(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: -)
الحديث حجة بنفسه في العقائد والأحكام   (ناصر الدين الألباني)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الحديث حجة بنفسه في العقائد والأحكام

المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)

الناشر: مكتبة المعارف

الطبعة: الطبعة الأولى 1425هـ-2005م

عدد الصفحات: 93

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আকিদা ও আহকামের ক্ষেত্রে হাদিস স্বয়ংসম্পূর্ণ দলিল   (নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


বই: আকিদা ও আহকামের ক্ষেত্রে হাদিস স্বয়ংসম্পূর্ণ দলিল

লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন বিন আল-হাজ নুহ বিন নাজাতি বিন আদম, আল-আশকুদারী আল-আলবানি (মৃত্যু: ১৪২০ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ

সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪২৫ হিজরি-২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৩

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102] {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} [النساء:1] . {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} [الأحزاب: 70، 71]

أما بعد فإن أصدق الحديث كتاب الله وأحسن الهدي هدي محمد وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار
ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আলে ইমরান: ১০২] {হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজনদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} [নিসা: ১] । {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে মহা সফলতা অর্জন করে} [আহযাব: ৭০, ৭১]

অতঃপর, নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য হাদিস হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ (محدثاتها), আর প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা (ضلالة) এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪)
وبعد فإنه على الرغم من قوة تيار الكفر والضلال الذي يحول أن يسوق أمتنا بعصاه ويلقي بها في مهاوي الضياع والفناء وعلى الرغم من محاولة أنصار الجاهلية الحديثة جهدهم وتجميعهم جندهم ليقطعوا هذه الأمة الإسلامية العريقة عن عقيدتها ويجتثوا إسلامها من حياتها فإن هناك بصيصا من النور ورفيفا من الأمل يلمحه المراقب للأحداث متمثلا في ذاك التيار الوليد الذي يحبو ويحاول الحركة ويتلمس الطرق كي يصد ذاك التيار الأهوج المدمر ويرده على أعقابه وينقذ البلاد والعباد من آثاره وأخطاره.

وما ذاك التيار الحبيب إلا هذه البراعم الندية والزهرات المتفتحة هنا وهناك من الشباب المسلم المؤمن الذي فتح عينيه على الحياة واستيقظ على صيحات بعض الدعاة والمصلحين الذين حركوا فيه الغيرة والحمية وأثاروا فيه العاطفة الدينية والنفس الأبية ويحاول هؤلاء الشباب أن ينهضوا بالأمة بعد طول تأخر وينقذوها من الأعداء والأخطار فيسعون جادين مخلصين ويدأبون غير هيابين ولا وجلين ولكنهم سرعان ما يفاجؤون بأنهم ما يزالون في مكانهم وأنهم قد رجعوا بعد طول سير وشدة نصب إلى موضعهم الذي كانوا قد انطلقوا منه وغادروه فيأسفون لذلك ويحزنون وييأس بعضهم فيقعد ويعيد الكرة ويسعى من جديد آخرون ويجرب هؤلاء ويعملون ولكن تجربتهم لا تكون خيرا
এর পর, কুফর ও পথভ্রষ্টতার (ضلال) প্রবাহের প্রচণ্ড শক্তি সত্ত্বেও যা আমাদের উম্মাহকে তার লাঠি দ্বারা পরিচালনা করতে চায় এবং তাকে ধ্বংস ও বিলুপ্তির গহ্বরে নিক্ষেপ করতে চায়, এবং আধুনিক জাহিলিয়াতের (جاهلية) অনুসারীদের তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও সৈন্য সমাবেশের মাধ্যমে এই সুপ্রাচীন মুসলিম উম্মাহকে তার আকিদা (عقيدة) থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং তাদের জীবন থেকে ইসলামকে সমূলে উৎপাটন করার অপচেষ্টা সত্ত্বেও; ঘটনার পর্যবেক্ষকগণ আলোর এক ক্ষীণ রশ্মি ও আশার ঝিলিক দেখতে পান। এটি সেই নবজাতক ধারার মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে যা হামাগুড়ি দিয়ে চলার ও নড়াচড়া করার চেষ্টা করছে এবং এই উন্মত্ত ও ধ্বংসাত্মক ধারাকে প্রতিহত করার পথ খুঁজছে, যেন একে পেছনে হটিয়ে দেশ ও দশকে এর ক্ষতিকর প্রভাব ও বিপদ থেকে রক্ষা করা যায়।

আর এই প্রিয় ধারাটি সেই সতেজ কুঁড়ি ও প্রস্ফুটিত পুষ্পরাজি ছাড়া আর কিছুই নয়, যারা এখানে-সেখানে ছড়িয়ে থাকা সেই মুমিন মুসলিম যুবক যারা জীবনের প্রতি চোখ মেলেছে এবং এমন কিছু দাঈ (داعية) ও সংস্কারকদের (مصلحون) আহ্বানে জাগ্রত হয়েছে যারা তাদের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ ও উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলেছেন এবং তাদের মধ্যে ধর্মীয় আবেগ ও উন্নত মানসিকতাকে উদ্দীপ্ত করেছেন। এই যুবকেরা দীর্ঘ বিলম্বের পর উম্মাহকে পুনরুত্থান করতে এবং শত্রু ও বিপদ থেকে তাকে উদ্ধার করতে সচেষ্ট হচ্ছে। তারা অত্যন্ত গুরুত্ব ও নিষ্ঠার সাথে প্রচেষ্টা চালায় এবং কোনো ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই নিরলস কাজ করে যায়। কিন্তু শীঘ্রই তারা অবাক হয়ে লক্ষ্য করে যে, তারা এখনও সেই আগের জায়গাতেই পড়ে আছে এবং দীর্ঘ পথচলা ও চরম পরিশ্রমের পর তারা ঠিক সেই অবস্থানেই ফিরে এসেছে যেখান থেকে তারা যাত্রা শুরু করেছিল। এতে তারা আক্ষেপ করে ও ব্যথিত হয়; কেউ কেউ নিরাশ হয়ে বসে পড়ে, আবার অন্যরা পুনরায় চেষ্টা শুরু করে। তারা নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কাজ করে, কিন্তু তাদের সেই অভিজ্ঞতা শুভ হয় না।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৫)
من سابقتهم ولا بأفضل من سالفتهم وتتكرر هذه الحالة مرات ومرات.

نعم هذه حالة عامة الدعاة إلى الله في هذه الأزمان حيرة وضياع وتيه وغموض وفوضى وارتجال وعمل بدون جدوى لا يعرفون الطريق الصحيح ولا يهتدون إلى الماهر الخريت الذي يخلصهم من حيرتهم وينقذهم من متاهتهم ويجعل جهودهم تنصب في السبيل المجدي وأعمالهم تصرف في الوجه المفيد المرضي الذي يؤدي إلى الغاية المطلوبة ويحقق الهدف المنشود.

وما الطريق الصحيح إلا طريق الكتاب والسنة وفهمهما على المنهج الذي فهمه سلفنا الصالح – رضوان الله عليهم – والعمل بهما والدعوة إليهما والثبات على أمرهما وما الأدلاء الحاذقون إلا العلماء بالكتاب والسنة والعاملون بهما والمخلصون لهما والمهتدون بهديهما.

وعبثا يحاول الشباب المسلم الوصول إلى نصرة الإسلام وإنقاذ كرامة المسلمين عن غير هذه السبيل وعبثا تحاول الحركات الإسلامية تحقيق الغاية المنشودة المنشودة من دون الاستعانة بهؤلاء الأدلاء الخبراء الماهرين.

وقد من الله عز وجل علينا – وله الحمد الجزيل والمنة والفضل الكبير والنعمة – فهيأ لنا عالما حقيقيا هو من بقي السلف
তাদের অগ্রগামীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয় এবং তাদের পূর্ববর্তীদের চেয়ে উত্তম নয়, আর এই অবস্থার পুনরাবৃত্তি বারবার ঘটে চলেছে।

হ্যাঁ, বর্তমান যুগে আল্লাহর পথে আহ্বানকারী সাধারণ দাঈদের অবস্থা এমনই—বিস্ময়, বিভ্রান্তি, লক্ষ্যহীনতা, অস্পষ্টতা, বিশৃঙ্খলা, প্রস্তুতিহীনতা এবং নিষ্ফল কর্মতৎপরতা। তারা সঠিক (صحيح) পথ চেনে না এবং এমন কোনো দক্ষ ও অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শকের সন্ধান পায় না যিনি তাদের এই বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করবেন, তাদের গোলকধাঁধা থেকে উদ্ধার করবেন এবং তাদের প্রচেষ্টাকে ফলপ্রসূ পথে পরিচালিত করবেন। আর তাদের কর্মতৎপরতাকে এমন উপকারী ও সন্তোষজনক দিকে চালিত করবেন যা কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে নিয়ে যায় এবং উদ্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করে।

আর কিতাব ও সুন্নাহর পথ এবং আমাদের পুণ্যবান পূর্বসূরি (سلف صالح) —আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন— যে মানহাজ (منهج) অনুযায়ী এ দুটিকে বুঝেছেন সেভাবে বোঝা, সে অনুযায়ী আমল করা, সেদিকে দাওয়াত দেওয়া এবং তার ওপর অটল থাকা ছাড়া আর কোনো সঠিক (صحيح) পথ নেই। আর কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞানে সমৃদ্ধ আলেম সমাজই হলেন সেই দক্ষ পথপ্রদর্শক যারা তদানুযায়ী আমলকারী, একনিষ্ঠ এবং তাঁদের হেদায়েতের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

মুসলিম যুবকদের জন্য এই পথ ছাড়া ইসলামের বিজয় অর্জন এবং মুসলিমদের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করা বৃথা। তেমনিভাবে এই দক্ষ ও অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শকদের সহায়তা ব্যতীত ইসলামি আন্দোলনগুলোর কাঙ্ক্ষিত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করার চেষ্টাও নিরর্থক।

মহান আল্লাহ আমাদের ওপর করুণা করেছেন—তাঁরই জন্য সকল প্রশংসা, মহান কৃতজ্ঞতা ও অনুগ্রহ এবং নেয়ামত—তিনি আমাদের জন্য একজন প্রকৃত আলেম দান করেছেন যিনি সালাফদের (سلف) অবশিষ্টাংশ বা উত্তরসূরি।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬)
الصالح والأئمة الهداة فدلنا على العلم المستفاد من الكتاب والسنة وهدانا الله بواسطته على ما اختلف فيه الأقوام من الحق بإذنه وأطلعنا على الكنوز الثمينة والجواهر الغالية المبثوثة في كلام الله وكلام رسوله فأحسسنا برد الراحة والاطمئنان بعد طول تعب ونصب وشعرنا بالقناعة الكاملة والفهم الصحيح بعد طول تحير وتخبط فرأينا من حق أمتنا علينا عامة ومن حق شباب الإسلام علينا خاصة أن ندلهم على الخير الذي وفقنا بصرنا الله تعالى به ونرشدهم إلى سبيل الهدى ونتعاون معهم على تجنب أسباب المتاهة والردى وبالله تعالى التوفيق والتأييد دائما وأبدا.

ولذلك فقد حرصنا على أن نزود المسلمين بين الحين والآخر بكل ما نطلع عليه من العلم النافع والدراسة الجادة القويمة التي تعرض عليهم الإسلام الحق واضحا بلا غموض سهلا من غير تعقيد نقيا من من غير شوائب صافيا من كل قذى وكدر مقرونة فيه المسائل بأدلتها والآراء بمآخذها يغني الدارسين عن المؤلفات الكثيرة الواسعة ويقنعهم بالحجج النيرة ويجنبهم التخبط والضياع والاختلاف والاضطراب وينشئ فيهم الوحدة الفكرية التي تتولد عنها الوحدة الشعورية ثم يتبعها إن شاء الله تعالى بعد ذلك وحدة العمل لإقامة الدين والجهاد من أجل تطبيقة وتبليغه والتمين له في العالمين.
নেককার বান্দাগণ এবং পথপ্রদর্শক ইমামগণ। তিনি আমাদের কিতাব ও সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত ইলমের পথ দেখিয়েছেন। আর আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে হকের ব্যাপারে মানুষের মধ্যকার মতভেদপূর্ণ বিষয়ে তাঁরই হুকুমে আমাদের হেদায়েত দান করেছেন। তিনি আমাদের আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসূলের বাণীর মধ্যে ছড়িয়ে থাকা মূল্যবান রত্নভাণ্ডার ও মহামূল্যবান মণিমুক্তার সন্ধান দিয়েছেন। ফলে দীর্ঘ ক্লান্তি ও কষ্টের পর আমরা প্রশান্তি ও স্বস্তির পরশ অনুভব করেছি এবং দীর্ঘ বিভ্রান্তি ও অস্থিরতার পর পূর্ণ তুষ্টি ও সঠিক (صحيح) সমঝ বা উপলব্ধি লাভ করেছি। তাই আমরা সাধারণভাবে আমাদের উম্মাহর প্রতি এবং বিশেষভাবে মুসলিম যুবসমাজের প্রতি আমাদের কর্তব্য মনে করেছি যে, আল্লাহ তাআলা আমাদের যে কল্যাণের পথ দেখিয়েছেন, আমরা যেন তাদের সেই কল্যাণের সন্ধান দেই, তাদের হেদায়েতের পথে পরিচালিত করি এবং বিভ্রান্তি ও ধ্বংসের কারণসমূহ পরিহার করতে তাদের সহযোগিতা করি। আল্লাহর কাছেই সর্বদা তাওফিক ও সাহায্য প্রার্থনা করি।

এ কারণেই আমরা মুসলিমদের মাঝে সময় সময় এমন সব উপকারী ইলম ও বলিষ্ঠ গবেষণার নির্যাস পৌঁছে দিতে সচেষ্ট হয়েছি, যা তাদের সামনে প্রকৃত ইসলামকে কোনো প্রকার অস্পষ্টতা ছাড়াই স্পষ্টভাবে, জটিলতামুক্ত সহজভাবে এবং যাবতীয় পঙ্কিলতা ও আবিলতামুক্ত স্বচ্ছরূপে উপস্থাপন করবে। সেখানে বিভিন্ন মাসআলাসমূহ সেগুলোর দলীলসহ এবং মতসমূহ সেগুলোর উৎসসহ বিধৃত থাকবে; যা শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক সুবিশাল গ্রন্থাবলির প্রয়োজনীয়তা দূর করবে, তাদের উজ্জ্বল দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে আশ্বস্ত করবে এবং তাদের কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা, পথভ্রষ্টতা, মতবিরোধ ও অস্থিরতা থেকে রক্ষা করবে। এটি তাদের মধ্যে এমন এক বুদ্ধিবৃত্তিক ঐক্য গড়ে তুলবে যা থেকে সৃষ্টি হবে আত্মিক ও অনুভূতিগত ঐক্য; অতঃপর ইনশাআল্লাহ এরই ধারাবাহিকতায় দীন কায়েম এবং বিশ্বময় এর বাস্তবায়ন, প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য কর্মের ঐক্য গড়ে উঠবে।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭)
ونريد بهذه الكتب والرسائل أن تكون المنطلق العلمي الصحيح والقاعدة الفكرية القوية لدعاة الإسلام ولذلك فنحن نعرضها على أهل الرأي والفكر الإسلامي وعلى العلماء المسلمين والدعاة المؤمنين كي يروا فيها رأيهم ويدلوا فيها بدلوهم ونحن نرحب بكل نقد بناء ونشكر صاحبه ونعده مساهمة عملية في إنجاح عملنا والوصول به إلى مرحلة الإثمار والنضوج ولكننا نرى أنه يجب أن تتحقق في كل نقد يكتب أو ينشر الصفات الثلاثة الآتية:

1 – الإخلاص لله سبحانه وتعالى فيه بأن يكون قصد صاحبه منه الوصول إلى الحق والقيام بواجب النصيحة.

2 – العلم والفهم الصحيحان المستندان إلى أصلي الدين الأصيلين وركنيه البارزين كتاب الله وسنة نبيه.

الأدب الإسلامي الرفيع والأسلوب العلمي الموضوعي الخالي عن التشهير والتحقير والتسخيف والتجهيل اللهم إلا لمن تعدى وظلم وأساء وافترى.

وهذه الرسالة التي أقدمها اليوم لأستاذنا العلامة محمد ناصر الدين الألباني بعنوان: "الحديث حجة بنفسه في العقائد والأحكام" وهي محاضرة كان ألقاها في مؤتمر اتحاد الطلبة المسلمين الذي انعقد في مدينة غرناطة ببلاد أسبانيا النصرانية حاليا الأندلس الإسلامية سابقا في شهر رجب عام 1392 هـ الموافق
আমরা এই কিতাব ও রিসালাহগুলোর মাধ্যমে ইসলামের দাঈদের জন্য একটি সঠিক জ্ঞানতাত্ত্বিক সূচনা এবং শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি তৈরি করতে চাই। সে কারণেই আমরা এগুলোকে চিন্তাশীল ব্যক্তি, ইসলামী চিন্তাবিদ, মুসলিম উলামা এবং মুমিন দাঈদের সম্মুখে উপস্থাপন করছি; যাতে তারা এ বিষয়ে তাদের মতামত প্রদান করতে পারেন এবং তাদের সুচিন্তিত পরামর্শ ব্যক্ত করতে পারেন। আমরা প্রতিটি গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানাই, এর প্রবক্তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি এবং আমাদের কাজকে সফল করে একে ফলপ্রসূ ও পরিপক্কতার স্তরে উন্নীত করার ক্ষেত্রে একে একটি কার্যকর অবদান হিসেবে গণ্য করি। তবে আমরা মনে করি যে, লিখিত বা প্রকাশিত প্রতিটি সমালোচনার মধ্যে নিম্নলিখিত তিনটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকা আবশ্যক:

১ – এতে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার প্রতি একনিষ্ঠতা থাকতে হবে, যাতে এর মাধ্যমে সমালোচনাকারীর উদ্দেশ্য হয় সত্যে উপনীত হওয়া এবং নসিহতের দায়িত্ব পালন করা।

২ – দ্বীনের দুটি মৌলিক উৎস এবং এর প্রধান দুটি স্তম্ভ—আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে সঠিক জ্ঞান ও সঠিক অনুধাবন।

উন্নত মানের ইসলামী শিষ্টাচার এবং বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যা মানহানি, অবজ্ঞা, উপহাস এবং অজ্ঞ প্রতিপন্ন করা থেকে মুক্ত হবে; তবে তাদের কথা ভিন্ন যারা সীমালঙ্ঘন করে, জুলুম করে, মন্দ আচরণ করে এবং মিথ্যা অপবাদ দেয়।

আর আজ আমি আমাদের উস্তাদ আল্লামা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী-এর যে রিসালাহটি উপস্থাপন করছি তার শিরোনাম হলো: "আকিদাহ ও বিধিবিধানের ক্ষেত্রে হাদিস নিজেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দলিল"। এটি মূলত একটি বক্তৃতা যা তিনি স্পেনের গ্রানাডা শহরে অনুষ্ঠিত মুসলিম ছাত্র ইউনিয়নের সম্মেলনে প্রদান করেছিলেন—যা বর্তমানে খ্রিস্টান শাসিত স্পেন কিন্তু পূর্বে ইসলামী আন্দালুস ছিল—১৩৯২ হিজরি সনের রজব মাসে, যা মোতাবেক...
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৮)
لشهر آب من سنة 1972م.

وقد تحدث فيها المؤلف عن موقف المسلم الصحيح من السنة ومكانتها وحجيتها وجعلها في أربعة فصول تحدث في الفصل الأول عن منزلة السنة في الإسلام وواجب المسلمين في الرجوع إليها والتحذير من مخالفتها.

وتحدث في الفصل الثاني عن بطلان محاولات الخلف لمخالفتها وفساد ما تذرعوا به لذلك من القياس وبعض القواعد الأصولية التي اصطنعوها وضربوا بالسنة عرض الحائط من أجلها.

وأما الفصل الثالث فقد خصصه المؤلف – حفظه الله تعالى – للتدليل على بطلان القاعدة التي وضعها بعض علماء الكلام قديما وأشاعها بعض العلماء والدعاة حديثا وهي دعواهم أن حديث الآحاد لا تثبت به عقيدة وبين خطأ واضعي هذه القاعدة حيث فرقوا بسببها بين أحاديث العقائد وأحاديث الأحكام دون دليل صحيح ظاهر وإنما لمجرد التوهم والتخيل.

ومما تجدر الإشارة إليه هنا أن هذا الموضوع قد تعرض له أستاذنا هنا بشيء من الاختصار لأنه كان قد بحثه بحثا مفصلا موسعا واستقصى فيه أهم ما يمكن ذكره من الأدلة على بطلان ذاك الرأي في رسالة خاصة عنوانها "حديث الآحاد والعقيدة" وهي محاضرة كان قد ألقاها في جمع من الشباب المسلم الواعي
১৯৭২ সালের আগস্ট মাস।

এতে লেখক সুন্নাহর প্রতি একজন প্রকৃত মুসলিমের সঠিক অবস্থান, এর মর্যাদা এবং এর প্রামাণিকতা (حجية) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং বিষয়টিকে চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন। প্রথম অধ্যায়ে তিনি ইসলামে সুন্নাহর মর্যাদা, সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা মুসলিমদের জন্য আবশ্যকীয় কর্তব্য এবং এর বিরুদ্ধাচরণ করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে তিনি পরবর্তী প্রজন্মের সুন্নাহর বিরোধিতা করার প্রচেষ্টার অসারতা এবং সুন্নাহকে উপেক্ষা করার জন্য তারা যে কিয়াস (قياس) ও স্ব-উদ্ভাবিত কতিপয় উসূলী মূলনীতির (قواعد أصولية) আশ্রয় নিয়েছে, সেগুলোর ভ্রান্তি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

আর তৃতীয় অধ্যায়টি লেখক—আল্লাহ তাআলা তাকে হেফাযত করুন—এমন একটি মূলনীতির অসারতা প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যা অতীতে কিছু ইলমুল কালামের পণ্ডিত প্রবর্তন করেছিলেন এবং বর্তমানে কিছু আলেম ও দাঈ তা প্রচার করছেন; আর সেটি হলো তাদের এই দাবি যে, আহাদ হাদিসের (حديث الآحاد) মাধ্যমে আকিদা সাব্যস্ত হয় না। লেখক এই মূলনীতি প্রণেতাদের ভুল স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন যে, তারা এর মাধ্যমে কোনো সুস্পষ্ট নির্ভরযোগ্য (صحيح) দলিল ছাড়াই কেবলমাত্র ধারণা ও কল্পনার বশবর্তী হয়ে আকিদা বিষয়ক হাদিস ও বিধান সংক্রান্ত হাদিসের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করেছেন।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আমাদের উস্তাদ এ বিষয়টি এখানে কিছুটা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন কারণ তিনি 'আহাদ হাদিস (حديث الآحاد) ও আকিদা' শীর্ষক একটি স্বতন্ত্র রিসালায় এই মতামতের অসারতা প্রমাণের পক্ষে সম্ভাব্য সকল গুরুত্বপূর্ণ দলিলসমূহ নিয়ে ইতিপূর্বে বিস্তারিত ও সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। এটি মূলত একদল সচেতন মুসলিম যুবকের সমাবেশে তাঁর দেওয়া একটি বক্তৃতা ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৯)
في دمشق منذ نحو خمسة عشر عاما وكان لها أثر حميد في إضعاف انتشار الرأي المذكور وإحراج مروجيه ومشيعيه في أوساط المثقفين وقد يسر الله نشرها بعنوان "وجوب الأخذ بحديث الآحاد في العقيدة" برقم "5".

وأما الفصل الرابع والأخير من رسالتنا هذه فقد عرض فيه المؤلف إلى الأمر الثالث والخطير الذي أدى إلى إضعاف مكانة السنة عند الناس وتعطيل العمل بها وذلك هو التقليد الذي عم وطم جميع نواحي الفكر والحياة في العالم الإسلامي لعدة قرون من الزمان والذي أناخ بكلكله على العقول والنفوس فأمات فيها الابتكار وقتل العبقريات ودفن المواهب وحرم الناس فيما حرم من هدى ربهم سبحانه وصدهم عن الانتفاع بالخير الذي جاءهم عن طريق محمد صلى الله عليه وسلم ركونا إلى اجتهادات علماء لم يرضوا لتلاميذهم أن يقلدوهم فيها من غير بصيرة بل كل منهم نصح من بعده ألا يقدموا على كتاب الله وسنة رسوله شيئا من الأقوال والآراء والاجتهادات أو فتوى تخالف قول الله وقول رسوله ورجوعهم عنها في حياتهم وبعد مماتهم.

وقد أهاب أستاذنا في ختام المحاضرة بالشباب المسلم أن يرجعوا إلى الكتاب والسنة في كل ما يبلغهم منهما وأن يعملوا لتحقيق مرتبة الاتباع في نفوسهم حسب استطاعتهم وإمكانياتهم
প্রায় পনেরো বছর আগে দামেস্কে এটি প্রকাশিত হয়েছিল এবং শিক্ষিত মহলে উল্লিখিত মতবাদের প্রসার রোধে এবং এর প্রচারকদের কোণঠাসা করতে এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। আল্লাহ তাআলা "আকিদার ক্ষেত্রে একক বর্ণনার হাদিস গ্রহণ করার আবশ্যকতা" শিরোনামে ৫ নং ক্রমিক দিয়ে এটি প্রকাশের পথ সুগম করেছেন।

আর আমাদের এই রিসালার চতুর্থ ও শেষ পরিচ্ছেদে লেখক সেই তৃতীয় ও গুরুতর বিষয়টির অবতারণা করেছেন, যা মানুষের মাঝে সুন্নাহর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার এবং এর ওপর আমল স্থগিত হওয়ার কারণ হয়েছে। আর সেটি হলো অন্ধ অনুসরণ (التقليد), যা কয়েক শতাব্দী ধরে মুসলিম বিশ্বের চিন্তা ও জীবনের সকল ক্ষেত্রে জেঁকে বসেছে। এটি বুদ্ধি ও হৃদয়ের ওপর সিন্দাবাদের ভূতের মতো চেপে বসে উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে অবদমিত করেছে, মেধা নষ্ট করেছে এবং প্রতিভাকে দাফন করেছে। আর মানুষকে তাদের রবের হিদায়াত থেকে বঞ্চিত করেছে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে আসা কল্যাণ থেকে তাদের বিমুখ করেছে। তারা এমন সব আলেমদের ইজতিহাদের (اجتهادات) ওপর নির্ভর করেছে যারা তাদের অনুসারীদের জন্য সঠিক জ্ঞান ব্যতিরেকে তাদের অন্ধ অনুসরণ (التقليد) করা পছন্দ করেননি। বরং তাদের প্রত্যেকেই পরবর্তী প্রজন্মকে এই নসিহত করেছেন যে, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর ওপর যেন কোনো কথা, অভিমত বা ইজতিহাদ (اجتهادات) অথবা আল্লাহর বাণী ও তাঁর রাসূলের বাণীর বিরোধী কোনো ফতোয়াকে (فتوى) প্রাধান্য না দেওয়া হয়। তারা তাদের জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর এ জাতীয় বিষয় থেকে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন।

বক্তব্যের শেষে আমাদের উস্তাদ মুসলিম যুবকদের প্রতি এই আহ্বান জানিয়েছেন যে, তারা যেন কুরআন ও সুন্নাহ থেকে যা কিছু তাদের কাছে পৌঁছায় তার প্রতিটি ক্ষেত্রে এই দুই উৎসের দিকেই ফিরে যায় এবং নিজ নিজ সামর্থ্য ও সক্ষমতা অনুযায়ী নিজেদের মাঝে যথাযথ অনুসরণের (الاتباع) মর্যাদা অর্জনে সচেষ্ট হয়।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১০)
فبذلك يفردون الرسول صلى الله عليه وسلم وحده بالاتباع كما أفرده الله تعالى وحده بالعبودية وبذلك يحققون فعلا – لا قولا فقط – معنى شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله وبذلك يحققون في أنفسهم – عملا لا دعوى – شعار "الحاكمية لله تعالى وحده" بعد أن أعلنوه شعارا وتغنوا به قولا وبذلك أيضا ينشئون "الجيل القرآني الفريد" الذي يحقق دولة الإسلام المنشودة بإذن الله تعالى.

هذا وقد نالت هذه المحاضرة استحسانا كبيرا من جماهير الطلبة المثقفين المسلمين الذين استمعوا إليها لما رأوا فيها من المناقشة العلمية الموضوعية والرأي الصائب القويم وأرسلوا عدة رسائل إلى المؤلف يطلبون منه طبعها ونشرها ليعم النفع بها كل مسلم مخلص غيور يبحث عن الحق ويتمسك به.

كما يحسن أن ننبه هنا إلى أن لأستاذنا الفاضل موضوعا ثالثا عن السنة هو محاضرة كان قد ألقاها منذ نحو سنتين في جمع من الشباب المسلم في بلاد قطر العزيزة تحدث فيها عن أهمية السنة النبوية ومنزلتها في التشريع الإسلامي والحاجة إليه من أجل فهم القرآن ومعرفة تفسيره وعساها يقدر لها كذلك النشر قريبا بإذن الله.

هذا وقد طلبنا من أستاذنا الكريم إجابة الطلبات الكثيرة لطبع هذه المحاضرة القيمة ونشرها فوافق – جزاه الله تعالى خيرا – على ذلك مشكورا فقمنا بقراءتها عليه ونقحناها بإشرافه
এর মাধ্যমে তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে অনুসরণের (الاتباع) ক্ষেত্রে একক হিসেবে গ্রহণ করেন, যেমনটি মহান আল্লাহ তাআলা তাঁকে ইবাদতের জন্য একক সাব্যস্ত করেছেন। এর মাধ্যমে তারা বাস্তবে—কেবল মুখে নয়—এই সাক্ষ্যের অর্থ বাস্তবায়ন করেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। এর দ্বারা তারা নিজেদের মাঝে—কাজে-কর্মে, নিছক দাবিতে নয়—'সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর' এই স্লোগানটি সার্থক করে তোলেন, যা তারা ইতিপূর্বে কেবল স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করেছিল এবং মুখে মুখে আওড়েছিল। আর এভাবেই তারা সেই 'অনন্য কুরআনি প্রজন্ম' গড়ে তুলবেন যারা আল্লাহর ইচ্ছায় কাঙ্ক্ষিত ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে।

এই বক্তৃতাটি সেই সকল শিক্ষিত মুসলিম ছাত্রসমাজের কাছে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেছে যারা এটি শুনেছেন; কারণ তারা এতে বস্তুনিষ্ঠ তাত্ত্বিক আলোচনা এবং সঠিক ও বলিষ্ঠ মতামত দেখতে পেয়েছেন। তারা লেখকের কাছে বেশ কিছু চিঠি পাঠিয়েছেন যেন এটি ছাপানো এবং প্রকাশ করা হয়, যাতে সত্যের অন্বেষী এবং সত্যের ওপর অবিচল প্রত্যেক নিষ্ঠাবান ও সচেতন মুসলিম এর দ্বারা উপকৃত হতে পারেন।

এখানে উল্লেখ করা সমীচীন হবে যে, আমাদের মুহতারাম উস্তাদের সুন্নাহ (السنة) বিষয়ে তৃতীয় একটি বিষয় রয়েছে; এটি মূলত একটি বক্তৃতা যা তিনি প্রায় দুই বছর আগে প্রিয় কাতার ভূখণ্ডে একদল মুসলিম যুবকের সমাবেশে প্রদান করেছিলেন। সেখানে তিনি ইসলামি শরিয়তের বিধান প্রণয়নের (التشريع الإسلامي) ক্ষেত্রে সুন্নাহ-র (السنة) গুরুত্ব ও মর্যাদা এবং কুরআন অনুধাবন ও তাফসীর (تفسير) জানার জন্য এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন। আশা করা যায় যে, আল্লাহর ইচ্ছায় সেটিও শীঘ্রই প্রকাশের জন্য নির্ধারিত হবে।

আমরা আমাদের মুহতারাম উস্তাদের কাছে এই মূল্যবান আলোচনাটি মুদ্রণ ও প্রকাশের অনেক অনুরোধ পেশ করলে তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন—ধন্যবাদসহ তাতে সম্মতি প্রদান করেন। এরপর আমরা এটি তাঁর সামনে পাঠ করি এবং তাঁর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এটি পরিমার্জন করি।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ১১)
ووضعنا عناوين صغيرة لأفكارها الأساسية تسهيلا على القارئ ومساعدة له على إدراك عناصر الموضوع الرئيسية وهذا نوع من الترتيب الحديث والتنظيم الجيد للكتابة نافع ومفيد1.

وقد رأيت أن أقدم بين يدي الرسالة بتعريفات لبعض المصطلحات الحديثية التي لها صلة بالموضوع وبفوائد هامة يحسن بيانها وأرجو الله تعالى أن ينفع بهذه الرسالة كثيرين وأن يجزي كاتبها وناشرها ومبلغها خير الجزاء وبه سبحانه التوفيق والسداد ومنه وحده العون والاستمداد.

--------------------------------------------

1 ثم يسر الله أيضا نشرها بعنوان "منزلة السنة في الإسلام" ضمن هذه السلسلة برقم "4".
আমরা পাঠকদের সুবিধার্থে এবং বিষয়ের মূল উপাদানগুলো অনুধাবনে সহায়তা করার জন্য প্রধান ধারণাগুলোর ওপর ছোট ছোট শিরোনাম প্রদান করেছি; এটি আধুনিক বিন্যাস ও উন্নত লিখনশৈলীর একটি ধরণ যা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও উপকারী১।

আমি এই পুস্তিকাটির প্রারম্ভে বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হাদিস শাস্ত্রের কিছু পরিভাষা (المصطلحات الحديثية) এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক বিষয় উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি যা বর্ণনা করা আবশ্যক। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই পুস্তিকাটির মাধ্যমে বহু মানুষকে উপকৃত করেন এবং এর লেখক, প্রকাশক ও প্রচারকারীকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। মহান আল্লাহই তাওফিক দানকারী এবং একমাত্র তাঁর নিকট থেকেই সাহায্য ও সহায়তা কাম্য।

--------------------------------------------

১. পরবর্তীতে আল্লাহ এই ধারাবাহিকের ৪ নম্বর হিসেবে "ইসলামে সুন্নাহর মর্যাদা" শিরোনামে এটি প্রকাশ করাও সহজ করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الفصل الأول: وجوب الرجوع إلى السنة وتحريم مخالفتها

‌‌مدخل

…

الفصل الأول: وجوب الرجوع إلى السنة وتحريم مخالفتها

أيها الإخوان الكرام: إن من المتفق عليه بين المسلمين الأولين كافة أن السنة النبوية - على صاحبها أفضل الصلاة والسلام - هي المرجع الثاني والأخير في الشرع الإسلامي في كل نواحي الحياة من أمور غيبية اعتقادية - أو أحكام عملية أو سياسية أو تربوية وأنه لا يجوز مخالفتها في شيء من ذلك لرأي أو اجتهاد أو قياس كما قال الإمام الشافعي رحمه الله في آخر "الرسالة ": "لا يحل القياس والخبر موجود "ومثله ما اشتهر عند المتأخرين من علماء الأصول: "إذا ورد الأثر بطل النظر" "لا اجتهاد في مورد النص" ومستندهم في ذلك الكتاب الكريم والسنة المطهرة

القرآن يأمر بالاحتكام إلى سنة الرسول صلى الله عليه وسلم

أما الكتاب ففيه آيات كثير أجتزئ بذكر بعضها في هذه المقدمة على سبيل الذكرى {فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ}

1 - قال تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالاً مُبِيناً} [الأحزاب: 36]
প্রথম অধ্যায়: সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা ওয়াজিব হওয়া এবং এর বিরোধিতা করা হারাম হওয়া

ভূমিকা

…

প্রথম অধ্যায়: সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা ওয়াজিব হওয়া এবং এর বিরোধিতা করা হারাম হওয়া

হে সম্মানিত ভ্রাতৃমণ্ডলী: পূর্ববর্তী সকল মুসলিমদের মধ্যে এটি সর্বসম্মত বিষয় যে, নববী সুন্নাহ—তার অধিকারীর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—হলো ইসলামী শরিয়তের ক্ষেত্রে জীবনের সকল দিক তথা বিশ্বাসগত গায়বি বিষয়সমূহ কিংবা আমলি, রাজনৈতিক বা শিক্ষামূলক বিধানের (أحكام) ক্ষেত্রে দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ মানদণ্ড। ব্যক্তিগত অভিমত (رأي), গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد) অথবা অনুমান বা কিয়াস (قياس)-এর কারণে এর কোনো কিছুর বিরোধিতা করা বৈধ নয়; যেমনটি ইমাম শাফেয়ি (রহ.) তাঁর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থের শেষে বলেছেন: "বর্ণনা বা খবর (الخبر) বর্তমান থাকা অবস্থায় অনুমান বা কিয়াস (القياس) বৈধ নয়।" অনুরূপভাবে পরবর্তী যুগের উসুলবিদ বা মূলনীতিবিদদের (علماء الأصول) নিকট যা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে: "যখন বর্ণনা বা আসর (الأثر) উপস্থিত হয়, তখন ব্যক্তিগত যুক্তি বা নজর (النظر) বাতিল হয়ে যায়", "সুস্পষ্ট পাঠ বা নস (النص)-এর উপস্থিতিতে কোনো গবেষণা বা ইজতিহাদ (اجتهاد) নেই।" আর এক্ষেত্রে তাঁদের দলিল হলো মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এবং পবিত্র সুন্নাহ।

কুরআন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর মাধ্যমে ফয়সালা করার আদেশ দেয়

মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে এ বিষয়ে অনেক আয়াত রয়েছে, যেখান থেকে আমি স্মারক হিসেবে এই ভূমিকায় কিছু অংশ উল্লেখ করছি; {কেননা উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে}।

1 - মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো বিষয়ের ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো ইখতিয়ার থাকে না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্য হয়, সে তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো} [আল-আহযাব: ৩৬]
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
2 - وقال عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} [الحجرات: 1]

3 - وقال: {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ} [آل عمران: 32]

4 - وقال عز من قائل: {وَأَرْسَلْنَاكَ لِلنَّاسِ رَسُولاً وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيداً، مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظاً} [النساء: 80]

5 - وقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} [النساء: 59]

6 - وقال: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ} [الأنفال: 46]

7 - وقال: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَاحْذَرُوا فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا عَلَى رَسُولِنَا الْبَلاغُ الْمُبِينُ} [المائدة: 92]

8 - وقال: {لا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضاً قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُمْ لِوَاذاً فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63]
2 - এবং মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে তোমরা কোনো বিষয়ে অগ্রণী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} [আল-হুজুরাত: ১]

3 - এবং তিনি বলেন: {বলো, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের ভালোবাসেন না।} [আলে ইমরান: ৩২]

4 - এবং সেই মহান সত্তা বলেন: {আর আমি আপনাকে মানুষের জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে মুখ ফিরিয়ে নিল, তবে আমি আপনাকে তাদের ওপর রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে প্রেরণ করিনি।} [আন-নিসা: ৮০]

5 - এবং তিনি বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমাদের মধ্য হতে কর্তৃত্বশীলদের আনুগত্য করো। অতঃপর যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখো। এটাই উত্তম এবং পরিণামে অতি উৎকৃষ্ট।} [আন-নিসা: ৫৯]

6 - এবং তিনি বলেন: {আর তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে। আর ধৈর্য ধারণ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।} [আল-আনফাল: ৪৬]

7 - এবং তিনি বলেন: {আর তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং সতর্ক থাকো। কিন্তু যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রেখো যে, আমার রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া।} [আল-মায়িদাহ: ৯২]

8 - এবং তিনি বলেন: {তোমরা রাসূলের আহ্বানকে তোমাদের একে অপরের আহ্বানের মতো গণ্য করো না। আল্লাহ অবশ্যই তাদের জানেন যারা তোমাদের মধ্যে একে অপরের আড়ালে চুপিসারে সটকে পড়ে। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, কোনো বিপর্যয় যেন তাদের ওপর আপতিত না হয় অথবা কোনো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি যেন তাদের গ্রাস না করে।} [আন-নূর: ৬৩]
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
9 - وقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ وَأَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ} [الأنفال: 24]

10 - وقال: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ، وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَاراً خَالِداً فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُهِينٌ} [النساء 13 - 14]

11 - وقال: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَنْ يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَنْ يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُضِلَّهُمْ ضَلالاً بَعِيداً، وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَى مَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِينَ يَصُدُّونَ عَنْكَ صُدُوداً} [النساء: 60 - 61]

12 - وقال سبحانه: {إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [النور: 52]

13 - وقال: {مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ كَيْ لا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} [الحشر: 7]
9 - এবং তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আহ্বানে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদেরকে জীবন দান করে। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে যান এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে।} [আল-আনফাল: ২৪]

10 - এবং তিনি বলেছেন: {যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটাই মহাফল। আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করবে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, সেখানে সে চিরকাল থাকবে এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।} [আন-নিসা: ১৩ - ১৪]

11 - এবং তিনি বলেছেন: {আপনি কি তাদের দেখেননি যারা দাবি করে যে, আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর তারা ঈমান এনেছে? তারা ফয়সালার জন্য তাগুতের কাছে যেতে চায়, অথচ তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাকে অস্বীকার করার জন্য। আর শয়তান চায় তাদেরকে ঘোর বিভ্রান্তিতে লিপ্ত করতে। আর যখন তাদেরকে বলা হয়, 'আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে এবং রাসূলের দিকে এসো', তখন আপনি মুনাফিকদের আপনার কাছ থেকে সজোরে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখবেন।} [আন-নিসা: ৬০ - ৬১]

12 - এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {মুমিনদের কথা তো এই যে, যখন তাদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়, তখন তারা বলে: 'আমরা শুনলাম ও মানলাম।' আর তারাই সফলকাম।} [আন-নূর: ৫২]

13 - এবং তিনি বলেছেন: {আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে যা কিছু সম্পদ (ফাই) হিসেবে দিয়েছেন, তা আল্লাহর, তাঁর রাসূলের, তাঁর নিকটাত্মীয়দের, এতিমদের, অভাবগ্রস্তদের ও মুসাফিরদের জন্য; যাতে তা তোমাদের মধ্যকার বিত্তবানদের মধ্যেই কেবল আবর্তিত না হয়। আর রাসূল তোমাদেরকে যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।} [আল-হাশর: ৭]
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
14 - وقال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً} [الأحزاب: 21]

15 - وقال: {وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى، مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى، وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم: 1 - 4]

16 - وقال تبارك وتعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [النحل: 44] إلى غير ذلك من الآيات المباركات
14 - মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, বিশেষ করে তার জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে} [আল-আহযাব: ২১]

15 - এবং তিনি বলেছেন: {শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়। তোমাদের সঙ্গী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি। আর তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী (وحي), যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়} [আন-নাজম: ১ - ৪]

16 - এবং মহান ও বরকতময় আল্লাহ বলেছেন: {আমি আপনার প্রতি যিকর অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের নিকট তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে} [আন-নাহল: ৪৪] এছাড়াও আরও অনেক বরকতময় আয়াত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الأحاديث الداعية إلى اتباع النبي صلى الله عليه وسلم في كل شيء:

وأما السنة ففيها الكثير الطيب مما يوجب علينا اتباعه عليه الصلاة والسلام اتباعا عاما في كل شيء من أمور ديننا وإليكم النصوص الثابتة منها:

1 - عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "كل أمتي يدخلون الجنة إلا من أبى" قالوا: ومن يأبى؟ قال: "من أطاعني دخل الجنة ومن عصاني فقد أبى".

أخرجه البخاري في "صحيحه كتاب الاعتصام "

2 - عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال:

"جاءت ملائكة إلى النبي صلى الله عليه وسلم وهو نائم فقال بعضهم: إنه
সব বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের প্রতি আহ্বান জানানো হাদিসসমূহ:

আর সুন্নাহর প্রসঙ্গে, এতে অনেক উত্তম বর্ণনা রয়েছে যা আমাদের দ্বীনি বিষয়গুলোর সবকিছুর ক্ষেত্রে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সামগ্রিক অনুসরণকে আমাদের ওপর আবশ্যক করে দেয়। আর সেগুলোর মধ্য থেকে প্রমাণিত (ثابتة) কিছু পাঠ আপনাদের জন্য পেশ করা হলো:

1 - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে অস্বীকার করেছে।" তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: কে অস্বীকার করেছে? তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো সে-ই মূলত অস্বীকার করল।"

বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থের 'কিতাবুল ইতিসাম' অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন।

2 - জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমন্ত থাকা অবস্থায় তাঁর নিকট কয়েকজন ফেরেশতা আসলেন। তখন তাঁদের কেউ কেউ বললেন: নিশ্চয়ই তাঁর...
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
نائم وقال بعضهم: إن العين نائمة والقلب يقظان فقالوا: إن لصاحبكم هذا مثلا فاضربوا له مثلا فقالوا: مثله كمثل رجل بنى دارا وجعل فيه مأدبة وبعث داعيا فمن أجاب الداعي دخل الدار وأكل من المأدبة ومن لم يجب الداعي لم يدخل الدار ولم يأكل من المأدبة فقالوا: أولوها يفقهها فقال بعضهم: إنه نائم وقال بعضهم: إن العين نائمة والقلب يقظان فقالوا فالدار الجنة والداعي محمد صلى الله عليه وسلم فمن أطاع محمدا صلى الله عليه وسلم فقد أطاع الله ومن عصى محمدا صلى الله عليه وسلم فقد عصى الله ومحمد صلى الله عليه وسلم فرق1 بين الناس

أخرجه البخاري أيضا

3 - عن أبي موسى رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:

"إنما مثلي ومثل ما بعثني الله به كمثل رجل أتى قوما فقال: يا قوم إني رأيت الجيش بعيني وإني أنا النذير العريان فالنجاء النجاء فأطاعه طائفة من قومه فأدلجوا فانطلقوا على مهلهم فنجوا وكذبت طائفة منهم فأصبحوا مكانهم فصبحهم الجيش فأهلكهم واجتاحهم فذلك

مثل من أطاعني فاتبع ما جئت به ومثل من عصاني وكذب بما جئت به من الحق" أخرجه البخاري ومسلم

4 - عن أبي رافع رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"لا ألفين أحدكم متكئا على أريكته يأتيه الأمر من أمري مما

--------------------------------------------

1 أي يفرق بين المؤمنين والكافرين بتصديق الأولين إياه وتكذيب الآخرين له.
...ঘুমন্ত। তাঁদের কেউ কেউ বললেন: নিশ্চয়ই চোখ ঘুমন্ত কিন্তু অন্তর জাগ্রত। অতঃপর তাঁরা বললেন: তোমাদের এই সঙ্গীর জন্য একটি দৃষ্টান্ত রয়েছে, সুতরাং তোমরা তাঁর জন্য একটি দৃষ্টান্ত পেশ করো। তাঁরা বললেন: তাঁর দৃষ্টান্ত হলো এমন এক ব্যক্তির মতো যে একটি ঘর নির্মাণ করেছে এবং তাতে একটি ভোজের আয়োজন করেছে এবং একজন আহ্বানকারী প্রেরণ করেছে। অতঃপর যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিল, সে ঘরে প্রবেশ করল এবং ভোজ গ্রহণ করল। আর যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিল না, সে ঘরে প্রবেশ করল না এবং ভোজও গ্রহণ করল না। তাঁরা বললেন: তোমরা এর ব্যাখ্যা করে দাও যাতে তিনি তা বুঝতে পারেন। তাঁদের কেউ কেউ বললেন: নিশ্চয়ই তিনি ঘুমন্ত। আর তাঁদের কেউ কেউ বললেন: চোখ ঘুমন্ত কিন্তু অন্তর জাগ্রত। তখন তাঁরা বললেন: ঘরটি হলো জান্নাত এবং আহ্বানকারী হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সুতরাং যে ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহর আনুগত্য করল। আর যে ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবাধ্য হলো, সে মূলত আল্লাহর অবাধ্য হলো। আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন মানুষের মধ্যে পার্থক্যকারী১।

এটি বুখারিও বর্ণনা করেছেন।

৩ - আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"নিশ্চয়ই আমার এবং আল্লাহ আমাকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তার দৃষ্টান্ত হলো এমন এক ব্যক্তির মতো যে কোনো এক সম্প্রদায়ের নিকট এসে বলল: হে আমার সম্প্রদায়! আমি নিজের চোখে শত্রুসেনা দেখেছি, আর আমি হলাম একজন নগ্ন সতর্ককারী। সুতরাং তোমরা মুক্তি লাভের চেষ্টা করো, মুক্তি লাভের চেষ্টা করো! তখন তার সম্প্রদায়ের একটি দল তার কথা মেনে নিল এবং রাতের প্রথম ভাগেই রওনা হয়ে গেল। তারা অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে চলে গেল এবং মুক্তি পেল। আর তাদের অন্য একটি দল তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল এবং ভোর পর্যন্ত নিজেদের স্থানেই রয়ে গেল। অতঃপর ভোরেই শত্রুসেনা তাদের ওপর আক্রমণ করল এবং তাদের ধ্বংস ও সমূলে নির্মূল করে দিল। এটিই হলো ঐ ব্যক্তির

দৃষ্টান্ত যে আমার আনুগত্য করল এবং আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসরণ করল। আর এটিই ঐ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত যে আমার অবাধ্য হলো এবং আমি যে সত্য নিয়ে এসেছি তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

৪ - আবু রাফি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"আমি যেন তোমাদের কাউকে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় এমন না পাই যে, তার নিকট আমার পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ আসল যা...

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ প্রথমোক্তদের তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং শেষোক্তদের তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার মাধ্যমে তিনি মুমিন ও কাফেরদের মধ্যে পার্থক্য করে দেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
أمرت به أو نهيت عنه فيقول: لا أدري ما وجدنا في كتاب الله اتبعناه "وإلا فلا".

رواه أحمد وأبو داود والترمذي وصححه وابن ماجة والطحاوي وغيرهم بسند صحيح

5 - عن المقدام بن معدي كرب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه ألا يوشك رجل شبعان على أريكته يقول: عليكم بهذا القرآن فما وجدتم فيه حلال فأحلوه وما وجدتم فيه من حرام فحرموه وإن ما حرم رسول الله كما حرم الله ألا لا يحل لكم الحمار الأهلي ولا كل ذي ناب من السباع ولا لقطة معاهد إلا أن يستغني عنها صاحبها ومن نزل بقوم فعليهم أن يقروه1 فإن لم يقروه فله أن يعقبهم بمثل قراه".

رواه أبو داود والترمذي والحاكم وصححه وأحمد بسند صحيح

6 - عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"تركت فيكم شيئين لن تضلوا بعدهم ما تمسكتم بهما كتاب

--------------------------------------------

1 أي يضيفوه.
আমি কোনো বিষয় আদেশ দিয়েছি অথবা কোনো বিষয় থেকে নিষেধ করেছি; এমতাবস্থায় সে বলবে: 'আমি জানি না, আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি কেবল তারই অনুসরণ করেছি, অন্যথা নয়'।

এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, আবু দাউদ ও তিরমিযী এবং তিনি একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন, আরও বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ, ত্বহাবী ও অন্যান্যরা একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদে।

৫ - মিকদাম ইবনে মা'দী কারিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"সাবধান! নিশ্চয়ই আমাকে কুরআন এবং তার সাথে তার অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক তৃপ্ত ব্যক্তি আসবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বলবে: তোমরা এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো; এতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল মানবে এবং এতে যা হারাম পাবে তাকেই হারাম মানবে। অথচ নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারাম করার মতোই। সাবধান! তোমাদের জন্য গৃহপালিত গাধা হালাল নয়, আর হিংস্র প্রাণীর মধ্যে শিকারী দাঁত বিশিষ্ট কোনো প্রাণীও নয় এবং কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের হারানো বস্তুও বৈধ নয়, যতক্ষণ না তার মালিক তার থেকে অমুখাপেক্ষী হয়। আর যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের নিকট মেহমান হয়, তাদের কর্তব্য হলো তাকে আপ্যায়ন করা১; যদি তারা তাকে মেহমানদারী না করে, তবে তার অধিকার রয়েছে তাদের থেকে তার মেহমানদারির সমপরিমাণ পাওনা আদায় করে নেওয়ার।"

এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিরমিযী ও হাকেম এবং তিনি একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন এবং আহমাদ এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদে বর্ণনা করেছেন।

৬ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা যতক্ষণ এই দুটিকে আঁকড়ে ধরবে ততক্ষণ পথভ্রষ্ট হবে না; আল্লাহর কিতাব...

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ তাকে মেহমানদারী করা।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
الله وسنتي ولن يتفرقا حتى يردا على الحوض".

أخرجه مالك مرسلا والحاكم مسندا وصححه

ما تدل عليه النصوص السابقة:

وفي هذه النصوص من الآيات والأحاديث أمور هامة جدا يمكن إجمالها فيما يلي:

1 - أنه لا فرق بين قضاء الله وقضاء رسوله وأن كلا منهما ليس للمؤمن الخيرة في أن يخالفهما وأن عصيان الرسول صلى الله عليه وسلم كعصيان الله تعالى وأنه ضلال مبين

2 - أنه لا يجوز التقدم بين يدي الرسول صلى الله عليه وسلم كما لا يجوز التقدم بين يدي الله تعالى وهو كناية عن عدم جواز مخالفة سنته صلى الله عليه وسلم قال الإمام ابن القيم في "إعلام الموقعين" "1/58":

"أي لا تقولوا حتى يقول وتأمروا حتى يأمر ولا تفتوا حتى يفتي ولا تقطعوا أمرا حتى يكون هو الذي يحكم فيه ويمضي "

3 - أن المطيع للرسول صلى الله عليه وسلم مطيع لله تعالى

4 - أن التولي عن طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم إنما هو من شأن الكافرين

5 - وجوب الرد والرجوع عند التنازع والاختلاف في شيء من أمور الدين إلى الله وإلى الرسول صلى الله عليه وسلم قال ابن القيم "1/54":
"...আল্লাহর (দ্বীন) ও আমার সুন্নাহ; আর হাউজে উপনীত হওয়া পর্যন্ত তারা কক্ষনো পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না।"

ইমাম মালিক এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) সনদে এবং হাকিম এটি মুসনাদ (مسند) সনদে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটিকে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন।

পূর্বোক্ত দলীলসমূহ যা নির্দেশ করে:

আয়াত ও হাদিসের এই বর্ণনাগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় রয়েছে যা সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

1 - আল্লাহ তাআলার ফয়সালা এবং তাঁর রাসূলের ফয়সালার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। মুমিনদের জন্য এই দুটির কোনোটি লঙ্ঘন করার কোনো সুযোগ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবাধ্যতা আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতারই শামিল এবং এটি একটি সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতা।

2 - আল্লাহ তাআলার নির্দেশের আগে বেড়ে যাওয়া যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশের আগে বেড়ে যাওয়াও নিষিদ্ধ। এটি মূলত তাঁর সুন্নাহর বিরোধিতা করার অবৈধতার একটি রূপক প্রকাশ। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম "ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন" (১/৫৮) গ্রন্থে বলেন:

"অর্থাৎ, তিনি না বলা পর্যন্ত তোমরা কিছু বলো না, তিনি নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা নির্দেশ দিও না, তিনি ফতোয়া না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা ফতোয়া দিও না এবং কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করো না যতক্ষণ না তিনি সেই বিষয়ে ফয়সালা করেন এবং তা কার্যকর করেন।"

3 - যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।

4 - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া কাফিরদের বৈশিষ্ট্য।

5 - দ্বীনের কোনো বিষয়ে বিবাদ ও মতভেদ দেখা দিলে আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করা ওয়াজিব। ইবনুল কাইয়্যিম (১/৫৪) বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
فأمر تعالى بطاعته وطاعة رسوله وأعاد الفعل "يعني قوله: وأطيعوا الرسول" إعلاما بأن طاعته تجب استقلالا من غير عرض ما أمر به على الكتاب بل إذا أمر وجبت طاعته مطلقا سواء كان ما أمر به في الكتاب أو لم يكن فيه فإنه

أوتي الكتاب ومثله معه "ولم يأمر بطاعة أولي الأمر استقلالا بل حذف الفعل وجعل طاعتهم في ضمن طاعة الرسول "

ومن المتفق عليه عند العلماء أن الرد إلى الله إنما هو الرد إلى كتابه والرد إلى الرسول هو الرد إليه في حياته وإلى سنته بعد وفاته وأن ذلك من شروط الإيمان

6 - أن الرضى بالتنازع بترك الرجوع إلى السنة للخلاص من هذا التنازع سبب هام في نظر الشرع لإخفاق المسلمين في جميع جهودهم ولذهاب قوتهم وشوكتهم

7 - التحذير من مخالفة الرسول صلى الله عليه وسلم لما لها من العاقبة السيئة في الدنيا والآخرة

8 - استحقاق المخالفين لأمره صلى الله عليه وسلم الفتنة في الدنيا والعذاب الأليم في الآخرة

9 - وجوب الاستجابة لدعوة الرسول صلى الله عليه وسلم وأمره وأنها سبب الحياة الطيبة والسعادة في الدنيا والآخرة

10 - أن طاعة النبي صلى الله عليه وسلم سبب لدخول الجنة والفوز العظيم وأن معصيته وتجاوز حدوده سبب لدخول النار والعذاب المهين
মহান আল্লাহ তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ক্রিয়াটি পুনরায় উল্লেখ করেছেন—অর্থাৎ তাঁর বাণী: "এবং তোমরা রাসূলের আনুগত্য করো"—এটি জানানোর জন্য যে, কিতাবের সাথে পেশ করা ছাড়াই স্বতন্ত্রভাবে (استقلالاً) তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব (واجب)। বরং তিনি যখনই কোনো নির্দেশ দেবেন, তখনই নিঃশর্তভাবে (مطلقاً) তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব (واجب) হবে, চাই তাঁর সেই নির্দেশ কিতাবে থাকুক বা না থাকুক। কারণ তাঁকে

কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ বস্তু প্রদান করা হয়েছে। "আর তিনি উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্যের নির্দেশ স্বতন্ত্রভাবে (استقلالاً) দেননি, বরং ক্রিয়াটি বিলুপ্ত করে তাদের আনুগত্যকে রাসূলের আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।"

আলেমদের নিকট এটি ঐকমত্যপূর্ণ (المتفق عليه) বিষয় যে, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা মানে হলো তাঁর কিতাবের দিকে প্রত্যাবর্তন করা, আর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করা মানে হলো তাঁর জীবদ্দশায় সরাসরি তাঁর কাছে এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সুন্নাহর (سنة) দিকে প্রত্যাবর্তন করা; এবং এটি ঈমানের (إيمان) শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত।

6 - বিবাদ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সুন্নাহর (سنة) দিকে ফিরে আসা বর্জন করে বিবাদে লিপ্ত থাকাকে মেনে নেওয়া শরয়ি দৃষ্টিতে মুসলিমদের সকল প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হওয়া এবং তাদের শক্তি ও প্রতিপত্তি বিলুপ্ত হওয়ার একটি প্রধান কারণ।

7 - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধাচরণ করা সম্পর্কে সতর্কীকরণ, যেহেতু দুনিয়া ও আখিরাতে এর অশুভ পরিণতি রয়েছে।

8 - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশের বিরোধিতাকারীদের দুনিয়াতে ফিতনা (فتنة) এবং আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির উপযুক্ত হওয়া।

9 - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আহ্বান ও নির্দেশে সাড়া দেওয়া ওয়াজিব (واجب) এবং এটিই দুনিয়া ও আখিরাতে পবিত্র জীবন ও সৌভাগ্যের কারণ।

10 - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য জান্নাতে প্রবেশ ও মহাসাফল্যের কারণ, আর তাঁর অবাধ্য হওয়া ও তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করা জাহান্নামে প্রবেশ ও লাঞ্ছনাকর শাস্তির কারণ।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
11 - أن من صفات المنافقين الذين يتظاهرون بالإسلام ويبطنون الكفر أنهم إذا دعوا إلى أن يتحاكموا إلى الرسول صلى الله عليه وسلم وإلى سنته لا يستجيبون لذلك بل يصدون عنه صدودا

12 - وأن المؤمنين على خلاف المنافقين فإنهم إذا دعوا إلى التحاكم إلى الرسول صلى الله عليه وسلم بادروا إلى الاستجابة لذلك وقالوا بلسان حالهم ومقالهم: "سمعنا وأطعنا" وأنهم بذلك يصيرون مفلحين ويكونون من الفائزين بجنات النعيم

13 - كل ما أمرنا به الرسول صلى الله عليه وسلم يجب علينا اتباعه فيه كما يجب علينا أن ننتهي عن كل ما نهانا عنه

14 - أنه صلى الله عليه وسلم أسوتنا وقدوتنا في كل أمور ديننا إذا كنا ممن يرجو الله واليوم الآخر

15 - وأن كل ما نطق به رسول الله صلى الله عليه وسلم مما له صلة بالدين والأمور الغيبية التي لا تعرف بالعقل ولا بالتجربة فهو وحي من الله إليه. لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه

16 - وأن سنته صلى الله عليه وسلم هي بيان لما أنزل إليه من القرآن

17 - وأن القرآن لا يغني عن السنة بل هي مثله في وجوب الطاعة والاتباع وأن المستغني به عنها مخالف للرسول عليه الصلاة والسلام غير مطيع له فهو بذلك مخالف لما سبق من الآيات
11 - মুনাফিকদের একটি বৈশিষ্ট্য হলো—যারা বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করে এবং অন্তরে কুফর গোপন করে—যে যখনই তাদের রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সুন্নাহর (سنة) বিধানের দিকে আহ্বান করা হয়, তারা তাতে সাড়া দেয় না, বরং তারা সম্পূর্ণরূপে বিমুখ থাকে।

12 - আর মুমিনগণ মুনাফিকদের বিপরীত; কেননা যখনই তাদের রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ফয়সালার দিকে আহ্বান করা হয়, তারা দ্রুত সাড়া দেয় এবং তাদের অবস্থা ও কথায় বলে: "আমরা শুনেছি এবং আনুগত্য করেছি।" এর মাধ্যমেই তারা সফলকাম হয় এবং নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতের অধিকারী বিজয়ীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।

13 - রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের যা কিছু আদেশ করেছেন, তা অনুসরণ করা আমাদের ওপর ওয়াজিব (واجب); অনুরূপভাবে তিনি আমাদের যা কিছু নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকাও আমাদের জন্য আবশ্যক।

14 - তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের দ্বীনি সকল বিষয়ে আমাদের আদর্শ এবং অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, যদি আমরা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশী হই।

15 - আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বীন এবং গায়েব (غيب) সংক্রান্ত যা কিছু ব্যক্ত করেন, যা কেবল বুদ্ধি বা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানা সম্ভব নয়, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অবতীর্ণ ওহি (وحي)। কোনো মিথ্যাই এর কাছে আসতে পারে না।

16 - আর তাঁর সুন্নাহ (سنة) হলো তাঁর প্রতি অবতীর্ণ কুরআনের ব্যাখ্যা ও বিশদ বর্ণনা।

17 - সুন্নাহর (سنة) প্রয়োজনীয়তা বাদ দিয়ে কেবল কুরআন যথেষ্ট নয়; বরং আনুগত্য ও অনুসরণের ক্ষেত্রে এটি কুরআনের সমতুল্য। যে ব্যক্তি সুন্নাহর প্রতি অমুখাপেক্ষী হয়ে কেবল কুরআন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে চায়, সে রাসুল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর বিরোধী এবং তাঁর অবাধ্য। ফলে সে পূর্বে বর্ণিত আয়াতসমূহেরও পরিপন্থী অবস্থানে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
18 - أن ما حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل ما حرم الله وكذلك كل شيء جاء به رسول الله صلى الله عليه وسلم مما ليس في القرآن فهو مثل ما لو جاء في القرآن لعموم قوله: "ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه".

19 - أن العصمة من الانحراف والضلال إنما هو التمسك بالكتاب والسنة وأن ذلك حكم مستمر إلى يوم القيامة فلا يجوز التفريق بين كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم تسليما كثيرا.

لزوم اتباع السنة على كل جيل في العقائد والأحكام:

أيها الأخوة الكرام هذه النصوص المتقدمة من الكتاب والسنة كما أنها دلت دلالة قاطعة على وجوب اتباع السنة اتباعا مطلقا في كل ما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم وأن من لم يرض بالتحاكم إليها والخضوع لها فليس مؤمنا فإني أريد أن ألفت نظركم إلى أنها تدل بعموماتها وإطلاقاتها على أمرين آخرين هامين أيضا:

الأول: أنها تشمل كل من بلغته الدعوة إلى يوم القيامة وذلك صريح في قوله تعالى: {لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ} وقوله: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيراً وَنَذِيراً} [سبأ: 28] وفسره صلى الله عليه وسلم بقوله في حديث: "وكان النبي يبعث إلى قومه خاصة وبعثت إلى الناس كافة" متفق عليه وقوله: "والذي نفسي بيده لا يسمع بي رجل من هذه الأمة ولا يهودي ولا نصراني ثم لم يؤمن بي إلا
18 - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হারাম করেছেন তা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তার মতোই। অনুরূপভাবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু নিয়ে এসেছেন যা কুরআনে নেই, তা কুরআনে থাকার মতোই; কারণ তাঁর বাণীর সাধারণ (عموم) অর্থ হলো: "জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু দেওয়া হয়েছে।"

19 - বিচ্যুতি ও ভ্রষ্টতা থেকে সুরক্ষা কেবল কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার মধ্যেই নিহিত এবং এটি কিয়ামত পর্যন্ত একটি অব্যাহত বিধান। সুতরাং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহর মধ্যে পার্থক্য করা বৈধ নয়।

আকিদাহ ও আহকামের ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রজন্মের জন্য সুন্নাহর অনুসরণ অপরিহার্য:

হে সম্মানিত ভ্রাতৃমণ্ডলী, কিতাব ও সুন্নাহর এই পূর্বোক্ত নাসসমূহ (نصوص) যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার প্রতি নিরঙ্কুশ অনুসরণের আবশ্যকতা (وجوب)-এর ওপর অকাট্য প্রমাণ (دلالة قاطعة) পেশ করে এবং এটি স্পষ্ট করে যে, যে ব্যক্তি সুন্নাহর ফয়সালা ও এর আনুগত্যে সন্তুষ্ট নয় সে মুমিন (مؤمن) নয়; তদ্রূপ আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, এই দলিলগুলো তাদের সাধারণ অর্থ (عموماتها) ও নিরঙ্কুশতার (إطلاقاتها) মাধ্যমে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে:

প্রথমত: কিয়ামত পর্যন্ত যাদের নিকট এই দাওয়াত পৌঁছাবে এটি তাদের সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে সেটি সুস্পষ্ট: {যাতে আমি তোমাদের এবং যার কাছে এটি পৌঁছাবে তাদের সতর্ক করি} এবং তাঁর বাণী: {আমি তো আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করেছি} [সাবা: ২৮]। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি হাদিসে এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন: "অন্যান্য নবীগণ কেবল তাঁদের নিজ সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরিত হতেন, আর আমি প্রেরিত হয়েছি সমগ্র মানবজাতির জন্য" - সর্বসম্মত (متفق عليه)। তাঁর বাণী: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এই উম্মতের কোনো ইহুদি বা নাসারা যদি আমার কথা শোনে এবং অতঃপর আমার প্রতি ঈমান না আনে তবে..."
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
كان من أهل النار" رواه مسلم وابن منده وغيرهما "الصحيحة 157".

والثاني: أنها تشمل كل أمر من أمور الدين لا فرق بين ما كان منه عقيدة علمية أو حكما عمليا أو غير ذلك فكما كان يجب على كل صحابي أن يؤمن بذلك كله حين يبلغه من النبي صلى الله عليه وسلم أو من صحابي آخر عنه كان يجب كذلك على التابعي حين يبلغه عن الصحابي فكما كان لا يجوز للصحابي مثلا أن يرد حديث النبي صلى الله عليه وسلم إذا كان في العقيدة بحجة أنه خبر آحاد سمعه عن صحابي مثله عنه صلى الله عليه وسلم فكذلك لا يجوز لمن بعده أن يرده بالحجة نفسها مادام أن المخبر به ثقة عنده وهكذا ينبغي أن يستمر الأمر إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها وقد كان الأمر كذلك في عهد التابعين والأئمة المجتهدين كما سيأتي النص بذلك عن الإمام الشافعي رحمه الله تعالى.
"সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল," এটি মুসলিম, ইবনে মানদাহ এবং অন্যান্যেরা বর্ণনা করেছেন (সাহীহাহ্ ১৫৭)।

দ্বিতীয়ত: এটি দ্বীনের প্রতিটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে; এতে তাত্ত্বিক আকিদা, ব্যবহারিক বিধান বা অন্য কোনো বিষয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ফলে যেভাবে প্রত্যেক সাহাবীর জন্য সেই সবকিছুর ওপর ঈমান আনা আবশ্যক ছিল যখনই তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কিংবা তাঁর পক্ষ থেকে অন্য কোনো সাহাবীর মাধ্যমে তাঁর কাছে পৌঁছাত, তেমনিভাবে একজন তাবেয়ীর জন্যও তা আবশ্যক ছিল যখন তা কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে তাঁর নিকট পৌঁছাত। উদাহরণস্বরূপ, একজন সাহাবীর জন্য যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসকে—তা আকিদা বিষয়ক হলেও—এই যুক্তিতে প্রত্যাখ্যান করা বৈধ ছিল না যে এটি একটি একক সংবাদ (خبر آحاد), যা তিনি তাঁর মতো অন্য একজন সাহাবীর নিকট থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে শুনেছেন; ঠিক তেমনিভাবে তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের কারো জন্যও একই যুক্তিতে তা প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত সংবাদ প্রদানকারী ব্যক্তি তার নিকট নির্ভরযোগ্য (ثقة) হিসেবে বিবেচিত হন। এভাবেই এই ধারাটি অব্যাহত থাকা উচিত যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী ও তার ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হন। আর তাবেয়ী এবং মুজতাহিদ ইমামগণের যুগেও বিষয়টি এমনই ছিল, যেমনটি ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে সামনে এ বিষয়ে উদ্ধৃতি আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌تحكم الخلف بالسنة بدل التحاكم إليها:

ثم خلف من بعدهم خلف أضاعوا السنة النبوية وأهملوها بسبب أصول تبناها بعض علماء الكلام وقواعد زعمها بعض علماء الأصول والفقهاء المقلدين كان من نتائجها الإهمال المذكور الذي أدى بدوره إلى الشك في قسم كبير منها ورد قسم آخر منها لمخالفتها لتلك الأصول والقواعد فتبدلت الآية عند هؤلاء فبدل أن يرجعوا بها إلى السنة ويتحاكموا إليها فقد قلبوا
সুন্নাহর নিকট বিচারপ্রার্থনার পরিবর্তে সুন্নাহর ওপর পরবর্তী প্রজন্মের কর্তৃত্বারোপ:

অতঃপর তাদের পরে এমন এক উত্তরসূরি প্রজন্মের আবির্ভাব ঘটে যারা নববী সুন্নাহকে বিনষ্ট করে দেয় এবং একে অবহেলা করে। এর কারণ ছিল ইলমুল কালামের একদল পণ্ডিতের গৃহীত কিছু মূলনীতি (أصول) এবং উসুল (أصول) শাস্ত্রের কিছু পণ্ডিত ও মুকাল্লিদ (مقلد) ফকিহদের দাবিকৃত কিছু নিয়ম। এর অন্যতম ফলাফল ছিল সেই অবহেলা, যা ক্রমান্বয়ে সুন্নাহর একটি বড় অংশের ব্যাপারে সন্দেহের উদ্রেক করে এবং অন্য একটি অংশকে ওইসব মূলনীতি (أصول) ও নিয়মের পরিপন্থী হওয়ার কারণে প্রত্যাখ্যান (رد) করার দিকে ধাবিত করে। ফলে তাদের কাছে বিষয়টি উল্টে গেল; সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করার এবং একে ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করার পরিবর্তে তারা বিষয়টিকে উল্টে দিল।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
الأمر ورجعوا بالسنة إلى قواعدهم وأصولهم فما كان منها موافقا لقواعدهم قبلوه وإلا رفضوه وبذلك انقطعت الصلة التامة بين المسلم وبين النبي صلى الله عليه وسلم وخاصة عند المتأخرين منهم فعادوا جاهلين بالنبي صلى الله عليه وسلم وعقيدته وسيرته وعبادته وصيامه وقيامه وحجه وأحكامه وفتاويه فإذا سئلوا عن شيء من ذلك أجابوك إما بحديث ضعيف أو لا أصل له أو بما في المذهب الفلاني فإذا اتفق أنه مخالف للحديث الصحيح وذكروا به لا يذكرون ولا يقبلون الرجوع إليه لشبهات لا مجال لذكرها الآن وكل ذلك سببه تلك الأصول والقواعد المشار إليها وسيأتي قريبا ذكر بعضها إن شاء الله تعالى.

ولقد عم هذا الوباء وطم كل البلاد الإسلامية والمجلات العلمية والكتب الدينية إلا نادرا فلا تجد من يفتي فيها على الكتاب والسنة إلا أفرادا قليلين غرباء بل جماهيرهم يعتمدون فيها على مذهب من المذاهب الأربعة وقد يتعدونها إلى غيرها إذا وجدوا في ذلك مصلحة - كما زعموا - وأما السنة فقد أصبحت عندهم نسيا منسيا إلا إذا اقتضت المصلحة عندهم الأخذ بها كما فعل بعضهم بالنسبة لحديث ابن عباس في الطلاق بلفظ ثلاث وأنه كان على عهد النبي صلى الله عليه وسلم طلقة واحدة فقد أنزلوها منزلة بعض المذاهب المرجوحة وكانوا قبل أن يتبنوه يحاربونه ويحاربون الداعي إليه!
বিষয়টি হলো তারা সুন্নাহকে তাদের নিজস্ব নীতি ও মূলনীতির মানদণ্ডে বিচার করেছে। ফলে সুন্নাহর যা কিছু তাদের মূলনীতির অনুকূলে হয়েছে তা তারা গ্রহণ করেছে, অন্যথায় তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এর মাধ্যমে একজন মুসলিম এবং নবি (সা.)-এর মধ্যকার নিবিড় সম্পর্কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, বিশেষ করে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের লোকদের ক্ষেত্রে। ফলে তারা নবি (সা.) এবং তাঁর আকিদা, জীবনচরিত (সিরাত), ইবাদত, সওম, রাত্রিকালীন সালাত, হজ, বিধিবিধান ও ফতোয়া সম্পর্কে অজ্ঞ হয়ে পড়েছে। যখন তাদের এ সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তারা আপনাকে হয় একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস অথবা যার কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل له) এমন বর্ণনা দিয়ে উত্তর দেয়, কিংবা নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের উদ্ধৃতি দেয়। যদি দেখা যায় যে তা কোনো সহিহ (صحيح) হাদিসের বিরোধী এবং তাদের সেটি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, তবে তারা সেই উপদেশের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না এবং বিভিন্ন সংশয়ের কারণে হাদিসের দিকে ফিরে আসাকে গ্রহণ করে না, যা এখানে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ নেই। আর এই সবকিছুর মূলে রয়েছে সেই সকল মূলনীতি ও নিয়মাবলি যেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ অচিরেই সেগুলোর কিছু অংশ আলোচিত হবে।

এই ব্যাধিটি সমস্ত মুসলিম দেশ, গবেষণাধর্মী সাময়িকী এবং ধর্মীয় গ্রন্থসমূহে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যার ব্যতিক্রম খুবই বিরল। ফলে আপনি এমন কাউকে পাবেন না যারা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ফতোয়া প্রদান করেন, কেবল গুটি কয়েক অপরিচিত ব্যক্তি ছাড়া। বরং তাদের অধিকাংশ মানুষই এ ক্ষেত্রে চার মাযহাবের যেকোনো একটির ওপর নির্ভর করে। এমনকি কোনো ক্ষেত্রে তথাকথিত জনকল্যাণ খুঁজে পেলে—যেমনটি তারা দাবি করে—তারা মাযহাবের সীমা অতিক্রম করে অন্য দিকেও চলে যায়। আর সুন্নাহ তাদের কাছে এক বিস্মৃত বিষয়ে পরিণত হয়েছে; কেবল তখনই তারা সুন্নাহ গ্রহণ করে যখন তাদের স্বার্থের অনুকূলে হয়। যেমনটি তাদের কেউ কেউ তিন তালাকের শব্দের মাধ্যমে তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে ইবনে আব্বাসের হাদিসটির ব্যাপারে করেছে; যেখানে বলা হয়েছে যে নবি (সা.)-এর যুগে এটি এক তালাক হিসেবে গণ্য হতো। তারা এই হাদিসটিকে কেবল কিছু অগ্রাধিকারহীন (مرجوح) মাযহাবের মতামতের পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে। অথচ এই মতটি গ্রহণ করার আগে তারা এর বিরুদ্ধে লিপ্ত ছিল এবং যারা এর দিকে আহ্বান জানাত তাদের বিরোধিতা করত!
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩৭)
غربة السنة عند المتأخرين:

وإن مما يدل على غربة السنة في هذا الزمان وجهل أهل العلم والفتوى بها جواب إحدى المجلات الإسلامية السيارة عن سؤال: "هل تبعث الحيوانات … " ونصه:

قال الإمام الآلوسي في تفسيره: ليس في هذا الباب - يعني بعض الحيوانات - نص من كتاب أو سنة يعول عليه يدل على حشر غير الثقلين من الوحوش والطيور "

هذا كل ما اعتمده المجيب وهو شيء عجيب يدلكم على مبلغ إهمال أهل العلم - فضلا عن غيرهم لعلم السنة فقد ثبت فيها أكثر من حديث واحد يصرح بأن الحيوانات تحشر ويقتص لبعضها من بعض من ذلك حديث مسلم في "صحيحه ": "لتؤدون الحقوق إلى أهلها حتى يقاد للشاة الجلحاء من الشاة القرناء". وثبت عن ابن عمرو وغيره أن الكافر حين يرى هذا القصاص يقول: {يَا لَيْتَنِي كُنْتُ تُرَاباً} [النبأ: 40]
পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট সুন্নাহর অপরিচিতি:

বর্তমান সময়ে সুন্নাহর অপরিচিতি এবং আলেম ও ফতোয়া প্রদানকারী ব্যক্তিদের এ বিষয়ে অজ্ঞতার একটি নিদর্শন হলো একটি চলমান ইসলামী সাময়িকীতে আসা একটি প্রশ্নের উত্তর: "পশুপাখিরা কি পুনরুত্থিত হবে … ?" এবং তার ভাষ্য হলো:

ইমাম আলূসী তাঁর তাফসিরে বলেছেন: "এই অধ্যায়ে—অর্থাৎ কিছু প্রাণীর বিষয়ে—কিতাব বা সুন্নাহ থেকে নির্ভরযোগ্য এমন কোনো সুস্পষ্ট দলিল (نص) নেই যা মানুষ ও জিন ব্যতীত বন্যপ্রাণী ও পাখিদের হাশর বা একত্রিত হওয়াকে প্রমাণ করে।"

উত্তরদাতা কেবল এই কথার ওপরই নির্ভর করেছেন, যা অত্যন্ত বিস্ময়কর। এটি আপনাকে সুন্নাহর ইলমের প্রতি আলেমদের—অন্যদের কথা তো বাদই দিলাম—অবহেলা কতটুকু তা বুঝিয়ে দেয়। অথচ এ বিষয়ে একের অধিক হাদিস প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে যে, প্রাণীদের হাশর হবে এবং তাদের একে অপরের পাওনা চুকিয়ে দেওয়া হবে। এর মধ্যে একটি হলো সহিহ মুসলিমে ইমাম মুসলিমের বর্ণিত হাদিস: "তোমরা অবশ্যই হকদারদের পাওনা পরিশোধ করে দেবে, এমনকি শিংবিহীন ভেড়ার জন্য শিংওয়ালা ভেড়া থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে।" ইবনে আমর ও অন্যদের থেকে আরও প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, কাফির ব্যক্তি যখন এই প্রতিশোধ গ্রহণ দেখবে তখন সে বলবে: {হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম!} [আন-নাবা: ৪০]
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌أصول الخلف التي تركت السنة بسببها:

فما هي تلك الأصول والقواعد التي أقامها الخلف حتى صرفتهم عن السنة دراسة واتباعا؟ وجوابا عن ذلك أقول:

يمكن حصرها في الأمور الآتية:

الأول: قول بعض علماء الكلام: إن حديث الآحاد لا تثبت به
পরবর্তী প্রজন্মের সেই মূলনীতিসমূহ যার কারণে সুন্নাহ বর্জিত হয়েছে:

তবে সেই মূলনীতি ও নিয়মাবলিগুলো কী যা পরবর্তী প্রজন্ম প্রতিষ্ঠিত করেছিল, যা তাদের সুন্নাহর অধ্যয়ন ও অনুসরণ থেকে বিমুখ করে দিয়েছিল? এর উত্তরে আমি বলছি:

সেগুলোকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব:

প্রথমত: কিছু ইলমুল কালামবিদের বক্তব্য এই যে, একক সূত্রে বর্ণিত হাদিস (آحاد) দ্বারা [কোনো কিছু] প্রমাণিত হয় না
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩৮)
عقيدة وصرح بعض الدعاة الإسلاميين اليوم بأنه لا يجوز أخذ العقيدة منه بل يحرم.

الثاني: بعض القواعد التي تبنتها بعض المذاهب المتبعة في "أصولها" يحضرني الآن منها ما يلي:

أ - تقديم القياس على خبر الآحاد. "الإعلام 1/327 و300 شرح المنار ص 623"

ب - رد خبر الآحاد إذا خالف الأصول. "الإعلام 1/329، شرح المنار ص 646"

ج - رد الحديث المتضمن حكما زائدا على نص القرآن بدعوى أن ذلك نسخ له والسنة لا تنسخ القرآن "شرح المنار ص 647، الأحكام 2/66"

د - تقديم العام على الخاص عند التعارض أو عدم جواز تخصيص عموم القرآن بخبر الواحد

"شرح المنار ص 289 - 294، إرشاد الفحول 138 - 139 - 143 - 144"

هـ - تقديم أهل المدينة على الحديث الصحيح

الثالث: التقليد واتخاذه مذهبا ودينا.
আকীদা; এবং বর্তমানকালের কতিপয় ইসলামি দাঈ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, এটি থেকে আকীদা গ্রহণ করা বৈধ নয়, বরং তা হারাম।

দ্বিতীয়ত: প্রচলিত কতিপয় মাজহাব তাদের "মূলনীতিতে" (أصول) যেসব নিয়ম গ্রহণ করেছে, তার মধ্য থেকে বর্তমানে আমার যা স্মরণে আসছে তা নিম্নরূপ:

ক - একক বর্ণনার (خبر الآحاد) ওপর কিয়াসকে (القياس) প্রাধান্য দেওয়া। "আল-ইলাম ১/৩২৭ ও ৩০০, শারহুল মানার পৃ. ৬২৩"

খ - একক বর্ণনা (خبر الآحاد) যদি মূলনীতির (الأصول) পরিপন্থী হয় তবে তা প্রত্যাখ্যান (رد) করা। "আল-ইলাম ১/৩২৯, শারহুল মানার পৃ. ৬৪৬"

গ - কুরআনের অকাট্য পাঠের (نص) অতিরিক্ত কোনো বিধান সম্বলিত হাদিসকে এই দাবিতে প্রত্যাখ্যান (رد) করা যে, এটি কুরআনের জন্য রহিতকরণ (نسخ) স্বরূপ, আর সুন্নাহ (السنة) কুরআনকে রহিত (نسخ) করতে পারে না। "শারহুল মানার পৃ. ৬৪৭, আল-আহকাম ২/৬৬"

ঘ - পরস্পর বিরোধিতার (التعارض) সময় বিশেষের (الخاص) ওপর সাধারণকে (العام) প্রাধান্য দেওয়া অথবা একক বর্ণনার (خبر الواحد) মাধ্যমে কুরআনের সাধারণ (عموم) বিধানকে সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করা বৈধ না হওয়া।

"শারহুল মানার পৃ. ২৮৯ - ২৯৪, ইরশাদুল ফুহুল ১৩৮ - ১৩৯ - ১৪৩ - ১৪৪"

ঙ - সহিহ (صحيح) হাদিসের ওপর মদিনাবাসীদের আমলকে (أهل المدينة) প্রাধান্য দেওয়া।

তৃতীয়ত: তাকলিদ (التقليد) এবং একে মাজহাব ও দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করা।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌الفصل الثاني: بطلان تقديم القياس وغيره على الحديث

‌‌مدخل

…

الفصل الثاني: بطلان تقديم القياس وغيره على الحديث

إن رد الحديث الصحيح بالقياس أو غيره من القواعد التي سبق ذكرها مثل رده بمخالفة أهل المدينة له لهو مخالفة صريحة لتلك الآيات والأحاديث المتقدمة القاضية بوجوب الرجوع إلى الكتاب والسنة عند الاختلاف والتنازع ومما لا شك فيه عند أهل العلم أن رد الحديث لمثل ما ذكرنا من القواعد ليس مما اتفق عليه أهل العلم كلهم بل إن جماهير العلماء يخالفون تلك القواعد ويقدمون عليها الحديث الصحيح اتباعا للكتاب والسنة كيف لا مع أن الواجب العمل بالحديث ولو مع ظن الاتفاق على خلافه أو عدم العلم بمن عمل به قال الإمام الشافعي في "الرسالة" "ص 463/464": "ويجب أن يقبل الخبر في الوقت الذي ثبت فيه وإن لم يمض عمل من الأئمة بمثل الخبر". وقد قال العلامة ابن القيم في "إعلام الموقعين" "1/32 - 33":

ولم يكن الإمام أحمد رحمه الله تعالى يقدم على الحديث الصحيح عملا ولا رأيا ولا قياسا ولا قول صاحب ولا عدم علمه بالمخالف الذي يسميه كثير من الناس إجماعا ويقدمونه على الحديث الصحيح وقد كذب أحمد من ادعى هذا الإجماع ولم يسغ تقديمه على الحديث الثابت وكذلك الشافعي
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসের ওপর কিয়াস (قياس) বা অন্য কোনো বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়ার অসারতা

ভূমিকা

…

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসের ওপর কিয়াস (قيাস) বা অন্য কোনো বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়ার অসারতা

নিশ্চয়ই কিয়াস (قياس) বা ইতিপূর্বে উল্লিখিত অন্যান্য মূলনীতির মাধ্যমে—যেমন মদিনাবাসীদের আমলের পরিপন্থী হওয়ার কারণে—সহিহ (صحيح) হাদিস প্রত্যাখ্যান করা হলো সেইসব আয়াত ও হাদিসের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা মতভেদ ও বিরোধের সময় কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে আসাকে অপরিহার্য করে দেয়। আলেমদের নিকট এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমাদের উল্লিখিত এ ধরনের মূলনীতির ভিত্তিতে হাদিস প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি এমন নয় যে যার ওপর সকল আলেম একমত হয়েছেন। বরং জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) ওলামায়ে কেরাম এই মূলনীতিগুলোর বিরোধিতা করেন এবং কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণে এগুলোর ওপর সহিহ (صحيح) হাদিসকে প্রাধান্য দেন। কেনই বা তা করবেন না, যেখানে হাদিসের ওপর আমল করা ওয়াজিব, এমনকি যদি এর বিপরীতে ঐক্যমত থাকার ধারণা করা হয় অথবা কে এর ওপর আমল করেছেন তা জানা না থাকে। ইমাম শাফেয়ি "আর-রিসালাহ" (পৃ. ৪৬৩/৪৬৪) গ্রন্থে বলেছেন: "খবর (الخبر) যখনই সাব্যস্ত হবে, তখনই তা গ্রহণ করা ওয়াজিব, যদিও ইতিপূর্বে ইমামদের পক্ষ থেকে সেই খবর (الخبر) অনুযায়ী আমলের নজির না থাকে।" আর আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম "ইলামুল মুওয়াক্কিঈন" (১/৩২-৩৩) গ্রন্থে বলেছেন:

ইমাম আহমাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি সহিহ (صحيح) হাদিসের ওপর কোনো আমল, রায় (رأي), কিয়াস (قياس), সাহাবীর উক্তি কিংবা বিরোধিতাকারীর ব্যাপারে তার অজ্ঞতাকে (যাকে অনেক মানুষ ইজমা (إجماع) বলে অভিহিত করেন এবং সহিহ (صحيح) হাদিসের ওপর প্রাধান্য দেন) প্রাধান্য দিতেন না। ইমাম আহমাদ এমন ব্যক্তির দাবিকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছেন যে এই ইজমা (إجماع)-এর দাবি করে, এবং প্রমাণিত হাদিসের ওপর একে প্রাধান্য দেওয়াকে বৈধ মনে করতেন না। ইমাম শাফেয়ির অবস্থানও অনুরূপ ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪০)
أيضا نص في "رسالته الجديدة" على أن ما لا يعلم فيه بخلاف لا يقال له إجماع … ونصوص رسول الله صلى الله عليه وسلم أجل عند الإمام أحمد وسائر أئمة الحديث من أن يقدموا عليها ما توهم إجماع مضمونه عدم العلم بالمخالف ولو ساغ لتعطلت النصوص وساغ لكل من لم يعلم مخالفا في حكم مسألة أن يقدم جهله بالمخالف على النصوص"

وقال ابن القيم أيضا "3/464 - 465":

وقد كان السلف الطيب يشتد نكيرهم وغضبهم على من عارض حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم برأي أو قياس أو استحسان أو قول أحد من الناس كائنا من كان ويهجرون فاعل ذلك وينكرون على من ضرب له الأمثال ولا يسوغون غير الانقياد له صلى الله عليه وسلم والتسليم والتلقي بالسمع والطاعة ولا يخطر بقلوبهم التوقف في قبوله حتى يشهد له عمل أو قياس أو يوافق قول فلان وفلان بل كانوا عاملين بقوله تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} [الأحزاب: 36] وأمثاله "مما تقدم" فدفعنا إلى زمان إذا قيل لأحدهم: ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: كذا وكذا يقول: من قال بهذا؟ دفعا في صدر الحديث ويجعل جهله بالقائل حجة له في مخالفته وترك العمل به ولو نصح نفسه لعلم أن هذا الكلام من أعظم الباطل وأنه لا يحل له دفع سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم بمثل هذا
এছাড়াও তিনি তাঁর "রিসালাতুল জাদিদাহ"-এ উল্লেখ করেছেন যে, যে বিষয়ে কোনো ভিন্ন মত জানা নেই, তাকে ঐক্যমত (إجماع) বলা যাবে না … এবং ইমাম আহমাদ ও হাদিসের অন্যান্য ইমামগণের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুস্পষ্ট বক্তব্যসমূহ (نصوص) এতটাই মহান যে, তাঁরা এর ওপর এমন কাল্পনিক ঐক্যমতকে (إجماع) প্রাধান্য দেন না যার সারমর্ম কেবল ভিন্ন মত সম্পর্কে অবগত না থাকা। আর এটি যদি বৈধ হতো তবে সুস্পষ্ট বক্তব্যসমূহ (نصوص) অকেজো হয়ে যেত এবং যে কোনো ব্যক্তি কোনো মাসআলার হুকুমের ব্যাপারে ভিন্ন মত সম্পর্কে অবগত নয়, তার জন্য সেই ভিন্ন মত না জানার অজ্ঞতাকে সুস্পষ্ট বক্তব্যসমূহের (نصوص) ওপর প্রাধান্য দেওয়া বৈধ হয়ে যেত।

ইবনুল কাইয়্যিম আরও বলেছেন "৩/৪৬৪ - ৪৬৫":

নিশ্চয়ই সৎকর্মশীল পূর্বসূরিগণ ঐ ব্যক্তির ওপর কঠোর আপত্তি ও ক্রোধ প্রকাশ করতেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসকে কোনো ব্যক্তিগত মতামত (رأي), কিয়াস (قياس), ইসতিহসান (استحسان) অথবা অন্য কোনো মানুষের কথা দ্বারা বিরোধিতা করত, সে যেই হোক না কেন। তাঁরা এহেন কর্মকারীকে বর্জন করতেন এবং যারা এর স্বপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি বা উদাহরণ পেশ করত তাদের নিন্দা জানাতেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আনুগত্য, আত্মসমর্পণ এবং শ্রবণ ও আনুগত্যের মাধ্যমে তা গ্রহণ করা ব্যতীত অন্য কিছু বৈধ মনে করতেন না। তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কোনো আমল বা কিয়াস (قياس) সাক্ষ্য প্রদান করা কিংবা অমুক-তমুকের মতের অনুকূলে হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার বিষয়টি তাঁদের অন্তরে উদিতও হতো না। বরং তাঁরা মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর আমলকারী ছিলেন: {আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য তাদের নিজদের ব্যাপারে কোনো ইখতিয়ার বা পছন্দের অধিকার থাকে না} [আল-আহযাব: ৩৬] এবং ইতিপূর্বে উল্লিখিত অনুরূপ আয়াতসমূহের ওপর। অতঃপর আমরা এমন এক যুগে উপনীত হয়েছি যখন তাদের কাউকে বলা হয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে তিনি এরূপ এরূপ বলেছেন; তখন সে হাদিসকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার উদ্দেশ্যে বলে: "এই কথা কে বলেছেন?" সে প্রবক্তা সম্পর্কে তার অজ্ঞতাকে হাদিসের বিরোধিতা করার এবং তার ওপর আমল বর্জন করার স্বপক্ষে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে। সে যদি নিজের হিতাকাঙ্ক্ষী হতো তবে অবশ্যই জানত যে এই কথা চরম বাতুলতা এবং তার জন্য এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-হাদীসু হুজ্জাতুন বিনাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৪১)
الجهل وأقبح من ذلك عذره في جهله إذ يعتقد أن الإجماع منعقد على مخالفة تلك السنة وهذا سوء ظن بجماعة المسلمين إذ ينسبهم إلى اتفاقهم على مخالفة سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وأقبح من ذلك عذره في دعوى هذا الإجماع وهو جهله وعدم علمه بمن قال بالحديث فعاد الأمر إلى تقديم جهله على السنة والله المستعان

قلت: وإذا كان هذا حال من يخالف السنة وهو يظن أن العلماء اتفقوا على خلافها فكيف يكون حال من يخالفها إذا كان يعلم أن كثيرا من العلماء قد قالوا بها وأن من خالفها لا حجة له إلا من مثل تلك القواعد المشار إليها أو التقليد على ما سيأتي في الفصل الرابع

سبب الخطأ في تقديم القياس وأصولهم على الحديث:

ومنشأ الخطأ في تقديمهم القواعد المشار إليها على السنة في نظري إنما هو نظرتهم إلى السنة أنها في مرتبة دون المرتبة التي أنزلها الله تبارك وتعالى فيها من جهة وفي شكهم في ثبوتها من جهة أخرى وإلا كيف جاز لهم تقديم القياس عليها علما بأن القياس قائم على الرأي والاجتهاد وهو معرض للخطأ كما هو معلوم ولذلك لا يصار إليه إلا عند الضرورة كما تقدم في كلمة الشافعي رحمه الله: لا يحل القياس والخبر موجود وكيف جاز لهم تقديم عمل أهل بعض البلاد عليها وهم يعلمون أنهم مأمورون بالتحاكم إليها عند التنازع كما سلف؟ وما
অজ্ঞতা, এবং তার চেয়েও জঘন্য হলো তার অজ্ঞতার স্বপক্ষে দেওয়া অজুহাত; কারণ সে বিশ্বাস করে যে, উক্ত সুন্নাহর বিপরীতে সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি মুসলিম উম্মাহর প্রতি কুধারণা পোষণ করার নামান্তর, কারণ সে তাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর বিরুদ্ধাচরণ করার ব্যাপারে একমত হওয়ার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করছে। তার চেয়েও নিকৃষ্ট বিষয় হলো এই সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع) দাবি করার পেছনে তার অজুহাত, আর তা হলো তার অজ্ঞতা এবং এই হাদিস অনুযায়ী কারা মত দিয়েছেন সে সম্পর্কে তার জ্ঞানের অভাব। ফলে বিষয়টি সুন্নাহর ওপর নিজের অজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়ার নামান্তর হয়ে দাঁড়াল। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

আমি বলছি: যদি সুন্নাহর বিরোধিতা করা ব্যক্তির অবস্থা এমন হয় যে সে মনে করে আলেমরা এর বিপরীতে একমত হয়েছেন, তবে সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে যে জানে অনেক আলেম সেই সুন্নাহ অনুযায়ী মত দিয়েছেন এবং যারা এর বিরোধিতা করে তাদের কাছে ইতিপূর্বে নির্দেশিত মূলনীতিসমূহ অথবা অন্ধ অনুসরণ (تقليد) ছাড়া অন্য কোনো দলিল নেই, যা চতুর্থ পরিচ্ছেদে বিস্তারিত আসবে।

হাদিসের ওপর অনুমান বা তুলনামূলক বিশ্লেষণ (قياس) এবং তাদের মূলনীতিসমূহকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুলের কারণসমূহ:

আমার দৃষ্টিতে সুন্নাহর ওপর উল্লিখিত মূলনীতিসমূহকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুলের উৎস হলো: একদিকে তারা সুন্নাহকে সেই মর্যাদায় বিবেচনা করে না যা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাকে দান করেছেন, আর অন্যদিকে সুন্নাহর সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে তাদের সন্দেহ। অন্যথায়, তারা সুন্নাহর ওপর কীভাবে অনুমান বা তুলনামূলক বিশ্লেষণ (قياس) করাকে প্রাধান্য দিতে পারে? অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে, অনুমান বা তুলনামূলক বিশ্লেষণ (قياس) ব্যক্তিগত মতামত (رأي) এবং গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهاد)-এর ওপর নির্ভরশীল, যা ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। একারণেই নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া এর আশ্রয় নেওয়া যায় না, যেমনটি ইমাম শাফিঈ রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর উক্তিতে গত হয়েছে: "বর্ণনা (خبر) উপস্থিত থাকা অবস্থায় অনুমান বা তুলনামূলক বিশ্লেষণ (قياس) বৈধ নয়।" আর তারা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের অধিবাসীদের আমলকে সুন্নাহর ওপর প্রাধান্য দেওয়াকে কীভাবে বৈধ মনে করতে পারে, অথচ তারা ভালো করেই জানে যে বিরোধপূর্ণ বিষয়ে তাদের সুন্নাহর দিকেই ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে? এবং...