(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: -)
الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب ومنهجه في مباحث العقيدة   (آمنة محمد نصير)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب ومنهجه في مباحث العقيدة

المؤلف: آمنة محمد نصير

الناشر: دار الشروق- بيروت- لبنان

الطبعة: الأولى، 1403هـ/ 1983م

عدد الصفحات: 262

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শেখ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এবং আকিদাহর বিষয়াবলীতে তাঁর মানহাজ   (আমনা মুহাম্মাদ নাসির)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমষ্টি


গ্রন্থ: শেখ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এবং আকিদাহর বিষয়াবলীতে তাঁর মানহাজ

লেখক: আমনা মুহাম্মাদ নাসির

প্রকাশক: দারুশ শুরূক- বৈরুত- লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩ হিজরি/ ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
‌‌مقدمة

…

الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب ومنهجه في مباحث العقيدة

تأليف: آمنة محمد نصير

تقْديم

لقد بدأت تجربتي في دراسة أعلام السلف منذ خمسة عشر عاماً عندما بدأت التفكير في إعداد الماجستير عقب الدراسات التمهيدية التي تسبق هذه الدرجة العلمية، ويومها أشار علي أستاذي الدكتور محمد رشاد سالم أستاذ الفلسفة الإسلامية بدراسة المتكلم والفقيه والواعظ أبو الفرج عبد الرحمن بن الجوزي] 510هـ ـ 597 هـ م [وهو عقلية موسوعية تراني على حقول المعرفة الإسلامية بجدارة، استغرقت دراستي لابن الجوزي بضع سنوات كانت مثمرة والحمد لله.

ثم بدأت التفكير في دراسة الدكتوراه وعشت في حيرة اختيار موضوع البحث كأي دارس ودراسة في هذه المرحلة ويومها فكرت في دراسة ابن عقيل الحنبلي وهو من أبرز شيوخ ابن الجوزي وقد تأثر به تأثرا كبيرا في كثير من آرائه. وفي هذه الآونة عرض علي العمل بالمملكة العربية السعودية لكي أحاضر في المواد الإسلامية في كلية التربية بالرياض ومن خلال تجربتي في التدريس واحتكاكي بالمناهج أحسست بأهمية الإمام الشيخ محمد بن عبد الوهاب كصاحب منهج عملي وفكر سلفي عالج بهما كثيراً من الأمراض التي كانت منتشرة في الجزيرة العربية ـ بل وفي معظم العالم الإسلامي وأول هذه الأمراض التي قام بعلاجها تنزيه مفهوم التوحيد من جميع ألوان الشرك في عقائد الناس وسلوكهم.

قطعت إعارتي وعدت إلى القاهرة لكي أتفرغ تماماً لدراسة الشيخ
ভূমিকা

...

শায়খ ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এবং আকিদাহর বিষয়াবলিতে তাঁর মানহাজ

রচনা: আমিনা মুহাম্মাদ নাসীর

উপস্থাপনা

সালাফে সালেহীনের বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের নিয়ে গবেষণায় আমার অভিজ্ঞতা আজ থেকে পনেরো বছর আগে শুরু হয়েছিল, যখন আমি এই উচ্চতর শিক্ষাগত ডিগ্রির পূর্ববর্তী প্রাথমিক অধ্যয়ন শেষে মাস্টার্স থিসিস প্রস্তুত করার কথা চিন্তা করতে শুরু করি। সেদিন আমার উস্তাদ, ইসলামি দর্শনের অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মাদ রাশাদ সালেম আমাকে ইলমুল কালাম বিশারদ, ফকিহ এবং ওয়ায়েজ আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান ইবনুল জাওজি [৫১০ হি. – ৫৯৭ হি.]-কে নিয়ে গবেষণার পরামর্শ দেন। তিনি ছিলেন এক বিশ্বকোষীয় প্রজ্ঞার অধিকারী, যিনি ইসলামি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অত্যন্ত যোগ্যতার সাথে বিচরণ করেছিলেন। ইবনুল জাওজিকে নিয়ে আমার গবেষণা কয়েক বছর সময় নিয়েছিল, যা আলহামদুলিল্লাহ ফলপ্রসূ ছিল।

এরপর আমি পিএইচডি করার কথা চিন্তা করতে শুরু করি এবং এই স্তরের যেকোনো গবেষক বা শিক্ষার্থীর মতো গবেষণার বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে দোটানায় ছিলাম। সেই সময় আমি ইবনে আকিল আল-হাম্বলিকে নিয়ে গবেষণার কথা ভাবি, যিনি ছিলেন ইবনুল জাওজির অন্যতম প্রধান শায়খ এবং ইবনুল জাওজি তাঁর অনেক মতামতের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন। ঠিক এই সময়ে আমার সামনে সৌদি আরব রাজ্যে কাজ করার সুযোগ আসে, যাতে আমি রিয়াদের কলেজ অব এডুকেশনে ইসলামি বিষয়াবলির ওপর লেকচার দিতে পারি। সেখানে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং পাঠ্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে আমি একজন ব্যবহারিক কর্মপদ্ধতি ও সালাফি চিন্তাধারার বাহক হিসেবে ইমাম শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের গুরুত্ব উপলব্ধি করি। তিনি তাঁর এই পদ্ধতি ও চিন্তাধারার মাধ্যমে তৎকালীন জাজিরাতুল আরব—বরং অধিকাংশ মুসলিম বিশ্বে—ছড়িয়ে পড়া অনেক ব্যাধির প্রতিকার করেছিলেন। আর এই ব্যাধিগুলোর মধ্যে প্রথম যেটির তিনি চিকিৎসা করেছিলেন, তা হলো মানুষের আকিদাহ ও আচরণে সকল প্রকার শিরক থেকে তাওহিদের ধারণাকে পরিশুদ্ধ করা।

আমি আমার প্রেষণকালীন কর্মকাল শেষ করে কায়রোতে ফিরে আসি যাতে শায়খকে নিয়ে গবেষণায় নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করতে পারি।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
محمد بن عبد الوهاب في قالب علمي بعيد عن اتجاه الغالين أو القالين لدعوة الشيخ.

وعرضت الموضوع على الأستاذ الدكتور أبو الوفا التفتازاني أستاذ الفلسفة الإسلامية ووكيل كلية الآداب/جامعة القاهرة فرحب به وحثني على المضي فيه وذلل الصعوبات التي اعترضت طريقي في وقتها. وكذلك كان تشجيع أستاذ الجيل الدكتور عبد العزيز السيد. وكان التشجيع الكبير من زوجي المستشار الدمرداش العقالي الذي حول تشجيعه إلى عمل متواصل في جمع كل ما يمكن جمعه من مادة ومراجع من مكتبات الرياض.

وبدأت مشواري مع الشيخ الذي استغرق حوالي ثلاثة أعوام، كان لأستاذي المشرف الدكتور محمد عاطف العراقي أستاذ الفلسفة الإسلامية بآداب القاهرة عظيم الأثر في إنارة الطريق أمامي وحثني على إخراج هذه الدراسة في زمن وجيز.

وتمت الدراسة بخير أحمد الله عليه وجاء دور طباعتها ومن منطلق شعوري بما أعطيت لهذه الدراسة من وقت وجهد جعلني أشعر بأهمية إخراجها للقارئ العربي في ثوبها العلمي الموضوعي المحايد والذي انتهيت فيه إلى أن الإمام الشيخ، في عالم المصلحين، عملاق ذو منهج فريد، وفي عالم البشر حسب قوله رحمه الله: " فإن كل أحد يؤخذ من قوله ويترك إلا نبينا "صلى الله عليه وسلم".

وأقول إن كنت أصبت فهذا الذي أردت وهو من توفيق الله تعالى وتيسيره وإن تكن الأخرى فسوف أحظى بأجر إن شاء الله وحسبي خلوص النية لله تعالى ولرسوله صلى الله عليه وسلم.

د. آمنَة محمَّد نصْير
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবকে একটি বৈজ্ঞানিক কাঠামোতে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা শায়খের দাওয়াতের প্রতি অতিশয়োক্তি অথবা অবজ্ঞাকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দূরে।

আমি বিষয়টি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ভাইস ডিন এবং ইসলামি দর্শনের অধ্যাপক ডক্টর আবুল ওয়াফা আল-তাফতাজানির কাছে উপস্থাপন করি। তিনি একে স্বাগত জানান এবং আমাকে এটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন এবং সে সময় আমার পথে আসা বাধাগুলো দূর করতে সহযোগিতা করেন। একইভাবে প্রজন্মের শিক্ষক ডক্টর আব্দুল আজিজ আল-সাইয়্যেদ উৎসাহ প্রদান করেন। আর সবচেয়ে বড় উৎসাহ এসেছিল আমার স্বামী পরামর্শক আদ-দামরদাশ আল-আকালির কাছ থেকে, যিনি তার উৎসাহকে রিয়াদের লাইব্রেরিগুলো থেকে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য-উপাত্ত এবং রেফারেন্স সংগ্রহের নিরবচ্ছিন্ন কাজে রূপান্তর করেছিলেন।

শায়খের বিষয়ে আমার এই পথচলা শুরু হয় যা প্রায় তিন বছর সময় নেয়। আমার তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষক কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ইসলামি দর্শনের অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ আতিফ আল-ইরাকি আমার সামনে পথ আলোকিত করতে এবং অল্প সময়ের মধ্যে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা পালন করেন।

আল্লাহর প্রশংসায় গবেষণাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন এটি মুদ্রণের সময় এসেছে। এই গবেষণায় আমি যে সময় ও শ্রম দিয়েছি, তা আমাকে এটি অনুভব করতে বাধ্য করেছে যে, আরব পাঠকদের সামনে এটি একটি বৈজ্ঞানিক, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ আঙ্গিকে তুলে ধরা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, সংস্কারকদের জগতে ইমাম শায়খ ছিলেন এক অনন্য কর্মপদ্ধতির অধিকারী এক বিশাল ব্যক্তিত্ব। আর মানুষের জগতে তার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন): "নিশ্চয়ই আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য যে কারো কথা গ্রহণ করা যেতে পারে অথবা বর্জন করা যেতে পারে।"

আমি বলব, যদি আমি সঠিক হয়ে থাকি তবে এটাই আমি চেয়েছিলাম এবং তা মহান আল্লাহর তাওফিক ও সহজীকরণের মাধ্যমেই হয়েছে। আর যদি অন্যথা হয়, তবে আমি ইনশাআল্লাহ সওয়াব পাব। মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য আমার নিয়তের বিশুদ্ধতাই আমার জন্য যথেষ্ট।

ডক্টর আমেনা মুহাম্মদ নাসির
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
تمهيد

اكتمل تكريم الله للإنسان بالقران الكريم.

وتمثل هذا التكرم في أنه جاء كتاباً يتلى، ليستخرج العقل الإنساني من عبودية التقليد إلى حرية التفكير. وليضع لهذه الحرية العقلية معالم تهدي المفكرين إلى سواء السبيل.

معالم تهدي ركب الحياة في سيره الحثيث.

ولكنها ليست قيوداً تشل الحياة وتورث الجمود.

واهتدى السلف الصالح إلى منزلة التفكير كفريضة فأدوها، وإلى ضرورة المعالم والحدود التي وضعها العليم الخبير فانتهوا إليها ولم يضيعوها.

فقدّموا للإنسانية حضارة فريدة تقدّر المقول وتحفظ المنقول. ثم خلف من بعدهم من توزعتهم أهواء الإفراط والتفريط حتى أضاعوا التوازن المعجز الذي جاء به الإسلام صيانة للعقل والنقل على السواء، فأخذوا عرض الكتاب وأهدروا غاياته!

فريق استهواه بريق الفلسفة الأرسطية ذات الأقيسة الجدلية فآثر استخدام منطقها للدفاع عن عقيدة الإسلام، وفاته أن للعقيدة منطقها المستقل في البحث والاستدلال. فكان كمن قاتل معركة بغير سلاحها فأرهق نفسه وأرهق المثل التي يدافع عنها، وانتهى إلى أن أفرط في العقل حتى فرط في النقل.
ভূমিকা

পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে মানুষের প্রতি আল্লাহর সম্মান প্রদর্শন পূর্ণতা লাভ করেছে।

এই সম্মান ও মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এভাবে যে, এটি এমন এক পঠিত কিতাব হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে যা মানুষের বিবেককে অন্ধ অনুকরণের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে চিন্তার স্বাধীনতার দিকে পরিচালিত করে। আর এটি এই বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার জন্য এমন কিছু নিদর্শন ও মানদণ্ড স্থাপন করে যা চিন্তাশীলদের সঠিক পথের দিশা দেয়।

এমন সব নিদর্শন যা জীবনের কাফেলাকে তার নিরন্তর পথচলায় সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

তবে এগুলো এমন কোনো প্রতিবন্ধকতা নয় যা জীবনকে স্থবির করে দেয় এবং চিন্তার জড়তা তৈরি করে।

সালাফে সালেহীন চিন্তাভাবনার গুরুত্বকে একটি আবশ্যিক কর্তব্য হিসেবে অনুধাবন করেছিলেন এবং তা যথাযথভাবে আঞ্জাম দিয়েছিলেন। আর মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ সত্তা যেসব নিদর্শন ও সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সেগুলোর আবশ্যকতা উপলব্ধি করে তাঁরা তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছিলেন এবং তা বিনষ্ট করেননি।

তাঁরা মানবতার সামনে এমন এক অনন্য সভ্যতা উপহার দিয়েছিলেন যা যুক্তিগ্রাহ্য বিষয়কে (মাকুল) যথাযথ মূল্যায়ন করত এবং বর্ণিত ঐতিহ্যকে (মানকুল) সংরক্ষণ করত। অতঃপর তাঁদের পরে এমন এক প্রজন্মের আবির্ভাব ঘটল যারা আতিশয্য ও শিথিলতার প্রবৃত্তিতে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ল; এমনকি তারা সেই অলৌকিক ভারসাম্যটিই বিনষ্ট করল যা ইসলাম বিবেক (আকল) ও বর্ণনা (নকল)—উভয়ের সুরক্ষার জন্য নিয়ে এসেছিল। ফলে তারা কিতাবের বাহ্যিক বা তুচ্ছ অংশ আঁকড়ে ধরল এবং এর মূল লক্ষ্যসমূহ বিসর্জন দিল!

একদল অ্যারিস্টটীয় দর্শনের তর্কমূলক যুক্তির চাকচিক্যে মোহিত হয়ে পড়ল, ফলে তারা ইসলামের আকিদা রক্ষার জন্য সেই দর্শনের যুক্তিবিদ্যা ব্যবহার করাকেই শ্রেয় মনে করল। কিন্তু তারা এ কথা বিস্মৃত হলো যে, অনুসন্ধান ও প্রমাণের ক্ষেত্রে আকিদার নিজস্ব স্বতন্ত্র যুক্তিপদ্ধতি রয়েছে। তাদের অবস্থা ছিল সেই ব্যক্তির মতো যে উপযুক্ত অস্ত্র ছাড়াই যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে; ফলে সে নিজেকেও ক্লান্ত করেছে এবং যে মহান আদর্শ রক্ষায় সে লড়ছে তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পরিণামে তারা যুক্তির ব্যবহারে এমন বাড়াবাড়ি করল যে শেষ পর্যন্ত বর্ণিত দলিলকেই (নকল) বর্জন করে বসল।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
وفريق استفزه منهج المسرفين في العقل على حساب النقل، فانقلب على عقبيه يرى صيانة المنقول في حجب العقل عن محاولة فهمه، وهو بهذا حرم نفسه نعمة التفكير الذي كرر القرآن التنويه به والحث عليه، كما حرم النصوص من التجدد على الأيام بسلامة التفكير وسداد التطبيق.

وبفعل الفريقين بدأ الظلام يزحف على العالم الإسلامي رويداً رويداً حتى إذا ذهبت الحضارة الإسلامية بالغزو التتري البربري الذي أسقط بغداد عام 656 هـ توقفت المعارف واستحكم الجمود وساد التقليد.

وتعاقبت القرون بالمسلمين ابتداء من القرن السابع الهجري في تخلف فكري متزايد. ولم تفلح الشموع التي أضاءها بعض العلماء المصلحين في أنحاء مختلفة من العالم الإسلامي في تبديد ظلامه. حتى إذا حل القرن الثاني عشر الهجري كان المسلمون قد هبطوا فكرياً إلى حد الإحتجاب الكامل عن حقائق الإسلام، وكلياته الأساسية في شتى مجالات العقدية بما ينبثق عنها من عبادات ومعاملات. وأصبح معوّل الناس في سائر هذه الأمور على تقليد آراء السابقين.

ووصل جمود التقليد إلى حد تقديس المذاهب، كما لو كان المذهب ديناً مستقلا لا يجوز للمنتسب إليه الخروج عنه أو تقليد غيره في قليل أو كثير. وساد بين الخاصة والعامة وهم مفاده: غلق باب الاجتهاد.

وبسيادة هذا الوهم فسدت العقائد وتلبس التوحيد بالشرك الخفي والجلي وكسدت بضاعة العلم والمعرفة لتروج الأساطير والخرافة، وتحلل الناس من تكاليف الشرع بشتى الحيل وتلاشت سنة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر. ولم يكن من سبيل إلى الإصلاح إلا بعلاج الداء من جذوره، دون الوقوف عند عرض من أعراضه.

كان العلاج في تصحيح العقيدة بإعادة التوازن بين دور العقل وحجية النقل. ولا سبيل إلى ذلك إلا بفتح باب الاجتهاد. ولم يستطع أحد من رواد الفكر ـولم يخل منهم قرنـ أن ينهض بهذا العبء، حتى ظهر الشيخ "محمد بن عبد الوهاب" المولود عام 1115هـ.
আর একদল লোক ওহীর দলীল বা ‘নাখল’-এর বিপরীতে ‘আকল’ বা যুক্তির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলদের কর্মপন্থায় বিভ্রান্ত হয়ে উল্টো পথে হাঁটা শুরু করল। তারা মনে করল যে, বর্ণিত বিষয়াদির হিফাজত বা সুরক্ষা নিহিত রয়েছে তা বোঝার ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টাকে রুদ্ধ করে রাখার মধ্যে। এভাবে তারা চিন্তাশক্তির সেই নেয়ামত থেকে নিজেদের বঞ্চিত করল, যার প্রশংসা ও তাকিদ পবিত্র কুরআনে বারবার এসেছে। একইসঙ্গে তারা সহীহ চিন্তা ও সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে সময়ের পরিক্রমায় মূল পাঠগুলোর সজীবতা ও উপযোগিতা থেকেও সেগুলোকে বঞ্চিত করল।

এই দুই শ্রেণির কর্মকাণ্ডের প্রভাবে মুসলিম বিশ্বে ধীরে ধীরে অন্ধকার ঘনীভূত হতে শুরু করল। অবশেষে যখন ৬৫৬ হিজরিতে বর্বরোচিত তাতার আক্রমণের মাধ্যমে বাগদাদের পতন ঘটল এবং ইসলামী সভ্যতার অবসান হলো, তখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা থমকে দাঁড়াল, স্থবিরতা শিকড় গেঁড়ে বসল এবং অন্ধ অনুকরণ বা তাকলিদ সর্বব্যাপী হয়ে উঠল।

সপ্তম হিজরি শতাব্দী থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক শতাব্দীব্যাপী মুসলিম উম্মাহ ক্রমাগত বুদ্ধিবৃত্তিক অনগ্রসরতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু সংস্কারক আলেম যে আলোর মশাল জ্বালিয়েছিলেন, তা এই অন্ধকার দূর করতে সফল হয়নি। অবশেষে যখন দ্বাদশ হিজরি শতাব্দী উপস্থিত হলো, তখন মুসলিমদের চিন্তা-চেতনার মান এতটাই নিচে নেমে গেল যে, তারা ইসলামের প্রকৃত সত্য এবং আকিদা সংক্রান্ত মৌলিক বিষয়াদি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল; এমনকি আকিদা থেকে উদ্ভূত ইবাদত ও মুয়ামালাতের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা দেখা দিল। যাবতীয় বিষয়ে মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল হয়ে দাঁড়াল পূর্ববর্তীদের মতামতের অন্ধ অনুকরণ।

অন্ধ অনুকরণের এই স্থবিরতা মাযহাবকে অতি-ভক্তির পর্যায়ে পৌঁছে দিল; যেন মাযহাবই একটি স্বতন্ত্র ধর্ম, যার অনুসারীদের জন্য এর সামান্যতম বাইরে যাওয়া কিংবা অন্য কাউকে অনুসরণ করা অবৈধ হয়ে পড়ল। ফলে বিশিষ্ট ও সাধারণ—উভয় শ্রেণির মানুষের মধ্যে একটি ভ্রান্ত ধারণা জেঁকে বসল যে: ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে।

এই অমূলক ধারণার প্রভাবে মানুষের আকিদা-বিশ্বাস কলুষিত হলো, তাওহীদের সাথে প্রকাশ্য ও গোপন শিরক মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। জ্ঞান ও প্রজ্ঞার চাকা স্থবির হয়ে পড়ল এবং তার জায়গা দখল করে নিল নানা উপকথা ও কুসংস্কার। মানুষ বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে শরীয়তের বিধানসমূহ পালনের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হতে চাইল এবং 'সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ'-এর সুন্নাত বিলুপ্ত হয়ে গেল। এমতাবস্থায় কেবল রোগের বাহ্যিক লক্ষণ নিয়ে ব্যস্ত না থেকে মূল শিকড় থেকে ব্যাধির প্রতিকার করা ছাড়া সংস্কারের আর কোনো পথ ছিল না।

এই প্রতিকার নিহিত ছিল আকিদাকে পরিশুদ্ধ করার মধ্যে, যা সম্ভব ছিল আকল বা যুক্তি এবং ওহীর দলীলের প্রামাণিকতার মধ্যে পুনরায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আর ইজতিহাদের দ্বার উন্মোচন করা ছাড়া এর কোনো গত্যন্তর ছিল না। ইতিহাসের কোনো শতাব্দীই চিন্তাশীল অগ্রগামীদের থেকে শূন্য ছিল না, কিন্তু এই গুরুভার বহন করে কেউ পূর্ণরূপে সফল হতে পারেননি, যতক্ষণ না ১১১৫ হিজরিতে জন্ম নেওয়া শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের আবির্ভাব ঘটল।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
كان تحديده لعلة الفكر الإسلامي تحديداً دقيقاً ومبكراً: إنه فساد العقيدة بغلبة الشرك على التوحيد.

وجاء تعليله للعلة شاملاً: إنه قلة العلم بما كان عليه السلف والاستسلام للحواشي والأساطير التي رسخت مع الجمود والتقليد. وإن سبيل الخلاص من هذه الغاشية: تصحيح الاعتقاد وفق الكتاب والسنة، وتحرير العقل من خرافة التقليد لآراء الأولين. وأتبع العلم الذي يدعو إليه بالعمل الجاد الموافق لهذا العلم، فلم تلبث الدعوة أن أصبحت حركة، واستطاعت الحركة أن تقيم دولة ومن ثم وضعت منهج الشيخ موضع التطبيق.

كان محمد بن عبد الوهاب أول داعية في القرون المتأخرة يتحقق لدعوته اجتياز سائر المراحل من الفكر النظري إلى التطبيق العملي.

ومن أبرز المشاكل التي تعرض لها الشيخ محمد بن عبد الوهاب وكانت موضع هجوم خصومه ورميه بأنه مبتدع وأحدث مذهباً خامساً وخالف إجماع المذاهب الأربعة وضعه مسألة التوسل والكرامة في ميزانها الشرعي الدقيق وعدم تركها لكل مدّعٍ ومبتدع. كما لعبت قضية التفكير دوراً بارزاً في حياة الدعوة ومسارها. ولكن رغم الخلافات الحادة التي ظهرت في حياة الدعوة ظهر فريق أنصف الدعوة واعتبرها بداية يقظة العالم الإسلامي في العصر الحديث.

وقد استلفتت حركة الشيخ محمد بن عبد الوهاب أنظار عدد من الباحثين الذين توفروا على دراسة آثارها من وجهة نظر التاريخ والحكم والسياسة، ولكن قل من الباحثين من توفر على دراسة جانب العقيدة في حركة الشيخ وهو الأساس فاستعنت الله تعالى أن يهيئ لي أسباب هذه الدراسة لما بدا لي من حاجة الفكر الفلسفي الإسلامي إلى استيعاب هذا الجانب من فكر محمد بن عبد الوهاب.

موضوع الكتاب:

وهو على ما يقرأ من عنوانه:"منهج ابن عبد الوهاب في مباحث العقيدة". بما يستلزمه من دراسة لمكونات هذا المنهج ومصادره ثم معالمه
ইসলামি চিন্তাধারার ত্রুটি চিহ্নিতকরণে তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও অগ্রগামী ছিলেন: আর তা হলো তাওহিদের ওপর শিরকের প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে আকিদার বিপর্যয়।

এই ত্রুটির কারণ সম্পর্কে তাঁর বিশ্লেষণ ছিল ব্যাপক: তা হলো সালাফগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন সেই সম্পর্কে ইলম বা জ্ঞানের স্বল্পতা এবং সেই সমস্ত টীকা-টিপ্পনী ও উপকথাগুলোর কাছে আত্মসমর্পণ করা যা স্থবিরতা ও অন্ধ অনুকরণের মাধ্যমে বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল। আর এই অন্ধকার দশা থেকে মুক্তির পথ হলো: কিতাব ও সুন্নাহ অনুযায়ী আকিদাকে সংশোধন করা এবং পূর্ববর্তীদের মতামতের অন্ধ অনুকরণের কুসংস্কার থেকে বুদ্ধিবৃত্তিকে মুক্ত করা। তিনি যে ইলমের দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তার সাথে সেই ইলম অনুযায়ী একনিষ্ঠ আমলকে যুক্ত করেছিলেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এই দাওয়াত একটি আন্দোলনে রূপ নেয় এবং সেই আন্দোলন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়; যার ফলে শাইখের মানহাজ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়।

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব ছিলেন পরবর্তী শতাব্দীগুলোর মধ্যে প্রথম দাঈ, যাঁর দাওয়াত তাত্ত্বিক চিন্তা থেকে বাস্তব প্রয়োগ পর্যন্ত প্রতিটি স্তর অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিল।

শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব যেসব উল্লেখযোগ্য সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন এবং যা তাঁর বিরোধীদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল—যেখানে তাঁকে বিদআতি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল যে তিনি পঞ্চম মাযহাবের উদ্ভাবন করেছেন ও চার মাযহাবের ইজমার বিরুদ্ধাচরণ করেছেন—তা হলো উসিলা এবং কারামতের বিষয়টিকে সঠিক শরয়ি মানদণ্ডে নিরূপণ করা এবং একে প্রত্যেক দাবিদার ও বিদআতির খেয়ালখুশির ওপর ছেড়ে না দেওয়া। তেমনিভাবে দাওয়াতের জীবন ও গতিপথে চিন্তাধারার বিষয়টিও এক বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছে। তবে দাওয়াতের ইতিহাসে বিদ্যমান তীব্র মতভেদ সত্ত্বেও এমন একদল বিদগ্ধজন আবির্ভূত হয়েছিলেন যারা এই দাওয়াতের প্রতি ইনসাফ প্রদর্শন করেছেন এবং একে আধুনিক যুগে ইসলামি বিশ্বের জাগরণের সূচনা হিসেবে গণ্য করেছেন।

শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের আন্দোলন এমন অনেক গবেষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যারা ইতিহাস, শাসন ও রাজনীতির প্রেক্ষাপট থেকে এর প্রভাবগুলো অধ্যয়ন করেছেন। কিন্তু খুব কম সংখ্যক গবেষকই শাইখের আন্দোলনের আকিদাগত দিকটি নিয়ে কাজ করেছেন, অথচ এটিই ছিল এর মূল ভিত্তি। তাই আমি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছি যেন তিনি আমার জন্য এই গবেষণার পথ সুগম করে দেন; কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে যে, ইসলামি চিন্তাধারার জন্য মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের চিন্তাধারার এই দিকটি অনুধাবন করা অপরিহার্য।

বইয়ের বিষয়বস্তু:

বইটির শিরোনাম থেকেই এর বিষয়বস্তু স্পষ্ট হয়: "আকিদার আলোচনায় ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের মানহাজ"। এর মধ্যে এই মানহাজের উপাদান, এর উৎস এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহের অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
وخصائصه للتأدي من ذلك إلى كيفية أعماله لهذا المنهج في مباحث العقيدة وأثره.

خطة البحث:

عالجت هذا الموضوع في ستة أبواب:

* تناولت في الباب الأول بحث المكونات الأساسية لفكره ومنهجه من خلال دراسة حياته ومؤلفاته وعصره وبيئته.

* وفي الباب الثاني تعرفت على المعالم الرئيسية التي تبين لي أنها طابع فكره ومنهجه.

* وفي الباب الثالث: عرضت لموقفه من الغيبيات.

* وفي الباب الرابع: عرضت لصلة التصوف بالعقيدة بياناً لموقفه من المسألة في أهم جوانبها.

* وفي الباب الخامس: درست نظرته إلى دورة العقدية في بناء الفرد من خلال الجماعة.

* لأخلص في الباب السادس إلى دراسة أثره.

* ثم خاتمة تضمنت أهم نتائج البحث.

الباب الأول: حياته ومؤلفاته وعصره وبيئيته:

وقد تناولت موضوعات هذا الباب في فصلين. خصصنا الفصل الأول لدراسة حياته ومؤلفاته.

فعرضنا أولاً لحياته بياناً لنسبه ومولده ونشأته ورحلاته وشيوخه فحققنا خلال هذه الدراسة أنه ولد عام 1115 هـ ببلدة العينية من قرى نجد لأب عربي ينتسب إلى قبيلة تميم المعروفة في الجاهلية والإسلام وكان جده ثم أبوه وعمه من علماء نجد وقضاتها فنشأ في بيئة علم ودين أتاحت له تلقي العلم
এবং তার বৈশিষ্ট্যসমূহ, যাতে করে আকিদাহর বিষয়াবলীতে এই মানহাজের প্রয়োগপদ্ধতি এবং এর প্রভাব সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়।

গবেষণার রূপরেখা:

আমি এই বিষয়টি ছয়টি অধ্যায়ে আলোচনা করেছি:

* প্রথম অধ্যায়ে আমি তার জীবন, রচনাবলী, যুগ এবং পরিবেশ পর্যালোচনার মাধ্যমে তার চিন্তা ও মানহাজের মৌলিক উপাদানসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি।

* দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমি সেই প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো চিহ্নিত করেছি যা আমার নিকট তার চিন্তা ও মানহাজের স্বরূপ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।

* তৃতীয় অধ্যায়ে: অতীন্দ্রিয় বা অদৃশ্যের বিষয়াবলীতে (গাইবিয়াত) তার অবস্থান তুলে ধরেছি।

* চতুর্থ অধ্যায়ে: আকিদাহর সাথে তাসাউফের সম্পর্ক এবং এই বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোতে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেছি।

* পঞ্চম অধ্যায়ে: জামাআত বা সমাজের মাধ্যমে ব্যক্তি গঠনে আকিদাহর ভূমিকা সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করেছি।

* পরিশেষে ষষ্ঠ অধ্যায়ে তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছি।

* অতঃপর একটি উপসংহার, যাতে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রথম অধ্যায়: তাঁর জীবন, রচনাবলী, যুগ ও পরিবেশ:

এই অধ্যায়ের বিষয়বস্তু আমি দুটি পরিচ্ছেদে আলোচনা করেছি। প্রথম পরিচ্ছেদটি আমরা তার জীবন ও রচনাবলী পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি।

সুতরাং প্রথমেই তার বংশপরিচয়, জন্ম, শৈশব, শিক্ষা সফর এবং শিক্ষকদের বর্ণনার মাধ্যমে তার জীবনকাল তুলে ধরেছি। এই পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, তিনি ১১১৫ হিজরিতে নজদ অঞ্চলের উয়াইনা নামক জনপদে এক আরব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যার বংশলতিকা জাহেলিয়াত ও ইসলাম উভয় যুগে সুপরিচিত বনু তামিম গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত। তার দাদা, অতঃপর তার পিতা ও চাচা সকলেই ছিলেন নজদের আলেম ও কাজী (বিচারক)। ফলে তিনি এমন এক ইলমি ও ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন যা তাকে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
مبكراً فعرف بسرعة الحفظ والإتقان. حفظ القرآن الكريم قبل بلوغ العاشرة، وتلقى عن أبيه وعمه وغيرهما من شيوخ نجد شيئاً من علوم اللغة والحديث والتفسير والأصول والفقه على مذهب واحد، وقدمه أبوه للصلاة بالناس وهو دون الثانية عشرة ثم أذن له بالحج والزيارة فمكث في المدينة المنورة مدة يتلقى على علمائها ثم تكررت رحلاته إلى الاحساء وإلى البصرة والزبير بالعراق وتلقى عن علماء هذه الجهات وناظرهم ثم عاد إلى نجد فاستقر بها حتى وفاته عام 1206 هـ.

وخلال دراسة حياته دفعت شبهات متعددة تناقلتها أقلام الباحثين حول نسبته ومحل وتاريخ مولده ورحلاته والمذهب الذي بدأ التفقه عليه وشيوخه إذ ذهبت معظم المصادر العربية بعد الأجنبية إلى أنه رحل وزار أقطار العالم الإسلامي وتلقى سائر العلوم والفنون حتى صنع الأسلحة، وقد ثبت من الدارسة أن مسرح رحلات الشيخ لم يتجاوز مكة المكرمة والمدينة المنورة والبصرة والزبير والاحساء وأنه مع تلقيه عن بعض شيوخ وعلماء هذه الجهات فقد اعتمد في تحصيل معارفه على قراءة كتب السابقين وعلى الأخص شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم وأن ثقافته تأسست على هذه المعارف التي جمع إليها التأمل العميق في واقع الحياة والناس وقياس هذا الواقع على ما لديه من علم، وأن هذا التأمل هو الذي اوزعه أن ينهض بالدعوة إلى تغيير ما رآه منكراً.

ولدى دراسة مصنفاته التي ألفها تبين أنه مقل بالقياس إلى غيره ممن لم يتركوا مثل أثره، وبان لي أن معظم مصنفاته رسائل عالج فيها موضوعات أملتها المناسبات المتعلقة بحركة الدعوة إلى جانب عدد من الكتب التي ألفها شرحاً لما يدعو الناس إليه. وكان اعتماده في رسائله وكتبه على النصوص وسيرة السلف. إلا أن هذه المؤلفات على قلتها تمكن الباحث من استيعاب فكره ومنهجه والحكم عليه والإنطباع العام الذي يستفاد من مؤلفاته أنه كان يعالج العلم في إطار حركة الحياة بما يمكن معه القول أنه رائد في مدرسة "العلم للحياة".

وعرضت في الفصل الثاني: لدراسة عصره وبيئته فأوضحت الحالة العامة للعالم الإسلامي في القرن الثاني عشر الهجري (الثامن عشر الميلادي)
অল্প বয়সেই তিনি প্রখর স্মৃতিশক্তি ও নিপুণতার জন্য পরিচিতি লাভ করেন। দশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন এবং তাঁর পিতা, চাচা ও নজদের অন্যান্য শায়খদের কাছ থেকে ভাষাতত্ত্ব, হাদিস, তাফসির, উসুল এবং একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের ফিকহ শিক্ষা করেন। তাঁর পিতা তাঁকে বারো বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মানুষের সালাতে ইমামতি করার জন্য এগিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর তাঁর পিতা তাঁকে হজ ও জিয়ারতের অনুমতি দেন, ফলে তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় একটি নির্দিষ্ট সময় অবস্থান করে সেখানকার আলেমদের কাছে জ্ঞান অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি বারবার আহসা, বসরা এবং ইরাকের যুবাইরে সফর করেন এবং সেসব অঞ্চলের আলেমদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন ও তাঁদের সাথে বিতর্কে অংশ নেন। এরপর তিনি নজদে ফিরে আসেন এবং ১২০৬ হিজরিতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

তাঁর জীবন নিয়ে গবেষণাকালে গবেষকদের লেখনীতে উঠে আসা তাঁর বংশপরিচয়, জন্মস্থান, জন্মতারিখ, সফরসমূহ, যে মাযহাবে তিনি ফিকহ চর্চা শুরু করেছিলেন এবং তাঁর শায়খদের বিষয়ে বহু সংশয় খণ্ডন করা হয়েছে। অধিকাংশ বিদেশি এবং পরবর্তী আরব উৎসসমূহ দাবি করেছিল যে, তিনি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত সফর করেছেন এবং অস্ত্র নির্মাণসহ অপরাপর সকল বিজ্ঞান ও শিল্পকলা শিক্ষা করেছেন। তবে গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, শায়খের সফরের পরিধি মক্কা মুকাররমা, মদিনা মুনাওয়ারা, বসরা, যুবাইর ও আহসার বাইরে বিস্তৃত হয়নি। যদিও তিনি এসব অঞ্চলের কিছু শায়খ ও আলেমদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন, তবুও তাঁর জ্ঞান অর্জনের মূল ভিত্তি ছিল পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহ পাঠ করা, বিশেষ করে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কায়্যিমের কিতাবসমূহ। তাঁর প্রজ্ঞা এই জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যার সাথে তিনি জীবন ও মানুষের বাস্তব অবস্থার গভীর পর্যবেক্ষণকে যুক্ত করেছিলেন এবং এই বাস্তবতাকে তাঁর অর্জিত জ্ঞানের আলোকে বিচার করতেন। এই গভীর পর্যবেক্ষণই তাঁকে সেইসব বিষয় পরিবর্তনের দাওয়াত নিয়ে সচেষ্ট হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল যেগুলোকে তিনি গর্হিত কাজ হিসেবে দেখেছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনার সময় দেখা যায় যে, সমসাময়িক অন্যান্যদের তুলনায় তিনি অল্প সংখ্যক গ্রন্থ রচনা করেছেন যারা তাঁর মতো প্রভাব ফেলে যেতে পারেননি। আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তাঁর অধিকাংশ রচনা ছিল পত্র বা পুস্তিকা, যেখানে তিনি দাওয়াহ আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি কিছু কিতাবও রচনা করেছিলেন যা তিনি মানুষের কাছে যে বিষয়গুলোর দাওয়াত দিতেন তার ব্যাখ্যা হিসেবে লিখেছিলেন। তাঁর পত্র ও গ্রন্থাবলীতে তিনি মূলত অকাট্য প্রমাণাদি এবং সালাফদের জীবনীর ওপর নির্ভর করেছেন। এই রচনাগুলো পরিমাণে কম হওয়া সত্ত্বেও এগুলো গবেষককে তাঁর চিন্তা ও পদ্ধতি বুঝতে এবং তাঁর ওপর সঠিক বিচার-বিশ্লেষণ করতে সক্ষম করে তোলে। তাঁর গ্রন্থসমূহ থেকে যে সাধারণ ধারণা পাওয়া যায় তা হলো, তিনি জ্ঞানকে জীবনের গতির কাঠামোর মধ্যে রেখে চর্চা করতেন, যার ফলে তাঁকে 'জীবনের জন্য জ্ঞান' ধারার একজন অগ্রপথিক বলা যেতে পারে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমি তাঁর যুগ ও পরিবেশ নিয়ে আলোচনার অবতারণা করেছি এবং দ্বাদশ হিজরি শতাব্দী (অষ্টাদশ খ্রিস্টাব্দ)-এর মুসলিম বিশ্বের সাধারণ অবস্থা ব্যাখ্যা করেছি।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
وهي الفترة التي بلغ فيها العالم الإسلامي غاية التدني والإنحطاط الفكري والعقائدي والسياسي على ما هو مدون بسائر المصادر والتي تعرضت لهذه الفترة وأن حالة نجد والجزيرة العربية كانت تزيد سوءاً عن حالة العالم الإسلامي من حولها حتى ذكر بعض الباحثين أن نجد أو الجزيرة العربية كانت قد عادت إلى جاهلية شر من جاهليتها الأولى ففسدت العقائد ونجمت البدع وتسلطت الأوهام فأصبح حبل الناس على غاربهم فتحللوا من عروة الدين وقوامها نقاء العقيدة كما تحللوا من عروة الدنيا وقوامها السلطان العادل.

الباب الثاني: المعالم الرئيسية لفكره ومنهجه:

وقد سلكتها في فصلين:

عالجت في الفصل الأول موقفه بين الإجتهاد والتقليد، لما تبين لي أن هذا الموقف يعتبر حجر الزاوية في بناء فكره ومنهجه، عرضت أولا للإجتهاد موضحة موقفه منه خلال أربع نقاط:

النقطة الأولى:

مبدأ الإجتهاد من حيث مشروعيته ولزومه واستمراره فصح لدينا أن الشيخ يرى ثبوت الإجتهاد واجباً متعيناً على الأمة ماضياً إلى يوم القيامة وأنه منهج السلف في استخراج الأحكام الشرعية من أدلتها الظنية.

النقطة الثانية:

تعرفت على مجال الاجتهاد عنده فصح لديّ أنه يرى الإجتهاد وارداً في كل مسألة ليس فيها نص قطعي الورود قطعي الدلالة، ولا يصح ترك الإجتهاد لقولة قائل مهما كان فكل يؤخذ منه ويرد عليه إلا الرسول المعصوم صلى الله عليه وسلم. ولا يتوقف الإجتهاد في مسألة خلافية إلا بالإجماع من سائر علماء الأمة.

النقطة الثالثة:

درست الشروط التي يرى لزوم توافرها في المجتهد فبان لي أنه ينفرد عن
এটি এমন এক সময় যখন সমগ্র মুসলিম বিশ্ব চরম বুদ্ধিবৃত্তিক, আকিদাগত এবং রাজনৈতিক অবক্ষয় ও পতনের শিখরে পৌঁছেছিল, যেমনটি এই সময়কাল নিয়ে রচিত সমস্ত উৎসগুলোতে লিপিবদ্ধ রয়েছে। উপরন্তু নজদ এবং আরব উপদ্বীপের অবস্থা পার্শ্ববর্তী মুসলিম বিশ্বের চেয়েও খারাপ ছিল। এমনকি কোনো কোনো গবেষক উল্লেখ করেছেন যে, নজদ বা আরব উপদ্বীপ তার আদি জাহিলিয়াতের চেয়েও ভয়াবহ এক জাহিলিয়াতের দিকে ফিরে গিয়েছিল। ফলে আকিদা কলুষিত হয়েছিল, বিদআতের উদ্ভব ঘটেছিল এবং কুসংস্কার আধিপত্য বিস্তার করেছিল। মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছিল, ফলে তারা দ্বীনের রজ্জু—যার ভিত্তি হলো আকিদার বিশুদ্ধতা—তা থেকে বিচ্যুত হয়েছিল, ঠিক যেমন তারা দুনিয়ার রজ্জু—যার ভিত্তি হলো ন্যায়পরায়ণ শাসক—তা থেকেও বিচ্যুত হয়েছিল।

দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর চিন্তা ও মানহাজের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

আমি একে দুটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি:

প্রথম পরিচ্ছেদে আমি ইজতিহাদ ও তাকলিদ বিষয়ে তাঁর অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছি। কারণ আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই অবস্থানটি তাঁর চিন্তা ও মানহাজ গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। আমি প্রথমে ইজতিহাদ প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেছি এবং চারটি পয়েন্টের মাধ্যমে এ বিষয়ে তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করেছি:

প্রথম পয়েন্ট:

বৈধতা, আবশ্যকতা এবং ধারাবাহিকতার দিক থেকে ইজতিহাদের মূলনীতি। আমাদের কাছে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, শাইখ ইজতিহাদকে উম্মাহর ওপর একটি অপরিহার্য ওয়াজিব হিসেবে গণ্য করেন যা কিয়ামত পর্যন্ত চলমান থাকবে এবং দ্ব্যর্থবোধক দলিলসমূহ থেকে শরয়ি আহকাম আহরণের ক্ষেত্রে এটিই সালাফদের মানহাজ ছিল।

দ্বিতীয় পয়েন্ট:

আমি তাঁর নিকট ইজতিহাদের ক্ষেত্র সম্পর্কে অবগত হয়েছি। আমার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি এমন প্রতিটি মাসআলায় ইজতিহাদ করা সম্ভব বলে মনে করেন যেক্ষেত্রে অকাট্য উৎস এবং অকাট্য অর্থবোধক কোনো দলিল নেই। কোনো ব্যক্তির কথার কারণে ইজতিহাদ বর্জন করা সঠিক নয়, তিনি যেই হোন না কেন। কেননা মাসুম রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত প্রত্যেকের কথাই গ্রহণ করা যেতে পারে আবার বর্জনও করা যেতে পারে। কোনো মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়ে উম্মাহর সকল আলিমের ইজমা বা ঐক্যমত ছাড়া ইজতিহাদ স্থগিত হয় না।

তৃতীয় পয়েন্ট:

আমি সেই শর্তগুলো অধ্যয়ন করেছি যা তিনি একজন মুজতাহিদের মধ্যে থাকা আবশ্যক বলে মনে করেন। ফলে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি অন্যদের চেয়ে স্বতন্ত্র...
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
سائر علماء الحنابلة بتيسير هذه الشروط على نحو لم يسبق إليه.

النقطة الرابعة:

لما يراه بشأن علاقة المجتهد بالمجتهد فبان لي أنه يؤكد على كل مجتهد أن يحتفظ بصفة الإستقلال في اجتهاده حتى عندما يأخذ باجتهاد غيره فليس معنى ذلك قبول رأي الغير في ذاته بل قبول الدليل المنبني عليه حيث لا يعرف الحق بالرجال بل يعرف الرجال بالحق.

وعرضت ثانيا لموقفه من التقليد فشدد في إنكاره والنهي عنه بان أنه سبب توارث الكفر عن الآباء في كل عصر كما قص القرآن الكريم فالقاعدة المقررة لدى بن عبد الوهاب ذم التقليد وأنه طريق أهل الضلال الذين يصفهم بقوله: (إن دينهم مبني على أصول أعظمها التقليد فهو القاعدة الكبرى لجميع الكفار أولهم وأخرهم) . ولا يبيح التقليد إلا في حالات الضرورة القصوى عند استحالة معرفة الحكم اجتهادا، وحتى في هذه الحالة يوجب على المقلد أن يجتهد في اختيار من يقلده وألا يكتفي يما يشاع عنه من علم ودين وفي ذلك يقول:

" وأما إن قلد شخصا دون نظيره بمجرد هواء من غير علم أن الحق معه فهذا من أهل الباطل ".

وانبنى على موقفه من الاجتهاد والتقليد حسبما ذكرنا أن عاب على العالم أن يتخذ من المذهب الذي ينتسب إليه دينا يهاب التحول عنه وخلاف إمامه. ويمكن تلخيص موقفه من الاجتهاد والتقليد في القواعد الآتية:

(1) كتاب الله تعالى وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم هما المصدران الوحيدان لكل أمر ونهي وتقرير.

(2) وإن الحكم إن عرف من النص لزم اتباعه وعدم تركه لقول كائن ما يكون.

(3) فإذا لم يعرف الحكم من النص وجب الاجتهاد لمعرفته والاجتهاد فرض كفاية على الأمة ماض إلى يوم القيامة.
অন্যান্য সকল হাম্বলি আলেম এই শর্তগুলোকে এমনভাবে সহজ করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন যা ইতিপূর্বে কেউ করেনি।

চতুর্থ বিষয়:

একজন মুজতাহিদের সাথে অন্য মুজতাহিদের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি যা মনে করেন, তা থেকে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি প্রত্যেক মুজতাহিদের জন্য তার ইজতিহাদে স্বাধীনতার বৈশিষ্ট্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন। এমনকি যখন তিনি অন্যের ইজতিহাদ গ্রহণ করেন, তার অর্থ এই নয় যে তিনি অন্যের মতটিকেই গ্রহণ করছেন, বরং এর অর্থ হলো সেই মতটি যে দলিলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত তা গ্রহণ করা। কারণ সত্যকে ব্যক্তিদের মাধ্যমে চেনা যায় না, বরং ব্যক্তিদেরকে সত্যের মাধ্যমে চিনতে হয়।

দ্বিতীয়ত, আমি তাকলিদ সম্পর্কে তার অবস্থান তুলে ধরেছি। তিনি এটি অস্বীকার এবং এ থেকে নিষেধ করার ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন এই যুক্তিতে যে, এটি প্রতিটি যুগে পূর্বপুরুষদের থেকে কুফরের উত্তরাধিকার লাভের কারণ, যেমনটি পবিত্র কুরআন বর্ণনা করেছে। ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো তাকলিদের নিন্দা করা এবং এটি গোমরাহ লোকদের পথ, যাদের সম্পর্কে তিনি বলেন: (নিশ্চয়ই তাদের দ্বীন এমন কিছু মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত যার মধ্যে সর্বপ্রধান হলো তাকলিদ; আর এটিই হলো প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল কাফিরের বড় ভিত্তি)। তিনি ইজতিহাদের মাধ্যমে হুকুম জানা অসম্ভব হয়ে পড়লে চরম প্রয়োজন ছাড়া তাকলিদ বৈধ করেন না। এমনকি এই অবস্থাতেও তিনি মুকাল্লিদের ওপর আবশ্যক করেন যে, সে যার তাকলিদ করবে তাকে নির্বাচনে ইজতিহাদ বা গবেষণা করবে এবং তার ইলম ও দ্বীন সম্পর্কে যা রটানো হয় শুধু তাতেই সন্তুষ্ট থাকবে না। এই বিষয়ে তিনি বলেন:

"আর যদি কেউ তার সমকক্ষ কাউকে বাদ দিয়ে কোনো ব্যক্তিকে স্রেফ প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে তাকলিদ করে, অথচ সত্য তার সাথে আছে কি না সে বিষয়ে তার কোনো জ্ঞান নেই, তবে সে বাতিলপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত।"

ইজতিহাদ ও তাকলিদ সম্পর্কে আমরা তার যে অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছি, তার ওপর ভিত্তি করে তিনি একজন আলেমের সমালোচনা করেছেন যদি সে তার সম্বন্ধযুক্ত মাযহাবকে এমন দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে যেখান থেকে সরে আসা বা তার ইমামের বিরোধিতা করতে সে ভয় পায়। ইজতিহাদ ও তাকলিদ সম্পর্কে তার অবস্থানকে নিচের নীতিগুলোর মাধ্যমে সংক্ষেপে তুলে ধরা যায়:

(১) আল্লাহ তাআলার কিতাব এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ হলো প্রতিটি আদেশ, নিষেধ ও অনুমোদনের একমাত্র উৎস।

(২) আর শরঈ বিধান যদি নস থেকে জানা যায়, তবে তা অনুসরণ করা আবশ্যক এবং অন্য কারো কথার কারণে তা বর্জন করা যাবে না।

(৩) আর যদি নস থেকে বিধান জানা না যায়, তবে তা জানার জন্য ইজতিহাদ করা ওয়াজিব। ইজতিহাদ উম্মতের ওপর ফরজে কিফায়া এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
(1) وإن كل مسألة خلافية هي محل للاجتهاد، ولا ينتهي الخلاف فيها إلا بالإجماع.

(2) وإن الإجماع المعتبر عنده هو إجماع سائر علماء الأمة وليس مجرد إجماع علماء المذاهب الأربعة.

(3) وإن التقليد مذموم ما لم تدع إليه ضرورة تقدر بقدرها.

(4) وإن علم أصول الدين فرض على كل مكلف فلا يجوز التقليد فيها لعامي أو عالم.

(5) وإنه على العالم إذا قلد غيره في مسألة يجهل حكمها أن يلتزم في تقليده بما يعتقد أنه الحق.

وفي الفصل الثاني:

عرضت لموقفه في الربط بين العلم والعمل لما تحقق لي انه المعلم الثاني من معالم فكره ومنهجه، فكما أمر الله تعالى بالعلم أمر بالعمل وكان من هدى الرسول صلى الله عليه وسلم في تعليم أصحابه أن يعلم أحدهم بضع آيات فلا يعدوها حتى يعمل بها. ويذهب محمد بن عبد الوهاب إلى اعتبار ربط العلم بالعمل المميز الأهم لأمة الإسلام عمن سبقها فهي سمة المنعم عليهم} غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ {الذين يعرفهم الشيخ بأنهم:" أهل علم بلا عمل". وغير الضالين ويعرفهم الشيخ بأنهم:" أهل عبادة ليس معها علم".

ومن هذا التصور كان منهج الشيخ في تحصيل العلم بالجمع بين التلقي عن الشيخ والتأمل في واقع الحياة والكون فكان تحصيله للعلم وحضه عليه مقرونا بالقضايا التي كانت طابع عصره إذ أنه جعل مدار علمه على ما يعالج هذه القضايا وفق ما أشرنا إليه في صدد مؤلفاته. ثم إنه جعل صحة العمل مقرونة مرهونة بما يوافق الشرع ومن خلال اهتمامه بالربط بين العلم والعمل أحيا قاعدة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وأبرز دور العقيدة في بناء الفرد من خلال الجماعة.

الباب الثالث: موقفه من الغيبيات:

ويشمل على ثلاثة فصول درست في الفصل الأول موقف محمد بن عبد
(1) এবং প্রতিটি মতভেদমূলক বিষয়ই ইজতিহাদের ক্ষেত্র, আর ইজমা (ঐকমত্য) ব্যতীত সেই বিষয়ে মতভেদের অবসান ঘটে না।

(2) এবং তাঁর নিকট নির্ভরযোগ্য ইজমা হলো উম্মতের সকল আলিমের ইজমা, যা কেবল চার মাযহাবের আলিমদের ইজমায় সীমাবদ্ধ নয়।

(3) এবং তাকলীদ (অন্ধ অনুসরণ) নিন্দনীয়, যতক্ষণ না এমন কোনো অপরিহার্যতা দেখা দেয় যা তার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সীমিতভাবে গ্রহণ করা হয়।

(4) এবং দ্বীনের মূলনীতিসমূহের (উসূলুদ্দীন) জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) ওপর ফরয, তাই এতে সাধারণ মানুষ বা আলিম—কারও জন্যই তাকলীদ করা বৈধ নয়।

(5) এবং কোনো আলিম যদি এমন কোনো বিষয়ে অন্যের তাকলীদ করে যার বিধান তার অজানা, তবে তাকলীদের ক্ষেত্রে যা সে সত্য বলে বিশ্বাস করে তার ওপর অটল থাকা তার জন্য আবশ্যক।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে:

আমি জ্ঞান ও আমলের (কর্মের) মধ্যে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান তুলে ধরেছি, কেননা আমার নিকট এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি তাঁর চিন্তা ও পদ্ধতির দ্বিতীয় প্রধান বৈশিষ্ট্য। কারণ আল্লাহ তাআলা যেভাবে জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন, তেমনই আমল করারও নির্দেশ দিয়েছেন। সাহাবীগণকে শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নীতি ছিল এই যে, তাঁদের কেউ যখন অল্প কিছু আয়াত শিক্ষা করতেন, তা আমল না করা পর্যন্ত পরবর্তী আয়াতে যেতেন না। মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব জ্ঞান ও আমলের এই সংযোগকে পূর্ববর্তী জাতিদের তুলনায় উম্মতে ইসলামীর প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করেন। এটি হলো সেই সকল অনুগ্রহপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য যারা অভিশপ্ত নয়—যাদের সম্পর্কে শায়খ সংজ্ঞা দিয়েছেন যে তারা হলো: "আমলহীন জ্ঞানওয়ালা"। আর তারা পথভ্রষ্টও নয়—যাদের সম্পর্কে শায়খ সংজ্ঞা দিয়েছেন যে তারা হলো: "জ্ঞানহীন ইবাদতগুজার"।

এই ধারণা থেকেই জ্ঞান অর্জনে শায়খের পদ্ধতি ছিল উস্তাদের নিকট থেকে সরাসরি শিক্ষা গ্রহণ এবং জীবন ও মহাবিশ্বের বাস্তবতার ওপর গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণার সমন্বয় ঘটানো। তাঁর জ্ঞান অর্জন এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান সেই বিষয়গুলোর সাথে সম্পৃক্ত ছিল যা তাঁর যুগের বৈশিষ্ট্য ছিল। কারণ তিনি তাঁর অর্জিত জ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু করেছিলেন সেই বিষয়গুলোকে যা এই সমস্যাগুলোর সমাধান করে, যেমনটি আমরা তাঁর রচনাবলির আলোচনায় ইঙ্গিত করেছি। অতঃপর তিনি আমলের সঠিকতাকে শরীয়তের অনুকূলে হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত ও শর্তযুক্ত করেছেন। জ্ঞান ও আমলের সংযোগের প্রতি গুরুত্বারোপের মাধ্যমে তিনি 'সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ'-এর মূলনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং সমাজের মধ্য দিয়ে ব্যক্তির গঠনে আকিদার ভূমিকাকে সুস্পষ্ট করেছেন।

তৃতীয় অধ্যায়: অদৃশ্যের (গাইবিয়াত) বিষয়ে তাঁর অবস্থান:

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রথম পরিচ্ছেদে আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল এর অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছি:
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
الوهاب من مسألة: الذات والصفات، وقد لخص عقيدته بأنها عقدية الفرقة الناجية القائمة على تلقي الصفات من النصوص دون تحريف لمعناها بتأويل لم يؤثر عن السلف مع الإيمان بها دون تشبيه أو تعطيل أو تكييف أو تمثيل، وهو يجعل الإيمان بالصفات فرعا من الإيمان بالذات فكما أن الله ذاتا لا تشبهها الذوات فله صفات لا تشبهها الصفات. وقد شدد ابن عبد الوهاب حملته على علماء الكلام فيما نحى إليه بعضهم من تأويل الصفات أو القول بأن الصفات هي عين الذات أو أنها زائدة عن الذات.

وفي الفصل الثاني: تناولت موقفه من النبوات واهتمامه بتلقين المسلم دلالة إرسال الأنبياء والرسل على عناية الله تعالى بخلقه ورحمته بهم وتيسيره أسباب هدايتهم. ثم عنايته تعالى بأنبيائه ورسله وتأييده لهم بالمعجزات مع إثبات بشريتهم والتأكيد على ذلك. وأوضحنا نظرته إلى القرآن الكريم باعتباره المعجزة الكبرى للرسول الخاتم محمد صلى الله عليه وسلم بما يؤكد بقاء هذه المعجزة إلى يوم القيامة عل امتداد الزمان والمكان وأن القرآن كلام الله المنزل غير مخلوق منه بدأ وإليه يعود وأنه تكلم به حقيقة وأنزله على عبده ورسوله وأمينه على وحيه وسفيره بينه وبين عبادة. وإن كمال الإتباع للأنبياء باتباع أمرهم وينهيهم لا بالغلو فيهم وإخراجهم عن بشريتهم.

وفي الفصل الثالث: تناولت موقفه من البعث والجزاء، فتبين أن ابن عبد الوهاب يرى في البعث أنه ثابت بالنصوص فضلا عن أنه دال على منتهى عدل الله وإحقاق الحق بين عباده، وبعد أن عرضنا للأقوال المختلفة في ماهية البعث أوردنا مذهبه في إثبات أن البعث يكون بالجسد والروح..وأن الإيمان بالبعث لاينفك عن الإيمان بسائر مشاهد القيامة التي وردت بها النصوص كالميزان والصراط والحوض وأن منكر البعث كافر.

وفي بيان موقفه من الجزاء تبين لي أن موقفه: إثبات الجزاء كما دلت عليه النصوص فضلا عن أنه من دواعي إرسال الرسل. ثم انتقلنا إلى مسألة الشفاعة وقد كانت مثار هجوم خصوم ابن عبد الوهاب عليه بدعوى أنه ينكر الشفاعة والثابت من أقواله أنه يثبتها وفق ما دلت عليه النصوص وعرضنا لأنواع الشفاعة المختلفة ومن يأذن الله لهم بالشفاعة، وتبين من خلاصة أقواله
ওয়াহাব (ইবনে আব্দুল ওয়াহাব) সত্তা ও গুণাবলি সংক্রান্ত মাসআলা হতে; তিনি তাঁর আকিদাকে 'ফিরকায়ে নাজিয়া' বা উদ্ধারপ্রাপ্ত দলের আকিদা হিসেবে সারসংক্ষেপ করেছেন, যা সালাফদের থেকে বর্ণিত হয়নি এমন কোনো ব্যাখ্যার মাধ্যমে অর্থের বিকৃতি (তাহরিফ) ছাড়াই সরাসরি নস বা দলীল থেকে গুণাবলি গ্রহণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর সাথে তিনি এগুলোর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেন কোনো প্রকার তুলনা (তাশবিহ), অস্বীকার (তাতিল), ধরন নির্ধারণ (তাকিয়িফ) বা সাদৃশ্য (তামসিল) ছাড়াই। তিনি গুণাবলির প্রতি ঈমানকে সত্তার প্রতি ঈমানের একটি শাখা হিসেবে গণ্য করেন; ঠিক যেমন আল্লাহর এমন এক সত্তা রয়েছে যার সাথে অন্য কোনো সত্তার মিল নেই, তেমনি তাঁর এমন গুণাবলি রয়েছে যার সাথে অন্য কোনো গুণের মিল নেই। ইবনে আব্দুল ওয়াহাব কালাম শাস্ত্রের পণ্ডিতদের (উলামায়ে কালাম) ওপর তাঁর আক্রমণকে তীব্রতর করেছেন তাদের কারো কারো গুণাবলির অপব্যাখ্যা (তাবিল) করার কারণে, অথবা গুণাবলি সত্তারই অভিন্ন রূপ কিংবা এগুলো সত্তার অতিরিক্ত কিছু—এই ধরনের বক্তব্যের কারণে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে: আমি নবুওয়াত সম্পর্কে তাঁর অবস্থান এবং মুসলিমদেরকে নবী ও রাসূল প্রেরণের তাৎপর্য শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে তাঁর গুরুত্বারোপ নিয়ে আলোচনা করেছি, যা মূলত সৃষ্টিজগতরে প্রতি মহান আল্লাহর বিশেষ যত্ন, তাদের ওপর তাঁর রহমত এবং তাদের হিদায়াতের পথ সহজ করে দেওয়ার একটি নিদর্শন। এরপর তাঁর নবী ও রাসূলদের প্রতি মহান আল্লাহর বিশেষ যত্ন এবং মুজিযার মাধ্যমে তাঁদেরকে সাহায্য করার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে, যার সাথে তাঁদের মানবীসত্ত্বাকে সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং এর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আমরা আল-কুরআনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছি এই হিসেবে যে, এটি সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিযা, যা কাল ও স্থানের সীমানা ছাড়িয়ে কিয়ামত পর্যন্ত এই মুজিযার স্থায়িত্বকে নিশ্চিত করে। আর কুরআন হলো আল্লাহর অবতীর্ণ কালাম, যা সৃষ্টি নয়; তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই এটি ফিরে যাবে। তিনি বাস্তবে এটি উচ্চারণ করেছেন এবং তাঁর বান্দা, রাসূল, ওহীর আমানতদার এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মধ্যকার দূতের ওপর এটি অবতীর্ণ করেছেন। নবীদের পূর্ণাঙ্গ আনুগত্য হলো তাঁদের আদেশ ও নিষেধ অনুসরণের মাধ্যমে, তাঁদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে তাঁদেরকে মানবীসত্ত্বার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার মাধ্যমে নয়।

তৃতীয় পরিচ্ছেদে: আমি পুনরুত্থান ও প্রতিফল সম্পর্কে তাঁর অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছি। এতে প্রতীয়মান হয়েছে যে, ইবনে আব্দুল ওয়াহাব পুনরুত্থানকে দলীল (নস) দ্বারা প্রমাণিত বলে মনে করেন। এছাড়া এটি মহান আল্লাহর চরম ইনসাফ এবং তাঁর বান্দাদের মধ্যে সত্য প্রতিষ্ঠার নিদর্শন। পুনরুত্থানের স্বরূপ সম্পর্কে বিভিন্ন মত তুলে ধরার পর আমরা তাঁর মাযহাব উল্লেখ করেছি যে, পুনরুত্থান দেহ ও আত্মা উভয়ের সমন্বয়ে হবে। আর পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান কিয়ামতের অন্যান্য দৃশ্যাবলীর প্রতি ঈমান থেকে অবিচ্ছেদ্য যা দলীল দ্বারা প্রমাণিত, যেমন—মিযান (পাল্লা), সিরাত (পুল) ও হাওয। আর পুনরুত্থান অস্বীকারকারী ব্যক্তি কাফির।

প্রতিফল সম্পর্কে তাঁর অবস্থান বর্ণনা করতে গিয়ে আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তাঁর অবস্থান হলো: দলীলে যেভাবে নির্দেশিত হয়েছে ঠিক সেভাবেই প্রতিফলকে সাব্যস্ত করা, উপরন্তু এটি রাসূল প্রেরণের অন্যতম দাবি। এরপর আমরা শাফায়াত বা সুপারিশের মাসআলায় উপনীত হয়েছি, যা ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের বিরোধীদের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর আক্রমণের একটি বিষয় ছিল। তারা দাবি করত যে তিনি শাফায়াত অস্বীকার করেন; অথচ তাঁর বক্তব্য থেকে এটি প্রমাণিত যে, তিনি দলীল অনুযায়ী শাফায়াতকে সাব্যস্ত করেন। আমরা শাফায়াতের বিভিন্ন প্রকার এবং যাদেরকে আল্লাহ শাফায়াতের অনুমতি দেবেন তাঁদের সম্পর্কে আলোচনা করেছি। তাঁর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ থেকে প্রতীয়মান হয় যে...
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
ردا على خصومه أن جوهر موقفه في مسألة الشفاعة: أنها ثابتة مقررة لمن يأذن الله له بأن يشفع فيمن يأذن الله بأن يشفع فيهم ولذلك فلا تطلب الشفاعة من الشفعاء بل يكون الطلب من الله بقولك: اللهم شفع في رسولك.

الباب الرابع: التصوف وصلته بالعقيدة:

فقد علاجنا هذا الموضوع في ثلاثة فصول: في الفصل الأول:

تعرضنا لبيان موقف ابن عبد الوهاب من التصوف وقد تبين لنا أنه نسج على منوال الفقهاء في معاداتهم لأهل التصوف فيما يتعلق بالقول بأن للشريعة ظاهرا وباطنا وما يتفرع عنه من مشاكل ومسائل.

والفصل الثاني:

عالجنا فيه التفريق بين جوهر التصوف وأشكاله، وبان لنا أن ابن عبد الوهاب قبل جوهر التصوف المتفق مع الشرع ورد كل ما يخالف الشرع ففيما يتعلق بإثبات الكرامة للأولياء قال بإثباتها شريطة ألا يكون من شأن إثبات الكرامة لولي اعفاؤه من تكاليف الشرع أو التوجيه إليه بالطلب والقصد لأن ذلك عبادة لا يجوز لغير الله ولئن كان للأولياء في عرف الصوفية أحوال ومقامات فإن مرد كل مقام عند ابن عبد الوهاب إلى الالتزام بنصوص الشريعة وتكاليفها. وفي الفصل الثالث عرضنا للتوسل وأوضحنا جملة من الأقوال التي وردت لبيان مدلوله ومعناه وانتهينا إلى بيان موقف ابن عبد الوهاب منه الذي يقول بمشروعية التوسل شريطة ألا يصحبه التوجيه بالطلب إلى الأولياء واصحاب الكرامات بل يكون الطلب والقصد إلى الله تعالى، مع وجوب استشعار العبد على الدوام أنه لا نفع ولا ضرر ولا تأثير ولا خلق ولا إيجاد إلا من الله تعالى. ولا شك أن موقف ابن عبد الوهاب كان هو صوت الشرع في مواجهة ما انغمس فيه العامة والخاصة من أهل زمانه في التوسل بالأولياء والصالحين على سبيل الطلب منهم والقصد إليهم واتخاذهم وسطاء إلى الله لقضاء الحوائج.
তাঁর বিরোধীদের জবাবে শাফায়াত (সুপারিশ) বিষয়ে তাঁর অবস্থানের মূল নির্যাস হলো: শাফায়াত তাদের জন্য সাব্যস্ত ও নির্ধারিত যাদেরকে আল্লাহ অনুমতি দেবেন যে তাঁরা তাদের জন্য সুপারিশ করবেন যাদের জন্য আল্লাহ অনুমতি প্রদান করবেন। এ কারণে শাফায়াতকারীদের নিকট শাফায়াত প্রার্থনা করা যাবে না, বরং আল্লাহর নিকট এই বলে প্রার্থনা করতে হবে: "হে আল্লাহ! আপনার রাসূলকে আমার জন্য সুপারিশকারী হিসেবে কবুল করুন।"

চতুর্থ অধ্যায়: তাসাউফ এবং আকিদাহর সাথে এর সম্পর্ক:

আমরা এই বিষয়টি তিনটি পরিচ্ছেদে আলোচনা করেছি। প্রথম পরিচ্ছেদে:

আমরা তাসাউফ বিষয়ে ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের অবস্থান বর্ণনা করেছি। আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, শরীয়তের যাহির (প্রকাশ্য) ও বাতিন (গোপন) দিক রয়েছে—এই মতবাদ এবং এ থেকে উদ্ভূত নানাবিধ জটিলতা ও মাসআলার ক্ষেত্রে তিনি সূফীদের বিরোধিতা করার বিষয়ে ফকীহদের অনুসৃত পথই অবলম্বন করেছেন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে:

আমরা এতে তাসাউফের মূল নির্যাস এবং এর বাহ্যিক রূপের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছি। আমাদের নিকট প্রতীয়মান হয়েছে যে, ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব শরীয়তের সাথে সংগতিপূর্ণ তাসাউফের মূল নির্যাস গ্রহণ করেছেন এবং শরীয়ত বিরোধী সবকিছু প্রত্যাখ্যান করেছেন। আউলিয়াদের কারামাত প্রমাণের বিষয়ে তিনি তা সাব্যস্ত করার কথা বলেছেন এই শর্তে যে, কোনো ওলীর কারামাত সাব্যস্ত হওয়ার অর্থ তাকে শরীয়তের বিধিবিধান পালন থেকে অব্যাহতি দেওয়া নয়, কিংবা প্রার্থনা ও উদ্দেশ্য পূরণের জন্য তার শরণাপন্ন হওয়াও নয়। কারণ এটি ইবাদত যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য বৈধ নয়। যদিও সূফীদের পরিভাষায় আউলিয়াদের বিভিন্ন হাল (অবস্থা) ও মাকাম (স্তর) রয়েছে, তবে ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের নিকট প্রতিটি মাকামের মানদণ্ড হলো শরীয়তের নস (দলিল) ও তার বিধিবিধানের প্রতি আনুগত্য। এবং তৃতীয় পরিচ্ছেদে আমরা তাওয়াসসুল (উসিলা ধরা) নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এর তাৎপর্য ও অর্থ ব্যাখ্যায় বর্ণিত বক্তব্যসমূহ স্পষ্ট করেছি। পরিশেষে আমরা এ বিষয়ে ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের অবস্থান তুলে ধরেছি, যিনি তাওয়াসসুল বৈধ হওয়ার কথা বলেন এই শর্তে যে, এর সাথে আউলিয়া ও কারামত সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিকট প্রার্থনা করা যাবে না, বরং প্রার্থনা ও সংকল্প হতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহর প্রতি। এর সাথে বান্দাকে সর্বদা এই বিশ্বাস পোষণ করতে হবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপকার, ক্ষতি, প্রভাব, সৃষ্টি বা অস্তিত্বদানকারী আর কেউ নেই। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের অবস্থান ছিল শরীয়তের সেই কণ্ঠস্বর, যা তাঁর সমসাময়িক সাধারণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের আউলিয়া ও নেককারদের নিকট প্রার্থনা করা, তাঁদের প্রতি ধাবিত হওয়া এবং হাজত বা প্রয়োজন পূরণের জন্য তাঁদের আল্লাহর নিকট মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণ করার প্রথার মোকাবিলা করেছিল।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
الباب الخامس: نظرته إلى دور العقيدة في بناء الفرد من خلال الجماعة:

ويقع في ثلاثة فصول: عالجت في الفصل الأول مفهوم الجماعة المسلمة وكيف تكون وتميزها عن سائر الجماعات الإنسانية في أساس تكوينها المبني على العقيدة وتبين أن ابن عبد الوهاب إذا انتقل من دور الدعوة إلى دور الحركة بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر تبين له أن نجاح حركته مرهون بوجود الجماعة التي تنتظم فيها فعمل على تكوين هذه الجماعة معتمدا على الأساس العقائدي خلافا لما كان عليه الحال في أرض نجد والجزيرة العربية في عصره من عودة الناس إلى التجمع القلي.

فبين أن الجماعة التي يدعو إليها هي جماعة التوحيد وأن سائر الموحدين على اختلاف أنسابهم وألوانهم إخوان في العقيدة وكل من خالف التوحيد عدو لهم. وفي الفصل الثاني: عالجنا قضية التكفير وما يخرج عن الإسلام وهي إحدى القضايا التي تعرض فيها ابن عبد الوهاب للهجوم الشديد من خصومه وناقديه مدعين عليه أن يكفر الناس بالجملة وتبين من دراسة موقفه أنه لم يصف قوما بذواتهم بأنهم كفار بل تحدث عن أعمال رآها تؤدي إلى الكفر ومنها موادة أهل الشرك على أهل التوحيد، وتبين لي أن هذه القضية تعرضت لردود أفعال ناجمة عن الصراع الحزبي بين أهل الدرعية من اتباع الشيخ وبين خصومهم الكثيرين من حولهم. وفي الفصل الثالث بحثت موضوع الجهاد في سبيل الله كركن في العقيدة: فتبين لي أن جوهر موقف الشيخ في المسألة قائم على أن أهل الحق هم على الدوام محل العدوان عليهم من أهل الباطل سواء كان عدوانا حالا أن عدوانا متوقعا وأن سبيل أهل الحق لدفع هذا العدوان الحال أو التوقي من هذا العدوان المحتمل هو الجهاد في سبيل الله. وأوضحنا أن ماهية الجهاد عنده كما كان عند السلف تمكين المؤمن من الدعوة إلى الله وإزالة العقبات من أمام الدعوة وأنه ليس حربا للاستعلاء في الأرض واسترقاق البشر بدليل أنه فور قبول العدو للإسلام يصبح فورا أخا في العقيدة له ما للمسلمين وعليه ما عليهم دون تفريق بين جنس أو لون.
পঞ্চম অধ্যায়: জামাআতের মাধ্যমে ব্যক্তি গঠনে আকিদার ভূমিকা সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি:

এটি তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত: প্রথম পরিচ্ছেদে আমি মুসলিম জামাআতের ধারণা, এর গঠন প্রক্রিয়া এবং আকিদার ওপর ভিত্তি করে এর গঠনের মৌলিক দিক থেকে অন্যান্য মানবীয় গোষ্ঠী থেকে এর স্বাতন্ত্র্য নিয়ে আলোচনা করেছি। এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব যখন দাওয়াতের পর্যায় থেকে 'আমর বিল মা'রুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার' (সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ)-এর মাধ্যমে আন্দোলনের পর্যায়ে উপনীত হন, তখন তাঁর কাছে প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর আন্দোলনের সফলতা একটি সুসংগঠিত জামাআতের অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল। তাই তিনি আকিদাগত ভিত্তির ওপর নির্ভর করে এই জামাআত গঠনের কাজ শুরু করেন, যা সে সময়ের নজদ ও আরব উপদ্বীপের পরিস্থিতির বিপরীত ছিল, যেখানে মানুষ গোত্রীয় সংহতির দিকে ফিরে গিয়েছিল।

তিনি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যে জামাআতের দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন তা হলো তাওহিদের জামাআত এবং বংশ ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল মুওয়াহহিদ (একত্ববাদী) আকিদার দিক থেকে পরস্পর ভাই, আর যারা তাওহিদের বিরোধিতা করে তারা তাদের শত্রু। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে: আমরা তাকফির এবং ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আলোচনা করেছি, যা এমন একটি বিষয় যেখানে ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব তাঁর প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের পক্ষ থেকে তীব্র আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তারা তাঁর বিরুদ্ধে দাবি করত যে তিনি ঢালাওভাবে মানুষকে কাফির বলেন। তবে তাঁর অবস্থান পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে সরাসরি কাফির হিসেবে অভিহিত করেননি, বরং তিনি এমন কিছু আমল বা কর্ম সম্পর্কে কথা বলেছেন যা তাঁর মতে কুফরির দিকে নিয়ে যায়; যার মধ্যে অন্যতম হলো তাওহিদপন্থীদের বিরুদ্ধে শিরকপন্থীদের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করা। আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই বিষয়টি শাইখের অনুসারী দিরইয়াহবাসী এবং তাদের চারপাশের অসংখ্য প্রতিপক্ষের মধ্যকার গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের ফলে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হয়েছিল। তৃতীয় পরিচ্ছেদে আমি আকিদার একটি রুকন হিসেবে আল্লাহর পথে জিহাদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি: আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই বিষয়ে শাইখের অবস্থানের মূল সারকথা হলো—হকের অনুসারীরা সর্বদা বাতিলের অনুসারীদের পক্ষ থেকে আক্রমণের শিকার হয়, হোক তা তাৎক্ষণিক কোনো আক্রমণ অথবা সম্ভাব্য কোনো আক্রমণ। আর হকের অনুসারীদের জন্য এই তাৎক্ষণিক আক্রমণ প্রতিহত করা অথবা সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার পথ হলো আল্লাহর পথে জিহাদ। আমরা আরও স্পষ্ট করেছি যে, সালাফদের নিকট জিহাদের যে হাকিকত বা স্বরূপ ছিল, তাঁর নিকটও তা-ই ছিল—অর্থাৎ মুমিনদের জন্য আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার পথ সুগম করা এবং দাওয়াতের সম্মুখভাগ থেকে প্রতিবন্ধকতা দূর করা। এটি জমিনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য বা মানুষকে দাস বানানোর কোনো যুদ্ধ নয়; এর প্রমাণ হলো, শত্রু ইসলাম গ্রহণ করার সাথে সাথেই সে আকিদাগতভাবে ভাই হয়ে যায়; জাতি বা বর্ণ নির্বিশেষে মুসলিমদের যা প্রাপ্য ও করণীয়, তার জন্যও তাই সাব্যস্ত হয়।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
الباب السادس: أثره في الفكر والسياسة.

ويفع في فصلين، عالجت في الفصل الأول أثره في الفكر الإسلامي، وتبين من الدراسة أن دعوته إلى استمرار الاجتهاد إلى يوم القيامة وتنديده بالوهم القائل: يغلق باب الاجتهاد كان له أثره الفذ في تنوير العقول وشحذ الأذهان وكسر الجمود الذي كان طابع الفكر الإسلامي في عصره بما عده معه بعض الباحثين زعيما مجددا من زعماء الإصلاح ومصلحا عقائديا بدأت يقظة العالم الإسلامي بدعوته، كما كان لإحيائه شريفة الجهاد في سبيل الله دفعا للعدوان الواقع والمحتمل ولأخذه بسنة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر دفعا لانحراف الجماعة الإسلامية عن منهج الإسلام، كان لذلك أثره في لفت أنظار الجماعات الإسلامية في شتى بقاع العالم الإسلامي إليه وكان لموسم الحج أثره في إتاحة الفرصة لرجال الفكر الإسلامي وزعماء الحركات الإسلامية للالتقاء بدعاة فكره ومنهجه والتأثر بهم، كما امتد هذا التأثير بفعل المدرسة المنتسبة إليه وعديد التلاميذ الذين تلقوا عنه وتأثروا به.

وفي الفصل الثاني: تدارست أثره في السياسة وتحقق لي أن دعوته القائمة على الإسلام بوصفه الشمولي لأغرا ض الدين والدنيا قد كان لهما أثرها في الجزيرة العربية بإقامة أول دولة تجمع شمل العرب في الجزيرة منذ عهد الصدر الأول وما ترتب على ذلك من دخول هذه الدولة في صراع مع دولة الخلافة العثمانية كان من آثاره غير المباشرة إزكاء روح القومية العربية في مواجهة القومية التركية وهو أثر لردود أفعال الصراع لم يكن من أهداف محمد بن عبد الوهاب ولا مما يتفق مع الأساس العقائدي لدعوته حسبما قدمنا.

وقد خلصت من هذه الدارسة إلى النتائج التي أعددتها في الخاتمة وأهمها في تقديري.

ثبوت قدرة المنهج التربوي الإسلامي المستقى من الكتاب والسنة على صناعة الرجال وإبداع الأفكار وشحذ العزائم عبر كل مراحل التاريخ.

وإنه مهما بدا للناس أن الفكر الإسلامي النقي قد حجبته الغواشي
ষষ্ঠ অধ্যায়: চিন্তা ও রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব।

এটি দুটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত। আমি প্রথম পরিচ্ছেদে ইসলামী চিন্তাধারায় তাঁর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছি। গবেষণা থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, কিয়ামত পর্যন্ত ইজতিহাদ অব্যাহত রাখার প্রতি তাঁর আহ্বান এবং 'ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে'—এমন ভ্রান্ত ধারণার নিন্দা জ্ঞাপন মেধা বিকাশে, চিন্তার প্রখরতা বৃদ্ধিতে এবং তাঁর সমসাময়িক ইসলামী চিন্তাধারায় বিরাজমান স্থবিরতা ভাঙতে এক অনন্য প্রভাব ফেলেছিল। যার ফলে কিছু গবেষক তাঁকে সংস্কারক নেতাদের মধ্যে একজন মুজাদ্দিদ নেতা এবং এমন একজন আকীদাগত সংস্কারক হিসেবে গণ্য করেছেন, যাঁর দাওয়াতের মাধ্যমেই মুসলিম বিশ্বের জাগরণ শুরু হয়েছিল। তদ্রূপ, বিদ্যমান ও সম্ভাব্য শত্রুতা প্রতিহত করতে আল্লাহর পথে পবিত্র জিহাদকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং ইসলামী সমাজকে ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করতে 'আমর বিল মা’রূফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার' (সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ)-এর সুন্নাতকে গ্রহণ করার বিষয়টিও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ইসলামী দলগুলোর দৃষ্টি তাঁর প্রতি আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছিল। হজ্জের মৌসুমটি ইসলামী চিন্তাবিদ ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের জন্য তাঁর চিন্তা ও কর্মপদ্ধতির প্রবক্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছিল। একইভাবে, তাঁর সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান আহরণকারী ও তাঁর দ্বারা প্রভাবিত অসংখ্য ছাত্রের মাধ্যমে এই প্রভাব বিস্তৃত হয়েছিল।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে: আমি রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছি। আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, দ্বীন ও দুনিয়ার সকল উদ্দেশ্য পূরণকারী ইসলামের সামগ্রিক রূপের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত তাঁর দাওয়াতের প্রভাব আরব উপদ্বীপে প্রথম যুগের পর এমন এক প্রথম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পরিলক্ষিত হয়েছে যা আরবের অনৈক্য দূর করে তাদের একত্রিত করেছিল। এর ফলে উসমানীয় খিলাফত রাষ্ট্রের সাথে এই রাষ্ট্রের যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তার অন্যতম পরোক্ষ প্রভাব ছিল তুর্কি জাতীয়তাবাদের বিপরীতে আরব জাতীয়তাবাদের চেতনাকে উদ্দীপ্ত করা। এটি ছিল মূলত সেই সংঘাতের প্রতিক্রিয়াজাত একটি প্রভাব, যা মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের লক্ষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল না এবং ইতিপূর্বে আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি যে, এটি তাঁর দাওয়াতের আকীদাগত ভিত্তির সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

আমি এই গবেষণা থেকে সেই সকল সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যা আমি উপসংহারে লিপিবদ্ধ করেছি এবং আমার বিবেচনায় সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:

কুরআন ও সুন্নাহ থেকে উৎসারিত ইসলামী শিক্ষা পদ্ধতির সেই সক্ষমতা প্রমাণিত হওয়া, যা ইতিহাসের সকল পর্যায়ে যোগ্য মানুষ তৈরি করতে, সৃজনশীল চিন্তার উদ্ভব ঘটাতে এবং সংকল্পকে সুদৃঢ় করতে সক্ষম।

এবং মানুষের কাছে যখনই এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, বিশুদ্ধ ইসলামী চিন্তাধারা নানাবিধ আবিলতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
واكتنفته شبهات بعض المستشرقين ومن نقل عنهم عاد صافيا متجددا عبر أحد مفكريه على امتداد الزمان والمكان. تصديقا لقول الله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُون}

ولقول رسول الله صلى الله عليه وسلم:

" إن الله يبعث لأمتي على رأس كل قرن من يجدد لها أمر دينها".

وإني إذ أقدم هذا البحث لأهيب بالسائرين قدما على درب البحث والفكر أن يولوا عنايتهم للجوانب المتعددة التي يثيرها فكر الشيخ محمد بن عبد الوهاب وفكر تلاميذه من بعده والتي تستحق كل جانب منها على حدة أن يكون موضوعا لبحث مستقل كجانب الاجتهاد. ومشروعية الجهاد وارتباط العلم بالعلم والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وقضية التكفير وما يتصل بها إلى غير ذلك من الموضوعات التي تحتاج من الباحثين العناية والاهتمام.

والله ولي التوفيق.
এবং কিছু প্রাচ্যবিদ ও তাদের থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের সংশয় একে বেষ্টন করে নিলেও তা কাল ও স্থানের পরিক্রমায় এর একজন চিন্তাবিদের মাধ্যমে পুনরায় স্বচ্ছ ও নবায়িত হয়ে ফিরে এসেছে। যা মহান আল্লাহর বাণীর সত্যতা প্রমাণ করে: "নিশ্চয় আমিই এই উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।"

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর সত্যতা হিসেবে:

"নিশ্চয় আল্লাহ প্রতি শতাব্দীর শুরুতে এই উম্মতের জন্য এমন ব্যক্তিকে পাঠাবেন, যিনি তাদের জন্য তাদের দ্বীনের বিষয়াবলিকে নবায়ন করবেন।"

আমি এই গবেষণাটি পেশ করার সময় গবেষণা ও চিন্তার পথে অগ্রসরমান ব্যক্তিদের আহ্বান জানাই যে, তারা যেন শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এবং তাঁর পরবর্তী তাঁর ছাত্রদের চিন্তাধারার সেই বহুমুখী দিকগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন, যার প্রতিটি দিক স্বতন্ত্র গবেষণার বিষয় হওয়ার যোগ্য; যেমন ইজতিহাদের দিক, জিহাদের বৈধতা, ইলমের সাথে ইলমের সম্পর্ক, সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ এবং তাকফিরের মাসআলা ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ, যা গবেষকদের পক্ষ থেকে বিশেষ যত্ন ও মনোযোগের দাবি রাখে।

আর আল্লাহই তাওফীক দানকারী।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌الباب الأول: حيَاتهُ وَمؤلفَاتهُ وَعصرُه وبيئتهُ

‌‌الفصل الأول: حياته ومؤلفاته

الفصل الثاني: عصره وبيئته.
প্রথম অধ্যায়: তাঁর জীবন, তাঁর রচনাবলি, তাঁর যুগ ও তাঁর পরিবেশ

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবন ও রচনাবলি

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর যুগ ও পরিবেশ।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
الفَصْل الأوَل: حياته ومؤلفاته

أولاً: حياته

(1) نسبه:

هو:" محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي بن محمد بن أحمد بن راشد بن بريد بن مشرف التميمي". هكذا أورده ابن غنام (1) . أما ابن بشر فقد ذكر من آباء مشرف أنه:"ابن عمر بن معضاد بن ريس بن زاخر بن محمد بن علوي بن وهيب" (2) وذكر صاحب الدرر السنية من آباء وهيب أنه:" ابن قاسم بن موسى بن مسعود بن عقبة بن سنيع بن نهشل بن شداد بن زهير بن شهاب بن ربيعة بن أبي سود بن مالك بن حنظلة بن مالك بن زيد مناة بن تميم" (3) .

وقد علق محقق تاريخ ابن بشر على ذكره نسب محمد بن عبد الوهاب فقال:" اختصر المؤلف رحمة الله سلسلة نسب الشيخ محمد ووقف فيها على ما

--------------------------------------------

(1) بن غنام. تاريخ نجد. ص: 75. وأيضا: صلاح الدين المختار، تاريخ المملكة العربية السعودية. ص 36.

(2) ابن بشر. عنوان المجد في تاريخ نجد. ج 1 ص.: 113. وأيضا: محمود شكري الآلوسي. تاريخ نجد. ص: 106.

(3) عبد الرحمن بن محمد بن قاسم العاصمي القحطاني. الدرر السنية في الأجوبة النجدية. ج 12. ص: 3.
প্রথম অধ্যায়: তাঁর জীবন ও রচনাবলী

প্রথমত: তাঁর জীবন

(১) তাঁর বংশপরিচয়:

তিনি হলেন: "মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব ইবন সুলাইমান ইবন আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন রাশিদ ইবন বুরাইদ ইবন মুশাররাফ আত-তামিমী"। ইবন গান্নাম (১) এভাবেই তা উল্লেখ করেছেন। আর ইবন বিশর মুশাররাফের পিতৃপুরুষদের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হলেন: "ইবন উমর ইবন মি'দাদ ইবন রাইস ইবন যাখির ইবন মুহাম্মদ ইবন আলাওয়ী ইবন উহাইব" (২)। এবং আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ গ্রন্থের সংকলক উহাইবের পিতৃপুরুষদের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হলেন: "ইবন কাসিম ইবন মূসা ইবন মাসউদ ইবন উকবা ইবন সানি' ইবন নাহশাল ইবন শাদ্দাদ ইবন যুহাইর ইবন শিহাব ইবন রাবি'আ ইবন আবি সাউদ ইবন মালিক ইবন হানজালা ইবন মালিক ইবন যায়েদ মানাত ইবন তামীম" (৩)।

তারেখে ইবন বিশর-এর মুহাক্কিক মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাবের বংশপরিচয় বর্ণনার ওপর টীকা প্রদান করে বলেছেন: "লেখক (রহিমাহুল্লাহ) শাইখ মুহাম্মদের বংশপরম্পরা সংক্ষেপ করেছেন এবং তিনি সেখানে থেমেছেন যা...

--------------------------------------------

(১) ইবন গান্নাম। তারিখে নাজদ। পৃষ্ঠা: ৭৫। এবং আরও দেখুন: সালাহুদ্দীন আল-মুখতার, তারিখে আল-মামলাকাতিল আরাবিয়্যাতিস সউদিয়্যাহ। পৃষ্ঠা: ৩৬।

(২) ইবন বিশর। উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখে নাজদ। ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১৩। এবং আরও দেখুন: মাহমুদ শুকরী আল-আলুসী। তারিখে নাজদ। পৃষ্ঠা: ১০৬।

(৩) আব্দুর রহমান ইবন মুহাম্মদ ইবন কাসিম আল-আসিমী আল-কাহতানি। আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ ফিল আজউয়িবাতিন নাজদিয়্যাহ। ১২তম খণ্ড। পৃষ্ঠা: ৩।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
فوق وهيب وقد أحسن من انتهى إلى ما علم، ونحن لتمام الفائدة نورد سلسلة الشيخ محمد كاملة إلى عدنان فنقول: أما نسب هذا الشيخ فهو: محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي بن محمد بن أحمد بن راشد بن بريد بن محمد بن بريد بن مشرف بن عمر بن معضاد بن ريس بن زاخر بن محمد بن علوي بن وهيب بن قاسم نب موسى بن مسعود بن عقبة بن سنيع بن نهشل بن شداد بن زهير بن شهاب بن ربيعة بن أبي سود بن مالك بن حنظلة بن مالك بن زيد مناة بن تميم بن مر نب أد بن طابخة بن الياس بن

مضر بن نزار بن معد بن عدنان (1) . فهو على التحقيق عربي خالص العروبة تعود به أصوله إلى تميم، وبها كان يضرب المثل في القوة والمنعة، حتى لقد قيل: " لو تأخر الإسلام لأكلت تميم العرب (2) " وتميم إحدى كبريات قبائل مضر وفي إلياس بن مضر " يجتمع بن تميم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم" (3) ومن شعراء تميم الفرزدق ومن شعره في الفخر بهم:

ترى الناس ما سرنا يسيرون خلفنا … وإن نحن أومأنا إلى الناس وقفوا (4)

غير أن الثابت أن تميما من القبائل العربية التي تحضرت وتفرقت بين الأسر وتوزعت بين البلدان ولم تعد لا نخوة عامة يلتقي عليها أفرادها في الحروب والنوازل وهذا ما دعا والي بغدد أن يكتب قائلا في تقرير مرفوع منه إلى السلطان العثماني عن الحركة الوهابية:" ليش الشيخ محمد بن عبد الوهاب رئيس قبيلة ولا صاحب عصبية قوية يحسب لها حساب." (5)

ولا نعلم أحداً ممن تناول سيرة محمد بن عبد الوهاب وحياته قال في ذكر

--------------------------------------------

(1) إبن بشر: عنوان المجد في تاريخ نجد. ج 1. هامش ص: 113، عبد الله الرويشد: محمد بن عبد الوهاب في التاريخ. ج1 ص9 وأيضاً: احمد عبد الغفور عطار: محمد بن عبد الوهاب. ص: 28.

(2) عبد الكريم الخطيب: الدعوة الوهابية. ص: 45

(3) أحمد عبد الغفور: محمد بن عبد الوهاب. ص: 28

(4) د. منير العجلاني: تاريخ البلاد العربية السعودية. ج1 ص: 177.

(5) المرجع السابق. ص: 179.
ওয়াহিব পর্যন্ত (বংশধারা বর্ণনা করেছেন) এবং যে ব্যক্তি তার জানা বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে সে উত্তম কাজ করে। আমরা পূর্ণাঙ্গ উপকারের জন্য আদনান পর্যন্ত শেখ মুহাম্মদের পূর্ণ বংশপরম্পরা উল্লেখ করছি, আমরা বলি: এই শেখের বংশপরিচয় হলো: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন রাশিদ বিন বুরাইদ বিন মুহাম্মদ বিন বুরাইদ বিন মুশাররাফ বিন উমর বিন মিদাদ বিন রইস বিন যাখির বিন মুহাম্মদ বিন আলাউয়ী বিন ওয়াহিব বিন কাসিম বিন মুসা বিন মাসউদ বিন উকবাহ বিন সানি বিন নাহশাল বিন শাদ্দাদ বিন যুহাইর বিন শিহাব বিন রাবিয়াহ বিন আবি সুদ বিন মালিক বিন হানজালা বিন মালিক বিন যাইদ মানাত বিন তামীম বিন মুর বিন উদ্দ বিন তাবিখাহ বিন ইলিয়াস বিন

মুদার বিন নিযার বিন মাআদ বিন আদনান (১)। সুতরাং অনুসন্ধানে এটি প্রতীয়মান হয় যে, তিনি বিশুদ্ধ আরব বংশোদ্ভূত যার মূল তামীম গোত্র পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই গোত্রটি তাদের শক্তি ও প্রভাব-প্রতিপত্তির জন্য প্রবাদতুল্য ছিল, এমনকি বলা হতো: "যদি ইসলামের আগমনে বিলম্ব হতো, তবে তামীম গোত্র আরবদের গ্রাস করে ফেলত (২)।" তামীম হলো মুদার গোত্রের অন্যতম বৃহৎ শাখা এবং ইলিয়াস বিন মুদারের মাধ্যমে "তামীম গোত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধারার সাথে মিলিত হয়" (৩)। তামীম গোত্রের কবিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আল-ফারাজদাক এবং তাদের নিয়ে গর্ব করে তাঁর একটি কবিতা হলো:

আপনি দেখবেন আমরা যখন চলি, মানুষ আমাদের পেছনে চলে ... আর যদি আমরা মানুষের প্রতি ইশারা করি, তবে তারা থমকে দাঁড়ায় (৪)।

তবে এটি প্রমাণিত যে, তামীম এমন একটি আরব গোত্র যারা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিল এবং বিভিন্ন পরিবার ও জনপদে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। তাদের মাঝে আর সেই সাধারণ গোত্রীয় সংহতি অবশিষ্ট ছিল না যার ভিত্তিতে যুদ্ধের সময় বা দুর্যোগে গোত্রের সদস্যরা একত্রিত হতো। আর একারণেই বাগদাদের ওয়ালী উসমানীয় সুলতানের কাছে ওয়াহাবী আন্দোলন সম্পর্কে পেশ করা এক প্রতিবেদনে লিখেছিলেন: "শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব কোনো গোত্রপ্রধান নন, আর তাঁর তেমন কোনো শক্তিশালী গোত্রীয় সংহতিও নেই যা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।" (৫)

যাঁরা মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের জীবনী ও জীবন নিয়ে আলোচনা করেছেন, তাঁদের কাউকেই আমরা দেখিনি যিনি তাঁর সম্পর্কে এ কথা বলেছেন—

--------------------------------------------

(১) ইবনে বিশর: উনওয়ান আল-মাজদ ফি তারিখ নাজদ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১৩-এর টীকা; আব্দুল্লাহ আল-রুওয়াইশিদ: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব ফি আল-তারিখ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯ এবং আরও দেখুন: আহমদ আব্দুল গফুর আত্তার: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, পৃষ্ঠা ২৮।

(২) আব্দুল কারিম আল-খাতিব: আদ-দাওয়াহ আল-ওয়াহাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪৫।

(৩) আহমদ আব্দুল গফুর: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, পৃষ্ঠা ২৮।

(৪) ড. মুনির আল-আজলানি: তারিখ আল-বিলাদ আল-আরাবিয়্যাহ আস-সাউদিয়্যাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৭৭।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৭৯।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
نسبة قولا يخرج عما حصلناه اللهم إلا ما ألمح إليه بعض المستشرقين من نسبته إلى اليمن بقولهم في سياق الحديث عن سيطرة الحركة الوهابية على نجد: "واسم واضع هذه السيطرة هو عبد الوهاب اليمني" (1) أما صاحب لمع الشهاب فقد أورد نسب الشيخ إلى زيد مناة بن تميم غير أنه ذكر لآبائه أسماء أخرى. (2)

(2) مولده:

ولد محمد بن عبد الوهاب في بلدة العيينة من بلدان نجد سنة خمس عشرة بعد المائة والألف من الهجرة (1703م) . ذكر ذلك جمع غفير ممن كتب عنه وأرخ سيرته. (3) وذهب آخرون إلى غير ذلك فمنهم من أرخ لمولده بعام 1700 (4) ، ومنهم من قال بأنه ولد بالدرعية (5) والصواب ما ذهبت الرواية

الأولى لتواترها وكونها رواية المؤرخ المعاصر لأبن عبد الوهاب وهو ابن غنام. (6)

وكان مولده في بيت علم ودين، فوالده عبد الوهاب بن سليمان كان

--------------------------------------------

(1) ل. ا. سيديو: تاريخ العرب العام تعريب عادل زعيتر ط2. ص439.

(2) لمع الشهاب في سيرة محمد بن عبد الوهاب. تحقيق د. أحمد مصطفى أو حاكمة ط مايو 1967 ص: 24.

(3) ابن غنام: تاريخ نجد: ص 75،

عبد الرحمن بن محمد بن قاسم العاصمي القحطاني الدرر السنية: ج 12 ص4

أحمد عبد الغفور عطار: محمد بن عبد الوهاب. ص31.

عبد الله الرويشد: محمد بن عبد الوهاب في التاريخ ج1 ص10،

د. توفيق الطويل: العرب والعلم. ص: 118،

د. محمد عبد الله ماضي: النهضات الحديثة في جزيرة العرب. ص40،

عبد الكريم أبا الخيل: العربية السعودية. ص30،

عبد الله فلبي: تاريخ نجد ودعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب السلفية ص: 17،

عبد المتعال الصعيدي: المجددون في الاسلام ص 437وأيضاً.

د. محمد ضياء الدين الريس: تاريخ الشرق العربي والخلافة العثمانية ج1 ص98.

(4) لوثروب ستودارد: حاضر العالم الاسلامي. ص 35وأيضا بيير كريبتس: إبراهيم باشا ترجمة محمد بدران ص 18

(5) محمد فريد بك: تاريخ الدولة العلية العثمانية ط 1896/م ص 201

(6) د. منير العجلاني: تاريخ البلاد العربية السعودية ج1 ص 175
বংশপরিচয় সম্পর্কে এমন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না যা আমাদের অর্জিত তথ্যের বাইরে, তবে কয়েকজন প্রাচ্যবিদ নজদে ওয়াহাবি আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে আলোচনার প্রসঙ্গে তাকে ইয়েমেনের সাথে সম্পৃক্ত করে যা ইঙ্গিত করেছেন তা ভিন্ন: "এই নিয়ন্ত্রণের প্রতিষ্ঠাতার নাম হলো আব্দুল ওয়াহাব আল-ইয়ামানি" (১)। অন্যদিকে 'লামউশ শিহাব' এর লেখক শাইখের বংশপরম্পরা যায়েদ মানাত বিন তামিমে নিয়ে ঠেকিয়েছেন, তবে তিনি তার পূর্বপুরুষদের ক্ষেত্রে ভিন্ন নাম উল্লেখ করেছেন। (২)

(২) তার জন্ম:

মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব হিজরি এক হাজার একশ পনেরো সালে (১৭০৩ খ্রিষ্টাব্দে) নজদ অঞ্চলের উয়াইনা জনপদে জন্মগ্রহণ করেন। যারা তার সম্পর্কে লিখেছেন এবং তার জীবনী ইতিহাসবদ্ধ করেছেন, তাদের একটি বিশাল দল এটি উল্লেখ করেছেন। (৩) অন্যরা ভিন্ন মত পোষণ করেছেন; তাদের কেউ কেউ তার জন্মের বছর ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ উল্লেখ করেছেন (৪), আবার কেউ কেউ বলেছেন যে তিনি দিরইয়াতে জন্মগ্রহণ করেছেন (৫)। তবে প্রথম বর্ণনাটিই সঠিক, কারণ তা অধিক নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ এবং এটি ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের সমসাময়িক ঐতিহাসিক ইবনে গান্নামের বর্ণনা। (৬)

তার জন্ম হয়েছিল একটি ইলম ও দ্বীনদার পরিবারে; তার পিতা আব্দুল ওয়াহাব বিন সুলাইমান ছিলেন

--------------------------------------------

(১) এল. এ. সেদিলোঁ: তারিখুল আরব আল-আম, আদিল জুআইতির অনূদিত, ২য় সংস্করণ, পৃ. ৪৩৯।

(২) লামউশ শিহাব ফি সিরাতি মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব। ড. আহমদ মুস্তফা আবু হাকিমাহ কর্তৃক সম্পাদিত, মে ১৯৬৭ সংস্করণ, পৃ: ২৪।

(৩) ইবনে গান্নাম: তারিখু নজদ: পৃ. ৭৫,

আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন কাসিম আল-আসিমী আল-কাহতানি: আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ: ১২ খণ্ড, পৃ. ৪।

আহমদ আব্দুল গফুর আত্তার: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব। পৃ. ৩১।

আব্দুল্লাহ আল-রুওয়াইশিদ: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব ফিত তারিখ, ১ খণ্ড, পৃ. ১০।

ড. তাওফিক আত-তবিল: আল-আরব ওয়াল ইলম। পৃ: ১১৮।

ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ মাদি: আন-নাহদাত আল-হাদিসাহ ফি জাজিরাতিল আরব। পৃ. ৪০।

আব্দুল কারিম আবা আল-খাইল: আল-আরাবিয়্যাহ আস-সাউদিয়্যাহ। পৃ. ৩০।

আব্দুল্লাহ ফিলবি: তারিখু নজদ ওয়া দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব আস-সালাফিয়্যাহ পৃ: ১৭।

আব্দুল মুতাআল আস-সাঈদী: আল-মুজাদ্দিদুন ফিল ইসলাম পৃ. ৪৩৭ এবং আরও।

ড. মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন আল-রাইস: তারিখুশ শারকিল আরাবি ওয়াল খিলাফাতিল উসমানিয়্যাহ ১ খণ্ড, পৃ. ৯৮।

(৪) লোথ্রপ স্টোডার্ড: হাদিরুল আলমিল ইসলামি। পৃ. ৩৫ এবং পিয়ের ক্রবিটস: ইব্রাহিম পাশা, মুহাম্মদ বদরান অনূদিত, পৃ. ১৮।

(৫) মুহাম্মদ ফরিদ বেক: তারিখুদ দাওলাতিল আলিয়্যাহ আল-উসমানিয়্যাহ, ১৮৯৬ সংস্করণ, পৃ. ২০১।

(৬) ড. মুনির আল-আজলানি: তারিখুল বিলাদিল আরাবিয়্যাহ আস-সাউদিয়্যাহ ১ খণ্ড, পৃ. ১৭৫।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
آنذاك قاضي العيينة (1) وروى عنه أنه كان عالما فقيها مثالا للفضل والعدل ألف عدة رسائل في الفقه والتفسير وكان مشهورا عند الناس بالتواضع وسهولة الأخلاق وكرم الطباع وكان يقرأ لطلاب العلم في مسجد العيينة دروسا في الفقه والحديث والتفسير. (2)

أما جده سليمان بن علي المتوفي عام 1079هـ فقد ذكر مؤرخو نجد عنه أنه كان فقيه زمانه متبحراً في علوم المذهب الحنبلي وكان علماؤه المعاصرون له يرجعون إليه في كل مشكلة وله إجابات مفيدة. (3)

وقد أتاحت هذه البيئة لأبن عبد الوهاب أن يبدأ رحلة تحصيل العلم مبكراً إذ أخذ في تلقيه منذ طفولته" فحفظ القران قبل العاشرة من عمره وكان حاد الفهم وقاد الذهب سريع الحفظ فصيحا فطنا. روى أخوه سليمان أن أياهما كان يتوسم فيه خيراً كثيرا ويتعجب من فهمه وإدراكه مع صغر سنه وكان يتحدث بذلك ويقول: إنه استفاد من ولده محمد فوائد من الأحكام" (4) .

وبعد أن تم له حفظ القرآن اشتغل في العلم وجد في الطلب..وكان سريع الكتابة ربما كتب الكراسة في المجلس وبعد بلوغه سن الاحتلام قدمه والده إماما في الصلاة ثم حج فقضى فريضة الإسلام (5) .

--------------------------------------------

(1) ابن غنام: 1 تاريخ نجد. ص175 ايضا أحمد عبد الغفور عطار. محمد بن عبد الوهاب. ص30

(2) د. منير العجلاني: تاريخ البلاد العربية السعودية ج1 ص172.

(3) ابن بشر: عنوان المجد في تاريخ نجد ج 2 ص 210،

عبد الرحمن العاصمي القحطاني: الدرر السنية ج12 ص: 3،

عبد الرحمن آل الشيخ: مشاهير علماء نجد ص 29أيضاً،

د. منير العجلاني: تاريخ البلاد العربية السعودية ج1ص174.

(4) ابن غنام: تاريخ نجد ص: 75، عبد الرحمن بن عبد اللطيف آل الشيخ مشاهير علماء نجد. ص17.

(5) عبدا لرحمن العاصمي القحطاني: الدرر السنية في الأجوبة النجدية ج12، ص: 4 ابن بشر. عنوان المجد في تاريخ نجد. ج1 ص: 19،ابن غنام: تاريخ نجد. ص: 76، د. منير العجلاني: تاريخ البلاد العربية السعودية ج1 ص 181 وأيضا عبد الله الرويشد محمد بن عبد الوهاب في التاريخ ج1 ص:11
তৎকালীন উয়াইনার বিচারক (১)। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ছিলেন একজন আলেম ও ফকিহ এবং শ্রেষ্ঠত্ব ও ইনসাফের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি ফিকহ ও তাফসির বিষয়ে বেশ কিছু রিসালা বা পুস্তিকা রচনা করেছেন। মানুষের কাছে তিনি নম্রতা, চরিত্রমাধুর্য এবং উদার স্বভাবের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তিনি উয়াইনার মসজিদে ইলম অন্বেষণকারী ছাত্রদের ফিকহ, হাদিস ও তাফসিরের দরস প্রদান করতেন। (২)

পক্ষান্তরে তাঁর দাদা সুলায়মান বিন আলী (মৃত্যু ১০৭৯ হিজরি) সম্পর্কে নজদ অঞ্চলের ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ ছিলেন এবং হাম্বলি মাযহাবের ইলমে অগাধ পাণ্ডিত্য রাখতেন। তাঁর সমসাময়িক আলেমগণ যেকোনো জটিল সমস্যায় তাঁর শরণাপন্ন হতেন এবং তাঁর নিকট অত্যন্ত ফলপ্রসূ উত্তর পাওয়া যেত। (৩)

এই পরিবেশ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবকে খুব অল্প বয়সেই ইলম অর্জনের যাত্রা শুরু করার সুযোগ করে দেয়। শৈশব থেকেই তিনি শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন; ফলে দশ বছর বয়সের আগেই তিনি কুরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেন। তিনি ছিলেন প্রখর মেধা ও তীক্ষ্ণ ধীশক্তি সম্পন্ন, দ্রুত মুখস্থকারী এবং বাগ্মী ও বিচক্ষণ। তাঁর ভাই সুলায়মান বর্ণনা করেছেন যে, তাঁদের পিতা তাঁর মধ্যে অনেক কল্যাণের লক্ষণ দেখতে পেতেন এবং অল্প বয়সেই তাঁর প্রজ্ঞা ও উপলব্ধি দেখে বিস্মিত হতেন। তিনি এই বিষয়ে আলোচনা করতেন এবং বলতেন যে, তিনি তাঁর পুত্র মুহাম্মদের কাছ থেকে শরয়ী আহকামের ক্ষেত্রে নানাবিধ ফায়দা বা জ্ঞান অর্জন করেছেন। (৪) ।

কুরআন মুখস্থ শেষ করার পর তিনি ইলম অর্জনে মনোনিবেশ করেন এবং জ্ঞান অন্বেষণে কঠোর সাধনা করেন। তিনি অত্যন্ত দ্রুত লিখতে পারতেন; এমনকি কখনো কখনো এক মজলিসেই একটি পূর্ণ পুস্তিকা লিখে শেষ করতেন। বালেগ হওয়ার পর তাঁর পিতা তাঁকে নামাজের ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করেন। এরপর তিনি হজ পালন করেন এবং ইসলামের ফরজ হজ সম্পন্ন করেন (৫) ।

--------------------------------------------

(১) ইবনে গান্নাম: ১ তারিখু নজদ, পৃষ্ঠা ১৭৫। এছাড়া আহমদ আব্দুল গফুর আত্তার: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, পৃষ্ঠা ৩০।

(২) ড. মুনির আল-আজলানি: তারিখুল বিলাদ আল-আরাবিয়্যাহ আস-সাউদিয়্যাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৭২।

(৩) ইবনে বিশর: উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নজদ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২১০;

আব্দুর রহমান আল-আসেমি আল-কাহতানি: আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ৩;

আব্দুর রহমান আলে শেখ: মাশাহিরু উলামাই নজদ, পৃষ্ঠা ২৯; এছাড়া ড. মুনির আল-আজলানি: তারিখুল বিলাদ আল-আরাবিয়্যাহ আস-সাউদিয়্যাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৭৪।

(৪) ইবনে গান্নাম: তারিখু নজদ, পৃষ্ঠা ৭৫; আব্দুর রহমান বিন আব্দুল লতিফ আলে শেখ: মাশাহিরু উলামাই নজদ, পৃষ্ঠা ১৭।

(৫) আব্দুর রহমান আল-আসেমি আল-কাহতানি: আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ ফিল আজউইবাতিন নাজদিয়্যাহ, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ৪; ইবনে বিশর: উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নজদ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯; ইবনে গান্নাম: তারিখু নজদ, পৃষ্ঠা ৭৬; ড. মুনির আল-আজলানি: তারিখুল বিলাদ আল-আরাবিয়্যাহ আস-সাউদিয়্যাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮১; এছাড়া আব্দুল্লাহ আল-রুওয়াইশিদ: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফিত তারিখ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
(3) رحلاته:

زودنا ابن غنام في تاريخه ببيان موجز عن رحلات محمد بن عبد الوهاب فقص علينا أنه بعيد بلوغه زوجه أبوه وهو ابن اثنتي عشرة سنة ثم أذن له بالحج فحج وقصد مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم وأقام فيها شهرين ثم رجع بعد أن أدى الزيارة (1) .

ولو أردنا أن نعرف تاريخ رحلته الأولى هذه فهي على التقدير عام 1128 هـ باعتباره على مقتضى الرواية قد حج بعد بلوغه اثنتي عشرة سنة، وهو من مواليد عام 1115 هـ حسبما استخلصنا سابقا.

ويبدو أن رحلته الأولى هذه قد استخرجته من عالمه المحدود بآفاق نجد وأحوالها إلى آفاق التفكير في حالة المسلمين وقياس واقعهم على منهج الإسلام واستلفت انتباهه بعد الشقة بين هذا الواقع وذلك المنهج وعلى الأخص في أهم القضايا التي جاء الإسلام ليقررها ويجعلها رأس الأمر فيه وحجر الزاوية في بنيانه، وهي قضية إخلاص التوحيد"فشرح الله صدره بمعرفة التوحيد ومعرفة نواقضه التي تضل عن سبيله فأخذ ينكر تلك البدع المستحدثة من الشرك الذي كان قد فشا في نجد، ومع أن بعض الناس كان يستحسن ما يقول، غير أنه رأى أن الأمر لن يتم له على ما كان يريد فرحل في طلب العلم إلى ما يليه من الأمصار (2) ".

والذي تؤكده المصادر النجدية أن رحلة الشيخ في طلب العلم لم تتجاوز الحجاز غربا والبصرة شرقا وأن المدن التي ألم بها في رحلاته هي مكة والمدينة والاحساء والزبير والبصرة، وأن نيته انعقدت على التوجه إلى الشام فحيل بينه وبين تحقيق هذه الأمنية، ذلك هو القاسم المشترك المتفق عليه بين مؤرخي نجد (3) على خلاف بينهم في تفصيل الرواية عن هذه الرحلات.

--------------------------------------------

(1) ابن غنام: تاريخ نجد. ص: 75.

(2) ابن غنام: تاريخ نجد ص: 7.

(3) ابن بشر: عنوان المجد في تاريخ نجد ج1 ص: 20،

د. منير عجلاني. تاريخ البلاد العربية السعودية ج 1 ص175،

أحمد عبد الغفور عطار: محمد بن عبد الوهاب ص 36،

عبد الرحمن بن حسن آل الشيخ: المقامات منشورة بالدرر السنية ج9 ص215،

عبد الرحمن بن عبد اللطيف آلي الشيخ: مشاهير علماء نجد ص17، 18
(৩) তাঁর সফরসমূহ:

ইবনে গান্নাম তাঁর ইতিহাসে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের সফরসমূহ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করেছেন। তিনি আমাদের বর্ণনা করেছেন যে, সাবালক হওয়ার পরপরই তাঁর পিতা তাঁকে বারো বছর বয়সে বিবাহ করিয়ে দেন। এরপর তিনি তাঁকে হজ্জের অনুমতি দেন, ফলে তিনি হজ্জ পালন করেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহরের (মদীনা) উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সেখানে তিনি দুই মাস অবস্থান করেন এবং যিয়ারত সম্পন্ন করে ফিরে আসেন (১)।

আমরা যদি তাঁর এই প্রথম সফরের তারিখ জানতে চাই, তবে অনুমান অনুযায়ী তা ১১২৮ হিজরি সাল। কারণ বর্ণনা অনুযায়ী তিনি বারো বছর বয়সে সাবালক হওয়ার পর হজ্জ করেছিলেন, আর আমরা ইতিপূর্বে যা নির্যাস বের করেছি সেই অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১১১৫ হিজরিতে।

মনে হয় যে, তাঁর এই প্রথম সফরটি তাঁকে নজদ এবং এর পরিস্থিতির সীমিত জগৎ থেকে বের করে মুসলিম উম্মাহর অবস্থার ব্যাপারে চিন্তার দিগন্তে নিয়ে গিয়েছিল এবং ইসলামের মানদণ্ডের আলোকে তাদের বাস্তবতাকে পরিমাপ করার সুযোগ করে দিয়েছিল। এই বাস্তবতা এবং সেই মানদণ্ডের মধ্যবর্তী বিস্তর ব্যবধান তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল; বিশেষ করে ইসলামের সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যা ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে এসেছে এবং যা এর মূল ভিত্তি ও বুনিয়াদের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে—আর তা হলো একনিষ্ঠ তাওহীদের বিষয়টি। "অতঃপর আল্লাহ তাঁর বক্ষকে তাওহীদের পরিচয় এবং তাওহীদ পরিপন্থী সেই বিষয়গুলো উপলব্ধির জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন যা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে। ফলে তিনি নজদে ছড়িয়ে পড়া শিরকের অন্তর্ভুক্ত সেই নব-উদ্ভাবিত বিদআতগুলোর প্রতিবাদ করতে শুরু করলেন। যদিও কিছু মানুষ তাঁর কথাকে পছন্দ করত, তবুও তিনি দেখলেন যে তাঁর উদ্দেশ্য যেভাবে তিনি চাইছিলেন সেভাবে পূর্ণ হবে না। তাই তিনি ইলম অন্বেষণে পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর দিকে যাত্রা করলেন (২)।"

নজদীয় উৎসসমূহ যা নিশ্চিত করে তা হলো, ইলম অন্বেষণে শাইখের সফর পশ্চিমে হিজায এবং পূর্বে বসরা অতিক্রম করেনি। তাঁর সফরগুলোতে তিনি মক্কা, মদীনা, আল-আহসা, যুবায়ের এবং বসরা শহরগুলোতে অবস্থান করেছিলেন। তাঁর নিয়ত ছিল শামের (সিরিয়া) উদ্দেশ্যে যাত্রা করার, কিন্তু তাঁর এই আকাঙ্ক্ষা পূরণে বাধা সৃষ্টি হয়। নজদের ঐতিহাসিকদের মধ্যে এই সফরগুলোর বর্ণনার খুঁটিনাটি বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও এটিই তাঁদের মধ্যে সর্বসম্মত অভিন্ন বক্তব্য (৩)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে গান্নাম: তারীখে নজদ। পৃষ্ঠা: ৭৫।

(২) ইবনে গান্নাম: তারীখে নজদ পৃষ্ঠা: ৭।

(৩) ইবনে বিশর: উনওয়ানুল মাজদ ফী তারীখে নজদ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা: ২০,

ড. মুনীর আজলানি। তারীখুল বিলাদিল আরাবিয়্যাহ আস-সাউদীয়্যাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা: ১৭৫,

আহমাদ আব্দুল গফুর আত্তার: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব পৃষ্ঠা: ৩৬,

আব্দুর রহমান ইবনে হাসান আলুশ শাইখ: আল-মাক্বামাত (আদ-দুরার আস-সানীয়্যাহ-তে প্রকাশিত), খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা: ২১৫,

আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল লতীফ আলুশ শাইখ: মাশাহীরু উলামায়ি নজদ, পৃষ্ঠা: ১৭, ১৮
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وقبل أن نعرض لما اختلف فيه مؤرخو نجد من تفصيلات رحلات الشيخ نسجل ما لاحظناه من أن جميع المصادر غير النجدية عربية كانت أو أجنبية قد اضطرب حديثها في شأن هذه الرحلات وشابها التخليط والتضارب وبدت في مجموعها كأنها تكتب سيرة محمد بن عبد الوهاب بمعزل عن أي مصدر يقيني يطمأن إليه. وقد التمس البعض العذر لهذه المصادر فيما شابها من تخليط لدى ذكر هذه الرحلات بأنه يرجع إلى أن "مؤرخا نجد ابن غنام وابن بشر" قد وصفا رحلات الشيخ وصفا مختصرا لا غناء فيه. لذلك بحث المستشرقون عن مصادر أخرى تعينهم على فهم هذا الجزء الخطير الغني من حياة الشيخ الذي نسميه رحلة الشيخ وهو في حقيقته شباب الشيخ كله أو أكثره (1) .

والذي نرجحه أن المستشرقين رأوا في شخصية محمد بن عبد الوهاب ما يستهوي أفئدتهم ويستثير رغبة البحث والاستقصاء لديهم سواء منهم من استهدف ببحثه واستقصائه بلوغ الحقيقة لذاتها أو من استبطن رغبة الكيد للإسلام وبدا له أن مجال الحديث عن الحركة الوهابية يحقق له بلوغ هذه الرغبة فهؤلاء وأولئك تناهت إليهم أخبار الحركة الوهابية بما حث لديهم رغبة استقصاء جوانبها وإذ لم يجدوا من المصادر الميسرة ما يروي ظمأهم إلى المعرفة التي ينشدونها فقد قنعوا بما أتيح لهم من هذه المصادر دون أن يعنوا ببحث جانب الظن فيه من جانب اليقين" وكان المصدر الذي رجع أكثرهم إليه واعتمد عليه هوكتاب: لمع الشهاب في سيرة محمد بن عبد الوهاب (2) " وقد كان هذا الكتاب بنسخته المخطوطة الوحيدة المودعة بمكتبة المتحف البريطاني بلندن هو الملهم لسائر المستشرقين وجاء الكتاب العرب على اثر هؤلاء المستشرقين فنسجوا على منوالهم واكتفوا بالنقل عنهم.

وأخذا برواية لمع الشهاب تضافر الكتاب على القول بأن محمد بن عبد الوهاب رحل إلى البصرة وبغداد وهمذان واصفهان والري وقم وبلاد الترك ثم حلب ودمشق والقدس ومصر (3) وقد

--------------------------------------------

(1) د. منير العجلاني: تاريخ البلاد العربية السعودية ج1 ص 184

(2) د. منير العجلاني: تاريخ البلاد العربية السعودية ج1 ص 184

(3) المرجع السابق. 188 وما بعدها، بروكلمان. تاريخ الشعوب الإسلامية جـ 4 ص 18، عبد
শাইখের সফরের বিশদ বিবরণ নিয়ে নজদ অঞ্চলের ঐতিহাসিকদের মধ্যে যে মতপার্থক্য রয়েছে তা উপস্থাপনের পূর্বে আমরা যা লক্ষ্য করেছি তা এখানে লিপিবদ্ধ করছি। তা হলো—নজদি উৎস ব্যতীত অন্য সকল উৎস, চাই তা আরবি হোক বা বিদেশি, এই সফরগুলোর ব্যাপারে তাদের আলোচনা ছিল বিশৃঙ্খল এবং তাতে সংমিশ্রণ ও পরস্পরবিরোধিতা পরিলক্ষিত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এগুলো দেখে মনে হয় যেন তারা মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনী এমনভাবে লিখছে যা কোনো নির্ভরযোগ্য বা নিশ্চিত উৎস থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। কেউ কেউ এই সফরগুলো উল্লেখ করার ক্ষেত্রে উৎসগুলোতে যে বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হয়েছে তার জন্য ওজর পেশ করেছেন এই বলে যে, নজদের দুই ঐতিহাসিক "ইবন গান্নাম এবং ইবন বিশর" শাইখের সফরগুলোর বর্ণনা অত্যন্ত সংক্ষেপে দিয়েছেন যা পর্যাপ্ত নয়। এই কারণে প্রাচ্যবিদরা অন্যান্য উৎস সন্ধান করেছেন যা তাদের শাইখের জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ অংশ বুঝতে সহায়তা করবে, যাকে আমরা শাইখের সফর বলে অভিহিত করি। প্রকৃতপক্ষে এটি শাইখের সমগ্র যৌবনকাল বা তার অধিকাংশ সময় জুড়ে ছিল (১)।

আমাদের কাছে যা প্রবল মনে হয় তা হলো, প্রাচ্যবিদরা মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাবের ব্যক্তিত্বের মধ্যে এমন কিছু খুঁজে পেয়েছিলেন যা তাদের হৃদয়কে আকর্ষণ করে এবং তাদের মধ্যে গবেষণা ও অনুসন্ধানের আগ্রহ জাগিয়ে তোলে। চাই তাদের মধ্যে কেউ তার গবেষণা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সত্যে পৌঁছাতে চেয়েছেন, অথবা কেউ ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন এবং তার কাছে মনে হয়েছে যে ওহাবি আন্দোলন নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রটি তাকে এই ইচ্ছা পূরণে সহায়তা করবে। এই উভয় শ্রেণির নিকট ওহাবি আন্দোলনের সংবাদ পৌঁছেছে এবং তাদের মধ্যে এর বিভিন্ন দিক অনুসন্ধানের প্রবল আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছে। যেহেতু তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত জ্ঞানতৃষ্ণা মেটানোর মতো সহজলভ্য উৎস খুঁজে পাননি, তাই তারা তাদের কাছে লভ্য উৎসগুলো নিয়েই সন্তুষ্ট থেকেছেন। তারা সেই উৎসগুলোর মধ্যে সন্দেহজনক দিক এবং নিশ্চিত বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করার ব্যাপারে কোনো গুরুত্ব দেননি। তাদের অধিকাংশের নিকট প্রত্যাবর্তনস্থল এবং নির্ভরযোগ্য উৎস ছিল 'লামাউশ শিহাব ফি সিরাতি মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব' (২) নামক বইটি। লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়াম লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত এই বইটির একমাত্র পাণ্ডুলিপিটিই ছিল অন্যান্য সকল প্রাচ্যবিদের অনুপ্রেরণা। আর এই প্রাচ্যবিদদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আরব লেখকরা এসেছেন এবং তাদের পদ্ধতি অনুসরণ করে তাদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন।

আর 'লামাউশ শিহাব'-এর বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে লেখকরা একযোগে বলতে শুরু করেন যে, মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব বসরা, বাগদাদ, হামদান, ইসফাহান, রাই, কোম এবং তুর্কি দেশসমূহ, এরপর আলেপ্পো, দামেস্ক, জেরুজালেম এবং মিশরে সফর করেছিলেন (৩)। আর

--------------------------------------------

(১) ড. মুনির আল-আজলানি: তারিখুল বিলাদিল আরাবিয়্যাহ আস-সাউদিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, ১৮৪ পৃষ্ঠা।

(২) ড. মুনির আল-আজলানি: তারিখুল বিলাদিল আরাবিয়্যাহ আস-সাউদিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, ১৮৪ পৃষ্ঠা।

(৩) পূর্বোক্ত সূত্র, ১৮৮ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহ; ব্রোকলম্যান: তারিখুশ শুউবিল ইসলামিয়্যাহ, ৪র্থ খণ্ড, ১৮ পৃষ্ঠা; আব্দুল...
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
حاول بعض الكتاب العرب المحدثين تفنيد هذه الروايات ودحضها والتدليل على أن ابن عبد الوهاب لم يتجاوز في رحلاته نطاق الجزيرة العربية (1) .

ولئن كان المستشرقون معذورين في احتفائهم برواية لمع الشهاب وتعويلهم عليها سواء كان ذلك لاختصار ابن غنام وابن بشر أو لعدم وقوفهم على هذه الرواية أصلا ـ وهو ما نرجحه ـ فإن الكتاب العرب الذين حذوا حذوهم ونسجوا على منوالهم لا عذر لهم في ذلك وعلى الأخص هؤلاء الكتاب الذين توثقت صلاتهم بالحركة الوهابية ومصادرها، ولذا كان عجيبا أن يذهب واحد من هؤلاء إلى القول بأن محمد بن عبد الوهاب قد ارتحل إلى اليمن دون أن يسند روايته هذه إلى أي مصدر (2) . وهو ما دعا أحد الكتاب إلى الإشارة إليه مستغربا وأن كان بدوره قد رجح أن محمد بن عبد الوهاب عاش فترة في بغداد (3) خلافا لما ذكرته المصادر النجدية.

وايا كان الأمر فالمصادر النجدية الوثيقة. تجمع على ما أسلفنا الإشارة إليه من أن مسرح رحلات محمد بن عبد الوهاب لم يتجاوز نطاق الجزيرة العربية

--------------------------------------------

المتعال الصعيدي: المجددون في الإسلام ص 437، د. فيليب حتي تاريخ العرب جـ 1 ص 871.محمد فريد بك: تاريخ الدولة العلية العثمانية ص 201 وأيضا

محمد عبد الله ماضي: النهضات الحديثة في جزيرة العرب: ص43.

(1) أحمد علي: آل سعود. هامش ص 10 إذ ذكر ما ناصه:" لقد خلط كثير من الناس ممن كتبوا عن الشيخ محمد بن عبد الوهاب في البلاد التي ارتحل إليها فقال بعضهم أنه ذهب إلى الآستانة وقال بعضهم إلى أصفهان وهمذان وقم ومنشأ هذا الخلط هو بعض الأوروبيين مثل المستشرق مارجيليوت الذي ذكر في دائرة المعارف الإسلامية أنه تزوج في بغداد إمرأة وماتت بعد زمن وورث الشيخ منها ألفي دينار وأنه رحل إلى بلاد الكرد وهمدان وقد ذكر نفس الرواية من ـ الأوروبيين الرحال برجس وزويمر ويلجريف كما وقع في هذا الخطأ مؤلف كتاب لمع الشهاب في سيرة محمد بن عبد الوهاب الذي نقل عنه الشيخ حافظ وهبه في هامش كتابه جزيرة العرب في القرن العشرين ص 336 (الطبعة الأولى) أن الشيخ رحل إلى فارس وتعلم الحكمة المشرقية وصنع البنادق وتحضير الذخيرة".

(2) محمد حامد الفقي: أثر الدعوة الوهابية ص 65.د. منير العجلاني: تاريخ البلاد العربية السعوديةج1 ص:201

(4) المرجع السابق: ص 196.
কিছু আধুনিক আরব লেখক এই বর্ণনাগুলোকে খণ্ডন ও বাতিল করার এবং এটি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব তাঁর ভ্রমণে আরব উপদ্বীপের সীমানা অতিক্রম করেননি (১)।

প্রাচ্যবিদরা যদি 'লুমাউশ শিহাব'-এর বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ এবং এর ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে ওজরখা হতে পারেন—চাই তা ইবনে গান্নাম ও ইবনে বিশরের (ইতিহাসের) সংক্ষিপ্ততার কারণে হোক অথবা আদতেই এই বর্ণনাটি সম্পর্কে তাদের অবহিত না থাকার কারণে হোক (যা আমরা বেশি যুক্তিযুক্ত মনে করি)—তবে যেসব আরব লেখক তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং তাদের ধাঁচেই লিখেছেন, তাদের ক্ষেত্রে কোনো ওজর গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে সেইসব লেখকদের ক্ষেত্রে, যাদের ওহাবি আন্দোলন ও এর উৎসগুলোর সাথে নিবিড় সম্পর্ক ছিল। তাই এটি বিস্ময়কর ছিল যে, তাদের মধ্যে একজন এমন দাবি করেছেন যে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ইয়েমেনে সফর করেছিলেন, অথচ তিনি তাঁর এই বর্ণনার স্বপক্ষে কোনো সূত্রের উল্লেখ করেননি (২)। এটিই একজন লেখককে আশ্চর্যের সাথে এর দিকে ইঙ্গিত করতে বাধ্য করেছে, যদিও তিনি আবার নজদি উৎসগুলোর বর্ণনার বিপরীতে ধারণা করেছেন যে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব একটি নির্দিষ্ট সময় বাগদাদে অতিবাহিত করেছিলেন (৩)।

যাই হোক না কেন, নির্ভরযোগ্য নজদি উৎসগুলো আমরা পূর্বে যা উল্লেখ করেছি তার ওপর ঐকমত্য পোষণ করে যে, মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের ভ্রমণের পরিধি আরব উপদ্বীপের গণ্ডি অতিক্রম করেনি।

--------------------------------------------

আল-মুতাআল আস-সাঈদী: আল-মুজাদ্দিদুনা ফিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৪৩৭; ডক্টর ফিলিপ হিট্টি: তারিখুল আরব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮৭১। মুহাম্মদ ফরিদ বেগ: তারিখুদ দাওলাতিল আলিয়্যাহ আল-উসমানীয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২০১ এবং আরও দেখুন:

মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ মাদী: আন-নাহদাতুল হাদিসাহ ফি জাজিরাতিল আরব: পৃষ্ঠা ৪৩।

(১) আহমদ আলী: আলে সাউদ। ১০ নং পৃষ্ঠার টীকা, যেখানে তিনি নিম্নোক্ত বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন: "শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব যে দেশগুলোতে সফর করেছিলেন সে সম্পর্কে যারা লিখেছেন তাদের মধ্যে অনেকে গুলিয়ে ফেলেছেন। কেউ কেউ বলেছেন তিনি আস্তানা (ইস্তাম্বুল) গিয়েছিলেন, কেউ বলেছেন ইসফাহান, হামদান ও কোম। এই বিভ্রান্তির উৎস হলো মারগোলিউথ-এর মতো কিছু ইউরোপীয় প্রাচ্যবিদ, যিনি এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম-এ উল্লেখ করেছেন যে তিনি বাগদাদে একজন নারীকে বিয়ে করেছিলেন যিনি কিছুকাল পর মারা যান এবং শেখ তাঁর থেকে দুই হাজার দিনার উত্তরাধিকার সূত্রে পান; এবং তিনি কুর্দিদের দেশ ও হামদানে ভ্রমণ করেছিলেন। একই বর্ণনা ইউরোপীয় পর্যটক বার্গেস, জুইমার এবং প্যালগ্রেভও উল্লেখ করেছেন। তেমনিভাবে এই ভুলের শিকার হয়েছেন 'লুমাউশ শিহাব ফি সিরাতে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব' গ্রন্থের লেখক, যা থেকে শেখ হাফিজ ওয়াহবা তাঁর 'জাজিরাতুল আরব ফিল করনিল ইশরিন' গ্রন্থের ৩৩৬ নং পৃষ্ঠার (প্রথম সংস্করণ) টীকায় উদ্ধৃত করেছেন যে, শেখ পারস্যে সফর করেছিলেন এবং সেখানে প্রাচ্যীয় দর্শন (হিকমত), বন্দুক তৈরি ও গোলাবারুদ প্রস্তুত করা শিখেছিলেন।"

(২) মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকী: আসারুদ দাওয়াতিল ওয়াহাবীয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৬৫। ডক্টর মুনীর আল-আজলানি: তারিখুল বিলাদিল আরাবিয়্যাহ আস-সাউদীয়্যাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০১।

(৪) পূর্বোক্ত সূত্র: পৃষ্ঠা ১৯৬।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
انطلاقا من نجد إلى مكة والمدينة غربا والبصرة والأحساء شرقا. وأرجح المصادر التي تقطع بذلك ما ذكره الشيخ عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب في رسالة المقامات رواية عن رحلات جده الذي تلقى عنه وشهد ازدهار حركته وقد قدم لحديثه عن رحلات جدة بقوله" انه لا يعرف شيخنا ولا حيث نشأ كما يعرفه الخبير بحالة" (1) .وخلص من وصفه لرحلات جده بأنها انتهت بالحج إلى بيت الله الحرام حيث كان يعتزم السفر مع الحجيج الشامي من المدينة إلى الشام لولا انه تعرض لحادث اعتداء لسراق الحجيج الشامي سلبوه ماله وشجوا رأسه فمكث في المدينة ردحا ثم عاد إلى نجد ليتخذها مقرا ومستقرا ومنطلقا لحركته حتى تاريخ وفاته عام 1206 هـ (2) .

--------------------------------------------

(1) عبد الرحمن العاصمي القحطاني: الدرر السنية. جـ 9 ص 215 حيث يتابع الشيخ عبد الرحمن بن حسن قوله عن نشأة جدة ورحلاته قائلا فلا ريب أنه لما قدم جده سليمان بن علي من الروضة ونزل العيينة كان أفقه من نزل نجداً في وقته فتخرج عليه خلق كثير من أهل نجد منهم ابناه عبد الوهاب وإبراهيم، وكان المتولي للقضاء في العارض أبوه عبد الوهاب وكان عمه يسافر إلى ما حولهم من البلاد لحاجتهم إليه في الإفتاء، وما يقع بينهم من بيع العقارات وكان عليه اعتمادهم فيما كتبه واثبته، وأكثر إقامته مع أخيه عبد الوهاب فظهر شيخنا بين أبيه وعمه فحفظ القرآن وهو صغير وقرأ في فنون العلم وصار له فهم قوي، وهمة عالية في طلب العلم فصار يناظر أباه وعمه في بعض المسائل بالدليل على بعض الروايات عن الأمام أحمد والوجوه عن الأصحاب فتخرج عليهما في الفقه وناظرهما في مسائل قرأها في الشرح الكبير للمغني والأنصاف لما فيهما من مخالفة ما في متن المنتهى والإقناع وعلت همته إلى طلب التفسير والحديث فسافر إلى البصرة غير مرة يقيم بين من كان بها من العلماء، فصنف في البصرة كتاب التوحيد الذي شهد له بفضله بتصنيفه القريب والبعيد أخذه من الكتب التي في مدارس البصرة. ثم ان شيخنا رحمه الله تعالى بعد رحلته إلى البصرة. وهناك رحل إلى الاحساء وفيها فحول العلماء منهم عبد الله بن فيروز ابو محمد الكفيف ووجد عنده من كتب شيخ الإسلام ابن تيميه وابن القيم ما سر به وأثنى على عبد الله هذا بمعرفته بعقيدة الإمام احمد وحضر مشايخ الاحساء ومن أعظمهم عبد الله بن عبد اللطيف القاضي، ثم ان شيخنا رحمه الله رجع من الاحساء إلى البصرة وخرج منها إلى نجد قاصدا الحج فلما قضى الحج وقف في الملتزم وسأل الله تعالى أن يظهر هذا الدين بدعوته، فخرج قاصدا المدينة مع الحاج يريد الشام فعرض له بعض سراق الحجيج فضربوه وسلبوه وأخذوا ما معه وشجوا رأسه وعاقه ذلك عن سيره مع الحجاج فقدم المدينة بعد أن خرج الحاج منها فاقام بها وحضر عند العلماء إذ ذاك منهم محمد حياة السندي وأخذ عنه كتب الحديث أجازه في جميعها وقراءة لبعضها ووجد فيها بعض الحنابلة فكتب كتاب الهدى لابن القيم بيده ـ ثم رجع إلى نجد.

(2) ابن بشر: عنوان المجد في تاريخ نجد ج 1 ص 113.
انطلاقا من نجد إلى مكة والمدينة غربا والبصرة والأحساء شرقا. وأرجح المصادر التي تقطع بذلك ما ذكره الشيخ عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب في رسالة المقامات رواية عن رحلات جده الذي تلقى عنه وشهد ازدهار حركته وقد قدم لحديثه عن رحلات جدة بقوله" انه لا يعرف شيخنا ولا حيث نشأ كما يعرفه الخبير بحالة" (1) .وخلص من وصفه لرحلات جده بأنها انتهت بالحج إلى بيت الله الحرام حيث كان يعتزم السفر مع الحجيج الشامي من المدينة إلى الشام لولا انه تعرض لحادث اعتداء لسراق الحجيج الشامي سلبوه ماله وشجوا رأسه فمكث في المدينة ردحا ثم عاد إلى نجد ليتخذها مقرا ومستقرا ومنطلقا لحركته حتى تاريخ وفاته عام 1206 هـ (2) .

--------------------------------------------

(1) আবদুর রহমান আল-আসিমী আল-কাহ্ তানি: আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ। খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ২১৫। যেখানে শায়খ আবদুর রহমান বিন হাসান তাঁর দাদার বেড়ে ওঠা ও সফর সম্পর্কে বর্ণনা অব্যাহত রেখে বলেন: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যখন তাঁর দাদা সুলাইমান বিন আলী রাওদাহ থেকে এসে উয়াইনাহতে অবতরণ করেন, তখন তিনি তাঁর সময়ে নাজদে আগত ফকীহদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন। তাঁর কাছে নাজদের বহু মানুষ শিক্ষা লাভ করেন, যাদের মধ্যে তাঁর দুই পুত্র আবদুল ওয়াহহাব ও ইবরাহিম অন্যতম। আর 'আরিদ' অঞ্চলে কাজীর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তাঁর পিতা আবদুল ওয়াহহাব। তাঁর চাচা আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করতেন কারণ ফতোয়া প্রদান এবং তাঁদের মধ্যে স্থাবর সম্পত্তির ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে মানুষের তাঁর প্রয়োজন হতো। তাঁর লিখিত ও প্রমাণিত বিষয়ের ওপরই তাঁদের নির্ভরতা ছিল। তিনি অধিকাংশ সময় তাঁর ভাই আবদুল ওয়াহহাবের সাথেই অবস্থান করতেন। আমাদের শায়খ তাঁর পিতা ও চাচার সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠেন এবং অল্প বয়সেই কুরআন হিফজ করেন। তিনি বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পড়াশোনা করেন এবং তাঁর মধ্যে গভীর বোধশক্তি ও ইলম অর্জনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। তিনি বিভিন্ন মাসআলায় দলীল সহকারে ইমাম আহমদের কিছু বর্ণনা এবং তাঁর সাথীদের (আসহাব) অভিমতের আলোকে তাঁর পিতা ও চাচার সাথে বিতর্ক করতেন। ফিকহ শাস্ত্রে তিনি তাঁদের দুজনের কাছেই ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন এবং 'আশ-শারহুল কাবীর লিল মুগনী' ও 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে পড়া মাসআলাগুলো নিয়ে তাঁদের সাথে বিতর্ক করতেন, কারণ তাতে 'আল-মুন্তাহা' ও 'আল-ইকনা' এর মূল পাঠ্যের সাথে ভিন্নতা ছিল। তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাফসীর ও হাদীস অন্বেষণের দিকে ধাবিত হয়। ফলে তিনি একাধিকবার বসরা সফর করেন এবং সেখানকার আলেমদের মাঝে অবস্থান করেন। বসরাতেই তিনি 'কিতাবুত তাওহীদ' রচনা করেন, যার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য তাঁর এই রচনার মাধ্যমে নিকটের ও দূরের সবাই দিয়েছে। তিনি বসরার মাদরাসাগুলোতে থাকা কিতাবাদি থেকে এটি সংগ্রহ করেন। এরপর আমাদের শায়খ (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) তাঁর বসরা সফরের পর আল-আহসা সফর করেন। সেখানে বড় বড় আলেম ছিলেন, যাদের মধ্যে আবদুল্লাহ বিন ফিরোজ আবু মুহাম্মদ আল-কাফীফ অন্যতম। তাঁর কাছে তিনি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কাইয়্যিমের এমন কিছু কিতাব পান যাতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং আবদুল্লাহর ইমাম আহমদের আকিদা সংক্রান্ত জ্ঞানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আল-আহসার মাশায়েখদের মজলিসে উপস্থিত হতেন, যাদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছিলেন কাজী আবদুল্লাহ বিন আবদুল লতিফ। এরপর আমাদের শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) আল-আহসা থেকে বসরা ফিরে আসেন এবং সেখান থেকে হজের উদ্দেশ্যে নাজদে রওনা হন। যখন তিনি হজ সম্পন্ন করেন, তখন মুলতাযামে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন আল্লাহ এই দ্বীনকে তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে বিজয়ী করেন। এরপর তিনি শামের উদ্দেশ্যে হাজিদের সাথে মদীনা অভিমুখে রওনা হন। পথিমধ্যে কিছু হাজি-লুণ্ঠনকারী দস্যু তাঁর ওপর আক্রমণ করে, তাঁকে প্রহার করে, তাঁর সম্পদ ছিনিয়ে নেয় এবং তাঁর মাথা জখম করে। এটি তাঁকে হাজিদের সাথে অগ্রসর হতে বাধাগ্রস্ত করে। হাজিরা চলে যাওয়ার পর তিনি মদীনা পৌঁছান এবং সেখানে অবস্থান করেন। সে সময়কার আলেমদের কাছে তিনি ইলম হাসিল করেন, যাদের মধ্যে মুহাম্মদ হায়াত আস-সিন্ধী অন্যতম। তাঁর কাছে তিনি হাদীসের কিতাবসমূহ গ্রহণ করেন এবং তিনি তাঁকে সবগুলোতে অনুমতি (ইজাযাহ) প্রদান করেন এবং কিছু কিতাব পাঠ করেন। সেখানে তিনি কিছু হাম্বলী আলেমকেও পান। তিনি নিজ হাতে ইবনুল কাইয়্যিমের 'কিতাবুল হুদা' অনুলিপি করেন এবং এরপর নাজদে ফিরে আসেন।

(2) ইবনে বিশর: উনওয়ানুল মাজদ ফী তারিখি নাজদ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১৩।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
(4) شيوخه:

استبان لنا من دراسة نشأة محمد بن الوهاب أنه درج في بيئة علم ودين فتلقى العلم مبكراً، وتفقه على مذهب الإمام أحمد، وهو ما تذهب إليه سائر المصادر والتي تناولت سيرته، ولم نقع على ما يخالف ذلك إلا ما ذكره صاحب كتاب الخطط التوفيقية (1) من " إنه تعلم مذهب أبي حنيفة " إلى قوله " فأخذ يقرر مذهب أبي حنيفة".وعنه نقل صاحب كتاب تاريخ الدولة العلية العثمانية (2) ".

وتفقه محمد بن عبد الوهاب على مذهب الإمام أحمد يأتي موافقا لما هو سائد قديما وحديثا بين أهل نجد، فمن المتواتر عنهم" أنهم في الفروع على مذهب الإمام احمد" (3) .وقد روي عن محمد بن عبد الوهاب شدة تمسكه بهذا المذهب واعتزازه به وأنه كان يتمثل بأبيات منها:

بأي لسان أشكر الله إنه … لذو نعمة قد أعجزت كل شاكر

هداني إلى الدين القويم تفضلا … علي بالقرآن نور البصائر

وبالنعمة العظمى اعتقاد ابن حنبل … عليه اعتقادي يوم كشف السرائر (4)

وبين شيوخ المذهب الحنبلي يبرز شيخ الإسلام بن تيمية وتلميذه ابن القيم باعتبارهما صاحبي الأثر الفذ في تكوين عقيدة محمد بن عبد الوهاب وتحديد فكره ومنهجه وطالما صرح هو بذلك مبديا إعجابه بالشيخين واعتزازه بمؤلفاتهما (5) حتى أصبح من المسلمات لدى الباحثين في الحركة الوهابية وزعيمها أنها هي التحقيق العملي لفكر ابن تيمية وتلاميذه الحنابلة (6) .

--------------------------------------------

(1) علي مبارك باشا: الخطط الجديدة التوفيقية ج 12 ص 83

(2) محمد فريد بك: تاريخ الدولة العلية العثمانية ص: 201.

(3) محمود شكري الآلوسي: تاريخ نجد ص: 45.

(4) ابن بشر: عنوان المجد في تاريخ نجد ج 1 ص: 116 وأيضا.

(5) أمين الريحاني: تاريخ نجد الحديث وملحقاته ص: 49.

(6) ابن غنام: تاريخ نجد ص 215
(৪) তাঁর শিক্ষকগণ:

মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাবের বেড়ে ওঠা সম্পর্কে আমাদের অধ্যয়ন থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি জ্ঞান ও দ্বীনি পরিবেশে লালিত-পালিত হয়েছেন, ফলে তিনি শৈশবেই জ্ঞান অর্জন করেন এবং ইমাম আহমদের মাজহাব অনুযায়ী ফিকহ শিক্ষা করেন। তাঁর জীবনী সংক্রান্ত অন্যান্য সকল উৎস থেকেও এটিই জানা যায়। আমরা এর বিপরীত কোনো তথ্য পাইনি, কেবল 'আল-খিতাত আত-তাওফিকিয়্যাহ' (১) গ্রন্থের লেখকের বক্তব্য ছাড়া, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, "তিনি আবু হানিফার মাজহাব শিক্ষা করেছেন" এবং তাঁর উক্তি "অতঃপর তিনি আবু হানিফার মাজহাব প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেন"। তাঁর থেকেই 'তারিখ আদ-দাওলা আল-আলিয়া আল-উসমানিয়া' (২) গ্রন্থের লেখক এটি বর্ণনা করেছেন।

মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাবের ইমাম আহমদের মাজহাব অনুযায়ী ফিকহ শিক্ষা করা নজদবাসীদের প্রাচীন ও বর্তমান প্রচলিত রীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ তাদের সম্পর্কে এটি সুপ্রসিদ্ধ যে, "ফুরু বা শাখা-প্রশাখার মাসআলায় তারা ইমাম আহমদের মাজহাবের অনুসারী" (৩)। মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাবের পক্ষ থেকে এই মাজহাবের প্রতি তাঁর দৃঢ় আসক্তি এবং এই মাজহাব নিয়ে তাঁর গর্ববোধের কথা বর্ণিত হয়েছে। তিনি প্রায়শই নিচের পংক্তিগুলো আবৃত্তি করতেন:

কোন জিহ্বা দিয়ে আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করব, নিশ্চয়ই তিনি … এমন নিআমতের অধিকারী যা সকল শুকরিয়া আদায়কারীকে অক্ষম করে দিয়েছে।

তিনি আপন অনুগ্রহে আমাকে সঠিক দ্বীনের দিকে পরিচালিত করেছেন … আমার প্রতি অন্তর্দৃষ্টির আলো কুরআনের মাধ্যমে।

আর শ্রেষ্ঠ নিআমত হলো ইবনে হাম্বলের আকিদাহ … রহস্য উন্মোচনের দিনে (কিয়ামতে) সেই আকিদাহর ওপরই আমার বিশ্বাস (৪)।

হাম্বলি মাজহাবের শাইখদের মধ্যে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনে আল-কাইয়্যিম বিশেষভাবে উজ্জ্বল হয়ে আছেন। মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাবের আকিদাহ গঠন এবং তাঁর চিন্তা ও পদ্ধতি নির্ধারণে এই দুই মনীষীর অনন্য প্রভাব রয়েছে। তিনি নিজেও দীর্ঘকাল ধরে শাইখদ্বয়ের প্রতি তাঁর মুগ্ধতা এবং তাঁদের রচনাবলীর প্রতি তাঁর গর্বের কথা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন (৫)। এমনকি ওয়াহাবি আন্দোলন এবং এর নেতার ওপর গবেষণাকারীদের নিকট এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ে পরিণত হয়েছে যে, এই আন্দোলন হলো ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর হাম্বলি ছাত্রদের চিন্তাধারার এক বাস্তব প্রতিফলন (৬)।

--------------------------------------------

(১) আলী মুবারক পাশা: আল-খিতাত আল-জাদিদাহ আত-তাওফিকিয়্যাহ, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ৮৩।

(২) মুহাম্মদ ফারিদ বেক: তারিখ আদ-দাওলা আল-আলিয়া আল-উসমানিয়া, পৃষ্ঠা: ২০১।

(৩) মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি: তারিখ নাজদ, পৃষ্ঠা: ৪৫।

(৪) ইবনে বিশর: উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নাজদ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা: ১১৬ এবং আরও।

(৫) আমিন আর-রিহানি: তারিখ নাজদ আল-হাদিস ওয়া মুলহাকাতুহু, পৃষ্ঠা: ৪৯।

(৬) ইবনে গান্নাম: তারিখ নাজদ, পৃষ্ঠা ২১৫।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
ومما يثير العجب أن محمد بن عبد الوهاب الذي تعرض للخلط في شأن رحلاته حتى نسب إليه أنه رحل وزار معظم بلاد العالم القديم وتعلم في رحلاته شتى ألوان المعرفة رماه آخرون بأنه:" لم يتلق العلم عن أشياخ، وقد بادر تلاميذه بالرد على هذه الدعوى الأخيرة بالدحض والتفنيد وأخصهم حفيده عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب في رسالة المقامات (1) فذكروا أنه رحل إلى البصرة حيث تلقى العلم عن علمائها ومنهم محمد المجموعي البصري وإلى المدينة حيث تلقى عن الشيخ محمد حياة السندي وعبد الله بن إبراهيم آل سيف وإلى الإحساء حين استمع من عبد الله بن فيروز أبو محمد الكفيف، وكان ذلك بعد أن تأسست معارفه الفقهية بالتلقي عن أبيه وعم إبراهيم بالعيينة. (2)

وإلى جانب هؤلاء الشيوخ الذين ورد ذكرهم في معظم المصادر تتحدث بعض المصادر عن شيوخ آخرين أخذ عنهم وانتفع بمصاحبتهم منهم:" الشيخ على الداغستاني، والشيخ إسماعيل العجلوني والشيخ عبد اللطيف العفالقي الأحسائي والشيخ محمد العفالقي الأحسائي (3) ويضيف آخرون إليهم:

" الشيخ شهاب الدين الموصلي قاضي البصرة والشيخ حسن الاسلامبولي من علماء البصرة والشيخ زين الدين المغربي والشيخ حسن التميمي (4) .

غير أن المصادر التي ذكرت هؤلاء الشيوخ لم تفسح مجالا كافيا لترجمة أحد منهم والتعريف بهم على وجه البيان عدا ما ورد عن الشيخين: محمد حياة

--------------------------------------------

=وأيضاً: جولد تسيهر: العقيدة والشريعة في الاسلام ص: 238،

د. فيلييب حتى تاريخ العرب. ج1 ص 87

عبد المتعال الصعيدي: المجددون في الاسلام ص 438 وأيضاً أمين الريحاني: تاريخ نجد الحديث وملحقاته ص: 49

(1) عبد الرحمن العاصمي القحطاني: الدرر السنية ج1 ص215

(2) المرجع السابق ص: 216،

د. منير العجلاني: تاريخ البلاد العربية السعودية ج1 ص: 202،

عبد الرحمن بن عبد اللطيف آل الشيخ: مشاهير علماء نجد. ص: 17،

ابن غنام: تاريخ نجد ص: 76 وأيضاً.

ابن بشر: عنوان المجد في تاريخ نجد ص: 19

(3) محمد حامد الفقي: إثر الدعوة الوهابية ص: 47

(4) عبد الله الرويشد: محمد بن عبد الوهاب في التاريخ ج1 ص:12،13
বিস্ময়কর বিষয় এই যে, মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, যাঁর সফরের বিষয়ে এমন বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে যে এমনকি তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে যে তিনি প্রাচীন বিশ্বের অধিকাংশ দেশ সফর করেছেন এবং তাঁর ভ্রমণে বিভিন্ন ধরণের জ্ঞান অর্জন করেছেন, অন্যেরা তাঁর প্রতি এই অপবাদ আরোপ করেছেন যে: "তিনি শায়খদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেননি।" তাঁর ছাত্ররা এই শেষোক্ত দাবির জবাব খণ্ডন ও বাতিলকরণের মাধ্যমে দ্রুত প্রদান করেছেন, যাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন তাঁর পৌত্র আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব তাঁর 'রিসালাতুল মাকামাত' (১) গ্রন্থে। তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বসরায় সফর করেছিলেন যেখানে তিনি সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন, যাঁদের মধ্যে মুহাম্মদ আল-মাজমুয়ী আল-বাসরি অন্যতম; এবং মদীনায়, যেখানে তিনি শায়খ মুহাম্মদ হায়াত আস-সিন্ধি এবং আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল সাইফ-এর নিকট ইলম অর্জন করেন; এবং আল-আহসায়, যখন তিনি আব্দুল্লাহ বিন ফিরোজ আবু মুহাম্মদ আল-কাফিফ-এর নিকট থেকে পাঠ শ্রবণ করেছিলেন। আর এটি ছিল উয়াইনাহ-তে তাঁর পিতা এবং চাচা ইব্রাহিমের নিকট থেকে সরাসরি গ্রহণের মাধ্যমে তাঁর ফিকহী জ্ঞান সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর। (২)

অধিকাংশ উৎসে উল্লিখিত এই শায়খদের পাশাপাশি কিছু উৎস অন্যান্য শায়খদের সম্পর্কেও আলোচনা করে যাঁদের নিকট থেকে তিনি জ্ঞান গ্রহণ করেছেন এবং যাঁদের সাহচর্যে উপকৃত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: "শায়খ আলী আদ-দাগিস্তানি, শায়খ ইসমাইল আল-আজলুনি, শায়খ আব্দুল লতিফ আল-আফালিকি আল-আহসায়ি এবং শায়খ মুহাম্মদ আল-আফালিকি আল-আহসায়ি (৩)।" অন্যরা তাঁদের সাথে আরও যুক্ত করেছেন:

"বসরার কাজী শায়খ শিহাবুদ্দিন আল-মাওসিলি, বসরার আলেমদের মধ্য থেকে শায়খ হাসান আল-ইস্তাম্বুলি, শায়খ জয়নুদ্দিন আল-মাগরিবী এবং শায়খ হাসান আত-তামিমি (৪)।"

তবে যে উৎসগুলো এই শায়খদের কথা উল্লেখ করেছে, তারা দুই শায়খ: মুহাম্মদ হায়াত... ব্যতীত অন্য কারো জীবনী বা সুষ্পষ্ট পরিচিতি প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত অবকাশ রাখেনি।

--------------------------------------------

=এবং আরও দেখুন: গোল্ডজিহার: ইসলামে আকিদা ও শরীয়াহ, পৃষ্ঠা: ২৩৮;

ড. ফিলিপ হিট্টি: আরবদের ইতিহাস, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা: ৮৭;

আব্দুল মুতাল আল-সাঈদী: ইসলামে সংস্কারকগণ, পৃষ্ঠা: ৪৩৮ এবং আমিন আল-রিহানি: নজদের আধুনিক ইতিহাস ও এর পরিশিষ্ট, পৃষ্ঠা: ৪৯;

(১) আব্দুর রহমান আল-আসিমি আল-কাহতানি: আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা: ২১৫;

(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা: ২১৬;

ড. মুনির আল-আজলানি: সৌদি আরবীয় দেশসমূহের ইতিহাস, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা: ২০২;

আব্দুর রহমান বিন আব্দুল লতিফ আল-শেখ: নজদের বিখ্যাত আলেমগণ, পৃষ্ঠা: ১৭;

ইবনে গান্নাম: নজদের ইতিহাস, পৃষ্ঠা: ৭৬ এবং আরও দেখুন:

ইবনে বিশর: উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নজদ, পৃষ্ঠা: ১৯;

(৩) মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকি: ওয়াহাবীয় দাওয়াতের প্রভাব, পৃষ্ঠা: ৪৭;

(৪) আব্দুল্লাহ আল-রুওয়াইশিদ: ইতিহাসে মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা: ১২, ১৩।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
السندي (1) والشيخ عبد الله بن إبراهيم آل سيف (2) . الذين تواترت الأخبار عن تلقي محمد بن الوهاب عنهما وتأثره بهما منذ عرض على الأول حالة المستغيثين برسول الله صلى الله عليه وسلم المتشبثين بأحجار قبره قائلا: ما تقول يا شيخ في هؤلاء؟ فأجابه السندي على الفور:" إن هؤلاء متبر ما هم فيه وباطل ما

--------------------------------------------

(1) هو محمد حياة بن إبراهيم السندي نزيل المدينة المنورة، فقيه محدث أصولي ومقصر ولد بالسند ونشأ بها، ثم رحل إلى المدينة المنورة. كان عالما تقيا فاضلا يكره تقليد المشايخ والتعصب للمذاهب ويصرح أن ذلك من اتباع الطاغوت الذي نهى الله تعالى عن التحاكم

إليه. وأن كل المصائب التي حلت بالمسلمين إنما هي ثمرة هذا التقليد، ومن مؤلفاته: شرح الأربعين النووية ـ شرح حكم الحداوية ـ شرح حكم العطائية ـ مختصر الزواجر لابن حجر المكي ـ الإيقاف على سبب الاختلاف ـ تحفة الانام في العمل بحديث النبي عليه الصلاة والسلام. ارشاد النقاد إلى تيسير الاجتهاد، شرح الترغيب والترهيب للمنذري، اختلف في سنة وفاته فقيل: توفي عام 1163وذكر ابن غنام وابن بشر أنه توفي عام: 1165هـ ونرجح روايتهما لقرب عهدهما بالسندي ورجحان معرفتهما بأهل المدينة المنورة. انظر: اسماعيل باشا البغدادي، هدية العارفين ج2: ص: 327، إبن المكارم القاسي ـ فهرس الفهارس. ج 1ص1271محمد حامد الفقي. أثر الدعوة الوهابية ص: 43، عمر رضا كحالة. معجم المؤلفين ج9ص275، عبد الله الرويشد. محمد بن عبد الوهاب في التاريخ ج1ص13 فهرسة الخزانة التيمورية. ج4ص:169، مخطوطة بدار الكتب المصرية رقم172 مجاميع ـ ابن غنام. تاريخ نجد

ص76 وأيضا ابن بشر، عنوان المجد في تاريخ نجد. ج1ص: 41.

(2) هو: عبد الله ابن ابراهيم بن سيف الشمري نسبة إلى قبيلة شمر المعروفة ولد بالمجمعة من قرى سدير بنجد ثم رحل مع والده إلى المدينة المنورة وأقام بها متلقيا عن علمائها حتى برع وأصبح من علماء المدينة وأخذ العلم عنه خلق كثير. توفي بالمدينة وترك فيها عقبا منهم ابنه الشيخ إبراهيم مؤلف كتاب: العذب الفائض في علم الفرائض وهو شرح على منظومة: عمدة كل فارض في علم الوصايا والفرائض. لمصنفه الشيخ صالح بن حسين الأزهري الحنبلي من علماء القرن الثاني عشر الهجري. وقد طبع هذا الشرح المسمى بالعذب ـ الفائض في جزئين بمطبعة مصطفى البابي الحلبي. ويذكر صاحب فهرس الفهارس تلمذة ابن عبد الوهاب على يدي الشيخ عبد الله بن سيف فيقول: وأخذ من عبد الله بن ابراهيم النجدي تلميذ ابي المواهب. انظر: ابن بشر. عنوان المجد في تاريخ نجد ج1 ص: 20، 74، 116، أبي المكارم الأدريسي القاسي: فهرس الفهارس. ج1 ص: 271، عباس محمود العقاد: الاسلام في القرن العشرين. ص: 120، محمد حامد الفقي إثر الدعوة الوهابية. ص:41، أيضا سليمان بن عبد الله بن محمد بن عبد الوهاب، التوضيح عن توحيد الخلاق في جواب

أهل العراق. ص: 16.
সিন্ধি (১) এবং শেখ আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল সাইফ (২)। যাদের নিকট থেকে মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাবের শিক্ষা গ্রহণ এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার বিষয়ে সংবাদসমূহ ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়েছে; বিশেষ করে যখন তিনি প্রথমজনের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সাহায্য প্রার্থনাকারী এবং তাঁর কবরের পাথর আঁকড়ে ধরা ব্যক্তিদের অবস্থা উপস্থাপন করে জিজ্ঞেস করেছিলেন: হে শেখ, এদের সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তখন সিন্ধি তাকে সাথে সাথেই উত্তর দিয়েছিলেন: "নিশ্চয় এরা যে কাজে লিপ্ত আছে তা ধ্বংস হবে এবং তারা যা করছে তা অসার..."

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন মদিনা মুনাওয়ারায় বসবাসকারী মুহাম্মদ হায়াত বিন ইব্রাহিম সিন্ধি। তিনি একজন ফকিহ, মুহাদ্দিস, উসুলি এবং মুফাসসির ছিলেন। তিনি সিন্ধুতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন, তারপর মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরত করেন। তিনি একজন ধার্মিক ও শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন। তিনি মাশায়েখদের অন্ধ অনুকরণ এবং মাযহাবি গোঁড়ামি অপছন্দ করতেন এবং স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতেন যে, এটি তাগুতের অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত, যার নিকট বিচার প্রার্থী হতে আল্লাহ তাআলা নিষেধ করেছেন।

এবং মুসলমানদের ওপর আপতিত সকল বিপদ-আপদ এই অন্ধ অনুকরণেরই ফসল। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: শরহে আরবাঈন নববী, শরহে হিকাম আল-হাদাবিয়্যাহ, শরহে হিকাম আল-আতাইয়্যাহ, ইবনে হাজার মাক্কি রচিত আয-যাওয়াজির এর সংক্ষিপ্ত রূপ, আল-ইকাফ আলা সাবাবিল ইখতিلاফ, তুহফাতুল আনাম ফিল আমালি বি হাদিসিন নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম। ইরশাদুন নু্ক্কাদ ইলা তায়সীরিল ইজতিহাদ, মুনযিরি রচিত আত-তারগিব ওয়াত তারহিব-এর ব্যাখ্যা। তাঁর মৃত্যুর সাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয় তিনি ১১৬৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তবে ইবনে গান্নাম ও ইবনে বিশর উল্লেখ করেছেন যে তিনি ১১৬৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন, এবং আমরা তাদের বর্ণনাকেই প্রাধান্য দিচ্ছি কারণ তারা সিন্ধির সমসাময়িক ছিলেন এবং মদিনা মুনাওয়ারার অধিবাসীদের সম্পর্কে তাদের জ্ঞান অধিক ছিল। দেখুন: ইসমাইল পাশা আল-বাগদাদি, হাদিয়্যাতুল আরিফীন খণ্ড ২: পৃষ্ঠা ৩২৭; ইবনুল মাকারিম আল-কাসি, ফিহরিসুল ফাহারিস খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭; মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকি, আসারুদ দাওয়াহ আল-ওয়াহহাবিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৪৩; উমর রেজা কাহহালাহ, মুজামুল মুয়াল্লিফিন খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ২৭৫; আবদুল্লাহ আর-রুওয়াইশাদ, মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব ফিত তারিখ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩; ফিহরাসাতুল খাজানাতিত তাইমুরিয়্যাহ খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৬৯; দারুল কুতুব আল-মিসরিয়ার পাণ্ডুলিপি নং ১৭২ মাজামিউ; ইবনে গান্নাম, তারিখু নাজদ

পৃষ্ঠা ৭৬ এবং ইবনে বিশর, উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নাজদ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪১।

(২) তিনি হলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম বিন সাইফ আল-শাম্মারি, যা বিখ্যাত শাম্মার গোত্রের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তিনি নাজদের সুদাইর অঞ্চলের মাজমাআ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, তারপর তাঁর পিতার সাথে মদিনা মুনাওয়ারায় চলে যান এবং সেখানকার আলেমদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করে সেখানে অবস্থান করেন। তিনি পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং মদিনার অন্যতম আলেমে পরিণত হন এবং তাঁর থেকে অসংখ্য মানুষ জ্ঞান আহরণ করেন। তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন এবং সেখানে তাঁর বংশধর রেখে যান, যাদের মধ্যে তাঁর পুত্র শেখ ইব্রাহিম অন্যতম, যিনি 'আল-আযবুল ফায়েজ ফি ইলমিল ফারায়েজ' গ্রন্থের লেখক। এটি শেখ সালেহ বিন হুসাইন আল-আযহারি আল-হাম্বলি (দ্বাদশ হিজরি শতাব্দীর আলেম) রচিত 'উমদাতু কুল্লি ফারিদ ফি ইলমিল ওয়াসায়া ওয়াল ফারায়েজ' নামক পদ্যের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। 'আল-আযবুল ফায়েজ' নামক এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি মোস্তফা আল-বাবী আল-হালাবি প্রেসে দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। 'ফিহরিসুল ফাহারিস' এর লেখক শেখ আবদুল্লাহ বিন সাইফের নিকট ইবনে আবদুল ওয়াহহাবের ছাত্রত্ব গ্রহণ সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন: তিনি আবুল মাওয়াহিবের ছাত্র আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আন-নাজদির নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। দেখুন: ইবনে বিশর, উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নাজদ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০, ৭৪, ১১৬; আবুল মাকারিম আল-ইদরিসি আল-কাসি, ফিহরিসুল ফাহারিস খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭১; আব্বাস মাহমুদ আল-আক্কাদ, আল-ইসলাম ফিল কারনিল ইশরিন পৃষ্ঠা ১২০; মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকি, আসারুদ দাওয়াহ আল-ওয়াহহাবিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৪১; সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব, আত-তাওজিহ আন তাওহিদিল খালাক ফি জাওয়াবি

আহলিল ইরাক পৃষ্ঠা ১৬।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٣٦)
كانوا يعملون". ويصف البعض أثر محمد حياة السندي في محمد بن عبد الوهاب بأنه شعلة أنارت له الطريق (1) .

وقد أشار بعض الباحثين إلى القصور الذي لمسه في كتابات سابقيه عن محمد بن عبد الوهاب في بيان شيوخه والتعريف بأحوالهم، واكتفى بعد الإشارة بقوله:" ونستطيع القول أن مدرسة الشيخ بعد القرآن والحديث هي كتب ابن تيمية وتلامذته، فالشيخ قرأ في الكتب وأكثر ما قرأ على نفسه (2) .

ثانيا: مؤلفاته

ترك ابن عبد الوهاب تراثا فكريا متنوعا، فله عدة رسائل عالج فيها موضوعات أملتها المناسبات، إلى جانب العديد من الكتب التي توفر فيها على شرح دعوته سواء ما كان منها اختصارا لكتب أراد باختصارها إبراز الحجج والبراهين المؤيدة لفكره ومنهجه أم كان تأليفاً وتصنيفاً.

النوع الأول ـ الرسائل:

أبرز ملامح هذه الرسائل والتي تعتبر الصورة الحية لفكر بن عبد الوهاب فيما ورد عليه من رسائل وتولى هو الرد عليها للتفصيل وأخرى لرد بعض المزاعم الكاذبة وثالثة للتعليم وإرشاد المطوعين في البلدان المختلفة لمنطقة نجد وغيرها مما سنفرد له القول فيما يلي بيانا لأغراض هذه الرسائل:

1) الرسائل التي يشرح فيها حقيقة دعوته مثل قوله في إحدى رسائله إلى العالم العراقي ـ السويد يقول فيها:" وأخبرك أني ولله الحمد متبع ولست بمبتدع، عقيدتي وديني الذي أدين الله عليه مذهب أهل السنة والجماعة الذي عليه أئمة المسلمين … (3) ".

--------------------------------------------

(1) محمد حامد الفقي: أثر الدعوة الوهابية: ص: 43.

(2) د. منير العجلاني: تاريخ البلاد العربية السعودية ج1 ص: 203.

(3) ابن غنام ـ تاريخ نجد ـ الرسالة الثالثة عشرة 359-362
তারা কাজ করত"। কেউ কেউ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের ওপর মুহাম্মদ হায়াত সিন্ধির প্রভাবকে এমন একটি শিখা হিসেবে বর্ণনা করেন যা তাঁর পথকে আলোকিত করেছিল (১)।

কিছু গবেষক মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের শাইখদের বর্ণনা এবং তাঁদের অবস্থা পরিচয়ের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী লেখকদের লেখায় যে সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করেছেন তার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। এই ইঙ্গিতের পর তিনি এটুকু বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন: "আমরা বলতে পারি যে, কুরআন ও হাদীসের পর শাইখের পাঠশালা হলো ইবনে তাইমিয়া ও তাঁর ছাত্রদের কিতাবসমূহ। শাইখ বিভিন্ন কিতাব অধ্যয়ন করেছেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি নিজেই পড়াশোনা করেছেন (২)।

দ্বিতীয়ত: তাঁর রচনাবলী

ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এক বৈচিত্র্যময় বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য রেখে গেছেন। তাঁর বেশ কিছু পত্র (রিসালাহ) রয়েছে যাতে তিনি সমসাময়িক প্রয়োজনে উদ্ভূত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর পাশাপাশি রয়েছে বহু কিতাব, যাতে তিনি তাঁর দাওয়াতের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন; চাই সেগুলো এমন কোনো কিতাবের সংক্ষেপণ হোক যার মাধ্যমে তিনি তাঁর চিন্তা ও মানহাজের সপক্ষে দলিল-প্রমাণগুলো ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন, অথবা সেগুলো হোক তাঁর নিজস্ব রচনা ও সংকলন।

প্রথম প্রকার — পত্রাবলী:

এই পত্রাবলীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য—যা ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের চিন্তাধারার একটি জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হিসেবে গণ্য—হলো তাঁর কাছে আসা বিভিন্ন পত্রের বিস্তারিত উত্তর প্রদান করা। আবার কিছু ছিল মিথ্যা দাবি খণ্ডনের জন্য এবং অন্যগুলো ছিল নজদ অঞ্চল ও এর বাইরের বিভিন্ন জনপদের স্বেচ্ছাসেবকদের শিক্ষা ও নির্দেশনার জন্য। এই পত্রসমূহের উদ্দেশ্য বর্ণনায় আমরা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করব:

১) সেই সকল পত্র যাতে তিনি তাঁর দাওয়াতের প্রকৃত স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। যেমন ইরাকি আলেম সুওয়াইদির কাছে লেখা তাঁর একটি পত্রে তিনি বলেন: "আমি আপনাকে জানাচ্ছি যে, আল্লাহর প্রশংসায় আমি একজন অনুসারী, উদ্ভাবক নই। আমার আকিদা ও দ্বীন—যার ওপর ভিত্তি করে আমি আল্লাহর ইবাদত করি—তা হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব, যার ওপর মুসলিমদের ইমামগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন … (৩)"।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকি: আসার আদ-দাওয়াহ আল-ওয়াহহাবিয়াহ: পৃষ্ঠা: ৪৩।

(২) ড. মুনির আল-আজলানি: তারিখুল বিলাদ আল-আরাবিয়্যাহ আস-সাউদিয়্যাহ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা: ২০৩।

(৩) ইবনে গান্নাম — তারিখু নজদ — ত্রয়োদশ পত্র, ৩৫৯-৩৬২
(খণ্ড: ১) আস-শাইখুল ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব ওয়া মানহাজুহু ফি মাবাহিছিল আকিদাহ (পৃষ্ঠা: ٣٧)
1) رسائل يرد فيها على التهم الباطلة التي كان المخالفون له يشيعونها عنه تنفيرا للناس من التعلق بدعوته مثل رسالته في الرد على اتهامات سليمان بن محمد بن سحيم مطوع أهل الرياض وقد أرسل رسالة إلى أهل البصرة والاحساء يشنع فيها على ابن عبد الوهاب ويفتري عليه أشياء لم تحدث وهي محض اختلاق (1) .

2) رسائل تعليمية يشرح فيها لدعاته أو لمن يطلب من العلماء المعاصرين له تفسير الأشياء الغامضة أو إزالة الشبهات العالقة ومن أمثلة ذلك رسالته إلى عبد الله بن سحيم (2) مطوع المجمعة (3) .

3) رسائل التحذير من الوقوع في الشرك والارتداد عن الدعوة مثل رسالته التي أرسلها إلى مطاوعة أهل سدير والوشم والقصيم (4) .

4) الرسائل التي كان يكتبها خصيصا للبدو وفي داخل نجد لنشر الدعوة بينهم وكان يكتبها بالأسلوب الذي يتحدث به البدو وبنفس اللهجة التي يتحدثون بها. ومثال ذلك رسالته " تلقين أصول العقيدة للعامة" (5) .

5) الرسائل التي كانت تكتب لا لدعوة الأمراء داخل الجزيرة العربية فحسب بل ودعوة العلماء والقضاء في الحرمين والشام ومصر والعراق وسائر علماء المشرق والمغرب أي أنه النوع الذي كان يعرض على العالم الإسلامي، وقد كان يوجه هذه النوع عادة الإمام الحاكم من أمراء البيت السعودي، مثال ذلك تلك الرسالة التي أرسلها الإمام عبد العزيز بن محمد بن سعود تلميذ الشيخ إلى أهل اليمن (6) .

--------------------------------------------

(1) ابن غنام ـ تاريخ نجد ـ الرسالة السابعة ص ـ 312.

(2) عبد الله بن سحيم مطوع المجمعة غير ابن سحيم السالف الذكر.

(3) إبن غنام ـ تاريخ نجد ـ الرسالة الرابعة ص: 261-271.

(4) إبن غنام ـ تاريخ نجد ـ الرسالة الثالثة ص 255-258 وكذلك الرسالة ـ الحادية والعشرون ص 399.

(5) مجموعة التوحيد ـ الرسالة الخامسة ـ تلقين أصول العقيدة للعامة ص257-258.

(6) عبد الله القصبي ـ الثورة الوهابية 123-126.
১) এমন কিছু পত্রাবলী যাতে তিনি সেইসব মিথ্যা অভিযোগের খণ্ডন করেছেন যা তাঁর বিরোধীরা তাঁর দাওয়াতের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া থেকে মানুষকে বিরত রাখার জন্য ছড়িয়ে দিত। যেমন রিয়াদের মুতাউওয়া সুলাইমান বিন মুহাম্মাদ বিন সুহাইমের অভিযোগের জবাবে লেখা তাঁর পত্রটি। উক্ত ব্যক্তি বসরা ও আহসার অধিবাসীদের নিকট একটি পত্র পাঠিয়েছিলেন যাতে তিনি ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের নিন্দা করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে এমন কিছু বিষয়ে অপবাদ আরোপ করেন যা আদতে ঘটেনি, বরং তা ছিল নিছক মিথ্যা উদ্ভাবন (১)।

২) শিক্ষামূলক পত্রাবলী যাতে তিনি তাঁর দাওয়াত প্রদানকারীদের জন্য অথবা তাঁর সমসাময়িক সেইসব আলেমদের জন্য অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করতেন বা সংশয় দূর করতেন যারা তাঁর নিকট ব্যাখ্যা প্রার্থনা করতেন। এর একটি উদাহরণ হলো মাজমা'আহর মুতাউওয়া আব্দুল্লাহ বিন সুহাইম (২) এর নিকট পাঠানো তাঁর পত্রটি (৩)।

৩) শিরকে লিপ্ত হওয়া এবং দাওয়াত থেকে বিমুখ হওয়ার বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক পত্রাবলী; যেমন সুদাইর, আল-ওয়াশম এবং আল-কাসিম অঞ্চলের মুতাউওয়াদের নিকট পাঠানো তাঁর পত্রসমূহ (৪)।

৪) সেই সব পত্র যা তিনি বিশেষভাবে বেদুইনদের জন্য এবং নজদের অভ্যন্তরে তাদের মাঝে দাওয়াত প্রচারের জন্য লিখতেন। তিনি এগুলো বেদুইনদের বাচনভঙ্গি এবং তাদের আঞ্চলিক ভাষাতেই লিখতেন। এর উদাহরণ হলো তাঁর পত্র "সাধারণ মানুষের জন্য আকিদার মূলনীতি শিক্ষা" (৫)।

৫) এমন সব পত্র যা কেবল আরব উপদ্বীপের অভ্যন্তরীণ আমীরদের দাওয়াত দেওয়ার জন্যই লেখা হয়নি, বরং হারামাইন, শাম, মিশর, ইরাকসহ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অন্যান্য আলেম ও বিচারকদের দাওয়াত দেওয়ার জন্যও লেখা হয়েছিল। অর্থাৎ এটি ছিল এমন এক প্রকার পত্র যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের সামনে পেশ করা হতো। সাধারণত সৌদি রাজবংশের শাসক ইমামগণ এ ধরণের পত্র পাঠাতেন। উদাহরণস্বরূপ সেই পত্রটির কথা বলা যায় যা শেখের ছাত্র ইমাম আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইয়েমেনের অধিবাসীদের নিকট পাঠিয়েছিলেন (৬)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে গান্নাম - তারিখু নাজদ - সপ্তম পত্র, পৃষ্ঠা: ৩১২।

(২) মাজমা'আহর মুতাউওয়া আব্দুল্লাহ বিন সুহাইম পূর্বে উল্লিখিত ইবনে সুহাইম থেকে ভিন্ন ব্যক্তি।

(৩) ইবনে গান্নাম - তারিখু নাজদ - চতুর্থ পত্র, পৃষ্ঠা: ২৬১-২৭১।

(৪) ইবনে গান্নাম - তারিখু নাজদ - তৃতীয় পত্র, পৃষ্ঠা: ২৫৫-২৫৮; এবং ২১তম পত্র, পৃষ্ঠা: ৩৯৯।

(৫) মাজমুআতু তাওহীদ - পঞ্চম পত্র - সাধারণ মানুষের জন্য আকিদার মূলনীতি শিক্ষা, পৃষ্ঠা: ২৫৭-২৫৮।

(৬) আব্দুল্লাহ আল-কাসাবি - আস-সাওরাতুল ওয়াহহাবিইয়াহ, ১২৩-১২৬।