(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: -)
الحسنة والسيئة   (ابن تيمية)

القسم: العقيدة


الكتاب: الحسنة والسيئة

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)

المحقق: -

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت، لبنان

الطبعة: -

عدد الصفحات: 162

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-হাসানাহ ওয়া আস-সাইয়্যিআহ   (ইবনে তাইমিয়্যাহ)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: আল-হাসানাহ ওয়া আস-সাইয়্যিআহ

লেখক: তাকিউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)

সম্পাদক: -

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, লেবানন

সংস্করণ: -

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬২

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الحسنة والسيئة

‌‌المؤلف: شيخ الإسلام ابن تيمية

َقَالَ الشّيخ الإمَام العَالم العَلاّمة شيخ الإسلام تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية الحراني تغمده الله تعالى برحمته:

الحمد لله نحمده ونستعينه، ونستهديه ونستغفره. ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادى له.

وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.

فصل

فى قوله تعالى: {مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللهِ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ} [النساء: 79] وبعض ما تضمنته من الحكم العظيمة.

هذه الآية ذكرها الله في سياق الأمر بالجهاد، وذم الناكثين عنه، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ خُذُواْ حِذْرَكُمْ فَانفِرُواْ ثُبَاتٍ أَوِ انفِرُواْ جَمِيعًا} [النساء: 71] الآيات إلى أن ذكر صلاة الخوف، وقد ذكر قبلها طاعة الله وطاعة الرسول، والتحاكم إلى الله وإلى الرسول، ورد ما تنازع فيه الناس إلى الله وإلى الرسول، وذم الذين يتحاكمون ويردون ما تنازعوا فيه إلى غير الله والرسول.

فكانت تلك الآيات تبييناً للإيمان بالله وبالرسول؛ ولهذا قال فيها: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىَ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُواْ فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسْلِيمًا} [النساء: 65] .

وهذا جهاد عما جاء به الرسول، وقد قال تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ} [الحجرات: 15] .

وقال
কল্যাণ ও অকল্যাণ

‌লেখক: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ

ইমাম, আলেম, আল্লামা, শাইখুল ইসলাম তাক্বিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন) বলেছেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর কাছে হেদায়াত চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

পরিচ্ছেদ

আল্লাহ তাআলার এই বাণী প্রসঙ্গে: "তোমার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর তোমার কাছে যে অকল্যাণ পৌঁছে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে" [আন-নিসা: ৭৯] এবং এতে নিহিত কিছু মহান হিকমত।

আল্লাহ তাআলা এই আয়াতটি জিহাদের নির্দেশ এবং যারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাদের নিন্দার প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের সতর্কতা অবলম্বন করো, অতঃপর ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে অভিযানে বের হও অথবা সবাই মিলে একসাথে বের হও" [আন-নিসা: ৭১]। (এরপর) আয়াতসমূহ চলতে থাকে যতক্ষণ না তিনি ভয়ের সালাত (সালাতুল খাওফ) উল্লেখ করেছেন। এর আগে তিনি আল্লাহর আনুগত্য ও রাসূলের আনুগত্য, এবং আল্লাহ ও রাসূলের কাছে বিচার নিয়ে যাওয়া, আর মানুষের মাঝে যে বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ উল্লেখ করেছেন। আর যারা আল্লাহ ও রাসূল ছাড়া অন্যের কাছে বিচার নিয়ে যায় এবং তাদের বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো অন্যের দিকে ফিরিয়ে দেয় তাদের নিন্দা করেছেন।

সুতরাং এই আয়াতগুলো ছিল আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমানের স্পষ্ট বর্ণনা; এই কারণেই তিনি এতে বলেছেন: "না, তোমার রবের কসম! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা তোমাকে তাদের বিবাদমান বিষয়ে বিচারক মানবে, অতঃপর তুমি যে ফয়সালা করবে সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব করবে না এবং তা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেবে" [আন-নিসা: ৬৫]।

আর এটি হলো রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার স্বপক্ষে জিহাদ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছে, অতঃপর তাতে কোনো সন্দেহ পোষণ করেনি এবং তাদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে" [আল-হুজুরাত: ১৫]।

এবং তিনি বলেছেনোরুফ।
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
تعالى: {قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَآؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُواْ حَتَّى يَأْتِيَ اللهُ بِأَمْرِهِ وَاللهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ} [التوبة: 24] ، وقال: {أَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ آمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَجَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللهِ لَا يَسْتَوُونَ عِندَ اللهِ وَاللهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ الَّذِينَ آمَنُواْ وَهَاجَرُواْ وَجَاهَدُواْ فِي سَبِيلِ اللهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةً عِندَ اللهِ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُم بِرَحْمَةٍ مِّنْهُ وَرِضْوَانٍ وَجَنَّاتٍ} [التوبة: 19-21] . وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنجِيكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ وَأُخْرَى تُحِبُّونَهَا نَصْرٌ مِّنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُونوا أَنصَارَ اللَّهِ كَمَا قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ لِلْحَوَارِيِّينَ مَنْ أَنصَارِي إِلَى اللَّهِ قَالَ الْحَوَارِيُّونَ نَحْنُ أَنصَارُ اللَّهِ فَآَمَنَت طَّائِفَةٌ مِّن بَنِي إِسْرَائِيلَ وَكَفَرَت طَّائِفَةٌ فَأَيَّدْنَا الَّذِينَ آَمَنُوا عَلَى عَدُوِّهِمْ فَأَصْبَحُوا ظَاهِرِينَ} [الصف: 10-14] .

وذكر بعد آيات الجهاد إنزال الكتاب على رسول الله ليحكم بين الناس بما أراه الله، ونهيه عن ضد ذلك، وذكره فضل الله عليه ورحمته في حفظه، وعصمته من إضلال الناس له، وتعليمه ما لم يكن يعلم، وذم من شاق الرسول واتبع غير سبيل المؤمنين، وتعظيم أمر الشرك، وشديد خطره وأن الله لا يغفره ولكن يغفر ما دونه لمن يشاء إلى أن بين أن أحسن الأديان دينُ من يعبد الله وحده، لا يشرك به شيئا، بشرط أن تكون عبادته بفعل
মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোষ্ঠী, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের সেই ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার তোমরা ভয় করো এবং তোমাদের সেই বাসস্থান যা তোমরা পছন্দ করো—যদি তোমাদের কাছে আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত। আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।" [তওবা: ২৪], এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো এবং মসজিদুল হারাম আবাদ করাকে সেই ব্যক্তির সমতুল্য মনে করেছ, যে ঈমান এনেছে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি এবং জিহাদ করেছে আল্লাহর পথে? তারা আল্লাহর কাছে সমান নয়। আর আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না। যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আল্লাহর কাছে তাদের মর্যাদা অনেক বড়। আর তারাই সফলকাম। তাদের প্রতিপালক তাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে দয়া, সন্তুষ্টি এবং জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন।" [তওবা: ১৯-২১]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "হে মুমিনগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আজাব থেকে রক্ষা করবে? তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে। তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত এবং জান্নাতে আদনের উত্তম বাসস্থানে। এটাই মহাসাফল্য। আর তিনি তোমাদেরকে আরও একটি বস্তু দান করবেন যা তোমরা পছন্দ করো; তা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং নিকটবর্তী বিজয়। আর মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিন। হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হও, যেমন মারইয়াম তনয় ঈসা হাওয়ারীদের বলেছিল: আল্লাহর পথে আমার সাহায্যকারী কে হবে? হাওয়ারীরা বলেছিল: আমরাই আল্লাহর সাহায্যকারী। অতঃপর বনী ইসরাঈলের একদল ঈমান আনল এবং একদল কুফরি করল। তারপর যারা ঈমান এনেছিল আমি তাদেরকে তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করলাম, ফলে তারা বিজয়ী হলো।" [সফ: ১০-১৪]।

জিহাদের আয়াতসমূহের পর তিনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করার জন্য রাসূলুল্লাহর ওপর কিতাব নাজিল করার কথা উল্লেখ করেছেন—সেই অনুযায়ী যা আল্লাহ তাঁকে দেখিয়েছেন; এবং এর বিপরীত বিষয় থেকে তাঁকে নিষেধ করেছেন। তিনি তাঁর ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতের কথা উল্লেখ করেছেন যে তিনি তাঁকে হেফজ করেছেন, মানুষ যাতে তাঁকে পথভ্রষ্ট করতে না পারে সে ব্যাপারে তাঁকে রক্ষা করেছেন এবং তাঁকে তা শিখিয়েছেন যা তিনি জানতেন না। এছাড়া যে ব্যক্তি রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে তার নিন্দা করেছেন। তিনি শিরকের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর করেছেন এবং এর ভয়াবহ বিপদের কথা উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তা ক্ষমা করবেন না, তবে শিরক ছাড়া অন্য সব গুনাহ যার জন্য ইচ্ছা ক্ষমা করবেন। পরিশেষে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, সর্বোত্তম দ্বীন হলো সেই ব্যক্তির দ্বীন যে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করে না, তবে শর্ত হলো তার ইবাদত হতে হবে কর্মের মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الحسنات التي شرعها، لا بالبدع والأهواء، وهم أهل ملة إبراهيم، الذين اتبعوا ملة إبراهيم حنيفا {وَاتَّخَذَ اللهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلاً} [النساء: 125] .

فكان في الأمر بطاعة الرسول والجهاد عليها اتباع التوحيد، وملة إبراهيم. وهو إخلاص الدين لله، وأن يعبد الله بما أمر به على ألسن رسله من الحسنات.

وقد ذكر تعالى في ضمن آيات الجهاد ذَمَّ من يخاف العدو، ويطلب الحياة، وبين أن ترك الجهاد لا يدفع عنهم الموت، بل أينما كانوا أدركهم الموت، ولو كانوا في بروج مُشَيَّدة. فلا ينالون بترك الجهاد منفعة، بل لا ينالون إلا خسارة الدنيا والآخرة، فقال تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّواْ أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُواْ الصَّلَاةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ إِذَا فَرِيقٌ مِّنْهُمْ يَخْشَوْنَ النَّاسَ كَخَشْيَةِ اللهِ أَوْ أَشَدَّ خَشْيَةً وَقَالُواْ رَبَّنَا لِمَ كَتَبْتَ عَلَيْنَا الْقِتَالَ لَوْلا أَخَّرْتَنَا إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ قُلْ مَتَاعُ الدَّنْيَا قَلِيلٌ وَالآخِرَةُ خَيْرٌ لِّمَنِ اتَّقَى وَلَا تُظْلَمُونَ فَتِيلاً} [النساء: 77] .

وهذا الفريق قد قيل: إنهم منافقون، وقيل: نافقوا لما كتب عليهم القتال. وقيل: بل حصل منهم جبن وفشل، فكان في قلوبهم مرض، كما قال تعالى: {فَإِذَا أُنزِلَتْ سُورَةٌ مُّحْكَمَةٌ وَذُكِرَ فِيهَا الْقِتَالُ رَأَيْتَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ يَنظُرُونَ إِلَيْكَ نَظَرَ الْمَغْشِيِّ عَلَيْهِ مِنَ الْمَوْتِ فَأَوْلَى لَهُمْ طَاعَةٌ وَقَوْلٌ مَّعْرُوفٌ} [محمد: 20، 21] وقال تعالى: {وَإِذْ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ مَّا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا غُرُورًا} [الأحزاب: 12] .

والمعنى متناول لهؤلاء ولهؤلاء ولكل من كان بهذه الحال.

ثم قال: {أَيْنَمَا تَكُونُواْ يُدْرِككُّمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنتُمْ فِي بُرُوجٍ مُّشَيَّدَةٍ وَإِن تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ يَقُولُواْ هَذِهِ مِنْ عِندِ اللهِ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَقُولُواْ هَذِهِ مِنْ عِندِكَ قُلْ كُلًّ مِّنْ عِندِ اللهِ فَمَا لِهَؤُلاء الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا} [النساء: 78] .
সেই নেক কাজগুলো যা তিনি শরীয়তসম্মত করেছেন, বিদআত ও প্রবৃত্তির দ্বারা নয়। তারা হলেন ইব্রাহীমের মিল্লাতের অনুসারী, যারা একনিষ্ঠভাবে ইব্রাহীমের মিল্লাতের অনুসরণ করেছেন; "আর আল্লাহ ইব্রাহীমকে খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেছেন।" [আন-নিসা: ১২৫]।

রাসূলের আনুগত্য এবং তার ওপর জিহাদের নির্দেশের মধ্যে নিহিত ছিল তাওহীদ ও মিল্লাতে ইব্রাহীমের অনুসরণ। আর তা হলো দ্বীনকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা এবং আল্লাহ তাঁর রাসূলগণের মাধ্যমে যেসব নেক কাজের আদেশ দিয়েছেন সেগুলোর দ্বারা তাঁর ইবাদত করা।

মহান আল্লাহ জিহাদের আয়াতসমূহের মাঝে তাদের নিন্দা করেছেন যারা শত্রুকে ভয় পায় এবং পার্থিব জীবন কামনা করে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জিহাদ ত্যাগ করা তাদের থেকে মৃত্যুকে হটিয়ে দিতে পারবে না, বরং তারা যেখানেই থাকুক না কেন মৃত্যু তাদের পাকড়াও করবেই, যদিও তারা সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করে। সুতরাং জিহাদ ত্যাগের মাধ্যমে তারা কোনো উপকার পাবে না, বরং দুনিয়া ও আখেরাতের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই তাদের জুটবে না। মহান আল্লাহ বলেন: "তুমি কি তাদের দেখনি যাদের বলা হয়েছিল, তোমাদের হাত গুটিয়ে রাখো, সালাত কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো? অতঃপর যখন তাদের ওপর লড়াই ফরয করা হলো, তখন তাদের একটি দল মানুষকে এমন ভয় পেতে লাগল যেমন আল্লাহকে ভয় করা হয় অথবা তার চেয়েও অধিক ভয়। তারা বলল, হে আমাদের রব! কেন আপনি আমাদের ওপর লড়াই ফরয করলেন? কেন আমাদের আরও কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দিলেন না? বলো, দুনিয়ার ভোগসামান্য অল্প, আর যে তাকওয়া অবলম্বন করে তার জন্য আখেরাতই উত্তম। তোমাদের ওপর সামান্যতম জুলুমও করা হবে না।" [আন-নিসা: ৭৭]।

এই দল সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা মুনাফিক। আবার বলা হয়েছে, যখন তাদের ওপর লড়াই ফরয করা হলো তখন তারা নিফাক অবলম্বন করল। অন্য মতে, বরং তাদের মধ্যে ভীরুতা ও ব্যর্থতা প্রকাশ পেয়েছিল, ফলে তাদের অন্তরে ব্যাধি ছিল। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর যখন কোনো সুষ্পষ্ট সূরা নাযিল হয় এবং তাতে লড়াইয়ের উল্লেখ থাকে, তখন যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তুমি তাদের দেখতে পাবে যে, তারা তোমার দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছে যেন মৃত্যুর ভয়ে মূর্ছিত কোনো ব্যক্তি। সুতরাং তাদের জন্য আনুগত্য এবং উত্তম বাক্যই ছিল শ্রেয়।" [মুহাম্মদ: ২০-২১]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "এবং যখন মুনাফিকরা ও যাদের অন্তরে ব্যাধি ছিল তারা বলছিল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের যে ওয়াদা দিয়েছিলেন তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।" [আল-আহযাব: ১২]।

এই অর্থ এদের সবার জন্যই প্রযোজ্য এবং যারা এই অবস্থায় থাকে তাদের সকলের জন্যই।

এরপর তিনি বলেন: "তোমরা যেখানেই থাকো না কেন মৃত্যু তোমাদের পাকড়াও করবেই, যদিও তোমরা সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করো। আর যদি তাদের কোনো কল্যাণ পৌঁছে, তবে তারা বলে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে; আর যদি তাদের কোনো অকল্যাণ পৌঁছে, তবে তারা বলে, এটি তোমার পক্ষ থেকে। বলো, সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে। এই কওমের কী হলো যে, তারা কোনো কথাই বুঝতে চায় না?" [আন-নিসা: ৭৮]।
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
فالضمير في قوله: {وَإِن تُصِبْهُمْ} يعود إلى من ذكر، وهم " الذين يخشون الناس " أو يعود إلى معلوم، وإن لم يذكر، كما في مواضع كثيرة.

وقد قيل: إن هؤلاء كانوا كفاراً من اليهود. وقيل: كانوا منافقين. وقيل: بل كانوا من هؤلاء وهؤلاء. والمعنى يعم كل من كان كذلك، ولكن تناوله لمن أظهر الإسلام وأمر بالجهاد أولى.

ثم إذا تناول الذم هؤلاء، فهو للكفار الذين لا يظهرون الإسلام أولى وأحْرَى.

والذى عليه عامة المفسرين: أن " الحسنة " و " السيئة " يراد بهما النعم والمصائب، ليس المراد مجرد ما يفعله الإنسان باختياره، باعتباره من الحسنات أو السيئات.

فصل

ولفظ " الحسنات " و " السيئات " في كتاب الله يتناول هذا وهذا، قال الله تعالى عن المنافقين: {إِن تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِن تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَفْرَحُواْ بِهَا وَإِن تَصْبِرُواْ وَتَتَّقُواْ لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا} [آل عمران: 120] ، وقال تعالى: {إِن تُصِبْكَ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِن تُصِبْكَ مُصِيبَةٌ يَقُولُواْ قَدْ أَخَذْنَا أَمْرَنَا مِن قَبْلُ وَيَتَوَلَّواْ وَّهُمْ فَرِحُونَ} [التوبة: 50] ، وقال تعالى: {وَبَلَوْنَاهُمْ بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} [الأعراف: 168] وقال تعالى: {إِذَا أَذَقْنَا الْإِنسَانَ مِنَّا رَحْمَةً فَرِحَ بِهَا وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ فَإِنَّ الْإِنسَانَ كَفُورٌ} [الشورى: 48] ، وقال تعالى في حق الكفار المتطيرين بموسى ومن معه: {فإِذَا جَاءتْهُمُ الْحَسَنَةُ قَالُواْ لَنَا هَذِهِ
তাঁর বাণী: {যদি তাদের কোনো বিপদ পৌঁছে} -এর মধ্যে সর্বনামটি পূর্বে যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাদের দিকে ফিরেছে, আর তারা হলো "যারা মানুষকে ভয় করে"; অথবা এটি কোনো পরিচিত বিষয়ের দিকে ফিরেছে, যদিও তা উল্লেখ করা হয়নি, যেমনটি অনেক স্থানেই হয়ে থাকে।

বলা হয়েছে যে, তারা ছিল ইহুদি কাফির। আবার বলা হয়েছে, তারা ছিল মুনাফিক। আরও বলা হয়েছে, বরং তারা এই উভয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর অর্থ এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে শামিল করে যার অবস্থা অনুরূপ, তবে যারা ইসলাম প্রকাশ করেছে এবং যাদের জিহাদের আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হওয়া অধিকতর যুক্তিযুক্ত।

অতঃপর যদি এই নিন্দা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তবে যে সকল কাফির ইসলাম প্রকাশ করে না, তাদের জন্য এটি আরও বেশি প্রযোজ্য ও অগ্রগণ্য।

অধিকাংশ মুফাসসিরের মত হলো: "হাসানাহ" (কল্যাণ) ও "সাইয়্যিয়াহ" (অকল্যাণ) দ্বারা নিয়ামত ও বিপদ-আপদ উদ্দেশ্য, কেবল মানুষের ইচ্ছাকৃত কর্মসমূহ এর উদ্দেশ্য নয়, যেগুলোকে পুণ্য বা পাপ হিসেবে গণ্য করা হয়।

পরিচ্ছেদ

আল্লাহর কিতাবে "হাসানাত" ও "সাইয়্যিআত" শব্দ দুটি এটি ও সেটি উভয়কেই শামিল করে। আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেছেন: {তোমাদের কোনো কল্যাণ স্পর্শ করলে তা তাদের কষ্ট দেয় এবং তোমাদের কোনো বিপদ পৌঁছলে তাতে তারা আনন্দিত হয়; আর যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না} [আল ইমরান: ১২০], তিনি আরও বলেছেন: {যদি তোমার কোনো কল্যাণ হয়, তবে তা তাদের কষ্ট দেয়। আর যদি তোমার কোনো বিপদ পৌঁছে, তবে তারা বলে: "আমরা তো পূর্বেই আমাদের ফয়সালা করে নিয়েছি" এবং তারা আনন্দিত মনে মুখ ফিরিয়ে নেয়} [আত-তাওবাহ: ৫০], তিনি আরও বলেছেন: {আর আমি তাদেরকে কল্যাণ ও অকল্যাণ দ্বারা পরীক্ষা করেছি যাতে তারা ফিরে আসে} [আল-আরাফ: ১৬৮], তিনি আরও বলেছেন: {আমি যখন মানুষকে আমার পক্ষ থেকে কোনো রহমতের আস্বাদ গ্রহণ করাই, তখন সে এতে আনন্দিত হয়; আর যদি তাদের নিজেদের হাতের অর্জিত কর্মের কারণে তাদের কোনো বিপদ পৌঁছে, তবে মানুষ চরম অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে} [আশ-শুরা: ৪৮], এবং মুসা ও তাঁর সাথীদের মাধ্যমে কুলক্ষণ গ্রহণকারী কাফিরদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {অতঃপর যখন তাদের কাছে কল্যাণ আসত, তখন তারা বলত: "এটি আমাদেরই প্রাপ্য"}
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
َإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَطَّيَّرُواْ بِمُوسَى وَمَن مَّعَهُ} ذكر هذا بعد قوله: {وَلَقَدْ أَخَذْنَا آلَ فِرْعَونَ بِالسِّنِينَ وَنَقْصٍ مِّن الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ} [الأعراف: 130، 131] .

وأما الأعمال المأمور بها والمنهي عنها ففى مثل قوله تعالى: {مَن جَاء بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ خَيْرٌ مِّنْهَا} [القصص: 84] {وَمَن جَاء بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَى إِلَاّ مِثْلَهَا} [الأنعام: 160] ، وقوله تعالى: {إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ} [هود: 114] ، وقوله تعالى: {فَأُوْلَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا} [الفرقان: 70] .

وهنا قال: {مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللهِ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ} [النساء: 79] ولم يقل: وما فعلت، وما كسبت، كما قال: {وَمَا أَصَابَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ} [الشورى: 30] وقال تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللهُ أَن يُصِيبَهُم بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ} [المائدة: 49] ، وقال تعالى: {قُلْ هَلْ تَرَبَّصُونَ بِنَا إِلَاّ إِحْدَى الْحُسْنَيَيْنِ وَنَحْنُ نَتَرَبَّصُ بِكُمْ أَن يُصِيبَكُمُ اللهُ بِعَذَابٍ مِّنْ عِندِهِ أَوْ بِأَيْدِينَا} [التوبة: 52] ، وقال تعالى: {وَلَا يَزَالُ الَّذِينَ كَفَرُواْ تُصِيبُهُم بِمَا صَنَعُواْ قَارِعَةٌ أَوْ تَحُلُّ قَرِيبًا مِّن دَارِهِمْ} [الرعد: 31] ، وقال تعالى: {فَأَصَابَتْكُم مُّصِيبَةُ الْمَوْتِ} [المائدة: 106] وقال تعالى: {وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ
"যদি তাদের কোনো অকল্যাণ স্পর্শ করত, তবে তারা মূসা এবং তাঁর সাথীদের কুলক্ষণ মনে করত।" এটি তিনি তাঁর এই বাণীর পর উল্লেখ করেছেন: "আর আমি ফেরাউনের অনুসারীদেরকে দুর্ভিক্ষ এবং ফল-ফসলের ঘাটতি দ্বারা পাকড়াও করেছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।" [আল-আরাফ: ১৩০, ১৩১]।

আর আদিষ্ট এবং নিষিদ্ধ কার্যাবলীর ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণী যেমন: "যে কেউ সৎকাজ নিয়ে আসবে, তার জন্য তার চেয়েও উত্তম প্রতিদান রয়েছে।" [আল-কাসাস: ৮৪] "আর যে কেউ মন্দ কাজ নিয়ে আসবে, তাকে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফলই দেওয়া হবে।" [আল-আনআম: ১৬০], এবং মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ পাপসমূহকে দূর করে দেয়। উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য এটি এক উপদেশ।" [হুদ: ১১৪], এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তবে আল্লাহ তাদের পাপসমূহকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন এবং আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [আল-ফুরকান: ৭০]।

আর এখানে তিনি বলেছেন: "তোমার যে কল্যাণ হয় তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর তোমার যে অকল্যাণ হয় তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে।" [আন-নিসা: ৭৯]। তিনি "তুমি যা করেছ" বা "তুমি যা অর্জন করেছ" বলেননি, যেমনটি তিনি বলেছেন: "তোমাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়, তা তোমাদের হাত যা অর্জন করেছে তারই কারণে।" [আশ-শূরা: ৩০]। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "তবে জেনে রেখো, আল্লাহ তাদের কোনো কোনো পাপের কারণে তাদের বিপদে ফেলতে চান।" [আল-মায়িদাহ: ৪৯]। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "বলুন, তোমরা কি আমাদের জন্য দুটি কল্যাণের একটির প্রতীক্ষা করছ না? আর আমরা তোমাদের জন্য প্রতীক্ষা করছি যে, আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আজাব দেবেন অথবা আমাদের হাতের মাধ্যমে।" [আত-তাওবাহ: ৫২]। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "আর যারা কুফরি করেছে, তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ওপর বিপর্যয় আসতেই থাকবে অথবা তা তাদের গৃহের সন্নিকটে আপতিত হবে।" [আর-রাদ: ৩১]। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "অতঃপর তোমাদের ওপর মৃত্যুর বিপদ আসে।" [আল-মায়িদাহ: ১০৬]। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন..."
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُواْ إِنَّا لِلّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعونَ} [البقرة: 155، 156] .

فلهذا كان قوله: {مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ} و {مِن سَيِّئَةٍ} متناول لما يصيب الإنسان، ويأتيه من النعم التي تسره، ومن المصائب التي تسوءه.

فالآية متناولة لهذا قطعاً، وكذلك قال عامة المفسرين.

قال أبو العالية: {وَإِن تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ يَقُولُواْ هَذِهِ مِنْ عِندِ اللهِ} قال: هذه في السراء {وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَقُولُواْ هَذِهِ مِنْ عِندِكَ} قال: وهذه في الضراء.

وقال السدى: {وَإِن تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ} : قالوا: والحسنة؛ الخصب؛ ينتج خيولهم وأنعامهم ومواشيهم، ويحسن حالهم، وتلد نساؤهم الغلمان قالوا: {هَذِهِ مِنْ عِندِ اللهِ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ} قالوا والسيئة: الضرر في أموالهم، تشائما بمحمد قالوا: {هَذِهِ مِنْ عِندِكَ} يقولون: بتركنا ديننا، واتباعنا محمداً أصابنا هذا البلاء، فأنزل الله: {قُلْ كُلًّ مِّنْ عِندِ اللهِ} الحسنة والسيئة {فَمَا لِهَؤُلاء الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا} قال القرآن.

وقال الوالبي عن ابن عباس: {مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللهِ} قال: ما فتح الله عليك يوم بدر، وكذلك قال الضحاك.

وقال الوالبي أيضا عن ابن عباس: {مِنْ حَسَنَةٍ} قال: ما أصاب من الغنيمة والفتح فمن الله، قال: " والسيئة " ما أصابه يوم أحد؛ إذ شُجّ في وجهه،
যাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে তারা বলে, আমরা আল্লাহরই জন্য এবং তাঁরই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন [আল-বাকারাহ: ১৫৫, ১৫৬] ।

এ কারণেই তাঁর বাণী: "তোমার নিকট যে কল্যাণ পৌঁছে" এবং "যে অকল্যাণ পৌঁছে" তা মানুষের ওপর যা কিছু আপতিত হয় তাকে অন্তর্ভুক্ত করে; চাই তা তাকে আনন্দিত করার মতো নেয়ামত হোক, কিংবা তাকে ব্যথিত করার মতো বিপদ হোক।

আয়াতটি নিশ্চিতভাবেই এ বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং সাধারণ মুফাসসিরগণও অনুরূপ বলেছেন।

আবু আল-আলিয়াহ বলেছেন: "যদি তাদের নিকট কোনো কল্যাণ পৌঁছে, তবে তারা বলে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে।" তিনি বলেন: এটি সচ্ছলতার ক্ষেত্রে। "আর যদি তাদের নিকট কোনো অকল্যাণ পৌঁছে, তবে তারা বলে, এটি আপনার পক্ষ থেকে।" তিনি বলেন: এটি দুর্দশার ক্ষেত্রে।

আস-সুদ্দী বলেছেন: "যদি তাদের নিকট কোনো কল্যাণ পৌঁছে": তারা বলে, আর কল্যাণ হলো প্রাচুর্য; তাদের ঘোড়া, গবাদি পশু ও চতুষ্পদ জন্তুর বংশবৃদ্ধি হওয়া, তাদের অবস্থার উন্নতি ঘটা এবং তাদের স্ত্রীদের পুত্রসন্তান প্রসব করা। তারা বলে: "এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যদি তাদের নিকট কোনো অকল্যাণ পৌঁছে," তারা বলে, আর অকল্যাণ হলো তাদের ধন-সম্পদের ক্ষতি। মুহাম্মাদের প্রতি কুলক্ষণ আরোপ করে তারা বলে: "এটি আপনার পক্ষ থেকে।" তারা বলে: আমাদের ধর্ম বর্জন করা এবং মুহাম্মাদের অনুসরণ করার কারণেই আমাদের ওপর এই মুসিবত আপতিত হয়েছে। তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: "বলুন, সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে।" অর্থাৎ কল্যাণ ও অকল্যাণ। "তবে এই কওমের কী হলো যে, তারা কথা বুঝতে চায় না?" অর্থাৎ কুরআন।

আল-ওয়ালিবি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: "তোমার নিকট যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে," তিনি বলেন: বদরের দিনে আল্লাহ আপনাকে যে বিজয় দান করেছেন। দাহহাকও অনুরূপ বলেছেন।

আল-ওয়ালিবি পুনরায় ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: "কল্যাণ" সম্পর্কে তিনি বলেন: গনিমত ও বিজয় হিসেবে যা অর্জিত হয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। তিনি বলেন: "আর অকল্যাণ" হলো উহুদের দিনে যা তাঁর ওপর আপতিত হয়েছিল; যখন তাঁর মুখমণ্ডল জখম হয়েছিল,
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وكسرت رَبَاعيتَهُ.

وقال: أما " الحسنة " فأنعم الله بها عليك، وأما " السيئة " فابتلاك الله بها.

وروى أيضا عن حجاج عن عطية عن ابن عباس: {مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللهِ} قال: هذا يوم بَدْر {أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ} قال: هذا يوم أُحُد. يقول: ما كان من نَكْبَة فمن ذنبك، وأنا قدرت ذلك عليك.

وكذلك روى ابن عيينة، عن إسماعيل بن أبى خالد، عن أبى صالح: {فَمِن نَّفْسِكَ} قال: فبذنبك، وأنا قدرتها عليك. روى هذه الآثار ابن أبى حاتم وغيره.

وروى أيضًا عن مُطرِّف بن عبد الله بن الشِّخِّير قال: ما تريدون من القدر؟ أما تكفيكم هذه الآية التي في سورة النساء: {وَإِن تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ يَقُولُواْ هَذِهِ مِنْ عِندِ اللهِ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَقُولُواْ هَذِهِ مِنْ عِندِكَ} ؟ [النساء: 78] أي: من نفسك، والله ما وكلوا إلى القدر، وقد أمروا به، وإليه يصيرون.

وكذلك في تفسير أبى صالح عن ابن عباس: {إِن تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ} : الخصب والمطر {وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ} : الجدب والبلاء.

وقال ابن قتيبة: {مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللهِ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ} قال: الحسنة النعمة، والسيئة: البلية.

وقد ذكر أبو الفرج في قوله: {مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ} و {مِن سَيِّئَةٍ} ثلاثة أقوال:

أحدها: أن الحسنة: ما فتح الله عليهم يوم بدر، والسيئة: ما أصابهم يوم أحد. قال: رواه ابن أبى طلحة وهو الوالبي عن ابن عباس.

قال: والثاني: الحسنة: الطاعة، والسيئة: المعصية. قاله أبو العالية.
এবং তাঁর সামনের পাটির দাঁত ভেঙে ফেলা হয়েছিল।

এবং তিনি বললেন: "কল্যাণ" এর বিষয় হলো আল্লাহ তা তোমাকে অনুগ্রহ হিসেবে দান করেছেন, আর "অকল্যাণ" এর বিষয় হলো আল্লাহ তা দিয়ে তোমাকে পরীক্ষায় ফেলেছেন।

হাজ্জাজ থেকে আতিয়্যাহর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: {আপনার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে} তিনি বলেন: এটি বদর যুদ্ধের দিন সম্পর্কে। {আর আপনার ওপর যে অকল্যাণ আপতিত হয় তা আপনার নিজের কারণে} তিনি বলেন: এটি উহুদ যুদ্ধের দিন সম্পর্কে। তিনি বলেন: যে বিপদই আসুক তা আপনার পাপের কারণে, আর আমি তা আপনার ওপর নির্ধারণ করেছি।

একইভাবে ইবনে উয়াইনাহ, ইসমাইল বিন আবি খালিদ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন: {আপনার নিজের কারণে} তিনি বলেন: অর্থাৎ আপনার পাপের কারণে, আর আমি তা আপনার ওপর অবধারিত করেছি। ইবনে আবি হাতিম ও অন্যান্যরা এই বর্ণনাগুলো উদ্ধৃত করেছেন।

মুতাররিফ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-শিখখির থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: তোমরা তাকদির থেকে আর কী চাও? সূরা নিসার এই আয়াতটি কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয়: {যদি তাদের কোনো কল্যাণ পৌঁছে তবে তারা বলে, "এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে"; আর যদি তাদের কোনো অকল্যাণ স্পর্শ করে তবে তারা বলে, "এটি আপনার পক্ষ থেকে"}? [নিসা: ৭৮] অর্থাৎ: আপনার নিজের পক্ষ থেকে। আল্লাহর কসম, তারা কেবল তাকদিরের ওপরই সোপর্দ হয়নি, বরং তাদেরকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে এবং তারা সেদিকেই প্রত্যাবর্তন করবে।

একইভাবে আবু সালিহর তাফসিরে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: {যদি তাদের কোনো কল্যাণ পৌঁছে}: অর্থাৎ উর্বরতা ও বৃষ্টি; {আর যদি তাদের কোনো অকল্যাণ স্পর্শ করে}: অর্থাৎ অনাবৃষ্টি ও বিপদ।

ইবনে কুতাইবাহ বলেছেন: {আপনার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর আপনার ওপর যে অকল্যাণ আপতিত হয় তা আপনার নিজের কারণে}। তিনি বলেন: কল্যাণ হলো নেয়ামত, আর অকল্যাণ হলো পরীক্ষা।

আবুল ফারাজ আল্লাহর বাণী {আপনার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে} এবং {অকল্যাণ থেকে} এর ব্যাখ্যায় তিনটি মত উল্লেখ করেছেন:

প্রথমটি: কল্যাণ হলো যা আল্লাহ বদর যুদ্ধের দিন তাদের বিজয় দান করেছিলেন, আর অকল্যাণ হলো যা উহুদ যুদ্ধের দিন তাদের ওপর আপতিত হয়েছিল। তিনি বলেন: ইবনে আবি তালহা এটি বর্ণনা করেছেন, যিনি আল-ওয়ালিবি নামে পরিচিত, ইবনে আব্বাস থেকে।

তিনি বলেন: দ্বিতীয়টি: কল্যাণ হলো আনুগত্য, আর অকল্যাণ হলো পাপাচার। আবুল আলিয়াহ এটি বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
والثالث: الحسنة: النعمة، والسيئة: البلية. قاله ابن مُنَبِّه. قال: وعن أبى العالية نحوه. وهو أصح.

قلت: هذا هو القول المعروف بالإسناد عن أبي العالية، كما تقدم من تفسيره المعروف الذي يروى عنه هو وغيره، من طريق أبى جعفر الدارى عن الربيع بن أنس عنه وأمثاله.

وأما الثاني فهو لم يذكر إسناده، ولكن ينقل من كتب المفسرين الذين يذكرون أقوال السلف بلا إسناد، وكثير منها ضعيف، بل كذب لا يثبت عمن نقل عنه. وعامة المفسرين المتأخرين أيضا يفسرونه على مثل أقوال السلف، وطائفة منهم تحملها على الطاعة والمعصية.

فأما الصنف الأول، فهي تتناوله قطعا. كما يدل عليه لفظها وسياقها ومعناها وأقوال السلف.

وأما المعنى الثاني، فليس مراداً دون الأول قطعاً، ولكن قد يقال: إنه مراد مع الأول؛ باعتبار أن ما يهديه الله إليه من الطاعة هو نعمة في حقه من اللّّه أصابته، وما يقع منه من المعصية هو سيئة أصابته، ونفسه التي عملت السيئة. وإذا كان الجزاء من نفسه، فالعمل الذي أوجب الجزاء أولى أن يكون من نفسه.

فلا منافاة أن تكون سيئة العمل وسيئة الجزاء من نفسه، مع أن الجميع مقدر كما تقدم. وقد روى عن مجاهد عن ابن عباس؛ أنه كان يقرأ: " فمن نفسك وأنا قدرتها عليك ".
এবং তৃতীয়টি: কল্যাণ (হাসানাহ) হলো নেয়ামত, আর অকল্যাণ (সাইয়্যিআহ) হলো বিপদ। ইবনে মুনাব্বিহ এমনটি বলেছেন। তিনি বলেন: আবুল আলিয়াহ থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ।

আমি বলি: এটিই আবুল আলিয়াহ থেকে সনদসহ সুপরিচিত মত, যেমনটি ইতিপূর্বে তাঁর সুপরিচিত তাফসির থেকে বর্ণিত হয়েছে যা তাঁর থেকে এবং অন্যদের থেকে আবু জাফর আদ-দারি কর্তৃক আর-রাবি বিন আনাস এবং তাঁর সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে।

আর দ্বিতীয় মতটির কথা বলতে গেলে, তিনি সেটির কোনো সনদ উল্লেখ করেননি, বরং এটি মুফাসসিরদের সেই সকল কিতাব থেকে উদ্ধৃত হয়েছে যারা পূর্বসূরিদের বক্তব্য সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেন। যার অনেকগুলোই দুর্বল, এমনকি মিথ্যাও বটে যা যার থেকে বর্ণিত হয়েছে তার থেকে প্রমাণিত নয়। পরবর্তী প্রজন্মের সাধারণ মুফাসসিরগণও একে সালাফদের বক্তব্যের মতোই ব্যাখ্যা করেন, তবে তাদের একটি দল একে আনুগত্য ও অবাধ্যতা অর্থে গ্রহণ করেছেন।

প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে বলা যায়, আয়াতটি নিশ্চিতভাবে একে শামিল করে। যেমনটি এর শব্দাবলী, প্রেক্ষাপট, অর্থ এবং সালাফদের বক্তব্য দ্বারা নির্দেশিত হয়।

আর দ্বিতীয় অর্থের ক্ষেত্রে বলা যায়, এটি প্রথমটিকে বাদ দিয়ে নিশ্চিতভাবেই একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, তবে বলা যেতে পারে যে: এটি প্রথমটির সাথে উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য হতে পারে; এই বিবেচনায় যে, আল্লাহ তাকে আনুগত্যের যে হিদায়াত দেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য একটি নেয়ামত যা তাকে স্পর্শ করেছে, আর তার থেকে যে অবাধ্যতা ঘটে তা হলো একটি মন্দ যা তাকে স্পর্শ করেছে এবং তার প্রবৃত্তিই সেই মন্দ কাজটি করেছে। আর যদি প্রতিদান তার নিজের পক্ষ থেকে হয়, তবে যে আমল বা কর্ম প্রতিদানকে অপরিহার্য করেছে তা তার নিজের পক্ষ থেকেই হওয়ার ব্যাপারে অধিকতর দাবি রাখে।

সুতরাং কর্মের মন্দ এবং প্রতিদানের মন্দ উভয়ই তার নিজের পক্ষ থেকে হওয়ার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, যদিও সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত যেমনটি আগে গত হয়েছে। মুজাহিদ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি পাঠ করতেন: "তবে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে, আর আমি তা তোমার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছিলাম।"
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
فصل

والمعصية الثانية قد تكون عقوبة الأولى، فتكون من سيئات الجزاء مع أنها من سيئات العمل.

قال النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث المتفق على صحته عن ابن مسعود رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: " عليكم بالصِدْق؛ إن الصدق يهدى إلى البِرِّ، والبر يهدى إلى الجنة، ولا يزال الرجل يصدق، ويَتَحَرَّى الصدق، حتى يكتب عند الله صِدِّيقا. وإياكم والكذب؛ فإن الكذب يهدي إلى الفجور، والفجور يهدى إلى النار، ولا يزال الرجل يكذب، ويتحرى الكذب حتى يكتب عند الله كَذَّاباً ".

وقد ذكر في غير موضع من القرآن ما يبين أن الحسنة الثانية قد تكون من ثواب الأولى، وكذلك السيئة الثانية قد تكون من عقوبة الأولى، قال تعالى: {وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُواْ مَا يُوعَظُونَ بِهِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُمْ وَأَشَدَّ تَثْبِيتًا وَإِذاً لَّآتَيْنَاهُم مِّن لَّدُنَّا أَجْراً عَظِيمًا وَلَهَدَيْنَاهُمْ صِرَاطًا مُّسْتَقِيمًا} [النساء: 66 68] ، وقال تعالى: {وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا} [العنكبوت: 69] . وقال تعالى: {وَالَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَن يُضِلَّ أَعْمَالَهُمْ سَيَهْدِيهِم وَيُصْلِحُ بَالَهُمْ وَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ عَرَّفَهَا لَهُمْ} [محمد: 4- 6] ، وقال تعالى: {ثُمَّ كَانَ عَاقِبَةَ الَّذِينَ أَسَاؤُوا السُّوأَى} [الروم: 10] ، وقال تعالى: {وَكِتَابٌ مُّبِينٌ يَهْدِي بِهِ اللهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ} [المائدة: 15، 16] ، وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ
পরচ্ছেদ

দ্বিতীয় পাপাচারটি প্রথমটির শাস্তি হতে পারে, ফলে তা কর্মের পাপাচারের পাশাপাশি শাস্তিস্বরূপ পাপাচার হিসেবেও গণ্য হয়।

ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এবং বিশুদ্ধতার ব্যাপারে ঐকমত্যপূর্ণ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা সত্যবাদিতাকে আঁকড়ে ধরো; কারণ সত্যবাদিতা নেক আমলের দিকে পরিচালিত করে এবং নেক আমল জান্নাতের দিকে পরিচালিত করে। একজন ব্যক্তি সর্বদা সত্য বলতে থাকে এবং সত্যনিষ্ঠ হতে সচেষ্ট থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহর কাছে তাকে মহা সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়। আর তোমরা মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকো; কারণ মিথ্যা পাপাচারের দিকে পরিচালিত করে এবং পাপাচার জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করে। একজন ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা বলতে থাকে এবং মিথ্যা অনুসন্ধানে লিপ্ত থাকে, যতক্ষণ না আল্লাহর কাছে তাকে মহা মিথ্যাবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।"

কুরআনের একাধিক স্থানে এ বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে যা স্পষ্ট করে যে, দ্বিতীয় নেক আমলটি প্রথমটির প্রতিদান হতে পারে, আর একইভাবে দ্বিতীয় পাপাচারটি প্রথমটির শাস্তি হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যদি তারা তা-ই করতো যার উপদেশ তাদের দেওয়া হয়েছে, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো এবং তাদের সুদৃঢ় রাখার ক্ষেত্রে অধিক সহায়ক হতো। আর তখন আমি অবশ্যই তাদের আমার পক্ষ থেকে মহান প্রতিদান দান করতাম। এবং অবশ্যই তাদের সরল পথে পরিচালিত করতাম।} [আন-নিসা: ৬৬-৬৮]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যারা আমার পথে সাধনা করে, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথে পরিচালিত করবো।} [আল-আনকাবূত: ৬৯]। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তিনি কখনোই তাদের আমলসমূহ নষ্ট করবেন না। তিনি অচিরেই তাদের পথপ্রদর্শন করবেন, তাদের অবস্থা সংশোধন করে দেবেন এবং তাদের সেই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পরিচয় তিনি তাদের দিয়েছেন।} [মুহাম্মাদ: ৪-৬]। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যারা মন্দ কাজ করেছে তাদের পরিণাম হয়েছে মন্দ।} [আর-রূম: ১০]। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং এক সুস্পষ্ট কিতাব, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে।} [আল-মায়িদাহ: ১৫, ১৬]। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো, তিনি তোমাদের তাঁর রহমতের দ্বিগুণ অংশ দান করবেন...} [আল-হাদীদ: ২৮]
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
مِن رَّحْمَتِهِ وَيَجْعَل لَّكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ وَيَغْفِرْ لَكُمْ} [الحديد: 28] ، وقال تعالى: {وَفِي نُسْخَتِهَا هُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلَّذِينَ هُمْ لِرَبِّهِمْ يَرْهَبُونَ} [الأعراف: 154] ، وقال تعالى: {هَذَا بَيَانٌ لِّلنَّاسِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةٌ لِّلْمُتَّقِينَ} [آل عمران: 138] ، وقال تعالى: {قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاء وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِي آذَانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى} [فصلت: 44] ، وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَواْ إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِّنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُواْ فَإِذَا هُم مُّبْصِرُونَ وَإِخْوَانُهُمْ يَمُدُّونَهُمْ فِي الْغَيِّ ثُمَّ لَا يُقْصِرُونَ} [الأعراف: 201، 202] ، وقال تعالى: {كَذَلِكَ لِنَصْرِفَ عَنْهُ السُّوءَ وَالْفَحْشَاء إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُخْلَصِينَ} [يوسف: 24] ، وقال تعالى: {وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ} [يوسف: 22] ، وقال تعالى: {وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَاسْتَوَى آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ} [القصص: 14] ، وقال تعالى: {الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوا عَن سَبِيلِ اللَّهِ أَضَلَّ أَعْمَالَهُمْ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَآمَنُوا بِمَا نُزِّلَ عَلَى مُحَمَّدٍ وَهُوَ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ كَفَّرَ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَأَصْلَحَ بَالَهُمْ ذَلِكَ بِأَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا اتَّبَعُوا الْبَاطِلَ وَأَنَّ الَّذِينَ آمَنُوا اتَّبَعُوا الْحَقَّ مِن رَّبِّهِمْ كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ لِلنَّاسِ أَمْثَالَهُمْ} [محمد: 1-3] ، وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُم} [الأحزاب: 70، 71] ، وقال تعالى: {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِن تَوَلَّوا فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُم مَّا حُمِّلْتُمْ وَإِن تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ} [النور: 54] .

قال أبو عثمان النيسابورى: من أمّر السنة على نفسه قولا وفعلاً نطق بالحكمة، ومن أمر الهوى على نفسه قولا وفعلا نطق بالبدعة؛ لأن الله تعالى يقول: {وَإِن تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا} .
...তাঁর রহমত থেকে এবং তিনি তোমাদের জন্য এক নূর প্রদান করবেন যা দ্বারা তোমরা পথ চলবে এবং তিনি তোমাদের ক্ষমা করবেন।" [আল-হাদিদ: ২৮], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "এবং তার কপিতে ছিল হিদায়াত ও রহমত তাদের জন্য যারা তাদের রবকে ভয় করে।" [আল-আরাফ: ১৫৪], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "এটি মানুষের জন্য এক বর্ণনা এবং মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত ও উপদেশ।" [আলে ইমরান: ১৩৮], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, এটি মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও শেফা। আর যারা ঈমান আনে না তাদের কানে রয়েছে বধিরতা এবং এটি তাদের ওপর অন্ধত্ব স্বরূপ।" [ফুসসিলাত: ৪৪], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, যখন শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা তাদের স্পর্শ করে তখন তারা (আল্লাহকে) স্মরণ করে, ফলে তৎক্ষণাৎ তারা সত্য দর্শনকারী হয়। আর তাদের (শয়তানদের) ভাইয়েরা তাদেরকে পথভ্রষ্টতার দিকে টেনে নিয়ে যায়, অতপর তারা কোনো ত্রুটি করে না।" [আল-আরাফ: ২০১, ২০২], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "এভাবেই, যাতে আমি তার থেকে মন্দ ও অশ্লীলতা দূর করে দেই। নিশ্চয়ই সে আমার একনিষ্ঠ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।" [ইউসুফ: ২৪], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আর যখন সে পূর্ণ যৌবনে উপনীত হলো, আমি তাকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করলাম। আর এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি।" [ইউসুফ: ২২], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আর যখন সে পূর্ণ যৌবনে উপনীত হলো এবং সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, আমি তাকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করলাম। আর এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি।" [আল-কাসাস: ১৪], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "যারা কুফরী করেছে এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা দিয়েছে, তিনি তাদের আমলসমূহ নষ্ট করে দিয়েছেন। আর যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং মুহাম্মাদের ওপর যা নাযিল করা হয়েছে তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে—আর তা তাদের রবের পক্ষ থেকে আগত সত্য—তিনি তাদের থেকে তাদের মন্দ কাজগুলো দূর করে দিয়েছেন এবং তাদের অবস্থা সংশোধন করে দিয়েছেন। এটা এ কারণে যে, যারা কুফরী করেছে তারা বাতিলের অনুসরণ করেছে এবং যারা ঈমান এনেছে তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে আগত সত্যের অনুসরণ করেছে। এভাবেই আল্লাহ মানুষের জন্য তাদের দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন।" [মুহাম্মাদ: ১-৩], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন।" [আল-আহযাব: ৭০, ৭১], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো। অতপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য কেবল তিনিই দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী। আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো তবে তোমরা হিদায়াত পাবে। আর রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।" [আন-নূর: ৫৪]।

আবু উসমান আন-নাইসাবুরী বলেন: "যে ব্যক্তি কথা ও কাজে সুন্নাহকে নিজের ওপর শাসক নিযুক্ত করে, সে হিকমত বা প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা বলে। আর যে ব্যক্তি কথা ও কাজে প্রবৃত্তিকে নিজের ওপর শাসক নিযুক্ত করে, সে বিদআতপূর্ণ কথা বলে। কারণ মহান আল্লাহ বলেন: 'আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো তবে তোমরা হিদায়াত পাবে'।"
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
قلت: وقد قال في آخر السورة: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] .

وقال تعالى: {وَمَا يُشْعِرُكُمْ أَنَّهَا إِذَا جَاءتْ لَا يُؤْمِنُونَ وَنُقَلِّبُ أَفْئِدَتَهُمْ وَأَبْصَارَهُمْ كَمَا لَمْ يُؤْمِنُواْ بِهِ أَوَّلَ مَرَّةٍ} [الأنعام: 109، 110] ، وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ تَوَلَّوْاْ مِنكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ إِنَّمَا اسْتَزَلَّهُمُ الشَّيْطَانُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُواْ وَلَقَدْ عَفَا اللهُ عَنْهُمْ} [آل عمران: 155] ، وقال تعالى: {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ لِمَ تُؤْذُونَنِي وَقَد تَّعْلَمُونَ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ} إلى قوله: {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُوَ يُدْعَى إِلَى الْإِسْلَامِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ} : [الصف: 5 7] ، وقال تعالى: {قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَل لَّعَنَهُمُ اللَّه بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيلاً مَّا يُؤْمِنُونَ} [البقرة: 88] ، وقال تعالى أيضا: {وَقَوْلِهِمْ قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَلْ طَبَعَ اللهُ عَلَيْهَا بِكُفْرِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُونَ إِلَاّ قَلِيلاً} [النساء: 155] وقال تعالى: {فَبُهِتَ الَّذِي كَفَرَ وَاللهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ} [البقرة: 258] ، وقال تعالى: {وَيَوْمَ حُنَيْنٍ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنكُمْ شَيْئًا وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُم مُّدْبِرِينَ ثُمَّ أَنَزلَ اللهُ سَكِينَتَهُ عَلَى رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَنزَلَ جُنُودًا لَّمْ تَرَوْهَا وَعذَّبَ الَّذِينَ كَفَرُواْ} [التوبة: 25،26] ، وقال تعالى في النوعين: {إِذْ يُوحِي رَبُّكَ إِلَى الْمَلآئِكَةِ أَنِّي مَعَكُمْ فَثَبِّتُواْ الَّذِينَ آمَنُواْ سَأُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُواْ الرَّعْبَ فَاضْرِبُواْ فَوْقَ الأَعْنَاقِ وَاضْرِبُواْ مِنْهُمْ كُلَّ بَنَانٍ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ شَآقُّواْ اللهَ وَرَسُولَهُ} [الأنفال: 12،13] ، وقال تعالى: {سَنُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُواْ الرُّعْبَ بِمَا أَشْرَكُواْ بِاللهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَمَأْوَاهُمُ النَّارُ وَبِئْسَ مَثْوَى الظَّالِمِينَ} [آل عمران: 151] ، وقال تعالى: {هُوَ الَّذِي أَخْرَجَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مِن دِيَارِهِمْ لِأَوَّلِ الْحَشْرِ مَا ظَنَنتُمْ أَن يَخْرُجُوا
আমি বলছি: তিনি সূরাহর শেষে বলেছেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে।} [আন-নূর: ৬৩]।

মহান আল্লাহ বলেন: {আর কিসে তোমাদেরকে উপলব্ধি করাবে যে, যখন তা আসবে তখনও তারা ঈমান আনবে না? আর আমি তাদের অন্তরসমূহ ও তাদের চোখসমূহকে উল্টে দেব, যেভাবে তারা এতে প্রথমবার ঈমান আনেনি।} [আল-আনআম: ১০৯, ১১০], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে যারা পিঠ দেখিয়ে চলে গিয়েছিল যেদিন দুই দল পরস্পর সম্মুখীন হয়েছিল, শয়তান তো তাদের অর্জিত কিছু গুনাহের কারণে তাদের পদস্খলন ঘটিয়েছিল। আর অবশ্যই আল্লাহ তাদের ক্ষমা করেছেন।} [আলে ইমরান: ১৫৫], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন মুসা তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন: হে আমার সম্প্রদায়! কেন তোমরা আমাকে কষ্ট দিচ্ছ অথচ তোমরা জানো যে আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসুল? তারপর যখন তারা বক্রতা অবলম্বন করল, আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহকে বক্র করে দিলেন। আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে পথ দেখান না।} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {আর সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে অথচ তাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করা হয়? আর আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে পথ দেখান না।} [আস-সাফ: ৫-৭], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আমাদের অন্তরসমূহ আবৃত; বরং তাদের কুফরির কারণে আল্লাহ তাদের লানত করেছেন, তাই তারা খুব অল্পই ঈমান আনে।} [আল-বাকারাহ: ৮৮], এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর তাদের এই বলার কারণে যে, ‘আমাদের অন্তরসমূহ আবৃত’; বরং তাদের কুফরির কারণে আল্লাহ তাতে মোহর মেরে দিয়েছেন, ফলে তারা খুব সামান্যই ঈমান আনে।} [আন-নিসা: ১৫৫], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর যে কুফরি করেছিল সে হতভম্ব হয়ে গেল। আর আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে পথ দেখান না।} [আল-বাকারাহ: ২৫৮], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর হুনাইনের দিনে, যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদেরকে আনন্দিত করেছিল, কিন্তু তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি এবং জমিন তার প্রশস্ততা সত্ত্বেও তোমাদের ওপর সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, তারপর তোমরা পিঠ দেখিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলে। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসুলের ওপর এবং মুমিনদের ওপর তাঁর প্রশান্তি নাজিল করেন এবং এমন এক বাহিনী অবতীর্ণ করেন যা তোমরা দেখতে পাওনি এবং যারা কুফরি করেছিল তাদের শাস্তি প্রদান করেন।} [আত-তাওবাহ: ২৫, ২৬], এবং মহান আল্লাহ উভয় প্রকারের বিষয়ে বলেন: {যখন আপনার রব ফেরেশতাদের প্রতি ওহি পাঠাচ্ছিলেন যে, ‘আমি তোমাদের সাথে আছি, সুতরাং তোমরা মুমিনদের সুদৃঢ় রাখো। অচিরেই আমি কাফেরদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করব, সুতরাং তোমরা তাদের ঘাড়ের ওপর আঘাত করো এবং তাদের প্রত্যেক আঙুলের গিঁটে আঘাত করো।’ এটি এজন্য যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরোধিতা করেছিল।} [আল-আনফাল: ১২, ১৩], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অচিরেই আমি কাফেরদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করব, যেহেতু তারা আল্লাহর সাথে শরিক করেছে যার সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ নাজিল করেননি। আর তাদের আবাসস্থল হলো আগুন এবং জালেমদের আবাসস্থল কতই না মন্দ!} [আলে ইমরান: ১৫১], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তিনিই আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল তাদের প্রথম সমাবেশের সময় তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। তোমরা ধারণা করোনি যে তারা বের হবে...} [আল-হাশর: ২]।
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَظَنُّوا أَنَّهُم مَّانِعَتُهُمْ حُصُونُهُم مِّنَ اللَّهِ فَأَتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ حَيْثُ لَمْ يَحْتَسِبُوا وَقَذَفَ فِي قُلُوبِهِمُ الرُّعْبَ يُخْرِبُونَ بُيُوتَهُم بِأَيْدِيهِمْ وَأَيْدِي الْمُؤْمِنِينَ فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ وَلَوْلَا أَن كَتَبَ اللَّهُ عَلَيْهِمُ الْجَلَاء لَعَذَّبَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابُ النَّارِ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ شَاقُّوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَمَن يُشَاقِّ اللَّهَ فَإِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} [الحشر: 2 4] ، وقال تعالى: {لَن يَضُرُّوكُمْ إِلَاّ أَذًى وَإِن يُقَاتِلُوكُمْ يُوَلُّوكُمُ الأَدُبَارَ ثُمَّ لَا يُنصَرُونَ ضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ أَيْنَ مَا ثُقِفُواْ إِلَاّ بِحَبْلٍ مِّنْ اللهِ وَحَبْلٍ مِّنَ النَّاسِ وَبَآؤُوا بِغَضَبٍ مِّنَ اللهِ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الْمَسْكَنَةُ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُواْ يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللهِ وَيَقْتُلُونَ الأَنبِيَاء بِغَيْرِ حَقٍّ ذَلِكَ بِمَا عَصَوا وَّكَانُواْ يَعْتَدُونَ} [آل عمران: 111، 112] ، وقال تعالى: {تَرَى كَثِيراً مِّنْهُمْ يَتَوَلَّوْنَ الَّذِينَ كَفَرُواْ لَبِئْسَ مَا قَدَّمَتْ لَهُمْ أَنفُسُهُمْ أَن سَخِطَ اللهُ عَلَيْهِمْ وَفِي الْعَذَابِ هُمْ خَالِدُونَ وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِالله والنَّبِيِّ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاء وَلَكِنَّ كَثِيراً مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ} [المائدة: 80، 81] ، وقال تعالى: {لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِينَ آمَنُواْ الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُواْ وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُمْ مَّوَدَّةً لِّلَّذِينَ آمَنُواْ الَّذِينَ قَالُوَاْ إِنَّا نَصَارَى ذَلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسِّيسِينَ وَرُهْبَانًا وَأَنَّهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ} [المائدة: 82] ، وقال تعالى: {فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِن تَوَلَّيْتُمْ أَن تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ أُوْلَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ أَفَلَا َتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا إِنَّ الَّذِينَ ارْتَدُّوا عَلَى أَدْبَارِهِم مِّن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْهُدَى الشَّيْطَانُ سَوَّلَ لَهُمْ وَأَمْلَى لَهُمْ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا لِلَّذِينَ كَرِهُوا مَا نَزَّلَ اللَّهُ سَنُطِيعُكُمْ فِي بَعْضِ الْأَمْرِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِسْرَارَهُمْ} [محمد: 22 26] ، وقال تعالى: {وَمِنْهُم مَّنْ عَاهَدَ اللهَ لَئِنْ آتَانَا مِن فَضْلِهِ لَنَصَّدَّقَنَّ وَلَنَكُونَنَّ مِنَ الصَّالِحِينَ فَلَمَّا آتَاهُم مِّن فَضْلِهِ بَخِلُواْ بِهِ وَتَوَلَّواْ وَّهُم مُّعْرِضُونَ فَأَعْقَبَهُمْ نِفَاقًا فِي قُلُوبِهِمْ إِلَى يَوْمِ

তারা ধারণা করেছিল যে, তাদের দুর্গসমূহ তাদেরকে আল্লাহর পাকড়াও হতে রক্ষা করবে। কিন্তু আল্লাহ তাদের নিকট এমন এক দিক থেকে আসলেন যা তারা কল্পনাও করেনি। আর তিনি তাদের হৃদয়ে ভীতি সঞ্চার করলেন। তারা তাদের নিজেদের হাতে এবং মুমিনদের হাতে তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করছিল। অতএব হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ! তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো। আর যদি আল্লাহ তাদের জন্য নির্বাসন লিখে না রাখতেন, তবে তিনি তাদেরকে দুনিয়াতেই শাস্তি দিতেন। আর আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে আগুনের আজাব। এটা এ কারণে যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করেছিল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরোধিতা করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তি দানে অত্যন্ত কঠোর। [আল-হাশর: ২-৪]

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: সামান্য কষ্ট দেওয়া ছাড়া তারা তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, তবে তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করবে, এরপর তারা আর সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। তারা যেখানেই থাকুক না কেন তাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, আল্লাহর পক্ষ হতে প্রতিশ্রুতি (নিরাপত্তা) এবং মানুষের পক্ষ হতে প্রতিশ্রুতি ব্যতীত। আর তারা আল্লাহর ক্রোধের শিকার হয়েছে এবং তাদের ওপর দারিদ্র্য চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা এ কারণে যে, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করত এবং অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করত। তা তাদের অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনেরই পরিণাম। [আল-ইমরান: ১১১, ১১২]

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: তাদের অনেককে তুমি দেখবে যে তারা কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করছে। তাদের নফস যা তাদের জন্য অগ্রিম পাঠিয়েছে তা কতই না মন্দ! আর তা হলো আল্লাহ তাদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন এবং তারা আজাব ভোগ করতে থাকবে অনন্তকাল। তারা যদি আল্লাহ, নবী এবং তাঁর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান রাখত, তবে তারা কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না। কিন্তু তাদের অধিকাংশই ফাসিক। [আল-মায়িদাহ: ৮০, ৮১]

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: তুমি মুমিনদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে ইহুদি ও মুশরিকদেরকেই সবচেয়ে কঠোর পাবে। আর যারা বলে 'আমরা নাসারা', মুমিনদের প্রতি বন্ধুত্বের বিচারে তুমি তাদেরকেই অধিকতর নিকটবর্তী পাবে। তা এ কারণে যে, তাদের মাঝে অনেক আলেম ও দরবেশ রয়েছে এবং তারা অহংকার করে না। [আল-মায়িদাহ: ৮২]

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: যদি তোমরা ক্ষমতা লাভ করো (অথবা মুখ ফিরিয়ে নাও), তবে কি তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে? এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ লানত করেছেন, ফলে তিনি তাদেরকে বধির করেছেন এবং তাদের চক্ষুসমূহকে অন্ধ করে দিয়েছেন। তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা লাগানো রয়েছে? নিশ্চয়ই যারা হিদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর তাদের পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পূর্বের অবস্থায় ফিরে গিয়েছে, শয়তান তাদের কাজকে সুশোভিত করেছে এবং তাদেরকে মিথ্যা আশা দিয়েছে। এটি এ কারণে যে, তারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তাকে যারা অপছন্দ করে তাদেরকে বলেছিল: 'আমরা কিছু বিষয়ে তোমাদের আনুগত্য করব'। আল্লাহ তাদের গোপন বিষয়সমূহ সম্পর্কে অবগত। [মুহাম্মাদ: ২২-২৬]

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল যে, 'তিনি যদি তাঁর অনুগ্রহ থেকে আমাদেরকে দান করেন, তবে আমরা অবশ্যই সাদাকাহ করব এবং অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হব'। অতঃপর যখন তিনি তাঁর অনুগ্রহ থেকে তাদেরকে দান করলেন, তখন তারা তাতে কার্পণ্য করল এবং বিমুখ হয়ে ফিরে গেল। ফলে তিনি তাদের হৃদয়ে মুনাফিকি গেঁথে দিলেন সেই দিন পর্যন্ত যে দিন...

(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
يَلْقَوْنَهُ بِمَا أَخْلَفُواْ اللهَ مَا وَعَدُوهُ وَبِمَا كَانُواْ يَكْذِبُونَ} [التوبة: 75 77] ، وقال تعالى: {فَإِن رَّجَعَكَ اللهُ إِلَى طَآئِفَةٍ مِّنْهُمْ فَاسْتَأْذَنُوكَ لِلْخُرُوجِ فَقُل لَّن تَخْرُجُواْ مَعِيَ أَبَدًا وَلَن تُقَاتِلُواْ مَعِيَ عَدُوًّا إِنَّكُمْ رَضِيتُم بِالْقُعُودِ أَوَّلَ مَرَّةٍ فَاقْعُدُواْ مَعَ الْخَالِفِينَ} [التوبة: 83] ، وقال تعالى في ضد هذا: {وَعَدَكُمُ اللَّهُ مَغَانِمَ كَثِيرَةً تَأْخُذُونَهَا فَعَجَّلَ لَكُمْ هَذِهِ وَكَفَّ أَيْدِيَ النَّاسِ عَنكُمْ وَلِتَكُونَ آيَةً لِّلْمُؤْمِنِينَ وَيَهْدِيَكُمْ صِرَاطًا مُّسْتَقِيمًا} إلى قوله: {وَلَوْ قَاتَلَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوَلَّوُا الْأَدْبَارَ ثُمَّ لَا يَجِدُونَ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا سُنَّةَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلُ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلًا} [الفتح: 20- 23] .

وتوليتهم الأدبار ليس مما نهوا عنه، ولكن هو من جزاء أعمالهم، وهذا باب واسع.

فصل

وإذا كانت السيئات التي يعملها الإنسان قد تكون من جزاء سيئات تقدمت وهى مضرة جاز أن يقال: هي مما أصابه من السيئات وهى بذنوب تقدمت.

وعلى كل تقدير، فالذنوب التي يعملها هي من نفسه، وإن كانت مقدرة عليه؛ فإنه إذا كان الجزاء الذي هو مسبب عنها من نفسه، فعمله الذي هو ذلك الجزاء من نفسه بطريق الأولى، وكان النبي صلى الله عليه وسلم يقول في خطبته: " نعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا ".
...তাঁকে (আল্লাহকে) মোকাবিলা করার দিন পর্যন্ত, যেহেতু তারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করেছে এবং তারা মিথ্যা বলত। [আত-তাওবাহ: ৭৫-৭৭], এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর আল্লাহ যদি আপনাকে তাদের কোনো দলের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যান এবং তারা আপনার কাছে বের হওয়ার অনুমতি চায়, তবে আপনি বলুন, 'তোমরা কখনো আমার সাথে বের হবে না এবং কখনো আমার সাথে হয়ে কোনো শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না। তোমরা প্রথমবার বসে থাকাকেই পছন্দ করেছিলে, সুতরাং এখন যারা পেছনে পড়ে থাকে তাদের সাথেই বসে থাকো।'" [আত-তাওবাহ: ৮৩], এবং এর বিপরীতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আল্লাহ তোমাদেরকে অনেক গনিমতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যা তোমরা হস্তগত করবে। অতঃপর তিনি তোমাদের জন্য এটি ত্বরান্বিত করেছেন এবং মানুষের হাতকে তোমাদের থেকে বিরত রেখেছেন যাতে এটি মুমিনদের জন্য একটি নিদর্শন হয় এবং তিনি তোমাদেরকে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেন।" আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: "আর যদি কাফেররা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করত, তবে তারা অবশ্যই পৃষ্ঠপ্রদর্শন করত (পালিয়ে যেত)। তারপর তারা কোনো অভিভাবক বা সাহায্যকারী পেত না। এটিই আল্লাহর চিরাচরিত বিধান যা আগে থেকেই চলে আসছে, আর আপনি আল্লাহর বিধানে কখনো কোনো পরিবর্তন পাবেন না।" [আল-ফাতহ: ২০-২৩]।

আর তাদের পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালিয়ে যাওয়া এমন কিছু নয় যা থেকে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল, বরং তা ছিল তাদের কর্মের প্রতিদান; আর এটি একটি বিস্তৃত আলোচনার বিষয়।

পরিচ্ছেদ

মানুষের কৃত পাপাচার যদি তার পূর্ববর্তী পাপাচারের প্রতিদান হিসেবে হয়ে থাকে এবং তা ক্ষতিকর হয়, তবে বলা বৈধ যে: এটি তাকে আক্রান্ত করা মন্দ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা তার পূর্ববর্তী গুনাহের কারণেই হয়েছে।

আর যাই হোক, সে যে গুনাহগুলো করে তা তার নিজের পক্ষ থেকেই, যদিও তা তার তাকদীরে নির্ধারিত ছিল। কেননা, সেই গুনাহ থেকে সৃষ্ট প্রতিদান যদি তার নিজের কারণে হয়, তবে সেই প্রতিদানরূপী তার কাজটিও প্রথমত তার নিজের পক্ষ থেকেই। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর খুতবায় বলতেন: "আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ ফলাফল থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।"
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وقال له أبو بكر رضي الله عنه: علمني دعاء. فقال: " قل اللهم فاطر السموات والأرض، عالم الغيب والشهادة، رب كل شيء ومليكه؛ أشهد أن لا إله إلا أنت، أعوذ بك من شر نفسي، وشر الشيطان وشِرْكه، وأن أقترف على نفسي سوءاً، أو أجره إلى مسلم، قُلْه إذا أصبحت، وإذا أمسيت، وإذا أخذت مضجعك ".

فقد بين أن قوله: {فَمِن نَّفْسِكَ} [النساء: 79] يتناول العقوبات على الأعمال، ويتناول الأعمال، مع أن الكل بقدر الله.

فصل

وليس للقدرية أن يحتجوا بالآية لوجوه:

منها: أنهم يقولون: فعل العبد حسنة كان أو سيئة هو منه، لا من الله، بل الله قد أعطى كل واحد من الاستطاعة ما يفعل به الحسنات والسيئات، لكن هذا عندهم أحْدَث إرادة فَعَل بها الحسنات، وهذا أحدث إرادة فعل بها السيئات، وليس واحد منها من إحداث الرب عندهم.

والقرآن قد فرق بين الحسنات والسيئات، وهم لا يفرقون في الأعمال بين الحسنات والسيئات إلا من جهة الأمر، لا من جهة كون الله خلق الحسنات دون السيئات، بل هو عندهم لم يخلق لا هذا ولا هذا.

لكن منهم من يقول: بأنه يحدث من الأعمال الحسنة والسيئة ما يكون جزاء، كما يقوله أهل السنة.

لكن على هذا، فليست عندهم كل الحسنات من الله، ولا كل السيئات، بل بعض هذا، وبعض هذا.

الثاني: أنه قال: {كُلًّ مِّنْ عِندِ اللهِ} [النساء: 78] فجعل الحسنات من عند الله كما جعل
এবং আবু বকর (রাদিআল্লাহু আনহু) তাঁকে বললেন: আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন: "তুমি বলো: হে আল্লাহ! আসমান ও যমীনের আদি স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, প্রতিটি বস্তুর প্রতিপালক ও অধিপতি; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি আমার নফসের অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানের অনিষ্ট ও তার শিরক থেকে, আর আমি নিজের প্রতি কোনো মন্দ কাজ করা অথবা কোনো মুসলিমের দিকে তা টেনে আনা থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তুমি এটি বলো যখন সকালে উপনীত হও, যখন সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং যখন তুমি ঘুমানোর জন্য বিছানায় যাও।"

সুতরাং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহর বাণী: {তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে} [আন-নিসা: ৭৯] এটি কর্মের শাস্তি এবং কর্ম উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, যদিও সবকিছুই আল্লাহর তকদির অনুযায়ী হয়ে থাকে।

পরিচ্ছেদ

কদরিয়াদের জন্য এই আয়াতটি দ্বারা দলিল পেশ করার কোনো সুযোগ নেই কয়েকটি কারণে:

তার মধ্যে একটি হলো: তারা বলে যে, বান্দার কাজ, তা সৎ কাজ হোক বা মন্দ কাজ, তা তার নিজের পক্ষ থেকে, আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। বরং আল্লাহ প্রত্যেককে এমন সামর্থ্য প্রদান করেছেন যার মাধ্যমে সে সৎ ও মন্দ কাজ সম্পাদন করে। কিন্তু তাদের মতে, এই ব্যক্তি একটি ইচ্ছা উৎপন্ন করেছে যা দিয়ে সে সৎ কাজ করেছে, আর অন্যজন এমন ইচ্ছা উৎপন্ন করেছে যা দিয়ে সে মন্দ কাজ করেছে। তাদের নিকট এর কোনটিই রবের সৃষ্টি নয়।

অথচ কুরআন সৎ কাজ ও মন্দ কাজের মধ্যে পার্থক্য করেছে। কিন্তু তারা কর্মের ক্ষেত্রে সৎ ও মন্দের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না শুধু আদেশের দিকটি ছাড়া; অর্থাৎ আল্লাহ মন্দ কাজ সৃষ্টি না করে শুধু সৎ কাজ সৃষ্টি করেছেন - এমন দিক থেকে তারা পার্থক্য করে না। বরং তাদের মতে, তিনি এটিও সৃষ্টি করেননি এবং ওটিও সৃষ্টি করেননি।

তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে থাকে যে, সৎ ও মন্দ কাজসমূহের মধ্য থেকে যা প্রতিদান বা শাস্তি হিসেবে ঘটে, তা আল্লাহ সৃষ্টি করেন, যেমনটি আহলুস সুন্নাহ বলে থাকেন।

কিন্তু এই মত অনুযায়ী, তাদের নিকট সকল সৎ কাজ আল্লাহর পক্ষ থেকে নয় এবং সকল মন্দ কাজও নয়, বরং এর কিছু অংশ এবং ওর কিছু অংশ।

দ্বিতীয়ত: তিনি বলেছেন: {সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে} [আন-নিসা: ৭৮]। সুতরাং তিনি সৎ কাজগুলোকে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাব্যস্ত করেছেন যেমন তিনি সাব্যস্ত করেছেন অন্য সব কিছু।
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
السيئات من عند الله، وهم لا يقولون بذلك في الأعمال، بل في الجزاء. وقوله بعد هذا: {مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ} و {مِن سَيِّئَةٍ} [النساء: 79] مثل قوله: {وَإِن تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ} وقوله: {وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ} [النساء: 78] .

الثالث: أن الآية أريد بها: النعم والمصائب كما تقدم وليس للقدرية المجبرة أن تحتج بهذه الآية على نفى أعمالهم التي استحقوا بها العقاب؛ فإن قوله: {كُلًّ مِّنْ عِندِ اللهِ} هو النعم والمصائب؛ ولأن قوله: {مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللهِ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ} [النساء: 79] ، حجة عليهم، وبيان أن الإنسان هو فاعل السيئات، وأنه يستحق عليها العقاب. والله ينعم عليه بالحسنات عملها وجزائها فإنه إذا كان ما أصابهم من حسنة فهو من الله؛ فالنعم من الله، سواء كانت ابتداء أو كانت جزاء. وإذا كانت جزاء وهى من الله فالعمل الصالح الذي كان سببها هو أيضاً من الله، أنعم بهما الله على العبد.

وإلا فلو كان هو من نفسه كما كانت السيئات من نفسه لكان كل ذلك من نفسه، والله تعالى قد فرق بين نوعين في الكتاب والسنة، كما في الحديث الصحيح الإلهي عن الله: " يا عبادى، إنما هي أعمالكم أحصيها لكم، ثم أُوفِّيكُمْ إياها، فمن وَجَد خيراً فليحمد الله، ومن وجد غير ذلك فلا يلومن إلا نفسه "، وقال تعالى: {أَوَلَمَّا أَصَابَتْكُم مُّصِيبَةٌ قَدْ أَصَبْتُم مِّثْلَيْهَا قُلْتُمْ إني هَذَا قُلْ هُوَ مِنْ عِندِ أَنْفُسِكُمْ} [آل عمران: 165] ، وقال تعالى: {وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ إِذَا هُمْ يَقْنَطُونَ} [الروم: 36] ، وقال تعالى: {ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} [الروم: 41] ، وقال تعالى: {وَمَا ظَلَمْنَاهُمْ وَلَكِن ظَلَمُواْ أَنفُسَهُمْ} [هود: 101] ، وقال تعالى: {وَمَا ظَلَمْنَاهُمْ وَلَكِن كَانُوا هُمُ الظَّالِمِينَ} [الزخرف: 76] ، وقال تعالى: {لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنكَ وَمِمَّن تَبِعَكَ مِنْهُمْ أَجْمَعِينَ} [ص: 85] ،
মন্দসমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকে, তবে তারা আমলের ক্ষেত্রে এ কথা বলে না, বরং প্রতিফলের ক্ষেত্রে বলে। আর এরপর তাঁর বাণী: "তোমার যে কল্যাণ হয়" এবং "যা অকল্যাণ হয়" [আন-নিসা: ৭৯] এটি তাঁর বাণী: "যদি তাদের কোনো কল্যাণ পৌঁছায়" এবং "আর যদি তাদের কোনো অকল্যাণ পৌঁছায়" [আন-নিসা: ৭৮]-এরই মতো।

তৃতীয়ত: আয়াতটি দ্বারা নিয়ামত ও বিপদ-আপদ উদ্দেশ্য যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর জাবরিয়্যাহ কাদারিয়াদের জন্য এই আয়াত দ্বারা তাদের ঐসব আমল অস্বীকার করার স্বপক্ষে দলিল পেশ করার সুযোগ নেই যার কারণে তারা শাস্তির যোগ্য হয়েছে। কেননা তাঁর বাণী: "সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে" এটি মূলত নিয়ামত ও বিপদ-আপদকে বুঝায়। আর যেহেতু তাঁর বাণী: "তোমার যে কল্যাণ হয় তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর তোমার যে অকল্যাণ হয় তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে" [আন-নিসা: ৭৯] এটি তাদের বিরুদ্ধে একটি দলিল এবং এটি এই বিষয়ের বর্ণনা যে, মানুষই মন্দ কাজের কর্তা এবং সে এর জন্য শাস্তির যোগ্য। আর আল্লাহ তাকে সৎ আমল এবং এর প্রতিদান উভয়টি দিয়ে অনুগ্রহ করেন। সুতরাং তাদের কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তবে নিয়ামতসমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকেই, চাই তা প্রারম্ভিক হোক বা প্রতিফল স্বরূপ হোক। আর যদি তা প্রতিফল স্বরূপ হয় এবং তা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তবে সেই নেক আমল যা এর কারণ ছিল, সেটিও আল্লাহর পক্ষ থেকে; আল্লাহ বান্দার উপর এই উভয়টি দ্বারাই অনুগ্রহ করেছেন।

অন্যথায় যদি তা তার নিজের পক্ষ থেকে হতো যেমন অকল্যাণ তার নিজের পক্ষ থেকে হয়, তবে এই সবকিছুই তার নিজের পক্ষ থেকে হতো। অথচ আল্লাহ তাআলা কিতাব ও সুন্নাহতে এই দুই প্রকারের মাঝে পার্থক্য করে দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে কুদসীতে এসেছে: "হে আমার বান্দাগণ! এগুলো কেবল তোমাদেরই আমল যা আমি তোমাদের জন্য গণনা করে রাখি, অতঃপর আমি তোমাদেরকে তার পূর্ণ প্রতিদান প্রদান করি। সুতরাং যে ব্যক্তি কল্যাণ লাভ করে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে, আর যে ব্যক্তি অন্য কিছু পায় সে যেন কেবল নিজেকেই তিরস্কার করে।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "যখন তোমাদের ওপর বিপদ আসল, অথচ তোমরা তো তাদের দ্বিগুণ বিপদ ঘটিয়েছিলে, তখন তোমরা বললে—এটা কোত্থেকে এল? বল, এটা তোমাদের নিজেদেরই পক্ষ থেকে।" [আল-ইমরান: ১৬৫]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আর যদি তাদের ওপর কোনো অকল্যাণ পৌঁছে তাদের হাতের কামাইয়ের কারণে, তবে তারা তৎক্ষণাৎ হতাশ হয়ে পড়ে।" [আর-রূম: ৩৬]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "জলে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের হাতের উপার্জনের কারণে, যাতে তিনি তাদের কৃতকর্মের কিছুটা স্বাদ আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।" [আর-রূম: ৪১]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আর আমি তাদের প্রতি জুলুম করিনি, বরং তারা নিজেদের প্রতিই জুলুম করেছে।" [হূদ: ১০১]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আর আমি তাদের প্রতি জুলুম করিনি, বরং তারাই ছিল জালিম।" [আয-যুখরুফ: ৭৬]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আমি অবশ্যই তোমাকে দিয়ে এবং তাদের মধ্য থেকে যারা তোমার অনুসরণ করবে তাদের সবাইকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করব।" [সোয়াদ: ৮৫]।
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقال تعالى: {وَلَكِنَّ اللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمُ الْإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُوْلَئِكَ هُمُ الرَّاشِدُونَ} [الحجرات: 7] ، وقد أمروا أن يقولوا في الصلاة: {اهدِنَا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمت َعَلَيهِمْ غَيرِ المَغضُوبِ عَلَيهِمْ وَلَا الضَّالِّين} [الفاتحة: 6، 7] .

فصل

وقد ظن طائفة أن في الآية إشكالا، أو تناقضاً في الظاهر، حيث قال: {كٍلَِ مٌَنً عٌندٌ بلَّهٌ} ثم فرق بين الحسنات والسيئات، فقال: {مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللهِ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ} [النساء: 79] .

وهذا من قلة فهمهم، وعدم تدبرهم الآية، وليس في الآية تناقض، لا في ظاهرها، ولا في باطنها، لا في لفظها ولا معناها؛ فإنه ذكر عن المنافقين، والذين في قلوبهم مرض، الناكصين عن الجهاد، ما ذكره بقوله: {أَيْنَمَا تَكُونُواْ يُدْرِككُّمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنتُمْ فِي بُرُوجٍ مُّشَيَّدَةٍ وَإِن تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ يَقُولُواْ هَذِهِ مِنْ عِندِ اللهِ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَقُولُواْ هَذِهِ مِنْ عِندِكَ} [النساء: 78] ، هذا يقولونه لرسول الله صلى الله عليه وسلم، أي: بسبب ما أمرتنا به من دينك، والرجوع عما كنا عليه، أصابتنا هذه السيئات؛ لأنك أمرتنا بما أوجبها. فالسيئات هي المصائب، والأعمال التي ظنوا أنها سبب المصائب هو أمرهم بها.

وقولهم: {مِنْ عِندِكَ} تتناول مصائب الجهاد التي توجب الهزيمة؛ لأنه أمرهم بالجهاد، وتتناول أيضا مصائب الرزق على جهة التشاؤم، والتطير، أي: هذا عقوبة لنا بسبب دينك، كما كان قوم فرعون يتطيرون بموسى وبمن معه،
এবং মহান আল্লাহ বলেন: "কিন্তু আল্লাহ তোমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের হৃদয়ে সুশোভিত করেছেন। আর কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে তোমাদের কাছে অপ্রিয় করে দিয়েছেন। তারাই হলো সত্যপথ অনুসারী।" [আল-হুজুরাত: ৭]। আর তাদের আদেশ দেওয়া হয়েছে তারা যেন সালাতে বলে: "আমাদের সরল পথ দেখাও। সে সমস্ত লোকদের পথ যাদের তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয় যারা ক্রোধের শিকার হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।" [আল-ফাতিহা: ৬, ৭]।

পরিচ্ছেদ

একদল লোক ধারণা করেছে যে, এই আয়াতে কোনো জটিলতা বা বাহ্যিক বৈপরীত্য রয়েছে; যেহেতু তিনি বলেছেন: "সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে", এরপর তিনি কল্যাণ ও অকল্যাণের মধ্যে পার্থক্য করে বলেছেন: "তোমার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর তোমার কাছে যে অকল্যাণ পৌঁছে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে।" [আন-নিসা: ৭৯]।

এটি তাদের বোধশক্তির স্বল্পতা এবং আয়াতের প্রতি গভীর চিন্তা-ভাবনা না করার ফল। অথচ আয়াতে কোনো বৈপরীত্য নেই—না বাহ্যিক দিক থেকে, না অভ্যন্তরীণ দিক থেকে; না শব্দগতভাবে, না অর্থগতভাবে। কারণ তিনি মুনাফিকদের সম্পর্কে এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে ও যারা জিহাদ থেকে বিমুখ হয়েছে, তাদের সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো তাঁর বাণী: "তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদের পাকড়াও করবেই, যদিও তোমরা সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান কর। আর যদি তাদের কোনো কল্যাণ পৌঁছে তবে তারা বলে, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে’। আর যদি তাদের কোনো অকল্যাণ পৌঁছে তবে তারা বলে, ‘এটি আপনার পক্ষ থেকে’।" [আন-নিসা: ৭৮]। তারা এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলে। অর্থাৎ, আপনার দ্বীনের যে বিষয়গুলো পালনের আপনি আমাদের আদেশ দিয়েছেন এবং আমরা আগে যা পালন করছিলাম তা থেকে ফিরে আসার কারণে এই অকল্যাণগুলো আমাদের ওপর আপতিত হয়েছে; কারণ আপনি আমাদের এমন কাজের আদেশ দিয়েছেন যা এগুলোকে অবধারিত করেছে। এখানে অকল্যাণ বলতে মূলত বিপদ-আপদ বোঝানো হয়েছে, আর যে আমল বা কাজগুলোকে তারা বিপদের কারণ মনে করেছিল তা হলো তাঁর (রাসূলের) নির্দেশসমূহ।

আর তাদের কথা: "আপনার পক্ষ থেকে"—এটি জিহাদের সেই বিপদগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে যা পরাজয় ডেকে আনে; কারণ তিনি তাদের জিহাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এটি রিযিকের ক্ষেত্রে আসা বিপদগুলোকেও কুসংস্কার ও কুলক্ষণের দৃষ্টিতে অন্তর্ভুক্ত করে। অর্থাৎ: আপনার দ্বীনের কারণে এটি আমাদের জন্য একটি শাস্তি, যেমন ফেরাউনের সম্প্রদায় মূসা এবং তাঁর সঙ্গীদের ব্যাপারে কুলক্ষণ গ্রহণ করত।
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وكما قال أهل القرية للمرسلين: {إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ} [يس: 18] ، وكما قال الكفار من ثمود لصالح ولقومه: {اطَّيَّرْنَا بِكَ وَبِمَن مَّعَكَ} [النمل: 74] ، فكانوا يقولون عما يصيبهم من الحرب، والزلزال والجراح والقتل، وغير ذلك مما يحصل من العدو: هو منك؛ لأنك أمرتنا بالأعمال الموجبة لذلك. ويقولون عن هذا، وعن المصائب السمائية: إنها منك، أي: بسبب طاعتنا لك واتباعنا لدينك، أصابتنا هذه المصائب، كما قال تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَن يَعْبُدُ اللَّهَ عَلَى حَرْفٍ فَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ اطْمَأَنَّ بِهِ وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةٌ انقَلَبَ عَلَى وَجْهِهِ خَسِرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةَ} [الحج: 11] .

فهذا يتناول كل من جعل طاعة الرسول، وفعل ما بعث به مسبباً لشر أصابه، إما من السماء وإما من آدمي، وهؤلاء كثيرون.

لم يقولوا: {هَذِهِ مِنْ عِندِكَ} بمعنى: أنك أنت الذي أحدثتها؛ فإنهم يعلمون أن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يحدث شيئا من ذلك، ولم يكن قولهم: {مِنْ عِندِكَ} خطاباً من بعضهم لبعض، بل هو خطاب للرسول صلى الله عليه وسلم.

ومن فهم هذا تبين له أن قوله: {مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللهِ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ} لا يناقض قوله: {كُلًّ مِّنْ عِندِ اللهِ} بل هو محقق له؛ لأنهم هم ومن أشبههم إلى يوم القيامة يجعلون ما جاء به الرسول، والعمل به سبباً لما قد يصيبهم من مصائب، وكذلك من أطاعه إلى يوم القيامة.

وكانوا تارة يقدحون فيما جاء به، ويقولون: ليس هذا مما أمر الله به، ولو كان مما أمر الله به لما جرى على أهله هذا البلاء.
যেমন জনপদের অধিবাসীরা রাসুলদের বলেছিল: "নিশ্চয় আমরা তোমাদের অপয়া মনে করি।" [ইয়াসিন: ১৮], এবং যেমন সামুদ জাতির কাফিররা সালিহ ও তাঁর কওমকে বলেছিল: "আমরা তোমাদের এবং তোমাদের সাথে যারা আছে তাদের অমঙ্গলের কারণ মনে করি।" [আন-নামল: ৭৪]। তারা যুদ্ধ, ভূমিকম্প, জখম, হত্যা এবং শত্রুর পক্ষ থেকে যা কিছু আপতিত হতো সে সম্পর্কে বলত: "এটা তোমার কারণে"; কারণ তুমি আমাদের এমন সব কাজ করতে আদেশ দিয়েছ যা এসবের কারণ হয়েছে। তারা এ বিষয়ে এবং আসমানি বিপদ-আপদ সম্পর্কে বলত: "এটা তোমার পক্ষ থেকে", অর্থাৎ: "তোমার আনুগত্য করা এবং তোমার দ্বীন অনুসরণ করার কারণেই আমাদের ওপর এই বিপদগুলো এসেছে", যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধা-দ্বন্দ্বের সাথে আল্লাহর ইবাদত করে; যদি সে কল্যাণের সম্মুখীন হয় তবে তাতে প্রশান্ত হয়, আর যদি সে কোনো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় তবে সে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়; সে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই হারাল।" [আল-হাজ্জ: ১১]।

এটি ঐ সকল ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে যারা রাসুলের আনুগত্য করা এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা পালন করাকে তাদের ওপর আপতিত কোনো অনিষ্টের কারণ মনে করে—তা আসমান থেকেই আসুক কিংবা কোনো মানুষের মাধ্যমেই আসুক। আর এদের সংখ্যা অনেক।

তারা "এটা তোমার পক্ষ থেকে" কথাটি এই অর্থে বলেনি যে, আপনিই এটি ঘটিয়েছেন; কারণ তারা জানত যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কোনো কিছুই ঘটাননি। আর "তোমার পক্ষ থেকে" এই উক্তিটি তাদের একে অপরের প্রতি সম্বোধন ছিল না, বরং এটি ছিল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি সম্বোধন।

যে ব্যক্তি এটি বুঝবে তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, আল্লাহর বাণী: "তোমার যে কল্যাণ হয় তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর তোমার যে অকল্যাণ হয় তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে"—এই আয়াতটি "সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে" এই বাণীর সাথে সাংঘর্ষিক নয়, বরং এটি তার সত্যতা প্রমাণকারী; কারণ তারা এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাদের মতো যারা রয়েছে, তারা রাসুল যা নিয়ে এসেছেন এবং তার ওপর আমল করাকে তাদের ওপর আপতিত বিপদ-আপদের কারণ সাব্যস্ত করে; অনুরূপভাবে কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর আনুগত্য করবে তাদের ক্ষেত্রেও একই কথা।

কখনও কখনও তারা তিনি যা নিয়ে এসেছেন তাতে দোষারোপ করত এবং বলত: এটি আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তার অন্তর্ভুক্ত নয়; যদি এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশিত হতো, তবে এর অনুসারীদের ওপর এমন বিপদ আসত না।
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وتارة لا يقدحون في الأصل، لكن يقدحون في القضية المعينة، فيقولون: هذا بسوء تدبير الرسول، كما قال عبد الله بن أُبَيّ بن سلول يوم أُحُد إذ كان رأيه مع رأى النبي صلى الله عليه وسلم ألاّ يخرجوا من المدينة فسأله صلى الله عليه وسلم ناس ممن كان لهم رغبة في الجهاد أن يخرج، فوافقهم، ودخل بيته ولبس لأمَتَه فلما لبس لأمته ندموا، وقالوا للنبي صلى الله عليه وسلم: أنت أعلم، فإن شئت ألاّ نخرج، فلا نخرج فقال:" ما ينبغي لنبي إذا لبس لأمته أن ينزعها، حتى يحكم الله بينه وبين عدوه " [واللأمة: الدرع، وقيل: السلاح. ولأمة الحرب: أداته] يعنى: أن الجهاد يلزم بالشروع، كما يلزم الحج، لا يجوز ترك ما شرع فيه منه إلا عند العجز بالإحصار في الحج.

فصل

والمفسرون ذكروا في قوله: {وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَقُولُواْ هَذِهِ مِنْ عِندِكَ} [النساء: 78] هذا وهذا.

فعن ابن عباس، والسدي، وغيرهما: أنهم يقولون هذا تشاؤماً بدينه.

وعن عبد الرحمن بن زيد بن أسلم، قال: بسوء تدبيرك يعنى كما قاله عبد الله بن أبى وغيره يوم أحد وهم كالذين {قَالُواْ لإِخْوَانِهِمْ وَقَعَدُواْ لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا} [آل عمران: 168] .

فبكل حال قولهم: {مِنْ عِندِكَ} هو طعن فيما أمر الله به ورسوله من الإيمان والجهاد، وجعل ذلك هو الموجب للمصائب التي تصيب المؤمنين المطيعين، كما أصابتهم يوم أحد. وتارة تصيب عدوهم، فيقول الكافرون: هذا بشؤم هؤلاء، كما قال أصحاب القرية للمرسلين: {إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ} [يس: 18] ، وكما قال تعالى عن آل فرعون: {فَإِذَا جَاءتْهُمُ الْحَسَنَةُ قَالُواْ لَنَا هَذِهِ وَإِن تُصِبْهُمْ
কখনো কখনো তারা মূল বিষয়ে কোনো দোষারোপ করে না, বরং বিশেষ কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে দোষারোপ করে। তারা বলে: এটি রাসুলের ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে হয়েছে। যেমনটি ওহুদ যুদ্ধের দিন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল বলেছিল। তখন তার অভিমত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিমতের অনুরূপই ছিল যে, তারা মদিনা থেকে বের হবে না। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিহাদের প্রতি আগ্রহী কিছু লোক অনুরোধ করল যে, তিনি যেন বের হন। তিনি তাদের সাথে একমত হলেন এবং নিজ ঘরে প্রবেশ করে যুদ্ধের বর্ম পরিধান করলেন। যখন তিনি বর্ম পরে নিলেন, তখন তারা অনুতপ্ত হলো এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল: আপনিই অধিক জ্ঞাত, আপনি যদি চান যে আমরা বের না হই, তবে আমরা বের হব না। তখন তিনি বললেন: "কোনো নবীর জন্য এটা শোভনীয় নয় যে, যখন তিনি যুদ্ধের বর্ম পরিধান করেন, তখন আল্লাহ তাঁর ও তাঁর শত্রুর মাঝে ফয়সালা না করা পর্যন্ত তা খুলে ফেলবেন।" [আর 'লামা' অর্থ: বর্ম, আবার বলা হয়: অস্ত্র। আর যুদ্ধের 'লামা' হলো তার সরঞ্জাম।] অর্থাৎ: হজের মতো জিহাদও শুরু করার মাধ্যমে আবশ্যক হয়ে যায়; যা শুরু করা হয়েছে তা হজ পালনে বাধার সম্মুখীন হয়ে অক্ষম হওয়া ব্যতীত পরিত্যাগ করা জায়েজ নয়।

পরিচ্ছেদ

আর মুফাসসিরগণ আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে—"আর যদি তাদের কোনো অকল্যাণ স্পর্শ করে, তবে তারা বলে: এটি আপনার পক্ষ থেকে" [নিসা: ৭৮]—এই বিষয়টি এবং ঐ বিষয়টি (উভয়টিই) উল্লেখ করেছেন।

ইবনে আব্বাস, সুদ্দী ও অন্যদের থেকে বর্ণিত: তারা তাঁর দ্বীনকে কুলক্ষণ মনে করে এ কথা বলত।

আর আবদুর রহমান ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (তারা বলত) আপনার ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে। অর্থাৎ যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ও অন্যরা ওহুদ যুদ্ধের দিন বলেছিল। তারা তাদের মতো, যারা "নিজেদের ভাইদের সম্পর্কে বলেছিল অথচ নিজেরা ঘরে বসে থাকল—তারা যদি আমাদের কথা শুনত তবে তারা নিহত হতো না" [আল ইমরান: ১৬৮]।

সুতরাং সর্বাবস্থায় তাদের উক্তি: "আপনার পক্ষ থেকে"—তা হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যা নির্দেশ দিয়েছেন সেই ঈমান ও জিহাদের প্রতি দোষারোপ করা এবং সেটিকে অনুগত মুমিনদের ওপর আপতিত বিপদের কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করা, যেমনটি তাদের ওপর ওহুদের দিন আপতিত হয়েছিল। আর কখনো বিপদ তাদের শত্রুদের ওপর আপতিত হয়, তখন কাফেররা বলে: এটি এদের অশুভ লক্ষণের কারণে হয়েছে। যেমন জনপদবাসীরা প্রেরিত রাসুলদের বলেছিল: "আমরা তোমাদের অশুভ লক্ষণ মনে করছি" [ইয়াসিন: ১৮]। আর যেমন মহান আল্লাহ ফেরাউনের অনুসারীদের সম্পর্কে বলেছেন: "অতঃপর যখন তাদের কাছে কোনো কল্যাণ আসত, তখন তারা বলত: এটি আমাদের প্রাপ্য। আর যদি তাদের কাছে কোনো অকল্যাণ আসত..."
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
سَيِّئَةٌ يَطَّيَّرُواْ بِمُوسَى وَمَن مَّعَهُ أَلا إِنَّمَا طَائِرُهُمْ عِندَ اللهُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ} [الأعراف: 131] ، وقال تعالى عن قوم صالح: {قَالُوا اطَّيَّرْنَا بِكَ وَبِمَن مَّعَكَ قَالَ طَائِرُكُمْ عِندَ اللَّهِ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ تُفْتَنُونَ} [النمل: 47] .

ولما قال أهل القرية: {إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ لَئِن لَّمْ تَنتَهُوا لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَلَيَمَسَّنَّكُم مِّنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ قَالُوا طَائِرُكُمْ مَعَكُمْ أَئِن ذُكِّرْتُم بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُونَ} [يس: 18، 19] .

قال الضحاك في قوله: {أَلا إِنَّمَا طَائِرُهُمْ عِندَ اللهُ} يقول: الأمر من قبل الله، ما أصابكم من أمر فمن الله، بما كسبت أيديكم.

وقال ابن أبي طلحة عن ابن عباس: معايبكم. وقال قتادة: عملكم عند الله.

وفى رواية غير على: عملكم عند الله ولكنكم {قَوْمٌ تُفْتَنُونَ} ، أي: تبتلون بطاعة الله ومعصيته. رواهما ابن أبى حاتم وغيره.

وعن ابن إسحاق قال: قالت الرسل: {طَائِرُكُمْ مَعَكُمْ} أي: أعمالكم.

فقد فسروا " الطائر " بالأعمال وجزائها؛ لأنهم كانوا يقولون: إنما أصابنا ما أصابنا من المصائب بذنوب الرسل وأتباعهم.

فبين الله سبحانه أن طائرهم وهو الأعمال وجزاؤها هو عند الله وهو معهم. فهو معهم لأن أعمالهم وما قدر من جزائها معهم، كما قال تعالى: {وَكُلَّ إِنسَانٍ أَلْزَمْنَاهُ طَآئِرَهُ فِي عُنُقِهِ} [الإسراء: 13] ، وهو من الله؛ لأن الله تعالى قدر تلك المصائب بأعمالهم. فمن عنده تتنزل عليهم المصائب، جزاء على أعمالهم لا بسبب الرسل وأتباعهم.

وفى هذا يقال: إنهم يجزون بأعمالهم، لا بأعمال غيرهم؛ ولذلك قال
...যখন কোনো অকল্যাণ আসত, তখন তারা মূসা ও তাঁর সঙ্গীদের অলক্ষণ মনে করত। জেনে রেখো, তাদের অকল্যাণের চাবিকাঠি তো আল্লাহর কাছেই রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক তা জানে না [আল-আরাফ: ১৩১]। সালেহর কওম সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: তারা বলল, আমরা তোমাকে এবং তোমার সঙ্গীদের অলক্ষণ মনে করছি। তিনি বললেন, তোমাদের অকল্যাণের চাবিকাঠি তো আল্লাহর কাছেই; বরং তোমরা এমন এক সম্প্রদায় যাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে [আন-নামল: ৪৭]।

আর যখন জনপদবাসীরা বলল: আমরা তোমাদেরকে অলক্ষণ মনে করছি; যদি তোমরা বিরত না হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের পাথর ছুড়ে মারব এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে। তারা (রাসূলগণ) বলল: তোমাদের অলক্ষণ তো তোমাদের সাথেই। এটা কি এজন্য যে, তোমাদের উপদেশ দেওয়া হয়েছে? বরং তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায় [ইয়াসিন: ১৮, ১৯]।

আদ-দাহহাক "জেনে রেখো, তাদের অকল্যাণের চাবিকাঠি আল্লাহর কাছেই" এই বাণীর ব্যাখ্যায় বলেন: বিষয়টি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। তোমাদের ওপর যে বিপদই আপতিত হোক না কেন, তা তোমাদের কৃতকর্মের কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

ইবনে আবি তালহা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: (এর অর্থ) তোমাদের দোষসমূহ। কাতাদাহ বলেন: আল্লাহর নিকট সংরক্ষিত তোমাদের আমল।

আলী ব্যতীত অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: তোমাদের আমল আল্লাহর নিকট, কিন্তু তোমরা এমন এক সম্প্রদায় যাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে, অর্থাৎ: আল্লাহর আনুগত্য ও নাফরমানির মাধ্যমে তোমাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইবনে আবি হাতিম ও অন্যরা এই দুটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলগণ বলেছিলেন: "তোমাদের অলক্ষণ তোমাদের সাথেই" অর্থাৎ: তোমাদের আমলসমূহ।

তারা 'তায়ির' (পাখি/অলক্ষুণে) শব্দটিকে আমল এবং এর প্রতিদান হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন; কারণ তারা বলত: আমাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়েছে তা কেবল রাসূলগণ ও তাঁদের অনুসারীদের পাপের কারণেই হয়েছে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, তাদের 'তায়ির' অর্থাৎ আমল ও তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে এবং তা তাদের সাথেই রয়েছে। এটি তাদের সাথেই রয়েছে কারণ তাদের আমল এবং নির্ধারিত প্রতিদান তাদের সাথেই থাকে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: আর আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মফল তার ঘাড়ে লেপ্টে দিয়েছি [আল-ইসরা: ১৩]। আর তা আল্লাহর পক্ষ থেকে; কারণ আল্লাহ তাআলা তাদের আমলের কারণেই সেই বিপদসমূহ নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং তাদের আমলের প্রতিদান হিসেবেই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর বিপদ নাজিল হয়, রাসূলগণ ও তাঁদের অনুসারীদের কারণে নয়।

এই প্রসঙ্গে বলা হয়: তারা তাদের নিজেদের আমলের কারণেই প্রতিফল প্রাপ্ত হয়, অন্যের আমলের কারণে নয়; আর এই কারণেই বলা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
في هذه الآية لما كان المنافقون والكفار ومن في قلبه مرض يقول: هذا الذي أصابنا هو بسبب ما جاء به محمد، عقوبة دينية وصل إلينا بين سبحانه أن ما أصابهم من المصائب إنما هو بذنوبهم.

ففى هذا رد على من أعرض عن طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم لئلا تصيبه تلك المصائب، وعلى من انتسب إلى الإيمان بالرسول، ونسبها إلى فعل ما جاء به الرسول، وعلى من أصابته مع كفره بالرسول ونسبها إلى ما جاء به الرسول.

فصل

والمقصود أن ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم ليس سبباً لشيء من المصائب، ولا تكون طاعة الله ورسوله قط سبباً لمصيبة، بل طاعة الله والرسول لا تقتضى إلا جزاء أصحابها بخيرى الدنيا والآخرة، ولكن قد تصيب المؤمنين بالله ورسوله مصائب بسبب ذنوبهم، لا بما أطاعوا فيه الله والرسول، كما لحقهم يوم أحُد بسبب ذنوبهم، لا بسبب طاعتهم الله ورسوله صلى الله عليه وسلم.

وكذلك ما ابتلوا به في السراء والضراء والزلزال، ليس هو بسبب نفس إيمانهم وطاعتهم، لكن امتحنوا به، ليتخلصوا مما فيهم من الشر وفتنوا به كما يفتن الذهب بالنار؛ ليتميز طيبه من خبيثه، والنفوس فيها شر، والامتحان يمحص المؤمن من ذلك الشر الذي في نفسه، قال تعالى: {وَتِلْكَ الأيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللهُ الَّذِينَ آمَنُواْ وَيَتَّخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاء وَاللهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ وَلِيُمَحِّصَ اللهُ الَّذِينَ آمَنُواْ وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ} [آل عمران: 140، 141] ، وقال
এই আয়াতে যখন মুনাফিক, কাফের এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা বলত: “আমাদের ওপর যা আপতিত হয়েছে তা মুহাম্মাদ যা নিয়ে এসেছেন তার কারণেই হয়েছে”, এটি একটি ধর্মীয় শাস্তি যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে; তখন মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, তাদের ওপর যে বিপদ-আপদ আপতিত হয় তা কেবল তাদের পাপের কারণেই হয়।

এতে তাদের প্রতি খণ্ডন রয়েছে যারা রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এই ভয়ে যে পাছে তাদের ওপর সেই মুসিবতগুলো আপতিত হয়, এবং তাদের প্রতিও যারা রাসূলের প্রতি ঈমানের দাবি করা সত্ত্বেও সেই বিপদগুলোকে রাসূলের আনীত বিধান পালনের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে, আর তাদের প্রতিও যাদের ওপর রাসূলের প্রতি কুফরি করা অবস্থায় বিপদ আসে এবং তারা তা রাসূলের আনীত দ্বীনের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে।

অনুচ্ছেদ

উদ্দেশ্য হলো, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা কোনো মুসিবতের কারণ নয়, এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কখনোই কোনো বিপদের কারণ হয় না। বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কেবল দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দ্বারাই এর অধিকারীদের প্রতিদান নিশ্চিত করে। কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাসী মুমিনদের ওপর তাদের পাপের কারণে বিপদ আপতিত হতে পারে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার কারণে নয়; যেমনটি উহুদের দিনে তাদের ওপর আপতিত হয়েছিল তাদের পাপের কারণে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনুগত্য করার কারণে নয়।

অনুরূপভাবে সুখ-দুঃখ এবং অস্থিরতার মাধ্যমে তাদের যে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, তা কেবল তাদের ঈমান ও আনুগত্যের কারণে নয়, বরং এর মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা করা হয়েছে যাতে তাদের মধ্যে থাকা অনিষ্ট থেকে তারা মুক্ত হতে পারে। তাদের সেভাবেই পরীক্ষা করা হয়েছে যেভাবে আগুনের মাধ্যমে স্বর্ণকে পরীক্ষা করা হয়, যাতে অপবিত্র থেকে পবিত্রকে পৃথক করা যায়। মানুষের অন্তরে অনিষ্ট থাকে, আর পরীক্ষা মুমিনকে তার অন্তরের সেই অনিষ্ট থেকে পরিশুদ্ধ করে। মহান আল্লাহ বলেন: “আর এই দিনগুলোকে আমি মানুষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবর্তন করি, যাতে আল্লাহ মুমিনদের জেনে নিতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে শহীদদের গ্রহণ করতে পারেন; আর আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না। আর যাতে আল্লাহ মুমিনদের পরিশুদ্ধ করেন এবং কাফেরদের ধ্বংস করেন।” [আলে ইমরান: ১৪০, ১৪১], এবং তিনি বলেন...
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
تعالى: {وَلِيَبْتَلِيَ اللهُ مَا فِي صُدُورِكُمْ وَلِيُمَحَّصَ مَا فِي قُلُوبِكُمْ} [آل عمران: 154] ، ولهذا قال صالح عليه السلام لقومه: {طَائِرُكُمْ عِندَ اللَّهِ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ تُفْتَنُونَ} [النمل: 47] .

ولهذا كانت المصائب تكفر سيئات المؤمنين وبالصبر عليها ترتفع درجاتهم، وما أصابهم في الجهاد من مصائب بأيدى العدو، فإنه يعظم أجرهم بالصبر عليها.

وفى الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " ما من غازية يغزون في سبيل الله، فيسلمون ويغنمون إلا تعجلوا ثلثي أجرهم، وإن أصيبوا وأخفقوا تم لهم أجرهم ".

وأما ما يلحقهم من الجوع والعطش والتعب، فذاك يكتب لهم به عمل صالح، كما قال تعالى: {ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ لَا يُصِيبُهُمْ ظَمَأٌ وَلَا نَصَبٌ وَلَا مَخْمَصَةٌ فِي سَبِيلِ اللهِ وَلَا يَطَؤُونَ مَوْطِئًا يَغِيظُ الْكُفَّارَ وَلَا يَنَالُونَ مِنْ عَدُوٍّ نَّيْلاً إِلَاّ كُتِبَ لَهُم بِهِ عَمَلٌ صَالِحٌ إِنَّ اللهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ} [التوبة: 120] .

وشواهد هذا كثيرة.

فصل

والمقصود أن قوله: {وَإِن تُصِبْهُمْ حَسَنَةٌ يَقُولُواْ هَذِهِ مِنْ عِندِ اللهِ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَقُولُواْ هَذِهِ مِنْ عِندِكَ قُلْ كُلًّ مِّنْ عِندِ اللهِ} [النساء: 78] فإنهم جعلوا ما يصيبهم من المصائب بسبب ما جاءهم به الرسول، وكانوا يقولون: النعمة التي تصيبنا هي من عند الله، والمصيبة من عند محمد، أي: بسبب دينه وما أمر به.
মহান আল্লাহ বলেন: "যাতে আল্লাহ তোমাদের অন্তরে যা আছে তা পরীক্ষা করেন এবং তোমাদের হৃদয়ে যা আছে তা পরিশোধন করেন" [আলে ইমরান: ১৫৪], এবং একারণেই সালেহ আলাইহিস সালাম তাঁর কওমকে বলেছিলেন: "তোমাদের অশুভ ভাগ্য আল্লাহর কাছে, বরং তোমরা এমন এক কওম যাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে" [আন-নামল: ৪৭]।

একারণেই বিপদ-আপদ মুমিনদের পাপের কাফফারা হয়ে থাকে এবং এর ওপর ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। আর জিহাদে শত্রুর হাতে তাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়, তার ওপর ধৈর্য ধারণের কারণে তাদের পুরস্কার মহান হয়ে থাকে।

সহীহ বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "এমন কোনো যুদ্ধাভিযানকারী দল নেই যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে এবং নিরাপদে ফিরে আসে ও গণিমত লাভ করে, তবে তারা তাদের পুরস্কারের দুই-তৃতীয়াংশ আগেই লাভ করল। আর যদি তারা বিপদগ্রস্ত হয় এবং বিফল হয়, তবে তাদের জন্য তাদের পূর্ণ পুরস্কার নির্ধারিত থাকে।"

আর তাদের ওপর ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও ক্লান্তি যা কিছু আপতিত হয়, এর বিনিময়ে তাদের জন্য নেক আমল লেখা হয়। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "এটি এই কারণে যে, আল্লাহর পথে তাদের যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা স্পর্শ করে এবং তারা এমন কোনো স্থানে পদক্ষেপ করে না যা কাফেরদের ক্রোধান্বিত করে এবং শত্রুর পক্ষ থেকে তারা যা কিছু অর্জন করে, তার বিনিময়ে তাদের জন্য অবশ্যই একটি নেক আমল লেখা হয়; নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না" [আত-তাওবাহ: ১২০]।

এর প্রমাণাদি অনেক।

পরিচ্ছেদ

উদ্দেশ্য হলো তাঁর বাণী: "যদি তাদের কোনো কল্যাণ পৌঁছে, তবে তারা বলে: এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যদি তাদের কোনো অকল্যাণ পৌঁছে, তবে তারা বলে: এটি তোমার পক্ষ থেকে। বল, সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে" [আন-নিসা: ৭৮]। তারা তাদের ওপর আপতিত বিপদ-আপদকে রাসূলের আনীত বার্তার কারণে বলে সাব্যস্ত করেছিল। তারা বলত: আমাদের নিকট যে নেয়ামত আসে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর বিপদ আসে মুহাম্মদের পক্ষ থেকে; অর্থাৎ: তাঁর দ্বীন এবং তিনি যা নির্দেশ দিয়েছেন তার কারণে।
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
فقال تعالى: قل هذا وهذا من عند الله، لا من عند محمد، محمد لا يأتي لا بنعمة ولا بمصيبة؛ ولهذا قال بعد هذا: {فَمَا لِهَؤُلاء الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا} [النساء: 78] قال السدي وغيره: هو القرآن؛ فإن القرآن إذا هم فقهوا ما فيه تبين لهم أنه إنما أمرهم بالخير، والعدل والصدق، والتوحيد. لم يأمرهم بما يكون سبباً للمصائب؛ فإنهم إذا فهموا ما في القرآن علموا أنه لا يكون سبباً للشر مطلقاً.

وهذا مما يبين أن ما أمر الله به يعلم بالأمر به حسنه ونفعه، وأنه مصلحة للعباد، وليس كما يقول من يقول: قد يأمر الله العباد بما لا مصلحة لهم فيه إذا فعلوه، بل فيه مضرة لهم.

فإنه لو كان كذلك لكان قد يصدقه المتطيرون بالرسل وأتباعهم.

ومما يوضح ذلك: أنه لما قال: {مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللهِ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ} قال بعدها: {وَأَرْسَلْنَاكَ لِلنَّاسِ رَسُولاً وَكَفَى بِاللهِ شَهِيدًا} [النساء: 79] ، فإنه قد شهد له بالرسالة بما أظهره على يديه من الآيات والمعجزات، وإذا شهد الله له كفى به شهيداً، ولم يضره جحد هؤلاء لرسالته، بما ذكروه من الشبه التي هي عليهم لا لهم، بما أرادوا أن يجعلوا سيئاتهم وعقوباتهم حجة على إبطال رسالته، والله تعالى قد شهد له أنه أرسله للناس رسولا، فكان ختم الكلام بهذا إبطالا لقولهم: إن المصائب من عند الرسول؛ ولهذا قال بعد هذا: {مَّنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ وَمَن تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا} [النساء: 80] .
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: বলো, এটি এবং ওটি সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে, মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে নয়। মুহাম্মাদ কোনো নিআমত বা কোনো বিপদ নিয়ে আসেন না। আর এই কারণেই এর পরে তিনি বলেছেন: "তবে এই কওমের কী হলো যে, তারা কোনো কথা বুঝতে চায় না?" [নিসা: ৭৮]। সুদ্দী ও অন্যান্যগণ বলেন: এটি হলো আল-কুরআন। কারণ কুরআন যা বহন করে তা যদি তারা অনুধাবন করত, তবে তাদের নিকট স্পষ্ট হয়ে যেত যে, এটি কেবল তাদের কল্যাণ, ন্যায়বিচার, সত্যবাদিতা এবং তাওহিদেরই আদেশ দেয়। তিনি তাদের এমন কিছুর নির্দেশ দেননি যা বিপদের কারণ হয়। কারণ তারা যদি কুরআনের বিষয়বস্তু বুঝতে পারত, তবে তারা জানত যে, এটি মোটেও অকল্যাণের কারণ হতে পারে না।

এটি এই বিষয়টিকে স্পষ্ট করে যে, আল্লাহ যার নির্দেশ দিয়েছেন, সেই নির্দেশের মাধ্যমেই তার সৌন্দর্য ও উপকারিতা জানা যায় এবং তা বান্দাদের জন্য কল্যাণকর। যারা বলে যে, আল্লাহ বান্দাদের এমন বিষয়ের নির্দেশ দিতে পারেন যাতে তা পালনের পর তাদের কোনো কল্যাণ নেই বরং তাতে তাদের জন্য ক্ষতি রয়েছে—বিষয়টি তাদের কথার মতো নয়।

কেননা বিষয়টি যদি তাই হতো, তবে যারা রাসূলগণ ও তাঁদের অনুসারীদের নিয়ে কুলক্ষণ বা অশুভ মনে করে, তাদের কথাই সত্য হতো।

বিষয়টি যা আরও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে তা হলো: যখন তিনি বললেন: "তোমার কাছে যে কল্যাণই পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যে অকল্যাণ তোমাকে স্পর্শ করে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে," এর পরেই তিনি বললেন: "আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।" [নিসা: ৭৯]। কারণ তিনি তাঁর নিদর্শনাদলি ও মুজিযা যা তাঁর মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, তার মাধ্যমে তাঁর রিসালাতের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর আল্লাহ যখন তাঁর জন্য সাক্ষ্য দেন, তখন সাক্ষী হিসেবে তিনিই যথেষ্ট। এই লোকদের তাঁর রিসালাতকে অস্বীকার করা তাঁর কোনো ক্ষতি করবে না; তারা যেসব সংশয় উত্থাপন করেছে তা তাদেরই বিপক্ষে যায়, তাদের পক্ষে নয়। কারণ তারা তাদের নিজেদের কৃত পাপ ও এর শাস্তিগুলোকে তাঁর রিসালাত বাতিল করার দলিল হিসেবে পেশ করতে চেয়েছিল। অথচ মহান আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি তাকে মানুষের জন্য রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন। সুতরাং আলোচনার সমাপ্তিতে এই সাক্ষ্য প্রদান তাদের এই দাবিকে বাতিল করে দেয় যে, বিপদসমূহ রাসূলের পক্ষ থেকে আসে। এই কারণেই এর পরে তিনি বলেছেন: "যে রাসূলের আনুগত্য করল সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যারা বিমুখ হবে, তবে আমি তোমাকে তাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে পাঠাইনি।" [নিসা: ৮০]।
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
فصل

وكان فيما ذكره إبطال لقول الجهمية المجبرة ونحوهم، ممن يقول: إن الله قد يعذب العباد بلا ذنب، وأنه قد يأمر العباد بما لا ينفعهم، بل بما يضرهم، فإن فعلوا ما أمرهم به حصل لهم الضرر، وإن لم يفعلوه عاقبهم.

يقولون هذا ومثله، ويزعمون أن هذا لأنه يفعل ما يشاء.

والقرآن يرد على هؤلاء من وجوه كثيرة، كما يرد على المكذبين بالقدر.

فالآية ترد على هؤلاء وهؤلاء كما تقدم مع احتجاج الفريقين بها، وهي حجة على الفريقين.

فإن قال نفاة القدر: إنما قال في الحسنة: هي من الله، وفى السيئة: هي من نفسك، لأنه يأمر بهذا، وينهى عن هذا، باتفاق المسلمين.

قالوا: ونحن نقول: المشيئة ملازمة للأمر، فما أمر به فقد شاءه، وما لم يأمر به لم يشأه. فكانت مشيئته وأمره حَاضَّة على الطاعة دون المعصية؛ فلهذا كانت هذه منه دون هذه.

قيل: أما الآية، فقد تبين أن الذين قالوا: الحسنة من عند الله والسيئة من عندك، أرادوا: من عندك يا محمد، أي: بسبب دينك. فجعلوا رسالة الرسول هي سبب المصائب، وهذا غير مسألة القدر.

وإذا كان قد أريد: أن الطاعة والمعصية مما قد قيل كان قوله: {كُلًّ مِّنْ عِندِ اللهِ} [النساء: 78] حجة عليكم كما تقدم.

وقوله بعد هذا: {مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللهِ وَمَا أَصَابَكَ مِن سَيِّئَةٍ فَمِن نَّفْسِكَ} [النساء: 79] لا ينافى ذلك، بل " الحسنة " أنعم الله بها وبثوابها، و " السيئة " هي
পরিচ্ছেদ

তিনি যা উল্লেখ করেছেন তাতে জাহমিয়া মুজবিরা এবং তাদের মতাবলম্বীদের বক্তব্যের খণ্ডন রয়েছে, যারা বলে: আল্লাহ বান্দাদেরকে কোনো পাপ ছাড়াই শাস্তি দিতে পারেন, এবং তিনি বান্দাদের এমন বিষয়ের নির্দেশ দিতে পারেন যা তাদের কোনো উপকারে আসে না, বরং তাদের ক্ষতি করে; ফলে তিনি তাদের যা নির্দেশ দিয়েছেন তা যদি তারা পালন করে তবে তাদের ক্ষতি হয়, আর যদি তারা তা না করে তবে তিনি তাদের শাস্তি দেন।

তারা এটি এবং এই জাতীয় কথা বলে, এবং দাবি করে যে এটি এই কারণে যে তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন।

আর কুরআন এদেরকে বিভিন্ন দিক থেকে খণ্ডন করে, যেমনটি তা তাকদির অস্বীকারকারীদের খণ্ডন করে।

অতএব আয়াতটি এদের এবং ওদের উভয়কেই খণ্ডন করে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, যদিও উভয় দলই এটি দ্বারা দলিল পেশ করে থাকে; অথচ এটি উভয় দলের বিপক্ষেই প্রমাণ।

যদি তাকদির অস্বীকারকারীরা বলে: কল্যাণের ক্ষেত্রে 'তা আল্লাহর পক্ষ থেকে' এবং অকল্যাণের ক্ষেত্রে 'তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে' কেবল এ জন্যই বলা হয়েছে যে, মুসলিমদের ঐকমত্যে তিনি এটির নির্দেশ দেন এবং ওটি থেকে নিষেধ করেন।

তারা বলে: আর আমরা বলি: ইচ্ছা (মাশিয়াত) নির্দেশের (আমর) সাথে অবিচ্ছেদ্য; সুতরাং তিনি যার নির্দেশ দিয়েছেন তা তিনি ইচ্ছা করেছেন, আর যার নির্দেশ দেননি তা তিনি ইচ্ছা করেননি। ফলে তাঁর ইচ্ছা ও নির্দেশ আনুগত্যের প্রতি উৎসাহ প্রদানকারী, নাফরমানির প্রতি নয়; এই কারণেই এটি তাঁর পক্ষ থেকে হয়েছে, ওটি নয়।

বলা হয়েছে: আয়াতের ব্যাপারে কথা হলো, এটা স্পষ্ট যে যারা বলেছিল 'কল্যাণ আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং অকল্যাণ তোমার পক্ষ থেকে', তারা উদ্দেশ্য করেছিল: 'হে মুহাম্মাদ, আপনার পক্ষ থেকে', অর্থাৎ: আপনার দ্বীনের কারণে। এভাবে তারা রাসূলের রিসালাতকে বিপদ-আপদ আসার কারণ সাব্যস্ত করেছিল, আর এটি তাকদিরের মাসআলা থেকে ভিন্ন।

আর যদি আনুগত্য ও নাফরমানিকে উদ্দেশ্য করা হয়ে থাকে যা বলা হয়েছে, তবে তাঁর বাণী: {সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে} [আন-নিসা: ৭৮] আপনাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হবে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আর এর পরের বাণী: {তোমার যে কল্যাণ হয় তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর তোমার যে অকল্যাণ হয় তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে} [আন-নিসা: ৭৯] সেটির পরিপন্থী নয়; বরং "কল্যাণ" হলো যার মাধ্যমে আল্লাহ নিয়ামত দান করেছেন এবং তার সওয়াব দিয়েছেন, আর "অকল্যাণ" হলো
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
من نفس الإنسان ناشئة، وإن كانت بقضائه وقدره، كما قال تعالى: {مٌن شّرٌَ مّا خّلّقّ} [الفلق: 2] ، فمن المخلوقات ماله شر، وإن كان بقضائه وقدره.

وأنتم تقولون: الطاعة والمعصية هما من إحداث الإنسان، بدون أن يجعل الله هذا فاعلا وهذا فاعلا، وبدون أن يخص الله المؤمن بنعمة ورحمة أطاعه بها؟ وهذا مخالف للقرآن.

فَصل

فإن قيل: إذا كانت الطاعات والمعاصي مقدرة، والنعم والمصائب مقدرة، فلم فرق بين الحسنات التي هي النعم، والسيئات التي هي المصائب؟ فجعل هذه من الله، وهذه من نفس الإنسان؟

قيل: لفروق بينهما:

الفرق الأول: أن نعم الله وإحسانه إلى عباده يقع ابتداء بلا سبب منهم أصلا، فهو ينعم بالعافية والرزق والنصر، وغير ذلك على من لم يعمل خيراً قط، وينشئ للجنة خلقاً يسكنهم فضول الجنة، وقد خلقهم في الآخرة لم يعملوا خيراً، ويدخل أطفال المؤمنين ومجانينهم الجنة برحمته بلا عمل. وأما العقاب، فلا يعاقب أحداً إلا بعمله.

الفرق الثاني: أن الذي يعمل الحسنات، إذا عملها، فنفس عمله الحسنات هو من إحسان الله، وبفضله عليه بالهداية والإيمان، كما قال أهل الجنة: {الْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلا أَنْ هَدَانَا اللهُ} [الأعراف: 43] .

وفى الحديث الصحيح: " يا عبادي، إنما هي أعمالكم أُحْصيها لكم
মানুষের নিজের সত্তা থেকেই মন্দ উদ্ভূত হয়, যদিও তা তাঁর ফয়সালা ও তাকদীরের মাধ্যমেই ঘটে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে} [আল-ফালাক: ২], সুতরাং সৃষ্টিজীবের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার মন্দ দিক আছে, যদিও তা তাঁর ফয়সালা ও তাকদীরের মাধ্যমেই হয়ে থাকে।

আর তোমরা বলছ: আনুগত্য এবং নাফরমানি মানুষেরই সৃষ্টি, আল্লাহ একে কর্তা এবং ওকে কর্তা না বানিয়েই, এবং আল্লাহ মুমিনকে কোনো নিআমত ও রহমত দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত না করেই যার মাধ্যমে সে তাঁর আনুগত্য করেছে? অথচ এটি কুরআনের পরিপন্থী।

পরিচ্ছেদ

যদি বলা হয়: যদি আনুগত্য ও নাফরমানি নির্ধারিত হয়, এবং নিআমত ও বিপদাপদ নির্ধারিত হয়, তবে নেক আমল যা নিআমত স্বরূপ, এবং পাপ কাজ যা বিপদ স্বরূপ—এ দুয়ের মধ্যে কেন পার্থক্য করা হলো? কেন নেক আমলকে আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং পাপ কাজকে মানুষের নিজের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হলো?

বলা হবে: তাদের উভয়ের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকার কারণে:

প্রথম পার্থক্য: বান্দাদের প্রতি আল্লাহর নিআমত ও অনুগ্রহ মূলত তাদের পক্ষ থেকে কোনো কারণ ছাড়াই প্রাথমিকভাবে ঘটে থাকে। ফলে তিনি এমন ব্যক্তিকেও সুস্থতা, রিযিক, সাহায্য এবং অন্যান্য নিআমত দান করেন যে কখনও কোনো ভালো কাজ করেনি। তিনি জান্নাতের জন্য এমন একদল সৃষ্টি তৈরি করবেন যাদের তিনি জান্নাতের অতিরিক্ত অংশে বসবাস করাবেন, অথচ তিনি তাদের পরকালে সৃষ্টি করেছেন এবং তারা কোনো নেক আমল করেনি। এছাড়া তিনি মুমিনদের শিশু সন্তানদের এবং পাগলদের তাঁর রহমতে কোনো আমল ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। পক্ষান্তরে শাস্তির বিষয়টি এমন যে, তিনি কাউকে তার আমল ব্যতীত শাস্তি দেন না।

দ্বিতীয় পার্থক্য: যে ব্যক্তি নেক আমল করে, যখন সে তা করে, তখন তার সেই নেক আমল করাটাই আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তার ওপর হিদায়াত ও ঈমানের মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বড় দান। যেমনটি জান্নাতবাসীরা বলবে: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এ পথ দেখিয়েছেন, আর আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা পথ পেতাম না} [আল-আ'রাফ: ৪৩]।

এবং সহীহ হাদীসে এসেছে: "হে আমার বান্দারা, এগুলো তোমাদেরই আমল যা আমি তোমাদের জন্য গণনা করি...
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
ثم أوفيكم إياها، فمن وَجَد خيراً فليحمد الله، ومن وجد غير ذلك فلا يَلُومَنَّ إلا نفسه ".

فنفس خلق الله لهم أحياء، وجعله لهم السمع والأبصار والأفئدة، هو من نعمته. ونفس إرسال الرسول إليهم، وتبليغه البلاغ المبين الذي اهتدوا به، هو من نعمته.

وإلهامهم الإيمان، وهدايتهم إليه، وتخصيصهم بمزيد نعمة حصل لهم بها الإيمان دون الكافرين؛ هو من نعمته، كما قال تعالى: {وَلَكِنَّ اللَّهَ حَبَّبَ إِلَيْكُمُ الْإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُوْلَئِكَ هُمُ الرَّاشِدُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَنِعْمَةً} [الحجرات: 7، 8] .

فجميع ما يتقلب فيه العالم من خيري الدنيا والآخرة، هو نعمة محضة منه، بلا سبب سابق يوجب لهم حقاً، ولا حول ولا قوة لهم من أنفسهم إلا به، وهو خالق نفوسهم، وخالق أعمالها الصالحة وخالق الجزاء.

فقوله: {مَّا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللهِ} [النساء: 79] حق من كل وجه، ظاهراً وباطناً على مذهب أهل السنة.

وأما السيئة: فلا تكون إلا بذنب العبد، وذنبه من نفسه. وهو لم يقل: إني لم أقدر ذلك ولم أخلقه، بل ذكر للناس ما ينفعهم.

فصل

فإذا تدبر العبد علم أن ما هو فيه من الحسنات من فضل الله، فشكر الله، فزاده الله من فضله عملا صالحاً، ونعماً يفيضها عليه.

وإذا علم أن الشر لا يحصل له إلا من نفسه بذنوبه استغفر وتاب، فزال عنه سبب الشر.
এরপর আমি তোমাদেরকে তা পূর্ণরূপে প্রদান করব। সুতরাং যে ব্যক্তি কল্যাণ লাভ করবে, সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে। আর যে ব্যক্তি অন্য কিছু লাভ করবে, সে যেন নিজের নফস ছাড়া অন্য কাউকে তিরস্কার না করে।

আল্লাহ কর্তৃক তাদেরকে জীবিত হিসেবে সৃষ্টি করা এবং তাদের জন্য শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ দান করা তাঁরই নেয়ামতের অন্তর্ভুক্ত। তাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করা এবং তাঁর সুস্পষ্ট বাণী প্রচার করা—যার মাধ্যমে তারা হেদায়াত লাভ করেছে—তাও তাঁরই নেয়ামতের অন্তর্ভুক্ত।

তাদেরকে ঈমানের অনুপ্রেরণা দান, সেদিকে পরিচালিত করা এবং কাফেরদের পরিবর্তে তাদেরকে বিশেষ নেয়ামত প্রদানের মাধ্যমে ঈমান নসিব করাও তাঁরই নেয়ামতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "কিন্তু আল্লাহ তোমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের অন্তরে সুশোভিত করেছেন। আর কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে তোমাদের নিকট অপ্রিয় করে দিয়েছেন। তারাই হলো সত্যপথ অনুসারী। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও নেয়ামত।" [আল-হুজুরাত: ৭, ৮]।

সুতরাং জগতের অধিবাসীগণ দুনিয়া ও আখেরাতের যে সকল কল্যাণের মধ্যে বিচরণ করে, তা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা বিশুদ্ধ নেয়ামত। এর পেছনে এমন কোনো পূর্ববর্তী কারণ নেই যা তাদের জন্য এটি লাভ করাকে অধিকার হিসেবে অপরিহার্য করে দেয়। তাঁর সাহায্য ব্যতীত তাদের নিজেদের কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই। তিনিই তাদের প্রাণের স্রষ্টা, তাদের নেক আমলের স্রষ্টা এবং প্রতিদানেরও স্রষ্টা।

সুতরাং তাঁর বাণী: "তোমার যে কল্যাণ হয়, তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই।" [আন-নিসা: ৭৯]—এটি আহলুস সুন্নাহর মতাদর্শ অনুযায়ী প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল দিক থেকেই সত্য।

আর অকল্যাণের বিষয়টি হলো: তা কেবল বান্দার পাপের কারণেই ঘটে থাকে এবং তার সেই পাপ তার নিজের নফস থেকেই উৎসারিত। তিনি এটি বলেননি যে, 'আমি তা নির্ধারণ করিনি বা আমি তা সৃষ্টি করিনি', বরং তিনি মানুষের কাছে তা-ই উল্লেখ করেছেন যা তাদের উপকারে আসবে।

পরিচ্ছেদ

সুতরাং বান্দা যখন চিন্তা-গবেষণা করে, তখন সে অনুধাবন করতে পারে যে, সে যে সকল কল্যাণের মধ্যে রয়েছে তা আল্লাহর অনুগ্রহ। ফলে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে এবং আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহে তার সৎকর্ম বৃদ্ধি করে দেন এবং তার ওপর অধিক নেয়ামত বর্ষণ করেন।

আর যখন সে জানতে পারে যে, অকল্যাণ কেবল তার নিজের নফস ও পাপের কারণেই তার কাছে পৌঁছেছে, তখন সে ক্ষমা প্রার্থনা করে ও তাওবা করে। ফলে তার থেকে অকল্যাণের কারণ দূর হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
فيكون العبد دائماً شاكراً مستغفراً، فلا يزال الخير يتضاعف له، والشر يندفع عنه، كما كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول في خطبته: " الحمد لله " فيشكر الله، ثم يقول: " نستعينه ونستغفره " نستعينه على الطاعة، ونستغفره من المعصية، ثم يقول: " ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا " فيستعيذ به من الشر الذي في النفس، ومن عقوبة عمله، فليس الشر إلا من نفسه ومن عمل نفسه، فيستعيذ الله من شر النفس؛ أن يعمل بسبب سيئاته الخطايا، ثم إذا عمل استعاذ بالله من سيئات عمله ومن عقوبات عمله، فاستعانه على الطاعة وأسبابها، واستعاذ به من المعصية وعقابها.

فعِلْمُ العبد بأن ما أصابه من حسنة فمن الله، وما أصابه من سيئة فمن نفسه يوجب له هذا وهذا، فهو سبحانه فرق بينهما هنا، بعد أن جمع بينهما في قوله: {كُلًّ مِّنْ عِندِ اللهِ} [النساء: 78] .

فبين أن الحسنات والسيئات: النعم والمصائب، والطاعات والمعاصي، على قول من أدخلها في: {مِنْ عِنْدِ اللهِ} .

ثم بين الفرق الذي ينتفعون به، وهو أن هذا الخير من نعمة الله، فاشكروه يزدكم، وهذا الشر من ذنوبكم، فاستغفروه، يدفعه عنكم.

قال الله تعالى: {وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ} [الأنفال: 33] ،وقال تعالى: {الَر كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِن لَّدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ أَلَاّ تَعْبُدُواْ إِلَاّ اللهَ إِنَّنِي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ وَأَنِ اسْتَغْفِرُواْ رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُواْ إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُم مَّتَاعًا حَسَنًا إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى وَيُؤْتِ كُلَّ ذِي فَضْلٍ فَضْلَهُ} [هود: 1 3] .

والمذنب إذا استغفر ربه من ذنبه، فقد تَأَسَّى بالسعداء من الأنبياء
ফলে বান্দা সর্বদা কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী ও ক্ষমা প্রার্থনাকারী থাকে। এর ফলে তার জন্য কল্যাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং অকল্যাণ বিদূরিত হতে থাকে। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবায় বলতেন: "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য", এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন। এরপর বলতেন: "আমরা তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি", অর্থাৎ আমরা আনুগত্যের ওপর তাঁর সাহায্য চাই এবং পাপাচার থেকে তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। তারপর তিনি বলতেন: "আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ কর্মসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি"। এর মাধ্যমে তিনি নফসের ভেতরকার অনিষ্ট এবং কর্মের শাস্তি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতেন। কেননা অকল্যাণ তো কেবল নিজের নফস এবং নিজের কর্ম থেকেই আসে। তাই তিনি নফসের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতেন; যেন তিনি নিজের পূর্বকৃত মন্দ কর্মের কারণে পাপে লিপ্ত না হন। অতঃপর যখন কোনো কাজ করতেন, তখন সেই কর্মের মন্দ ফলাফল ও তার শাস্তি থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। এভাবে তিনি আনুগত্য ও তার উপায়ের জন্য আল্লাহর সাহায্য চাইতেন এবং পাপাচার ও তার শাস্তি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় নিতেন।

বান্দার এই জ্ঞান যে, তার কাছে আসা প্রতিটি কল্যাণ আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং প্রতিটি অকল্যাণ তার নিজের কারণে—তা তাকে এই উভয় বিষয় (শুকরিয়া ও ইস্তিগফার) পালনে উদ্বুদ্ধ করে। মহান আল্লাহ এখানে এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন, যদিও তিনি তাঁর এই বাণীতে উভয়কে একত্রে উল্লেখ করেছেন: "সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে" [নিসা: ৭৮]।

তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কল্যাণ ও অকল্যাণ—অর্থাৎ নেয়ামত ও বিপদ-আপদ এবং আনুগত্য ও পাপাচার—সবই "আল্লাহর পক্ষ থেকে" বাণীর অন্তর্ভুক্ত, তাদের মতানুসারে যারা এই বিষয়গুলোকে উক্ত আয়াতের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন।

অতঃপর তিনি সেই পার্থক্যের কথা বর্ণনা করেছেন যার মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হয়। আর তা হলো: এই কল্যাণ আল্লাহর নেয়ামত, সুতরাং তাঁর শুকরিয়া আদায় করো তিনি তোমাদের তা বাড়িয়ে দেবেন; আর এই অকল্যাণ তোমাদের পাপের ফসল, সুতরাং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো তিনি তা তোমাদের থেকে দূর করে দেবেন।

মহান আল্লাহ বলেন: "আর আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মাঝে থাকা অবস্থায় তিনি তাদের শাস্তি দেবেন এবং আল্লাহ তাদের শাস্তি দানকারী নন যখন তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।" [আনফাল: ৩৩]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত, অতঃপর তা প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞাত সত্তার পক্ষ থেকে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। যেন তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করো; নিশ্চয় আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা। আর যেন তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁরই দিকে ফিরে আসো, তবে তিনি তোমাদেরকে এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উত্তম জীবনোপকরণ দান করবেন এবং প্রত্যেক মর্যাদাশীল ব্যক্তিকে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা দান করবেন।" [হুদ: ১-৩]।

আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি যখন তার পাপের জন্য তার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন সে সৌভাগ্যবান নবীগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করে।
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
والمؤمنين، كآدم وغيره. وإذا أصر، واحتج بالقدر، فقد تأسى بالأشقياء، كإبليس ومن اتبعه من الغاوين.

فكان من ذكره: أن السيئة من نفس الإنسان بذنوبه، بعد أن ذكر: أن الجميع من عند الله تنبيهاً على الاستغفار والتوبة، والاستعاذة بالله من شر نفسه وسيئات عمله، والدعاء بذلك في الصباح والمساء، وعند المنام، كما أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بذلك أبا بكر الصديق، أفضل الأمة، حيث علمه أن يقول: " اللهم فاطر السموات والأرض، عالم الغيب والشهادة، أعوذ بك من شر نفسي وشر الشيطان وشِرْكه، وأن أقترف على نفسي سوءاً أو أجره إلى مسلم ". فيستغفر مما مضى، ويستعيذ مما يستقبل، فيكون من حزب السعداء.

وإذا علم أن الحسنة من الله الجزاء والعمل سأله أن يعينه على فعل الحسنات، بقوله: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} [الفاتحة: 5] ، وبقوله: {اهدِنَا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ} [الفاتحة: 6] ، وقوله: {رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا} [آل عمران: 8] ونحو ذلك.

وأما إذا أخبر أن الجميع من عند الله فقط، ولم يذكر الفرق، فإنه يحصل من هذا التسوية، فأعرض العاصي والمذنب عن ذم نفسه وعن التوبة من ذنوبها، والاستعاذة من شرها، بل وقام في نفسه أن يحتج على الله بالقدر. وتلك حجة داحضة لا تنفعه، بل تزيده عذاباً وشقاء، كما زادت إبليس لما قال: {فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ} [الأعراف: 16] ، وقال: {رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الأَرْضِ وَلأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ} [الحجر: 39] .

وكالذين يقولون يوم القيامة: {لَوْ أَنَّ اللَّهَ هَدَانِي لَكُنتُ مِنَ الْمُتَّقِينَ} [الزمر: 57] ، وكالذين قالوا: {لَوْ شَاء اللهُ مَا أَشْرَكْنَا وَلَا آبَاؤُنَا وَلَا حَرَّمْنَا مِن شَيْءٍ} [الأنعام: 148] .
...এবং মুমিনগণ, যেমন আদম ও অন্যান্যরা। আর যদি সে জেদ ধরে এবং তাকদীরের দোহাই দেয়, তবে সে দুর্ভাগাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করল, যেমন ইবলিস এবং তার অনুসারী পথভ্রষ্টরা।

সুতরাং তাঁর বর্ণনার উদ্দেশ্য ছিল এটি স্পষ্ট করা যে: মন্দ বিষয় মানুষের নিজের গুনাহের কারণে তার নফস থেকেই ঘটে; অথচ তিনি আগেই উল্লেখ করেছেন যে সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে—যাতে ক্ষমা প্রার্থনা, তওবা এবং নিজের নফসের অনিষ্ট ও মন্দ আমল থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করার বিষয়ে সজাগ হওয়া যায়। এছাড়া সকাল-সন্ধ্যায় এবং নিদ্রার সময় এ সংক্রান্ত দোয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আবু বকর সিদ্দিককে শিখিয়েছিলেন। তিনি তাকে বলতে শিখিয়েছিলেন: "হে আল্লাহ! আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর পরিজ্ঞাত, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি আমার নফসের অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানের অনিষ্ট ও তার শিরক থেকে, আর নিজের ওপর কোনো মন্দ কাজ করা অথবা কোনো মুসলিমের দিকে তা টেনে নেওয়া থেকে।" সুতরাং সে অতীতের জন্য ক্ষমা চাইবে এবং ভবিষ্যতের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করবে, ফলে সে সৌভাগ্যবানদের দলের অন্তর্ভুক্ত হবে।

আর যখন সে জানতে পারে যে, পুণ্য কাজ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান ও আমলস্বরূপ, তখন সে তাঁর কাছে নেক কাজ করার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করে। যেমন তাঁর বাণী: "আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই" [আল-ফাতিহা: ৫], এবং তাঁর বাণী: "আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন" [আল-ফাতিহা: ৬], আর তাঁর বাণী: "হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে হিদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহকে সত্যবিচ্যুত করবেন না" [আলে ইমরান: ৮] এবং এই জাতীয় আয়াতসমূহ।

পক্ষান্তরে, যদি কেবল এ কথাই বলা হয় যে সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং পার্থক্যের কথা উল্লেখ না করা হয়, তবে এর ফলে উভয় বিষয় সমান হয়ে যায়। তখন পাপিষ্ঠ ও অপরাধী ব্যক্তি নিজের নফসের নিন্দা করা, গুনাহ থেকে তওবা করা এবং নফসের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া থেকে বিমুখ হয়। এমনকি তার মনে আল্লাহর বিরুদ্ধে তাকদীরের দোহাই দেওয়ার চিন্তা জাগ্রত হয়। আর এটি এমন এক অসার যুক্তি যা তার কোনো উপকারে আসবে না, বরং তা তার আজাব ও দুর্ভাগা অবস্থাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। যেমনটি ইবলিসের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেয়েছিল যখন সে বলেছিল: "যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাই আমি অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে ওত পেতে বসে থাকব" [আল-আরাফ: ১৬]। এবং সে বলেছিল: "হে আমার রব! যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাই আমি অবশ্যই যমীনে তাদের নিকট পাপকে সুশোভিত করব এবং আমি তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করে দেব" [আল-হিজর: ৩৯]।

আর যেমন তারা কিয়ামতের দিন বলবে: "যদি আল্লাহ আমাকে হিদায়াত দিতেন, তবে অবশ্যই আমি মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম" [আয-যুমার: ৫৭]। আর যেমন তারা বলেছিল: "যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমরা শিরক করতাম না এবং আমাদের পিতৃপুরুষেরাও করত না, আর আমরা কোনো কিছু হারামও করতাম না" [আল-আনআম: ১৪৮]।
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
فمن احتج بالقدر على ما فعله من ذنوبه، وأعرض عما أمر الله به، من التوبة والاستغفار، والاستعانة بالله، والاستعاذة به، واستهدائه كان من أخسر الناس في الدنيا والآخرة. فهذا من فوائد ذكر الفرق بين الجمع.

فصل

الفرق الثالث: أن الحسنة يضاعفها الله وينميها، ويثيب على الهم بها، والسيئة لا يضاعفها، ولا يؤاخذ على الهم بها. فيعطى صاحب الحسنة من الحسنات فوق ما عمل، وصاحب السيئة لا يجزيه إلا بقدر عمله، قال تعالى: {مَن جَاء بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا وَمَن جَاء بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَى إِلَاّ مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ} [الأنعام: 160] .

الفرق الرابع: أن الحسنة مضافة إليه؛ لأنه أحسن بها من كل وجه كما تقدم فما من وجه من وجوهها إلا وهو يقتضى الإضافة إليه.

وأما السيئة فهو إنما يخلقها بحكمة، وهى باعتبار تلك الحكمة من إحسانه، فإن الرب لا يفعل سيئة قط، بل فعله كله حسن وحسنات، وفعله كله خير.

ولهذا كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول في دعاء الاستفتاح: " والخير بيديك، والشر ليس إليك "، فإنه لا يخلق شراً محضاً، بل كل ما يخلقه ففيه حكمة، هو باعتبارها خير، ولكن قد يكون فيه شر لبعض الناس وهو شر جزئي إضافي، فأما شر كلى، أو شر مطلق، فالرب منزه عنه، وهذا هو الشر الذي ليس إليه.

وأما الشر الجزئي الإضافي، فهو خير باعتبار حكمته؛ ولهذا لا يضاف
সুতরাং যে ব্যক্তি তার কৃত পাপের ব্যাপারে তাকদীরের দোহাই দেয় এবং আল্লাহ যা আদেশ করেছেন—যেমন তাওবা, ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা), আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা, তাঁর নিকট আশ্রয় গ্রহণ এবং হিদায়াত প্রার্থনা—তা থেকে বিমুখ থাকে, সে দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। এটি ‘জামা’ (একত্রিতকরণ)-এর মধ্যকার পার্থক্য আলোচনার অন্যতম উপকারিতা।

পরিচ্ছেদ

তৃতীয় পার্থক্য: আল্লাহ নেক কাজকে দ্বিগুণ করেন ও বৃদ্ধি করেন এবং নেক কাজের সংকল্পের ওপরও সওয়াব দান করেন। কিন্তু মন্দ কাজকে তিনি দ্বিগুণ করেন না এবং মন্দ কাজের সংকল্পের কারণে পাকড়াও করেন না। সুতরাং নেক আমলকারীকে তার আমলের চেয়েও বেশি পুণ্য দান করা হয়, আর মন্দ আমলকারীকে তার কৃত কর্মের সমপরিমাণ ব্যতীত প্রতিদান দেওয়া হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন: "যে ব্যক্তি একটি নেক কাজ নিয়ে আসবে, তার জন্য থাকবে তার দশ গুণ। আর যে ব্যক্তি একটি মন্দ কাজ নিয়ে আসবে, তাকে কেবল তার সমপরিমাণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।" [আল-আনআম: ১৬০]।

চতুর্থ পার্থক্য: নেক কাজ আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত; কেননা তিনি সর্বদিক থেকে এর মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং নেক কাজের এমন কোনো দিক নেই যা আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়াকে আবশ্যক করে না।

আর মন্দ কাজের বিষয় হলো, তিনি তা কেবল হিকমতের (প্রজ্ঞার) কারণেই সৃষ্টি করেন। আর সেই হিকমতের বিচারে তা তাঁর অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা রব কখনোই কোনো মন্দ কাজ করেন না, বরং তাঁর সকল কাজই সুন্দর ও কল্যাণকর এবং তাঁর সকল কাজই মঙ্গলময়।

এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সানা পাঠের সময় বলতেন: "সকল কল্যাণ আপনার দুই হাতে, আর মন্দ আপনার দিকে সম্বন্ধযুক্ত নয়।" কেননা তিনি নিছক মন্দ সৃষ্টি করেন না, বরং তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেন তাতে কোনো না কোনো হিকমত থাকে, যা সেই বিবেচনায় কল্যাণকর। তবে কোনো কোনো মানুষের ক্ষেত্রে তাতে মন্দ থাকতে পারে যা আংশিক ও আপেক্ষিক মন্দ। কিন্তু সামগ্রিক মন্দ বা নিরঙ্কুশ মন্দ থেকে রব পবিত্র, আর এটিই সেই মন্দ যা তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয় না।

আর আংশিক ও আপেক্ষিক মন্দের বিষয়টি হলো, তা হিকমতের বিচারে কল্যাণকর; আর এই কারণেই তা সম্বন্ধযুক্ত করা হয় না।
(খণ্ড: ১) আল-হাসানাতু ওয়াস সাইয়িআহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
الشر إليه مفرداً قط، بل إما أن يدخل في عموم المخلوقات، كقوله: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ} [الأنعام: 101] وإما أن يضاف إلى السبب كقوله تعالى: {مِن شَرِّ مَا خَلَقَ} [الفلق: 2] وإما أن يحذف فاعله، كقول الجن: {وَأَنَّا لَا نَدْرِي أَشَرٌّ أُرِيدَ بِمَن فِي الْأَرْضِ أَمْ أَرَادَ بِهِمْ رَبُّهُمْ رَشَدًا} [الجن: 10] .

وهذا الموضع ضل فيه فريقان من الناس الخائضين في القدر بالباطل: فرقة كذبت بهذا، وقالت: إنه لا يخلق أفعال العباد، ولا يشاء كل ما يكون؛ لأن الذنوب قبيحة، وهو لا يفعل القبيح، وإرادتها قبيحة، وهو لا يريد القبيح.

وفرقة لما رأت أنه خالق هذا كله ولم تؤمن أنه خلق هذا لحكمة، بل قالت: إذا كان يخلق هذا فيجوز أن يخلق كل شر، ولا يخلق شيئاً لحكمة، وما ثم فعل تنزه عنه بل كل ما كان ممكناً جاز أن يفعله.

وجوزوا أن يأمر بكل كفر ومعصية، وينهى عن كل إيمان وطاعة، وصدق وعدل، وأن يعذب الأنبياء، وينعم الفراعنة والمشركين وغير ذلك ولم يفرقوا بين مفعول ومفعول.

وهذا منكر من القول وزور، كالأول، قال تعالى: {أًمْ حَسِبَ الَّذِينَ اجْتَرَحُوا السَّيِّئَاتِ أّن نَّجْعَلَهُمْ كَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَوَاء مَّحْيَاهُم وَمَمَاتُهُمْ سَاء مَا يَحْكُمُونَ} [الجاثية: 21] ، وقال تعالى: {أَفَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِينَ كَالْمُجْرِمِينَ مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ} [القلم: 35، 36] ، وقال تعالى: {أَمْ نَجْعَلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَالْمُفْسِدِينَ فِي الْأَرْضِ أَمْ نَجْعَلُ الْمُتَّقِينَ كَالْفُجَّارِ} [ص: 28] ونحو ذلك مما يوجب
মন্দের সম্বন্ধ তাঁর প্রতি কখনোই এককভাবে করা হয় না, বরং তা হয় সাধারণ সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত করে করা হয়, যেমন তাঁর বাণী: "এবং তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন" [আল-আন‘আম: ১০১]। অথবা তাকে কারণের দিকে সম্বন্ধ করা হয়, যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণী: "তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে" [আল-ফালাক: ২]। অথবা তার কর্তাকে উহ্য রাখা হয়, যেমন জিনদের উক্তি: "এবং আমরা জানি না যে, পৃথিবীতে যারা আছে তাদের জন্য মন্দের ইচ্ছা করা হয়েছে, নাকি তাদের রব তাদের জন্য কল্যাণের ইচ্ছা করেছেন" [আল-জিন: ১০]।

তকদির সম্পর্কে বাতিল পন্থায় লিপ্ত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে দুই দল এই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছে: একদল একে অস্বীকার করেছে এবং বলেছে: তিনি বান্দাদের কাজ সৃষ্টি করেন না এবং যা কিছু ঘটে তার সবকিছু তিনি ইচ্ছা করেন না; কারণ গুনাহসমূহ মন্দ এবং তিনি মন্দ কিছু করেন না, আর তা ইচ্ছা করাও মন্দ, আর তিনি মন্দ ইচ্ছা করেন না।

আর অপর এক দল যখন দেখল যে তিনি এই সবকিছুর স্রষ্টা কিন্তু তারা এটা বিশ্বাস করল না যে তিনি তা কোনো হিকমতের (প্রজ্ঞার) কারণে সৃষ্টি করেছেন, বরং তারা বলল: যেহেতু তিনি এ সব সৃষ্টি করেন, তাই তাঁর পক্ষে সকল মন্দ সৃষ্টি করা বৈধ, এবং কোনো কিছু হিকমতের কারণে সৃষ্টি না করাও সম্ভব; সেখানে এমন কোনো কাজ নেই যা থেকে তিনি পবিত্র, বরং যা কিছু সম্ভবপর তার সবকিছুই তাঁর করা জায়েজ।

তারা বৈধ মনে করেছে যে, তিনি সকল কুফরি ও নাফরমানির আদেশ দিতে পারেন এবং সকল ঈমান, আনুগত্য, সত্যবাদিতা ও ন্যায়বিচার থেকে নিষেধ করতে পারেন; আর তিনি নবীদের আজাব দিতে পারেন এবং ফেরাউন ও মুশরিকদের নেয়ামত দান করতে পারেন—এই রূপ আরও অনেক কিছু। তারা এক কর্ম ও অন্য কর্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেনি।

এটা এক অত্যন্ত গর্হিত ও মিথ্যা কথা, প্রথম দলটির মতোই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: "যারা মন্দ কাজ করেছে তারা কি মনে করে যে, আমি তাদের সেই সব লোকের সমান করে দেব যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে এবং তাদের জীবন ও মৃত্যু কি সমান হবে? তারা যা ফয়সালা করে তা কতই না মন্দ!" [আল-জাছিয়াহ্: ২১]। আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন: "তবে কি আমি মুসলিমদের অপরাধীদের ন্যায় গণ্য করব? তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কেমন ফয়সালা করছ?" [আল-কলাম: ৩৫, ৩৬]। আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন: "আমি কি বিশ্বাসী ও সৎকর্মপরায়ণদের জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের মতো গণ্য করব, নাকি মুত্তাকিদের পাপাচারীদের মতো গণ্য করব?" [সোয়াদ: ২৮]। এ জাতীয় আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা অপরিহার্য করে...