(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: -)
الخلاف بين العلماء   (ابن عثيمين)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: الخلاف بين العلماء

المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)

الناشر: دار الوطن للنشر

الطبعة: 1423هـ

عدد الصفحات: 39

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য   (ইবনে উসাইমিন)

বিভাগ: ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)


বই: আল-খিলাফ বাইনাল উলামা

লেখক: মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমিন (মৃত্যু (ت) ১৪২১ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল ওয়াতান লিন-নাশর

সংস্করণ: ১৪২৩ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلِّم تسليماً.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1. {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2.

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران، الآية: 102.

2 سورة النساء، الآية: 1.
ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা তাঁরই কাছে তওবা করছি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের সবার ওপর শান্তি ও অজস্র রহমত বর্ষণ করুন।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} ১। {হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} ২।

--------------------------------------------

১ সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০২।

২ সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ৪)
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً* يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 1، أما بعد:

فإنه قد يثير هذا الموضوع التساؤل لدى الكثيرين، وقد يسأل البعض: لماذا هذا الموضوع وهذا العنوان الذي قد يكون غيره من مسائل الدين أهم منه؟ ولكن هذا العنوان وخاصة في وقتنا الحاضر يشغل بالَ كثيرٍ من الناس، لا أقول من العامة بل حتى من طلبة العلم، وذلك أنها كثرت في وسائل الإعلام نشر الأحكام وبثّها بين الأنام، وأصبح الخلاف بين قول فلان وفلان مصدر تشويش، بل تشكيك عند كثير من الناس، لاسيما من العامة الذين لا يعرفون مصادر الخلاف، لهذا رأيت ـ وبالله أستعين ـ أن أتحدث في هذا الأمر

--------------------------------------------

1 سورة الأحزاب، الآيتان: 70، 71.
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} ১, অতঃপর:

নিশ্চয়ই এই বিষয়টি অনেকের মনেই প্রশ্নের উদ্রেক করতে পারে এবং কেউ কেউ জিজ্ঞেস করতে পারেন: কেন এই বিষয়টি এবং কেনই বা এই শিরোনামটি নির্বাচন করা হলো, যা হয়তো দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত? কিন্তু এই শিরোনামটি, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে অনেক মানুষের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে; আমি কেবল সাধারণ মানুষের কথা বলছি না, বরং ইলম অন্বেষণকারীদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। এর কারণ হলো, গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিধানসমূহ প্রচার এবং মানুষের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অমুক ও তমুকের বক্তব্যের মধ্যবর্তী মতভেদ অনেক মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি, এমনকি সংশয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে; বিশেষ করে সেইসব সাধারণ মানুষের নিকট, যারা এই মতভেদের উৎসসমূহ সম্পর্কে অবগত নয়। এজন্যই আমি সমীচীন মনে করেছি—এবং আমি আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি—যে এই বিষয়ে আলোচনা করব।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭০, ৭১।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ৫)
الذي له في نظري شأن كبير عند المسلمين.

إن من نعمة الله تبارك وتعالى على هذه الأُمَّة أن الخلاف بينها لم يكن في أصول دينها ومصادره الأصيلة، وإنما كان الخلاف في أشياء لا تمس وحدة المسلمين الحقيقية وهو أمر لابد أن يكون.. وقد أجملت العناصر التي أريد أن أتحدث عنها بما يأتي:

أولاً: من المعلوم عند جميع المسلمين مما فهموه من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم أن الله تعالى بعث محمداً صلى الله عليه وسلم بالهدى ودين الحق، وهذا يتضمن أن يكون رسول الله صلى الله عليه وسلم قد بيَّن هذا الدين بياناً شافياً كافياً، لا يحتاج بعده إلى بيان، لأن الهدى بمعناه ينافي الضلالة بكل معانيها، ودين الحق بمعناه ينافي كل دين باطل لا يرتضيه الله عز وجل، ورسول الله بُعِثَ بالهدى ودين الحق، وكان الناس في عهده صلوات الله وسلامه عليه يرجعون عند التنازع إليه فيحكم بينهم ويبيِّن لهم الحق
যার গুরুত্ব আমার দৃষ্টিতে মুসলমানদের কাছে অনেক বড়।

নিশ্চয়ই এই উম্মতের ওপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার অন্যতম একটি নেয়ামত হলো যে, তাদের মধ্যকার মতভেদ দ্বীনের মৌলিক নীতি (أصول) এবং এর মূল উৎসসমূহের মধ্যে ছিল না; বরং মতভেদ ছিল এমন কিছু বিষয়ে যা মুসলমানদের প্রকৃত ঐক্যকে ব্যাহত করে না এবং এটি এমন বিষয় যা হওয়া ছিল অনিবার্য। আমি যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে চাই, তার উপাদানগুলো নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপ করেছি:

প্রথমত: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة) থেকে সমস্ত মুসলমান যা উপলব্ধি করেছেন এবং যা তাদের নিকট সুবিদিত তা হলো, আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। এটি একথারই শামিল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দ্বীনকে এমন এক নিরাময়মূলক ও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যাসহ সুস্পষ্ট করেছেন যার পর আর কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ, হিদায়াত তার অর্থগতভাবে সকল প্রকার ভ্রষ্টতার পরিপন্থী এবং সত্য দ্বীন তার অর্থগতভাবে এমন প্রতিটি বাতিল দ্বীনের পরিপন্থী যা মহান আল্লাহ পছন্দ করেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরিত হয়েছিলেন। তাঁর যুগে—সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—মানুষেরা কোনো বিরোধে লিপ্ত হলে তাঁর কাছে ফিরে আসত, অতঃপর তিনি তাদের মধ্যে বিচার করতেন এবং তাদের সামনে সত্য সুস্পষ্ট করে দিতেন।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ৬)
سواء فيما يختلفون فيه من كلام الله، أو فيما يختلفون فيه من أحكام الله التي لم ينزل حكمها، ثم بعد ذلك ينزل القرآن مبيِّناً لها، وما أكثر ما نقرأ في القرآن قوله: يسألونك عن كذا، فيجيب الله تعالى نبيّه بالجواب الشافي ويأمره أن يبلغه إلى الناس. قال الله تعالى: {يَسْأَلونَكَ مَاذَا أُحِلَّ لَهُمْ قُلْ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللَّهُ فَكُلُوا مِمَّا أَمْسَكْنَ عَلَيْكُمْ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ} 1.

{وَيَسْأَلونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآياتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ} 2.

{يَسْأَلونَكَ عَنِ الْأَنْفَالِ قُلِ الْأَنْفَالُ لِلَّهِ وَالرَّسُولِ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنِكُمْ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنْ كُنْتُمْ

--------------------------------------------

1 سورة المائدة، الآية: 4.

2 سورة البقرة، الآية: 219.
চাই তারা আল্লাহর কালামের যে বিষয়ে মতভেদ করে সে ক্ষেত্রে হোক, অথবা আল্লাহর এমন সব বিধান (أحكام) সম্পর্কে হোক যার ফয়সালা অবতীর্ণ হয়নি, অতঃপর কুরআন তা সুস্পষ্টকারী (مبيناً) হিসেবে অবতীর্ণ হয়। আমরা কুরআনে কতই না তাঁর এই বাণী পাঠ করি: ‘তারা আপনাকে অমুক বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছে’, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক উত্তর প্রদান করেন এবং তাকে নির্দেশ দেন যেন তিনি তা মানুষের নিকট পৌঁছে দেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে যে, তাদের জন্য কী হালাল করা হয়েছে? আপনি বলুন: তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হয়েছে এবং শিকারি পশুপাখি—যাদেরকে তোমরা শিকারি হিসেবে গড়ে তুলেছ—আল্লাহ তোমাদের যা শিখিয়েছেন তা থেকে তোমরা তাদের শিক্ষা দাও। সুতরাং তারা তোমাদের জন্য যা ধরে আনে তা থেকে তোমরা আহার করো এবং তার ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ করো। আর আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।} ১.

{আর তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে যে, তারা কী ব্যয় করবে? আপনি বলুন: যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যেন তোমরা চিন্তা-ভাবনা করো।} ২.

{তারা আপনাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন: যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ এবং রাসূলের। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং নিজেদের মধ্যকার বিবাদ মীমাংসা করো; আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো যদি তোমরা...

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৪।

২ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২১৯।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ৭)
مُؤْمِنِينَ} 1.

{يَسْأَلونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَنْ تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ ظُهُورِهَا وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقَى وَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} 2.

{يَسْأَلونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ وَصَدٌّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَكُفْرٌ بِهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِخْرَاجُ أَهْلِهِ مِنْهُ أَكْبَرُ عِنْدَ اللَّهِ وَالْفِتْنَةُ أَكْبَرُ مِنَ الْقَتْلِ وَلا يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّى يَرُدُّوكُمْ عَنْ دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُوا وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} 3. إلى غير ذلك من

--------------------------------------------

1 سورة الأنفال، الآية: 1.

2 سورة البقرة، الآية: 189.

3 سورة البقرة، الآية: 217.
মুমিনগণ।} ১।

{তারা আপনার নিকট নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা মানুষের জন্য এবং হজের জন্য সময়ের পরিমাপক। আর ঘরের পেছন দিক দিয়ে তোমাদের প্রবেশ করার মধ্যে কোনো পুণ্য নেই, বরং পুণ্য তো তার যে তাকওয়া অবলম্বন করে। আর তোমরা ঘরে তার দরজা দিয়ে প্রবেশ করো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যেন তোমরা সফলকাম হতে পারো।} ২।

{তারা আপনার নিকট পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তাতে যুদ্ধ করা বড় অপরাধ। আর আল্লাহর পথে বাধা প্রদান করা, তাঁর সাথে কুফরি করা, মাসজিদুল হারাম থেকে বাধা দেওয়া এবং তার অধিবাসীদের সেখান থেকে বহিষ্কার করা আল্লাহর নিকট আরও বড় অপরাধ। আর ফিতনা হত্যার চেয়েও বড় অপরাধ। তারা সর্বদা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে যতক্ষণ না তারা তোমাদের তোমাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দেয়, যদি তারা সক্ষম হয়। আর তোমাদের মধ্যে যারা নিজ দ্বীন থেকে ফিরে যাবে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যাবে। আর তারাই আগুনের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।} ৩। অনুরূপ আরও অন্যান্য বিষয় থেকে...

--------------------------------------------

১ সুরা আল-আনফাল, আয়াত: ১।

২ সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৯।

৩ সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ২১৭।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ৮)
الآيات.

ولكن بعد وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم اختلفت الأُمَّة في أحكام الشريعة التي لا تقضي على أصول الشريعة وأصول مصادرها.

ولكنه اختلاف سنبيِّن إن شاء الله بعض أسبابه. ونحن جميعاً نعلم علم اليقين أنه لا يوجد أحد من ذوي العلم الموثوق بعلمهم وأمانتهم ودينهم يخالف ما دلَّ عليه كتاب الله وسُنَّة رسوله صلى الله عليه وسلم عن عمد وقصد؛ لأن من اتَّصفوا بالعلم والديانة فلابد أن يكون رائدهم الحق، ومَن كان رائده الحق فإن الله سييسِّره له. واستمعوا إلى قوله تعالى: {وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ} 1. {فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى ، وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى ، فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى} 2.

--------------------------------------------

1 سورة القمر، الآية: 17.

2 سورة الليل، الآيات: 5- 7.
আয়াতসমূহ।

কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর উম্মত শরিয়তের এমন কিছু বিধানের বিষয়ে মতপার্থক্য করেছে, যা শরিয়তের মূলনীতি (أصول) এবং তার উৎসের মূলনীতিসমূহের (أصول) পরিপন্থী নয়।

তবে এটি এমন একটি মতভেদ যার কিছু কারণ ইনশাআল্লাহ আমরা বর্ণনা করব। আমরা সকলেই সুনিশ্চিতভাবে জানি যে, ইলম, আমানতদারি ও দ্বীনদারির দিক থেকে নির্ভরযোগ্য (موثوق) আলেমগণের মধ্যে এমন কেউ নেই, যিনি আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ যে বিষয়ের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করে, ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরোধিতা করবেন; কারণ যারা ইলম ও দ্বীনদারিতে ভূষিত, সত্যই তাদের পথপ্রদর্শক হওয়া আবশ্যক। আর সত্য যার পথপ্রদর্শক হয়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য তা সহজ করে দেন। মহান আল্লাহর বাণী শ্রবণ করুন: {আমি কুরআনকে নসিহত গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, সুতরাং কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?} ১। {অতঃপর যে দান করল এবং তাকওয়া অবলম্বন করল, আর যা উত্তম তা সত্য বলে বিশ্বাস করল, অচিরেই আমি তার জন্য সহজ পথকে সুগম করে দেব।} ২।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-কামার, আয়াত: ১৭।

২. সূরা আল-লাইল, আয়াত: ৫-৭।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ৯)
ولكن مثل هؤلاء الأئمة يمكن أن يحدث منهم الخطأ في أحكام الله تبارك وتعالى، لا في الأصول التي أشرنا إليها من قبل، وهذا الخطأ أمر لابدَّ أن يكون؛ لأن الإنسان كما وصفه الله تعالى بقوله: {وَخُلِقَ الْإِنْسَانُ ضَعِيفاً} 1.

الإنسان ضعيف في علمه وإدراكه، وهو ضعيف في إحاطته وشموله، ولذلك لابدَّ أن يقع الخطأ منه في بعض الأمور، ونحن نجمل ما أردنا أن نتكلم عليه من أسباب الخطأ من أهل العلم في الأسباب الآتية السبعة، مع أنها في الحقيقة أسباب كثيرة، وبحر لا ساحل له، والإنسان البصير بأقوال أهل العلم يعرف أسباب الخلاف المنتشرة، نجملها بما يأتي:

--------------------------------------------

1 سورة النساء، الآية: 28.
তবে এই ধরণের ইমামগণের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বিধানসমূহের ক্ষেত্রে ভুল সংঘটিত হওয়া সম্ভব, কিন্তু সেই মূলনীতি (الأصول) সমূহে নয় যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। আর এই ভুল হওয়াটা অবধারিত; কারণ মানুষ তেমনই যেমন আল্লাহ তাআলা তাকে বর্ণনা করে বলেছেন: "মানুষকে দুর্বল (ضعيف) করে সৃষ্টি করা হয়েছে।" ১।

মানুষ তার জ্ঞান ও উপলব্ধিতে দুর্বল (ضعيف) এবং সে তার পরিবেষ্টন ও ব্যাপকতার ক্ষেত্রেও দুর্বল (ضعيف); তাই তার পক্ষ থেকে কিছু কিছু বিষয়ে ভুল হওয়া অনিবার্য। আলেমগণের পক্ষ থেকে ভুল হওয়ার কারণগুলো সম্পর্কে আমরা যা আলোচনা করতে চেয়েছি, তা নিম্নে বর্ণিত সাতটি কারণের মধ্যে সংক্ষেপে উল্লেখ করছি। যদিও প্রকৃতপক্ষে এগুলো অনেক কারণ এবং এর কোনো কূল-কিনারা নেই। যারা আলেমগণের বক্তব্যের ব্যাপারে বিজ্ঞ ও দূরদর্শী, তারা মতভেদের এই বিস্তৃত কারণগুলো জানেন; আমরা তা নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপ করছি:

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৮।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌السبب الأول: أن يكون الدليل لم يبلغ هذا المخالف الذي أخطأ في حكمه.

وهذا السبب ليس خاصًّا فيمن بعد الصحابة، بل يكون في الصحابة ومَن بعدهم. ونضرب مثالين وَقَعَا للصحابة من هذا النوع.

الأول: فإننا علمنا بما ثبت في صحيح البخاري وغيره حينما سافر أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه إلى الشام، وفي أثناء الطريق ذُكر له أن فيها وباء وهو الطاعون، فوقف وجعل يستشير الصحابة رضي الله عنهم، فاستشار المهاجرين والأنصار واختلفوا في ذلك على رأيين.. وكان الأرجح القول بالرجوع، وفي أثناء هذه المداولة والمشاورة جاء عبد الرحمن بن عوف، وكان غائباً في حاجة له، فقال: إن عندي من ذلك عِلماً، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إذا سمعتم به في أرض فلا تقدموا عليه، وإن وقع وأنتم فيها فلا تخرجوا فراراً
প্রথম কারণ: দলীলটি এমন বিরোধিতাকারীর নিকট না পৌঁছানো, যিনি তাঁর সিদ্ধান্তে ভুল করেছেন.

এই কারণটি কেবল সাহাবীদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং এটি সাহাবী এবং তাঁদের পরবর্তী সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। আমরা এই ধরনের দুটি উদাহরণ উল্লেখ করছি যা সাহাবীদের ক্ষেত্রে এই কারণে ঘটেছিল।

প্রথমটি: আমরা জানি যা সহিহ বুখারি এবং অন্যান্য গ্রন্থে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে যে, যখন আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) শামের উদ্দেশ্যে সফর করছিলেন, পথিমধ্যে তাঁকে জানানো হলো যে সেখানে মহামারি অর্থাৎ প্লেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তখন তিনি যাত্রা স্থগিত করলেন এবং সাহাবীদের (রা.) সাথে পরামর্শ শুরু করলেন। তিনি মুহাজির ও আনসারদের সাথে পরামর্শ করলেন এবং তাঁরা এ বিষয়ে দুটি ভিন্ন মতে বিভক্ত হয়ে গেলেন... এমতাবস্থায় ফিরে যাওয়ার মতটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য (الأرجح) ছিল। এই আলোচনা ও পরামর্শ চলাকালীন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) এলেন, যিনি ইতিপূর্বে নিজের কোনো প্রয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন: এ বিষয়ে আমার কাছে জ্ঞান রয়েছে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যখন তোমরা কোনো ভূখণ্ডে এর (মহামারির) কথা শুনবে তখন সেখানে প্রবেশ করো না, আর যদি তোমরা যেখানে আছো সেখানে তা আপতিত হয়, তবে সেখান থেকে পলায়নের উদ্দেশ্যে বের হয়ো না।"
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ১১)
منه" 1 فكان هذا الحكم خافياً على كبار الصحابة من المهاجرين والأنصار، حتى جاء عبد الرحمن فأخبرهم بهذا الحديث.

مثال آخر: كان علي بن أبي طالب رضي الله عنه وعبد الله بن عباس رضي الله عنهما يريان أن الحامل إذا مات عنها زوجها تعتدّ بأطول الأجلين، من أربعة أشهر وعشر … أو وضع الحمل، فإذا وضعت الحمل قبل أربعة أشهر وعشر لم تنقض العدة عندهما وبقيت حتى تنقضي أربعة أشهر وعشر، وإذا انقضت أربعة أشهر وعشر من قبل أن تضع الحمل بقيت في عدتها حتى تضع الحمل، لأن الله تعالى يقول: {وَأُولاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ} 2.

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري، كتاب الطب 5729، ومسلم، كتاب السلام 2219.

2 سورة الطلاق، الآية: 4.
এটি থেকে" ১ সুতরাং এই বিধানটি মুহাজির ও আনসারদের জ্যেষ্ঠ সাহাবীগণের (الصحابة) নিকট অস্পষ্ট ছিল, যতক্ষণ না আব্দুর রহমান আসলেন এবং তাঁদের এই হাদিস সম্পর্কে অবহিত করলেন।

অন্য একটি উদাহরণ: আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর অভিমত ছিল যে, গর্ভবতী মহিলার স্বামী মারা গেলে তিনি দুই মেয়াদের মধ্যে দীর্ঘতম মেয়াদে ইদ্দত পালন করবেন, অর্থাৎ চার মাস দশ দিন অথবা সন্তান প্রসব পর্যন্ত। ফলে তিনি যদি চার মাস দশ দিনের পূর্বে সন্তান প্রসব করেন, তবে তাঁদের নিকট তাঁর ইদ্দত সমাপ্ত হবে না এবং চার মাস দশ দিন অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত তিনি অপেক্ষমান থাকবেন। আর যদি সন্তান প্রসবের পূর্বেই চার মাস দশ দিন অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তবে তিনি সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবেন; কারণ মহান আল্লাহ বলেন: {আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল হলো তাদের সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত} ২।

--------------------------------------------

১ বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه), কিতাবুত তিব ৫৭২৯, এবং মুসলিম, কিতাবুস সালাম ২২১৯।

২ সূরা আত-তালাক, আয়াত: ৪।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ১২)
ويقول: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجاً يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْراً} 1. وبين الآيتين عموم وخصوص وجهي، وطريق الجمع بين ما بينهما عموم وخصوص وجهي، أن يؤخذ بالصورة التي تجمعهما، ولا طريق إلى ذلك إلا ما سلكه علي وابن عباس رضي الله عنهما، ولكن السُّنَّة فوق ذلك. فقد ثبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في حديث سبيعة الأسلمية أنها نفست بعد موت زوجها بليال فأذن لها رسول الله أن تتزوج2، ومعنى ذلك أننا نأخذ بآية سورة الطلاق التي تسمَّى سورة النساء الصغرى، وهي عموم قوله تعالى: {وَأُولاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ} 3.. وأنا أعلم علم اليقين أن هذا الحديث لو بلغ عليًّا وابن عباس لأخذا به قطعاً، ولم يذهبا إلى رأيهما.

--------------------------------------------

1سورة البقرة، الآية: 234.

2 أخرجه البخاري، كتاب الطلاق 5318- 5320، ومسلم، كتاب الطلاق 1484.

3 سورة الطلاق، الآية: 4.
এবং তিনি বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদের রেখে যায়, তারা (স্ত্রীরা) চার মাস দশ দিন নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে} ১। আর এই দুই আয়াতের মধ্যে পারস্পরিক সাধারণ ও বিশেষ (عموم وخصوص وجهي) সম্পর্ক বিদ্যমান। যে সকল আয়াতের মধ্যে পারস্পরিক সাধারণ ও বিশেষ (عموم وخصوص وجهي) সম্পর্ক থাকে, সেগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের পদ্ধতি হলো এমন একটি সুরত গ্রহণ করা যা উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এর জন্য আলী ও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) যে পথ অবলম্বন করেছেন তা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই, কিন্তু সুন্নাহ (السنة) এর ঊর্ধ্বে। সুবাইআহ আল-আসলামিয়ার হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, তিনি তাঁর স্বামীর মৃত্যুর কয়েক রাত পরেই সন্তান প্রসব করেছিলেন, ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলেন ২। এর অর্থ হলো আমরা সূরা আত-তালাকের আয়াতটি গ্রহণ করব যাকে সূরা আন-নিসা আস-সুগরা বলা হয়, আর তা হলো আল্লাহ তাআলার বাণীর সাধারণ (عموم) অর্থ: {আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল হলো তাদের সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত} ৩। আমি দৃঢ়ভাবে জানি যে, যদি এই হাদিসটি আলী ও ইবনে আব্বাসের নিকট পৌঁছাত, তবে তাঁরা অবশ্যই তা গ্রহণ করতেন এবং নিজেদের মতামতের দিকে যেতেন না।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৩৪।

২. বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুত তালাক ৫৩১৮- ৫৩২০, এবং মুসলিম, কিতাবুত তালাক ১৪৮৪।

৩. সূরা আত-তালাক, আয়াত: ৪।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌السبب الثاني: أن يكون الحديث قد بلغ الرجل ولكنه لم يثق بناقله

ورأى أنه مخالف لما هو أقوى منه، فأخذ بما يراه أقوى منه، ونحن نضرب مثلاً أيضاً، ليس فيمن بعد الصحابة، ولكن في الصحابة أنفسهم. فاطمة بنت قيس رضي الله عنها طلَّقها زوجها آخر ثلاث تطليقات، فأرسل إليها وكيله بشعير نفقة لها مدة العدة، ولكنها سخطت الشعير وأبت أن تأخذه، فارتفعا إلى النبي صلى الله عليه وسلم فأخبرها النبي: أنه لا نفقة لها ولا سكنى1، وذلك لأنه أبانها، والمبانة ليس لها نفقة ولا سكنى على زوجها إلا أن تكون حاملاً؛ لقوله تعالى: {وَإِنْ كُنَّ أُولاتِ حَمْلٍ فَأَنْفِقُوا عَلَيْهِنَّ حَتَّى يَضَعْنَ

--------------------------------------------

1 أخرجه مسلم، كتاب الطلاق 1480.
দ্বিতীয় কারণ: হাদিসটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট পৌঁছেছে ঠিকই, কিন্তু তিনি এর বর্ণনাকারীর (ناقل) ওপর আস্থা রাখতে পারেননি

এবং তিনি মনে করেছেন যে এটি এমন কিছুর পরিপন্থী যা এর চেয়ে অধিক শক্তিশালী। ফলে তিনি নিজের নিকট যা অধিকতর শক্তিশালী প্রতীয়মান হয়েছে সেটিই গ্রহণ করেছেন। আমরা একটি উদাহরণ পেশ করছি যা সাহাবায়ে কেরামের পরবর্তী যুগের কারও নয়, বরং খোদ সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকেই। ফাতিমা বিনতে কায়স (রা.)-কে তাঁর স্বামী তিন তালাকের শেষ তালাকটি প্রদান করেন। এরপর তাঁর স্বামী তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে ইদ্দতকালীন ভরণপোষণ হিসেবে কিছু যব পাঠান। কিন্তু তিনি সেই যব দেখে অসন্তুষ্ট হলেন এবং তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর বিষয়টি নবী (সা.) পর্যন্ত গড়ালে নবী (সা.) তাঁকে জানালেন যে, তাঁর জন্য কোনো ভরণপোষণ ও আবাসন নেই। আর তা এজন্য যে, তিনি তাঁকে চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন। আর তালাকের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে বিচ্ছিন্ন মহিলার জন্য তাঁর স্বামীর ওপর কোনো ভরণপোষণ বা আবাসন নেই, যদি না সে গর্ভবতী হয়; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর তারা গর্ভবতী হয়ে থাকলে সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত তোমরা তাদের জন্য ব্যয় করো।}

--------------------------------------------

১. মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, তালাক অধ্যায় ১৪৮০।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ১৪)
حَمْلَهُنَّ} 1.

عمر رضي الله عنه ناهيك عنه فضلاً وعلماً ـ خفيت عليه هذه السُّنَّة، فرأى أن لها النفقة والسكنى، وردَّ حديث فاطمة باحتمال أنها قد نسيت، فقال: أنترك قول ربنا لقول امرأة لا ندري أذكرت أم نسيت؟ وهذا معناه أن أمير المؤمنين عمر رضي الله عنه لم يطمئن إلى هذا الدليل، وهذا كما يقع لعمر ومن دونه من الصحابة ومن دونهم من التابعين، يقع أيضاً لمَن بعدهم من أتباع التابعين، وهكذا إلى يومنا هذا بل إلى يوم القيامة، أن يكون الإنسان غير واثق من صحة الدليل. وكم رأينا من أقوال لأهل العلم فيها أحاديث يرى بعض أهل العلم أنها صحيحة فيأخذون بها، ويراها الآخرون ضعيفة، فلا يأخذون بها، نظراً لعدم الوثوق بنقلها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

1 سورة الطلاق، الآية: 6.
তাদের গর্ভধারণ} ১.

ওমর (রা.)—যার মর্যাদা ও জ্ঞানের কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না—তাঁর নিকট এই সুন্নাহ (سنة) অস্পষ্ট ছিল। তিনি মনে করতেন যে, তাঁর (তালাকপ্রাপ্তা নারীর) জন্য ভরণপোষণ ও আবাসন রয়েছে। তিনি ফাতেমার বর্ণনা করা হাদিসটি এই সম্ভাবনার ভিত্তিতে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যে তিনি হয়তো ভুলে গেছেন। তাই তিনি বলেছিলেন: "আমরা কি আমাদের রবের বাণী একজন নারীর কথার কারণে বর্জন করব, যার সম্পর্কে আমরা জানি না যে তিনি মনে রেখেছেন নাকি ভুলে গেছেন?" এর অর্থ হলো আমিরুল মুমিনীন ওমর (রা.) এই দলিল (دليل) সম্পর্কে আশ্বস্ত হতে পারেননি। এটি যেমন ওমরের ক্ষেত্রে এবং তাঁর পরবর্তী স্তরের সাহাবি (صحابة) ও তাঁদের পরবর্তী তাবেয়ি (تابعين)-দের ক্ষেত্রে ঘটেছে, তেমনি তাঁদের পরবর্তী তাবে-তাবেয়ি (أتباع التابعين)-দের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। এভাবেই আমাদের বর্তমান দিন পর্যন্ত, এমনকি কিয়ামত পর্যন্ত এমনটি হতে থাকবে যে, কোনো ব্যক্তি দলিলের বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন না। আমরা আলেমদের এমন অনেক অভিমত দেখেছি যেখানে এমন কিছু হাদিস রয়েছে যা কোনো কোনো আলেম সহিহ (صحيحة) বলে মনে করেন এবং তা গ্রহণ করেন, আবার অন্যরা সেটিকে দুর্বল (ضعيفة) মনে করেন এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সেটির বর্ণিত হওয়ার নির্ভরযোগ্যতা না থাকায় তা গ্রহণ করেন না।

--------------------------------------------

১. সূরা আত-তালাক, আয়াত: ৬।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌السبب الثالث: أن يكون الحديث قد بلغه ولكنه نسيه

وجلَّ من لا ينسى، كم من إنسان ينسى حديثاً، بل قد ينسى آية، رسول الله صلى الله عليه وسلم صلَّى ذات يوم في أصحابه فأسقط آية نسياناً، وكان معه أُبي بن كعب رضي الله عنه، فلمَّا انصرف من صلاته قال: "هلا كنت ذَكَّرتنيها" 1 وهو الذي ينزل عليه الوحي، وقد قال له ربه: {سَنُقْرِئُكَ فَلا تَنْسَى، إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ إِنَّهُ يَعْلَمُ الْجَهْرَ وَمَا يَخْفَى} 2.

ومن هذا ـ أي مما يكون الحديث قد بلغ الإنسان ولكنه نسيه ـ قصة عمر بن الخطاب مع عمار بن ياسر رضي الله عنهما حينما أرسلهما رسول الله صلى الله عليه وسلم في حاجة، فأجنبا جميعاً عمار وعمر. أما عمار فاجتهد

--------------------------------------------

1 أخرجه أبو داود، كتاب الصلاة 907.

2 سورة الأعلى، الآيتان: 6، 7.
‌তৃতীয় কারণ: হাদিসটি তাঁর নিকট পৌঁছেছে, কিন্তু তিনি তা ভুলে গেছেন

মহিমান্বিত সেই সত্তা যিনি বিস্মৃত হন না; কত মানুষই তো হাদিস ভুলে যায়, এমনকি সে আয়াতও ভুলে যেতে পারে। রাসূলুল্লাহ (সা.) একদিন তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং বিস্মৃতিবশত একটি আয়াত বাদ দিয়ে ফেললেন। তাঁর সাথে উবাই ইবনে কাব (রা.) ছিলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন: "তুমি কেন আমাকে সেটি মনে করিয়ে দিলে না?" অথচ তিনি ছিলেন এমন এক সত্তা যার প্রতি ওহি অবতীর্ণ হতো এবং তাঁর রব তাঁকে বলেছিলেন: {আমি তোমাকে পাঠ করাব, ফলে তুমি বিস্মৃত হবে না; তবে আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। নিশ্চয়ই তিনি জানেন প্রকাশ্য ও যা গোপন থাকে।}

আর এরই অন্তর্ভুক্ত—অর্থাৎ যেখানে হাদিস কোনো ব্যক্তির নিকট পৌঁছেছে কিন্তু তিনি তা ভুলে গেছেন—উমর ইবনে খাত্তাব ও আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.)-এর সেই ঘটনা, যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁদেরকে একটি প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন এবং আম্মার ও উমর উভয়েই অপবিত্র (أجنبا) হয়ে পড়েছিলেন। আম্মার তো ইজতিহাদ (اجتهد) করলেন—

--------------------------------------------

১ এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত ৯০৭।

২ সূরা আল-আলা, আয়াত: ৬, ৭।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ১৬)
ورأى أن طهارة التراب كطهارة الماء، فتمرغ في الصعيد كما تمرغ الدابة، لأجل أن يشمل بدنه التراب، كما كان يجب أن يشمله الماء وصلَّى، أما عمر رضي الله عنه فلم يصل.. ثم أتيا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأرشدهما إلى الصواب، وقال لعمار: "إنما كان يكفيك أن تقول بيديك هكذا" ـ وضرب بيديه الأرض مرة واحدة، ثم مسح الشمال على اليمين، وظاهر كفيه ووجهه. وكان عمار رضي الله عنه يحدث بهذا الحديث في خلافة عمر، وفيما قبل ذلك، ولكن عمر دعاه ذات يوم وقال له: ما هذا الحديث الذي تحدث به؟ فأخبره وقال: أما تذكر حينما بعثنا رسول الله في حاجة فأجنبنا، فأما أنت فلم تصل، وأما أنا فتمرغت في الصعيد، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "إنما كان يكفيك أن تقول كذا وكذا". ولكن عمر لم يذكر ذلك وقال: اتق الله يا عمار، فقال له عمار: إن شئت بما جعل الله عليَّ

তিনি মনে করেছিলেন যে মাটির পবিত্রতা পানির পবিত্রতার অনুরূপ, ফলে তিনি মাটিতে এমনভাবে গড়াগড়ি দিলেন যেভাবে কোনো চতুষ্পদ জন্তু গড়াগড়ি দেয়, যাতে তাঁর দেহে মাটি পৌঁছায়, ঠিক যেমনটি পানির মাধ্যমে পৌঁছানো আবশ্যক ছিল। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন, কিন্তু উমর (রা.) সালাত আদায় করেননি। এরপর তাঁরা উভয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট উপস্থিত হলেন এবং তিনি তাঁদের সঠিক বিষয়টি শিখিয়ে দিলেন। তিনি আম্মারকে বললেন: "তোমার জন্য দুই হাত দিয়ে এভাবে করাই যথেষ্ট ছিল"—অতঃপর তিনি মাটিতে একবার হাত আঘাত করলেন, তারপর বাম হাত দিয়ে ডান হাতের পিঠে এবং তাঁর মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন। আম্মার (রা.) উমর (রা.)-এর খিলাফতকালে এবং তাঁর পূর্ব থেকেই এই হাদিস বর্ণনা করতেন; কিন্তু একদিন উমর (রা.) তাঁকে ডেকে বললেন: "এটি কোন হাদিস যা তুমি বর্ণনা করছ?" তিনি তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলেন এবং বললেন: "আপনার কি মনে নেই, যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের বিশেষ প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন এবং আমরা অপবিত্র হয়েছিলাম? আপনি তো সালাত আদায় করেননি, আর আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়েছিলাম। তখন নবী (সা.) বলেছিলেন: তোমার জন্য কেবল এমন এমন করাই যথেষ্ট ছিল।" কিন্তু উমর (রা.) তা স্মরণ করতে পারলেন না এবং বললেন: "হে আম্মার, আল্লাহকে ভয় করো।" তখন আম্মার (রা.) তাঁকে বললেন: "আপনি যদি চান (তবে আমি এটি বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকব), কারণ আল্লাহ আমার ওপর আপনার আনুগত্যের যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন..."

(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ১৭)
من طاعتك أن لا أُحدِّث به فعلت، فقال له عمر: نوليك ما توليت1 ـ يعني فحدِّث به الناس ـ فعمر نسي أن يكون النبي صلى الله عليه وسلم جعل التيمم في حال الجنابة كما هو في حال الحدث الأصغر، وقد تابع عمر على ذلك عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، وحصل بينه وبين أبي موسى رضي الله عنهما مناظرة في هذا الأمر، فأورد عليه قول عمار لعمر، فقال ابن مسعود: ألم تر أن عمر لم يقنع بقول عمار، فقال أبو موسى: دعنا من قول عمار، ما تقول في هذه الآية؟ ـ يعني آية المائدة ـ فلم يقل ابن مسعود شيئاً، ولكن لا شك أن الصواب مع الجماعة الذين يقولون أن الجُنُب يتيمم، كما أن المحدث حدثاً أصغر يتيمم، والمقصود أن الإنسان قد ينسى فيخفى عليه الحكم الشرعي، فيقول قولاً يكون به معذوراً لكن مَن علِم الدليل فليس بمعذور. هذان سببان.

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري، كتاب التيمم 338، 345، 346، ومسلم، كتاب الحيض 368.
আপনার আনুগত্যের খাতিরে আমি যদি এটি বর্ণনা না করি, তবে আমি তা-ই করব। তখন উমর তাকে বললেন: আমরা তোমাকে সেটিরই দায়িত্ব দিচ্ছি যা তুমি গ্রহণ করেছ১ —অর্থাৎ তুমি মানুষের কাছে এটি বর্ণনা করো—। উমর (রা.) ভুলে গিয়েছিলেন যে, নবী (সা.) বড় নাপাকি (جنابة) এর ক্ষেত্রেও তায়াম্মুমের বিধান রেখেছেন, যেমনটি ছোট নাপাকির (حدث أصغر) ক্ষেত্রে রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এই বিষয়ে উমর (রা.)-এর অনুসরণ করেছিলেন এবং তার ও আবু মুসা (রা.)-এর মধ্যে এই বিষয়ে একটি বিতর্ক (مناظرة) হয়েছিল। তখন তিনি (আবু মুসা) উমরের প্রতি আম্মারের সেই উক্তিটি তার সামনে পেশ করেন। ইবনে মাসউদ বললেন: আপনি কি দেখেননি যে উমর আম্মারের কথায় আশ্বস্ত হননি? আবু মুসা বললেন: আম্মারের কথা বাদ দিন, এই আয়াতের বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী? —অর্থাৎ সূরা আল-মায়িদার আয়াত—। ইবনে মাসউদ তখন কোনো উত্তর দেননি। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সঠিক মতটি সেই জামাতের সাথেই রয়েছে যারা বলেন যে, অপবিত্র ব্যক্তি (جنب) তায়াম্মুম করতে পারে, যেমনটি ছোট নাপাকিতে (حدث أصغر) থাকা ব্যক্তি তায়াম্মুম করে। উদ্দেশ্য হলো এই যে, মানুষ অনেক সময় ভুলে যেতে পারে এবং তার কাছে শরয়ি বিধান অস্পষ্ট থাকতে পারে; এমতাবস্থায় সে যা বলে সে ক্ষেত্রে সে অপারগ (معذور) হিসেবে গণ্য হয়, কিন্তু যার কাছে দলিল পৌঁছে গেছে সে অপারগ নয়। এই হলো দুটি কারণ।

--------------------------------------------

১ এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, তায়াম্মুম অধ্যায় ৩৩৮, ৩৪৫, ৩৪৬ এবং মুসলিম, হায়েয অধ্যায় ৩৬৮।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌السبب الرابع: أن يكون بلغه وفهم منه خلاف المراد.

فنضرب لذلك مثالين، الأول من الكتاب، والثاني من السُّنَّة:

1ـ من القرآن، قوله تعالى: {وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيداً طَيِّباً … } 1 اختلف العلماء رحمهم الله في معنى {أَوْ لامَسْتُمُ النِّسَاءَ} ففهم بعضٌ منهم أن المراد مطلق اللمس، وفهم آخرون: أن المراد به اللمس المثير للشهوة. وفهم آخرون أن المراد به الجِماع، وهذا الرأي رأي ابن عباس رضي

--------------------------------------------

1 سورة النساء، الآية: 43. وأيضا سورة المائدة، الآية: 6.
চতুর্থ কারণ: হাদিসটি তাঁর নিকট পৌঁছানো এবং তা থেকে মূল উদ্দেশ্যের বিপরীত অর্থ অনুধাবন করা.

আমরা এর জন্য দুটি উদাহরণ দিচ্ছি, প্রথমটি কুরআন থেকে এবং দ্বিতীয়টি সুন্নাহ থেকে:

১- কুরআন থেকে, মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তোমরা অসুস্থ হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসে অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করো, অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো … } ১। আলিমগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) {অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করো} এর অর্থ নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বুঝেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাধারণ স্পর্শ; আবার অন্যরা বুঝেছেন যে, এর দ্বারা কামভাব উদ্রেককারী স্পর্শ উদ্দেশ্য। আবার অন্যেরা বুঝেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সহবাস; আর এই অভিমতটি হলো ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর...

--------------------------------------------

১। সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৩; এবং সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ১৯)
الله عنهما.

وإذا تأمَّلت الآية وجدت أن الصواب مع مَن يرى أنه الجِماع، لأن الله تبارك وتعالى ذَكَرَ نوعين في طهارة الماء، طهارة الحدث الأصغر والأكبر. ففي الأصغر قوله: {فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ} 1. أما الأكبر فقوله: {وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُباً فَاطَّهَّرُوا … } 2 الآية. وكان مقتضى البلاغة والبيان أن يُذكر أيضاً موجبا الطهارتين في طهارة التيمم، فقوله تعالى: {أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ} إشارة إلى موجب طهارة الحدث الأصغر.. وقوله: {أَوْ لامَسْتُمُ النِّسَاءَ} إشارة إلى موجب طهارة الحدث الأكبر.. ولو جعلنا الملامسة هنا بمعنى اللمس، لكان في الآية ذِكْر

--------------------------------------------

1 سورة المائدة، الآية: 6.

2 سورة المائدة، الآية: 6.
আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

আর আপনি যদি আয়াতটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন তবে দেখবেন যে, সঠিক মতটি তাঁদের পক্ষে যাঁরা মনে করেন এর দ্বারা ‘যৌন মিলন’ (جماع) উদ্দেশ্য। কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা পানির দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে দুই প্রকার পবিত্রতার কথা উল্লেখ করেছেন: অপ্রধান অপবিত্রতা (حدث أصغر) ও প্রধান অপবিত্রতা (حدث أكبر) থেকে পবিত্র হওয়া। অপ্রধান অপবিত্রতার ক্ষেত্রে তাঁর বাণী: {তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং মাথা মাসাহ করো ও পাগুলো টাখনু পর্যন্ত ধৌত করো} ১। আর প্রধান অপবিত্রতার ক্ষেত্রে তাঁর বাণী: {আর যদি তোমরা অপবিত্র (جنباً) অবস্থায় থাকো তবে পবিত্রতা অর্জন করো...} ২—আয়াতটি। আর অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة) ও সুস্পষ্ট বর্ণনার দাবি ছিল এই যে, তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রেও উভয় প্রকার পবিত্রতার কারণগুলো উল্লেখ করা হবে। সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে ফিরে আসে}—এটি অপ্রধান অপবিত্রতা (حدث أصغر)-এর কারণের দিকে একটি ইশারা। আর তাঁর বাণী: {অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ (ملامسة) করেছ}—এটি প্রধান অপবিত্রতা (حدث أكبر)-এর কারণের প্রতি ইশারা। আর আমরা যদি এখানে ‘স্পর্শ’ (ملامسة)-কে সাধারণ স্পর্শের অর্থে গ্রহণ করি, তবে আয়াতে কেবল উল্লেখ থাকত...

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬।

২ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ২০)
موجبين من موجبات طهارة الحدث الأصغر. وليس فيها ذكر لشيء من موجبات طهارة الحدث الأكبر، وهذا خلاف ما تقتضيه بلاغة القرآن، فالذين فهموا من الآية أن المراد به مطلق اللمس قالوا: إذا مسَّ إنسان ذكرٌ بشرةَ الأنثى انتقض وضوؤه، أو إذا مسها لشهوة انتقض، ولغير شهوة لا ينتقض، والصواب عدم الانتقاض في الحالين، وقد روي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قبَّل إحدى نسائه، ثم ذهب إلى الصلاة ولم يتوضأ1، وقد جاء من طرق يقوي بعضها بعضاً.

2ـ من السُّنَّة: لمَّا رجع رسول الله صلى الله عليه وسلم من غزوة الأحزاب، ووضع عدَّة الحرب جاءه جبريل فقال له: إنا لم نضع السلاح فاخرج إلى بني قريظة، فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أصحابه بالخروج وقال: "لا يصلينَّ أحدٌ العصر

--------------------------------------------

1 أخرجه أبو داود، كتاب الطهارة 178، 179، والترمذي، كتاب الطهارة 86، وابن ماجة، كتاب الطهارة 502، 503.
ক্ষুদ্র অপবিত্রতা (حدث أصغر) থেকে পবিত্রতা অর্জনের আবশ্যকীয় কারণসমূহের মধ্য থেকে দু’টি কারণ। আর এতে বৃহৎ অপবিত্রতা (حدث أكبر) থেকে পবিত্রতা অর্জনের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি, যা কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রের চাহিদার পরিপন্থী। সুতরাং যারা এই আয়াত থেকে বুঝেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাধারণভাবে স্পর্শ করা, তারা বলেছেন: যদি কোনো পুরুষ কোনো নারীর ত্বক স্পর্শ করে, তবে তার অজু ভঙ্গ হয়ে যাবে; অথবা যদি কামভাবের সাথে স্পর্শ করে তবে ভঙ্গ হবে, আর কামভাব ছাড়া স্পর্শ করলে ভঙ্গ হবে না। তবে সঠিক মত হলো কোনো অবস্থাতেই অজু ভঙ্গ না হওয়া। বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কোনো এক স্ত্রীকে চুম্বন করেছেন, অতঃপর অজু না করেই সালাতে চলে গেছেন। এটি এমন কিছু সূত্রের (طرق) মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে যা একে অপরকে শক্তিশালী করে।

২- সুন্নাহ থেকে: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহজাব যুদ্ধ থেকে ফিরে এলেন এবং যুদ্ধের সরঞ্জাম নামিয়ে রাখলেন, তখন জিবরাঈল তাঁর নিকট এসে বললেন: আমরা অস্ত্র ত্যাগ করিনি, সুতরাং আপনি বনু কুরাইজার অভিমুখে বের হোন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বের হওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: "তোমাদের কেউ যেন আসরের সালাত আদায় না করে...

--------------------------------------------

১. এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, পবিত্রতা অধ্যায় ১৭৮, ১৭৯; তিরমিজি, পবিত্রতা অধ্যায় ৮৬; এবং ইবনে মাজাহ, পবিত্রতা অধ্যায় ৫০২, ৫০৩।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ২১)
إلا في بني قريظة" الحديث، فقد اختلف الصحابة في فهمه. فمنهم مَن فهم أن مراد الرسول المبادرة إلى الخروج حتى لا يأتي وقت العصر إلا وهم في بني قريظة، فلمَّا حان وقت العصر وهم في الطريق صلوها ولم يؤخروها إلى أن يخرج وقتها.

ومنهم مَن فهم: أن مراد رسول الله ألا يصلوا إلا إذا وصلوا بني قريظة فأخَّروها حتى وصلوا بني قريظة فأخرجوها عن وقتها1.

ولا ريب أن الصواب مع الذين صلوا الصلاة في وقتها؛ لأن النصوص في وجوب الصلاة في وقتها محكمة، وهذا نصٌ مشتبه. وطريق العلم أن يحمل المتشابه على المحكم.. إذن من أسباب الخلاف أن يفهم من الدليل خلاف مراد الله ورسوله، وذلك هو السبب الرابع.

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري، كتاب الخوف 946، ومسلم، كتاب الجهاد والسير 1770 وفيه: لا يصلين أحد العصر إلا في بني قريظة.
"বনু কুরাইজা ব্যতীত..." হাদিসটি সম্পর্কে সাহাবীগণের মাঝে তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে মতভেদ দেখা দিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একদল বুঝেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহর উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত রওনা হওয়া যাতে আসরের ওয়াক্ত হওয়ার আগেই তাঁরা বনু কুরাইজায় পৌঁছে যান। তাই পথিমধ্যে যখন আসরের ওয়াক্ত হলো, তাঁরা নামাজ আদায় করে নিলেন এবং ওয়াক্ত অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত তা বিলম্বিত করেননি।

পক্ষান্তরে অন্য একদল বুঝেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহর উদ্দেশ্য হলো বনু কুরাইজায় না পৌঁছানো পর্যন্ত তাঁরা যেন নামাজ না পড়েন। ফলে তাঁরা নামাজ বিলম্বিত করলেন এবং বনু কুরাইজায় পৌঁছানো পর্যন্ত তা আর আদায় করেননি, এমনকি নামাজের ওয়াক্ত পার হয়ে গেল ১।

নিঃসন্দেহে তাঁদের সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নামাজ আদায় করেছিলেন; কেননা যথাসময়ে নামাজ আদায়ের আবশ্যকতা সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো সুস্পষ্ট (محكم), আর এটি (বনু কুরাইজার নির্দেশটি) ছিল একটি অস্পষ্ট (مشتبه) পাঠ (نص)। আর ইলমের পদ্ধতি হলো অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়কে সুস্পষ্ট (محكم) বিষয়ের আলোকে অনুধাবন করা। সুতরাং, মতবিরোধের অন্যতম একটি কারণ হলো দলিল (دليل) থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী অর্থ গ্রহণ করা, আর এটিই হলো চতুর্থ কারণ।

--------------------------------------------

১. বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল খাউফ ৯৪৬; এবং মুসলিম, কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার ১৭৭০; এতে বর্ণিত হয়েছে: "তোমাদের কেউ যেন বনু কুরাইজা ব্যতীত আসরের নামাজ না পড়ে।"
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌السبب الخامس: أن يكون قد بلغه الحديث لكنه منسوخ ولم يعلم بالناسخ

فيكون الحديث صحيحاً والمراد منه مفهوماً ولكنه منسوخ، والعالم لا يعلم بنسخه، فحينئذٍ له العذر لأن الأصل عدم النسخ حتى يعلم بالناسخ.

ومن هذا رأى ابن مسعود رضي الله عنه.. ماذا يصنع الإنسان بيديه إذا ركع؟ كان في أول الإسلام يشرع للمصلي التطبيق بين يديه ويضعهما بين ركبتيه، هذا هو المشروع في أول الإسلام، ثم نُسخ ذلك، وصار المشروع أن يضع يديه على ركبتيه. وثبت في صحيح البخاري وغيره النسخ1، وكان ابن مسعود

--------------------------------------------

1 صحيح البخاري، كتاب الأذان 790.
পঞ্চম কারণ: তার নিকট হাদিসটি পৌঁছেছে কিন্তু তা রহিত (منسوخ) হয়ে গেছে এবং তিনি রহিতকারী (الناسخ) সম্পর্কে অবগত নন

এমতাবস্থায় হাদিসটি সহিহ (صحيح) এবং এর অর্থও স্পষ্ট, কিন্তু তা রহিত (منسوخ); আর আলেম তার রহিতকরণ সম্পর্কে জানেন না। সেক্ষেত্রে তার ওজর বা অজুহাত গ্রহণযোগ্য, কারণ মূল নীতি হলো রহিত (النسخ) না হওয়া, যতক্ষণ না রহিতকারী (الناسخ) সম্পর্কে জানা যায়।

এর একটি উদাহরণ হলো ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর মত... মানুষ রুকু করার সময় তার হাত দিয়ে কী করবে? ইসলামের শুরুর দিকে নামাজির জন্য নিয়ম ছিল উভয় হাত একত্র করে উরুর মাঝে রাখা (التطبيق) এবং হাত দুটিকে দুই হাঁটুর মাঝখানে রাখা। ইসলামের শুরুতে এটিই নিয়ম ছিল, পরবর্তীতে তা রহিত (نسخ) হয়ে যায় এবং নিয়ম নির্ধারিত হয় দুই হাত দুই হাঁটুর ওপর রাখা। সহিহ বুখারি ও অন্যান্য কিতাবে এই রহিতকরণ (النسخ) প্রমাণিত হয়েছে১, আর ইবনে মাসউদ...

--------------------------------------------

১ সহিহ বুখারি, কিতাবুল আজান ৭৯০।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ২৩)
رضي الله عنه لم يعلم بالنسخ، فكان يطبق يديه، فصلَّى إلى جانبه علقمة والأسود، فوضعا يديهما على ركبتيهما، ولكنه رضي الله عنه نهاهما عن ذلك وأمرهما بالتطبيق1.. لماذا؟ لأنه لم يعلم بالنسخ، والإنسان لا يكلف إلا وسع نفسه.. قال تعالى: {لا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْراً كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلا تُحَمِّلْنَا مَا لا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ} 2.

--------------------------------------------

1 صحيح مسلم، كتاب المساجد 534.

2 سورة البقرة، الآية: 286.
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) রহিতকরণ (النسخ) সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, তাই তিনি হাত জোড় করতেন (التطبيق)। তাঁর পাশে আলকামা ও আল-আসওয়াদ সালাত আদায় করলেন এবং তাঁরা তাঁদের হাত দুটি নিজ নিজ হাঁটুর ওপর রাখলেন, কিন্তু তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁদেরকে তা করতে নিষেধ করলেন এবং তাঁদেরকে হাত জোড় করার (التطبيق) নির্দেশ দিলেন১.. কেন? কারণ তিনি রহিতকরণ (النسخ) সম্পর্কে জানতেন না, আর মানুষকে তার সাধ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব প্রদান করা হয় না.. মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না; সে যা ভালো কাজ করেছে তা তারই জন্য এবং সে যা মন্দ কাজ করেছে তার দায়ভার তারই ওপর বর্তাবে। হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর এমন কোনো ভার অর্পণ করবেন না, যা বহন করার সাধ্য আমাদের নেই। আপনি আমাদের মার্জনা করুন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। অতএব, কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন} ২।

--------------------------------------------

১ সহীহ মুসলিম, কিতাবুল মাসাজিদ ৫৩৪।

২ সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৮৬।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌السبب السادس: أن يعتقد أنه معارض بما هو أقوى منه من نص أو إجماع

بمعنى أنه يصل الدليل إلى المستدل، ولكنه يرى أنه معارض بما هو أقوى منه من نص أو إجماع، وهذا كثير في خلاف الأئمة. وما أكثر ما نسمع من ينقل الإجماع، ولكنه عند التأمل لا يكون إجماعاً.

ومن أغرب ما نقل في الإجماع أن بعضهم قال: أجمعوا على قبول شهادة العبد. وآخرون قالوا: أجمعوا على أنها لا تقبل شهادة العبد. هذا من غرائب النقل، لأن بعض الناس إذا كان من حوله اتفقوا على رأي، ظنَّ أن لا مخالف لهم، لاعتقاده أن ذلك مقتضى النصوص، فيجتمع في ذهنه دليلان النص والإجماع، وربما يراه مقتضى القياس الصحيح، والنظر الصحيح فيحكم أنه لا خلاف، وأنه لا مخالف لهذا النص القائم عنده مع القياس الصحيح عنده، والأمر قد كان بالعكس.

ويمكن أن نمثل لذلك برأي ابن عباس رضي الله عنهما في رِبا الفضل..
ষষ্ঠ কারণ: তিনি বিশ্বাস করেন যে এটি এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো পাঠ (نص) বা সর্বসম্মত ঐকমত্যের (إجماع) পরিপন্থী

এর অর্থ হলো, দলিলটি প্রমাণের অনুসন্ধানকারীর নিকট পৌঁছেছে, কিন্তু তিনি মনে করেন যে এটি এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো পাঠ (نص) অথবা সর্বসম্মত ঐকমত্যের (إجماع) সাথে সাংঘর্ষিক। ইমামগণের মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে এটি প্রায়ই ঘটে থাকে। আমরা এমন অনেকের কথা শুনি যারা সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেন, কিন্তু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় যে সেটি সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) নয়।

সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয়গুলোর একটি হলো—কেউ কেউ বলেছেন: দাসের সাক্ষ্য গ্রহণ করার ব্যাপারে সকলে ঐক্যমত (أجمعوا) হয়েছেন। আবার অন্যপক্ষ বলেছে: দাসের সাক্ষ্য গ্রহণ না করার ব্যাপারে সকলে ঐক্যমত (أجمعوا) হয়েছেন। এটি বর্ণনার এক অদ্ভুত দিক; কারণ কোনো কোনো মানুষ যখন দেখে যে তার চারপাশের সকলে একটি মতের ওপর একমত হয়েছে, তখন সে মনে করে যে এর কোনো বিরোধী মত নেই। তার ধারণা থাকে যে এটিই পাঠসমূহের (نصوص) দাবি, ফলে তার মনে দুটি দলিল একত্রিত হয়—পাঠ (نص) এবং সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع)। কখনো কখনো সে বিষয়টিকে সঠিক অনুমাননির্ভর তুলনা (قياس) ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির দাবি হিসেবে দেখে। ফলে সে সিদ্ধান্ত দেয় যে এখানে কোনো মতপার্থক্য নেই এবং তার নিকট থাকা এই পাঠ (نص) ও সঠিক অনুমাননির্ভর তুলনার (قياس) কোনো বিরোধী নেই; অথচ বিষয়টি হয়তো এর বিপরীত ছিল।

আমরা এর উদাহরণ হিসেবে 'রিবাল ফদল'-এর ক্ষেত্রে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মতটি উল্লেখ করতে পারি।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ২৫)
ثبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إنما الربا في النسيئة" 1، وثبت عنه في حديث عبادة بن الصامت وغيره: أن الربا يكون في النسيئة وفي الزيادة2.

وأجمع العلماء بعد ابن عباس على أن الربا قسمان: ربا فضل، وربا نسيئة. أما ابن عباس فإنه أبى إلا أن يكون الربا في النسيئة فقط. مثاله لو بعت صاعاً من القمح بصاعين يداً بيد، فإنه عند ابن عباس لا بأس به، لأنه يرى أن الربا في النسيئة فقط.

وإذا بعت مثلاً مثقالاً من الذهب بمثقالين من الذهب يداً بيد فعنده أنه ليس ربا. لكن إذا أخَّرت القبض، فأعطيتني المثقال ولم أعطك البدل إلا بعد

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري بلفظ لا ربا إلا في النسيئة كتاب البيوع 2178، 2179، ومسلم، كتاب المساقاة 1596، وابن ماجة، كتاب التجارات 2257.

2 صحيح مسلم، كتاب المساقاة 1587.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয়েছে (ثبت) যে তিনি বলেছেন: "সুদ (الربا) কেবল বিলম্বের (النسيئة) মাধ্যমেই হয়" ১, এবং উবাদাহ ইবনে সামিত ও অন্যদের বর্ণিত হাদিসে তাঁর থেকে সাব্যস্ত হয়েছে (ثبت) যে: সুদ (الربا) বিলম্বের (النسيئة) ক্ষেত্রেও হয় এবং অতিরিক্তের (الزيادة) ক্ষেত্রেও হয় ২।

ইবনে আব্বাসের পরবর্তী ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে ঐক্যমতে (أجمع) পৌঁছেছেন যে, সুদ (الربا) দুই প্রকার: রিবা আল-ফজল (ربا فضل) এবং রিবা আন-নাসিআহ (ربا نسيئة)। তবে ইবনে আব্বাস কেবল বিলম্বের সুদ (ربا نسيئة) ছাড়া অন্য কোনো সুদের (الربا) অস্তিত্ব স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি এক সা গম দুই সা গমের বিনিময়ে হাতে হাতে বিক্রি করেন, তবে ইবনে আব্বাসের নিকট এতে কোনো অসুবিধা নেই; কারণ তিনি মনে করেন যে সুদ (الربا) কেবল বিলম্বের (النسيئة) মাধ্যমেই হয়ে থাকে।

এবং যদি আপনি উদাহরণস্বরূপ এক মিথকাল সোনা দুই মিথকাল সোনার বিনিময়ে হাতে হাতে বিক্রি করেন, তবে তাঁর নিকট সেটি সুদ (الربا) নয়। কিন্তু যদি আপনি গ্রহণে বিলম্ব করেন, ফলে আপনি আমাকে মিথকালটি দিলেন কিন্তু আমি আপনাকে তার বিনিময় প্রদান করলাম কেবল পরে...

--------------------------------------------

১ বুখারি এটি "বিলম্ব (النسيئة) ব্যতীত কোনো সুদ (الربا) নেই" শব্দে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল বিয়ূ' ২১৭৮, ২১৭৯; এবং মুসলিম, কিতাবুল মুসাকাত ১৫৯৬; ও ইবনে মাজাহ, কিতাবুত তিজারাত ২২৫৭।

২ সহিহ মুসলিম, কিতাবুল মুসাকাত ১৫৮৭।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ২৬)
التفرق فهو ربا.. لأن ابن عباس رضي الله عنهما يرى أن هذا الحصر مانع من وقوع الربا في غيره، ومعلوم أن (إنما) تفيد الحصر فيدل على أن ما سواه ليس بربا، لكن الحقيقة أن ما دلَّ عليه حديث عبادة يدل على أن الفضل من الربا لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "مَن زاد أو استزاد فقد أربى" 1.

إذاً ما موقفنا نحن من الحديث الذي استدلَّ به ابن عباس؟ موقفنا أن نحمله على وجه يمكن أن يتفق مع الحديث الآخر الدال على أن الربا يكون أيضاً في الفضل، بأن نقول: إنما الربا الشديد الذي يعمد إليه أهل الجاهلية والذي وَرَدَ فيه قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَأْكُلُوا الرِّبا أَضْعَافاً مُضَاعَفَةً} 2. إنما هو ربا النسيئة، أما ربا الفضل فإنه ليس الربا الشديد العظيم، ولهذا ذهب ابن القيّم في كتابه "إعلام الموقعين" إلى أن تحريم ربا الفضل من باب تحريم الوسائل، وليس من باب تحريم المقاصد.

--------------------------------------------

1 أخرجه مسلم، كتاب المساقاة 1588.

2 سورة آل عمران، الآية: 130.
পৃথক হওয়া, তবে তা সুদ (ربا)... কারণ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) মনে করতেন যে, এই সীমাবদ্ধতা (حصر) অন্য কোনো ক্ষেত্রে সুদ (ربا) হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক। এটি সুপরিচিত যে, (ইন্নামা) শব্দটি সীমাবদ্ধতা (حصر) অর্থ প্রদান করে, যা নির্দেশ করে যে এটি ব্যতীত অন্য কিছু সুদ (ربা) নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, উবাদাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস যা নির্দেশ করে তা থেকে প্রমাণিত হয় যে, অতিরিক্ত অংশও সুদের (ربا) অন্তর্ভুক্ত। কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি বৃদ্ধি করল বা বৃদ্ধি কামনা করল, সে সুদের (ربا) কারবার করল" ১।

তাহলে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) যে হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন সেটির ব্যাপারে আমাদের অবস্থান কী হবে? আমাদের অবস্থান হলো আমরা বিষয়টিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করব যেন তা অন্য হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যা নির্দেশ করে যে সুদ (ربا) অতিরিক্তের (الفضل) মধ্যেও হতে পারে। আমরা বলব: মূলত সেই ভয়াবহ সুদ (ربا) যা জাহেলি যুগের লোকেরা লিপ্ত থাকত এবং যার ব্যাপারে মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হয়েছে: {হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ (الربا) ভক্ষণ করো না} ২। তা মূলত বাকিতে লেনদেনের সুদ (ربا النسيئة)। আর হাতে হাতে বিনিময়ে অতিরিক্তের সুদ (ربا الفضل) সেই পর্যায়ের ভয়াবহ বা গুরুতর সুদ (ربا) নয়। এই কারণেই ইবনুল কাইয়্যিম তার "ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, হাতে হাতে বিনিময়ে অতিরিক্তের সুদ (ربا الفضل) নিষিদ্ধ হওয়াটি ‘হারাম মাধ্যমের’ অন্তর্ভুক্ত, তা ‘হারাম উদ্দেশ্যের’ অন্তর্ভুক্ত নয়।

--------------------------------------------

১ এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল মুসাকাত ১৫৮৮।

২ সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩০।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌السبب السابع: أن يأخذ العالم بحديث ضعيف أو يستدل استدلالاً ضعيفاً

وهذا كثير جداً، فمن أمثلته: أي أمثلة الاستدلال بالحديث الضعيف: ما ذهب إليه بعض العلماء من استحباب صلاة التسبيح، وهو أن يصلي الإنسان ركعتين، يقرأ فيهما بالفاتحة، ويُسَبِّح خمس عشرة تسبيحة، وكذلك في الركوع والسجود إلى آخر صفتها التي لم أضبطها، لأنني لا أعتقدها من حيث الشرع. ويرى آخرون أن صلاة التسبيح بدعة مكروهة، وأن حديثها لم يصح، وممن يرى ذلك الإمام أحمد رحمه الله وقال: إنها لا تصح عن النبي صلى الله عليه وسلم، وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: إن حديثها كذب على رسول الله، وفي الحقيقة مَن تأمَّلها وجد أن فيها
সপ্তম কারণ: কোনো আলেম কর্তৃক দুর্বল (ضعيف) হাদিস গ্রহণ করা অথবা দুর্বল (ضعيف) দলিল পেশ করা

এটি অত্যন্ত সুপ্রচলিত, এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে—অর্থাৎ দুর্বল (ضعيف) হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করার একটি উদাহরণ হলো: সালাতুত তাসবিহ মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে কতিপয় আলেমের অভিমত। আর তা হলো মানুষ দুই রাকাত নামাজ পড়বে, যাতে সে সুরা ফাতিহা পাঠ করবে এবং পনেরো বার তাসবিহ পাঠ করবে; একইভাবে রুকু ও সিজদাতেও—এভাবে এর পূর্ণ পদ্ধতির শেষ পর্যন্ত যা আমি আয়ত্ত করিনি, কারণ শরিয়তের দৃষ্টিতে আমি একে সাব্যস্ত বলে বিশ্বাস করি না। অন্যান্যরা মনে করেন যে, সালাতুত তাসবিহ একটি অপছন্দনীয় (مكروه) বিদআত এবং এর স্বপক্ষের হাদিসটি সহিহ (صحيح) নয়। যারা এই মত পোষণ করেন তাদের মধ্যে ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) অন্যতম; তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এটি সহিহ (صحيح) ভাবে প্রমাণিত নয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এর হাদিসটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর একটি মিথ্যা (كذب) আরোপ। প্রকৃতপক্ষে, যে ব্যক্তি এটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, সে দেখতে পাবে যে এতে...
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ২৮)
شذوذاً حتى بالنسبة للشرع، إذ إن العبادة إما أن تكون نافعة للقلب، ولابد لصلاح القلب منها فتكون مشروعة في كل وقت وفي كل مكان، وإما أن لا تكون نافعة فلا تكون مشروعة، وهذه في الحديث الذي جاء عنها يصليها الإنسان كل يوم أو كل أسبوع أو كل شهر أو في العمر مرة، وهذا لا نظير له في الشرع، فدل على شذوذها سنداً ومتناً، وأن مَن قال إنها كذب، كشيخ الإسلام فإنه مصيب، ولذا قال شيخ الإسلام: إنه لم يستحبها أحد من الأئمة.

وإنما مثَّلت بها لأن السؤال عنها كثير من الرجال والنساء، فأخشى أن تكون هذه البدعة أمراً مشروعاً، وإنما أقول بدعة، أقولها ولو كانت ثقيلة على بعض الناس لأننا نعتقد أن كل مَن دان لله سبحانه مما ليس في كتاب الله أو سُنَّة رسوله فإنه بدعة.

كذلك أيضاً مَن يأخذ بدليل ضعيف من حيث
শরিয়তের মানদণ্ডেও এটি একটি বিচ্যুত্তি (شذوذ); কারণ ইবাদত হয় হৃদয়ের জন্য উপকারী হবে এবং হৃদয়ের সংশোধনের জন্য তা অপরিহার্য হবে, ফলে তা সর্বাবস্থায় ও সর্বত্র বিধিবদ্ধ হবে, নতুবা তা উপকারী হবে না এবং বিধিবদ্ধও হবে না। আর এই হাদিসটিতে যা বর্ণিত হয়েছে যে, মানুষ এটি প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে, প্রতি মাসে অথবা জীবনে একবার আদায় করবে—শরিয়তে এর কোনো নজির নেই। এটি এর সনদ (سند) ও মতন (متن)-এর বিচ্যুত্তি (شذوذ) প্রমাণ করে। আর যারা একে মিথ্যা (كذب) বলেছেন—যেমন শাইখুল ইসলাম—তারা সঠিক বলেছেন। এজন্যই শাইখুল ইসলাম বলেছেন: ইমামগণের মধ্যে কেউ এটি মুস্তাহাব মনে করেননি।

আমি এটি উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছি কারণ নারী ও পুরুষদের পক্ষ থেকে এটি সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন আসে; তাই আমি আশঙ্কা করছি পাছে এই বিদআত (بدعة) কোনো বিধিবদ্ধ বিষয়ে পরিণত হয়। আমি একে বিদআত (بدعة) বলছি, যদিও তা কিছু মানুষের কাছে অপ্রীতিকর মনে হতে পারে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহর কিতাব বা তাঁর রাসুলের সুন্নাহর বহির্ভূত যা কিছু দিয়ে কেউ মহান আল্লাহর ইবাদত করবে, তা-ই বিদআত (بدعة)।

অনুরূপভাবে, যারা এমন দলিল গ্রহণ করে যা এই দিক থেকে দুর্বল (ضعيف) ...
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ২৯)
الاستدلال. الدليل قوي لكنه من حيث الاستدلال به ضعيف، مثل ما أخذ بعض العلماء من حديث: "ذكاة الجنين ذكاة أمه" 1.. فالمعروف عند أهل العلم من معنى الحديث أن أمّ الجنين إذا ذكيت فإن ذكاتها ذكاة له ـ أي لا يحتاج إلى ذكاة إذا أُخرج منها بعد الذبح، لأنه قد مات ولا فائدة من تذكيته بعد موته.

ومن العلماء مَن فهم أن المراد به ـ أي بالحديث ـ أن ذكاة الجنين كذكاة أمه، تكون بقطع الودجين وإنهار الدم ـ ولكن هذا بعيد والذي يبعده أنه لا يحصل إنهار الدم بعد الموت.

ورسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "ما أنهر الدم وذكر اسم الله

--------------------------------------------

1 أخرجه أبو داود، كتاب الأضاحي 2828 والترمذي، كتاب الصيد 1476 وصححه، وابن ماجة، كتاب الذبائح 3199.
দলীল গ্রহণ। দলীলটি শক্তিশালী (قوي) কিন্তু এর দ্বারা দলীল উপস্থাপনের দিক থেকে তা দুর্বল (ضعيف); যেমন কিছু আলেম নিম্নোক্ত হাদিস থেকে প্রমাণ গ্রহণ করেছেন: "ভ্রূণের জবেহ হলো তার মায়ের জবেহ" ১.. আলেমগণের নিকট হাদিসটির সুপরিচিত অর্থ হলো, ভ্রূণের মায়ের জবেহ সম্পন্ন করা হলে সেই জবেহ ভ্রূণের জন্যও যথেষ্ট হবে—অর্থাৎ জবেহ করার পর যদি তাকে (গর্ভ থেকে) বের করা হয়, তবে তাকে পুনরায় জবেহ করার প্রয়োজন নেই। কারণ সেটি ইতিমধ্যে মারা গেছে এবং মৃত্যুর পর জবেহ করার কোনো উপযোগিতা নেই।

আবার আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বুঝেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য—অর্থাৎ হাদিসটির উদ্দেশ্য—হলো ভ্রূণের জবেহ তার মায়ের জবেহের মতো হতে হবে, যা রক্তনালীসমূহ কাটা এবং রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কিন্তু এই মতটি দূরবর্তী, আর যে বিষয়টি একে দুর্বল করে তা হলো মৃত্যুর পর রক্ত প্রবাহিত হওয়া সম্ভব নয়।

আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যা রক্ত প্রবাহিত করে এবং যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়..."

--------------------------------------------

১. এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, কিতাবুল আজাহি ২৮২৮; তিরমিজি, কিতাবুস সাইদ ১৪৭৬ এবং তিনি একে সহিহ (صححه) বলেছেন; ও ইবনে মাজাহ, কিতাবুজ জাবাইহ ৩১৯৯।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ৩০)
عليه فكُل" 1. ومن المعلوم أنه لا يمكن إنهار الدم بعد الموت.

هذه الأسباب التي أحببت أن أنبه عليها مع أنها كثيرة، وبحر لا ساحل له.. ولكن بعد هذا كله ما موقفنا؟

وما قلته في أول الموضوع: أن الناس بسبب وسائل الإعلام المسموعة والمقروءة والمرئية واختلاف العلماء أو اختلاف المتكلمين في هذه الوسائل صاروا يتشككون ويقولون مَن نتبع؟.

تكاثرت الظباء على خراش … فما يدري خراش ما يصيد

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري، كتاب الذبائح 5498، ومسلم، كتاب الأضاحي 1968، وأبو داود، كتاب الأضاحي 2827، والنسائي، كتاب الضحايا 4403، 4404، وابن ماجة، كتاب الذبائح 3178.
এর ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিটি" ১. এবং এটি সর্বজনবিদিত যে, মৃত্যুর পর রক্ত প্রবাহিত করা সম্ভব নয়।

এই সমস্ত কারণগুলো সম্পর্কে আমি সচেতন করতে চেয়েছি, যদিও তা অনেক এবং এক কূলহীন সমুদ্রের মতো... কিন্তু এই সবকিছুর পর আমাদের অবস্থান কী?

আর বিষয়ের শুরুতে আমি যা বলেছিলাম: শ্রবণযোগ্য, পাঠযোগ্য ও দৃশ্যমান গণমাধ্যমসমূহ এবং এসকল মাধ্যমে আলেমদের বা আলোচকদের মতপার্থক্যের কারণে মানুষ সন্দেহে নিপতিত হচ্ছে এবং বলছে যে, আমরা কাকে অনুসরণ করব?।

খিরাশের সামনে হরিণের সংখ্যা এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে … খিরাশ বুঝতে পারছে না সে কোনটি শিকার করবে

--------------------------------------------

১ এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) বুখারি, কিতাবুজ জাবائح ৫৪৯৮, মুসলিম, কিতাবুল আজাহি ১৯৬৮, আবু দাউদ, কিতাবুল আজাহি ২৮২৭, নাসায়ি, কিতাবুজ জাহায়া ৪৪০৩, ৪৪০৪ এবং ইবনে মাজাহ, কিতাবুজ জাবائح ৩১৭৮।
(খণ্ড: ১) আল-খিলাফু বাইনাল উলামা (পৃষ্ঠা: ৩১)
وحينئذٍ نقول: موقفنا من هذا الخلاف، وأعني به خلاف العلماء الذين نعلم أنهم موثوقون علماً وديانة، لا مَن هم محسوبون على العلم وليسوا من أهله، لأننا لا نعتبر هؤلاء علماء، ولا نعتبر أقوالهم مما يحفظ من أقوال أهل العلم.. ولكننا نعني به العلماء المعروفين بالنصح للأمة والإسلام والعلم، موقفنا من هؤلاء يكون على وجهين:

1ـ كيف خالف هؤلاء الأئمة لما يقتضيه كتاب الله وسنة رسوله؟ وهذا يمكن أن يعرف الجواب عنه بما ذكرنا من أسباب الخلاف، وبما لم نذكره، وهو كثير يظهر لطالب العلم حتى وإن لم يكن متبحِّراً في العلم.

2ـ ما موقفنا من اتباعهم؟ ومن نتبع من هؤلاء العلماء؟ أيتبع الإنسان إماماً لا يخرج عن قوله، ولو كان الصواب مع غيره كعادة المتعصبين للمذاهب، أم يتبع ما ترجَّح عنده من دليل ولو كان مخالفاً لِمَا ينتسب
এমতাবস্থায় আমরা বলি: এই মতভেদ (خلاف) বিষয়ে আমাদের অবস্থান—আর এর দ্বারা আমি সেই সকল আলেমদের মতভেদ বোঝাচ্ছি যাদের জ্ঞান ও ধর্মপরায়ণতা নির্ভরযোগ্য (موثوقون), তাদের নয় যারা কেবল আলেম হিসেবে গণ্য কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইলমের অন্তর্ভুক্ত নন; কারণ আমরা তাদেরকে আলেম বলে গণ্য করি না এবং তাদের বক্তব্যসমূহকে আলেমদের সংরক্ষিত বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত হিসেবেও বিবেচনা করি না। বরং আমরা সেই সকল আলেমদের বোঝাচ্ছি যারা উম্মত, ইসলাম ও ইলমের কল্যাণকামিতার জন্য সুপরিচিত। তাদের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান হবে দুই প্রকার:

১- এই ইমামগণ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর দাবির বিপরীতে কেন ভিন্ন মত পোষণ করলেন? এর উত্তর আমাদের উল্লিখিত মতভেদের কারণসমূহ (أسباب الخلاف) এবং যা আমরা উল্লেখ করিনি তা থেকে জানা সম্ভব। এ জাতীয় কারণ বহুবিধ, যা একজন ইলম অন্বেষণকারীর (طالب العلم) নিকট স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যদিও সে ইলমে গভীর পাণ্ডিত্যসম্পন্ন (متبحر) না হয়।

২- তাঁদের অনুসরণের (اتباع) ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কী হবে? এবং এই আলেমদের মধ্য থেকে আমরা কাকে অনুসরণ করব? মানুষ কি এমন কোনো ইমামের অনুসরণ করবে যাঁর বক্তব্য থেকে সে বিচ্যুত হবে না, যদিও সত্য (الصواب) অন্যের নিকট থাকে—যেমনটি মাযহাবের অন্ধ অনুসারীদের (المتعصبين) অভ্যাস; নাকি সে তার নিকট দলীলের (دليل) ভিত্তিতে যা অধিকতর অগ্রগণ্য (ترجح) বলে প্রমাণিত হয় তা অনুসরণ করবে, যদিও তা তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরিপন্থী হয়?