(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: -)
الشبهات التي أثيرت حول دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب (مطبوع ضمن بحوث ندوة دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب)   (عبد الكريم الخطيب)

القسم: كتب عامة


الكتاب: الشبهات التي أثيرت حول دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب (مطبوع ضمن بحوث ندوة دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب)

المؤلف: عبد الكريم الخطيب

الناشر: عمادة البحث العلمي بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الثانية، 1411 هـ/1991م

عدد الصفحات: 253

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব-এর দাওয়াতকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত সংশয়সমূহ (শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব-এর দাওয়াত বিষয়ক সিম্পোজিয়ামের গবেষণাপত্রের অন্তর্ভুক্ত)   (আব্দুল করিম আল-খতিব)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী


গ্রন্থ: শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব-এর দাওয়াতকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত সংশয়সমূহ (শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব-এর দাওয়াত বিষয়ক সিম্পোজিয়ামের গবেষণাপত্রের অন্তর্ভুক্ত)

লেখক: আব্দুল করিম আল-খতিব

প্রকাশক: ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ (ডিনশিপ), রিয়াদ, সৌদি আরব

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১১ হিজরি/১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১০১)
‌‌مقدمة

…

الشبهات التي أثيرت حول دعوة الإمام محمد بن عبد الوهاب والرد عليها

للأستاذ / عبد الكريم الخطيب

بسم الله الرحمن الرحيم

تقديم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على إمام المرسلين وخاتم النبيين، سيدنا محمد، وعلى آله وأصحابه، والتابعين، ومن تأسى بسيرته، واهتدى بهديه، ودعا بدعوته إلى يوم الدين. أما بعد:

فإن الجهاد في سبيل الله والذياد عن شريعته، والغيرة على حرماته، أمانة في عنق كل من آمن بالله، ودخل في جماعة المؤمنين، فأبصر مكانه بينهم، وعرف وظيفته فيهم، وعد نفسه عضواً في الجسد العام الجامع لهم، يسعد لسعادتهم ويشقى لشقائهم، كما يقول الرسول الكريم، صلوات الله وسلامه عليه: " مثل المؤمنين في توادهم وتراحمهم، كمثل الجسد، إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالسهر والحمى" 1 رواه مسلم عن النعمان بن بشير. وفي رواية: " المؤمنون كرجل واحد، إن اشتكى رأسه، تداعى له سائر الجسد بالحمى والسهر " 2.هكذا يفعل الإيمان الحق في نفوس المؤمنين بالله، حيث تفيض مشاعر المؤمن بالولاء للمؤمنين من كل جنس ولون، مهما تباعدت الديار، واختلفت الأجناس والألوان، وذلك بهذا النسب الجامع بينه وبين المؤمنين جميعا، أحياء وأمواتا. والله تعالى يقول: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ}

--------------------------------------------

1 البخاري: الأدب 6011 ، ومسلم: البر والصلة والآداب 2586 ، وأحمد 4/268 ،4/270 ،4/276 ،4/278 ،4/375.

2 البخاري: الأدب 6011 ، ومسلم: البر والصلة والآداب 2586 ، وأحمد 4/268 ،4/270 ،4/271 ،4/274 ،4/276 ،4/278 ،4/375.
ভূমিকা

…

ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের দাওয়াত সম্পর্কে উত্থাপিত সংশয়সমূহ এবং সেগুলোর খণ্ডন

অধ্যাপক আব্দুল কারীম আল-খতীব কর্তৃক

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

মুখবন্ধ

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের ইমাম ও শেষ নবী আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী, তাবিঈদের (التابعين) এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর সীরাত অনুসরণ করবে, তাঁর হেদায়েত দ্বারা পরিচালিত হবে এবং তাঁর দাওয়াতের দিকে আহ্বান জানাবে তাদের ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহর পথে জিহাদ করা, তাঁর শরীয়তকে রক্ষা করা এবং তাঁর পবিত্র বিষয়াদির প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ পোষণ করা প্রত্যেক ঐ ব্যক্তির ঘাড়ে অর্পিত আমানত, যে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং মুমিনদের জামায়াতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে সে তাদের মধ্যে নিজের অবস্থান প্রত্যক্ষ করেছে, তাদের মধ্যে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে জেনেছে এবং নিজেকে তাদের সকলের সমন্বয়ে গঠিত সাধারণ দেহের একটি অঙ্গ হিসেবে গণ্য করেছে; তাদের সুখে সে সুখী হয় এবং তাদের দুঃখে সে কষ্ট পায়। যেমনটি রাসূল করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার উদাহরণ একটি দেহের মতো; যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ অসুস্থ হয়, তখন পুরো শরীর অনিদ্রা ও জ্বরের মাধ্যমে তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে।" ১ এটি মুসলিম নুমান ইবনে বশীর থেকে বর্ণনা করেছেন। আর অন্য একটি বর্ণনায় (رواية): "মুমিনগণ একজন ব্যক্তির মতো, যদি তার মাথায় ব্যথা হয়, তবে তার পুরো দেহ জ্বর ও অনিদ্রার মাধ্যমে তাতে সাড়া দেয়।" ২। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী মুমিনদের অন্তরে প্রকৃত ঈমান এভাবেই ক্রিয়াশীল হয়, যেখানে একজন মুমিনের হৃদয়ে অন্য মুমিনদের প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসার অনুভূতি উপচে পড়ে, তারা যে বর্ণ বা জাতিরই হোক না কেন। বাসস্থান যত দূরেই হোক এবং জাতি ও বর্ণে যত ভিন্নতাই থাকুক না কেন, এই সুসমন্বিত সম্পর্কের কারণে সে জীবিত ও মৃত সকল মুমিনের সাথে একাত্মবোধ করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {নিশ্চয়ই মুমিনরা একে অপরের ভাই}

--------------------------------------------

১ বুখারী: আদব ৬০১১, মুসলিম: আল-বিররু ওয়াস-সিলাহ ওয়াল আদাব ২৫৮৬, আহমদ ৪/২৬৮, ৪/২৭০, ৪/২৭৬, ৪/২৭৮, ৪/৩৭৫।

২ বুখারী: আদব ৬০১১, মুসলিম: আল-বিররু ওয়াস-সিলাহ ওয়াল আদাব ২৫৮৬, আহমদ ৪/২৬৮, ৪/২৭০, ৪/২৭১, ৪/২৭৪, ৪/২৭৬, ৪/২৭৮, ৪/৩৭৫।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১০২)
1.ويقول جل شأنه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا آبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَى الأِيمَانِ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} 2.ومن هذا الإيمان الوثيق بالله تنبعث في قلب المؤمن مشاعر الولاء والحب للمؤمنين فلا يبيت المؤمن على جناح أمن وطمأنينة وفي المؤمنين من يتهددهم عدو من خارج أوطانهم، أو من داخلها. فإذا كان هناك عدو من خارج أوطان الإسلام، كان الجهاد فريضة على المسلم فيجاهد بنفسه وماله، وبكل قوة تصل إليها يده.. ثم لا تسقط عنه هذه الفريضة، حتى يذهب خطر العدو، أو يقتل هو شهيداً في ميدان الجهاد. أما إذا كان العدو من داخل أوطان المسلمين، مثل دعوة إلى فتنة، أو إثارة لفرقة، أو نشر لبدعة - فإن هذا يحتاج إلى جهاد أكبر، وعزم أشد، وإرادة أقوى مع بصيرة نافذة، تكشف عن هذا الخطر الذي يتدسس إلى عقول الناس وقلوبهم ويخالط مشاعرهم ووجداناتهم، بحيث لا ينتبه له ولا يقدر آثاره المدمرة إلا ذوو البصائر المشرقة بنور الله الساهرة على حرمات الله، والحافظة لحدوده الناصحة لله ولرسوله وللمؤمنين. وأكثر ما يتمثل هذا الخطر الذي يغزو المسلمين من داخل أوطانهم، هو فيما يشيع فيهم من بدع تدخل عليهم باسم الدين، وما يتولد من هذه البدع من منكرات وضلالات تشيع في المسلمين، فتشوه معالم الدين في عقولهم وقلوبهم، وتغير حقائقه في أقوالهم وأفعالهم، وإذا هم مسلمون ولا إسلام، وذلك هو الخطر أعظم الخطر حيث يخيل إليهم أنهم على دين، وأنهم على الصحة والسلامة من هذا الدين، في حين أن المرض يفتك بهم، والعلة تغتال كل صالحة فيهم!! ولو كان هؤلاء المسلمون، ولا إسلام معهم - لو كانوا على غير دين أصلا، لكانت بليتهم أخف ومصيبتهم أهون؛ لأن من كان على غير دين، يرجى منه أن يصبح يوما وهو

--------------------------------------------

1 سورة الحجرات آية: 10.

2 سورة التوبة آية: 23.
১.মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের পিতা ও ভাইদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমানের বিপরীতে কুফরিকে পছন্দ করে। আর তোমাদের মধ্যে যারা তাদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, তারাই জালিম।} ২.আল্লাহর প্রতি এই সুদৃঢ় ঈমান থেকেই মুমিনের হৃদয়ে অন্যান্য মুমিনদের প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসার অনুভূতি জাগ্রত হয়। ফলে কোনো মুমিন নিরাপত্তা ও নিশ্চিন্তে রাত অতিবাহিত করতে পারে না যখন মুমিনদের মাঝে এমন কেউ থাকে যাদেরকে বহির্দেশীয় অথবা অভ্যন্তরীণ শত্রু হুমকি প্রদান করছে। যদি ইসলামের ভূখণ্ডের বাইরে থেকে কোনো শত্রুর আক্রমণ ঘটে, তবে প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জিহাদ ফরজ হয়। তখন সে তার জান ও মাল এবং সাধ্যমতো সর্বশক্তি দিয়ে জিহাদ করবে। শত্রুর এই আশঙ্কা দূরীভূত না হওয়া পর্যন্ত অথবা সে নিজে জিহাদের ময়দানে শহীদ না হওয়া পর্যন্ত এই ফরজ দায়িত্ব তার ওপর থেকে রহিত হয় না। পক্ষান্তরে, শত্রু যদি মুসলিম ভূখণ্ডের ভেতর থেকে হয়—যেমন ফিতনার দিকে আহ্বান জানানো, দলাদলি সৃষ্টি করা অথবা বিদআতের (بدعة) বিস্তার ঘটানো—তবে এর জন্য প্রয়োজন এক বৃহত্তর জিহাদ, সুদৃঢ় সংকল্প এবং তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টিসহ এক প্রবল ইচ্ছা। যা মানুষের জ্ঞান ও হৃদয়ে অনুপ্রবেশকারী এবং তাদের অনুভূতির সঙ্গে মিশে যাওয়া এই বিপদকে উন্মোচিত করবে। এই বিপদ সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব নিরূপণ করা কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব যাদের অন্তর্দৃষ্টি আল্লাহর নূরে উদ্ভাসিত, যারা আল্লাহর পবিত্র বিধান রক্ষায় সদা জাগ্রত এবং তাঁর নির্ধারিত সীমানা সংরক্ষণকারী ও আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের একনিষ্ঠ হিতাকাঙ্ক্ষী। মুসলিমদের অভ্যন্তরীণ জনপদে যে বিপত্তিগুলো হানা দেয়, তার অধিকাংশই হলো ধর্মের নামে অনুপ্রবেশকারী বিভিন্ন বিদআত (بدعة)। আর এই বিদআতগুলো (بدعة) থেকে যেসব মুনকার (منكرات) ও ভ্রষ্টতা জন্ম নেয় যা মুসলমানদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, তা তাদের জ্ঞান ও হৃদয়ে দ্বীনের প্রকৃত বৈশিষ্ট্যসমূহকে বিকৃত করে দেয় এবং তাদের কথা ও কাজে দ্বীনের বাস্তবতাকে বদলে দেয়। তখন তারা কেবল নামেই মুসলিম থাকে কিন্তু সেখানে ইসলাম অবশিষ্ট থাকে না। আর এটিই হচ্ছে সবচেয়ে বড় বিপদ, কারণ তাদের মনে হতে থাকে যে তারা দ্বীনের ওপর আছে এবং দ্বীনের বিচারে তারা সঠিক ও নিরাপদ অবস্থানে আছে, অথচ প্রকৃতপক্ষে এক আধ্যাত্মিক ব্যাধি তাদেরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং গোপন ত্রুটি (علة) তাদের প্রতিটি নেক আমলকে হরণ করে নিচ্ছে!! যদি এই মুসলমানরা—যাদের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই—আদৌ কোনো ধর্মের অনুসারী না হতো, তবে তাদের পরীক্ষা হয়তো কিছুটা হালকা হতো এবং তাদের মুসিবত সহজ হতো; কারণ যে ব্যক্তি ধর্মহীন, তার ক্ষেত্রে আশা করা যায় যে সে কোনো একদিন...

--------------------------------------------

১ সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১০।

২ সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ২৩।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১০৩)
على دين صحيح سليم، أما من كان على دين قد اختلط فيه الحق بالباطل، والهدى بالضلال، فعسير جداً أن يلتقي بالدين الصحيح. إنه أشبه بالمنافق الذي يلبس من الدين أكثر من ثوب، فهو مؤمن، وكافر وملحد، ومشرك في كل وقت وفي كل حال.. ولهذا جعل الله تعالى المنافقين في الدرك الأسفل من النار تطأ رءوسهم أقدام الكافرين، وأهل النار جميعا، كما يقول تعالى: {إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرا} 1.وكما أن لآفات الأبدان، وعلل الأجسام أساة دفعت بهم سنن الله الكونية لمعالجة هذه الآفات والاستشفاء من هذه العلل، فكذلك كان من السنن الكونية أن يقوم في الناس الهداة والمصلحون الذين يعالجون ما فسد من النفوس، ويعمرون ما خرب من القلوب، وهم الذين أشار إليهم الحق سبحانه. في قوله: {وَلَوْلا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَفَسَدَتِ الأَرْضُ وَلَكِنَّ اللَّهَ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْعَالَمِينَ} 2 وفي قوله تعالى: {الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الأُمُورِ} 3.ويقول الرسول - صلوات الله وسلامه عليه: " الدين النصيحة. الدين النصيحة. الدين النصيحة " 4 قالوا لمن يا رسول الله؟ قال: " لله ولرسوله، ولكتابه، ولأئمة المسلمين وعامتهم " 5 رواه البخاري ومسلم

--------------------------------------------

1 سورة النساء آية: 145.

2 سورة البقرة آية: 251.

3 سورة الحج آية: 41.

4 مسلم: الإيمان 55 ، والنسائي: البيعة 4197 ،4198 ، وأبو داود: الأدب 4944 ، وأحمد 4/102.

5 مسلم: الإيمان 55 ، والنسائي: البيعة 4197 ،4198 ، وأبو داود: الأدب 4944 ، وأحمد 4/102.

একটি সঠিক (صحيح) ও ত্রুটিমুক্ত দ্বীনের ওপর; পক্ষান্তরে যার দ্বীন এমন যাতে সত্যের সাথে মিথ্যার এবং হেদায়েতের সাথে গোমরাহীর মিশ্রণ ঘটেছে, তার জন্য সঠিক (صحيح) দ্বীনের সাথে সাক্ষাৎ হওয়া অত্যন্ত দুরুহ। সে সেই মুনাফিকের সদৃশ যে দ্বীনের একাধিক পোশাক পরিধান করে; ফলে সে একই সাথে মুমিন, কাফির, নাস্তিক ও মুশরিক—সর্বদা এবং সর্বাবস্থায়। এই কারণেই মহান আল্লাহ মুনাফিকদের জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে স্থান দিয়েছেন, যেখানে কাফির এবং সমস্ত জাহান্নামীদের পদতলে তাদের মস্তক দলিত হবে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে এবং আপনি তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবেন না} ১। আর যেমনভাবে শারীরিক ব্যাধি ও দেহের অসুস্থতার জন্য চিকিৎসকবৃন্দ রয়েছেন, যাদেরকে আল্লাহ তাআলার মহাজাগতিক নিয়মনীতি এই ব্যাধি নিরাময় ও আরোগ্যের জন্য নিয়োজিত করেছে, তেমনি মহাজাগতিক সুন্নাত বা নিয়মনীতির অন্তর্ভুক্ত হলো মানুষের মধ্যে এমন পথপ্রদর্শক ও সংস্কারকদের আবির্ভাব হওয়া যারা কলুষিত নফস বা আত্মার চিকিৎসা করেন এবং বিধ্বস্ত অন্তরসমূহকে আবাদ করেন। মহান আল্লাহ তাঁদের দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেন: {আর আল্লাহ যদি মানুষের একদলকে অন্যদলের মাধ্যমে প্রতিহত না করতেন, তবে পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে যেত; কিন্তু আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু} ২ এবং মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং সৎকাজের আদেশ দেয় ও মন্দ (منكر) কাজ হতে নিষেধ করে; আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধিকারে} ৩। রাসূলুল্লাহ —তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক— বলেছেন: "দ্বীন হলো নসিহত (একনিষ্ঠ কল্যাণকামিতা)। দ্বীন হলো নসিহত। দ্বীন হলো নসিহত" ৪। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, কার জন্য হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, মুসলিমদের ইমামদের জন্য এবং তাদের সাধারণ জনগণের জন্য" ৫। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ও মুসলিম।

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৪৫।

২ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫১।

৩ সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৪১।

৪ মুসলিম: ঈমান ৫৫, নাসায়ি: বাইআত ৪১৯৭, ৪১৯৮, আবু দাউদ: আদব ৪৯৪৪, আহমদ ৪/১০২।

৫ মুসলিম: ঈমান ৫৫, নাসায়ি: বাইআত ৪১৯৭, ৪১৯৮, আবু দাউদ: আদব ৪৯৪৪, আহমদ ৪/১০২।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১০৪)
فالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر معلم من معالم الأمة الإسلامية، وسمة من سماتها، فلا يخلو زمان، أو مكان في مجتمع المسلمين من آمرين بالمعروف، وناهين عن المنكر، وهذا ما يشير إليه قوله تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} 1.ويلاحظ في الآية الكريمة، أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر قد تقدما على الإيمان بالله، وفي ذلك إشارة إلى أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر فطرة مستقرة في الإنسان، إذا نزعت إليها النفس استقام طريقها إلى الإيمان بالله والتقت به من قريب.. فكانت أشبه بالأرض الطيبة المتعطشة إلى الماء فإذا أصابها الماء.. اهتزت وربت، وأنبتت من كل زوج كريم، وإذا هي تلك الأرض الخاشعة أي الضارعة إلى الله، الطالبة لحياتها من الماء كما يقول تعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنَّكَ تَرَى الأَرْضَ خَاشِعَةً فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ إِنَّ الَّذِي أَحْيَاهَا لَمُحْيِي الْمَوْتَى إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} 2.فإذا كان هذا الجماد يخشع ضارعا لله، يلتمس رحمته، إذا حل به ما يعطل وظيفته أفلا يتجه الإنسان إلى ربه خاشعا ضارعا، إذا تعطلت معطيات إنسانيته، وانحرفت عن سواء السبيل؟ ولكن ما أكثر الناس الذين تذهب معالم إنسانيتهم، وتتعطل معطيات الخير فيهم ثم لا يشعرون مع هذا إلى ما أصابهم، فأصبحوا دون عالم الجماد إحساسا وشعورا. وفي هؤلاء يقول الله تعالى: {ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ فَهِيَ كَالْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةً وَإِنَّ مِنَ الْحِجَارَةِ لَمَا يَتَفَجَّرُ مِنْهُ الأَنْهَارُ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَشَّقَّقُ فَيَخْرُجُ مِنْهُ الْمَاءُ وَإِنَّ مِنْهَا

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران آية: 110.

2 سورة فصلت آية: 39.
সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ হলো ইসলামি উম্মাহর অন্যতম নিদর্শন ও এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মুসলিম সমাজের এমন কোনো কাল বা স্থান নেই যা সৎ কাজের আদেশকারী এবং অসৎ কাজের নিষেধকারীদের থেকে শূন্য থাকে। আর মহান আল্লাহর এই বাণী সেই দিকেই ইঙ্গিত করে: "তোমরা হলে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে মানবজাতির জন্য; তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজের নিষেধ করো এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখো।" 1. এই বরকতময় আয়াতে লক্ষ্যণীয় যে, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধকে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার অগ্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এর মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ হলো মানুষের অন্তরে প্রোথিত এক সুদৃঢ় স্বভাবজাত প্রকৃতি। যখন মানুষের আত্মা এর প্রতি ধাবিত হয়, তখন আল্লাহর প্রতি ঈমানের পথ সুগম হয় এবং তা এর অতি সন্নিকটে পৌঁছে যায়। তখন একে পানির জন্য তৃষ্ণার্ত সেই উর্বর ভূমির মতো মনে হয়, যখন তাতে পানি পৌঁছে তখন তা আন্দোলিত ও বিকশিত হয় এবং সকল প্রকার নয়নাভিরাম জোড়া জোড়া উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। আর এটি সেই বিনীত ভূমি যা আল্লাহর কাছে বিনম্র হয়ে পানির মাধ্যমে নিজের জীবন প্রার্থনা করে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: "তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে একটি হলো এই যে, তুমি ভূমিকে দেখতে পাও শুষ্ক-ধূসর, অতঃপর যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়। নিশ্চয়ই যিনি একে জীবিত করেছেন, তিনিই মৃতদের জীবনদানকারী। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।" 2. সুতরাং এই জড় পদার্থও যদি আল্লাহর কাছে বিনীত ও অনুনয়কারী হয়ে তাঁর রহমত প্রার্থনা করে, যখন তার স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়; তবে মানুষ কেন বিনীত ও অনুনয়কারী হয়ে তার রবের অভিমুখী হবে না, যখন তার মানবিক গুণাবলি বাধাগ্রস্ত হয় এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়? কিন্তু মানুষের সংখ্যা কতই না বেশি যাদের মানবিক বৈশিষ্ট্যসমূহ বিলীন হয়ে যায় এবং তাদের ভেতরকার কল্যাণের উৎসসমূহ অকেজো হয়ে পড়ে, অথচ তারা তাদের ওপর আপতিত এই বিপর্যয় সম্পর্কে বিন্দুমাত্র অনুভব করে না। ফলে তারা অনুভূতি ও উপলব্ধির দিক থেকে জড় জগতের চেয়েও অধম হয়ে পড়ে। এদের সম্পর্কেই মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর এরপরেও তোমাদের অন্তরসমূহ কঠিন হয়ে গেল, যেন তা পাথর কিংবা তার চেয়েও বেশি কঠিন। আর পাথরের মধ্যে তো এমনও আছে যা থেকে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়, আর এমনও আছে যা বিদীর্ণ হয় এবং তা থেকে পানি নির্গত হয়, আর এমনও আছে যা..."

--------------------------------------------

1 সূরা আল ইমরান, আয়াত: 110.

2 সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: 39.
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১০৫)
لَمَا يَهْبِطُ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ} 1.وأهل الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر هم الماء الذي يمسك الحياة على الأحياء من الناس، ويبعث الحياة فيمن أوشكوا أن تزايلهم الحياة! ومن هنا كانت رسالة أهل الأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر مجددة لرسالات الأنبياء، وذلك بالتذكير بها، والحفاظ عليها، والوقوف في وجه المنحرفين عنها والمعتدين على حرماتها، ثم كان لهؤلاء الآمرين بالمعروف والناهين عن المنكر نصيبهم من تحمل ما حمل الأنبياء عليهم السلام على طريق دعوتهم إلى الله من سفه السفهاء وحمق الحمقى، والصبر على ما يصيبهم في أنفسهم وأموالهم.. فذلك هو قدر المجاهدين في سبيل الله، والداعين إلى الحق والخير. والله تعالى يقول: {لَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّى نَعْلَمَ الْمُجَاهِدِينَ مِنْكُمْ وَالصَّابِرِينَ وَنَبْلُوَ أَخْبَارَكُمْ} 2 ويقول سبحانه: {أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنْكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ} 3.ويقول جل شأنه: {أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لا يُفْتَنُونَ وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ}

--------------------------------------------

1 سورة البقرة آية: 74.

2 سورة محمد آية: 31.

3 سورة آل عمران آية: 142.
...যা আল্লাহর ভয়ে ধসে পড়ে।} ১. এবং সৎকাজ (معروف) আদেশদানকারী ও অসৎকাজ (منكر) নিষেধকারীগণ হলেন সেই পানির মতো যা জীবিত মানুষের জীবনকে টিকিয়ে রাখে এবং তাদের মাঝে প্রাণসঞ্চার করে যাদের জীবনপ্রদীপ প্রায় নিভে আসার উপক্রম হয়েছে! এখান থেকেই সৎকাজ (معروف) আদেশদানকারী ও অসৎকাজ (منكر) নিষেধকারীদের মিশন আম্বিয়ায়ে কেরামের রিসালাতের একটি নবায়ন হিসেবে গণ্য হয়; আর তা হলো রিসালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া, তা সংরক্ষণ করা এবং যারা এই পথ থেকে বিচ্যুত ও এর পবিত্রতা লঙ্ঘনকারী তাদের সামনে রুখে দাঁড়ানো। অতঃপর এই সৎকাজ আদেশদানকারী ও অসৎকাজ নিষেধকারী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে সেই সব বোঝা বহনের অংশ, যা নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে নির্বোধদের মূর্খতা ও অজ্ঞদের বোকামির মুখে সহ্য করেছিলেন এবং নিজেদের জান ও মালের ওপর আসা বিপদে ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। বস্তুত এটাই হলো আল্লাহর পথের মুজাহিদ এবং সত্য ও কল্যাণের দিকে আহ্বানকারীদের জন্য নির্ধারিত ফয়সালা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব যতক্ষণ না আমি তোমাদের মধ্য হতে মুজাহিদ ও ধৈর্যশীলদের চিনে নিই এবং আমি তোমাদের সংবাদসমূহ (أخبار) যাচাই করি।} ২ এবং তিনি আরও বলেন: {নাকি তোমরা ভেবেছ যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ আল্লাহ এখনো তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং কারা ধৈর্যশীল তা প্রকাশ করেননি?} ৩ আর তিনি মহান সত্তা বলেন: {মানুষ কি মনে করে যে, তারা "আমরা ঈমান এনেছি" বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না? অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদের পরীক্ষা করেছি। সুতরাং আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী (صادق) এবং অবশ্যই তিনি জেনে নেবেন কারা মিথ্যাবাদী (كاذب)।}

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৭৪।

২. সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ৩১।

৩. সূরা আল ইমরান, আয়াত: ১৪২।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১০৬)
1.ويقول تبارك اسمه: {أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُمْ مَثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ} 2.إنه ابتلاء، وامتحان.. وبهذا الابتلاء وبذلك الامتحان تنكشف معادن الناس ويعرف مكان الإيمان منهم، وإلا لكانوا على حال سواء.

لولا المشقة ساد الناس كلهم … الجود يفقر، والإقدام قتال

وفي هذا المقام من الابتلاء، تختلف بأهل الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر المواقف، وتتمايز المنازل والدرجات حسب ما في قلوبهم من إيمان بما يدعون إليه، وبما عندهم من رصيد العزم والصبر على المكاره. فهم -وإن كانوا جميعا على طريق الجهاد، وفي مواقع الابتلاء- ليسوا على سواء في الصبر على الشدائد، وتحمل البلاء.. بل {هُمْ دَرَجَاتٌ عِنْدَ اللَّهِ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ} 3.فأكثر دعاة الخير بلاء وأوفرهم نصيبا من الضر والأذى في سبيل دعوته، هو من كان أوثقهم بالله إيمانا، وأقربهم إلى الله منزلة. فعن سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه أنه قال: " قلت يا رسول الله. أي الناس أشد بلاء؟ فقال صلى الله عليه وسلم: الأنبياء ثم الأمثل فالأمثل. يبتلى الرجل حسب دينه، فإن كان في دينه صلبا، اشتد بلاؤه، وإن كان في دينه رقة هون عليه.. فما يبرح البلاء بالعبد حتى يتركه يمشي على الأرض، وما عليه خطيئة " 4 أخرجه الترمذي، وقال حديث حسن.

--------------------------------------------

1 سورة العنكبوت آية: 2-3.

2 سورة البقرة آية: 214.

3 سورة آل عمران آية: 163.

4 الترمذي: الزهد 2398 ، وابن ماجه: الفتن 4023 ، وأحمد 1/172 ،1/173 ،1/180 ،1/185، والدارمي: الرقاق 2783.
১. মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র নামে ইরশাদ করেন: {তোমরা কি মনে করেছ যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ এখনো তোমাদের নিকট তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো অবস্থা আসেনি? তাদেরকে স্পর্শ করেছিল অভাব ও দুঃখ-কষ্ট এবং তারা প্রকম্পিত হয়েছিল, এমনকি রসূল ও তাঁর সাথে ঈমানদারগণ বলে উঠেছিল, 'আল্লাহর সাহায্য কবে আসবে?' জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।} ২. এটি একটি পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই। আর এই পরীক্ষার মাধ্যমেই মানুষের আসল পরিচয় প্রকাশ পায় এবং তাদের মধ্যে ঈমানের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়; অন্যথায় তারা সকলে সমান অবস্থায় থাকত।

কষ্ট সহ্য করার ব্যাপারটি না থাকলে সকল মানুষই সর্দার হয়ে যেত … দানশীলতা রিক্ত করে দেয় আর সাহসিকতা হলো লড়াই বা আত্মাহুতি।

পরীক্ষার এই পর্যায়ে এসে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধকারীদের অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাদের অন্তরে তারা যে আদর্শের দিকে আহ্বান করছে তার প্রতি বিশ্বাস এবং তাদের কাছে থাকা বিপদাপদে দৃঢ়সংকল্প ও ধৈর্যের পুঁজি অনুযায়ী তাদের মর্যাদা ও স্তরসমূহ পৃথক হয়ে থাকে। যদিও তারা সকলেই জিহাদের পথে এবং পরীক্ষার ময়দানে রয়েছেন, তবুও প্রতিকূলতায় ধৈর্য ধারণ এবং মুসিবত সহ্য করার ক্ষেত্রে তারা সমান নন। বরং {আল্লাহর নিকট তাদের বিভিন্ন স্তর রয়েছে এবং তারা যা করে আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।} ৩. সুতরাং কল্যাণের দিকে আহ্বানকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষায় পতিত হন এবং নিজ দাওয়াতের পথে সবচেয়ে বেশি দুঃখ ও কষ্টের শিকার হন সেই ব্যক্তি, যিনি আল্লাহর প্রতি ঈমানে সবচেয়ে বেশি সুদৃঢ় এবং মর্যাদায় আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী। সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে কার পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন হয়? তিনি (সা.) বললেন: নবীগণের, এরপর যারা শ্রেষ্ঠ তাদের, এরপর যারা শ্রেষ্ঠ তাদের। মানুষকে তার দ্বীন অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। যদি সে তার দ্বীনে কঠোর ও অবিচল থাকে, তবে তার পরীক্ষা কঠিন হয়। আর যদি তার দ্বীনে শিথিলতা থাকে, তবে তার পরীক্ষা সহজ করা হয়। এভাবে বান্দার ওপর পরীক্ষা চলতে থাকে যতক্ষণ না সে জমিনে এমনভাবে চলাফেরা করে যে তার কোনো গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না।" ৪. এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আনকাবুত আয়াত: ২-৩।

২. সূরা আল-বাকারাহ আয়াত: ২১৪।

৩. সূরা আল ইমরান আয়াত: ১৬৩।

৪. তিরমিজি: যুহদ ২৩৯৮, ইবনে মাজাহ: ফিতান ৪০২৩, আহমাদ ১/১৭২, ১/১৭৩, ১/১৮০, ১/১৮৫, দারেমি: রিকাক ২৭৮৩।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১০৭)
وإذا كان الصدر الأول للإسلام، قد سجل صحفا خالدة رائعة للبطولة العزيزة النادرة، في مختلف ميادين الجهاد، من داخل النفس وخارجها، وما احتمل هؤلاء الأبطال المجاهدون من شدائد، وما ركبوا من أهوال في سبيل الحق الذي آمنوا به وارتضوه رفيق حياتهم، فبذلوا النفوس بذل السماح في غبطة ورضى، وفي هؤلاء الأبطال المجاهدين الصادقين يقول الله تعالى: {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلاً لِيَجْزِيَ اللَّهُ الصَّادِقِينَ بِصِدْقِهِمْ} 1.وهم الذين أشار إليهم وإلى من أخذ الطريق معهم سبحانه وتعالى في قوله الكريم: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْداً عَلَيْهِ حَقّاً فِي التَّوْرَاةِ وَالأِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} 2.وفي قوله تعالى: {وَكَأَيِّنْ مِنْ نَبِيٍّ قَاتَلَ مَعَهُ رِبِّيُّونَ كَثِيرٌ فَمَا وَهَنُوا لِمَا أَصَابَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَا ضَعُفُوا وَمَا اسْتَكَانُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ وَمَا كَانَ قَوْلَهُمْ إِلَاّ أَنْ قَالُوا رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ فَآتَاهُمُ اللَّهُ ثَوَابَ الدُّنْيَا وَحُسْنَ ثَوَابِ الْآخِرَةِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ}

--------------------------------------------

1 سورة الأحزاب، آية: 23-24.

2 سورة التوبة آية: 111.
ইসলামের প্রাথমিক যুগ যদি নফস ও বাহ্যিক জিহাদের বিভিন্ন ময়দানে বিরল ও মহিমান্বিত বীরত্বের এমন কিছু অমর অধ্যায় রচনা করে থাকে, এবং এই মুজাহিদ বীরগণ যে সকল প্রতিকূলতা সহ্য করেছেন ও যে সত্যের প্রতি তারা ঈমান এনেছিলেন এবং যাকে জীবনের পথসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, তার পথে যে সকল ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন, ফলে তারা অত্যন্ত উদারতার সাথে পরম তৃপ্তি ও সন্তুষ্টিতে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন; আর এই সকল সত্যবাদী (صادقين) মুজাহিদ বীরদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কেউ কেউ নিজের মানত পূর্ণ করেছে, আর কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন করেনি। যাতে আল্লাহ সত্যবাদীদের (الصادقين) তাদের সত্যবাদিতার কারণে প্রতিদান দেন...} ১। তাঁরাই সেই সকল ব্যক্তি যাদের সম্পর্কে এবং যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করেছেন তাঁদের সম্পর্কে সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর পবিত্র বাণীতে ইঙ্গিত করেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, ফলে তারা হত্যা করে ও নিজেরা নিহত হয়। এটি তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে আল্লাহর ওপর একটি সত্য প্রতিশ্রুতি। আর আল্লাহর চেয়ে অধিক প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী আর কে আছে? সুতরাং তোমরা তোমাদের এই সওদার জন্য আনন্দিত হও যা তোমরা তাঁর সাথে সম্পাদন করেছ। আর এটিই হলো মহাসাফল্য} ২। এবং মহান আল্লাহর এই বাণীতেও: {আর কত নবী ছিলেন যাদের সাথে বহু আল্লাহওয়ালা লড়াই করেছেন। আল্লাহর পথে তাদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল তাতে তারা হীনবল হয়নি, দুর্বল হয়নি এবং তারা নতি স্বীকার করেনি। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন। তাদের কথা কেবল এটাই ছিল যে, তারা বলেছিল: ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের গুনাহসমূহ এবং আমাদের কাজে আমাদের সীমালঙ্ঘনগুলো ক্ষমা করে দিন, আমাদের কদমসমূহ দৃঢ় রাখুন এবং কাফের সম্প্রদায়ের ওপর আমাদের সাহায্য করুন।’ অতঃপর আল্লাহ তাদের দুনিয়ার সওয়াব এবং আখেরাতের উত্তম সওয়াব দান করলেন। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।}

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২৩-২৪।

২ সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১১১।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১০৮)
1.نقول: إذا كان الصدر الأول للإسلام قد قدم تلك النماذج الإنسانية العظيمة الخالدة في الثبات على الحق، والاستمساك به، والذياد عن حرماته، والتفدية له بالنفس والأهل والمال - فإن مسيرة الأمة الإسلامية من مطلع الدعوة إلى اليوم لم يخل ميدانها أبدا من الأبطال المؤمنين المجاهدين في سبيل الله، العاملين على التمكين لدين الله في الأرض، الذائدين عن حرماته، مستعذبين في ذلك العذاب الدنيوي من أجل إعلاء كلمة الله وإعزاز دينه، والقضاء على الآفات التي تتدسس إلى كيان الأمة الإسلامية، من الأهواء والبدع التي يسوقها إليها المضللون والمبتدعون، لتطمس معالم الطريق إلى الله ولتطفئ جذوة الإيمان المتقدة في صدور المؤمنين، بما يهب عليها من أعاصير البدع، وعواصف الفتن، وإذا المؤمنون في ليل بهيم، لا يعرفون إلى أي متجه يتجهون! ولكن الله تعالى ذو فضل على المؤمنين، حيث يهيئ لهم من بينهم من يقوم لكشف هذه الغواشي عنهم، ويستنقذ سفينتهم من أن تغرق ويغرقوا معها في متلاطم هذه الأمواج العاتية، وإذ هم على مرفأ الأمن والسلامة. {يُرِيدُونَ أَنْ يُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَاّ أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ} 2.وها هي ذي صحف التاريخ الإسلامي، حتى تلك الصحف التي غلب عليها سواد الفتن التي تلاطمت أمواجها في محيط العالم الإسلامي - هذه الصحف لم تخل أية صفحة منها من سطر أو سطور، مشرقة لداعية أو دعاة من أبطال الإسلام قاموا في الناس مقام الأنبياء في أقوامهم الذين تغشتهم غواشي الضلال، وانعقدت فوقهم ظلمات الليل الطويل، حتى كادوا يغرقون في أوحال الرجس والرذيلة - فدعوا فيهم بدعوة الله ورفعوا لهم منارات الطريق إلى الله. {لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَى مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ} 3.

--------------------------------------------

1 سورة آل آية: 146-147-148.

2 سورة آية: 32-33.

3 سورة الأنفال آية: 42.
১.আমরা বলি: ইসলামের প্রথম যুগ যদি সত্যের ওপর অবিচল থাকা, তা আঁকড়ে ধরা, এর পবিত্রতা রক্ষা করা এবং জান-মাল ও পরিবার দিয়ে তার জন্য আত্মোৎসর্গ করার ক্ষেত্রে সেই মহান ও চিরঞ্জীব মানবিক আদর্শসমূহ উপস্থাপন করে থাকে - তবে দাওয়াতের সূচনা থেকে আজ অবধি মুসলিম উম্মাহর পথচলায় কোনো ময়দানই আল্লাহর পথে জিহাদকারী সেই বীর মুমিনদের থেকে কখনো শূন্য থাকেনি, যারা যমীনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন, এর পবিত্রতা রক্ষা করেছেন এবং আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত রাখা ও তাঁর দ্বীনকে সম্মানিত করার জন্য পার্থিব কষ্টসমূহকে হাসিমুখে বরণ করে নিয়েছেন। তারা সেই সব আপদ বিনাশ করতে সচেষ্ট হয়েছেন যা মুসলিম উম্মাহর সত্তার ভেতর অলক্ষ্যে অনুপ্রবিষ্ট হয় - যেমন কুপ্রবৃত্তি (أهواء) ও বিদআত (بدعة) যা পথভ্রষ্ট ও বিদআতী (مبتدع) সম্প্রদায় উম্মাহর দিকে ঠেলে দেয়, যেন আল্লাহর পথের নিশানা মুছে ফেলা যায় এবং মুমিনদের অন্তরে প্রজ্জ্বলিত ঈমানের শিখা নিভিয়ে দেওয়া যায় সেই বিদআতের (بدعة) ঘূর্ণিঝড় এবং ফিতনার (فتنة) ঝোড়ো হাওয়ার মাধ্যমে। তখন মুমিনগণ এমন এক নিবিড় অন্ধকারাচ্ছন্ন রজনীতে নিপতিত হন যে তারা জানেন না কোন দিকে অগ্রসর হতে হবে! কিন্তু আল্লাহ তাআলা মুমিনদের প্রতি পরম অনুগ্রহশীল, তাই তিনি তাদের মধ্য থেকেই এমন ব্যক্তিদের প্রস্তুত করেন যারা তাদের থেকে এই অস্পষ্টতার আবরণ উন্মোচন করেন এবং তাদের জীবনতরীকে উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করেন এবং তাদের নিরাপত্তা ও শান্তির বন্দরে পৌঁছে দেন। {তারা তাদের মুখের ফুঁ দিয়ে আল্লাহর নূর নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূর পূর্ণ করা ছাড়া আর কিছু চান না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যেন একে সমস্ত দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।} ২.এই তো ইসলামী ইতিহাসের পাতাসমূহ, এমনকি সেই সব পাতাও যা ফিতনার (فتنة) কালিমায় আচ্ছন্ন ছিল, যার ঢেউ ইসলামী বিশ্বের সমুদ্রে আছড়ে পড়েছিল - এই ইতিহাসের কোনো পৃষ্ঠাই ইসলামের বীর দাঈদের উজ্জ্বল এক বা একাধিক পংক্তি থেকে খালি নয়, যারা মানুষের মাঝে নবীদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সেই সব কওমের মাঝে যারা পথভ্রষ্টতার (ضلالة) চাদরে আবৃত ছিল এবং দীর্ঘ রাতের অন্ধকার যাদের ঘিরে ধরেছিল, এমনকি তারা অপবিত্রতা ও নীচতার পঙ্কিলতায় ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল - অতঃপর তারা তাদের মাঝে আল্লাহর দাওয়াত নিয়ে উপস্থিত হলেন এবং তাদের সামনে আল্লাহর পথের আলোকবর্তিকা তুলে ধরলেন। {যাতে যে ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে।} ৩.

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ইমরান আয়াত: ১৪৬-১৪৭-১৪৮।

২ সূরা আয়াত: ৩২-৩৩।

৩ সূরা আল-আনফাল আয়াত: ৪২।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১০৯)
وقد أقام الله الحجة على عباده بهؤلاء الدعاة إلى الله مؤكدا بها الحجة بما بعث من رسول، وبما أنزل معه من كتاب: {لِئَلَاّ يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} 1.ونذكر هنا في هذا المقام -بعد عصر الصحابة والتابعين- الإمام أحمد بن حنبل رضي الله عنه، وموقفه الرائع المجيد، وجهاده الصادق المبرور، من فتنة القول بخلق القرآن. وقد ظهرت هذه الفتنة في خلافة المأمون، الخليفة العباسي في أوائل القرن الثالث الهجري، حيث دعا المأمون بتلك البدعة، بأن القرآن مخلوق، ودعا العلماء إلى القول بها وحمل المسلمين عليها.. فكانت فتنة عمياء، دخل فيها كثير من علماء الدولة، الذين ناصروا الخليفة في القول بها، على حين أنكرها وتصدى لدفعها كثير من العلماء أول الأمر، ثم رجعوا عن موقفهم هذا واحدا واحدا، تحت سطوة الخليفة.. وبقى أحمد بن حنبل رضي الله عنه وحده في مواجهة الخليفة المأمون، ومن جاء بعده من الخلفاء حتى خلافة المتوكل سنة 232 هـ حيث ماتت تلك الفتنة. ولقد لقي أحمد بن حنبل في سبيل موقفه هذا ألوانا من البلاء في السجن، والضرب بالسياط على الملأ، وهو صامد صمود الجبل، حتى مات متأثرا بلهيب السياط التي مزقت جسده، مضافا إلى سجل الشهداء المجاهدين في سبيل الله، فرضى الله تعالى عنه وأرضاه. وأنه لولا موقف هذا المجاهد العظيم وصبره على البلاء لظلت هذه الفتنة تدور في تلك الأمة الإسلامية إلى اليوم، وإلى ما بعد اليوم، وليعلم الله ما كان يتولد منها من فتن، وما يتهدد الأمة الإسلامية منها من بلاء! كما نذكر هنا أيضا الإمام الليث بن سعد، والعز بن عبد السلام، وابن تيمية وتلميذه ابن القيم، وما كان لهم وللمجاهدين من مواقف رائعة في وجه الفتن المتدفقة على المسلمين من السلاطين والأمراء، ومن انضوى تحت لوائهم من علماء السوء الذين

--------------------------------------------

1 سورة النساء آية: 165.
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর আল্লাহর পথে এই সকল আহ্বানকারীদের মাধ্যমে তাঁর প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি যে রসুল পাঠিয়েছেন এবং তাঁর সাথে যে কিতাব নাজিল করেছেন, তার মাধ্যমে সেই প্রমাণকে সুদৃঢ় করেছেন: {যাতে রসুলগণের পরে আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত (حجة) না থাকে।} ১। আমরা এখানে এই পর্যায়ে—সাহাবী (الصحابة) এবং তাবেয়ীদের (التابعين) যুগের পরে—ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু আনহু), কুরআন সৃষ্টি হওয়ার ভ্রান্ত মতবাদের ফিতনার মোকাবিলায় তাঁর গৌরবময় অবস্থান এবং তাঁর সত্যনিষ্ঠ ও পুণ্যময় জিহাদের কথা উল্লেখ করছি। এই ফিতনাটি হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর প্রথম দিকে আব্বাসী খলিফা মামুনের খিলাফতকালে আত্মপ্রকাশ করে। মামুন এই বিদআতের (بدعة) প্রতি আহ্বান জানান যে কুরআন সৃষ্ট (مخلوق) এবং তিনি আলেমদের এই কথা বলতে বাধ্য করেন ও সাধারণ মুসলমানদের ওপর তা চাপিয়ে দেন। এটি ছিল এক ভয়াবহ ফিতনা, যাতে প্রশাসনের অনেক আলেম জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং খলিফাকে এই বিষয়ে সমর্থন দিয়েছিলেন। অথচ শুরুতে অনেক আলেম একে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে খলিফার ক্ষমতার দাপটে তারা একে একে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেন। খলিফা মামুন এবং তাঁর পরবর্তী খলিফাদের মোকাবিলায় ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একাই অটল থাকেন, অবশেষে ২৩২ হিজরিতে খলিফা মুতাওয়াক্কিলের শাসনামলে সেই ফিতনার অবসান ঘটে। আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে কারাবাস ও জনসমক্ষে চাবুকের আঘাতের মতো নানা প্রকার পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি পাহাড়ের মতো অবিচল ছিলেন, এমনকি চাবুকের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মৃত্যুর মুখেও তিনি অটল থেকে আল্লাহর পথে জিহাদকারী শহীদদের তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন; আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন। যদি এই মহান মুজাহিদের এমন দৃঢ় অবস্থান এবং দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য না থাকতো, তবে এই উম্মাহর মধ্যে ফিতনা আজ অবধি এমনকি ভবিষ্যতেও বজায় থাকতো। আর এর ফলে যে আর কত ফিতনা জন্ম নিত এবং মুসলিম উম্মাহ কত বিপদের সম্মুখীন হতো তা আল্লাহই ভালো জানেন! আমরা এখানে আরও উল্লেখ করতে পারি ইমাম লাইস ইবনে সাদ, ইযযুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম, ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কায়্যিমকে; সুলতান ও আমির এবং তাদের অনুসারী অসৎ আলেমদের (علماء السوء) পক্ষ থেকে মুসলমানদের ওপর ধেয়ে আসা বিভিন্ন ফিতনার বিরুদ্ধে তাদের ও অন্যান্য মুজাহিদদের গৌরবময় অবস্থানের কথা।

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৬৫।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১১০)
اشتروا الحياة الدنيا بالآخرة حيث زينوا للحكام المنكرات، وأحلوا لهم الحرام، فباءوا بأخسر صفقة، وكانوا من الذين قال الله تعالى فيهم: {أُولَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلالَةَ بِالْهُدَى فَمَا رَبِحَتْ تِجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ} 1.ولا ننسى في هذا المقام، مقام الجهاد في سبيل الله، والنصح لله، ولرسوله ولكتابه وللمؤمنين - ما كان للأئمة الأربعة؛ أبي حنيفة، والشافعي، وأحمد بن حنبل، ومالك بن أنس، وتلاميذهم، من جهاد مبرور في حفظ الشريعة وحمايتها من كل دخيل يدخل عليها من البدع، والأهواء والتأويلات المفسدة لكتاب الله وسنة رسوله.. فعلى طريق هؤلاء الأئمة سار عامة المسلمين على هدى وبصيرة من دين الله، وأحكام شريعته، كما لا ننسى في هذا المقام أيضا مقام هذا الجهاد لحماية دين الله ما قام به أئمة الحديث من تدوين السنة النبوية الشريفة، وتحقيق الصحيح منها، وعزل الموضوعات عنها، فرضوان الله عليهم أجمعين. فإذا نحن انتقلنا إلى عصرنا الحاضر، وما لأئمة الجهاد فيه من بلاء عظيم وجهاد صادق في الذود عن دين الله والنصح لله ولرسوله ولكتابه وللمؤمنين- وجدنا لهذا العصر مقدمات مباركة، من جهاد المجاهدين الصادقين الذين لا تزال أنفاسهم الطاهرة المباركة تعطر أجواء الحياة من حولنا، وتمد الأجيال المعاصرة بأمداد طيبة من الزاد الذي يقوي عزائم المؤمنين المجاهدين، ذوى الغيرة على دين الله من أن يتصدع بنيانه، أو تتداعى أركانه. وهكذا تتصل حلقات المجاهدين بسلسلة طويلة متينة من أئمة الجهاد الذين يضمهم هذا الركب المبارك من مطلع الدعوة إلى اليوم وإلى أن يرث الله الأرض ومن عليها. ولاشك أن على رأس عصرنا هذا من أئمة المجاهدين الإمام الشيخ محمد بن عبد الوهاب الذي طلع على الأمة الإسلامية بعد نوم طويل ثقيل، وفي وطأة كابوس كئيب، تعوي فيه ذئاب البدع والضلالات، فصرخ من أعماقه تلك الصرخة المدوية

--------------------------------------------

1 سورة البقرة آية: 16.
তারা আখেরাতের বিনিময়ে পার্থিব জীবনকে ক্রয় করেছে, যেখানে তারা শাসকদের জন্য অপছন্দনীয় বিষয়সমূহকে (منكرات) সুশোভিত করেছে এবং তাদের জন্য হারামকে হালাল সাব্যস্ত করেছে। ফলে তারা নিকৃষ্টতম ব্যবসায় লিপ্ত হয়েছে এবং তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারাই সে সব লোক যারা হেদায়েতের বিনিময়ে পথভ্রষ্টতাকে ক্রয় করেছে, সুতরাং তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি এবং তারা সুপথপ্রাপ্ত ছিল না} ১। আল্লাহর পথে জিহাদ এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল, তাঁর কিতাব ও মুমিনদের প্রতি নসিহতের এই সুউচ্চ স্থানে আমরা চার ইমাম—আবু হানিফা, শাফিয়ী, আহমদ ইবনে হাম্বল ও মালিক ইবনে আনাস—এবং তাঁদের ছাত্রদের সেই কবুলযোগ্য জিহাদের কথা ভুলতে পারি না, যা তাঁরা শরিয়তকে সংরক্ষণ এবং শরিয়তে অনুপ্রবেশকারী সকল বিদআত (بدع), প্রবৃত্তি ও আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহকে কলুষিতকারী ভ্রান্ত ব্যাখ্যা থেকে সুরক্ষার মাধ্যমে আঞ্জাম দিয়েছেন। এই ইমামগণের পথেই সাধারণ মুসলিমগণ আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর শরিয়তের বিধানসমূহের সঠিক নির্দেশনা ও অন্তর্দৃষ্টির ওপর পরিচালিত হয়েছেন। আল্লাহর দ্বীন রক্ষার এই জিহাদের ক্ষেত্রে আমরা আরও ভুলতে পারি না হাদিসের ইমামগণের সেই অবদান, যা তাঁরা সুন্নাহে নববি সংকলন, তার মধ্য থেকে সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ যাচাই এবং জাল (موضوعات) বিষয়সমূহকে তা থেকে পৃথক করার মাধ্যমে আঞ্জাম দিয়েছেন; আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন। এখন যদি আমরা আমাদের বর্তমান যুগে পদার্পণ করি এবং এতে জিহাদের ইমামদের যে মহান ত্যাগ ও সত্যনিষ্ঠ জিহাদ রয়েছে আল্লাহর দ্বীন রক্ষা এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল, তাঁর কিতাব ও মুমিনদের প্রতি নসিহতের ক্ষেত্রে—তবে আমরা এই যুগের এক বরকতময় সূচনা দেখতে পাই। এটি সেই সব সত্যনিষ্ঠ মুজাহিদদের জিহাদ, যাঁদের পবিত্র ও বরকতময় নিঃশ্বাস আজও আমাদের চারপাশের জীবনকে সুবাসিত করছে এবং বর্তমান প্রজন্মকে সেই পবিত্র পাথেয় সরবরাহ করছে যা ওই সকল মুমিন মুজাহিদদের সংকল্পকে সুদৃঢ় করে, যাঁদের অন্তরে আল্লাহর দ্বীনের প্রতি এমন প্রবল আত্মমর্যাদাবোধ রয়েছে যে তাঁরা এর ইমারতে কোনো ফাটল ধরতে বা এর স্তম্ভসমূহ ধসে পড়তে দিতে নারাজ। এভাবেই মুজাহিদদের এই ধারা জিহাদের ইমামদের এক দীর্ঘ ও সুদৃঢ় শিকলের সাথে যুক্ত হয়েছে, যাঁরা দাওয়াতের সূচনা থেকে আজ অবধি এবং আল্লাহ পৃথিবী ও তার অধিবাসীদের উত্তরাধিকারী হওয়া পর্যন্ত এই বরকতময় কাফেলায় শামিল রয়েছেন। নিঃসন্দেহে আমাদের এই যুগে জিহাদের ইমামদের অগ্রভাগে রয়েছেন ইমাম শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, যিনি মুসলিম উম্মাহর এক দীর্ঘ ও গভীর নিদ্রার পর এবং এক বিষাদময় দুঃস্বপ্নের চরম যাতনার সময়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন, যখন বিদআত (بدع) ও গোমরাহির নেকড়েরা আর্তনাদ করছিল। তখন তিনি তাঁর অন্তরের গভীর থেকে সেই সুউচ্চ আহ্বান ধ্বনিত করেছিলেন

--------------------------------------------

১ সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১১১)
التي أيقظت كل نائم ونبهت كل غافل، وأزعجت المتسلطين على الناس بسلطان الدنيا أو من جهة الدين، فكان مما حملت صرخته تلك: أيها المسلمون، استيقظوا فإن الهلاك لكم بمرصد، إن لم تعودوا إلى دينكم الذي هجرتموه فهجركم، وإنكم إن لم تسرعوا، وتمسكوا به، وتشدوا أيديكم عليه، أفلت منكم، وذهب إلى غيركم: {وَإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْماً غَيْرَكُمْ ثُمَّ لا يَكُونُوا أَمْثَالَكُمْ} 1.وقد كان لهذه الصرخة الصادقة المدوية بليل آثارها العظيمة المباركة، فهب لها النيام، واستيقظ الغافلون وسرعان ما امتلأ ميدان الجهاد بالمجاهدين في كل قطر من أقطار الإسلام. فها هو ذا جمال الدين الأفغاني، ومحمد عبده، وتلاميذهما، وأشياعهما في مصر.. والسنوسي في أقطار المغرب، والشوكاني باليمن، والسيد أحمد خان بالهند، والمهدي بالسودان، وعبد الرحمن الكواكبي بالشام. فهؤلاء وتلاميذهم وأشياعهم، كانوا ثورات إصلاحية لدنيا المسلمين ودينهم جميعا، وذلك بإصلاح ماديات المسلمين ومعنوياتهم، حتى يأخذوا مكانهم عاليا شامخا مضيئا بين الأمم. فإذا أصلح المسلمون موقفهم من دينهم، واستظلوا بظل مبادئه وأحكامه، صلحت دنياهم، وعز مكانهم بين الناس.. ولن يكون إصلاح دين المسلمين إلا بالرجوع إلى كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، ومجانبة كل ما دخل على دين الله من بدع غطت وجه الدين وحجبت خيره عن أولئك الذين لم يعزلوا تلك البدع عنه. وإذا كان الشيخ محمد بن عبد الوهاب رضي الله عنه هو باعث تلك الحركة الإصلاحية المعاصرة، والداعية إلى الاستمساك بدين الله، واتخاذ كتابه وسنة رسوله دستورا قائما عليهم، وسلطانا حكما بينهم في أفرادهم وجماعاتهم وشعوبهم -إذا كان ذلك كذلك- وهو الحق المشهود- فإن من حق هذا المصلح العظيم أن يحتفى به، وأن تعرض صفحات من جهاده تكشف عن بلائه وصدق عزيمته، وصبره على المكاره، احتسابا لله،

--------------------------------------------

1 سورة محمد آية: 38.
যা প্রতিটি সুপ্তকে জাগ্রত করেছে এবং প্রতিটি অসতর্ক (غافل) ব্যক্তিকে সচেতন করেছে, আর যারা জাগতিক ক্ষমতা বা ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল, তাদের বিচলিত করেছে। তাঁর সেই বলিষ্ঠ আহ্বানের মর্মবাণী ছিল: "হে মুসলিমগণ! জাগ্রত হও, কারণ ধ্বংস তোমাদের প্রতীক্ষায় ওঁৎ পেতে আছে। যদি তোমরা তোমাদের সেই দ্বীনের দিকে ফিরে না আসো যা তোমরা বর্জন করেছ—ফলে সেও তোমাদের ত্যাগ করেছে—এবং যদি তোমরা দ্রুত অগ্রসর না হও, একে আঁকড়ে না ধরো এবং এর ওপর সুদৃঢ় না থাকো, তবে তা তোমাদের হাত থেকে ফস্কে যাবে এবং অন্যদের কাছে চলে যাবে: {আর যদি তোমরা বিমুখ হও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতিকে নিয়ে আসবেন, অতঃপর তারা তোমাদের মতো হবে না} ১।" গভীর রজনীতে ধ্বনিত এই সত্যনিষ্ঠ ও জোরালো আহ্বানের এক সুমহান ও বরকতময় প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছিল। ফলে সুপ্তরা জেগে উঠেছিল এবং অসতর্করা (غافل) সচেতন হয়েছিল। অচিরেই ইসলামের প্রতিটি জনপদে জিহাদের ময়দান মুজাহিদদের দ্বারা পূর্ণ হয়ে উঠল। এই তো মিশরে জামালুদ্দীন আফগানী, মুহাম্মদ আবদুহ এবং তাঁদের ছাত্র ও অনুসারীবৃন্দ... মাগরেব অঞ্চলে আল-সানুসী, ইয়েমেনে আল-শাওকানী, ভারতে সাইয়্যেদ আহমদ খান, সুদানে আল-মাহদী এবং শামে আবদুর রহমান আল-কাওয়াকিবী। এই ব্যক্তিগণ এবং তাঁদের ছাত্র ও অনুসারীরা মুসলিমদের পার্থিব জীবন ও দ্বীন—উভয় ক্ষেত্রেই এক সংস্কারমূলক বিপ্লব স্বরূপ ছিলেন। আর তা ছিল মুসলিমদের বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক অবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে, যাতে তারা জাতিসমূহের মাঝে এক সুউচ্চ, সুমহান ও সমুজ্জ্বল স্থান অধিকার করতে পারে। মুসলিমরা যদি দ্বীনের ব্যাপারে তাদের অবস্থান সংশোধন করে এবং এর মূলনীতি ও বিধানের ছায়াতলে আশ্রয় নেয়, তবে তাদের পার্থিব জীবন সুন্দর হবে এবং মানুষের মাঝে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। আর মুসলিমদের দ্বীনের সংস্কার ততক্ষণ সম্ভব নয়, যতক্ষণ না আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা হবে এবং দ্বীনের ভেতর অনুপ্রবেশকারী প্রতিটি বিদআত (بدع) বর্জন করা হবে—যা দ্বীনের প্রকৃত রূপকে আবৃত করে ফেলেছে এবং যারা সেসব বিদআত (بدع) দূর করেনি তাদের নিকট দ্বীনের কল্যাণকে রুদ্ধ করে রেখেছে। যদি শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই সমকালীন সংস্কার আন্দোলনের উদ্যোক্তা হন এবং আল্লাহর দ্বীনকে আঁকড়ে ধরার এবং তাঁর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহকে ব্যক্তি, সমষ্টি ও জাতির মাঝে এক কার্যকর সংবিধান ও বিচারক হিসেবে গ্রহণের আহ্বানকারী হন—যদি বিষয়টি এমনই হয়, আর এটাই দৃশ্যমান সত্য—তবে এই মহান সংস্কারক অবশ্যই এই পাওনা রাখেন যে, তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হবে এবং তাঁর জিহাদের এমন সব দিক উন্মোচন করা হবে যা আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তাঁর ত্যাগ, সুদৃঢ় সংকল্প এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে ধৈর্যের পরিচয় দেয়।

--------------------------------------------

১. সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ৩৮।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১১২)
وابتغاء لمثوبته ورضوانه، بالنصح للمسلمين، وردهم من متاهات الطرق التي شردوا فيها عن دين الله، حتى ضعف شأنهم ووقعوا فريسة ليد أعداء الله وأعداء دين الله وأعداء المؤمنين بالله. فحق الشيخ محمد بن عبد الوهاب معقود في عنق كل مسلم حريص على الخير لنفسه وللمسلمين، أن يدرس سيرة هذا البطل المجاهد، وأن يتعرف إلى أسلوب دعوته، ومضامينها، وأن يشهد صورا من جهاده وبلائه وصبره، وأن يرى كيد الشيطان وأولياء الشيطان لدعوة الحق، وللداعين بها، ثم ليعرف آخر الأمر أن النصر للحق وأن العاقبة للمتقين، ثم ليكون هذا أسوة للمتأسين وطريقا للمجاهدين: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيهِمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الآخِرَ وَمَنْ يَتَوَلَّ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ} 1. وإذا كان الشيخ محمد بن عبد الوهاب في العصر الذي سبق عصرنا هذا - فإننا إذ نخصه بهذا الاحتفاء، فما ذلك إلا لأنه لم يجئ من بعده من يرتفع إلى منزلته أو يقف إلى جواره وإن كان هناك كثير من المصلحين قد جاءوا من بعد إلا إنهم كانوا تلاميذ له، أو متأثرين بدعوته، سائرين على مواقع أقدامه، دون أن يلحقوا به! وبحثنا هذا الذي نديره حول سيرة الإمام الشيخ محمد بن عبد الوهاب إنما يتناول جانبا واحدا من جوانب سيرته الرحبة العظيمة، وجهاده المتسع الميادين، وذلك الجانب هو: "الشبهات التي أثيرت حول دعوته". تلك الشبهات التي قامت بواعثها على مدعيات باطلة ومنازع فاسدة؛ لأسباب سياسية أو لدوافع شخصية، من علماء الدنيا، المتجرين بالدين، أو عن جهل غلب عليه الحمق والحسد الأعمى دون نظر أو تثبت.. إلى كثير من بواعث الهوى، التي فضحها الإمام في حياته برسائله وكتبه ثم فضحتها الأيام بعد

--------------------------------------------

1 سورة الممتحنة آية: 6.
আল্লাহর নিকট সওয়াব ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের আশায়, মুসলিমদের প্রতি নসিহত প্রদানের মাধ্যমে এবং তাদেরকে সেসব ভ্রান্ত পথের গোলকধাঁধা থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে যাতে তারা বিচ্যুত হয়ে আল্লাহর দীন থেকে দূরে সরে গিয়েছিল; এমনকি তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তারা আল্লাহর শত্রু, তাঁর দীনের শত্রু ও মুমিনদের শত্রুদের শিকারে পরিণত হয়। সুতরাং শেখ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাবের হক প্রত্যেক সেই মুসলিমের ওপর অর্পিত, যে নিজের এবং মুসলিমদের কল্যাণে আগ্রহী; যেন সে এই বীর মুজাহিদ বিপ্লবীর জীবনী অধ্যয়ন করে, তাঁর দাওয়াতের পদ্ধতি ও এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়, তাঁর জিহাদ, পরীক্ষা ও ধৈর্যের কিছু চিত্র প্রত্যক্ষ করে এবং সত্যের দাওয়াত ও এর আহ্বানকারীদের বিরুদ্ধে শয়তান ও তার অনুসারীদের চক্রান্ত অবলোকন করে। অতঃপর সে যেন পরিশেষে জানতে পারে যে, বিজয় কেবল সত্যেরই এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য। এরপর এটি যেন অনুসারীদের জন্য আদর্শ এবং মুজাহিদদের জন্য পথ হয়: {তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে ঐ ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রত্যাশা করে। আর যে ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আল্লাহ তো অভাবমুক্ত, চির প্রশংসিত} ১। আর শেখ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব যদিও আমাদের বর্তমান সময়ের পূর্ববর্তী যুগের মানুষ ছিলেন, তবুও আমরা যে তাঁকে এই বিশেষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, তার কারণ এই যে, তাঁর পরে এমন কেউ আসেনি যিনি তাঁর মর্যাদায় উন্নীত হতে পেরেছেন কিংবা তাঁর সমকক্ষ হতে পেরেছেন। যদিও তাঁর পরে অনেক সংস্কারক এসেছেন, কিন্তু তাঁরা ছিলেন তাঁরই ছাত্র অথবা তাঁর দাওয়াতের দ্বারা প্রভাবিত, যাঁরা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, কিন্তু তাঁর স্তরে পৌঁছাতে পারেননি! ইমাম শেখ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাবের জীবনী নিয়ে আমাদের এই আলোচনাটি তাঁর বিশাল ও মহান জীবন এবং তাঁর বিস্তৃত কর্মক্ষেত্রের কেবল একটি দিক নিয়ে আবর্তিত, আর সেই দিকটি হলো: "তাঁর দাওয়াতকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত সংশয়সমূহ"। সেসব সংশয় যেগুলোর ভিত্তি ছিল রাজনৈতিক কারণ বা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে করা মিথ্যা দাবি ও কলুষিত বিতর্ক; যা দুনিয়াদার এবং ধর্ম ব্যবসায়ী আলেমদের পক্ষ থেকে অথবা কোনো বিচার-বিশ্লেষণ বা যাচাইকরণ (تثبت) ছাড়াই মূর্খতা ও অন্ধ হিংসা প্রসূত অজ্ঞতা থেকে উৎসারিত হয়েছে... এছাড়াও আরও অনেক কুপ্রবৃত্তিগত কারণ ছিল, যা ইমাম তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর পত্রাবলি ও কিতাবসমূহের মাধ্যমে উন্মোচিত করে দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে কাল পরিক্রমায় তা আরও সুস্পষ্ট হয়েছে।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মুমতাহিনা, আয়াত: ৬।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১১৩)
مماته؛ لأن الحق وإن شوش عليه الباطل يوما، فإن سلطان الحق المستمد من سلطان الله تعالى لا يلبث حتى يزهق الباطل، ويخمد أنفاسه: {بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ} 1.نسأل الله العون والتوفيق. وصلى الله على سيدنا محمد، وعلى آله، وأصحابه، والتابعين وسلام على المرسلين والحمد لله رب العالمين.

--------------------------------------------

1 سورة الأنبياء آية: 18.
তাঁর মৃত্যু; কেননা সত্যের ওপর যদিও কোনো একদিন মিথ্যা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তবে মহান আল্লাহর রাজত্ব থেকে উদ্ভূত সত্যের প্রভাব বিলম্বে হলেও মিথ্যাকে পরাভূত করবে এবং তার শ্বাস রোধ করে দেবে: {বরং আমি সত্য দিয়ে মিথ্যার ওপর আঘাত হানি, ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা বিলুপ্ত হয়ে যায়।} ১। আমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি। আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং তাবেঈগণের (التابعين) ওপর আল্লাহর দরুদ ও রহমত বর্ষিত হোক। রসূলগণের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১৮।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১১৪)
‌‌تمهيد

…

مدخل إلى البحث

عرفت الإمام الشيخ محمد بن عبد الوهاب، معرفة صحبة ملازمة، منذ نحو عشرين عاما، وكان ذلك في شهر فبراير سنة 1959 م حيث كنت قد انتزعت من بين أهلي في منتصف ليل التاسع من هذا الشهر، ثم ألقي بي في السجن الحربي نحو ثمانية أشهر بين زبانية هذا السجن الجهنمي، وما معهم من كلاب، وحيات يطلقونها على ضيوف هذا السجن الرهيب. وكانت محنة قاسية ضاقت بها نفسي، وخانني فيها صبري، وتغشتني فيها غواشي الوحشة المرة، والألم الأليم الممض.. وليس من عزاء إلا الرجاء في رحمة الله والطمع في فواضل رحمته وإحسانه. ذلك أني وقعت ليد باغية متسلطة، أعادت في مصر سيرة فرعون وجبروته الذي سجل عليه القرآن الكريم قولته الضالة الآثمة يهتف بها في قومه، من كرسي عرشه: {فَقَالَ أَنَا رَبُّكُمُ الأَعْلَى} 1 ثم يتبعها قولته الفاجرة: {يَا أَيُّهَا الْمَلأُ مَا عَلِمْتُ لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرِي} 2.نعم لقد وقعت ليد فرعونية، إن لم يجهر صاحبها بادعاء الألوهية، فإن هذا الادعاء كان يعيش في ضميره ويتسلط على عقله، ويتحكم في أقواله وأفعاله.. فكلمته حكم، وأمره قضاء، ومشيئته قدر.. فكان نصيبي من هذه المحنة، هو نصيب كل مصري عاش

--------------------------------------------

1 سورة النازعات آية: 24.

2 سورة القصص آية: 38.
ভূমিকা

…

গবেষণার ভূমিকা

আমি ইমাম শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবকে দীর্ঘ বিশ বছর যাবত অবিচ্ছিন্ন সাহচর্য (صحبة ملازمة) ও পরিচয়ের মাধ্যমে চিনি। এটি ছিল ১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনা, যখন সেই মাসের নয় তারিখের মধ্যরাতে আমাকে আমার পরিবার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অতঃপর আমাকে প্রায় আট মাস সামরিক কারাগারে সেই নারকীয় প্রহরীদের মাঝে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যাদের সাথে ছিল এমন কুকুর ও সাপ যা তারা সেই ভয়ংকর কারাগারের বন্দীদের ওপর লেলিয়ে দিত। এটি ছিল এক কঠিন পরীক্ষা, যা আমার অন্তরাত্মাকে সংকীর্ণ করে দিয়েছিল, আমার ধৈর্য সেখানে হার মেনেছিল এবং তিক্ত একাকীত্ব ও অসহ্য যন্ত্রণার অন্ধকারে আমি আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম। আল্লাহর রহমতের আশা এবং তাঁর অসীম করুণা ও ইহসানের আকাঙ্ক্ষা ছাড়া আর কোনো সান্ত্বনা ছিল না। কারণ আমি এক বিদ্রোহী ও স্বৈরাচারী শক্তির কবলে পড়েছিলাম, যা মিশরে ফেরাউন ও তার প্রতাপের সেই ইতিহাস পুনরায় ফিরিয়ে এনেছিল, যার পথভ্রষ্ট ও পাপপূর্ণ উক্তি পবিত্র কুরআন লিপিবদ্ধ করেছে; সে তার সিংহাসনে বসে তার সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে আস্ফালন করে বলেছিল: {অতঃপর সে বলল, ‘আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ পালনকর্তা’} ১। এরপর সে তার পাপাচারী উক্তি করেছিল: {হে পরিষদবর্গ, আমি তোমাদের জন্য আমি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ আছে বলে জানি না} ২। হ্যাঁ, আমি এক ফেরাউনী শক্তির হাতে পড়েছিলাম, যার অধিকারী ব্যক্তিটি প্রকাশ্যে খোদায়িত্বের দাবি না করলেও, সেই দাবিটি তার অন্তরে বিরাজমান ছিল, তার মস্তিস্কে আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং তার কথা ও কাজকে নিয়ন্ত্রণ করত। ফলে তার কথাই ছিল বিধান, তার আদেশই ছিল চূড়ান্ত ফয়সালা এবং তার ইচ্ছাই ছিল তকদির। এই কঠিন পরীক্ষায় আমার ভাগ্য তাই ছিল যা সেই যুগে বসবাসকারী প্রত্যেক মিশরীয়র ভাগ্যে জুটেছিল...

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নাজিআত, আয়াত: ২৪।

২. সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৩৮।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১১৫)
تحت حكم هذا الفرعون، وإن اختلفت حظوظهم من تلك المحن الواقعة بهم.. فهم جميعا عند قول الشاعر:

من لم يمت بالسيف مات بغيره … تنوعت الأسباب والموت واحد

وأنه لا يأس من روح الله! ففي زحمة هذه الخواطر السوداء التي كانت تتعاوى في مشاعري كقطيع من ذئاب مسعورة تطلب صيدا، وتتربص بفريسة، رأيت الشيخ محمد بن عبد الوهاب، يدخل علي في مزدحم هذه الخواطر، من غير معرفة سابقة به، ولا استدعاء له، إذ لم يكن له عندي إلا صورة باهتة من سيرته، عفى عليها النسيان وعلاها كثير من الغبار الذي أثاره في وجه دعوته كثير من أعداء الحق، وطلاب المناصب والجاه من علماء السوء.. نعم، دخل على خواطري في تلك الحال الشيخ محمد بن عبد الوهاب رضي الله عنه جليسا مؤنسا، وإذا كل هذه الخواطر السوداء تتبدد، وتفر هاربة، وإذا الشيخ -رضوان الله عليه- يملأ فراغ نفسي، ويأخذ مكانا متمكنا من قلبي، وإذا برد السكينة والأمن يثلج صدري المهموم المحموم!! وأسأل نفسي: ما لهذا الشيخ بي؟ ولم يكن هو الطارق لباب وحدتي وهمومي، إن في الأمر سرا، لا بد أن تكشف عنه الأيام. ثم لقد غلبني النوم، فنمت بعد ليال لم أذق فيها للنوم طعما، وهل ينام من تعضه الكلاب وتنهشه الحيات، وتصك أذنيه صرخات المعذبين، وأنين الجرحى؟ وكان مساء، وكان صباح!! وما كدت استيقظ صباح ليلتي تلك، حتى وجدتني أعود إلى ترديد هذا السؤال ما لهذا الشيخ بي؟ وما شأنه معي؟ ومن لي في هذا السجن المطبق علي بأن أجد كتابا أو كتبا لأعرف شيئا أكثر وأصدق عن هذا الشيخ الذي لم أكن أعرف عنه إلا أخلاطا من الآراء المتضاربة المتناقضة، التي لم أقف عندها، ولم أعمل على تحقيقها وتمحيصها؟
এই ফেরাউনের শাসনের অধীনে, যদিও তাদের ওপর আপতিত সেই বিপদ-আপদগুলোর ধরণ ভিন্ন ছিল... তারা সবাই কবির এই বাণীরই প্রতিফলন ছিল:

যে তলোয়ারের আঘাতে মরেনি সে অন্য কোনো উপায়ে মরেছে … কারণ বহুবিধ হলেও মৃত্যু কিন্তু একটাই

আর নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হওয়ার কিছু নেই! আমার অনুভূতির ভেতর ক্ষুধার্ত নেকড়ে পালের মতো হন্যে হয়ে শিকার খোঁজা এবং ওঁত পেতে থাকা এসব নিকষ কালো ভাবনার ভিড়ে আমি শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবকে আমার এই চিন্তাগুলোর মাঝে প্রবেশ করতে দেখলাম। তার সাথে আমার পূর্বপরিচয় ছিল না, কিংবা তাকে আমি স্মরণও করিনি; কেননা আমার নিকট তার জীবনী সম্পর্কে একটি অস্পষ্ট চিত্র ছাড়া আর কিছুই ছিল না। বিস্মৃতি যাকে মুছে দিয়েছিল এবং সত্যের শত্রু ও পদমর্যাদা-লোভী অসৎ আলেমদের পক্ষ থেকে তার দাওয়াতের বিরুদ্ধে ছড়ানো ধূলিকণা যাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। হ্যাঁ, সেই অবস্থায় শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমার ভাবনার জগতে একজন ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে প্রবেশ করলেন, আর তখনই এই কালো মেঘের মতো দুশ্চিন্তাগুলো সব ছিন্নভিন্ন হয়ে পালিয়ে গেল। শাইখ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমার আত্মার শূন্যতা পূর্ণ করে দিলেন এবং আমার হৃদয়ে এক সুদৃঢ় স্থান করে নিলেন। আর এক প্রশান্তি ও নিরাপত্তার স্নিগ্ধতা আমার ব্যথিত ও উত্তপ্ত বক্ষকে শীতল করে দিল!! আমি নিজেকে প্রশ্ন করি: এই শাইখের সাথে আমার সম্পর্ক কী? আমার নির্জনতা ও দুশ্চিন্তার দ্বারে তিনি তো কড়া নাড়েননি; নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনো রহস্য আছে যা অনাগত দিনগুলো উন্মোচন করবে। তারপর আমার ওপর ঘুম চেপে বসল, অনেক রাত পর আমি ঘুমের স্বাদ পেলাম। যার দেহকে কুকুর দংশন করে, সাপ দংশন করে এবং যার কানে নির্যাতিতদের চিৎকার ও আহতদের আর্তনাদ আছড়ে পড়ে, সে কি ঘুমাতে পারে? সন্ধ্যা কাটল, সকাল হলো!! সেই রাতের পর সকালে জাগ্রত হতেই আমি পুনরায় এই প্রশ্নটি করতে শুরু করলাম: এই শাইখের সাথে আমার কিসের সম্পর্ক? আর আমার সাথেই বা তার কী কাজ? এই রুদ্ধ দুয়ার কারাগারে আমার জন্য এমন কে আছে যে আমাকে একটি বা কয়েকটি বই এনে দিবে, যাতে আমি এই শাইখ সম্পর্কে আরও বেশি এবং সত্য কিছু জানতে পারি; যার সম্পর্কে আমি কেবল পরস্পরবিরোধী ও অসংলগ্ন কিছু মতামত ছাড়া আর কিছুই জানতাম না, যা আমি কখনো যাচাই-বাছাই (تحقيق) বা সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (تمحيص) করে দেখার সুযোগ পাইনি?
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১১৬)
وهكذا عشت فترة اعتقالي في السجن الحربي، وأنا مشغول بهذا الشيخ الذي لم تكد تفارقني أنفاسه ليلة واحدة خلال تلك الفترة. ثم خرجت من هذا السجن أو القبر إلى عالم متجهم لي، أنكرني فيه القريب وتجافاني الصديق؛ خوفا من أن تلحظه عين من تلك العيون المسلطة علي، تتبع خطواتي، وتتسمع همسي، وتختطف كل من تحدثه نفسه ببسمة للقائي، أو بهمسة عزاء في أذني. ومن أول يوم من خروجي إلى عالم ما وراء السجن الحربي، وأنا في لهفة إلى لقاء الشيخ محمد بن عبد الوهاب فيما كتب الكاتبون عن دعوته من أولياء وأعداء. وكان من هذا أن أخرجت للناس أول كتاب من سلسلة مؤلفاتي التي جاوزت الستين مؤلفا إلى يومي هذا.. وكان هذا الكتاب، أو الكتيب تحت عنوان: الدعوة الوهابية 1 محمد بن عبد الوهاب، العقل الحر، والقلب السليم. وكان هذا الكتاب فاتحة خير لي، وبركة علي، إذ فتح الله علي بعده بهذه المؤلفات العديدة، التي كانت ذكرى الشيخ تلازمني دائما أثناء إعدادها. وقد نشر هذا الكتيب عن الشيخ محمد بن عبد الوهاب في رجب سنة 1379 هـ، الموافق يناير سنة 1960 م أي بعد أربعة أشهر من خروجي من السجن! فرحم الله الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمة واسعة، وأجزى له المثوبة، بما هدى من ضلال، وما أزال من شبهات، وكشف من ظلمات، وبما مهد من طرق لدعاة الخير ومريدي الإصلاح.

--------------------------------------------

1 نسبة الدعوة إلى الوهابية نسبة خطأ. لم أنتبه إليها في حينه، فما هي إلا دعوة إسلامية، مجددة لما اندثر أو كاد من معالم الإسلام، بما دخل عليه من بدع ومنكرات، لبس بها المسلمون أثواب الشرك.

এভাবেই আমি সামরিক কারাগারে আমার বন্দিজীবনের সময়কাল অতিবাহিত করেছি। আমি এই শায়খকে নিয়ে এতই মগ্ন ছিলাম যে, সেই সময়ে একটি রাতের জন্যও তাঁর সান্নিধ্যের অনুভূতি আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি। অতঃপর আমি সেই কারাগার বা কবর থেকে আমার প্রতি এক বিমুখ ও কঠোর জগতে বেরিয়ে আসি। সেখানে নিকটজনরা আমাকে অস্বীকার করল এবং বন্ধুরা আমাকে এড়িয়ে চলতে লাগল; এই ভয়ে যে, পাছে আমার ওপর নিয়োজিত সেই তীক্ষ্ণ নজরদারি চোখগুলোর কোনো একটি তাদের দেখে ফেলে। তারা আমার প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করছিল, আমার ফিসফিসানি আড়ি পেতে শুনছিল এবং যে কেউ আমাকে দেখে মুচকি হাসার বা কানে কানে সান্ত্বনার কথা বলার ইচ্ছা পোষণ করছিল, তাকেই পাকড়াও করছিল। সামরিক কারাগারের বাইরের জগতে পা রাখার প্রথম দিন থেকেই আমি শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাবের সান্নিধ্য পেতে এবং তাঁর দাওয়াত সম্পর্কে অনুসারী ও শত্রু নির্বিশেষে লেখকরা যা কিছু লিখেছেন তা পড়ার জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল ছিলাম। এর মাধ্যমেই আমি আমার গ্রন্থাবলির সিরিজের প্রথম বইটি মানুষের সামনে প্রকাশ করি, যা আজ অবধি ষাটেরও বেশি গ্রন্থে পৌঁছেছে। এই গ্রন্থ বা পুস্তিকাটির শিরোনাম ছিল: 'আদ-দাওয়াহ আল-ওয়াহাবিয়্যাহ ১: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব, মুক্ত বিবেক ও সুস্থ অন্তর'। এই বইটি ছিল আমার জন্য কল্যাণের সূচনা ও বরকতের উৎস। কেননা এরপর আল্লাহ তায়ালা আমার জন্য অসংখ্য কিতাব রচনার দ্বার উন্মোচন করে দেন, যেগুলোর প্রস্তুতির সময় শায়খের স্মৃতি সর্বদা আমার সঙ্গী ছিল। শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব সম্পর্কে এই পুস্তিকাটি ১৩৭৯ হিজরির রজব মাসে প্রকাশিত হয়, যা ১৯৬০ সালের জানুয়ারির সমসাময়িক—অর্থাৎ কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র চার মাস পর! আল্লাহ তায়ালা শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাবকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন এবং তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। কারণ তিনি পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েতের পথ দেখিয়েছেন, সংশয়সমূহ দূর করেছেন, অন্ধকার দূরীভূত করেছেন এবং কল্যাণের আহ্বানকারী ও সংস্কারকামীদের জন্য পথ সুগম করেছেন।

--------------------------------------------

১. এই দাওয়াতকে 'ওয়াহাবিয়্যাহ' নামে অভিহিত করা একটি ভুল সম্বন্ধ। তৎকালীন সময়ে আমি এটি খেয়াল করিনি। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ইসলামি দাওয়াত, যা ইসলামের বিলুপ্তপ্রায় বা বিলুপ্তির পথে থাকা নিশানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। ইসলামে যে সকল বিদআত (بدع) ও গর্হিত বিষয় (منكرات) প্রবেশ করেছিল, যার মাধ্যমে মুসলমানরা শিরকের পোশাক পরিধান করেছিল, তা থেকে এটি ইসলামকে পরিশুদ্ধ করেছে।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১১৭)
هذا وقد أعيد طبع هذا الكتيب في ربيع الآخر 1394 هـ الموافق إبريل 1974 م، بعد أن التقيت في الرياض بالأستاذ الجليل سماحة الشيخ عبد العزيز بن محمد بن إبراهيم آل الشيخ، حفيد الإمام صاحب الدعوة، الذي صحح لي بعض المفاهيم عن دعوة الشيخ الإمام، وكان قد اختلط علي بعضها، في مزدحم المقولات التي قيلت في الدعوة مما ينقض بعضها بعضا. فتقبلت هذه التصحيحات راضيا شاكرا، وأثبتها في صلب الكتاب -في طبعته الثانية تلك- وعلقت على بعضها بما رأيت من فهم لي. وها أنذا، أشرع في الكتابة عن الشيخ الإمام ودعوته، متناولا جانبا واحدا من جوانب دعوته، وهو جانب المتصدين لدعوته، المحاربين لها بالمفتريات والأباطيل، دفاعا عن سلطانهم القائم على العامة بهذه المفتريات وتلك الأباطيل.. وإذا كان الحق قد انتصر، وكشف الزمن عن صدق الدعوة وإخلاص الداعية وسقوط ادعاءات المدعين، وضلالات المضللين، الأمر الذي يغني عن النظر إلى هذه الترهات وتلك المفتريات -فإن من الخير- مع ذلك- أن نعيد عرض هذه المواقف التي وقفها علماء السوء من دعوة الحق؛ ليكون فيها الدرس النافع والعبرة الزاجرة لمن يقفون من دعوات الإصلاح هذا الموقف الذي تباع فيه الضمائر وتسترخص فيه القيم لقاء شيء من حطام هذه الدنيا من مال، أو جاه، أو سلطان!! وإذن فعلى بركة الله نمضي، وبعونه نستعين.

لاهم هب لي بيانا أستعين به … على قضاء حقوق نام قاضيها

وصلى الله على سيدنا محمد، إمام المرسلين، وخاتم النبيين، وعلى آله وأصحابه والتابعين. وسلام على المرسلين، والحمد لله رب العالمين.
এই পুস্তিকাটি ১৩৯৪ হিজরির রবিউস সানি মোতাবেক ১৯৭৪ সালের এপ্রিলে পুনর্মুদ্রিত হয়েছে। রিয়াদে সম্মানিত উস্তাদ আল্লামা শায়খ আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল শায়খ—যিনি দাওয়াতের ইমামের পৌত্র—তাঁর সাথে আমার সাক্ষাতের পর এটি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি শায়খ ইমামের দাওয়াত সম্পর্কে আমার কতিপয় ধারণা সংশোধন করে দিয়েছেন, যার কিছু অংশ দাওয়াত সম্পর্কে প্রচলিত পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের ভিড়ে আমার নিকট অস্পষ্ট হয়ে পড়েছিল। আমি সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতার সাথে এই সংশোধনসমূহ গ্রহণ করেছি এবং গ্রন্থটির মূল পাঠে—তার সেই দ্বিতীয় মুদ্রণে—সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছি; পাশাপাশি আমার উপলব্ধি অনুযায়ী কতিপয় বিষয়ের ওপর টীকা প্রদান করেছি। আর এখন, আমি শায়খ ইমাম ও তাঁর দাওয়াত সম্পর্কে লিখতে প্রবৃত্ত হচ্ছি। আমি তাঁর দাওয়াতের কেবল একটি দিক নিয়ে আলোচনা করছি, তা হলো সেই পক্ষ যারা তাঁর দাওয়াতের বিরোধিতা করেছিল এবং মিথ্যা অপবাদ ও অসার বাক্যের মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছিল; যা মূলত সাধারণ মানুষের ওপর তাদের বিদ্যমান কর্তৃত্ব বজায় রাখার স্বার্থেই করা হয়েছিল। যেহেতু সত্য বিজয়ী হয়েছে এবং সময় পরিক্রমায় দাওয়াতের সত্যতা, আহ্বায়কের একনিষ্ঠতা এবং মিথ্যাচারীদের দাবি ও পথভ্রষ্টদের বিভ্রান্তির অসারতা উন্মোচিত হয়েছে—যা মূলত এসব অসার ও মিথ্যা অপবাদের প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করার জন্য যথেষ্ট—তবুও এর মাঝে কল্যাণ নিহিত রয়েছে যে, সত্যের দাওয়াতের বিরুদ্ধে অসৎ আলেমদের গৃহীত সেই অবস্থানসমূহ আমরা পুনরায় উপস্থাপন করি; যাতে এটি তাদের জন্য একটি উপকারী পাঠ এবং সতর্কবার্তা হয়, যারা সংস্কার আন্দোলনের বিপরীতে এমন অবস্থান গ্রহণ করে যেখানে দুনিয়ার তুচ্ছ ধনসম্পদ, পদমর্যাদা বা ক্ষমতার বিনিময়ে বিবেক বিক্রয় করা হয় এবং নৈতিক মূল্যবোধকে তুচ্ছজ্ঞান করা হয়!! সুতরাং আল্লাহর বরকতের ওপর ভরসা করে আমরা অগ্রসর হচ্ছি এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

হে আল্লাহ! আমাকে এমন প্রাঞ্জলতা দান করুন যার সাহায্যে আমি সহায়তা পেতে পারি … সেই হকসমূহ আদায়ের ক্ষেত্রে যার আদায়কারীরা আজ নিদ্রামগ্ন।

আমাদের নেতা মুহাম্মাদ—যিনি রাসূলগণের ইমাম এবং নবীগণের মোহর—তাঁর প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণের (أصحابه) এবং তাবেয়ীনদের (التابعين) ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। সকল রাসূলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১১৮)
‌‌الفصل الأول: الحياة.. وهذا الصراع بين الأحياء

الحركة هي مبعث القوة العاملة في هذا الوجود، وهي المولد الديناميكي لكل الطاقات العاملة في مسرح الحياة، وهي سر هذا التفاعل المتصل بين الكائنات جميعها، من الذرة إلى الجبل، ومن قطرة الماء إلى المحيط، ومن الجنة إلى الشجرة. فهذه التي تخلع على الحياة في كل لحظة حللا مختلفة الأشكال والأصباغ، إنما هي من نسيج الحركة، ومن صنع يديها، وأنه لولا هذه الحركة الدائبة الشاملة في هذا الكون الرحيب، لجمدت الموجودات، ولأكلها الصدأ كما يأكل الحديد، ولتحللت كما يتحلل الجسد ويتهرأ، حين تزايله الحياة، ويستولي عليه الخمود والسكون. والحركة في مظهرها صراع عنيف متصل بين الموجودات، كل موجود يريد أن يحقق ذاته، ويبرز شخصيته على نحو ما.. فبعض الموجودات يكون تحقيق ذاتها بإفناء غيرها فيها، حين يأكل الحي غيره، ويغتذي به. وبعضها يكون تحقيق ذاتها بإفناء وجودها لإحياء غيرها، كما يرى ذلك في مواقف التضحية والفداء والاستشهاد من أجل الجماعة، أو الانتصار لمبدأ كريم.. وبعض ثالث من الموجودات يكون تحقيق ذاتها بالاجتماع مع أشباهها، والانتظام معها في حركة واحدة تنتج خيرا يتقاسمه الجميع بينهم. وهكذا تتعدد صور الصراع بين الموجودات إلى أعداد لا حصر لها، حتى يكون الصراع بين الإنسان ونفسه حين تهجم عليه بأهوائها وشهواتها، تريد مسخ إنسانيته، واغتيال فطرته، فيلقاها مغالبا لها، فيغلب حسب ما عنده من رصيد الإيمان، وقوة العزيمة أو ضعفها.
‌‌প্রথম অধ্যায়: জীবন... এবং জীবসমূহের মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব

গতি হলো এই মহাবিশ্বের প্রতিটি কার্যকর শক্তির উৎস, এবং এটি জীবনের নাট্যমঞ্চে সকল সক্রিয় শক্তির গতিশীল উৎপাদক। অণু থেকে পাহাড়, জলকণা থেকে সমুদ্র এবং উদ্যান থেকে বৃক্ষ—সমস্ত সৃষ্টিজগতের মধ্যকার এই অবিরাম মিথস্ক্রিয়ার গূঢ় রহস্য হলো এই গতি। এই গতিই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তাকে বিভিন্ন রূপ ও বর্ণের ভূষণে সজ্জিত করে; এটি মূলত গতিরই বুনন এবং গতিরই নিজস্ব কারুকাজ। এই বিশাল মহাবিশ্বে যদি এই নিরন্তর ও ব্যাপক গতি না থাকত, তবে বিদ্যমান বস্তুসমূহ স্থবির হয়ে যেত এবং লোহাকে যেমন মরিচা গ্রাস করে তেমনি তাদেরও জরা গ্রাস করত। জীবন প্রস্থান করার পর শরীর যেভাবে বিশ্লিষ্ট ও বিকৃত হয়ে পড়ে এবং নিস্তব্ধতা ও স্থবিরতা তাকে আচ্ছন্ন করে নেয়, তেমনিভাবে এই অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যেত। বাহ্যিক দৃষ্টিতে গতি হলো বিদ্যমান সত্তাসমূহের মধ্যে এক তীব্র ও নিরন্তর দ্বন্দ্ব; প্রতিটি বিদ্যমান সত্তা তার নিজের অস্তিত্বকে সার্থক করতে চায় এবং কোনো না কোনোভাবে নিজের ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলতে চায়। কিছু বিদ্যমান সত্তার আত্ম-প্রতিষ্ঠা ঘটে অন্যের বিলোপ ঘটানোর মাধ্যমে—যখন কোনো জীব অন্যকে ভক্ষণ করে তার মাধ্যমে পুষ্টি গ্রহণ করে। আবার কিছুর আত্ম-সার্থকতা আসে অন্যের জীবনকে টিকিয়ে রাখার জন্য নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দেওয়ার মাধ্যমে, যেমনটি দেখা যায় সামষ্টিক স্বার্থে আত্মত্যাগ, উৎসর্গ ও শাহাদাত বরণ করার ক্ষেত্রে অথবা কোনো মহৎ আদর্শের বিজয়ের লক্ষ্যে। তৃতীয় এক প্রকারের বিদ্যমান সত্তা নিজের অস্তিত্বকে সার্থক করে সমজাতীয়দের সাথে একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে এবং এক সুশৃঙ্খল গতির সাথে একাত্ম হওয়ার মাধ্যমে, যা এমন এক কল্যাণ বয়ে আনে যা সবাই মিলে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। এভাবেই বিদ্যমান সত্তাগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্বের চিত্র অগণিত ধারায় বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠে, এমনকি মানুষের সাথে তার কুপ্রবৃত্তির দ্বন্দ্বও এর অন্তর্ভুক্ত; যখন কুপ্রবৃত্তি তার কামনা-বাসনা নিয়ে মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তার মানবসত্তাকে বিকৃত করতে ও তার স্বভাবজাত প্রকৃতিকে হরণ করতে চায়। তখন মানুষ তার মোকাবিলায় অবতীর্ণ হয় এবং তার ঈমানের সঞ্চয় ও সংকল্পের দৃঢ়তা বা দুর্বলতা অনুযায়ী জয়লাভ করে।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১১৯)
والصراع الذي يدخل فيه المؤمن، هو صراع الخير الذي ينشده، ويسخر له قواه، لخيره وخير الجماعة معه، وبين الشر الذي يزحمه في طريق حياته، وفي ميادين عمله، يريد أن يصرفه عن وجهته، وأن يسخره للشر، وموالات الأشرار. والإسلام في نظرته للخير والشر لا ينكر واقع الحياة، ولا يجاوز الحدود التي تجري عليها سننها.. فالإسلام يعترف بما في الحياة من خير وشر، كما يعترف بأن الإنسان في معرض الخير والشر، وأنهما يتنازعانه دائما كل منهما يريده إلى جانبه.. كما يعترف الإسلام بأن في كيان الإنسان من القوى المدركة العاقلة ما يفرق به بين الخير والشر ويميز به الطيب من الخبيث، كما يفرق بحواسه بين النور والظلام، والحلو والمر، والجميل والقبيح.. كذلك يعترف الإسلام بأن في كيان الإنسان نفسا أمارة بالسوء، وشيطانا يوسوس له بالمنكر، ويزينه له، ويعرض له الشر في صورة الخير. والخير في نظر الإسلام حق ثابت، والشر زيف عارض، أو بمعنى آخر، أن الخير يقوم على دعائم قوية ثابتة من الحق، ويستند على أسس وطيدة منه، وأن الشر ينبت من حبات الباطل، ويغتذي من سراب الزور والبهتان.

وبما أنه لا يمكن أن يأتلف الخير والشر، ويتآخى الحق والباطل، فقد كان لكل موقعه، ولكل أهله ومريدوه من الناس.. ومن هذا كان ذلك الصراع المحتدم بين الناس - أفرادا وجماعات- كل يناصر الموقع الذي أخذه من هذين الموقعين المتضادين، المتنازعين. ودعوات الرسل والأنبياء والمصلحين الراشدين من الناس، إنما هي وقوف إلى جانب الحق والخير وانتصار لهما، واستنفار لمن يستجيبون لدعوتهم، أن يكونوا تحت راية الحق والخير، وأن يعملوا بكل قواهم لهزيمة الشر والباطل، ولو وقعوا شهداء في ميدان المعركة،

মুমিন যে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়, তা হলো সেই কল্যাণের সংগ্রাম যা সে প্রার্থনা করে এবং যার জন্য সে তার যাবতীয় শক্তি উৎসর্গ করে—নিজের এবং তার সাথে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণের তরে। অপরদিকে রয়েছে সেই অকল্যাণ, যা তার জীবন চলার পথে ও কর্মক্ষেত্রে তাকে ভিড় করে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাকে তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে চায় এবং তাকে মন্দের সেবায় ও পাপাচারীদের আনুগত্যে লিপ্ত করতে চায়। ইসলাম কল্যাণ ও অকল্যাণের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিতে জীবনের বাস্তবতাকে অস্বীকার করে না এবং জীবনের নিয়মাবলি বা সুন্নাহ যে সীমার মধ্যে আবর্তিত হয়, তা অতিক্রম করে না। ইসলাম জীবনে বিদ্যমান কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয়কে স্বীকার করে; যেমনটি সে স্বীকার করে যে মানুষ কল্যাণ ও অকল্যাণের সম্মুখীন হয় এবং এ দুটি বিষয় সর্বদা তাকে নিজের দিকে টানতে চায়। ইসলাম এও স্বীকার করে যে, মানুষের সত্তায় এমন বিচারবুদ্ধি ও বোধশক্তি রয়েছে যার দ্বারা সে কল্যাণ ও অকল্যাণের মাঝে পার্থক্য করতে পারে এবং পবিত্র ও অপবিত্রের প্রভেদ করতে পারে; যেমনটি সে তার ইন্দ্রিয় দিয়ে আলো ও অন্ধকার, মিষ্টি ও তিক্ত এবং সুন্দর ও কুৎসিতের মাঝে পার্থক্য করে। একইভাবে ইসলাম স্বীকার করে যে, মানুষের সত্তার মাঝে এক মন্দ-প্ররোচনাকারী প্রবৃত্তি রয়েছে এবং এমন শয়তান রয়েছে যে তাকে অস্বীকৃত (منكر) কাজের কুমন্ত্রণা দেয়, তাকে সুশোভিত করে দেখায় এবং অকল্যাণকে কল্যাণের রূপে উপস্থাপন করে। ইসলামের দৃষ্টিতে কল্যাণ হলো এক সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য, আর অকল্যাণ হলো এক ক্ষণস্থায়ী অসারতা। অন্য কথায়, কল্যাণ সত্যের শক্তিশালী ও অটল স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তা সত্যের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল; পক্ষান্তরে অকল্যাণ বাতিলের বীজ থেকে অঙ্কুরিত হয় এবং মিথ্যা ও অপবাদের মরীচিকা থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে।

যেহেতু কল্যাণ ও অকল্যাণের মধ্যে মিলন ঘটা অসম্ভব এবং সত্য ও মিথ্যা কখনো ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না, তাই মানুষের মধ্যে প্রত্যেকেরই স্বতন্ত্র অবস্থান এবং নিজস্ব অনুসারী ও অনুরাগী রয়েছে। আর এখান থেকেই জন্ম নেয় সেই তীব্র সংঘাত—ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নির্বিশেষে—যেখানে প্রত্যেকেই সেই দুটি পরস্পরবিরোধী ও বিবাদমান অবস্থানের মধ্যে তার বেছে নেওয়া পক্ষকে সমর্থন করে। রাসূল, নবী এবং মানবজাতির হেদায়েতপ্রাপ্ত সংস্কারকদের দাওয়াত মূলত সত্য ও কল্যাণের পাশে দাঁড়ানো এবং সেগুলোর বিজয় নিশ্চিত করা। এটি মূলত তাঁদের আহ্বানে সাড়া দানকারীদের প্রতি এক উদাত্ত আহ্বান, যেন তারা সত্য ও কল্যাণের পতাকাতলে সমবেত হয় এবং অকল্যাণ ও বাতিলকে পরাজিত করতে তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করে, এমনকি যদি তারা রণক্ষেত্রে শহীদ হিসেবেও নিপতিত হয়।

(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১২০)
حتى يطيب للناس المقام في هذه الحياة وتظلهم الطمأنينة والأمن والسلام.. وفي هذا يقول الله تعالى: {وَلَوْلا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَفَسَدَتِ الأَرْضُ وَلَكِنَّ اللَّهَ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْعَالَمِينَ} 1.ذلك أن من فضل الله على الناس، ورحمته بهم، وإحسانه عليهم، أن ندب فيهم للحق رجالا يحمون حماه، ويدفعون أهل الباطل أن يستعملوا على أهل الحق، حتى لا تفسد حياة الناس، وتتغشاها غواشي الظلم، والبغي، والعدوان.. ولأن أهل الخير ينتصرون للحق، ولأن الحق اسم من أسماء الله الحسنى، فإن الله تعالى ينتصر لمن يلوذ بحمى الحق، ويكون وليا لله مستعينا به فيجد من الله العون والنصر.. وفي هذا يقول الحق سبحانه: {إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ اللَّهَ لا يُحِبُّ كُلَّ خَوَّانٍ كَفُورٍ أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَاّ أَنْ يَقُولُوا رَبُّنَا اللَّهُ وَلَوْلا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيراً وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الأُمُورِ} 2.

ونصر الحق من أنصار الحق، إنما يكون بالقول والعمل. فبالقول يكشف وجه الحق، وتشرق أنواره، وتتضح معالم الطريق إليه لمن غاب

--------------------------------------------

1 سورة البقرة آية: 251.

2 سورة الحج آية: 38-39-40-41.
যাতে মানুষের জন্য এই জীবনের বসবাস সুখকর হয় এবং প্রশান্তি, নিরাপত্তা ও শান্তি তাদের ছায়াতলে রাখে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: {আর আল্লাহ যদি মানুষের একদলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে যেত। কিন্তু আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।} ১। এটি মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ, তাদের প্রতি তাঁর রহমত এবং তাঁর ইহসানের অন্তর্ভুক্ত যে, তিনি তাদের মধ্য থেকে সত্যের জন্য এমন বীর পুরুষদের মনোনীত করেছেন যারা সত্যের সীমানা রক্ষা করেন এবং বাতিলপন্থীদের সত্যপন্থীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে বাধা দেন, যাতে মানুষের জীবন বিপর্যস্ত না হয় এবং জুলুম, সীমালঙ্ঘন ও শত্রুতার অন্ধকারে আচ্ছন্ন না হয়। আর যেহেতু পুণ্যবান ব্যক্তিরা সত্যের পক্ষে অবস্থান নেন এবং সত্য (আল-হক) মহান আল্লাহর অন্যতম সুন্দর নাম, তাই মহান আল্লাহ তাকেই সাহায্য করেন যে সত্যের আশ্রয় গ্রহণ করে এবং আল্লাহর বন্ধু হয়ে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করে; ফলে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে সহায়তা ও বিজয় লাভ করে। এ প্রসঙ্গে সত্যস্বরূপ মহাপবিত্র আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের রক্ষা করেন। নিশ্চয় আল্লাহ কোনো বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না। যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদেরকে যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হলো, কারণ তারা নির্যাতিত। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে পূর্ণ সক্ষম। তারা এমন লোক যাদেরকে অন্যায়ভাবে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র এ কারণে যে, তারা বলে ‘আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ’। আল্লাহ যদি মানুষের একদলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে বিধ্বস্ত হয়ে যেত সন্ন্যাসীদের মঠ, গির্জা, উপাসনালয় ও মসজিদসমূহ—যেখানে আল্লাহর নাম অধিক পরিমাণে স্মরণ করা হয়। আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন যে তাঁকে সাহায্য করে। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী। তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ দিবে ও অসৎ কাজ (المنكر) হতে নিষেধ করবে। আর সব বিষয়ের পরিণাম আল্লাহরই হাতে।} ২。

সত্যের সাহায্যকারীদের পক্ষ থেকে সত্যের সাহায্য মূলত কথা ও কাজের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। কথার মাধ্যমে সত্যের স্বরূপ উন্মোচিত হয়, এর জ্যোতি উদ্ভাসিত হয় এবং সত্যের পথের দিশা তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যারা তা থেকে বিচ্যুত হয়েছিল।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫১।

২ সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৩৮-৩৯-৪০-৪১।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১২১)
عنهم، أو ضلوا عنه.. وبالعمل يدفع أهل الباطل الزاحفون على مواطن الحق، المحاربون لأهله. وفي هذا المجال يمتحن إيمان المؤمنين، ويتبين صدق الصادقين، حيث يكون البلاء هو النار التي تكشف عن معادن الرجال، وفي هذا يقول الله تعالى: {وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّى نَعْلَمَ الْمُجَاهِدِينَ مِنْكُمْ وَالصَّابِرِينَ وَنَبْلُوَ أَخْبَارَكُمْ} 1 ويقول سبحانه: {أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لا يُفْتَنُونَ وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ} 2 ويقول جل شأنه: {أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُمْ مَثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِكُمْ مَسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ} 3.والله سبحانه وتعالى قادر على أن يجعل الحق وحده سلطانا قائما في الحياة لا يتحكك به الباطل، ولا ينازعه سلطانه: {وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ إِلَاّ مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ} 4.فهو سبحانه أراد أن يكون للناس ابتلاء وامتحان وأن يكون للمؤمنين بلاؤهم وجهادهم لإعزاز سلطان الحق والتمكين له، لينالوا بهذا رضوان الله، ولينزلوا منازل المكرمين عنده في جنات النعيم:

--------------------------------------------

1 سورة محمد آية: 31.

2 سورة العنكبوت آية: 2-3.

3 سورة البقرة آية: 214.

4 سورة هود آية: 118-119.
...তাদের থেকে, অথবা তারা তা থেকে বিচ্যুত হয়েছে। আর আমল বা কর্মের মাধ্যমেই সত্যের ভূখণ্ডের ওপর আক্রমণকারী বাতিলের অনুসারী ও সত্যের ধারকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারীদের প্রতিহত করা হয়। এই ক্ষেত্রেই মুমিনদের ঈমান পরীক্ষা করা হয় এবং সত্যবাদীদের (الصادقين) সত্যবাদিতা প্রকাশ পায়; যেখানে পরীক্ষা হলো সেই আগুনের মতো যা মানুষের প্রকৃত উপাদানের স্বরূপ উন্মোচন করে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব, যতক্ষণ না আমি তোমাদের মধ্য থেকে মুজাহিদ ও ধৈর্যশীলদের জেনে নেই এবং আমি তোমাদের সংবাদসমূহ (أخباركم) যাচাই করি} ১ এবং পবিত্র সত্তা বলেন: {মানুষ কি মনে করে যে, তারা 'আমরা ঈমান এনেছি' এ কথা বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না? অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছি; আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী এবং তিনি অবশ্যই মিথ্যাবাদীদের (الكاذبين) জেনে নেবেন} ২ এবং মহান প্রতিপালক বলেন: {নাকি তোমরা মনে করেছ যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ তোমাদের কাছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো অবস্থা এখনও আসেনি? তাদের ওপর অভাব-অনটন ও দুঃখ-কষ্ট এসেছিল এবং তারা প্রকম্পিত হয়েছিল, এমনকি রাসূল ও তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছিল তারা বলে উঠেছিল, 'আল্লাহর সাহায্য কবে আসবে?' জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী} ৩। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই সামর্থ্য রাখেন যে, তিনি কেবলমাত্র সত্যকেই জীবনে এক প্রতিষ্ঠিত কর্তৃত্বে পরিণত করবেন, যাতে বাতিল তার সাথে কোনো সংঘাত করতে না পারে এবং তার কর্তৃত্ব নিয়ে বিবাদ করতে না পারে: {আর তোমার প্রতিপালক যদি চাইতেন, তবে অবশ্যই সমস্ত মানুষকে এক জাতিতে পরিণত করতেন; কিন্তু তারা মতভেদ করতেই থাকবে। তবে তোমার প্রতিপালক যাদের ওপর দয়া করেছেন তারা ছাড়া; আর এই উদ্দেশ্যেই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন} ৪। কেননা তিনি সুবহানাহু চেয়েছেন যে মানুষের জন্য পরীক্ষা ও যাচাই থাকুক এবং মুমিনদের জন্য পরীক্ষা ও জিহাদ থাকুক সত্যের কর্তৃত্বকে মহিমান্বিত ও প্রতিষ্ঠিত করার জন্য; যাতে তারা এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে এবং জান্নাতুন নাঈমে তাঁর কাছে সম্মানিত ব্যক্তিদের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হতে পারে:

--------------------------------------------

১ সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ৩১।

২ সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ২-৩।

৩ সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২১৪।

৪ সূরা হুদ, আয়াত: ১১৮-১১৯।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১২২)
{ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لانْتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِنْ لِيَبْلُوَ بَعْضَكُمْ بِبَعْضٍ وَالَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَنْ يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ} 1.فلا بد إذن للحق من أنصار يجاهدون في سبيله، ويحتملون ما يلقاهم على طريق الجهاد من بلاء وعناء، فذلك هو الثمن الذي يقدمه المجاهدون لينالوا به رضوان الله، والذي ضن به أولياء الشيطان، فكانت عاقبتهم الخسران، والحسرة والندامة.

- 5 -

هذا، وقد تعلو للباطل رايات ورايات، وتقوم تحت راياته تلك دولة ودولة حتى يظن أن وجه الحق قد اختفى، وأن دولته قد دالت.. ولكن الواقع هنا هو أن الحق في تلك الحال مضمر في محيط الحياة الإنسانية، يستدعي أنصاره أن يقوموا له، وأن يزيلوا سحب الضلال المنعقدة في سمائه، لتشرق شمسه من جديد وإن طال ليل الباطل وامتد، والله تعالى يقول: {أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَسَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا فَاحْتَمَلَ السَّيْلُ زَبَداً رَابِياً وَمِمَّا يُوقِدُونَ عَلَيْهِ فِي النَّارِ ابْتِغَاءَ حِلْيَةٍ أَوْ مَتَاعٍ زَبَدٌ مِثْلُهُ كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْحَقَّ وَالْبَاطِلَ فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً وَأَمَّا مَا يَنْفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الأَرْضِ كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الأَمْثَالَ لِلَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمُ الْحُسْنَى وَالَّذِينَ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُ لَوْ أَنَّ لَهُمْ مَا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً وَمِثْلَهُ مَعَهُ لافْتَدَوْا بِهِ أُولَئِكَ لَهُمْ سُوءُ الْحِسَابِ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمِهَادُ} 2.ومن هذا المثل الكريم، الذي ضربه الحق سبحانه، للحق والباطل، نرى أن الحق، قد يزاحمه الباطل، ويشوبه بغباره ودخانه، كما يشوب المعادن الكريمة ذرات من التراب أو

--------------------------------------------

1 سورة محمد آية: 4-5-6.

2 سورة الرعد آية: 17-18.
{এটাই বিধান; আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তোমাদের একজনকে অপরের মাধ্যমে পরীক্ষা করতে চান। আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তিনি কখনোই তাদের কর্মসমূহ নষ্ট করবেন না।} ১. সুতরাং সত্যের জন্য এমন একদল সাহায্যকারী থাকা অপরিহার্য যারা তার পথে জিহাদ করবে এবং জিহাদের পথে তাদের সামনে আসা পরীক্ষা ও কষ্টসমূহ সহ্য করবে। এটাই সেই মূল্য যা মুজাহিদগণ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রদান করেন, যা শয়তানের অনুসারীরা দিতে কার্পণ্য করেছে; ফলে তাদের শেষ পরিণতি হয়েছে ক্ষতি, আক্ষেপ ও অনুশোচনা।

- ৫ -

বস্তুত, মিথ্যার অনেক পতাকা উত্তোলিত হতে পারে এবং সেই পতাকাতলে বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, এমনকি মনে হতে পারে যে সত্যের অবয়ব অদৃশ্য হয়ে গেছে এবং তার প্রভাব বিলুপ্ত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই অবস্থায় সত্য মানবজীবনের পরিমণ্ডলে সুপ্ত থাকে, যা তার সাহায্যকারীদের আহ্বান জানায় যেন তারা তার পক্ষে দাঁড়ায় এবং তার আকাশে জমে থাকা বিভ্রান্তির মেঘমালা দূর করে দেয়, যাতে সত্যের সূর্য পুনরায় উদিত হয়—যদিও মিথ্যার রাত দীর্ঘ ও প্রলম্বিত হয়। আর আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, ফলে উপত্যকাগুলো তাদের পরিমাণ অনুযায়ী প্লাবিত হয়, অতঃপর সেই প্লাবন উপরিভাগে স্ফীত ফেনা বহন করে আনে। আর অলংকার বা আসবাবপত্র তৈরির উদ্দেশ্যে তারা আগুনে যা উত্তপ্ত করে, তাতেও অনুরূপ ফেনা থাকে। এভাবেই আল্লাহ সত্য ও মিথ্যার উদাহরণ দিয়ে থাকেন। যা ফেনা তা তো নিঃশেষ হয়ে যায়, আর যা মানুষের উপকারে আসে তা জমিনে থেকে যায়। এভাবেই আল্লাহ উপমাসমূহ বর্ণনা করেন। যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দিয়েছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ। আর যারা তাঁর ডাকে সাড়া দেয়নি, যদি জমিনে যা আছে তার সবটুকু এবং সমপরিমাণ আরও তাদের থাকত, তবে তারা তা মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দিত। তাদের জন্য রয়েছে মন্দ হিসাব এবং তাদের আবাসস্থল হলো জাহান্নাম, আর তা কতই না নিকৃষ্ট শয্যা।} ২. মহান আল্লাহ সত্য ও মিথ্যার যে এই মহিমান্বিত উদাহরণ পেশ করেছেন, তা থেকে আমরা দেখতে পাই যে, সত্য কখনো মিথ্যার দ্বারা বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং মিথ্যার ধুলো ও ধোঁয়া দ্বারা কলুষিত হতে পারে, যেমন মূল্যবান ধাতুসমূহে ধুলিকণা বা আবর্জনা মিশ্রিত হয়ে থাকে...

--------------------------------------------

১ সুরা মুহাম্মদ আয়াত: ৪-৫-৬।

২ সুরা আর-রাদ আয়াত: ১৭-১৮।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১২৩)
الصدأ، فإذا عرضت تلك المعادن على النار تخلصت من تلك الشوائب الغريبة التي دخلت عليها، وإذا هي نقية خالصة من كل شائبة!! كذلك الحق، إذا شابه الباطل، فإنه لا يتخلص من هذا الغريب الذي دخل عليه إلا بجهاد المجاهدين الذين يحرقونه بنار جهادهم، ويخلصون الحق من شوائب الباطل: {بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ} 1 ففي قوله تعالى: {نقذف بالحق} . إشارة إلى تلك القوة التي تقوم من وراء الحق من المجاهدين في سبيله، والتي تقذف بالحق قذفا، وتدفع به دفعا لتصدم به الباطل صدمة قاتلة. فإن الحق وحده بغير أنصار ينتصرون له، ويدافعون عنه، هو جوهر كريم في باطن الأرض، لا بد من البحث عنه والمعاناة في سبيل الوصول إليه والانتفاع به. إن من المبادئ المقررة في علم الاجتماع " أن البقاء للأصلح" والأصلح لحياة الناس، وأمنهم واستقرارهم هو الحق، الذي يولد منه كل خير، كما أن الأصلح للإنسان هو سلامة جسده وعقله، فإذا دخل عليه مرض في جسده، أو آفة في عقله، فإنه لا يجد للحياة طعما، إلا إذا تخلص من هذا المرض، وعوفي من تلك الآفة. يقول الفيلسوف الإنجليزي جون ستيوارت ميل 1806 - 1873 م "من السخافة أن يتوهم المرء أن الحق -لا شيء سوى أنه حق- يشتمل على قوة غريزية ليست موجودة في الباطل، من شأنها أن تمكن الحق، من التغلب على ضروب العقاب، والتنكيل، والشرور التي تمتد بها يد الباطل. "إذ الحقيقة الواقعة، أن مقدارا كافيا من العقوبات الغاشمة، أو الظلم الاجتماعي يحول دون انتشار الحق.

--------------------------------------------

1 سورة الأنبياء آية: 18.

মরিচা; যখন এই ধাতুগুলোকে আগুনের ওপর উপস্থাপন করা হয়, তখন সেগুলো তাদের মধ্যে প্রবেশ করা বিজাতীয় অপদ্রব্যগুলো থেকে মুক্তি পায় এবং প্রতিটি কলুষতা থেকে মুক্ত হয়ে খাঁটি ও বিশুদ্ধ হয়ে ওঠে!! তদ্রূপ সত্য, যখন এতে মিথ্যার (باطل) সংমিশ্রণ ঘটে, তখন তা এই আগন্তুক বিজাতীয় বস্তু থেকে মুক্তি পায় না যতক্ষণ না মুজাহিদগণ তাদের জিহাদের অগ্নিশিখা দ্বারা একে দহন করেন এবং মিথ্যার (باطل) অপদ্রব্য থেকে সত্যকে মুক্ত করেন: {বরং আমি সত্যের মাধ্যমে মিথ্যার (باطل) ওপর আঘাত হানি, ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা বিলুপ্ত হয়ে যায়।} 1 সুতরাং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমি সত্যের মাধ্যমে আঘাত হানি}-এর মধ্যে সেই শক্তির ইঙ্গিত রয়েছে যা সত্যের পশ্চাতে তার পথে সংগ্রামকারীদের পক্ষ থেকে নিয়োজিত থাকে, যা সত্যকে প্রবলভাবে নিক্ষেপ করে এবং সজোরে ধাক্কা দেয় যাতে তা মিথ্যাকে (باطل) এক মারাত্মক আঘাত হানতে পারে। কেননা সত্য যদি এমন কোনো সাহায্যকারী ব্যতিরেকে একাকী হয় যারা তার পক্ষে বিজয় ছিনিয়ে আনবে এবং তাকে রক্ষা করবে, তবে তা মাটির গভীর অভ্যন্তরে থাকা এক মূল্যবান রত্ন সদৃশ, যা খুঁজে বের করতে এবং তা অর্জন ও ব্যবহারের জন্য অবর্ণনীয় কষ্টের প্রয়োজন হয়। সমাজবিজ্ঞানের স্বীকৃত মূলনীতিসমূহের মধ্যে একটি হলো "যোগ্যতমের টিকে থাকা"; আর মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে যোগ্য হলো সত্য, যা থেকে সমস্ত কল্যাণের জন্ম হয়। ঠিক যেমন মানুষের জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর বিষয় হলো তার দেহ ও মনের সুস্থতা; সুতরাং যদি তার দেহে কোনো ব্যাধি বা মনে কোনো বিকার প্রবেশ করে, তবে সেই ব্যাধি থেকে মুক্তি এবং সেই বিকার থেকে আরোগ্য লাভ না করা পর্যন্ত সে জীবনের কোনো স্বাদ পায় না। ইংরেজ দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিল ১৮০৬ - ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দ বলেন, "এটি এক নির্বুদ্ধিতা যে কোনো ব্যক্তি মনে করবে যে সত্য—কেবল সত্য হওয়ার কারণেই—এমন এক সহজাত শক্তির অধিকারী যা মিথ্যার (باطل) মধ্যে নেই, যা সত্যকে সকল প্রকার শাস্তি, উৎপীড়ন এবং মিথ্যার (باطل) পক্ষ থেকে প্রসারিত অনিষ্টের বিরুদ্ধে জয়ী হতে সক্ষম করে তুলবে। কারণ বাস্তব সত্য এই যে, পর্যাপ্ত পরিমাণে নিষ্ঠুর শাস্তি অথবা সামাজিক অবিচার সত্যের প্রচার ও প্রসারের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।"

--------------------------------------------

1 সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১৮।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১২৪)
ولكن الفضيلة الصادقة التي يتميز بها الحق هي: أنه يمكن إخماده مرة ومرة ومرات، غير أنه لا بد على الزمن من أن يظهر أناس يعاودون اكتشاف الحق، المرة بعد الأخرى، حتى يوافق ظهوره في إحدى المرات ظروفا ملائمة، فينفلت من الاضطهاد، ويجمع من الأنصار ما يمكنه من التغلب على الباطل، وإجلائه من المواقع التي احتلها". والظروف الملائمة للحق، التي يشير إليها هذا الفيلسوف، والتي تمكن لانتصار الحق، ودحر الباطل، إنما تكون بظهور رجال أشرقت في قلوبهم أنوار الحق، فأبوا أن يروا الباطل يحوم حوله بظلامه، لأن الباطل كريه الريح، يخنق بريحه الخبيثة صدور أهل الصحة والسلامة، فلا يجمعهم وإياه مكان، بل يعملون جاهدين على طرده والقضاء عليه ولو ذهبت في سبيل ذلك أرواحهم.

- 6 - والرسل والأنبياء، عليهم السلام -كما أشرنا من قبل- هم القائمون بدعوتهم السماوية المنزلة بالحق، في وجه الباطل، والآخذون عليه السبيل أن يتسلط على الناس، ويفسد حياتهم. ومن وراء الرسل والأنبياء، عليهم السلام، أتباع الرسل والأنبياء الذين يقومون بما دعوا إليه من حق، وما حذروا منه من باطل، فيجاهدون بألسنتهم وبأيديهم وبأموالهم، دفاعا عن الحق، ودفعا للباطل أن يحوم حول حماه. وفي ميدان هذا الجهاد المبرور، يتوارد المصلحون ودعاة الحق على مواقع الجهاد، مسترخصين النفوس والأموال والأهل والأوطان، محققين بذلك ما عقدوه مع الله تعالى في قوله سبحانه: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْداً عَلَيْهِ حَقّاً فِي التَّوْرَاةِ وَالأِنْجِيلِ
কিন্তু সত্যের যে প্রকৃত মাহাত্ম্য তাকে স্বতন্ত্র করে তোলে তা হলো: "একে বারবার স্তিমিত করা সম্ভব, তবুও কালের আবর্তে এমন কিছু মানুষের আবির্ভাব অবধারিত যারা বারবার সত্যকে পুনঃআবিষ্কার করবেন, যতক্ষণ না কোনো এক পর্যায়ে এর প্রকাশ অনুকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। তখন এটি নিপীড়ন থেকে মুক্তি পায় এবং এমন অনুসারীদের সমবেত করে যা তাকে মিথ্যার (باطل) ওপর বিজয়ী হতে এবং মিথ্যার (باطل) দখলকৃত স্থানসমূহ থেকে তাকে বিতাড়িত করতে সক্ষম করে তোলে।" এই দার্শনিক সত্যের অনুকূল যে পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যা সত্যের বিজয় এবং মিথ্যার (باطل) পরাজয় নিশ্চিত করে, তা মূলত সেই সব ব্যক্তিদের আবির্ভাবের মাধ্যমেই সম্ভব হয় যাদের অন্তরে সত্যের নূর উদ্ভাসিত হয়েছে। তারা তাদের চারপাশে মিথ্যার (باطل) অন্ধকারকে পরিব্যাপ্ত হতে দিতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ মিথ্যা (باطل) দুর্গন্ধযুক্ত, যা তার অপবিত্র ঘ্রাণে সুস্থ ও নির্মল হৃদয়ের অধিকারীদের দম বন্ধ করে দেয়। ফলে মিথ্যা (باطل) ও তারা একই স্থানে অবস্থান করতে পারে না; বরং তারা একে বিতাড়িত ও নির্মূল করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন, যদিও এর বিনিময়ে তাদের প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়।

- ৬ - আর রসূল ও নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) —যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি— তাঁরাই মিথ্যার (باطل) বিপরীতে সত্য সহকারে অবতীর্ণ তাঁদের আসমানি দাওয়াতের দায়িত্ব পালনকারী এবং তাঁরাই মিথ্যার (باطل) সেই পথ রুদ্ধ করেন যাতে এটি মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে ও তাদের জীবনকে কলুষিত করতে না পারে। রসূল ও নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) পরে রয়েছেন তাঁদের অনুসারীবৃন্দ, যাঁরা নবীগণ যে সত্যের দিকে আহ্বান করেছেন তা প্রতিষ্ঠা করেন এবং যে মিথ্যার (باطل) ব্যাপারে তাঁরা সতর্ক করেছেন তা থেকে দূরে থাকেন। তাঁরা সত্যের প্রতিরক্ষায় এবং সত্যের সীমানার আশেপাশে মিথ্যার (باطل) আনাগোনা প্রতিহত করতে নিজেদের জিহ্বা, হাত ও সম্পদ দিয়ে লড়াই বা জিহাদ (جهاد) করেন। এই বরকতময় জিহাদের (جهاد) ময়দানে সংস্কারক ও সত্যের আহবায়কগণ নিজেদের জান, মাল, পরিবার ও স্বদেশকে তুচ্ছ জ্ঞান করে জিহাদের (جهاد) ময়দানসমূহে সমবেত হন। এর মাধ্যমে তাঁরা মহান আল্লাহ তা‘আলার সাথে কৃত সেই চুক্তির প্রতিফলন ঘটান যা তিনি তাঁর এই বাণীতে ব্যক্ত করেছেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করে নিয়েছেন এর বিনিময়ে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে, ফলে তারা মারে ও মরে। এটি তাওরাত ও ইঞ্জিলে তাঁর দেওয়া একটি সত্য প্রতিশ্রুতি...’
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১২৫)
وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللَّهِ_ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ} 1.ويقول سبحانه في وصف هذه الأمة: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْراً لَهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ} 2.وأنه لكي يتحقق للأمة الإسلامية هذا الوصف الكريم، الذي أضفاه الله تعالى عليها -وهو متحقق دائما إن شاء الله- كان لا بد أن يقوم فيها دعاة الخير الآمرون بالمعروف والناهون عن المنكر، فلا تتعطل فيها هذه الدعوة أبدا، ولا يخفت صوتها في أي زمان أو مكان، وإن كانت هي في زمن أقوى فيها من زمن، وفي حال أكثر فيها ثمرا من حال! يقول رسول الله صلى الله عليه وسلم " لتأمرن بالمعروف، ولتنهون عن المنكر ثم لتأخذن على يد الظالم ولتأطرنه على الحق أطرا، ولتقصرنه على الحق قصرا، أو ليضربن الله قلوب بعضكم على بعض، ثم يلعنكم كما لعنهم " 3 -أي اليهود- ثم تلا صلى الله عليه وسلم قوله تعالى: {لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرائيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ كَانُوا لا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ} 4.

--------------------------------------------

1 سورة التوبة آية: 111-112.

2 سورة آل عمران آية: 110.

3 أبو داود: الملاحم 4336 ، وابن ماجه: الفتن 4006.

4 سورة المائدة آية: 78-79.
এবং কুরআনে (বর্ণিত প্রতিশ্রুতি); আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অধিক বিশ্বস্ত আর কে আছে? সুতরাং তোমরা যে কেনাবেচা করেছ, সেই চুক্তির জন্য আনন্দিত হও এবং এটিই হচ্ছে মহাসাফল্য। তারা তাওবাকারী, ইবাদতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, রোজা পালনকারী, রুকুকারী, সিজদাকারী, সৎকাজের (معروف) আদেশদানকারী, অসৎকাজ (منكر) থেকে নিষেধকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমানা রক্ষাকারী; আর মুমিনদের সুসংবাদ দিন। 1. এবং এই উম্মতের বর্ণনায় মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের (معروف) আদেশ দিবে এবং অসৎকাজ (منكر) থেকে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। আর যদি আহলে কিতাবরা ঈমান আনত, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো। তাদের মধ্যে কিছু মুমিন আছে, তবে তাদের অধিকাংশই পাপাচারী (فاسق)।} 2. আর ইসলামি উম্মাহর জন্য আল্লাহ তাআলা কর্তৃক প্রদত্ত এই সম্মানজনক বৈশিষ্ট্য অর্জনের জন্য — যা ইনশাআল্লাহ সর্বদা বিদ্যমান থাকবে — এটি আবশ্যক ছিল যে, তাদের মধ্যে কল্যাণের পথে আহ্বানকারী, সৎকাজের (معروف) আদেশ প্রদানকারী এবং অসৎকাজ (منكر) হতে নিষেধকারী একদল লোক সর্বদা থাকবে। ফলে এই দাওয়াত যেন কখনও স্থবির না হয় এবং কোনো যুগে বা স্থানে এর কণ্ঠস্বর যেন ক্ষীণ না হয়; যদিও এক যুগে এটি অন্য যুগের চেয়ে শক্তিশালী ছিল এবং এক অবস্থায় অন্য অবস্থার চেয়ে অধিক ফলপ্রসূ ছিল! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তোমরা অবশ্যই সৎকাজের (معروف) আদেশ দিবে এবং অবশ্যই অসৎকাজ (منكر) থেকে নিষেধ করবে। অতঃপর তোমরা অবশ্যই জালেমের হাত ধরে ফেলবে এবং তাকে সত্যের ওপর পরিচালিত হতে বাধ্য করবে এবং তাকে সত্যের ওপর কঠোরভাবে আবদ্ধ রাখবে। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের একজনের অন্তরকে অন্যের অন্তরের সাথে মিলিয়ে দেবেন, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে অভিশপ্ত করবেন যেমন তাদের — অর্থাৎ ইয়াহুদীদের — অভিশপ্ত করেছিলেন।" 3. অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করলেন: {বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল, তাদেরকে দাউদ ও ঈসা ইবনে মারইয়ামের মুখে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। এটি এজন্য যে, তারা অবাধ্য হয়েছিল এবং সীমালঙ্ঘন করত। তারা পরস্পরকে সেই মন্দ কাজ বা অসৎকাজ (منكر) হতে বিরত রাখত না যা তারা করত। তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট ছিল।} 4.

--------------------------------------------

১. সূরা আত-তাওবাহ আয়াত: ১১১-১১২।

২. সূরা আল-ইমরান আয়াত: ১১০।

৩. আবু দাউদ: আল-মালাহিম ৪৩৩৬, এবং ইবনে মাজাহ: আল-ফিতান ৪০০৬।

৪. সূরা আল-মায়িদাহ আয়াত: ৭৮-৭৯।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১২৬)
-7-

وفي سبيل الأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر، كان البذل والتضحية. والاستشهاد في سبيل الله، من أولئك المؤمنين الذين كان لهم من وثاقة إيمانهم بالله، وغيرتهم على دين الله، ما دفع بهم إلى أخذ هذا الموقف واحتمال ما يصادفهم على طريقه، من شدائد وأهوال. وفي سجل المجاهدين في سبيل الله، والداعين إلى الله، وإلى شريعة الله، نرى صفحات خالدة مشرقة لأبطال الإسلام في كل جيل، وفي كل موطن من مواطن الإسلام، وفي كل موقع من مواقع الحق، صفحات تنطق بأبلغ بيان، وتدلي بأصدق شهادة، بأنهم قد صدقوا ما عاهدوا الله عليه، فما ضعفوا وما استكانوا في أي موقف يدعوهم الحق إلى نصرته، وإلى الجهاد والتضحية في سبيله، وبهذا ظلت وستظل -إن شاء الله- هذه الأمة على هذا الوصف الذي وصفها الحق سبحانه وتعالى به في قوله جل شأنه: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} 1.

-8-

وأما ونحن مع سيرة بطل من أولئك الأبطال المجاهدين، الذين ضمهم التاريخ في سجل الخالدين في الناس بما خلفوا وراءهم من صدق الجهاد وعظيم التضحيات، ونعني بهذا البطل العظيم، والمجاهد المصلح الإمام الشيخ محمد بن عبد الوهاب -وأنه بحسبنا من سيرته، أن نذكر صفحات من جهاده وصبره على المكاره في هذا الجهاد، وما لقي من مفتريات المفترين، ومضلات الضالين وبخاصة علماء السوء، الذين يتجرون بالدين، تلك التجارة الخاسرة في الدنيا والآخرة: {أُولَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلالَةَ بِالْهُدَى فَمَا رَبِحَتْ تِجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَاراً فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران آية: 110.
-৭-

সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধের পথে ছিল আত্মনিবেদন ও কোরবানি। আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করা ছিল সেই সব মুমিনদের কাজ, যাদের আল্লাহর প্রতি ঈমানের সুদৃঢ়তা এবং তাঁর দ্বীনের প্রতি প্রবল আত্মমর্যাদাবোধ তাদেরকে এই অবস্থান গ্রহণে এবং এই পথে আগত ভয়াবহ বিপদ-আপদ ও প্রতিকূলতা সহ্য করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। আল্লাহর পথে জিহাদকারী এবং আল্লাহ ও তাঁর শরীয়তের দিকে আহ্বানকারীদের তালিকায় আমরা ইসলামের বীরদের প্রতিটি প্রজন্মে, ইসলামের প্রতিটি জনপদে এবং হকের প্রতিটি ক্ষেত্রে চিরভাস্বর ও উজ্জ্বল অধ্যায় দেখতে পাই। এই অধ্যায়গুলো অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় এবং সত্যনিষ্ঠ সাক্ষ্যের মাধ্যমে ঘোষণা করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন। হকের সাহায্যার্থে এবং তাঁর পথে জিহাদ ও কোরবানির আহ্বানে কোনো অবস্থাতেই তারা দুর্বলতা প্রদর্শন করেননি বা হীনম্মন্যতায় ভোগেননি। এভাবেই—ইনশাআল্লাহ—এই উম্মত সেই বৈশিষ্ট্যের ওপর অটল থাকবে, যা মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে বর্ণনা করেছেন: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য যাদের আবির্ভূত করা হয়েছে।} ১।

-৮-

এখন আমরা সেই সব মুজাহিদ বীরদের একজনের জীবনী নিয়ে আলোচনা করছি, যাদের জিহাদের সত্যনিষ্ঠা এবং মহান আত্মত্যাগের কারণে ইতিহাস তাদের নাম চিরস্মরণীয় ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান দিয়েছে। আমরা সেই মহান বীর, মুজাহিদ ও সংস্কারক ইমাম শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবকে বুঝাচ্ছি। তাঁর জীবনীর ক্ষেত্রে আমাদের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আমরা তাঁর জিহাদ এবং এই পথে দুঃখ-কষ্টের ওপর তাঁর ধৈর্যের কিছু অধ্যায় বর্ণনা করি। বিশেষ করে তিনি অপবাদকারীদের অপবাদ এবং পথভ্রষ্টদের বিভ্রান্তির কারণে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, বিশেষ করে সেই সব অসৎ আলেমদের পক্ষ থেকে যারা দ্বীন নিয়ে ব্যবসা করে—যা দুনিয়া ও আখেরাতে এক লোকসানজনক কারবার: {তারাই হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহীকে ক্রয় করেছে, সুতরাং তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি এবং তারা সৎপথপ্রাপ্তও ছিল না। তাদের উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মতো, যে আগুন জ্বালাল; অতঃপর যখন তা চারপাশ আলোকিত করল, তখন আল্লাহ তাদের জ্যোতি কেড়ে নিলেন...

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১১০।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১২৭)
وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُمَاتٍ لا يُبْصِرُونَ صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لا يَرْجِعُونَ} 1.وسنرى في هذا الجانب من سيرة هذا الإمام، كيف يواجه الحق جحافل الظلام، وكيف يبدد شمله بأسلحة الإيمان والصبر والتضحية والفداء.. فإن الله بالغ أمره، وناصر أوليائه: {أُولَئِكَ حِزْبُ اللَّهِ أَلا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ} 2. 3.

--------------------------------------------

1 سورة البقرة آية: 16-17-18.

2 سورة المجادلة آية: 22.

3 سورة العنكبوت آية: 69.
...এবং তাদেরকে অন্ধকারে এমন অবস্থায় ছেড়ে দিলেন যে তারা কিছুই দেখতে পায় না। তারা বধির, মূক ও অন্ধ; তাই তারা ফিরে আসবে না।} ১. আমরা এই ইমামের জীবনীর এই দিকটিতে দেখব কীভাবে সত্য অন্ধকারের বাহিনীগুলোর মোকাবিলা করে এবং কীভাবে ঈমান, ধৈর্য, ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের হাতিয়ারের মাধ্যমে তাদের সংহতি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেন এবং তিনি তাঁর বন্ধুদের সাহায্যকারী: {তারাই আল্লাহর দল। জেনে রেখো, আল্লাহর দলই সফলকাম} {আর যারা আমার পথে প্রচেষ্টা চালায়, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহ প্রদর্শন করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন} ২. ৩.

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৬-১৭-১৮।

২. সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত: ২২।

৩. সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৬৯।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১২৮)
‌‌الفصل الثاني: الشيح.. وراية الجهاد

…

الفصل الثاني: الشيخ.. وراية الجهاد

-1-

تعريف موجز بالشيخ:

هو محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن على.. ولد في بلدة العيينة بنجد سنة 1115 هـ وتوفي إلى رحمة الله ورضوانه سنة 1206 هـ، أي أن حياته المباركة قد امتدت في هذه الدنيا أكثر من تسعين عاما، كانت أعوامها كلها خيرا وبركة على الإسلام والمسلمين، حيث عمرت بالجهاد في سبيل الله، والدعوة إلى الحق الذي كادت تذهب معالمه في المجتمع الإسلامي كله. وجده الشيخ سليمان بن علي كان من كبار علماء نجد مشهورا بالعلم والفضل، والورع والتقوى، وقد تولى هذا الجد الكريم، وظيفة الإفتاء في نجد، وتتلمذ عليه أكثر علماء نجد، وكان يؤوي طلاب العلم، وفقراء التلاميذ الذين يتلقون العلم عنه وينفق عليهم من خالص ماله. ثم خلفه ابنه الشيخ عبد الوهاب. وكان عالما. وقد ولي القضاء في العيينة في إمرة عبد الله بن محمد بن معمر.
‌‌দ্বিতীয় অধ্যায়: শায়খ.. এবং জিহাদের ঝাণ্ডা

…

দ্বিতীয় অধ্যায়: শায়খ.. এবং জিহাদের ঝাণ্ডা

-১-

শায়খের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব ইবন সুলায়মান ইবন আলী.. তিনি ১১১৫ হিজরি সনে নজদের উয়াইনা জনপদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২০৬ হিজরি সনে আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টির পানে পাড়ি জমান। অর্থাৎ, এই নশ্বর পৃথিবীতে তাঁর বরকতময় জীবন নব্বই বছরেরও অধিককাল স্থায়ী হয়েছিল। তাঁর জীবনের প্রতিটি বছরই ছিল ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য কল্যাণ ও বরকতময়; কারণ এই সময়টি আল্লাহর পথে জিহাদ এবং সেই সত্যের দিকে দাওয়াহ বা আহ্বানের (الدعوة) মাধ্যমে আবাদ ছিল, যার চিহ্নসমূহ সমগ্র মুসলিম সমাজে প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছিল। তাঁর দাদা শায়খ সুলায়মান ইবন আলী নজদের প্রথিতযশা আলেমদের (علماء) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি ইলম, ফযিলত, পরহেজগারি (الورع) ও তাকওয়ার (التقوى) জন্য সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন। এই সম্মানিত দাদা নজদের ইফতার (الإفتاء) বা ফতোয়া প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন এবং নজদের অধিকাংশ আলেম তাঁর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থী এবং তাঁর নিকট ইলম অর্জনকারী দরিদ্র ছাত্রদের আশ্রয় দিতেন এবং নিজের পবিত্র উপার্জন থেকে তাদের জন্য ব্যয় করতেন। অতঃপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর পুত্র শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব। তিনিও একজন আলেম (عالم) ছিলেন। তিনি আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন মুয়াম্মারের শাসনামলে উয়াইনায় বিচারকের (القضاء) দায়িত্ব পালন করেছেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শুবুহাতুল্লাতি উছিরাত হাওলা দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব (মাতবু দিমন বাহুছি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব) (পৃষ্ঠা: ১২৯)
- 2 -

وفي هذا البيت المتصل بالعلم، الناشر لألويته في ربوع نجد، ولد محمد بن عبد الوهاب، ونشأ يتلقى العلم عن أبيه حيث ظهر نبوغه، وأشرقت بصيرته، فنفذ بهذه البصيرة إلى مواقع الحق من دين الله، وأخذ يرى تلك المفارقات البعيدة بين ما في كتاب الله وسنة رسوله، وما كان عليه سلف الأمة، من دين خالص لله ووحدانية مطلقة لله، وبين ما كان يرى من قومه من شرك بالله يتمثل في تعظيم المقبورين، والتمسح بجدران القباب، والأضرحة المقامة على أولئك الأموات والتعبد للأحجار والأشجار، وتقديم القربان لها، وطلب العون منها، والتماس قضاء الحاجات عندها. ولقد كانت أكثر هذه المعتقدات الشركية، وافدة على نجد وعلى غير نجد في الجزيرة العربية، وفي كثير من أقطار الإسلام -وافدة من بلاد العجم الداخلة في الإسلام بموروثاتها الفاسدة التي لم تستطع أن تتخلص منها، فاختلطت تلك الموروثات بالتوحيد حتى حجبته بضبابها عن كثير من العيون، وأخلته من كثير من القلوب.. وأصبحت تلك المشاهد المنصوبة على أسماء لآل البيت -رضوان الله عليهم- في مشهد، وفي قم، وفي مصر، وفي غيرها- مزاراً وحجاً لكثير ممن ينتسبون إلى الإسلام وكأنها صورة من تلك الأصنام التي نصبها مشركو الجاهلية في داخل الكعبة وخارجها حتى كان يوم فتح مكة، حيث طهر الرسول صلى الله عليه وسلم بيت الله من هذا الرجس؛ إذ جعل ينخس هذه الأصنام بمخصرته، وهو يتلو قوله تعالى: {وَقُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقاً} 1 فتنقلب على وجوهها غارقة في التراب.

-3-

ولقد ثارت نفس الشيخ محمد بن عبد الوهاب، وامتلأ صدره حسرة وألماً؛ لما رأى ما عليه أكثر المسلمين من حوله، وهم غارقون في هذا الضلال، وليس في قلوبهم، ولا على

--------------------------------------------

1 سورة الإسراء آية: 81.
- ২ -

জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত এই পরিবারে, যা নজদ অঞ্চলের সর্বত্র তার জ্ঞানের ঝাণ্ডা প্রসারিত করেছিল, মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট জ্ঞান অর্জন করে বেড়ে ওঠেন, যেখানে তাঁর মেধা ও প্রজ্ঞা প্রস্ফুটিত হয়। এই প্রজ্ঞার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর দ্বীনের সত্যের স্বরূপ উপলব্ধি করেন এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة) এবং উম্মতের পূর্বসূরিদের (سلف) অনুসৃত আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ দ্বীন ও নিরঙ্কুশ একত্ববাদের (وحدانية) সাথে তৎকালীন সময়ে তাঁর কওমের মধ্যে প্রচলিত শিরক (شرك)-এর এক বিশাল ব্যবধান দেখতে পান। সেই শিরক (شرك) প্রকাশ পেত কবরবাসীদের অতিভক্তি, কবরের গম্বুজ ও মৃত ব্যক্তিদের স্মরণে নির্মিত মাজারগুলোর দেয়াল স্পর্শ করে বরকত গ্রহণ, পাথর ও গাছের পূজা, সেগুলোতে নজর-নেওয়াজ পেশ করা, সেগুলোর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা এবং সেগুলোর কাছে প্রয়োজন পূরণের আর্জি জানানোর মাধ্যমে। এই শিরকি (شركية) বিশ্বাসের অধিকাংশ ছিল নজদ এবং আরব উপদ্বীপের অন্যান্য অঞ্চলসহ ইসলামের বহু জনপদে বহিরাগত। এগুলো ইসলাম গ্রহণকারী অনারব দেশসমূহ থেকে তাদের সেই কলুষিত উত্তরাধিকার হিসেবে এসেছিল যা থেকে তারা মুক্ত হতে পারেনি। ফলে সেইসব উত্তরাধিকার তাওহিদের (توحيد) সাথে এমনভাবে মিশে গিয়েছিল যে, তার কুয়াশাচ্ছন্ন প্রভাবে তা বহু মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়াল হয়ে গিয়েছিল এবং বহু অন্তর থেকে তা দূরীভূত হয়েছিল। আহলে বাইত (آل البيت) —আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন— তাদের নামে মাশহাদ, কোম, মিশর এবং অন্যান্য স্থানে নির্মিত এই মাজারগুলো ইসলামে বিশ্বাসী অনেক মানুষের কাছে জিয়ারত ও হজের স্থানে পরিণত হয়েছিল; যা যেন জাহেলিয়াতের মুশরিকদের কাবার ভেতরে ও বাইরে স্থাপিত সেইসব মূর্তিরই প্রতিচ্ছবি ছিল। অবশেষে মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর ঘরকে এই অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করেন; যখন তিনি তাঁর ছড়ি দিয়ে এই মূর্তিগুলোকে আঘাত করছিলেন এবং মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করছিলেন: "আর বলুন, সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই বিষয়।" ১ ফলে সেগুলো মুখ থুবড়ে ধুলোয় লুটিয়ে পড়ছিল।

-৩-

শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের মনে এক আলোড়ন সৃষ্টি হলো এবং তাঁর অন্তর আক্ষেপ ও বেদনায় ভরে উঠল; যখন তিনি তাঁর চারপাশের অধিকাংশ মুসলিমের করুণ দশা দেখলেন যে, তারা এই পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত এবং তাদের অন্তরে কিংবা তাদের...

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৮১।