(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: -)
الرد على مزاعم المستشرقين جولد تسهير ويوسف شاخت ومن أيدهما من المستغربين القسم: علوم الحديث
الكتاب: الرد على مزاعم المستشرقين جولد تسهير ويوسف شاخت ومن أيدهما من المستغربين
المؤلف: عبد الله بن عبد الرحمن الخطيب
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 71
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
প্রাচ্যবিদ গোল্ডজিহার, জোসেফ শ্যাক্ট এবং তাদের সমর্থনকারী পাশ্চাত্যঘেঁষাদের দাবিসমূহের খণ্ডন বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
বই: প্রাচ্যবিদ গোল্ডজিহার, জোসেফ শ্যাক্ট এবং তাদের সমর্থনকারী পাশ্চাত্যঘেঁষাদের দাবিসমূহের খণ্ডন
লেখক: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-খাতিব
প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ১)
ال
مقدمة:الحمد لله رب العالمين حمدا يوافي نعمه، ويدفع نقمه، ويكافئ مزيده، والصلاة والسلام على أشرف خلقه محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد، فيقول الله تعالى: {يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} [الصف:8] ، فقد تعرضت السنة النبوية الشريفة للطعون والشبهات من الحاقدين والحاسدين منذ العصور الأولى للإسلام. ومنذ بداية القرن العشرين تعرضت السنة لحملة طعون وشبهات مغرضة من المستشرقين بهدف إبعاد المسلمين عن دينهم وتشكيكهم في أهم مصادر شريعتهم، ولكن الله تعالى هيأ لهذه الأمة جهابذة ورجالا في القديم والحديث حفظوا السنة وصانوها من عبث العابثين، ومن افتراءات المغرضين، فبيَّنوا الحق من الباطل والصحيح من السقيم، وذادوا عن حياض السنة المطهرة وفندوا وردوا على شبهات أولئك الطاعنين بالحجة والبرهان. ومن أهم هؤلاء الطاعنين في السنة المستشرقان اليهوديان: إجناتس جولدتسيهر وجوزيف شاخت. ويتناول هذا البحث نقد آراء هذين المستشرقين والرد عليهما فيما يتعلق بنقل السنة النبوية الشريفة والاعتماد في ذلك على نقد المتن والإسناد. فهذان المستشرقان ومن أيدهما من المسشرقين والمستغربين الذين انخدعوا بآراء المستشرقين، يرون أن الحديث النبوي الشريف الذي بين أيدي المسلمين اليوم قد وضعه واخترعه أصحاب الفرق والمذاهب الفقهية الإسلامية، وأن المنهجية التي اعتمدها المحدثون في نقد الحديث غير علمية، وأنها اعتمدت على نقد السند دون المتن. ومما يؤسف له أن نتائج دراسات هذين المستشرقين هي المعتمدة اليوم في
ভূমিকা:যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা তাঁর নিয়ামতসমূহের শোকর আদায়ে পর্যাপ্ত, তাঁর গজব প্রতিহতকারী এবং তাঁর অনুগ্রহের প্রবৃদ্ধি ঘটায়। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির সেরা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর, মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর আলোকে পূর্ণতা দান করবেন যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে} [আস-সাফ: ৮]। ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই পবিত্র সুন্নাহ হিংসুক ও বিদ্বেষীদের পক্ষ থেকে নানা আক্রমণ ও সংশয়ের সম্মুখীন হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে প্রাচ্যবিদদের পক্ষ থেকে সুন্নাহর বিরুদ্ধে এক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ ও সংশয় তৈরির অভিযান শুরু হয়, যার লক্ষ্য ছিল মুসলিমদের তাদের দীন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং তাদের শরিয়তের অন্যতম প্রধান উৎস সম্পর্কে সন্দেহে ফেলে দেওয়া। কিন্তু মহান আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রাচীন ও বর্তমান উভয় সময়েই এমন দূরদর্শী মনীষী ও ব্যক্তিবর্গের ব্যবস্থা করেছেন, যাঁরা সুন্নাহকে বাতিলপন্থীদের বিকৃতি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিদের মিথ্যাচার থেকে রক্ষা করেছেন ও একে সংরক্ষিত রেখেছেন। তাঁরা সত্য থেকে মিথ্যাকে এবং বিশুদ্ধ (صحيح) থেকে ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) অংশকে পৃথক করেছেন। তাঁরা পবিত্র সুন্নাহর সীমানা রক্ষা করেছেন এবং যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে ওইসব আক্রমণকারীদের সংশয়গুলো খণ্ডন করেছেন ও তার জবাব দিয়েছেন। সুন্নাহর ওপর এই আক্রমণকারীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান দুজন ইহুদি প্রাচ্যবিদ হলেন: ইগনাতজ গোল্ডজিহার ও জোসেফ শাখত। এই গবেষণাটি পবিত্র সুন্নাহর বর্ণনার ক্ষেত্রে এই দুজন প্রাচ্যবিদের মতামতের সমালোচনা এবং তার জবাব নিয়ে আলোচনা করে এবং এক্ষেত্রে মতন (متن) ও সনদ পরম্পরার (إسناد) সমালোচনার ওপর নির্ভর করা হয়েছে। এই দুই প্রাচ্যবিদ এবং তাঁদের অনুসারী প্রাচ্যবিদ ও পাশ্চাত্যঘেষা আধুনিকতাবাদীরা, যাঁরা প্রাচ্যবিদদের মতামতে বিভ্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা মনে করেন যে, মুসলিমদের হাতে বর্তমানে বিদ্যমান এই পবিত্র হাদিস মূলত ইসলামি ফিরকা ও ফিকহী মাযহাবের অনুসারীদের দ্বারা উদ্ভাবিত ও মনগড়া এবং হাদিস বিশারদগণ হাদিস যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তা বিজ্ঞানসম্মত নয়, কারণ তা কেবল সনদের (سند) ওপর নির্ভর করেছে এবং মতনের (متن) কোনো সমালোচনা করেনি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, এই দুই প্রাচ্যবিদের গবেষণালব্ধ ফলাফলগুলোই বর্তমানে অনুমোদিত...
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ২)
الأوساط الغربية وفي الجامعات الأوروبية والأمريكية وأقسام الشرق الأوسط في الغرب، وخلصت المقالة إلى نقض مزاعم المستشرقَيْن ومن أيدهما بالأدلة العلمية، وأكدت ما قاله العلماء المسلمون من أن منهجية النقد التي اعتمدها المحدثون والفقهاء المسلمون للتثبت من صحة الحديث وقبوله هي منهجية علمية وصحيحة وشاملة، وأن علماء المسلمين كما نقدوا السند نقدوا المتن.
ولهذا ينقسم البحث إلى مقدمة وثلاثة أقسام وخاتمة وتوصيات.
القسم الأول: عرض لآراء المسلمين حول منهجية توثيق السنة وأهمية الاعتماد في النقد على السند والمتن معا.
والقسم الثاني: عرض لآراء المستغربين والمستشرقين فيما يتعلق بتوثيق السنة ونقد المتن والرد عليهم.
والقسم الثالث: نظرية الإسناد عند شاخت والرد عليه، وأخيرا تأتي الخاتمة والتوصيات.
ويسرني أن أشكر مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف على عقده لندوة: عناية المملكة العربية السعودية بالسنة والسيرة النبوية، هذه الندوة المباركة المهمة الرائدة، والتي أسأل الله تعالى لها التوفيق، وإنني أشكر كذلك المسؤولين والعاملين في المجمع، وأسأل الله تعالى لهم مزيدا من التقدم والنجاح في خدمة كتاب الله تعالى والسنة والسيرة النبوية الشريفة، وأن يزيد الله تعالى هذا البلد الطيب رخاء وأمنا وطمأنينة، إنه سميع مجيب.
পাশ্চাত্য পরিমণ্ডল, ইউরোপীয় ও আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাশ্চাত্যের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিভাগসমূহে (এই বিষয়টি বিদ্যমান), এই নিবন্ধটি বৈজ্ঞানিক প্রমাণের মাধ্যমে দুই জন প্রাচ্যবিদ ও তাদের অনুসারীদের দাবি খণ্ডন করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) এবং এর গ্রহণযোগ্যতা (قبول) নিশ্চিত করার জন্য মুসলিম মুহাদ্দিস ও ফকিহগণ যে সমালোচনা পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন তা একটি বৈজ্ঞানিক, নির্ভুল এবং সামগ্রিক পদ্ধতি। মুসলিম আলেমগণ সনদের (السند) সমালোচনার পাশাপাশি মতনেরও (المتن) সমালোচনা করেছেন।
এ কারণে গবেষণাটি একটি ভূমিকা, তিনটি অংশ, উপসংহার এবং সুপারিশমালায় বিভক্ত।
প্রথম অংশ: সুন্নাহর প্রামাণিককরণ পদ্ধতি এবং সমালোচনার ক্ষেত্রে সনদ (السند) ও মতন (المتن) উভয়ের ওপর নির্ভর করার গুরুত্ব সম্পর্কে মুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন।
দ্বিতীয় অংশ: সুন্নাহর প্রামাণিককরণ এবং মতন (المتن) সমালোচনা সম্পর্কে পাশ্চাত্য প্রভাবিত ব্যক্তি ও প্রাচ্যবিদদের মতামত এবং তাদের খণ্ডন।
তৃতীয় অংশ: শ্যাখটের ইসনাদ (الإسناد) তত্ত্ব এবং তার জবাব, সবশেষে উপসংহার ও সুপারিশমালা।
আমি পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্সকে "সুন্নাহ ও সীরাতে নববীর প্রতি সৌদি আরব রাজতন্ত্রের যত্ন" শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানাতে পেরে আনন্দিত। এটি একটি বরকতময়, গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রগামী সেমিনার, যার সাফল্যের জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি। আমি কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও ধন্যবাদ জানাই এবং আল্লাহর কিতাব, সুন্নাহ ও সীরাতে নববীর সেবায় তাদের আরও উন্নতি ও সাফল্য কামনা করি। আল্লাহ এই নেক ভূমিকে সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও প্রশান্তি দ্বারা ধন্য করুন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও দুআ কবুলকারী।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ৩)
القسم الأول: عرض لآراء المسلمين حول منهجية توثيق السنة بالاعتماد على نقد السند والمتن معاتمهيد: آراء المسلمين في توثيق السنة وأهمية الإسناد
ينقسم علم الحديث النبوي الشريف إلى قسمين رئيسين هما (1) علم الحديث رواية وعلم الحديث دراية، أما علم الحديث رواية فهو: «العلم الذي يقوم على ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة خَلْقية أو خُلُقية نقلا دقيقا محررا» (2) ، وأما علم الحديث دراية أو علم مصطلح الحديث فهو كما يقول ابن جماعة: «معرفة القواعد التي يعرف بها أحوال السند والمتن» (3) ، وهو كذلك علم يعرف منه حقيقة الرواية وشروطها وأنواعها وأحكامها، وحال الرواة وشروطهم وأصناف المرويات
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সনদ (السند) এবং মতন (المتن) উভয়টির সমালোচনার ওপর ভিত্তি করে সুন্নাহর প্রামাণ্যতা নিশ্চিতকরণের পদ্ধতি সম্পর্কে মুসলিমদের অভিমত উপস্থাপনভূমিকা: সুন্নাহর প্রামাণ্যতা নির্ধারণে মুসলিমদের অভিমত এবং ইসনাদের (الإسناد) গুরুত্ব
পবিত্র হাদিসে নববী শাস্ত্র প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত, সেগুলো হলো: (১) ইলমুল হাদিস রিওয়াতান (علم الحديث رواية) এবং ইলমুল হাদিস দিরায়াতান (علم الحديث دراية)। ইলমুল হাদিস রিওয়াতান হলো: «এমন একটি বিদ্যা যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত কথা, কাজ, মৌনসম্মতি অথবা তাঁর শারীরিক বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সুক্ষ্ম ও পরিমার্জিত বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত» (২)। আর ইলমুল হাদিস দিরায়াতান বা হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্র সম্পর্কে ইবন জামাআহ বলেন: «এটি হলো এমন কিছু মূলনীতি (القواعد) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যার মাধ্যমে সনদ (السند) এবং মতনের (المتن) অবস্থা জানা যায়» (৩)। এটি এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে বর্ণনার (الرواية) প্রকৃত স্বরূপ, শর্তাবলি, প্রকারভেদ, বিধান (أحكامها), বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা ও শর্তাবলি এবং বর্ণিত বিষয়সমূহের শ্রেণিবিভাগ জানা যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ৪)
وما يتعلق بها (1) .
وأما السنة اصطلاحا: فهي تعني عند المحدثين: «كل ما أثر عن الرسول صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو تقرير، أو صفة خَلْقية أو خُلُقية، أو سيرة» (2) ، ويضاف إلى تعريف السنة والحديث بعض ما أضيف للصحابي وللتابعي (3) .
وقد أدى علم المصطلح وظيفة الحفاظ على السنة النبوية من خلال قواعد دقيقة لنقد السند والمتن مما أدى لمعرفة أنواع الحديث والتمييز بين الصحيح والحسن والضعيف والموضوع. والوظيفة الأخرى التي أداها علم المصطلح هو تقسيم الحديث إلى مقبول ومردود؛ ولهذا يعتقد المسلمون أن ما عندهم من أحاديث مقبولة هي فعلا أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم وأقوال الصحابة والتابعين؛ لأنها نقلت إلينا بواسطة رواة ثقات يعتمد عليهم.
وتعتمد صحة الحديث على صحة الإسناد والمتن معا. والسند لغة هو: ما ارتفع من الأرض
… (4) ، أما السند اصطلاحا فهو: سلسلة الرواة الذين نقلوا الحديث من النبي صلى الله عليه وسلم وحتى تدوين الحديث في كتب الحديث
--------------------------------------------
এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি (১)।
আর পরিভাষায় সুন্নাহ (السنة) বলতে মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) নিকট বোঝায়: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সকল কথা (قول), কাজ (فعل), মৌনসম্মতি (تقرير), শারীরিক (خَلْقية) বা চারিত্রিক (خُلُقية) বৈশিষ্ট্য (صفة) অথবা জীবনচরিত (سيرة)" (২); সুন্নাহ ও হাদিসের সংজ্ঞার সাথে সাহাবি (الصحابي) এবং তাবিঈগণের (التابعي) প্রতি যা কিছু সম্পৃক্ত করা হয়েছে তাও অন্তর্ভুক্ত করা হয় (৩)।
পরিভাষা বিজ্ঞান (علم المصطلح) সনদ (السند) এবং মতন (المتن) পর্যালোচনার সূক্ষ্ম নীতিমালার মাধ্যমে সুন্নাহ সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করেছে, যার ফলে হাদিসের প্রকারভেদ জানা এবং সহিহ (الصحيح), হাসান (الحسن), দুর্বল (الضعيف) ও জাল (الموضوع) হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হয়েছে। পরিভাষা বিজ্ঞানের অপর একটি কাজ হলো হাদিসকে গ্রহণযোগ্য (مقبول) এবং বর্জনীয় (مردود) — এই দুই ভাগে বিভক্ত করা; একারণেই মুসলিমরা বিশ্বাস করেন যে, তাঁদের কাছে থাকা গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাদিসগুলো প্রকৃতপক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস এবং সাহাবি ও তাবিঈগণের উক্তি; কারণ সেগুলো নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছেছে যাঁদের ওপর নির্ভর করা যায়।
হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) নির্ভর করে ইসনাদ (الإسناد) ও মতন (المتن) উভয়ের বিশুদ্ধতার ওপর। শাব্দিক অর্থে সনদ (السند) হলো: জমিন থেকে উঁচু স্থান
… (৪), আর পরিভাষায় সনদ (السند) হলো: বর্ণনাকারীদের এমন এক ধারাবাহিকতা যাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত হাদিসের কিতাবসমূহে তা লিপিবদ্ধ হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
المعتمدة، أو هو الإخبار عن طريق المتن (1) وإنما سمي السند بالسند، كما قال ابن جماعة؛ لأن الحفاظ يعتمدون في صحة الحديث أو ضعفه عليه (2) . فالإسناد هو قسم أساسي من الحديث، ولذا يقال: إن علم الإسناد هو نصف علوم الحديث، فالإسناد هو المسبار الذي يحاكم كل ما يقال، والحديث الذي لا سند له كبيت لا سقف له أو لا أساس له. (3)
لقد اهتم العلماء المسلمون بالإسناد وبينوا أهميته من خلال عبارات مشهورة فقد قال محمد بن سيرين: «إن هذا العلم دين فانظروا عمن تأخذون دينكم» (4) ، وقال سفيان الثوري: «الإسناد هو سلاح المؤمن. فإذا لم يكن معه سلاح فبأي شيء يقاتل؟» (5) ، وقال عبد الله بن المبارك: الإسناد من الدين ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء (6) ، ولهذا فعندما كان يسأل أهل البدع عمن أخذوا الحديث كانوا يسكتون لئلا يفتضحوا.
--------------------------------------------
নির্ভরযোগ্য, অথবা এটি হলো মূল পাঠের (متن) মাধ্যমে সংবাদ প্রদান করা (১)। আর সনদকে (سند) সনদ বলা হয়—যেমনটি ইবন জামাআহ বলেছেন—কারণ হাফেজগণ (حفاظ) হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) বা দুর্বলতা (ضعف) নির্ণয়ে এর ওপর নির্ভর করেন (২)। সুতরাং ইসনাদ (إسناد) হলো হাদিসের একটি মৌলিক অংশ, তাই বলা হয়ে থাকে: ইসনাদ শাস্ত্র হলো হাদিস বিজ্ঞানের অর্ধেক। ইসনাদ (إسناد) হলো সেই মানদণ্ড যার মাধ্যমে বর্ণিত সব কিছু যাচাই করা হয়; আর যে হাদিসের কোনো সনদ (سند) নেই, তা যেন ছাদহীন বা ভিত্তিহীন কোনো ঘর (৩)।
মুসলিম আলেমগণ ইসনাদের (إسناد) প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং বিভিন্ন প্রসিদ্ধ উক্তির মাধ্যমে এর তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। মুহাম্মদ ইবনে সিরিন বলেছেন: «নিশ্চয়ই এই ইলম বা জ্ঞান হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ তা ভালো করে দেখে নাও» (৪)। সুফিয়ান সাওরী বলেছেন: «ইসনাদ (إسناد) হলো মুমিনের অস্ত্র; যখন তার কাছে কোনো অস্ত্র থাকবে না, তখন সে কী দিয়ে লড়াই করবে?» (৫)। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেছেন: «ইসনাদ (إسناد) দ্বীনের অংশ, যদি ইসনাদ (إسناد) না থাকত তবে যে কেউ যা ইচ্ছা তাই বলত» (৬)। এই কারণেই যখন বিদআতিদের (أهل البدع) নিকট জিজ্ঞাসা করা হতো যে তারা কার থেকে হাদিস গ্রহণ করেছে, তখন তারা চুপ হয়ে যেত যাতে তারা অপদস্থ না হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
ولما للإسناد من أهمية بين العلماء المسلمين فقد تعدى استخدامه لكل العلوم كعلم الأدب العربي، والتاريخ والطب وغيرها من علوم. (1) وكان من ثمرة اهتمام المسلمين بالإسناد نشأة علم سمي بعلم الجرح والتعديل (2) ، وكما يقول المستشرق سبرنجر Sprenger: إن المسلمين درسوا تراجم ما يقرب من نصف مليون راوٍ (3) ، وكل ذلك من أجل الحديث النبوي الشريف.
بدأ المسلمون بالاهتمام الزائد بالسؤال عن الإسناد بعد فتنة مقتل عثمان رضي الله عنه، ففي ذلك الزمان نشطت حركة الوضع. واتخذ المحدثون اجراءات وقائية لمنع الكذابين من ترويج كذبهم، وللحفاظ على السنة فاستخدموا ضدهم سلاح الإسناد، يقول الإمام الثوري: عندما اخترع الكذابون أسانيد كاذبة استخدمنا ضدهم تاريخ الرواة (4) .
ويقول محمد بن سيرين: لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة -أي الحرب بين علي ومعاوية رضي الله عنهما (5) قالوا: سموا لنا رجالكم، فيُنظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، وينظر إلى أهل البدع فلا
--------------------------------------------
মুসলিম পণ্ডিতদের নিকট সনদের (الإسناد) গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় এর ব্যবহার আরবি সাহিত্য, ইতিহাস, চিকিৎসা শাস্ত্রসহ অন্যান্য সকল বিদ্যায় সম্প্রসারিত হয়েছে। (১) সনদের (الإسناد) প্রতি মুসলিমদের এই বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের ফসল হিসেবে 'জেরাহ ও তাদিল' বা বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও গুণাগুণ বিশ্লেষণ (الجرح والتعديل) নামক একটি স্বতন্ত্র বিদ্যার জন্ম হয়েছে (২), এবং প্রাচ্যবিদ স্প্রেঞ্জার (Sprenger) যেমনটি বলেছেন: মুসলিমরা প্রায় পাঁচ লক্ষ বর্ণনাকারীর (راوٍ) জীবনী অধ্যয়ন করেছেন (৩), আর এই সবকিছুই ছিল পবিত্র নববী হাদিসের খাতিরে।
ওসমান (রা.)-এর শাহাদাতের ফিতনার পর থেকে মুসলিমরা সনদের (الإسناد) ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বারোপ শুরু করেন, কারণ সেই সময়ে হাদিস জালকরণের (الوضع) প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। মুহাদ্দিসগণ মিথ্যাবাদীদের (الكذابين) মিথ্যা প্রচার রোধে এবং সুন্নাহর সংরক্ষণে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে সনদের (الإسناد) হাতিয়ার ব্যবহার করেন। ইমাম সাওরি বলেন: যখন মিথ্যাবাদীরা (الكذابون) মিথ্যা সনদসমূহ (أسانيد) তৈরি করল, তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে বর্ণনাকারীদের (الرواة) ইতিহাস ব্যবহারের পদ্ধতি অবলম্বন করলাম (৪)।
মুহাম্মদ ইবনে সিরিন বলেন: তারা ইতিপূর্বে সনদ (الإسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনা—অর্থাৎ আলী ও মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যকার যুদ্ধ—সংঘটিত হলো (৫), তখন তারা বলতে লাগলেন: 'তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বলো'। তখন আহলুস সুন্নাহর (أهل السنة) দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতিদের (أهل البدع) দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
أنهم اختلفوا في تأويلها وفهمها. ومثال ذلك الأحاديث التي تمنع المرأة البكر من الزواج بغير إذن وليها (1) ، هذه الأحاديث قد قبلت في المذهب الحنفي إلا أن الأحناف أولوها بأنها مصروفة إلى المرأة التي لم تبلغ، أما المذهب الشافعي فقد قبل هذه الأحاديث وعمم مضمونها ليشمل المرأة البكر البالغ وغير البالغ.
4- اعتمد نشوء المذاهب العقدية في القرون الثلاثة الأولى للإسلام على تفسيرات عديدة لنصوص القرآن والسنة.
5- إن علم مختلف الحديث خير شاهد على اعتناء العلماء بنقد المتون، فهذا العلم يعنى بالأحاديث النبوية الشريفة التي ظاهرها التعارض (2) . وقد اهتم العلماء مبكرا بهذا العلم بدءا من مؤلَّف الإمام محمد بن إدريس الشافعي: اختلاف الحديث (3) ، وغيره من المؤلفات ككتاب تأويل مختلف الحديث لابن قتيبة، وكتاب مشكل الآثار للطحاوي. أضف إلى ذلك فقد ذكر العلماء وجوها عديدة للترجيح بين مختلف الحديث بعضها راجعة للسند وأخرى راجعة للمتن، ذكر منها الحافظ العراقي والسيوطي والآمدي مائة وجه وعشرة أوجه (4) . كل هذا يدل على عناية فائقة من علمائنا بنقد المتن حتى قال ابن خزيمة (311 هـ) : «ليس ثم حديثان متعارضان من كل وجه، ومن وجد شيئا من ذلك فليأتني لأؤلف له بينهما» (5) .
--------------------------------------------
তারা সেগুলোর ব্যাখ্যা ও অনুধাবনে মতভেদ করেছেন। এর উদাহরণ হলো সেই হাদিসগুলো যা অবিবাহিতা কুমারী নারীকে তার অভিভাবকের (ولي) অনুমতি ছাড়া বিবাহ করতে বাধা দেয় (১)। এই হাদিসগুলো হানাফি মাজহাবে গৃহীত হয়েছে, তবে হানাফিগণ সেগুলোর এই ব্যাখ্যা করেছেন যে, তা অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্যদিকে, শাফেয়ী মাজহাব এই হাদিসগুলোকে গ্রহণ করেছে এবং এর বিষয়বস্তুকে সাধারণীকরণ করেছে যাতে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক উভয় প্রকার অবিবাহিতা নারী অন্তর্ভুক্ত হয়।
4- ইসলামের প্রথম তিন শতাব্দীতে আকিদাগত মাজহাবসমূহের উদ্ভব কুরআন ও সুন্নাহর নসসমূহের (نصوص) বিভিন্ন ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে হয়েছে।
5- ‘ইলমে মুখতালিফুল হাদিস’ (مختلف الحديث) মতন সমালোচনার (نقد المتون) প্রতি আলেমদের বিশেষ মনোযোগের এক উৎকৃষ্ট প্রমাণ। এই শাস্ত্রটি সেইসব হাদিসে নববী নিয়ে আলোচনা করে যেগুলোর বাহ্যিক দিক থেকে আপাত বিরোধ (التعارض) পরিলক্ষিত হয় (২)। আলেমগণ শুরু থেকেই এই শাস্ত্রের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন, যার সূচনা হয়েছিল ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ীর রচিত গ্রন্থ: ইখতিলাফুল হাদিস (৩) এবং অন্যান্য রচনাবলি যেমন ইবনে কুতায়বার তাউয়িলু মুখতালিফিল হাদিস এবং তহাবীর মুশকিলুল আসার গ্রন্থের মাধ্যমে। এর সাথে যোগ করা যেতে পারে যে, আলেমগণ মুখতালিফুল হাদিসের মধ্যে অগ্রাধিকার প্রদানের (الترجيح) ক্ষেত্রে অনেকগুলো দিক উল্লেখ করেছেন, যার কিছু সনদের (السند) সাথে সংশ্লিষ্ট এবং অন্যগুলো মতনের (المتن) সাথে সংশ্লিষ্ট। হাফেজ ইরাকি, সুয়ূতি এবং আমিদি এ বিষয়ে একশত দশটি দিক উল্লেখ করেছেন (৪)। এই সবকিছুই আমাদের আলেমদের মতন সমালোচনার (نقد المتن) প্রতি অসাধারণ যত্নের প্রমাণ দেয়, এমনকি ইবনে খুজাইমা (৩১১ হিজরি) বলেছেন: «এমন কোনো দুটি হাদিস নেই যা সব দিক থেকে পরস্পর বিরোধী (متعارضان), কেউ যদি এমন কিছু পায় তবে সে যেন তা আমার কাছে নিয়ে আসে যাতে আমি সে দুটির মধ্যে সমন্বয় করে দিতে পারি» (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
الدين عتر (1) ، وهمام سعيد (2) ، ومحمد عجاج الخطيب (3) ، ومحمد أبو شهبة (4) ، هؤلاء كلهم رفضوا آراء المستشرقين ومن تابعهم من المستغربين، تلك الآراء التي تزعم بأن نقد الحديث ومعرفة درجة صحته كانت تعتمد فقط على نقد السند دون المتن، والمشكلة كما يزعم هؤلاء أن نقد السند كان نقدا شكليا، وكان ينقصه منهجية النقد العامة لأي حديث نقد المتن الذي لم يكن له وجود عند العلماء المسلمين (5) .
أما آراء علماء السنة من المحدثين حول هذا الموضوع فهي أنه كان هناك تكامل وشمول في المنهج النقدي لدى المحدثين بحيث شمل السند والمتن معا، والأدلة من علم المصطلح كثيرة على هذه القضية بحيث نستطيع القول بأن زعم المستشرقين بأن العلماء اعتنوا بنقد السند دون المتن هو على شهرته أشد مزاعمهم ضعفا وأوضحها سقوطا (6) ، وإن علماء الحديث والفقه قد نقدوا المتن بما فيه الكفاية، ولكن المستشرقين ومن أيدهم يريدون لهذا النقد أن يتجاوز حدود الشرع مما يؤدي إلى رفض الأحاديث التي لم تجد قبولا لدى عقولهم المتحجرة.
--------------------------------------------
নূরুদ্দীন ইতর (১), হাম্মাম সাঈদ (২), মুহাম্মদ আজ্জাজ আল-খতিব (৩) এবং মুহাম্মদ আবু শাহবাহ (৪)—তাঁরা সকলে প্রাচ্যবিদ এবং তাঁদের অনুসারী পাশ্চাত্যঘেঁষা ব্যক্তিদের সেই সকল মতবাদ প্রত্যাখ্যান করেছেন যা দাবি করে যে, হাদিস সমালোচনা (نقد) এবং এর বিশুদ্ধতার (صحة) স্তর নির্ণয় করা কেবল সনদ (سند) পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল ছিল, মতন (متن) পর্যালোচনার ওপর নয়। তাঁদের দাবি অনুযায়ী মূল সমস্যাটি হলো, সনদের সমালোচনা (نقد) ছিল একটি নিছক আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এবং এতে যেকোনো হাদিস পর্যালোচনার সাধারণ পদ্ধতি (منهجية) অর্থাৎ মতন (متن) সমালোচনার অভাব ছিল, যা মুসলিম বিদ্বানদের নিকট বিদ্যমান ছিল না (৫)।
অপরদিকে এই বিষয়ে সুন্নি মুহাদ্দিসগণের অভিমত হলো, মুহাদ্দিসগণের সমালোচনা (نقد) পদ্ধতির (منهجية) মাঝে একটি পূর্ণতা ও ব্যাপকতা ছিল, যা সনদ (سند) ও মতন (متن) উভয়কেই সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত করত। পরিভাষা শাস্ত্র (علم المصطلح) থেকে এই বিষয়ে অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে যার ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি যে—বিদ্বানগণ কেবল সনদের প্রতি যত্নবান ছিলেন এবং মতনের প্রতি নয়—প্রাচ্যবিদদের এই দাবিটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তাদের দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল (ضعيف) এবং স্পষ্টভাবে অসার (৬)। হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ মতন (متن)-এর পর্যাপ্ত সমালোচনা (نقد) করেছেন, কিন্তু প্রাচ্যবিদ ও তাঁদের সমর্থকরা চাচ্ছেন যে এই সমালোচনা যেন শরয়ি সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে যায়, যার ফলে এমন সব হাদিস প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব হয় যা তাদের সংকীর্ণ বুদ্ধিতে গ্রহণযোগ্য মনে হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
القسم الثاني: عرض لآراء المستغربين فيما يتعلق بتوثيق السنة عبر نقد المتن والسند والرد عليهم…القسم الثاني: عرض لآراء المستغربين والمستشرقين فيما يتعلق بتوثيق السنة عبر نقد المتن والسند والرد عليهم
1- عرض لآراء المستغربين من المسلمين المعاصرين الذين يؤيدون وجهة نظر المستشرقين:
انتقد بعض المستغربين من المسلمين المعاصرين ما ذهب إليه المحدثون في طريقة معرفة صحة الحديث.
ويقول هؤلاء المستغربون إن صحة أي حديث يجب أن تبنى أولا على صحة متنه وليس على صحة إسناده (1) ، وإن السؤال الذي يجب أن يطرح على كل حديث هو: هل يمكن للرسول صلى الله عليه وسلم أن يقول مثل هذا الكلام أو لا؟. والسبب في طرح هذا السؤال دائما هو زعمهم بأنه يوجد في كتب الحديث المعتمدة كالكتب الستة بعض الأحاديث المخالفة للعقل والعلم، ويستحيل أن يكون الرسول صلى الله عليه وسلم قد قالها. وآراء هؤلاء المستغربين ليست جديدة، بل هي تكرار لما قاله المستشرقون بل لما قالته بعض الفرق الإسلامية أيام الإمام الشافعي، بل وقبله (2) .
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মূলপাঠ (متن) এবং সূত্রের (سند) সমালোচনার মাধ্যমে সুন্নাহর প্রামাণ্যতা সম্পর্কে পাশ্চাত্য প্রভাবিতদের মতামতের উপস্থাপন এবং সেগুলোর উত্তর…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মূলপাঠ (متن) এবং সূত্রের (سند) সমালোচনার মাধ্যমে সুন্নাহর প্রামাণ্যতা সম্পর্কে পাশ্চাত্য প্রভাবিত ব্যক্তি ও প্রাচ্যবিদদের (مستشرقون) মতামতের উপস্থাপন এবং সেগুলোর উত্তর
১- আধুনিক যুগের সেই সকল পাশ্চাত্য প্রভাবিত মুসলিমদের মতামতের উপস্থাপন, যারা প্রাচ্যবিদদের (مستشرقون) দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করেন:
আধুনিক যুগের কিছু পাশ্চাত্য প্রভাবিত মুসলিম হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) নির্ণয়ের ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদদের (محدثون) অনুসৃত পদ্ধতির সমালোচনা করেছেন।
এই পাশ্চাত্য প্রভাবিত ব্যক্তিরা বলেন যে, যেকোনো হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) প্রধানত তার মূলপাঠের বিশুদ্ধতার (صحة متنه) ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হওয়া উচিত, তার সূত্রের বিশুদ্ধতার (صحة إسناده) ওপর নয় (১)। আর প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে যে প্রশ্নটি উত্থাপন করা আবশ্যক তা হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এমন কথা বলতে পারেন কি না? সর্বদা এই প্রশ্নটি উত্থাপন করার কারণ হলো তাদের এই দাবি যে, কুতুবুস সিতাহ-র মতো নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থগুলোতে এমন কিছু হাদিস রয়েছে যা বিবেক ও বিজ্ঞানের বিরোধী, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষে তেমন কথা বলা অসম্ভব। এই পাশ্চাত্য প্রভাবিতদের মতামতগুলো নতুন কিছু নয়; বরং এগুলো প্রাচ্যবিদদের কথারই পুনরাবৃত্তি, এমনকি ইমাম শাফিঈ-র যুগে এবং তারও পূর্বে কিছু উপদলের (فرق) বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
ويعد محمد عبده (1840 – 1905م) أول عالم مسلم معاصر توجه بنقده لبعض الأحاديث المقبولة والصحيحة عند العلماء المسلمين (1) ، وتابع محمد عبده تلامذته الذين وسعوا أفكاره وفصلوها (2) ، ويمكن تلخيص آرائهم كما يلي:
1- زعمهم أن الحديث النبوي كتب في وقت متأخر أي خلال النصف الأول من القرن الثاني الهجري. ولذلك فلا يمكننا الاعتماد على صحة الحديث لوجود احتمالات وقوع الخطأ من الرواة ومن مدوني الحديث.
2- لقد وضعت أحاديث كثيرة واختلطت بالأحاديث الصحيحة مما يجعل عملية الفصل بينها صعبة جدا.
3- لقد روى الصحابة والتابعون معاني الأحاديث وليس الأحاديث بعينها، ولهذا لم يحتج النحاة بالأحاديث المروية في النحو. والاختلاف في الروايات بين رواة الحديث دليل على أنهم كانوا ينقلون المعنى (3) .
4- لا يمكننا الاعتماد على علم الجرح والتعديل لأنه علم متناقض، إذ يقدم علماء هذا العلم معلومات متناقضة عن الرواة (4) .
--------------------------------------------
মুহাম্মদ আবদু (১৮৪০ – ১৯০৫ খ্রি.)-কে প্রথম সমকালীন মুসলিম পণ্ডিত হিসেবে গণ্য করা হয় যিনি মুসলিম আলিমদের নিকট গ্রহণযোগ্য (مقبول) এবং সহিহ (صحيح) হিসেবে বিবেচিত কিছু হাদিসের প্রতি তাঁর সমালোচনার দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন (১)। মুহাম্মদ আবদুর অনুসারী ছিলেন তাঁর ছাত্ররা, যারা তাঁর চিন্তাধারাকে সম্প্রসারিত ও বিস্তারিত করেছেন (২)। তাঁদের মতামতগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
১- তাঁদের দাবি হলো, নববী হাদিস অনেক বিলম্বে অর্থাৎ হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথমার্ধে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তাই বর্ণনাকারীদের (رواة) এবং হাদিস সংকলকদের পক্ষ থেকে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকার কারণে আমরা হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) ওপর নির্ভর করতে পারি না।
২- প্রচুর জাল (موضوع) হাদিস তৈরি করা হয়েছে এবং সেগুলো সহিহ (صحيح) হাদিসগুলোর সাথে মিশে গেছে, যা সেগুলোকে পৃথক করার প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।
৩- সাহাবী (صحابة) ও তাবিঈগণ (تابعون) হাদিসের মূল শব্দের পরিবর্তে কেবল মর্মার্থ বর্ণনা করেছেন; এই কারণেই ব্যাকরণবিদগণ ব্যাকরণের ক্ষেত্রে বর্ণিত হাদিসগুলো দ্বারা দলিল পেশ করেননি। হাদিস বর্ণনাকারীদের (رواة) মধ্যে বর্ণনার বৈচিত্র্য একথারই প্রমাণ যে, তাঁরা মর্মার্থ বর্ণনা করতেন (৩)।
৪- আমরা জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের ওপর নির্ভর করতে পারি না কারণ এটি একটি স্ববিরোধী শাস্ত্র; কেননা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ বর্ণনাকারীদের (رواة) সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রদান করেন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
ـ بما أن معظم الأحاديث النبوية رويت عن طريق الآحاد فإن احتمال وقوع الخطأ منهم كبير، إذ إنهم بشر. وتنطبق هذه القاعدة أيضا على الأحاديث الآحاد المروية في كل من صحيحي البخاري ومسلم. والفقهاء والمحدثون لديهم الحرية في اختيار الأحاديث التي يرونها مناسبة لمذاهبهم (1) .
2- عرض آراء بعض المستشرقين:
تعرض الحديث النبوي الشريف لحملة طعونات وتشكيكات من المستشرقين. وتختلف وجهة نظرهم عن نظرة المسلمين للحديث. فالمستشرقون يرون أن معظم الأحاديث المنقولة عن النبي صلى الله عليه وسلم هي في الحقيقة ليست أقوالا له، ولكن بعض تلك الأحاديث تنقل لنا أفكاره وتقريراته.
وتعتمد حجج المستشرقين ونتائجهم حول نظرتهم إلى الحديث النبوي الشريف على النتائج التي وضعها المستشرق إجناتس جولدتسيهر (1850 – 1921) في كتابه: دراسات محمدية (2) ، Muhammedanisch Studien عام 1889. وكل من أتى بعد جولدتسيهر اعتمد على آرائه التي ذكرها في هذا الكتاب. ويرى جولدتسيهر: «إنه من الصعوبة بمكان أن ننخل أو نميز وبثقة من كمية الحديث الكبيرة الواسعة، قسما صحيحا يمكننا نسبته إلى النبي أو إلى أصحابه» (3) . وتوصل جولدتسيهر إلى النتيجة التالية: «إن الحديث النبوي
--------------------------------------------
যেহেতু অধিকাংশ নববী হাদিস একক সূত্র (আহাদ (آحاد)) মারফত বর্ণিত হয়েছে, সেহেতু সেগুলোর ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি, কারণ বর্ণনাকারীরা মানুষ। এই নিয়মটি সহিহ বুখারি এবং মুসলিমে বর্ণিত একক সূত্র (আহাদ (آحاد)) বিশিষ্ট হাদিসগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আর ফকিহগণ (فقهاء) এবং হাদিস বিশারদগণ (মুহাদ্দিসগণ (محدثون)) তাঁদের নিজ নিজ মাযহাবের জন্য উপযুক্ত মনে করেন এমন হাদিসগুলো বেছে নেওয়ার ব্যাপারে স্বাধীন। (১)
২- কতিপয় প্রাচ্যবিদের মতামতের উপস্থাপনা:
পবিত্র নববী হাদিস প্রাচ্যবিদদের পক্ষ থেকে এক ধরণের আক্রমণ ও সংশয়বাদী অভিযানের সম্মুখীন হয়েছে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি হাদিস সম্পর্কে মুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আলাদা। প্রাচ্যবিদরা মনে করেন যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত অধিকাংশ হাদিস প্রকৃতপক্ষে তাঁর কথা নয়, তবে সেই হাদিসগুলোর কিছু অংশ আমাদের কাছে তাঁর চিন্তা ও মৌন সম্মতি (তাকরীর (تقريرات)) পৌঁছে দেয়।
পবিত্র নববী হাদিস সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের যুক্তি ও ফলাফলসমূহ প্রাচ্যবিদ ইগনাস গোল্ডজিহার (১৮৫০ – ১৯২১) কর্তৃক তাঁর ১৮৮৯ সালে প্রকাশিত "মুহাম্মাদান স্টাডিজ" (Muhammedanische Studien) নামক গ্রন্থে উপস্থাপিত সিদ্ধান্তগুলোর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। গোল্ডজিহারের পরবর্তী সকলেই এই গ্রন্থে উল্লিখিত তাঁর মতামতের ওপর নির্ভর করেছেন। গোল্ডজিহার মনে করেন: "হাদিসের এই সুবিশাল ভাণ্ডার থেকে আস্থার সাথে এমন একটি বিশুদ্ধ (সহিহ (صحيح)) অংশ ছেঁকে নেওয়া বা পৃথক করা অত্যন্ত কঠিন, যা আমরা নবি বা তাঁর সাহাবিদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করতে পারি।" (৩)। গোল্ডজিহার নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হন: "নিশ্চয়ই নববী হাদিস
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
وجد نتيجة للتطور الديني والتاريخي والاجتماعي الإسلامي خلال القرنين الأولين للهجرة» (1) .وقد لخص جوزيف شاخت رأي جولدتسيهر بقوله: «إن الأحاديث المنسوبة للنبي وأصحابه التي يدعى بأنها ترجع إلى عصر النبي وأصحابه في الحقيقة لا تحتوي على معلومات موثوق بها [صحيحة] عن تلك الفترة الإسلامية الأولى، بيد أن تلك الأحاديث تعكس لنا الآراء التي كانت خلال القرنين الأولين من الهجرة والنصف الأول من القرن الثالث الهجري» (2) .ولكن جولدتسيهر قدم لنا وجهة نظر أخرى في مقالته: Vorlesungen Uber den Islam عام 1910م، وقد أعطانا البروفسور ج. روبسون ملخصا لها حيث يقول: «لا ينكر جولدتسيهر بالكلية وجود أحاديث صحيحة ترجع إلى القرن الأول بل حتى إلى فم النبي نفسه» (3) .
ويُعد هذا الرأي من جولدتسيهر تراجعا عما ذكره سابقا في كتابه: (دراسات محمدية) حيث شكك هناك في أي حديث صحيح، ولكنه هنا قبل بعض الأحاديث الصحيحة.
ولهذا السبب يمكن للمرء أن يتساءل: لماذا غيّر جولدتسيهر موقفه من الحديث؟، فهل وجد أدلة جديدة تؤكد له صحة بعض الأحاديث؟ وإذا كان الحال كذلك فما تلك الأدلة؟ ولماذا لم يعد بقية الأحاديث صحيحة كتلك
--------------------------------------------
হিজরি প্রথম দুই শতাব্দীতে ইসলামী ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সামাজিক বিবর্তনের ফলস্বরূপ এটি অস্তিত্ব লাভ করেছে (১)। জোসেফ শাখট গোল্ডজিহারের অভিমত সংক্ষেপে ব্যক্ত করে বলেছেন: «নবী ও তাঁর সাহাবীদের প্রতি আরোপিত যে সকল হাদিস সম্পর্কে দাবি করা হয় যে এগুলো নবী ও সাহাবীদের যুগের সাথে সম্পৃক্ত, প্রকৃতপক্ষে সেগুলো ইসলামের সেই প্রাথমিক যুগ সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য [বিশুদ্ধ (صحيحة)] তথ্য ধারণ করে না; বরং এই হাদিসগুলো হিজরি প্রথম দুই শতাব্দী এবং তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর প্রথমার্ধে প্রচলিত মতামতসমূহকেই আমাদের কাছে প্রতিফলিত করে» (২)। তবে গোল্ডজিহার ১৯১০ সালে তাঁর প্রবন্ধ ‘Vorlesungen Uber den Islam’-এ অন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করেছেন; প্রফেসর জে. রবসন যার একটি সারসংক্ষেপ আমাদের প্রদান করেছেন যেখানে তিনি বলেন: «গোল্ডজিহার প্রথম শতাব্দীর সাথে সম্পৃক্ত বিশুদ্ধ (صحيحة) হাদিসের অস্তিত্বকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেন না, এমনকি সরাসরি নবীর মুখনিঃসৃত বাণীর অস্তিত্বকেও নয়» (৩)।
গোল্ডজিহারের এই অভিমতটি তাঁর পূর্ববর্তী গ্রন্থ ‘মুসলিম স্টাডিজ’-এ যা উল্লেখ করেছিলেন তা থেকে সরে আসার নামান্তর; সেখানে তিনি যেকোনো বিশুদ্ধ (صحيحة) হাদিস সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছিলেন, কিন্তু এখানে তিনি কিছু বিশুদ্ধ (صحيحة) হাদিস গ্রহণ করেছেন।
আর একারণেই কেউ প্রশ্ন করতে পারেন: গোল্ডজিহার হাদিসের ব্যাপারে কেন নিজের অবস্থান পরিবর্তন করলেন? তিনি কি এমন কোনো নতুন প্রমাণ পেয়েছেন যা তাঁর নিকট কিছু হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত করেছে? যদি বিষয়টি তেমনই হয়, তবে সেই প্রমাণগুলো কী কী? আর কেনই বা তিনি বাকি হাদিসগুলোকে সেগুলোর মতো বিশুদ্ধ (صحيحة) হিসেবে গণ্য করেননি?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
التي عدَّها صحيحة؟. كل هذه الأسئلة تبرز بسبب تغييره لموقفه، ونجد من الصعوبة أن نجد أجوبة عن كل هذه الأسئلة.
أما نقد المستشرقين للمحدثين فيما يتعلق باعتمادهم على الإسناد في تصحيح الحديث فهم يدعون بأن المسلمين لم يتجاوزوا أبداً نقد السند إلى نقد المتن، وأن نقد المتن ترك من دون عناية أبداً (1) ، يقول كايتاني: كل قصد المحدثين ينحصر ويتركز في واد جدب ممحل من سرد الأشخاص الذين نقلوا المروي، ولا يشغل أحد نفسه بنقد العبارة والمتن نفسه.. والمحدثون والنقاد المسلمون لا يجسرون على الاندفاع في التحليل النقدي للسنة إلى ما وراء الإسناد بل يمتنعون عن كل نقد للنص إذ يرونه احتقارا لمشهوري الصحابة وثقيل الخطر على الكيان الإسلامي (2) ، ويقول المستشرق شاخت مؤيدا كايتاني: إن العلماء المسلمين أخفوا نقدهم لمادة الحديث وراء نقدهم للإسناد نفسه. (3) ويعتمد رأيهم هذا على أسباب عديدة [بزعمهم] ونلاحظ أن آراءهم وآراء المستغربين من المسلمين متوافقة في هذا الموضوع.
لكن المستشرقين قد ذكروا شبهات أكثر مما ذكره مقلدوهم من المستغربين. ومن تلك الشبهات والمزاعم التي ساقها المستشرقون قولهم: كما أنه كان من السهل وضع حديث ما، فقد كان من الأسهل اختراع سند
--------------------------------------------
যেগুলোকে তিনি সহিহ (صحيحة) হিসেবে গণ্য করেছেন? তাঁর অবস্থান পরিবর্তনের কারণে এই সমস্ত প্রশ্ন সামনে আসে এবং এই সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
হাদিসের বিশুদ্ধতা নির্ণয়ে (تصحيح الحديث) সূত্র-পরম্পরার (الإسناد) ওপর হাদিস বিশারদদের (المحدثين) নির্ভরতার বিষয়ে প্রাচ্যবিদদের সমালোচনা হলো—তারা দাবি করেন যে, মুসলিমরা কখনোই সনদের (السند) সমালোচনা অতিক্রম করে মতনের (المتن) সমালোচনার দিকে অগ্রসর হয়নি এবং মতনের সমালোচনাকে সর্বদাই গুরুত্বহীন রাখা হয়েছে (১)। কাইটানি বলেন: হাদিস বিশারদদের সমস্ত উদ্দেশ্য কেবল বর্ণনাকারীদের নাম বর্ণনার এক শুষ্ক ও অনুর্বর প্রান্তরেই নিবদ্ধ থাকে এবং কেউ মূল বক্তব্য বা মতনের (المتن) সমালোচনা নিয়ে নিজেকে ব্যাপৃত করে না। মুসলিম হাদিস বিশারদ ও সমালোচকগণ সুন্নাহর (السنة) সমালোচনামূলক বিশ্লেষণে সনদের (الإسنাদ) বাইরে যাওয়ার সাহস করেন না, বরং তারা মূল পাঠের (النص) যেকোনো সমালোচনা থেকে বিরত থাকেন; কারণ তারা একে প্রখ্যাত সাহাবীদের প্রতি অবমাননা এবং ইসলামি কাঠামোর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন (২)। প্রাচ্যবিদ শ্যাখট কাইটানিকে সমর্থন করে বলেন: মুসলিম বিদ্বানগণ হাদিসের বিষয়বস্তুর সমালোচনাকে খোদ সনদের (الإسناد) সমালোচনার আড়ালে লুকিয়ে রেখেছেন (৩)। [তাদের দাবি অনুযায়ী] তাদের এই অভিমতটি বিভিন্ন কারণের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা লক্ষ্য করি যে, এই বিষয়ে তাদের মতামত এবং মুসলিমদের মধ্যে যারা পাশ্চাত্যঘেঁষা, তাদের মতামত এক ও অভিন্ন।
তবে প্রাচ্যবিদগণ তাদের অনুসারী পাশ্চাত্যঘেঁষা মুসলিমদের তুলনায় অনেক বেশি সংশয় উল্লেখ করেছেন। প্রাচ্যবিদদের উত্থাপিত সেই সব সংশয় ও দাবির মধ্যে একটি হলো: তাদের বক্তব্য—যেভাবে কোনো হাদিস জাল করা (وضع) সহজ ছিল, তার চেয়েও সহজ ছিল একটি সনদ (سند) উদ্ভাবন করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ولصقه بذلك الحديث الموضوع (1) ، ولهذا السبب فقد رأوا أنه يصعب قبول أي حديث كحديث صحيح، وأن نعتمد على إسناده فقط. والبديل عندهم هو الاعتماد على نقد المتن لمعرفة صحة الحديث، ومقارنة مضمونه مع القرآن، وقد أدت هذه الانتقادات والاعتبارات بالمستشرقين لرفض كثير من الأحاديث المقبولة بين المسلمين. فمثلا إن الأحاديث التي تتكلم على الخوارج والقدرية، وعن أسماء مدن لم تكن بعد في حياة النبي صلى الله عليه وسلم، وعن الخلفاء الراشدين الأربعة، وعن الخلافة الأموية والعباسية، وعن المعجزات النبوية، كل هذه الأحاديث رفضت من المستشرقين؛ لأن النبي بزعمهم لا يمكن أن يقول مثل تلك الأحاديث، والنبي لم يصدر عنه أية معجزات مادية. فالقرآن الذي يمثل صفات الرسول لا يذكر لنا أنه كان يعمل المعجزات. وقد زعم المستشرقون قائلين: «يوجد أحاديث عديدة تتكلم على الفتن قبل يوم القيامة وتتكلم على يوم القيامة، ويوجد أحاديث تصف الجنة والنار بالتفصيل. إن العقلية الغربية تجد من الصعوبة بمكان أن تقبل مثل تلك الأحاديث على أنها أحاديث صحيحة قالها النبي فعلا» . (2)
إضافة إلى ما سبق ذكره من انتقاد المستشرقين لاعتماد المسلمين على السند أكثر من المتن، فإنهم تحدوا عدالة الصحابة التي يقر بها المسلمون، وزعم المستشرقون بأن الصحابة يمكن أن يكذبوا على النبي صلى الله عليه وسلم، ويمكن أن يخترعوا ويضعوا الأحاديث.. فهذا ألفرد جوليوم Alferd
--------------------------------------------
এবং তারা একে সেই জাল (الموضوع) হাদিসের (১) সাথে সংশ্লিষ্ট করেছে। এই কারণে তারা মনে করেছেন যে, কোনো হাদিসকে সহিহ (صحيح) হাদিস হিসেবে গ্রহণ করা এবং শুধুমাত্র এর সনদ (إسناد)-এর ওপর নির্ভর করা কঠিন। তাদের কাছে বিকল্প হলো হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) যাচাইয়ের জন্য মতন পর্যালোচনা (نقد المتن)-এর ওপর নির্ভর করা এবং কুরআনের সাথে এর বিষয়বস্তুর তুলনা করা। এই সমালোচনা ও দৃষ্টিভঙ্গিগুলো প্রাচ্যবিদদের মুসলিমদের নিকট গ্রহণযোগ্য অনেক হাদিস প্রত্যাখ্যান করতে প্ররোচিত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, যে হাদিসগুলো খাওয়ারিজ ও কাদারিয়া সম্প্রদায় সম্পর্কে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় অস্তিত্বহীন শহরগুলোর নাম সম্পর্কে, চার খুলাফায়ে রাশিদিন সম্পর্কে, উমাইয়া ও আব্বাসীয় খেলাফত এবং নববী মোজেজা সম্পর্কে আলোচনা করে—প্রাচ্যবিদরা এই সমস্ত হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছেন; কারণ তাদের দাবি অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষে এই ধরণের কথা বলা সম্ভব নয় এবং তাঁর থেকে কোনো বস্তুগত মোজেজা প্রকাশ পায়নি। কেননা কুরআন, যা রাসূলের বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরে, তাতে তিনি মোজেজা দেখাতেন বলে আমাদের নিকট উল্লেখ করেনি। প্রাচ্যবিদরা দাবি করে বলেছেন: «কিয়ামতের পূর্বের ফিতনা (الفتن) এবং কিয়ামত দিবস সম্পর্কে অনেক হাদিস রয়েছে, এছাড়া জান্নাত ও জাহান্নামের বিস্তারিত বর্ণনা সম্বলিত হাদিসও বিদ্যমান। পাশ্চাত্য মানসিকতা এই ধরণের হাদিসগুলোকে নবী প্রকৃতপক্ষে বলেছেন এমন সহিহ (صحيح) হাদিস হিসেবে গ্রহণ করা অত্যন্ত দুরূহ মনে করে»। (২)
মতন (المتن)-এর চেয়ে সনদ (السند)-এর ওপর মুসলিমদের অধিক নির্ভরতার বিষয়ে প্রাচ্যবিদদের পূর্বোক্ত সমালোচনার পাশাপাশি তারা সাহাবিগণের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة)-কেও চ্যালেঞ্জ করেছে, যা মুসলিমরা স্বীকার করে থাকেন। প্রাচ্যবিদরা দাবি করেছেন যে, সাহাবিগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে মিথ্যা বলতে পারেন এবং তারা হাদিস উদ্ভাবন ও জাল (يضعوا) করতে পারেন। এই যেমন আলফ্রেড গুইলাম Alferd
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
Guillaume في كتابه:The Traditions of Islam (الحديث في الإسلام) يدعي بأن أبا هريرة كان له عادة وضع الأحاديث. (1)
لقد أثارت روايات أبي هريرة رضي الله عنه حفيظة كثير من المتشككين والطاعنين في الحديث الشريف، وذلك لأنه أسلم قبل وفاة النبي صلى الله عليه وسلم ووصلت مروياته إلى (5374) حديثا. وهو يعد من أكثر الصحابة رواية عن النبي صلى الله عليه وسلم. ويعد علماء الحديث عدالة الصحابة جميعا أمراً مجمعاً عليه بينهم، وأن الصحابة يستحيل أن يصدر منهم كذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وقد طعن المستشرقون في مرويات الصحابة الشباب لأنها أكثر عددا من مرويات الصحابة الذين لازموا النبي صلى الله عليه وسلم خلال أيامه الأولى. فمثلاً إن عدد الأحاديث التي رويت عن الخلفاء الأربعة هي أقل بكثير من الأحاديث التي رواها أبو هريرة وابن عباس. ولم يتوقف طعن هؤلاء المغرضين بالصحابة الكرام واتهامهم بوضع الأحاديث بل تجاوزه إلى العلماء المسلمين قاطبة من السلف الصالح ولهذا يقول جولدتسيهر: «ولا نستطيع أن نعزو الأحاديث الموضوعة للأجيال المتأخرة وحدها بل هناك أحاديث عليها طابع القدم، وهذه إما قالها الرسول، أو هي من عمل رجال الإسلام القدامى» (2) ، ولهذا فإن جولدتسيهر لم يتوان في نقده لمتن حديث ثبتت صحته بالافتراء على عَلَم من أعلام المسلمين -ألا وهو الإمام الزهري رحمه الله تعالى –
--------------------------------------------
গিলিয়াম তার 'দ্য ট্রাডিশনস অফ ইসলাম' গ্রন্থে দাবি করেছেন যে, আবু হুরায়রার হাদিস জাল (وضع) করার অভ্যাস ছিল। (১)
আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত রেওয়ায়াতসমূহ অনেক সংশয়বাদী এবং হাদিস শরিফের সমালোচকদের ক্ষোভের উদ্রেক করেছে। এর কারণ হলো, তিনি নবী (সা.)-এর ওফাতের মাত্র কিছুকাল আগে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, অথচ তার বর্ণনার (مرويات) সংখ্যা ৫৩৭৪টি হাদিসে পৌঁছেছে। তাকে নবী (সা.) থেকে সবচেয়ে বেশি বর্ণনা দানকারী সাহাবিদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। হাদিস বিশারদগণ সকল সাহাবির ন্যায়পরায়ণতাকে (عدالة) তাদের মধ্যে একটি সর্বসম্মত (مجمع عليه) বিষয় বলে গণ্য করেন এবং এটি বিশ্বাস করেন যে, সাহাবিদের পক্ষ থেকে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর নামে মিথ্যা (كذب) আরোপ করা অসম্ভব।
প্রাচ্যবিদরা তরুণ সাহাবিদের বর্ণনার (مرويات) সমালোচনা করেছেন; কারণ সেগুলোর সংখ্যা ওইসব সাহাবিদের বর্ণনার চেয়ে অনেক বেশি যারা নবী (সা.)-এর প্রাথমিক দিনগুলোতে তাঁর সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, চার খলিফা থেকে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা আবু হুরায়রা ও ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহের তুলনায় অনেক কম। সম্মানিত সাহাবিদের সমালোচনা এবং তাদের প্রতি হাদিস জাল (وضع) করার অপবাদ দেওয়াই এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিদের শেষ কাজ ছিল না, বরং তারা সালাফ সালেহীন (السلف الصالح) সহ সকল মুসলিম আলেমদের ওপরও আক্রমণ চালিয়েছে। একারণে গোল্ডজিহার বলেছেন: «আমরা জাল (موضوع) হাদিসগুলোকে কেবল পরবর্তী প্রজন্মের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করতে পারি না, বরং এমন কিছু হাদিস আছে যা প্রাচীনত্বের ছাপ বহন করে। এগুলো হয়তো রাসূল (সা.) বলেছেন, অথবা এগুলো ইসলামের প্রাচীন যুগের ব্যক্তিদের কাজ» (২)। এই কারণেই গোল্ডজিহার মুসলিম বিশ্বের এক অন্যতম পথিকৃৎ ইমাম যুহরি (রহ.)-এর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে এমন একটি হাদিসের মতন (متن)-এর সমালোচনা করতে দ্বিধাবোধ করেননি যার বিশুদ্ধতা (صحة) প্রমাণিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فاتهمه بالكذب على النبي صلى الله عليه وسلم لصالح الأمويين، في رواية قوله صلى الله عليه وسلم: "لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد، المسجد الحرام ومسجد الرسول صلى الله عليه وسلم ومسجد الأقصى". (1)
فهذا الحديث الذي روي في أصح كتب الحديث النبوي الشريف وورد من ستة وخمسين طريقا لا شك في صحة نسبته للنبي صلى الله عليه وسلم لدى المسلمين، ومع ذلك فإن المستشرقين قد شككوا في صحته وعلى رأسهم المستشرق إجناتس جولدتسيهر الذي زعم بأن ابن شهاب الزهري (ت124 ?/742م) قد وضع هذا الحديث لأسباب سياسية عندما أراد الخليفة عبد الملك بن مروان (ت86?/705م) أن يشجع الناس لزيارة المسجد الأقصى بدلا من الذهاب إلى مكة المكرمة أثناء فتنة ابن الزبير (ت73?/692م) ، فقد استخدم عبد الملك بن مروان ابنَ شهاب الزهري لتحقيق أهدافه السياسية. وقد اعتمد جولدتسيهر في آرائه على ما أورده المؤرخ اليعقوبي (ت292?/905م) المعروف بعدائه الشديد للأمويين فقد زعم اليعقوبي بأن عبد الملك أراد أن يحول حج الناس إلى بيت المقدس بدلا عن الحج إلى مكة المكرمة. (2)
--------------------------------------------
সুতরাং উমাইয়াদের অনুকূলে নবী (সা.)-এর ওপর মিথ্যারোপের (الكذب) অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়, যা নবী (সা.)-এর এই বাণী বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: "তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো সফরের উদ্দেশ্যে পাল বাঁধা যাবে না; মসজিদুল হারাম, রাসূল (সা.)-এর মসজিদ এবং মসজিদুল আকসা।" (১)
এই হাদিসটি, যা হাদিসের সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে এবং যা ছাপ্পান্নটি সূত্রের (طريق) মাধ্যমে এসেছে, মুসলমানদের নিকট নবী (সা.)-এর প্রতি এর সম্বন্ধের বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তা সত্ত্বেও প্রাচ্যবিদগণ এর বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং তাদের অগ্রভাগে রয়েছেন প্রাচ্যবিদ ইগনাজ গোল্ডজিহার, যিনি দাবি করেছেন যে ইবনে শিহাব আল-জুহরি (মৃত্যু ১২৪ হিজরি / ৭৪২ খ্রিষ্টাব্দ) রাজনৈতিক কারণে এই হাদিসটি জাল (وضع) করেছেন। এটি তখন ঘটেছিল যখন খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান (মৃত্যু ৮৬ হিজরি / ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দ) ইবনে যুবায়েরের (মৃত্যু ৭৩ হিজরি / ৬৯২ খ্রিষ্টাব্দ) ফিতনার সময় মানুষকে মক্কা মুকাররমায় যাওয়ার পরিবর্তে মসজিদুল আকসা জিয়ারতে উৎসাহিত করতে চেয়েছিলেন। আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান তার রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইবনে শিহাব আল-জুহরিকে ব্যবহার করেছিলেন। গোল্ডজিহার তার মতামতের ক্ষেত্রে ইতিহাসবিদ আল-ইয়াকুবির (মৃত্যু ২৯২ হিজরি / ৯০৫ খ্রিষ্টাব্দ) বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন, যিনি উমাইয়াদের প্রতি তীব্র শত্রুতার জন্য পরিচিত। ইয়াকুবি দাবি করেছেন যে, আবদুল মালিক হজের জন্য মানুষের গমনকে মক্কা মুকাররমার পরিবর্তে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
إن العلماء المسلمين المعاصرين وبعض المستشرقين ردوا ادعاء جولدتسيهر ضد الزهري لأنه زعم غير منطقي، وليس مبنيا على حجج علمية؛ لأنه لم يكن بمقدور الزهري أن ينسب هذا الحديث كذبا على لسان أستاذه سعيد ابن المسيب (94 ?/713م) الذي كان ما زال حيا أثناء رواية الزهري لهذا الحديث، ولاسيما إذا علمنا أن سعيد بن المسيب كان ذا عداء شديد لبني أمية وبخاصة للخليفة عبد الملك بن مروان، فلو فرضنا أن الزهري وضع هذا الحديث لصالح الأمويين فإنه كان سيعرض ثقته للاهتزاز أمام الرواة الذين كانوا يعتبرونه راوية ثقة. (1) ولو وضع الزهري الحديث السابق فإن أستاذه كان سيعارض هذه الرواية، ولن يسمح له بأن ينقل شيئا كذبا على لسانه، وبالإضافة إلى ما سبق فإن هذا الحديث لم يروه الزهري فقط فقد ورد الحديث من خمسة عشر طريقا آخر من غير طريق الزهري، مما يعني أن هذا الحديث كان معروفا قبل أن يرويه الزهري (2) ، وقد بلغ مجموع طرق رواية هذا الحديث ستة وخمسين طريقا كما سبق وذكرنا. فانظر كيف يكون الافتراء بلا دليل ولا حجة قاطعة؟ ثم انظر كيف أن هذا الافتراء يطال علما من أعلام المسلمين ويتهمه بالكذب ليس على الناس بل على النبي صلى الله عليه وسلم؟ وحاش للزهري أن يقوم بمثل هذا العمل، وإنما القصد من هذا الافتراء التشكيك برواة الأحاديث ونسف ثقة المسلمين ويقينهم بصحة السنة النبوية الشريفة.
--------------------------------------------
সমকালীন মুসলিম আলেমগণ এবং কিছু প্রাচ্যবিদ যুহরীর বিরুদ্ধে গোল্ডজিহারের দাবির খণ্ডন করেছেন, কারণ এটি একটি অযৌক্তিক দাবি এবং তা কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয়; কেননা যুহরীর পক্ষে এই হাদিসটি তাঁর উস্তাদ সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের (৯৪? হি./৭১৩ খ্রি.) নামে মিথ্যাভাবে (كذبا) আরোপ করা সম্ভব ছিল না, যিনি যুহরীর এই হাদিসটি বর্ণনার সময় তখনও জীবিত ছিলেন। বিশেষ করে যখন আমরা জানতে পারি যে, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব বনু উমাইয়া এবং বিশেষ করে খলিফা আবদুল মালিক বিন মারওয়ানের ঘোর বিরোধী ছিলেন। যদি আমরা ধরে নিই যে, যুহরী উমাইয়াদের স্বার্থে এই হাদিসটি জাল (وضع) করেছেন, তবে তা সেই সব বর্ণনাকারীদের সামনে তাঁর নির্ভরযোগ্যতাকে (ثقة) প্রশ্নবিদ্ধ করত, যারা তাঁকে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী হিসেবে গণ্য করতেন। (১) আর যদি যুহরী পূর্বোক্ত হাদিসটি জাল (وضع) করতেন, তবে তাঁর উস্তাদ অবশ্যই এই বর্ণনার (رواية) বিরোধিতা করতেন এবং তাঁর নামে কোনো মিথ্যা (كذب) বর্ণনা করতে তাকে অনুমতি দিতেন না। উপরন্তু, এই হাদিসটি কেবল যুহরী একাই বর্ণনা (رواه) করেননি, বরং এটি যুহরীর সূত্র ব্যতিরেকে আরও পনেরটি ভিন্ন সূত্রে (طريقا) বর্ণিত হয়েছে, যার অর্থ হলো যুহরী বর্ণনা করার পূর্বেই এই হাদিসটি পরিচিত ছিল (২); এবং এই হাদিসের বর্ণনার মোট সূত্রের (طرق) সংখ্যা ছাপ্পান্নটিতে পৌঁছেছে, যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। সুতরাং দেখুন, কোনো দলিল বা অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই অপবাদ আরোপের রূপ কেমন হয়? এরপর দেখুন, কীভাবে এই অপবাদ মুসলিম উম্মাহর একজন শ্রেষ্ঠ ইমামকে লক্ষ্যবস্তু বানায় এবং তাঁকে মিথ্যার (كذب) দায়ে অভিযুক্ত করে—যা কেবল মানুষের ওপর নয়, বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর! যুহরীর মর্যাদা এমন কাজ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে, বরং এই অপবাদের উদ্দেশ্য হলো হাদিস বর্ণনাকারীদের (رواة) ব্যাপারে সংশয় তৈরি করা এবং সুন্নাহর বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে মুসলিমদের আস্থা ও সুদৃঢ় বিশ্বাসকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
3- أولا: الرد على ما ادعاه المستشرقون من أنه كان سهلا اختراع سند ولصقه بأي حديث، وأن الأحاديث لا تحتوي على معلومات موثوقة عن الفترة الأولى من الإسلام، وأن الحديث الشريف وجد نتيجة للتطور الديني والتاريخي والاجتماعي:
أ- إن الناظر في هذه الادعاءات من أهل الاختصاص يتعجب من سخفها لأنها تنم عن جهل عميق بعلم الحديث ورجاله وبتاريخ نقل السنة النبوية الشريفة وتوثيقها وتفاني الأمة الإسلامية في ذلك. ولتقريب سخف هذا الادعاء أضرب مثالا: إذا ادعى شخص ما في زماننا أن هناك معركة كبيرة حدثت بين دولتي الأرجنتين والبرازيل وراح ضحيتها آلاف البشر بتاريخ 1/2003، فحتى لو كان صاحب هذه الكذبة يملك ألف قناة فضائية ليمرر كذبته على الناس، فهل يمكن أن يصدقها حتى السذج من أبناء هذا الزمان؟ الجواب لا؛ لأن كذبه سرعان ما سيظهر للناس. وإن تصديق القول بأن الكذابين على رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين عاشوا في العصور الإسلامية الأولى كانوا يمرحون ويشيعون كذبهم ويفترون على الرسول صلى الله عليه وسلم حسبما يحلو لهم وساعة ما يريدون من غير معارض لهم، إن تصديق هذا القول لهو قريب ومشابه لمن يصدق بالمعركة الكاذبة بين الأرجنتين والبرازيل. وإن الحقيقة تثبت عكس ما يقوله المستشرقون، لأن علماء الأمة وعلى رأسهم المحدثون كانوا متيقظين ليل نهار لرصد أي حديث يروى ورصد تاريخ حياة كل من تصدى للرواية، ولهذا فقد قاموا بدراسة حياة ما يزيد على عشرات الألوف من الرواة لمعرفة درجة صدقهم أو كذبهم ولمعرفة درجة حفظهم، فكانوا أدق الناس وأعلمهم في نقل الأخبار ومعرفة
3- প্রথমত: প্রাচ্যবিদদের এই দাবির খণ্ডন যে, একটি সনদ (سند) তৈরি করে তা যেকোনো হাদিসের সাথে জুড়ে দেওয়া সহজ ছিল, এবং হাদিসসমূহ ইসলামের প্রাথমিক যুগ সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বহন করে না, আর হাদিস শরিফ কেবল ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সামাজিক বিবর্তনের ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয়েছে:
ক- সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞগণের মধ্যে যারা এই দাবিগুলো পর্যবেক্ষণ করেন, তারা এর অসারতা দেখে বিস্মিত হন; কারণ এগুলো হাদিসশাস্ত্র, বর্ণনাকারী (رجال), সুন্নাহর সংকলন ও তার নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের (توثيق) ইতিহাস এবং এই ক্ষেত্রে মুসলিম উম্মাহর আত্মত্যাগের বিষয়ে গভীর অজ্ঞতার পরিচয় দেয়। এই দাবির অসারতা বোঝাতে আমি একটি উদাহরণ দিচ্ছি: বর্তমান সময়ে যদি কেউ দাবি করে যে, ২০০৩ সালের ১লা জানুয়ারি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যে একটি ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল এবং তাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল, তবে এই মিথ্যাচারী ব্যক্তির যদি তার মিথ্যাটি মানুষের কাছে প্রচার করার জন্য এক হাজার স্যাটেলাইট চ্যানেলও থাকে, তবুও কি এই যুগের অতি সাধারণ কোনো মানুষও তা বিশ্বাস করবে? উত্তর হলো—না; কারণ তার মিথ্যা দ্রুতই মানুষের সামনে প্রকাশ হয়ে যাবে। সুতরাং যারা মনে করে যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপকারীরা (كذابون) কোনো বাধা ছাড়াই অবাধে বিচরণ করত, নিজেদের মিথ্যা ছড়িয়ে দিত এবং যখন ইচ্ছা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অপবাদ (افتراء) আরোপ করত, তাদের সেই বিশ্বাস আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের বানোয়াট যুদ্ধের খবর বিশ্বাস করার মতোই। প্রকৃতপক্ষে বাস্তবতা প্রাচ্যবিদদের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ উম্মাহর আলেমগণ, বিশেষ করে মুহাদ্দিসগণ যেকোনো বর্ণিত হাদিস এবং যারা হাদিস বর্ণনার (رواية) সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন তাদের প্রত্যেকের জীবন ইতিহাস পর্যবেক্ষণের জন্য দিন-রাত সজাগ ছিলেন। এজন্যই তারা দশ হাজারেরও বেশি বর্ণনাকারীর (رواة) জীবনচরিত অধ্যয়ন করেছেন যেন তাদের সত্যবাদিতা বা মিথ্যাচারের পর্যায় এবং তাদের মুখস্থশক্তির (حفظ) মান যাচাই করা যায়। সংবাদ বর্ণনা এবং তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তারা ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও অভিজ্ঞ মানুষ।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
درجات الرجال ومعرفة الأسانيد، ولهذا لم يجد الكذابون سوقا لكذبهم إلا وكان العلماء المحدثون الصيارفة لهم بالمرصاد، يبينون زيف عملة الكذابين، فكيف يقال بعد ذلك: إنه كان من السهل اختراع سند ولصقه بأي حديث؟.
أضف إلى ذلك فقد كان للعلماء طرق كثيرة في معرفة رواية كل محدث وتلامذته الذين رووا عنه، فكيف كان يستطيع راو غير معروف بصحبته لمحدث ما أو بسماعه منه أن يدعي بأنه سمع من ذلك المحدث مع أن تلامذة ذلك المحدث معروفون؟ وكذلك فإن علماء الأمة الذين عاشوا في خير القرون قد بذلوا قصارى جهدهم في الذب عن الحديث النبوي الشريف، وقد رصد علماء الحديث في علوم الحديث ما يسمى بالحديث المقلوب، وعرفوا جيدا قلب الأسانيد مع الأحاديث وكانوا يمتحنون بعضهم بقلب أسانيد الأحاديث وذلك لمعرفة مدى حفظ الحافظ للحديث كما فعل علماء بغداد مع الإمام البخاري عندما امتحنوه. وإن قلب الأسانيد عن سهو وبغير قصد مع الأحاديث يعد عيبا كبيرا يطعن بضبط الراوي، لذا كان العلماء يعرفون الرواة الذين يقلبون الأسانيد في أحاديثهم ويحذرون الناس منهم. قال الخطيب البغدادي: «اتفق أهل العلم على أن السماع ممن ثبت فسقه لا يجوز، ويثبت الفسق بأمور كثيرة لا تختص بالحديث، فأما ما يختص منها فمثل أن يضع متون الأحاديث على رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو أسانيد المتون، ويقال: إن الأصل في التفتيش عن حال الرواة كان لهذا السبب» (1) .
--------------------------------------------
বর্ণনাকারীদের স্তরসমূহ (درجات الرجال) এবং সনদসমূহ (الأسانيد) সম্পর্কে জ্ঞান থাকার কারণেই মিথ্যাবাদীরা (الكذابون) তাদের মিথ্যার প্রসারের কোনো বাজার খুঁজে পায়নি; বরং হাদিস বিশারদ আলেমগণ জহুরি বা মুদ্রাপরীক্ষকদের (الصيارفة) ন্যায় তাদের অপেক্ষায় সজাগ ছিলেন, যারা মিথ্যাবাদীদের (الكذابون) জাল মুদ্রার স্বরূপ উন্মোচন করে দিতেন। সুতরাং এরপর কীভাবে বলা সম্ভব যে, কোনো একটি সনদ (سند) উদ্ভাবন করে তা যেকোনো হাদিসের সাথে জুড়ে দেওয়া সহজ কাজ ছিল?
এর সাথে আরও যোগ করা প্রয়োজন যে, প্রত্যেক মুহাদ্দিসের (محدث) বর্ণনা (رواية) এবং তাদের নিকট থেকে বর্ণনাকারী ছাত্রদের চেনার ক্ষেত্রে আলেমদের বহুবিধ পদ্ধতি ছিল। সুতরাং কোনো একজন বর্ণনাকারী, যে কোনো মুহাদ্দিসের (محدث) সাহচর্য বা তার নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) করার বিষয়ে সুপরিচিত ছিল না, সে কীভাবে দাবি করতে পারে যে সে ওই মুহাদ্দিসের (محدث) নিকট থেকে শুনেছে, অথচ ওই মুহাদ্দিসের (محدث) ছাত্ররা ছিলেন সুপরিচিত? একইভাবে উম্মতের যে সকল আলেম সর্বোত্তম যুগে (খাইরুল কুরুন) অতিবাহিত করেছেন, তারা মহানবী (সা.)-এর হাদিস রক্ষায় তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। হাদিস বিশারদগণ হাদিস বিজ্ঞানে 'মাকলুব হাদিস' (الحديث المقلوب) নামক বিষয়টি চিহ্নিত করেছেন। তারা হাদিসের সাথে সনদের অদলবদল (قلب الأسانيد) সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন এবং তারা বর্ণনাকারীর মুখস্থশক্তি (حفظ الحافظ) যাচাই করার জন্য একে অপরকে হাদিসের সনদ অদলবদল (قلب الأسانيد) করে পরীক্ষা করতেন, যেমনটি বাগদাদের আলেমগণ ইমাম বুখারীর ক্ষেত্রে করেছিলেন যখন তারা তাকে পরীক্ষা করেছিলেন। আর হাদিসের সাথে ভুলবশত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে সনদের অদলবদল (قلب الأسانيد) করা একটি বড় ত্রুটি হিসেবে গণ্য হতো, যা বর্ণনাকারীর নির্ভুলতার (ضبط الراوي) ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলত। এ কারণে আলেমগণ সেই সব বর্ণনাকারীকে চিনতেন যারা তাদের বর্ণিত হাদিসে সনদ অদলবদল (قلب الأسانيد) করত এবং তারা মানুষকে তাদের ব্যাপারে সতর্ক করতেন। খতিব আল-বাগদাদী বলেছেন: «আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যার পাপাচার (فسق) প্রমাণিত হয়েছে তার থেকে হাদিস শ্রবণ (سماع) করা বৈধ নয়। আর পাপাচার (فسق) এমন অনেক বিষয়ের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় যা কেবল হাদিসের সাথে নির্দিষ্ট নয়। তবে হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো হলো- যেমন আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর নামে হাদিসের মতন (متون) বা মূল পাঠ জাল করা, অথবা মতনের সাথে সংশ্লিষ্ট সনদসমূহ (أسانيد) জাল করা। বলা হয়ে থাকে যে, বর্ণনাকারীদের অবস্থা (حال الرواة) অনুসন্ধানের মূল ভিত্তি ছিল এই কারণটিই» (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
ب- إن عناية علماء الحديث الشريف الجبارة بتوثيق السنة، والقواعد التي وضعوها لذلك في الراوي والمروي تثبت أن ما نقل إلينا لم يأت نتيجة للتطور التاريخي والديني والاجتماعي، فأصحاب النبي صلى الله عليه وسلم الذين هم أمناء هذه الأمة نقلوا لنا بصدق ما سمعوه من النبي صلى الله عليه وسلم، وكذلك فعل التابعون وتابعوهم إلى أن دون الحديث الشريف، فأنَّى لمفتر بعد ذلك أن يهدم هذا البناء العظيم من السنة النبوية الشريفة بكلمة باطلة مفتراة؟ وانظر معي إلى أمانة الصحابي في نقله للسنة، يقول سيدنا أنس بن مالك رضي الله عنه: والله ما كل ما نحدثكم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم سمعناه منه، ولكن لم يكن يكذب بعضنا بعضا. (1)
فإذا كان الأمر كذلك فكيف يصح القول بأن الأمة الإسلامية كلها شاركت في الكذب على رسولها صلى الله عليه وسلم؟ ومعلوم أن الكذب في الإسلام من الكبائر، وأما الكذب على الرسول صلى الله عليه وسلم فهو من أكبر الكبائر؟ والكذب على نبي هذه الأمة صلى الله عليه وسلم لم يمارسه إلا الزنادقة أو الجهلة من الناس الذين فضحهم الله تعالى بين الأمة على أيدي جهابذة علماء الحديث، إذن إن كل ما نقل إلينا عنه صلى الله عليه وسلم وصححه العلماء موثوق به، وليس نتيجة للتطور التاريخي أو الديني أو الاجتماعي للأمة الذي يتحدث عنه هؤلاء المستشرقون. وأشير إلى مثال في
--------------------------------------------
খ- সুন্নাহর প্রামাণ্যতা বা নির্ভরযোগ্যকরণ (توثيق)-এর ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদদের সুমহান প্রচেষ্টা এবং এ লক্ষ্যে বর্ণনাকারী (الراوي) ও বর্ণিত বিষয় (المروي) সম্পর্কে তাঁরা যে মূলনীতিসমূহ প্রণয়ন করেছেন, তা প্রমাণ করে যে আমাদের নিকট যা পৌঁছেছে তা কোনো ঐতিহাসিক, ধর্মীয় বা সামাজিক বিবর্তনের ফল নয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, যারা এই উম্মতের আমানতদার, তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যা শুনেছেন তা সততার সাথে আমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। একইভাবে তাবেয়ী এবং তবে-তাবেয়ীগণও তা-ই করেছেন যতক্ষণ না হাদিস সংকলিত হয়েছে। সুতরাং এরপর কোনো মিথ্যা অপবাদকারীর পক্ষে কীভাবে সম্ভব যে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট কথার মাধ্যমে নববী সুন্নাহর এই মহান ইমারতকে ধূলিসাৎ করে দেবে? সুন্নাহ বর্ণনার ক্ষেত্রে সাহাবীর আমানতদারিতার দিকে লক্ষ্য করুন; আমাদের নেতা আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমরা তোমাদের কাছে যা বর্ণনা করি তার সবকিছুই সরাসরি তাঁর থেকে শুনিনি, তবে আমরা একে অপরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম না।" (১)
বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে এই কথা বলা কীভাবে সঠিক হতে পারে যে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ তাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপ করার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করেছিল? আর এটি সর্বজনবিদিত যে, ইসলামে মিথ্যা বলা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপ করা তো সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ। এই উম্মতের নবীর ওপর মিথ্যা আরোপ করার বিষয়টি কেবল জিন্দিক (الزنادقة) অথবা মূর্খ লোকেরাই করেছে, যাদেরকে মহান আল্লাহ হাদিস শাস্ত্রের প্রাজ্ঞ পণ্ডিতদের মাধ্যমে উম্মতের সামনে প্রকাশ করে দিয়েছেন। অতএব, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের নিকট যা কিছু বর্ণিত হয়েছে এবং ওলামায়ে কেরাম যেটিকে সহিহ (صححه) বলে সাব্যস্ত করেছেন, তা নির্ভরযোগ্য; এটি উম্মতের ঐতিহাসিক, ধর্মীয় বা সামাজিক বিবর্তনের ফল নয়, যা নিয়ে এই প্রাচ্যবিদরা আলোচনা করেন। আমি একটি উদাহরণের দিকে ইঙ্গিত করছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
دقة أهل الحديث وهو قول المدلس: (عن) ، موهما أنه سمع الحديث، لأنه إذا قال: (حدثني أو أخبرني) عُدَّ كاذبا، ولسقط من الرواية، ولذلك فهو لا يحاول أن يقول: (حدثني أو أخبرني) ، ولكن يقول: (عن) ، ولذلك نرى أن الإمام شعبة بن الحجاج يقول: كنت أتتبع قول قتادة، فإذا قال: (سمعت أو حدثني) أخذت عنه الحديث، وإذا قال: (عن) تركته.
وتبين مما سبق بأدلة قطعية أن كل الادعاءات السابقة ما هي إلا افتراء على السنة، ولا أصل لها من الصحة إذ لا دليل عليها، ولا يصدق بها إلا الجهلاء من الناس.
ثانيا: الرد على زعمهم بأن الصحابة كذبوا على الرسول صلى الله عليه وسلم: نرد على هذا الزعم بأمور عديدة:
1- إن إمكان وقوع الكذب من أحد من الرواة شيء، ووقوعه حقيقة شيء آخر، فإنه لم يثبت لدينا بالدليل القاطع وقوع تعمد الكذب من صحابي معروف بالرواية عن النبي صلى الله عليه وسلم، ومن لديه دليل فليأتنا به، وأنى له ذلك؟
أضف إلى ما سبق فقد ثبتت عدالة الصحابة الكرام بالإجماع عند أهل السنة والجماعة، وثبتت عدالتهم في القرآن والسنة، وكي لا نطيل نترك ذكر الأدلة الكثيرة على ذلك من القرآن ومن السنة؛ لأن الأمر واضح وجلي، فبعد أن عدلهم الله وعدلهم رسوله صلى الله عليه وسلم فهم ليسوا بحاجة من أحد لتعديل، ومن هنا أجمعت الأمة على عدالتهم، يقول أبو زرعة الرازي:
«إذا رأيت الرجل ينتقص أحدا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعلم أنه زنديق، وذلك أن الرسول حق، والقرآن حق، وما جاء به حق،
হাদিস বিশারদদের সূক্ষ্মতা এবং এটি হলো মুদাল্লিস (مدلس) ব্যক্তির উক্তি: 'হতে' (عن), যার মাধ্যমে তিনি এই বিভ্রম সৃষ্টি করেন যে তিনি হাদিসটি সরাসরি শুনেছেন। কারণ তিনি যদি বলতেন: 'তিনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন' (حدثني) অথবা 'তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرني), তবে তাকে মিথ্যাবাদী (كاذب) হিসেবে গণ্য করা হতো এবং তিনি বর্ণনা (رواية) থেকে চ্যুত হতেন। একারণেই তিনি 'তিনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন' বা 'তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' বলার চেষ্টা করেন না, বরং বলেন 'হতে' (عن)। তাই আমরা দেখতে পাই যে, ইমাম শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ বলতেন: "আমি কাতাদার বক্তব্যের অনুসরণ করতাম; যখন তিনি বলতেন: 'আমি শুনেছি' (سمعت) অথবা 'তিনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন' (حدثني), তখন আমি তার থেকে হাদিস গ্রহণ করতাম, আর যখন তিনি 'হতে' (عن) বলতেন, তখন আমি তা বর্জন করতাম।"
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে অকাট্য দলিলাদির মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, পূর্বের সকল দাবি সুন্নাহর ওপর অপবাদ বৈ কিছু নয় এবং এর সত্যতার কোনো ভিত্তি নেই, যেহেতু এর কোনো প্রমাণ নেই। মূর্খ লোক ছাড়া আর কেউ এসব বিশ্বাস করে না।
দ্বিতীয়ত: সাহাবীগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপ করেছেন—তাদের এমন দাবির খণ্ডন: আমরা এই দাবির খণ্ডন করি বেশ কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে:
1- বর্ণনাকারীদের (رواة) কারো পক্ষ থেকে মিথ্যা সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা এক বিষয়, আর বাস্তবে তা ঘটা ভিন্ন বিষয়। আমাদের কাছে অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত নয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে পরিচিত কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সংঘটিত হয়েছে। যার কাছে এর কোনো প্রমাণ আছে সে যেন তা উপস্থাপন করে, আর তা সে পাবে কোথায়?
পূর্বোক্ত আলোচনার সাথে আরও যোগ করা যায় যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের নিকট ইজমা (إجماع) বা ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্মানিত সাহাবীগণের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সাব্যস্ত হয়েছে এবং কুরআন ও সুন্নাহতে তাদের ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণিত। বিষয়টি সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল হওয়ায় কথা দীর্ঘ না করার জন্য আমরা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এ সংক্রান্ত অসংখ্য প্রমাণ উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকছি। মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু তাঁদের ন্যায়পরায়ণ ঘোষণা করেছেন, তাই তাঁদের ন্যায়পরায়ণ হিসেবে সাব্যস্তকরণ বা তাদিল (تعديل) করার জন্য তাঁরা অন্য কারো মুখাপেক্ষী নন। এখান থেকেই উম্মত তাঁদের ন্যায়পরায়ণতার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছে। আবু যুর'আ আর-রাযী বলেন:
«যখন তুমি কাউকে দেখবে যে সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মধ্য থেকে কারো মর্যাদাহানি করছে, তখন জেনে রেখো যে সে একজন যিন্দিক (زنديق)। কারণ রাসুল সত্য, কুরআন সত্য এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
وإنما أدى ذلك كله إلينا الصحابة، وهؤلاء الزنادقة يريدون أن يجرحوا شهودنا ليبطلوا الكتاب والسنة، فالجرح بهم أولى» (1) ، وما يقصده المستشرقون وغيرهم من نقض عدالة الصحابة هو نفس ما ذكره أبوزرعة.
3ـ لو لم يرد للصحابة الكرام تعديل لا في كتاب ولا سنة فأعمالهم وتضحياتهم شاهدة على عدالتهم وصدقهم؛ فقد بذلوا الغالي والرخيص في سبيل إعلاء كلمة الله تعالى ونشرها، وهاجروا وتركوا أموالهم وأهليهم في سبيل الله تعالى، فكيف يتصور منهم الكذب بعد ذلك؟ والكذب على مَنْ؟ على حبيبهم محمد صلى الله عليه وسلم؟ إن الذي يقول هذا القول لجاهل حقيقة بمدى حب أولئك الأصحاب لنبيهم، وتفانيهم في اتباعه، وإن تفصيل ذلك يحتاج إلى مجلدات.
ثالثا: الرد على الزعم بأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يقع منه معجزة مادية، والادعاء بأن إخباره عن مدن وفرق لم تكن في عصره، أمر لا يقبله العقل:
اعتمد المستشرقون على القرآن الكريم في زعمهم بأن النبي صلى الله عليه وسلم لم تقع منه معجزة مادية إذ لم ترد فيه آية تنسب له معجزة مادية، فنقول:
1- متى كان المستشرقون أصلا يؤمنون بالقرآن ويعتمدونه مصدرا يستشهدون به كدليل لما يقولونه؟
2- ثبت في القرآن الكريم نسبة معجزات مادية للنبي صلى الله عليه
--------------------------------------------
সহাবায়ে কিরামই আমাদের কাছে এই সবকিছু পৌঁছে দিয়েছেন। আর এই যিনদিকরা আমাদের সাক্ষীদের দোষারোপ বা জরাহ (جرح) করতে চায় যাতে তারা কিতাব ও সুন্নাহকে বাতিল ঘোষণা করতে পারে। অথচ দোষারোপ বা জরাহ (جرح) পাওয়ার তারাই অধিক যোগ্য। (১) প্রাচ্যবিদ বা ওরিয়েন্টালিস্ট এবং অন্যরা সাহাবীদের বিশ্বস্ততা (عدالة) খণ্ডন করার মাধ্যমে যা বুঝাতে চান, তা ঠিক সেটিই যা আবু যুরআ উল্লেখ করেছেন।
৩- যদি সম্মানিত সাহাবীদের নির্ভরযোগ্যতা প্রতিপাদন বা তা'দীল (تعديل) সম্পর্কিত কোনো বর্ণনা কুরআন বা সুন্নাহতে নাও আসত, তবুও তাঁদের কর্মকাণ্ড ও আত্মত্যাগ তাঁদের বিশ্বস্ততা (عدالة) ও সত্যবাদিতার সাক্ষ্য দেয়। তাঁরা আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত ও প্রচার করার জন্য মূল্যবান ও নগণ্য সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন এবং আল্লাহর পথে হিজরত করেছেন ও তাঁদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজন ত্যাগ করেছেন। এরপর তাঁদের পক্ষ থেকে মিথ্যা বলা কীভাবে কল্পনা করা যায়? আর কার ওপর মিথ্যা? তাঁদের প্রিয় মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর? যে ব্যক্তি এ কথা বলে, সে প্রকৃতপক্ষে নবীজির প্রতি সাহাবীদের ভালোবাসার গভীরতা এবং তাঁর অনুসরণে তাঁদের আত্মোৎসর্গ সম্পর্কে অজ্ঞ। এর বিস্তারিত বিবরণের জন্য বহু খণ্ডের প্রয়োজন।
তৃতীয়ত: এই দাবির খণ্ডন যে, নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে কোনো বস্তুগত অলৌকিক ঘটনা (معجزة) সংঘটিত হয়নি, এবং এমন শহর ও দল (فرق) সম্পর্কে তাঁর সংবাদ প্রদান যা তাঁর যুগে বিদ্যমান ছিল না—সেটি এমন এক বিষয় যা বিবেক বা আকল গ্রহণ করে না:
প্রাচ্যবিদরা তাদের এই দাবিতে পবিত্র কুরআনের ওপর নির্ভর করেছে যে, নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে কোনো বস্তুগত অলৌকিক ঘটনা (معجزة) ঘটেনি; যেহেতু কুরআনে এমন কোনো আয়াত আসেনি যা তাঁর সাথে কোনো বস্তুগত অলৌকিক ঘটনা (معجزة) সম্পৃক্ত করে। এর উত্তরে আমরা বলি:
১- প্রাচ্যবিদরা আসলে কবে থেকে কুরআনের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করল এবং তারা যা বলে তার স্বপক্ষে দলিল হিসেবে এটিকে উৎস হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করল?
২- পবিত্র কুরআনে নবী (সা.)-এর প্রতি বস্তুগত অলৌকিক ঘটনা (معجزات) সম্পৃক্ত হওয়া প্রমাণিত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وسلم، كحادثة الإسراء والمعراج، وشق القمر، وحفظه من القتل، وغيرها من الأمور.
3- إن نسبة المشركين السحر للنبي صلى الله عليه وسلم، لدليل قاطع على وقوع المعجزات المادية منه، وبما أن الكافرين لا يؤمنون به فقد عبروا عن تلك الأمور الخارقة للعادة بأنها سحر كفرا منهم بالحق الذي عاينوه.
4- أفرد علماء الأمة كتبا كثيرة للكلام على المعجزات المادية للنبي صلى الله عليه وسلم، وقد وصل تعداد هذه الكتب إلى ما يقرب من تسع وأربعين كتابا. ومن هذه الكتب أعلام النبوة للمأمون العباسي 218هـ، وكتاب: دلائل النبوة للحميدي عبد الله بن الزبير المكي 219هـ، ودلائل النبوة لأبي بكر البيهقي أحمد بن الحسين 458هـ، وقد ملئت كتب الحديث النبوي الشريف والسيرة النبوية بالكلام على هذه المعجزات (1) ، فلماذا أغمض المستشرقون وَمَنْ لَفَّ لفهم أعينهم عن هذا القدر الهائل من الأحاديث والكتب التي ذكرت تلك المعجزات؟
5- إذا كانت قضية المعجزة مرتبطة مباشرة بالإيمان بالرسالة المحمدية أولا وآخرا، فالذي لا يؤمن بالرسالة المحمدية لا يمكن أن نتصور منه الإيمان بالجزئيات التي تصدر عن ذلك النبي الكريم صلى الله عليه وسلم، أما المؤمن فإنه لا يستبعد وقوع كل المعجزات الغيبية التي أخبر عنها ذلك النبي الكريم صلى الله عليه وسلم، سواء كانت إخبارا ً عن بلدة أو فرقة أو حادثة ستقع،
--------------------------------------------
সালাম ও শান্তি বর্ষিত হোক—যেমন ইসরা ও মিরাজ, চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া, তাঁকে হত্যার হাত থেকে রক্ষা করা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়াদি।
৩- মুশরিকদের পক্ষ থেকে নবী (সা.)-এর প্রতি জাদু আরোপ করা মূলত তাঁর মাধ্যমে বস্তুগত অলৌকিক নিদর্শনসমূহ (معجزات مادية) সংঘটিত হওয়ার এক অকাট্য প্রমাণ। যেহেতু কাফিররা তাঁর প্রতি ঈমান রাখত না, তাই তারা সত্যকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করেও তা অস্বীকার করার লক্ষ্যে সেই স্বভাবজাত নিয়মের পরিপন্থী বিষয়গুলোকে জাদু হিসেবে অভিহিত করেছিল।
৪- উম্মতের আলেমগণ নবী (সা.)-এর বস্তুগত মুজিজাসমূহ আলোচনার জন্য বহু স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং এ ধরনের গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ঊনপঞ্চাশটি পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আল-মামুন আল-আব্বাসীর (২১৮ হিজরি) 'আলামুন নুবুওয়াহ', হুমাইদী আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর আল-মাক্কীর (২১৯ হিজরি) 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' এবং আবু বকর আল-বায়হাকী আহমদ ইবনুল হুসাইনের (৪৫৮ হিজরি) 'দালাইলুন নুবুওয়াহ'। হাদিস শরিফ ও সিরাতগ্রন্থগুলো এই মুজিজাসমূহের বর্ণনায় পরিপূর্ণ (১); তবে কেন প্রাচ্যবিদগণ এবং যারা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তারা এই বিপুল সংখ্যক হাদিস ও কিতাব থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, যেগুলোতে সেই সকল মুজিজার কথা বর্ণিত হয়েছে?
৫- যেহেতু মুজিজার বিষয়টি প্রথম ও শেষ পর্যন্ত সরাসরি মুহাম্মাদী রিসালাতের প্রতি ঈমানের সাথে সম্পৃক্ত, তাই যে ব্যক্তি মুহাম্মাদী রিসালাতেই বিশ্বাসী নয়, তার পক্ষ থেকে নবী করিম (সা.) থেকে প্রকাশিত আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোতে বিশ্বাস স্থাপন করার কল্পনা করা যায় না। পক্ষান্তরে, একজন মুমিন সেই নবী করিম (সা.) কর্তৃক সংবাদ দেওয়া কোনো অতীন্দ্রিয় মুজিজাকেই (معجزات غيبية) অসম্ভব মনে করেন না, তা কোনো জনপদ, কোনো দল কিংবা ভবিষ্যতে ঘটবে এমন কোনো ঘটনার সংবাদই হোক না কেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بل إن المؤمن يزداد إيمانا عند علمه بتحقق وقوع ما أخبر عنه الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم مثل تحقق إخباره صلى الله عليه وسلم عن فتح القسطنطينية ومدحه للجيش الذي سيفتح القسطنطينية، ولقائد ذلك الجيش، وكإخباره عن نهر الأردن بقوله صلى الله عليه وسلم فيما رواه عنه نهيك بن صريم السكوني: لتقاتلن المشركين حتى يقاتل بقيتكم الدجال على نهر الأردن، أنتم شرقيه وهم غربيه، قال نهيك: ولا أدري أين الأردن يومئذ؟ (1) .
رابعًا-الرد على مزاعم المستشرقين ومن أيدهم فيما يتعلق بإهمال نقد المتن عند المحدثين:
إن أوهى شبهة تمسك بها المستشرقون ولاكوها في مؤلفاتهم هي زعمهم بأن المحدثين المسلمين لم يعنوا بنقد المتن، ويدرك من لديه أدنى اطلاع على كتب علوم الحديث ومصطلحه أن هذا الادعاء ما هو إلا محض كذب وافتراء، وإن أحسنا الظن بمن قال بهذا الرأي فنقول: إنه ينم عن جهله العميق بعلم مصطلح الحديث. ومن الأدلة على اهتمام علمائنا السابقين بنقد السند والمتن على حد سواء هي النقاط الاثنتا عشرة التالية:
1- إن نقد المتن سبق نقد السند، وقد نمى النبي صلى الله عليه وسلم هذه الملكة، ودعا إلى ترسيخها بقوله وفعله وإقراره، وقد قام الصحابة الكرام بالنظر في النصوص ونقدها ولم ينكر عليهم، وإنما كان يبين النبي صلى الله عليه وسلم لهم الوجهة الصحيحة للنقد فلذلك نستطيع أن نقول إن
--------------------------------------------
বস্তুত মুমিন ব্যক্তির ঈমান আরও বৃদ্ধি পায় যখন সে আস-সাদিক আল-মাসদুক (যিনি সত্যবাদী এবং যার সত্যবাদিতা স্বীকৃত) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো বাস্তবায়িত হতে দেখে। যেমন কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের খবর এবং সেই সেনাবাহিনী ও তার সেনাপতির প্রশংসা সম্পর্কে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী। তদ্রূপ জর্ডান নদী সম্পর্কে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী, যা নাহিক বিন সারিম আস-সুকুনি বর্ণনা করেছেন: "তোমরা অবশ্যই মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, এমনকি তোমাদের অবশিষ্ট অংশ জর্ডান নদীর তীরে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে; তোমরা থাকবে তার পূর্ব তীরে এবং তারা থাকবে পশ্চিম তীরে।" নাহিক বলেন: "আমি তখন জানতাম না জর্ডান কোথায়?" (১) ।
চতুর্থ—মুহাদ্দিসগণের নিকট মতন (متن) বা মূলপাঠের সমালোচনা (نقد) অবহেলার বিষয়ে প্রাচ্যবিদ এবং তাদের সমর্থকদের দাবির খণ্ডন:
প্রাচ্যবিদরা তাদের রচনায় সবচেয়ে দুর্বল যে সংশয়টি আঁকড়ে ধরেছেন এবং বারবার আওড়েছেন তা হলো তাদের এই দাবি যে, মুসলিম মুহাদ্দিসগণ মতন (متن) বা মূলপাঠের সমালোচনার (نقد) প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেননি। হাদিস বিজ্ঞান এবং এর পরিভাষা (مصطلح) সংক্রান্ত গ্রন্থাবলি সম্পর্কে যার সামান্যতম ধারণা আছে, সে-ই বুঝতে পারবে যে এই দাবিটি নিছক মিথ্যা ও অপবাদ বৈ কিছু নয়। আর যারা এই মত পোষণ করেন তাদের সম্পর্কে যদি আমরা সুধারণাও পোষণ করি, তবে বলব: এটি হাদিস পরিভাষা বিজ্ঞান (مصطلح الحديث) সম্পর্কে তাদের গভীর অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ। আমাদের পূর্বসূরি ওলামায়ে কেরাম কর্তৃক সনদ (سند) ও মতন (متن) উভয়ের সমালোচনা (نقد) এর প্রতি সমানভাবে গুরুত্বারোপের প্রমাণ হিসেবে নিম্নোক্ত ১২টি পয়েন্ট উল্লেখ করা হলো:
১- মতন (متن) বা মূলপাঠের সমালোচনা (نقد) সনদ (سند) বা বর্ণনাপরম্পরার সমালোচনা (نقد) এর পূর্বেই শুরু হয়েছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই যোগ্যতাকে বিকশিত করেছিলেন এবং তাঁর কথা, কাজ ও অনুমোদনের (إقرار) মাধ্যমে একে সুসংহত করার আহ্বান জানিয়েছেন। সাহাবায়ে কেরামও বিভিন্ন পাঠ বা নস (نصوص) পর্যালোচনা এবং সেগুলোর সমালোচনা (نقد) করতেন এবং তিনি তাদের নিষেধ করতেন না। বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সমালোচনার সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করতেন। তাই আমরা বলতে পারি যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
نقد النصوص سنة نبوية شريفة سنها النبي صلى الله عليه وسلم لأمته، فلا يجوز إنكارها وإن أمته تبعته في ذلك عبر العصور المتطاولة خلال أربعة عشر قرنا (1) . ومن أمثلة ذلك تصحيح النبي صلى الله عليه وسلم لمفاهيم خاطئة علقت في أذهان الصحابة من أيام الجاهلية، فكان بتصحيحه لها نقد وتمحيص للمعلومات التي يحملها أصحابه وتوجيه لها الوجهة الصحيحة، ومن أمثلة ذلك: عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "أتدرون ما المفلس؟ قالوا: المفلس فينا من لا درهم له ولا متاع. فقال: المفلس من أمتي من يأتي يوم القيامة بصلاة وصيام وزكاة، ويأتي وقد شتم هذا، وقذف هذا، وأكل مال هذا، وسفك دم هذا، وضرب هذا، فيعطى هذا من حسناته، وهذا من حسناته، فإن فنيت حسناته قبل أن يقضى ما عليه أخذ من خطاياهم فطرحت عليه ثم طرح في النار". (2)
وجه الدلالة: أن الصحابة رضوان الله عليهم – يقرون أن المفلس هو من لا درهم له ولا متاع، وهو ما استقر في النفوس لغة وعرفا، فانتقد رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا الرأي، وبين خطأه وخطله، وأوضح
--------------------------------------------
পাঠ্য সমালোচনা (نقد النصوص) হলো একটি সম্মানিত নব্যুয়ী সুন্নাহ যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতের জন্য প্রবর্তন করেছেন। সুতরাং এটি অস্বীকার করা বৈধ নয় এবং তাঁর উম্মত দীর্ঘ চৌদ্দ শতাব্দী ধরে এই পথ অনুসরণ করে আসছে (১)। এর একটি উদাহরণ হলো জাহেলিয়াতের যুগ থেকে সাহাবায়ে কেরামের মনে গেঁথে থাকা ভুল ধারণাগুলোর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক সংশোধন। তাঁর এই সংশোধনের মাধ্যমে সাহাবীদের কাছে থাকা তথ্যসমূহের সমালোচনা (نقد) ও যাচাই-বাছাই (تمحيص) সম্পন্ন হতো এবং সেগুলোকে সঠিক দিশা প্রদান করা হতো। এর একটি উদাহরণ হলো: আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে?" তারা বললেন: "আমাদের মধ্যে নিঃস্ব সে-ই যার কোনো দিরহাম বা ধন-সম্পদ নেই।" তিনি বললেন: "আমার উম্মতের মধ্যে নিঃস্ব সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন সালাত, সিয়াম ও জাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে, অথচ সে কাউকে গালি দিয়েছে, কারো প্রতি অপবাদ আরোপ করেছে, কারো সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কাউকে হত্যা করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে। অতঃপর এদের সবাইকে তার নেকি থেকে প্রদান করা হবে। যদি তার পাওনা পরিশোধ করার আগেই নেকি শেষ হয়ে যায়, তবে তাদের গুনাহসমূহ নিয়ে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।" (২)
দলিলের দিক (وجه الدلالة): সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) একমত ছিলেন যে, নিঃস্ব হলো সেই ব্যক্তি যার কোনো দিরহাম বা সম্পদ নেই; আর এটিই ভাষাগত ও প্রথাগতভাবে মানুষের মনে প্রতিষ্ঠিত ছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই মতামতের সমালোচনা (نقد) করেন এবং এর ভ্রান্তি ও অসারতা ব্যাখ্যা করেন এবং স্পষ্ট করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
لهم أن هذا ليس هو حقيقة المفلس، لأن هذا الأمر يزول وينقطع بموته، كما ينقطع أيضا بيسار يحصل له بعد ذلك في حياته، فيستطيع أن يتدارك ما وقع فيه من الإفلاس، وبين لهم أن حقيقة المفلس هو المذكور في الحديث، فهو الهالك الهلاك التام....فالرسول صلى الله عليه وسلم نقلهم من تصور الإفلاس الدنيوي الآني إلى تصور الإفلاس الأخروي الباقي الذي يجب أن يكون عليه في فكر المؤمن. (1)
2- كان الصحابة رضوان الله عليهم ينتقد بعضهم مضمون روايات بعض. فمثلا انتقدت السيدة عائشة مضمون روايات بعض الصحابة وكذلك تعرضت بعض رواياتها للنقد من بعض الصحابة الآخرين. وقد ألف الإمام بدر الدين محمد بن عبد الله الزركشي (794 هـ) كتابا جمع فيه الروايات التي انتقدت فيها السيدة عائشة مرويات بعض الصحابة (2) .
3- يرجع أحد الأسباب الرئيسة للاختلاف بين المذاهب الفقهية إلى نقد المتن. (3) فقد قبلت المذاهب الفقهية كثيرا من الأحاديث الصحيحة، إلا
--------------------------------------------
তাদের নিকট এটিই প্রকৃত নিঃস্ব ব্যক্তি নয়, কারণ এই বিষয়টি তার মৃত্যুর সাথেই সমাপ্ত ও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঠিক যেমন তার জীবনে পরবর্তীতে সচ্ছলতা আসার মাধ্যমেও তা দূর হয়ে যেতে পারে, ফলে সে তার দেউলিয়া অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়। তিনি তাদের নিকট স্পষ্ট করেছেন যে, প্রকৃত নিঃস্ব ব্যক্তি হলো সে-ই যার উল্লেখ হাদিসে এসেছে; সে হলো সেই ব্যক্তি যে চূড়ান্তভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত।... অতএব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ক্ষণস্থায়ী পার্থিব দেউলিয়া হওয়ার ধারণা থেকে পরকালীন চিরস্থায়ী নিঃস্ব হওয়ার ধারণার দিকে স্থানান্তরিত করেছেন, যা একজন মুমিনের চিন্তাধারায় থাকা আবশ্যক। (১)
২- সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুম একে অপরের বর্ণনার (رواية) বিষয়বস্তুর সমালোচনা করতেন। উদাহরণস্বরূপ, সাইয়্যিদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কতিপয় সাহাবীর বর্ণনার (رواية) বিষয়বস্তু নিয়ে সমালোচনা করেছেন, তেমনি তাঁর কিছু বর্ণনাও (رواية) অন্যান্য সাহাবীদের সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। ইমাম বদর উদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আজ-জারকাশি (৭৯৪ হিজরি) একটি কিতাব রচনা করেছেন, যেখানে তিনি সেই বর্ণনাগুলোকে (رواية) সংকলন করেছেন যেগুলোতে সাইয়্যিদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কতিপয় সাহাবীর বর্ণনাগুলোর (مرويات) সমালোচনা করেছিলেন (২) ।
৩- ফেকহি মাযহাবগুলোর মধ্যকার পার্থক্যের অন্যতম প্রধান কারণ হলো মূলপাঠের সমালোচনা (نقد المتن)। (৩) ফেকহি মাযহাবগুলো অনেক সহিহ (صحيح) হাদিস কবুল করেছে, তবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أنهم اختلفوا في تأويلها وفهمها. ومثال ذلك الأحاديث التي تمنع المرأة البكر من الزواج بغير إذن وليها (1) ، هذه الأحاديث قد قبلت في المذهب الحنفي إلا أن الأحناف أولوها بأنها مصروفة إلى المرأة التي لم تبلغ، أما المذهب الشافعي فقد قبل هذه الأحاديث وعمم مضمونها ليشمل المرأة البكر البالغ وغير البالغ.
4- اعتمد نشوء المذاهب العقدية في القرون الثلاثة الأولى للإسلام على تفسيرات عديدة لنصوص القرآن والسنة.
5- إن علم مختلف الحديث خير شاهد على اعتناء العلماء بنقد المتون، فهذا العلم يعنى بالأحاديث النبوية الشريفة التي ظاهرها التعارض (2) . وقد اهتم العلماء مبكرا بهذا العلم بدءا من مؤلَّف الإمام محمد بن إدريس الشافعي: اختلاف الحديث (3) ، وغيره من المؤلفات ككتاب تأويل مختلف الحديث لابن قتيبة، وكتاب مشكل الآثار للطحاوي. أضف إلى ذلك فقد ذكر العلماء وجوها عديدة للترجيح بين مختلف الحديث بعضها راجعة للسند وأخرى راجعة للمتن، ذكر منها الحافظ العراقي والسيوطي والآمدي مائة وجه وعشرة أوجه (4) . كل هذا يدل على عناية فائقة من علمائنا بنقد المتن حتى قال ابن خزيمة (311 ?) : «ليس ثم حديثان متعارضان من كل وجه، ومن وجد شيئا من ذلك فليأتني لأؤلف له بينهما» (5) .
--------------------------------------------
তারা সেগুলোর ব্যাখ্যা ও অনুধাবনের ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন। এর উদাহরণ হলো সেই সব হাদিস যা কুমারী নারীকে তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করতে নিষেধ করে (১)। এই হাদিসগুলো হানাফি মাযহাবে গ্রহণ করা হয়েছে, তবে হানাফিগণ সেগুলোর এই ব্যাখ্যা করেছেন যে, তা অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্যদিকে শাফেয়ি মাযহাব এই হাদিসগুলো গ্রহণ করেছে এবং এর বিষয়বস্তুকে ব্যাপকতা দান করেছে যাতে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক উভয় প্রকার কুমারী নারীই এর অন্তর্ভুক্ত হয়।
৪- ইসলামের প্রথম তিন শতাব্দীতে আকিদাগত মাযহাবসমূহের উদ্ভব কুরআন ও সুন্নাহর নস (نصوص) বা পাঠ্যসমূহের নানাবিধ ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
৫- 'মুখতালিফুল হাদিস' শাস্ত্রটি মতনের পর্যালোচনা (نقد المتون)-এর প্রতি আলেমদের বিশেষ যত্নের এক উৎকৃষ্ট প্রমাণ। এই শাস্ত্রটি মূলত সেই সকল হাদিস নিয়ে আলোচনা করে যেগুলোর বাহ্যিক দিক থেকে বৈপরিত্য (تعارض) পরিলক্ষিত হয় (২)। আলেমগণ শুরু থেকেই এই শাস্ত্রের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছেন, যার সূচনা হয়েছিল ইমাম মুহাম্মদ বিন ইদريس আশ-শাফেয়ি রচিত ইখতিলাফুল হাদিস (৩) এবং ইবনে কুতায়বার তাউইলু মুখতালিফিল হাদিস ও তহাবির মুশকিলুল আসার-এর মতো অন্যান্য গ্রন্থাবলির মাধ্যমে। এর পাশাপাশি, আলেমগণ পরস্পরবিরোধী হাদিসগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার প্রদানের (ترجيح) ক্ষেত্রে অনেকগুলো দিক উল্লেখ করেছেন, যার কিছু সনদের (سند) সাথে সংশ্লিষ্ট এবং কিছু মতনের (متن) সাথে সংশ্লিষ্ট। হাফেজ ইরাকি, সুয়ুতি এবং আমেদি একশ দশটি দিক উল্লেখ করেছেন (৪)। এ সব কিছুই মতনের পর্যালোচনা (نقد المتون)-এর প্রতি আমাদের আলেমদের অসাধারণ যত্নের প্রমাণ দেয়, এমনকি ইবনে খুজাইমা (৩১১ হি.) বলেছেন: «এমন কোনো দুটি হাদিস নেই যা সব দিক থেকে পরস্পরবিরোধী (متعارض); যদি কেউ এমন কিছু খুঁজে পায়, তবে সে যেন তা আমার কাছে নিয়ে আসে যাতে আমি তার জন্য হাদিস দুটির মধ্যে সমন্বয় করে দিতে পারি» (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
6- لقد أولي نقد المتن عناية كبيرة في علم علل الحديث الذي هو رأس علم الدراية وهو علم متابعة الثقات في رواياتهم، يقول ابن الصلاح في تعريفه بأنه عبارة عن أسباب خفية غامضة قادحة، فالعلة سبب غامض يدل على وهم الراوي سواء أكان ثقة أم ضعيفا وسواء أكان الوهم في السند أم المتن (1) . وموضوع هذا العلم الحديث والذي ظاهر إسناده الصحة، إلا أن العلماء يضعفون متنه لأن فيه نكارة أو شذوذا أو اضطرابا أو غرابة (2) لذا فقد أطلق علماء المصطلح على العلل الموجودة في المتن مصطلحات عدة مثل: هذا حديث منكر المتن، حديث غريب، حديث شاذ، حديث مضطرب (3) ، وإن قول العلماء عن حديث إنه صحيح الإسناد أو حسن الإسناد، لا يعني أبداً أن المتن صحيح أو حسن، وذلك لشذوذ أو علة فيه. وقد يصح المتن ولا يصح السند لورود دلائل على صحة المتن من طرق أخرى، فمعرفة صحة الحديث كما يرى الحاكم النيسابوري لا تعتمد فقط على إسناده بل تعتمد على معرفة كبيرة بالحديث ومتونه (4) ، وهذا يدلنا على المنهج الموضوعي الشامل لدى المحدثين في النقد (5) ، فعلم العلل إذن يدخل في النقد الموضوعي العميق
--------------------------------------------
6- হাদিসের মূলপাঠের সমালোচনার (نقد المتن) প্রতি ‘ইলমে ইলালিল হাদিস’ বা হাদিসের ত্রুটি অন্বেষণ বিজ্ঞানে (علم علل الحديث) অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যা মূলত দিরায়াহ শাস্ত্রের (علم الدراية) শীর্ষস্থানীয় অংশ। এটি হলো বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (ثقات) অনুসরণের একটি বিজ্ঞান। ইবনে আস-সালাহ এর সংজ্ঞায় বলেছেন যে, এটি লুকানো ও অস্পষ্ট ত্রুটিযুক্ত কারণসমূহের একটি সমষ্টি। সুতরাং ত্রুটি (علة) হলো এমন একটি অস্পষ্ট কারণ যা বর্ণনাকারীর ভ্রম বা ভ্রান্তি নির্দেশ করে, চাই তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন বা দুর্বল (ضعيف) এবং সেই ভ্রম সনদে (سند) হোক কিংবা মূলপাঠে (متن)। (১) এই বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় হলো সেই হাদিস যার সনদের বাহ্যিক দিকটি সহিহ (صحيح) মনে হয়, কিন্তু বিশেষজ্ঞগণ এর মূলপাঠকে দুর্বল (تضعيف) বলে গণ্য করেন। কারণ এতে কোনো আপত্তিকর দিক (نكارة), ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য (شذوذ), বিশৃঙ্খলা (اضطراب) বা বিচিত্রতা (غرابة) বিদ্যমান থাকে। (২) এই কারণে পরিভাষা বিশেষজ্ঞগণ মূলপাঠের (متن) মধ্যে বিদ্যমান ত্রুটিগুলোর (علل) ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিভাষা ব্যবহার করেছেন, যেমন: এটি একটি আপত্তিকর মূলপাঠের হাদিস (حديث منكر المتن), বিচিত্র হাদিস (حديث غريب), ব্যতিক্রমী হাদিস (حديث شاذ), বিশৃঙ্খল হাদিস (حديث مضطرب)। (৩) আলেমদের কোনো হাদিস সম্পর্কে ‘সনদটি সহিহ’ (صحيح الإسناد) বা ‘সনদটি হাসান’ (حسن الإسناد) বলা মানেই এই নয় যে, হাদিসটির মূলপাঠও (متن) সহিহ (صحيح) বা হাসান (حسن); কারণ তাতে কোনো ব্যতিক্রম (شذوذ) বা ত্রুটি (علة) থাকতে পারে। আবার কখনও মূলপাঠ (متن) সহিহ (صحيح) হতে পারে কিন্তু সনদটি সহিহ (صحيح) নাও হতে পারে, যদি অন্য কোনো সূত্র থেকে মূলপাঠের (متن) বিশুদ্ধতার প্রমাণ পাওয়া যায়। আল-হাকিম আন-নাইসাপুরির মতে, হাদিসের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করা কেবল তার সনদের (إسناد) ওপর নির্ভর করে না, বরং হাদিস ও তার মূলপাঠগুলো (متون) সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের ওপর নির্ভর করে। (৪) এটি আমাদের সমালোচনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসদের ব্যাপক ও বস্তুনিষ্ঠ পদ্ধতির পরিচয় দেয়। (৫) অতএব, ত্রুটি অন্বেষণ বিজ্ঞান (علم العلل) একটি গভীর ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনার অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলা মাযাইমিল মুস্তাশরিকীন গোল্ডজিহার ওয়া ইউসুফ শাখত ওয়ামান আইয়াদাহুমা মিনাল মুস্তাগরিবীন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
للحديث سنداً ومتناً ويحتاج إلى علم غزير (1) .
7- عندما قسم علماء الحديث علم مصطلح الحديث قسموه إلى قسمين: علم الحديث رواية وعلم الحديث دراية، وعرفوا الثاني بأنه: علم بقوانين يعرف بها أحوال السند والمتن من حيث القبول والرد (2) ، وهذا يعني أن هذا العلم وضع قوانين ليضبط بها السند والمتن معا.
8- ذكر العلماء في تعريف الصحيح والحسن شروطا عائدة للسند، وشروطا عائدة للمتن والسند معا، وهناك شرطان أساسيان لقبول الحديث ويرجعان للسند والمتن معا وهما: أ_ سلامته من الشذوذ، ب- وسلامته من العلة القادحة. ونجدهم عندما يشرحون التعريف يقولون: إن الشذوذ قسمان: شذوذ في السند، وشذوذ في المتن، وأكثر ما يكون الشذوذ في المتن. وكذلك العلة قسمان: علة في السند، وعلة في المتن (3) ، فهل بعد هذا من شك في أن المحدثين لم يعنوا بنقد المتن؟
9- بين العلماء في بحث الشاذ والمنكر والمعل والمضطرب والمدرج والمقلوب وقوع الشذوذ والنكارة والعلة والاضطراب والإدراج والقلب والغرابة في السند والمتن، ومتى تكون هذه الصفات قادحة في صحة الحديث وثبوته، ومتى تكون موجبة لرده (4) . وقد أطلق العلماء على صنيع من
--------------------------------------------
হাদিসের রয়েছে সনদ (السند) ও মতন (المتن), এবং এটি গভীর জ্ঞানের (علم غزير) মুখাপেক্ষী (১)।
৭- হাদিস বিশারদগণ যখন হাদিস পরিভাষা বিজ্ঞানকে (علم مصطلح الحديث) বিভক্ত করেছেন, তখন তারা একে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: ইলমে হাদিস রিওয়াত (علم الحديث رواية) এবং ইলমে হাদিস দিরায়াত (علم الحديث دراية)। তারা দ্বিতীয় প্রকারের সংজ্ঞায় বলেছেন: এটি এমন কতিপয় নিয়ম-নীতির জ্ঞান যার মাধ্যমে সনদ (السند) ও মতনের (المتن) অবস্থা গ্রহণযোগ্যতা (القبول) ও বর্জনীয়তার (الرد) দিক থেকে জানা যায় (২)। এর অর্থ হলো এই শাস্ত্র এমন কিছু নিয়ম-নীতি প্রণয়ন করেছে যার মাধ্যমে সনদ (السند) ও মতন (المتن) উভয়কেই সুসংহতভাবে যাচাই করা যায়।
৮- ওলামায়ে কেরাম সহিহ (الصحيح) ও হাসান (الحسن) হাদিসের সংজ্ঞায় এমন কিছু শর্তের উল্লেখ করেছেন যা সনদের (السند) সাথে সংশ্লিষ্ট, আবার কিছু শর্ত সনদ (السند) ও মতন (المتن) উভয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে দুটি মৌলিক শর্ত রয়েছে যা সনদ (السند) ও মতন (المتن) উভয়ের সাথেই সম্পৃক্ত, সেগুলো হলো: ক. শায (الشذوذ) হওয়া থেকে মুক্ত থাকা, খ. এবং ক্ষতিকারক ত্রুটি (العلة القادحة) থেকে মুক্ত থাকা। আমরা দেখতে পাই যে, তারা যখন সংজ্ঞাটি ব্যাখ্যা করেন তখন বলেন: শায (الشذوذ) দুই প্রকার: সনদের শায (شذوذ في السند) এবং মতনের শায (شذوذ في المتن); আর মতনের মধ্যেই শায (الشذوذ) হওয়ার বিষয়টি অধিক ঘটে থাকে। অনুরূপভাবে ত্রুটিও (العلة) দুই প্রকার: সনদের ত্রুটি (علة في السند) এবং মতনের ত্রুটি (علة في المتن) (৩)। অতএব, এরপরও কি কোনো সন্দেহ অবশিষ্ট থাকে যে মুহাদ্দিসগণ মতনের সমালোচনার (نقد المتن) প্রতি গুরুত্ব দেননি?
৯- ওলামায়ে কেরাম শায (الشاذ), মুনকার (المنكر), মু'আল্লাল (المعل), মুদতারিব (المضطرب), মুদরাজ (المدرج) এবং মাকলুব (المقلوب) সংক্রান্ত আলোচনায় সনদ (السند) ও মতনের (المتن) মধ্যে শায (الشذوذ), মুনকার হওয়া (النكارة), ত্রুটি (العلة), অস্থিরতা (الاضطراب), অনুপ্রবেশ (الإدراج), ওলটপালট (القلب) এবং বিরলতা (الغرابة) ঘটার বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছেন; এবং এই বৈশিষ্ট্যগুলো কখন হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) ও প্রমাণের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক হয়, আর কখন তা হাদিস বর্জনের (رده) কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাও তারা ব্যাখ্যা করেছেন (৪)। ওলামায়ে কেরাম তাদের এই কাজের প্রতি...
--------------------------------------------