(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: -)
السنة النبوية وحي - شيخة بنت مفرج   (شيخة بنت مفرج المفرج)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: السنة النبوية وحي من الله محفوظة كالقران الكريم

المؤلف: شيخة بنت مفرج المفرج

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 54

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহ নববী (السنة النبوية) হলো ওহি (وحي) - শাইখা বিনতে মুফাররিজ   (শাইখা বিনতে মুফাররিজ আল-মুফাররিজ)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


বই: সুন্নাহ নববী (السنة النبوية) আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহি (وحي), যা পবিত্র কুরআনের ন্যায় সংরক্ষিত

লেখক: শাইখা বিনতে মুফাররিজ আল-মুফাররিজ

প্রকাশক: কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স ফর দ্য প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন, মদিনা মুনাওয়ারা

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৫৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ১)
ال‌‌مقدمة:

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله وبعد.

فإن من أفضل العلوم بعد كتاب الله سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، إذ السنة رديفة القرآن وهي جلاؤه وبيانه، فهي المصدر الثاني للتشريع بعد كتاب الله الذي لا يأتيه الباطل من بين يديهِ ولا من خلفهِ.

ولقد وكل الله إلى رسوله تبيان هذا الكتاب بقوله: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل:44] والرسول صلى الله عليه وسلم في بيانه للقرآن الكريم لا ينطق عن الهوى {إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:4] .

ولما كان للسنة النبوية هذه المكانة العظمى، عرف السلف الصالح للسنة قدرها فرعوها حق رعايتها، وحفظوها في الصدور وأودعوها سويداء القلوب، ودونوها في المصنفات والكتب، وحكموها في شؤونهم.

وفي هذه الوريقات بعض بيان لأمور تتعلق بهذا النبع الصافي، والمورد العذب أجملتهُ في تمهيد وفصلين: -
ভূমিকা (المقدمة):

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট হেদায়েত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাবের পর সর্বোত্তম জ্ঞান হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنة); কেননা সুন্নাহ (سنة) হলো কুরআনের পরিপূরক এবং এর বিশদ ব্যাখ্যা ও স্পষ্টকারী। এটি আল্লাহর কিতাবের পর বিধান প্রণয়নের (تشريع) দ্বিতীয় উৎস, যার সম্মুখে বা পশ্চাতে কোনো দিক থেকেই বাতিল আসতে পারে না।

আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের ওপর এই কিতাব সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন: {আর আমি আপনার নিকট যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে} [আন-নাহল: ৪৪]। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদানে নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। {এটি তো কেবল ওহী (وحي), যা প্রত্যাদেশ করা হয়} [আন-নাজম: ৪]।

যেহেতু নববী সুন্নাহর (سنة) এই মহান মর্যাদা রয়েছে, তাই সালাফে সালেহীন সুন্নাহর (سنة) যথাযথ গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন এবং তাঁরা এর পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করেছিলেন। তাঁরা একে অন্তরে মুখস্থ করেছিলেন এবং হৃদয়ের মণিকোঠায় গেঁথে রেখেছিলেন। তাঁরা একে বিভিন্ন সংকলন (مصنفات) ও কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তাঁদের যাবতীয় বিষয়ে একে ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

এই সংক্ষিপ্ত পৃষ্ঠাসমূহে সেই স্বচ্ছ ঝরনাধারা ও সুমিষ্ট উৎসের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে, যা আমি একটি প্রারম্ভিকা (تمهيد) ও দুটি পরিচ্ছেদে (فصلين) সংক্ষেপে উপস্থাপন করেছি: -
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ২)
التمهيد: معنى السنة في اللغة والشرع.

الفصل الأول: إثبات أن السنة وحي من الله.

وتحته مبحثان:-

المبحث الأول: بما ورد في كتاب الله.

المبحث الثاني: بما جاء في السنة والآثار.

الفصل الثاني: كيف حفظت السنة؟

وتحته ثلاثة مباحث:-

المبحث الأول: جهود الصحابة في حفظ السنة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم.

المبحث الثاني: جهود الصحابة والتابعين في حفظ السنة بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم.

المبحث الثالث: جهود أتباع التابعين في حفظ السنة.

والله أسأل أن يوفقنا لخدمة العلم والدين، وأن ينفعنا بما علمنا وأن يحفظ شرعه القويم - كما وعد - إلى قيام الساعة، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
ভূমিকা: আভিধানিক ও শরয়ী (الشرع) পরিভাষায় সুন্নাহ (السنة)-র অর্থ।

প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ (السنة) যে আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি (وحي), তা সাব্যস্তকরণ।

এর অধীনে দুটি আলোচনা রয়েছে:-

প্রথম আলোচনা: আল্লাহর কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে তার মাধ্যমে।

দ্বিতীয় আলোচনা: সুন্নাহ (السنة) ও আসার (الآثار)-এ যা বর্ণিত হয়েছে তার মাধ্যমে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ (السنة) কীভাবে সংরক্ষিত হয়েছে?

এর অধীনে তিনটি আলোচনা রয়েছে:-

প্রথম আলোচনা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সুন্নাহ (السنة) সংরক্ষণে সাহাবী (الصحابة)-গণের প্রচেষ্টা।

দ্বিতীয় আলোচনা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর সুন্নাহ (السنة) সংরক্ষণে সাহাবী (الصحابة) ও তাবিঈ (التابعين)-গণের প্রচেষ্টা।

তৃতীয় আলোচনা: সুন্নাহ (السنة) সংরক্ষণে তাবি-তাবিঈ (أتباع التابعين)-গণের প্রচেষ্টা।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ইলম ও দ্বীনের খিদমত করার তাওফীক দান করেন, আমরা যা শিখেছি তার মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করেন এবং তাঁর সুদৃঢ় শরীয়তকে—তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী—কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষণ করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌تمهيد:

تعريف السنة لغةً واصطلاحاً

أ - السنة لغةً:

السنة: الطريقة، كذا في القاموس (1) ، ولسان العرب (2) .

وقال صاحب اللسان نقلاً عن شمر: ((السنة في الأصل سنة الطريق، وهو طريق سنه أوائل الناس فصار مسلكاً لمن بعدهم)) .

إذاً فالسنة في اللغة: الطريقة محمودة ً كانت أو مذمومة، ومنه قوله صلى الله عليه وسلم "من سَنَّ سُنَّةً حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها إلى يوم القيامة، ومن سَنَّ سُنَّة سيئة فعليه وزرها ووزر من عمل بها إلى يوم القيامة" (3) ، ومنه حديث "لتتبعن سنن من كان قبلكم شبرا ًبشبر وذراعاً بذراع" (4) .

--------------------------------------------

(1) القاموس المحيط مادة: سنن ص 1558.

(2) لسان العرب مادة: سنن 3/2124.

(3) أخرجه مسلم في صحيحه 4/2059، كتاب العلم باب من سن سنة حسنة أو سيئة ح15، (1017) .

(4) أخرجه البخاري كما في الفتح 6/495، وكتاب أحاديث الأنبياء باب ذكر بني إسرائيل ح3456، وأخرجه مسلم 4/2054 كتاب العلم، باب اتباع سنن اليهود والنصارى ح 6 (2669) .
‌উপস্থাপনা:

সুন্নাহর আভিধানিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) সংজ্ঞা

ক - আভিধানিক (لغة) অর্থে সুন্নাহ:

সুন্নাহ (سنة): পদ্ধতি বা পথ, আল-কামুস (১) এবং লিসানুল আরব (২)-এ এমনটিই উল্লেখ করা হয়েছে।

লিসানুল আরব-এর লেখক শিমর-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন: "সুন্নাহর মূল অর্থ হলো রাস্তার পদ্ধতি, যা প্রথম যুগের মানুষ তৈরি করেছে এবং পরবর্তীতে তা অন্যদের জন্য চলাচলের পথে পরিণত হয়েছে।"

সুতরাং আভিধানিক (لغة) অর্থে সুন্নাহ (سنة) হলো: পদ্ধতি, তা প্রশংসনীয় হোক বা নিন্দনীয়। এ থেকেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী এসেছে: "যে ব্যক্তি কোনো উত্তম পদ্ধতি (سنة) প্রবর্তন করবে, সে তার সওয়াব পাবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ পদ্ধতি (سنة) প্রবর্তন করবে, তার ওপর সেই কাজের গুনাহ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের গুনাহও বর্তাবে" (৩)। এ থেকেই আরেকটি হাদিস: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের পদ্ধতিসমূহ (سنن) বিঘত বিঘত ও হাত হাত অনুসরণ করবে" (৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-কামুস আল-মুহিত, মূল শব্দ: সিন-নুন-নুন, পৃষ্ঠা ১৫৫৮।

(২) লিসানুল আরব, মূল শব্দ: সিন-নুন-নুন, ৩/২১২৪।

(৩) মুসলিম এটি তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ৪/২০৫৯, কিতাবুল ইলম, উত্তম বা মন্দ পদ্ধতি প্রবর্তন সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ১৫, (১০১৭)।

(৪) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি ফাতহুল বারিতে আছে ৬/৪৯৫, এবং কিতাব আহাদিসিল আম্বিয়া, বনি ইসরাইল সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৩৪৫৬; এবং মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন ৪/২০৫৪, কিতাবুল ইলম, ইহুদি ও নাসারাদের পদ্ধতি অনুসরণের অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৬ (২৬৬৯)।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ৪)
كلمة السنة واستعمالاتها في القرآن الكريم:

1) قال الله تعالى: {يُرِيدُ اللَّهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَيَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} [النساء:26]

قال ابن كثير (1) في معنى الآية: يعني طرائقهم الحميدة واتباع شرائعه التي يحبها ويرضاها.

2) وقال تعالى: {قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ يَنْتَهُوا يُغْفَرْ لَهُمْ مَا قَدْ سَلَفَ وَإِنْ يَعُودُوا فَقَدْ مَضَتْ سُنَّتُ الْأَوَّلِينَ}

[الأنفال:38]

قال ابن كثير: «أي قد مضت سنتنا في الأولين.....» (2)

3) وقال تعالى: {سُنَّةَ مَنْ قَدْ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنْ رُسُلِنَا وَلا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلاً} [الإسراء:77]

قال ابن كثير: «سنة من قد أرسلنا - الآية: أي هكذا عادتنا في الذين كفروا برسلنا وآذوهم..» (3)

4) وقال تعالى: {سُنَّةَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلُ وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلاً}

[الفتح:23]

وقال ابن كثير: «أي هذه سنة الله وعادته في خلقه» (4)

ويستخلص من النصوص القرآنية أن الكلمة قد استعملت في القرآن الكريم بمعنى الطريقة والعادة.

--------------------------------------------

(1) تفسير ابن كثير 2: 233 سورة النساء.

(2) تفسير ابن كثير 3: 596 سورة الأنفال.

(3) تفسير ابن كثير 5: 982 سورة الإسراء.

(4) تفسير ابن كثير 7: 323 سورة الفتح.
সুন্নাহ শব্দটির আভিধানিক অর্থ এবং পবিত্র কুরআনে এর ব্যবহারসমূহ:

১) মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ চান তোমাদের কাছে বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে, তোমাদেরকে তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিসমূহ (سنن) প্রদর্শন করতে এবং তোমাদের ক্ষমা করতে; আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।} [আন-নিসা: ২৬]

ইমাম ইবনে কাসির (১) এই আয়াতের মর্মার্থ প্রসঙ্গে বলেন: অর্থাৎ তাদের প্রশংসনীয় পথসমূহ (طرائق) এবং তাঁর প্রবর্তিত সেই সকল শরিয়তের অনুসরণ যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।

২) মহান আল্লাহ আরও বলেন: {অবিশ্বাসীদের বলো, যদি তারা বিরত হয় তবে অতীতে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা ক্ষমা করা হবে; কিন্তু তারা যদি পুনরায় তা-ই করে, তবে অবশ্যই পূর্ববর্তীদের রীতি (سنة) কার্যকর হয়ে গেছে।}

[আল-আনফাল: ৩৮]

ইবনে কাসির বলেন: "অর্থাৎ পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে আমাদের রীতি (سنة) অতিক্রান্ত হয়েছে....." (২)

৩) মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আপনার পূর্বে আমি যে সকল রাসূল প্রেরণ করেছিলাম তাদের ক্ষেত্রে এটিই ছিল রীতি (سنة); আর আপনি আমাদের রীতিতে (سنة) কোনো পরিবর্তন পাবেন না।} [আল-ইসরা: ৭৭]

ইবনে কাসির বলেন: "আপনার পূর্বে আমি যাদের পাঠিয়েছিলাম তাদের রীতি - আয়াতটি: অর্থাৎ যারা আমাদের রাসূলদের প্রতি কুফরি করেছে এবং তাদের কষ্ট দিয়েছে তাদের ক্ষেত্রে আমাদের অভ্যাস বা নিয়ম (عادة) এমনই ছিল.." (৩)

৪) মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আল্লাহর সেই রীতি (سنة) যা পূর্ব থেকেই চলে আসছে; এবং আপনি আল্লাহর রীতিতে (سنة) কোনো পরিবর্তন পাবেন না।}

[আল-ফাতহ: ২৩]

ইবনে কাসির বলেন: "অর্থাৎ এটিই আল্লাহর পদ্ধতি (سنة) এবং তাঁর সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাঁর চিরন্তন নিয়ম (عادة)।" (৪)

কুরআনের এই পাঠ্যসমূহ থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, পবিত্র কুরআনে শব্দটি পথ (طريقة) এবং নিয়ম (عادة) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) তাফসিরে ইবনে কাসির ২: ২৩৩, সূরা আন-নিসা।

(২) তাফসিরে ইবনে কাসির ৩: ৫৯৬, সূরা আল-আনফাল।

(৩) তাফসিরে ইবনে কাসির ৫: ৯৮২, সূরা আল-ইসরা।

(৪) তাফসিরে ইবনে কাসির ৭: ৩২৩, সূরা আল-ফাতহ।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ৫)
كلمة السنة وبعض استعمالاتها في كلام الرسول صلى الله عليه وسلم:

1) روى عطاء بن يسار عن أبي سعيد رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لتتبِعُنَّ سَنَنَ من كان قبلكم شبرا ًبشبر وذراعاً بذراع". (1)

قال ابن حجر في شرحه: لتتبعن ((سنن)) بفتح المهملة أي طريق. (2)

2) قال «حميد بن أبي حميد الطويل: أنه سمع أنس بن مالك رضي الله عنه يقول: فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال "أنتم الذين قلتم كذا وكذا؟ أما والله إني لأخشاكم لله وأتقاكم له، لكني أصوم وأفطر، وأصلي وأرقد، وأتزوج النساء، فمن رغب عن سنتي فليس مني" (3)

قال ابن حجر: "فمن رغب عن سنتي فليس مني"، المراد بالسنة الطريقة، لا التي تقابل الفرض.....» . (4)

3) قال ابن بريدة: «حدثني عبد الله المزني رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "صلوا قبل صلاة المغرب - قال في الثالثة - لمن شاء، كراهية أن يتخذها الناس سنة" (5)

قال ابن حجر: ومعنى قوله: سنة أي شريعة وطريقة لازمة. (6)

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه مع الفتح 6/495 كتاب أحاديث الأنبياء، باب ذكر بني إسرائيل ح 3456.

(2) فتح الباري 6: 498.

(3) أخرجه البخاري في صحيحه مع الفتح 9/104، كتاب النكاح، باب الترغيب في النكاح، ح 5063، وأخرجه مسلم 2/1020 كتاب النكاح، باب استحباب النكاح ،ح 5 (1401)

(4) فتح الباري 9: 105.

(5) أخرجه البخاري في صحيحه مع الفتح 3/60، كتاب التهجد، باب الصلاة قبل المغرب، ح 1183.

(6) فتح الباري 3: 60.
'সুন্নাহ' শব্দ এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে এর কিছু ব্যবহার:

১) আতা ইবনে ইয়াসার আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতি (سنن) বিঘাত-বিঘাত এবং হাত-হাত অনুসরণ করবে।" (১)

ইবনে হাজার তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেন: 'তোমরা অবশ্যই অনুসরণ করবে (سنন)' - এখানে সিন বর্ণের ওপর ফাতাহ হবে, যার অর্থ হলো পথ (طريق)। (২)

২) হুমাইদ ইবনে আবি হুমাইদ আত-তবিল বলেন: তিনি আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং বললেন, "তোমরাই কি তারা যারা এমন এমন কথা বলেছিলে? আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের চেয়ে আল্লাহকে বেশি ভয় করি এবং তোমাদের চেয়ে বেশি তাকওয়া অবলম্বন করি। কিন্তু আমি রোজা রাখি এবং রোজা ভঙ্গ করি, নামাজ পড়ি এবং বিশ্রাম নেই, আর নারীদের বিবাহ করি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ (سنة) থেকে বিমুখ হবে সে আমার দলভুক্ত নয়।" (৩)

ইবনে হাজার বলেন: "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ (سنة) থেকে বিমুখ হবে সে আমার দলভুক্ত নয়" - এখানে সুন্নাহ (سنة) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পথ (طريقة), এমন কোনো বিষয় নয় যা আবশ্যিক (فرض) বিধানের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়..."। (৪)

৩) ইবনে বুরাইদাহ বলেন: "আবদুল্লাহ আল-মুজানি রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'তোমরা মাগরিবের নামাজের আগে নামাজ পড়ো' - তৃতীয়বার বললেন - 'যার ইচ্ছা', যাতে মানুষ একে সুন্নাহ (سنة) হিসেবে গ্রহণ না করে।" (৫)

ইবনে হাজার বলেন: এবং তার উক্তি সুন্নাহ (سنة) এর অর্থ হলো শরিয়ত (شريعة) এবং অপরিহার্য পথ (طريقة)। (৬)

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে ফাতহুল বারিসহ বর্ণনা করেছেন, ৬/৪৯৫, আম্বিয়া আলাইহিস সালামের হাদিস অধ্যায়, বনী ইসরাঈলের আলোচনা পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৩৪NT৫৬।

(২) ফাতহুল বারি ৬: ৪৯৮।

(৩) এটি বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে ফাতহুল বারিসহ বর্ণনা করেছেন, ৯/১০৪, বিবাহ অধ্যায়, বিবাহে উৎসাহ প্রদান পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৫০৬৩; এবং এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন ২/১০২০, বিবাহ অধ্যায়, বিবাহ মুস্তাহাব হওয়া পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৫ (১৪০১)।

(৪) ফাতহুল বারি ৯: ১০৫।

(৫) এটি বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে ফাতহুল বারিসহ বর্ণনা করেছেন, ৩/৬০, তাহাজ্জুদ অধ্যায়, মাগরিবের আগে নামাজ পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ১১৮৩।

(৬) ফাতহুল বারি ৩: ৬০।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ৬)
4) قال جرير بن عبد الله رضي الله عنه: "جاء ناس من الأعراب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وعليهم الصوف، فرأى سوء حالهم، قد أصابتهم حاجة، فحث الناس على الصدقة، فأبطؤوا عنه ،حتى رؤي ذلك في وجهه، قال: ثم إن رجلا من الأنصار جاء بصرة من ورق، ثم جاء آخر، ثم تتابعوا حتى عرف السرور في وجهه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من سَنَّ في الإسلام سنة حسنة، فعل بها بعده كتب له مثل أجر من عمل بها ولا ينقص من أجورهم شيء، ومن سَنَّ في الإسلام سنةً سيئة فعل بها بعده كتب عليه مثل وزر من عمل بها ولا ينقص من أوزارهم شيء" (1) .

5) روى ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "أبغض الناس إلى الله ثلاثة: ملحد في الحرم، ومبتغ في الإسلام سنة الجاهلية، ومطلب دم امرئ بغير حق ليهريق دمه" (2)

6) قال سالم "كان عبد الله بن عمر رضي الله عنهما يفتي بالذي أنزل الله عز وجل من الرخصة بالتمتع وسن رسول الله صلى الله عليه وسلم فيه: فيقول ناس لابن عمر: كيف تخالف أباك؟ وقد نهى عن ذلك، فيقول لهم عبد الله: ويلكم ألا تتقون الله. إن كان عمر نهى عن ذلك فيبتغي فيه الخير، يلتمس به تمام العمرة، فلم تحرمون ذلك؟ وقد أحلَّه الله وعمل به

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم 4/2059 ،كتاب العلم، باب من سن سنة حسنة أو سيئة ح 15 (1017) .

(2) أخرجه البخاري في صحيحه مع الفتح 12/210 كتاب الديات، باب من طلب دم امرئ بغير حق ،ح 6882.
৪) জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন: "মরুচারী আরবদের কিছু লোক পশমি বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট আগমন করল। তিনি তাদের শোচনীয় অবস্থা ও অভাব-অনটন দেখে ব্যথিত হলেন। তিনি লোকদের সদকা করার জন্য উৎসাহিত করলেন, কিন্তু তারা সাড়া দিতে কিছুটা বিলম্ব করল, এমনকি এর প্রভাব তাঁর চেহারায় ফুটে উঠল। রাবী বলেন: অতঃপর আনসারদের এক ব্যক্তি রূপার একটি থলে নিয়ে আসলেন। তারপর একে একে অন্যরাও আসলেন, এমনকি তাঁর পবিত্র চেহারায় আনন্দের আভা দেখা গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম রীতি (سنة حسنة) প্রবর্তন করে এবং পরবর্তীতে তা অনুসরণ করা হয়, তবে তার আমলনামায় ওই আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াব লেখা হবে এবং তাদের সওয়াব হতে সামান্যও হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ রীতি (سنة سيئة) প্রবর্তন করে এবং পরবর্তীতে তা অনুসরণ করা হয়, তবে তার ওপর ওই আমলকারীর সমপরিমাণ পাপ লেখা হবে এবং তাদের পাপ হতে সামান্যও হ্রাস করা হবে না।" (১)।

৫) ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "আল্লাহর নিকট সর্বাধিক ঘৃণিত ব্যক্তি হলো তিনজন: হারামের সীমানায় সত্যবিচ্যুত (ملحد), ইসলামে জাহেলিয়াতের রীতি (سنة الجاهلية) অন্বেষণকারী এবং অন্যায়ভাবে কোনো ব্যক্তির রক্ত প্রবাহিত করার জন্য তার রক্তের সন্ধানী।" (২)

৬) সালেম (রহ.) বলেন: "আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) মহান আল্লাহ অবতীর্ণ হজের তামাত্তু করার অনুমতি এবং এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রদর্শিত রীতি (سن) অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করতেন। তখন কিছু লোক ইবনে ওমরকে বলত: আপনি কেন আপনার পিতার বিরোধিতা করছেন? অথচ তিনি তো তা নিষেধ করেছিলেন। তখন আবদুল্লাহ তাদের বলতেন: তোমাদের প্রতি আক্ষেপ! তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করো না? ওমর (রা.) যদি তা থেকে বারণ করে থাকেন তবে তিনি তাতে কেবল কল্যাণই চেয়েছিলেন এবং এর মাধ্যমে উমরাহ পরিপূর্ণ করার উদ্দেশ্যেই প্রয়াস চালিয়েছিলেন। তবে আল্লাহ যা হালাল করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) যা আমল করেছেন, তোমরা কেন তা হারাম করছ?"

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন ৪/২০৫৯, কিতাবুল ইলম, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কোনো উত্তম বা মন্দ রীতি প্রবর্তন করে, হাদিস ১৫ (১০MT)।

(২) এটি বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে ফাতহুল বারীসহ বর্ণনা করেছেন ১২/২১০, কিতাবুদ দিয়াত, পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো রক্তের প্রত্যাশী হয়, হাদিস ৬৮৮২।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ৭)
رسول الله صلى الله عليه وسلم. أفرسول الله صلى الله عليه وسلم أحق أن تتبعوا سنته أم سنة عمر؟ " (1)

في ضوء هذه النصوص يمكن القول بأن النبي صلى الله عليه وسلم استعمل كلمة «السنة» بمعناها اللغوي أي الطريقة.

ونجد في دواوين السنة عشرات النصوص وردت فيها كلمة السنة وهي في معناها لا تخرج عن الطريقة والسيرة المتبعة.

قال ابن الأثير في النهاية: قد تكرر في الحديث ذكر «السنة» وما تصرف منها.

والأصل فيها الطريقة والسيرة، وإذا أطلقت في الشرع فإنما يراد بها ما أمر به النبي صلى الله عليه وسلم ونهى عنه وندب إليه قولا وفعلا، مما لم ينطق به الكتاب العزيز ولهذا يقال في أدلة الشرع: الكتاب، والسنة، أي: القرآن والحديث. (2)

كلمة السنة في دواوين العرب:

1- قال خالد بن عتبة الهذلي:

فلا تجزعن من سنة أنت سرتها … وأول راض سنة من يسيرها

فإن التي فينا زعمت ومثلها … لفيك، ولكني أراك تجورها

2- وقال لبيد (أحد أصحاب المعلقات) :

من معشر سنت لهم آباؤهم … ولكل قوم سنة وإمامها

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد بن حنبل في المسند 2: 95 مسند عبد الله بن عمر، قال أحمد شاكر في تحقيقه للمسند ح5700: إسناده صحيح.

(2) النهاية 2: 409، مادة (سنن) .
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তবে কি আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ (سنة) অনুসরণ করা অধিকতর সমীচীন, নাকি উমরের সুন্নাহ (سنة)? (১)

এই সকল পাঠ্যের (نصوص) আলোকে বলা যেতে পারে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'সুন্নাহ' (السنة) শব্দটি এর আভিধানিক অর্থে ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ হলো পদ্ধতি (الطريقة)।

এবং আমরা হাদিস সংকলনগুলোতে সুন্নাহ (السنة) শব্দটির ব্যবহার সম্বলিত কয়েক ডজন পাঠ্য (نصوص) খুঁজে পাই, যা এর অর্থের দিক থেকে অনুসৃত পদ্ধতি (الطريقة) ও জীবনচরিত (السيرة)-এর বাইরে নয়।

ইবনুল আসীর 'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থে বলেছেন: হাদিসে 'সুন্নাহ' (السنة) এবং এর থেকে উদ্ভূত শব্দগুলোর উল্লেখ বারবার এসেছে।

এর মূল অর্থ হলো পদ্ধতি (الطريقة) এবং জীবনচরিত (السيرة)। আর যখন শরিয়তের পরিভাষায় এটি নিঃশর্তভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কথা ও কাজের মাধ্যমে যা কিছুর আদেশ দিয়েছেন, যা থেকে নিষেধ করেছেন এবং যার প্রতি উৎসাহিত করেছেন, যা মহাগ্রন্থে (কুরআন) বর্ণিত হয়নি। এই কারণেই শরিয়তের দলীলসমূহের ক্ষেত্রে বলা হয়: কিতাব ও সুন্নাহ (السنة); অর্থাৎ: কুরআন ও হাদিস। (২)

আরবদের কাব্য-সাহিত্যে সুন্নাহ (السنة) শব্দটি:

১- খালিদ বিন উতবা আল-হুযালী বলেছেন:

তুমি এমন কোনো পদ্ধতির (سنة) জন্য বিচলিত হয়ো না যা তুমি নিজেই প্রবর্তন করেছ … কেননা যে ব্যক্তি কোনো পদ্ধতির (سنة) সূচনা করে, সে-ই প্রথম সেটির প্রতি সন্তুষ্ট থাকে।

নিশ্চয়ই তুমি আমাদের ব্যাপারে যা দাবি করেছ এবং তার অনুরূপ তোমার নিজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; … কিন্তু আমি দেখছি তুমি তা থেকে বিচ্যুত হচ্ছ।

২- এবং লাবীদ (মুআল্লাকার কবিদের একজন) বলেছেন:

এমন এক সম্প্রদায় থেকে যাদের জন্য তাদের পিতৃপুরুষেরা আদর্শ (سنت) নির্ধারণ করে গেছেন … আর প্রত্যেক জাতিরই রয়েছে একটি আদর্শ (سنة) এবং তার অনুকরণীয় নেতা।

--------------------------------------------

(১) আহমাদ বিন হাম্বল এটি মুসনাদ-এ (২:৯৫, মুসনাদ আব্দুল্লাহ বিন উমর) বর্ণনা করেছেন। আহমাদ শাকির মুসনাদ-এর তাহকীকে (হাদিস নং ৫৭০০) বলেছেন: এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)।

(২) আন-নিহায়াহ ২: ৪০৯, 'সুনান' (سنن) পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ৮)
3- وقال حسان بن ثابت:

إن الذوائب من فهر وإخوتهم … قد بينوا سنة للناس تتبع

4- وقال الفرزدق:

فجاء بسنة العمرين فيها … شفاء للصدور من السقام

في ضوء النصوص السابقة، يمكننا أن نقول: أن كلمة السنة استعملها الشعراء في الجاهلية والإسلام بمعناها اللغوي، أي الطريقة المتبعة سواء كانت حسنة أو قبيحة.

خلاصة القول:

لقد استعمل الجاهليون كلمة السنة في قصائدهم بمعنى الطريقة

واستعملت في القرآن بمعنى الطريقة والعادة، والمعنى كما رأينا راجع إلى الأول. واستعملها الرسول صلى الله عليه وسلم في هذا المعنى كما رأينا في حديث ابن عمر.

ونقلت الكلمة من عمومها هذا إلى المعنى الاصطلاحي الآتي ذكره عند المسلمين وأضيف إليها (أل التعريف) أي طريق رسول الله صلى الله عليه وسلم وشريعته. وليس معنى هذا أن معناها اللغوي قد بطل أو انعدم، بل بقي استعمالها ولكن في نطاق ضيق (1) .

--------------------------------------------

(1) تم جمع مادة المعنى اللغوي بتصرف من كتاب: دراسات في الحديث النبوي للأعظمي، وكتاب: السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي للسباعي.
৩- এবং হাসসান বিন সাবিত (রা.) বলেছেন:

নিশ্চয়ই ফিহর গোত্রের নেতৃবর্গ এবং তাদের ভ্রাতৃবৃন্দ … মানুষের জন্য এমন একটি আদর্শ (سنة) সুস্পষ্ট করেছেন যা অনুসরণ করা হয়।

৪- এবং আল-ফারাজদাক বলেছেন:

তিনি দুই উমরের আদর্শ (سنة) নিয়ে এসেছেন যাতে রয়েছে … বক্ষসমূহের ব্যাধির আরোগ্য।

পূর্বোক্ত দলিলসমূহের (نصوص) আলোকে আমরা বলতে পারি যে: 'সুন্নাহ' (السنة) শব্দটি জাহেলি ও ইসলামি যুগের কবিগণ এর আভিধানিক অর্থে ব্যবহার করেছেন; অর্থাৎ এমন একটি অনুসৃত পন্থা (طريقة), তা ভালো কিংবা মন্দ উভয়ই হতে পারে।

সারসংক্ষেপ:

জাহেলি যুগের কবিগণ তাদের কবিতায় 'সুন্নাহ' (السنة) শব্দটিকে পন্থা (طريقة) অর্থে ব্যবহার করেছেন।

এবং কুরআনে এটি পন্থা (طريقة) ও রীতি (عادة) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; আর আমরা যেমনটি দেখেছি, এই অর্থটি মূলত আভিধানিক অর্থের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও শব্দটি এই অর্থেই ব্যবহার করেছেন, যা আমরা ইবনে উমরের হাদিসে লক্ষ্য করেছি।

শব্দটি তার এই সাধারণ ব্যাপকতা থেকে মুসলমানদের নিকট পরবর্তীতে বর্ণিত পারিভাষিক (اصطلاحي) অর্থের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং এর সাথে 'আলিফ-লাম' (সংজ্ঞার্থজ্ঞায়ক অব্যয়) যুক্ত করা হয়েছে, যার অর্থ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথ ও তাঁর শরিয়ত। এর অর্থ এই নয় যে, এর আভিধানিক অর্থ রহিত বা বিলুপ্ত হয়ে গেছে; বরং এর ব্যবহার অবশিষ্ট রয়েছে, তবে তা সীমিত পরিসরে (১)।

--------------------------------------------

(১) আভিধানিক অর্থের এই উপাদানগুলো আজমির 'দিরাসাত ফিল হাদিস আন-নাবাবি' এবং সিবায়ির 'আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরি আল-ইসলামি' গ্রন্থদ্বয় হতে পরিমার্জিতভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ৯)
ب- السنة اصطلاحاً:

يختلف معنى السنة في اصطلاح أهل الشرع حسب اختلاف فنونهم وأغراضهم، فهي عند الأصوليين غيرها عند المحدثين والفقهاء. ولذلك نرى مدلول معناها من خلال أبحاثهم.

(1) فعلماء الحديث إنما بحثوا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الإمام الهادي، الذي أخبر عنه أنه أسوة لنا وقدوة، فنقلوا كل ما يتصل به من سيرة، وخلق، وشمائل، وأخبار، وأقوال، وأفعال، سواء أثبت ذلك حكما شرعيا أم لا.

إذاً السنة في اصطلاح المحدثين هي:

كل ما أُثر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو تقرير، أو صفة خَلْقية أو خُلُقية، أو سيرة سواء أكان ذلك قبل البعثة كتحنثه في غار حراء، أم بعدها. والسنة بهذا المعنى مرادفة للحديث النبوي.

(2) وعلماء الأصول إنما بحثوا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم المشرع الذي يضع القواعد للمجتهدين من بعده، ويبين للناس دستور الحياة، ولذلك عنوا بأقواله، وأفعاله، وتقريراته التي تثبت الأحكام وتقررها.

إذاً السنة في اصطلاح الأصوليين هي:

ما نقل عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير.

فمثال القول:

ما تحدث به النبي صلى الله عليه وسلم في مختلف المناسبات مما يتعلق بتشريع الأحكام
খ- পারিভাষিক অর্থে সুন্নাহ:

শরীয়ত বিশেষজ্ঞদের পরিভাষায় সুন্নাহর অর্থ তাঁদের জ্ঞানশাখা ও উদ্দেশ্যের ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। মূলনীতিবিদদের (اصوليين) নিকট এর অর্থ যা, হাদিস বিশারদ (محدثين) ও ফকিহদের (فقهاء) নিকট তা ভিন্ন। এজন্য আমরা তাঁদের গবেষণার প্রেক্ষিতে এর অর্থের প্রতিফলন দেখতে পাই।

(1) হাদিস বিশারদগণ (محدثين) মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একজন পথপ্রদর্শক ইমাম হিসেবে বিচার-বিশ্লেষণ করেছেন, যাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তিনি আমাদের জন্য আদর্শ ও অনুকরণীয়। ফলে তাঁরা তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট সীরাত (سيرة), চরিত্র, শামায়েল (شمائل), সংবাদ এবং তাঁর সকল কথা (قول), কাজ (فعل) ও মৌন সম্মতি (تقرير) বর্ণনা করেছেন—চাই তা কোনো শরয়ী বিধান সাব্যস্ত করুক বা না করুক।

অতএব, হাদিস বিশারদদের (محدثين) পরিভাষায় সুন্নাহ হলো:

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সকল কথা (قول), কাজ (فعل), মৌন সম্মতি (تقرير), শারীরিক (خَلْقية) বা চারিত্রিক (خُلُقية) বৈশিষ্ট্য অথবা সীরাত (سيرة); চাই তা নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে হোক—যেমন হেরা গুহায় তাঁর ইবাদত করা—অথবা নবুয়ত প্রাপ্তির পরে। আর এই অর্থে সুন্নাহ শব্দটি হাদিস শব্দের সমার্থক।

(2) অন্যদিকে মূলনীতিবিদগণ (اصوليين) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একজন বিধানদাতা হিসেবে বিচার-বিশ্লেষণ করেছেন, যিনি পরবর্তী মুজতাহিদদের (مجتهدين) জন্য মূলনীতি প্রণয়ন করেন এবং মানুষের জন্য জীবনবিধান স্পষ্ট করেন। এই কারণে তাঁরা তাঁর এমন সব কথা (قول), কাজ (فعل) ও মৌন সম্মতির (تقرير) প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন যা শরয়ী বিধান সাব্যস্ত ও সুপ্রতিষ্ঠিত করে।

অতএব, মূলনীতিবিদদের (اصوليين) পরিভাষায় সুন্নাহ হলো:

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কথা (قول), কাজ (فعل) বা মৌন সম্মতি (تقرير)।

কথার (قول) উদাহরণ:

বিধান প্রণয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন উপলক্ষে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ১০)
كقوله عليه الصلاة والسلام "إنما الأعمال بالنيات" (1) . وقوله: "البيعان بالخيار ما لم يتفرقا" (2) .

ومثال الفعل:

ما نقله الصحابة من أفعال النبي صلى الله عليه وسلم في شؤون العبادة وغيرها، كأداء الصلوات، ومناسك الحج، وآداب الصيام، وقضائه بالشاهد واليمين.

ومثال التقرير:

ما أقره الرسول صلى الله عليه وسلم من أفعال صدرت عن بعض أصحابه بسكوت منه مع دلالة الرضا، أو بإظهار استحسان وتأييد.

فمن الأول، إقراره عليه الصلاة والسلام لاجتهاد الصحابة في أمر صلاة العصر في غزوة بني قريظة حين قال لهم "لا يُصلين أحدكم العصر إلا في بني قريظة" (3) فقد فهم بعضهم هذا النهي على حقيقته فأخرها إلى ما بعد المغرب، وفهمه بعضهم على أن المقصود حث

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه مع الفتح1/9، كتاب بدء الوحي، باب كيف كان بدء الوحي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، ح1 وأخرجه مسلم 3/1515، كتاب الإمارة، باب قوله صلى الله عليه وسلم "إنما الأعمال بالنية".... الخ، ح 155 (1907) .

(2) أخرجه البخاري في صحيحه مع الفتح 4/328، كتاب البيوع باب البيعان بالخيار مالم يتفرقا،ح 2110، وأخرجه مسلم 3/1164، كتاب البيوع، باب الصدق في البيع والبيان، ح 47 (1532) .

(3) أخرجه البخاري في صحيحه مع الفتح 7/407، وكتاب المغازي، باب مرجع النبي صلى الله عليه وسلممن الأحزاب ومخرجه إلى بني قريظة ومحاصرته إياهم، ح 4119، وأخرجه مسلم 3/1391، كتاب الجهاد والسير، باب المبادرة بالغزو....إلخ ح 69 (1770) .
যেমন তাঁর (সা.) বাণী: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" (১)। এবং তাঁর বাণী: "ক্রেতা ও বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের নির্বাচনের অধিকার বা ইখতিয়ার (خيار) থাকে" (২)।

এবং কর্মগত (فعل) সুন্নাহর উদাহরণ:

সাহাবীগণ ইবাদত ও অন্যান্য বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যেসব কর্ম বর্ণনা করেছেন, যেমন সালাত আদায়, হজের নিয়মাবলি, সিয়ামের আদবসমূহ এবং একজন সাক্ষী ও শপথের ভিত্তিতে তাঁর বিচার ফয়সালা করা।

এবং মৌনসম্মতিমূলক (تقرير) সুন্নাহর উদাহরণ:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের থেকে প্রকাশিত কোনো কাজ যা তিনি সন্তুষ্টিজ্ঞাপক নীরবতার মাধ্যমে কিংবা পছন্দ ও সমর্থনের মাধ্যমে অনুমোদন (إقرار) করেছেন।

প্রথম প্রকারের উদাহরণ হলো, বনু কুরাইজা যুদ্ধের সময় আসরের সালাতের ব্যাপারে সাহাবীদের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) প্রতি তাঁর অনুমোদন (إقرار), যখন তিনি তাদের বলেছিলেন "তোমাদের কেউ যেন বনু কুরাইজায় না পৌঁছে আসরের সালাত আদায় না করে" (৩)। ফলে তাদের কেউ কেউ এই নিষেধকে (نهي) এর শাব্দিক অর্থের (حقيقة) ওপর ভিত্তি করে বুঝেছিলেন এবং তা মাগরিবের পর পর্যন্ত বিলম্বিত করেছিলেন, আবার কেউ কেউ বুঝেছিলেন যে এর উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত গমনে উৎসাহিত করা...

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারীসহ সহীহ বুখারীতে এটি সংকলন করা হয়েছে (أخرجه) ১/৯, ওহীর সূচনা অধ্যায় (كتاب), রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি কীভাবে ওহীর সূচনা হয়েছিল পরিচ্ছেদ (باب), হাদিস ১; এবং মুসলিম এটি সংকলন করেছেন (أخرجه) ৩/১৫১৫, ইমারত অধ্যায় (كتاب), রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল".... ইত্যাদি পরিচ্ছেদ (باب), হাদিস ১৫৫ (১৯০৭)।

(২) ফাতহুল বারীসহ সহীহ বুখারীতে এটি সংকলন করা হয়েছে (أخرجه) ৪/৩২৮, ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় (كتاب), ক্রেতা ও বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের ইখতিয়ার থাকা পরিচ্ছেদ (باب), হাদিস ২১১০; এবং মুসলিম এটি সংকলন করেছেন (أخرجه) ৩/১১৬৪, ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায় (كتاب), ক্রয়-বিক্রয়ে সততা ও স্পষ্ট বর্ণনা পরিচ্ছেদ (باب), হাদিস ৪৭ (১৫৩২)।

(৩) ফাতহুল বারীসহ সহীহ বুখারীতে এটি সংকলন করা হয়েছে (أخرجه) ৭/৪০৭, এবং মাগাযী বা যুদ্ধাভিযান অধ্যায় (كتاب), আহযাব যুদ্ধ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যাবর্তন এবং বনু কুরাইজার দিকে রওয়ানা হওয়া ও তাদের অবরোধ করা পরিচ্ছেদ (باب), হাদিস ৪১১৯; এবং মুসলিম এটি সংকলন করেছেন (أخرجه) ৩/১৩৯১, জিহাদ ও সিয়ার অধ্যায় (كتاب), যুদ্ধাভিযানে দ্রুত পদক্ষেপে ত্বরান্বিত করা.... ইত্যাদি পরিচ্ছেদ (باب), হাদিস ৬৯ (১৭৭০)।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ১১)
الصحابة على الإسراع فصلاها في وقتها، وبلغ النبي ما فعل الفريقان فأقرهما ولم ينكر عليهما.

ومن الثاني: ما روي أن خالد بن الوليد رضي الله عنه أكل ضباً قُدِّم إلى النبي صلى الله عليه وسلم دون أن يأكله، فقال له بعض الصحابة: أوَيحرم أكله يا رسول الله؟ فقال: "لا، ولكنه ليس في أرض قومي فأجدني أعافه" (1) .

وقد تطلق السنة عندهم على ما دل عليه دليل شرعي، سواء كان ذلك في الكتاب العزيز، أو عن النبي صلى الله عليه وسلم، أو اجتهد فيه الصحابة، كجمع المصحف وحمل الناس على القراءة بحرف واحد، وتدوين الدواوين، ويقابل ذلك «البدعة» ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: "عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين من بعدي" (2) .

(3) وعلماء الفقه إنما بحثوا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، الذي تدل أفعاله على حكم شرعي، وهم يبحثون عن حكم الشرع في أفعال العباد وجوبا، أو حرمة، أو إباحة، أو غير ذلك. إذاً فالسنة في اصطلاح الفقهاء: هي ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير افتراض ولا وجوب، وتقابل الواجب وغيره من الأحكام الخمسة، وقد تطلق عندهم على ما يقابل البدعة، ومنه قولهم: طلاق السنة كذا، وطلاق البدعة كذا.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه مع الفتح 9/663، كتاب الذبائح والصيد، باب الضب، ح 5537 وأخرجه مسلم 3/1543، كتاب الصيد والذبائح، باب إباحة الضب، ح 43 (1945) .

(2) أخرجه أبو داود 5/13 كتاب السنة، باب في لزوم السنة،ح 4607 والترمذي 5/44 كتاب العلم، باب ما جاء في الأخذ بالسنة، واجتناب البِدع، ح 2676.
সাহাবীগণ দ্রুত গমনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তা সঠিক সময়েই আদায় করেন। উভয় দলের কর্মকাণ্ড নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছালে তিনি তাদের উভয়কে অনুমোদন (أقرهما) প্রদান করেন এবং তাদের কারো প্রতি কোনো আপত্তি (ينكر) করেননি।

দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ: বর্ণিত আছে যে, খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) একটি গোসাপ ভক্ষণ করেছিলেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে পেশ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজে তা খাননি। তখন জনৈক সাহাবী তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! এটা খাওয়া কি হারাম (يحرم)? তিনি বললেন: "না, তবে এটি আমার কাওমের এলাকায় নেই, তাই আমি একে অপছন্দ করছি।" (১)।

তাঁদের নিকট সুন্নাহ (السنة) শব্দটি অনেক সময় এমন বিষয়ের ওপরও প্রয়োগ করা হয় যা শরয়ি দলিল (دليل شرعي) দ্বারা প্রমাণিত; চাই তা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে বর্ণিত হোক অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হোক, কিংবা সাহাবীগণ যাতে ইজতিহাদ (اجتهد) করেছেন—যেমন মাসহাফ একত্রিত করা, মানুষকে একটি কেরাআতের ওপর সংহত করা এবং রাষ্ট্রীয় দপ্তরসমূহ গঠন করা। এর বিপরীতে ব্যবহৃত হয় 'বিদআত' (البدعة); নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটি এর অন্তর্ভুক্ত: "তোমরা আমার সুন্নাহ (سنتي) এবং আমার পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ (سنة) আঁকড়ে ধরো।" (২)।

(৩) ফিকহশাস্ত্রের পন্ডিতগণ (فقهاء) মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই দিকটি নিয়ে আলোচনা করেন যার কর্মসমূহ কোনো শরয়ি বিধানের (حكم شرعي) ওপর প্রমাণ পেশ করে। তাঁরা বান্দার কর্মসমূহের মধ্যে শরয়ি বিধানসমূহ তালাশ করেন, যেমন—ওয়াজিব (وجوبا), হারাম (حرمة), মুবাহ (إباحة) বা অন্য কিছু। সুতরাং ফকিহদের পরিভাষায় সুন্নাহ (السنة) হলো: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ফরয (افتراض) বা ওয়াজিব (وجوب) হওয়া ব্যতিরেকেই প্রমাণিত হয়েছে। এটি ওয়াজিব (الواجب) এবং আহকামে খামসাহ বা পাঁচ প্রকার বিধানের অন্যান্য প্রকারের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়। আবার তাঁদের নিকট এটি অনেক সময় বিদআতের (البدعة) বিপরীত হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যেমন তাঁদের কথা: সুন্নাহ মোতাবেক তালাক (طلاق السنة) এমন এবং বিদআতি তালাক (طلاق البدعة) এমন।

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ বুখারিতে ফাতহুল বারী ৯/৬৬৩ সহ এটি সংকলন করেছেন, যবেহ ও শিকার অধ্যায়, গোসাপ অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৫৫৩৭; এবং ইমাম মুসলিম ৩/১৫৪৩ সংকলন করেছেন, শিকার ও যবেহ অধ্যায়, গোসাপ বৈধ হওয়া সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৪৩ (১৯৪৫)।

(২) ইমাম আবু দাউদ ৫/১৩ সংকলন করেছেন, সুন্নাহ অধ্যায়, সুন্নাহর আবশ্যকতা অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৪৬০৭; এবং ইমাম তিরমিজি ৫/৪৪ সংকলন করেছেন, ইলম অধ্যায়, সুন্নাহ অনুসরণ ও বিদআত বর্জন অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ২৬৭৬।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ১২)
ومرد هذا الاختلاف في الاصطلاح إلى اختلافهم في الأغراض التي يُعنى بها كل فئة من أهل العلم.

فعلماء الحديث إنما بحثوا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الإمام الهادي الذي أخبر الله عنه أنه أسوة لنا وقدوة، فنقلوا كل ما يتصل به من سيرة وخلق وشمائل وأخبار وأقوال وأفعال، سواء أثبت ذلك حكماً شرعياً أم لا.

وعلماء الأصول إنما بحثوا عن رسول الله الذي يضع القواعد للمجتهدين من بعده، ويبين للناس دستور الحياة، فعنوا بأقواله وأفعاله وتقريراته التي تثبت الأحكام وتقررها.

وعلماء الفقه إنما بحثوا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي لاتخرج أفعاله عن الدلالة على حكم شرعي، وهم يبحثون عن حكم الشرع على أفعال العباد وجوباً أو حرمةً أو إباحةً أو غير ذلك.

ونحن هنا نريد بالسنة ما عناه الأصوليون، لأنها - بتعريفهم - هي التي يبحث عن حجيتها ومكانتها في التشريع (1) .

--------------------------------------------

(1) مادة التعريف الشرعي للسنة أخذت بتصرف من كتاب: السنة قبل التدوين للخطيب، وكتاب السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي للسباعي.
পরিভাষাগত এই পার্থক্যের কারণ হলো আলেমদের প্রতিটি শ্রেণির উদ্দেশ্যের ভিন্নতা।

হাদিস বিশারদগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন এক পথপ্রদর্শক ইমাম হিসেবে অনুসন্ধান করেছেন, যাঁর সম্পর্কে আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আমাদের জন্য আদর্শ ও অনুসরণীয়। তাই তাঁরা তাঁর সাথে সম্পৃক্ত সীরাত, স্বভাব-চরিত্র, গুণাবলি, সংবাদ, কথা ও কাজ—সবকিছুই বর্ণনা করেছেন; চাই তা কোনো শরয়ি বিধান সাব্যস্ত করুক বা না করুক।

উসুল শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে অনুসন্ধান করেছেন যিনি তাঁর পরবর্তী মুজতাহিদদের জন্য মূলনীতি নির্ধারণ করেন এবং মানুষের জন্য জীবনবিধান বর্ণনা করেন। তাই তাঁরা তাঁর এমন সব কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতি (تقريرات) নিয়ে আলোচনা করেছেন যা বিধানসমূহ সাব্যস্ত ও প্রতিষ্ঠিত করে।

আর ফিকহবিদগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন সত্তা হিসেবে অন্বেষণ করেছেন যাঁর কার্যাবলি কোনো না কোনো শরয়ি বিধানের নির্দেশনার বাইরে নয়। তাঁরা বান্দার কাজের ওপর শরয়ি হুকুম যেমন—ওয়াজিব (وجوب), হারাম (حرمة), মুবাহ (إباحة) বা অন্য কিছু অন্বেষণ করেন।

আমরা এখানে সুন্নাহ বলতে তাই বুঝিয়েছি যা উসুলবিদগণ বুঝিয়েছেন। কেননা তাঁদের সংজ্ঞা অনুযায়ী সুন্নাহ হলো তা-ই, যার দলিলযোগ্যতা (حجية) এবং শরয়ি বিধানে এর অবস্থান সম্পর্কে আলোচনা করা হয় (১)।

--------------------------------------------

(১) সুন্নাহর শরয়ি সংজ্ঞার বিষয়টি আল-খাতিব রচিত 'আস-সুন্নাহ কাবলাত তাদউইন' এবং আস-সিবায়ি রচিত 'আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরিয়িল ইসলামি' গ্রন্থ থেকে পরিমার্জিতভাবে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصل الأول: إثبات أن السنة وحي من الله

‌‌المبحث الأول: ما ورد في القرآن الكريم

السنة النبوية: هي ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير، وهي أحد قسمي الوحي الإلهي الذي نزل به جبريل الأمين على النبي الكريم صلى الله عليه وسلم، والقسم الثاني من الوحي هو القرآن الكريم، فالسنة النبوية من الوحي، بذلك نطق الكتاب العزيز {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:3-4]

فكل ما ينطق به رسول الله صلى الله عليه وسلم من قرآن أو سنة هو من وحي رب العالمين، قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9] .

فأنزل الله القرآن الكريم وحياً يتلى إلى قيام الساعة محفوظاً من التبديل والتغيير فكان دليلاً قائماً وبرهاناً ساطعاً على إثبات نبوة محمد صلى الله عليه وسلم إلى يوم الدين وكان خير حافظ للشريعة المحمدية من عبث العابثين وتحريف الغالين وانتحال المبطلين وكان وما يزال نوراً ساطعاً وضياءً للمتقين قال تعالى: {يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [المائدة:16] .

وقد أمر الله بطاعة الرسول، وجعل طاعته طاعة لله تعالى واتباعه سبباً في محبة الله وغفران الذنوب ونفى الإيمان عمن لم يرض بقضائه صلى الله عليه وسلم، ومما ورد فيه من الوعيد الشديد لمن خالف رسوله قال تعالى:
প্রথম অধ্যায়: সুন্নাহ যে ওহি (وحي) তা প্রমাণ করা

প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে

সুন্নাহে নববী হলো: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে—চাই তা বক্তব্য (قول), কর্ম (فعل) অথবা মৌন সম্মতি (تقرير) হোক। এটি ঐশী ওহি (وحي)-র দুটি প্রকারের মধ্যে একটি, যা বিশ্বস্ত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে অবতরণ করেছিলেন। ওহি (وحي)-র দ্বিতীয় প্রকার হলো পবিত্র কুরআন। সুতরাং সুন্নাহে নববী ওহি (وحي)-র অন্তর্ভুক্ত, এ প্রসঙ্গে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন ঘোষণা করেছে: "তিনি আপন প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না; তা তো কেবল ওহি (وحي), যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয়।" [আন-নাজম: ৩-৪]

সুতরাং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন বা সুন্নাহ থেকে যা কিছুই উচ্চারণ করেন, তা রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহি (وحي)। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমি উপদেশবাণী বা জিকির অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।" [আল-হিজর: ৯]

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনকে এমন এক ওহি (وحي) হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন যা কিয়ামত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে এবং যা রদবদল ও পরিবর্তন থেকে সুরক্ষিত। এটি কিয়ামত পর্যন্ত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত প্রমাণের এক অকাট্য দলিল এবং উজ্জ্বল প্রমাণ। আর এটি মুহাম্মাদি শরিয়তকে বাতিলপন্থীদের তামাশা, অতিরঞ্জনকারীদের বিকৃতি ও মিথ্যাচারীদের অপবাদ থেকে রক্ষার সর্বোত্তম মাধ্যম। এটি মুত্তাকিদের জন্য ছিল এবং সর্বদা এক প্রোজ্জ্বল আলোকবর্তিকা ও দিশারি হিসেবে থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এর মাধ্যমে আল্লাহ সেসব লোককে শান্তির পথ প্রদর্শন করেন, যারা তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং আপন নির্দেশে তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।" [আল-মায়িদাহ: ১৬]

আল্লাহ তাআলা রাসুলের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর আনুগত্যকে মহান আল্লাহর আনুগত্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। এছাড়া তাঁর অনুসরণকে আল্লাহর ভালোবাসা ও গুনাহ মাফের মাধ্যম করেছেন। আর যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিতে অস্বীকার করে, তার ইমান নাকচ করেছেন। আর যারা রাসুলের বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আল্লাহ তাআলা বলেন:
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ১৪)
{وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَاحْذَرُوا} [المائدة:92] وقال عز من قائل:

{مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء:80]

وقوله تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [آل عمران:31] ، {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} [الحشر:7] .

وقال جل شأنه: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً} [النساء:65] .

وقوله سبحانه: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالاً مُبِيناً} [الأحزاب:36]

وقوله جل شأنه: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور:63] (1) .

--------------------------------------------

(1) أصول الفقه الإسلامي لزكي الدين شعبان ص 64 – 65.
{আর তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো এবং সতর্ক থাকো} [আল-মায়িদাহ: ৯২] এবং মহান সত্তা বলেছেন:

{যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} [আন-নিসা: ৮০]

এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু} [আলে ইমরান: ৩১], {রাসুল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা} [আল-হাশর: ৭] ।

এবং মহান সত্তা বলেছেন: {না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেবেন সে ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো প্রকার সংকীর্ণতা না পায় এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়} [আন-নিসা: ৬৫] ।

এবং পবিত্র সত্তার বাণী: {আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর সেই বিষয়ে অন্য কোনো এখতিয়ার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্য হয়, সে তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় পথভ্রষ্ট হলো} [আল-আহজাব: ৩৬]

এবং মহান সত্তার বাণী: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসতে পারে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আপতিত হতে পারে} [আন-নূর: ৬৩] (১) ।

--------------------------------------------

(১) উসুলুল ফিকহ আল-ইসলামি - জাকিউদ্দিন শাবান, পৃষ্ঠা ৬৪-৬৫।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المبحث الثاني: ما جاء في السنة النبوية وأقوال الصحابة ومن بعدهم

جاءت السنة بذلك: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه ألا يوشك رجل شبعان على أريكته يقول: عليكم بهذا القرآن فما وجدتم فيه من حلال فأحلوه وما وجدتم فيه من حرام فحرموه ألا وإنَّ ما حَرَّم رسول الله صلى الله عليه وسلم كما حرَّمَ الله" (1) .

وعن حسان بن عطية أنه قال:"كان جبريل عليه السلام ينزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم بالسنة كما ينزل عليه بالقرآن ويعلمه إياها كما يعلمه القرآن" (2) .

وعن مكحول قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "آتاني الله القرآن ومن الحكمة مثليه" (3)

والوحي ينقسم إلى متلو وغير متلو، فالوحي المتلو هو القرآن الكريم ومن الوحي غير المتلو السنة النبوية لقوله تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود والترمذي وابن ماجه (أخرجه أبو داود 5/10، كتاب السنة باب لزوم السنة، ح 4604 وأخرجه الترمذي 5/38، كتاب العلم، باب ما نهي عنه أن يقال عن حديث النبي صلى الله عليه وسلمح 2664 وقال حديث حسن غريب، وأخرجه ابن ماجه 1/6، المقدمة باب تعظيم حديث رسول الله صلى الله عليه وسلموالتغليظ على من عارضه ح 12) عن المقداد بن معد يكرب، وحسنه الترمذي وصححه الحاكم.

(2) أخرجه أبو داود في مراسيله ص 361، باب في البدع، ح 536 ،وقال محققه شعيب الأرناؤوط: رجاله ثقات رجال الشيخين، غير أنّه مرسل.

(3) أخرجه أبو داود في مراسيله ص 359 باب البدع، ح 534، وقال محققه شعيب الأرناؤوط رجاله ثقات إلا شيخ أبي داود صدوق، غير أنّه مرسل.
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ এবং সাহাবী ও তাঁদের পরবর্তীদের বাণীর বর্ণনা

সুন্নাহর মাধ্যমে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং তার সাথে এরই অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! শীঘ্রই এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে, যে উদরপূর্তি করে নিজের পালঙ্কে হেলান দিয়ে বসে বলবে: তোমাদের জন্য এই কুরআনই যথেষ্ট। এতে যা হালাল পাবে তা-ই হালাল হিসেবে গ্রহণ করো আর যা হারাম পাবে তা-ই হারাম হিসেবে গ্রহণ করো। মনে রেখো, আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন তা আল্লাহ তাআলা যা হারাম করেছেন তারই অনুরূপ।" (১)।

হাসসান বিন আতিয়্যাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: "জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সুন্নাহ নিয়ে অবতীর্ণ হতেন যেমনিভাবে তিনি তাঁর নিকট কুরআন নিয়ে অবতীর্ণ হতেন এবং তিনি তাঁকে সুন্নাহ শিক্ষা দিতেন যেভাবে কুরআন শিক্ষা দিতেন।" (২)।

মাকহুল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ আমাকে কুরআন এবং হিকমতের (সুন্নাহর) অনুরূপ বিষয় প্রদান করেছেন।" (৩)

ওহী দুই ভাগে বিভক্ত: তিলাওয়াতকৃত (متلو) এবং তিলাওয়াতবিহীন (غير متلو)। তিলাওয়াতকৃত ওহী হলো পবিত্র কুরআন আর তিলাওয়াতবিহীন ওহী হলো সুন্নাহ। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না...

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন (আবু দাউদ ৫/১০, কিতাবুস সুন্নাহ, বাবু লুজুমিস সুন্নাহ, হাদিস ৪৬০৪; তিরমিযী ৫/৩৮, কিতাবুল ইলম, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস সম্পর্কে যা বলতে নিষেধ করা হয়েছে সেই পরিচ্ছেদ, হাদিস ২৬৬৪ এবং তিনি বলেছেন এটি হাসান গারীব (حسن غريب) হাদিস; ইবনে মাজাহ ১/৬, মুকাদ্দিমা, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের সম্মান এবং যে এর বিরোধিতা করে তার প্রতি কঠোরতা পরিচ্ছেদ, হাদিস ১২)। এটি মিকদাদ বিন মা'দীকারিব থেকে বর্ণিত। তিরমিযী একে হাসান (حسن) বলেছেন এবং হাকেম একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন।

(২) আবু দাউদ তাঁর মারাসিল গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, পৃ. ৩৬১, বিদআত পরিচ্ছেদ, হাদিস ৫৩৬। এর মুহাক্কিক শুআইব আরনাউত বলেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং শাইখাইনের বর্ণনাকারী, তবে এটি মুরসাল (مرسل)।

(৩) আবু দাউদ তাঁর মারাসিল গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, পৃ. ৩৫৯, বিদআত পরিচ্ছেদ, হাদিস ৫৩৪। এর মুহাক্কিক শুআইব আরনাউত বলেন: আবু দাউদের উস্তাদ সত্যবাদী (صدوق) হওয়া ছাড়া এর অন্য সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقات); তবে হাদিসটি মুরসাল (مرسل)।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ১৬)
،إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:3-4] وقوله: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء:80] إلى غير ذلك من الأدلة، غير أن السنة النبوية تفارق القرآن الكريم بأمور كثيرة أهمها:

1- أنها نزلت بالمعنى ولفظها من النبي صلى الله عليه وسلم ومن هنا جاز روايتها بالمعنى للخبير بمقاصدها العارف بمعانيها وألفاظها عند من يرى ذلك من العلماء.

2– أنها ليست معجزة بألفاظها.

3– ولا متعبداً بتلاوتها.

وقد يشكل على أن السنة بأقسامها: أقوالها وأفعالها وتقريراتها من الوحي ما قرره العلماء من جواز الاجتهاد له صلى الله عليه وسلم وأنه اجتهد في كثير من الوقائع في الحروب وغيرها، فَجعْلُ السنة موحى بها من الله سبحانه يعارض ما قرره جمهور العلماء فضلاً عن أنه يسلبه صلى الله عليه وسلم خصائصه ومزاياه من الفهم الثاقب والرأي الصائب. والجواب عن ذلك أنه صلى الله عليه وسلم وإن اجتهد في كثير من المواطن التي لم ينزل عليه فيها وحي بمقتضى ما فطر عليه من العقل السليم والنظر السديد إلا أَنَّ الله سبحانه لايتركه وشأنه، ولكن يقره إذا أصاب وينبهه إن أخطأ.

ومن هنا كان اجتهاده صلى الله عليه وسلم إذا أقره الله عليه وحياً حكماً فلا تعارض بين أن السنة وحي من الله وأن ذلك لا يسلبه صلى الله عليه وسلم شيئاً من خصائصه ومزاياه بل يؤكدها ويقررها (1) .

--------------------------------------------

(1) كتاب الحديث والمحدثون ص 11 وما بعدها بتصرف.
‘এটি কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়’ [আন-নাজম: ৩-৪] এবং মহান আল্লাহর বাণী: ‘যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল’ [আন-নিসা: ৮০] সহ আরও বহু দলিল রয়েছে। তবে সুন্নাহ নববী পবিত্র কুরআন থেকে অনেক দিক দিয়ে ভিন্ন, যার মধ্যে প্রধান হলো:

১- সুন্নাহর মর্মার্থ ওহীর মাধ্যমে নাযিল হয়েছে, তবে এর শব্দ চয়ন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে। এ কারণেই যে সকল আলেম মনে করেন তাদের নিকট সুন্নাহর উদ্দেশ্য ও শব্দের মর্মার্থ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তির জন্য অর্থগত বর্ণনা (روايتها بالمعنى) বৈধ।

২– এর শাব্দিক গঠন অলৌকিক (معجزة) নয়।

৩– এবং এটি তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইবাদত করা হয় না।

সুন্নাহর সকল প্রকার—বাণী (أقوال), কর্ম (أفعال) এবং মৌন সম্মতি (تقريرات)—ওহীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি আলেমদের নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর বৈধতা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। কারণ তিনি যুদ্ধ এবং অন্যান্য অনেক ঘটনার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করেছেন। সুতরাং সুন্নাহকে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী গণ্য করা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের (جمهور العلماء) সিদ্ধান্তের পরিপন্থী মনে হতে পারে, পাশাপাশি এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তীক্ষ্ণ মেধা ও সঠিক মতামতের মতো বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্বকেও অস্বীকার করার নামান্তর হতে পারে। এর উত্তর হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যদিও সুস্থ বিবেক ও সঠিক দূরদর্শিতার সহজাত গুণের ভিত্তিতে এমন অনেক ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করেছেন যেখানে কোনো ওহী অবতীর্ণ হয়নি, কিন্তু মহান আল্লাহ তাঁকে তাঁর নিজের অবস্থার ওপর ছেড়ে দেননি; বরং সঠিক হলে তিনি সেটিকে বহাল রাখতেন এবং ভুল হলে তাকে সতর্ক করে দিতেন।

এ দৃষ্টিকোণ থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইজতিহাদ যখন আল্লাহ কর্তৃক সমর্থিত হয়েছে, তখন তা হুকুমগতভাবে ওহী (وحياً حكماً) হিসেবে গণ্য। সুতরাং সুন্নাহ আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহী হওয়া এবং এর ফলে তাঁর বিশেষ গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্ব ক্ষুণ্ণ না হওয়ার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই; বরং এটি সেই গুণাবলিকে আরও সুসংহত ও প্রতিষ্ঠিত করে (১)।

--------------------------------------------

(১) হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন, পৃষ্ঠা ১১ ও পরবর্তী অংশ, পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وإننا لنلمس آثار رحمة الله تعالى وحكمته في أن جعل الوحي قسمين: قسماً: لا تجوز روايته بالمعنى بل لابد فيه من التزام الألفاظ المنزلة وهو القرآن الكريم، وقسماً: تجوز روايته بالمعنى لمن يستطيع ذلك وهو السنة النبوية المطهرة، وفي ذلك صون الشريعة والتخفيف عن الأمة ولو كان الوحي كله من قبيل القرآن الكريم في التزام أدائه بلفظه لشق الأمر وعظم الخطب ولما استطاع الناس أن يقوموا بحمل هذه الأمانة الإلهية.

ولو كان الوحي كله من قبيل السنة في جواز الرواية بالمعنى لكان فيه مجال للريب ومثار للشك ومغمز للطاعنين ومنفذ للملحدين، إذ يقولون لا نأمن أخطاء الرواة في أداء الشريعة ولا نثق بقول نقلة العقائد والأحكام والآداب، ولكِنَّ الله جلت حكمته صان الشريعة بالقرآن ورفع الإصر عن الأمة بتجويز رواية السنة في الحدود السابقة؛ لئلا يكون للناس على الله حجة (1) .

--------------------------------------------

(1) كتاب الحديث والمحدثون ص 19 وما بعدها (بتصرف) .
আমরা মহান আল্লাহ তায়ালার রহমত ও হিকমতের প্রভাব অনুভব করি এই যে, তিনি ওহিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: একভাগ—যার অর্থগত বর্ণনা (رواية بالمعنى) বৈধ নয় বরং তাতে অবতীর্ণ শব্দাবলি মেনে চলা আবশ্যক, আর তা হলো পবিত্র কুরআন; এবং অন্যভাগ—যার ক্ষেত্রে সক্ষম ব্যক্তির জন্য অর্থগত বর্ণনা (رواية بالمعنى) বৈধ এবং তা হলো পবিত্র সুন্নাহ। এর মধ্যে শরিয়তের সংরক্ষণ এবং উম্মতের জন্য সহজীকরণ নিহিত রয়েছে। যদি সম্পূর্ণ ওহিই শব্দে শব্দে বর্ণনা করার বাধ্যবাধকতার দিক থেকে পবিত্র কুরআনের মতো হতো, তবে বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন হতো এবং সংকট ঘনীভূত হতো, আর মানুষ এই খোদায়ী আমানত বহন করতে সক্ষম হতো না।

যদি সম্পূর্ণ ওহিই অর্থগত বর্ণনার (رواية بالمعنى) বৈধতার ক্ষেত্রে সুন্নাহর মতো হতো, তবে তাতে সংশয়ের অবকাশ থাকতো, সন্দেহের উদ্রেক হতো, সমালোচকদের ছিদ্রান্বেষণের সুযোগ সৃষ্টি হতো এবং নাস্তিকদের প্রবেশের পথ তৈরি হতো। কারণ তখন তারা বলত যে, শরিয়ত বর্ণনার ক্ষেত্রে আমরা বর্ণনাকারীদের (رواة) ভুল থেকে নিরাপদ নই এবং আকাইদ, আহকাম ও আদাব বর্ণনাকারীদের কথার ওপর আমরা আস্থা রাখি না। কিন্তু সুমহান হিকমতের অধিকারী আল্লাহ কুরআনের মাধ্যমে শরিয়তকে সুরক্ষিত করেছেন এবং উপরিউক্ত সীমার মধ্যে সুন্নাহর বর্ণনার অনুমতি দিয়ে উম্মতের ওপর থেকে কঠিন বোঝা দূর করেছেন; যাতে আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে (১)।

--------------------------------------------

(১) কিতাবুল হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন, পৃষ্ঠা ১৯ এবং পরবর্তী (পরিমার্জিত)।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الفصل الثاني: كيف حفظت السنة؟؟

‌‌المبحث الأول: جهود الصحابة في حفظ السنة في النبي صلى الله عليه وسلم

‌‌مدخل

…

الفصل الثاني: كيف حفظت السنة؟؟

المبحث الأول: جهود الصحابة في حفظ السنة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم

كان من رحمة الله بالإنسانية جمعاء أن بعث فيهم رسولاً من أنفسهم يتلو عليهم آياته ويزكيهم ويعلمهم الكتاب والحكمة. وهذا الرسول هو محمد بن عبد الله بن عبد المطلب أشرف الناس نسباً وأكرم قريش أصلاً.

بدأ رسول الله صلى الله عليه وسلم الدعوة إلى الله سرّاً حتى لا يفجأ القوم بها وهم غارقون في جهلهم هائمون في غيهم.فتبعه منهم نفر قلائل لا يتجاوزون أصابع اليد، ثم جهر بالدعوة إلى الله عز وجل فدخل في الدين من علية القوم كثير، دخلوا الإسلام على بينة من أمره واستمعوا إلى كتاب الله وسنة نبيهم فخالطت بشاشة الإيمان قلوبهم، ولاسيما وهم متعطشون إلى ما ينقذهم من ظلمات الشرك ويهديهم إلى سبل السلام فصادف الإسلام قلوباً مستعدة ونفوساً متلهفة متهيأة فتمكن منها كل التمكن وجرى الإيمان فيهم مجرى الدم في عروقهم.

ذلك أنهم عرفوا من الرسول صلى الله عليه وسلم أن هذا الدين هو منبع سعادتهم ومعقد عزهم وسبب نهضتهم فعقدوا عليه خناصرهم وأحبوا رسول الله حباً يعلو على حب الآباء والأبناء وانكبوا على ما جاءهم به من القرآن يحفظونه وعلى ما حدثهم به من بيان للكتاب
দ্বিতীয় অধ্যায়: সুন্নাহ (سنة) কীভাবে সংরক্ষিত হয়েছে??

প্রথম পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সুন্নাহ (سنة) সংরক্ষণে সাহাবীদের (صحابة) প্রচেষ্টা

ভূমিকা

…

দ্বিতীয় অধ্যায়: সুন্নাহ (سنة) কীভাবে সংরক্ষিত হয়েছে??

প্রথম পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সুন্নাহ (سنة) সংরক্ষণে সাহাবীদের (صحابة) প্রচেষ্টা

সমগ্র মানবজাতির প্রতি আল্লাহর রহমতের বহিঃপ্রকাশ ছিল যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন। আর এই রাসূল হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, যিনি বংশমর্যাদায় মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং কুরাইশ বংশের মূলে সবচেয়ে সম্মানিত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দিকে গোপনে দাওয়াত শুরু করেন, যাতে জাতি যখন তাদের অজ্ঞতায় নিমজ্জিত এবং পথভ্রষ্টতায় দিশেহারা, তখন এই দাওয়াত তাদের আকস্মিকভাবে বিচলিত না করে। ফলে তাদের মধ্য থেকে অল্প কয়েকজন লোক তাঁর অনুসরণ করেন, যাদের সংখ্যা হাতের আঙুলের বেশি ছিল না। অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর দিকে প্রকাশ্যে দাওয়াত প্রদান করেন, ফলে সম্প্রদায়ের উচ্চপদস্থ অনেক লোক এই দ্বীনে প্রবেশ করেন। তারা বিষয়টির সুস্পষ্ট প্রমাণের (بينة) ভিত্তিতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁদের নবীর সুন্নাহ (سنة) শ্রবণ করেন। ফলে ঈমানের (إيمان) মাধুর্য তাদের অন্তরে মিশে যায়, বিশেষ করে যখন তারা এমন কিছুর জন্য তৃষ্ণার্থ ছিলেন যা তাদেরকে শিরকের (شرك) অন্ধকার থেকে রক্ষা করবে এবং শান্তির পথে পরিচালিত করবে। ফলে ইসলাম এমন কিছু প্রস্তুত অন্তর ও ব্যাকুল আত্মার সাক্ষাৎ পেল যে, তা তাদের ওপর পূর্ণরূপে গেঁথে গেল এবং ঈমান (إيمان) তাদের ধমনীতে রক্ত প্রবাহের ন্যায় মিশে গেল।

এর কারণ ছিল এই যে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে জেনেছিলেন যে, এই দ্বীনই তাদের সুখের উৎস, সম্মানের কেন্দ্রবিন্দু এবং তাদের জাগরণের মূল কারণ। তাই তারা একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরলেন এবং রাসূলুল্লাহকে তাঁদের পিতা ও সন্তানদের চেয়েও অধিক ভালোবাসলেন। তারা তাঁর নিকট আসা কুরআনের ওপর একাগ্রচিত্তে নিবিষ্ট হলেন এবং তা মুখস্থ করতে শুরু করলেন, আর কিতাবের ব্যাখ্যা হিসেবে তিনি যা বর্ণনা করতেন তার ওপরও মনোনিবেশ করলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ১৯)
أو تشريع للأحكام فجمعوه في صدورهم وطبقوه على جميع أحوالهم، ثم كانت الهجرة إلى المدينة فانفسح المجال لاستماع القرآن وحضور مجالس النبي صلى الله عليه وسلم.

علم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم للسنة مكانها من الدين وأنها الركن الثاني في بنائه القويم بعد الكتاب العزيز كما علموا وصية الله تعالى باتباعها وتحذيره الشديد من مخالفتها، وأن من فَرَّطَ في أمرها أو تهاون بشأنها فهو محروم، ومن حفظها وعمل بها فهو سعيد مشكور.

ولم يخف عليهم أن القرآن العزيز رفع من شأن العلم والعلماء وحط من شأن الجهل والجهلاء فقال: {قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لا يَعْلَمُونَ} [الزمر:9] وقال: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} [المجادلة:11] وحث على التفقه في الدين وتبليغه إلى الناس فقال: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة:122] .

كما لم يخف عليهم الوعيد الشديد على كتمان العلم في قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى مِنْ بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ أُولَئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ} [البقرة:159] .

وكما جاءت الآيات القرآنية حاثة لهم على تعلم الدين وأحكامه ودرسه ونشره كذلك جاءت الأحاديث النبوية محببة إليهم حمل العلم والتفقه في الدين محذرةً لهم من كتمانه حاضةً على تبليغه إلى الناس فقال
অথবা বিধিবিধানের প্রণয়ন; তাঁরা তা নিজেদের হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন এবং তাঁদের সকল অবস্থায় তা প্রয়োগ করেছিলেন। অতঃপর মদীনায় হিজরত সংঘটিত হলো, ফলে কুরআন শ্রবণ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ প্রশস্ত হলো।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ দ্বীনের মধ্যে সুন্নাহর (السنة) অবস্থান সম্পর্কে জানতেন এবং এটি যে মহাগ্রন্থের পর ইসলামের সুদৃঢ় ইমারতের দ্বিতীয় স্তম্ভ, তাও তাঁরা অনুধাবন করেছিলেন। যেমন তাঁরা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এটি অনুসরণের নির্দেশ এবং এর বিরোধিতা করার ব্যাপারে তাঁর কঠোর সতর্কবাণী সম্পর্কে অবগত ছিলেন। আর যে ব্যক্তি এর বিষয়ে অবহেলা করে বা একে তুচ্ছজ্ঞান করে, সে বঞ্চিত; আর যে একে সংরক্ষণ করে ও তদানুযায়ী আমল করে, সে সৌভাগ্যবান ও প্রশংসিত।

মহাগ্রন্থ কুরআন যে ইলম ও আলিমগণের মর্যাদা সুউচ্চ করেছে এবং অজ্ঞতা ও অজ্ঞদের মর্যাদাকে খাটো করেছে, তা তাঁদের কাছে গোপন ছিল না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?} [যুমার: ৯]। তিনি আরও বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করবেন} [মুজাদালাহ: ১১]। তিনি দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন (التفقه في الدين) এবং মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেন: {আর মুমিনদের পক্ষে দলবদ্ধভাবে বের হওয়া সংগত নয়; তবে তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন (التفقه في الدين) করতে পারে এবং তাদের কওম যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন যেন তারা তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হয়} [তাওবাহ: ১২২]।

একইভাবে জ্ঞান গোপন করার বিষয়ে আল্লাহ তাআলার বাণীতে বর্ণিত কঠোর হুঁশিয়ারিও তাঁদের কাছে অস্পষ্ট ছিল না: {নিশ্চয়ই যারা গোপন করে আমি যেসব সুস্পষ্ট নিদর্শন ও হিদায়াত নাযিল করেছি, মানুষের জন্য কিতাবে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পর; আল্লাহ তাদের অভিশাপ দেন এবং অভিশাপকারীরাও তাদের অভিশাপ দেয়} [বাকারা: ১৫৯]।

কুরআনের আয়াতসমূহ যেমন তাঁদেরকে দ্বীন ও এর বিধানাবলি শিখতে, তা অধ্যয়ন করতে এবং প্রচার করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, তেমনি নববী হাদিসসমূহও তাঁদের কাছে ইলম বহন করা এবং দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনকে (التفقه في الدين) প্রিয় করে তুলেছে; সেই সঙ্গে ইলম গোপন করার ব্যাপারে সতর্ক করেছে এবং মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে। অতঃপর তিনি বললেন
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ২০)
صلى الله عليه وسلم: "من يرد الله به خيراً يفقهه في الدين" (1) "الدنيا ملعونة. ملعون ما فيها إلا ذكر الله وما والاه وعالماً ومتعلماً" (2) .

"نضر الله امرأً سمع منا شيئاً فَبَلَّغهُ كما سمعهُ فَرُبَّ مُبلَّغٍ أوعى من سامع" (3) "من سلك طريقاً يلتمس فيه علماً سهل الله له به طريقاً إلى الجنة" (4) "من سُئل عن علمٍ فكتمه جاء يوم القيامة ملجماً بلجام من نار" (5) والآيات والأحاديث في هذا الباب كثيرة شهيرة.

ملكت هذه الآيات والأحاديث على الصحابة مشاعرهم وأخذت عليهم ألبابهم وأفعمت قلوبهم حباً لله ورسوله صلى الله عليه وسلم وألهبت نفوسهم نشاطاً نحو العلم والعمل فلم يدخروا وسعاً في حفظ الأحكام والسنن، وضحوا في سبيل ذلك بأموالهم وأنفسهم. وإلى جانب هذه الحمية الدينية استعداد فطري ونشاط طبيعي هو استعداد الحافظة ونشاط الذاكرة وسرعة الخاطر وقوة الذكاء وكمال العبقرية، فالصحابة

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه مع الفتح 1/164، كتاب العلم، باب من يرد الله به خيراً يفقهه في الدين ح 71، وأخرجه مسلم 2/718، كتاب الزكاة، باب النهي عن المسألة ح 98 (1037) .

(2) أخرجه ابن ماجه 2/1377، كتاب الزهد، باب مثل الدنيا، ح 4112، وحسنه الألباني كما في صحيح سنن ابن ماجه 2/395، ح 3320.

(3) أخرجه الترمذي 5/ 34، كتاب العلم، باب ما جاء في الحث على تبليغ السماع، ح 2657، وقال: هذا حديث حسن صحيح.

(4) أخرجه مسلم 4/ 2074، كتاب الذكر، باب فضل الاجتماع على تلاوة القرآن وعلى الذكر ح 38 (2699) .

(5) أخرجه أحمد بن حنبل في المسند 2/ 296 و 495، مسند أبى هريرة، وقال أحمد شاكر - في تحقيقه للمسند 14/5، ح 7561 -: إسناده صحيح.
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন" (১) "দুনিয়া অভিশপ্ত। এতে যা কিছু আছে সবই অভিশপ্ত, তবে আল্লাহর জিকির (স্মরণ), তাঁর আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ এবং আলেম (জ্ঞানী) ও তালিবে ইলম (শিক্ষার্থী) ব্যতীত" (২)।

"আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো কথা শুনেছে এবং তা ঠিক সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে যেভাবে সে শুনেছিল; কেননা অনেক সময় যার কাছে পৌঁছানো হয় সে শ্রবণকারীর তুলনায় অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে" (৩) "যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন" (৪) "যাকে কোনো জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো এবং সে তা গোপন করল, কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে" (৫) এ বিষয়ে আয়াত ও হাদিসসমূহ সংখ্যায় অনেক এবং অত্যন্ত সুপ্রসিদ্ধ।

এই আয়াত ও হাদিসসমূহ সাহাবায়ে কিরামের আবেগ-অনুভূতিকে জয় করে নিয়েছিল, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে আচ্ছন্ন করেছিল এবং তাদের অন্তরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসায় কানায় কানায় পূর্ণ করে দিয়েছিল। এগুলো তাদের মাঝে জ্ঞানার্জন ও আমলের প্রতি প্রবল উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল, ফলে তারা বিধি-বিধান ও সুন্নাহ সংরক্ষণে কোনো ত্রুটি করেননি এবং এ পথে তারা নিজেদের সম্পদ ও জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এই ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি তাদের ছিল এক সহজাত প্রতিভা ও প্রাকৃতিক কর্মতৎপরতা; আর তা হলো তাদের অনন্য মুখস্থ শক্তি, প্রখর স্মৃতিশক্তি, উপস্থিত বুদ্ধি, তীক্ষ্ণ মেধা ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিভা। ফলে সাহাবীগণ...

--------------------------------------------

(১) বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে ফাতহুল বারীসহ ১/১৬৪, কিতাবুল ইলম, পরিচ্ছেদ: আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন, হাদিস নং ৭১-এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিম ২/৭১৮, কিতাবুজ জাকাত, পরিচ্ছেদ: যাঞ্চা করা থেকে নিষেধাজ্ঞা, হাদিস নং ৯৮ (১০৩৭)-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) ইবনে মাজাহ ২/১৩৭৭, কিতাবুজ জুহদ, পরিচ্ছেদ: দুনিয়ার দৃষ্টান্ত, হাদিস নং ৪১১২-এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি এটিকে হাসান (حسن) বলেছেন যেমনটি সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ ২/৩৯৫, হাদিস নং ৩৩২০-এ রয়েছে।

(৩) তিরমিজি ৫/৩৪, কিতাবুল ইলম, পরিচ্ছেদ: শ্রবণকৃত বিষয় পৌঁছে দিতে উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে, হাদিস নং ২৬৫৭-এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) হাদিস।

(৪) মুসলিম ৪/২০৭৪, কিতাবুজ জিকর, পরিচ্ছেদ: কুরআন তিলাওয়াত ও জিকিরের জন্য একত্রিত হওয়ার ফজিলত, হাদিস নং ৩৮ (২৬৯৯)-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

(৫) আহমদ ইবনে হাম্বল মুসনাদ-এ ২/২৯৬ ও ৪৯৫ পৃষ্ঠায় এটি বর্ণনা করেছেন, মুসনাদে আবু হুরায়রাহ; এবং আহমদ শাকির - মুসনাদের তাহকিকে ১৪/৫, হাদিস নং ৭৫৬১ - বলেছেন: এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ২১)
عرب خلص أكثرهم أميون لا يقرؤون ولا يكتبون فكل اعتمادهم على ملكتهم في الحفظ وقوة شأنهم فيه، واعتبر ذلك بحالهم في الجاهلية فقد حفظوا أنسابهم ومناقبهم وأشعارهم وخطبهم وكثيراً ما كانت تقع بينهم المفاخرة بالأنساب والأحساب فلا يسعفهم غير اللسان يثيرون به ما حفظوه من أخبارهم وأخبار خصومهم مما يرفع من شأنهم ويحط من شأن أعدائهم، فكان كل امرئٍ منهم على مقدار حفظه وقوة وعيه ترجمان قبيلته يرفع من قدرها ويتحدث عن مفاخرها وأحسابها والقوم من ورائه كأنهم سجل مليء بالحوادث والأخبار وكتاب شحن بالتواريخ والآثار، ساعدهم حبهم للتفاخر بالأحساب والأنساب والتنابز بالمثالب والألقاب مع ما رسخ فيهم من عصبية قبلية على إجادة الحفظ والضبط ونشاط في الذاكرة لم يتوافر في أمة من الأمم.

وكأن الله تعالت قدرته هيأ هذه الأمة العربية على هذا الاستعداد الهائل إرهاصاً لنبوة محمد صلى الله عليه وسلم فكانت هذه الصدور الحافظة مهدا لآي الذكر الحكيم، وكانت هذه القلوب الواعية أوعية لحديث النبي الكريم فاندفع هؤلاء الصحابة الأجلاء إلى تلقي حديث رسول الله بِنَهَم عظيم وشوق كبير، وأظهر الله بهم دينه على الدين كله، وكان أمر الله قدراً مقدورا.

نعم تظاهر هذان العاملان … العامل الروحي والعامل الفطري فأتى القوم بمالم تأت به أمة من يوم أن بعث الله تعالى رسله إلى الخلق فحفظوا كتاب ربهم وسنة نبيهم واتخذوا شريعته نبراساً في أمر معاشهم ومعادهم وبلغوها إلى الناس على وجهها غضةً طريةً.
তারা ছিলেন খাঁটি আরব, যাদের অধিকাংশই ছিল নিরক্ষর; তারা পড়তে বা লিখতে জানতেন না। ফলে তাদের সমস্ত নির্ভরতা ছিল তাদের মুখস্থ করার সহজাত মেধা ও এই ক্ষেত্রে তাদের প্রখর শক্তির ওপর। জাহেলিয়াত যুগে তাদের অবস্থার দিকে তাকালে এটি স্পষ্ট হয়; তারা তাদের বংশলতিকা, গুণাবলি, কবিতা ও ভাষণসমূহ মুখস্থ রাখত। তাদের মধ্যে প্রায়শই বংশমর্যাদা ও আভিজাত্য নিয়ে গর্ব করার প্রতিযোগিতা চলত, যেখানে বাগ্মিতা ছাড়া তাদের আর কোনো সহায় ছিল না। এর মাধ্যমেই তারা নিজেদের ও প্রতিপক্ষের সংরক্ষিত সংবাদগুলো তুলে ধরত, যা তাদের মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করত এবং শত্রুদের হীন প্রতিপন্ন করত। তাদের প্রত্যেকেই নিজের মুখস্থ শক্তি ও প্রখর সচেতনতার মাত্রা অনুযায়ী নিজ গোত্রের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করত, যে গোত্রের মর্যাদা বৃদ্ধি করত এবং তাদের গৌরবগাথা ও আভিজাত্য নিয়ে আলোচনা করত। তাদের পেছনের সমাজটি ছিল যেন ঘটনা ও সংবাদে পরিপূর্ণ একটি নথিপত্র এবং ইতিহাস ও ঐতিহ্যের (آثار) আধার। বংশমর্যাদা ও আভিজাত্য নিয়ে গর্ব করার আকাঙ্ক্ষা, একে অপরের দোষত্রুটি ও উপাধি নিয়ে বিদ্রূপ করা এবং তাদের মধ্যে প্রোথিত গোত্রীয় সংহতি তাদেরকে মুখস্থ (حفظ) ও নিখুঁতভাবে সংরক্ষণের (ضبط) পারদর্শিতা এবং স্মৃতির এমন এক সক্রিয়তা অর্জনে সহায়তা করেছিল, যা অন্য কোনো জাতির মধ্যে বিদ্যমান ছিল না।

যেন আল্লাহ তাআলা তাঁর সুউচ্চ কুদরতে এই আরব জাতিকে এমন এক বিশাল প্রস্তুতির জন্য তৈরি করেছিলেন যা ছিল মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াতের প্রাক-নিদর্শন (إرهاص)। ফলে এই মুখস্থকারী (حفظ) অন্তরগুলোই ছিল প্রজ্ঞাপূর্ণ জিকিরের (কুরআন) আধার এবং এই সচেতন হৃদয়গুলো ছিল দয়ালু নবীর হাদিসের পাত্র। এরপর এই মহান সাহাবীগণ অত্যন্ত ব্যাকুলতা ও প্রবল আগ্রহের সাথে আল্লাহর রাসূলের হাদিস গ্রহণের দিকে ধাবিত হলেন। আল্লাহ তাদের মাধ্যমেই তাঁর দ্বীনকে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করলেন; আর আল্লাহর নির্দেশ ছিল সুনির্ধারিত।

হ্যাঁ, এই দুটি কারণ … আধ্যাত্মিক কারণ ও সহজাত কারণের সমন্বয়ে এই জাতি এমন এক কীর্তি স্থাপন করেছিল, যা সৃষ্টিজগতের নিকট রসূল প্রেরণের দিন থেকে আজ পর্যন্ত অন্য কোনো জাতি করতে পারেনি। তারা তাদের রবের কিতাব ও তাদের নবীর সুন্নাহ সংরক্ষণ করেছিলেন এবং তাদের ইহকাল ও পরকালের বিষয়ে তাঁর শরিয়তকে আলোকবর্তিকা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং মানুষের কাছে তা সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছিলেন যেভাবে তা সতেজ ও অবিকৃত অবস্থায় ছিল।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌أ - مجالس النبي صلى الله عليه وسلم العلمية:

لم يكن للنبي صلى الله عليه وسلم مدرسة مشيدة ولا معهد للتعليم يجلس فيه إلى أصحابه، بل كانت مجالسه العلمية كيفما اتفق فهو في الجيش معلم وواعظ يلهب القلوب بوعظه ويحمس الجنود بقوله وهو في السفر مرشد وهاد وهو في البيت يعلم أهله، وهو في المسجد مدرس وخطيب وقاض ومفت، وهو في الطريق يستوقفه أضعف الناس ليسأله عن أمر دينه فيقف، وهو على كل أحواله مرشد وناصح ومعلم، إلا أنه كثيراً ما يعقد لأصحابه المجالس العلمية بالمسجد حيث يجتمعون فيه في أغلب الأوقات لأداء فريضة الصلاة فكان يتخولهم بالموعظة والدرس تلو الدرس حتى لا يملوا ويسأموا، فعن ابن مسعود رضي الله عنه أنه قال "كان النبي صلى الله عليه وسلم يتخولنا بالموعظة في الأيام كراهة السآمة علينا" (1) . وفي هذه المجالس كان صلى الله عليه وسلم يفيض على أصحابه من الكلم الطيب والعلم النافع والهدى الرشيد ما يشرح صدورهم ويفعم قلوبهم، وكانوا يحضرون أولادهم مجالس الرسول صلى الله عليه وسلم لسماع حديثه والتأدب بآدابه وكان عليه السلام كثيراً ما يستفتى فيفتي، أو يسأل فيجيب، أو تقع أمامه الحادثة فيكشف عن حكم الله فيها، أو تنزل عليه الآية من القرآن فيفصح عن مراد الله منها، أو يقع من بعض الصحابة عمل لم يكن يعرف حكمه فيسكت إيذاناً منه بأنه جائز في الدين.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري كما في الفتح 1/162، كتاب العلم، باب ما كان النبيصلى الله عليه وسلميتخولهم بالموعظة … إلخ، وأخرجه مسلم 4/2172 كتاب صفات المنافقين، باب الاقتصاد في الموعظة ح 82 (2821) .
ক - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইলমি মজলিসসমূহ:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কোনো সুউচ্চ বিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না যেখানে তিনি তাঁর সাহাবীদের নিয়ে বসতেন, বরং তাঁর ইলমি মজলিসগুলো পরিবেশ ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে যখন যেখানে সম্ভব হতো সেখানেই অনুষ্ঠিত হতো। তিনি যুদ্ধের ময়দানে একজন শিক্ষক ও নসিহত প্রদানকারী ছিলেন, যিনি তাঁর উপদেশের মাধ্যমে অন্তরে উদ্দীপনা সৃষ্টি করতেন এবং তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে সৈন্যদের উৎসাহিত করতেন। সফরে তিনি ছিলেন একজন পথপ্রদর্শক ও দিশারি, বাড়িতে নিজ পরিবারকে শিক্ষাদানকারী, আর মসজিদে তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক, খতিব, বিচারক ও মুফতি। এমনকি পথে চলার সময় অতি সাধারণ কোনো মানুষও তাঁকে দ্বীনি বিষয়ে জিজ্ঞাসার জন্য থামালে তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন। তিনি তাঁর সর্বাবস্থায় একজন পথপ্রদর্শক, হিতাকাঙ্ক্ষী ও শিক্ষক ছিলেন। তবে তিনি প্রায়শই মসজিদে সাহাবীদের জন্য ইলমি মজলিসের আয়োজন করতেন, যেখানে তারা অধিকাংশ সময় ফরজ নামাজ আদায়ের জন্য সমবেত হতেন। সেখানে তিনি তাদের বিরক্তি বা ক্লান্তি দূর করার লক্ষ্যে সময় ও অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে উপযুক্ত বিরতি দিয়ে নসিহত ও পাঠ দান করতেন। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বিরক্তির আশঙ্কায় নির্দিষ্ট বিরতি দিয়ে আমাদের নসিহত প্রদান করতেন" (১)। এই মজলিসগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের ওপর পবিত্র বাণী, উপকারী ইলম এবং সঠিক হেদায়েতের বারিধারা বর্ষণ করতেন, যা তাদের অন্তরকে প্রশস্ত ও পরিতৃপ্ত করত। সাহাবীগণ তাঁদের সন্তানদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মজলিসে নিয়ে আসতেন যাতে তারা তাঁর হাদিস শ্রবণ করতে পারে এবং তাঁর শিষ্টাচারের মাধ্যমে আদব শিক্ষা করতে পারে। তিনি আলাইহিস সালাম প্রায়শই ফতোয়া জিজ্ঞাসিত হতেন এবং তিনি ফতোয়া দিতেন, অথবা কোনো প্রশ্ন করা হলে উত্তর দিতেন, কিংবা তাঁর সামনে কোনো ঘটনা ঘটলে তিনি সে বিষয়ে আল্লাহর বিধান বর্ণনা করতেন। অথবা তাঁর ওপর কুরআনের কোনো আয়াত নাজিল হলে তিনি তা থেকে আল্লাহর উদ্দেশ্য সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতেন। কিংবা কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে এমন কোনো কাজ সংঘটিত হতো যার বিধান আগে জানা ছিল না, সেক্ষেত্রে তিনি মৌনতা অবলম্বন করতেন, যা সেই কাজটি দ্বীনের মধ্যে বৈধ হওয়ার সংকেত বহন করত।

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه) যেমনটি ফাতহুল বারী ১/১৬২-তে রয়েছে, কিতাবুল ইলম, পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নসিহতের মাধ্যমে যেভাবে তাঁদের খোঁজখবর নিতেন... ইত্যাদি; এবং মুসলিম এটি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه) ৪/২১৭২, কিতাব সিফাতুল মুনাফিকিন, পরিচ্ছেদ: নসিহতে পরিমিতিবোধ, হাদিস নং ৮২ (২৮২১)।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ولاتظن أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان ملكاً محجوباً عن رعيته أو سلطاناً مترفعاً عن الاختلاط بأفراد أمته، بل كان على عكس ذلك متقلباً بين ظهرانيهم يبلغ رسالة ربه ويعود مرضاهم ويشيع موتاهم ويفصل في قضاياهم ويفض منازعاتهم ويقضي على اختلافاتهم وهم في كل ذلك مقبلون عليه بآذان صاغية وقلوب واعية.

هذا ولم يكن الصحابة رضي الله عنهم في حضور مجالسه العلمية سواء، بل كان منهم من يلازمه ولا يتخلف عنه في الحضر ولا في السفر كما كان من أبى بكر وأبى هريرة رضي الله عنهما. وكان منهم من يتخلف عنه في بعض الأوقات لقضاء مصالحه المعيشية كزراعة أو تجارة أو نحوها أو الخروج في سرية إلى غير ذلك، ومع ذلك فكانوا حريصين على ما فاتهم من دروس النبي صلى الله عليه وسلم فإذا ما حضروا سألوا واستفسروا.

وكان من الصحابة من يشتد به الحرص على حديث رسول صلى الله عليه وسلم فيتناوب حضور مجالسه مع جار له يحضر هذا يوما وهذا يوما ثم يخبر كل منهما صاحبه عما سمعه في يومه فعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه "أنه كان هو وجارٌ له من الأنصار يتناوبان مجالس رسول الله صلى الله عليه وسلم ويخبر كل منهما صاحبه بما رآه أو سمعه" (1) ، أما من بعدت عليهم الشُّقة فكانوا إذا نزلت بهم نازلة وأشكل عليهم حلها، فإنهم يضربون أكباد الإبل إلى مدينة رسول الله صلى الله عليه وسلم ليقفوا على حكم الله فيما عرض لهم من الحوادث وربما مكثوا في أسفارهم الأيام والليالي ذوات العدد.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه مع الفتح 1/185، كتاب العلم باب التناوب في العلم ح 89.
আর মনে করবেন না যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রজাদের থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো রাজা ছিলেন কিংবা তাঁর উম্মতের সদস্যদের সাথে মেলামেশা থেকে বিমুখ কোনো দাম্ভিক সুলতান ছিলেন। বরং তিনি ছিলেন এর ঠিক বিপরীত; তিনি তাঁদের মাঝেই অবস্থান করতেন, আপন রবের বাণী পৌঁছে দিতেন, তাঁদের অসুস্থদের দেখতে যেতেন, তাঁদের জানাজায় শরিক হতেন, তাঁদের বিষয়সমূহে ফয়সালা দিতেন এবং বিবাদ মীমাংসা করতেন ও তাঁদের মতভেদ দূর করতেন। আর এই সবকিছুতেই তাঁরা একাগ্র চিত্তে এবং সচেতন হৃদয়ে তাঁর দিকে নিবিষ্ট থাকতেন।

তদুপরি, সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁর ইলমি মজলিসসমূহে উপস্থিতির ক্ষেত্রে সমান ছিলেন না। বরং তাঁদের মাঝে এমন কেউ ছিলেন যারা সবসময় তাঁর সঙ্গে লেগে থাকতেন এবং আবস্থানকালে কিংবা সফরে কখনোই তাঁর থেকে দূরে থাকতেন না, যেমনটি ছিলেন আবু বকর ও আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)। আবার তাঁদের মাঝে এমন কেউ ছিলেন যারা কৃষি, ব্যবসা বা এজাতীয় জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে কিংবা কোনো যুদ্ধাভিযানে (سرية) গমনের কারণে বা অন্যান্য কারণে কোনো কোনো সময় তাঁর থেকে অনুপস্থিত থাকতেন। এতৎসত্ত্বেও, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পাঠের মধ্যে যা তাঁদের থেকে বাদ পড়ে যেত সে বিষয়ে তাঁরা অত্যন্ত লালায়িত থাকতেন; ফলে যখন তাঁরা উপস্থিত হতেন, তখন তাঁরা জিজ্ঞাসা ও অনুসন্ধান করতেন।

সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে কেউ কেউ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের প্রতি এতটাই আগ্রহী ছিলেন যে, তাঁরা তাঁদের কোনো প্রতিবেশীর সাথে পালাক্রমে মজলিসে উপস্থিত হতেন; একজন একদিন উপস্থিত হতেন এবং অন্যজন অন্যদিন। এরপর তাঁদের প্রত্যেকেই সেদিন যা শুনেছেন তা তাঁর সঙ্গীকে জানিয়ে দিতেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, "তিনি এবং তাঁর এক আনসারী প্রতিবেশী পালাক্রমে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মজলিসসমূহে উপস্থিত হতেন এবং তাঁদের প্রত্যেকেই যা দেখতেন বা শুনতেন তা আপন সঙ্গীকে অবহিত করতেন।" (১) আর যাঁদের আবাসস্থল দূরে ছিল, তাঁদের সামনে যখন কোনো নতুন সমস্যা (نازلة) উপস্থিত হতো এবং তার সমাধান তাঁদের নিকট অস্পষ্ট হয়ে যেত, তখন তাঁরা উটের পিঠে সওয়ার হয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শহর মদিনার অভিমুখে যাত্রা করতেন, যাতে উদ্ভূত পরিস্থিতির ব্যাপারে আল্লাহর বিধান অবগত হতে পারেন। অনেক সময় তাঁরা তাঁদের সফরে বহু দিন ও রাত অতিবাহিত করতেন।

--------------------------------------------

(১) বুখারি তাঁর সহিহ-এ ফাতহুল বারীসহ ১/১৮৫ পৃষ্ঠায় এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন; কিতাবুল ইলম, ইলমের ক্ষেত্রে পালাবদল সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৮৯।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فعن عقبة بن الحارث أنه أخبرته امرأة بأنها أرضعته هو وزوجه فركب من فوره - وكان بمكة - قاصداً المدينة حتى بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم فسأله عن حكم الله فيمن يتزوج امرأة لا يعلم أنها أخته من الرضاع ثم أخبرته بذلك من أرضعتهما فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: "كيف وقد قيل" (1) ففارق زوجته لوقته.

علم النبي صلى الله عليه وسلم أن أصحابه سيخلفونه من بعده وسيقع على كاهلهم أمر الإرشاد والتعليم فأتى في دروسه التعليمية بأمور كان لها أكبر الأثر في توجيه الصحابة وتعليمهم كيف يضطلعون بمهمة التعليم فيما بعد، ولنذكر لك أمثلة من هديه التعليمي الذي كان مناراً اهتدى به أصحابه رضي الله عنهم.

كان من هديه التعليمي عليه السلام أنه إذا سئل عما لا يعلم يسكت منتظرا الوحي من الله بذلك، وكان من هديه صلى الله عليه وسلم أنه إذا قال كلمة أعادها ثلاثا حتى تفهم عنه وكان من هديه عليه السلام أنه ربما طرح المسألة على أصحابه ليختبر ما عندهم من العلم وليشحذ أذهانهم للفهم، وكان إذا سئل عن مسألة فأجاب عنها فإنه قد يفيض في مسائل أخرى لها مناسبة بالمقام أو صلة بالجواب فيستطرد بها ليفيد السائل والحاضرين علما جديداً.

وكان يتخولهم بالموعظة كراهة الملل حتى إن أصحاب ابن مسعود

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه مع الفتح 1/184، كتاب العلم، باب الرحلة في المسألة النازلة وتعليم أهله، ح 88.
উকবা ইবনুল হারিস থেকে বর্ণিত যে, জনৈকা মহিলা তাঁকে সংবাদ দিলেন যে তিনি তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে দুগ্ধপান করিয়েছেন। ফলে তিনি—তখন তিনি মক্কায় অবস্থান করছিলেন—তৎক্ষণাৎ সওয়ার হয়ে মদিনার অভিমুখে রওনা হলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছে তাঁর কাছে এমন ব্যক্তির বিষয়ে আল্লাহর বিধান জিজ্ঞাসা করলেন যে এমন এক মহিলাকে বিবাহ করেছে যাকে সে তার দুধ-বোন হিসেবে জানত না, অতঃপর যে মহিলা তাঁদের উভয়কে দুগ্ধপান করিয়েছেন তিনি তাকে বিষয়টি জানালেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "কীভাবে (তুমি তাকে স্ত্রী হিসেবে রাখবে), অথচ কথাটি বলা হয়েছে?" (১) ফলে তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁর স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করলেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন যে তাঁর সাহাবীগণ তাঁর পরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং তাঁদের কাঁধেই পথনির্দেশনা ও শিক্ষার দায়িত্ব অর্পিত হবে। তাই তিনি তাঁর শিক্ষাদান পাঠগুলোতে এমন কিছু বিষয় নিয়ে আসতেন যা সাহাবীদের দিকনির্দেশনা প্রদানে এবং পরবর্তীতে তাঁরা কীভাবে শিক্ষার মহান দায়িত্ব পালন করবেন তা শেখাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। আমরা আপনার সামনে তাঁর শিক্ষাদান পদ্ধতির কিছু উদাহরণ পেশ করছি যা তাঁর সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) জন্য আলোকবর্তিকা স্বরূপ ছিল যার মাধ্যমে তাঁরা হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছিলেন।

তাঁর শিক্ষাদান পদ্ধতির একটি দিক ছিল এই যে, যখন তাঁকে এমন কোনো বিষয় জিজ্ঞাসা করা হতো যা তিনি জানতেন না, তখন তিনি সে বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি আসার অপেক্ষায় নীরব থাকতেন। তাঁর পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত ছিল যে, যখন তিনি কোনো কথা বলতেন, তখন তা তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন যাতে তা তাঁর থেকে সঠিকভাবে বোঝা যায়। তাঁর পদ্ধতির আরও একটি দিক ছিল যে, কখনও কখনও তিনি তাঁর সাহাবীদের নিকট কোনো মাসআলা উপস্থাপন করতেন যাতে তাঁদের কাছে থাকা জ্ঞান পরীক্ষা করা যায় এবং তাঁদের মেধা ও বোধশক্তিকে শাণিত করা যায়। আবার যখন তাঁকে কোনো মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হতো এবং তিনি তার উত্তর দিতেন, তখন অনেক সময় তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক বা উত্তরের সাথে সম্পর্কিত অন্য বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করতেন, যাতে প্রশ্নকারী এবং উপস্থিতরা নতুন জ্ঞান অর্জন করে উপকৃত হতে পারেন।

তিনি বিরক্তি আসার আশঙ্কায় বিরতি দিয়ে দিয়ে তাঁদের নসিহত করতেন, এমনকি ইবনে মাসউদের সাথীরা...

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি তাঁর সহিহ-তে ফাতহুল বারীসহ ১/১৮৪, কিতাবুল ইলম (জ্ঞানের অধ্যায়), পরিচ্ছেদ: উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে সফর করা এবং নিজ পরিবারকে শিক্ষা প্রদান, হাদিস নং ৮৮-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ২৫)
طلبوا منه أن يحدثهم كل يوم فأبى وقال إنما نتخولكم بالموعظة كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتخولنا كراهة السآمة علينا. وكان صلى الله عليه وسلم يخص بعض أصحابه بالعلم دون بعض مخافة ألا يفهموا فيفتنوا. إلى غير ذلك من الأمثلة التي إذا تتبعناها في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم اطلعنا منه على

خطة حكيمة في توجيه الصحابة حتى كانوا أساتذة في التعليم أمناء على أحكام الدين.
তারা তাঁর নিকট আবেদন জানিয়েছিলেন যেন তিনি প্রতিদিন তাঁদের নিকট হাদিস বর্ণনা (تحديث) করেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বললেন, "আমি কেবল নির্দিষ্ট বিরতিতে উপদেশের (موعظة) মাধ্যমে তোমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখি, যেমন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের ওপর একঘেয়েমি আসার আশঙ্কায় নির্দিষ্ট বিরতিতে আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন।" তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কিছু সাহাবীকে (صحابة) বিশেষ জ্ঞান প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট করতেন এবং অন্যদের তা দিতেন না এই ভয়ে যে, পাছে তারা তা অনুধাবন করতে না পেরে বিভ্রান্তিতে (فتنة) নিপতিত হয়। এ জাতীয় অন্যান্য উদাহরণ যা আমরা যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের মধ্যে অনুসন্ধান করি, তবে আমরা তা থেকে দেখতে পাই

সাহাবীদের (صحابة) দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে এমন এক প্রজ্ঞাপূর্ণ কর্মপন্থা যার ফলে তাঁরা শিক্ষাদানে শিক্ষক এবং দীনের বিধানসমূহের (أحكام الدين) ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত আমানতদার হয়ে উঠেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌ب - كيف كان الصحابة يتلقون الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم؟

لم يكن في أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم من يحسن الكتابة إلا نفر قليل فقد كانت الأمية غالبة عليهم فكان اعتمادهم في تلقي الحديث عنه صلى الله عليه وسلم على استعدادهم في الحفظ على ما سبق آنفا كما أنهم نهوا عن كتابة الحديث في بدء الأمر خوف اختلاطه بالقرآن الكريم، وكان الصحابة يتلقون الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم إما بطريق المشافهة وإما بطريق المشاهدة لأفعاله وتقريراته وإما بطريق السماع ممن سمع منه صلى الله عليه وسلم أو شاهد أفعاله وتقريراته لأنهم لم يكونوا جميعا يحضرون مجالسه صلى الله عليه وسلم بل كان منهم من يتخلف لبعض حاجاته. هذا ولما كان عدد الحاضرين للسماع من حضرة النبي صلى الله عليه وسلم يختلف قلة وكثرة اختلف لذلك المروي عنه، فبعضه بلغ درجة التواتر وهو ما نقله عنه صلى الله عليه وسلم جمع يؤمن تواطؤهم على الكذب وهذا نوعان:-

متواتر لفظاً وهو قليل من الأحاديث كحديث "من كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار" (1) ومتواتر معنى وهو كثير ومن ذلك الأحاديث الواردة في أحكام الطهارة والصلاة والزكاة والصوم والحج والبيوع والنكاح والغزوات مما لم يختلف فيه فرقة من فرق الإسلام، وبعضه لم يبلغ درجة التواتر وهو الذي يسميه العلماء «خبر الآحاد» .

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه مع الفتح 1/302 ،كتاب العلم، باب إثم من كذب على النبي صلى الله عليه وسلمح 110، وأخرجه مسلم 1/10، المقدمة، باب تغليظ الكذب على الرسول صلى الله عليه وسلم ح 3و4.
খ - সাহাবীগণ কীভাবে নবী (সা.)-এর নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করতেন?

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক লোকই লিখতে জানতেন, কেননা তাঁদের মধ্যে নিরক্ষরতা ছিল ব্যাপক। ফলশ্রুতিতে, নবী (সা.)-এর নিকট থেকে হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের নির্ভরতা ছিল ইতিপূর্বে উল্লিখিত তাঁদের প্রখর মুখস্থশক্তির ওপর। অধিকন্তু, হাদিস যেন পবিত্র কুরআনের সাথে মিশে না যায়, সেই আশঙ্কায় প্রাথমিক অবস্থায় তাঁদের হাদিস লিখে রাখতে নিষেধ করা হয়েছিল। সাহাবীগণ নবী (সা.)-এর নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করতেন সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে, অথবা তাঁর কাজ ও মৌনসম্মতি (تقريرات) প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে, কিংবা এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে শ্রবণের মাধ্যমে যারা সরাসরি তাঁর কাছ থেকে শুনেছেন অথবা তাঁর কাজ ও মৌনসম্মতি (تقريرات) প্রত্যক্ষ করেছেন। কারণ তাঁদের সকলে সবসময় নবী (সা.)-এর মজলিসে উপস্থিত থাকতে পারতেন না; বরং তাঁদের কেউ কেউ স্বীয় প্রয়োজনে অনুপস্থিত থাকতেন। যেহেতু নবী (সা.)-এর পবিত্র সান্নিধ্যে হাদিস শ্রবণের জন্য উপস্থিত ব্যক্তিদের সংখ্যা কম বা বেশি হওয়ার কারণে পার্থক্যের সৃষ্টি হতো, তাই তাঁর থেকে বর্ণিত হাদিসগুলোর ক্ষেত্রেও বিভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে। তন্মধ্যে কিছু হাদিস মুতাওয়াতির (تواتر) স্তরে পৌঁছেছে। মুতাওয়াতির (تواتر) হলো যা নবী (সা.) থেকে এমন এক বিশাল জনসমষ্টি বর্ণনা করেছেন, যাদের সবার পক্ষে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব। এটি দুই প্রকার:-

শাব্দিক মুতাওয়াতির (متواتر لفظا), যা হাদিসের মধ্যে সংখ্যায় অল্প। যেমন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" (১) এবং অর্থগত মুতাওয়াতির (متواتر معنى), যা সংখ্যায় অনেক। এর মধ্যে পবিত্রতা, সালাত, জাকাত, সিয়াম, হজ, ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ এবং যুদ্ধ সংক্রান্ত সেই হাদিসগুলো অন্তর্ভুক্ত যে বিষয়ে ইসলামের কোনো ফিরকার মধ্যে মতভেদ নেই। আর কিছু হাদিস মুতাওয়াতির (تواتر) স্তরে পৌঁছায়নি, যেগুলোকে উলামাগণ 'আহাদ সংবাদ' (خبر الآحاد) বলে অভিহিত করেন।

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি এটি তাঁর সহিহ বুখারি গ্রন্থে ফাতহুল বারী সহ ১/৩০২, কিতাবুল ইলম, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি নবী (সা.)-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করে তার গুনাহ, হাদিস নং ১১০-এ উদ্ধৃত করেছেন। ইমাম মুসলিম এটি তাঁর সহিহ মুসলিম গ্রন্থে ১/১০, মুকাদ্দিমা, অনুচ্ছেদ: রাসূল (সা.)-এর ওপর মিথ্যাচারের ভয়াবহতা, হাদিস নং ৩ ও ৪-এ উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ২৭)
كان الصحابة يحفظون الأحاديث عن ظهر قلب ويبلغونها للناس بطريق المشافهة إلا ما كان من بعض أفراد قلائل كعبد الله بن عمرو بن العاص فقد أذن له النبي صلى الله عليه وسلم في كتابة الحديث عنه.

فعن عبد الله بن عمرو هذا أنه قال: كنت أكتب كل شيء أسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم أريد حفظه، فنهتني قريش، فقالوا: إنك تكتب كل شيء تسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم، ورسول الله بشر يتكلم في الغضب والرضا، فأمسكت عن الكتاب فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: "اكتب فوالذي نفسي بيده ما خرج مني إلا حق" (1) .

هذا ولاختلاف الصحابة في معرفة الكتابة وعدم معرفتها وكثرة حضورهم مجالسه صلى الله عليه وسلم وقلة حضورهم اختلفوا في تحمل الحديث وأدائه قلة وكثرة فكان منهم المقل ومنهم المكثر.

هذا أبو هريرة رضي الله عنه يقول: "ما من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أحد أكثر حديثا عنه مني إلا ما كان من عبد الله بن عمرو فانه كان يكتب ولا أكتب"2)

وكما اختلف الصحابة في صفة الأخذ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي كثرة المروي وقلته لأسباب أشرنا إليها كذلك اختلفوا في فقه الحديث حسب اختلافهم في الفهم والاستعداد الفطري فلم يكونوا سواء في معرفة الناسخ والمنسوخ والعام والخاص والمطلق والمقيد والمجمل والمفسر

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود 4/60، كتاب العلم، باب في كتابة العلم، ح 3646 وصححه الألباني في صحيح سنن أبي داود 2/695، ح 3099.

(2) أخرجه البخاري في صحيحه مع 1/206، كتاب العلم، باب كتابة العلم ح 113.
সাহাবীগণ মুখস্থ করার মাধ্যমে হাদিসসমূহ সংরক্ষণ করতেন এবং মৌখিকভাবে (مشافهة) মানুষের কাছে তা পৌঁছে দিতেন, তবে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.)-এর মতো গুটিকয়েক ব্যক্তি এর ব্যতিক্রম ছিলেন; কারণ নবী (সা.) তাঁকে তাঁর নিকট থেকে হাদিস লিখে রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন।

এই আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে যা কিছু শুনতাম, তা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে লিখে রাখতাম। তখন কুরাইশরা আমাকে তা করতে নিষেধ করল। তারা বলল, "তুমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে যা কিছু শোনো তাই লিখে রাখছ? অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) একজন মানুষ; তিনি রাগান্বিত ও সন্তুষ্ট উভয় অবস্থাতেই কথা বলেন।" তখন আমি লেখা বন্ধ করে দিলাম এবং বিষয়টি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: "তুমি লেখো, সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আমার থেকে সত্য ব্যতীত আর কিছুই বের হয় না।" (১) ।

সাহাবীগণের মধ্যে লিখন পদ্ধতি জানা ও না জানা এবং নবী (সা.)-এর মজলিসে উপস্থিতির আধিক্য ও স্বল্পতার পার্থক্যের কারণে, হাদিস গ্রহণ (تحمل) ও বর্ণনার (أداء) আধিক্য ও স্বল্পতার ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। ফলে তাঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন স্বল্প বর্ণনাকারী (مقل) এবং কেউ ছিলেন অধিক বর্ণনাকারী (مكثر)।

এই প্রসঙ্গে আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: "রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ব্যতীত আর কেউ আমার চেয়ে অধিক হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন না; কারণ তিনি লিখে রাখতেন আর আমি লিখতাম না।" (২)

উল্লেখিত কারণসমূহের প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট থেকে হাদিস গ্রহণের পদ্ধতি এবং বর্ণিত বিষয়ের (مروي) আধিক্য ও স্বল্পতার ক্ষেত্রে সাহাবীগণের মধ্যে যেমন পার্থক্য ছিল, তেমনি হাদিসের প্রজ্ঞা (فقه الحديث) অনুধাবনের ক্ষেত্রেও তাঁদের বোধশক্তি ও সহজাত যোগ্যতার তারতম্য অনুযায়ী ভিন্নতা ছিল। তাই তাঁরা রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), সাধারণ (عام) ও বিশেষ (خاص), শর্তহীন (مطلق) ও শর্তযুক্ত (مقيد), এবং সংক্ষিপ্ত (مجمل) ও বিস্তারিত (مفسر) বিষয়ের জ্ঞান অর্জনে সমপর্যায়ের ছিলেন না।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ কর্তৃক সংগৃহীত ৪/৬০, কিতাবুল ইলম, ইলম লিপিবদ্ধকরণ অধ্যায়, হাদিস ৩৬৪৬ এবং আলবানি একে সহিহ সুনানে আবু দাউদ ২/৬৯৫, হাদিস ৩০৯৯-এ সহিহ (صحيح) বলেছেন।

(২) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ১/২০৬, কিতাবুল ইলম, ইলম লিপিবদ্ধকরণ অধ্যায়, হাদিস ১১৩।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ونحو ذلك إلا أنهم كانوا كثيرا ما يرجعون إلى الرسول صلى الله عليه وسلم عند ما يقع الاختلاف بينهم فيُصدر حكمه الفصل وقَضاءَه العدل.
এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ; তবে তারা প্রায়শই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফিরে যেতেন যখনই তাদের মধ্যে কোনো মতবিরোধ দেখা দিত, ফলে তিনি তাঁর চূড়ান্ত ফয়সালা ও ইনসাফপূর্ণ বিচার প্রদান করতেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - শাইখাহ বিনতু মুফাররাজ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌جـ - أثر النساء في نشر الحديث:

لم تكن مجالسه صلى الله عليه وسلم قاصرة على الرجال بل كان كثير من النساء يحضرن المسجد أيضا ويستمعن إلى حديثه الشريف وفي الاجتماعات العامة كالاجتماع بصلاة العيد كن يخرجن جميعا إلى المصلى لاستماع الموعظة النبوية وكان النبي صلى الله عليه وسلم بعد أن يلقي خطبة العيد في الصفوف الأمامية للرجال ينتقل إلى صفوف النساء يتحدث إليهن ويعلمهن إلا أن المجالس النبوية بوجه عام كانت الغلبة فيها للرجال دون النساء لذلك جاء وفد النساء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وطلبن إليه أن يجعل لهن يوماً يعلمهن فيه فكان النبي صلى الله عليه وسلم يجيبهن إلى ذلك، على أن هذه الدروس كلها من عامة وخاصة لم تكن قائمة بحوائج النساء الدينية فكثيرا ما كانت تتجدد لهن شؤون ولاسيما وهن حديثات عهد بالإسلام فكانت المرأة تقصد رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يعرض لها من أمر دينها ولا تستحيي أن تسأله لعلمها أنه لا حياء في التعلم وربما قدمت بين يدي سؤالها قولها "يا رسول الله إن الله لا يستحيي من الحق" ثم تذكر حاجتها فتقول مثلا (هل على المرأة من غسل إذا هي احتلمت) وكثيرا ما يكون ذلك في نساء الأنصار حتى امتدحتهن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم بقولها "نعم النساء نساء الأنصار لم يمنعهن الحياء أن يتفقهن في الدين" (1) ، أما من

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري 1/ 228، كتاب العلم، باب الحياء في العلم ح 130.
গ - হাদিস প্রসারে নারীদের প্রভাব:

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মজলিসসমূহ কেবল পুরুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং অনেক নারীও মসজিদে উপস্থিত হতেন এবং তাঁর পবিত্র হাদিস শ্রবণ করতেন। সাধারণ সমাবেশগুলোতে, যেমন ঈদের নামাজের সমাবেশে তাঁরা সকলে নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নসিহত শোনার জন্য ঈদগাহে যেতেন। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুরুষদের সামনের কাতারগুলোতে ঈদের খুতবা প্রদানের পর নারীদের কাতারের দিকে যেতেন, তাঁদের সাথে কথা বলতেন এবং শিক্ষা দিতেন। তবে সাধারণত নববি মজলিসগুলোতে পুরুষদেরই প্রাধান্য থাকত। একারণে নারীদের একটি প্রতিনিধি দল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে আবেদন করেন যেন তিনি তাঁদের জন্য একটি দিন নির্দিষ্ট করেন যে দিনে তিনি তাঁদের শিক্ষা দেবেন। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের সেই আবেদনে সাড়া দেন। তবে এই সাধারণ ও বিশেষ পাঠসমূহ নারীদের সকল ধর্মীয় প্রয়োজন মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। প্রায়শই তাঁদের জীবনে নতুন নতুন বিষয়ের উদ্ভব হতো, বিশেষ করে যেহেতু তাঁরা তখন ইসলামে নতুন অনুসারী ছিলেন। তাই কোনো নারী তাঁর দ্বীন সম্পর্কিত কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শরণাপন্ন হতেন এবং তা জিজ্ঞাসা করতে সংকুচিত হতেন না; কারণ তিনি জানতেন যে জ্ঞান অর্জনে কোনো লজ্জা নেই। অনেক সময় কোনো নারী তাঁর প্রশ্নের আগে এভাবে বলতেন, "হে আল্লাহর রাসুল! নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য প্রকাশে লজ্জা বোধ করেন না।" এরপর তিনি তাঁর প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করতেন, যেমন তিনি বলতেন, "কোনো নারীর স্বপ্নদোষ হলে কি তার ওপর গোসল করা আবশ্যক?" আনসারী নারীদের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি প্রায়শই দেখা যেত, এমনকি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিনী আয়েশা (রা.) তাঁদের প্রশংসা করে বলতেন, "আনসারী নারীরা কতই না উত্তম! দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন (تفقه) করতে লজ্জা তাঁদের বাধা দিতে পারেনি।" (১) , তবে যারা...

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه), ১/২২৮, কিতাবুল ইলম, পরিচ্ছেদ: ইলম অর্জনে লজ্জা, হাদিস নং ১৩০।