(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الشيخ عبد الرحمن بن سعدي وجهوده في تو ضيح العقيدة القسم: العقيدة
الكتاب: الشيخ عبد الرحمن بن سعدي وجهوده في توضيح العقيدة
المؤلف: عبد الرزاق بن عبد المحسن البدر
أصل الكتاب: رسالة ماجستير للمؤلف
الناشر: مكتبة الرشد، الرياض، المملكة العربية السعودية
عدد الصفحات: 321
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শেখ আব্দুর রহমান বিন সাদী এবং আকিদা ব্যাখ্যায় তাঁর প্রচেষ্টাসমূহ বিভাগ: আকিদা
বই: শেখ আব্দুর রহমান বিন সাদী এবং আকিদা ব্যাখ্যায় তাঁর প্রচেষ্টাসমূহ
লেখক: আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বাদর
মূল গ্রন্থ: লেখকের স্নাতকোত্তর থিসিস
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ, সৌদি আরব কিংডম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.
أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار4.
وبعد: فإن عقيدة التوحيد، وإفراد الله وحده بالعبادة هي أجل المسائل وأعظمها على الإطلاق، فمن أجلها خلق الله الخلق وأنزل الكتب وبعث الرسل، فجميع الأنبياء الذين بعثهم الله، إنما بعثهم للدعوة إلى عقيدة التوحيد وإفراده وحده بالعبادة.
قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} 5.
وقال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} 6.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ১।
{হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের ব্যাপারে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} ২।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে।} ৩।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। ৪।
এরপর: নিশ্চয়ই তাওহীদের আকিদা এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে কেবল আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা হলো সর্বতোভাবে সবচেয়ে মহান ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এরই জন্য আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন এবং রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ যত নবী পাঠিয়েছেন, তাঁদের সকলকে কেবল তাওহীদের আকিদা এবং ইবাদতে আল্লাহকে একক করার দাওয়াত দেওয়ার জন্যই পাঠিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক জাতির নিকট রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।} ৫।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যাঁর কাছে এই ওহী পাঠাইনি যে, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো।} ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وقال تعالى: {يُنَزِّلُ الْمَلائِكَةَ بِالرُّوحِ مِنْ أَمْرِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ أَنْ أَنْذِرُوا أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاتَّقُونِ} 1.
وقد ختمهم الله سبحانه بمحمد صلى الله عليه وسلم، البشير النذير، والداعي إلى الله بإذنه والسراج المنير، فعمل على ما كان عليه إخوانه المرسلون من العناية بعقيدة التوحيد فأخذ ينادي بهذه العقيدة في أرجاء قومه، الذين عكفوا على أصنام لهم متخذينها آلهة، يدعونها ويذبحون لها ويتوسلون بها ويقدمون لها أنواعاً لها كثيرة من العبادة، مع أنها حجارة لا تضر ولا تنفع، ولا تملك لنفسها ضراً ولا رشداً، فضلا عن أن تملك لغيرها شيئاً.
فأخذ ينادي بينهم بهذه العقيدة، ويصدع بينهم بقوله: "قولوا: لا إله إلا الله تفلحوا"2.
فما كان منهم إلا أن أنكروا دعوته، وردوا مقالته، فقالوا له متعجبين ولدعوته مستنكرين: {أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهاً وَاحِداً إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} 3.
فما استكان ولا توانى بل استمر صلى الله عليه وسلم يدعو إلى هذه العقيدة، فدعا إليها ثلاثة عشر عاما في مكة، وواصل ذلك في المدينة بعد أن هاجر إليها.
فنفع الله بدعوته، وأخرج به الناس من الظلمات إلى النور، ومن الضلال إلى الهدى، ومن الشرك إلى التوحيد، ومن عبادة الأوثان إلى عبادة الواحد الديان. وفتح الله به أعيناً عمياً وقلوباً غلفاً وآذاناً صماً.
قال تعالى: {قَدْ أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكُمْ ذِكْراً رَسُولاً يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِ اللَّهِ مُبَيِّنَاتٍ لِيُخْرِجَ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ} 4.
وقال تعالى: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولاً مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: "তিনি তাঁর নির্দেশে তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা রূহ (ওহী) সহ ফিরিশতাদের অবতীর্ণ করেন (এই মর্মে) যে, তোমরা সতর্ক করো, আমি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই; অতএব তোমরা আমাকেই ভয় করো।" ১।
আর মহান আল্লাহ তাঁদের (রাসূলদের) সিলসিলা সমাপ্ত করেছেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে, যিনি সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ। তিনি তাঁর পূর্ববর্তী ভ্রাতৃপ্রতিম রাসূলগণের তৌহিদের আকিদার প্রতি যত্নবান হওয়ার পথ অনুসরণ করেন। ফলে তিনি তাঁর জাতির মাঝে এই আকিদার দাওয়াত দিতে থাকেন, যারা মূর্তিপূজায় নিমগ্ন ছিল এবং সেগুলোকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছিল; তারা সেগুলোকে ডাকত, তাদের উদ্দেশ্যে পশু জবাই করত, তাদের মাধ্যমে অসীলা তালাশ করত এবং তাদের সামনে নানা প্রকার ইবাদত পেশ করত। অথচ এই মূর্তিগুলো ছিল স্রেফ পাথর, যা না কোনো ক্ষতি করতে পারে, না কোনো উপকার করতে পারে, আর না তারা নিজেদের কোনো ক্ষতি বা মঙ্গলের মালিক, অন্য কারও উপকার করা তো দূরের কথা।
অতঃপর তিনি তাদের মাঝে এই আকিদার দাওয়াত দিতে শুরু করলেন এবং প্রকাশ্যে এই কথা ঘোষণা করতে থাকলেন: "তোমরা বলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তবেই তোমরা সফল হবে।" ২।
কিন্তু তারা তাঁর দাওয়াতকে অস্বীকার করা এবং তাঁর কথা প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া আর কিছুই করেনি। তারা আশ্চর্যান্বিত হয়ে এবং তাঁর দাওয়াতের নিন্দা জানিয়ে বলল: "সে কি বহু ইলাহকে এক ইলাহ বানিয়ে দিয়েছে? নিশ্চয়ই এটি এক আশ্চর্যজনক বিষয়।" ৩।
কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দমে যাননি বা শিথিলতা প্রদর্শন করেননি, বরং এই আকিদার দিকে দাওয়াত দেওয়া অব্যাহত রাখেন। তিনি মক্কায় তেরো বছর ধরে এই দাওয়াত দেন এবং সেখানে হিজরত করার পর মদিনায় তা অব্যাহত রাখেন।
ফলে আল্লাহ তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে প্রভূত কল্যাণ দান করেন এবং তাঁর মাধ্যমে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে, পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েতের দিকে, শিরক থেকে তৌহিদের দিকে এবং মূর্তিপূজা থেকে এক ও অদ্বিতীয় বিচার দিবসাকর্তার ইবাদতের দিকে বের করে আনেন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে অন্ধ চোখ, মোহরাঙ্কিত অন্তর এবং বধির কান খুলে দেন।
মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন উপদেশ—একজন রাসূল, যে তোমাদের কাছে আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করে, যাতে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনতে পারেন।" ৪।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তিনিই উম্মীদের মাঝে তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যে তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করে এবং তাদের পবিত্র করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ} 1.
ولم يمت صلى الله عليه وسلم حتى أتم الله به الدين وأكمله، حيث أدى رسالة ربه وافية كاملة ممتثلاً بذلك أمر ربه حيث يقول: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ} 2.
قال الإمام ابن كثير رحمه الله: "يقول تعالى مخاطباً عبده محمداً صلى الله عليه وسلم باسم الرسالة، وآمراً له بإبلاغ جميع ما أرسله الله به. وقد امتثل عليه أفضل الصلاة والسلام ذلك، وقام به أتم القيام"3.
ثم ساق ما أخرجه البخاري في ((صحيحه)) عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: "من حدثك أن محمداً كتم شيئاً مما أنزل الله عليه فقد كذب، وهو يقول: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ} 4" 5.
وقد أنزل الله في كتابه ـ تبييناً وتنصيصاً على أن الرسول صلى الله عليه وسلم ما مات حتى أتم الله الدين وأكمله ـ قوله: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلامَ دِيناً} 6.
وهذا الإنعام أعظم نعم الله تعالى على هذه الأمة حيث أكمل تعالى لهم دينهم فلا يحتاجون إلى دين غيره، ولا إلى نبي غير نبيهم صلوات الله وسلامه عليه؛ ولهذا جعله الله تعالى خاتم الأنبياء، وبعثه إلى الإنس والجن فلا حلال إلا ما أحله الله ولا حرام إلا ما حرمه، ولا دين إلا ما شرعه. وكل شيء أخبر به فهو حق وصدق، لا كذب فيه ولا خلف كما قال تعالى: {وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدْقاً وَعَدْلاً} 7 أي صدقاً في الأخبار وعدلاً في الأوامر والنواهي. فلما أكمل لهم الدين تمت عليهم النعمة؛ ولهذا قال تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْأِسْلامَ دِيناً} 8 أي
--------------------------------------------
"...এবং তিনি তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও ইতিপূর্বে তারা সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল।" ১।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেননি যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং তা সম্পূর্ণ করেছেন। কেননা তিনি তাঁর রবের নির্দেশ পালন করে তাঁর রবের রিসালাতকে যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে রাসূল! আপনার প্রতি আপনার রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তা পৌঁছে দিন। যদি আপনি তা না করেন তবে আপনি তো তাঁর রিসালাত পৌঁছে দিলেন না।" ২।
ইমাম ইবনে কাসীর রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: "আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রিসালাতের সম্বোধনে সম্বোধন করেছেন এবং আল্লাহ তাঁকে যা কিছু দিয়ে পাঠিয়েছেন তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি তা পালন করেছেন এবং তা পরিপূর্ণভাবে আঞ্জাম দিয়েছেন।" ৩।
এরপর তিনি সহীহ বুখারীতে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আপনাকে বলবে যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অবতীর্ণ কোনো কিছু গোপন করেছেন, সে মিথ্যা বলেছে। অথচ তিনি (আল্লাহ) বলছেন: 'হে রাসূল! আপনার প্রতি আপনার রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তা পৌঁছে দিন'।" ৪, ৫।
আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বিষয়টি সুস্পষ্ট করতে এবং নির্দিষ্ট করে বর্ণনা করার জন্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেননি যতক্ষণ না আল্লাহ দ্বীনকে পূর্ণতা ও সমাপ্তি দান করেছেন, এই বাণী অবতীর্ণ করেছেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" ৬।
আর এই দানটি এই উম্মতের প্রতি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত, কারণ আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিয়েছেন। ফলে তাদের অন্য কোনো দ্বীনের প্রয়োজন নেই এবং তাদের নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ছাড়া অন্য কোনো নবীরও প্রয়োজন নেই। এজন্যই আল্লাহ তাআলা তাঁকে সর্বশেষ নবী করেছেন এবং তাঁকে মানব ও জিন জাতির কাছে পাঠিয়েছেন। সুতরাং আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা ছাড়া কোনো কিছু হালাল নেই এবং আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা ছাড়া কোনো কিছু হারাম নেই, আর আল্লাহ যে বিধান দিয়েছেন তা ছাড়া কোনো দ্বীন নেই। তিনি যা কিছু সংবাদ দিয়েছেন তার প্রতিটি সত্য ও সঠিক, এতে কোনো মিথ্যা বা বিচ্যুতি নেই; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আপনার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ।" ৭ অর্থাৎ সংবাদের ক্ষেত্রে সত্য এবং আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণ। অতঃপর যখন তিনি তাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলেন, তখন তাদের ওপর নিয়ামত সম্পূর্ণ হলো। আর একারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" ৮ অর্থাৎ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
فارضوه أنتم لأنفسكم فإنه الدين الذي أحبه الله ورضيه وبعث به أفضل الرسل الكرام، وأنزل به أشرف الكتب1.
ثم بعد موته صلى الله عليه وسلم خلفه في الدعوة إلى هذا الدين، وفي نشر هذه العقيدة الصافية، ورثتُه من بعده وهم العلماء المصلحون الصحابة ومن اقتفى أثرهم وسار على نهجهم وترسَّم خطاهم، فالأنبياء لم يورثوا ديناراً ولا درهماً وإنما ورثوا العلم.
كما في حديث أبي الدرداء رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "....إن العلماء ورثة الأنبياء، وإن الأنبياء لم يورثوا ديناراً ولا درهماً، وإنما ورثوا العلم فمن أخذه أخذ بحظ وافر" 2.
وقال تعالى: {ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا....} 3 الآية فأهل العلم لهم جهد كبير، وأثر عظيم في نقل هذا الدين، وإيصاله إلى الناس صافياً نقياً. ولهم جهد في الذود عن حمى هذا الدين من دسائس المبطلين وتحريف الغالين من الملاحدة والزنادقة والمبتدعة وغيرهم.
قال إمام أهل السنة أحمد بن حنبل ـ رحمه الله تعالى ـ في رسالة بعثها إلى مُسَدَّد بن مُسَرْهَد عندما سأله عن أمر الفتنة وما وقع فيه الناس من الاختلاف في القدر والرفض والاعتزال وخلق القرآن والإرجاء. قال: ".... الحمد لله الذي جعل في كل زمان بقايا من أهل العلم يدعون من ضل إلى الهدى، وينهون عن الردى، يحيون بكتاب الله الموتى، وبسنة النبي أهل الجهالة والردى، فكم من قتيل لإبليس قد أحيوه. وكم من ضال قد هدوه، فما أحسن أثرهم على الناس ينفون عن دين الله تحريف الغالين، وانتحال المبطلين الذين عقدوا ألوية البدع، وأطلقوا أعنَّة الفتنة، مختلفين في الكتاب يقولون على الله وفي الله. تعالى عما يقول الظالمون علواً كبيراً، وفي كتابه بغير علم، فنعوذ بالله من كل فتنة مضلة...." 4.
فعلى مر العصور واختلاف الأيام، يقيض الله لهذا الدين العلماء الأعلام، فيقومون بإرشاد الناس إلى الدين، ويهدونهم إلى الطريق المستقيم عن طريق الخطب، والمواعظ والدروس والمؤلفات النافعة.
--------------------------------------------
সুতরাং তোমরা একে নিজেদের জন্য পছন্দ করে নাও, কারণ এটিই সেই দীন যাকে আল্লাহ ভালোবাসেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন; আর এরই মাধ্যমে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানিত রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং এর মাধ্যমেই তিনি সর্বাপেক্ষা মর্যাদাবান কিতাব অবতীর্ণ করেছেন১।
এরপর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃত্যুর পর এই দীনের দাওয়াত দিতে এবং এই বিশুদ্ধ আকিদা প্রচারের ক্ষেত্রে তাঁর উত্তরাধিকারীরা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। তারা হলেন সংশোধনকারী আলেম সমাজ, সাহাবায়ে কেরাম এবং যারা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, তাঁদের মানহাজ অনুযায়ী চলেছেন এবং তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন। কেননা নবীগণ কোনো দিনার বা দিরহাম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যান না, বরং তাঁরা কেবল ইলমকে (জ্ঞান) মিরাস হিসেবে রেখে যান।
যেমন আবু দিরদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "....নিশ্চয়ই আলেমগণ নবীগণের উত্তরাধিকারী। আর নবীগণ কোনো দিনার বা দিরহামের উত্তরাধিকার রেখে যাননি, বরং তাঁরা কেবল ইলমেরই মিরাস রেখে গেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, সে এক মহা সম্পদ লাভ করল।" ২।
আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর আমি কিতাবটির উত্তরাধিকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে তাদের, যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি....} ৩ (আয়াত)। সুতরাং এই দীনকে স্থানান্তর করতে এবং মানুষের কাছে একে স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আহলে ইলম তথা আলেমদের বিশাল প্রচেষ্টা ও মহান ভূমিকা রয়েছে। বাতিলপন্থীদের ষড়যন্ত্র এবং নাস্তিক, যিন্দিক ও বিদআতিসহ অন্যদের চরমপন্থী বিকৃতি থেকে এই দীনের সীমানাকে রক্ষা করার ক্ষেত্রেও তাঁদের অনেক অবদান রয়েছে।
আহলে সুন্নাহর ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদের কাছে পাঠানো এক পত্রে বলেছিলেন, যখন তিনি তাঁকে ফিতনা এবং কদর (তকদির), রাফয (শিয়া মতবাদ), ইতিযাল (মুতাযিলা মতবাদ), কুরআন সৃষ্টি হওয়া এবং ইরজা (মুরজিয়া মতবাদ) বিষয়ে মানুষের মতপার্থক্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বলেন: "....সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি প্রত্যেক যুগে আহলে ইলমের মধ্য থেকে কিছু অবশিষ্ট লোক রেখেছেন যারা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেন এবং ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বিরত রাখেন; তারা আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে মৃত অন্তরগুলোকে জীবিত করেন এবং নবীর সুন্নাহর মাধ্যমে জাহিল ও ধ্বংসপ্রাপ্তদের জীবন দান করেন। ইবলিসের হাতে নিহত কত শত মানুষকে তারা জীবিত করেছেন এবং কত শত পথভ্রষ্টকে তারা সুপথ দেখিয়েছেন! মানুষের উপর তাঁদের প্রভাব কতই না সুন্দর! তাঁরা আল্লাহর দীন থেকে চরমপন্থীদের বিকৃতি এবং বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার দূর করেন, যারা বিদআতের পতাকা উড্ডীন করেছে এবং ফিতনার লাগাম ছেড়ে দিয়েছে; তারা কিতাব সম্পর্কে মতভেদ করে, তারা আল্লাহর ওপর এবং আল্লাহর বিষয়ে (অজ্ঞতাবশত) কথা বলে। যালিমরা যা বলে তা থেকে তিনি অত্যন্ত সুউচ্চ ও মহান। তারা আল্লাহর কিতাব নিয়ে ইলম ছাড়াই কথা বলে। সুতরাং আমরা বিভ্রান্তিকর সকল ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" ৪।
যুগের বিবর্তনে এবং সময়ের আবর্তনে আল্লাহ এই দীনের জন্য প্রখ্যাত আলেমদের নির্দিষ্ট করে দেন, যারা খুতবা, নসিহত, দরস এবং উপকারী রচনার মাধ্যমে মানুষকে দীনের দিকে দিকনির্দেশনা দেন এবং তাদের সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
فيحيون ما اندرس من السنن، ويردون ما جد من الحوادث والبدع، ويكونون أئمة خير يهدون الناس بأمر الله إلى كل خير، وبهم يكون صلاح الدين والدنيا وبفقدهم فلا خير في الدنيا، بل هي سواهم وسوى ذكر الله ملعونة ملعون ما فيها.
كما ورد في الحديث "الدنيا ملعونة ملعون ما فيها، إلا ذكر الله وما والاه، وعالماً أو متعلماً"1.
وإن من هؤلاء الهداة الأعلام المبرزين في القرن الرابع عشر المنصرم، الشيخ العلامة عبد الرحمن بن ناصر بن عبد الله آل سعدي المتوفى في عام 1376هـ رحمه الله تعالى.
فقد بذل رحمه الله حياته، ونذر أوقاته لخدمة العلم، وقد عرف منذ حداثة سنه برغبته القوية، وحرصه الشديد على تحصيل العلم، فكان لا يصرفه عنه صارف، ولا يشغله عنه أي أمر من الأمور باذلاً له حياته صارفا فيه أوقاته، زاهداً في كل ما يشغله عن العلم والتعلم. فحفظ القرآن عن ظهر قلب في الحادية عشرة من عمره، ثم أقبل على العلماء يواظب على دروسهم، وأكب على كتب أهل العلم يقرأها وينهل من معينها فانقطع رحمه الله للعلم وتحصيله حفظاً وفهماً ودراسة ومراجعة واستذكاراً وتطبيقاً، حتى نال في وقت مبكر من عمره علوماً كثيرة وفنوناً مختلفة.
وقد بارك الله فيه وفي أوقاته ونفع به، فاستفاد منه خلق كثير في حياته، ولا يزالون ينتفعون من مؤلفاته بعد وفاته، فله رحمه الله مؤلفات كثيرة تربو على أربعين مؤلفاً في سائر فنون الشريعة، فله مؤلفات عديدة في العقيدة الإسلامية وفي التفسير وعلومه وفي الفقه وأصوله وفي محاسن الدين وآدابه وغير ذلك، وهي سهلة الأسلوب قريبة المأخذ، واضحة المعاني، جامعة شاملة.
وقد كان له رحمه الله عناية بالغة بالعقيدة الإسلامية، كشأن علماء أهل السنة والجماعة. وقد خصها بمؤلفات عديدة أفردها لبيان العقيدة وتوضيحها وللرد على من خالفها، ومؤلفاته التي أفردها في العقيدة تربو على عشرة مؤلفات، ثم إنه يُعنى بالعقيدة في سائر مؤلفاته، وكتابه "تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان" يعد مرجعاً هاماً في بيان العقيدة وتوضيحها والرد على من خالفها، وكذلك خلاصة هذا التفسير المسمى بـ "تيسير اللطيف المنان في خلاصة تفسير القرآن". وغيرهما من مؤلفاته.
--------------------------------------------
তারা সুন্নাহর বিলুপ্তপ্রায় বিষয়গুলোকে পুনর্জীবিত করেন এবং নবউদ্ভাবিত বিষয় ও বিদআতসমূহকে প্রতিহত করেন। তারা কল্যাণের ইমাম হিসেবে আল্লাহর নির্দেশে মানুষকে সকল মঙ্গলের দিকে পরিচালিত করেন। তাদের মাধ্যমেই দ্বীন ও দুনিয়ার সংশোধন সাধিত হয় এবং তাদের অনুপস্থিতিতে দুনিয়াতে আর কোনো কল্যাণ অবশিষ্ট থাকে না; বরং তারা এবং আল্লাহর জিকর ব্যতীত দুনিয়া ও এর মধ্যকার সবকিছুই অভিশপ্ত।
যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: “দুনিয়া অভিশপ্ত এবং এর মধ্যকার সবকিছুই অভিশপ্ত, তবে আল্লাহর জিকর ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি এবং আলেম বা শিক্ষার্থী ব্যতীত।”১
আর বিগত চতুর্দশ হিজরি শতাব্দীর এই প্রখ্যাত ও বিশিষ্ট পথপ্রদর্শকগণের অন্তর্ভুক্ত হলেন শায়খ আল্লামা আবদুর রহমান ইবনে নাসির ইবনে আবদুল্লাহ আল-সাদি, যিনি ১৩৭৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)।
তিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এবং ইলমের খিদমতে তাঁর সমস্ত সময় ব্যয় করেছিলেন। শৈশব থেকেই তিনি ইলম অর্জনে তাঁর প্রবল আকাঙ্ক্ষা ও তীব্র আগ্রহের জন্য পরিচিত ছিলেন। কোনো বাধাই তাঁকে ইলম থেকে বিচ্যুত করতে পারত না এবং কোনো পার্থিব ব্যস্ততা তাঁকে এ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারত না। তিনি তাঁর জীবন ও সময় ইলমের পেছনে ব্যয় করেছেন এবং ইলম ও শিক্ষা অর্জন থেকে বিমুখকারী প্রতিটি বিষয় থেকে বিমুখ ছিলেন। তিনি মাত্র এগারো বছর বয়সে পবিত্র কুরআন হিফজ করেন। এরপর আলেমদের কাছে গিয়ে নিয়মিত তাঁদের দরসে অংশগ্রহণ শুরু করেন এবং আহলে ইলমদের কিতাবসমূহ গভীর মনোযোগের সাথে পাঠ করতে থাকেন ও তাদের জ্ঞানের উৎস থেকে উপকৃত হন। তিনি ইলম অন্বেষণ, হিফজ, অনুধাবন, অধ্যয়ন, পর্যালোচনা ও প্রয়োগের জন্য নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত করেন, যার ফলে অল্প বয়সেই তিনি বহু শাস্ত্র ও বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর মাঝে ও তাঁর সময়ের মাঝে বরকত দান করেছিলেন এবং তাঁর মাধ্যমে মানুষকে উপকৃত করেছিলেন। তাঁর জীবদ্দশায় অসংখ্য মানুষ তাঁর নিকট থেকে উপকৃত হয়েছে এবং তাঁর মৃত্যুর পরেও মানুষ তাঁর রচনাবলি থেকে উপকৃত হচ্ছে। শরীয়তের বিভিন্ন শাখায় তাঁর চল্লিশটিরও বেশি গ্রন্থ রয়েছে। ইসলামি আকিদা, তাফসির ও উলুমুল কুরআন, ফিকহ ও উসুলে ফিকহ, দ্বীনের সৌন্দর্য ও আদবসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে। এগুলোর রচনাশৈলী অত্যন্ত সহজবোধ্য, ভাবার্থ স্পষ্ট এবং এগুলো অত্যন্ত তথ্যবহুল ও ব্যাপক।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আলেমদের রীতি অনুযায়ী ইসলামি আকিদার প্রতি তাঁর গভীর মনোযোগ ছিল। আকিদার বর্ণনা, স্পষ্টিকরণ এবং বিরোধীদের খণ্ডন করার জন্য তিনি বেশ কিছু স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। আকিদা বিষয়ে তাঁর রচিত স্বতন্ত্র গ্রন্থের সংখ্যা দশটিরও বেশি। এছাড়া তাঁর প্রতিটি গ্রন্থেই তিনি আকিদার বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর রচিত ‘তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান’ গ্রন্থটি আকিদার বর্ণনা, ব্যাখ্যা এবং বিরোধীদের খণ্ডনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। একইভাবে এই তাফসিরের সারসংক্ষেপ ‘তাইসীরুল লতিফিল মান্নান ফী খুলাসাতি তাফসীরিল কুরআন’ এবং তাঁর অন্যান্য গ্রন্থসমূহও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
فكان رحمه الله يُعنى بأمر العقيدة ويرى أنه أعظم المسائل وأكبرها وأهمها وأجدرها بالتوضيح والبيان.
وقد استفاد كثيراً من كتب من سبقه من علماء الإسلام المتقدمين، ولا سيما من كتب العالمين الجليلين شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه العلامة ابن قيم الجوزية اللذين ظهر تأثره بهما في مؤلفاته، فقد نهج رحمه الله نهجهما في تأصيل القواعد وتقريرها، وفي الردود على المخالفين لهذه العقيدة، كما اعتنى رحمه الله بمؤلفاتهما شرحاً وتوضيحاً وتبييناً.
ولما كان على كل طالب في الدراسات العليا أن يقدم بحثاً علمياً في مجال تخصصه فقد رأيت أن أقوم بدراسة علمية لجهود هذا العالم الجليل في توضيح العقيدة، واستخرت الله في ذلك وشاورت بعض أهل العلم من تلاميذه وغيرهم فوجدت التأييد التام ممن سألته، فعزمت أمري وتوكلت على الله، وباشرت الكتابة في هذا الموضوع وجعلته بعنوان: "الشيخ عبد الرحمن بن سعدي وجهوده في توضيح العقيدة" وجعلته في مقدمة وبابين وخاتمة:
أما المقدمة: فهي هذه وقد جعلتها تمهيداً لهذا البحث وبينت فيها أهميته، والخطة التي سرت عليها فيه.
أما الباب الأول: فقد خصصته للحديث عن حياة الشيخ عبد الرحمن بن سعدي، وقسمته إلى فصلين:
الفصل الأول: عن حياته الشخصية وقسمته إلى ثمانية مباحث.
تحدثت فيها عن نسبه، ومولده، ووفاة والديه، ونشأته، وصفاته الخلقية والخُلقية وأعماله ومرضه، ووفاته، ورثائه.
الفصل الثاني: عن حياته العلمية وقسمته أيضا إلى ثمانية مباحث.
تحدثت فيها عن طلبه للعلم وحرصه عليه، وشيوخه، وعنايته بكتب شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم وتأثره بهما، وجلوسه للتدريس، وطريقته فيه، وتلاميذه، وعقيدته، وتنوع ثقافته، ومؤلفاته، وثناء العلماء عليه.
وأما الباب الثاني: فخصصته للحديث عن جهوده في توضيح العقيدة، وقسمته إلى أربعة فصول:
الفصل الأول: عن جهوده في توضيح الإيمان بالله وفيه تمهيد وثلاثة مباحث:
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) আকীদার বিষয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করতেন এবং মনে করতেন যে এটিই সবচেয়ে মহান, সর্ববৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এটিই ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত।
তিনি তাঁর পূর্ববর্তী প্রাচীন ইসলামি পণ্ডিতগণের গ্রন্থাবলি থেকে প্রভূত উপকৃত হয়েছেন, বিশেষ করে দুই মহান আলেম শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর কিতাবসমূহ থেকে। তাঁর রচনাবলিতে তাঁদের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) মূলনীতিসমূহ নির্ধারণ ও তা প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে এবং এই আকীদার বিরোধীদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে তাঁদেরই পথ অনুসরণ করেছেন। পাশাপাশি তিনি তাঁদের গ্রন্থাবলির ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ও বিশদ বর্ণনার প্রতিও বিশেষ যত্ন নিয়েছেন।
যেহেতু উচ্চতর গবেষণার প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজ বিশেষায়িত ক্ষেত্রে একটি তাত্ত্বিক গবেষণা পেশ করতে হয়, তাই আমি আকীদা স্পষ্টকরণে এই মহান আলেমের প্রচেষ্টার ওপর একটি তাত্ত্বিক গবেষণা করার সিদ্ধান্ত নিই। এ বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করি এবং তাঁর কয়েকজন ছাত্র ও অন্যান্য আলেমদের সাথে পরামর্শ করি। ফলে যাদের কাছেই আমি এ বিষয়ে জানতে চেয়েছি, তাদের সবার কাছ থেকেই পূর্ণ সমর্থন পেয়েছি। অতঃপর আমি দৃঢ় সংকল্প করি এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করে এই বিষয়ে লেখা শুরু করি। আমি এর শিরোনাম দিয়েছি: "শাইখ আব্দুর রহমান বিন সাদী এবং আকীদা ব্যাখ্যায় তাঁর অবদান"। আমি এটিকে একটি ভূমিকা, দুটি মূল অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি:
ভূমিকা: এটি এই গবেষণার উপক্রমনিকা এবং এতে আমি এর গুরুত্ব ও যে কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ করেছি তা বর্ণনা করেছি।
প্রথম অধ্যায়: এটি আমি শাইখ আব্দুর রহমান বিন সাদীর জীবনীর আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি এবং একে দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে এবং একে আমি আটটি অনুচ্ছেদে ভাগ করেছি।
এতে আমি তাঁর বংশপরিচয়, জন্ম, পিতা-মাতার মৃত্যু, বেড়ে ওঠা, শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, কর্মজীবন, অসুস্থতা, মৃত্যু এবং শোকগাথা নিয়ে আলোচনা করেছি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন সম্পর্কে এবং এটিকেও আটটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি।
এতে আমি তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ ও এর প্রতি তাঁর একাগ্রতা, তাঁর শিক্ষকবৃন্দ, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের কিতাবসমূহের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন ও তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া, তাঁর অধ্যাপনার আসনে বসা, শিক্ষাদানের পদ্ধতি, তাঁর ছাত্রবৃন্দ, তাঁর আকীদা, তাঁর বহুমুখী জ্ঞান, রচনাবলি এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসাবাণী নিয়ে আলোচনা করেছি।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এটি আমি আকীদা ব্যাখ্যায় তাঁর অবদান আলোচনার জন্য নির্ধারণ করেছি এবং একে চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর প্রতি ঈমান স্পষ্টকরণে তাঁর অবদান সম্পর্কে এবং এতে একটি উপক্রমনিকা ও তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الأول: عن توحيد الربوبية.
المبحث الثاني: عن توحيد الأسماء والصفات.
المبحث الثالث: عن توحيد الألوهية.
الفصل الرابع: عن جهوده في توضيح الإيمان بالنبوات وضمنته الحديث عن الإيمان بالملائكة والكتب.
الفصل الثالث: عن جهوده في توضيح الإيمان باليوم الآخر وفيه تمهيد وخمسة مباحث:
المبحث الأول: الإيمان بأشراط الساعة.
المبحث الثاني: الإيمان بفتنة القبر وعذابه ونعيمه.
المبحث الثالث: الإيمان بالنفخ في الصور.
المبحث الرابع: الإيمان بالبعث والنشور.
المبحث الخامس: الإيمان باليوم الآخر بعد البعث.
الفصل الرابع: عن جهوده في توضيح تعريف الإيمان وما يتعلق به من مسائل كالاستثناء في الإيمان وزيادة الإيمان ونقصانه، وحكم مرتكب الكبيرة وغير ذلك.
وأما الخاتمة: فقد عرضت فيها ملخصاً موجزاً للنقاط الهامة في هذا البحث.
هذا وقد بذلت جهدي في هذا البحث، فاستقصيت جميع مؤلفات الشيخ بعد أسفار متعددة إلى عنيزة والرياض، واتصلت بعدد من تلاميذه، وعكفت على كتبه وقرأت منها ما يتعلق بالعقيدة، ثم سطرت هذه الرسالة. مستفرغاً فيها وُسعي باذلاً فيها طاقتي، وهي في الحقيقة بضاعة متواضعة من شخص مقل، حسبه فيها أنه قدم جهده، وتوخى أن تصل إلى درجة مرضية.
وإتماماً للفائدة من هذه الرسالة قمت بعزو الآيات القرآنية إلى أماكنها، وتخريج الأحاديث النبوية باختصار، ووثقت النقول بذكر مصادرها، وأما ما أهملت توثيقه من أقوال بعض المعاصرين فلأني أخذته منهم مشافهة.
ثم إني في ختام هذه المقدمة لا يفوتني أن أتقدم بجزيل شكري وتقديري ـ بعد شكر الله تعالى على وافر نعمه وعظيم مننه ـ إلى جميع من أسهم معي في إخراج هذا البحث.
وأخص بالذكر والدي الكريم الشيخ عبد المحسن العباد حفظه الله ورعاه، وشيخي الفاضل علي بن ناصر فقيهي المشرف على إعداد هذه الرسالة، والشيخين
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ প্রসঙ্গে।
চতুর্থ অধ্যায়: নবুওয়াতের প্রতি ঈমান স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টা প্রসঙ্গে, এবং এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ফেরেশতাগণ ও কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান সংক্রান্ত আলোচনা।
তৃতীয় অধ্যায়: পরকালের প্রতি ঈমান স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টা প্রসঙ্গে, এতে একটি ভূমিকা ও পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কিয়ামতের আলামতসমূহের প্রতি ঈমান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কবরের ফিতনা, আযাব ও নিয়ামতসমূহের প্রতি ঈমান।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শিঙায় ফুঁৎকার দেওয়ার প্রতি ঈমান।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পুনরুত্থান ও হাশরের প্রতি ঈমান।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: পুনরুত্থানের পর পরকালের প্রতি ঈমান।
চতুর্থ অধ্যায়: ঈমানের সংজ্ঞা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টা প্রসঙ্গে, যেমন ঈমানের ক্ষেত্রে ইস্তিসনা (ইনশাআল্লাহ বলা), ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধি, কবিরা গুনাহগার ব্যক্তির বিধান ইত্যাদি।
আর উপসংহার: এতে আমি এই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছি।
আমি এই গবেষণায় আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছি। উনাইযাহ এবং রিয়াদে একাধিকবার ভ্রমণের পর আমি শাইখের সমস্ত রচনাবলি অনুসন্ধান করেছি, তাঁর বেশ কয়েকজন ছাত্রের সাথে যোগাযোগ করেছি এবং তাঁর বইগুলোতে মনোনিবেশ করে সেখান থেকে আকিদা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পাঠ করেছি। অতঃপর আমি এই থিসিসটি লিখেছি। এতে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। প্রকৃতপক্ষে এটি এক নগণ্য ব্যক্তির অতি সামান্য একটি নিবেদন, যার সান্ত্বনা কেবল এইটুকু যে সে তার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে এবং তা যেন একটি সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছায় সেই লক্ষ্য রেখেছে।
এই থিসিসের উপযোগিতা পূর্ণ করার লক্ষ্যে আমি কুরআনের আয়াতগুলোকে তার নির্দিষ্ট স্থানে নির্দেশ করেছি, হাদিসসমূহের সংক্ষিপ্ত তাখরিজ (উৎস উল্লেখ) করেছি এবং উদ্ধৃতিগুলোর তথ্যসূত্র উল্লেখ করে তা সুসংহত করেছি। আর সমসাময়িক কারো কারো বক্তব্যের ক্ষেত্রে যদি উদ্ধৃতি প্রদান করা না হয়ে থাকে, তবে তা এই কারণে যে আমি তা তাঁদের নিকট থেকে সরাসরি শুনে গ্রহণ করেছি।
অতঃপর এই ভূমিকার শেষে, মহান আল্লাহর অফুরন্ত নিয়ামত ও মহান অনুগ্রহের শুকরিয়া আদায়ের পর, যারা এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে আমাকে সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে আমি ভুলছি না।
আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি আমার সম্মানিত পিতা শাইখ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ —আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন ও তাঁর দেখাশোনা করুন— এবং আমার শ্রদ্ধেয় শাইখ আলী বিন নাসের ফাকিহী, যিনি এই থিসিসটি প্রস্তুতির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন, এবং অপর দুই শাইখ...
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الكريمين اللذين قاما بمناقشة وتقويم هذه الرسالة وهما: فضيلة الشيخ صالح بن فوزان الفوزان، وفضيلة الشيخ عبد الله بن محمد الغنيمان، فقد استفدت منهم فوائد جمة فأسأل الله الكريم أن يتقبل هذا الجهد بقبول حسن، وأن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، فهو حسبي ونعم الوكيل.
وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
كتبه
عبد الرزاق بن عبد المحسن العباد
المدينة النبوية في 21 رمضان 1407هـ
সেই দুই সম্মানিত ব্যক্তি যাঁরা এই গবেষণাপত্রটি পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করেছেন, তাঁরা হলেন: ফযীলাতুশ শাইখ সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান এবং ফযীলাতুশ শাইখ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-গুনাইমান। আমি তাঁদের নিকট থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছি। অতএব আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই পরিশ্রমকে উত্তমভাবে কবুল করেন এবং একে কেবল তাঁর মহান চেহারার (সন্তুষ্টির) জন্য নিবেদিত করেন। তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।
এটি লিখেছেন
আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ
মদীনা নববীয়্যাহ, ২১ রমজান ১৪০৭ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الباب الأول: حياة الشيخ عبد الرحمن بن سعدي
الفصل الأول: حياته الشخصية…الباب الأول
حياة الشيخ عبد الرحمن بن سعدي
وفيه فصلان:
الفصل الأول: حياته الشخصية.
الفصل الثاني: حياته العلمية.
প্রথম পরিচ্ছেদ: শেখ আবদুর রহমান বিন সাদীর জীবনপ্রথম অধ্যায়: তাঁর ব্যক্তিগত জীবন…প্রথম পরিচ্ছেদ
শেখ আবদুর রহমান বিন সাদীর জীবন
এতে দুটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: তাঁর ব্যক্তিগত জীবন।
দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর ইলমী জীবন।
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفصل الأول
حياته الشخصية
وفيه ثمانية مباحث:-
أولا: نسبه.
ثانيا: مولده ووفاة والديه.
ثالثا: نشأته.
رابعا: صفاته الخَلقية.
خامسا: صفاته الخُلقية (أخلاقه) .
سادسا: أعماله.
سابعا: مرضه ووفاته.
ثامنا: رثاؤه.
প্রথম অধ্যায়
তাঁর ব্যক্তিগত জীবন
এবং এতে আটটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:-
প্রথম: তাঁর বংশপরিচয়।
দ্বিতীয়: তাঁর জন্ম এবং তাঁর পিতামাতার ইন্তেকাল।
তৃতীয়: তাঁর বেড়ে ওঠা।
চতুর্থ: তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্য।
পঞ্চম: তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য (আখলাক)।
ষষ্ঠ: তাঁর কর্মসমূহ।
সপ্তম: তাঁর অসুস্থতা ও ইন্তেকাল।
অষ্টম: তাঁর শোকগাঁথা।
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
حياته الشخصية1
أولا: نسبه:
هو العلامة الورع الزاهد، الفقيه الأصولي المحقق المدقق الشيخ عبد الرحمن بن ناصر بن عبد الله بن ناصر بن حمد آل سعدي. من نواصر بني تميم، من بني عمرو أحد
--------------------------------------------
তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ১
প্রথমত: তাঁর বংশপরিচয়:
তিনি হলেন বিদগ্ধ পণ্ডিত, ধর্মভীরু, দুনিয়াবিমুখ, ফকীহ, উসূলে পারদর্শী এবং সূক্ষ্মদর্শী গবেষক শেখ আব্দুর রহমান বিন নাসির বিন আব্দুল্লাহ বিন নাসির বিন হামাদ আল সাদী। তিনি বনু তামীমের নাওয়াসির বংশোদ্ভূত, যা বনু আমরের একটি শাখা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
البطون الكبار من قبيلة بني تميم الشهيرة1.
المكنى بأبي عبد الله، الشهير بعلامة القصيم. نزح جدهم من قفار قرب حائل2، وقيل من المستجدة وهي قريبة من حائل أيضا3 إلى عنيزة حوالي عام 1120هـ4.أما نسبه من قبل أمه، فأمه من آل عثيمين ابنة سليمان العثيمين، وآل عثيمين من آل مقبل من آل زاخر من الوهبة من بني تميم، وهم شقراء، نزح جدهم منها إلى عنيزة وطاب له السكنى فيها5.
ثانيا: مولده، ووفاة والديه:
ولد في عنيزة في القصيم، وذلك بتاريخ 12 المحرم سنة ألف وثلاثمائة وسبع من الهجرة النبوية.
وتوفيت أمه سنة 1310هـ وله أربع سنوات، وتوفي والده سنة 1313هـ وله سبع سنوات، فعاش يتيم الأبوين6.
ثالثا: نشأته:
كان والد الشيخ عبد الرحمن، من طلبة العلم الحريصين على الطلب، الملازمين
--------------------------------------------
বিখ্যাত বনু তামীম গোত্রের বড় শাখাগুলোর একটি১।
আবু আব্দুল্লাহ উপনামে পরিচিত, যিনি আল-কাসিমের আল্লামা হিসেবে প্রসিদ্ধ। তাদের দাদা হাইল২-এর নিকটবর্তী কিফার থেকে হিজরত করেন, আবার বলা হয়েছে যে মুস্তাজিদ্দাহ থেকে যা হাইলের নিকটবর্তী৩, আনুমানিক ১১২০ হিজরি সনে উনাইজাহতে৪ আসেন। আর তার মাতৃকুল হলো, তার মা আলে উসাইমীন পরিবারের সুলাইমান আল-উসাইমীনের কন্যা, এবং আলে উসাইমীন হলো বনু তামীমের ওহাবা শাখার জাখের বংশের মুকবিল পরিবারের অন্তর্ভুক্ত, তারা শাকরা শহরের অধিবাসী, তাদের দাদা সেখান থেকে উনাইজাহতে চলে আসেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন৫।
দ্বিতীয়: তার জন্ম এবং পিতামাতার মৃত্যু:
তিনি আল-কাসিমের উনাইজাহতে জন্মগ্রহণ করেন, আর তা ছিল ১৩০৭ হিজরি সনের ১২ই মহররম তারিখে।
১৩১০ হিজরি সনে তার মা ইন্তেকাল করেন যখন তার বয়স ছিল চার বছর, এবং ১৩১৩ হিজরি সনে তার বাবা ইন্তেকাল করেন যখন তার বয়স ছিল সাত বছর, ফলে তিনি মাতাপিতা উভয়কে হারিয়ে এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন৬।
তৃতীয়: তার বেড়ে ওঠা:
শেখ আব্দুর রহমানের পিতা ছিলেন জ্ঞান অন্বেষণে অত্যন্ত আগ্রহী এবং ইলমের সাথে লেগে থাকা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
على العبادة المحافظين على الديانة بأنواعها، وكان إماماً في مسجد المسوكف بعنيزة1 فعني بابنه عبد الرحمن وسعى في تربيته تربية صالحة.
فلمّا توفاه الله عطفت عليه زوجة والده وكفلته وأحبته أكثر من حبها لأولادها وصار عندها موضع العناية والرعاية، فلما شب صار في بيت أخيه الأكبر حمد بن ناصر، فنشأ نشأة صالحة كريمة2.
وكان والده قد أوصى به إلى ابنه الأكبر حمد فقام برعايته وتربيته خير قيام، وكان حمد رجلاً صالحاً ومن حملة القرآن ومن المعمرين3.
هذا وإن الشيخ عبد الرحمن كان منذ نشأته صالحاً مثاراً للإعجاب محافظاً على الصلوات الخمس مع الجماعة، واشتهر منذ حداثته بفطنته وذكائه ورغبته الشديدة في طلب العلم وتحصيله4.
فتوفرت له البيئة الصالحة، والرغبة الشديدة في طلب العلم، فاجتهد في طلب العلم وجد فيه وسهر الليالي وواصل الأيام ومضى في طريقه قُدُماً لا يلوي على شيء غير العلم ولا يريد شيئاً غير تحصيل العلم. فلا يكاد الواصفون يصفون شدة حرصه وإقباله على العلم والتعلم، وهكذا حتى نال حظاً وافراً في العلوم الشرعية5.
رابعاً: صفاته الخَلقية:
كان ذا قامة متوسطة، شعره كثيف، ووجهه مستدير ممتلئ طلق، ولحيته كثيفة، ولونه أبيض مشرب بالحُمرة، وكان شعره في شبيبته في غاية السواد. وفي شيخوخته في غاية البياض يتلألأ كأنه فضة، ووجهه حسن عليه نور في غاية الحسن وصفاوة اللون6
--------------------------------------------
ইবাদতে মগ্ন এবং ধর্মের সকল দিকের রক্ষণাবেক্ষণকারী ছিলেন। তিনি উনাইযাহ-র আল-মুসাওকিফ মসজিদের ইমাম ছিলেন। তিনি তাঁর পুত্র আব্দুর রহমানের প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন এবং তাঁকে সৎভাবে লালন-পালন করার জন্য সচেষ্ট ছিলেন।
যখন আল্লাহ তাঁর পিতার মৃত্যু ঘটালেন, তখন তাঁর বিমাতা তাঁর প্রতি অত্যন্ত দয়ালু আচরণ করেন। তিনি তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁকে নিজের সন্তানদের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। তাঁর কাছে তিনি অত্যন্ত যত্ন ও আদরের পাত্র হয়ে ওঠেন। যখন তিনি যুবক হলেন, তখন তিনি তাঁর বড় ভাই হামাদ বিন নাসিরের ঘরে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে তিনি অত্যন্ত নেককার ও সম্মানজনক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন।
তাঁর পিতা তাঁর বড় ছেলে হামাদের নিকট আব্দুর রহমানের ব্যাপারে অসিয়ত করে গিয়েছিলেন। ফলে হামাদ তাঁর দেখাশোনা ও লালন-পালনের দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করেন। হামাদ একজন নেককার ব্যক্তি, কুরআন হাফেজ এবং দীর্ঘায়ুপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
বস্তুত শাইখ আব্দুর রহমান শৈশব থেকেই অত্যন্ত সৎ ও প্রশংসনীয় চরিত্রের অধিকারী ছিলেন এবং জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই তাঁর প্রখর মেধা, বুদ্ধিমত্তা এবং ইলম অন্বেষণ ও অর্জনের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন।
তাঁর জন্য একটি অনুকূল নেককার পরিবেশ এবং ইলম অন্বেষণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান ছিল। ফলে তিনি ইলম অর্জনে কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা করেন, জ্ঞানার্জনে মগ্ন হন এবং রাত জেগে পড়াশোনা ও দিন-রাত এক করে দেন। তিনি ইলম ছাড়া অন্য কোনো দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে অবিরাম সামনের দিকে এগিয়ে চলেন এবং জ্ঞানার্জন ব্যতীত অন্য কিছু কামনা করেননি। বর্ণনাকারীরা তাঁর ইলম অর্জন ও শিখার প্রতি গভীর আগ্রহ ও একাগ্রতার বর্ণনা দিয়ে শেষ করতে পারবেন না। এভাবেই তিনি শরয়ি জ্ঞানসমূহে এক বিশাল অংশ লাভে সমর্থ হন।
চতুর্থ: তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্য:
তিনি মাঝারি গড়নের অধিকারী ছিলেন, তাঁর চুল ছিল ঘন এবং মুখমণ্ডল ছিল গোলাকার, পূর্ণ ও উজ্জ্বল। তাঁর দাড়ি ছিল ঘন এবং গায়ের রঙ ছিল লালাভ সাদা। যৌবনকালে তাঁর চুল ছিল কুচকুচে কালো। আর বার্ধক্যে তাঁর চুল ছিল ধবধবে সাদা এবং তা রুপার মতো উজ্জ্বল দেখাত। তাঁর মুখমণ্ডল ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও জ্যোতির্ময় এবং গায়ের রঙ ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুন্দর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
خامسا: صفاته الخُلقية (أخلاقه) :
أـ (له أخلاق أرق من النسيم وأعذب من السلسبيل لا يعاتِب على الهفوة ولا يؤاخذ بالجفوة، يتودد ويتحبب إلى البعيد والقريب، يقابل بالبشاشة، ويُحَّيِ بالطلاقة، ويعاشر بالحسنى ويجالس بالمنادمة، ويجاذب أطراف أحاديث الأنس والود، ويعطف على الفقير والصغير ويبذل طاقته ووسعه، ويساعد بماله وجاهه وعلمه ورأيه ومشورته ونصحه بلسان صادق، وقلب خالص، وسر مكتوم، ومهما أردت أن أُعدد فضائله ومحاسنه في مجال الأخلاق الكريمة والشيم الحميدة التي يتحلى بها فإني مقصر وقلمي عاجز، ولا يدرك هذا إلا من عاشره وجالسه؛ لذا فإن الله سبحانه أعطاه محبة في القلوب وثقة في النفوس، فأجمعت البلاد على وده، واتفقت على تقديمه، فصار له زعامة شعبية، فإشارته نافذة وكلمته مسموعة وأمره مطاع) . هكذا وصفه تلميذه عبد الله البسام1.
ب ـ وكان رحمه الله ذا دعابة يتحبب إلى الخلق بحسن خلقه مرحاً للجليس لا يرى الغضب في وجهه طلق الوجه، كريم المحيا، وكان يكثر الحج ويصوم البيض وغيرها ويتكلم مع كل فرد بما يناسب حاله2 ويعاشر الخلق معاشرة تامة كل بحسب حاله من يعرف ومن لا يعرف، الصغير والكبير، والخاص والعام، والرجال والنساء، محباً للخير مُقْدماً عليه3.
جـ ـ ولم يُرَ قط إلا مبتسماً بادية أسارير وجهه، ولم يقابله أي شخص إلا بادره بالسلام واللطافة الصغير والكبير، ومن يعرف ومن لا يعرف، وقل من يراه إلا ويعرفه، ويباسط كل أحد بحسب حاله مباسطة تؤلف القلوب وتمكن المودة4.
د ـ وكان على جانب كبير من التواضع ولين الجانب يندر مثله، تحس إذا جالسته كأنك من أقرب الناس إليه. متواضعاً للصغير والكبير والغني والفقير5، وكان لا ينقطع عن زيارتهم ومشاركتهم في مجتمعاتهم6 يجيب دعوتهم ويزور مريضهم ويشيع جنائزهم7.
--------------------------------------------
পঞ্চম: তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ (আখলাক):
ক— (তাঁর চারিত্রিক মাধুর্য ছিল সমীরণের চেয়েও কোমল এবং সালসাবিলের (জান্নাতি ঝরনা) চেয়েও সুমিষ্ট। তিনি সামান্য বিচ্যুতিতে তিরস্কার করতেন না এবং রূঢ় আচরণের জন্য পাকড়াও করতেন না। তিনি নিকট ও দূরের সকলের সাথেই হৃদ্যতা ও ভালোবাসা বজায় রাখতেন। তিনি প্রফুল্ল চিত্তে সাক্ষাৎ করতেন এবং হাস্যোজ্জ্বল মুখে সম্ভাষণ জানাতেন। তিনি মানুষের সাথে উত্তমভাবে মেলামেশা করতেন এবং সতীর্থ হিসেবে সাহচর্য দান করতেন। তিনি অত্যন্ত আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপচারিতায় লিপ্ত হতেন এবং দরিদ্র ও ছোটদের প্রতি মমত্ববোধ প্রদর্শন করতেন। তিনি তাঁর সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু বিলিয়ে দিতেন এবং নিজের সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি, জ্ঞান, সুচিন্তিত অভিমত, পরামর্শ ও উপদেশের মাধ্যমে সত্যবাদী জিহ্বা, বিশুদ্ধ অন্তর ও গোপন নিষ্ঠার সাথে সাহায্য করতেন। আমি যদি সেই মহান চারিত্রিক গুণাবলি ও প্রশংসনীয় স্বভাবসমূহ গণনা করতে চাই যা দ্বারা তিনি ভূষিত ছিলেন, তবে আমি তাতে ব্যর্থ হব এবং আমার কলম হবে অক্ষম। যে ব্যক্তি তাঁর সাথে মেলামেশা ও ওঠাবসা করেছেন, তিনি ছাড়া আর কেউ এটি পূর্ণরূপে উপলব্ধি করতে পারবেন না। একারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষের অন্তরে তাঁর প্রতি ভালোবাসা এবং আত্মায় তাঁর প্রতি আস্থা দান করেছিলেন। ফলে পুরো জনপদ তাঁর প্রতি অনুরাগে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল এবং তাঁকে নেতৃত্বের আসনে আসীন করার বিষয়ে একমত হয়েছিল। এভাবে তাঁর এক গণনেতৃত্ব তৈরি হয়েছিল; তাঁর ইঙ্গিত ছিল কার্যকর, তাঁর কথা ছিল অত্যন্ত গুরুত্ববহ এবং তাঁর নির্দেশ ছিল শিরোধার্য)। তাঁর ছাত্র আবদুল্লাহ আল-বাসসাম তাঁকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন১।
খ — তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) হাস্যরসে অভ্যস্ত ছিলেন; উত্তম আচরণের মাধ্যমে তিনি মানুষের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছিলেন। মজলিসের সঙ্গীদের কাছে তিনি ছিলেন আনন্দদায়ক ব্যক্তিত্ব, তাঁর চেহারায় কখনো ক্রোধের ছাপ দেখা যেত না। তিনি ছিলেন প্রফুল্ল ও উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী। তিনি অধিক পরিমাণে হজ পালন করতেন এবং আইয়ামে বিজের (প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের) রোজা রাখতেন। তিনি প্রত্যেকের সাথে তার অবস্থা অনুযায়ী কথা বলতেন২ এবং মানুষের সাথে পূর্ণাঙ্গভাবে মেলামেশা করতেন—প্রত্যেককে তার অবস্থানুযায়ী মর্যাদা দিতেন; পরিচিত-অপরিচিত, ছোট-বড়, বিশিষ্ট ও সাধারণ এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের সাথে সুসম্পর্ক রাখতেন। তিনি কল্যাণকামী ছিলেন এবং কল্যাণের পথে সর্বদা অগ্রগামী থাকতেন৩।
গ — তাঁকে সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল দেখা যেত এবং তাঁর চেহারার লাবণ্য সদা প্রকাশমান থাকত। ছোট-বড় কিংবা পরিচিত-অপরিচিত যার সাথেই তাঁর সাক্ষাৎ হতো, তিনি নিজেই আগে সালাম দিতেন এবং নম্রতা প্রকাশ করতেন। খুব কম মানুষই এমন ছিল যারা তাঁকে দেখে চিনত না। তিনি প্রত্যেকের সাথে তার অবস্থা অনুযায়ী এমনভাবে মেলামেশা করতেন যা অন্তর জয় করে নিত এবং হৃদ্যতা সুদৃঢ় করত৪।
ঘ — তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও নম্র স্বভাবের অধিকারী ছিলেন, যার দৃষ্টান্ত মেলা ভার। আপনি যদি তাঁর সাথে বসতেন, তবে আপনার মনে হতো যে আপনিই তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি ছোট-বড় এবং ধনী-দরিদ্র সকলের প্রতি সমান বিনয়ী ছিলেন৫। তিনি তাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং তাঁদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা থেকে কখনো বিরত হতেন না৬। তিনি তাঁদের দাওয়াত কবুল করতেন, অসুস্থদের দেখতে যেতেন এবং জানাজায় অংশগ্রহণ করতেন৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
هـ ـ وكان على جانب كبير من الأدب والعفة والنزاهة والحزم في كل أعماله، زاهداً متعففاً عزيز النفس على قلة ذات يده1ـ ذا شفقة على الفقراء والمساكين والغرباء، ماداً يد المساعدة لهم بحسب قدرته. ويستعطف لهم المحسنين ممن يعرف عنهم حب الخير في المناسبات2، ويدفع للفقراء من الطلبة الأموال ليتجردوا عن الانشغال بوسائل المعيشة3.
وـ وكان محباً لإصلاح ذات البين. فما من مشكلة تعرض عليه إلا ويحلها برضا الطرفين، لما ألقى الله في قلوب الخلق من مودته والانقياد لمشورته والإصغاء لقوله مهما كانت الحال، ولا يكاد يوجد من يرى مخالفته في أي حال من الأحوال4.
ز ـ وكان ملبسه متوسط الحسن مجانباً للشهرة، لا يرغب ملابس الشهرة، فملابسه حسنة طيبة بعيدة عن الشهرة5.
سادسا: أعماله:
وأعني بأعماله، ما قام به الشيخ من مشاريع خيرية، أو ما تولاه من أعمال دينية.
وقد كان رحمه الله محباً للمشاريع الخيرية العامة والخاصة آمراً بها، مساعداً عليها، وله أفعال كثيرة حسنة جهرية وسرية، لم يظهر بعضها إلا بعد وفاته وهي كثيرة جداً6.
وفيما يلي أعرض بعض المشاريع التي قام بها، والأعمال التي تولاها:
أـ كان مرجع بلاده وعمدتهم في جميع أحوالهم وشئونهم، فهو مدرس الطلاب وواعظ العامة وإمام الجامع وخطيبه، ومفتي البلاد وكاتب الوثائق ومحرر الأوقاف والوصايا وعاقد الأنكحة ومستشارهم في كل ما يهمهم7. كل ذلك خدمة لوجه الله.
--------------------------------------------
ঙ — তিনি অত্যন্ত শিষ্টাচার, পবিত্রতা, সততা এবং তাঁর প্রতিটি কাজে দৃঢ়তার অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ, নিষ্কলুষ এবং অল্প সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আত্মমর্যাদাশীল১—দরিদ্র, অভাবী ও মুসাফিরদের প্রতি তিনি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন এবং নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। সুযোগ বুঝে তিনি এমন সব দানশীল ব্যক্তিদের কাছে তাদের জন্য সুপারিশ করতেন যাদের কল্যাণকামিতার কথা তিনি জানতেন২, এবং দরিদ্র ছাত্রদের অর্থ প্রদান করতেন যাতে তারা জীবিকার চিন্তা থেকে মুক্ত হয়ে জ্ঞানার্জনে নিমগ্ন হতে পারে৩।
চ — তিনি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিবাদ মীমাংসা করতে ভালোবাসতেন। তাঁর কাছে এমন কোনো সমস্যা পেশ করা হতো না যা তিনি উভয় পক্ষের সন্তুষ্টির সাথে সমাধান করতেন না। এর কারণ ছিল আল্লাহ সৃষ্টির অন্তরে তাঁর প্রতি যে ভালোবাসা, তাঁর পরামর্শ মেনে নেওয়ার মানসিকতা এবং তাঁর কথা শোনার আগ্রহ ঢেলে দিয়েছিলেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন। যেকোনো অবস্থাতেই তাঁর বিরোধিতা করতে দেখা যায় এমন কেউ খুব একটা পাওয়া যেত না৪।
ছ — তাঁর পোশাক ছিল সাধারণ মানের ও সুন্দর এবং লোকদেখানো প্রসিদ্ধি পরিহারকারী। তিনি প্রসিদ্ধি ছড়ায় এমন পোশাক পছন্দ করতেন না, তাই তাঁর পোশাক ছিল পরিপাটি ও সুন্দর কিন্তু লোকচক্ষুর আকর্ষণ থেকে মুক্ত৫।
ষষ্ঠ: তাঁর কর্মসমূহ:
এখানে তাঁর কর্মসমূহ বলতে শায়খ যে সকল জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সম্পন্ন করেছেন অথবা যেসব দ্বীনি দায়িত্ব পালন করেছেন তা বুঝিয়েছি।
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি সাধারণ ও ব্যক্তিগত সকল প্রকার জনকল্যাণমূলক কাজের প্রতি অনুরাগী ছিলেন, সেগুলোর নির্দেশ দিতেন এবং সে কাজে সহযোগিতা করতেন। তাঁর অনেক উত্তম কাজ ছিল যা তিনি প্রকাশ্যে এবং গোপনে সম্পাদন করতেন, যার কিছু অংশ তাঁর মৃত্যুর পরেই কেবল প্রকাশ পেয়েছে এবং এগুলোর সংখ্যা অনেক৬।
নিম্নে তিনি যেসকল প্রকল্প সম্পন্ন করেছেন এবং যেসব দায়িত্ব পালন করেছেন তার কিছু তুলে ধরা হলো:
ক — তিনি ছিলেন তাঁর দেশের জনগণের সকল অবস্থা ও কর্মকাণ্ডে তাদের প্রধান ভরসাস্থল। তিনি ছিলেন ছাত্রদের শিক্ষক, জনসাধারণের জন্য উপদেশদাতা (ওয়ায়েজ), জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব, দেশের মুফতি, দলীল-দস্তাবেজ লেখক, ওয়াকফ ও অসিয়তনামার সম্পাদক, বিবাহ সম্পাদনকারী এবং তাদের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শদাতা৭। এ সবই ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠ খিদমত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قام في سنة 1360هـ بتأسيس المكتبة الشهيرة بالوطنية في عنيزة على نفقة الوزير ابن حمدان، وجلب لها آلاف الكتب في شتى الفنون، وصارت هذه المكتبة مجمعاً لطلاب العلم يقرؤون عليه فيها، وكانت المراجع متوفرة فيها1.
جـ ـ رشح لقضاء عنيزة عام 1360هـ وامتنع منه تورعاً2، ولم يدخل في أي وظيفة لا قضاء ولا غيره. وعرض عليه القضاء أكثر من مرة ولكن سهل الله له الفكاك منه3.
د ـ عين إماماً وخطيباً للجامع الكبير بعنيزة في رمضان عام 1361هـ بأمر من الشيخ عبد الرحمن بن عودان، وهي حسنة من حسناته أحبه الناس عليها وحفظوها له4.
هـ ـ قام في سنة 1363هـ، بجمعية خيرية لعمارة مقدم الجامع الكبير، بعنيزة وانتهت على ما يرام بمساعيه المشكورة5.
زـ عين مشرفاً على المعهد العلمي بعنيزة سنة 1373هـ، يقول الشيخ عبد الرحمن العدوي ـ أحد المدرسين في المعهد إذ ذاك بعد أن ذكر خبر تعيينه مدرساً هناك ـ (وفي نفس الوقت بلغنا أن الشيخ عبد الرحمن السعدي قد عين مشرفاً على المعهد من الناحية العلمية، وكان تعيينه براتب شهري قدره ألف ريال. ولكن الشيخ رحمه الله تعالى أرسل إلى رئاسة المعاهد العلمية أنه على استعداد للإشراف على المعهد حسبة لوجه الله تعالى، وأنه لا يريد أن يكون له على ذلك أجر مادي وقبلت الرئاسة شاكرة له هذا الصنيع الذي لا يصدر إلا من عالم زاهد يبتغي وجه الله) 6.
ثم قال: (كان رحمه الله يأتي إلى المعهد بانتظام يوم الثلاثاء من كل أسبوع، ثم
--------------------------------------------
১৩৬০ হিজরী সালে তিনি উনাইজায় উজির ইবনে হামদানের অর্থায়নে আল-ওয়াতানিয়া নামে সুপরিচিত লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এতে বিভিন্ন বিষয়ের হাজার হাজার বই সংগ্রহ করেন। এই লাইব্রেরিটি ইলম অন্বেষণকারীদের একটি মিলনস্থলে পরিণত হয় যেখানে তারা তার কাছে পাঠ গ্রহণ করত এবং সেখানে রেফারেন্স গ্রন্থসমূহ সহজলভ্য ছিল।১।
জিম — ১৩৬০ হিজরী সালে উনাইজার বিচারক (কাজী) পদের জন্য তাকে মনোনীত করা হয়, কিন্তু তাকওয়ার কারণে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।২। তিনি বিচার বিভাগীয় বা অন্য কোনো চাকরিতে যোগদান করেননি। তাকে একাধিকবার বিচারকের পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আল্লাহ তার জন্য তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া সহজ করে দিয়েছিলেন।৩।
দাল — ১৩৬১ হিজরী সালের রমজান মাসে শেখ আব্দুর রহমান বিন আওদানের নির্দেশে তাকে উনাইজার জামে কাবীরের ইমাম ও খতিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এটি ছিল তার নেক কাজগুলোর একটি যার জন্য মানুষ তাকে ভালোবাসত এবং তার এই অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করত।৪।
হা — ১৩৬৩ হিজরী সালে তিনি উনাইজার জামে কাবীরের সম্মুখভাগ নির্মাণের জন্য একটি দাতব্য সংস্থা গঠন করেন এবং তার প্রশংসনীয় প্রচেষ্টায় এটি সুচারুরূপে সম্পন্ন হয়।৫।
যা — ১৩৭৩ হিজরী সালে তিনি উনাইজার মা'হাদ আল-ইলমির সুপারভাইজার হিসেবে নিযুক্ত হন। সেই সময়কার মা'হাদের একজন শিক্ষক শেখ আব্দুর রহমান আল-আদাউয়ী সেখানে শিক্ষক হিসেবে তার নিজের নিয়োগের খবর উল্লেখ করার পর বলেন— (একই সময়ে আমরা জানতে পারলাম যে, শেখ আব্দুর রহমান আস-সাদী মা'হাদের ইলমি বিষয়ের সুপারভাইজার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন এবং তার মাসিক বেতন এক হাজার রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু শেখ—রহিমাহুল্লাহ—মা'হাদসমূহের প্রধান কার্যালয়ে এই মর্মে বার্তা পাঠান যে, তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে (হিসবাহ) মা'হাদটি তত্ত্বাবধান করতে প্রস্তুত আছেন এবং এর জন্য তিনি কোনো বৈষয়িক পারিশ্রমিক নিতে চান না। কর্তৃপক্ষ তার এই মহানুভবতা কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করে, যা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রত্যাশী একজন দুনিয়াবিমুখ (যাহিদ) আলেমের পক্ষেই সম্ভব)।৬।
তারপর তিনি বলেন: (তিনি—রহিমাহুল্লাহ—প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার নিয়মিত মা'হাদে আসতেন, এরপর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يدخل إلى آخر صف ويجلس فيه كأنه أحد طلاب هذا الفصل. ويكرر هذا العمل في أكثر من فصل ويستمع إلى أكثر من مدرس ولم يكن في المعهد من المدرسين المصريين إلا أنا وزميل آخر، أما بقية المدرسين فكانوا من أبناء الشيخ علمهم في المسجد الجامع إلى درجة تسمح لهم بالقيام بتدريس المواد التي تعلموها على يديه) 1.
وهو أول من أدخل مكبر الصوت في عنيزة، وله خطبة في منافعه قالها حين وضعه في المسجد واستنكره بعض الناس قال فيها: (وكذلك إيصال الأصوات والمقالات النافعة إلى الأمكنة البعيدة من برقيات وتلفونان وغيرهما، داخل في أمر الله رسوله بتبليغ الحق إلى الخلق، فإن إيصال الحق والكلام النافع بالوسائل المتنوعة من نعم الله، وترقية الصنائع والمخترعات لتحصيل المصالح الدينية والدنيوية من الجهاد في سبيل الله) 2.
ط ـ وله أعمال خيرية سرية كثيرة عرف بعضها بعد وفاته:
منها: أن امرأة أرملة لها بيت، أصبحت مدينة بمال كثير، فرهنت بيتها، وليس لها عمل تقتات به، فأحس بذلك الشيخ فصار يتعهدها ويعطيها أرسالاً مما يأتيه من أهل الخير، فكانت تدفع أكثر ما يصلها إلى صاحب الدين وتبقي قليلاً من المال تقتات به. فبقيت على تلك الحال مدة من الزمن فخلص الدين بأجمعه وذلك قبل وفاة الشيخ بأشهر، فلما توفي رحمه الله ظهر الخبر من المرأة، وكانت دائماً تذكره وتدعو له، وأمثالها في ذلك كثير فرحمه الله رحمة واسعة3.
سابعا: مرضه ووفاته:
أصيب عام 1371هـ أي قبل وفاته بخمس سنوات بمرض ضغط الدم، وتصلب الشرايين فكان يعتريه مرة بعد مرة وهو صابر عليه، وكانت أعراض المرض تبدو عليه بعض الساعات في الكلام فيقف ولو كان يقرأ القرآن ثم يتكلم4.
--------------------------------------------
তিনি শেষ সারিতে প্রবেশ করতেন এবং সেখানে এমনভাবে বসতেন যেন তিনি এই ক্লাসেরই একজন ছাত্র। তিনি একাধিক ক্লাসে এই কাজটি পুনরাবৃত্তি করতেন এবং একাধিক শিক্ষকের পাঠ শুনতেন। সেই ইনস্টিটিউটে আমি এবং আরেকজন সহকর্মী ছাড়া আর কোনো মিশরীয় শিক্ষক ছিলেন না। বাকি শিক্ষকরা ছিলেন শাইখেরই ছাত্র, যাদেরকে তিনি জামে মসজিদে এমন পর্যায়ে শিক্ষিত করেছিলেন যে তারা তাঁর কাছে শেখা বিষয়গুলো পড়ানোর সক্ষমতা অর্জন করেছিলেন। ১।
তিনিই উনাইজাহ-তে সর্বপ্রথম লাউডস্পিকার প্রবর্তন করেন। এর উপকারিতা নিয়ে তাঁর একটি খুতবা রয়েছে, যা তিনি মসজিদে এটি স্থাপন করার সময় এবং কিছু মানুষ যখন এর বিরোধিতা করছিল তখন দিয়েছিলেন। তিনি তাতে বলেন: (তেমনিভাবে দূরবর্তী স্থানে কণ্ঠস্বর এবং উপকারী প্রবন্ধসমূহ পৌঁছে দেওয়া—টেলিগ্রাম, টেলিফোন এবং অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে—সৃষ্টির কাছে সত্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূলকে দেওয়া আদেশের অন্তর্ভুক্ত। কারণ বিভিন্ন উপায়ে সত্য ও উপকারী কথা পৌঁছে দেওয়া আল্লাহর নেয়ামতসমূহের অন্যতম। দ্বীনি ও দুনিয়াবি কল্যাণ হাসিলের জন্য শিল্প ও উদ্ভাবনের উন্নতি সাধন করা আল্লাহর পথে জিহাদের অন্তর্ভুক্ত।) ২।
৯ — তাঁর অনেক গোপন দাতব্য কাজ ছিল, যার কিছু অংশ তাঁর মৃত্যুর পর জানা গেছে:
তার মধ্যে একটি হলো: একজন বিধবা মহিলা যার একটি ঘর ছিল, তিনি অনেক ঋণী হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁর ঘরটি বন্ধক রেখেছিলেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য তাঁর কোনো কাজ ছিল না। শাইখ বিষয়টি অনুভব করলেন এবং তাঁর দেখাশোনার দায়িত্ব নিলেন। দানশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাঁর কাছে যা আসত, সেখান থেকে তিনি সেই মহিলাকে কিস্তি আকারে প্রদান করতেন। মহিলাটি যা পেতেন তার বেশিরভাগই পাওনাদারকে পরিশোধ করতেন এবং জীবনধারণের জন্য সামান্য কিছু টাকা রাখতেন। বেশ কিছুকাল এই অবস্থা চলার পর ঋণটি সম্পূর্ণ শোধ হয়ে যায় এবং তা শাইখের মৃত্যুর কয়েক মাস আগের ঘটনা। যখন তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মারা গেলেন, তখন মহিলার মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হয়। তিনি সর্বদা তাঁর কথা স্মরণ করতেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করতেন। এমন অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন। ৩।
সপ্তম: তাঁর অসুস্থতা ও মৃত্যু:
তিনি ১৩৭১ হিজরীতে অর্থাৎ তাঁর মৃত্যুর পাঁচ বছর আগে উচ্চ রক্তচাপ ও ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়ার রোগে আক্রান্ত হন। এটি বারবার তাঁকে আক্রমণ করত এবং তিনি তাতে ধৈর্য ধারণ করতেন। কিছু সময় কথা বলার সময় রোগের লক্ষণগুলো তাঁর ওপর প্রকাশ পেত, ফলে তিনি থেমে যেতেন, এমনকি কুরআন পাঠ করার সময় হলেও, এরপর তিনি পুনরায় কথা বলতেন। ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
فاهتمت به الحكومة، حيث أرسل له الملك سعود رحمه الله طائرة خاصة، وفيها طبيبان، قررا بعد الكشف عليه سفره للعلاج في لبنان وصحباه في السفر1.
فسافر إلى بيروت في عام 1373هـ وبقي هناك شهراً، يعالج حتى شفاه الله، ونصحه الأطباء بالراحة وقلة التفكير والاجهاد2. واجتمع في سفره هذا بعدد من العلماء، وتعرف بجملة من الفضلاء3، منهم الشيخ العلامة محمد ناصر الدين الألباني كما حدثني بذلك.
ثم رجع إلى عنيزة فباشر فيها أعماله، ولم يصبر على ترك العلم فقام فيها تعليماً وإمامةً وخطابةً وتأليفاً وبحثاً؛ لأن هوايته العلم وكان يقول إن راحتي في مزاولة عملي4.
فصار المرض يعاوده ثم يشفى، ولا يصده عن الخروج، ويحدث معه رعدة وسكتة لا يقدر معها على الكلام وتبقى دقيقة واحدة ثم تزول بدون تألم سوى برد يتلوه عرق5.
وفي شهر جمادى الآخرة سنة 1376هـ اشتد عليه المرض أكثر مما كان وصار معه مثل البرد والقشعرية.
وفي ليلة الأربعاء 22 من الشهر المذكور، وبعد فراغه من الدرس اليومي المعتاد، وبعد فراغه من صلاة العشاء، أحس بثقل وضعف في الحركة فأشار إلى أحد تلاميذه بأن يمسكه ويذهب معه إلى البيت ففعل وهرع معه أناس من الحاضرين، فلم يصل إلى البيت إلا وقد أغمي عليه، ثم أفاق بعد ذلك فحمد الله وأثنى عليه، وتكلم مع أهله الحاضرين بكلام حسن طيب، ثم عاوده الإغماء مرة أخرى فلم يتكلم بعد ذلك.
فلما أصبحوا صباح الأربعاء دعوا الطبيب فقرر أن معه نزيفاً في المخ، وإن لم يتدارك فوراً فإنه يموت.
فأبرقوا لابنه وللملك فيصل ـ لما كان وليا للعهد ـ فأصدر أمره الكريم عاجلاً
--------------------------------------------
সরকার তাঁর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে। বাদশাহ সৌদ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর জন্য একটি বিশেষ বিমান প্রেরণ করেন, যাতে দুইজন চিকিৎসক ছিলেন। তাঁরা তাঁকে পরীক্ষার পর চিকিৎসার জন্য লেবাননে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেন এবং সফরে তাঁর সাথে থাকেন।১
অতঃপর তিনি ১৩৭৩ হিজরীতে বৈরুত গমন করেন এবং সেখানে এক মাস অবস্থান করেন। আল্লাহ তাঁকে আরোগ্য দান করা পর্যন্ত তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকরা তাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার এবং চিন্তা ও পরিশ্রম কম করার পরামর্শ দেন।২ এই সফরে তিনি বেশ কয়েকজন আলেমের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং অনেক গুণী ব্যক্তির সাথে তাঁর পরিচয় হয়।৩ তাঁদের মধ্যে শায়খ আল্লামা মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানীও ছিলেন, যেমনটি তিনি আমাকে জানিয়েছেন।
এরপর তিনি উনাইযাহ-তে ফিরে আসেন এবং নিজের কার্যাবলি শুরু করেন। তিনি ইলম (জ্ঞান) চর্চা ত্যাগ করে ধৈর্য ধরতে পারেননি, ফলে সেখানে শিক্ষা প্রদান, ইমামতি, খুতবা দান, গ্রন্থ রচনা ও গবেষণার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। কারণ জ্ঞানচর্চাই ছিল তাঁর নেশা এবং তিনি বলতেন, "আমার কাজ চালিয়ে যাওয়ার মধ্যেই আমার প্রশান্তি।"৪
এরপর অসুস্থতা বারবার ফিরে আসতে থাকে এবং তিনি পুনরায় সুস্থ হতে থাকেন। তবে এটি তাঁকে বাইরে বের হতে বাধা দিত না। তাঁর শরীরে কম্পন এবং বাকরুদ্ধতা সৃষ্টি হতো, যার ফলে তিনি কথা বলতে পারতেন না; এটি এক মিনিট স্থায়ী হতো এবং ব্যথা ছাড়াই দূর হয়ে যেত, কেবল শীত ভাব ও পরবর্তী ঘাম ছাড়া।৫
১৩৭৬ হিজরীর জুমাদাল আখিরাহ মাসে তাঁর অসুস্থতা আগের চেয়ে আরও তীব্র হয় এবং এর সাথে শীত ও কাঁপুনি দেখা দেয়।
উল্লিখিত মাসের ২২ তারিখ বুধবার রাতে, তাঁর নিয়মিত প্রাত্যহিক দরস শেষ করার পর এবং এশার সালাত আদায়ের পর, তিনি চলাফেরায় ভারী অনুভব ও দুর্বলতা বোধ করেন। তখন তিনি তাঁর জনৈক ছাত্রকে ইশারা করেন তাঁকে ধরে বাড়িতে নিয়ে যেতে। ছাত্রটি তা-ই করল এবং উপস্থিত অনেকে তাঁর সাথে দ্রুত গেলেন। বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করেন এবং উপস্থিত পরিবারের সদস্যদের সাথে সুন্দর ও উত্তম কথা বলেন। এরপর পুনরায় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং এরপর আর কথা বলেননি।
যখন বুধবার সকাল হলো, তাঁরা ডাক্তার ডাকলেন। ডাক্তার জানালেন যে, তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে, আর যদি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তবে তিনি মারা যাবেন।
তখন তাঁরা তাঁর পুত্র এবং বাদশাহ ফয়সালকে—যখন তিনি ক্রাউন প্রিন্স ছিলেন—টেলিগ্রাম করলেন। ফলে তিনি অনতিবিলম্বে তাঁর মহান নির্দেশ জারি করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
بكل ما يلزم فقامت طائرة خاصة وفيها طبيب مخ ومهرة من الأطباء والعلاجات إلى مدينة عنيزة وكان فيها ابنه عبد الله.
ولكن الجو كان ملبداً بالغيوم والرعد والبرق والعواصف الشديدة وفيه أمطار قد تتابعت أكثر من شهر، تهدمت منها البيوت ونزلت أخشاب سطوح المساجد، فلم يساعد الجو على هبوط الطائرة. فتلقت المكالمة وهي في الجو بوفاته فرجعت من حيث أتت.
حيث إنه توفي رحمه الله قبل طلوع فجر يوم الخميس الموافق 23 جمادى الآخرة سنة 1376هـ، عن تسع وستين سنة1.
وصُلي عليه بعد صلاة الظهر في الجامع الكبير، دفن في مقابر الشهوانية شمال عنيزة2 وأخروا الصلاة عليه إلى الظهر لعل أحد أبنائه يدركه، فلم يدركه أحد منهم، وصلى عليه الشيخ عبد العزيز بن محمد البسام. في حشد كبير لم يشهد له مثيل جمع أهل البلد قاطبة والقرى والمدن المجاورة3.
والحقيقة أن عنيزة منذ تأسست لم تصب عامة مثل مصيبتها به، وظهر ذلك في البكاء والحزن الشديد من كل المواطنين، كما ظهر في الازدحام الشديد على الجنازة التي لم يبق كبير ولا صغير لم يشهدها.
وبموته فقدت البلدة أعز وأغلى شخص يعيش فيها وأحس المواطنون بفراغ واسع بفقده، وحتى الآن وذكره في الألسن، ومحبته في القلوب وأحاديثه وإرشاداته وفتاويه هي حديث المجالس وأنس المحافل رحمه الله رحمة واسعة وأسكنه فسيح جناته4.
وخلَّف رحمه الله ثلاثة أبناء وهم عبد الله ومحمد وأحمد، وهم يشتغلون بالتجارة بالرياض والدمام وعبد الله هو أكبرهم سناً وله يد في طلب العلم، وقد اعتنى بطبع بعض مؤلفات والده وتوزيعها مجاناً 5، وقد توفي عبد الله في 24/4/1405هـ في حادث سيارة غفر الله له ولوالديه ووالدينا وجميع المسلمين.
ثامنا: رثاؤه:
وقد رثاه رحمه الله كثير من العلماء والأدباء بمراث عديدة نظماً ونثراً.
--------------------------------------------
প্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়ে একটি বিশেষ বিমান উনাইজা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হলো, যাতে ছিলেন একজন মস্তিষ্ক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং আরও দক্ষ চিকিৎসকদের একটি দল ও ওষুধপত্র; সেখানে তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ অবস্থান করছিলেন।
কিন্তু আবহাওয়া মেঘাচ্ছন্ন ছিল, সাথে ছিল বজ্রপাত, বিজলি ও তীব্র ঝড়। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সেখানে একটানা বৃষ্টি হচ্ছিল, যার ফলে অনেক ঘরবাড়ি ধসে পড়েছিল এবং মসজিদের ছাদের কাঠগুলো খসে পড়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় বিমানটি অবতরণ করতে পারেনি। বিমানটি যখন মাঝ-আকাশে ছিল, তখন তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছে, ফলে সেটি যেখান থেকে এসেছিল সেখানেই ফিরে যায়।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ১৩৭৬ হিজরি সনের ২৩শে জুমাদাল আখিরা মোতাবেক বৃহস্পতিবার ভোরে সূর্যোদয়ের পূর্বে ৬৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।১
যোহরের নামাযের পর জামে কাবীরে তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। উনাইজার উত্তরে শাহওয়ানিয়া কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।২ তাঁর জানাযার নামায যোহর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল এই আশায় যে তাঁর কোনো সন্তান হয়তো উপস্থিত হতে পারবেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে কেউই পৌঁছাতে পারেননি। তাঁর জানাযার নামায পড়ান শায়খ আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-বাসসাম। সেখানে এমন এক বিশাল জনসমাবেশ হয়েছিল যার কোনো নজির ইতিপূর্বে দেখা যায়নি; এতে শহরের সকল মানুষ এবং পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও শহরের লোকজন সমবেত হয়েছিল।৩
প্রকৃতপক্ষে উনাইজা শহর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে তাঁর ইন্তেকালের মতো এতো বড় সাধারণ মুসিবতে আর কখনও পড়েনি। এর প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল সকল নাগরিকের কান্না ও গভীর শোকের মাঝে, যেমনটি ফুটে উঠেছিল জানাযার সেই প্রচণ্ড ভিড়ে যেখানে ছোট-বড় এমন কেউ ছিল না যে উপস্থিত হয়নি।
তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে শহরটি তার সবচেয়ে প্রিয় ও মূল্যবান ব্যক্তিকে হারাল এবং নাগরিকরা তাঁর শূন্যতায় এক বিশাল হাহাকার অনুভব করল। আজ অবধি মানুষের মুখে মুখে তাঁর স্মৃতি উচ্চারিত হয়, হৃদয়ে তাঁর ভালোবাসা বিদ্যমান এবং তাঁর কথা, দিকনির্দেশনা ও ফতোয়াগুলোই হলো বিভিন্ন মজলিসের প্রধান আলোচনা ও প্রাণকেন্দ্র। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমত দান করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করুন।৪
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তিন পুত্র রেখে গেছেন—আব্দুল্লাহ, মুহাম্মদ ও আহমদ। তাঁরা রিয়াদ ও দাম্মামে ব্যবসার সাথে জড়িত। আব্দুল্লাহ ছিলেন তাঁদের মধ্যে বয়সে বড় এবং ইলম অর্জনে তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল। তিনি তাঁর পিতার কিছু কিতাব মুদ্রণ ও তা বিনামূল্যে বিতরণের ব্যবস্থা করেছিলেন।৫ আব্দুল্লাহ ১৪০৫ হিজরির ২৪/৪ তারিখে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতা-মাতাকে, আমাদের পিতা-মাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করে দিন।
অষ্টম: তাঁর শোকগাথা:
অনেক আলেম ও সাহিত্যিক কবিতা ও গদ্যের মাধ্যমে তাঁর স্মরণে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বহু শোকগাথা রচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ـ فمن القصائد التي قيلت في رثائه قصيدة طويلة للدكتور عبد الله بن صالح العثيمين منها:
مهج تذوب وأنفس تتحسر
ولظى على شغف القلوب تسعر
الحزن أضرم في الجوانح والأسى
يصلي المشاعر بالجحيم ويصهر
ملأ الضمائر حسرة وكآبة
لا شيء يبرئها ولا هي تجبر
اليوم ودعنا أباً ومهذبا
والحزن يغلي في الدماء ويزخر
كل امرئ في الكون غايته الردى
الموت حتم للنفوس مقدر
لكن من اتخذ الصلاح شعاره
تفنى الخليقة وهو حي يذكر
ما مات من نشر الفضيلة والتقى
وأقام صرحا أسه لا يكسر
ما مات من غمر الأنام بعلمه
الكتب تشهد والصحائف تخبر
يا زاهدا عرف الحياة فما هوى
في المغريات ولا سباه المظهر
نم في جنان الخلد يا علم التقى
وانعم بظل وارف لا يحسر1
ب ـ ومن هذه القصائد، قصيدة للشيخ صالح بن عبد العزيز العثيمين منها:
رزء عظيم الحزن والأسفا
فالدمع فيه على الخدين قد وكفا
اليوم حقا فقدنا للهدى علما
اليوم حقا فقدنا الزهد والشرفا
بقت عنيزة دهراً وهي رافعة
لواء فخر له كل الورى عرفا
ظلت به العرب دهراً وهي فاخرة
واليوم أضحت تعزى فيه واأسفا
فذي تصانيفه قد قام قائمها
يدعو العباد عليها الكل قد عكفا
لهفي بذا العالم قد حق العزاء لنا
في فادح لو أصاب الطود لارتجفا
فالله يلهمنا صبراً فقد عظمت
مصيبة أثقلت في حملها الكتفا
والله يجزيه عن إحسانه حسنا
والله يسكنه من جنة غرفا2
جـ ـ وقد رثى رحمه الله بقصائد أخرى منها مرثية للشيخ محمد بن عثمان القاضي، ومرثية للشيخ صالح بن عبد الشبل، وقصيدة في الثناء عليه لمزيد الخطيب وغيرهم3
--------------------------------------------
ـ তার মৃত্যুতে যে শোকগাথাগুলো রচিত হয়েছে, তার মধ্যে ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন সালিহ আল-উসাইমীনের একটি দীর্ঘ কবিতা রয়েছে, যার অংশবিশেষ নিম্নরূপ:
প্রাণ গলে যাচ্ছে এবং আত্মা আক্ষেপে দগ্ধ হচ্ছে
হৃদয়ের গভীর মমতায় আগুন প্রজ্জ্বলিত হচ্ছে
শোক পাঁজরের ভেতরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং দুঃখ
অনুভুতিগুলোকে জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে বিগলিত করছে
এটি বিবেককে আক্ষেপ ও বিষণ্ণতায় পূর্ণ করে দিয়েছে
যা থেকে নিরাময় পাওয়ার কোনো উপায় নেই এবং এর কোনো প্রতিকারও নেই
আজ আমরা এক পিতৃতুল্য ও শিষ্টাচারী ব্যক্তিকে বিদায় জানিয়েছি
যখন শোক রক্তে ফুটে উঠছে এবং উথলে পড়ছে
মহাবিশ্বের প্রতিটি মানুষের শেষ পরিণতি হলো মৃত্যু
সকল আত্মার জন্য মরণ এক অবধারিত ও নির্ধারিত বিধান
তবে যে ব্যক্তি নেক আমলকে নিজের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে
সৃষ্টিজগত বিলীন হয়ে গেলেও সে তার স্মৃতির মাঝে জীবিত থাকে
সেই ব্যক্তি মরেনি যে শ্রেষ্ঠত্ব ও তাকওয়া প্রচার করেছে
এবং এমন এক সৌধ নির্মাণ করেছে যার ভিত্তি কখনো ভাঙবে না
সেই ব্যক্তি মরেনি যে মানুষকে আপন ইলম দ্বারা প্লাবিত করেছে
কিতাবসমূহ এর সাক্ষী দিচ্ছে এবং পৃষ্ঠাসমূহ তা বর্ণনা করছে
হে দুনিয়াবিমুখ তাপস! যিনি জীবনকে চিনেছিলেন, তাই প্রলোভনে
পতিত হননি এবং বাহ্যিক চাকচিক্য তাকে মোহিত করেনি
হে তাকওয়ার আলোকবর্তিকা! জান্নাতুল খুলদে শান্তিতে নিদ্রা যান
আর এমন এক বিস্তৃত ছায়ায় নিয়ামত ভোগ করুন যা কখনো শেষ হবে না১
খ — এই শোকগাথাগুলোর মধ্যে শেখ সালিহ বিন আব্দুল আজিজ আল-উসাইমীনের একটি কবিতা রয়েছে, যার অংশবিশেষ নিম্নরূপ:
এক বিশাল শোক ও দুঃখের বিপর্যয়
যার কারণে গণ্ডদেশে অশ্রু প্রবাহিত হয়েছে
আজ আমরা সত্যই হিদায়াতের এক সুউচ্চ পর্বত হারিয়েছি
আজ আমরা সত্যই দুনিয়াবিমুখতা ও মর্যাদা হারিয়েছি
উনাইযা দীর্ঘকাল ধরে গৌরবের পতাকা সমুন্নত রেখেছে
যা সমস্ত সৃষ্টিজগত জানত
এর মাধ্যমে আরব জাতি দীর্ঘকাল গর্ব করেছে
আর আজ হায় আফসোস! তাকে হারানোর শোক প্রকাশ করছে
এই তো তার রচনাবলি যা টিকে আছে
তা বান্দাদের আহ্বান করছে এবং সকলে তাতে নিবিষ্ট হয়ে আছে
এই আলেমের জন্য আমার আক্ষেপ, আমাদের জন্য শোক প্রকাশ করা এখন জরুরি
এমন এক বিপদে যা কোনো সুউচ্চ পাহাড়ের ওপর পতিত হলে তাও কেঁপে উঠত
আল্লাহ যেন আমাদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক দেন, কারণ মুসিবত অনেক বড় হয়ে গেছে
যা বহন করা কাঁধের জন্য অত্যন্ত ভারী হয়ে দাঁড়িয়েছে
আল্লাহ যেন তাকে তার ইহসানের বিনিময়ে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন
এবং আল্লাহ তাকে জান্নাতের উচ্চকক্ষে বসবাস করতে দেন২
গ— তাকে (রাহিমাহুল্লাহ) আরও অনেক শোকগাথা দ্বারা স্মরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে শেখ মুহাম্মাদ বিন উসমান আল-কাজী এবং শেখ সালিহ বিন আব্দুল শিবলের শোকগাথা এবং মজিদ আল-খাতিব ও অন্যদের প্রশংসাসূচক কবিতা রয়েছে৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
د ـ قال الشيخ القاضي في روضة الناظرين: (ولقد حدثني من أثق به بأن الشيخ سليمان المشعلي وكان عالماً جليلاً وقاضياً مسدداً لما علم بوفاة الشيخ، قال مات اليوم عالم نجد، وقد طاب الموت بعد هذه الشخصية الفذة، فانصدع ومات في 12 من رجب بعد وفاة السعدي بتسعة عشر يوما وكان من خواصه)
--------------------------------------------
দ — শায়খ আল-কাদি রওজাতুন নাজিরিন গ্রন্থে বলেছেন: (যাঁর ওপর আমি আস্থা রাখি এমন এক ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, শায়খ সুলাইমান আল-মুশা'লি—যিনি একজন মহান আলেম ও সুনিপুণ বিচারক ছিলেন—যখন শায়খের ইন্তেকালের সংবাদ জানতে পারলেন, তখন বললেন: আজ নজদের আলেম মারা গেছেন। এই অনন্য ব্যক্তিত্বের বিদায়ের পর মৃত্যু এখন বরণীয়। অতঃপর তিনি শোকে বিদীর্ণ হলেন এবং আস-সাদীর ইন্তেকালের ১৯ দিন পর ১২ই রজব ইন্তেকাল করলেন। তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الفصل الثانيحياته العلميةأولا: طلبه للعلم وحرصه عليه.
ثانيا: شيوخه.
ثالثا: عنايته بكتب شيخ الإسلام ابن تيمية، وتلميذه ابن القيم وتأثره بهما.
رابعا: جلوسه للتدريس، وطريقته فيه.
خامسا: تلاميذه.
سادسا: عقيدته وتنوع ثقافته.
سابعا: مؤلفاته.
ثامنا: ثناء العلماء عليه.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদতাঁর ইলমি জীবনপ্রথমত: তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ এবং এর প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ।
দ্বিতীয়ত: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ।
তৃতীয়ত: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের কিতাবসমূহের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন এবং তাঁদের দ্বারা তাঁর প্রভাবিত হওয়া।
চতুর্থত: তাঁর পাঠদান এবং এতে তাঁর পদ্ধতি।
পঞ্চমত: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
ষষ্ঠত: তাঁর আকীদা ও তাঁর পাণ্ডিত্যের বহুমুখিতা।
সপ্তমত: তাঁর রচনাবলি।
অষ্টমত: তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা।
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أولا: طلبه للعلم وحرصه عليه:
كان ابن سعدي رحمه الله قد استرعى أنظار الناس منذ حداثة سنه بذكائه القوي، ورغبته الشديدة في طلب العلم وتحصيله، فأوقف لذلك حياته في طلب العلم، فكان لا يشغله عنه شاغل ولا يصرفه عنه صارف، فكان همه في حياته الاستفادة العلمية وحفظ الأوقات في ذلك1.
لقد أجمع أمره على أن يقف حياته على طلب العلم، وأن يعطي نفسه أمناً وطمأنينة وسكينة خاصة، تصل برباطها الوثيق بينه وبين الأمر الذي أوقف حياته عليه.
فتراه إذ ذاك في وادٍ، وأغلب ناشئة عصره من زملائه وأترابه في واد آخر. إنه ارتضى العلم والمعرفة خدينا وأليفا، ولم يرق في نظره من رجال زمنه سوى طبقة العلماء. فلازمهم ملازمة الظل. وأكب على الاغتراف من معين علمهم وفضلهم وأخلاقهم، فتغذى أطيب غذاء، وروى أكرم ري2.
وأول ما قام به من طلب العلم، مبادرته لحفظ كتاب الله، فبدأ بحفظ القرآن من سن مبكرة، حتى أتقنه وأتمه وحفظه عن ظهر قلب في الحادية عشرة من عمره، في مدرسة الشيخ سليمان بن دامغ لتحفيظ القرآن بأم خمار، ثم شرع بعد ذلك في تحصيل سائر العلوم الشرعية3
فأخذ في طلب العلم وتحصيله وتلقيه عن علماء بلده وغيرهم ممن قدم إليه، وشغل أوقاته في ذلك، ورحل إلى العلماء المجاورين لبلده، وانقطع للعلم وتحصيله حفظاً وفهماً ودراسة ومراجعة واستذكاراً وتطبيقاً.
وكان يواظب على دروس العلماء، وعلى من يشعر أنه له منه أدنى فائدة طارحاً التحيز والترفع، وواصل وثابر، وبذل جهده في سبيل ذلك حتى نال في صباه ما لا يناله غيره في زمن طويل، من علوم كثيرة وفنون مختلفة4.
--------------------------------------------
প্রথমত: তাঁর ইলম অন্বেষণ এবং এর প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ:
ইবনে সাদী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর শৈশব থেকেই তাঁর প্রখর বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন এবং ইলম অন্বেষণ ও তা অর্জনে তাঁর তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল। তাই তিনি ইলম অন্বেষণের জন্য তাঁর জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। কোনো ব্যস্ততাই তাঁকে এ থেকে বিচ্যুত করতে পারত না এবং কোনো কিছুই তাঁকে এ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারত না। তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল ইলমি ফায়দা হাসিল করা এবং এতেই সময়কে কাজে লাগানো।১
তিনি তাঁর জীবনকে ইলম অন্বেষণে উৎসর্গ করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করেছিলেন এবং নিজের আত্মাকে এক বিশেষ প্রশান্তি ও স্থিরতা দান করেছিলেন, যা তাঁর জীবনের উৎসর্গকৃত লক্ষ্যের সাথে তাঁকে এক সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ করেছিল।
সে সময় তাঁকে দেখা যেত এক পথে, আর তাঁর সমসাময়িক অধিকাংশ যুবক, সহপাঠী ও সমবয়সীরা ছিল অন্য পথে। তিনি ইলম ও জ্ঞানকেই বন্ধু ও সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর যুগের লোকদের মধ্যে আলেম সমাজ ছাড়া আর কাউকেই তাঁর পছন্দ হতো না। তাই তিনি ছায়ার মতো তাঁদের সাথে লেগে থাকতেন। তিনি তাঁদের ইলম, মর্যাদা ও আখলাকের ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান আহরণে মনোনিবেশ করেছিলেন। এভাবে তিনি সর্বোত্তম পুষ্টি লাভ করেছিলেন এবং শ্রেষ্ঠ পানে পরিতৃপ্ত হয়েছিলেন।২
ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে তাঁর প্রথম পদক্ষেপ ছিল আল্লাহর কিতাব হিফজ করার উদ্যোগ নেওয়া। তিনি শৈশব থেকেই কুরআন হিফজ শুরু করেন, এমনকি এগারো বছর বয়সেই উম্মে খিমারে শেখ সুলাইমান বিন দামিগের কুরআন হিফজ মাদরাসায় তিনি তা নিখুঁতভাবে মুখস্থ ও সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি অন্যান্য শারয়ী ইলম অর্জনে ব্রতী হন।৩
তিনি তাঁর নিজ জনপদের আলেমদের নিকট থেকে এবং বাইরে থেকে আগত আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন ও গ্রহণ করতে শুরু করেন এবং এতেই তাঁর সময় অতিবাহিত করেন। তিনি তাঁর জনপদের পার্শ্ববর্তী আলেমদের নিকট সফর করেন এবং হিফজ, অনুধাবন, অধ্যয়ন, পর্যালোচনা, মুখস্থ করা এবং প্রয়োগের মাধ্যমে ইলম অর্জনে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত করেন।
তিনি আলেমদের দারসে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন এবং যার কাছ থেকেই সামান্যতম ফায়দা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখতেন, তাঁর নিকটই যেতেন; এক্ষেত্রে কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব বা অহমিকা পোষণ করতেন না। তিনি অবিচল ও ধৈর্যশীল ছিলেন এবং এই পথে নিজের প্রচেষ্টা ব্যয় করেছিলেন, যার ফলে তিনি তাঁর শৈশবেই এমন অনেক ইলম ও বিচিত্র বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন যা অন্য কেউ দীর্ঘ সময়েও অর্জন করতে সক্ষম হয় না।৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ولم يقتصر في طلبه للعلم على فن واحد، بل قرأ في فنون كثيرة فقرأ في الحديث والتفسير والعقائد والفقه والأصول والمصطلح وعلوم اللغة وغيرها وهذا سيظهر لنا عند ذكر شيوخه، وما تلقاه عنهم.
ثانيا: شيوخه:
لقد تلقى الشيخ أنواع العلوم على كثير من العلماء، بعضهم من عنيزة وبعضهم من الوافدين إليها، وبعضهم ذهب إليهم في بلادهم.
وذكرهم جميعهم يصعب، ولكن فيما يلي أذكر جملة منهم مع إعطاء نبذة بسيطة عنهم1، وعن نوع استفادته من كل واحد منهم، وتجدر الإشارة إلى أنه كان رحمه الله محل إعجاب مشائخه كلهم بفرط ذكائه ونبله واستقامته2.
فمن شيوخه:
1ـ الشيخ إبراهيم بن حمد بن جاسر، ولد في بريدة سنة 1241هـ، وتوفي في الكويت سنة 1342هـ3.
وهو أول من قرأ عليه الشيخ وأخذ عنه التفسير والحديث وأصولهما4. وكان ابن سعدي يصف شيخه بحفظ الحديث والورع والزهد ومحبة الفقراء ومواساتهم5.
2ـ والشيخ محمد بن عبد الكريم بن إبراهيم بن صالح الشبل. ولد في عنيزة سنة: 1257هـ، وتوفي سنة 1343هـ6، وأخذ عنه الفقه وأصوله وعلوم اللغة العربية7.
--------------------------------------------
তিনি জ্ঞান অন্বেষণের ক্ষেত্রে কেবল একটি শাস্ত্রের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং বহু শাস্ত্রে পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনি হাদিস, তাফসির, আকাইদ, ফিকহ, উসুল, পরিভাষা (মুসতালাহ), ভাষাবিজ্ঞান এবং অন্যান্য বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর শিক্ষকদের আলোচনা এবং তাঁদের নিকট থেকে তিনি কী অর্জন করেছেন তা উল্লেখ করার সময় বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট হবে।
দ্বিতীয়ত: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:
শায়খ বহু আলেমের নিকট থেকে বিভিন্ন প্রকারের জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন উনাইজাহ শহরের অধিবাসী, কেউ সেখানে আগন্তুক হিসেবে এসেছিলেন, আবার কারো কারো কাছে তিনি তাঁদের নিজ দেশে সফর করে গিয়েছিলেন।
তাঁদের সকলের কথা উল্লেখ করা কঠিন, তবে নিম্নে আমি তাঁদের একটি বড় অংশ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি১ এবং তাঁদের প্রত্যেকের নিকট থেকে তাঁর অর্জিত জ্ঞানের ধরন উল্লেখ করছি। উল্লেখ্য যে, তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রখর মেধা, মহত্ত্ব এবং অটলতার কারণে তাঁর সকল শিক্ষকের নিকট অত্যন্ত প্রশংসিত ও পছন্দের পাত্র ছিলেন২।
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন:
১. শায়খ ইবরাহিম ইবনে হামাদ ইবনে জাসির, তিনি ১২৪১ হিজরিতে বুরাইদাহ-তে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৪২ হিজরিতে কুয়েতে ইন্তেকাল করেন৩।
তিনিই প্রথম ব্যক্তি যাঁর নিকট শায়খ পাঠ গ্রহণ করেন এবং তাঁর থেকে তাফসির, হাদিস এবং এই উভয় শাস্ত্রের উসুল (মূলনীতি) শিক্ষা লাভ করেন৪। ইবনে সাদি তাঁর এই শিক্ষককে হাদিস মুখস্থ রাখা, পরহেজগারি, দুনিয়াবিমুখতা এবং দরিদ্রদের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতার গুণে গুণান্বিত বলে বর্ণনা করতেন৫।
২. এবং শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল কারিম ইবনে ইবরাহিম ইবনে সালিহ আশ-শিবল। তিনি ১২৫৭ হিজরিতে উনাইজাহ-তে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৪৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন৬। তাঁর নিকট থেকে তিনি ফিকহ, উসুলুল ফিকহ এবং আরবি ভাষাবিজ্ঞান শিক্ষা করেন৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
3ـ والشيخ عبد الله بن عائض العريضي الحربي، ولد في عنيزة سنة: 1249هـ، وتوفي سنة 1375هـ1.
وأخذ عنه الفقه وأصوله وعلوم اللغة2.
4ـ والشيخ صالح بن عثمان بن حمد بن إبراهيم القاضي، ولد في عنيزة سنة: 1282هـ. وتوفي سنة: 1351هـ3.
أخذ عنه التوحيد والتفسير والفقه أصوله وفروعه وعلوم العربية، وهو أكثر من قرأ عليه الشيخ ولازمه ملازمة تامة حتى توفاه الله4.
وكان هو الذي يقرأ على الشيخ في الدرس والشيخ يقرر على قراءته، بدأ القراءة على الشيخ بعد وفاة عبد العزيز الغرير، الذي كان يقرأ على الشيخ، وكان ابن سعدي له صوت حسن رخيم لا يمله سامعه5.
5ـ والشيخ محمد بن عبد الله بن حمد بن محمد بن سليم، ولد في بريدة، سنة: 1240هـ وتوفي فيها سنة 1323هـ6.
رحل له الشيخ في بريدة وأخذ عنه التوحيد وغيره7.
6ـ والشيخ علي بن ناصر بن محمد أبو وادي، ولد في عنيزة سنة: 1273هـ، وتوفي سنة: 1361هـ8.
أخذ عنه الحديث، الأمهات الست وغيرها، وأجازه في ذلك. وأخذ عنه التفسير وأصوله، وأصول الحديث9.
--------------------------------------------
৩. এবং শায়খ আবদুল্লাহ বিন আইয আল-আরীযী আল-হারবী, ১২৪৯ হিজরিতে উনাইযাহ-তে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৭৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।১।
তাঁর নিকট থেকে তিনি ফিকহ, উসুলে ফিকহ এবং ভাষাবিজ্ঞান শিক্ষা লাভ করেন।২।
৪. এবং শায়খ সালিহ বিন উসমান বিন হামাদ বিন ইবরাহিম আল-কাদী, ১২৮২ হিজরিতে উনাইযাহ-তে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৫১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।৩।
তাঁর নিকট থেকে তিনি তাওহিদ, তাফসির, ফিকহ (এর মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা) এবং আরবি ভাষাবিজ্ঞান শিক্ষা করেন। তিনি ছিলেন সেই ব্যক্তি যার কাছে শায়খ সবচেয়ে বেশি পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং আল্লাহ তাঁর মৃত্যু ঘটানো পর্যন্ত তিনি তাঁর সাথে পূর্ণরূপে সংলগ্ন ছিলেন।৪।
পাঠের মজলিসে তিনিই শায়খের সামনে পাঠ করতেন এবং শায়খ তাঁর পাঠের ওপর ব্যাখ্যা প্রদান করতেন। আব্দুল আজিজ আল-গুরাইর—যিনি ইতিপূর্বে শায়খের সামনে পাঠ করতেন—তাঁর মৃত্যুর পর তিনি শায়খের সামনে পাঠ করা শুরু করেন। ইবনে সাদীর কণ্ঠস্বর ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও সুমধুর, যা শ্রোতাকে ক্লান্ত করত না।৫।
৫. এবং শায়খ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন হামাদ বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইম, ১২৪০ হিজরিতে বুরাইদাহ-তে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩২৩ হিজরিতে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।৬।
শায়খ তাঁর কাছে বুরাইদাহ-তে সফর করেছিলেন এবং তাঁর নিকট থেকে তাওহিদসহ অন্যান্য বিষয় শিক্ষা লাভ করেছিলেন।৭।
৬. এবং শায়খ আলী বিন নাসির বিন মুহাম্মদ আবু ওয়াদী, ১২৭৩ হিজরিতে উনাইযাহ-তে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।৮।
তাঁর নিকট তিনি হাদিস এবং কুতুবে সিত্তাহ (ছয়টি মূল হাদিস গ্রন্থ) ও অন্যান্য কিতাব পাঠ করেন এবং তিনি তাঁকে এ বিষয়ে ইজাযত প্রদান করেন। এছাড়াও তাঁর নিকট তিনি তাফসির, উসুলে তাফসির এবং উসুলে হাদিস শিক্ষা লাভ করেন।৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
7ـ والشيخ إبراهيم بن صالح بن إبراهيم بن محمد بن عيسى القحطاني ولد في عنيزة سنة: 1270هـ وتوفي بالرياض سنة: 1343هـ1.
أخذ عنه أصول الدين2.
8 ـ والشيخ محمد بن عبد العزيز بن محمد بن عبد الله بن مانع.
ولد في عنيزة سنة: 1300هـ، وتوفي في بيروت سنة: 1385هـ ونقل جثمانه إلى قطر وصلى عليه ودفن فيها3.
وأخذ عنه علوم اللغة العربية4.
9ـ والشيخ صعب بن عبد الله بن صعب التويجري، ولد في بريدة سنة: 1253هـ، وتوفي سنة: 1339هـ5.
أخذ عنه الفقه وأصوله6، عندما رحل من بريدة إلى عنيزة وجلس فيها للتدريس7.
10ـ والشيخ علي بن محمد بن إبراهيم بن محمد السناني، ولد في عنيزة سنة: 1266هـ، وتوفي سنة: 1339هـ8.
وأخذ عنه أصول الدين9.
11ـ والشيخ محمد الأمين محمود الشنقيطي، ولد في مدينة شنقيط في موريتانيا سنة: 1289هـ، وتوفي في الزبير في صباح الجمعة 14 جمادى الثانية، سنة: 1351هـ10.
--------------------------------------------
৭- এবং শায়খ ইবরাহিম বিন সালিহ বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-কাহতানি। তিনি ১২৭০ হিজরি সনে উনাইজাহতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৪৩ হিজরি সনে রিয়াদে ইন্তেকাল করেন।১
তিনি তাঁর নিকট উসুলুদ্দিন (দীনের মূলনীতি) শিক্ষা গ্রহণ করেন।২
৮- এবং শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মানি'।
তিনি ১৩০০ হিজরি সনে উনাইজাহতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৮৫ হিজরি সনে বৈরুতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মরদেহ কাতারে স্থানান্তরিত করা হয় এবং সেখানে তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।৩
তিনি তাঁর নিকট আরবি ভাষা বিজ্ঞান শিক্ষা করেন।৪
৯- এবং শায়খ সাব বিন আব্দুল্লাহ বিন সাব আল-তুওয়াইজিরি। তিনি ১২৫৩ হিজরি সনে বুরাইদাহতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৩৯ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।৫
তিনি তাঁর নিকট ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ শিক্ষা করেন,৬ যখন তিনি বুরাইদাহ থেকে উনাইজাহতে আসেন এবং সেখানে শিক্ষকতার জন্য অবস্থান করেন।৭
১০- এবং শায়খ আলি বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আস-সিনানি। তিনি ১২৬৬ হিজরি সনে উনাইজাহতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৩৯ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।৮
এবং তিনি তাঁর নিকট উসুলুদ্দিন শিক্ষা করেন।৯
১১- এবং শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন মাহমুদ আশ-শানকিতী। তিনি ১২৮৯ হিজরি সনে মৌরিতানিয়ার শানকিদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৫১ হিজরি সনের ১৪ই জুমাদাস সানি শুক্রবার সকালে যুবাইর নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন।১০
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قرأ عليه الشيخ ابن سعدي لما قدم إلى عنيزة وجلس فيها للتدريس سنة: 1330هـ. وأخذ عنه التفسير والحديث ومصطلح الحديث وعلوم العربية كالنحو والصرف وغيرهما1. وأخذ عنه إجازة بالرواية2.
ثالثا: عنايته بكتب شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن قيم الجوزية وتأثره بهما:
لقد عني الشيخ ابن سعدي بكتب شيخ الإسلام ابن تيمية وكتب تلميذه ابن القيم عناية بالغة، فأكب عليها مطالعة واستذكاراً وحفظاً وفهماً وتلخيصاً وشرحاً.. وكان أعظم اشتغاله بها، ولازمها ملازمة تامة طيلة حياته، فتتلمذ بذلك على كتبهما، وحصل له بسبب ذلك انتفاعٌ كبيرٌ، وخيرٌ عظيمٌ.
ولكي يبرز لنا مقصود هذا البحث أقول: إن تأثر الشيخ ابن سعدي بشيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم يظهر من نواح متعددة:
أـ أجمع كل من ترجم له من تلاميذه وغيرهم على عنايته بكتب شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم، وحثه الدائم لتلاميذه بالعناية بها.
يقول الشيخ محمد بن عثمان القاضي: "ولقد أكب بالمطالعة على كتب الفقه والحديث طيلة حياته خصوصا على كتب الشيخين، فقد كانت له صبوحا وغبوقاً"3.
ويقول ابن الشيخ المترجم له عبد الله: "وكان أعظم اشتغاله وانتفاعه بكتب شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم وحصل له خير كثير بسببها في علم الأصول والتوحيد والتفسير والفقه وغيرها من العلوم النافعة"4.
ويقول أحد تلاميذ الشيخ: "وكان يتعلم ويقضي أوقاته في ذلك، وفي الإكباب على مطالعة مؤلفات شيخ الإسلام ابن تيمية ومؤلفات تلميذه ابن القيم بتمعن وتفهم فانتفع بهذه المؤلفات غاية الانتفاع"5 والنقول في ذلك كثيرة.
--------------------------------------------
যখন শেখ ইবনে সাদি ১৩৩০ হিজরিতে উনাইজায় আসলেন এবং সেখানে পাঠদানের জন্য বসলেন, তখন তিনি তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেন। আর তিনি তাঁর কাছ থেকে তাফসীর, হাদীস, উসূলে হাদীস এবং আরবী ভাষাতত্ত্বের জ্ঞান যেমন নাহু ও সরফ ইত্যাদি অর্জন করেন। এবং তিনি তাঁর কাছ থেকে রেওয়ায়েতের ইজাযত গ্রহণ করেন।
তৃতীয়ত: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়ার কিতাবসমূহের প্রতি তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ এবং তাঁদের দ্বারা তাঁর প্রভাবিত হওয়া:
শেখ ইবনে সাদি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের কিতাবসমূহের প্রতি অত্যন্ত গভীর গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন। ফলে তিনি সেগুলোর অধ্যয়ন, পুনরালোচনা, মুখস্থকরণ, অনুধাবন, সারসংক্ষেপ প্রণয়ন এবং ব্যাখ্যার কাজে একনিষ্ঠভাবে আত্মনিয়োগ করেন। এগুলোর সাথেই তাঁর সর্বাধিক ব্যস্ততা ছিল এবং সারাজীবন তিনি এগুলোর সাথে পূর্ণরূপে যুক্ত ছিলেন। এভাবেই তিনি তাঁদের কিতাবসমূহের মাধ্যমে তাঁদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন এবং এর ফলে তাঁর প্রভূত কল্যাণ ও মহান উপকার সাধিত হয়।
এই গবেষণার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য আমি বলছি: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের দ্বারা শেখ ইবনে সাদির প্রভাবিত হওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন দিক থেকে প্রকাশ পায়:
ক- তাঁর যে সকল ছাত্র এবং অন্যরা তাঁর জীবনী লিখেছেন, তাঁরা সকলেই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ও তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের কিতাবসমূহের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ এবং তাঁর ছাত্রদেরকে সেগুলো গুরুত্ব সহকারে পড়ার জন্য তাঁর নিরন্তর নসিহতের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
শেখ মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-কাজী বলেন: "তিনি সারাজীবন ফিকহ ও হাদীসের কিতাবসমূহ অধ্যয়নে মগ্ন ছিলেন, বিশেষ করে এই দুই শায়খের কিতাবসমূহের ওপর; এগুলো ছিল তাঁর জন্য সকাল-সন্ধ্যার পাথেয়।"
জীবন চরিতের মূল ব্যক্তির পুত্র শেখ আবদুল্লাহ বলেন: "শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের কিতাবসমূহের সাথেই তাঁর সর্বাধিক ব্যস্ততা ও উপকারিতা নিহিত ছিল। এর মাধ্যমে তিনি উসূলে দ্বীন, তাওহীদ, তাফসীর, ফিকহ এবং অন্যান্য উপকারী জ্ঞানে প্রভূত কল্যাণ লাভ করেন।"
শেখ এর একজন ছাত্র বলেন: "তিনি শিখতেন এবং তাঁর সময়গুলো সেই কাজে ব্যয় করতেন। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার রচনাবলী এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের রচনাবলী গভীরভাবে অনুধাবন ও বোঝার সাথে অধ্যয়নে তিনি নিমগ্ন থাকতেন। ফলে তিনি এই রচনাবলী থেকে চরমভাবে উপকৃত হয়েছিলেন।" আর এ সংক্রান্ত উদ্ধৃতি প্রচুর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ب ـ ثناؤه الدائم عليهما وعلى مؤلفاتهما في كتبه:
قال رحمه الله في كتابه طريق الوصول: "إن كتب الإمام الكبير شيخ الإسلام والمسلمين: تقي الدين أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام ابن تيمية، قدس الله روحه، جمعت فأوعت: جميع الفنون النافعة والعلوم الصحيحة، وجمعت علم الأصول والفروع وعلوم النقل والعقل، وعلوم الأخلاق والآداب الظاهرة والباطنة، وجمعت بين المقاصد والوسائل، وبين المسائل والدلائل، وبين الأحكام وبين حكمها وأسرارها، وبين تقرير المذهب الحق، والرد على جميع المطبلين، وامتازت على جميع الكتب المصنفة بغزارة علمها وكثرته وقوته، وجودته وتحقيقه، بحيث يجزم من له اطلاع عليها وعلى غيرها أنها لا يوجد لها نظير يساويها أو يقاربها"1.
وقال في الكتاب نفسه: "وقد سلك شمس الدين ابن قيم الجوزية مسلك شيخه، بالتحقيق للعلوم الأصولية والفروعية والظاهرة والباطنة. وكان أعظم من انتفع بشيخ الإسلام، وأقومهم بعلومه وأوسعهم في العلوم النقلية والعقلية"2.
وقال في المواهب الربانية: "....ولا يخفى لطف الباري في وجود شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في أثناء قرون هذه الأمة، وتبيين الله به وبتلامذته من الخير الكثير والعلم الغزير، وجهاد أهل البدع، والتعطيل والكفر، ثم انتشار كتبه في هذه الأوقات، فلا شك أن هذا من لطف الله لمن انتفع بها، وأنه يتوقف خير كثير على وجودها فلله الحمد والمنة والفضل"3.
وللشيخ ابن سعدي قصيدة نونية تتكون من ثلاثين بيتاً نظمها في مدح شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم ومؤلفاتهما منها:
يا طالبا لعلوم الشرع مجتهدا
يبغي انكشاف الحق والعرفان
احرص على كتب الإمامين اللذيـ
ـن هما المحك لهذه الأزمان
العالمين العاملين الحافظيـ
ـن المعرضين عن الحطام الفاني
عاشا زمانا داعيين إلى الهدى
من زائغ ومقلد حيران
أعني به شيخ الورى وإمامهم
يعزي إلى تيمية الحران
والآخر المدعو بابن القيم
--------------------------------------------
খ – তার গ্রন্থাবলিতে তাদের উভয়ের এবং তাদের রচনাবলির ওপর তার নিরন্তর প্রশংসা:
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘তারিকুল উসুল’ গ্রন্থে বলেন: "নিশ্চয়ই মহান ইমাম, শায়খুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন: তাকিউদ্দিন আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন)-এর গ্রন্থাবলি এমনভাবে সংকলিত হয়েছে যা অত্যন্ত ব্যাপক: এতে সমস্ত উপকারী শিল্পকলা ও বিশুদ্ধ জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি উসুল (মূলনীতি) ও ফুরু (শাখা), এবং নকলি (বর্ণনাভিত্তিক) ও আকলি (যুক্তিভিত্তিক) উভয় প্রকার জ্ঞানকে একত্র করেছে। এতে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ চরিত্র ও শিষ্টাচার সংক্রান্ত জ্ঞান রয়েছে। এটি লক্ষ্য ও উপায়, মাসআলা ও দলিল, এবং বিধান ও সেগুলোর হিকমত ও রহস্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছে। এটি সত্য মতাদর্শের প্রতিষ্ঠা এবং সমস্ত বাতিলপন্থীদের খণ্ডনকেও একত্রিত করেছে। এই গ্রন্থাবলি তার জ্ঞানের গভীরতা, আধিক্য, শক্তি, মান এবং গবেষণার দিক থেকে অন্য সকল রচিত গ্রন্থের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে; এমনকি যে ব্যক্তি এই কিতাবগুলো এবং অন্য কিতাবগুলো সম্পর্কে অবগত, সে নিশ্চিতভাবে বলতে পারে যে, এর সমতুল্য বা কাছাকাছি কোনো নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না।"১
তিনি একই গ্রন্থে আরও বলেন: "শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ উসুলি, ফুরুয়ি, জাহিরি এবং বাতিনি জ্ঞানের গবেষণায় তাঁর শায়খের পথ অনুসরণ করেছেন। তিনি শায়খুল ইসলামের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছিলেন এবং তাঁর জ্ঞান অর্জনে ও বর্ণনামূলক ও যুক্তিনির্ভর জ্ঞানে তাদের মধ্যে অধিকতর অগ্রগামী ও প্রশস্ত ছিলেন।"২
তিনি ‘আল-মাওয়াহিবুর রব্বানিয়্যাহ’ গ্রন্থে বলেন: "...এই উম্মতের শতাব্দীগুলোর মাঝে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর অস্তিত্বের পেছনে স্রষ্টার করুণা গোপন নেই। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে এবং তাঁর ছাত্রদের মাধ্যমে অনেক কল্যাণ ও প্রচুর জ্ঞান সুস্পষ্ট করেছেন এবং বিদআতপন্থী, আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারী ও কুফরপন্থীদের বিরুদ্ধে জিহাদ প্রকাশ করেছেন। অতঃপর বর্তমান সময়ে তাঁর গ্রন্থাবলির প্রচার ও প্রসার ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য একটি করুণা যারা এগুলো থেকে উপকৃত হয়েছে। আর অনেক কল্যাণ এসব গ্রন্থের অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং সকল প্রশংসা, করুণা ও শ্রেষ্ঠত্ব একমাত্র আল্লাহর জন্য।"৩
শায়খ ইবনে সাদীর একটি ‘নুনিয়্যাহ’ কাসিদা রয়েছে যা ত্রিশটি পঙক্তি নিয়ে গঠিত। তিনি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম এবং তাঁদের রচনাবলির প্রশংসায় এটি রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
হে শরয়ি জ্ঞানের সন্ধানী পরিশ্রমী ছাত্র,
যে সত্যের উন্মোচন ও মারিফাত কামনা করে।
সেই দুই ইমামের কিতাবগুলোর প্রতি যত্নশীল হও,
যাঁরা এই জামানার জন্য সত্য-মিথ্যার মানদণ্ড।
সেই দুই আলিম, আমলকারী ও হাফেজ,
যাঁরা নশ্বর পৃথিবীর ভোগবিলাস থেকে বিমুখ ছিলেন।
তাঁরা এক কাল অতিবাহিত করেছেন হিদায়াতের দিকে আহ্বান করে,
বিচ্যুত ও বিভ্রান্ত তাকলিদকারীদের মধ্য থেকে।
আমি এর দ্বারা সৃষ্টির শায়খ ও তাদের ইমামকে উদ্দেশ্য করছি,
যিনি হাররানের তাইমিয়্যাহর সাথে সম্পর্কিত।
আর অপরজন ইবনুল কাইয়্যিম নামে পরিচিত—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-শাইখ আবদুর রহমান বিন সাদী ওয়া জুহুদুহু ফি তাওদিহিল আকিদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فهما اللذان قد أودعا في كتبهم
غرر العلوم كثيرة الألوان
فيها الفوائد والمسائل جمعت
من كل فاكهة بها زوجان
إن رمت معرفة الإله وماله
من وصفه وكماله الرباني
أو رمت تفسير الكتاب وما حوى
من كثرة الأسرار والتبيان
أو رمت معرفة الرسول حقيقة
وجلالة المبعوث بالفرقان
أو رمت فقه الدين مرتبطاً به
أصل الدليل أدلة الإتقان
أو رمت معرفة القصائد كلها
للمبطلين وردها ببيان
أو رمت معرفة الفنون جميعها
من نحوها والطب للأبدان
تلق الجميع مقرراً وموضحا
قد بيناها أحسن التبيان1
إلى آخر هذه القصيدة، وهي دقيقة في وصف هذين العالمين وغزارة علمهما وتنوعه.
جـ ـ تأثره بهما في أسلوبه في الكتابة وفي تقريره للمسائل، وتأصيله للقواعد، وردوده على المنحرفين، وكثرة نقله واقتباسه من أقوالهما كما سيظهر جلياً عند عرض جهوده في العقيدة، إذ سيتبين للقارئ أن معظم كلامه في الرد على المخالفين أو في تأصيل القواعد مستفاد من كلام شيخ الإسلام وتلميذه ابن القيم، وذلك لشدة عناية الشيخ بمؤلفتهما القيمة النافعة.
د ـ عنايته بالتأليف حول كتب شيخ الإسلام، وكتب تلميذه ابن القيم فله عدة مؤلفات تدور حول كتب هذين العالمين إما شرحاً وتوضيحاً أو نثراً أو تلخيصاً، منها:
1ـ كتاب توضيح الكافية الشافية، نثر فيه نونية ابن القيم.
2ـ الحق الواضح المبين في شرح توحيد الأنبياء والمرسلين من الكافية الشافية، وهو أيضا حول نونية ابن القيم حيث شرح الأبيات المتعلقة بتوحيد الأنبياء والمرسلين من النونية.
3ـ الدرة البهية في شرح القصيدة التائية في حل المشكلة القدرية وكما يظهر من عنوانه فهو شرح لتائية ابن تيمية في الرد على القدرية.
4 ـ التنبيهات اللطيفة فيما احتوت عليه الواسطية من المباحث المنفية علق فيه على العقيدة الواسطية لابن تيمية.
5 ـ طريق الوصول إلى المأمول بمعرفة القواعد والضوابط والأصول، وهذا الكتاب
--------------------------------------------
তাঁরা দুজনেই তাঁদের গ্রন্থসমূহে গচ্ছিত রেখেছেন
বহু বর্ণের উজ্জ্বল জ্ঞানসমূহ
তাতে সংগৃহীত হয়েছে বহু উপকারিতা ও মাসআলা
যেন প্রতিটি ফলের এক একটি জোড়া
যদি তুমি ইলাহ সম্পর্কে এবং তাঁর গুণাবলি
ও তাঁর রব্বানী পূর্ণতা সম্পর্কে জানতে চাও
অথবা তুমি যদি কিতাবের তাফসীর এবং তাতে থাকা
রহস্য ও বর্ণনার প্রাচুর্য সম্পর্কে জানতে চাও
অথবা তুমি যদি রাসূলের প্রকৃত পরিচয়
এবং ফুরকানসহ প্রেরিত সত্তার মাহাত্ম্য জানতে চাও
অথবা তুমি যদি দ্বীনের ফিকহ সম্পর্কে জানতে চাও যা সম্পৃক্ত
নিখুঁত দলিলের মূল উৎসসমূহের সাথে
অথবা তুমি যদি বাতিলপন্থীদের সকল কাসিদা
এবং সুস্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে সেগুলোর খণ্ডন সম্পর্কে জানতে চাও
অথবা তুমি যদি সকল শাস্ত্র সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে চাও
নাহু থেকে শুরু করে দেহের চিকিৎসা পর্যন্ত
তবে তুমি এ সবগুলোকে প্রতিষ্ঠিত ও সুস্পষ্টরূপে পাবে
যা সর্বোত্তম পন্থায় বর্ণনা করা হয়েছে।১
—এই কাসিদার শেষ পর্যন্ত; যা এই দুই আলিমের বর্ণনা এবং তাঁদের জ্ঞানের প্রাচুর্য ও বৈচিত্র্যের বর্ণনায় অত্যন্ত সূক্ষ্ম।
গ— লিখনশৈলী, মাসআলা নির্ধারণ, মূলনীতি প্রণয়ন এবং বিচ্যুতদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে তাঁদের দ্বারা তাঁর প্রভাবিত হওয়া। এছাড়া তাঁদের উক্তি থেকে তাঁর অধিক পরিমাণে উদ্ধৃতি ও গ্রহণ করা, যা আকিদা বিষয়ে তাঁর প্রচেষ্টাগুলো উপস্থাপনের সময় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে। কেননা পাঠকের কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, বিরোধীদের খণ্ডন বা মূলনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাঁর অধিকাংশ বক্তব্যই শাইখুল ইসলাম ও তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের বক্তব্য থেকে সংগৃহীত। আর এটি হয়েছে তাঁদের মূল্যবান ও উপকারী রচনাবলির প্রতি শাইখ (সাদী)-র অত্যন্ত অনুরাগের কারণে।
ঘ— শাইখুল ইসলাম ও তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের গ্রন্থাবলিকে কেন্দ্র করে তাঁর লেখালেখির প্রচেষ্টা। এই দুই আলিমের কিতাবসমূহকে কেন্দ্র করে তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে; যা হয় ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণমূলক, অথবা গদ্যরূপ কিংবা সংক্ষিপ্তসার। এর মধ্যে রয়েছে:
১. তাওদিহুল কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ কিতাব; যাতে তিনি ইবনুল কাইয়্যিমের নুনিয়্যাহ-কে গদ্যে রূপান্তর করেছেন।
২. আল-হক্কুল ওয়াদিহুল মুবীন ফী শারহি তাওহীদিল আনবিয়া ই ওয়াল মুরসালীন মিনাল কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ; এটিও ইবনুল কাইয়্যিমের নুনিয়্যাহ কেন্দ্রিক, যেখানে তিনি নুনিয়্যাহ থেকে নবী ও রাসূলগণের তাওহীদ সংক্রান্ত কবিতাগুলোর ব্যাখ্যা করেছেন।
৩. আদ-দুররাতুল বাহিয়্যাহ ফী শারহিল কাসিদাতিত তায়িয়্যাহ ফী হাল্লিল মুশকিলাতিল ক্বাদারিয়্যাহ; এবং এর শিরোনাম থেকেই স্পষ্ট যে, এটি কদরিয়্যাহদের খণ্ডনে ইবনে তাইমিয়্যাহর তায়িয়্যাহ কাসিদার ব্যাখ্যা।
৪. আত-তানবীহাতুল লতিফাহ ফীমা ইতাহওয়াত আলাইহিল ওয়াসিতিয়্যাহ মিনাল মাবাহিছিল মানফিয়াহ; এতে তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহর আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-এর ওপর টীকা লিখেছেন।
৫. তরিকুল উসুল ইলাল মামুল বি-মা'রিফাতিল কাওয়ায়েদ ওয়াদ দাওয়াবিত ওয়াল উসুল; আর এই কিতাবটি
--------------------------------------------