر وصفتُ الشييء أصفه صفة2.
والوصف والصفة:
1- تارة يراد به: الكلام الذي يوصف به الموصوف، مثاله: قول الصحابي في {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} 3: أحبها لأنها صفة الرحمن4.
2- وتارة يراد به: المعاني التي دل عليها الكلام كالعلم والقدرة، والجهمية والمعتزلة وغيرهم تنكر هذا ويقولون: إنما الصفات مجرد العبارة التي يعبر بها عن الموصوف، فقالوا: إن إضافة الصفات إلى الله من إضافة وصف من غير قيام معنى به5.
والكلابية ومن اتبعهم من الصفاتية قد يفرقون بين الوصف والصفة، فيجعلون الوصف: هو القول، والصفة: المعنى القائم بالموصوف6.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: 'ওয়াসফ' (الوصف) ও 'সিফাত' (الصفة)-এর মধ্যে পার্থক্য.
'ওয়াসফ' ও 'সিফাত' শব্দ দুটির প্রত্যেকটিই মূলত মাসদার (ক্রিয়ামূল), যেমন 'ওয়াদ' ও 'ইদাহ' এবং 'ওয়াযন' ও 'যিনাহ'১।
সুতরাং 'সিফাত' হলো: 'আমি কোনো বস্তুর গুণ বর্ণনা করেছি' (وصفتُ الشييء أصفه صفة)-এর মাসদার২।
'ওয়াসফ' ও 'সিফাত':
১- কখনো এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয়: সেই বাক্য যার মাধ্যমে গুণান্বিত সত্তার গুণ বর্ণনা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ: {কুল হুয়াল্লাহু আহাদ}৩ সম্পর্কে জনৈক সাহাবীর উক্তি: "আমি একে ভালোবাসি কারণ এটি পরম দয়াময় আল্লাহর সিফাত (গুণাবলি বর্ণনা)৪।"
২- আবার কখনো এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয়: সেই অর্থসমূহ যা বাক্যের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যেমন জ্ঞান (ইলম) ও ক্ষমতা (কুদরত)। জাহমিয়া, মুতাজিলা ও অন্যান্যরা একে অস্বীকার করে এবং তারা বলে: সিফাতসমূহ হলো নিছক কিছু শব্দ বা অভিব্যক্তি যা দ্বারা গুণান্বিত সত্তার পরিচয় দেওয়া হয়। তারা বলে: আল্লাহর দিকে সিফাতের সম্বন্ধ করা হলো এমন গুণের সম্বন্ধ যাতে সত্তার সাথে কোনো অর্থ (বা বাস্তবিক গুণ) বিদ্যমান নেই৫।
কুলাবিয়া এবং সিফাত সাব্যস্তকারী তাদের অনুসারীগণ অনেক সময় 'ওয়াসফ' ও 'সিফাত'-এর মধ্যে পার্থক্য করেন। তারা 'ওয়াসফ'-কে বলেন 'বক্তব্য' (قول) এবং 'সিফাত'-কে বলেন 'গুণান্বিত সত্তার সাথে বিদ্যমান অর্থ'৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
فأدخلوا في الوصف (الذي هو القول عندهم) صفات الأفعال حتى ينفوا قيامها بالذات.
وأدخلوا في الصفة (التي هي المعنى القائم بالذات) ما أثبتوه من الصفات كصفات المعاني السبعة (العلم، الحياة، القدرة، الإرادة، السمع، البصر، الكلام) ليتأتى لهم على هذا التقسيم اعتبار بعض الصفات قائماً بالذات، وبعضها غير قائم بها، فأرادوا بذلك نفي صفات الأفعال واعتبروها نسباً وإضافات لا تقوم بالذات.
قال ابن القيم في الرد على زعمهم هذا:
سيم هذا مقتضى البرهان
… فالحق أن الوصف ليس بمورد التق
بالذات التي للواحد الرحمن
… بل مورد التقسيم ما قد قام
فهذي قسمة التبيان
م الفعل بالموصوف بالبرهان
… فهما إذا نوعان أوصاف وأفعال
فالوصف بالأفعال يستدعي قيا
أن بين دينك قط من فرقان
… كالوصف بالمعنى سوى الأفعال ما
…فالحق أن مورد القسمة هو نفس ما يقوم بالذات، فيقال إن ما يقوم بالذات ويكون وصفاً لها، إما أن يكون:
1- صفة معنى لازماً للذات.
2ـ وإما أن يكون صفة فعل.
والوصف بالفعل يستدعي قيام الفعل بالموصوف، كالوصف بالمعنى سواء بسواء.
فإذا كان وصفه سبحانه بأنه عليم، قدير، حي،
… الخ، يقتضي قيام العلم والقدرة والحياة به.
অতঃপর তারা বর্ণনার মধ্যে (যা তাদের মতে মৌখিক উক্তি) কর্মগত গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যাতে তারা আল্লাহর সত্তার সাথে সেগুলোর বিদ্যমানতাকে অস্বীকার করতে পারে।
আর তারা গুণের মধ্যে (যা সত্তার সাথে প্রতিষ্ঠিত অর্থ) সেই গুণগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা তারা সাব্যস্ত করে, যেমন সাতটি অর্থগত গুণ (জ্ঞান, জীবন, ক্ষমতা, ইচ্ছা, শ্রবণ, দর্শন, কথা), যাতে এই বিভাজনের মাধ্যমে তাদের জন্য কিছু গুণকে সত্তাগতভাবে বিদ্যমান এবং কিছুকে সত্তাগতভাবে বিদ্যমান নয় বলে বিবেচনা করা সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে তারা কর্মগত গুণাবলিকে অস্বীকার করতে চেয়েছে এবং সেগুলোকে নিছক সম্পর্ক ও সম্বন্ধ হিসেবে গণ্য করেছে যা সত্তার সাথে সম্পৃক্ত নয়।
ইবনুল কাইয়্যিম তাদের এই দাবির খণ্ডনে বলেছেন:
এটিই প্রমাণের দাবি
… সত্য হলো যে, বর্ণনা বিভাজনের ক্ষেত্র নয়
একক দয়াময় আল্লাহর সত্তার সাথে
… বরং বিভাজনের ক্ষেত্র হলো যা বিদ্যমান রয়েছে
এটিই সুস্পষ্ট বিভাজন
প্রমাণের মাধ্যমে গুণান্বিত সত্তার সাথে কর্মের বিদ্যমানতা
… সুতরাং তারা দুই প্রকার: গুণাবলি ও কার্যাবলি
কেননা কার্যাবলির মাধ্যমে বর্ণনা করা সত্তার সাথে কর্মের বিদ্যমানতাকে দাবি করে
তোমার দ্বীনের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই
… কার্যাবলি ব্যতিরেকে অর্থগত গুণাবলির মাধ্যমে বর্ণনা করার মতোই
…প্রকৃত সত্য এই যে, বিভাজনের মূল ক্ষেত্র হলো যা সত্তার সাথে সরাসরি বিদ্যমান। সুতরাং বলা হয় যে, যা সত্তার সাথে বিদ্যমান থাকে এবং সত্তার জন্য একটি গুণ হয়, তা হয়:
১- সত্তার জন্য অপরিহার্য কোনো অর্থগত গুণ।
২- অথবা কোনো কর্মগত গুণ।
আর কর্মের মাধ্যমে বর্ণনা করা গুণান্বিত সত্তার সাথে সেই কর্মটি বিদ্যমান থাকাকেই দাবি করে, ঠিক যেমনটি অর্থগত গুণের মাধ্যমে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
সুতরাং যখন মহান আল্লাহকে সর্বজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান, চিরঞ্জীব,
… ইত্যাদি হিসেবে বর্ণনা করা হয়, তখন তা তাঁর সত্তার সাথে জ্ঞান, ক্ষমতা ও জীবনের বিদ্যমানতাকেই অনিবার্য করে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
فكذلك وصفه بأنه خالق أو رازق أو مقدم أو مؤخر يقتضي قيام هذه الأفعال من الخلق والرزق والتقديم والتأخير ونحوها به1.
"ومن قال الصفات تنقسم إلى صفات ذاتية وفعلية، ولم يجعل الأفعال تقوم به، فكلامه فيه تلبيس، فإنه سبحانه لا يوصف بشييء لا يقوم به.
وإن سلم أنه يتصف بما لا يقوم به فهذا هو أصل الجهمية الذين يصفونه بمخلوقاته ويقولون: إنه متكلم مريد وراض وغضبان ومحب ومبغض وراحم للمخلوقات يخلقها منفصلة عنه لا بأمور تقوم بذاته"2.
--------------------------------------------
একইভাবে তাঁকে স্রষ্টা, রিযিকদাতা, অগ্রবর্তীকারী বা পশ্চাৎবর্তীকারী হিসেবে অভিহিত করা এই সৃষ্টি, রিযিক দান, অগ্রবর্তী করা ও পশ্চাৎবর্তী করা এবং এই জাতীয় কর্মসমূহ তাঁর সত্তার সাথে প্রতিষ্ঠিত থাকাকেই আবশ্যক করে ১।
"আর যে ব্যক্তি বলে যে গুণাবলি সত্তাগত ও কর্মগত এই দুই ভাগে বিভক্ত, কিন্তু কর্মসমূহকে তাঁর সত্তার সাথে প্রতিষ্ঠিত বলে গণ্য করে না, তবে তার কথার মাঝে বিভ্রান্তি রয়েছে; কেননা মহান আল্লাহ এমন কোনো গুণের দ্বারা বিশেষিত হন না যা তাঁর সত্তার সাথে প্রতিষ্ঠিত নয়।
আর যদি এটি মেনে নেওয়া হয় যে, তিনি এমন কিছু দ্বারা বিশেষিত হন যা তাঁর সত্তার সাথে প্রতিষ্ঠিত নয়, তবে এটিই হলো জাহমিয়াদের মূল ভিত্তি, যারা তাঁকে তাঁর সৃষ্টির দ্বারা বিশেষিত করে এবং তারা বলে: তিনি কথা বলেন, ইচ্ছা করেন, সন্তুষ্ট হন, রাগান্বিত হন, ভালোবাসেন, ঘৃণা করেন এবং সৃষ্টির প্রতি দয়া প্রদর্শন করেন—এই সবই তিনি সৃষ্টি করেন তাঁর সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায়, তাঁর নিজের সত্তার সাথে প্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয়ের মাধ্যমে নয়" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المبحث الثاني: أنواع المضافات إلى الله
المطلب الأول: التعريف بالنوعين…المطلب الأول: التعريف بالنوعين
يجب التفريق بين نوعين من الإضافة وردا في النصوص هما:
الأول: إضافة ملك.
الثاني: إضافة وصف.
1- أما إضافة الملك فتعريفها: هي كل ما يضاف إلى الله ويكون عيناً قائمة بنفسها، أو حالاً في ذلك القائم بنفسه ومن أمثلتها:
1- قوله تعالى: {نَاقَةَ اللَّهِ وَسُقْيَاهَا} 1، فإضافة الناقة إلى الله هنا من إضافة الملك والتشريف فالناقة عين قائمة بنفسها.
2-قوله تعالى: {فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَراً سَوِيّاً قَالَتْ إِنِّي أَعُوذُ بِالرَّحْمَنِ مِنْكَ إِنْ كُنْتَ تَقِيّاً قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لأَهَبَ لَكِ غُلاماً زَكِيّاً} 2، فالروح هنا هو جبريل عليه السلام.
3-قوله تعالى: {فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ} 3.
4-وقوله تعالى: {الَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ وَبَدَأَ خَلْقَ الإِنْسَانِ مِنْ طِينٍ ثُمَّ جَعَلَ نَسْلَهُ مِنْ سُلالَةٍ مِنْ مَاءٍ مَهِينٍ ثُمَّ سَوَّاهُ وَنَفَخَ فِيهِ مِنْ رُوحِهِ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالأَبْصَارَ وَالأَفْئِدَةَ قَلِيلاً مَا تَشْكُرُونَ} 4.
5-وقوله تعالى: {وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ} 5.
6-وقوله تعالى: {مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُول} 6.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত বিষয়াবলির প্রকারভেদপ্রথম অনুচ্ছেদ: উভয় প্রকারের পরিচয়…প্রথম অনুচ্ছেদ: উভয় প্রকারের পরিচয়
নصوص বা দলীলাদিতে আল্লাহর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার (ইজাফাত) যে দুটি প্রকার বর্ণিত হয়েছে, তাদের মধ্যে পার্থক্য করা ওয়াজিব। সেগুলো হলো:
প্রথম: মালিকানা বা সৃষ্টিগত সম্বন্ধ।
দ্বিতীয়: গুণবাচক সম্বন্ধ।
১- মালিকানা বা সৃষ্টিগত সম্বন্ধের সংজ্ঞা: এটি হলো এমন সব বিষয় যা আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা হয় অথচ সেগুলো স্বতন্ত্র অস্তিত্বসম্পন্ন সত্তা, অথবা সেই স্বতন্ত্র সত্তার মধ্যে বিদ্যমান কোনো অবস্থা। এর কিছু উদাহরণ:
১- মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর উষ্ট্রী এবং তার পানীয় পানের অধিকারের ব্যাপারে সাবধান থাকো} ১। এখানে উষ্ট্রীর সম্বন্ধ আল্লাহর দিকে হওয়া মূলত মালিকানা ও সম্মান প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত; কারণ উষ্ট্রী একটি স্বতন্ত্র অস্তিত্বসম্পন্ন সত্তা।
২- মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর আমি তার নিকট আমার রূহকে পাঠালাম, সে তার সামনে পূর্ণ মানবরূপে আত্মপ্রকাশ করল। মারইয়াম বলল, আমি তোমার থেকে দয়াময় আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি যদি তুমি আল্লাহভীরু হও। সে বলল, আমি তো কেবল তোমার রবের প্রেরিত দূত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করি} ২। এখানে রূহ বলতে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম-কে বোঝানো হয়েছে।
৩- মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁক দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ো} ৩।
৪- এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে অতি উত্তম করেছেন এবং কাদা থেকে মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তিনি তার বংশধারা তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি তাকে সুঠাম করেছেন এবং তাতে তাঁর রূহ থেকে ফুঁক দিয়েছেন। আর তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তঃকরণ দিয়েছেন। তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো} ৪।
৫- এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আমার ঘরকে পবিত্র রাখো তওয়াফকারী, ইবাদতে দণ্ডায়মান এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য} ৫।
৬- এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ জনপদবাসীদের নিকট থেকে তাঁর রাসূলকে 'ফাই' হিসেবে যা কিছু দিয়েছেন, তা আল্লাহর এবং তাঁর রাসূলের জন্য} ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "إن المضاف إن كان شيئا قائماً بنفسه أو حالاًّ في ذلك القائم بنفسه، فهذا لا يكون صفة لله، لأن الصفة قائمة بالموصوف.
فالأعيان التي خلقها الله قائمة بأنفسها، وصفاتها القائمة بها تمتنع أن تكون صفات لله، فإضافتها إليه تتضمن كونها مخلوقة مملوكة، لكن أضيفت لنوع من الاختصاص المقتضي للإضافة لا لكونها صفة، والروح الذي هو جبريل من هذا الباب، كما أن الكعبة والناقة من هذا الباب، ومال الله من هذا الباب، وروح بني آدم من هذا"1.
وأما إضافة الوصف إلى الله فتعريفها: ما كان صفة قائمة بغيرها ليس لها محل تقوم به2.
فإذا كان المضاف إليه لا يقوم بنفسه، بل لا يكون إلا صفة كالعلم، والقدرة، والكلام، والرضا، والغضب، فهذا لا يكون إلا إضافة صفة إليه فتكون قائمة به سبحانه3.
ومن أمثلة هذا القسم:
قوله تعالى: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلامَ اللَّهِ} 4، فالكلام لا يقوم بنفسه إلا بالمتكلم فإضافته إلى المتكلم إضافة صفة إلى موصوفها.
وقوله تعالى: {لَكِنِ اللَّهُ يَشْهَدُ بِمَا أَنْزَلَ إِلَيْكَ أَنْزَلَهُ بِعِلْمِه} 5، فإضافة العلم إلى الله إضافة صفة إلى موصوفها.
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: "নিশ্চয়ই যা আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা হয় (মুদাফ), তা যদি এমন কোনো বস্তু হয় যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে বিদ্যমান অথবা সেই স্বয়ংসম্পূর্ণ বিদ্যমান বস্তুর মধ্যে বিদ্যমান কোনো অবস্থা হয়, তবে তা আল্লাহর গুণ হতে পারে না; কারণ গুণ (সিফাত) গুণান্বিত সত্তার (মাউসুফ) সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে।
সুতরাং আল্লাহ যে সকল বস্তু সৃষ্টি করেছেন যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে বিদ্যমান, এবং সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট গুণাবলি আল্লাহর গুণ হওয়া অসম্ভব। সেগুলোকে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করার অর্থ হলো সেগুলো তাঁরই সৃষ্টি ও মালিকানাধীন। তবে এগুলোকে এক ধরণের বিশেষত্বের কারণে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে যা এই সম্বন্ধের (ইদাফাহ) দাবি রাখে, গুণ হওয়ার কারণে নয়। জিবরাঈল (আ.)-কে যে রূহ বলা হয়েছে তা এই পর্যায়ভুক্ত, যেমনটি কাবা এবং উষ্ট্রী এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত, এবং আল্লাহর সম্পদ ও আদম সন্তানের রূহও এর অন্তর্ভুক্ত।"১।
আর আল্লাহর দিকে গুণের সম্বন্ধের সংজ্ঞা হলো: যা কেবল অন্য কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট গুণ হিসেবেই বিদ্যমান থাকে, যার নিজস্ব কোনো আধার নেই।২।
অতএব, যা আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তা যদি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে বিদ্যমান না হয়, বরং তা যদি কেবল গুণই হয়—যেমন জ্ঞান, ক্ষমতা, কথা, সন্তুষ্টি ও রাগ—তবে এটি কেবল আল্লাহর দিকে গুণের সম্বন্ধ হিসেবেই গণ্য হবে এবং তা মহান আল্লাহর সাথেই সংশ্লিষ্ট থাকবে।৩।
এই প্রকারের উদাহরণসমূহ:
আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যদি মুশরিকদের মধ্যে কেউ তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কথা (কালাম) শুনতে পায়} ৪। কেননা কথা বক্তা ছাড়া স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে থাকতে পারে না, তাই একে বক্তার দিকে সম্বন্ধ করা হলো গুণের সম্বন্ধ তার গুণান্বিত সত্তার সাথে।
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যা তিনি তোমার প্রতি নাযিল করেছেন তা তাঁর জ্ঞান (ইলম) সহকারে নাযিল করেছেন} ৫। এখানে আল্লাহর দিকে জ্ঞানের সম্বন্ধ হলো গুণের সম্বন্ধ তার গুণান্বিত সত্তার সাথে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وفي الحديث: "اللهم إني أستخيرك بعلمك وأستقدرك بقدرتك" 1، فعلمه صفة قائمة به وقدرته صفة قائمة به.
وفي الحديث: " أعوذ برضاك من سخطك وبمعافاتك من عقوبتك" 2، فرضاه وسخطه قائم به، وكذلك عفوه وعقوبته.
وأما أثر ذلك وهو ما يحصل للعبد من النعمة واندفاع النقمة فذلك مخلوق منفصل عنه ليس صفة له3.
تنبيه:
وقد يعبر بلفظ المصدر عن المفعول به فيسمى المعلوم علماً والمقدور قدرة والمأمور أمراً والمخلوق بالكلمة كلمة فيكون ذلك مخلوقاً ومن أمثلة ذلك:
قوله تعالى: {أَتَى أَمْرُ اللَّهِ فَلا تَسْتَعْجِلُوهُ} 4 والمراد بالأمر هنا المخلوق المكوَّن بالأمر.
وقوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيهاً فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ} 5.
وقوله تعالى: {إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ} 6 فإذا قيل المسيح "كلمة الله" فمعناه المخلوق بالكلمة، إذ المسيح نفسه ليس كلاماً7.
--------------------------------------------
এবং হাদীসে এসেছে: "হে আল্লাহ! আমি আপনার ইলমের সাহায্যে আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং আপনার কুদরত বা ক্ষমতার সাহায্যে আপনার নিকট সামর্থ্য প্রার্থনা করছি" ১, সুতরাং তাঁর ইলম (জ্ঞান) তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি গুণ এবং তাঁর কুদরত (ক্ষমতা) তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি গুণ।
এবং হাদীসে এসেছে: "আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার অসন্তুষ্টি হতে এবং আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আপনার শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি" ২, সুতরাং তাঁর সন্তুষ্টি এবং তাঁর অসন্তুষ্টি তাঁর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, এবং অনুরূপভাবে তাঁর ক্ষমা এবং তাঁর শাস্তিও।
আর এর প্রভাব অর্থাৎ বান্দা যে নিয়ামত লাভ করে এবং তার থেকে যে বিপদ দূরীভূত হয়, তা তাঁর থেকে পৃথক একটি সৃষ্টি; তা তাঁর গুণ নয় ৩।
সতর্কীকরণ:
কখনও কখনও 'মাসদার' (ক্রিয়ামূল) শব্দ দ্বারা 'মাফউল' (কর্ম) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়, ফলে জ্ঞাত বিষয়কে 'ইলম', নির্ধারিত বিষয়কে 'কুদরত', আদিষ্ট বিষয়কে 'আমর' এবং বাণীর মাধ্যমে যা সৃষ্টি করা হয়েছে তাকে 'কালেমা' বলা হয়। এমতাবস্থায় তা সৃষ্টি হিসেবে গণ্য হয়। এর কিছু উদাহরণ হলো:
মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে, সুতরাং তোমরা তা ত্বরান্বিত করতে চেও না} ৪। আর এখানে 'আমর' বা নির্দেশ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আদেশের মাধ্যমে অস্তিত্ব লাভকারী সৃষ্টি।
মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে একটি কালেমার (বাণীর) সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হলো মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম, যিনি ইহকাল ও পরকালে মর্যাদাবান} ৫।
মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর কালেমা, যা তিনি মারইয়ামের নিকট প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ} ৬। সুতরাং যখন বলা হয় মসীহ "আল্লাহর কালেমা", তখন তার অর্থ হলো কালেমার মাধ্যমে সৃষ্ট, কেননা মসীহ নিজে কালাম বা কথা নন ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وكقوله في الحديث الصحيح للجنة: "أنت رحمتي أرحم بك من أشاء من عبادي" كما قال للنار: "أنت عذابي أعذب بك من أشاء من عبادي ولكل واحدة منكما ملؤها"1.
فالرحمة هنا عين قائمة بنفسها لا يمكن أن تكون صفة لغيرها2.
--------------------------------------------
যেমন সহিহ হাদিসে জান্নাতের প্রতি তাঁর বাণী: "তুমি আমার রহমত, তোমার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা দয়া করি", যেমনটি তিনি জাহান্নামকে বলেছেন: "তুমি আমার আজাব, তোমার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেই এবং তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই রয়েছে তার পূর্ণতা"১।
সুতরাং এখানে রহমত একটি স্বতন্ত্র অস্তিত্বসম্পন্ন সত্তা, যা অন্য কিছুর গুণ হওয়া সম্ভব নয়২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المطلب الثاني: أقوال العلماء في تقرير المسألةقال شيخ الإسلام ابن تيمية: "ما ذكر في القرآن أنه منه أو أضيف إليه، فإن كان عينا قائمة بنفسها، أوأمراً قائماً بتلك العين كان مخلوقا. كقوله في عيسى: {وَرُوحٌ مِنْهُ} 1 وقوله تعالى: {وَسَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً مِنْهُ} 2 وقوله تعالى: {وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ} 3.
وأما ما كان صفة لا تقوم بنفسها، ولم يذكر لها محل غير الله كان صفة له، فكالقول، والعلم، والأمر إذا أريد به المصدر كان المصدر من هذا الباب كقوله تعالى: {أَلا لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ} 4 وإذا أريد به المخلوق المكون بالأمر كان من الأول كقوله تعالى: {أَتَى أَمْرُ اللَّهِ فَلا تَسْتَعْجِلُوهُ} 5.
وبهذا يفرق بين كلام الله سبحانه، وعلم الله، وبين عبد الله وبيت الله وناقة الله وقوله: {فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَراً سَوِيّاً} 6.
وهذا أمر معقول في الخطاب، فإذا قلت علم فلان وكلامه ومشيئته لم يكن شيئا بائناً عنه، والسبب في ذلك أن هذه الأمور صفات لما تقوم به، فإذا أضيفت إليه كان ذلك إضافة صفة لموصوف، إذ لو قامت بغيره لكانت صفة لذلك الغير لا لغيره"7.
وقال رحمه الله: "إضافة الروح إلى الله إضافة ملك لا إضافة وصف، إذ كل
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিষয়টি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আলেমদের উক্তিশাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "কুরআনে যা কিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বা তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, তা যদি স্বতন্ত্র অস্তিত্ব সম্পন্ন কোনো বস্তু হয় অথবা সেই স্বতন্ত্র বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় হয়, তবে তা সৃষ্টি। যেমন ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে তাঁর বাণী: {এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা একটি রূহ} ১ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে তার সবকিছুই তাঁর পক্ষ থেকে} ২ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের কাছে যেসব নেয়ামত রয়েছে তা আল্লাহরই পক্ষ থেকে} ৩।
পক্ষান্তরে যা এমন গুণ যা নিজে নিজে স্বতন্ত্রভাবে অবস্থান করতে পারে না এবং আল্লাহ ব্যতীত তার অন্য কোনো আধার উল্লেখ করা হয়নি, তবে তা তাঁরই গুণ হিসেবে গণ্য হবে। যেমন: কথা, জ্ঞান এবং নির্দেশ—যদি এর দ্বারা ক্রিয়ামূল উদ্দেশ্য হয়, তবে সেই ক্রিয়ামূল এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হবে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {জেনে রেখো, সৃষ্টি এবং নির্দেশ তাঁরই} ৪। আর যদি এর দ্বারা নির্দেশের মাধ্যমে অস্তিত্বপ্রাপ্ত কোনো সৃষ্টি উদ্দেশ্য হয়, তবে তা প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে, অতএব তা ত্বরান্বিত করার জন্য তাড়াহুড়ো করো না} ৫।
এর মাধ্যমেই আল্লাহর কথা ও আল্লাহর জ্ঞান এবং আল্লাহর বান্দা, আল্লাহর ঘর, আল্লাহর উটনী এবং তাঁর এই বাণীর মধ্যে পার্থক্য করা যায়: {অতঃপর আমি তার কাছে আমার রূহকে পাঠালাম, সে তার সামনে পূর্ণ মানবরূপে আত্মপ্রকাশ করল} ৬।
আর এটি কথোপকথনের ক্ষেত্রে একটি যুক্তিসঙ্গত বিষয়। যখন আপনি বলেন অমুকের জ্ঞান, তার কথা এবং তার ইচ্ছা, তখন তা তার থেকে পৃথক কিছু হয় না। এর কারণ হলো, এই বিষয়গুলো হচ্ছে এমন গুণ যা যার সাথে সংশ্লিষ্ট তার সাথেই অবস্থান করে। অতএব যখন এগুলো তার দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তখন তা গুণের সম্বন্ধ গুণীর দিকে হওয়ার ন্যায় হয়। কারণ এগুলো যদি অন্য কারো সাথে সংশ্লিষ্ট হতো, তবে তা সেই অন্য ব্যক্তিরই গুণ হতো, অন্যের নয়" ৭।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আরও বলেছেন: "আল্লাহর দিকে রূহের সম্বন্ধ করা মালিকানার সম্বন্ধ, গুণের সম্বন্ধ নয়; কারণ প্রতিটি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ما يضاف إلى الله: إن كان عيناً قائمة بنفسها فهو ملك له، وإن كان صفة قائمة بغيرها ليس لها محل تقوم به فهو صفة لله.
ومن أمثلة القسم الأول:
قوله تعالى: {نَاقَةَ اللَّهِ وَسُقْيَاهَا} 1.
وقوله تعالى: {فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا} وهو جبريل {فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَراً سَوِيّاً قَالَتْ إِنِّي أَعُوذُ بِالرَّحْمَنِ مِنْكَ إِنْ كُنْتَ تَقِيّاً قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لأَهَبَ لَكِ غُلاماً زَكِيّاً} 2.
وكقوله تعالى: {وَمَرْيَمَ ابْنَتَ عِمْرَانَ الَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهِ مِنْ رُوحِنَا} 3.
وقال تعالى عن آدم: {فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ} 4.
ومن أمثلة القسم الثاني:
كقولنا علم الله، وكلام الله، وقدرة الله، وحياة الله، وأمر الله.
ولكن قد يعبر بلفظ المصدر عن المفعول به فيسمى المعلوم علما، والمقدور قدرة، والمأمور أمراً، والمخلوق بالكلمة كلمة، فيكون ذلك مخلوقا.
كقوله تعالى: {أَتَى أَمْرُ اللَّهِ فَلا تَسْتَعْجِلُوهُ} 5.
وكقوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيهاً فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَة} 6.
وكقوله تعالى: {إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ} 7.
وكقوله في الحديث الصحيح للجنة "أنت رحمتي أرحم بك من أشاء من
--------------------------------------------
আল্লাহর প্রতি যা কিছু সম্বন্ধযুক্ত করা হয়: যদি তা এমন কোনো স্বতন্ত্র সত্তা হয় যা নিজে নিজেই বিদ্যমান, তবে তা তাঁর মালিকানাধীন সৃষ্টি। আর যদি তা এমন কোনো গুণ হয় যা অন্যের ওপর নির্ভরশীল (স্বতন্ত্র নয়) এবং তার নিজস্ব কোনো আধার নেই, তবে তা আল্লাহর গুণ।
প্রথম প্রকারের উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর উটনী এবং তার পানি পানের পালা} ১।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর আমি তার নিকট আমার রূহ (জিবরীল)-কে প্রেরণ করলাম} এবং সে হলো জিবরীল {সে তার সামনে পূর্ণ মানবরূপে আত্মপ্রকাশ করল। সে বলল, 'আমি তোমার থেকে দয়াময় আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যদি তুমি মুত্তাকী হও।' সে বলল, 'আমি তো কেবল তোমার রবের প্রেরিত দূত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করতে পারি'} ২।
এবং মহান আল্লাহর বাণীর মতো: {আর ইমরানের কন্যা মারইয়াম, যে তার সতীত্ব রক্ষা করেছিল, অতঃপর আমি তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছিলাম} ৩।
এবং আদম সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সেজদাবনত হয়ো} ৪।
দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
যেমন আমাদের কথা—আল্লাহর জ্ঞান, আল্লাহর কালাম, আল্লাহর ক্ষমতা, আল্লাহর জীবন এবং আল্লাহর নির্দেশ।
তবে কখনও কখনও মাসদার (ক্রিয়ামূল) শব্দ দ্বারা মাফউল (কর্মপদ) বোঝানো হয়; ফলে যা জ্ঞাত তাকে 'জ্ঞান', যা নির্ধারিত তাকে 'ক্ষমতা', যা আদিষ্ট তাকে 'নির্দেশ' এবং শব্দ বা বাণী দ্বারা যা সৃষ্টি করা হয়েছে তাকে 'শব্দ' বা 'বাণী' বলা হয়। এমতাবস্থায় তা সৃষ্টি হিসেবে গণ্য হবে।
যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে, সুতরাং তোমরা তা ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না} ৫।
এবং মহান আল্লাহর বাণীর মতো: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে একটি কালেমার (বাণীর) সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হলো মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম, সে দুনিয়া ও আখেরাতে অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন হবে} ৬।
এবং মহান আল্লাহর বাণীর মতো: {নিশ্চয়ই মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর কালেমা (বাণী), যা তিনি মারইয়ামের নিকট প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ} ৭।
এবং জান্নাত সম্পর্কে সহীহ হাদীসে তাঁর বাণীর মতো: "তুমি আমার রহমত, তোমার মাধ্যমে আমি যাকে ইচ্ছা দয়া করি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
عبادي" كما قال للنار: "أنت عذابي أعذب بك من أشاء ولكل واحدة منكما ملؤها""1.
وقال السفاريني: "ومما ينبغي أن يعلم أن المضاف إلى الله سبحانه نوعان:
الأول: صفات لا تقوم بأنفسها كالعلم، والقدرة، والكلام، والسمع، والبصر فهذه إضافة صفة إلى موصوف بها فالعلم والقدرة
… الخ صفات له تعالى غير مخلوقة، وكذا وجهه ويده ونحو ذلك من الصفات الخبرية والذاتية وكذا الفعلية من التكوين والمحبة والرضا ونحوها، في مذهب السلف.
الثاني: إضافة أعيان منفصلة كبيت الله، وناقة الله، وعبد الله، ورسول الله، وكذلك روح الله، فهذه إضافة مخلوق إلى خالقه، ومصنوع إلى صانعه لكنها تقتضي تخصيصاً أو تشريفاً يتميز به المضاف إليه عن غيره "كبيت الله" وإن كانت كل البيوت لله ملكاً له، وكذلك "ناقة الله" والنوق كلها ملكه وخلقه، ولكن هذه إضافة إلى إلهيته تقتضي محبته لها وتكريمه وتشريفه، بخلاف الإضافة العامة إلى ربوبيته، حيث تقتضي خلقه وإيجاده.
فالإضافة العامة تقتضي الخلق والإيجاد، والخاصة تقتضي الاختيار {وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ} 2، فإضافة الروح إليه تعالى من هذه الإضافة الخاصة لا من العامة، ولا من باب إضافة الصفات، فتأمل هذا الموضع فإنه نفيس3.
--------------------------------------------
"আমার বান্দারা" যেমন তিনি আগুনের প্রতি বলেছেন: "তুমি আমার আযাব, তোমার মাধ্যমে আমি যাকে ইচ্ছা শাস্তি প্রদান করি এবং তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই রয়েছে পূর্ণতা।" ১।
এবং আস-সাফফারিনী বলেন: "যা জানা প্রয়োজন তা হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দিকে যা কিছু সম্বন্ধযুক্ত হয় তা দুই প্রকার:
প্রথমত: এমন সব গুণাবলী যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে বিদ্যমান থাকতে পারে না, যেমন: জ্ঞান, ক্ষমতা, কথা বলা, শ্রবণ এবং দর্শন। এগুলো হলো গুণের সম্বন্ধ গুণান্বিত সত্তার দিকে। সুতরাং জ্ঞান ও ক্ষমতা
… ইত্যাদি তাঁর সুউচ্চ গুণাবলী যা সৃষ্টি নয়। তেমনিভাবে তাঁর চেহারা এবং আল্লাহর হাত এবং এ জাতীয় অন্যান্য সংবাদনির্ভর ও সত্তাগত গুণাবলী, এবং তেমনিভাবে সৃষ্টি করা, ভালোবাসা, সন্তুষ্টি ইত্যাদি কর্মগত গুণাবলীসমূহ; এটিই সালাফদের মাযহাব বা পথ।
দ্বিতীয়ত: পৃথক সত্তা বা বস্তুর সম্বন্ধ, যেমন: আল্লাহর ঘর, আল্লাহর উষ্ট্রী, আল্লাহর বান্দা, আল্লাহর রাসূল এবং তদ্রূপ আল্লাহর রূহ। এগুলো হলো সৃষ্টির সম্বন্ধ তার স্রষ্টার দিকে এবং প্রস্তুতকৃত বস্তুর সম্বন্ধ তার প্রস্তুতকারকের দিকে। তবে এই সম্বন্ধ এমন বিশেষত্ব বা মর্যাদা নির্দেশ করে যার মাধ্যমে সম্বন্ধকৃত বিষয়টি অন্য সবকিছু থেকে স্বতন্ত্র হয়ে যায়, যেমন: "আল্লাহর ঘর", যদিও সকল ঘরই আল্লাহর মালিকানাধীন। তেমনিভাবে "আল্লাহর উষ্ট্রী", অথচ সকল উষ্ট্রীই তাঁর মালিকানা ও সৃষ্টি। কিন্তু এটি তাঁর ইলাহিয়াতের (উপাস্যত্বের) দিকে সম্বন্ধ যা তাঁর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান এবং মর্যাদার দাবি রাখে; যা তাঁর রুবুবিয়াতের (প্রভুত্বের) দিকে সাধারণ সম্বন্ধের বিপরীত, কারণ সাধারণ সম্বন্ধ কেবল সৃষ্টি করা এবং অস্তিত্ব দান করাকে নির্দেশ করে।
সুতরাং সাধারণ সম্বন্ধ সৃষ্টি ও অস্তিত্ব দান করাকে বুঝায়, আর বিশেষ সম্বন্ধ নির্বাচন করাকে বুঝায় {এবং আপনার রব যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন} ২। অতএব, সুউচ্চ আল্লাহর দিকে রূহের সম্বন্ধ এই বিশেষ সম্বন্ধের অন্তর্ভুক্ত, সাধারণ সম্বন্ধের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং গুণাবলীর সম্বন্ধের পর্যায়ভুক্তও নয়। সুতরাং এই বিষয়টি গভীরভাবে লক্ষ্য করুন, কারণ এটি অত্যন্ত মূল্যবান ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقال ابن القيم رحمه الله:
والله أخبر في الكتاب بأنه
… منه ومجرور بمن نوعان
عينٌ ووصفٌ قائم بالعين فالأعيـ
… ان خَلْقُ الخالق الرحمان
والوصف بالمجرور قام لأنه
… أولى به في عرفِ كل لسان
ونظير ذا أيضاً سواء ما يضاف
… إليه من صفة ومن أعيان
فإضافة الأوصاف ثابتة لمن
… قامت به كإرادة الرحمان
وإضافة الأعيان ثابتة له
… مُلْكا وخَلْقاً ما هما سِيَّان
فانظر إلى بيت الإله وعلمه
… لَمَّا أضيفا كيف يفترقان
وكلامه كحياته وكعلمه
… في ذي الإضافة إذ هما وصفان
لَكِنَّ ناقته وبيت إلهنا
… فكعبده أيضاً هما ذاتان
فانظر إلى الجهمي لما فاته الحـ
… ـق المبين الواضح التبيان
كان الجميع لديه باباً واحداً
… والصبح لاح لمن له عينان1
قال الشيخ الدكتور محمد خليل هراس في شرح هذه الأبيات: "يريد المؤلف في هذا الفصل أن يفرق بين ما كان من الأعيان مخبراً عنه أنه من الله؛ وبين ما كان من الأوصاف كذلك. وأن يفرق أيضاً بين ما كان من الأعيان مضافاً إلى الله، وبين ما كان من الأوصاف كذلك.
فالمخبر عنه بأنه من الله على نوعين لأنه:
إما أن يكون عيناً من الأعيان.
أو وصفاً قائماً بالعين.
--------------------------------------------
এবং ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
এবং আল্লাহ কিতাবে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর
… পক্ষ থেকে হওয়া এবং 'মিন' (থেকে) অব্যয় দ্বারা নির্দেশিত বিষয় দুই প্রকার
সত্তা এবং সত্তায় বিদ্যমান গুণাবলী; সুতরাং সত্তা
… সমূহ হলো দয়াময় স্রষ্টার সৃষ্টি
আর অব্যয়যুক্ত গুণাবলী [তাঁর মাঝে] বিদ্যমান, কারণ তা
… সকল ভাষার পরিভাষায় তাঁর জন্যই অধিকতর উপযুক্ত
আর এর অনুরূপ হচ্ছে তাঁর প্রতি যা কিছু সম্বন্ধযুক্ত (ইযাফত) হয়,
… চাই তা গুণাবলী হোক বা সত্তা
গুণাবলীর সম্বন্ধ (ইযাফত) তাঁর জন্যই সাব্যস্ত যার মাঝে
… সেগুলো বিদ্যমান, যেমন দয়াময়ের ইচ্ছা
আর সত্তার সম্বন্ধ (ইযাফত) তাঁর প্রতি মালিকানা
… ও সৃষ্টি হিসেবে সাব্যস্ত; এ উভয় বিষয় সমান নয়
অতএব ইলাহের ঘর এবং তাঁর জ্ঞানের প্রতি লক্ষ্য করুন
… যখন উভয়টিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, তখন তারা কীভাবে পৃথক হয়েছে
আর তাঁর কালাম (কথা) তাঁর জীবন ও জ্ঞানের মতোই
… এই সম্বন্ধের ক্ষেত্রে, যেহেতু তারা উভয়ই গুণ
কিন্তু তাঁর উষ্ট্রী এবং আমাদের ইলাহের ঘর
… এবং তদ্রূপ তাঁর বান্দা—এগুলো হলো স্বতন্ত্র সত্তা
অতএব জাহমীর দিকে লক্ষ্য করুন যখন তার নিকট থেকে সুস্পষ্ট
… এবং সুপ্রকাশিত সত্য বিচ্যুত হলো
তার নিকট সবকিছুই ছিল এক পর্যায়ের
… অথচ যার দু’টি চোখ আছে তার নিকট প্রভাত উদ্ভাসিত হয়েছে১
শাইখ ডক্টর মুহাম্মাদ খলীল হাররাস এই কবিতাগুলোর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "লেখক এই পরিচ্ছেদে ঐসব সত্তার (আইন) মধ্যে পার্থক্য করতে চেয়েছেন যার ব্যাপারে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে; এবং ঐসব গুণাবলীর (সিফাত) মধ্যে যেগুলোর ব্যাপারে অনুরূপ সংবাদ দেওয়া হয়েছে। আর তিনি ঐসব সত্তার মধ্যেও পার্থক্য করতে চেয়েছেন যা আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (ইযাফত), এবং ঐসব গুণাবলীর মধ্যেও যা অনুরূপভাবে সম্বন্ধযুক্ত।
সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার ব্যাপারে যা সংবাদ দেওয়া হয়েছে তা দুই প্রকার, কারণ তা:
হয় কোনো স্বতন্ত্র সত্তা হবে।
অথবা কোনো সত্তার মাঝে বিদ্যমান কোনো গুণ হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
فإن كان عيناً فمعنى كونه من الله أنه هو خالقه سبحانه كما في قوله تعالى: {مَا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللَّهِ} 1، وقوله: {قُل كُلٌّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ} 2، وقوله: {وَسَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً مِنْهُ} 3، وقوله تعالى عن عيسى عليه السلام: {إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ} 4 والآيات كثيرة في هذا الباب.
وإن كان وصفاً فمعنى كونه من الله أنه صفة له كما في قوله تعالى: {قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَق} 5، وقوله تعالى: {تَنْزِيلٌ مِنَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} 6، وقوله تعالى: {تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ} 7.
ومعنى قول المؤلف: "والوصف بالمجرور قام" يعني أن ما أخبر عنه بمن إن كان وصفاً فهو قائم بالمجرور بها لأنه أحق به في عرف أهل اللغات جميعاً.
ومثل ذلك تماماً يقال فيما يضاف إلى الله عز وجل.
فإن كان عيناً مثل بيت الله، وناقة الله، وعباد الرحمن، فنسبته إليه ثابتة خلقاً وملكاً، وتكون إضافته للاختصاص والتشريف.
وأما إن كان وصفاً كعلم الله، وقدرته، وإرادته، وكلامه، وحياته، فهذه الإضافة تقتضي قيامها بالله وأنه موصوف بها.
وتدبر هذا الفرق بين قولك بيت الله، وعلم الله، فإن كُلاًّ منهما يضاف إلى الله، ولكن لما كانت إضافة الأول إضافة ذات دلت على أنه مخلوق.
ولما كانت إضافة الثاني إضافة معنى دلت على أنه صفة للمضاف إليه.
ولهذا لما اهتدى السلف لهذا الفرق هُدُوا إلى الصراط المستقيم، ولما ضل
--------------------------------------------
যদি সেটি একটি বস্তু (সত্তা) হয়, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার অর্থ হলো যে, তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার স্রষ্টা। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {যা কিছু কল্যাণ তোমার নিকট পৌঁছায় তা আল্লাহর পক্ষ থেকে} ১, এবং তাঁর বাণী: {বল, সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে} ২, এবং তাঁর বাণী: {এবং তিনি তোমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন যা কিছু আসমানে রয়েছে এবং যা কিছু জমিনে রয়েছে, সবকিছুই তাঁর পক্ষ থেকে} ৩, এবং ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই মারইয়ামের পুত্র ঈসা মসীহ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর কালেমা, যা তিনি মারইয়ামের নিকট প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ} ৪ এবং এই বিষয়ে আয়াত অনেক।
আর যদি সেটি কোনো গুণ হয়, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার অর্থ হলো যে, তা তাঁরই একটি গুণ। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {বল, একে রুহুল কুদুস (জিবরাঈল) তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্যসহ নাযিল করেছেন} ৫, এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {এটি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ} ৬, এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে মহা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে} ৭।
আর লেখকের এই কথার অর্থ: "মাজরুরের সাথে গুণটি সাব্যস্ত হয়" অর্থাৎ 'মিন' দ্বারা যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে তা যদি একটি গুণ হয়, তবে তা ঐ শব্দের (মাজরুর) সাথেই প্রতিষ্ঠিত যার সাথে তা সম্পর্কিত হয়েছে। কারণ সকল ভাষাভাষী মানুষের পরিভাষায় এটিই অধিক যুক্তিসঙ্গত।
ঠিক একইভাবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র দিকে যা কিছু সম্বন্ধ (ইযাফত) করা হয় সে সম্পর্কেও বলা হবে।
যদি সেটি কোনো বস্তু হয় যেমন আল্লাহর ঘর, আল্লাহর উটনী, দয়াময়ের বান্দাগণ, তবে তাঁর দিকে এর সম্বন্ধ সৃষ্টি ও মালিকানা হিসেবে সাব্যস্ত হবে এবং এই সম্বন্ধটি হবে বৈশিষ্ট্য ও সম্মানের জন্য।
পক্ষান্তরে যদি তা কোনো গুণ হয় যেমন আল্লাহর জ্ঞান, তাঁর ক্ষমতা, তাঁর ইচ্ছা, তাঁর কথা এবং তাঁর জীবন, তবে এই সম্বন্ধ এটিই দাবি করে যে, তা আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তিনি এই গুণগুলোর দ্বারা গুণান্বিত।
আর তোমার কথা 'আল্লাহর ঘর' এবং 'আল্লাহর জ্ঞান'—এর মধ্যকার এই পার্থক্যটি নিয়ে চিন্তা করো। কারণ উভয়েই আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, কিন্তু যেহেতু প্রথমটির সম্বন্ধ হলো সত্তার সম্বন্ধ, তাই তা প্রমাণ করে যে সেটি সৃষ্টি।
আর যেহেতু দ্বিতীয়টির সম্বন্ধ হলো অর্থের (গুণের) সম্বন্ধ, তাই তা প্রমাণ করে যে তা যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তাঁর একটি গুণ।
এ কারণেই যখন সালাফগণ এই পার্থক্যের হেদায়েত পেয়েছিলেন, তখন তারা সঠিক পথের দিশা পেয়েছিলেন; আর যখন পথভ্রষ্টরা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
عنه الجهمي الزائغ جعل الجميع باباً واحداً، ولم يفرق بين الأوصاف والأعيان، فوقع في الضلال والبهتان"1.
--------------------------------------------
পথভ্রষ্ট জাহমি এ বিষয়ে সব কিছুকে একই বিষয়ভুক্ত করেছে এবং সে গুণাবলি ও সত্তাসমূহের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি, ফলে সে বিভ্রান্তি ও অপবাদে নিপতিত হয়েছে।"১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
المطلب الثالث: موقف المخالفين من المسألةموقف الجهمية والمعتزلة ومن وافقهم:
ينكر الجهمية والمعتزلة صفات الله عز وجل ولذلك فهم لا يعترفون بالقسم الثاني من أقسام الإضافة إلى الله الذي هو إضافة الصفة إلى الموصوف.
فالمعتزلة يرون امتناع قيام الصفات به، لاعتقادهم أن الصفات أعراض، وأن قيام العرض به يقتضي حدوثه، فردوا جميع ما يضاف إلى الله إلى إضافة خلق، أو إضافة وصف من غير قيام معنى به1 لأنهم يقولون إنما الصفات مجرد العبارة التي يعبر بها عن الموصوف، وينفون أن يكون لله وصف قائم به علم أو قدرة أو إرادة أو كلام2.
موقف الكلابية ومن اتبعهم من الصفاتية:
يفرقون بين الوصف والصفة.
فيجعلون الوصف: هو القول.
ويجعلون الصفة: المعنى القائم بالموصوف3.
فقالوا: إن الوصف الذي هو القول يراد به الأفعال، وزعموا أنها لا تقوم به، والصفة: هي الصفات اللازمة القائمة بالذات.
فظنوا أن هناك نوعين مختلفين من الصفات:
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই মাসআলায় বিরোধীদের অবস্থানজাহমিয়্যাহ, মু'তাযিলা এবং তাদের অনুসারীদের অবস্থান:
জাহমিয়্যাহ ও মু'তাযিলা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র সিফাত বা গুণাবলি অস্বীকার করে, তাই তারা আল্লাহর প্রতি সম্বন্ধকরণের (ইদাফাত) দ্বিতীয় প্রকারটি স্বীকার করে না, যা হলো গুণী বা সত্তার (মাউসুফ) দিকে গুণের (সিফাত) সম্বন্ধকরণ।
মু'তাযিলারা আল্লাহর সত্তায় সিফাতসমূহ বিদ্যমান থাকাকে অসম্ভব মনে করে; কারণ তাদের বিশ্বাস হলো সিফাতসমূহ হচ্ছে ‘আরায’ (আপতিত গুণ), আর আল্লাহর সত্তায় আরাযের উপস্থিতি তাঁর নশ্বর হওয়া বা নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়াকে আবশ্যক করে। ফলে আল্লাহর দিকে যা কিছুই সম্বন্ধ করা হয়, তাকে তারা সৃষ্টির সম্বন্ধকরণ অথবা আল্লাহর সত্তায় কোনো অর্থ বিদ্যমান থাকা ব্যতিরেকে নিছক বর্ণনার সম্বন্ধকরণ হিসেবে গণ্য করে।১ কারণ তারা বলে যে, সিফাত হলো কেবল সেই শব্দ বা অভিব্যক্তি যা দ্বারা গুণীকে প্রকাশ করা হয়। তারা আল্লাহর সত্তায় বিদ্যমান কোনো ইলম (জ্ঞান), কুদরত (ক্ষমতা), ইরাদাহ (ইচ্ছা) কিংবা কালাম (কথা) থাকাকে অস্বীকার করে।২
কুল্লাবিয়্যাহ এবং তাদের অনুসারী সিফাতিয়্যাদের অবস্থান:
তারা ‘ওয়াসফ’ (বর্ণনা) এবং ‘সিফাত’ (গুণ)-এর মধ্যে পার্থক্য করে।
তারা ‘ওয়াসফ’-কে ‘উক্তি’ বা ‘বাণী’ হিসেবে গণ্য করে।
আর তারা ‘সিফাত’-কে গুণীর সত্তায় বিদ্যমান ‘অর্থ’ হিসেবে গণ্য করে।৩
তারা বলে: ‘ওয়াসফ’ যা মূলত উক্তি, তা দ্বারা কার্যাবলীকে (আফ‘আল) উদ্দেশ্য করা হয় এবং তারা দাবি করে যে আল্লাহর কার্যাবলী তাঁর সত্তায় বিদ্যমান থাকে না। আর ‘সিফাত’ হলো সত্তার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে বিদ্যমান গুণাবলি।
ফলে তারা ধারণা করেছে যে, সেখানে দুই ধরণের ভিন্ন ভিন্ন সিফাত রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
أحدهما: قائم بالذات لازم لها، كصفات المعاني السبعة التي هي العلم، والقدرة، والإرادة، والحياة، والسمع، والبصر، والكلام.
والثاني: صفات أفعال لا تقوم عندهم بالذات، بل هي نسب إضافية عدمية تنشأ من إضافة المفعول لفاعله، ولا يعقل لها وجود إلا بتلك الإضافة، فوجودها أمر سلبي، وليس لها وجود في نفسها، فليس ثمت عندهم موجود إلا المفعولات، وأما الأفعال فنسب وإضافات1.
--------------------------------------------
প্রথমটি: যা সত্তার সাথে বিদ্যমান এবং তার জন্য অপরিহার্য, যেমন সাতটি অর্থগত গুণ, যা হলো জ্ঞান, ক্ষমতা, ইচ্ছা, জীবন, শ্রবণ, দর্শন এবং কথা।
আর দ্বিতীয়টি: কর্মগত গুণাবলি, যা তাদের মতে সত্তার সাথে বিদ্যমান নয়; বরং এগুলো হলো আপেক্ষিক অভাবাত্মক সম্বন্ধ, যা কর্মকে তার কর্তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করার মাধ্যমে উদ্ভূত হয়। এই সম্বন্ধ ব্যতীত এগুলোর অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না; ফলে এগুলোর অস্তিত্ব একটি নেতিবাচক বিষয় এবং এগুলোর নিজস্ব কোনো অস্তিত্ব নেই। সুতরাং তাদের নিকট কর্মসমূহ ব্যতীত অন্য কিছুর বাস্তব অস্তিত্ব নেই, আর কাজগুলো হলো কেবল সম্বন্ধ ও সংযুক্তি মাত্র।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
المبحث الثالث: العلاقة بين باب الصفات وباب الأسماء وباب الإخبار
المطلب الأول: العلاقة بين الأبواب الثلاثة…المطلب الأول: العلاقة بين الأبواب الثلاثة.
أولاً: يجب أن يُعْلَم أن توحيد الأسماء والصفات يشتمل على ثلاثة أبواب:
الباب الأول: باب الأسماء.
الباب الثاني: باب الصفات.
الباب الثالث: باب الإخبار.
فنحن إذا وقفنا وقفةَ تأمل عند نصوص الكتاب والسنة الواردة في هذا الشأن نجد الحقائق التالية:
أن الله أطلق على نفسه أسماء كـ (السَّميع) و (البصير) ، وأوصافاً كـ (السمع) و (البصر) ، وهكذا أخبر عن نفسه بأفعالها فقال: {قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا} [المجادلة 1] ، وقال تعالى: {وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ} [آل عمران 15] . فاستعملها في تصاريفها المتنوعة، مما يدل على أن مثل ذلك يجوز إطلاقه عليه في أي صورة ورد.
وأطلق على نفسه أفعالاً كـ (الصُّنع) و (الصِّبغة) و (الفعل) ونحوها. قال تعالى: {صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْء} [النمل 88] ، وقال تعالى: {صِبْغَةَ اللَّهِ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ صِبْغَةً} [البقرة 138] وقال تعالى: {إِنَّ رَبَّكَ فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ} [هود 107] ، لكنه لم يَتَسَمَّ ولم يصف نفسه بها ولكن أخبر بها عن نفسه، ممَّا يدل على أنَّها تخالف الأوَّل في الحكم فوجب الوقوف فيها على ما ورد.
ووصف نفسه بأفعال في سياق المدح كـ (يريد) و (يشاء) فقال جلَّ شأنه:
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গুণাবলি, নামসমূহ এবং সংবাদ প্রদানের অধ্যায়ের মধ্যকার সম্পর্কপ্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: তিনটি অধ্যায়ের মধ্যকার সম্পর্ক...প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: তিনটি অধ্যায়ের মধ্যকার সম্পর্ক।
প্রথমত: এটি জানা আবশ্যক যে, নাম ও গুণাবলির (আসমা ওয়া সিফাত) তাওহীদ তিনটি অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম অধ্যায়: নামসমূহের অধ্যায়।
দ্বিতীয় অধ্যায়: গুণাবলির অধ্যায়।
তৃতীয় অধ্যায়: সংবাদ প্রদানের (ইখবার) অধ্যায়।
আমরা যদি এই বিষয়ে কিতাব ও সুন্নাহর বর্ণিত নসগুলোর (দলিল) প্রতি গভীর মনোযোগ দেই, তবে নিম্নলিখিত সত্যগুলো দেখতে পাই:
আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য ‘আস-সামি’ (সর্বশ্রোতা) ও ‘আল-বাসির’ (সর্বদ্রষ্টা)-এর মতো নাম এবং ‘সাম’ (শ্রবণ) ও ‘বাসার’ (দর্শন)-এর মতো গুণাবলি প্রয়োগ করেছেন। একইভাবে তিনি এগুলোর ক্রিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই নারীর কথা শুনেছেন, যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছিল} [আল-মুজাদালা: ১], এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি সর্বদ্রষ্টা} [আল-ইমরান: ১৫]। এভাবে তিনি এ শব্দগুলোকে বিভিন্ন ব্যাকরণগত রূপে ব্যবহার করেছেন, যা প্রমাণ করে যে এ ধরনের শব্দ যে কোনো রূপে বর্ণিত হলে তা তাঁর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা বৈধ।
তিনি নিজের জন্য ‘নির্মাণ’ (সান), ‘রঙ’ (সিবগাহ) ও ‘কাজ’ (ফেইল) ইত্যাদি কর্মসমূহ প্রয়োগ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহরই নির্মাণ, যিনি সবকিছু সুনিপুণভাবে তৈরি করেছেন} [আন-নামল: ৮৮], এবং তিনি বলেন: {আমরা আল্লাহর রঙ গ্রহণ করলাম; আর রঙের দিক থেকে আল্লাহর চেয়ে আর কে উত্তম হতে পারে?} [আল-বাকারাহ: ১৩৮] এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আপনার রব যা ইচ্ছা করেন, তা-ই করেন} [হুদ: ১০৭]। কিন্তু তিনি এগুলো দ্বারা নিজের নামকরণ করেননি এবং এগুলোকে সরাসরি নিজের গুণ হিসেবেও বর্ণনা করেননি, বরং এগুলো দ্বারা নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, এগুলো বিধানের দিক থেকে প্রথম প্রকারের চেয়ে ভিন্ন। ফলে এ ক্ষেত্রে যতটুকু বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা ওয়াজিব।
তিনি প্রশংসার প্রেক্ষাপটে নিজের জন্য ‘ইরাদা করা’ (ইচ্ছা করা) ও ‘মাশিআত’ (চাওয়া) এর মতো কর্মগুলো বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি মহাসম্মানিত সত্তা বলেন:
(খণ্ড: ১)
আস-সিফাতুল ইলাহিয়্যাহ তারীফুহা, আকসামুহা
(পৃষ্ঠা: ৪০)
{فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلإِسْلامِ} [الأنعام 125] وقال تعالى: {وَمَا تَشَاءُونَ إِلَاّ أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} [التكوير 29] إلا أنه لم يشتق له منها أسماء فدل على أن هذا النوع مخالف للقسمين الأولين، فوجب رده إلى الكتاب والسنة وذلك بالوقوف حيث أوقفنا الله ورسوله صلى الله عليه وسلم.
ووصف نفسه بأفعال أخرى على سبيل المقابلة بالعقاب والجزاء فقال تعالى: {يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُم} [النساء 142] وقال تعالى: {وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّه} [الأنفال 30] . ولم يشتق منها أسماء له تعالى فدل ذلك على أن مثل هذه الأفعال لها حكمٌ خاصٌ فوجب الوقوف على ما ورد.
فهذه الحقائق السابقة قررت عند العلماء النتائج التالية:
1ـ أن النصوص جاءت بثلاثة أبواب هي (باب الأسماء) و (باب الصفات) و (باب الإخبار) .
2ـ أن باب الأسماء هو أخص تلك الأبواب، فما صح اسماً صحَّ صفة وصحَّ خبراً وليس العكس.
3ـ باب الصفات أوسع من باب الأسماء، فما صحَّ صفة فليس شرطاً أن يصحَّ اسماً، فقد يصحُّ وقد لا يصح، مع أن الأسماء جميعها مشتقة من صفاته.
4ـ أن ما يدخل في باب الإخبار عنه تعالى أوسع مما يدخل في باب أسمائه وصفاته، فالله يُخْبَرُ عنه بالاسم وبالصفة وبما ليس باسم ولا صفة كألفاظ (الشييء) و (الموجود) و (القائم بنفسه) و (المعلوم) ، فإنه يخبر بهذه الألفاظ عنه ولا تدخل في أسمائه الحسنى وصفاته العليا.
إن باب الأسماء والصفات توقيفيان.
{অতঃপর আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।} [আল-আনআম ১২৫] এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তোমরা ইচ্ছা করতে পারো না, যতক্ষণ না জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছা করেন।} [আত-তাকভীর ২৯]। তবে তিনি এগুলো থেকে নিজের জন্য কোনো নাম গ্রহণ করেননি। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, এই প্রকারটি পূর্বোক্ত দুই প্রকার থেকে ভিন্ন। তাই একে কুরআন ও সুন্নাহর দিকেই ন্যস্ত করা ওয়াজিব; আর তা হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের যেখানে সীমাবদ্ধ করেছেন সেখানেই অবস্থান করা।
এবং তিনি নিজের সত্তাকে শাস্তি ও প্রতিদানের বিনিময় স্বরূপ অন্যান্য কার্যাবলীর মাধ্যমেও গুণান্বিত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই তারা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে, অথচ তিনি তাদের সাথে প্রতারণা করেন।} [আন-নিসা ১৪২] এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {এবং তারা কৌশল করছিল এবং আল্লাহও কৌশল করছিলেন।} [আল-আনফাল ৩০]। মহান আল্লাহ এগুলো থেকেও নিজের কোনো নাম গ্রহণ করেননি। এটি প্রমাণ করে যে, এই ধরনের কার্যাবলীর জন্য বিশেষ বিধান রয়েছে; তাই যা বর্ণিত হয়েছে সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকা ওয়াজিব।
পূর্বোক্ত এই সত্যসমূহ আলেমদের নিকট নিম্নোক্ত ফলাফলগুলো সাব্যস্ত করেছে:
১- (শরীয়তের) পাঠ্যসমূহ তিনটি অধ্যায়ে এসেছে, সেগুলো হলো: (নামের অধ্যায়), (গুণের অধ্যায়) এবং (সংবাদ প্রদানের অধ্যায়)।
২- নামের অধ্যায়টি এই অধ্যায়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট। সুতরাং যা নাম হিসেবে সাব্যস্ত হবে, তা গুণ এবং সংবাদ হিসেবেও সাব্যস্ত হবে; কিন্তু এর বিপরীতটি সঠিক নয়।
৩- গুণের অধ্যায়টি নামের অধ্যায়ের চেয়ে প্রশস্ত। সুতরাং যা গুণ হিসেবে সাব্যস্ত হয়, তা নাম হিসেবে সাব্যস্ত হওয়া শর্ত নয়; তা নাম হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। যদিও সমস্ত নামই তাঁর গুণাবলি থেকে গৃহীত।
৪- মহান আল্লাহ সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের অধ্যায়টি তাঁর নাম ও গুণের অধ্যায়ের চেয়েও প্রশস্ত। সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কে নাম, গুণ এবং যা নাম বা গুণ নয়—এমন সবকিছুর মাধ্যমেই সংবাদ দেওয়া যায়; যেমন: ‘বস্তু’, ‘বিদ্যমান’, ‘স্বয়ং-অস্তিত্ববান’ এবং ‘জ্ঞাত’ শব্দসমূহ। কেননা এই শব্দগুলো দ্বারা তাঁর সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়, কিন্তু এগুলো তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ এবং উচ্চতর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত নয়।
নিশ্চয়ই নাম ও গুণের অধ্যায়টি তাওকীফী (দলিল-নির্ভর)।