(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: -)
الدعوة الإصلاحية في بلاد نجد على يد الإمام محمد بن عبد الوهاب وأعلامها من بعده   (عبد الله المطوع)

القسم: كتب عامة


الكتاب: الدعوة الإصلاحية في بلاد نجد على يد الإمام محمد بن عبد الوهاب وأعلامها من بعده

المؤلف: عبد الله بن محمد بن عبد المحسن المطوع

الناشر: دار التدمرية

الطبعة: الثالثة، السنة 1424هـ/2004م

عدد الصفحات: 309

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের হাত ধরে নজদ ভূখণ্ডে সংস্কারবাদী দাওয়াত এবং পরবর্তীকালে এর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ   (আবদুল্লাহ আল-মুতাওয়া)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি


গ্রন্থ: ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের হাত ধরে নজদ ভূখণ্ডে সংস্কারবাদী দাওয়াত এবং পরবর্তীকালে এর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

লেখক: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন আল-মুতাওয়া

প্রকাশক: দার আত-তাদমুরিয়্যাহ

সংস্করণ: তৃতীয়, বছর ১৪২৪ হিজরি/২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৯

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ৭)
ال‌‌مقدمة

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، أما بعد:

فإن بين يديك أخي القارئ الكريم أوراق كتبتها وجمعتها عن عَلَمٍ من أعلام الأمة، ألا وهو الشيخ المجدد محمد بن عبد الوهاب رحمه الله الذي قام يدعو إلى عبادة الله وحده لا شريك له، وإلى اتباع سنة نبيه صلى الله عليه وسلم سنوات طويلة من حياته التي امتدت لما يقارب من التسعين عاما، وقد واجه في سبيل ذلك الكثير من العنت والإعراض والأذى، وناله عدد من المغرضين بالسب والافتراء والبهتان ووصفوه بالابتداع، وألّبوا عليه عوام الناس وخواصهم، ولكنه صبر وصابر حتى أظهره الله تعالى ونصر دعوته.

والقارئ المنصف والمطلع المتجرد لسيرة الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله ومؤلفاته ورسائله، يجدها بحمد الله تعالى متفقة مع نصوص الكتاب والسنة وأقوال الأئمة المعتبرين من علماء الإسلام، وبعيدة كل البعد عن لمز وهمز أهل الأهواء والضلال.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর:

হে সম্মানিত পাঠক ভাই, আপনার সম্মুখে এমন কিছু পৃষ্ঠা উপস্থাপন করা হলো যা আমি উম্মতের এক মহান ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে লিখেছি এবং সংকলন করেছি; তিনি হলেন সংস্কারক (مجدد) শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)। তিনি তাঁর জীবনের দীর্ঘ প্রায় নব্বই বছর যাবত কেবল এক অদ্বিতীয় আল্লাহর ইবাদত এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ (سنة) অনুসরণের দিকে মানুষকে আহ্বান করেছেন। এই পথে তিনি অনেক কঠোরতা, বিমুখতা ও কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন। বহু স্বার্থান্বেষী লোক তাঁকে গালিগালাজ, অপবাদ ও মিথ্যা কলঙ্কের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং তাঁকে নতুন উদ্ভাবন বা বিদআতের (ابتداع) দোষে দুষ্ট করেছে। তারা তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ ও বিশিষ্ট জনদের উসকে দিয়েছিল; কিন্তু তিনি ধৈর্য ও স্থৈর্য অবলম্বন করেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাঁকে প্রকাশ করেন এবং তাঁর দাওয়াতকে বিজয়ী করেন।

একজন ন্যায়নিষ্ঠ পাঠক এবং শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর জীবনী, গ্রন্থাবলি ও পত্রাবলি সম্পর্কে নিরপেক্ষ অনুসন্ধানকারী ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসায় সেগুলোকে কুরআন ও সুন্নাহর (سنة) বক্তব্য এবং ইসলামের নির্ভরযোগ্য ইমামগণের (أئمة) বাণীর সাথে সংগতিপূর্ণ দেখতে পাবেন। আর এগুলো প্রবৃত্তিপূজারী (أهل الأهواء) ও পথভ্রষ্ট (ضلال) লোকদের অপবাদ ও কটুকাটব্য থেকে বহু দূরে।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ৮)
ولا يخفى عليك أخي الكريم حديث المصطفى الكريم صلى الله عليه وسلم الذي يقول فيه:

"إن الله يبعث لهذه الأمة على رأس كل مائة سنة من يجدد لها دينها" 1، ومعنى قوله صلى الله عليه وسلم: " يجدد لها دينها" أنه كلما انحرف الكثير من الناس عن جادة الدين الذي أكمله الله لعباده، وأتم عليهم نعمته ورضيه لهم دينا، بعث إليهم علماء أو عالما بصيرا بالإسلام وداعية رشيدا يبصر الناس بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم الثابتة، ويجنبهم البدع، ويحذرهم من محدثات الأمور، ويردهم عن انحرافهم إلى الصراط المستقيم كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، فسمي ذلك تجديدا بالنسبة للأمة، لا بالنسبة للدين الذي شرعه وأكمله، فإن التغير والضعف والانحراف إنما يطرأ مرة بعد مرة على الأمة، أما الإسلام نفسه فمحفوظ بحفظ كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم المبينة له قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9] 2.

فقبل قيام الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله بدعوته الإصلاحية المباركة كانت الأوضاع الدينية في الأمة بالغة السوء، وقد شهد القرن الثاني عشر الهجري غربة عظيمة للتوحيد والعلم بالدين وأحكامه، ورواجا كبيرا للشرك والجهل والخرافات والبدع.

--------------------------------------------

1 رواه أبو داود، في كتاب الملاحم، باب ما يذكر في قرن المائة، رقم:4291، وصححه الشيخ الألباني:

صحيح سنن أبي داود، 3/23.

2 فتاوى اللجنة الدائمة لرئاسة البحوث، 2/169.
হে প্রিয় ভাই, আপনার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসটি অজানা নয় যাতে তিনি বলেছেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রতি শতকের শুরুতে এমন ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে সংস্কার করবেন।" ১, আর তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী "তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে সংস্কার করবেন"-এর অর্থ হলো: যখনই অনেক মানুষ দ্বীনের সেই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয় যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ করেছেন, তাদের ওপর তাঁর নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন এবং যেটিকে তাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন; তখন আল্লাহ তাদের কাছে এমন আলেম সমাজ বা ইসলাম সম্পর্কে প্রাজ্ঞ কোনো আলেম এবং সঠিক পথের দিশারি দাঈ প্রেরণ করেন, যিনি মানুষকে আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রমাণিত (ثابتة) সুন্নাহ সম্পর্কে সচেতন করেন। তিনি তাদেরকে বিদআত থেকে দূরে রাখেন, দ্বীনের নামে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়গুলো সম্পর্কে সতর্ক করেন এবং তাদের বিচ্যুতি থেকে ফিরিয়ে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ তথা সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে পরিচালিত করেন। ফলে একে উম্মতের প্রেক্ষাপটে সংস্কার হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, সেই দ্বীনের প্রেক্ষাপটে নয় যা আল্লাহ বিধিবদ্ধ ও পূর্ণাঙ্গ করেছেন। কারণ উম্মতের মধ্যে বারবার পরিবর্তন, দুর্বলতা ও বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু ইসলাম স্বয়ং আল্লাহর কিতাব এবং তা ব্যাখ্যাদানকারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর মাধ্যমে সংরক্ষিত। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমিই জিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।" [আল-হিজর: ৯] ২।

শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব রাহিমাহুল্লাহ তাঁর বরকতময় সংস্কারমূলক দাওয়াত শুরু করার পূর্বে উম্মতের ধর্মীয় অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় ছিল। দ্বাদশ হিজরি শতাব্দীতে তাওহিদ এবং দ্বীনি জ্ঞান ও তার বিধানের ক্ষেত্রে চরম অসহায়ত্ব লক্ষ্য করা গিয়েছিল এবং শিরক, মূর্খতা, কুসংস্কার ও বিদআতের ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল।

--------------------------------------------

১ এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল মালাহিম, প্রতি শতাব্দীর শুরুতে যা উল্লেখ করা হয়েছে অধ্যায়, নম্বর: ৪২৯১, এবং শায়খ আলবানী একে সহিহ (صحيح) বলেছেন:

সহিহ সুনানে আবু দাউদ, ৩/২৩।

২ ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ লি-রিরাসাতিল বুহুস, ২/১৬৯।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ৯)
فجدد الله عز وجل بهذا الإمام رحمه الله دين الإسلام وأظهر معالمه وشرائعه، وطمس به الشرك والجهل والضلال، كل ذلك بفضل الله تعالى أولا ثم بفضل دعوته وجهوده المباركة.

فالشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله بذل كل الجهد والوقت لإعادة الناس إلى الدين الصحيح، وتصحيح معتقداتهم، وإزالة ما ألصق بالدين من شركيات وبدع وخرافات، ولا شك بأن من قام بهذه الأعمال الجليلة يعد من أعلام الأمة المجددين، الذين كان لهم دور بارز في تجديد معالم الدين بعد اندراسها، وقد اتخذ رحمه الله من كتاب الله الكريم ومن سنة المصطفى الأمين محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم مرجعا لدعوته الإصلاحية المباركة، سائرا وملتزما بمنهج السلف الصالح رحمهم الله تعالى.

الغرض من هذا الكتاب:

حرصت عند كتابتي هذه الأوراق وجمعها من مصادرها المختلفة تحقيق عدد من الأهداف، والتي من أهمها:

التوكيد على سلفية دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله، وقيامها على الكتاب العزيز والسنة المطهرة وفق منهج أهل السنة والجماعة، دون ابتداع أو تبديل، وبيان عدد من إصلاحاتها وآثارها، وهذا كله من حقوق الشيخ رحمه الله علينا.
আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এই ইমামের (রহিমাহুল্লাহ) মাধ্যমে ইসলামের দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন এবং এর নিদর্শন ও শরিয়তসমূহকে প্রকাশ করেছেন, আর তাঁর মাধ্যমে শিরক, মূর্খতা ও পথভ্রষ্টতাকে বিলীন করেছেন। এ সবকিছুর মূলে ছিল প্রথমত আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ এবং পরবর্তীতে তাঁর দাওয়াত ও বরকতময় প্রচেষ্টা।

শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) মানুষকে সঠিক দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনা, তাদের আকিদা-বিশ্বাস সংশোধন করা এবং দ্বীনের সাথে যুক্ত হওয়া শিরক, বিদআত ও কুসংস্কার দূর করার জন্য নিজের সমস্ত প্রচেষ্টা ও সময় ব্যয় করেছেন। কোনো সন্দেহ নেই যে, যিনি এই মহান কাজগুলো সম্পন্ন করেছেন তিনি উম্মাহর বিশিষ্ট সংস্কারক বা পুনরুজ্জীবিত (مجدد) ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত, যারা দ্বীনের নিদর্শনসমূহ বিলীন হওয়ার পর তা পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর মহান কিতাব এবং আল-মুস্তাফা আল-আমিন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহকে তাঁর সংস্কারমূলক বরকতময় দাওয়াতের উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং সালাফ আস-সালেহীন (রহিমাহুমুল্লাহ)-এর আদর্শ বা পদ্ধতি (منهج) অনুযায়ী পরিচালিত ও তার ওপর অবিচল থেকেছেন।

এই বইটির উদ্দেশ্য:

এই পৃষ্ঠাগুলো রচনা করার এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তা সংগ্রহ করার সময় আমি বেশ কিছু লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট ছিলাম, যার মধ্যে প্রধান হলো:

শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর দাওয়াতের সালাফী ধারার ওপর গুরুত্বারোপ করা এবং কোনো নতুন উদ্ভাবন বা পরিবর্তন ছাড়াই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আদর্শ বা পদ্ধতি (منهج) অনুযায়ী মহাগ্রন্থ আল-কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহর ওপর এর ভিত্তি হওয়া নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে তাঁর বেশ কিছু সংস্কার ও তার প্রভাব বর্ণনা করা; আর এ সবই আমাদের ওপর শায়খের প্রাপ্য অধিকার।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ১০)
* الدفاع عن هذه الدعوة السلفية الإصلاحية، وتصحيح المفاهيم الخاطئة عنها، وإزالة الشبه الباطلة التي أثارها أعداؤها في مسعى منهم لتشويه سمعة هذه الدعوة، ولمزها بالابتداع والضلال وغير ذلك، لصرف الناس عنها.

* نشر فضائل أئمة هذه الدعوة، والتعريف بمن كان له فضل ـ بعد فضل الله تعالى ـ في نشرها، والمحافظة على استمرارها من الولاة والحكام والعلماء والدعاة، وهذا لا شك فيه بيان لحقهم علينا، وإبراز لجهودهم.

* بيان الأثر العظيم الذي تسببت به هذه الدعوة الإصلاحية من الخير العظيم على الأمة، سواء في داخل الجزيرة أو خارجها.

هذه أبرز الأهداف التي حرصت من خلالها على نشر هذه الأوراق وبثها في المكتبة الإسلامية، وتيسير اطلاع طلاب العلم عليها، وهذا الكتاب في أصله مجموعة محاضرات ألقيتها على طلاب المستوى السابع (4/1) في كلية أصول الدين بالرياض لكون مقرر " الدعوة الإصلاحية" أحد المقررات المعتمدة في جميع أقسام جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية المباركة1.

--------------------------------------------

1 لعلني أجد لنفسي عذرا لعدم التوسع في بعض موضوعات هذا الكتاب وإنما أكتفي بإشارات إليها لالتزامي بزمن المحاضرات الدراسية والمنهج المقرر.
* এই সালাফি সংস্কারবাদী দাওয়াহর প্রতিরক্ষা করা, একে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ভ্রান্ত ধারণাগুলো সংশোধন করা এবং এর শত্রুরা এই দাওয়াহর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার এবং একে বিদআত (ابتداع) ও গোমরাহি (ضلال) হিসেবে চিহ্নিত করার মাধ্যমে মানুষকে এ থেকে বিমুখ করার প্রচেষ্টায় যে সব ভিত্তিহীন সংশয় উত্থাপন করেছে তা দূর করা।

* এই দাওয়াহর ইমামগণের শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার করা এবং আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহের পর যারা এটি প্রচার ও এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় অবদান রেখেছেন—যেমন ওয়ালি (ولاة) বা শাসক, নেতৃবৃন্দ, আলিম ও দাঈগণ—তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের ওপর তাদের হক (حق) বর্ণনা এবং তাদের প্রচেষ্টাকে সমুজ্জ্বল করার শামিল।

* উম্মাহর ওপর এই সংস্কারবাদী দাওয়াহর প্রভাবে যে প্রভূত কল্যাণ সাধিত হয়েছে তা বর্ণনা করা, চাই তা আরব উপদ্বীপের অভ্যন্তরে হোক বা বাইরে।

এগুলোই ছিল প্রধান লক্ষ্য যার ভিত্তিতে আমি এই পাণ্ডুলিপিগুলো প্রকাশ করতে এবং ইসলামি লাইব্রেরিগুলোতে ছড়িয়ে দিতে সচেষ্ট হয়েছি, যাতে তালিবে ইলম (طلاب العلم) বা জ্ঞানান্বেষীদের জন্য এর অধ্যয়ন সহজ হয়। এই বইটি মূলত রিয়াদের কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিন (أصول الدين) এর সপ্তম বর্ষের (৪/১) শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া আমার কিছু লেকচারের সমষ্টি; কারণ "সংস্কারবাদী দাওয়াহ" কোর্সটি বরকতময় ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগে একটি অনুমোদিত পাঠ্যক্রম।

--------------------------------------------

১. সম্ভবত এই বইয়ের কিছু বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা না করার ক্ষেত্রে আমি অপারগতা প্রকাশ করছি; বরং ক্লাসের নির্ধারিত সময় এবং নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের বাধ্যবাধকতার কারণে আমি কেবল সেদিকে সংক্ষেপে ইঙ্গিত করেই ক্ষান্ত হয়েছি।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ১১)
قبل البدء:

قال الشاعر:

وقلت في نفسي صححته … كم من كتاب قد تصفحته

ثم إذا طالعته ثانيا … رأيت تصحيفا فأصلحته

وقال العماد الأصفهاني: "إني رأيت أنه لا يكتب إنسان كتابا في يومه إلا قال في غده: لو غير هذا لكان أحسن، ولو زيد هذا لكان يستحسن، ولو قدم هذا لكان أفضل، ولو ترك هذا لكان أجمل، هذا من أعظم العبر، وهو دليل على استيلاء النقص على جملة البشر".

ويأبى الله عز وجل أن يجعل الكمال إلا لكتابه الكريم، الذي يقول سبحانه وتعالى عنه: {لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تَنزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت:42] ، وقال جل شأنه: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} [النساء: 82] .

ولا يغيب عن ذهنك أخي الكريم أن ما في هذا الكتاب هو اجتهاد من الكاتب، فما كان فيه من صواب فهو من توفيق الله تعالى وفضله، وما كان فيه من خطأ فهو لا يعدو كونه عملا بشريا يعتريه كثيرا النقص والخطأ1.

--------------------------------------------

1 عند وجود أي ملحوظة أو خطأ فالرجاء دلالة المؤلف عليه ليتم تلافيه وتصحيحه، لنكون بإذن الله من المتعاونين على البر والتقوى، وفق الله الجميع لما يحب ويرضى.
শুরু করার আগে:

কবি বলেছেন:

আমি মনে মনে বললাম, আমি একে বিশুদ্ধ করেছি … কত কত কিতাবই না আমি উল্টেপাল্টে দেখেছি

অতঃপর যখন তা দ্বিতীয়বার পাঠ করলাম … একটি বর্ণাশুদ্ধি (تصحيف) দেখতে পেলাম এবং তা সংশোধন করলাম

ইমাদ আল-আস্ফাহানি বলেছেন: "আমি লক্ষ্য করেছি যে, কোনো মানুষ আজ কোনো গ্রন্থ রচনা করলে পরদিন অবশ্যই বলে: যদি এটি পরিবর্তন করা হতো তবে আরও উত্তম হতো, যদি এটি বৃদ্ধি করা হতো তবে আরও পছন্দনীয় হতো, যদি একে আগে আনা হতো তবে আরও শ্রেষ্ঠ হতো, আর যদি একে বর্জন করা হতো তবে আরও সুন্দর হতো। এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা এবং তা মানবজাতির ওপর অপূর্ণতার আধিপত্যের প্রমাণ।"

মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর জন্য পূর্ণতা দান করতে অস্বীকার করেছেন, যার সম্পর্কে তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {এতে কোনো মিথ্যা প্রবেশ করতে পারে না এর সামনে থেকে কিংবা এর পেছন থেকে; এটি মহাপ্রজ্ঞাময়, চিরপ্রংশিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।} [ফুসসিলাত: ৪২], এবং তিনি সুমহান সত্তা আরও বলেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে বহু মতপার্থক্য দেখতে পেত।} [আন-নিসা: ৮২]।

হে আমার সম্মানিত ভাই, আপনার চিন্তা থেকে যেন এটি হারিয়ে না যায় যে, এই কিতাবে যা কিছু আছে তা লেখকের গবেষণা (اجتهاد); সুতরাং এর মধ্যে যা কিছু সঠিক তা মহান আল্লাহর তাওফিক ও অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত, আর যা কিছু ভুল তা কেবলই একটি মানবিক কর্ম যা বহু ত্রুটি ও বিচ্যুতির শিকার হতে পারে।১

--------------------------------------------

১ কোনো প্রকার পর্যবেক্ষণ বা ভুল পরিলক্ষিত হলে লেখকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার অনুরোধ রইল যেন তা পরিহার ও সংশোধন করা সম্ভব হয়, যাতে আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় নেকি ও তাকওয়ার পথে পরস্পর সহযোগী হতে পারি। আল্লাহ সকলকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজের তাওফিক দান করুন।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ১২)
الشكر والدعاء:

أحمد الله جل شأنه وتعالى ذكره على ما أنعم به عليّ من إتمام هذا الكتاب، فالحمد لله أولا وآخرا وظاهرا وباطنا، ثم الدعاء لوالديّ الكريمين بالمغفرة والرحمة وطول العمر على طاعة الله تعالى، {رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا} [الإسراء: 24] .

والشكر والدعاء لكل من أبدى لي ملحوظة أو ساهم برأي أفاد في ظهور هذا الكتاب بما هو عليه الآن، وفي مقدمة الجميع فضيلة الشيخ أ. د/ صالح بن فوزان الفوزان عضو هيئة كبار العلماء على تفضله بقراءة هذا الكتاب والتقديم له، فبارك الله في الجميع وجزاهم على ذلك كل خير. د

أسأل المولى عز وجل أن يرزقنا الإخلاص له سبحانه وحده، وأن يجعل هذا العمل من الصدقة الجارية التي تنفعني في الحياة وبعد الممات، كما أسأله سبحانه أن يوفقنا للعمل الصالح والعلم النافع، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين وعلى آله وصحبه أجمعين.

كتبه

عبد الله بن محمد بن عبد المحسن المطوع

الرياض
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও দোয়া:

আমি মহান মহিমান্বিত আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করছি এবং তাঁর মহিমা ঘোষণা করছি এই গ্রন্থটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তিনি আমাকে যে নিয়ামত দান করেছেন তার জন্য। সুতরাং আদি-অন্তে এবং প্রকাশ্যে ও গোপনে যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র আল্লাহরই প্রাপ্য। এরপর আমি আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতার জন্য মাগফিরাত, রহমত এবং আল্লাহর আনুগত্যের ওপর তাঁদের দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করছি, {হে আমার প্রতিপালক! তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন যেভাবে তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন} [সূরা আল-ইসরা: ২৪]।

আর আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও দোয়া করছি তাঁদের প্রত্যেকের জন্য যারা আমাকে কোনো পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন অথবা কোনো মতামতের মাধ্যমে অবদান রেখেছেন যা এই গ্রন্থটিকে বর্তমান রূপে প্রকাশ করতে সহায়ক হয়েছে। তাঁদের সকলের অগ্রভাগে রয়েছেন পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ প্রফেসর ড. সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান (সিনিয়র উলামা পরিষদের সদস্য), এই গ্রন্থটি পাঠ করার এবং এর ভূমিকা লিখে দেওয়ার মহানুভবতা প্রদর্শনের জন্য। আল্লাহ সকলের ওপর বরকত নাযিল করুন এবং এর বিনিময়ে তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমি মহান রবের নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য ইখলাস দান করেন এবং এই আমলটিকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করেন যা আমার জীবনে ও মরণোত্তরকালে উপকারে আসবে। সেই সাথে আমি তাঁর নিকট নেক আমল ও উপকারী ইলমের তাওফিক প্রার্থনা করছি। আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূলগণের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

লিখেছেন

আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুহসিন আল-মুতাউয়ি

রিয়াদ
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌تمهيد

…

بسم الله الرحمن الرحيم

تقديم

فضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان عضو هيئة كبار العلماء وعضو اللجنة الدائمة للإفتاء

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهداه وسار على نهجه إلى يوم الدين.

أما بعد: فقد اطلعت على الكتاب المفيد الذي هو بعنوان: "الدعوة الإصلاحية في بلاد نجد على يد الإمام المجدد شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله وأعلامها من بعده"

تأليف الشيخ عبد الله بن محمد بن عبد المحسن المطوع وفقه الله، فألفيته كتابا قيما مفيدا في موضوعه، فيه تقويم لهذه الدعوة المباركة، ورد على الشبهات التي أثيرت حولها بقصد تشويهها وصد الناس عنها، {يُرِيدُونَ أَنْ يُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ (32) هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى
ভূমিকা

…

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

উপস্থাপনা

মান্যবর শায়খ, প্রফেসর ডক্টর সালিহ বিন ফাওজান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাওজান, সদস্য, জেষ্ঠ্য আলেম পরিষদ এবং সদস্য, স্থায়ী ফতোয়া কমিটি

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সঙ্গী-সাথীগণ এবং যারা তাঁর হেদায়েত গ্রহণ করেছেন ও কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পথে চলেছেন তাদের প্রতি।

অতঃপর: আমি "সংস্কারক (المجدد) ইমাম শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর মাধ্যমে নজদ ভূখণ্ডে সংস্কারবাদী দাওয়াত এবং পরবর্তীকালের প্রথিতযশা ব্যক্তিবর্গ" শীর্ষক উপকারী বইটি পর্যালোচনা করেছি।

এটি রচনা করেছেন শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মুহসিন আল-মুতাওয়ওয়া (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন)। আমি একে এর বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে একটি মূল্যবান ও উপকারী গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি। এতে এই বরকতময় দাওয়াতের মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং একে বিকৃত করার ও মানুষকে এ থেকে বিমুখ করার উদ্দেশ্যে যেসব সংশয় (الشبهات) উত্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলোর খণ্ডন করা হয়েছে। {তারা তাদের মুখের ফুঁ দিয়ে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর আলো পূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছু চান না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। (৩২) তিনিই তাঁর রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে একে সকল...}
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ৫)
الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ} [التوبة:32ـ33] ، والحمد لله ما زادت هذه الشبهات وهذه الاعتراضات هذه الدعوة المباركة إلا تألقا وظهورا، كما قال الشاعر:

وإذا أراد الله نشر فضيلة … طويت أتاح لها لسان حسود

لولا اشتعال النار فيما جاورت … ما كان يعرف عرف طيب العود

ومن ظهور هذه الدعوة المباركة أن قيض الله لها من يظهر مزاياها ويرد الكيد عنها، كما قال الشاعر:

وقل للعيون الرمد للشمس أعين … سواك تراها في مغيب ومطلع

ومن هؤلاء الذين نافحوا عن هذه الدعوة المباركة صاحب هذا الكتاب الشيخ عبد الله بن محمد المطوع جزاه الله خيرا وأثابه على ما فعل.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.

كتبه/ صالح بن فوزان بن عبد الله الفوزان

عضو اللجنة الدائمة للإفتاء

10/8/1420هـ
...সমস্ত দ্বীনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করার জন্য, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। [আত-তাওবা: ৩২-৩৩]। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এই সকল সংশয় ও আপত্তি এই বরকতময় দাওয়াতের দ্যুতি ও বহিঃপ্রকাশকে কেবল বৃদ্ধিই করেছে, যেমনটি কবি বলেছেন:

যখন আল্লাহ কোনো সুপ্ত গুণের বিকাশ ঘটাতে চান … তখন তিনি তার জন্য হিংসুকের জিহ্বাকে উপলক্ষ করে দেন।

পার্শ্ববর্তী কাষ্ঠখণ্ডে যদি আগুনের দহন না লাগত … তবে আগর কাঠের সুগন্ধি সম্পর্কে কখনোই জানা যেত না।

এই বরকতময় দাওয়াতের বিজয়ের একটি দিক হলো যে, আল্লাহ এর জন্য এমন ব্যক্তিদের নির্ধারণ করেছেন যারা এর বৈশিষ্ট্যসমূহ ফুটিয়ে তোলেন এবং এর বিরুদ্ধে করা ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেন, যেমনটি কবি বলেছেন:

আর চক্ষুরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বলো, সূর্য দেখার জন্য তোমার চোখ ছাড়াও … অন্য চোখ আছে যা একে উদয় ও অস্তকালে দেখতে পায়।

যারা এই বরকতময় দাওয়াতের পক্ষাবলম্বন করে দৃঢ়তার সাথে কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন এই গ্রন্থের লেখক শায়খ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-মুতাওয়া। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তার এই কর্মের জন্য তাকে সওয়াব দান করুন।

আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

এটি লিখেছেন/ সালেহ বিন ফাওজান বিন আবদুল্লাহ আল-ফাওজান

সদস্য, স্থায়ী ফতোয়া কমিটি

১০/০৮/১৪২০ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الفصل التمهيدي

‌‌المقصود بالدعوة الإصلاحية في الجزيرة العربية

…

1ـ المقصود بالدعوة الإصلاحية في الجزيرة العربية

يحسن بنا قبل الحديث عن مفردات هذا الكتاب أن نبين المقصود بالدعوة الإصلاحية والجزيرة العربية.

فالمقصود بالدعوة الإصلاحية هي: تلك الجهود الكبيرة والأعمال الجليلة التي قام بها الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله لتصحيح الأوضاع الدينية الفاسدة والأحوال الاجتماعية المنحرفة التي كانت سائدة في الجزيرة العربية بعامة وفي وسطها بخاصة إبان القرن الثاني عشر الهجري.

أما الجزيرة العربية فهي: المنطقة الواقعة في قلب العالم والمحدود شمالا ببلاد الشام والعراق وجنوبا ببحر العرب وشرقا بالخليج العربي وغربا بالبحر الأحمر وتسمى أيضا بشبه الجزيرة العربية؛ لأن المياه تحيط بها من جهات ثلاث فقط، وفي الوقت الراهن تتكون في الجزيرة العربية مجموعة من الدول هي: المملكة العربية السعودية، والإمارات العربية المتحدة، وقطر، والبحرين، والكويت، وعمان، واليمن1.

ولجزيرة العرب خصائص تتميز بها عن غيرها، منها:

1- أنها مهد الإسلام ومنطلق الرسالة الخاتمة وعاصمتها الأولى

--------------------------------------------

1 انظر الأقوال في حدود جزيرة العرب في فتح الباري شرح صحيح البخاري لابن حجر، 6/170، وشرح النووي لصحيح مسلم،11/95.
‌‌প্রারম্ভিক অধ্যায়

‌‌আরব উপদ্বীপে সংস্কারবাদী দাওয়াতের উদ্দেশ্য

…

১- আরব উপদ্বীপে সংস্কারবাদী দাওয়াতের উদ্দেশ্য

এই গ্রন্থের বিস্তারিত বিষয়াবলী আলোচনার পূর্বে আমাদের জন্য সংস্কারবাদী দাওয়াত এবং আরব উপদ্বীপ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করা সমীচীন হবে।

সংস্কারবাদী দাওয়াত বলতে সেই সুমহান প্রচেষ্টা এবং মহৎ কার্যাবলীকে বোঝায়, যা শেখ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) দ্বাদশ হিজরি শতাব্দীতে সাধারণভাবে আরব উপদ্বীপে এবং বিশেষভাবে এর মধ্যভাগে বিরাজমান কলুষিত ধর্মীয় অবস্থা এবং বিচ্যুত সামাজিক পরিস্থিতির সংশোধনের জন্য সম্পাদন করেছিলেন।

আর আরব উপদ্বীপ হলো: বিশ্বের হৃৎপিণ্ডে অবস্থিত এমন একটি অঞ্চল, যার উত্তরে শাম দেশ ও ইরাক, দক্ষিণে আরব সাগর, পূর্বে আরব উপসাগর এবং পশ্চিমে লোহিত সাগর অবস্থিত। একে 'আরব উপদ্বীপ'ও বলা হয়; কারণ পানি একে মাত্র তিন দিক থেকে বেষ্টন করে আছে। বর্তমানে আরব উপদ্বীপ কতগুলো রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত, সেগুলো হলো: সৌদি আরব রাজতন্ত্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান এবং ইয়েমেন।১

আরব উপদ্বীপের নিজস্ব কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১- এটি ইসলামের সূতিকাগার, সর্বশেষ রিসালাতের সূচনাস্থল এবং এর প্রথম রাজধানী।

--------------------------------------------

১. আরব উপদ্বীপের সীমানা সংক্রান্ত মতামতগুলো দেখুন: ইবনে হাজার কৃত ফাতহুল বারী শারহু সহীহ বুখারী, ৬/১৭০ এবং ইমাম নববী কৃত শারহু সহীহ মুসলিম, ১১/৯৫।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقاعدتها الحصينة، ففيها ولد خير البشر محمد صلى الله عليه وسلم وفيها بعث وبين بلادها هاجر، ومنها أشرقت أنوار رسالته لتضيء أرجاء المعمورة.

1- أنها تضم أعظم البقاع وتحتضن أشرف الأماكن في الأرض ففيها الحرم الآمن الذي جعله الله مثابة وأمنا كما قال عز وجل: {وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْنًا} [البقرة: 125] ، وقال عز وجل: {أَوَلَمْ نُمَكِّنْ لَهُمْ حَرَمًا آمِنًا يُجْبَى إِلَيْهِ ثَمَرَاتُ كُلِّ شَيْءٍ} [القصص:57] ، وقال سبحانه: {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا جَعَلْنَا حَرَمًا آمِنًا وَيُتَخَطَّفُ النَّاسُ مِنْ حَوْلِهِمْ} الآية [العنكبوت: 6] .

والمسجد الحرام هو أول بيت وضع للناس كما قال تعالى: {إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ فِيهِ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيمَ وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آمِنًا وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنْ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْ الْعَالَمِينَ} [آل عمران: 96-97] .

وفيها طيبة الطيبة مهاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم ومستقره التي بها مسجده عليه الصلاة والسلام ذو المرتبة التالية للمسجد الحرام.

وفيها أيضا البقاع المشرفة والمواضع المحترمة المقدسة عند أهل الإسلام والمرتبطة بالركن الخامس من أركان الإسلام وهو الحج، وهذه البقاع هي: منى وعرفات والمزدلفة.

3- أن الله تعالى اختار لغة أهلها لتكون لغة لأعظم كتبه وأشرفها وخاتمها كما قال سبحانه وتعالى: {إِنَّا أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} [يوسف:2] ، وقال سبحانه: {نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ عَلَى
এবং এর সুদৃঢ় ভিত্তি। সেখানেই মানবজাতির শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিত্ব মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মগ্রহণ করেন, সেখানেই তিনি নবুওয়াত প্রাপ্ত হন এবং এর শহরগুলোর মধ্য দিয়েই তিনি হিজরত করেন। আর সেখান থেকেই তাঁর রিসালাতের নূর উদ্ভাসিত হয়ে বিশ্বচরাচরকে আলোকিত করেছে।

১- এটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম ভূখণ্ডসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং জমিনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্থানগুলোকে ধারণ করে। কারণ এতে রয়েছে নিরাপদ হারাম, যাকে মহান আল্লাহ মানুষের জন্য প্রত্যাবর্তনস্থল ও নিরাপত্তার স্থান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর স্মরণ করো, যখন আমি এই ঘরকে মানুষের জন্য প্রত্যাবর্তনস্থল ও নিরাপত্তার স্থান বানালাম} [আল-বাকারা: ১২৫]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আমি কি তাদের জন্য একটি নিরাপদ হারাম প্রতিষ্ঠিত করিনি, যেখানে সব ধরনের ফলমূল রিযিক হিসেবে আনা হয়?} [আল-কাসাস: ৫৭]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তারা কি দেখে না যে, আমি একটি নিরাপদ হারাম বানিয়েছি, অথচ তাদের চারপাশ থেকে মানুষদের ছিনতাই করা হয়?} আয়াত [আল-আনকাবুত: ৬৭]।

আর মসজিদুল হারাম হলো মানুষের জন্য নির্মিত প্রথম ঘর, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় মানুষের জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মিত হয়েছে, তা হলো বক্কায় (মক্কায়) অবস্থিত ঘর। এটি অত্যন্ত বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াতস্বরূপ। এতে রয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ, যেমন মাকামে ইবরাহীম। যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ থাকবে। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেই ঘরের হজ করা মানুষের ওপর কর্তব্য, যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে। আর যে কুফরি করবে, তবে আল্লাহ তো বিশ্ববাসীর মুখাপেক্ষী নন।} [আল ইমরান: ৯৬-৯৭]।

সেখানে আরও রয়েছে পবিত্র তায়্যিবা (মদিনা), যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হিজরতস্থল ও আবাসস্থল। সেখানে তাঁর পবিত্র মসজিদ অবস্থিত, যার মর্যাদা মসজিদুল হারামের পরেই।

সেখানে আরও রয়েছে মর্যাদাপূর্ণ ভূখণ্ড এবং মুসলমানদের নিকট অত্যন্ত সম্মানিত ও পবিত্র স্থানসমূহ, যা ইসলামের পঞ্চম রুকন হজের সাথে সম্পৃক্ত। সেই স্থানগুলো হলো: মিনা, আরাফাত এবং মুযদালিফা।

৩- মহান আল্লাহ তাঁর শ্রেষ্ঠতম, সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ এবং সর্বশেষ কিতাবের ভাষা হিসেবে এখানকার অধিবাসীদের ভাষাকেই মনোনীত করেছেন। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় আমি এটি আরবি কুরআন হিসেবে নাযিল করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পারো} [ইউসুফ: ২]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তা নিয়ে বিশ্বস্ত রূহ অবতরণ করেছে...}
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ১৭)
قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنْ الْمُنذِرِينَ بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} [الشعراء:195] .

1- أنها في الإسلام وقف على الإسلام وأهله لا يجتمع فيها دينان ولا يستقر فيها كافر حتى يبقى شرع الله تعالى ودينه فيها بلا منافس ولا منازع1.

ففي الصحيحين من حديث ابن عباس رضي الله عنهما في آخر ما أوصى به النبي صلى الله عليه وسلم عند موته: " أخرجوا المشركين من جزيرة العرب" 2.

وفي المسند وغيره عن عائشة رضي الله عنها قالت: كان آخر ما عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم أن قال: "لا يترك بجزيرة العرب دينان" 3، وروى مسلم في صحيحه أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "لأخرجن اليهود والنصارى من جزيرة العرب حتى لا أدع إلا مسلما" 45.

--------------------------------------------

1 انظر الأقوال في هذه المسألة في فتح الباري المطبوع مع صحيح البخاري، 6/171، وشرح النووي لصحيح مسلم، 11/95، وفي ذلك يقول ابن حجر: "مذهب الجمهور في أن ما يمنعون من سكناه هو الحجاز خاصة، وهو مكة والمدينة واليمامة وما والاها … "، وقال النووي: "والصحيح أنها: المدينة ومكة واليمامة واليمن". انظر: المرجعين السابقين بنفس الموضع.

2 رواه البخاري في كتاب الجهاد والسير، باب هل يستشفع إلى أهل الذمة، رقم: 3053، ورواه مسلم في كتاب الوصية، باب ترك الوصية لمن ليس له شيء يوصي فيه، رقم:4208.

3 رواه الإمام أحمد، رقم25148، ورواه بلفظ قريب الإمام مالك في الموطأ في كتاب الجامع2/236.

4 رواه مسلم في كتاب الجهاد والسير، باب إخراج اليهود والنصارى من جزيرة العرب، رقم: 4569.

5 انظر: خصائص جزيرة العرب للشيخ بكر أبو زيد، وحقيقة الدعوة إلى الله وما اختصت به جزيرة العرب، للشيخ سعد الحصين، ص 59.
...আপনার অন্তরে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।} [আশ-শুআরা: ১৯৫]।

১- ইসলামে এটি কেবল ইসলাম ও এর অনুসারীদের জন্য নির্ধারিত; সেখানে দুটি দ্বীন একত্র হবে না এবং কোনো কাফির সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে না, যতক্ষণ না মহান আল্লাহর শরিয়ত ও তাঁর দ্বীন সেখানে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বা বিরোধিতাকারী ছাড়াই প্রতিষ্ঠিত থাকে।১

সহীহাইনে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মৃত্যুর প্রাক্কালে করা শেষ অসিয়ত সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে: "তোমরা আরব উপদ্বীপ থেকে মুশরিকদের বের করে দাও।" ২

মুসনাদ ও অন্যান্য গ্রন্থে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সর্বশেষ নির্দেশ ছিল এই যে, তিনি বলেছিলেন: "আরব উপদ্বীপে যেন দুটি দ্বীন অবশিষ্ট রাখা না হয়।" ৩, আর মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "আমি অবশ্যই আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বহিষ্কার করব, যতক্ষণ না সেখানে কেবল মুসলিমদের অবশিষ্ট রাখব।" ৪-৫

--------------------------------------------

১ এই মাসআলা সংক্রান্ত মতামতগুলো দেখুন সহীহ বুখারীর সাথে মুদ্রিত ফাতহুল বারী, ৬/১৭১, এবং সহীহ মুসলিমের শারহুন নববী, ১১/৯৫। এ প্রসঙ্গে ইবনে হাজার বলেন: "অধিকাংশ আলিমের মাযহাব হলো—যাদের বসবাসের ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে তা বিশেষভাবে হিজায অঞ্চল, যা মক্কা, মদীনা, ইয়ামামা এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহ..."। আর নববী বলেন: "এবং সঠিক (الصحيح) মত হলো—তা হলো মদীনা, মক্কা, ইয়ামামা ও ইয়ামন।" দেখুন: পূর্বোক্ত রেফারেন্সদ্বয়, একই স্থান।

২ এটি বুখারী জিহাদ ও সিয়ার অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: জিম্মিদের জন্য কি সুপারিশ করা যাবে, হাদিস নং: ৩০৫৩; এবং মুসলিম ওয়াসিয়্যত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: যার ওসিয়ত করার মতো কিছু নেই তার ওসিয়ত বর্জন, হাদিস নং: ৪২০৮।

৩ এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং: ২৫১৪৮; এবং ইমাম মালিক মুওয়াত্তা-এর কিতাবুল জামে-তে কাছাকাছি শব্দে বর্ণনা করেছেন, ২/২৩৬।

৪ এটি মুসলিম জিহাদ ও সিয়ার অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বহিষ্কার, হাদিস নং: ৪৫৬৯।

৫ দেখুন: শেখ বকর আবু যায়দ রচিত 'খাসাইসু জাজিরাতিল আরব' এবং শেখ সাদ আল-হুসাইন রচিত 'হাকিকাতুদ দাওয়াতি ইলাল্লাহ ওয়া মা ইখতাস্সাত বিহি জাজিরাতুল আরব', পৃষ্ঠা ৫৯।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ১৮)
2ـ‌‌ أهداف الحديث عن الدعوة الإصلاحية ودراستها:

نهدف من دراسة الدعوة الإصلاحية في الجزيرة العربية إلى أمور مهمة منها:

1- بيان أهمية الدعوة إلى الله تعالى من خلال تقديم أنموذج حي قريب يمثل هذا المنهج في العصور المتأخرة، والتوكيد على أن مسيرة الدعوة وفق المنهج الصحيح سائرة مستمرة في طريقها برغم العوائق والعقبات.

2- التوكيد على سلفية دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله وقيام دعوته على نصوص الكتاب والسنة ووفق منهج أهل السنة والجماعة وأن دعوته متبعة لهذا المنهج العظيم.

3- التعريف بعدد من الأعلام ممن كان لهم دور عظيم في نصرة الدعوة الإصلاحية التي قام بها الإمام المجدد الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله.

إطلاعنا نحن أبناء المملكة العربية السعودية أقرب الناس إلى هذه الدعوة وأكثر المستفيدين منها على أحوال بلادنا قبل الدعوة وبعدها وتذكيرنا بذلك وترسيخه في أذهاننا؛ لندرك عظيم نعمة الله تعالى علينا الذي أنقذنا من الشرك والجهل والخرافة وفتح لنا أبواب الخير والرزق بسبب هذه الدعوة المباركة لنشكر نعمة الله عز وجل علينا.
2ـ‌‌ সংস্কারমূলক দাওয়াত সম্পর্কে আলোচনা ও তার অধ্যয়নের লক্ষ্যসমূহ:

আরব উপদ্বীপে সংস্কারমূলক দাওয়াত অধ্যয়নের মাধ্যমে আমরা কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করি, যার মধ্যে রয়েছে:

1- নিকট অতীতের এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানের গুরুত্ব বর্ণনা করা, যা পরবর্তী যুগগুলোতে এই আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে; এবং এ কথা নিশ্চিত করা যে, সঠিক (صحيح) আদর্শ অনুযায়ী দাওয়াতের এই পথ চলা সমস্ত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে।

2- শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর দাওয়াত যে সালাফি আদর্শের ছিল তা নিশ্চিত করা এবং তাঁর দাওয়াত যে কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্য এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তাঁর দাওয়াত যে এই মহান আদর্শের অনুসারী তা জোরালোভাবে ব্যক্ত করা।

3- এমন বেশ কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তিত্বের সাথে পরিচিত হওয়া, সংস্কারমূলক দাওয়াতকে বিজয়ী করার ক্ষেত্রে যাঁদের এক মহান ভূমিকা ছিল; যে দাওয়াত পরিচালনা করেছিলেন ইমাম ও সংস্কারক শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)।

সৌদি আরব রাজ্যের সন্তান হিসেবে আমরা যারা এই দাওয়াতের সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং এর দ্বারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছি, তাদের দাওয়াত-পূর্ব ও দাওয়াত-পরবর্তী এ দেশের অবস্থা সম্পর্কে অবগত করা এবং বিষয়টি আমাদের মানসপটে গেঁথে দেওয়া; যাতে আমরা আমাদের ওপর মহান আল্লাহর সেই মহান অনুগ্রহ উপলব্ধি করতে পারি, যিনি আমাদের শিরক, অজ্ঞতা ও কুসংস্কার থেকে রক্ষা করেছেন এবং এই বরকতময় দাওয়াতের বদৌলতে আমাদের জন্য কল্যাণ ও রিযিকের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, যেন আমরা আমাদের প্রতি মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ১৯)
ونحافظ على أسباب استمرار هذا الخير، ثم نعرف لأهل هذا الفضل فضلهم، وأهل الفضل هنا هم الذين قاموا بالدعوة وناصروها من الحكام والعلماء.
এবং আমরা এই কল্যাণ অব্যাহত রাখার কারণসমূহ সংরক্ষণ করব, অতঃপর এই শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারীদের শ্রেষ্ঠত্বকে স্বীকৃতি প্রদান করব; আর এখানে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হলেন তাঁরাই, যাঁরা দাওয়াতের কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন এবং এর প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা জ্ঞাপন করেছেন—তাঁরা হলেন শাসকবর্গ ও বিদ্বানগণ।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌تعريف الدعوة إلى الله تعالى:

لكلمة الدعوة في اللغة معان متعددة منها: الطلب والنداء والحث والسؤال، وهي مصدر للفعل الثلاثي دعا1، والمعاني السابقة تجتمع في الدعوة التي نقصدها.

وتكون الدعوة إلى الخير كما تكون إلى الشر أيضا، كما قال الله تعالى عن مؤمن آل فرعون: {وَيَاقَوْمِ مَا لِي أَدْعُوكُمْ إِلَى النَّجَاةِ وَتَدْعُونَنِي إِلَى النَّارِ تَدْعُونَنِي لِأَكْفُرَ بِاللَّهِ وَأُشْرِكَ بِهِ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَأَنَا أَدْعُوكُمْ إِلَى الْعَزِيزِ الْغَفَّارِ} [غافر:41-42] ، وقوله: {أُوْلَئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ} [البقرة:221] .

أما الدعوة في الاصطلاح فتطلق ويراد بها أمران أو معنيان:

المعنى الأول: دين الإسلام نفسه، ولها بناء على هذا المعنى تعريفات، منها:

1- دين الله الذي بعث به الأنبياء جميعا، تجدد على يد محمد صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

1 انظر المراجع اللغوية الآتية: "مادة دعا" تاج العروس للزبيدي10/126، لسان العرب لابن منظور، 14/257، الصحاح للجوهري، 6/2336، مختار الصحاح للرازي ص86، المعجم الوسيط لمجموعة من المؤلفين1/286.
আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াতের সংজ্ঞা:

শাব্দিক (لغة) অর্থে দাওয়াত শব্দের একাধিক অর্থ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: প্রার্থনা, আহ্বান, উদ্বুদ্ধকরণ এবং জিজ্ঞাসা। এটি ত্রিমূলীয় ক্রিয়া (الفعل الثلاثي) 'দাআ'-এর ক্রিয়ামূল (مصدر)১। পূর্বোক্ত অর্থসমূহ আমাদের উদ্দিষ্ট দাওয়াতের সংজ্ঞার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দাওয়াত যেমন কল্যাণের দিকে হতে পারে, তেমনি মন্দের দিকেও হতে পারে; যেমন মহান আল্লাহ ফেরাউনের বংশের মুমিন ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন: {হে আমার সম্প্রদায়, আমার কী হলো যে, আমি তোমাদেরকে মুক্তির দিকে আহ্বান করছি, আর তোমরা আমাকে আগুনের দিকে আহ্বান করছ? তোমরা আমাকে প্ররোচিত করছ যেন আমি আল্লাহর সাথে কুফরি করি এবং তাঁর সাথে এমন কিছু শরিক করি যে বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই; আর আমি তোমাদেরকে মহা পরাক্রমশালী ও পরম ক্ষমাশীলের দিকে আহ্বান করছি।} [গাফির: ৪১-৪২]। এবং তাঁর বাণী: {ওরাই আগুনের দিকে আহ্বান করে, আর আল্লাহ তাঁর নিজ অনুমতিক্রমে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহ্বান করেন।} [আল-বাকারা: ২২১]।

আর পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে দাওয়াত শব্দটি ব্যবহার করে দুটি বিষয় বা অর্থ বোঝানো হয়:

প্রথম অর্থ: স্বয়ং ইসলাম ধর্ম। এই অর্থের ওপর ভিত্তি করে দাওয়াতের কিছু সংজ্ঞা রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম:

১- আল্লাহর সেই দ্বীন যা দিয়ে তিনি সকল নবীকে প্রেরণ করেছিলেন এবং যা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে পুনর্জীবিত হয়েছে।

--------------------------------------------

১ নিম্নোক্ত ভাষাতাত্ত্বিক উৎসসমূহ দেখুন: "দাআ (دعا) শব্দমূল", জাবিদি রচিত তাজুল আরুস ১০/১২৬; ইবনে মনজুর রচিত লিসানুল আরব ১৪/২৫৭; জওহরি রচিত আস-সিহাহ ৬/২৩৩৬; রাজি রচিত মুখতারুস সিহাহ পৃষ্ঠা ৮৬; একদল লেখক কর্তৃক সংকলিত আল-মু'জামুল ওয়াসিত ১/২৮৬।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ২০)
خاتم النبيين، كاملا وافيا لصلاح الدين والآخرة1.

2- الخضوع لله والانقياد لتعاليمه بلا قيد ولا شرط2.

والمعنى الثاني: عملية نشر الإسلام وتبليغه، وهذا المعنى هو المقصود هنا3، ولها بناء على المعنى تعريفات كثيرة منها:

1- حث الناس على الخير والهدى، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر؛ ليفوزوا بسعادة العاجل والآجل4.

2- العلم الذي تعرف به كافة المحاولات الفنية المتعددة، الرامية إلى تبليغ الناس الإسلام، بما حوى من عقيدة وشريعة وأخلاق5.

3- الحث على فعل الخير، واجتناب الشر، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والتحبيب بالفضيلة، والتنفير عن الرذيلة، واتباع الحق ونبذ الباطل6.

--------------------------------------------

1 الدعوة الإسلامية "دعوة عالمية"، محمد الراوي، ص39.

2 الدعوة الإسلامية"أصولها ووسائلها"، د. غلوش، ص 12.

3 لأن لفظ الدعوة إذا أطلق فإنه ينصرف عرفا إلى هذا المعنى، وهو الدعوة إلى الإسلام بمعنى النشر والبلاغ، وهو المعنى الذي تواردت عليه معظم النصوص في الكتاب والسنة، انظر: المدخل إلى علم الدعوة، د. البيانوني، ص 18.

4 هداية المرشدين إلى طرق الوعظ والخطابة، علي محفوظ، ص 17.

5 الدعوة الإسلامية" أصولها ووسائلها"، د. غلوش، ص10.

6 مرشد الدعاة، محمد الخطيب، ص24.
সর্বশেষ নবী, দীন ও আখেরাতের কল্যাণের জন্য পূর্ণাঙ্গ ও পর্যাপ্ত১।

২- আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণ এবং কোনো শর্ত বা বাধ্যবাধকতা ছাড়াই তাঁর শিক্ষার আনুগত্য করা২।

দ্বিতীয় অর্থ হলো: ইসলাম প্রচার ও প্রসারের প্রক্রিয়া, এবং এখানে এই অর্থটিই উদ্দেশ্য৩। এই অর্থের ওপর ভিত্তি করে এর অনেক সংজ্ঞা রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি হলো:

১- মানুষকে কল্যাণ ও হিদায়াতের দিকে উৎসাহিত করা এবং সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎকাজ হতে নিষেধ (النهي عن المنكر) করা; যাতে তারা ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্য লাভ করতে পারে৪।

২- এমন এক জ্ঞান যার মাধ্যমে ইসলামের আকিদা (عقيدة), শরিয়ত (شريعة) ও আখলাক (أخلاق) মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন শৈল্পিক প্রচেষ্টাসমূহ জানা যায়৫।

৩- কল্যাণকর কাজে উৎসাহিত করা, অকল্যাণ পরিহার করা, সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎকাজ হতে নিষেধ (النهي عن المنكر) করা, সচ্চরিত্রের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করা, অসচ্চরিত্রের প্রতি ঘৃণা তৈরি করা এবং সত্যের অনুসরণ ও মিথ্যার বর্জন করা৬।

--------------------------------------------

১ আদ-দাওয়া আল-ইসলামিয়্যাহ "দাওয়া আলামিয়্যাহ", মুহাম্মদ আর-রাবি, পৃ. ৩৯।

২ আদ-দাওয়া আল-ইসলামিয়্যাহ "উসুলুহা ওয়া ওয়াসায়িলুহা", ড. গালুশ, পৃ. ১২।

৩ কারণ 'দাওয়া' শব্দটি যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন প্রচলিত প্রথা (عرفا) অনুযায়ী এই অর্থেই পর্যবসিত হয়। আর তা হলো প্রচার ও প্রসারের অর্থে ইসলামের দিকে আহ্বান। এটিই সেই অর্থ যা কুরআন ও সুন্নাহর অধিকাংশ পাঠ্যের (النصوص) ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়। দেখুন: আল-মাদখাল ইলা ইলমিদ দাওয়া, ড. আল-বায়ানূনী, পৃ. ১৮।

৪ হিদায়াতুল মুরশিদিন ইলা তুরুকিল ওয়াজ ওয়াল খিতাবাহ, আলী মাহফুজ, পৃ. ১৭।

৫ আদ-দাওয়া আল-ইসলামিয়্যাহ "উসুলুহা ওয়া ওয়াসায়িলুহা", ড. গালুশ, পৃ. ১০।

৬ মুরশিদুদ দুআত, মুহাম্মদ আল-খাতিব, পৃ. ২৪।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ২১)
1- تبليغ الإسلام للناس وتعليمه إياهم وتطبيقه في واقع الحياة1.

ومن التعريفات السابقة نستطيع أن نعرف الدعوة بالتعريف الآتي:

"نشر الإسلام وتبليغه للناس عن علم وبصيرة وفق الطرق المشروعة، اتباعا لهدي النبي صلى الله عليه وسلم، وابتغاء لمرضاة الله عز وجل وثوابه".

ولمصطلح الدعوة إلى الله تعالى بناء على هذا التعريف علاقة مباشرة بمصطلحات أخرى: كالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، والنصيحة، والوعظ، والتذكير، والاحتساب، والإصلاح، والتجديد، فمفهوم الدعوة إلى الله تعالى يضمها جميعا2.

*****

--------------------------------------------

1 المدخل إلى علم الدعوة، د. البيانوني، ص17.

2 انظر: نصوص الدعوة في القرآن الكريم دراسة تأصيلية، د. حمد العمار، ص11-31.
১- মানুষের নিকট ইসলাম প্রচার করা (تبليغ), তাদের তা শিক্ষা দেওয়া এবং বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ ঘটানো।১

পূর্বোক্ত সংজ্ঞাসমূহ থেকে আমরা দাওয়াতকে (الدعوة) নিম্নোক্ত সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করতে পারি:

"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ অনুসরণে এবং মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও তাঁর সওয়াব লাভের প্রত্যাশায় শরয়ি (مشروعة) পদ্ধতি অনুযায়ী ইলম ও প্রজ্ঞার (بصيرة) সাথে মানুষের মাঝে ইসলামের প্রসার ও তা প্রচার করা।"

এই সংজ্ঞার ভিত্তিতে আল্লাহর পথে দাওয়াত (الدعوة إلى الله) পরিভাষাটির সাথে অন্যান্য কিছু পরিভাষার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে: যেমন সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر), নসিহত (النصيحة), ওয়াজ (الوعظ), স্মরণ করানো (التذكير), ইহতিসাব (الاحتساب), সংস্কার (الإصلاح) এবং পুনর্জাগরণ (التجديد); মূলত আল্লাহর পথে দাওয়াতের ধারণাটি এই সবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে।২

*****

--------------------------------------------

১ আল-মাদখাল ইলা ইলমিদ দাওয়াহ, ড. আল-বায়ানুনি, পৃ. ১৭।

২ দেখুন: নুসসুদ দাওয়াহ ফিল কুরআনিল কারিম দিরাসাহ তাসিলিয়্যাহ, ড. হামাদ আল-আম্মার, পৃ. ১১-৩১।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ২২)
4ـ‌‌ أهمية الدعوة إلى الله وفضلها

الدعوة إلى الله تعالى من أهم الطاعات وأجل القربات التي أمر بها الله تعالى في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، ومما يبين شرفها ومنزلتها وأهميتها النقاط الخمسة الآتية:

1- أن الدعوة إلى الله تعالى تولاها الله سبحانه بنفسه فهو الذي يدعو عباده إلى طاعته وتقواه التي هي طريق الجنة، وينهاهم عن معصيته ومخالفة أمره التي هي طريق النار والعذاب، كما قال سبحانه وتعالى: {وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [يونس: 25] .

ولذلك أرسل سبحانه وتعالى الرسل وأنزل الكتب التي فيها الأوامر الصريحة بتوحيده وتقواه وطاعته، كما أنه سبحانه وتعالى نصب الأدلة والبراهين من مخلوقاته وآياته على أنه الرب الخالق المدبر المتصرف في هذا الكون، والإله الحق الذي يجب أن تصرف جميع أنواع العبادة له سبحانه دون ما سواه.

2- أن الدعوة إلى الله وظيفة الأنبياء والمرسلين الذي هم خيار الخلق وأشرف العباد، فإن الله تعالى اصطفى من عباده خيارهم ليكلفهم بالدعوة إليه سبحانه وتبليغ دينه كما قال عز وجل: {وَلَقَدْ
4ـ‌‌ আল্লাহর পথে দাওয়াতের গুরুত্ব ও ফযিলত

মহান আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদান অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আনুগত্য (طاعة) ও শ্রেষ্ঠ নৈকট্যমূলক কাজ, যার নির্দেশ আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুখে প্রদান করেছেন। নিম্নোক্ত পাঁচটি পয়েন্ট এর মর্যাদা, অবস্থান ও গুরুত্ব স্পষ্ট করে:

1- মহান আল্লাহ নিজেই দাওয়াতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনিই তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর আনুগত্য ও তাকওয়ার দিকে আহ্বান করেন যা জান্নাতের পথ, এবং তিনি তাদেরকে তাঁর অবাধ্যতা ও তাঁর নির্দেশের বিরোধিতা করা থেকে নিষেধ করেন যা জাহান্নাম ও আযাবের পথ। যেমনটি সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন} [ইউনুস: ২৫]।

এ উদ্দেশ্যেই তিনি রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন যাতে তাঁর একত্ববাদ (توحيد), তাকওয়া ও আনুগত্যের সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। তদুপরি তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত ও নিদর্শনাবলির মাঝে এমন সব প্রমাণ ও দলিল (أدلة) স্থাপন করেছেন যা প্রমাণ করে যে, তিনিই একমাত্র রব, স্রষ্টা, পরিচালক ও এই মহাবিশ্বের নিয়ন্ত্রক এবং তিনিই একমাত্র সত্য ইলাহ যাঁর উদ্দেশ্যে সকল প্রকার ইবাদত নিবেদন করা আবশ্যক, তিনি ব্যতীত অন্য কারো জন্য নয়।

2- আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদান হলো নবী ও রাসূলগণের দায়িত্ব, যাঁরা সৃষ্টির সেরা ও বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত। কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মনোনীত করেছেন যাতে তাঁদেরকে তাঁর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ও তাঁর দ্বীন প্রচার করার (تبليغ) দায়িত্ব প্রদান করা যায়। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর অবশ্যই...}
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ২৩)
بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنْ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ { [النحل: 36] ، وقال جل وعلا: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِي} [الأنبياء:25] ، وقوله سبحانه: {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ لِأَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا} [النساء: 165] ، وقوله سبحانه: {اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ} [الأنعام: 124] .

فهي وظيفة هؤلاء الأخيار الأطهار المصطفين من عباد الله، ويأتي في مقدمتهم فضلا ومكانة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم الذي قال عنه ربه تبارك وتعالى: {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا (45) وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا} [الأحزاب: 45ـ46] ، فأي وظيفة أكرم وأشرف من وظيفة يتولاها خيار الناس ويقومون بها.

3ـ أن الله تعالى جعل أحسن الأقوال وأشرفها الدعوة إليه سبحانه كما قال جل وعلا: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنْ الْمُسْلِمِينَ} [فصلت:33] .

يقول الشيخ عبد الرحمن السعدي رحمه الله حول هذه الآية:

"هذا استفهام بمعنى النفي المتقرر أي: لا أحد أحسن قولا، أي كلاما وطريقة وحالة ممن دعا إلى الله بتعليم الجاهلين ووعظ الغافلين والمعرضين ومجادلة المبطلين بالأمر بعبادة الله بجميع أنواعها، والحث عليها وتحسينها مهما أمكن، والزجر عما نهى الله عنه وتقبيحه بكل
আমরা প্রত্যেক জাতির মধ্যে একজন রাসূল (رسول) প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো [আন-নাহল: ৩৬]। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল (رسول) প্রেরণ করিনি, যার প্রতি আমি এই ওহি (وحي) নাযিল করিনি যে, নিশ্চয়ই আমি ছাড়া অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই; সুতরাং তোমরা কেবল আমারই ইবাদত করো} [আল-আম্বিয়া: ২৫]। আর তাঁর সুমহান বাণী: {সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসূলগণকে (رسل) প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূলগণের (رسল) আগমনের পর আল্লাহর সামনে মানুষের কোনো প্রমাণ বা যুক্তি (حجة) না থাকে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} [আন-নিসা: ১৬৫]। এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ অধিক অবগত যে, কোথায় তিনি তাঁর রিসালাত (رسالة) অর্পণ করবেন} [আল-আনআম: ১২৪]।

এটি আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে সেই সব মনোনীত উত্তম ও পবিত্র ব্যক্তিদের কর্ম; তাঁদের মধ্যে মর্যাদা ও অবস্থানের দিক থেকে অগ্রগণ্য হলেন আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যাঁর সম্পর্কে তাঁর প্রতিপালক তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: {হে নবী, আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে। আর আল্লাহর অনুমতিতে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে} [আল-আহযাব: ৪৫-৪৬]। সুতরাং সেই কর্মের চেয়ে অধিক সম্মানিত ও মহৎ আর কী হতে পারে, যা মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা পরিচালনা করেন এবং সম্পাদন করেন।

৩- আল্লাহ তাআলা তাঁর দিকে আহ্বান জানানোকেই সর্বোত্তম ও সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ কথা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যেমনটি তিনি মহানুভব আল্লাহ বলেছেন: {ঐ ব্যক্তির চেয়ে কথায় আর কে উত্তম হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায়, নেক আমল করে এবং বলে যে, নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত} [ফুসসিলাত: ৩৩]।

শায়খ আব্দুর রহমান আস-সাদি (রাহিমাহুল্লাহ) এই আয়াত সম্পর্কে বলেন:

"এটি এমন একটি প্রশ্ন যা সুনিশ্চিত নেতিবাচক (نفي) অর্থ প্রদান করে, অর্থাৎ: কথা, পদ্ধতি এবং অবস্থার দিক থেকে সেই ব্যক্তির চেয়ে উত্তম আর কেউ নেই, যে অজ্ঞদের শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে, গাফেল ও বিমুখদের উপদেশ প্রদানের মাধ্যমে এবং বাতিলপন্থীদের সাথে বিতর্কের (مجادلة) মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদতের সকল প্রকারের নির্দেশ দিয়ে, সেটির প্রতি উৎসাহ প্রদান করে ও সাধ্যমতো সেটিকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে, এবং আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত রাখা ও সব উপায়ে সেটির কুৎসিত দিকগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায়।"
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ২৪)
طريق يوجب تركه، خصوصا من هذه الدعوة إلى أصل دين الإسلام وتحسينه ومجادلة أعدائه بالتي هي أحسن، والنهي عما يضاده من الكفر والشرك، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.

ومن الدعوة إلى الله: تحبيبه إلى عباده بذكر تفاصيل نعمه وسعة جوده وكمال رحمته وذكر أوصاف كماله ونعوت جلاله.

ومن الدعوة إلى الله: الترغيب في اقتباس العلم والهدى من كتاب الله وسنة رسوله الكريم صلى الله عليه وسلم والحث على ذلك بكل طريق موصل إليه، ومن ذلك: الحث على مكارم الأخلاق، والإحسان إلى عموم الخلق، ومقابلة المسيء بالإحسان، والأمر بصلة الأرحام، وبر الوالدين.

ومن ذلك: الوعظ لعموم الناس في الأوقات والمواسم والعوارض والمصائب بما يناسب ذلك الحال، إلى غير ذلك مما لا ينحصر إفراده بما تشمله الدعوة إلى الخير كله والترهيب من جميع الشر"1.

4ـ أن من أسباب تفضيل هذه الأمة على غيرها وتميزها بين سائر الأمم وخيريتها عليهم كونها تدعو إلى الله تعالى بأمرها بالمعروف ونهيها عن المنكر، قال سبحانه وتعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنْ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} [آل عمران: 110] .

قال الحافظ ابن كثير رحمه الله في تفسيره لهذه الآية: " يخبر تعالى

--------------------------------------------

1 تيسير الكريم الرحمن بتفسير كلام المنان، ص695.
এটি এমন এক পথ যা বর্জন করা আবশ্যক, বিশেষ করে ইসলামের মূল আদর্শের দিকে দাওয়াত দান, এর সৌন্দর্য তুলে ধরা, উত্তম পন্থায় এর শত্রুদের সাথে বিতর্ক করা, কুফর ও শিরকের মতো এর পরিপন্থী বিষয়সমূহ থেকে নিষেধ করা এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে।

আর আল্লাহর দিকে দাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত হলো: তাঁর নিআমতসমূহের বিস্তারিত বিবরণ, তাঁর দানশীলতার প্রশস্ততা, তাঁর করুণার পূর্ণতা এবং তাঁর পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি ও মহিমার বর্ণনা প্রদানের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের নিকট তাঁকে প্রিয় করে তোলা।

আর আল্লাহর দিকে দাওয়াতের আরও অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর মহান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে ইলম ও হিদায়াত অর্জনে উদ্বুদ্ধ করা এবং সেখানে পৌঁছানোর প্রতিটি পথে উৎসাহ প্রদান করা। এর মধ্যে আরও রয়েছে: সচ্চরিত্রের প্রতি উৎসাহ প্রদান, সাধারণ সৃষ্টির প্রতি ইহসান বা সদাচরণ করা, মন্দের মোকাবিলা ভালোর মাধ্যমে করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ও পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ প্রদান করা।

এর অন্তর্ভুক্ত আরও হলো: বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ মৌসুমে, আকস্মিক ঘটনাপ্রবাহে ও বিপদে সাধারণ মানুষকে পরিস্থিতি অনুযায়ী উপদেশ প্রদান করা। এ ছাড়াও এমন আরও অগণিত বিষয় রয়েছে যা গণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়, যা মূলত সকল কল্যাণের দিকে দাওয়াত এবং সকল অকল্যাণ হতে ভীতি প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।"১।

৪. অন্যান্য উম্মতের ওপর এই উম্মতকে শ্রেষ্ঠত্ব দান, সকল জাতির মধ্যে তাদের স্বাতন্ত্র্য এবং শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম কারণ হলো তারা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান করে। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদের মানবজাতির জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর ওপর ঈমান রাখো} [আলে ইমরান: ১১০]।

হাফিজ (الحافظ) ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে বলেন: "আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে...

--------------------------------------------

১ তাইসিরুল কারিমির রহমান ফি তাফসিরি কালামিল মান্নান, পৃ. ৬৯৫।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ২৫)
عن هذه الأمة المحمدية بأنهم خير الأمم فقال تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} ، قال البخاري: حدثنا محمد بن يوسف عن سفيان بن ميسرة عن أبي حازم عن أبي هريرة رضي الله عنه {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} قال: خير الناس للناس تأتون بهم في السلاسل في أعناقهم حتى يدخلوا في الإسلام … والمعنى أنهم خير الأمم وأنفع الناس للناس"1.

وقال عمر بن الخطاب رضي الله عنه موضحا معنى هذه الآية: "من فعل فعلهم كان مثلهم"2،أي من أمر بالمعروف ونهى عن المنكر وآمن بالله تعالى وأتى بهذه الصفات الثلاثة فهو من أهل هذه الأمة الخيرة.

وقال الشيخ عبد الرحمن السعدي رحمه الله في الآية: "هذا تفضيل من الله لهذه الأمة بهذه الأسباب التي تميزوا بها وفاقوا بها سائر الأمم وأنهم خير الناس للناس نصحا ومحبة للخير ودعوة وتعليما وإرشادا وأمرا بالمعروف ونهيا عن المنكر وجمعا بين تكميل الخلق والسعي في منافعهم بحسب الإمكان وبين تكميل النفس بالإيمان بالله والقيام بحقوق الإيمان"3.

--------------------------------------------

1 تفسير القرآن العظيم، 1/420، وأثر أبي هريرة رضي الله عنه رواه البخاري، في الصحيح في كتاب التفسير، سورة آل عمران، باب {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} ، رقم: 4557.

2 تفسير القرطبي، 4/170.

3 تيسير الكريم الرحمن، ص113.
এই মুহাম্মদী উম্মত সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে যে তারা সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ জাতি, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।" ইমাম বুখারি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান ইবনে মাইসারাহ থেকে, তিনি আবু হাযেম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, "তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ জাতি, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে" আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন: "তোমরা মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ মানুষ; তোমরা তাদের গলায় শিকল পরিয়ে নিয়ে আসো, অবশেষে তারা ইসলামে প্রবেশ করে … এর অর্থ হলো তারা সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি এবং মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।"১

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এই আয়াতের অর্থ স্পষ্ট করতে গিয়ে বলেন: "যে ব্যক্তি তাদের মতো কাজ করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে"২। অর্থাৎ যে ব্যক্তি সৎ কাজের আদেশ দিবে, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে, আর এই তিনটি গুণের সমন্বয় ঘটাবে, সে এই শ্রেষ্ঠ উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হবে।

শায়খ আব্দুর রহমান আস-সাদি (রহ.) এই আয়াত প্রসঙ্গে বলেন: "এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এই উম্মতের প্রতি এমন এক বিশেষ মর্যাদা যা সেই সকল গুণের কারণে অর্জিত হয়েছে যার মাধ্যমে তারা স্বতন্ত্র হয়েছে এবং অন্যান্য সকল জাতির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। আর তারা কল্যাণকামিতা, কল্যাণের প্রতি ভালোবাসা, দাওয়াত, শিক্ষা, দিকনির্দেশনা এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের মাধ্যমে মানুষের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ। তারা যথাসম্ভব সৃষ্টির সংশোধন ও তাদের কল্যাণে সচেষ্ট হওয়া এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান ও ঈমানের হক আদায়ের মাধ্যমে নিজ সত্তার পূর্ণতা অর্জনের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছে।"৩।

--------------------------------------------

১ তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ১/৪২০; আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনা (أثر) টি বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থের তাফসীর অধ্যায়ে, সূরা আলে ইমরান পরিচ্ছেদে: "তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ জাতি, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে", হাদিস নম্বর: ৪৫৫৭-এ বর্ণনা করেছেন।

২ তাফসীর আল-কুরতুবী, ৪/১৭০।

৩ তায়সীরুল কারীম আল-রহমান, পৃষ্ঠা ১১৩।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ২৬)
5ـ استمرار الثواب والأجر وتتابعه للداعي إلى الله تعالى إذا اهتدى على يديه أحد؛ مما يدل على أهمية الدعوة وفضلها وعلو شأنها.

فعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "من دعا إلى هدى كان له من الأجر مثل أجور من تبعه لا ينقص ذلك من أجورهم شيئا، ومن دعا إلى ضلالة كان عليه من الإثم مثل آثام من تبعه لا ينقص ذلك من آثامهم شيئا" 1.

فأبان هذا الحديث عظم الجزاء للداعية المترتب على تأثر الناس بدعوته " فإنه من دعا إلى هدى كان له مثل أجور تابعيه، أو إلى ضلالة كان عليه مثل آثام تابعيه، سواء كان ذلك الهدى والضلالة هو الذي ابتدأه أم كان مسبوقا إليه، وسواء كان ذلك تعليم علم أو عبادة أو أدب أو غير ذلك"2.

وجاء في حديث آخر عن أبي مسعود الأنصاري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من دل على خير فله مثل أجر فاعله" 3.

وروى أبو هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " إذا مات ابن

--------------------------------------------

1 رواه مسلم في كتاب العلم، باب من سن سنة حسنة أو سيئة، ومن دعا إلى هدى أو ضلالة، رقم: 6745.

2 شرح النووي على صحيح مسلم،15/346.

3 رواه مسلم في كتاب الجهاد، باب فضل إعانة الغازي في سبيل الله، رقم: 4876.
৫. আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর নেকি ও প্রতিদানের ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্ব, যখন তার মাধ্যমে কেউ হেদায়েত প্রাপ্ত হয়; যা দাওয়াতের গুরুত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও উচ্চ মর্যাদার প্রমাণ বহন করে।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সৎপথের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্য ওই ব্যক্তিদের সমান প্রতিদান রয়েছে যারা তার অনুসরণ করেছে, এতে তাদের প্রতিদান থেকে সামান্যও হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করবে, তার ওপর ওই ব্যক্তিদের সমান পাপ বর্তাবে যারা তার অনুসরণ করেছে, এতে তাদের পাপ থেকে সামান্যও হ্রাস করা হবে না" ১।

এই হাদিসটি একজন দাঈর জন্য মানুষের ওপর তার দাওয়াতের প্রভাবের ফলে প্রাপ্ত মহান প্রতিদানের বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি সৎপথের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্য তার অনুসারীদের সমান প্রতিদান রয়েছে, অথবা যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করবে, তার ওপর তার অনুসারীদের সমান পাপ রয়েছে; চাই সেই পথনির্দেশ বা পথভ্রষ্টতা সে নিজে শুরু করুক অথবা তার পূর্বে কেউ তা করে থাকুক। তদ্রূপ চাই সেটি কোনো জ্ঞান শিক্ষা দান হোক, কিংবা ইবাদত, আদব বা অন্য কিছু" ২।

আবু মাসউদ আল-আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ প্রদর্শন করবে, সে তার সম্পাদনকারীর সমান প্রতিদান লাভ করবে" ৩।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন আদম সন্তান মৃত্যুবরণ করে...

--------------------------------------------

১ মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন কিতাবুল ইলম, উত্তম বা মন্দ রীতি প্রচলন করা এবং সৎপথ বা পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করা বিষয়ক অধ্যায়, নম্বর: ৬৭৪৫।

২ সহীহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ১৫/৩৪৬।

৩ মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন কিতাবুল জিহাদ, আল্লাহর পথে যুদ্ধকারীকে সাহায্য করার ফজিলত বিষয়ক অধ্যায়, নম্বর: ৪৮৭৬।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ২৭)
آدم انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية أو علم ينتفع به أو ولد صالح يدعو له" 1، والعلم الذي ينتفع به يدخل في عموم الدعوة إلى الله تعالى.

ولو أردنا استقصاء ما يدل على أهمية الدعوة وبيان منزلتها العظيمة لطال بنا المقام ولما استطعنا ذلك لكثرته في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم ولكننا نستطيع القول بأن كل ما يدل على مشروعية الدعوة يدل بالضرورة على شرفها وفضلها ومنزلتها؛ لأنها طاعة وقربة لله تعالى.

*****

--------------------------------------------

1 رواه مسلم في كتاب الوصية، باب ما يلحق الإنسان من الثواب بعد وفاته، رقم: 4199.
"...আদমের আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি বিষয় ব্যতীত: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন জ্ঞান যা থেকে মানুষ উপকৃত হয়, অথবা এমন সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে" ১, আর যে জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, তা আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াতের ব্যাপক প্রসারের অন্তর্ভুক্ত।

আর আমরা যদি দাওয়াতের গুরুত্ব এবং এর সুউচ্চ মর্যাদা নির্দেশকারী বিষয়সমূহের বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে চাই, তবে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহয় এর আধিক্যের কারণে আমাদের পক্ষে তা সম্ভব হবে না। তবে আমরা এ কথা বলতে পারি যে, দাওয়াতের বৈধতা নির্দেশকারী প্রতিটি বিষয়ই অনিবার্যভাবে এর সম্মান, শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদাকেই প্রমাণ করে; কেননা এটি আল্লাহ তাআলার প্রতি আনুগত্য এবং তাঁর নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম।

*****

--------------------------------------------

১. এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম অসিয়ত অধ্যায়ে, 'মৃত্যুর পর মানুষ যে সওয়াব প্রাপ্ত হয়' পরিচ্ছেদে, নম্বর: ৪১৯৯।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ২৮)
5ـ‌‌ منهج السلف الصالح في الدعوة إلى الله

المنهج: هو الطريق الواضح البين1، وهو الطريق المستقيم الواضح الذي لا يتغير2.

فمنهج السلف الصالح في الدعوة واضح وثابت لا يتغير لكونه مستمد من الشريعة الإسلامية، وإن تبدلت أساليبه ووسائله من زمان لآخر، ومن أشخاص لآخرين، حسب حال المدعو وظروف الدعوة وموضوعها.

والسلف الصالح: هم أتباع النبي صلى الله عليه وسلم من الصحابة والتابعين وتابعي التابعين أهل القرون المفضلة التي قال عنها النبي صلى الله عليه وسلم: " خيركم قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم" الحديث3.

وهكذا من جاء بعدهم من أتباعهم أئمة الدين وأعلام الملة الذين ساروا على هدي النبي صلى الله عليه وسلم ولم يخالفوه في الاعتقاد والقول والعمل، ولم يبتدعوا ولم يبدلوا، ولم يحدثوا في دين الله ما ليس منه4، وهؤلاء هم أهل السنة والجماعة والطائفة المنصورة والفرقة

--------------------------------------------

1 مختار الصحاح، الرازي، مادة نهج، ص284.

2 المعجم الوسيط، مادة نهج، ص284.

3 رواه البخاري في كتاب الشهادات، باب لا يشهد على شهادة جور إذا أُشهد، رقم: 2652، ورواه مسلم في كتاب فضائل الصحابة، باب فضل الصحابة ثم الذين يلونهم، رقم 6417.

4 انظر: شرح العقيدة الطحاوية، الحنفي ص330، مفهوم السنة والجماعة، د. العقل، ص79.
5ـ‌‌ আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের মানহাজ (منهج)

মানহাজ (منهج): এটি হলো স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট পথ১, এবং এটি এমন এক সঠিক (مستقيم) ও সুস্পষ্ট পথ যা পরিবর্তিত হয় না২।

সুতরাং দাওয়াতের ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের মানহাজ (منهج) অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সুদৃঢ়, যা অপরিবর্তনীয়; কারণ এটি ইসলামি শরিয়ত থেকে আহরিত। যদিও দাওয়াতের পাত্রের অবস্থা, দাওয়াতের প্রেক্ষাপট এবং বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কালভেদে ও ব্যক্তিভেদে এর পদ্ধতি ও মাধ্যমগুলো পরিবর্তিত হতে পারে।

আর সালাফে সালেহীন হলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসারী সাহাবীগণ, তাবিঈগণ এবং তাবে-তাবিঈগণ—যারা সেই শ্রেষ্ঠ যুগের (القرون المفضلة) অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগ, তারপর যারা তাদের পরবর্তী, তারপর যারা তাদের পরবর্তী" (হাদিস)৩।

অনুরূপভাবে তাদের পরবর্তী যুগে যারা তাদের অনুসারী হিসেবে দ্বীনের ইমাম এবং মিল্লাতের দিকপাল হিসেবে এসেছেন, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শের ওপর চলেছেন এবং আকিদাহ বা বিশ্বাস (اعتقاد), কথা ও কাজে তাঁর বিরোধিতা করেননি; তারা দ্বীনে নতুন কোনো প্রথা উদ্ভাবন (ابتداع) করেননি, কোনো পরিবর্তন আনেননি এবং আল্লাহর দ্বীনে এমন কিছু প্রবর্তন করেননি যা তার অংশ নয়৪। এরাই হলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত, সাহায্যপ্রাপ্ত দল (الطائفة المنصورة) এবং দল (الفرقة)

--------------------------------------------

১. মুখতারুস সিহাহ, আর-রাজি, অনুচ্ছেদ: নাহজ, পৃষ্ঠা ২৮৪।

২. আল-মু'জাম আল-ওয়াসিত, অনুচ্ছেদ: নাহজ, পৃষ্ঠা ২৮৪।

৩. এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, কিতাবুস শাহাদাত, পরিচ্ছেদ: অন্যায় সাক্ষ্যের ওপর সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না, হাদিস নং: ২৬৫২; এবং এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, কিতাবু ফাদায়িলিস সাহাবাহ, পরিচ্ছেদ: সাহাবীদের মর্যাদা এবং অতঃপর তাদের পরবর্তীদের মর্যাদা, হাদিস নং: ৬৪১৭।

৪. দেখুন: শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ, আল-হানাফি, পৃষ্ঠা ৩৩০; মাফহুমুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত, ড. আল-আকল, পৃষ্ঠা ৭৯।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ২৯)
الناجية الذين جاء ذكرهم في حديث المغيرة بن شعبة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " لا يزال طائفة من أمتي ظاهرين حتى يأتيهم أمر الله وهم ظاهرون" 1.

وفي رواية أخرى قال صلى الله عليه وسلم: "لا تزال طائفة من أمتي يقاتلون على الحق ظاهرين إلى يوم القيامة" 2.

كما ذكرهم عليه الصلاة والسلام في الحديث الذي رواه عوف بن مالك رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة، فواحدة في الجنة وسبعون في النار، وافترقت النصارى على ثنتين وسبعين فرقة، فإحدى وسبعون في النار، وواحدة في الجنة، والذي نفس محمد بيده لتفترقن أمتي على ثلاث وسبعين فرقة، واحدة في الجنة، وثنتان وسبعون في النار، قيل يا رسول الله: من هم؟ قال: الجماعة" 3.

وقد قال أيضا عليه الصلاة والسلام: "وإياكم ومحدثات الأمور فإنها ضلالة، فمن أدرك ذلك منكم فعليه بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين عضوا عليها بالنواجذ … " الحديث4.

--------------------------------------------

1 رواه البخاري في كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة، باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: "لا تزال طائفة من أمتي.." رقم: 6767.

2 رواه مسلم في كتاب الإيمان، باب قوله صلى الله عليه وسلم: "لا تزال طائفة من أمتي.."، رقم: 393.

3 رواه ابن ماجة، في كتاب الفتن، باب افتراق الأمم، رقم: 4063، وصححه الألباني، انظر: صحيح سنن ابن ماجة، 3/307.

4 رواه الترمذي في كتاب العلم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، باب ما جاء في الأخذ بالسنة واجتناب البدع، رقم:2676، وقال الترمذي: "حديث حسن صحيح"، ورواه ابن ماجة في المقدمة، باب اتباع سنة الخلفاء الراشدين المهديين، رقم: 43.
নাজাতপ্রাপ্ত (الناجية) সেই দল যাদের কথা মুগিরা ইবনে শু’বা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে, তিনি বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা বিজয়ী থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে, এমতাবস্থায় তারা বিজয়ীই থাকবে।" ১।

অন্য এক বর্ণনায় (رواية) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর লড়াই করতে থাকবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত বিজয়ী থাকবে।" ২।

অনুরূপভাবে তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক, তিনি তাদের কথা সেই হাদিসে উল্লেখ করেছেন যা আউফ ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইয়াহুদিরা একাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, তাদের মধ্যে একটি জান্নাতি এবং সত্তরটি জাহান্নামি। আর খ্রিস্টানরা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, তাদের মধ্যে একাত্তরটি জাহান্নামি এবং একটি জান্নাতি। সেই সত্তার কসম যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, আমার উম্মত অবশ্যই তেহাত্তর দলে বিভক্ত হবে, যাদের মধ্যে একটি জান্নাতি এবং বাহাত্তরটি জাহান্নামি।" জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: "আল-জামা’আহ।" ৩।

তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আরও বলেছেন: "তোমরা নতুন উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তা হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة)। তোমাদের মধ্যে যারা এই সময়ের সম্মুখীন হবে, তাদের ওপর কর্তব্য হলো আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা। একে তোমরা চোয়ালের দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে কামড়ে ধরে থাকো..." হাদিস। ৪।

--------------------------------------------

১. ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন কিতাবুল ইতিসাম বিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ-এ, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী শীর্ষক অনুচ্ছেদ: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা...", নম্বর: ৬৭৬৭।

২. ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন কিতাবুল ঈমান-এ, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী শীর্ষক অনুচ্ছেদ: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা...", নম্বর: ৩৯৩।

৩. ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন কিতাবুল ফিতান-এ, উম্মতের অনৈক্য শীর্ষক অনুচ্ছেদ, নম্বর: ৪০৬৩, এবং আলবানি একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন; দেখুন: সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩/৩০৭।

৪. ইমাম তিরমিজি এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত কিতাবুল ইলম-এ বর্ণনা করেছেন, সুন্নাহ গ্রহণ ও বিদআত বর্জন শীর্ষক অনুচ্ছেদ, নম্বর: ২৬৭৬; এবং তিরমিজি বলেছেন: "হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)"। আর ইবনে মাজাহ এটি মুকাদ্দিমায় বর্ণনা করেছেন, খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণ শীর্ষক অনুচ্ছেদ, নম্বর: ৪৩।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ৩০)
وسمى السلف سلفا: لسبقهم في الوقت وقربهم من الرسالة مقارنة بمن بعدهم، ولتقدمهم في الفضل والمكانة والخير والهدى، ويسمون أهل السنة: لانتسابهم إلى سنة النبي صلى الله عليه وسلم وتمسكهم بها وعدم عدولهم عنها.

وسموا بالجماعة: لاجتماعهم على الحق والهدى، ولأن السلف الصالح أهل اتباع لا ابتداع واجتماع لا اختلاف؛ لأنهم يتلقون عن الله تعالى وعن رسوله صلى الله عليه وسلم فطريقتهم ومنهجهم في العلم والاعتقاد والقول والعمل أسلم وأعلم وأحكم1.

ومن خلال تتبع النصوص الشرعية وفهم السلف وتطبيقهم لها يمكن القول بأن منهج السلف في الدعوة يقوم على ركائز جليلة، من أهمها:

1ـ العلم:

وهو أول أمر يقوم عليه منهج السلف في الدعوة إلى الله تعالى، فالدعوة بلا علم دعوة فاسدة باطلة لا قيمة لها ولا اعتبار، فإن فاقد الشيء لا يعطيه، فتشبع الداعي بالعلم بالدعوة والمعرفة بأصولها وفروعها وأسباب نجاحها وفشلها من العوامل الرئيسة التي لا يستغني عنها الداعية بأي حال من الأحوال2.

ولا يتصور وفق منهج السلف قيام دعوة صحيحة من دون علم

--------------------------------------------

1 انظر: شرح العقيدة الواسطية، الشيخ د. صالح الفوزان، ص211ـ214، مفهوم السنة والجماعة، د. العقل، ص79.

2 انظر: أسس الدعوة، الشيخ الجزائري، ص62.
পূর্বসূরিদের (سلف) 'সালাফ' বলা হয় তাদের সময়ের অগ্রগামীতা এবং পরবর্তী প্রজন্মের তুলনায় রিসালাতের অধিক নিকটবর্তী হওয়ার কারণে, এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্ব, মর্যাদা, কল্যাণ ও হিদায়াতের ক্ষেত্রে অগ্রবর্তী হওয়ার কারণে। আর তাদের 'আহলে সুন্নাত' (أهل السنة) বলা হয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাতের (سنة) প্রতি তাদের সম্বন্ধের কারণে এবং তাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা ও তা থেকে বিচ্যুত না হওয়ার কারণে।

তাদের 'জামাআত' (الجماعة) বলা হয় সত্য ও হিদায়াতের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কারণে। কারণ নেককার পূর্বসূরিগণ (السلف الصالح) অনুসরণের (اتباع) অনুসারী ছিলেন, নব-উদ্ভাবনের (ابتداع) নয়; এবং তারা ঐক্যের অনুসারী ছিলেন, বিভেদের নয়। কারণ তারা মহান আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে জ্ঞান আহরণ করতেন। ফলে জ্ঞান, আকিদা বা বিশ্বাস (اعتقاد), কথা ও কাজের ক্ষেত্রে তাদের পথ ও কর্মপন্থা (منهج) অধিকতর নিরাপদ, অধিকতর জ্ঞানসমৃদ্ধ এবং অধিকতর প্রজ্ঞাপূর্ণ ১।

শারয়ী দলিলসমূহ (النصوص) অনুসন্ধান এবং পূর্বসূরিদের (سلف) উপলব্ধি ও তা প্রয়োগের মাধ্যমে বলা যেতে পারে যে, দাওয়াতের (دعوة) ক্ষেত্রে সালাফদের কর্মপন্থা (منهج) কতগুলো মহান ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:

১ـ জ্ঞান (العلم):

মহান আল্লাহর পথে দাওয়াতের (دعوة) ক্ষেত্রে সালাফদের কর্মপন্থা (منهج) যে ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, এটি তার প্রথম বিষয়। কেননা জ্ঞান (العلم) ব্যতীত দাওয়াত একটি ত্রুটিপূর্ণ (فاسدة) ও বাতিল (باطلة) দাওয়াত, যার কোনো মূল্য বা গ্রহণযোগ্যতা নেই। কারণ যার নিজের কাছে কিছু নেই সে অন্যকে কিছু দিতে পারে না। সুতরাং দাওয়াতের জ্ঞান এবং এর মূলনীতি (أصول), শাখা-প্রশাখা (فروع), এর সফলতা ও ব্যর্থতার কারণসমূহ সম্পর্কে দাঈর পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকা এমন এক প্রধান অনুষঙ্গ যা থেকে কোনো অবস্থাতেই কোনো দাঈর বিমুখ হওয়ার সুযোগ নেই ২।

সালাফদের কর্মপন্থা (منهج) অনুযায়ী জ্ঞান (العلم) ব্যতীত কোনো সঠিক (صحيحة) দাওয়াত প্রতিষ্ঠিত হওয়া কল্পনা করা যায় না।

--------------------------------------------

১ দেখুন: শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ, শায়খ ড. সালিহ আল-ফাওজান, পৃ. ২১১-২১৪, মাফহুমুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত, ড. আল-আকল, পৃ. ৭৯।

২ দেখুন: উসুসুদ দাওয়াহ, শায়খ আল-জাযায়েরি, পৃ. ৬২।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ৩১)
بدين الله، والعلم المقصود هنا هو: العلم بنصوص الكتاب والسنة، وهو كما يقول الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله: معرفة الله ومعرفة نبيه صلى الله عليه وسلم ومعرفة دين الإسلام بالأدلة1.

وهو مرتبط بجميع مراحل الدعوة ولذلك قال الله جل وعلا لرسوله صلى الله عليه وسلم: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنْ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنْ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف:108] ، والبصيرة: هي العلم والفهم كما قال بذلك جماعة من المفسرين2.

والعلم لا أن يسبق القول والعمل، وممن أوضح ذلك الإمام البخاري في كتابه الصحيح حين وضع بابا في كتاب العلم وسمه بقوله: "باب العلم قبل القول والعمل لقول الله تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ} [محمد: 19] فبدأ بالعلم"3.

وبفقد العلم في الدعوة يتحكم الهوى وتقع بسبب ذلك المصائب والضلالات والجهالات، كما قال جل وعلا: {وَإِنَّ كَثِيرًا لَيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِالْمُعْتَدِينَ} [الأنعام: 119] .

والدعوة بلا علم قول على الله تعالى وعلى رسوله صلى الله عليه وسلم بغير علم

--------------------------------------------

1 انظر: مقدمة كتاب الأصول الثلاثة.

2 انظر مثلا: تفسير القرآن العظيم، لابن كثير3/80، وتيسير الكريم الرحمن لابن سعدي، ص 361.

3 انظر: الصحيح المطبوع مع فتح الباري، 1/159.
আল্লাহর দ্বীনের বিষয়ে; আর এখানে জ্ঞান (ইলম) বলতে উদ্দেশ্য হলো: কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান। শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) যেমনটি বলেছেন: "আল্লাহকে চেনা, তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে চেনা এবং দলীল-প্রমাণসহ ইসলাম ধর্মকে চেনা।"১

এটি দাওয়াতের সকল পর্যায়ের সাথে সম্পৃক্ত। একারণেই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলেছেন: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান বা অন্তর্দৃষ্টির সাথে আহ্বান করি—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই} [ইউসুফ: ১০৮]। আর 'বাসীরাহ' (অন্তর্দৃষ্টি) হলো জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, যেমনটি মুফাসসিরগণের একটি দল উল্লেখ করেছেন।২

আর কথা ও কাজের আগে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যখন তিনি জ্ঞান অধ্যায়ে একটি অনুচ্ছেদ স্থাপন করেন এবং এর শিরোনাম দেন: "কথা ও কাজের পূর্বে জ্ঞান অর্জন করা; কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: {সুতরাং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই} [মুহাম্মদ: ১৯]। এখানে তিনি জ্ঞান দ্বারা শুরু করেছেন।"৩

দাওয়াতের ক্ষেত্রে জ্ঞানের অনুপস্থিতিতে প্রবৃত্তি প্রাধান্য পায় এবং এর ফলে নানাবিধ বিপর্যয়, পথভ্রষ্টতা ও মূর্খতা দেখা দেয়। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই অনেকে কোনো জ্ঞান ছাড়াই তাদের খেয়াল-খুশি দ্বারা পথভ্রষ্ট করে। নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক সীমালঙ্ঘনকারীদের সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত} [আল-আন'আম: ১১৯]।

আর ইলমহীন দাওয়াত হলো আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে না জেনেই কথা বলা।

--------------------------------------------

১. দেখুন: উসূলে সালাসা (তিনটি মূলনীতি) গ্রন্থের ভূমিকা।

২. উদাহরণস্বরূপ দেখুন: ইবনে কাসীর প্রণীত তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ৩/৮০; এবং শায়খ সাদী প্রণীত তাইসীরুল কারীমির রহমান, পৃষ্ঠা ৩৬১।

৩. দেখুন: ফাতহুল বারীসহ মুদ্রিত সহীহ বুখারী, ১/১৫৯।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ৩২)
وكذب وافتراء عليهما وذلك من أقبح الذنوب وأعظم السيئات، كما قال عز وجل: {فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا لِيُضِلَّ النَّاسَ بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ} [الأنعام: 144] ، وقال سبحانه: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّي الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [الأعراف:33] ، وقال عز وجل: {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُوْلَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا} [الإسراء:36] .

وقال عليه الصلاة والسلام: " من كذب عليّ فليتبوأ مقعده من النار" 1. وقال أيضا عليه الصلاة والسلام: " من يقل علي ما لم أقل فليتبوأ مقعده من النار" 2.

يقول الشيخ عبد العزيز بن باز رحمه الله ناصحا كل داعية مخلص: " إياك أن تدعوا على جهالة، وإياك أن تتكلم فيما لا تعلم، فالجاهل يهدم ولا يبني، ويفسد ولا يصلح، فاتق الله يا عبد الله إياك أن تقول على الله بغير علم، لا تدعو إلى شيء إلا بعد العلم به والبصيرة بما قاله الله ورسوله … "3.

وكل هذا يؤكد وبجلاء على أهمية قيام الدعوة إلى الله تعالى على

--------------------------------------------

1 رواه البخاري في كتاب العلم، باب إثم من كذب على النبي صلى الله عليه وسلم، رقم: 107.

2 رواه البخاري في كتاب العلم، باب إثم من كذب على النبي صلى الله عليه وسلم، رقم: 109.

3 الدعوة إلى الله سبحانه وأخلاق الدعاة، ص35.
এবং তাদের প্রতি মিথ্যা (كذب) ও অপবাদ (افتراء) আরোপ করা অত্যন্ত জঘন্য পাপ ও গুরুতর অপরাধসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে আছে, যে মানুষকে বিনা ইলমে পথভ্রষ্ট করার জন্য আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ (افتراء) আরোপ করে? নিশ্চয়ই আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না।} [আল-আন'আম: ১৪৪], এবং তিনি বলেন: {বলুন, নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতাকে, আর পাপ ও অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়িকে এবং আল্লাহর সাথে এমন কিছু শরিক করাকে যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি আর আল্লাহ সম্পর্কে এমন কথা বলাকে যা তোমরা জানো না।} [আল-আরাফ: ৩৩], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {যে বিষয়ে তোমার কোনো ইলম নেই, তার পেছনে পড়ো না; নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয়—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।} [আল-ইসরা: ৩৬]।

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা (كذب) আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।" ১। তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কথা বলে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।" ২।

শেখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রাহিমাহুল্লাহ) প্রত্যেক একনিষ্ঠ দাঈকে উপদেশ দিয়ে বলেন: "মূর্খতার (جهالة) বশবর্তী হয়ে দাওয়াত দেওয়া থেকে সাবধান থেকো এবং যে বিষয়ে তোমার ইলম নেই সে বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থেকো। কেননা মূর্খ ব্যক্তি ধ্বংস করে, নির্মাণ করে না; আর সে ফাসাদ সৃষ্টি করে, সংশোধন করে না। সুতরাং হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় করো এবং ইলম ছাড়া আল্লাহ সম্পর্কে কোনো কথা বলা থেকে সাবধান থেকো। কোনো কিছুর প্রতি দাওয়াত দিও না যতক্ষণ না সে বিষয়ে ইলম এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা বলেছেন সে সম্পর্কে সঠিক প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টি লাভ হয় … " ৩।

আর এ সবই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আল্লাহ তা’আলার পথে দাওয়াতের কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বকে সুনিশ্চিত করে যে...

--------------------------------------------

১ ইমাম বুখারি এটি কিতাবুল ইলম-এ বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করে তার পাপ, নম্বর: ১০৭।

২ ইমাম বুখারি এটি কিতাবুল ইলম-এ বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করে তার পাপ, নম্বর: ১০৯।

৩ আদ-দাওয়াহ ইলাল্লাহি সুবহানাহু ওয়া আখলাকুদ দুআত, পৃষ্ঠা ৩৫।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
أسس وقواعد متينة مرتكزة على العلم بكتاب الله تعالى وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم حتى تؤتي الدعوة ثمارها المرجوة منها بإذن الله تعالى.

2ـ العمل:

المقصود بالعمل: تطبيق ما تعلمه الإنسان على نفسه أولا، والاجتهاد في ذلك، ليكون الداعية قدوة حسنة للمدعوين في كونه عاملا بما يأمرهم به، مجتنبا ما ينهاهم عنه.

ولأهمية العمل والاستقامة على طاعة الله لا سيما في حق الداعية فقد أمر الله بها رسله عليهم الصلاة والسلام، كما قال الله تعالى لنبيه صلى الله عليه وسلم: {فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ} [هود: 112] ، وقوله عز وجل لموسى وهارون {فَاسْتَقِيمَا وَلَا تَتَّبِعَانِ سَبِيلَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} [يونس: 89] .

وقال تعالى عن شعيب عليه السلام وهو يدعو قومه: {وَمَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إِلَى مَا أَنْهَاكُمْ عَنْهُ إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الْإِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيب} [هود: 88] .

وقد أدرك صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم أهمية اقتران العمل بالعلم فقرنوا بينهما في تعلم كتاب الله تعالى والعمل به، فقد روى الإمام أحمد قال: حدثنا محمد بن فضيل عن عطاء عن أبي عبد الرحمن زيد بن خالد الجهني: قال: حدثنا من كان يقرئنا القرآن من أصحاب رسول الله
আল্লাহ তাআলার কিতাব এবং তাঁর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে সুদৃঢ় মূলনীতি ও নিয়মাবলি, যাতে দাওয়াতি কাজ আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় তার কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনে।

২. আমল:

আমল বলতে উদ্দেশ্য হলো: মানুষ যা শিখেছে তা প্রথমে নিজের ওপর প্রয়োগ করা এবং সে ব্যাপারে কঠোর প্রচেষ্টা চালানো, যাতে দাঈ দাওয়াত গ্রহণকারীদের কাছে এক জন উত্তম আদর্শ হতে পারেন—এভাবে যে, তিনি যা আদেশ করেন তা নিজে পালন করেন এবং যা নিষেধ করেন তা থেকে নিজে বিরত থাকেন।

আমল এবং আল্লাহর আনুগত্যের ওপর অটল থাকার গুরুত্বের কারণে, বিশেষ করে দাঈর ক্ষেত্রে, আল্লাহ তাঁর রাসুলদের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) এর নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা তাঁর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছেন: {অতএব তুমি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছ সেভাবে অটল থাকো} [হুদ: ১১২]। এবং মুসা ও হারুন (আলাইহিমাস সালাম)-এর প্রতি মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব তোমরা উভয়ে অটল থাকো এবং তাদের পথ অনুসরণ করো না যারা জানে না} [ইউনুস: ৮৯]।

আল্লাহ তাআলা শুআইব (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বলেন, যখন তিনি তাঁর কওমকে দাওয়াত দিচ্ছিলেন: {আমি যে বিষয় থেকে তোমাদের নিষেধ করছি, তোমাদের বিপরীতে গিয়ে তা আমি নিজে করতে চাই না। আমি তো কেবল আমার সাধ্যমতো সংশোধনই চাই। আর আমার তাওফিক তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই অভিমুখী হয়েছি} [হুদ: ৮৮]।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ (صحابة) ইলমের সাথে আমলের সমন্বয়ের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন, তাই তাঁরা মহান আল্লাহর কিতাব শিক্ষা এবং তা অনুযায়ী আমল করার মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছিলেন। ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন (روى), তিনি বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনু ফুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আতা থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান যায়িদ ইবনু খালিদ আল-জুহানি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণের (أصحاب) মধ্যে যাঁরা আমাদের কুরআন শিক্ষা দিতেন, তাঁরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতুল ইসলাহিয়্যাহ ফী বিলাদি নাজদিন আলা ইয়াদিল ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আলামুহা মিন বাদিহি (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ذلك هو منهج السلف الصالح رحمهم الله وبه يتواصون يقول الفضيل رحمه الله: " على الناس أن يتعلموا فإذا علموا فعليهم العمل"1، ويقول ابن عيينة: "العلم إن لم ينفعك ضرك"، وقال الشيخ الألباني رحمه الله معلقا على هذا القول: "يعني إن لم ينفعه بأن يعمل به ضره بكونه حجة عليه"2.

والذي لا يعمل بما علم يقع تحت طائلة الوعيد الذي أخبر الله تعالى عنه في قوله: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ (2) كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُون} [الصف: 2، 3] ، وقد ذم الله اليهود ووبخهم بقوله: {أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ وَأَنْتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلَا تَعْقِلُون} [البقرة: 44] ، قال ابن عباس رضي الله عنهما: " كان يهود المدينة يقول الرجل منهم لصهره ولذي قرابته، ولمن بينه وبينه رضاع من المسلمين: اثبت على الذي أنت عليه، وما يأمرك به هذا الرجل ـ يريدون محمدا صلى الله عليه وسلم فإن أمره حق، فكانوا

--------------------------------------------

1 اقتضاء العلم العمل، للخطيب البغدادي، بتحقيق الشيخ الألباني، ص 37.

2 المرجع السابق، ص 56.
এটাই হলো সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন)-এর মানহাজ এবং এর মাধ্যমেই তাঁরা পরস্পরকে উপদেশ দিতেন। ফুযাইল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "মানুষের কর্তব্য হলো ইলম অর্জন করা, আর যখন তারা ইলম অর্জন করবে তখন তাদের জন্য আবশ্যক হলো আমল করা।"১ ইবনুল উয়াইনা বলেন: "ইলম যদি তোমার উপকারে না আসে তবে তা তোমার ক্ষতি করবে।" শায়খ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) এই উক্তির ব্যাখ্যায় বলেন: "অর্থাৎ আমল করার মাধ্যমে যদি ইলম তার উপকারে না আসে, তবে তা তার বিরুদ্ধে দলিল (حجة) হওয়ার কারণে তার ক্ষতির কারণ হবে।"২

আর যে ব্যক্তি তার অর্জিত ইলম অনুযায়ী আমল করে না, সে সেই কঠোর হুঁশিয়ারির সম্মুখীন হবে যা আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীতে জানিয়েছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা যা করো না, তা কেন বলো? (২) তোমরা যা করো না, তা বলা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত ক্রোধের বিষয়} [আস-সাফ: ২, ৩]। আল্লাহ ইহুদিদের নিন্দা ও তিরস্কার করে বলেছেন: {তোমরা কি মানুষকে সৎ কাজের নির্দেশ দাও আর নিজেদের কথা ভুলে যাও? অথচ তোমরা কিতাব তিলাওয়াত করো; তবে কি তোমরা অনুধাবন করো না?} [আল-বাকারাহ: ৪৪]। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "মদিনার ইহুদিদের কোনো ব্যক্তি তার জামাতা, নিকটাত্মীয় এবং মুসলমানদের মধ্যে যাদের সাথে তার দুগ্ধপানজনিত সম্পর্ক ছিল, তাদের বলত: তুমি যে দ্বীনের ওপর আছো তার ওপর অটল থাকো এবং এই ব্যক্তি —অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)— তোমাকে যা নির্দেশ দিচ্ছেন তা মেনে চলো, কারণ তাঁর নির্দেশ সত্য। তারা নিজেরা..."

--------------------------------------------

১ ইক্তিযাউল ইলমিল আমল, খতিব বাগদাদী রচিত, শায়খ আলবানীর তাহকীক (تحقيق) কৃত, পৃষ্ঠা ৩৭।

২ প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৫৬।