(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: -)
السرايا والبعوث النبوية حول المدينة ومكة القسم: السيرة النبوية
الكتاب: السرايا والبعوث النبوية حول المدينة ومكة
(دراسة نقدية تحليلية)
المؤلف: د بريك بن محمد بريك أبو مايلة العمري
أصل الكتاب: رسالة ماجسيتر للمؤلف بإشراف د أكرم ضياء العمري
الناشر: دار ابن الجوزي، الرياض - السعودية
الطبعة: الأولى، 1417 هـ - 1996 م
عدد الصفحات: 312
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মদিনা ও মক্কার পার্শ্ববর্তী নববীয় সারিয়া ও মিশনসমূহ বিভাগ: সিরাতুন নবী
বই: মদিনা ও মক্কার পার্শ্ববর্তী নববীয় সারিয়া ও মিশনসমূহ
(একটি সমালোচনামূলক ও বিশ্লেষণধর্মী অধ্যয়ন)
লেখক: ড. বারীক বিন মুহাম্মাদ বারীক আবু মায়লা আল-উমারী
গ্রন্থের মূল উৎস: ড. আকরাম জিয়া আল-উমারীর তত্ত্বাবধানে লেখকের মাস্টার্স থিসিস
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওযী، রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
ال
مقدمةإنَّ الحمد لله، نحمده سبحانه وتعالى ونستعينه، ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلن تجد له وليًّا مرشدًا.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد يحيي ويميت وهو على كل شيء قدير، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وخليله، أرسله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون، صلوات الله عليه وعلى آله وصحبه وسلِّم تسليمًا كثيرًا.
أما بعد:
فقد قال تعالى {وَكُلّاً نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِ فُؤَادَكَ وَجَاءَكَ فِي هَذِهِ الْحَقُّ وَمَوْعِظَةٌ وَذِكْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ} 1.
قال ابن خلدون: "إن فن التاريخ من الفنون التي تتداوله الأمم والأجيال وتشد إليه الركائب والرحال، وتسمو إلى معرفته السوقة والأغفال، وتتنافس فيه الملوك والأقيال2، وتتساوى في فهمه العلماء والجهال، إذ هو في ظاهره لا يزيد على أخبار عن الأيام والدول، والسوابق من القرون الأُول، تنمو فيها الأقوال وتضرب فيها الأمثال، وتطرف بها الأندية إذا غصَّها الاحتفال، وتؤدي لنا شأن الخليقة كيف تقلبت بها الأحوال، واتسع للدول فيها النطاق والمجال، وعَمَروا الأرض حتى نادى بهم الارتحال، وحان منهم الزوال، وفي باطنه نظر وتحقيق، وتعليل للكائنات ومبادئها دقيق، وعلم بكيفيات الوقائع
--------------------------------------------
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি। আমরা তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট হেদায়েত কামনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য আপনি কোনো পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাবেন না।
আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁরই, তিনি জীবিত করেন ও মৃত্যু দান করেন এবং তিনি সবকিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল এবং তাঁর পরম বন্ধু। তিনি তাঁকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীন দিয়ে প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে অন্য সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। আল্লাহর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর।
অতঃপর:
মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর রাসুলগণের সংবাদের মধ্য থেকে এমন সব সংবাদ আমি আপনার কাছে বর্ণনা করছি যার মাধ্যমে আমি আপনার অন্তরকে সুদৃঢ় করি; আর এর মাধ্যমে আপনার কাছে এসেছে সত্য এবং মুমিনদের জন্য উপদেশ ও নসিহত} ১।
ইবনে খালদুন বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইতিহাস চর্চা এমন এক শিল্প যা বিভিন্ন জাতি ও প্রজন্ম পরম্পরায় চর্চিত হয়ে আসছে। এর সন্ধানে সওয়ারি প্রস্তুত করা হয় এবং দীর্ঘ সফর করা হয়। সাধারণ মানুষ এর জ্ঞান লাভে উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করে এবং রাজা-বাদশাহগণ ২ এতে পারস্পরিক প্রতিযোগিতা করেন। এর উপলব্ধির ক্ষেত্রে জ্ঞানী ও মূর্খ সকলেই সমান। কেননা বাহ্যিকভাবে এটি বিগত দিন, রাষ্ট্র এবং অতীত শতাব্দীসমূহের সংবাদের অতিরিক্ত কিছু নয়। এতে কথার বিস্তার ঘটে, প্রবাদবাক্য উদ্ধৃত হয় এবং জনাকীর্ণ মজলিসগুলো এর দ্বারা প্রাণবন্ত হয়। এটি আমাদের সামনে সৃষ্টির অবস্থা তুলে ধরে যে কীভাবে পরিস্থিতির রদবদল ঘটেছিল, কীভাবে রাষ্ট্রসমূহের সীমা ও পরিধি বিস্তৃত হয়েছিল এবং তারা পৃথিবীকে আবাদ করেছিল যতক্ষণ না তাদের প্রস্থানের ডাক এসেছিল এবং তাদের পতনকাল ঘনিয়ে এসেছিল। আর এর অভ্যন্তরীণ দিক হলো গভীর পর্যবেক্ষণ ও সত্য অনুসন্ধান, সৃষ্টিজগত ও এর মূলনীতির সূক্ষ্ম কার্যকারণ বিশ্লেষণ এবং ঘটনাবলির প্রকৃতি ও স্বরূপ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وأسبابها عميق، فهو لذلك أصيل في الحكمة عريق، وجدير بأن يعد في علومها وخليق"1.
إن تاريخ كل أمة هو سجل حافل بالأحداث والوقائع لهذه الأمة، تظهر فيه عوامل النجاح، وتبرز فيه أسباب الإنتصارات والهزائم، فهو مستشار الخبرات والتجارب الإيجابية والسلبية، يضيء لها طريق المستقبل، فأمة بلا تاريخ أمة بلا مستقبل.
ألا وإن أعظم وأوثق تاريخ عرفته البشرية حتى اليوم هو تاريخ هذه الأمة الإسلامية التي اصطفاها الله عز وجل وفضَّلها على الأمم قاطبة: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ} 2 لذلك فالمستقبل لهذه الأمة بحول الله وقوته.
ويمكننا أن نلخص عظمة تاريخ هذه الأمة في ثلاثة أمور:
الأمر الأول: كون كتابها ودستورها القرآن العظيم، كلام الخالق عز وجل الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، قد حوى قصص وتواريخ الأمم السابقة من لدن أبي البشر آدم عليه السلام حتى العهد الذي أُنزل فيه: {ذَلِكَ مِنْ أَنْبَاءِ الْقُرَى نَقُصُّهُ عَلَيْكَ مِنْهَا قَائِمٌ وَحَصِيدٌ} 3.
ثم هو مصدر أساسي من مصادر تاريخ ذلك العهد، عهد النبوة حتى انقطاع الوحي بموت النبي صلى الله عليه وسلم.
الأمر الثاني: أنه يحكي تاريخ فترات من الزمن هي أفضل فترات هذه الأمة: "خير النّاس قرني ثمّ الّذين يلونهم ثمّ الّذين يلونهم" 4.
--------------------------------------------
এবং এর কারণসমূহ গভীর, তাই তা প্রজ্ঞার ক্ষেত্রে মৌলিক ও সুপ্রাচীন এবং এর বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য ও উপযুক্ত।"১
নিশ্চয়ই প্রতিটি জাতির ইতিহাস হলো সেই জাতির ঘটনাবলী ও বাস্তব পরিস্থিতির এক সমৃদ্ধ দলিল, যাতে সাফল্যের প্রভাবকসমূহ প্রকাশ পায় এবং বিজয় ও পরাজয়ের কারণসমূহ ফুটে ওঠে। এটি ইতিবাচক ও নেতিবাচক অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষাসমূহের পরামর্শদাতা, যা তার জন্য ভবিষ্যতের পথকে আলোকিত করে। সুতরাং ইতিহাসহীন জাতি হলো ভবিষ্যৎহীন জাতি।
জেনে রেখো, আজ পর্যন্ত মানবজাতি যে মহান ও নির্ভরযোগ্য ইতিহাস জেনেছে, তা হলো এই ইসলামি উম্মাহর ইতিহাস, যাকে আল্লাহ আজযা ওয়া জাল্লা মনোনীত করেছেন এবং সমস্ত জাতির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন: {তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানবজাতির জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎকাজে নিষেধ করো।} ২ তাই আল্লাহর সামর্থ্য ও শক্তিতে ভবিষ্যৎ এই উম্মতের জন্যই।
আমরা এই উম্মতের ইতিহাসের মহানুভবতাকে তিনটি বিষয়ে সংক্ষেপ করতে পারি:
প্রথম বিষয়: এর কিতাব ও জীবনবিধান হলো সুমহান কুরআন, যা স্রষ্টা আজযা ওয়া জাল্লার বাণী; যার সম্মুখ বা পশ্চাৎ—কোনো দিক থেকেই মিথ্যা বা বাতিল আসতে পারে না। এতে আদিপিতা আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে এটি অবতীর্ণ হওয়া পর্যন্ত পূর্ববর্তী জাতিসমূহের কাহিনী ও ইতিহাস সংকলিত হয়েছে: {এটি জনপদসমূহের কিছু সংবাদ, যা আমি আপনার কাছে বর্ণনা করছি; সেগুলোর কোনোটি এখনো বিদ্যমান আছে, আর কোনোটি সমূলে ধ্বংস হয়ে গেছে।} ৩।
অতঃপর তা সেই যুগের ইতিহাসের অন্যতম প্রধান উৎস—অর্থাৎ নবুয়তের যুগ থেকে শুরু করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের মাধ্যমে ওহী বন্ধ হওয়া পর্যন্ত সময়কাল।
দ্বিতীয় বিষয়: এটি সময়ের এমন কিছু পর্যায়ের ইতিহাস বর্ণনা করে যা এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ সময়: "সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার যুগের লোকরা, এরপর যারা তাদের পরবর্তী, এরপর যারা তাদের পরবর্তী।" ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الأمر الثالث: اختُص هذا التاريخ بميزة فريدة لم توجد في غيره من تواريخ الأمم الأخرى، ألا وهي خاصية الإسناد المعتمد أساسًا على علم الرجال؛ لأن معظم المؤرخين المسلمين هم في الحقيقة محدِّثون مثل ابن إسحق، وخليفة بن خياط، والطبري، وغيرهم؛ لذلك اهتموا بالإسناد كثيرًا في مروياتهم.
ولكي نعرف مدى أهمية الإسناد وتفرُّد المسلمين بعلم الرجال دون غيرهم من الأمم السابقة، نستمع إلى هذين القولين من رجلين مختلفين، أحدهما عالم مسلم، والآخر مستشرق ألماني.
فقد أخرج الإمام مسلم عن عبد الله بن المبارك رحمه الله تعالى قوله: "الإسناد من الدين، لولا الإسناد لقال من شاء ما يشاء"1.
ويقول المستشرق الألماني سبرنجر: "لم تكن فيما مضى أمة من الأمم السالفة، كما أنه لا توجد الآن أمة من الأمم المعاصرة أتت في علم أسماء الرجال بمثل ما جاء به المسلمون في هذا العلم العظيم الخطر الذي يتناول أحوال خمسمائة ألف رجل وشئونهم"2.
"فمن أراد أن يتسلل خلال بعض الثقوب ليطعن هذا التاريخ فليطعن قبل هذا جميع أخبار الدنيا منذ نشأتها إلى يومنا هذا، وليطعن كل تراث الإنسانية بما في ذلك الكتب المقدسة السابقة على القرآن الكريم، فإن هذا التاريخ الإسلامي الذي بين أيدينا هو أوثق من كل هذا. ومع ما ذكرنا، إنما هو في جملته محكم مترابط كثير وجوه الإسناد، ولا يعيبه ضعف بعض أسانيده، وضعف الراوي لا يعني أنه كذَّاب، بل إن الراوي الذي عرف عنه الكذب قد يصدق أحيانًا. ومن القواعد المعمول بها أن الرواية الضعيفة ترتفع إلى مرتبة الحسن، وأن الحسن يرتفع إلى الصحيح إذا ساندته روايات أخرى ولو كانت ضعيفة في حالتها
--------------------------------------------
তৃতীয় বিষয়: এই ইতিহাসটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত যা অন্য কোনো জাতির ইতিহাসে পাওয়া যায় না। আর তা হলো মূলত ইলমুর রিজাল (বর্ণনাকারীদের জীবনী সংক্রান্ত জ্ঞান)-এর ওপর ভিত্তি করে ইসনাদ (সূত্রপরম্পরা)-এর বৈশিষ্ট্য। কারণ অধিকাংশ মুসলিম ইতিহাসবিদ প্রকৃতপক্ষে মুহাদ্দিস বা হাদীসবিদ ছিলেন, যেমন ইবনে ইসহাক, খলিফা বিন খাইয়াত, তবারী এবং আরও অনেকে। তাই তারা তাদের বর্ণিত বর্ণনাসমূহে ইসনাদের প্রতি অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন।
ইসনাদের গুরুত্ব এবং পূর্ববর্তী অন্যান্য জাতি বাদ দিয়ে ইলমুর রিজালে মুসলিমদের অনন্য শ্রেষ্ঠত্ব কতটুকু তা জানতে আমরা দুইজন ভিন্ন ব্যক্তির দুটি উক্তি শুনব। তাদের একজন মুসলিম আলেম এবং অন্যজন জার্মান প্রাচ্যবিদ।
ইমাম মুসলিম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন: "ইসনাদ বা সূত্রপরম্পরা হলো দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদি ইসনাদ না থাকত, তবে যার যা ইচ্ছা সে তা-ই বলত।"১
জার্মান প্রাচ্যবিদ স্প্রেঞ্জার বলেন: "অতীতের কোনো জাতি ছিল না এবং বর্তমান সমসাময়িক কোনো জাতিও নেই যারা 'ইলম আসমাউর রিজাল' (বর্ণনাকারীদের নাম ও পরিচয় সংক্রান্ত জ্ঞান)-এ তেমন কিছু নিয়ে এসেছে যা মুসলিমরা এই মহান ও গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যায় এনেছে, যা পাঁচ লক্ষ মানুষের অবস্থা ও বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করে।"২
"তাই কেউ যদি কোনো ছিদ্রপথ দিয়ে প্রবেশ করে এই ইতিহাসকে অভিযুক্ত করতে চায়, তবে তাকে এর আগে জগতের সৃষ্টি থেকে আজ পর্যন্ত দুনিয়ার যাবতীয় সংবাদকে অভিযুক্ত করতে হবে। এমনকি কুরআনুল কারীমের পূর্ববর্তী পবিত্র গ্রন্থসমূহসহ মানবজাতির সকল ঐতিহ্যকেই অভিযুক্ত করতে হবে। কেননা আমাদের হাতে থাকা এই ইসলামী ইতিহাস এই সবকিছু থেকে অধিক নির্ভরযোগ্য। আমরা যা উল্লেখ করেছি তা সত্ত্বেও, সামগ্রিকভাবে এটি সুদৃঢ়, সুসংবদ্ধ এবং বহুমুখী ইসনাদ সমৃদ্ধ। এর কোনো কোনো ইসনাদের দুর্বলতা একে ত্রুটিযুক্ত করে না। বর্ণনাকারীর দুর্বলতা মানে এই নয় যে তিনি মিথ্যাবাদী, বরং যে বর্ণনাকারী মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত সেও কখনো কখনো সত্য বলতে পারে। প্রচলিত নিয়মসমূহের মধ্যে একটি হলো, দুর্বল বর্ণনা 'হাসান' স্তরে উন্নীত হয় এবং হাসান বর্ণনা 'সহীহ' স্তরে উন্নীত হয় যখন অন্য কোনো বর্ণনা একে সমর্থন করে, যদিও সেই সমর্থিত বর্ণনাগুলো অবস্থাগতভাবে দুর্বল হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
المنفردة، وهو ما يعرف بـ (الصحيح لغيره) تمييزًا له عن (الصحيح لذاته) .
ومن أراد أن يطعن هذا التاريخ التليد، وهذا الجهد المشكور في التسجيل فليطعن قبل ذلك أولئك الذين كان عليهم أن يسجلوا كما سجل أسلافنا فلم يفعلوا، ونعني بهم الفرس والروم، فمع هذا البحر الزاخر من المرويات العربية لا نكاد نجد شيئًا يرويه الطرف الآخر، بل أبعد من ذلك كان الرواة المسلمون هم الذين حفظوا لنا أخبار الأكاسرة الفرس قبل الإسلام"1.
إننا بهذا الكلام لا ندَّعي الكمال لتاريخنا، فالكمال الإعجازي صفة لا يمكن سحبها على غير القرآن الكريم الذي تعهد الله بحفظه من بين الكتب المقدسة: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 2.
بل إن الحديث النبوي وهو يأتي في المرتبة الثانية بعد القرآن كمصدر من مصادر التشريع الإسلامي لم يسلم من عبث العابثين، وكذب المفترين، ولكن الله عز وجل قد هيأ له الجهابذة من علماء الإسلام الذين تصدَّوا لهؤلاء فوضعوا القواعد والأساليب التي ساعدت على كشفهم، كان أهمها التاريخ، قال سفيان الثوري رحمه الله تعالى: "لما استعمل الرواة الكذب، استعملنا لهم التاريخ"3.
وقال حماد بن زيد رحمه الله تعالى: "لم يُستعن على الكذابين بمثل التاريخ"4.
والتاريخ باعتماده على الروايات والرواة مثله مثل الحديث لم يسلم هو الآخر من عبث المتطفلين، يقول ابن خلدون: "إن فحول المؤرخين في الإسلام
--------------------------------------------
এককভাবে, যা (সহিহ লি-গাইরিহি) নামে পরিচিত, একে (সহিহ লি-যাতিহি) থেকে আলাদা করার জন্য।
আর যারা এই সুপ্রাচীন ইতিহাস এবং লিপিবদ্ধকরণের এই প্রশংসনীয় প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তাদের উচিত তার আগে তাদের সমালোচনা করা যাদের দায়িত্ব ছিল আমাদের পূর্বসূরিদের মতো লিপিবদ্ধ করা কিন্তু তারা তা করেনি; আমরা পারস্য ও রোমকদের কথা বোঝাচ্ছি। এই বিশাল আরব্য বর্ণনাভাণ্ডারের বিপরীতে আমরা অপর পক্ষ থেকে বর্ণিত তেমন কিছুই পাই না। বরং এর চেয়েও বড় কথা হলো, মুসলিম বর্ণনাকারীরাই ইসলামের পূর্ববর্তী পারস্য সম্রাটদের সংবাদসমূহ আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন।১
এই কথার মাধ্যমে আমরা আমাদের ইতিহাসের জন্য পূর্ণাঙ্গতার দাবি করছি না। কেননা অলৌকিক পূর্ণতা এমন এক গুণ যা পবিত্র কুরআন ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব নয়, যেটির সংরক্ষণের দায়িত্ব আল্লাহ অন্যান্য পবিত্র গ্রন্থগুলোর মধ্য থেকে স্বয়ং গ্রহণ করেছেন: "নিশ্চয়ই আমিই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।"২
এমনকি নববী হাদিসও, যা ইসলামী শরীয়তের উৎস হিসেবে কুরআনের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, তা বিকৃতকারীদের অপতৎপরতা এবং মিথ্যাবাদীদের মিথ্যাচার থেকে রক্ষা পায়নি। কিন্তু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এর জন্য ইসলামের এমন বিচক্ষণ আলেমদের নিয়োজিত করেছেন যারা এদের প্রতিরোধ করেছেন এবং এমন কিছু মূলনীতি ও পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন যা তাদের মুখোশ উন্মোচনে সাহায্য করেছে; যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছিল ইতিহাস। সুফিয়ান সাওরি (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) বলেন: "যখন বর্ণনাকারীরা মিথ্যার আশ্রয় নিল, তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে ইতিহাসকে ব্যবহার করলাম।"৩
হাম্মাদ ইবনে যাইদ (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) বলেন: "মিথ্যাবাদীদের বিরুদ্ধে ইতিহাসের মতো অন্য কোনো কিছুর সাহায্য নেওয়া হয়নি।"৪
আর ইতিহাস বর্ণনা এবং বর্ণনাকারীদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে হাদিসের মতোই অনধিকার প্রবেশকারীদের বিকৃতি থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। ইবনে খালদুন বলেন: "ইসলামের প্রথিতযশা ঐতিহাসিকগণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
قد استوعبوا أخبار الأيام وجمعوها وسطَّروها في صفحات الدفاتر، وأودعوها، وخلطها المتطفلون بدسائس من الباطل وهموا فيها وابتدعوها، وزخارف من الروايات المضعفة لفَّقوها ووضعوها. واقتفى تلك الآثار الكثير ممن بعدهم واتبعوها، وأدَّوها إلينا كما سمعوها، ولم يلاحظوا أسباب الوقائع والأحوال ولم يراعوها، ولا رفضوا ترَّهات الأحاديث ولا دفعوها، فالتحقيق قليل وطرف التنقيح في الغالب كليل، والغلط والوهم نسيب الأخبار وخليل"1.
"وقد وصلت إلينا هذه التركة لا على أنها هي تاريخنا، بل على أنها مادة غزيرة للدرس والبحث يستخرج منها تاريخنا، وهذا ممكن وميسور إذا تولَاّه من يلاحظ مواطن القوة والضعف في هذه المراجع، وله من الألمعية ما يستخلص به حقيقة ما وقع، ويجردها عما لم يقع مكتفيًا بأصول الأخبار الصحيحة مجردة عن الزيادات الطارئة عليها"2. "لأن الأخبار إذا اعتُمد فيها على مجرد النقل، ولم تحكَّم أصول العادة، وقواعد السياسة، وطبيعة العمران والأحوال في الاجتماع الإنساني، ولا قيس الغائب منها بالشاهد والحاضر بالذاهب، فربما لم يؤمن فيها من العثور ومزلة القدم، والحيد عن جادة الصدق. وكثيرًا ما وقع للمؤرخين والمفسرين، وأئمة النقل من المغالط في الحكايات والوقائع لاعتمادهم فيها على مجرد النقل غثًّا أو سمينًا، ولم يعرضوها على أصولها ولا قاسوها بأشباهها، ولا سبروها بمعيار الحكمة والوقوف على طبائع الكائنات وتحكيم النظر والبصيرة في الأخبار، فضلُّوا عن الحق وتاهوا في بيداء الوهم والغلط"3.
ولا شك أن عدم تمحيص المؤرخين للأخبار كما فعلوا في الحديث واكتفاءهم بإلقاء العهدة على الرواة المذكورين في أسانيد الروايات ألقى عبئًا
--------------------------------------------
তারা অতীত দিনগুলোর ঘটনাবলি আয়ত্ত করেছেন, তা সংগ্রহ করেছেন এবং খাতার পাতায় লিপিবদ্ধ করেছেন ও গচ্ছিত রেখেছেন; আর অনধিকার প্রবেশকারীরা তাতে মিথ্যার অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে সেগুলোকে মিশ্রিত করেছে এবং তাতে ভুল তথ্য ও নতুন বিষয় উদ্ভাবন করেছে; তারা দুর্বল বর্ণনাগুলোকে চাকচিক্যময় করে জাল করেছে ও তৈরি করেছে। পরবর্তী প্রজন্মের অনেকেই সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে এবং তারা যেভাবে শুনেছে সেভাবেই তা আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তারা ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অবস্থার কারণসমূহ লক্ষ্য করেনি এবং তা বিবেচনাও করেনি; এমনকি তারা অসার ও অবান্তর বর্ণনাগুলোকে প্রত্যাখ্যান বা প্রতিহত করেনি। ফলে প্রকৃত অনুসন্ধান এখানে অতি নগণ্য এবং পরিমার্জনের ধারাটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থবির; আর ভুল ও বিভ্রম হলো সংবাদের চিরসাথি।"১।
"আর এই জ্ঞানগত উত্তরাধিকার আমাদের কাছে আমাদের প্রকৃত ইতিহাস হিসেবে পৌঁছায়নি; বরং এটি গবেষণার এক বিশাল ভাণ্ডার হিসেবে পৌঁছেছে যা থেকে আমাদের ইতিহাসকে নিংড়ে বের করতে হবে। এটি তখনই সম্ভব ও সহজ হবে, যখন এমন কেউ এর দায়িত্ব নেবেন যিনি এই উৎসগুলোর সবল ও দুর্বল দিকগুলো অনুধাবন করবেন এবং যার মাঝে এমন প্রখর মেধা থাকবে যা দিয়ে তিনি যা ঘটেছে তার প্রকৃত সত্য বের করে আনতে পারবেন এবং যা ঘটেনি তা থেকে একে পৃথক করবেন; তিনি কেবলমাত্র সঠিক সংবাদের মূলভিত্তির ওপর সন্তুষ্ট থাকবেন এবং সেগুলোকে পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত সংযোজন থেকে মুক্ত রাখবেন।"২। "কেননা সংবাদের ক্ষেত্রে যদি কেবল শ্রুতির ওপর নির্ভর করা হয় এবং প্রথাগত মূলনীতি, রাজনীতির নিয়মকানুন, সভ্যতার প্রকৃতি ও মানবসমাজের সামাজিক অবস্থা সেখানে প্রয়োগ করা না হয়, কিংবা অদৃশ্যের বিষয়কে দৃশ্যের সাথে এবং বর্তমানকে অতীতের সাথে তুলনা করা না হয়, তবে তাতে পদস্খলন এবং সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব হবে না। প্রায়শই ইতিহাসবিদ, মুফাসসির এবং বর্ণনাকারী ইমামগণ কিচ্ছা ও ঘটনাবলির ক্ষেত্রে ভুলের সম্মুখীন হয়েছেন; কারণ তারা সংবাদের সারবত্তা বিচার না করে কেবল বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন। তারা এগুলোকে তাদের মূলনীতির মানদণ্ডে যাচাই করেননি, সমজাতীয় বিষয়ের সাথে তুলনা করেননি এবং প্রজ্ঞার মাপকাঠি ও বিশ্বপ্রকৃতির স্বভাব এবং সংবাদের ক্ষেত্রে দূরদর্শী দৃষ্টির মাধ্যমে তা বিশ্লেষণ করেননি। ফলে তারা সত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছেন এবং বিভ্রান্তি ও ভুলের মরুপ্রান্তরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।"৩।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, হাদীস শাস্ত্রের ন্যায় ইতিহাসবিদগণ সংবাদের চুলচেরা বিশ্লেষণ না করে কেবল বর্ণনাকারীদের ওপর দায়ভার চাপিয়ে দিয়ে ক্ষান্ত হওয়ায় তা একটি বিরাট বোঝার সৃষ্টি করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
كبيرا على المؤرخ المعاصر المسلم؛ لأنه يحتاج إلى بذل جهد ضخم للوصول إلى الروايات الصحيحة بعد فهم وتطبيق منهج المحدثين، وهو أمر لم يعد سهلا ميسورا، كما كان بالنسبة لخليفة بن خياط، أو الطبري، بسبب تضلعهم في مناهج المحدثين وطريق سبرهم للروايات وتمييزها"1.
إن عملية نقد الروايات التاريخية وفق منهج المحدثين عملية ليست سهلة "فإن النظر في الرجال، ودراسة الرواة عملية صعبة شاقة ومجهدة ذهنيًّا وبدنيًّا لما تقتضيه من وقت طويل، ومكلفة ماديًّا وماليًّا، فمراجعها من الكتب قليلة الاستعمال، كبيرة الحجم، غالية الثمن، نادرة الوجود"2.
ولكن لابد للمؤرخ المسلم من اقتحام العقبة وتحدي الصعاب إذا أراد لعمله النجاح، ونوى فيه الإخلاص لله عز وجل فإن هذا العمل من أجلّ الأعمال وأفضلها، فحينما يتم تمحيص وسبر الروايات التاريخية وتنقيتها مما علق بها من الشوائب، فإنا نكون قد قمنا بعمل عظيم خدمة لتاريخ أمتنا الإسلامية المجيد، وأنرنا بذلك المستقبل للأجيال القادمة.
"إن للمحدثين مناهج وطرقا في نقد الأحاديث ومعرفة الصحيح من الضعيف، والمطلوبُ تطبيق هذه المناهج في نقد الروايات التاريخية المتعلقة بتاريخ صدر الإسلام؛ لأن هذه الروايات التاريخية تشبه الأحاديث من حيث وجود الأسانيد التي تتقدم المتون مما يمكن الناقد من معرفة الرواة المتعاقبين الذين نقلوا الخبر أو الرواية خلفا عن سلف. وتُستمد المعلومات عن الرواة من كتب علم الرجال التي تختص ببيان أحوال الرواة.
فمثلا شرط الصحيح من الحديث هو أن يرويه العدل الضابط عن العدل الضابط إلى منتهاه من غير شذوذ ولا علة، فشرط الرواية التاريخية الصحيحة
--------------------------------------------
সমকালীন মুসলিম ঐতিহাসিকের জন্য এটি এক বিশাল চ্যালেঞ্জ; কারণ মুহাদ্দিসগণের মানহাজ (পদ্ধতি) অনুধাবন ও তা প্রয়োগ করার পর সহীহ বর্ণনাগুলো পর্যন্ত পৌঁছাতে তাকে বিশাল প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়। এটি এখন আর সহজলভ্য কোনো বিষয় নয়, যেমনটি খলিফা বিন খাইয়াত কিংবা তাবারির ক্ষেত্রে ছিল; কারণ তারা মুহাদ্দিসগণের মানহাজ এবং বর্ণনাগুলো যাচাই ও পৃথকীকরণের পদ্ধতিতে গভীর ব্যুৎপত্তি রাখতেন"১।
মুহাদ্দিসগণের মানহাজ অনুযায়ী ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলো পর্যালোচনার প্রক্রিয়া সহজ কোনো বিষয় নয়। "কেননা রিজাল (বর্ণনাকারী) শাস্ত্রের প্রতি দৃষ্টিপাত এবং বর্ণনাকারীদের নিয়ে গবেষণা করা একটি কঠিন, কষ্টসাধ্য এবং মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্তিকর প্রক্রিয়া, কারণ এতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। এছাড়া এটি বস্তুগত ও আর্থিকভাবেও ব্যয়বহুল, কেননা এর রেফারেন্স গ্রন্থগুলোর ব্যবহারিক প্রচলন কম, সেগুলো আকারে বিশাল, দামি এবং দুষ্প্রাপ্য"২।
তবে মুসলিম ইতিহাসবিদ যদি তার কাজে সফলতা চান এবং তাতে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত করেন, তবে তাকে অবশ্যই প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হবে এবং প্রতিকূলতাকে জয় করতে হবে। নিশ্চয়ই এই কাজ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সর্বোত্তম কাজসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলো যখন যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করা হবে এবং সেগুলোতে যুক্ত হওয়া আবর্জনা থেকে সেগুলোকে পরিশোধন করা হবে, তখন আমরা আমাদের মুসলিম উম্মাহর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের খিদমতে এক মহান কাজ আঞ্জাম দিতে পারব এবং এর মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ভবিষ্যৎকে আলোকিত করতে সক্ষম হব।
"হাদীস সমালোচনা এবং সহীহ থেকে যয়ীফকে পৃথক করার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের সুনির্দিষ্ট মানহাজ ও কর্মপদ্ধতি রয়েছে। ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাসের সাথে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রেও এই মানহাজগুলো প্রয়োগ করা প্রয়োজন। কারণ এই ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলো মূল পাঠের (মতন) পূর্বে সনদ (বর্ণনাপরম্পরা) বিদ্যমান থাকার দিক থেকে হাদীসের সদৃশ; যা একজন সমালোচককে সেই ধারাবাহিক বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে জানতে সক্ষম করে যারা একের পর এক সংবাদ বা বর্ণনাটি পূর্বসূরীদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আর বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় ইলমুর রিজাল বা বর্ণনাকারী বিষয়ক শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ থেকে, যা বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনার জন্য বিশেষভাবে রচিত।
উদাহরণস্বরূপ, সহীহ হাদীসের শর্ত হলো—তা ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভুল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (আদল ও জাবিত) বর্ণনাকারী কর্তৃক অনুরূপ ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভুল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণিত হওয়া, যার মধ্যে কোনো শায (ব্যতিক্রম) বা ইল্লাত (ত্রুটি) নেই। সুতরাং সহীহ ঐতিহাসিক বর্ণনার শর্ত হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
أن كل رواتها المتعاقبين إلى شاهد العيان متدينون تدينًا صحيحًا، وعندهم ملكة الحفظ والتي تمنع وقوعهم في الأوهام والتخليط، وتؤدي إلى ضبطهم للرواية سواء في صدورهم أو كتبهم، يضاف إلى ذلك أن تكون الرواية متفقة مع الروايات الأخرى التي يرويها رواة يتمتعون بتوثيق أكثر، أما إذا خالفتها فهي شاذة مرجوحة، وكذلك أن لا يكون في الرواية التاريخية علة خفية قادحة بصحتها، كالتدليس الخفي، أو الإرسال الخفي، أو الاضطراب في معلومات المتن. وإذا كانت الروايات التاريخية لا ترقى إلى درجة الصحة الحديثية وفق الشروط المتقدمة، فإنه ينظر إلى تعدد طرقها بجمع ما يتعلق بالمسألة التاريخية الواحدة، فإنها تقوى خاصة عند استحالة اجتماع الذين رووها واتفاقهم على الكذب"1.
ثم ينظر بعد ذلك في الروايات بعد سبرها ونقدها فيتم "اعتماد الروايات الصحيحة وتقديمها، ثم الحسنة، ثم ما يعتضد من الضعيف لبناء الصورة التاريخية لأحداث المجتمع الإسلامي في عصر صدر الإسلام. وعند التعارض يقدم الأقوى دائما. أما الروايات الضعيفة التي لا تقوى أو تعضد فيمكن الإفادة منها في إكمال الفراغ الذي لا تسده الروايات الصحيحة والحسنة على ألاّ تتعلق بجانب عقدي أو شرعي. أما الروايات التاريخية المتعلقة بالعمران كتخطيط المدن وريازة الأبنية وشق الترع، أو المتعلقة بوصف ميادين القتال وأخبار المجاهدين الدالة على شجاعتهم وتضحيتهم فلا بأس من التساهل فيها"2.
"فإن هذا العلم - علم الرواية والإسناد - قد وضع أساسا ليقاس بمقتضاه ما روي من حديث نسبه رواته إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل ليجيز ما يثبت نقله عنه. فالأمر يتعلق بإرساء قواعد الدين، وتأصيل أصول الإسلام:
--------------------------------------------
প্রত্যক্ষদর্শী পর্যন্ত সকল পরস্পর বর্ণনাকারী সঠিকভাবে ধর্মপ্রাণ হবেন এবং তাদের হিফয বা মুখস্থ রাখার এমন যোগ্যতা থাকবে যা তাদেরকে বিভ্রান্তি ও সংমিশ্রণ থেকে রক্ষা করবে, এবং তাদের বর্ণনাগুলো তাদের অন্তরে অথবা কিতাবে যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকবে। এর সাথে আরও যুক্ত হবে যে, বর্ণনাটি অন্যান্য অধিকতর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে; যদি তা তাদের বিরোধিতা করে তবে তা শায বা বর্জনীয় বলে গণ্য হবে। তেমনিভাবে ঐতিহাসিক বর্ণনায় এমন কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি থাকবে না যা এর বিশুদ্ধতাকে ক্ষুণ্ণ করে, যেমন গোপন তাদলীস, গোপন ইরসাল বা মূল পাঠের তথ্যে অস্থিরতা। যদি ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলো উল্লিখিত শর্তানুসারে হাদিসের বিশুদ্ধতার স্তরে না পৌঁছায়, তবে একটি ঐতিহাসিক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সূত্র একত্রিত করে এর একাধিক পথ বিবেচনা করা হবে। এটি তখন শক্তিশালী হয় যখন বর্ণনাকারীদের পক্ষে একত্রিত হয়ে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।১
অতঃপর বর্ণনাগুলো যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার পর সহীহ বা বিশুদ্ধ বর্ণনাগুলোকে গ্রহণ ও অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে, এরপর হাসান বা গ্রহণযোগ্য বর্ণনা, এবং এরপর সেই দুর্বল বর্ণনাগুলো যা ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের মুসলিম সমাজের ঘটনাবলির ঐতিহাসিক চিত্র তুলে ধরতে একে অপরকে শক্তিশালী করে। যখন বৈপরীত্য দেখা দেবে, তখন সর্বদা শক্তিশালী বর্ণনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আর যে দুর্বল বর্ণনাগুলো শক্তিশালী হয় না বা একে অপরকে সমর্থন করে না, সেগুলো থেকে এমন শূন্যস্থান পূরণে উপকৃত হওয়া যেতে পারে যা সহীহ ও হাসান বর্ণনা দ্বারা পূরণ করা সম্ভব নয়, যদি তা আকিদাহ বা শরয়ি কোনো বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়। তবে নগর পরিকল্পনা, স্থাপত্যশৈলী, খাল খনন, অথবা যুদ্ধের ময়দানের বর্ণনা এবং মুজাহিদদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের খবরের মতো ঐতিহাসিক বর্ণনার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শনে কোনো বাধা নেই।২
কেননা এই শাস্ত্র—বর্ণনা ও সনদ শাস্ত্র—মূলত রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এর বাণী বা কাজ হিসেবে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা পরিমাপ করার জন্য একটি ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যাতে তাঁর থেকে যা প্রমাণিত তা গ্রহণ করা যায়। সুতরাং বিষয়টি দ্বীনের বিধিবিধান প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামের মূলনীতিগুলো সুদৃঢ় করার সাথে সংশ্লিষ্ট:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
عباداته ومعاملاته، وشريعته ومعتقداته. إن هذا وأمثاله من النهج المتشدد إن كان له ما يبرره عند إرساء قواعد الدين فلعله أن يكون تعنتا أن نطبقه بحذافيره على المرويات التاريخية"1.
لذلك فإن "اشتراط الصحة الحديثية في كل رواية تاريخية نريد قبولها فيه تعسف؛ لأن ما تنطبق عليه هذه الشروط لا يكفي لتغطية العصور المختلفة للتاريخ الإسلامي، مما يولد فجوات ضخمة في تاريخنا. وإذا قارنا ذلك بتواريخ العالم فإنها كثيرا ما تعتمد على روايات مفردة أو مؤرخين مجهولين، بالإضافة إلى ذلك فهي مليئة بالفجوات، لذلك يكفي في الفترات اللاحقة التوثيق من عدالة المؤرخ وضبطه لقبول ما يسجله مع استخدام قواعد النقد الحديثي في الترجيح عند التعارض بين المؤرخين. إن اشتراط الأمانة والثقة والدين في المؤرخ ضروري لقبول شهادته على الرجال والأمم وتقويم دورهم التاريخي"2.
كما "ينبغي ملاحظة منهج المحدثين عند التعامل مع الرواية التاريخية، فهم يتساهلون في رواية الأخبار التاريخية، كما نلاحظ عند ثقات المؤرخين مثل محمد بن إسحاق، وخليفة بن خياط، والطبري، حيث يكثرون من الأخبار المرسلة والمنقطعة"3. تلك الأخبار هي في الغالب روايات موقوفة على بعض التابعين مثل عروة بن الزبير، وأبان بن عثمان، وبعض صغار التابعين مثل الزهري، وعاصم بن عمرو، ومالك بن دينار وغيرهم، هذه الروايات من وجهة النظر الحديثية ضعيفة لا يحتج بها، ولكن من الجدير ذكره أن هؤلاء التابعين كانوا من الرواد الأوائل في كتابة السيرة النبوية، وتدوينها التدوين الأول، وكان تدوينهم لها إما عن طريق كتب أو وثائق وصلت إليهم عن طريق الصحابة أو تابعين عاصروا الصحابة وأخذوا ذلك عنهم، أو عن طريق روايات شيوخهم
--------------------------------------------
তাঁর ইবাদত ও মুয়ামালাত (লেনদেন), এবং তাঁর শরীয়ত ও আকিদাহ। এই এবং এর সদৃশ কঠোর পদ্ধতি যদি দ্বীনের মূলনীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যুক্তিযুক্ত হয়েও থাকে, তবে ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রে একে অক্ষরে অক্ষরে প্রয়োগ করা হয়তো এক প্রকারের একগুঁয়েমি হতে পারে"১।
তাই "আমরা গ্রহণ করতে চাই এমন প্রতিটি ঐতিহাসিক বর্ণনার ক্ষেত্রে হাদিসশাস্ত্রীয় বিশুদ্ধতার শর্তারোপ করা হবে একটি বাড়াবাড়ি; কারণ এসব শর্ত যাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তারা ইসলামের ইতিহাসের বিভিন্ন যুগকে পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরার জন্য পর্যাপ্ত নয়, যা আমাদের ইতিহাসে বিশাল শূন্যতার জন্ম দেয়। আমরা যদি একে বিশ্বের অন্যান্য ইতিহাসের সাথে তুলনা করি, তবে দেখা যায় যে সেগুলো প্রায়শই একক বর্ণনা বা অজ্ঞাত ঐতিহাসিকদের ওপর নির্ভর করে, উপরন্তু সেগুলো শূন্যতায় পরিপূর্ণ। তাই পরবর্তী সময়ের ক্ষেত্রে একজন ঐতিহাসিকের ন্যায়নিষ্ঠতা (আদালাত) ও স্মৃতিশক্তির প্রখরতা (দাবত) সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াই তার লিপিবদ্ধ করা বিষয়গুলো গ্রহণের জন্য যথেষ্ট, পাশাপাশি ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতপার্থক্যের সময় অগ্রাধিকার নির্ধারণে হাদিস পর্যালোচনার নিয়মাবলী ব্যবহার করা হবে। একজন ঐতিহাসিকের মধ্যে আমানতদারি, নির্ভরযোগ্যতা ও দ্বীনদারির শর্ত থাকা আবশ্যক তাঁর জবানবন্দি এবং ব্যক্তি ও জাতিসমূহের ওপর তাঁর মূল্যায়ন গ্রহণ ও তাদের ঐতিহাসিক ভূমিকা মূল্যায়নের জন্য"২।
সেইসাথে "ঐতিহাসিক বর্ণনার সাথে আচরণের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের কর্মপন্থা লক্ষ্য করা উচিত, কারণ তাঁরা ঐতিহাসিক সংবাদের বর্ণনায় শিথিলতা প্রদর্শন করেন। যেমনটি আমরা নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিকগণ যথা মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক, খলিফা ইবনে খাইয়াত এবং তাবারির ক্ষেত্রে লক্ষ্য করি, যেখানে তাঁরা প্রচুর পরিমাণে মুরসাল ও মুনকাতি সংবাদ উল্লেখ করেছেন"৩। এই সংবাদগুলো মূলত কিছু তাবেয়ি যেমন— উরওয়াহ ইবনে যুবাইর, আবান ইবনে উসমান এবং কিছু ছোট তাবেয়ি যেমন— যুহরি, আসিম ইবনে আমর, মালিক ইবনে দিনার এবং অন্যদের ওপর মাওকুফ (স্থগিত) বর্ণনা। হাদিসশাস্ত্রীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে এই বর্ণনাগুলো দুর্বল এবং এগুলো দ্বারা দলিল পেশ করা যায় না। তবে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এই তাবেয়িগণ ছিলেন সীরাতুন্নবী রচনা এবং এর প্রথম সংকলনের ক্ষেত্রে অগ্রগামী পথিকৃৎ। তাঁদের এই সংকলন ছিল হয় কিছু কিতাব বা দলিলের মাধ্যমে যা তাঁদের কাছে সাহাবায়ে কেরাম বা সাহাবাদের সমসাময়িক তাবেয়িদের মাধ্যমে পৌঁছেছিল এবং তাঁরা তাঁদের কাছ থেকে এগুলো গ্রহণ করেছিলেন, অথবা তাঁদের উস্তাদদের বর্ণনার মাধ্যমে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
من الصحابة.
ونظرًا لأن الاتجاه السائد في ذلك الوقت والاهتمام كان منصبّا على الأحاديث النبوية، لذلك تساهلوا المرويات التاريخية، ولم يولوها جلّ اهتمامهم وعنايتهم كما فعلوا اتجاه الأحاديث النبوية، فكانوا يرسلون غالبية الروايات التاريخية عند روايتها، وربما كان لتأليفهم كتبا في السيرة النبوية فيما بعد دورًا في ذلك حيث كانوا يملون على تلاميذهم ويحدثونهم منها دون ذكر السند.
لذلك أعتقد أنه يمكن التساهل في الروايات التي ترد عن طريقهم ولا سيما وأنهم موثّقون عند أهل الحديث.
"إن مراحل التاريخ الإسلامي كلها بحاجة إلى إعادة تقويمها من وجهة النظر الإسلامية، وقد تبين مدى تغير الصورة التاريخية لفترة من تاريخنا عندما يتناولها بالبحث كتاب مسلمون منصفون، كما حدث في إعادة تقويم الدولة العثمانية وفتح ملفها من جديد. ويبدو لي أن التغير الذي سيحدث في تصورنا للتاريخ الأموي والعباسي وما بعدهما من حلقات حتى تاريخنا المعاصر سيكون كبيرا جدّا، وسيكشف عن مدى الزيف والتحريف الذي أصاب تاريخنا.
إنه لا بدَّ من محاولة جادة لإعادة صياغة التاريخ الإسلامي بأقلام إسلامية تؤمن بالله وبرسوله وتحس بدور الإسلام وأثره في تاريخنا وحاضرنا ومستقبلنا"1.
"والصحوة الإسلامية عليها واجب ضخم تجاه المناهج التعليمية، ومناهج التاريخ بصفة خاصة تعيد صياغتها صياغة إسلامية، باعتبارها هذا جزءا لا ينفصل عن مهمة التربية اللازمة لإعداد الجيل المسلم. والمؤرخون المسلمون مدعوون للقيام بنصيبهم من هذا الجهد الشاق وقد لا يعترف بجهدهم أحد في الوقت
--------------------------------------------
সাহাবীদের মধ্য থেকে।
যেহেতু সেই সময়ে প্রচলিত প্রবণতা এবং মনোযোগ প্রধানত নববী হাদিসের ওপর নিবদ্ধ ছিল, তাই তাঁরা ঐতিহাসিক বর্ণনার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন এবং নববী হাদিসের প্রতি যেমন গুরুত্ব ও যত্ন প্রদান করেছেন, ঐতিহাসিক বর্ণনার ক্ষেত্রে তেমনটি করেননি। ফলে ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলো বর্ণনা করার সময় তাঁরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা 'মুরসাল' (সূত্রহীন) হিসেবে উল্লেখ করতেন। সম্ভবত পরবর্তীতে সীরাতুন্নবী বিষয়ক গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে এটি একটি ভূমিকা রেখেছিল, কারণ তাঁরা তাঁদের ছাত্রদের কাছে এগুলো শ্রুতলিপি করাতেন এবং সূত্র উল্লেখ ছাড়াই তাঁদের কাছে বর্ণনা করতেন।
তাই আমি মনে করি যে, তাঁদের মাধ্যমে প্রাপ্ত বর্ণনার ক্ষেত্রে শিথিলতা অবলম্বন করা সম্ভব, বিশেষ করে যেহেতু হাদিস বিশারদদের নিকট তাঁরা নির্ভরযোগ্য।
"ইসলামী ইতিহাসের সকল পর্যায়কে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পুনরায় মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। আমাদের ইতিহাসের কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়কাল নিয়ে যখন ন্যায়নিষ্ঠ মুসলিম লেখকগণ গবেষণা করেন, তখন সেই ঐতিহাসিক চিত্রের পরিবর্তনের মাত্রা স্পষ্ট হয়ে ওঠে; যেমনটি ঘটেছে উসমানীয় খিলাফতের পুনর্মূল্যায়ন এবং এর নথিপত্র নতুন করে পর্যালোচনার ক্ষেত্রে। আমার কাছে মনে হয় যে, উমাইয়া ও আব্বাসীয় ইতিহাস এবং তার পরবর্তী পর্যায়গুলো থেকে শুরু করে আমাদের সমসাময়িক ইতিহাস পর্যন্ত আমাদের ধারণায় যে পরিবর্তন আসবে তা অত্যন্ত বিশাল হবে এবং এটি আমাদের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া মিথ্যা ও বিকৃতির মাত্রাকে উন্মোচিত করবে।
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাসী এবং আমাদের ইতিহাস, বর্তমান ও ভবিষ্যতে ইসলামের ভূমিকা ও প্রভাব সম্পর্কে সচেতন এমন সব ইসলামী কলম সৈনিকদের মাধ্যমে ইসলামী ইতিহাসকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করার একটি ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালানো অপরিহার্য।"১।
"শিক্ষা পাঠ্যক্রম, বিশেষ করে ইতিহাসের পাঠ্যক্রমকে ইসলামী আদলে নতুনভাবে সাজানোর ক্ষেত্রে ইসলামী জাগরণের ওপর একটি বিশাল দায়িত্ব অর্পিত রয়েছে। একে মুসলিম প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষার (তরবিয়ত) একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। মুসলিম ঐতিহাসিকদের প্রতি এই কঠিন প্রচেষ্টায় নিজেদের অংশটুকু পালন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে, যদিও বর্তমানে হয়তো কেউ তাঁদের এই প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الحاضر بل قد يرميهم المثقفون بالأحجار، ولكنهم بجهدهم يبنون الطريق للمستقبل، والمستقبل للإسلام"1.
{وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ} 2.
{هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ شَهيداً} 3.
إن الكتابة في مجال التاريخ أمر مشوق ومحبب للنفس خاصة تاريخ الإسلام الذي يحكي أمجاد المسلمين الأوائل، وما حققوه من انتصارات أبهرت العالم قديما وحديثا.. ألا وإن قمة ذلك التاريخ وأعظم تلك الانتصارات هو ما كان في مغازي النبي صلى الله عليه وسلم وبعوثه وسراياه التي كان السلف الصالح رحمهم الله تعالى يتواصون بتعلُّمها وتدارسها ودراستها. فهذا الزهري يقول: "في علم المغازي علم الآخرة والدنيا"4.
وقد بلغ من حرصهم على تعليم أولادهم مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم وسراياه أنهم جعلوها قرينة القرآن الكريم من حيث أولوية التعليم. يقول زين العابدين علي بن الحسين بن علي: "كنا نُعلَّم مغازي النبي صلى الله عليه وسلم وسراياه كما نعلم السورة من القرآن"5، وعن إسماعيل بن محمد بن سعد بن أبي وقاص قال: "كان أبي يعلمنا المغازي، ويعدّها علينا، وسراياه، ويقول: يا بني، هذه مآثر آبائكم، فلا تضيعوا ذكرها"6.
إن علم "التاريخ العسكري من أجدر فروع التاريخ بالدراسة والتعمق،
--------------------------------------------
বর্তমান; বরং বুদ্ধিজীবীরা হয়তো তাদের দিকে পাথর নিক্ষেপ করছে, কিন্তু তারা তাদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করছে, আর ভবিষ্যৎ ইসলামের জন্য।"১.
{এটি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতির খেলাফ করেন না, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না} ২.
{তিনিই তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যেন তাকে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট} ৩.
ইতিহাসের ক্ষেত্রে লেখালেখি করা একটি আগ্রহোদ্দীপক ও মনের নিকট প্রিয় বিষয়, বিশেষ করে ইসলামের ইতিহাস যা প্রথম যুগের মুসলিমদের গৌরবগাথা এবং তারা প্রাচীন ও আধুনিক বিশ্বকে বিস্ময়াভিভূতকারী যেসব বিজয় অর্জন করেছিল তার বর্ণনা দেয়। জেনে রাখুন, সেই ইতিহাসের শিখর এবং সেই সকল বিজয়ের শ্রেষ্ঠতম অংশ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুদ্ধাভিযান (মাগাজি), তাঁর প্রেরিত দল এবং ছোট ছোট অভিযানসমূহ (সারায়া), যা শিক্ষা করা ও অধ্যয়ন করার জন্য সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন) একে অপরকে অসিয়ত করতেন। যেমন ইমাম যুহরী বলেন: "যুদ্ধাভিযানের (মাগাজি) জ্ঞানের মধ্যে আখেরাত ও দুনিয়ার জ্ঞান নিহিত রয়েছে।" ৪
সন্তানদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুদ্ধাভিযান ও অভিযানসমূহ শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, শিক্ষার অগ্রাধিকারের দিক থেকে তারা এগুলোকে পবিত্র কুরআনের সমতুল্য জ্ঞান করতেন। জয়নুল আবেদিন আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী বলেন: "আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুদ্ধাভিযান ও অভিযানসমূহ এমনভাবে শিক্ষা দেওয়া হতো যেমন আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দেওয়া হতো।" ৫, আর ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমার পিতা আমাদের যুদ্ধাভিযানসমূহ শিক্ষা দিতেন এবং সেগুলো আমাদের কাছে গণনা করতেন ও অভিযানগুলোর বর্ণনা দিতেন, আর বলতেন: হে বৎস! এগুলো তোমাদের পিতৃপুরুষদের কীর্তিগাথা, সুতরাং তোমরা এগুলোর স্মরণ হারিয়ে ফেলো না।" ৬
প্রকৃতপক্ষে "সামরিক ইতিহাসের" জ্ঞান হলো ইতিহাসের সেই শাখাগুলোর অন্যতম যা অধ্যয়ন ও গভীরভাবে গবেষণার সর্বাধিক উপযুক্ত,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والتحليل والعبرة، فكما أن جميع العلوم تسخر الآن لتكون معطياتها وسائل قتال بيد الجيوش، فالتاريخ العسكري أحد أبرز العلوم التي تعلم كيفية استخدام تلك الوسائل المادية والمعنوية.
يقول بونابرت: من الممكن تعلّم التكتيك والتطورات وعمل المهندسين والمدفعية من الأنظمة والمذكرات، كما نتعلم الهندسة تقريبا، إلا أن معرفة الأجزاء العليا من الحرب لا تكتسب إلاّ بالتجربة، وبدراسة تاريخ الحروب ومعارك كبار القادة"1.
لقد نشأ معي حب التاريخ عامة، والسيرة النبوية خاصة منذ الصغر، فلما طلب مني القسم اختيار موضوع بحث الماجستير، قررت أن أختار موضوعا في السيرة النبوية. ولكن بسبب كثرة من كتب في السيرة قديما وحديثا حتى ملئت في ذلك المجلدات المختلفة الأحجام، لذلك وجدت صعوبة بالغة في اختيار الموضوع المناسب، ومكثت أشهرا وأنا أفكّر وأقلّب الصفحات دون جدوى..
وبعد الاستعانة بالله عز وجل ثم بنصيحة شيخي الفاضل الأستاذ الدكتور/أكرم ضياء العمري حفظه الله الذي وجهني للكتابة النقدية لمرويات السيرة النبوية. وهنا تركزت اتجاهاتي نحو منهج معين بعد شتات، وقصرت المسافة نحو الموضوع المختار بعد طول عناء. ولكن بقيت مشكلة أخيرة وهي: أن زملاءنا الأفاضل في قسم السنة لم يتركوا لنا مجالا واسعا في هذا الاتجاه، حيث إنهم بمجهوداتهم الخيِّرة وبتوجيهات كريمة من أستاذنا الكريم فضيلة الدكتور أكرم العمري، قد غطّوا معظم مرويات السيرة النبوية وخاصّة الغزوات.. وبقيت في حيرة..
--------------------------------------------
এবং বিশ্লেষণ ও শিক্ষা; বর্তমানে যেভাবে সমস্ত বিজ্ঞানকে এমনভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে যাতে তার তথ্য-উপাত্তগুলো সেনাবাহিনীর হাতে যুদ্ধের মাধ্যম হিসেবে পরিণত হয়, ঠিক তেমনি সামরিক ইতিহাস হলো অন্যতম প্রধান বিজ্ঞান যা সেইসব বস্তুগত ও অবস্তুগত উপায়-উপকরণ ব্যবহারের পদ্ধতি শিক্ষা দেয়।
বোনাপার্ট বলেন: "রণকৌশল, বিবর্তন, প্রকৌশলীদের কাজ এবং গোলন্দাজ বাহিনী সম্পর্কে জ্ঞান বিভিন্ন নিয়মাবলী ও স্মারকপত্র থেকে অর্জন করা সম্ভব, অনেকটা আমরা যেভাবে জ্যামিতি শিখি; তবে যুদ্ধের উচ্চতর অংশগুলো সম্পর্কে জ্ঞান কেবল অভিজ্ঞতা এবং যুদ্ধের ইতিহাস ও মহান সেনাপতিদের রণক্ষেত্রসমূহ অধ্যয়নের মাধ্যমেই লাভ করা যায়"১।
শৈশব থেকেই সাধারণভাবে ইতিহাস এবং বিশেষভাবে সীরাত-উন্নবীর প্রতি আমার ভালোবাসা জন্মেছিল। যখন বিভাগ থেকে আমাকে মাস্টার্স গবেষণার বিষয় নির্বাচনের জন্য বলা হলো, তখন আমি সীরাত-উন্নবী থেকে একটি বিষয় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু প্রাচীন ও আধুনিক যুগে সীরাত বিষয়ে এত বেশি লেখালেখি হয়েছে যে বিভিন্ন আকারের খণ্ডগুলো তা দিয়ে পূর্ণ হয়ে আছে; ফলে উপযুক্ত বিষয় নির্বাচন করা আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াল। আমি কয়েক মাস চিন্তা করে ও পাতা উল্টে অতিবাহিত করলাম কিন্তু কোনো ফল হলো না...
এরপর মহান আল্লাহর সাহায্য এবং আমার সম্মানিত উস্তাদ অধ্যাপক ডক্টর আকরাম জিয়া আল-উমারি (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন)-এর পরামর্শে, যিনি আমাকে সীরাত-উন্নবীর বর্ণনাগুলোর সমালোচনামূলক পর্যালোচনার বিষয়ে লেখার দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। এরপর বিক্ষিপ্ত অবস্থার পর আমার মনোযোগ একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির দিকে নিবদ্ধ হলো এবং দীর্ঘ পরিশ্রমের পর নির্বাচিত বিষয়ের দিকে দূরত্ব কমে এল। কিন্তু একটি শেষ সমস্যা রয়ে গেল, সেটি হলো: হাদিস বিভাগের আমাদের শ্রদ্ধেয় সহকর্মীরা এই পথে আমাদের জন্য তেমন কোনো প্রশস্ত ক্ষেত্র বাকি রাখেননি। কারণ তারা তাদের মহতী প্রচেষ্টা এবং আমাদের সম্মানিত উস্তাদ ডক্টর আকরাম আল-উমারির মহানুভব দিকনির্দেশনায় সীরাত-উন্নবীর অধিকাংশ বর্ণনা, বিশেষ করে যুদ্ধাভিযানসমূহ সম্পন্ন করে ফেলেছেন। তাই আমি পুনরায় দ্বিধায় পড়ে গেলাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ما هو الموضوع المناسب ولم يطرقه الزملاء، وأخذت أبحث في فهارس كتب السير والمغازي القديمة والحديثة، لعلّي أهتدي إلى الموضوع المناسب.
وهكذا بدأت أعرض على فضيلة رئيس القسم بعض المواضيع حتى وقع اختياري على موضوع السرايا والبعوث النبوية، حيث وجدت من خلال قراءتي واطلاعي على مَن كتب فيها قديما وحديثا أنه لم يفرد لها كتاب مستقل إلاّ ما كان من المدائني الذي ألَّف كتابا فيها أسماه "كتاب سرايا النبي صلى الله عليه وسلم "، وكتابا آخر باسم "كتاب السرايا" ذكرهما ابن النديم1. ومعلوم أن معظم كتب المدائني فقدت.
وجمع أبو تراب الظاهري من الباحثين المعاصرين المرويات الخاصة بالسرايا والبعوث في كتاب أسماه "سرايا النبي صلى الله عليه وسلم"، وذكرها مؤلفو المغازي ضمنا مع مغازي النبي صلى الله عليه وسلم مثل: الواقدي، وأحمد بن الحارث الخزَّاز، صاحب كتاب "مغازي النبي صلى الله عليه وسلم وسراياه وأزواجه"، ذكر ذلك ابن النديم2.
ومن مؤلفي المغازي المتأخرين الشيخ أحمد بن عبد اللطيف نور صاحب كتاب "غزوات الرسول وسرياته"، وعبد المنعم الهاشمي صاحب كتاب "سرايا الرسول".
وأفرد لها ابن سعد مجلدا خاصًّا من كتابه "الطبقات" بعنوان: ذكر مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم وسراياه.
وكذلك فعل كلٌّ من البيهقي الذي أفرد لها مجلدين من "الدلائل" بعنوان: جماع أبواب مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم بنفسه وسراياه.
والشامي مجلدّا أسماه "جماع أبواب سراياه وبعوثه صلى الله عليه وسلم ".
والحلبي الذي أفرد لها بابا من كتاب "السيرة" عنون له: باب سراياه صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
উপযুক্ত বিষয় কোনটি এবং যা সহকর্মীরা আগে আলোচনা করেননি? আমি প্রাচীন ও আধুনিক সীরাত ও মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের নির্ঘণ্টে উপযুক্ত একটি বিষয়ের সন্ধানে অনুসন্ধান শুরু করলাম।
এভাবে আমি বিভাগীয় প্রধান মহোদয়ের কাছে কিছু বিষয় উপস্থাপন করতে শুরু করলাম, অবশেষে আমি সারায়া (ছোট যুদ্ধাভিযান) এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেরিত সেনাদল সংক্রান্ত বিষয়টি নির্বাচন করলাম। কেননা প্রাচীন ও আধুনিক লেখকদের লেখা পাঠ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে আমি দেখতে পেলাম যে, মাদায়িনী ছাড়া এই বিষয়ে স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি। তিনি এ বিষয়ে 'কিতাবু সারায়িন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম' এবং 'কিতাবুস সারায়া' নামে অন্য আরেকটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন, ইবনুন নাদীম এ দুটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন ১। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, মাদায়িনীর অধিকাংশ গ্রন্থই হারিয়ে গেছে।
সমকালীন গবেষকদের মধ্যে আবু তুরাব আল-জাহিরী সারায়া ও প্রেরণকৃত দল সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো 'সারায়িন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম' নামক একটি গ্রন্থে একত্রিত করেছেন। আর মাগাযী রচয়িতাগণ এগুলোকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) সমূহের সাথে প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করেছেন, যেমন: ওয়াকিদী এবং আহমদ বিন হারিস আল-খাজ্জায—যিনি 'মাগাযীন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সারায়াহু ওয়া আজওয়াজুহ' গ্রন্থের লেখক। ইবনুন নাদীম বিষয়টি উল্লেখ করেছেন ২।
পরবর্তী যুগের মাগাযী লেখকদের মধ্যে রয়েছেন শেখ আহমদ বিন আব্দুল লতিফ নূর—যিনি 'গাযাওয়াতুর রাসূল ওয়া সারায়াতুহু' গ্রন্থের লেখক, এবং আব্দুল মোনেম আল-হাশেমী—যিনি 'সারায়ার রাসূল' গ্রন্থের লেখক।
ইবনে সাদ তাঁর 'আত-তাবাকাত' গ্রন্থের একটি বিশেষ খণ্ড এই বিষয়ের জন্য বরাদ্দ করেছেন, যার শিরোনাম হলো: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাগাযী ও সারায়ার বর্ণনা'।
একইভাবে বায়হাকীও করেছেন, তিনি তাঁর 'আদ-দালাইল' গ্রন্থের দুটি খণ্ড এই বিষয়ের জন্য বরাদ্দ করেছেন, যার শিরোনাম হলো: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রত্যক্ষ যুদ্ধাভিযান ও সারায়া সংক্রান্ত অধ্যায়সমূহের সংকলন'।
আর শামী এক খণ্ডে এটি করেছেন, যার নাম দিয়েছেন 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সারায়া ও প্রেরিত দলসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়সমূহের সংকলন'।
এবং হালাবী তাঁর 'আস-সীরাহ' গ্রন্থে এই বিষয়ের জন্য একটি অধ্যায় বরাদ্দ করেছেন, যার শিরোনাম দিয়েছেন: 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সারায়া সংক্রান্ত অধ্যায়'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وبعوثه.
وأفرد لها ابن القيم فصلا في كتابه "زاد المعاد" باسم: سياق مغازيه وبعوثه على وجه الاختصار.
وساقها الذهبي مع المغازي في المجلد الخاص بالمغازي من كتابه الموسوعي "تاريخ الإسلام".
أما ابن هشام فلم يفرد لها أجزاء خاصة من كتاب "السيرة" وإنما ذكرها ضمنا في الجزء الثاني حتى الجزء الرابع، وكذلك فعل بقية من كتب في السيرة النبوية.
أما من ناحية نقد المرويات التي جاءت عن السرايا والبعوث وفق منهج المحدثين فأعتقد أنه لم يتطرق أحد لهذه الناحية ما عدا ما ورد من الروايات عنها في كتب الصحيحين، وما ورد في كتاب الحافظ نور الدين الهيثمي "مجمع الزوائد ومنبع الفوائد"، وما ورد في كتب السنن والمسانيد التي حظيت بتخريج أحاديثها من بعض المحققين والعلماء، مثل سنن أبي داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجه التي خرّج أحاديثها العلامة الألباني، ومسند الإمام أحمد الذي خرّج أحاديثه كل من البنا، وأحمد الشاكر، وغيرها من كتب الحديث.
ولكن الروايات التي وردت في هذه المصادر عن السرايا والبعوث قليلة جدّا لا تكاد تغطي إلاّ جزءا يسيرا منها، أما الجزء الأكبر فكان في بطون كتب السير والمغازي بلا نقد ولا تخريج غير قليل من المحاولات التي قام بها بعض كتّاب المغازي المتأخرين أمثال: ابن كثير، والذهبي، وابن حجر في تعليقاته على بعض الروايات التاريخية في "الفتح" و"الإصابة" وأيضا كان أكثر ما قام به هؤلاء هو عملية التخريج، أما النقد فكان قليلا،لأن معظم الروايات التي جاءت في كتب السير والمغازي كانت بلا سند، وذلك ما مثَّل صعوبة
এবং তাঁর প্রেরিত বাহিনীসমূহ।
ইবনুল কায়্যিম তাঁর "যাদুল মা'আদ" গ্রন্থে এর জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় বরাদ্দ করেছেন যার নাম: "সংক্ষেপে তাঁর যুদ্ধাভিযান ও প্রেরিত বাহিনীসমূহের বিবরণ"।
আয-যাহাবী তাঁর বিশ্বকোষীয় গ্রন্থ "তারীখুল ইসলাম"-এর যুদ্ধাভিযান সংক্রান্ত বিশেষ খণ্ডে এগুলোকে যুদ্ধাভিযানসমূহের সাথে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে ইবনে হিশাম তাঁর "সীরাত" গ্রন্থে এর জন্য কোনো স্বতন্ত্র অংশ বরাদ্দ করেননি, বরং দ্বিতীয় খণ্ড থেকে চতুর্থ খণ্ড পর্যন্ত এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে এগুলো আলোচনা করেছেন। সীরাতুন্নবী নিয়ে যারা লিখেছেন, তাদের বাকিরাও অনুরূপ করেছেন।
তবে মুহাদ্দিসদের মানহাজ অনুযায়ী সারায়া ও প্রেরিত বাহিনীসমূহ সম্পর্কে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর পর্যালোচনার দিক থেকে আমার মনে হয়, সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহ, হাফেজ নূরুদ্দীন আল-হাইসামির "মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়ায়েদ" গ্রন্থে বর্ণিত বর্ণনা এবং সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহ—যেগুলোর হাদিসগুলো কিছু গবেষক ও আলিম কর্তৃক তাহকীক ও তাখরীজ করা হয়েছে—ব্যতীত অন্য কেউ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেননি। যেমন: সুনানে আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী এবং ইবনে মাজাহ যেগুলোর হাদিসসমূহ আল্লামা আলবানী তাখরীজ করেছেন, এবং মুসনাদে ইমাম আহমাদ যার হাদিসসমূহ আল-বান্না, আহমাদ শাকের এবং অন্যান্য হাদিস গ্রন্থের সংকলকগণ তাখরীজ করেছেন।
কিন্তু এসব উৎসে সারায়া ও প্রেরিত বাহিনীসমূহ সম্পর্কে যেসব বর্ণনা এসেছে তা খুবই নগণ্য যা এগুলোর খুব সামান্য অংশই কাভার করে। পক্ষান্তরে এর সিংহভাগ সীরাত ও মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) গ্রন্থসমূহের অভ্যন্তরে কোনো পর্যালোচনা বা তাখরীজ ছাড়াই রয়ে গেছে। তবে পরবর্তী যুগের কিছু মাগাযী লেখক যেমন: ইবনে কাসীর, আয-যাহাবী এবং ইবনে হাজার তাঁর "ফাতহ" ও "আল-ইসাবাহ" গ্রন্থে কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনার ওপর মন্তব্যের মাধ্যমে যৎসামান্য চেষ্টা করেছেন। আর এই ব্যক্তিগণ যা করেছেন তার বেশিরভাগই ছিল মূলত তাখরীজের কাজ, পর্যালোচনার কাজ ছিল সামান্য। কারণ সীরাত ও মাগাযী গ্রন্থসমূহে আসা অধিকাংশ বর্ণনাই ছিল সনদবিহীন, আর এটিই মূলত কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بالغة بالنسبة لي عند محاولة نقد هذه الروايات.
لقد كان عملي في نقد هذه الروايات يمثل محاولة طموحة لما هو أفضل في المستقبل إن شاء الله تعالى ولا أستطيع أن أعترف برضائي التام عنها، ولكنها تجربة مفيدة لي على طريق هذا العلم النافع العظيم الذي أفتخر أن أكون أحد طالبيه المتواضعين.
إن كل عمل مخلص لا يخلو من مشاقَّ وصعوبات، تصبح فيما بعد ذكريات جميلة بعد أن تكسب الإنسان خبرة جيدة تفيده في المستقبل. ولقد واجهتني بحمد الله بعض الصعاب والمشاق خلال عملي في هذا البحث، كان أولها عملية اختيار الموضوع، كما أوضحت سابقا، ويا حبذا لو يتم اختيار المواضيع لطلبة الماجستير خاصة بمشاركة الأساتذة في القسم مراعين في توجيهاتهم للطلبة اتجاهاتهم وميولهم التي يمكن أن تتضح خلال السنة التحضيرية، ومن خلال البحوث التي يكلفون بها، وذلك للوصول إلى الموضوعات المهمّة التي لا زالت بحاجة إلى إعادة كتابة أو مزيد بحث.
ومن الصعوبات التي واجهتني ندرة المصادر والمراجع التاريخية التي تسلك عملية النقد وفق مناهج المحدثين، كما أن خلو بعض الروايات التي وردت في كتب المغازي والسير من الأسانيد، مثّل صعوبة بالغة بالنسبة لعملية النقد الإسنادي، لذلك لجأت إلى عملية نقد متون تلك الروايات (النقد الباطني) على ضوء منهج النقد التاريخي قدر الاستطاعة، وإن كانت بضاعتي في هذا المجال قليلة جدّا، نظرا لعدم توفر الخبرة اللازمة لي في مجال البحث والتحليل التي تحتاج إلى دراسة متخصصة متأنية، ولمدة كافية من الزمن، وهو الأمر الذي لم يتح لي خلال دراستي الجامعية ولا خلال السنة التحضيرية.
لذلك أرجو من الله تعالى، ثم من المسئولين في القسم دراسة هذا الأمر
এই বর্ণনাগুলো সমালোচনার প্রচেষ্টার সময় তা আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
এই বর্ণনাগুলোর সমালোচনার ক্ষেত্রে আমার কর্মতৎপরতা ভবিষ্যতে আরও উত্তম কিছুর জন্য একটি উচ্চাভিলাষী প্রচেষ্টার প্রতিফলন, ইনশাআল্লাহ। আমি এর প্রতি আমার পূর্ণ সন্তুষ্টির কথা স্বীকার করতে পারছি না, তবে এই মহান ও উপকারী ইলমের পথে এটি আমার জন্য একটি ফলপ্রসূ অভিজ্ঞতা, যার একজন বিনয়ী ছাত্র হতে পেরে আমি গর্বিত।
প্রতিটি নিষ্ঠাপূর্ণ কাজই কষ্ট ও প্রতিকূলতা মুক্ত নয়, যা পরবর্তীতে মানুষকে ভবিষ্যতে ফলপ্রসূ এক ভালো অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিয়ে সুন্দর স্মৃতিতে পরিণত হয়। আল্লাহর প্রশংসায়, এই গবেষণার কাজ চলাকালীন আমি কিছু প্রতিকূলতা ও কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি। তার মধ্যে প্রথমটি ছিল বিষয় নির্বাচনের প্রক্রিয়া, যা আমি ইতিপূর্বে স্পষ্ট করেছি। মাস্টার্সের ছাত্রদের জন্য বিষয় নির্বাচন যদি বিভাগের শিক্ষকদের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হতো, তবে তা কতই না চমৎকার হতো! সেক্ষেত্রে শিক্ষকরা যেন ছাত্রদের সেই প্রবণতা ও আগ্রহের প্রতি লক্ষ্য রাখেন যা প্রস্তুতিমূলক বর্ষে এবং তাদের ওপর অর্পিত গবেষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে; যেন এমন সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খুঁজে পাওয়া যায় যেগুলো পুনরায় লেখা বা অধিকতর গবেষণার দাবি রাখে।
আমার সম্মুখীন হওয়া প্রতিকূলতাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল মুহাদ্দিসগণের মানহাজ বা পদ্ধতি অনুযায়ী সমালোচনা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এমন ঐতিহাসিক উৎস ও রেফারেন্সের দুষ্প্রাপ্যতা। এছাড়া মাগাজি ও সিরাত বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত কিছু বর্ণনার সনদহীনতা 'সনদ ভিত্তিক সমালোচনা' প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে চরম প্রতিকূলতার সৃষ্টি করেছে। তাই আমি সাধ্যমতো ঐতিহাসিক সমালোচনা পদ্ধতির আলোকে সেই বর্ণনাগুলোর মূল পাঠের সমালোচনার (অভ্যন্তরীণ সমালোচনা) আশ্রয় নিয়েছি; যদিও এই ক্ষেত্রে আমার জ্ঞান অত্যন্ত নগণ্য। কারণ গবেষণা ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আমার প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার অভাব ছিল, যার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড় বিশেষায়িত অধ্যয়ন প্রয়োজন ছিল। আর এই সুযোগ আমার স্নাতক পর্যায় বা প্রস্তুতিমূলক বর্ষে হয়ে ওঠেনি।
তাই আমি মহান আল্লাহর নিকট, অতঃপর বিভাগের দায়িত্বশীলদের নিকট এই বিষয়টি পর্যালোচনার প্রত্যাশা করছি।
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وتخصيص قسم خاص، أو إضافة مواد تختص بعملية النقد الباطني (النقد التاريخي) والنقد الخارجي (نقد الأسانيد وفق منهج المحدثين) ؛ لأننا بحاجة ماسّة وشديدة للمختصين في هذا المجال الهام والنافع إن شاء الله تعالى لكي نركّز جهودنا في عملية تحرير تاريخنا الإسلامي مما شابه واعتراه من الشوائب والتّرهات التي استغلها أعداؤنا الحاقدون، ولعبوا بها كأورق رابحة يلوحون بها في وجوهنا كلما شاءوا.
ومن المصاعب التي واجهتها عدم وجود تراجم لبعض الرواة (جهالة عين) ، أو خلو تراجمهم من الجرح والتعديل الموضح لحال الرواة (جهالة حال) ، "وربما كان ذلك راجعا إلى أن رواياتهم قد اقتصرت على الأخبار دون الحديث، فكانوا يقولون عن أحدهم "إخباري"، ولعلّ في التعبير حطّ من شأنه عن مرتبة المحدّث، وقد نشأ علم الرجال أصلا لخدمة علم الحديث"1.
لذلك لم يهتم بهم مصنفو كتب الرجال فلم يوردوا تراجمهم، أو أوردوها موجزة خالية من الجرح والتعديل، فأصبح الجهل فيهم وفي أحوالهم كثير، يقول السبكي: "والجهل في المؤرخين أكثر منه في أهل الجرح والتعديل"2.
إن وجود الكثير من التناقضات والاضطرابات حول الواقعة الواحدة نتيجة تعدّد النصوص والروايات حولها جعلني أقف محتارا بينها، أيها أرجح؟ أو كيف أجمع بينها؟ وهل يمكن الجمع أم لا؟ وقد كنت أتوقف عند بعض النصوص حوالي الشهر أو الشهرين متأنيًّا لعلِّي أستنبط منه تفسيرا واقعيّا مناسبا أو حكما ما، وكنت أستعين في كثير من الأحيان بآراء النقاد والبارزين في هذا المجال ممَّن سبقني من جهابذة النقاد المسلمين أمثال: ابن القيّم، وابن حجر، والزرقاني، والشامي، وابن كثير، وغيرهم ممَّا أكسبني بعض الخبرة البسيطة في مجال النقد والتحليل.
--------------------------------------------
এবং একটি বিশেষ বিভাগ নির্দিষ্ট করা, অথবা অভ্যন্তরীণ সমালোচনা (ঐতিহাসিক সমালোচনা) এবং বাহ্যিক সমালোচনা (মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি অনুযায়ী বর্ণনাসূত্রের সমালোচনা) সংক্রান্ত বিষয়াদি যুক্ত করা; কারণ আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ এবং উপকারী ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের অত্যন্ত এবং তীব্রভাবে প্রয়োজন বোধ করছি - মহান আল্লাহ চাহেন তো - যাতে আমরা আমাদের ইসলামী ইতিহাসকে সেইসব আবর্জনা ও অসার কথাবার্তা থেকে পরিশুদ্ধ করার প্রচেষ্টায় মনোনিবেশ করতে পারি, যা একে কলুষিত ও আচ্ছন্ন করেছে। আমাদের বিদ্বেষপরায়ণ শত্রুরা এগুলোকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং বিজয়ী তাসের মতো যখনই ইচ্ছা আমাদের সামনে এগুলো ছুড়ে দিয়েছে।
আমি যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তার মধ্যে অন্যতম হলো কিছু বর্ণনাকারীর জীবনী না থাকা (ব্যক্তির পরিচয়হীনতা), অথবা তাদের জীবনীতে বর্ণনাকারীদের অবস্থা স্পষ্ট করার মতো জারহ ও তাদীল (সমালোচনা ও গুণাগুণ) না থাকা (অবস্থার পরিচয়হীনতা)। "সম্ভবত এর কারণ ছিল এই যে, তাদের বর্ণনাগুলো কেবল সংবাদের (আখবার) মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, হাদীসের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাই তারা তাদের কাউকে 'ইখবারী' (ইতিহাসবেত্তা) বলতেন। সম্ভবত এই অভিব্যক্তির মাধ্যমে মুহাদ্দিসগণের মর্তবা থেকে তাদের মর্যাদা হ্রাস করা হয়েছে, আর মূলত ইলমুর রিজাল (বর্ণনাকারী শাস্ত্র) এর উদ্ভবই হয়েছিল হাদীস শাস্ত্রের সেবার জন্য।"১
একারণেই রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থকারগণ তাদের প্রতি গুরুত্ব দেননি, ফলে তারা তাদের জীবনী উল্লেখ করেননি অথবা অতি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন যা জারহ ও তাদীল বর্জিত। ফলশ্রুতিতে তারা এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকট হয়ে পড়েছে। সুবকী বলেন: "জারহ ও তাদীল শাস্ত্রের পণ্ডিতদের তুলনায় ঐতিহাসিকদের ক্ষেত্রে অজ্ঞতা অনেক বেশি।"২
একই ঘটনার চারদিকে অসংখ্য পাঠ ও বর্ণনার আধিক্যের ফলে সৃষ্ট অনেক বৈপরীত্য ও অসংলগ্নতা আমাকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিত; কোনটি অধিক গ্রহণযোগ্য? অথবা কীভাবে এগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করব? সমন্বয় করা কি সম্ভব না কি সম্ভব নয়? কখনও কখনও আমি কিছু পাঠের ওপর প্রায় এক বা দুই মাস থমকে থাকতাম এবং ধৈর্য ধরে চিন্তা করতাম যেন তা থেকে বাস্তবসম্মত কোনো ব্যাখ্যা বা সিদ্ধান্ত বের করতে পারি। এই ক্ষেত্রে আমার পূর্বসূরি মুসলিম সমালোচক মনীষীদের মতামত থেকে আমি প্রায়শই সাহায্য নিতাম, যেমন: ইবনুল কাইয়্যিম, ইবনু হাজার, যারকানী, শামী, ইবনু কাসীর প্রমুখ। এটি আমাকে সমালোচনা ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কিছুটা সাধারণ অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
كان مسمى هذا البحث (السرايا والبعوث النبوية - دراسة نقدية تحليلية) ، ولكن بعد أن بدأت العمل بجمع المادة العلمية حول السرايا والبعوث كاملة، فتكوَّنت لديَّ مادة علمية ضخمة عن السرايا والبعوث، بحيث ملأت حوالي تسعة ملفات من الأوراق، وهذه الروايات الضخمة لا يمكن استيعاب نقدها وتحليلها خلال مدة هذا البحث، ويكفي أن أشير إلى أن بعض السرايا مثل سرية (عبد الله بن جحش إلى نخلة) ، أو (البعث إلى كعب بن الأشرف) ، أو (بعث الرجيع) وغيرها من السرايا ذات الروايات المتعددة والكثيرة التي يمكن أن تكون كل واحدة منها بحثا مطولا.
لذلك رأيت بعد مشورة الأستاذ المشرف أن يتم اختصار البحث جغرافيّا بحيث تتم دراسة مرويات السرايا والبعوث حول المدينة ومكة، وهي أهم وأكبر مناطق مسرح عمليات السرايا والبعوث النبوية، حيث يصبح مسمى البحث بعد التعديل (السرايا والبعوث النبوية حول المدينة ومكة - دراسة نقدية تحليلية) .
وقد بدأت عملي بوضع خطة البحث حيث رتبتها وفق تقسيم موضوعي، صنّفت فيه السرايا والبعوث إلى سرايا اعتراضية، وسرايا المغاوير، وسرايا تحطيم الأوثان، وسرايا تعقبية، وتأديبية، وتحويلية، وبعوث تعليمية، وأخرى دعوية.
هذا وقد اشتملت خطة البحث على: مقدمة، وتمهيد، وبابين كبيرين، يحتوي كل باب على فصلين، يندرج تحت كل فصل عدة عناوين رئيسية، وخاتمة.
أما المقدمة: فقد اشتملت على سبب اختياري لموضوع رسالتي في السيرة النبوية، وفي موضوع السرايا والبعوث النبوية بالذات، ثم المصاعب والمشاق التي تعرضت لها خلال عملي في البحث. كما اشتملت المقدمة على خطة البحث، ومنهجي في العمل، كما حلَّلت بعض المصادر والمراجع التي استقيت منها في هذا البحث. ثمّ شكر وتقدير.
এই গবেষণার শিরোনাম ছিল (নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সারিয়া ও মিশনসমূহ - একটি সমালোচনামূলক ও বিশ্লেষণমূলক অধ্যয়ন), কিন্তু সারিয়া ও মিশনগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শুরু করার পর আমার কাছে এ সংক্রান্ত বিশাল এক পাণ্ডুলিপি জমা হয়, যা প্রায় নয়টি ফাইল পূর্ণ করে ফেলে। এই বিশাল বর্ণনাসমূহকে এই গবেষণার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব ছিল না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আব্দুল্লাহ বিন জাহাশের নাখলা অভিমুখে সারিয়া, অথবা কাব বিন আশরাফের নিকট প্রেরিত মিশন, কিংবা রাজী এর মিশন এবং এ জাতীয় অন্যান্য সারিয়াগুলোর বর্ণনার আধিক্য ও বৈচিত্র্য এতটাই যে, এর প্রতিটিই একটি দীর্ঘ স্বতন্ত্র গবেষণার বিষয় হতে পারে।
তাই তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকের সাথে পরামর্শ করে আমি গবেষণার পরিধি ভৌগোলিকভাবে সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিই, যাতে মদিনা ও মক্কার আশপাশের সারিয়া ও মিশনগুলোর বর্ণনা নিয়ে গবেষণা করা যায়। কারণ এগুলোই ছিল নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সারিয়া ও মিশনগুলোর প্রধান ও বৃহত্তম কর্মক্ষেত্র। ফলে সংশোধনের পর গবেষণার শিরোনাম নির্ধারিত হয়েছে (মদিনা ও মক্কার চারপাশের সারিয়া ও মিশনসমূহ - একটি সমালোচনামূলক ও বিশ্লেষণমূলক অধ্যয়ন)।
আমি গবেষণার একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে কাজ শুরু করি, যেখানে আমি বিষয়ভিত্তিক বিভাজন অনুসারে সারিয়া ও মিশনগুলোকে সাজিয়েছি। এতে আমি সারিয়া ও মিশনগুলোকে প্রতিবন্ধকতাকারী সারিয়া, অতর্কিত আক্রমণকারী সারিয়া, মূর্তিবিনাশকারী সারিয়া, পশ্চাদ্ধাবনকারী সারিয়া, শাস্তিমূলক সারিয়া, রূপান্তরমূলক সারিয়া এবং শিক্ষামূলক ও দাওয়াতী মিশন হিসেবে শ্রেণীবিন্যাস করেছি।
গবেষণার এই পরিকল্পনায় রয়েছে: ভূমিকা, উপক্রমণিকা, দুটি প্রধান খণ্ড, প্রতিটি খণ্ডে দুটি করে পরিচ্ছেদ, প্রতিটি পরিচ্ছেদের অধীনে বেশ কিছু প্রধান শিরোনাম এবং সবশেষে উপসংহার।
ভূমিকার ক্ষেত্রে: এতে সীরাতে নববীর ওপর আমার থিসিসের এই বিশেষ বিষয়টি এবং নির্দিষ্টভাবে সারিয়া ও মিশনসমূহকে বেছে নেওয়ার কারণগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরপর গবেষণার কাজ চলাকালীন আমি যেসব সমস্যা ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি তা বর্ণিত হয়েছে। এছাড়াও ভূমিকায় গবেষণার পরিকল্পনা ও পদ্ধতি এবং যেসব উৎস ও তথ্যসূত্র থেকে আমি সাহায্য নিয়েছি তার কিছু বিশ্লেষণ রয়েছে। এরপর রয়েছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وكان التمهيد: عبارة عن عرض موجز للسرايا والبعوث النبوية، وخلافات أهل المغازي حولها.
وخصصت الباب الأول: للسرايا والبعوث النبوية داخل وخارج المدينة، ويحتوي على فصلين:
الفصل الأول: السرايا الاعتراضية - ذكرت فيه السرايا الأولى التي انطلقت لتعلن الحرب على قريش، والتي كانت عبارة عن دوريات قتالية لاعتراض القوافل التجارية القرشية.
وفي الفصل الثاني: البعوث ذات المهمات الصعبة أو سرايا المغاوير تحدثت فيه عن بعض فرق المغاوير - التي تكونت من بعض الصحابة المتطوعين لتنفيذ بعض المهمات الصعبة التي كلّفهم بها النبي صلى الله عليه وسلم، وتمثّلت في تصفية الأفراد من أعداء الدولة الإسلامية.
ويقع الباب الثاني: (السرايا والبعوث النبوية حول المدينة ومكة) في فصلين:
الفصل الأول: جعلته للسرايا ذات المهمات الخاصة، ويشتمل على بعوث مختلفة، منها سرايا تعقّبية، وسرايا تعليمية، وسرية تأديبية، وأخرى تحويلية.
وكان بودي أن أخصص لكل من هذه السرايا فصلا مستقلاّ، ولكن بما أن السريتين الأخيرتين مختلفتان ولا تحتمل كل منهما إفرادها بفصل مستقل، لذلك دمجت الجميع في فصل واحد، ولكنني أفردت كلاًّ منها بمقدمة خاصة بها.
وخصصت الفصل الأخير: (لسرايا تحطيم الأوثان) : تلك السرايا التي انطلقت بأمر المصطفى صلى الله عليه وسلم لتحطّم رموز الوثنية في الجزيرة العربية، فتحدَّثت عن بعثي خالد بن الوليد رضي الله عنه إلى كل من اللات والعزّى. وبعث
উপক্রমণিকাটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সারিয়া এবং প্রেরিত দলসমূহ এবং মাগাজি বিশেষজ্ঞদের এ সংক্রান্ত মতভেদ নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা।
আমি প্রথম অধ্যায়টি মদিনার ভেতরে ও বাইরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রেরিত সারিয়া ও অভিযানগুলোর জন্য নির্দিষ্ট করেছি, এবং এটি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: গতিরোধকারী সারিয়া - এতে আমি সেই প্রাথমিক সারিয়াগুলোর কথা উল্লেখ করেছি যা কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল এবং যেগুলো ছিল মূলত কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলা ঠেকানোর জন্য পরিচালিত যুদ্ধকালীন টহল।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে: কঠিন অভিযানের মিশন বা কমান্ডো সারিয়া - এখানে আমি কমান্ডো দলগুলোর কথা আলোচনা করেছি যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক অর্পিত কঠিন দায়িত্বসমূহ পালনের জন্য কতিপয় স্বেচ্ছাসেবী সাহাবীদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল। এসকল মিশনের উদ্দেশ্য ছিল ইসলামি রাষ্ট্রের কতিপয় ব্যক্তিগত পর্যায়ের শত্রুদের নির্মূল করা।
দ্বিতীয় অধ্যায়টি: (মদিনা ও মক্কার চারপাশের নববী সারিয়া ও অভিযানসমূহ) দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এটি আমি বিশেষ মিশনের সারিয়াগুলোর জন্য নির্ধারণ করেছি এবং এতে বিভিন্ন ধরণের অভিযান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন- ধাওয়াকারী সারিয়া, শিক্ষা বিষয়ক সারিয়া, শাস্তিমূলক সারিয়া এবং গতিপথ পরিবর্তনকারী সারিয়া।
আমার ইচ্ছা ছিল এই প্রতিটি সারিয়ার জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করার, কিন্তু যেহেতু শেষোক্ত দুটি সারিয়া ভিন্নধর্মী এবং সেগুলোর প্রত্যেকটির জন্য আলাদা পরিচ্ছেদ করা সম্ভব ছিল না, তাই আমি সবগুলোকে একটি পরিচ্ছেদে একীভূত করেছি। তবে আমি এগুলোর প্রত্যেকটির জন্য একটি করে বিশেষ ভূমিকা যুক্ত করেছি।
আমি শেষ পরিচ্ছেদটি নির্দিষ্ট করেছি: (মূর্তি ধ্বংসকারী সারিয়া সমূহের জন্য): ঐসব সারিয়া যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশে আরব উপদ্বীপে পৌত্তলিকতার প্রতীকগুলো ধ্বংস করার জন্য প্রেরিত হয়েছিল। এখানে আমি লাত ও উজ্জা দেবীর মূর্তির কাছে প্রেরিত খালিদ বিন ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর দুটি অভিযান সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এবং প্রেরণ...
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
سعد بن زيد الأشهلي رضي الله عنه إلى مناة الثالثة الأخرى، ثم بعث عمرو بن العاص رضي الله عنه إلى سواع صنم هذيل.
وهذه البعوث التدميرية للأصنام التي تقع ضمن نطاق البحث الجغرافي، وإلاّ هناك بعوث وسرايا أخرى أرسلت لتدمير كل رموز الشرك في أرض الجزيرة العربية.
وقد ضمنت الخاتمة: بأهم النتائج والدراسات التي توصلت إليها في هذا البحث.
هذا هو عرض موجز لكل محتويات هذا البحث، وربما يكون قد فاتني بعض السرايا والبعوث النبوية الواقعة ضمن نطاقه الجغرافي، ولكنني اجتهدت بقدر الاستطاعة في حصرها، ولا يخلو الإنسان من العجز والتقصير؛ فإن الكمال لله وحده، ولا يلام المرء مع اجتهاده.
সাদ বিন যায়িদ আল-আশহালি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে তৃতীয় মানাত মূর্তির অভিমুখে এবং এরপর আমর বিন আল-আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে হুযাইল গোত্রের সুওয়া মূর্তির অভিমুখে প্রেরণ করা হয়।
মূর্তিসমূহ ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত এই অভিযানগুলো এই গবেষণার ভৌগোলিক সীমানার অন্তর্ভুক্ত ছিল; অন্যথায়, আরব উপদ্বীপের ভূখণ্ডে শিরকের সকল প্রতীক সমূলে বিনষ্ট করার জন্য আরও অনেক অভিযান ও সারিয়া পাঠানো হয়েছিল।
উপসংহারে আমি এই গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও পর্যবেক্ষণগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছি।
এটি এই গবেষণার সমস্ত বিষয়বস্তুর একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা। হতে পারে এর ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে থাকা নবিজির প্রেরিত কিছু সারিয়া ও অভিযান আমার দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে, তবে আমি সাধ্যমতো সেগুলোকে একত্রিত করার চেষ্টা করেছি। আর মানুষ অক্ষমতা ও ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়; কেননা পূর্ণতা কেবল আল্লাহরই জন্য, আর সাধ্যমতো চেষ্টার পর মানুষকে দোষারোপ করা যায় না।
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
منهج البحث:
إن المنهج الذي اتبعته في عملية النقد يستند أساسا على محورين أساسيين:
المحور الأول: هو محاولة نقد الأسانيد على ضوء منهج المحدثين، بينما كان
المحور الثاني: هو التحليل منصبّا على المتون حيث تمت مناقشتها ما أمكن وفق المنهج التاريخي.
وفي البداية قمت بإعداد جداول للروايات في المصادر المختلفة لأجل تنسيق وتنظيم عملية النقد والتحليل للروايات المتضاربة، فعملت جدولا للروايات المتشابهة، وآخر للروايات المختلفة، وجدولا للروايات التي فيها معلومات إضافية.
بعد ذلك تم مناقشة وتحليل ومقارنة لهذه الروايات. فالمتشابهة في المضمون والمختلفة الطرق، اعتبرت ذلك دليلا على توثيقها، أما المختلفة فحاولت الجمع بينها أو ترجيح أحدها بعد تحليلها، أما الزوائد والمعلومات الإضافية في بعض الروايات، هذه الزوائد أثبتها وأوضح صاحبها، ومدى قوة زيادته من حيث قوة الراوي لها من عدمه.
ثم ما كان من الروايات في الصحيحين فأثبتها دون نقد؛ وذلك لاتفاق العلماء على صحتها، فقط أشير إلى تخريجها من مظانها، كذلك فعلت بالنسبة للروايات التي حكم عليها النقاد من المحدثين والمؤرخين المشهورين، كابن حجر وابن كثير وغيرهما بالصحة والتحسين أو القبول، غير أنني أنقل أقوالهم حولها ما عدا ما حكم عليه الهيثمي، فإنني أتعقبه خاصة في الروايات المتعلقة بأمور شرعية أو عقدية، نظرا لتساهله في التوثيق، وما عدا ذلك فإنني
গবেষণার পদ্ধতি:
পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা মূলত দুটি প্রধান অক্ষের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত:
প্রথম অক্ষ: মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতির আলোকে সনদ বা বর্ণনাসূত্রসমূহের পর্যালোচনার প্রচেষ্টা, যেখানে
দ্বিতীয় অক্ষ: মতন বা মূল পাঠ্যসমূহের বিশ্লেষণের ওপর নিবদ্ধ, যেখানে ঐতিহাসিক পদ্ধতি অনুযায়ী যথাসম্ভব সেগুলো আলোচনা করা হয়েছে।
শুরুতে আমি বিভিন্ন উৎসে বিদ্যমান বর্ণনাগুলোর জন্য সারণী প্রস্তুত করেছি যাতে পরস্পরবিরোধী বর্ণনাগুলোর পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া সমন্বয় ও বিন্যস্ত করা যায়। আমি সদৃশ বর্ণনাগুলোর জন্য একটি সারণী, ভিন্নতর বর্ণনাগুলোর জন্য আরেকটি এবং অতিরিক্ত তথ্য সম্বলিত বর্ণনাগুলোর জন্য একটি পৃথক সারণী তৈরি করেছি।
এরপর এই বর্ণনাগুলোর আলোচনা, বিশ্লেষণ এবং তুলনা করা হয়েছে। যেগুলোর বিষয়বস্তু সদৃশ কিন্তু বর্ণনাসূত্র ভিন্ন, সেগুলোকে আমি নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে গণ্য করেছি। আর যেগুলোর মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে, সেগুলোর বিশ্লেষণের পর আমি সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছি অথবা কোনো একটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। কিছু বর্ণনায় বিদ্যমান বাড়তি তথ্য বা অতিরিক্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আমি সেগুলো সাব্যস্ত করেছি এবং এর বর্ণনাকারীকে চিহ্নিত করেছি। সেই সাথে বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা বা অনির্ভরযোগ্যতার ভিত্তিতে সেই অতিরিক্ত তথ্যের গ্রহণযোগ্যতার মাত্রা স্পষ্ট করেছি।
অতঃপর সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর বর্ণনাগুলো আমি কোনো পর্যালোচনা ছাড়াই গ্রহণ করেছি; কারণ এগুলোর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের ঐকমত্য রয়েছে। আমি কেবল এগুলোর মূল উৎস হতে তাখরীজ (সূত্র নির্দেশ) উল্লেখ করেছি। একইভাবে আমি সেই বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রেও করেছি যেগুলোকে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক সমালোচকগণ, যেমন ইবনে হাজার, ইবনে কাসীর এবং অন্যান্যরা সহীহ (বিশুদ্ধ), হাসান (উত্তম) বা গ্রহণযোগ্য বলে রায় দিয়েছেন। তবে আমি তাঁদের মন্তব্যগুলো উদ্ধৃত করি; কেবল হাইসামীর দেওয়া রায়ের ক্ষেত্রে আমি পর্যালোচনা করি, বিশেষ করে শরয়ী বা আকিদাহ বিষয়ক বর্ণনাগুলোতে। এর কারণ হলো বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণে তাঁর শিথিলতা। এর বাইরে আমি...
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ربما أنقل قوله دونما تعليق.
أما الروايات التي خلت من حكم النقاد سواء القدامى منهم أو المعاصرين، فقد درست أسانيدها وسبرتها وفق منهج المحدثين حيث عملت لها شجيرات للرواة لحصر نقاط الضعف أو القوة في الأسانيد أو لمعرفة اختلاف الطرق، ثم ترجمت للرواة من كتب الرجال معتمدا على كتاب "التقريب" لابن حجر، ومن لم أجده في كتاب "التقريب" نظرت إليه في الكتب الأخرى كـ "ميزان الاعتدال" للذهبي، أو "الكامل" لابن عدي، وغيرها من كتب الرجال.
أما بالنسبة لعملية النقد الباطنية (تحليل المتون) فتم بها نقد الروايات الخالية من الإسناد أو التي كان في سندها بعض الضعف، وذلك بمقارنتها مع بعضها، ومناقشة ما جاء فيها من معلومات وفق المنهج التاريخي.
هذا ومما يجدر ذكره أني قوَّيت بعض الروايات الضعيفة حديثيّا لمساندة علم الآثار والحفريات لها، كما ضعّفت بعض الروايات لمخالفتها لأصل من أصول الشريعة. وقد نبهت على بعض الأوهام التي كانت في بعض الروايات من غير تنقيص من قدر العلماء والباحثين الذين اعتمدوها مع الإشارة إلى قلة بضاعتي وضعفي في هذا المجال، مع الدعوة الصادقة لإخواني الباحثين والقرّاء الكرام إلى تنبيهي على الأوهام والأخطاء التي ربما وقعت فيها، فالمؤمن مرآة أخيه كما قال المصطفى صلى الله عليه وسلم.
وفي عملية التخريج اتبعت منهجا محددا وهو أنني أقوم بنقد وتخريج روايات الخبر كلاّ على حدة، ثم في نهاية الخبر أذكر تخريجه كاملا وحكم النقاد عليه، ثم أتبع ذلك بحكمي عليه، أما إذا كان الخبر صحيحا مخرجا في الصحيحين أو أحدهما، فإنني أذكر ذلك في بداية كلامي على تخريجه، ثم أخرجه بعد ذلك في بعض الكتب الأخرى وخاصة كتب المغازي. وقد يكون
সম্ভবত আমি তাঁর উক্তিটি কোনো মন্তব্য ছাড়াই উদ্ধৃত করব।
তবে যেসব বর্ণনা প্রাচীন বা সমকালীন সমালোচকদের মূল্যায়ন থেকে মুক্ত ছিল, সেগুলোর সনদসমূহ আমি মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করেছি। এক্ষেত্রে সনদের দুর্বলতা বা সবলতা নিরূপণের জন্য অথবা বর্ণনার বিভিন্ন সূত্র জানার জন্য আমি বর্ণনাকারীদের বৃক্ষচিত্র তৈরি করেছি। এরপর রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ থেকে বর্ণনাকারীদের জীবনী উল্লেখ করেছি, এক্ষেত্রে ইবনে হাজারের ‘আত-তাকরীব’ গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি। আর যাঁদের নাম ‘আত-তাকরীব’ গ্রন্থে পাওয়া যায়নি, তাঁদেরকে আয-যাহাবীর ‘মীযানুল ইতিদাল’ বা ইবনে আদীর ‘আল-কামিল’ এবং রিজাল শাস্ত্রের অন্যান্য গ্রন্থে অনুসন্ধান করেছি।
আর অভ্যন্তরীণ সমালোচনা (মূলপাঠ বিশ্লেষণ)-এর ক্ষেত্রে সেই বর্ণনাগুলোকে পর্যালোচনা করা হয়েছে যেগুলোর কোনো সনদ নেই অথবা যাদের সনদে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। এগুলোকে একে অপরের সাথে তুলনা করে এবং ঐতিহাসিক পদ্ধতি অনুসারে সেখানে বিদ্যমান তথ্যাদি পর্যালোচনার মাধ্যমে এই সমালোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
এখানে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, প্রত্নতত্ত্ব ও খননকার্যের সমর্থন থাকায় আমি হাদিসশাস্ত্রীয়ভাবে দুর্বল কিছু বর্ণনাকে শক্তিশালী বলে গণ্য করেছি। অনুরূপভাবে, শরিয়তের কোনো মৌলিক মূলনীতির পরিপন্থী হওয়ায় কিছু বর্ণনাকে দুর্বল বলে অভিহিত করেছি। কিছু বর্ণনায় বিদ্যমান ভ্রান্তি সম্পর্কে আমি সতর্ক করেছি, তবে তা ওইসব আলেম ও গবেষকদের মর্যাদাহানি করে নয় যাঁরা সেগুলোর ওপর নির্ভর করেছিলেন। পাশাপাশি এই ক্ষেত্রে আমার সামান্য জ্ঞান ও অযোগ্যতার কথা স্বীকার করছি এবং গবেষক ভাই ও সম্মানিত পাঠকদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি যে, আমার কোনো ভুলভ্রান্তি নজরে পড়লে তাঁরা যেন আমাকে অবহিত করেন। কেননা মুমিন তার ভাইয়ের আয়না স্বরূপ, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।
তাখরীজ করার ক্ষেত্রে আমি একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করেছি; আর তা হলো—আমি সংবাদের প্রতিটি বর্ণনাকে পৃথকভাবে সমালোচনা ও তাখরীজ করি। এরপর সংবাদের শেষে এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ এবং সে সম্পর্কে সমালোচকদের রায় উল্লেখ করি। এরপর সেটির ওপর আমার নিজস্ব সিদ্ধান্ত প্রদান করি। তবে সংবাদটি যদি সহিহ হয় এবং সহিহাইন বা এই দুটির কোনো একটিতে সংকলিত হয়ে থাকে, তবে তাখরীজ বিষয়ক আলোচনার শুরুতেই আমি তা উল্লেখ করি। এরপর অন্যান্য কিতাব বিশেষ করে মাগাযী বা যুদ্ধাভিযান বিষয়ক কিতাবসমূহ থেকে এর উৎস বর্ণনা করি। আর কখনো কখনো...
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الخبر الواحد مجزءا ورواية كل جزء تختلف عن الأخرى من حيث القوة والضعف، لذلك فإنني أخرج وأنقد كل جزء منها على حدة، ثم أذكر بعض الشواهد التي قد تكون للخبر كاملا.
بعد ذلك بدأت في عملية الكتابة، وهي لا تختلف صعوبة عن العملية النقدية من حيث إنها كانت على ثلاث مراحل:
ففي المرحلة الأولى: كتبت فيها الروايات بسندها مع ترجمة للرواة في الحاشية.
وفي المرحلة الثانية: حذفت تراجم الرواة من الحاشية بعد أن ازدحم البحث بكثرتها، وأبقيت على أسانيد بعض الروايات مع ذكر آراء النقاد فيها، وكنت قد قسمت البحث أثناء الكتابة الابتدائية على مباحث ومطالب تفصّل أحداث كل سرية على حدة من تاريخ السريَّة، وقوتها، ثم سير الأحداث، وأخيرا النتائج.
أما في المرحلة الثالثة: فقد اعتمدت مبحث سير الأحداث كأساس للكتابة النهائية، لكوني اعتمدت فيه كتابة الأحداث بأسلوبي الخاص بعد أن طعّمت ذلك ببعض النصوص المقتبسة، كما دمجت فيه بقية المباحث والمطالب وحذفت أسانيد الروايات من المتن، وتراجم الرواة من الحاشية، لكنّي أثبتّ الحكم عليها بعد دراستها في الحاشية، وكذلك نقلت الاختلافات وآراء النقاد في كل مسألة في الحاشية مما كان السبب المباشر لكثرتها.
وأتبعت بعض السرايا ببعض الأحكام الفقهية وغيرها المستفادة من الأحداث من بعض الكتب والمصادر التي اعتنت بذلك، مثل "زاد المعاد" لابن القيّم، و"فتح الباري" لابن حجر، وبعض شروح السيرة مثل: "الروض الأنف" للسهيلي، و"سبل الهدى" للشامي، و"شرح المواهب" للزرقاني، وغيرها. وربما ذكرت بعض الأحكام اجتهادا مني كما في بعث معونة، وبعث
একক সংবাদটি খণ্ড খণ্ড করা হয়েছে এবং প্রতিটি খণ্ডের বর্ণনা শক্তি ও দুর্বলতার দিক থেকে একে অপরের থেকে ভিন্ন। তাই আমি এর প্রতিটি খণ্ডকে পৃথকভাবে তাখরিজ ও সমালোচনা করেছি, অতঃপর পূর্ণ সংবাদের জন্য বিদ্যমান থাকতে পারে এমন কিছু শাহিদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) উল্লেখ করেছি।
এর পরে আমি লেখালেখির কাজ শুরু করি, যা জটিলতার দিক থেকে সমালোচনামূলক প্রক্রিয়ার চেয়ে কোনো অংশেই কম ছিল না, কারণ এটি তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছিল:
প্রথম পর্যায়ে: আমি বর্ণনাগুলো সেগুলোর সনদসহ লিখেছি এবং পাদটীকায় বর্ণনাকারীদের জীবনী উল্লেখ করেছি।
দ্বিতীয় পর্যায়ে: বর্ণনাকারীদের জীবনীর আধিক্যে গবেষণাটি ভারাক্রান্ত হয়ে যাওয়ায় আমি পাদটীকা থেকে সেগুলো বাদ দিয়েছি। তবে কিছু বর্ণনার সনদ এবং সেগুলো সম্পর্কে সমালোচকদের অভিমত বহাল রেখেছি। প্রাথমিক লেখার সময় আমি গবেষণাকর্মটিকে এমন কিছু পরিচ্ছেদ ও অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছিলাম যা প্রতিটি সারিয়াহ-এর (অভিযান) ঘটনাবলি পৃথকভাবে বিস্তারিত বর্ণনা করে—যেমন সারিয়াহ-এর তারিখ, তার সৈন্যবল, অতঃপর ঘটনাক্রম এবং সবশেষে ফলাফল।
তৃতীয় পর্যায়ে: আমি 'ঘটনাক্রম' পরিচ্ছেদটিকে চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপির ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি, কারণ এতে আমি কিছু উদ্ধৃতি সংযোজন করার পর নিজস্ব ভঙ্গিতে ঘটনাবলি লিখেছি। পাশাপাশি এর সাথে অন্যান্য পরিচ্ছেদ ও অনুচ্ছেদগুলোকে একীভূত করেছি এবং মূল পাঠ থেকে বর্ণনার সনদসমূহ এবং পাদটীকা থেকে বর্ণনাকারীদের জীবনী বাদ দিয়েছি। তবে পর্যালোচনার পর সেগুলোর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাদটীকায় লিপিবদ্ধ করেছি। একইভাবে পাদটীকায় প্রতিটি বিষয়ে মতভেদ এবং সমালোচকদের মতামতও উদ্ধৃত করেছি, যা পাদটীকা দীর্ঘ হওয়ার প্রত্যক্ষ কারণ ছিল।
আমি কিছু সারিয়াহ-এর শেষে সেই ঘটনাগুলো থেকে প্রাপ্ত ফিকহী ও অন্যান্য বিধানসমূহ যুক্ত করেছি এমন কিছু কিতাব ও উৎস থেকে যা এই বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করেছে। যেমন—ইবনুল কাইয়্যিমের "যাদুল মাআদ", ইবনে হাজারের "ফাতহুল বারী", এবং সীরাতের কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থ যেমন: সুহাইলীর "আর-রাওদুল উনুফ", শামির "সুবুলুল হুদা", যুরকানির "শারহুল মাওয়াহিব" ইত্যাদি। সম্ভবত আমি নিজের ইজতিহাদ থেকেও কিছু বিধান উল্লেখ করেছি যেমনটি মাউনার অভিযান এবং আরও কিছু অভিযানে করেছি।
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
عبد الله بن أنيس إلى خالد بن سفيان الهذلي وغيرها.
وقد خرَّجت الأحاديث الواردة أثناء النصِّ مع الحكم عليها إن لم تكن في الصحيحين أو المصادر الحديثية التي عنيت بالنقد قديما وحديثا وإلاّ عزوتها إليها.
وعرّفت ببعض الأعلام من الصحابة أصحاب السرايا تعريفا دقيقا يشمل الاسم والكنية والوفاة وغير ذلك، وذلك من كتب تراجم الصحابة كـ "الاستيعاب" لابن عبد البر، و"الإصابة" لابن حجر، ومن كتب الطبقات، كطبقات خليفة، وابن سعد.
كما ضبطت الألفاظ التي تحتاج إلى ضبط في الأعلام أو الأماكن عن كتب المعاجم اللفظية مثل: "اللسان"، و"القاموس"، و"النهاية" وغيرها.
وعملت على تعريف شامل للمواضع والأماكن والبلدان التي وردت في البحث من خلال المعاجم البلدانية القديمة، مثل "معجم ما استعجم" للبكري، و"معجم البلدان" لياقوت، ثم أتبعت ذلك بتعريف حديث لهذه الأماكن من الكتب الجغرافية التاريخية الحديثة أمثال: "معجم السيرة"، و"معالم مكة" للبلادي، و"المجاز" لابن خميس، وغيرها، وذلك لأن بعض المواضع والبلدان قد تغيرت أسماؤها وصفاتها عمّا كانت عليه فترة أحداث هذا البحث، وربما كان ذلك أحد أسباب طول الحواشي، ولكني أردت ربط الماضي بالحاضر حتى تتضح الصورة كاملة أمام القارىء الكريم. كما وقفت على بعض الأماكن التي كانت مسرحا لأحداث بعض السرايا والبعوث، وقمت بتصويرها، ووصفها وصف المشاهدة.
إن كثرة وطول الحواشي في هذه الرسالة كان بسبب أني سقت فيها الروايات الموافقة والمعارضة لما أثبتّه في المتون، ثم قمت بعد ذلك بنقد هذه
আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস থেকে খালিদ ইবনে সুফিয়ান আল-হুযালি এবং অন্যান্য।
আমি পাঠের মধ্যে বর্ণিত হাদিসগুলোর উৎস নির্দেশ করেছি এবং সেগুলোর ওপর হুকুম বর্ণনা করেছি, যদি সেগুলো সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম) অথবা প্রাচীন ও আধুনিক সমালোচনামূলক হাদিস গ্রন্থগুলোতে না থাকে; অন্যথায় আমি সেগুলোর উদ্ধৃতি সংশ্লিষ্ট গ্রন্থের দিকেই দিয়েছি।
আমি সারিয়া বা বিশেষ অভিযানে অংশগ্রহণকারী কিছু বিশিষ্ট সাহাবীর সূক্ষ্ম পরিচয় প্রদান করেছি, যার মধ্যে নাম, উপনাম, মৃত্যু এবং অন্যান্য তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই তথ্যগুলো সাহাবীগণের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থ যেমন ইবনে আব্দুল বার-এর ‘আল-ইস্তিআব’, ইবনে হাজার-এর ‘আল-ইসাবাহ’ এবং তবাকাত গ্রন্থসমূহ যেমন খলিফা ও ইবনে সা’দ-এর ‘তবাকাত’ থেকে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও আমি নাম অথবা স্থানসমূহের ক্ষেত্রে যে শব্দগুলোর উচ্চারণের সঠিক বিন্যাস প্রয়োজন ছিল, তা ‘আল-লিসান’, ‘আল-কামুস’, ‘আন-নিহায়াহ’ প্রভৃতি ভাষাতাত্ত্বিক অভিধান থেকে সুবিন্যস্ত করেছি।
আমি গবেষণায় উল্লিখিত স্থান ও জনপদসমূহের একটি বিস্তৃত পরিচয় প্রাচীন ভৌগোলিক অভিধানসমূহ যেমন আল-বাকরীর ‘মুজাম মা ইস্তাজাম’ এবং ইয়াকুতের ‘মুজামুল বুলদান’-এর মাধ্যমে তুলে ধরার কাজ করেছি। এরপর আধুনিক ঐতিহাসিক ভৌগোলিক গ্রন্থ যেমন ‘মুজামুস সিরাহ’, বিলাদীর ‘মাআলিমু মক্কাহ’, ইবনে খামিসের ‘আল-মাজায’ প্রভৃতি থেকে সেই স্থানগুলোর আধুনিক পরিচয়ও যুক্ত করেছি। কারণ কিছু স্থান ও জনপদের নাম ও বৈশিষ্ট্য এই গবেষণার ঘটনাকালের তুলনায় পরিবর্তিত হয়ে গেছে; সম্ভবত এটিই পাদটীকা দীর্ঘ হওয়ার অন্যতম কারণ। তবে আমি অতীতকে বর্তমানের সাথে যুক্ত করতে চেয়েছি যাতে সম্মানিত পাঠকের সামনে পূর্ণাঙ্গ চিত্রটি স্পষ্ট হয়। পাশাপাশি আমি এমন কিছু স্থানে সশরীরে উপস্থিত হয়েছি যা বিভিন্ন সারিয়া ও অভিযানের চারণভূমি ছিল এবং আমি সেগুলোর ছবি তুলেছি ও চাক্ষুষ দর্শনের ন্যায় বিবরণ দিয়েছি।
এই গবেষণাপত্রে পাদটীকাগুলোর আধিক্য ও দীর্ঘ হওয়ার কারণ হলো, আমি সেখানে মূল পাঠে যা সাব্যস্ত করেছি তার স্বপক্ষে এবং বিপক্ষে আসা বর্ণনাসমূহ উল্লেখ করেছি, অতঃপর সেই বর্ণনাগুলোর সমালোচনা করেছি...
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الروايات بمقارنتها مع بعضها ومحاولة الجمع بينها إن أمكن ذلك، وفي غالب الأحيان الترجيح فيما بينها مستفيدًا ممَّا قام به النقاد من أهل المغازي المتأخرين أمثال ابن القيم، وابن حجر، والشامي، والزرقاني، ناقلا أقوالهم في أحوال كثيرة، وقد فكرت في جعل هذه الحواشي في ملحق خاص يوضع في آخر الكتاب، ولكني عدلت عن هذه الفكرة لكي أجعل القارىء في الصورة وهو يقرأ في صلب الموضوع بحيث يكون مرتبطا بما يقرؤه؛ لأننا في وقت لا يسمح للقارىء بمراجعة الملاحق والتحقيق في كل هامش على حدة في ملحقه.
وبعد: لقد حاولت بهذه الدراسة المتواضعة نقد الأسانيد وتحليل المتون مستنفذا في ذلك جهدي، ومستفرغا ما يسعه اجتهادي، محاولا تتبع خطى النقاد الذين سبقوني في هذا المجال، وصولا إلى الاختيار بقدر المستطاع من مجموع الروايات المتعددة لكل حادثة، إذ كان الاعتماد أساسا على الروايات التي خرّجت في كتب الصحاح، ونقدت في بعض كتب السنن والمسانيد أو التي حكم عليها النقاد القدامى من المحدثين والمؤرخين أمثال ابن كثير، وابن حجر، والهيثمي، وغيرهم بالصحة أوالتحسين، وبالتالي الاستفادة من مناهجهم في نقد الروايات الأخرى لم يحكموا عليها، مع أنني لم أهمل الروايات الضعيفة حديثيّا، بل استفدت منها في الموضوعات التي لا تتعلق بأمور العقيدة والشريعة، ونحتاج إليها لتكملة الإطار التاريخي للحدث مثل تواريخ السرايا والبعوث، وعدد الجند، ووصف ميادين القتال والمعارك، وعدد القتلى، وغير ذلك ممّا لم يرد ذكره في الروايات الصحيحة أو الحسنة، كما أنني أخذت بهذه الروايات الضعيفة كاملة في بعض السرايا والبعوث التي لم يرد حولها روايات صحيحة أو حسنة، ثم حاولت نقدها بمقارنتها ببعضها وفق منهج المؤرخين.
لقد اجتهدت في هذه المحاولة قدر استطاعتي أن أحرِّر بعض روايات
বর্ণনাসমূহকে একে অপরের সাথে তুলনা করা এবং সম্ভব হলে সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরবর্তী যুগের মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) বিশেষজ্ঞ সমালোচকগণ—যেমন ইবনুল কায়্যিম, ইবনু হাজার, আশ-শামী এবং আয-যারকানী—যা করেছেন তার সুফল গ্রহণ করে বর্ণনাগুলোর মধ্যে প্রাধান্য (তারজীহ) নিরূপণ করা হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে তাঁদের উক্তি উদ্ধৃত করা হয়েছে। আমি এই টীকাগুলোকে বইয়ের শেষে একটি বিশেষ পরিশিষ্টে রাখার কথা ভেবেছিলাম, কিন্তু সেই ধারণা থেকে সরে এসেছি যাতে পাঠক মূল বিষয়বস্তু পড়ার সময় ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগত থাকতে পারেন এবং যা পড়ছেন তার সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। কারণ আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যা পাঠককে প্রতিটি টীকা আলাদাভাবে পরিশিষ্টে গিয়ে যাচাই করার বা পরিশিষ্টগুলো পুনরায় দেখার সুযোগ দেয় না।
অতঃপর: আমি এই বিনম্র গবেষণায় সনদগুলোর (সূত্র) সমালোচনা এবং মতনগুলোর (মূল পাঠ) বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছি, এতে আমার সামর্থ্যের সবটুকু ব্যয় করেছি এবং আমার ইজতিহাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা বিলীন করেছি। এই ক্ষেত্রে আমার পূর্বসূরী সমালোচকদের পদাঙ্ক অনুসরণের চেষ্টা করেছি যাতে প্রতিটি ঘটনার একাধিক বর্ণনার সমষ্টি থেকে যথাসম্ভব গ্রহণযোগ্যটি নির্বাচন করা যায়। এক্ষেত্রে মূলত সেই বর্ণনাগুলোর ওপর নির্ভর করা হয়েছে যা সিহাহ (বিশুদ্ধ) গ্রন্থসমূহে সংকলিত হয়েছে এবং সুনান ও মুসনাদ গ্রন্থসমূহের কোনো কোনোটিতে সমালোচিত হয়েছে, অথবা মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকগণের মধ্য থেকে প্রাচীন সমালোচকগণ—যেমন ইবনু কাসীর, ইবনু হাজার, আল-হায়সামী এবং অন্যান্যরা—সেগুলোকে সহীহ (বিশুদ্ধ) বা হাসান (উত্তম) বলে রায় দিয়েছেন। ফলশ্রুতিতে, তাঁরা যেসব বর্ণনার ব্যাপারে কোনো রায় দেননি, সেগুলো পর্যালোচনায় তাঁদের পদ্ধতি থেকে উপকৃত হওয়া গেছে। তবে আমি হাদীসশাস্ত্রের বিচারে যঈফ (দুর্বল) বর্ণনাগুলোকে উপেক্ষা করিনি, বরং আকিদাহ ও শরীয়ত সংশ্লিষ্ট নয় এমন বিষয়গুলোতে সেগুলো থেকে উপকৃত হয়েছি। কোনো ঘটনার ঐতিহাসিক কাঠামো পূর্ণ করার জন্য এগুলোর প্রয়োজন হয়, যেমন: সারিয়া (ছোট যুদ্ধাভিযান) ও প্রতিনিধি দল প্রেরণের তারিখ, সৈন্য সংখ্যা, যুদ্ধক্ষেত্র ও যুদ্ধের বর্ণনা, নিহতের সংখ্যা এবং সহীহ বা হাসান বর্ণনাগুলোতে উল্লেখ নেই এমন অন্যান্য বিষয়াদি। একইভাবে, আমি এমন কিছু সারিয়া ও প্রতিনিধি দলের ক্ষেত্রে এই যঈফ বর্ণনাগুলোকে সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করেছি যেগুলোর ব্যাপারে কোনো সহীহ বা হাসান বর্ণনা পাওয়া যায় না। অতঃপর ঐতিহাসিকদের পদ্ধতি অনুযায়ী সেগুলো একে অপরের সাথে তুলনা করে পর্যালোচনার চেষ্টা করেছি।
আমি এই প্রচেষ্টায় আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি যাতে কিছু বর্ণনাকে পরিমার্জিত ও সম্পাদিত করা যায়—
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
تاريخنا الإسلامي والخاصة بأهمِّ وأعظم حقبة منه وهي مرحلة السيرة النبوية العطرة، مما لصق بها من بعض الروايات الضعيفة، معتمدًا الروايات الصحيحة والحسنة قدر الإمكان، وإن كان ذلك الأمر لم يتأت لي في كل فصول البحث.
وربما يلاحظ القارىء الكريم أن هناك نقصا في بعض جوانب هذا البحث وتقصيرا في بناء المادة النقدية فيه وخاصة نقد الأسانيد، وإنما كان ذلك لأني حاولت جهدي أن يكون هناك توازن بعض الشيء بين النقد الخارجي (سبر الروايات) والنقد الباطني (نقد المتون) .
وعلى كل حال فهي محاولة مبتدئة تحتاج إلى تشجيع ومرونة عند التقويم، ونقد هادف بنّاء يوجهها نحو الأفضل مستقبلا إن شاء الله تعالى؛ لأن المنهج منهج جديد بالنسبة للروايات التاريخية، ولكن أهدافه نبيلة ويحتاج إلى صبر وتؤدة ورعاية وتوجيه وتشجيع، فالوقت ضروريٌّ وهام لنجاحه واستقراره.
كما قد يلاحظ القارىء - أيضا - تفاوتا في خواتيم السرايا والبعوث من حيث ذكر النتائج والاستنباطات الفقهية وغير ذلك، وكان مرد ذلك أن الروايات والمعلومات التاريخية تتفاوت كثرة وقلة من حيث أهمية الحدث التاريخي ونتائجه وتعلق بعض تلك النتائج ببعض المسائل والأمور الشرعية والعقدية. فمثلا نرى المعلومات التاريخية تكون غزيرة حول سرية مثل سرية عبد الله بن جحش إلى نخلة نظرا لأهميتها في تاريخ الصراع الإسلامي الوثني، ونظرا لما تمخَّض عنها من نتائج مهمة حيث حدث فيها أول صدام بين المسلمين والمشركين، وكسب المسلمون فيها المعركة من قتل وأسر وغنيمة، ثم حصل من قريش من بثِّ تلك الدعايات المغرضة ضد المسلمين، ودفاع الله عز وجل عن المؤمنين أصحاب السرية في الآيات التي وضحت صحة وسلامة موقفهم. كل ذلك جعل من هذه السرية محور اهتمام وعناية بالغة من قبل الرواة والإخباريين سواء أهل الحديث أو أهل التفسير أو أهل الفقه، ناهيك عن
আমাদের ইসলামী ইতিহাস এবং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মহান যুগ, তথা সুগন্ধি সীরাতে নববী (নবীজীর জীবনী)-র পর্যায় থেকে এর সাথে মিশে যাওয়া কিছু দুর্বল বর্ণনা দূর করা এবং যথাসম্ভব সহীহ ও হাসান বর্ণনার ওপর নির্ভর করা—যদিও গবেষণার সকল অধ্যায়ে তা আমার পক্ষে পুরোপুরি সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
সম্মানিত পাঠক সম্ভবত লক্ষ্য করবেন যে, এই গবেষণার কিছু দিক থেকে অপূর্ণতা এবং এর সমালোচনামূলক উপাদান তৈরিতে, বিশেষ করে সনদ বা সূত্র পর্যালোচনার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মূলত আমি চেষ্টা করেছি যেন বাহ্যিক সমালোচনা (বর্ণনা যাচাই) এবং অভ্যন্তরীণ সমালোচনা (মূল পাঠ বা মতনের সমালোচনা)-র মধ্যে কিছুটা ভারসাম্য বজায় থাকে।
যা-ই হোক, এটি একটি প্রাথমিক প্রচেষ্টা যা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উৎসাহ ও নমনীয়তা এবং ভবিষ্যতে এটিকে আরও উন্নতির দিকে পরিচালিত করার জন্য লক্ষ্যমুখী ও গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করে, ইনশাআল্লাহ তাআলা। কারণ ঐতিহাসিক বর্ণনার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি একটি নতুন পদ্ধতি, তবে এর লক্ষ্যসমূহ মহৎ এবং এর জন্য ধৈর্য, ধীরস্থিরতা, যত্ন, দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ প্রয়োজন; এর সাফল্য ও স্থায়িত্বের জন্য সময় অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ।
পাঠক আরও লক্ষ্য করতে পারেন যে, ফলাফল এবং ফিকহী ইস্তিনবাত (বিধান আহরণ) ইত্যাদির উল্লেখের ক্ষেত্রে ছোট ছোট সামরিক অভিযান (সারিয়া) ও প্রতিনিধি দল প্রেরণের (বা’স) বর্ণনার পরিসমাপ্তিতে কিছুটা তারতম্য রয়েছে। এর কারণ হলো, ঐতিহাসিক ঘটনার গুরুত্ব ও ফলাফলের ভিত্তিতে এবং সেসব ফলাফলের কিছু অংশ শরয়ী ও আকীদাগত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে ঐতিহাসিক বর্ণনা ও তথ্যের আধিক্য বা স্বল্পতায় ভিন্নতা দেখা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, নাখলা অভিমুখে আব্দুল্লাহ ইবনে জাহশ-এর সারিয়ার মতো ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে আমরা ঐতিহাসিক তথ্যের প্রাচুর্য দেখতে পাই। কারণ ইসলাম ও পৌত্তলিকদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের ইতিহাসে এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি এবং এর থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জিত হয়েছিল; সেখানে মুসলিম ও মুশরিকদের মধ্যে প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং মুসলিমরা হত্যা, বন্দী ও গনীমত লাভের মাধ্যমে যুদ্ধে বিজয়ী হয়। এরপর কুরাইশদের পক্ষ থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ প্রোপাগান্ডা চালানো হয় এবং মহান আল্লাহ সেই সারিয়ার অন্তর্ভুক্ত মুমিনদের পক্ষ অবলম্বন করে এমন কিছু আয়াত নাযিল করেন যা তাদের অবস্থানের সঠিকতা ও বিশুদ্ধতা স্পষ্ট করে দেয়। এই সবকিছুর কারণে এই সারিয়াটি বর্ণনাকারী ও ইতিহাসবিদদের—তাঁরা হাদীস বিশারদ হোন বা তাফসীরবিদ কিংবা ফকীহ—সকলের কাছেই গভীর আগ্রহ ও বিশেষ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এমনকি...
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أهل المغازي والسير مما كان له أكبر الأثر في كثرة الروايات وتشعبها حول هذه السرية في مختلف الفنون، فإذا نظرنا إلى كتب الفقه وجدنا فيها روايات حولها، وإذا فتشنا كتب التفسير وأسباب النزول والحديث طالعتنا الروايات عنها، فضلا عن كتب المغازي المتعددة.
بخلاف سرية أخرى مثل سرية سعد بن أبي وقاص إلى الخرّار، قصر الاهتمام بها حتى انحصر في عدد من أهل المغازي، فنجد أن ما كتب عنها من روايات وما تضمنته من معلومات تاريخية قليل جدّا بحيث لم تغط كل حلقات الخبر التاريخي، وذلك لأنه لم يحدث في السرية شيء يذكر يؤدي إلى نتائج تاريخية تهم الباحثين. وهكذا الحال بالنسبة لبقية السرايا والبعوث تختلف فيها كمية المعلومات التاريخية حسب أهميتها وأحداثها ونتائجها.
وهذا الأمر يؤدي - أيضا - إلى تفاوت في عملية النقد بين السرايا، فالسرايا التي حظيت باهتمام بالغ من أهل الحديث والتفسير إضافة إلى أهل المغازي مثل سرية عبد الله بن جحش، نجد النقاد يتسابقون في نقدها وتحليلها، بينما لا نجد لهم أثرا يذكر في سرية مثل سرية سعد بن أبي وقاص إلى الخرّار.
وأعتقد أن ذلك الأمر هو سبب تساهل النقاد من أهل الحديث في عدم نقد الكثير من الروايات والوقائع التاريخية التي ربما اعتقدوا أنها لا تمثل جانبا مهمًّا من حياة الإنسان المسلم مثلما تمثله روايات الأحاديث النبوي ومثلما تمثله وقائع بعض غزوات النبي صلى الله عليه وسلم الكبرى وما نتج عنها من أحكام فقهية وعقدية. والله تعالى أعلم.
وختاما أقول: إني وإن حاولت الكتابة وفق منهج المحدثين لا أدّعي أنني متقن لهذا المنهج عالم بكوامنه، غائص في درره، وحائز على جواهره، بل أنا
মাগাযী ও সীরাত শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ এই অভিযানের (সারিয়্যাহ) ব্যাপারে বিভিন্ন শাস্ত্রে বর্ণনার আধিক্য এবং এর শাখা-প্রশাখা বিস্তারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রভাব রেখেছেন। ফলে আমরা যদি ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোর দিকে তাকাই, তবে সেখানে এই সংক্রান্ত বর্ণনা খুঁজে পাই। আর যদি আমরা তাফসীর, আসবাবুন নুযূল এবং হাদীসের গ্রন্থগুলো অনুসন্ধান করি, তবে সেখানেও এই সম্পর্কে বর্ণনা আমাদের সামনে আসে; এর বাইরে বহুমুখী মাগাযী শাস্ত্রের গ্রন্থগুলো তো রয়েছেই।
এর বিপরীতে আল-খাররারে প্রেরিত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসের অভিযানের মতো অন্যান্য অভিযানের ক্ষেত্রে আগ্রহ এতটাই সীমিত ছিল যে, তা কেবল কতিপয় মাগাযী বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। ফলে আমরা দেখতে পাই যে, এই সম্পর্কে লিখিত বর্ণনা এবং এতে অন্তর্ভুক্ত ঐতিহাসিক তথ্যাদি অত্যন্ত নগণ্য, যা ঐতিহাসিক সংবাদের সকল ধারাকে পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরে না। এর কারণ হলো, এই অভিযানে উল্লেখ করার মতো এমন কিছু ঘটেনি যা গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঐতিহাসিক ফলাফলের দিকে নিয়ে যেতে পারে। অন্যান্য সারিয়্যাহ ও প্রেরিত দলগুলোর (বা'স) ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রূপ; এগুলোর গুরুত্ব, ঘটনাবলি ও ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ঐতিহাসিক তথ্যের পরিমাণে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
এই বিষয়টি বিভিন্ন অভিযানের ক্ষেত্রে সমালোচনা বা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার (নাকদ) মধ্যেও পার্থক্যের সৃষ্টি করে। যে সকল অভিযান হাদীস ও তাফসীর বিশারদ এবং মাগাযী বিশেষজ্ঞদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্ব লাভ করেছে—যেমন আবদুল্লাহ ইবনে জাহশের অভিযান—সেগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, সমালোচকগণ এর বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাইয়ে একে অপরের চেয়ে অগ্রগামী। অথচ সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসের আল-খাররার অভিযানের মতো অভিযানগুলোর ক্ষেত্রে তাঁদের তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য তৎপরতা খুঁজে পাওয়া যায় না।
আমার মতে, এই বিষয়টিই হাদীস বিশারদ ও সমালোচকদের অনেক ঐতিহাসিক বর্ণনা ও ঘটনার যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনের কারণ। সম্ভবতঃ তাঁরা মনে করতেন যে, এসকল বিষয় একজন মুসলিমের জীবনের তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ দিক উপস্থাপন করে না, যেমনটি নববী হাদীসের বর্ণনাগুলো করে থাকে অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু বড় বড় যুদ্ধের ঘটনাবলি করে থাকে, যা থেকে বিভিন্ন ফিকহী ও আকীদাহগত বিধান উৎসারিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলাই সম্যক পরিজ্ঞাত।
উপসংহারে আমি বলব: যদিও আমি মুহাদ্দিসগণের মানহাজ বা পদ্ধতি অনুযায়ী লেখার চেষ্টা করেছি, তবুও আমি এই মানহাজে পারদর্শী হওয়ার দাবি করি না, না আমি এর নিগূঢ় রহস্য সম্পর্কে অবগত, না এর মণি-মুক্তায় ডুব দেওয়া কোনো ডুবুরি, আর না এর রত্নভাণ্ডারের অধিকারী; বরং আমি তো...
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قليل البضاعة في هذا المجال، فرحم الله امرءا عرف قدر نفسه.
وإني وإن حاولت الكتابة بأسلوب العسكريين لا أدّعي أنني عسكري حاذق متقن (للأيدلوجيات) العسكرية والخطط الحربية (والتكتيكية) كما أنه لم يدفعني إلى الكتابة على مثل هذا النحو حب التقليد الأعمى، ولكن موضوع البحث دفعني إلى ذلك دفعا، فالفترة الزمنية التي يعالجها هي أعظم فترة في تاريخنا الإسلامي، والرجال الذين يتحدث عنهم هم خير رجال هذه الأمة على الإطلاق، والجانب الذي يخوض فيه من أعظم جوانب حياة الإنسان المسلم وهو الجهاد في سبيل الله، ذروة سنام الإسلام.
وبما أن القتال لإعلاء كلمة الله هو قمة الأعمال العسكرية لهذه الأمة، كان لابدّ من محاولة الكتابة بأسلوب يتماشى مع ذلك؛ لأضع أمام القارىء الكريم صورة تاريخية قريبة - بقدر الاستطاعة - من الحقيقة التاريخية لذلك العصر الرائع، وتلك الأحداث الجليلة لأولئك الرجال العظام.
وهي محاولة اجتهادية عسى الله أن ينفع بها، ويكتب لها النجاح بعون الله وقدرته.
এই ক্ষেত্রে আমার পুঁজি বা জ্ঞান যৎসামান্য, সুতরাং আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন যে নিজের সামর্থ্যের সীমা সম্পর্কে অবগত।
আমি যদিও সামরিক ঢঙে লেখার চেষ্টা করেছি, তথাপি আমি নিজেকে সামরিক আদর্শ (আইডিওলজি), যুদ্ধ পরিকল্পনা এবং সমরকৌশলে পারদর্শী কোনো সুদক্ষ সামরিক ব্যক্তি হিসেবে দাবি করি না। তেমনি অন্ধ অনুকরণের স্পৃহা আমাকে এভাবে লিখতে প্ররোচিত করেনি, বরং গবেষণার বিষয়বস্তুই আমাকে সেদিকে প্রবলভাবে ধাবিত করেছে। কারণ, যে সময়কাল নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে তা আমাদের ইসলামি ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম সময়; আর যাদের সম্পর্কে এখানে বলা হয়েছে তারা নিঃসন্দেহে এই উম্মতের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানুষ। তদুপরি, যে বিষয়টি এখানে আলোচিত হয়েছে তা একজন মুসলিমের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিক, আর তা হলো আল্লাহর পথে জিহাদ—যা ইসলামের সর্বোচ্চ শিখর।
যেহেতু আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে লড়াই করা এই উম্মতের সামরিক কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত শিখর, তাই এর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ শৈলীতে লেখার প্রচেষ্টা চালানো অপরিহার্য ছিল; যাতে আমি সম্মানিত পাঠকের সামনে সেই চমৎকার যুগের ঐতিহাসিক সত্যের—সাধ্যানুযায়ী—নিকটতর একটি প্রতিচ্ছবি এবং সেই মহান ব্যক্তিদের গৌরবময় ঘটনাবলি তুলে ধরতে পারি।
এটি একটি গবেষণামূলক প্রচেষ্টা, আশা করি আল্লাহ এর দ্বারা উপকার সাধন করবেন এবং আল্লাহর সাহায্য ও সক্ষমতায় একে সফলতা দান করবেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تحليل المصادر
إن المصادر التي رجعت إليها في هذا البحث كثيرة ومتنوعة، ولذلك رأيت أن أعطي نبذة عن أهمها وأكثرها استيعابًا لموضوع البحث، إذ لا يتسع المقام لتحليل جميع المصادر التي رجعت إليها، كما أن هذه المصادر مشهورة ومعروفة، وسبق أن تناولها النقاد والمحللون قبلي بالتحليل والتقويم. ولذلك سوف أكتفي باستعراض موجز لها موضحًا مدى الاستفادة التي أفدتها منها.
كان أول هذه المصادر وأقدمها مرويات عروة بن الزبير، وتلميذه الزهري، وهذه المرويات متناثرة بين طيات كتب المغازي وغيرها، ولكن كان أجمع هذه الكتب لها والتي استقيت معظم هذه المرويات منه كتاب "دلائل النبوة" لمؤلفه البيهقي.
وكتاب "الدلائل" وضعه مؤلفه في دلائل النبوة وبيان ما جرى عليه أحوال صاحب الشريعة صلوات الله وسلامه عليه.
وقد شرح البيهقي منهجه في تأليف كتبه، ومنها هذا الكتاب فقال: "وعادتي في كتبي المصنفة في الأصول والفروع الاقتصار من الأخبار على ما يصح منها دون ما لا يصحُّ، أو التمييز بين ما يصح منها وما لا يصح، ليكون الناظر فيها من أهل السنة على بصيرة ممَّا يقع الاعتماد عليه، لا يجد من زاغ قلبه من أهل البدع عن قبول الأخبار مغمزًا فيما اعتمد أهل السنة من الآثار.
ومن وقف على تمييزي في كتبي بين صحيح الأخبار وسقيمها وساعده التوفيق علم صدقي فيما ذكرته"1. وبالطبع فقد وقعت روايات ضعيفة السند وأخرى
--------------------------------------------
উৎসসমূহের বিশ্লেষণ
এই গবেষণায় আমি যেসব উৎসের সহায়তা নিয়েছি তা অনেক এবং বৈচিত্র্যময়। তাই আমি মনে করেছি যে, এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং গবেষণার বিষয়ের সাথে সবচেয়ে বেশি সংগতিপূর্ণ উৎসগুলো সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা প্রদান করব। কারণ এখানে আমার ব্যবহৃত সকল উৎসের বিশ্লেষণ করার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। তাছাড়া এই উৎসগুলো বেশ প্রসিদ্ধ ও পরিচিত এবং আমার পূর্বেও সমালোচক ও বিশ্লেষকগণ এগুলোর বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করেছেন। তাই আমি এগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েই ক্ষান্ত হব এবং এ থেকে আমি কতটুকু উপকৃত হয়েছি তা স্পষ্ট করব।
এই উৎসগুলোর মধ্যে প্রথম ও প্রাচীনতম হলো উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর এবং তাঁর ছাত্র যুহরীর বর্ণনাগুলো। এই বর্ণনাগুলো মাগাযী ও অন্যান্য বইয়ের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে। তবে এই বর্ণনাগুলোর জন্য সবচেয়ে সংকলিত গ্রন্থ—যা থেকে আমি অধিকাংশ বর্ণনা গ্রহণ করেছি—তাহলো ইমাম বায়হাক্বী রচিত "দালাইলুন নুবুওয়াহ" গ্রন্থটি।
"আদ-দালাইল" গ্রন্থটি এর রচয়িতা নবুওয়াতের প্রমাণাদি এবং শরীয়ত প্রবর্তকের (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) ঘটনাবলি ও অবস্থা বর্ণনার জন্য রচনা করেছেন।
বায়হাক্বী তাঁর কিতাবসমূহ রচনার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেছেন, যার মধ্যে এই কিতাবটিও রয়েছে। তিনি বলেছেন: "উসূল এবং ফুরু সংক্রান্ত আমার রচিত কিতাবসমূহে আমার সাধারণ নিয়ম হলো কেবল সহীহ বর্ণনাগুলো গ্রহণ করা এবং যা সহীহ নয় তা বর্জন করা, অথবা সহীহ ও যঈফ বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে দেওয়া। যাতে আহলে সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত পাঠকগণ নির্ভরযোগ্য বিষয়গুলো সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারেন এবং যাদের অন্তর সত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে এমন বিদআতিরা যেন আহলে সুন্নাতের নির্ভরযোগ্য আসার (তথা বর্ণনা) সমূহের কোনো খুঁত ধরার সুযোগ না পায়।
আর যে ব্যক্তি আমার কিতাবগুলোতে সহীহ ও যঈফ বর্ণনার মাঝে আমার কৃত পার্থক্যগুলো দেখবে এবং আল্লাহর তাওফীক তার সহায় হবে, সে আমার এই বক্তব্যের সত্যতা উপলব্ধি করতে পারবে।"১। অবশ্য এর মধ্যে সনদের দিক থেকে কিছু দুর্বল বর্ণনাও এসেছে এবং অন্যান্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
واهية في الكتاب رغم جهد البيهقي النقدي.
"ويعتمد البيهقي أساسًا على الصحيحين، وينقل منهما كثيرًا، ويشير إلى ذلك، ثم ينقل عن أبي داود ولا يشير إلى ذلك، كما ينقل عن مسند الإمام أحمد، وموطأ مالك، وسنن ابن ماجه، وسنن النسائي الكبرى، وسنن الدارمي، ويأخذ من مستدرك الحاكم، وعن شيخ الحاكم ابن حبان، كما يأخذ عن مغازي ابن عقبة"1 وهنا مربط فرسنا، فهو ربما اطلع على مغازي موسى بن عقبة فنقل منها هذه المرويات. والله أعلم.
وقد حظي كتابه هذا على تقدير العلماء، واتفقت كلمتهم على أنه أشمل كتاب في موضوعه من حيث الدقة والتهذيب والترتيب، فصار مصدرًا أصيلاً، اعتمده العلماء، وصاروا يكثرون النقل منه أو العزو عنه2 "وبالإضافة إلى أن فيه نصوصًا كثيرة لم يسبق نشرها، وأنه نقل من كتب أخرى لم تصل إلينا، فهو خير كتاب صُنف في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم ودلائل نبوته من خلال الأحاديث الصحيحة والأخبار الوثيقة"3.
يقول ابن كثير: ("دلائل النبوة" لأبي بكر البيهقي من عيون ما صنّف في السيرة والشمائل) 4.
والبيهقي: هو الإمام الحافظ العلامة الفقيه الشافعي المشهور، شيخ خراسان، القانت الورع، صاحب التصانيف، أبو بكر أحمد بن الحسين البيهقي النيسابوري، ولد سنة أربع وثمانين وثلاثمائة في خسرو جرد من قرى بيهق بنيسابور، كان واحد زمانه في الحفظ والإتقان، وحسن التصنيف، كان فقيهًا محدثًا أصوليًّا من كبار أصحاب الحاكم، ومنه تخرج وجمع أشياء كثيرة
--------------------------------------------
বায়হাকীর সমালোচনামূলক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কিতাবটিতে [এসব বর্ণনা] দুর্বল।
"বায়হাকী মূলত সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর ওপর নির্ভর করেন এবং সেখান থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেন ও তার প্রতি ইঙ্গিত করেন। এরপর তিনি আবু দাউদ থেকে উদ্ধৃতি দেন কিন্তু তার প্রতি ইঙ্গিত করেন না। অনুরূপভাবে তিনি ইমাম আহমদের মুসনাদ, মালিকের মুয়াত্তা, ইবনে মাজাহ-এর সুনান, নাসায়ীর সুনানে কুবরা এবং দারেমীর সুনান থেকেও বর্ণনা উদ্ধৃত করেন। তিনি হাকিমের মুস্তাদরাক এবং হাকিমের উস্তাদ ইবনে হিব্বান থেকেও গ্রহণ করেন, যেমনটি তিনি ইবনে উকবার মাগাজী থেকেও গ্রহণ করেছেন।"১ আর এখানেই আমাদের মূল আলোচনার বিষয়; সম্ভবত তিনি মুসা বিন উকবার মাগাজী প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং সেখান থেকেই এই বর্ণনাগুলো উদ্ধৃত করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
তাঁর এই কিতাবটি আলেমদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে। তারা এই মর্মে একমত হয়েছেন যে, সূক্ষ্মতা, পরিমার্জন এবং বিন্যাসের দিক থেকে এটি স্বীয় বিষয়ের ওপর সর্বাধিক বিস্তৃত গ্রন্থ। ফলে এটি একটি মৌলিক উৎসে পরিণত হয়েছে, যা আলেমগণ গ্রহণ করেছেন এবং এর থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি বা রেফারেন্স প্রদান করেন।২ "এর পাশাপাশি এতে এমন অনেক বর্ণনা রয়েছে যা পূর্বে প্রকাশিত হয়নি এবং তিনি এমন সব কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন যা আমাদের নিকট পৌঁছেনি। সুতরাং সহীহ হাদীস ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনার আলোকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত এবং তাঁর নবুওয়াতের প্রমাণাদির (দালাইলুন নুবুওয়াহ) ওপর এটি একটি শ্রেষ্ঠ কিতাব।"৩
ইবনে কাসীর বলেন: (আবু বকর বায়হাকীর "দালাইলুন নুবুওয়াহ" সীরাত ও শামায়েল বিষয়ে রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ।) ৪
আর বায়হাকী হলেন: প্রখ্যাত ইমাম, হাফেজ, আল্লামা, শাফেয়ী ফকীহ, খোরাসানের শায়খ, ইবাদতগুজার ও পরহেজগার, বহু গ্রন্থের প্রণেতা, আবু বকর আহমদ বিন হুসাইন বায়হাকী নিশাপুরী। তিনি ৩৮৪ হিজরীতে নিশাপুরের বায়হাক অঞ্চলের খুসরু জর্দ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মুখস্থ শক্তি, প্রখরতা এবং সুনিপুণ গ্রন্থ রচনায় নিজ যুগের অদ্বিতীয় ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন ফকীহ, মুহাদ্দিস ও উসূলবিদ। তিনি হাকিম নিশাপুরীর অন্যতম প্রধান ছাত্র ছিলেন এবং তাঁর কাছেই শিক্ষা সমাপন করেন ও অনেক জ্ঞান অর্জন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সারায়া ওয়াল বুউছুন নাবাবিয়্যাহ হাওলাল মাদিনাহ ওয়া মাক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
نافعة لم يسبق إلى مثلها ولا يدرك فيها، كان من أعلم أصحاب الشافعي بالحديث وأنصرهم للشافعي، كان فاضلاً مرضي الطريقة، عاش البيهقي أربعًا وسبعين سنة، وتوفي في عاشر جمادى الأولى سنة ثمان وخمسين وأربعمائة ودفن ببيهق"1.
وقد كانت معظم مرويات عروة في هذا البحث من طريق ابن لهيعة، وهي في الغالب نسخة معروفة من مغازي عروة من طريق أبي الأسود يتيم عروة، ورواياته على اختصارها إلَاّ أنها غزيرة المعلومات ونستطيع أن نتلمس الدقة وحسن التنظيم خلالها2.
ويقدم لنا الزهري معلومات وفيرة ومنظمة ودقيقة في مروياته، ممَّا يدل على إمامته في شأن المغازي، وقد يخالف بقية أهل المغازي لكنه يجبرك بالحجة والبرهان على صواب رأيه وإن كان مخالفًا لإجماع أهل المغازي، مثل مخالفته لأهل المغازي الذين ذكروا أن أبا العاص إنما اعترضته سرية لرسول الله صلى الله عليه وسلم ولكن الزهري ذكر أن الذين اعترضوا أبا العاص إنما هو أبو جندل وأصحابه مستدلاًّ بالتاريخ الذي وقع فيه الحدث.
وكانت معظم مرويات الزهري في هذا البحث من طريق تلميذه موسى بن عقبة صاحب أوثق المغازي، ممَّا يعطينا الثقة المطلقة في مروياته3.
وقد أفدت من هذه المرويات التي تميَّزت بوجود الإسناد إلى عروة،والزهري، وفي بعض الأحيان يتعداهما الإسناد حتى شاهد العيان، فاستطعت بذلك أن أدرس تلك الأسانيد، وبالتالي أحكم عليها من حيث القوة والضعف.
--------------------------------------------
উপকারী যা ইতিপূর্বে কেউ করতে পারেনি এবং যার সমকক্ষ হওয়া অসম্ভব। তিনি হাদিস বিষয়ে শাফেয়ীর অনুসারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং শাফেয়ীর মতের সর্বাধিক সাহায্যকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সন্তোষজনক পথের অনুসারী। বায়হাকি চুয়াত্তর বছর জীবিত ছিলেন এবং চারশত আটান্ন হিজরির দশই জুমাদাল উলা ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে বায়হাক-এ দাফন করা হয়।"১।
এই গবেষণায় উরওয়ার অধিকাংশ বর্ণনা ইবনে লাহিয়াহ-এর সূত্রে বর্ণিত। এগুলো মূলত উরওয়ার এতিম (পালিত) শিষ্য আবু আসওয়াদের মাধ্যমে প্রাপ্ত উরওয়ার 'মাগাযি' (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ক পাণ্ডুলিপির একটি পরিচিত সংস্করণ। তাঁর বর্ণনাগুলো সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তথ্যে ভরপুর এবং এর মাধ্যমে আমরা সেগুলোর নিখুঁত বর্ণনাশৈলী ও চমৎকার বিন্যাস প্রত্যক্ষ করতে পারি।২।
যুহরি তাঁর বর্ণনাগুলোতে আমাদের প্রচুর, সুশৃঙ্খল এবং নির্ভুল তথ্য প্রদান করেন, যা মাগাযি শাস্ত্রে তাঁর ইমামত বা শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়। তিনি মাগাযি শাস্ত্রের অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন, তবে তিনি আপনাকে শক্তিশালী দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে তাঁর মতের সঠিকতার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন, যদিও তা অন্যান্য মাগাযি বিশেষজ্ঞদের ঐকমত্যের পরিপন্থী হয়। যেমন—মাগাযি বিশেষজ্ঞদের সাথে তাঁর সেই ভিন্নমত যেখানে তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রেরিত একটি ছোট সেনাদল (সারিয়্যাহ) আবুল আস-এর পথরোধ করেছিল। কিন্তু যুহরি উল্লেখ করেছেন যে, আবুল আস-এর পথরোধ করেছিলেন আবু জানদাল ও তাঁর সঙ্গীরা। এক্ষেত্রে তিনি সেই ঘটনার সংঘটিত হওয়ার তারিখ থেকে প্রমাণ পেশ করেছেন।
এই গবেষণায় যুহরির অধিকাংশ বর্ণনা ছিল তাঁর ছাত্র মুসা ইবনে উকবার সূত্রে, যিনি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাগাযি গ্রন্থের রচয়িতা। এটি তাঁর বর্ণনার প্রতি আমাদের নিরঙ্কুশ আস্থা প্রদান করে।৩।
আমি এই বর্ণনাগুলো থেকে উপকৃত হয়েছি যা উরওয়া ও যুহরি পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট সনদের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। কখনও কখনও সনদ তাঁদেরকেও ছাড়িয়ে প্রত্যক্ষদর্শী পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর ফলে আমি সেই সনদগুলো অধ্যয়ন করতে এবং সেগুলোর শক্তিমত্তা ও দুর্বলতার বিষয়ে বিচার বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়েছি।
--------------------------------------------