(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الشبهات المزعومة حول القرآن الكريم في دائرتي المعارف الإسلامية والبريطانية القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: الشبهات المزعومة حول القرآن الكريم في دائرتي المعارف الإسلامية والبريطانية
المؤلف: د. محمد السعيد جمال الدين
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف
عدد الصفحات: 66
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
পবিত্র কুরআন সম্পর্কে ইসলামি ও ব্রিটিশ বিশ্বকোষদ্বয়ে উত্থাপিত কথিত সংশয়সমূহ বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান (علوم القرآن) এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)
গ্রন্থ: পবিত্র কুরআন সম্পর্কে ইসলামি ও ব্রিটিশ বিশ্বকোষদ্বয়ে উত্থাপিত কথিত সংশয়সমূহ
লেখক: ড. মুহাম্মদ আস-সাঈদ জামাল উদ্দিন
প্রকাশক: কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স ফর প্রিন্টিং অফ দ্য হলি কুরআন
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬
[বইটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمة:عنيت الموسوعات العالمية بمختلف أنواعها - العامة منها والمتخصصة – بالقرآن الكريم، فأفرد له بعضها مقالات ومواد مستقلة جرى الحديث فيها عن مصدر القرآن، وكيف جمع، والقراءات المختلفة، وأجزائه وسوره وآياته، وأسلوبه، وموضوعاته، وترجماته إلى اللغات الحية. إلخ.
وتحظى هذه الموسوعات بقبول واسع في دوائر المثقفين والباحثين، كما تتميز بالتأثير البالغ في توجيه أفكار الناشئة والشباب، غير أنها تحفل بالكثير من الشبهات والأخطاء حول القرآن الكريم وكذلك حول الرسول صلى الله عليه وسلم وسائر دعائم الدين الحنيف، مما يسهم في تقديم صورة مغلوطة ومشوهة عن الإسلام.
ولما كان لابد من تتبع هذه الموسوعات للرد على ما ورد بها من شبهات وتصحيح ما اشتملت عليه من أغلاط بشأن القرآن الكريم، فقد رأينا الاقتصار على موسوعتين إحداهما متخصصة والأخرى عامة، كل واحدة منهما تعد علماً في مجالها ونموذجاً لهذا المجال:
--------------------------------------------
উপস্থাপনা:সাধারণ ও বিশেষায়িত—উভয় প্রকারের বিশ্বকোষসমূহ পবিত্র কুরআনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। ফলে এগুলোর কোনো কোনটি এর জন্য স্বতন্ত্র নিবন্ধ ও বিষয়বস্তু নির্ধারণ করেছে, যেখানে কুরআনের উৎস, এটি কীভাবে সংকলিত হয়েছে, বিভিন্ন কিরাত (قراءات), এর বিভিন্ন অংশ, সূরা ও আয়াতসমূহ, এর শৈলী, বিষয়বস্তু এবং জীবন্ত ভাষাগুলোতে এর অনুবাদ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এই বিশ্বকোষসমূহ বুদ্ধিজীবী ও গবেষক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে এবং এগুলো নতুন প্রজন্ম ও যুবকদের চিন্তাধারা পরিচালনায় অত্যন্ত প্রভাবশালী। তবে এগুলো পবিত্র কুরআন এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহ এই দ্বীনের অন্যান্য স্তম্ভ সম্পর্কে অনেক সংশয় (شبهات) ও ভুলভ্রান্তিতে পরিপূর্ণ, যা ইসলাম সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ও বিকৃত চিত্র উপস্থাপনে ভূমিকা রাখে।
যেহেতু এই বিশ্বকোষগুলোতে বিদ্যমান সংশয় (شبهات) সমূহের খণ্ডন এবং পবিত্র কুরআন বিষয়ক ভুলত্রুটিগুলো সংশোধনের লক্ষ্যে সেগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করা আবশ্যক ছিল, তাই আমরা দুটি বিশ্বকোষের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি; যার একটি বিশেষায়িত এবং অন্যটি সাধারণ। এগুলোর প্রত্যেকটিই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রামাণ্য এবং ওই বিষয়ের জন্য এক একটি আদর্শ স্বরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
(2) - وأما الموسوعة العامة فهي دائرة المعارف البريطانية Encyclopaedia Britannica، وهي تتمتع بانتشار واسع في دوائر المثقفين في سائر أرجاء العالم.
وينقسم هذا المقال إلى: تعريف بخصائص الموسوعات العالمية وبيان أهميتها وخطرها، مع التركيز على الموسوعتين المذكورتين، واستخلاص المنهج الذي اعتمده المستشرقون في دراستهم للقرآن الكريم مما ورد في الموسوعتين، وبيان للشبهات الواردة فيهما والرد عليها بمنهج المستشرقين أنفسهم. وينتهي المقال بخاتمة تتضمن جماع النتائج التي توصل إليها البحث.
والله الموفق،
(২) - আর সাধারণ বিশ্বকোষটি হলো এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (Encyclopaedia Britannica), যা সারা বিশ্বের শিক্ষিত ও বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপক প্রসারের অধিকারী।
এই প্রবন্ধটি নিম্নোক্ত বিষয়াবলীতে বিভক্ত: আন্তর্জাতিক বিশ্বকোষসমূহের বৈশিষ্ট্যের পরিচিতি এবং এগুলোর গুরুত্ব ও ঝুঁকির বর্ণনা, যেখানে উল্লিখিত বিশ্বকোষ দুটির ওপর বিশেষ আলোকপাত করা হয়েছে। সেইসাথে বিশ্বকোষদ্বয়ে বর্ণিত তথ্যের আলোকে পবিত্র কুরআন অধ্যয়নে প্রাচ্যবিদদের গৃহীত পদ্ধতির সারসংক্ষেপ উপস্থাপন এবং সেখানে উত্থাপিত সংশয়সমূহের বর্ণনা ও খোদ প্রাচ্যবিদদের নিজস্ব পদ্ধতিতেই সেগুলোর নিরসন করা হয়েছে। প্রবন্ধটি একটি উপসংহারের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে, যাতে গবেষণালব্ধ সকল ফলাফলের সারনির্যাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আল্লাহই তাওফিকদাতা,
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
الموسوعات
منهج الدراسات الاستشراقية للقرآن على نحو ما ورد بالموسوعات العالمية
الموسوعات: تعريف وتوضيح…الموسوعات: تعريف وتوضيح
تنطوي الموسوعات على أهمية بالغة للباحثين والمثقفين، ويطلق اسم الموسوعات أو دوائر المعارف Encyclopaedia على الكتاب الذي يشتمل على مجموع المعارف الإنسانية في مجالات الثقافة والفنون والعلوم، ويتضمن نبذة مختصرة ومبسطة تتناول معلومات في مختلف المجالات، وينقسم إلى مواد منفصلة يراعى في إيرادها الترتيب الأبجدي "وهي تحاول أن تقدم كل شيء لكل الناس، والأثر الطبيعي الذي تحدثه بنفس القارئ هو تذكيره بمدى قلة ما يعرفه مما هو محيط به، فربما دفعه هذا الشعور إلى مزيد من التعلم" (1) .
وتحقق الموسوعات فائدة مزدوجة لكل من القراء الراغبين في المعرفة والباحثين، فهي تقدم للقارئ معلومات مجملة عن النقاط الثانوية في الموضوع، والتواريخ، وأسماء الأماكن وغيرها، لكن أحكامها في القضايا الرئيسة لابد أن تكون موثقة (2) .
وتذيّل كل مادة من مواد الموسوعة بثبت بأسماء المصادر والمراجع المهمة في الموضوع، ومن ثم فإن أول ما ينصح به الباحث المبتدئ هو أن تكون المواد المكتوبة في الموسوعات حول موضوعه هي أول ما يرجع إليه للاستعانة بها في اكتشاف أبعاد هذا الموضوع، والتعرف على جهود السابقين في دراسته والمصادر والمراجع المتاحة.
--------------------------------------------
বিশ্বকোষসমূহবিশ্বকোষসমূহে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, সেই আলোকে কুরআন বিষয়ক প্রাচ্যবাদী গবেষণার পদ্ধতিবিশ্বকোষ: সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা...বিশ্বকোষ: সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা
গবেষক ও বুদ্ধিজীবীদের নিকট বিশ্বকোষের গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম। ‘এনসাইক্লোপিডিয়া’ (Encyclopaedia) বা ‘বিশ্বকোষ’ (বা জ্ঞানকোষ) বলতে এমন গ্রন্থকে বোঝায় যা সংস্কৃতি, শিল্পকলা এবং বিজ্ঞানের ক্ষেত্রসমূহে মানবজাতির সামগ্রিক জ্ঞানের সংকলন ধারণ করে। এটি বিভিন্ন বিষয়ের তথ্যাবলি সংবলিত সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য ধারণা প্রদান করে এবং এটি পৃথক নিবন্ধে বিভক্ত থাকে যেখানে বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস বজায় রাখা হয়। "এটি সকল মানুষের নিকট সবকিছু উপস্থাপনের প্রয়াস চালায় এবং পাঠকের মনে এটি যে স্বাভাবিক প্রভাব ফেলে তা হলো, তাকে তার চারপাশের পরিবেষ্টিত জ্ঞান সম্পর্কে তার স্বল্পজ্ঞানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সম্ভবত এই অনুভূতি তাকে আরও জ্ঞানার্জনে উদ্বুদ্ধ করে।" (১)
বিশ্বকোষ জ্ঞানপিপাসু পাঠক ও গবেষক—উভয় শ্রেণির জন্যই দ্বিমুখী উপকার বয়ে আনে। এটি পাঠককে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের গৌণ বিষয়াবলি, তারিখ, স্থানের নাম ইত্যাদি সম্পর্কে সারসংক্ষেপ তথ্য প্রদান করে। তবে প্রধান বিষয়াবলিতে এর সিদ্ধান্তসমূহ অবশ্যই নির্ভরযোগ্য (موثقة) হতে হবে (২)।
বিশ্বকোষের প্রতিটি নিবন্ধের শেষে উক্ত বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের একটি তালিকা যুক্ত থাকে। ফলে, একজন নবীন গবেষককে সর্বপ্রথম এই পরামর্শ দেওয়া হয় যে, তার গবেষণার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিশ্বকোষে লিখিত নিবন্ধগুলোই যেন হয় তার প্রাথমিক উৎস, যাতে এর মাধ্যমে তিনি উক্ত বিষয়ের বিভিন্ন দিক উন্মোচন করতে পারেন এবং এ বিষয়ে পূর্বসূরিদের গবেষণা এবং বিদ্যমান উৎস ও তথ্যসূত্রগুলো সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وفي كل مرة يعاد فيها طبع الموسوعة تعاد كتابة موادها لتشتمل على أحدث ما توصل إليه العلم والمعرفة في كل مادة من هذه المواد، وإضافة مواد جديدة لم تشتمل عليها الطبعات السابقة.
ويمكننا أن نميز بين نوعين من الموسوعات: موسوعات عامة، وأخرى متخصصة، فأما العامة فتتجه إلى القارئ العادي غير المتخصص أكثر من اتجاهها إلى الباحث المتخصص فتكون أقل تفصيلاً من الموسوعات المتخصصة، ومن ثم فإن موادّها تناسب القارئ المتعجل الذي يريد أن يلمّ بأطراف الموضوع ويحصل فيه على نوع من المعرفة المتميزة دون التعمق فيه (1) . وأما الموسوعة المتخصصة فتقتصر على مجال محدد تتناوله من مختلف جوانبه وفروعه دون غيره، كدائرة المعارف الإسلامية التي تعنى بكل ما يتعلق بالإسلام من علوم ومعارف.
وقد عرف العالم الإسلامي تدوين الموسوعات منذ القرن الرابع الهجري (العاشر الميلادي) منذ ألف ابن النديم كتابه: الفهرست، ثم تبعه الفارابي فألف "إحصاء العلوم" وما لبث التأليف الموسوعي أن ذاع وانتشر بفضل الموسوعات الكبرى التي ألفت في القرن الثامن الهجري (الرابع عشر الميلادي) مثل كتاب نهاية الأدب للنويري، و"صبح الأعشى" للقلقشندي و"مسالك الأبصار" لابن فضل الله العمري.
--------------------------------------------
যতবারই বিশ্বকোষটি পুনঃমুদ্রিত হয়, এর বিষয়বস্তুগুলো পুনরায় রচনা করা হয় যাতে প্রতিটি বিষয়ে আধুনিকতম জ্ঞান ও বিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটে এবং পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না এমন নতুন বিষয়সমূহ যোগ করা হয়।
আমরা বিশ্বকোষকে (এনসাইক্লোপিডিয়া) দুই ভাগে বিভক্ত করতে পারি: সাধারণ বিশ্বকোষ এবং বিশেষায়িত বিশ্বকোষ। সাধারণ বিশ্বকোষগুলো বিশেষজ্ঞ গবেষকের চেয়ে সাধারণ পাঠকের দিকে বেশি লক্ষ্য রাখে, ফলে এগুলো বিশেষায়িত বিশ্বকোষের তুলনায় কম বিস্তারিত হয়ে থাকে। এর ফলে এর বিষয়বস্তুগুলো সেই ত্বরান্বিত পাঠকের জন্য উপযুক্ত, যিনি কোনো বিষয়ের গভীরে অবগাহন না করে সে সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র ধারণা লাভ করতে চান (১)। পক্ষান্তরে, বিশেষায়িত বিশ্বকোষ একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং অন্য কোনো বিষয় বাদ দিয়ে সেই বিষয়ের বিভিন্ন দিক ও শাখা-প্রশাখা নিয়ে বিশদ আলোচনা করে; যেমন- ইসলামি বিশ্বকোষ (দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া), যা ইসলাম সংশ্লিষ্ট সকল জ্ঞান ও বিজ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত।
মুসলিম বিশ্ব চতুর্থ হিজরি শতাব্দী (দশম খ্রিস্টাব্দ) থেকেই বিশ্বকোষ সংকলনের সাথে পরিচিত ছিল, যখন ইবনুন নাদিম তাঁর 'আল-ফিহরিসত' গ্রন্থটি রচনা করেন। এরপর আল-ফারাবি 'ইহসাউল উলুম' রচনা করেন। শীঘ্রই অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে (চতুর্দশ খ্রিস্টাব্দ) রচিত বৃহৎ বিশ্বকোষগুলোর কল্যাণে এই বিশ্বকোষীয় সংকলন পদ্ধতি প্রসিদ্ধি ও প্রসার লাভ করে; যেমন- নুওয়াইরির 'নিহায়াতুল আরাব', কালকাশান্দির 'সুবহুল আ’শা' এবং ইবনু ফাদলিল্লাহ আল-উমারির 'মাসালিকুল আবসার'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وفي القرن الماضي ألفت موسوعتان كبيرتان بالعربية هما: "دائرة معارف البستاني" في أحد عشر مجلداً، و "دائرة معارف القرن العشرين" لمحمد فريد وجدى في عشرة مجلدات.
ومنذ القرن الثامن عشر الميلادي عني الأوربيون عناية كبيرة بتأليف الموسوعات الضخمة التي تبلغ كل منها ما يزيد على مائة مجلد كدائرة المعارف الفرنسية الكبرى التي أشرف على نشرها " الأمبر Alambert والتي بلغ تعداد مجلداتها 166 مجلداً فضلاً عن 40 أطلسا وخريطة، ودائرة دى لاردنر deLardner الإنجليزية والتي تشتمل على 132 مجلداً وقد صدرت أجزاؤها تباعاً منذ سنة 1829 حتى سنة م1846.
وتعد الموسوعة البريطانية (دائرة المعارف البريطانية) أشهر الموسوعات العامة على الإطلاق، كما تعد أفضل موسوعة كتبت باللغة الإنجليزية (1) ، وهي توزّع على نطاق واسع في كل القارات، ويتباهى بتملكها المثقفون في كل أنحاء العالم. وكانت قد طبعت لأول مرة في بريطانيا سنة 1771هـ في ثلاثة أجزاء بإشراف عدد من كبار العلماء البريطانيين في ذلك الوقت، ثم طبعت بعد ذلك عدة طبعات وصدرت طبعتها الرابعة عشرة في شيكاغو (أمريكا) سنة 1929م في 24 مجلداً.
وكانت دائر المعارف البريطانية قد خلت من مادة مستقلة عن "القرآن" في طبعاتها القديمة التي أحيل فيها إلى الرجوع تارة إلى مادة "محمد" وتارة إلى مادة "الأدب العربي" (انظر طبعتي 1890و1926م) حتى أفردت في طبعه
--------------------------------------------
গত শতাব্দীতে আরবি ভাষায় দুটি বিশাল বিশ্বকোষ সংকলিত হয়েছে, সেগুলো হলো: এগারো খণ্ডে "দাইরাতুল মাআরিফ আল-বুস্তানি" এবং দশ খণ্ডে মুহাম্মদ ফরিদ ওয়াজদির "দাইরাতুল মাআরিফ আল-কারনিল ইশরিন"।
খ্রিস্টীয় আঠারো শতক থেকে ইউরোপীয়রা বিশাল বিশ্বকোষ রচনার প্রতি ব্যাপক গুরুত্বারোপ করে, যার প্রতিটি একশ খণ্ডেরও অধিক। যেমন ফরাসি "গ্র্যান্ড এনসাইক্লোপিডিয়া", যা "অ্যালমবার্ট" (Alambert)-এর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়েছিল এবং যার খণ্ড সংখ্যা ১৬৬-এ পৌঁছেছিল, সাথে ছিল ৪০টি মানচিত্র ও নকশা। এছাড়াও ইংরেজি "ডি লার্ডনার" (deLardner) বিশ্বকোষ, যা ১৩২ খণ্ড বিশিষ্ট এবং এর খণ্ডগুলো ১৮২৯ থেকে ১৮৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (দাইরাতুল মাআরিফ আল-বৃতানিয়া) সর্বকালের সবচেয়ে বিখ্যাত সাধারণ বিশ্বকোষ হিসেবে বিবেচিত, এবং এটি ইংরেজি ভাষায় লিখিত সেরা বিশ্বকোষ হিসেবেও গণ্য (১)। এটি সকল মহাদেশে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত এবং সারা বিশ্বের বুদ্ধিজীবীরা এর মালিকানা নিয়ে গর্ব করেন। এটি সর্বপ্রথম ১৭৭১ সালে ব্রিটেনে তৎকালীন একদল প্রথিতযশা পণ্ডিতের তত্ত্বাবধানে তিন খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছিল। এরপর এর বেশ কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয় এবং ১৯২৯ সালে শিকাগোতে (আমেরিকা) এর চতুর্দশ সংস্করণ ২৪ খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার পুরনো সংস্করণগুলোতে "কুরআন" বিষয়ে কোনো স্বতন্ত্র নিবন্ধ ছিল না। সেগুলোতে পাঠকদের কখনো "মুহাম্মদ" ভুক্তিতে আবার কখনো "আরবি সাহিত্য" ভুক্তিতে দেখার জন্য নির্দেশ করা হতো (১৮৯০ এবং ১৯২৬ সালের সংস্করণ দুটি দ্রষ্টব্য), যতক্ষণ না এটি একটি সংস্করণে স্বতন্ত্র রূপ পায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
سنة 1929للقرآن مادة مستقلة تشتمل على ترجمة لكتاب ألماني بعنوان" موجزات شرقية" نشره المستشرق الألماني تيودور نولدكه (توفي سنة 1930) في برلين سنة 1892 (1) .
أما طبعة سنة 1974، وهي الطبعة الخامسة عشرة، والتي بين أيدينا الآن فقد كتب مادة القرآن فيها باللغة الإنجليزية H. R (كذا دون تعريف كاف) . وتقع هذه المادة في المجلد الخامس عشر، في نحو خمس صفحات على عمودين كاملين.
أما دائرة المعارف الإسلامية (2) وهي موسوعة متخصصة فقد قرر مجلس إدارتها أن يضرب صفحاً عن طبعتها الأولى ويعيد كتابة موادها من جديد، فصدرت الدائرة في طبعتها الجديدة بالاسم نفسه وأضيفت إليها عبارة الطبعة الثانية Encyclopaedia of Islam second Edition. وقام بكتابة مواد هذه الطبعة المستشرقون المحدثون وعدد من كتاب الطبعة السابقة ممن ظلوا على قيد الحياة لكي تتضمن خلاصة ما توصل إليه الفكر الاستشراقي الحديث من آراء ونتائج في مختلف الموضوعات الإسلامية. وبدأت مجلداتها تصدر تباعاً من مطبعة بريل، بمدينة ليدن بهولندا منذ سنة 1960م. ثم أعيد طبع هذه الطبعة نفسها مرة أخرى بعد ذلك في سنة 1979.
--------------------------------------------
১৯২৯ সালে কুরআনের জন্য একটি স্বতন্ত্র ভুক্তি ছিল যাতে 'ওরিয়েন্টাল স্কেচেস' শিরোনামের একটি জার্মান বইয়ের অনুবাদ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা ১৮৯২ সালে বার্লিন থেকে জার্মান প্রাচ্যবিদ থিওডর নোলডেকে (মৃত্যু ১৯৩০) প্রকাশ করেছিলেন (১)।
পক্ষান্তরে ১৯৭৪ সালের সংস্করণটি, যা পঞ্চদশ সংস্করণ এবং বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে, তাতে কুরআনের বিষয়টি ইংরেজি ভাষায় এইচ. আর. (এভাবেই পর্যাপ্ত পরিচয় ছাড়াই) লিখেছিলেন। এই ভুক্তিটি পঞ্চদশ খণ্ডে প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠা জুড়ে পূর্ণ দুটি কলামে বিস্তৃত।
আর ইসলামী বিশ্বকোষ (২), যা একটি বিশেষায়িত বিশ্বকোষ, এর পরিচালনা পর্ষদ এর প্রথম সংস্করণটি পরিহার করার এবং এর বিষয়বস্তুগুলো নতুন করে পুনরায় লেখার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে বিশ্বকোষটি তার নতুন সংস্করণে একই নামে প্রকাশিত হয় এবং এর সাথে 'দ্বিতীয় সংস্করণ' (Encyclopaedia of Islam second Edition) শব্দসমষ্টি যুক্ত করা হয়। আধুনিক প্রাচ্যবিদগণ এবং পূর্ববর্তী সংস্করণের জীবিত লেখকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এই সংস্করণের বিষয়বস্তুগুলো রচনা করেন, যাতে বিভিন্ন ইসলামী বিষয়ের ওপর আধুনিক প্রাচ্যবাদী চিন্তাধারার অর্জিত মতামত ও ফলাফলের সারসংক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকে। ১৯৬০ সাল থেকে নেদারল্যান্ডসের লিডেন শহরের ব্রিল প্রকাশনী থেকে এর খণ্ডগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে এই সংস্করণটিই পুনরায় মুদ্রিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ويبدو لي أن بعض دوائر المعارف المتخصصة، وبخاصة دائرة المعارف الإسلامية، تتوسع في مقالاتها توسعاً يكاد يخرجها عن كونها مجرد إشارات سريعة تتيح أمام الباحث المبتدئ مساحة كافية تعينه على تكوين رأي خاص في الموضوع، بل توشك هذه المقالات أن تكون تقارير شبه كاملة تتضمن الكثير من التقرير والحسم، قلما يجد الباحث فرصة كافية لكي ينفك من تأثيراتها الغالبة وآرائها شبه النهائية ويكون لنفسه رأياً خاصاً في موضوعاتها.
وإذا نظرنا إلى مادة "القرآن" التي كتبها باللغة الإنجليزية A.T.Welch في الطبعة الثانية المشار إليها، والتي اعتمدنا عليها في كتابة هذا المقال، نجد أنها تقع في 33 صفحة من القطع الكبير، ببنط صغير وعلى عمودين كاملين في كل صفحة، مما يساوي كتاباً بأكمله في الموضوع. وقد حشد الكاتب المادة بآراء كبار المستشرقين – القدماء منهم والمحدثين في كل جزئية من جزئيات المقال، الأمر الذي يجعل الباحث المبتدئ لا يملك - في الغالب الأعم - إلا أن يتبنى الخط العام الذي يوحي به المقال.
আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কিছু বিশেষায়িত বিশ্বকোষ, বিশেষ করে 'ইসলামি বিশ্বকোষ', তাদের নিবন্ধগুলোতে এমনভাবে প্রসারণ ঘটায় যা সেগুলোকে প্রায়শই কেবল সংক্ষিপ্ত ইশারা বা নির্দেশিকা থাকার গণ্ডি থেকে বের করে আনে। অথচ এই নির্দেশিকাগুলোর কাজ ছিল একজন নবীন গবেষককে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজস্ব মতামত গঠনের জন্য পর্যাপ্ত অবকাশ ও সহায়তা প্রদান করা। বরং এই নিবন্ধগুলো প্রায় পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের রূপ পরিগ্রহ করে, যা অনেক বেশি তথ্য ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ভরপুর থাকে; ফলে একজন গবেষক খুব কমই এই নিবন্ধগুলোর প্রবল প্রভাব এবং প্রায় চূড়ান্ত মতামতের বলয় থেকে মুক্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজস্ব কোনো স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের পর্যাপ্ত সুযোগ পান।
আমরা যদি উল্লিখিত দ্বিতীয় সংস্করণে এ. টি. ওয়েলচ কর্তৃক ইংরেজি ভাষায় লিখিত "কুরআন" ভুক্তিটির দিকে লক্ষ্য করি, যার ওপর ভিত্তি করে আমরা এই নিবন্ধটি রচনা করেছি, তবে দেখতে পাই যে এটি বৃহৎ আকারের ৩৩ পৃষ্ঠা জুড়ে বিস্তৃত। অত্যন্ত ছোট ফন্টে এবং প্রতি পৃষ্ঠায় পূর্ণ দুই কলামে বিন্যস্ত এই নিবন্ধটি বিষয়বস্তুর দিক থেকে একটি আস্ত গ্রন্থের সমতুল্য। লেখক নিবন্ধটির প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে প্রাচীন ও আধুনিক—উভয় যুগের প্রথিতযশা প্রাচ্যবিদদের মতামত পুঞ্জীভূত করেছেন। তথ্যের এই আধিক্যের কারণে একজন নবীন গবেষকের পক্ষে—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—নিবন্ধটির নির্দেশিত সাধারণ ধারার অনুসারী হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
منهج الدراسات الاستشراقية للقرآن على نحو ما ورد بالموسوعات العالمية
حين طالعت مادة "القرآن" بدائرة المعارف الإسلامية التي تضمنت عرضاً شاملاً لدراسات المستشرقين المحدثين منذ منتصف القرن التاسع عشر حتى الثلث الأخير من القرن العشرين حول القرآن اكتشفت أن هؤلاء المستشرقين قد تأثروا أبلغ التأثر في دراستهم بمنهج تم تطويره لنقد ما يسمّى الكتاب المقدس (التوراة والإنجيل) وكتب أخرى تلحق بهما، فرأيت أن أدرس هذا المنهج، وأستخلص أصوله وقواعده لكي نرى ما إذا كان صالحاً حقاً للتطبيق على القرآن الكريم.
وكان النقد المنهجي للكتاب المقدس قد حقق منذ القرن التاسع عشر حتى وقت قريب نتائج باهرة في نقد العهد القديم (التوراة وكتب أخرى ملحقة بها) بخاصة، مما جعل المستشرقين يظنون أن بوسعهم إن عمدوا إلى تطبيق قواعد هذا النقد على القرآن الكريم أن يتوصلوا إلى نتائج مماثلة، ومن ثم استندت دراساتهم للكتاب العزيز على تلك القواعد منذ منتصف القرن التاسع عشر، وانعكس ذلك بوضوح على ما كتب بشأن القرآن الكريم في الموسوعات العالمية.
ومن هنا كان علينا أن نتوقف قليلاً للتعرف على تلك القواعد وتبين الأسس التي ينتهجها المستشرقون في دراساتهم المذكورة.
বিশ্বকোষসমূহে বর্ণিত কুরআনের ক্ষেত্রে প্রাচ্যবিদ্যার গবেষণার পদ্ধতিযখন আমি ইসলামি বিশ্বকোষের 'কুরআন' বিষয়ক নিবন্ধটি পাঠ করলাম, যা ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর শেষ এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কুরআন সম্পর্কে আধুনিক প্রাচ্যবিদদের গবেষণার একটি সামগ্রিক উপস্থাপনকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, তখন আমি আবিষ্কার করলাম যে, এই প্রাচ্যবিদগণ তাদের গবেষণায় সেই পদ্ধতি দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন যা তথাকথিত 'পবিত্র গ্রন্থ' (তওরাত ও ইঞ্জিল) এবং তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য পুস্তকগুলোর পর্যালোচনার জন্য উদ্ভাবন করা হয়েছিল। তাই আমি এই পদ্ধতিটি অধ্যয়নের এবং এর নীতিমালা (أصول) ও নিয়মাবলি (قواعد) নিরূপণ করার সিদ্ধান্ত নিলাম, যাতে আমরা দেখতে পারি যে এটি সত্যিই পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার উপযুক্ত কি না।
পবিত্র গ্রন্থের পদ্ধতিগত সমালোচনা ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বিশেষ করে 'ওল্ড টেস্টামেন্ট' (তওরাত এবং এর সাথে যুক্ত অন্যান্য কিতাবসমূহ) পর্যালোচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত চমকপ্রদ ফলাফল অর্জন করেছিল। এটি প্রাচ্যবিদদের মনে এই বিশ্বাসের জন্ম দেয় যে, তারা যদি পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রেও এই সমালোচনার নিয়মাবলি (قواعد) প্রয়োগ করার উদ্যোগ নেন, তবে তারা অনুরূপ ফলাফল লাভে সক্ষম হবেন। সেই প্রেক্ষাপটেই ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে সেই মহিমান্বিত গ্রন্থের ওপর তাদের গবেষণাসমূহ ঐ নিয়মাবলির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং বিশ্বকোষসমূহে পবিত্র কুরআন সম্পর্কে যা লেখা হয়েছে তাতে এর স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।
এ কারণেই সেই নিয়মাবলি (قواعد) সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন এবং প্রাচ্যবিদগণ তাদের উল্লিখিত গবেষণাসমূহে যেসব মৌলিক ভিত্তি অনুসরণ করেন তা স্পষ্ট করার জন্য আমাদের কিছুটা থামা প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وكان نقاد ما يسمى الكتاب المقدس من العلماء الألمان بخاصة والأوربيين بعامة قد اعتمدوا في نقدهم للعهد القديم على منهج نقدي أسموه "النقد الأعلى" الذي يهدف إلى دراسة نصوص ذلك العهد على أنها نصوص تاريخية على الباحث أن يطبق عليها كل المعايير التي يطبقها على أية نصوص تاريخية أخرى، بصرف النظر عن أنها نصوص مقدسة (1) . استطاعوا به التوصل إلى عدد من النتائج التي لا تقبل الجدل، من أهمها:
(1) - أن موسى عليه السلام لا يمكن أن يكون هو الذي كتب الأسفار الخمسة التي يطلق عليها اليهود والنصارى. "التوراة" وينسبونها إليه (2) .
(2) - أن بعض الأسفار التي تنسب إلى أنبياء بني إسرائيل - مثل سفر أشعياء النبي إنما هي مزيفة ومختلقة ولا يمكن أن تنسب إليه، بل هي من تأليف ثلاثة من المؤلفين عاشوا في أزمنة مختلفة (3) .
(3) - تم اكتشاف عدة مصادر بشرية للتوراة لكل مصدر منها طابعه الخاص وزمنه الذي وضع فيه (4) .
--------------------------------------------
জার্মান পণ্ডিতগণ বিশেষত এবং সাধারণভাবে ইউরোপীয় পণ্ডিতগণ তথাকথিত পবিত্র গ্রন্থ (বাইবেল) সমালোচনার ক্ষেত্রে ওল্ড টেস্টামেন্টের ওপর "উচ্চতর সমালোচনা" নামক এক সমালোচনামূলক পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছেন। এই পদ্ধতির লক্ষ্য হলো সেই টেস্টামেন্টের পাঠসমূহকে এমনভাবে অধ্যয়ন করা যেন সেগুলো নিছক ঐতিহাসিক পাঠ, যার ওপর একজন গবেষককে সেই সমস্ত মানদণ্ড প্রয়োগ করতে হবে যা তিনি অন্য যেকোনো ঐতিহাসিক পাঠের ওপর প্রয়োগ করেন; এগুলো যে পবিত্র পাঠ, সেই বিষয়টি বিবেচনা না করেই (১)। এর মাধ্যমে তাঁরা এমন কিছু অনস্বীকার্য সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সক্ষম হয়েছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
(১) - মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর পক্ষে সেই পাঁচটি খণ্ড (The Pentateuch) লেখা সম্ভব নয়, যাকে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা "তাওরাত" বলে অভিহিত করে এবং তাঁর দিকে নিসবত (نسبة) করে (২)।
(২) - বনী ইসরায়েলের নবীদের প্রতি নিসবত (نسبة) করা কিছু কিতাব—যেমন নবী ইশাইয়া-এর কিতাব—মূলত জাল (مزيفة) এবং বানোয়াট (مختلقة); এগুলো তাঁর দিকে নিসবত (نسبة) করা সম্ভব নয়, বরং এগুলো তিনজন লেখকের রচনা, যাঁরা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বসবাস করতেন (৩)।
(৩) - তাওরাতের বেশ কিছু মানবীয় উৎস আবিষ্কৃত হয়েছে, যার প্রতিটি উৎসের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং তা রচনার নির্দিষ্ট সময়কাল রয়েছে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
(4) - تم اكتشاف مصدر أصلي سابق على المصادر المشار إليها في الفقرة السابقة وقد استعانت به كل هذه المصادر، يتمثل في التراث الشعبي الشفهي الذي يعتمد على الذاكرة ويتضمن الأحكام والأمثال الشعبية والأساطير (1) .
وقد تبين لهؤلاء العلماء أخيراً، وبعد جهد مضنٍ، أن تلك الأسفار مكتوبة بأقلام اليهود، وتظهر فيها الأفكار والنظم المتعددة التي كانت سائدة لديهم في مختلف أدوار تاريخهم الطويل (2) .
وطبّق العلماء المنهج نفسه في دراستهم للأناجيل الأربعة (العهد الجديد) وأضافوا بعداً آخر لابد من الرجوع إليه لتفسير جوانب كثيرة غامضة في النصرانية، وهو الديانات الوثنية في كل من بابل ومصر وفارس وآسيا الصغرى وسوريا واليونان والهند (3) .
وقد ميّز أصحاب هذا المنهج بين نوعين من الدراسة:
أ- الدراسة النقدية العليا (وتشبه النقد الخارجي في المنهج التاريخي) . (4) وهي التي تختص بدراسة الظروف المحيطة بالنص كموقف المؤلف وأهدافه، والظروف التاريخية والاجتماعية السائدة.
--------------------------------------------
(4) - পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে উল্লিখিত উৎসসমূহের পূর্ববর্তী একটি মূল উৎসের সন্ধান পাওয়া গেছে যা এই সকল উৎসই ব্যবহার করেছে; এটি মূলত স্মৃতির ওপর নির্ভরশীল মৌখিক লোক-ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে এবং এর মধ্যে লোকজ বিধান, প্রবাদ-প্রবচন ও উপকথা (১) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই পণ্ডিতদের নিকট অবশেষে দীর্ঘ ও কঠোর প্রচেষ্টার পর এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, সেই ধর্মগ্রন্থগুলো ইহুদিদের হাতে লিখিত এবং সেখানে তাদের দীর্ঘ ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে প্রচলিত নানাবিধ চিন্তা ও ব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটেছে (২)।
গবেষকগণ চারটি সুসমাচারের (নিউ টেস্টামেন্ট) অধ্যয়নেও একই পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন এবং খ্রিস্টধর্মের অনেক অস্পষ্ট দিক ব্যাখ্যা করার জন্য তারা এমন একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছেন যা অবশ্যই পর্যালোচনা করা প্রয়োজন; আর তা হলো ব্যাবিলন, মিশর, পারস্য, এশিয়া মাইনর, সিরিয়া, গ্রিস এবং ভারতের পৌত্তলিক ধর্মসমূহ (৩)।
এই পদ্ধতির প্রবক্তাগণ দুই ধরনের অধ্যয়নের মধ্যে পার্থক্য করেছেন:
ক- উচ্চতর সমালোচনা পদ্ধতি (الدراسة النقدية العليا) (যা ঐতিহাসিক পদ্ধতির বাহ্যিক সমালোচনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ)। (৪) এটি মূলত মূল পাঠের (النص) পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি যেমন লেখকের অবস্থান ও উদ্দেশ্য এবং বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও সামাজিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ب- النقد الأدنى، بمعنى دراسة النص نفسه لتبين التناقض في الأجزاء التشريعية والقصص وغيرها.
ويجري الجهد الآن للمزج بين هذين النوعين (1) :
وسأحاول الآن أن استخرج مجموعة القواعد المفصلة التي يقوم عليها هذا المنهج، وذلك من خلال قراءتي للنتائج التي حققها علماء نقد الكتاب المقدس، لنتبين إلى أي حد كان كتّاب الموسوعات أوفياء لقواعد هذا المنهج ملتزمين بأصوله في دراستهم للقرآن الكريم (2) .
--------------------------------------------
খ- নিম্নতর সমালোচনা (النقد الأدنى), যার অর্থ হলো আইনি বা বিধানিক অংশ, কাহিনী এবং অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে বিদ্যমান বৈপরীত্য বা অসঙ্গতি নিরুপণের জন্য মূল পাঠ (Text) নিয়ে গবেষণা করা।
বর্তমানে এই দুই প্রকারের সমন্বয় সাধনের প্রচেষ্টা চলছে (১):
এখন আমি বাইবেলীয় সমালোচনা-শাস্ত্রের পণ্ডিতদের অর্জিত ফলাফলগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে এই পদ্ধতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এমন একগুচ্ছ বিস্তারিত নীতিমালা বের করার চেষ্টা করব; যাতে আমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি যে, বিশ্বকোষ প্রণেতারা পবিত্র কুরআন অধ্যয়নের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির নিয়মাবলির প্রতি কতটা বিশ্বস্ত ছিলেন এবং এর মূলনীতি (أصول) অনুসরণ করার ক্ষেত্রে কতটা নিবেদিত ছিলেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
أولا: الدراسات النقدية العليا "النقد الأعلى"
…أولاً: الدراسة النقدية العليا (النقد الأعلى) :
(1) - لابد للباحث أن يستخدم قاعدة الشك المنهجي، فلا يجزم بشيء يتعلق بالراوي إلا بعد التثبت من ذلك بأسباب قوية.
(2) - فيما يتعلق بالراوي لابد من الإجابة عن هذه الأسئلة.
من الراوي، وما سيرته وأخلاقه، وما غايته؟
متى كتب كتابه، وفي أي وقت، ولمن كتب؟
প্রথমত: উচ্চতর পর্যালোচনামূলক গবেষণা "উচ্চতর পর্যালোচনা (النقد الأعلى)"…প্রথমত: উচ্চতর পর্যালোচনামূলক গবেষণা (উচ্চতর পর্যালোচনা [النقد الأعلى]):
(১) - গবেষককে অবশ্যই পদ্ধতিগত সন্দেহের (الشك المنهجي) নীতি ব্যবহার করতে হবে; সুতরাং বর্ণনাকারী (الراوي) সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে শক্তিশালী প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া ব্যতীত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না।
(২) - বর্ণনাকারী (الراوي) সংক্রান্ত বিষয়ে অবশ্যই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদান করতে হবে।
বর্ণনাকারী (الراوي) কে, তার জীবনবৃত্তান্ত ও চরিত্র কেমন ছিল, এবং তার উদ্দেশ্যই বা কী ছিল?
তিনি কখন তাঁর গ্রন্থটি রচনা করেছেন, কোন সময়ে এবং কার জন্য লিখেছিলেন?
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
مدى تحقق شروط العدالة الأخلاقية والضبط العلمي فيه، فإن وجد نقص في أيهما انتفت الصحة من الرواية.
(3) - دراسة البيئات السياسية والاجتماعية والأحداث التاريخية والصراعات العقدية، ومدى انعكاسها على الكاتب وبالتالي على النص.
(4) - كيف جمع النص أولاً وما الأيدي التي تناولته، وما النسخ التي اشتمل عليها؟
তার মধ্যে নৈতিক ন্যায়নিষ্ঠা (عدالة) এবং শাস্ত্রীয় নির্ভুলতা (ضبط) এর শর্তাবলি কতটুকু অর্জিত হয়েছে তা যাচাই করা; যদি এই দুটির কোনোটিতে কোনো ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়, তবে বর্ণনার (رواية) বিশুদ্ধতা (صحة) বিলুপ্ত হবে।
(3) - রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট, ঐতিহাসিক ঘটনাবলি এবং আকিদাগত দ্বন্দ্বসমূহ এবং লেখকের ওপর ও ফলশ্রুতিতে মূল পাঠের ওপর এগুলোর প্রতিফলনের মাত্রা অধ্যয়ন করা।
(4) - পাঠটি প্রাথমিকভাবে কীভাবে সংগৃহীত হয়েছিল, এটি কাদের দ্বারা হস্তান্তরিত হয়েছে এবং এটি কী কী অনুলিপি (نسخة) ধারণ করেছিল?
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ثانياً: النقد الأدنى (ويشبه النقد الداخلي في مناهج الدراسة الأدبية) :(1) - وجوب دراسة لغة ما يسمى الكتاب المقدس (العبرية) لفهم المعنى المقصود دون تدخل من المترجمين.
(2) - لا يؤخذ النص ككل بل يحلل إلى أجزاء ويدرك كل جزء على حدة.
(3) - تجمع العبارات في أقسام رئيسة وتفرز العبارات الواضحة من العبارات المبهمة والمعارضة لفظياً، مع تطبيق قاعدة الحقيقة والمجاز اللفظي لا المعنوي في شأن هذه العبارات.
(4) - التحليل الداخلي الدقيق للنص للعثور على الأخطاء والاختلافات والتناقضات مثل:
أ- الأخطاء الطبيعية والرياضية.
দ্বিতীয়ত: নিম্নতর সমালোচনা (النقد الأدنى) (যা সাহিত্যিক অধ্যয়ন পদ্ধতির অভ্যন্তরীণ সমালোচনার (النقد الداخلي) সদৃশ):(১) - তথাকথিত পবিত্র গ্রন্থ বা বাইবেলের ভাষা (হিব্রু) অধ্যয়ন করা আবশ্যক, যাতে অনুবাদকদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই উদ্দিষ্ট অর্থ অনুধাবন করা যায়।
(২) - পাঠ্যকে সামগ্রিকভাবে গ্রহণ না করে বরং একে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে বিশ্লেষণ করতে হবে এবং প্রতিটি অংশকে পৃথকভাবে অনুধাবন করতে হবে।
(৩) - বক্তব্যসমূহকে প্রধান প্রধান বিভাগে বিন্যস্ত করতে হবে এবং সুস্পষ্ট বর্ণনাগুলোকে অস্পষ্ট (مبهمة) ও শাব্দিকভাবে বিরোধপূর্ণ বর্ণনাগুলো থেকে পৃথক করতে হবে; সেই সাথে এসব বর্ণনার ক্ষেত্রে শাব্দিক হাকিকত (حقيقة) ও মাজায (مجاز) এর নিয়ম প্রয়োগ করতে হবে, অর্থগত নয়।
(৪) - ভুল, অসঙ্গতি ও বৈপরীত্য খুঁজে বের করার জন্য পাঠ্যের সূক্ষ্ম অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ করা, যেমন:
ক- প্রাকৃতিক ও গাণিতিক ভুলসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ب- أن يذكر الحديث في أكثر من موضع بشكل مختلف من حيث تحديد الزمان والمكان والعناصر زيادة كانت أو نقصاً.
ج- إثبات شيء في موضع ونفيه في موضع آخر.
د- ذكر قاعدة شرعية في موضع ونفيها في موضع آخر.
هـ- ورود لفظ لا يمكن أن يكون قد استعمل بهذه الدلالة إلا في عصور لاحقة.
و تباين الأسلوب الأدبي بين أجزاء النص.
(5) - ملاحظة تطور الفكر العقدي من عصر إلى آخر، لاكتشاف اختلاف تواريخ كتابة أجزاء النص.
খ- হাদিসটি একাধিক স্থানে ভিন্ন ভিন্নভাবে উল্লেখ করা, যেখানে সময়, স্থান এবং উপাদানের বর্ণনায় আধিক্য (زيادة) বা ঘাটতি (نقص) পরিলক্ষিত হয়।
গ- এক স্থানে কোনো বিষয় সাব্যস্ত করা এবং অন্য স্থানে তা অস্বীকার করা।
ঘ- এক স্থানে কোনো শারঈ মূলনীতি (قاعدة شرعية) উল্লেখ করা এবং অন্য স্থানে তা অস্বীকার করা।
ঙ- এমন কোনো শব্দের প্রয়োগ যা পরবর্তী কোনো যুগ ব্যতীত সেই নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হওয়া অসম্ভব।
চ- মূল পাঠের (النص) বিভিন্ন অংশের মধ্যে সাহিত্যিক শৈলীর বৈসাদৃশ্য।
(৫) - মূল পাঠের (النص) বিভিন্ন অংশ রচনার সময়ের ভিন্নতা শনাক্ত করার লক্ষ্যে এক যুগ থেকে অন্য যুগে আকিদাগত (عقدي) চিন্তাধারার বিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা।
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
القرآن وقواعد النقد الأعلى والأدنى:وكانت أول محاولة لتطبيق قواعد النقد الأعلى والأدنى على القرآن الكريم هي ما قام به المستشرقون في شأن ترتيبه حسب النزول. وقد توسع المستشرق الألماني تيو دور نولدكه في دراسة النص القرآني لترتيبه زمانياً حسب نزوله، فاتجه إلى تقسيم السور المكية من القرآن الكريم إلى ثلاث فترات يتميز أسلوب النص القرآني في كل منها عن الآخر، كما يزعم.
ولاشك أن نولدكه متأثر في ذلك بمنهج نقد ما يسمى الكتاب المقدس، والذي كتبت أسفاره - كما تبين بالدراسة الفاحصة - على فترات متباعدة تفصل بينها أحياناً عشرات بل مئات السنين. يقول الدكتور عبد الرحمن
কুরআন এবং উচ্চতর ও নিম্নতর সমালোচনার (النقد الأعلى والأدنى) নিয়মাবলী:পবিত্র কুরআনের ওপর উচ্চতর ও নিম্নতর সমালোচনার (النقد الأعلى والأدنى) নিয়মাবলী প্রয়োগ করার প্রথম প্রচেষ্টা ছিল অবতীর্ণ হওয়ার (النزول) ক্রম অনুযায়ী এর বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রাচ্যবিদদের গৃহীত পদক্ষেপ। জার্মান প্রাচ্যবিদ থিওডোর নোলডেকে কুরআনের পাঠ্যকে অবতীর্ণ হওয়ার সময়ানুসারে বিন্যস্ত করার লক্ষ্যে এর গবেষণায় ব্যাপক প্রসার ঘটান। তিনি পবিত্র কুরআনের মক্কী সূরাগুলোকে (السور المكية) তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করার প্রয়াস পান এবং দাবি করেন যে, প্রতিটি পর্যায়ে কুরআনের পাঠশৈলী একে অপরের থেকে স্বতন্ত্র।
এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, নোলডেকে এক্ষেত্রে তথাকথিত ‘বাইবেল’ বা পবিত্র গ্রন্থের সমালোচনা-পদ্ধতি (منهج النقد) দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, যার খণ্ডসমূহ—গভীর পর্যালোচনার মাধ্যমে যেমনটি স্পষ্ট হয়েছে—দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে রচিত হয়েছিল এবং সেগুলোর মাঝে কখনও কয়েক দশক, এমনকি শত বছরের ব্যবধান ছিল। ডক্টর আব্দুর রহমান বলেন...
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بدوي معلقاً على صنيع نولدكه: "فيما يخص الأسلوب، فلو كان مفيداً في التمييز بين الفترات الطويلة فلن يفيد فيما يتعلق بالتمييز بين التتابع التاريخي للسور في فترة قصيرة في الواقع أن كل الفترة المكية لا توفّي إلا 12 سنة من 610 –622م، فبأي حق ندعي إذاً التمييز بين أسلوب كاتب خلال 12 سنة فقط؟ ناهيك عن استطاعتنا التمييز في تلك الفترة بين ثلاث فترات قصيرة" ويختم بدوي قوله: "إنه من الشطط - إن لم يكن من الكذب - أن نزعم استطاعتنا ترتيب السور تاريخياً في الفترة المكية حسب الأسلوب (1) .
وقد أدرك عدد من كبار المستشرقين عدم جدوى تطبيق قواعد النقد الأعلى والأدنى على النص القرآني. يقول المستشرق الإنجليزي آربرى في ذلك:
"أنا ألحّ على الرأي القائل بأن عملاً خالداً كالقرآن لا يمكن أن يفهم بصورة أحسن لو أخضعناه لتجربة النقد الأدنى، إنه أمر خارج عن الموضوع أن تتوقع أن المواضع المطروحة في السور المستقلة سوف تنظم بعد عملية إحكام رياضي بعض الشيء لتشكل نموذجاً منطقياً.
إن منطق الوحي ليس منطقاً مدرسياً، فليس هناك "قبل" وبعد"في رسالة النبي، عند ما تكون هذه الرسالة صادقة فإن الحقيقة الدائمة لا يمكن أن
--------------------------------------------
নোলডেকে-র কর্মপদ্ধতির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বাদাওয়ী বলেন: "শৈলীর (Style) ক্ষেত্রে বলতে গেলে, এটি যদি দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান নিরূপণে কার্যকরও হয়, তবে বাস্তবপক্ষে স্বল্প সময়ের ব্যবধানের ক্ষেত্রে সূরার ঐতিহাসিক অনুক্রম নির্ণয়ে কোনো কাজে আসবে না। বস্তুত সমগ্র মক্কী জীবন ৬১০-৬২২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মাত্র ১২ বছরের সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করে। তাহলে কোন যুক্তিতে আমরা মাত্র ১২ বছরের ব্যবধানে একজন লেখকের শৈলীর পার্থক্য নিরূপণের দাবি করতে পারি? সেই সময়ের মধ্যে আবার তিনটি ক্ষুদ্র উপ-পর্যায়কাল নিরূপণ করার সক্ষমতার কথা তো বলাই বাহুল্য।" বাদাওয়ী তাঁর বক্তব্য শেষ করেন এভাবে: "শৈলীর ওপর ভিত্তি করে মক্কী জীবনের সূরাগুলোকে ঐতিহাসিকভাবে ক্রমানুসারে সাজানোর সক্ষমতা দাবি করা একটি অসংলগ্নতা—যদি এটিকে মিথ্যাচার না বলা হয়।" (১)।
বেশ কয়েকজন প্রথিতযশা প্রাচ্যবিদ কুরআনের পাঠের ওপর উচ্চতর সমালোচনা (النقد الأعلى) এবং নিম্নতর সমালোচনা (النقد الأدنى) পদ্ধতির প্রয়োগের অসারতা উপলব্ধি করেছেন। ইংরেজ প্রাচ্যবিদ আরবেরি এ প্রসঙ্গে বলেন:
"আমি এই মতের ওপর জোর দিচ্ছি যে, কুরআনের মতো একটি চিরন্তন কর্মকে আমরা যদি নিম্নতর সমালোচনার (النقد الأدنى) অভিজ্ঞতার অধীন করি, তবে তা আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব নয়। স্বতন্ত্র সূরাগুলোতে উপস্থাপিত বিষয়বস্তুগুলো গাণিতিক নিপুণতার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক কাঠামো গঠন করবে—এমন প্রত্যাশা করা হবে অপ্রাসঙ্গিক।
ওহীর যুক্তি কোনো পুঁথিগত যুক্তি নয়। নবীর বার্তার মধ্যে ‘আগে’ এবং ‘পরে’ বলতে কিছু নেই। যখন এই বার্তা সত্য হয়, তখন শাশ্বত সত্যকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تحصر داخل إطار زمني أو مكاني، ولكن كل لحظة تعرض نفسها بشكل كلي مطلق" (1) .
وإلى هذا الرأي نفسه يذهب المستشرق السويدي" تور أندريه" صاحب كتاب: "محمد: حياته وعقيدته"، فقد عارض هذا المنهج العقيم الذي سلكه بعض المستشرقين في البحث، مبيناً أن جوهر النبوة لا يمكن تحليله إلى مجموعة من آلاف العناصر الجزئية. ومهمة الباحث - في رأيه - أن يدرك في نظرة موضوعية كيف تتألف من العناصر والمؤثرات المختلفة وحدة جديدة أصيلة تنبض بالحياة (2) .
لقد ألمح كل من آربرى وتورأندريه، فيما نقلناه عنهما بالفقرتين السابقتين، إلى عيوب تطبيق منهج النقد الأعلى والأدنى على دراسة النص القرآني، وحصرا تلك العيوب في طريقة تحليل النص إلى أجزاء صغيرة وفق أصول الكم الرياضي والكيف المنطقي والترتيب الزماني، وتنبّها إلى أن النص القرآني يعلو على هذه المعايير كلها، وهذا كله حق بلا جدال.
لكن الملاحظ أن أحداً من هذين المستشرقين الكبيرين لم يشأ أن يعترف صراحة بالحقيقة الجوهرية والنقطة المبدئية في الأمر كله، وهي أن تطبيق هذا المنهج على القرآن الكريم فاسد من كل الوجوه، لأنهم يدرسونه لا باعتباره
--------------------------------------------
"সময়ের বা স্থানের কোনো নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিটি মুহূর্ত নিজেকে এক পূর্ণাঙ্গ ও শাশ্বত রূপে উপস্থাপন করে" (১)।
সুইডিশ প্রাচ্যবিদ 'টোর অ্যান্ড্রে', যিনি "মুহাম্মদ: তাঁর জীবন ও বিশ্বাস" গ্রন্থের লেখক, তিনিও একই মত পোষণ করেন। তিনি গবেষণার ক্ষেত্রে কিছু প্রাচ্যবিদ কর্তৃক অনুসৃত এই বন্ধ্যা পদ্ধতির বিরোধিতা করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, নবুওয়াতের সারবত্তাকে হাজার হাজার আংশিক উপাদানের সমষ্টি হিসেবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, একজন গবেষকের কাজ হলো বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে এটি অনুধাবন করা যে, কীভাবে বিভিন্ন উপাদান ও প্রভাবের সমন্বয়ে একটি জীবন্ত ও মৌলিক নতুন সত্তা গঠিত হয় (২)।
আরবেরি এবং টোর অ্যান্ড্রে—উভয়ই উপরে উদ্ধৃত অনুচ্ছেদগুলোতে কুরআনের পাঠ্য (Text) অধ্যয়নের ক্ষেত্রে 'উচ্চতর সমালোচনা' ও 'নিম্নতর সমালোচনা' পদ্ধতি প্রয়োগের ত্রুটিগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তাঁরা এই ত্রুটিগুলোকে গাণিতিক পরিমাণ, যৌক্তিক গুণমান এবং কালানুক্রমিক বিন্যাসের ভিত্তিতে পাঠ্যকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করার পদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। তাঁরা সতর্ক করেছেন যে, কুরআনের পাঠ্য এই সমস্ত মানদণ্ডের ঊর্ধ্বে; আর এই কথাটি নিঃসন্দেহে সত্য।
তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই দুই বিশিষ্ট প্রাচ্যবিদের কেউই মূল সত্য এবং মৌলিক বিষয়টি স্পষ্টভাবে স্বীকার করতে চাননি; আর তা হলো—পবিত্র কুরআনের ওপর এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা সর্বতোভাবে অসার (فاسد), কারণ তাঁরা এটিকে অধ্যয়ন করেন এমনভাবে নয় যে এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وحياً إلهياً وكتاباً منزلاً من عند الله بل باعتباره نصاً تاريخياً من صنع بشر، ومن تأليف محمد صلى الله عليه وسلم، فمنهج النقد الأعلى والأدنى إن صح تطبيقه في دراسة العهدين القديم والحديث مما يسمى الكتاب المقدس، بل وفي سائر النصوص التاريخية التي هي نصوص بشرية، فلا يصح تطبيق معاييره على نص ينتمي إلى مجال آخر وميدان مختلف غير المجال البشري المحدود. ومن هنا يتبين لنا فساد المنهج الذي يطبقه المستشرقون في دراساتهم القرآنية من حيث المبدأ.
ولا يمكننا - بطبيعة الحال - أن ننتظر من المستشرقين خلاف ذلك لأنهم إن سلموا بأنه منزل من عند الله لوجب عليهم التصديق به والإذعان له، ولزمهم اتباعه، ولأنهم لن يفعلوا وتأبى قلوبهم فكان لابد لهم من الحكم سلفاً بأن مصدر القرآن بشرى لكي يطبقوا عليه منهجاً يصلح للتطبيق على النصوص البشرية.
وفي هذا العار كل العار للعلم والمعرفة، لأن مقتضى النظر العلمي ألا يدخل الإنسان على الموضوع بفكرة سابقة وإلا فسد مخرجه بفساد مدخله، وفسدت نتائجه بفساد مقدماته وهو آفة العلم الكبرى التي لا علاج لها.
لقد ناسب هذا المنهج حالتهم وراقهم لأن من شأنه أن يعفيهم من الحرج - أمام مواطنيهم من الغربيين على الأقل، ويحقق لهم - باسم العلم والموضوعية - أغراضهم في الطعن على الإسلام ورسوله، والتنفيس عن هذا العداء للإسلام والحقد على رسوله مما ورثوه ورضعوه منذ طفولتهم وسيطر، على عقولهم وتسبب في عمى بصيرتهم.
ঐশী ওহী (وحي) এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কোনো কিতাব হিসেবে নয়, বরং একে মানুষের তৈরি একটি ঐতিহাসিক পাঠ এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর রচনা হিসেবে গণ্য করে। সুতরাং উচ্চতর ও নিম্নতর সমালোচনা (النقد الأعلى والأدنى) পদ্ধতি যদি তথাকথিত পবিত্র কিতাব—বাইবেলের পুরাতন ও নতুন নিয়ম—এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক পাঠ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সঠিকও হয়, যা মূলত মানুষের তৈরি পাঠ্য; তবুও এমন একটি পাঠ্যের ওপর সেই মানদণ্ড প্রয়োগ করা সঠিক নয় যা মানবীয় সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে অন্য একটি জগতের ও ভিন্ন একটি ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত। এখান থেকেই মূলত কুরআন গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাচ্যবিদদের প্রযুক্ত পদ্ধতির অসারতা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
স্বভাবতই আমরা প্রাচ্যবিদদের কাছ থেকে এর ব্যতিক্রম কিছু আশা করতে পারি না। কারণ তারা যদি স্বীকার করে নেয় যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, তবে তাদের জন্য এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ও আনুগত্য করা আবশ্যক হয়ে পড়বে এবং এর অনুসরণ করা তাদের জন্য অনিবার্য হয়ে দাঁড়াবে। যেহেতু তারা তা করবে না এবং তাদের অন্তর তা অস্বীকার করে, তাই তাদের জন্য আগে থেকেই কুরআনের উৎসকে মানবীয় বলে রায় দেওয়া জরুরি ছিল, যাতে তারা এর ওপর এমন পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারে যা মানবীয় পাঠ্যের (النصوص البشرية) ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য।
আর এটি জ্ঞান ও গবেষণার জন্য চরম লজ্জাজনক। কারণ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির দাবি হলো, কোনো বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে মানুষ আগে থেকে কোনো বদ্ধমূল ধারণা নিয়ে প্রবেশ করবে না; অন্যথায় প্রবেশপথের ত্রুটির কারণে তার বহির্গমন পথও ত্রুটিপূর্ণ হবে এবং প্রারম্ভিক প্রস্তাবনার ত্রুটির কারণে তার ফলাফলও ভ্রান্ত হবে। আর এটিই হচ্ছে ইলমের বা জ্ঞানের সবচেয়ে বড় ব্যাধি, যার কোনো চিকিৎসা নেই।
এই পদ্ধতিটি তাদের অবস্থার সাথে মানানসই হয়েছে এবং তাদের পছন্দ হয়েছে। কারণ এটি অন্তত তাদের পশ্চিমা দেশবাসীদের সামনে তাদের বিব্রতকর অবস্থা থেকে রেহাই দেয়। এছাড়া এটি বিজ্ঞান ও বস্তুনিষ্ঠতার নামে ইসলাম ও এর রাসূলের ওপর অপবাদ দেওয়ার এবং ইসলামের প্রতি সেই শত্রুতা ও রাসূলের প্রতি সেই বিদ্বেষ উগরে দেওয়ার উদ্দেশ্য পূরণ করে, যা তারা শৈশব থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে এবং যা তাদের মগজে গেঁথে আছে; আর এটিই তাদের অন্তর্দৃষ্টির অন্ধত্বের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ولست أشك في أن إصرارهم على نفي صفة "كلام الله" عن القرآن الكريم من حيث المبدأ هو الأمر الذي أوقعهم في سلسلة الأخطاء التي ارتكبوها في سائر كتاباتهم والتي حاول المتأخرون منهم التماس الأعذار فيها للمتقدمين (1) ، والمآزق العلمية والمنهجية التي أوقعوا أنفسهم فيها ولم يجدوا منها مخرجاً (2) ، والجرأة والتبجح والتعالم بالتقول على أسلوب القرآن حتى قال أحد الباحثين العرب (3) : فمن أين لأعجمي ادعاء أن القرآن فيه ركاكة في اللغة. هذا القرآن الذي أصبح فيما بعد مقياس اللغة العربية. إلى أن يرث الله الأرض من وعليها، فلو أني اتهمت أسلوب جوته الشاعر الألماني بالركاكة لسخر الناس مني، رغم إلمامي باللغة الألمانية، وإجادتي لها لدرجة التأليف بها، فكيف بمستشرق يفهم العربية باستعمال القواميس. إلخ؟
ولو أنهم ردوا القرآن الكريم إلى مصدره الإلهي الحق، واتصفوا بروح التواضع والإنصاف (الذي يلبسون مسوحه ويتظاهرون به أمام الناس خداعاً ومخاتلة) ولم يدخلوا على البحث بفكرة سابقة وإصرار أكيد لكانوا قد سلموا من ذلك كله، ولكن كيف يمكنهم ذلك؟ هل يخشون أنهم لو دخلوا على البحث بروح محايدة فافترضوا ضمن فروضهم – كما يقتضيه النظر العلمي - أن القرآن وحي من الله سيقودهم ذلك إلى التسليم به؟ واضح أنهم فعلوا
--------------------------------------------
আমি এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না যে, নীতিগতভাবে পবিত্র কুরআন থেকে "আল্লাহর বাণী (كلام الله)" হওয়ার বৈশিষ্ট্যটিকে অস্বীকার করার ব্যাপারে তাদের জেদই মূলত তাদের এমন এক ভুল শৃঙ্খলের মধ্যে নিপতিত করেছে যা তারা তাদের অন্যান্য লেখায় সম্পাদন করেছে। পরবর্তী লেখকগণ তাদের পূর্ববর্তীদের জন্য সে বিষয়ে অজুহাত খোঁজার চেষ্টা করেছেন (১)। এই জেদই তাদের এমন সব বৈজ্ঞানিক ও পদ্ধতিগত সংকটে ফেলেছে যেখান থেকে তারা কোনো পথ খুঁজে পায়নি (২)। তারা কুরআনের শৈলী নিয়ে ধৃষ্টতা, দম্ভ ও পাণ্ডিত্য জাহির করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে, এমনকি জনৈক আরব গবেষক (৩) বলেছেন: "একজন অনারব ব্যক্তি কীভাবে দাবি করতে পারে যে কুরআনে ভাষাগত দুর্বলতা রয়েছে? অথচ এই কুরআনই পরবর্তী সময়ে কিয়ামত পর্যন্ত আরবি ভাষার মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। আমি যদি জার্মান ভাষার ওপর দক্ষতা এবং সেই ভাষায় সাহিত্য রচনার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও জার্মান কবি গ্যয়টের রচনাশৈলীকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত করি, তবে মানুষ আমাকে নিয়ে উপহাস করবে। সেখানে একজন প্রাচ্যবিদ, যে কেবল অভিধান ব্যবহার করে আরবি বোঝে, সে কীভাবে এমনটি করতে পারে?"
তারা যদি পবিত্র কুরআনকে এর প্রকৃত ঐশ্বরিক উৎসের দিকে ফিরিয়ে দিত এবং বিনয় ও ইনসাফের গুণে গুণান্বিত হতো (যার ছদ্মবেশ ধারণ করে তারা মানুষের সামনে প্রতারণা ও চাতুর্য প্রদর্শন করে) এবং গবেষণায় কোনো পূর্বনির্ধারিত ধারণা ও বদ্ধমূল জেদ নিয়ে প্রবেশ না করত, তবে তারা এসব কিছু থেকে রক্ষা পেত। কিন্তু তা তাদের পক্ষে কীভাবে সম্ভব? তারা কি এই ভয় পায় যে, তারা যদি নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গবেষণায় প্রবেশ করে এবং তাদের অনুকল্পগুলোর মধ্যে একটি অনুকল্প হিসেবে—যেমনটি বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার দাবি—এটি ধরে নেয় যে কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ঐশী প্রত্যাদেশ (وحي), তবে তা তাদের কুরআনের প্রতি আত্মসমর্পণের দিকে নিয়ে যাবে? এটি স্পষ্ট যে তারা তাই করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ذلك لأنهم نفوا هذا الفرض تماماً ونحوه بعيداً، فلم يشيروا إليه من قريب أو بعيد إلا على سبيل التوهين والاستهزاء، لكن هذا الفرض ظل حاضراً في أذهانهم دائماً لأن كل جهدهم (العلمي!!) كان منصرفاً إلى البرهنة على نقيضه، ومباركة كل محاولة تبذل للزعم بأنه من تأليف محمد صلى الله عليه وسلم.
وتتوالى سلسلة الفساد التي بدأت من تلك المقدمة الفاسدة المتعسّفة - كما ذكرنا - لتضرب كل قاعدة اتخذوها أساساً لنقدهم، فقد ألزمهم نفي كون القرآن كلام الله اتباع ما يلي:
(1) - الشك في الراوي: محمد صلى الله عليه وسلم، الذي يؤكد أن القرآن وحي أوحي إليه من الله تعالى وما دام الأمر ليس كذلك (كما يقرره المنهج وكما يزعمون) فلابد من اختلاق الأكاذيب حول سيرته وأخلاقه وغايته، وجمع كل المفتريات في القديم والحديث وحشدها للقدح في ذلك كله، وبذر بذور الشك في نبوته صلى الله عليه وسلم.
(2) - طالما أن النص من صنع بشر – كما يزعمون – فلابد من حصره في حدود الطاقات والتصورات البشرية، وما يخرج فيه عن دائرة قدرة العقل البشري والمدركات الحسية يدخل في نطاق الأسطورة ويصبح من حق الباحث - اعتماداً على عقله وحواسه وعلى أصول المنطق والمعرفة المتراكمة التاريخية والعلمية - أن يرفض أي حقائق تتجاوز الواقع المادي المحسوس، كالغيبيات والعقائد، ويبدو كل ما يتجاوز الواقع المادي خرافة غير قابلة للتصديق. وهذا يعني الطعن في ما ورد
এটি এ কারণে যে, তারা এই সম্ভাবনাটিকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছে এবং একে অনেক দূরে ঠেলে দিয়েছে। ফলে তারা তুচ্ছজ্ঞান (توهين) এবং উপহাসের ছলে ছাড়া এর প্রতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো ইঙ্গিত করেনি। কিন্তু এই সম্ভাবনাটি সর্বদা তাদের মনে বিদ্যমান ছিল, কারণ তাদের সকল (বৈজ্ঞানিক!!) প্রচেষ্টা এর বিপরীতটি প্রমাণ করার জন্য এবং মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক এটি রচিত হওয়ার দাবির প্রতিটি প্রচেষ্টাকে সমর্থন জোগানোর পেছনেই ব্যয় করা হয়েছিল।
আর সেই ভ্রান্ত ও খামখেয়ালি ভূমিকা থেকে শুরু হওয়া বিচ্যুতির এই ধারা চলতেই থাকে—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—যা তাদের সমালোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা প্রতিটি নীতিকে আঘাত করে। কেননা, কুরআন যে আল্লাহর কালাম—এ কথা অস্বীকার করার বিষয়টি তাদের নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অনুসরণে বাধ্য করেছে:
(১) - বর্ণনাকারী (الراوي): মুহাম্মদ (সা.)-এর বিষয়ে সংশয় পোষণ করা, যিনি এটি নিশ্চিত করেন যে কুরআন হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অবতীর্ণ ওহি। আর যেহেতু বিষয়টি তেমন নয় (যেমনটি তাদের পদ্ধতি নির্ধারণ করে এবং তারা দাবি করে), তাই তাঁর সীরাত (জীবনী), চরিত্র ও লক্ষ্য নিয়ে মিথ্যা উদ্ভাবন করা এবং এ সবই কলঙ্কিত করার জন্য প্রাচীন ও আধুনিককালের সকল অপবাদ একত্রিত করা ও সেগুলোকে ভিড় করানো এবং তাঁর নবুয়তের ব্যাপারে সংশয়ের বীজ বপন করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
(২) - যতক্ষণ পর্যন্ত এই পাঠটি মানুষের তৈরি—যেমনটি তারা দাবি করে—ততক্ষণ একে মানুষের সক্ষমতা ও ধারণার গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা আবশ্যক। আর যা কিছু এতে মানুষের বিবেক-বুদ্ধির ক্ষমতা ও ইন্দ্রিয়লব্ধ উপলব্ধির বাইরে যাবে, তা রূপকথার অন্তর্ভুক্ত হবে। ফলে একজন গবেষকের জন্য—নিজের বিবেক-বুদ্ধি, ইন্দ্রিয় এবং যুক্তিবিদ্যার মূলনীতি ও অর্জিত ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে—বস্তুগত বাস্তবতার ঊর্ধ্বে যেকোনো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা অধিকার হয়ে দাঁড়ায়, যেমন অতীন্দ্রিয় বিষয়াবলি ও আকিদা। আর বস্তুগত বাস্তবতার ঊর্ধ্বে যা কিছু রয়েছে, তা অবিশ্বাস্য রূপকথা বলে মনে হয়। এর অর্থ হলো যা বর্ণিত হয়েছে তার সমালোচনা (طعن) করা।
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بالقرآن من غيب كالمسائل: الألوهية (1) والوحي والملائكة واليوم الآخر والجنة والنار، وما يخرج عن نطاق التاريخ الإنساني المدون. إلخ.
(3) - محاولة إبراز أثر البيئة والزعم بتأثير ما راج بين العرب قبل عصر النبوة من مقولات يهودية ونصرانية ووثنية على النص والتدليل على ذلك بأكاذيب شتى واضحة البطلان - كما سنذكر فيما بعد - والتماس المشابهات بين ما ورد بالنص القرآني وكل من التوراة والإنجيل من ألفاظ وقصص. وحين يعييهم البحث عن أي تشابه في الألفاظ يشتطون في الكذب والاختلاق، أما القصص فحين انتابهم اليأس من العثور على أصول لقصص عاد وثمود في العهد القديم (2) شك بعضهم في هذه الأقوام أصلاً، بينما ردّها آخرون إلى أثر المرويات الشفوية التي كانت رائجة في البيئة العربية قبل عصر النبوة، ولا دليل لهم عليه.
(4) - النظر إلى الآيات الشريفة بحسبانها مرتبطة بزمان معين ومشدودة الوثاق بظروف البيئة والعصر الذي نزلت فيه، لا باعتبارها أحكاماً نهائية مطلقة خارجة عن إسار الزمان والمكان قد اكتسبت صفة
--------------------------------------------
কুরআনের মাধ্যমে অদৃশ্য বিষয়সমূহ যেমন: উলুহিয়্যাত (১), ওহি, ফেরেশতাকুল, পরকাল, জান্নাত ও জাহান্নাম এবং যা লিপিবদ্ধ মানব ইতিহাসের গণ্ডির বাইরে ইত্যাদি।
(৩) - পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা এবং নবুওয়াত পূর্ব যুগে আরবদের মধ্যে প্রচলিত ইহুদি, খ্রিস্টান ও পৌত্তলিক মতবাদসমূহ কুরআনের মূল পাঠের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে দাবি করা—এবং বিভিন্ন সুস্পষ্ট মিথ্যাচারের (أكاذيب) মাধ্যমে এর সপক্ষে প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করা, যা স্পষ্টতই অসার (بطلان)—যেমনটা আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করব—এবং কুরআনের মূল পাঠ ও তাওরাত ও ইঞ্জিলের শব্দ ও কাহিনীর মধ্যে সাদৃশ্য খোঁজা। যখন তারা শব্দের মধ্যে কোনো সাদৃশ্য খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা চরম মিথ্যা ও বানোয়াট (اختلاق) গল্পের আশ্রয় নেয়। আর কাহিনীর ক্ষেত্রে, যখন তারা ওল্ড টেস্টামেন্টে (২) আদ ও সামুদ জাতির কাহিনীর কোনো উৎস খুঁজে পেতে হতাশ হয়, তখন তাদের কেউ কেউ এই জাতিগুলোর অস্তিত্ব নিয়েই সন্দেহ পোষণ করে। আবার কেউ কেউ এগুলোকে নবুওয়াত পূর্ব আরব পরিবেশে প্রচলিত মৌখিক বর্ণনার (المرويات) প্রভাব হিসেবে গণ্য করে, যার সপক্ষে তাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই।
(৪) - পবিত্র আয়াতগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সম্পর্কিত এবং নাযিল হওয়ার সময়কার পরিবেশ ও যুগের পরিস্থিতির সাথে শক্তভাবে আবদ্ধ মনে করা; এগুলোকে কাল ও স্থানের ঊর্ধ্বে কোনো চূড়ান্ত ও নিরঙ্কুশ বিধান হিসেবে বিবেচনা না করা, যা এমন এক বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الديمومة والخلود (كما لاحظ المستشرق آربرى في تصريحه السابق في ص 10-11) وقد أدت بهم هذه النظرة إلى الفشل الذريع الذي منيت به محاولاتهم المتكررة لتقييد النص القرآني بقيود تاريخية وترتيبه حسب الزمان (1) .
(5) - التحوّط من كل الروايات التي قالها المسلمون والأحكام التي استخلصها علماؤهم، والقدح فيها باعتبارها أقوالاً وأحكاماً منحازة غير محايدة في الموضوع فضلاً عن أنه لا دليل عقلياً عليها. وإنما يقتصر منها على أجزاء ما بها من أقوال وأحكام تسند ما يذهبون إليه حتى ولو كانت ظاهرة البطلان، ولكن يعتدّ بها لأنها إنما صدرت عن المؤمنين بالقرآن أنفسهم ومؤيّديه.
(6) - تشبثهم بالمفاهيم الغربية في النقد الأدبي كاشتراط "وحدة الموضوع" في كل سورة من السور وتمسكهم المتعسف بضرورة أن يكون موضوع كل سورة موضوعاً موحداً، وبالتالي دراسة البناء الداخلي لكل واحدة من السور بمعزل عن غيرها (2) . وقد ّم بعض المستشرقين جدوى أية محاولة تجري في الحاضر أو المستقبل في
--------------------------------------------
স্থায়িত্ব ও চিরন্তনতা (যেমন প্রাচ্যবিদ আরবেরি তার পূর্ববর্তী বক্তব্যে পৃষ্ঠা ১০-১১-এ উল্লেখ করেছেন)। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাদেরকে শোচনীয় ব্যর্থতার দিকে পরিচালিত করেছে, যার সম্মুখীন হয়েছিল কুরআনের পাঠকে ঐতিহাসিক সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ করার এবং কালানুক্রমিক বিন্যাস করার তাদের বারবার প্রচেষ্টাগুলো (১) ।
(৫) - মুসলমানদের বর্ণিত সকল বর্ণনা (روايات) এবং তাদের আলেমদের আহরিত বিধানসমূহ (أحكام) সম্পর্কে অতি-সতর্কতা অবলম্বন করা এবং সেগুলোকে পক্ষপাতদুষ্ট ও অনিরপেক্ষ হিসেবে সমালোচনা (قدح) করা, পাশাপাশি এ কথা বলা যে সেগুলোর স্বপক্ষে কোনো যৌক্তিক প্রমাণ নেই। তারা এগুলোর মধ্য থেকে কেবল সেই সকল বক্তব্য বা বিধানের অংশবিশেষ গ্রহণ করে যা তাদের মতবাদকে সমর্থন করে, এমনকি যদি তা প্রকাশ্যভাবে বাতিল (باطل) হয় তবুও; আর এগুলোকে তারা গ্রহণযোগ্য মনে করে কারণ সেগুলো স্বয়ং কুরআনে বিশ্বাসী ও এর সমর্থকদের পক্ষ থেকেই এসেছে।
(৬) - সাহিত্য সমালোচনার ক্ষেত্রে তাদের পাশ্চাত্য ধারণাগুলোকে আঁকড়ে ধরা, যেমন প্রতিটি সূরার জন্য "বিষয়ের ঐক্য" (وحدة الموضوع) শর্ত হিসেবে আরোপ করা এবং প্রতিটি সূরার বিষয়বস্তু অবশ্যই একক হতে হবে—এমন বিষয়ের ওপর তাদের জবরদস্তিমূলক অবস্থান। এর ফলে তারা প্রতিটি সূরার অভ্যন্তরীণ কাঠামোকে অন্য সূরাগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করে অধ্যয়ন করে (২) । বর্তমানে বা ভবিষ্যতে পরিচালিত যেকোনো প্রচেষ্টার কার্যকারিতার বিষয়ে কিছু প্রাচ্যবিদ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
هذا الاتجاه (1) . والملاحظ هنا أن ما يتشبث به المستشرقون من "وحدة الموضوع" في السور لا يتصل من قريب أو بعيد بمسألة " النظم " القرآني وترتيب الآيات ترتيباً توقيفياً لا شبهة فيه (2) . فهذا الترتيب يعد من أبرز دلائل الإعجاز في القرآن الكريم، وهو "من عمل الوحي يقيناً" (3) .
(7) - لابد لمن يطبق هذا المنهج أن يتحلّى بمعرفة واسعة بأساليب اللغة العربية وبالتالي التعامل بالقدر اللازم من الفهم والوعي مع النص القرآني. ولما كان المستشرقون يفتقرون إلى مثل هذه المعرفة العميقة فقد وقعوا في أخطاء فاحشة عند التطبيق سيتبين لنا جانب منها بالدراسة الفاحصة لما ورد في بعض أعمالهم بعد قليل.
(8) - محاولتهم وضع نماذج وأطر معيارية لصيغ القرآن وأساليبه الإنشائية والخبرية، وهي المحاولة التي باءت بالفشل وعبّر عنها كاتب مقال القرآن بدائرة المعارف الإسلامية بقوله: إن طبيعة القرآن وترتيبه تجعل من الصعب تصنيف صيغه الأدبية أو تنظيم موضوعاته الرئيسة، وأية محاولة لتصنيف أجزاء القرآن وفق النماذج الأدبية المعيارية تصاب بالانهيار على الفور.
--------------------------------------------
এই ঝোঁক (১)। এখানে লক্ষণীয় যে, প্রাচ্যবিদরা সূরাসমূহের মধ্যে যে "বিষয়বস্তুর ঐক্য" (وحدة الموضوع)-এর বিষয়টি আঁকড়ে ধরেন, তার সাথে কুরআনের "বিন্যাস" (النظم) এবং আয়াতসমূহের সন্দেহাতীত নির্ধারিত (توقيفي) ক্রমবিন্যাসের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই (২)। কেননা এই ক্রমবিন্যাস পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) অন্যতম প্রধান নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত এবং এটি "নিশ্চিতভাবেই প্রত্যাদেশের (وحي) কাজ" (৩)।
(৭) - যারা এই পদ্ধতি প্রয়োগ করবেন, তাদের অবশ্যই আরবি ভাষার আলঙ্কারিক শৈলী সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান থাকতে হবে এবং ফলস্বরূপ কুরআনের পাঠ্যের সাথে প্রয়োজনীয় উপলব্ধি ও সচেতনতার সাথে কারবার করতে হবে। যেহেতু প্রাচ্যবিদদের এ ধরনের গভীর জ্ঞানের অভাব ছিল, তাই তারা প্রয়োগের ক্ষেত্রে মারাত্মক ভুল করেছেন, যার কিছু দিক তাদের কিছু কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার মাধ্যমে শীঘ্রই আমাদের সামনে স্পষ্ট হবে।
(৮) - কুরআনের রূপাবয়ব এবং এর সৃজনশীল (إنشائي) ও বর্ণনামূলক (خبري) শৈলীগুলোর জন্য আদর্শ নমুনা ও কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টা; যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম-এর 'আল-কুরআন' নিবন্ধের লেখক এই ব্যর্থতা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন: কুরআনের প্রকৃতি এবং এর বিন্যাস এর সাহিত্যিক রূপগুলোকে শ্রেণীবদ্ধ করা বা এর প্রধান বিষয়বস্তুগুলোকে সুসংগঠিত করা অত্যন্ত কঠিন করে তোলে এবং সাহিত্যিক আদর্শ অনুযায়ী কুরআনের অংশগুলোকে শ্রেণীবদ্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যর্থ হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
(9) - وطالما أنه نص من صنع بشر – كما يزعمون - والبشر لابد له أن يستقي أفكاره وتصوراته من مصادر بعينها، فإنه لابد من رد هذه التصورات التي أطلقوا عليها "غرائب تثير الدهشة" و "أساطير" مما ليس له وجود في التوراة والإنجيل والبيئة العربية قبل نزول القرآن إلى روايات من قصص تقليدية توجد في ثقافات الشرق الأدنى، وقد عدّلت لتتطابق مع النظرة العالمية وتعاليم القرآن (1) . ويضربون لذلك أمثلة لا يمكن إن لم يكن من المستحيل – التأكد بأن لها أصولاً في ثقافات الشرق القديم، لأن البحث في تلك الثقافات لم يرق إلى درجة اليقين بما كانت تشتمل عليه من تصورات وأفكار.
(10) - وإذا ورد في النص القرآني ما يثبت العلم الحديث حقيقة وقوعه ويقع في دائرة المعطيات الحسية لابد من المبادرة إلى التشكيك فيه حتى لا يترك للقارئ - أو حتى للباحث المبتدئ - مجرد فرصة التفكير في تطابق الحقائق العلمية مع ما ورد بالقرآن الكريم مما يجعله مختلفاً عن التوراة في هذا المجال. فقد رأينا كاتب مادة "القرآن" في دائرة المعارف الإسلامية حين عرض لقصة نوح عليه السلام وأشار إلى الطوفان الذي وردت قصته في سورة هود (الآيات 36-48) وأثبت البحث في علوم طبقات الأرض حدوثه – رأينا الكاتب يسارع إلى القول: " وعلى أي حال فهو ليس الطوفان الذي عمّ العالم بأسره،
--------------------------------------------
(9) - যেহেতু এটি মানুষের তৈরি একটি পাঠ্য (টেক্সট) — যেমনটি তারা দাবি করে — আর মানুষের জন্য তার চিন্তাধারা ও ধারণাগুলো নির্দিষ্ট কিছু উৎস থেকে গ্রহণ করা অপরিহার্য, তাই এই ধারণাগুলোকে — যেগুলোকে তারা "বিস্ময়কর আজগুবি বিষয়" এবং "পুরাণ" বলে অভিহিত করেছে এবং যেগুলোর অস্তিত্ব তাওরাত, ইনজিল এবং কুরআন নাজিলের পূর্বের আরব পরিবেশে নেই — সেগুলোকে নিকট প্রাচ্যের সংস্কৃতিতে বিদ্যমান ঐতিহ্যবাহী গল্পের বর্ণনা (روايات)-এর দিকে প্রতাবর্তন করানো আবশ্যক; যা বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কুরআনের শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য পরিমার্জন করা হয়েছে (১)। তারা এর জন্য এমন কিছু উদাহরণ পেশ করে যেগুলোর উৎস প্রাচীন প্রাচ্যের সংস্কৃতিতে ছিল কি না তা নিশ্চিত করা অসম্ভব না হলেও অত্যন্ত কঠিন; কারণ সেইসব সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা এমন কোনো নিশ্চিত (يقين) স্তরে পৌঁছায়নি যে সেখানে কী ধরনের ধারণা ও চিন্তা বিদ্যমান ছিল।
(10) - আর যদি কুরআনের পাঠ্যে এমন কিছু উল্লেখ থাকে যা আধুনিক বিজ্ঞান বাস্তবে ঘটার প্রমাণ দেয় এবং যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য তথ্যের আওতাভুক্ত হয়, তবে সে বিষয়ে অতিদ্রুত সংশয় তৈরির প্রচেষ্টা চালানো হয়; যাতে পাঠকের জন্য — এমনকি একজন শিক্ষানবিশ গবেষকের জন্যও — বৈজ্ঞানিক সত্যের সাথে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত বিষয়ের মিল নিয়ে চিন্তা করার সামান্য সুযোগও না থাকে, যা এই ক্ষেত্রটিতে কুরআনকে তাওরাত থেকে আলাদা করে তোলে। আমরা দেখেছি যে, যখন এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম-এর "আল-কুরআন" বিষয়ক নিবন্ধের লেখক নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনী উপস্থাপন করেছেন এবং সূরা হূদ-এ (আয়াত ৩৬-৪৮) বর্ণিত প্লাবনের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন — যা ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে — তখন সেই লেখককে দ্রুত এই কথা বলতে দেখা যায়: "যাই হোক, এটি এমন কোনো মহাপ্লাবন ছিল না যা সমগ্র বিশ্বকে প্লাবিত করেছিল।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ونسأله: أي طوفان يكون إذاً طوفان نوح؟ فلا يحير جواباً بعد هذه العبارة ولا يقدم دليلاً.
وأكتفي في هذه العجالة بهذا القدر من بيان الأخطاء التي كان لابد أن يقع فيها المستشرقون بسبب اعتمادهم على منهج النقد الأعلى والأدنى في دراساتهم للقرآن الكريم.
এবং আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করি: তবে নূহের মহাপ্লাবনটি কেমন ছিল? এই বক্তব্যের পর তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেন না এবং কোনো প্রমাণও উপস্থাপন করতে পারেন না।
এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে আমি সেই ভুলত্রুটিগুলো বর্ণনায় এইটুকুই যথেষ্ট মনে করছি, যেগুলোর মধ্যে প্রাচ্যবিদগণ তাদের পবিত্র কুরআন বিষয়ক গবেষণায় উচ্চতর ও নিম্নতর সমালোচনা (النقد الأعلى والأدنى) পদ্ধতির ওপর নির্ভর করার কারণে অনিবার্যভাবে নিপতিত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الشبهات الواردة في الموسوعتين: الإسلامية والبريطانية: تحليل ونقد
أولا: شبهات في دائرة المعارف الإسلامية: الطبعة الجديدة
مدخل…الشبهات الواردة في الموسوعتين: الإسلامية والبريطانية: تحليل ونقد
أولاً: شبهات في دائرة المعارف الإسلامية (الطبعة الجديدة)
تبدأ مادة القرآن في دائرة المعارف الإسلامية بعرض الخطوط الرئيسة التي سيتم تناولها على النحو التالي:
(1) - أصل الكلمة ومرادفاتها:
أ- الاشتقاق والاستعمال القرآني للكلمة.
ب- الترادف في القرآن.
(2) - محمد والقرآن.
(3) - تاريخ القرآن بعد سنة 632:
أ- جمع القرآن.
ب- القراءات المختلفة، ومخطوطات الصحابة.
ج- بناء النص المعتمد والقراءات.
(4) - التكوين العام:
أ- السور وأسماؤها.
ب- البسملة.
দুই বিশ্বকোষে (ইসলামি ও ব্রিটিশ) বর্ণিত সংশয়সমূহ: বিশ্লেষণ ও সমালোচনা
প্রথমত: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম-এ বর্ণিত সংশয়সমূহ: নতুন সংস্করণ
উপক্রমণিকা…দুই বিশ্বকোষে (ইসলামি ও ব্রিটিশ) বর্ণিত সংশয়সমূহ: বিশ্লেষণ ও সমালোচনা
প্রথমত: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম-এ (নতুন সংস্করণ) বর্ণিত সংশয়সমূহ
এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম-এ ‘কুরআন’ সংক্রান্ত নিবন্ধটি নিম্নোক্ত প্রধান রূপরেখা অনুযায়ী আলোচনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে:
(1) - শব্দের মূল উৎপত্তি ও এর প্রতিশব্দসমূহ:
ক- শব্দের ব্যুৎপত্তি এবং কুরআনিক ব্যবহার।
খ- কুরআনে প্রতিশব্দসমূহ।
(2) - মুহাম্মদ ও কুরআন।
(3) - ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ পরবর্তী কুরআনের ইতিহাস:
ক- কুরআন সংকলন।
খ- বিভিন্ন কিরাত (قراءات) এবং সাহাবিদের পাণ্ডুলিপিসমূহ।
গ- নির্ভরযোগ্য পাঠ্য (النص المعتمد) এবং কিরাত (قراءات) সমূহের কাঠামো।
(4) - সাধারণ বিন্যাস:
ক- সূরাসমূহ ও সেগুলোর নামকরণ।
খ- বিসমিল্লাহ।
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ج– الحروف الغامضة (يعني حروف المقطعات) .
(5) - تاريخ النص:
أ- الإشارات التاريخية في القرآن.
ب- الترتيب الزماني التقليدي عند المسلمين.
ج- الترتيب الزماني الغربي الحديث.
(6) - اللغة والأسلوب:
أ- لغة القرآن.
ب- الألفاظ الأجنبية.
ج- السجع والتكرار.
د- التكوين التخطيطي والروايات المتعددة.
(7) - الصيغ الأدبية والموضوعات الرئيسة:
أ- القسم وما يتصل به.
ب- الأجزاء الرمزية.
ج- الأجزاء الصريحة.
د- القصص.
هـ- التنظيمات.
و الصيغ التعبدية.
গ– রহস্যময় বর্ণসমূহ (অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন বর্ণসমূহ (حروف المقطعات))।
(৫) - পাঠের ইতিহাস:
ক- কুরআনে বর্ণিত ঐতিহাসিক ইঙ্গিতসমূহ।
খ- মুসলিমদের নিকট প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী কালানুক্রমিক বিন্যাস।
গ- আধুনিক পশ্চিমা কালানুক্রমিক বিন্যাস।
(৬) - ভাষা ও শৈলী:
ক- কুরআনের ভাষা।
খ- বিদেশি শব্দাবলি।
গ- অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্য (سجع) এবং পুনরাবৃত্তি।
ঘ- পরিকল্পনাগত কাঠামো এবং বহুবিধ বর্ণনা (روايات)।
(৭) - সাহিত্যিক রূপ এবং প্রধান বিষয়বস্তুসমূহ:
ক- শপথ (قسم) এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি।
খ- রূপক অংশসমূহ।
গ- সুস্পষ্ট অংশসমূহ।
ঘ- কাহিনীসমূহ (قصص)।
ঙ- সাংগঠনিক বিধিসমূহ।
চ- ইবাদত সংক্রান্ত পদ্ধতিসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আশ-শুবুহাতুল মাজউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম ফি দাইরাতাই আল-মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়াল বারিতানিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(8) - القرآن في حياة المسلمين وفكرهم.
المصادر والمراجع المتعلقة بالبنود من 1إلى 8.
(9) - ترجمة القرآن:
أ- المذهب التقليدي.
ب- الترجمة إلى لغات معينة.
وتبدو هذه الخطة مستوعبة للموضوع من مختلف جوانبه، عمد الكاتب إلى بسط إطارها العام لكي يقدم من خلالها خلاصة للنتائج التي أجراها المستشرقون منذ تيودور نولدكه في كتابه "تاريخ القرآن" (طبعة جوتنجن 1860) وجوستاني ويل في كتابه " الفتوحات الحربية التاريخية" (بليفيلد 1878) ، حتى العقد الثالث من القرن العشرين حول القرآن الكريم.
ويحاول الكاتب أن يبدو موضوعياً فلا يشير في مقاله إلى الأعمال التي نشرها القساوسة والكتاب الأوربيون في القرون السابقة عن القرآن الكريم والتي حفلت بالهجوم الخاطئ والمحاولات الساذجة غير المعقولة، وإنما يبدأ بالدراسات التي أجراها المستشرقون منذ منتصف القرن الرابع عشر، بعد أن توافرت لهم الأدوات العلمية، والقدرة على فهم اللغات، وبعد نشر الكثير من المخطوطات العربية، فبدوا - كما يحاول كاتب المقال أن يظهرهم - أكثر موضوعية وتدقيقاً في المنهج.
وفي نطاق محاولته لكي يبدو موضوعياً يبدأ في كل فصل من الفصول بعرض آراء المسلمين الأوائل، ثم يأتي بعد ذلك بآراء المستشرقين الغربيين.
(8) - মুসলিমদের জীবনে এবং তাদের চিন্তাধারায় কুরআন।
১ থেকে ৮ পর্যন্ত অনুচ্ছেদ সংশ্লিষ্ট উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহ।
(9) - কুরআনের অনুবাদ:
ক- ঐতিহ্যগত ধারা।
খ- নির্দিষ্ট ভাষাগুলোতে অনুবাদ।
এই পরিকল্পনাটি বিষয়টির বিভিন্ন দিককে অন্তর্ভুক্ত করে বলে প্রতীয়মান হয়। লেখক এর একটি সাধারণ কাঠামো বিস্তারের সংকল্প করেছেন যাতে এর মাধ্যমে থিওডোর নোলডেকে তাঁর "তারিখ আল-কুরআন" (গটিংজেন সংস্করণ ১৮৬০) এবং গুস্তাভ ওয়েইল তাঁর "আল-ফুতুহাত আল-হারবিয়্যাহ আত-তারিখিয়্যাহ" (বিলেফেল্ড ১৮৭৮) গ্রন্থে যে ফলাফলগুলো উপস্থাপন করেছেন, সেখান থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশক পর্যন্ত কুরআনুল কারীম সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের গবেষণার একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরা যায়।
লেখক এখানে বস্তুনিষ্ঠ থাকার চেষ্টা করেছেন, তাই তিনি তাঁর প্রবন্ধে বিগত শতাব্দীগুলোতে কুরআনুল কারীম সম্পর্কে ইউরোপীয় পাদ্রি ও লেখকদের সেই কাজগুলোর কথা উল্লেখ করেননি যা ভুল আক্রমণ এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন অপরিপক্ক প্রচেষ্টায় ভরপুর ছিল। বরং তিনি চতুর্দশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে প্রাচ্যবিদদের দ্বারা পরিচালিত অধ্যয়নগুলো থেকে আলোচনা শুরু করেছেন, যখন তাদের হাতে বৈজ্ঞানিক উপকরণ ও ভাষা বোঝার সক্ষমতা পৌঁছেছিল এবং প্রচুর পরিমাণে আরবি পাণ্ডুলিপি প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে তাঁদের গবেষণাপদ্ধতি — প্রবন্ধের লেখক যেভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন — অধিকতর বস্তুনিষ্ঠ ও সূক্ষ্ম বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার প্রচেষ্টায় তিনি প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে প্রথমে পূর্বসূরি মুসলিমদের মতামত তুলে ধরেন এবং এরপর পশ্চিমা প্রাচ্যবিদদের মতামত উপস্থাপন করেন।