(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: -)
أحكام الصف في الصلاة   (عبد الكريم العميريني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: أحكام الصف في الصلاة

المؤلف: عبد الكريم بن محمد بن عبد الله العميريني

أصل الكتاب: [رسالة ماجستير بقسم الفقه، كلية الشريعة والدراسات الإسلامية - جامعة القصيم، بإشراف صالح بن إبراهيم الجديعي 1430 هـ]

تقديم: أ. د. خالد بن علي المشيقح، د. عبد الله بن سليمان المطرودي

الناشر: دار الصميعي للنشر والتوزيع، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 287

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 شعبان 1443

নামাজের কাতার সম্পর্কিত বিধানাবলী   (আব্দুল করীম আল-উমাইরিনী)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: নামাজের কাতার সম্পর্কিত বিধানাবলী

লেখক: আব্দুল করীম বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইরিনী

বইয়ের মূল উৎস: [কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ফিকহ বিভাগের মাস্টার্স থিসিস, তত্ত্বাবধায়ক: সালিহ বিন ইবরাহিম আল-জুদাই' ১৪৩০ হিজরী]

উপস্থাপনা: প্রফেসর ড. খালিদ বিন আলী আল-মুশাইকিহ, ড. আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মাত্রুদী

প্রকাশক: দারুস সুমাইয়ি পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরী - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৭

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ শাবান ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১)
أحكام الصف في الصلاة

 

تأليف

عبد الكريم بن محمد بن عبد الله العميريني

 

تقديم

أ. د. خالد بن علي المشيقح

و

د. عبد الله بن سليمان المطرودي

رئيس قسم الفقه بكلية الشريعة/ جامعة القصيم
সালাতে কাতারের বিধানাবলি

 

রচনা

আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইরিনী

 

উপস্থাপনা

প্রফেসর ড. খালিদ বিন আলী আল-মুশাইকিহ

এবং

ড. আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মাতরূদী

ফিকহ বিভাগের প্রধান, শরীয়াহ অনুষদ/ কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২)
ح عبد الكريم بن محمد بن عبد الله العميرني 1432 هـ

فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر

العميريني، عبد الكريم محمد عبد الله

أحكام الصف في الصلاة

/ عبد الكريم محمد عبد الله العميريني، بريدة 1431 هـ

292 ص؛ 17 × 24 سم

ردمك: 2 - 6097 - 00 - 603 - 978

1 - الصلاة، أ- العنوان

ديوي: 252.2 … 8645/ 1431

رقم الإيداع: 8645/ 1431

ردمك: 2 - 6097 - 00 - 603 - 978

 

جميع الحقوق محفوظة

الطبعة الأولى

1432 هـ - 2011 م

 

دار الصميعي للنشر والتوزيع

المملكة العربية السعودية الرياض ص. ب: 4967 الرمز البريدي 11412

المركز الرئيسي: الرياض السويدي - شارع السويدي

ت: 4262945 - 4251459: ف: 4245341

فرع القصيم: عنيزة - بجوار مؤسسة الشيخ ابن عثيمين الخيرية

ت: 3624428 ف: 3621728

مدير التسويق ت: 0555169051

daralsomaie@hotmail.com
© আব্দুল কারিম বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইরিনী ১৪৩২ হিজরি

প্রকাশনা কালীন কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি ক্যাটালগিং

আল-উমাইরিনী, আব্দুল কারিম মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

নামাজের কাতার সংক্রান্ত বিধানসমূহ

/ আব্দুল কারিম মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-উমাইরিনী, বুরাইদাহ ১৪৩১ হিজরি

২৯২ পৃষ্ঠা; ১৭ × ২৪ সে.মি.

আইএসবিএন: ৯৭৮ - ৬০৩ - ০০ - ৬০৯৭ - ২

১ - নামাজ, ক- শিরোনাম

ডিউই: ২৫২.২ … ৮৬৪৫/ ১৪৩১

ডিপোজিট নম্বর: ৮৬৪৫/ ১৪৩১

আইএসবিএন: ৯৭৮ - ৬০৩ - ০০ - ৬০৯৭ - ২

 

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

 

দারুস সুমাইয়ি পাবলিশিং এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সৌদি আরব সাম্রাজ্য, রিয়াদ, ডাক বাক্স: ৪৯৬৭, পোস্টাল কোড ১১৪১২

প্রধান কেন্দ্র: রিয়াদ, আস-সুওয়াইদি - আস-সুওয়াইদি সড়ক

টেলি: ৪২৬২৯৪৫ - ৪২৫১৪৫৯; ফ্যাক্স: ৪২৪৫৩৪১

কাসিম শাখা: উনাইজাহ - শায়খ ইবনে উসাইমীন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশনের পাশে

টেলি: ৩৬২৪৪২৮; ফ্যাক্স: ৩৬২১৭২৮

বিপণন ব্যবস্থাপক টেলি: ০৫৫৫১৬৯০৫১

daralsomaie@hotmail.com
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، وبعد:

فقد قرأت في رسالة أحكام الصف في الصلاة للشيخ عبد الكريم بن محمد العميريني فألفيتها رسالة قيمة اجتههد مؤلفها في نقل كلام الأئمة وتحريرها، ونقل أدلتهم، وما ورد عليها من مناقشات.

نفع الله بها كاتبها وقارئها، وبالله التوفيق.

 

كتبه

أ. د. خالد بن علي المشيقح

18/ 11/ 1431 هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। অতঃপর:

আমি শেখ আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মদ আল-উমাইরিনী রচিত ‘আহকামুস সাফ ফিস সালাহ’ শীর্ষক পুস্তিকাটি পাঠ করেছি এবং এটিকে একটি মূল্যবান গবেষণা হিসেবে পেয়েছি। এর লেখক ইমামগণের বক্তব্য উদ্ধৃত ও তা পরিমার্জন করতে এবং তাঁদের দলীলসমূহ ও সেগুলোর ওপর আনীত পর্যালোচনাসমূহ তুলে ধরতে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন।

আল্লাহ এর মাধ্যমে এর লেখক ও পাঠক উভয়কে উপকৃত করুন। আল্লাহই তাওফিকদানকারী।

 

লিখেছেন

প্রফেসর ড. খালিদ বিন আলী আল-মুশাইকিহ

১৮/ ১১/ ১৪৩১ হিজরী
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تقديم

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

فإن هذا السفر الذي كتبه الباحث (عبد الكريم بن محمد بن عبد الله العميريني) والذي بعنوان (أحكام الصف في الصلاة)، والذي نال به درجة الماجستير في الفقه المقارن بتقدير ممتاز لهو بحث نافع مفيد أتى فيه الباحث بما هو فريد في بابه وموضوعه مما يثري المكتبة الإسلامية ويضع بين يدي الباحثين مرجعًا نفسيًا يفيدهم في مجال البحث ولا سيما فيما يتعلق بأحكام الصف في الصلاة والذي يتعلق بأهم ركن من أركان الإسلام العملية وهي الصلاة التي يجب على كل مسلم أن يفقه أحكامها دراسة وتطبيقًا وأن يأتي بها على الصفة المشروعة لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "صلوا كما رأيتموني أصلي. . ."، وقد وفق الباحث في كل مراحل بحثه ولا سيما المقارنات بين المذاهب الفقهية وأدلتها.

ومناقشتها مناقشة علمية ثم بين القول الراجح بدليله كما اعتنى بدراسة المسائل المستجدة دراسة فقهية تأصيلية مما يجعل القارئ والباحث على بصيرة من أمره.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর। অতপর:

নিশ্চয়ই গবেষক (আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইরিনি) কর্তৃক লিখিত ‘সালাতে কাতার বিন্যাসের বিধানসমূহ’ শীর্ষক এই গ্রন্থটি—যার মাধ্যমে তিনি তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রে ‘চমৎকার’ (মুমতাজ) ফলাফলসহ মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেছেন—একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও উপকারী গবেষণা। গবেষক এতে স্বীয় অধ্যায় ও বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে এমন অনন্য নিদর্শনের অবতারণা করেছেন যা ইসলামি পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করবে এবং গবেষকদের সামনে একটি মূল্যবান উৎস তুলে ধরবে যা তাদের গবেষণার ক্ষেত্রে উপকারে আসবে; বিশেষত সালাতের কাতার সংক্রান্ত বিধানাবলির ক্ষেত্রে, যা ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক রুকন বা স্তম্ভ ‘সালাত’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট। প্রতিটি মুসলিমের জন্য আবশ্যক হলো সালাতের বিধানসমূহ তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় দিক থেকে অনুধাবন করা এবং তা শরিয়ত নির্দেশিত পদ্ধতিতে আদায় করা। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ..."। গবেষক তাঁর গবেষণার প্রতিটি পর্যায়ে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন, বিশেষ করে ফিকহি মাযহাবসমূহের মধ্যকার তুলনা এবং সেগুলোর দলিলের বর্ণনার ক্ষেত্রে।

তিনি বিষয়গুলো নিয়ে অত্যন্ত তাত্ত্বিক ও অ্যাকাডেমিক আলোচনা করেছেন এবং দলিলের ভিত্তিতে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতটি স্পষ্ট করেছেন। পাশাপাশি তিনি আধুনিক ও সমসাময়িক মাসআলাসমূহ মৌলিক ফিকহি গবেষণার আলোকে বিশ্লেষণ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, যা পাঠক ও গবেষককে বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করবে।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
هذا وأسأل الله تعالى له المزيد من التوفيق في أبحاث ومؤلفات أخرى وأن يجعل فيها خيرًا للعباد والبلاد إن الله لا يضيع أجر من أحسن عملًا والحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على نبينا محمج وعلى آله وصحبه أجمعين.

كتبه

عبد الله بن سليمان المطرودي

رئيس قسم الفقه بكلية الشريعة والدراسات الإسلامية

بجامعة القصيم
এই প্রেক্ষিতে, আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর অন্যান্য গবেষণা ও রচনায় অধিকতর তাওফিক প্রার্থনা করছি এবং তিনি যেন এগুলোর মাধ্যমে দেশ ও জনগণের কল্যাণ সাধন করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম আমলকারীর প্রতিদান বিনষ্ট করেন না। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

এটি লিখেছেন

আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-মাতরূদী

প্রধান, ফিকহ বিভাগ, শরীয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদ

কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمة

وتشتمل على:

أهمية الموضوع.

أسباب اختيار الموضوع.

الدراسات السابقة.

الخطة العامة للبحث.

منهج البحث.

شكر وتقدير.
ভূমিকা

যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

বিষয়ের গুরুত্ব।

বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ।

পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ।

গবেষণার সাধারণ পরিকল্পনা।

গবেষণা পদ্ধতি।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}(1)، {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}(2)، {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}(3)(4). أما بعد:

--------------------------------------------

(1) آل عمران: 102.

(2) النساء: 1.

(3) الأحزاب: 70 - 71.

(4) هذه الخطبة تسمى (خطبة الحاجة)، والحديث له روايات فيها اختلاف يسير، والحديث أخرجه أبو داود في سننه بلفظه، كتاب النكاح، باب في خطبة النكاح برقم (2118) 1/ 644، والترمذي في سننه، كتاب النكاح، باب خطبة النكاح برقم (1105) 3/ 413، والنسائي في سننه، كتاب الجمعة، باب كيفية الخطبة برقم (1404) 3/ 104، وعبد الرزاق في مصنفه، كتاب الجامع، باب خطبة الحاجة برقم (20206) 11/ 162، وابن أبي شيبة في مصنفه، كتاب النكاح، باب ماقالوا في خطبة النكاح برقم (17508) 4/ 34، وأحمد في مسنده برقم (3720) 6/ 262، والدارمي في سننه، كتاب النكاح،
‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}(১), {হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}(২), {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তাহলে তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।}(৩)(৪)। অতঃপর:

--------------------------------------------

(১) আলে ইমরান: ১০২।

(২) আন-নিসা: ১।

(৩) আল-আহজাব: ৭০ - ৭১।

(৪) এই খুতবাটিকে 'খুতবাতুল হাজাহ' বলা হয়। এ সম্পর্কিত হাদিসটির বর্ণনাসমূহে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। হাদিসটি আবু দাউদ তাঁর সুনানে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন; নিকাহ অধ্যায়, নিকাহর খুতবা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, নম্বর (২১১৮) ১/ ৬৪৪। তিরমিজি তাঁর সুনানে; নিকাহ অধ্যায়, নিকাহর খুতবা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, নম্বর (১১০৫) ৩/ ৪১৩। নাসায়ি তাঁর সুনানে; জুমুআ অধ্যায়, খুতবার পদ্ধতি সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, নম্বর (১৪০৪) ৩/ ১০৪। আবদুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফে; জামি' অধ্যায়, খুতবাতুল হাজাহ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, নম্বর (২০২০৬) ১১/ ১৬২। ইবনে আবি শাইবাহ তাঁর মুসান্নাফে; নিকাহ অধ্যায়, নিকাহর খুতবা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, নম্বর (১৭৫০৮) ৪/ ৩৪। আহমদ তাঁর মুসনাদে, নম্বর (৩৭২০) ৬/ ২৬২ এবং দারেমি তাঁর সুনানে, নিকাহ অধ্যায়...
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
لما كانت الصلاة أحد أركان الإسلام، وأحد شعائره الظاهرة، ولما فيها من التآلف ووحدة الكلمة، وتقوية صف المسلمين، وغيرها من الحكم العظيمة، والمعاني الجسيمة، أمر الشارع الحكيم بإقامتها جماعة في بيوت الله.

كما أنه يجب على كل مسلم عرف قدر الصلاة، وعظم شأنها، أن يعرف أحكامها، ويبذل ما يستطيع لإقامتها كما يريدها الله تعالى.

ومن أحكام الصلاة التي ينبغي للمسلم معرفتها، والحرص عليها، وتوعية الناس بها ما يتعلق بهدي النبي صلى الله عليه وسلم في تسوية الصفوف، والأحكام المتعلقة بها، ونظرا لما نشاهده في الصلوات الخمس من إخلال في أحكام الصف، أحببت أن أكتب بحثا مفصَّلا في مسائله، ومستجداته، مقرونا بالأدلة ووسمتُه بـ (أحكام الصف في الصلاة).

--------------------------------------------

باب في خطبة النكاح برقم (2202) 2/ 191، والطبراني في المعجم الكبير برقم (10080) 10/ 98، والحاكم في مستدركه، كتاب النكاح برقم (2744) 2/ 199، والبيهقي في السنن الكبرى، كتاب الجمعة، باب كيف بستحب أن تكون الخطبة برقم (5593) 3/ 214. قال شعيب الأرنؤوط في تحقيق المسند: إسناده من طريق أبي عبيدة ضعيف لانقطاعه ومن طريق أبي الأحوص صحيح على شرط مسلم (3720) 6/ 262، وقال الألباني: (صحيح) انظر: صحيح أبي داود 6/ 345.
যেহেতু সালাত ইসলামের অন্যতম রুকন এবং এর অন্যতম প্রকাশ্য নিদর্শন, আর যেহেতু এতে রয়েছে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও একতা, মুসলিমদের কাতারকে শক্তিশালীকরণ এবং অন্যান্য মহান হিকমত ও তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ, তাই প্রজ্ঞাময় শরিয়ত প্রণেতা আল্লাহর ঘরসমূহে জামাআতের সাথে সালাত কায়েম করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তেমনিভাবে প্রত্যেক মুসলিম—যে সালাতের মর্যাদা ও এর গুরুত্বের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করে—তার জন্য অপরিহার্য হলো এর বিধানসমূহ জানা এবং মহান আল্লাহ যেভাবে চান সেভাবে তা কায়েম করার জন্য যথাসাধ্য প্রচেষ্টা ব্যয় করা।

সালাতের সেই সমস্ত বিধানের মধ্যে যা একজন মুসলিমের জানা উচিত, যার প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন এবং সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা দরকার, তার অন্যতম হলো কাতার সোজা করার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ এবং এ সংক্রান্ত বিধানসমূহ। পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে কাতারের বিধিবিধানে যেসব বিচ্যুতি আমরা প্রত্যক্ষ করি, তার প্রেক্ষিতে আমি এ সংক্রান্ত মাসআলা এবং আধুনিক বিষয়াবলি নিয়ে দলীলসহ একটি বিস্তারিত গবেষণাপত্র লিখতে আগ্রহী হয়েছি এবং এর নামকরণ করেছি ‘আহকামুস সাফ ফিস সালাহ’ (সালাতে কাতারের বিধানসমূহ)।

--------------------------------------------

নিকাহের খুতবা পরিচ্ছেদ, নম্বর (২২০২) ২/১৯১; তাবারানি তার মুজামুল কাবীর-এ, নম্বর (১০০৮০) ১০/৯৮; হাকেম তার মুস্তাদরাক-এ, কিতাবুন নিকাহ, নম্বর (২৭৪৪) ২/১৯৯; এবং বায়হাকি তার সুনানুল কুবরা-তে, কিতাবুল জুমুআহ, 'খুতবা কেমন হওয়া মুস্তাহাব' পরিচ্ছেদ, নম্বর (৫৫৯৩) ৩/২১৪। মুসনাদ-এর তাহকিকে শুআইব আরনাউত বলেন: আবু উবায়দাহর সূত্র থেকে এর সনদ (إسناد) বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) কারণে দুর্বল (ضعيف); আর আবুল আহওয়াস-এর সূত্র থেকে এটি মুসলিমের শর্তানুসারে (شرط) বিশুদ্ধ (صحيح) (৩৭২০) ৬/২৬২; এবং আলবানি বলেন: (বিশুদ্ধ (صحيح)), দেখুন: সহিহ আবু দাউদ ৬/৩৪৫।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌أهمية الموضوع:

للموضوع أهمية كبيرة لما يلي:

الأول: لتعلقه بأعظم أركان الإسلام بعد الشهادتين، وهي (الصلاة).

الثاني: اهتمام الرسول صلى الله عليه وسلم بشأنه، والتأكيد عليه.

الثالث: اهتمام العلماء به في مصنفاتهم، وذلك من خلال تبويبهم به.

 

‌‌أسباب اختيار الموضوع:

من الأسباب الداعية إلى اختيار هذا الموضوع مايلي:

الأول: حاجة الناس إلى معرفة أحكام الصفوف في المساجد، ولا سيما في الحرمين الشريفين.

الثاني: ظهور بعض المستجدات المتعلقة بأحكام الصفوف.

الثالث: الإخلال بكثير من أحكامه، والأثر المترتب على ذلك.

الرابع: عدم وقوفي على من أفرد أحكام الصف ببحث فقهي مقارن مستقل.

 

‌‌الدراسات السابقة:

لم أعثر على كتاب مستقل متوسع في بسط أحكام الصف ذاكر لأقوال الأئمة حسب المذاهب مقرون بالدليل، بل قد اطلعت على مؤلفات تطرقت
‌‌বিষয়ের গুরুত্ব:

নিম্নলিখিত কারণে বিষয়টির গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম:

প্রথমত: শাহাদাতদ্বয়ের পর ইসলামের মহানতম রুকন বা স্তম্ভের সাথে এর সংশ্লিষ্টতা, আর তা হলো (সালাত)।

দ্বিতীয়ত: এই বিষয়ের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ মনোযোগ এবং এর ওপর গুরুত্বারোপ।

তৃতীয়ত: আলেমগণের নিজ নিজ সংকলনে এই বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব প্রদান, যা তাঁদের পরিচ্ছেদ বিন্যাসের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।

 

‌‌বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ:

এই বিষয়টি নির্বাচনের পেছনে অন্যতম কারণগুলো হলো:

প্রথমত: মসজিদে কাতারসমূহের বিধানাবলি সম্পর্কে মানুষের জানার আবশ্যকতা, বিশেষ করে হারামাইন শরীফাইনের ক্ষেত্রে।

দ্বিতীয়ত: কাতার সংক্রান্ত বিধানাবলিতে কিছু নতুন উদ্ভূত বিষয়ের প্রকাশ পাওয়া।

তৃতীয়ত: এর অনেক বিধানে ত্রুটি পরিলক্ষিত হওয়া এবং এর ফলে সৃষ্ট প্রভাব।

চতুর্থত: কাতারের বিধানাবলি নিয়ে কোনো স্বতন্ত্র ও তুলনামূলক ফিকহী গবেষণার সন্ধান না পাওয়া।

 

‌‌পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

আমি এমন কোনো স্বতন্ত্র ও বিস্তারিত গ্রন্থ খুঁজে পাইনি যেখানে মাযহাব অনুযায়ী ইমামগণের অভিমত এবং দলিল সহ কাতারের বিধানাবলি বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। বরং আমি এমন কিছু রচনার খোঁজ পেয়েছি যা এই প্রসঙ্গের অবতারণা করেছে।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
لبعض مسائل الصف، وإن كانت مختصرة من حيث المسائل، وذكر الأقوال والأدلة ومنها:

(1) رسالة (بسط الكف في إتمام الصف)(1)، لمؤلفه الإمام جلال الدين السيوطي رحمه الله والكتاب يتلخص في كونه جوابًا لسؤال ورد عليه يتعلق بعدم إتمام الصفوف فأجاب رحمه الله عنه، وأورد الأحاديث الواردة في فضيلة إتمام الصف، وأورد كذلك خلاف العلماء في حكم التسوية مختصرا، والكتاب يقع في إحدى وعشرين صفحة.

(2) كتاب (تنبيه الصحب إلى مشروعية تسوية الصف بالمنكب والكعب)(2)، لمؤلفه علي بن عبد العزيز موسى، وقد ذكر الأحاديث الواردة في فضل تسوية الصفوف وفوائدها، وحكم تسويتها، والكتاب يقع في إحدى وستين صفحة.

(3) كتاب (أحكام الإمامة والائتمام في الصلاة)(3)، لمؤلفه عبد المحسن المنيف، وتعرض فيه لبعض المسائل المتعلقة بالمصافة مثل: مصافة الرجل، ومصافة الصبي، ومصافة المرأة.

وخلاصة القول أن المؤلفات التي وقفت عليها في هذا الموضوع، لم

--------------------------------------------

(1) طبعة دار القبلة للثقافة الإسلامية، تحقيق عدنان أحمد مجود، الطبعة الأولى.

(2) طبعة مكتبة السعيد، الطبعة الأولى، 1422 هـ.

(3) أحكام الإمامة والائتمام في الصلاة، الطبعة الأولى، ط دار الفرزدق بالرياض.
কাতার সংশ্লিষ্ট কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে, যদিও মাসআলার বিবরণ এবং বিভিন্ন মত ও দলিলাদি উল্লেখ করার ক্ষেত্রে এগুলো সংক্ষিপ্ত। তার মধ্যে রয়েছে:

(1) রিসালাহ (বাসতুল কাফফি ফি ইতমা মিস সাফ)(1), যার লেখক ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ)। কিতাবটির সারসংক্ষেপ হলো—এটি মূলত কাতার পূর্ণ না করা সংক্রান্ত তাঁর নিকট আসা একটি প্রশ্নের উত্তর। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং কাতার পূর্ণ করার ফজিলত বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি কাতার সোজা করার বিধান (حكم) সংক্রান্ত ওলামায়ে কেরামের মতবিরোধও সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন। কিতাবটি একুশ পৃষ্ঠা সম্বলিত।

(2) কিতাব (তানবিহুস সাহবি ইলা মাশরুয়িয়্যাতি তাসওয়িয়াতিস সাফফি বিল মানকিবি ওয়াল কাব)(2), যার লেখক আলী ইবনে আবদুল আজিজ মুসা। তিনি কাতার সোজা করার ফজিলত ও এর উপকারিতা এবং কাতার সোজা করার বিধান (حكم) সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছেন। কিতাবটি একষট্টি পৃষ্ঠা সম্বলিত।

(3) কিতাব (আহকামুল ইমামতি ওয়াল ইতিমাম ফিস সালাহ)(3), এর লেখক আবদুল মুহসিন আল-মুনিফ। এতে তিনি কাতারে দাঁড়ানো (مصافة) সংক্রান্ত কিছু মাসআলা আলোচনা করেছেন, যেমন: পুরুষের কাতার, শিশুর কাতার এবং নারীর কাতার।

সারসংক্ষেপ হলো, এই বিষয়ে আমি যেসব রচনার সন্ধান পেয়েছি, সেগুলো...

--------------------------------------------

(1) দারুল কিবলাহ আস-সাকাফাহ আল-ইসলামিয়্যাহ সংস্করণ, তাহকিক (تحقيق): আদনান আহমদ মাজুদ, প্রথম প্রকাশ।

(2) মাকতাবাতুস সাঈদ সংস্করণ, প্রথম প্রকাশ, ১৪২২ হিজরি।

(3) আহকামুল ইমামতি ওয়াল ইতিমাম ফিস সালাহ, প্রথম প্রকাশ, রিয়াদের দারুল ফারজদাক সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
تكن شاملة لأكثر مسائله، فلم تتعرض لتفاصيل الصف وأحكامه، ولا للنوازل فيه، ولا للأحكام التي تتعلق بالصف في الحرمين الشريفين، ولا للمخالفات المتعلقة بالصفوف، ووددت أن أضيف لهذا الموضوع المهم في حياة المسلم شيئا من التفصيل، مقرونا بأقوال الفقهاء وأدلتهم قدر الإمكان.

والخطة العامة للبحث تشتمل على تمهيد، وسبعة فصول، وخاتمة، وفهارس.

التمهيد: الحكمة من صلاة الجماعة، وتسوية الصف، وأهميتهما، ويشمل ثلاثة مباحث.

المبحث الأول: أهمية صلاة الجماعة والحكمة منها، ويشمل خمسة مطالب.

المطلب الأول: تعريف الصلاة لغة واصطلاحا.

المطلب الثاني: أهمية صلاة الجماعة في القرآن الكريم.

المطلب الثالث: مشروعية صلاة الجماعة من السنة.

المطلب الرابع: الآثار الواردة عن السلف في المحافظة على صلاة الجماعة.

المطلب الخامس: الحكمة من مشروعية صلاة الجماعة.

المبحث الثاني: حكمة الصفوف، وتسويتها في الصلاة.

المبحث الثالث: اهتمام العلماء في مصنفاتهم، بتسوية الصف.
এটি এর অধিকাংশ বিষয়াবলীকে অন্তর্ভুক্ত করার মতো ব্যাপক ছিল না, ফলে এতে কাতারের বিস্তারিত বিবরণ ও তার বিধানসমূহ, এ সংক্রান্ত সমসাময়িক ঘটনাবলি, দুই পবিত্র হারামে কাতার সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ এবং কাতার সংক্রান্ত ভুলভ্রান্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়নি। আমি একজন মুসলিমের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে যথাসম্ভব ফকিহগণের বক্তব্য ও দলিলের ভিত্তিতে কিছু বিস্তারিত সংযোজন করতে চেয়েছি।

গবেষণার সাধারণ পরিকল্পনাটি একটি ভূমিকা, সাতটি অধ্যায়, একটি উপসংহার এবং নির্ঘণ্টের সমন্বয়ে গঠিত।

ভূমিকা: জামাতে নামাজ ও কাতার সোজা করার হিকমত এবং এ দুটির গুরুত্ব; যা তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: জামাতে নামাজের গুরুত্ব ও এর হিকমত; যা পাঁচটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত।

প্রথম অনুচ্ছেদ: শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে নামাজের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে জামাতে নামাজের গুরুত্ব।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সুন্নাহর আলোকে জামাতে নামাজের বৈধতা।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: জামাতে নামাজ সংরক্ষণের ব্যাপারে সালাফদের থেকে বর্ণিত আছারসমূহ (آثار)।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: জামাতে নামাজের বিধানের অন্তর্নিহিত হিকমত।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নামাজের কাতারসমূহ ও তা সোজা করার হিকমত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আলেমদের কিতাবসমূহে কাতার সোজা করার প্রতি গুরুত্বারোপ।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الأول: حقيقة الصف، وحكم تسويته، وضابطها، ويشمل ثلاثة مباحث.

المبحث الأول: حقيقة الصف، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف الصف.

المطلب الثاني: الألفاظ الواردة في تسوية الصفوف.

المبحث الثاني: حكم تسوية الصف، وأثره على صحة الصلاة.

المبحث الثالث: ضابط تسوية الصف، وما يلحق به، وفيه مطالب:

المطلب الأول: إذا كان المأموم واحدا.

المطلب الثاني: إذا كان مع الإمام صف واحد.

المطلب الثالث: إذا كان مع الإمام أكثر من صف.

المطلب الرابع: إذا كان مع المأمومين صبيان.

المطلب الخامس: إذا كان مع المأمومين صف نساء.

الفصل الثاني: أحكام صفوف الرجال،

ويشتمل على أربعة مباحث:

المبحث الأول: حكم مصافة المأموم الواحد.

المبحث الثاني: حكم مصافة الاثنين.

المبحث الثالث: حكم مصافة أكثر من اثنين.
প্রথম পরিচ্ছেদ: কাতারের বাস্তবতা, কাতার সোজা করার বিধান (حكم) ও এর মানদণ্ড (ضابط); এবং এটি তিনটি আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।

প্রথম আলোচনা: কাতারের বাস্তবতা, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: কাতারের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কাতার সোজা করার বিষয়ে বর্ণিত শব্দাবলি।

দ্বিতীয় আলোচনা: কাতার সোজা করার বিধান (حكم) এবং নামাজের বিশুদ্ধতার ওপর এর প্রভাব।

তৃতীয় আলোচনা: কাতার সোজা করার মানদণ্ড (ضابط) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি, এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: যখন মুক্তাদি একজন হয়।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: যখন ইমামের সাথে একটি কাতার থাকে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: যখন ইমামের সাথে একের অধিক কাতার থাকে।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: যখন মুক্তাদিদের সাথে নাবালক ছেলেরা থাকে।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: যখন মুক্তাদিদের সাথে মহিলাদের কাতার থাকে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পুরুষদের কাতারের বিধানাবলি (أحكام),

এবং এটি চারটি আলোচনার অন্তর্ভুক্ত:

প্রথম আলোচনা: একজন মুক্তাদির কাতারে দাঁড়ানোর বিধান (حكم)।

দ্বিতীয় আলোচনা: দুইজনের কাতারে দাঁড়ানোর বিধান (حكم)।

তৃতীয় আলোচনা: দুইজনের অধিক ব্যক্তির কাতারে দাঁড়ানোর বিধান (حكم)।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الرابع: حكم من صف وحده خلف الصف، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: بالنسبة للرجال.

المطلب الثاني: بالنسبة للنساء.

الفصل الثالث: أحكام صفوف الصبيان والنساء، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: حكم مصافة الصبيان، وفيه مطلبان.

المطلب الأول: مصافة الصبي المميز في النافلة.

المطلب الثاني: مصافة الصبي المميز في الفريضة.

المبحث الثاني: أحكام صفوف النساء، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: حكم صفوف النساء حال اجتماعهن مع الرجال، وفيه مسألتان:

المسألة الأولى: أفضلية صفوف النساء وفيه فرعان:

الفرع الأول: إذا لم يختلطن بالرجال.

الفرع الثاني: إذا اختلطن بالرجال.

المسألة الثانية: أثرمصافة المرأة للرجال.

المطلب الثاني: حال انفرادهن عن الرجال وفيه مسألتان:

المسألة الأولى: حكم صلاتهن جماعة.

المسألة الثانية: موقف إمامتهن من صفهن.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কাতারের পেছনে একা দাঁড়ানোর বিধান, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পুরুষদের ক্ষেত্রে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নারীদের ক্ষেত্রে।

তৃতীয় অধ্যায়: শিশুদের এবং নারীদের কাতারের বিধানাবলি, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: শিশুদের কাতারে দাঁড়ানোর বিধান, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম অনুচ্ছেদ: নফল নামাজে সমঝদার (مميز) শিশুর কাতারে দাঁড়ানো।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ফরজ নামাজে সমঝদার (مميز) শিশুর কাতারে দাঁড়ানো।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নারীদের কাতারের বিধানাবলি, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পুরুষদের সাথে থাকাকালীন নারীদের কাতারের বিধান, এতে দুটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: নারীদের কাতারের শ্রেষ্ঠত্ব, এতে দুটি শাখা রয়েছে:

প্রথম শাখা: যদি তারা পুরুষদের সাথে মিশ্রিত না হয়।

দ্বিতীয় শাখা: যদি তারা পুরুষদের সাথে মিশ্রিত হয়।

দ্বিতীয় মাসআলা: পুরুষদের কাতারে নারীর দাঁড়ানোর প্রভাব।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পুরুষদের থেকে পৃথক থাকাকালীন অবস্থা, এতে দুটি মাসআলা রয়েছে:

প্রথম মাসআলা: তাদের জামাতে নামাজ পড়ার বিধান।

দ্বিতীয় মাসআলা: তাদের নারী ইমামের কাতারে দাঁড়ানোর স্থান।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الرابع: أحكام صفوف الجنائز، وأهل الأعذار، ويشمل أربعة مباحث:

المبحث الأول: أحكام الصف في الجنائز، وفيه خمسة مطالب:

المطلب الأول: موقف الإمام من جنازة الرجل والمرأة.

المطلب الثاني: قرب الجنائز من الإمام عند تنوع أجناسها.

المطلب الثالث: هيئة وضع الجنائز أمام الإمام.

المطلب الرابع: حكم تكثير صفوف الجنازة.

المطلب الخامس: عدد صفوف صلاة الجنازة، وحكم تسويتها.

المبحث الثاني: صفوف العراة، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: في حال إمكانية رؤية بعضهم لبعض.

المطلب الثاني: في حالة عدم رؤية بعضهم لبعض.

المبحث الثالث: العاجز عن القيام، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: حكم الصلاة جالسا عند العجز.

المطلب الثاني: هيئة الجلوس، وضابط المصافة فيها، وفيه مسألتان:

المسألة الأولى: الجلوس متربعا، وضابط المصافة فيها.

المسألة الثانية: الجلوس على الكرسي، وضابط المصافة فيها
চতুর্থ অধ্যায় (الفصل الرابع): জানাজার কাতার এবং ওজরপ্রাপ্ত (أهل الأعذار) ব্যক্তিদের বিধানাবলি, এটি চারটি পরিচ্ছেদ (مباحث) সম্বলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): জানাজায় কাতারের বিধানাবলি, এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ (مطالب) রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): পুরুষ ও মহিলার জানাজায় ইমামের দাঁড়ানোর অবস্থান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثاني): বিভিন্ন লিঙ্গের একাধিক জানাজা উপস্থিত হলে ইমামের নিকটবর্তী রাখার ক্রম।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثالث): ইমামের সামনে জানাজা রাখার পদ্ধতি।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ (المطلب الرابع): জানাজার কাতার সংখ্যা বৃদ্ধির বিধান।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ (المطلب الخامس): জানাজার নামাজের কাতারের সংখ্যা এবং কাতার সোজা করার বিধান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): বস্ত্রহীন ব্যক্তিদের কাতার, এতে দুটি অনুচ্ছেদ (مطلبان) রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): যখন একে অপরকে দেখার সম্ভাবনা থাকে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثاني): যখন একে অপরকে দেখার সম্ভাবনা থাকে না।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثالث): দণ্ডায়মান হতে অক্ষম ব্যক্তি, এতে দুটি অনুচ্ছেদ (مطلبان) রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ (المطلب الأول): অক্ষমতার সময় বসে নামাজ পড়ার বিধান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المطلب الثاني): বসার পদ্ধতি এবং তাতে কাতারে দাঁড়ানোর মানদণ্ড (المصافة), এতে দুটি মাসআলা (مسألتان) রয়েছে:

প্রথম মাসআলা (المسألة الأولى): বাবু হয়ে (متربعا) বসা এবং তাতে কাতারে দাঁড়ানোর মানদণ্ড (المصافة)।

দ্বিতীয় মাসআলা (المسألة الثانية): চেয়ারে বসা এবং তাতে কাতারে দাঁড়ানোর মানদণ্ড (المصافة)
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وفيها فرعان:

الفرع الأول: الجالس على الكرسي في حالتي الركوع والسجود فقط.

الفرع الثاني: الجالس على الكرسي في جميع أفعال الصلاة.

الفصل الخامس أحكام الصف في الحرمين، ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: ضابط الصف الأول في الحرم المكي.

المبحث الثاني: ضابط الصف الأول في الحرم المدني.

الفصل السادس: أحكام معاصرة في الصفوف، ويشمل ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: استخدام الخط في تسوية الصف.

المبحث الثاني: الصفوف في وسائل النقل، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: الصف في الطائرة.

المطلب الثاني: الصف في السفينة، وفيه مسألتان.

المسألة الأولى: المصافة في السفينة جلوسا بدل القيام.

المسألة الثانية: حصول المصافة، والإقتداء، بين أكثر من سفينة.

الفصل السابع: أحكام مخالفات الصفوف، ويشتمل على خمسة مباحث:

المبحث الأول: حكم المخالفة في تخطي الصفوف.
এতে দুটি উপশাখা রয়েছে:

প্রথম উপশাখা: শুধুমাত্র রুকু ও সিজদার অবস্থায় চেয়ারে উপবিষ্ট ব্যক্তি।

দ্বিতীয় উপশাখা: সালাতের সমস্ত কার্যাবলীতে চেয়ারে উপবিষ্ট ব্যক্তি।

পঞ্চম অধ্যায়: হারামাইনে কাতার সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি, এবং এটি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মক্কার হারামে প্রথম কাতারের মানদণ্ড।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মদিনার হারামে প্রথম কাতারের মানদণ্ড।

ষষ্ঠ অধ্যায়: কাতার সংক্রান্ত সমসাময়িক বিধানাবলি, যা তিনটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কাতার সোজা করার ক্ষেত্রে রেখা ব্যবহার করা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যানবাহনে কাতারবদ্ধ হওয়া, এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: বিমানে কাতারবদ্ধ হওয়া।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: জাহাজে কাতারবদ্ধ হওয়া, এতে দুটি মাসআলা (مسألة) রয়েছে।

প্রথম মাসআলা (مسألة): দাঁড়ানোর পরিবর্তে বসে জাহাজে কাতারবদ্ধ হওয়া।

দ্বিতীয় মাসআলা (مسألة): একাধিক জাহাজের মধ্যে কাতারবদ্ধ হওয়া এবং অনুসরণ (الإقتداء) করা।

সপ্তম অধ্যায়: কাতার লঙ্ঘনের বিধানাবলি, এবং এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কাতার ডিঙিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে নিয়ম লঙ্ঘনের বিধান।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الثاني: حكم المخالفة في حجز مكان في الصفوف، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: أقوال الفقهاء في تحقق المخالفة في حجز المكان.

المطلب الثاني: ضابط مخالفة حجز المكان في الصف.

المبحث الثالث: حكم المخالفة في عدم اكتمال الصف، وتخلل الفرج.

المبحث الرابع: حكم المخالفة في الصف بين السواري، وفيه مطلبان.

المطلب الأول: الصف بين السواري، إذا كان إماما أو منفردا.

المطلب الثاني: الصف بين السواري، إذا كان مأموما، وفيه مسألتان:

المسألة الأولى: إذا قطعت السارية الصف بسبب الضيق.

المسألة الثانية: إذا قطعت السارية الصف مع السعة.

المبحث الخامس: حكم المخالفة في تباعد الصفوف، وبيان المعتبر فيها.

الخاتمة: وتشتمل على أهم نتائج البحث.

الفهارس العامة وتشمل:

(1) فهرس المصادر والمراجع.

(2) فهرس الموضوعات.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কাতারসমূহে জায়গা সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘনের (مخالفة) বিধান (حكم), এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: জায়গা সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন (مخالفة) সাব্যস্ত হওয়া প্রসঙ্গে ফকিহগণের (فقهاء) অভিমত।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কাতারে জায়গা সংরক্ষণের মাধ্যমে নিয়ম লঙ্ঘনের (مخالفة) মানদণ্ড (ضابط)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কাতার পূর্ণ না করা এবং কাতারের মাঝে ফাঁক (فرجة) রাখার মাধ্যমে নিয়ম লঙ্ঘনের (مخالفة) বিধান (حكم)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: স্তম্ভসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে কাতারবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে নিয়ম লঙ্ঘনের (مخالفة) বিধান (حكم), এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইমাম (إمام) অথবা একাকী (منفرد) সালাত আদায়কারী হলে স্তম্ভসমূহের মাঝে কাতার দাঁড় করানো।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুক্তাদির (مأموم) ক্ষেত্রে স্তম্ভসমূহের মাঝে কাতার দাঁড় করানো, এতে দুটি মাসয়ালা (مسألة) রয়েছে:

প্রথম মাসয়ালা (مسألة): যখন স্থানাভাবের কারণে স্তম্ভ কাতারের মাঝে ব্যবধান তৈরি করে।

দ্বিতীয় মাসয়ালা (مسألة): যখন প্রশস্ততা থাকা সত্ত্বেও স্তম্ভ কাতারের মাঝে ব্যবধান তৈরি করে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: কাতারসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্বের ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘনের (مخالفة) বিধান (حكم) এবং এক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়ের বিবরণ।

উপসংহার: এটি গবেষণার প্রধান ফলাফলসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।

সাধারণ নির্ঘণ্টসমূহ, যা অন্তর্ভুক্ত করে:

(১) উৎস ও তথ্যসূত্র নির্দেশিকা।

(২) বিষয়সূচি।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌منهج البحث:

المنهج الذي سرت عليه في هذا البحث يتلخص فيما يلي:

1 - الدراسة المقارنة بين المذاهب في المسألة، وأذكر ما أجده من أقوال السلف في المسألة، وأقوال العلماء المتأخرين في بعض المواضع.

2 - أذكر القول الأول، ثم من قال به من الفقهاء، مرتبًا أقوالهم ترتيبا زمنيا، ثم أدلته، ووجه الاستدلال، وما قد يرد عليه من مناقشة، إن وجدت ثم القول الثاني وهكذا، مبتدئا بالقول المرجوح، ثم الراجح، ثم الترجيح مع بيان سبب الترجيح.

3 - أوثق النقول من المراجع الأصلية لكل مذهب، وما لم أعثر عليه أعزوه لبعض كتب المذهب المعتبرة.

4 - أعزو الآيات إلى مواضعها في كتاب الله، وذلك بذكر السورة، ورقم الآية.

5 - أقوم بتخريج الأحاديث من مصادرها، فما وجدته في الصحيحين أو أحدهما أكتفي به، وما لم يخرجاه أقوم بتخريجه من باقي كتب السنة الأخرى، على النحو الآتي:

أقدم أصحاب الكتب الستة على غيرهم مرتبا لهم حسب ترتيب أغلب من خرج الكتب الستة كالمزي رحمه الله، ثم حسب تأريخ الوفاة، مع بيان ما ذكره العلماء في درجة الحديث، ما أمكن.
গবেষণা পদ্ধতি:

এই গবেষণায় আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

১ - সংশ্লিষ্ট মাসআলায় মাযহাবসমূহের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করা। এক্ষেত্রে আমি মাসআলাটি সম্পর্কে সালফে সালেহীনদের প্রাপ্ত বক্তব্যসমূহ এবং কোনো কোনো স্থানে পরবর্তী যুগের আলেমদের মতামত উল্লেখ করেছি।

২ - আমি প্রথমে প্রথম মতটি উল্লেখ করেছি, অতঃপর সংশ্লিষ্ট ফকিহগণের নাম কালানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি। এরপর এর স্বপক্ষে দলিলসমূহ, দালিলিক যৌক্তিকতা এবং কোনো আলোচনা থাকলে তা উল্লেখ করেছি। এভাবে দ্বিতীয় মত এবং পরবর্তীগুলো বর্ণনা করেছি। আলোচনার শুরুতে আমি অগ্রাহ্য (مرجوح) মত থেকে শুরু করে শক্তিশালী (راجح) মতটি উল্লেখ করেছি এবং সবশেষে অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদানের কারণসহ সিদ্ধান্ত প্রদান করেছি।

৩ - প্রতিটি মাযহাবের উদ্ধৃতিসমূহ মূল উৎস থেকে যাচাই করেছি। যদি কোনোটি মূল উৎসে খুঁজে না পাই, তবে তা সংশ্লিষ্ট মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি হিসেবে প্রদান করেছি।

৪ - কুরআন মাজিদের আয়াতসমূহকে সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখপূর্বক আল্লাহর কিতাবে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে নির্দেশ করেছি।

৫ - আমি হাদিসসমূহকে তাদের মূল উৎস থেকে তাখরিজ (تخريج) করেছি। এক্ষেত্রে যা সহিহাইন বা এর কোনো একটিতে পেয়েছি, তাতেই ক্ষান্ত হয়েছি। আর যা তাঁরা বর্ণনা করেননি, তা সুন্নাহর অন্যান্য কিতাব থেকে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে তাখরিজ (تخريج) করেছি:

কুতুবে সিত্তাহর সংকলকদের অন্যদের ওপর প্রাধান্য দিয়েছি এবং তাঁদেরকে মিযযি (রহ.)-এর মতো অধিকাংশ কুতুবে সিত্তাহ বিশারদদের অনুসৃত ক্রমধারা অনুযায়ী সাজিয়েছি। অতঃপর মৃত্যু তারিখ অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি এবং সাধ্যমতো হাদিসের মান (درجة الحديث) সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
6 - العناية بقواعد اللغة العربية، والقواعد الإملائية، وعلامات الترقيم.

7 - أقوم بتخريج الآثار الواردة من مصادرها، ما أمكن.

8 - أترجم للأعلام الواردة في البحث ترجمة مختصرة.

9 - التعريف بالمصطلحات وشرح الغريب.

10 - الخاتمة عبارة عن ملخص للرسالة، وأهم النتائج.

11 - أقوم بوضع فهارس متعددة في آخر البحث.

ولقد اقتصرت عند طباعة الكتاب على فهرس المصادر والمراجع وفهرس الموضوعات، كما أنني حذفت التراجم للأعلام طلبًا للاختصار.

وحيث إن هذه الطبعة هي الأولى آمل ممن قرأ الكتاب أو اطّلع عليه أن يزودني بالملاحظات أو المقترحات حتى يتم تلافيها في الطبعات اللاحقة.

وأكون له شاكرًا وبظهر الغيب له داعيًا، ورحم الله امرأً أهدى إليَّ عيوبي.

المؤلف

Amo 1431@hotmail.com
6 - আরবি ব্যাকরণ, বানানরীতি এবং বিরামচিহ্নের নিয়মাবলির প্রতি বিশেষ যত্ন প্রদান করা।

7 - সাধ্যমতো মূল উৎস থেকে বর্ণিত আছার (الآثار) সমূহের তাখরিজ (تخريج) সম্পন্ন করেছি।

8 - গবেষণায় উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত জীবনী বা পরিচিতি প্রদান করেছি।

9 - বিভিন্ন পরিভাষা (المصطلحات) সংজ্ঞায়িত করা এবং দুর্বোধ্য শব্দের (الغريب) ব্যাখ্যা প্রদান করা।

10 - উপসংহারটি হলো গবেষণাপত্রটির সারসংক্ষেপ এবং এর গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহের সমষ্টি।

11 - গবেষণার শেষে বিভিন্ন বিষয়ের নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র যুক্ত করেছি।

তবে বইটি মুদ্রণের সময় আমি কেবল উৎস ও তথ্যসূত্র এবং বিষয়ভিত্তিক সূচিপত্র প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি; তদ্রূপ সংক্ষিপ্তকরণের জন্য ব্যক্তিবর্গের জীবনী বা পরিচিতি অংশটি বাদ দিয়েছি।

যেহেতু এটি প্রথম সংস্করণ, তাই আমি আশা করি যারা বইটি পাঠ করবেন বা এটি পর্যবেক্ষণ করবেন, তারা আমাকে তাদের মূল্যবান মতামত বা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করবেন যাতে পরবর্তী সংস্করণগুলোতে ভুলগুলো পরিহার করা সম্ভব হয়।

আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব এবং তাদের অগোচরে তাদের জন্য দোয়া করব। আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যে আমার ত্রুটিগুলো আমার নিকট উপহার হিসেবে পেশ করে।

লেখক

Amo 1431@hotmail.com
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
شكر وتقدير:

أتقدم بالشكر لله على توفيقه وتيسيره وله الحمد أولاً، وآخرًا، وظاهرا، وباطنا.

ثم أقدم شكري وتقديري لجامعة القصيم، ممثلة بكلية الشريعة، والقائمين على قسم الفقه، والأساتذة الفضلاء، الذين لم يألوا جهدا في تقديم جميع ما ينفع الطالب في حياته العلمية والعملية.

كما أنني أقدم الشكر والدعاء للمشرف على هذه الرسالة، فضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور: صالح بن إبراهيم الجديعي، الذي استفدت منه تربويا من خلال سماحة نفسه وتواضعه الجم، وعلميا بتوجيهاته وآرائه، ولم يتوان بتوفير وبذل ما أحتاجه من رأي ومرجع، مما كان له أكبر الأثر في إخراج هذه الرسالة، فجزاه الله خير ما جزى معلما عن طالبه، وزاده الله علما وعملا.

كما أشكر جميع من قدم لي مساعدة، خلال إعداد هذه الرسالة، وأسال الله جل شأنه، وتقدست أسماؤه، أن يجعل هذا العمل في ميزان الأعمال، وأن يرزقنا الإخلاص في القول، والعمل، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি:

আমি মহান আল্লাহর তৌফিক ও সহজীকরণের জন্য তাঁর নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই জন্য—আদিতে ও অন্তে, প্রকাশ্যে ও গোপনে।

অতঃপর আমি কাসিম ইউনিভার্সিটি, বিশেষত শরিয়াহ অনুষদ, ফিকহ বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, যারা একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জীবনে যা কিছু ফলপ্রসূ, তা প্রদানে কোনো প্রকার চেষ্টার ত্রুটি করেননি।

সেইসাথে আমি এই অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধায়ক, শ্রদ্ধেয় শায়খ প্রফেসর ডক্টর সালিহ বিন ইব্রাহিম আল-জুদাইয়ি-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও দোয়া পেশ করছি। আমি তাঁর উদারতা ও অগাধ বিনয় থেকে নৈতিক শিক্ষা লাভ করেছি এবং তাঁর দিকনির্দেশনা ও সুচিন্তিত মতামত থেকে জ্ঞানগত পাথেয় অর্জন করেছি। প্রয়োজনীয় মতামত ও তথ্যসূত্র প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি কোনো প্রকার দ্বিধা করেননি, যা এই অভিসন্দর্ভটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে একজন শিক্ষকের পক্ষ থেকে ছাত্রকে দেওয়া সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর ইলম ও আমল বৃদ্ধি করে দিন।

আমি আরও ধন্যবাদ জানাই তাদের সকলকে যারা এই অভিসন্দর্ভ প্রস্তুতির সময় আমাকে সহায়তা করেছেন। আমি মহান ও পবিত্র আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন এই কাজটিকে আমলের পাল্লায় কবুল করেন এবং আমাদের কথা ও কাজে একনিষ্ঠতা দান করেন। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌التمهيد

الحكمة من صلاة الجماعة، وتسوية الصف، وأهميتهما، ويشمل ثلاثة مباحث.

المبحث الأول: أهمية صلاة الجماعة والحكمة منها، ويشمل خمسة مطالب.

المطلب الأول: تعريف الصلاة لغة واصطلاحا.

المطلب الثاني: أهمية صلاة الجماعة في القرآن الكريم.

المطلب الثالث: مشروعية صلاة الجماعة من السنة.

المطلب الرابع: الآثار الواردة عن السلف في المحافظة على صلاة الجماعة.

المطلب الخامس: الحكمة من مشروعية صلاة الجماعة.

المبحث الثاني: حكمة الصفوف، وتسويتها في الصلاة.

المبحث الثالث: اهتمام العلماء في مصنفاتهم، بتسوية الصف.
উপস্থাপনা (التمهيد)

জামাতে সালাত আদায় করার হিকমত (الحكمة), কাতার সোজা করা এবং এ দুটির গুরুত্ব; এটি তিনটি পরিচ্ছেদ (المبحث) সম্বলিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): জামাতে সালাতের গুরুত্ব ও এর হিকমত (الحكمة); এটি পাঁচটি উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب) সম্বলিত।

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الأول): আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সালাতের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الثاني): কুরআনুল কারিমে জামাতে সালাতের গুরুত্ব।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الثالث): সুন্নাহ (السنة) থেকে জামাতে সালাতের বিধান (مشروعية)।

চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الرابع): জামাতে সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়ার বিষয়ে সালফগণের থেকে বর্ণিত আছারসমূহ (الآثار)।

পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ (المطلب الخامس): জামাতে সালাতের বিধানের (مشروعية) হিকমত (الحكمة)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): সালাতে কাতারসমূহ এবং কাতার সোজা করার হিকমত (الحكمة)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثالث): আলিমগণের রচিত গ্রন্থসমূহে কাতার সোজা করার প্রতি গুরুত্বারোপ।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المبحث الأول

أهمية صلاة الجماعة، والحكمة منها

للصلاة مكانة في الإسلام، فقد أمر الله سبحانه وتعالى بفعلها جماعة؛ لما في ذلك من الحكم والفوائد العظيمة التي تعود على الفرد والمجتمع، وتظهر أهمية صلاة الجماعة، من النصوص الواردة في كتاب الله، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، ومن الآثار الواردة عن سلف هذه الأمة رضي الله عنهم. وسأتطرق إلى أهمية صلاة الجماعة من خِلال المطالب الآتية:

 

‌‌المطلب الأول: تعريف الصلاة لغة واصطلاحا:

‌‌تعريف الصلاة لغة: جاءت الصلاة في اللغة على عدة معان منها:

حسن الثناء(1) ومنه قوله تعالى: {أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ}(2).

--------------------------------------------

(1) انظر: جمهرة اللغة 2/ 1077، لسان العرب 14/ 464، المصباح المنير 1/ 346. وانظر الجامع لأحكام القرآن 2/ 468، 10/ 364، 17/ 169، 214، وتفسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان ص 76، 350، 667، 671.

(2) البقرة: 157.
‌প্রথম পরিচ্ছেদ

জামাতে সালাতের গুরুত্ব এবং এর রহস্য (حكمة)

ইসলামে সালাতের এক অনন্য মর্যাদা রয়েছে। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তা জামাতে আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন; কারণ এর মধ্যে এমন অনেক রহস্য (حكمة) ও সুমহান উপকারিতা রয়েছে যা ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণে ফিরে আসে। জামাতে সালাতের গুরুত্ব আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) এবং এই উম্মতের সালাফ (سلف) বা পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণিত আসার (آثار) থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। আমি নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলোর মাধ্যমে জামাতে সালাতের গুরুত্ব আলোচনা করব:

 

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: শাব্দিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحا) অর্থে সালাতের সংজ্ঞা:

‌সালাতের শাব্দিক সংজ্ঞা: আভিধানিক অর্থে ‘সালাত’ শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, তন্মধ্যে রয়েছে:

উত্তম প্রশংসা(1) এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তারাই তারা, যাদের ওপর তাদের রবের পক্ষ থেকে প্রশংসা (صلوات) ও রহমত বর্ষিত হয় এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত}(2)।

--------------------------------------------

(1) দেখুন: জামহারা আল-লুগাহ ২/ ১০৭৭, লিসানুল আরব ১৪/ ৪৬৪, আল-মিসবাহুল মুনীর ১/ ৩৪৬। আরও দেখুন আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন ২/ ৪৬৮, ১০/ ৩৬৪, ১৭/ ১৬৯, ২১৪ এবং তাফসীরুল কারীমুর রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান পৃ. ৭৬, ৩৫০, ৬৬৭, ৬৭১।

(2) আল-বাকারাহ: ১৫৭।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ومنها الدعاء، ومنه قول الله تعالى: {وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ}(1) أي: ادع لهم.

ومنها الرحمة ومنه قوله تعالى: {هُوَ الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْكُمْ وَمَلَائِكَتُهُ لِيُخْرِجَكُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيمًا}(2).

ومنها الاستغفار ومنه قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا}(3).

وقال في تاج العروس: "مشتركة بين الدعاء، والتعظيم، والرحمة، والبركة، ومنه: "اللهم صل على آل أبي أوفى"(4) أي بارك عليهم، أو ارحمهم"(5).

 

‌‌وفي الاصطلاح:

من أشمل تعريفات الصلاة اصطلاحا أنها "التعبد لله بأقوال وأفعال

--------------------------------------------

(1) التوبة: 103.

(2) الأحزاب: 44.

(3) الأحزاب: 56.

(4) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب المغازي، باب غزوة الحديبية برقم (6332) 8/ 73، ومسلم في صحيحه، كتاب الزكاة، باب الدعاء لمن أتى بصدقة برقم (1078) 2/ 756.

(5) انظر: تاج العروس 38/ 439.
এর মধ্যে একটি হলো দোয়া, যার দৃষ্টান্ত মহান আল্লাহর এই বাণী: {আর আপনি তাদের জন্য দোয়া করুন, নিশ্চয়ই আপনার দোয়া তাদের জন্য প্রশান্তিদায়ক; আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ}(১) অর্থাৎ: তাদের জন্য দোয়া করুন।

এর আরেকটি অর্থ হলো রহমত, যার উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারাও, যাতে তিনি তোমাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন; আর তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু}(২)।

এর আরেকটি অর্থ হলো ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা), যার দৃষ্টান্ত আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো}(৩)।

তাজুল আরুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এটি দোয়া, তাজিম (সম্মান প্রদর্শন), রহমত এবং বরকতের মাঝে একটি সাধারণ অর্থ বহন করে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: 'হে আল্লাহ, আপনি আবু আওফার পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন'(৪) অর্থাৎ তাদের ওপর বরকত নাযিল করুন অথবা তাদের প্রতি রহম করুন"(৫)।

 

‌‌আর পারিভাষিক সংজ্ঞায়:

পরিভাষায় সালাতের সবচেয়ে ব্যাপক সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে একটি হলো যে, "নির্দিষ্ট কিছু কথা ও কাজের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা...

--------------------------------------------

(১) আত-তাওবা: ১০৩।

(২) আল-আহজাব: ৪৪।

(৩) আল-আহজাব: ৫৬।

(৪) ইমাম বুখারি এটি তাঁর সহিহ বুখারি-তে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল মাগাজি, বাবু গাজওয়াতিল হুদাইবিয়া, হাদিস নং (৬৩৩২), ৮/৭৩; এবং ইমাম মুসলিম এটি তাঁর সহিহ মুসলিম-তে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুজ জাকাত, বাবুদ দোয়া লিমান আতা বি-সাদাকাহ, হাদিস নং (১০৭৮), ২/৭৫৬।

(৫) দেখুন: তাজুল আরুস ৩৮/৪৩৯।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
مخصوصة مفتتحة بالتكبير مختتمة بالتسليم"(1). ولقد عرفها فقهاء المذاهب، بتعريفات متقاربة لهذا التعريف نسبيا(2)

وأما الجماعة، فإنها مأخوذة من قولهم: جمع الشيء إلى الشيء إذا ضمه إليه، فأصل الاجتماع الانضمام، وسميت الجماعة جماعة لانضمام أفرادها بعضهم إلى بعض(3).

 

‌‌المطلب الثاني: أهمية صلاة الجماعة في القرآن الكريم:

شرع الله سبحانه وتعالى إقامة الصلاة جماعة، ويتضح ذلك من أمره بالركوع ـ الذي هو ركن من أركان الصلاة ـ مع الراكعين، فقال تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ}(4).

قال القرطبي: " (مع) تقتضي المعية والجمعية، ولهذا قال جماعةٌ من أهل

--------------------------------------------

(1) الشرح الممتع 2/ 5.

(2) قال في تبيين الحقائق 1/ 78: هي عبارة عن الأفعال المخصوصة المعهودة، وقال في مواهب الجليل 1/ 377: هي أقوال

وأفعال مفتتحة بالتكبير مختتمة بالتسليم مع النية بشرائط مخصوصة، وقال في مغني المحتاج 1/ 120: هي أقوال

وأفعال مفتتحة بالتكبير مختتمة بالتسليم بشرائط مخصوصة، وقال في الإنصاف 1/ 388: عبارة عن الأفعال المعلومة مفتتحة بالتكبير مختتمة بالتسليم. وانظر: التعريفات 1/ 175 موسوعة فقه ابن تيمية 2/ 870.

(3) انظر: مقاييس اللغة مادة (جمع) 1/ 479.

(4) البقرة: 43.
নির্দিষ্ট (কার্যাবলী) যা তাকবিরের মাধ্যমে শুরু এবং সালামের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।"(1) আর বিভিন্ন মাযহাবের ফকিহগণ এই সংজ্ঞার সাথে আপেক্ষিকভাবে নিকটবর্তী সংজ্ঞাসমূহ প্রদান করেছেন।(2)

আর জামাআত (جماعة) সম্পর্কে বলা যায় যে, এটি তাদের একটি উক্তি থেকে গৃহীত হয়েছে: 'এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে একত্র করা (جمع)' যখন সেটিকে তার সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়। অতএব, একত্রিত হওয়ার (الاجتماع) মূল অর্থ হলো পরস্পর মিলিত হওয়া। আর জামাআতকে (جماعة) 'জামাআত' নামকরণ করা হয়েছে কারণ এর সদস্যগণ একে অপরের সাথে মিলিত হয়।(3).

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে জামাআতে সালাত আদায়ের গুরুত্ব:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জামাআতের সাথে সালাত কায়েম করার বিধান দিয়েছেন। এটি রুকুকারীদের সাথে রুকু করার—যা সালাতের অন্যতম রুকন (ركن)—নির্দেশ থেকে সুস্পষ্ট হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু করো।"(4).

ইমাম কুরতুবী বলেন: "(সাথে/مع) শব্দটি সাহচর্য (المعية) ও সামষ্টিকতার (الجمعية) দাবি রাখে, আর এ কারণেই একদল (جماعة) আলেম বলেছেন...

--------------------------------------------

(1) আশ-শারহুল মুমতি ২/৫।

(2) তাবয়িনুল হাকায়িক ১/৭৮-এ বলা হয়েছে: এটি নির্দিষ্ট ও পরিচিত কার্যাবলীর নাম। মাওয়াহিবুল জলিল ১/৩৭৭-এ বলা হয়েছে: এটি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে নিয়তসহ তাকবিরের মাধ্যমে শুরু এবং সালামের মাধ্যমে শেষ হওয়া কতগুলো উক্তি ও কর্ম। মুগনী আল-মুহতাজ ১/১২০-এ বলা হয়েছে: এটি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে তাকবিরের মাধ্যমে শুরু এবং সালামের মাধ্যমে শেষ হওয়া কতগুলো উক্তি ও কর্ম। আল-ইনসাফ ১/৩৮৮-এ বলা হয়েছে: এটি নির্দিষ্ট কার্যাবলীর নাম যা তাকবিরের মাধ্যমে শুরু এবং সালামের মাধ্যমে শেষ হয়। আরও দেখুন: আত-তা’রিফাত ১/১৭৫, মাওসুআতু ফিকহি ইবনে তাইমিয়্যাহ ২/৮৭০।

(3) দেখুন: মাকায়িসুল লুগাহ, মূল শব্দ: (جمع) ১/৪৭৯।

(4) আল-বাকারাহ: ৪৩।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
التأويل بالقرآن، إن الأمر بالصلاة أولاً، لم يقتض شهود الجماعة، فأمرهم بقوله (مع) شهود الجماعة"(1).

قال صاحب اللباب: "أي صلوا مع المصلين، ففي الأول أمر بإقامة الصلاة، وفي الثاني أمر بفعلها في الجماعة، فلا تكرار"(2).

قال الكاساني: "أمر الله تعالى بالركوع مع الراكعين، وذلك يكون في حال المشاركة في الركوع، فكان أمراً بإقامة الصلاة بالجماعة، ومطلق الأمر لوجوب العمل"(3).

وإن كانت الآية الكريمة، نزلت في أمر بني إسرائيل أن يركع بعضهم مع بعض، وشرع من قبلنا شرع لنا، ما لم يرد شرعنا بخلافه(4)، وهنا ورد شرعنا بما يوافقه، قال تعالى: {أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ}(5).

ومن الأدلة على مشروعية الصلاة جماعةً، قوله تعالى: {وَإِذَا كُنْتَ فِيهِمْ

--------------------------------------------

(1) الجامع لأحكام القرآن 1/ 348.

(2) اللباب في علوم الكتاب 2/ 26.

(3) بدائع الصنائع 1/ 155.

(4) هذا من الأدلة المختلف فيها بين الأصوليين، للاستزادة انظر: (البرهان في أصول الفقه 1/ 331، روضة الناظر 1/ 160، البحر المحيط 4/ 346).

(5) الأنعام: 90.
কুরআনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা (التأويل) হলো, সালাতের প্রথম আদেশটি জামাতে (جماعة) উপস্থিত হওয়াকে অপরিহার্য করে না; তাই তিনি তাদের '(সাথে)' শব্দের মাধ্যমে জামাতে (جماعة) উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন(১).

আল-লুবাব গ্রন্থের লেখক বলেছেন: "অর্থাৎ তোমরা সালাত আদায়কারীদের সাথে সালাত আদায় করো। সুতরাং প্রথমটিতে সালাত কায়েমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর দ্বিতীয়টিতে তা জামাতের (جماعة) সাথে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাই এখানে কোনো পুনরাবৃত্তি নেই"(২).

আল-কাসানি বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা রুকুকারীদের সাথে রুকু করার আদেশ দিয়েছেন, আর তা রুকুতে শরিক হওয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। সুতরাং এটি জামাতের (جماعة) সাথে সালাত কায়েমের নির্দেশ ছিল। আর সাধারণ নির্দেশ আমল করা আবশ্যক (وجوب) হওয়ার দাবি রাখে"(৩).

যদিও এই মহান আয়াতটি বনী ইসরাঈলকে একে অপরের সাথে রুকু করার আদেশ দিয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল, আর আমাদের পূর্ববর্তীদের শরিয়ত (شرع من قبلنا) আমাদের জন্য শরিয়ত হিসেবে গণ্য হয় যতক্ষণ না আমাদের শরিয়তে এর বিপরীত কিছু বর্ণিত হয়(৪), আর এখানে আমাদের শরিয়ত এর অনুকূলেই বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত করেছেন, অতএব আপনি তাদের পথেরই অনুসরণ করুন}(৫).

জামাতে (جماعة) সালাত বৈধ (مشروعية) হওয়ার অন্যতম দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন...

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন ১/ ৩৪৮।

(২) আল-লুবাব ফি উলুমিল কিতাব ২/ ২৬।

(৩) বাদাউস সানাই ১/ ১৫৫।

(৪) এটি উসুল শাস্ত্রবিদদের (الأصوليين) মাঝে মতপার্থক্যপূর্ণ দলিলগুলোর একটি; বিস্তারিত জানতে দেখুন: (আল-বুরহান ফি উসুলিল ফিকহ ১/ ৩৩১, রওদাতুন নাজির ১/ ১৬০, আল-বাহরুল মুহিত ৪/ ৩৪৬)।

(৫) আল-আনআম: ৯০।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ فَلْتَقُمْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ}(1) حيث أمر الله رسوله صلى الله عليه وسلم، بأن يصلي بمن معه من الصحابة جماعة، وهم في حال الخوف، وملاقاة العدو، ففي حال الأمن من باب أولى، ولو كانت فرض كفاية لسقطت عن الطائفة الثانية، لإقامتها جماعة بالطائفة الأولى، وكذلك سوغ فيها، ما لا يجوز لغير عذر، كاستدبار القبلة، والحركة الكثيرة، والانصراف قبل الإمام، مع إمكانية صلاتهم فرادى.(2)

 

‌‌المطلب الثالث: مشروعية صلاة الجماعة من السنة:

لقد اهتم النبي صلى الله عليه وسلم بصلاة الجماعة، قولاً، وعملاً، وتحذيرًا لمن تخلف عنها، ومن الأحاديث الدالة على ذلك ما يلي:

 

‌‌الدليل الأول:

حديثُ ابن عمر رضي الله عنهم، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "صلاة الجماعة تفضل صلاة الفذ، بسبع وعشرين درجة"(3).

 

‌‌وجه الدلالة:

حث النبي صلى الله عليه وسلم على صلاة الجماعة، وذلك ببيان فضلها على صلاة الفذ، بسبعٍ وعشرين درجة، ولو كانت صلاة الجماعة، مثل صلاة

--------------------------------------------

(1) النساء: 102.

(2) انظر: أحكام حضور المساجد ص 19.

(3) أخرجه البخاري في صحيحه بلفظه، في كتاب الأذان، باب فضل الجماعة برقم (645) 1/ 131، ومسلم في صحيحه، كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب فضل الجماعة، وبيان التشديد في التخلف عنها برقم (650) 1/ 450.
"আপনি যখন তাদের মাঝে থাকেন এবং তাদের জন্য সালাত কায়েম করেন, তখন তাদের একদল যেন আপনার সাথে দাঁড়ায়"(১) যেখানে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর সাথে থাকা সাহাবীগণকে নিয়ে জামাতবদ্ধ (جماعة) হয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন, অথচ তারা তখন ভীতিপ্রদ অবস্থায় এবং শত্রুর সম্মুখভাগে ছিলেন। সুতরাং নিরাপদ অবস্থায় এটি পালিত হওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। আর যদি এটি ফরযে কিফায়া (فرض كفاية) হতো, তবে প্রথম দলের জামাত আদায়ের মাধ্যমে দ্বিতীয় দলের ওপর থেকে তা রহিত হয়ে যেত। তদ্রূপ এই সালাতে এমন কিছু বিষয় বৈধ করা হয়েছে যা কোনো ওজর (অজুহাত) ছাড়া জায়েয নয়; যেমন কিবলার দিকে পিঠ ফেরানো, অধিক নড়াচড়া করা এবং ইমামের আগে সালাত শেষ করা—অথচ তাদের জন্য একাকী সালাত আদায়ের সুযোগ ছিল।(২)

 

‌‌তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সুন্নাহর আলোকে জামাতে সালাত আদায়ের বিধান:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কথা, কাজ এবং যারা জামাত থেকে বিরত থাকে তাদের প্রতি সতর্কবাণী উচ্চারণের মাধ্যমে জামাতে সালাত আদায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। এ বিষয়ে নির্দেশক হাদিসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

 

‌‌প্রথম দলিল:

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) বর্ণিত হাদিস, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জামাতে সালাত আদায়ের মর্যাদা একাকী (الفذ) সালাত আদায়ের চেয়ে সাতাশ গুণ বেশি।"(৩).

 

‌‌দলিলের বিশ্লেষণ (وجه الدلالة):

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জামাতে সালাত আদায়ের প্রতি উৎসাহিত করেছেন একাকী (الفذ) সালাত আদায়ের তুলনায় এর সাতাশ গুণ শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার মাধ্যমে। আর যদি জামাতে সালাত সাধারণ সালাতের মতোই হতো...

--------------------------------------------

(১) আন-নিসা: ১০২।

(২) দেখুন: আহকামু হুদুরিল মাসাজিদ, পৃষ্ঠা ১৯।

(৩) বুখারী এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে উক্ত শব্দে সংকলন করেছেন, আজান অধ্যায়, জামাতের ফজিলত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (৬৪৫) ১/১৩১; এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে, মাসজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ অধ্যায়, জামাতের ফজিলত এবং তা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে কঠোরতার বিবরণ পরিচ্ছেদ, হাদিস নং (৬৫০) ১/৪৫০।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
المرء وحده، لما فُضِّلَت عليها.

 

‌‌الدليل الثاني:

حديثُ مالك بن الحويرث رضي الله عنه قال: "أتينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن شببةٌ متقاربون، فأقمنا عنده عشرين ليلة، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم رحيمًا، رقيقًا، فظن أنا قد اشتقنا أهلنا، فسألنا عمَّن تركنا من أهلنا فأخبرناه، فقال: ارجعوا إلى أهليكم فأقيموا فيهم، وعلموهم، ومروهم، فإذا حضرت الصلاة، فليؤذِّن لكم أحدُكم، ثم ليؤمكم أكبرُكم"(1).

وجه الدلالة: أمر النبي صلى الله عليه وسلم، مالك بن الحويرث رضي الله عنه ومن معه، بالأذان، والصلاة جماعة في حال السفر، ففي حال الإقامة أولى، والأمر يقتضي الوجوب.(2)

 

‌‌الدليل الثالث:

حديثُ عائشةرضي الله عنها، قالت: "ثَقُلَ النبي صلى الله عليه وسلم، فقال:

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب الأدب، باب رحمة الناس والبهائم برقم (6002) 8/ 9، ومسلم في صحيحه، كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب من أحق بالإمامة برقم (674) 1/ 465.

(2) انظر الصلاة مفهوم وفضائل ص 7.
একা নামাজ পড়ার ওপর (জামাআতের নামাজ) শ্রেষ্ঠত্ব পেত না।

 

‌‌দ্বিতীয় দলিল:

মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "আমরা সমবয়সী একদল যুবক রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম। আমরা তাঁর কাছে বিশ রাত অবস্থান করলাম। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অত্যন্ত দয়ালু ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন। যখন তিনি বুঝতে পারলেন যে আমরা আমাদের পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েছি, তখন তিনি আমাদের পরিবারের যাদেরকে রেখে এসেছি তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং আমরা তাঁকে জানালাম। তখন তিনি বললেন: তোমরা তোমাদের পরিবারের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের মাঝেই অবস্থান করো, তাদেরকে শিক্ষা দাও এবং নির্দেশ প্রদান করো। আর যখন নামাজের সময় হবে, তখন তোমাদের মধ্য থেকে একজন যেন আজান দেয় এবং তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় সে যেন ইমামতি করে"(১)।

দলিলের ধরন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং তাঁর সাথীদের সফর অবস্থায় আজান দেওয়ার এবং জামাআতের সাথে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং মুকিম অবস্থায় এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আর নির্দেশ সাধারণত আবশ্যক (وجوب) হওয়ার দাবি রাখে।(২)

 

‌‌তৃতীয় দলিল:

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসুস্থতায় কাতর হয়ে পড়লেন, তখন তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি তাঁর সহিহ বুখারি গ্রন্থে, কিতাবুল আদব, মানুষ ও পশুর প্রতি দয়া অনুচ্ছেদ, নম্বর (৬০০২) ৮/৯; এবং মুসলিম তাঁর সহিহ মুসলিম গ্রন্থে, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত, ইমামতির অধিক হকদার কে অনুচ্ছেদ, নম্বর (৬৭৪) ১/৪৬৫-তে বর্ণনা করেছেন।

(২) দেখুন: আস-সালাতু মাফহুমুন ওয়া ফাদাইলুন, পৃষ্ঠা ৭।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
أَصلى الناس؟ قلنا: لا، هم يَنْتَظِرونك يا رسول الله، قال: ضعوا لي ماء في المِخْضَب(1)، ففعلنا، فاغتسل، ثم ذهب لينوء، فأغمي عليه، ثم أفاق، فقال: أصلى الناس؟ قلنا: لا، هم ينتظرونك، قال: ضعوا لي ماء في المخضب، ففعلنا، فاغتسل، ثم ذهب لينوء فأغمي عليه، ثم أفاق، فقال: أصلى الناس؟ قلنا: لا، هم ينتظرونك، قال: ضعوا لي ماء في المخضب، فاغتسل، ثم ذهب لينوء، فأغمي عليه، ثم أفاق، فقال: أصلى الناس؟ قلنا: لا، هم ينتظرونك، والناس عكوفٌ في المسجد، ينتظرونه صلى الله عليه وسلم لصلاة العشاء، قالت: فأرسل إلى أبي بكرٍ أن يصليَّ بالناس .... " الحديث(2).

 

‌‌وجه الدلالة:

فعلُ النبي صلى الله عليه وسلم، يَدل على حِرصه على صلاة الجماعة، فسؤاله عن الصلاة بعد كل إغمائةٍ، وإعادة الاغتسال مرًة بعد أخرى، لمحاولة استعادة نشاطه ليقوم، ويصلي بهم، دليل واضحٌ وجليٌّ على اهتمامه بهذه الشعيرة العظيمة.

 

‌‌الدليل الرابع:

حديثُ أبي هريرة رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد ناسا في بعض الصلوات فقال: "لقد هممت أن آمر بالصلاة، ثم آمر رجلاً فيصلي بالناس، ثم أنطلق معي برجالٍ معهم حُزم من حطب، إلى قوم لا يشهدون الصلاة، فَأُحَرِّق عليهم بُيوتهم بالنار"(3).

--------------------------------------------

(1) المخضب هو: الإناء الذي يغسل فيه، شبه المركن والإجانة. انظر: (لسان العرب 1/ 359، المعجم الوسيط 1/ 239، غريب الحديث لابن سلام 3/ 91).

(2) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب الأذان، باب إنما جعل الإمام ليؤتم به برقم (687) 1/ 138، ومسلم في صحيحه كتاب الصلاة، باب استخلاف الإمام إذا عرض له عذر من مرض وسفر برقم (418) 1/ 311.

(3) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب الأذان، باب وجوب صلاة الجماعة برقم (644) 1/ 131، ومسلم بلفظه في صحيحه، كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب فضل صلاة الجماعة، وبيان التشديد في التخلف عنها برقم (651) 1/ 451.
মানুষ কি নামাজ পড়েছে? আমরা বললাম: না, হে আল্লাহর রাসুল, তারা আপনার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বললেন: আমার জন্য মিখদাব(১)-এ পানি রাখো। আমরা তা করলাম। তিনি গোসল করলেন, এরপর সচেষ্ট হয়ে ওঠার চেষ্টা করলেন কিন্তু মূর্ছা গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরল, তিনি বললেন: মানুষ কি নামাজ পড়েছে? আমরা বললাম: না, তারা আপনার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বললেন: আমার জন্য মিখদাবে পানি রাখো। আমরা তা করলাম। তিনি গোসল করলেন, এরপর সচেষ্ট হয়ে ওঠার চেষ্টা করলেন কিন্তু মূর্ছা গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরল, তিনি বললেন: মানুষ কি নামাজ পড়েছে? আমরা বললাম: না, তারা আপনার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বললেন: আমার জন্য মিখদাবে পানি রাখো, তিনি গোসল করলেন, এরপর সচেষ্ট হয়ে ওঠার চেষ্টা করলেন কিন্তু মূর্ছা গেলেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরল, তিনি বললেন: মানুষ কি নামাজ পড়েছে? আমরা বললাম: না, তারা আপনার অপেক্ষায় রয়েছে। আর মানুষ এশার নামাজের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপেক্ষায় মসজিদে উপবিষ্ট ছিল। আয়েশা (রা.) বলেন: অতঃপর তিনি আবু বকরের নিকট সংবাদ পাঠালেন যেন তিনি মানুষকে নিয়ে নামাজ আদায় করেন..." হাদিস।(২)

 

‌‌দলিল গ্রহণের দিক:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই আমল জামাতে নামাজের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহের প্রমাণ দেয়। প্রতিবার মূর্ছা যাওয়ার পর নামাজের কথা জিজ্ঞেস করা এবং পুনরায় শক্তি সঞ্চয়ের প্রচেষ্টায় বারবার গোসল করা যাতে তিনি সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাঁদের নিয়ে নামাজ পড়তে পারেন—তা এই মহান ইবাদতের প্রতি তাঁর গুরুত্বারোপের একটি সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল দলিল।

 

‌‌চতুর্থ দলিল:

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো এক নামাজে কিছু লোককে অনুপস্থিত পেলেন, তখন তিনি বললেন: "আমি সংকল্প করেছিলাম যে, নামাজের নির্দেশ দিই, এরপর একজন ব্যক্তিকে নির্দেশ দিই সে যেন মানুষকে নিয়ে নামাজ পড়ে, আর আমি আমার সাথে এমন কিছু লোককে নিয়ে যাই যাদের নিকট কাঠের বোঝা থাকবে, এরপর সেই সম্প্রদায়ের নিকট যাই যারা নামাজে উপস্থিত হয় না, অতঃপর তাদের ওপর তাদের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিই"(৩)।

--------------------------------------------

(১) মিখদাব হলো: সেই পাত্র যাতে ধৌত করা হয়, যা বড় গামলা বা টবের সদৃশ। দেখুন: (লিসানুল আরব ১/ ৩৫৯, আল-মুজামুল ওয়াসিত ১/ ২৩৯, ইবনে সালাম রচিত গারিবুল হাদিস ৩/ ৯১)।

(২) এটি বুখারি তাঁর সহিহ-তে বর্ণনা করেছেন, আজান অধ্যায়, 'ইমামকে অনুসরণ করার জন্যই নির্ধারণ করা হয়েছে' পরিচ্ছেদ, নম্বর (৬৮৭) ১/ ১৩৮; এবং মুসলিম তাঁর সহিহ-তে বর্ণনা করেছেন, নামাজ অধ্যায়, 'অসুস্থতা বা সফরের মতো ওজরের কারণে ইমামের প্রতিনিধি নিয়োগ' পরিচ্ছেদ, নম্বর (৪১৮) ১/ ৩১১।

(৩) এটি বুখারি তাঁর সহিহ-তে বর্ণনা করেছেন, আজান অধ্যায়, 'জামাতে নামাজ ওয়াজিব হওয়া' পরিচ্ছেদ, নম্বর (৬৪৪) ১/ ১৩১; এবং মুসলিম তাঁর সহিহ-তে একই শব্দে বর্ণনা করেছেন, মসজিদ ও নামাজের স্থানসমূহ অধ্যায়, 'জামাতে নামাজের ফজিলত এবং তাতে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কঠোরতা' পরিচ্ছেদ, নম্বর (৬৫১) ১/ ৪৫১।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وجه الدلالة: أن النبي صلى الله عليه وسلم، همَّ بإحراق بيوت المتخلفين عن صلاة الجماعة بالنار، ولا يكون التهديد بالإحراق، إلا على تركِ واجبٍ، أو فعلِ محرم.(1)

 

‌‌الدليل الخامس:

حديثُ أبي هريرة رضي الله عنه قال: "أتى النبيَّ صلى الله عليه وسلم، رجلٌ أعمى فقال: يا رسول الله ليس لي قائد يقودني إلى المسجد، فسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يُرَخِّصَ له فيصلي في بيته، فرخص له، فلما ولى دعاه، قال: هل تَسْمَعُ النداء بالصلاة، قال: نعم قال: فأجب"(2). …

وجه الدلالة: أن النبي صلى الله عليه وسلم، لم يرخص لعبد الله بن أم مكتوم رضي الله عنه، في التخلف عن صلاة الجماعة، مع وجود أعذار متعددة، دلت النصوص على اعتبارها، وهي كونه، أعمى، وعدم وجود مرافق يقوده إلى المسجد، وبعد داره عن المسجد، ووجود شجر، ونخل بينه وبين المسجد.(3)

 

‌‌الدليل السادس:

حديثُ عثمان بن عفان رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "من

--------------------------------------------

(1) انظر: الصلاة وحكم تاركها لابن القيم ص 136.

(2) أخرجه مسلم في صحيحه، كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب يجب إتيان المسجد على من سمع النداء برقم (653) 1/ 452.

(3) انظر: أحكام حضور المساجد ص 25.
দলীল প্রদানের ধরণ: নবী (সা.) জামাতে সালাত থেকে বিরত থাকাদের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার সংকল্প করেছিলেন। আর পুড়িয়ে দেওয়ার এই হুমকি কেবল কোনো ওয়াজিব (واجب) ত্যাগ করলে অথবা কোনো হারাম (محرم) কাজে লিপ্ত হলেই দেওয়া হতে পারে।(১)

 

‌‌পঞ্চম দলীল:

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "নবী (সা.)-এর নিকট একজন অন্ধ ব্যক্তি এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে মসজিদে নিয়ে আসার মতো কোনো পথপ্রদর্শক নেই। অতঃপর তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট ঘরে সালাত আদায়ের অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তিনি তাকে অনুমতি প্রদান করলেন। অতঃপর যখন তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাকে ডেকে বললেন: তুমি কি সালাতের আযান শুনতে পাও? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে আহবানে সাড়া দাও (অর্থাৎ জামাতে উপস্থিত হও)।"(২)। …

দলীল প্রদানের ধরণ: নবী (সা.) আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)-কে জামাতে সালাত থেকে অনুপস্থিত থাকার অনুমতি দেননি, যদিও তার একাধিক ওজর বিদ্যমান ছিল যা শরয়ি দলীলসমূহের আলোকে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত। সেগুলো হলো: তিনি অন্ধ ছিলেন, তাকে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো সঙ্গী ছিল না, তার ঘর মসজিদ থেকে দূরে অবস্থিত ছিল এবং তার ঘর ও মসজিদের মাঝে প্রচুর গাছপালা ও খেজুর বাগান ছিল।(৩)

 

‌‌ষষ্ঠ দলীল:

উসমান ইবনে আফফান (রা.) বর্ণিত নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আস-সালাতু ওয়া হুকমু তারিকিহা, ইবনুল কায়্যিম, পৃষ্ঠা ১৩৬।

(২) মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত, পরিচ্ছেদ: যে আযান শুনতে পায় তার মসজিদে আসা ওয়াজিব (واجب) হওয়া প্রসঙ্গে, হাদিস নং (৬৫৩), ১/ ৪৫২।

(৩) দেখুন: আহকামু হুদুরিল মাসাজিদ, পৃষ্ঠা ২৫।
(খণ্ড: ১) আহকামুস সাফ ফিস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
صلى العشاء في جماعة، فكأنما قام نصف الليل، ومن صلى الفجر في جماعة، فكأنما قام الليل كله"(1).

 

‌‌وجه الدلالة:

أن في الصلاة جماعة، أجورًا كثيرة، يعطيها الله لعباده، وذلك يدل على أهمية الصلاة ومشروعيتها مع جماعة المسلمين في بيوت الله (المساجد).(2)

 

‌‌الدليل السابع:

حديثُ أبي الدرداء رضي الله عنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "ما من ثلاثةٍ في قرية، ولا بَدْو، لا تقام فيهم الصلاة، إلا قد استحوذ عليهم الشيطان، فعليكم بالجماعة، فإنما يأكل الذئب القاصية"(3) قال السائب: أحد

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في صحيحه، كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب فضل صلاة العشاء والفجر في جماعة برقم (656) 1/ 454.

(2) انظر: تحفة الأحوذي 2/ 11.

(3) أخرجه أبو داود في سننه، كتاب الصلاة، باب التشديد في ترك الجماعة برقم (547) 1/ 205، والنسائي في سننه بلفظه، كتاب الإمامة، باب التشديد في ترك الجماعة برقم (847) 2/ 106، وأحمد في مسنده برقم (21710) 36/ 42، وابن حبان في صحيحه، كتاب الصلاة، باب فرض الجماعة الأعذار التي تبيح تركها برقم (2101) 5/ 457، والحاكم في مستدركه، كتاب الصلاة، باب التأمين برقم (900) 1/ 374، والبيهقي في السنن الكبرى، كتاب الصلاة، باب فرض الجماعة في غير الجمعة على الكفاية برقم (4708) 3/ 54، قال شعيب الأرنؤوط في تحقيق المسند: إسناده حسن من أجل السائب بن حبيش وباقي رجاله ثقات رجال الصحيح 36/ 42، وحسنه الألباني انظر: صحيح أبي داود 3/ 58، مشكاة المصابيح 1/ 235.
"যে ব্যক্তি জামাতের সাথে এশার সালাত আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত কিয়াম করল। আর যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করল, সে যেন পুরো রাত কিয়াম করল"(১)।

 

‌‌নির্দেশনার দিক:

জামাতে সালাত আদায়ের মধ্যে অনেক প্রতিদান রয়েছে যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রদান করেন। এটি আল্লাহর ঘরসমূহে (মসজিদসমূহে) মুসলিমদের জামাতের সাথে সালাত আদায়ের গুরুত্ব এবং এর বিধানের যৌক্তিকতাকে নির্দেশ করে।(২)

 

‌‌সপ্তম দলিল:

আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "কোনো জনপদ বা মরুপ্রান্তরের এমন তিনজন লোক যাদের মধ্যে সালাত কায়েম করা হয় না, শয়তান অবশ্যই তাদের ওপর চড়াও হয়। সুতরাং তোমরা জামাতকে আবশ্যক করে নাও, কেননা নেকড়ে কেবল দলছুট প্রাণীকে ভক্ষণ করে"(৩) সায়েব বলেন: একজন

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত, পরিচ্ছেদ: জামাতের সাথে এশা ও ফজরের সালাতের ফজিলত, হাদিস নং (৬৫৬) ১/ ৪৫৪।

(২) দেখুন: তুহফাতুল আহওয়াযী ২/ ১১।

(৩) আবু দাউদ এটি তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: জামাত ত্যাগের কঠোরতা প্রসঙ্গে, হাদিস নং (৫৪৭) ১/ ২০৫; নাসায়ি তাঁর সুনান গ্রন্থে এই শব্দেই বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ইমামাহ, পরিচ্ছেদ: জামাত ত্যাগের কঠোরতা প্রসঙ্গে, হাদিস নং (৮৪৭) ২/ ১০৬; আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (২১৭১০) ৩৬/ ৪২; ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: জামাতের আবশ্যকতা ও ওজরসমূহ যা তা ত্যাগের অনুমতি দেয়, হাদিস নং (২১০১) ৫/ ৪৫৭; হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: আমিন বলা, হাদিস নং (৯০০) ১/ ৩৭৪; বায়হাকি তাঁর সুনানুল কুবরা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুস সালাত, পরিচ্ছেদ: জুমা ব্যতীত অন্য সালাত কিফায়া হিসেবে জামাতে আদায় করা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে, হাদিস নং (৪৭০৮) ৩/ ৫৪। শুয়াইব আরনাউত মুসনাদ-এর তাহকীকে বলেছেন: সায়েব বিন হুবায়েশের কারণে এর সনদ হাসান (حسن) এবং তাঁর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ সহিহ এর নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারী ৩৬/ ৪২। আর আলবানী এটিকে হাসান (حسن) বলেছেন, দেখুন: সহিহ আবু দাউদ ৩/ ৫৮, মিশকাতুল মাসাবিহ ১/ ২৩৫।