(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: -)
الحيدة والاعتذار في الرد على من قال بخلق القرآن القسم: العقيدة
الكتاب: الحيدة والاعتذار في الرد على من قال بخلق القرآن
المؤلف: أبو الحسن عبد العزيز بن يحيى بن مسلم بن ميمون الكناني المكي (ت 240هـ)
المحقق: علي بن محمد بن ناصر الفقهي
الناشر: مكتبة العلوم والحكم، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الثانية، 1423هـ/2002م
عدد الصفحات: 89
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কুরআন সৃষ্টির প্রবক্তাদের খণ্ডনে আল-হাইদাহ ও ওজর পেশ বিভাগ: আকিদাহ
বই: কুরআন সৃষ্টির প্রবক্তাদের খণ্ডনে আল-হাইদাহ ও ওজর পেশ
লেখক: আবুল হাসান আবদুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া বিন মুসলিম বিন মাইমুন আল-কিনানি আল-মাক্কি (মৃ. ২৪০ হি.)
সম্পাদক: আলী বিন মুহাম্মদ বিন নাসির আল-ফুকাইহি
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব রাজত্ব
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২৩ হি./২০০২ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৯
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩)
الحيدة والاعتذار في الرد على من قال بخلق القرآن
تأليف: عبد العزيز بن يحيى بن عبد العزيز ابن مسلم بن ميمون الكناني
تحقيق: علي بن محمد بن ناصر الفقهي
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الكتاب
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا اله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله وبعد:-
فإن لعلماء السلف دورا كبيرا في الرد على النزعات الفلسفية التي دخلت على الأمة الإسلامية، من أعدائها لإفساد عقائدهم وأخلاقهم وسلوكهم، بهدف إبعادهم عن دينهم. وقد كان لليهود مجال كبير في إفساد عقائد المسلمين حيث اعتنق تلك الأفكار عنهم أناس قاموا بنشر تلك العقائد الفاسدة. ومنها الطعن في كتاب الله، للوصول إلى الطعن في أسماء الله وصفاته، كالقول بأن القرآن مخلوق.
وقد نشر هذه المقالة وحمل لواءها الجهم بن صفوان المتوفى سنة 128هـ مقتولا، وقد أخذ مقالته في نفي صفات الله تعالى عن الجعد بن درهم، والجعد أخذ التعطيل عن أبان بن سمعان، وأخذ أبان عن طالوت، وأخذ طالوت عن خاله لبيد بن الأعصم اليهودي الساحر الذي سحر رسول الله صلى الله عليه وسلم. وكان لبيد زنديقا يقول بخلق التوراة1.
هذه سلسلة سند المعطلة الجهمية.
وقد حمل بشر المريسي لواء هذه الدعوة في خلافة المأمون، حيث لبس على المأمون الذي كان شغوفا بطلب المعرفة حتى أنه بنى دارا سماها بيت الحكمة جمع فيها كل ما وصلت إليه يده من كتب الفلسفة والمنطق، وقد نتج عن دراستها فيما يتعلق بالعقائد محن جرت على علماء السنة ممن اعتنقوا تلك الأفكار المنحرفة.
--------------------------------------------
আল-হায়দাহ ওয়াল-ইতিযার: কুরআন সৃষ্টি হওয়ার মতবাদ পোষণকারীদের খণ্ডনে
রচনায়: আব্দুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল আজিজ ইবনে মুসলিম বিন মাইমুন আল-কিনানি
তাহকীক: আলী বিন মুহাম্মদ বিন নাসির আল-ফাকীহী
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
গ্রন্থের ভূমিকা
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর:-
মুসলিম উম্মাহর আকিদাহ, নৈতিকতা ও আচরণ নষ্ট করার মাধ্যমে তাদের দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষে শত্রুদের পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশ করা দার্শনিক প্রবণতাগুলোর বিরুদ্ধে সালাফদের আলেমগণ এক বিশাল ভূমিকা পালন করেছেন। মুসলিমদের আকিদাহ নষ্ট করার ক্ষেত্রে ইহুদিদের এক বিশাল ক্ষেত্র ছিল, কারণ তাদের কাছ থেকে এমন কিছু মানুষ এই চিন্তাগুলো গ্রহণ করেছিল যারা এই ভ্রষ্ট আকিদাহগুলো প্রচার করেছিল। এরই অংশ ছিল আল্লাহর কিতাবের প্রতি আপত্তি তোলা, যাতে করে আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর প্রতি আপত্তির পর্যায়ে পৌঁছানো যায়; যেমন—কুরআন সৃষ্টি হওয়ার দাবি করা।
১২৮ হিজরিতে নিহত হওয়া জাহম বিন সাফওয়ান এই মতবাদটি প্রচার করেন এবং এর ঝাণ্ডা বহন করেন। তিনি মহান আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকার করার এই মতবাদটি জা’দ বিন দিরহামের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন। জা’দ এই গুণাবলী অস্বীকারের মতবাদ গ্রহণ করেছিলেন আবান বিন সামআনের কাছ থেকে, আবান নিয়েছিলেন তালুতের কাছ থেকে এবং তালুত নিয়েছিলেন তার মামা লাবিদ বিন আসম থেকে—যে ছিল ইহুদি জাদুকর এবং রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর দয়া ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে জাদু করেছিল। লাবিদ ছিল একজন যিন্দিক (ধর্মত্যাগী), যে তাওরাত সৃষ্টি হওয়ার কথা বলত।
এটিই হলো জাহমি মুয়াত্তিলাদের (আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকারকারীদের) সনদের পরম্পরা।
আর বিশর আল-মারীসী খলিফা আল-মামুনের শাসনামলে এই দাওয়াতের ঝাণ্ডা বহন করেছিলেন। তিনি আল-মামুনের কাছে বিষয়টিকে অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করেছিলেন, যিনি জ্ঞান অর্জনে অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। এমনকি তিনি 'বাইতুল হিকমাহ' নামে একটি পাঠাগার নির্মাণ করেন যেখানে তাঁর হস্তগত হওয়া দর্শন ও যুক্তিশাস্ত্রের সমস্ত কিতাব জমা করেছিলেন। আকিদাহ সংক্রান্ত এসব কিতাব অধ্যয়নের ফলে সুন্নী আলেমদের ওপর কঠিন বিপদ ও পরীক্ষা নেমে এসেছিল, যা সেই বিচ্যুত চিন্তাগুলো লালনকারীদের পক্ষ থেকে এসেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৪)
وقد كان من هؤلاء العلماء المتصدين لهذه الأفكار المنحرفة- عبد العزيز الكناني الذي قاوم هذه الفكرة بشجاعته وصدعه بالحق مناصرة للسنة وجهراً بالحق في مناظرته لبشر المريسي بين يدي المأمون- وقد كانت حصيلة تلك المناظرة كتاب "الحيدة" هذا الذي تضمن الأدلة القوية الصريحة في الرد على القائلين بخلق القرآن من الجهمية والمعتزلة ومن تبعهم ممن يقول بقولهم من رافضة، وزيدية في أقوالهم المريحة في مؤلفاتهم- وكذلك الأشعرية القائلين بأن هذا القرآن الموجود بين أيدينا مخلوق، كما ترى أدلة ذلك في هذه المقدمة- في مسألة القول بخلق القرآن وبيان أهداف المؤسسين لهذه الفكرة.
وحيث إن هذا الكتاب قد طبع مرات دون تحقيق وفيه أخطاء كثيرة- اللهم إلا طبعة المجمع العلمي- بدمشق. فهي طبعة محققه ولكن بتحقيق رجل نصراني وقد ظهر في مقدمته للكتاب- نزعته للقومية العربية.
ونحن نعلم أن الرد على هؤلاء الزنادقة الطاعنين في القرآن كبشر المريسي وغيره ممن سبقه، من علماء الإسلام هو رد لحماية العقيدة الإسلامية بالأدلة الصريحة من الكتاب، والصحيحة من السنة ولا صلة لتلك الردود بقومية عربية. وقد كان قيامي بتحقيق هذا الكتاب بناء على اقتراح أحد مشايخ الجامعة الإسلامية، وهو شيخي فقد درست عليه أربع سنوات في كلية الشريعة.
أما عملي في الكتاب فهو على النحو التالي:
أولا:- ترجمة موجزة للمؤلف، وقد ذكرت مصادر ترجمته، ثم نسخ المخطوطة المصورة من دار الكتب الوطنية التونسية الموجودة بقسم المخطوطات بمكتبة الجامعة الإسلامية تحت رقم 4040.
ومقابلتها بالنسخ المطبوعة، ومنها طبعة المجمع بدمشق لتحقيق النص.
ثانيا:- تحقيق نسبة الكتاب الى المؤلف.
ثالثا:- مسألة القول بخلق القرآن وبيان أهداف القائلين بها.
وبيان موضوع الكتاب.
ختمت ذلك بالفهارس الضرورية وهي.
এই বিভ্রান্তিকর ধ্যান-ধারণার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো আলেমদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আব্দুল আজিজ আল-কেনানি, যিনি তাঁর সাহসিকতা ও হকের প্রচারের মাধ্যমে সুন্নাহর সমর্থনে এবং মামুনের সম্মুখে বিশর আল-মারিসির সাথে মুনাজারা (বিতর্ক)-তে সত্য প্রকাশ করার মাধ্যমে এই ধারণাকে প্রতিরোধ করেছিলেন। সেই বিতর্কের ফসল ছিল এই "আল-হায়দাহ" গ্রন্থটি, যা জাহমিয়াহ, মুতাজিলা এবং তাদের অনুসারী রাফেজি ও যায়দিদের মধ্যে যারা কুরআন সৃষ্টির প্রবক্তা ছিল, তাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও সুস্পষ্ট প্রমাণাদি অন্তর্ভুক্ত করেছে। পাশাপাশি আশআরিদের বিরুদ্ধেও, যারা বলে যে আমাদের নিকট বিদ্যমান এই কুরআনটি মাখলুক (সৃষ্টি), যার প্রমাণসমূহ আপনি এই ভূমিকায় দেখতে পাবেন—কুরআন সৃষ্টির প্রবক্তাদের মাসআলা এবং এই ধারণার প্রতিষ্ঠাতাদের লক্ষ্য বর্ণনার ক্ষেত্রে।
যেহেতু এই গ্রন্থটি যথাযথ তাহকিক (সম্পাদনা) ছাড়াই বারবার মুদ্রিত হয়েছে এবং এতে অনেক ভুল রয়েছে—তবে দামেস্কের ‘মাজমা আল-ইলমি’র সংস্করণটি ব্যতিক্রম। এটি একটি সম্পাদিত সংস্করণ, কিন্তু এটি একজন খ্রিস্টান ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত এবং তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় তাঁর আরব জাতীয়তাবাদী প্রবণতা ফুটে উঠেছে।
আমরা জানি যে, বিশর আল-মারিসি এবং তাঁর পূর্ববর্তী কুরআনের ওপর অপবাদকারী এই জিন্দিকদের বিরুদ্ধে ইসলামের আলেমদের এই খণ্ডন ছিল কিতাবুল্লাহর সুস্পষ্ট দলিল এবং সুন্নাহর সহিহ দলিলের মাধ্যমে ইসলামি আকিদাকে রক্ষা করার জন্য, আর এই খণ্ডনগুলোর সাথে আরব জাতীয়তাবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এই গ্রন্থটি তাহকিক বা সম্পাদনা করার পেছনে আমার উদ্যোগ ছিল ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শায়খের পরামর্শের ভিত্তিতে, যিনি আমার উস্তাদ; তাঁর কাছে আমি শরিয়াহ ফ্যাকাল্টিতে চার বছর পড়াশোনা করেছি।
আর এই গ্রন্থে আমার কাজ নিম্নরূপ:
প্রথমত: লেখকের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী, যেখানে আমি তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ উল্লেখ করেছি। এরপর তিউনিসিয়ার দারুল কুতুব আল-ওয়াতানিয়্যাহ থেকে সংগৃহীত পাণ্ডুলিপির ফটোকপি, যা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি বিভাগে ৪০৪০ নম্বরে সংরক্ষিত আছে, তার ওপর ভিত্তি করে কাজ করেছি। মূল পাঠ্যটি নির্ভুলভাবে নির্ধারণের জন্য দামেস্কের মাজমা সংস্করণসহ অন্যান্য মুদ্রিত কপিগুলোর সাথে এর তুলনা (মুকাবালা) করেছি।
দ্বিতীয়ত: লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা।
তৃতীয়ত: কুরআন সৃষ্টির প্রবক্তাদের মাসআলা এবং এই মত পোষণকারীদের লক্ষ্য বর্ণনা করা।
আর গ্রন্থের বিষয়বস্তু বর্ণনা করা।
সবশেষে আমি প্রয়োজনীয় নির্ঘণ্টসমূহ দ্বারা এটি সমাপ্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৫)
ثبت المراجع.
فهرس الآيات القرآنية.
فهرس الموضوعات.
أولا:- التعريف بعبد العزيز الكناني:
يقول الخطيب البغدادي:
عبد العزيز بن يحي بن عبد العزيز بن مسلم بن ميمون الكناني المكي1.
سمع عبد الله بن معاذ الصنعاني وسليم بن مسلمة المكي، وهشام بن سليمان المخزومي، ومروان بن معاوية، وسفيان بن عيينة، ومحمد بن إدريس الشافعي.
وقدم بغداد في أيام المأمون وجرى بينه وبين بشر المريسي مناظرة في القران وهو صاحب كتاب " الحيدة".
وقال في وصفه: كان من أهل العلم والفضل، وله مصنفات عدة، وكان ممن تفقه بالشافعي واشتهر بصحبته، فقد طالت صحبته له وأتباعه له وخرج معه إلى اليمن، وآثار الشافعي في كتب عبد العزيز المكي بينة عند ذكر الخصوص والعموم والبيان، كل ذلك مأخوذ من كتاب المطلبي رحمه الله. نقل ذلك عن داود ابن علي الأصبهاني الذي صنف كتاب فضائل الشافعي وذكر فيه أصحابه الذين أخذوا عنه.
--------------------------------------------
তথ্যসূত্রের তালিকা।
কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।
বিষয়সূচি।
প্রথমত:- আব্দুল আজীজ আল-কিনানীর পরিচয়:
আল-খাতীব আল-বাগদাদী বলেন:
আব্দুল আজীজ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল আজীজ ইবনে মুসলিম ইবনে মাইমূন আল-কিনানী আল-মাক্কী১।
তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুয়ায আস-সানআনী, সুলাইম ইবনে মাসলামাহ আল-মাক্কী, হিশাম ইবনে সুলাইমান আল-মাখযূমী, মারওয়ান ইবনে মুআবিয়াহ, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ এবং মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফিঈর নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ ও শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
তিনি মামুনের শাসনামলে বাগদাদে আগমন করেন এবং কুরআন (সৃষ্টি হওয়া) বিষয়ে তাঁর ও বিশর আল-মারীসীর মধ্যে একটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়; তিনি "আল-হাইদাহ" গ্রন্থের রচয়িতা।
তিনি তাঁর বর্ণনায় বলেন: তিনি ইলম ও ফযীলতের অধিকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাঁর একাধিক সংকলিত গ্রন্থ রয়েছে। তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন যারা ইমাম শাফিঈর নিকট ফিকহ অর্জন করেছেন এবং তাঁর সাহচর্যের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন; তিনি দীর্ঘকাল ইমাম শাফিঈর সাহচর্যে ছিলেন, তাঁর অনুসারী ছিলেন এবং তাঁর সাথে ইয়ামেনে সফর করেন। আব্দুল আজীজ আল-মাক্কীর গ্রন্থসমূহে 'খাস' (বিশেষ), 'আম' (সাধারণ) এবং 'বায়ান' (সুস্পষ্ট বর্ণনা) উল্লেখ করার ক্ষেত্রে ইমাম শাফিঈর প্রভাব সুস্পষ্ট; আর এসব কিছুই আল-মুত্তালিবী (ইমাম শাফিঈ) রাহিমাহুল্লাহর কিতাব থেকে গৃহীত। এই বর্ণনাটি দাউদ ইবনে আলী আল-আসফাহানী থেকে উদ্ধৃত হয়েছে, যিনি 'ফাযায়িলুশ শাফিঈ' নামক গ্রন্থটি রচনা করেছেন এবং সেখানে ইমাম শাফিঈর সেইসব ছাত্রদের কথা উল্লেখ করেছেন যারা তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقال: لما دخل عبد العزيز بن يحي المكي على المأمون وكانت خلقته شنعة جدا فضحك المعتصم. أقبل عبد العزيز على المأمون فقال: "يا أمير المؤمنين لم ضحك هذا؟ لم يصطف الله يوسف لجماله، وإنما اصطفاه لدينه وبيانه، وقد قص ذلك في كتابه بقوله: {فَلَمَّا كَلَّمَهُ قَالَ إِنَّكَ الْيَوْمَ لَدَيْنَا مَكِينٌ أَمِينٌ} أو لم يقل لما رأى جماله. فبياني يا أمير المؤمنين أحسن من وجه هذا. فضحك المأمون وأعجبه قوله. وقال للمعتصم: إن وجهي لا يكلمك وإنما يكلمك لساني". اهـ
وفاته:
يقول الذهبي في العبر 1/ 434 في وفيات سنة أربعين ومائتين.
"وفيها توفي عبد العزيز بن يحي الكناني المكي صاحب "الحيدة" سمع من سفيان ابن عيينة"، وناظر بشرا المريسي. وهو معدود في أصحاب الشافعي.
وقال في دول الإسلام ص 146 في وفيات سنة أربعين ومائتين.
قال: "وفيها توفي عبد العزيز بن يحي الكناني صاحب كتاب "الحيدة" وتلميذ الشافعي".
ثانيا:- إثبات نسبة كتاب "الحيدة" لعبد العزيز الكناني
إن نسبة كتاب "الحيدة" لعبد العزيز الكناني، وكذلك مناظرته لبشر المريسي بحضرة المأمون ثابتة كحادث تأريخي لم يشك في ذلك أحد من العلماء الذين نقلوا ذلك في كتبهم- اللهم إلا ما ورد عن الإمام الذهبي في كتابه "ميزان الاعتدال " من حيث إسناد الكتاب، وقد روى الكتاب ابن بطة بإسناد غير الإسناد الذي ذكره الذهبي كما سيأتي.
مع أن الذهبي قد أثبت كتاب الحيدة، والمناظرة في كتابيه العبر، ودول الإسلام كما تقدم.
أما ما ورد عن السبكي من طعن يا إثبات كتاب الحيدة، فقد تبع في ذلك قول الذهبي- وزاد قوله- إن في الكتاب أمورا مستشنعة، ثم قال- ولكنه موضوع كما قال شيخنا الذهبي. مع أن السبكي قد أثبت المناظرة، ولم يوضح لنا الأمور
এবং তিনি বলেন: যখন আব্দুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া আল-মাক্কী আল-মামুনের দরবারে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর শারীরিক গঠন অত্যন্ত কুৎসিত ছিল, তখন আল-মু’তাসিম হেসে দিলেন। আব্দুল আজিজ আল-মামুনের দিকে ফিরে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, ইনি কেন হাসলেন? আল্লাহ তাআলা ইউসুফকে তাঁর সৌন্দর্যের কারণে মনোনীত করেননি, বরং তাঁর দ্বীন এবং বাগ্মিতার কারণে মনোনীত করেছেন। আল্লাহ তাঁর কিতাবে সে কথাটি এই বলে বর্ণনা করেছেন: {অতঃপর যখন তিনি তাঁর সাথে কথা বললেন, তখন বললেন: নিশ্চয় আজ আপনি আমাদের নিকট মর্যাদাবান ও বিশ্বস্ত}। তিনি তাঁর সৌন্দর্য দেখার পর এই কথা বলেননি। হে আমিরুল মুমিনীন, আমার বর্ণনাভঙ্গি এই ব্যক্তির চেহারার চেয়েও উত্তম।" তখন আল-মামুন হাসলেন এবং তাঁর কথাটি তাঁকে মুগ্ধ করল। তিনি আল-মু’তাসিমকে বললেন: "আমার চেহারা তোমার সাথে কথা বলে না, বরং আমার জিহ্বাই তোমার সাথে কথা বলে।" সমাপ্ত।
তাঁর মৃত্যু:
আয-যাহাবী ‘আল-ইবার’ (১/৪৩৪) গ্রন্থে ২৪০ হিজরির মৃত্যু বিবরণীতে বলেন:
"এই বছরেই ‘আল-হায়দাহ’ গ্রন্থের লেখক আব্দুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া আল-কিনানী আল-মাক্কী মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে শ্রবণ করেছেন এবং বিশর আল-মারিসীর সাথে বিতর্ক করেছেন। তিনি ইমাম শাফেয়ীর অনুসারীদের মধ্যে গণ্য।"
তিনি ‘দুওয়ালুল ইসলাম’ (পৃষ্ঠা ১৪৬) গ্রন্থে ২৪০ হিজরির মৃত্যু বিবরণীতে বলেন:
তিনি বলেন: "এই বছর ‘আল-হায়দাহ’ কিতাবের লেখক এবং ইমাম শাফেয়ীর ছাত্র আব্দুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া আল-কিনানী মৃত্যুবরণ করেন।"
দ্বিতীয়ত: আব্দুল আজিজ আল-কিনানীর প্রতি ‘আল-হায়দাহ’ কিতাবের সম্পৃক্ততার প্রমাণ:
আব্দুল আজিজ আল-কিনানীর প্রতি ‘আল-হায়দাহ’ কিতাবের সম্পৃক্ততা এবং আল-মামুনের উপস্থিতিতে বিশর আল-মারিসীর সাথে তাঁর বিতর্ক একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে প্রমাণিত। যেসব আলেম তাদের কিতাবে এটি উদ্ধৃত করেছেন, তাদের মধ্যে কেউই এ ব্যাপারে সন্দেহ করেননি—তবে ইমাম যাহাবীর ‘মিযানুল ইতিদাল’ গ্রন্থে কিতাবটির সনদের ক্ষেত্রে যা বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতিক্রম। অথচ ইবনে বাত্তাহ কিতাবটি এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যা যাহাবীর উল্লেখ করা সনদ থেকে পৃথক, যেমনটি সামনে আলোচিত হবে।
যদিও ইমাম যাহাবী ইতিপূর্বে উল্লিখিত তাঁর ‘আল-ইবার’ এবং ‘দুওয়ালুল ইসলাম’ গ্রন্থদ্বয়ে ‘আল-হায়দাহ’ কিতাব ও বিতর্কটিকে সাব্যস্ত করেছেন।
আর সুবকী থেকে ‘আল-হায়দাহ’ কিতাব সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে যে সমালোচনা বর্ণিত হয়েছে, সেখানে তিনি ইমাম যাহাবীর কথাটিই অনুসরণ করেছেন—এবং তাঁর কথায় এটি যোগ করেছেন যে—কিতাবটিতে কিছু জঘন্য বিষয় রয়েছে। এরপর তিনি বলেছেন—কিন্তু এটি জাল বা বানোয়াট, যেমনটি আমাদের শাইখ যাহাবী বলেছেন। যদিও সুবকী বিতর্কটিকে সাব্যস্ত করেছেন, কিন্তু সেই আপত্তিকর বিষয়গুলো আমাদের কাছে স্পষ্ট করেননি।
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৭)
المستشنعة التي يراها ولو بمثال واحد. والواقع أنه لا شيء في الكتاب اللهم إلا ما يخالف عقيدة السبكي في القرآن، كما سيأتي بيان عقيدة الأشاعرة في القرآن.
ونبدأ بإيراد قول الذهبي، ثم بيان وجهة نظره، كما بينها ابن حجر في لسان الميزان، ومنا قشتها.
ثم إيراد إسناد ابن بطة للكتاب، إذ أيطلع عليه الذهبي، ثم إيراد أقوال العلماء الذين أثبتوا هذه المناظرة، وكتاب الحيدة لعبد العزيز الكناني.
يقول الذهبي في ميزان الاعتدال 2/ 639 في ترجمة الكناني:
عبد العزيز بن يحي بن عبد العزيز الكناني المكي الذي ينسب إليه "الحيدة" في مناظرته لبشر المريسي
… إلى أن قال: قلت لم يصح إسناد كتاب الحيدة إليه فكأنه وضع عليه. والله أعلم.
أما السبكي فقد قال في طبقات الشافعية 144/2: عبد العزيز بن يحي ابن عبد العزيز بن مسلم الكناني المكي الذي ينسب إليه كتاب بر الحيدة. وبعد أن ذكر ثناء العلماء عليه وصحبته للشافعي نقل عين أبي العيناء قوله: "لما دخل عبد العزيز المكي على المأمون وكانت خلقته شنعة جدا ضحك أبو إسحاق المعتصم"، فقال: "يا أمير المؤمنين أيضحك هذا لم يصطف الله يوسف عليه السلام لجماله وإنما اصطفاه الله لدينه وبيانه فضحك المأمون وأعجبه
… إلى أن قال: وعلى إنه كان ناصرا للسنة في نفي خلق القرآن كما دلت عليه مناظرته مع بشر"، وكتاب الحيدة المنسوب إليه فيه أمور مستشنعة لكنه كما قال شيخنا الذهبي "لم يصح إسناده إليه"، ولا ثبت أنه من كلامه فلعله وضع عليه اهـ
هذا ما قاله السبكي، فهو يثبت وقوع المناظرة، لكنه يدعي أن في الحيدة أمورا مستشنعة، ولكنه كما سبق لم يبين لنا هذه الأمور ولو بمثال واحد. ونكتفي بعرض وجهة نظر الذهبي ثم مناقشتها كما ذكرها ابن حجر في لسان الميزان ثم نتبعها بإسناد ابن بطة لكتاب الحيدة ثم أقوال العلماء الذين ذكروا أن كتاب الحيدة من مؤلفات الكناني قبل الذهبي وبعده.
সেই জঘন্য বিষয়গুলো যা তিনি মনে করেন, এমনকি একটি উদাহরণের মাধ্যমেও নয়। প্রকৃতপক্ষে, কিতাবটিতে এমন কিছু নেই যা আল-কুরআন সম্পর্কে সাবকির আকিদাহর বিপরীত হওয়া ছাড়া অন্য কিছু নয়, যেমনটা সামনে আল-কুরআন সম্পর্কে আশআরিদের আকিদাহর বর্ণনায় আসবে।
আমরা যাহাবির বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে শুরু করব, এরপর তার দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাখ্যা করব, যেমনটি ইবনে হাজার লিসানুল মিজানে বর্ণনা করেছেন এবং তার পর্যালোচনা করব।
এরপর কিতাবটির জন্য ইবনে বাত্তার সনদ উল্লেখ করব, কারণ যাহাবি এটি দেখেছিলেন; অতঃপর সেই সব আলেমদের উক্তি উল্লেখ করব যারা এই মুনাজারা এবং আব্দুল আজিজ আল-কিনানির কিতাব আল-হায়দাহ সাব্যস্ত করেছেন।
যাহাবি মিজানুল ইতিদাল ২/৬৩৯-এ কিনানির জীবনীতে বলেন:
আব্দুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল আজিজ আল-কিনানি আল-মাক্কি, যাঁর দিকে বিশর আল-মারিসির সাথে তাঁর বিতর্কের বিবরণ সম্বলিত "আল-হায়দাহ" কিতাবটি নিসবত করা হয়
... তিনি বলা পর্যন্ত যে: আমি বলছি, আল-হায়দাহ কিতাবটির সনদ তাঁর পর্যন্ত সহিহ নয়, তাই মনে হয় এটি তাঁর নামে জাল করা হয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।
আর সাবকি তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ২/১৪৪-এ বলেছেন: আব্দুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল আজিজ বিন মুসলিম আল-কিনানি আল-মাক্কি, যাঁর দিকে আল-হায়দাহ কিতাবটি নিসবত করা হয়। তাঁর ব্যাপারে আলেমদের প্রশংসা এবং শাফেয়ির সাথে তাঁর সাহচর্যের কথা উল্লেখ করার পর তিনি আবুল আইনার এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেন: "যখন আব্দুল আজিজ আল-মাক্কি মামুনের কাছে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর শারীরিক গঠন অত্যন্ত কুশ্রী ছিল, তখন আবু ইসহাক আল-মুতাসিম হেসে ফেললেন", তখন তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন! ইনি কি হাসছেন? আল্লাহ ইউসুফ আলাইহিস সালামকে তাঁর সৌন্দর্যের কারণে বেছে নেননি, বরং আল্লাহ তাঁকে তাঁর দ্বীন ও বাগ্মিতার কারণে বেছে নিয়েছিলেন", এতে মামুন হাসলেন এবং মুগ্ধ হলেন
... তিনি বলা পর্যন্ত যে: "আর তিনি কুরআন সৃষ্টির আকিদাহ অস্বীকার করে সুন্নাহর সাহায্যকারী ছিলেন, যেমনটি বিশরের সাথে তাঁর বিতর্ক থেকে প্রমাণিত হয়", এবং তাঁর দিকে নিসবতকৃত আল-হায়দাহ কিতাবটিতে কিছু জঘন্য বিষয় রয়েছে, কিন্তু আমাদের শায়খ যাহাবি যেমনটি বলেছেন "এর সনদ তাঁর পর্যন্ত সহিহ নয়", এবং এটি তাঁর বক্তব্য হিসেবে প্রমাণিতও নয়, সম্ভবত এটি তাঁর নামে জাল করা হয়েছে। সমাপ্ত
এটিই সাবকির বক্তব্য, তিনি বিতর্কের ঘটনাটি সাব্যস্ত করেন, কিন্তু দাবি করেন যে আল-হায়দাহ কিতাবে জঘন্য কিছু বিষয় আছে, কিন্তু যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি একটি উদাহরণের মাধ্যমেও আমাদের কাছে সেই বিষয়গুলো স্পষ্ট করেননি। আমরা যাহাবির দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন এবং এরপর ইবনে হাজার লিসানুল মিজানে যেভাবে এর পর্যালোচনা করেছেন তা উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করছি। এরপর আমরা আল-হায়দাহ কিতাবের জন্য ইবনে বাত্তার সনদ এবং যাহাবির আগে ও পরে যেসব আলেম আল-হায়দাহ কিতাবটিকে কিনানির রচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাদের উক্তিগুলো বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৮)
الرابع: لو أن إسناد الكتاب تفرد به محمد بن الحسن بن الأزهر وحده ولم يأت له إسناد آخر كما سبق فإننا نقول إن نسبة الكتاب الثابتة لعبد العزيز الكناني كما سنرى ذلك من أقوال العلماء الثقات، لا يضره أن يأتي شخص مثل محمد بن الأزهر، فيروي الكتاب لأنه سيكون من باب قول رسول الله صلى الله عليه وسلم لأبي هريرة رضي الله عنه: "صدقك وهو كذوب " 1 كيف وقد وجد له إسناد آخر.
وإليك ما قاله العلماء في إثبات هذه المناظرة بين عبد العزيز الكناني، وبشر المريسي عند الخليفة المأمون، وإثبات نسبة كتاب "الحيدة" للكناني:
--------------------------------------------
চতুর্থত: যদি এই কিতাবের সনদটি শুধুমাত্র মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন আল-আযহার একাই বর্ণনা করতেন এবং পূর্বে উল্লিখিত অন্য কোনো সনদ না থাকত, তবুও আমরা বলতাম যে, নির্ভরযোগ্য আলেমদের বক্তব্যের মাধ্যমে আব্দুল আজিজ আল-কিনানির প্রতি এই কিতাবের যে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে, মুহাম্মাদ বিন আল-আযহারের মতো কেউ এটি বর্ণনা করলে তার কোনো ক্ষতি হতো না। কারণ এটি হবে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই বাণীর মতো: "সে সত্য বলেছে, অথচ সে একজন চরম মিথ্যাবাদী।" ১ বিশেষ করে যখন এর অন্য সনদও পাওয়া গেছে।
খলিফা মামুনের দরবারে আব্দুল আজিজ আল-কিনানি এবং বিশর আল-মারিসির মধ্যে অনুষ্ঠিত এই মুনাযারা বা বিতর্ক সাব্যস্তকরণ এবং আল-কিনানির প্রতি "আল-হায়দাহ" কিতাবের সম্পৃক্ততা প্রমাণের বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৯)
- ابن النديم- يقول في الفهرست ص 275: عبد العزيز الكناني من طبقة الحارث، كان متكلما مقدما وزاهدا عابدا وله في الكلام والزهد كتب، وتوفي وله من الكتب كتاب/ الحيدة فيما جرى بينه وبين بشر المريسي.
2- الخطيب البغدادي - قال في تاريخ بغداد 10/ 449: عبد العزيز بن يحي الكناني المكي سمع عبد الله بن معاذ الصنعاني وسليم بن مسلمة المكي إلى أن قال: قدم بغداد في أيام المأمون وجرى بينه وبين بشر المريسي مناظرة في القرآن وهو صاحب كتاب " الحيدة".
3- الذهبي نفسه - يقول في العبر 1/ 434: وفي سنة أربعين ومائتين توفي عبد العزيز بن يحي الكناني المكي صاحب كتاب/ الحيدة. ويقول في دول الإسلام ص 146: وفي سنة أربعين ومائتين توفي عبد العزيز بن يحي الكناني صاحب كتاب/ الحيدة.
4- ابن كثير- ويقول ابن كثير في طبقات الشافعية1 الطبقة الأولى: عبد العزيز الكناني صاحب كتاب/ الحيدة في مناظرة الجهمية روى عن الشافعي. قال الخطيب البغدادي هو صاحب كتاب/ الحيدة. قد طالت صحبته للشافعي، ثم نقل عن الشيرازي من طبقات الشافعية قول أبي إسحاق: وهو المكي المتكلم الذي ناظر بشرا المريسي.
5- أبو إسحاق الشيرازي - الذي أشار إلى قوله ابن كثير، يقول في طبقات الشافعية ص 103 ومنهم عبد العزيز بن يحي الكناني المكي المتكلم، وهو الذي ناظر بشرا المريسي عند المأمون في نفي خلق القرآن، قال دود بن علي. هو أحد أصحاب الشافعي أخذ عنه وطالت صحبته وأتباعه له وخرج معه إلى اليمن. اهـ.
6- ابن حجر- ويقول ابن حجر في تهذيب التهذيب 463/6 وقد ذكر شيوخه وتلاميذه ثم نقل عن الخطيب قوله: قدم بغداد في أيام المأمون وجرت بينه وبين بشر المريسي مناظرة في القرآن وهو صاحب كتاب/ الحيدة. وكان من أهل العلم والفضل وله مصنفات عدة، وكان ممن تفقه للشافعي واشتهر بصحبته.
--------------------------------------------
ইবনুল নাদিম- আল-ফিহরিস্ট-এর ২৭৫ পৃষ্ঠায় বলেন: আবদুল আজিজ আল-কিনানি আল-হারিসের স্তরের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি একজন অগ্রগণ্য কালাম শাস্ত্রবিদ এবং দুনিয়াবিমুখ ইবাদতকারী ছিলেন। ইলমুল কালাম এবং যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) বিষয়ে তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর মৃত্যুকালে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে ছিল 'আল-হায়দাহ' কিতাবটি, যা তাঁর ও বিশর আল-মারিসির মধ্যে সংঘটিত বিতর্কের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
২- আল-খতিব আল-বাগদাদি - তারিখ বাগদাদ-এর ১০/৪৪৯ পৃষ্ঠায় বলেন: আবদুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া আল-কিনানি আল-মাক্কি, তিনি আবদুল্লাহ বিন মুয়াজ আল-সানআনি এবং সুলাইম বিন মুসলিমাহ আল-মাক্কি থেকে বর্ণনা শুনেছেন... এরপর তিনি বলেন: তিনি মামুনের শাসনামলে বাগদাদে আগমন করেন এবং কুরআন বিষয়ে তাঁর ও বিশর আল-মারিসির মধ্যে একটি মুনাজারা (বিতর্ক) অনুষ্ঠিত হয়। তিনি 'আল-হায়দাহ' কিতাবটির লেখক।
৩- ইমাম আয-যাহাবি স্বয়ং - আল-ইবার-এর ১/৪৩৪ পৃষ্ঠায় বলেন: এবং দুইশত চল্লিশ হিজরি সনে 'আল-হায়দাহ' গ্রন্থের লেখক আবদুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া আল-কিনানি আল-মাক্কি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দুওয়ালুল ইসলাম-এর ১৪৬ পৃষ্ঠায় বলেন: এবং দুইশত চল্লিশ হিজরি সনে 'আল-হায়দাহ' গ্রন্থের লেখক আবদুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া আল-কিনানি মৃত্যুবরণ করেন।
৪- ইবনে কাসির - ইবনে কাসির তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ-র প্রথম স্তরে বলেন: আবদুল আজিজ আল-কিনানি হলেন 'আল-হায়দাহ' গ্রন্থের লেখক যা জাহমিয়াদের সাথে বিতর্কের বিষয়ে রচিত, তিনি ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-খতিব আল-বাগদাদি বলেছেন তিনি 'আল-হায়দাহ' গ্রন্থের লেখক। ইমাম শাফিঈর সাথে তাঁর দীর্ঘ সাহচর্য ছিল। এরপর তিনি তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ থেকে আল-শিরাজির মাধ্যমে আবু ইসহাকের উক্তিটি উদ্ধৃত করেন: তিনি হলেন মাক্কি কালাম শাস্ত্রবিদ যিনি বিশর আল-মারিসির সাথে বিতর্ক করেছিলেন।
৫- আবু ইসহাক আল-শিরাজি - যাঁর উক্তির দিকে ইবনে কাসির ইঙ্গিত করেছেন, তিনি তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ-র ১০৩ পৃষ্ঠায় বলেন: তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আবদুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া আল-কিনানি আল-মাক্কি কালাম শাস্ত্রবিদ, তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি খলিফা মামুনের দরবারে কুরআন মাখলুক হওয়ার মতবাদ খণ্ডন করে বিশর আল-মারিসির সাথে বিতর্ক করেছিলেন। দাউদ বিন আলি বলেন: তিনি ইমাম শাফিঈর অন্যতম সাথী ছিলেন, তাঁর থেকে ইলম অর্জন করেছেন, তাঁর সাথে দীর্ঘ সাহচর্য বজায় রেখেছিলেন, তাঁর অনুসরণ করতেন এবং তাঁর সাথে ইয়েমেনে গিয়েছিলেন। সমাপ্ত।
৬- ইবনে হাজার - ইবনে হাজার তাহযিবুত তাহযিব-এর ৬/৪৬৩ পৃষ্ঠায় তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রদের আলোচনা করার পর আল-খতিব থেকে তাঁর উক্তিটি উদ্ধৃত করে বলেন: তিনি মামুনের শাসনামলে বাগদাদে আগমন করেন এবং কুরআন বিষয়ে তাঁর ও বিশর আল-মারিসির মধ্যে একটি বিতর্ক সংঘটিত হয়। তিনি 'আল-হায়দাহ' কিতাবটির লেখক। তিনি ইলম ও মর্যাদার অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে। তিনি ইমাম শাফিঈর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছিলেন এবং তাঁর সাহচর্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومما يؤكد أن رأي الذهبي وجهة نظر قابلة للنقاش- أن ابن حجر الذي ذكر وجهة النظر هذه كما تقدم قد نقل نصا من "الحيدة" في فتح الباري 13/ 452 في شرح باب {قُلْ أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهَادَةً قُلِ اللَّهُ شيء} فقد قال: وأشار ابن بطال إلا أن البخاري انتزع هذه الترجمة من كلام عبد العزيز بن يحي المكي فإنه قال في كتاب "الحيدة" سمى الله تعالى نفسه شيئا إثباتا لوجوده ونفيا للعدم عنه وكذا أجرى على كلامه ما أجراه على نفسه ولم يجعل لفظ شيء من أسمائه بل دل على نفسه إنه شيء تكذيبا للدهرية ومنكري الإلهية من الأمم، وسبق في علمه إنه سيكون من يلحد في أسمائه ويلبس على خلقه ويدخل كلامه في الأشياء المخلوقة فقال: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} فأخرج نفسه وكلامه من الأشياء المخلوقه ثم وصف كلامه بما وصف به نفسه فقال: {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِذْ قَالُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى بَشَرٍ مِنْ شَيْءٍ} وقال تعالى: {أَوْ قَالَ أُوحِيَ إِلَيَّ وَلَمْ يُوحَ إِلَيْهِ شَيْءٌ} فدل على كلامه بما دل على نفسه ليعلم أن كلامه صفة من صفات ذاته فكل صفة تسمى شيئا بمعنى أنها موجودة1.
فعمل ابن حجر هذا يبين لنا أنه لو كان موافقا للذهبي في وجهة نظره لما نقل هذا النص الذي أشار فيه ابن بطال إن البخاري انتزع هذه الترجمة من كلام عبد العزيز المكي من "كتاب الحيدة".
7- وقد أشار إلى هذه المناظرة ابن الجوزي في المنتظم2 8/ 41 حيمسا قال:
"وفي سنة أربعمائة وعشرين في عهد القادر، في يوم الاثنين غرة ذي القعدة جمع القضاة والشهود والفقهاء والوعاظ والزهاد إلى دار الخلافة وقريء عليهم كتاب طويل جدا يتضمن ذكر أبي بكر وعمر وفضائلهما إلى أن قال: وأعيد فيه ما جرى بين بشر المريسي وعبد العزيز المكي في ذلك". اهـ
8- ويقول: ابن العماد في شذرات الذهب2/ 95 في وفيات سنة 240 هـ وفيها توفي عبد العزيز بن يحي الكنافب المكي، سمع سفيان بن عيينة وناظر
--------------------------------------------
যা আল-জাহাবির মতামতকে আলোচনার যোগ্য একটি দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে নিশ্চিত করে তা হলো—ইবনে হাজার, যিনি পূর্বে উল্লিখিত এই দৃষ্টিভঙ্গিটি উল্লেখ করেছেন, তিনি 'ফাতহুল বারি' ১৩/৪৫২-এ 'বলো: সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় বস্তু কোনটি? বলো: আল্লাহ একটি বস্তু' শীর্ষক অধ্যায়ের ব্যাখ্যায় 'আল-হায়দাহ' থেকে একটি উদ্ধৃতি পেশ করেছেন। তিনি বলেছেন: ইবনে বাত্তাল ইঙ্গিত করেছেন যে, ইমাম বুখারি এই অধ্যায়টি আব্দুল আজিজ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাক্কির বক্তব্য থেকে গ্রহণ করেছেন। কেননা তিনি 'আল-হায়দাহ' গ্রন্থে বলেছেন: আল্লাহ তাআলা নিজের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য এবং নিজের থেকে অনস্তিত্বকে নাকচ করার জন্য নিজেকে 'বস্তু' হিসেবে নামকরণ করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি নিজের ক্ষেত্রে যা প্রয়োগ করেছেন, তাঁর কালামের (বাণীর) ক্ষেত্রেও তা-ই প্রয়োগ করেছেন। তিনি 'বস্তু' শব্দটিকে তাঁর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেননি, বরং দাহরিয়াহ (বস্তুবাদী) এবং বিভিন্ন জাতির ইলাহ অস্বীকারকারীদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য নিজেকে 'একটি বস্তু' হিসেবে নির্দেশ করেছেন। এবং তাঁর ইলমে পূর্বেই ছিল যে, অচিরেই এমন লোক আসবে যারা তাঁর নামসমূহের ক্ষেত্রে বিকৃতি ঘটাবে এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সংশয় সৃষ্টি করবে এবং তাঁর কালামকে সৃষ্ট বস্তুসমূহের অন্তর্ভুক্ত করবে; তাই তিনি বলেছেন: 'তাঁর সদৃশ কোনো কিছু নেই'। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে এবং তাঁর কালামকে সৃষ্ট বস্তুসমূহ থেকে আলাদা করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর কালামকে সেই গুণেই গুণান্বিত করেছেন যার দ্বারা তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন। তিনি বলেছেন: 'তারা আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি যখন তারা বলেছিল, আল্লাহ কোনো মানুষের ওপর কিছুই অবতীর্ণ করেননি।' এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: 'অথবা যে বলে, আমার প্রতি ওহি পাঠানো হয়েছে অথচ তার প্রতি কিছুই ওহি পাঠানো হয়নি।' সুতরাং তিনি যা দ্বারা নিজেকে নির্দেশ করেছেন তা দ্বারাই তাঁর কালামকেও নির্দেশ করেছেন, যাতে জানা যায় যে তাঁর কালাম তাঁর সত্তাগত গুণাবলির একটি গুণ। অতএব প্রতিটি গুণকেই 'বস্তু' বলা হয় এই অর্থে যে তা বিদ্যমান।১।
ইবনে হাজারের এই কর্মটি আমাদের সামনে স্পষ্ট করে যে, তিনি যদি আল-জাহাবির দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত হতেন, তবে তিনি এই উদ্ধৃতিটি বর্ণনা করতেন না যেখানে ইবনে বাত্তাল ইশারা করেছেন যে ইমাম বুখারি 'আল-হায়দাহ' কিতাব থেকে আব্দুল আজিজ আল-মাক্কির বক্তব্য দ্বারা এই অধ্যায়টি গ্রহণ করেছেন।
৭- ইবনুল জাওজি 'আল-মুনতাজাম'২ ৮/৪১-এ এই মুনাজারার (তর্কের) দিকে ইঙ্গিত করেছেন যখন তিনি বলেছেন:
"এবং চারশ বিশ হিজরি সনে আল-কাদিরের শাসনামলে, যিলকদ মাসের পহেলা সোমবার কাজি, সাক্ষী, ফকিহ, ওয়াজকারী ও জাহিদদের খিলাফত ভবনে সমবেত করা হয় এবং তাদের সামনে একটি দীর্ঘ কিতাব পাঠ করা হয় যাতে আবু বকর ও উমর (রা.)-এর উল্লেখ ও তাঁদের ফজিলত বর্ণিত ছিল..." পরিশেষে তিনি বলেন: "এতে বিশর আল-মারিসি এবং আব্দুল আজিজ আল-মাক্কির মধ্যে এ বিষয়ে যা ঘটেছিল তা পুনরায় আলোচনা করা হয়।" সমাপ্ত।
৮- ইবনুল ইমাদ 'শাযারাতুয যাহাব' ২/৯৫-এ ২৪০ হিজরির মৃত্যুসংবাদে বলেন: "এই বছর আব্দুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া আল-কানানি আল-মাক্কি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে শুনেছেন এবং মুনাজারা করেছেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১১)
يقول ابن حجر في لسان الميزان 5/128 في ترجمة محمد بن الأزهر:
محمد بن الحسن بن الأزهر الدعاء. عن عباس الدوري اتهمه أبو بكر بن الخطيب بأنه يضع الحديث.
قلت: هو الذي انفرد برواية كتاب الحيدة، رواه عنه أبو عمر بن السماك، ورأيت له حديثا رجاله ثقات سواه، وهو كذب في فضل عائشة. ويغلب على ظني أنه هو الذي وضع كتاب الحيدة، فإني لأستبعد وقوعه جدا.
ثم قال ابن حجر: "ووجه استبعاد المصنف كتاب الحيدة، إنه اشتمل على مناظرات أقيمت فيها الحجة لتصحيح مذهب أهل السنة عند المأمون والحجة قول صاحبها. نجلو كان الأمر كذلك ما كان المأمون يرجع إلى مذهب الجهمية ويحمل الناس عليه ويعاقب على تركه ويهدد بالقتل وغيره كما هو معروف في أخباره في كتب المحنة. اهـ
هذه وجهة نظر الذهبي، وهي مبنية على أمرين:
الأول: انفراد محمد بن الحسن بن الأزهر برواية الكتاب، ومعناه أنه إذا وجدنا إسنادا آخر للكتاب، صحت النسبة ولا اعتراض عليه.
وبحمد الله- قد وجدنا إسناد ابن بطة في الإبانة وسنورده بعد هذا، وبذلك يذهب الاعتراض.
الأمر الثاني: وجهة نظر عقلية- وهي مبنية على أنه إذا كانت هذه المناظرة حدثت، فكيف يبقى المأمون على اعتقاده.
فهل هذه الوجهة تكفي لرد هذا الكتاب الذي اشتهر أمره بين العلماء وتداولوه في كتبهم، ومنهم الإمام الذهبي نفسه فقد ذكره في كتابيه، العبر، ودول الإسلام كما سيأتي.
وحيث إن وجهة النظر هذه مبنية على إسناد الكتاب الذي انفرد به محمد بن الأزهر فإليك الإسناد الآخر للكتاب من الإبانة لابن بطة:
يقول ابن بطة في الإبانة ورقة 160 مخطوط بالجامعة الإسلامية:
باب ذكر مناظرات الممتحنين بين يدي الملوك الجبارين الذين دعوا الناس إلى هذه الضلالة.
ইবনে হাজার 'লিসানুল মিজান' গ্রন্থের ৫/১২৮ পৃষ্ঠায় মুহাম্মদ বিন আল-আযহারের জীবনীতে বলেন:
মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আল-আযহার আদ-দুআ। তিনি আব্বাস আদ-দাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু বকর বিন আল-খাতিব তাকে হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।
আমি (ইবনে হাজার) বলছি: তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি 'কিতাবুল হায়দাহ' বর্ণনায় একক হয়ে গেছেন (অর্থাৎ কেবল তিনিই এটি বর্ণনা করেছেন), তার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন আবু উমর বিন আস-সাম্মাক। আমি তার বর্ণিত একটি হাদিস দেখেছি যার বর্ণনাকারীগণ তিনি ছাড়া বাকি সবাই বিশ্বস্ত, কিন্তু সেটি আয়েশার (রাযি.) ফযিলত বিষয়ে একটি মিথ্যা হাদিস। আমার প্রবল ধারণা এই যে, তিনিই 'কিতাবুল হায়দাহ' গ্রন্থটি জাল করেছেন; কারণ এটি বাস্তবে ঘটা আমার কাছে অত্যন্ত সুদূরপরাহত মনে হয়।
অতঃপর ইবনে হাজার বলেন: "গ্রন্থকারের (যাহাবি) নিকট 'কিতাবুল হায়দাহ' বিষয়টিকে সুদূরপরাহত মনে হওয়ার কারণ হলো, এটি এমন কিছু মুনাযারা বা বিতর্কের ওপর مشتمل (ভিত্তি করে গঠিত) যাতে মামুনের সামনে আহলুস সুন্নাহর মাযহাবকে সঠিক প্রমাণের স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয়েছে। যদি বিষয়টি এমনই হতো, তবে মামুন জহমি মাযহাবের দিকে ফিরে যেতেন না এবং এর ওপর মানুষকে বাধ্য করতেন না, এবং এটি বর্জন করার কারণে শাস্তি দিতেন না ও হত্যার হুমকি দিতেন না, যেমনটি 'মিহনা' (পরীক্ষা) সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহে তার ঘটনাবলিতে সুপরিচিত। সমাপ্ত।"
এটি ইমাম যাহাবির দৃষ্টিভঙ্গি, যা দুটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে:
প্রথমত: মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আল-আযহার কর্তৃক এককভাবে গ্রন্থটি বর্ণনা করা। এর অর্থ হলো, আমরা যদি গ্রন্থটির অন্য কোনো সনদ খুঁজে পাই, তবে এর নিসবত বা সম্পৃক্ততা সঠিক প্রমাণিত হবে এবং তাতে কোনো আপত্তি থাকবে না।
আল্লাহর প্রশংসায়—আমরা 'আল-ইবানাহ' গ্রন্থে ইবনে বাত্তাহর সনদ পেয়েছি এবং আমরা এর পরেই তা উল্লেখ করব। এর মাধ্যমে উক্ত আপত্তি দূর হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত: যুক্তিনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গি—যা এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে যে, যদি এই মুনাযারা বা বিতর্কটি ঘটে থাকতো, তবে মামুন কীভাবে তার ভ্রান্ত বিশ্বাসেই অটল থাকেন?
আলেমদের নিকট অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এবং তাদের কিতাবসমূহে বহুল আলোচিত এই গ্রন্থটিকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য কি এই দৃষ্টিভঙ্গিই যথেষ্ট? স্বয়ং ইমাম যাহাবিও তার দুটি কিতাব—'আল-ইবার' এবং 'দুওয়ালুল ইসলাম'-এ এটি উল্লেখ করেছেন, যা সামনে আসছে।
যেহেতু এই দৃষ্টিভঙ্গিটি মুহাম্মদ বিন আল-আযহারের বর্ণিত একক সনদের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তাই ইবনে বাত্তাহর 'আল-ইবানাহ' থেকে গ্রন্থটির অপর সনদটি নিচে তুলে ধরা হলো:
ইসলামিক ইউনিভার্সিটির পাণ্ডুলিপির ১৬০ নম্বর পাতায় ইবনে বাত্তাহ 'আল-ইবানাহ' গ্রন্থে বলেন:
পরিচ্ছেদ: সেই সকল পরীক্ষিত ব্যক্তিদের বিতর্কের আলোচনা, যারা সেই স্বৈরাচারী রাজাদের সামনে বিতর্ক করেছিলেন যারা মানুষকে এই গোমরাহির দিকে আহ্বান করেছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১২)
ثم قال: مناظرة عبد العزيز بن يحي المكي لبشر بن غياث المريسي بحضرة المأمون.
حدثنا أبو حفص محمد بن عمر بن محمد بن رجاء قال ثنا أبو أيوب عبد الوهاب بن عمرو النزلي قال حدثني أبو القاسم العطاف بن مسلم قال حدثني الحسين بن بشر ودبيس الصائغ ومحمد بن فرقد قالوا: قال لنا عبد العزيز بن يحي المكي الكناني: "أرسل إلي المأمون أمير المؤمنين وأحضرني وأحضر بشر"
… الخ. ثم ذكر نماذج من كتاب الحيدة استغرق من ورقة 160/ ب سطر 12 إلى ورقة 165/ أسطر 17 لأن الصفحة تشمل 23 سطرا ثم اتبعها بقوله: باب ذكر محنة أبي عبد الله أحمد بن حنبل رحمه الله لابن1 داود وأصحابه بحضرة المعتصم
… الخ.
فهذا إسناد للكتاب غير الإسناد الذي انفرد به محمد بن الحسن بن الأزهر الذي يرى الذهبي انه انفرد بروايته، فطعن فيه من أجله، ومع ذلك فإننا سنناقش وجهة النظر هذه، وهي لماذا بقي المأمون على عقيدته إن كانت هذه المناظرة حصلت على هذا الوجه.
فهذه الوجهة العقلية هي التي بنى عليها الإمام الذهبي حكمه حيث قال: "ويغلب على ظني أنه هو الذي وضع كتاب الحيدة، فإنني لاستبعد وقوعه جدا. فحكم الذهبي رحمه الله كما ترى هو بغلبة الظن- لا بالقطع والإجابة على غلبة الظن هذه بالأمور التالية:
الأول: أننا قد وجدنا إسنادا آخر للكتاب غير الإسناد الذي انفرد به محمد ابن الأزهر، وهو الذي قال الإمام الذهبي فيه هذا الكلام- أي يغلب على ظنه أن محمد بن الأزهر هو الذي وضع هذا الكتاب وقد سبق ذكر الإسناد عن الإمام ابن بطة من كتاب الإبانة.
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি বললেন: আল-মামুনের উপস্থিতিতে বিশর ইবনে গিয়াস আল-মারিসির সাথে আব্দুল আজিজ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাক্কির বিতর্ক।
আবু হাফস মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে রাজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আইয়ুব আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আমর আন-নাজলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবুল কাসিম আল-আত্তাফ ইবনে মুসলিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-হুসাইন ইবনে বিশর, দুবাইস আস-সায়িগ এবং মুহাম্মাদ ইবনে ফারকাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আব্দুল আজিজ ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাক্কি আল-কিনানি আমাদের নিকট বলেছেন: "আমিরুল মুমিনীন আল-মামুন আমার নিকট লোক পাঠালেন এবং আমাকে ও বিশরকে উপস্থিত করলেন" ... ইত্যাদি। অতঃপর তিনি 'কিতাবুল হায়দাহ' থেকে কিছু নমুনা উল্লেখ করেছেন যা ১৬০/খ পৃষ্ঠার ১২তম লাইন থেকে ১৬৫/ক পৃষ্ঠার ১৭তম লাইন পর্যন্ত ব্যাপ্ত, কারণ প্রতিটি পৃষ্ঠায় ২৩টি লাইন রয়েছে। এরপর তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেটিকে অনুসরণ করেছেন: আল-মুতাসিমের উপস্থিতিতে ইবনে দাউদ এবং তাঁর সঙ্গীদের সাথে আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পরীক্ষার (মিহনা) বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়... ইত্যাদি।
সুতরাং এটি এই কিতাবের এমন একটি সনদ (সূত্র), যা মুহাম্মাদ ইবনে আল-হাসান ইবনুল আজহারের বর্ণিত সনদ থেকে ভিন্ন। ইমাম জাহাবি মনে করেন যে, মুহাম্মাদ ইবনুল আজহার এটি বর্ণনায় একাকী হয়ে পড়েছেন, আর সেই কারণেই তিনি কিতাবটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তা সত্ত্বেও, আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করব যে, যদি এই বিতর্কটি এভাবেই ঘটে থাকে তবে কেন আল-মামুন তাঁর (পূর্বের) আকিদাতেই অটল থাকলেন।
এই যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করেই ইমাম জাহাবি তাঁর সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "আমার প্রবল ধারণা এই যে, সেই ব্যক্তিই (মুহাম্মাদ ইবনুল আজহার) 'কিতাবুল হায়দাহ' জাল করেছে, কারণ এটি ঘটা আমার কাছে অত্যন্ত সুদূরপরাহত মনে হয়।" সুতরাং, ইমাম জাহাবির (রাহিমাহুল্লাহ) সিদ্ধান্ত—আপনি যেমনটি দেখছেন—তা প্রবল ধারণার ভিত্তিতে, নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে নয়। আর তাঁর এই প্রবল ধারণার উত্তর নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব:
প্রথমত: আমরা এই কিতাবটির এমন একটি বিকল্প সনদ খুঁজে পেয়েছি যা মুহাম্মাদ ইবনুল আজহারের বর্ণিত একক সনদ থেকে ভিন্ন—যার সম্পর্কে ইমাম জাহাবি উপরোক্ত কথাটি বলেছিলেন। অর্থাৎ, তাঁর প্রবল ধারণা ছিল যে, মুহাম্মাদ ইবনুল আজহারই এই কিতাবটি রচনা করেছেন। ইমাম ইবনে বাত্তাহর 'আল-ইবানাহ' কিতাব থেকে ইতিপূর্বেই এই সনদটি উল্লেখ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الثاني: أن المناظرة بين الكناني وبشر المريسي ثابتة كحادثة تأريخية بين يدي المأمون لم يشك في وقوعها أحد لا الذهبي ولا السبكي، فكلاهما يثبتها، بل إن الذهبي أثبت إضافة إلى المناظرة كتاب الحيدة في كتابيه العبر، ودول الإسلام.
الثالث: كون المأمون بقي بعد تلك المناظرة على رأيه، لا ينهض دليلا على عدم وقوع المناظرة، ولا طعنا في كتاب "الحيدة" الذي هو حصيلة تلك المناظرة، لأن الشبهة التي ليس بها الجهمية على المأمون كانت قوية بحيث أصبحت عند المأمون عقيدة يرى أن مخالفها كافر مرتد يستحق العقوبة بالقتل، فكم من مناظرة قد أقيمت بين يديه، وكم من عالم حبس وضرب، بل وقتل، فمن أجل هذه الشبهة القوية لم يستطع المأمون التخلص منها، ويدل لذلك أن بشرا وأتباعه لازالوا بعد المناظرة يستغلون الفرص المناسبة للطعن على الكناني عند المأمون، وقد ذكر ذلك الكناني نفسه في هذه الرسالة، فقد قال يا ورقة 36/ ب من المخطوطة ص 120 من الرسالة- قال: فسر المسلمون جميعا بما وهبه الله لهم من إظهار الحق وقمع الباطل وجعل الناس يجيؤون إلي أفواجا حتى أغلقت بابي واحتجبت عنهم خوفا على نفسي وعليهم من مكروه يلحقنا فقالوا: لابد أن تملي علينا ما جرى لنعرفه ونتعلمه، فتهيبت ذلك وتخوفت سوء عاقبته فلما ألحوا في قلت لهم: "أذكر لكم بعض ما جرى مما لا يكون علي حجة في ذكره فرضوا بذلك فأمليت عليهم أوراقا يسيرة مقدار عشر أوراق مختصرة مما جرى لأقطعهم بها عني وعن ملازمة بابي"، ولم يتهيأ لي شرح هذا كله، لما تخوفت على نفسي مما قد يلحقني بعضه، وأنا أذكر بعد هذا المجلس ما جرى، بسبب تلك الأوراق التي كتبها الناس عني في كتاب مفرد بعد هذا إن شاء الله.
فيؤخذ من كلام الكناني هذا أنه قد بدأ بكتابة هذه المناظرة بنفسه، فقد كتب مقدار عشر أوراق، ويظهر من هذا أنه أكمل الباقي بعد ذلك لأن الكتاب كله يتكون من سبع وثلاثين ورقة.
وأن بشرا وأتباعه مازالوا يلبسون على، المأمون، ويحثونه على إيذاء المخالفين لهم لاسيما عبد العزيز الكناني في هذا الم لمحت الذي انتشر فيه خبر المناظرة، كما أشار الكناني إلى ذلك.
দ্বিতীয়ত: আল-কিনানি এবং বিশর আল-মারিসির মধ্যেকার বিতর্কটি মামুনের উপস্থিতিতে ঘটা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে প্রমাণিত, যার সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে আয-যাহাবি বা আস-সুবকি—কেউই সন্দেহ করেননি; বরং তারা উভয়েই এটি সাব্যস্ত করেছেন। এমনকি আয-যাহাবি এই বিতর্কের পাশাপাশি 'কিতাবুল হায়দাহ' গ্রন্থটিকেও তার 'আল-ইবার' এবং 'দুওয়ালুল ইসলাম' নামক গ্রন্থদ্বয়ে সাব্যস্ত করেছেন।
তৃতীয়ত: উক্ত বিতর্কের পরেও মামুনের নিজ মতাদর্শের ওপর অটল থাকা বিতর্কটি না হওয়ার কোনো প্রমাণ হিসেবে দাঁড়ায় না, কিংবা 'কিতাবুল হায়দাহ' গ্রন্থের সত্যতার ওপর কোনো অপবাদ হিসেবেও গণ্য হয় না, যা মূলত এই বিতর্কেরই নির্যাস। কারণ, জাহমিয়ারা মামুনের মনে যে সংশয় ঢুকিয়ে দিয়েছিল তা এতটাই প্রবল ছিল যে, এটি মামুনের কাছে এমন এক আকিদায় পরিণত হয়েছিল যার বিরোধিতাকারীকে তিনি কাফির ও মুরতাদ মনে করতেন এবং মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য বিবেচনা করতেন। তাঁর সামনে কতই না বিতর্ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কত আলেমকে কারাবরণ করতে হয়েছে, প্রহৃত হতে হয়েছে, এমনকি হত্যাও করা হয়েছে। এই প্রবল সংশয়ের কারণেই মামুন তা থেকে মুক্ত হতে পারেননি। এর প্রমাণ হলো, বিতর্কের পরেও বিশর ও তার অনুসারীরা মামুনের কাছে কিনানির বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর জন্য উপযুক্ত সুযোগের অপেক্ষায় থাকত। স্বয়ং কিনানি এই রিসালায় তা উল্লেখ করেছেন। পাণ্ডুলিপির ৩৬/খ পৃষ্ঠা এবং রিসালার ১২০ পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন: "আল্লাহ সত্যকে প্রকাশিত করার এবং বাতিলকে দমন করার যে নিয়ামত মুসলিমদের দান করেছেন, তাতে তারা সকলে আনন্দিত হলো এবং মানুষ দলে দলে আমার কাছে আসতে শুরু করল। শেষ পর্যন্ত আমি নিজের এবং তাদের ওপর কোনো বিপদ আসার ভয়ে আমার দরজা বন্ধ করে দিলাম এবং নিজেকে আড়াল করে নিলাম। তারা বলল: কী ঘটেছিল তা অবশ্যই আমাদের লিখে দিতে হবে যাতে আমরা তা জানতে ও শিখতে পারি। আমি এতে ইতস্তত বোধ করলাম এবং এর মন্দ পরিণতির ভয় পেলাম। যখন তারা আমাকে অনেক পিড়াপিড়ি করল, তখন আমি তাদের বললাম: 'আমি তোমাদের কাছে যা ঘটেছিল তার কিছু অংশ উল্লেখ করব যা উল্লেখ করলে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসবে না।' তারা এতে সন্তুষ্ট হলো। এরপর যা ঘটেছিল তার মধ্য থেকে সংক্ষেপে প্রায় দশ পৃষ্ঠার মতো সামান্য কিছু অংশ তাদের লিখে দিলাম যাতে তাদের আমার কাছ থেকে এবং আমার দরজায় ভিড় করা থেকে সরিয়ে দিতে পারি। নিজের ওপর কোনো বিপদ আসার আশঙ্কায় আমার পক্ষে এসবের পূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব ছিল না। এই মজলিসের পর মানুষ আমার পক্ষ থেকে যে সব পৃষ্ঠা লিখে নিয়েছে তার কারণে যা ঘটেছিল, তা আমি ইনশাআল্লাহ এর পরে একটি পৃথক গ্রন্থে উল্লেখ করব।"
কিনানির এই বক্তব্য থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, তিনি নিজেই এই বিতর্কের বিবরণ লেখা শুরু করেছিলেন, কারণ তিনি প্রায় দশ পৃষ্ঠার মতো লিখেছিলেন। আর এখান থেকে এটিও স্পষ্ট হয় যে, তিনি পরবর্তীতে বাকি অংশটুকু পূর্ণ করেছিলেন, কারণ পুরো বইটি সাঁইত্রিশ পৃষ্ঠা নিয়ে গঠিত।
আর বিশর এবং তার অনুসারীরা মামুনের কাছে সত্য-মিথ্যাকে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা অব্যাহত রেখেছিল এবং তাদের বিরোধিতাকারীদের, বিশেষ করে আবদুল আজিজ আল-কিনানিকে কষ্ট দেওয়ার জন্য তাকে প্ররোচিত করত, বিশেষ করে সেই সময়ে যখন বিতর্কের খবরটি ছড়িয়ে পড়েছিল, যেমনটি কিনানি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بشرا المريسي في مجلس المأمون بمناظرة عجيبة غريبة فانقطع بشر وظهر عبد العزيز، ومناظرتهما مشهورة مسطورة، وعبد العزيز هو صاحب "الحيدة" وهو معدود في أصحاب الشافعي.
وابن أبي العز الحنفي في كتابه شرح الطحاوية.
9- فقد قال في ص 122-123 الطبعة الثانية تحقيق زهير الشاوش
قال: وبمثل ذلك ألزم الإمام عبد العزيز المكي بشرا المريسي بين يدي المأمون، بعد أن تكلم معه ملتزما أن لا يخرج عن نص التنزيل وألزمه الحجة، فقال بشر: "يا أمير المؤمنين ليدع مطالبتي بنص التنزيل ويناظرني بغيره، فإن لم يدع قوله ويرجع عنه، ويقر بخلق القرآن الساعة وإلا فدمي حلال". قال عبد العزيز: تسألني أم أسألك؟
فقال بشر: اسأل أنت، وطمع فيّ فقلت له: يلزمك واحدة من ثلاث لا بد منها إما أن تقول: إن الله خلق القرآن، وهو عندي أنا كلامه- في نفسه أو خلقه قائما بذاته ونفسه، أو خلقه في غيره"؟
قال: "أقول: خلقه كما خلق الأشياء كلها". وحاد عن الجواب. فقال المأمون: اشرح أنت هذه المسألة ودع بشرا فقد انقطع. فقال عبد العزيز؟ إن قال خلق كلامه في نفسه فهذا محال لأن الله لا يكون محلا للحوادث المخلوقة، ولا يكون فيه شيء مخلوق. وإن قال خلقه في غيره فيلزم في النظر والقياس إن كل كلام خلقه الله في غيره فهو كلامه. فهو محال أيضا لأنه يلزم قائله أن يجعل كل كلام خلقه الله في غيره- هو كلام الله
… إلى أن قال: هذا مختصر من كلام الإمام عبد العزيز في "الحيدة" انظره في الحيدة ص
وبهذا يتضح أنه ليس عند الذهبي رحمه الله في رد الكتاب إلا وجهة نظر ذكرها في لسان الميزان، وبسببها استبعد وقوع هذه المناظرة وهي عدم رجوع المأمون عن رأيه في خلق القرآن، وقد عرفنا إن الشبهة كانت قوية، وأن بشرا وإتباعه لا زالوا يتابعون الكناني ويستثيرون المأمون عليه، كما أشار هو لذلك. ثم إن الذهبي رحمه الله نفسه أثبت نسبة الحيدة- للكناني في كتابيه العبر، ودول الإسلام، وكذلك العلماء الآخرون قبله وبعده كالخطيب، وابن النديم،
মামুন এর মজলিসে বিশর আল-মারিসি একটি বিস্ময়কর ও অদ্ভুত বিতর্কে লিপ্ত হন, যাতে বিশর নিরুত্তর হয়ে পড়েন এবং আবদুল আজিজ বিজয়ী হন। তাদের বিতর্কটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও লিপিবদ্ধ রয়েছে। এই আবদুল আজিজই "আল-হায়দাহ" কিতাবের লেখক এবং তিনি ইমাম শাফিঈর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত।
এবং ইবনে আবিল ইয আল-হানাফী তাঁর 'শারহুত ত্বহাবিইয়াহ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
৯- তিনি দ্বিতীয় সংস্করণের (যুহাইর আশ-শাভীশের তাহকীককৃত) ১২২-১২৩ পৃষ্ঠায় বলেছেন:
তিনি বলেন: অনুরূপভাবে ইমাম আবদুল আজিজ আল-মাক্কী মামুনের সম্মুখে বিশর আল-মারিসিকে নিরুত্তর করেছিলেন। এটি ঘটেছিল যখন তিনি বিশরের সাথে কথা বলার সময় এই শর্তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন যে তিনি ওহীর নস (মূল পাঠ) থেকে বের হবেন না এবং তিনি তাকে দলিলের মাধ্যমে পরাস্ত করেন। তখন বিশর বলেন: "হে আমীরুল মুমিনীন! তিনি ওহীর নস দিয়ে আমার কাছে দাবি করা ছেড়ে দিন এবং অন্য কিছু দিয়ে আমার সাথে বিতর্ক করুন। তিনি যদি তাঁর বক্তব্য ত্যাগ না করেন, তা থেকে ফিরে না আসেন এবং এই মুহূর্তেই কুরআন সৃষ্টির বিষয়টি স্বীকার না করেন, তবে আমার রক্ত হালাল।" আবদুল আজিজ বললেন: "আপনি আমাকে প্রশ্ন করবেন নাকি আমি আপনাকে প্রশ্ন করব?"
বিশর বললেন: "আপনিই প্রশ্ন করুন।" সে আমার ওপর বিজয় লাভের লালসা পোষণ করছিল। তখন আমি তাকে বললাম: "আপনার জন্য তিনটি বিষয়ের যেকোনো একটি মেনে নেওয়া অপরিহার্য, যা ছাড়া গত্যন্তর নেই: হয় আপনি বলবেন যে আল্লাহ কুরআন সৃষ্টি করেছেন—যা আমার মতে তাঁর কালাম—তাঁর নিজের মাঝে, অথবা তিনি তা সৃষ্টি করেছেন তাঁর নিজের সত্তা ও প্রাণের সাথে প্রতিষ্ঠিত হিসেবে, অথবা তিনি তা অন্য কিছুর মধ্যে সৃষ্টি করেছেন?"
সে বলল: "আমি বলি: তিনি এটি সৃষ্টি করেছেন যেভাবে তিনি সমস্ত বস্তু সৃষ্টি করেছেন।" এভাবে সে উত্তর এড়িয়ে গেল। তখন মামুন বললেন: "আপনিই এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করুন এবং বিশরকে ছেড়ে দিন, কারণ সে নিরুত্তর হয়ে গেছে।" আবদুল আজিজ বললেন: "যদি সে বলে যে তিনি তাঁর কালাম নিজের মাঝে সৃষ্টি করেছেন, তবে তা অসম্ভব। কারণ আল্লাহ সৃষ্ট কোনো নতুন বিষয়ের আধার হতে পারেন না এবং তাঁর মাঝে কোনো কিছু সৃষ্ট হতে পারে না। আর যদি সে বলে যে তিনি তা অন্য কিছুর মধ্যে সৃষ্টি করেছেন, তবে যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ ও কিয়াসের মাধ্যমে এটি মেনে নিতে হয় যে, আল্লাহ অন্য যা কিছুর মধ্যে কোনো কথা সৃষ্টি করেছেন, তা-ই তাঁর কালাম। এটিও অসম্ভব, কারণ এটি দাবি করলে বক্তাকে মেনে নিতে হবে যে, আল্লাহ অন্য যা কিছুর মাঝে যে কথাই সৃষ্টি করেছেন, তা-ই আল্লাহর কালাম
… এভাবে তিনি বলতে থাকেন: এটি 'আল-হায়দাহ' গ্রন্থে ইমাম আবদুল আজিজের বক্তব্যের সংক্ষেপ। এটি আল-হায়দাহ গ্রন্থের ... পৃষ্ঠায় দেখুন।"
এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, হাফেয যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই কিতাবটি প্রত্যাখ্যান করার পেছনে 'লিসানুল মীজান'-এ বর্ণিত একটি দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া অন্য কিছু নেই। যার কারণে তিনি এই বিতর্কটি সংঘটিত হওয়াকে সুদূরপরাহত মনে করেছেন, আর তা হলো কুরআন সৃষ্টির বিষয়ে মামুনের তাঁর নিজের মত থেকে ফিরে না আসা। অথচ আমরা জেনেছি যে সংশয়টি অত্যন্ত প্রবল ছিল এবং বিশর ও তার অনুসারীরা কিনানীর পিছু লেগেই ছিল এবং মামুনের মনে তাঁর বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছিল, যেমনটি তিনি ইঙ্গিত করেছেন। অধিকন্তু, খোদ যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-ইবার' ও 'দুওয়ালুল ইসলাম' গ্রন্থদ্বয়ে 'আল-হায়দাহ' কিতাবটিকে কিনানীর দিকেই সম্বন্ধ করেছেন। তেমনিভাবে তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অন্যান্য আলেমগণ, যেমন আল-খতীব এবং ইবনুন নাদীমও অনুরূপ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأبو إسحاق الشيرازي، وابن كثير، وكذلك السبكي فإنه أثبت المناظرة، أما ما أشار إليه من الأمور المستشنعة في الرسالة- فإنه لم يوضح ذلك ولو بمثال واحد كما سبق ذلك. كل ذلك يجعلنا نطمئن إلى أن كتاب "الحيدة" هو من تأليف عبد العزيز الكناني وقد نصر فيه السنة، وقمع البدعة، وقد استفاد من هذا الكتاب أناس كثيرون. غير المأمون الذي لم يستفد من تلك المناظرة ومعلوم أن المأمون لا يريد إلا الحق، ولكنه لم يهتد إليه- ولذلك قال شيخ الإسلام ابن تيمية في الفتاوى 12/ 488.
"فإن الإمام أحمد قد باشر الجهمية الذين دعوه إلى خلق القرآن، ونفي الصفات وامتحنوه وسائر علماء وقته، وفتنوا المؤمنين والمؤمنات الذين لم يوافقوهم على التجهم بالضرب والحبس والقتل والعزل من الولايات وقطع الأرزاق ورد الشهادة وترك تخليصهم من أيدي العدو
… إلى أن قال: ثم إن الإمام أحمد دعا للخليفة وغيره، ممن ضربه وحبسه، واستغفر لهم، وحللهم مما فعلوه به من الظلم والدعاء إلى القول الذي هو كفر، ولو كانوا مرتدين عن الإسلام لم يجز الاستغفار لهم، فإن الاستغفار للكفار لا يجوز بالكتاب والسنة والإجماع، وهذه الأقوال منه ومن غيره من الأئمة صريحة في أنهم لم يكفروا المعينين من الجهمية الذين كانوا يقولون القرآن مخلوق"، كما ذكر في ص 501: إن من ثبت إيمانه بيقين لم يزل ذلك عنه بالشك، بل لا يزول إلا بعد إقامة الحجة وإزالة الشبهة. اهـ
ومن هنا نقول: إن هذه المناظرة وإن قامت فيها الحجة للكناني على بشر المريسي أمام المأمون إلا أن الشبهة على المأمون أن كانت قوية، فلم تزل عنه بتلك المناظرة.
ثالثا: مسألة خلق القرآن
إن القول بخلق القرآن فكرة يهودية أراد بها أصحابها الطعن في ذات الله وأسمائه وصفاته لأن أول قائل بها يهودي زنديق.
وذلك لأن القرآن الكريم كلام الله، وكلامه صفة من صفاته، والله بأسمائه وصافاته واحد أحد فرد صمد لم يلد ولم يولد ونم يكن له كفوا أحد، وقد نزلت سورة
আবু ইসহাক আল-শিরাজি, ইবনে কাসির এবং একইভাবে সুবকিও এই মুনাজারা (বিতর্ক) সাব্যস্ত করেছেন। আর রিসালায় (পুস্তিকায়) তিনি যে বিষয়গুলোকে নিন্দনীয় হিসেবে ইঙ্গিত করেছেন—তা তিনি ইতিপূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে সে অনুযায়ী একটি উদাহরণ দিয়েও স্পষ্ট করেননি। এসব কিছুই আমাদের এই বিষয়ে নিশ্চিন্ত করে যে, "আল-হায়দাহ" বইটি আব্দুল আজিজ আল-কিনানির রচনা এবং এতে তিনি সুন্নাহকে সাহায্য করেছেন ও বিদআতকে দমন করেছেন। এই বই থেকে বহু মানুষ উপকৃত হয়েছেন। তবে মামুন (খলিফা) সেই মুনাজারা থেকে উপকৃত হতে পারেননি। এটা জানা কথা যে মামুন কেবল সত্যই চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তার দিশা পাননি—এই কারণেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ফাতাওয়া ১২/৪৮৮-তে বলেছেন:
"নিশ্চয়ই ইমাম আহমাদ সেই জাহমিয়াদের মুখোমুখি হয়েছিলেন যারা তাকে কুরআন সৃষ্টির মতবাদ এবং সিফাত (গুণাবলী) অস্বীকার করার দিকে আহ্বান করেছিল। তারা তাঁকে এবং তাঁর সমসাময়িক অন্যান্য আলেমদের পরীক্ষা করেছিল এবং সেই মুমিন নর-নারীদের ফিতনায় ফেলেছিল যারা তাদের জাহমিয়্যা মতবাদের সাথে একমত হয়নি। তাদের প্রহার, কারারুদ্ধ করা, হত্যা করা, পদচ্যুত করা, জীবিকা বন্ধ করে দেওয়া, সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করা এবং শত্রুর হাত থেকে তাদের মুক্ত না করার মাধ্যমে তারা এটি করেছিল
… তিনি আরও বলেন: অতঃপর ইমাম আহমাদ সেই খলিফা ও অন্যদের জন্য দোয়া করেছিলেন যারা তাকে প্রহার ও কারারুদ্ধ করেছিল। তিনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং তারা তার প্রতি যে জুলুম করেছে ও কুফরি কথার দিকে আহ্বান করেছে—সেজন্য তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। যদি তারা ইসলাম থেকে মুরতাদ হয়ে যেত, তবে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা বৈধ হতো না। কেননা কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা অনুযায়ী কাফেরদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা জায়েয নেই। তাঁর এবং অন্যান্য ইমামদের এই বক্তব্যগুলো এ বিষয়ে সুস্পষ্ট যে, তারা কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট) বলা নির্দিষ্ট জাহমিয়াদের কাফের বলেননি।" যেমনটি ৫০১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে: যার ঈমান নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তা সন্দেহের কারণে দূর হয়ে যায় না। বরং দলিল পেশ করা এবং সংশয় দূর করার আগে তা দূরীভূত হয় না। সমাপ্ত।
এখান থেকেই আমরা বলি: মামুনের সামনে বিশর আল-মারিসির বিপক্ষে এই মুনাজারা বা বিতর্কে যদিও আল-কিনানির পক্ষ থেকে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তবুও মামুনের ওপর সংশয়টি অত্যন্ত প্রবল ছিল, যা সেই বিতর্কের মাধ্যমে দূর হয়নি।
তৃতীয়ত: কুরআন সৃষ্টির মাসয়ালা
কুরআন সৃষ্টির বক্তব্যটি একটি ইহুদি চিন্তা, যার মাধ্যমে এর প্রবক্তারা আল্লাহর সত্তা, তাঁর নামসমূহ এবং গুণাবলীর ওপর আঘাত করতে চেয়েছিল। কারণ এই মতবাদের প্রথম প্রবক্তা ছিল একজন জিন্দিক ইহুদি।
কারণ পবিত্র কুরআন আল্লাহর কালাম (কথা), আর তাঁর কালাম তাঁর সিফাতসমূহের (গুণাবলীর) অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলীসহ একক, অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী; যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। আর অবতীর্ণ হয়েছে সুরা—
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الإخلاص جوابا لسؤال المشركين واليهود الموجه لرسول الله صلى الله عليه وسلم بأن يصف لهم ربه.
فالقول بأن القرآن مخلوق طعن في صفاته تعالى وأنها مخلوقة، وهذا القول كفر ومن هنا حكم العلماء على أن من أزيلت عنه الشبهة وأقيمت عليه الحجة في هذه المسألة وبقي معاندا فإنه كافر.
أما إن هذه الفكرة يهودية فإليك بيانها:
يقول ابن الأثير في الكامل 7/ 75 وفي سنة أربعين ومائتي توفي القاضي أبو عبد الله أحمد بن داود في المحرم بعد ابنه أبي الوليد بعشرين يوما، وكان داعية إلى القول بخلق القرآن وغيره من مذاهب المعتزلة، وأخذ ذلك عن بشر المريسي، وأخذه بشر من الجهم بن صفوان، وأخذه جهم من الجعد بن درهم، وأخذه الجعد من أبان بن سمعان، وأخذه أبان من طالوت ابن أخت لبيد بن الأعصم وختنه، وكان لبيد يقول بخلق التوراة، وأول من صنف في ذلك طالوت، وكان زنديقا فأفشى الزندقة. اهـ.
هذا أصل فكرة القول بخلق القرآن، وهذا منشؤها، وهذه أهداف القائلين بها، فالذين حملوا راية هذه البدعة عن الجهمية ورئيسهم الجهم بن صفوان الذي قتل عام 128 هـ المعتزلة، وقد أثروا على الخليفة العباسي المأمون، الذي كان صاحب همة وولع بالمعرفة، وقد أنشأ ما عرف في زمن خلافته ببيت الحكمة، وحدث باعتناقه لهذه الفكرة بلاء عظيم على الإسلام وعلماء السنة، وقد عرفت تلك الفترة بمحنة القول بخلق القرآن، وقد قتل فيها من قتل وحبس من حبس وجلد من جلد حتى رفع الله هذه المحنة في خلافة المتوكل وعاد الأمر إلى أهل السنة وأشهر القول ببدعة القول بخلق القرآن وأعلن مذهب أهل السنة في القرآن وإنه كلام الله غير مخلوق منه بدأ وإليه يعود.
ولكن قول المعتزلة هذا تسرب إلى الأشاعرة الذين نجد في ظاهر كلامهم معاداتهم للمعتزلة والرد عليهم ولكن أفكار المعتزلة دخلت عليهم، وقد عرف عن الأشاعرة إثباتهم لسبع صفات ومنها صفة الكلام، فيا ترى هل يقولون بأن هذا القرآن الموجود بين أيدينا هو كلام الله وصفة من صفاته منه بدأ وإليه يعود، أو إن هذا النظم الموجود في المصحف مخلوق.
মুশরিক ও ইহুদিরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁর রবকে বর্ণনা করার যে প্রশ্ন করেছিল, সূরা আল-ইখলাস হলো তার উত্তর।
সুতরাং কুরআন মাখলুক বা সৃষ্টি—এই কথা বলা মহান আল্লাহর গুণাবলির ওপর অপবাদ দেওয়ার শামিল এবং এতে তাঁর গুণাবলিকেও সৃষ্টি হিসেবে গণ্য করা হয়। আর এই বক্তব্য কুফরি। এই কারণেই উলামায়ে কেরাম এই মর্মে ফয়সালা দিয়েছেন যে, যার কাছ থেকে সংশয় দূর করা হয়েছে এবং যার কাছে এ বিষয়ে দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এরপরও যে হঠকারিতা বজায় রাখে, সে কাফির।
আর এই ধারণাটি যে ইহুদিদের থেকে এসেছে, তার বিবরণ নিম্নে দেওয়া হলো:
ইবনুল আসির 'আল-কামিল' গ্রন্থের ৭ম খণ্ডের ৭৫ পৃষ্ঠায় বলেন: "২৪০ হিজরি সনের মুহাররম মাসে বিচারক আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন দাউদ তাঁর পুত্র আবুল ওয়ালিদের মৃত্যুর বিশ দিন পর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি কুরআন সৃষ্টি হওয়া এবং মুতাজিলাদের অন্যান্য মতবাদের দিকে আহ্বানকারী ছিলেন। তিনি এটি গ্রহণ করেছিলেন বিশর আল-মারিসি থেকে, আর বিশর তা নিয়েছিলেন জাহম বিন সাফওয়ান থেকে, জাহম নিয়েছিলেন জা'দ বিন দিরহাম থেকে, জা'দ নিয়েছিলেন আবান বিন সামআন থেকে, আর আবান তা নিয়েছিলেন লাবীদ বিন আল-আ'সামের ভাগ্নে ও জামাতা তালুত থেকে। লাবীদ তাওরাত সৃষ্টি হওয়া বা মাখলুক হওয়ার প্রবক্তা ছিলেন। এ বিষয়ে সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেন তালুত; তিনি যিনদীক ছিলেন এবং যিন্দিকি চিন্তা প্রচার করেছিলেন।" সমাপ্ত।
এটিই কুরআন মাখলুক হওয়ার চিন্তাধারার মূল ভিত্তি, এটিই তার উৎস এবং এটিই এর প্রবক্তাদের উদ্দেশ্য। যারা ১২৮ হিজরিতে নিহত হওয়া জাহমিয়াদের প্রধান জাহম বিন সাফওয়ানের কাছ থেকে এই বিদআতের ঝাণ্ডা বহন করেছিল, তারা হলো মুতাজিলা। তারা আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুনকে প্রভাবিত করেছিল, যিনি অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং জ্ঞান অর্জনের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তিনি তাঁর খিলাফতকালে 'বাইতুল হিকমাহ' নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই মতবাদ গ্রহণের ফলে ইসলাম এবং আহলুস সুন্নাহর আলেমদের ওপর এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। সেই সময়কালটি 'কুরআন সৃষ্টির ফিতনা' হিসেবে পরিচিত। সেই সময়ে অনেককে হত্যা করা হয়, অনেককে কারারুদ্ধ করা হয় এবং অনেককে চাবুক মারা হয়, যতক্ষণ না আল্লাহ খলিফা মুতাওয়াক্কিলের যুগে এই বিপদ দূর করেন এবং শাসনভার পুনরায় আহলুস সুন্নাহর হাতে ফিরে আসে। তখন কুরআন মাখলুক হওয়ার বক্তব্যটিকে বিদআত হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং কুরআনের ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহর আকিদা প্রকাশ করা হয় যে, এটি আল্লাহর কালাম, এটি সৃষ্টি নয়; তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর কাছেই তা ফিরে যাবে।
কিন্তু মুতাজিলাদের এই বক্তব্য আশাইরাদের মধ্যেও অনুপ্রবেশ করেছে, যাদের বাহ্যিক কথায় আমরা মুতাজিলাদের প্রতি শত্রুতা ও তাদের খণ্ডন দেখতে পাই, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মুতাজিলাদের চিন্তাধারা তাদের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। আশাইরাদের ব্যাপারে পরিচিত যে তারা সাতটি সিফাত বা গুণ সাব্যস্ত করে, যার মধ্যে একটি হলো 'কালাম' (কথা বলা)। তবে দেখার বিষয় হলো, তারা কি এই কথা বলে যে আমাদের হাতে বিদ্যমান এই কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তাঁর গুণাবলির একটি গুণ, যা তাঁর থেকেই শুরু হয়েছে এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাবে? নাকি তারা বলে যে মাসহাফে বিদ্যমান এই বিন্যাসটি মাখলুক বা সৃষ্টি?
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الجواب:- أن الأشاعرة القدامى منهم والمعاصرون يقولون: إن هذا القرآن الموجود في المصحف مخلوق، وإنما هو عبارة أو حكاية- عن كلام الله الذي عرفوه- أعني- الكلام- أنه معنى قائم بالنفس وهذا الموجود هو عبارة أو حكاية عن كلام الله، ولم يبينوا من الذي عبر أو حكى كلام الله هل هو جبريل عليه السلام أو محمد صلى الله عليه وسلم، وقد نفى الله عن كلامه هذا، أي القرآن الكريم أن يكون من كلام البشر، أو كلام جبريل كما قال تعالى: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلامَ اللَّهِ} وهذا الكلام الذي يسمعه المشرك المستجير، هو الموجود في المصحف، وليس الكلام النفسي القائم بالذات.
أما كون الأشاعرة يقولون-أن القرآن مخلوق فإليك بيان ذلك عن السابقين واللاحقين:
1- من القدامى يقول صاحب جوهرة التوحيد ص 54
ونره القرآن أفي كلامه
… عن الحدوث وأحذر انتقامه
ويقول الشارح للجوهرة البيجوري بعد أن رد على المعتزلة قولهم:
إن القرآن مخلوق، قال: ومذهب أهل السنة- ويعني بهم الأشاعرة- أن القرآن بمعنى الكلام النفسي ليس بمخلوق، وأما القرآن بمعنى اللفظ الذي نقرؤه فهو مخلوق، لكن يمتنع أن يقال القرآن مخلوق ويراد به اللفظ الذي نقرؤه إلا في مقام التعليم لأنه ربما أوهم أن القرآن بمعنى كلامه تعالى مخلوق. أي الكلام النفسي. اهـ.
أما الكاتب المعاصر الدكتور محمد سعيد رمضان البوطي، فيقول في كتابه "كبرى اليقينات الكونية" الطبعة الثامنة سنة 1402هـ ص 126 في حديثه عن صفة الكلام قال: إذا تأملت فيما ذكرناه أدركت النقطة الخلافية بين المعتزلة وأهل السنة والجماعة- ويعني بأهل السنة والجماعة- الأشاعرة، وهي أن هناك معنى لألفاظ القرآن يتكون فيه الأمر والنهي والأخبار المتوجه إلى الناس، وهو قديم. فما اسم هذا المعنى؟.
المعتزلة: اسمه العلم إذا كان أخبارا، والإرادة إذا كان أمرا ونهيا.
الجمهور: اسمه الكلام النفسي، وهو صفة زائدة على كل من العلم والإرادة قائم بذاته تعالى.
উত্তর:- প্রাচীন এবং সমসাময়িক আশআরীগণ বলেন: মুসহাফে বিদ্যমান এই কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট), বরং এটি আল্লাহর কালামের একটি অভিব্যক্তি বা বর্ণনা মাত্র—অর্থাৎ কালাম বলতে তারা যা বুঝিয়েছেন তা হলো—এটি আল্লাহর সত্তায় বিদ্যমান একটি অর্থ (কালামে নাফসি)। আর বর্তমানে যা বিদ্যমান তা আল্লাহর কালামের একটি অভিব্যক্তি বা বর্ণনা। তারা এটি স্পষ্ট করেননি যে, কে আল্লাহর কালামকে ব্যক্ত বা বর্ণনা করেছেন, তিনি কি জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নাকি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। অথচ আল্লাহ তাঁর এই কালাম অর্থাৎ পবিত্র কুরআন সম্পর্কে এটি মানুষের কথা বা জিবরাঈলের কথা হওয়াকে অস্বীকার করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর যদি মুশরিকদের মধ্যে কেউ আপনার কাছে আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দিন যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়।" আর আশ্রয়প্রার্থী মুশরিক যে কালাম শুনতে পায়, তা হলো মুসহাফে বিদ্যমান কালাম, সত্তার সাথে প্রতিষ্ঠিত কালামে নাফসি নয়।
আশআরীগণ কুরআনকে মাখলুক (সৃষ্ট) বলেন—এ বিষয়ে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের বক্তব্য নিম্নরূপ:
১- প্রাচীনদের মধ্যে 'জাওহারাতুত তাওহীদ'-এর লেখক ৫৪ পৃষ্ঠায় বলেন:
আর তুমি তাঁর কালাম অর্থাৎ কুরআনকে নতুন সৃষ্টি (হুদুছ) হওয়া থেকে পবিত্র জানো... এবং তাঁর প্রতিশোধ হতে সতর্ক থাকো।
জাওহারাহ-এর ব্যাখ্যাকার বাইজুরী মুতাযিলাদের এই উক্তির খণ্ডন করার পর বলেন:
নিশ্চয়ই কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট)। তিনি বলেন: আহলুস সুন্নাহর মাযহাব—আর এর দ্বারা তিনি আশআরীদের বুঝিয়েছেন—হলো এই যে, 'কালামে নাফসি' অর্থে কুরআন মাখলুক নয়। তবে আমরা যে শব্দাবলি পাঠ করি সেই অর্থে কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট)। কিন্তু পাঠকৃত শব্দাবলিকে কুরআন হিসেবে উল্লেখ করে 'কুরআন মাখলুক' বলা নিষেধ, শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্র ব্যতীত। কারণ এতে এই ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হতে পারে যে, আল্লাহর কালাম অর্থাৎ কালামে নাফসি মাখলুক। সমাপ্ত।
আর সমসাময়িক লেখক ডক্টর মুহাম্মদ সাঈদ রমজান আল-বুতি তাঁর 'কুবরাল ইয়াকিনিয়াত আল-কাউনিয়াহ' গ্রন্থের অষ্টম সংস্করণ (১৪০২ হিজরী), ১২৬ পৃষ্ঠায় কালামের গুণ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: আপনি যদি আমাদের উল্লেখিত বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করেন, তবে মুতাযিলা এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের—আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বলতে তিনি আশআরীদের বুঝিয়েছেন—মধ্যকার মতপার্থক্যের মূল জায়গাটি বুঝতে পারবেন। আর তা হলো, কুরআনের শব্দাবলির পেছনে একটি অর্থ রয়েছে যেখানে মানুষের প্রতি নির্দেশিত আদেশ, নিষেধ ও সংবাদ গঠিত হয় এবং তা অনাদি (কাদিম)। এই অর্থের নাম কী?
মুতাযিলা: এর নাম 'ইলম' (জ্ঞান) যদি তা সংবাদ হয়, আর 'ইরাদাহ' (ইচ্ছা) যদি তা আদেশ ও নিষেধ হয়।
জমহুর: এর নাম 'কালামে নাফসি', যা ইলম ও ইরাদাহ থেকে অতিরিক্ত একটি গুণ এবং আল্লাহর সত্তার সাথে প্রতিষ্ঠিত।
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وأما الكلام الذي هو اللفظ، فاتفقوا على أنه مخلوق، وعلى أنه غير قائم بذاته سبحانه. باستثناء أحمد بن حنبل وبعض أتباعه، فقد ذهبوا إلى أن هذه الحروف والأصوات أيضا قديمة بذاتها، وإنها هي المعنى بصفة الكلام.
ثم قال: ولا تدخل- بعد أن عرفت نقطة الوفاق والخلاف- في شيء من المناقشة والجدال اللذين قاما حول هذا البحث، لاعتقادنا بأن الخطب أيسر من ذلك، وإن كنا نعتقد ما ذهب إليه الجمهور من أن المعنى الذي هو مدلول العبارات اسمه الكلام النفي، وأنه صفة زائدة على كل من صفتي العلم والإرادة
… إلى أن قال: ومعظم ما تسمعه من الأصداء الرهيبة للخلاف التاريخي في هذه المسألة، إنما منشؤه الخلاف بين أحمد بن حنبل رضي الله عنه والفرق الأخرى كالجهمية والمعتزلة.
هذا كلام البوطي المعاصر فهو يقرر أن هذا القرآن بين أيدينا مخلوق، وأنه لا فرق بين- جمهور أهل السنة- والمقصود بهم الأشاعرة- وبين المعتزلة في ذلك. ثم إنه يقلل من المحنة التي ثبت فيها الإمام أحمد بن حنبل وأظهر الله الحق على يديه بعد أن تعرض للضرب والحبس والإهانة في هذه المسألة- فيقول بهذا الكلام الساخر: ومعظم ما تسمعه من الأصداء الرهيبة للخلاف التاريخي في هذه المسألة إنما منشؤه الخلاف بين أحمد بن حنبل
… الخ ولم يقل حتى- الإمام.
هكذا يرى أن هذا الخلاف لا قيمة له، ما دام الأشاعرة والمعتزلة متفقون على أن القرآن مخلوق.
ونحن نوضح هذا للشباب الذي يتمسك بمنهج السلف الصالح، ليكون على بينة من أن الأفكار القديمة التي فرقت كلمة الأمة الإسلامية وحاربها علماء الأمة دفاعا عن الدين والعقيدة السليمة لازالت سارية يعتنقها الكثيرون ويروجون لها ويطعنون ويهونون من تضحيات أولئك الذين وقفوا ضد محنة القول بخلق القرآن، وقد قتل فيها من قتل، وسجن من سجن، وضرب من ضرب كالإمام أحمد بن حنبل الذي أيد الله أهل السنة والجماعة بثباته في تلك المحنة.
আর যে কালাম শব্দ সমষ্টির রূপ, তার ব্যাপারে তারা একমত যে তা সৃষ্টি, এবং তা মহান আল্লাহর সত্তার সাথে বিদ্যমান কোনো অনাদি বিষয় নয়। তবে আহমদ বিন হাম্বল এবং তাঁর কিছু অনুসারী এর ব্যতিক্রম, তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে এই অক্ষর ও শব্দসমূহও সত্তাগতভাবে অনাদি, এবং এগুলোই 'কালাম' গুণের অর্থ।
অতঃপর তিনি বলেন: ঐক্য ও পার্থক্যের বিন্দুসমূহ জানার পর—এই গবেষণা নিয়ে যে সকল আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে তার কোনোটিতেই প্রবেশ করো না, কেননা আমাদের বিশ্বাস এই যে বিষয়টি এর চেয়েও সহজ। যদিও আমরা জমহুর যা গ্রহণ করেছেন তাতে বিশ্বাস করি যে, শব্দগুচ্ছ যে অর্থের প্রতি নির্দেশ করে তার নাম হলো 'কালামে নাফসি' (মানস-বাণী), এবং এটি ইলম (জ্ঞান) ও ইরাদা (ইচ্ছা) নামক গুণদ্বয়ের অতিরিক্ত একটি গুণ
… তিনি বলা পর্যন্ত যে: এই মাসআলায় ঐতিহাসিক বিরোধের যে ভয়াবহ প্রতিধ্বনি আপনি শুনতে পান, তার অধিকাংশের উৎস হলো আহমদ বিন হাম্বল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং অন্যান্য দল যেমন জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের মধ্যকার বিরোধ।
এটি সমসাময়িক আল-বুতীর বক্তব্য, তিনি এখানে সাব্যস্ত করছেন যে আমাদের হাতে থাকা এই কুরআন সৃষ্টি, এবং এই ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহর জমহুর—যাদের দ্বারা আশআরী উদ্দেশ্য—ও মুতাজিলাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এরপর তিনি সেই কঠিন পরীক্ষার (মিহনা) গুরুত্ব কমিয়ে দেখাচ্ছেন যাতে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল অবিচল ছিলেন এবং আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে সত্যকে বিজয়ী করেছিলেন যখন তিনি এই মাসআলায় প্রহার, কারাবরণ ও অপদস্ত হওয়ার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তিনি এই বিদ্রূপাত্মক ভাষায় বলেন: এই মাসআলায় ঐতিহাসিক বিরোধের যে ভয়াবহ প্রতিধ্বনি আপনি শুনতে পান তার অধিকাংশের উৎস হলো আহমদ বিন হাম্বল
… ইত্যাদি। এমনকি তিনি 'ইমাম' শব্দটিও বলেননি।
এভাবেই তিনি মনে করেন যে এই বিরোধের কোনো মূল্য নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত আশআরী ও মুতাজিলাগণ কুরআন সৃষ্টির বিষয়ে একমত থাকেন।
আমরা এই বিষয়টি সেই তরুণদের জন্য স্পষ্ট করছি যারা সালাফে সালেহীনের মানহাজ ধারণ করে, যাতে তারা এ বিষয়ে সচেতন থাকে যে, সেই প্রাচীন চিন্তাধারাগুলো যা মুসলিম উম্মাহর সংহতি বিনষ্ট করেছিল এবং উম্মাহর আলেমগণ দ্বীন ও সঠিক আকিদা রক্ষার তরে যেগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন, তা এখনও বহাল রয়েছে। অনেকেই তা গ্রহণ করছে ও প্রচার করছে এবং যারা কুরআন সৃষ্টির মতবাদের ফিতনার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের ত্যাগকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছ করছে। সেই ফিতনায় কেউ নিহত হয়েছেন, কেউ কারাবরণ করেছেন, আবার ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের মতো কাউকে প্রহার করা হয়েছে, যাঁর দৃঢ়তার মাধ্যমে আল্লাহ সেই ফিতনার সময় আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতকে সাহায্য করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والبوطي كما ترى يقلل من تلك المحنة، بل إن العلماء الذين قتلوا وعذبوا كانوا على غير صواب، لأن القرآن الموجود بين أيدي المسلمين مخلوق.
موضوع الكتاب
أما موضوع الكتاب- فهو الرد على القائلين بأن القرآن مخلوق وقد ذكر ذلك
في مقدمة الكتاب حيث قال:
"اتصل بي وأنا بمكة ما قد أظهر بشر بن غياث المريسي ببغداد من القول بخلق القرآن، ودعائه الناس إلى موافقته على قوله ومذهبه وتشبيهه على أمير المؤمنين المأمون، وعامة الناس، وما قد دفع الناس إليه من المحنة والأخذ في الدخول في هذا الكفر والضلالة، ورهبة الناس وفزعهم من مناظرته وإحجامهما. عن الرد عليه
… واستتار المؤمنين في بيوتهم وانقطاعهم عن الجُمعات والجماعات وهربهم من بلد إلى بلد خوفا على أنفسهم وأديانهم وكثرة موافقة الجهال والرعاع من الناس لبشر على مذهبه وكفره وضلالته
… والانتحال لمذهبه رغبة في الدنيا ورهبة من العقاب الذي كان يعاقب به من خالفه على مذهبه "
وقد جرت المناظرة بين بشر المريسي وعبد العزيز الكناني في هذه المسألة وقد أورد الكناني في هذه المناظرة الأدلة القاطعة الدامغة لمن ينتحل هذه الفكرة بأسلوب أدبي علمي عجيب دل على سعة علم الكناني ومعرفته لكتاب الله وسنة رسوله فقد انتزع منه الحجج القطعية التي أبطل بها مذهب الجهمية والمعتزلة ومن يقول بقولهم من أن القرآن مخلوق.
وقد أصلت المناظرة على الاحتجاج بنص التنزيل والرجوع عند الاختلاف إلى كتاب الله أو سنة رسوله، ولما عجز بشر عن ذلك طلب المناظرة بالنظر والقياس، فأجابه الكناني لذلك، ثم أبطل حجته.
وهي رسالة جديرة بالقراءة، ومن قرأها مرة فلابد أن يعود إليها مرة أخرى لما حوته من معلومات قيمة وأسلوب أدبي علمي رفيع.
এবং বুতি যেমনটি দেখছেন তিনি সেই সংকটকে তুচ্ছজ্ঞান করছেন, বরং যেসব আলেমকে হত্যা ও নির্যাতন করা হয়েছিল তারা সঠিক ছিলেন না, কারণ মুসলমানদের হাতে বিদ্যমান কুরআন হলো সৃষ্ট।
গ্রন্থের বিষয়বস্তু
গ্রন্থের বিষয়বস্তু হলো—কুরআন সৃষ্ট হওয়ার প্রবক্তাদের খণ্ডন করা। তিনি গ্রন্থের ভূমিকায় তা উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি বলেন:
"আমি মক্কায় অবস্থানকালে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, বিশর বিন গিয়াস আল-মারিসী বাগদাদে কুরআন সৃষ্ট হওয়ার মতবাদ প্রকাশ করেছে এবং মানুষকে তার কথা ও মতাদর্শের অনুগামী হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। সে আমিরুল মুমিনীন আল-মামুন ও সাধারণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সে মানুষকে এক কঠিন সংকটের দিকে এবং এই কুফর ও গোমরাহিতে লিপ্ত হওয়ার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতে এবং তার প্রতিবাদ করতে মানুষের মধ্যে ভীতি ও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে
… মুমিনগণ নিজেদের ঘরে আত্মগোপন করেছে, জুমআ ও জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং নিজেদের জান ও দ্বীন রক্ষার্থে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। মূর্খ ও ইতর শ্রেণির অনেক লোক বিশরের এই মতাদর্শ, কুফর ও গোমরাহির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছে
… এবং দুনিয়াবি লালসা ও তার মতাদর্শের বিরোধিতাকারীদের জন্য নির্ধারিত শাস্তির ভয়ে তার মতাদর্শ গ্রহণ করছে।"
এই বিষয়ে বিশর আল-মারিসী এবং আব্দুল আজিজ আল-কানানীর মধ্যে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কানানী এই বিতর্কে এক বিস্ময়কর সাহিত্যিক ও বৈজ্ঞানিক শৈলীতে সেই মতাদর্শ গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অকাট্য ও চূর্ণবিচূর্ণকারী প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন, যা কানানীর অগাধ পাণ্ডিত্য এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের পরিচয় দেয়। তিনি এমন সব অকাট্য দলিল পেশ করেছেন যার মাধ্যমে তিনি জাহমিয়া, মুতাজিলা এবং তাদের অনুসারী যারা কুরআনকে সৃষ্ট বলে থাকে, তাদের মতবাদকে অসার প্রমাণ করেছেন।
এই বিতর্কের মূল ভিত্তি ছিল ওহীর ভাষ্যের মাধ্যমে দলিল প্রদান এবং মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা। বিশর যখন এতে অক্ষম হলো, তখন সে যুক্তি ও কিয়াসের মাধ্যমে বিতর্কের আবেদন জানাল। কানানী তার সেই আবেদনে সাড়া দিলেন এবং অতঃপর তার সমস্ত যুক্তি বাতিল করে দিলেন।
এটি একটি পাঠযোগ্য পুস্তিকা। এর অন্তর্ভুক্ত মূল্যবান তথ্য এবং উচ্চমানের সাহিত্যিক ও বৈজ্ঞানিক শৈলীর কারণে যে ব্যক্তি এটি একবার পাঠ করবে, তাকে পুনরায় এটি পাঠ করতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২১)
النص المحقق…بسم الله الرحمن الرحيم
وعلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم (3/أ)
ذكر ما جرى بين عبد العزيز بن يحيى رحمه الله وبين بشر المريسي
قرأت على أبي عمر أحمد بن خالد في ربيع الآخر عام اثنين وخمسين وثلاثمائة، حدثنا أبو عمرو عثمان بن أحمد بن عبد الله بن السماك قال ثنا أبو بكر محمد بن الحسن بن أزهر بن حسين القطايعي، قال: حدثني أبو عبد الله العباس ابن محمد بن فرقد، قال: حدثني أبي محمد بن فرقد بهذا الكتاب من أوله إلى آخره، قال: قال عبد العزيز بن مسلم الكناني1:
اتصل بي وأنا بمكة ما قد أظهره بشر بن غياث المريسي ببغداد من القول بخلق القرآن، ودعائه الناس إلى موافقته على قوله ومذهبه وتشبيهه على أمير المؤمنين المأمون وعامة الناس وما قد دفع الناس إليه من المحنة، والأخذ في الدخول في هذا الكفر2 والضلالة، ورهبة الناس وفزعهم من مناظرته، وإحجامهم عن الرد عليه بما يكسرون به قوله، ويدحضون به حجته ويبطلون به مذهبه، واستتار المؤمنين في بيوتهم وانقطاعهم عن الجُمعات والجماعات، وهريهم من بلد إلى بلد، خوفا على أنفسهم وأديانهم، وكثرة موافقة الجهال والرعاع من الناس لبشر على مذهبه وكفره وضلالته، والدخول في بدعته، والانتحال لمذهبه، رغبة في الدنيا ورهبة من العقاب الذي كان يعاقب به من خالفه على مذهبه.
قال عبد العزيز بن يحي: فأزعجني ذلك وأقلقني وأسهر ليلي وأطال غمي
--------------------------------------------
সম্পাদিত পাঠ…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক (৩/ক)
আব্দুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া (রাহিমাহুল্লাহ) এবং বিশর আল-মারিসির মধ্যে যা ঘটেছিল তার বর্ণনা
আমি ৩৫২ হিজরি সালের রবিউস সানি মাসে আবু উমর আহমদ বিন খালিদের কাছে পাঠ করেছি। আমাদের কাছে আবু আমর উসমান বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আস-সাম্মাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আজহার বিন হুসাইন আল-কাতায়ি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে আবু আব্দুল্লাহ আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ বিন ফারকাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা মুহাম্মদ বিন ফারকাদ এই কিতাবটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল আজিজ বিন মুসলিম আল-কিনানি ১ বলেছেন:
আমি যখন মক্কায় ছিলাম, তখন আমার কাছে খবর পৌঁছাল যে বিশর বিন গিয়াস আল-মারিসি বাগদাদে কুরআন সৃষ্টির (মাখলুক হওয়ার) মতবাদ প্রকাশ করেছে। সে মানুষকে তার কথা ও মাযহাব মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে এবং আমিরুল মুমিনিন আল-মামুন ও সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। সে মানুষকে যে বিপদে (মিহনা) ঠেলে দিয়েছে, তাদের এই কুফর ২ ও ভ্রষ্টতায় লিপ্ত করছে, তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতে মানুষের ভয় ও আতঙ্ক, তার কথা চূর্ণ করার মাধ্যমে তাকে খণ্ডন করতে এবং তার দলিল ও মাযহাব বাতিল করতে মানুষের অনীহা, মুমিনদের নিজেদের ঘরে আত্মগোপন করা এবং জুমুআ ও জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, নিজেদের জীবন ও দ্বীন রক্ষার ভয়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে পালিয়ে বেড়ানো, এবং দুনিয়ার লোভ ও তার মতের বিরোধিতাকারীদের জন্য নির্ধারিত শাস্তির ভয়ে মূর্খ ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক হারে বিশরের মাযহাব, কুফর ও ভ্রষ্টতা গ্রহণ করা এবং তার বিদআত ও মাযহাবে দীক্ষিত হওয়া সম্পর্কে আমি জানতে পারলাম।
আব্দুল আজিজ বিন ইয়াহইয়া বলেন: এই সংবাদ আমাকে বিচলিত ও উদ্বিগ্ন করে তুলল, আমার রাতের ঘুম কেড়ে নিল এবং আমার দুঃখকে দীর্ঘায়িত করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২২)
وهمي فخرجت من بلدي متوجها إلى ربي عزوجل أسأله سلامتي وتبليغي، حتى قدمت بغداد فشاهدت من غلظ الأمر واحتداده أضعاف ما كان يصل إلي، ففزعت إلى ربي أدعوه وأتضرع إليه راغبا وراهبا، واضعا له خدي، وباسطا إليه يدي، أسأله إرشادي وتسديدي، وتوفيقي ومعونتي، والأخذ بيدي وأن لا يسلمني ولا يكلني إلى نفسي، وأن يفتح لفهم كتابه قلبي، وأن يطلق لشرح بيانه لساني، وأخلصت لله عزوجل نيتي ووهبت له نفسي، فعجل تبارك وتعالى إجابتي، وثبت عزمي، وشجع وفتح لفهم كتابه قلبي، وأطلق به لساني، وشرح به صدري، فأبصرت رشدي بتوفيقه إياي، وأنست إلى معونته ونصره وتأييده ولم أسكن إلى مشاورة أحد من خلق الله في أمري، وجعلت أستر أمري وأخفي خبري عن الناس جميعا ((خوفا)) من أن يشيع خبري، ويعلم بمكاني، فأقتل قبل أن تسمع كلامي، فأجمع رأي على إظهار نفسي وإشهار قولي ومذهبي على رؤوس الخلائق والأشهاد، والقول بمخالفة أهل الكفر والضلال والردة عليهم وذكر كفرهم وتبيين ضلالتهم، وأن يكون ذلك في مسجد الجامع في يوم الجمعة، وأيقنت أنهم لا يحدثوا علي حادثة، ولا يعجلون علي بقتل وغيره من العقوبة بعد إشهاري نفسي، والنداء بمخالفتهم على رؤوس الخلائق إلا بعد مناظرتي والاستماع مني. (وكان ذلك كله بتوفيق الله عز وجل لي، ومعونته إياي) .
قال عبد العزيز بن يحي: "وكان الناس في ذلك الزمان وذلك الوقت في أمر عظيم، قد منع الفقهاء والمحدثون والمذكرون والداعون من القعود في الجامعين ببغداد وفي غير هما من سائر المواضع، إلا بشر المريسي وابن الجهم، ومن كان موافقا لهما على مذهبهما، فإنهم كانوا يقعدون يعني (الجهم بن صفوان الذي به تعرف الجهمية،1 يجتمع الناس إليهم فيعلمونهم الكفر والضلال، وكل من
--------------------------------------------
এবং আমার সংকল্প ছিল, তাই আমি আমার দেশ থেকে আমার মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী রবের দিকে মুখ করে বেরিয়ে পড়লাম। আমি তাঁর কাছে আমার নিরাপত্তা এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রার্থনা করলাম। অবশেষে আমি বাগদাদে পৌঁছলাম। সেখানে গিয়ে আমি পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও তীব্রতা যা শুনেছিলাম, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি দেখতে পেলাম। আমি আমার রবের কাছে ভীত হয়ে পড়লাম, তাঁর কাছে কান্নাকাটি ও বিনয় নিয়ে প্রার্থনা করতে লাগলাম—ভয় ও আশা নিয়ে। আমি তাঁর উদ্দেশ্যে আমার গাল মাটিতে রাখলাম এবং তাঁর দিকে আমার হাত প্রসারিত করলাম। আমি তাঁর কাছে আমার সঠিক পথনির্দেশ, নির্ভুলতা, তাওফিক, সাহায্য এবং হাত ধরে রক্ষা করার প্রার্থনা করলাম; যাতে তিনি আমাকে পরিত্যাগ না করেন এবং আমার নিজের ওপর ছেড়ে না দেন। আরও প্রার্থনা করলাম যেন তিনি তাঁর কিতাব বোঝার জন্য আমার হৃদয় খুলে দেন এবং তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা করার জন্য আমার জিহ্বা উন্মুক্ত করে দেন। আমি মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য আমার নিয়তকে খাঁটি করলাম এবং আমার নফসকে তাঁর জন্য উৎসর্গ করলাম। মহান আল্লাহ দ্রুত আমার দোয়া কবুল করলেন, আমার সংকল্প দৃঢ় করলেন, আমাকে সাহসী করলেন এবং তাঁর কিতাব বোঝার জন্য আমার হৃদয় খুলে দিলেন। তিনি এর মাধ্যমে আমার জিহ্বা উন্মুক্ত করলেন এবং আমার বক্ষ প্রশস্ত করলেন। তাঁর তাওফিকে আমি আমার সঠিক পথ দেখতে পেলাম। আমি তাঁর সাহায্য ও সমর্থনের প্রতি আশ্বস্ত হলাম এবং আমার এই বিষয়ে আল্লাহর কোনো সৃষ্টির সাথে পরামর্শ করার প্রয়োজন মনে করলাম না। আমি আমার বিষয়টি গোপন রাখতে শুরু করলাম এবং মানুষের কাছ থেকে আমার খবর লুকিয়ে রাখলাম, যাতে আমার খবর ছড়িয়ে না পড়ে এবং আমার অবস্থান জানাজানি না হয়। পাছে আমার কথা শোনার আগেই আমাকে হত্যা করা হয়। অতঃপর আমি সকল সৃষ্টি ও সাক্ষীদের সামনে প্রকাশ্যে নিজেকে প্রকাশ করা এবং আমার বক্তব্য ও মাযহাব ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। কুফরি ও গোমরাহি অবলম্বনকারীদের বিরোধিতা করার, তাদের প্রতিবাদ করার, তাদের কুফরি উল্লেখ করার এবং তাদের পথভ্রষ্টতা স্পষ্ট করার সংকল্প করলাম। আর এটি যেন জুমার দিনে জামে মসজিদে হয়। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, মানুষের সামনে আমার বিরোধিতা ঘোষণার পর তারা আমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না এবং আমাকে হত্যা বা অন্য কোনো শাস্তি দিতে তড়িঘড়ি করবে না—যতক্ষণ না তারা আমার সাথে বিতর্ক করে এবং আমার কথা শোনে। (আর এ সবকিছুই ছিল আমার প্রতি মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্যের বদৌলতে।)
আব্দুল আজিজ ইবনে ইয়াহইয়া বলেন: "সেই সময় এবং সেই যুগে মানুষ এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ছিল। বাগদাদের দুটি জামে মসজিদে এবং অন্যান্য সকল স্থানে ফকিহ, মুহাদ্দিস, উপদেশ দানকারী এবং দাঈদের বসা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল—কেবল বিশর আল-মারিসি এবং ইবনুল জাহম ব্যতিরেকে। আর যারা তাদের মাযহাবের সাথে একমত ছিল তারাও বসতে পারত। তারা (অর্থাৎ জাহম ইবনে সাফওয়ান, যার নামানুসারে জাহমিয়া পরিচিত) বসত, মানুষ তাদের কাছে সমবেত হতো এবং তারা মানুষকে কুফরি ও পথভ্রষ্টতা শিক্ষা দিত, এবং প্রত্যেক..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أظهر مخالفتهم، وذم مذهبهم، أو اتهم بذلك أحضر، فإن وافقهم ودخل في كفرهم، وأجابهم إلى ما يدعونه إليه وإلا قتلوه سرا، وحملوه من بلد إلى بلد، فكم من قتيل لم تعلم به، وكم فين مضروب قد ظهر أمره وكم ممن قد أجابهم واتبعهم على قولهم من العلماء خوفا على أنفسهم لما عرضوا على السيف والقتل أجابوا كرها، وفارقوا الحق عيانا، وهم يعلمون لما حذروا، من بأسهم والوقوع بهم.
قال عبد العزيز: فلما كان في الجمعة التي اعتزمت فيها على إظهار نفسي، وإشهار قولي، واعتقادي، صليت الجمعة بالمسجد الجامع بالرصافة من الجانب الشرقي بحيال القبلة والمنبر بأول صف من صفوف العامة، فلما سلم الإمام من صلاة الجمعة، وثبت قائما على رجلي ليراني الناس وسمعوا كلامي، ولا تخفى عليهم مقالتي، وناديت بأعلى صوتي لابني، وكنت قد أقمت ابني بحيالي عند الاسطوانة الأخرى، فقلت له: يا ابني ما تقول في القرآن؟ قال: كلام الله غير مخلوق"..
قال عبد العزيز: "فلما سمع الناس كلامي، ومسألتي لابني وجوابه إياي، هربوا على وجوههم خارجين من المسجد إلا يسير من الناس خوفا على أنفسهم، وذلك أنهم سمعوا ما لم يكونوا يستمعون، وظهر لهم ما كانوا يخفون ويكتمون، فلم يستتم ابني الجواب حتى أتاني أصحاب السلطان، واحتملوني وابني فأوقفوني بين يدي عمرو بن مسعدة1 وكان قد جاء ليصلي الجمعة، فلما نظر إلى وجهي، وكان قد سمع كلامي ومسألتي لابني، وجواب ابني إياي، فلم يحتج أن يسألني عن كلامي، فقال لي: أمجنون أنت؟ قلت،: لا. قال: فموسوس أنت؟ قلت: لا. قال: أفمعتوه أنت؟ قلت: لا. إني لصحيح العقل جيد الفهم ثابت المعرفة والحمد لله كثيرا. قال: فمظلوم أنت؟ قلت: لا. فقال لأصحابه ورجاله: مروا بهما إلى منزلي".
قال عبد العزيز: "فحملنا على أيد الرجال حتى أخرجنا من المسجد ثم جعلوا يتعادون بنا سحبا شديدا وأيدينا في أيد الرجال يمنة ويسرة، وسائر أصحابه خلفنا وقدامنا، حتى صرنا إلى منزل عمرو بن مسعدة على تلك الحال
--------------------------------------------
যারা তাদের বিরোধিতা প্রকাশ করত, তাদের মতাদর্শের নিন্দা করত অথবা এই অভিযোগে অভিযুক্ত হতো, তাদের হাজির করা হতো। অতঃপর যদি সে তাদের সাথে একমত হতো, তাদের কুফরে প্রবেশ করত এবং তারা যার দিকে আহ্বান করত তাতে সাড়া দিত (তবে রক্ষা পেত); অন্যথায় তারা তাকে গোপনে হত্যা করত এবং এক শহর থেকে অন্য শহরে স্থানান্তর করত। কত যে নিহত হয়েছে যাদের সম্পর্কে জানা যায়নি, কত যে প্রহৃত হয়েছে যাদের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে! আর আলেমদের মধ্যে কতজন যে নিজেদের জীবনের ভয়ে তাদের কথায় সাড়া দিয়েছে এবং তাদের মতাদর্শ অনুসরণ করেছে! যখন তাদের তলোয়ার ও হত্যার সম্মুখীন করা হয়েছিল, তখন তারা অনিচ্ছাসত্ত্বেও সাড়া দিয়েছিল এবং প্রকাশ্যে সত্য ত্যাগ করেছিল; অথচ তারা তাদের কঠোরতা ও পাকড়াও হওয়ার ভয় সম্পর্কে জানত।
আব্দুল আজীজ বলেন: "যে জুমুআর দিনে আমি নিজেকে প্রকাশ করার এবং আমার বক্তব্য ও আকিদাহ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সেদিন আমি পূর্বদিকের রুসাফার জামে মসজিদে কিবলা ও মিম্বরের অভিমুখে সাধারণ মানুষের প্রথম কাতারে জুমুআর সালাত আদায় করলাম। যখন ইমাম জুমুআর সালাতের সালাম ফিরালেন, তখন আমি আমার পায়ের ওপর সোজা হয়ে দাঁড়ালাম যাতে মানুষ আমাকে দেখতে পায় এবং আমার কথা শুনতে পায় এবং আমার বক্তব্য তাদের কাছে গোপন না থাকে। আমি আমার ছেলেকে উচ্চস্বরে ডাকলাম—আর আমি আমার ছেলেকে অন্য একটি স্তম্ভের পাশে আমার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিলাম—অতঃপর আমি তাকে বললাম: হে বৎস! কুরআন সম্পর্কে তোমার বক্তব্য কী? সে বলল: আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়।"
আব্দুল আজীজ বলেন: "যখন মানুষ আমার কথা, আমার ছেলেকে করা আমার প্রশ্ন এবং আমার প্রতি তার উত্তর শুনল, তখন অল্প কিছু লোক ব্যতীত বাকি সবাই নিজেদের প্রাণের ভয়ে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে পালিয়ে গেল। এর কারণ ছিল, তারা এমন কিছু শুনেছিল যা সাধারণত তারা শুনত না এবং তাদের কাছে তা প্রকাশ হয়ে পড়েছিল যা তারা গোপন ও লুকিয়ে রাখত। আমার ছেলের উত্তর শেষ হতে না হতেই সুলতানের পেয়াদা বা রক্ষীরা আমার কাছে এল এবং আমাকে ও আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে আমর ইবনে মাসআদাহ-র১ সামনে দাঁড় করাল। সে জুমুআর সালাত আদায় করতে এসেছিল। সে যখন আমার চেহারার দিকে তাকাল—সে ইতিমধ্যে আমার কথা, ছেলেকে করা আমার প্রশ্ন এবং আমার প্রতি ছেলের উত্তর শুনেছিল—তাই আমার বক্তব্য সম্পর্কে তাকে আর জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন হলো না। সে আমাকে বলল: তুমি কি উন্মাদ? আমি বললাম: না। সে বলল: তুমি কি বিভ্রান্ত? আমি বললাম: না। সে বলল: তুমি কি নির্বোধ? আমি বললাম: না; আমি সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী, উত্তম বোধসম্পন্ন এবং সুদৃঢ় জ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। সে বলল: তুমি কি অত্যাচারিত? আমি বললাম: না। তখন সে তার সঙ্গী ও লোকদের বলল: এদের দুজনকে আমার বাড়িতে নিয়ে চলো।"
আব্দুল আজীজ বলেন: "লোকদের হাতে আমাদের বহন করে মসজিদ থেকে বের করা হলো। তারপর তারা আমাদের নিয়ে কঠোরভাবে টেনে-হেঁচড়ে দৌড়াতে শুরু করল; আমাদের হাতগুলো ছিল ডানে ও বামে থাকা লোকদের হাতে, আর তার বাকি সঙ্গীরা ছিল আমাদের সামনে ও পেছনে। এই অবস্থায় আমরা আমর ইবনে মাসআদাহ-র বাড়িতে পৌঁছলাম।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
العنيفة الغليظة، فوقفنا على بابه حتى دخل، وأمر بنا فأدخلنا عليه وهو جالس في صحن داره على كرسي حديد، ووسادة عليه، فلما صرنا بين يديه، أقبل في فقال: من أين أنت؟ قلت: من أهل مكة، فقال: ما حملك على ما فعلت بنفسك"؟ قلت: "طلب القربة إلى الله عز وجل وطلب الزلفة لديه". قال: "فهلا فعلت ذلك سرا من غير نداء ولا إظهار لمخالفة أمير المؤمنين، أطال الله بقاه. ولكنك أردت الشهرة والرياء والتسوق لتأخذ أموال الناس. فقلت: ما أردت من هذا شيئا، ولا أردت إلا الوصول إلى أمير المؤمنين والمناظرة بين يديه لا غير ذلك. فقال: أو تفعل ذلك؟ قلت: نعم. ولذلك قصدت وبلغت بنفسي ما ترى بعد خروجي من بلدي وتغريري بنفسي مع سلوكي البراري أنا وولدي، رجاء تأدية حق الله عز وجل فيما استودعني من الفهم والعلم وما أخذ علي وعلى العلماء من البيان". فقال: "إن كنت إنما جعلت هذا سببا لغيره إذا وصلت إلى أمير المؤمنين فقد حل دمك بمخالفتك أمير المؤمنين". فقلت له: "إن تكلمت في شيء غير هذا، أو جعلت هذا ذريعة إلى غيره فدمي حلال لأمر المؤمنين".
قال عبد العزيز: "فوثب عمرو قائما على رجليه، وقال: أخرجوه بين يدي إلى أمير المؤمنين. قال: فأخرجت، وركب من الجانب الغربي وأنا بين يديه وولدي يعدي بنا على وجوهنا، وأيدينا في أيدي الرجال حتى صار إلى أمير المؤمنين من الجانب الشرقي، فدخل وأنا في. الدهليز قائم على رجلي، فأطال عند أمير المؤمنين، ثم خرج فقعد في حجرة له، وأمر بي فأدخلت عليه، فقال لي: قد أخبرت أمير المؤمنين أطال الله بقاه بخبرك وما فعلت، وما قلت وما سألت من الجمع بينك وبين مخالفيك من المناظرة بين يديه، وقد أمر أطال الله بقاه، بإجابتك إلى ما سألت وجمع المناظرين عن هذه المقالة إلى مجلسه أعلاه الله في يوم الاثنين الآتي وتحضر معهم ليناظروا بين يديه أيده الله ويكون هو الحاكم بينكم.
قال عبد العزيز: فأكثرت حمد الله على ذلك وشكرته وأظهرت الشكر والدعاء لأمير المؤمنين، فقال لي عمرو بن مسعدة: أعطنا كفيلا بنفسك حتى تحضر معهم يوم الاثنين وليس بنا حاجة إلى حبسك".
فقلت له: "أعزك الله أنا رجل غريب ولست أعرف في هذا البلد أحدا ولا يعرفني من أهله أحد، فمن أين لي من يكفلني، وخاصة مع إظهار مقالتي
কঠোর ও রুক্ষ, আমরা তাঁর দরজায় দাঁড়িয়ে থাকলাম যতক্ষণ না তিনি প্রবেশ করলেন। তিনি আমাদের ব্যাপারে আদেশ দিলেন, ফলে আমাদের তাঁর নিকট নিয়ে যাওয়া হলো। তিনি তাঁর বাড়ির আঙিনায় একটি লোহার চেয়ারে বসা ছিলেন, যার ওপর একটি বালিশ ছিল। যখন আমরা তাঁর সামনে উপস্থিত হলাম, তিনি আমার দিকে ফিরে বললেন: "তুমি কোথা থেকে এসেছ?" আমি বললাম: "মক্কাবাসী।" তিনি বললেন: "তুমি নিজের সাথে যা করেছ, তার পেছনে কী কারণ তোমাকে তাড়িত করেছে?" আমি বললাম: "আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অন্বেষণ এবং তাঁর কাছে মর্যাদা লাভের আকাঙ্ক্ষা।" তিনি বললেন: "তবে কেন তুমি তা গোপনে করলে না? কেন ডাক দেওয়া এবং আমীরুল মুমিনীন—আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন—এর বিরোধিতাকে প্রকাশ না করে তা করলে না? বরং তুমি তো প্রসিদ্ধি, লোক দেখানো এবং মানুষের সম্পদ কুক্ষিগত করার পথ বেছে নিতে চেয়েছ।" আমি বললাম: "আমি এর কিছুই চাইনি। আমার একমাত্র উদ্দেশ্য আমীরুল মুমিনীনের কাছে পৌঁছানো এবং তাঁর সম্মুখে বিতর্ক করা ছাড়া অন্য কিছু নয়।" তিনি বললেন: "তুমি কি তা করবে?" আমি বললাম: "হ্যাঁ। সেজন্যই আমি এই সংকল্প করেছি এবং আমার শহর ত্যাগের পর এই অবস্থার মুখোমুখি হয়েছি যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন। আমি ও আমার সন্তান মরুভূমি পাড়ি দিয়ে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছি, যাতে আল্লাহ তাআলা আমাকে যে বোধ ও জ্ঞান আমানত দিয়েছেন এবং সত্য বর্ণনা করার ক্ষেত্রে আমার ও আলেমদের ওপর যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন, তা আদায় করতে পারি।" তিনি বললেন: "যদি তুমি আমীরুল মুমিনীনের কাছে পৌঁছানোর জন্য একে অন্য কিছুর মাধ্যম বানিয়ে থাকো, তবে আমীরুল মুমিনীনের বিরোধিতার কারণে তোমার রক্ত বৈধ হয়ে যাবে।" আমি তাকে বললাম: "আমি যদি এ বিষয় ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে কথা বলি, কিংবা একে অন্য কিছুর অসিলা বানাই, তবে আমীরুল মুমিনীনের আদেশে আমার রক্ত বৈধ।"
আবদুল আজিজ বললেন: "তখন আমর তাঁর দুই পায়ের ওপর লাফিয়ে দাঁড়ালেন এবং বললেন: তাকে আমার সামনে থেকে আমীরুল মুমিনীনের কাছে নিয়ে যাও। তিনি বললেন: তখন আমাকে বের করা হলো, তিনি পশ্চিম দিক থেকে সওয়ার হলেন আর আমি তাঁর সামনে ছিলাম। আমার সন্তান আমাদের সামনে দৌড়াচ্ছিল, আর আমাদের হাত ছিল লোকদের হাতে। যতক্ষণ না তিনি পূর্ব দিক থেকে আমীরুল মুমিনীনের কাছে পৌঁছালেন। তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন আর আমি বারান্দায় আমার দুই পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে রইলাম। তিনি আমীরুল মুমিনীনের কাছে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেন, তারপর বেরিয়ে এসে তাঁর একটি কক্ষে বসলেন এবং আমাকে ডাকার আদেশ দিলেন। তখন আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। তিনি আমাকে বললেন: আমি আমীরুল মুমিনীন—আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন—কে তোমার খবর, তুমি যা করেছ, যা বলেছ এবং তুমি তোমার বিরোধীদের সাথে তাঁর সামনে বিতর্কের যে আবেদন করেছ, তা জানিয়েছি। আমীরুল মুমিনীন—আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন—তোমার আবেদন মঞ্জুর করার এবং আগামী সোমবার তাঁর মজলিসে—আল্লাহ তা সমুন্নত করুন—এই মতবাদের বিরোধিতাকারীদের একত্রিত করার আদেশ দিয়েছেন। তুমি তাদের সাথে উপস্থিত হবে যাতে তারা তাঁর সামনে বিতর্ক করতে পারে—আল্লাহ তাঁকে শক্তিশালী করুন—এবং তিনিই তোমাদের মধ্যে বিচারক হবেন।"
আবদুল আজিজ বললেন: "আমি এর ওপর আল্লাহর অনেক প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করলাম এবং আমীরুল মুমিনীনের জন্য কৃতজ্ঞতা ও দোয়া প্রকাশ করলাম। তখন আমর ইবনে মাসআদাহ আমাকে বললেন: সোমবার তাদের সাথে উপস্থিত হওয়ার জন্য তোমার নিজের পক্ষ থেকে একজন জামিনদার দাও, তোমাকে বন্দি করার প্রয়োজন আমাদের নেই।"
আমি তাকে বললাম: "আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন, আমি একজন প্রবাসী মানুষ এবং এই শহরে আমি কাউকে চিনি না, আর এই শহরের বাসিন্দাদের মধ্যেও কেউ আমাকে চেনে না। এমতাবস্থায় কে আমার জামিনদার হবে? বিশেষ করে আমার এই মতবাদ প্রকাশ করার পর।"
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
لو كان الخلق يعرفوني لتبرؤا مني، وهربوا من قربي وأنكروا معرفتي، قال: فنوكل بك من يكون معك حتى يحضرك في ذلك اليوم، وتنصرف فتصلح من شأنك وتفكر في أمرك فلعلك أن ترجع عن غيك وتتوب من فعلك فيصفح أمير المؤمنين عن جرمك، فقلت ذلك إليك أعزك الله فافعل ما رأيت".
قال عبد العزيز: "فوكل بي من يكون معي في منزلي وانصرفت".
قال عبد العزيز: "فلما كان يوم الاثنين، صليت الغداة في مسجدي الذي كان على باب منزلي، فلما فرغت من الصلاة إذ بخليفة عمرو بن مسعدة قد جاء ومعه خلق كثير من الفرسان والرجال فحملوني مكرما على دابة حتى صاروا بي على باب أمير المؤمنين فأوقفوني حتى جاء عمرو بن مسعدة فدخل فجلس في حجرته التي كان يجلس فيها، ثم أذن لي بالدخول عليه فدخلت.. فلما صرت بين يديه أجلسني" ثم قال لي: "أنت مقيم على ما كنت عليه"، أو قد رجعت عنه، فقلت: "بل مقيم على ما كنت وقد ازددت بتوفيق الله إياي بصيرة في أمري"، فقال لي عمرو: "أيها الرجل قد حملت نفسك على أمر عظيم وبلغت الغاية في مكروهها وتعرضت لما لا قوام لك به، من مخالفة أمير المؤمنين أطال الله بقاه، وادعيت ما لا يثبت لك به حجة على مخالفيك ولا لأحد غيرك، وليس وراءك بعد الحجة عليك إلا السيف، فانظر لنفسك وبادر أمرك قبل أن تقع المناظرة، وتظهر عليك الحجة، فلا تنفعك الندامة، ولا تقبل لك معذرة، ولا تقال لك عثرة، فقد رحمتك وأشفقت عليك مما هو نازل بك، وأنا استقبل أمير المؤمنين أطال الله بقاه وأسأله الصفح عن جرمك وعظيم ما كان منك، إن أظهرت الرجوع عنه، والندم على ما كان منك، وآخذ لك الأمان منه أيده الله والجائزة، وإن كانت لك ظلامة أزلتها عنك، وإن كانت لك حاجة قضيتها لك، فإنما جلست رحمة لك مما هو نازل بك بعد ساعة إن أقمت على ما أنت عليه، ورجوت أن يخلصك الله على يدي من عظيم ما أوقعت بنفسك فيه"، فقلت له: "ما ندمت أعزك الله ولا رجعت، ولا خرجت عن بلدي، وغررت بنفسي إلا في طلب هذا اليوم، وهذا المجلس رجاء أن يبلغني الله ما أؤمل من إقامة الحق فيه، وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وهو حسبي ونعم الوكيل".
"সৃষ্টিজগৎ যদি আমাকে চিনত তবে তারা আমা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করত, আমার নিকট থেকে পলায়ন করত এবং আমার পরিচয়কে অস্বীকার করত। তিনি বললেন: তবে আমরা তোমার সাথে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়োজিত করব যে তোমার সঙ্গে থাকবে এবং সেই দিনে তোমাকে উপস্থিত করবে। তুমি ফিরে গিয়ে তোমার অবস্থা সংশোধন করো এবং তোমার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করো, যেন সম্ভবত তুমি তোমার গোমরাহি থেকে ফিরে আসো এবং তোমার কর্মকাণ্ড থেকে তওবা করো, ফলে আমীরুল মুমিনীন তোমার অপরাধ ক্ষমা করে দেবেন। আমি বললাম: বিষয়টি আপনার ইচ্ছাধীন, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন, আপনি যা সমীচীন মনে করেন তা-ই করুন।"
আবদুল আজীজ বলেন: "অতঃপর তিনি আমার সাথে এমন একজনকে নিয়োজিত করলেন যে আমার বাড়িতে আমার সাথে অবস্থান করল এবং আমি ফিরে গেলাম।"
আবদুল আজীজ বলেন: "যখন সোমবার দিন এল, আমি আমার বাড়ির দরজায় অবস্থিত মসজিদে ফজরের সালাত আদায় করলাম। যখন আমি সালাত শেষ করলাম, তখন আমর ইবনে মাসআদাহর প্রতিনিধি এক বিশাল অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হলো। তারা আমাকে সম্মানজনকভাবে একটি পশুর পিঠে বহন করে নিয়ে গেল এবং আমীরুল মুমিনীনের দরজায় পৌঁছাল। তারা আমাকে সেখানে দাঁড় করিয়ে রাখল যতক্ষণ না আমর ইবনে মাসআদাহ আসলেন। তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর সেই কক্ষে বসলেন যেখানে তিনি বসতেন। অতঃপর আমাকে তাঁর নিকট প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো এবং আমি প্রবেশ করলাম। যখন আমি তাঁর সামনে পৌঁছলাম, তিনি আমাকে বসালেন।" অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: "তুমি কি তোমার আগের অবস্থানেই অটল আছো, নাকি তা থেকে ফিরে এসেছো?" আমি বললাম: "বরং আমি আমার আগের অবস্থানেই অটল আছি এবং আল্লাহর তাওফিকে আমি আমার বিষয়ে আরও বেশি অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেছি।" তখন আমর আমাকে বললেন: "হে ব্যক্তি! তুমি নিজেকে এক মহা বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছ এবং চরম ভীতিপ্রদ অবস্থায় পৌঁছে গেছ। তুমি এমন এক বিষয়ের সম্মুখীন হয়েছ যা মোকাবিলা করার সামর্থ্য তোমার নেই, আর তা হলো আমীরুল মুমিনীনের বিরোধিতা করা—আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন। তুমি এমন দাবি করেছ যার সপক্ষে তোমার বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোমার কাছে কোনো দলিল নেই, আর অন্য কারো কাছেও নেই। তোমার বিরুদ্ধে দলিল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তলোয়ার ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। অতএব নিজের জানের দিকে তাকাও এবং মুনাজারা (বিতর্ক) শুরু হওয়ার আগেই ও তোমার বিরুদ্ধে দলিল স্পষ্ট হওয়ার আগেই দ্রুত ব্যবস্থা নাও। কারণ তখন অনুশোচনা কোনো কাজে আসবে না, তোমার কোনো ওজর কবুল করা হবে না এবং তোমার কোনো বিচ্যুতি ক্ষমা করা হবে না। তোমার ওপর যা আপতিত হতে যাচ্ছে সেজন্য আমি তোমার প্রতি দয়া ও করুণা অনুভব করছি। আমি আমীরুল মুমিনীনের সাথে সাক্ষাৎ করব—আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন—এবং তাঁর নিকট তোমার অপরাধ ও তোমার পক্ষ থেকে ঘটা এই গুরুতর বিষয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব, যদি তুমি তা থেকে ফিরে আসার ঘোষণা দাও এবং নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হও। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমার জন্য নিরাপত্তা ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করব—আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন। যদি তোমার ওপর কোনো জুলুম হয়ে থাকে তবে আমি তা দূর করে দেব, আর যদি তোমার কোনো প্রয়োজন থাকে তবে আমি তা পূরণ করে দেব। এক ঘণ্টা পর তোমার ওপর যা নেমে আসতে যাচ্ছে, তার প্রতি দয়াপরবশ হয়েই আমি এখানে বসেছি যদি তুমি তোমার অবস্থানে অনড় থাকো। আমি আশা করেছিলাম যে, তুমি নিজেকে যে মহা সংকটে ফেলেছ তা থেকে আল্লাহ যেন আমার হাত দিয়ে তোমাকে নিষ্কৃতি দেন।" আমি তাঁকে বললাম: "আমি অনুতপ্ত হইনি, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন, আর আমি ফিরেও আসিনি। আমি সত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যা আশা করি তা যেন আল্লাহ আমাকে পূর্ণ করে দেন—এই উদ্দেশ্যেই আমি নিজের শহর ত্যাগ করেছি এবং এই দিন ও এই মজলিসের আশায় নিজেকে বিপন্ন করেছি। আমার তাওফিক তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক।"
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قال محمد بن الحسن1 سمعت أبا عبد الله2 يقول: قال لي أبي3 جاء عبد العزيز إلى أبي عبد الله أحمد بن حنبل رضي الله عنه وهو في الحبس فقال: "إن هذا الأمر الذي أنت فيه ليس تطيقه على دقته، فاذكرني فبعث إليه أبو عبد الله أنا قد وقعت، وأخاف أن أذكرك فأشيط بدمك، فيكون قتلك على يدي، فأقتل أنا أحب إلي، فانصرف بسلام".
قال عبد العزيز: "فقام عمرو بن مسعدة على رجليه، وقال: "قد حرصت في كلامك جهدي، وأنت حريص مجتهد في سفك دمك وقتل نفسك، فقلت له: معونة الله أعظم، والله عزوجل ألطف من أن يسلمني ويكلني إلى نفسي، وعدل أمير المؤمنين أطال الله بقاه أوسع من أن يقصر عني، وأنا أقول: لا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم".
قال عبد العزيز: "وأمر بي فأخرجت إلى الدهليز الأول، ومعي جماعة موكلون بي، وكان قد تقدم إلى سائر بني هاشم ممن يحضر مجلس أمير المؤمنين أطال الله بقاه، أن يركبوا ووجه إلى الفقهاء والقضاة والموافقين لهم على مذهبهم. وسائر المتكلمين، والمناظرين أن يحضروا دار أمير المؤمنين، فأمر القواد والأمراء أن يركبوا في السلاح كل ذلك ليرهبوني بهم. ومنع الناس من الانصراف إلى أن ينقضي المجلس، فلما اجتمع الناس وتأهبوا ولم يتخلف منهم أحد ممن يعرفون بالكلام والجدال، أذن لي في الدخول، فلم أزل أنقل من دهليز إلى دهليز حتى صرت إلى الحاجب "صاحب " الستر الذي على باب الصحن، فلما رآني أمربي فأدخلت إلى حجرته، ودخل معي فقال لي: إن احتجت إلى أن تجدد طهرا فافعل، فقلت: لا حاجة لي بذلك، فقال: صل ركعتين قبل دخولك، فصليت أربع ركعات ودعوت الله وتضرعت إليه، فلما فرغت، أمر من كان بحجرته فخرج من الحجرة، ثم تقدم إلي فقال لي وهو يسارني: يا هذا إن أمير المؤمنين بشر مثلك رجل من ولد
--------------------------------------------
মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান১ বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহকে২ বলতে শুনেছি: আমার পিতা৩ আমাকে বলেছেন যে, আব্দুল আযীয আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট আসলেন যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "আপনি যে বিষয়ের মধ্যে আছেন, তার সূক্ষ্মতার কারণে আপনি তা সহ্য করতে পারবেন না, তাই আমার কথা উল্লেখ করুন।" আবু আব্দুল্লাহ তার নিকট বার্তা পাঠালেন, "আমি তো আপদে পতিত হয়েছিই, আর আমি ভয় পাচ্ছি যে আপনার কথা উল্লেখ করলে আমি আপনার রক্ত ঝরানোর কারণ হব, ফলে আপনার মৃত্যু আমার হাতেই হবে। আমার নিজের নিহত হওয়া আমার নিকট অধিক প্রিয়। সুতরাং আপনি শান্তিতে ফিরে যান।"
আব্দুল আযীয বলেন: "অতঃপর আমর ইবনে মাসআদাহ তার দুই পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে বললেন: 'আমি তোমার কথায় আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, অথচ তুমি নিজের রক্ত ঝরাতে এবং নিজেকে হত্যা করতে অত্যন্ত আগ্রহী।' আমি তাকে বললাম: 'আল্লাহর সাহায্য মহানতর, আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমাকে সঁপে দিতে বা আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দিতে অত্যন্ত দয়ালু। আর আমীরুল মুমিনীনের ন্যায়বিচার—আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন—এতটা প্রশস্ত যে তা আমার ক্ষেত্রে কম পড়বে না। আর আমি বলছি: সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।'"
আব্দুল আযীয বলেন: "অতঃপর আমার ব্যাপারে আদেশ দেওয়া হলো এবং আমাকে প্রথম অলিন্দের দিকে বের করে নেওয়া হলো, আর আমার সাথে একদল লোক পাহারায় নিযুক্ত ছিল। আমীরুল মুমিনীনের—আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন—মজলিসে উপস্থিত থাকেন এমন সমস্ত বনু হাশিমের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তারা সওয়ার হয়ে আসেন। ফকীহগণ, বিচারকগণ এবং তাদের মতাদর্শের অনুসারীদের নিকট খবর পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া সমস্ত কালাম শাস্ত্রবিদ ও তার্কিকদের আমীরুল মুমিনীনের বাসভবনে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেনাপতি ও আমীরদের অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সওয়ার হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এসবই ছিল আমাকে ভীত-সন্ত্রস্ত করার জন্য। মজলিস শেষ না হওয়া পর্যন্ত মানুষকে ফিরে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। অতঃপর যখন মানুষ একত্রিত হলো এবং তারা প্রস্তুতি গ্রহণ করল এবং কালাম ও বিতর্কে পরিচিতদের মধ্যে কেউ বাকি থাকল না, তখন আমাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো। আমি একের পর এক অলিন্দ অতিক্রম করতে থাকলাম যতক্ষণ না আমি আঙ্গিনার দরজায় পর্দার দায়িত্বে থাকা প্রহরীর নিকট পৌঁছলাম। তিনি যখন আমাকে দেখলেন তখন আমাকে নিয়ে যেতে বললেন এবং আমি তাঁর কক্ষে প্রবেশ করলাম। তিনি আমার সাথে প্রবেশ করে আমাকে বললেন: 'যদি তোমার নতুন করে পবিত্রতা অর্জনের প্রয়োজন হয় তবে তা করে নাও।' আমি বললাম: 'আমার তার প্রয়োজন নেই।' তিনি বললেন: 'প্রবেশের পূর্বে দুই রাকাত সালাত আদায় করো।' আমি চার রাকাত সালাত আদায় করলাম এবং আল্লাহর নিকট দুআ ও কাকুতি-মিনতি করলাম। যখন আমি অবসর হলাম, তিনি তাঁর কক্ষে যারা ছিল তাদের বেরিয়ে যাওয়ার আদেশ দিলেন। অতঃপর তিনি আমার কাছে এগিয়ে এসে কানে কানে বললেন: 'হে ব্যক্তি! আমীরুল মুমিনীন তোমার মতোই একজন মানুষ, (তিনি) বনু...'
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
آدم، وكذلك كل من يناظرك بحضرته فهو بشر مثلك، فلا تتهيبهم، واجمع فهمك وعقلك لمناظرتهم، وإياك والجزع، واعلم علما يقينا أنه إن ظهرت حجتك عليهم انكسروا وانقطع كلامهم عنك، وأذللتهم وغلبتهم ولم يقدروا على ضر ولا مكروه وصار أمير المؤمنين أطال الله بقاه وسائر الأولياء والرعية معك عليهم، وإن ظهرت حجتهم عليك أذلوك وقتلوك وأشهروك وجعلوك للخلق عبرة، فاجمع همتك ومعرفتك ولا تدع شيئا مما تحسنة وتحتاج إليه أن تتكلم به خوفا من أمير المؤمنين أو من أحد غيره وتوكل على الله واستخر الله، وقم فادخل".
فقلت له: "جزاك الله خيرا فقد أديت النصيحة وسكنت الروعة وآنست الوحشة، وخرج، وخرجت معه إلى باب الصحن".
قال عبد العزيز: "فشال الستر، وأخذ الرجال بيدي وعضدي وجعل أقوام يتعادون بي، وأيديهم في ظهري وعلى عنقي، فجعلت أسمع أمير المؤمنين وهو يقول: خلو عنه خلو عنه، وكثر الضجيج من الحجاب والأولياء بمثل ذلك، فخلي عني وقد كاد عقلي أن يتغير من شدة الجزع وعظيم ما رأيت في ذلك الصحن من السلاح والرجال، وقد انبسطت الشمس عليهم، وملأ الصحن صفوفا، وكنت قليل الخبرة بدار أمير المؤمنين، ما رأيتها قبل ذلك ولا دخلتها، فلما صرت على باب الإيوان، وقفت هناك فسمعته يقول: قربوه قربوه، فلما دخلت من باب الإيوان وقعت عيني عليه، وقبل ذلك لم أتبينه لما كان على باب الإيوان من الحجاب والقواد، فقلت: السلام عليك يا أمير المؤمنين ورحمة الله وبركاته. فقال: أدن مني، فدنوت منه، ثم قال: أدن مني زاده تكرارا، وأنا أدنو منه خطوة خطوة، حتى صرت في الموضع الذي يجلس فيه المناظرون، ويسمع كلامهم، والحاجب معي يقدمني، فلما انتهيت إلى الموضع. قال لي المأمون: اجلس فجلست".
قال عيد العزيز: "فسمعت رجلا من جلسائه يقول وقد دخلت من الإيوان":
يا أمير المؤمنين يكفيك من كلام هذا قبح وجهه، لا والله ما أريت خلق الله قط أقبح وجها منه، فسمعته يقول هذا وفهمت كلامه كله ورأيت شخصه على ما بي من الروعة والجزع والخوف، وجعل ينظر إلي وأنا أرتعد وأنتفض، فأحب أن
আদম, তেমনিভাবে তাঁর উপস্থিতিতে যারা তোমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবে তারা তোমার মতোই মানুষ। সুতরাং তাদের দেখে ভীত হয়ো না; বরং তাদের সাথে বিতর্কের জন্য তোমার বোধশক্তি ও বুদ্ধিমত্তাকে সুসংহত করো। আতঙ্কিত হওয়া থেকে বেঁচে থাকো। সুনিশ্চিতভাবে জেনে রেখো যে, যদি তাদের বিরুদ্ধে তোমার দলিল ও প্রমাণ জয়যুক্ত হয়, তবে তারা ভেঙে পড়বে এবং তোমার বিরুদ্ধে তাদের বাক্য থেমে যাবে; তুমি তাদের লাঞ্ছিত ও পরাজিত করবে এবং তারা তোমার কোনো ক্ষতি বা অপকার করতে সক্ষম হবে না। আর আমিরুল মুমিনীন—আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন—এবং অন্যান্য সকল বন্ধু ও প্রজাবৃন্দ তোমার পক্ষে এবং তাদের বিপক্ষে অবস্থান নেবেন। পক্ষান্তরে যদি তোমার বিরুদ্ধে তাদের দলিল জয়ী হয়, তবে তারা তোমাকে লাঞ্ছিত করবে, হত্যা করবে, জনসমক্ষে অপদস্থ করবে এবং তোমাকে সৃষ্টির জন্য দৃষ্টান্ত বানিয়ে দেবে। সুতরাং তুমি তোমার হিম্মত ও জ্ঞানকে একত্রিত করো এবং আমিরুল মুমিনীন কিংবা অন্য কারোর ভয়ে তোমার জানা ও প্রয়োজনীয় কোনো কথা বলা থেকে বিরত থেকো না। আল্লাহর ওপর ভরসা করো, আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করো এবং ওঠো ও প্রবেশ করো।
আমি তাকে বললাম: “আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আপনি উপযুক্ত নসিহত করেছেন, আমার আতঙ্ক প্রশমিত করেছেন এবং একাকীত্বের ভীতি দূর করেছেন।” এরপর তিনি বের হলেন এবং আমি তাঁর সাথে চত্বরের দরজা পর্যন্ত গেলাম।
আব্দুল আজিজ বলেন: “পর্দা সরানো হলো এবং লোকজন আমার হাত ও বাহু ধরল। একদল লোক আমাকে নিয়ে দ্রুত চলতে লাগল, তাদের হাত ছিল আমার পিঠ ও ঘাড়ের ওপর। আমি শুনতে পাচ্ছিলাম আমিরুল মুমিনীন বলছিলেন: ‘তাকে ছেড়ে দাও, তাকে ছেড়ে দাও।’ দ্বাররক্ষী ও অমাত্যদের পক্ষ থেকেও অনুরূপ শোরগোল বেড়ে গেল। অতঃপর তারা আমাকে ছেড়ে দিল। অত্যধিক আতঙ্ক এবং সেই চত্বরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সৈন্য দেখার কারণে আমার বুদ্ধিলোপ পাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তাদের ওপর সূর্যের আলো পড়ছিল এবং পুরো চত্বরটি কাতারবদ্ধ সৈন্যে পূর্ণ ছিল। আমিরুল মুমিনীনের প্রাসাদের ব্যাপারে আমার অভিজ্ঞতা কম ছিল; আমি ইতিপূর্বে তা দেখিনি এবং সেখানে প্রবেশও করিনি। যখন আমি বারান্দার (আইওয়ান) দরজায় পৌঁছালাম, সেখানে দাঁড়ালাম। তখন তাঁকে বলতে শুনলাম: ‘তাকে কাছে আনো, তাকে কাছে আনো।’ আমি যখন বারান্দার দরজা দিয়ে প্রবেশ করলাম, তখন তাঁর ওপর আমার দৃষ্টি পড়ল। এর আগে বারান্দার দরজায় দ্বাররক্ষী ও সেনাপতিদের ভিড়ের কারণে আমি তাঁকে স্পষ্টভাবে দেখতে পাইনি। আমি বললাম: ‘আসসালামু আলাইকুম ইয়া আমিরুল মুমিনীন ওয়া রহমতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।’ তিনি বললেন: ‘আমার কাছে এসো।’ আমি তাঁর কাছে গেলাম। পুনরায় তিনি বললেন: ‘আমার কাছে এসো’, তিনি এর পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন এবং আমি এক এক কদম করে তাঁর কাছে এগোতে লাগলাম, যতক্ষণ না আমি সেই স্থানে পৌঁছালাম যেখানে তার্কিকরা বসেন এবং তাদের কথা শোনা যায়। দ্বাররক্ষী আমার সাথেই ছিল এবং আমাকে এগিয়ে নিচ্ছিল। যখন আমি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালাম, মামুন আমাকে বললেন: ‘বসুন।’ তখন আমি বসলাম।”
আব্দুল আজিজ বলেন: “আমি যখন বারান্দা থেকে প্রবেশ করলাম, তখন তাঁর মজলিসের এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলাম:”
“হে আমিরুল মুমিনীন, এই ব্যক্তির কথার চেয়ে তার কুৎসিত চেহারাই আপনার জন্য যথেষ্ট। না, আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে এর চেয়ে কুৎসিত চেহারার কেউ দেখিনি।” আমি তাকে এটি বলতে শুনলাম এবং তার পুরো কথাটি বুঝতে পারলাম। আতঙ্ক, অস্থিরতা ও ভয়ের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও আমি লোকটিকে দেখতে পাচ্ছিলাম। সে আমার দিকে তাকাচ্ছিল আর আমি কাঁপছিলাম ও শিউরে উঠছিলাম। তখন তিনি চাইলেন যে...
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يؤنسني وأن يسكن عني ما قد لحقني وأن ينشطني، فجعل يكثر كلام جلسائه ويكلم خليفته عمرو بن مسعدة، ويتكلم بأشياء كثيرة مما لا يحتاج أن يتكلم بها يريد بذلك كله إيناسي، وجعل يطيل النظر إلى الإيوان، ويدير طرفه فيه، فوقعت عينه على موضع من نقش الجص قد انتفخ، فقال: يا عمرو أما ترى هذا الذي قد انتفخ من هذا النقش، وسيقع فبادره في يومنا هذا، فقال عمرو: قطع الله يد صانعه، فإنه قد استحق العقوبة على عمله هذا.
قال عبد العزيز: "ثم أقبل علي المأمون فقال لي: "الاسم"، فقلت: "عبد العزيز". فقال لي: "ابن من"؟ فقلت: "ابن يحي"قال: "ابن من"؟ قلت: "ابن عبد العزيز"، قال لي: "ابن من"؟ قلت: "ابن مسلم." قال: "ابن من"؟ قلت: "ابن ميمون الكناني". قال: "وأنت من كنانة". قلت: "نعم،" يا أمير المؤمنين، فتركني ولم يكلمني هنيهة، ثم أقبل علي فقال: "من أين الرجل"، قلت: "من الحجاز"، قال: "من أي الحجاز"، قلت: "من مكة"، قال: "ومن تعرف من أهلهاط، قلت: "يا أمير المؤمنين كل من بها من أهلها أعرفه إلا رجلا ضوى إليها وجاور بها من الغرباء فإني لا أعرفه، قال: فهل تعرف فلانا، هل تعرف فلانا حتى عد جماعة من بني هاشم كلهم أعرفهم حق معرفتهم، فجعلت أقول: نعم أعرفه، وسألني عن أولادهم وأنسابهم فأخبره من غير حاجة به إلى شيء من ذلك، ولا مما تقدم من مسألتي وإنما يريد به إيناسي وبسطي للكلام، وتسكين روعتي وجزعي، فذهب عني ما كان لحقني من الجزع، وجاءت المعونة من الله عزوجل، فقوى بها ظهري، واشتد بها قلبي، واجتمع بها فهمني، وعلا بها جدي، وانشرح بها صدري، وانطلق بها لساني، ورجوت بها النصر على عدوي".
قال عبد العزيز: فأقبل علي المأمون فقال: "يا عبد العزيز إنه اتصل بي ما كان منك في قيامك في المسجد الجامع، وقولك إن القرآن كلام الله غير مخلوق، وبحضرة الخلق على رؤوس الأشهاد، ومسألتك بعد ذلك الجمع بينك وبين مناظريك على هذه المقالة بحضرتي وفي مجلسي، والاستماع منك ومنهم، وقد جمعتك والمخالفين لك لتتناظروا بين يدي وأكون آنا الحكم فيما بينكم فإن تكن لك الحجة والحق معك تبعناك، وإن تكن لهم الحجة عليك والحق معهم عاقبناك. ثم أقبل المأمون على بشر المريسي" فقال: "يا بشر قم إلى عبد العزيز نناظره وأنصفه".
আমাকে আশ্বস্ত করার জন্য এবং আমার উপর যে ভীতি ভর করেছিল তা দূর করার জন্য এবং আমাকে চনমনে করার জন্য তিনি তার পার্শ্বচরদের সাথে কথা বাড়াতে লাগলেন এবং তার সচিব আমর বিন মাসআদাহর সাথে কথা বলতে লাগলেন। তিনি এমন অনেক বিষয়ে কথা বলছিলেন যা বলার প্রয়োজন ছিল না, যার মাধ্যমে তিনি কেবল আমাকে আশ্বস্ত করতে চাইছিলেন। তিনি কক্ষের বারান্দার দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে রইলেন এবং চারপাশে তার দৃষ্টি ঘুরালেন। হঠাত পলেস্তারার নকশার একটি স্ফীত অংশের ওপর তার চোখ পড়ল। তিনি বললেন: "হে আমর, তুমি কি এই নকশার স্ফীত অংশটি দেখছ? এটি খসে পড়বে, তাই আজই এর দ্রুত ব্যবস্থা করো।" আমর বললেন: "আল্লাহ এর নির্মাতার হাত কেটে দিন, কেননা সে তার এই কাজের জন্য শাস্তির উপযুক্ত হয়েছে।"
আবদুল আজিজ বলেন: "অতঃপর আল-মামুন আমার দিকে অগ্রসর হলেন এবং আমাকে বললেন: 'নাম কী?' আমি বললাম: 'আবদুল আজিজ।' তিনি আমাকে বললেন: 'কার পুত্র?' আমি বললাম: 'ইয়াহইয়ার পুত্র।' তিনি বললেন: 'কার পুত্র?' আমি বললাম: 'আবদুল আজিজের পুত্র।' তিনি আমাকে বললেন: 'কার পুত্র?' আমি বললাম: 'মুসলিমের পুত্র।' তিনি বললেন: 'কার পুত্র?' আমি বললাম: 'মায়মুন আল-কিনানীর পুত্র।' তিনি বললেন: 'তাহলে আপনি কিনানা গোত্রের?' আমি বললাম: 'হ্যাঁ, হে আমিরুল মুমিনীন।' তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং কিছুক্ষণ কথা বললেন না। অতঃপর আমার দিকে ফিরে বললেন: 'লোকটি কোথা থেকে এসেছে?' আমি বললাম: 'হিজাজ থেকে।' তিনি বললেন: 'হিজাজের কোন স্থান থেকে?' আমি বললাম: 'মক্কা থেকে।' তিনি বললেন: 'সেখানকার অধিবাসীদের মধ্যে আপনি কাকে চেনেন?' আমি বললাম: 'হে আমিরুল মুমিনীন, সেখানে অবস্থানরত স্থায়ী অধিবাসীদের সকলকেই আমি চিনি, তবে যারা বহিরাগত হিসেবে সেখানে এসেছে বা প্রতিবেশী হিসেবে সাময়িকভাবে বসবাস করছে তাদের আমি চিনি না।' তিনি বললেন: 'আপনি কি অমুককে চেনেন? আপনি কি অমুককে চেনেন?' এভাবে তিনি বনী হাশিমের একদল লোকের নাম বললেন যাদের সবাইকে আমি যথাযথভাবে চিনি। আমি বলতে লাগলাম: 'হ্যাঁ, আমি তাকে চিনি।' তিনি আমাকে তাদের সন্তানাদি ও বংশ পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং আমি তাকে সেসব তথ্য দিলাম যদিও তার সেগুলোর কোনো প্রয়োজন ছিল না। এমনকি আমার প্রতি তার পূর্ববর্তী প্রশ্নগুলোরও কোনো প্রয়োজন ছিল না, বরং এর মাধ্যমে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করতে, স্বাচ্ছন্দ্য দিতে এবং আমার ভয় ও আতঙ্ক দূর করতে চেয়েছিলেন। ফলে আমার মনে যে আতঙ্ক ছিল তা দূর হয়ে গেল এবং মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এল। এর মাধ্যমে তিনি আমার মেরুদণ্ড শক্ত করলেন, আমার অন্তরকে দৃঢ় করলেন, আমার বোধশক্তিকে সংহত করলেন, আমার সৌভাগ্যকে সুপ্রসন্ন করলেন, আমার বক্ষ উন্মুক্ত করলেন এবং আমার জিহ্বাকে সাবলীল করলেন; আর এর মাধ্যমে আমি আমার শত্রুর ওপর বিজয়ের আশা পোষণ করলাম।"
আবদুল আজিজ বলেন: অতঃপর আল-মামুন আমার দিকে ফিরে বললেন: "হে আবদুল আজিজ, জামে মসজিদে তোমার অবস্থান এবং লোকজনের সামনে প্রকাশ্যে তোমার এই কথা বলা যে—'কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়'—এই খবর আমার কাছে পৌঁছেছে। এরপর তোমার সেই আবেদনও আমার কাছে পৌঁছেছে যে, আমার উপস্থিতিতে ও আমার মজলিসে তোমার ও তোমার প্রতিপক্ষদের মাঝে এই বিষয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করা হোক এবং তোমার ও তাদের বক্তব্য শোনা হোক। এখন আমি তোমাকে এবং তোমার বিরোধীদের একত্র করেছি যাতে তোমরা আমার সামনে বিতর্ক করতে পারো এবং আমি তোমাদের মাঝে বিচারক হব। যদি তোমার কাছে প্রমাণ থাকে এবং সত্য তোমার পক্ষে থাকে তবে আমরা তোমার অনুসরণ করব; আর যদি তাদের কাছে তোমার বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকে এবং সত্য তাদের সাথে থাকে তবে আমরা তোমাকে শাস্তি দেব।" অতঃপর আল-মামুন বিশর আল-মারিসীর দিকে ফিরে বললেন: "হে বিশর, আবদুল আজিজের কাছে অগ্রসর হও, আমরা তার সাথে বিতর্ক করব; আর তার প্রতি ইনসাফ করো।"
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قال عبد العزيز: "فوثب إلي بشر من موضعه الذي كان فيه كالأسد يثب إلى فريسته، فجاء فانحط علي، فوضع فخذه الأيسر على فخذي الأيمن، فكاد أن يحطمها، واعتمد علي بقوته كلها. فقلت له: مهلا فإن أمير المؤمنين أطال الله بقاه لم يأمرك بقتلي ولا بظلمي، وإنما أمرك بمناظرتي وإنصافي، فصاح به المأمون تنح عنه، وكرر ذلك عليه حتى باعده مني".
قال عبد العزيز: "ثم أقبل علي المأمون فقال: يا عبد العزيز ناظره على ما تريد واحتج عليه، ويحتج عليك، وسله ويسألك، وتناصفا في كلامكما، وتحفظا ألفاظكما، فإني مستمع إليكما ويحفظ ألفاظكما".
قال عبد العزيز: "فقلت السمع والطاعة يا أمير المؤمنين، ولكني أقول شيئا فإن رأى أمير المؤمنين أبقاه الله تعالى أن يأذن لي في ذلك فعلت. فقال: قل ما تريد. فقلت: يا أمير المؤمنين أطال الله بقاك إني رجل عربي، وفي كلامي دقة، ولم يسمع أمير المؤمنين أطال الله بقاه من كلامي شيئا قبل هذا الوقت، فجليل كلامي في سمع أمير المؤمنين دقيق، وبشر يا أمير المؤمنين كثير سماع أمير المؤمنين دقيق كلامه، فصار في سمع أمير المؤمنين جليلا، فإن رأى أمير المؤمنين أطال الله بقاه أن يأذن لي فأقدم شيئا من كلامي في هذا المجلس ليقيس ما يدق بعده من كلامي على ما تقدم، ويعرف مذهبي في كلامي، ثم يجمعني ومن أحب لمناظرتي بعد هذا في أي وقت شاء".
قال المأمون: "أنا مشغول عن هذا بما يلزمني من أمر المسلمين، وإنما جمعتك ومخالفيك لما أظهرت من مخالفتك إياهم وذمك لمذهبهم، وادعائك الرد عليهم، ومسألتك الجمع "بينك " وبينهم ولست أجمعك وإياهم بعد هذا المجلس إلا عن مناظرة تجري بينك وبينهم فتحتاجون إلى عودة لاستمام ما بقي عليكما من المناظرة فأجمعكما لذلك".
قال عبد العزيز: "فقلت في نفسي، هذا الذي سألت الله عز وجل أن يبلغنيه وعاهدته لأن بلغني لأقومن بحقه ولأذبن عن دينه بما يلهمني بتوفيقه صابرا محتسبا وإن عرضت على السيف والقتل حتى إذا بلغني الله ما أملته وأعطاني ما سألته، وأيدني بالمعونة، وكفاني المؤونة وعطف قلوب عباده علي، وصرف عتي ما كنت أحاذر من سوء بادرة تكون قبل قيامي بحق الله تعالى، أأنقض عهده، وأخلف
আব্দুল আজিজ বলেন: "বিশ্র তার স্থান থেকে আমার দিকে লাফিয়ে এল, যেমন একটি সিংহ তার শিকারের দিকে লাফিয়ে পড়ে। এরপর সে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ল এবং তার বাম উরু আমার ডান উরুর ওপর রাখল, যাতে তা প্রায় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, এবং সে তার পুরো শক্তি দিয়ে আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করল। আমি তাকে বললাম: থামুন! আমীরুল মুমিনীন—আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন—আপনাকে আমাকে হত্যা করার বা আমার ওপর জুলুম করার আদেশ দেননি। তিনি তো কেবল আপনার সাথে আমার মুনাজারা করার এবং ন্যায়বিচার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তখন আল-মামুন তাকে চিৎকার করে বললেন: তার কাছ থেকে সরে যাও! তিনি বারবার এটি বলতে থাকলেন যতক্ষণ না সে আমার থেকে দূরে সরে গেল।"
আব্দুল আজিজ বলেন: "অতঃপর আল-মামুন আমার দিকে ফিরে বললেন: হে আব্দুল আজিজ! তুমি যেভাবে চাও তার সাথে মুনাজারা করো এবং তার বিরুদ্ধে দলিল পেশ করো, সেও তোমার বিরুদ্ধে দলিল পেশ করুক। তুমি তাকে প্রশ্ন করো এবং সে তোমাকে প্রশ্ন করুক। তোমরা তোমাদের কথোপকথনে পরস্পরের প্রতি ইনসাফ করো এবং তোমাদের শব্দ চয়নের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কথা শুনছি এবং তোমাদের শব্দগুলো মনে রাখছি।"
আব্দুল আজিজ বলেন: "আমি বললাম: হে আমীরুল মুমিনীন! আমি শ্রবণ করলাম ও আনুগত্য করলাম। তবে আমি একটি কথা বলতে চাই; যদি আমীরুল মুমিনীন—আল্লাহ তাআলা তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন—এ ব্যাপারে অনুমতি প্রদান করা সমীচীন মনে করেন, তবে আমি তা করব। তিনি বললেন: তুমি যা চাও তা বলো। আমি বললাম: হে আমীরুল মুমিনীন! আল্লাহ আপনার হায়াত দীর্ঘ করুন। আমি একজন আরব ব্যক্তি, আমার কথার মধ্যে সূক্ষ্মতা রয়েছে। আমীরুল মুমিনীন ইতিপূর্বে কখনও আমার কোনো কথা শোনেননি। তাই আমার বক্তব্যের গভীরতা আমীরুল মুমিনীনের কর্ণে সূক্ষ্ম মনে হতে পারে। আর হে আমীরুল মুমিনীন! বিশ্রের অনেক সূক্ষ্ম কথা শোনার কারণে আপনার কানে তা এখন বড় হয়ে ধরা দেয়। যদি আমীরুল মুমিনীন—আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন—আমাকে অনুমতি প্রদান করা সমীচীন মনে করেন, তবে আমি এই মজলিসে আমার বক্তব্যের কিছু অংশ অগ্রিম পেশ করতে চাই, যাতে এর পরে আমার কথার যে সূক্ষ্মতা আসবে তা আপনি পূর্বের কথার সাথে তুলনা করতে পারেন এবং আমার কথা বলার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর তিনি যখন চাইবেন তখন আমার সাথে এবং যার সাথে তিনি পছন্দ করেন মুনাজারার জন্য আমাদের একত্র করবেন।"
আল-মামুন বললেন: "আমি মুসলিমদের যে সকল আবশ্যিক বিষয় আমার ওপর ন্যস্ত রয়েছে তা নিয়ে ব্যস্ত আছি। আমি কেবল তোমাকে এবং তোমার বিরোধীদেরকে এ কারণেই একত্র করেছি যে, তুমি তাদের বিরোধিতার বিষয়টি প্রকাশ করেছো, তাদের মাযহাবের নিন্দা করেছো, তাদের প্রতিবাদ করার দাবি করেছো এবং তাদের সাথে তোমাকে একত্র করার অনুরোধ করেছো। এই মজলিসের পর আমি তোমাকে এবং তাদের আর একত্র করব না যদি না তোমাদের মধ্যে এমন কোনো মুনাজারা সংঘটিত হয় যার অসম্পূর্ণ অংশ পূর্ণ করার জন্য পুনরায় বসার প্রয়োজন পড়ে; তবেই আমি তোমাদের পুনরায় একত্র করব।"
আব্দুল আজিজ বলেন: "আমি মনে মনে বললাম: এটিই সেই বিষয় যা আমি আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও মহান-এর কাছে আমাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করেছিলাম এবং তাঁর সাথে অঙ্গীকার করেছিলাম যে, তিনি যদি আমাকে এই অবস্থায় পৌঁছে দেন তবে আমি অবশ্যই তাঁর হকের দায়িত্ব পালন করব এবং তাঁর তাওফিকে তিনি আমাকে যা ইলহাম করবেন তা দ্বারা ধৈর্য ও সওয়াবের আশায় তাঁর দ্বীনকে রক্ষা করব—যদিও আমার সামনে তলোয়ার ও মৃত্যু উপস্থাপিত হয়। অবশেষে যখন আল্লাহ আমাকে আমার আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিলেন, আমি যা চেয়েছিলাম তা দান করলেন, সাহায্যের মাধ্যমে আমাকে শক্তিশালী করলেন, আমার প্রয়োজন মিটিয়ে দিলেন, তাঁর বান্দাদের অন্তর আমার প্রতি সদয় করলেন এবং আল্লাহর হকের দায়িত্ব পালন করার পূর্বে যে অমঙ্গলজনক পরিস্থিতির ভয় আমি করছিলাম তা আমার থেকে দূর করে দিলেন—এমতাবস্থায় কি আমি তাঁর অঙ্গীকার ভঙ্গ করব এবং বরখেলাপ করব..."
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وعده، وأكفر نعمه، فيسخط علي ويخذلني ويكلني إلى نفسي، والله والله لا فعلت ولو تلفت نفسي".
قال عبد العزيز: فقلت: "يا أمير المؤمنة إني لم أتهيب المناظرة ولم أعجز عنها، وإنما أحببت أن أقدم في هذا المجلس شيئا من كلامي ليقف من بحضرة أمير المؤمنين أطال الله بقاه ومن في مجلسه على معنى كلامي ودقته فلا يخفى عليهم بعض ما يجري بيننا".
قال: فقال أمير المؤمنين المأمون لبشر: "ناظر صاحبك على ما تريد".
قال عبد العزيز: فقلت: "يا أمير المؤمنين أطال الله بقاك إن رأيت أن تأذن لي أن أتكلم بشيء قد شغل قلبي قبل مناظرتي لبشر. فقال لي: تكلم بما شئت فقد أذنت لك".
فقلت: "أسألك بالله يا أمير المؤمنين من بلغك إنه كان أجمل ولد آدم صلى الله عليه وسلم. فأطرق مليا، ثم رفع رأسه" فقال: "يوسف عليه السلام". فقلت: "صدقت يا أمير المؤمنين- فوالله ما أعطي يوسف على حسن وجهه بعرتين، ولقد سجن وضيق عليه من أجل حسن وجهه بعد أن وقف على براءته بالشاهد الذي أنطقه الله عز وجل بتصديقه وبيان قوله وبعد إقرار امرأة العزيز إنها هي راودته عن نفسه فاستعصم فحبس بعد ذلك كله لحسن وجهه، قال الله تعالى: {ثُمَّ بَدَا لَهُمْ مِنْ بَعْدِ مَا رَأَوُا الآياتِ لَيَسْجُنُنَّهُ حَتَّى حِينٍ} 1 فدل بقوله عز وجل إنه سجن بغير ذنب لعلة حسن وجهه وليغيبوه عنها وعن غيرها، فطال في السجن حبسه حتى إذا عثر الرؤيا ووقف الملك على علمه ومعرفته اشتاق إليه، ورغب في صحبته فقال عز وجل: {وَقَالَ الْمَلِكُ ائْتُونِي بِهِ أَسْتَخْلِصْهُ لِنَفْسِي} 2 فكان هذا القول من الملك عندما وقف عليه من علم يوسف ومعرفته قبل أن يسمع كلامه، فلما دخل عليه وسمع كلامه وحسن عبارته صيره على خافي خزائن الأرض، وفوض إليه
--------------------------------------------
"...তাঁর অঙ্গীকার [ভঙ্গ করব], এবং তাঁর নেয়ামত অস্বীকার করব, ফলে তিনি আমার ওপর রাগান্বিত হবেন, আমাকে লাঞ্ছিত করবেন এবং আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন। আল্লাহর কসম, আল্লাহর কসম, আমি তা করব না, যদিও আমার প্রাণ চলে যায়।"
আব্দুল আজিজ বললেন: আমি বললাম: "হে আমিরুল মুমিনীন, আমি বিতর্ক করতে ভয় পাচ্ছি না এবং এ ব্যাপারে অক্ষমও নই; বরং আমি চেয়েছিলাম এই মজলিসে আমার বক্তব্যের কিছু অংশ আগে পেশ করতে, যাতে আমিরুল মুমিনীন (আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন) এবং তাঁর মজলিসে যারা উপস্থিত আছেন, তারা আমার বক্তব্যের অর্থ ও এর সূক্ষ্মতা বুঝতে পারেন এবং আমাদের মধ্যে যা ঘটবে তার কোনো অংশ তাদের কাছে অস্পষ্ট না থাকে।"
তিনি বললেন: অতঃপর আমিরুল মুমিনীন মামুন বিশরকে বললেন: "তোমার সঙ্গীর সাথে তোমার ইচ্ছানুযায়ী বিতর্ক করো।"
আব্দুল আজিজ বললেন: আমি বললাম: "হে আমিরুল মুমিনীন, আল্লাহ আপনার হায়াত দীর্ঘ করুন; বিশরের সাথে বিতর্কের আগে আপনি যদি আমাকে এমন কিছু বলার অনুমতি দেন যা আমার মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে [তবে ভালো হতো]।" তিনি আমাকে বললেন: "তুমি যা চাও তা বলো, আমি তোমাকে অনুমতি দিলাম।"
আমি বললাম: "হে আমিরুল মুমিনীন, আল্লাহর কসম দিয়ে আপনাকে জিজ্ঞেস করছি, আদম সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর কে ছিলেন বলে আপনার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে? (আল্লাহ আদম আলাইহিস সালামের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)।" তিনি কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে থাকলেন, তারপর মাথা তুলে বললেন: "ইউসুফ আলাইহিস সালাম।" আমি বললাম: "হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি সত্য বলেছেন। আল্লাহর কসম, ইউসুফকে তাঁর চেহারার সৌন্দর্যের বিনিময়ে নগণ্য কোনো প্রতিদানও দেওয়া হয়নি। বরং তাঁর চেহারার সৌন্দর্যের কারণেই তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল এবং তাঁর ওপর সংকীর্ণতা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, অথচ সেই সাক্ষীর মাধ্যমে তাঁর নির্দোষিতা প্রমাণিত হয়েছিল যাকে মহান আল্লাহ তাঁর সত্যতা নিশ্চিত করতে ও তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট করতে বাকশক্তি দান করেছিলেন এবং আজীজের স্ত্রীর স্বীকারোক্তির পরেও যে সে-ই তাকে ফুসলিয়েছিল আর তিনি নিজেকে রক্ষা করেছিলেন। এত কিছুর পরেও কেবল চেহারার সৌন্দর্যের কারণে তাঁকে বন্দী করা হয়েছিল। মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর নিদর্শনাবলী দেখার পর তাদের কাছে এটাই সমীচীন মনে হলো যে, তাকে একটা নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত অবশ্যই কারারুদ্ধ করে রাখতে হবে} ১। মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তিনি কোনো অপরাধ ছাড়াই কেবল সৌন্দর্যের কারণে কারারুদ্ধ হয়েছিলেন, যাতে তারা তাকে তার ও অন্যদের দৃষ্টি থেকে আড়াল করতে পারে। কারাগারে তাঁর বন্দিত্ব দীর্ঘায়িত হলো, অবশেষে যখন স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা হলো এবং বাদশাহ তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে অবগত হলেন, তখন তিনি তাঁর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠলেন এবং তাঁর সাহচর্যের আকাঙ্ক্ষা করলেন। তখন মহান আল্লাহ বলেন: {আর বাদশাহ বললেন, 'তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি তাকে আমার একান্ত সহচর করে রাখব'} ২। বাদশাহর এই উক্তিটি ছিল ইউসুফের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর, কিন্তু তাঁর কথা শোনার আগে। এরপর যখন তিনি তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর কথা ও সুন্দর প্রকাশভঙ্গি শুনলেন, তখন তিনি তাঁকে জমিনের গোপন ভাণ্ডারগুলোর দায়িত্ব প্রদান করলেন এবং তাঁর ওপর যাবতীয় বিষয় ন্যস্ত করলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الأمور كلها وتبرأ منها وصار كأنه من تحت يده، فكان هذا الذي بلغه يوسف عليه السلام بكلامه وعلمه لا بجماله، قال عز وجل: {فَلَمَّا كَلَّمَهُ قَالَ إِنَّكَ الْيَوْمَ لَدَيْنَا مَكِينٌ أَمِينٌ، قَالَ اجْعَلْنِي عَلَى خَزَائِنِ الْأَرْضِ إِنِّي حَفِيظٌ عَلِيمٌ} 1 ولم يقل إني حسن جميل، قال الله عز وجل: {وَكَذَلِكَ مَكَّنَّا لِيُوسُفَ فِي الأَرْضِ يَتَبَوَّأُ مِنْهَا حَيْثُ يَشَاء} 2 فوالله يا أمير المؤمنين ما أبالي إن وجهي أقبح مما هو، وإني أحسن من الفهم والعلم أكثر مما أحسن".
قال عبد العزيز: "فقال لي المأمون وأي شيء أردت بهذا القول، وما الذي دعاك إلى ذكر هذا؟ فقلت سمعت بعض من هاهنا يقول لأمير المؤمنين: يفيك من كلامه قبح وجهه، فما يضرني قبح وجهي مع ما رزقني الله عزوجل من فهم كتابه، والعلم بسنة نبيه صلى الله عليه وسلم فتبسم المأمون حتى وضع يده على فيه، ثم قلت: "يا أمير المؤمنين أطال الله بقاك فقد رأيتك تنظر إلى هذا النقش وانتفاخ الجص وتذكره، وسمعت عمرا يعيب ذلك ويدعو على صانعه، ولا يعيب الجص، ولا يدعو عليه، فقال المأمون: العيب لا يقع على الشيء المصنوع، وإنما يقع العيب على الصانع. قال: قلت: صدقت يا أمير المؤمنين، ولكن هذا يعيب ربي لم خلقني قبيحا فازداد تبسما حتى ظهرت (ثناياه) ".
قال عبد العزيز: "فأقبل علي المأمون" وقال: يا عبد العزيز: "ناظر صاحبك فقد طال المجلس بغير مناظرة"، فقلت: "يا أمير المؤمنين أطال الله بقاك، كل متناظرين على غير أصل يكون بينهما يرجعان إليه إذا اختلفا في شيء من الفروع، فهما كالسائر على غير الطريق، لا يعرف الحجة فيتبعها ويسلكها وهو لا يعرف الموضع الذي يريد فيقصده، ولا يدري من أين جاء فيرجع يطلب الطريق فهو على ضلال أبدا.
ولكننا نؤصل بيننا أصلا، فإذا اختلفنا في شيء من الفروع رددناه إلى الأصل، فإن وجدناه فيه وإلاّ رمينا به ولم نلتفت إليه".
قال عبد العزيز: فقال لي المأمون: "نعم ما قلت، فاذكر الأصل الذي تريد أن يكود بينكما، ويذكر أيضا هو مثله حتى تتفقا على الأصل فتؤصلاه بينكما".
--------------------------------------------
সকল বিষয় এবং তা থেকে মুক্ত হওয়া এবং তা যেন তার হাতের অধীনে চলে আসা; ইউসুফ আলাইহিস সালাম যে উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন তা তাঁর কথা ও জ্ঞানের মাধ্যমে ছিল, তাঁর সৌন্দর্যের কারণে নয়। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "যখন তিনি তাঁর সাথে কথা বললেন, তখন বললেন, নিশ্চয়ই আপনি আজ আমাদের কাছে মর্যাদাশীল ও বিশ্বস্ত। তিনি বললেন, আমাকে ভূমির ধনভাণ্ডারের দায়িত্বে নিযুক্ত করুন, নিশ্চয়ই আমি হেফাযতকারী ও জ্ঞানী।" তিনি বলেননি যে আমি সুন্দর ও সুশ্রী। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "আর এভাবেই আমি ইউসুফকে সেই ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত করলাম, সে সেখানে যেখানে ইচ্ছা বসবাস করতে পারত।" হে আমীরুল মুমিনীন, আল্লাহর কসম, আমার চেহারা এখনকার চেয়েও কুৎসিত হলেও আমি পরোয়া করি না, যদি আমি আমার বর্তমান পাণ্ডিত্যের চেয়েও অধিক বুঝ ও জ্ঞান লাভ করি।
আবদুল আযীয বলেন: "মামুন আমাকে বললেন, এই কথার মাধ্যমে আপনি কী বুঝাতে চেয়েছেন এবং কী আপনাকে এটি উল্লেখ করতে উদ্বুদ্ধ করল? আমি বললাম, আমি এখানকার কাউকে আমীরুল মুমিনীনকে বলতে শুনেছি: 'তার কুৎসিত চেহারাই তার কথাবার্তার (অসারতা প্রমাণের) জন্য যথেষ্ট।' সুতরাং আমার চেহারার কুৎসিত হওয়া আমার কোনো ক্ষতি করবে না যদি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমাকে তাঁর কিতাবের বুঝ এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর জ্ঞান দান করেন। তখন মামুন মুচকি হাসলেন এমনকি তিনি তাঁর হাত তাঁর মুখের ওপর রাখলেন। এরপর আমি বললাম: 'হে আমীরুল মুমিনীন, আল্লাহ আপনার হায়াত দীর্ঘ করুন, আমি আপনাকে এই নকশা এবং পলেস্তরার কারুকাজ দেখতে ও তা নিয়ে আলোচনা করতে দেখেছি এবং আমি আমরকে এর খুঁত ধরতে ও এর কারিগরের বিরুদ্ধে বদদোয়া করতে শুনেছি, অথচ সে পলেস্তরার দোষ দিচ্ছে না বা তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করছে না।' মামুন বললেন: 'ত্রুটি তো কোনো তৈরিকৃত বস্তুর ওপর পড়ে না, বরং ত্রুটি পড়ে নির্মাতার ওপর।' তিনি বলেন: আমি বললাম: 'হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি সত্য বলেছেন, কিন্তু এই ব্যক্তি আমার রবের দোষ দিচ্ছে যে কেন তিনি আমাকে কুৎসিত করে সৃষ্টি করেছেন।' এতে মামুনের হাসি আরও বেড়ে গেল এমনকি তাঁর সামনের দাঁত প্রকাশ পেল।"
আবদুল আযীয বলেন: "মামুন আমার দিকে ফিরে তাকালেন" এবং বললেন: হে আবদুল আযীয: "আপনার সঙ্গীর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হোন, কেননা বিতর্ক ছাড়াই মজলিস দীর্ঘ হয়ে গেছে।" আমি বললাম: "হে আমীরুল মুমিনীন, আল্লাহ আপনার হায়াত দীর্ঘ করুন, কোনো মূলনীতি ব্যতিরেকে বিতর্ককারী দুই ব্যক্তি যদি কোনো শাখাগত বিষয়ে মতবিরোধ করে তবে তারা এমন এক পথিকের ন্যায় যে মূল পথ ছাড়া চলছে। সে কোনো প্রমাণ চেনে না যে তা অনুসরণ করবে এবং যে পথে চলবে, আবার সে যে স্থানে পৌঁছাতে চায় তাও চেনে না যে সেদিকে অগ্রসর হবে; এমনকি সে কোথা থেকে এসেছে তাও জানে না যে ফিরে গিয়ে পথ খুঁজবে। সুতরাং সে সর্বদা ভ্রান্তির ওপর থাকে।
কিন্তু আমরা আমাদের মাঝে একটি মূলনীতি স্থির করব। যখন আমরা কোনো শাখাগত বিষয়ে মতবিরোধ করব, তখন আমরা তা মূলনীতির দিকে ফিরিয়ে দেব। যদি আমরা সেখানে তা খুঁজে পাই (তবে গ্রহণ করব), অন্যথায় তা বর্জন করব এবং সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করব না।"
আবদুল আযীয বলেন: মামুন আমাকে বললেন: "আপনি চমৎকার বলেছেন। আপনি যে মূলনীতিটি আপনাদের মাঝে রাখতে চান তা উল্লেখ করুন, এবং সেও অনুরূপ উল্লেখ করুক যাতে আপনারা একটি মূলনীতির ওপর একমত হতে পারেন এবং আপনাদের মাঝে তা প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-হায়দাতু ওয়াল ইতিযারু ফির রাদ্দি আলা মান কালা বিখালকিল কুরআন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
قال عبد العزيز: فقلت: "يا أمير المؤمنين أطال الله بقاك: أو أصل بيني وبينه ما أمرنا الله به واختاره لنا وأدبنا به وعلمنا ودلنا عليه عند التنازع والاختلاف، ولم يكلنا إلى أنفسنا ولا إلى اختيارنا".
فقال المأمون: "وذلك موجود عن الله عز وجل"؟ قلت: "نعم يا أمير المؤمنين قال الله تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} 1
وهذا تعليم الله عز وجل وتأديبه واختياره لعباده المؤمنين وهو خير وأحسن ما أصله المتنازعون بينهم، وقد تنازعت أنا وبشر يا أمير المؤمنين فنحن نؤصل بيننا كتاب الله عزوجل وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم كما أمرنا فإن اختلفنا في شيء من الفروع رددناه إلى كتاب الله عز وجل، فإن وجدناه فيه وإلاّ رددناه إلى سنة نبيه صلى الله عليه وسلم فإن وجدناه فيها وإلاّ ضربنا به الحائط ولم نلتفت إليه".
فقال بشر: "وأين أمرنا الله أن نرد ما اختلفنا فيه إلى كتاب الله وإلى سنة نبيه صلى الله عليه وسلم" قلت: "كأنك لم تسمع ما جرى وما ابتدأت به، قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} 2. قال بشر: "فإنما أمر الله أن يرد إليه وإلى الرسول، ولم يأمرنا أن نرده إلى كتابه العزيز وإلى سنة نبيه عليه السلام".
قال عبد العزيز: "هذا مالا خلاف فيه بين المؤمنين وأهل العلم إن رددناه إلى الله فهو إلى كتاب الله، وإن رددناه إلى رسوله بعد وفاته رددناه إلى سنته، وإنما يشك في هذا الملحد لأن، وقد روى هذا بهذا اللفظ عن ابن عباس3 وعن جماعة من الأئمة4 الذين اخذ العلم عنهم رحمة الله عليهم".
قال عبد العزيز: "فقال لي المأمون: فافعلا وأصلا بينكما يا عبد العزيز أصلا واتفقا عليه وأنا الشاهد بينكما إن شاء الله تعالى".
--------------------------------------------
আব্দুল আজিজ বলেন: আমি বললাম, "হে আমিরুল মুমিনিন, আল্লাহ আপনার হায়াত দীর্ঘ করুন: আমি কি আমার ও তার মধ্যে সেই মূলনীতি স্থাপন করব যা আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, আমাদের জন্য পছন্দ করেছেন, যার মাধ্যমে আমাদের শিষ্টাচার শিখিয়েছেন, আমাদের জ্ঞান দান করেছেন এবং বিবাদ ও মতভেদের সময় যার দিকে আমাদের পথ দেখিয়েছেন? আর তিনি আমাদের আমাদের নিজেদের ওপর বা আমাদের নিজেদের পছন্দের ওপর ছেড়ে দেননি।"
মামুন বললেন: "আর তা কি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্তমান আছে?" আমি বললাম: "হ্যাঁ, হে আমিরুল মুমিনিন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর ঈমান রাখো। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম} ১
এটি মহান আল্লাহর শিক্ষা, তাঁর শিষ্টাচার এবং তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য তাঁর পছন্দ। আর এটিই সর্বোত্তম ও শ্রেষ্ঠ যা বিবাদকারীরা নিজেদের মধ্যে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। হে আমিরুল মুমিনিন, আমি ও বিশর বিবাদে লিপ্ত হয়েছি, তাই আমরা আমাদের মধ্যে মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহকে মূলনীতি হিসেবে নির্ধারণ করব, যেমনটি তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর আমরা যদি কোনো খুঁটিনাটি বিষয়ে মতভেদ করি, তবে তা মহান আল্লাহর কিতাবের দিকে ফিরিয়ে দেব। যদি আমরা তাতে তা পাই (তবে গ্রহণ করব), অন্যথায় আমরা তা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দেব। যদি আমরা তাতে তা পাই (তবে গ্রহণ করব), অন্যথায় আমরা তা প্রত্যাখ্যান করব এবং সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করব না।"
বিশর বলল: "আল্লাহ আমাদের কোথায় নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা যে বিষয়ে মতভেদ করব তা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দিতে হবে?" আমি বললাম: "মনে হচ্ছে যা ঘটেছে এবং আমি যা দিয়ে শুরু করেছি তা তুমি শোনোনি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের)। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর ঈমান রাখো। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম} ২। বিশর বলল: "আল্লাহ তো কেবল তাঁর নিজের দিকে এবং রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন; তিনি তো আমাদের তাঁর সম্মানিত কিতাব ও তাঁর নবীর (আলাইহিস সালাম) সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দেননি।"
আব্দুল আজিজ বলেন: "এটি এমন বিষয় যাতে মুমিন ও আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই যে, যদি আমরা আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দিই তবে তা আল্লাহর কিতাবের দিকেই (ফিরিয়ে দেওয়া), আর যদি আমরা তাঁর রাসুলের ইন্তেকালের পর তাঁর দিকে ফিরিয়ে দিই তবে তা তাঁর সুন্নাহর দিকেই (ফিরিয়ে দেওয়া)। এ বিষয়ে কেবল নাস্তিকরাই সন্দেহ পোষণ করে। আর এটি এই শব্দেই ইবনে আব্বাস ৩ এবং সেই সব ইমামগণের জামাত ৪ থেকে বর্ণিত হয়েছে যাদের থেকে ইলম গ্রহণ করা হয়েছে, তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।"
আব্দুল আজিজ বলেন: "অতঃপর মামুন আমাকে বললেন: তোমরা তা-ই করো এবং হে আব্দুল আজিজ, তোমরা নিজেদের মধ্যে একটি মূলনীতি নির্ধারণ করো এবং তাতে একমত হও, আর আমি ইনশাআল্লাহ তোমাদের মাঝে সাক্ষী থাকব।"
--------------------------------------------