(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: -)
الحث على اتباع السنة والتحذير من البدع وبيان خطرها   (عبد المحسن العباد)

القسم: العقيدة


الكتاب: الحث على اتباع السنة والتحذير من البدع وبيان خطرها

المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر

الناشر: مطبعة سفير

الطبعة: الأولى، 1425هـ

عدد الصفحات: 71

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহ অনুসরণে উৎসাহ প্রদান এবং বিদআত থেকে সতর্কীকরণ ও এর ভয়াবহতা বর্ণনা   (আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: সুন্নাহ অনুসরণে উৎসাহ প্রদান এবং বিদআত থেকে সতর্কীকরণ ও এর ভয়াবহতা বর্ণনা

লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বদর

প্রকাশক: সাফীর প্রেস

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৫ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

الحث على اتباع السنة والتحذير من البدع وبيان خطرها

تأليف: عبد المحسن بن حمد العباد البدر

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلَّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلَاّ الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله، أرسله بالهدى ودين الحقِّ ليظهره على الدِّين كلِّه، فبلَّغ الرسالة وأدَّى الأمانة ونصح الأمة، وجاهد في الله حقَّ جهاده، اللَّهم صلِّ وسلِّم وبارك عليه وعلى آله وأصحابه ومَن اهتدى بهديه وسلك سبيله إلى يوم الدِّين.

أمَّا بعد، فإنَّ نعمَ الله عز وجل على عباده كثيرة لا تُعدُّ ولا تُحصى، وأجلُّ نعمة أنعم الله بها على الإنس والجنِّ في آخر الزمان أن بعث فيهم رسولَه
ভূমিকা

…

সুন্নাহ অনুসরণে উৎসাহ প্রদান, বিদআত থেকে সতর্কীকরণ এবং এর ভয়াবহতার বর্ণনা

রচনায়: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বাদর

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন। অতঃপর তিনি রিসালাতের দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন। হে আল্লাহ! আপনি সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর হিদায়াত গ্রহণ করবে ও তাঁর পথ অবলম্বন করবে, তাদের সবার ওপর।

অত:পর, নিশ্চয়ই বান্দাদের ওপর মহান আল্লাহর নিআমত অসংখ্য যা গণনা করে শেষ করা যায় না। আর শেষ যুগে মানব ও জিন জাতির প্রতি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নিআমত হলো যে, তিনি তাদের মাঝে তাঁর রাসূলকে প্রেরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ৪)
الكريم محمداً عليه أفضل الصلاة وأتمُّ التسليم، فبلَّغهم ما أُرسل به إليهم من ربِّهم على التمام والكمال، وقد قال الإمام محمد بن مسلم بن شهاب الزهري رحمه الله: "مِن الله عز وجل الرسالة، وعلى رسول الله صلى الله عليه وسلم البلاغ، وعلينا التسليم"،ذكره البخاري عنه في أول باب قول الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ} من كتاب التوحيد من صحيحه (13/503 ـ مع الفتح) .

فالذي من الله الرسالة، وقد حصل ذلك، كما قال الله عز وجل {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} ، وقال: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولاً مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ}
সম্মানিত মুহাম্মদ, তাঁর ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম। তিনি তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা কিছু নিয়ে প্রেরিত হয়েছিলেন, তা মানুষের কাছে পরিপূর্ণ ও নিখুঁতভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। আর ইমাম মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আল-জুহরি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: "আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালীর পক্ষ থেকে হলো রিসালাত (বার্তা প্রেরণ), রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর দায়িত্ব হলো তা পৌঁছে দেওয়া এবং আমাদের দায়িত্ব হলো তা নিঃসঙ্কোচে মেনে নেওয়া।" ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থের কিতাবুত তাওহিদের সেই অনুচ্ছেদের শুরুতে এটি উল্লেখ করেছেন যেখানে মহান আল্লাহর বাণী রয়েছে: {হে রাসূল, আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন; যদি আপনি তা না করেন তবে আপনি তাঁর রিসালাত পৌঁছালেন না} (১৩/৫০৩ — ফাতহুল বারীসহ)।

সুতরাং যা আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার তা হলো রিসালাত, আর তা অবশ্যই সম্পন্ন হয়েছে; যেমনটি আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী বলেছেন: {আর আমি প্রতিটি উম্মতের মধ্যেই একজন রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো}। এবং তিনি আরও বলেছেন: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতার মাঝেই নিমজ্জিত ছিল}।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ৫)
والذي على الرسول صلى الله عليه وسلم وهو البلاغ قد حصل على أكمل الوجوه وأتمِّها، كما قال الله عز وجل {فَهَلْ عَلَى الرُّسُلِ إِلا الْبَلاغُ الْمُبِينُ} ، وقال: {وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَاّ الْبَلاغُ الْمُبِينُ}

وأمَّا الذي على العباد وهو التسليم والانقياد، فقد انقسم الناس فيه إلى موفَّق متَّبع لسبيل الحقِّ، وغير موفَّق متَّبع للسبل الأخرى، كما قال الله عز وجل: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ}
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যা অর্পিত ছিল—আর তা হলো বাণী পৌঁছে দেওয়া—তা অত্যন্ত নিখুঁত ও পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {রাসূলদের ওপর কি কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া ছাড়া আর কোনো দায়িত্ব আছে?} এবং তিনি বলেছেন: {আর রাসূলের ওপর কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বই রয়েছে।}

আর বান্দাদের ওপর যা অর্পিত—আর তা হলো আত্মসমর্পণ ও আনুগত্য—সে ক্ষেত্রে মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে: একদল তাওফিকপ্রাপ্ত যারা সত্যের পথের অনুসারী এবং অন্যদল তাওফিকবঞ্চিত যারা অন্যান্য পথের অনুসারী, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।}
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌من صفات الشريعة البقاء والعموم والكمال

وهذه الشريعة التي بعث الله بها رسوله الكريم محمداً صلى الله عليه وسلم متصفةٌ بثلاث صفات، هي البقاء والعموم والكمال، فهي باقية إلى قيام الساعة، قال الله عز وجل: {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ
শরীয়তের বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো স্থায়িত্ব, ব্যাপকতা এবং পূর্ণতা

আর এই শরীয়ত, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর সম্মানিত রাসূল মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-কে প্রেরণ করেছেন, তা তিনটি বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; সেগুলো হলো স্থায়িত্ব, ব্যাপকতা এবং পূর্ণতা। সুতরাং এটি কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: {মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন...}
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ৬)
وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} ، وروى البخاري (71) ومسلم (1037) عن معاوية رضي الله عنه قال: سمعتُ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم يقول: "من يُرد الله به خيراً يفقهه في الدِّين، وإنَّما أنا قاسمٌ والله يُعطي، ولن تزال هذه الأمَّةُ قائمةً على أمر الله، لا يضرُّهم من خالفهم حتى يأتي أمر الله".

وهي عامَّة للثقلَين الجن والإنس، وهم أمَّتُه صلى الله عليه وسلم أمَّة الدعوة، فإنَّ كلَّ إنسيٍّ وجنيٍّ من حين بعثته إلى قيام الساعة مدعوٌّ إلى الدخول في الدِّين الحنيف الذي بعث الله به رسوله الكريم صلى الله عليه وسلم، كما قال الله عز وجل: {وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلامِ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} ، ففي هذه الآية الكريمة الإشارة إلى أمَّة الدعوة وأمَّة الإجابة، فأمَّة الدعوة في قوله: {وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلامِ} ، أي: يدعو كلَّ أحد، فحُذف المفعول لإفادة العموم، وأمَّة
{বরং আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী}, এবং ইমাম বুখারী (৭১) ও মুসলিম (১০৩৭) মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন। আর আমি তো কেবল বণ্টনকারী এবং আল্লাহই দান করেন। আর এই উম্মত সর্বদা আল্লাহর নির্দেশের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ উপস্থিত হয়।"

এবং এটি জিন ও মানুষ—উভয় জাতির জন্য ব্যাপক। তারা হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মত অর্থাৎ দাওয়াতের উম্মত। কেননা তাঁর প্রেরণের সময় থেকে কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি মানুষ ও জিন সেই একনিষ্ঠ দ্বীনে প্রবেশের জন্য আমন্ত্রিত, যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর সম্মানিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রেরণ করেছেন। যেমনটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন}। এই মহিমান্বিত আয়াতে দাওয়াতের উম্মত এবং কবুলকারী উম্মতের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। দাওয়াতের উম্মত আল্লাহর এই বাণীতে বিদ্যমান: {আর আল্লাহ শান্তির আবাসের দিকে আহ্বান করেন}, অর্থাৎ: তিনি প্রত্যেককে আহ্বান করেন; এখানে ব্যাপকতা বোঝাতে কর্মপদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এবং উম্মত
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ৭)
الإجابة في قوله: {وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} ، فإنَّ الذين هداهم الله إلى الصراط المستقيم هم الذين استجابوا لدعوته صلى الله عليه وسلم ودخلوا في دينه الحنيف، فكانوا من المسلمين، وحصول الهداية لأمَّة الإجابة إنَّما هو بفضل الله وتوفيقه، وهذه الهداية إلى الصراط المستقيم توفيق من الله لِمَن هداهم، ولا يملك هذه الهداية إلَاّ الله سبحانه، كما قال الله عز وجل {إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ} ، وأمَّا هداية الدلالة والإرشاد، فقد أثبتها الله لنبيِّه صلى الله عليه وسلم في قوله: {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} ، أي: تدلُّ وتُرشد، ومن أدلَّة شمول دعوته صلى الله عليه وسلم للناس جميعاً قول الله عز وجل: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعاً} ، وقوله صلى الله عليه وسلم: " والذي نفسي بيده! لا يسمع بي أحد من هذه الأمَّة يهودي ولا نصراني، ثم
এর উত্তর মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: {এবং তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে হিদায়াত দান করেন}। প্রকৃতপক্ষে, আল্লাহ যাদেরকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করেছেন তারা হলেন তারাই যারা তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) দাওয়াতে সাড়া দিয়েছেন এবং তাঁর একনিষ্ঠ দ্বীনে প্রবেশ করেছেন, ফলে তারা মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আর উম্মাতে ইজাবাতের (দাওয়াত কবুলকারী উম্মত) এই হিদায়াত প্রাপ্তি কেবল আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তাঁর তাওফীকের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। সরল পথের এই হিদায়াত হলো তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ তাওফীক যাদের তিনি হিদায়াত দান করেছেন; আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত আর কেউ এই হিদায়াতের মালিক নন। যেমনটি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হিদায়াত করতে পারবেন না, বরং আল্লাহই যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন}। পক্ষান্তরে পথনির্দেশ ও পথপ্রদর্শনের হিদায়াত, তা আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সাব্যস্ত করেছেন তাঁর এই বাণীতে: {এবং নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করছেন}, অর্থাৎ: আপনি পথ দেখান এবং দিকনির্দেশনা দেন। সকল মানুষের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের ব্যাপকতার অন্যতম প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, হে মানুষ! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল}। এবং তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) বাণী: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! এই উম্মতের কোনো ইহুদি কিংবা খ্রিস্টান যদি আমার কথা শোনে, অতঃপর..."
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ৮)
يموت ولم يؤمن بالذي أُرسِلتُ به إلَاّ كان من أصحاب النار" رواه مسلم في صحيحه (153) ، ومصداق ذلك في كتاب الله، كما جاء عن سعيد ابن جُبير رحمه الله في قول الله عز وجل: {وَمَنْ يَكْفُرْ بِهِ مِنَ الأَحْزَابِ فَالنَّارُ مَوْعِدُهُ} ، ذكره عنه ابن كثير في تفسيره هذه الآية من سورة هود.

ومن أدلَّة شمول دعوته للجنِّ قوله الله عز وجل: {وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَراً مِنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنْصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِمْ مُنْذِرِينَ قَالُوا يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَاباً أُنْزِلَ مِنْ بَعْدِ مُوسَى مُصَدِّقاً لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ وَإِلَى طَرِيقٍ مُسْتَقِيمٍ يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ وَمَنْ لا يُجِبْ دَاعِيَ اللَّهِ فَلَيْسَ بِمُعْجِزٍ فِي الأَرْضِ وَلَيْسَ لَهُ مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءُ أُولَئِكَ فِي ضَلالٍ
"...মৃত্যুবরণ করবে অথচ আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার ওপর ঈমান আনবে না, সে অবশ্যই জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" এটি মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (১৫৩)। আর আল্লাহর কিতাবে এর সত্যতা রয়েছে, যেমনটি সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে: "আর বিভিন্ন দলগুলোর মধ্যে যে ব্যক্তি এতে কুফরি করবে, জাহান্নামই হবে তার প্রতিশ্রুত স্থান।" ইবনে কাসীর সূরা হুদের এই আয়াতের তাফসীরে এটি উল্লেখ করেছেন।

জিনদের প্রতি তাঁর দাওয়াতের ব্যাপকতার প্রমাণসমূহের মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: "স্মরণ করো, যখন আমি তোমার প্রতি একদল জিনকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম যারা কুরআন মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। অতঃপর যখন তারা সেখানে উপস্থিত হলো, তখন তারা (পরস্পরকে) বলল, 'চুপ থাকো'। যখন পাঠ শেষ হলো, তখন তারা তাদের কওমের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল। তারা বলল, 'হে আমাদের কওম! নিশ্চয়ই আমরা এমন এক কিতাব শুনেছি যা মূসার পরে নাযিল হয়েছে, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী, যা সত্য ও সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করে। হে আমাদের কওম! আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দাও এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনো। তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আজাব থেকে রক্ষা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেবে না, সে পৃথিবীতে (আল্লাহকে) পরাস্ত করতে পারবে না এবং তিনি ছাড়া তার কোনো সাহায্যকারীও থাকবে না। এরাই স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে'।"
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ৯)
مُبِينٍ} ، وقال الله عز وجل في سورة الرحمن: {فَبِأَيِّ آلاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ} ، وهي خطاب من الله للإنس والجنِّ، وقد ذُكِرت هذه الآية في هذه السورة إحدى وثلاثين مرة.

وفي سنن الترمذي (3291) عن جابر رضي الله عنه قال: "خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم على أصحابه فقرأ عليهم سورة الرحمن من أوَّلِها إلى آخرها فسكتوا، فقال: لقد قرأتها على الجنِّ ليلة الجنِّ فكانوا أحسنَ مردوداً منكم؛ كنتُ كلَّما أتيتُ على قوله: {فَبِأَيِّ آلاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ} ، قالوا: لا بشيء من نعمك ربَّنا نكذِّب، فلك الحمد"، وله شاهد عن ابن عمر عند ابن جرير، انظر تخريجه في السلسلة الصحيحة للألباني (2150) ، ومن سور القرآن سورة الجن، وقد حكى الله فيها عنهم جُملاً من أقوالهم.

وأمَّا الصفة الثالثة من صفات هذه الشريعة،
স্পষ্ট।} এবং মহান আল্লাহ সূরা আর-রাহমানে বলেছেন: {অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?} আর এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানুষ ও জিনের প্রতি এক সম্বোধন; এবং এই আয়াতে এই সূরায় একত্রিশ বার উল্লেখ করা হয়েছে।

সুনানে তিরমিযীতে (৩২৯১) জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের নিকট বের হলেন এবং তাদের সামনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সূরা আর-রাহমান তিলাওয়াত করলেন, তখন তারা নিশ্চুপ থাকলেন। তখন তিনি বললেন: 'আমি জিনের রাতে জিনদের সামনে এটি পাঠ করেছিলাম, তারা তোমাদের চেয়েও উত্তম উত্তর প্রদানকারী ছিল; আমি যখনই তাঁর এই বাণী: {অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?} পাঠ করতাম, তখনই তারা বলত: "হে আমাদের রব! আমরা আপনার নিয়ামতসমূহের কোনোটিকেই অস্বীকার করি না, সুতরাং সকল প্রশংসা কেবল আপনারই।"' ইবনে জারীরের নিকট ইবনে উমর থেকে এর একটি সমর্থক বর্ণনা রয়েছে, আলবানীর সিলসিলাতুস সাহিহা (২১৫০)-এ এর তাখরীজ দেখুন। আর কুরআনের সূরাসমূহের মধ্যে 'সূরা আল-জিন' নামে একটি সূরা রয়েছে, যাতে আল্লাহ তাদের বক্তব্য থেকে বেশ কিছু বাক্য বর্ণনা করেছেন।

আর এই শরীয়তের বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে তৃতীয় বৈশিষ্ট্যটি হলো,
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ১০)
وهي صفة الكمال، فقد قال الله عز وجل في كتابه العزيز: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الأِسْلامَ دِيناً} ، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "تركتكم على مثل البيضاء، ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها إلَاّ هالك" حديث صحيح، رواه ابن أبي عاصم في السنة (48) عن العرباض بن سارية رضي الله عنه، ورواه أيضاً (47) من حديث أبي الدرداء رضي الله عنه، وفي صحيح مسلم (262) عن سلمان رضي الله عنه قال: قيل له: "قد علَّمكم نبيُّكم صلى الله عليه وسلم كلَّ شيء حتى الخراءة، قال: فقال: أجل! لقد نهانا أن نستقبل القبلة لغائط أو بول، أو أن نستنجي باليمين، أو أن نستنجي بأقل من ثلاثة أحجار، أو أن نستنجي برجيع أو بعظم"، وهو يدلُّ على كمال الشريعة واستيعابها لكلِّ ما تحتاجه هذه الأمَّة، حتى آداب قضاء الحاجة، وفي صحيح مسلم
আর এটি হলো পূর্ণতার গুণ। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর প্রিয় কিতাবে ইরশাদ করেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিআমত সম্পন্ন করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম}। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে এমন এক উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো পরিষ্কার; ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।" এটি একটি সহীহ হাদীস, যা ইবনে আবি আসিম 'আস-সুন্নাহ' (৪৮) গ্রন্থে ইরবাদ বিন সারিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (৪৭) নম্বর হাদীসে আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও এটি বর্ণনা করেছেন। আর সহীহ মুসলিমে (২৬২) সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তাঁকে বলা হয়েছিল, "তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি তোমাদেরকে সব কিছু শিখিয়েছেন, এমনকি মলত্যাগের পদ্ধতিও?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ! তিনি আমাদের মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলার দিকে মুখ করতে, অথবা ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য করতে, অথবা তিনটির কম পাথর ব্যবহার করতে, অথবা গোবর বা হাড় দিয়ে শৌচকার্য করতে নিষেধ করেছেন।" এটি শরীয়তের পূর্ণতা এবং এই উম্মাহর যা কিছু প্রয়োজন তার সবটুকুর অন্তর্ভুক্তির প্রমাণ দেয়, এমনকি শৌচকার্যের আদবসমূহ পর্যন্ত। এবং সহীহ মুসলিমে...
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ১১)
أيضاً (1844) عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إنَّه لم يكن نبيٌّ قبلي إلَاّ كان حقًّا عليه أن يدلَّ أمَّته على خير ما يعلمه لهم، وينذرهم شرَّ ما يعلمه لهم"، وروى البخاري في صحيحه (5598) عن أبي الجويرية قال: "سألتُ ابنَ عباس عن الباذق، فقال: سبق محمد صلى الله عليه وسلم الباذق، فما أسكر فهو حرام، قال: الشراب الحلال الطيب، قال: ليس بعد الحلال الطيب إلَاّ الحرام الخبيث"، والباذق نوعٌ من الأشربة، والمعنى أنَّ الباذق لم يكن في زمنه صلى الله عليه وسلم، ولكن ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم مستوعب له ولغيره، وذلك في عموم قوله صلى الله عليه وسلم: "ما أسكر فهو حرام"، فإنَّ عموم هذا الحديث يدلُّ على أنَّ كلَّ مسكر مِمَّا كان في زمنه صلى الله عليه وسلم أو وُجد بعد زمنه، سواء كان سائلاً أو جامداً، فهو حرام، وأنَّ ما لم يكن كذلك
আরও (১৮৪৪) আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার পূর্বে এমন কোনো নবী অতিক্রান্ত হননি যার ওপর তাঁর উম্মতকে তাদের জন্য তিনি যা কল্যাণকর জানেন তা প্রদর্শন করা এবং যা তাদের জন্য অকল্যাণকর জানেন তা থেকে সতর্ক করা অপরিহার্য কর্তব্য ছিল না।" এবং বুখারি তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৫৫৯৮) আবুল জুওয়াইরিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি ইবন আব্বাসকে বাধিক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাধিক-এর পূর্বেই গত হয়েছেন; সুতরাং যা নেশা সৃষ্টি করে তা হারাম। তিনি (প্রশ্নকারী) বললেন: হালাল ও পবিত্র পানীয়? তিনি (ইবন আব্বাস) বললেন: হালাল ও পবিত্রের পর অপবিত্র হারাম ব্যতীত আর কিছু নেই।" বাধিক হলো এক প্রকার পানীয়। এর অর্থ হলো বাধিক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে ছিল না, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা বাধিক এবং এর বাইরে অন্যান্য সব কিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই সাধারণ বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "যা নেশা সৃষ্টি করে তা হারাম।" কেননা এই হাদিসের ব্যাপকতা নির্দেশ করে যে, প্রতিটি মাদক দ্রব্য—চাই তা তাঁর যুগে বিদ্যমান ছিল অথবা তাঁর পরে উদ্ভূত হয়েছে, তরল হোক বা কঠিন হোক—তা হারাম। আর যা এমন নয়...
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ১২)
فهو حلال، ويُقال في شرب الدخان الذي وُجد في أزمنة متأخرة ما قيل في الباذق، وهو أنَّ الشريعة بعموماتها دالَّةٌ على تحريمه، وذلك في قوله سبحانه وتعالى عن نبيِّه محمد صلى الله عليه وسلم: {وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ} ، وهو ليس من الطيبات، بل هو من الخبائث، فيكون محرَّماً، ويُضاف إلى ذلك أيضاً أنَّه يجلب الأمراض التي تؤدِّي إلى الوفاة، وفيه إضاعة المال، وإيذاء الناس برائحته الكريهة، وكلُّها دالَّةٌ على تحريمه، وقال أبو ذررضي الله عنه: "ترَكَنَا رسول الله صلى الله عليه وسلم وما طائر يطير بجناحيه إلَاّ عندنا منه علم" أخرجه أبو حاتم ابن حبان في صحيحه (65) ، وقال: "معنى (عندنا منه) يعني بأوامره ونواهيه وأخباره وأفعاله وإباحته صلى الله عليه وسلم"، صححه الشيخ الألباني في صحيح موارد الظمآن في زوائد ابن حبان للهيثمي (1/119) ، ومن العلم الذي
সুতরাং তা হালাল। আর আধুনিক সময়ে উদ্ভূত ধূমপানের বিষয়ে তা-ই বলা হবে যা ‘বাযিক’ (এক প্রকার পানীয়) সম্পর্কে বলা হয়েছে। তা হলো, শরিয়তের সাধারণ বিধানসমূহ এর হারামের ওপর প্রমাণ বহন করে। আর তা মহান আল্লাহ তাআলার সেই বাণীর অন্তর্ভুক্ত যা তিনি তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে বলেছেন: {তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ তাদের ওপর হারাম করেন}। আর এটি (ধূমপান) পবিত্র বস্তুর অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি অপবিত্র বস্তুর অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং তা হারাম হবে। এর সাথে আরও যুক্ত হবে যে, এটি এমন সব ব্যাধি বয়ে আনে যা মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। এতে সম্পদের অপচয় রয়েছে এবং এর দুর্গন্ধের মাধ্যমে মানুষকে কষ্ট দেওয়া হয়। এ সব কিছুই এর হারামের প্রমাণ দেয়। আবু যর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের এমন অবস্থায় রেখে গিয়েছেন যে, কোনো পাখি তার দুই ডানা দিয়ে আকাশে উড্ডয়ন করে না যার জ্ঞান আমাদের নিকট তিনি রেখে যাননি।" এটি আবু হাতিম ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৬৫) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "‘আমাদের নিকট বিদ্যমান’ এর অর্থ হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদেশ, নিষেধ, সংবাদ, কর্ম এবং অনুমতির মাধ্যমে।" শায়খ আলবানী হাইসামি রচিত ‘যাওয়াইদ ইবনে হিব্বান’-এর ‘সহীহ মাওয়ারিদুজ জামআন’ (১/১১৯) গ্রন্থে এটিকে সহীহ বলেছেন। আর সেই জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত যা...
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
عندنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في الطير ما رواه مسلم في صحيحه (1934) عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: "نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن كلِّ ذي ناب من السِّباع، وعن كلِّ ذي مخلب من الطير"، وهو يدلُّ على تحريم أكل كلِّ طائر له مخلب يفترس به، وذلك من جوامع كلمه صلى الله عليه وسلم، وهذا في الأحكام، وأمَّا الأخبار، فمنها قوله صلى الله عليه وسلم: "لو أنَّكم توكَّلون على الله حقَّ توكله لرزقكم كما يرزق الطير، تغدو خماصاً، وتروح بطاناً" رواه أحمد والترمذي والنسائي وابن ماجه وابن حبان والحاكم، وقال الترمذي "حسن صحيح"، وهو أحد الأحاديث التي زادها ابن رجب على الأربعين النووية.

قال الإمام ابن القيم في كتابه إعلام الموقعين (4/375 ـ 376) في بيان كمال الشريعة، قال: "وهذا الأصل من أهمِّ الأصول وأنفعها، وهو
পাখি সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আমাদের নিকট যে বর্ণনা রয়েছে তা ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (১৯৩৪) ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সকল প্রকার শিকারি দাঁত বিশিষ্ট হিংস্র প্রাণী এবং নখরযুক্ত শিকারি পাখি ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন।" এটি এমন প্রতিটি পাখি ভক্ষণ হারাম হওয়ার ওপর দলীল যা নখর দিয়ে শিকার করে, এবং এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণীর (জাওয়ামিউল কালিম) অন্তর্ভুক্ত। এটি হলো বিধিবিধানের ক্ষেত্রে, আর সংবাদের ক্ষেত্রে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী হলো: "যদি তোমরা আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে তাওয়াক্কুল করতে, তবে তিনি তোমাদেরকে সেভাবে রিযিক দান করতেন যেভাবে পাখিকে রিযিক দান করেন; তারা ভোরে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বের হয় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে ফিরে আসে।" এটি ইমাম আহমদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান ও হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিজি একে "হাসান সহীহ" বলেছেন। এটি সেই হাদিসগুলোর একটি যা ইবনে রজব 'আরবাঈন আন-নববী'র সাথে যুক্ত করেছেন।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' (৪/৩৭৫-৩৭৬) কিতাবে শরীয়তের পূর্ণাঙ্গতা বর্ণনায় বলেছেন: "এই মূলনীতিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আর তা হলো...
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
مبنيٌّ على حرف واحد، وهو عمومُ رسالته صلى الله عليه وسلم بالنسبة إلى كلِّ ما يحتاج إليه العبادُ في معارفهم وعلومهم وأعمالهم، وأنَّه لَم يُحْوِج أمَّتَه إلى أحد بعده، وإنَّما حاجتهم إلى مَن يبلِّغهم عنه ما جاء به، فلرسالته عمومان محفوظان لا يتطرَّق إليهما تخصيصٌ؛ عمومٌ بالنسبة إلى المرسَل إليهم، وعمومٌ بالنسبة إلى كلِّ ما يَحتاج إليه مَن بُعث إليه في أصول الدِّين وفروعه، فرسالتُه كافيةٌ شافيةٌ عامَّة، لا تحوج إلى سواها، ولا يتمُّ الإيمانُ به إلَاّ بإثبات عمومِ رسالته في هذا وهذا، فلا يَخرج أحدٌ من المكلَّفين عن رسالته، ولا يخرج نوع من أنواع الحقِّ الذي تحتاج إليه الأمَّة في علومها وأعمالها عمَّا جاء به، وقد توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم وما طائرٌ يقلِّب جناحيه في السَّماء إلَاّ ذكَر للأمَّة منه علماً وعلَّمهم كلَّ شيء حتى آداب التخلِّي وآدابَ الجِماع والنوم،
এটি একটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর তা হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিসালাতের ব্যাপকতা; যা বান্দাদের জ্ঞান-গরিমা, বিজ্ঞান ও কর্মের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি তাঁর উম্মতকে তাঁর পরে অন্য কারো মুখাপেক্ষী করেননি; বরং তাদের প্রয়োজন কেবল এমন ব্যক্তির, যে তাঁর আনীত বিধানগুলো তাঁর পক্ষ থেকে পৌঁছে দেবে। তাঁর রিসালাতের ক্ষেত্রে দুটি সংরক্ষিত ব্যাপকতা রয়েছে যাতে কোনো প্রকার বিশেষায়ন বা সীমাবদ্ধতা অনুপ্রবেশ করতে পারে না; প্রথমটি হলো যাদের নিকট তিনি প্রেরিত হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা, আর দ্বিতীয়টি হলো দ্বীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় ঐ সকল ব্যক্তিদের যা কিছু প্রয়োজন তার সবকিছুর ক্ষেত্রে ব্যাপকতা। সুতরাং তাঁর রিসালাত পর্যাপ্ত, নিরাময়কারী ও সার্বজনীন, যা অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী করে না। আর এই উভয় ক্ষেত্রে তাঁর রিসালাতের ব্যাপকতাকে স্বীকার করা ব্যতীত তাঁর প্রতি ঈমান পরিপূর্ণ হয় না। ফলে শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত (মুকাল্লাফ) ব্যক্তিদের কেউই তাঁর রিসালাতের আওতার বাইরে নয় এবং উম্মতের জ্ঞান ও কর্মের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সত্যের কোনো প্রকারই তাঁর আনীত শিক্ষার বাইরে নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন যে, আকাশে ডানা ঝাপটানো কোনো পাখির বিষয়েও তিনি উম্মতকে কোনো না কোনো জ্ঞান প্রদান করেছেন এবং তিনি তাদের সবকিছু শিক্ষা দিয়েছেন, এমনকি শৌচাগারের আদব এবং সহবাস ও ঘুমের আদব পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
والقيام والقعود، والأكل والشرب، والركوب والنزول، والسَّفر والإقامة، والصَّمت والكلام، والعُزلة والخلطة، والغنى والفقر، والصحة والمرض، وجميع أحكام الحياة والموت، ووَصَفَ لهم العرشَ والكرسيَّ، والملائكة والجنَّ، والنار والجنة، ويوم القيامة وما فيه حتى كأنَّه رأيُ عَين، وعرَّفهم معبودَهم وإلَههم أتمَّ تعريف، حتى كأنَّهم يرونه ويشاهدونه بأوصاف كماله ونعوت جلاله، وعرَّفهم الأنبياء وأمَمَهم وما جرى لهم وما جرى عليهم معهم، حتى كأنَّهم كانوا بينهم، وعرَّفهم مِن طُرق الخير والشرِّ دقيقَها وجليلَها ما لَم يعرِّفه نبيٌّ لأمَّته قبله، وعرَّفهم صلى الله عليه وسلم من أحوال الموت وما يكون بعده في البرزخ وما يحصل فيه من النَّعيم والعذاب للروح والبدن، ما لَم يعرِّف به نبيٌّ غيرَه، وكذلك عرَّفهم صلى الله عليه وسلم من أدلَّةَ التوحيد والنبوة
দাঁড়ানো ও বসা, আহার ও পান, আরোহণ ও অবতরণ, সফর ও অবস্থান, নীরবতা ও কথোপকথন, নির্জনতা ও জনসংস্রব, সচ্ছলতা ও অভাব, সুস্থতা ও অসুস্থতা এবং জীবন ও মৃত্যুর যাবতীয় বিধিবিধান; আর তিনি তাদের নিকট আরশ ও কুরসি, ফেরেশতা ও জিন, জাহান্নাম ও জান্নাত এবং কিয়ামত দিবস ও তাতে যা কিছু ঘটবে তা এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যেন তা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা হচ্ছে। তিনি তাদের নিকট তাদের মাবুদ ও ইলাহকে পূর্ণাঙ্গরূপে পরিচিত করিয়েছেন, এমনকি তারা যেন তাঁর পূর্ণতা ও মহিমার গুণাবলির মাধ্যমে তাঁকে দেখছেন ও প্রত্যক্ষ করছেন। তিনি তাদের নিকট নবিগণ ও তাঁদের উম্মতদের এবং তাঁদের সাথে যা ঘটেছিল তা এমনভাবে পরিচিত করিয়েছেন যেন তারা তাঁদের মাঝেই অবস্থান করছিলেন। তিনি তাদের নিকট কল্যাণ ও অকল্যাণের সূক্ষ্ম ও স্থূল এমন সব পথ চিনিয়েছেন যা ইতিপূর্বে কোনো নবি তাঁর উম্মতকে জানাননি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিকট মৃত্যুর অবস্থা, মৃত্যুর পরবর্তী বরজখি জীবন এবং সেখানে আত্মা ও দেহের জন্য নির্ধারিত সুখ-নিয়ামত ও আজাব-শাস্তি সম্পর্কে এমন পরিচিতি দান করেছেন যা অন্য কোনো নবি প্রদান করেননি। অনুরূপভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিকট তাওহিদ ও নবুয়তের প্রমাণাদি সুষ্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
والمعاد، والردَّ على جميع فرق أهل الكفر والضلال، ما ليس لِمَن عرفه حاجة مِن بعده، اللهمَّ إلَاّ إلى مَن يبلِّغه إياه ويبيِّنه ويوضح منه ما خفي عليه، وكذلك عرَّفهم صلى الله عليه وسلم مِن مَكايد الحروب ولقاء العدوِّ وطرُق النَّصر والظَّفَر ما لو عَلِموه وعقِلُوه ورعَوْه حقَّ رعايَتِه لَم يقم لَهم عدوٌّ أبداً، وكذلك عرَّفهم صلى الله عليه وسلم مِن مكايد إبليس وطرُقِه التي يأتيهم منها، وما يتحرَّزون به مِن كيده ومَكرِه، وما يدفعون به شرَّه ما لا مَزيد عليه، وكذلك عرَّفهم صلى الله عليه وسلم مِن أحوال نفوسِهم وأوصافِها ودسائسِها وكمائِنها ما لا حاجة لهم مَعه إلى سِواه، وكذلك عرَّفهم صلى الله عليه وسلم مِن أمور مَعايشِهم ما لو عَلِموه وعمِلُوه لاستقامت لهم دنياهم أعظمَ استقامة.

وبالجملة فجاءهم بخير الدنيا والآخرة برُمَّته، ولَم يُحْوِجْهُم الله إلى أحد سواه، فكيف يُظَنُّ أنَّ
এবং পরকাল সম্পর্কে, এবং কুফর ও পথভ্রষ্টতার সকল দলের খণ্ডন সম্পর্কে তিনি এমন সব জ্ঞান দান করেছেন যে, যে ব্যক্তি তা অনুধাবন করেছে তার আর অন্য কারও মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন নেই; তবে সেই ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন যে তা তার কাছে পৌঁছে দেবে এবং এর মধ্য হতে যা তার নিকট অস্পষ্ট রয়ে গেছে তা বর্ণনা ও স্পষ্ট করে দেবে। অনুরূপভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে যুদ্ধের রণকৌশল, শত্রুর মোকাবিলা এবং বিজয় ও সাফল্যের পথসমূহ সম্পর্কে এমন জ্ঞান দান করেছেন যে, যদি তারা তা জানত, বুঝত এবং যথাযথভাবে তার অনুসরণ করত, তবে তাদের সামনে কোনো শত্রু কখনোই দাঁড়াতে পারত না। তেমনিভাবে তিনি (সালلاًল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে ইবলিসের ষড়যন্ত্র এবং সে যে সকল পথে তাদের নিকট আগমন করে সে সম্পর্কে অবহিত করেছেন; আরও জানিয়েছেন তার ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে আত্মরক্ষার উপায় এবং তার অনিষ্ট প্রতিরোধের মাধ্যমসমূহ, যার অতিরিক্ত আর কিছুর প্রয়োজন নেই। একইভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নফসের অবস্থা, এর বৈশিষ্ট্যসমূহ, এর প্ররোচনা ও গোপন ফাঁদসমূহ সম্পর্কে এমনভাবে অবগত করেছেন যে, এ ব্যাপারে তাদের অন্য কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই। আর এভাবেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের জীবন-জীবিকার বিষয়াদি সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যা যদি তারা জানত এবং তদনুযায়ী আমল করত, তবে তাদের পার্থিব জীবন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সার্থক হতো।

সারকথা হলো, তিনি তাদের নিকট ইহকাল ও পরকালের সামগ্রিক কল্যাণ নিয়ে এসেছেন এবং আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তিনি ব্যতীত অন্য কারও মুখাপেক্ষী করেননি। সুতরাং কীভাবে ধারণা করা যেতে পারে যে—
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
شريعتَه الكاملةَ التي ما طرق العالَم شريعةٌ أكملَ منها ناقصةٌ، تحتاج إلى سياسة خارجة عنها تكمِّلها، أو إلى قياس أو حقيقة أو معقول خارجٍ عنها، ومَن ظنَّ ذلك فهو كمَن ظنَّ أنَّ بالناس حاجةً إلى رسول آخَر بعده، وسبَبُ هذا كله خفاءُ ما جاء به على مَن ظنَّ ذلك، وقلَّةُ نصيبه مِن الفَهم الذي وفَّق الله له أصحابَ نبيِّه الذين اكتفوا بما جاء به، واستغنوا به عمَّا سواه، وفتحوا به القلوبَ والبلادَ، وقالوا: هذا عهدُ نبيِّنا إلينا، وهو عهدُنا إليكم".

তাঁর সেই পূর্ণাঙ্গ শরীয়ত—বিশ্বে যার চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ কোনো শরীয়ত কখনো আসেনি—অপূর্ণ এবং একে পূর্ণ করার জন্য এর বাইরের কোনো রাজনীতি কিংবা এর বহির্ভূত কোনো কিয়াস, হাকিকত বা যুক্তির প্রয়োজন রয়েছে; যে ব্যক্তি এরূপ ধারণা করে, সে ওই ব্যক্তির সদৃশ যে মনে করে তাঁর পরে মানুষের জন্য অন্য কোনো রাসূলের প্রয়োজন রয়েছে। আর এসবের মূল কারণ হলো, রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা ওই ব্যক্তির নিকট অস্পষ্ট থাকা এবং আল্লাহ তাঁর নবীর সাহাবীদের যে অনুধাবন ক্ষমতা দান করেছিলেন, তাতে তার অংশ অতি নগণ্য হওয়া। তাঁরা রাসূলের আনীত বিধানের মাধ্যমেই তুষ্ট ছিলেন এবং এর মাধ্যমে অন্য সব কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী হয়েছিলেন। এর সাহায্যেই তাঁরা মানুষের হৃদয় ও জনপদসমূহ জয় করেছিলেন এবং বলেছিলেন: 'এটি আমাদের প্রতি আমাদের নবীর অঙ্গীকার এবং তোমাদের প্রতি আমাদের পক্ষ থেকে প্রদেয় অঙ্গীকার'।"

(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌إطلاقات لفظ السنَّة

وهذه الشريعةُ الكاملةُ هي سنَّته صلى الله عليه وسلم بالمعنى العام؛ فإنَّ السنَّةَ تُطلقُ أربعة إطلاقات:

الأول: أنَّ كلَّ ما جاء في الكتاب والسنَّة هو سنَّته صلى الله عليه وسلم، وهي طريقتُه التي كان عليها صلى الله عليه وسلم، ومن ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "فمَن رغب عن سنَّتي فليس
সুন্নাহ শব্দের প্রয়োগসমূহ

আর এই পূর্ণাঙ্গ শরীয়াহ হলো সাধারণ অর্থে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ; কেননা সুন্নাহ শব্দটি চারটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

প্রথমত: কিতাব ও সুন্নাহর মধ্যে যা কিছু এসেছে, তা-ই হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ, আর এটিই হলো সেই পদ্ধতি যার ওপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বাণী: "সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হবে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়..."
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ১৮)
منِّي" رواه البخاري (5063) ومسلم (1401) .

الثاني: أنَّ السنَّة بمعنى الحديث، وذلك إذا عُطفت على الكتاب، ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: "يا أيُّها الناس! إنِّي قد تركتُ فيكم ما إن اعتصمتم به فلَن تضلُّوا أبداً: كتاب الله وسنَّة نبيِّه صلى الله عليه وسلم"، وقوله: "إنِّي قد تركت فيكم شيئين لن تضلُّوا بعدهما: كتاب الله وسنَّتي" رواهما الحاكم في مستدركه (1/93) ، ومنه قول بعض العلماء عند ذكر بعض المسائل: وهذه المسألة دلَّ عليها الكتاب والسنَّة والإجماع.

الثالث: أنَّ السنَّة تُطلق في مقابل البدعة، ومنه قوله صلى الله عليه وسلم في حديث العرباض بن سارية: "فإنَّه من يعش منكم فسيرى اختلافاً كثيراً، فعليكم بسنَّتي وسنَّة الخلفاء المهديين الراشدين، تمسَّكوا بها وعضُّوا عليها بالنواجذ، وإيَّاكم ومحدثات الأمور؛
আমার পক্ষ থেকে।" এটি ইমাম বুখারি (৫০৬৩) ও ইমাম মুসলিম (১৪০১) বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ অর্থ হলো হাদিস, যা মূলত ‘কিতাব’ (কুরআন)-এর সাথে মিলিয়ে উল্লেখ করার সময় ব্যবহৃত হয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "হে লোকসকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ।" আর তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি যার পর তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ।" এটি ইমাম হাকিম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’ (১/৯৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো কোনো আলিমের বক্তব্য যখন তারা কোনো মাসয়ালা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন: "এই মাসয়ালাটির দলিল হলো কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং ইজমা।"

তৃতীয়ত: বিদআতের বিপরীতেও ‘সুন্নাহ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এর উদাহরণ হলো ইরবাদ বিন সারিয়াহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর জীবিত থাকবে তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। অতএব, তোমরা আমার সুন্নাহ এবং সঠিক পথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে। তোমরা তা শক্তভাবে ধারণ করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর সাবধান! তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকবে;
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ১৯)
فإنَّ كلَّ محدثة بدعة، وكلَّ بدعة ضلالة" أخرجه أبو داود (4607) ـ وهذا لفظه ـ والترمذي (2676) وابن ماجه (43 ـ 44) ، وقال الترمذي: "حديث حسن صحيح"، ومنه تسمية بعض المتقدِّمين من المحدثين كتبهم في العقيدة باسم (السنة) ، مثل السنة لمحمد بن نصر المروزي، والسنة لابن أبي عاصم، والسنة للالكائي، وغيرها، وفي كتاب السنن لأبي داود كتاب السنة يشتمل على أحاديث كثيرة في العقيدة.

الرابع: أنَّ السنَّة تُطلق بمعنى المندوب والمستحب، وهو ما جاء الأمر به على سبيل الاستحباب، لا على سبيل الإيجاب، وهذا الإطلاق للفقهاء، ومن أمثلته قوله صلى الله عليه وسلم: "لولا أن أشقَّ على أمَّتي لأمرتهم بالسواك عند كلِّ صلاة" رواه البخاري (887) ومسلم (252) ، فإنَّ الأمرَ
নিশ্চয়ই প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, এবং প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা। এটি আবু দাউদ (৪৬০৭) বর্ণনা করেছেন—এবং এটি তারই শব্দ—এবং তিরমিযী (২৬৭৬) ও ইবনে মাজাহ (৪৩-৪৪)। তিরমিযী বলেছেন: "হাদিসটি হাসান সহীহ"। এর অন্তর্ভুক্ত হলো পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসগণের কেউ কেউ আকিদা বিষয়ে রচিত তাদের কিতাবসমূহের নাম ‘আস-সুন্নাহ’ রাখা, যেমন মুহাম্মাদ বিন নাসর আল-মারওয়াযীর ‘আস-সুন্নাহ’, ইবনে আবি আসিমের ‘আস-সুন্নাহ’, আল-লালকাঈর ‘আস-সুন্নাহ’ এবং অন্যান্য। আবু দাউদের ‘কিতাবুস সুনান’-এ ‘কিতাবুস সুন্নাহ’ নামক একটি অধ্যায় রয়েছে যা আকিদা বিষয়ক অনেক হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করে।

চতুর্থত: সুন্নাহ শব্দটি মানদুব এবং মুস্তাহাব অর্থে ব্যবহৃত হয়, আর তা হলো যার আদেশ এসেছে পছন্দনীয় হিসেবে, আবশ্যক হিসেবে নয়। এবং এটি ফকীহগণের পরিভাষা। এর উদাহরণ হলো সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে তাদের প্রত্যেক সালাতের সময় মেসওয়াক করার আদেশ দিতাম।" এটি বুখারী (৮৮৭) ও মুসলিম (২৫২) বর্ণনা করেছেন, কারণ নির্দেশটি...
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ২০)
بالسواك استحباباً حاصل، وإنَّما تُرك خشية المشقَّة على سبيل الإيجاب.
মিসওয়াক ব্যবহারের মাধ্যমে মুস্তাহাব (পছন্দনীয়তা) অর্জিত হয়, এবং কেবল কষ্টের আশঙ্কায় একে ওয়াজিব (আবশ্যিক) করার বিষয়টি পরিহার করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌آياتٌ وأحاديث وآثار في اتِّباع السنن والتحذير من البدع والمعاصي

وقد ورد في كتاب الله آياتٌ كثيرة تدلُّ على الترغيب في اتِّباع ما جاء به الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم، والحث على ذلك والتحذير من مخالفة الرسول صلى الله عليه وسلم فيما جاء به من الحق والهدى والوقوع في الشرك والبدع والمعاصي، فمِن ذلك قول الله عز وجل: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} ، وقوله: {مَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالاً مُبِيناً} ، وقوله: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ
সুন্নাহর অনুসরণ এবং বিদআত ও পাপাচার থেকে সতর্কীকরণ বিষয়ে কিছু আয়াত, হাদিস ও আসার

আল্লাহর কিতাবে এমন অনেক আয়াত বর্ণিত হয়েছে যা সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করে, এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা সত্য ও সঠিক পথ নিয়ে এসেছেন তার বিরোধিতা করা এবং শিরক, বিদআত ও পাপাচারে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্ক করে। এর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: "আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, তাহলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।" এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের সেই বিষয়ে নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না। আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে, সে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় পতিত হবে।" এবং তাঁর বাণী: "সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে,..."
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ২১)
أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} ، قال ابن كثير في تفسيره: "أي: عن أمْر رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو سبيله ومنهاجه وطريقته وسنته وشريعته، فتوزَن الأقوال والأعمال بأقواله وأعماله، فما وافق ذلك قُبل، وما خالفه فهو مردودٌ على قائله وفاعله كائناً من كان، كما ثبت في الصحيحين وغيرهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنَّه قال: "من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد"، أي: فليحذر وليخش مَن خالف شريعة الرسول باطناً وظاهراً {أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ} أي: في قلوبهم من كفر أو نفاق أو بدعة، {أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} أي: في الدنيا بقتل أو حدٍّ أو حبس أو نحو ذلك".

وقال تعالى: {قَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً} ، وقال: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} ،
{তাদের ওপর কোনো ফিতনা আসুক অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব আপতিত হোক}, ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে বলেছেন: "অর্থাৎ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশের বিরোধিতা করা হতে, যা হলো তাঁর পথ, তাঁর কর্মপন্থা, তাঁর পদ্ধতি, তাঁর সুন্নাহ এবং তাঁর শরীয়াহ। সুতরাং মানুষের কথা ও কাজকে তাঁর কথা ও কাজের মানদণ্ডে পরিমাপ করা হবে; যা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে তা গ্রহণ করা হবে, আর যা এর পরিপন্থী হবে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে—তা যে কেউ বলুক বা করুক। যেমনটি বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: 'যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যার ওপর আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।' অর্থাৎ: যারা রাসূলের শরীয়াহর গোপনে বা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে, তারা যেন এ বিষয়ে সতর্ক হয় এবং ভয় পায় {যাতে তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত না হয়} অর্থাৎ: তাদের অন্তরে কুফরি, নিফাক বা বিদআত; {অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব আপতিত না হয়} অর্থাৎ: দুনিয়াতে হত্যা, হদ্দ বা দণ্ডবিধি কার্যকর করা, কারাবরণ বা অনুরূপ শাস্তির মাধ্যমে।"

মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ}। তিনি আরও বলেন: {বলুন, 'যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু'}।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ২২)
قال ابن كثير في تفسيره: "هذه الآية الكريمة حاكمة على كلِّ مَن ادَّعى محبَّةَ الله وليس هو على الطريقة المحمدية، فإنَّه كاذبٌ في نفس الأمر حتى يتَّبع الشرعَ المحمدي والدِّينَ النَّبوي في جميع أقواله وأفعاله، كما ثبت في الصحيح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنَّه قال: "من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد"، ولهذا قال: {إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} ، أي: يحصل لكم فوق ما طلبتم من محبَّتكم إيَّاه، وهو محبَّته إيَّاكم، وهو أعظم من الأول، كما قال بعض العلماء الحكماء: ليس الشأن أن تُحِبَّ، إنَّما الشأن أن تُحَبَّ، وقال الحسن البصري وغيره من السلف: زعم قومٌ أنَّهم يُحبُّون اللهَ فابتلاهم الله بهذه الآية فقال.: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ}

وقال تعالى: {فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ} ، وقال: {فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلا
ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে বলেন: "এই মহান আয়াতটি এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একটি ফয়সালাকারী দলিল, যে আল্লাহর ভালোবাসার দাবি করে অথচ সে মুহাম্মদী পথে নেই। সে তার দাবিতে ততক্ষণ পর্যন্ত মিথ্যাবাদী যতক্ষণ না সে তার সকল কথা ও কাজে মুহাম্মদী শরীয়ত ও নববী দ্বীন অনুসরণ করে। যেমন সহীহ হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: 'যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যাতে আমাদের (শরীয়তের) নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।' এজন্যই আল্লাহ বলেছেন: {যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন}, অর্থাৎ: তোমরা তাঁকে ভালোবাসার মাধ্যমে যা চেয়েছিলে তার চেয়েও অধিক তোমরা লাভ করবে, আর তা হলো তোমাদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা। আর এটি প্রথমটির চেয়েও মহত্তর, যেমন জনৈক বিজ্ঞ আলিম বলেছেন: মূল বিষয় এটি নয় যে তুমি ভালোবাসলে, বরং আসল বিষয় হলো তোমাকে ভালোবাসা হলো কি না। হাসান বসরী এবং সালাফদের মধ্য থেকে অন্যান্যরা বলেছেন: একদল লোক দাবি করল যে তারা আল্লাহকে ভালোবাসে, তখন আল্লাহ তাদের এই আয়াতের মাধ্যমে পরীক্ষা করলেন। তিনি বললেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।}"

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {অতঃপর যারা আমার পথনির্দেশ অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না} এবং তিনি বলেন: {সুতরাং যে ব্যক্তি আমার পথনির্দেশ অনুসরণ করবে সে...}
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
يَضِلُّ وَلا يَشْقَى وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكاً وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى} ، وقال: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً} ، وقال: {اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلاً مَا تَذَكَّرُونَ} ، وقال: {وَمَنْ يَعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَاناً فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ وَإِنَّهُمْ لَيَصُدُّونَهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ مُهْتَدُونَ} وقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} ، وقال: {وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ} ، وقال: {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُمْ مَا حُمِّلْتُمْ وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا
সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, তার জন্য অবশ্যই হবে এক সংকীর্ণ জীবন এবং কিয়ামতের দিন আমরা তাকে অন্ধ অবস্থায় সমবেত করব।} , এবং তিনি বলেছেন: {সুতরাং না, আপনার রবের শপথ! তারা ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা প্রদান করেন সে বিষয়ে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব না করে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।} , এবং তিনি বলেছেন: {তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করো।} , এবং তিনি বলেছেন: {যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়, আমি তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করি, অতঃপর সে হয় তার সহচর। আর তারা অবশ্যই তাদেরকে সঠিক পথ থেকে বাধা দেয়, অথচ তারা মনে করে যে তারা সঠিক পথে পরিচালিত হচ্ছে।} এবং তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্যকার কর্তৃত্বশীলদের। অতঃপর যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ হয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখো। এটাই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।} , এবং তিনি বলেছেন: {আর তোমরা যে কোনো বিষয়েই মতভেদ করো না কেন, তার ফয়সালা আল্লাহরই নিকট।} , এবং তিনি বলেছেন: {বলুন, আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য সে-ই দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী। আর যদি তোমরা তার আনুগত্য করো, তবে তোমরা সুপথ পাবে।}
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَاّ الْبَلاغُ الْمُبِينُ} ، وقال: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} ، وقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} ، وقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ وَأَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ} ، وقال: {إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ} ، وقال: {إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا فَلا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ} وقال: {إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلائِكَةُ أَلَاّ تَخَافُوا وَلا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ} ،
{এবং রাসূলের দায়িত্ব কেবল সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া}। তিনি আরও বলেছেন: {আর রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর}। তিনি আরও বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রগামী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ}। তিনি আরও বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদেরকে জীবন দান করে। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান এবং নিশ্চয়ই তাঁর কাছেই তোমাদেরকে সমবেত করা হবে}। তিনি আরও বলেছেন: {মুমিনদের কথা তো কেবল এটাই, যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে আহ্বান করা হয় যেন তিনি তাদের মাঝে বিচার-ফয়সালা করে দেন, তখন তারা বলে: ‘আমরা শুনলাম ও মানলাম’। আর তারাই সফলকাম। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে এবং আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই কৃতকার্য}। তিনি আরও বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা বলে, ‘আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ’, অতঃপর তারা অবিচল থাকে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না}। তিনি আরও বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা বলে, ‘আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ’, অতঃপর তারা অবিচল থাকে, তাদের নিকট ফেরেশতাগণ অবতীর্ণ হয় (এবং বলে), ‘তোমরা ভয় পেয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না, আর সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল’}।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} ، وقال: {فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} ، وقال عن الجنِّ لَمَّا ولَّوا إلى قومهم منذرِين: {قَالُوا يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَاباً أُنْزِلَ مِنْ بَعْدِ مُوسَى مُصَدِّقاً لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ وَإِلَى طَرِيقٍ مُسْتَقِيمٍ يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ وَمَنْ لا يُجِبْ دَاعِيَ اللَّهِ فَلَيْسَ بِمُعْجِزٍ فِي الأَرْضِ وَلَيْسَ لَهُ مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءُ أُولَئِكَ فِي ضَلالٍ مُبِينٍ}

وورد في سنة الرسول صلى الله عليه وسلم أحاديثُ عديدة تدلُّ على الترغيب في اتِّباع السنن والتحذير من البدع، وتبين خطرَها، منها:

1 ـ قوله صلى الله عليه وسلم: "مَن أحدث في أمرنا هذا ما
এবং তিনি বলেছেন: "তবে কি তাদের এমন কিছু শরীক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?" এবং তিনি বলেছেন: "সুতরাং যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং সেই নূরের (আলোর) অনুসরণ করেছে যা তাঁর সাথে নাযিল করা হয়েছে, তারাই সফলকাম।" এবং তিনি জিনদের সম্পর্কে বলেছেন যখন তারা সতর্ককারী হিসেবে তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়েছিল: "তারা বলল, হে আমাদের সম্প্রদায়! আমরা এমন এক কিতাবের কথা শুনেছি যা মূসার পরে নাযিল করা হয়েছে, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী, যা সত্য ও সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করে। হে আমাদের সম্প্রদায়! আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দাও এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনো, তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেবে না, সে পৃথিবীতে আল্লাহকে অপারগকারী নয় এবং তাঁর বিপরীতে তার কোনো অভিভাবক নেই। তারাই স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে।"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহতে বহু হাদীস বর্ণিত হয়েছে যা সুন্নাহর অনুসরণে উৎসাহিত করে এবং বিদআত থেকে সতর্ক করে ও এর ভয়াবহতা স্পষ্ট করে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।" (বুখারী ও মুসলিম)।
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
ليس منه فهو ردٌّ" رواه البخاري (2697) ومسلم (1718) ، وفي لفظ لمسلم: "من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد"، وهذه الرواية عند مسلم أعمُّ من الرواية الأخرى؛ لأنَّها تشمل مَن أحدث البدعة ومَن تابَعَ مَن أحدثها، وهو دليل على أحد شرطي قبول العمل، وهو اتِّباع الرسول صلى الله عليه وسلم؛ لأنَّ كلَّ عمل يُتقرَّب به إلى الله لا يكون مقبولاً عند الله إلَاّ إذا توفَّر فيه شرطان:

أحدهما: تجريد الإخلاص لله وحده، وهو مقتضى شهادة أن لا إله إلَاّ الله.

والثاني: تجريد المتابعة للرسول صلى الله عليه وسلم، وهو مقتضى شهادة أنَّ محمداً رسول الله، قال الفضيل بن عياض كما في مجموع الفتاوى لشيخ الإسلام ابن تيمية (18/250) في قوله تعالى: {لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً} : "أخلصُه وأصوَبُه، قال: فإنَّ العملَ إذا
"যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" এটি বুখারি (২৬৯৭) ও মুসলিম (১৭১৮) বর্ণনা করেছেন। আর মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।" মুসলিমের এই বর্ণনাটি অন্য বর্ণনার চেয়ে অধিক ব্যাপক; কারণ এটি তাকেও অন্তর্ভুক্ত করে যে নতুন করে বিদআত উদ্ভাবন করেছে এবং তাকেও যে উদ্ভাবনকারীর অনুসরণ করেছে। এটি আমল কবুল হওয়ার অন্যতম শর্তের দলিল, আর তা হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ। কারণ আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য কৃত প্রতিটি আমল আল্লাহর কাছে ততক্ষণ গ্রহণযোগ্য হবে না যতক্ষণ না তাতে দুটি শর্ত বিদ্যমান থাকে:

প্রথমটি: একমাত্র আল্লাহর জন্য ইখলাস বা একনিষ্ঠতাকে বিশুদ্ধ করা, আর এটিই হলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই' সাক্ষ্য প্রদানের দাবি।

দ্বিতীয়টি: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণকে বিশুদ্ধ করা, আর এটিই হলো 'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল' সাক্ষ্য প্রদানের দাবি। ফুদায়েল ইবনে ইয়াজ বলেছেন—যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মাজমুউল ফাতাওয়া-তে (১৮/২৫০) মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলে কে শ্রেষ্ঠ} এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে: "যা সর্বাধিক একনিষ্ঠ এবং সর্বাধিক সঠিক। তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আমল যখন...
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ২৭)
كان خالصاً ولم يكن صواباً لم يُقبل، وإذا كان صواباً ولم يكن خالصاً لم يُقبل، حتى يكون خالصاً صواباً، والخالص أن يكون لله، والصواب أن يكون على السنَّة"، وقال ابن كثير في تفسير قوله تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحاً وَلا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَداً} قال: {فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحاً} أي: ما كان موافقاً لشرع الله، {وَلا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَداً} وهو الذي يُراد به وجه الله وحده لا شريك له، وهذان ركنا العمل المتقبَّل، لا بدَّ أن يكون خالصاً لله صواباً على شريعة رسول الله صلى الله عليه وسلم".

2 ـ وقال العرباض بن ساريةرضي الله عنه: "وعظنا رسول الله صلى الله عليه وسلم موعظةً بليغة ذرفت منها العيون ووجلت منها القلوب، قال قائل: يا رسول الله! كأنَّ هذه موعظة مودِّع، فماذا تعهد إلينا؟ فقال:
যদি তা একনিষ্ঠ হয় কিন্তু সঠিক না হয়, তবে তা কবুল করা হবে না; আর যদি তা সঠিক হয় কিন্তু একনিষ্ঠ না হয়, তবে তা কবুল করা হবে না, যতক্ষণ না তা একনিষ্ঠ ও সঠিক উভয়ই হয়। আর একনিষ্ঠ হওয়ার অর্থ হলো তা কেবল আল্লাহর জন্য হওয়া, আর সঠিক হওয়ার অর্থ হলো তা সুন্নাহ অনুযায়ী হওয়া। এবং ইবনে কাসীর মহান আল্লাহর বাণী—"যে ব্যক্তি তার রবের সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে, সে যেন নেক আমল করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে"—এর তাফসীরে বলেন: "সে যেন নেক আমল করে" অর্থাৎ যা আল্লাহর শরীয়ত অনুযায়ী হয়; "এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে"—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা যার কোনো শরিক নেই। কবুলযোগ্য আমলের এ দুটিই হলো স্তম্ভ; অবশ্যই তা আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হতে হবে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীয়ত অনুযায়ী সঠিক হতে হবে।

২ ـ এবং ইরবাদ বিন সারিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এমন এক মর্মস্পর্শী নসিহত করলেন যাতে চোখগুলো অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। তখন একজন আবেদনকারী বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এটি যেন কোনো বিদায় গ্রহণকারীর নসিহত, তাই আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) আল-হাসসু আলা ইত্তিবাউস সুন্নাহ ওয়াত তাহযীরু মিনাল বিদা ওয়াবায়ানু খতারিহা (পৃষ্ঠা: ২৮)
أوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة وإن عبد حبشي، فإنَّه مَن يعش منكم فسيرى اختلافاً كثيراً، فعليكم بسنَّتي وسنَّة الخلفاء المهديِّين الراشدين، تَمسَّكوا بها وعضُّوا عليها بالنواجذ، وإيَّاكم ومحدثات الأمور؛ فإنَّ كلَّ محدثة بدعة، وكلَّ بدعة ضلالة" رواه أبو داود (4607) ـ وهذا لفظه ـ والترمذي (2676) ، وابن ماجه (43 ـ 44) ، وقال الترمذي: "حديث حسن صحيح".

فقد أخبر صلى الله عليه وسلم عن حصول الاختلاف قريباً من زمنه صلى الله عليه وسلم، وأنَّه يكون كثيراً، وأنَّ مَن عاش من أصحابه يرى ذلك، ثم أرشد إلى ما فيه العصمة والسلامة، وهو اتِّباع سنَّته وسنَّة الخلفاء الراشدين وترك البدع ومحدثات الأمور، فرغَّب في السنَّة وحثَّ عليها بقوله: "فعليكم بسنَّتي وسنَّة الخلفاء المهديين الراشدين"، ورهَّب من البدع والمحدثات
"আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতি (তাকওয়া) এবং শ্রবণ ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি, যদিও সে একজন হাবশী দাস হয়। কারণ তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে বেঁচে থাকবে, তারা প্রচুর মতভেদ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত এবং সুপথপ্রাপ্ত ও সঠিক পথগামী খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখবে। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে সাবধান থাকবে; কেননা প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা।" এটি আবু দাউদ (৪৬০৭) বর্ণনা করেছেন —এটি তাঁর শব্দবিন্যাস— এবং তিরমিযী (২৬৭৬) ও ইবনে মাজাহ (৪৩-৪৪) এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন: "হাদিসটি হাসান সহীহ" ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সময়ের নিকটবর্তী সময়েই মতভেদ সৃষ্টি হওয়ার সংবাদ প্রদান করেছেন এবং তা অধিক হওয়ার কথা জানিয়েছেন। আর তাঁর সাহাবীদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবেন তারা তা প্রত্যক্ষ করবেন। অতঃপর তিনি এমন বিষয়ের দিকে পথনির্দেশ করেছেন যাতে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিহিত রয়েছে; আর তা হলো তাঁর সুন্নাত ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতের অনুসরণ এবং বিদআত ও নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ বর্জন করা। তিনি সুন্নাতের প্রতি আগ্রহ ও উৎসাহ প্রদান করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত এবং সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে"; আর তিনি বিদআত ও নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে সতর্ক করেছেন।