(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: -)
الشيخ محمد بن عبد الوهاب المجدد المفترى عليه   (أحمد بن حجر آل بوطامي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الشيخ محمد بن عبد الوهاب المجدد المفترى عليه

المؤلف: أحمد بن حجر بن محمد بن حجر بن أحمد بن حجر بن طامي بن حجر بن سند بن سعدون آل بوطامي البنعلي (ت 1423هـ)

الناشر: دار الفتح الشارقة، الإمارات العربية المتحدة

الطبعة: الأولى 1415هـ - 1995م

عدد الصفحات: 251

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: অপবাদগ্রস্ত মুজাদ্দিদ (সংস্কারক)   (আহমাদ বিন হাজার আল বু-তামি)

বিভাগ: জীবনী ও শ্রেণিবিভাগ


বই: শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: অপবাদগ্রস্ত মুজাদ্দিদ (সংস্কারক)

লেখক: আহমাদ বিন হাজার বিন মুহাম্মদ বিন হাজার বিন আহমাদ বিন হাজার বিন তামি বিন হাজার বিন সানাদ বিন সাদুন আল বু-তামি আল-বিনআলি (মৃত্যু: ১৪২৩ হিজরি)

প্রকাশক: দার আল-ফাতহ শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত

সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫১

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌مقدمة

…

تقديم

لله الحمد مخرج الحي من الميت ومخرج الميت من الحي والصلاة والسلام على من أرسله الله نورا يهدي به من ضل عن الرشد.

أما بعد:

فالأمم العظيمة تقدر عظمتها بعدد الرجال الكمل فيها، الذين يتركون أثرا يمتد فيصبحوا بحق من مجددي العصر.

ومن هؤلاء إمام الدعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله وأسكنه فسيح جناته.

فقد كانت الحالة في نجد في عصره لا تختلف كثيرا عن الحالة في مصر والهند وغيرها الآن، حيث الجهل منتشر والقبور ينذر لها والأشجار يتبرك فيها … إلى أنواع من الشرك تمارس، وطقوس وعبادات تصرف لغير الله سبحانه.

فقام رحمه الله بما وضحه مؤلفنا فضيلة الشيخ أحمد بن حجر الذي قام بتوضيح الدور العظيم الذي قام به إمام الدعوة ومجدد عصره.

لكن الذي أريد أن ألفت الانتباه إليه هو: ما هو السلاح السحري الذي كان لدى الشيخ حيث استطاع تحويل هذه الأمة التي تغلب العامية عليها وانتشار الجهل فيها إلى أمة متعلمة موحدة مدركة مجاهدة؟

والذي استقر عندي بالتتبع أن الشيخ أحسن استخدام النص القرآني والنبوي والذي به الحياة لقوله تعالى: {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ.} .الآية وقوله جل شأنه: {لَقَدْ أَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ كِتَاباً فِيهِ ذِكْرُكُمْ أَفَلا تَعْقِلُونَ..} الآية فالإمام رحمه الله أحسن الاستدلال بالنصوص وربط القلوب بكلام خالقها فأثر فيها وغيرها.
উপস্থাপনা

…

নিবেদন

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মৃত থেকে জীবিতকে এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন; আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁকে আল্লাহ নূর বা আলো হিসেবে পাঠিয়েছেন যার মাধ্যমে তিনি সত্য পথ থেকে বিচ্যুতদের সুপথ প্রদর্শন করেন।

অতপর:

মহান জাতিসমূহের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয় তাদের অন্তর্ভুক্ত সেই সকল পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিদের সংখ্যা দ্বারা, যাঁরা এমন সুদূরপ্রসারী প্রভাব রেখে যান যার ফলে তাঁরা প্রকৃতপক্ষেই যুগের সংস্কারক হিসেবে পরিগণিত হন।

আর এঁদেরই একজন হলেন দাওয়াতের ইমাম শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে দাখিল করুন)।

তাঁর যুগে নজদ অঞ্চলের অবস্থা বর্তমান সময়ের মিশর, ভারত ও অন্যান্য স্থানের অবস্থার চেয়ে খুব একটা ভিন্ন ছিল না; যেখানে মূর্খতা ছড়িয়ে পড়েছিল, কবরের উদ্দেশ্যে মানত করা হতো এবং গাছের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করা হতো … এমনকি বিভিন্ন প্রকারের শিরক চর্চা করা হতো এবং এমন সব আচার ও ইবাদত পালন করা হতো যা মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য নিবেদিত ছিল।

অতঃপর তিনি (রহমতপ্রাপ্ত) সেই দায়িত্ব পালন করেছেন যা আমাদের লেখক সম্মানিত শাইখ আহমাদ বিন হাজার স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যিনি দাওয়াতের এই ইমাম ও তাঁর যুগের সংস্কারকের পালনকৃত মহান ভূমিকা ব্যাখ্যা করেছেন।

তবে আমি যে বিষয়টির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই তা হলো: শাইখের নিকট সেই জাদুকরী হাতিয়ারটি কী ছিল, যার মাধ্যমে তিনি এই জাতিকে—যাদের ওপর সাধারণ মূর্খতা প্রাধান্য বিস্তার করেছিল এবং অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়েছিল—এক শিক্ষিত, একত্ববাদী, সচেতন ও সংগ্রামী জাতিতে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন?

অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমার নিকট যা স্থির হয়েছে তা হলো, শাইখ কুরআন ও সুন্নাহর বাণীসমূহের সর্বোত্তম প্রয়োগ করেছিলেন যার মধ্যেই জীবন নিহিত; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর আমি কুরআন থেকে এমন বিষয় অবতীর্ণ করি যা নিরাময়।" (আয়াতের অংশ) এবং আল্লাহ তাআলার মহান বাণী: "আমি তোমাদের প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমাদের আলোচনা (বা মর্যাদা) রয়েছে, তবে কি তোমরা বুঝতে পারো না?" (আয়াতের অংশ)। অতএব ইমাম (রহমতপ্রাপ্ত) নসসমূহ থেকে দলীল গ্রহণের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন এবং মানুষের অন্তরসমূহকে তাদের স্রষ্টার বাণীর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, ফলে তা তাদের ওপর প্রভাব ফেলেছে এবং তাদের পরিবর্তন করেছে।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٤)
فالقلوب تحييها النصوص. ولعل قارئ ينظر إلى مفكري وساسة الجماعات الدعوية على كثرة ما كتبوا وهي أطنان من الورق لم تعمل في شعوبها العمل الذي عملته الرسائل الصغيرة الحجم القوية المعنى للإمام رحمه الله.

فإذن على الدعاة والمصلحين ربط الأمة بالقرآن والسنة فإن في ذلك الحياة، وترك الفلسفات الكثيرة التي درج عليها مفكرو هذا العصر.

إن أعداء الدعوة، وهذا شأنهم في كل عصر، ومع كل مصلح صادق لا يستطيعون الإقناع والحجة يلجؤون للشبهات والتهم.

فما من تهمة إلا وألصقت بالشيخ رحمه الله ولكن الله سبحانه أظهر الحق ونصر دينه.

وهذا فيه مواساة لأهل التوحيد، أن اصبروا فالله مظهر دينه ولو كره المنحرفون.

واليوم ونحن نرى الشبهات منها يكررها أعداء الدعوة في كل مكان نرى لزاما علينا أن نعيد ترجمة هذا الإمام خاصة وقد تطاول عليه في عصرنا هذا بعض سفلة العصر وجهلته.

فرحم الله الإمام ووفق السائرين على دربه.

كتبه:

عبد الله السبت
অন্তরসমূহ কুরআন ও সুন্নাহর বাণী দ্বারাই প্রাণবন্ত হয়। সম্ভবত কোনো পাঠক দাওয়াতি জামাতগুলোর চিন্তাবিদ ও রাজনীতিবিদদের অজস্র রচনার প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন—যা টনের পর টন কাগজ—কিন্তু সেগুলো তাদের জাতির মধ্যে সেই প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনি, যা ইমামের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ছোট আকারের অথচ শক্তিশালী অর্থবহ পুস্তিকাগুলো করতে সক্ষম হয়েছে।

সুতরাং দায়ী ও সংস্কারকদের কর্তব্য হলো উম্মাহকে কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সম্পৃক্ত করা, কারণ এর মধ্যেই জীবন নিহিত; এবং বর্তমান যুগের চিন্তাবিদদের অনুসৃত বহুবিধ দর্শন বর্জন করা।

দাওয়াতি কাজের শত্রুরা—আর এটিই প্রতি যুগে এবং প্রত্যেক সত্যবাদী সংস্কারকের সাথে তাদের চিরাচরিত নিয়ম—যখন তারা দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে অক্ষম হয়, তখন তারা সংশয় ও অপবাদের আশ্রয় নেয়।

এমন কোনো অপবাদ নেই যা শায়খের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ওপর লেপন করা হয়নি, কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সত্যকে প্রকাশিত করেছেন এবং তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করেছেন।

এর মধ্যে তাওহীদপন্থীদের জন্য সান্ত্বনা রয়েছে যে, আপনারা ধৈর্য ধারণ করুন, কেননা বিচ্যুতরা অপছন্দ করলেও আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী করবেনই।

আজ যখন আমরা দেখছি যে দাওয়াতি কাজের শত্রুরা সর্বত্র সেই সব সংশয়ের পুনরাবৃত্তি করছে, তখন আমরা এই ইমামের জীবনী পুনরায় তুলে ধরা আবশ্যক মনে করছি; বিশেষ করে এই কারণে যে, বর্তমান সময়ের কিছু নীচ ও মূর্খ লোক তাঁর প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন করছে।

আল্লাহ তাআলা ইমামের প্রতি রহম করুন এবং তাঁর পথে বিচরণকারীদের তাওফীক দান করুন।

লিখেছেন:

আবদুল্লাহ আস-সাবত
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة الطبعة الثانية

الحمد لله الذي أمر بالعدل في جميع الأمور، ونهى عن الجور والظلم فقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ} 1، والصلاة والسلام على سيدنا ونبينا محمد الذي حث على اتباع كتاب الله، والتمسك بسنته، وحذر من البدع والضلالات، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادة تنجي قائلها يوم الدين، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله الصادق الأمين، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه والتابعين له بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد: فقد جرت سنة الله في خلقه، أنه ما أتى من رسول أو مصلح يدعو إلى توحيد الله، وإفراده بالعبادة، والائتمار بأوامره، والانتهاء عن نواهيه، إلا وقد قابله الجاهلون المقلدون، والرؤساء المترفون، بالصد والتكذيب والاستهزاء والسب الشنيع، فلا يخضع لدعوة ذلك الرسول أو ذلك المصلح إلا القليل، حتى ورد: أنه يبعث ومعه الرجل والرجلان، يعني لم يستجب من قومه له إلا الرجل أو الرجلان، وقد قال الله {وَمَا أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ} 2

ومن أولئك المصلحين الحريصين على نشر التوحيد، وإقامة شرائع الله، وإخراج الناس من ظلمات الشرك والبدع إلى نور توحيد، الشيخ محمد بن عبد الوهاب –رحمه الله وأجزل له الأجر والثواب- فقد قام بالدعوة خير قيام، وجاهد في الله حق جهاده، فكان جزاؤه أن يشكر

--------------------------------------------

1 النساء: 135

2 يوسف: 103
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল বিষয়ে ইনসাফ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অন্যায় ও জুলুম থেকে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাক এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষী হও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়} ১। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর, যিনি আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ এবং তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন এবং বিদআত ও পথভ্রষ্টতা থেকে সতর্ক করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যা কিয়ামতের দিনে এর পাঠকারীকে মুক্তি দেবে। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও সত্যবাদী, বিশ্বস্ত রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর: আল্লাহর সৃষ্টিজগতে তাঁর রীতি হলো এই যে, যখনই কোনো রাসুল বা সংস্কারক আল্লাহর তাওহীদ, তাঁর ইবাদতে একত্ব নির্ধারণ, তাঁর আদেশসমূহ পালন এবং তাঁর নিষেধসমূহ থেকে বিরত থাকার আহ্বান নিয়ে এসেছেন, তখনই অজ্ঞ অন্ধ-অনুসারী এবং বিলাসপ্রিয় নেতৃবর্গ বাধা প্রদান, মিথ্যারোপ, উপহাস ও জঘন্য গালিগালাজের মাধ্যমে তাঁর মোকাবিলা করেছে। ফলে সেই রাসুল বা সেই সংস্কারকের আহ্বানে অল্প সংখ্যক লোকই সাড়া দিত; এমনকি এমনটি বর্ণিত হয়েছে যে: কিয়ামতের দিন কোনো কোনো নবীকে এমন অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে যে তাঁর সাথে মাত্র একজন বা দুইজন ব্যক্তি থাকবেন। অর্থাৎ তাঁর জাতির মধ্য থেকে মাত্র একজন বা দুইজন ব্যক্তি ছাড়া কেউ তাঁর আহ্বানে সাড়া দেয়নি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তুমি চাইলেও অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনবে না} ২

তাওহীদ প্রচার, আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা এবং শিরক ও বিদআতের অন্ধকার থেকে মানুষকে তাওহীদের আলোর দিকে বের করে আনার ব্যাপারে আগ্রহী সেই সংস্কারকদের একজন হলেন শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব—আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন এবং তাঁকে পরিপূর্ণ প্রতিদান ও সওয়াব দান করুন। তিনি দাওয়াতের কাজ সর্বোত্তমভাবে আঞ্জাম দিয়েছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন; সুতরাং তাঁর প্রাপ্য ছিল যে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হবে

--------------------------------------------

১ আন-নিসা: ১৩৫

২ ইউসুফ: ১০৩
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٦)
وأن يمجد ويدعى له بالخير، ولكن ما كان من أكثر المدعوين إلا الإعراض والاستكبار والاستهزاء وتلقيبه بالساحر والكاهن والكذاب، ولم يكتفوا بذلك حتى أقاموا عليه الحرب باللسان والحسام، وأشاعوا عنه الدعايات الضالة والأكاذيب الملفقة، ونسجوا حوله الشبهات الواهية، والأقاويل الساقطة، والعقائد الزائفة، كقولهم: إنه لا يحب الرسول صلى الله عليه وسلم، ويمنع من زيارة قبره، ويكفر المسلمين الذين يفعلون ذلك، ونحو ذلك من الأكاذيب والافتراءات والبهتان العظيم.

وكتب في المأجورون تنفيرا للناس من الشيخ الجليل، وصدا عن سلوك طريقه المستقيم، فراجت هذه الفكرة السيئة عن الشيخ الجليل في كثير من البلدان، فإنهم رأووا كتبا بتوقيع الشيخ الفلاني أو العلامة الفلاني الشافعي أو الحنفي أو المالكي، وظن الجهال أن العلماء لا يكذبون، وأنهم لم يكتبوا إلا ما حققوه، وليس الأمر كذلك، بل ما كتبوه في ذم الشيخ كله كذب مختلق، لا نصيب له من الصحة، ولا سند له من الواقع، إنما دفعهم إلى الكتابة التقرب إلى الأتراك أو الأشراف، أو الإبقاء على الرياسة لدى العوام وجمع الحطام من أشباه الأنعام، وما راقبوا الله عز وجل فيما كتبوا، ولم يمنعهم الحياء من أن يختلقوا ويفتروا ما كذبوا، وأكثرهم كتب مما يسمع ولم يقرآ كتب الشيخ وأولاده وأحفاده وأئمة الدعوة السلفية النجدية، حتى يعرف الحق من الباطل، والهدي من الضلال.

وبناء على النصيحة للمسلمين، وحبا في شريعة سيد المرسلين، وصيانة لتوحيد رب العالمين، ودفاعا عن شيخ الإسلام، ومجدد الدين في القرن الثاني عشر الشيخ محمد بن عبد الوهاب –رحمه الله – كتبت هذا الكتاب المعنون: الشيخ محمد بن عبد الوهاب مجدد القرن الثاني عشر المفترى عليه ودحض تلك المفتريات، وطبعته في رمضان 1407هـ.
এবং তাঁর মহিমা বর্ণনা করা ও তাঁর জন্য কল্যাণের দোয়া করা উচিত ছিল। কিন্তু অধিকাংশ আমন্ত্রিতদের আচরণ ছিল কেবল বিমুখতা, অহংকার ও উপহাস। তারা তাকে জাদুকর, গণক ও মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করেছিল। তারা কেবল এতেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা তাঁর বিরুদ্ধে জিহ্বা ও তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তারা তাঁর সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও বানোয়াট মিথ্যা ছড়িয়ে দিয়েছিল এবং তাঁর চারপাশে ভিত্তিহীন সংশয়, অন্তঃসারশূন্য উক্তি ও মিথ্যা আকিদার জাল বুনেছিল। যেমন তাদের দাবি ছিল যে: তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসেন না, তাঁর কবরের জিয়ারত করতে নিষেধ করেন এবং যারা এটি করে সেই মুসলমানদের কাফের বলেন। এ জাতীয় আরও অনেক মিথ্যাচার, অপবাদ ও গুরুতর অপপ্রচার চালানো হয়েছিল।

ভাড়াটে লেখকরা মহান শাইখ থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দিতে এবং তাঁর সরল পথ অনুসরণে বাধা সৃষ্টি করতে অনেক কিছু লিখেছিল। ফলে অনেক দেশে এই মহান শাইখ সম্পর্কে এই কুধারণা ছড়িয়ে পড়ে। কারণ তারা অমুক শাইখ বা অমুক শাফেয়ী, হানাফী কিংবা মালেকী আলেমদের দস্তখত সংবলিত কিতাবাদি দেখেছিল। মূর্খরা মনে করেছিল যে আলেমরা কখনো মিথ্যা বলেন না এবং তারা যা যাচাই করেছেন কেবল তা-ই লিখেছেন। কিন্তু বিষয়টি মোটেও তেমন ছিল না। বরং শাইখের নিন্দায় তারা যা লিখেছে তার সবই ছিল বানোয়াট মিথ্যা, যার সত্যতার কোনো লেশমাত্র নেই এবং বাস্তবতার সাথে যার কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত তুর্কি বা আশরাফদের নৈকট্য লাভ, অথবা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিজেদের নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখা এবং পশুর ন্যায় লোকদের থেকে পার্থিব সম্পদ অর্জন করাই ছিল তাদের এই লেখার মূল উদ্দেশ্য। তারা যা লিখেছে তাতে মহান আল্লাহকে ভয় করেনি এবং এই মিথ্যা অপবাদ ও বানোয়াট কথা রচনা করতে লজ্জা তাদের বাধা দেয়নি। তাদের অধিকাংশ কেবল শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে লিখেছে; তারা শাইখ, তাঁর সন্তানাদি, পৌত্রগণ এবং নজদী সালাফি দাওয়াতের ইমামদের কিতাবসমূহ পাঠ করেনি, যাতে সত্য-মিথ্যা ও হেদায়েত-গোমরাহীর পার্থক্য তারা অনুধাবন করতে পারে।

অতএব, মুসলমানদের প্রতি নসীহত স্বরূপ, সাইয়্যেদুল মুরসালিনের শরীয়তের প্রতি ভালোবাসা থেকে, রব্বুল আলামীনের তাওহীদের সংরক্ষণে এবং শাইখুল ইসলাম ও দ্বাদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব -রাহিমাহুল্লাহ-এর পক্ষাবলম্বন করে আমি এই কিতাবটি লিখেছি যার শিরোনাম: 'শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: দ্বাদশ শতাব্দীর সেই মুজাদ্দিদ যার ওপর অপবাদ আরোপ করা হয়েছে এবং সেই অপবাদসমূহের খণ্ডন'। আমি এটি ১৪০৭ হিজরীর রমজান মাসে প্রকাশ করেছি।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٧)
وقد نفدت نسخه، ولما كانت الحاجة إليه ماسة، فقد استعنت بالله العظيم أعدت طبعه للمرة الثانية، سائلا رب العرش العظيم، أن ينتفع بهذا الكتاب عباده المؤمنين، وأن يجعله أداة إنقاذ من ظلمات الجهالة، وأن ينور بصائر القارئين، ليعرفوا حقيقة الشيخ الجليل، ولا تروج عليهم دعاية أهل الضلال، والله من وراء القصد، وحسبنا الله ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العظيم، وصلى الله على سيد الأنام وعلى آله وأصحابه الكرام وسلم.

الدوحة في 13/ شوال/ 1412هـ ـ 15/4/1992م

أحمد بن حجر آل بوطامي البنعلي

رئيس قضاة المحكمة الشرعية بدولة قطر
এর কপিসমূহ শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং যেহেতু এর প্রয়োজনীয়তা ছিল অনস্বীকার্য, তাই আমি মহান আল্লাহর সাহায্য নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এটি পুনরায় মুদ্রণ করেছি। আমি মহান আরশের রবের কাছে প্রার্থনা করছি, যেন তাঁর মুমিন বান্দারা এই কিতাব দ্বারা উপকৃত হন এবং তিনি যেন এটিকে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে উদ্ধারের হাতিয়ার বানান এবং পাঠকদের অন্তর্দৃষ্টি আলোকিত করেন, যাতে তারা এই মহান শাইখের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারেন এবং পথভ্রষ্টদের প্রচারণা যেন তাদের বিভ্রান্ত করতে না পারে। আল্লাহই আমাদের লক্ষ্যের পেছনে রয়েছেন, আর আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ এবং তাঁর সম্মানিত পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

দোহা, ১৩ই শাওয়াল, ১৪১২ হিজরী — ১৫/৪/১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ

আহমাদ বিন হাজর আল বু-তামি আল-বিনআলি

কাতার রাষ্ট্রের শরীয়া আদালতের প্রধান বিচারপতি
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٨)
بسم الله الرحمن الرحيم

مقدمة

الحمد لله وحده والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم. وبعد.

فبالرغم من انتشار العلم وتنور الأذهان وتقلص ظل الأمية الجهالة من المجتمعات الإسلامية، فلا زال الكثيرون قد علق بأذنانهم فكرة سيئة ورأي غير سديد حول الإمام المصلح الكبير الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله، وذلك من جراء تلك الافتراءات والأكاذيب التي نسجتها أيدي المغرضين وخصوم الدعاة المخلصين فتكونت شبهات حول الشيخ وهي في الحقيقة كسراب بقيعة يحسبه الظمآن ماء فإذا جاءه لم يجده شيئا، ومن أجل كثرة ما سمعت من تلك الدعايات المضلة والأقاويل المزورة بدا لي أن أكتب في هذا الموضوع في بيان تلك الأقاويل والشبهات وبطلانها بالدلائل الواضحة التي إذا قرأها القارئ وكان يملك شيئا من العقل والإنصاف يخرج منها نقيا من أرجاس تلك الأقاويل والافتراءات مسلحا بسلاح الإيمان والتصديق والإذعان بأن ما سمعه أو قرأه عن الشيخ المذكور لا صحة له، وعلى الفرض أن يصح بعض ما نسب إليه يكون مؤيدا بالدليل من الكتاب والسنة وأقوال محققي علماء الأمة.

ولو تتبعنا مقالاتهم الواهية لتطلب مجلدا ضخما، ولكن اعتمدنا على الشبهات الكبيرة التي نسجوها حول الشيخ رحمه الله، وعند التأمل ترجع تلك الشبهات إلى الشبهة حول توحيد الألوهية الذي يتفرع منها الاستغاثة واللياذ بغير الله والنذر والذبح والحلف بغير الله تعالى إلى آخر أنواع العبادة،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক শেষ নবী ও রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর। অতঃপর।

মুসলিম সমাজগুলোতে ইলমের প্রসার, মেধার বিকাশ এবং নিরক্ষরতা ও অজ্ঞতার ছায়া সংকুচিত হওয়া সত্ত্বেও, মহান সংস্কারক ইমাম শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রহ.) সম্পর্কে এখনো অনেকের মনে মন্দ ধারণা ও ভুল মতামত গেঁথে আছে। আর এটি সেই সকল অপবাদ ও মিথ্যাচারের ফল যা স্বার্থান্বেষী মহল এবং একনিষ্ঠ দাঈদের শত্রুদের হাত বুনেছে। ফলে শায়খকে ঘিরে এমন কিছু সংশয় তৈরি হয়েছে যা প্রকৃতপক্ষে মরুভূমির মরীচিকার মতো, পিপাসার্ত ব্যক্তি যাকে পানি মনে করে, কিন্তু যখন সে তার কাছে আসে তখন দেখে সেটি কিছুই নয়। এই বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও মিথ্যা কথাবার্তা অধিক পরিমাণে শোনার কারণে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, এই বিষয়ে একটি লেখা উচিত যাতে সেই সকল উক্তি ও সংশয়সমূহ স্পষ্ট করা যায় এবং সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ দ্বারা সেগুলোর অসারতা প্রতিপন্ন করা যায়। কোনো পাঠক যদি সামান্যতম বিবেক ও ন্যায়নিষ্ঠার অধিকারী হয়ে তা পাঠ করেন, তবে তিনি এই সকল কুরুচিপূর্ণ উক্তি ও অপবাদের পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হয়ে ঈমান, বিশ্বাস ও আনুগত্যের হাতিয়ারে সজ্জিত হয়ে বের হয়ে আসবেন যে, উক্ত শায়খ সম্পর্কে তিনি যা শুনেছেন বা পড়েছেন তার কোনো ভিত্তি নেই। আর যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া হয় যে তাঁর প্রতি নিসবত করা কোনো বিষয় সঠিক, তবে তা কিতাব, সুন্নাহ ও উম্মাহর মুহাক্কিক আলেমদের বক্তব্যের দলীল দ্বারা সমর্থিত হবে।

আমরা যদি তাদের এই দুর্বল বক্তব্যগুলো অনুসরণ করতে চাই তবে তা একটি বিশাল খণ্ডের প্রয়োজন হবে। কিন্তু আমরা সেই সকল বড় বড় সংশয়ের ওপর নির্ভর করেছি যা তারা শায়খ (রহ.)-কে কেন্দ্র করে বুনেছে। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, এই সকল সংশয় মূলত তাওহিদে উলুহিয়্যাহ সংক্রান্ত সংশয়ের দিকেই ফিরে যায়, যা থেকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে সাহায্য প্রার্থনা, আশ্রয় গ্রহণ, মানত করা, যবেহ করা এবং আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্যের নামে কসম করাসহ ইবাদতের অন্যান্য প্রকারসমূহ শাখা-প্রশাখা হিসেবে নির্গত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٩)
وإلى توحيد الأسماء والصفات، فيستطيع الكاتب أن يحصر شبهاتهم حول ثلاث شبهات:

أ- حول توحيد الألوهية ب- توحيد الأسماء والصفات

ج– إنكار الشيخ للبدع كالموالد وطرق الصوفية والعادات المخترعة والمنحطة والبناء على القبور.

فإذا أمعن القارئ النظر في هذه الشبهات وفي الأجوبة عنها، فقد تسلح بسلاح الحجج النقلية والعقلية، ويستطيع أن يرد على يوردونه في الاعتراض على الشيخ وينقض كلامهم.

ويكفي للناقد البصير أن يفهم أن أكثر ما يوردونه لا يستندون فيه إلى آية أو حديث، إنما هو مجرد كلام واتهام بغير حجة سوى ما يوردونه في باب التوسل والاستغاثة من الأحاديث الضعيفة الواهية التي لا يتشبث بها ويستمسك بها إلا من كان مفلسا من الحجج الصحيحة القوية، فإذا تأمل الخبير البصير عرف وهن ما زعموه، إذ لو كان كل كلام وادعاء يقبل، لما كان للبينة والحجة حاجة، فإن مجرد الادعاء والكلام لا يعجز عنه أحد، وإنما الشأن فيمن يدعي ويقيم الحجة على دعواه بشرط أن تكون تلك الحجة من كتاب الله العظيم أو سنة رسوله صلى الله عليه وسلم الصحيحة الحسنة، لا من أقاويل الرجال ولا من الكتب المحشوة بالترهات والضلالات، ومن كلام الكثيرين الذين ينتسبون إلى العلم وهم أفلس من إبليس في يوم الوقوف بعرفة من البراهين المؤيدة لدعواهم.

هذا وبالله التوفيق. وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم،

أحمد بن حجر ال بوطامي البنعلي

رئيس قضاة المحكمة الشرعية

بدولة قطر
নাম ও গুণাবলির তাওহিদ প্রসঙ্গে, লেখক তাদের সংশয়গুলোকে তিনটি প্রধান সংশয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে পারেন:

ক- উলুহিয়্যাহ বা ইবাদতের তাওহিদ সংক্রান্ত খ- নাম ও গুণাবলির তাওহিদ সংক্রান্ত

গ– শেখ কর্তৃক বিদআতসমূহ যেমন: মিলাদ মাহফিল, সুফি তরীকা, নবআবিষ্কৃত ও নিকৃষ্ট রীতিনীতি এবং কবরের ওপর ইমারত নির্মাণকে অস্বীকার করা।

যদি পাঠক এই সংশয়গুলো এবং সেগুলোর উত্তরের প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করেন, তবে তিনি শ্রুতিগত ও বুদ্ধিগত দলিলাদির অস্ত্রে সজ্জিত হবেন এবং শেখের বিরুদ্ধে তারা যে আপত্তিগুলো উত্থাপন করে তার জবাব দিতে ও তাদের বক্তব্য খণ্ডন করতে সক্ষম হবেন।

একজন বিচক্ষণ সমালোচকের জন্য এটি উপলব্ধি করাই যথেষ্ট যে, তারা যা কিছু উপস্থাপন করে তার অধিকাংশই কোনো আয়াত বা হাদিসের ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং এগুলো কেবল ভিত্তিহীন কথা ও দলিলবিহীন অভিযোগ মাত্র। তারা কেবল তওয়াসসুল ও ইস্তিগাসার (সাহায্য প্রার্থনা) ক্ষেত্রে কিছু দুর্বল ও অসার হাদিস উপস্থাপন করে, যা কেবল তারাই আঁকড়ে ধরে যারা সঠিক ও শক্তিশালী দলিল থেকে রিক্ত। সুতরাং একজন অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী ব্যক্তি যখন এগুলো নিয়ে চিন্তা করবেন, তখন তিনি তাদের দাবির অসারতা বুঝতে পারবেন। কারণ, যদি প্রতিটি কথা ও দাবিই গ্রহণ করা হতো, তবে প্রমাণ ও দলিলের আর কোনো প্রয়োজন থাকত না। কেননা কেবল দাবি করা এবং কথা বলা কারো জন্যই কঠিন নয়। বরং মূল বিষয় হলো সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে দাবি করে এবং তার দাবির সপক্ষে দলিল পেশ করে, আর শর্ত হলো সেই দলিল মহান আল্লাহর কিতাব অথবা তাঁর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সহিহ ও হাসান সুন্নাহ থেকে হতে হবে; মানুষের কথাবার্তা কিংবা অসারতা ও বিভ্রান্তিতে ভরা কিতাবসমূহ থেকে নয়। আবার এমন অনেক ব্যক্তির কথা থেকেও নয় যারা নিজেদের ইলমের সাথে সম্পৃক্ত করে, অথচ তারা তাদের দাবির সপক্ষে প্রমাণের দিক থেকে আরাফাতের দিনে ইবলিসের চেয়েও বেশি নিঃস্ব।

আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আহমদ ইবনে হাজার আল-বুতামি আল-বিনআলি

প্রধান বিচারপতি, শরীয়াহ আদালত

কাতার রাষ্ট্র
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ١٠)
وقبل الدخول في الموضوع رأيت أن أكتب نبذة1 عن حياة وحالة نجد إذ ذاك، وسائر الأقطار.

ولادته ونشأته ورحلته لطلب العلم:

ولادته سنة 115هـ الموافق سنة 1703م، وفاته سنة 1306هـ. ولد الشيخ محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي بن محمد بن أحمد بن راشد التميمي في بلدة العيينة الواقعة شمال الرياض، ونشأ الشيخ في حجر أبيه عبد الوهاب في تلك البلدة في زمن إمارة عبد الله بن محمد بن حمد بن معمر.

وكان رحمه الله سباقا في عقله وفي جسمه فطنا ذكيا، فقد استظهر القرآن قبل بلوغه العشر، وبلغ الاحتلام قبل تمام الاثنتي عشرة سنة، قال أبوه رأيته أهلا للصلاة بالجماعة وزوجته في ذاك العام.

--------------------------------------------

1 مع العلم أني قد كتبت كتابا مفصلا عن الشيخ بعنوان عقيدته السلفية ودعوته الإصلاحية وثناء العلماء عليه غير أني لم أتوسع في دفع الشبهات ودحض المفتريات، ولهذا كتبت هذا الكتاب بهذا العنوان "الشيخ محمد بن عبد الوهاب المفترى عليه ودحض تلك المفتريات".
মূল বিষয়ে প্রবেশের পূর্বে তৎকালীন নজদ এবং অন্যান্য অঞ্চলের জীবন ও অবস্থা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ১ লেখা আমি সমীচীন মনে করেছি।

তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং ইলম অন্বেষণে সফর:

তাঁর জন্ম ১১৫ হিজরি মোতাবেক ১৭০৩ খ্রিষ্টাব্দে এবং মৃত্যু ১৩০৬ হিজরিতে। শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন রাশিদ আত-তামিমি রিয়াদের উত্তরে অবস্থিত উয়াইনা নামক জনপদে জন্মগ্রহণ করেন। শায়খ উক্ত জনপদে আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হামাদ বিন মুয়াম্মারের শাসনামলে তাঁর পিতা আব্দুল ওয়াহহাবের তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন।

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর বুদ্ধিবৃত্তি ও শারীরিক গঠনে অত্যন্ত অগ্রগামী এবং প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন। তিনি দশ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন এবং বারো বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই সাবালকত্ব লাভ করেন। তাঁর পিতা বলেন, "আমি তাঁকে জামাতের সাথে সালাত আদায়ের যোগ্য মনে করেছি এবং সেই বছরই তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করেছি।"

--------------------------------------------

১. উল্লেখ্য যে, আমি শায়খ সম্পর্কে 'আকিদাতুহুস সালাফিয়্যাহ ওয়া দাওয়াতুহুস ইসলাহিয়্যাহ ওয়া সানাউল উলামা আলাইহি' (তাঁর সালাফি আকিদা, সংস্কারমূলক দাওয়াত এবং তাঁর প্রতি আলেমদের প্রশংসা) শিরোনামে একটি বিস্তারিত গ্রন্থ রচনা করেছি। তবে সেখানে আমি সংশয় নিরসন এবং মিথ্যা অপবাদ খণ্ডনে বিস্তারিত আলোচনা করিনি। এ কারণেই আমি "আশ-শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-মুফতারা আলাইহি ওয়া দাহযু তিলকাল মুফতারইয়াত" (শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: যাঁর ওপর মিথ্যাারোপ করা হয়েছে এবং সেই অপবাদসমূহের খণ্ডন) শিরোনামে এই বইটি লিখেছি।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ١١)
طلبه للعلم:

درس على والده الفقه الحنبلي والتفسير والحديث، وكان في صغره مكبا على كتب التفسير والحديث والعقائد، وكان يعتني بكتب شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه الحافظ ابن القيم رحمهما الله ويكثر من مطالعة كتبهما.

رحلاته العلمية:

ثم غادر البلاد قاصدا حج بيت الله الحرام، وبعد أدائه الفريضة أم المدينة المنورة وقصد المسجد النبوي وزار إمام المرسلين صلى الله عليه وسلم وصحابته الأبرار المخلصين.

وقرأ على بعض علماء المدينة، ومن مشايخه هناك الشيخ عبد الله بن إبراهيم بن سيف من آل سيف النجدي والشيخ علي أفندي الداغستاني والشيخ إسماعيل العجلوني، كما استفاد من الشيخ عبد اللطيف العفالقي الأحسائي والشيخ محمد العفالقي الأحسائي والشيخ محمد حياة السندي، ثم رجع إلى نجد وتوجه إلى البصرة فأقام مدة في البصرة ودرس العلم فيها على جماعة من العلماء، منهم الشيخ محمد المجموعي، وقد قرأ عليه الكثير من النحو واللغة والحديث وغيرها، وذكر المؤرخ ياسين بن خير الله الخطيب العمري الموصلي في كتابه (غرائب الأثر) أن الإمام محمد بن عبد الوهاب قدم الموصل وقرأ العلم على العلامة مولانا ملا حمد الجميلي وأخذ عنه الكثير، ويقال: أن المؤرخ العمري كان معاصرا للإمام1.

ثم رجع إلى نجد، ومر في طريقه بالأحساء، وقرأ على الشيخ محمد بن عبد اللطيف الشافعي مدة من الزمن، ثم رجع إلى بلاده، وقد شاهد أحوال نجد والحرمين والعراق وغيرها من البلدان من المنكرات والشركيات والبدع والضلالات حتى عندما كان في المدينة المنورة يسمع الاستغاثات برسول الله ودعائه من دون الله، فقال للشيخ محمد حياة السندي: ما تقول يا شيخ في هؤلاء؟ فأجاب على الفور، إن هؤلاء متبر ما هم فيه وباطل ما كانوا يعملون.

--------------------------------------------

1 نقلته من بحث أسبوع الشيخ محمد بن عبد الوهاب ولم أر من ذكره غيره.
তার জ্ঞান অন্বেষণ:

তিনি তার পিতার নিকট হাম্বলী ফিকহ, তাফসীর ও হাদীস অধ্যয়ন করেন। শৈশবেই তিনি তাফসীর, হাদীস এবং আকিদার কিতাবসমূহের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন। তিনি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং তার ছাত্র হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন)-এর কিতাবসমূহের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন এবং তাদের কিতাবাদি অধিক পরিমাণে পাঠ করতেন।

তার জ্ঞানমূলক সফরসমূহ:

অতঃপর তিনি আল্লাহর পবিত্র ঘর হজের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেন। ফরজ হজ আদায়ের পর তিনি মদীনা মুনাওয়ারার দিকে অগ্রসর হন এবং মসজিদে নববীর সংকল্প করেন এবং রাসুলগণের ইমাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর পুণ্যবান ও নিষ্ঠাবান সাহাবীদের কবর জিয়ারত করেন।

তিনি মদীনার কতিপয় আলেমের কাছে পাঠ গ্রহণ করেন। সেখানে তার উস্তাদদের মধ্যে ছিলেন আল-সাইফ নাজদী বংশীয় শায়খ আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন সাইফ, শায়খ আলী আফেন্দী আদ-দাগেস্তানী এবং শায়খ ইসমাইল আল-আজলুনী। এছাড়াও তিনি শায়খ আব্দুল লতিফ আল-আফালিকী আল-আহসাঈ, শায়খ মুহাম্মদ আল-আফালিকী আল-আহসাঈ এবং শায়খ মুহাম্মদ হায়াত আস-সিন্ধী থেকে উপকৃত হন। অতঃপর তিনি নজদে ফিরে আসেন এবং বসরার দিকে যাত্রা করেন। তিনি বসরায় কিছুকাল অবস্থান করেন এবং সেখানে একদল আলেমের কাছে ইলম অর্জন করেন, যাদের মধ্যে শায়খ মুহাম্মদ আল-মাজমুয়ী অন্যতম। তিনি তার কাছে নাহু, ভাষা, হাদীস ও অন্যান্য বিষয়ে অনেক অধ্যয়ন করেন। ঐতিহাসিক ইয়াসিন বিন খাইরুল্লাহ আল-খতিব আল-ওমারী আল-মাওসিলী তার (গারায়েবুল আসার) কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মোসলে আগমন করেন এবং আল্লামা মাওলানা মোল্লা হামদ আল-জুমায়লীর কাছে ইলম অধ্যয়ন করেন এবং তার থেকে অনেক কিছু অর্জন করেন। বলা হয়ে থাকে যে, ঐতিহাসিক ওমারী ইমামের সমসাময়িক ছিলেন ১।

এরপর তিনি নজদে ফিরে আসেন এবং পথিমধ্যে আল-আহসা অতিক্রম করেন এবং সেখানে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ আশ-শাফেয়ীর কাছে কিছুকাল অধ্যয়ন করেন। অতঃপর তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন। তিনি নজদ, হারামাইন, ইরাক ও অন্যান্য দেশে বিভিন্ন প্রকার গর্হিত কাজ, শিরক, বিদআত ও গোমরাহি প্রত্যক্ষ করেন। এমনকি যখন তিনি মদীনা মুনাওয়ারায় ছিলেন, তখন তিনি আল্লাহকে বাদ দিয়ে আল্লাহর রাসুলের কাছে সাহায্য প্রার্থনা এবং তাঁর কাছে দোয়া করতে শোনেন। তখন তিনি শায়খ মুহাম্মদ হায়াত আস-সিন্ধীকে উদ্দেশ্য করে বলেন: হে শায়খ, এদের সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি তাৎক্ষণিক উত্তর দিলেন: নিশ্চয় এরা যে কাজে লিপ্ত তা ধ্বংস হবে এবং তারা যা করছে তা অসার।

--------------------------------------------

১ আমি এটি শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব সপ্তাহ উপলক্ষ্যে রচিত গবেষণা থেকে উদ্ধৃত করেছি এবং অন্য কাউকে এটি উল্লেখ করতে দেখিনি।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ١٢)
حالة نجد في عقائد أهلها الفاسدة قبل دعوة الشيخ

رأى نجدا مرتعا للخرافات والعقائد الفاسدة التي تتنافى مع أصول الدين الصحيحة، فقد كان فيها كثير من القبور تنسب إلى بعض الصحابة، يحج الناس إليها ويطلبون منها حاجاتهم، ويستغيثون بها لدفع كروبهم، فقد كانوا في الجبيلة يؤمون قبر زيد بن الخطاب، يتضرعون لديه ويسألونه حاجاتهم، وكذلك في الدرعية كان قبر لبعض الصحابة كما يزعمون، وأغرب من ذلك توسلهم في بلد المنفوحة بفحل النخل، واعتقادهم أن من تؤمه من العوانس تتزوج، فكانت من تقصده تقول: "يا فحل الفحول، أريد زوجا قبل الحول" ورأى في الحجاز تقديس قبور الصحابة وأهل البيت والرسول صلى الله عليه وسلم ما لا يسوغ إلا مع رب الأرباب.

كما سمع عن العيدروس في "عدن" والزيلعي في اليمن الشيء الكثير، وعن البدوي والدسوقي والرفاعي والجيلاني وأمثالهم، ما يقوم به الأكثرون تجاه هؤلاء من العبادات التي لا تصلح إلا لله، كالنذور والطواف الذبح والاستغاثة إلى غير ذلك، وهكذا كان أهل نجد وسائر الأقطار لا يعرفون الله في الرخاء ولا في الشدة باستثناء قلة صالحة، فإذا حلت مصيبة بأحد أو مرض أو ظلم، أو يريد كشف الضر أو إعطاء ولد أو رزق أو نزول مطر، لاذ بقبر من القبور المعظمة وأخذ يصيح ويبكي ويصلي ويدعو ويستغيث بالولي المزعوم، ويطلب منه قضاء حاجته وكأنه لم يسمع قوله تعالى {ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ} 1

--------------------------------------------

1 سورة غافر الآية (60)
শাইখের দাওয়াতের পূর্বে নজদবাসীর কলুষিত আকিদার অবস্থা

তিনি নজদকে কুসংস্কার এবং এমন সব কলুষিত আকিদার বিচরণস্থল হিসেবে দেখতে পান, যা দ্বীনের সঠিক মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক। সেখানে অনেক কবর ছিল যা কিছু সাহাবীর বলে দাবি করা হতো; মানুষ সেগুলোর কাছে হজের ন্যায় গমণ করত, সেগুলোর নিকট নিজেদের প্রয়োজনসমূহ চাইত এবং বিপদ-আপদ দূর করার জন্য সেগুলোর মাধ্যমে ফরিয়াদ করত। জুবাইলা নামক স্থানে তারা জায়েদ ইবনুল খাত্তাবের কবরে যেত, সেখানে গিয়ে অনুনয়-বিনয় করত এবং তাঁর কাছে তাদের হাজতগুলো চাইত। অনুরূপভাবে দিরিয়াতেও জনৈক সাহাবীর কবর ছিল বলে তারা দাবি করত। এর চাইতেও আশ্চর্যজনক বিষয় ছিল মানফুহা শহরে পুরুষ খেজুর গাছের মাধ্যমে তাদের উসিলা তালাশ করা এবং তাদের এই বিশ্বাস যে, কোনো অবিবাহিতা নারী সেখানে গেলে তার বিয়ে হয়ে যাবে। যে নারী সেখানে যেত সে বলত: "হে বীরদের বীর, আমি বছর শেষ হওয়ার আগেই স্বামী চাই।" তিনি হিজাজে সাহাবায়ে কেরাম, আহলে বাইত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের প্রতি এমন অতিভক্তি ও পবিত্রতা আরোপ লক্ষ্য করেন, যা কেবলমাত্র সকল প্রতিপালকের প্রতিপালক আল্লাহর সাথেই সাজে।

অনুরূপভাবে তিনি আদনের "আইদারুস" এবং ইয়েমেনের "যাইলায়ী" সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছিলেন। আরও শুনেছিলেন বাদভী, দাসুকী, রিফায়ী, জিলানী এবং তাদের সমগোত্রীয়দের সম্পর্কে; অধিকাংশ মানুষ এদের প্রতি এমন সব ইবাদত নিবেদন করত যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য বৈধ নয়, যেমন— মানত, তওয়াফ, জবেহ এবং সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা) ইত্যাদি। এভাবেই নজদ ও অন্যান্য অঞ্চলের মানুষ—অল্প সংখ্যক নেককার লোক ব্যতীত—সুখে কিংবা দুঃখে আল্লাহকে চিনত না। যখন কারো ওপর কোনো বিপদ, অসুখ বা জুলুম আসত, অথবা কেউ কষ্ট দূর করতে কিংবা সন্তান, রিযিক বা বৃষ্টি চাইত, তখন সে কোনো এক মহিমান্বিত কবরের আশ্রয় নিত এবং চিৎকার করে কাঁদতে থাকত। সে সেখানে সালাত আদায় করত, দুআ করত এবং তথাকথিত ওলীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করত এবং তার কাছে নিজের প্রয়োজন পূরণের আবেদন জানাত; যেন সে মহান আল্লাহর এই বাণীটি শোনেনি: {তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।} ১

--------------------------------------------

১ সূরা গাফির, আয়াত (৬০)
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ١٣)
وكان للقلوب تعلق شديد بتلك القبور والأشجار والكهوف المعبودة لطول الأمد عليها، إذ نشأ عليها الصغير، وشاب عليها الكبير، وتلقاها الخالفون عن السالفين من آبائهم، وأخذوا بالوراثة التي امتزجت بنفوسهم في جميع أدوار حياتهم، وليس في الناس من يقوم بالإنكار على هذه المبتدعات، ولا من يرد الناس عنها إلى الدين الصحيح، إما لتعلق بها وحرص عليها لأنها مورد رزق، وسبيل رياسة وذلك شأن متصوفة الزمن، وسدنة المقابر، والموظفين في خدمتها وترويج عبادتها، وهؤلاء أضر خلق الله على الناس.

وإما لجهل بحقيقة الإسلام، وما بعث به الرسول عليه الصلاة والسلام، وتعوضهم عن ذلك بما حفظوا أو قرأوا من بعض الكتب المحشوة بما يزيد هذه البلايا رواجا، والرؤساء والأمراء لا هم لهم إلا جمع الدنيا وتحصيل لذاتها ومتاعها من كل طريق وبكل وسيلة، فكان المسلم السليم القلب، العارف لربه وعبادته، ولنبيه وهديه وسنته، إذا تأمل في هذه الحال تفطر قلبه حسرة، بالإضافة إلى تهاونهم بالصلوات، ولا سيما في الجمع والجماعات، وارتكاب كثير من المنكرات، وإذا وجد من ينكر تلك الضلالات وعبادة الأموات، قاموا عليه قيامة رجل واحد، وكفروه وضللوه وضربوه وأخرجوه من البلد إن كان غريبا، وأذاعوا في الناس أن هذا الرجل ضال مضل، إياكم أن تصغوا لقوله وتتأثروا بإرشاده، كما في قصة الواعظ التركي الذي أتى مصر كما ذكره الجبرتي، وخلاصة قصته إنه أخذ يحذر الناس من الاستغاثات والطواف بالقبور والنذور والدعوات الشركية، فقاموا عليه آذوه وضربوه، وطلب الحكم بينه وبينهم أمام القاضي، وبالرغم من أن القاضي أيد جانب الواعظ، لكنهم لم يقتنعوا ووشوا به إلى الحاكم إنه مبتدع ضال، فأبعده الحكم من البلاد، مع العلم أن كثيرا من العوام أحبوه وعلموا أن ما يقوله ذلك الواعظ هو التوحيد الصحيح والإسلام المنيف، وهكذا في عصرنا في كثير من الأقطار بمجرد ما يسمعون منك كلمة تخالف ما هم عليه، من تلك الاعتقادات الباطلة والآراء الكاسدة صاحوا عليه وقالوا: إنه وهابي أخرجوه
দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হওয়ার কারণে সেই সকল কবর, গাছপালা এবং পূজিত গুহাগুলোর সাথে অন্তরসমূহের এক গভীর আসক্তি তৈরি হয়েছিল। কারণ এর ওপরই ছোটরা বড় হয়েছে এবং বড়রা বৃদ্ধ হয়েছে। পরবর্তীরা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে এটি লাভ করেছে এবং উত্তরাধিকার সূত্রে এমনভাবে গ্রহণ করেছে যা তাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে তাদের সত্তার সাথে মিশে গিয়েছিল। মানুষের মধ্যে এমন কেউ ছিল না যারা এই নবউদ্ভাবিত বিদআতগুলোর প্রতিবাদ করবে, কিংবা মানুষকে তা থেকে ফিরিয়ে সঠিক দ্বীনের দিকে নিয়ে আসবে। এর কারণ ছিল হয় সেগুলোর প্রতি আসক্তি ও লোভ—যেহেতু তা ছিল জীবিকার উৎস এবং নেতৃত্বের পথ, যা তৎকালীন সুফিদের অবস্থা ছিল—এবং কবরের খাদেম ও যারা সেগুলোর সেবায় এবং সেগুলোর ইবাদত প্রচারের কাজে নিয়োজিত ছিল। এই লোকেরা মানুষের জন্য আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর।

অথবা ইসলামের প্রকৃত রূপ এবং রাসূল (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছিলেন সে সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে। এর পরিবর্তে তারা যা মুখস্থ করেছিল বা এমন কিছু বই থেকে যা পড়েছিল, যেগুলো এই মুসিবতগুলোর প্রসার ঘটায় এমন সব বিষয়ে ঠাসা ছিল। আর নেতা ও আমিরদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল দুনিয়া পুঞ্জীভূত করা এবং যে কোনো পথে ও যে কোনো উপায়ে এর স্বাদ ও ভোগসামগ্রী অর্জন করা। এমতাবস্থায় সুস্থ হৃদয়ের অধিকারী একজন মুসলিম, যে তার রব ও তাঁর ইবাদত সম্পর্কে এবং তার নবী ও তাঁর হিদায়াত ও সুন্নাহ সম্পর্কে অবগত ছিল, সে যখন এই অবস্থার কথা চিন্তা করত, তখন পরিতাপে তার হৃদয় ফেটে যেত। এর পাশাপাশি ছিল সালাতের প্রতি তাদের অবহেলো, বিশেষ করে জুমুআ ও জামাআতের ক্ষেত্রে, এবং অনেক অপকর্ম ও গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়া। আর যদি এমন কাউকে পাওয়া যেত যে এসব পথভ্রষ্টতা ও মৃতদের ইবাদতের প্রতিবাদ করত, তবে তারা সবাই মিলে একযোগে তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যেত। তারা তাকে কাফির বলত, পথভ্রষ্ট আখ্যা দিত, মারধর করত এবং সে যদি মুসাফির বা বহিরাগত হতো তবে তাকে দেশ থেকে বের করে দিত। তারা মানুষের মধ্যে রটিয়ে দিত যে, এই ব্যক্তি নিজে পথভ্রষ্ট এবং অন্যকে পথভ্রষ্টকারী; সাবধান! তোমরা তার কথা শুনো না এবং তার উপদেশের দ্বারা প্রভাবিত হয়ো না। যেমনটি মিশরে আগত তুর্কি ওয়ায়েজের (ধর্মোপদেশক) কাহিনীতে ঘটেছে, যা জাবারতি উল্লেখ করেছেন। তাঁর কাহিনীর সারসংক্ষেপ হলো, তিনি মানুষকে সাহায্য প্রার্থনা, কবর তাওয়াফ করা, মানত করা এবং শিরকপূর্ণ দোয়া থেকে সতর্ক করতে শুরু করেছিলেন। ফলে তারা তাঁর বিরুদ্ধে চড়াও হয়, তাঁকে কষ্ট দেয় এবং মারধর করে। এরপর তাঁর ও তাদের মধ্যে ফয়সালার জন্য বিচারকের কাছে বিচার প্রার্থনা করা হয়। যদিও বিচারক সেই ওয়ায়েজের পক্ষ সমর্থন করেছিলেন, কিন্তু তারা তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। তারা শাসকের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে এই বলে চক্রান্ত ও পরনিন্দা করল যে, তিনি একজন পথভ্রষ্ট বিদআতী। ফলে শাসক তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করলেন। অথচ অনেক সাধারণ মানুষ তাঁকে ভালোবাসত এবং তারা বুঝতে পেরেছিল যে সেই ওয়ায়েজ যা বলছেন তা-ই সঠিক তাওহীদ এবং মহান ইসলাম। আমাদের যুগেও অনেক জনপদে অবস্থা এমনই যে, যখনই তারা আপনার মুখ থেকে তাদের সেই বাতিল বিশ্বাস ও ভ্রান্ত মতামতের পরিপন্থী কোনো কথা শোনে, অমনি তারা শোরগোল শুরু করে এবং বলে: এ তো একজন ওহাবী, একে বের করে দাও।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ١٤)
من مسجدنا، وأخرجوه من قريتنا، وعند كثير من الهنود والباكستانيين المتأثرين بعاداتهم الموروثة وتقاليد مشايخهم الضالين، النفور عن هذه الدعوة السلفية الصحيحة بحجة أن هؤلاء السلفيين وهابيون.

وازن الشيخ تلك الأفعال المنكرة بميزان الوحيين، كتاب الله المبين، وسنة الرسول الأمين صلى الله عليه وسلم وأصحابه المتقين، فرآهم في بعد عن منهج الدين وروحه، ورآهم لا يعرفون للتوحيد معنى ولا يقيمون للدين الصحيح وزنا، وكل ما هنالك من دينهم هو مجموع طقوس توارثوها عن آبائهم وأشياخهم من بعض العبادات والدعوات الممزوجة بالشرك والضلال، ونداء غير ذي الجلال، وكان الشيخ رحمه الله قد ألهمه الله تعالى فهما ثاقبا وإيمانا راسخا وعلما جما وأخلاقا كريمة، فصمم على إعلان الدعوة لتوحيد الله وإفراده بالعبادة وترك تلك المحدثات والبدع والضلالات وأنواع الشرك بالله، فأخذ يدعو الناس إلى العقيدة الصحيحة المبنية على الكتاب والسنة وإلى الأعمال الصالحة المستمدة من الوحيين، وبين له أن توحيد الربوبية الذي يعترفون به لا يدخل الإنسان في دين الإسلام، ولا يعصم دمه وماله، ولا ينجيه في الآخرة من النار، إلا إذا أتى معه بتوحيد الألوهية، لأن الله أخبر عن المشركين أنهم يعتقدون بتوحيد الربوبية ولكن لم يفدهم، قال الله تعالى {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لا يَعْلَمُونَ} 1، وهناك آيات كثيرة في توحيد الربوبية واعتراف المشركين به. كقوله تعالى {قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَمَّنْ يَمْلِكُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَمَنْ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَمَنْ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ فَسَيَقُولُونَ اللَّهُ فَقُلْ أَفَلا تَتَّقُونَ} 2

--------------------------------------------

1 لقمان الآية 25

2 يونس الآية 31
আমাদের মসজিদ থেকে, এবং তারা তাকে আমাদের গ্রাম থেকে বের করে দিয়েছে। অনেক ভারতীয় ও পাকিস্তানি—যারা তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অভ্যাস এবং তাদের পথভ্রষ্ট মাশায়েখদের ঐতিহ্যের দ্বারা প্রভাবিত—তাদের কাছে এই সঠিক সালাফি দাওয়াতের প্রতি বিরাগ রয়েছে এই অজুহাতে যে, এই সালাফিরা হলো ওহাবি।

শায়খ সেই সকল গর্হিত কাজসমূহকে ওহীদ্বয়ের মানদণ্ডে ওজন করেছেন—যা হলো আল্লাহর সুস্পষ্ট কিতাব এবং বিশ্বস্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর মুত্তাকী সাহাবীগণের সুন্নাহ। অতঃপর তিনি তাদেরকে দ্বীনের মানহাজ ও এর রূহ (প্রাণসত্তা) থেকে দূরে দেখতে পেলেন। তিনি দেখলেন যে, তারা তাওহীদের মর্মার্থ জানে না এবং সঠিক দ্বীনের কোনো গুরুত্ব দেয় না। তাদের দ্বীনের সবটুকুই হলো কতগুলো আনুষ্ঠানিকতার সমষ্টি, যা তারা তাদের পিতৃপুরুষ ও পীরদের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছে; যার মধ্যে রয়েছে শিরক ও ভ্রষ্টতায় মিশ্রিত কিছু ইবাদত ও প্রার্থনা এবং মহিমাময় আল্লাহ ব্যতিত অন্যের কাছে আহ্বান। আল্লাহ তাআলা শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে তীক্ষ্ণ প্রজ্ঞা, সুদৃঢ় ঈমান, অগাধ ইলম এবং মহৎ চরিত্র দান করেছিলেন। তাই তিনি আল্লাহর তাওহীদের দাওয়াত প্রচার করার, ইবাদতকে একমাত্র তাঁর জন্য নির্দিষ্ট করার এবং সেই সকল নব আবিষ্কৃত বিষয়, বিদআত, পথভ্রষ্টতা ও আল্লাহর সাথে বিভিন্ন প্রকার শিরক বর্জনের সংকল্প করলেন। অতঃপর তিনি মানুষকে কিতাব ও সুন্নাহর উপর ভিত্তি করে সঠিক আকিদাহর দিকে এবং ওহীদ্বয় থেকে উৎসারিত নেক আমলের দিকে দাওয়াত দিতে শুরু করলেন। তিনি তাদের কাছে স্পষ্ট করলেন যে, তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ—যা তারা স্বীকার করে—তা কোনো মানুষকে ইসলাম ধর্মে দাখিল করে না, তার রক্ত ও মালকে নিরাপদ করে না এবং আখিরাতে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয় না, যতক্ষণ না সে এর সাথে তাওহীদে উলুহিয়্যাহ গ্রহণ করে। কেননা আল্লাহ মুশরিকদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা তাওহীده রুবুবিয়্যাহর বিশ্বাস পোষণ করত, কিন্তু তা তাদের কোনো উপকারে আসেনি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহর। বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।} ১। তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ এবং এতে মুশরিকদের স্বীকৃতির বিষয়ে আরও অনেক আয়াত রয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলুন, কে তোমাদের আসমান ও জমিন থেকে রিযিক দান করেন? অথবা কে শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির মালিক? আর কে জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন এবং মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন? আর কে সকল বিষয় পরিচালনা করেন? তখন তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। সুতরাং বলুন, তবে কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?} ২

--------------------------------------------

১ লোকমান, আয়াত ২৫

২ ইউনুস, আয়াত ৩১
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ١٥)
توحيد الألوهية

أما توحيد الألوهية، ويقال له توحيد العبادة: وهو إفراد الله بالعبادة، لأنه المستحق لأن يعبد لا سواه مهما سمت درجته وعلت منزلته.

توحيد الربوبية

وتوحيد الربوبية هو أن تفرد الله بأفعاله كالاعتقاد بأنه الخالق الرازق المحيي المميت.

وتوحيد الألوهية هو التوحيد الذي جاءت به الرسل إلى أممهم، لأن الرسل عليهم السلام جاؤوا بتقرير الربوبية الذي كانت أممهم تعتقده، ودعوتهم إلى توحيد الألوهية، كما أخبر الله عنهم في كتابه المجيد.

قال الله تعالى مخبرا عن نوح عليه السلام {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحاً إِلَى قَوْمِهِ إِنِّي لَكُمْ نَذِيرٌ مُبِينٌ أَنْ لا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ أَلِيمٍ} 1 وقال عن هود {وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُوداً قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا مُفْتَرُونَ} 2، وقال عن صالح {وَإِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحاً قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 3، وقال الله عن شعيب {وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْباً قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 4، وقال الله مخبرا عن موسى عليه السلام في محاجاته مع فرعون {قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ قَالَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ مُوقِنِينَ} 5 الخ الآيات من سورة الشعراء.

--------------------------------------------

1 هود الآية 25-26

2 هود الآية 50

3 هود الآية 61

4 هود الآية 84

5 الشعراء الآية 23-24
উলুহিয়্যাতের তাওহীদ

পক্ষান্তরে উলুহিয়্যাতের তাওহীদ, যাকে ইবাদতের তাওহীদও বলা হয়: তা হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক গণ্য করা। কেননা তিনিই ইবাদত পাওয়ার একমাত্র যোগ্য, তিনি ছাড়া আর কেউ নয়—তার মর্যাদা যত সুউচ্চই হোক না কেন এবং তার স্থান যত মহানই হোক না কেন।

রুবুবিয়্যাতের তাওহীদ

আর রুবুবিয়্যাতের তাওহীদ হলো আল্লাহর কার্যাবলীর ক্ষেত্রে তাঁকে একক গণ্য করা। যেমন—এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, তিনিই স্রষ্টা, রিযিকদাতা, জীবনদানকারী ও মৃত্যুদানকারী।

আর উলুহিয়্যাতের তাওহীদই হলো সেই তাওহীদ যা নিয়ে রাসূলগণ তাঁদের উম্মতদের কাছে এসেছিলেন। কেননা রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) এসেছিলেন রুবুবিয়্যাতের স্বীকৃতির সাথে, যা তাঁদের উম্মতরা বিশ্বাস করত, এবং তাঁদের দাওয়াত ছিল উলুহিয়্যাতের তাওহীদের প্রতি, যেমনটি আল্লাহ তাঁর সুমহান কিতাবে তাঁদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন।

মহান আল্লাহ নূহ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেন: {আর আমি অবশ্যই নূহকে তার সম্প্রদায়ের নিকট পাঠিয়েছি। (সে বলেছিল,) নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী। যেন তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত না করো। নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের শাস্তির ভয় করছি।} ১ এবং হুদ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বলেন: {আর আ'দ সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ভাই হুদকে পাঠিয়েছি। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই। তোমরা তো কেবল মিথ্যা রটনাকারী।} ২, এবং সালিহ সম্পর্কে বলেন: {আর সামুদ সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছি। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই।} ৩, এবং শুয়াইব সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: {আর মাদইয়ানবাসীদের কাছে তাদের ভাই শুয়াইবকে পাঠিয়েছি। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই।} ৪, এবং মূসা (আলাইহিস সালাম) ফেরাউনের সাথে বিতর্কের সময় কী বলেছিলেন সে সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে আল্লাহ বলেন: {ফেরাউন বলল, আর জগতসমূহের প্রতিপালক কে? মূসা বলল, তিনি আসমানসমূহ ও যমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও।} ৫ সূরা আশ-শুআরা থেকে আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

--------------------------------------------

১ হুদ আয়াত ২৫-২৬

২ হুদ আয়াত ৫০

৩ হুদ আয়াত ৬১

৪ হুদ আয়াত ৮৪

৫ আশ-শুআরা আয়াত ২৩-২৪
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ١٦)
ولما قام الشيخ بالدعوة برفق ولين متبعا قوله تعالى {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} 1 وكان ذاك في بلدة حريملاء، وبين لهم أن لا يدعى إلا الله، ولا يذبح إلا لله، وأن عقيدتهم في تلك القبور والأحجار والأشجار من الاستغاثة بها وصرف النذور إليها واعتقاد النفع والضر منها ضلال وزور، وعزز كلامه بآيات من كتاب الله المجيد وأقوال الرسول صلى الله عليه وسلم وأفعاله وسيرة أصحابه.

وقع بينه وبين الناس نزاع وجدال، فاستمر الشيخ يدعو بلسانه وقلمه وإرشاده، وتبعه ناس من أهل البلدة، وكان في تلك البلدة قبيلتان، وكل يدعي الزعامة، وليس هناك من يحكم الجميع ويأخذ حق الضعيف ويردع السفيه، وكان لإحدى القبيلتين عبيد يأتون بكل منكر وفساد، فصمم الشيخ على منعهم وردعهم، ولما أحس أولئك الأرقاء بما صمم عليه الشيخ، عزموا أن يفتكوا به خفية، فتسوروا عليه من وراء الجدار فشعر بهم بعض الناس فصاحوا بهم وهربوا.

--------------------------------------------

1 سورة النحل الآية 125.
যখন শাইখ মহান আল্লাহর বাণী— {আপনি আপনার রবের পথে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন} ১ —অনুসরণ করে অত্যন্ত নম্রতা ও কোমলতার সাথে দাওয়াতের কাজ শুরু করলেন, আর এটি ছিল হুরায়মিলা জনপদে; তিনি তাদের নিকট স্পষ্ট করে দিলেন যে, আল্লাহ ব্যতীত কাউকে ডাকা যাবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত আর কারও উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করা যাবে না। আর ওই সকল কবর, পাথর ও বৃক্ষ থেকে সাহায্য প্রার্থনা করা, সেগুলোর উদ্দেশ্যে মানত পেশ করা এবং সেগুলো থেকে উপকার বা অপকারের বিশ্বাস পোষণ করা যে পথভ্রষ্টতা ও মিথ্যাচার, তা তিনি পরিষ্কার করলেন। তিনি মহান আল্লাহর কিতাবের আয়াতসমূহ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী ও কর্ম এবং তাঁর সাহাবীদের জীবনীর মাধ্যমে নিজের বক্তব্যকে সুদৃঢ় করেন।

তাঁর ও মানুষের মাঝে বিবাদ ও বিতর্ক সৃষ্টি হলো, কিন্তু শাইখ তাঁর বক্তব্য, লেখনী ও নির্দেশনার মাধ্যমে দাওয়াত অব্যাহত রাখলেন এবং ওই জনপদের কিছু লোক তাঁর অনুসরণ করল। সেই জনপদে দু’টি গোত্র ছিল এবং প্রত্যেকেই নেতৃত্বের দাবিদার ছিল। সেখানে এমন কেউ ছিল না যে সকলের উপর শাসন পরিচালনা করবে, দুর্বলের অধিকার আদায় করবে কিংবা নির্বোধদের দমন করবে। একটি গোত্রের কিছু দাস ছিল যারা সকল প্রকার অন্যায় ও ফাসাদে লিপ্ত হতো। শাইখ তাদের প্রতিহত ও দমন করার দৃঢ় সংকল্প করলেন। যখন ওই দাসরা শাইখের সংকল্পের কথা টের পেল, তখন তারা গোপনে তাঁকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করল। তারা দেয়াল টপকে তাঁর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু কিছু মানুষ তাদের দেখে ফেলল এবং চিৎকার শুরু করল, ফলে তারা পালিয়ে গেল।

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নাহল, আয়াত ১২৫।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ١٧)
انتقال الشيخ من العيينة إلى الدرعية

عندما غادر الشيخ حريملاء إلى العيينة مسقط رأسه وموطن آبائه، ثم انتقل من العيينة إلى الدرعية عام 1158هـ، ونزل ضيفا على عبد الرحمن بن سويلم وابن عمه أحمد بن سويلم، وأخذ الشيخ يدعو إلى التوحيد، ويفد الناس عليه من القرى والبلدان، وكثر الوافدون ليرتووا من مناهله العلمية العذبة الصافية النقية، وذلك بعد أن اتفق الشيخ مع محمد بن سعود أمير الدرعية، وبايعه الأمير على الدعوة إلى الله والجهاد في سبيل الله، والتمسك بسنة رسول الله والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وإقامة الشعائر الدينية والحدود الشرعية، ولما اشتهر الشيخ بدعوته الإصلاحية وكثر لديه طلاب العلوم من كثير من القرى المجاورة، أخذ الشيخ بعد ذلك يراسل رؤساء البلدان النجدية وقضاتهم ومن كان ينتسب إلى العلم منهم، ويطلب منهم الطاعة والانقياد ونبذ الشرك والعناد.

فمنهم من أطاعه ومنهم من عصاه واتخذه سخريا واستهزأ به ونسبه إلى الجهل وعدم المعرفة، ومنهم من زعم أنه أتى بمذهب خامس جديد، ومن هنا ألصقوا به كثيرا من التهم التي هو بريء منها، ثم لم يأل جهدا العلماء المتجرون بالدين وخائنوا العلم أن زوروا عليه ما زوروا عليه من تلك الافتراءات الباطلة والمبادئ الضالة، لأسباب عديدة منها أن طفق بعض النجديين المخالفين للشيخ يكتب إلى الأتراك وإلى الأشراف في الحجاز، أن هذا الشيخ مبتدع وأتى بمذهب خامس، ولا يحب الرسول ولا الأولياء ويهدم قباب المشايخ والأولياء الكبار، تلك القباب التي أجمع على تعظيمها والتبرك بها المسلمون، وأن قعود الدولة عن رد هؤلاء المعتدين يذهب بهيبتها من نفوس المسلمين، ويحط من مكانتها عندهم، وما زالوا بالدولة العثمانية يستنصرون بقوتها وجيشها، ويستفزون ملوكها وعلماءها بأساليب الخداع وأنواع
শেখ কর্তৃক উয়ায়না থেকে দিরিয়ায় স্থানান্তর

শেখ যখন হুরয়াইমিলা ত্যাগ করে তাঁর জন্মস্থান ও পিতৃপুরুষের আবাসভূমি উয়ায়নায় গমন করেন, অতঃপর ১১৫৮ হিজরি সনে উয়ায়না থেকে দিরিয়ায় স্থানান্তরিত হন এবং আব্দুর রহমান ইবনে সুওয়াইলাম ও তাঁর চাচাতো ভাই আহমদ ইবনে সুওয়াইলামের মেহমান হিসেবে অবস্থান করেন, তখন শেখ তাওহিদের দাওয়াত দিতে শুরু করেন। বিভিন্ন গ্রাম ও জনপদ থেকে মানুষ তাঁর নিকট আসতে থাকে এবং তাঁর স্বচ্ছ, বিশুদ্ধ ও সুমিষ্ট ইলমের ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান আহরণকারীদের ভিড় বাড়তে থাকে। এটি দিরিয়ার আমির মুহাম্মদ বিন সাউদের সাথে শেখের চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর ঘটেছিল। আমির আল্লাহর পথে দাওয়াত ও জিহাদ, রাসূলুল্লাহর সুন্নাহ অনুসরণ, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এবং ধর্মীয় নিদর্শনসমূহ ও শরয়ি দণ্ডবিধি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাঁর নিকট বাইআত গ্রহণ করেন। যখন শেখ তাঁর সংস্কারবাদী দাওয়াতের মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো থেকে প্রচুর ইলম অন্বেষণকারী তাঁর নিকট সমবেত হয়, তখন শেখ নজদীয় অঞ্চলের প্রধানদের, তাদের বিচারপতিদের এবং যারা নিজেদের ইলমের সাথে সম্পৃক্ত করত, তাদের নিকট পত্র লিখতে শুরু করেন। তিনি তাদের নিকট আনুগত্য ও বশ্যতা এবং শিরক ও হঠকারিতা বর্জনের আহ্বান জানান।

তাদের মধ্যে কেউ তাঁর আনুগত্য করল, আবার কেউ তাঁর অবাধ্য হলো এবং তাঁকে উপহাস ও বিদ্রূপের লক্ষ্যবস্তু বানাল। তারা তাঁকে অজ্ঞতা ও জ্ঞানহীনতার দোষে দুষ্ট করল। তাদের কেউ কেউ দাবি করল যে, তিনি একটি নতুন পঞ্চম মাযহাব নিয়ে এসেছেন। এখান থেকেই তারা তাঁর ওপর এমন অনেক অপবাদ লেপন করল যা থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন। এরপর ধর্ম ব্যবসায়ী আলেম এবং ইলমের খেয়ানতকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অপবাদ ও ভ্রান্ত মতবাদ জাল করতে কোনো কসুর করল না। এর নানাবিধ কারণ ছিল, যার মধ্যে অন্যতম হলো শেখের বিরোধী কিছু নজদীয় ব্যক্তি তুর্কি ও হিজাজের আশরাফদের নিকট এই মর্মে পত্র লিখতে শুরু করে যে, এই শেখ একজন বিদআতি এবং তিনি একটি পঞ্চম মাযহাব নিয়ে এসেছেন। তিনি রাসূল ও ওলিদের ভালোবাসেন না এবং তিনি পীর ও মহান ওলিদের সেই গম্বুজসমূহ (মাজার) ধ্বংস করছেন, যেগুলোকে সম্মান করা ও যেখান থেকে বরকত গ্রহণ করার বিষয়ে মুসলমানরা ঐকমত্য পোষণ করেছে। তারা আরও বলল যে, এই সীমালঙ্ঘনকারীদের দমনে রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা মুসলমানদের অন্তর থেকে রাষ্ট্রের প্রভাব ও প্রতিপত্তি নষ্ট করে দিচ্ছে এবং তাদের নিকট রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে। তারা উসমানীয় সালতানাতের নিকট তাদের শক্তি ও সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সাহায্য চাইতে থাকে এবং প্রতারণাপূর্ণ নানাবিধ পন্থায় সেখানকার রাজা ও আলেমদের উত্তেজিত করতে থাকে।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ١٨)
الإغراء، بأنها حامية الحرمين الشريفين وحامية الإسلام، وأوغروا صدر الدولة على دعوة الشيخ، وشوهوا وجهها الجميل، حتى بلغ به الوقاحة وقلة الحياء والإيمان، إلى حد أن زعموا أن السعوديين النجديين لا يقولون في الأذان "أشهد أن محمدا رسول الله" بل يقولون "محد رسول الله" بحذف الميم، تنفيرا للأتراك من خصومهم، وإنهم يعلمون حق العلم أن هذا كذب وزور.

وأخيرا انخدعت الدولة العثمانية بأولئك المفترين، ولا سيما عندما رأت أن الدولة السعودية بسطت نفوذها على نجد وامتد إلى عمان، وأخذت تغزو العراق بعد فتح آل سعود مكة المكرمة سنة 1218هـ، فعندئذ أمرت الدولة محمد علي باشا والي مصر أن يحارب النجديين، فنفذ ما أمره السلطان وجرى ما جرى مما قصه التاريخ وأوعزوا إلى بعض العلماء من الأكالين باسم الدين أن يؤلفوا ضد الشيخ وأتباعه. أو تبرعوا بتلك الكتابات إرضاء لنفوسهم الأمارة بالسوء وإبقاء لرئاستهم على العوام.

هكذا فعلت الأشراف بعد أن اندحروا ودخل السعوديون مكة المكرمة، فألف مأجورو الترك والأشراف كتبا، شحنوها بالأكاذيب والترهات وحشوها بالأحاديث الموضوعة والضعيفة، والحكايات السمجة ضد الدعوة السلفية، وزعموا أن الشيخ مبتدع خارجي، حتى أن "زيني دحلان" نزل الأحاديث الواردة في الخوارج على الشيخ وأتباعه في كتابه "الدرر السنية" وفي "الفتوحات الإسلامية"1 فعلوا كل ذلك تنفيرا للناس، كيلا يتبعوا الشيخ الجليل، ويعتنقوا مبدأه الصحيح.

--------------------------------------------

1 إبقاء لمركزه المرموق إذ ذاك في مكة المكرمة وإرضاء للأشراف، لأن الأشراف رأوا أن دعوة الشيخ خطر عليهم ومخالفة لعقائدهم التي منها تعظيم الأشراف أحياء وأمواتا، ومنها تشييد القباب على قبورهم وشد الرحال إليها لأجل طلب قضاء حوائج الزائرين الطالبين. انظر كلام زيني دحلان في الفتوحات المكية –ج2-ص 257-266 لتقرأ الكذب والضلال.
প্রলোভন দেখিয়ে তারা দাবি করেছিল যে তারা হারামাইন শরিফাইনের রক্ষক এবং ইসলামের রক্ষক। তারা শায়খের দাওয়াতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে উত্তেজিত করেছিল এবং এর সুন্দর রূপকে বিকৃত করেছিল। এমনকি ধৃষ্টতা, নির্লজ্জতা এবং ঈমানের স্বল্পতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তারা দাবি করেছিল—নজদী সৌদিরা আজানে "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল" বলে না, বরং তুর্কিদের তাদের প্রতি বিমুখ করার জন্য 'মীম' বর্ণটি বাদ দিয়ে "মুহাদ আল্লাহর রাসূল" বলে। অথচ তারা ভালো করেই জানত যে এটি ডাহা মিথ্যা ও অপবাদ।

পরিশেষে উসমানীয় রাষ্ট্র সেই মিথ্যাবাদীদের দ্বারা প্রতারিত হয়েছিল, বিশেষ করে যখন তারা দেখল যে সৌদি রাষ্ট্র নজদে তার প্রভাব বিস্তার করেছে এবং তা ওমান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং ১২১৮ হিজরিতে আল-সৌদ কর্তৃক মক্কা মোকাররমা বিজয়ের পর ইরাকে অভিযান শুরু করেছে। তখন রাষ্ট্র মিসরের গভর্নর মুহাম্মদ আলী পাশাকে নজদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ দেয়। সুলতান তাকে যা আদেশ করেছিলেন তিনি তা বাস্তবায়ন করেন এবং ইতিহাসে বর্ণিত ঘটনাবলী সংঘটিত হয়। তারা ধর্মের নামে অর্থলিপ্সু কিছু আলেমকে শায়খ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে গ্রন্থ রচনা করতে প্ররোচিত করেছিল। অথবা তারা তাদের কুপ্রবৃত্তিকে সন্তুষ্ট করতে এবং সাধারণ মানুষের ওপর তাদের নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখতে স্বেচ্ছায় সেই সব লেখা লিখেছিল।

আশরাফরা পরাজিত হওয়ার পর এবং সৌদিরা মক্কা মোকাররমায় প্রবেশ করার পর এভাবেই আচরণ করেছিল। তখন তুর্কি ও আশরাফদের ভাড়াটে লেখকরা এমন কিছু বই লিখেছিল যা মিথ্যা ও অসার কথায় পরিপূর্ণ ছিল এবং সেগুলোতে জাল ও দুর্বল হাদিস এবং সালাফি দাওয়াতের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ গল্প ঠাসা ছিল। তারা দাবি করেছিল যে শায়খ একজন বিদআতি খারেজি, এমনকি "জাইনি দাহলান" তার "আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ" এবং "আল-ফুতুহুল ইসলামিয়্যাহ" গ্রন্থে খারেজিদের সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলো শায়খ ও তার অনুসারীদের ওপর প্রয়োগ করেছিলেন। তারা এসব করেছিল মানুষকে বিমুখ করার জন্য, যাতে তারা এই মহান শায়খকে অনুসরণ না করে এবং তার সঠিক আদর্শ গ্রহণ না করে।

--------------------------------------------

১. সেই সময়ে মক্কা মোকাররমায় তার মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখতে এবং আশরাফদের সন্তুষ্ট করার জন্য; কারণ আশরাফরা মনে করত যে শায়খের দাওয়াত তাদের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং তাদের আকিদার পরিপন্থী। তাদের আকিদার অন্তর্ভুক্ত ছিল জীবিত ও মৃত আশরাফদের অতি-সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাদের কবরের ওপর গম্বুজ নির্মাণ করা এবং হাজত পূরণের উদ্দেশ্যে সেখানে সফর করা। মিথ্যা ও পথভ্রষ্টতা সম্পর্কে জানতে আল-ফুতুহাতুল মাক্কিয়্যাহ-এর ২য় খণ্ড, ২৫৭-২৬৬ পৃষ্ঠায় জাইনি দাহলানের বক্তব্য দেখুন।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ١٩)
ومن الأسباب أيضا أن الكثيرين من أولئك الذين سموهم العلماء زورا وبهتانا، كانوا يترأسون على العوام ويأكلون منهم الحطام، ويروجون بين الأنام الدعاية الضالة لتلك القبور المشيدة والقباب المزخرفة من الكرامات المختلقة والدرجات العالية، وخافوا من انتشار هذه الدعوة السلفية الصحيحة أن يفهم الناس حقائق الدين والتوحيد، وأن تكون النتيجة زوال رئاستهم وما كانوا يأكلون من تلك النذور والأوقاف، وما يتقرب به الجهلة العوام إلى تلك القبور، وأولئك كانوا يأكلونها باسم السدانة والمحافظة على القبور المقببة، وتفهيم الزوار آداب الزيارة وكيف يدعون الولي، وكيف يطلبون منه قضاء حوائجهم، وكيف يطوفون حوله وكيف يدخلون ويخرجون، وعندما علموا أن هذه الدعوة مآلها إن انتشرت، وفهم الناس حقيقتها القضاء على رئاستهم وظهور جهلهم للناس، وأنهم كانوا ضالين ومضلين.

أخذوا عند ذاك يذيعون وينشرون بين الناس، ويختلقون مثالب وقوادح في الشيخ وأتباعه، بل وقد يكتبون تنفيرا للناس عن الدخول في هذا التوحيد الذي كاد أن يقضي عليه علماء السوء وجهل أكثر العوام.

ومن الأسباب: أن بعض العلماء لم يعرف حقيقة ما جاء به الشيخ محمد بن عبد الوهاب، وإنما قلد بعض من سمع منه أو قرأ له كتابا في الانتقاد على الشيخ، أو سمع من بعض العوام أنه لا ينتفي لعالم أن يكتب عن عالم، أو ينسب إليه مذهبا أو قولا قبل أن يتحقق لديه ذلك القول المنسوب بالوقوف على كتابه الذي فيه ذلك القول المضاف إليه ومنها داء الحسد.

وإذ فهم القارئ أو السامع ما ذكرته عن دعوة الشيخ وموقف خصومه وإلصاقه بتلك التهم التي لا نصيب لها من الصحة، فمن الجدير بي أن أنقل للقارئ عقيدة الشيخ وأتباعه كما كان عليه السلف الصالح فهاكم البيان:
আরও একটি কারণ হলো, যাদেরকে মিথ্যা ও অপবাদের ভিত্তিতে 'আলেম' নাম দেওয়া হয়েছিল, তাদের অনেকেই সাধারণ মানুষের ওপর নেতৃত্ব দিত এবং তাদের থেকে পার্থিব তুচ্ছ সম্পদ ভক্ষণ করত। তারা মানুষের মাঝে সেসব পাকা কবর ও সুসজ্জিত গম্বুজ সম্পর্কে বানোয়াট কারামত ও উচ্চ মাকামের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ছড়িয়ে দিত। তারা এই সঠিক সালাফি দাওয়াত ছড়িয়ে পড়ার ভয় পেত যে, মানুষ যদি দ্বীন ও তাওহীদের প্রকৃত স্বরূপ বুঝে ফেলে, তবে তার ফলাফল হবে তাদের নেতৃত্বের অবসান এবং সেসব মানত ও ওয়াকফ থেকে তারা যা ভক্ষণ করত তার পরিসমাপ্তি। মূর্খ সাধারণ মানুষ সেসব কবরের নৈকট্য লাভের জন্য যা কিছু নিবেদন করত, তারা মাজারের খাদেম বা গম্বুজবিশিষ্ট কবরের রক্ষণাবেক্ষণকারী পরিচয়ে সেগুলো ভোগ করত। তারা জিয়ারতকারীদের জিয়ারতের শিষ্টাচার শেখাত এবং কীভাবে অলির কাছে দোয়া করতে হয়, কীভাবে তাঁর কাছে নিজেদের প্রয়োজন পূরণের প্রার্থনা করতে হয়, কীভাবে তাঁর চারপাশ তাওয়াফ করতে হয় এবং কীভাবে প্রবেশ ও বের হতে হয়—এসব শিক্ষা দিত। যখন তারা বুঝতে পারল যে, এই দাওয়াত ছড়িয়ে পড়লে এবং মানুষ এর প্রকৃত রূপ অনুধাবন করলে তাদের নেতৃত্বের অবসান ঘটবে এবং মানুষের কাছে তাদের মূর্খতা প্রকাশ পেয়ে যাবে যে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট ছিল এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করছিল।

তখন তারা মানুষের মাঝে অপপ্রচার ও কুৎসা রটনা শুরু করল এবং শায়খ ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে নানা দোষত্রুটি ও অপবাদ উদ্ভাবন করতে লাগল। এমনকি তারা মানুষকে এই তাওহীদ থেকে বিমুখ করার জন্য নানা কিছু লিখতে শুরু করল, যে তাওহীদকে একদল অসৎ আলেম এবং অধিকাংশ সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা প্রায় মিটিয়েই দিয়েছিল।

অন্যান্য কারণের মধ্যে রয়েছে: কিছু আলেম শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের আনীত দাওয়াতের প্রকৃত স্বরূপ জানতেন না। বরং তারা শায়খের সমালোচনা করে লেখা কোনো বই পড়ে বা কারও থেকে শুনে কেবল তাদের অন্ধ অনুসরণ করেছেন। অথচ কোনো আলেমের পক্ষে অন্য কোনো আলেম সম্পর্কে কিছু লেখা বা তাঁর দিকে কোনো মতবাদ বা উক্তি আরোপ করা সমীচীন নয়, যতক্ষণ না তিনি সেই আলেমের নিজস্ব কিতাব পড়ার মাধ্যমে উক্ত বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর পেছনে অন্যতম কারণ ছিল হিংসার ব্যাধি।

শায়খের দাওয়াত, তাঁর বিরোধীদের অবস্থান এবং তাঁর ওপর আরোপিত ভিত্তিহীন অপবাদসমূহ সম্পর্কে আমি যা উল্লেখ করেছি, পাঠক বা শ্রোতা যখন তা বুঝতে পারবেন, তখন পাঠকের সামনে শায়খ ও তাঁর অনুসারীদের সেই আকীদা বর্ণনা করা আমার জন্য সংগত হবে, যা সালাফে সালেহীন বা পূর্বসূরি পুণ্যবানগণের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। অতএব, এখানে সেই বর্ণনা উপস্থাপন করা হলো:
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢٠)
عقيدة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وجميع النجديين

عقيدته كعقيدة السلف الصالح، على ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه والتابعون والأئمة المهتدون، كأبي حنيفة ومالك والشافعي وأحمد وسفيان الثوري وابن عيينة وابن المبارك والبخاري ومسلم وأبي داود، وسائر أهل السنن وأمثالهم ممن تبعهم من أهل الفقه والأثر كالأشعري وابن خزيمة وتقي الدين بن تيمية وابن القيم والذهبي رحمهم الله.

يعتقد أن الله واحد أحد، فرد صمد، لا شريك له ولا مثيل ولا وزير ولا مشير، لم يتخذ صاحبة ولا ولدا، عالم بكل شيء ما كان وما يكون وما لم يكن، لو كان كيف يكون، قادر على كل شيء، لا يعجزه شيء بل هو الفعال لما يريد، ويثبت جميع صفات الله العليا، وأسمائه الحسنى، كما نطق الكتاب، وجاءت به السنة الصحيحة من صحة العلم والسمع والبصر والقدرة والإرادة، والكلام والاستواء على العرش، والنزول كل ليلة إلى سماء الدنيا، وسائر الصفات الذاتية والفعلية والخبرية.

يؤمن بها، ويمرها كما جاءت من غير تحريف ولا تعطيل ومن غير تكييف ولا تمثيل.

توحيد العبادة والربوبية:

يعتقد بأن الله هو القوي القادر الخالق الرازق المحيي المميت.

يؤمن بأن يفرد ربنا بالعبادة، ولا يشرك به أحد لا ملك مقرب ولا نبي مرسل.

ويبرأ من عبادة ما سواه كائنا ما كان، وهذه هي الحكمة: التي خلق الله لأجلها الجن والإنس وأرسلت لها الرسل وأنزلت بها الكتب.

ويبرأ من عبادة الأحجار والأشجار والصالحين الأخيار.
শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব এবং সকল নজদীবাসীর আকীদা

তাঁর আকীদা হলো সালাফে সালেহীনের আকীদার অনুরূপ, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণের পদাঙ্ক অনুসৃত; যেমন আবু হানীফা, মালিক, শাফিয়ী, আহমাদ, সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল উয়াইনাহ, ইবনুল মুবারক, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ এবং অন্যান্য সুনান সংকলকগণ ও তাঁদের অনুসারী ফিকহ ও আসার (রেওয়ায়েত) বিশারদগণ যেমন আশআরী, ইবনে খুযাইমাহ, তাকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়্যিম এবং যাহাবী (রাহিমাহুমুল্লাহ)।

তিনি বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, অভাবমুক্ত ও স্বনির্ভর সত্তা, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, কোনো সদৃশ নেই, কোনো উযীর বা পরামর্শদাতা নেই। তিনি কোনো স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেননি। যা কিছু হয়েছে, যা হচ্ছে এবং যা হয়নি—যদি হতো তবে তা কেমন হতো—সেই সব বিষয়ে তিনি সম্যক পরিজ্ঞাত। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান, কোনো কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না, বরং তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন। তিনি আল্লাহর জন্য তাঁর সকল সুউচ্চ গুণাবলী এবং সুন্দর নামসমূহ সাব্যস্ত করেন, যেভাবে কিতাব ব্যক্ত করেছে এবং সহীহ সুন্নাহয় এসেছে; যেমন—জ্ঞান, শ্রবণ, দৃষ্টি, ক্ষমতা, ইচ্ছা, কথা বলা, আরশের ওপর উঠা, প্রতি রাতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করা এবং অন্যান্য সকল সত্তাগত, কর্মগত ও সংবাদনির্ভর গুণাবলী।

তিনি এগুলোর ওপর ঈমান রাখেন এবং যেভাবে এসেছে সেভাবেই বহাল রাখেন; কোনো বিকৃতি ও অর্থহীনকরণ এবং ধরন নির্ধারণ ও সাদৃশ্য প্রদান ব্যতিরেকে।

ইবাদত ও রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ:

তিনি বিশ্বাস করেন যে আল্লাহ হলেন মহাশক্তিশালী, ক্ষমতাবান, স্রষ্টা, রিযিকদাতা, জীবনদাতা ও মৃত্যুদানকারী।

তিনি বিশ্বাস করেন যে একমাত্র আমাদের প্রতিপালককেই ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করতে হবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করা যাবে না—না কোনো নিকটবর্তী ফেরেশতা, আর না কোনো প্রেরিত নবী।

তিনি আল্লাহ ব্যতীত অন্য যা কিছুরই উপাসনা করা হোক না কেন তা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। আর এটাই হলো সেই হিকমত যার জন্য আল্লাহ জিন ও ইনসান সৃষ্টি করেছেন এবং যার জন্য রাসূলগণকে প্রেরণ করা হয়েছে ও কিতাবসমূহ নাযিল করা হয়েছে।

তিনি পাথর, গাছপালা এবং নেককার সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের উপাসনা করা থেকে মুক্ত ও সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করেন।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢١)
ويبرأ من عابديها، ويقيم الحجج العقلية والنقلية على أنها شرك وضلال، وكفر بالله ذي الجلال كقوله تعالى حكاية عن قول الرسل لأقوامهم {يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 1، وقوله تعالى {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ} 2. وكقوله تعالى {إِنْ تَدْعُوهُمْ لا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ وَلا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ} 3.

الإيمان بالرسل والأنبياء والملائكة والكتب واليوم الآخر:

يؤمن بجميع أنبياء الله ورسله، لا يفرق بين أحد منهم، ويعتقد أن محمدا أفضلهم، أرسله الله بالآيات الباهرة، والمعجزات الظاهرة، وكرمه بطهارة الأعراق، وحباه محاسن الأخلاق، فمن تبعه صار من المفلحين ومن عصاه صار من الأشقياء الخاسرين.

ويؤمن باليوم الآخر، وبالبعث بعد الموت، وحساب الله للعباد، والميزان والصراط، والجنة والنار.

مسائل القدر والجبر والإرجاء والإمامة:

يؤمن بالقدر خيره وشره، ويبرأ مما قالته القدرية النفاة، والمجبرة والمرجئة، ويوالي جميع أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وأهل بيته الطاهرين، ويكف عما شجر بينهم، ويعتقد بأفضلية أبي بكر ثم عمر ثم عثمان ثم علي رضي الله عنهم.

--------------------------------------------

1 سورة هود الآية 50

2 سورة البقرة الآية 21

3 سورة فاطر الآية 14
এবং তিনি তাদের উপাসকদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং যৌক্তিক ও বর্ণনাভিত্তিক প্রমাণাদি উপস্থাপন করেন যে, এগুলো শিরক ও ভ্রষ্টতা এবং মহান আল্লাহর সাথে কুফরি। যেমন মহান আল্লাহর বাণী, যা তিনি তাঁর কওমের নিকট রাসুলদের উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন: {হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই} ১, এবং মহান আল্লাহর বাণী: {হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন} ২। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমরা তাদেরকে ডাকো, তারা তোমাদের ডাক শুনবে না; আর শুনলেও তারা তোমাদের ডাকে সাড়া দেবে না। কিয়ামতের দিন তারা তোমাদের শিরক অস্বীকার করবে। সর্বজ্ঞাত সত্তার মতো আর কেউই তোমাকে সংবাদ দেবে না} ৩।

রাসুলগণ, নবিগণ, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ এবং পরকালের ওপর ঈমান:

তিনি আল্লাহর সমস্ত নবি ও রাসুলের ওপর ঈমান আনেন, তাঁদের কারো মধ্যে পার্থক্য করেন না। তিনি বিশ্বাস করেন যে মুহাম্মাদ তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ; আল্লাহ তাঁকে উজ্জ্বল নিদর্শন ও প্রকাশ্য মুজিযাসহ প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাঁকে পবিত্র বংশমর্যাদা দিয়ে সম্মানিত করেছেন এবং উত্তম চরিত্র দান করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর অনুসরণ করবে সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে, আর যে ব্যক্তি তাঁর অবাধ্য হবে সে হতভাগা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

তিনি পরকাল, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, বান্দাদের প্রতি আল্লাহর হিসাব গ্রহণ, মিজান ও সিরাত এবং জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর ঈমান আনেন।

তাকদির, জাবর, ইরজা ও ইমামত সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ:

তিনি তাকদিরের ভালো ও মন্দের ওপর ঈমান আনেন এবং তাকদির অস্বীকারকারী কাদারিয়া, মুজবিরা ও মুরজিয়ারা যা বলে তা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল সাহাবী এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইতকে ভালোবাসেন এবং তাঁদের মধ্যে যা কিছু ঘটেছিল সে বিষয়ে নীরব থাকেন। তিনি আবু বকর, অতঃপর উমর, অতঃপর উসমান এবং অতঃপর আলির (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাস করেন।

--------------------------------------------

১ সূরা হুদ, আয়াত ৫০

২ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২১

৩ সূরা ফাতির, আয়াত ১৪
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢٢)
عقيدته في العلماء:

يوالي كافة أهل الإسلام وعلمائهم، من أهل الحديث والفقه والتفسير، وأهل الزهد والعبادة، ولا سيما الأئمة الأربعة، ويرى فضلهم وإمامتهم، وأنهم من الفضل والفضائل في غاية ورتبة، يقصر عنها المتطاول ولا يرى إيجاب ما قاله المجتهد إلا بالدليل تقوم به الحجة من الكتاب والسنة، خلافا لغلاة المقلدين وعلى هذا القول أجمعت الأئمة الأربعة وغيرهم، كما حكاه ابن عبد البر رحمه الله.

وإتماما للفائدة أقدم للسائل عقيدة موجزة كتبها الشيخ رحمه الله تعالى:

قال رحمه الله بعد البسملة:

أشهد الله ومن حضرني من الملائكة، وأشهدكم أني أعتقد ما اعتقده أهل السنة والجماعة من الإيمان بالله وملائكته، وكتبه، ورسله، والبعث بعد الموت، والإيمان بالقدر خيره وشره.

ومن الإيمان بالله: الإيمان بما وصف به نفسه في كتابه، وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم من غير تحريف ولا تعطيل، بل أعتقد أن الله {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} .

فلا أنفي عنه ما وصفه به نفسه ولا أحرف الكلم عن مواضعه، ولا ألحد في أسمائه وآياته، ولا أكيف ولا أمثل صفاته بصفات خلقه، لأنه تعالى لا سمي له ولا كفء ولا ند له، ولا يقاس بخلقه، فإنه سبحانه وتعالى أعلم بنفسه وبغيره، وأصدق قيلا، وأحسن حديثا.

فنزه نفسه عما وصفه به المخالفون من أهل التكييف والتمثيل، وعما نفاه عنه النافون من أهل التحريف والتعطيل، فقال تعالى {سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} .

فالفرقة الناجية وسط في باب أفعاله تعالى بين القدرية والجبرية.
আলেমদের ব্যাপারে তাঁর আকিদা:

তিনি সমস্ত মুসলিম এবং তাদের আলেমদের—যাঁরা হাদিস, ফিকহ, তাফসির এবং যুহদ ও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত—সবাইকে ভালোবাসেন এবং তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখেন, বিশেষ করে চার ইমামকে। তিনি তাঁদের মর্যাদা ও ইমামত (নেতৃত্ব) স্বীকার করেন এবং মনে করেন যে তাঁরা শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণাবলির এমন এক চরম শিখরে ও সুউচ্চ স্তরে আসীন, যেখানে পৌঁছাতে দাম্ভিক ব্যক্তিরাও অক্ষম। কট্টর অন্ধ-অনুসারীদের বিপরীতে তিনি মনে করেন যে, মুজতাহিদ যা বলেছেন তা ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণ করা ওয়াজিব নয়, যতক্ষণ না কিতাব ও সুন্নাহ থেকে এর সপক্ষে অকাট্য দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়। আর এই বক্তব্যের উপরেই চার ইমাম ও অন্যান্যগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যেমনটি ইবনে আব্দুল বার (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বর্ণনা করেছেন।

আলোচনার পূর্ণতা প্রদানের লক্ষ্যে আমি প্রশ্নকর্তার নিকট শাইখ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) কর্তৃক লিখিত একটি সংক্ষিপ্ত আকিদা পেশ করছি:

বিসমিল্লাহর পর তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন:

আমি আল্লাহকে এবং আমার নিকট উপস্থিত ফেরেশতাদেরকে সাক্ষী রাখছি, আর আপনাদেরকেও সাক্ষী রাখছি যে, আমি সেই বিশ্বাসই পোষণ করি যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত পোষণ করে; আর তা হলো—আল্লাহর প্রতি ইমান, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি ইমান, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসুলগণ, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান এবং তাকদিরের ভালো ও মন্দের প্রতি ইমান আনা।

আল্লাহর প্রতি ইমানের অন্তর্ভুক্ত হলো: তিনি নিজের কিতাবে এবং তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুখে নিজের যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন সেগুলোর প্রতি কোনো প্রকার বিকৃতি বা অস্বীকার ছাড়াই ইমান আনা। বরং আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ এমন সত্তা যাঁর “সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।”

সুতরাং তিনি নিজেকে যে গুণে গুণান্বিত করেছেন আমি তা অস্বীকার করি না, শব্দের অর্থকে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করি না এবং তাঁর নাম ও আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে সত্যত্যাগ করি না। আর আমি তাঁর গুণাবলির ধরন বর্ণনা করি না কিংবা তাঁর গুণাবলিকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির সাথে তুলনা করি না। কারণ মহান আল্লাহর সমনামধারী কেউ নেই, তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই এবং তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আর তাঁর সৃষ্টির সাথে তাঁর তুলনা করা যায় না। কেননা তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজের সম্পর্কে এবং অন্যদের সম্পর্কে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত এবং তাঁর কথা সবচেয়ে সত্য ও বর্ণনায় সর্বোত্তম।

তাই তিনি নিজেকে সেই সব বর্ণনা থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন যা ধরন বর্ণনাকারী ও সাদৃশ্য প্রদানকারীরা তাঁর জন্য আরোপ করে, এবং সেই সব বিষয় থেকেও যা বিকৃতিদানকারী ও অস্বীকারকারীরা তাঁর থেকে নাকচ করে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন: “আপনার প্রতিপালক, যিনি সম্মানের অধিকারী, তারা যা বর্ণনা করে তিনি তা থেকে পবিত্র। আর রাসুলগণের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক এবং সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।”

সুতরাং মুক্তিপ্রাপ্ত দল মহান আল্লাহর কার্যাবলির ক্ষেত্রে কাদারিয়া ও জাবারিয়া মতবাদের মাঝে মধ্যমপন্থী।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وهم وسط في باب وعيد الله بين المرجئة والوعيدية.

وهم وسط في باب الإيمان والدين بين الحرورية والمعتزلة وبين المرجئة والجهمية.

وهم وسط في باب أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم بين الروافض والخوارج.

وأعتقد أن القرآن كلام الله، منزل غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود، وأنه تكلم به حقيقة، وأنزله على عبده ورسوله وأمينه على وحيه وسفيره بينه وبين عباده نبينا محمد صلى الله عليه وسلم.

وأومن بأن الله فعال لما يريد، ولا يكون شيء إلا بإرادته، ولا يخرج عن مشيئته، وليس شيء في العالم يخرج عن تقديره، ولا يصدر إلا عن تدبيره، ولا محيد لأحد عن القدر المحدود،، ولا يتجاوز ما خط له في اللوح المسطور.

وأومن بفتنة القبر ونعيمه، وبإعادة الأرواح إلى الأجساد، فيقوم الناس لرب العالمين حفاة عراة غرلا وتدنو منهم الشمس، وتنصب الموازين، وتوزن به أعمال العباد {فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ فِي جَهَنَّمَ خَالِدُونَ} .

وتنشر الدواوين، فآخذ كتابه بيمينه وآخذ كتابه بشماله.

وأومن بحوض نبينا محمد صلى الله عليه وسلم بعرصة القيامة، ماؤه أشد بياضا من اللبن، وأحلى من العسل، آنيته عدد نجوم السماء، من شرب منه شربة لم يظمأ بعدها أبدا.

وأومن بأن الصراط منصوب على شفير جهنم يمر به الناس على قدر أعمالهم، وأومن بشفاعة النبي صلى الله عليه وسلم، وأنه أول شافع وأول مشفع. ولا ينكر شفاعة النبي إلا أهل البدع والضلال.

ولكنها لا تكون إلا من بعد الإذن والرضا، كما قال الله تعالى {وَلا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى} وقال {مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِه} وقال تعالى {وَكَمْ مِنْ مَلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئاً إِلَّا مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَى} .
তারা আল্লাহর শাস্তির হুমকির বিষয়ে মুরজিয়া ও ওয়াইদিয়াদের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে।

তারা ঈমান ও দ্বীনের বিষয়ে হারুরিয়া ও মুতাজিলা এবং মুরজিয়া ও জাহমিয়াদের মাঝে মধ্যমপন্থী।

তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের বিষয়ে রাফেজি ও খারেজিদের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে।

আমি বিশ্বাস করি যে, কুরআন আল্লাহর বাণী, তা অবতীর্ণ, সৃষ্টি নয়। তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই তা ফিরে যাবে। তিনি প্রকৃতপক্ষে এর মাধ্যমে কথা বলেছেন এবং তা তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওহীর আমানতদার এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মাঝে দূত আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন।

আমি ঈমান রাখি যে, আল্লাহ যা চান তা-ই করেন। তাঁর ইচ্ছা ব্যতিরেকে কিছুই ঘটে না এবং কোনো কিছুই তাঁর ইচ্ছার বাইরে যায় না। জগতের কোনো কিছুই তাঁর নির্ধারণের বাইরে নয় এবং কোনো কিছুই তাঁর পরিচালনা ছাড়া সংঘটিত হয় না। নির্ধারিত তাকদির থেকে কারও বিচ্যুত হওয়ার উপায় নেই এবং লিখিত ফলকে তার জন্য যা লেখা হয়েছে, সে তা অতিক্রম করতে পারে না।

আমি কবরের ফিতনা ও তার নেয়ামতের ওপর ঈমান রাখি, এবং রুহসমূহকে শরীরে ফিরিয়ে দেওয়ার ওপর বিশ্বাস রাখি। ফলে মানুষ বিশ্বজগতের রবের সামনে খালি পায়ে, নগ্ন শরীরে এবং খতনাবিহীন অবস্থায় দণ্ডায়মান হবে। সূর্য তাদের নিকটবর্তী হবে এবং মিযান স্থাপন করা হবে, যার দ্বারা বান্দাদের আমলসমূহ ওজন করা হবে। "যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই নিজেদের ক্ষতি সাধন করেছে; তারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে।"

আমলনামাগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হবে; তখন কেউ তার আমলনামা ডান হাতে গ্রহণ করবে এবং কেউ তার আমলনামা বাম হাতে গ্রহণ করবে।

আমি কিয়ামতের ময়দানে আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউজের ওপর ঈমান রাখি। এর পানি দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। এর পাত্রসমূহ আকাশের নক্ষত্ররাজির ন্যায় অসংখ্য। যে ব্যক্তি তা থেকে একবার পান করবে, সে আর কখনো তৃষ্ণার্থ হবে না।

আমি ঈমান রাখি যে, জাহান্নামের কিনারে সিরাত স্থাপন করা হবে। মানুষ তাদের আমল অনুযায়ী তা অতিক্রম করবে। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াতের ওপর ঈমান রাখি। তিনি প্রথম শাফায়াতকারী এবং তাঁর শাফায়াতই প্রথম কবুল করা হবে। বিদআতি ও পথভ্রষ্টরা ছাড়া কেউ নবীর শাফায়াত অস্বীকার করে না।

তবে তা আল্লাহর অনুমতি ও সন্তুষ্টির পরেই কেবল কার্যকর হবে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তারা কেবল তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।" তিনি আরও বলেছেন: "কে আছে এমন যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে?" এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "আকাশমন্ডলীতে কত ফেরেশতা রয়েছে, তাদের সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না যতক্ষণ না আল্লাহ যাকে চান তার জন্য অনুমতি দেন এবং সন্তুষ্ট হন।"
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وهو لا يرضى إلا بالتوحيد، ولا يأذن إلا لأهله.

وأما المشركون فليس لهم في الشفاعة نصيب، كما قال تعالى {فَمَا تَنْفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّافِعِينَ} .

وأومن بأن الجنة والنار مخلوقتان، وأنهما –اليوم- موجودتان وأنهما لا يفنيان.

وأن المؤمنين يرون ربهم بأبصارهم يوم القيامة، كما يرون القمر ليلة البدر، لا يضامون في رؤيته.

وأومن بأن نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين والمرسلين، ولا يصح إيمان عبد حتى يؤمن برسالته، ويشهد بنبوته.

وأفضل أمته أبو بكر، ثم عمر الفاروق، ثم عثمان ذو النورين، ثم علي المرتضى، ثم بقية العشر ثم أهل بدر، ثم أهل الشجرة –أهل بيعة الرضوان- ثم سائر الصحابة رضي الله عنهم.

وأتولى أصحاب رسول الله، وأذكر محاسنهم، وأستغفر لهم، وأكف عن مساوئهم، وأسكت عما شجر بينهم.

وأعتقد فضلهم عملا بقول الله تعالى {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالأِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلّاً لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} .

وأترضى عن أمهات المؤمنين المطهرات من كل سوء.

وأقر بكرامات الأولياء، إلا أنهم لا يستحقون من حق الله شيئا، ولا أشهد لأحد من المسلمين بجنة ولا نار، إلا من شهد له الرسول صلى الله عليه وسلم، ولكني أرجو للمحسن وأخاف على المسيء.

ولا أكفر أحدا من المسلمين بذنبه ولا أخرجه من دائرة الإسلام.

وأرى الجهاد ماضيا مع كل إمام برا كان أو فاجرا، وصلاة الجماعة خلفهم جائزة.

والجهاد ماض منذ بعث الله محمدا صلى الله عليه وسلم إلى أن يقاتل آخر هذه الأمة الدجال لا يبطله جور جائر ولا عدل عادل.
এবং তিনি তাওহীদ ব্যতীত কোনো কিছুতেই সন্তুষ্ট হন না, আর তিনি কেবল তাওহীদপন্থীদের জন্যই শাফাআতের অনুমতি দেবেন।

আর মুশরিকদের জন্য শাফাআতে কোনো অংশ নেই, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো উপকারে আসবে না।"

আমি বিশ্বাস করি যে, জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়ই সৃষ্ট, আর সেগুলো বর্তমানেও বিদ্যমান এবং সেগুলো কখনো ধ্বংস হবে না।

আর মুমিনরা কিয়ামতের দিন তাদের রবকে স্বচক্ষে দেখতে পাবে, যেমন তারা পূর্ণিমার রাতে চাঁদকে দেখতে পায়; তাঁকে দেখার ব্যাপারে তারা কোনো ভিড় বা অসুবিধার সম্মুখীন হবে না।

আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তিকারী, এবং কোনো বান্দার ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না যতক্ষণ না সে তাঁর রিসালাতের ওপর ঈমান আনে এবং তাঁর নবুওয়াতের সাক্ষ্য দেয়।

তাঁর উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন আবু বকর, তারপর উমর আল-ফারুক, তারপর উসমান যুন-নূরাইন, তারপর আলী আল-মুরতাজা, তারপর দশজনের অবশিষ্টরা, তারপর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরা, তারপর বৃক্ষের নিচে শপথ গ্রহণকারীরা—অর্থাৎ বাইয়াতে রিদওয়ানকারীগণ—অতঃপর সকল সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম।

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ভালোবাসি, তাঁদের গুণাবলি আলোচনা করি, তাঁদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি, তাঁদের দোষ-ত্রুটি আলোচনা করা থেকে বিরত থাকি এবং তাঁদের মধ্যে যে মতবিরোধ ঘটেছিল সে বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করি।

আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ওপর আমল করে আমি তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাস করি: "যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের আগে অতিক্রান্ত হয়েছেন এবং মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়।"

আমি উম্মাহাতুল মুমিনীনদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি, যারা যাবতীয় পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র।

আমি অলীদের কারামাতে বিশ্বাস করি, তবে আল্লাহর প্রাপ্য কোনো অধিকারে তাঁদের কোনো অংশ নেই। আমি কোনো মুসলিমের জন্য নিশ্চিতভাবে জান্নাত বা জাহান্নামের সাক্ষ্য দেই না, কেবল তাঁদের ছাড়া যাঁদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে আমি নেককারদের জন্য জান্নাতের আশা পোষণ করি এবং পাপাচারীদের জন্য আজাবের ভয় করি।

আমি কোনো মুসলিমকে তার পাপের কারণে কাফির বলি না এবং তাকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেই না।

আমি প্রত্যেক ইমামের নেতৃত্বে জিহাদ অব্যাহত রাখাকে কর্তব্য মনে করি, চাই তিনি নেককার হোক বা পাপাচারী; এবং তাঁদের পেছনে জামাতে নামাজ আদায় করা বৈধ মনে করি।

আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠানোর সময় থেকে জিহাদ অব্যাহত রয়েছে এবং এ উম্মতের শেষ দলটি দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করা পর্যন্ত তা চলতে থাকবে; কোনো অত্যাচারীর অত্যাচার বা কোনো ইনসাফকারীর ইনসাফ একে বাতিল করতে পারবে না।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وأرى وجوب السمع والطاعة لأئمة المسلمين، برهم وفاجرهم ما لم يأمروا بمعصية الله.

ومن ولى الخلافة، واجتمع عليه الناس ورضوا به أو غلبهم بسيفه حتى صار خليفة وجبت طاعته وحرم الخروج عليه.

وأرى هجر أهل البدع ومباينتهم حتى يتوبوا وأحكم عليهم بالظاهر وأكل سرائرهم إلى الله.

وأعتقد أن كل محدثة في الدين بدعة.

وأعتقد أن الإيمان قول باللسان وعمل بالأركان واعتقاد بالجنان، يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية وهو بضع وسبعون شعبة أعلاها شهادة أن لا إله إلا الله، وأدناها إماطة الأذى عن الطريق.

وأرى وجوب الأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر، على ما توجبه الشريعة المحمدية الطاهرة.

فهذه عقيدة وجيزة، حررتها وأنا مشتغل البال، لتطلعوا على ما عندي والله على كل ما نقول وكيل.

فليتأمل السائل في هذا الجواب المختصر، وفي هذه العقيدة الوجيزة ليعلم حقيقة الشيخ إنه على الحق والصواب، والمخالفون هم أهل الضلال والارتياب.

وبعد أن قدمت للقارئ هذه المقدمة التي فيها كثير من الحقائق عن الشيخ الجليل، تلك الحقائق التي ينبغي أن يعرفها القارئ، ومن يريد أن يعرف حقيقة تلك الدعوة الإصلاحية السلفية لكي لا ينخدع ويتأثر بما يسمعه من أفواه الجهلاء وخصوم الدعوة ومن قراءة بعض الكتب التي أخذ مؤلفوها على عاتقهم أن يصدوا الناس عن صراط التوحيد، ويغمسوهم في حمأة الشرك والتنديد.

وهاك الآن بيان الشبهات التي هي حقيقة افتراءات نسبوها إلى الشيخ وأتباعه وهم برآء كبراءة الذئب من دم يوسف.
আমি মুসলিমদের ইমামগণের কথা শোনা ও তাঁদের আনুগত্য করা ওয়াজিব মনে করি, চাই তাঁরা নেককার হোন কিংবা পাপাচারী, যতক্ষণ না তাঁরা আল্লাহর নাফরমানির আদেশ প্রদান করেন।

আর যে ব্যক্তি খেলাফতের দায়িত্ব লাভ করেছেন এবং মানুষ তাঁর ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছে ও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে, অথবা তিনি তরবারির মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত খলিফা হয়েছেন, তবে তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হারাম।

আমি বিদআতিদের বর্জন করা ও তাদের থেকে পৃথক থাকা আবশ্যক মনে করি যতক্ষণ না তারা তওবা করে; আর আমি তাদের প্রকাশ্য অবস্থার ভিত্তিতে বিচার করি এবং তাদের অন্তরের গোপন বিষয় আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করি।

আমি বিশ্বাস করি যে, দ্বীনের মধ্যে উদ্ভাবিত প্রতিটি নতুন বিষয়ই বিদআত।

আমি বিশ্বাস করি যে, ঈমান হলো মুখে স্বীকার করা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা এবং অন্তরে বিশ্বাস করা। এটি আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং নাফরমানির মাধ্যমে হ্রাস পায়। ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আর সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা।

আমি পবিত্র মুহাম্মদী শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধ করা ওয়াজিব মনে করি।

এটি একটি সংক্ষিপ্ত আকিদা বা বিশ্বাসমালা, যা আমি ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও লিপিবদ্ধ করেছি যাতে আপনারা আমার বিশ্বাস সম্পর্কে অবগত হতে পারেন; আর আমরা যা বলছি সে ব্যাপারে আল্লাহই কর্মবিধায়ক।

সুতরাং প্রশ্নকারী যেন এই সংক্ষিপ্ত উত্তর এবং এই সংক্ষিপ্ত আকিদাটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, যাতে তিনি শাইখের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন যে তিনি সত্য ও সঠিক পথের ওপর রয়েছেন, আর বিরোধীরাই হলো পথভ্রষ্ট ও সংশয়বাদী।

পাঠকের সামনে এই ভূমিকা পেশ করার পর, যাতে এই মহান শাইখ সম্পর্কে অনেক সত্য তথ্য তুলে ধরা হয়েছে—সেই সব সত্য যা একজন পাঠকের এবং সেই সমস্ত ব্যক্তির জানা উচিত যারা এই সালাফি সংস্কারবাদী দাওয়াতের প্রকৃত রূপ জানতে চান—যাতে তারা মূর্খদের মুখনিঃসৃত কথা এবং দাওয়াতের শত্রুদের দ্বারা প্রতারিত ও প্রভাবিত না হন এবং এমন কিছু বই পড়ে বিভ্রান্ত না হন যার লেখকরা মানুষকে তাওহিদের সরল পথ থেকে বিচ্যুত করা এবং তাদেরকে শিরক ও অংশীদারিত্বের পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত করার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

আর এখন সেই সব সংশয়ের বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে যা মূলত অপবাদ, যা তারা শাইখ এবং তাঁর অনুসারীদের ওপর আরোপ করেছে; অথচ তারা এ থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ, ঠিক যেমন ইউসুফ আলাইহিস সালামের রক্ত থেকে নেকড়েটি নির্দোষ ছিল।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢٦)
‌‌الشبهة الأولى: إن الشيخ محمد بن عبد الوهاب وأتباعه يكرهون النبي صلى الله عليه وسلم ويحطون من شأنه وشأن الأنبياء

…

الشبهة الأولى:

إن الشيخ محمد بن عبد الوهاب وأتباعه يكرهون النبي صلى الله عليه وسلم، ويحطون من شأنه وشأن سائر الأنبياء، واختلقوا أكاذيب لتأييد شبهتهم فقالوا: إن الشيخ كان يقول عن النبي صلى الله عليه وسلم، إن غاية أمره كالطارش الذي يرسل إلى أناس في أمر فيبلغهم إياه ثم ينصرف.

وقولهم: عصاي خير من محمد لأنها ينتفع بها بقتل الحية ونحوها، ومحمد قد مات ولم يبق فيه نفع أصلا، هكذا زعم علوي الحداد في كتابه "مصباح الأنام".

وزعم السيد أحمد زيني دحلان: أن أتباع الشيخ محمد بن عبد الوهاب يمنعون من الصلاة على النبي بعد الأذان على المنائر، حتى أن رجلا صالحا كان أعمى وكان مؤذنا وصلى على النبي بعد الأذان فأتوا به إلى ابن عبد الوهاب، فأمر به أن يقتل فقتل، وما ادخروا وسعا في صنعة الأكاذيب على الشيخ تنفيرا للناس عن دعوة التوحيد وإبقاء على رئاستهم على الجهلة والعوام.

قال الشيخ يوسف النبهاني:

أعجب شيء مسلم في حسابه … غدا قلبه من حب خير الورى صفرا

أولئك وهابية ضل سعيهم … فظنوا الردى خيرا وظنوا الهدى شرا

والجواب من وجوه:

1-إن هذه التهم الباطلة المنسوبة إلى الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله لا تصدر عمن يملك شيئا ولو قليلا من الحياء فضلا أن يكون مؤمنا، إذ كراهية الرسول لا تصدر إلا من ملحد أو يهودي أو نصراني، وإلا فإن
প্রথম সংশয়: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এবং তাঁর অনুসারীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঘৃণা করেন এবং তাঁর ও অন্যান্য নবীদের মর্যাদা খাটো করেন

…

প্রথম সংশয়:

নিশ্চয় শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এবং তাঁর অনুসারীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঘৃণা করেন এবং তাঁর ও অন্যান্য সমস্ত নবীদের মর্যাদা খাটো করেন। তাঁরা তাঁদের এই সংশয়কে সমর্থন করার জন্য কিছু মিথ্যা উদ্ভাবন করেছেন। তাঁরা বলেছেন: শাইখ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে বলতেন যে, তাঁর বিষয়টির চরম সীমা হচ্ছে একজন বার্তাবাহকের মতো যাকে কোনো একটি বিষয়ে একদল মানুষের কাছে পাঠানো হয়েছে, এরপর সে তাদের কাছে তা পৌঁছে দিয়ে চলে গেছে।

এবং তাঁদের দাবি: আমার লাঠি মুহাম্মাদের চেয়ে উত্তম, কারণ এটি দিয়ে সাপ মারা এবং এই জাতীয় কাজে উপকার পাওয়া যায়, আর মুহাম্মাদ তো মারা গেছেন এবং তাঁর মধ্যে মূলত কোনো উপকার অবশিষ্ট নেই। আলওয়ী আল-হাদ্দাদ তার "মিসবাহুল আনাম" গ্রন্থে এমনটিই দাবি করেছেন।

সায়্যিদ আহমদ যাইনী দাহলান দাবি করেছেন: শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের অনুসারীরা মিনারগুলোতে আজানের পর নবীর ওপর দুরুদ পাঠ করতে নিষেধ করতেন। এমনকি একজন নেককার ব্যক্তি যিনি অন্ধ ও মুয়াজ্জিন ছিলেন, তিনি আজানের পর নবীর ওপর দুরুদ পাঠ করেছিলেন, তখন তাঁকে ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের কাছে নিয়ে আসা হয়। তিনি তাঁকে হত্যা করার আদেশ দেন এবং তাকে হত্যা করা হয়। মানুষকে তাওহীদের দাওয়াত থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এবং মূর্খ ও সাধারণ মানুষের ওপর নিজেদের নেতৃত্ব বজায় রাখার জন্য তাঁরা শাইখের বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা করতে কোনো ত্রুটি করেননি।

শাইখ ইউসুফ আন-নাবহানী বলেছেন:

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো এমন এক মুসলিম যার হিসেবে … তার হৃদয় সৃষ্টির সেরা মানুষের ভালোবাসা থেকে শূন্য হয়ে গেছে।

ওরাই হলো ওহাবী যাদের প্রচেষ্টা ভ্রষ্ট হয়েছে … তারা ধ্বংসকে কল্যাণ মনে করেছে এবং হেদায়েতকে অকল্যাণ মনে করেছে।

এর উত্তর কয়েকটি দিক থেকে:

১-নিশ্চয় শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি আরোপিত এই বাতিল অপবাদসমূহ এমন কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রকাশ পাওয়া সম্ভব নয় যার মধ্যে সামান্যতম লজ্জাবোধ আছে, মুমিন হওয়া তো দূরের কথা। কেননা রাসূলের প্রতি ঘৃণা কেবল একজন নাস্তিক, ইহুদি অথবা খ্রিস্টানের পক্ষ থেকেই প্রকাশ পেতে পারে। অন্যথায় নিশ্চয়ই...
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢٧)
مفتاح الدخول في الإسلام هو قول العبد "أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا رسول الله" وإقراره برسالة رسول الله مع التصديق الباطني، ومن موجبها أن يكون محبا لرسول الله صلى الله عليه وسلم.

كيف يكون المرء مسلما ومتبعا لرسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يكرهه ويبغضه، وإذا كان الله يقول مخاطبا لنبيه الكريم {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ} وفي الآية شرط على العبد إن ادعى أنه يحب الله فليتبع رسوله، ومن لازم الاتباع الصحيح حب الرسول صلى الله عليه وسلم، وكيف يصح إيمان المرء وهو لا يحب الرسول، وفي الحديث الشريف عن النبي صلى الله عليه وسلم "لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من والده وولده والناس أجمعين" وفي حديث آخر "لا يؤمن أحدكم حتى يكون هواه تبعا لما جئت به" ، وفي الحديث الصحيح "ثلاث من كن فيه وجد بهن حلاوة الإيمان، من كان الله ورسوله أحب إليه مما سواهما، ومن كان يحب المرء، لا يحبه إلا الله، ومن كان يكره أن يعود في الكفر بعد إذ أنقذه الله، كما يكره أن يلقى في النار".

2- ليعلم هؤلاء المفترون أن الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله قد ألف كتابا في سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولو لم يكن محبا له لما ألف في سيرته صلى الله عليه وسلم، وبيان شمائله وأخلاقه ومعجزاته وجهاده، كما ألف ابنه الشيخ عبد الله كتابا في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم.

3- إن الشيخ حنبلي المذهب والحنابلة يرون أن الصلاة على النبي في التشهد الأخير فرض من فروض الصلاة، لا تصح الصلاة إلا بالصلاة عليه صلى الله عليه وسلم كالقول الثاني للإمام الشافعي رحمه الله، بينما يقول الحنفية والمالكية بسنية الصلاة على النبي في التشهد الأخير كما هو قول آخر للإمام الشافعي.

فقل لي بربك من يرى فرضية الصلاة عليه في الصلوات المفروضات
ইসলামে প্রবেশের চাবিকাঠি হলো বান্দার এই উক্তি: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল" এবং অন্তরের বিশ্বাসের সাথে আল্লাহর রাসূলের রিসালাতের স্বীকৃতি প্রদান করা। আর এর অন্যতম দাবি হলো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি মহব্বত পোষণ করা।

একজন ব্যক্তি কীভাবে মুসলিম এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসারী হতে পারে অথচ সে তাঁকে ঘৃণা ও অপছন্দ করে? যেখানে আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত নবীকে সম্বোধন করে বলছেন, "বলুন: তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।" এই আয়াতে বান্দার জন্য এই শর্ত আরোপ করা হয়েছে যে, সে যদি আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি করে তবে সে যেন তাঁর রাসূলের অনুসরণ করে। আর সঠিক অনুসরণের অপরিহার্য দাবি হলো রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ভালোবাসা। রাসূলকে ভালো না বেসে কোনো ব্যক্তির ঈমান কীভাবে সহীহ হতে পারে? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদীস শরীফে এসেছে: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।" অন্য এক হাদীসে এসেছে: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসারী হয়।" সহীহ হাদীসে আরও এসেছে: "তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ করবে: যার নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হবে; যে কোনো ব্যক্তিকে কেবল আল্লাহর জন্যই ভালোবাসবে; এবং আল্লাহ তাকে কুফর থেকে মুক্তি দেওয়ার পর পুনরায় তাতে ফিরে যাওয়াকে সে ততটাই অপছন্দ করবে, যতটা সে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে।"

2- এই মিথ্যা অপবাদদানকারীদের জেনে রাখা উচিত যে, শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাতের ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। যদি তিনি তাঁর প্রতি ভালোবাসা পোষণ না করতেন, তবে তিনি তাঁর সীরাত, তাঁর শামায়েল (আচরণ ও বৈশিষ্ট্য), চরিত্র, মুজিজা এবং জিহাদ সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করতেন না। যেমন তাঁর পুত্র শাইখ আব্দুল্লাহও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাতের ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

3- নিশ্চয়ই শাইখ হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং হাম্বলীগণ মনে করেন যে, শেষ তাশাহহুদে নবীর ওপর দরুদ পাঠ করা সালাতের অন্যতম ফরজ। দরুদ পাঠ ছাড়া সালাত শুদ্ধ হয় না, যা ইমাম শাফেঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর দ্বিতীয় মতের অনুরূপ। পক্ষান্তরে হানাফী ও মালেকী মাযহাবে শেষ তাশাহহুদে নবীর ওপর দরুদ পাঠ করা সুন্নাত, যা ইমাম শাফেঈরও একটি মত।

অতএব আপনার রবের শপথ করে আমাকে বলুন, যে ব্যক্তি ফরজ সালাতসমূহে তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করাকে ফরজ বলে গণ্য করেন...
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢٨)
والمسنونات أجدر بالحب والتعظيم للرسول العظيم أم من لا يرى ذلك؟

ولكن كما قيل:

فقل هل ترى فيما نقول ملامة … ولكن أعمى العين لا يبصر البدرا

4- هل نسي هؤلاء أن الصلاة على الرسول هي أمر من الله لنا قبل أن تكون من الرسول، قال الله {إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً} .

ولا يستطيع مسلم أن ينكر ما جاء به القرآن، ووردت به السنة في فضل الصلاة عليه، وأن تذهب صلاة البشر وتسليمهم بعد صلاة الله العلي الأعلى وتسليمه وصلاة الملائكة في الملأ الأعلى وتسليمهم، وهل جهل الشيخ وأتباعه هذه الآية الشريفة؟ وتلك الأحاديث الواردة في فضل الصلاة على الرسول صلى الله عليه وسلم؟ كحديث "من صلى علي مرة واحدة صلى الله عليه بها عشرا" وحديث "رغم أنف امرئ ذكرت عنده ولم يصل علي" إلى غير ذلك من الأحاديث التي دونتها كتب السنة.

وهل يصدق هذا الافتراء الصريح إلا مختل العقل، أو جاهل متأثر بما سمع من أمثال هؤلاء المشايخ الذين باعوا آخرتهم بدنياهم، وقل نصيبهم من الحياء والعلم والإيمان، وأخذوا يكيلون التهم من غير حساب وبلا تفكير، إن هذه التهم الشنيعة لا تليق بأن تنسب إلى أقل مسلم جاهل فضلا أن تنسب إلى عالم جليل يدعو إلى الكتاب والسنة، فيا سبحان الله العظيم ما أجهل هؤلاء وأجرأهم على الكذب وخلق التهم، وإلا فلو فكروا قليلا فيما يدعوا هذا الشيخ وينكر على الناس تلك الضلالات، لعلموا أنه ما كان يدعو إلا إلى الرجوع إلى كتاب الله وسنة رسوله، وترك تلك العادات السافلة والعقائد الوثنية الممقوتة، وهل يدعو إلى سنة رسول الله وتحكيمها وهو يبغضه، اللهم إن هذا ظلم وجور لا يقبلها العقل الصحيح ولا الذوق السليم، ورحم الله الشيخ عمران حيث قال في شأن الشيخ:
সুন্নাতসমূহের অনুসারীরাই কি মহান রাসূলের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের অধিক হকদার নাকি যারা তা মনে করে না?

কিন্তু যেমনটি বলা হয়েছে:

বল, তুমি কি আমাদের কথায় কোনো দোষ দেখতে পাও … তবে অন্ধ চক্ষু তো পূর্ণিমা চাঁদ দেখে না।

৪- তারা কি ভুলে গেছে যে রাসূলের ওপর দরূদ পাঠ করা রাসূলের নির্দেশ হওয়ার পূর্বেই স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের প্রতি একটি নির্দেশ? আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি রহমত ও শান্তি বর্ষণের দোয়া (দরূদ ও সালাম) করো}।

কোনো মুসলিমই কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত রাসূলের ওপর দরূদ পাঠের ফযীলত অস্বীকার করতে পারে না; আর সুউচ্চ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দরূদ ও সালাম এবং ঊর্ধ্বজগতে ফেরেশতাদের দরূদ ও সালামের পর মানুষের দরূদ ও সালামের কি বা গুরুত্ব! শেখ ও তাঁর অনুসারীরা কি এই সম্মানিত আয়াত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরূদ পাঠের ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন? যেমন হাদীস: "যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন।" এবং হাদীস: "সেই ব্যক্তির নাক ধূলিধূসরিত হোক যার নিকট আমার কথা উল্লেখ করা হলো অথচ সে আমার ওপর দরূদ পাঠ করল না" - সুন্নাহর কিতাবসমূহে সংকলিত এজাতীয় আরও অসংখ্য হাদীস।

এই প্রকাশ্য অপবাদ কি কোনো বিকৃত মস্তিস্কের লোক অথবা এমন কোনো মূর্খ ছাড়া কেউ বিশ্বাস করতে পারে, যে ঐসব মাশায়েখদের কথায় প্রভাবিত যারা দুনিয়ার বিনিময়ে তাদের আখিরাত বিক্রি করে দিয়েছে? তাদের লজ্জা, জ্ঞান ও ঈমানের অংশ খুবই সামান্য। তারা বিচার-বুদ্ধিহীনভাবে এবং কোনো চিন্তা ছাড়াই অভিযোগ আরোপ করে চলেছে। এই জঘন্য অপবাদগুলো একজন সাধারণ জাহেল মুসলিমের প্রতি আরোপ করাও সমীচীন নয়, সেখানে কিতাব ও সুন্নাহর দিকে আহ্বানকারী একজন মহান আলেমের প্রতি তা আরোপ করা তো কল্পনাতীত। সুবহানাল্লাহিল আযীম! এরা কতই না মূর্খ এবং মিথ্যাচার ও অপবাদ রচনায় কতই না দুঃসাহসী! অন্যথায় তারা যদি সামান্য চিন্তা করত যে এই শেখ কিসের দিকে আহ্বান করেন এবং মানুষের কোন সব গোমরাহিকে প্রত্যাখ্যান করেন, তবে তারা জানতে পারত যে তিনি কেবল আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর দিকে ফিরে আসার এবং নিকৃষ্ট কুসংস্কার ও ঘৃণ্য পৌত্তলিক আকিদা বর্জনেরই আহ্বান জানাতেন। কেউ কি রাসূলুল্লাহর সুন্নাহর দিকে এবং তাঁর বিধান বাস্তবায়নের দিকে আহ্বান করতে পারে অথচ সে তাকে ঘৃণা করে? হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই এটি এমন এক জুলুম ও অবিচার যা সুস্থ বিবেক এবং সঠিক রুচি গ্রহণ করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা শেখ ইমরানের ওপর রহম করুন, যেখানে তিনি শেখের ব্যাপারে বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٢٩)
هل قال إلا وحدوا رب السما … وذروا عبادة ما سوى المتفرد

وتمسكوا بالسنة البيضا ولا … تتنطعوا بزيادة وتردد

هذا الذي جعلوه غشا وهو قد … بعثت به الرسل الكرام لمن هدي

من عهد آدم ثم نوح هكذا … تترى إلى عهد النبي محمد

وكذلك الخلفاء بعد نبيهم … والتابعون وكل حبر مهتدي

الأجوبة عن قولهم النبي كالطارش وعصاي خير من محمد

أما قولهم: أن الشيخ كان يقول إن غاية أمر النبي كالطارش، وعصاي خير من محمد.

فالجواب: فهذا والله العظيم من الكذب والبهتان الذي لا يختلف فيه عاقلان، وفي الحديث الشريف " إذا لم تستح فاصنع ما شئت" ، وقد قال الشاعر قديما:

لي حيلة فيمن ينم … وليس في الكذاب حيلة

من كان يخلق ما يقول … فحيلتي فيه قليلة

أما قرأ هؤلاء قول الله {إِنَّمَا يَفْتَرِي الْكَذِبَ الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِآياتِ اللَّهِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْكَاذِبُونَ} وقوله تعالى {إِنَّ اللَّهَ لا يَهْدِي مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ كَذَّابٌ} وفي الحديث عن سعد بن أبي وقاص أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "يطبع المؤمن على كل خلة، غير الخيانة والكذب" "رواه البزار، وأبو يعلى. وفي الحديث الصحيح عن أبي هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليقل خيرا أو ليصمت" فهؤلاء المنتقدون على الشيخ لم يقولوا خيرا ولم يكفوا عن شرهم.
তিনি কি আকাশমণ্ডলীর রবের একত্ববাদ ঘোষণা করা … এবং একচ্ছত্র সত্তা ব্যতীত অন্যের ইবাদত বর্জনের নির্দেশ ছাড়া আর কিছু বলেছেন?

এবং উজ্জ্বল সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো … আর তাতে কোনো সংযোজন ও দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মাধ্যমে সীমালঙ্ঘন করো না।

একে তারা প্রতারণা হিসেবে সাব্যস্ত করেছে, অথচ এটি নিয়েই … হিদায়াতপ্রাপ্তদের জন্য সম্মানিত রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন।

আদমের যুগ থেকে নূহ, একইভাবে … নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এটি এসেছে।

অনুরূপভাবে তাদের নবীর পরে খলিফাগণ … এবং তাবেয়িগণ ও প্রত্যেক হিদায়াতপ্রাপ্ত আলিম।

নবী একজন বার্তাবাহকের মতো এবং আমার লাঠি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপেক্ষা উত্তম—তাদের এই উক্তির উত্তরসমূহ।

আর তাদের উক্তি সম্পর্কে: শায়খ নাকি বলতেন যে, নবীর বিষয়টি বড়জোর একজন বার্তাবাহকের মতো এবং আমার লাঠি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেয়ে উত্তম।

এর উত্তর হলো: মহান আল্লাহর শপথ! এটি এমন মিথ্যাচার ও অপবাদ যার ব্যাপারে কোনো দুই বিবেকবান ব্যক্তি দ্বিমত পোষণ করবে না। আর হাদীস শরীফে এসেছে: "যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তবে যা ইচ্ছা তা-ই করো।" অতীতে জনৈক কবি বলেছেন:

চোগলখোর ব্যক্তির ক্ষেত্রে আমার কৌশল রয়েছে … কিন্তু মিথ্যাবাদীর ক্ষেত্রে কোনো কৌশল নেই।

যে ব্যক্তি যা বলে তা নিজেই বানিয়ে নেয় … তার ব্যাপারে আমার কৌশল অতি নগণ্য।

তারা কি আল্লাহর এই বাণী পাঠ করেনি: {মিথ্যা তো তারাই রটনা করে যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে না, আর তারাই হলো মিথ্যাবাদী} এবং মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে পথ প্রদর্শন করেন না, যে সীমালঙ্ঘনকারী ও চরম মিথ্যাবাদী}। আর সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একজন মুমিনের মধ্যে খেয়ানত ও মিথ্যা ছাড়া সব অভ্যাসই থাকতে পারে।" (বর্ণনায় আল-বাযযার ও আবু ইয়া’লা)। আর আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।" সুতরাং শায়খের এই সমালোচকরা না ভালো কথা বলেছে, না তাদের মন্দ কাজ থেকে বিরত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٣٠)
والجواب الثاني أن يقال:

وكل ادعا قرين افترا … سوى من إذا ما ادعى أشهدا

فأين البينة التي تؤيد دعواهم، فهاهي كتب الشيخ رحمه الله وأبنائه وذويه وأتباعه موجودة ومطبوعة ومنتشرة في كثير من البلدان فليأتوا بحرف واحد يثبت ما يدعونه، وهيهات أن يأتوا بذلك ولو صعدوا إلى السموات ونزلوا إلى أعماق الأرضين، واستعانوا بالإنس والجان لما استطاعوا أن يأتوا بكلمة من كتب الشيخ وأبنائه وأتباعه بل ولا حرف واحد، أما النقل عن الشيخ الفلاني والكتاب الفلاني، فلا يثبت بذلك النقل دعوى المدعي، لأن تلك الكتب ككتاب الحداد وزيني دحلان والنبهاني والعاملي الشيعي وأمثالهم من خصوم الدعوة السلفية، محشوة بالأكاذيب والترهات والحكايات والأحاديث الضعيفة والموضوعة واختلاق الكرامات لمن يزعمونه من الأولياء، فلا ينبغي لمسلم أن يقرأ تلك الكتب إلا للاطلاع على ما فيها من الكذب والزور، لا أن يحتج بها.

وليعلم من لم يكن يعلم أن الشيخ محمدا رحمه الله وأتباعه وسائر السلفيين من أهل السنة والجماعة، وعقيدة أهل السنة أن الرسول صلى الله عليه وسلم أفضل الخلائق أجمعين، فإذا كان الرسول صلى الله عليه وسلم في اعتقادهم مفضلا على الأنبياء والملائكة، فكيف يقول الشيخ: إن عصاي خير من محمد، لأن هذه اللفظة فيها تنقيص، ولا يجوز لمسلم أن ينتقص من مقام الرسول صلى الله عليه وسلم ما هذا إلا كذب واختلاق، قصدوا بهذا الكذب تنفير الناس عن الدخول في دعوته الصحيحة، المبنية –كما قلنا غير مرة- على الكتاب والسنة الصحيحة والحسنة حتى لو قال مسلم عالما أو غير عالم أن غير الرسول صلى الله عليه وسلم أفضل من الرسول صلى الله عليه وسلم لحكمنا بخطئه للأدلة العديدة على تفضيله صلى الله عليه وسلم على غيره، ولا يصدق هذا الافتراء إلا من كان جاهلا أو مختلا.
দ্বিতীয় উত্তর হিসেবে বলা যায়:

প্রত্যেক দাবি মিথ্যার সমতুল্য … যদি না দাবি করার পর তার সপক্ষে সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়।

তাদের দাবির সপক্ষে প্রমাণ কোথায়? এই তো শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ), তাঁর সন্তানগণ, নিকটাত্মীয়গণ এবং তাঁর অনুসারীদের বইগুলো বিদ্যমান, মুদ্রিত এবং অনেক দেশে ছড়িয়ে আছে। তারা তাদের দাবির সপক্ষে একটি বর্ণও নিয়ে আসুক যা তাদের দাবিকে প্রমাণ করে। তারা কখনোই তা নিয়ে আসতে পারবে না, যদিও তারা আকাশে আরোহণ করে কিংবা জমিনের গভীরে প্রবেশ করে এবং মানুষ ও জিনের সাহায্য গ্রহণ করে, তবুও তারা শায়খ, তাঁর সন্তান এবং অনুসারীদের কিতাব থেকে একটি শব্দও আনতে সক্ষম হবে না, এমনকি একটি বর্ণও নয়। আর অমুক শায়খ বা অমুক কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার মাধ্যমে কোনো দাবিদারের দাবি প্রমাণিত হয় না। কারণ সালাফি দাওয়াতের বিরোধী যেমন হাদ্দাদ, যাইনি দাহলান, নাবহানি এবং শিয়া আমিলির মতো ব্যক্তিদের কিতাবসমূহ এবং তাদের সমমনাদের বইগুলো মিথ্যা, অসার কথা, কিচ্ছা-কাহিনী, যঈফ ও বানোয়াট হাদিস এবং তথাকথিত অলিদের নামে মিথ্যা উদ্ভাবিত অলৌকিক ঘটনায় (কারামত) পরিপূর্ণ। তাই কোনো মুসলিমের জন্য এই কিতাবগুলো পড়া উচিত নয়, কেবল সেগুলোতে থাকা মিথ্যা ও জালিয়াতি সম্পর্কে অবগত হওয়া ছাড়া; এগুলোকে দলিল হিসেবে পেশ করার জন্য নয়।

যিনি জানেন না তিনি জেনে রাখুন যে, শায়খ মুহাম্মদ (রাহিমাহুল্লাহ), তাঁর অনুসারীগণ এবং অন্যান্য সকল সালাফিগণ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত। আর আহলুস সুন্নাহর আকিদা হলো যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সকল সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাঁদের আকিদা অনুযায়ী সকল নবী ও ফেরেশতাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ, তখন শায়খ কীভাবে বলতে পারেন যে: "আমার লাঠি মুহাম্মদের চেয়ে উত্তম"? কারণ এই বাক্যে তাঁর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে এবং কোনো মুসলিমের জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উচ্চ মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করা বৈধ নয়। এটি ডাহা মিথ্যা ও অপবাদ ছাড়া আর কিছুই নয়। এই মিথ্যার মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে তাঁর সঠিক দাওয়াত থেকে দূরে সরিয়ে রাখা, যা—যেমনটি আমরা বারবার বলেছি—কিতাবুল্লাহ এবং সহিহ ও হাসান সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত। এমনকি কোনো মুসলিম, সে আলেম হোক বা সাধারণ মানুষ, যদি বলে যে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত অন্য কেউ তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ, তবে তাঁকে অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের বহু দলিলের ভিত্তিতে আমরা তাকে ভ্রান্ত বলে গণ্য করব। কেবল কোনো মূর্খ বা বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ এই অপবাদ বিশ্বাস করতে পারে না।
(খণ্ড: ১) আস-শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আল-মুজাদ্দিদ আল-মুফতারি আলাইহি (পৃষ্ঠা: ٣١)
واجب العالم إذا أراد أن يكتب عن مذهب أو فرقة

أما علم هؤلاء الناسبون إلى الشيخ الجليل محمد بن عبد الوهاب رحمه الله تلك التهم الملفقة، والكاتبون في كتبهم زاعمين أنهم منتقدون على الشيخ وناصرون الحق، أن الواجب على العالم إذا سمع عن فرقة أو مذهب أو عالم ما يخالف الشرع، وأقصد به الكتاب والسنة الصحيحة أو الحسنة، أن نتثبت ويتأنى ويبحث عما سمعه أو قرأه امتثالا لقوله تعالى {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْماً بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} ، ويقرأ كتب تلك الفرقة أو المذهب أو العالم، ويتأكد من صحة نسبتها إلى المنسوب إليه وإليهم، ويقارن بين أدلة الرادين وبين أدلة المردود عليه أو عليها، فإذا ثبت لديه بالدلائل الصحيحة، أن تلك الأقاويل المنسوبة إلى ذلك العالم أو الفرقة صحيح، فعند ذلك يحتسب الأجر ويكتب بقصد إظهار الحق وتحذير الناس عن الباطل، ويأتي بالأدلة في رده حتى يعرف القارئ من المحق ومن المبطل؟ أما مجرد السماع من أفواه العوام أو قراءة بعض الكتب المملوءة بأكاذيب وافتراءات، وقال العلامة فلان والحبر الفلاني وفي الكتاب المرسوم بكذا، من غير أن يكون قول العلامة أو ما في ذلك الكتاب مويدا بالدليل الصحيح، فلا ينبغي التعويل عليه ويصبح كحاطب ليل وأضحوكة بين العالمين، كمؤلفي تلك الكتب السالفة الذكر.

والجواب عن حكاية الأعمى الذي صلى على النبي بعد الأذان وأنهم قتلوه، فلا أظن أن يصدق هذا الافتراء إلا من يكون كسائمة الأنعام، كيف يصدق عاقل أن يقتل مسلم بالصلاة على الرسول بعد الأذان، وقد قال الله العظيم: {وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِناً مُتَعَمِّداً فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِداً فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ وَأَعَدَّ لَهُ عَذَاباً عَظِيماً} 1. وفي الحديث الصحيح "لا يحل دم

--------------------------------------------

1 سورة النساء الآية 93
কোনো মাযহাব বা দল সম্পর্কে লিখতে চাইলে একজন আলিমের দায়িত্ব

মহান শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি এই বানোয়াট অপবাদ আরোপকারীরা এবং যারা নিজেদের কিতাবসমূহে শাইখের সমালোচক ও হকের সাহায্যকারী হিসেবে দাবি করে লিখছেন, তারা কি জানেন না যে, কোনো আলিম যখন কোনো দল, মাযহাব বা আলিম সম্পর্কে শরিয়ত পরিপন্থী—আর শরিয়ত বলতে আমি কিতাবুল্লাহ এবং সহিহ বা হাসান সুন্নাহ বুঝাচ্ছি—এমন কিছু শোনেন, তখন তার ওপর ওয়াজিব হলো আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অনুগত হয়ে বিষয়টি যাচাই করা, ধৈর্য ধারণ করা এবং যা শুনেছেন বা পড়েছেন সে সম্পর্কে অনুসন্ধান করা: "হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, পাছে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়কে কষ্ট দিয়ে ফেল এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হও।" এবং তাকে সেই দল, মাযহাব বা আলিমের কিতাবসমূহ পড়তে হবে এবং তাদের নামে যা সম্বন্ধ করা হয়েছে তার সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে। যারা খণ্ডন করছেন তাদের দলীল এবং যাদের খণ্ডন করা হচ্ছে তাদের দলীলের মধ্যে তুলনা করতে হবে। অতঃপর যদি সঠিক দলীলাদির মাধ্যমে তার কাছে প্রমাণিত হয় যে, ঐ আলিম বা দলের প্রতি আরোপিত কথাগুলো সত্য, তবেই তিনি সওয়াবের আশায় এবং সত্য প্রকাশ ও মানুষকে বাতিল থেকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে লিখবেন। তিনি তার খণ্ডনে দলীলসমূহ নিয়ে আসবেন যাতে পাঠক বুঝতে পারেন কে হকের ওপর আছেন আর কে বাতিলের ওপর? কিন্তু নিছক সাধারণ মানুষের মুখ থেকে শোনা বা মিথ্যা ও অপবাদে পরিপূর্ণ কিছু কিতাব পড়া—যেখানে বলা হয়েছে অমুক আল্লামা বা অমুক পণ্ডিত এমন বলেছেন বা অমুক কিতাবে এমন আছে—অথচ সেই আল্লামার কথা বা ঐ কিতাবের বক্তব্য সঠিক দলীলের মাধ্যমে সমর্থিত নয়, তবে তার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। অন্যথায় তিনি রাতের আঁধারে কাঠ সংগ্রহকারীর মতো হয়ে যাবেন এবং বিশ্ববাসীর কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হবেন, যেমনটা পূর্বোক্ত কিতাবসমূহের লেখকদের ক্ষেত্রে হয়েছে।

আর সেই অন্ধ ব্যক্তির কাহিনীর জবাব—যিনি আযানের পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরূদ পাঠ করেছিলেন এবং তারা তাকে হত্যা করেছিল—আমি মনে করি না যে চতুষ্পদ জন্তুর মতো বোধসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ এই অপবাদ বিশ্বাস করবে। একজন বিবেকবান মানুষ কীভাবে বিশ্বাস করতে পারেন যে, আযানের পর রাসুলের ওপর দরূদ পাঠ করার কারণে একজন মুসলিমকে হত্যা করা হবে? অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হলো জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল থাকবে। আর আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হয়েছেন, তাকে লানত করেছেন এবং তার জন্য মহা আজাব প্রস্তুত রেখেছেন।" ১। এবং সহিহ হাদিসে এসেছে, "কোনো মুসলিমের রক্ত হালাল নয়...

--------------------------------------------

১ সুরা আন-নিসা, আয়াত ৯৩