0/0
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: -)
موقف المستشرقين من المعتزلة   (عبد المجيد بن محمد الوعلان)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: موقف المستشرقين من المعتزلة

المؤلف: د. عبد المجيد بن محمد الوعلان

عدد الصفحات: 43

[الكتاب غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 صفر 1442

মুতাজিলাদের প্রতি প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি   (আব্দুল মাজিদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়ালান)

বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন


গ্রন্থ: মুতাজিলাদের প্রতি প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি

লেখক: ড. আব্দুল মাজিদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়ালান

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩

[গ্রন্থটি মুদ্রিত নয়]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৫ সফর ১৪৪২

(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ১)
موقف المستشرقين من المعتزلة

 

د. عبد المجيد بن محمد الوعلان
মুতাযিলাদের প্রতি প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি

 

ড. আব্দুল মাজীদ বিন মুহাম্মাদ আল-ওয়ালান
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌المقدمة

الحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله خاتم الأنبياء والمرسلين صلى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد:

فهذا بحث مختصر عن موقف المستشرقين من المعتزلة(1)، ويشتمل على تمهيد وثلاثة فصول:

الفصل الأول: التعريف بالمعتزلة، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تسمية المعتزلة وألقابهم، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: أصل تسمية المعتزلة.

المطلب الثاني: أسماء المعتزلة.

المبحث الثاني: العوامل التي يرى المستشرقون أنها ساعدت وهيأت لظهور المعتزلة.

المبحث الثالث: أعلام المعتزلة.

الفصل الثاني: موقف المستشرقين من مصادر التلقي عند المعتزلة، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: القرآن الكريم.

المبحث الثاني: السنة النبوية.

المبحث الثالث: العقل.

الفصل الثالث: موقف المستشرقين من أصول المعتزلة، وفيه خمسة مباحث:

المبحث الأول: التوحيد.

المبحث الثاني: العدل.

المبحث الثالث: الوعد والوعيد.

المبحث الرابع: المنزلة بين المنزلتين.

المبحث الخامس: الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.

الخاتمة.

أسأل الله أن يجعله خالصا لوجه الكريم، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

د: عبد المجيد بن محمد الوعلان

awalaan@gmail.com

--------------------------------------------

(1) ملخص من رسالة: موقف المستشرقين من الفلاسفة عرض ونقد، لمنصور بن عبدالعزيز الجحيلي، مع زيادات يسيرة.
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করতে পারেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, নবী ও রাসূলগণের সিলসিলা সমাপ্তকারী। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর:

এটি মুতাযিলাদের প্রতি প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা প্রবন্ধ(১), যা একটি ভূমিকা ও তিনটি অধ্যায় সম্বলিত:

প্রথম অধ্যায়: মুতাযিলাদের পরিচিতি; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মুতাযিলাদের নামকরণ ও তাঁদের উপাধি; এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: মুতাযিলা নামকরণের উৎস।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুতাযিলাদের নামসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিতে যেসব উপাদান মুতাযিলাদের আত্মপ্রকাশে সহায়তা ও পটভূমি তৈরি করেছিল।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুতাযিলাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: মুতাযিলাদের জ্ঞানের উৎসসমূহের প্রতি প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি; এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহে নববী।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আকল (যুক্তি)।

তৃতীয় অধ্যায়: মুতাযিলাদের মূলনীতিসমূহের প্রতি প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি; এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহীদ (আল্লাহর একত্ববাদ)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আদল (ন্যায়বিচার)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ওয়াদ ও ওয়াইদ (প্রতিশ্রুতি ও ভীতিপ্রদর্শন)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আল-মানযিলাতুবায়নাল মানযিলাতাইন (দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী অবস্থান)।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ।

উপসংহার।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

ড. আবদুল মাজিদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়ালান

awalaan@gmail.com

--------------------------------------------

(১) মানসুর বিন আব্দুল আজিজ আল-জুহাইলি রচিত ‘দার্শনিকদের প্রতি প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি: উপস্থাপনা ও পর্যালোচনা’ শীর্ষক গবেষণাপত্রের সংক্ষিপ্তসার, সাথে সামান্য পরিমার্জন ও সংযোজন।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌التمهيد

إن الصراع بين الحق والباطل، قائم منذ الأزل، وما ذاك إلا أنه سنة من سنن الله عز وجل ولن تجد لسنة الله تبديلاً.

ولقد تكالب أعداء الإسلام على الدين الحق من كل حدب وصوب، بقيادة اليهود والنصارى حيث لم يعلموا وسيلة إلا استخدموها، ولا طريقة إلا سلكوها، قال تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ}(1).

وكانت من وسائلهم للنيل من هذا الدين؛ الحروب الصليبية، والتنصير، ثم الاستشراق.

وهو - أي الاستشراق- من أخطر الوسائل، وذلك لزعمهم أنه فكر نير ملتزم بالموضوعية، والأمانة العلمية في البحث، والدراسات الإسلامية.

وقد اهتم المستشرقون بالمعتزلة اهتماماً بالغاً، ظهر في تمجيدهم لرجال هذه الفرقة، ونشر مؤلفاتهم، والمبالغة في الثناء عليهم وعلى أفكارهم، وبيان أنهم أكثر المنتسبين إلى الإسلام فهماً للإسلام.

كما وصفهم المستشرق (شتيز) بأنهم المفكّرون الأحرار في الإسلام، وألّف كتاباً بهذا الاسم.

وكتب المستشرق (هاملتون جب) عدداً من الكتب منها؛ وجهة الإسلام (إلى أين يتجه الإسلام) و (الاتجاهات الحديثة في الإسلام) مجَّد فيه مسلك المعتزلة ومن تأثر بهم في هذا العصر، ودعا إلى إسقاط مذهب أهل السنة، وقبول مفهوم التطور.

وقامت المستشرقة (سوسنه ديفلد) بتحقيق كتاب (طبقات المعتزلة) لأحمد بن يحيى المرتضى، صدَّرته بمقدمة أشادت فيها بالمعتزلة وأنها خدمت دين الإسلام خدمة عظيمة من خلال مجادلتها للثنوية وردها لمقالاتهم. وذكرت بأنها - أي المعتزلة - وطَّأت لأهل السنة الطريق لإثبات عقيدتهم.

كما أثاروا في نفوس الباحثين أن تاريخ المعتزلة وعقائدهم وثروتهم العلمية قد ذهبت، فأصبح الاعتماد على نقول خصومهم عنهم؛ مما يحتم ضرورة إنشاء بعثة علمية لأخذ الصورة الحقيقية من مخلفاتهم الخطية المبعثرة في بلاد اليمن وغيرها والقيام بنشرها. وقد كانت هذه دعوة المستشرق (الفرد جيوم) أستاذ الدراسات الشرقية في جامعة لندن، حيث قال: "إن ما انتهى إلينا من كتابات رجال الاعتزال قليل جداً إلى حد أننا مضطرون إلى أن نعتمد على ما يقوله مخالفوهم عنهم، وقد كانوا يحملون لهم ذكريات مريرة لما قام به المعتزلة من أعمال تعسفية لذلك، فإن أملنا لكبير، إذا كنت مكتبات الشيعة في اليمن أو في غير اليمن تحوي مخطوطات من أصل معتزلي أن نقوم بنشرها. هذا وإن أولئك الذين يرغبون في الوقوف على نتاج العقل العربي في عصور الخلافة الذهبية، يحسنون صنعاً إذا أقدموا على درس هذه الرسالة اللمّاعة في تأريخ حركة عظيمة في حركات الفكر العربي"(2).

--------------------------------------------

(1) الأنعام: 112.

(2) من مقدمة كتاب المعتزلة، تأليف زهدي حسن جار الله، قدّم له آلفرد جيوم.
ভূমিকা

সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার সংঘাত অনাদিকাল থেকেই বিদ্যমান, আর এটি মহান আল্লাহর সুন্নাত বা শাশ্বত নিয়মনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়। আর আপনি আল্লাহর নিয়মনীতিতে কখনোই কোনো পরিবর্তন পাবেন না।

ইসলামের শত্রুরা সত্য দ্বীনের বিরুদ্ধে সকল দিক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছে ইহুদি ও নাসারারা। তারা এমন কোনো উপায় নেই যা ব্যবহার করেনি এবং এমন কোনো পথ নেই যা তারা অবলম্বন করেনি। মহান আল্লাহ বলেন: "আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি; তারা প্রতারণার উদ্দেশ্যে একে অপরকে চাকচিক্যময় কথার কুমন্ত্রণা দেয়। আপনার প্রতিপালক চাইলে তারা তা করত না। সুতরাং আপনি তাদেরকে এবং তাদের মিথ্যা অপবাদগুলোকে বর্জন করুন।"(১)।

এই দ্বীনের ক্ষতি সাধনের জন্য তাদের অন্যতম মাধ্যম ছিল ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ, খ্রিষ্টধর্ম প্রচার এবং পরবর্তীতে প্রাচ্যতত্ত্ব।

আর এই প্রাচ্যতত্ত্ব হলো সবচেয়ে বিপজ্জনক মাধ্যমগুলোর অন্যতম। কারণ তাদের দাবি হলো, এটি একটি আলোকিত চিন্তা যা ইসলামী গবেষণা ও অধ্যয়নে বস্তুনিষ্ঠতা এবং বৈজ্ঞানিক সততার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রাচ্যবিদগণ মুতাজিলাদের প্রতি অত্যন্ত গভীর আগ্রহ প্রদর্শন করেছেন। যা ফুটে উঠেছে এই ফিরকার ব্যক্তিদের গুণকীর্তনে, তাদের রচিত গ্রন্থাবলী প্রকাশে এবং তাদের ও তাদের চিন্তাধারার অতিরঞ্জিত প্রশংসায়। তারা এ-ও প্রকাশ করার চেষ্টা করেছে যে, ইসলামে অনুসারীদের মধ্যে তারাই ইসলামের প্রকৃত মর্ম সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করতে পেরেছিল।

এমনকি প্রাচ্যবিদ স্টেইনার তাদের ‘ইসলামের মুক্তচিন্তক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এই নামেই একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

প্রাচ্যবিদ হ্যামিল্টন গিব বেশ কিছু বই লিখেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: ‘ইসলামের গতিধারা’ (ইসলাম কোন দিকে যাচ্ছে) এবং ‘ইসলামের আধুনিক প্রবণতাসমূহ’। এতে তিনি মুতাজিলাদের কর্মপন্থা এবং এই যুগে তাদের দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিদের উচ্চকিত প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি তিনি আহলুস সুন্নাহর মাযহাবকে বর্জন করার এবং বিবর্তনের ধারণা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রাচ্যবিদ সুসানা ডিওয়াল্ড আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-মুর্তজার ‘তাবাকাতুল মুতাজিলা’ গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন। তিনি এর শুরুতে একটি ভূমিকা লিখেছেন যেখানে তিনি মুতাজিলাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তারা দ্বৈতবাদীদের সাথে বিতর্ক এবং তাদের বক্তব্যের খণ্ডন করার মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের মহান সেবা করেছে। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, মুতাজিলাগণই আহলুস সুন্নাহর জন্য তাদের আকিদা প্রমাণের পথ সুগম করে দিয়েছিল।

তারা গবেষকদের মনে এই ধারণা জাগ্রত করেছে যে, মুতাজিলাদের ইতিহাস, আকিদা এবং তাদের ইলমি সম্পদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে; ফলে তাদের সম্পর্কে কেবল তাদের বিরোধীদের বর্ণনার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এটি ইয়েমেনসহ অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তাদের পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহ করে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার জন্য একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিনিধি দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনিবার্য করে তোলে। এটি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যতত্ত্বের অধ্যাপক আলফ্রেড গুইলামের আহ্বান ছিল। তিনি বলেন: "মুতাজিলা মনীষীদের যে সমস্ত লেখা আমাদের কাছে পৌঁছেছে তা এতই নগণ্য যে, আমরা তাদের সম্পর্কে তাদের বিরোধীদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছি। অথচ বিরোধীদের মনে তাদের প্রতি তিক্ত স্মৃতি ছিল কারণ মুতাজিলারা একসময় তাদের ওপর কঠোরতা অবলম্বন করেছিল। তাই আমাদের আশা অনেক বড় যে, যদি ইয়েমেনের বা অন্য কোনো স্থানের শিয়া লাইব্রেরিগুলোতে মুতাজিলাদের মূল পাণ্ডুলিপি থেকে থাকে তবে আমরা সেগুলো প্রকাশ করব। যারা খিলাফতের স্বর্ণযুগে আরবদের বুদ্ধিবৃত্তিক ফসল সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তারা যদি আরব চিন্তাধারার অন্যতম মহান আন্দোলনের ইতিহাসের এই উজ্জ্বল প্রবন্ধটি অধ্যয়ন করেন তবে তারা একটি প্রশংসনীয় কাজ করবেন।"(২)।

--------------------------------------------

(১) আল-আনআম: ১১২।

(২) জুহদি হাসান জারুল্লাহ রচিত ‘আল-মুতাজিলা’ গ্রন্থের ভূমিকা থেকে, যার ভূমিকা লিখেছেন আলফ্রেড গুইলাম।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وكان من منهج المستشرقين في دراستهم للمعتزلة أنهم عندما تعرضوا لدراسة الإسلام بشكل عام، لم يدرسوه بموضوعية ونزاهة، بل درسوه وقد ترسخ في أذهانهم فكرة أساسية وهي لابد من هدم الإسلام والقضاء عليه(1).

ونقل الدكتور (موريس بوكاي) عن المستشرق (هانونو) قوله: وأفضل الطرق لتثبيت ولاية المستعمر الأوربي على البلاد الإسلامية، هو تشويه الدين الإسلام وتصوره في نفوس معتقديه، بإبراز الخلافات المذهبية .. مع شرح مبادئ الإسلام شرحاً يشوّهها وينحرف بها عن قيمها الأصلية(2).

فكان تركيزهم في البحث عن المسائل الخلافية الشائكة التي أثارتها تلك الفرق، وأثرت على تفكير المسلمين وأشغلتهم، فيبرزون تلك المسائل ويظهرونها على أنها هي الحق والصواب، من غير أن يتبعوا منهجاً علمياً يقوم على البحث والتمحيص، واتباع الدليل والبرهان في الوصول للنتيجة.

فقد تبنوا فكرة أن العقل هو مصدر المعارف الدينية، والمعيار الذي توزن به الحقيقة الدينية(3)، ونسبوا ذلك للدين الإسلامي، موافقة للمعتزلة دون نظر للردود عليهم، أو حتى مناقشة تلك الردود أو على الأقل عرضها بنفس الطريقة التي أبرزوا بها الطريقة العقلانية التي سار عليها المعتزلة.

ومن منهجهم تبني الأفكار الخطيرة وكأنها من المسلمات، ويناقشونها من باب إثبات أصلها وأن المسلمين قد استفادوها من ذلك الأصل ونسبوها لأنفسهم.

ومن منهجهم التلميع والثناء المبالغ فيه لأعلام المعتزلة، ووصفهم بأنهم حماة الدين، ومفكروه، والذَّابون عنه، فمن ذلك قولهم عن أبي الهذيل العلاف: إنه المدافع عن الإسلام ضد الأديان الأخرى، وضد التيارات الفكرية للعصر السابق، وأنه قد اشتهر بحسن الجدل والمناظرة(4)، ووصف الجاحظ بأنه خبير بالنفوس.

ومن منهجهم أنهم يعتمدون الكذب أو التدليس والتشكيك، في أمور يُقطع بثبوتها؛ حيث نجد أنهم عند وقوفهم على معضلة وكبيرة من كبائر الفرق - لا يستطيعون عنها محيداً- فليس أمامهم إلا إثباتها وبالتالي ظهور عوار هذه الفرقة الضالة، أو إنكارها وهو ما لا يستطيعونه أمام البحث العلمي نجد أنهم يبادرون القول بأن هذه الأقوال مكذوبة عليهم، أو أن المذهب قد اعتراه بعض الدس والحشو، والتقوُّل عليه، أو الزعم بأنه لم تصل كل مصنفات ذلك العالم حتى يمكن فهم مقصده تماماً، وبيان حجته التي قال على ضوئها ذلك القول.

ومن منهجهم تعمد الإساءة للإسلام، وعدم قدرتهم على إثبات دعواهم، بل تهربهم من ذلك، وكأن قولهم حجة لا تحتاج إلى دليل، فهذا المستشرق (جولد زيهر) عندما زعم بأن القرآن الكريم إنما استمد موضوعاته من العهد القديم(5)، لم يستطع أن يقدم دليلاً واحداً على ذلك، بل اكتفى برمي الشبهة أو الفرية فقط.

?

--------------------------------------------

(1) انظر: احذروا الأساليب الحديثة في مواجهة الإسلام، سعد الدين السيد صالح: 93.

(2) انظر: الله أو الدمار، لطفي جمعة: 65، احذروا الأساليب الحديثة في مواجهة الإسلام: 93.

(3) انظر: مذاهب التفسير، جولد زيهر: 159.

(4) انظر: دائرة المعارف الإسلامية 2/ 421، 30/ 9388.

(5) انظر: العقيدة والشريعة: 14 - 15.
মুতাযিলাদের ওপর তাদের গবেষণায় প্রাচ্যবিদদের একটি পদ্ধতি ছিল এই যে, তারা যখন সাধারণভাবে ইসলাম নিয়ে অধ্যয়ন করতেন, তখন তা বস্তুনিষ্ঠতা বা নিরপেক্ষতার সাথে করতেন না; বরং তারা এমন এক বদ্ধমূল ধারণা নিয়ে অধ্যয়ন শুরু করতেন যে, ইসলামকে অবশ্যই ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করতে হবে।(১)

ডক্টর মরিস বুকাই প্রাচ্যবিদ হানোতোর উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন: "মুসলিম দেশগুলোর ওপর ইউরোপীয় উপনিবেশবাদীদের কর্তৃত্ব সুসংহত করার সর্বোত্তম উপায় হলো ইসলাম ধর্মকে বিকৃত করা এবং এর অনুসারীদের হৃদয়ে একে নেতিবাচকভাবে চিত্রায়িত করা; যা করা হবে মাযহাবী বিভেদগুলোকে বড় করে দেখানোর মাধ্যমে... সাথে সাথে ইসলামের মূলনীতিগুলোকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা, যা একে বিকৃত করে এবং এর মৌলিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত করে।"(২)

ফলে তাদের গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু ছিল সেই সব জটিল ও কণ্টকাকীর্ণ বিতর্কিত বিষয়গুলো, যা বিভিন্ন উপদলগুলো উত্থাপন করেছিল এবং যা মুসলিমদের চিন্তাধারাকে প্রভাবিত ও ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিল। তারা কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ না করেই—যা গবেষণা, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দলিল-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে—ঐসব বিতর্কিত বিষয়কেই সত্য ও সঠিক হিসেবে তুলে ধরতেন।

তারা এই ধারণা গ্রহণ করেছিলেন যে, বুদ্ধিই হলো ধর্মীয় জ্ঞানের উৎস এবং সত্য যাচাইয়ের মাপকাঠি।(৩) তারা এই বিষয়টিকে ইসলামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেন এবং মুতাযিলাদের সাথে ঐকমত্য পোষণ করেন। এক্ষেত্রে তারা মুতাযিলাদের বিপক্ষে প্রদত্ত জবাবগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করেননি, এমনকি সেই জবাবগুলো নিয়ে আলোচনা বা অন্তত সেগুলোকে একইভাবে উপস্থাপনও করেননি যেভাবে তারা মুতাযিলাদের অনুসৃত যুক্তিবাদী পদ্ধতিকে মহিমান্বিত করে তুলে ধরেছিলেন।

তাদের একটি পদ্ধতি হলো বিভিন্ন বিপজ্জনক ধারণাকে ধ্রুব সত্য হিসেবে গ্রহণ করা এবং সেগুলোকে এমনভাবে আলোচনা করা যেন মনে হয় এর একটি মূল উৎস রয়েছে এবং মুসলিমরা সেই উৎস থেকে তা আহরণ করে নিজেদের নামে চালিয়ে দিয়েছে।

তাদের অন্যতম পদ্ধতি হলো মুতাযিলা ব্যক্তিত্বদের অত্যধিক প্রশংসা ও গুণকীর্তন করা এবং তাদেরকে ধর্মের রক্ষক, মহান চিন্তাবিদ ও আত্মপক্ষ সমর্থনকারী হিসেবে বর্ণনা করা। উদাহরণস্বরূপ, আবু আল-হুযাইল আল-আল্লাফ সম্পর্কে তাদের বক্তব্য হলো: "তিনি অন্যান্য ধর্ম এবং পূর্ববর্তী যুগের বিভিন্ন আদর্শিক স্রোতের বিরুদ্ধে ইসলামের রক্ষক ছিলেন এবং তিনি উত্তম বিতর্ক ও যুক্তিতর্কের নৈপুণ্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন।"(৪) একইভাবে জাহিযকে তারা মানুষের মনস্তত্ত্বের বিশেষজ্ঞ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তাদের পদ্ধতির একটি অংশ হলো অকাট্যভাবে প্রমাণিত বিষয়গুলোতে মিথ্যাচার, প্রতারণা বা সন্দেহের আশ্রয় নেওয়া। যখন তারা কোনো উপদলের এমন কোনো গুরুতর বিচ্যুতির সম্মুখীন হন যা এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব—তখন তাদের সামনে হয় এটি স্বীকার করা ছাড়া উপায় থাকে না (যার ফলে ঐ ভ্রান্ত উপদলের কদর্যতা ফুটে ওঠে), অথবা তা অস্বীকার করা। কিন্তু বৈজ্ঞানিক গবেষণার সামনে অস্বীকার করা অসম্ভব দেখে তারা দ্রুত দাবি করে বসেন যে, এসব কথা তাদের নামে মিথ্যা রটানো হয়েছে, অথবা এই মাযহাবে কিছু ভেজাল ও অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে, কিংবা দাবি করেন যে সেই পন্ডিতের সমস্ত রচনা হস্তগত হয়নি যাতে করে তার উদ্দেশ্য বা সেই বক্তব্যের পেছনের যুক্তি সম্পূর্ণরূপে অনুধাবন করা যায়।

তাদের পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত হলো ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলামের অবমাননা করা এবং নিজেদের দাবির সপক্ষে প্রমাণ দিতে না পেরে বরং তা থেকে এড়িয়ে চলা—যেন তাদের দাবিটি এমন এক অকাট্য যুক্তি যার কোনো প্রমাণের প্রয়োজন নেই। যেমন প্রাচ্যবিদ গোল্ডজিহার যখন দাবি করেছিলেন যে, পবিত্র কুরআন তার বিষয়বস্তুগুলো ওল্ড টেস্টামেন্ট (পুরাতন নিয়ম) থেকে গ্রহণ করেছে(৫), তখন তিনি এর স্বপক্ষে একটি প্রমাণও পেশ করতে পারেননি, বরং কেবল সন্দেহ ও অপবাদ ছুঁড়েই ক্ষান্ত হয়েছেন।

?

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইসলাম মোকাবিলায় আধুনিক পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে সতর্ক হোন, সা’দ উদ্দিন আস-সাইয়্যেদ সালিহ: ৯৩।

(২) দেখুন: আল্লাহ অথবা ধ্বংস, লুতফি জুমা: ৬৫; ইসলাম মোকাবিলায় আধুনিক পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে সতর্ক হোন: ৯৩।

(৩) দেখুন: মাযাহিবুত তাফসির, গোল্ডজিহার: ১৫৯।

(৪) দেখুন: ইসলামি বিশ্বকোষ ২/ ৪২১, ৩০/ ৯৩৮৮।

(৫) দেখুন: আল-আকিদাহ ওয়াশ শারিয়াহ: ১৪ - ১৫।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الفصل الأول: التعريف بالمعتزلة

 

وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تسمية المعتزلة وألقابهم، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: أصل تسمية المعتزلة.

المطلب الثاني: أسماء المعتزلة.

المبحث الثاني: العوامل التي يرى المستشرقون أنها ساعدت وهيأت لظهور المعتزلة.

المبحث الثالث: أعلام المعتزلة.
প্রথম অধ্যায়: মুতাযিলাদের পরিচিতি

 

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মুতাযিলাদের নামকরণ ও তাদের উপাধিগুলো, এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: মুতাযিলা নামকরণের উৎস।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুতাযিলাদের নামসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুতাযিলাদের উত্থানে সহায়ক ও অনুকূল পরিবেশ তৈরিকারী প্রভাবকসমূহ প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিতে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুতাযিলাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বগণ।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌المبحث الأول: تسمية المعتزلة وألقابهم

‌‌المطلب الأول: أصل تسمية المعتزلة:

عدَّ المستشرق (كارلو الفونوس نيلنو) معرفة سبب إطلاق لفظ (المعتزلة) وبأي معنى أطلق من المسائل الخطيرة، وأن الوقوف على حل هذه المسألة يساعد في حل مسألة تعتبر من أهم المسائل التاريخية وهي مسألة أصول حركة المعتزلة وطابعها الأصلي(1).

فقالوا في أصل اطلاق لفظ المعتزلة عدة أقوال، منها:

‌‌أولاً: أنها من الزهد والورع:

وهذا هو رأي المستشرق (جولد زيهر) حيث يفسر اسم (المعتزلة) بأنه مشتق من الاعتزال، الذي هو بمعنى الزهد والتعبد، ويرى أن نقطة ابتداء المعتزلة وبواعث مصدرهم كانت من التقوى والتعبد(2).

وأيد رأيه بما يلي:

1 - ما ورد من تفسير لكلمة (المعتزلة) بمعنى الزهد والتعبد.

2 - ما روي عن عدد من رجال المعتزلة من زهد وتقشف، حتى روي عن واصل بن عطاء الغزالي أنه لم يقبض في حياته ديناراً أو درهماً.

 

‌‌ثانياً: أنها من الانفصال والانشقاق:

وهذا رأي كثير من المستشرقين منهم: (اشتيتر السويسري، وفون هامر الألماني، وفون كريمر النمساوي) وغيرهم كثير، وقد قدم المستشرق (نيللو) في بحثه عن أصل تسمية المعتزلة ثبتاً يحوي عدداً من أسماء المستشرقين الذين قبلوا الرأي الذي يقول بأن كلمة (المعتزلة) تعني (المنشقين والمنفصلين)(3).

والقائلون بهذا القول من المستشرقين(4) يعودون بالمعتزلة إلى ما قبل واصل بن عطاء، ويعتمدون على بعض النصوص التي تسمي المعتزلة أحياناً بالقدرية(5)، ويجعلون السبب الرئيس في نشأة المعتزلة، هو اختيار من نوع سياسي(6)، وأن (المعتزلة) اسم عام لفئة انفصلت عن الجمهور وانشقت عليه، ولكن بمضي الزمن أصبح هذا الاسم في أوائل القرن الثاني للهجرة، علماً على مذهب خاص(7) وأن السبب في اعتزال واصل بن عطاء هو ثورته على المذهب المنكر لحرية الإرادة(8)، وأن كلمة (المعتزلة) تحمل بين ثناياها طابع الاستنكار، والمعتزل هو المخالف والمنفصل(9).

--------------------------------------------

(1) انظر: التراث اليوناني في الحضارة الإسلامية، بحوث في المعتزلة (نيللو): 173.

(2) انظر: العقيدة والشريعة في الإسلام: 101، التراث اليوناني في الحضارة الإسلامية، بحوث في المعتزلة (نيللو): 178 - 179.

(3) انظر: التراث اليوناني في الحضارة الإسلامية: 175، فلسفة الفكر الديني بين الإسلام والمسيحية 1/ 79 - 80.

(4) انظر: التراث اليوناني في الحضارة الإسلامية: 177.

(5) القدرية هم: نفاة القدر، نسبوا إليه لنفيهم إياه بقولهم: إن العبد هو الذي يخلق فعله، عكس الجبرية، وقد تطلق هذه التسمية على فرقة المعتزلة، لأنها هي التي ورثت القول بهذه المقولة. انظر: الفرق بين الفرق: 117 - 118، التبصير في الدين: 63، الملل والنحل 1/ 56.

(6) انظر: تاريخ الفلسفة الإسلامية (هنري كوريان): 194.

(7) انظر: التراث اليوناني في الحضارة الإسلامية، بحوث في المعتزلة (نيللو): 176.

(8) المرجع السابق: 177.

(9) انظر: تاريخ الفلسفة الإسلامية (هنري كوريان): 184.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: মুতাজিলাদের নামকরণ ও তাঁদের উপাধি

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: মুতাজিলা নামকরণের মূল উৎস:

প্রাচ্যবিদ (কার্লো আলফোনসো ন্যালিনো) 'মুতাজিলা' শব্দটির ব্যবহারের কারণ এবং এটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে তা জানাকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে গণ্য করেছেন। তিনি মনে করেন যে, এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বিষয়ের সমাধানে সহায়ক হবে, আর তা হলো মুতাজিলা আন্দোলনের উৎস ও এর মৌলিক প্রকৃতি।(১)

মুতাজিলা শব্দটির নামকরণের উৎস সম্পর্কে বেশ কয়েকটি মত রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

‌‌প্রথমত: এটি যুহদ (সংসারবিরাগ) ও পরহেজগারিতা থেকে উদ্ভূত:

এটি প্রাচ্যবিদ (গোল্ডজিহার)-এর মত। তিনি 'মুতাজিলা' নামটিকে 'ইতিজাল' শব্দ থেকে উদ্ভূত বলে ব্যাখ্যা করেছেন, যা যুহদ ও ইবাদত-বন্দেগির অর্থে ব্যবহৃত হয়। তিনি মনে করেন যে, মুতাজিলাদের যাত্রা শুরু এবং তাঁদের উৎসের মূল প্রেরণা ছিল তাকওয়া ও ইবাদত।(২)

তিনি তাঁর এই মতের সপক্ষে নিম্নলিখিত যুক্তিগুলো উপস্থাপন করেছেন:

১ - 'মুতাজিলা' শব্দের ব্যাখ্যায় যুহদ ও ইবাদতের অর্থ বর্ণিত হওয়া।

২ - অনেক মুতাজিলা ব্যক্তিত্বের যুহদ ও কৃচ্ছ্রসাধনা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে; এমনকি ওয়াসিল বিন আতা আল-গাজ্জালি সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর সারা জীবনে একটি দিনার বা দিরহামও গ্রহণ করেননি।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: এটি বিচ্ছিন্নতা ও বিভাজন থেকে উদ্ভূত:

এটি অনেক প্রাচ্যবিদের মত, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: (সুইজারল্যান্ডের স্টাইটার, জার্মানির ফন হ্যামার, অস্ট্রিয়ার ফন ক্রেমার) এবং আরও অনেকে। প্রাচ্যবিদ (ন্যালিনো) মুতাজিলা নামকরণের উৎস নিয়ে তাঁর গবেষণায় এমন অনেক প্রাচ্যবিদের নামের তালিকা প্রদান করেছেন যাঁরা এই মতটি গ্রহণ করেছেন যে, 'মুতাজিলা' শব্দের অর্থ হলো 'বিচ্ছিন্নতাবাদী ও দলত্যাগী'।(৩)

প্রাচ্যবিদদের মধ্যে যাঁরা এই মত পোষণ করেন,(৪) তাঁরা মুতাজিলাদের ইতিহাসকে ওয়াসিল বিন আতার পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত নিয়ে যান। তাঁরা এমন কিছু পাঠ্যের ওপর নির্ভর করেন যেখানে মুতাজিলাদের কখনো কখনো 'কাদারিয়া'(৫) নামে অভিহিত করা হয়েছে। তাঁরা মুতাজিলাদের উৎপত্তির প্রধান কারণ হিসেবে এক ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে চিহ্নিত করেন।(৬) তাঁদের মতে, 'মুতাজিলা' হলো এমন একটি শ্রেণির সাধারণ নাম যারা জনসমষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল এবং বিদ্রোহ করেছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় হিজরি দ্বিতীয় শতকের শুরুর দিকে এই নামটি একটি বিশেষ মাযহাব বা মতবাদের পরিচয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।(৭) আর ওয়াসিল বিন আতার বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ ছিল স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিকে অস্বীকারকারী মতবাদের বিরুদ্ধে তাঁর বিদ্রোহ।(৮) তাঁদের মতে, 'মুতাজিলা' শব্দটির অন্তরালে একটি নিন্দাসূচক ভাব রয়েছে এবং 'মুতাজিল' অর্থ হলো বিরোধী ও বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি।(৯)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইসলামি সভ্যতায় গ্রিক ঐতিহ্য, মুতাজিলা বিষয়ক গবেষণা (ন্যালিনো): ১৭৩।

(২) দেখুন: ইসলামে আকিদা ও শরিয়ত: ১০১, ইসলামি সভ্যতায় গ্রিক ঐতিহ্য, মুতাজিলা বিষয়ক গবেষণা (ন্যালিনো): ১৭৮ - ১৭৯।

(৩) দেখুন: ইসলামি সভ্যতায় গ্রিক ঐতিহ্য: ১৭৫, ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মাঝে ধর্মীয় চিন্তার দর্শন ১/ ৭৯ - ৮০।

(৪) দেখুন: ইসলামি সভ্যতায় গ্রিক ঐতিহ্য: ১৭৭।

(৫) কাদারিয়া হলো তারা যারা তাকদির অস্বীকারকারী; তাদের এই নামকরণ করা হয়েছে তাকদির অস্বীকার করার কারণে এবং তাদের এই দাবির প্রেক্ষিতে যে, বান্দা নিজেই নিজের কর্ম সৃষ্টি করে। এটি জাবারিয়াদের বিপরীত। এই নামকরণ মুতাজিলা সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে, কারণ তারাই মূলত এই মতবাদের উত্তরসূরি। দেখুন: আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক: ১১৭ - ১১৮, আত-তাবসির ফিদ দ্বীন: ৬৩, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/ ৫৬।

(৬) দেখুন: ইসলামি দর্শনের ইতিহাস (হেনরি করবিন): ১৯৪।

(৭) দেখুন: ইসলামি সভ্যতায় গ্রিক ঐতিহ্য, মুতাজিলা বিষয়ক গবেষণা (ন্যালিনো): ১৭৬।

(৮) পূর্বোক্ত উৎস: ১৭৭।

(৯) দেখুন: ইসলামি দর্শনের ইতিহাস (হেনরি করবিন): ১৮৪।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وهذا الرأي الذي قال به المستشرقون قد أورده عدد من كتاب الفرق في كتبهم كالبغدادي والشهرستاني، وأن كلمة (المعتزلة) لفظ أطلقه أعداؤهم من أهل السنة عليهم للتدليل على أنهم انفصلوا عنهم، وتركوا مشايخهم القدامى، واعتزلوا قول الأمة بأسرها في مرتكب الكبيرة، فهم بهذا الاعتبار اسم يتضمن نوعاً من الذم، واتهاماً واضحاً بالخروج على السنة والجماعة، فالمعتزلي هو المخالف والمنفصل(1).

 

‌‌ثالثاً: أنها من الوقوف على الحياد:

وهذا هو رأي المستشرق (نيللو) والمستشرق (دومينيك سورديل الفرنسي) من أن الاعتزال مأخوذ من الحياد، والسبب في ذلك؛ أن المعتزلة قد وقفوا على الحياد بين أهل السنة والجماعة وبين الخوارج.

لذا فإن مفهوم الاعتزال عندهم هو الوقوف على الحياد في مواجهة الفرق المتنازعة(2)، بل قال المستشرق (د: جمرت): أنه قد يطلق على بعض الصحابة الذين وقفوا على الحياد بين علي ومعاوية، كعبدالله بن عمرو بن العاص، وسعد بن أبي وقاص، إلا أنه ليس هناك أي صلة بينهم وبين حركة الاعتزال التي أسسها واصل بن عطاء(3).

 

‌‌رابعاً: أن المعتزلة تطور من القدرية:

وهذا القول متداخل مع القول بأنها مأخوذة من الانفصال والانشقاق، إلا أنه يختلف عنه من خلال كون القائلين به جعلوا القدرية هي أصل المعتزلة ومبدأها، وأن أصول المعتزلة التاريخية تعود إلى معبد الجهني وغيلان الدمشقي، مع قولهم بأنها من الانفصال والانشقاق، وقد قال بهذا من المستشرقين (اشتيتر، فون كريمر، دي بوار الهولندي)(4).

وهذا فيه موافقه للحقيقة من حيث أصل نشأة المذهب، إلا أنه ليست له علاقة بالتسمية، ذلك أن المعتزلة والقدرية، قد اتفقتا على إنكار القدر والقول بنسبة خلق الأفعال للعباد(5)، كما أن غيلان الدمشقي ذكره كتاب طبقات المعتزلة ضمن رجال الطبقة الرابعة(6)، مما يرجح أن أصول مذهب القدر كانت ممهدة لأصول الاعتزال من حيث توافق الأفكار في مسألة القدر.

--------------------------------------------

(1) انظر: دراسات في الفرق والعقائد الإسلامية: 84.

(2) انظر: دائرة المعارف الإسلامية 30/ 9384، التراث اليوناني في الحضارة الإسلامية، بحوث في المعتزلة (نيللو): 181، 190، 191.

(3) انظر: التراث اليوناني في الحضارة الإسلامية، بحوث في المعتزلة (نيللو): 183 - 184.

(4) انظر: المرجع السابق: 177.

(5) انظر: المعتزلة بين القديم والحديث: 60 - 61.

(6) انظر: طبقات المعتزلة لابن المرتضى: 25، فضل الاعتزال وطبقات المعتزلة: 229.
প্রাচ্যবিদগণ কর্তৃক ব্যক্ত এই অভিমতটি আল-বাগদাদী ও আশ-শাহরাস্তানির ন্যায় ফিরকা বা সম্প্রদায় বিষয়ক কতিপয় গ্রন্থকারও তাঁদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা মনে করেন যে, 'মুতাজিলা' শব্দটি আহলে সুন্নাহভুক্ত তাঁদের প্রতিপক্ষরাই তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন এটি বোঝাতে যে, তারা সুন্নাহর অনুসারীদের থেকে পৃথক হয়ে গেছে, তাঁদের পূর্বতন শায়খদের ত্যাগ করেছে এবং কবীরা গুনাহগার ব্যক্তি সম্পর্কে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত অভিমত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং এই বিচারে এটি এমন একটি নাম যাতে এক প্রকার নিন্দা এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত থেকে বিচ্যুত হওয়ার স্পষ্ট অভিযোগ নিহিত রয়েছে। অর্থাৎ মুতাজিলি হলো সেই ব্যক্তি যে উম্মাহর সাথে দ্বিমত পোষণকারী এবং বিচ্ছিন্ন(১)।

 

‌‌তৃতীয়ত: এটি নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ থেকে উদ্ভূত:

এটি প্রাচ্যবিদ (নিললো) এবং ফরাসি প্রাচ্যবিদ (ডমিনিক সার্ডেল)-এর অভিমত যে, 'ইতিজাল' বা মুতাজিলা নামটি 'নিরপেক্ষতা' থেকে গৃহীত হয়েছে। এর কারণ হলো, মুতাজিলাগণ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এবং খারিজিদের মধ্যবর্তী একটি নিরপেক্ষ অবস্থানে দাঁড়িয়েছিল। তাই তাঁদের নিকট ইতিজালের ধারণা হলো বিবাদমান দলগুলোর বিপরীতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা(২)। এমনকি প্রাচ্যবিদ (ড. গামার্ট) বলেছেন যে, আলী ও মুয়াবিয়ার মধ্যে চলা দ্বন্দ্বে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস এবং সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের ন্যায় যে সকল সাহাবী নিরপেক্ষ ছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই শব্দটি ব্যবহৃত হতে পারে। তবে ওয়াসিল ইবনে আতা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মুতাজিলা আন্দোলনের সাথে তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই(৩)।

 

‌‌চতুর্থত: মুতাজিলা হলো কাদারিয়াদেরই একটি বিবর্তিত রূপ:

এই মতটি ইতিজালের অর্থ 'বিচ্ছিন্নতা ও বিভাজন' হওয়ার মতের সাথে পরস্পর সম্পৃক্ত। তবে এর পার্থক্য হলো, এই মতের প্রবক্তারা কাদারিয়া সম্প্রদায়কেই মুতাজিলাদের মূল ও উৎস হিসেবে গণ্য করেছেন। তাঁদের মতে, মুতাজিলাদের ঐতিহাসিক ভিত্তি মাবাদ আল-জুহানি ও গায়লান আদ-দিমাশকির চিন্তাধারার দিকে প্রত্যাবর্তন করে, যদিও তাঁরা একে বিচ্ছিন্নতা ও বিভাজন হিসেবেও অভিহিত করেছেন। প্রাচ্যবিদদের মধ্যে (অ্যালবার্ট স্টিটার, ফন ক্রেমার এবং ওলন্দাজ পণ্ডিত ডি বোর) এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন(৪)।

মাযহাবের উৎপত্তির মূলের দিক থেকে এটি বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হলেও নামকরণের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কেননা মুতাজিলা এবং কাদারিয়া উভয় দলই তাকদীর অস্বীকার করা এবং বান্দাই তার নিজের কর্মের স্রষ্টা—এই মতের ক্ষেত্রে একমত ছিল(৫)। এছাড়া গায়লান আদ-দিমাশকিকে 'তাবাকাতুল মুতাজিলা' গ্রন্থের লেখকগণ চতুর্থ স্তরের মুতাজিলাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন(৬), যা প্রমাণ করে যে তাকদীর সংক্রান্ত মাসআলায় চিন্তাগত ঐক্যের কারণে কাদারিয়া মাযহাবের মূলনীতিগুলো মুতাজিলাবাদের পথ প্রশস্ত করেছিল।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: দিরাসাত ফিল ফিরিক ওয়াল আকাইদ আল-ইসলামিয়্যাহ: ৮৪।

(২) দ্রষ্টব্য: দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ৩০/ ৯৩৮৪, আল-তুরাস আল-ইউনানি ফিল হাদারা আল-ইসলামিয়্যাহ, বুহুস ফিল মুতাজিলা (নিললো): ১৮১, ১৯০, ১৯১।

(৩) দ্রষ্টব্য: আল-তুরাস আল-ইউনানি ফিল হাদারা আল-ইসলামিয়্যাহ, বুহুস ফিল মুতাজিলা (নিললো): ১৮৩ - ১৮৪।

(৪) দ্রষ্টব্য: পূর্বোক্ত উৎস: ১৭৭।

(৫) দ্রষ্টব্য: আল-মুতাজিলা বাইনাল কাদিমি ওয়াল হাদিস: ৬০ - ৬১।

(৬) দ্রষ্টব্য: ইবনুল মুরতাদা প্রণীত তাবাকাতুল মুতাজিলা: ২৫, ফাদলুল ইতিজাল ওয়া তাবাকাতুল মুতাজিলা: ২২৯।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المطلب الثاني: أسماء المعتزلة

‌‌أولاً: المعتزلة.

لقد غلب إطلاق اسم (المعتزلة) على هذه المدرسة العقدية، حتى غدا أشهر أسمائها وأعمّها(1)، ولكن المستشرقين فيه على طرفي نقيض، فغالبية المستشرقين يطلقون عليهم اسم (المعتزلة)(2) ولا خلاف بينهم إلا في أصل التسمية، ويرى المستشرق (هنري كوريان الفرنسي) أن المعتزلة -أنفسهم- كانوا يفخرون بهذا الاسم في كل مراحل تاريخهم، وليس في ذلك ما يدل على أن الاسم يدينهم بشيء(3)، ولم يطلقه عليهم أهل السنة مضمناً معنى الذم أو السخرية(4).

بينما المستشرق (نيبرج السويدي) يعترض على هذه التسمية، ويرى أنها غير معقولة ولا وجه لها، وحجته في ذلك أنه قد ورد تسمية هذه المدرسة (بأهل الاعتزال) و (من قال بالاعتزال) فلو كان معنى الكلمة ما زعموه لما جازت هذه التسمية، كما أن لها عدة نظائر في عرف ذلك الزمان، كالمرجئة يرادفها أهل الإرجاء وهم الذين قالوا بالإرجاء، والرافضة التي يرادفها أهل الرفض ومن قال بالرفض.

ويؤيد اعتراضه ما أورده المسعودي من أن كلمة (اعتزال) في اصطلاح مذهب المعتزلة، هو القول بالمنزلة بين المنزلتين، أي باعتزال صاحب الكبيرة عن المؤمنين والكافرين(5).

 

‌‌ثانياً: القدرية:

يرى المستشرق (أشتيتر) أن المعتزلة في بدء أمرهم كانوا يسمون (القدرية) ثم لما أظهروا آراء مخالفة في مسائل عديدة، مثل صفات الله، وطبيعة القرآن، والوعد والوعيد بدت هذه التسمية (القدرية) غير كافية للدلالة عليهم، فاستبدلت بتسمية (المعتزلة)(6).

ويقول المستشرق (فوكوك الإنجليزي): فإذا سمي المعتزلة باسم القدرية، فذلك للقدرة التي يقولون بوجودها في العباد، فيظهر أن اشتقاق هذا الاسم أتى من إسنادهم أفعال العباد إلى قدرتهم(7)، واستند في قوله هذا إلى نص ذكره الإيجي في المواقف حيث يقول: "ويلقبون بالقدرية لإسنادهم أفعال العباد إلى قدرتهم"(8).

--------------------------------------------

(1) انظر: المعتزلة زهدي جار الله: 10.

(2) انظر: دائرة المعارف الإسلامية 30/ 9384.

(3) انظر: تاريخ الفلسفة في الإسلام (هنري كوريان): 184.

(4) انظر: التراث اليوناني في الحضارة الإسلامية: 190.

(5) انظر: مروج الذهب 6/ 22، 7/ 234.

(6) انظر: التراث اليوناني في الحضارة الإسلامية، بحوث في المعتزلة (نيللو): 176 - 177.

(7) انظر: المرجع السابق: 199.

(8) انظر: المواقف للإيجي: 415.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুতাজিলাদের নামসমূহ

প্রথমত: মুতাজিলা.

এই আকিদাগত মতাদর্শের ক্ষেত্রে ‘মুতাজিলা’ নামের প্রয়োগই প্রবল হয়েছে, এমনকি এটি তাদের সর্বাধিক পরিচিত ও সাধারণ নামে পরিণত হয়েছে(১)। তবে এ বিষয়ে প্রাচ্যবিদদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী দুটি মত রয়েছে। অধিকাংশ প্রাচ্যবিদ তাদের ‘মুতাজিলা’ নামেই অভিহিত করেন(২) এবং এই নামকরণের মূল ভিত্তি ছাড়া তাদের মধ্যে অন্য কোনো বিষয়ে দ্বিমত নেই। ফরাসি প্রাচ্যবিদ (হেনরি কোরবিন) মনে করেন যে, মুতাজিলারা নিজেরা তাদের ইতিহাসের সকল পর্যায়ে এই নামে গর্ব বোধ করতেন এবং এতে এমন কিছু নেই যা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে এই নাম তাদের কোনোভাবে দোষী সাব্যস্ত করে(৩)। আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতও এই নামটি তাদের ওপর নিন্দা বা বিদ্রূপের অর্থে প্রয়োগ করেননি(৪)।

পক্ষান্তরে, সুইডিশ প্রাচ্যবিদ (নিবার্গ) এই নামকরণের বিরোধিতা করেছেন। তিনি মনে করেন এটি অযৌক্তিক এবং এর কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে তার যুক্তি হলো—এই মতাদর্শকে ‘আহলে ইতিজাল’ (বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী) এবং ‘যারা ইতিজালের কথা বলে’ নামে অভিহিত করা হয়েছে; যদি এই শব্দের অর্থ তাই হতো যা তারা দাবি করে, তবে এই নামকরণ বৈধ হতো না। তাছাড়া সেই সময়ের পরিভাষায় এর আরও অনেক অনুরূপ দৃষ্টান্ত রয়েছে, যেমন—‘মুরজিয়া’র সমার্থক শব্দ হলো ‘আহলে ইরজা’ এবং যারা ‘ইরজা’র কথা বলে; আবার ‘রাফিদা’র সমার্থক হলো ‘আহলে রাফদ’ এবং যারা ‘রাফদ’-এর কথা বলে।

মাসউদী যা উল্লেখ করেছেন তা তার এই বিরোধিতাকে সমর্থন করে; তিনি বলেছেন যে, মুতাজিলাদের মাযহাবের পরিভাষায় ‘ইতিজাল’ অর্থ হলো ‘দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী এক অবস্থান’ (আল-মানজিলাতু বাইনাল মানজিলাতাইন)-এর মতবাদ গ্রহণ করা, অর্থাৎ কবিরা গুনাহকারীকে মুমিন ও কাফিরদের থেকে পৃথক বা বিচ্ছিন্ন রাখা(৫)।

 

দ্বিতীয়ত: কাদারিয়া:

প্রাচ্যবিদ (শ্টাইনার) মনে করেন যে, মুতাজিলারা তাদের শুরুর দিকে ‘কাদারিয়া’ নামে পরিচিত ছিল। এরপর যখন তারা আল্লাহর সিফাত (गुणাবলি), কুরআনের প্রকৃতি এবং ওয়াদ ও ওয়াইদ (পুরস্কার ও শাস্তি) এর মতো বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করতে শুরু করে, তখন এই ‘কাদারিয়া’ নামটি তাদের পরিচয়ের জন্য অপর্যাপ্ত মনে হতে থাকে এবং এর পরিবর্তে ‘মুতাজিলা’ নামটি স্থলাভিষিক্ত হয়(৬)।

ইংরেজ প্রাচ্যবিদ (পোকক) বলেন: মুতাজিলাদের যদি কাদারিয়া নামে অভিহিত করা হয়, তবে তা বান্দার মধ্যে বিদ্যমান যে কুদরত বা ক্ষমতার কথা তারা বলে, তার কারণেই করা হয়। সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, এই নামের উৎপত্তি হয়েছে বান্দার কাজকে তাদের নিজস্ব ক্ষমতার (কুদরত) দিকে নিসবত বা সম্বন্ধ করার কারণে(৭)। তিনি তার এই বক্তব্যের সপক্ষে আল-ঈজী প্রণীত ‘আল-মাওয়াকিফ’ গ্রন্থের একটি উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন যেখানে বলা হয়েছে: "তাদেরকে কাদারিয়া উপাধি দেওয়া হয়, কারণ তারা বান্দার কাজকে বান্দার ক্ষমতার দিকে সম্বন্ধ করে"(৮)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মুতাজিলা, যুহদি জারুল্লাহ: ১০।

(২) দেখুন: দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া ৩০/ ৯৩৮৪।

(৩) দেখুন: তারিখুল ফালসাফা ফিল ইসলাম (হেনরি কোরবিন): ১৮৪।

(৪) দেখুন: আত-তুরাসুল ইউনানি ফিল হাদারাতি ইসলামিয়া: ১৯০।

(৫) দেখুন: মুরুজুয যাহাব ৬/ ২২, ৭/ ২৩৪।

(৬) দেখুন: আত-তুরাসুল ইউনানি ফিল হাদারাতি ইসলামিয়া, বুহুস ফিল মুতাজিলা (নিল্লো): ১৭৬ - ১৭৭।

(৭) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস: ১৯৯।

(৮) দেখুন: আল-মাওয়াকিফ লিল ঈজী: ৪১৫।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ولا يوافق المستشرق (نيلو) على تسمية المعتزلة بالقدرية، ويقول: "كيف ولماذا سمي القائلون بحرية الإرادة والاختيار من المسلمين (قدرية) مع أن هذا الاسم يبدو أن معناه العكس تماماً، أي (القائلون بمذهب القدر والجبر)؟ ".

ثم يقول: "اعتاد المؤلفون العرب أن يجيبوا عن هذا السؤال باشتقاق من قبيل الاشتقاق عن الضد، فيقولون إنهم سموا القدرية، لأنهم أنكروا القدر أو على إنكارهم القدر، ولقد شعر الناس بما بين الاسم والمسمى من تناقض في العصور المتأخرة، حتى قال أحد القدرية: إن من يقول بالقدر خيره وشره من الله، أولى باسم القدرية منها"(1).

ويذكر المستشرق (لويس غاردية) بأن المعتزلة قد حاولوا التخلص من اسم القدرية، ذلك المصطلح الذي قد أطلق عليهم من غير تحفظ، فتنصلوا منه، حتى قام البعض منهم بتفسير الأصل الاشتقاقي للكلمة تفسيراً مختلفاً واستخدموها للتعبير عن أولئك الذين نادوا بفكرة القدر المطلق(2).

وبهذا نلاحظ أن المستشرقين لا يرون تسمية المعتزلة بالقدرية ومن يثبت ذلك منهم فإنما يجعله منشأ وتمهيداً للمعتزلة، وليس اسماً لهم، باستثناء المستشرق (فوكوك) الذي يسمي المعتزلة باسم القدرية، ويعلل ذلك للقدرة التي يقولون بوجودها في العباد، وأن اشتقاق هذا الاسم أتى من إسنادهم أفعال العباد إلى قدرتهم(3).

 

‌‌ثالثاً: أهل العدل والتوحيد.

يرى المستشرق (دي بوار) أن أخص لقب أطلق على المعتزلة حتى آخر أمرهم، حينما توجه تفكيرهم إلى مباحث تختلط فيها الفلسفة بالكلام، هو أنهم (أهل العدل) القائلون بأن الله لا يصدر عنه شر، وأنه يثيب الإنسان ويعاقبه على حسب عمله، وهم يسمون بعد ذلك (أهل التوحيد) الذين ينكرون أن صفات الله زائدة على ذاته(4).

أما المستشرق (جولد زيهر) فيرى أنه بسبب اتجاه ميلوهم ونزعاتهم الدينية والفلسفية إلى مسألتي (العدل والتوحيد) فقد سموا أنفسهم (أصحاب العدل والتوحيد)(5).

وذكر محرروا مادة (المعتزلة) في دائرة المعارف بأنه قد عرف عن المعتزلة بأنهم أهل العدل والتوحيد(6).

 

?

--------------------------------------------

(1) انظر: التراث اليوناني في الحضارة الإسلامية، بحوث في المعتزلة (نيللو): 178.

(2) انظر: دائرة المعارف الإسلامية 24/ 7371.

(3) انظر: التراث اليوناني في الحضارة الإسلامية، بحوث في المعتزلة (نيللو): 199.

(4) تاريخ الفلسفة في الإسلام (دي بوار): 99.

(5) انظر: العقيدة والشريعة: 104.

(6) انظر: دائرة المعارف الإسلامية: 24/ 7374)، مذاهب التفسير الإسلامي: 159.
প্রাচ্যবিদ (নালিনো) মুতাজিলাদের ‘কাদারিয়া’ নামে অভিহিত করার সাথে একমত নন। তিনি বলেন: "কীভাবে এবং কেন মুসলমানদের মধ্যে মানুষের ইচ্ছা ও পছন্দের স্বাধীনতার প্রবক্তাদের (কাদারিয়া) বলা হলো, যেখানে এই নামের অর্থ সম্পূর্ণ বিপরীত বলে মনে হয়, অর্থাৎ (কদর ও জবর তথা নিয়তিবাদের প্রবক্তা)?"

তারপর তিনি বলেন: "আরব লেখকরা সাধারণত এই প্রশ্নের উত্তর দেন একটি বৈপরীত্যমূলক ব্যুৎপত্তির মাধ্যমে। তারা বলেন যে, তাদের কাদারিয়া বলা হয়েছে কারণ তারা কদর (ভাগ্য) অস্বীকার করেছে, অথবা কদর অস্বীকার করার কারণে তাদের এই নাম দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী যুগে মানুষ এই নাম এবং নামধারী গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান এই বৈপরীত্য অনুভব করতে শুরু করে, এমনকি কাদারিয়াদের একজন তো বলেই বসেন: যে ব্যক্তি বলে যে ভালো-মন্দ সব ভাগ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, সে-ই কাদারিয়া নামের জন্য অধিক যোগ্য"(১)।

প্রাচ্যবিদ (লুই গার্ডে) উল্লেখ করেন যে, মুতাজিলারা ‘কাদারিয়া’ নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছিল—এই পরিভাষাটি কোনো সতর্কতা ছাড়াই তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই তারা এটি প্রত্যাখ্যান করে, এমনকি তাদের কেউ কেউ এই শব্দের ব্যুৎপত্তিগত মূলের ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং যারা পরম ভাগ্যের ধারণার প্রবক্তা ছিল, তাদের বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করেন(২)।

এর মাধ্যমে আমরা লক্ষ করি যে, প্রাচ্যবিদরা মুতাজিলাদের কাদারিয়া নামে অভিহিত করাকে সঠিক মনে করেন না; আর তাদের মধ্যে যারা এটি সমর্থন করেন, তারা একে মুতাজিলাদের একটি উৎস বা প্রস্তুতিমূলক পর্যায় হিসেবে গণ্য করেন, তাদের নাম হিসেবে নয়। তবে প্রাচ্যবিদ (ফুকোক) এর ব্যতিক্রম, তিনি মুতাজিলাদের কাদারিয়া নামেই অভিহিত করেন। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, তারা বান্দার মধ্যে এক প্রকার সক্ষমতা বা কুদরত বিদ্যমান থাকার কথা বলে এবং এই নামের ব্যুৎপত্তি ঘটেছে বান্দার কাজগুলোকে তাদের নিজস্ব সক্ষমতার (কুদরত) দিকে সম্বন্ধ করার কারণে(৩)।

 

‌‌তৃতীয়: আহলুল আদল ওয়াত তাওহীদ (ন্যায়বিচার ও একেশ্বরবাদের অনুসারী)

প্রাচ্যবিদ (ডি বুর) মনে করেন যে, মুতাজিলাদের শেষ সময় পর্যন্ত তাদের জন্য ব্যবহৃত সবচেয়ে বিশিষ্ট উপাধি ছিল—যখন তাদের চিন্তাচেতনা দর্শন ও ইলমুল কালামের সংমিশ্রণে বিভিন্ন গবেষণার দিকে মোড় নেয়—তাহলো তারা ‘আহলুল আদল’ (ন্যায়বিচারের অনুসারী)। তারা বলতেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো মন্দ প্রকাশ পায় না এবং তিনি মানুষকে তার কর্ম অনুযায়ী পুরস্কার বা শাস্তি প্রদান করেন। এরপর তাদের ‘আহলুত তাওহীদ’ (একেশ্বরবাদের অনুসারী) বলা হয়, যারা আল্লাহর গুণাবলি তাঁর সত্তার অতিরিক্ত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন(৪)।

অন্যদিকে প্রাচ্যবিদ (গোল্ডজিহার) মনে করেন যে, তাদের ধর্মীয় ও দার্শনিক ঝোঁক এবং প্রবণতা ‘আদল ও তাওহীদ’ (ন্যায়বিচার ও একেশ্বরবাদ) এই দুটি বিষয়ের দিকে নিবদ্ধ হওয়ার কারণেই তারা নিজেদের ‘আসহাবুল আদল ওয়াত তাওহীদ’ নামে অভিহিত করেছিল(৫)।

ইসলামি বিশ্বকোষের ‘মুতাজিলা’ নিবন্ধের সম্পাদকগণ উল্লেখ করেছেন যে, মুতাজিলারা ‘আহলুল আদল ওয়াত তাওহীদ’ হিসেবেই পরিচিত ছিল(৬)।

 

?

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-তুরাস আল-ইউনানি ফিল হাদারা আল-ইসলামিয়া (ইসলামি সভ্যতায় গ্রিক ঐতিহ্য), বুহুস ফিল মুতাজিলা (নালিনো): ১৭৮।

(২) দেখুন: দায়িরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া (ইসলামি বিশ্বকোষ) ২৪/ ৭৩৭১।

(৩) দেখুন: আল-তুরাস আল-ইউনানি ফিল হাদারা আল-ইসলামিয়া, বুহুস ফিল মুতাজিলা (নালিনো): ১৯৯।

(৪) তারিখুল ফালসাফা ফিল ইসলাম (ইসলামে দর্শনের ইতিহাস) (ডি বুর): ৯৯।

(৫) দেখুন: আল-আকিদা ওয়াস শারিয়া (বিশ্বাস ও বিধান): ১০৪।

(৬) দেখুন: দায়িরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া: ২৪/ ৭৩৭৪; মাজাহিবুত তাফসির আল-ইসলামি: ১৫৯।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌رابعاً: الجهمية:

لا يرى المستشرقون أن اسم الجهمية من أسماء المعتزلة ويقولون إن علماء الحنابلة هم الذين أطلقوا هذا الاسم على المعتزلة.

يقول المستشرق (مونتغمري وات الأمريكي): " إن علماء الحنابلة هم الذين أطلقوا اسم (الجهمية) على (المعتزلة) لأنه لم يكن هناك فرقة أو مجموعة تعرف باسم (الجهمية)، وأنه نتيجة لصراع الأسماء الموجود في ذلك الوقت برزت مادة مثيرة، وجدها مؤلفو الفرق مفيدة في تصنيف آرائهم عن الفرق، مما يجعل الاعتقاد بأن جهماً التاريخي قد اعتنق كل هذه الآراء المنسوبة إلى الجهم، منطوياً على مفارقة تاريخية"(1).

ويرى المستشرق (بينس الألماني) أن المعتزلة في علاقتهم مع الجهمية، لم يكونوا يعطونهم فقط؛ بل كانوا يأخذون منهم أيضاً(2).

--------------------------------------------

(1) انظر: مقالة عن الجماعة والفرق (مونتغمري وات) ترجمة: ناهد جعفر: 17.

(2) انظر: مذهب الذرة: 130.
চতুর্থত: জহামিয়্যাহ:

প্রাচ্যবিদগণ মনে করেন না যে ‘জহামিয়্যাহ’ নামটি মু'তাযিলাদেরই একটি নাম; বরং তারা বলেন যে, হাম্বলী আলেমগণই মু'তাযিলাদের ওপর এই নামটি প্রয়োগ করেছিলেন।

মার্কিন প্রাচ্যবিদ (মন্টগোমারি ওয়াট) বলেন: "হাম্বলী আলেমগণই ‘মু'তাযিলা’দের ওপর ‘জহামিয়্যাহ’ নামটি আরোপ করেছেন; কারণ জহামিয়্যাহ নামে পরিচিত কোনো দল বা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব ছিল না। সেই সময়ে প্রচলিত নাম সংক্রান্ত বিবাদের ফলে এমন কিছু কৌতূহলোদ্দীপক উপাদান তৈরি হয়েছিল যা ফিরকা বা গোষ্ঠী বিষয়ক লেখকগণ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মতামত শ্রেণীবদ্ধ করার ক্ষেত্রে কার্যকর মনে করেছিলেন। ফলে ঐতিহাসিক জহাম (ইবনে সাফওয়ান) তাঁর প্রতি নিসবতকৃত বা আরোপিত এই সমস্ত মতবাদ লালন করতেন বলে বিশ্বাস করাটা একটি ঐতিহাসিক অসঙ্গতির অন্তর্ভুক্ত।"(১)।

জার্মান প্রাচ্যবিদ (পাইনস) মনে করেন যে, জহামিয়্যাহদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মু'তাযিলাগণ কেবল তাদের প্রদানই করেনি; বরং তাদের থেকে গ্রহণও করেছিল(২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-জামাআ ওয়া আল-ফিরাক বিষয়ক নিবন্ধ (মন্টগোমারি ওয়াট), অনুবাদ: নাহিদ জাফর: ১৭।

(২) দেখুন: মাযহাব আল-যাররাহ: ১৩০।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌المبحث الثاني: العوامل التي يرى المستشرقون أنها ساعدت وهيأت لظهور المعتزلة

من العوامل التي يرى المستشرقون أنها ساعدت وهيأت لظهور المعتزلة ما يلي:

‌‌1 - الجدل واللجاج بسبب الخلافات الكلامية بين الفرق الإسلامية:

حيث سيطرت قضية مرتكب الكبيرة على النقاشات، واشتد النزاع بين أهل السنة والخوارج، فرفض الخوارج حكم أهل السنة، واعترض المرجئة على حكم الخوارج، وتعاظم الخلاف بين الفرق الإسلامية، واحتدم الجدال، وصارت تعقد في مساجد البصرة وغيرها حلقات المناظرة، التي كان من أشهرها حلقة الحسن البصري الذي حاول أن يحل المشكلة بقوله: إن مرتكب الكبيرة المسلم (منافق)(1).

وفي هذا الجو الوقت ظهرت المعتزلة لتضع حلولاً تحسب أنها سترضي الجميع، وتحوز قبولهم، وتصلح ذات بينهم(2) مستخدمة في ذلك الجدل والمناظرات الكلامية.

وهذا العامل من عوامل الظهور لفرقة المعتزلة، قد أورده عدد من المستشرقين منهم (نيللو(3)، مونتجمري وات(4)، غردية وقنواتي(5)، هاملتون الإنجليزي(6)) حيث يرون أن المعتزلة قد وقفوا على الحياد بين أهل السنة والجماعة وبين الخوارج، على يد واصل بن عطاء وشكلوا حزباً ثالثاً، فقالوا بالمنزلة بين المنزلتين(7).

‌‌2 - التيارات الدينية غير الإسلامية:

يرى المستشرق (هنري كوربان) أن التيارات الدينية غير الإسلامية قد ساهمت في تبلور الفكر المعتزلي، من خلال تفاعلهم وموقفهم العام من الجماعات غير المسلمة التي تكونت داخل المجتمع الإسلامي، كالإثنينية(8)، والمزدكية(9)، واليهودية، ويستدلون على ذلك بما ذكره صاحب الأغاني من أن واصل بن عطاء وعمرو بن عبيد، كانا يحضران في بيت أحد الأزديين مجالس يدافع فيها الحاضرون عن العقيدة الثنوية، وأن بعض آراء المعتزلة كالقول بالتوحيد وخلق القرآن إنما كانت ردة فعل لتثليث النصارى وتجسيد الإله(10).

--------------------------------------------

(1) انظر: الانتصار: 164، العقائد النسفية: 119.

(2) انظر: مروج الذهب 1/ 71، 6/ 24، مقدمة الانتصار: 51، المعتزلة (جار الله): 24 - 28.

(3) انظر: دائرة المعارف الإسلامية 30/ 9384، التراث اليوناني في الحضارة الإسلامية، بحوث في المعتزلة (نيللو): 19\ 81، 190، 191.

(4) انظر: التاريخ السياسي للمعتزلة، د. عبدالرحمن سالم: 131.

(5) انظر: فلسفة الفكر الديني بين الإسلام والمسيحية، لويس غردية وج قنواتي، ترجمة: د. صبحي الصالح وآخر، وانظر: التاريخ السياسي للمعتزلة، د. عبدالرحمن سالم: 131.

(6) انظر: تاريخ المعتزلة وفكرهم وعقائدهم، د. فالح الربيعي: 19.

(7) انظر: دائرة المعارف الإسلامية 8/ 2400، فلسفة الفكر الديني 3/ 149.

(8) الاثنينية: هم أصحاب الاثنين الأزليين، يزعمون أن النور والظلمة أزليان قديمان بخلاف المجوس، فإنهم قالوا بحدوث الظلام، وهؤلاء قالوا: بتساويهما في القدم، واختلافهما في الجوهر والطبع والفعل والحيز والمكان والأجناس والأبدان والأرواح. انظر: الملل والنحل 1/ 290.

(9) المزدكية من الثنوية: أصحاب مزدك، الزنديق، الذي كان إباحياً يقول باستباحة أموال الناس وأنها فيء، والأشياء كلها ملك لله مشاع بين الناس. انظر: الملل والنحل 1/ 294، فهرست ابن النديم: 279.

(10) انظر: تاريخ الفلسفة في الإسلام (هنري كوريان): 186.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুতাজিলাদের আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রে প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিতে সহায়ক ও প্রস্তুতকারী উপাদানসমূহ

প্রাচ্যবিদরা মুতাজিলাদের আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোকে সহায়ক ও প্রস্তুতিমূলক উপাদান হিসেবে গণ্য করেন, তা নিম্নরূপ:

১ - ইসলামি দলগুলোর মধ্যকার কালামশাস্ত্রীয় মতভেদের ফলে সৃষ্ট বিতর্ক ও বাগবিতণ্ডা:

যেখানে কবিরা গুনাহগার ব্যক্তির বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল এবং আহলে সুন্নাত ও খারিজিদের মধ্যে বিবাদ তীব্রতর হয়েছিল। খারিজিরা আহলে সুন্নাতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে এবং মুরজিয়ারা খারিজিদের সিদ্ধান্তের ওপর আপত্তি জানায়। এভাবে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে বিরোধ বৃদ্ধি পায় এবং বিতর্ক চরমে পৌঁছায়। বসরা ও অন্যান্য স্থানের মসজিদগুলোতে বাহাস বা বিতর্কসভা অনুষ্ঠিত হতে থাকে, যার মধ্যে হাসান বসরীর মজলিস ছিল অন্যতম প্রসিদ্ধ। তিনি এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টায় বলেছিলেন: কবিরা গুনাহে লিপ্ত মুসলিম ব্যক্তি (মুনাফিক)(১)।

এমন এক পরিস্থিতিতে মুতাজিলাদের উদ্ভব ঘটে এই উদ্দেশ্যে যে, তারা এমন সমাধান পেশ করবে যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্থাপন করবে(২)। তারা এক্ষেত্রে বিতর্ক ও কালামশাস্ত্রীয় যুক্তিধারা ব্যবহার করেছিল।

মুতাজিলা সম্প্রদায়ের আত্মপ্রকাশের অন্যতম এই কারণটি নেলিনো(৩), মন্টগোমারি ওয়াট(৪), গার্ডেট ও কানাওয়াতি(৫) এবং ইংরেজ হ্যামিল্টনের(৬) মতো একাধিক প্রাচ্যবিদ উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, ওয়াসিল ইবনে আতার নেতৃত্বে মুতাজিলারা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত এবং খারিজিদের মাঝখানে একটি নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে একটি তৃতীয় দল গঠন করে। তারা 'আল-মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইন' (দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী অবস্থান) মতবাদটি পেশ করে(৭)।

২ - অনৈসলামিক ধর্মীয় মতাদর্শসমূহ:

প্রাচ্যবিদ হেনরি করবিন মনে করেন যে, অনৈসলামিক ধর্মীয় স্রোতধারাগুলো মুতাজিলা চিন্তাধারার রূপায়ণে ভূমিকা রেখেছে। ইসলামি সমাজে গড়ে ওঠা অমুসলিম সম্প্রদায় যেমন: দ্বৈতবাদী (ইসনাইনিয়্যাহ)(৮), মাজদাকীয়(৯) এবং ইহুদিদের সাথে পারস্পরিক ক্রিয়া ও সাধারণ অবস্থানের মাধ্যমে এটি প্রভাবিত হয়েছে। 'কিতাবুল আগানি'র লেখকের উদ্ধৃতি দিয়ে তারা প্রমাণ পেশ করেন যে, ওয়াসিল ইবনে আতা এবং আমর ইবনে উবাইদ জনৈক আজদি ব্যক্তির বাড়িতে এমন মজলিসে উপস্থিত হতেন যেখানে অংশগ্রহণকারীরা দ্বৈতবাদী আকিদার পক্ষে কথা বলত। তারা আরও মনে করেন যে, মুতাজিলাদের কিছু মতবাদ যেমন—তাওহিদ ও সৃষ্টিতত্ত্ব (খলক আল-কুরআন)—মূলত খ্রিস্টানদের ত্রিত্ববাদ এবং ঈশ্বরের সাকার রূপের (তাজসিম) প্রতিক্রিয়াস্বরূপ উৎপন্ন হয়েছিল(১০)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-ইনতিসার: ১৬৪, আল-আকায়িদুন নাসাফিয়্যাহ: ১১৯।

(২) দ্রষ্টব্য: মুরুজুয যাহাব ১/৭১, ৬/২৪, আল-ইনতিসারের ভূমিকা: ৫১, আল-মুতাজিলা (জারুল্লাহ): ২৪ - ২৮।

(৩) দ্রষ্টব্য: দা-ইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ৩০/৯৩৮৪, আত-তুরাসুল ইউনানি ফিল হাদরাতিল ইসলামিয়্যাহ, বুহুস ফিল মুতাজিলা (নেলিনো): ১৯/৮১, ১৯০, ১৯১।

(৪) দ্রষ্টব্য: আত-তারিখুস সিয়াসি লিল মুতাজিলা, ড. আবদুর রহমান সালিম: ১৩১।

(৫) দ্রষ্টব্য: ফালসাফাতুল ফিকর আদ-দীনি বাইনাল ইসলাম ওয়াল মাসিহিয়্যাহ, লুই গার্ডেট ও জে. কানাওয়াতি, অনুবাদ: ড. সুবহি আস-সালেহ ও অন্যান্য; এবং দেখুন: আত-তারিখুস সিয়াসি লিল মুতাজিলা, ড. আবদুর রহমান সালিম: ১৩১।

(৬) দ্রষ্টব্য: তারিখুল মুতাজিলা ওয়া ফিকরুহুম ওয়া আকায়িদুহুম, ড. ফালিহ আল-রাবিয়ি: ১৯।

(৭) দ্রষ্টব্য: দা-ইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ৮/২৪০০, ফালসাফাতুল ফিকর আদ-দীনি ৩/১৪৯।

(৮) দ্বৈতবাদী (ইসনাইনিয়্যাহ): তারা দুটি চিরন্তন সত্তায় বিশ্বাসী। তারা মনে করে আলো ও অন্ধকার উভয়ই অনাদি ও প্রাচীন। তারা অগ্নিউপাসকদের (মাজুসি) থেকে ভিন্ন, যারা অন্ধকারকে পরবর্তী সৃষ্টি মনে করত। এরা (দ্বৈতবাদীরা) মনে করে যে, আলো ও অন্ধকার প্রাচীনত্বের দিক থেকে সমান, তবে তাদের সত্তা, প্রকৃতি, কর্ম, ক্ষেত্র, স্থান, প্রজাতি, দেহ এবং আত্মার দিক থেকে তারা ভিন্ন। দ্রষ্টব্য: আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/২৯০।

(৯) মাজদাকিয়া হলো দ্বৈতবাদের একটি শাখা: তারা জিন্দিক মাজদাকের অনুসারী। সে ছিল চরম ভোগবাদী, মানুষের সম্পদকে সর্বসাধারণের সম্পত্তি মনে করত এবং সবকিছুর মালিকানা আল্লাহর এবং তা মানুষের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত বলে মনে করত। দ্রষ্টব্য: আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/২৯৪, ফিহরিস্ত ইবনে নাদিম: ২৭৯।

(১০) দ্রষ্টব্য: তারিখুল ফালসাফা ফিল ইসলাম (হেনরি করবিন): ১৮৬।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌3 - دراسة الفلسفة اليونانية بزعم الدفاع عن الدين الإسلامي.

لقد ساهمت الفلسفة اليونانية في نمو الفكر الاعتزالي وتطوره، حيث استخدمت المعتزلة الفلسفة لتكوين عقيدة الألوهية(1) ومن ثم تدرجت في الأخذ بمنهاج فلاسفة اليونان، والبحث في الصفات الإلهية(2) فدرس رجال المعتزلة الفلسفة، وتأثروا بها كثيراً نظراً لاعتمادها على العقل، وقد أشار لذلك المستشرقون كما جاء في دائرة المعارف، حيث نصت على أن المعتزلة كانوا أكثر الفرق اتصالاً بالفلسفة اليونانية، وأكثرهم إفادة منها؛ اضطرهم لذلك ما انتدبوا أنفسهم له من الحجاج عن الدين وعقائده، والرد على المخالفين من أصحاب الملل الأخرى(3).

يقول فون كريمر: إن المعتزلة في نشأتهم تأثروا باللاهوت اليوناني، وعلى الأخص تأثروا بيحيى الدمشقي وتلميذه تيو دور أبي قرة(4).

ويرى شتيتر أن الاعتزال في آخر تطوراته قد تأثر كثيراً بالفلسفة اليونانية(5).

بل يرى هاملتون أن المعتزلة كانوا يصبون عقائدهم في قوالب الأفكار اليونانية، ويستوحون تأملاتهم الدينية من الميتافيزيقيا - ما وراء الطبيعة- اليونانية بدلاً من القرآن(6)، وهذا غير مقبول، فالمعتزلة مسلمون تأثروا باليونان وليسوا يونانيين تأثروا بالإسلام.

--------------------------------------------

(1) انظر: التراث اليوناني في الحضارة الإسلامية: 83.

(2) انظر: الإسلام كبديل (هوفمان): 49.

(3) انظر: دائرة المعارف الإسلامية 8/ 2400.

(4) انظر: أدب المعتزلة: 114.

(5) انظر: المرجع السابق: 114.

(6) انظر: المرجع السابق: 115.
৩ - ইসলামি ধর্ম রক্ষার অজুহাতে গ্রিক দর্শন অধ্যয়ন.

গ্রিক দর্শন মুতাযিলা চিন্তাধারার বৃদ্ধি ও বিকাশে অবদান রেখেছিল। মুতাযিলিপন্থীরা উলুহিয়্যাত বা খোদাতত্ত্বের আকিদা গঠনে দর্শন ব্যবহার করেছিল(১) এবং এরপর ধীরে ধীরে তারা গ্রিক দার্শনিকদের পদ্ধতি গ্রহণ এবং ইলাহি সিফাত বা ঐশ্বরিক গুণাবলি নিয়ে গবেষণার দিকে অগ্রসর হয়েছিল(২)। মুতাযিলা পণ্ডিতগণ দর্শন অধ্যয়ন করেন এবং এর যৌক্তিক নির্ভরতার কারণে তারা এর দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। প্রাচ্যবিদগণও এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেমনটি ইসলামি বিশ্বকোষে (দাইরাতুল মাআরিফ) বর্ণিত হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুতাযিলারা ছিল গ্রিক দর্শনের সাথে সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত এবং এর থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হওয়া ফেরকা; তারা ধর্মের প্রতিরক্ষা, আকিদা রক্ষা এবং ভিন্নমতাবলম্বী ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের যুক্তিনির্ভর জবাব দেওয়ার যে দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছিল, তা পালনের তাগিদেই তারা এমনটি করতে বাধ্য হয়েছিল(৩)।

ভন ক্রেমার বলেন: মুতাযিলারা তাদের উৎপত্তিলগ্নে গ্রিক ধর্মতত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত ছিল, বিশেষ করে তারা ইয়াহইয়া আদ-দিমাশকি এবং তার ছাত্র থিওডোর আবু কুররাহ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল(৪)।

শ্টেটার মনে করেন যে, মুতাযিলা মতবাদ তার শেষ পর্যায়ের বিবর্তনে গ্রিক দর্শন দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল(৫)।

এমনকি হ্যামিল্টন মনে করেন যে, মুতাযিলারা তাদের আকিদা বা বিশ্বাসসমূহকে গ্রিক চিন্তাধারার ছাঁচে ঢালছিল এবং কুরআনের পরিবর্তে গ্রিক মেটাফিজিক্স (অধিতত্ত্ব) থেকে তাদের ধর্মীয় চিন্তাভাবনার রসদ সংগ্রহ করছিল(৬)। তবে এই অভিমতটি গ্রহণযোগ্য নয়; কেননা মুতাযিলারা ছিল মুসলিম যারা গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল, তারা ইসলাম দ্বারা প্রভাবিত কোনো গ্রিক ছিল না।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আত-তুরাছ আল-ইউনানি ফিল হাদারা আল-ইসলামিয়্যাহ (ইসলামি সভ্যতায় গ্রিক ঐতিহ্য): ৮৩।

(২) দেখুন: আল-ইসলাম কা-বাদিল (বিকল্প হিসেবে ইসলাম) - হফম্যান: ৪৯।

(৩) দেখুন: দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ (ইসলামি বিশ্বকোষ) ৮/ ২৪০০।

(৪) দেখুন: আদাবুল মুতাযিলা: ১১৪।

(৫) দেখুন: পূর্বোক্ত সূত্র: ১১৪।

(৬) দেখুন: পূর্বোক্ত সূত্র: ১১৫।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌المبحث الثالث: أعلام المعتزلة

‌‌تمهيد:

يقرر المستشرقان (لويس غاردية وجورج قنواتي) بأن المعتزلة فرق كثيرة تحتلف في بعض التفاصيل والجزئيات، وأنه لم يقع إجماع على مذهب واحد في حقائق العقيدة كلها بين أئمة المعتزلة(1) إلا أنه تجمعها خمسة أصول، هي (التوحيد، العدل، الوعد والوعيد، المنزلة بين المنزلتين، الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر) وليس يستحق أحد اسم الاعتزال حتى يجمع القول بهذه الأصول الخمسة(2).

ويرى المستشرق (فنسنك الهولندي) بأن المذهب الاعتزالي قد انقسم إلى طائفتين، معتزلة البصرة ومعتزلة بغداد، دون أن يعني ذلك انتماءً جغرافياً حقاً، بل اصطلاحياً، والمعتزلة ينقسمون إلى معتزلة متقدمون ومعتزلة متأخرون، وبهذا تنقسم المعتزلة إلى أربع فرق كلامية(3).

ويذكر المستشرقان (لويس غاردية وجورج قنواتي) بعض أعلام المعتزلة، فيذكر أن من معتزلة البصرة (العلاف، النظام، الجاحظ) ومن معتزلة بغداد (بشر بن المعتمر، أبو موسى المردار، ثمامة بن الأشرس، أحمد بن أبي داؤد) وأنهم جميعاً كانوا مندفعين بروح واحدة، ويؤكدان بأن المؤرخين والمصنفين في الفرق لم يخطئوا إذ ردوا إلى الأصول الخمسة كل ما كان يميز هؤلاء العلماء(4).

ومن النقاط التي يذكرها المستشرقون عن أعلام المعتزلة:

‌‌أ- مؤسس مذهب المعتزلة:

يقرر المستشرق (فنسنك) بأن مؤسس المعتزلة هو واصل بن عطا - أبو حذيفة - الغزال(5)، وأنه رأس فرقة المعتزلة وأنه ولد سنة ثمانين للهجرة وتوفي سنة مائة وإحدى وثلاثين للهجرة، وهو شيخ المعتزلة وقديمها(6).

ويعده المستشرق (جولد زيهر) بأنه هو وعمرو بن عبيد مؤسسي مذهب المعتزلة(7) والذين ارتبط بهما اسم (المعتزلة السياسية)(8).

--------------------------------------------

(1) انظر: فلسفة الفكر الديني 1/ 80.

(2) انظر: موجز دائرة المعارف الإسلامية 8/ 2398.

(3) انظر: المعتزلة (د. جمرت) ضمن موجز دائرة المعارف الإسلامية 30/ 9386.

(4) انظر: فلسفة الفكر الديني 1/ 80 - 81.

(5) انظر: واصل بن عطاء (فنسنك) ضمن موجز دائرة المعارف الإسلامية 32/ 10109.

(6) انظر: موجز دائرة المعارف الإسلامية 8/ 2398.

(7) انظر: العقيدة والشريعة: 101.

(8) انظر: علم الكلام (ل جاردية) ضمن موجز دائرة المعارف الإسلامية 24/ 7371.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুতাজিলাদের প্রধান ব্যক্তিবর্গ

ভূমিকা:

প্রাচ্যবিদদ্বয় (লুই গার্দে এবং জর্জ কানাওয়াতি) সিদ্ধান্ত প্রদান করেন যে, মুতাজিলারা এমন বহু উপদলে বিভক্ত যারা কিছু বিস্তারিত বিষয় ও আনুষঙ্গিক ক্ষেত্রে ভিন্ন মত পোষণ করেন। মুতাজিলা ইমামদের মধ্যে আকিদার সমস্ত বাস্তব সত্যের ক্ষেত্রে একক কোনো মতাদর্শের ওপর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি(১), তবে পাঁচটি মূলনীতি তাদের একত্রিত করে; সেগুলো হলো (তাওহিদ বা একত্ববাদ, আদল বা ন্যায়বিচার, ওয়াদা ও ওয়াইদ বা প্রতিশ্রুতি ও ভীতিপ্রদর্শন, আল-মানজিলা বাইনাল মানজিলাতাইন বা দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী অবস্থান, এবং আমর বিল মা’রুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার বা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ)। এই পাঁচটি মূলনীতির ব্যাপারে একমত না হওয়া পর্যন্ত কেউ মুতাজিলা নামের যোগ্য হতে পারে না(২)।

ওলন্দাজ প্রাচ্যবিদ (ওয়েনসিঙ্ক) মনে করেন যে, মুতাজিলা মতবাদ দুটি দলে বিভক্ত হয়েছে: বসরার মুতাজিলা এবং বাগদাদের মুতাজিলা। এর অর্থ প্রকৃত ভৌগোলিক সম্পৃক্ততা নয়, বরং এটি একটি পারিভাষিক নাম। মুতাজিলারা আবার পূর্ববর্তী মুতাজিলা এবং পরবর্তী মুতাজিলা—এই দুই ভাগে বিভক্ত, আর এভাবে মুতাজিলারা চারটি ধর্মতাত্ত্বিক উপদলে বিভক্ত হয়(৩)।

প্রাচ্যবিদদ্বয় (লুই গার্দে এবং জর্জ কানাওয়াতি) মুতাজিলাদের কিছু প্রধান ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, বসরার মুতাজিলাদের মধ্যে ছিলেন (আল-আল্লাফ, আন-নাজ্জাম, আল-জাহিজ) এবং বাগদাদের মুতাজিলাদের মধ্যে ছিলেন (বিশ্‌র ইবনুল মুতামির, আবু মুসা আল-মুরদার, সুমামাহ ইবনুল আশরাস, আহমাদ ইবনু আবি দাউদ)। তাঁরা সকলেই একই চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন এবং তাঁরা জোর দিয়ে বলেন যে, ইতিহাসবিদ ও বিভিন্ন ফিরকা বিষয়ক গ্রন্থকারগণ এই আলেমদের স্বাতন্ত্র্যসূচক বিষয়গুলোকে সেই পাঁচটি মূলনীতির দিকেই ফিরিয়ে দিয়ে কোনো ভুল করেননি(৪)।

মুতাজিলাদের প্রধান ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে প্রাচ্যবিদগণ যে পয়েন্টগুলো উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে:

ক- মুতাজিলা মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা:

প্রাচ্যবিদ (ওয়েনসিঙ্ক) সিদ্ধান্ত দেন যে, মুতাজিলাদের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ওয়াসিল ইবনু আতা - আবু হুজাইফা - আল-গাজ্জাল(৫)। তিনি মুতাজিলা ফিরকার প্রধান ছিলেন। তিনি ৮০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মুতাজিলাদের শাইখ এবং তাদের প্রাচীনতম ব্যক্তিত্ব(৬)।

প্রাচ্যবিদ (গোল্ডজিহার) তাঁকে এবং আমর ইবনু উবাইদকে মুতাজিলা মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করেন(৭) যাদের নামের সাথে 'রাজনৈতিক মুতাজিলা' নামটি যুক্ত ছিল(৮)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফালসাফাতুল ফিকর আদ-দ্বীনি ১/ ৮০।

(২) দেখুন: মুজাজ দাইরাতিল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া ৮/ ২৩৯৮।

(৩) দেখুন: আল-মুতাজিলা (ড. জিমারেত), মুজাজ দাইরাতিল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া ৩০/ ৯৩৮৬-এর অন্তর্ভুক্ত।

(৪) দেখুন: ফালসাফাতুল ফিকর আদ-দ্বীনি ১/ ৮০ - ৮১।

(৫) দেখুন: ওয়াসিল ইবনু আতা (ওয়েনসিঙ্ক), মুজাজ দাইরাতিল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া ৩২/ ১০১০৯-এর অন্তর্ভুক্ত।

(৬) দেখুন: মুজাজ দাইরাতিল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া ৮/ ২৩৯৮।

(৭) দেখুন: আল-আকিদা ওয়াশ শারিয়া: ১০১।

(৮) দেখুন: ইলমুল কালাম (লুই গার্দে), মুজাজ দাইরাতিল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া ২৪/ ৭৩৭১-এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ب- ادعاء أن هناك تجنياً على مذهب أبي الهذيل العلاف:

يرى المستشرق (نيبرج) بأن مذهب أبي الهذيل العلاف قد تعرض لتجنٍ من قبل مؤرخي الفرق، حيث إن مذهبه في الكلام قد تعرض لحقد مرتدٍ عن الاعتزال - حسب قولهم - وهو (ابن الرواندي) المشهور، الذي شوه هذا المذهب في كتابه (فضيحة المعتزلة) وذلك بنقده في كثير من الأحيان نقداً رخيصاً غاية في الرخص(1)، وأن عبدالقاهر البغدادي قد نقل هذا التشويه على علاته في كتابه (الفَرْق بين الفِرَق) وهو يتردد كثيراً في المختصرات التي كتبت عن المعتزلة(2).

ولا يمكن كشف القناع عن فعلة ابن الراوندي، والخروج بفكرة دقيقة عن مقاصد أبي الهذيل الحقيقية إلا من خلال كتاب (الانتصار) للخياط، الذي سل فيه سيف النقد الصارم على ابن الراوندي(3).

وينثي على الأشعري فيقول: إنه قد نقل في كتابه (مقالات الإسلاميين) أقوال أبي الهذيل العلاف في حيدة جديرة بالإعجاب، وفقاً للمأثور من مذهب المعتزلة(4).

 

‌‌ج- نظرتهم لبعض رجال المعتزلة:

يشكك المستشرق (لويس غاردية) في أن يكون (ضرار بن عمرو، والحسين بن محمد النجار، ومحمد بن برغوث) من المعتزلة، ويقولون: إنهم يعتبرون من (المثبتة أو أهل الإثبات) الذين من غير الميسور البتة تعريفهم بدقة، ويضيف بأنهم قد لقوا معارضة شديدة من جانب العديد من أشياع مذهب البصرة(5) ويصرح المستشرق (بينس) بأن: ضرار بن عمرو، ليس من رجال المعتزلة(6).

كما يتردد المستشرق (جولد زيهر) في جعل النظام من رجال المعتزلة فيقول إنه أبعد المعتزلة تطرفاً واستقلالاً في الرأي وأقربهم إلى الفلسفة(7)، وأنه يُعد من أكثر رؤوس المعتزلة انطلاقاً دون زمام(8). ويصفه المستشرق (بينس) بأنه يكسوا ما يأخذه بلباس الاعتزال(9).

ولعل المستشرقين في إطلاقهم هذا القول يريدون إيهام الناس بأن مذاهب هؤلاء القوم هي مذاهب أهل الإثبات.

 

?

--------------------------------------------

(1) انظر: أبو الهذيل العلاف (نيبرج) ضمن موجز دائرة المعارف الإسلامية 2/ 425.

(2) المرجع السابق 2/ 425.

(3) انظر: أبو الهذيل العلاف (نيبرج) ضمن موجز دائرة المعارف الإسلامية 2/ 425، من تاريخ الإلحاد في الإسلام، بدوي: 90.

(4) انظر: أبو الهذيل العلاف (نيبرج) ضمن موجز دائرة المعارف الإسلامية 2/ 425.

(5) انظر: علم الكلان (لويس غاردية) ضمن موجز دائرة المعارف الإسلامية 24/ 7377.

(6) انظر: مذهب الذرة: 5.

(7) انظر: مذاهب التفسير الإسلامي: 182.

(8) المرجع السابق: 137.

(9) انظر: مذهب الذرة: 19.
খ- আবু আল-হুজাইল আল-আল্লাফের মাযহাবের ওপর অন্যায্য আচরণের দাবি:

প্রাচ্যবিদ (নিবার্গ) মনে করেন যে, বিভিন্ন ফিরকা বা দলের ইতিহাসবিদদের দ্বারা আবু আল-হুজাইল আল-আল্লাফের মাযহাব অবিচারের শিকার হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইলমে কালামে তার এই মাযহাবটি মুতাজিলা মতবাদ ত্যাগকারী এক ব্যক্তির বিদ্বেষের সম্মুখীন হয়েছিল—আর তিনি হলেন কুখ্যাত (ইবনুর রাওয়ান্দি), যিনি তার ‘ফাদিহাতুল মুতাজিলা’ গ্রন্থে এই মাযহাবকে বিকৃত করেছেন। তিনি প্রায়শই একে অত্যন্ত সস্তা ও নিকৃষ্ট মানের সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন(১)। আব্দুল কাদির আল-বাগদাদী তার ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’ গ্রন্থে এই বিকৃতিগুলো কোনো বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই গ্রহণ করেছেন এবং মুতাজিলাদের নিয়ে লেখা সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোতেও এর ব্যাপক পুনরাবৃত্তি ঘটেছে(২)।

ইবনুর রাওয়ান্দির এই অপকর্মের প্রকৃত রূপ উন্মোচন করা এবং আবু আল-হুজাইলের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করা আল-খাইয়াতের ‘আল-ইনতিসার’ গ্রন্থ ছাড়া সম্ভব নয়, যেখানে তিনি ইবনুর রাওয়ান্দির ওপর কঠোর ও তীক্ষ্ণ সমালোচনার খড়গ চালিয়েছেন(৩)।

তিনি আল-আশআরীর প্রশংসা করে বলেন: তিনি তার ‘মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন’ গ্রন্থে মুতাজিলা মাযহাবের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বিস্ময়কর নিরপেক্ষতার সাথে আবু আল-হুজাইল আল-আল্লাফের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করেছেন(৪)।

 

‌‌গ- মুতাজিলাদের কিছু ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি:

প্রাচ্যবিদ (লুই গার্ডেট) সন্দেহ পোষণ করেছেন যে, (দিরার ইবনে আমর, আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আন-নাজ্জার এবং মুহাম্মদ ইবনে বারগুস) মুতাজিলাদের অন্তর্ভুক্ত কি না। তারা বলেন: এদেরকে ‘আল-মুসবিতাহ’ (বা আহলে ইসবাত) হিসেবে গণ্য করা হয়, যাদের সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি আরও যোগ করেন যে, তারা বসরার মাযহাবের অনেক অনুসারীর পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিলেন(৫)। প্রাচ্যবিদ (পিনস) স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে: দিরার ইবনে আমর মুতাজিলাদের কেউ নন(৬)।

একইভাবে প্রাচ্যবিদ (গোল্ডজিহার) আন-নাজ্জামকে মুতাজিলাদের অন্তর্ভুক্ত করতে দ্বিধা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তিনি মুতাজিলাদের মধ্যে সবচেয়ে চরমপন্থী ও স্বাধীনচেতা এবং দর্শনের সবচেয়ে কাছাকাছি ছিলেন(৭)। তিনি মুতাজিলাদের অন্যতম লাগামহীন প্রধান হিসেবে বিবেচিত হন(৮)। প্রাচ্যবিদ (পিনস) তার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তিনি যা কিছু গ্রহণ করেন তাকে মুতাজিলা মতবাদের আবরণে আবৃত করেন(৯)।

সম্ভবত প্রাচ্যবিদরা এই বক্তব্যের মাধ্যমে মানুষকে এই বিভ্রান্তিতে ফেলতে চান যে, এই ব্যক্তিদের মাযহাবগুলো মূলত আহলে ইসবাতের মাযহাব।

 

?

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আবু আল-হুজাইল আল-আল্লাফ (নিবার্গ), মুজাযু দাইরাতিল মাআরিফিল ইসলামিয়্যাহ ২/ ৪২৫।

(২) পূর্বোক্ত সূত্র ২/ ৪২৫।

(৩) দেখুন: আবু আল-হুজাইল আল-আল্লাফ (নিবার্গ), মুজাযু দাইরাতিল মাআরিফিল ইসলামিয়্যাহ ২/ ৪২৫; মিন তারিখিল ইলহাদ ফিল ইসলাম, বাদাওয়ী: ৯০।

(৪) দেখুন: আবু আল-হুজাইল আল-আল্লাফ (নিবার্গ), মুজাযু দাইরাতিল মাআরিফিল ইসলামিয়্যাহ ২/ ৪২৫।

(৫) দেখুন: ইলমুল কালাম (লুই গার্ডেট), মুজাযু দাইরাতিল মাআরিফিল ইসলামিয়্যাহ ২৪/ ৭৩৭৭।

(৬) দেখুন: মাযহাবুজ যাররাহ: ৫।

(৭) দেখুন: মাজাহিবুত তাফসিরিল ইসলামি: ১৮২।

(৮) পূর্বোক্ত সূত্র: ১৩৭।

(৯) দেখুন: মাযহাবুজ যাররাহ: ১৯।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌د- دعوى فقدان معظم كتبهم.

تقول المستشرقة (سوسنة ديفلد): إن مصنفات المعتزلة قد ضاع أكثرها، لذا يضطر الباحث إلى استنباط مقالاتهم من كتب المجادلة والرد عليهم، ومن الكتب التي ألفها علماء السنة في مقالات الفرق الإسلامية(1)، ويذكر المستشرق (شارل بلا الفرنسي) بأنه لا يمكن معرفة المذهب بدقة بسبب هذا الفقدان وانعدام الكتب - الذي كان عن قصد حين انتصر مذهب السنة آخر الأمر على مذهب المعتزلة-(2).

ويذهب المستشرق (بينس) إلى القول بأنه قد كان لدى المعتزلة مجموعة أفكار فلسفية لا تتصل بالدين، وقد غيروها لتلائم ما قصدوا إليه من الدفاع عن أنفسهم والانتصار لمذهبهم، ثم جاء خصومهم فاستغلوا طريقة الإلزام في الرد على هذه المذاهب حين استخرجوا منها صوراً متطرفة باطلة(3).

والسؤال الذي ينبغي أن يطرح: ما الكتب التي فقدت؟ وهل ما كان فيها يختلف عما ذكره أهل العلم الثقات عن مذهب المعتزلة؟ فمؤرخوا الفرق الإسلاميين أقرب عهداً لأصحاب الفرق من المستشرقين، فليس من المنهجية العلمية ولا من الناحية العقلية أن أُخطّئ الذي عاصر بعض أصحاب تلك المقالات، وأصوب المستشرق الذي نظر في الكتب بعد قرون مرت على وفاة أصحاب تلك المقالات.

‌‌هـ- الثناء على أعلام المعتزلة.

يبالغ المستشرقون في الثناء على أعلام المعتزلة بشكل مفرط فيه، فيقول المستشرق (جولد زيهر): إن واصل بن عطاء مؤسس المذهب الاعتزالي، جعلته السير زاهداً من الزهاد أمكن أن يقال في رثائه (إنه لم يقبض في حياته ديناراً أو درهماً)(4)، وأن عمرو بن عبيد من الزهاد، وقد كان يمضي ليالي في الصلاة، وحج مكة أربعين حجة ماشياً، وكان يظهر دائماً كاسف البال، حزيناً مهموماً، كمن عاد من دفن نفر من أقربائه(5). وأن ما وصل من آثار تدل على ورعه وزهده لا يدل على نزعة للمذاهب العقلية(6).

ويقول (نيبرج) عن أبي الهذيل العلاف بأنه: هو فيلسوف الاعتزال والمنظر له، وهو أول من خاض المناظرات التي قامت في عصره، وكان مستعداً لذلك استعداداً فائقاً بفضل عقله الفلسفي ورجاحة تفكيره وفصاحته، حتى أصبح المدافع عن الإسلام ضد الأديان الأخرى، وضد التيارات الفكرية الكبيرة للعصر السابق(7) ويصفه (د. جمرت) بأنه قد اشتهر بحسن الجدل والمناظرة(8).

وهذا الثناء المبالغ فيه على رجال المعتزلة ملاحظ بشكل بارز لدى المستشرقين، حيث إنهم يركزون على إبراز الجوانب التي يمكن حملها على النواحي الإيجابية والثناء بشكل مستمر على رجال المعتزلة، وتلمس الأعذار لهم، وكل هذا للتلبيس على الناس، وإظهارهم بصورة حسنة أمام الناس، وأن من اتصفوا بهذه الصفات لا يمكن أن تصدر منهم أقوال بحسب ما يذكره عنهم أهل السنة، مما يؤدي إلى الشك في مصداقية أهل السنة عند نقدهم للآخرين وبيان أفكارهم.

?

--------------------------------------------

(1) انظر: مقدمة تحقيق طبقات المعتزلة (سوسنة ديفل - فلزر): ط.

(2) انظر: الجاحظ (شال بلا) ضمن موجز دائرة المعارف الإسلامية 9/ 2608.

(3) انظر: مذهب الذرة: 20.

(4) انظر: العقيدة والشريعة: 101.

(5) المرجع السابق: 101.

(6) المرجع السابق: 101.

(7) انظر: موجز دائرة المعارف الإسلامية 2/ 421.

(8) المرجع السابق 30/ 9388 - 9389.
ঘ- তাদের অধিকাংশ গ্রন্থ হারিয়ে যাওয়ার দাবি.

প্রাচ্যবিদ সুসানা ডিভিল্ড বলেন: মুতাজিলাদের অধিকাংশ রচনাবলি হারিয়ে গেছে, তাই গবেষকগণ তাদের মতবাদসমূহ খুঁজে বের করতে বিতর্কমূলক ও তাদের খণ্ডনমূলক গ্রন্থসমূহ এবং মুসলিম দল-উপদল নিয়ে সুন্নি আলেমদের রচিত গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন(১)। ফরাসি প্রাচ্যবিদ চার্লস পেলট উল্লেখ করেন যে, এই হারিয়ে যাওয়া এবং গ্রন্থের অভাবের কারণে মুতাজিলা মাযহাবকে সূক্ষ্মভাবে জানা সম্ভব নয়—যা মূলত ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছিল যখন শেষ পর্যন্ত সুন্নি মাযহাব মুতাজিলা মাযহাবের ওপর বিজয়ী হয়েছিল—(২)।

প্রাচ্যবিদ পাইনস এই অভিমত ব্যক্ত করেন যে, মুতাজিলাদের কাছে কিছু দার্শনিক চিন্তাধারা ছিল যা ধর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল না, এবং তারা সেগুলো পরিবর্তন করেছিল যাতে তাদের আত্মরক্ষা এবং তাদের মাযহাবের বিজয়ের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এরপর তাদের বিরোধীরা এসে এই মাযহাবগুলো খণ্ডনের ক্ষেত্রে 'ইলজাম' (বাধ্যকরণ) পদ্ধতি ব্যবহার করে তা থেকে চরমপন্থী ও বাতিল রূপগুলো বের করে আনেন(৩)।

এখানে যে প্রশ্নটি উত্থাপন করা উচিত তা হলো: কোন গ্রন্থগুলো হারিয়ে গেছে? আর সেগুলোতে যা ছিল তা কি নির্ভরযোগ্য আলেমগণ মুতাজিলা মাযহাব সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে ভিন্ন ছিল? ইসলামী দল-উপদলসমূহের ইতিহাসবিদগণ প্রাচ্যবিদদের তুলনায় এই দলগুলোর অনুসারীদের সমসাময়িক বা নিকটবর্তী সময়ের ছিলেন। সুতরাং যে ব্যক্তি সেই মতবাদের প্রবক্তাদের কয়েকজনের সমসাময়িক ছিলেন তাকে ভুল সাব্যস্ত করা এবং সেই মতবাদের প্রবক্তাদের মৃত্যুর কয়েক শতাব্দী পর যে প্রাচ্যবিদ বইপত্রের দিকে নজর দিয়েছেন তাকে সঠিক বলা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা যৌক্তিক দিক থেকে কোনোভাবেই সমীচীন নয়।

ঙ- মুতাজিলা মনীষীদের প্রশংসা করা.

প্রাচ্যবিদগণ মুতাজিলা মনীষীদের প্রশংসায় মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করেন। প্রাচ্যবিদ গোল্ডজিহার বলেন: মুতাজিলা মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াসিল ইবন আতা-কে জীবনীগ্রন্থসমূহ এমন একজন জাহিদ (সংসারবিরাগী) হিসেবে উপস্থাপন করেছে যে তার শোকগাথায় বলা সম্ভব (তিনি তার জীবনে কোনো দিনার বা দিরহাম গ্রহণ করেননি)(৪)। আর আমর ইবন উবাইদ ছিলেন একজন জাহিদ; তিনি সারা রাত সালাতে অতিবাহিত করতেন এবং চল্লিশবার পায়ে হেঁটে মক্কায় হজ করেছেন। তাকে সর্বদা বিষণ্ণ, চিন্তিত ও শোকাতুর দেখাত, যেন তিনি তার কোনো নিকটাত্মীয়কে দাফন করে ফিরে এসেছেন(৫)। তার তাকওয়া ও যুহদ (সংসারবিরাগ) সম্পর্কে যে বিবরণগুলো পৌঁছেছে তা কোনো যুক্তিবাদী মাযহাবের প্রবণতা নির্দেশ করে না(৬)।

নিবার্গ আবুল হুযাইল আল-আল্লাফ সম্পর্কে বলেন: তিনি ছিলেন মুতাজিলাদের দার্শনিক ও তাত্ত্বিক। তিনিই প্রথম তার যুগের বিতর্কগুলোতে অংশ নিয়েছিলেন এবং তার দার্শনিক প্রজ্ঞা, চিন্তার গভীরতা ও বাগ্মিতার কারণে তিনি এর জন্য অভাবনীয়ভাবে প্রস্তুত ছিলেন, এমনকি তিনি অন্যান্য ধর্ম এবং পূর্ববর্তী যুগের বড় বড় বুদ্ধিবৃত্তিক স্রোতধারার বিরুদ্ধে ইসলামের রক্ষক হয়ে উঠেছিলেন(৭)। ডক্টর জিমারেট তাকে বিতর্ক ও যুক্তি-তর্কে পারদর্শিতার জন্য সুপরিচিত বলে বর্ণনা করেছেন(৮)।

মুতাজিলা ব্যক্তিত্বদের প্রতি এই অতিরঞ্জিত প্রশংসা প্রাচ্যবিদদের মাঝে বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তারা মুতাজিলাদের সেই দিকগুলোকে ফুটিয়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন যেগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে গণ্য করা সম্ভব এবং ক্রমাগত তাদের প্রশংসা করেন ও তাদের জন্য অজুহাত খোঁজেন। এই সবকিছুর উদ্দেশ্য হলো মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং জনগণের সামনে তাদের একটি সুন্দর ভাবমূর্তি তুলে ধরা; যাতে এটি বোঝানো যায় যে, যারা এ ধরনের মহান গুণের অধিকারী তারা এমন কথা বলতে পারেন না যা আহলে সুন্নাহ তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করে থাকেন। এর ফলে অন্যদের সমালোচনা এবং তাদের চিন্তাধারা বর্ণনার ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাহর বিশ্বস্ততা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: তাবাকাতুল মুতাজিলা-এর তাহকিকের ভূমিকা (সুসানা ডিভিল্ড - উইলজার): সংস্করণ।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-জাহিজ (চার্লস পেলট), মুজায দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া ৯/২৬০৮।

(৩) দ্রষ্টব্য: মাযহাবুল যাররাহ: ২০।

(৪) দ্রষ্টব্য: আল-আকিদাহ ওয়াশ-শারিআহ: ১০১।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস: ১০১।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস: ১০১।

(৭) দ্রষ্টব্য: মুজায দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া ২/৪২১।

(৮) পূর্বোক্ত উৎস: ৩০/৯৩৮৮ - ৯৩৮৯।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الفصل الثاني: موقف المستشرقين من مصادر التلقي عند المعتزلة

وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: القرآن الكريم.

المبحث الثاني: السنة النبوية.

المبحث الثالث: العقل.
দ্বিতীয় অধ্যায়: মুতাজিলাদের জ্ঞান আহরণের উৎসসমূহের প্রতি প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ-এ-নববী।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বুদ্ধিবৃত্তি।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المبحث الأول: القرآن الكريم

‌‌موقف المعتزلة من القرآن الكريم:

من منهج المعتزلة في الاستدلال تقديم العقل على النقل، ويقولون بوجوب تأويل ظاهر النص بما يتفق مع معطيات العقل وحججه، حيث اعتبروا أن هناك ثلاث حجج احتج بها المعبود على العباد، وهي: العقل، والكتاب، والرسول. فجاءت حجة العقل بمعرفة المعبود، وجاءت حجة الكتاب بمعرفة التعبد، وجاءت حجة الرسول بمعرفة العباد، والعقل أصل الحجتين الأخيرتين لأنهما عرفا به ولم يعرف بهما(1)، فجعلوا بذلك العقل حاكما على الكتاب والسنة، فما وافق العقل عندهم قُبِل، وما خالفه رد. وسيأتي الكلام على العقل في المبحث الثالث من هذا الفصل.

 

‌‌موقف المستشرقين من القرآن الكريم.

يؤمن المسلمون جميعًا إيماناً مطلقاً ويقرون إقراراً تاماً بأن مصدر القرآن الكريم هو الله سبحانه وتعالى، وأنه نزل به جبريل عليه السلام على النبي صلى الله عليه وسلم أثناء مدة بعثته، وأنه خاتم الأنبياء.

إلا أن المستشرقين يتهمون الإسلام بأن شرائعه قد تأسست من شرائع الأديان السابقة له(2)، فهذا المستشرق (ج. د. بيروسون) لا يؤمن بالمصدر الإلهي للقرآن الكريم ويجتهد في بيان أن هناك عدداً من المصادر، أثرت على النبي صلى الله عليه وسلم وكونت لديه مادة القرآن الكريم، والحجة في ذلك عنده: أن تحليل النص القرآني يُظهر تعقيداً شديداً لمسألة ارتباط القرآن الكريم بنبوة محمد صلى الله عليه وسلم، إذ لا توجد أي إشارة إلى مصدر الوحي أو صيغة المتكلم وبالذات في السور المكية(3) مما يجعلهم يقدحون في صحة نبوة النبي صلى الله عليه وسلم إذ إثبات المصدر الإلهي للقرآن الكريم يرتبط ارتباطاً جذرياً بإقرار النبوة، وإنكار النبوة يفضي إلى القول ببشرية القرآن الكريم، وهو ما يسعى إليه المستشرقون(4).

ويتهم المستشرق (جولد زيهر) الرسول صلى الله عليه وسلم بأنه خلال النصف الأول من حياته اضطرته مشاغله إلى الاتصال بأوساط استقى منها أفكاراً أخذ يجترّها في قرارة نفسه وهو منطوٍ في تأملاته

--------------------------------------------

(1) انظر: كتاب أصول العدل والتوحيد، للقاسم الرسي 1/ 96 (ضمن موجز رسائل العدل والتوحيد).

(2) انظر: مجلة حضارة الإسلام، العدد 3، جمادى الأولى 1396 هـ، شبهات مثارة حول الإسلام وعقيدته وحضارته، مقال للأستاذ أنور الجندي.

(3) انظر: القرآن الكريم (بيروسون) ضمن موجز دائرة المعارف الإسلامية 26/ 8166 - 8167.

(4) انظر: القرآن والمستشرقون: 26، ضمن موجز مناهج المستشرقين في الدراسات الإسلامية 1/ 26.
প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআন

পবিত্র কুরআন সম্পর্কে মুতাজিলাদের অবস্থান:

মুতাজিলাদের দলীল উপস্থাপনের অন্যতম পদ্ধতি হলো শ্রুতিনির্ভর প্রমাণের (নকল) ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তিকে (আকল) প্রাধান্য দেওয়া। তারা দাবি করেন যে, বুদ্ধিবৃত্তিক তথ্য ও যুক্তির সাথে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য টেক্সট বা নসের বাহ্যিক রূপের ব্যাখ্যা (তাবিল) করা বাধ্যতামূলক। তারা মনে করেন যে, স্রষ্টা তাঁর বান্দাদের জন্য তিনটি প্রমাণ বা হুজ্জত পেশ করেছেন: বুদ্ধি (আকল), কিতাব এবং রসূল। বুদ্ধির মাধ্যমে উপাস্যকে চেনা যায়, কিতাবের মাধ্যমে ইবাদতের নিয়ম জানা যায় এবং রসূলের মাধ্যমে বান্দাদের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। এই শেষোক্ত প্রমাণ দুটির মূল ভিত্তি হলো বুদ্ধি; কারণ বুদ্ধির মাধ্যমেই তাদের পরিচয় জানা গেছে, কিন্তু তাদের মাধ্যমে বুদ্ধিকে চেনা যায়নি(১)। এভাবে তারা বুদ্ধিকে কুরআন ও সুন্নাহর ওপর বিচারক হিসেবে নির্ধারণ করেছে; ফলে তাদের নিকট বুদ্ধির সাথে যা মেলে তা গৃহীত হয়, আর যা বুদ্ধিবিরোধী তা প্রত্যাখ্যাত হয়। এই পরিচ্ছেদের তৃতীয় পরিচ্ছেদে আকল বা বুদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

 

পবিত্র কুরআন সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের অবস্থান।

সকল মুসলিম এই বিষয়ে পরম বিশ্বাস পোষণ করেন এবং পূর্ণ স্বীকৃতি প্রদান করেন যে, পবিত্র কুরআনের উৎস হলেন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। তিনি এটি জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর তাঁর নবুওয়াতী মিশনের সময় অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনি হলেন শেষ নবী।

তবে প্রাচ্যবিদগণ ইসলামের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনেন যে, এর শরিয়তসমূহ তার পূর্ববর্তী ধর্মগুলোর শরিয়তের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে(২)। উদাহরণস্বরূপ, প্রাচ্যবিদ (জে. ডি. পিয়ারসন) পবিত্র কুরআনের ঐশী উৎসে বিশ্বাস করেন না এবং তিনি এটা প্রমাণের চেষ্টা করেন যে, এমন অনেক উৎস ছিল যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রভাবিত করেছিল এবং সেগুলো থেকেই তাঁর কাছে কুরআনের উপকরণ তৈরি হয়েছিল। তার নিকট এর সপক্ষে যুক্তি হলো: কুরআনিক পাঠের বিশ্লেষণ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের সাথে পবিত্র কুরআনের সম্পর্কের বিষয়ে চরম জটিলতা প্রকাশ করে। কারণ, বিশেষ করে মক্কী সূরাগুলোতে ওহীর উৎস বা বক্তার উত্তম পুরুষ বা সর্বনামের কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় না(৩)। এর মাধ্যমে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের সত্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়; কেননা কুরআনের ঐশী উৎস প্রমাণ করার বিষয়টি নবুওয়াতের স্বীকৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর নবুওয়াতকে অস্বীকার করার অর্থ হলো কুরআনকে মানবসৃষ্ট বলা, যা মূলত প্রাচ্যবিদদের মূল লক্ষ্য(৪)।

প্রাচ্যবিদ (গোল্ডজিহার) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর এই অভিযোগ তোলেন যে, তাঁর জীবনের প্রথমার্ধে তিনি তাঁর কাজের প্রয়োজনে এমন কিছু মহলের সংস্পর্শে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন যেখান থেকে তিনি কিছু ধারণা আহরণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে নির্জনে ধ্যানের সময় সেগুলো নিজের মনে আওড়াতেন।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: উসুলুল আদল ওয়াত তাওহীদ, আল-কাসিম আর-রাসসী ১/ ৯৬ (মুজায রাসাইলুল আদল ওয়াত তাওহীদ এর অন্তর্ভুক্ত)।

(২) দ্রষ্টব্য: মাজাল্লাতু হাদারাতিল ইসলাম, সংখ্যা ৩, জুমাদাল উলা ১৩৯৬ হিজরী, 'ইসলাম, এর আক্বিদা ও সভ্যতা সম্পর্কে উত্থাপিত সংশয়সমূহ' শীর্ষক নিবন্ধ, লেখক: উস্তাদ আনোয়ার আল-জুন্দি।

(৩) দ্রষ্টব্য: আল-কুরআনুল কারীম (পিয়ারসন), 'মুজায দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ' এর অন্তর্ভুক্ত ২৬/ ৮১৬৬ - ৮১৬৭।

(৪) দ্রষ্টব্য: আল-কুরআন ওয়াল মুস্তাশরিকুন: ২৬, 'মুজায মানাহিজিুল মুস্তাশরিকিন ফিদ দিরাসাতিল ইসলামিয়্যাহ' এর অন্তর্ভুক্ত ১/ ২৬।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
أثناء عزلته، ولميل إدراكه وشعوره للتأملات المجردة والتي يلمح فيها أثر حالته المرضية، نراه ينساق ضد العقلية الدينية والأخلاقية لقومه الأقربين والأبعدين، فأخذ يشكوا من اضطهاد الفقراء، وطمع الأغنياء، وسوء المعاملة، وعدم المبالاة بالصالح العام وواجبات الحياة الإنسانية والأشياء الفاضلة الباقية التي تقابل هذه الحياة الدنيا الزائلة ومتاعها فتملكه شعور يدعوه بقوة تزداد شيئاً فشيئاً ليذهب إلى قومه منذراً إياهم بما يؤدي بهم إلى الخسران المبين، وبكلمة واحدة أحس بقوة لا يستطيع لها مقاومة، تدفعه لأن يكون مربياً لشعبه(1)، ثم يؤكد هذا المستشرق بأن كل ما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم من أمور اليوم الآخر ليس إلا مجموعة موارد استقاها من الخارج يقيناً، وأنه قد استفاد من العهد القديم على وجه التحديد في مسائل قصص النبيين، ليُذكّر على سبيل الإنذار والتمثيل، بمصير الأمم السالفة الذين سخروا من رسلهم(2).

ويرى المستشرق (مونتغمري وات) أن السور القرآنية الأولى التي تتحدث عن الوحدانية تضع القرآن في مرتبة الوحدانية اليهودية النصرانية نظراً لمفاهيمه عن الله الخالق، ويوم البعث والحساب، أما السور القرآنية الأخيرة فإنها تقترب كثيراً من التعاليم الإنجيلية القديم منها والحديث، وفي نفس الوقت ينفي معرفة النبي صلى الله عليه وسلم بالكتابة والقراءة، خلافاً لغيره من المستشرقين، كما ينفي الاطلاع المباشر للنبي صلى الله عليه وسلم على الكتب المقدسة لليهود ووالنصارى، إلا أنه لا يستبعد وصول تعاليمها إليه شفاهاً.

وزعم المستشرق (كليمان هوار الفرنسي) أنه قد اكتشف مصدراً جديداً للقرآن الكريم، وهو شعر أمية بن أبي الصلت الجاهلي، وحجته هي التشابه الكبير بينهما في الوحدانية ووصف الآخرة وقصص أنبياء العرب القدماء، ثم زعم أن النبي صلى الله عليه وسلم قد استعان بذلك الشعر في نظم القرآن، وأن هذه الاستعانة حملت المسلمين على مقاومة شعر أمية ومحوه ليستأثر القرآن بالجدة وليصبح النبي صلى الله عليه وسلم هو المنفرد بتلقي الوحي من السماء(3)، وقد أورد بعض المستشرقين أبياتاً لامرئ القيس فيها ذكر (دنت الساعة وانشق القمر) كدليل على أن شعر أمية وامرئ القيس يشكلان مصدراً من مصادر القرآن(4).

--------------------------------------------

(1) انظر: العقيدة والشريعة: 13 - 14.

(2) المرجع السابق: 14 - 15.

(3) انظز: القرآن والمستشرقون، د. التهامي نقرة، ضمن موجز مناهج المستشرقين في الدراسات العربية والإسلامية 1/ 33.

(4) انظر: المرجع السابق 1/ 34.
তার নির্জনবাসের সময়, এবং তার উপলব্ধি ও অনুভূতি বিমূর্ত চিন্তার দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণে—যেখানে তার অসুস্থ অবস্থার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়—আমরা দেখি যে তিনি তার নিকটবর্তী ও দূরবর্তী স্বজাতিদের ধর্মীয় ও নৈতিক মানসিকতার বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছেন। ফলে তিনি দরিদ্রদের ওপর নিপীড়ন, ধনীদের লোভ, দুর্ব্যবহার, জনকল্যাণের প্রতি উদাসীনতা, মানবিক জীবনের কর্তব্য এবং এই নশ্বর পার্থিব জীবন ও এর ভোগবিলাসের বিপরীতে পরকালীন স্থায়ী শ্রেষ্ঠ বিষয়গুলোর অভাব নিয়ে অভিযোগ করতে শুরু করেন। এরপর তার মধ্যে এমন এক অনুভূতি প্রবল হয়ে ওঠে যা তাকে ক্রমশ শক্তিশালীভাবে নিজের জাতির কাছে গিয়ে সতর্ককারী হিসেবে আবির্ভূত হতে উদ্বুদ্ধ করে, পাছে তারা সুস্পষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এক কথায়, তিনি এমন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তির অনুভব করেন যা তাকে তার জাতির একজন সংস্কারক হতে চালিত করে(১)। এরপর এই প্রাচ্যবিদ দাবি করেন যে, পরকাল সংক্রান্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা কিছু নিয়ে এসেছেন, তা নিশ্চিতভাবে বাইরে থেকে সংগৃহীত কতগুলো উপাদানের সমষ্টি মাত্র এবং তিনি বিশেষভাবে পুরাতন নিয়ম (ওল্ড টেস্টামেন্ট) থেকে নবীদের কাহিনীগুলো গ্রহণ করেছেন, যাতে পূর্ববর্তী জাতিসমূহ যারা তাদের রাসূলদের উপহাস করেছিল তাদের পরিণতির কথা উল্লেখ করে সতর্কবাণী ও দৃষ্টান্ত পেশ করা যায়(২)।

প্রাচ্যবিদ মন্টগোমারি ওয়াট মনে করেন যে, প্রথম দিকের কুরআনী সূরাগুলো যা একত্ববাদ নিয়ে আলোচনা করে, তা স্রষ্টা আল্লাহ, পুনরুত্থান এবং বিচার দিবস সংক্রান্ত ধারণার কারণে কুরআনকে ইহুদি ও খ্রিস্টান একেশ্বরবাদের পর্যায়ে নিয়ে যায়। আর পরবর্তী সূরাগুলো পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ইঞ্জিলের শিক্ষার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে তিনি অন্য অনেক প্রাচ্যবিদের বিপরীতে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লিখতে ও পড়তে পারার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তেমনি তিনি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো সরাসরি পাঠ করার বিষয়টিকেও নাকচ করেন, তবে মৌখিকভাবে সেই শিক্ষাগুলো তাঁর কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেন না।

ফরাসি প্রাচ্যবিদ ক্লেমঁ হুয়ার দাবি করেছেন যে, তিনি পবিত্র কুরআনের একটি নতুন উৎস আবিষ্কার করেছেন, আর তা হলো জাহেলি যুগের কবি উমাইয়া ইবনে আবি আস-সালতের কবিতা। তাঁর যুক্তি হলো—একেশ্বরবাদ, পরকালের বর্ণনা এবং প্রাচীন আরব নবীদের কাহিনীর ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে। এরপর তিনি দাবি করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরআন রচনার ক্ষেত্রে সেই কবিতার সাহায্য নিয়েছেন, এবং এই সাহায্যের কারণেই মুসলমানরা উমাইয়ার কবিতা বিলুপ্ত ও প্রতিরোধ করতে সচেষ্ট হয়েছিল যাতে কুরআন নতুনত্বের দাবিদার হয় এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আকাশ থেকে ওহি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একক কৃতিত্বের অধিকারী হন(৩)। কোনো কোনো প্রাচ্যবিদ ইমরুল কায়েসের কিছু পঙক্তি উল্লেখ করেছেন যেখানে 'কিয়ামত ঘনিয়ে এসেছে এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে' বাক্যাংশটি রয়েছে, যা উমাইয়া ও ইমরুল কায়েসের কবিতাকে কুরআনের অন্যতম উৎস হিসেবে প্রমাণের দলিল হিসেবে পেশ করা হয়েছে(৪)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-আকিদাহ ওয়া আশ-শারিয়াহ: ১৩ - ১৪।

(২) প্রাগুক্ত: ১৪ - ১৫।

(৩) দ্রষ্টব্য: আল-কুরআন ওয়াল মুস্তাশরিকুন, ড. আল-তুহামি নাকরাহ, ‘মুজায মানাহিজ আল-মুস্তাশরিকিন ফি আদ-দিরাসাত আল-আরাবিয়্যাহ ওয়াল ইসলামিয়্যাহ’ ১/ ৩৩ এর অন্তর্ভুক্ত।

(৪) দ্রষ্টব্য: প্রাগুক্ত ১/ ৩৪।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الثاني: السنة النبوية

السنة الصحيحة هي المصدر التشريعي الثاني بعد القرآن الكريم، ومنزلتها منه أنها مبينة وشارحة له: تفصل مجمله، وتوضح مشكله، وتقيد مطلقه، وتخصص عامه، وتبسط ما فيه من إيجاز(1)، قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ}(2)، وهي بهذه الصفة لها حجيتها ويجب العمل بمقتضاها.

ولتأكُّد المستشرقين من أن هذا المصدر، هو المصدر الثاني للشريعة الإسلامية، فإنهم ما فتئوا يثيرون الشكوك والشبهات حوله، ليقينهم بأنهم لن يصلوا إلى مقصودهم إلا إذا هُدم هذا المصدر، لأن أي طعن في سنة الرسول صلى الله عليه وسلم وسيرته، سيكون طعناً في الإسلام، وهدماً للكيان الإسلامي عقيدة وعملاً.

ولقد نال رضاهم المنهج المعظم للعقل - على حساب الكتاب والسنة - الذي انتهجه المعتزلة(3) فأشادوا بالمعتزلة، وبمواقفهم من القرآن والسنة وأطلقوا عليهم اسم المفكرين الأحرار في الإسلام، ودعاة الحرية الفكرية والاستنارة، ووصفهم المستشرق (جولد زيهر) بأنهم وسعوا معين المعرفة الدينية، بأن أدخلوا فيها عنصراً مهماً آخر، وهو العقل الذي كان حتى ذلك الحين مبعداً بشدة عن هذه الناحية(4).

 

‌‌السنة عند المعتزلة:

لقد ذهب المعتزلة في تقدير العقل بعيداً، فقالوا: إذا تعارض النقل والعقل وجب تقديم العقل لأنه أساس النقل، وكان موقفهم من الأحاديث موقف المتشكك في صحة الحديث، وأحياناً موقف المنكر له أو المؤول له، لأنهم يحكمون العقل في الحديث لا الحديث في العقل(5).

وقالوا: إن خبر الواحد لا يؤخذ به في أصول العلم(6)، وذموا تعلم الحديث وحذروا من تعلمه، وقللوا من فائدته والاستدلال به، ونصوا على أنه لا حاجة إليه، إذ العقول تغني عنه والأذهان تكتفي بغيره(7).

--------------------------------------------

(1) انظر: دفاع عن السنة ورد شبه المستشرقين: 10.

(2) النحل: 44.

(3) انظر: فضل الاعتزال: 139.

(4) انظر: العقيدة والشريعة: 89 - 91، موقف المعتزلة من السنة النبوية: 74 - 78.

(5) انظر: المعتزلة في بغداد: 98 - 99. شرح الأصول الخمسة للقاضي عبدالجبار: 269.

(6) انظر: الانتصار للخياط: 68، شرح الأصول الخمسة: 269.

(7) انظر: موقف المدرسة العقلية من السنة النبوية 1/ 123.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহে নববী

বিশুদ্ধ সুন্নাহ হলো পবিত্র কুরআনের পর শরীয়তের দ্বিতীয় আইনগত উৎস। কুরআনের সাথে সুন্নাহর অবস্থান হলো তা কুরআনের বিশদ ব্যাখ্যাকারী ও বর্ণনাকারী: এটি কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দেয়, অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করে, সাধারণ নির্দেশগুলোকে নির্দিষ্ট করে, ব্যাপক অর্থবোধক বিষয়গুলোকে বিশেষায়িত করে এবং এর সংক্ষিপ্তসারকে সম্প্রসারিত করে(১)। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি আপনার প্রতি এই মহাগ্রন্থ অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের কাছে তাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে দেন এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে"(২)। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে সুন্নাহ একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গণ্য এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক।

প্রাচ্যবিদরা যখন নিশ্চিত হলেন যে, এই উৎসটি ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় প্রধান উৎস, তখন থেকেই তারা এর বিরুদ্ধে সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি করতে শুরু করেন। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, এই উৎসটিকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত তারা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ ও তাঁর সীরাতের ওপর যেকোনো আঘাত হবে ইসলামের ওপর আঘাত এবং তা বিশ্বাস ও কর্ম উভয় দিক থেকে ইসলামের অস্তিত্বকে ধ্বংস করার নামান্তর।

কুরআন ও সুন্নাহর বিনিময়ে বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিকে (আকল) প্রাধান্য দেওয়ার যে পদ্ধতি মুতাজিলাগণ গ্রহণ করেছিলেন, তা প্রাচ্যবিদদের সন্তুষ্টি অর্জন করেছে(৩)। ফলে তারা মুতাজিলাদের এবং কুরআন ও সুন্নাহর ব্যাপারে তাদের অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা মুতাজিলাদের 'ইসলামের স্বাধীন চিন্তাবিদ' এবং 'বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা ও আলোকায়নের আহ্বানকারী' হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রাচ্যবিদ গোল্ডজিহার তাদের বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, তারা ধর্মীয় জ্ঞানের উৎসকে বিস্তৃত করেছেন এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান অর্থাৎ 'বিবেক' বা বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে, যা ততক্ষণ পর্যন্ত এই ক্ষেত্র থেকে কঠোরভাবে দূরে রাখা হয়েছিল(৪)।

 

মুতাজিলাদের দৃষ্টিতে সুন্নাহ:

মুতাজিলারা বিবেকের গুরুত্ব দিতে গিয়ে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছেন। তারা বলেছেন: যদি শ্রুত প্রমাণ (নকল) এবং বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির (আকল) মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তবে বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তিকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে; কারণ তা-ই শ্রুত প্রমাণের ভিত্তি। হাদীসের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল হাদীসের বিশুদ্ধতা নিয়ে সংশয় পোষণকারীর মতো, আবার কখনো তা অস্বীকারকারী বা রূপক অর্থ প্রদানকারীর মতো। কারণ তারা হাদীসের ওপর বিবেককে বিচারক সাব্যস্ত করতেন, বিবেকের ওপর হাদীসকে নয়(৫)।

তারা আরও বলেছেন: 'খবরে ওয়াহেদ' বা একক বর্ণনার হাদীস জ্ঞানের মূলনীতিতে গ্রহণ করা হবে না(৬)। তারা হাদীস চর্চার নিন্দা করেছেন এবং এ থেকে সতর্ক করেছেন। তারা হাদীসের উপকারিতা ও এর মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপনের গুরুত্বকে খাটো করে দেখেছেন। তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, হাদীসের কোনো প্রয়োজন নেই; যেহেতু বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তিই এর অভাব পূরণ করে এবং মেধা অন্য কিছুতেই তুষ্ট থাকতে পারে(৭)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: দিফা‘ আনিল সুন্নাহ ওয়া রাদ্দু শুবুহাতিল মুস্তাশরিকীন: ১০।

(২) আন-নাহল: ৪৪।

(৩) দেখুন: ফাযলুল ইতিযাল: ১৩৯।

(৪) দেখুন: আল-আকিদাহ ওয়াশ শারীয়াহ: ৮৯-৯১, মাওকিফুল মুতাজিলা মিনাস সুন্নাতিন নববিয়্যাহ: ৭৪-৭৮।

(৫) দেখুন: আল-মুতাজিলা ফী বাগদাদ: ৯৮-৯৯। কাজী আব্দুল জব্বার রচিত শারহুল উসুলিল খামসাহ: ২৬৯।

(৬) দেখুন: আল-ইন্তিসার লিল খাইয়্যাত: ৬৮, শারহুল উসুলিল খামসাহ: ২৬৯।

(৭) দেখুন: মাওকিফুল মাদরাসাতিল আকলিয়্যাহ মিনাস সুন্নাতিন নববিয়্যাহ ১/১২৩।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌مفهوم السنة عند المستشرقين:

يرى المستشرق (جولد زيهر) أن كلمة (السنة) مصطلح وثني في أصله، وأن الإسلام تبناه واقتبسبه(1).

ويرى المستشرق (شاخت الألماني) بأن السنة هي المثل في سلوك النبي صلى الله عليه وسلم، ويقول بأن الشافعي كان يستعملها بهذا المعنى(2).

وتعرفها دائرة المعارف بأنها فعل النبي صلى الله عليه وسلم وقوله وتقريره، ويطلقون عليها (التقليد المحمدي)(3).

ويرى المستشرق (مارغليوث) أن مفهوم السنة كمصدر للتشريع كان في بداية الأمر بمعنى الأمر المثالي في المجتمع، وانحصر مفهومه في الفترة المتأخرة فقط في أفعال النبي صلى الله عليه وسلم(4)، وله مفهوم خاص في معنى كلمة (السنة)، حيث يرى أن كلمة (السنة) قد استعملت في معان عديدة منها، واستدل على المعاني التي ذكرها باستخدمات الناس لهذه الكلمة في فترات مختلفة من خلال نصوص أوردها لاستخدامات كلمة (السنة) من خلال تاريخ الطبري.

وكل هذه النصوص التي جاء بها المستشرق (مارغليوث) أراد بها التأكيد على أن معنى كلمة (السنة) التي هي المصدر الثاني للتشريع الإسلامي لم يكن محدداً وواضح المعنى وأن كل ما يمكن الوصول له هو أن السنة هي ما كان عرفاً معمولاً به في البيئة.

--------------------------------------------

(1) انظر: دراسات في الحديث 2/ 5 - 6.

(2) انظر: نقد الخطاب الاستشراقي 1/ 431.

(3) انظر: دائرة المعارف الإسلامية 19/ 5903، 11/ 3496.

(4) انظر: دراسات في الحديث 2/ 6.
প্রাচ্যবিদদের নিকট সুন্নাহর ধারণা:

প্রাচ্যবিদ (গোল্ডজিহার) মনে করেন যে, 'সুন্নাহ' শব্দটি মূলত একটি পৌত্তলিক পরিভাষা এবং ইসলাম এটি গ্রহণ ও আত্মীকরণ করেছে(১)।

জার্মান প্রাচ্যবিদ (শাখত) মনে করেন যে, সুন্নাহ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আচরণের আদর্শ রূপ; তিনি বলেন যে, ইমাম শাফেয়ী এই অর্থেই শব্দটি ব্যবহার করতেন(২)।

ইসলামি বিশ্বকোষ (দাইরাতুল মাআরিফ)-এ একে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাজ, কথা ও মৌন সম্মতি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং তারা একে 'মুহাম্মদী ঐতিহ্য' বলে অভিহিত করে(৩)।

প্রাচ্যবিদ (মারগোলিউথ) মনে করেন যে, বিধান প্রণয়নের উৎস হিসেবে সুন্নাহর ধারণাটি শুরুর দিকে সমাজে প্রচলিত আদর্শিক রীতি অর্থে ছিল এবং পরবর্তীকালে এর অর্থ শুধুমাত্র নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কার্যাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়(৪)। 'সুন্নাহ' শব্দটির অর্থের ক্ষেত্রে তার একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, যেখানে তিনি মনে করেন যে শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি তাবারির ইতিহাস থেকে উদ্ধৃত বিভিন্ন সময়ের মানুষের ব্যবহারের মাধ্যমে তার উল্লিখিত অর্থগুলোর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করেছেন।

প্রাচ্যবিদ (মারগোলিউথ) এসব উদ্ধৃতির মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করতে চেয়েছেন যে, ইসলামী শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে 'সুন্নাহ' শব্দটির অর্থ সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট ছিল না; বরং এই বিষয়ে একমাত্র যা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব তা হলো—সুন্নাহ মূলত সেই পরিবেশে প্রচলিত সামাজিক প্রথা বা রীতিনীতি ছিল।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: দিরাসাত ফিল হাদিস ২/ ৫ - ৬।

(২) দেখুন: নাকদুল খিতাব আল-ইসতিশরাকি ১/ ৪৩১।

(৩) দেখুন: ইসলামি বিশ্বকোষ ১৯/ ৫৯০৩, ১১/ ৩৪৯৬।

(৪) দেখুন: দিরাসাত ফিল হাদিস ২/ ৬।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌موقف المستشرقين من السنة:

‌‌أولاً: موقفهم من الإسناد:

أورد المستشرقون عدداً من الشبه حول السنة، بغية الطعن فيها وإسقاطها، وإقناع المسلمين بعدم جدواها. وأول محاولة لها أهميتها: هي ما قام به المستشرق (جولد زيهر) الذي نشر نتيجة بحثه سنة 1890 م بعنوان (دراسات إسلامية) باللغة الألمانية، وأصبح كتابه في دائرة الاستشراق، منذ ذلك الوقت حتى الآن (إنجيلاً مقدساً) يهتدي به الباحثون(1).

فمن المستشرقين من شكك في بدايات الإسناد فقد زعم المستشرق (كايتاني الإيطالي) في حولياته "أن الأسانيد أضيفت إلى المتون فيما بعد بتأثير خارجي؛ لأن العرب لا يعرفون الإسناد، وأن أقدم من قام بجمع الأحاديث - وهو عروة بن الزبير المتوفى سنة (94 هـ) لم يكن يستعمل الأسانيد، ولم يكن يذكر المصدر لكلامه غير القرآن الكريم.

لذا هو يعتقد أن الأسانيد لم تكن معروفة إلى عهد عبدالملك بن مروان - أي بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم بأكثر من ستين سنة- وأن عروة لم يستعمل الإسناد مطلقاً، وابن إسحاق استعملها بصورة ليست كاملة، ممايدل على أن الجزء الأعظم من الأسانيد الموجودة في كتب السنة لابد أنه قد اختلقها المحدثون في القرن الثاني والثالث الهجريين(2).

وقد درس مسألة الإسناد المستشرق (هوروفنس) ورد على (كايتاني وشبر نجر) رداً قوياً مفحماً، وأشار في بحثه إلى أن الذين نفوا استنعمال عروة للإسناد لم يدرسوا كتاباته وأسانيده كاملة.

ثم أشار إلى أن هناك فرقاً بين أسلوب الكتابة، عندما يكتب الباحث رداً على استفسار وبيّنة وعندما يكتب لزمرة من المثقفين. ثم توصل أخيراً إلى نتيجة مفادها: أن بداية الإسناد في الأحاديث تذهب إلى الثلث الثالث من القرن الأول الهجري(3)، إلا أنه ظل متحفظاً بالنسبة فيما يتعلق بمعرفة عروة للإسناد، ويقول: إنها لا تزال موضع نزاع وجدل(4).

?

--------------------------------------------

(1) انظر: دراسات في الحديث النبوي: صفحة (ي).

(2) انظر: المرجع السابق 2/ 392.

(3) انظر: المرجع السابق 2/ 393.

(4) انظر: بحوث في تاريخ السنة المشرفة: 52.
সুন্নাহর প্রতি প্রাচ্যবিদদের অবস্থান:

প্রথমত: ইসনাদ বা সনদ পরম্পরা সম্পর্কে তাদের অবস্থান:

সুন্নাহর সমালোচনা করা, একে অসার প্রতিপন্ন করা এবং মুসলমানদেরকে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে সন্দিহান করে তোলার উদ্দেশ্যে প্রাচ্যবিদগণ বেশ কিছু সংশয় উত্থাপন করেছেন। এ ক্ষেত্রে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টাটি ছিল প্রাচ্যবিদ গোল্ডজিহারের (Goldziher), যিনি ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে জার্মান ভাষায় ‘ইসলামিক স্টাডিজ’ (Muhammedanische Studien) শিরোনামে তাঁর গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেন। সেই সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রাচ্যবিদ্যার অঙ্গনে তাঁর এই গ্রন্থটি গবেষকদের নিকট একটি ‘পবিত্র বাইবেল’ হিসেবে স্বীকৃত, যা থেকে তাঁরা দিকনির্দেশনা লাভ করেন(১)।

প্রাচ্যবিদদের মধ্যে কেউ কেউ ইসনাদের সূচনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ইতালীয় প্রাচ্যবিদ কাইটানি (Caetani) তাঁর বর্ষপঞ্জিতে দাবি করেছেন যে, পরবর্তীকালে বাহ্যিক প্রভাবে মতন বা মূল পাঠের সাথে সনদ যুক্ত করা হয়েছে; কারণ আরবদের মাঝে ইসনাদ বা সনদ রক্ষার পদ্ধতি জানা ছিল না। তাঁর মতে, হাদীস সংকলনের প্রাচীনতম ব্যক্তি উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর (মৃত্যু ৯৪ হি.) সনদ ব্যবহার করতেন না এবং পবিত্র কুরআন ছাড়া তাঁর বক্তব্যের অন্য কোনো উৎসের কথা উল্লেখ করতেন না।

তাই তিনি বিশ্বাস করেন যে, আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের যুগ পর্যন্ত—অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইনতিকালের ষাট বছরেরও বেশি সময় পর পর্যন্ত—ইসনাদ পরিচিত ছিল না। তিনি মনে করেন উরওয়াহ কখনোই ইসনাদ ব্যবহার করেননি এবং ইবনে ইসহাকও এটি অপূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করেছেন। এর দ্বারা এটিই প্রমাণিত হয় যে, হাদীসের কিতাবসমূহে বিদ্যমান ইসনাদসমূহের সিংহভাগই হিজরি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীর মুহাদ্দিসগণ কর্তৃক উদ্ভাবিত বা বানোয়াট(২)।

প্রাচ্যবিদ হোরোভিটজ (Horovitz) ইসনাদ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং কাইটানি ও স্প্রেঙ্গারকে (Sprenger) অত্যন্ত জোরালো ও দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন। তিনি তাঁর গবেষণায় উল্লেখ করেছেন যে, যারা উরওয়াহর পক্ষ থেকে ইসনাদ ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, তারা তাঁর লেখা এবং সনদসমূহ পরিপূর্ণভাবে অধ্যয়ন করেননি।

অতঃপর তিনি উল্লেখ করেন যে, একজন গবেষক যখন কোনো জিজ্ঞাসার জবাবে কিংবা প্রমাণের উদ্দেশ্যে লেখেন এবং যখন একদল বিদগ্ধ মানুষের জন্য লেখেন, তখন লিখনশৈলীতে পার্থক্য থাকে। পরিশেষে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে: হাদীসের ক্ষেত্রে ইসনাদ বা সনদের প্রচলন হিজরি প্রথম শতাব্দীর শেষ তৃতীয়াংশ থেকে শুরু হয়েছে(৩)। তবে উরওয়াহর ইসনাদ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি কিছুটা সংরক্ষিত বা দ্বিধান্বিত ছিলেন এবং বলেছেন যে, বিষয়টি এখনও বিতর্ক ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে(৪)।

?

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: দিরাসাত ফিল হাদীস আন-নাবাবী: পৃষ্ঠা (ই)।

(২) দ্রষ্টব্য: পূর্বোক্ত উৎস ২/ ৩৯২।

(৩) দ্রষ্টব্য: পূর্বোক্ত উৎস ২/ ৩৯৩।

(৪) দ্রষ্টব্য: বুহুস ফি তারিখিস সুন্নাহ আল-মুশাররাফাহ: ৫২।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وكلا النتيجتين اللتين توصل لهما سواء قوله بأن بداية الإسناد في الأحاديث تذهب إلى الثلث الثالث من القرن الأول الهجري، أم قوله بأن معرفة عروة بالأسانيد لا تزال موضع نزاع وجدل، فكلاهما خاطئتان، إذ أن السند كان موجوداً مع بداية الرواية في عهد النبي صلى الله عليه وسلم والعهود التي تلته(1).

أما المستشرق (شاخت) فقد اجرى دراسة على الأحاديث الفقهية وتطورها - على حد زعمه- على كتابي "الموطأ" لمالك، و"الأم" للشافعي، وعمم نتائج دراسته على كتب الحديث الأخرى، ثم خلص إلى أن السند جزء اعتباطي في الأحاديث، وأن الأسانيد بدأت بشكل بدائي، حتى وصلت إلى كمالها في النصف الثاني من القرن الثالث الهجري، وأنها كانت لا تجد عناية واهتماماً، ولذا فإن أي حزب يريد نسبة آرائه إلى المتقدمين كان يختار تلك الشخصيات فيضعها في الإسناد(2).

 

‌‌ثانياً: موقفهم من المتن.

على الرغم من وضوح المنهج الذي سلكه المحدثون لحفظ السنة وضمان صيانتها عن العبث والتحريف، والافتراء والدس؛ إلا أن المستشرقين ما فتئوا من إثارة بعض الشبهات حول منهج النقد عند المحدثين، وادعوا بأن المحدثين عولوا في نقدهم للأحاديث على الأسانيد فقط، مغفلين تماماً النظر إلى المتون والألفاظ، وبالتالي انصبت جهودهم في هذا المجال على الجانب الشكلي السطحي أو ما أطلقوا عليه النقد الخارجي، ويعنون به نقد السند على حين غفلوا أو تغافلوا عن المضمون والمقصود أصالة من الحديث، وهو ما أطلقوا عليه النقد الداخلي، ويعنون به نقد المتون والألفاظ، الأمر الذي نتج عنه تصحيح كثير من المتون التي حقها النقد والرد بسبب هذا المنهج الذي اعتمده المحدثون(3).

وفي هذا يقول المستشرق (جولد زيهر): "في النقد الإسلامي للسنة تهيمن النزعة الشكلية في القاعدة التي انطلق منها هذا العلم، والعوامل الشكلية هي بصورة خاصة العوامل الحاسمة للحكم على استقامة وأصالة الحديث، أو كما يقول المسلمون: على صحة الحديث وتختبر الأحاديث بحسب شكلها الخارجي فقط"(4).

--------------------------------------------

(1) انظر: دراسات في الحديث النبوي: 327، المستشرقون والحديث النبوي: 98، مكانة السنة في التشريع الإسلامي: 186 وما بعدها، حجية السنة: 430.

(2) انظر: المستشرق شاخت والسنة النبوية (ضمن موجز مناهج المستشرقين في الدراسات العربية والإسلامية 1/ 83)، دراسات في الحديث النبوي 2/ 394، 422، نقد الخطاب الاستشراقي 1/ 518.

(3) انظر: المستشرقون والحديث النبوي: 129.

(4) انظر: السنة قبل التدوين: 254، السنة حجيتها ومكانتها في الإسلام: 240، موقف المدرسة العقلية من السنة النبوية 2/ 150.
তিনি যে দুটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন—চাই তা হাদীসের ইসনাদের সূচনা হিজরি প্রথম শতাব্দীর শেষ তৃতীয়াংশে হওয়ার দাবি হোক, অথবা উরওয়ার ইসনাদ সম্পর্কে জ্ঞান এখনও বিতর্কিত হওয়ার দাবি হোক—উভয়ই ভুল। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ এবং পরবর্তী সময়গুলোতে বর্ণনার সূচনালগ্ন থেকেই ‘সানাদ’ বা সূত্রের অস্তিত্ব বিদ্যমান ছিল(১).

অন্যদিকে প্রাচ্যবিদ (শাখ্ত) ফিকহী হাদীস এবং সেগুলোর বিবর্তন নিয়ে—তাঁর দাবি অনুযায়ী—ইমাম মালিকের "আল-মুওয়াত্ত্তা" এবং ইমাম শাফেয়ীর "আল-উম্ম" কিতাবদ্বয়ের ওপর একটি গবেষণা চালিয়েছেন এবং তাঁর গবেষণার ফলাফল অন্যান্য হাদীসগ্রন্থের ওপরও প্রয়োগ করেছেন। এরপর তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, হাদীসের ক্ষেত্রে ‘সানাদ’ একটি অসংলগ্ন অংশ এবং ইসনাদগুলো আদিম বা অসংগঠিত অবস্থায় শুরু হয়েছিল, যা হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে এসে পূর্ণতা পায়। তাঁর মতে, এগুলোর প্রতি তেমন কোনো গুরুত্ব ও যত্ন দেওয়া হতো না; ফলে কোনো দল যখনই তাদের নিজস্ব অভিমত পূর্ববর্তীদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করতে চাইত, তখন তারা কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিত্ব নির্বাচন করে তাঁদেরকে ইসনাদের অন্তর্ভুক্ত করে দিত(২).

 

‌‌দ্বিতীয়ত: মতন (মূল পাঠ) সম্পর্কে তাঁদের অবস্থান.

সুন্নাহর হেফাজত এবং একে বিকৃতি, পরিবর্তন, অপবাদ ও অনধিকার প্রবেশ থেকে সুরক্ষার জন্য মুহাদ্দিসগণ যে সুস্পষ্ট মানহাজ বা পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন তা সত্ত্বেও, প্রাচ্যবিদরা মুহাদ্দিসগণের সমালোচনা-পদ্ধতি নিয়ে কিছু সংশয় উত্থাপন করতে ছাড়েননি। তাঁরা দাবি করেছেন যে, মুহাদ্দিসগণ হাদীসের সমালোচনার ক্ষেত্রে কেবল ইসনাদের ওপর নির্ভর করেছেন এবং ‘মতন’ বা মূল পাঠ ও শব্দমালার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা থেকে পুরোপুরি বিরত থেকেছেন। ফলে এই ক্ষেত্রে তাঁদের যাবতীয় প্রচেষ্টা কেবল বাহ্যিক ও উপরিভাগ অর্থাৎ যেটিকে তাঁরা ‘বাহ্যিক সমালোচনা’ (External Criticism) বলেন—তার ওপর নিবদ্ধ ছিল, যার দ্বারা তাঁরা ‘সানাদ’-এর সমালোচনা উদ্দেশ্য নিয়েছেন। অথচ হাদীসের মূল বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্য অর্থাৎ যেটিকে তাঁরা ‘অভ্যন্তরীণ সমালোচনা’ (Internal Criticism) বলেন, যা দ্বারা ‘মতন’ ও শব্দমালার সমালোচনা বোঝানো হয়—সে সম্পর্কে তাঁরা উদাসীন থেকেছেন বা উপেক্ষা করেছেন। এর ফলশ্রুতিতে এমন অনেক মতন ‘সহীহ’ হিসেবে গণ্য হয়েছে যেগুলোর ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের অবলম্বিত এই পদ্ধতির কারণে সমালোচনা ও প্রত্যাখ্যান করা প্রয়োজন ছিল(৩).

এ প্রসঙ্গে প্রাচ্যবিদ (গোল্ডজিহার) বলেন: “সুন্নাহর ইসলামী সমালোচনায় সেই মূলনীতিতে বাহ্যিক রূপের প্রবণতা প্রাধান্য বিস্তার করে আছে যেখান থেকে এই শাস্ত্রের উৎপত্তি হয়েছে। হাদীসের বিশুদ্ধতা ও মৌলিকতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অথবা মুসলিমরা যেভাবে বলে—হাদীসের ‘সহীহ’ হওয়ার বিচারে বাহ্যিক উপাদানগুলোই বিশেষভাবে সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা পালন করে থাকে এবং হাদীসসমূহকে কেবল তাদের বাহ্যিক কাঠামোর ভিত্তিতেই পরীক্ষা করা হয়”(৪).

--------------------------------------------

(১) দেখুন: দিরাসাত ফিল হাদীসিন নাবাবী: ৩২৭; আল-মুস্তাশরিকুনা ওয়াল হাদীসুন নাবাবী: ৯৮; মাকানাতুস সুন্নাহ ফিত তাশরীয়িল ইসলামী: ১৮৬ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো; হুজজিয়াতুস সুন্নাহ: ৪৩০।

(২) দেখুন: আল-মুস্তাশরিক শাখ্ত ওয়াস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ (মু’জায মানাহিজুল মুস্তাশরিকীন ফিদ দিরাসাতিল আরাবিয়্যাহ ওয়াল ইসলামিয়্যাহ ১/ ৮৩-এর অন্তর্ভুক্ত); দিরাসাত ফিল হাদীসিন নাবাবী ২/ ৩৯৪, ৪২২; নাকদুল খিতাবিল ইস্তিশরাকী ১/ ৫১৮।

(৩) দেখুন: আল-মুস্তাশরিকুনা ওয়াল হাদীসুন নাবাবী: ১২৯।

(৪) দেখুন: আস-সুন্নাহ কবলাত তাদওয়ীন: ২৫৪; আস-সুন্নাহ হুজজিয়াতুহা ওয়া মাকানাতুহা ফিল ইসলাম: ২৪০; মাওকিফুল মাদরাসাতিল আকলিয়্যাহ মিনাস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ২/ ১৫০।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الثالث: العقل

‌‌موقف المعتزلة من العقل:

العقل عند المعتزلة هو تلك الحاسة اللطيفة الجوهر التي تميز الإنسان من الحيوان، وهو: عبارة عن جملة من العلوم المخصوصة - يقصد بها العلوم الضرورية - متى حصلت في المكلف صح منه النظر والاستدلال والقيام بما كلف به، ولابد من اجتماع هذه العلوم حتى يسمى عقلاً أما إذا تفرقت عن بعضها فهي ليست كذلك(1).

لذا فقد أقبل المعتزلة على فلسفة اليونان يستلهمونها، وأعلام اليونان يترسمون خطاهم وينسجون على منوالهم، وعلى كتب اليونان يتفهمونها ويعضمونها(2)، فسلكوا المنهج العقلي، بل عولوا على العقل أكثر مما عولوا على القرآن والسنة(3).

بل جعلوا الأدلة العقلية مقدمة على الأدلة الشرعية فكذبوا ما لا يوافق العقل من الحديث وإن صح(4)، وأولوا ما لا يوافقه من الآيات وإن صحت(5).

وقالوا بسلطة العقل وقدرته على معرفة الحسن والقبيح ولو لم يرد بهما شرع، والحسن والقبح صفتان ذاتيتان للحسن والقبيح(6).

‌‌موقف المستشرق من العقل:

ينظر المستشرق (هاملتون جب) للعقل على أنه أساس التطور لعلم الكلام السني - حسب زعمه-، وسبب اعتدال ميزان الخيال الحدسي وانضباطه بالفهم العقلي للكون بالشكل الذي أدى إلى تصالح الإسلام مع المنهج العلمي والأساليب العلمية في التفكير، مما صبغ الفكر في شؤون الدين بصبغة عقلية(7)، ويرى المستشرقان (لويس غاردية) و (جورج قنواتي) بأن العقل ما زال مقياس العلم الديني ومحكه(8)، ويؤكد (جولد زيهر) بأنه مبدأ أساس من مبادئ مذهب الاعتزال الديني، من حيث كونه مصدر المعارف الدينية والمعيار الذي توزن به الحقيقة الدينية، وقد أدخلته المعتزلة أول الأمر للنظر الديني الإسلامي، ومن ثم اضطر لمراعاته أهل التوفيق من الأشاعرة(9).

?

--------------------------------------------

(1) انظر: نظرية التكليف، د. عبدالكريم عثمان: 74.

(2) انظر: الفكر الإسلامي بين الأمس واليوم: 121 - 122.

(3) انظر: تاريخ الفلسفة في الإسلام (دي بوار): 105، النزعة العقلية في تفكير المعتزلة، د. علي خشيم: 50، منهج المدرسة العقلية الحديثة في التفسير: 53.

(4) انظر: التفسير والمفسرون 1/ 372.

(5) المرجع السابق 1/ 373.

(6) انظر: الملل والنحل 1/ 42.

(7) انظر: دراسات في حضارة الإسلام (هاملتون جب): 269.

(8) انظر: فلسفة الفكر الديني 3/ 189.

(9) انظر: مذاهب التفسير الإسلامي: 159.
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আকল (বুদ্ধিবৃত্তি)

‌‌আকলের ব্যাপারে মুতাজিলাদের অবস্থান:

মুতাজিলাদের মতে আকল বা বুদ্ধিবৃত্তি হলো সেই সূক্ষ্ম ইন্দ্রিয় বা সত্তা (জওহর) যা মানুষকে পশু থেকে পৃথক করে। এটি মূলত কতিপয় সুনির্দিষ্ট জ্ঞানের—যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আবশ্যকীয় জ্ঞানসমূহ—সমষ্টি, যা মুকাল্লাফ (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি)-এর মধ্যে অর্জিত হলে তার পক্ষ থেকে যথাযথ চিন্তা-গবেষণা, প্রমাণ উপস্থাপন এবং তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা সঠিক হয়। আকল হিসেবে অভিহিত হওয়ার জন্য এই জ্ঞানগুলোর একত্রে বিদ্যমান থাকা আবশ্যক; কিন্তু যদি এগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে তাকে আকল বলা যায় না(১)।

একারণে মুতাজিলারা গ্রিক দর্শনের প্রতি ঝুঁকে পড়ে এবং সেখান থেকে প্রেরণা গ্রহণ করতে থাকে। তারা গ্রিক পণ্ডিতদের পদাঙ্ক অনুসরণ করত এবং তাদের চিন্তা-পদ্ধতি গ্রহণ করত। তারা গ্রিক গ্রন্থাবলি অধ্যয়ন করত এবং সেগুলোকে বিশেষ মর্যাদা দিত(২)। ফলে তারা বুদ্ধিবৃত্তিক পথ অবলম্বন করেছিল, এমনকি তারা কুরআন ও সুন্নাহর চেয়ে আকলের ওপর অধিক নির্ভর করেছিল(৩)।

এমনকি তারা বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলসমূহকে শরয়ি দলিলের ওপর প্রাধান্য দিয়েছিল। ফলে তারা এমন হাদিসসমূহকে প্রত্যাখ্যান করত যা আকলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যদিও তা বিশুদ্ধ (সহিহ) হোক না কেন(৪)। আর তারা সেই আয়াতগুলোর অপব্যাখ্যা (তাবিল) করত যা বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির পরিপন্থী, যদিও তা সুপ্রতিষ্ঠিত হোক না কেন(৫)।

তারা আকলের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব এবং এর মাধ্যমে ভালো ও মন্দের (হুসন ও কুবহ) জ্ঞান লাভের সক্ষমতার কথা বলত, এমনকি যদি সে বিষয়ে কোনো শরয়ি বিধান অবতীর্ণ না-ও হতো। তাদের মতে, ভালো ও মন্দ হওয়া মূলত সংশ্লিষ্ট বিষয় দুটির নিজস্ব সত্তাগত বৈশিষ্ট্য(৬)।

‌‌আকলের ব্যাপারে প্রাচ্যবিদদের অবস্থান:

প্রাচ্যবিদ (হ্যামিল্টন গিব) আকলকে সুন্নি ইলমুল কালামের বিবর্তনের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করেন—তার দাবি অনুযায়ী—এবং এটিই ছিল স্বজ্ঞাত কল্পনার ভারসাম্য রক্ষা এবং মহাবিশ্ব সম্পর্কে বুদ্ধিবৃত্তিক উপলব্ধির মাধ্যমে একে সুশৃঙ্খল করার কারণ। এর ফলে ইসলামের সাথে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও চিন্তার বৈজ্ঞানিক ধারার একটি সমন্বয় ঘটেছিল, যা ধর্মীয় বিষয়ের চিন্তাধারাকে বুদ্ধিবৃত্তিক রূপ প্রদান করেছিল(৭)। প্রাচ্যবিদ (লুই গার্দে) এবং (জর্জ কানাওয়াতি) মনে করেন যে, আকল এখনও ধর্মীয় জ্ঞানের মাপকাঠি ও কষ্টিপাথর হিসেবে রয়ে গেছে(৮)। (গোল্ডজিহার) জোর দিয়ে বলেন যে, এটি মুতাজিলা মাযহাবের একটি মৌলিক মূলনীতি, কারণ এটি ধর্মীয় জ্ঞানের উৎস এবং সেই মানদণ্ড যার মাধ্যমে ধর্মীয় সত্যতা যাচাই করা হয়। মুতাজিলারা প্রথম দিকে ইসলামি ধর্মীয় গবেষণায় এটি অন্তর্ভুক্ত করেছিল এবং পরবর্তীতে সমন্বয়বাদী আশায়েরা সম্প্রদায়ও একে বিবেচনায় নিতে বাধ্য হয়েছিল(৯)।

?

--------------------------------------------

(১) দেখুন: নজরিয়্যাতুত তাকলিফ, ড. আবদুল করিম উসমান: ৭৪।

(২) দেখুন: আল-ফিকরুল ইসলামি বাইনাল আমসি ওয়াল ইয়াউম: ১২১ - ১২২।

(৩) দেখুন: তারিখুল ফালসাফাহ ফিল ইসলাম (ডি বোর): ১০৫; আন-নাজআতুল আকলিয়্যাহ ফি তাফকিরিল মুতাজিলাহ, ড. আলি খাশিম: ৫০; মানহাজুল মাদরাসাতিল আকলিয়্যাহ আল-হাদিসাহ ফিত তাফসির: ৫৩।

(৪) দেখুন: আত-তাফসির ওয়াল মুফাসসিরুন ১/ ৩৭২।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস ১/ ৩৭৩।

(৬) দেখুন: আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ১/ ৪২।

(৭) দেখুন: দিরাসাত ফি হাদারাতিল ইসলাম (হ্যামিল্টন গিব): ২৬৯।

(৮) দেখুন: ফালসাফাতুল ফিকরুদ দ্বীনি ৩/ ১৮৯।

(৯) দেখুন: মাজাহিবুত তাফসিরিল ইসলামি: ১৫৯।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ويرى أيضا، بأن المعتزلة قد انقادوا في أنظارهم إلى مجرد العقل، حتى أنهم جعلوا الأنبياء أنفسهم يقيمون الحجة على صدق رسالتهم الإلهية، بأنهم أرسلوا من الله للنظر في أدلة العقل والاستدلال(1).

وأثنى عليهم فقال: إن للمعتزلة فضلاً غير منقوص، حيث كانوا من الأوائل الذين وسعوا معين المعرفة الدينية، بأن أدخلوا فيها عنصراً آخر وهو العقل(2).

وقال: إن أشرف انتفاع يستفيده المعتزلة من اشتراطهم فيما يتصل بتفسير الكتاب مطابقة العقل في الحقائق الدينية: هو محاربتهم للتصورات الخرافية المناقضة للطبيعة التي رسخت قدمها في الدين(3).

ويذهب المستشرق (لويس غاردية) إلى أنه مع الاختلافات العقائدية الطفيفة - والتي لها وجاهتها في بعض الأحيان، حسب نظرتهم - فقد فُرقت المعتزلة، إلا أنهم قد كانوا جميعاً ينهلون من ذات معين الإلهام الواحد وهو (احترام العقل) في مجال الدفاع عن العقائد الدينية، والاهتمام بتنزيه الذات الإلهية عن كل صور التعددية والتجسيد والرغبة في التأكيد على الكمال المطلق للذات الإلهية(4)، حيث يذهبون مذهباً ديناً أراد أن ينفي عن الصورة التي حملها المؤمن في قرارة نفسه للألوهية، وحقيقتها وتدبيرها كل ما يتجافى عن العقل ويتنزل على نحو لا يليق إلى دائرة الماديات وكذلك كل اختيار يتنافى مع مقتضيات الحكمة والعدل(5)، مما جعلهم يعتمدون على العقل مرجعاً وحيداً، ويتأولون آيات القرآن الكريم بما يتفق مع منهجهم العقلي الذي قام على الأسس التالية:

1 - القرآن مخلوق.

2 - الإنسان حر الإرادة والفعل، والشر من صنعه وحده(6).

وفيما يتعلق بأمور الآخرة فإن بعضها تُفلت من التعليلات العقلية، ولكن المعتزلة حاولوا جهد المستطاع أن يجعلوها عقلية(7).

?

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق: 159.

(2) المرجع السابق: 102، 159.

(3) المرجع السابق: 160.

(4) انظر: دائرة المعارف الإسلامية 24/ 7374.

(5) انظر: مذاهب التفسير الإسلامي: 121.

(6) انظر: الإسلام كبديل (هوفمان): 49.

(7) انظر: فلسفة الفكر الديني 3/ 90.
তিনি আরও মনে করেন যে, মুতাজিলাগণ তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে কেবল বুদ্ধিবৃত্তির অনুগামী হয়েছিলেন, এমনকি তারা মনে করতেন যে নবীগণ স্বয়ং তাঁদের ঐশী বাণীর সত্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তি ও প্রমাণের ওপর নির্ভর করতেন।(১).

তিনি তাদের প্রশংসা করে বলেন: মুতাজিলাদের অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে, কারণ তারা সেই সকল অগ্রগামীদের অন্তর্ভুক্ত যারা ধর্মীয় জ্ঞানের পরিধিকে বিস্তৃত করেছিলেন এবং এতে 'বুদ্ধিবৃত্তি' নামক অন্য একটি উপাদান অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।(২).

তিনি আরও বলেন: কুরআন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ধর্মীয় সত্যগুলোকে বুদ্ধিবৃত্তির সাথে সংগতিপূর্ণ করার যে শর্ত মুতাজিলারা আরোপ করেছিল, তার থেকে প্রাপ্ত সবচেয়ে মহৎ সুফল হলো: ধর্মে গেঁড়ে বসা প্রকৃতির সাথে সাংঘর্ষিক কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধারণাগুলোর বিরুদ্ধে তাদের আপসহীন সংগ্রাম।(৩).

প্রাচ্যবিদ (লুইস গার্দে) মনে করেন যে, সূক্ষ্ম আকীদাগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও—যা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী মাঝে মাঝে যৌক্তিক ছিল—মুতাজিলাগণ বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হলেও তারা সকলে একটি অভিন্ন অনুপ্রেরণার উৎস থেকেই প্রাণরস গ্রহণ করতেন; আর তা হলো ধর্মীয় আকীদা রক্ষায় 'বুদ্ধিবৃত্তির প্রতি সম্মান' প্রদর্শন এবং মহান আল্লাহর সত্তাকে বহুত্ববাদ ও মূর্তকরণের সকল রূপ থেকে পবিত্র রাখা (তানযীহ) এবং আল্লাহর সত্তার নিরঙ্কুশ পূর্ণতার ওপর গুরুত্বারোপ করা।(৪)। তারা এমন এক ধর্মীয় মতবাদ অনুসরণ করতেন যা মুমিনের অন্তরে আল্লাহর উলুহিয়্যাত, তাঁর হাকীকত ও তাঁর পরিচালনা সম্পর্কে বিদ্যমান সেই সকল চিত্রকে নাকচ করতে চেয়েছিল যা বুদ্ধিবৃত্তির পরিপন্থী এবং যা অযোগ্যভাবে বস্তুবাদী জগতের স্তরে নেমে আসে। সেই সাথে তারা এমন প্রতিটি বিষয়কেও প্রত্যাখ্যান করতে চেয়েছিল যা প্রজ্ঞা (হিকমত) ও ন্যায়বিচারের (আদল) পরিপন্থী।(৫)। এর ফলে তারা বুদ্ধিবৃত্তিকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেন এবং পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলোর এমন ব্যাখ্যা (তাকবিল) করেন যা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের এই পদ্ধতি নিম্নলিখিত নীতিগুলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল:

১ - কুরআন সৃষ্ট।

২ - মানুষ স্বাধীন ইচ্ছা ও কর্মের অধিকারী এবং মন্দ বা অকল্যাণ কেবল মানুষেরই সৃষ্টি।(৬).

পরকালীন বিষয়াবলির ক্ষেত্রে কিছু বিষয় বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে থাকলেও মুতাজিলাগণ যথাসাধ্য সেগুলোকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন।(৭).

?

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত: ১৫৯।

(২) প্রাগুক্ত: ১০২, ১৫৯।

(৩) প্রাগুক্ত: ১৬০।

(৪) দেখুন: ইসলামি বিশ্বকোষ ২৪/ ৭৩৭৪।

(৫) দেখুন: মাজাহিবুত তাফসীর আল-ইসলামী: ১২১।

(৬) দেখুন: আল-ইসলাম কা-বাদীল (হফম্যান): ৪৯।

(৭) দেখুন: ফালাসাফাতুল ফিকর আদ-দীনি ৩/ ৯০।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الفصل الثالث: موقف المستشرقين من أصول المعتزلة

وفيه خمسة مباحث:

المبحث الأول: التوحيد.

المبحث الثاني: العدل.

المبحث الثالث: الوعد والوعيد.

المبحث الرابع: المنزلة بين المنزلتين.

المبحث الخامس: الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
তৃতীয় অধ্যায়: মুতাজিলাদের মূলনীতিসমূহের প্রতি প্রাচ্যবিদদের অবস্থান

এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহিদ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-আদল।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল-ওয়াদ ওয়াল-ওয়াহিদ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আল-মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইন।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المبحث الأول: التوحيد

يرتكز الاعتزال على أصول خمسة هي - بحسب أهميتها في الترتيب-: التوحيد، والعدل، والوعد والوعيد، والمنزلة بين المنزلتين، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، فبـ"التوحيد": يتحدد موقف المعتزلة من الله والعالم، وبـ"العدل": يتحدد موقفهم من الإنسان وحريته، ويمثل التوحيد والعدل الركنين الأساسين اللذين تتفرع عنهما بقية الأصول، إذ ينطوي "الوعد والوعيد"، على موقف المعتزلة من مصير الإنسان في الأخرة، ويتحدد في "المنزلة بين المنزلتين"، موقف المعتزلة من الإنسان العاصي في الدنيا، في حين يحدد "الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر" موقفهم من القضية السياسية والتعامل مع الأئمة وولاة الأمور(1).

وقد أجمعت فرق المعتزلة على أن هذه الأصول الخمسة، وعدَّت من خالفهم فيها ليس منهم، ومن وافقهم فهو منهم، وأكدت بأنه لا يستحق أحد اسم الاعتزال حتى يجمع القول بهذه الأصول الخمسة(2) التي تدو حول عقائدهم وقضاياهم.

 

‌‌التوحيد عند المعتزلة:

يعتبر التوحيد الأصل الأول من أصول المعتزلة الخمسة، ويقصدون به نفي صفات الله تعالى وأفعاله من خلال استدلالهم العقلي على وجود الله سبحانه وتعالى، وأداهم ذلك إلى إثبات خلق القرآن، وإلى عدم رؤية المؤمنين لله سبحانه يوم القيامة، وإلى نفي استواء الله على عرشه من فوق سماواته كما أخبر في كتابه الكريم(3).

 

‌‌موقف المستشرقين من التوحيد عند المعتزلة:

يرى المستشرق (مكدونالد) بأن علم التوحيد والصفات مرادف لعلم الكلام وأنه أساس عقائد الإسلام، وقد أخرج منه المعتزلة الصفات، وجعلوا الأساس هو التوحيد فقط(4) فصدَّروا مذهبهم بالقول بالتوحيد(5).

?

--------------------------------------------

(1) انظر: الخطاب النقدي عند المعتزلة: 2.

(2) انظر: الانتصار: 126، الفصل في الملل والأهواء والنحل 2/ 89.

(3) انظر: المعتزلة بين القديم والحديث: 48.

(4) انظر: دائرة المعارف الإسلامية 8/ 2388.

(5) انظر: تاريخ الفلسفة في الإسلام: 100.
‌প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহিদ

মুতাজিলা মতবাদ পাঁচটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেগুলো গুরুত্বের ক্রমানুসারে হলো— তাওহিদ (একত্ববাদ), আদল (ন্যায়বিচার), আল-ওয়াদ ওয়াল-ওয়াইদ (প্রতিশ্রুতি ও ভীতি প্রদর্শন), আল-মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইন (দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী অবস্থান) এবং আমর বিল মা’রুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার (সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ)। ‘তাওহিদ’-এর মাধ্যমে আল্লাহ ও জগৎ সম্পর্কে মুতাজিলাদের অবস্থান নির্ধারিত হয় এবং ‘আদল’-এর মাধ্যমে মানুষ ও তার স্বাধীনতা সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়। তাওহিদ ও আদল হলো এমন দুটি মৌলিক স্তম্ভ যা থেকে অবশিষ্ট নীতিগুলো উৎসারিত। কেননা ‘আল-ওয়াদ ওয়াল-ওয়াইদ’ আখেরাতে মানুষের পরিণাম সম্পর্কে মুতাজিলাদের অবস্থানের প্রতিফলন ঘটায়; ‘আল-মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইন’ ইহকালে পাপিষ্ঠ ব্যক্তির অবস্থা নির্ধারণ করে; আর ‘আমর বিল মা’রুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার’ রাজনৈতিক বিষয়াদি এবং শাসক ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে(১)।

মুতাজিলাদের সকল দল এই পাঁচটি মূলনীতির ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছে। তারা মনে করে, যে ব্যক্তি এই নীতিগুলোর বিরোধিতা করবে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, আর যে এগুলো সমর্থন করবে সে-ই তাদের অন্তর্ভুক্ত। তারা জোরালোভাবে ব্যক্ত করেছে যে, এই পাঁচটি মূলনীতি—যা তাদের আকিদা ও মৌলিক বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়—একত্রে গ্রহণ না করা পর্যন্ত কেউ ‘মুতাজিলা’ নামের যোগ্য হতে পারে না(২)।

 

‌‌মুতাজিলাদের নিকট তাওহিদ:

তাওহিদকে মুতাজিলাদের পাঁচটি মূলনীতির মধ্যে প্রথম মূলনীতি হিসেবে গণ্য করা হয়। এর মাধ্যমে তারা মহান আল্লাহর অস্তিত্বের বিষয়ে তাদের যৌক্তিক প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহর সিফাত (গুণাবলি) ও তাঁর কার্যাবলিকে অস্বীকার করাকে বুঝিয়ে থাকে। এর ফলে তারা কুরআন মাখলুক বা সৃষ্ট হওয়া, কিয়ামতের দিন মুমিনদের আল্লাহকে দেখতে না পাওয়া এবং তাঁর পবিত্র কিতাবে বর্ণিত বর্ণনা অনুযায়ী আসমানের ওপর তাঁর আরশে উঠাকে অস্বীকার করার মত পোষণ করেছে(৩)।

 

‌‌মুতাজিলাদের তাওহিদ সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের অবস্থান:

প্রাচ্যবিদ (ম্যাকডোনাল্ড) মনে করেন যে, তাওহিদ ও সিফাত সংক্রান্ত বিদ্যা মূলত ইলমুল কালামের সমার্থক এবং এটিই ইসলামি আকিদার ভিত্তি। মুতাজিলারা এর থেকে সিফাত বা গুণাবলিকে বাদ দিয়ে শুধু তাওহিদকেই মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে(৪)। ফলে তারা তাওহিদের দাবি উপস্থাপনের মাধ্যমেই তাদের মাযহাবের সূচনা করেছে(৫)।

?

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-খিতাবুন নাকদি ইনদাল মুতাজিলা: ২।

(২) দ্রষ্টব্য: আল-ইনতিসার: ১২৬, আল-ফাসলু ফিল মিলালি ওয়াল আহওয়ায়ি ওয়ান নিহাল ২/ ৮৯।

(৩) দ্রষ্টব্য: আল-মুতাজিলা বাইনাল কাদিমি ওয়াল হাদিস: ৪৮।

(৪) দ্রষ্টব্য: দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া ৮/ ২৩৮৮।

(৫) দ্রষ্টব্য: তারিখুল ফালসাফা ফিল ইসলাম: ১০০।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وجاء في دائرة المعارف أن رأي المعتزلة في مسألة التوحيد يقوم على الاستمساك بآيات التنزيه وتأويل الآيات المتشابهة تأويلاً يتفق والتنزيه والتوحيد الذين جاء بهما الإسلام(1)، وخير ما يمثل شرح المعتزلة للتوحيد هو ما حكاه عنهم الأشعري في كتابه مقالات الإسلاميين(2) وأن سبب مغالات المعتزلة في فهم تنزيه الله عن سمات المخلوقين حذراً من تعدد القديم(3).

وهم في تقريرهم للتوحيد عند المعتزلة يعتمدون على ما ذكره الأشعري في مقالاته عن المعتزلة حيث قال: "أجمعت المعتزلة على أن الله واحد ليس كمثله شيء وهو السميع البصير، وليس بجسم، ولا شبح، ولا جثة، ولا صورة، ولا لحم، ولا دم، ولا شخص ولا جوهر، ولا عرض، ولا بذي لون ولا طعم ولا رائحة ولا مجسّة، ولا بذي حرارة ولا رطوبة ولا يبوسة، ولا طول ولا عرض ولا عمق، ولا اجتماع ولا افتراق .. إلى آخر ما ذكره عنهم(4). وجميع ذلك صفات سلبية يرون أنه بها يسلم للمعتزلة أصلهم الأول الذي هو التوحيد(5)، وهذا خلاف منهج السلف الصالح في إثبات الصفات لله سبحانه وتعالى على الوجه اللائق به سبحانه.

وفي هذا يوافق المستشرقون المعتزلة تماماً على منهجهم في طريقة إثبات الصفات، ويرون أن من خلاله يسلم لهم التوحيد.

وقد أغفل المستشرقون قول الأشعري في نهاية كلامه عن المعتزلة، حيث قال: وإن كانوا للجملة التي يظهرونها ناقضين ولها تاركين(6)، وفي هذا خلل منهجي، فقد أشعروا القارئ بأن أبا الحسن الأشعري يوافق المعتزلة رأيهم في التوحيد، وأنه خير من شرح التوحيد عند المعتزلة، بينما ختم قوله بأن المعتزلة لم يقيدوا بما أظهروه من جمل عن حقيقة التوحيد عندهم.

ويرى المستشرق (هنري كوريان) أن التوحيد عند المعتزلة: هو المبدأ الأساسي في الإسلام، وأنه ليس من عنديات المعتزلة ولا من استنباطاتهم، ولكنهم تميزوا به دون غيرهم بالتفسيرات التي أعطوها بشأنه وبما طبقوه من هذه التفسيرات على ميادين أخرى من ميادين الإلهيات(7).

وبهذا يكون موقف المستشرقين من التوحيد عند المعتزلة هو نفس موقف المعتزلة تماماً.

--------------------------------------------

(1) انظر: موجز دائرة المعارف الإسلامية 8/ 2399.

(2) المرجع السابق 8/ 2399.

(3) المرجع السابق 8/ 2399.

(4) انظر: مقالات الإسلاميين 1/ 235 - 236، دائرة المعارف الإسلامية 8/ 2399.

(5) انظر: دائرة المعارف الإسلامية 8/ 2399.

(6) انظر: مقالات الإسلاميين 1/ 236.

(7) انظر: تاريخ الفلسفة الإسلامية: 187.
এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম (ইসলামি বিশ্বকোষ)-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাওহীদের বিষয়ে মুতাজিলাদের অভিমত তানযীহ বা পবিত্রতা প্রকাশক আয়াতগুলোকে আঁকড়ে ধরা এবং মুতাশাবিহ বা অস্পষ্ট অর্থবোধক আয়াতগুলোকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করার ওপর প্রতিষ্ঠিত যা ইসলাম প্রদত্ত তানযীহ ও তাওহীদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ(১)। মুতাজিলাদের তাওহীদ বিষয়ক ব্যাখ্যার সর্বোত্তম উপস্থাপনা হলো সেটিই, যা আশআরি তাঁর 'মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন' গ্রন্থে তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন(২)। মাখলুক বা সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য থেকে আল্লাহকে পবিত্র রাখার ক্ষেত্রে মুতাজিলাদের এই অতিরঞ্জনের কারণ হলো একাধিক অনাদি সত্তার অস্তিত্বের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা(৩)।

মুতাজিলাদের তাওহীদ বর্ণনায় তারা আশআরি তাঁর 'মাকালাত' গ্রন্থে মুতাজিলাদের সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তার ওপর নির্ভর করে। তিনি বলেন: "মুতাজিলাগণ এ বিষয়ে একমত যে, আল্লাহ এক, তাঁর সদৃশ কেউ নেই, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা; তিনি শরীর নন, ছায়া নন, কায়া নন, অবয়ব নন, মাংস নন, রক্ত নন, ব্যক্তি নন, মৌলিক উপাদান (জওহর) নন, আপতিক গুণ (আরয) নন; তাঁর কোনো রঙ, স্বাদ, ঘ্রাণ বা স্পর্শ নেই; তাঁর তাপ, আর্দ্রতা বা শুষ্কতা নেই; তাঁর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা গভীরতা নেই; তাঁর মিলন বা বিচ্ছেদ নেই..."—তাদের সম্পর্কে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তার শেষ পর্যন্ত(৪)। এগুলোর সবই হলো নেতিবাচক বা অভাবসূচক গুণাবলি (সিফাতে সালবিয়্যাহ), যার মাধ্যমে তারা মনে করে যে মুতাজিলাদের প্রথম মূলনীতি অর্থাৎ তাওহীদ সুরক্ষিত থাকে(৫)। অথচ এটি মহান আল্লাহর শান অনুযায়ী তাঁর গুণাবলি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের অনুসৃত পদ্ধতির পরিপন্থী।

এ বিষয়ে প্রাচ্যবিদগণ গুণাবলি সাব্যস্ত করার পদ্ধতির ক্ষেত্রে মুতাজিলাদের সাথে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেন এবং তাঁরা মনে করেন যে, এর মাধ্যমেই তাওহীদ সুরক্ষিত হয়।

প্রাচ্যবিদগণ মুতাজিলাদের সম্পর্কে আশআরির বক্তব্যের শেষ অংশটি এড়িয়ে গেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "যদিও তারা বাহ্যিকভাবে যা প্রকাশ করে, সামগ্রিকভাবে তারা তা লঙ্ঘনকারী ও বর্জনকারী"(৬)। এর মধ্যে একটি পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়েছে; কারণ তারা পাঠককে এই ধারণা দিয়েছেন যে আবুল হাসান আশআরি তাওহীদের বিষয়ে মুতাজিলাদের মতের সাথে একমত এবং তিনি মুতাজিলাদের তাওহীদ তত্ত্বের শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাকারী। অথচ তিনি তাঁর বক্তব্যের শেষে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, মুতাজিলাগণ তাদের তাওহীদের হাকিকত সম্পর্কে বাহ্যিকভাবে যা প্রকাশ করে সে অনুযায়ী চলেনি।

প্রাচ্যবিদ (হেনরি করবিন) মনে করেন যে, মুতাজিলাদের কাছে তাওহীদ হলো ইসলামের মৌলিক নীতি। এটি মুতাজিলাদের নিজস্ব উদ্ভাবন বা ইস্তিনবাত নয়, বরং তারা এ বিষয়ে তাদের প্রদত্ত ব্যাখ্যা এবং সেই ব্যাখ্যার আলোকে ইলাহিয়্যাত বা ধর্মতত্ত্বের অন্যান্য ক্ষেত্রে এর প্রয়োগের মাধ্যমে অন্যদের থেকে স্বাতন্ত্র্য লাভ করেছে(৭)।

এভাবে মুতাজিলাদের তাওহীদের বিষয়ে প্রাচ্যবিদদের অবস্থান এবং মুতাজিলাদের নিজেদের অবস্থান হুবহু এক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মুজিয দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ৮/ ২৩৯৯।

(২) প্রাগুক্ত ৮/ ২৩৯৯।

(৩) প্রাগুক্ত ৮/ ২৩৯৯।

(৪) দেখুন: মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন ১/ ২৩৫ - ২৩৬, দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ৮/ ২৩৯৯।

(৫) দেখুন: দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ ৮/ ২৩৯৯।

(৬) দেখুন: মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন ১/ ২৩৬।

(৭) দেখুন: তারিখুল ফালসাফাহ আল-ইসলামিয়্যাহ: ১৮৭।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌المبحث الثاني: العدل

والمراد بالعدل عند المعتزلة هو أن أفعال الله تعالى كلها حسنة، وأنه لا يفعل القبيح ولا يخل بما هو واجب عليه، وأنه لا يكذب في خبره، ولا يجور في حكمه، ولا يعذب أطفال المشركين بذنوب آبائهم، ولا يظهر المعجزة على الكذابين، ولا يكلف العباد ما لا يطيقونه ولا يعلمون، بل يقدرهم على ما كلفهم ويعلمهم صفة ما كلفهم، ويدلهم على ذلك، ويبين لهم، ليهلك من هلك عن بينة، ويحيي من حي عن بينة(1).

ويتعلق العدل عند المعتزلة بأفعال الباري عز وجل من حيث صلتها بالإنسان، وأن تلك الصلة يجب أن يسودها من جانب الله عز وجل حسب رأيهم - العدل المطلق(2).

 

‌‌مظاهر العدل عند المعتزلة:

منها:

1 - أن الله لا يفعل القبيح ولا يخل بما هو واجب عليه، وأفعاله كلها محكمة(3).

2 - أن الله لطيف بعباده: واللطف الإلهي عرفه القاضي عبدالجبار بقوله: هو كل ما يختار عنده المرء الواجب ويتجنب القبيح، أو ما يكون عنده أقرب: إما إلى اختيار الواجب أو إلى ترك القبيح(4). ومعنى هذا أن العبد المكلف أمامه واجبات عليه أن يؤديها، وقبائح يجب عليه اجتنابها، فيجب على الله أن يفعل ما به يكون العبد أقرب إلى الطاعة، وأبعد عن المعصية، من غير أن يضطره هذا الفعل إلى عمل الطاعة، أو اجتناب المعصية(5)، ويرى أكثر المعتزلة أن اللطف واجب على الله(6).

3 - الإنسان حر فيما يفعل.

--------------------------------------------

(1) انظر: شرح الأصول الخمسة: 133، مذاهب الإسلاميين: 61.

(2) انظر: شرح الأصول الخمسة: 301.

(3) المرجع السابق: 132.

(4) انظر: المرجع السابق: 519.

(5) انظر: الحكمة والتعليل في أفعال الله تعالى: 123.

(6) انظر: الملل والنحل للشهرتساني 1/ 65، وموقف المتكلمين من الاستدلال بنصوص الكتاب والسنة 1/ 303.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ন্যায়বিচার (আদল)

মুতাজিলাদের নিকট আদল বা ন্যায়বিচার বলতে উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তাআলার সকল কাজই কল্যাণময়; তিনি কোনো মন্দ কাজ করেন না এবং তাঁর ওপর যা ওয়াজিব (আবশ্যক) তাতে কোনো ত্রুটি করেন না। তিনি তাঁর সংবাদে কোনো মিথ্যা বলেন না, বিচারে কোনো অবিচার করেন না এবং মুশরিকদের শিশুদের তাদের পিতামাতার পাপের কারণে শাস্তি প্রদান করেন না। তিনি মিথ্যাবাদীদের অনুকূলে কোনো মুজিজা (অলৌকিক নিদর্শন) প্রকাশ করেন না এবং বান্দাদের ওপর এমন কোনো দায়ভার চাপিয়ে দেন না যা তাদের সাধ্যাতীত কিংবা যা সম্পর্কে তারা জানে না। বরং তিনি তাদের যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন তা পালন করার সামর্থ্য দান করেন, সেই আদিষ্ট বিষয়ের স্বরূপ তাদের শিক্ষা দেন, সেদিকে তাদের পরিচালিত করেন এবং বিষয়গুলো তাদের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন; যাতে ধ্বংসপ্রাপ্তরা সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যারা জীবিত থাকে তারা সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই জীবিত থাকে(১)।

মুতাজিলাদের মতে, ন্যায়বিচার মহান আল্লাহ তাআলার কার্যাবলীর সেই সব দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট যা মানুষের সাথে সম্পর্কিত। তাদের রায় অনুসারে, আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবশ্যই পরম ন্যায়বিচার বজায় থাকা বাঞ্ছনীয়(২)।

 

‌‌মুতাজিলাদের নিকট ন্যায়বিচারের বহিঃপ্রকাশসমূহ:

তার মধ্যে রয়েছে:

১ - আল্লাহ কোনো মন্দ কাজ করেন না এবং তাঁর ওপর যা ওয়াজিব তাতে ত্রুটি করেন না; তাঁর সকল কাজই সুনিপুণ ও সুসংগত(৩)।

২ - আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহশীল (লতিফ): ঐশ্বরিক অনুগ্রহ বা 'লুতফ'-এর সংজ্ঞায় কাজী আব্দুল জব্বার বলেন—এটি এমন প্রতিটি বিষয় যা বর্তমান থাকলে মানুষ ওয়াজিব বা আবশ্যক কাজসমূহ বেছে নেয় এবং মন্দ কাজ বর্জন করে, অথবা যা মানুষকে ওয়াজিব কাজ গ্রহণ বা মন্দ কাজ ত্যাগের অধিক নিকটবর্তী করে দেয়(৪)। এর অর্থ হলো, শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ বান্দার সামনে এমন কিছু কর্তব্য রয়েছে যা পালন করা তার জন্য আবশ্যক এবং এমন কিছু মন্দ কাজ রয়েছে যা বর্জন করা জরুরি। এমতাবস্থায় আল্লাহর ওপর (মুতাজিলাদের মতে) এমন কাজ করা ওয়াজিব যার ফলে বান্দা আনুগত্যের অধিক নিকটবর্তী এবং পাপাচার থেকে অধিক দূরে থাকতে পারে; তবে এই ঐশ্বরিক কাজ বান্দাকে আনুগত্য করতে বা পাপাচার পরিহার করতে বাধ্য করবে না(৫)। অধিকাংশ মুতাজিলা মনে করেন যে, বান্দার প্রতি এমন অনুগ্রহ (লুতফ) করা আল্লাহর ওপর ওয়াজিব(৬)।

৩ - মানুষ তার কর্মে স্বাধীন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শারহুল উসুলিল খামসাহ: ১৩৩, মাজাহিবুল ইসলামিয়্যিন: ৬১।

(২) দেখুন: শারহুল উসুলিল খামসাহ: ৩০১।

(৩) পূর্বোক্ত গ্রন্থ: ১৩২।

(৪) দেখুন: পূর্বোক্ত গ্রন্থ: ৫১৯।

(৫) দেখুন: আল-হিকমাহ ওয়াত-তা'লিল ফি আফ'ালিল্লাহি তা'আলা: ১২৩।

(৬) দেখুন: আশ-শাহরাস্তানি কৃত আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল ১/ ৬৫, এবং মাওকিফুল মুতাকাল্লিমিনা মিনাল ইস্তিদলালি বি-নুসুসিল কিতাবি ওয়াস-সুন্নাহ ১/ ৩০৩।
(খণ্ড: ১) মাওক্বিফুল মুস্তাশরিক্বিনা মিনাল মুতাযিলাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌موقف المستشرقين من مفهوم العدل عند المعتزلة:

الحرية الإنسانية وخلق الأفعال:

يذهب المستشرقان (جولد زيهر) و (نيبرج) إلى القول بأن المعتزلة قد قاموا بعمل تنقية للدين الإسلامي، موجهة إلى مسألتين هما العدل والتوحيد. وقد كانت المسائل الخاصة بالعدل هي الأولى، وهي تتصل مباشرة بنظريات القدر، وأن الإنسان له حرية غير محدودة في اختيار جميع أفعاله، وأنه وحده خالق هذه الأفعال، وإلا كان الله غير عادل يجعل العبد مسؤولاً عما يفعل وهو مجبر غير حر فيما يفعل(1).

ويعرف المستشرق (لويس غاردية) العدل بأنه: هو أن الله يؤتي أفعاله عن قصد، والأشياء بطبيعتها تتضمن الخير والشر، لكن الله لا يشاء إلا الخير، وهو قد تكفل بإيتاء الأصلح، من ثم فهو لا يشاء الشر ولا يأمر به، أما الإنسان فهو مالك تصرفاته بما أودعه فيه الله من قدرة ومسؤولية عما يفعل، والله تكفل بمثوبته أو عقابه بناء على ذلك(2).

وذهب المستشرق (هنري كوربان) إلى القول بأن العدل عند المعتزلة يتعرض للمسؤولية وحرية الاختيار عند الإنسان، وأن مبدأ العدل الإلهي يوجب القول بحرية الإنسان ومسؤوليته عن أفعاله، أوبعبارة أخرى أن حرية الإنسان ومسؤوليته تنجمان عن مبدأ العدل الإلهي نفسه، وإلا فإن فكرة العقاب والثواب في الآخرة تصبح مجردة من كل معنى، إضافة إلى انعدام الثقة بالعدل الإلهي(3).

ويقول (هنري كوربان) إن المعتزلة على الرغم من تأكيدهم على حرية الإنسان فإنهم ينادون بأن ذلك لا ينجم عما لديهم من فكرة عن العدل الإلهي فحسب بل هو يتفق تمام الاتفاق مع ما جاء في القرآن الكريم نفسه، حيث أكد القرآن الكريم حرفياً بأن كل نفس مسؤولة عما تأتيه من أفعال {مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ أَسَاءَ فَعَلَيْهَا}(4).

?

--------------------------------------------

(1) انظر: العقيدة والشريعة: 104، مقدمة المستشرق (نيبرج) لتحقيق كتاب الانتصار للخياط: 53، 54، 58.

(2) انظر: دائرة المعارف الإسلامية 24/ 7275.

(3) انظر: تاريخ الفلسفة الإسلامية: 188 - 189.

(4) فصلت: 46.
মুতাজিলাদের নিকট ন্যায়ের ধারণার প্রতি প্রাচ্যবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি:

মানুষের স্বাধীনতা এবং কর্ম সৃষ্টি:

প্রাচ্যবিদ (গোল্ডজিহার) এবং (নিবার্গ) মনে করেন যে, মুতাজিলারা ইসলাম ধর্মকে পরিশুদ্ধ করার একটি প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছেন, যা মূলত দুটি বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল: ন্যায়বিচার এবং একেশ্বরবাদ। ন্যায়বিচার সংক্রান্ত বিষয়গুলোই ছিল তাদের প্রধান আলোচ্য বিষয়, যা সরাসরি তাকদীর বা নিয়তি সংক্রান্ত মতবাদের সাথে যুক্ত। তাদের মতে, মানুষের নিজের সকল কাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সীমাহীন স্বাধীনতা রয়েছে এবং মানুষ নিজেই তার এসকল কাজের স্রষ্টা; অন্যথায় আল্লাহ ইনসাফকারী হতেন না, যদি তিনি মানুষকে এমন কাজের জন্য দায়ী করতেন যে বিষয়ে মানুষ মূলত বাধ্য এবং স্বাধীন নয়(১)।

প্রাচ্যবিদ (লুইস গার্ডেট) ন্যায়বিচারের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: আল্লাহ তাঁর কাজসমূহ উদ্দেশ্যমূলকভাবে সম্পাদন করেন। বস্তুর প্রকৃতির মধ্যেই ভালো এবং মন্দ নিহিত থাকে, তবে আল্লাহ কেবল কল্যাণের ইচ্ছা করেন এবং তিনি সৃষ্টির জন্য যা সবচেয়ে কল্যাণকর তা প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ফলে তিনি মন্দের ইচ্ছা করেন না এবং তার আদেশও দেন না। পক্ষান্তরে, মানুষ তার নিজের কর্মের মালিক, কারণ আল্লাহ তাকে সেই ক্ষমতা ও দায়বদ্ধতা দান করেছেন। এর ওপর ভিত্তি করেই আল্লাহ তাকে পুরস্কার বা শাস্তি প্রদানের বিধান রেখেছেন(২)।

প্রাচ্যবিদ (হেনরি করবিন) বলেন যে, মুতাজিলাদের নিকট ন্যায়বিচারের বিষয়টি মানুষের দায়বদ্ধতা এবং নির্বাচনের স্বাধীনতার সাথে সম্পৃক্ত। ঐশ্বরিক ন্যায়বিচারের মূলনীতি মানুষের স্বাধীনতা এবং তার কাজের জন্য দায়বদ্ধতাকে অনিবার্য করে তোলে। অন্য কথায়, মানুষের স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা খোদ ঐশ্বরিক ন্যায়বিচারের নীতি থেকেই উৎসারিত। তা না হলে পরকালে পুরস্কার ও শাস্তির ধারণা অর্থহীন হয়ে পড়ত এবং ঐশ্বরিক ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হত(৩)।

হেনরি করবিন আরও উল্লেখ করেন যে, মুতাজিলারা মানুষের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করলেও তারা দাবি করেন যে, এটি কেবল তাদের ন্যায়বিচার সংক্রান্ত ধারণা থেকেই আসেনি, বরং এটি পবিত্র কুরআনের বাণীর সাথেও সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ। পবিত্র কুরআনে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, প্রতিটি আত্মা তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী: "যে সৎকাজ করে সে নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে, আর যে মন্দ কাজ করে তার প্রতিফল সে-ই ভোগ করবে"(৪)।

?

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-আকিদাহ ওয়াশ-শারিয়াহ: ১০৪; খাইয়াত রচিত 'কিতাবুল ইনতিসার'-এর সম্পাদনায় প্রাচ্যবিদ (নিবার্গ)-এর ভূমিকা: ৫৩, ৫৪, ৫৮।

(২) দেখুন: ইসলামী বিশ্বকোষ (দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ) ২৪/ ৭২৭৫।

(৩) দেখুন: ইসলামী দর্শনের ইতিহাস: ১৮৮ - ১৮৯।

(৪) সূরা ফুসসিলাত: ৪৬।