(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: -)
الحركة الوهابية (رد على مقال لمحمد البهى في نقد الوهابية)   (محمد خليل هراس)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الحركة الوهابية (رد على مقال لمحمد البهى في نقد الوهابية)

المؤلف: محمد بن خليل حسن هرّاس (ت 1395هـ)

المحقق: أحمد بن عبد العزيز بن محمد بن عبد الله التويجري

الناشر: دار السنة

الطبعة: الأولى 1428 هـ - 1428 هـ

عدد الصفحات: 85

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ওহাবী আন্দোলন (ওহাবীবাদের সমালোচনায় মুহাম্মদ আল-বাহীর একটি প্রবন্ধের প্রতিত্তর)   (মুহাম্মদ খলিল হাররাস)

বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডন


বই: ওহাবী আন্দোলন (ওহাবীবাদের সমালোচনায় মুহাম্মদ আল-বাহীর একটি প্রবন্ধের প্রতিত্তর)

লেখক: মুহাম্মদ বিন খলিল হাসান হাররাস (মৃত্যু ১৩৯৫ হি.)

সম্পাদক: আহমাদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুওয়াইজারি

প্রকাশক: দারুস সুন্নাহ

সংস্করণ: প্রথম ১৪২৮ হি. - ১৪২৮ হি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌مقدمة

لأستاذنا الدكتور محمد البهي1 كتيب نشرته "دار الفكر" ببيروت، عالج فيه الفكر الإسلامي في تطوره وتتبعه في أدواره المختلفة بين الصعود والهبوط، وبين الحركة والجمود.

وقد عقد في هذا الكتيب فصلاً عن الحركة الوهابية، باعتبارها امتداداً للحركة الدينية الإصلاحية التي قام بها في القرن الثامن الهجري شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله.

وقد ملأ الدكتور الكبير مقاله عن الوهابية بمزاعم لا تتفق مع الحق، ولا سند لها من الواقع، ونقدها نقداً جانب في الإنصاف، ولم يراع فيه موازين البحث العلمي.

ومعلوم أن النقد النزيه لأي أمر من الأمور، هو الذي لا يغمط الحسنات بقدر ما لا يغفل السيئات، ولكن دكتورنا لم يذكر لهذه الحركة المباركة ولا حسنة واحدة، بل كل ما ورد في مقاله عيوب ومثالب، وإلقاء التهم جزافاً بلا حساب، مما يوحي بأنه كان واقعاً تحت تأثير عوامل معينة.

نعم، إن الذي يقرأ النقد الموجه من الدكتور البهي للحركة، ثم يوازن بينه وبين المبادئ الذاتية لتلك الحركة، وما قامت به في الماضي ولا

--------------------------------------------

1 هو الدكتور محمد كامل البهي، من الوزراء المصريين. ولد بمصر، وتخرج بالأزهر، ثم التحق بالجامعات الألمانية، وتأثر بأفكار جمال الدين الأفغاني. عاد إلى بلده مدرساً في كلية أصول الدين. وتولى وزارة الأوقاف، له العديد من المؤلفات. وكانت له جهود فيما يُسمى بتطوير الأزهر. توفي رحمه الله تعالى سنة 1403هـ. انظر مشكوراً: موسوعة أعلام مصر ص 401، ومئة شخصية مصرية ص 205-207.
ভূমিকা

আমাদের উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মদ আল-বাহী-এর ১ বৈরুতের "দারুল ফিকর" থেকে প্রকাশিত একটি পুস্তিকা রয়েছে, যাতে তিনি ইসলামী চিন্তাধারার বিবর্তন এবং এর উত্থান-পতন ও গতিশীলতা ও স্থবিরতার বিভিন্ন পর্যায় পর্যালোচনা করেছেন।

তিনি এই পুস্তিকায় ওয়াহাবি আন্দোলন সম্পর্কে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন, যা তাঁর দৃষ্টিতে অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) কর্তৃক সূচিত ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনেরই একটি ধারাবাহিকতা।

সম্মানিত ডক্টর ওয়াহাবিবাদ সম্পর্কে তাঁর প্রবন্ধে এমন কিছু দাবি উত্থাপন করেছেন যা সত্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং বাস্তবতার নিরিখে যার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি একে এমনভাবে সমালোচনা করেছেন যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং এতে তিনি বৈজ্ঞানিক গবেষণার মানদণ্ডসমূহ অনুসরণ করেননি।

এটা সর্বজনবিদিত যে, কোনো বিষয়ের নিরপেক্ষ সমালোচনা হলো সেটিই যা মন্দ দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি ভালো গুণাবলিকেও অস্বীকার করে না। কিন্তু আমাদের ডক্টর এই বরকতময় আন্দোলনের একটি গুণের কথাও উল্লেখ করেননি; বরং তাঁর প্রবন্ধে যা কিছু স্থান পেয়েছে তা কেবল ত্রুটি ও দোষারোপ এবং বাছবিচারহীনভাবে অভিযোগের তীর নিক্ষেপ, যা ইঙ্গিত দেয় যে তিনি বিশেষ কোনো পরিস্থিতির প্রভাবের অধীনে ছিলেন।

হ্যাঁ, যে ব্যক্তি এই আন্দোলনের প্রতি ডক্টর আল-বাহী কর্তৃক করা সমালোচনা পাঠ করবে এবং তারপর সেই আন্দোলনের নিজস্ব আদর্শ ও অতীতে এটি যা সম্পাদন করেছে তার মধ্যে তুলনা করবে, সে দেখতে পাবে যে...

--------------------------------------------

১. তিনি হলেন ডক্টর মুহাম্মদ কামিল আল-বাহী, মিশরের অন্যতম মন্ত্রী। তিনি মিশরে জন্মগ্রহণ করেন এবং আল-আযহার থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন, তারপর জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং জামালুদ্দীন আফগানির চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত হন। তিনি স্বদেশে ফিরে এসে 'উসুলুদ্দীন' অনুষদের শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেন এবং তাঁর বহু গ্রন্থ রয়েছে। আল-আযহারের তথাকথিত সংস্কার বা উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। তিনি ১৪০৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)। অনুগ্রহপূর্বক দেখুন: 'মাউসুআতু আলামে মিসর' (মিশরের বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের বিশ্বকোষ) পৃষ্ঠা ৪০১, এবং 'মিআতু শাখসিয়্যাহ মিসরিয়্যাহ' (মিশরের একশত ব্যক্তিত্ব) পৃষ্ঠা ২০৫-২০৭।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ১৯)
تزال تقوم به من إصلاحات ضخمة في مجالي العقيدة والعمل، يعجب للمصادر التي اعتمد عليها الدكتور في نقده، بحيث لا يداخله أدنى شك في أنه استقى ذلك مما كتبه أعداء الحركة عنها.

وعهدنا بالدكتور الكبير أنه يسلك دائماً في كل ما يكتبه سبيل التحقيق العلمي، ويلتزم جانب الدقة والتمحيص، وقد تعلمنا نه ذلك أثناء تتلمذنا له في مادة الفلسفة الإسلامية بالدراسات العليا بكلية أصول الدين إحدى كليات الجامعة الأزهرية. وكان لي أنا شخصياً شرف إشرافه على رسالتي التي حصلت بها على العالمية من درجة أستاذ، وكانت بعنوان: "ابن تيمية السلفي".

ولكنه في هذا الفصل من كتابه خالف معهوده، فألقى القول على عواهنه، من غير تثبت ولا تحقيق.

ونستأذن أستاذنا الكبير أن نناقش ما كتبه عن تلك الحركة قضية قضية، فإنه مهما كان عزيزاً علينا وحبيباً إلى قلوبنا، فإن الحق آثر عندنا حتى من نفوسنا، وقديماً ناقش أرسطو فلسفة أستاذه أفلاطون وقال في ذلك كلمته المشهورة:

"أفلاطون صديق، والحق صديق، ولكن الحق آثر لدينا من أفلاطون"1.

--------------------------------------------

1 ومن هذا المنطلق قال الإمام ابن قيم الجوزية رحمه الله في شرحه لمنازل السائرين للإمام الهروي وفي أثناء تعقبه لبعض أخطائه رحمه الله: "شيخ الإسلام حبيب إلينا والحق أحب إلينا منه، وكل ما عدا المعصوم فمأخوذ من قوله ومتروك. ونحن نحمل كلامه على أسحن محامله ثم نبين ما فيه" أنظر مشكوراً "مدارج السالكين بين منازل {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} .
আকিদাহ ও আমলের ক্ষেত্রে যে বিশাল সংস্কার কাজ তারা পরিচালনা করে আসছে, সেই প্রেক্ষিতে ডক্টর সাহেব তাঁর সমালোচনায় যেসব উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন, তাতে বিস্ময় জাগে; এ ব্যাপারে সামান্যতম সন্দেহের অবকাশ নেই যে, তিনি উক্ত আন্দোলনের শত্রুদের লেখা থেকেই এসব তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

শ্রদ্ধেয় ডক্টর সাহেবের প্রতি আমাদের সুদীর্ঘ জানাশোনা এই যে, তিনি তাঁর প্রতিটি লেখায় সর্বদা বৈজ্ঞানিক গবেষণার পথ অনুসরণ করেন এবং সূক্ষ্মতা ও গভীর যাচাই-বাছাইয়ের নীতি মেনে চলেন। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম অনুষদ 'কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিন'-এর উচ্চতর গবেষণায় ইসলামি দর্শন বিভাগে তাঁর ছাত্র হিসেবে থাকাকালীন আমরা তাঁর কাছ থেকে এটিই শিখেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য এটি সম্মানের বিষয় ছিল যে, আমার পিএইচডি (আলামিয়্যাহ) থিসিসের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন তিনি, যার শিরোনাম ছিল: "ইবনে তাইমিয়া আস-সালাফি"।

কিন্তু তাঁর এই গ্রন্থের বর্তমান পরিচ্ছেদে তিনি তাঁর চিরাচরিত রীতির ব্যতিক্রম ঘটিয়েছেন এবং কোনো প্রকার সুনিশ্চিত যাচাই বা গবেষণা ছাড়াই লাগামহীন মন্তব্য করেছেন।

আমরা আমাদের মহান উস্তাদের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করছি সেই আন্দোলন সম্পর্কে তাঁর লিখিত বিষয়গুলো একে একে আলোচনা করার জন্য। কারণ, তিনি আমাদের নিকট যতই প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় হোন না কেন, সত্য আমাদের কাছে আমাদের জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয়। অতীতে এরিস্টটল তাঁর শিক্ষক প্লেটোর দর্শনের সমালোচনা করেছিলেন এবং সেই প্রসঙ্গে তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন:

"প্লেটো আমার বন্ধু, সত্যও আমার বন্ধু, কিন্তু সত্য আমাদের কাছে প্লেটোর চেয়েও অধিক প্রিয়।"১

--------------------------------------------

১. এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) ইমাম আল-হারাউয়ি-র 'মানাজিলুস সাঈরীন' গ্রন্থের ব্যাখ্যায় তাঁর কিছু ভুল নির্দেশ করার সময় বলেছিলেন: "শায়খুল ইসলাম আমাদের নিকট অত্যন্ত প্রিয়, কিন্তু সত্য আমাদের কাছে তাঁর চেয়েও অধিক প্রিয়। নিষ্পাপ (রাসূল) ব্যতীত অন্য সবার কথাই গ্রহণীয় হতে পারে আবার বর্জনীয়ও হতে পারে। আমরা তাঁর বক্তব্যকে সর্বোত্তম অর্থে গ্রহণ করার চেষ্টা করব, অতঃপর তাতে বিদ্যমান ত্রুটিসমূহ স্পষ্ট করব।" অনুগ্রহ করে দ্রষ্টব্য: 'মাদারিজুস সালিকিন বাইনা মানাজিলি ইয়্যাকা না'বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাঈন'।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌تمهيد

…

بسم الله الرحمن الرحيم

بين يدي الكتاب

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين.

أما بعد:

فإن من حق الشيخ محمد بن عبد الوهاب علينا أن ننصفه؛ لأنه لم يقل، ولم يفعل، إلا ما يستحق الإنصاف، بل والإشادة به، والدعاء له.

إن الرجل- بأدب جم، وتواضع شديد، ورغبة خالصة فيما عند الله- كان يقول لنا في كل موقف: إنه لم يأت بجديد، ولم يبتدع شيئاً من عنده، وإنه متبع لا مبتدع، منطلق من كتاب الله الذي لا يأتيه الباطل، ومن سنة رسوله صلى الله عليه وسلم القولية والفعلية والتقريرية، وأن مردّ كل آرائه، وأقواله وأعماله الكتاب والسنة ومنهج السلف الصالح.

فما بال بعض الناس يعمدون إلى ظلم هذا الرجل؟.

وأنا أحياناً أسأل –متعجباً- نفسي: لما يظلمونه؟.

وكيف يظلمونه؟ وما الذي يحملهم على ظلمه، ومنهجه هو منهجه الذي ألمحنا إليه؟!.

أتراهم يرفضون منهج التشبث بكتاب الله وسنة رسوله ومنهج السلف الصالح، ويريدون منهجاً آخر يتجاوز القرآن والسنة. ويسقط عليهما
উপক্রমণিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

গ্রন্থ পরিচিতি

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ রাসূলের প্রতি।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের প্রতি ইনসাফ করা আমাদের একটি দায়িত্ব; কারণ তিনি যা কিছু বলেছেন বা করেছেন, তা কেবল ইনসাফেরই যোগ্য, বরং তা প্রশংসা ও তাঁর জন্য দোয়ার দাবি রাখে।

এই ব্যক্তি—অত্যন্ত শিষ্টাচার, গভীর বিনয় এবং আল্লাহর নিকট যা রয়েছে (পরকালীন প্রতিদান) তার প্রতি একনিষ্ঠ আকাঙ্ক্ষায়—প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের বলতেন: তিনি নতুন কোনো মতবাদ নিয়ে আসেননি এবং নিজ থেকে কিছুই উদ্ভাবন করেননি; বরং তিনি একজন অনুসারী (মুত্তাবি‘), উদ্ভাবক (মুবতাদি‘) নন। তাঁর যাত্রার উৎস হলো আল্লাহর কিতাব যাতে মিথ্যার কোনো অনুপ্রবেশ নেই, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাচনিক, ব্যবহারিক ও মৌন-সম্মতিমূলক সুন্নাহ। তাঁর সকল মতামত, বক্তব্য ও কার্যাবলীর মূল ভিত্তি হলো কুরআন, সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের মানহাজ (আদর্শ)।

তবে কেন কিছু লোক এই ব্যক্তির প্রতি অবিচার করতে উদ্ধত হয়?

আমি মাঝে মাঝে বিস্ময়ভরে নিজেকে প্রশ্ন করি: তারা কেন তাঁর প্রতি জুলুম করে?

আর তারা কীভাবে তাঁর প্রতি অবিচার করে? কোন বিষয়টি তাদের এই জুলুমে প্ররোচিত করে, যেখানে তাঁর মানহাজ ঠিক সেটিই যা আমরা উপরে ইঙ্গিত করেছি?!

তারা কি আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এবং সালাফে সালেহীনের মানহাজ অনুসরণের এই নীতিকে প্রত্যাখ্যান করে? নাকি তারা এমন কোনো পথ চায় যা কুরআন ও সুন্নাহকে অতিক্রম করে যায় এবং সেগুলোর ওপর ভিন্ন কিছু আরোপ করে?
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ৩)
من الأهواء والانحرافات، ثم يزعمون – بعد ذلك- أن منهجهم منهج إسلامي!!.

إنه موقف يدعو إلى الحيرة....ويبعث على الباحث فيما وراء المواقف والكلمات!.

والحق: أن هذا هو الفرق بين الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله وبين خصومه هداهم الله، الذين هاجموه، جهلاً ما يدعو إليه تارة، وعن علم تارة أخرى … وسواء أكان ذلك عن جهل أم عن علم، فإنه رفض لمنهجه الذي يتشبث فيه بالانقياد الكامل للكتاب والسنة، فأصحاب الأهواء والانحرافات يرفضون هذا الانقياد، حتى وإن جادلوا لكي يبقوا في دائرة الإسلام، محاربين كل من يحاول تبصيرهم بأنهم -عرفوا أو لم يعرفوا - يخرجون عن الإسلام؛ لأنه يجعلون "العقل" مكان الوحي، و "الهوى" مكان النص، و "الضغوط العصرية" مكان الثوابت الإسلامية، ويريدون - أدركوا أو لم يدركوا- أن يدور الكتاب والسنة وراء تقلبات العصور، منقادين لا قائدين، يتكيّفان وفق متقلبات الآراء والأفكار والسلوكيات، حتى ولو خرجت على نواميس الفطرة … ولا يكيّفان الحياة وفقاً لما أنزل الله.

لمن يكن عمل الشيخ محمد بن عبد الوهاب إلا الجهاد، انطلاقاً من القرآن والسنة الصحيحة؛ كي تعود أمة التوحيد إلى التوحيد؛ لأن في ضياع عقيدة التوحيد أو تشويهها أو مزجها بأوشاب الشرك وأدرانه،
খেয়াল-খুশি এবং বিচ্যুতিসমূহ থেকে; এরপর তারা দাবি করে যে, তাদের পদ্ধতি হলো ইসলামি পদ্ধতি!!।

এটি এমন এক অবস্থান যা বিস্ময় উদ্রেক করে.... এবং গবেষককে সেই অবস্থান ও কথাগুলোর পেছনের রহস্য অনুসন্ধানে উদ্ধুদ্ধ করে!।

সত্য কথা হলো: এটিই শেখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ) এবং তাঁর বিরোধীদের (আল্লাহ তাদের হেদায়েত দিন) মধ্যে পার্থক্য, যারা তাঁকে আক্রমণ করেছিল—কখনো তিনি কিসের দিকে দাওয়াত দিচ্ছেন সে বিষয়ে অজ্ঞতাবশত, আবার কখনো সজ্ঞানে … আর তা অজ্ঞতাবশত হোক কিংবা সজ্ঞানে, এটি মূলত তাঁর সেই মানহাজ বা পদ্ধতিরই প্রত্যাখ্যান যাতে তিনি কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যে অবিচল ছিলেন। সুতরাং প্রবৃত্তিপূজারী ও বিচ্যুতরা এই আনুগত্যকে প্রত্যাখ্যান করে, যদিও তারা ইসলামের গণ্ডিতে টিকে থাকার জন্য বিতর্ক চালিয়ে যায়; তারা এমন প্রত্যেকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে যারা তাদের এই বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করে যে—তারা জানুক বা না জানুক—তারা ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ছে; কারণ তারা 'বিবেক'কে ওহীর স্থলাভিষিক্ত করে, 'প্রবৃত্তি'কে অকাট্য দলীলের স্থলাভিষিক্ত করে এবং 'যুগের চাপ'কে ইসলামের অটল বিধানসমূহের স্থলাভিষিক্ত করে। তারা চায়—তারা বুঝতে পারুক বা না পারুক—কুরআন ও সুন্নাহ যেন যুগের পরিবর্তনের পেছনে পেছনে ঘোরে; অনুসারী হয়ে, পরিচালক হয়ে নয়। তারা চায় এই দুই উৎস যেন মানুষের পরিবর্তনশীল মতামত, চিন্তা ও আচরণের সাথে তাল মিলিয়ে চলে, এমনকি যদি তা ফিতরাত বা স্বভাবজাত ধর্মের নিয়মের পরিপন্থীও হয় … অথচ তারা জীবনকে আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী পরিচালিত করতে চায় না।

শেখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের কর্মতৎপরতা কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর ভিত্তিতে পরিচালিত জিহাদ ছাড়া আর কিছুই ছিল না; যেন তাওহীদের উম্মত পুনরায় তাওহীদের দিকে ফিরে আসে। কারণ তাওহীদের আকিদা বিলীন হওয়া, বিকৃত হওয়া কিংবা শিরকের আবর্জনা ও পঙ্কিলতার সাথে সংমিশ্রিত হওয়ার মাঝে...
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ৪)
في عقيدة المسلم، ضياعاً لها في العالم الإنساني كله، فلا يبقى هناك دين صحيح يكون حجة على الناس يوم القيامة!!!.

وهذ مخالف لسنن الله.

وقد أحسن الشيخ العلامة محمد خليل هراس في هذا الرد حين عرض هذه القضية على هذا النحو.

أجل: إن الشيخ محمد بن عبد الوهاب –رحمه الله تعالى- في كل رسائله، وفي كل دروسه، وفي كل جولاته، وحتى عندما واتته الفرصة، بعد رحلة جهاد طويلة، كي يجد الدولة التي تنصره وتحمل معه رسالة التوحيد، بالكلمة والفعل، وبالدعوة والعمل، في كل ذلك كان الشيخ محمد بن عبد الوهاب داعياً إلى الاحتكام لكتاب الله وسنة رسوله، وإلى عودة قيادتهما لأمة الإسلام ومجتمعات المسلمين … وكان يرى أن هذه العودة الصحيحة تناسب العقل الصحيح، ولا تصادره، وأنها تفتح أما المسلمين الممزقين المختلفين ثمرات الوحدة والتقدم، بل والتفوق على الحضارات المعاصرة والمناوئة لهم، كما كان شأن أسلاهم مع هذا الدين.

وبالكلمة القوية المؤمنة المنطلقة من قلب سليم مخلص لهذا الدين زاهداً في عرض الدنيا، والمنطلقة من عقل أحسن فقه الإسلام فقهاً متوازناً شاملاً، وعاش الإسلام إيماناً وعبادة وعملاً وجهاداً بالكلمة والعمل … وبهذه الكلمة، ومن هذا المنطلق، قدم الشيخ محمد بن عبد الوهاب العقيدة الإسلامية الصحيحة، إنه لم يشغل نفسه بحروب مع أحد، وعلى العكس مما يظنه الذين لا يعرفون تاريخ الشيخ فقد،
একজন মুসলিমের আকিদাহর ক্ষেত্রে, সমগ্র মানব বিশ্বে এর বিলুপ্তি ঘটা, যার ফলে কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য দলিল হওয়ার মতো কোনো সঠিক দ্বীন অবশিষ্ট থাকবে না!!!

আর এটি আল্লাহর সুন্নাতের পরিপন্থী।

শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ খলীল হাররাস এই প্রত্যাখ্যানে অত্যন্ত চমৎকার করেছেন যখন তিনি বিষয়টি এইভাবে উপস্থাপন করেছেন।

হ্যাঁ, শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর সকল চিঠিপত্রে, তাঁর সকল পাঠে, তাঁর সকল সফরে, এমনকি দীর্ঘ জিহাদি সফরের পর যখন তিনি এমন একটি রাষ্ট্রের সন্ধান পাওয়ার সুযোগ পেলেন যা তাঁকে সাহায্য করবে এবং তাঁর সাথে তাওহীদের বাণী বহন করবে—কথায় ও কাজে, দাওয়াত ও আমলের মাধ্যমে—সেই সব কিছুর মধ্যে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর ফয়সালার প্রতি এবং মুসলিম উম্মাহ ও মুসলিম সমাজে এই দুইয়ের নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন … তিনি মনে করতেন যে, এই সঠিক প্রত্যাবর্তন সুস্থ বিবেকের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং একে খর্ব করে না; বরং এটি ছিন্নভিন্ন ও বিভক্ত মুসলমানদের সামনে ঐক্য ও অগ্রগতির ফল উন্মুক্ত করে দেয়, এমনকি সমসাময়িক ও বৈরী সভ্যতার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পথ প্রশস্ত করে দেয়, যেমনটি এই দ্বীনের মাধ্যমে তাদের পূর্বসূরিদের ক্ষেত্রে ছিল।

দুনিয়ার মোহের প্রতি বিরাগভাজন এবং এই দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ এক সুস্থ অন্তর থেকে উৎসারিত শক্তিশালী ও ঈমানদীপ্ত বাণীর মাধ্যমে, এবং ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ ও ব্যাপক ফিকহকে যথাযথভাবে অনুধাবনকারী এক প্রজ্ঞা থেকে উৎসারিত বার্তার মাধ্যমে, এবং যিনি ইসলামকে ঈমান, ইবাদত, আমল ও জিহাদ হিসেবে—কথায় ও কাজে—লালন করেছেন … এই বাণীর মাধ্যমে এবং এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব সঠিক ইসলামি আকিদাহ উপস্থাপন করেছেন। তিনি নিজেকে কারো সাথে যুদ্ধে লিপ্ত করেননি; বরং যারা শায়খের ইতিহাস জানে না তাদের ধারণার বিপরীতে তিনি,
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ৫)
ابتعد عن أسلوب المناوأة والتناطح، لأن هذا الأسلوب لا يفتح القلوب ولا العقول لتقبل الحق، بل يدفعها إلى العناد والمكابرة والدفاع عن آرائها لمجرد الغلبة، فلم يجعل الشيخ همه الوحيد الحرب على أصحاب الطرق، ولا على المتعصبين للآراء المذهبية، ولا على القاعدة العريضة من الجهلة بدين الله الذين يفسدون الحياة بالمنكرات والمباذل، وهم يظنون أنفسهم صالحين، حتى وإن قطعوا طريق الحجيج، واستباحوا دماءهم وأموالهم …

ولم لا؟ أليسوا يتقربون إلى صاحب ضريح من أجل تكفير سيئاتهم؟ أليسوا يتبركون بشجرة تكفيهم مؤونة العودة الصحيحة على دين الله، والاحتكام إليه، واجتناب نواهيه، والالتزام بأوامره؟!.

ومع كل ذلك، كان الشيخ واعياً حصيفاً بالمنهج الصحيح للتغيير، فقد أدرك أن هذه الأنواع من الانحرافات، إنما هي ثمار ونتائج، وأن الحل لا يكمن في مقاومة الثمار الطبعية، والنتائج المنطقية، وإنما يكمن في اقتلاع الجذور وإزالة الأسباب.

ولن يتأتى ذلك إلا بالعودة إلى الإسلام الصحيح:

- الإسلام بعقيدته الصافية النقية.

- والإسلام بحضارته الإنسانية الربانية الأخلاقية.

- الإسلام الذي جعل من عبدة الأصنام في مكة والمدينة وجزيرة العرب، طليعة خير أمة أخرجت للناس في مدة وجيزة تعد عجباً في مسيرة العقائد والحضارات.
তিনি বৈরিতা ও সংঘাতের পথ পরিহার করেছিলেন; কারণ এই পদ্ধতি সত্য গ্রহণের জন্য হৃদয় বা মস্তিষ্ককে উন্মুক্ত করে না, বরং তা মানুষকে একগুঁয়েমি, দম্ভ এবং নিছক বিজয়ী হওয়ার লালসায় নিজ মতের পক্ষে সাফাই গাইতে প্ররোচিত করে। তাই শায়খ তাঁর একমাত্র লক্ষ্য সুফি তরীকার অনুসারী, মাযহাবী গোঁড়ামিতে লিপ্ত ব্যক্তি কিংবা আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ সেই বিশাল জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করাকে বানাননি, যারা পাপাচার ও অশ্লীলতার মাধ্যমে জীবনকে কলুষিত করে এবং নিজেদের নেককার মনে করে—এমনকি তারা যদি হাজীদের পথ রুদ্ধ করে তাদের রক্ত ও সম্পদকে বৈধ মনে করে থাকে তবুও …

আর কেনই বা নয়? তারা কি তাদের পাপ মোচনের আশায় কোনো মাজারের অধিপতির নৈকট্য প্রার্থনা করে না? তারা কি এমন কোনো বৃক্ষ থেকে বরকত হাসিল করে না, যা তাদেরকে আল্লাহর দ্বীনের পথে যথার্থভাবে ফিরে আসা, তাঁর ফয়সালা মেনে চলা, তাঁর নিষেধসমূহ বর্জন করা এবং তাঁর আদেশসমূহ পালনের কষ্টসাধ্য আবশ্যকতা থেকে দায়মুক্ত রাখে?!

এতদসত্ত্বেও, শায়খ পরিবর্তনের সঠিক মানহাজ বা পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন ও প্রজ্ঞাবান ছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, এই ধরনের বিচ্যুতিগুলো মূলত কিছু ফল ও পরিণতি মাত্র। আর সমাধান এই স্বাভাবিক ফল কিংবা যৌক্তিক পরিণতিগুলোকে প্রতিহত করার মাঝে নিহিত নয়, বরং এর সমাধান নিহিত রয়েছে মূল শিকড় উপড়ে ফেলা এবং কারণসমূহ দূর করার মাঝে।

আর এটি বিশুদ্ধ ইসলামের দিকে প্রত্যাবর্তন ব্যতীত সম্ভব নয়:

- ইসলাম, তার স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ আকিদাহসহ।

- ইসলাম, তার মানবিক, রব্বানি ও নৈতিক সভ্যতা সহকারে।

- সেই ইসলাম, যা মক্কা, মদিনা ও আরব উপদ্বীপের মূর্তিপূজকদেরকে অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে মানবজাতির কল্যাণে উত্থিত শ্রেষ্ঠ উম্মতের অগ্রসেনানিতে পরিণত করেছিল, যা আকিদাহ ও সভ্যতার ইতিহাসে এক বিস্ময়কর ঘটনা হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ৬)
ومن هنا عكف الشيخ على الجذور والبواعث، يرويها بالتوحيد والعمل، ويدفع الناس إلى تغيير ما في نفوسهم وعقولهم حتى يغير الله أحوالهم وظروفهم، وحتى يعودوا من جديد خير أمة أخرجت للناس.

فإذا كانت العقيدة هي الأساس، فإن اتباع السلف الصالح هو الطريق، والغاية هي الدعوة لإعلاء كلمة الله بأدوات قادرة على إقناع الناس في هذا العصر، في ضوء فقه رشيد بحقائق الدعوة وأساليب تبليغها.

وهكذا فقه الشيخ محمد بن عبد الوهاب –رحمه الله تعالى- حقيقة الدعوة، وسبلها، وأهدافها، وطبق بسلوكه فقهه لها، فمكن الله لدعوته في الأرض، وأصبحت هي الدعوة الإسلامية الإصلاحية الوحيدة التي قامت على أسسها دولة ناهضة تساعد جميع المسلمين في الأرض، وتقدم نموذجاً معاصراً لتطبيق شريعة الله في العصر الحديث.

ولم يقف الأمر عند هذا المستوى، بل امتدت أصول الدعوة بجهود المؤمنين بها، وعلى رأسهم قادة الدولة نفسها، إلى أرجاء الأرض امتداداً يشبه امتداد أشعة الشمس في الصباح بعد ظلام دامس.

وقد أبصر أشعة الشمس من له بصيرة ومبصر، وغفل إن إبصارها من أصاب عينيه بعض العمى، واستطاع رؤية قوة دفعها من وفقه الله، فحلل الأمور تحليلاً دقيقاً محايداً.

لقد كان الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله تعالى من أبعد الناس عن التكفير والتطرف والغلو، وقد ورد في ثنايا هذا الكتاب الذي
এখান থেকেই শায়খ মূল ভিত্তি এবং উৎসসমূহের প্রতি নিবিষ্ট হয়েছেন, সেগুলোকে তাওহীদ ও আমল দ্বারা সিক্ত করেছেন এবং মানুষকে তাদের মন ও মনন পরিবর্তনের দিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন, যাতে আল্লাহ তাদের অবস্থা ও পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটান এবং যাতে তারা পুনরায় মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

যদি আকিদাই হয় ভিত্তি, তবে সালাফে সালেহীনের অনুসরণই হলো পথ; আর লক্ষ্য হলো এমন সব উপকরণের মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত করার দাওয়াত প্রদান করা যা এই যুগে মানুষকে আশ্বস্ত করতে সক্ষম, এবং যা দাওয়াতের স্বরূপ ও তা প্রচারের পদ্ধতির সঠিক প্রজ্ঞার আলোকে পরিচালিত।

এভাবেই শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব—আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন—দাওয়াতের হাকিকত, এর পথ ও লক্ষ্যসমূহ অনুধাবন করেছিলেন এবং স্বীয় আচরণের মাধ্যমে সেই প্রজ্ঞার প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন। ফলে আল্লাহ জমিনে তাঁর দাওয়াতকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং এটি এমন একমাত্র সংস্কারবাদী ইসলামি দাওয়াত হিসেবে পরিগণিত হয়েছে যার ওপর ভিত্তি করে একটি উদীয়মান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা বিশ্বের সকল মুসলিমকে সহায়তা করে এবং আধুনিক যুগে আল্লাহর শরীয়ত বাস্তবায়নের একটি সমকালীন আদর্শ উপস্থাপন করে।

বিষয়টি কেবল এই স্তরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এই দাওয়াতের প্রতি বিশ্বাসীদের—বিশেষ করে খোদ রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দের—প্রচেষ্টায় এর মূলনীতিসমূহ পৃথিবীর দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক যেমন ঘোর অন্ধকারের পর প্রভাতের সূর্যরশ্মি ছড়িয়ে পড়ে।

যাঁর অন্তর্দৃষ্টি প্রখর এবং যিনি দৃষ্টিমান, তিনি সেই সূর্যরশ্মি প্রত্যক্ষ করেছেন; আর যার দৃষ্টিতে অন্ধত্ব রয়েছে, সে তা দেখতে ব্যর্থ হয়েছে। আল্লাহ যাঁকে তাওফিক দিয়েছেন, তিনিই এর প্রভাবের শক্তি অনুধাবন করতে পেরেছেন এবং বিষয়গুলোকে নিরপেক্ষ ও সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।

নিশ্চয়ই শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব—আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন—তাকফির, চরমপন্থা ও অতিরঞ্জন থেকে যোজন যোজন দূরে ছিলেন। এই গ্রন্থের পরতে পরতে বর্ণিত হয়েছে যে—
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ৭)
يسرني أن أقوم بتحقيقه، كثير مما يؤكد ذلك، ومنه دفاع الشيخ عن نفسه في مواجهة خصومه الذين حاولوا أن يلصقوا به تهمة تكفير المسلمين المنحرفين، يقول الشيخ –رحمه الله: "ولا أكفر أحداً من المسلمين بذنب، ولا أخرجه من دائرة الإسلام".

ويقول: "ومنا ما ذكرتهم أني أكفر جميع الناس إلا من اتبعني، وأزعم أن أنكحتهم غير صحيحة، ويا عجباً كيف يدخل هذا عقل عاقل، هل يقول هذا مسلم أو كافر أو عارف أو مجنون؟.".

ويؤكد هذا الكتاب المفيد ابتعاد الشيخ محمد بن عبد الوهاب - رحمه الله تعالى - عن التشدد والتكفير والغلو، تأكيده في آداب الداعي إلى الله، على أن الداعي لا بد أن يتحلى بالرفق واللين تحقيقاً لقوله تعالى في مخاطبة نبيه محمد صلى الله عليه وسلم: "،،،".

وفي الضوابط التي وضعها للأمر بالمعروف والنهي عن المنكر جعل الرفق في الصدارة من هذه الضوابط، وهو مؤشر آخر على منهج الشيخ في الدعوة، وقد حفل المنهاج التربوي للشيخ بوسائل تربوية وأخلاقية وتعليمية تؤصل المعاني الإسلامية البعيدة عن التشدد والغلو، والتي تمير به منهج الشيخ كله، دعوياً كان أو تعليمياً أو تربوياً.

وقد جمع الشيخ في منهجه بين النقل والعقل، وقد يظن ظان أن المنهج السلفي طريق للجمود، والأمر عكس ذلك، فالتعصب للرأي المذهبي والابتعاد عن الوحي نقلاً أو نصاً هو الجمود بعينه، فهو يحول الرأي إلى عقيدة، والفكر إلى أصل، مع أنه اجتهاد بشري …
এটি সম্পাদনা করতে পেরে আমি আনন্দিত। একে সমর্থন করার মতো অনেক বিষয় রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো শায়খের পক্ষ থেকে সেই সব বিরোধীদের মোকাবিলায় নিজের আত্মপক্ষ সমর্থন, যারা তাঁর ওপর পথভ্রষ্ট মুসলিমদের কাফির সাব্যস্ত করার অপবাদ আরোপ করতে চেয়েছিল। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমি কোনো মুসলিমকে তার পাপের কারণে কাফির সাব্যস্ত করি না এবং তাকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেই না।"

তিনি আরও বলেন: "আর আপনি যা উল্লেখ করেছেন যে, আমি আমার অনুসারী ব্যতীত সকল মানুষকে কাফির মনে করি এবং দাবি করি যে তাদের বিবাহ শুদ্ধ নয়—আশ্চর্যের বিষয়! কোনো বিবেকবান মানুষের মাথায় এটি কীভাবে আসতে পারে? কোনো মুসলিম, কাফির, প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বা উন্মাদ কি এমন কথা বলতে পারে?."

এই উপকারী গ্রন্থটি শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উগ্রবাদ, তাকফীর এবং অতিরঞ্জন (গুলু) থেকে দূরে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে। আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর শিষ্টাচার বর্ণনায় তাঁর গুরুত্বারোপ—যেখানে তিনি দাঈর জন্য নম্রতা ও কোমলতা অবলম্বন করা আবশ্যক করেছেন—তা মহান আল্লাহর সেই বাণীরই প্রতিফলন যা তিনি তাঁর নবী মুহাম্মদ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেছিলেন: "..."।

সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের ক্ষেত্রে তিনি যে নীতিমালা নির্ধারণ করেছেন, তাতে কোমলতাকে এই সব নীতিমালার শীর্ষে রেখেছেন। এটি শায়খের দাওয়াতী পদ্ধতির আরেকটি নিদর্শন। শায়খের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণমূলক পদ্ধতিতে এমন সব চারিত্রিক ও শিক্ষামূলক উপকরণের সমাবেশ ঘটেছে যা উগ্রবাদ ও অতিরঞ্জন থেকে দূরে থেকে ইসলামী মূল্যবোধকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে, যা দাওয়াতী, শিক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণ—শায়খের সামগ্রিক পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য হয়।

শায়খ তাঁর পদ্ধতিতে বর্ণনা (নকল) এবং যুক্তির (আকল) মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছেন। কেউ হয়তো ধারণা করতে পারেন যে সালাফী পদ্ধতি স্থবিরতার পথ, কিন্তু বিষয়টি এর সম্পূর্ণ বিপরীত। মূলত কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবী মতামতের প্রতি অন্ধ গোঁড়ামি এবং ওহীর বর্ণনা বা অকাট্য পাঠ্য (নস) থেকে দূরে থাকাই হলো চরম স্থবিরতা। এটি মানুষের ব্যক্তিগত অভিমতকে আকীদায় এবং চিন্তাধারাকে মূলনীতিতে পরিণত করে, যদিও তা নিছক মানুষের ইজতিহাদ মাত্র …
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ৮)
ويوضح الشيخ منهجه الذين يقوم على ضرورة الانطلاق من الدليل النقلي الثابت، لا على التقليد الأعمى الذي ساد الأمة الإسلامية عقوداً طويلة، ويقوم على فتح باب الاجتهاد القائم على الدليل النقلي، مع الاحترام الكامل لأئمة المذاهب واجتهاداتهم، شريطة ألا تكون اجتهاداتهم سداً أما اجتهادات بقية الأئمة المؤهلين في بقية العصور، يوضح الشيخ بإيجاز وحسم، معالم هذا المنهج في العبارات التالية:

"ولا خلاف بيني وبينكم أن أهل العلم إذا أجمعوا وجب اتباعهم، وإنما الشأن إذا اختلفوا: هل يجب علي أن أقبل الحق ممن جاء به، وأرد المسألة إلى الله ورسوله مقتدياً بأهل العلم، وأنتحل آراء بعضهم من غير حجة، وأعزعم أن الصواب في قوله، فأنت على هذا الثاني، وهو الذي ذمه الله وسماه شركاً، وهو اتخاذ العلماء أرباباً، وأنا على الأول أدعو إليه وأناظر عليه".

والمنهج نفسه طبقه الشيخ في تعامله مع قضاياً المذهب الحنبلي الذي يأخذ بآرائه، ويلتزم في حدود ارتباطها بالنص ارتباطاً جازماً، أما إذا ظهرت عدة آراء داخل المذهب فيما لو وجدوا روايتين مختلفتين عن الإمام أحمد، أو أقوالاً لأصحابه مختلفة، فيجيب الشيخ قائلاً:

"إذا اختلف كلام أحمد وكلام أصحابه، فنقول في محل النزاع: التراد إلى الله ورسوله، لا إلى كلام أحمد، ولا إلى كلام أصحابه، وقولك إذا استدل كل منها بدليل، فالدلائل الصحيحة لا تتناقض، بل يصدق بعضها بعضاً، لكن قد يكون أحدهما أخطأ في الدليل: إما
শায়খ তাঁর মানহাজ বা কর্মপন্থা স্পষ্ট করেছেন যা সুসাব্যস্ত দালিলিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেই অন্ধ অনুকরণের ওপর নয় যা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মুসলিম উম্মাহর ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল। এই মানহাজ দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে ইজতিহাদের দ্বার উন্মুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে, পাশাপাশি মাযহাবের ইমামগণ এবং তাঁদের ইজতিহাদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা বজায় রাখে—এই শর্তে যে, তাঁদের ইজতিহাদ যেন পরবর্তী সময়ের অন্যান্য যোগ্য ইমামদের ইজতিহাদের সামনে প্রাচীর হয়ে না দাঁড়ায়। শায়খ সংক্ষেপে ও দৃঢ়তার সাথে নিচের উক্তিগুলোতে এই মানহাজের বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট করেছেন:

"আমার ও আপনাদের মাঝে এই বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, আলেম সমাজ যখন কোনো বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন, তখন তাঁদের অনুসরণ করা ওয়াজিব। সমস্যা কেবল তখনই দেখা দেয় যখন তাঁরা মতভেদ করেন: এমতাবস্থায় আমার ওপর কি সত্য যার মাধ্যমে এসেছে তার থেকে তা গ্রহণ করা এবং আলেমদের অনুসরণ করে বিষয়টি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেয়া আবশ্যক? নাকি কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁদের কারো কারো মতবাদ গ্রহণ করে নেয়া এবং এটিই সঠিক বলে দাবি করা আবশ্যক? আপনি এই দ্বিতীয় পন্থার ওপর রয়েছেন, যা আল্লাহ নিন্দা করেছেন এবং যাকে শিরক হিসেবে অভিহিত করেছেন; আর তা হলো আলেমদেরকে রবে পরিণত করা। আর আমি প্রথমটির ওপর রয়েছি, যার দিকে আমি আহ্বান জানাই এবং যার ভিত্তিতে বিতর্ক করি।"

শায়খ একই মানহাজ হাম্বলী মাযহাবের বিষয়সমূহ মোকাবিলা করার ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করেছেন, যে মাযহাবের মতামতগুলো তিনি গ্রহণ করেন এবং কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যের সাথে অকাট্যভাবে সম্পৃক্ত থাকার সীমা পর্যন্ত তা মেনে চলেন। কিন্তু মাযহাবের অভ্যন্তরে যখন একাধিক মত পরিলক্ষিত হয়—যেমন ইমাম আহমাদ থেকে দুটি ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেলে বা তাঁর অনুসারীদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিলে—তখন শায়খ উত্তরে বলেন:

"যখন ইমাম আহমাদের কথা এবং তাঁর অনুসারীদের কথার মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়, তখন আমরা বিরোধপূর্ণ বিষয়ে বলি: এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দিতে হবে; ইমাম আহমাদের কথার দিকে কিংবা তাঁর অনুসারীদের কথার দিকে নয়। আর আপনার কথা যে, তাদের প্রত্যেকেই দলীল দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন, সেক্ষেত্রে বক্তব্য হলো—সঠিক দলীলসমূহ পরস্পর বিরোধী হয় না, বরং একে অপরকে সত্যায়ন করে। তবে হতে পারে যে, তাঁদের কেউ একজন দলীলের ক্ষেত্রে ভুল করেছেন: হয়...
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ৯)
إما استدل بحديث لا يصح، وإما فهم من كلمة صحيحة مفهوماً مخطئاً".

كان الشيخ محمد بن عبد الوهاب - رحمه الله تعالى- مجتهداً في مذهب الإمام أحمد، راداً إلى الكتاب والسنة، ومع ذلك يرميه الجامدون بالجمود، وكان يؤمن بصلاحية الوحي لمواجهة كل العصور، ويثق في أن هذا القرآن دائماً يهدي للتي هي أقوم، وأن عقولنا يجب أن تسير في فلكه، لا أن يسير الوحي في فلكها، وقد عجز خصومه عن الارتفاع إلى هذا المستوى، فشغبوا عليه، شأن العاجزين وأصحاب الأهواء والمصالح في كل العصور، ولم يحاربهم مع ذلك، لكنهم حاربوه، ولم يحول طردهم من ديارهم، لكنهم طاردوه، وجعلوه ينتقل من مكان إلى مكان يبحث عن الملجأ كما يبحث عن الرجل العظيم، الذي يكون ممكَّناً في الدنيا؛ ليضم الدين إلى دنياه، ويُقّوِّم دنياه بدينه، ويحمي الدعوة وأصولها ورجالها، فلما وجده وعرف الصدق في كلامه، وقف بجانبه ووراءه، وبشره بالملك الذي تحقق فعلاً على نحو لم يكن متصوراً من قبل، ومع ذلك لم يطلب لنفسه ملكاً ولا شراكة في الملك، ولم يرغب إلا فيها عند الله.

كان سلوكه - بشهادة الجميع - تطبيقاً لعلمه، ومع ذلك فما زال هناك من لا يتقول الله فيه، كما أنه ما زال هناك من لا يتقول الله في أعراض الأنبياء والصحابة، فكيف بالدعاة والمصحلين!!. وعندما تبنى آل سعود الكرام بدءاً من الإمام المجاهد محمد بن سعود رحمه الله الدعوة، وجعلوها قضية وجودهم، كان الشيخ رحمه الله سعيداً، وهو يشعر بأنه جندي بارز في دولة التوحيد، ولم
"হয় তিনি এমন কোনো হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা বিশুদ্ধ নয়, অথবা কোনো সঠিক শব্দ থেকে ভুল অর্থ গ্রহণ করেছেন।"

শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—ইমাম আহমদের মাযহাবের একজন মুজতাহিদ ছিলেন, যিনি সর্বদা কিতাব ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন। তা সত্ত্বেও স্থবিরমনা ব্যক্তিরা তাঁকে স্থবিরতার অপবাদ দেয়। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, ওহী সর্বযুগের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম এবং তিনি এই আস্থা রাখতেন যে, এই কুরআন সর্বদা অধিকতর সরল ও সুদৃঢ় পথের দিশা দেয়। আমাদের বুদ্ধি-বিবেচনাকে ওহীর কক্ষপথে আবর্তিত হতে হবে, ওহীকে আমাদের বুদ্ধির কক্ষপথে নয়। তাঁর বিরোধীরা এই সুউচ্চ মানে উন্নীত হতে ব্যর্থ হয়েছিল, তাই তারা তাঁর বিরুদ্ধে হট্টগোল ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল—যেমনটি সকল যুগে অক্ষম এবং প্রবৃত্তি ও স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিরা করে থাকে। তা সত্ত্বেও তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেননি, বরং তারাই তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। তিনি তাদের নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করেননি, অথচ তারাই তাঁকে তাড়া করেছিল। তারা তাঁকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আশ্রয়ের সন্ধানে ঘুরে বেড়াতে বাধ্য করেছিল, যেমন একজন মহান ব্যক্তি এমন এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের সন্ধান করেন যিনি দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত; যেন তিনি দ্বীনকে তাঁর দুনিয়ার সাথে যুক্ত করতে পারেন, দ্বীন দ্বারা নিজের দুনিয়াকে সংশোধন করতে পারেন এবং দাওয়াত, এর মূলনীতি ও এর ধারক-বাহকদের সুরক্ষা দিতে পারেন। অতঃপর যখন তিনি তাঁকে খুঁজে পেলেন এবং তাঁর কথার মধ্যে সত্যতা অনুভব করলেন, তখন তিনি তাঁর পাশে ও সমর্থনে দাঁড়ালেন। তিনি তাঁকে এমন এক রাজত্বের সুসংবাদ দিলেন যা বাস্তবে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যা আগে কখনো কল্পনা করা যায়নি। তা সত্ত্বেও তিনি নিজের জন্য কোনো রাজত্ব বা ক্ষমতার অংশীদারিত্ব চাননি এবং আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা ব্যতীত অন্য কিছুর প্রতি তাঁর আকাঙ্ক্ষা ছিল না।

সকলের সাক্ষ্য অনুযায়ী তাঁর আচরণ ছিল তাঁর অর্জিত ইলমের বাস্তব প্রতিফলন। তা সত্ত্বেও এমন কিছু লোক রয়ে গেছে যারা তাঁর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় পায় না এবং মিথ্যাচার করে, যেমনটি এমন কিছু লোক এখনো আছে যারা নবীগণ ও সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদাহানির ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় পায় না; তাহলে দাঈ ও সংস্কারকদের অবস্থা তো বলাই বাহুল্য!! যখন সম্মানিত সৌদি বংশের লোকেরা—মুজাহিদ ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ (রহ.)-এর সময় থেকে—এই দাওয়াতকে আপন করে নিলেন এবং একে নিজেদের অস্তিত্বের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করলেন, তখন শায়খ (রহ.) অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। তিনি অনুভব করলেন যে, তিনি তাওহীদি রাষ্ট্রের একজন বিশিষ্ট সৈনিক এবং তিনি...
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ১০)
تأخذه العزة بالإثم، ولم يشغب كما يشغب رجال الدنيا، وأدعياء النعرات والأيدلوجيات، ولم يتهارش كما يفعل بعض الدعاة للأسف تهارش الديكة؛ من أجل الحفاظ على وضع متميز مادياً ومعنوياً، بل لعله كان أسعد الناس، وهو يتفرغ لما نذر حياته له، وهي الدعوة، وكانت سعادته أبلغ، وهو يرى الدولة التي بايع إمامها تنمو صعداً، بينما كان الدعوة الإصلاحية تتجاوز الجزيرة العربية، وتمشي مع الهواء لتصل إلى آفاق لم تكن لديه وسائل لتوصيلها، لكنها كلمة التوحيد الطيبة التي تؤتي أكلها كل حين بإذن ربها، فتضيء الطريق للباحثين عن الحق، وتقض مضاجع المنحرفين الذين يبغون عوجاً.

ومات الشيخ قرير العين رحمه الله تعالى.

وبذل الخصوم جهوداً ضخمة وحروباً دامية، وهزموا الدولة مؤقتاً، لكنها انبعثت بالدعوة من جديد؛ لأن دولة العقيدة لا تموت، ولأن إشعاعات التوحيد والسنة لا تقضي عليها السيوف والمدافع، ولاسيما إذا كانت العقيدة نابعة من وحي الله، تقوم على الحق، وتهدي إلى الحق.

ولقد فؤجئ الناس برجل مجرد من القوة المادية، في ظروف تكاد تكون معقدة ومن خلال ستين رجلاً لا غير، يتقدم بالعقيدة السلفية، فيقيم دولة التوحيد من جديد، ويوحد الجزيرة العربية بالإسلام، ويبدأ من خلال عشرات الوسائل في نشر الدعوة، فتصل - برجال الملك عبد العزيز بن عبد الرحمن آل سعود رحمه الله إلى آفاق الأرض، ولا
তিনি কখনো পাপের অহংকারে লিপ্ত হননি এবং জাগতিক মানুষদের মতো কিংবা সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ ও মতাদর্শের দাবিদারদের মতো গোলযোগ সৃষ্টি করেননি। এমনকি এক শ্রেণীর দাঈদের মতো—দুর্ভাগ্যবশত যাদের অবস্থা মোরগ লড়াইয়ের মতো—বস্তুগত বা আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার জন্য তিনি বিবাদে লিপ্ত হননি। বরং তিনি সম্ভবত সেই সব মানুষের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা জীবনের অধিকাংশ সময় নিজেদের উৎসর্গ করা লক্ষ্যে অর্থাৎ দাওয়াতের কাজে নিমগ্ন থেকে সবচেয়ে বেশি সুখী হন। তাঁর আনন্দ তখন আরও বেড়ে যেত যখন তিনি দেখতেন যে, যার হাতে তিনি বায়াত গ্রহণ করেছিলেন সেই ইমামের রাষ্ট্র উত্তরোত্তর উন্নতি করছে; আর অন্যদিকে সংস্কারমূলক দাওয়াত আরব উপদ্বীপের সীমানা ছাড়িয়ে বাতাসের বেগে এমন সব দিগন্তে পৌঁছে যাচ্ছে যেখানে পৌঁছানোর মতো কোনো বাহন তাঁর কাছে ছিল না। তবে এটি ছিল তাওহীদের সেই পবিত্র বাণী যা তার রবের নির্দেশে সর্বদা ফল দান করে, সত্যের সন্ধানীদের পথ আলোকিত করে এবং বক্রতাপূর্ণ পথগামীদের মনে ত্রাসের সৃষ্টি করে।

শেখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) পরম প্রশান্তিতে পরলোকগমন করেন।

প্রতিপক্ষরা বিশাল প্রচেষ্টা চালিয়েছিল এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করেছিল, যার ফলে তারা সাময়িকভাবে রাষ্ট্রকে পরাভূত করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু দাওয়াতের শক্তিতে সেই রাষ্ট্র পুনরায় পুনর্জীবিত হয়; কারণ আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের মৃত্যু নেই এবং তৌহিদ ও সুন্নাহর নূর তলোয়ার বা কামান দিয়ে নির্বাপিত করা যায় না—বিশেষত যখন সেই আকিদা সরাসরি আল্লাহর ওহী থেকে উৎসারিত হয়, যা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং যা সত্যের দিকেই পথপ্রদর্শন করে।

এরপর মানুষ অবাক হয়ে দেখল এমন এক ব্যক্তিকে, যার কোনো বস্তুগত শক্তি ছিল না এবং অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে মাত্র ষাট জন সঙ্গীকে নিয়ে তিনি সালাফী আকিদাহকে সামনে রেখে অগ্রসর হন। তিনি নতুন করে তৌহিদের রাষ্ট্র কায়েম করেন এবং ইসলামের পতাকাতলে আরব উপদ্বীপকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তিনি বিভিন্ন উপায়ে দাওয়াত প্রচারের কাজ শুরু করেন, যার ফলে বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান আল সৌদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর একনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে তা পৃথিবীর দিগন্তময় প্রান্তে পৌঁছে যায় এবং...
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ১১)
تكاد مدينة في العالم الآن إلا وفيها عشرات المساجد والمراكز الإسلامية.

وقد وصل المصحف إلى كل البلاد، وظهرت ترجماته الصحيحة المعتمدة بمعظم اللغات الحية.

إنها الكلمة المخلصة التي تنتشر بعون الله وتوفيقه، على الرغم من كل العقبات، في كل أرجاء الأرض، لتقيم الحجة على الناس، وحتى تكون كلمة الله هي العليا.

هذه الدعوة السلفية - وسامح الله من يطلق عليها مصطلح الوهابية - مع التزامها بالقرآن والسنة الصحيحة ومنهج السلف الصالح، ووضعها لها في المكان الأول، وانطلاقها العقيد والاجتهادي منهما، هذه الدعوة مع ذلك، كانت الأقرب إلى الاجتهاد، وتحريك العقل المسلم، وإبعاده عن مجال التعصب للمذهبية أو للمسلمات الموروثة التي لا أصل لها في دين الله.

لا شك أن الواقع والمشاهد في المملكة العربية السعودية اليوم، بكل ما يعكسه من تطور اقتصادي وزراعي وصناعي وتجاري داخلي وخارجي، ومن تطور علمي، على مستوى المدارس والمعاهد والجامعات والمراكز البحثية، والمنجزات الحضارية العلمية الأخرى.

هذا الواقع المشاهد خير دليل على قدرة الدعوة السلفية الموصولة بكتاب الله وسنة رسوله على التعامل مع كل العصور، وعلى إثبات أن الإسلام يُصلح كل زمان ومكان، بل إن الفقه السلفي الرشيد يرى
বর্তমান বিশ্বের প্রায় প্রতিটি শহরেই এখন ডজন ডজন মসজিদ ও ইসলামি কেন্দ্র বিদ্যমান।

পবিত্র কুরআন আজ বিশ্বের সকল দেশে পৌঁছে গিয়েছে এবং অধিকাংশ প্রধান ভাষায় এর বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য অনুবাদসমূহ প্রকাশিত হয়েছে।

এটি সেই একনিষ্ঠ বাণী যা আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকে সমস্ত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে, যেন তা মানুষের ওপর অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে যায় এবং আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ থাকে।

এই সালাফি দাওয়াত—আল্লাহ তাদের ক্ষমা করুন যারা একে 'ওহাবি' নামে অভিহিত করে—কুরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের মানহাজের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে এবং সেগুলোকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়ে তার আকিদাগত ও ইজতিহাদভিত্তিক যাত্রার সূচনা করে। এই দাওয়াত প্রকৃতপক্ষে ইজতিহাদের অতি নিকটবর্তী ছিল, যা মুসলিম মস্তিষ্ককে সচল করতে এবং একে মাযহাবী গোঁড়ামি কিংবা আল্লাহ প্রদত্ত দ্বীনে কোনো ভিত্তি নেই এমন উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অন্ধবিশ্বাস থেকে দূরে রাখতে ভূমিকা পালন করেছে।

আজ সৌদি আরব রাজ্যে দৃশ্যমান বাস্তবতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক অর্থনৈতিক, কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের প্রতিফলন ঘটায়। এর পাশাপাশি বিদ্যালয়, ইন্সটিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোর স্তরে যে বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ এবং অন্যান্য জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সভ্যতার অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তাও অনস্বীকার্য।

এই দৃশ্যমান বাস্তবতা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর সাথে সম্পৃক্ত সালাফি দাওয়াতের সক্ষমতার এক শ্রেষ্ঠ প্রমাণ, যা প্রমাণ করে যে এটি সব যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম এবং ইসলাম সর্বকাল ও সর্বস্থানের জন্য উপযোগী। এমনকি প্রাজ্ঞ সালাফি ফিকহ মনে করে
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ১২)
أن منجزات الحضارة الإيجابية إنما هي فروض كفاية، كان من الواجب أن يكون المسلمون الأسبق إليها، وبعضها فروض عين، مما يمثل حاجات ملحة للمسلمين، سواء لوجودهم، أم للدفاع عن دينهم وأمتهم وأوطانهم الإسلامية. وأنا أعتقد أن الشيخ الدكتور محمد خليل هراس رحمه الله تعالى إنما كتب هذا الكتاب، خطاباً لكل الناس، ورسالة تعريف وود لجميع المسلمين. هو خطاب للمثقف المسلم، وكل مسلم، تعريفاً بدعوة طالما ظلمها أعداؤها، وبرجل له جهد عظيم طالما غمطه الغامطون، وقد آن أن يعرف المسلمون الحق، وأن يَزِنُوا به الأقوال والرجال، وأن يلتقوا بالتالي على الموازين الثابتة العادلة في دينهم لإنصاف الرجال، لا لأن دينهم دين يفرض عليهم ذلك فحسب، بل لأن النظم الدولية التي تسعى لاستئصالهم جميعاً تحتم عليهم ذلك من جانب آخر. جزى الله الشيخ الدكتور محمد خليل هراس رحمه الله تعالى، العالم والمحقق، خير الجزاء، وبارك في جهوده المخلصة، وجعلها في ميزان حسناته بمنه وجوده وإحسانه. وسلام على عباده الذين اصطفى.

تعقيب مهم: ليس للوهابية ولا للإمام محمد بن عبد الوهاب، حركة خاصة بمفهومها الحركي المعاصر، بل دعوته إصلاحية تدعو جميع المسلمين إلى الرجوع للإسلام الصافي النقي، على ما كان عليه محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم وصحابته الكرام.

المحقق

أحمد بن عبد العزيز بن محمد بن عبد الله التويجري

جوال: 0504892790
সভ্যতার ইতিবাচক অর্জনসমূহ প্রকৃতপক্ষে ফরযে কিফায়া, যাতে মুসলিমদের অগ্রগামী হওয়া আবশ্যক ছিল। এর মধ্যে কিছু বিষয় আবার ফরযে আইন, যা মুসলিমদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অথবা তাদের দ্বীন, উম্মাহ এবং ইসলামী রাষ্ট্রসমূহকে রক্ষার জন্য অপরিহার্য প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি যে, শাইখ ডক্টর মুহাম্মদ খলিল হাররাস (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এই কিতাবটি সকল মানুষের প্রতি একটি সম্বোধন এবং সকল মুসলিমের জন্য একটি পরিচিতিমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা হিসেবে রচনা করেছেন। এটি শিক্ষিত মুসলিম সমাজ তথা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য এমন এক দাওয়াতের পরিচয়স্বরূপ, যা দীর্ঘকাল ধরে তার শত্রুদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছে, এবং এমন এক ব্যক্তির পরিচয়স্বরূপ যাঁর সুমহান প্রচেষ্টাকে নিন্দুকেরা সর্বদা অবজ্ঞা করেছে। এখন সময় এসেছে মুসলিমদের সত্যকে চেনার এবং তার ভিত্তিতেই বিভিন্ন উক্তি ও ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করার; এবং সবশেষে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের দ্বীনের সুপ্রতিষ্ঠিত ও ন্যায়সঙ্গত মানদণ্ডে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। এটি কেবল এজন্য নয় যে তাদের দ্বীন তাদের ওপর এটি অপরিহার্য করেছে, বরং এই কারণেও যে, বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যা তাদের সকলকে সমূলে বিনাশ করতে চায়, তা অন্য দিক থেকে তাদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা আলিম ও গবেষক শাইখ ডক্টর মুহাম্মদ খলিল হাররাসকে (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় বরকত দান করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দানশীলতায় একে তাঁর পুণ্যকর্মের পাল্লায় ভারী করে দিন। আর শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর।

গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য: সমকালীন সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক অর্থে 'ওয়াহাবিবাদ' বা ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের কোনো বিশেষ দল নেই; বরং তাঁর দাওয়াত হলো একটি সংস্কারমূলক আহ্বান যা সকল মুসলিমকে সেই নির্মল ও বিশুদ্ধ ইসলামের দিকে ফিরে আসার ডাক দেয়, যার ওপর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

গবেষক

আহমদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তুয়াইজরি

মোবাইল: ০৫০৪৮৯২৭৯০
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ১৩)
ترجمة المؤلف:

- هو الشيخ العلامة المحقق - محمد خليل هراس- رحمه الله.

- نائب رئيس جماعة أنصار السنة المحمدية سابقاً.

- من محافظة الغربية بجمهورية مصر العربية.

- ولد بقرية الشين - مركز قطور- محافظة الغربية "طنطا"- بمصر عام "1916م"، وتخرج من الأزهر في الأربعينيات من كلية أصول الدين، وحاز على الشهادة العالمية العالية "الدكتوراه" في التوحيد والمنطق.

- عمل أستاذاً بكلية أصول الدين في جامعة الأزهر.

- أعير إلى المملكة العربية السعودية، ودرّس في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض، ثم أعير مرة أخرى، وأصبح رئيساً لشعبة العقيدة في قسم الدراسات العليا في "كلية الشريعة سابقاً/ جامعة أمر القرى حالياً" بمكة المكرمة.

- عاد إلى مصر، وشغل منصب نائب الرئيس العام لجماعة أنصار السنة المحمدية، ثم الرئيس العام لها بالقاهرة.

- وفي عام "1973م" - قبل وفاتنه بسنتين- اشترك مع الدكتور عبد الفتاح سلامة في تأسيس جماعة الدعوة الإسلامية في محافظة الغربية، وكان أول رئيس لها.
গ্রন্থকারের জীবনী:

- তিনি হলেন শাইখ, বিজ্ঞ আল্লামা ও গবেষক মুহাম্মদ খলীল হাররাস (রহিমাহুল্লাহ)।

- তিনি আনসারুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ জামাতের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ছিলেন।

- তিনি আরব প্রজাতন্ত্র মিসরের গারবিয়্যা প্রদেশের অধিবাসী ছিলেন।

- তিনি ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে মিসরের গারবিয়্যা প্রদেশের (তান্তা) কাতুর কেন্দ্রের ‘আশ-শীন’ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চল্লিশের দশকে তিনি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং তাওহীদ ও যুক্তিবিদ্যা (মানতিক) বিষয়ে উচ্চতর বৈশ্বিক সনদ বা ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি লাভ করেন।

- তিনি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

- তিনি সৌদি আরবে প্রেষণে নিয়োজিত হন এবং রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ ইবন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীতে তিনি পুনরায় প্রেষণে নিযুক্ত হয়ে মক্কা মুকাররমার তৎকালীন শরিয়াহ অনুষদ (যা বর্তমানে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়) এর উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের আকিদাহ শাখার প্রধান নিযুক্ত হন।

- তিনি মিসরে ফিরে এসে আনসারুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ জামাতের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে কায়রোতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

- ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে—তাঁর মৃত্যুর দুই বছর আগে—তিনি ডক্টর আব্দুল ফাত্তাহ সালামার সাথে যৌথভাবে গারবিয়্যা প্রদেশে ‘জামাতুদ দাওয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি ছিলেন এর প্রথম সভাপতি।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ১৪)
- توفي رحمه الله تعالى عام "1975م" عن عمر يناهز الستين.

- كان رحمه الله سلفي العقيدة، شديداً في الحق، قوي الحجة والبيان، أفنى حياته في التعليم والتأليف ونشر السنة وعقيدة أهل السنة والجماعة.

- له مؤلفات عدة منها:

1) تحقيق كتاب "المغني" لابن قدامة، وقط طبع لأول مرة في مطبعة الإمام بمصر.

2) تحقيق وتعليق على كتاب "التوحيد" لابن خزيمة.

3) تحقيق وتعليق على كتاب "الأموال" لأبي عُبيد القاسم بن سلام.

4) تحقيق ونقد كتاب "الخصائص الكبرى" للسيوطي.

5) تحقيق وتعليق على كتاب "السيرة النبوية" لابن هشام.

6) شرح "القصيدة النونية" لابن القيم في مجلدين.

7) تأليف كتاب "ابن تيمية ونقده لمسالك المتكلمين في مسائل الإلهيات".

8) شرح "العقيدة الواسطية" لابن تيمية.

9) الحركة الوهابية. رد على مقال للدكتور محمد البهي في نقد الوهابية.
- তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) ১৯৭৫ সালে প্রায় ষাট বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

- তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) সালাফি আকিদার অনুসারী, সত্যের বিষয়ে আপসহীন এবং বলিষ্ঠ যুক্তি ও প্রাঞ্জল বাগ্মিতার অধিকারী ছিলেন। তিনি তাঁর জীবনকে শিক্ষাদান, গ্রন্থ রচনা এবং সুন্নাহ ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা প্রসারে উৎসর্গ করেছিলেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:

১) ইবনু কুদামার "আল-মুগনি" গ্রন্থের তাহকিক, যা সর্বপ্রথম মিশরের মাতবাআতুল ইমাম থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।

২) ইবনু খুযাইমার "কিতাবুত তাওহিদ" গ্রন্থের তাহকিক ও তালীক।

৩) আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সালাম রচিত "কিতাবুল আমওয়াল"-এর তাহকিক ও তালীক।

৪) সুয়ুতির "আল-খাসায়িসুল কুবরা" গ্রন্থের তাহকিক ও সমালোচনা।

৫) ইবনু হিশাম রচিত "আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ" এর তাহকিক ও তালীক।

৬) ইবনুল কাইয়্যিমের "আল-কাসিদাতুন নুনিয়্যাহ" এর দুই খণ্ডের শারহ (ব্যাখ্যা)।

৭) "ইবনু তাইমিয়্যাহ ওয়া নাকদুহু লি মাসালিকিল মুতাকাল্লিমিন ফি মাসায়িলিল ইলাহিয়্যাত" (ইলাহিয়্যাত বা ঐশ্বরিক বিষয়াবলীতে মুতাকাল্লিমদের কর্মপদ্ধতির ব্যবচ্ছেদ) নামক গ্রন্থ রচনা।

৮) ইবনু তাইমিয়্যার "আল-আকিদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ"-এর শারহ।

৯) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ। এটি ওয়াহহাবি আন্দোলনের সমালোচনায় ডক্টর মুহাম্মাদ আল-বাহির একটি প্রবন্ধের প্রত্যুত্তর।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌أسس الحركة الوهابية

‌‌نشأة الحركة الوهابية:

لقد خصص سعادته الفصل الرابع والأخير من كتابه "الفكر الإسلامي في تطوره1" للكلام عن الحركة الوهابية، فأرخ لها من جانبين:

الأول: من جانب الأحداث السياسية وصلتها بالحكومة القائمة على رعايتها.

الثاني: من جهة أنها حركة دينية ترسمت حركة شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله.

ثم قال: "والذي يهمنا من حركة محمد بن عبد الوهاب هو الجانب الثاني بالذات"2.

ثم قدم ترجمة مختصرة لمؤسس الدعوة رحمه الله فذكر رحلاته في طلب العلم إلى معظم العواصم الإسلامية مثل مكة والمدينة في الحجاز، والأحساء في منطقة الخليج العربي، والبصرة وبغداد فيما بين النهرين، ودمشق في سوريا، وأصفهان وقم في إيران، وذكر أنه أقام في هذه الأخيرة مدة تزيد على اثني عشر عاماً قضاها في الدرس والتعلم، وأنه بهذه الرحلة الطويلة ضم معرفة تجريبية واقعية

--------------------------------------------

1 وقد طبع هذا الكتاب طبعتين: الأولى في دار الفكر ببيروت سنة 1391هـ- 1971م. والطبعة الثانية في مكتبة وهبة بمصر سنة 1401هـ - 1981م. وعدد صفحات الكتاب أحد عشر ومئة صفحة، تحدث في الفصل الأول: عن تقويم الفكر الإسلامي في مرحلته الأولى. والفصل الثاني: التفكير لإعادة بناء المجتمع الإسلامي. والفصل الثالث: عن ابن تيمية. والفصل الرابع: عن محمد بن عبد الوهاب. والفصل الخامس: عن الحركة السنوسية.

2 انظر مشكوراً: الفكر الإسلامي في تطوره، ص 75.
ওয়াহাবি আন্দোলনের ভিত্তি

‌ওয়াহাবি আন্দোলনের উদ্ভব:

তিনি (মান্যবর লেখক) তাঁর "আল-ফিকর আল-ইসলামি ফি তাতাউউরিহি" (ক্রমবিকাশের ধারায় ইসলামি চিন্তাধারা)১ গ্রন্থের চতুর্থ ও সর্বশেষ অধ্যায়টি ওয়াহাবি আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনার জন্য বরাদ্দ করেছেন। তিনি এই আন্দোলনের ইতিহাসকে দুটি দিক থেকে বর্ণনা করেছেন:

প্রথমত: রাজনৈতিক ঘটনাবলি এবং একে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানকারী সরকারের সাথে এর সম্পর্কের দিক থেকে।

দ্বিতীয়ত: একটি ধর্মীয় আন্দোলন হিসেবে, যা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর আন্দোলনের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে।

অতঃপর তিনি বলেন: "মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের আন্দোলন থেকে আমাদের কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ তা মূলত এই দ্বিতীয় দিকটিই"২।

এরপর তিনি এই দাওয়াতের প্রতিষ্ঠাতার (রহিমাহুল্লাহ) একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরেন। তিনি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে তাঁর অধিকাংশ ইসলামি রাজধানী সফরের কথা উল্লেখ করেছেন, যেমন হিজাজের মক্কা ও মদিনা, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আল-আহসা, মেসোপটেমিয়ার (দ্বি-নদ অববাহিকার) বসরা ও বাগদাদ, সিরিয়ার দামেস্ক এবং ইরানের ইসফাহান ও কোম। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, শেষোক্ত স্থানে তিনি বারো বছরেরও বেশি সময় অবস্থান করে অধ্যয়ন ও জ্ঞানার্জনে অতিবাহিত করেছেন এবং এই সুদীর্ঘ সফরের মাধ্যমে তিনি বাস্তব ও পরীক্ষামূলক জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।

--------------------------------------------

১ এই গ্রন্থটি দুইবার মুদ্রিত হয়েছে: প্রথমটি বৈরুতের দারুল ফিকর থেকে ১৩৯১ হিজরি - ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে। দ্বিতীয় সংস্করণটি মিশরের মাকতাবাতু ওহাবা থেকে ১৪০১ হিজরি - ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা একশত এগারো। তিনি প্রথম অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন: প্রথম পর্যায়ে ইসলামি চিন্তাধারার মূল্যায়ন সম্পর্কে। দ্বিতীয় অধ্যায়: ইসলামি সমাজ পুনর্গঠন নিয়ে চিন্তাভাবনা। তৃতীয় অধ্যায়: ইবনে তাইমিয়াহ সম্পর্কে। চতুর্থ অধ্যায়: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব সম্পর্কে। এবং পঞ্চম অধ্যায়: সেনুসি আন্দোলন সম্পর্কে।

২ দয়া করে দেখুন: আল-ফিকর আল-ইসলামি ফি তাতাউউরিহি, পৃষ্ঠা ৭৫।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ২১)
عن الإسلام والمذاهب الإسلامية1، وأنه شأنه في ذلك شأن أستاذه ابن تيمية من قبل وشأن أصحاب الحركات الإسلامية التي جاءت بعده، وأنه لما عاد إلى بلدته "العيينة" صمم على الجهر بدعوته فجهر بها، ولكنه صادف معارضة شديدة، فرحل من العيينة إلى "الدرعية" في شمال الرياض حيث يقيم الأمير محمد بن سعود الذي رحب به وأظله بحمايته، وهناك تعاهد الشيخ والأمير على أن يبقى الشيخ في مقر الأسرة السعودية، وفي مقابل ذلك يناصر الأمير دعوة الشيخ بقوة السلطان.

وظل الأمر على ذلك إلى أن توفي الشيخ رحمه الله في سنة 1792م.

وبعد وفاة الشيخ والأمير تعاهد أبناء الأسرتين بالاستمرار في تنفيذ اتفاق والديهما، ولم يزل الوضع في صلة الدعوة الوهابية بالحكومة السعودية على ما كان عليه حتى الوقت الحاضر.

ثم يقول سعادته: "وبهذا التعاهد اجتمع لهذه الدعوة سلطان الحاكم وقوة الإيمان بها، وقلما اجتمع الأمران في حركة دينية، بعد عصر الرسول صلى الله عليه وسلم وخلفائه الراشدين سوى هذه الحركة، ومن هنا كان يؤمل كثيراً في نشاط هذه الحركة"2.

--------------------------------------------

1 الصحيح المؤكد أن الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه تعالى لم يرحل لطلب العلم إلى بغداد ودمشق وأصفهان وقم، بل إن المجمع عليه هو ذهابه إلى: مكة المكرمة والمدينة النبوية والأحساء والبصرة. وهذا دليل على قصور الدكتور البهي في معرفة الدعوة وأنه أخذ أغلب معلوماته عن الدعوة من المخالفين لها.

2 انظر مشكوراً: الفكر الإسلامي في تطوره، ص 77.
ইসলাম ও ইসলামী মাযহাবসমূহ১ সম্পর্কে, এবং এ ব্যাপারে তাঁর অবস্থা ছিল তাঁর পূর্ববর্তী উস্তাদ ইবনে তাইমিয়া এবং তাঁর পরে আসা ইসলামী আন্দোলনগুলোর প্রবক্তাদের মতো। তিনি যখন তাঁর নিজ শহর 'উয়াইনা'য় ফিরে আসেন, তখন তিনি তাঁর দাওয়াত প্রকাশ্যে প্রচারের সংকল্প করেন এবং তা প্রচার করেন। তবে তিনি তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হন। ফলে তিনি উয়াইনা থেকে রিয়াদের উত্তরে অবস্থিত 'দিরইয়াহ'তে চলে যান, যেখানে আমির মুহাম্মদ ইবনে সউদ বাস করতেন। তিনি তাঁকে স্বাগত জানান এবং নিজের আশ্রয়ে স্থান দেন। সেখানে শেখ এবং আমির এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হন যে, শেখ সউদি পরিবারের প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান করবেন এবং এর বিনিময়ে আমির রাজকীয় শক্তি দিয়ে শেখের দাওয়াতকে সমর্থন ও সহযোগিতা করবেন।

শেখ ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করা পর্যন্ত পরিস্থিতি এভাবেই চলতে থাকে—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

শেখ এবং আমিরের মৃত্যুর পর, উভয় পরিবারের সন্তানরা তাঁদের পিতাদের চুক্তি বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন। সউদি সরকারের সাথে ওয়াহাবী দাওয়াতের সম্পর্কের এই ধারা বর্তমান সময় পর্যন্ত আগের মতোই বিদ্যমান রয়েছে।

অতঃপর মহামান্য বলেন: "এই চুক্তির মাধ্যমে এই দাওয়াতের জন্য শাসকের কর্তৃত্ব এবং এর প্রতি বিশ্বাসের শক্তি—উভয়টি একত্রিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগের পর এই আন্দোলন ব্যতিরেকে খুব কম ধর্মীয় আন্দোলনেই এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটেছে। এ কারণেই এই আন্দোলনের তৎপরতা নিয়ে অনেক আশা করা হয়েছিল"২।

--------------------------------------------

১ নিশ্চিতভাবে সঠিক তথ্য হলো যে, শেখ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) জ্ঞান অন্বেষণের জন্য বাগদাদ, দামেস্ক, ইসফাহান এবং কোম শহরে সফর করেননি। বরং সর্বসম্মত তথ্য হলো তিনি মক্কা মুকাররামা, মদিনা নববী, আল-আহসা এবং বসরায় গিয়েছিলেন। এটি এই দাওয়াত সম্পর্কে ডক্টর আল-বাহির জ্ঞানের অপর্যাপ্ততার প্রমাণ এবং এটি নির্দেশ করে যে তিনি এই দাওয়াত সম্পর্কে তাঁর অধিকাংশ তথ্য বিরোধীদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন।

২ অনুগ্রহ করে দেখুন: আল-ফিকরুল ইসলামি ফি তাতাওউরিহি (বিকাশমান ধারায় ইসলামি চিন্তা), পৃষ্ঠা ৭৭।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ২২)
ثم أرخ سعادته بعد ذلك الجانب السياسي لهذه الحركة، فبين كيف أفادت من اتساع حكم السعوديين وازدياد نفوذهم في شبه الجزيرة العربية، حتى دخلت مكة والمدينة مع الفتح السعودي للحجاز، وبذلك تهيأت لها الفرصة في موسم الحج لشرح أسسها ونشر تعاليمها.

فانتشرت الدعوة عن طريق هذه اللقاءات التي كانت تتم بمكة والمدينة في موسم الحج، حتى وصلت إلى الهند وأندونيسيا شرقاً، وإلى السودان والشمال الأفريقي غرباً.

ثم تحدث عن اتساع نفوذ السعوديين خارج شبة الجزيرة العربية حتى وصل عمان وزبيد في جنوبي اليمن، ووصل إلى قلب العراق وضواحي دمشق، مما أزعج الخليفة التركي في الإستانة، وأثار مخاوفه، فكلف واليه مصر "محمد علي باشا" بحرب السعوديين وردهم إلى مقر ولايتهم الأول.

ثم يقول سعادته: "ولكن ما لبث النفوذ السعودي أن عاد بالتدريج إلى قوته، وإلى سيطرته نهائياً على نجد والحجاز على نحو الوضع القائم الآن منذ سنة 1925م1".

--------------------------------------------

1 انظر مشكوراً: الفكر الإسلامي في تطوره، ص 79.
এরপর মহামান্য এই আন্দোলনের রাজনৈতিক দিকটির ইতিহাস বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে এই আন্দোলন সৌদি শাসনের সম্প্রসারণ এবং আরব উপদ্বীপে তাদের প্রভাব বৃদ্ধির ফলে উপকৃত হয়েছিল; এমনকি সৌদিদের হিজাজ বিজয়ের মাধ্যমে মক্কা ও মদিনায় এর প্রবেশ ঘটে এবং এর ফলে হজের মৌসুমে এই আন্দোলনের মূলনীতিসমূহ ব্যাখ্যা করার ও এর শিক্ষা প্রচারের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

ফলে হজের মৌসুমে মক্কা ও মদিনায় অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতসমূহের মাধ্যমে দাওয়াতটি ছড়িয়ে পড়ে এবং তা পূর্বে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া এবং পশ্চিমে সুদান ও উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

অতঃপর তিনি আরব উপদ্বীপের বাইরে সৌদি প্রভাবের বিস্তৃতি সম্পর্কে আলোচনা করেন, যা ওমান ও দক্ষিণ ইয়েমেনের জাবিদ পর্যন্ত এবং ইরাকের কেন্দ্রস্থল ও দামেস্কের উপকণ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এটি ইস্তাম্বুলের তুর্কি খলিফাকে বিচলিত করে এবং তার মনে শঙ্কার উদ্রেক করে; ফলে তিনি মিশরের গভর্নর "মুহাম্মদ আলী পাশা"-কে সৌদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এবং তাদের শাসনের আদি কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিতে নির্দেশ দেন।

এরপর মহামান্য বলেন: "কিন্তু শীঘ্রই সৌদি প্রভাব পর্যায়ক্রমে তার শক্তিতে ফিরে আসে এবং ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে বর্তমান পরিস্থিতির ন্যায় নজদ ও হিজাজের ওপর চূড়ান্তভাবে স্বীয় নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।"

--------------------------------------------

১ অনুগ্রহপূর্বক দেখুন: আল-ফিকরুল ইসলামি ফি তাতাওউরিহি (ইসলামি চিন্তাধারার বিবর্তন), পৃ. ৭৯।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الحركة الوهابية تدعو إلى توكيد التوحيد:

ثم يبدأ الحديث عن الوهابية، كحركة دينية إصلاحية، فيرجع أسس الدعوة الوهابية على ثلاثة أنواع:

الأول: فيما يتصل بالأصول وهي العقيدة.
ওহাবী আন্দোলন তাওহীদের সুদৃঢ়করণের প্রতি আহ্বান জানায়:

অতঃপর একটি ধর্মীয় সংস্কারবাদী আন্দোলন হিসেবে ওহাবী মতাদর্শ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যা ওহাবী দাওয়াতের ভিত্তিকে তিনটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করে:

প্রথমটি: যা মূলনীতির (উসূল) সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো আকীদা।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ২৩)
وهنا يقول: "فإنها تدعو إلى توكيد التوحيد ونفي الشرك، بحيث تقصر العبادة على الله وحده".

وهذا كلام جميل وتصور صادق مجمل، لهدف الدعوة في هذه الناحية من التوحيد، أعني توحيد الإلهية الذي يقوم على إخلاص الدين لله، والتوجه إليه وحده بجميع أنواع العبادات، ولها كان هدف الدعوة الأول هو القضاء على كل ما ينافي هذا التوحيد من مظاهر الشرك والوثنية التي كانت قد استشرت في العالم الإسلامي كله، واتخذت صوراً متعددة، كعبادة الموتى، والاستعانة بأصحاب الأضرحة، وتقديم النذور والقرابين لهم، والتبرك بالأحجار والأشجار والمغارات، والاعتقاد في السحر والتنجيم والعرافة وأنواع الشعوذة. فجدت الدعوة في القضاء على ذلك كله، بإزالة ما كان الناس يفتتنون به من القبور والحجارة، ثم ببيان حقيقة التوحيد الذي بعث الله به رسله، وأنزل به كتبه، وبيان الأمور المنافية له.

وكان كتاب "التوحيد" الذي ألفه مؤسس الحركة رحمه الله، يُعتبر في ذلك الوقت دستوراً لدعاة الحركة يعلمونه الناس ويشرحون لهم فصوله ومسائله.

ثم يعقب الدكتور على ما تقدم بقوله: "ويفهم من معنى القداسة والعبادة كل معنى يقوم على الاحترام ولو كان بحكم الإلف والعادة"1.

--------------------------------------------

1 انظر مشكوراً: الفكر الإسلامي في تطوره، ص 81.
এবং এখানে তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই এটি তাওহীদকে সুদৃঢ় করার এবং শিরককে বর্জন করার আহ্বান জানায়, যাতে ইবাদত কেবল আল্লাহর জন্যই সুনির্দিষ্ট করা হয়।"

এটি একটি চমৎকার কথা এবং তাওহীদের এই দিকের ক্ষেত্রে দাওয়াতের লক্ষ্যের একটি সঠিক ও সংক্ষিপ্ত ধারণা; অর্থাৎ তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ, যা আল্লাহর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করা এবং সকল প্রকার ইবাদতের মাধ্যমে একমাত্র তাঁর দিকেই নিবিষ্ট হওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর এ কারণেই দাওয়াতের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল এই তাওহীদের পরিপন্থী শিরক ও পৌত্তলিকতার সেই সকল বহিঃপ্রকাশ নির্মূল করা, যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং বিভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করেছিল; যেমন মৃতদের পূজা করা, মাজারবাসীদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা, তাদের উদ্দেশ্যে মানত ও কোরবানি পেশ করা, পাথর, গাছপালা ও গুহা থেকে বরকত নেওয়া এবং জাদুবিদ্যা, জ্যোতিষশাস্ত্র, গণকগিরি ও বিভিন্ন প্রকার ভেলকিবাজির ওপর বিশ্বাস রাখা। ফলে এই দাওয়াত সেই সকল কবর ও পাথর অপসারণের মাধ্যমে তা সমূলে বিনাশ করতে সচেষ্ট হয়েছিল যা দ্বারা মানুষ ফিতনায় লিপ্ত হতো; অতঃপর সেই তাওহীদের প্রকৃত রূপ বর্ণনার মাধ্যমে যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং কিতাবসমূহ নাজিল করেছেন, এবং এর পরিপন্থী বিষয়গুলো স্পষ্ট করার মাধ্যমে।

আর আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) কর্তৃক রচিত "কিতাবুত তাওহীদ" সে সময়ে এই আন্দোলনের দাওয়াত প্রদানকারীদের জন্য একটি সংবিধান হিসেবে গণ্য হতো, যা তারা মানুষকে শিক্ষা দিতেন এবং এর বিভিন্ন পরিচ্ছেদ ও মাসআলাসমূহ তাদের নিকট ব্যাখ্যা করতেন।

অতঃপর ডক্টর পূর্বোক্ত আলোচনার ওপর মন্তব্য করে বলেন: "পবিত্রতা ও ইবাদতের মর্মার্থের মধ্যে এমন প্রতিটি অর্থই শামিল রয়েছে যা সম্মানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, যদিও তা কেবল অভ্যাস ও প্রথার বশবর্তী হয়েই হোক না কেন"১।

--------------------------------------------

১ দ্রষ্টব্য: আল-ফিকর আল-ইসলামি ফি তাতাওউরিহি, পৃষ্ঠা ৮১।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ২৪)
يعني بذلك سعادته أن الوهابيين قد اشتطوا في تحديد مفهوم العبادة، فأدخلوا فيه ما كان من الاحترام والتقديس قائماً على الإلف والعادة.

لم نسمع قبل اليوم أن الإلف والعادة يجعلان عبادة غير الله مشروعة وسائغة، فإن كان الناس قد ألفوا أن يقيموا القباب على أضرحة الموتى، وأن يستغيثوا بهم في الملمات ويدعوهم لقضاء الحاجات، ويتملقونهم بالنذور والقربانات، وأن يقفوا أمام مقاصيرهم خاشعين، وينادوا متوسلين متذللين، فذلك شيء لا ضير فيه ولا ينافي توحيد العبادة - في نظر دكتورنا- لأنه من قبل الإلف والعادة.

ولو صح منطق الدكتور في الإغضاء عن كل ما يفعل بطريق الإلف والعادة، لما كان هناك داع لإرسال الرسل، فإن أممهم إنما كانت تفعل ما تفعل من ألوان الشرك والمعاصي على سبيل الإلف والعادة، وكذلك المشركون من العرب الذين أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بمقاتلتهم، ونزل القرآن بذمهم، وتوعدهم بالنار المؤبدة، ما كانوا يزاولون أعمالهم الشركية، من تقديم النذور ونحر الذبائح ومن الطواف والدعاء، إلا على جهة الإلف والعادة، ولهذا حكى القرآن عنهم أنهم كانوا إذا نهوا قالوا: {إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُهْتَدُونَ} . "الزخرف: 23".
মান্যবর এর দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন যে, ওয়াহাবীরা ইবাদতের সংজ্ঞা নির্ধারণে চরমপন্থা অবলম্বন করেছে; ফলে তারা এমন সব সম্মান ও পবিত্রতাকেও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত করেছে যা কেবল অভ্যাস ও প্রথার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

আমরা আজকের আগে কখনো শুনিনি যে, অভ্যাস ও প্রথা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করাকে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে। মানুষ যদি মৃত ব্যক্তিদের কবরের ওপর গম্বুজ নির্মাণে, বিপদ-আপদে তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনায়, প্রয়োজন পূরণের জন্য তাদের ডাকার ক্ষেত্রে অভ্যস্ত হয়ে থাকে এবং মানত ও নজরানার মাধ্যমে তাদের তুষ্ট করার চেষ্টা করে, আর তাদের সমাধি-কক্ষের সামনে বিনম্রভাবে দাঁড়িয়ে থাকে এবং অনুনয়-বিনয় ও হীনমন্যতার সাথে তাদের ডাকতে থাকে—তবে আমাদের এই ডাক্তারের দৃষ্টিতে তাতে কোনো দোষ নেই এবং তা ‘তাওহীদ আল-ইবাদাহ্’ বা ইবাদতের একত্ববাদের বিরোধী নয়; কেননা তা কেবল অভ্যাস ও প্রথার বশবর্তী হয়ে করা হয়েছে।

অভ্যাস ও প্রথার দোহাই দিয়ে সম্পাদিত সকল কাজকে উপেক্ষা করার বিষয়ে ডাক্তারের এই যুক্তি যদি সঠিক হতো, তবে রাসূলদের প্রেরণের কোনো যৌক্তিকতাই থাকত না। কারণ, পূর্ববর্তী জাতিসমূহ বিভিন্ন প্রকার শিরক ও পাপাচার অভ্যাস ও প্রথার বশবর্তী হয়েই সম্পাদন করত। তদ্রূপ আরবের মুশরিকরা—যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদিষ্ট হয়েছিলেন, যাদের নিন্দায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং যাদের চিরস্থায়ী জাহান্নামের শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে—তারাও তাদের শিরকপূর্ণ কর্মকাণ্ডসমূহ, যেমন মানত পেশ করা, পশু বলি দেওয়া, তাওয়াফ করা এবং দুআ করা ইত্যাদি কেবল অভ্যাস ও প্রথা হিসেবেই পালন করত। এই কারণেই কুরআন তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছে যে, যখন তাদের (এসব থেকে) নিষেধ করা হতো, তখন তারা বলত: “আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই পরিচালিত হচ্ছি।” (সূরা যুখরুফ: ২৩)।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الحركة الوهابية تدعو إلى سبيل ربها بالحكمة والموعظة الحسنة:

ثم يقول سعادته: "فبناء القبور على وجه الأرض وزيارتها في انتظام، والوقوف عندها في خشوع، ليست منافذ ينفذ منها الإنسان إلى الشرك وعدم التوحيد بل هي شرك على الحقيقة"1.

وهذا كلام عار عن الصحة، بل هو تجنٍ على الحقيقة، ولا ينم إلى عن رغبة في التشويه والتشهير، فإن الذي تعتبره الدعوة شركاً على انتظام إلخ.. بل هو ما يرتكب أثناء الزيارة لهذه القباب، من دعاء صاحب القبر والاستعانة به، وطلب الحاجات واستمداد البركات منه، ثم وضع النذور في صندوقه، وسوق الذبائح إلى ساحته والإهلال عليها باسمه، إلى غير ذلك مما لا يشك مسلم في أنه شك صريح.

وأما ما ذكره الدكتور من بناء القبور وإشرافها وإقامة القباب عليها واعتياد زيارتها إلخ.. فهو وإن لم يكن شركاً لكنه ذريعة إلى الشرك، لأنه يفضي إلى تعظيم هذه القبور وعبادتها، ولهذا حرمه الإسلام، وأوجب تسوية القبور بالأرض، ونهى عن إشرافها وتجصيصها، واتخاذ المساجد والسرج عليها، كما في الحديث الذي رواه أصحاب السنن عن ابن عباس رضي الله عنهما: "لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم زائرات القبور والمتخذين عليها المساجد والسرج"2.

--------------------------------------------

1 انظر مشكوراً: الفكر الإسلامي في تطوره ص 81.

2 انظر مشكوراً: أبو داود ح "3236" والنسائي "4/95" والترمذي ح "320" ابن ماجه ح "1575" وهو حديث صحيح.
ওয়াহাবি আন্দোলন প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে তার রবের পথের দিকে আহ্বান জানায়:

অতঃপর মহামান্য লেখক বলেন: "জমিনের উপরে কবর নির্মাণ করা, নিয়মিতভাবে সেগুলো যিয়ারত করা এবং সেগুলোর সামনে বিনম্রভাবে দণ্ডায়মান হওয়া কেবল এমন কোনো পথ নয় যার মাধ্যমে মানুষ শিরক ও তাওহীদহীনতার দিকে ধাবিত হয়, বরং এটিই হলো প্রকৃত শিরক।"১।

এটি একটি ভিত্তিহীন কথা, বরং এটি সত্যের ওপর অপবাদ আরোপ মাত্র। এটি কেবল বিকৃতি ও কুৎসা রটানোর আকাঙ্ক্ষারই বহিঃপ্রকাশ। কেননা, এই দাওয়াত যা কিছুকে শিরক মনে করে তা নিয়মিত যিয়ারত ইত্যাদি নয়; বরং তা হলো সেইসব কর্মকাণ্ড যা এই গম্বুজওয়ালা কবরগুলো যিয়ারতের সময় করা হয়—যেমন কবরবাসীর কাছে দুআ করা, তার সাহায্য প্রার্থনা করা, প্রয়োজন পূরণের আবেদন করা এবং তার কাছ থেকে বরকত কামনা করা। অতঃপর কবরের বাক্সে মানত অর্পণ করা, কবরের প্রাঙ্গণে পশু নিয়ে আসা এবং তার নামে উৎসর্গ করা—এই জাতীয় আরও অনেক কাজ যা স্পষ্ট শিরক হওয়ার বিষয়ে কোনো মুসলিমের মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকতে পারে না।

আর ডক্টর সাহেব কবর নির্মাণ, সেগুলোকে উঁচু করা, সেগুলোর ওপর গম্বুজ স্থাপন এবং নিয়মিত যিয়ারত ইত্যাদি সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তা যদিও শিরক নয় কিন্তু শিরকের মাধ্যম। কারণ এটি এই কবরগুলোর প্রতি অতিশয় সম্মান প্রদর্শন এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলোর ইবাদতের দিকে ধাবিত করে। এ কারণেই ইসলাম এগুলোকে হারাম করেছে, কবরকে জমিনের সমান করে দেওয়া ওয়াজিব করেছে এবং কবর উঁচু করা, চুনকাম করা এবং সেগুলোর ওপর মসজিদ নির্মাণ ও বাতি প্রজ্জ্বলন করতে নিষেধ করেছে। যেমনটি সুনান গ্রন্থকারগণ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর যিয়ারতকারিণী নারী এবং কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণকারী ও বাতি প্রজ্জ্বলনকারীদের লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন।"২।

--------------------------------------------

১. অনুগ্রহপূর্বক দেখুন: আল-ফিকরুল ইসলামি ফি তাতাওউরিহি, পৃষ্ঠা ৮১।

২. অনুগ্রহপূর্বক দেখুন: আবু দাউদ, হাদিস নং ৩২৩৬; নাসায়ি, ৪/৯৫; তিরমিযি, হাদিস নং ৩২০; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৫৭৫; এবং এটি একটি সহিহ হাদিস।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقد روى مسلم عن أبي الهياج الأسدي أن علياً رضي الله عنه قال له: "ألا أبعثك على ما بعثني عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم أن لا تدع قبراً مشرفاً إلا سويته ولا صورة إلا طمستها"1.

ولو لم تقم الدعوة الوهابية بهدم القبور المشرفة وتسويتها تطبيقاً لهذه المبادئ الإسلامية، بعد أن مكن الله لها في أرض الحجاز، لكانت لا قدر الله –خائنة لهذه المبادئ، ولكانت دعوة نظر وكلام فقط.

ومن العجيب أنه في الوقت الذي يشجب فيه الدكتور ومن وراءه من القبوريين، الحركة الوهابية، وينعتونها بالتشدد، يلومها أنصار التوحيد الحق على الإسراف في التسامح، حين يرون بعض البدع الشركية لا تزل ترتكب عند الحرمين الشريفين، ومن جانب هؤلاء الذين عايشوا هذه البدع قروناً طويلة قبل أن يظلل الحكم السعودي على الحجاز براية التوحيد المباركة، ولكن الدعوة دائماً تؤثر جانب اللين وتدعو إلى سبيل ربها بالحكمة والموعظة الحسنة، حتى تقطع الطريق على خصومها الذين يرمونها بالتزمت والجفاء.

--------------------------------------------

1 انظر مشكوراً: صحيح مسلم ح "969".
ইমাম মুসলিম আবু আল-হাইয়াজ আল-আসাদি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বলেছিলেন: "আমি কি তোমাকে সেই কাজের দায়িত্ব দিয়ে পাঠাব না, যে কাজের জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তা হলো—তুমি কোনো উঁচু কবর দেখলেই তা সমান করে দেবে এবং কোনো মূর্তি বা ছবি দেখলেই তা মিটিয়ে দেবে।"১

হিজাজ ভূমিতে আল্লাহ তাআলা ওয়াহাবি দাওয়াতকে প্রতিষ্ঠিত করার পর, তারা যদি এই ইসলামী নীতিমালা বাস্তবায়নের লক্ষে উঁচু কবরসমূহ ভেঙে সমান না করত, তবে—আল্লাহ না করুন—তারা এই নীতিমালার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করত এবং তাদের এই দাওয়াত কেবল তাত্ত্বিক ও মৌখিক কথায় সীমাবদ্ধ থাকত।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, যখন ডক্টর এবং তার অনুসারী মাজারপূজারিরা ওয়াহাবি আন্দোলনকে নিন্দা জানাচ্ছে এবং একে চরমপন্থা হিসেবে আখ্যায়িত করছে, তখন প্রকৃত তাওহিদের অনুসারীরা আবার এই আন্দোলনকে অত্যধিক উদারতার জন্য তিরস্কার করছে; তারা দেখে যে, হিজাজে সৌদি শাসন তাওহিদের বরকতময় পতাকাতলে আসার আগে যারা দীর্ঘ শতাব্দী ধরে বিদআতে অভ্যস্ত ছিল, তাদের পক্ষ থেকে এখনো হারামাইন শরীফাইনের সন্নিকটে কিছু শিরকি বিদআত সংঘটিত হচ্ছে। কিন্তু এই দাওয়াত সর্বদা কোমলতার পথকে প্রাধান্য দেয় এবং প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে রবের পথে আহ্বান করে, যাতে সেই সব বিরোধীদের পথ বন্ধ করা যায় যারা একে কঠোরতা ও রুক্ষতার অপবাদ দেয়।

--------------------------------------------

১ দেখুন: সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৯৬৯।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الحيطة الواجبة لأعظم أصل في الإسلام:

ثم يقول سعادته: "وهنا في هذا المبالغة يكمن عامل الفرقة بينهم وبين بقية المسلمين، فبينما هم يرون أنفسهم موحدين وأهل توحيد، ويرون غيرهم ممن لا يسلك سبيلهم في المبالغة مشركين، إذا بغيرهم ينظرون إليهم على أنهم أهل تشدد وتزمت، وأصحاب ضيق في الأفق والفهم لهذا الأصل الإسلامي وهو أصل التوحيد"1.

--------------------------------------------

1 انظر مشكوراً: الفكر الإسلامي في تطوره ص 81.
ইসলামের মহানতম মূলনীতির ক্ষেত্রে অপরিহার্য সতর্কতা:

অতঃপর মহোদয় বলেন: "আর এখানেই, এই অতিরঞ্জনের মধ্যেই তাদের এবং অবশিষ্ট মুসলিমদের মাঝে বিভেদের কারণ নিহিত রয়েছে; কেননা তারা যখন নিজেদেরকে একত্ববাদী ও তাওহীদের অনুসারী হিসেবে গণ্য করে এবং যারা তাদের মতো অতিরঞ্জনের পথ অবলম্বন করে না, তাদেরকে মুশরিক হিসেবে দেখে, তখন অন্যরা আবার তাদের দিকে চরমপন্থা ও গোঁড়ামিতে লিপ্ত এবং এই ইসলামি মূলনীতি তথা তাওহীদের মূলনীতির ক্ষেত্রে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ও উপলব্ধির অধিকারী হিসেবে দৃষ্টিপাত করে।"১

--------------------------------------------

১ অনুগ্রহপূর্বক দেখুন: আল-ফিকরুল ইসলামি ফি তাতাওউরিহি (ইসলামি চিন্তাধারার ক্রমবিকাশ), পৃষ্ঠা ৮১।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ২৭)
والكلام هنا مع الدكتور في تحديد المبالغة التي يكمن فيها عامل الفرقة بين الوهابيين وغيرهم من المسلمين، فهل إذا قامت الوهابية بتنفيذ ما أمر به الشرع من هدم القبور وتسويتها صيانة لجانب التوحيد، ودفاعاً عن حماه المقدس، يعتبر ذلك مبالغة منها تستحق عليها أن ترمى بالتشدد والتزمت، وتعد خارجة على بقية المسلمين؟

ألا يذكر الدكتور أنه درس فيما درس من أصول الفقه قاعدة تسمى "سد الذرائع" تقول "إن كل ما يفضي إلى محرم هو محرم مثله".

ومن أجل هذه القاعدة نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن اتخاذ المساجد على القبور1، لما أن ذلك قد يكون ذريعة إلى تعظيمها وعبادتها.

ونهى عن الصلاة عند طلوع الشمس وعند غروبها2، لما في ذلك من التشبه بعبادها الذين يتحرون السجود لها في هذه الأوقات.

ونهى كذلك عن شد الرحال إلى مكان من الأمكنة بقصد التعبد والصلاة فيه، لا إلا أحد المساجد الثلاثة الكبار: "المسجد الحرام ومسجد المدينة، والمسجد الأقصى" 3.

ونهى أن يقوم الناس بعضهم لبعض على جهة التعظيم4.

--------------------------------------------

1 انظر مشكور: الحديث السابق عن ابن عباس رضي الله عنهما.

2 انظر مشكوراً: صحيح البخاري ح "581" وصحيح مسلم ح "827".

3 انظر مشكوراً: صحيح البخاري ح "1197" وصحيح مسلم ح "827".

4 انظر مشكوراً: البخاري في الأدب المفرد ح "977" وأبو داود ح "5229" والترمذي "125/2" وهو حديث صحيح.
এখানে ডক্টরের সাথে আলোচনার বিষয় হলো সেই অতিশয্যের সীমানা নির্ধারণ করা, যা ওহাবী এবং অন্যান্য মুসলিমদের মধ্যে বিভেদের মূল কারণ হিসেবে বিদ্যমান। ওহাবীগণ যদি তাওহীদের সংরক্ষণ এবং তার পবিত্র সীমানা রক্ষার উদ্দেশ্যে শরীয়তের নির্দেশ মোতাবেক কবরসমূহ গুঁড়িয়ে দেয়া ও সমান করার কাজ সম্পাদন করে থাকে, তবে কি একে এমন অতিশয্য মনে করা হবে যার দরুন তাদের ওপর কঠোরতা ও কট্টরপন্থার অপবাদ দেয়া সমীচীন হবে এবং তাদেরকে অবশিষ্ট মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্যুত গণ্য করা হবে?

ডক্টর কি স্মরণ করতে পারছেন না যে, তিনি উসূলে ফিকহের পাঠ্যসূচিতে ‘সাদ্দুয যারায়ী’ (অকল্যাণের পথ রুদ্ধকরণ) নামক একটি মূলনীতি পড়েছেন, যা বলে— "যা কিছু হারামের দিকে ধাবিত করে, তা-ও হারামের মতোই নিষিদ্ধ।"

আর এই মূলনীতির কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন, কেননা এটি কবরকে অতিমর্যাদা দান এবং তার ইবাদত করার অসীলায় পরিণত হতে পারে।

তদ্রূপ তিনি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন, কারণ এতে সেই সব সূর্যপূজারীদের সাথে সাদৃশ্য তৈরি হয় যারা এই সময়গুলোতে সূর্যকে সিজদা করার অপেক্ষায় থাকে।

অনুরূপভাবে তিনি ইবাদত ও সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে তিনটি প্রধান মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে বিশেষ সফর করতেও বারণ করেছেন; সেই তিনটি মসজিদ হলো: ‘মসজিদুল হারাম, মদীনার মসজিদ এবং মসজিদুল আকসা’।

তিনি পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের আতিশয্যে একে অপরের সম্মানে দাঁড়িয়ে থাকতেও নিষেধ করেছেন।

--------------------------------------------

১. দেখুন: ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদীস।

২. দেখুন: সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৮১ এবং সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮২৭।

৩. দেখুন: সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৯৭ এবং সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮২৭।

৪. দেখুন: বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং ৯৭৭; আবূ দাউদ, হাদীস নং ৫২২৯; তিরমিযী ২/১২৫; এটি একটি সহীহ হাদীস।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ২৮)
ونهى أصحابه عن الغلو فيه والمبالغة في مدحه فقال: "لا تطروني كما أطرت النصارى ابن مريم، إنما أنا عبده فقوله عبد الله ورسوله" 1.

ونهى عن اتخاذ قبره عيداً وقال: "صلوا عليّ حيثما كنتم فإن صلاتكم تبلغني" 2.

وقال للرجل الذي قال له: "ما شاء الله وشئت": " أجعلتني لله نداً؟ بل ما شاء الله وحده" 3.

ومن أجل سد الذرائع أيضاً، أمر عمر رضي الله عنه بقطع شجرة الرضوان التي بايع الصحابة تحتها رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الحديبية.

وقال مرة وهو يستلم الحجر الأسود: "إني أعلم أنك حجر لا تضر ولا تنفع، ولولا أني رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقبلك ما قبلتك"4.

وعزل خالد بن الوليد من قيادة جيش المسلمين في الروم، في وقت كانت الآمال كلها معلقة به ليتمم ما بدأه من الانتصارات على الروم لأنه خشي أن يفتتن الناس به.

فهل كان الرسول صلى الله عليه وسلم في كل ما فعله من ذلك مبالغاً.

--------------------------------------------

1 انظر مشكوراً: صحيح البخاري ح "3445".

2 انظر مشكوراً: مسند الإمام أحمد "2/367" وسنن أبو داود ح "2042".

3 انظر مشكوراً: مسند الإمام أحمد "1/214" وابن ماجه ح "2117". وهو حديث صحيح.

4 انظر مشكوراً: صحيح البخاري "1/495" وصحيح مسلم "1/925".
তিনি তাঁর সাহাবীদের তাঁর প্রতি অতিশয়োক্তি করতে এবং তাঁর প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: "তোমরা আমার অতিরিক্ত প্রশংসা করো না যেমনটি খ্রিস্টানরা মরিয়ম-তনয়ের ক্ষেত্রে করেছিল। আমি তো কেবল তাঁর বান্দা; সুতরাং তোমরা বলো আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।" ১।

তিনি তাঁর কবরকে উৎসবের স্থানে পরিণত করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "তোমরা যেখানেই থাকো না কেন আমার ওপর দরূদ পাঠ করো; কেননা তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌঁছানো হয়।" ২।

তিনি সেই ব্যক্তিকে বলেছিলেন যে তাঁকে বলেছিল, "আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং আপনি যা চেয়েছেন": "তুমি কি আমাকে আল্লাহর সমকক্ষ বানালে? বরং (বলো) কেবল আল্লাহ যা চেয়েছেন।" ৩।

অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করার (সাদ্দুদ যারাই) উদ্দেশ্যে উমর (রা.) সেই 'শাজারাতে রিদওয়ান' (বৃক্ষটি) কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার নিচে হুদায়বিয়ার বছর সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাতে বাইআত গ্রহণ করেছিলেন।

হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার সময় তিনি একবার বলেছিলেন: "আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে তুমি কেবল একটি পাথর, তুমি কোনো ক্ষতি বা উপকারের ক্ষমতা রাখো না। যদি আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম, তবে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।" ৪।

তিনি রোম অভিযানে মুসলিম বাহিনীর সেনাপতির পদ থেকে খালিদ বিন ওয়ালিদকে অপসারণ করেছিলেন এমন এক সময়, যখন রোমানদের বিরুদ্ধে সূচিত বিজয়সমূহ সম্পন্ন করার জন্য সকল আশা তাঁর ওপর নিবদ্ধ ছিল; কারণ তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে মানুষ তাঁর কারণে ফিতনায় (বিভ্রান্তিতে) পতিত হতে পারে।

সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সা.) কি তাঁর এসব কার্যাবলির মাধ্যমে কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি করেছিলেন?

--------------------------------------------

১. অনুগ্রহপূর্বক দেখুন: সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩৪৪৫।

২. অনুগ্রহপূর্বক দেখুন: মুসনাদে ইমাম আহমাদ (২/৩৬৭) এবং সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২০৪২।

৩. অনুগ্রহপূর্বক দেখুন: মুসনাদে ইমাম আহমাদ (১/২১৪) এবং ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২১১৭। এটি একটি সহীহ হাদিস।

৪. অনুগ্রহপূর্বক দেখুন: সহীহ বুখারী (১/৪৯৫) এবং সহীহ মুসলিম (১/৯২৫)।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ২৯)
وهل كان عمر رضي الله عنه فيما عمد إليه من قطع الشجرة أو عزل مبالغاً؟.

فلماذا تنسب الوهابية وحدها إلى المبالغة، وهذه أفعال الرسول صلى الله عليه وسلم، وأفعال خلفائه الراشدين على ما قدمنا.

وعلى فرض أن الوهابية بالغت في ذلك، فإنها مبالغة محمودة كان من نتيجتها استئصال شأفة الشرك، واجتثاث جذور الوثنية من الجزيرة العربية، في الوقت الذي لا تزال فيه كل بلاد الإسلام تعاني من ذلك ما تتفتت على صخرته كل قواعد التوحيد والإيمان.

وإذاً فليست المسألة يا سعادة الدكتور مسألة ضيق في الأفق والفهم للتوحيد، ولكنها الحيطة الواجبة لأعظم أصل في الإسلام وهو التوحيد.

وأما ما ذكره سعادته من أن تشدد الوهابية في موضوع التوحيد قد تسبب في حصول الفرقة بينها وبين من يسميهم مسلمين فذلك أمر حتم، إذ لا يعقل أن يرضى الباطل عن الحق أبداً.

ولكن وزر هذه الفرقة لا يقع على الوهابية، فإنها تدعو كل المسلمين إلى الدخول في دين الله الحق، كما يصوره القرآن الكريم والسنة المطهرة، بعيداً عن كل شوائب الانحراف والضلال.

ولا يجوز لأحد أن يطلب من الوهابية أن تجامل أو تداهن، لا سيما في موضوع يتعلق بأصل الأصول في الدين وهو التوحيد.
উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেই বৃক্ষটি কেটে ফেলা বা অপসারণের ক্ষেত্রে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, তাতে কি তিনি বাড়াবাড়ি করেছিলেন?

তবে কেন কেবল ওহাবিদের প্রতিই বাড়াবাড়ির সম্বন্ধ করা হয়, অথচ এগুলো তো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর খুলাফায়ে রাশিদীনেরই কর্ম—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি।

আর যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নেওয়া হয় যে ওহাবিরা এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করেছে, তবে তা ছিল একটি প্রশংসনীয় বাড়াবাড়ি; যার ফলশ্রুতিতে আরব উপদ্বীপ থেকে শিরকের মূলোচ্ছেদ হয়েছে এবং পৌত্তলিকতার শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। এমন এক সময়ে এটি ঘটেছে যখন অন্যান্য সমস্ত মুসলিম ভূখণ্ড এখনও সেই সংকটে ভুগছে যার পাথুরে আঘাতে তাওহিদ ও ঈমানের সকল ভিত্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

সুতরাং, হে মাননীয় ডক্টর! বিষয়টি তাওহিদ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতা নয়; বরং এটি ইসলামের মহান মূলনীতি তাওহিদের সুরক্ষায় এক অপরিহার্য সতর্কতা।

আর তিনি যে উল্লেখ করেছেন যে, তাওহিদের বিষয়ে ওহাবিদের কঠোরতা তাদের এবং তিনি যাদেরকে মুসলিম বলছেন তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে—তা তো একটি অনিবার্য বিষয়; কারণ বাতিল কখনও হকের প্রতি সন্তুষ্ট হবে, তা ভাবাই যায় না।

কিন্তু এই বিভেদের দায়ভার ওহাবিদের নয়; কারণ তারা সকল মুসলিমকে আল্লাহর সত্য দ্বীনে প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানায়—যেমনটি পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে, যা সকল প্রকার বিচ্যুতি ও গোমরাহির আবিলতা থেকে মুক্ত।

আর কারো জন্যই এটি বৈধ নয় যে সে ওহাবিদের নিকট তোষামোদ বা আপোসের দাবি জানাবে, বিশেষত যখন বিষয়টি দ্বীনের মূল ভিত্তি তাওহিদ সংক্রান্ত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ৩০)
بل هي مستعدة حينئذٍ لأن تكون وحدها في طرف، والدنيا كلها في طرف، حيث لا مجال لمساومة أو مجاملة.
বরং সেই মুহূর্তে তা একদিকে একাকী অবস্থান নিতে প্রস্তুত থাকে এবং সমগ্র বিশ্ব থাকে অন্য প্রান্তে; সেখানে কোনো প্রকার আপস বা তোষামোদির অবকাশ থাকে না।
(খণ্ড: ১) আল-হারাকাতুল ওয়াহহাবিয়্যাহ (রাদ্দুন আলা মাকালি লিমুহাম্মদিল বাহি ফী নাকদিল ওয়াহহাবিয়্যাহ) (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الجاهلية الأولى والجاهلية الثانية:

ثم يقول سعادته: "لأن زيارة القبور وإقامتها على وجه الأرض سوف لا يعيد الآن بحال، وضع الوثنية العربية الأولى على عهد الدعوة الإسلامية، ومن ثم لا وجه لخشية الشرك فضلاً عن وقوعه ممن يقيم القبر أو يزوره"1.

فانظر إلى أي حد يتجاهل دكتورنا الواقع الملموس، كأنه لا يرى ولا يسمع، وكأنه يعيش في دنيا البشر التي لا تزال في قرنها العشرين - قرن الذرة والصاروخ - تتمرغ في أوحال الوثنية على جميع صورها ومظاهرها.

والعجب أن يصدر هذا الكلام من رجل كان مسؤولاً في يوم من الأيام عن تلك القبور الشاهقة التي تزخر بها القاهرة وغيره من مدن مصر بل وقراها، ويعرف جيداً ما يُرتكب عندها وحولها من أفانين الشرك ولوثات الوثنية مما ذكرنا بعضه آنفاً.

فهل يستطيع سعادته أن يدلنا على شيء واحد كانت تفعله الوثنية العربية الأولى وليس موجوداً في تلك الجاهلية الثانية؟

أم إن سعادته يعتبر هذه الأعمال وثنية إذ تُقُرِّب بها إلى اللات والعزى ومناة وهبل، ولكنها تنقلب توحيداً إذا تُقُرِّب بها على المشايخ المقبورين.

--------------------------------------------

1 انظر مشكوراً: الفكر الإسلامي في تطوره ص 81.
প্রথম জাহেলিয়াত ও দ্বিতীয় জাহেলিয়াত:

এরপর মান্যবর লেখক বলেন: "কেননা কবর যিয়ারত এবং যমিনের উপর তা (উঁচু করে) নির্মাণ করা বর্তমানে কোনোভাবেই ইসলামী দাওয়াতের সূচনাকালের সেই আদি আরব পৌত্তলিকতার অবস্থাকে ফিরিয়ে আনবে না। অতএব, যে ব্যক্তি কবর নির্মাণ করে কিংবা তা যিয়ারত করে, তার মাধ্যমে শিরক সংঘটিত হওয়া তো দূরের কথা, শিরকের আশঙ্কারও কোনো অবকাশ নেই।"১

লক্ষ্য করুন, আমাদের ডাক্তার সাহেব বাস্তবতাকে কতখানি উপেক্ষা করছেন! মনে হচ্ছে তিনি যেন কিছুই দেখছেন না এবং শুনছেন না। যেন তিনি এমন এক মানবজগতে বাস করছেন যা বিংশ শতাব্দীতে—পরমাণু ও রকেটের যুগেও—সব ধরণের পৌত্তলিকতার পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত রয়েছে।

আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই কথা এমন এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে উচ্চারিত হচ্ছে, যিনি কোনো এক সময়ে কায়রোসহ মিশরের অন্যান্য শহর এমনকি গ্রামগুলোতে অবস্থিত সেই সুউচ্চ কবরগুলোর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। অথচ তিনি ভালো করেই জানেন যে, সেগুলোর কাছে এবং সেগুলোকে কেন্দ্র করে শিরক ও পৌত্তলিকতার কত রকম নোংরামি সংঘটিত হয়, যার কিছু নমুনা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।

মান্যবর কি আমাদের এমন একটি কাজও দেখাতে পারবেন, যা আদি আরব পৌত্তলিকরা করত কিন্তু এই দ্বিতীয় জাহেলিয়াতের যুগে তা বিদ্যমান নেই?

নাকি তিনি মনে করেন যে, এই কাজগুলো লাত, উযযা, মানাত ও হুবালের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে করা হলে মূর্তিপূজা হিসেবে গণ্য হবে, কিন্তু যদি তা কবরে শায়িত মাশায়েখদের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে তা তাওহীদে পরিণত হবে?

--------------------------------------------

১ অনুগ্রহপূর্বক দেখুন: আল-ফিকরুল ইসলামী ফী তাতাউয়ুরিহি, পৃষ্ঠা ৮১।