(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: -)
الدعوة إلى التمسك بالقرآن الكريم وأثره في حياة المسلم القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: الدعوة إلى التمسك بالقرآن الكريم وأثره في حياة المسلم
المؤلف: د. عبد الرحيم بن محمد المغذوي
الناشر: *
عدد الصفحات: 70
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মহাগ্রন্থ আল-কুরআন আঁকড়ে ধরার আহ্বান এবং মুসলিম জীবনে এর প্রভাব বিভাগ: উলুমুল কুরআন ও তাফসিরের মূলনীতি
গ্রন্থ: মহাগ্রন্থ আল-কুরআন আঁকড়ে ধরার আহ্বান এবং মুসলিম জীবনে এর প্রভাব
লেখক: ড. আব্দুর রহিম বিন মুহাম্মদ আল-মাগযাউয়ি
প্রকাশক: *
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১)
ال
مقدمةإن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (آل عمران: 102) .
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} (النساء:1)
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} (الأحزاب:70-71) .
أما بعد:
فإن أي دعوة تشرف بما تدعو إليه، وتزكو بما تحث الناس عليه، ولا ريب أن الدعوة إلى التمسك بالقرآن الكريم، هي أسمى المقاصد، وأنبل الفوائد، لأنها تتعلق بكتاب الله تعالى، وكفى بذلك شرفاً ومقصداً.
أ - أهمية الموضوع، وأسباب الدراسة:
المسلم مطالب دائماً وأبداً بالتمسك بكتاب الله تعالى حق التمسك وتطبيق ذلك في حياته الخاصة والعامة، وظهور آثار ذلك التمسك في سلوكه وتصرفاته
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট হিদায়াত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} (আল ইমরান: ১০২)।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} (আন নিসা: ১)।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল} (আল আহযাব: ৭০-৭১)।
অতঃপর:
যেকোনো দাওয়াত বা আহ্বান তার বিষয়বস্তুর মাধ্যমেই সম্মানিত হয় এবং মানুষকে যা করতে উদ্বুদ্ধ করা হয় তার মাধ্যমেই তা পরিশুদ্ধ হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পবিত্র কুরআনের ওপর অটল থাকার আহ্বান জানানো হলো মহত্তম লক্ষ্য এবং শ্রেষ্ঠতম কল্যাণ; কেননা এটি মহান আল্লাহর কিতাবের সাথে সংশ্লিষ্ট। মর্যাদা ও লক্ষ্য হিসেবে এটিই যথেষ্ট।
ক - বিষয়ের গুরুত্ব এবং গবেষণার কারণসমূহ:
একজন মুসলিম সর্বদা এবং চিরকাল আল্লাহ তায়ালার কিতাবকে যথাযথভাবে আঁকড়ে ধরতে এবং তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে তা প্রয়োগ করতে আদিষ্ট। সেইসাথে তার আচরণ ও কর্মকাণ্ডে সেই অটলতার প্রভাব ফুটে ওঠা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২)
ولكن الملاحظ - وبخاصة في عصرناالحاضر - انصراف كثير من فئام المسلمين عن التمسك بكتاب ربهم تبارك وتعالى، وإن أظهروا حبهم وتقديسهم له، إلا أن الواقع المعاش يغاير ذلك ومن هنا كان الاختلال الواضح، في حياة المسلمين أفراداً ومجتمعات، الأمر الذي أوقع الوهن في حياة الأمة على مختلف الأصعدة الدينية والدنيوية.
ولا ريب أن المتأمل في كتاب الله تعالى يجد الدعوة الصريحة الواضحة للتمسك بالقرآن الكريم، والآثار العظيمة التي سوف يجنيها الفرد والمجتمع من ذلك.
ومن هنا كان الدافع للكتابة في هذا الموضوع الدعوي القرآني الهام، وكذا لعدم وجود مؤلف خاص في هذا الموضوع - على حد علمي - وإنما هنالك إشارات وذكر متناثر في بطون الكتب، فأحببت أن أجمع شتات الموضوع، وأبرز معالمه، وأوضح مقاصده ليكون دعوة خيّرة للناس لعلهم يتقون.
كما أرجو من الله تعالى أن أكون قد وفقت وأنا أقدم هذا البحث المتواضع للندوة المباركة بإذن الله تعالى (ندوة عناية المملكة السعودية بالقرآن الكريم وعلومه) والتي يعقدها مشكوراً مأجوراً مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة في الفترة 4/6/1421هـ إلى 7/6/1421هـ.
ب - تساؤلات البحث:
يهدف البحث إلى الإجابة عن التساؤلات الكبرى التالية:
أولاً: ماالمقصود بالقرآن الكريم، وماأهمية التمسك به؟.
ثانياً: ما مظاهر التمسك بالقرآن الكريم؟.
তবে লক্ষণীয় হলো—বিশেষ করে আমাদের বর্তমান যুগে—মুসলিমদের অনেক দল বা গোষ্ঠীর তাদের প্রতিপালক তাবারাকা ওয়া তায়ালার কিতাব আঁকড়ে ধরা থেকে বিমুখতা। যদিও তারা এর প্রতি তাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে, তথাপি যাপিত জীবনের বাস্তবতা এর বিপরীত। আর এখান থেকেই ব্যক্তি ও সমাজ উভয় স্তরে মুসলিমদের জীবনে স্পষ্ট বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, যা উম্মাহর জীবনে ধর্মীয় ও পার্থিব বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্বলতা বা ওহান (الوهن) সৃষ্টি করেছে।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার কিতাব নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, সে কুরআনুল কারীমকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য আহ্বান খুঁজে পাবে এবং এর ফলে ব্যক্তি ও সমাজ যে মহান সুফল লাভ করবে তাও অনুধাবন করতে পারবে।
আর এখান থেকেই দাওয়াতি ও কুরআনি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর লেখার অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আমার জানা মতে এই বিষয়ের ওপর নির্দিষ্ট কোনো স্বতন্ত্র রচনা নেই, বরং বিভিন্ন কিতাবসমূহের অভ্যন্তরে এ সংক্রান্ত কিছু বিক্ষিপ্ত ইঙ্গিত ও বর্ণনা রয়েছে। তাই আমি এই বিষয়ের বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রিত করতে, এর বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটিয়ে তুলতে এবং এর উদ্দেশ্যসমূহ স্পষ্ট করতে চেয়েছি, যাতে এটি মানুষের জন্য একটি কল্যাণকর আহ্বান হয়—হয়তো তারা এর মাধ্যমে তাকওয়া অবলম্বন করবে।
আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে আরও আশা করি যে, তিনি আমাকে তাওফীক দান করেছেন; যখন আমি এই বিনম্র গবেষণাটি আল্লাহর ইচ্ছায় এই বরকতময় সেমিনারে উপস্থাপন করছি (কুরআনুল কারীম ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞান বা উলুমের প্রতি সৌদি আরবের যত্ন বিষয়ক সেমিনার), যা মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত কিং ফাহাদ গ্লোরিয়াস কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স ৪/৬/১৪২১ হিজরি থেকে ৭/৬/১৪২১ হিজরি সময়কালে অত্যন্ত প্রশংসনীয়ভাবে এবং সওয়াবের আশায় আয়োজন করেছে।
খ - গবেষণার প্রশ্নাবলি:
এই গবেষণার লক্ষ্য হলো নিম্নলিখিত প্রধান প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদান করা:
প্রথমত: কুরআনুল কারীম বলতে কী বোঝায় এবং একে আঁকড়ে ধরার গুরুত্ব কতটুকু?
দ্বিতীয়ত: কুরআনুল কারীমকে আঁকড়ে ধরার স্বরূপ বা নিদর্শনগুলো কী কী?
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৩)
ثالثاً: ما فضائل التمسك بالقرآن الكريم؟.
رابعاً: ما آثار التمسك بالقرآن الكريم في حياة المسلمين الخاصة والعامة؟.
ج - منهج البحث والخطوات البحثية:
استخدم الباحث منهج البحث الوصفي، وكذا منهج البحث التحليلي التأملي، للخروج بفوائد علمية هامة دقيقة.
كما اتبع الباحث الخطوات البحثية المختصرة التالية:
1- عزو الآيات القرآنية إلى مواضعها من المصحف.
2- تخريج الأحاديث من مظانها، وإيراد حكم العلماء عليها.
3- توثيق الآثار والأقوال بإرجاعها إلى مصادرها.
4- التأصيل العلمي للموضوعات البحثية، والخلوص إلى نتائج محددة.
তৃতীয়ত: পবিত্র কুরআন আঁকড়ে ধরার ফযিলতসমূহ কী কী?
চতুর্থত: মুসলমানদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে পবিত্র কুরআন আঁকড়ে ধরার প্রভাবসমূহ কী কী?
গ - গবেষণা পদ্ধতি ও গবেষণার ধাপসমূহ:
গবেষক গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভুল বৈজ্ঞানিক উপকারিতা লাভের উদ্দেশ্যে বর্ণনামূলক গবেষণা পদ্ধতি এবং সেই সাথে বিশ্লেষণাত্মক ও চিন্তাপ্রসূত গবেষণা পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।
এছাড়াও গবেষক নিম্নলিখিত সংক্ষিপ্ত গবেষণার ধাপসমূহ অনুসরণ করেছেন:
১- কুরআনের আয়াতসমূহকে মুসহাফের নির্দিষ্ট স্থানে নির্দেশ করা।
২- হাদিসসমূহকে তাদের মূল উৎস হতে উৎসনির্দেশ (تخريج) করা এবং সেগুলোর ওপর আলেমগণের প্রদত্ত সিদ্ধান্ত (حكم) উল্লেখ করা।
৩- বর্ণনা (آثار) ও উক্তিগুলোকে তাদের মূল উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সেগুলোর প্রামাণিকরণ (توثيق) করা।
৪- গবেষণার বিষয়বস্তুসমূহের বৈজ্ঞানিক মূলনীতি নির্ধারণ করা এবং নির্দিষ্ট ফলাফলে উপনীত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৪)
د - خطة البحث بالتفصيل:
- المقدمة: وتضمنت الحديث عن أهمية الموضوع، وبواعث دراسته، وتساؤلات البحث الكبرى، ومنهج البحث والخطوات البحثية، والخطة بالتفصيل.
- الفصل الأول: الدَّعوة إلى التمسّك بالقرآن الكريم.
ويتضمن أربعة مباحث:
المبحث الأول: التعريف بالقرآن الكريم، وأسمائه، وخصائصه.
المبحث الثاني: أهمية الدعوة إلى التمسك بالقرآن الكريم.
المبحث الثالث: مظاهر التمسك بالقرآن الكريم.
المبحث الرابع: فضائل التمسك بالقرآن الكريم.
- الفصل الثاني: آثار التمسّك بالقرآن الكريم في حياة المسلمين.
ويتضمن ستة مباحث:
المبحث الأول: الأثر الإيماني والتعبدي.
المبحث الثاني: الأثر الدعوي والإصلاحي.
المبحث الثالث: الأثر الخلقي والمسلكي.
المبحث الرابع: الأثر العلمي والفكري.
المبحث الخامس: الأثر الإنساني والحضاري.
المبحث السادس: الأثر الأمني الشامل.
- الخاتمة: وفيها خلاصة البحث، ونتائجه، والتوصيات.
- الفهارس.
ঘ - বিস্তারিত গবেষণা পরিকল্পনা:
- ভূমিকা: এতে বিষয়ের গুরুত্ব, গবেষণার প্রেক্ষাপট, গবেষণার মূল জিজ্ঞাসাসমূহ, গবেষণা পদ্ধতি ও গবেষণার ধাপসমূহ এবং বিস্তারিত পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
- প্রথম অধ্যায়: আল-কুরআনুল কারীমকে আঁকড়ে ধরার আহ্বান।
এটি চারটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনুল কারীমের পরিচয়, নামসমূহ এবং বৈশিষ্ট্যসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনুল কারীমকে আঁকড়ে ধরার আহ্বানের গুরুত্ব।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনুল কারীমকে আঁকড়ে ধরার স্বরূপসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনুল কারীমকে আঁকড়ে ধরার ফজিলতসমূহ।
- দ্বিতীয় অধ্যায়: মুসলিমদের জীবনে আল-কুরআনুল কারীমকে আঁকড়ে ধরার প্রভাব।
এটি ছয়টি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ঈমানি ও ইবাদতগত প্রভাব।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দাওয়াতি ও সংশোধনমূলক প্রভাব।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: চারিত্রিক ও আচরণিক প্রভাব।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জ্ঞানতাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাব।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মানবিক ও সভ্যতাগত প্রভাব।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সামগ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রভাব।
- উপসংহার: এতে গবেষণার সারসংক্ষেপ, ফলাফল এবং সুপারিশসমূহ রয়েছে।
- নির্ঘণ্টসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৫)
هـ - ثناء الباحث على الله تعالى بما هو أهل له.
اللهم لك الحمد كله، والشكر كله فأنت أهل الثناء والحمد، والعزة والمجد، والميسر لكل قصد.
اللهم لك الحمد أن جعلتنا من أهل القرآن الذين هم أهلك وخاصتك، اللهم فأدم علينا نعمتك، وارزقنا شكرها على الوجه الذي ترضاه عنا يارب العالمين.
اللهم نوِّر بالقرآن العظيم قلوبنا، وافتح به أبصارنا، واشرح به صدورنا، واكلأ به حياتنا، وأنر به دروبنا، واحفظنا به من أمامنا ومن خلفنا، وعن أيماننا وعن شمائلنا، ومن فوقنا ومن تحتنا، وما أنت أعلم به منا.
{رَبَّنَا لا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْراً كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلا تُحَمِّلْنَا مَا لا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ} (البقرة: 286) .
ঙ - মহান আল্লাহর প্রতি গবেষকের যথাযোগ্য প্রশংসা।
হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা কেবল আপনারই জন্য, সকল শুকরিয়া কেবল আপনারই জন্য; আপনিই প্রশংসা ও মহিমা এবং মহত্ত্ব ও গৌরবের উপযুক্ত; আর আপনিই প্রতিটি উদ্দেশ্যকে সহজকারী।
হে আল্লাহ! আপনারই সকল প্রশংসা যে, আপনি আমাদের কুরআনের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যারা আপনার পরিজন ও খাস বান্দা। হে আল্লাহ! আমাদের ওপর আপনার নিআমত অব্যাহত রাখুন এবং এর এমনভাবে শুকরিয়া আদায়ের তাওফিক দিন যাতে আপনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন, হে রাব্বুল আলামিন।
হে আল্লাহ! মহান কুরআনের মাধ্যমে আমাদের অন্তরসমূহকে আলোকিত করুন, এর দ্বারা আমাদের দৃষ্টিসমূহ উন্মোচিত করুন, আমাদের বক্ষসমূহকে প্রশস্ত করুন, আমাদের জীবনকে হেফাজত করুন, আমাদের পথসমূহকে উজ্জ্বল করুন এবং এর মাধ্যমে আমাদের সামনে, পেছনে, ডানে, বামে, ওপর থেকে এবং নিচ থেকে এবং এমন সবকিছু থেকে আমাদের সুরক্ষা দান করুন যা আপনি আমাদের চেয়ে অধিক জানেন।
{হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর এমন গুরুভার অর্পণ করবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর অর্পণ করেছেন। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর এমন ভার চাপিয়ে দেবেন না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের মার্জনা করুন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।} (আল-বাকারা: ২৮৬)।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৬)
الدعوة إلى التمسك بالقرآن الكريم وأثره في حياة المسلم…الفصل الأول الدَّعوة إلى التمسّك بالقرآن الكريم
ويتضمّن أربعة مباحث:
المبحث الأول: التعريف بالقرآن الكريم، وأسمائه، وخصائصه.
المبحث الثاني: أهمية الدعوة إلى التمسك بالقرآن الكريم.
المبحث الثالث: مظاهر التمسك بالقرآن الكريم.
المبحث الرابع: فضائل التمسك بالقرآن الكريم.
পবিত্র কুরআনকে আঁকড়ে ধরার আহ্বান এবং মুসলিমের জীবনে এর প্রভাব…প্রথম অধ্যায়: পবিত্র কুরআনকে আঁকড়ে ধরার আহ্বান
এটি চারটি পরিচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের পরিচয়, এর নামসমূহ এবং বৈশিষ্ট্যসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনকে আঁকড়ে ধরার আহ্বানের গুরুত্ব।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনকে আঁকড়ে ধরার স্বরূপসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনকে আঁকড়ে ধরার ফজিলতসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৭)
المبحث الأول: التعريف بالقرآن الكريم، وأسمائه، وخصائصه.
وفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: التعريف بالقرآن الكريم لغةً.
اختلفت آراء أهل اللغة حول أصل كلمة (القرآن) وتعددت، ويمكن لنا حصرها في اتجاهين رئيسين:
- الاتجاه الأول: وهو الذي يذهب إلى أن القرآن اسم لكتاب الله تعالى، وأنه غير مشتق من أي مادة سواء من (قرأ) أو من غيرها. وذلك لأنه علم على كتاب الله تعالى مثل التوراة والإنجيل. وعلى هذا فالقرآن غير مهموز.
- الاتجاه الثاني: وهو الذي يذهب إلى أن لفظ (القرآن) مشتق، واختلف أصحاب هذا الاتجاه على أربعة أقوال:
1- أن القرآن مصدر لقرأت كالرجحان والغفران، سمي به الكتاب المقروء من باب تسمية المفعول بالمصدر. وبه قال اللحياني وآخرون.
2- وقال قوم منهم الأشعري: هو مشتق من قرنت الشيء بالشيء: إذا ضممت أحدهما إلى الآخر.
3- وقال الفراء: هو مشتق من القرائن، لأن الآيات منه يصدق بعضها بعضاً، ويشابه بعضها بعضاً وهي قرائن. وعلى القولين بلا همز أيضاً ونونه أصلية.
4- وقال آخرون منهم الزجاج: هو وصف على فعلان مشتق من القرء بمعنى الجمع، ومنه قرأت الماء في الحوض أي جمعته.
قال أبو عبيدة: وسمي بذلك لأنه جمع السور بعضها إلى بعض.
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনুল কারীম, এর নামসমূহ এবং বৈশিষ্ট্যসমূহের পরিচয়।
এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: শাব্দিক অর্থে কুরআনুল কারীমের পরিচয়।
'কুরআন' শব্দের মূল সম্পর্কে ভাষাবিদদের বিভিন্ন মত রয়েছে এবং এর সংখ্যা অনেক; আমরা সেগুলোকে প্রধানত দুটি ধারায় সীমাবদ্ধ করতে পারি:
- প্রথম ধারা: এই মতানুসারে 'কুরআন' মহান আল্লাহর কিতাবের একটি নাম এবং এটি 'ক্বরাআ' বা অন্য কোনো ধাতু হতে ব্যুৎপন্ন (مشتق) নয়। কারণ এটি তাওরাত ও ইঞ্জিলের মতো মহান আল্লাহর কিতাবের জন্য একটি বিশেষ সংজ্ঞাবাচক নাম (علم)। আর এই মত অনুযায়ী কুরআন শব্দটি হামযা যুক্ত (مهموز) নয়।
- দ্বিতীয় ধারা: এই মতানুসারে 'কুরআন' শব্দটি ব্যুৎপন্ন (مشتق), আর এই মতের অনুসারীরা চারটি বক্তব্যে বিভক্ত হয়েছেন:
1- কুরআন শব্দটি 'ক্বরাআতু' ক্রিয়ার একটি মূলরূপ (مصدر), যেমন 'রুঝান' ও 'গুফরান'। কর্মবাচক (مفعول) শব্দকে মূলরূপ (مصدر) হিসেবে নামকরণের রীতি অনুযায়ী পঠিত কিতাবকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে। আল-লিহইয়ানি এবং অন্যরা এই কথা বলেছেন।
2- ইমাম আশআরীসহ একদল আলিম বলেছেন: এটি 'ক্বরানতু' অর্থাৎ কোনো বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে সংযুক্ত করা থেকে ব্যুৎপন্ন (مشتق)।
3- ইমাম ফাররা বলেন: এটি 'ক্বারাইন' (القرائن) শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন (مشتق); কারণ এর আয়াতসমূহ একে অপরকে সত্যায়ন করে এবং একে অপরের সদৃশ, তাই এগুলো একে অপরের প্রমাণ বা সহযোগী (قرائن)। এই দুই মতানুসারেও শব্দটি হামযা বিহীন এবং এর 'নুন' বর্ণটি মূল ধাতুগত।
4- আয-যাজ্জাজসহ অন্যরা বলেছেন: এটি 'ফাউলান' ছন্দের একটি বিশেষণ (وصف), যা একত্রীকরণ অর্থে 'আল-ক্বরউ' থেকে ব্যুৎপন্ন (مشتق)। সেখান থেকেই 'আমি হাউজে পানি জমা করেছি' কথাটি এসেছে।
আবু উবায়দা বলেন: একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি সূরাসমূহকে একে অপরের সাথে একত্রিত করেছে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقال الراغب: لا يقال لكل جمع قرآن ولا لجمع كل كلام قرآن، وإنما سمي قرآناً لكونه جمع ثمرات الكتب السالفة المنزلة. وقيل: لأنه جمع أنواع العلوم كلها.
ثم قال الحافظ السيوطي بعد أن ساق تلك الأقوال: والمختار عندي في هذه المسألة ما نص عليه الشافعي (1) .
ويذهب الشيخ الزرقاني إلى خلاف ذلك ويؤكد أن القرآن مشتق فيقول: (أما لفظ القرآن فهو: في اللغة مصدر مرادف للقراءة، ومنه قوله تعالى {إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} (القيامة: 17-18) . ثم نقل من هذا المعنى المصدري وجعل اسماً للكلام المعجز المنزل على النبي صلى الله عليه وسلم من باب إطلاق المصدر على مفعوله، ذلك ما نختاره استناداً إلى موارد اللغة، وقوانين الاشتقاق، وإليه ذهب اللحياني وجماعة. أما القول: بأنه وصف من القَرء بمعنى: الجمع، أو أنه مشتق من القرائن، أو أنه مشتق من قرنت الشيء بالشيء، أو أنه مرتجل أي موضوع من أول الأمر عَلَماً على الكلام المعجز المنزل غير مهموز ولا مجرد من أل، فكل أولئك لا يظهر له وجه وجيه، ولا يخلو توجيه بعضه من كلفة، ولا من بُعد عن قواعد الاشتقاق وموارد اللغة. وعلى الرأي المختار: فلفظ قرآن مهموز، وإذا حذف همزه، فإنما ذلك للتخفيف، وإذا دخلته "أل" بعد التسمية فإنما هي للمح الأصل لا للتعريف) (2) .
--------------------------------------------
আল-রাগিব বলেন: সকল একত্রীকরণকে কুরআন বলা হয় না এবং সকল কথার সমষ্টিকেও কুরআন বলা হয় না। বরং একে 'কুরআন' নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি পূর্বে অবতীর্ণ কিতাবসমূহের নির্যাসকে একত্রিত করেছে। আর কেউ কেউ বলেন: কারণ এটি সকল প্রকার জ্ঞানকে একত্রিত করেছে।
অতঃপর হাফিজ আল-সুয়ূতী উক্ত মতগুলো উল্লেখ করার পর বলেন: এই বিষয়ে আমার নিকট পছন্দনীয় মত হলো যা ইমাম শাফিঈ (১) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
শায়খ আল-যারকানি এর ভিন্ন মত পোষণ করেন এবং কুরআন শব্দটি ব্যুৎপন্ন (مشتق) বলে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন: (কুরআন শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো পাঠ করার সমার্থক ক্রিয়ামূল (مصدر)। মহান আল্লাহর বাণী এর অন্তর্ভুক্ত: "নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই। সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন।" (কিয়ামাহ: ১৭-১৮)। অতঃপর এই ক্রিয়ামূলীয় অর্থ থেকে পরিবর্তন করে একে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ মুজিজাপূর্ণ (معجز) বাণীর নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কর্মপদ (مفعول) অর্থে ক্রিয়ামূলের (مصدر) ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত। ভাষার উৎসসমূহ এবং ব্যুৎপত্তির নিয়মের ভিত্তিতে আমরা এটিকেই গ্রহণ করি; আল-লিহইয়ানি এবং একদল বিশেষজ্ঞ এই মতই পোষণ করেছেন। আর এই যে কথাটি প্রচলিত আছে যে: এটি 'আল-ক্বারঅ' (القَرء) থেকে আগত একটি গুণবাচক শব্দ যার অর্থ একত্রীকরণ (الجمع), অথবা এটি 'আল-ক্বারাইন' (القرائن) থেকে ব্যুৎপন্ন, অথবা এটি 'আমি একটি বস্তুকে অন্যটির সাথে যুক্ত করেছি' (قرنت الشيء بالشيء) থেকে এসেছে, কিংবা এটি একটি মৌলিক নাম (مرتجل) অর্থাৎ অবতীর্ণ মুজিজাপূর্ণ বাণীর জন্য শুরু থেকেই এটি একটি নাম হিসেবে নির্ধারিত এবং এটি হামযাহবিহীন (غير مهموز) কিংবা এটি 'আল' (أل) থেকে মুক্ত নয়—এসব মতামতের কোনোটিই শক্তিশালী কোনো যুক্তি প্রদর্শন করতে পারে না। এগুলোর কোনো কোনোটির ব্যাখ্যায় যেমন কষ্টকল্পনা রয়েছে, তেমনি ভাষাতাত্ত্বিক উৎস ও ব্যুৎপত্তির নিয়ম থেকে এগুলো অনেক দূরে। পছন্দনীয় মত অনুযায়ী: কুরআন শব্দটি হামযাহযুক্ত (مهموز), আর যদি এর হামযাহ বিলুপ্ত করা হয় তবে তা উচ্চারণ সহজীকরণের (تخفيف) জন্য। আর নামকরণের পর যদি এতে 'আল' (أل) যুক্ত হয়, তবে তা মূল অর্থের দিকে ইঙ্গিত করার জন্য, নির্দিষ্টকরণের (تعريف) জন্য নয়) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ৯)
والرأي الذي أميل إليه في أصل كلمة قرآن لغةً: أن القرآن اسم لكتاب الله تعالى، وأنه غير مشتق وهو ما ذهب إليه الإمام الشافعي وابن كثير وغيرهما.
المطلب الثاني: التعريف بالقرآن الكريم اصطلاحاً.
القرآن الكريم كلام الله تعالى، أنزله على رسوله صلى الله عليه وسلم ليكون للعالمين نذيراً، وحوى من العقائد والشرائع والمعارف والعلوم والآداب والأخلاق ما يجلّ الوصف عن ذكره، وتضمّن بين طيّاته الإخبار عن الأوّلين والآخرين، وما كان وما سيكون. ورسم للإنسان منهجاً واضحاً، وطريقاً سليماً، وصراطاً مستقيماً يسير عليه، ويهتدي به، ويدعو إليه.
كما اشتمل القرآن العظيم على الأمن والإيمان والطمأنينة والتوحيد، وانشراح الصدور، وهدوء الضمائر، وراحة البال.
كما تميز كتاب الله تعالى بالاعجاز، وتحدي الخلق أجمعين أن يأتوا بمثله أو بأقل سورة فيه. كما أنه متعبد بتلاوته، ومحفوظ إلى يوم القيامة.
وهنا نتساءل: من الذي يستطيع أن يعطي تعريفاً لهذا الكتاب الكريم الذي حوى كل تلك الأمور - وغيرها كثير؟ -. ومن الذي يقدر على تحديده في تعريف من تعاريف البشر التي اصطلحوا على وجود حدود ومعالم لها؟ أو أنها جامعة ومانعة؟ الحقيقة أنه من خلال تعاريف العلماء قديماً وحديثاً للقرآن الكريم، ومن خلال محاولات الكُتّاب والمؤلفين في هذا الصدد نجد أنها كلها لا تعدو توصيفاً للقرآن الكريم، دون إعطاء تعريف دقيق محدَّد له، فنجد بعض التعاريف تركز على شيء واحد وتهتم به، مثل كونه كلام الله
শব্দতাত্ত্বিকভাবে (لغةً) ‘কুরআন’ শব্দের মূল সম্পর্কে আমি যে মতের প্রতি আগ্রহী তা হলো: কুরআন হলো মহান আল্লাহর কিতাবের একটি নাম এবং এটি অন্য কোনো শব্দ থেকে উদ্ভূত নয় (غير مشتق)। ইমাম শাফেয়ী, ইবনে কাসীর এবং আরও অনেকে এই মতই পোষণ করেছেন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে পবিত্র কুরআনের পরিচয়।
পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহর বাণী (كلام الله), যা তিনি তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি বিশ্ববাসীর জন্য সতর্ককারী হন। এতে আকিদাহ, শরিয়ত, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিষ্টাচার এবং নৈতিকতার এমন সব বিষয় সন্নিবেশিত হয়েছে যার বর্ণনা কোনো শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা দুঃসাধ্য। এটি তার বিষয়বস্তুর মধ্যে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জমানার সংবাদ এবং যা হয়ে গেছে ও যা অনাগত ভবিষ্যতে হবে তার বিবরণ ধারণ করে আছে। এটি মানুষের জন্য একটি সুস্পষ্ট কর্মপন্থা, সঠিক পথ এবং এক সরলপথ (صراط مستقيم) অঙ্কন করেছে, যার ওপর সে চলবে, যার মাধ্যমে সে হেদায়েত লাভ করবে এবং যার দিকে সে আহ্বান জানাবে।
তদ্রূপ এই মহান কুরআন নিরাপত্তা, ঈমান, প্রশান্তি, তাওহীদ, অন্তরের প্রফুল্লতা, বিবেকের স্থিরতা এবং মনের স্বস্তি ধারণ করে আছে।
এছাড়াও আল্লাহর কিতাব তার অলৌকিকত্ব (إعجاز) দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং এটি সমগ্র সৃষ্টিজগতকে এর সদৃশ কিছু বা এর ক্ষুদ্রতম একটি সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ প্রদান করেছে। তদ্রূপ এর তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য এবং এটি কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষিত।
এখানে আমরা প্রশ্ন করতে পারি: এমন কে আছে যে এই মহান কিতাবের একটি সংজ্ঞা দিতে পারে, যা এই সব বিষয় এবং আরও অনেক কিছু ধারণ করে আছে? আর কে-ই বা মানুষের তৈরি সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতায় একে আবদ্ধ করতে সক্ষম, যে সংজ্ঞার জন্য তারা নির্দিষ্ট সীমা ও বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করেছে? অথবা তা কি পূর্ণাঙ্গ ও অন্য বিষয় বর্জনকারী (جامعة ومانعة)? বাস্তবতা হলো, প্রাচীন ও আধুনিক আলেমদের দেওয়া পবিত্র কুরআনের সংজ্ঞা এবং এ বিষয়ে লেখক ও গ্রন্থকারদের প্রচেষ্টাসমূহ পর্যবেক্ষণ করলে আমরা দেখতে পাই যে, এর কোনোটিই পবিত্র কুরআনের বর্ণনার গণ্ডি অতিক্রম করতে পারেনি, বরং একটি সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত সংজ্ঞা দিতে তারা সক্ষম হয়নি। ফলে আমরা দেখতে পাই যে, কিছু সংজ্ঞা কেবল একটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবং সেটি নিয়েই মনোযোগী হয়েছে, যেমন এটি আল্লাহর বাণী (كلام الله) হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১০)
تعالى، أو أنه معجز، أو اشتماله على الأمور والمسائل العظيمة التي تهم المسلم في حياته ومآله وغير ذلك.
والحقيقة أن ذلك راجع إلى عدم إحاطة أولئك العلماء والمؤلفين لمضامين القرآن العظيم، وعلومه وأحكامه، وفضائله وفوائده، وأنّى لهم ذلك.
يقول الشيخ مناع القطان رحمه الله: (والقرآن الكريم يتعذر تحديده بالتعاريف المنطقية ذات الأجناس والفصول والخواص. بحيث يكون تعريفه حداً حقيقياً، والحد الحقيقي له هو استحضاره معهوداً في الذهن أو مشاهداً في الحس كأن تشير إليه مكتوباً في المصحف أو مقروءاً باللسان، فتقول هو ما بين هاتين الدفتين، أو تقول: هو (بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله رب العالمين
… إلى قوله: من الجنة والناس) (1) .
ويقول الدكتور محمد عبد الله دراز يرحمه الله: (أما ما ذكره العلماء من تعريفه بالأجناس والفصول كما تُعرف الحقائق الكلية فإنما أرادوا به تقريب معناه وتمييزه عن بعض ما عداه مما قد يشاركه في الاسم ولو توهماً، ذلك أن سائر كتب الله تعالى والأحاديث القدسية وبعض الأحاديث النبوية تشارك القرآن في كونها وحياً إلهياً فربما ظن ظان أنها تشاركه في اسم القرآن أيضاً، فأرادوا بيان اختصاص الاسم به ببيان صفاته التي امتاز بها عن تلك الأنواع) (2) .
ومن التعاريف التي ذكرها العلماء والكتاب للقرآن الكريم ما يلي:
أ - قيل هو: اسم للمتلوّ المحفوظ المرسوم في المصاحف (3) .
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা, অথবা এটি একটি মুজিজা, কিংবা এতে এমন সব মহান বিষয় ও মাসআলা অন্তর্ভুক্ত থাকা যা একজন মুসলিমের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং আরও অনেক কিছু।
প্রকৃত সত্য হলো, এটি সেই সকল আলেম ও লেখকদের মহান কুরআনের বিষয়বস্তু, এর জ্ঞান, বিধিবিধান, মর্যাদা ও উপকারিতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান না থাকারই ফল; আর তাঁদের পক্ষে তা কীভাবে সম্ভব হতে পারে!
শাইখ মান্না আল-কাত্তান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (কুরআনুল কারীমকে জাতি, প্রজাতি ও বৈশিষ্ট্য সম্বলিত যৌক্তিক সংজ্ঞার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা দুঃসাধ্য। যাতে এর সংজ্ঞাটি একটি প্রকৃত সংজ্ঞায় পরিণত হয়। এর প্রকৃত সংজ্ঞা হলো একে মানসপটে পরিচিত হিসেবে উপস্থিত করা অথবা ইন্দ্রিয় দ্বারা প্রত্যক্ষ করা, যেমন আপনি মুসহাফে লিখিত অবস্থায় অথবা মুখে পঠিত অবস্থায় ইঙ্গিত করে বলবেন: এটি সেই কিতাব যা এই দুই মলাটের মাঝে বিদ্যমান। অথবা আপনি বলবেন: এটি হলো (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন
… থেকে মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস পর্যন্ত) (১)।
ডক্টর মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ দরাজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আলেমগণ সামগ্রিক সত্যসমূহকে যেভাবে জাতি ও প্রজাতির মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করেন, কুরআনের ক্ষেত্রে তাঁরা যে তেমনটি করেছেন, তা দ্বারা মূলত এর অর্থকে নিকটবর্তী করা এবং একে এমন কিছু থেকে পৃথক করা উদ্দেশ্য যা নামের ক্ষেত্রে এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারে—এমনকি তা যদি কাল্পনিকও হয়। কারণ মহান আল্লাহর অন্যান্য কিতাবসমূহ, হাদিসে কুদসি এবং কিছু হাদিসে নববি ওহি হওয়ার ক্ষেত্রে কুরআনের সাথে অংশীদারত্ব রাখে; ফলে কেউ হয়তো মনে করতে পারে যে সেগুলো কুরআনের নামের ক্ষেত্রেও অংশীদার। তাই তাঁরা এর এমন কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনার মাধ্যমে নামটির বিশেষত্ব স্পষ্ট করতে চেয়েছেন, যার দ্বারা এটি সেই প্রকারগুলো থেকে পৃথক হয়ে যায়) (২)।
আলেম ও লেখকগণ কুরআনুল কারীমের যেসব সংজ্ঞা প্রদান করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ক - বলা হয়েছে এটি হলো: পঠিত, সংরক্ষিত এবং মুসহাফসমূহে অঙ্কিত বাণীর নাম (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১১)
ب - وقيل هو: اسم لما بين الدفتين من كلام الله (1) .
ج - وقيل هو: الكلام المنزّل على الرسول، المكتوب في المصاحف، المنقول إلينا نقلاً متواتراً (2) .
د - وقيل في تعريفه هو: اللفظ المنزّل على النبي صلى الله عليه وسلم من أول الفاتحة إلى آخر سورة الناس (3) .
هـ - وقيل في تعريفه هو: كلام الله المنزّل على خاتم الأنبياء والمرسلين، بوساطة الأمين جبريل عليه السلام، المكتوب في المصاحف، المحفوظ في الصدور، المنقول إلينا بالتواتر، المتعبد بتلاوته، المبدوء بسورة الفاتحة، المختتم بسورة الناس) (4) .
و وقيل أيضاً في تعريفه هو: كلام الله المعجز والموحى به على خاتم الأنبياء والمرسلين، والذي أُحكمت آياته ثم فُصلت من لدن حكيم خبير
للتعبد بتلاوتها والعمل بمقتضاها في جميع جوانب الحياة، في كل زمان ومكان (5) .
ز - وقيل أيضاً في تعريفه هو: القرآن هو كلام الله المعجز، ووحيه المنزّل على نبيه محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم، المكتوب في المصاحف، المنقول عنه بالتواتر، المتعبد بتلاوته (6) .
ح - وقيل في تعريف القرآن هو: المنزّل على الرسول، المكتوب في المصاحف، المنقول عنه نقلاً متواتراً بلا شبهة (7) .
--------------------------------------------
খ - এবং বলা হয়েছে তা হলো: দুই মলাটের মাঝে বিদ্যমান আল্লাহর বাণীর নাম (১)।
গ - এবং বলা হয়েছে তা হলো: রাসূলের ওপর অবতীর্ণ বাণী, যা মাসহাফসমূহে লিখিত এবং আমাদের কাছে নিরবচ্ছিন্ন (متواتراً) বর্ণনার মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে (২)।
ঘ - এবং এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: এটি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ সেই শব্দসমষ্টি যা সূরা আল-ফাতিহার শুরু থেকে সূরা আন-নাসের শেষ পর্যন্ত (৩)।
ঙ - এবং এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: তা হলো আমীন জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মধ্যস্থতায় শেষ নবি ও রাসূলের ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর কালাম, যা মাসহাফসমূহে লিখিত, যা হৃদয়ে সংরক্ষিত, যা আমাদের কাছে নিরবচ্ছিন্নভাবে (بالتواتر) বর্ণিত হয়েছে, যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য, যা সূরা আল-ফাতিহা দিয়ে শুরু এবং সূরা আন-নাস দিয়ে শেষ হয়েছে (৪)।
চ - এবং এর সংজ্ঞায় আরও বলা হয়েছে: তা হলো আল্লাহর মুজিযাপূর্ণ বাণী এবং শেষ নবি ও রাসূলের ওপর অবতীর্ণ ওহি, যার আয়াতসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে এবং অতপর প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে
যাতে এর তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে, সকল সময়ে ও স্থানে এর বিধান অনুযায়ী আমল করা যায় (৫)।
ছ - এবং এর সংজ্ঞায় আরও বলা হয়েছে: কুরআন হলো আল্লাহর মুজিযাপূর্ণ কালাম এবং তাঁর নবি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ ওহি, যা মাসহাফসমূহে লিখিত, তাঁর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে (بالتواتر) বর্ণিত এবং যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য (৬)।
জ - এবং কুরআনের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: তা রাসূলের ওপর অবতীর্ণ, মাসহাফসমূহে লিখিত এবং তাঁর থেকে কোনো প্রকার সংশয় ব্যতিরেকে নিরবচ্ছিন্ন (متواتراً) বর্ণনার মাধ্যমে প্রাপ্ত (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১২)
ط - وقيل أيضاً في تعريف القرآن الكريم هو: كلام الله المعجز المنزّل على رسوله محمد صلى الله عليه وسلم بالوحي المنقول إلينا بالتواتر (1) .
والمتأمل في التعاريف السابقة يجد أنها إما مسهبة أو مقصرة أو متوسطة في توصيف القرآن وتعريفه، ومهما قال القائلون إلا أنهم لن يبلغوا المراد الكامل للقرآن الكريم، والمعنى الشامل لكتاب الله تعالى.
قال تعالى مخبراً عن كتابه العظيم: (وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ. عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} (الشعراء: 192-195) .
وقال تعالى أيضاً في كتابه الكريم: {الر كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ} (إبراهيم:1)
وقال تعالى أيضاً في كتابه العزيز: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدىً وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ} (يونس: 57) .
ومن خلال ما سبق يمكن أن أذكر تعريفاً أو قُل توصيفاً للقرآن الكريم فأقول هو: (كلام الله تعالى المعجز، الموحى به إلى محمد صلى الله عليه وسلم، لينذر به الخلق أجمعين، ويدعوهم إلى توحيد رب العالمين، والمكتوب بين دفتي المصحف، والمنقول إلينا بالتواتر، والمتعبد بتلاوته، والمحفوظ إلى آخر الدهر، والمشتمل على خيري الدنيا والآخرة) (2) .
--------------------------------------------
ত - আল-কুরআনুল কারিমের সংজ্ঞায় এও বলা হয়েছে যে: এটি আল্লাহ তাআলার অলৌকিক বাণী, যা তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ওহির (بالوحي) মাধ্যমে অবতীর্ণ এবং যা আমাদের নিকট নিরবচ্ছিন্ন ধারায় (بالتواتر) বর্ণিত হয়ে এসেছে (১)।
পূর্ববর্তী সংজ্ঞাগুলো নিয়ে পর্যালোচনাকারী দেখতে পাবেন যে, সেগুলো কুরআনকে চিত্রায়িত ও সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে হয় অতিবিস্তৃত, নয়তো সংক্ষিপ্ত অথবা নাতিদীর্ঘ। ব্যাখ্যাকারীরা যাই বলুন না কেন, তারা কখনোই আল-কুরআনুল কারিমের পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য এবং আল্লাহর কিতাবের সামগ্রিক মর্মার্থের কূল-কিনারা করতে পারবেন না।
মহান আল্লাহ তাঁর মহান কিতাব সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেন: {নিশ্চয় এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত আত্মা এটি নিয়ে অবতরণ করেছেন। আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন। সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।} (আশ-শুআরা: ১৯২-১৯৫)।
এবং মহান আল্লাহ তাঁর মহিমান্বিত কিতাবে আরও বলেন: {আলিফ-লাম-রা; এটি একটি কিতাব যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনতে পারেন—পরাক্রমশালী, সর্বপ্রশংসিত আল্লাহর পথের দিকে।} (ইব্রাহিম: ১)।
এবং মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে আরও বলেন: {হে মানুষ, তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এবং অন্তরের ব্যাধিগুলোর শেফা এসেছে, আর মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।} (ইউনুস: ৫৭)।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমি আল-কুরআনুল কারিমের একটি সংজ্ঞা বা বর্ণনা উল্লেখ করতে পারি, আমি বলি: (এটি আল্লাহ তাআলার অলৌকিক বাণী, যা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ওহিকৃত (الموحى به), যাতে এর মাধ্যমে সমস্ত সৃষ্টিজগতকে সতর্ক করা যায় এবং তাদেরকে বিশ্বজগতের রবের তাওহিদের দিকে আহ্বান করা যায়; যা মুসহাফের দুই মলাটের মাঝে লিপিবদ্ধ, যা আমাদের নিকট নিরবচ্ছিন্ন ধারায় (بالتواتر) বর্ণিত, যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য (المتعبد بتلاوته), যা মহাকাল অবধি সংরক্ষিত এবং যা দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ সম্বলিত) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المطلب الثالث: أسماء القرآن الكريم وأوصافه.
إن تعدد الأسماء دليل على عظم المسمى، وإيماء إلى شرفه وعلوّه ورفعته.
ولا ريب أن القرآن الكريم هو أعظم وأشرف كتاب، ولذا تعددت أسماؤه وأوصافه، وكلها مستفادة من القرآن ذاته.
ومن تلك الأسماء والأوصاف العديدة ما يلي (1) :
أ - القرآن. قال تعالى: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} (الإسراء: 9) .
ب - الفرقان. قال تعالى: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيراً} (الفرقان: 1) .
ج - الذكر. قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (الحجر: 9) .
د - الكتاب. قال تعالى: {ألم. ذَلِكَ الْكِتَابُ لا رَيْبَ فِيهِ هُدىً لِلْمُتَّقِينَ} (البقرة: 1-2) .
هـ – التنزيل. قال تعالى: {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ} (الشعراء: 192) .
و النور. قال تعالى: {قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ} (المائدة: 15) .
ز - الروح. قال تعالى: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحاً مِنْ أَمْرِنَا} (الشورى:52) .
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনুল কারীমের নাম ও গুণাবলী।
নিশ্চয়ই নামের আধিক্য নামধারী বিষয়ের মহত্ত্বের প্রমাণ এবং এর মর্যাদা, উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্বের ইঙ্গিতবাহী।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল-কুরআনুল কারীম সর্বাধিক মহান ও শ্রেষ্ঠ কিতাব; আর এই কারণেই এর নাম ও গুণাবলী অসংখ্য, যার সবগুলোই স্বয়ং কুরআন থেকেই সংগৃহীত।
সেই বহুসংখ্যক নাম ও গুণাবলীর মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ (১):
ক - আল-কুরআন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা অত্যন্ত সুদৃঢ়।" (সূরা আল-ইসরা: ৯)।
খ - আল-ফুরকান। আল্লাহ তাআলা বলেন: "পরম কল্যাণময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে।" (সূরা আল-ফুরকান: ১)।
গ - আয-যিকর। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমি যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" (সূরা আল-হিজর: ৯)।
ঘ - আল-কিতাব। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আলিফ-লাম-মীম। এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক।" (সূরা আল-বাকারা: ১-২)।
ঙ – আত-তানযীল। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" (সূরা আশ-শুআরা: ১৯২)।
চ - আন-নূর। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে।" (সূরা আল-মায়িদা: ১৫)।
ছ - আর-রূহ। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশে রূহ প্রেরণ করেছি।" (সূরা আশ-শূরা: ৫২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وغير ذلك من الأسماء والأوصاف التي ذكرها الله سبحانه وتعالى للقرآن الكريم، تعظيماً لكتابه، وتقديساً له، وتخليداً لذكره، ولفت انتباه الناس إلى أهميته وفضله وهيمنته على الكتب كلها.
ولكن الملاحظ أنه غلب من أسمائه: القرآن والكتاب.
يقول الدكتور محمد عبد الله دراز يرحمه الله (1) ((روعي في تسميته قرآناً كونه متلواً بالألسن، كما روعي في تسميته كتاباً كونه مدوناً بالأقلام،
فكلتا التسميتين من تسمية الشيء بالمعنى الواقع عليه. وفي تسميته بهذين
الاسمين إشارة إلى أن من حقه العناية بحفظه في موضعين لا في موضع واحد،
أعني أنه يجب حفظه في الصدور والسطور جميعاً، أن تضل إحداهما فتذكر إحداهما الأخرى، فلا ثقة لنا بحفظ حافظ حتى يوافق الرسم المجمع عليه من الأصحاب، المنقول إلينا جيلاً بعد جيل على هيئته التي وضع عليها أول مرة،
ولا ثقة لنا بكتابة كاتب حتى يوافق ما هو عند الحفاظ بالإسناد الصحيح المتواتر. وبهذه العناية المزدوجة التي بعثها الله في نفوس الأمة المحمدية اقتداءً بنبيها صلى الله عليه وسلم بقي القرآن محفوظاً في حرز حريز، إنجازاً لوعد الله الذي تكفل بحفظه، حيث يقول: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (الحجر: 9) .
المطلب الرابع: خصائص القرآن الكريم.
يتفرد القرآن العظيم بجملة من الخصائص، والفرائد التي تميزه عن غيره من الكتب السماوية السابقة، كما ترفعه عن غيره من كتب أهل الأرض،
--------------------------------------------
এবং এর বাইরেও এমন আরও অনেক নাম ও বৈশিষ্ট্য মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবকে মহিমান্বিত করতে, একে পবিত্র করতে, এর স্মরণকে অক্ষয় রাখতে এবং মানুষের দৃষ্টিকে এর গুরুত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও সমস্ত কিতাবের ওপর এর আধিপত্যের দিকে নিবদ্ধ করার জন্য পবিত্র কুরআনের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন।
তবে লক্ষণীয় যে, এর নামগুলোর মধ্যে 'কুরআন' এবং 'কিতাব' নাম দুটিই সর্বাধিক প্রচলিত।
ডক্টর মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ দারায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন (১): "এর নাম 'কুরআন' রাখার ক্ষেত্রে জিহ্বার মাধ্যমে পঠিত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে, ঠিক যেভাবে একে 'কিতাব' নামকরণ করার ক্ষেত্রে কলমের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে,"
"সুতরাং এই উভয় নামকরণই বস্তুর ওপর আপতিত অর্থের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আর এই দুই নামে একে অভিহিত করার মাঝে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, একে কেবল একটি স্থানে নয় বরং দুটি স্থানে সংরক্ষণের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া এর প্রাপ্য;"
"অর্থাৎ একে অন্তর ও লেখনী উভয় মাধ্যমেই সংরক্ষণ করা আবশ্যক, যাতে একটিতে বিচ্যুতি ঘটলে অন্যটি তা স্মরণ করিয়ে দেয়। সুতরাং কোনো মুখস্থকারীর হিফযের ওপর আমাদের কোনো আস্থা (ثقة) নেই যতক্ষণ না তা সাহাবীগণের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত লিখন পদ্ধতির সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের কাছে এর আদি রূপে অবিকৃত অবস্থায় পৌঁছেছে,"
"অনুরূপভাবে, কোনো লেখকের লিখনীর ওপরও আমাদের কোনো আস্থা (ثقة) নেই যতক্ষণ না তা হাফেজদের নিকট সংরক্ষিত সেই পাঠের সাথে মিলে যায় যা সহিহ (صحيح) ও মুতাওয়াতির (متواتر) সনদ (إسناد) এর মাধ্যমে সাব্যস্ত। আর মহান আল্লাহ তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুসরণে উম্মতে মুহাম্মাদীর অন্তরে যে দ্বিমুখী তদারকির প্রেরণা জাগ্রত করেছেন, তার ফলেই কুরআন অত্যন্ত সুরক্ষিত দুর্গে সংরক্ষিত রয়ে গেছে। এটি মূলত আল্লাহর সেই ওয়াদারই বাস্তবায়ন যেখানে তিনি এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি ইরশাদ করেছেন: 'নিশ্চয় আমি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।' (আল-হিজর: ৯)।"
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের বৈশিষ্ট্যসমূহ।
মহিমান্বিত কুরআন এমন কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও অনন্য গুণের অধিকারী যা একে পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহ থেকে আলাদা করে এবং পৃথিবীর মানুষের রচিত অন্যান্য গ্রন্থ থেকে একে উচ্চ মর্যাদা দান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وهذه الخصائص والفرائد والمزايا عديدة ومتنوعة، ولا يمكن حصرها في صفحات محدودة، ولكن يمكن لنا الاشارة إلى أهم تلك الخصائص، والمتمثلة فيما يلي:
1- أنه من عند الله:
كما قال تعالى: {وَلَمَّا جَاءَهُمْ كِتَابٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَهُمْ وَكَانُوا مِنْ قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَمَّا جَاءَهُمْ مَا عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْكَافِرِينَ} (البقرة:89) .
وقال تعالى أيضاً: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً} (النساء: 82) .
2- أنه كلام الله تعالى:
وهذه من أخص خصائص كتاب الله تعالى كما قال سبحانه: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلامَ اللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لا يَعْلَمُونَ} (التوبة: 6) .
3- نزوله منجماً:
والمقصود بذلك نزول القرآن الكريم مفرقاً في مدة ثلاث وعشرين سنة (1) .
--------------------------------------------
এই বৈশিষ্ট্যসমূহ, অনন্য দিকসমূহ এবং মহত্বসমূহ অসংখ্য ও বহুমুখী, যা সীমিত কিছু পৃষ্ঠায় সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। তবে আমরা এর মধ্যকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলোর দিকে ইঙ্গিত করতে পারি, যা নিম্নরূপ:
১- এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত:
যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক কিতাব আসল যা তাদের কাছে থাকা কিতাবের সত্যায়নকারী, অথচ এর আগে তারা কাফিরদের বিরুদ্ধে (এর মাধ্যমে) বিজয় প্রার্থনা করত; অতঃপর যখন তাদের কাছে সেই সত্যটি আসল যা তারা চিনতে পেরেছিল, তখন তারা তা অস্বীকার করে বসল। সুতরাং কাফিরদের ওপর আল্লাহর লানত।} (আল-বাকারাহ: ৮৯)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত।} (আন-নিসা: ৮২)।
২- এটি মহান আল্লাহ তাআলার বাণী:
এটি আল্লাহর কিতাবের সবচেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর মুশরিকদের মধ্যে যদি কেউ আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দিন যাতে সে আল্লাহর বাণী শুনতে পায়; তারপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিন। এটি এ কারণে যে, তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা প্রকৃত জ্ঞান রাখে না।} (আত-তাওবাহ: ৬)।
৩- পর্যায়ক্রমে (منجماً) অবতীর্ণ হওয়া:
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পবিত্র কুরআন তেইশ বছর সময়কালে ধাপে ধাপে (مفرقاً) অবতীর্ণ হওয়া (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
أما الكتب السماوية السابقة فكانت تنزل دفعة واحدة (1) . ومن هنا كان تعجب المشركين من عدم نزول القرآن الكريم مرة واحدة، وهو ما حكاه الله تعالى بقوله: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً كَذَلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلاً} (الفرقان: 32) .
4- حفظ الله تعالى له:
وهذه الخاصية تعني تكفل الله تعالى بحفظ كتابه من انتحال المبطلين، وادعاء المدعين، وتخرّص المكذبين وعدم ضياعه على توالي الدهور والليالي والأيام. قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (الحجر: 9) .
يقول الحافظ ابن كثير في تفسير الآية: قرّر تعالى أنه هو الذي أنزل القرآن الكريم، وهو الحافظ له من التغيير والتبديل (2) .
5- هيمنته على الكتب السابقة:
والمقصود بذلك: إتيان القرآن على ما في الكتب السماوية السابقة، وشهادته عليها، واحتواؤه لفضائلها ومزاياها، وزيادته على ذلك.
قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقاً لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِناً عَلَيْهِ} (المائدة: 48) .
يقول الحافظ ابن الجوزي في معنى الآية: وأصل كلمة مهيمن مؤيمن، وترد على أربعة أنحاء:
أ - مؤتمناً على ما قبله من الكتب.
ب - وشاهداً عليها.
--------------------------------------------
পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহ একবারে (جملة واحدة) অবতীর্ণ হতো (১)। এ কারণেই পবিত্র কুরআন একবারে অবতীর্ণ না হওয়ায় মুশরিকরা বিস্ময় প্রকাশ করেছিল, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন: "আর কাফিররা বলে, কেন তাঁর ওপর সম্পূর্ণ কুরআন একবারে (جملة واحدة) নাযিল করা হলো না? এভাবেই আমি তা নাযিল করেছি তোমার হৃদয়কে তা দিয়ে মজবুত করার জন্য এবং আমি তা সুবিন্যস্তভাবে পাঠ করেছি।" (আল-ফুরকান: ৩২)।
৪- আল্লাহ তাআলা কর্তৃক এটি সংরক্ষণ:
এই বৈশিষ্ট্যটির অর্থ হলো আল্লাহ তাআলা নিজ কিতাবকে বাতিলপন্থীদের বিকৃতি, মিথ্যাবাদীদের দাবি এবং অস্বীকারকারীদের অপপ্রচার থেকে রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং কালপরিক্রমায় দিন-রাতের আবর্তনে একে হারিয়ে যাওয়া থেকে হেফাজত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমি এই জিকির (কুরআন) নাযিল করেছি এবং নিশ্চয়ই আমি একে সংরক্ষণ করব।" (আল-হিজর: ৯)।
হাফিজ (الحافظ) ইবনে কাসির এই আয়াতের তাফসিরে বলেন: আল্লাহ তাআলা এটি সুনিশ্চিত করেছেন যে, তিনিই পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন এবং তিনিই একে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন থেকে সংরক্ষণ করবেন (২)।
৫- পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব ও তদারকি:
এর উদ্দেশ্য হলো: পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে যা ছিল কুরআন তা সমর্থন করে এসেছে, সেগুলোর সত্যতার সাক্ষ্য প্রদানকারী (شاهداً), সেগুলোর বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলিকে ধারণকারী এবং তার অতিরিক্ত শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হওয়া।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যয়নকারী এবং তার ওপর তদারককারী (مهيمناً)।" (আল-মায়িদাহ: ৪৮)।
হাফিজ (الحافظ) ইবনুল জাওজি এই আয়াতের অর্থে বলেন: 'মুহাইমিন' শব্দের মূল হলো 'মুআইমিন' এবং এটি চারটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
ক - পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ওপর আমানতদার (مؤتمناً)।
খ - এবং সেগুলোর ওপর সাক্ষী (شاهداً)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ج - والمصدق على ما أخبر عنها.
د - والرقيب والحافظ عليها (1) .
6- ختمه للكتب السابقة:
والمقصود بذلك أن القرآن الكريم هو آخر الكتب السماوية نزولاً،
فلا كتاب بعده إلى قيام الساعة، وفي هذا دليل على خصوصيته، وأهمية العناية والاهتمام به. قال تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْأِسْلامَ دِيناً} (المائدة: 3) .
7- إعجازه:
يمتاز القرآن العظيم بأنه كتاب معجز في كل شيء، وقد تحدى الله تعالى به العرب، وهم أهل اللغة، وأرباب البيان فعجزوا عن الإتيان بمثله أو بأقل سورة منه، مع قدرتهم على نظم الكلام وتذوقهم له، وانفرادهم من بين الأمم بخاصية القول، وعذوبته، وجماله، وتقديرهم له، وهذا واضح في شعرهم، ونثرهم. قال تعالى: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْأِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً} (الإسراء: 88) .
8- يسره للناس:
من الخصائص العظيمة للقرآن الكريم أنه ميسر لكل من يطلع عليه، يطلب وجه الحق والخير والصواب، وهذا التيسير القرآني يشمل عدة جوانب منه: كقرائته، وحفظه، واستذكاره، وتدبره، وتأمله، ومعرفة علومه، ومعانيه
--------------------------------------------
জ - এবং সেগুলোতে যা সংবাদ দেওয়া হয়েছে তার সত্যায়নকারী।
দ - এবং সেগুলোর উপর রক্ষক ও সংরক্ষণকারী (১)।
৬- পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সমাপ্তি ঘোষণা:
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—কুরআন কারিম অবতীর্ণ আসমানি কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বশেষ,
তাই কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত এর পরে আর কোনো কিতাব আসবে না। এর মধ্যে কুরআনের অনন্যতা এবং এর প্রতি যত্ন ও বিশেষ মনোযোগ প্রদানের গুরুত্বের প্রমাণ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" (আল-মায়িদাহ: ৩)।
৭- এর অলৌকিকত্ব:
মহান কুরআন এই বৈশিষ্ট্যে অনন্য যে, এটি সর্ববিষয়ে একটি অলৌকিক কিতাব। আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে আরবদের চ্যালেঞ্জ করেছেন, অথচ তারা ছিল ভাষার পণ্ডিত ও অলঙ্কারশাস্ত্রের অধিপতি; তবুও তারা এর সমতুল্য কিছু বা এর ক্ষুদ্রতম একটি সূরা উপস্থাপনেও অক্ষম হয়েছে; যদিও শব্দশৈলী ও বাক্য বিন্যাসে তাদের পূর্ণ সক্ষমতা ছিল এবং সকল জাতির মধ্যে বাগ্মিতা, মাধুর্য ও সৌন্দর্যে তারা অনন্য ছিল এবং তারা এর কদর বুঝত। তাদের কবিতা ও গদ্যে এটি সুষ্পষ্ট। আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।" (আল-ইসরা: ৮৮)।
৮- মানুষের জন্য এর সহজতা:
কুরআন কারিমের অন্যতম মহান বৈশিষ্ট্য হলো, যে কেউ সত্য, কল্যাণ ও সঠিক পথের সন্ধানে এটি পাঠ করে, তার জন্য এটি অত্যন্ত সহজসাধ্য। কুরআনের এই সহজতা বেশ কিছু দিককে পরিব্যপ্ত করে: যেমন এটি পাঠ করা, হিফয করা, স্মরণ করা, অনুধাবন করা, গভীর চিন্তা করা এবং এর বিভিন্ন জ্ঞান ও অর্থ সম্পর্কে অবগত হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
، وفقهه. قال تعالى: {وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ} (القمر: 17) .
9- شموله للخلق أجمعين:
إن من فرائد القرآن العظيم أنه كتاب لجميع الخلق، وذلك بعكس الكتب السماوية الأخرى التي كانت خاصة لأناس معينين. أما القرآن الحكيم فهو دعوة الله للناس أجمعين، وحجته على الخلق، ورسالته لجميع البشر.
قال تعالى: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعاً} (الأعراف: 158) . وقال تعالى: {وَمَا هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعَالَمِينَ} (القلم: 52) .
10- تضمّنه لخيري الدنيا والآخرة:
إن المتأمل في كتاب الله تعالى يجد أنَّه قد اشتمل على ما ينفع الإنسان في
دنياه، وآخرته، فما من خيرٍ إلا ودلّه عليه، وما من شرٍّ إلا وحذَّره منه.
قال تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} (الأنعام: 38) .
, এবং তা অনুধাবন করা। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {আর আমি অবশ্যই কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, সুতরাং কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?} (আল-কামার: ১৭)।
৯- সকল সৃষ্টির জন্য এর ব্যাপকতা:
নিশ্চয়ই মহান কুরআনের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে একটি হলো এটি সকল সৃষ্টির জন্য একটি কিতাব; এটি অন্যান্য আসমানি কিতাবসমূহের বিপরীত, যা নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য বিশেষায়িত ছিল। পক্ষান্তরে, এই প্রজ্ঞাময় কুরআন হলো সকল মানুষের প্রতি আল্লাহর দাওয়াত, সৃষ্টির ওপর তাঁর অকাট্য প্রমাণ এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য তাঁর প্রেরিত পয়গাম।
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {বলুন, হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল} (আল-আরাফ: ১৫৮)। মহান আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেছেন: {আর এটি তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ছাড়া আর কিছুই নয়} (আল-কালাম: ৫২)।
১০- দুনিয়া ও আখেরাতের উভয় কল্যাণ অন্তর্ভুক্ত থাকা:
নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে, সে দেখতে পাবে যে এটি এমন সব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা মানুষের
দুনিয়া ও আখেরাতে উপকারে আসে। এমন কোনো কল্যাণ নেই যার দিকে এটি তাকে পথপ্রদর্শন করেনি এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে এটি তাকে সতর্ক করেনি।
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {আমি এই কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি} (আল-আনআম: ৩৮)।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الثاني: أهمية الدعوة إلى التمسّك بالقرآن الكريم.
أرسل الله تعالى نبيه المصطفى، ورسوله المجتبى محمدا صلى الله عليه وسلم، بخاتمة الرسائل، وآخر الدعوات، وأنزل معه الكتاب الكريم ليكون للعالمين نذيراً،
وهادياً ودليلاً، وسراجاً منيراً. وأمر الله تبارك وتعالى الناس بالتمسك بكتابه الكريم وحفظه، والعناية به، وعدم تفريطه، أو التهاون فيه. قال تعالى: {فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِي أُوحِيَ إِلَيْكَ إِنَّكَ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} (الزخرف: 43) .
يقول ابن جرير الطبري في تفسيره للآية الكريمة:
((يقول تعالى ذكره لنبيّه محمد صلى الله عليه وسلم: فتمسّك يا محمد بما يأمرك به هذا القرآن الذي أوحاه إليك ربك، {إِنَّكَ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} ومنهاج سديد، وذلك هو دين الله الذي أمر به، وهو الإسلام (1)) ) .
وقال الحافظ ابن كثير في تفسيره لهذه الآية الكريمة:
((أي: خذ بالقرآن المنزل على قلبك فإنه هو الحق وما يهدي إليه هو الحق المفضي إلى صراط الله المستقيم، الموصل إلى جنات النعيم، والخير الدائم المقيم)) (2) .
ويقول الفخر الرازي في تفسيره لهذه الآية الكريمة:
{فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِي أُوحِيَ إِلَيْكَ} : بأن تعتقد أنه حق، وبأن تعمل بموجبه، فإنه الصراط المستقيم الذي لا يميل عنه إلا ضال في الدين (3) .
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনকে আঁকড়ে ধরার দাওয়াতের গুরুত্ব।
আল্লাহ তাআলা তাঁর মনোনীত নবী এবং নির্বাচিত রসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সর্বশেষ রিসালাত ও চূড়ান্ত দাওয়াতের মাধ্যমে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর সাথে পবিত্র কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যেন তিনি বিশ্ববাসীর জন্য সতর্ককারী হন,
এবং পথপ্রদর্শক, প্রমাণ ও উজ্জ্বল প্রদীপস্বরূপ হন। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা মানুষকে তাঁর পবিত্র কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে, তা সংরক্ষণ করতে, এর প্রতি যত্নবান হতে এবং এতে কোনো প্রকার অবহেলা বা শিথিলতা প্রদর্শন না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {অতএব আপনার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন, নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের ওপর রয়েছেন} (সূরা যুখরুফ: ৪৩)।
ইমাম ইবনে জারীর আত-তাবারী এই পবিত্র আয়াতের তাফসীরে বলেন:
((মহান আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি তাঁর আলোচনা পেশ করে বলছেন: হে মুহাম্মাদ! আপনার প্রতিপালক আপনার নিকট ওহী হিসেবে যে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, তা আপনাকে যা নির্দেশ প্রদান করে আপনি তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করুন; {নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের ওপর রয়েছেন} এবং সঠিক আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছেন। আর এটিই হলো আল্লাহর মনোনীত দ্বীন যার নির্দেশ তিনি দিয়েছেন, আর তা হলো ইসলাম (১)।))
এবং হাফেজ (الحافظ) ইবনে কাসীর এই পবিত্র আয়াতের তাফসীরে বলেন:
((অর্থাৎ: আপনার অন্তরে অবতীর্ণ কুরআনকে গ্রহণ করুন, কারণ এটিই হলো সত্য এবং এটি যার দিকে পথপ্রদর্শন করে তা-ই সত্য যা আল্লাহর সরল পথের দিকে ধাবিত করে, যা সুখময় জান্নাত ও চিরস্থায়ী কল্যাণের দিকে পৌঁছে দেয় (২)।))
এবং ফখর রাজী এই পবিত্র আয়াতের তাফসীরে বলেন:
{অতএব আপনার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন}: অর্থাৎ—এটি যে সত্য তা বিশ্বাস করার মাধ্যমে এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে। কেননা এটিই সেই সরল পথ যা থেকে কেবল দ্বীনের ব্যাপারে পথভ্রষ্টরাই বিচ্যুত হয় (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقال القاسمي في تفسيره للآية الكريمة:
{فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِي أُوحِيَ إِلَيْكَ إِنَّكَ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} يعني: دين الله الذي أمر به وهو الإسلام، فإنه كامل الاستقامة من كل وجه. قال الشهاب: هذا تسلية له صلى الله عليه وسلم وأمر لأمته أوله، بالدوام على التمسك (1) .
ومن مجموع أقوال المفسرين للآية الكريمة، يمكن لنا الخلوص بالهدايات التالية:
1- أهمية الاعتقاد الصحيح في دين الإسلام، وذلك يقتضي بأن تكون العقيدة الحقة بعيدة كل البعد عن الباطل والشرك والبدع.
2- أهمية التمسك بالقرآن الكريم، الذي هو وحي الله تعالى، ورسالته العظيمة، ودعوته الباقية للناس أجمعين.
3- أن التمسك بالقرآن العظيم يوصل بإذن الله تعالى إلى جنات النعيم، والخير الدائم المقيم.
4- أهمية العمل بالقرآن الكريم، وتطبيقه في واقع الحياة المعاش فإن ذلك من أعظم الأدلة، وأوثق البراهين على صدق دعوى التمسك به.
5- أن القرآن الكريم كامل الاستقامة من كل وجه، خال من العيوب، صافٍ من الكدورات، فاستحق بذلك التمسك والعمل والإيمان به.
6- وضوح المنهج الذي دعا به النبي صلى الله عليه وسلم، لأنه منهج يسير على ضوء وتعاليم القرآن الكريم.
7- وفي الآية كذلك خطورة عدم التمسك بالقرآن الكريم، أو الميل عنه، وعدم الوثوق بعراه، وأن ذلك دلالة على الشقاء والعياذ بالله.
--------------------------------------------
আল-কাসিমি এই মহিমান্বিত আয়াতের তাফসিরে বলেন:
{সুতরাং আপনার প্রতি যে ওহি (وحي) করা হয়েছে তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন; নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত।} অর্থাৎ: আল্লাহর দ্বীন যার আদেশ তিনি দিয়েছেন এবং তা হলো ইসলাম, যা সর্বদিক দিয়ে পূর্ণাঙ্গরূপে সঠিক। শিহাব বলেন: এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য সান্ত্বনা এবং প্রাথমিকভাবে তাঁর উম্মতের জন্য দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ (১)।
এই মহিমান্বিত আয়াতের মুফাসসিরদের বক্তব্যের সমষ্টি থেকে আমরা নিম্নোক্ত হিদায়াতগুলো লাভ করতে পারি:
১- ইসলাম ধর্মে সঠিক আকিদার গুরুত্ব, আর এটি দাবি করে যে সত্য আকিদা বাতিল, শিরক এবং বিদআত থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে হবে।
২- পবিত্র কুরআনকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার গুরুত্ব, যা মহান আল্লাহর ওহি (وحي), তাঁর মহান বার্তা এবং সমস্ত মানুষের জন্য তাঁর শাশ্বত আহ্বান।
৩- মহান কুরআনকে আঁকড়ে ধরা আল্লাহর ইচ্ছায় নিয়ামতপূর্ণ জান্নাত এবং চিরস্থায়ী কল্যাণের দিকে পৌঁছে দেয়।
৪- কুরআন অনুযায়ী আমল করা এবং বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগের গুরুত্ব; কেননা এটিই কুরআনকে আঁকড়ে ধরার দাবির সত্যতার ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ দলিল এবং শক্তিশালী প্রমাণসমূহের অন্যতম।
৫- পবিত্র কুরআন সর্বদিক থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে সঠিক, এটি ত্রুটিমুক্ত এবং সকল প্রকার আবিলতা থেকে পরিচ্ছন্ন; তাই এটি আঁকড়ে ধরা, আমল করা এবং এর ওপর ঈমান আনা অপরিহার্য।
৬- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে মানহাজের (منهج) দিকে আহ্বান জানিয়েছেন তার স্পষ্টতা; কারণ এটি এমন এক মানহাজ (منهج) যা পবিত্র কুরআনের আলো ও শিক্ষার ওপর পরিচালিত।
৭- এই আয়াতে একইভাবে কুরআনকে আঁকড়ে না ধরার বা তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার এবং এর রজ্জুকে মজবুতভাবে ধারণ না করার ভয়াবহতা বর্ণিত হয়েছে; আর এটি দুর্ভাগ্যের পরিচায়ক—আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২১)
ويقول تعالى آمراً نبيّه صلى الله عليه وسلم بالدعوة إلى ما أمره به وأنزله عليه وهو القرآن الكريم، وعدم اتباع الأهواء المضلة: {فَلِذَلِكَ فَادْعُ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَلا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَقُلْ آمَنْتُ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنْ كِتَابٍ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ اللَّهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ لا حُجَّةَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ اللَّهُ يَجْمَعُ بَيْنَنَا وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ} الشورى: 15) . في هذه الآية الكريمة أمرٌ من الله تعالى لنبيه صلى الله عليه وسلم بالدعوة كما أمره وبينها له في كتابه الكريم، والاستقامة على ذلك، وعدم اتباع الأهواء المنحرفة والضالة.
ومن جملة ما أمره الله تعالى به: الإيمان بالكتب المنزلة على الأنبياء والرسل عليهم الصلاة والسلام السابقين له، وكذلك أمره تعالى بالعدل بين الناس.
كما أمر الله تعالى نبيَّه صلى الله عليه وسلم أن ينبّه الناس إلى مسألة هامة ضل فيها كثير من البشر ألا وهي مسألة توحيد الله تعالى فهو سبحانه الإله والرب الذي لا شريك له، ولا ند له، ولا كفو له. ثم أمر الله تعالى نبيَّه صلى الله عليه وسلم أن يقول للناس بأن لكل قوم عملهم، وأنه تعالى سوف يجمع الناس ويجازيهم على أعمالهم إن خيراً فخير، وإن شراً فشر.
يقول الحافظ ابن كثير موضحاً تلك المعاني ومركزاً إياها في نقاط محددة:
اشتملت هذه الآية الكريمة على عشر كلمات مستقلات كل منها منفصلة عن التي قبلها، حكم برأسها، قالوا: ولا نظير لها سوى آية الكرسي، فإنها أيضاً عشر فصول كهذه. وقوله: {فَلِذَلِكَ فَادْعُ} أي فللذي أوحينا إليك
মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই দিকে দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন যা তিনি তাঁকে আদেশ করেছেন এবং তাঁর প্রতি অবতীর্ণ করেছেন—যা হলো পবিত্র কুরআন—এবং বিভ্রান্তিকর প্রবৃত্তির অনুসরণ না করতে বলেন: {কাজেই আপনি সেই দিকেই দাওয়াত দিন এবং আপনি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছেন তাতে অবিচল থাকুন (استقامة), আর তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না। বলুন, ‘আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন আমি তাতে ঈমান এনেছি এবং আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি তোমাদের মধ্যে ইনসাফ করি। আল্লাহ আমাদের রব এবং তোমাদেরও রব। আমাদের আমল আমাদের জন্য এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্য। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে কোনো বিবাদ নেই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে একত্রিত করবেন এবং তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে’} (আশ-শূরা: ১৫)। এই সম্মানিত আয়াতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে যেমনটি তিনি তাঁকে তাঁর সম্মানিত কিতাবে আদেশ করেছেন ও বর্ণনা করেছেন, এবং তাতে অবিচল থাকার (استقامة) এবং বিচ্যুত ও বিভ্রান্তিকর প্রবৃত্তির অনুসরণ না করার নির্দেশ রয়েছে।
মহান আল্লাহ তাঁকে যে সমস্ত নির্দেশ দিয়েছেন তার অন্তর্ভুক্ত হলো: তাঁর পূর্ববর্তী নবী ও রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) ওপর অবতীর্ণ কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনা, এবং একইভাবে মহান আল্লাহ তাঁকে মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করতে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে অনেক মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছে, আর তা হলো মহান আল্লাহর তাওহীদের বিষয়টি। কেননা তিনি অতি পবিত্র, তিনিই একমাত্র ইলাহ ও রব যাঁর কোনো অংশীদার নেই, কোনো সমকক্ষ নেই এবং কোনো তুলনা নেই। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেন মানুষকে এটি বলতে যে, প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য তাদের নিজস্ব আমল রয়েছে এবং মহান আল্লাহ অচিরেই মানুষকে একত্রিত করবেন এবং তাদের আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন—যদি ভালো হয় তবে প্রতিদান ভালো হবে, আর যদি মন্দ হয় তবে প্রতিদান মন্দ হবে।
হাফিজ (الحافظ) ইবনে কাসির এই অর্থগুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এবং নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে তা কেন্দ্রীভূত করে বলেন:
এই সম্মানিত আয়াতটি দশটি স্বতন্ত্র বাক্য নিয়ে গঠিত যার প্রতিটি তার পূর্ববর্তী বাক্য থেকে বিচ্ছিন্ন, প্রতিটি নিজেই একটি স্বতন্ত্র বিধান (حكم)। উলামাগণ বলেন: আয়াতুল কুরসি ব্যতীত এর আর কোনো নজির নেই, কারণ সেটিও এর মতো দশটি পরিচ্ছেদ (فصل) বিশিষ্ট। আর তাঁর বাণী: {কাজেই আপনি সেই দিকেই দাওয়াত দিন} অর্থাৎ আমি আপনার প্রতি যা ওহি করেছি তার দিকেই।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২২)
من الدين الذي وَصَّينا به جميع المرسلين قبلك أصحاب الشرائع الكبار المتبعة كأولي العزم وغيرهم فادع الناس إليه. وقوله عز وجل {وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ} ، أي: واستقم أنت ومن اتبعك على عبادة الله تعالى كما أمركم الله عز وجل. وقوله تعالى {وَلا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ} يعني: المشركين فيما اختلقوه وكذّبوه وافتروه من عبادة الأوثان. وقوله جل وعلا: {وَقُلْ آمَنْتُ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنْ كِتَابٍ} أي: صدقت بجيمع الكتب المنزلة من السماء على الأنبياء لا نفرق بين أحد منهم. وقوله: {وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ} أي: في الحكم كما أمرني الله. وقوله: {اللَّهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ} أي: هو المعبود لا إله غيره فنحن نقرّ بذلك اختياراً وأنتم وإن لم تفعلوه اختياراً فله يسجد من في العالمين طوعاً وإجباراً. وقوله {لنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ} أي: نحن برآء منكم.. وقوله: {لا حُجَّةَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ} قال مجاهد: أي لا خصومة، قال السُّدِّي: وذلك قبل نزول آية السيف، وهذا متجه لأن هذه الآية مكية وآية السيف بعد الهجرة. وقوله عز وجل: {اللَّهُ يَجْمَعُ بَيْنَنَا} أي: يوم القيامة.. وقوله: {وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ} أي: المرجع والمآب يوم الحساب. ا. هـ (1) .
ويتضح لنا من خلال تفسير الآية الكريمة:
الأمر بالتمسّك بالقرآن العظيم، والاستقامة عليه، والدعوة إليه، والحذر مما يضاد ذلك كله، وهذا في الحقيقة راجع إلى أن: (القرآن الكريم هـوكتاب الدعوة الإسلامية الشاملة للعقيدة والشريعة، والذي اشتمل على بيان العقيدة في صفائها، وعلى وضع أسس التشريع في مختلف الجوانب التي تمس حياة العباد) (2) .
--------------------------------------------
আপনার পূর্ববর্তী সকল রাসূলগণকে—যাঁরা অনুসরণযোগ্য মহান শরীয়তসমূহের অধিকারী ছিলেন যেমন উলুল আযম ও অন্যান্যগণ—যেই দ্বীনের নির্দেশ আমি দিয়েছি, আপনি মানুষকে সেই দিকেই আহ্বান করুন। আর মহান আল্লাহর বাণী {এবং তুমি সুদৃঢ় থাকো যেভাবে তোমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে}, অর্থাৎ: আপনি এবং আপনার অনুসারীরা মহান আল্লাহর ইবাদতের ওপর অটল থাকুন যেভাবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আপনাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এবং মহান আল্লাহর বাণী {এবং তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না} অর্থাৎ: মুশরিকরা মূর্তিপূজার বিষয়ে যা কিছু উদ্ভাবন করেছে, মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং অপবাদ আরোপ করেছে তার অনুসরণ করবেন না। এবং সুমহান আল্লাহর বাণী: {আর বলো: আমি ঈমান এনেছি আল্লাহ যে কিতাব নাজিল করেছেন তার ওপর} অর্থাৎ: নবীদের ওপর আসমান থেকে অবতীর্ণ সকল কিতাবকে আমি সত্য বলে স্বীকার করেছি, আমরা তাঁদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। এবং তাঁর বাণী: {এবং তোমাদের মাঝে ন্যায়বিচার করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি} অর্থাৎ: ফয়সালার ক্ষেত্রে যেভাবে আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহই আমাদের রব এবং তোমাদের রব} অর্থাৎ: তিনিই একমাত্র মাবুদ, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং আমরা স্বেচ্ছায় তা স্বীকার করি, আর আপনারা স্বেচ্ছায় তা না করলেও বিশ্বজগতের যা কিছু আছে সবাই ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় তাঁরই প্রতি সিজদাবনত হয়। এবং তাঁর বাণী {আমাদের আমল আমাদের জন্য এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্য} অর্থাৎ: আমরা তোমাদের থেকে সম্পর্কহীন.. এবং তাঁর বাণী: {আমাদের ও তোমাদের মধ্যে কোনো বিতর্কের (حجة) অবকাশ নেই} মুজাহিদ বলেন: অর্থাৎ কোনো ঝগড়া-বিবাদ নেই; সুদ্দী বলেন: এটি তলোয়ারের আয়াত (আয়াতুস সাইফ) অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের কথা। আর এটিই সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি কারণ এই আয়াতটি মক্কী (مكية) এবং তলোয়ারের আয়াতটি হিজরতের পরবর্তী সময়ের। মহান আল্লাহর বাণী {আল্লাহ আমাদের সকলকে একত্রিত করবেন} অর্থাৎ: কিয়ামতের দিনে.. এবং তাঁর বাণী: {এবং প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে} অর্থাৎ: হিসাবের দিনে প্রত্যাবর্তনস্থল ও শেষ আশ্রয়। সমাপ্ত। (১) ।
পবিত্র আয়াতের তাফসীর থেকে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে:
মহান কুরআনকে আঁকড়ে ধরা, এর ওপর অটল থাকা, এর দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং এর পরিপন্থী সকল বিষয় থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি প্রকৃতপক্ষে এই বিষয়ের দিকেই ধাবিত করে যে: (কুরআনুল কারীম হলো আকীদা ও শরীয়তকে শামিলকারী ইসলামী দাওয়াতের এমন এক কিতাব, যা বিশুদ্ধভাবে আকীদার বর্ণনা এবং বান্দার জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিকের আইন প্রণয়নের মূলনীতিসমূহ ধারণ করে আছে) (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وكذلك اشتمل القرآن العظيم على الحقائق الكاملة التي حارت الإنسانية واختلفت فيها، كما قال تعالى: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَقُصُّ عَلَى بَنِي إِسْرائيلَ أَكْثَرَ الَّذِي هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ} (النمل: 76) .
وكذلك اشتمل كتاب الله تعالى على إيضاح المنهج القويم الذي ينبغي أن يسير عليه المؤمن في حياته دون عوج أو اضطراب كما قال تعالى: {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجاً} (المائدة: 48) .
كذلك تضمن كتاب الله تعالى الإخبار عن أحوال الأنبياء والرسل عليهم الصلاة والسلام وما جاءوا به، وأمروا ونهوا عنه، كما قال تعالى: {رُسُلاً مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} (النساء:165) .
وتضمن كتاب الله تعالى أيضاً الوعد والوعيد، والجزاء الحاصل على الأعمال في الحياة الدنيا ويوم يقوم الأشهاد. كما قال تعالى {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْناً يَعْبُدُونَنِي لا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئاً وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} (النور: 55) .
তেমনিভাবে মহান কুরআন সেই সকল পূর্ণাঙ্গ সত্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যে বিষয়ে মানবজাতি বিভ্রান্ত হয়েছে এবং মতভেদ করেছে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই কুরআন বনী ইসরাঈলরা যেসব বিষয়ে মতভেদ করে তার অধিকাংশ তাদের কাছে বর্ণনা করে।" (আন-নামল: ৭৬)।
অনুরূপভাবে আল্লাহর কিতাব সেই সঠিক পদ্ধতির (منهاج) স্পষ্ট বর্ণনাকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার ওপর একজন মুমিনের জীবনে বক্রতা বা অস্থিরতা ছাড়াই চলা উচিত, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরিয়ত (شرعة) ও সঠিক পথ (منهاج) নির্ধারণ করে দিয়েছি।" (আল-মায়িদাহ: ৪৮)।
তদ্রূপ আল্লাহর কিতাব নবী ও রাসুলগণের (তাদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) অবস্থা এবং তারা যা নিয়ে এসেছেন, যার আদেশ দিয়েছেন এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন সে সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করেছে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসুলগণকে প্রেরণ করা হয়েছে, যাতে রাসুলগণের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে।" (আন-নিসা: ১৬৫)।
আল্লাহর কিতাব আরও অন্তর্ভুক্ত করেছে প্রতিশ্রুতি (وعد) ও সতর্কবাণী (وعيد), এবং পার্থিব জীবনে ও সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হওয়ার দিনে আমলসমূহের অর্জিত প্রতিদান। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি (وعد) দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন এবং তাদের জন্য তিনি তাদের সেই দীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাদের ভয়ের পর অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। আর এরপর যারা কুফরি করবে, তারাই পাপাচারী (فاسقون)।" (আন-নূর: ৫৫)।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المبحث الثالث: مظاهر التمسّك بالقرآن الكريم.
إن دعوى التمسك بالقرآن العظيم تحتاج إلى براهين تدلّ عليها، وإلى مظاهر تؤكدّها وترشد إليها.
فمن مظاهر التمسك بالقرآن الكريم ما يلي:
أولاً: الإيمان به:
ومقتضى هذا الاعتقاد الجازم الذي لا يخالطه شك ولا يمازجه ريب أن القرآن الكريم كلام الله تعالى، ووحيه إلى نبيّه محمد صلى الله عليه وسلم، لدعوة الخلق أجمعين. كما قال تعالى: {وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ} (الأنعام:19) .
كما أن من لوازم الإيمان بالقرآن الكريم الإيمان الجازم بكل ما جاء فيه، واعتقاد أنه الحق والصواب، كما قال تعالى: {وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَيُؤْمِنُوا بِهِ فَتُخْبِتَ لَهُ قُلُوبُهُمْ وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آمَنُوا إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} (الحج: 54) .
يقول البيضاوي في تفسير هذه الآية:
{وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ} أن القرآن هو الحق النازل من عند الله
… ، {فَيُؤْمِنُوا بِهِ} بالقرآن أو بالله، {فَتُخْبِتَ لَهُ قُلُوبُهُمْ} بالانقياد والخشية، {وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آمَنُوا} فيما أشكل {إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} هو نظر صحيح يوصلهم إلى ما هو الحق فيه (1) .
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনুল কারীমের আদর্শ আঁকড়ে ধরার বহিঃপ্রকাশ।
নিশ্চয়ই মহাগ্রন্থ কুরআনের আদর্শ আঁকড়ে ধরার দাবিটির সপক্ষে এমন প্রমাণের প্রয়োজন যা একে নির্দেশ করবে এবং এমন সব বহিঃপ্রকাশ প্রয়োজন যা একে সুনিশ্চিত করবে ও এর অভিমুখে পথ দেখাবে।
কুরআনুল কারীমকে আঁকড়ে ধরার কিছু বহিঃপ্রকাশ নিম্নরূপ:
প্রথমত: এর প্রতি ঈমান আনয়ন করা:
আর এই সুদৃঢ় বিশ্বাসের দাবি হলো—যাতে কোনো প্রকার সন্দেহ বা সংশয়ের অবকাশ নেই—কুরআনুল কারীম মহান আল্লাহর কালাম এবং তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি প্রেরিত তাঁর ওহি, যা সমস্ত সৃষ্টিজগতকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য। যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর এই কুরআন আমার নিকট ওহি হিসেবে পাঠানো হয়েছে যাতে এর মাধ্যমে আমি তোমাদেরকে এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাদেরকে সতর্ক করতে পারি} (আল-আনআম: ১৯)।
অনুরূপভাবে কুরআনুল কারীমের প্রতি ঈমান আনার অন্যতম আবশ্যিক দাবি হলো এতে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাস রাখা এবং এটিই সত্য ও সঠিক বলে বিশ্বাস করা। যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর যাতে জ্ঞানপ্রাপ্তরা জানতে পারে যে, এটি আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্য, ফলে তারা এর প্রতি ঈমান আনে এবং তাদের অন্তর এর প্রতি বিনম্র হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদেরকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন} (আল-হজ্জ: ৫৪)।
এই আয়াতের তাফসিরে আল-বায়দাউই বলেন:
{যাতে জ্ঞানপ্রাপ্তরা জানতে পারে যে, এটি আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্য} অর্থাৎ কুরআন হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সত্য
... , {ফলে তারা এর প্রতি ঈমান আনে} অর্থাৎ কুরআনের প্রতি অথবা আল্লাহর প্রতি, {এবং তাদের অন্তর এর প্রতি বিনম্র হয়} আনুগত্য ও ভীতির মাধ্যমে, {আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদেরকে পরিচালিত করেন} জটিল বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে {সরল পথের দিকে} যা হলো সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি যা তাদেরকে সত্যের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দেয় (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
كما أن من مقتضيات الإيمان بالقرآن الكريم: الإيمان بمتشابهه. قال تعالى: {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ} (آل عمران: 7) .
يقول الحافظ ابن كثير رحمه الله في تفسير هذه الآية:
((يخبر تعالى أن في القرآن آيات محكمات هن أمّ الكتاب، أي: بينات واضحات الدلالة لا التباس فيها على أحد، ومنه آيات أُخرى فيها اشتباه في الدلالة على كثير من الناس أو بعضهم، فمن رَدَّ ما اشتبه إلى الواضح منه وحكم محكمه على متشابهه عنده فقد اهتدى، ومن عكس انعكس)) (1) .
ثانياً: العمل به:
ومقتضى العمل بالقرآن، تنفيذ كل ما جاء في القرآن الكريم وذلك بتحليل حلاله، وتحريم حرامه، والالتزام الكامل بما دل عليه، وأرشد إليه، وعدم تجاوز ذلك أو مخالفته أو الزيادة عليه،لأن هذا من الكذب على الله تعالى. قال تعالى: {وَلا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلالٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لا يُفْلِحُونَ مَتَاعٌ قَلِيلٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (النحل: 116-117) .
ثالثاً: قراءته وتدبره:
ومعنى ذلك المداومة على قراءة القرآن الكريم، وعدم هجره، مع تدبر معانيه، وتأمل مراميه، والعلم بعقائده، ومعرفة أحكامه، وشرائعه. قال تعالى: {وَقَالَ الرَّسُولُ يَا رَبِّ إِنَّ قَوْمِي اتَّخَذُوا هَذَا الْقُرْآنَ مَهْجُوراً} (الفرقان:30) .
--------------------------------------------
একইভাবে কুরআন কারীমের প্রতি ঈমানের অন্যতম দাবি হলো: এর রূপক (متشابه) বিষয়ের প্রতি ঈমান আনা। মহান আল্লাহ বলেন: {তিনিই আপনার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার কিছু আয়াত দ্ব্যর্থহীন (محكم), সেগুলো কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো রূপক (متشابه)। সুতরাং যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে যা রূপক (متشابه) তার অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে: আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি, সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে আগত। আর কেবল বুদ্ধিমানগণই উপদেশ গ্রহণ করে।} (আলে ইমরান: ৭) ।
হাফেজ ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের তাফসীরে বলেন:
((মহান আল্লাহ সংবাদ দিচ্ছেন যে, কুরআনে কিছু দ্ব্যর্থহীন (محكم) আয়াত রয়েছে যা কিতাবের মূল ভিত্তি, অর্থাৎ: এগুলো স্পষ্ট ও সুপ্রকাশ্য অর্থবহ, যার মধ্যে কারো জন্য কোনো অস্পষ্টতা নেই। আর এর বিপরীতে অন্য কিছু আয়াত রয়েছে যাতে অনেকের কাছে বা কারো কারো কাছে অর্থের অস্পষ্টতা থাকতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি অস্পষ্ট বিষয়কে সুস্পষ্ট বিষয়ের আলোকে অনুধাবন করবে এবং তার নিকট যা রূপক (متشابه) মনে হয় সে ক্ষেত্রে দ্ব্যর্থহীন (محكم) আয়াতের বিধানকে প্রাধান্য দিবে, সে অবশ্যই হিদায়াত প্রাপ্ত হবে। আর যে এর বিপরীত করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে।)) (১) ।
দ্বিতীয়ত: তদনুযায়ী আমল করা:
কুরআন অনুযায়ী আমল করার দাবি হলো, কুরআন কারীমে যা কিছু এসেছে তা বাস্তবায়ন করা। আর তা হলো এর হালালকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করা, এর হারামকে হারাম হিসেবে বর্জন করা এবং এর নির্দেশিত ও প্রদর্শিত বিষয়ের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য বজায় রাখা। এই সীমা অতিক্রম করা, এর বিরোধিতা করা বা এতে কোনো কিছু সংযোজন করা যাবে না; কারণ এটি মহান আল্লাহর নামে মিথ্যাচারের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের জিহ্বা থেকে সাজানো কোনো মিথ্যার ভিত্তিতে তোমরা বলো না যে, ‘এটি হালাল এবং এটি হারাম’, যাতে তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করতে পারো। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে তারা সফলকাম হবে না। (এটি) সামান্য ভোগ মাত্র, আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।} (আন-নাহল: ১১৬-১১৭) ।
তৃতীয়ত: এটি তিলাওয়াত করা এবং তা নিয়ে গবেষণা (تدبر) করা:
এর অর্থ হলো নিয়মিত কুরআন কারীম তিলাওয়াত করা এবং একে বর্জন না করা; সেই সাথে এর অর্থ নিয়ে গবেষণা (تدبر) করা, এর লক্ষ্যসমূহ নিয়ে চিন্তা করা, এর আকিদাহসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং এর বিধিবিধান ও শরীয়ত সম্পর্কে অবগত হওয়া। মহান আল্লাহ বলেন: {আর রাসূল বললেন: হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমার কওম এই কুরআনকে পরিত্যক্ত (مهجور) হিসেবে গ্রহণ করেছে।} (আল-ফুরকান: ৩০) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يقول الحافظ ابن كثير في تفسير هذه الآية الكريمة:
كان المشركون إذا تلي عليهم القرآن أكثروا اللغط والكلام في غيره حتى
لا يسمعونه، فهذا من هجرانه، وترك الإيمان به وترك تصديقه من هجرانه، وترك تدبره وتفهمه من هجرانه، وترك العمل به وامتثال أوامره واجتناب زواجره من هجرانه، والعدول عنه إلى غيره من شعر أو قول أو غناء أو لهو أو كلام أو طريقة مأخوذة من غيره من هجرانه (1) .
وقال تعالى: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً} (النساء:82) .
وقال سبحانه: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} (محمد:24) .
يقول الشيخ عبد الرحمن السعدي في إيضاح المقصود بهذه الآية الكريمة:
أي: فهلا يتدبر هؤلاء المعرضون لكتاب الله، ويتأملونه حق التأمل، فإنهم لو تدبروه، لدلهم على كل خير، ولحذرهم من كل شر، ولملأ قلوبهم من الإيمان، وأفئدتهم من الإيقان، ولأوصلهم إلى المطالب العالية والمواهب الغالية، ولبين لهم الطريق الموصلة إلى الله، وإلى جنته ومكملاتها ومفسداتها، والطريق الموصلة إلى العذاب، وبأي شيء يحذر، ولعرَّفهم بربهم، وأسمائه وصفاته، وإحسانه، ولشوقهم إلى الثواب الجزيل، ورهبهم من العقاب الوبيل. وقوله تعالى {أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} أي: قد أغلق على ما فيها من الإعراض والغفلة، والاعتراض، وأقفلت، فلا يدخلها خير أبداً (2) .
--------------------------------------------
হাফিজ (الحافظ) ইবনে কাসির এই মহিমান্বিত আয়াতের তাফসিরে বলেন:
মুশরিকরা যখন তাদের কাছে কুরআন তেলাওয়াত করা হতো, তখন তারা অত্যধিক শোরগোল এবং অন্য বিষয়ে কথাবার্তা বাড়িয়ে দিত যাতে তারা তা শুনতে না পায়। এটি কুরআনকে পরিত্যাগ করার অন্তর্ভুক্ত। এর প্রতি ঈমান আনয়ন না করা এবং একে সত্য বলে বিশ্বাস না করা একে পরিত্যাগ করার শামিল। এটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা ও উপলব্ধি না করা একে পরিত্যাগ করার অন্তর্ভুক্ত। এর ওপর আমল না করা এবং এর আদেশসমূহ পালন ও নিষেধসমূহ বর্জন না করা একে পরিত্যাগ করার শামিল। কুরআন ছেড়ে অন্য কিছুর দিকে ঝুঁকে পড়া—তা কবিতা, কথাবার্তা, গান-বাজনা, ক্রীড়া-কৌতুক বা অন্য কোনো উৎস থেকে গৃহীত কোনো মতবাদ বা পদ্ধতি হোক—এসবই কুরআন পরিত্যাগ করার নামান্তর (১)।
মহান আল্লাহ বলেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? আর যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ পেত} (আন-নিসা: ৮২)।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা লাগানো রয়েছে?} (মুহাম্মদ: ২৪)।
শায়খ আবদুর রহমান আস-সাদি এই মহিমান্বিত আয়াতের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করতে গিয়ে বলেন:
অর্থাৎ: আল্লাহর কিতাব থেকে বিমুখ হওয়া এই লোকেরা কি তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে না এবং যথাযথভাবে অনুধাবন করবে না? কারণ তারা যদি এটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করত, তবে তা তাদের সকল কল্যাণের পথপ্রদর্শন করত, সকল অকল্যাণ থেকে সতর্ক করত, তাদের অন্তরসমূহকে ঈমানে পরিপূর্ণ করে দিত এবং তাদের হৃদয়সমূহকে সুনিশ্চিত বিশ্বাসে সিক্ত করত। এটি তাদের উচ্চতর লক্ষ্য ও মূল্যবান অনুগ্রহের দিকে পৌঁছে দিত। এটি তাদের সামনে আল্লাহর দিকে এবং তাঁর জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথ এবং এর পূর্ণতাদানকারী ও বিনাশকারী বিষয়সমূহ স্পষ্ট করে দিত। আর জাহান্নামের আজাবের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথ এবং কী কী বিষয় থেকে সতর্ক থাকতে হবে তাও জানিয়ে দিত। এটি তাদের প্রতিপালক এবং তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও অনুগ্রহ সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দিত। আর এটি তাদের বিশাল প্রতিদানের প্রতি আগ্রহী করত এবং ভয়াবহ শাস্তি থেকে ভীত করত। আর মহান আল্লাহর বাণী {নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা লাগানো রয়েছে?} অর্থাৎ: অন্তরের ভেতর যে বিমুখতা, গাফেলতি ও আপত্তি রয়েছে, তার কারণে তা রুদ্ধ হয়ে গেছে এবং তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে এতে কখনোই কল্যাণ প্রবেশ করে না (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
رابعاً: حفظه:
والمقصود بذلك: حفظ القرآن في الصدور والسطور من الضياع أو الزيادة أو النقص أو الإهمال.
ولا ريب أن حفظ القرآن من أفضل الأعمال وأجلها وأزكاها، وهو مظهر عظيم من مظاهر التمسك بالقرآن الكريم، ودليل على العناية والاهتمام به.
وحفظ القرآن الكريم يتطلَّب من المسلم الإخلاص لله تعالى، وتصحيح النية، وحسن التوجه والقصد، وطلب العون من الله تعالى، مع تفريغ القلب من الشواغل، وبذل الأسباب واتخاذ المسببات المعينة على الحفظ.
ولا ريب أن الله تعالى قد تكفل بحفظ كتابه الكريم بقوله سبحانه:
{إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (الحجر: 9) .
يقول الخازن في تفسير هذه الآية الكريمة ما ملخصه:
{إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ} يعني القرآن أنزلناه عليك يا محمد، {وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} الضمير في (له) يرجع إلى الذكر، يعني: وإنا للذكر الذي أنزلناه على محمد لحافظون، يعني: من الزيادة فيه، والنقص منه، والتغيير والتبديل والتحريف، فالقرآن العظيم محفوظ من هذه الأشياء كلها لا يقدر أحد من جميع الخلق من الجن والإنس أن يزيد فيه، أو ينقص منه حرفاً واحداً أو كلمة واحدةً، وهذا مختص بالقرآن العظيم بخلاف سائر الكتب المنزلة فإنه قد دخل على بعضها التحريف، والتبديل والزيادة والنقصان، ولما تولى الله عز وجل
চতুর্থত: এর সংরক্ষণ (حفظ):
আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: পবিত্র কুরআনকে হারিয়ে যাওয়া, কোনো সংযোজন (الزيادة), বিয়োজন (النقص) বা অবহেলা থেকে অন্তর (الصدور) ও লিখিত পাণ্ডুলিপিতে (السطور) সংরক্ষণ করা।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পবিত্র কুরআন সংরক্ষণ করা সর্বোত্তম, সুমহান ও পবিত্রতম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি পবিত্র কুরআনের প্রতি অবিচল থাকার এক মহান বহিঃপ্রকাশ এবং এর প্রতি যত্ন ও গুরুত্ব প্রদানের একটি প্রমাণ।
পবিত্র কুরআন সংরক্ষণ করার জন্য একজন মুসলিমের প্রয়োজন মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা (الإخلاص), নিয়ত শুদ্ধ করা, সুন্দর সংকল্প ও উদ্দেশ্য রাখা এবং মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা; সেইসাথে অন্তরকে সকল ব্যস্ততা থেকে মুক্ত রাখা এবং হিফজ বা সংরক্ষণের সহায়ক উপায় ও উপকরণসমূহ অবলম্বন করা।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র বাণী দ্বারা এই মহান কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব স্বয়ং গ্রহণ করেছেন:
{নিশ্চয় আমিই এই উপদেশ (الذكر) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক} (আল-হিজর: ৯)।
এই মহিমান্বিত আয়াতের তাফসিরে আল-খাজিন যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো:
{নিশ্চয় আমিই এই উপদেশ (الذكر) অবতীর্ণ করেছি} অর্থাৎ কুরআন, যা আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি হে মুহাম্মদ। {এবং আমিই এর সংরক্ষক} এখানে ‘এর’ সর্বনামটি উপদেশের (الذكر) দিকে ফিরছে। অর্থাৎ: আমি মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি যে উপদেশ অবতীর্ণ করেছি, তার সংরক্ষণকারী; অর্থাৎ: এতে কোনো প্রকার সংযোজন (الزيادة), বিয়োজন (النقص), পরিবর্তন (التغيير), স্থলাভিষিক্তকরণ (التبديل) এবং বিকৃতি (التحريف) থেকে। সুতরাং এই মহান কুরআন এই সমস্ত বিষয় থেকে সংরক্ষিত; জিন ও মানুষের মধ্য থেকে কোনো সৃষ্টি এতে একটি অক্ষর বা একটি শব্দও যোগ করার অথবা তা থেকে বিয়োগ করার ক্ষমতা রাখে না। এটি মহান কুরআনেরই বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যা অন্যান্য অবতীর্ণ কিতাবসমূহের বিপরীত। কারণ সেগুলোর কোনো কোনোটিতে বিকৃতি (التحريف), পরিবর্তন (التبديل), সংযোজন (الزيادة) ও বিয়োজন (النقصان) প্রবেশ করেছে। আর যেহেতু মহান আল্লাহ স্বয়ং এর দায়িত্ব নিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
حفظ هذا الكتاب بقي مصوناً على الأبد محروساً من الزيادة والنقصان
… ، وقيض الله له العلماء الراسخين يحفظونه، ويذبون عنه إلى آخر الدهر (1) .
ولا ريب أن من الوسائل المفيدة لحفظ القرآن في الصدور انتشار حلقات تحفيظ القرآن الكريم في المساجد، وتربية الناشئة على ذلك، وتنشئتهم عليه منذ الصغر.
ومن وسائل حفظه كذلك إنشاء المدارس، والأقسام، والكليات التي تعنى بالقرآن الكريم وعلومه، والدراسات المتعلقة به مثل: كلية القرآن الكريم والدراسات الإسلامية في الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، التي تقوم بدور هام وعظيم في تخريج الحفاظ العالمين، وكذا تعنى بالدراسات المتعلقة بالقرآن الكريم كعلوم القراءات والتفسير.
أما طرق حفظ القرآن الكريم في السطور فإن وسائل الطباعة الحديثة، والتقنية العلمية المتطورة قد ساهمت في ذلك.
ومن الشواهد العظيمة للعناية بحفظ القرآن الكريم هو ما قامت به المملكة العربية السعودية من إنشاء (مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف)
الذي وضع لبناته الأولى خادم الحرمين الشريفين الملك فهد بن عبد العزيز آل سعود حفظه الله في 16 محرم 1403هـ بالمدينة المنورة، وبدأ الإنتاج الفعلي في 6 صفر 1405هـ (2) . ويقوم المجمع بطبع ملايين النسخ من المصحف الشريف طباعة صحيحة مراجعة خالية من أي عيب والحمد لله، ثم توزع في الداخل والخارج، وقد استفاد المسلمون في أقطار الأرض كافة من هذه الخدمة العظيمة، أجزل الله المثوبة لأولياء الأمور ووفقهم لخدمة كتابه العزيز.
--------------------------------------------
এই কিতাবের সংরক্ষণ চিরকাল নিরাপদ ও সুরক্ষিত রয়েছে এবং একে কোনো প্রকার বৃদ্ধি ও হ্রাস থেকে হিফাযত করা হয়েছে
… , আর আল্লাহ এর জন্য সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী (الراسخين) আলেমদের নিযুক্ত করেছেন যারা একে সংরক্ষণ করেন এবং মহাকালের শেষ অবধি একে রক্ষা করবেন (১)।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অন্তরে কুরআন হিফাযতের অন্যতম ফলপ্রসূ মাধ্যম হলো মসজিদে পবিত্র কুরআন হিফজ করার পাঠচক্রগুলোর (حلقات) প্রসার, এর ওপর ভিত্তি করে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলা এবং শৈশব থেকেই তাদের এই আদর্শে লালন-পালন করা।
কুরআন হিফাযতের মাধ্যমগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে এমন সব মাদ্রাসা, বিভাগ ও অনুষদসমূহ প্রতিষ্ঠা করা যা পবিত্র কুরআন ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ এবং গবেষণার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে; যেমন: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের 'কুল্লিয়াতুল কুরআনুল কারীম ওয়া দিরসাতুল ইসলামিয়া' (পবিত্র কুরআন ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদ), যা বিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ হাফেজ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ও মহৎ ভূমিকা পালন করছে। একইভাবে এটি পবিত্র কুরআন সংশ্লিষ্ট উচ্চতর গবেষণা যেমন কিরাত ও তাফসিরের মতো বিষয়ের প্রতি যত্নশীল।
আর লেখনীর মাধ্যমে পবিত্র কুরআন হিফাযতের পদ্ধতির ক্ষেত্রে আধুনিক মুদ্রণ ব্যবস্থা এবং উন্নত বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি বিশেষ অবদান রেখেছে।
পবিত্র কুরআন হিফাযতের প্রতি বিশেষ যত্নের এক মহান নিদর্শন হলো সৌদি আরব কর্তৃক 'মাজমাউল মালিক ফাহাদ লি-তিবাআতিল মুশহাফিশ শারিফ' (কিং ফাহাদ কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স) প্রতিষ্ঠা করা।
যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) ১৬ই মহররম ১৪০৩ হিজরিতে মদিনা মুনাওয়ারায় এবং এর প্রকৃত উৎপাদন শুরু হয় ৬ই সফর ১৪০৫ হিজরিতে (২)। এই কমপ্লেক্সটি পবিত্র কুরআনের লক্ষ লক্ষ কপি বিশুদ্ধ (صحيحة) ও নিরীক্ষিত (مراجعة) উপায়ে যেকোনো ত্রুটিমুক্তভাবে মুদ্রণ করে থাকে—আলহামদুলিল্লাহ—যা পরবর্তীতে দেশের ভেতরে ও বাইরে বিতরণ করা হয়। পৃথিবীর সকল প্রান্তের মুসলিমগণ এই মহান খিদমত থেকে উপকৃত হয়েছেন। আল্লাহ রাষ্ট্রপ্রধানদের এর জন্য উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর সম্মানিত কিতাবের খিদমতে তাঁদের তাওফিক দিন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতু ইলাত তামাচ্ছুকি বিল কুরআনিল কারীম ওয়া আসারুহু ফী হায়াতিল মুসলিম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
خامساً: احترامه وتوقيره، والخشوع والإنصات عند سماع القرآن الكريم.
إن من المظاهر الدالة على التمسك بالقرآن العظيم، احترامه وتوقيره
وعدم إهانته بأي حال من الأحوال معنوياً أو قولياً أو مادياً، والإنصات عند سماع ذكر الله تعالى يتلى والخشوع واستجماع القلب والعقل بالتفكير والتدبر والخشوع الكامل له. قال تعالى: {وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} (الأعراف:204) .
يقول الحافظ ابن كثير في تفسير هذه الآية:
لما ذكر الله تعالى أن القرآن بصائر للناس وهدى ورحمة، أمر تعالى بالإنصات عند تلاوته إعظاماً له، واحتراماً (1) .
وقال الشيخ عبد الرحمن بن سعدي رحمه الله:
((هذا الأمر عام في كل من سمع كتاب الله يتلى، فإنه مأمور بالاستماع له والإنصات. والفرق بين الاستماع والإنصات، أن الإنصات في الظاهر بترك التحدث أو الاشتغال بما يشغل عن استماعه.
وأما الاستماع له فهو أن يلقي سمعه، ويحضر قلبه، ويتدبر ما يستمع. فإن من لازم على هذين الأمرين، حين يتلى كتاب الله، فإنه ينال خيراً كثيراً، وعلماً غزيراً، وإيماناً مستمراً متجدداً، وهدى متزايداً، وبصيرة في دينه. ولهذا رتب الله حصول الرحمة عليهما. فدلَّ ذلك على أن من تلي عليه الكتاب، فلم يستمع له ولم ينصت، أنه محروم الحظ من الرحمة قد فاته خير كثير
--------------------------------------------
পঞ্চম: পবিত্র কুরআনকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করা এবং তা শ্রবণকালে বিনয়াবনত থাকা ও মনোযোগ সহকারে চুপ থাকা।
মহান কুরআনের বিধানসমূহকে আঁকড়ে ধরার অন্যতম নিদর্শন হলো একে সম্মান ও শ্রদ্ধা (احترام وتوقير) করা।
এবং কোনো অবস্থাতেই একে মানসিকভাবে, মৌখিকভাবে বা বস্তুগতভাবে অবমাননা না করা; আর যখন মহান আল্লাহর যিকর (তিলাওয়াত) পাঠ করা হয়, তখন মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা, বিনয় (خشوع) অবলম্বন করা এবং চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে অন্তর ও মস্তিষ্ককে কেন্দ্রীভূত করে এর প্রতি পূর্ণ একাগ্রতা প্রদর্শন করা। মহান আল্লাহ বলেন: "যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ দিয়ে তা শ্রবণ করো এবং নিশ্চুপ থাকো, যাতে তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করা হয়।" (আল-আরাফ: ২০৪)।
হাফিজ (الحافظ) ইবনে কাসীর এই আয়াতের তাফসীরে বলেন:
মহান আল্লাহ যখন উল্লেখ করলেন যে, কুরআন মানুষের জন্য অন্তরদৃষ্টি, হিদায়াত ও রহমত, তখন তিনি এর মাহাত্ম্য ও সম্মান (احترام) প্রদর্শনের লক্ষ্যে এটি তিলাওয়াতের সময় মনোযোগ দিয়ে শোনার নির্দেশ দিয়েছেন (১)।
এবং শায়খ আব্দুর রহমান বিন সাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
"এই নির্দেশটি এমন প্রত্যেকের জন্য ব্যাপক যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত হতে শোনে, তাকে এটি মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ (استماع) করার এবং চুপ থাকার (إنصات) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্রবণ (استماع) এবং চুপ থাকা (إنصات)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো, 'চুপ থাকা' বলতে বাহ্যিকভাবে কথাবার্তা বর্জন করা বা এমন কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকাকে বোঝায় যা শ্রবণে ব্যাঘাত ঘটায়।
আর 'মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা' বলতে কান পেতে শোনা, অন্তরকে উপস্থিত রাখা এবং যা শোনা হচ্ছে তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করাকে বোঝায়। সুতরাং আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াতকালে যে ব্যক্তি এই দুটি বিষয় পালন করবে, সে প্রভূত কল্যাণ, অগাধ জ্ঞান, নিরবচ্ছিন্ন ও নবায়নকৃত ঈমান, উত্তরোত্তর হিদায়াত এবং দ্বীনী বিষয়ে গভীর অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) লাভ করবে। এ কারণেই আল্লাহ রহমত প্রাপ্তিকে এই দুটির ওপর নির্ভরশীল করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, যার সামনে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করা হয় অথচ সে তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ (استماع) করে না এবং চুপ (إنصات) থাকে না, সে রহমতের অংশ থেকে বঞ্চিত এবং সে অনেক বড় কল্যাণ হারিয়ে ফেলেছে।"
--------------------------------------------