(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: -)
الدفاع عن الصحابي أبي بكرة ومروياته والاستدلال لمنع ولاية النساء على الرجال القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الدفاع عن الصحابي أبي بكرة ومروياته والاستدلال لمنع ولاية النساء على الرجال
المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر
الناشر: بدون ناشر (فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية - الرياض)
الطبعة: الأولى 1425هـ
عدد الصفحات: 55
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সাহাবি (صحابي) আবু বাকরা ও তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহের (مرويات) প্রতিরক্ষা এবং পুরুষদের ওপর নারীদের নেতৃত্বের নিষেধাজ্ঞার সপক্ষে দলীলসমূহ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: সাহাবি (صحابي) আবু বাকরা ও তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহের (مرويات) প্রতিরক্ষা এবং পুরুষদের ওপর নারীদের নেতৃত্বের নিষেধাজ্ঞার সপক্ষে দলীলসমূহ
লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বাদর
প্রকাশক: প্রকাশকবিহীন (বাদশাহ ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগারের সূচিপত্র - রিয়াদ)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي جعل أمة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم خير الأمم، وشرف أول قرن فيها بصحبة سيد العرب والعجم، وأشهد أن لا إله إلَاّ الله وحده لا شريك له الأعلى الأجل الأكرم، وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلم.
أما بعد:
فقد فوجئت بما لم يكن يخطر لي ببال ولا يقع في خيال، عندما سمعت أنَّ الشيخ محمد بن سليمان الأشقر - وفَّقَه الله لما فيه الخير والسلامة من الشرِّ - قدح في الصحابي الجليل: أبي بكرة رضي الله عنه وفي مروياته التي انفرد بها عن غيره من الصحابة في صحيح البخاري وغيره، وفي مقدمتها حديثه عن النبي صلى الله عليه وسلم: "لن يفلح قوم ولوا أمرهم امرأة"، فاستبعدت صدور ذلك منه، ولم أصدق بذلك، ثم وصل
ভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতকে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছেন এবং এই উম্মতের প্রথম প্রজন্মকে আরব ও অনারবদের সরদারের সাহচর্য লাভে ধন্য করে সম্মানিত করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক এবং অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি সর্বোচ্চ, সুমহান ও অত্যন্ত দয়ালু। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
আমি এমন এক বিষয়ে বিস্ময়াভিভূত হলাম যা আমার কল্পনা বা চিন্তাতেও কখনো উদিত হয়নি, যখন আমি সংবাদ পেলাম যে শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আল-আশকার —আল্লাহ তাকে কল্যাণের তাওফিক দান করুন এবং যাবতীয় অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখুন— মহান সাহাবী (صحابي) আবু বাকরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সমালোচনা (قدح) করেছেন এবং সহিহ বুখারি ও অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত তাঁর ঐ সকল বর্ণনা যা তিনি অন্যান্য সাহাবীদের থেকে এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছেন, সেগুলোর ব্যাপারেও আপত্তি তুলেছেন। যার শীর্ষে রয়েছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত তাঁর এই হাদিসটি: "ঐ জাতি কখনো সফল হবে না যারা তাদের রাষ্ট্রীয় বিষয়ের ভার কোনো নারীর হাতে ন্যস্ত করবে।" আমি তাঁর পক্ষ থেকে এমন কিছু ঘটা সুদূরপরাহত মনে করেছিলাম এবং তা বিশ্বাস করতে পারিনি। অতঃপর...
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৪)
إليَّ صورة من مقال له نشر في صحيفة الوطن الكويتية، بتاريخ: 29/5/2004م بعنوان "نظرة في الأدلة الشرعية حول مشاركة المرأة في الوظائف الرئاسية والمجالس النيابية ونحوها".
وأكد صحّة نسبة هذا المقال إليه، بمكالمة هاتفية أجرتها الصحيفة معه نشرتها بتاريخ: 31/5/2004م، فاتصلت به هاتفياً أعتب عليه هذه الجرأة، والإقدام على شيء لم يسبقه إليه أحد طيلة القرون الماضية، ورجوت منه بإلحاح أن يرجع عن هذا الذي انفرد به عن علماء المسلمين سلفاً وخلفاً، وسبب قدحه في أبي بكرة رضي الله عنه ثم في مروياته التي انفرد بها؛ أنَّ عمر رضي الله عنه جلده واثنين معه لشهادتهم على المغيرة بن شعبة بالزنى، وكونه رضي الله عنه لم يتب، وذكرت له ما بينه العلماء من أنَّ أبا بكرة شاهد ولم يكن قاذفاً، وفرق بين الشاهد والقاذف، وقد اتفق العلماء سلفاً وخلفاً على قبول مروياته، ولم يُنقل الطعن فيها عن أحد قبله، ثم إني بعثت إليه كتاباً أكدت عليه فيه إلحاحي برجاء الرجوع عما صدر
আমার কাছে কুয়েতের আল-ওয়াতান পত্রিকায় ২৯/৫/২০০৪ তারিখে প্রকাশিত তাঁর একটি নিবন্ধের অনুলিপি পৌঁছেছে, যার শিরোনাম ছিল: "রাষ্ট্রীয় উচ্চপদ এবং সংসদীয় পরিষদ ও অনুরূপ ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের ব্যাপারে শরয়ী দলীলসমূহের ওপর একটি দৃষ্টিপাত।"
উক্ত পত্রিকা ৩১/৫/২০০৪ তারিখে তাঁর সাথে একটি টেলিফোন কথোপকথন প্রকাশ করে, যেখানে তিনি এই নিবন্ধটি তাঁর নিজের বলে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এরপর আমি তাঁকে টেলিফোনে কল করি এবং এই দুঃসাহসের জন্য তাঁকে তিরস্কার করি; কেননা তিনি এমন একটি বিষয়ে অগ্রসর হয়েছেন যাতে গত শতাব্দীগুলোতে তাঁর আগে আর কেউ পদক্ষেপ নেয়নি। আমি তাঁকে সনির্বন্ধ অনুরোধ করি যেন তিনি তাঁর এই অবস্থান থেকে ফিরে আসেন, যেটিতে তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মুসলিম আলেমদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। আবু বাকরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং পরবর্তীতে তাঁর এককভাবে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর (مرويات) ব্যাপারে তাঁর আপত্তির (قدح) কারণ ছিল—উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মুগীরা ইবনে শু'বাহ-র বিরুদ্ধে ব্যভিচারের সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তাঁকেসহ তিনজনকে বেত্রাঘাত করেছিলেন এবং তিনি (আবু বাকরাহ) তওবা করেননি। আমি তাঁর নিকট উল্লেখ করেছি যা আলেমগণ স্পষ্ট করেছেন যে, আবু বাকরাহ একজন সাক্ষী (شاهد) ছিলেন, অপবাদদাতা (قاذف) ছিলেন না; আর সাক্ষী ও অপবাদদাতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমগণ তাঁর বর্ণনাগুলো (مرويات) গ্রহণ করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং তাঁর পূর্বে কারো থেকে এই বর্ণনার ব্যাপারে কোনো আপত্তি (طعن) বর্ণিত হয়নি। এরপর আমি তাঁর কাছে একটি চিঠি পাঠাই এবং যা প্রকাশিত হয়েছে তা থেকে ফিরে আসার জন্য আমার সনির্বন্ধ অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করি।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৫)
منه، وأرفقت به أوراقاً مشتملة على شيء من كلام العلماء في فضل أبي بكرة والثناء عليه، وفي قبول مروياته وعدم ردّ شيء منها، ولا زلت آمل رجوعه إلى الحق.
وحاصل ما اشتمل عليه المقال، رميه أبا بكرة رضي الله عنه بالكذب، وزعمه أنَّ صحيح البخاري مشتمل على ما هو موضوع مكذوب على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهذا القدح الخطير في أبي بكرة رضي الله عنه وفي صحيح البخاري، كله من أجل تسويغ وتجويز أن تتولى المرأة الولاية العامة، وهي وسيلة سيئة إلى غاية سيئة، فأبو بكرة رضي الله عنه بريء مما رماه به من الكذب، وصحيح البخاري خال مما زعم وجوده فيه من الموضوع المكذوب على النبي صلى الله عليه وسلم، والغاية التي قصدها باطلة بالكتاب والسّنّة والإجماع، وقد قال الحافظ ابن حجر في الفتح (4/364) عن رجل من الحنفية قدح في حديث المصراة بأنَّه من رواية أبي هريرة وأنَّه لم يكن كابن مسعود وغيره من فقهاء الصحابة، فلا يؤخذ بما رواه مخالفاً للقياس الجلي، قال: "وهو كلام آذى قائله به نفسه، وفي
তাঁর থেকে; এবং আমি এর সাথে কিছু কাগজপত্র সংযুক্ত করেছি যাতে আবু বাকরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মর্যাদা ও তাঁর প্রশংসায় উলামায়ে কেরামের কিছু বক্তব্য রয়েছে এবং তাঁর বর্ণনাসমূহ (مرويات) গ্রহণ করা ও তার কোনো কিছু প্রত্যাখ্যান (رد) না করার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। আমি এখনও তাঁর সত্যের পথে ফিরে আসার আশা রাখি।
এই প্রবন্ধটির সারকথা হলো, লেখক আবু বাকরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে মিথ্যাচারের (الكذب) দায়ে অভিযুক্ত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, সহীহ বুখারী এমন সব বর্ণনার ওপর সংবলিত যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামে জাল (موضوع) ও মিথ্যাবানোয়াট (مكذوب)। আবু বাকরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং সহীহ বুখারীর প্রতি এই ভয়াবহ সমালোচনা (القدح) মূলত নারীর সাধারণ নেতৃত্ব বা রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণকে বৈধতা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে; যা একটি মন্দ লক্ষ্যে পৌঁছানোর মন্দ মাধ্যম মাত্র। আবু বাকরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর বিরুদ্ধে আনা মিথ্যাচারের (الكذب) অভিযোগ থেকে মুক্ত। আর সহীহ বুখারীও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামে আরোপিত জাল (موضوع) ও মিথ্যাবানোয়াট (مكذوب) বর্ণনা থেকে মুক্ত, যা তিনি সেখানে থাকার দাবি করেছেন। তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যটি কুরআন, সুন্নাহ এবং ঐক্যমত্যের (الإجماع) ভিত্তিতে বাতিল। হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারী গ্রন্থে (৪/৩৬৪) হানাফী মাযহাবের জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, সে ‘মুসাররাত’ সংক্রান্ত হাদিসটির সমালোচনা (قدح) করতে গিয়ে বলেছিল যে, এটি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনা এবং তিনি ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বা অন্যান্য ফকীহ সাহাবীদের মতো ছিলেন না; তাই তাঁর বর্ণিত যে হাদিস স্পষ্ট কিয়াসের (القياس) পরিপন্থী, তা গ্রহণ করা হবে না। তিনি (ইবনে হাজার) বলেছেন: “এটি এমন এক কথা যার দ্বারা প্রবক্তা নিজেই নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন এবং...”
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৬)
حكايته غنى عن تكلف الرد عليه"، وكلام هذا الحنفي في أبي هريرة أسهل بكثير من كلام الشيخ محمد الأشقر في أبي بكرة، والشيخ محمد الأشقر من أهل العلم والفضل عرفته قبل أربعين سنة حين كان مدرِّساً بالجامعة الإسلامية بالمدينة، وهذا الذي حصل منه في أبي بكرة رضي الله عنه ومروياته سقطة شنيعة، لا يجوز أن يتابَع عليها ولا أن يُغترَّ بها، ويجب الحذر منها.
وهذا ردّ يشتمل - بعد إيراد مقاله - على ما يلي:
أولاً: فضل أبي بكرة رضي الله عنه وثناء العلماء عليه.
ثانياً: قبول العلماء مرويات أبي بكرة رضي الله عنه وأنَّ ما حصل له لا تأثير له في روايته.
ثالثاً: سلامة ما في صحيح البخاري من الانتقاد مما دون الوضع.
رابعاً: ذكر الأدلة على أنَّ المرأة ليست من أهل الولاية العامة، ولا ما دونها من الولاية على الرجال.
خامساً: التعليق على جمل من المقال.
তাঁর বিবৃত বিষয়টিই তাঁকে খণ্ডন করার কষ্ট থেকে বিমুক্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট। আবু হুরায়রা (রা.) সম্পর্কে এই হানাফি ব্যক্তির বক্তব্য, আবু বাকরাহ (রা.) সম্পর্কে শায়খ মুহাম্মদ আল-আশকার এর বক্তব্যের তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়। শায়খ মুহাম্মদ আল-আশকার জ্ঞান ও ফযিলতের অধিকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত; চল্লিশ বছর আগে মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক থাকাকালীন আমি তাঁকে চিনেছি। আবু বাকরাহ (রা.) এবং তাঁর বর্ণিত বর্ণনাগুলো (مرويات) সম্পর্কে শায়খের পক্ষ থেকে যা প্রকাশ পেয়েছে তা একটি জঘন্য পদস্খলন; এ ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করা বৈধ নয় এবং এতে প্রলুব্ধ হওয়াও উচিত নয়, বরং এ থেকে সতর্ক থাকা আবশ্যক (واجب)।
এটি একটি প্রতিবাদলিপি যা—তাঁর নিবন্ধটি উল্লেখ করার পর—নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথমত: আবু বাকরাহ (রা.)-এর ফযিলত এবং তাঁর প্রতি ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা।
দ্বিতীয়ত: আবু বাকরাহ (রা.)-এর বর্ণিত বর্ণনাগুলো (مرويات) ওলামায়ে কেরামের গ্রহণ করা এবং তাঁর সাথে যা ঘটেছিল তার বর্ণনার (رواية) ওপর কোনো প্রভাব না থাকা।
তৃতীয়ত: জালিয়াতি (الوضع) ব্যতিরেকে অন্যান্য সমালোচনা (انتقاد) থেকে সহিহ বুখারিতে বিদ্যমান বিষয়গুলোর সুরক্ষা।
চতুর্থত: নারী সাধারণ অভিভাবকত্ব (الولاية العامة) বা পুরুষদের ওপর এর নিম্নতর কোনো অভিভাবকত্বের (الولاية) যোগ্য নয়—এ বিষয়ের দলিলসমূহ উল্লেখ করা।
পঞ্চমত: নিবন্ধটির কিছু অংশের ওপর মন্তব্য।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৭)
الباب الأول: مقال الشيخ محمد الأشقر…مقال الشيخ محمد الأشقر
نظرة في الأدلة الشرعية حول مشاركة المرأةفي الوظائف الرئاسية والمجالس النيابية ونحوها
إنَّ أهم مستند يستند إليه من يدعون أن الشرع الإسلامي يمنع من مشاركة المرأة في الميادين المتقدمة هو الحديث المشهور الذي أخرجه البخاري ح (4425) و (7099) ، وأخرجه أيضا الإمام أحمد في مسنده برقم (20438) و (20402) و (20455) ، كلاهما عن أبي بكرة رضي الله عنه أنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قال: "لن يفلح قوم أسندوا أمرهم إلى امرأة"، هذا لفظ البخاري، وعند أحمد: "لا يفلح قوم تملكهم امرأة"، هذا الحديث هو المستند الرئيسي لكلِّ من يتكلم في هذا الأمر، ولم يرد هذا الحديث من رواية أي صحابي آخر غير أبي بكرة.
وتصحيح البخاري وغيره لهذا الحديث وغيره من
প্রথম পরিচ্ছেদ: শায়খ মুহাম্মদ আল-আশকার-এর নিবন্ধ…শায়খ মুহাম্মদ আল-আশকার-এর নিবন্ধ
রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা, সংসদীয় পরিষদ এবং এই জাতীয় ক্ষেত্রগুলোতে নারীর অংশগ্রহণের বিষয়ে শরয়ী দলীলসমূহের ওপর একটি পর্যালোচনা
ইসলামি শরীয়ত অগ্রবর্তী ক্ষেত্রগুলোতে নারীর অংশগ্রহণে বাধা প্রদান করে বলে যারা দাবি করেন, তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হলো সেই প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিস যা বুখারি (৪৪২৫) ও (৭০৯৯) নম্বরে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আহমাদও তাঁর মুসনাদে (২০৪৩৮), (২০৪০২) ও (২০৪৫৫) নম্বরে বর্ণনা করেছেন। উভয়ই আবু বাকরাহ (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সেই জাতি কখনোই সফল হবে না যারা তাদের নেতৃত্ব কোনো নারীর হাতে ন্যস্ত করেছে", এটি বুখারির শব্দ। আর আহমাদের বর্ণনায় রয়েছে: "সেই জাতি সফল হবে না যাদের শাসনভার কোনো নারী গ্রহণ করে"। এই হাদিসটিই এই বিষয়ে যারা কথা বলেন তাদের মূল ভিত্তি, আর আবু বাকরাহ ব্যতীত অন্য কোনো সাহাবীর বর্ণনা থেকে এই হাদিসটি বর্ণিত হয়নি।
ইমাম বুখারি ও অন্যদের এই হাদিস এবং অন্যান্য হাদিসের বিশুদ্ধায়ন (تصحيح) করা থেকে...
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৮)
مرويات أبي بكرة رضي الله عنه هو أمر غريب لا ينبغي أن يقبل بحال، والحجّة في ذلك ما عرف في كتب التاريخ الإسلامي كما عند الطبري وابن كثير وغيرهما، أنَّ أبا بكرة قذف المغيرة بن شعبة بالزنى، ووصل الخبر إلى أمير المؤمنين عمر بن الخطاب فأمر بحضور الرجلين من الكوفة إليه في المدينة، فسألهما عن ذلك وطلب عمر رضي الله عنه من أبي بكرة أن يأتي بشهوده على ما ادعاه، فلم تتم الشهادة التي هي كما قال الله تعالى أربعة شهود، قال الله تبارك وتعالى: {وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَداً وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} [النور:4] ، فحكم على من يقذف امرأة محصنة والرجل المحصن مثلها بثلاثة أحكام: الأول: أن يجلد ثمانين جلدة، والثاني: أن تسقط شهادته فلا تقبل شهادته بعد ذلك على شيء، والثالث: أنَّه محكوم عليه بالفسق، وتمام الآية: {إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} .
আবু বাকরা (রা.)-এর বর্ণিত রেওয়ায়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করা একটি অদ্ভুত (غريب) বিষয় যা কোনোভাবেই গ্রহণ করা উচিত নয়। এর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো ইসলামের ইতিহাসের কিতাবসমূহে যা সুপরিচিত, যেমন তাবারি ও ইবনে কাসির এবং অন্যদের গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, আবু বাকরা মুগিরা বিন শু'বাকে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছিলেন। খবরটি আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট পৌঁছালে তিনি কুফা থেকে সেই দুই ব্যক্তিকে মদিনায় তাঁর নিকট উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি তাঁদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং উমর (রা.) আবু বাকরাকে তাঁর দাবির সপক্ষে সাক্ষী উপস্থিত করতে বলেন। কিন্তু সেই সাক্ষ্য পূর্ণ হয়নি যা মহান আল্লাহ চারজন সাক্ষীর কথা বলেছেন। মহান আল্লাহ বরকতময় ও মহিমান্বিত এরশাদ করেন: {আর যারা সতী-সাধ্বী রমণীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অতঃপর চারজন সাক্ষী উপস্থিত না করে, তবে তোমরা তাদের আশিটি বেত্রাঘাত করো এবং কখনোই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না। আর তারাই হলো পাপাচারী (الفاسقون)} [আন-নূর: ৪]। সুতরাং কোনো সতী নারী বা অনুরূপ কোনো সতী পুরুষের প্রতি অপবাদ আরোপকারীর ক্ষেত্রে তিনটি বিধান প্রদান করা হয়েছে: প্রথমত: তাকে আশিটি বেত্রাঘাত করা হবে; দ্বিতীয়ত: তার সাক্ষ্য বাতিল হয়ে যাবে, ফলে এরপর আর কোনো বিষয়েই তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না; এবং তৃতীয়ত: তাকে পাপাচার (الفسق) এর অভিযোগে দণ্ডিত করা হবে। আয়াতের শেষাংশ হলো: {তবে যারা এরপর তাওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেয়, তবে আল্লাহ নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু}।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ৯)
ولذلك جلد عمر رضي الله عنه أبا بكرة ثمانين جلدة حد القذف بالزنى، ثم قال له: تب أقبل شهادتك، فأبى أن يتوب وأسقط عمر رضي الله عنه بعد ذلك شهادته، فكان أبو بكرة بعد ذلك إذا استشهد على شيء يأبى أن يشهد ويقول: إن المؤمنين قد أبطلوا شهادتي.
وقد قال الله تعالى في آية لاحقة: {لَوْلا جَاءُوا عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا بِالشُّهَدَاءِ فَأُولَئِكَ عِنْدَ اللَّهِ هُمُ الْكَاذِبُونَ} [النور:13] ، أي أنَّهم في حكم الله تعالى كاذبون لا يثبت بقولهم حق، هكذا حكم الله تعالى على من قذف محصناً وهذا منطبق على أبي بكرة، فإن الآية تدمغه بالفسق وبالكذب، وهذا يقتضي رد ما رواه عن النبي صلى الله عليه وسلم مما انفرد به كهذا الحديث العجيب: "لن يفلح قوم تملكهم امرأة"، فينبغي أن يضم هذا الحديث إلى الأحاديث الموضوعة المكذوبة على النبي صلى الله عليه وسلم، على أنا نقول جدلاً: لو صح هذا الحديث افتراضاً جدلياً لكان حجة فقط في منع أن تتولى المرأة الملك أو رئاسة الدولة، ولا يصلح حجة لمنع
এবং একারণেই ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আবু বাকরা-কে ব্যভিচারের অপবাদের দণ্ডস্বরূপ আশিটি বেত্রাঘাত করেছিলেন। অতঃপর তিনি তাকে বলেছিলেন: "তওবা করো, তবেই আমি তোমার সাক্ষ্য গ্রহণ করব।" কিন্তু তিনি তওবা করতে অস্বীকার করেন এবং ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এরপর তার সাক্ষ্য বাতিল করে দেন। ফলে আবু বাকরা এরপর যখনই কোনো বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আহূত হতেন, তিনি সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করতেন এবং বলতেন: "নিশ্চয় মুমিনগণ আমার সাক্ষ্য বাতিল করে দিয়েছেন।"
আর মহান আল্লাহ তাআলা পরবর্তী একটি আয়াতে বলেছেন: {কেন তারা এর সপক্ষে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করল না? যেহেতু তারা সাক্ষী উপস্থিত করতে পারেনি, তাই আল্লাহর নিকট তারাই মিথ্যাবাদী (كاذبون)} [আন-নূর: ১৩]। অর্থাৎ, আল্লাহর বিধানে তারা মিথ্যাবাদী (كاذبون), তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো অধিকার সাব্যস্ত হয় না। সতী-সাধ্বী নারীর ওপর অপবাদ দানকারীর বিষয়ে আল্লাহর বিধান এমনই এবং এটি আবু বাকরার ওপরও প্রযোজ্য। কেননা এই আয়াত তাকে পাপাচার (فسق) ও মিথ্যাচার (كذب) দ্বারা কলঙ্কিত করে। আর এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত তাঁর সেই সব বর্ণনাসমূহকে প্রত্যাখ্যান (رد) করার দাবি রাখে যেগুলোতে তিনি একক (منفرد) হয়ে গেছেন, যেমন এই অদ্ভুত হাদিসটি: "সেই জাতি কখনো সফল হবে না যারা তাদের শাসনভার কোনো নারীর হাতে ন্যস্ত করে।" সুতরাং এই হাদিসটিকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে আরোপিত জাল (موضوع) ও মিথ্যা (مكذوب) হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক। তবে আমরা তর্কের খাতিরে বলছি: যদি তর্কমূলক অনুমানের ভিত্তিতে এই হাদিসটি সহিহ (صحيح) হতো, তবে এটি কেবল নারীর রাজত্ব বা রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া নিষিদ্ধ করার দলিল হতো এবং এটি অন্য কিছু প্রতিরোধের দলিল হওয়ার যোগ্য নয়...
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ১০)
أن تتولى المرأة القضاء أو إمارة قرية أو مدينة، فليس معنى كون الرجل لا يصلح أن يكون ملكا أنَّه لا يصلح أن يكون قاضيا أو أمير مدينة أو قرية أو يكون رئيس دائرة أو وزيرا أو رئيس وزراء أو نائبا في البرلمان، من احتج بهذا الحديث على ذلك فهو مخطىء خطأ كبيرا بل إنني أعتبره يسيء الفهم جدا، على أنَّ مما يدلُّ على بطلان هذا الحديث أنَّه يقتضي أنَّه لا يمكن أن يفلح قومٌ تتولى رئاسة دولتهم امرأة في حال من الأحوال، ومعنى هذا أنَّه لو وُجدت امرأة على رأس إحدى الدول ونجحت تلك الدولة في أمورها الدنيوية، فيكون ذلك دالاًّ على أنَّ هذا الحديث كذبٌ مكذوب على النبي صلى الله عليه وسلم، وقد وُجد في العصور الحديثة دولٌ كثيرة تولَّت رئاستها نساءٌ، ونجحت تلك الدول نجاحات باهرة تحت رئاسة النساء، نذكر من ذلك رئاسة أنديرا غاندي للهند ورئاسة مارغريت تاتشر لبريطانيا، وغيرهما كثير في القديم والحديث، وإنما قلنا في الأمور الدنيوية لأنَّ الحديث ورد على ذلك.
একজন মহিলার বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালন অথবা কোনো গ্রাম বা শহরের শাসনভার গ্রহণ করার বিষয়টি এমন যে, কোনো ব্যক্তি বাদশাহ হওয়ার অযোগ্য হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তিনি বিচারক, শহর বা গ্রামের আমির, কোনো বিভাগের প্রধান, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হওয়ারও অযোগ্য। যারা এই হাদিসটি দিয়ে উক্ত বিষয়ে দলিল পেশ করেন, তারা গুরুতর ভুল করছেন; বরং আমি মনে করি তারা বিষয়টি বুঝতে চরম ভুল করেছেন। তদুপরি, এই হাদিসটির অসারতা (بطلان) প্রমাণের একটি কারণ হলো—এটি দাবি করে যে, কোনো জাতি যাদের রাষ্ট্রের নেতৃত্ব কোনো মহিলা গ্রহণ করবেন, তারা কোনো অবস্থাতেই সফল হতে পারবে না। এর অর্থ এই যে, যদি কোনো রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে কোনো মহিলা আসীন হন এবং সেই রাষ্ট্রটি তার পার্থিব বিষয়াবলীতে সাফল্য লাভ করে, তবে তা একথাই প্রমাণ করবে যে এই হাদিসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আরোপিত একটি বানোয়াট মিথ্যা (كذب مكذوب)। আধুনিক যুগে এমন অনেক রাষ্ট্র দেখা গেছে যেগুলোর নেতৃত্বে নারীরা ছিলেন এবং তাদের অধীনে সেই রাষ্ট্রগুলো বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে। এ প্রসঙ্গে আমরা ভারতের ইন্দিরা গান্ধী এবং ব্রিটেনের মার্গারেট থ্যাচারের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করতে পারি, এছাড়াও প্রাচীন ও আধুনিক যুগে এমন আরও অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। আমরা কেবল পার্থিব বিষয়াবলীর কথা একারণেই বলেছি যে, হাদিসটি এই প্রেক্ষাপটেই বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ১১)
ففي رواية البخاري قال أبو بكرة: "لما بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أهل فارس قد ملكوا عليهم بنت كسرى" قال: "لن يفلح قوم ولوا أمرهم امرأة".
بل أقول إن القرآن العظيم قد نقل قصة قوم ملكتهم امرأة، وروى القرآن العظيم أنها نجحت أيما نجاح، وهي ملكة اليمن التي وردت قصتها في القرآن العظيم وأنَّ سليمان جاءه طيره الهدهد فقال: {وَجِئْتُكَ مِنْ سَبَأٍ بِنَبَأٍ يَقِينٍ إِنِّي وَجَدْتُ امْرَأَةً تَمْلِكُهُمْ وَأُوتِيَتْ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ وَلَهَا عَرْشٌ عَظِيمٌ} [النمل:22-23] ، وأنَّ سليمان عليه السلام أرسل إليها كتابا يدعوها إلى الإسلام وأن تأتي إليه مقرة بذلك.
فأحسنت التدبير كل الإحسان فاستشارت رجال دولتها وبذلك ضمنت ولاءهم وطاعتهم لقراراتها، وأرسلت إلى سليمان عليه السلام هدية تستجلب بها وده، فرفض الهدية وأصر على أن يصله منها ومن قومها الطاعة والإذعان، فكان عاقبة ذلك أن سارت بنفسها ومن معها
বুখারি-র বর্ণনা (رواية)-য় আবু বাকরা (রা.) বলেন: "যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে পারস্যের অধিবাসীরা কিসরার কন্যাকে তাদের শাসক নিযুক্ত করেছে," তখন তিনি বললেন: "সেই জাতি কখনোই সফল হবে না যারা তাদের বিষয়ের (শাসনের) দায়িত্ব একজন নারীর ওপর অর্পণ করে।"
বরং আমি বলব যে, মহান কুরআন এমন এক জাতির কাহিনী বর্ণনা করেছে যাদের রাজত্ব একজন নারীর অধীনে ছিল এবং মহান কুরআন এ কথাও বর্ণনা করেছে যে তিনি প্রভূত সাফল্য অর্জন করেছিলেন। তিনি হলেন ইয়ামেনের সেই রাণী যার কাহিনী মহান কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট যখন তাঁর হুদহুদ পাখিটি ফিরে এল, তখন সে বলল: "আমি সাবা থেকে আপনার কাছে একটি নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি। আমি এক নারীকে দেখেছি যে তাদের ওপর রাজত্ব করছে; তাকে সবকিছুই প্রদান করা হয়েছে এবং তার একটি বিশাল সিংহাসন রয়েছে" [আন-নামল: ২২-২৩]। সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট একটি পত্র প্রেরণ করলেন যেখানে তাকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল এবং আনুগত্য স্বীকার করে তাঁর কাছে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
অতঃপর তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে বিষয়টি পরিচালনা করলেন এবং তাঁর রাষ্ট্রের পদস্থ ব্যক্তিবর্গের সাথে পরামর্শ করলেন। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের আনুগত্য ও সমর্থন নিশ্চিত করলেন। এরপর তিনি সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট একটি উপহার পাঠালেন যেন তাঁর সখ্যতা লাভ করা যায়, কিন্তু তিনি (সুলাইমান) সেই উপহার প্রত্যাখ্যান করলেন এবং তাঁর ও তাঁর জাতির পক্ষ থেকে পূর্ণ আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের দাবিতে অনড় থাকলেন। পরিণামে তিনি স্বয়ং এবং তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে যাত্রা করলেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ১২)
إلى سليمان عليه السلام في مدينة القدس، فذكرت الآيات القصة إلى أن قالت: {قِيلَ لَهَا ادْخُلِي الصَّرْحَ فَلَمَّا رَأَتْهُ حَسِبَتْهُ لُجَّةً وَكَشَفَتْ عَنْ سَاقَيْهَا قَالَ إِنَّهُ صَرْحٌ مُمَرَّدٌ مِنْ قَوَارِيرَ قَالَتْ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [النمل:44] ، فآل أمرها إلى هذه العاقبة الجميلة (اقرأ القصة في سورة النمل 23 - 44) .
فأي ثناء أثناه الله تعالى على هذه الملكة وعلى النجاح الذي وصلت إليه بحنكتها ودهائها وحسن تقديرها للأمور، حيث استطاعت تجنيب قومها وبلادها من إفساد الجيوش الغازية وإذلالهم لقومها، ولهذا نقل ابن كثير في تفسيره عن قتادة قال: رحمها الله ورضي عنها ما كان أعقلها في إسلامها وفي شركها، يعني حيث أخرجت قومها من عبادة الشمس إلى عبادة الله تعالى.
هذا وإن في مشاركة المرأة في المجالس النيابية خيراً كثيراً من حيث مشاركتها في الشورى في الأمور العامة، خاصة وأنَّ النساء يلتفتن أكثر من الرجال إلى الأمور
সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট কুদস নগরীতে; অতঃপর আয়াতসমূহ কাহিনীটি বর্ণনা করেছে যতক্ষণ না তা উল্লেখ করল: {তাকে বলা হলো, ‘প্রাসাদে প্রবেশ করো।’ যখন সে তা দেখল, সেটিকে এক গভীর জলাশয় মনে করল এবং তার পায়ের নলি উন্মুক্ত করল। তিনি বললেন, ‘এটি তো কাঁচ নির্মিত স্বচ্ছ প্রাসাদ।’ সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি তো নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি সুলাইমানের সাথে বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করলাম।’} [আন-নামল: ৪৪]। পরিশেষে তার বিষয়টির সমাপ্তি ঘটল এই সুন্দর পরিণতির মাধ্যমে (সূরা আন-নামল ২৩ - ৪৪ এ কাহিনীটি পাঠ করুন)।
আল্লাহ তাআলা এই রানীর এবং তার বিচক্ষণতা, বুদ্ধিমত্তা ও পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছিলেন, তার কতই না চমৎকার প্রশংসা করেছেন! যেহেতু তিনি তার জাতি ও দেশকে আক্রমণকারী বাহিনীর বিপর্যয় এবং তার জাতির লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। একারণেই ইবনে কাসীর তার তাফসীরে কাতাদাহ থেকে উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন এবং তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন; ইসলাম গ্রহণ এবং শিরকের অবস্থায় থাকাকালে তিনি কতই না বুদ্ধিমতী ছিলেন! অর্থাৎ, তিনি যেহেতু তার জাতিকে সূর্যপূজা থেকে বের করে মহান আল্লাহর ইবাদতের দিকে নিয়ে এসেছিলেন।
বস্তুত সংসদীয় পরিষদসমূহে নারীর অংশগ্রহণে অনেক কল্যাণ রয়েছে, বিশেষত সাধারণ বিষয়াবলীতে পরামর্শের ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণের প্রেক্ষিতে। বিশেষ করে নারীরা পুরুষদের চেয়েও ওইসব বিষয়সমূহের প্রতি অধিক লক্ষ্য রাখে...
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الخاصة بالبيوت والأسر والأطفال، وعلى مجلس الأمة قبل أن يتيح للنساء المشاركة في الترشيح والانتخاب أن يضع الضوابط الشرعية لمنع الانفلات المخالف للشرع قدر الإمكان، والله تعالى المسؤول أن يوفق العاملين لمصلحة البلاد إلى ما فيه خيرها وأن يجنبهم المزالق والأضرار.
গৃহ, পরিবার ও শিশু-সংক্রান্ত বিশেষ বিষয়াদি; আর জাতীয় পরিষদের (مجلس الأمة) কর্তব্য হলো মহিলাদেরকে মনোনয়ন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার পূর্বে শরীয়তসম্মত নীতিমালা (الضوابط الشرعية) প্রণয়ন করা, যাতে শরীয়ত পরিপন্থী বিশৃঙ্খলা যথাসম্ভব প্রতিরোধ করা যায়। মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন দেশের স্বার্থে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কল্যাণময় কার্যে তাওফিক দান করেন এবং তাঁদেরকে সকল প্রকার বিচ্যুতি ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الباب الثاني: فضل أبي بكرةرضي الله عنه وثناء العلماء عليه…فضل أبي بكرة رضي الله عنه وثناء العلماء عليه
أبو بكرة: هو نفيع بن الحارث، وقيل ابن مسروح الثقفي، تدلّى من حصن الطائف ببكرة، فقيل له أبو بكرة، واشتهر بها، وكان عبداً فأعتقه النبي صلى الله عليه وسلم وعُدّ من مواليه، وكانت وفاته في خلافة معاوية سنة (52هـ) ، وكل ما جاء من ثناء على الصحابة، رضي الله عنهما فأبو بكرة رضي الله عنه داخل فيه، وجاء عن جماعة من العلماء الثناء عليه على سبيل الخصوص، ومن ذلك:
1- قال الحسن البصري رحمه الله: "لم ينزل البصرة من الصحابة ممن سكنها أفضل من عمران بن حصين وأبي بكرة" (الاستيعاب مع الإصابة 4/24) .
2- وقال سعيد بن المسيب: "وكان مثل النصل من العبادة حتى مات رحمه الله" (الاستيعاب مع الإصابة 4/24) .
3- وقال أبو سلمة موسى بن إسماعيل التبوذكي: "لم
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আবু বাকরা (রা.)-এর মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি উলামায়ে কেরামের প্রশংসা…আবু বাকরা (রা.)-এর মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি উলামায়ে কেরামের প্রশংসা
আবু বাকরা: তিনি হলেন নুফাই ইবনুল হারিস, মতান্তরে ইবনে মাসরুহ আস-সাকাফি। তিনি একটি কপিকলের সাহায্যে তায়েফের দুর্গ থেকে ঝুলে নিচে নেমে এসেছিলেন, তাই তাঁকে আবু বাকরা বলা হতো এবং তিনি এই নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি একজন ক্রীতদাস ছিলেন, অতঃপর নবী (সা.) তাঁকে মুক্ত করে দেন এবং তিনি তাঁর মুক্তকৃত দাসদের (موالي) অন্তর্ভুক্ত হন। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল মুয়াবিয়া (রা.)-এর খেলাফতকালে ৫২ হিজরি সনে। সাহাবীগণের (صحابة) প্রশংসায় যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, আবু বাকরা (রা.)-ও তার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া একদল আলেমের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে তাঁর প্রশংসায় কিছু বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১- হাসান বসরী (রহ.) বলেন: "বসরায় বসবাসকারী সাহাবীগণের (صحابة) মধ্যে ইমরান ইবনে হুসাইন এবং আবু বাকরার চেয়ে উত্তম কেউ সেখানে বসবাস করেননি" (আল-ইস্তিআব মাআল ইসাবাহ ৪/২৪)।
২- সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব বলেন: "তিনি মৃত্যু অবধি ইবাদতে তীরের ফলার ন্যায় একনিষ্ঠ ছিলেন" (আল-ইস্তিআব মাআল ইসাবাহ ৪/২৪)।
৩- আবু সালামা মুসা ইবনে ইসমাইল আত-তাবুজাকি বলেন: "না...
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يسكن البصرة قط بعد عمران بن حصين أفضل من أبي بكرة، وكان أقول بالحق من عمران" ذكره علاء الدين مغلطاي في (إكمال تهذيب الكمال 12/76) .
4- وقال ابن سعد في الطبقات (7/16) : "وكان رجلاً صالحاً ورعاً".
5- وقال ابن عبد البر وابن حجر: "وكان من فضلاء الصحابة" (الاستيعاب مع الإصابة: 4/24) ، و (الإصابة: 6/252) .
6- وقال أبو الحسن العجلي: "كان من خيار أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم" ذكره المزي في ترجمته في (تهذيب الكمال) .
7- وقال النووي في تهذيب الأسماء واللغات: (1/198) : "وكان أبو بكرة من الفضلاء الصالحين، ولم يزل على كثرة العبادة حتى توفي".
8- وقال الذهبي في سير أعلام النبلاء: (3/6) : "وكان من فقهاء الصحابة".
"ইমরান বিন হুসাইন-এর পর আবু বকরার চেয়ে উত্তম কেউ কখনোই বসরায় বসবাস করেননি, এবং তিনি সত্যের ব্যাপারে ইমরানের চেয়েও অধিক সোচ্চার ছিলেন।" আলাউদ্দিন মুগলতাই এটি ইকমালু তাহজিবিল কামাল (১২/৭৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
4- এবং ইবনে সাদ তাবাকাত (৭/১৬) গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি একজন নেককার (صالح) ও পরহেজগার (ورع) ব্যক্তি ছিলেন।"
5- ইবনে আব্দুল বার এবং ইবনে হাজার বলেন: "তিনি মর্যাদাবান সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন" (আল-ইস্তিআব মাআল ইসাবাহ: ৪/২৪) এবং (আল-ইসাবাহ: ৬/২৫২)।
6- আবুল হাসান আল-ইজলি বলেন: "তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।" আল-মিজ্জি তাঁর জীবনীতে তাহজিবুল কামাল গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
7- ইমাম নববী তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত (১/১৯৮) গ্রন্থে বলেছেন: "আবু বকরা শ্রেষ্ঠ নেককারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সর্বদা প্রচুর ইবাদতে মগ্ন ছিলেন।"
8- ইমাম যাহাবি সিয়ারু আলামিন নুবালা (৩/৬) গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি সাহাবীদের মধ্যে ফকিহদের (فقهاء) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
9- وقد قسم ابن القيم في إعلام الموقعين: (1/12) أئمة الفتوى من الصحابة إلى مكثرين ومتوسطين ومقلين، وذكر في المتوسطين في الفتوى أبا بكرة رضي الله عنه.
10- وقال ابن كثير في (البداية والنهاية:11/249) : "وأما أبو بكرة، فصحابي جليل كبير القدر".
11- وقال يحيى بن أبي بكر العامري في الرياض المستطابة (ص:283) : "وكان أبو بكرة من ذوي المزايا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم".
9- ইবনুল কাইয়্যিম ইলামুল মুওয়াক্কিয়ীন গ্রন্থে (১/১২) ফতোয়া প্রদানকারী সাহাবী ইমামগণকে অধিক ফতোয়া প্রদানকারী (مكثرين), মধ্যম পর্যায়ের ফতোয়া প্রদানকারী (متوسطين) এবং স্বল্প ফতোয়া প্রদানকারী (مقلين) এই তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন; আর তিনি ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে মধ্যম পর্যায়ের (متوسطين) সাহাবীদের তালিকায় আবু বাকরা (রা.)-এর নাম উল্লেখ করেছেন।
10- ইবনে কাসীর আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া গ্রন্থে (১১/২৪৯) বলেছেন: "আর আবু বাকরা ছিলেন একজন মহান ও সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন সাহাবী (صحابي)"।
11- ইয়াহইয়া ইবনে আবি বকর আল-আমিরী আর-রিয়াজুল মুস্তাতাবাহ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ২৮৩) বলেছেন: "আবু বাকরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের (أصحاب) মধ্যে বিশেষ গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন"।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الباب الثالث: قبول العلماء مرويات أبي بكرة رضي الله عنه وأن ماحصل له لاتأثير له في روايته…قبول العلماء مرويات أبي بكرة رضي الله عنه، وأنَّ ما
حصل له لا تأثير له في روايته
أجمع علماء المسلمين سلفاً وخلفاً طيلة أربعة عشر قرناً وزيادة على قبول مرويات أبي بكرة رضي الله عنه، وأثبتها علماء الحديث في دواوين السّنّة، ومنهم الأئمة الستّة، البخاري ومسلم وأبو داود والنسائي والترمذي وابن ماجه، وله في هذه الكتب الستة خمسة وخمسون حديثاً، ذكر أطرافها
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আলেমগণের নিকট আবু বাকরা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসসমূহের (مرويات) গ্রহণযোগ্যতা (قبول) এবং তাঁর সাথে যা ঘটেছিল তাঁর বর্ণনার (رواية) ওপর তার কোনো প্রভাব না থাকা…আলেমগণের নিকট আবু বাকরা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসসমূহের (مرويات) গ্রহণযোগ্যতা (قبول) এবং তাঁর সাথে যা
ঘটেছিল তাঁর বর্ণনার (رواية) ওপর তার কোনো প্রভাব না থাকা।
দীর্ঘ চৌদ্দ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পূর্বসূরি (سلف) এবং উত্তরসূরি (خلف) মুসলিম ওলামায়ে কেরাম আবু বাকরা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসসমূহ (مرويات) গ্রহণের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। হাদিস বিশারদগণ সুন্নাহর সংকলনসমূহে তা লিপিবদ্ধ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ছয়জন ইমাম—বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ। এই ছয়টি গ্রন্থে তাঁর পঞ্চান্নটি হাদিস রয়েছে, যার মূল পাঠসমূহ (أطراف) উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المزي في تحفة الأشراف من رقم (11654) إلى رقم (11708) ، وله في مسند الإمام أحمد اثنان وخمسون ومائة حديث بالمكرر، من رقم (20373) إلى رقم (20524) ، وقال النووي في تهذيب الأسماء واللغات (1/198) : "رُوي له عن رسول الله صلى الله عليه وسلم مائة حديث واثنان وثلاثون حديثاً، اتفق البخاري ومسلم منها على ثمانية أحاديث، وانفرد البخاري بخمسة ومسلم بحديث".
وأما جلد أبي بكرة رضي الله عنه في شهادته على المغيرة رضي الله عنه بالزنى، وكونه لم يتب، فذلك لا تأثير له في قبول روايته، لأنَّه لم يكن قاذفاً وإنما كان شاهداً، وفرق بين الشاهد في الزنى والقاذف فيه، وما زعمه من أنَّ آية: {لَوْلا جَاءُوا عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا بِالشُّهَدَاءِ فَأُولَئِكَ عِنْدَ اللَّهِ هُمُ الْكَاذِبُونَ} ، تدمغه بالفسق والكذب، وأنَّ هذا يقتضي ردّ ما رواه عن النبي صلى الله عليه وسلم مما انفرد به، فهو زعم باطل وفهم خاطئ، فإنَّ الآية في القذفة وليست في الشهود، فهو داخل في الشهداء في الآية وليس من القذفة،
আল-মিযযি 'তুহফাতুল আশরাফ' গ্রন্থে ১১৬৫৪ থেকে ১১৭০৮ নম্বর পর্যন্ত তার হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন। ইমাম আহমাদের 'মুসনাদ'-এ পুনরাবৃত্তিসহ তার একশত বাহান্নটি হাদিস রয়েছে, যা ২০৩৭৩ থেকে ২০৫২৪ নম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত। ইমাম নববী 'তহজীবুল আসমা ওয়াল লুগাত' (১/১৯৮) গ্রন্থে বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তার মাধ্যমে একশত বত্রিশটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে বুখারি ও মুসলিম আটটি হাদিসের ব্যাপারে একমত হয়েছেন, বুখারি এককভাবে পাঁচটি এবং মুসলিম এককভাবে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।"
আর মুগিরা (রা.)-এর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের সাক্ষ্য প্রদানের কারণে আবু বাকরা (রা.)-কে বেত্রাঘাত করা এবং তার তওবা না করার বিষয়টি তার বর্ণনা (رواية) গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কেননা তিনি অপবাদকারী ছিলেন না, বরং তিনি একজন সাক্ষী ছিলেন। আর ব্যভিচারের সাক্ষ্যদাতা এবং অপবাদকারীর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আর এই দাবি যে, "তারা কেন এ ব্যাপারে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করল না? যেহেতু তারা সাক্ষী উপস্থিত করতে পারেনি, তাই তারা আল্লাহর নিকট মিথ্যাবাদী (الكاذبون)"—এই আয়াতটি তাকে পাপাচার (الفسق) ও মিথ্যা (الكذب)-এর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং এর ফলে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তার একক (منفرد) বর্ণনাগুলো প্রত্যাখ্যান (ردّ) করা আবশ্যক হয়ে পড়ে—তা একটি অসার দাবি এবং ভুল বুঝাবুঝি। কারণ এই আয়াতটি অপবাদকারীদের (القذفة) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সাক্ষীদের (الشهود) ক্ষেত্রে নয়। সুতরাং তিনি আয়াতের বর্ণনা অনুযায়ী সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত, অপবাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত নন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وجلده لعدم كمال النصاب، وعدم توبته لا تأثير له في قبول روايته؛ لأنَّ كمال النصاب ليس من فعله، وعلى القول بتأثير ما حصل له في شهادته تحمُّلاً وأداءً، فإنَّ ذلك قد انتهى بوفاته رضي الله عنه، ولا تأثير له في روايته التي قبلها العلماء واحتجُّوا بها على مختلف العصور، وشذوذ الشيخ محمد الأشقر عنهم بعد أربعة عشر قرناً وجوده مثل عدمه لا اعتبار له، وقد أوضح ذلك العلماء وبينوه، ومما جاء عنهم في ذلك:
1- قال أبو الوفاء ابن عقيل الحنبلي في كتابه (الواضح في أصول الفقه:5/27) : "قال أحمد: ولا يرد خبر أبي بكرة ولا من جُلد معه لأنَّهم جاؤوا مجيء الشهادة، ولم يأتوا بصريح القذف، ويسوغ فيه الاجتهاد ولا ترد الشهادة بما يسوغ فيه الاجتهاد".
ثم قال ابن عقيل: "ولما نص على أنَّه لا ترد الشهادة في ذلك، كان تنبيهاً على أنَّه لا يرد الخبر، لأنَّ الخبر دون
সাক্ষীর পূর্ণ সংখ্যা (نصاب) না হওয়ার কারণে তাকে চাবুক মারা হয়েছে, এবং তার তওবা না করা তার বর্ণনা (رواية) কবুল করার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না; কারণ সাক্ষীর পূর্ণ সংখ্যা (نصاب) হওয়া তার নিজের কর্মাধীন কোনো বিষয় ছিল না। আর সাক্ষ্য গ্রহণ (تحملاً) ও প্রদানের (أداءً) ক্ষেত্রে তার যা ঘটেছিল তার প্রভাব থাকা সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, তা তার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইন্তেকালের মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়ে গিয়েছে। যুগ যুগ ধরে আলেমগণ তার যেসব বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করেছেন এবং দলিল (احتجاج) হিসেবে পেশ করেছেন, সেগুলোর ওপর এর কোনো প্রভাব নেই। দীর্ঘ চৌদ্দ শতাব্দী পর তাদের বিপরীতে শেখ মুহাম্মদ আল-আশকরের বিচ্যুতি (شذوذ) থাকা আর না থাকা সমান, এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা (اعتبار) নেই। আলেমগণ বিষয়টি সুস্পষ্ট করেছেন ও ব্যাখ্যা করেছেন। এ বিষয়ে তাদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো:
1- আবু আল-ওয়াফা ইবন আকিল আল-হাম্বলি তার কিতাব (আল-ওয়াদিহ ফি উসুলিল ফিকহ: ৫/২৭)-এ বলেছেন: "ইমাম আহমদ বলেছেন: আবু বকর এবং যাদের তার সাথে চাবুক মারা হয়েছিল, তাদের সংবাদ (خبر) প্রত্যাখ্যান করা হবে না; কারণ তারা সাক্ষ্য (شهادة) হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং তারা সরাসরি অপবাদ (قذف) দিতে আসেননি। আর এতে ইজতিহাদ (اجتهاد) করার অবকাশ রয়েছে, আর যে বিষয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করার অবকাশ থাকে তার কারণে সাক্ষ্য (شهادة) প্রত্যাখ্যান করা হয় না।"
অতঃপর ইবন আকিল বলেন: "যেহেতু তিনি এই বিষয়ে সাক্ষ্য (شهادة) প্রত্যাখ্যান না করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) দিয়েছেন, তাই এটি এই মর্মে একটি সতর্কবার্তা যে সংবাদ (خبر)-ও প্রত্যাখ্যান করা হবে না। কারণ সংবাদ (خبر) এর মর্যাদা [সাক্ষ্যের] তুলনায় নিচে..."
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الشهادة، ولأنَّ نقصان العدد معنى في غيره، وليس بمعنى من جهته".
2- قال أبو بكر الإسماعيلي في (المدخل) : "لم يمتنع أحد من التابعين فمن بعدهم من رواية حديث أبي بكرة والاحتجاج به، ولم يتوقف أحد من الرواة عنه ولا طعن أحد على روايته من جهة شهادته على المغيرة، هذا مع إجماعهم أن لا شهادة لمحدود في قذف غير تائب فيه، فصار قبول خبره جارياً مجرى الإجماع، كما كان رد شهادته قبل التوبة جارياً مجرى الإجماع" ذكره علاء الدين مغلطاي في (إكمال تهذيب الكمال: 12/77) .
3- قال أبو إسحاق الشيرازي في (شرح اللمع: 2/638) : "وأما أبو بكرة ومن جُلد معه في القذف، فإن أخبارهم مقبولة لأنَّهم لم يُخرجوا القول مخرج القذف، وإنما أخرجوه مخرج الشهادة، وجلدهم عمر رضي الله عنه باجتهاده، فلا يجوز ردّ أخبارهم".
সাক্ষ্য (شهادة), এবং কারণ সংখ্যার ঘাটতি অন্য কারো ক্ষেত্রে একটি বিষয়, এটি তার নিজের পক্ষ থেকে কোনো বিষয় নয়।
2- আবু বকর আল-ইসমাঈলি (আল-মাদখাল) গ্রন্থে বলেছেন: "তাবেয়ীদের (تابعين) মধ্য থেকে বা তাদের পরবর্তী কারো পক্ষ থেকে আবু বকরার হাদিস বর্ণনা (رواية) করতে এবং তা দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتجاج) করতে কেউ বিরত হননি। বর্ণনাকারীদের (رواة) মধ্যে কেউ তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণে দ্বিধা করেননি এবং মুগিরার বিরুদ্ধে তাঁর সাক্ষ্যের (شهادة) দিক থেকে তাঁর বর্ণনার (رواية) ওপর কেউ কোনো ত্রুটি আরোপ করেননি। এটি সত্ত্বেও যে, তাঁদের মধ্যে ঐক্যমত (إجماع) ছিল যে, অপবাদের অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত (محدود) ব্যক্তির সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণযোগ্য নয় যদি না সে তওবা করে। ফলে তাঁর সংবাদ (خبر) গ্রহণ করা ঐক্যমতের (إجماع) সমপর্যায়ে হয়েছে, ঠিক যেমন তওবা করার আগে তাঁর সাক্ষ্য (شهادة) প্রত্যাখ্যান করা ঐক্যমতের (إجماع) সমপর্যায়ে ছিল।" এটি আলাউদ্দিন মুগলতাই (ইকমাল তাহজিবুল কামাল: ১২/৭৭) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
3- আবু ইসহাক আল-শিরাজি (শারহুল লুমা: ২/৬৩৮) গ্রন্থে বলেছেন: "আর আবু বকরা এবং তাঁর সাথে অপবাদের (قذف) দায়ে যাদের বেত্রাঘাত করা হয়েছিল, তাঁদের সংবাদসমূহ (أخبار) গ্রহণযোগ্য (مقبولة); কারণ তাঁরা তাঁদের বক্তব্যকে অপবাদ (قذف) হিসেবে পেশ করেননি, বরং সাক্ষ্য (شهادة) হিসেবে পেশ করেছিলেন। উমর (রা.) তাঁর গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) ভিত্তিতে তাঁদের বেত্রাঘাত করেছিলেন, তাই তাঁদের সংবাদসমূহ (أخبار) প্রত্যাখ্যান করা জায়েজ নয়।"
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ২০)
4- قال الإمام أبو بكر البيهقي: "كل من روى عن النبي صلى الله عليه وسلم ممن صحبه أو لقيه فهو ثقة لم يتهمه أحد ممن يحسن علم الرواية فيما روى" ذكره العلائي في كتابه (تحقيق منيف الرتبة ص:90) .
وأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم رضي الله عنهم أجل من أن يقال في الواحد منهم ثقة، ويكفيه شرفاً وفضلاً ونبلاً أن يقال فيه: صحب رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال النسائي في سفيان الثوري: "هو أجلُّ من أن يُقال فيه: ثقة، وهو أحد الأئمة الذين أرجو أن يكون الله ممن جعله للمتقين إماماً" ذكره الحافظ في ترجمته في تهذيب التهذيب، فأصحاب الرسول صلى الله عليه وسلم أولى بأن يُقال في أحدهم: أجل من أن يُقال فيه: ثقة.
5- قال أبو الخطاب محفوظ بن أحمد الكلوذاني في (التمهيد:3/127) : "إذا كان الراوي محدوداً في قذف فلا يخلو: أن يكون قذف بلفظ الشهادة أو بغير لفظها، فإن كان بلفظ الشهادة لم يرد خبره، لأنَّ نقصان عدد الشهادة ليس من فعله، فلم يرد به خبره، ولأنَّ الناس اختلفوا: هل يلزمه
৪- ইমাম আবু বকর আল-বায়হাকি বলেছেন: "নবী (সা.) থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এমন প্রত্যেক ব্যক্তি—যিনি তাঁর সাহচর্য লাভ করেছেন অথবা তাঁর সাক্ষাৎ পেয়েছেন—তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)। বর্ণনা শাস্ত্র (علم الرواية) সম্পর্কে পারদর্শী কোনো ব্যক্তিই তাঁর বর্ণিত বিষয়ের জন্য তাঁকে অভিযুক্ত করেননি।" আল-আলাই এটি তাঁর 'তাহকিকু মুনিফির রুতবাহ' (পৃষ্ঠা: ৯০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
আর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীগণ (রা.) এই মর্যাদার চেয়েও অনেক ঊর্ধ্বে যে, তাঁদের কাউকে কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলা হবে। কোনো ব্যক্তির সম্মান, শ্রেষ্ঠত্ব ও আভিজাত্যের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে তাঁর সম্পর্কে বলা হবে: তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহচর্য লাভ করেছেন। ইমাম আন-নাসাঈ সুফিয়ান আস-সাওরি সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) অভিধায় ভূষিত হওয়ার চেয়েও অনেক মহান। তিনি সেই সকল ইমামদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের সম্পর্কে আমি আশা রাখি যে, আল্লাহ তাঁদের মুত্তাকিদের জন্য ইমাম হিসেবে কবুল করেছেন।" হাফিজ ইবনে হাজার 'তাহজিবুত তাহজিব' গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনায় এটি উল্লেখ করেছেন। অতএব, আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সাহাবীগণ তো এই কথার অধিক হকদার যে: তাঁরা কেবল নির্ভরযোগ্য (ثقة) পরিচিতির চেয়েও অনেক বেশি মহান।
৫- আবুল খাত্তাব মাহফুজ বিন আহমাদ আল-কালুজানি 'আত-তামহিদ' (৩/১২৭) গ্রন্থে বলেছেন: "যখন কোনো বর্ণনাকারী (راوي) অপবাদের অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত হন, তখন বিষয়টি দুটি অবস্থার বাইরে নয়: হয় তিনি সাক্ষ্যের (شهادة) শব্দ ব্যবহার করে অপবাদ দিয়েছেন অথবা সাক্ষ্যের শব্দ ছাড়া অন্য কোনো শব্দে। যদি তা সাক্ষ্যের (شهادة) শব্দে হয়ে থাকে, তবে তাঁর বর্ণনা (خبر) প্রত্যাখ্যান করা হবে না; কারণ সাক্ষীর সংখ্যার অপূর্ণতা তাঁর নিজের কৃতকর্ম নয়। সুতরাং এর কারণে তাঁর বর্ণনা (خبر) প্রত্যাখ্যান করা হবে না। আর যেহেতু এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে যে: তাঁর ওপর কি এটি আবশ্যক..."
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ২১)
الحد أم لا؟ وإن كان بغير لفظ الشهادة ردّ خبره، لأنَّه أتى بكبيرة إلاّ أن يتوب".
6- قال ابن قدامة في (روضة الناظر:1/303) : "المحدود في القذف إن كان بلفظ الشهادة فلا يرد خبره؛ لأنَّ نقصان العدد ليس من فعله، ولهذا روى الناس عن أبي بكرة، واتفقوا على ذلك وهو محدود في القذف، وإن كان بغير لفظ الشهادة فلا تقبل روايته حتى يتوب".
وقال الشيخ عبد القادر بدران في حاشيته على روضة الناظر: "المحدود بسبب كونه قذف غيره إما أن يكون قذفه بلفظ الشهادة مثل أن يشهد على إنسان بالزنا، أو بغير لفظ الشهادة مثل من قال لغيره يا زان، فإن كان قذفه بلفظ الشهادة لم يرد خبره وقبلت روايته لأنَّه إنما يُحدُّ والحالة هذه لعدم كمال نصاب الشهادة بالزنا وهو أربعة، إذ لو كملوا لحُدّ المشهود عليه دون الشهود، وعدم كمال نصاب الشهادة ليس من فعل هذا الشاهد المحدود حتى يعاقب برد شهادته، وإن كان قذفه بغير لفظ الشهادة كقوله: يا زان
...শাস্তি (حد) প্রয়োগ করা হোক বা না হোক? আর যদি সাক্ষ্যের শব্দ ব্যতিরেকে হয়, তবে তার বর্ণনা (خبر) প্রত্যাখ্যান (رد) করা হবে; কেননা সে কবিরা গুনাহ সংঘটন করেছে, যতক্ষণ না সে তওবা করে।"
৬- ইবন কুদামাহ রওজাতুন নাজির (১/৩০৩) গ্রন্থে বলেন: "অপবাদের (قذف) দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত (محدود) ব্যক্তি যদি সাক্ষ্যের শব্দের মাধ্যমে অপবাদ দেয়, তবে তার বর্ণনা (خبر) প্রত্যাখ্যান (رد) করা হবে না; কারণ সাক্ষীর সংখ্যার অপূর্ণতা তার নিজস্ব কোনো কৃতকর্ম নয়। এই কারণেই মানুষ আবু বাকরা থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন এবং তারা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, অথচ তিনি অপবাদের (قذف) দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত (محدود) ছিলেন। আর যদি সাক্ষ্যের শব্দ ব্যতিরেকে অপবাদ দেয়, তবে তার বর্ণনা (رواية) ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে না যতক্ষণ না সে তওবা করে।"
এবং শেখ আব্দুল কাদির বদরান রওজাতুন নাজিরের টীকায় (حاشية) বলেন: "অন্যকে অপবাদ দেওয়ার (قذف) কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত (محدود) ব্যক্তি হয় সাক্ষ্যের শব্দের মাধ্যমে অপবাদ দিয়েছে—যেমন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যভিচারের (زنا) সাক্ষ্য প্রদান করা—অথবা সাক্ষ্যের শব্দ ব্যতিরেকে অপবাদ দিয়েছে, যেমন কাউকে বলা 'হে ব্যভিচারী'। যদি তার অপবাদ সাক্ষ্যের শব্দের মাধ্যমে হয়, তবে তার বর্ণনা (خبر) প্রত্যাখ্যান (رد) করা হবে না এবং তার বর্ণনা (رواية) কবুল করা হবে। কারণ এমতাবস্থায় তার ওপর কেবল ব্যভিচারের সাক্ষ্যের নির্ধারিত সংখ্যা (نصاب) পূর্ণ না হওয়ার কারণেই শাস্তি (حد) প্রয়োগ করা হচ্ছে, আর সেই সংখ্যা হলো চারজন। যদি তারা পূর্ণ হতো, তবে সাক্ষীদের পরিবর্তে যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে তার ওপরই শাস্তি প্রয়োগ করা হতো। আর সাক্ষ্যের নির্ধারিত সংখ্যা (نصاب) পূর্ণ না হওয়া এই শাস্তিপ্রাপ্ত (محدود) সাক্ষীর কোনো কাজ নয় যে তাকে তার সাক্ষ্য বা বর্ণনা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হবে। তবে তার অপবাদ যদি সাক্ষ্যের শব্দ ব্যতিরেকে হয়, যেমন তার উক্তি: হে ব্যভিচারী..."
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ২২)
يا عاهر ونحوه ردت شهادته حتى يتوب؛ لأنَّ هذا القاذف كان بسبب من فعله وهو قذْفُه فعوقب عليه بالحد وسُلب منصب الشهادة، فإذا تاب قبلت شهادته قال الله تعالى: {وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَداً وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا} أي: فاقبلوا شهادتهم بعد التوبة".
وقال شيخنا الشيخ محمد الأمين الشنقيطي رحمه الله تعالى في مذكرته في أصول الفقه على روضة الناظر (ص:125) : "حاصل ما ذكر في هذا الفصل أنَّ في إبطال الرواية بالحد في القذف تفصيلاً، فإن كان المحدود شاهداً عند الحاكم بأنَّ فلاناً زنى وحُدّ لعدم كمال الأربعة، فهذا لا ترد به روايته؛ لأنَّه إنما حُدّ لعدم كمال نصاب الشهادة في الزنى، وذلك ليس من فعله، وإن كان القذف ليس بصيغة الشهادة، كقوله لعفيف: يا زان ويا عاهر ونحو ذلك،
"হে ব্যভিচারী" বা এই জাতীয় শব্দের মাধ্যমে অপবাদ দিলে তার সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যাত হবে যতক্ষণ না সে তাওবা করে; কারণ এই অপবাদ প্রদানকারী তার নিজের কর্মের কারণেই দায়ী, আর তা হলো তার অপবাদ আরোপ। ফলশ্রুতিতে তাকে নির্ধারিত দণ্ড (حد) প্রদান করা হয়েছে এবং সাক্ষ্য প্রদানের পদমর্যাদা থেকে বিচ্যুত করা হয়েছে। অতঃপর সে তাওবা করলে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: "যারা সতী-সাধ্বী রমণীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অতঃপর চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না, তোমরা তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করো এবং কখনোই তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না; এরাই হলো পাপাচারী (فاسقون)। তবে যারা তাওবা করে..." অর্থাৎ: তাওবা করার পর তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো।
আমাদের শায়খ মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতি (রহিমাহুল্লাহ) রওজাতুন নাজির-এর ওপর উসুলুল ফিকহ বিষয়ক তাঁর নোটে (পৃষ্ঠা: ১২৫) বলেছেন: "এই পরিচ্ছেদে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সারকথা হলো—অপবাদের কারণে নির্ধারিত দণ্ড (حد) কার্যকর হওয়ার ফলে বর্ণনা (رواية) বাতিল হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। যদি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিচারকের কাছে এই সাক্ষ্য দেয় যে, অমুক ব্যক্তি ব্যভিচার করেছে এবং চারজন সাক্ষী পূর্ণ না হওয়ার কারণে তাকে দণ্ড দেওয়া হয়, তবে এর মাধ্যমে তার বর্ণনা (رواية) প্রত্যাখ্যাত হবে না; কারণ সে কেবল ব্যভিচারের সাক্ষ্যের নির্ধারিত সংখ্যা পূর্ণ না হওয়ার কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছে, যা তার নিজস্ব কোনো কৃতকর্ম নয়। আর যদি অপবাদটি সাক্ষ্যের পদ্ধতিতে না হয়, যেমন কোনো পবিত্র চরিত্রের ব্যক্তিকে বলা: 'হে ব্যভিচারী', 'হে লম্পট' এবং এই জাতীয় শব্দ,
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بطلت روايته حتى يتوب أي ويصلح، بدليل قوله تعالى: {وَلا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَداً وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوا} ، واستدل المؤلف رحمه الله لما ذكره من الفرق بين الحد على سبيل القذف والحد على سبيل عدم كمال النصاب في الشهادة بقصة أبي بكرة؛ لأنَّه متفق على قبول روايته مع أنَّه محدود في شهادته على المغيرة بن شعبة الثقفي بالزنا، والشهادة في هذا ليست كالرواية، فلا تقبل شهادة المحدود في قذف أو شهادة حتى يتوب ويصلح، بدليل قول عمر لأبي بكرة: تب أقبل شهادتك، خلافاً لمن جعل شهادته كروايته فلا ترد وهو محكي عن الشافعي، والحاصل أن القاذف بالشتم تُرد شهادته وروايته بلا خلاف حتى يتوب ويصلح، والمحدود في الشهادة لعدم كمال النصاب تقبل روايته دون شهادته، وقيل تقبل شهادته وروايته، وقصة أبي بكرة المشار إليها أنَّه شهد على المغيرة بن شعبة بالزنا هو وأخوه زياد ونافع بن
তাঁর বর্ণনা (رواية) বাতিল হয়ে যাবে যতক্ষণ না তিনি তওবা করেন অর্থাৎ সংশোধন করেন, মহান আল্লাহর এই বাণীর দলীল অনুযায়ী: {আর তোমরা তাদের সাক্ষ্য (شهادة) কখনও গ্রহণ করো না এবং তারাই হলো পাপাচারী (فاسقون); তবে তারা ব্যতীত যারা এরপর তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেয়}। লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) অপবাদের (قذف) কারণে নির্ধারিত দণ্ড (حد) এবং সাক্ষ্যের (شهادة) ক্ষেত্রে নির্ধারিত সংখ্যা (نصاب) পূর্ণ না হওয়ার কারণে দণ্ডের (حد) মধ্যকার পার্থক্যের বিষয়ে যা উল্লেখ করেছেন, তার সপক্ষে আবু বাকরাহ-এর ঘটনা দ্বারা দলীল পেশ করেছেন; কারণ মুগীরা ইবনে শু'বা আস-সাকাফী-এর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের (زنا) সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত (محدود) হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বর্ণনা (رواية) কবুল করার ব্যাপারে সকলে একমত। এ ক্ষেত্রে সাক্ষ্য (شهادة) বর্ণনার (رواية) মতো নয়; সুতরাং অপবাদ (قذف) বা সাক্ষ্যের (شهادة) কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত (محدود) ব্যক্তির সাক্ষ্য (شهادة) কবুল করা হবে না যতক্ষণ না সে তওবা করে এবং সংশোধন হয়, এর দলীল হলো আবু বাকরাহ-এর প্রতি উমরের উক্তি: "তুমি তওবা করো, আমি তোমার সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণ করব"। এটি তাদের মতের পরিপন্থী যারা সাক্ষ্যকে (شهادة) বর্ণনার (رواية) মতো গণ্য করেন, ফলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয় না; এটি ইমাম শাফেঈ থেকে বর্ণিত হয়েছে। সারকথা হলো, গালিগালাজের মাধ্যমে অপবাদদানকারীর (قاذف) সাক্ষ্য (شهادة) ও বর্ণনা (رواية) কোনো মতভেদ ছাড়াই প্রত্যাখ্যান করা হবে যতক্ষণ না সে তওবা করে ও সংশোধন হয়। আর সাক্ষ্যের (شهادة) নির্ধারিত সংখ্যা (نصاب) পূর্ণ না হওয়ার কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত (محدود) ব্যক্তির বর্ণনা (رواية) কবুল করা হবে কিন্তু সাক্ষ্য (شهادة) নয়; আবার বলা হয়েছে যে, তার সাক্ষ্য (شهادة) ও বর্ণনা (رواية) উভয়ই কবুল করা হবে। আবু বাকরাহ-এর নির্দেশিত ঘটনাটি হলো, তিনি, তাঁর ভাই যিয়াদ এবং নাফি ইবনে... মুগীরা ইবনে শু'বা-এর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের (زنا) সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الحارث وشبل بن معبد (1) ، فتلكأ زياد أو غيره في الشهادة، فجلد عمر الثلاثة المذكورين.
قال مقيده عفا الله عنه: يظهر لنا في هذه القصة أنَّ المرأة التي رأوا المغيرة رضي الله عنه مخالطاً لها عندما فتحت الريح الباب عنهما، إنما هي زوجته ولا يعرفونها، وهي تشبه امرأة أخرى أجنبية كانوا يعرفونها تدخل على المغيرة وغيره من الأمراء، فظنوا أنَّها هي، فهم لم يقصدوا باطلاً، ولكن ظنهم أخطأ وهو لم يقترف إن شاء الله فاحشة لأنَّ أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يعظم فيهم الوازع الديني الزاجر عما لا ينبغي في أغلب الأحوال، والعلم عند الله".
وهذا الذي ذكره شيخنا رحمه الله من توجيه ما جاء في القصة، هو اللائق بمقام أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، رضي الله تعالى عنهم وأرضاهم.
--------------------------------------------
আল-হারিস এবং শিবল ইবনে মা'বাদ (১); তখন যিয়াদ অথবা অন্য কেউ সাক্ষ্য প্রদানে ইতস্তত বোধ করলে উমর (রা.) উল্লিখিত তিনজনকে বেত্রাঘাত করেন।
এর সংকলক—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন—বলেন: "এই ঘটনায় আমাদের নিকট এটিই প্রতীয়মান হয় যে, বাতাস দরজা খুলে দেওয়ার পর তাঁরা মুগিরা (রা.)-কে যে নারীর সাথে লিপ্ত থাকতে দেখেছিলেন, তিনি মূলত তাঁর স্ত্রীই ছিলেন কিন্তু তাঁরা তাঁকে চিনতেন না। তিনি অন্য এক পরনারী সদৃশ ছিলেন যাঁকে তাঁরা চিনতেন এবং যিনি মুগিরা ও অন্যান্য আমিরদের নিকট যাতায়াত করতেন। ফলে তাঁরা মনে করেছিলেন যে এটি সেই নারীই। সুতরাং তাঁরা কোনো অন্যায়ের সংকল্প করেননি, বরং তাঁদের ধারণায় ভুল হয়েছিল। আর ইনশাআল্লাহ তিনি (মুগিরা) কোনো অশ্লীল কাজে লিপ্ত হননি, কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীদের অন্তরে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দ্বীনি সতর্কতা ও অনুচিত কাজ থেকে বিরত রাখার প্রেরণা অত্যন্ত প্রবল থাকে। আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহরই নিকট।"
আমাদের শাইখ (রহ.) এই ঘটনায় বর্ণিত বিষয়ের যে ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, তা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীদের সুউচ্চ মর্যাদার সাথে সংগতিপূর্ণ; আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদেরকে সন্তুষ্ট রাখুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
7- قال العلائي في كتابه تحقيق منيف الرتبة لمن ثبت له شريف الصحبة (ص:92) : "وقد ذكر جماعة من أئمة الأصول في هذا الموضع قصة أبي بكرة ومن جلد عمر رضي الله عنه في قذف المغيرة بن شعبة وأنَّ ذلك لم يقدح في عدالتهم، لأنَّهم إنما أخرجوا ذلك مخرج الشهادة ولم يخرجوه مخرج القذف، وجلدهم رضي الله عنه باجتهاده، فلا يجوز ردّ أخبارهم بل هي كغيرها من أخبار بقية الصحابة رضي الله عنهم".
8- قال الزركشي محمد بن بهادر الشافعي في (البحر المحيط:4/299) : "قال الصيرفي والقاضي أبو الطيب والشيخ أبو إسحاق وغيرهم: وأما أمر أبي بكرة وأصحابه، فلما نقص العدد أجراهم عمر رضي الله عنهم مجرى القذفة، وحدّه لأبي بكرة بالتأويل، ولا يوجب ذلك تفسيقاً، لأنَّهم جاؤوا مجيء الشهادة، وليس بصريح في القذف، وقد اختلفوا في وجوب الحدّ فيه، وسوغ فيه الاجتهاد، ولا ترد الشهادة بما يسوغ فيه الاجتهاد".
7- আল-আলাই তাঁর 'তাহকিকু মুনিফির রুতবাহ লিমান সাবাতা লাহু শারিফুস সুহবাহ' কিতাবে (পৃষ্ঠা: ৯২) বলেছেন: "উসুলশাস্ত্রের একদল ইমাম (أئمة الأصول) এই স্থানে আবু বাকরাহ এবং যাদেরকে মুগিরা বিন শু'বাহর বিরুদ্ধে অপবাদ (قذف) প্রদানের অভিযোগে ওমর (রা.) চাবুক মেরেছিলেন তাঁদের ঘটনা উল্লেখ করেছেন। আর এটি তাঁদের ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) ক্ষেত্রে কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলেনি। কারণ, তাঁরা বিষয়টি সাক্ষ্য (شهادة) প্রদানের উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করেছিলেন, অপবাদ (قذف) দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। আর ওমর (রা.) তাঁদেরকে চাবুক মেরেছিলেন তাঁর নিজস্ব গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) ভিত্তিতে। সুতরাং তাঁদের বর্ণনা (أخبار) প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়, বরং সেগুলো অন্যান্য সাহাবীদের বর্ণনার মতোই গণ্য হবে।"
8- মুহাম্মদ বিন বাহাদুর আশ-শাফিয়ি আল-যারকাশি তাঁর 'আল-বাহরুল মুহিত' (৪/২৯৯) গ্রন্থে বলেছেন: "আস-সাইরাফি, আল-কাদি আবু আত-তাইয়িব, আশ-শায়খ আবু ইসহাক এবং অন্যান্যরা বলেছেন: আবু বাকরাহ এবং তাঁর সঙ্গীদের বিষয়টি হলো, যখন [সাক্ষীর] সংখ্যা পূর্ণ হলো না, তখন ওমর (রা.) তাঁদেরকে অপবাদ দানকারীদের (قذفة) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করলেন। আর আবু বাকরাহকে তিনি নির্ধারিত দণ্ড (حد) দিয়েছিলেন ব্যাখ্যার (تأويل) ভিত্তিতে, যা তাঁদেরকে পাপাচারী সাব্যস্তকরণ (تفسيق) আবশ্যিক করে না। কেননা তাঁরা সাক্ষ্য (شهادة) প্রদানের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন এবং এটি সরাসরি অপবাদ (قذف) ছিল না। আর এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত দণ্ড (حد) প্রয়োগ করা ওয়াজিব হওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে এবং এখানে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) অবকাশ রয়েছে। আর যে বিষয়ে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) সুযোগ আছে, তার ভিত্তিতে সাক্ষ্য (شهادة) প্রত্যাখ্যান করা যায় না।"
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ويتحصَّل من هذه النقول ما يلي:
الأول: أنَّ رواية أبي بكرة رضي الله عنه عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم مقبولةٌ عند العلماء باتفاق، ولم يخالف في ذلك واحد منهم في القديم والحديث، وأوَّل من تفوَّه بخلاف ذلك الشيخ محمد الأشقر في القرن الخامس عشر، وكنت قد سألته هاتفيًّا: هل تعلم أحداً سبقك إلى القول بردِّ رواية أبي بكرة؟ فأجاب بالنفي، وتقدَّم في كلام الإسماعيلي المتوفى سنة (371هـ) قوله: "لم يمتنع أحد من التابعين فمن بعدهم من رواية حديث أبي بكرة والاحتجاج به، ولم يتوقف أحد من الرواة عنه ولا طعن أحد على روايته من جهة شهادته على المغيرة"، وتقدَّم أيضاً قول البيهقي المتوفى سنة (458هـ) : "كلُّ من روى عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم ممَّن صحبه أو لقيه فهو ثقة لم يتَّهمه أحد ممَّن يحسن علم الرواية فيما روى".
الثاني: أنَّ القاذفَ بلفظ الشتم كأن يقول: "يا زان! أو يا عاهر! " تُردُّ شهادته وروايته اتفاقاً، إلَاّ أن
এই উদ্ধৃতিসমূহ হতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো প্রতিভাত হয়:
প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আবু বাকরা (রা.)-এর বর্ণনা (رواية) আলেমদের নিকট সর্বসম্মতিক্রমে (اتفاقاً) গ্রহণযোগ্য (مقبولة) হিসেবে বিবেচিত। প্রাচীন বা আধুনিক কালের কোনো আলেমই এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেননি। পঞ্চদশ শতাব্দীতে শেখ মুহাম্মদ আল-আশকারই প্রথম ব্যক্তি যিনি এর বিপরীতে মত প্রকাশ করেছেন। আমি তাঁকে টেলিফোনে জিজ্ঞাসা করেছিলাম: "আবু বাকরার বর্ণনা (رواية) প্রত্যাখ্যানের (رد) বিষয়ে আপনার পূর্বে কেউ এমন কথা বলেছেন বলে কি আপনি জানেন?" তিনি নেতিবাচক উত্তর দিয়েছিলেন। ৩৭১ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী ইসমাঈলী-এর বক্তব্যে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে: "তাবেয়ীদের (التابعين) মধ্য থেকে বা তাদের পরবর্তী যুগের কেউই আবু বাকরার হাদিস বর্ণনা এবং তা দলিল হিসেবে গ্রহণের (الاحتجاج) ক্ষেত্রে বিরত থাকেননি। বর্ণনাকারীদের (الرواة) কেউই তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণে বিরত থাকেননি এবং মুগীরাহ্-এর বিরুদ্ধে তাঁর সাক্ষ্য প্রদানের (شهادة) কারণে তাঁর বর্ণনার (رواية) ওপর কেউ কোনো রূপ অভিযোগ (طعن) উত্থাপন করেননি।" ৪৫৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী বায়হাকী-র উক্তিও পূর্বে বর্ণিত হয়েছে: "যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন অথবা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তাদের প্রত্যেকেই নির্ভরযোগ্য (ثقة); বর্ণনা শাস্ত্র (علم الرواية) সম্পর্কে বিজ্ঞ এমন কেউই তাদের বর্ণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে তাদের অভিযুক্ত করেননি।"
দ্বিতীয়ত: গালিগালাজসূচক শব্দের মাধ্যমে অপবাদ দানকারী (القاذف), যেমন কেউ যদি বলে: "হে ব্যভিচারী! অথবা হে লম্পট!", তবে সর্বসম্মতিক্রমে তার সাক্ষ্য (شهادة) ও বর্ণনা (رواية) প্রত্যাখ্যান করা হবে। তবে...
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
يتوب ويصلح.
الثالث: أنَّ القاذفَ بلفظ الشهادة دون الشتم مختلف في ردِّ شهادته إذا لم يتب دون روايته، ومن العلماء من قال بقبول شهادته كروايته، ومنهم من قال بعدم إقامة الحدِّ عليه، والتفصيل الذي ذكره شيخنا الشيخ محمد الأمين الشنقيطي رحمه الله الذي تقدَّم نقله تحرير بديع وتحقيق بالغ الأهمية.
তিনি তওবা করবেন এবং সংশোধন করবেন।
তৃতীয়ত: যে ব্যক্তি গালিগালাজ ব্যতিরেকে সাক্ষ্যের শব্দে অপবাদ প্রদান করে, সে তওবা না করলে তার সাক্ষ্য (شهادة) প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, কিন্তু তার বর্ণনা (رواية)-এর বিষয়টি ভিন্ন। আলেমদের মধ্যে এমন একদল রয়েছেন যারা তার বর্ণনার (رواية) ন্যায় তার সাক্ষ্যকেও (شهادة) গ্রহণ করার কথা বলেছেন। আবার তাদের কেউ কেউ তার ওপর নির্ধারিত শাস্তি (حد) প্রয়োগ না করার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আমাদের শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শিনকীতি (রহমতুল্লাহি আলাইহি) যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং যা পূর্বে উদ্ধৃত হয়েছে, তা এক চমৎকার উপস্থাপনা এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিশ্লেষণ (تحقيق)।
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الباب الرابع: سلامة مافي صحيح البخاري من الإنتقاد مما دون الوضع…سلامة ما في صحيح البخاري من الانتقاد مما دون الوضع
صحيح البخاري هو أصح الكتب المدونة في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو مشتمل على حديث أبي بكرة رضي الله عنه: "لن يفلح قوم ولوا أمرهم امرأة"، الذي قال فيه الشيخ محمد الأشقر: "فينبغي أن يضم هذا الحديث إلى الأحاديث الموضوعة المكذوبة على النبي صلى الله عليه وسلم"، ولم أسمع قبل هذا الكلام عن أحد من أهل العلم دعوى أن في
চতুর্থ অধ্যায়: বানোয়াট (وضع) পর্যায়ের নিচের সমালোচনা হতে সহীহ বুখারীর বিষয়বস্তুর বিশুদ্ধতা…বানোয়াট (وضع) পর্যায়ের নিচের সমালোচনা হতে সহীহ বুখারীর বিষয়বস্তুর বিশুদ্ধতা
সহীহ বুখারী হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বিষয়ক সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) গ্রন্থ। এটি আবু বাকরা (রা.) বর্ণিত সেই হাদিসটিকেও অন্তর্ভুক্ত করে যেখানে বলা হয়েছে: "সেই জাতি কখনোই সফল হবে না, যারা তাদের বিষয়াবলির দায়িত্ব কোনো নারীর হাতে ন্যস্ত করে।" যে হাদিসটি সম্পর্কে শায়খ মুহাম্মদ আল-আশকার বলেছেন: "এই হাদিসটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে আরোপিত বানোয়াট (موضوعة) ও মিথ্যা (مكذوبة) হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।" এই বক্তব্যের পূর্বে আমি কোনো ইলম অন্বেষী বা আলিমের নিকট হতে এমন দাবি শুনিনি যে...
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
صحيح البخاري شيئاً موضوعاً مكذوباً على رسول الله صلى الله عليه وسلم، بل إن الجهابذة النّقّاد من العلماء غربلوا أحاديثه للوقوف على علة لبعض الأحاديث فيه، وكان كل ما اجتمع لهم من ذلك شيئاً يسيراً، ولم يُسَلَّم لهم ذلك الانتقاد إلاّ في شيء نادر، وقد ذكرت خلاصة ذلك في مقدمة كتابي "عشرون حديثاً من صحيح البخاري" المطبوع قبل خمسة وثلاثين عاماً أنقله هنا:
انتقاد بعض الحفاظ بعض الأحاديث في صحيح البخاري والجواب عن ذلك:
ذكر الحافظ ابن حجر في مقدمة الفتح أنَّ الدارقطني وغيره من الحفاظ انتقدوا على الصحيحين مائتين وعشرة أحاديث، اشتركا في اثنين وثلاثين حديثا وانفرد البخاري عن مسلم بثمانية وسبعين حديثاً وانفرد مسلم عن البخاري بمائة حديث، وقد عقد فصلاً خاصاً للكلام على الأحاديث المنتقدة في صحيح البخاري أورد فيه الأحاديث على ترتيب الصحيح وأجاب عن الانتقادات فيها تفصيلاً،
সহিহ বুখারিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যা আরোপিত (مكذوب) কোনো জাল (موضوع) হাদিস নেই; বরং বিজ্ঞ সমালোচক আলেমগণ এর হাদিসগুলোকে সূক্ষ্মভাবে যাচাই করেছেন কোনো গোপন ত্রুটি (علة) খুঁজে বের করার জন্য। আর তাদের কাছে যা কিছু সংগৃহীত হয়েছে তা অতি সামান্য এবং খুব দুর্লভ ক্ষেত্র ব্যতীত তাদের সেই সমালোচনা (انتقاد) স্বীকৃত হয়নি। পঁয়ত্রিশ বছর আগে প্রকাশিত আমার গ্রন্থ "সহিহ বুখারি থেকে বিশটি হাদিস"-এর ভূমিকায় আমি এর সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছি, যা এখানে উদ্ধৃত করছি:
সহিহ বুখারির কিছু হাদিসের ওপর কতিপয় হাফিজ (حفاظ)-এর সমালোচনা (انتقاد) এবং এর জবাব:
হাফিজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, আদ-দারাকুতনি এবং অন্যান্য হাফিজ (حفاظ) সহিহাইন-এর দুইশত দশটি হাদিসের সমালোচনা (انتقاد) করেছেন। এই দুই গ্রন্থে ৩২টি হাদিস সাধারণ (উভয় গ্রন্থে বিদ্যমান), বুখারি এককভাবে ৭৮টি এবং মুসলিম এককভাবে ১০০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি সহিহ বুখারির সমালোচিত (منتقدة) হাদিসগুলো আলোচনার জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন এবং তাতে সহিহ-এর বিন্যাস অনুযায়ী হাদিসগুলো উল্লেখ করে সেগুলোর সমালোচনার বিস্তারিত উত্তর দিয়েছেন,
(খণ্ড: ১)
আদ-দিফাউ আনিস সাহাবি আবি বাকরাহ ওয়া মারউইয়্যাতিহি ওয়াল ইস্তিদলালু লিমানি বিলায়াতিন নিসায়ি আলার রিজাল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقد أجاب عنها في أول الفصل إجمالاً حيث قال: والجواب عنه على سبيل الإجمال أن نقول: لا ريب في تقديم البخاري ثم مسلم على أهل عصرهما ومن بعده من أئمة هذا الفن في معرفة الصحيح والمعلل، ثم ذكر بعض ما يؤيد ذلك، ثم قال: فإذا عرف وتقرر أنَّهما لا يخرجان من الحديث إلا ما لا علة له أو له علة إلاّ أنَّها غير مؤثرة عندهما فبتقدير توجيه كلام من انتقد عليهما يكون قوله معارضاً لتصحيحهما، ولا ريب في تقديمهما في ذلك على غيرهما فيندفع الاعتراض من حيث الجملة، وأما من حيث التفصيل فالأحاديث التي انتقدت عليهما تنقسم أقساماً:
الأول: ما تختلف الرواة فيه بالزيادة والنقص من رجال الإسناد.
الثاني: ما تختلف الرواة فيه بتغيير رجال بعض الإسناد.
الثالث: ما تفرد بعض الرواة بزيادة فيه دون من هو أكثر عدداً أو أضبط ممن لم يذكرها.
তিনি অধ্যায়ের শুরুতে এর সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রদান করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: এর উত্তর সংক্ষেপে এই যে, আমরা বলব: সহিহ (صحيح) এবং ত্রুটিযুক্ত (المعلل) হাদিস নিরূপণের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারী এবং অতঃপর ইমাম মুসলিমকে তাঁদের সমসাময়িক এবং পরবর্তী এই শাস্ত্রের ইমামদের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। অতঃপর তিনি এর সমর্থনে কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন, তারপর বলেছেন: যখন এটি জানা গেল এবং প্রতিষ্ঠিত হলো যে, তাঁরা কেবল সেই হাদিসগুলোই সংকলন করেন যেগুলোতে কোনো ত্রুটি (علة) নেই অথবা এমন কোনো ত্রুটি (علة) আছে যা তাঁদের নিকট প্রভাবহীন; এমতাবস্থায় যারা তাঁদের ওপর সমালোচনা করেছেন তাঁদের বক্তব্যের যৌক্তিকতা বিচার করলে দেখা যাবে যে, সমালোচকের কথাটি তাঁদের সহিহ (تصحيح) সাব্যস্ত করার পরিপন্থী হচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে অন্য সবার ওপর তাঁদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, ফলে সামগ্রিকভাবে এই আপত্তিটি খণ্ডন হয়ে যায়। আর বিস্তারিত আলোচনার দিক থেকে, যে হাদিসগুলোর ওপর সমালোচনা করা হয়েছে সেগুলো কয়েকটি ভাগে বিভক্ত:
প্রথম: যে বর্ণনায় বর্ণনাকারীদের হ্রাস-বৃদ্ধির মাধ্যমে সনদের (الإسناد) রাবিদের ক্ষেত্রে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে।
দ্বিতীয়: যে বর্ণনায় সনদের (الإسناد) কিছু রাবি বা বর্ণনাকারী পরিবর্তনের মাধ্যমে বর্ণনাকারীদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে।
তৃতীয়: যেখানে কোনো একজন বর্ণনাকারী এমন অতিরিক্ত (زيادة) তথ্য বর্ণনায় একক (تفرد) হয়ে গেছেন, যা তাঁর চেয়ে অধিক সংখ্যক বা অধিক নির্ভরযোগ্য (أضبط) বর্ণনাকারীরা বর্ণনা করেননি।