(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: -)
الرد على الجهمية والزنادقة للإمام أحمد ت صبري القسم: العقيدة
الكتاب: الرد على الجهمية والزنادقة
المؤلف: أبو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال بن أسد الشيباني (ت 241هـ)
المحقق: صبري بن سلامة شاهين
الناشر: دار الثبات للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى
عدد الصفحات: 175
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইমাম আহমাদ কর্তৃক জাহমিয়্যাহ ও যিনদীকদের খণ্ডন, তাহকীক: সাবরি বিভাগ: আকিদাহ
বই: জাহমিয়্যাহ ও যিনদীকদের খণ্ডন
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ আশ-শাইবানী (মৃত্যু ২৪১ হি.)
গবেষক ও সম্পাদক: সাবরি বিন সালামাহ শাহীন
প্রকাশক: দারুত সাবাত প্রকাশনা ও বিতরণ
সংস্করণ: প্রথম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৫
[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
كلمة الناشر
الحمد لله القائل: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحاً وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِين} [فصلت: 33] ، وقال سبحانه: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} [يوسف:108] وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا مات الإنسان انقطع عنه عمل إلا من ثلاثة: إلا من صدقة جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له". [مسلم: 1613] وقال صلى الله عليه وسلم: "الدال على الخير كفاعله". [صحيح الجامع: 3399] .
قال ابن القيم رحمه الله في جلاء الأفهام، ص249: فالدعوة إلى الله تعالى هي وظيفة المرسلين وأتباعهم، وهم خلفاء الرسل في أممهم، والناس تبع لهم، والله سبحانه قد أمر رسوله أن يبلغ ما أنزل إليه، وضمن له حفظه وعصمته من الناس، وهكذا المبلغون عنه من أمته، لهم من حفظ الله وعصمته إياهم بحسب قيامهم بدينه وتبليغهم له. وقد أمر النبي صلى الله عليه وسلم بالتبليغ عنه ولو آية، ودعا لمن بلّغ عنه ولو حديثًا، وتبليغ سنته إلى الأمة أفضل من تبليغ السهام إلى نحور العدو، ولأن ذلك التبليغ يفعله كثير من الناس. أما تبليغ السنن فلا تقوم به إلا ورثة الأنبياء وخلفاؤهم في أممهم، جعلنا الله تعالى منهم بمنه وكرمه. أ. هـ.
لذا أخذت دار الثبات للنشر والتوزيع على عاتقها نشر ما تقوم به الحجة، وتظهر به المحجة، وتزول به المعذرة: {مَعْذِرَةً إِلَى رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ
ভূমিকা…পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে
প্রকাশকের কথা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বলেছেন: {আর ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম কথা কার হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায় এবং সৎকর্ম করে আর বলে যে, নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।} [ফুসসিলাত: ৩৩] , এবং তিনি মহিমান্বিত হয়ে বলেছেন: {বলুন, এটাই আমার পথ, আমি এবং আমার অনুসারীরা দূরদৃষ্টির সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাই।} [ইউসুফ: ১০৮] এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি বিষয় ছাড়া তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন জ্ঞান যার দ্বারা উপকার পাওয়া যায়, অথবা এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" [মুসলিম: ১৬১৩] এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কল্যাণের পথ প্রদর্শনকারী ওই কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব লাভ করে।" [সহীহুল জামি: ৩৩৯৯] ।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) ‘জালাউল আফহাম’ গ্রন্থের ২৪৯ পৃষ্ঠায় বলেছেন: আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াত দেওয়া হলো রাসূলগণের এবং তাঁদের অনুসারীদের কাজ। তাঁরা হলেন তাঁদের উম্মতের মাঝে রাসূলগণের উত্তরসূরি, আর মানুষ তাঁদের অনুসারী। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূলকে তাঁর নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মানুষের হাত থেকে তাঁর হেফাজত ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। অনুরূপভাবে তাঁর উম্মতের মধ্য থেকে যারা প্রচারের কাজ করেন, আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা এবং তা প্রচারের অনুপাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের জন্যও হেফাজত ও নিরাপত্তা রয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পক্ষ থেকে প্রচার করার নির্দেশ দিয়েছেন যদিও তা একটি আয়াত হয়, এবং তিনি তাঁর পক্ষ থেকে প্রচারকারীর জন্য দোয়া করেছেন যদিও তা একটি হাদিস হয়। উম্মতের কাছে তাঁর সুন্নাহ পৌঁছে দেওয়া শত্রুর কণ্ঠনালীতে তীর নিক্ষেপ করার চেয়েও উত্তম; কারণ তীর নিক্ষেপ অনেকে করতে পারে। কিন্তু সুন্নাহ পৌঁছে দেওয়ার কাজটি নবীগণের উত্তরাধিকারী এবং তাঁদের উম্মতের মাঝে তাঁদের উত্তরসূরিরা ব্যতীত কেউ সম্পাদন করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতায় আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
এজন্য দারুছ ছাবাত পাবলিশিং এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন এমন সব বিষয় প্রচারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে যার মাধ্যমে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়, সঠিক পথ স্পষ্ট হয় এবং ওজর বা অজুহাত দূরীভূত হয়: {আপনাদের প্রতিপালকের কাছে ওজর পেশ করার জন্য এবং যাতে তারা
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ৪)
يَتَّقُون} [الأعراف: 164] ، فكان هذا الكتاب: الرد على الجهمية والزنادقة، لإمام السنة الإمام المبجل أحمد بن حنبل -نضر الله وجهه- سهمًا في نحور الزنادقة والجهمية وأشياعهم. ولقد اعتنى به وحققه تحقيقًا علميًا الأخ صبري بن سلامة شاهين، فقام على إخراجه والعناية به، فأحسن وأجاد، فنسألك اللهم أن تجزيه خيرًا على ما صنع في دنياه وأخراه.
وهنا نحن في دار الثبات نكمل المسير ونقدم الخير ونهدي النور للحيارى ونزجي لهم الزاد العلمي والروحي من خلال ما تتولى الدار إصداره ونشره وتوزيعه. ولقد سبق بحمد الله وفضل أن أخرجنا مجموعة طيبة ونافعة من الكتب السلفية التي تعد نبراسًا في طريق دعوتنا وعملنا، منها: عمدة الأحكام الصغرى، وعمدة الأحكام الكبرى، وفتاوى حول بعض الكتب، وشبهات وإشكالات حول بعض الأحاديث. وفي الطريق مختصر زاد المعاد، ومختصر سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم وغيرها من الإصدارات القيمة، التي نسأل الله عز وجل أن تحوز على رضا القراء وطلبة العلم والعلماء، وأن تكون من العلم النافع والعمل الصالح، هذا ما نرجوه ونتطلع إليه، والله من وراء القصد وهو يهدي السبيل.
الناشر
তারা যেন তাকওয়া অবলম্বন করে} [আল-আরাফ: ১৬৪], ফলে এই গ্রন্থটি: 'জাহমিয়্যাহ ও যিন্দীকদের খণ্ডন', যা সুন্নাহর ইমাম, মহিমান্বিত ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল —আল্লাহ তাঁর চেহারা উজ্জ্বল করুন— এর রচনা, তা যিন্দীক, জাহমিয়্যাহ ও তাদের অনুসারীদের কণ্ঠনালীতে একটি তীর স্বরূপ। ভাই সাবরী বিন সালামাহ শাহীন এই গ্রন্থের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এর তাত্ত্বিক সম্পাদনা করেছেন। তিনি এটি প্রকাশ ও বিন্যাসের কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং এতে তিনি অত্যন্ত নিপুণতা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করেছেন। হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যা করেছেন তার বিনিময়ে আপনি তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
আর এখন আমরা ‘দারুস সাবাত’-এ আমাদের এই পথচলা অব্যাহত রেখেছি, কল্যাণ পেশ করছি, বিভ্রান্তদের আলোর পথ দেখাচ্ছি এবং এই প্রকাশনীর প্রকাশনা, প্রচার ও বিতরণের মাধ্যমে তাদের জন্য জ্ঞানতাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক পাথেয় যোগান দিচ্ছি। আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে ইতিপূর্বে আমরা সালাফী গ্রন্থসমূহের একটি উত্তম ও উপকারী সংকলন প্রকাশ করেছি যা আমাদের দাওয়াত ও কর্মপদ্ধতির পথে আলোকবর্তিকা স্বরূপ। তার মধ্যে রয়েছে: ‘উমদাতুল আহকাম আস-সুগরা’, ‘উমদাতুল আহকাম আল-কুবরা’, ‘কিছু গ্রন্থ বিষয়ক ফাতাওয়া’, এবং ‘কিছু হাদিস সংক্রান্ত সংশয় ও নিরসন’। প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে ‘যাদুল মা'আদ-এর সংক্ষিপ্তসার’, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংক্ষিপ্ত জীবনী’ এবং আরও অন্যান্য মূল্যবান প্রকাশনা। আমরা মহামহিম আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, এগুলো যেন পাঠক, ইলম অন্বেষী এবং আলেমদের সন্তুষ্টি অর্জন করে এবং এগুলো যেন উপকারী জ্ঞান ও নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত হয়। আমরা এটিই কামনা করি ও প্রত্যাশা করি। আর আল্লাহই সকল সংকল্পের লক্ষ্য এবং তিনিই সঠিক পথ প্রদর্শনকারী।
প্রকাশক
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ৫)
باب المقدمات
مقدمة التحقيق…بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة التحقيق
الحمد الله القائل: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [الأنعام: 153] والقائل سبحانه: {وَلا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، مِنَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُون} [الروم: 31] القائل عز وجل: {وَلا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُوْلَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ} [آل عمران: 105]
وأصلي وأسلم على النبي الرحمة المهداة محمد بن عبد الله القائل: "فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد، وشر الأمور محدثاتها، وكل بعدة ضلالة" 1 والقائل صلى الله عليه وسلم: "فإنه من يعش منكم بعدي سيرى اختلافًا كثيرًا، فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين، عَضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور، فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة" 2.
ورحم الله الأوزاعي حين قال: عليك بأثر من سلف وإن رفضك الناس، وإياك وآراء الرجال وإن زخرفوا لك بالقول.
--------------------------------------------
ভূমিকা অধ্যায়সম্পাদকের ভূমিকা...পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সম্পাদকের ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, কারণ তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার।} [আল-আন'আম: ১৫৩] এবং সুবহানাহু বলেছেন: {আর তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত।} [আর-রুম: ৩১] এবং আয্যা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও মতভেদ করেছে; তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।} [আলে ইমরান: ১০৫]
আর আমি সালাত ও সালাম পাঠ করছি রহমতের উপহার হিসেবে প্রেরিত নবী মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, যিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদের আদর্শ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবপ্রবর্তিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা" ১ এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে বেঁচে থাকবে তারা প্রচুর মতভেদ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো। একে মাড়ির দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে কামড়ে ধরে থাকো। আর তোমরা (দ্বীনের) নবপ্রবর্তিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি নবপ্রবর্তিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা" ২।
আর আল্লাহ ইমাম আওযাঈর ওপর রহম করুন যখন তিনি বলেছিলেন: তোমার জন্য সালাফদের (পূর্বসূরিদের) পদাঙ্ক অনুসরণ করা আবশ্যক যদিও মানুষ তোমাকে বর্জন করে। আর তুমি লোকদের মতামত থেকে বেঁচে থাকো যদিও তারা তাদের কথাকে সুশোভিত করে তোমার সামনে পেশ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ৬)
ورحم الله عمران القصير حين قال: إياكم والمنازعة والخصومة، وإياكم وهؤلاء الذين يقولون: أرأيت أرأيت؟
ورضي الله عن عمر الفاروق القائل: سيأتي ناس يجادلونكم بشبهات القرآن فخذوهم بالسنن، فإن أصحاب السنن أعلم بكتاب الله تعالى.
وها هو إمام السنة رحمه الله الإمام المبجل أحمد بن حنبل الأعلم بالسنة يتصدى لأولئك النفر الذين خلعوا ربقة الإسلام من أعناقهم: الزنادقة والجهمية. في رسالته القيمة التي فند فيها مزاعم أهل الزيغ والضلال، ولم يأت الإمام أحمد ببدع من القول، بل كان على عهد من سلفه من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وتابعيهم رضي الله عنهم.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: وأحمد بن حنبل وإن كان قد اشتهر بإمام السنة والصبر في المحنة، فليس ذلك لأنه انفرد بقول أو ابتدع قولا، بل لأن السنة التي كانت موجودة معروفة قبله علمها ودعا إليها وصبر على من امتحنه ليفارقها، وكان الأئمة قبله، قد ماتوا قبل المحنة، فلما وقعت محنة الجهمية: نُفاة الصفات، في أوائل المائة الثالثة1 على عهد المأمون وأخيه المعتصم ثم الواثق- ودعو الناس
--------------------------------------------
আল্লাহ ইমরান আল-কাসীরের ওপর রহম করুন যখন তিনি বলেছিলেন: তোমরা বিবাদ ও ঝগড়া থেকে সাবধান থাকো, আর তোমরা ওই লোকদের থেকে বেঁচে থাকো যারা বলে: ‘তোমার কী মত? তোমার কী অভিমত?’ (অর্থাৎ যারা তাত্ত্বিক বিতর্কে লিপ্ত হয়)।
আর উমর আল-ফারুক—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন—যিনি বলেছিলেন: অচিরেই এমন কিছু লোক আসবে যারা কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তোমাদের সাথে তর্কে লিপ্ত হবে, তখন তোমরা তাদের সুন্নাহর (হাদিসের) মাধ্যমে মোকাবিলা করো। কেননা সুন্নাহর অনুসারীরাই আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।
আর এই যে সুন্নাহর ইমাম—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—সম্মানিত ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, যিনি সুন্নাহ সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন, তিনি সেই সব লোকের মোকাবিলা করেছেন যারা নিজেদের গর্দান থেকে ইসলামের রশি ছুড়ে ফেলেছিল: অর্থাৎ যিনদীক এবং জাহমিয়া সম্প্রদায়। তিনি তাঁর মূল্যবান সেই রিসালায় (পুস্তিকায়) বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্টদের দাবিগুলো খণ্ডন করেছেন। ইমাম আহমাদ অভিনব বা নতুন কোনো কথা নিয়ে আসেননি, বরং তিনি তাঁর পূর্বসূরি আল্লাহর নবীর—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—সাহাবীগণ এবং তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণের—আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন—আদর্শের ওপরই অটল ছিলেন।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—বলেছেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল যদিও ‘ইমামুস সুন্নাহ’ এবং পরীক্ষার সময় ধৈর্যের কারণে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, তবে তা এই কারণে নয় যে তিনি কোনো মতবাদে একাকী হয়ে গিয়েছিলেন বা নতুন কোনো কথা উদ্ভাবন করেছিলেন; বরং সুন্নাহ যা তাঁর আগে থেকেই বিদ্যমান ও সুপরিচিত ছিল, তিনি তা জানতেন, সেদিকে মানুষকে আহ্বান করেছেন এবং যারা তাঁকে সুন্নাহ ত্যাগ করানোর জন্য পরীক্ষায় ফেলেছিল তাদের নির্যাতনের সামনে ধৈর্য ধারণ করেছেন। তাঁর পূর্ববর্তী ইমামগণ এই পরীক্ষার সময় আসার আগেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন। অতঃপর যখন তৃতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকে—আল-মামুন, তাঁর ভাই আল-মুতাসিম এবং এরপর আল-ওয়াসিকের শাসনামলে—আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারী জাহমিয়াদের ফিতনা শুরু হলো এবং তারা মানুষকে সেদিকে আহ্বান করতে লাগল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ৭)
إلى التجهم وإبطال صفات الله تعالى، وهو المذهب الذي ذهب إليه متأخرو الرافضة، وكانوا قد أدخلوا معهم من أدخلوه من ولاة الأمور، فلم يوافقهم أهل السنة والجماعة حتى تهددوا بعضهم بالقتل، وقيدوا بعضهم، وعاقبوهم وأخذوهم بالرهبة والرغبة، وثبت الإمام أحمد بن حنبل على ذلك الأمر حتى حبسوا مدة، ثم طلبوا أصحابهم لمناظرته فانقطعوا معه في المناظرة يومًا بعد يوم، ولم يأتوا بما يوجب موافقته لهم، بل بيَّن خطأهم فيما ذكروه من الأدلة.
ثم قال ابن تيمية رحمه الله: وأحمد وغيره من علماء أهل السنة والحديث مازالوا يعرفون فساد مذهب الروافض والخوارج والقدرية والجهمية والمرجئة، ولكن بسبب المحنة كثر الكلام، ورفع الله قدر هذا الإمام، فصار إمامًا من أئمة السنة وعلمًا من أعلامها؛ لقيامه بإعلامها وإظهارها واطلاعه على نصوصها وآثارها وبيانه لخفي أسرارها، لا لأنه أحدث مقالة أو ابتدع رأيًا1.
وقال ابن تيمية رحمه الله: هذا مع العلم بأن كثيرًا من المبتدعة منافقون النفاق الأكبر، وأولئك كفار في الدرك الأسفل من النار، فما أكثر ما يوجد في الرافضة والجهمية ونحوهم زنادقة منافقون، بل أصل هذه البدع هو من المنافقين الزنادقة ممن يكون أصل زندقته عن
--------------------------------------------
জাহমি মতবাদ গ্রহণ এবং মহান আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার দিকে, যা পরবর্তী রাফেজিদের গৃহীত মতবাদ। তারা তাদের সাথে শাসকদের মধ্য থেকে যাদের পেরেছিল অন্তর্ভুক্ত করেছিল। কিন্তু আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত তাদের সাথে একমত হয়নি, এমনকি তারা তাদের কাউকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল, কাউকে শিকলবন্দি করেছিল এবং শাস্তি প্রদান করেছিল এবং ভয় ও লোভ দেখিয়ে বশ করার চেষ্টা করেছিল। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এই বিষয়ে অটল ছিলেন যতক্ষণ না তারা তাঁকে দীর্ঘ সময় কারারুদ্ধ করে রাখে। অতঃপর তারা তাদের সাথীদেরকে তাঁর সাথে বিতর্কের জন্য তলব করে, কিন্তু তারা দিনের পর দিন তাঁর সাথে বিতর্কে পরাস্ত হতে থাকে। তারা এমন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি যা তাঁকে তাদের সাথে একমত হতে বাধ্য করে, বরং তিনি তাদের উপস্থাপিত দলিলগুলোর ভুল স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন।
অতঃপর ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আহমাদ এবং আহলে সুন্নাত ও হাদিসের অন্যান্য আলেমগণ রাফেজি, খারেজি, কাদারিয়া, জাহমিয়া এবং মুরজিয়াদের মতবাদের অসারতা সম্পর্কে সর্বদা অবগত ছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার কারণে এ নিয়ে আলোচনা বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহ এই ইমামের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। ফলে তিনি সুন্নাহর ইমামদের অন্যতম এবং এর এক উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হন; সুন্নাহর প্রচার, প্রকাশ এবং এর মূল পাঠ ও আছারসমূহের ওপর তাঁর গভীর জ্ঞান এবং এর নিগূঢ় রহস্য বর্ণনার কারণে, এমন নয় যে তিনি নতুন কোনো মতবাদ বা কোনো বিদআতি মতামত উদ্ভাবন করেছিলেন।১
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: এটি এই জ্ঞানের সাথেই যে বিদআতিদের অনেকে বড় নিফাকে লিপ্ত মুনাফিক, আর তারা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরের কাফির। রাফেজি, জাহমিয়া এবং তাদের ন্যায় দলগুলোর মধ্যে কতোই না জিন্দিক ও মুনাফিক রয়েছে! বরং এই বিদআতগুলোর মূল উৎস হলো সেই মুনাফিক ও জিন্দিকদের পক্ষ থেকে যাদের জিন্দিকিপনার মূল হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ৮)
الصابئين والمشركين، فهؤلاء كفار في الباطين، ومن علم حاله فهو كافر في الظاهر أيضا1.
وقال أيضًا رحمه الله: وأما تعيين الفرق الهالكة فأقدم من بلغنا أنه تكلم في تضليلهم يوسف بن أسباط ثم عبد الله بن المبارك، وهما إمامان جليلان من أجلاء أئمة المسلمين،
قالا: أصول البدع أربعة: الروافض والخوارج والقدرية والمرجئة: فقيل لابن المبارك: والجهمية؟ فأجاب بأن أولئك ليسوا من أمة محمد. وكان يقول: إنا لنحكي كلام اليهود والنصارى، ولا نستطيع أن نحكي كلام الجهمية. وهذا الذي قاله اتبعه عليه طائفة من العلماء من أصحاب أحمد وغيرهم، قالوا: إن الجهمية كفار فلا يدخلون في الاثنتين والسبعين فرقة، كما لا يدخل فيهم المنافقون الذين يبطنون الكفر ويظهرون الإسلام وهم الزنادقة. وقال آخرون من أصحاب أحمد وغيرهم: بل الجهمية داخلون في الاثنتين والسبعين فرقة، وجعلوا أصول البدع خمسة1.
وقال أيضًا رحمه الله: ثم أصل هذه المقالة -مقالة التعطيل للصفات- إنما هو مأخوذ عن تلامذة اليهود والمشركين وضلال الصابئين، فإن أول من حفظ عنه أنه قال هذه المقالة في الإسلام، أعني أن الله سبحانه وتعالى ليس على العرش حقيقة، وأنَّ استوى
--------------------------------------------
সাবী ও মুশরিকরা; এরা গোপনে কাফের, আর যার অবস্থা জানা যাবে সে প্রকাশ্যেও কাফের।১।
তিনি আরও বলেছেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন): ধ্বংসপ্রাপ্ত দলগুলোকে নির্দিষ্ট করার ব্যাপারে আমাদের কাছে যাদের সংবাদ পৌঁছেছে তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইউসুফ বিন আসবাত এবং এরপর আবদুল্লাহ বিন মুবারক তাদের পথভ্রষ্টতার কথা বলেছেন। তাঁরা দুজনেই মুসলিমদের মহান ইমামদের অন্তর্ভুক্ত দুই মর্যাদাবান ইমাম।
তাঁরা দুজনেই বলেছেন: বিদআতের মূল ভিত্তি চারটি: রাফেজি, খারিজি, কাদারিয়া এবং মুরজিয়া। তখন ইবনুল মুবারককে বলা হলো: আর জাহমিয়্যারা? তিনি উত্তরে বললেন যে, তারা মুহাম্মাদ-এর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি বলতেন: আমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কথা বর্ণনা করতে পারি, কিন্তু জাহমিয়্যাদের কথা বর্ণনা করতে পারি না। তাঁর এই বক্তব্যকে আহমাদ-এর অনুসারী ও অন্যান্য আলেমদের একটি দল অনুসরণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন: জাহমিয়্যারা কাফের, তাই তারা বাহাত্তর ফেরকার অন্তর্ভুক্ত হবে না, যেমন মুনাফিকরা—যারা কুফরকে গোপন করে এবং ইসলামকে প্রকাশ করে এবং তারা জিন্দিক—তারাও এই ফেরকাগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। আহমাদ-এর অনুসারী ও অন্যান্যদের মধ্যে অন্য একদল বলেছেন: বরং জাহমিয়্যারাও বাহাত্তর ফেরকার অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁরা বিদআতের মূল ভিত্তি পাঁচটি নির্ধারণ করেছেন।১।
তিনি আরও বলেছেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন): অতঃপর এই মতবাদের মূল ভিত্তি—অর্থাৎ সিফাত বা গুণাবলি অস্বীকার করার মতবাদ—মূলত ইহুদি, মুশরিক এবং পথভ্রষ্ট সাবীদের শিষ্যদের থেকে নেওয়া হয়েছে। ইসলামে যার কাছ থেকে সর্বপ্রথম এই মতবাদের কথা সংরক্ষিত রয়েছে—অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রকৃত অর্থে আরশের ওপর নেই এবং তিনি যে উঠেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ৯)
بمعنى استولى ونحو ذلك هو الجعد بن درهم وأخذها عنه الجهم بن صفوان وأظهرها فنسبت مقالة الجهمية إليه. وقد قيل: إن الجعد أخذ مقالته عن أبان بن سمعان، وأخذها أبان عن طالوت ابن أخت لبيد بن الأعصم، وأخذها طالوت عن لبيد بن الأعصم اليهودي الساحر الذي سحر النبي صلى الله عليه وسلم1.
وقال أيضًا رحمه الله: المشهور من مذهب الإمام أحمد وعامة أئمة السنة تكفيرُ الجهمية وهم المعطلة لصفات الرحمن، فإن قولهم صريح في مناقضة ما جاءت به الرسل من الكتاب، وحقيقة قولهم جحود الصانع، ففيه جحود الرب، وجحود ما أخبر به عن نفسه على لسان رسله، ولهذا قال عبد الله بن المبارك: إنا لنحكي كلام اليهود والنصارى ولا نستطيع أن نحكي كلام الجهمية. وقال غير واحد من الأئمة: إنهم أكفر من اليهود والنصارى، يعنون من هذا الجهمية، ولهذا كفَّروا من يقول: إن القرآن مخلوق، وأن الله لا يرى في الآخرة، وأن الله ليس على العرش، وأن الله ليس له علم ولا قدرة ولا رحمة ولا غضب، ونحو ذلك من صفاته2.
وربما يسأل سائل: لماذا هذا الكتاب بعينه؟ مع ما فيه من إشكال؟!
أقول: إن نشر هذا الكتاب وتحقيقه وفتح مغاليقه لهو من الجهاد
--------------------------------------------
‘ইস্তাওলা’ (কর্তৃত্ব গ্রহণ করা) এবং এই জাতীয় অর্থের প্রবক্তা হলো জাদ বিন দিরহাম। তার নিকট থেকে এটি গ্রহণ করে জাহাম বিন সাফওয়ান তা প্রকাশ করে, ফলে জাহমিয়্যাহ মতবাদটি তার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত হয়। বলা হয়ে থাকে যে, জাদ তার এই মতবাদ আবান বিন সামআন থেকে গ্রহণ করেছে, আর আবান তা গ্রহণ করেছে লাবিদ বিন আসমের ভাগ্নে তালুত থেকে, আর তালুত তা গ্রহণ করেছে ইহুদি জাদুকর লাবিদ বিন আসম থেকে, যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জাদু করেছিল ১।
তিনিও (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ইমাম আহমাদ এবং সুন্নাহর সাধারণ ইমামগণের মাযহাব অনুযায়ী প্রসিদ্ধ মত হলো জাহমিয়্যাহদের কাফির বলা, আর তারা হলো রহমানের গুণাবলি অস্বীকারকারী (মুয়াত্তিলা)। কেননা তাদের কথাগুলো কিতাবের মাধ্যমে রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার স্পষ্ট বিরোধী। তাদের বক্তব্যের সারকথা হলো সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করা; এতে রবের অস্বীকৃতি রয়েছে এবং তিনি তাঁর রাসূলগণের ভাষায় নিজের সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন তারও অস্বীকৃতি রয়েছে। একারণেই আবদুল্লাহ বিন মুবারক বলেছেন: আমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কথা বর্ণনা করতে পারি, কিন্তু জাহমিয়্যাহদের কথা বর্ণনা করার সামর্থ্য রাখি না। একাধিক ইমাম বলেছেন: তারা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের চেয়েও বড় কাফির, এর দ্বারা তাঁরা এই জাহমিয়্যাহদের উদ্দেশ্য করেছেন। একারণেই তাঁরা তাকে কাফির বলেছেন যে বলে: কুরআন সৃষ্ট, এবং আল্লাহকে পরকালে দেখা যাবে না, আর আল্লাহ আরশের উপর উঠেননি, এবং আল্লাহর কোনো জ্ঞান নেই, ক্ষমতা নেই, দয়া নেই, রাগ নেই এবং এই জাতীয় গুণাবলি তাঁর নেই ২।
কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতে পারেন: এই নির্দিষ্ট বইটিই কেন? যদিও এতে কিছু জটিলতা রয়েছে!
আমি বলব: এই বইটির প্রকাশনা, তাহকীক (সম্পাদনা) এবং এর জটিল বিষয়গুলোর জট খোলা জিহাদের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১০)
في سبيل الله، وإن كنت حرمت أو عجزت عن الجهاد بالسيف والسنان فلا أحرم أو أعجز عن الجهاد بالقلم واللسان، فقد بَيَّن ذلك ووضحه أتم إيضاح شيخ الإسلام عليه من الله الرحمة والرضوان، حيث قال: ومثل أئمة البدع من أهل المقالات المخالفة للكتاب والسنة أو العبادات المخالفة للكتاب والسنة فإن بيان حالهم وتحذير الأمة منهم واجب باتفاق المسلمين، حتى قيل لأحمد بن حنبل: الرجل يصوم ويصلي ويعتكف أحب إليك أو يتكلم في أهل البدع؟ فقال: إذا قام وصلى واعتكف فإنما هو لنفسه، وإذا تكلم في أهل البدع فإنما هو للمسلمين، هذا أفضل. فبين أن نفع هذا عام للمسلمين في دينهم، من جنس الجهاد في سبيل الله، إذ تطهير سبيل الله ودينه ومنهاجه وشرعته ودفع بغي هؤلاء وعدوانهم على ذلك واجب على الكفاية باتفاق المسلمين، ولولا من يقيمه الله لدفع ضرر هؤلاء لفسد الدين وكان فساده أعظم من فساد استيلاء العدو من أهل الحرب، فإن هؤلاء إذا استولوا لم يفسدوا القلوب وما فيها من الدين إلا تبعًا، وأما أولئك فهم يفسدون القلوب ابتداء1.
وقال رحمه الله: والداعي إلى البدعة مستحق العقوبة باتفاق المسلمين، وعقوبته تكون تارة بالقتل وتارة بما دونه
… ولو قدر أنه لا يستحق العقوبة أو لا يمكن عقوبته، فلابد من بيان بدعته والتحذير منها، فإن هذا من جملة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر الذي أمر
--------------------------------------------
আল্লাহর পথে; আমি যদি তলোয়ার ও বল্লমের মাধ্যমে জিহাদ করা থেকে বঞ্চিত বা অক্ষম হই, তবে যেন কলম ও জিহ্বার মাধ্যমে জিহাদ করা থেকে বঞ্চিত বা অক্ষম না হই। শায়খুল ইসলাম (তার ওপর আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক) বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: “কিতাব ও সুন্নাহর পরিপন্থী মতবাদ পোষণকারী বা কিতাব ও সুন্নাহ বিরোধী ইবাদত পালনকারী বিদআতি ইমামদের অবস্থা স্পষ্ট করা এবং তাদের ব্যাপারে উম্মতকে সতর্ক করা সকল মুসলিমের ঐকমত্যে ওয়াজিব। এমনকি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আপনার নিকট কোনো ব্যক্তির রোজা রাখা, নামাজ পড়া ও ইতিকাফ করা অধিক প্রিয়, নাকি বিদআতিদের বিরুদ্ধে কথা বলা? তিনি উত্তরে বললেন: যখন সে নামাজ পড়ে ও ইতিকাফ করে, তখন তা কেবল তার নিজের উপকারে আসে; কিন্তু সে যখন বিদআতিদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তখন তা সমগ্র মুসলিম জাতির উপকারে আসে, আর এটিই অধিক উত্তম।” তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এর উপকারিতা মুসলিমদের দ্বীনের ক্ষেত্রে সর্বজনীন, যা আল্লাহর পথে জিহাদেরই একটি প্রকার। কারণ আল্লাহর পথ, তাঁর দ্বীন, তাঁর আদর্শ ও তাঁর শরিয়তকে কলুষমুক্ত রাখা এবং এগুলোর ওপর তাদের আক্রমণ ও সীমালঙ্ঘন প্রতিহত করা মুসলিমদের ঐকমত্যে ‘ফরজে কিফায়া’। আল্লাহ যদি এদের ক্ষতি প্রতিহত করার জন্য একদল লোককে দাঁড় না করাতেন, তবে দ্বীন কলুষিত হয়ে যেত। আর এই ক্ষতি যুদ্ধরত কাফের শত্রুদের আধিপত্য বিস্তারের ক্ষতির চেয়েও ভয়াবহ হতো। কারণ শত্রুরা বিজয়ী হলে তারা সরাসরি অন্তর ও অন্তরের দ্বীনকে নষ্ট করে না (বরং তা আনুষঙ্গিক হিসেবে ঘটে), কিন্তু বিদআতিরা শুরু থেকেই অন্তরকে নষ্ট করে।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: বিদআতের দিকে আহ্বানকারী ব্যক্তি মুসলিমদের ঐকমত্যে শাস্তির যোগ্য। তার শাস্তি কখনো মৃত্যুদণ্ড, আবার কখনো এর চেয়ে লঘু দণ্ডের মাধ্যমে হতে পারে
… যদি ধরে নেওয়া হয় যে সে শাস্তির যোগ্য নয় অথবা তাকে শাস্তি দেওয়া সম্ভব নয়, তবুও তার বিদআত বর্ণনা করা এবং তা থেকে সতর্ক করা অপরিহার্য। কারণ এটি সেই ‘সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ’-এর অন্তর্ভুক্ত যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১১)
الله به ورسوله. والبدعة التي يعد بها الرجل من أهل الأهواء ما اشتهر عند أهل العلم بالسنة مخالفتها للكتاب والسنة: كبدعة الخوارج والروافض والقدرية والمرجئة.
وقد قال عبد الرحمن بن مهدي: هما صنفان فاحذرهما: الجهمية والرافضة، فهذان الصنفان شرار أهل البدع1.
قال عبد الله بن المبارك: الجهمية كفار زنادقة.
وقال سلام بن أبي مطيع: هؤلاء الجهمية كفار.
وقال إبراهيم بن طهمان: الجهمية كفار.
وقال عبد الوهاب الوراق: الجهمية كفار زنادقة مشركون.
وقال يزيد بن هارون: هم والله زنادقة عليهم لعنة الله.
وقال خارجة بن معصب: كفرت الجهمية في غير موضع من كتاب الله.
وقال عبد الحميد الحماني: جهم كافر بالله.
وقال أحمد بن إبراهيم الدورقي: بشر المريسي وأبو بكر الأصم كافران حلالا الدم.
وقال قتيبة بن سعيد: بشر المريسي كافر.
وقال عبد الرحمن بن مهدي: لو كان الأمر إليّ لقمت على الجسر فلا يمر بي أحد يقول: القرآن مخلوق، إلا ضربت عنقه وألقيته.
--------------------------------------------
আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি। আর সেই বিদআত যার কারণে কোনো ব্যক্তিকে প্রবৃত্তি পূজারীদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়, তা হলো সেই বিষয় যা সুন্নাহর বিশেষজ্ঞ আলিমদের নিকট কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী হিসেবে প্রসিদ্ধ: যেমন খাওয়ারিজ, রাফিযী, কাদারিয়া ও মুরজিয়াদের বিদআত।
আর আবদুর রহমান বিন মাহদী বলেছেন: তারা দুটি দল, তাই তাদের থেকে সতর্ক থাকো: জাহমিয়া ও রাফিযী। এই দুই দল বিদআতীদের মধ্যে নিকৃষ্টতম১।
আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেছেন: জাহমিয়ারা কাফির ও যিন্দিক।
সালাম বিন আবী মুতী বলেছেন: এই জাহমিয়ারা কাফির।
ইবরাহীম বিন তাহমান বলেছেন: জাহমিয়ারা কাফির।
আবদুল ওয়াহহাব আল-ওয়াররাক বলেছেন: জাহমিয়ারা কাফির, যিন্দিক ও মুশরিক।
ইয়াযীদ বিন হারুন বলেছেন: আল্লাহর কসম, তারা যিন্দিক, তাদের ওপর আল্লাহর লানত।
খারিজাহ বিন মুসআব বলেছেন: জাহমিয়ারা আল্লাহর কিতাবের একাধিক স্থানে কুফরি করেছে।
আবদুল হামীদ আল-হিম্মানী বলেছেন: জাহম আল্লাহর সাথে কুফরি করেছে।
আহমাদ বিন ইবরাহীম আদ-দাওরাকী বলেছেন: বিশর আল-মারীসী এবং আবু বকর আল-আসাম্ম কাফির, তাদের রক্ত বৈধ।
কুতাইবাহ বিন সাঈদ বলেছেন: বিশর আল-মারীসী কাফির।
আবদুর রহমান বিন মাহদী বলেছেন: বিষয়টি যদি আমার কর্তৃত্বে থাকতো, তবে আমি সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে যেতাম; অতঃপর যে ব্যক্তিই আমার সামনে দিয়ে অতিক্রম করে বলত যে: ‘কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট)’, আমি অবশ্যই তার গর্দান উড়িয়ে দিতাম এবং তাকে (সেতু থেকে নিচে) ফেলে দিতাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقال أيضًا: من زعم أن الله لم يكلم موسى يستتاب، فإن تاب وإلا ضربت عنقه.
وقال إبراهيم بن أبي نعيم: لو كان لي سلطان ما دفن الجهمية في مقابر المسلمين.
وقال أحمد بن عبد الله بن يونس: لا نصلي خلف من يقول: القرآن مخلوق، هؤلاء كفار.
وقال سلام بن أبي مطيع: هؤلاء الجهمية كفار ولا يصلى خلفهم.
وقال عبد الله بن المبارك: من قال: القرآن مخلوق، فقد طلقت منه امرأته.
وقال خارجة بن مصعب: الجهمية كفار، بلغوا نساءهم أنهن طوالق1.
وقال البخاري رحمه الله: ما أبالي صليت خلف الجهمي والرافضي أم صليت خلف اليهود والنصارى، ولا يسلم عليهم ولا يعادون ولا يناكحون ولا يشهدون ولا تؤكل ذبائحهم2.
ولكن هل يكفر الجهمية بأعيانهم؟ أي أن كل من اعتقد باعتقاد الجهمية أو قال بقولهم يكون كافرًا بعينه؟
--------------------------------------------
তিনি আরও বলেন: যে ব্যক্তি দাবি করে যে আল্লাহ মূসার সাথে কথা বলেননি, তাকে তাওবা করতে বলা হবে। যদি সে তাওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া হবে।
ইব্রাহীম ইবনে আবি নুআইম বলেন: যদি আমার কোনো কর্তৃত্ব থাকত, তবে জাহমিয়াদের মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করা হতো না।
আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস বলেন: যে ব্যক্তি বলে কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট), আমরা তার পিছনে সালাত আদায় করি না; তারা কাফির।
সাল্লাম ইবনে আবি মুতি' বলেন: এই জাহমিয়ারা কাফির এবং তাদের পিছনে সালাত আদায় করা যাবে না।
আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক বলেন: যে ব্যক্তি বলে কুরআন মাখলুক, তার স্ত্রী তার থেকে তালাকপ্রাপ্তা হয়ে গেছে।
খারিজাহ ইবনে মুসআব বলেন: জাহমিয়ারা কাফির, তাদের স্ত্রীদের জানিয়ে দাও যে তারা তালাকপ্রাপ্তা।
ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমি জাহমি বা রাফেযীর পিছনে সালাত আদায় করা আর ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের পিছনে সালাত আদায় করার মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। তাদের সালাম দেওয়া হবে না, তাদের অসুস্থ অবস্থায় দেখতে যাওয়া হবে না, তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে না, তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের জবেহকৃত পশুর মাংস খাওয়া হবে না।
কিন্তু জাহমিয়াদের কি ব্যক্তিগতভাবে কাফির সাব্যস্ত করা হবে? অর্থাৎ, যে ব্যক্তিই জাহমিয়াদের আকিদা পোষণ করবে বা তাদের কথা বলবে, সে কি নির্দিষ্টভাবে কাফির হবে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يجيب عن السؤال ويدفع هذا الإشكال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله حيث قال: إن المقالة تكون كفرًا: كجحد وجوب الصلاة والزكاة والصيام والحج وتحليل الزنا والخمر والميسر ونكاح ذوات المحارم، ثم القائل بها قد يكون بحيث لم يبلغه الخطاب، وكذا لا يكفر به جاحده، كمن هو حديث عهد بالإسلام أو نشأ ببادية بعيدة لم تبلغه شرائع الإسلام، فهذا لا يكفر بجحد شيء مما أنزل على الرسول، إذا لم يعلم أنه أنزل على الرسول. ومقالات الجهمية هي من هذا النوع، فإنها جحد لما هو الرب تعالى عليه ولما أنزل الله على رسوله1.
وقال أيضًا رحمه الله: وسبب هذا التنازع -يعني تنازع أهل السنة في تكفير الجهمية بأعيانهم- تعارض الأدلة، فإنهم يرون أدلة توجب إلحاق أحكام الكفر بهم، ثم إنهم يرون من الأعيان الذين قالوا تلك المقالات من قام به من الإيمان ما يمتنع أن يكون كافرًا، فيتعارض عندهم الدليلان. وحقيقة الأمر أنهم أصابهم في ألفاظ العموم في كلام الأئمة ما أصاب الأولين في ألفاظ العموم في نصوص الشارع. كلما رأوهم قالوا: من قال كذا فهو كافر. اعتقد المستمع أن هذا اللفظ شامل لكل من قاله، ولم يتدبروا أن التكفير له شروط وموانع قد تنتفي في حق المعين، وأن التكفير المطلق لا يستلزم تكفير المعين إلا إذا وجدت الشروط وانتفت الموانع، ويبين هذا أن الإمام أحمد وعامة
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং এই জটিলতা নিরসন করেছেন এভাবে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই কোনো বক্তব্য কুফরি হতে পারে: যেমন সালাত, যাকাত, সিয়াম ও হজের আবশ্যকতা অস্বীকার করা এবং ব্যভিচার, মদ, জুয়া ও মাহরামদের সাথে বিবাহকে হালাল মনে করা; অতঃপর এই কথাটি যে ব্যক্তি বলছে, এমন হতে পারে যে তার কাছে শরীয়তের বাণী পৌঁছেনি। একইভাবে একে অস্বীকারকারীও কাফির হবে না, যেমন নব্য মুসলিম অথবা যে ব্যক্তি এমন দূরবর্তী মরুপ্রান্তরে বড় হয়েছে যেখানে ইসলামের বিধানসমূহ পৌঁছেনি। সুতরাং রাসুলের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার কোনো কিছু অস্বীকার করার কারণে সে কাফির হবে না, যদি সে না জানে যে তা রাসুলের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। আর জাহমিয়্যাহদের বক্তব্যগুলোও এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত; কেননা তা মহান রব যে গুণাবলির ওপর আছেন এবং আল্লাহ তাঁর রাসুলের ওপর যা অবতীর্ণ করেছেন, তা অস্বীকার করার নামান্তর১।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেছেন: আর এই মতবিরোধের কারণ—অর্থাৎ নির্দিষ্টভাবে জাহমিয়্যাহদের কাফির ঘোষণার বিষয়ে আহলে সুন্নাহর পারস্পরিক মতবিরোধ—হলো দলীলসমূহের পারস্পরিক বৈপরীত্য। কেননা তারা এমন সব দলীল দেখতে পান যা তাদের ওপর কুফরি বিধান আরোপ করাকে আবশ্যক করে, আবার তারা এমন সব নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের দেখেন যারা ওই বক্তব্যগুলো প্রদান করেছেন অথচ তাদের মধ্যে এমন ঈমান বিদ্যমান যা তাদের কাফির হওয়াকে অসম্ভব করে দেয়। ফলে তাদের নিকট দলীল দুটির মধ্যে সংঘর্ষ তৈরি হয়। আর প্রকৃত বিষয়টি হলো, ইমামদের বক্তব্যের সাধারণ শব্দাবলির ক্ষেত্রে তাদের সাথে তাই ঘটেছে যা শরীয়তদাতার বাণীর সাধারণ শব্দাবলির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের সাথে ঘটেছিল। যখনই তারা তাঁদেরকে বলতে দেখেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কথা বলবে সে কাফির", তখন শ্রবণকারী ধারণা করে নিয়েছে যে, এই শব্দটি এমন প্রত্যেকের জন্য প্রযোজ্য যে তা বলেছে। অথচ তারা এটি চিন্তা করেনি যে, কাফির ঘোষণার জন্য কিছু শর্ত ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকতে পারে। আর ঢালাওভাবে বা নিঃশর্তভাবে কাফির ঘোষণা করা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাফির হওয়াকে আবশ্যক করে না, যতক্ষণ না শর্তসমূহ পাওয়া যায় এবং প্রতিবন্ধকসমূহ দূর হয়। আর এটি স্পষ্ট করে যে, ইমাম আহমাদ এবং অধিকাংশ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الأئمة الذين أطلقوا هذه العمومات لم يكفروا أكثرمن تكلم بهذا الكلام بعينه
… ثم قال: وهذه الأقوال والأعمال منه ومن غيره من الأئمة صريحة في أنهم لم يكفروا المعينين من الجهمية الذين كانوا يقولون: القرآن مخلوق. وأن الله لا يُرى في الآخرة. وقد نقل عن أحمد ما يدل على أنه كفَّر به قومًا معينين. فأما أن يذكر عنه في المسألة روايتان ففيه نظر، أو يحمل الأمر على التفصيل. فيقال: من كفر بعينه فلقيام الدليل على أنه وجدت فيه شروط التكفير وانتفت موانعه، ومن لم يكفر بعينه فلانتفاء ذلك في حقه، هذا مع إطلاق قوله بالتكفير على سبيل العموم.1
وقال أيضًا رحمه الله: وإذا عرف هذ فتكفير المعين من هؤلاء الجهال وأمثالهم بحيث يحكم عليه بأنه من الكفار لا يجوز الإقدام عليه، إلا بعد أن تقوم على أحدهم الحجة الرسالية، التي يتبين بها أنهم مخالفون للرسل، وإن كانت هذ المقالة لا ريب أنها كفر، وهكذا الكلام في تكفير جميع المعينين.
مع أن بعض هذه البدع أشد من بعض وبعض المبتدعة يكون فيه من الإيمان ما ليس في بعض، فليس لأحد أن يكفر أحدًا من المسملين وإن أخطأ وغلط تقام عليه الحجة وتبين له المحجة، ومن ثبت إيمانه بيقين لم يزل ذلك عنه بالشك، بل لا يزول إلا بعد إقامة الحجة وإزالة الشبهة2.
--------------------------------------------
যে ইমামগণ এই সাধারণ উক্তিগুলো ব্যক্ত করেছেন, তারা এই কথাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে যারা বলেছে তাদের অধিকাংশকেই কাফির সাব্যস্ত করেননি
… অতঃপর তিনি বলেন: তাঁর থেকে এবং অন্যান্য ইমামদের থেকে বর্ণিত এই বক্তব্য ও আমলসমূহ এ বিষয়ে স্পষ্ট যে, তাঁরা জাহমিয়াদের মধ্য থেকে সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাফির বলেননি যারা বলত: কুরআন সৃষ্টি এবং পরকালে আল্লাহকে দেখা যাবে না। ইমাম আহমাদ থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা নির্দেশ করে যে, তিনি এর কারণে নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীকে কাফির বলেছেন। তবে এই বিষয়ে তাঁর থেকে দুটি বর্ণনা থাকার যে কথা বলা হয়, তাতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, অথবা বিষয়টিকে বিস্তারিত ব্যাখ্যার ওপর প্রয়োগ করতে হবে। সুতরাং বলা যায়: যাকে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কাফির বলেছেন, তা এ কারণে যে তার ক্ষেত্রে তাকফিরের শর্তাবলি বিদ্যমান ছিল এবং অন্তরায়সমূহ দূরীভূত হয়েছিল। আর যাকে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কাফির বলেননি, তা তার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর অনুপস্থিতির কারণে। আর এটি সাধারণ বা ঢালাওভাবে তাঁর তাকফিরের উক্তি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও।১
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: যখন এটি জানা গেল, তখন এই সকল জাহিল বা অজ্ঞ ব্যক্তি ও তাদের সমজাতীয়দের কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে কাফির সাব্যস্ত করা—যাতে তার ওপর কাফির হওয়ার হুকুম দেওয়া যায়—তা ততক্ষণ পর্যন্ত বৈধ নয়, যতক্ষণ না তাদের কারও ওপর রাসূল প্রেরণের দলীল (হুজ্জাতে রিসালিয়্যাহ) প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে তারা রাসূলগণের বিরোধিতা করছে। যদিও এই কথাটি কুফর হওয়াতে কোনো সন্দেহ নেই; আর সকল সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির তাকফিরের ক্ষেত্রেও কথা একই।
তা সত্ত্বেও এই বিদআতগুলোর কোনোটি অন্যটির চেয়ে অধিক গুরুতর এবং বিদআতিদের কারও মধ্যে এমন ঈমান থাকতে পারে যা অন্য কারো মাঝে নেই। সুতরাং কোনো মুসলিমকে কাফির সাব্যস্ত করার অধিকার কারো নেই, যদিও সে ভুল বা ত্রুটি করে থাকে, যতক্ষণ না তার ওপর দলীল প্রতিষ্ঠিত করা হয় এবং সঠিক পথ স্পষ্ট করা হয়। আর যার ঈমান নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তা কেবল সন্দেহের বশবর্তী হয়ে দূর হবে না; বরং তা কেবল দলীল প্রতিষ্ঠা এবং সংশয় নিরসনের মাধ্যমেই দূর হতে পারে।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال أيضًا رحمه الله: فإن الإمام أحمد مثلاً قد باشر الجهمية الذين دعوه إلى خلق القرآن ونفي الصفات، وامتحنوه وسائر علماء وقته، وفتنوا المؤمنين والمؤمنات الذين لم يوافقوهم على التجهم بالضرب والحبس والقتل والعزل عن الولايات وقطع الأرزاق ورد الشهادة وترك تخليصهم من أيدي العدو، بحيث كان كثير من أولي الأمر إذ ذاك من الجهمية من الولاة والقضاة وغيرهم: يكفِّرون كل من لم يكن جهميًّا موافقًا لهم على نفي الصفات، مثل القول بخلق القرآن ويحكمون فيه بحكمهم في الكافر
… ومعلوم أن هذا من أغلظ التجهم، فإن الدعاء إلى المقالة أعظم من قولها، وإثابة قائلها وعقوبة تاركها أعظم من مجرد الدعاء إليها، والعقوبة بالقتل لقائلها أعظم من العقوبة بالضرب.
ثم إن الإمام أحمد دعا للخليفة وغيره ممن ضربه وحبسه واستغفر لهم وحللهم مما فعلوه به من الظلم والدعاء إلى القول الذي هو كفر، ولو كانوا مرتدين عن الإسلام لم يجز الاستغفار لهم، فإن الاستغفار للكفار لا يجوز بالكتاب والسنة والإجماع1.
أما الإشكال الذي في هذا الكتاب، وهو أن بعض أهل العلم شكك في نسبة هذا الكتاب إلى الإمام أحمد رحمه الله2، بل إن
--------------------------------------------
তিনি আরও বলেছেন (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন): ইমাম আহমাদ (রহ.) সরাসরি সেই জাহমিয়াদের মোকাবিলা করেছিলেন যারা তাকে কুরআনের সৃষ্টিতত্ত্ব এবং আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার দিকে আহ্বান করেছিল। তারা তাকে এবং তাঁর সময়ের সকল আলেমকে পরীক্ষায় ফেলেছিল। তারা সেই মুমিন পুরুষ ও নারীদের ওপর ফিতনা চাপিয়ে দিয়েছিল যারা জাহমিয়াতের বিষয়ে তাদের সাথে একমত হয়নি—তাদের প্রহার করা, বন্দী করা, হত্যা করা, রাষ্ট্রীয় পদ থেকে পদচ্যুত করা, জীবিকা বন্ধ করে দেওয়া, সাক্ষ্য গ্রহণ বর্জন করা এবং শত্রুর হাত থেকে তাদের মুক্ত করা ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে। তখন অনেক শাসক, গভর্নর, বিচারক এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জাহমিয়া মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন। তারা এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে কাফের ঘোষণা করতেন যারা জাহমিয়া ছিল না এবং আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তাদের সাথে একমত ছিল না—যেমন কুরআন সৃষ্টির কথা বলা। তারা তাদের ওপর কাফেরদের বিধান প্রয়োগ করতেন
… আর এটি সুবিদিত যে, এটি ছিল জাহমিয়াতের সবচেয়ে কঠোর রূপ। কেননা কোনো মতবাদের দিকে আহ্বান করা কেবল তা মুখে বলার চেয়ে বড় অপরাধ। আর সেই মতবাদের প্রবক্তাকে পুরস্কৃত করা এবং তা বর্জনকারীকে শাস্তি দেওয়া কেবল আহ্বানের চেয়েও বড় বিষয়। আবার সেই মতবাদের প্রবক্তাকে হত্যার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া প্রহারের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার চেয়েও গুরুতর বিষয়।
এরপর ইমাম আহমাদ সেই খলিফা এবং অন্যদের জন্য দোয়া করেছিলেন যারা তাকে প্রহার করেছিল ও বন্দী করেছিল। তিনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং তারা তাঁর ওপর যে জুলুম করেছিল এবং কুফরি কথার দিকে আহ্বান করেছিল, সে জন্য তাদের ক্ষমা করে দেন। তারা যদি ইসলাম থেকে মুরতাদ হয়ে যেত, তবে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা বৈধ হতো না। কারণ কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা অনুযায়ী কাফেরদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা জায়েজ নয়।১
আর এই কিতাবে যে জটিলতা রয়েছে তা হলো, কিছু আলেম এই কিতাবটি ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর দিকে নিসবত বা সম্পৃক্ত করার বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন২, বরং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
البعض ينفي أن يكون الإمام أحمد كتب كتابًا غير المسند، وهذا فيه تجوز ونظر، زاعمين أنه كان ينهى عن تأليف الكتب.
أقول: نعم كان ينهى عن تأليف الكتب ومجالسة أهل البدع والرد عليهم، ولكن كان هذا في أول الأمر، ثم لمَّا تغيرت الأحوال وتترس الباطل بقول السلطان كان لابد من التصدي لهذا الباطل ودحره وإبطاله.
قال الدارمي رحمه الله: فحين خاضت الجهمية في شيء منه وأظهروه وادعوا أن كلام الله مخلوق، أنكر ذلك ابن المبارك، وزعم أنه غير مخلوق فإنّ من قال: {إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ أَنَا} مخلوق فهو كافر.
حدثنيه يحيى الحماني عن الحسن بن الربيع عن ابن المبارك، فكره ابن المبارك حكاية كلامهم قبل أن يعلنوه، فلمَّا أعلنوه أنكر عليهم وعابهم ذلك.
وكذلك قال ابن حنبل: كنا نرى السكوت عن هذا قبل أن يخوض فيه هؤلاء، فلما أظهروه لم نجد بدًّا من مخالفتهم والرد عليهم1.
ورسالة "الرد على الجهمية والزنادقة" التي نحن بصدد الحديث عنها فأقول: إن من فضل الله عليَّ أن يسَّر لي العمل في هذه الرسالة
--------------------------------------------
কেউ কেউ ইমাম আহমাদ 'আল-মুসনাদ' ব্যতীত অন্য কোনো কিতাব রচনা করেছেন বলে অস্বীকার করেন। তবে এতে অতিশয়োক্তি ও পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; তারা দাবি করেন যে তিনি কিতাব রচনায় নিষেধ করতেন।
আমি বলব: হ্যাঁ, তিনি কিতাব রচনা করা এবং বিদআতিদের সাথে উঠাবসা ও তাদের জবাব প্রদান থেকে নিষেধ করতেন। কিন্তু এটি ছিল প্রাথমিক সময়ের কথা। অতঃপর যখন পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটল এবং বাতিল সুলতানের ক্ষমতার আড়ালে আত্মপ্রকাশ করল, তখন এই বাতিলকে প্রতিরোধ করা, পরাভূত করা এবং অসার প্রতিপন্ন করা অপরিহার্য হয়ে পড়ল।
ইমাম আদ-দারিমি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: যখন জাহমিয়্যাহরা এ বিষয়ে লিপ্ত হলো এবং তা প্রকাশ করল এবং দাবি করল যে আল্লাহর কালাম মাখলুক (সৃষ্ট), তখন ইবনুল মুবারক তা অস্বীকার করলেন এবং দৃঢ়ভাবে বললেন যে এটি মাখলুক নয়। কেননা যে ব্যক্তি বলবে: {নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই}—এই বাণীটি মাখলুক, সে কাফির।
এটি আমার কাছে ইয়াহইয়া আল-হিমানি, হাসান বিন আর-রাবি'র সূত্রে ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল মুবারক তাদের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার আগে তা উদ্ধৃত করা অপছন্দ করতেন। কিন্তু যখন তারা তা প্রকাশ করে দিল, তখন তিনি তাদের প্রতিবাদ করলেন এবং বিষয়টিকে দোষণীয় সাব্যস্ত করলেন।
অনুরূপভাবে ইবনু হানবাল বলেছেন: এরা এ বিষয়ে লিপ্ত হওয়ার আগে আমরা এ ব্যাপারে মৌন থাকাই সমীচীন মনে করতাম। কিন্তু যখন তারা তা প্রকাশ করল, তখন তাদের বিরোধিতা করা এবং তাদের জবাব দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় রইল না।১
আর ‘আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ’ নামক যে রিসালাহ বা পুস্তিকা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি, সে সম্পর্কে আমি বলব: এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ যে, তিনি আমাকে এই রিসালাহ নিয়ে কাজ করার সুযোগ সহজ করে দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فهذا شرف لي عظيم ومنة كبرى أن أوفق لخدمة تراث هذا الإمام العلم إمام السنة رحمه الله فأسألك اللهم أن تحشرني وإياه تحت لواء سيد المرسلين محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم، جعلنا الله وإياكم ممن تحيا بهم السنن، وتموت بهم البدع، وتقوى بم قلوب أهل الحق، وتنقمع بهم نفوس أهل الأهواء بمنِّه وكرمه1.
إن اعتماد شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله وتلميذه ابن قيم الجوزية رحمه الله على هذه الرسالة في تقرير عقيدة أهل السنة في كتبهم لهو أكبر دليل على صحة نسبة هذه الرسالة لإمام أهل السنة رحمه الله ولو قلنا غير هذا لشككنا في هذا الحق المثبوث في كتب هذين الإمامين الجليلين ابن تيمية وابن القيم حيث اعتمدا على رسالة مكذوبة، بل هي صحيحة النسبة كصحة نسبة صاحبها لإمامة أهل السنة والجماعة، فلله الحمد من قبل ومن بعد.
وأقول: لو تتبعت كل المواضع التي ذكرت فيها هذه الرسالة أو أخذ منها واستشهد بما فيها لطال المقام، ولكن أكتفي بذكر ما تيسر لي وهو غير قليل، ولو تتبعت لوقفت على كثير.
1- منهاج السنة النبوية، طبع جامعة الإمام بتحقيق الدكتور محمد رشاد سالم، رحمه الله، 484/2-486.
قال شيخ الإسلام رحمه الله: وهو اعتراض قديم من اعتراضات
--------------------------------------------
এটি আমার জন্য এক মহান সম্মান এবং বিশাল অনুগ্রহ যে, আমি এই প্রখ্যাত ইমাম, আহলুস সুন্নাহর ইমাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর জ্ঞানময় ঐতিহ্যের খিদমত করার তাওফিক পেয়েছি। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি যে আপনি আমাকে এবং তাঁকে রাসূলগণের সরদার মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পতাকাতলে হাশর নসিব করবেন। আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যাদের দ্বারা সুন্নাহসমূহ পুনর্জীবিত হয়, বিদআতসমূহ বিলুপ্ত হয়, সত্যপন্থীদের অন্তর শক্তিশালী হয় এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় প্রবৃত্তি পূজারিদের প্রবৃত্তি দমিত হয়১।
নিশ্চয়ই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁদের কিতাবসমূহে আহলুস সুন্নাহর আকিদা বর্ণনার ক্ষেত্রে এই রিসালাহর (পুস্তিকা) ওপর যে নির্ভর করেছেন, তা এই রিসালাহটি আহলুস সুন্নাহর ইমামের প্রতি সাব্যস্ত হওয়ার সবচেয়ে বড় দলিল। যদি আমরা এর বিপরীত কিছু বলতাম, তবে এই দুই মহান ইমাম—ইবনে তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কাইয়্যিম—এর কিতাবসমূহে প্রতিষ্ঠিত এই সত্যের বিষয়েই আমাদের সন্দেহ করতে হতো যে, তাঁরা হয়তো কোনো মিথ্যা সাব্যস্ত করা রিসালাহর ওপর নির্ভর করেছেন। বরং এটি তাঁর প্রতি সাব্যস্ত হওয়া তেমনই সঠিক যেমনটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমাম হিসেবে তাঁর ইমামতের বিষয়টি সঠিক। সুতরাং পূর্বাপর সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য।
আমি বলি: এই রিসালাহটি যেখানে যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে অথবা এটি থেকে যা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এতে যা রয়েছে তা দ্বারা দলিল প্রদান করা হয়েছে—এমন সব স্থান যদি আমি অনুসন্ধান করতাম তবে আলোচনা অনেক দীর্ঘ হয়ে যেত। তবে আমার জন্য যা সহজসাধ্য হয়েছে আমি তা উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হচ্ছি, যা সংখ্যায় কম নয়। আর যদি আমি অনুসন্ধান চালিয়ে যেতাম তবে আরও অনেক কিছুর দেখা পেতাম।
১- মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, জামিআতুল ইমাম থেকে মুদ্রিত, ডক্টর মুহাম্মদ রাশাদ সালিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর তাহকিককৃত, ২/৪৮৪-৪৮৬।
শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এটি আপত্তিগুলোর মধ্যে একটি পুরনো আপত্তি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
نفاة الصفاة، حتى ذكره الإمام أحمد في الرد على الجهمية، فقال: "قالت الجهمية لمّا وصفنا الله بهذه الصفات: إن زعمتم أن الله لم يزل ونوره والله وقدرته
… إلى قوله: فكذلك الله، وله المثل الأعلى وهو بجميع صفاته إله واحد"1.
ثم قال شيخ الإسلام رحمه الله: وهذا الذي ذكره الإمام أحمد يتضمن أسرار هذه المسائل، وبيان الفرق بين ما جاءت به الرسل من الإثبات الموافق لصريح العقل وبين ما تقوله الجهمية وبين أن صفاته داخلة في مسمى أسمائه. أ. هـ.
وقال في موضع آخر، 2/ 568: فهذا مما تنفيه الجهمية نفاة الصفات، وهو مما أنكر السلف والأئمة نفيهم له، كما ذكر ذلك أئمة المسلمين المصنفين في الرد على الجهمية، كالإمام أحمد رضي الله عنه في رده على الجهمية2.
وفي نسخة أخرى لمنهاج السنة النبوية طبع دار الكتب العلمية وضع حواشيه وخرج آياته وأحاديثه عبد الله محمود محمد عمر، 108/3.
قال شيخ الإسلام رحمه الله: وقال الإمام أحمد في خطبة مصنفه الذي صنفه في محبسه في الرد على الزنادقة والجهمية فيما شكت فيه
--------------------------------------------
গুণাবলী অস্বীকারকারীগণ, এমনকি ইমাম আহমাদ একে জাহমিয়াদের খণ্ডনে (আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ) উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: "জাহমিয়্যাহরা বলেছে যখন আমরা আল্লাহকে এই সকল গুণাবলীতে গুণান্বিত করেছি: যদি তোমরা দাবি করো যে আল্লাহ অনাদি কাল থেকে আছেন এবং তাঁর নূর এবং আল্লাহ এবং তাঁর ক্ষমতা
… তাঁর এই কথা পর্যন্ত: তেমনিভাবে আল্লাহ, এবং তাঁর জন্যই সর্বোচ্চ উদাহরণ এবং তিনি তাঁর সকল গুণাবলীসহ এক ইলাহ"১।
অতঃপর শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ইমাম আহমাদ যা উল্লেখ করেছেন তা এই মাসআলাগুলোর রহস্যসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, এবং রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন সেই সাব্যস্তকরণ (ইসবাত) যা স্পষ্ট বিবেকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তার সাথে জাহমিয়াদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে এবং এটিও স্পষ্ট করে যে তাঁর গুণাবলীসমূহ তাঁর নামসমূহের নামকরণের অন্তর্ভুক্ত। (সমাপ্ত)।
এবং তিনি অন্য স্থানে বলেছেন, ২/৫৬৮: এটি গুণাবলী অস্বীকারকারী জাহমিয়াদের অস্বীকারকৃত বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, আর সালাফ ও ইমামগণ তাদের এই অস্বীকারকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেমনটি জাহমিয়াদের খণ্ডনে কিতাব রচনাকারী মুসলিম ইমামগণ উল্লেখ করেছেন, যেমন ইমাম আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) জাহমিয়াদের খণ্ডনে লিখেছেন২।
এবং মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ-এর অন্য একটি পাণ্ডুলিপিতে যা দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ থেকে মুদ্রিত এবং যার টীকা ও আয়াত-হাদিসের উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন আব্দুল্লাহ মাহমুদ মুহাম্মদ উমর, ৩/১০৮।
শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ইমাম আহমাদ তাঁর সংকলিত গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন, যা তিনি কারাগারে থাকাকালীন নাস্তিক ও জাহমিয়াদের সংশয় নিরসনে লিখেছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
من متشابه القرآن وتأولته على غير تأويله. قال: الحمد الله الذي جعل في كل زمان فترة من الرسل.... أ. هـ.
2- الرسالة التدمرية، مع شرحها التحفة المهدية طبع دار الوطن، ص 259.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: ولهذا كان الأئمة كالإمام أحمد وغيره ينكروه على الجهمية وأمثالهم من الذين يحرفون الكلم عن مواضعه تأويل ما تشابه عليهم من القرآن على غير تأويله، كما قال أحمد في كتابه الذي صنفه في الرد على الزنادقة والجهمية فيما شكت فيه من متشابه القرآن وتأولته على غير تأويله، وإنما ذمهم لكونهم تأولوه على غير تأويله....إلخ.
وقال الشارح الشيخ فالح بن مهدي آل مهدي: وقد صنف الإمام أحمد كتابًا في الرد على هؤلاء وسمَّاه: "الرد على الزنادقة والجهمية فيما شكت فيه من متشابه القرآن وتأولته على غير تأويله" فعاب أحمد عليهم أنهم يفسرون القرآن بغير معناه. ثم قال: وهذا الكتاب هو مما ألفه الإمام أحمد بن حنبل في حبسه، وقد ذكره عنه الخلال في كتاب السنة والقاضي أبو يعلى وأبو الفضل التميمي وأبو الوفاء بن عقيل وغير واحد من أصحابه. ثم ذكر الشيخ فالح قطعة كبيرة من الكتاب1.
3- اقتضاء الصراط المستقيم لمخالفة أصحاب الجحيم، طبع دار المسلم تحقيق الدكتور ناصر بن عبد الكريم العقل، حفظه الله، 800/2-801.
--------------------------------------------
কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়াবলি (মুতাশাবিহাত) থেকে এবং তারা সেগুলোর ভুল ব্যাখ্যা করেছিল। তিনি বললেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি রাসূলগণের বিরতিকালে প্রতিটি যুগে... (সমাপ্ত)।
২- আর-রিসালাতুত তাদমুরিয়্যাহ, এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আত-তুহফাতুল মাহদিয়্যাহ সহ, দারুল ওয়াতান সংস্করণ, পৃষ্ঠা ২৫৯।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এই কারণেই ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্য ইমামগণ জাহমিয়্যাহ ও তাদের মতো যারা শব্দসমূহকে তাদের সঠিক স্থান থেকে বিকৃত করে, তাদের প্রতিবাদ করতেন; কারণ তারা কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে। যেমন ইমাম আহমাদ যিনদীক ও জাহমিয়্যাহদের খণ্ডনে রচিত তাঁর গ্রন্থে বলেছেন যে বিষয়ে তারা কুরআনের অস্পষ্ট আয়াতগুলোতে সন্দেহ পোষণ করেছিল এবং সেগুলোর ভুল ব্যাখ্যা করেছিল। মূলত তিনি তাদের নিন্দা করেছেন এ কারণে যে, তারা সেগুলোর ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করেছিল... ইত্যাদি।
ব্যাখ্যাকার শাইখ ফালিহ বিন মাহদী আল-মাহদী বলেছেন: ইমাম আহমাদ এদের খণ্ডনে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: "যিনদীক ও জাহমিয়্যাহরা কুরআনের যেসকল অস্পষ্ট বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছে এবং যেগুলোর ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করেছে তার খণ্ডন"। ইমাম আহমাদ তাদের সমালোচনা করেছেন এ কারণে যে, তারা কুরআনের ব্যাখ্যা তার প্রকৃত অর্থ বাদ দিয়ে প্রদান করে। অতঃপর তিনি বললেন: এই গ্রন্থটি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর কারাবন্দী অবস্থায় রচনা করেছিলেন। তাঁর থেকে এটি খাল্লাল 'সুন্নাহ' গ্রন্থে, কাজী আবু ইয়ালা, আবুল ফজল আত-তামিমী, আবুল ওয়াফা ইবনে আকীল এবং তাঁর একাধিক সঙ্গী বর্ণনা করেছেন। অতঃপর শাইখ ফালিহ সেই কিতাব থেকে একটি বড় অংশ উল্লেখ করেছেন।১
৩- ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম লি-মুখালাফাতি আসহাবিল জাহীম, দারুল মুসলিম সংস্করণ, ডক্টর নাসির বিন আব্দুল কারীম আল-আকল (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) এর তাহকীককৃত, ২/৮০০-৮০১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২০)
قال شيخ الإسلام رحمه الله: والله تعالى هو الذات الموصوفة بصفاته اللازمة، فليس اسم الله متناولاً لذات مجردة عن الصفات أصلاً، ولا يمكن وجود ذلك، ولهذا قال أحمد رحمه الله في مناظرته للجهمية: لا نقول الله وعلمه، والله وقدرته، والله ونوره، ولكن نقول: الله بعلمه وقدرته ونوره هو إله واحد1.
4- جواب أهل العلم والإيمان بتحقيق ما أخبر به رسول الرحمن من أن: {قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ} تعدل ثلث القرآن، طبع دار الوطن للنشر والتوزيع، ص 95.
قال شيخ الإسلام رحمه الله: وهؤلاء كان قصدهم الاحتجاج لبدعتهم فذكر لهم الإمام أحمد رحمه الله من المعارضة والنقض ما يبطلها، وقد تكلم الإمام أحمد في رده على الجهمية في جواب هذا، وبَيَّن أن لفظ الغير لم ينطق به الشرع لا نفيًا ولا إثباتًا2.
5- درء تعارض العقل والنقل، أو موافقة صحيح المنقول لصريح المعقول، طبع دار الكتب العلمية ضبطه وصححه عبد اللطيف عبد الرحمن،377/1، 378.
قال شيخ الإسلام رحمه الله: قال أحمد في ردِّه على الجهمية:
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা হলেন তাঁর অবিচ্ছেদ্য গুণাবলি দ্বারা গুণান্বিত সত্তা। সুতরাং আল্লাহর নাম মোটেও গুণাবলি বর্জিত কোনো নিছক সত্তাকে বোঝায় না এবং এর অস্তিত্বও সম্ভব নয়। এ কারণেই আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) জাহমিয়াদের সাথে তাঁর বিতর্কে বলেছেন: আমরা 'আল্লাহ এবং তাঁর জ্ঞান', 'আল্লাহ এবং তাঁর কুদরত', 'আল্লাহ এবং তাঁর নূর' বলি না; বরং আমরা বলি: আল্লাহ তাঁর জ্ঞান, কুদরত এবং নূরসহ এক ও অদ্বিতীয় ইলাহ ১।
৪- ইলম ও ঈমানওয়ালাদের পক্ষ থেকে রাসূলুর রহমান যা সংবাদ দিয়েছেন তার তাহকীক সহকারে জবাব যে: "বলুন, তিনি আল্লাহ এক" কুরআন মাজীদের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য, দারুল ওয়াতান পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত, পৃষ্ঠা ৯৫।
শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: তাদের উদ্দেশ্য ছিল তাদের বিদআতের সপক্ষে দলিল পেশ করা, ফলে ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) তাদের কাছে এমন প্রতিবাদ ও খণ্ডন উল্লেখ করেছেন যা সেগুলোকে বাতিল করে দেয়। ইমাম আহমাদ জাহমিয়াদের খণ্ডনে এর উত্তরে কথা বলেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, 'গাইর' (অন্য বা ভিন্ন) শব্দটি শরিয়তে অস্বীকৃতি বা স্বীকৃতি—কোনো অর্থেই বর্ণিত হয়নি ২।
৫- দারউ তাআরুদিল আকল ওয়ান নাকল (বিবেচনা ও ঐতিহ্যের বিরোধ নিরসন), অথবা সহীহ বর্ণনার সাথে সুস্পষ্ট যুক্তির সামঞ্জস্য বিধান, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত, আব্দুল লতিফ আব্দুর রহমান কর্তৃক সম্পাদিত ও সংশোধিত, ১/৩৭৭, ৩৭৮।
শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আহমাদ জাহমিয়াদের খণ্ডনে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২১)
باب ما أنكرت الجهمية من أن يكون الله كلّم موسى
… إلى قوله: هل سمعتم أصوات الصواعق التي تقبل في أحلى حلاوة سمعتموها، فكأنه مثله1.
ثم علق ابن تيمية رحمه الله على هذا النقل فقال: وقال الإمام أحمد: وقلنا للجهمية: من القائل يوم القيامة: {يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّي إِلَهَيْنِ مِنْ دُونِ اللَّهِ}
… إلى قوله: ولا نقول: إنه قد كان ولا عظمة له حتى خلق لنفسه عظمة2.
في: 380/1، 381 ذكر شيخ الإسلام رحمه الله نقلاً آخر فقال: ولهذا قال الإمام أحمد في أول خطبته فيما أخرجه في الرد على الزنادقة والجهمية. ثم ذكر الخطبة.
وفي: 407/2، 408 قال ابن تيمية رحمه الله: قال الإمام أحمد: باب بيان ما أنكرت الجهمية من أن يكون الله كلم موسى
… إلى قوله: ولا نقول: إنه كان لا يعلم حتى خلق علمًا فعلم3.
ثم قال: قال الإمام أحمد: قالت الجهمية: إن زعمتم أن الله ونوره والله وقدرته والله وعظمته فقد قلتم بقول النصارى
… إلى قوله: فكذلك الله وله المثل الأعلى بجميع صفاته إله واحد 4.
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ: আল্লাহ মুসার সাথে কথা বলেছেন—জাহমিয়ারা যা অস্বীকার করেছে
… তার এই কথা পর্যন্ত: তোমরা কি সেই বজ্রধ্বনির আওয়াজ শুনেছ যা তোমাদের শোনা সবচাইতে মিষ্টি মিষ্টতার সাথে আসে, যেন সেটি তাঁর মতো।১।
অতপর ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) এই উদ্ধৃতির ওপর মন্তব্য করে বললেন: ইমাম আহমাদ বলেছেন: আমরা জাহমিয়াদের বলেছি: কিয়ামতের দিন কে বলবেন: {হে মারইয়ামের পুত্র ঈসা, তুমি কি মানুষকে বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করো?}
… তার এই কথা পর্যন্ত: এবং আমরা বলি না যে, তিনি এমন ছিলেন যে তাঁর কোনো মহিমা ছিল না যতক্ষণ না তিনি নিজের জন্য মহিমা সৃষ্টি করেছেন।২।
১/৩৮০, ৩৮১ পৃষ্ঠায় শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) অন্য একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বললেন: এই কারণেই ইমাম আহমাদ তাঁর খুতবার শুরুতে যা 'যিন্দিক ও জাহমিয়াদের খণ্ডন' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে তাতে বলেছেন। অতপর তিনি খুতবাটি উল্লেখ করেন।
এবং ২/৪০৭, ৪০৮ পৃষ্ঠায় ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ইমাম আহমাদ বলেছেন: আল্লাহ মুসার সাথে কথা বলেছেন—জাহমিয়ারা যা অস্বীকার করেছে তার বর্ণনার পরিচ্ছেদ
… তার এই কথা পর্যন্ত: এবং আমরা বলি না যে, তিনি জানতেন না যতক্ষণ না তিনি জ্ঞান সৃষ্টি করেছেন অতপর জেনেছেন।৩।
অতপর তিনি বললেন: ইমাম আহমাদ বলেছেন: জাহমিয়ারা বলেছে: যদি তোমরা দাবি করো যে আল্লাহ ও তাঁর নূর, এবং আল্লাহ ও তাঁর ক্ষমতা, এবং আল্লাহ ও তাঁর মহিমা, তবে তোমরা নাসারাদের ন্যায় কথা বললে
… তার এই কথা পর্যন্ত: তদ্রূপ আল্লাহ, এবং তাঁর সকল গুণাবলি সহ তাঁর জন্যই সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত, তিনি একক ইলাহ। ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২২)
ثم ذكر خطبة الكتاب في: 409/2.
ثم ذكر نقلاً آخر، 410/2 فقال: قال أحمد: وكذلك الجهم وشيعته دعوا الناس إلى المتشابه من القرآن والحديث
… إلى قوله: وتبعه على قوله رجال من أصحاب أبي حنيفة وأصحاب عمرو بن عبيد بالبصرة ووضع دين الجهمية1.
ثم ذكر نقلاً آخر في: 415/2 فقال رحمه الله: قال الإمام أحمد عن الجهمية: فإن سألهم الناس عن قوله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ}
… إلى قوله: ولا يشعر أنهم لا يقولون قولهم إلا فرية في الله2.
وفي: 174/3-176 قال شيخ الإسلام رحمه الله: وممن ذكر ذلك الإمام أحمد فيما خرّجه في الرد على الزنادقة والجهمية، قال: بيان ما أنكرت الجهمية الضلال أن يكون الله على العرش
… إلى قوله: رجع عن قوله كله أجمع، وهو قول أهل السنة3.
وذكر شيخ الإسلام نقلاً آخر في: 177/3، 178 فقال رحمه الله: فأبطل الإمام أحمد هذا القول أيضًا فقال: بيان ما ذكره الله في القرآن من قوله تعالى: {وَهُوَ مَعَكُم} وهذا على وجوه
… إلى قوله: فعند ذلك تبين للناس كذبهم على الله جل ثناؤه4.
--------------------------------------------
এরপর তিনি ২/৪০৯ পৃষ্ঠায় গ্রন্থের ভূমিকা উল্লেখ করেছেন।
এরপর তিনি ২/৪১০ পৃষ্ঠায় অন্য একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বলেছেন: আহমাদ বলেছেন: একইভাবে জাহম ও তার অনুসারীরা মানুষকে কুরআন ও হাদীসের মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট বা রূপক) বিষয়গুলোর দিকে আহ্বান জানিয়েছে
… তাঁর এই কথা পর্যন্ত: এবং বসরার আবু হানিফার কিছু অনুসারী এবং আমর ইবনে উবাইদ-এর অনুসারীরা তার মতাদর্শ অনুসরণ করেছে এবং জাহমিয়া মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেছে।১।
এরপর তিনি ২/৪১৫ পৃষ্ঠায় অন্য একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ইমাম আহমাদ জাহমিয়াদের সম্পর্কে বলেছেন: যদি মানুষ তাদের মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে: {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই}
… তাঁর এই কথা পর্যন্ত: এবং তিনি অনুভব করেন না যে, তারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ ছাড়া অন্য কোনো কথা বলছে না।২।
এবং ৩/১৭৪-১৭৬ পৃষ্ঠায় শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: যারা এটি উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে ইমাম আহমাদ অন্যতম, যা তিনি 'আর-রাদ্দু আলায যিনাদিক্বা ওয়াল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: পথভ্রষ্ট জাহমিয়্যারা আল্লাহ আরশের উপর থাকাকে যে অস্বীকার করেছে তার বর্ণনা
… তাঁর এই কথা পর্যন্ত: সে তার পূর্বের সকল বক্তব্য থেকে সম্পূর্ণরূপে ফিরে এসেছে, এবং এটিই আহলে সুন্নাতের বক্তব্য।৩।
শাইখুল ইসলাম ৩/১৭৭, ১৭৮ পৃষ্ঠায় অন্য একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বলেছেন (রহিমাহুল্লাহ): ইমাম আহমাদ এই বক্তব্যকেও বাতিল করে দিয়েছেন এবং বলেছেন: আল্লাহ কুরআনে যা উল্লেখ করেছেন সে সম্পর্কে বর্ণনা, আল্লাহর বাণী: {এবং তিনি তোমাদের সাথেই আছেন}, এটি কয়েকটি দিক থেকে ব্যাখ্যাযোগ্য
… তাঁর এই কথা পর্যন্ত: সেই সময় মানুষের নিকট মহান আল্লাহর প্রতি তাদের মিথ্যাচার প্রকাশ হয়ে পড়ল।৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وفي" 9/4 قال شيخ الإسلام رحمه الله: قال أحمد فيما كتبه: ثم إن الجهمي ادعى أمرًا آخر، فقال: أنا أجد آية في كتاب الله تدل على أن القرآن مخلوق
… إلى قوله: كما يقال: عبد الله وسماء الله وأرض الله1.
6- تفسير سورة الإخلاص، طبع دار الريان للتراث والدار السلفية بومباي الهند، تحقيق الدكتور عبد العلي عبد الحميد حامد.
قال شيخ الإسلام، رحمه الله "ص153، 154": قال الإمام أحمد في خطبته في الرد على الجهمية والزنادقة. وذكر الخطبة.
وفي: 239 قال رحمه الله: وكلام الإمام أحمد وغيره من السلف يحتمل أن يراد به هذا، فإن أحمد ذكر في رده على الجهمية أنها احتجت بثلاث آيات من المتشابه
… ثم قال: وكذلك قال أحمد في ترجمة كتابه الذي صنفه في الحبس، وهو: الرد على الزنادقة والجهمية فيما شكت فيه من متشابه القرآن وتأولته على غير تأويله.
وفي: ص 274، قال شيخ الإسلام رحمه الله: كما قال الإمام أحمد فيما كتبه في الرد على الزنادقة والجهمية فيما شكت فيه من متشابه القرآن وتأولته على غير تأويله.
وفي: ص 317، قال رحمه الله: قال أحمد: قالوا: لا تكونون
--------------------------------------------
এবং '৯/৪'-এ শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আহমদ তাঁর লিখিত বক্তব্যে বলেছেন: অতঃপর জাহমি অন্য একটি দাবি করল, সে বলল: আমি আল্লাহর কিতাবে এমন একটি আয়াত পেয়েছি যা প্রমাণ করে যে কুরআন সৃষ্ট... তাঁর এই কথা পর্যন্ত: যেমন বলা হয়: আল্লাহর বান্দা, আল্লাহর আকাশ এবং আল্লাহর জমিন১।
৬- তাফসির সূরা আল-ইখলাস, প্রকাশনায় দারুর রায়য়ান লিত-তুরাস এবং আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ বোম্বে ভারত, সম্পাদনায় ডক্টর আব্দুল আলী আব্দুল হামিদ হামিদ।
শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন "পৃষ্ঠা ১৫৩, ১৫৪": ইমাম আহমদ তাঁর 'জাহমি ও যিন্দিকদের খণ্ডন' শীর্ষক গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন। এবং তিনি ভূমিকাটি উল্লেখ করেছেন।
এবং ২৩৯ পৃষ্ঠায় তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ইমাম আহমদ এবং সালাফদের অন্যান্যদের বক্তব্যের উদ্দেশ্য সম্ভবত এটিই হতে পারে, কারণ আহমদ জাহমিদের খণ্ডনে উল্লেখ করেছেন যে, তারা তিনটি অস্পষ্ট (মুতাশাবিহ) আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছিল... অতঃপর তিনি বললেন: একইভাবে আহমদ তাঁর সেই গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন যা তিনি কারাগারে থাকাকালীন রচনা করেছিলেন, আর তা হলো: যিন্দিক ও জাহমিদের খণ্ডন—কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাপারে তারা যা সন্দেহ করেছে এবং এর যে ভুল ব্যাখ্যা করেছে তার প্রতিবাদে।
এবং ২৭৪ পৃষ্ঠায় শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: যেমন ইমাম আহমদ তাঁর লিখিত সেই গ্রন্থে বলেছেন যেখানে তিনি যিন্দিক ও জাহমিদের খণ্ডন করেছেন কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাপারে তারা যে সন্দেহ পোষণ করেছে এবং এর যে ভুল ব্যাখ্যা করেছে তার প্রতিবাদে।
এবং ৩১৭ পৃষ্ঠায় তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আহমদ বলেছেন: তারা বলেছে: তোমরা হবে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
موحدين أبدًا حتى تقولوا قد كان الله ولا شيء
… إلى قوله: ولكن نقول: لم يزل عالِمًا قادرًا مالكًا لا متى ولا كيف1.
7- بيان تلبيس الجهمية في تأسيس بدعهم الكلامية، أو نقض تأسيس الجهمية، طبع دار القاسم بتصحيح وتكميل وتعليق الشيخ محمد بن عبد الرحمن بن قاسم رحمه الله.
قال شيخ الإسلام، رحمه الله، 139/1: وذلك أن مبدأ حدوث هذا في الإسلام هو مناظرة الجهمية للدهرية، كما ذكره الإمام أحمد -رحمه الله تعالى- في مناظرة جهم للسمنية وهم من الدهرية2.
وقال رحمه الله في، 315/1: كما قال الإمام أحمد رحمه الله في رده على الجهمية لما ذكر عنهم ما وصفوه من السلوب وأنهم قالوا: كل ما خطر على قلبك أنه شيء تعرفه فهو على خلافه
… إلى قوله: إنما تدفعون عن أنفسكم الشنعة بما تظهرونه3.
وقال رحمه الله في: 318/1-319، 53/2-54، 350/2-351: وقد ذكر الإمام أحمد رحمه الله أصل هذا النقل لما ذكر مبدأ حدوث الجهمية في هذه الملة، فقال: وكان مما بلغنا من أمر الجهم عدو الله أنه كان من أهل خراسان من الترمذ، وكان صاحب خصومات
--------------------------------------------
ততক্ষণ পর্যন্ত একত্ববাদী হতে পারবেন না যতক্ষণ না বলবেন যে, আল্লাহ ছিলেন এবং অন্য কিছুই ছিল না
… তাঁর এই কথা পর্যন্ত: কিন্তু আমরা বলি: তিনি অনাদি কাল থেকেই মহাজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান এবং মালিক; তাঁর জন্য কোনো 'কখন' বা 'কেমন' নেই।
৭- বায়ানু তালবিসিল জাহমিয়্যাহ ফি তসিস বিদাউহিমিল কালামিয়্যাহ, অথবা নাকদু তসিসিল জাহমিয়্যাহ, দারুল কাসিম থেকে প্রকাশিত, শাইখ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন কাসিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সংশোধন, পরিবর্ধন ও টীকা সহকারে।
শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) ১/১৩৯-এ বলেছেন: ইসলামে এই বিষয়ের উৎপত্তির সূচনা মূলত দাহরিয়াদের (নাস্তিক/বস্তুবাদী) সাথে জাহমিয়াদের বিতর্কের মাধ্যমে, যেমনটি ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) সুমানিয়াদের সাথে জাহমের বিতর্কের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, আর তারা ছিল দাহরিয়াদের অন্তর্ভুক্ত।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ১/৩১৫-এ বলেছেন: ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) জাহমিয়াদের খণ্ডনে যেমনটি বলেছেন, যখন তিনি তাদের বর্ণিত নেতিবাচক গুণাবলি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে তারা বলে: তোমার অন্তরে আল্লাহ সম্পর্কে যা কিছু উদিত হয় যে তিনি এমন কিছু যা তুমি চেনো, তিনি মূলত তার বিপরীত
… তাঁর এই কথা পর্যন্ত: তোমরা যা প্রকাশ করছ তা দিয়ে কেবল নিজেদের থেকে কলঙ্কই দূর করতে চাইছ।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ১/৩১৮-৩১৯, ২/৫৩-৫৪, ২/৩৫০-৩৫১-এ বলেছেন: ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) এই বর্ণনার মূল উৎস উল্লেখ করেছেন যখন তিনি এই মিল্লাতে জাহমিয়া মতবাদের উৎপত্তির সূচনা আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন: আল্লাহর শত্রু জাহমের ব্যাপারে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তা হলো—সে ছিল খোরাসানের তিরমিজ এলাকার লোক এবং সে ছিল ঝগড়াটে স্বভাবের লোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وكلام
… إلى قوله: وكان من المشبهة فأضل بكلامه بشرًا كثيرًا 1. وانظر أيضًا، 393/1، 419.
وقال في، 463/1، 464: وممن نبه عليه الإمام أحمد قال في رسالته في: الرد على الزنادقة والجهمية، فقالت الجهمية لنا لما وصفنا هذه الصفات
… إلى قوله: وله المثل الأعلى بجميع صفاته إلى واحد2. وانظر أيضًا: 466/1، 467، 474.
وانظر أيضًا بيان تلبيس الجهمية: 12/2، 53، 56، 57، 60، 350، 519، 534، 542، 546، 548، 549، 551.
8- مجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية، جمع وترتيب عبد الرحمن محمد القاسم رحمه الله.
قال ابن تيمية رحمه الله في، 496/5: وقد بسط الإمام أحمد الكلام على المعية في الرد على الجهمية.
قال ابن تيمية رحمه الله في، 440/12، 441: إن الإمام أحمد صنف، الرد على الزنادقة والجهمية، وهو في الحبس وكتبه بخطه.
وقال أيضًا رحمه الله في، 317/16: كما قال أحمد في خطبته: الحمد الله الذي جعل في كل زمان فترة من الرسل
…9- الإبانة عن شريعة الفرقة الناجية ومجانبة الفرق المذمومة، لابن بطة العكبري، طبع دار الراية، تحقيق: د. يوسف بن عبد الله الوابل
--------------------------------------------
এবং ... এর কথা তার এই উক্তি পর্যন্ত: "এবং সে মুসাব্বিহাদের (সাদৃশ্যদানকারী) অন্তর্ভুক্ত ছিল, ফলে সে তার কথার মাধ্যমে বহু মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে ১। আরও দেখুন, ১/৩৯৩, ৪১৯।"
এবং তিনি ১/৪৬৩, ৪৬৪ পৃষ্ঠায় বলেছেন: যাদের ব্যাপারে ইমাম আহমাদ সতর্ক করেছেন, তাদের সম্পর্কে [ইবনু তাইমিয়্যাহ] বলেছেন যে, ইমাম আহমাদ তাঁর ‘আর-রদ্দু আলায যানাদিকা ওয়াল জাহমিয়্যাহ’ (যিন্দীক ও জাহমিয়াদের প্রতিবাদ) নামক রিসালায় বলেছেন: যখন আমরা এই গুণাবলী বর্ণনা করলাম, তখন জাহমিয়ারা আমাদের বলল
… তাঁর এই উক্তি পর্যন্ত: "এবং তাঁর সকল গুণাবলীর মাধ্যমে তাঁরই জন্য সর্বোচ্চ উদাহরণ নিহিত ২। আরও দেখুন: ১/৪৬৬, ৪৬৭, ৪৭৪।"
এবং আরও দেখুন বায়ানু তালবিসিল জাহমিয়্যাহ: ২/১২, ৫৩, ৫৬, ৫৭, ৬০, ৩৫০, ৫১৯, ৫৩৪, ৫৪২, ৫৪৬, ৫৪৮, ৫৪৯, ৫৫১।
৮- মাজমু' ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, সংগ্রহ ও বিন্যাস: আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ আল-কাসিম (রাহিমাহুল্লাহ)।
ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ৫/৪৯৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন: ইমাম আহমাদ ‘আর-রদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ’ গ্রন্থে ‘মায়িয়াত’ (আল্লাহর সাথে থাকা) বিষয়ে আলোচনা বিস্তারিত করেছেন।
ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ১২/৪৪০, ৪৪১ পৃষ্ঠায় বলেছেন: ইমাম আহমাদ কারাবন্দী থাকা অবস্থায় ‘আর-রদ্দু আলায যানাদিকা ওয়াল জাহমিয়্যাহ’ গ্রন্থটি রচনা করেছেন এবং তা নিজ হাতে লিখেছেন।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ১৬/৩১৭ পৃষ্ঠায় আরও বলেছেন: যেমন ইমাম আহমাদ তাঁর ভাষণে বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রাসূলদের আগমনের বিরতিকালীন প্রতিটি যুগে এমন একদল অবশিষ্ট লোক রেখেছেন
…৯- আল-ইবানাহ আন শারিয়াতিল ফিরকাতিন নাজিয়াহ ওয়া মুজানাবাতিল ফিরাকিল মাযমুমাহ, লেখক: ইবনু বাত্তাহ আল-উকবারী, প্রকাশনা: দারুর রায়াহ, তাহকীক: ড. ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ আল-ওয়াবিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الكتاب الثالث، الرد على الجهمية.
يقول المحقق الدكتور يوسف الوابل حفظه الله، 169/1، 170: مصادر ابن بطة في كتابه الإبانة:
الإمام ابن بطة من العلماء الأثريين الذين يعتمدون على الكتاب السنة وأقوال الصحابة والتابعين وعامة أقوال السلف، ولهذا فقد تأثر الإمام ابن بطة بمن سبقه من علماء السلف تأثرًا واضحًا، وخاصة الإمام أحمد بن حنبل، فنجده ينقل كثيرًا من أقواله بالسند المتصل إلى الإمام، ويجعل ذلك أصلاً يعتمد فيه على الاستدلال بعد الكتاب والسنة وأقوال الصحابة رضي الله عنهم.
وعامة هذه الآثار التي يوردها نجدها في كتب من سبقه من أهل السنة والجماعة، فينقلها المؤلف بالسند المتصل إلى أصحاب هذه الكتب، ومن هذه الكتب:
كتاب الرد على الجهمية للإمام أحمد.
وذكر المحقق -حفظه الله- غير ذلك من مصادر ابن بطة في كتابه الإبانة.
وقد اقتبس ابن بطة رحمه الله من رسالة الإمام أحمد الكثير، فانظر لذلك، 86/2-89، يقابل في نسخة د. عميرة: 101-104، 157/2، 160. الموافق لنسخة الدكتور عميرة، ص: 106-108.
وكذا في: 166/2، 167 يقابل في الرد نسخة د. عميرة، ص: 112، 113.
তৃতীয় গ্রন্থ, জাহমিয়াদের খণ্ডন।
গবেষক ডক্টর ইউসুফ আল-ওয়াবিল (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) বলেন, ১/১৬৯, ১৭০: তাঁর 'আল-ইবানা' গ্রন্থে ইবনু বাত্তার উৎসসমূহ:
ইমাম ইবনু বাত্তা হলেন সেই সকল আসার-পন্থী আলেমদের অন্তর্ভুক্ত যারা কিতাব, সুন্নাহ, সাহাবী ও তাবিঈগণের বক্তব্য এবং সালাফদের সাধারণ উক্তিগুলোর ওপর নির্ভর করেন। এই কারণে ইমাম ইবনু বাত্তা তাঁর পূর্ববর্তী সালাফ আলেমদের দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রভাবিত ছিলেন, বিশেষ করে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল দ্বারা। ফলে আমরা তাকে ইমামের অনেক বক্তব্য নিরবচ্ছিন্ন সনদে উদ্ধৃত করতে দেখি এবং কিতাব, সুন্নাহ ও সাহাবীগণের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বক্তব্যের পর তিনি এটিকে দলীল গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করেন।
তিনি যেসব আসার উল্লেখ করেছেন তার সাধারণ অংশ আমরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পূর্ববর্তী আলেমদের কিতাবসমূহে দেখতে পাই, গ্রন্থকার এই কিতাবগুলোর রচয়িতাদের পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সনদে সেগুলো বর্ণনা করেছেন, আর এই কিতাবগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ইমাম আহমাদের 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়া' (জাহমিয়াদের খণ্ডন) গ্রন্থ।
গবেষক (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) তাঁর 'আল-ইবানা' গ্রন্থে ইবনু বাত্তার আরও অন্যান্য উৎসের কথা উল্লেখ করেছেন।
ইবনু বাত্তা (রহিমাহুল্লাহ) ইমাম আহমাদের পুস্তিকা থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন; এ বিষয়ে দেখুন, ২/৮৬-৮৯, যা ডক্টর উমাইরার পাণ্ডুলিপিতে ১০১-১০৪ পৃষ্ঠার অনুরূপ, এবং ২/১৫৭, ১৬০, যা ডক্টর উমাইরার পাণ্ডুলিপির ১০৬-১০৮ পৃষ্ঠার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অনুরূপভাবে: ২/১৬৬, ১৬৭ যা 'আর-রাদ্দ' গ্রন্থের ডক্টর উমাইরার পাণ্ডুলিপির ১১২, ১১৩ পৃষ্ঠার অনুরূপ।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وكذا في 170/2، 171 يقابل في الرد نسخة د. عميرة ص 114، 115.
وكذا في 175/2 يقابل في الرد نسخة د. عميرة ص 133، 134.
وكذا في 179/2 يقابل في الرد نسخة د. عميرة ص 110.
وكذا في 183/2 يقابل في الرد نسخة د. عميرة ص 120.
وكذا في 195/2 يقابل في الرد نسخة د. عميرة ص 143، 144.
وكذا في 197/2 يقابل في الرد نسخة د. عميرة ص 130.
وكذا في 198/2 يقابل في الرد نسخة د. عميرة 123-125.
وكذا في 202/2 يقابل في الرد نسخة د. عميرة ص 145.
وكذا في 301/2 يقابل في الرد نسخة د. عميرة ص 130، 131.
وكذا في 3/ 3-5 يقابل في الرد نسخة د. عميرة ص 128، 129.
10- الفهرست لابن النديم. طبع دار المعرفة، اعتنى بها وعلق عليها الشيخ إبراهيم رمضان، ص: 281.
قال رحمه الله: أحمد بن حنبل، وهو أبو عبد الله أحمد بن حنبل وله من الكتب: كتاب العلل، كتاب التفسير، كتاب الناسخ والمنسوخ، كتاب الزهد، كتاب المسائل، كتاب الفضائل، كتاب الفرائض، كتاب المناسك، كتاب الأيمان، كتاب الأشربة، كتاب طاعة الرسول، كتاب الرد على الجهمية، كتاب المسند.
11- اجتماع الجيوش الإسلامية، لابن قيم الجوزية رحمه الله،
অনুরূপভাবে ২/১৭০, ১৭১-এ; যা 'আর-রাদ্দ' গ্রন্থের ড. উমাইরাহ সংস্করণের ১১৪, ১১৫ পৃষ্ঠার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
অনুরূপভাবে ২/১৭৫-এ; যা 'আর-রাদ্দ' গ্রন্থের ড. উমাইরাহ সংস্করণের ১৩৩, ১৩৪ পৃষ্ঠার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
অনুরূপভাবে ২/১৭৯-এ; যা 'আর-রাদ্দ' গ্রন্থের ড. উমাইরাহ সংস্করণের ১১০ পৃষ্ঠার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
অনুরূপভাবে ২/১৮৩-এ; যা 'আর-রাদ্দ' গ্রন্থের ড. উমাইরাহ সংস্করণের ১২০ পৃষ্ঠার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
অনুরূপভাবে ২/১৯৫-এ; যা 'আর-রাদ্দ' গ্রন্থের ড. উমাইরাহ সংস্করণের ১৪৩, ১৪৪ পৃষ্ঠার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
অনুরূপভাবে ২/১৯৭-এ; যা 'আর-রাদ্দ' গ্রন্থের ড. উমাইরাহ সংস্করণের ১৩০ পৃষ্ঠার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
অনুরূপভাবে ২/১৯৮-এ; যা 'আর-রাদ্দ' গ্রন্থের ড. উমাইরাহ সংস্করণের ১২৩-১২৫ পৃষ্ঠার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
অনুরূপভাবে ২/২০২-এ; যা 'আর-রাদ্দ' গ্রন্থের ড. উমাইরাহ সংস্করণের ১৪৫ পৃষ্ঠার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
অনুরূপভাবে ২/৩০১-এ; যা 'আর-রাদ্দ' গ্রন্থের ড. উমাইরাহ সংস্করণের ১৩০, ১৩১ পৃষ্ঠার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
অনুরূপভাবে ৩/৩-৫-এ; যা 'আর-রাদ্দ' গ্রন্থের ড. উমাইরাহ সংস্করণের ১২৮, ১২৯ পৃষ্ঠার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
১০- ইবনুন নাদিম রচিত আল-ফিহরিস্ট। দারুল মা'রিফাহ সংস্করণ, এটি সম্পাদনা ও টীকা প্রদান করেছেন শাইখ ইবরাহিম রামাদান, পৃষ্ঠা: ২৮১।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আহমাদ বিন হানবাল, তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন হানবাল। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: কিতাবুল ইলাল, কিতাবুত তাফসির, কিতাবুন নাসিখ ওয়াল মানসুখ, কিতাবুয যুহদ, কিতাবুল মাসায়িল, কিতাবুল ফাদায়িল, কিতাবুল ফারায়িদ, কিতাবুল মানাসিক, কিতাবুল আইমান, কিতাবুল আশরিবাহ, কিতাবুত তাআতিল রাসূল, কিতাবুর রাদ্দ আলাল জাহমিয়্যাহ এবং কিতাবুল মুসনাদ।
১১- ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত ইজতিমাউল জুয়ুশিল ইসলামিয়্যাহ,
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
طبع مكتب الرشد، إعداد وتحقيق الدكتور عواد عبد الله المعتق، انظر: ص: 220-213.
قال ابن القيم رحمه الله: قال الخلال: كتبت هذا الكتاب من خط عبد الله وكتبه عبد الله من خط أبيه. واحتج القاضي أبو يعلى في كتابه: إبطال التأويل، بما نقله منه عن أحمد، وذكر ابن عقيل في كتابه بعض ما فيه عن أحمد، ونقل منه أصحابه قديْمًا وحديثًا ونقل منه البيهقي، وعزاه إلى أحمد، وصححه شيخ الإسلام ابن تيمية عن أحمد، ولم يسمع من أحد من متقدمي أصحابه ولا متأخيرهم، طعن فيه، فإن قيل هذا الكتاب يرويه أبو بكر عبد العزيز غلام الخلال عن الخلال عن الخضر بن المثنى عن عبد الله بن أحمد عن أبيه، وهؤلاء كلهم أئمة معروفون إلا الخضر بن المثنى، فإنه مجهول فكيف تثبتون هذا الكتاب عن أحمد برواية مجهولة، فالجواب من وجوه.
أحدها: أن الخضر هذا قد عرفه الخلال وروى عنه كما روى كلام عن أبي عبد الله عن أصحابه وأصحاب أصحابه، ولا يضر جهالة غيره له.
الثاني: أن الخلال قد قال: كتبته من خط عبد الله بن أحمد وكتبه عبد الله من خط أبيه. والظاهر أن الخلال إنما رواه عن الخضر؛ لأنه أحب أن يكون متصل السند على طريق أهل النقل، وضم ذلك إلى الوجادة، والخضر كان صغيرًا حين سمعه من عبد الله، ولم يكن من المعمرين المشهورين بالعلم ولا هو من الشيوخ، وقد روى الخلال عنه
মাকতাবাতুর রুশদ কর্তৃক মুদ্রিত, ড. আওয়াদ আব্দুল্লাহ আল-মু’তিক কর্তৃক সম্পাদিত ও তাহকিককৃত, দেখুন: পৃষ্ঠা: ২২০-২১৩।
ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আল-খাল্লাল বলেছেন: আমি এই বইটি আব্দুল্লাহর হস্তলিপি থেকে লিখেছি এবং আব্দুল্লাহ এটি তার পিতার হস্তলিপি থেকে লিখেছিলেন। কাযী আবু ইয়ালা তার ‘ইবতালুত তাউইল’ গ্রন্থে ইমাম আহমদ থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। ইবনু আকিল তার গ্রন্থে আহমদ থেকে এতে যা আছে তার কিছু উল্লেখ করেছেন। প্রাচীন ও আধুনিক সকল অনুসারীগণ এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং আল-বাইহাকীও এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে আহমদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এটিকে আহমদের পক্ষ থেকে সহিহ বলেছেন। তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী অনুসারীদের কারও পক্ষ থেকে এতে কোনো আপত্তি বা সমালোচনা শোনা যায়নি। যদি বলা হয় যে, এই বইটি আবু বকর আব্দুল আজিজ গুলামুল খাল্লাল বর্ণনা করেছেন আল-খাল্লাল থেকে, তিনি আল-খিদর বিন আল-মুসান্না থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন আহমদ থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে। আর আল-খিদর বিন আল-মুসান্না ছাড়া তারা সকলেই সুপরিচিত ইমাম। অথচ তিনি অপরিচিত (মাজহুল); সুতরাং আপনারা একজন অপরিচিত ব্যক্তির বর্ণনার মাধ্যমে আহমদের পক্ষ থেকে এই কিতাবটি কীভাবে সাব্যস্ত করছেন? এর উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়।
প্রথমত: এই খিদরকে আল-খাল্লাল চিনতেন এবং তার থেকে বর্ণনা করেছেন, যেভাবে তিনি আবু আব্দুল্লাহর কথা তার অনুসারী ও অনুসারীদের অনুসারীদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আর অন্য কেউ তাকে না চিনলে তাতে কোনো ক্ষতি নেই।
দ্বিতীয়ত: আল-খাল্লাল বলেছেন: আমি এটি আব্দুল্লাহ ইবন আহমদের হস্তলিপি থেকে লিখেছি এবং আব্দুল্লাহ এটি তার পিতার হস্তলিপি থেকে লিখেছিলেন। বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, আল-খাল্লাল এটি খিদরের মাধ্যমে কেবল এজন্যই বর্ণনা করেছেন যেন বর্ণনাকারীদের পদ্ধতি অনুযায়ী সনদটি সংযুক্ত হয় এবং তিনি বিষয়টিকে হস্তলিপি থেকে প্রাপ্তির (বিজাতাহ) সাথে যুক্ত করেছেন। আব্দুল্লাহর নিকট থেকে শোনার সময় খিদর অল্পবয়স্ক ছিলেন, তিনি ইলমের জন্য প্রসিদ্ধ কোনো দীর্ঘজীবী ব্যক্তি ছিলেন না এবং তিনি বড় মাশায়েখদের অন্তর্ভুক্তও ছিলেন না। তবে আল-খাল্লাল তার থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
غير هذا في جامعه1.
ثم قال رحمه الله: ومما يدل على صحة هذا الكتاب ما ذكره القاضي أبو الحسين ابن القاضي أبي يعلى، فقال: قرأت في كتاب أبي جعفر محمد بن أحمد بن صالح بن أحمد بن حنبل، قال: قرأت على أبي صالح بن أحمد بن حنبل هذا الكتاب، وقال: هذا كتاب عمله أبي في محبسه2 ردًّا على من احتج بظاهر القرآن وترك ما فسره رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وما يلزم اتباعه3.
--------------------------------------------
তিনি তাঁর জামে গ্রন্থে এটি ছাড়া অন্য কিছুও উল্লেখ করেছেন১।
এরপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এই কিতাবটির বিশুদ্ধতার ওপর যা প্রমাণ দেয় তা হলো কাজি আবুল হুসাইন ইবনে কাজি আবু ইয়ালা যা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: আমি আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন সালিহ বিন আহমাদ বিন হাম্বলের কিতাবে পড়েছি, তিনি বলেছেন: আমি আমার পিতা সালিহ বিন আহমাদ বিন হাম্বলের নিকট এই কিতাবটি পাঠ করেছি। তিনি বলেছেন: এটি এমন এক কিতাব যা আমার পিতা তাঁর কারাবন্দী অবস্থায়২ রচনা করেছেন সেইসব ব্যক্তির প্রতিবাদে যারা কুরআনের বাহ্যিক পাঠ দিয়ে দলিল পেশ করে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এর ব্যাখ্যা ও যা অনুসরণ করা আবশ্যক তা বর্জন করে৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ترجمة الإمام أحمد بن حنبل، رحمه الله
هو الإمام أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال بن أسد، أبو عبد الله إمام المحدثين، الناصر للدين، والمناضل عن السنة، والصابر في المحنة، مروزي الأصل، قدمت أمه بغداد وهي حامل، فولدته، ونشأ بها، وطلب العلم، وسمع الحديث من شيوخها، ثم رحل إلى الكوفة والبصرة ومكة والمدينة واليمن والشام والجزيرة، فكتب عن علماء ذلك العصر.
توفي أبوه محمد بن حنبل وله ثلاثون سنة فوليته أمه1.
ولد في ربيع الأول سنة أربع وستين ومائة.
قال أبو بكر المروزي: قال لي أبو عبد الله: كنت وأنا غليم أختلف إلى الكتاب، ثم أختلف إلى الديوان وأنا ابن أربع عشرة سنة2.
وطلبت الحديث وأنا ابن ست عشرة سنة 3.
أما عِلْمه وإمامته في الدين:
فقد قال إبراهيم الحربي: رأيت أبا عبد الله كأن الله جمع له
--------------------------------------------
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী
তিনি হলেন ইমাম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ, আবু আব্দুল্লাহ, মুহাদ্দিসগণের ইমাম, দ্বীনের সাহায্যকারী, সুন্নাহর জন্য সংগ্রামকারী এবং কঠিন পরীক্ষার সময় ধৈর্যধারণকারী। তিনি বংশগতভাবে মার্ভের অধিবাসী; তার মা গর্ভবতী অবস্থায় বাগদাদে আসেন এবং সেখানেই তাকে প্রসব করেন। তিনি বাগদাদেই বেড়ে ওঠেন, জ্ঞান অন্বেষণ করেন এবং সেখানকার শায়খদের নিকট হাদীস শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি কুফা, বসরা, মক্কা, মদিনা, ইয়েমেন, শাম ও আল-জাজিরায় সফর করেন এবং সেই যুগের আলেমদের থেকে ইলম লিপিবদ্ধ করেন।
তার পিতা মুহাম্মাদ বিন হাম্বল ত্রিশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন, ফলে তার মা তার লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করেন।১
তিনি ১৬৪ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন।
আবু বকর আল-মারওয়াযী বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আমাকে বলেছেন: আমি যখন ছোট বালক ছিলাম তখন মক্তবে যাতায়াত করতাম, অতঃপর চৌদ্দ বছর বয়সে আমি দিওয়ানে যাতায়াত শুরু করি।২
আর আমি ষোলো বছর বয়স থেকে হাদীস অন্বেষণ শুরু করি।৩
দ্বীনের ক্ষেত্রে তার ইলম ও ইমামত সম্পর্কে:
ইবরাহীম আল-হারবী বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে দেখেছি, যেন আল্লাহ তার জন্য একত্রিত করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যানাদিকাহ লিল ইমাম আহমাদ তাহকীক সাবরি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
علم الأولين والآخرين من كل صنف1.
وقال الشافعي: أحمد إمام في ثماني خصال: إمام في الحديث، وإمام في الفقه، وإمام في اللغة، وإمام في القرآن، وإمام في الفقر، وإمام في الزهد، وإمام في الورع، وإمام في السنة2.
وقال صالح وعبد الله ابنا أحمد بن حنبل: إن أباهما كتب بخطه ألف ألف حديث.
وقال أبو زرعة لعبد الله بن أحمد: أبوك يحفظ ألف ألف حديث3.
وقال عبد الله بن داود الخريبي: كان الأوزاعي أفضل أهل زمانه، وكان بعده أبو إسحاق الفزاري أفضل أهل زمانه.
قال نصر بن علي: وأنا أقول: كان أحمد بن حنبل أفضل أهل زمانه
…وقال قتيبة: لولا الثوري لمات الورع، ولو أحمد بن حنبل لأحدثوا في الدين.
قلت: "القائل هو أبو عبد الرحمن عبد الله بن أحمد بن شبويه": تضم أحمد بن حنبل إلى أحد التابعين؟ فقال: إلى كبار التابعين
…وقال أيضًا قتيبة: أحمد بن حنبل وإسحاق بن راهويه إماما
--------------------------------------------
প্রতিটি প্রকারের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তীগণের জ্ঞান ১।
ইমাম শাফিঈ বলেন: আহমাদ আটটি বৈশিষ্ট্যে ইমাম: তিনি হাদিসের ইমাম, ফিকহের ইমাম, ভাষার ইমাম, কুরআনের ইমাম, দারিদ্র্যের ইমাম, দুনিয়াবিমুখতার ইমাম, আল্লাহভীতির ইমাম এবং সুন্নাহর ইমাম ২।
আহমাদ ইবনে হাম্বলের দুই পুত্র সালিহ ও আবদুল্লাহ বলেন: তাঁদের পিতা নিজ হাতে দশ লক্ষ হাদিস লিখেছেন।
আবু যুরআ আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদকে বলেন: তোমার পিতা দশ লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন ৩।
আবদুল্লাহ ইবনে দাউদ আল-খুরাইবি বলেন: আওযাঈ তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন এবং তাঁর পরে আবু ইসহাক আল-ফাযারি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন।
নাসর ইবনে আলী বলেন: আর আমি বলছি: আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন
...কুতাইবাহ বলেন: সুফিয়ান আস-সাওরি না থাকলে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি বিলুপ্ত হয়ে যেত, আর আহমাদ ইবনে হাম্বল না থাকলে লোকেরা দ্বীনের মধ্যে নতুন নতুন বিষয় (বিদআত) উদ্ভাবন করত।
আমি বললাম—বক্তা হলেন আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে শাবাওয়াইহি—: আপনি কি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে কোন তাবেয়ির সাথে তুলনা করছেন? তিনি বললেন: বরং বড় বড় তাবেয়িদের সাথে
...কুতাইবাহ আরও বলেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ হলেন দুই ইমাম।
--------------------------------------------