(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: -)
الذكر الجماعي بين الاتباع والابتداع   (محمد بن عبد الرحمن الخميس)

القسم: العقيدة


الكتاب: الذكر الجماعي بين الاتباع والابتداع

المؤلف: محمد بن عبد الرحمن الخميس

الناشر: دار الهدي النبوي، مصر / المنصورة، ودار الففضيلة، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1425هـ/2004م

عدد الصفحات: 125

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সম্মিলিত জিকির: অনুসরণ ও উদ্ভাবনের মাঝে   (মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-খুমায়্যিস)

বিভাগ: আকিদা


বই: সম্মিলিত জিকির: অনুসরণ ও উদ্ভাবনের মাঝে

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-খুমায়্যিস

প্রকাশক: দারুল হাদি আন-নববী, মিশর / মানসুরা, এবং দারুল ফযিলাহ, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি/২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

ال‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمد عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102] .

{يََا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} [النساء:1]

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} [الأحزاب: 70، 71]

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد، وشرّ الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار (1) .

--------------------------------------------

1- هذه خطبة الحاجة التي كان النبي صلى الله عليه وسلم يستفتح بها خطبه، رواها الإمام أحمد في المسند (1/392 – 293) ، وأبو داود (2118) ، والترمذي (1105) ، وابن ماجة (1892) ، وأخرج بعضها الإمام مسلم في صحيحه (867) و (868) ، وللشيخ الألباني رسالة مطبوعة في إثبات صحتها عن النبي صلى الله عليه وسلم وقد صححها كذلك في صحيح أبي داود (860) ، وصحيح ابن ماجة (1535) ، وتخريج مشكاة المصابيح (2149) .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২] ।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।} [আন নিসা: ১]

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।} [আল আহযাব: ৭০, ৭১]

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়াত হলো মুহাম্মাদের হেদায়াত। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব আবিষ্কৃত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নব আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা, এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম হলো জাহান্নাম (১)।

--------------------------------------------

১- এটি হলো খুতবাতুল হাজাহ, যার মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর খুতবা শুরু করতেন। এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে (১/৩৯২ – ৩৯৩), আবু দাউদ (২১১৮), তিরমিযী (১১০৫), ইবনু মাজাহ (১৮৯২)। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এর কিছু অংশ বর্ণনা করেছেন (৮৬৭) ও (৮৬৮)। শাইখ আলবানী এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে একটি মুদ্রিত পুস্তিকা রচনা করেছেন। একইভাবে তিনি এটি সহীহ আবু দাউদ (৮৬০), সহীহ ইবনু মাজাহ (১৫৩৫) এবং তাখরীজু মিশকাতিল মাসাবীহ (২১৪৯) গ্রন্থে সহীহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৪)
وبعد:

فقد انتشرت بين الناس بدع كثيرة في دين الله تعالى، واستبدلوها بسنن النبي صلى الله عليه وسلم، حتى كادت معالم السنة تندثر، وأصبح الباطل حقا، والحق باطلا. وأضحت البدعة سنة، والسنة بدعة.

ومن صور العبادات التي انتشرت بين عامة المسلمين، ظاهرة الذكر الجماعي، في المساجد والبيوت، والمنتديات، وغيرها، وذلك في كثير من البلدان الإسلامية، حتى عمت بها البلوى.

كما يوجد في بعض البلاد الإسلامية من يعتقد أن الدعاء بعد الصلوات المفروضة بشكل جماعي من مستحبات الصلاة. وهم يعتبرونها مثل الراتبة (1) والتي تصلى بعد الفريضة، أو أكثر منها، ويحرصون عليها أشد الحرص، ويواظبون عليها. فإذا لم يدع لهم الإمام بعد الصلاة ولم يجتمع معهم على الذكر بصورة جماعية، رأوا أن صلاتهم ناقصة، وأساءوا الظن به، واتهموه بأنواع من التهم، ولما كان الذكر عبادة لله تعالى، والعبادات توقيفية لا مجال للابتداع فيها، أو للاستحسان. من أجل هذا كان لا بد من بيان حكم هذا العمل،

--------------------------------------------

1- انظر: تحفة الأحوذي في شرح جامع الترمذي (1/246) .
অতঃপর:

মহান আল্লাহর দ্বীনে মানুষের মাঝে অনেক বিদআত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা সেগুলোকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর স্থলাভিষিক্ত করেছে, এমনকি সুন্নাহর চিহ্নসমূহ বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে বাতিল হকে পরিণত হয়েছে এবং হক বাতিলে পরিণত হয়েছে। আর বিদআত সুন্নাহ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সুন্নাহ বিদআতে পরিণত হয়েছে।

সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে ইবাদতের যে রূপগুলো ছড়িয়ে পড়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো সম্মিলিত জিকিরের প্রবণতা—যা মসজিদ, বাড়িঘর, সভা-সমাবেশ এবং অন্যান্য স্থানে পরিলক্ষিত হয়। এটি অনেক মুসলিম দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, এমনকি তা এক ব্যাপক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

তেমনিভাবে কিছু মুসলিম দেশে এমন লোক রয়েছে যারা মনে করে যে, ফরজ সালাতের পর সম্মিলিতভাবে দোয়া করা সালাতের মুস্তাহাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তারা একে সুন্নাহে রাতেবার (১) মতো গণ্য করে—যা ফরজের পর পড়া হয়—অথবা তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেয় এবং এর প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী থাকে ও নিয়মিত তা পালন করে। যদি ইমাম সালাতের পর তাদের জন্য দোয়া না করেন এবং তাদের সাথে সম্মিলিতভাবে জিকিরে শরিক না হন, তবে তারা মনে করে যে তাদের সালাত অপূর্ণাঙ্গ রয়ে গেছে। তারা ইমামের প্রতি কুধারণা পোষণ করে এবং তাকে নানা অপবাদে অভিযুক্ত করে। যেহেতু জিকির মহান আল্লাহর একটি ইবাদত, আর ইবাদতসমূহ তাওকিফিয়্যাহ (শরয়ি দলিলের ওপর নির্ভরশীল), যাতে নতুন কিছু উদ্ভাবন বা মনগড়া ভালো মনে করার কোনো অবকাশ নেই; এই কারণেই এই কাজের বিধান স্পষ্ট করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।

--------------------------------------------

১- দেখুন: তুহফাতুল আহওয়াযী ফী শারহি জামিইত তিরমিযী (১/২৪৬)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৫)
والكلام عليه، وذلك كما سيأتي إن شاء الله في مباحث هذا الكتاب.

ولما كان بيان (السنة) والذب عنها، ورد البدعة من أوجب الواجبات على العلماء، وطلبة العلم، والدعاة إلى الله تعالى. ولما كانت ظاهرة الذكر الجماعي مما عمّت به البلوى. وشاع بين العامة في كثير من البلدان، واختلف فيه الناس بين مانع منه، ومجوز له. وقد بحثت عمن ألّف في هذا الموضوع خصوصا، بحيث يستوعبه من جميع جوانبه، ويبين السنة فيه – لكني لم أقف على كتاب في هذا الموضوع. لذلك رأيت مستعينا بالله تعالى أن يكون موضوع هذا البحث هو بيان مدى مشروعية الذكر الجماعي، هل يجوز أم لا؟ وقد جمعت أقوال المانعين منه وأدلتهم، والمجيزين له وأدلتهم، في محاولة لاستيعاب هذا الموضوع، والوقوف على مدى مشروعية هذا الفعل. وأسميت هذا البحث "الذكر الجماعي بين الاتباع والابتداع".

خطة البحث:

اشتمل البحث على: خطبة الحاجة، ومقدمة، وتمهيد، وستة مباحث، وخاتمة.

فأما المقدمة: فهي في أسباب اختيار الموضوع، مع بيان خطة البحث. وكذلك التنبيه على اعتقاد بعض العامة في بعض البلدان وجوب الذكر الجماعي بعد الصلاة وغيرها، وذلك كمدخل للبحث.

وأما التمهيد: فهو حول بيان منزلة الذكر كعبادة عظيمة، وتوضيح أن العبادات توقيفية لا مجال فيها للرأي ولا للاستحسان.
এবং এর ওপর আলোচনা, যা এই কিতাবের পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে আল্লাহ চাইলে আসবে।

যেহেতু সুন্নাহর বর্ণনা ও একে রক্ষা করা এবং বিদআতকে প্রতিহত করা আলেম, ইলম অন্বেষী এবং আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীদের ওপর অত্যন্ত জরুরি কর্তব্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এবং যেহেতু সম্মিলিত যিকিরের বিষয়টি এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যা সাধারণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এটি অনেক দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচলিত হয়ে পড়েছে এবং এ নিয়ে মানুষের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে—কেউ একে নিষেধ করেছেন, আবার কেউ একে বৈধ বলেছেন। আমি বিশেষভাবে এই বিষয়ে এমন কোনো লেখকের খোঁজ করেছি যিনি এর সকল দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এর সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি স্পষ্ট করেছেন—কিন্তু আমি এই বিষয়ের ওপর কোনো স্বতন্ত্র কিতাব খুঁজে পাইনি। তাই আমি মহান আল্লাহর সাহায্য কামনার মাধ্যমে এই গবেষণার বিষয় হিসেবে সম্মিলিত যিকিরের শরয়ি ভিত্তি বা বৈধতা কতটুকু—অর্থাৎ এটি কি জায়েয নাকি না—তা স্পষ্ট করাকে সমীচীন মনে করেছি। আমি এই বিষয়টিকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার জন্য এবং এই কর্মটির শরয়ি বৈধতা কতটুকু তা জানার উদ্দেশ্যে একে যারা নিষেধ করেছেন তাদের বক্তব্য ও দলিল এবং যারা জায়েয বলেছেন তাদের বক্তব্য ও দলিলসমূহ একত্রিত করেছি। আর আমি এই গবেষণাপত্রের নাম দিয়েছি "সম্মিলিত যিকির: অনুসরণ ও উদ্ভাবনের মাঝে"।

গবেষণার রূপরেখা:

গবেষণাটি অন্তর্ভুক্ত করেছে: প্রয়োজনীয় খুতবা, ভূমিকা, প্রারম্ভিকা, ছয়টি মূল অধ্যায় এবং উপসংহার।

ভূমিকার ক্ষেত্রে: এটি গবেষণার বিষয় নির্বাচনের কারণ এবং রূপরেখা বর্ণনার ওপর বিন্যস্ত। সেই সাথে গবেষণার প্রবেশিকা হিসেবে কোনো কোনো দেশের সাধারণ মানুষের সালাতের পর বা অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্মিলিত যিকিরকে আবশ্যকীয় মনে করার বিশ্বাসের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

আর প্রারম্ভিকা: এটি একটি মহান ইবাদত হিসেবে যিকিরের মর্যাদার বর্ণনা এবং ইবাদতসমূহ যে সম্পূর্ণরূপে দলিলের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে ব্যক্তিগত মতামত বা ভালো লাগার কোনো সুযোগ নেই—তা স্পষ্ট করার বিষয়ে আলোচনা করে।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৬)
وأما المبحث الأول: فهو في تعريف الذكر الجماعي.

والمبحث الثاني: حول نشأة بدعة الذكر الجماعي.

والمبحث الثالث: حجج المجوزين للذكر الجماعي وأدلتهم.

والمبحث الرابع: حجج المانعين من الذكر الجماعي وأدلتهم.

والمبحث الخامس: في حكم الذكر الجماعي.

والمبحث السادس: حول مفاسد الذكر الجماعي.

والخاتمة: في بيان خلاصة البحث ونتائجه.

والله أسأل أن يرزقنا الإخلاص والتوفيق، والسداد، وأن يجنبنا الخطأ والزلل والزيغ، وأن يتقبل منا هذا العمل. وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

بقلم:

د. محمد بن عبد الرحمن الخميس
প্রথম পরিচ্ছেদ: সম্মিলিত জিকিরের সংজ্ঞায়ন প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সম্মিলিত জিকিরের বিদআতের উৎপত্তি সম্পর্কে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সম্মিলিত জিকির বৈধ জ্ঞানকারীদের যুক্তি ও প্রমাণসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সম্মিলিত জিকির নিষেধকারীদের যুক্তি ও প্রমাণসমূহ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সম্মিলিত জিকিরের বিধান প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সম্মিলিত জিকিরের অপকারিতা সম্পর্কে।

উপসংহার: গবেষণার সারসংক্ষেপ ও ফলাফল বর্ণনায়।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ইখলাস, তাওফিক ও সঠিক পথপ্রাপ্তি দান করেন, এবং আমাদেরকে ভুল, বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতা থেকে দূরে রাখেন, আর আমাদের থেকে এই আমলটি কবুল করেন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।

লেখক:

ড. মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-খামিস
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تمهيد

مشروعية الذكر ووجوب الاتباع في العبادة

من المعلوم أن الذكر من أفضل العبادات، وهو مأمور به شرعا كما قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْراً كَثِيراً (41) وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلاً} [الأحزاب:41، 42] .

فالمسلم مطالب بذكر الله تعالى في كل وقت، بقلبه، وبلسانه، وبجوارحه، وهذا الذكر من أعظم مظاهر وبراهين التعلق بالله تعالى، ولا سيما أذكار ما بعد الصّلاة، وطرفي النهار، والأذكار عند العوارض والأسباب، فإن الذكر عبادة ترفع درجات صاحبها عند الله، وينال بها الأجر العظيم دون مشقة أو تعب وجهد.

لكن ينبغي للمسلم أن يكون في ذكره لله تعالى ملتزما بحدود الشريعة ونصوصها، وهدي النبي صلى الله عليه وسلم، وصحابته وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين، وذلك لأن الاتباع شرط لصحة العمل، وقبوله عند الله تعالى، كما قال صلى الله عليه وسلم: "من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد" (1) أي باطل مردود على صاحبه.

ومما هو معلوم أن العبادات – ومنها الذكر- كلها توقيفيّة، أي: لا

--------------------------------------------

1- أخرجه البخاري (2697) ، ومسلم (1718) من حديث عائشة.
ভূমিকা

জিকিরের বৈধতা এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে অনুসরণের আবশ্যকতা

এটি সর্বজনবিদিত যে, জিকির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। শরীয়ত অনুযায়ী জিকির করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো (৪১) এবং সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো} [আল-আহজাব: ৪১, ৪২]।

অতএব, একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো প্রতিটি সময়ে অন্তরে, জিহ্বায় এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে মহান আল্লাহর জিকির করা। এই জিকির হলো মহান আল্লাহর সাথে সম্পর্কযুক্ত হওয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ ও প্রমাণ। বিশেষ করে সালাত পরবর্তী জিকিরসমূহ, দিনের দুই প্রান্তের জিকিরসমূহ এবং বিভিন্ন উপলক্ষ ও কারণবশত পঠিত জিকিরসমূহ। নিশ্চয়ই জিকির এমন এক ইবাদত যা আল্লাহর নিকট পালনকারীর মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং এর মাধ্যমে কোনো প্রকার ক্লেশ, ক্লান্তি বা পরিশ্রম ছাড়াই মহান প্রতিদান লাভ করা যায়।

তবে আল্লাহর জিকির করার ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের উচিত শরীয়তের সীমানা ও তার প্রমাণাদি (নসুস) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবী ও কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের হেদায়েতের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা। কারণ, আমল সঠিক হওয়া এবং আল্লাহর নিকট তা কবুল হওয়ার জন্য অনুসরণ (ইত্তিবা) একটি শর্ত। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত" (১) অর্থাৎ তা বাতিল এবং আমলকারীর ওপরই তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

আর এটিও সুপরিচিত যে, সমস্ত ইবাদত—যার অন্তর্ভুক্ত জিকিরও—তাওকিফিয়্যাহ (অর্থাৎ অহি-র ওপর নির্ভরশীল); অর্থাৎ: না

--------------------------------------------

১- এটি বুখারী (২৬৯৭) এবং মুসলিম (১৭১৮) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ১১)
مجال فيها للاجتهاد، بل لا بد من لزوم سنة النبي صلى الله عليه وسلم وشريعته فيها، لأنها شرع من عند الله تعالى، فلا يجوز التقرب إلى الله بتشريع شيء لم يشرعه الله تعالى، وإلا كان هذا اعتداء على حق الله تعالى في التشريع، ومنازعة لله تعالى في حكمه، وقد قال تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} [الشورى:21] .

قال السعدي في تفسير هذه الآية: " … {شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} من الشرك والبدع وتحريم ما أحل الله وتحليل ما حرم الله ونحو ذلك، مما اقتضته أهواؤهم، من أن الدين لا يكون إلا ما شرعه الله تعالى، ليدين به العباد، ويتقربوا به إليه. فالأصل: الحجر على كل أحد أن يشرع شيئا ما جاء عن الله تعالى ولا عن رسوله … " اهـ. (1)

فلا ينبغي، بل ولا يجوز التقرب إلى الله تعالى إلا بما شرع، وبما بين على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم. ومن هنا كان لزاما على المسلم أن يلزم السنة في كل عباداته، وألاّ يحيد عنها قيد أنملة، وإلا أحبط عمله وأبطله إذا كان مخالفا هدي رسول الله صلى الله وسلم في العمل.

ولهذا فإن المسلم ينبغي له ألا يحدث في ذكره لله شيئا مخالفا لما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم هو وأصحابه، وإلا كان مبتدعا في الدين،

--------------------------------------------

1- انظر: تفسير السعدي المسمى (تيسير الكريم المنان في تفسير كلام الرحمن) (6/ 609) ، ط مؤسسة السعيدية بالرياض.
এতে ইজতিহাদের কোনো অবকাশ নেই, বরং এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত ও তাঁর শরীয়তকে আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। কারণ এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা বিধান। সুতরাং আল্লাহ তাআলা যে বিধান দেননি, তেমন কিছু প্রবর্তন করার মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করা বৈধ নয়। অন্যথায় এটি হবে বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার হকের ওপর সীমালঙ্ঘন এবং তাঁর কর্তৃত্বে হস্তক্ষেপ। মহান আল্লাহ বলেন: "তবে কি তাদের এমন অংশীদার আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?" [আশ-শুরা: ২১]।

এই আয়াতের তাফসীরে আস-সাদী বলেন: " … {তারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি} অর্থাৎ শিরক, বিদআত, যা আল্লাহ হালাল করেছেন তা হারাম করা এবং যা হারাম করেছেন তা হালাল করা ইত্যাদি, যা তাদের প্রবৃত্তির চাহিদা ছিল। অথচ দ্বীন কেবল তাই যা আল্লাহ তাআলা বিধিবদ্ধ করেছেন, যাতে বান্দারা তা পালন করে এবং এর মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ করে। সুতরাং মূলনীতি হলো: আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূলের কাছ থেকে আসেনি এমন কিছু বিধিবদ্ধ করা প্রত্যেকের জন্য নিষিদ্ধ … " সমাপ্ত। (১)

সুতরাং আল্লাহ তাআলা যা বিধিবদ্ধ করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যবানে যা বর্ণনা করেছেন, তা ছাড়া অন্য কোনোভাবে তাঁর নৈকট্য অন্বেষণ করা সমীচীন নয়, বরং বৈধই নয়। এ কারণেই একজন মুসলিমের জন্য তার সকল ইবাদতে সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা অপরিহার্য এবং তা থেকে তিল পরিমাণ বিচ্যুত না হওয়া আবশ্যক। অন্যথায় যদি তার আমল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনার পরিপন্থী হয়, তবে তার আমল নষ্ট ও বাতিল হয়ে যাবে।

এজন্য একজন মুসলিমের উচিত আল্লাহর যিকিরের ক্ষেত্রে এমন কিছু উদ্ভাবন না করা যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের অনুসৃত পদ্ধতির পরিপন্থী। অন্যথায় সে দ্বীনের মধ্যে বিদআতকারী হিসেবে গণ্য হবে।

--------------------------------------------

১- দেখুন: আস-সাদীর তাফসীর, যার নাম (তাইসীরুল কারীমিল মান্নান ফী তাফসীরি কালামিল রাহমান) (৬/৬০৯), রিয়াদের মুয়াসসাসাতুস সা'দীয়্যাহ সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ১২)
محدثا في العبادة ما ليس منها.

ومهما استحسن الإنسان بعقله شيئا في العبادة، فإنه – أي الاستحسان- ليس دليلا على مشروعية تلك العبادة، بل إن هذا الاستحسان قد يكون مصادما لحكم الله تعالى، فلا ينبغي أبدا أن يتعبد لله تعالى إلى بما شرع الله على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم.
ইবাদতের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করা যা তার অংশ নয়।

আর মানুষ তার বুদ্ধি দ্বারা ইবাদতের ক্ষেত্রে যা কিছুকেই উত্তম মনে করুক না কেন, সেই উত্তম মনে করা—অর্থাৎ ইস্তাহসান—ঐ ইবাদতের শরীয়তসম্মত হওয়ার দলিল নয়; বরং এই উত্তম মনে করা মহান আল্লাহর বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে। সুতরাং মহান আল্লাহর ইবাদত কেবল সেভাবেই করা উচিত যা আল্লাহ তাঁর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যবানীতে বিধিবদ্ধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌المبحث الأول: تعريف الذكر الجماعي

الذكر الجماعي يتركب من كلمتين، وإليك بيان معنى كل منهما:

أولا: (الذّكر) : بالكسر: الشيء الذي يجري على اللسان (1) ، وتارة يقصد به الحفظ للشيء.

قال الراغب في المفردات: "الذكر: تارة يقال ويراد به: هيئة للنفس بها يمكن للإنسان أن يحفظ ما يقتنيه من المعرفة، وهو كالحفظ إلا أن الحفظ يقال اعتبارا باحترازه، والذكر يقال اعتبارا باستحضاره. وتارة يقال لحضور الشيء القلب أو القول. ولذلك قيل منهما ضربان: ذكر عن نسيان. وذكر لا عن نسيان، بل عن إدامة الحفظ" (2) .

وأما معنى الذكر في الشرع فهو كل قول سيق للثناء والدعاء. أي ما تعبّدنا الشارع بلفظ منّا يتعلق بتعظيم الله، والثناء عليه، بأسمائه وصفاته، وتمجيده وتوحيده، وشكره وتعظيمه، أو بتلاوة كتابه، أو بمسألته ودعائه. (3)

ثانيا: معنى (الجماعي) : هو ما ينطق به المجتمعون للذكر بصوت

--------------------------------------------

1- القاموس المحيط (507) ، لسان العرب لابن منظور (5/ 48) .

2- مفردات الراغب (328) .

3- انظر: الموسوعة الفقهية (21/ 220) ، والفتوحات الربانية (1/ 18) .
প্রথম পরিচ্ছেদ: সম্মিলিত জিকিরের সংজ্ঞা

সম্মিলিত জিকির শব্দটি দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত, নিচে শব্দ দুটির অর্থের বর্ণনা দেওয়া হলো:

প্রথমত: (জিকির): জের যোগে: যা জিহ্বার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় (১), আবার কখনো এর দ্বারা কোনো বিষয় সংরক্ষণ করা উদ্দেশ্য হয়।

রাغب 'মুফরাদাত' গ্রন্থে বলেন: "জিকির: কখনো বলা হয় এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য থাকে: আত্মার এমন এক অবস্থা যার মাধ্যমে মানুষ তার অর্জিত জ্ঞান সংরক্ষণ করতে পারে। এটি সংরক্ষণের মতোই, তবে পার্থক্য হলো সংরক্ষণ বা 'হিফজ' বলা হয় হিফাজত বা সতর্কতার দিক বিবেচনায়, আর 'জিকির' বলা হয় স্মরণে উপস্থিত করার দিক বিবেচনায়। আবার কখনো অন্তরে কোনো বিষয়ের উপস্থিতি বা মুখে উচ্চারণ করাকেও জিকির বলা হয়। এজন্য জিকিরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে: বিস্মৃতির পর স্মরণ করা, এবং বিস্মৃতি ছাড়া বরং নিরবচ্ছিন্ন সংরক্ষণের মাধ্যমে স্মরণ রাখা" (২)।

আর শরিয়তের পরিভাষায় জিকিরের অর্থ হলো এমন প্রত্যেকটি কথা যা প্রশংসা ও দোয়ার উদ্দেশ্যে পেশ করা হয়। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার মহানুভবতা বর্ণনা, তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা, তাঁর মহিমা ও একত্ববাদ ঘোষণা, তাঁর কৃতজ্ঞতা ও বড়ত্ব প্রকাশ, অথবা তাঁর কিতাব তেলাওয়াত করা কিংবা তাঁর কাছে প্রার্থনা ও দোয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট যেসব শব্দ পাঠ করার মাধ্যমে শরিয়ত প্রণেতা আমাদের ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন। (৩)

দ্বিতীয়ত: (সম্মিলিত) শব্দের অর্থ: জিকিরের জন্য সমবেত ব্যক্তিরা উচ্চস্বরে যা উচ্চারণ করেন

--------------------------------------------

১- আল-কামুস আল-মুহিত (৫০৭), ইবনুল মনজুর কৃত লিসানুল আরব (৫/৪৮)।

২- মুফরাদাতুর রাغب (৩২৮)।

৩- দেখুন: আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ (২১/২২০), এবং আল-ফুতুহাতুর রব্বানিয়্যাহ (১/১৮)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ১১)
واحد، يوافق فيه بعضهم بعضًا (1) .

والمقصود بكلامنا وقولنا: الذكر الجماعي هو ما يفعله بعض الناس من الاجتماع أدبار الصلوات المكتوبة، أو في غيرها من الأوقات والأحوال ليرددوا بصوت جماعي أذكارًا وأدعية وأورادا وراء شخص معين، أو دون قائد، لكنهم يأتون بهذه الأذكار في صيغة جماعية ومن صوت واحد، فهذا هو المقصود من وراء هذا البحث.

--------------------------------------------

1- الموسوعة الفقهية (21/ 252) .
একক (কণ্ঠ), যাতে তাদের একে অপর অপরের সাথে একাত্ম হয় (১)।

আমাদের আলোচনা ও বক্তব্যে 'সম্মিলিত জিকির' বলতে যা বোঝানো হয়েছে তা হলো—ফরজ সালাতসমূহের পর অথবা অন্য কোনো সময়ে ও অবস্থায় একদল মানুষের একত্রিত হয়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির পেছনে কিংবা কোনো নেতা ছাড়াই সম্মিলিত স্বরে জিকির, দোয়া ও ওজিফা পুনরাবৃত্তি করা। তারা এই জিকিরগুলো সম্মিলিত রূপে এবং একক স্বরে আদায় করে থাকেন; এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য এটিই।

--------------------------------------------

১- আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ (২১/ ২৫২)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌المبحث الثاني: نشأة الذكر الجماعي

كان مبتدأ نشأة الذكر الجماعي وظهوره في زمن الصحابة رضي الله عنهم كما سيأتي ذلك مفصلاً في المبحث الرابع إن شاء الله، وقد أنكر الصحابة هذه البدعة لما ظهرت وقد قلّ انتشار هذه الظاهرة، وخبت بسبب إنكار السلف لها. ثم لمّا كان زمن المأمون، أمر بنشر تلك الظاهرة. فقد كتب إلى إسحاق بن إبراهيم نائب بغداد يأمره أن يأمر الناس بالتكبير بعد الصلوات الخمس. فقد ذكر الطبري في تاريخه في أحداث عام 216 هـ ما نصّه: "وفيها كتب المأمون إلى إسحاق بن إبراهيم يأمره بأخذ الجند بالتكبير إذا صلوا، فبدؤوا بذلك في مسجد المدينة، والرصافة، يوم الجمعة لأربع عشرة ليلة بقيت من شهر رمضان، من هذه السنة" (1) وجاء في تاريخ ابن كثير: "وفيها كتب المأمون إلى إسحاق بن إبراهيم نائب بغداد، يأمره أن يأمر الناس بالتكبير عقب الصلوات الخمس" (2) .

فكان هذا مبتدأ عودة ظاهرة الذكر الجماعي وبقوة، بسبب مناصرة السلطان لها. ومن المعلوم أن السلطان إذا ناصر أمرا، أو قولا ما، ونشره بالقوة بين الناس، فلابد

--------------------------------------------

1- تاريخ الأمم والملوك (10/ 281) .

2- البداية والنهاية (10/ 282) .
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সম্মিলিত জিকিরের উদ্ভব

সম্মিলিত জিকিরের উৎপত্তি ও আবির্ভাবের সূচনা হয়েছিল সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যুগে, যা ইনশাআল্লাহ চতুর্থ পরিচ্ছেদে বিস্তারিতভাবে আসবে। সাহাবীগণ এই বিদআতের প্রতিবাদ করেছিলেন যখন তা প্রকাশ পেয়েছিল এবং সালফে সালেহীন কর্তৃক এর প্রতিবাদের কারণে এই প্রবণতার বিস্তার কমে গিয়েছিল ও স্তিমিত হয়ে পড়েছিল। এরপর যখন মামুনের যুগ এলো, তখন তিনি এই প্রবণতা ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি বাগদাদের প্রতিনিধি ইসহাক ইবনে ইবরাহিমের কাছে এই মর্মে লিপি পাঠালেন যেন তিনি মানুষকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর তাকবীর পাঠের নির্দেশ দেন। তাবারী তাঁর ইতিহাসে ২১৬ হিজরির ঘটনাবলীতে উল্লেখ করেছেন যার পাঠ নিম্নরূপ: "এই বছরে মামুন ইসহাক ইবনে ইবরাহিমের নিকট লিপি পাঠালেন যেন তিনি সৈন্যদের সালাত আদায়ের পর তাকবীর পাঠ করতে বাধ্য করেন। ফলে তারা এ বছর রমজান মাসের চৌদ্দ দিন বাকি থাকতে জুমার দিনে মদিনার মসজিদে এবং রুসাফায় তা শুরু করে।" (১) ইবনে কাসীরের ইতিহাসে এসেছে: "এই বছরে মামুন বাগদাদের প্রতিনিধি ইসহাক ইবনে ইবরাহিমের নিকট লিখেছিলেন যেন তিনি মানুষকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর তাকবীর পাঠের নির্দেশ দেন।" (২)।

এটি ছিল সম্মিলিত জিকিরের প্রবণতা শক্তিশালীভাবে ফিরে আসার সূচনা, যা সুলতানের সমর্থনের কারণে হয়েছিল। এটি সর্বজনবিদিত যে, সুলতান যখন কোনো বিষয় বা মতবাদকে সমর্থন করেন এবং জনগণের মধ্যে তা বলপূর্বক প্রচার করেন, তখন তা অবশ্যই

--------------------------------------------

১- তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক (১০/ ২৮১)।

২- আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (১০/ ২৮২)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ১৩)
أن ينتشر ويذيع، إذ إن الناس على دين ملوكهم.

واستمرت هذه الظاهرة منتشرةً بين الرافضة والصوفية ومن تأثر بهم (1) .

هذا وقد جمعوا بين أمرين، هما: الذكر الجماعي، والذكر بالاسم المفرد.

وقد اختلف في جواز الذكر بالاسم المفرد، فذهب جمهور أهل العلم إلى أنه لا بد من الذكر في جملة لأنها هي المفيدة، ولا يصح الاسم المفرد، مظهرا أو مضمرا، لأنه ليس بكلام تام ولا جملة مفيدة. ولم ينقل ذلك عن أحد من السلف.

ومن صور هذا الذكر كذلك أن يزيدوا ياءً في (لا إله إلا الله) بعد همزة لا إله. ويزيدون ألفاً بعد الهاء في كلمة (إله) فتصبح (لا إيلاها) . ويزيدون ياءً بعد همزة إلا وبعد (إلا) يزيدون ألفا فتصبح (إيلا الله) وكل ذلك حرام بالإجماع في جميع الأوقات (2) .

وكذلك يلحن بعضهم في (لا إله إلا الله) ، فيمد الألف زيادة على قدر الحاجة، ويختلس كسرة الهمزة المقصورة بعدها ولا يحققها أصلا، ويفتح هاء له فتحة خفيفة كالاختلاس، ولا يفصل بين الهاء وبين إلا الله (3) .

--------------------------------------------

1- دراسات في الأهواء (ص 282) .

2- انظر: الإبداع في مضمار الابتداع (317) .

3- الإبداع في مضمار الابتداع (316) .
যেন তা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রচারিত হয়, কারণ মানুষ তাদের রাজাদের ধর্মের অনুসারী হয়।

এই প্রবণতাটি রাফেযী, সূফী এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিদের মাঝে বিস্তৃতভাবে অব্যাহত ছিল (১)।

তারা দুটি বিষয়কে একত্রিত করেছে, তা হলো: সম্মিলিত যিকির এবং একক নামের (যেমন: আল্লাহ) যিকির।

একক নামের মাধ্যমে যিকির করার বৈধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। জমহুর উলামায়ে কেরাম এই মত পোষণ করেছেন যে, যিকির অবশ্যই একটি পূর্ণ বাক্যের মাধ্যমে হতে হবে, কারণ কেবল পূর্ণ বাক্যই অর্থবোধক হয়। প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য—কোনোভাবেই একক নাম যিকির হিসেবে সঠিক নয়, কারণ এটি কোনো পূর্ণ বক্তব্য বা অর্থবোধক বাক্য নয়। সালাফে সালেহীনের কারোর থেকেই এটি বর্ণিত হয়নি।

এই যিকিরের একটি ধরণ এমন যে, তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর 'ইলাহ' শব্দের হামযার পরে একটি 'ইয়া' যোগ করে। তারা 'ইলাহ' শব্দের 'হা' বর্ণের পর একটি 'আলিফ' যুক্ত করে, ফলে তা 'লা ঈলা-হা' হয়ে যায়। তারা 'ইল্লা'র হামযার পর 'ইয়া' এবং 'ইল্লা'র পর 'আলিফ' যোগ করে, ফলে তা 'ঈলা আল্লাহ' হয়ে যায়। এই সব কিছু সর্বসম্মতিক্রমে সকল সময়ের জন্য হারাম (২)।

অনুরূপভাবে, তাদের কেউ কেউ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পাঠের ক্ষেত্রে ভুল উচ্চারণ করে। তারা আলিফকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দীর্ঘ করে, এর পরবর্তী হামযার নিচের কাসরা (যের) সঠিকভাবে উচ্চারণ না করে অস্পষ্টভাবে অতি দ্রুত উচ্চারণ করে ফেলে, এবং 'ইলাহ' শব্দের 'হা' বর্ণটিকে অস্পষ্টভাবে হালকা ফাতহা (যবর) দিয়ে উচ্চারণ করে। এছাড়া তারা 'হা' এবং 'ইল্লাল্লাহ'র মাঝে কোনো ব্যবধান রাখে না (৩)।

--------------------------------------------

১- দিরাসাত ফিল আহওয়া (পৃষ্ঠা ২৮২)।

২- দেখুন: আল-ইবদা ফি মিদমারিল ইবতিদা (৩১৭)।

৩- আল-ইবদা ফি মিদমারিল ইবতিদা (৩১৬)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ১৪)
وكذلك من صوره أنهم يذكرون بالحَلْقِ، أي يحاولون إخراج الحروف من الحلق، وهذا يلزمهم بفتح أشداقهم، والتقعر في الكلام، والتكلف في النطق، ومعلوم أن مورد الذكر اللسان والحلق والشفتان لأنها هي التي تجمع مخارج الحروف (1) .

وقد تعددت صور ذلك. فمنهم من يجتمعون في بيت من البيوت، أو مسجد من المساجد فيذكرون الله بذكر معين، وبصوت واحد: كأن يقولوا: لا إله إلا الله. مائة مرة (2) . قال الشقيري: "والاستغفار جماعة على صوت واحد بعد التسليم من الصلاة بدعة. والسنة استغفار كل واحد في نفسه ثلاثا، وقولهم بعد الاستغفار: يا أرحم الراحمين جماعة بدعة، وليس هذا محل هذا الذكر" (3) .

ومن صور الذكر الجماعي مما هو موجود عند جماعة من الناس:

1- الاستغفار عقب الصلاة، والإتيان بالأوراد الواردة أو غيرها بصوت واحد مرتفع (4) . قال الأوزاعي: "حمل الشافعي – رضي الله عنه أحاديث الجهر على من يريد التعليم" (5) .

2 – أو أن يدعو الإمام دبر الصلاة جهرا رافعا يديه، ويؤمن المأمومون ن على دعائه وبصوت واحد (6) .

--------------------------------------------

1- الإبداع في مضمار الابتداع (317) .

2- السنن والمبتدعات (60) ، وعلم أصول البدع (151) .

3- السنن والمبتدعات (60)

4- انظر: علم أصول البدع (151)

5- إصلاح المساجد (ص 111)

6- مسك الختام في الذكر والدعاء بعد السلام (123) .
একইভাবে এর একটি রূপ হলো তারা কণ্ঠনালীর মাধ্যমে জিকির করে, অর্থাৎ তারা কণ্ঠনালী থেকে অক্ষরগুলো বের করার চেষ্টা করে। এটি তাদের গাল প্রশস্ত করে মুখ হা করতে, কথাবার্তায় অস্বাভাবিক বাগাড়ম্বর করতে এবং উচ্চারণে কৃত্রিমতা অবলম্বনে বাধ্য করে। অথচ এটি সুপরিচিত যে, জিকিরের উৎস হলো জিহ্বা, কণ্ঠনালী এবং ওষ্ঠদ্বয়; কারণ এগুলোর মধ্যেই অক্ষরের উচ্চারণস্থলসমূহ (মাখরাজ) সন্নিবিষ্ট থাকে (১)।

এর বিভিন্ন রূপ পরিলক্ষিত হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কোনো এক বাড়িতে বা কোনো এক মসজিদে একত্রিত হয় এবং সমস্বরে একটি নির্দিষ্ট জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর জিকির করে। যেমন তারা সমস্বরে একশত বার বলে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' (২)। আশ-শুকাইরি বলেন: "নামাজের সালাম ফেরানোর পর সমস্বরে সম্মিলিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) করা একটি বিদআত। সুন্নাহ হলো প্রত্যেকে নিজ নিজ মনে তিনবার ইস্তিগফার করা। আর ইস্তিগফারের পর সম্মিলিতভাবে 'হে দয়ালুদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু' বলাও বিদআত; কারণ এটি এই জিকিরের সঠিক স্থান নয়" (৩)।

একদল মানুষের মাঝে বিদ্যমান সম্মিলিত জিকিরের কিছু রূপ হলো:

১- নামাজের পর ইস্তিগফার করা এবং বর্ণিত বা অন্যান্য দোয়া ও অজিফাসমূহ উচ্চৈঃস্বরে সমস্বরে পাঠ করা (৪)। ইমাম আওজায়ি বলেন: "ইমাম শাফেয়ি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করার হাদিসগুলোকে সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলেছেন যে অন্যকে শিক্ষা দিতে চায়" (৫)।

২ – অথবা ইমাম নামাজের পর হাত তুলে উচ্চৈঃস্বরে দোয়া করবেন এবং মুক্তাদিরা সমস্বরে তার দোয়ায় 'আমিন' বলবেন (৬)।

--------------------------------------------

১- আল-ইবদা ফি মাদমারিল ইবতিদা (৩১৭)।

২- আস-সুনান ওয়াল মুবতাদাআত (৬০), এবং ইলম উসুলিল বিদা (১৫১)।

৩- আস-সুনান ওয়াল মুবতাদাআত (৬০)

৪- দেখুন: ইলম উসুলিল বিদা (১৫১)

৫- ইসলাহুল মাসাজিদ (পৃষ্ঠা ১১১)

৬- মিসকুল খিতাম ফিজ জিকরি ওয়াদ দুআ বা'দাস সালাম (১২৩)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ১৫)
3 – ومنه أن يجتمع الناس في مكان ما – مسجد أو غيره- ويدعون الله، وبصوت واحد إلى غروب الشمس ويجعلون الاجتماع لهذا الذكر شرطا للطريقة (1) .

وقد قال التيجاني: "من الأوراد اللازمة للطريقة ذكر الهيللة بعد صلاة العصر يوم الجمعة مع الجماعة، وإن كان له إخوان في البلد فلا بد من جمعهم وذكرهم جماعة. وهذا شرط في الطريقة" (2) .

وقال: الرباطي: "وترك الاجتماع من غير عذر شرعي يعرض في الوقت ممنوع عندنا في الطريقة، ويعد تهاونا، ولا يخفى وخامة مرتع التهاون" (3) .

وقد أفتى العلماء ببطلان الذكر الجماعي، فقد جاء في بعض الأسئلة الواردة إلى هيئة كبار العلماء في المملكة العربية السعودية ما نصه:

قال السائل: لنا جماعة هم أصحاب الطريقة التيجانية يجتمعون كل يوم جمعة ويوم الاثنين ويذكرون الله بهذا الذكر (لا إله إلا الله) ، ويقولون في النهاية (الله الله....) بصوت عال. فما حكم فعلهم هذا؟

الجواب: (بعد بيان ضلال هذه الطريقة) . والاجتماع على الذكر بصوت جماعي لا أصل له في الشرع، وهكذا الاجتماع بقول: (الله

--------------------------------------------

1- الحوادث والبدع (126) .

2- تقديس الأشخاص (1/ 336) .

3- تقديس الأشخاص (1/ 336) .
৩ – এর অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো স্থানে – মসজিদ বা অন্য কোথাও – মানুষের সমবেত হওয়া এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত এক স্বরে আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং এই জিকিরের জন্য সমবেত হওয়াকে তরিকার একটি শর্ত সাব্যস্ত করা (১) ।

আর তিজানি বলেছেন: "তরিকার আবশ্যিক আমলসমূহের মধ্যে রয়েছে জুমার দিন আসরের নামাজের পর জামাতের সাথে হায়লালা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) জিকির করা। যদি সেই শহরে তার অন্য কোনো ভাই থাকে, তবে অবশ্যই তাদের সমবেত করতে হবে এবং জামাতবদ্ধভাবে জিকির করতে হবে। আর এটি তরিকার একটি শর্ত" (২) ।

আর রিবাত্বি বলেছেন: "শরয়ী ওজর ব্যতীত নির্দিষ্ট সময়ে সমবেত হওয়া ত্যাগ করা আমাদের তরিকায় নিষিদ্ধ এবং একে অবহেলা হিসেবে গণ্য করা হয়। আর অবহেলার পরিণাম যে কতটা ভয়াবহ তা কারো অজানা নয়" (৩) ।

আলেমগণ সম্মিলিত জিকির বাতিল হওয়ার ব্যাপারে ফতোয়া দিয়েছেন। সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ আলেম পরিষদের নিকট আসা কিছু প্রশ্নের ভাষ্য নিম্নরূপ:

প্রশ্নকারী বলেছেন: আমাদের এখানে তিজানিয়া তরিকার অনুসারীদের একটি দল রয়েছে, তারা প্রতি শুক্রবার ও সোমবার সমবেত হয় এবং আল্লাহর এই জিকির (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) করে এবং শেষে উচ্চস্বরে (আল্লাহ আল্লাহ....) বলে। তাদের এই কাজের বিধান কী?

উত্তর: (এই তরিকার ভ্রষ্টতা বর্ণনার পর)। সম্মিলিত স্বরে জিকিরের জন্য একত্রিত হওয়ার শরিয়তে কোনো ভিত্তি নেই। তেমনিভাবে এই কথা বলে একত্রিত হওয়া: (আল্লাহ

--------------------------------------------

১- আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা (১২৬) ।

২- তাকদিসুল আশখাস (১/ ৩৩৬) ।

৩- তাকদিসুল আশখাস (১/ ৩৩৬) ।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ১৬)
الله … ) أو: (هو هو … ) والاجتماع بصوت واحد هذا لا أصل له، بل هو من البدع المحدثة (1) .

4 – ومن صور الذكر الجماعي الموجودة أن يجتمع الناس في مسجد وقد وقع البلاء في بلد فيدعون الله بصوت واحد لرفعه.

5 – ومن هذه الصور كذلك ما يحصل عند بعض الناس في أعمال الحج من الطواف والسعي وغيرها، حيث إن بعضهم يؤجرون من يدعو لهم، ويرددون وراءه أدعية معينة لكل شوط، بدون أن يكون لكل واحد الفرصة للدعاء فيما يتعلق بحاجته الخاصة التي يريدها. وقد يكون بعض هؤلاء المرددين لصوت الداعي لا يعرفون معنى ما يدعو به الداعي: إما لكونهم لا يعرفون اللغة العربية. أو للأخطاء التي تحصل من الداعي، وتحريفه للكلام. ومع هذا يحاكونه في دعائه، وهذه الأدعية إنما صارت بدعة من وجهين:

الأول: تخصيص كل شوط بدعاء خاص، مع عدم ورود ذلك. قال الشيخ عبد العزيز بن باز –رحمه الله: "وأما ما أحدثه بعض الناس: من تخصيص كل شوط من الطواف أو السعي بأذكار مخصوصة، أو أدعية مخصوصة فلا أصل له، بل مهما تيسر من الذكر والدعاء كافي" (2) .

الثاني: الهيئة الجماعية، مع رفع الصوت، وحكاية ألفاظ بدون

--------------------------------------------

1- البدع وما لا أصل له ص (425) .

2- التحقيق والإيضاح لكثير من مناسك الحج والعمرة (35) .
আল্লাহ … ) অথবা: (তিনিই তিনি … ) এবং সমস্বরে একত্রিত হওয়া—এর কোনো ভিত্তি নেই, বরং এটি নব উদ্ভাবিত বিদআতগুলোর অন্তর্ভুক্ত (১)।

৪ – প্রচলিত সম্মিলিত জিকিরের একটি রূপ হলো, কোনো জনপদে বিপদ-আপদ দেখা দিলে মানুষ মসজিদে একত্রিত হয় এবং তা দূর করার জন্য সমস্বরে আল্লাহর নিকট দোয়া করে।

৫ – অনুরূপভাবে এসব রূপের মধ্যে রয়েছে হজের আমলসমূহে যেমন তাওয়াফ, সাঈ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে একদল মানুষের আচরণ; যেখানে কেউ কেউ এমন একজনকে ভাড়া করে যে তাদের জন্য দোয়া করে দেয় এবং তারা প্রতিটি চক্করের জন্য নির্দিষ্ট দোয়াগুলো তার পেছনে পেছনে পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। এতে প্রত্যেকের নিজস্ব প্রয়োজন সম্পর্কিত দোয়া করার সুযোগ থাকে না যা সে আল্লাহর কাছে চাচ্ছে। এমনকি দোয়া পাঠকারীর আওয়াজ যারা পুনরাবৃত্তি করছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো দোয়ার অর্থও জানে না; হয় তারা আরবি ভাষা না জানার কারণে, অথবা দোয়াকারীর ভুল ও শব্দের বিকৃতির কারণে। তা সত্ত্বেও তারা তার দোয়ার অনুকরণ করে। আর এই দোয়াগুলো মূলত দুটি কারণে বিদআতে পরিণত হয়েছে:

প্রথমত: সুন্নাহে বর্ণিত না থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি চক্করকে বিশেষ দোয়ার সাথে নির্দিষ্ট করা। শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ –রাহিমাহুল্লাহ– বলেছেন: "আর কিছু লোক যা নতুন উদ্ভাবন করেছে—তাওয়াফ বা সাঈর প্রতিটি চক্করকে বিশেষ জিকির বা বিশেষ দোয়ার জন্য নির্দিষ্ট করা—এর কোনো ভিত্তি নেই। বরং জিকির ও দোয়ার মধ্য থেকে যা সহজসাধ্য হবে, তা-ই যথেষ্ট" (২)।

দ্বিতীয়ত: সম্মিলিত রূপ গ্রহণ করা, সাথে আওয়াজ উঁচু করা এবং না বুঝে শব্দের অনুকরণ করা...

--------------------------------------------

১- আল-বিদআ' ওয়া মা লা আসলা লাহ, পৃষ্ঠা (৪২৫)।

২- আত-তাহকিক ওয়াল ইদাহ লি-কাছিরিন মিন মানাসিকিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ (৩৫)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ১৭)
تدبر واستحضار معنى.

6- ومن صور الذكر الجماعي كذلك ما يقع عند الزيارة للقبر النبوي، أو قبور الشهداء، أو البقيع، أو غير ذلك من ترديد الزائرين صوت المزورين، قال الشيخ الألباني –رحمه الله عند تعداده لبدع الزيارة في المدينة النبوية: "تلقين من يعرفون بالمزورين جماعات الحجاج بعض الأذكار والأوراد عند الحجرة، أو بعيدا عنها بالأصوات المرتفعة، وإعادة هؤلاء ما لقنوا بأصوات أشد منها" () .

7 – ومن هذه الصور كذلك اجتماع الناس في المساجد وأماكن الصلوات – ولاسيما في العيدين- ليرددوا التكبير جماعة خلف من يتولى التكبير في مكبر الصوت، ويرددون جماعة بصوت واحد، فهذا كذلك من البدع.

--------------------------------------------

1- مناسك الحج والعمرة في الكتاب والسنة وآثار السلف للألباني (63) رقم (166) .
অর্থের প্রতি গভীর চিন্তা ও তা হৃদয়ে উপস্থিত করা।

৬- সম্মিলিত জিকিরের আরেকটি ধরণ হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর, শহীদদের কবর, জান্নাতুল বাকি বা অন্য কোথাও যিয়ারতের সময় ঘটে থাকে; যেখানে যিয়ারতকারীগণ যিয়ারত পরিচালনাকারীদের (মুযাওয়িরীন) কণ্ঠস্বরের পুনরাবৃত্তি করেন। শাইখ আলবানী —রাহিমাহুল্লাহ— মদীনা মুনাওয়ারাহ যিয়ারতের বিদআতগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "যিয়ারত পরিচালনাকারী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা হজ্জযাত্রীদের দলগুলোকে হুজরার নিকট বা তা থেকে দূরে উচ্চস্বরে কিছু জিকির ও ওযীফা তালকিন করে (শিখিয়ে দেয়), আর তারা (হজ্জযাত্রীরা) তাদের শেখানো কথাগুলো আরও উচ্চস্বরে পুনরাবৃত্তি করে।" ()।

৭ – এই ধরণের আরেকটি রূপ হলো মসজিদ ও নামাযের স্থানগুলোতে —বিশেষ করে দুই ঈদে— মানুষের একত্রিত হওয়া, যাতে তারা লাউডস্পিকারে তাকবীর পাঠকারীর পেছনে সম্মিলিতভাবে তাকবীর পাঠ করতে পারে এবং তারা একসুরে সমস্বরে এর পুনরাবৃত্তি করে; এটিও বিদআতের অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

১- আলবানী রচিত 'মানাসিকুল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাতি ওয়া আসারিস সালাফ' (৬৩) নম্বর (১৬৬)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌المبحث الثالث: حجج الموزين للذكر الجماعي وأدلتهم

…

المبحث الثالث: حجج المجوزين للذكر الجماعي وأدلتهم

احتج المجيزون للذكر الجماعي بحجج (1) ، نوجزها فيما يلي:

أولا: النصوص الشرعية الواردة في الثناء على أهل الذكر بصيغة الجمع بما يدل على استحباب الاجتماع على ذكر الله، منها ما جاء في الصحيحين عن أبي هريرة –رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن لله تعالى ملائكة سيارة، فضلاً يتبعون مجالس الذكر، فإذا وجدوا مجلسا فيه ذكر، قعدوا معهم، وحف بعضهم بعضا بأجنحتهم، حتى يملؤوا ما بينهم وبين السماء الدنيا، فإذا تفرقوا عرجوا، وصعدوا إلى السماء. قال: فيسألهم الله عز وجل وهو أعلم بهم: من أين جئتم؟ فيقولون: جئنا من عند عبادك في الأرض، يسبحونك، ويكبرونك، ويهللونك، ويحمدونك، ويسألونك … " وفي نهاية الحديث يقول الله: " … قد غفر لهم فأعطيتهم ما سألوا، وأجرتهم ما استجاروا … " (2) .

فيرى المجيزون للذكر الجماعي أن هذا الحديث يدل على فضل

--------------------------------------------

1- انظر: حجج من أجاز الذكر الجماعي في كتاب (نتيجة الفكر في الجهر بالذكر) للسيوطي (2/ 23- 29) ، مطبوع ضمن الحاوي للفتاوى كتاب صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم لحسين السقاف (244- 257) .

2- البخاري (6408) ومسلم (2689) عن أبي هريرة.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সম্মিলিত জিকিরের প্রবক্তাদের যুক্তি ও দলীলসমূহ

...

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সম্মিলিত জিকিরের প্রবক্তারা এবং তাঁদের দলীলসমূহ

সম্মিলিত জিকির বা জামাতবদ্ধ জিকিরকে যাঁরা বৈধ বলেছেন, তাঁরা কিছু দলীল পেশ করেছেন (১), যা আমরা সংক্ষেপে নিম্নে তুলে ধরছি:

প্রথমত: জিকিরকারীদের প্রশংসা করে বহুবচন শব্দে বর্ণিত শরয়ি পাঠসমূহ (নাস), যা আল্লাহর জিকিরের জন্য সমবেত হওয়া মুস্তাহাব হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে। এর মধ্যে রয়েছে যা বুখারি ও মুসলিম শরিফে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর এমন কিছু বিচরণকারী অতিরিক্ত ফেরেশতা রয়েছেন, যাঁরা জিকিরের মজলিসগুলো খুঁজে বেড়ান। যখন তাঁরা এমন কোনো মজলিস পান যেখানে জিকির হচ্ছে, তখন তাঁরা তাঁদের সাথে বসে পড়েন এবং একে অপরকে ডানা দিয়ে ঘিরে ফেলেন, এমনকি তাঁরা দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে ফেলেন। যখন তাঁরা পৃথক হয়ে যান, তখন তাঁরা আরোহণ করেন এবং আসমানে উঠে যান। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁদের জিজ্ঞাসা করেন—অথচ তিনি তাঁদের সম্পর্কে অধিক অবগত—: তোমরা কোথা থেকে এসেছ? তাঁরা বলেন: আমরা জমিনে আপনার বান্দাদের কাছ থেকে এসেছি; তারা আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছে, আপনার মহিমা ঘোষণা করছে, আপনার একত্ববাদ ঘোষণা করছে, আপনার প্রশংসা করছে এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করছে..." আর হাদিসের শেষে আল্লাহ বলেন: "...আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি, তারা যা চেয়েছে আমি তাদের তা দান করেছি এবং তারা যা থেকে আশ্রয় চেয়েছে আমি তাদের তা প্রদান করেছি..." (২)।

সম্মিলিত জিকির বৈধ মনে করেন যাঁরা, তাঁরা মনে করেন এই হাদিসটি সম্মিলিত জিকিরের ফজিলত প্রমাণ করে

--------------------------------------------

১- দেখুন: সুয়ূতী রচিত ‘নাতীজাতুল ফিকর ফীল জাহরি বিজ-জিকর’ (২/ ২৩- ২৯) কিতাবে সম্মিলিত জিকির বৈধকারীদের যুক্তিগুলো; এটি হুসাইন আল-সাক্কাফ সম্পাদিত ‘সিফাতু সালাতিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ কিতাবের সাথে এবং ‘আল-হাভী লিল ফাতাওয়া’ এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত (২৪৪- ২৫৭)।

২- বুখারি (৬৪০৮) এবং মুসলিম (২৬৮৯), আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ১৯)
الاجتماع للذكر، والجهر به من أهل الذكر جميعا، لأنه قال: "يذكرونك، ويسبحونك، ويهللونك، ويمجدونك" بصيغة الجمع، ثم استدلوا بقول الحافظ ابن حجر في شرحه على صحيح البخاري حيث قال: "والمراد بمجالس الذكر هي المجالس التي تشتمل على ذكر الله بأنواع الذكر الواردة من تسبيح وتكبير وغيرها، وعلى تلاوة كتاب الله سبحانه وتعالى، وعلى الدعاء بخيري الدنيا والآخرة، وفي دخول الحديث النبوي ومدارسة العلم الشرعي ومذاكرته والاجتماع على صلاة النافلة في هذه المجالس نظر … والأشبه اختصاص ذلك بمجالس التسبيح والتكبير ونحوها والتلاوة فحسب، وإن كانت قراءة الحديث ومدارسته، والمناظرة فيه، من جملة ما يدخل تحت مسمى ذكر الله تعالى" (1) . ومن هذه الأحاديث كذلك ما أخرجه أحمد من طريق: إسماعيل بن عياش، عن راشد بن داود، عن يعلى بن شداد، قال: حدثني أبي شداد بن أوس، وعبادة بن الصامت حاضر يصدِّقه، قال: كنا عن النبي صلى الله عليه وسلم فقال: "هل فيكم غريب" يعني أهل الكتاب، فقلنا: لا يا رسول الله، فأمر بغلق الباب، وقال: "ارفعوا أيديكم وقولوا لا إله إلا الله" فرفعنا أيدينا ساعة، ثم وضع رسول الله صلى الله عليه وسلم يده، ثم قال: "الحمد لله، بعثتني بهذه الكلمة، وأمرتني بها، ووعدتني عليها الجنة، وإنك لا تخلف الميعاد، ثم قال: أبشروا فإن الله عز وجل قد غفر لكم" (2) .

--------------------------------------------

1- فتح الباري (11/ 212) .

2- رواه أحمد في المسند (4/ 124) ، والطبراني في الكبير (7/ 290 ح7163) .
যিকিরের জন্য একত্রিত হওয়া এবং যিকিরকারীদের সকলের সম্মিলিতভাবে উচ্চস্বরে তা আদায় করা; কারণ তিনি বলেছেন: "তারা আপনার যিকির করে, আপনার তাসবীহ পাঠ করে, আপনার তাহলীল পাঠ করে এবং আপনার মহিমা বর্ণনা করে" বহুবচনরূপে। অতঃপর তারা হাফেজ ইবনে হাজারের উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা তিনি সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন: "আর যিকিরের মজলিস বলতে সেই সব মজলিসকে বোঝানো হয়েছে যেগুলোতে আল্লাহ তাআলার বর্ণিত বিভিন্ন প্রকার যিকির যেমন তাসবীহ, তাকবীর ইত্যাদি শামিল থাকে, এবং মহান আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করা হয়, আর দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য দুআ করা হয়। এসব মজলিসের মধ্যে নববী হাদীস পাঠ, শরয়ী ইলম অর্জন ও আলোচনা এবং নফল নামাযের জন্য একত্রিত হওয়ার বিষয়টি বিচারসাপেক্ষ … আর তাসবীহ, তাকবীর এবং তিলাওয়াতের মজলিসগুলোর সাথে এটি নির্দিষ্ট হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত, যদিও হাদীস পাঠ ও তার পর্যালোচনা এবং সেই বিষয়ে আলোচনা করা আল্লাহ তাআলার যিকিরের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।" (১)। এই হাদীসগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে যা ইমাম আহমাদ ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ-এর সূত্রে, তিনি রাশিদ ইবনে দাউদ থেকে, তিনি ইয়ালা ইবনে শাদ্দাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা শাদ্দাদ ইবনে আউস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন—আর উবাদাহ ইবনে সামিত সেখানে উপস্থিত থেকে তাকে সমর্থন করছিলেন—তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে ছিলাম, তখন তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে কি কোনো বহিরাগত আছে?" অর্থাৎ আহলে কিতাব। আমরা বললাম: না হে আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি দরজা বন্ধ করার আদেশ দিলেন এবং বললেন: "তোমরা তোমাদের হাত উঠাও এবং বলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’।" আমরা কিছুক্ষণ আমাদের হাত উঠিয়ে রাখলাম, এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত নামালেন, এরপর বললেন: "সকল প্রশংসা আল্লাহর, আপনি আমাকে এই বাণীর সাথে পাঠিয়েছেন, আমাকে এর আদেশ দিয়েছেন এবং এর বিনিময়ে আমাকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আর নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।" এরপর তিনি বললেন: "তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, কারণ মহান আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন।" (২)।

--------------------------------------------

১- ফাতহুল বারী (১১/ ২১২) ।

২- ইমাম আহমাদ এটি মুসনাদে (৪/ ১২৪) এবং তাবারানী আল-কাবীরে (৭/ ২৯০, হা/ ৭১৬৩) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ২০)
قلت: الحديث ضعيف. فيه إسماعيل بن عياش. وهو مدلس. ولم يصرح بالسماع، ومدار هذا الحديث على راشد بن داود، قال ابن معين: "ليس به بأس، ثقة"، وقال دحيم: "هو ثقة عندي"، بينما ضعفّه الإمام البخاري رحمه الله فقال: "فيه نظر"، وهذا جرح شديد عنده، بمعنى أن متهم أو غير ثقة. كما أشار إلى ذلك الحافظ الذهبي (1) ، وقال الدارقطني: "ضعيف لا يعتبر به"، فاتفق مع البخاري في تضعيفه، وهو الظاهر من حاله، فإن الحكم بالجرح زيادة علم عن الحكم بالتعديل، فإذا صدر من إمام عالم متمكن غير متشدد كان مقبولاً من غير شك، هذا من جهة.

ومن ناحية أخرى، فلو فرضنا جدلاً صحة هذا الحديث فليس فيه دلالة على جواز الذكر الجماعي، فهو صريح الدلالة على أن ذلك كان للبيعة - أو لتجديد البيعة- وليس لمجرد الذكر، لا سيما وقد أمرهم النبي صلى الله عليه وسلم برفع الأيدي، فهذا للمبايعة، ولا يشترط – بل ولا يستحب- في الذكر.

ثانيا: الأحاديث الكثيرة الواردة في فضل مجالس الذكر، والتي منها:

1- ما جاء في الصحيحين من حديث أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يقول تعالى: أنا عند ظن عبدي بي. وأنا معه إذا ذكرني، فإن ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي، وإن ذكرني في ملأ ذكرته في ملأ خير

--------------------------------------------

1- انظر الموقظة للذهبي (ص 83) .
আমি বলছি: হাদিসটি দুর্বল। এতে ইসমাইল ইবনে আইয়াশ রয়েছেন, যিনি একজন মুদাল্লিস। তিনি সরাসরি শ্রবণ করার (সামা') বিষয়টি স্পষ্ট করেননি। এই হাদিসের কেন্দ্রবিন্দু হলেন রাশিদ ইবনে দাউদ। ইবনে মাঈন বলেছেন: "তাতে কোনো সমস্যা নেই, তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)"। দুহায়ম বলেছেন: "তিনি আমার কাছে নির্ভরযোগ্য"। পক্ষান্তরে ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন: "তার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ রয়েছে (ফিহি নাযার)"। এটি তার নিকট একটি কঠোর সমালোচনা (জারহ), যার অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অভিযুক্ত অথবা নির্ভরযোগ্য নন। হাফিয আয-যাহাবীও (১) সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। আর দারাকুতনী বলেছেন: "তিনি দুর্বল, তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়"। সুতরাং তিনি তাকে দুর্বল বলার ক্ষেত্রে বুখারীর সাথে একমত হয়েছেন। এটিই তার অবস্থার ক্ষেত্রে স্পষ্ট। কারণ, জরাহ (সমালোচনা) সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তা'দীল (প্রশংসা) সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের তুলনায় অতিরিক্ত জ্ঞানের পরিচায়ক। সুতরাং যখন এমন কোনো সিদ্ধান্ত একজন পারদর্শী, বিজ্ঞ ও ভারসাম্যপূর্ণ ইমামের পক্ষ থেকে আসে, তখন তা নিঃসন্দেহে গ্রহণযোগ্য হয়। এটি এক দিক থেকে।

অন্যদিকে, আমরা যদি তর্কের খাতিরে এই হাদিসটিকে সহীহ বলেও ধরে নিই, তবুও এতে সম্মিলিত যিকির বৈধ হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। কারণ এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে, সেই ঘটনাটি ছিল বায়আত—অথবা বায়আত নবায়নের—জন্য, নিছক যিকিরের জন্য নয়। বিশেষ করে যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে হাত তোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন; যা ছিল বায়আতের উদ্দেশ্যে। আর যিকিরের জন্য হাত তোলা শর্ত নয়—বরং এটি মুস্তাহাবও নয়।

দ্বিতীয়ত: যিকিরের মজলিসের ফযিলত সম্পর্কে বর্ণিত অসংখ্য হাদিস, যার মধ্যে রয়েছে:

১- যা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা পোষণ করে, আমি তার জন্য তেমনই হই। সে যখন আমাকে স্মরণ করে, আমি তখন তার সাথেই থাকি। যদি সে আমাকে তার মনে স্মরণ করে, আমি তাকে আমার নিজ সত্তায় স্মরণ করি। আর যদি সে আমাকে কোনো সমাবেশে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়েও উত্তম কোনো সমাবেশে স্মরণ করি।"

--------------------------------------------

১- দেখুন: যাহাবীর আল-মুওকিযাহ (পৃষ্ঠা ৮৩)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ২১)
منهم...." (1) الحديث. والشاهد في قوله: "وإن ذكرني في ملأ" فدل على جواز الذكر الجماعي (2) .

2 – ما جاء في صحيح مسلم عن معاوية أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج على حلقة من أصحابه فقال: "ما أجلسكم؟ " قالوا: جلسنا نذكر الله ونحمده على ما هدانا للإسلام، ومن به علينا. فقال: "آلله ما أجلسكم إلا هذا". قالوا: آلله ما أجلسنا إلا ذلك. فقال: "أما إني لم أستحلفكم تهمة لكم، ولكن أتاني جبريل فأخبرني أن الله عز وجل يباهي بكم الملائكة" (3) .

3 – ما رواه أبو داود في سننه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لأن أقعد مع قوم يذكرون الله تعالى من صلاة الغداة حتى تطلع الشمس – أحبّ إليّ من أن أعتق أربعة من ولد إسماعيل، ولأن أقعد مع قوم يذكرون الله من صلاة العصر إلى أن تغرب الشمس – أحبّ إلي من أعتق أربعة" (4) . وغير ذلك من الأحاديث التي ورد فيها فضل مجالس الذكر وفضل الاجتماع عليه.

واستدلوا كذلك ببعض الأحاديث التي ورد فيها ذكر الدعاء الجماعي، وهي أقرب ما يمكن أن يستدل به في هذا الموضوع؛ لو

--------------------------------------------

2- البخاري (7405) ، ومسلم (2657) عن أبي هريرة.

1- ما جاء في البدع (ص48 رقم 25) .

2- مسلم (2701) عن معاوية.

3- أخرجه أبو داود (3667) وهو في صحيح أبي داود (3114) .
...তাদের থেকে।" (১) হাদিসটি। আর তাঁর এই বাণীতে দলিল বা প্রমাণ রয়েছে: "আর যদি সে আমাকে কোনো জনসমাবেশে স্মরণ করে," যা সম্মিলিত জিকিরের বৈধতা নির্দেশ করে (২)।

২ – সহীহ মুসলিমে মুয়াবিয়া থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের একটি চক্র বা মজলিসের নিকট আসলেন এবং বললেন: "তোমরা কী উদ্দেশ্যে বসে আছো?" তাঁরা বললেন: "আমরা বসে আল্লাহকে স্মরণ করছি এবং তিনি আমাদের ইসলামের দিকে পরিচালিত করে আমাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন তার জন্য তাঁর প্রশংসা করছি।" তিনি বললেন: "আল্লাহর শপথ, তোমরা কি কেবল এই উদ্দেশ্যেই বসে আছো?" তাঁরা বললেন: "আল্লাহর শপথ, আমরা কেবল এই উদ্দেশ্যেই বসে আছি।" তখন তিনি বললেন: "জেনে রাখো, আমি তোমাদের প্রতি কোনো সন্দেহের কারণে শপথ করতে বলিনি, বরং জিবরাঈল আমার নিকট এসে সংবাদ দিয়েছেন যে, মহান আল্লাহ তোমাদের নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করছেন" (৩)।

৩ – আবু দাউদ তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ভোরের সালাত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত মহান আল্লাহর জিকির করে এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে আমার বসে থাকা ইসমাইলের বংশধর থেকে চারজন দাস মুক্ত করার চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয়। আর আসরের সালাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মহান আল্লাহর জিকির করে এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে আমার বসে থাকা চারজন দাস মুক্ত করার চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয়" (৪)। এছাড়া আরও অনেক হাদিস রয়েছে যেগুলোতে জিকিরের মজলিসের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তার জন্য একত্রিত হওয়ার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

তারা একইভাবে সম্মিলিত দোয়ার বিষয়ে বর্ণিত কিছু হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন, যা এই বিষয়ে দলিল হিসেবে পেশ করার জন্য সবচেয়ে নিকটতর; কারণ...

--------------------------------------------

২- বুখারি (৭৪০৫), এবং মুসলিম (২৬৫৭) আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।

১- মা জা-আ ফিল বিদা (পৃষ্ঠা ৪৮, নম্বর ২৫)।

২- মুসলিম (২৭০১) মুয়াবিয়া থেকে বর্ণিত।

৩- এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (৩৬৬৭) এবং এটি সহীহ আবু দাউদ-এ রয়েছে (৩১১৪)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ২২)
سلمت من الطعن، وهاهي بين يديك، مع ما قال الأئمة المعتمدون في علم الجرح والتعديل في رواتها وأسانيدها.

الحديث الأول: عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وسلم رفع يديه بعد ما سلم وهو مستقبل القبلة، فقال: "اللهم خلّص الوليد بن الوليد، وعياش بن أبي ربيعة، وسلمة بن هشام، وضعفة المسلمين الذين لا يستطيعون حيلة ويهتدون سبيلا، من أيدي الكفار". أخرجه ابن أبي حاتم في تفسيره (1) ، وابن جرير في تفسيره (2) . وفي سنده علي بن زيد بن جدعان، قال ابن حجر في التقريب: "ضعيف" (3) ، ونقل الذهبي في السير (4) تضعيفه عن أحمد بن حنبل والبخاري والفلاس والعجلي، وغيرهم. انتهى. ومع الضعف الذي في علي بن زيد، فليس فيه دليل على الدعاء الجماعي، وهذه الرواية مخالفة لما جاء في الصحيحين، وهو أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا رفع رأسه من الركعة الآخرة يقول: "اللهم انج عياش … " (5) الحديث. أي يقول هذا الدعاء في قنوت الفجر، قبل الخروج من الصلاة.

الحديث الثاني: عن محمد بن أبي يحيى السلّمي قال: رأيت عبد الله بن الزبير ورأى رجلا رافعا يديه بدعوات قبل أن يفرغ من

--------------------------------------------

1- تفسير ابن أبي حاتم (3/ 1048) .

2- تفسير ابن جرير (4/ 438 ح12081) .

3- تقريب التهذيب (401)

4- سير أعلام النبلاء (5/ 206) .

5- البخاري (2/ 225، 226) ، ومسلم (ح392) في الصلاة، وأبو داود (ح 836) ، والنسائي (2/ 233) .
এটি সমালোচনা থেকে মুক্ত, এবং এটি আপনার সামনে উপস্থিত, সেই সাথে এতে রয়েছে নির্ভরযোগ্য ইমামগণ জারহ ও তাদীল শাস্ত্রে এর বর্ণনাকারী এবং সনদসমূহ সম্পর্কে যা বলেছেন।

প্রথম হাদীস: আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাম ফিরানোর পর কিবলামুখী হয়ে তাঁর দুই হাত তুললেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! ওয়ালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, আয়্যাশ ইবনু আবি রাবি'আহ, সালামাহ ইবনু হিশাম এবং দুর্বল মুসলিম যারা কোনো উপায় করতে পারে না এবং কোনো পথ খুঁজে পায় না, তাদেরকে কাফিরদের হাত থেকে মুক্তি দিন।" ইবনু আবি হাতিম এটি তাঁর তাফসীরে (১) এবং ইবনু জারীর তাঁর তাফসীরে (২) বর্ণনা করেছেন। আর এর সনদে আলী ইবনু যায়েদ ইবনু জুদ'আন রয়েছেন, ইবনু হাজার 'তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন: "দুর্বল" (৩), এবং আয-যাহাবী 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে (৪) আহমাদ ইবনু হাম্বল, বুখারী, ফাল্লাস, ইজলী এবং অন্যদের থেকে তাঁর দুর্বল হওয়ার বিষয়টি উদ্ধৃত করেছেন। সমাপ্ত। আলী ইবনু যায়েদের মধ্যে বিদ্যমান এই দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও, এতে সম্মিলিত দোয়ার কোনো প্রমাণ নেই। আর এই বর্ণনাটি সহীহাইন-এ যা এসেছে তার পরিপন্থী, আর তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শেষ রাকাআত থেকে মাথা উঠাতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! আয়্যাশকে রক্ষা করুন … " (৫) হাদীস। অর্থাৎ তিনি এই দোয়াটি ফজরের কুনুতে করতেন, সালাত থেকে বের হওয়ার আগে।

দ্বিতীয় হাদীস: মুহাম্মদ ইবনু আবি ইয়াহইয়া আস-সুলামী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়েরকে দেখেছি, এমতাবস্থায় তিনি একজন লোককে দেখলেন যে (সালাত) শেষ করার আগেই দোয়া করার জন্য হাত তুলে আছে

--------------------------------------------

১- তাফসীরে ইবনু আবি হাতিম (৩/ ১০৪৮)।

২- তাফসীরে ইবনু জারীর (৪/ ৪৩৮ হা. ১২০৮১)।

৩- তাকরীবুত তাহযীব (৪০১)

৪- সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (৫/ ২০৬)।

৫- বুখারী (২/ ২২৫, ২২৬), মুসলিম (হা. ৩৯২) সালাত অধ্যায়ে, আবু দাউদ (হা. ৮৩৬), নাসায়ী (২/ ২৩৩)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ২৩)
صلاته، فلما فرغ منها قال: إن رسول صلى الله عليه وسلم لم يكن يرفع يديه حتى يفرغ من صلاته. رواه الطبراني في الكبير (1) وسنده ضعيف لضعف فضيل بن سليمان. فقد قال عنه ابن معين: ليس بثقة. وفي رواية: ليس هو بشيء، ولا يكتب حديثه. وقال صالح جزرة: منكر الحديث. وقال أبو حاتم: يكتب حديثه، ليس بالقوي. وقال النسائي: ليس بالقوي. وذكر أبو داود أنه استعار كتابًا من موسى بن عقبة فلم يرده. وكان عبد الصمد بن مهدي لا يحدث عنه. وقال أبو ذرعة: لين الحديث، روى عنه علي ابن المديني وكان من المتشددين ومع ضعف فضيل، ففي القلب شيء من رواية محمد بن أبي يحيى عن ابن الزبير، فلا أظن أدركه، لأن وفاة ابن الزبير كانت سنة (73هـ) ووفاة محمد كانت سنة (144هـ) (2) . ومعنى الحديث أنه صلى الله عليه وسلم ما كان يرفع يديه حتى يفرغ من الصلاة وهو غير رافع يديه للدعاء، أو أنه كان يرفع بعد الفراغ من الصلاة للدعاء؛ ولكن ليس فيه أنه كان يجهر بالدعاء ويجهر المأمومون بالتأمين. وعليه، فليس فيه دليل للدعاء الجماعي، وإنما هو دليل للدعاء منفردا.

الحديث الثالث: عن أنس –رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "ما من عبد يبسط كفيه في دبر كل صلاة ثم يقول: اللهم إلهي وإله إبراهيم وإسحاق ويعقوب وإله جبريل وميكائيل وإسرافيل، أسألك أن

--------------------------------------------

1- المعجم الكبير (قطعة من جزء 13 رقم 324) من طريق فضيل بن سليمان بن محمد بن أبي يحيى، وسنده ضعيف.

2- انظر: تهذيب الكمال وحاشيته (23/ 274، 275) .
তার সালাত, যখন তিনি তা শেষ করলেন তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সালাত শেষ না করা পর্যন্ত হাত তুলতেন না।" এটি তাবারানী আল-কাবীর-এ (১) বর্ণনা করেছেন এবং এর সানাদ (সূত্র) ফুদাইল বিন সুলাইমানের দুর্বলতার কারণে দুর্বল। নিশ্চয়ই ইবনে মাঈন তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য নন।" অন্য বর্ণনায় এসেছে: "তিনি কিছুই নন, এবং তাঁর হাদিস লেখা যাবে না।" সালিহ জাযরাহ বলেছেন: "মুনকার আল-হাদিস (অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী)।" আবু হাতিম বলেছেন: "তাঁর হাদিস লেখা যাবে, তবে তিনি শক্তিশালী নন।" নাসায়ী বলেছেন: "তিনি শক্তিশালী নন।" আবু দাউদ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মুসা বিন উকবার কাছ থেকে একটি বই ধার নিয়েছিলেন এবং তা ফেরত দেননি। আবদুস সামাদ বিন মাহদী তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন না। আবু যুরআহ বলেছেন: "লায়্যিন আল-হাদিস (হাদিস বর্ণনায় শিথিল)।" আলী ইবনুল মাদীনী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (আলী) কঠোরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ফুদাইলের দুর্বলতার পাশাপাশি, ইবনুয যুবায়ের থেকে মুহাম্মদ বিন আবি ইয়াহইয়ার বর্ণনার ব্যাপারেও সংশয় রয়েছে; আমি মনে করি না যে তিনি তাঁকে পেয়েছেন (সাক্ষাৎ করেছেন), কারণ ইবনুয যুবায়েরের মৃত্যু হয়েছিল ৭৩ হিজরিতে এবং মুহাম্মদের মৃত্যু হয়েছিল ১৪৪ হিজরিতে (২)। হাদিসটির অর্থ হলো, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ না করা পর্যন্ত হাত তুলতেন না, এমতাবস্থায় যে তিনি দোয়ার জন্য হাত তুলতেন না; অথবা তিনি সালাত শেষ করার পর দোয়ার জন্য হাত তুলতেন। কিন্তু এতে এমন কিছু নেই যে তিনি উচ্চস্বরে দোয়া করতেন এবং মুক্তাদিগণ উচ্চস্বরে 'আমীন' বলতেন। অতএব, এতে সম্মিলিত দোয়ার কোনো প্রমাণ নেই, বরং এটি ব্যক্তিগত দোয়ার প্রমাণ।

তৃতীয় হাদিস: আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে কোনো বান্দা প্রতিটি সালাতের শেষে তার দুই হাতের তালু প্রসারিত করে এবং বলে: হে আল্লাহ, আমার ইলাহ এবং ইব্রাহিম, ইসহাক ও ইয়াকুবের ইলাহ এবং জিবরাইল, মিকাইল ও ইসরাফিলের ইলাহ, আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যে..."

--------------------------------------------

১- আল-মু'জাম আল-কাবীর (১৩তম খণ্ডের একটি অংশ, নং ৩২৪), ফুদাইল বিন সুলাইমান বিন মুহাম্মদ বিন আবি ইয়াহইয়ার সূত্রে, এবং এর সানাদ দুর্বল।

২- দেখুন: তাহযীবুল কামাল ও এর টীকা (২৩/ ২৭৪, ২৭৫)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ২৪)
تستجيب دعوتي فإني مضطر، وتعصمني في ديني فإني مبتلى، وتنالني برحمتك فإني مذنب، وتنفي عني الفقر فإني متمسكن. إلا كان حقا على الله ألا يرد يديه خائبتين)) . رواه ابن السني في عمل اليوم الليلة (1) ؛ والحديث فيه عبد العزيز بن عبد الرحمن وخصيف. أما عبد العزيز فقد ضعفه جمع من الأئمة، وأما خصيف فقد قال الحافظ ابن حجر فيه: صدوق سيء الحفظ، خلط بآخره، ورمي بالإرجاء. انتهى (2) . وإضافة إلى هذا الضعف الذي في هذا الحديث، فليس فيه دلالة على المطلوب، بل هو كالحديثين السابقين.

الحديث الرابع: عن الأسود العامري، عن أبيه قال: صليت مع رسول الله الفجر، فلما سلم، انحرف ورفع يديه ودعا. قال العلامة المباركفوري (3) : الحديث رواه ابن أبي شيبة في مصنفه، كذا ذكر بعض الأعلام هذا الحديث بغير سند، وعزاه إلى المصنف. ولم أقف على سنده. والله تعالى أعلم. أهو صحيح أو ضعيف؟. انتهى من التحفة. والحديث أخرجه ابن أبي شيبة (4) ، وابن حزم في المحلى (5) . وليس فيه: (ورفع يديه ودعا) ، وإنما هو هكذا: حدثنا هشيم قال: نا يعلى بن عطاء، عن جابر بن يزيد الأسود العامري، عن أبيه قال: صليت مع

--------------------------------------------

1- عمل اليوم والليلة لابن السني (ص 53) .

2- تقريب التهذيب (193) .

3- تحفة الأحوذي شرح الجامع للترمذي (1/ 246) .

4- مصنف ابن أبي شيبة (1/ 337) .

5- المحلى لابن حزم (4/ 261) .
...আপনি আমার দোয়া কবুল করবেন কারণ আমি নিরুপায়, এবং আমার দ্বীনের ব্যাপারে আমাকে রক্ষা করবেন কারণ আমি বিপদগ্রস্ত, আর আপনার রহমতের মাধ্যমে আমাকে সিক্ত করবেন কারণ আমি গুনাহগার, এবং আমার থেকে দারিদ্র্য দূর করবেন কারণ আমি অভাবগ্রস্ত। তবে আল্লাহর ওপর এটি হক হয়ে যায় যে, তিনি তাঁর হাত দুটিকে ব্যর্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দেবেন না। এটি ইবনুল সুন্নি 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (১); আর এই হাদিসটিতে আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান এবং খুসাইফ নামক বর্ণনাকারী রয়েছেন। আব্দুল আজিজের ব্যাপারে একদল ইমাম তাঁকে দুর্বল বলেছেন, আর খুসাইফের ব্যাপারে হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন: তিনি সত্যবাদী তবে তাঁর মুখস্থ রাখার ক্ষমতা দুর্বল ছিল, শেষ জীবনে তিনি গুলিয়ে ফেলেছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ইরজা-এর অপবাদ ছিল। সমাপ্ত (২)। এই হাদিসের এই দুর্বলতা ছাড়াও, এতে উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর কোনো প্রমাণ নেই, বরং এটি পূর্ববর্তী দুটি হাদিসের মতোই।

চতুর্থ হাদিস: আসওয়াদ আল-আমিরী তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহর সাথে ফজরের নামাজ আদায় করলাম, তিনি যখন সালাম ফেরালেন, তখন ঘুরে বসলেন এবং তাঁর হাত তুললেন ও দোয়া করলেন। আল্লামা মুবারকপুরী (৩) বলেছেন: হাদিসটি ইবনে আবি শায়বা তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, অনুরূপভাবে কতিপয় আলেম এই হাদিসটি কোনো সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন এবং মুসান্নাফের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। কিন্তু আমি এর সনদের ব্যাপারে অবগত হতে পারিনি। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন—এটি সহিহ নাকি জয়িফ। তুহফাতুল আহওয়াযী থেকে সমাপ্ত। হাদিসটি ইবনে আবি শায়বা (৪) এবং ইবনে হাজম 'আল-মুহাল্লা' গ্রন্থে (৫) বের করেছেন। আর তাতে '(তিনি তাঁর হাত তুললেন এবং দোয়া করলেন)' এই অংশটুকু নেই। বরং হাদিসটি এভাবে বর্ণিত: হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়ালা বিন আতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাবির বিন ইয়াজিদ আল-আসওয়াদ আল-আমিরী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি সাথে নামাজ আদায় করেছি...

--------------------------------------------

১- ইবনুল সুন্নির আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ (পৃ. ৫৩)।

২- তাকরিবুত তাহযিব (১৯৩)।

৩- তুহফাতুল আহওয়াযী শারহু জামিউত তিরমিযী (১/ ২৪৬)।

৪- মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা (১/ ৩৩৭)।

৫- ইবনে হাজমের আল-মুহাল্লা (৪/ ২৬১)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ২৫)
رسول الله الفجر، فلما سلم انحرف. ولفظ ابن حزم: فلما صلى انحرف. فإذن ليس في الحديث: رفع يديه ودعا. ولو سلمنا بثبوت هذه الجملة فإنها لا تكفي للوفاء بالاستدلال المقصود؛ لأنها ليس فيها الجهر بالدعاء من الإمام، ولا تأمين المأمومين جهرا.

الحديث الخامس: عن الفضل بن عباس –رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الصلاة مثنى مثنى، تشهد في كل ركعتين وتخشع وتضرع وتمسكن، ثم تقنع يديك – يقول: ترفعهما إلى ربك مستقبلا ببطونهما وجهك، وتقول: يا رب يا رب- ومن لم يفعل ذلك فهو كذا وكذا" (1) . رواه أحمد والترمذي. وفي رواية للترمذي: فهو خداج. قال الترمذي (2) : سمعت محمد بن إسماعيل –يعني البخاري- يقول: روى شعبة هذا الحديث عن عبدربه بن سعيد، فأخطأ في مواضع. انتهى.

والحديث ضعيف. فيه عبد الله بن نافع بن العمياء، وقال الحافظ في تقريب التهذيب: مجهول (3) . وحتى ولو فرضنا صحة الحديث، فليس فيه دليل للدعاء الجماعي، وإنما هو دليل للدعاء منفردا كما هو واضح في سياقه وألفاظه.

ثانيا: ومن أدلتهم أيضا بعض الآثار التي جاءت عن بعض السلف،

--------------------------------------------

1- جامع الترمذي بشرح تحفة الأحوذي (1/ 299) ؛ ومسند أحمد (3/ 229- 230) .

2- جامع الترمذي بشرح تحفة الأحوذي (1/ 299) .

3- تقريب التهذيب (1/ 317/ 3757) .
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের সালাত আদায় করলেন, অতঃপর যখন তিনি সালাম ফেরালেন তখন ঘুরে বসলেন। ইবনে হাযমের শব্দ হলো: যখন তিনি সালাত আদায় করলেন তখন ঘুরে বসলেন। সুতরাং হাদিসে এটি নেই যে: তিনি হাত তুললেন এবং দোয়া করলেন। আর যদি আমরা এই বাক্যটি প্রমাণিত হিসেবে মেনেও নেই, তবুও এটি অভীষ্ট উদ্দেশ্য প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়; কারণ এতে ইমামের উচ্চস্বরে দোয়া করার কথা নেই, আর না আছে মুক্তাদিদের উচ্চস্বরে আমিন বলার কথা।

পঞ্চম হাদিস: ফضل ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সালাত দুই রাকাত দুই রাকাত করে, তুমি প্রতি দুই রাকাতে তাশাহহুদ পড়বে এবং বিনয়ী হবে, কাকুতি-মিনতি করবে ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করবে, অতঃপর তোমার দুই হাত পাতবে— তিনি বলেন: তোমার রবের দিকে সেগুলো তুলবে এমতাবস্থায় যে হাতের তালুগুলো থাকবে তোমার চেহারার দিকে মুখ করা, আর তুমি বলবে: হে আমার রব, হে আমার রব— আর যে ব্যক্তি এমনটি করবে না সে এরূপ ও এরূপ (অর্থাৎ তার সালাত ত্রুটিযুক্ত)।" (১)। এটি আহমাদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। তিরমিজির এক বর্ণনায় আছে: "তা অপূর্ণাঙ্গ"। তিরমিজি (২) বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলকে—অর্থাৎ বুখারিকে—বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: শু'বা এই হাদিসটি আবদুর রাব্বিহি ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি কয়েকটি স্থানে ভুল করেছেন। সমাপ্ত।

হাদিসটি দুর্বল। এর সনদে আবদুল্লাহ ইবনে নাফি' ইবনুল আমইয়া রয়েছেন, আর হাফেজ (ইবনে হাজার) তাকরীবুত তাহযীব-এ বলেছেন: তিনি অজ্ঞাত (৩)। এমনকি যদি আমরা হাদিসটি সহিহ বলেও ধরে নেই, তবুও এতে সম্মিলিত দোয়ার কোনো দলিল নেই, বরং এটি ব্যক্তিগতভাবে দোয়ারই দলিল যেমনটি এর প্রেক্ষাপট ও শব্দাবলি থেকে স্পষ্ট।

দ্বিতীয়ত: তাদের দলিলসমূহের মধ্যে সালাফদের থেকে বর্ণিত কিছু আছারও (উদ্ধৃতি) রয়েছে,

--------------------------------------------

১- জামে তিরমিজি, তুহফাতুল আহওয়াযী শারহসহ (১/ ২৯৯); মুসনাদে আহমাদ (৩/ ২২৯- ২৩০)।

২- জামে তিরমিজি, তুহফাতুল আহওয়াযী শারহসহ (১/ ২৯৯)।

৩- তাকরীবুত তাহযীব (১/ ৩১৭/ ৩৭৫৭)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ২৬)
فمنها:

1- ما جاء عن عمر –رضي الله عنه من أنه كان يكبر في قبته في منى فيسمعه أهل المساجد، فيكبرون، ويكبر أهل الأسواق، حتى ترتج منى تكبيرا (1) .

2- أن ميمونة بنت الحارث زوج النبي صلى الله عليه وسلم ورضي الله عنها، كانت تكبر يوم النحر، وكن النساء يكبرن خلف أبان بن عثمان وعمر بن عبد العزيز ليالي التشريق مع الرجال في المسجد (2) .

رابعا: ومن أدلتهم أيضا المصالح المترتبة على الذكر الجماعي لأنه فيه -كما يرون- مصالح كثيرة، منها:

1- أن فيه تعاونا على البر والتقوى، وقد أمر الله بذلك في قوله: {وتعاونوا على البر والتقوى} [المائدة 2] .

2- أن الاجتماع للذكر والدعاء أقرب إلى الإجابة.

3- أن عامة الناس لا علم لهم باللسان العربي، وربما لحنوا في دعائهم، واللحن سبب لعدم الإجابة، والاجتماع على الذكر والدعاء

--------------------------------------------

1- أخرجه البخاري تعليقا مجزوما به (الفتح 2/ 534) ، وابن المندر في الأوسط (4/ 299/ رقم 2197) ، والبيهقي في السنن الكبرى (3/ 312) . قال ابن حجر في الفتح (2/ 535) : (وصله سعيد بن منصور من رواية عبيد بن عمير، ووصله أبو عبيد من وجه آخر بلفظ التعليق، ومن طريقه البيهقي) وذكر ابن حجر نفس الكلام في تغليق التعليق (2/ 379) .

2- أخرجه البخاري تعليقا مجزوما به (الفتح 2/ 534) . قال ابن حجر في الفتح (2/ 535) : (وقد وصل هذا الأثر أبو بكر بن أبي الدنيا في كتاب العيدين) .
সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১- উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মিনায় তাঁর তাবুতে তাকবির দিতেন, ফলে মসজিদের লোকেরা তা শুনতে পেত এবং তারাও তাকবির দিত। এমনকি বাজারের লোকেরাও তাকবির দিত, যার ফলে পুরো মিনা তাকবির ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠত (১)।

২- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী মাইমুনা বিনতে হারিস (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নহরের দিনে তাকবির দিতেন। আর নারীরা আইয়ামে তাশরিকের রাতগুলোতে মসজিদে পুরুষদের সাথে আবান ইবনে উসমান ও উমর ইবনে আবদুল আজিজের পেছনে তাকবির দিতেন (২)।

চতুর্থত: তাঁদের দলিলের মধ্যে আরও রয়েছে সামষ্টিক জিকিরের ফলে অর্জিত কল্যাণসমূহ; কারণ তাঁরা মনে করেন এতে অনেক উপকারিতা রয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

১- এতে পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে সহযোগিতা হয়। আর আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে সেই নির্দেশই দিয়েছেন: {তোমরা পুণ্য ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো} [আল-মায়িদাহ: ২]।

২- জিকির ও দোয়ার জন্য একত্রিত হওয়া কবুল হওয়ার অধিক নিকটবর্তী।

৩- সাধারণ মানুষের আরবি ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান নেই, যার ফলে সম্ভবত তারা তাদের দোয়ায় ভুল করে। আর ভুল (লাহন) দোয়া কবুল না হওয়ার কারণ হতে পারে। ফলে জিকির ও দোয়ার জন্য একত্রিত হওয়া...

--------------------------------------------

১- এটি ইমাম বুখারি নিশ্চিতভাবে ঝুলাবদ্ধভাবে (তালিকান মাজুমান বিহি) বর্ণনা করেছেন (আল-ফাতহ ২/ ৫৩৪), ইবনুল মুনজির আল-আওসাতে (৪/ ২৯৯/ নং ২১৯৭) এবং আল-বায়হাকি আস-সুনানুল কুবরাতে (৩/ ৩১২) বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার আল-ফাতহ-এ (২/ ৫৩৫) বলেন: (সাইদ ইবনে মানসুর এটি উবাইদ ইবনে উমাইরের বর্ণনা থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে উল্লেখ করেছেন, এবং আবু উবাইদ অন্য একটি সূত্রে তালিকার শব্দে এটি নিরবচ্ছিন্ন করেছেন, আর তাঁর মাধ্যমেই বায়হাকি বর্ণনা করেছেন)। ইবনে হাজার একই কথা তাগলীকুত তালীক-এও (২/ ৩৭৯) উল্লেখ করেছেন।

২- এটি ইমাম বুখারি নিশ্চিতভাবে ঝুলাবদ্ধভাবে (তালিকান মাজুমান বিহি) বর্ণনা করেছেন (আল-ফাতহ ২/ ৫৩৪)। হাফেজ ইবনে হাজার আল-ফাতহ-এ (২/ ৫৩৫) বলেন: (আবু বকর ইবনে আবিদ দুনিয়া 'কিতাবুল ইদাইন'-এ এই আছারটি নিরবচ্ছিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ২৭)
بصوت واحد يجنبهم ذلك (1) .

خامسا: ومما يستدلون به أن هذا العمل عليه أكثر الناس، والغالبية هي الجماعة والنبي صلى الله عليه وسلم أوصى بلزوم الجماعة في غير ما حديث (2) .

سادسا: أن الذكر على هذه الهيئة وسيلة، والغاية منها عبادة الله، والقاعدة تقول: إن الوسائل لها حكم الغايات والمقاصد (3) ، وعبادة الله أمر مطلوب، وعليه فيكون الذكر الجماعي أمرا مطلوبا (4) .

وأما جوابهم على أدلة المانعين من الذكر الجماعي، فإنهم يرون أن الآثار الواردة عن الصحابة في المنع من الذكر الجماعي، والإنكار على فاعليه، يرون أنها آثار معارضة بالأحاديث الكثيرة الثابتة المتقدمة، وهذه الأحاديث مقدمة على تلك الآثار عند التعارض. قال السيوطي: هذا الأثر عن ابن مسعود (5) يحتاج إلى بيان سنده. ومن أخرجه من الأئمة الحفاظ في كتبهم؟ وعلى تقدير ثبوته فهو معارض بالأحاديث الكثيرة الثابتة المتقدمة وهي مقدمة عليه عند التعارض (6) .

--------------------------------------------

1- وهذه المصالح التي زعموها ذكرها الشاطبي في الاعتصام (1/ 461) وما بعدها.

2- المرجع السابق (1/ 460) .

3- القواعد والأصول الجامعة (ص25) .

4- هذه من الحجج التي احتج بها بعض الناس في إثبات كثير من المحدثات. انظر: علم أصول البدع ص 246.

5- يعني الأثر الذي رواه الدارمي، والذي فيه إنكار الذكر الجماعي. وكذلك وردت آثار أخرى عنه ذكر فيها إنكاره الذكر الجماعي كما في البدع لابن وضاح.

6- الحاوي للفتاوى (2/ 132) .
এক স্বরে তা তাদের এ থেকে দূরে রাখে (১)।

পঞ্চম: তাদের উপস্থাপিত দলিলসমূহের অন্যতম হলো, এই আমলের উপর অধিকাংশ মানুষ রয়েছে; আর সংখ্যাগরিষ্ঠরাই হলো 'জামাত'। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একাধিক হাদিসে জামাতবদ্ধ থাকবার নির্দেশ দিয়েছেন (২)।

ষষ্ঠ: এই পদ্ধতিতে জিকির করা একটি মাধ্যম, আর এর উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত। মূলনীতি হলো: 'মাধ্যমের বিধান তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বিধানের অনুগামী' (৩), আর আল্লাহর ইবাদত করা একটি কাম্য বিষয়, তাই সেই সূত্রে সম্মিলিত জিকিরও একটি কাম্য বিষয় (৪)।

আর যারা সম্মিলিত জিকির নিষেধ করেন তাদের দলিলের বিপরীতে তাদের উত্তর হলো, তারা মনে করেন যে, সম্মিলিত জিকির নিষেধ করা এবং এর সম্পাদনকারীদের প্রত্যাখ্যান করার বিষয়ে সাহাবিদের থেকে যে আছারসমূহ (বর্ণনা) বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো পূর্বে উল্লিখিত অসংখ্য সহিহ হাদিসের বিরোধী। আর বিরোধের ক্ষেত্রে এই হাদিসগুলো ওই আছারসমূহের ওপর প্রাধান্য পাবে। সুয়ূতী বলেন: ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত এই আছারটির (৫) সনদ (সূত্র) স্পষ্ট করা প্রয়োজন। ইমাম হাফেজগণের মধ্যে কে এটি নিজ কিতাবে সংকলন করেছেন? যদি এটি সাব্যস্ত বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবুও তা পূর্বে উল্লিখিত অসংখ্য সহিহ হাদিসের বিরোধী। আর বিরোধের ক্ষেত্রে সেগুলোই এর ওপর প্রাধান্য পাবে (৬)।

--------------------------------------------

১- তাদের দাবিকৃত এই উপকারিতাগুলোর কথা শাত্বেবী 'আল-ইতিসাম' (১/ ৪৬১) ও পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে উল্লেখ করেছেন।

২- পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৪৬০)।

৩- আল-কাওয়াইদ ওয়াল উসুলুল জামিআহ (পৃ. ২৫)।

৪- এটি সেই দলিলগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা অনেক মানুষ অনেক নব-উদ্ভাবিত বিষয় (বিদআত) প্রমাণের ক্ষেত্রে পেশ করে থাকে। দেখুন: ইলমু উসুলিল বিদা, পৃ. ২৪৬।

৫- অর্থাৎ দারেমি কর্তৃক বর্ণিত সেই আছারটি, যাতে সম্মিলিত জিকিরকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। একইভাবে তাঁর থেকে আরও কিছু আছার বর্ণিত হয়েছে যেখানে তিনি সম্মিলিত জিকির প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেমনটি ইবনে ওয়াজ্জাহ-এর 'আল-বিদা' গ্রন্থে রয়েছে।

৬- আল-হাউয়ি লিল ফাতাওয়া (২/ ১৩২)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المبحث الرابع: حجج المانعين من الذكر الجماعي وأدلتهم

استدل المانعون من الذكر الجماعي بأدلة. منها:

أولا: أن الذكر الجماعي لم يأمر به النبي صلى الله عليه وسلم، ولا حث الناس عليه، ولو أمر به أو حث عليه لنقل ذلك عنه عليه الصلاة والسلام. وكذلك لم ينقل عنه الاجتماع للدعاء بعد الصلاة مع أصحابه.

قال الشاطبي:"الدعاء بهيئة الاجتماع دائما لم يكن من فعل النبي صلى الله عليه وسلم" (1)

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: "لم ينقل أحد أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا صلى بالناس يدعو بعد الخروج من الصلاة هو والمأمون جميعا، لا في الفجر، ولا في العصر، ولا في غيرهما من الصلوات، بل قد ثبت عنه أنه كان يستقبل أصحابه، ويذكر الله ويعلمهم ذكر الله عقيب الخروج من الصلاة" (2)

ثانيا: فعل السلف من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم والتابعين لهم بإحسان، فإنهم قد أنكروا على من فعل هذه البدعة، كما سيأتي ذلك في النصوص الآتية عن عمر وابن مسعود وخباب –رضي الله عنهم ولو

--------------------------------------------

1- الاعتصام (1/ 219) .

2- الفتاوى الكبرى (2/ 467) .
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সম্মিলিত জিকির নিষিদ্ধকারীদের যুক্তি ও তাঁদের প্রমাণাদি

সম্মিলিত জিকির যারা নিষেধ করেন তারা কিছু দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্মিলিত জিকিরের নির্দেশ দেননি এবং এর জন্য মানুষকে উৎসাহিতও করেননি। যদি তিনি এর নির্দেশ দিতেন বা উৎসাহিত করতেন তবে তা অবশ্যই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হতো। অনুরূপভাবে, সালাতের পর সাহাবীদের সাথে নিয়ে দোয়ার জন্য সমবেত হওয়ার বিষয়টিও তাঁর থেকে বর্ণিত হয়নি।

ইমাম শাতিবি বলেছেন: "সর্বদা সম্মিলিতভাবে দোয়া করা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কর্মপদ্ধতি ছিল না।" (১)

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "কেউ এমন কোনো বর্ণনা দেননি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন লোকেদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন, তখন সালাত শেষ করার পর তিনি এবং মুক্তাদিরা সকলে মিলে দোয়া করতেন—না ফজরে, না আসরে এবং না অন্য কোনো সালাতে। বরং তাঁর থেকে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি সাহাবীদের দিকে মুখ করে বসতেন এবং আল্লাহর জিকির করতেন ও সালাত শেষ করার পর তাঁদের আল্লাহর জিকির শিক্ষা দিতেন।" (২)

দ্বিতীয়ত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবী এবং ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীদের আমল। নিশ্চয়ই তাঁরা এই বিদআত পালনকারীদের প্রতিবাদ করেছেন, যেমনটি উমর, ইবনে মাসউদ এবং খাব্বাব (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর পরবর্তী পাঠ্যগুলোতে বর্ণিত হবে...

--------------------------------------------

১- আল-ইতিসাম (১/ ২১৯)।

২- আল-ফাতাওয়াল কুবরা (২/ ৪৬৭)।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ২৯)
لم يكونوا يعدون هذا العمل شيئا مخالفا للسنة ما أنكروا على فاعله، ولا اشتدوا في الإنكار عليه، فممّن أنكر من الصحابة هذا العمل:

1- عمر بن الخطاب-رضي الله عنه فقد روى ابن وضاح بسنده إلى أبي عثمان النهدي قال: "كتب عامل لعمر بن الخطاب-رضي الله عنه إليه: أن هاهنا قوما يجتمعون، فيدعون للمسلمين وللأمير. فكتب إليه عمر: أقبل وأقبل بهم معك. فأقبل. فقال عمر للبواب: أعدّ سوطا، فلما دخلوا على عمر، أقبل على أميرهم ضرباً بالسوط. فقلت: يا أمير المؤمنين إننا لسنا أولئك الذي يعني، أولئك قوم يأتون من قبل المشرق" (1) .

2- وممن أنكر من الصحابة كذلك الاجتماع للذكر: عبد الله ابن مسعود رضي الله عنه وذلك في الكوفة. فعن أبي البختري قال: أخبر رجل ابن مسعود رضي الله عنه أن قوما يجلسون في المسجد بعد المغرب، فيهم رجل يقول: كبروا لله كذا، وسبحوا الله كذا وكذا، واحمدوه كذا وكذا، واحمدوه كذا وكذا. قال عبد الله: فإذا رأيتهم فعلوا ذلك فأتني، فأخبرني بمجلسهم. فلما جلسوا، أتاه الرجل، فأخبره. فجاء عبد الله بن مسعود، فقال: والذي لا إله غيره، لقد جئتم ببدعة ظلما أو قد فضلتم أصحاب محمد علما. فقال عمرو ابن عتبة: نستغفر الله. فقال: "عليكم الطريق فالزموه، ولئن أخذتم

--------------------------------------------

1- ما جاء في البدع لا بن وضاح (54) ، وابن أبي شيبة في المصنف (8/ 558) . وسنده حسن.
তারা এই কাজটিকে সুন্নাহর পরিপন্থী কিছু মনে করতেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা এর কর্তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করতেন এবং তার প্রতিবাদে কঠোর হতেন। সাহাবীদের মধ্য থেকে যারা এই কাজের প্রতিবাদ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:

১- উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু): ইবনে ওয়াদদাহ তার সনদে আবু উসমান আন-নাহদি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জনৈক গভর্নর তাকে লিখে পাঠালেন যে: এখানে এমন একদল লোক আছে যারা একত্রিত হয় এবং মুসলিমদের জন্য ও আমিরের জন্য দুআ করে। উমর তাকে লিখলেন: তুমি আসো এবং তাদেরকেও তোমার সাথে নিয়ে আসো। এরপর সে আসল। তখন উমর দ্বাররক্ষীকে বললেন: একটি চাবুক প্রস্তুত করো। যখন তারা উমরের কাছে প্রবেশ করল, তখন তিনি তাদের নেতার ওপর চাবুক দিয়ে আঘাত করতে শুরু করলেন। তখন আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি যাদের কথা বুঝাচ্ছেন আমরা তারা নই, তারা তো পূর্ব দিক থেকে আসা একদল লোক" (১)।

২- জিকিরের জন্য একত্রিত হওয়ার ব্যাপারে প্রতিবাদকারী সাহাবীদের মধ্যে আরও রয়েছেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু), আর এটি ছিল কুফায়। আবুল বাখতারি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে সংবাদ দিল যে, কিছু লোক মাগরিবের পর মসজিদে বসে থাকে, তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি বলে: আল্লাহর মহিমা বর্ণনা (তাকবির) করো এতবার, আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা (তাসবিহ) করো এতবার এবং আল্লাহর প্রশংসা (তাহমিদ) করো এতবার। আবদুল্লাহ বললেন: যদি তুমি তাদের এটি করতে দেখো তবে আমার কাছে এসে তাদের মজলিস সম্পর্কে সংবাদ দিও। অতঃপর যখন তারা বসল, লোকটি তার কাছে এসে সংবাদ দিল। তখন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ এলেন এবং বললেন: সেই সত্তার কসম যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, তোমরা নিশ্চয়ই কোনো অন্ধকার বিদআত নিয়ে এসেছ অথবা তোমরা জ্ঞানের দিক থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গেছ। তখন আমর ইবনে উতবাহ বলল: আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তিনি বললেন: "তোমরা সরল পথ অবলম্বন করো এবং তার ওপর অবিচল থাকো। আর যদি তোমরা গ্রহণ করো...

--------------------------------------------

১- ইবনে ওয়াদদাহ রচিত 'মা জাআ ফিল বিদা' (৫৪) এবং ইবনে আবি শাইবাহ রচিত 'আল-মুসান্নাফ' (৮/ ৫৫৮)। এর সনদ হাসান।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৩০)
يمينا وشمالا لتضلن ضلالا بعيدا (1) "

3- وممن أنكر عليهم من الصحابة: خباب بن الأرت، فقد روى ابن وضاح بسند صحيح عن عبد الله بن أبي هذيل العنزي عن عبد الله ابن الخباب قال: "بينما نحن في المسجد، ونحن جلوس مع قوم نقرأ السجدة ونبكي. فأرسل إليّ أبي. فوجدته قد احتجز معه هراوة له. فأقبل عليّ. فقلت: يا أبت! مالي مالي؟! قال: ألم أرك جالسا مع العمالقة (2) ؟ ثم قال: هذا قرن خارج الآن" (3) ، كما أنكر عامة التابعين رحمهم الله تعالى كذلك هذه البدع ومن جملة ذلك: كراهية الإمام مالك الاجتماع لختم القرآن في ليلة من ليالي رمضان. وكراهيته الدعاء عقب الفراغ من قراءة القرآن بصورة جماعية (4) .

وقد نقل الشاطبي في فتاواه كراهية مالك الاجتماع لقراءة الحزب،

--------------------------------------------

1- الدارمي (1/ 68- 69) بإسناد جيد، وابن وضاح في البدع (ص8-10، 11، 12، 13) من عدة طرق عن ابن مسعود. وابن الجوزي في تلبيس إبليس (ص 16- 17) ، وأورده السيوطي في الأمر بالاتباع (ص83- 84) قال محقق كتاب (الأمر بالاتباع) للسيوطي: "والأثر صحيح بمجموع طرقه".

2- العمالقة الجبابرة الذين كانوا بالشام من بقية قوم عاد. ويقال لمن خدع الناس ويخلبهم: عملاق، والعملقة: التعمق في الكلام. فشبه القصاص بهم لما في بعضهم من الكبر والاستطالة على الناس. أو بالذين يخدعونهم بكلامهم وهو أشبه. قاله ابن الأثير في النهاية (3/ 301) .

3- ابن وضاح في البدع والنهي عنها (ص 32 رقم 32) ، وابن أبي شيبة في المصنف (2/ 559) .

4- كتاب الحوادث والبدع للطرطوشي ص 62، 63 – 68.
ডানে ও বামে, তবে তোমরা অবশ্যই সুদূর বিভ্রান্তিতে পথভ্রষ্ট হবে (১) "

৩- সাহাবীদের মধ্যে যারা তাদের প্রতিবাদ করেছেন তাদের অন্যতম হলেন: খাব্বাব ইবনুল আরত। ইবনে ওয়াদদাহ একটি সহীহ সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি হুযাইল আল-আনযী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল খাব্বাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "একদা আমরা মসজিদে ছিলাম, আমরা একদল লোকের সাথে বসে সিজদার আয়াত পাঠ করছিলাম এবং কাঁদছিলাম। তখন আমার পিতা আমার কাছে লোক পাঠালেন। আমি তাকে দেখলাম যে তিনি নিজের সাথে একটি লাঠি রেখেছেন। তিনি আমার দিকে এগিয়ে এলেন। আমি বললাম: হে পিতা! আমার কী হয়েছে? আমার কী হয়েছে?! তিনি বললেন: আমি কি তোমাকে আমালিকা (২) দের সাথে বসে থাকতে দেখিনি? এরপর তিনি বললেন: এটি এখন বের হওয়া একটি শিং (৩)।" যেমনটি সাধারণভাবে তাবেয়ীগণও (আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি রহম করুন) একইভাবে এই বিদআতগুলোর প্রতিবাদ করেছেন। তার অন্তর্ভুক্ত হলো: ইমাম মালেকের রমজানের কোনো এক রাতে কুরআন খতমের জন্য একত্রিত হওয়াকে অপছন্দ করা এবং কুরআন তিলাওয়াত শেষ করার পর সম্মিলিতভাবে দোয়া করাকে অপছন্দ করা (৪)।

ইমাম শাতবি তার ফাতাওয়াতে ইমাম মালেকের ‘হিযব’ (কুরআনের নির্দিষ্ট অংশ) পাঠের জন্য একত্রিত হওয়াকে অপছন্দ করার কথা বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১- দারেমী (১/৬৮-৬৯) উত্তম সনদে, এবং ইবনে ওয়াদদাহ 'আল-বিদআ' গ্রন্থে (পৃ. ৮-১০, ১১, ১২, ১৩) ইবনে মাসউদ থেকে একাধিক সূত্রে। এবং ইবনুল জাওজী 'তালবিসু ইবলিস' গ্রন্থে (পৃ. ১৬-১৭), এবং সুয়ূতী এটি 'আল-আমর বিল ইত্তিবা' গ্রন্থে (পৃ. ৮৩-৮৪) উল্লেখ করেছেন। সুয়ূতীর 'আল-امر بالاتباع' গ্রন্থের মুহাক্কিক বলেছেন: "আছারটি এর সকল সূত্রের সমন্বয়ে সহীহ।"

২- আমালিকা হলো সেই প্রতাপশালী জাতি যারা শামে আদ জাতির অবশিষ্টাংশ থেকে ছিল। আর যারা মানুষকে ধোঁকা দেয় ও বিমোহিত করে তাদের 'আমলাক' বলা হয়, আর 'আমলাকাহ' মানে হলো কথায় কৃত্রিম গভীরতা আনা। গল্পকারদের সাথে তাদের তুলনা করা হয়েছে কারণ তাদের কারো কারো মাঝে মানুষের ওপর অহংকার ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের মনোভাব ছিল। অথবা তাদের সাথে তুলনা করা হয়েছে যারা নিজেদের কথা দিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেয়, আর এটিই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। ইবনুল আসীর এটি 'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থে (৩/৩০১) বলেছেন।

৩- ইবনে ওয়াদদাহ 'আল-বিদআ ওয়ান নাহইউ আনহা' গ্রন্থে (পৃ. ৩২ নং ৩২), এবং ইবনে আবি শাইবাহ 'আল-মুসান্নাফ' গ্রন্থে (২/৫৫৯)।

৪- তুরতুশি রচিত 'কিতাবুল হাওয়াদিস ওয়াল বিদআ' পৃ. ৬২, ৬৩ – ৬৮।
(খণ্ড: ১) আয-যিকরুল জামাঈ বাইনাল ইত্তিবা ওয়াল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৩১)
وقوله: إنه شيء أُحدث، وإن السلف كانوا أرغب للخير، فلو كان خيرا لسبقونا إليه (1) .

فهذه النقول، التي أوردناها في هذا الباب، كلها توضح أن السلف –رضي الله عنهم كانوا لا يرون مشروعية الاجتماع للذكر بالصورة التي أحدثنا الخلف. ولله در السلف! ما كان خير إلا سبقوا إليه، ولا كانت بدعة منكرة إلا كانوا أبعد الناس عنها، محذرين منها. فما من إنسان يخالف هديهم إلا كان تاركا لسبل الخير، معرضا عنها، مقتحما أبواب الضلال.

فلو كان الذكر الجماعي مشروعا أو مستحبا لفعله السلف، ولو فعلوه لنقل عنهم، ولورد إلينا. فلما لم ينقل ذلك عنهم، بل نقل عنهم ما يخالف من الإنكار على فاعله، كما حدث من ابن عمر، وابن مسعود، وغيرهما. دل ذلك على أن هذا العمل غير مشروع أصلاً.

ثالثا: النصوص العامة التي فيها المنع من الابتداع في الدين، كحديث عائشة –رضي الله عنها مرفوعا: "من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد" (2) . ومعلوم أن الذكر الجماعي لم يأمر به النبي صلى الله عليه وسلم ولم يدل عليه، فلو شرعه النبي صلى الله عليه وسلم لأمر به وحث الناس عليه، ولشاع ذلك عنه صلى الله عليه وسلم بينهم مع قيام المقتضي.

رابعا: أن في القول باستحباب الذكر الجماعي استدراكا على شريعة

--------------------------------------------

1- فتاوى الشاطبي ص (206 – 208) .

2- أخرجه: البخاري (2697) ، ومسلم (1718) عن عائشة.
এবং তাঁর কথা: এটি একটি নবউদ্ভাবিত বিষয়, এবং সালাফগণ কল্যাণের প্রতি অধিক আগ্রহী ছিলেন; যদি এটি কল্যাণকর হতো তবে তাঁরা আমাদের আগে তা পালন করতেন (১)।

এই অধ্যায়ে আমরা যে সকল উদ্ধৃতি পেশ করেছি, তা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সালাফগণ—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—পরবর্তী যুগের মানুষের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে যিকিরের জন্য একত্রিত হওয়াকে শরিয়তসম্মত মনে করতেন না। সালাফদের জন্য সকল প্রশংসা! এমন কোনো কল্যাণ নেই যা অর্জনে তাঁরা অগ্রণী হননি এবং এমন কোনো গর্হিত বিদআত নেই যা থেকে তাঁরা সর্বাধিক দূরে থাকেননি এবং তা থেকে সতর্ক করেননি। সুতরাং যে ব্যক্তিই তাঁদের পথনির্দেশনার বিরোধিতা করবে, সে কল্যাণের পথ ত্যাগকারী, তা থেকে বিমুখ এবং গোমরাহীর দরজায় প্রবেশকারী হিসেবে গণ্য হবে।

সম্মিলিত যিকির যদি শরিয়তসম্মত বা মুস্তাহাব হতো তবে সালাফগণ অবশ্যই তা পালন করতেন। আর যদি তাঁরা তা পালন করতেন তবে অবশ্যই তা তাঁদের থেকে বর্ণিত হতো এবং আমাদের নিকট পৌঁছাত। যেহেতু তাঁদের থেকে এর সপক্ষে কিছুই বর্ণিত হয়নি, বরং এর বিপরীতে যারা এটি করত তাদের প্রতি তাঁদের আপত্তির কথা বর্ণিত হয়েছে—যেমনটি ইবনে উমর, ইবনে মাসউদ এবং অন্যান্যদের থেকে ঘটেছে—তাই এটি প্রমাণ করে যে, এই আমলটি মূলত শরিয়তসম্মত নয়।

তৃতীয়ত: দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবন নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত সাধারণ দলিলসমূহ, যেমন আয়েশা—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—কর্তৃক বর্ণিত মারফু হাদিস: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত" (২)। এটি সুপরিচিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মিলিত যিকিরের আদেশ দেননি এবং এর প্রতি নির্দেশনাও দেননি। যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে শরিয়তসম্মত করতেন, তবে তিনি অবশ্যই এর আদেশ দিতেন এবং মানুষকে এর প্রতি উৎসাহিত করতেন। আর প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হতো।

চতুর্থত: সম্মিলিত যিকিরকে মুস্তাহাব বলা শরিয়তের ওপর সংশোধনী আরোপ করার নামান্তর

--------------------------------------------

১- ফাতাওয়া আশ-শাতিবি, পৃষ্ঠা (২০৬ – ২০৮)।

২- বর্ণনা করেছেন: বুখারি (২৬৯৭) এবং মুসলিম (১৭১৮), আয়েশা থেকে বর্ণিত।