(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: -)
السنة النبوية وحي - آيت سعيد القسم: علوم الحديث
الكتاب: السنة النبوية وحي من الله محفوظة كالقرآن الكريم
المؤلف: الحسين بن محمد آيت سعيد
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 74
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সুন্নাহ নববী ওহী - আইত সাঈদ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
কিতাব: সুন্নাহ নববী আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী, যা পবিত্র কুরআনের ন্যায় সংরক্ষিত
লেখক: আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ আইত সাঈদ
প্রকাশক: কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স ফর দ্য প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন, মদিনা মুনাওয়ারা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمة:إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، وصفيه وخليله، أرسله رحمة للعالمين، وبشيرا ونذيرا للبرية أجمعين، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه النجَبة، الصدور المحببَّة، والفطَنة النبَغة، معادنِ الصدق واليقين، وموائل الصبر والمثابرة والجهاد ومتانة الدين، الذين فاؤوا للحق فاستظلوا بظلاله، وفاء إليهم الحق فارتفعت بهم رايتُه، ورفرفت فوق هامِهم شارتُه ونَضارتُه، به خرجوا من العدم إلى الوجود، وبهم انصدعت آيه وبراهينه من جديد، فرضي الله عنهم من صفوة جديرة بالتقدير، وعُصبة جلّت عن إحصاء مكامن عزها بالاستقصاء والتنقير.
بيضُ الوجوه كريمة أحسابهم
… شُمُّ الأُنوف من الطراز الأَول
أمابعد: فإن السنة النبوية ـ شرفها الله تعالى ـ تعرضت ولا تزال لموجة عارمة من التشكيك بها تارة، أو إنكارها بالكلية تارة أخرى، أو الطعن في تدوينها، أو حصرها في دائرة ضيقة، يستأنس بها ولا يعتمد عليها، ولا تنشئ أحكاما، ولا يحتج بها في العقائد، ولا في الحدود، إلى غير ذلك من تضليلات وآراء لا حصرلها، يجمعها كلها، النظرُ إلى السنة بمنظار لم يعهده السلف المتقدمون، وغالبُ هذه الشُّبَه منقولة عن المستشرقين، والمستغربين من أبناء جلدتنا الذين يقلدونهم في كل شيء، إذ
ভূমিকা:নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল, তাঁর মনোনীত ও তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু। আল্লাহ তাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ এবং সমগ্র সৃষ্টির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর সেই মহানুভব সাহাবীবর্গের ওপর, যাঁরা ছিলেন বরেণ্য ও প্রিয়ভাজন ব্যক্তিত্ব, প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত ও অসামান্য মেধাবী, সত্য ও সুদৃঢ় বিশ্বাসের আধার এবং ধৈর্য, অধ্যবসায়, জিহাদ ও দ্বীনের মযবুত ভিত্তির আশ্রয়স্থল। তাঁরা হকের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন এবং তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছিলেন; আর হকও তাঁদের প্রতি অনুগামী হয়েছিল, ফলে তাঁদের মাধ্যমে হকের বিজয় নিশান সমুন্নত হয়েছিল এবং তাঁদের মস্তকের ওপর তার আভিজাত্য ও সজীবতার চিহ্ন শোভা পাচ্ছিল। তাঁর মাধ্যমেই তাঁরা শূন্যতা থেকে অস্তিত্বে বের হয়ে এসেছিলেন এবং তাঁদের মাধ্যমেই হকের নিদর্শন ও প্রমাণাদি নতুন করে বিকশিত হয়েছিল। আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, কারণ তাঁরা ছিলেন মূল্যায়নের যোগ্য এক একনিষ্ঠ দল এবং এমন এক জামাত যাদের সম্মানের উৎসসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান ও বিচার-বিশ্লেষণ করে শেষ করা অসম্ভব।
উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী তাঁরা, তাঁদের বংশমর্যাদা অত্যন্ত সম্মানিত
… তাঁরা উন্নত নাসিকার অধিকারী প্রথম সারির অভিজাত দল।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সুন্নাহে নববী — আল্লাহ তাআলা একে সম্মানিত করেছেন — অতীতেও যেমন এক প্রবল সংশয়বাদী ঢেউয়ের সম্মুখীন হয়েছে, বর্তমানেও তা অব্যাহত রয়েছে। কখনো এতে সন্দেহ পোষণ করা হয়, আবার কখনো একে সামগ্রিকভাবে অস্বীকার করা হয়; কখনো এর সংকলন প্রক্রিয়ার ওপর আপত্তি তোলা হয়, আবার কখনো একে এমন এক সংকীর্ণ গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করা হয় যেখানে একে কেবল গ্রহণীয় মনে করা হয় কিন্তু তার ওপর নির্ভর করা হয় না। দাবি করা হয় যে, এটি কোনো বিধান (أحكام) সাব্যস্ত করে না এবং আক্বিদা (العقائد) কিংবা হুদুদ (الحدود) এর ক্ষেত্রে একে দলিল হিসেবে পেশ (يحتج بها) করা যায় না। এছাড়াও অগণিত বিভ্রান্তি ও মতামত রয়েছে, যার সবকিছুর মূলে রয়েছে সুন্নাহকে এমন এক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা যা পূর্ববর্তী সালাফগণের নিকট পরিচিত ছিল না। এসব সংশয়ের অধিকাংশই প্রাচ্যবিদ এবং আমাদের স্বজাতির পশ্চিমা ভাবধারায় প্রভাবিত ব্যক্তিদের থেকে সংগৃহীত, যারা প্রতিটি বিষয়ে তাদের অন্ধ অনুকরণ করে থাকে; কারণ...
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২)
تتلمذوا لهم، وكانوا واسطة في نقل مفترياتهم إلى العالم الإسلامي، ولئن كانت هذه الشبه ليست بجديدة من المستشرقين -لأن المعتزلة والشيعة قد سبقوهم إلى كثير منها- إنَّ ما يجمع بين حديثها وتليدها، هو توهين السنة في النفوس، وإزاحةُ تعظيمها، وقدسيتها، وعدّها أمرا عاديا لايستوجب الاعتناء.
وقد قام جهابذة النقاد، بزَيْفِ دعاوى المعتزلة ومن لف لفهم، ونفي شبههم، بأدلة دامغة للباطل، معزِّزة للحق، فعظُمت بذلك السنة في النفوس، وكثر طالبوها، والمولوعون بها، وانتشرت علومها، وعم منهجها، حتى نبغت نابغة من المعتزلة الجدد، الذين استقوا آراءهم الدحضة عن السنة ورواتها، من أفكار المتقدمين، من شتى الفرق المنحرفة عن منهج أهل السنة، وأفكار المتأخرين المتسترة وراء التجديد في مناهج دراسة السنة النبوية وتمحيصها، التي هي إعدام لها في الحقيقة، وتعطيل لها عن العمل، ومحاولة إبعادها نهائيا عن واقع الأمة بأساليب ملتوية، مشتملة على نفاق لا يخفى لحْنُه على ذوي الألباب.
هذا، وإن مدار هذا البحث على مصطلحين مشهورين، وهما السنة والوحي، ولابد من تعريفهما وضبط مفهومهما قبل الشروع في أحكامهما.
তারা তাদের নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিল এবং ইসলামি বিশ্বে তাদের মনগড়া অপবাদসমূহ ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছিল। প্রাচ্যবিদদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই সন্দেহগুলো যদিও নতুন নয়—যেহেতু মুতাজিলা ও শিয়াগণ তাদের পূর্বেই এগুলোর অধিকাংশের অবতারণা করেছিল—তবে তাদের প্রাচীন ও আধুনিক চিন্তাধারার মূল ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস হলো মানুষের অন্তর থেকে সুন্নাহ (سنة)-র গুরুত্ব হ্রাস করা, এর প্রতি ভক্তি ও পবিত্রতাবোধ দূর করা এবং একে একটি অতি সাধারণ বিষয়ে পরিণত করা যা কোনো বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য নয়।
সুনিপুণ সমালোচক (نقاد) শ্রেষ্ঠগণ মুতাজিলা ও তাদের অনুসারীদের দাবিসমূহের অসারতা প্রমাণ করেছেন এবং বাতিলের বিনাশকারী ও সত্যের সপক্ষীয় শক্তিশালী প্রমাণের মাধ্যমে তাদের সংশয়গুলো নিরসন করেছেন। এর ফলে মানুষের অন্তরে সুন্নাহ (سنة)-র মর্যাদা সমুন্নত হয়েছে, এর অন্বেষণকারী ও অনুরাগী বৃদ্ধি পেয়েছে, এর শাস্ত্রীয় জ্ঞানসমূহ বিস্তৃত হয়েছে এবং এর মূলনীতি বা পদ্ধতি (منهج) ব্যাপকতা লাভ করেছে। পরিশেষে নব্য মুতাজিলাদের একটি দলের উদ্ভব ঘটে, যারা সুন্নাহ (سنة) ও এর বর্ণনাকারী (رواة)-দের সম্পর্কে তাদের অসার মতবাদগুলো পূর্ববর্তী (متقدمون) ও আহলে সুন্নাহর পথ হতে বিচ্যুত বিভিন্ন দলের চিন্তাধারা এবং সংস্কারের আবরণে ঢাকা পরবর্তী (متأخرون) যুগের আধুনিকতাবাদীদের ধ্যান-ধারণা থেকে আহরণ করেছে। এই আধুনিকতাবাদীরা সুন্নাহর অধ্যয়ন ও যাচাই-বাছাই (تمحيص)-এর ক্ষেত্রে 'সংস্কারের' আড়ালে মূলত সুন্নাহকে নিশ্চিহ্ন করতে এবং এর কার্যকারিতা স্থগিত করতে চায়। তারা কুটিল পন্থায় উম্মাহর বাস্তব জীবন থেকে সুন্নাহকে চূড়ান্তভাবে দূরে সরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত, যা এমন এক নিফাক বা কপটতাপূর্ণ বিষোদ্গার যার সুর বিবেকবানদের কাছে গোপন থাকে না।
এই গবেষণার মূল বিষয়বস্তু দুটি প্রসিদ্ধ পরিভাষা অর্থাৎ সুন্নাহ (سنة) ও ওহি (وحي)-কে কেন্দ্র করে আবর্তিত। তাই এগুলোর বিধিবিধান আলোচনার পূর্বে এদের সংজ্ঞা ও ধারণাগত পরিসীমা সুনির্দিষ্ট করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
تعريف السنة:
أ - السنة لغة: تعني الطريقة، والسيرة المعتادة للإنسان، سواء كانت حسنة أو قبيحة، قال لبيد:
من معشر سنت لهم آباؤهم
… ولكل قوم سنة وإمامها
وسنَنُ الطريق، نهجه، قال شمر:"وهو طريق سنه أوائل الناس فصار مسلكا لمن بعدهم" (1) وقال عليه الصلاة والسلام – في النوعين معا – من حديث جرير بن عبد الله رضي الله عنه: "من سن في الإسلام سنة حسنة، فله أجرها وأجر من عمل بها بعده، من غير أن ينقص من أجورهم شيء، ومن سن في الإسلام سنة سيئة، كان عليه وزرها ووزر من عمل بها بعده، من غير أن ينقص من أوزارهم شيء " (2) .
وقال ابن فارس: " السين والنون، أصل واحد مطرد، وهو جريان الشيء واطراده في سهولة" (3) . وسَنَّ الشيء ابتدأه، وسار عليه من بعده، فأصبح له سنة وعادة.
فتلخص من هذا أن السنة تعني الطريقة التي يداوم عليها الإنسان، حتى أصبحت عادة له، وسيرة يعرف بها.
ب - واصطلاحا: عرَّفها المحدثون بقولهم:" ما أُثر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول، وفعل، وتقرير، وصفة خِلقية وخُلقية، وهَمٍّ وإشارة، يقظة ومناما، قبل النبوة وبعدها" (4) .
--------------------------------------------
সুন্নাহর সংজ্ঞা:
ক - আভিধানিক অর্থে সুন্নাহ: এটি পদ্ধতি এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনাচারকে বোঝায়, চাই তা ভালো হোক বা মন্দ। লাবীদ বলেছেন:
এমন এক গোষ্ঠী যাদের জন্য তাদের পিতৃপুরুষগণ পথ তৈরি করে গেছেন
… এবং প্রত্যেক জাতির একটি সুন্নাহ (পদ্ধতি) ও তার ইমাম থাকে
আর রাস্তার সুন্নাহ হলো এর স্পষ্ট পথ। শাম্মার বলেছেন: "এটি এমন এক পথ যা পূর্ববর্তী মানুষেরা তৈরি করেছেন এবং পরবর্তীদের জন্য চলাচলের পথে পরিণত হয়েছে" (১)। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) —উভয় প্রকারের ক্ষেত্রে— জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)-এর হাদিস হতে বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম পদ্ধতি (سنة حسنة) প্রবর্তন করল, তার জন্য রয়েছে এর প্রতিদান এবং যারা তার পরে এটি অনুসরণ করবে তাদের প্রতিদানও সে পাবে, তবে তাদের প্রতিদান থেকে কিছুই কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ পদ্ধতি (سنة سيئة) প্রবর্তন করল, তার ওপর এর পাপ বর্তাবে এবং যারা তার পরে এটি অনুসরণ করবে তাদের পাপের বোঝাও তাকে বহন করতে হবে, তবে তাদের পাপের বোঝা থেকে কিছুই কমানো হবে না" (২)।
ইবনে ফারিস বলেছেন: "সীন (س) এবং নূন (ن) একটি সুসংহত মূলধাতু; যার অর্থ কোনো বিষয়ের সাবলীল ও নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ" (৩)। আর কোনো বিষয় শুরু করা এবং পরবর্তীতে সেই অনুযায়ী পথ চলাকে ‘সুন্নাহ’ বলা হয়, যা পরবর্তীতে তার জন্য নিয়ম ও অভ্যাসে পরিণত হয়।
সারকথা হলো, সুন্নাহ বলতে এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায় যা মানুষ নিরবচ্ছিন্নভাবে পালন করে, এমনকি তা তার অভ্যাসে পরিণত হয় এবং সেই জীবনাচার দ্বারা সে পরিচিতি লাভ করে।
খ - পারিভাষিক অর্থে: হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত (أُثر) কথা, কাজ, মৌনসম্মতি (تقرير), শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, ইচ্ছা (هَمّ) ও ইঙ্গিত, জাগ্রত বা ঘুমন্ত অবস্থায় এবং নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বের বা পরের সব কিছুই এর অন্তর্ভুক্ত" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
ج - أقسام السنة: تنقسم السنة إلى الأقسام الثلاثة المذكورة في التعريف:
أ – السنة القولية: وهي إخبار النبي صلى الله عليه وسلم بأمر من الأمور في مختلف الأغراض الدينية والدنيوية.
ب - السنة الفعلية: وهي أن يفعل النبي صلى الله عليه وسلم أمرا من الأمور، فينقل إلينا أصحابه كيفية ذلك الفعل، كوضوئه، وصلاته بهم، وحجه، وما إلى ذلك
ج - السنة التقريرية: وهي أن يقر النبي صلى الله عليه وسلم قولا أوفعلا وقع أمامه، أو بلغه ولم ينكره، بل سكت عنه، أو أظهر استحسانه، فكل ذلك يدل على أن ذلك الفعل سنة، ممدوح فاعله، لأنه لو كان منكرا لأنكره، إذ لا يقر أحدا على باطل.
والسنة في هذه الأقسام، وحي من الله تعالى لنبيه بكيفية من كيفيات الوحي الآتية.
ب - تعريف الوحي:
أ - الوحي لغة، مأخوذ من وحى وأوحى إليه، إذا كلمه بما يخفيه عن غيره، ويطلق على الإشارة السريعة، سواء كانت بإشارة، أو رمز، أو تعريض، ومدارُ هذه المادة على الخفاء والسرعة.
واصطلاحا: "هو الإخبار السريع الخفي الموجه لخاص من الناس ".
ب - أقسام الوحي: ينقسم الوحي إلى ستة أقسام:
أولها وأعلاها، وحي الله عز وجل لمن اختاره من خلقه من أنبيائه مباشرة بلا واسطة كما كلم موسى وفرض عليه ما شاء، وكلم محمدا صلى الله عليه وسلم ليلة الإسراء بما شاء من أحكام.
গ - সুন্নাহর প্রকারভেদ: সুন্নাহ সংজ্ঞায় উল্লিখিত তিনটি ভাগে বিভক্ত:
ক – মৌখিক সুন্নাহ (السنة القولية): এটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক দ্বীনি ও দুনিয়াবি বিভিন্ন উদ্দেশ্যে কোনো বিষয়ে সংবাদ প্রদান করা।
খ - ব্যবহারিক সুন্নাহ (السنة الفعلية): এটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক কোনো কাজ সম্পাদন করা, যার পদ্ধতি তাঁর সাহাবীগণ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; যেমন তাঁর ওজু, তাঁদের নিয়ে তাঁর সালাত আদায়, হজ সম্পাদন এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
গ - মৌনসম্মতিমূলক সুন্নাহ (السنة التقريرية): এটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে সংঘটিত কোনো কথা বা কাজকে তাঁর সমর্থন প্রদান করা, অথবা তাঁর নিকট তা পৌঁছানোর পর তিনি তা অস্বীকার করেননি, বরং নীরব থেকেছেন অথবা তাঁর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এ সব কিছুই নির্দেশ করে যে, উক্ত কাজটি সুন্নাহ এবং এর সম্পাদনকারী প্রশংসিত। কারণ যদি তা বর্জনীয় (منكر) হতো, তবে তিনি অবশ্যই তা অস্বীকার করতেন; কেননা তিনি কাউকে বাতিলের ওপর মৌন সমর্থন দেন না।
এই সকল প্রকারের সুন্নাহই হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবীর প্রতি প্রত্যাদেশ (وحي), যা পরবর্তীতে বর্ণিত ওহির কোনো এক পদ্ধতিতে অবতীর্ণ।
খ - ওহির (وحي) সংজ্ঞা:
ক - আভিধানিক অর্থে ওহি (وحي): এটি 'ওয়াহা' এবং 'আওহা ইলাইহি' থেকে উদ্ভূত, যখন কেউ অন্যের অগোচরে কারও সাথে কথা বলে। এটি দ্রুত ইশারা অর্থেও ব্যবহৃত হয়, তা সংকেত, প্রতীক বা ইশারার মাধ্যমেই হোক না কেন; আর এই শব্দমূলের মূল ভিত্তি হলো গোপনীয়তা ও দ্রুততা।
পারিভাষিক অর্থে: "এটি হলো মানুষের মধ্য থেকে বিশেষ কোনো ব্যক্তির উদ্দেশ্যে প্রেরিত দ্রুত ও গোপন সংবাদ।"
খ - ওহির (وحي) প্রকারভেদ: ওহি (وحي) ছয়টি ভাগে বিভক্ত:
এর প্রথম ও সর্বোচ্চ স্তর হলো—আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে যাঁদের নবী হিসেবে মনোনীত করেছেন, তাঁদের সাথে কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি ওহি (وحي) প্রদান করা; যেমন তিনি মূসা (আ.)-এর সাথে কথা বলেছেন এবং তাঁর ওপর যা ইচ্ছা বিধান অর্পণ করেছেন, এবং মিরাজের রাতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বলেছেন এবং বিধিবিধানের মধ্য থেকে যা ইচ্ছা দান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وثانيها: الوحي بواسطة الملك، وهذا هو الغالب.
وثالثها: الإلهام الفطري للإنسان، كإلهام الله أم موسى أن تلقيه في اليم إذا خافت عليه، قال تعالى: {وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلا تَخَافِي وَلا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ} [القصص: 7] .
هذا على مذهب من جعله وحي إلهام، وأما من جعله وحيا حقيقيا -كابن حز م- فيرجع إلى القسم الثاني
ورابعها: الإلهام الغريزي للحيوان، مثل قوله تعالى: {وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتاً وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ} [النحل: 68] أي ألهمها ذلك، وجعله غريزة لها.
وخامسها: الإشارة الرمزية المعبِّرة، كقوله تعالى في قصة زكرياء:
{فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ أَنْ سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيّا} [مريم: 11] .
وسادسها: تزيين الشيطان ووسوسته، كقوله تعالى: {وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ} [الأنعام:121] ، أي: يوسوسون لهم بذلك، ويزينونه لهم.
ج – كيفيات الوحي للأنبياء والرسل عليهم السلام.
إيصال الوحي للموحى إليه، يدور على كيفيات خمس.
إحداها: أن يأتي الملك النبي صلى الله عليه وسلم في مثل صلصلة الجرس، وهو أشد حالات الوحي وأشقها.
وثانيتها: أن يأتيه الملك في صورة رجل، فيكلمه بالوحي، فيعي عنه ما يقول وهاتان الكيفيتان مذكورتان في حديث عائشة في الصحيح.
দ্বিতীয়ত: ফেরেশতার মাধ্যমে ওহী, এবং এটিই ওহীর সর্বাধিক প্রচলিত পদ্ধতি।
তৃতীয়ত: মানুষের প্রতি সহজাত অন্তপ্রেরণা (ইলহাম), যেমন আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.)-এর মাতাকে অন্তপ্রেরণা দিয়েছিলেন যে, তিনি যখন সন্তানের ব্যাপারে আশঙ্কা করবেন তখন যেন তাকে নদীতে নিক্ষেপ করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি মুসার জননীকে প্রত্যাদেশ করলাম যে, তাকে দুধ পান করাও। অতঃপর যখন তুমি তার ব্যাপারে আশঙ্কা করবে, তখন তাকে নদীতে নিক্ষেপ করো এবং ভয় পেয়ো না ও চিন্তিত হয়ো না। নিশ্চয় আমি তাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে দেব এবং তাকে রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত করব।} [কাসাস: ৭]।
এটি তাদের মাযহাব অনুযায়ী যারা একে অন্তপ্রেরণামূলক ওহী গণ্য করেন। তবে যারা একে প্রকৃত ওহী মনে করেন—যেমন ইবনে হাজম—তাদের মতে এটি দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।
চতুর্থত: প্রাণীর প্রতি সহজাত প্রবৃত্তিগত অন্তপ্রেরণা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনার রব মৌমাছিকে প্রত্যাদেশ করেছেন যে, পাহাড়ে, গাছে এবং তারা যে মাচা তৈরি করে তাতে ঘর বানাও।} [নাহল: ৬৮]। অর্থাৎ তিনি তাকে তা অন্তপ্রেরণা দিয়েছেন এবং এটিকে তার সহজাত প্রবৃত্তি বানিয়ে দিয়েছেন।
পঞ্চমত: অর্থবহ প্রতীকী ইঙ্গিত, যেমন যাকারিয়া (আ.)-এর ঘটনায় মহান আল্লাহর বাণী:
{অতঃপর তিনি তাদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন যে, তোমরা সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো।} [মারইয়াম: ১১]।
ষষ্ঠত: শয়তানের প্ররোচনা ও কুমন্ত্রণা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর নিশ্চয় শয়তানরা তাদের বন্ধুদের প্রতি কুমন্ত্রণা দেয় যেন তারা তোমাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়। আর যদি তোমরা তাদের আনুগত্য করো, তবে নিশ্চয়ই তোমরা মুশরিক হয়ে যাবে।} [আনআম: ১২১]। অর্থাৎ তারা তাদের কুমন্ত্রণা দেয় এবং একে তাদের সামনে শোভনীয় করে তোলে।
গ – নবী ও রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) প্রতি ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতিসমূহ।
যাঁর প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয় তাঁর কাছে ওহী পৌঁছানোর প্রক্রিয়া পাঁচটি পদ্ধতির ওপর আবর্তিত হয়।
প্রথমত: ফেরেশতা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ঘণ্টার ধ্বনির ন্যায় শব্দসহ আসা, আর এটি ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টসাধ্য অবস্থা।
দ্বিতীয়ত: ফেরেশতা মানুষের আকৃতিতে তাঁর কাছে আসা, অতঃপর তাঁর সাথে কথা বলা, আর তিনি ফেরেশতার বলা ওহী আয়ত্ত করে নিতেন। এই দুটি পদ্ধতি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে সহিহ গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وثالثتها: أن يأتيه الملك في النوم، فيوحي إليه ما شاء الله، كما في قصة إبراهيم مع ابنه إسماعيل الذبيح، وكقوله صلى الله عليه وسلم من حديث معاذ: " أتاني ربي، فقال: يا محمد هل تدري فيم يختصم الملأ الأعلى
… الحديث (1) .
ورابعتها: أن ينفث الملك في رُوعه ما يريد من الوحي، فيتيقنه، وهذا النوع قد ورد في حديث ابن مسعود:" أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن روح القدس، قد نفث في رُوعي أنه لن تموت نفس حتى تستكمل رزقها وأجلها، فاتقوا الله وأجملوا في الطلب " (2) والنفث، هو النفخ، وإلقاء الشيء فيستقر
وخامستها: التكليم المباشر من الله تعالى لنبي من أنبيائه، وقد تقدم (3) .
والسنة النبوية يقع إيحاؤها بهذه الكيفيات كلها، فتارة يوحى إليه بها مباشرة، وتارة بواسطة ملك، وتارة في النوم، وتارة بالنفث في الروع.
هذا، وسأرتب هذا البحث بعد هذه المقدمة على تمهيد، وثلاثة مباحث وخاتمة:
المبحث الأول: عصمة الأنبياء عليهم السلام.
المبحث الثاني: اجتهاد الأنبياء عليهم السلام.
المبحث الثالث: بسط أدلة القول بأن السنة وحي كالقرآن.
خاتمة في نتائج البحث المستخلصة منه.
--------------------------------------------
এবং তৃতীয়টি হলো: ফেরেশতা তাঁর কাছে স্বপ্নে আসা, অতঃপর আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা তাঁর নিকট ওহী (প্রত্যাদেশ) করা, যেমনটি ইবরাহিম ও তাঁর পুত্র জবিহুল্লাহ ইসমাইলের কাহিনীতে রয়েছে এবং মুয়াজ বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "আমার রব আমার কাছে আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনি কি জানেন উচ্চতর পরিষদের (ফেরেশতাদের) মধ্যে কী বিষয়ে বিতর্ক হচ্ছে..."
… হাদিস (১) ।
এবং চতুর্থটি হলো: ফেরেশতা তাঁর হৃদয়ে ওহীর যা ইচ্ছা ফুঁকে দেওয়া, অতঃপর তিনি তা দৃঢ়ভাবে উপলব্ধি করা। এই প্রকারটি ইবনে মাসউদের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: নবী (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই রুহুল কুদুস (জিবরাঈল) আমার হৃদয়ে এ কথা ফুঁকে দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণই তার নির্ধারিত রিজিক ও আয়ু পূর্ণ না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং উপার্জনের সন্ধানে উত্তম পন্থা অবলম্বন করো" (২)। আর 'নাফস' (النفث) হলো ফুঁ দেওয়া এবং কোনো বিষয় নিক্ষেপ করা যাতে তা সেখানে স্থির হয়ে যায়।
এবং পঞ্চমটি হলো: আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁর নবীদের মধ্যে কোনো নবীর সাথে সরাসরি কথা বলা, যা ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে (৩) ।
সুন্নাহর ওহী এই সব পদ্ধতিতেই অবতীর্ণ হয়ে থাকে। কখনো সরাসরি তাঁর নিকট ওহী পাঠানো হয়েছে, কখনো ফেরেশতার মাধ্যমে, কখনো ঘুমের মধ্যে আবার কখনো হৃদয়ে ফুঁ দেওয়ার মাধ্যমে।
উপরন্তু, আমি এই ভূমিকার পর একটি উপক্রমণিকা, তিনটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারের ভিত্তিতে এই গবেষণাটি বিন্যস্ত করব:
প্রথম পরিচ্ছেদ: নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) নিষ্পাপতা বা ইসমাত (عصمة)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) ইজতিহাদ (اجتهاد)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ যে কুরআনের মতোই ওহী, সেই উক্তির প্রমাণাদির বিস্তারিত বর্ণনা।
উপসংহার: গবেষণার সারসংক্ষেপ ও ফলাফল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
تمهيد:إن البيان بلحنه وخطابه، وإشارته ودلالته، وحفزه - وبلاغته، وتأثيره في النفوس، وإذكاءِ روح اليقظة فيها وتحميسها على الإقدام أو الإحجام عن شيء مّا، دون أن يمارس عليها ذلك بقوة السلطان، ولا ببريق السيوف ولا يفتقر في وجوده إلى الاستدلال، لأنه أمر وجداني يحس به المرء من نفسه، ولا يطيق درأه، والوجدانياتُ اضطراريات، فمن يبحث عن دليل وجودها فهو معاكس للفطرة، منكر لأمر يجده من نفسه، ويشعر به من داخلته.
وليس يصح في الأذهان شيء
… إذا احتاج النهار إلى دليل
والبيانُ له صولة على النفوس، ويدخل إليها من منحنياتها العديدة بغير استئذان، ويفعل بها ما يفعله السحر بالمسحور، ولذا مدَحه النبي صلى الله عليه وسلم وذمَّه، لاعتبارين مختلفين، وقصدين متغايرين: مدحه بقوله في حديث ابن عمر: " إن من البيان لسحرا" (1) وذمه بقوله من حديث أم سلمة: " إنكم تختصمون إلي، ولعل بعضكم أبلغُ بحجته من بعض، فمن قضيت له بحق أخيه، فإنما أقطع له قطعة من النار فلا يأخذها" (2) .
وعقل الفقهاء عن رسول الهدى أنه مدح البيان، إذا كان لقصد صحيح، وذمَّه إذا كان لغرض فاسد، وذاك يدل على أنه ليس بمذموم ولا ممدوح
--------------------------------------------
ভূমিকা:বাকশৈলী তার সুর ও সম্বোধন, ইঙ্গিত ও তাৎপর্য, উদ্দীপনা ও অলঙ্কারশাস্ত্র এবং হৃদয়ে তার প্রভাবের মাধ্যমে আত্মার মধ্যে জাগরণ তৈরি করে এবং কোনো বিষয়ে অগ্রসর হতে বা বিরত থাকতে উৎসাহিত করে; অথচ এর জন্য কোনো রাষ্ট্রীয় শক্তির প্রয়োগ কিংবা তরবারির ঝিলিকের প্রয়োজন হয় না। এমনকি এর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য কোনো যুক্তিরও আবশ্যকতা নেই। কারণ এটি একটি স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতি (وجداني) যা মানুষ নিজের মাঝে অনুভব করে এবং তা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয় না। আর এই অনুভূতিগুলো অনিবার্য (اضطراريات)। সুতরাং যে ব্যক্তি এর অস্তিত্বের প্রমাণ অনুসন্ধান করে, সে মূলত স্বভাবজাত প্রবৃত্তির বিপরীত কাজ করে এবং নিজের ভেতর অনুভূত ও উপলব্ধি করা সত্যকেই অস্বীকার করে।
আর কোনো কিছুই মস্তিষ্কে সঠিক বলে গণ্য হবে না
… যদি দিনের অস্তিত্বের জন্যও প্রমাণের প্রয়োজন হয়।
বাকশৈলীর আত্মার ওপর এক প্রবল প্রভাব রয়েছে এবং এটি বিনা অনুমতিতেই বিভিন্ন পথে অন্তরে প্রবেশ করে। জাদুকর তার জাদুর মাধ্যমে যা করে, বাকশৈলীও মানুষের ওপর তেমন প্রভাব ফেলে। এ কারণে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবং ভিন্ন উদ্দেশ্যে এর প্রশংসাও করেছেন আবার নিন্দাও করেছেন। ইবনে উমরের বর্ণিত হাদিসে তিনি এর প্রশংসা করে বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো কোনো বাকশৈলী জাদুতুল্য।" (১) আর উম্মে সালামার বর্ণিত হাদিসে তিনি এর নিন্দা করে বলেছেন: "তোমরা আমার কাছে বিবাদ নিয়ে আসো, সম্ভবত তোমাদের কেউ অপরজনের তুলনায় অধিক বাগ্মী হতে পারো। ফলে আমি যদি তার (বাগ্মিতার) কারণে তার ভাইয়ের হকের সপক্ষে ফয়সালা দিয়ে দিই, তবে আমি যেন তাকে আগুনের একটি টুকরো কেটে দিলাম; সুতরাং সে যেন তা গ্রহণ না করে।" (২)।
ফকিহগণ হেদায়াতের রাসুলের বাণী থেকে এটুকু বুঝেছেন যে, তিনি বাকশৈলীর প্রশংসা করেছেন যখন তা সঠিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, আর নিন্দা করেছেন যখন তা অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। আর এটিই প্রমাণ করে যে, বাকশৈলী স্বকীয়ভাবে নিন্দনীয়ও নয় আবার প্রশংসনীয়ও নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
لذاته، وإنمَّا لمِاَ يلحقه من الأغراض، ونقل الحافظ في الفتح عن الخطابي أنه قال: " البيان اثنان: أحدهما ما تقع به الإبانة عن المراد بأي وجه كان، والآخر ما دخلته الصنعة بحيث يروق للسامعين، ويستميل قلوبهم، وهو الذي يشبه بالسحر إذا خلَب القلب، وغلب على النفس، حتى يحوِّل الشيءَ عن حقيقته، ويصرفَه عن جهته، فيلوحَ للناظر في معرض غيره، وهذا إذا صَرف إلى الحق يمدح، وإذا صَرف إلى الباطل يذم، قال: فعلى هذا، فالذي يشبه بالسحر منه هو المذموم " ا?.
قال الحافظ:" وقد حمل بعضهم الحديث على المدح، والحث على تحسين الكلام، وتحبير الألفاظ
… وحمله بعضهم على الذم لمن تصنع في الكلام، وتكلفه لتحسينه، وصرَف الشيء عن ظاهره، فشُبِّه بالسحر الذي هو تخييل لغير حقيقة" (1) . وقال صعصعة بن صوحان عن هذا الحديث:" صدق رسول الله صلى الله عليه وسلم الرجل يكون عليه الحق، وهو ألحنُ بالحجة من صاحب الحق، فيسحرُ الناس ببيانه، فيذهبُ بالحق " (2) .
قال الحافظ: "وحمل الحديث على هذا صحيح، لكن لا يمنع حملَه على المعنى الآخر إذا كان في تزيين الحق، وبهذا جزم ابن العربي وغيره من فضلاء المالكية، وقال ابن بطال: أحسن ما يقال في هذا، أن هذا الحديث ليس ذما للبيان كله ولا مدحا، لقوله: " من البيان " فأَتى بلفظة " مِنْ " التي للتبعيض،
--------------------------------------------
নিজ সত্তার কারণে নয়, বরং এর সাথে সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহের কারণে। হাফেজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহ গ্রন্থে খাত্তাবি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "বাগ্মিতা (البيان) দুই প্রকার: একটি হলো যা দিয়ে যেকোনোভাবেই হোক উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট (الإبانة) করা হয়; অন্যটি হলো যাতে শিল্পকুশলতা প্রবেশ করে, ফলে তা শ্রোতাদের কাছে আকর্ষণীয় হয় এবং তাদের হৃদয় জয় করে নেয়। এটিই জাদুর সাথে সদৃশ, যখন তা হৃদয়কে মোহগ্রস্ত করে এবং নফসের ওপর প্রবল হয়ে পড়ে, এমনকি কোনো বস্তুকে তার প্রকৃত অবস্থা থেকে পরিবর্তন করে ফেলে এবং তার গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়, ফলে তা দর্শকের কাছে ভিন্নরূপে প্রতীয়মান হয়। এটি যদি সত্যের দিকে ধাবিত করে তবে তা প্রশংসনীয়, আর যদি মিথ্যার দিকে ধাবিত করে তবে তা নিন্দনীয়।" তিনি আরও বলেন: "এই মতানুসারে, এর মধ্যে যা জাদুর সদৃশ, সেটিই নিন্দনীয়।"
হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: "কেউ কেউ হাদিসটিকে প্রশংসার অর্থে গ্রহণ করেছেন এবং কথাকে সুন্দর ও অলঙ্কৃত করার প্রতি উৎসাহ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন
… আবার কেউ কেউ একে সেই ব্যক্তির নিন্দার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন, যে কথা বলায় কৃত্রিমতা অবলম্বন করে এবং তা সুন্দর করার জন্য অতি-কষ্টসাধ্য প্রয়াস চালায় এবং বিষয়বস্তুকে তার প্রকাশ্য রূপ থেকে সরিয়ে দেয়। ফলে একে জাদুর সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা প্রকৃত সত্যের বাইরে এক অলীক কল্পনা সৃষ্টি করে।" (১)। সাসাআহ ইবনে সাউহান এই হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য বলেছেন; অনেক সময় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্যের পাওনা থাকে, কিন্তু সে প্রকৃত হকদারের চেয়ে দলিল উপস্থাপনে অধিক পারদর্শী (ألحن) হয়ে থাকে। ফলে সে তার বাগ্মিতা দ্বারা মানুষকে মুগ্ধ করে এবং সত্যকে হরণ করে নেয়।" (২)।
হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: "হাদিসটিকে এই অর্থে গ্রহণ করা সঠিক (صحيح), তবে একে অন্য অর্থে গ্রহণ করতে কোনো বাধা নেই যখন তা সত্যকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে হয়। ইবনুল আরাবি এবং মালেকি মাজহাবের অন্যান্য বিজ্ঞ আলেমগণ এই বিষয়ে দৃঢ় মত প্রকাশ করেছেন। ইবনে বাত্তাল বলেন: এই বিষয়ে সবচেয়ে উত্তম কথা হলো, এই হাদিসটি সম্পূর্ণ বাগ্মিতার নিন্দা বা প্রশংসা নয়; কারণ তিনি বলেছেন: 'নিশ্চয়ই কোনো কোনো বাগ্মিতা...' (من البيان), এখানে তিনি 'মিন' (مِنْ) শব্দটি ব্যবহার করেছেন যা আংশিকতা (التبعيض) বোঝাতে আসে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وكيف يُذَم البيان وقد امتن الله به على عباده حيث قال: {خَلَقَ الْأِنْسَانَ، عَلَّمَهُ الْبَيَانَ} [الرحمن3-4] (1) .
قلت: وهو كلام صحيح، فالبيان فيه المذموم والممدوح كما تقدم، ولفظ الحديث في الموطأ دال على هذا التقسيم.
وإذا كان البيان بهذه المنزلة، فلا ريب أنه بمنزلة عظيمة، فبه يبلَّغ الوحي الإلهي إلى الناس، وبطلاوته ينساب إلى أفئدتهم، وعلى قوة أثره يعوَّل في تفنيد الشبهات، وقمع الشهوات، وفَتِّ المأْفُوكات وإزاحةِ اللبس عن الآي البينات.
ومن الاهتبال بالبيان وإحلاله منزلة عالية، أسمى الله تعالى كتابه بيانا في قوله: {هَذَا بَيَانٌ لِلنَّاسِ وَهُدىً وَمَوْعِظَةٌ لِلْمُتَّقِينَ} [آل عمران:138] وأسمى نبيه مبينا في قوله:
{وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ وَهُدىً وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} [النحل: 64] وقد أُوتي صلى الله عليه وسلم من البيان والفصاحة ذروتهما، وله فيهما أفنانٌ ومذاهبُ، لا ترتقي مصاقِعُ البلغاء إلى عليائها، ولا تطمح أن تتبوأ أعاليها، وحسبها أن تُطرِق لبيانه، وأن تتسمع لبلاغته، وأن تتلمس توجيهها، وإثارةَ غرائبها، وإدراك معانيها.
إنه في بيانه لَإمام
… حارَ في درْك غوره البلغاء
--------------------------------------------
বর্ণনার মাধুর্যকে কীভাবে নিন্দা করা যেতে পারে অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর এর মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন? যেখানে তিনি বলেছেন: "তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাকে বর্ণনা করতে শিখিয়েছেন।" [আর-রহমান ৩-৪] (১)।
আমি বলব: এটি একটি সঠিক (صحيح) কথা; কেননা বর্ণনার মাধুর্যের মধ্যে নিন্দনীয় ও প্রশংসনীয় উভয় দিকই রয়েছে যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে। আর মুয়াত্তা গ্রন্থে বর্ণিত হাদিসের শব্দাবলি এই বিভাজনের প্রতিই নির্দেশ করে।
বর্ণনার মাধুর্য যখন এই মর্যাদার অধিকারী, তখন নিঃসন্দেহে এটি এক মহান অবস্থানে সমাসীন। এর মাধ্যমেই মানুষের কাছে ঐশী ওহি পৌঁছানো হয়, এর মাধুর্যে তা মানুষের হৃদয়ে সঞ্চারিত হয় এবং এর প্রভাবের শক্তির ওপরই নির্ভর করা হয় সংশয় নিরসনে, কুপ্রবৃত্তি দমনে, মিথ্যা ও বানোয়াট বিষয়াদি খণ্ডনে এবং সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ থেকে অস্পষ্টতা দূরীকরণে।
বর্ণনার মাধুর্যের প্রতি গুরুত্ব প্রদান এবং একে উচ্চ আসনে আসীন করার অংশ হিসেবেই আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবকে 'বায়ান' (সুস্পষ্ট বর্ণনা) হিসেবে অভিহিত করেছেন তাঁর এই বাণীতে: "এটি মানুষের জন্য এক সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত ও উপদেশ।" [আল-ইমরান: ১৩৮]। আর তিনি তাঁর নবীকে ব্যাখ্যাকারী হিসেবে অভিহিত করেছেন তাঁর এই বাণীতে:
"আমি আপনার ওপর কিতাবটি কেবল এই জন্যই অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তাদের কাছে সেই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে এবং এটি মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হেদায়েত ও রহমত স্বরূপ।" [আন-নাহল: ৬৪]। নবী (সা.)-কে বর্ণনাশৈলী ও অলঙ্কারশাস্ত্রের চূড়ান্ত শিখর দান করা হয়েছিল। এই উভয় ক্ষেত্রে তাঁর এমন সব বিচিত্র ধারা ও পদ্ধতি ছিল যে, শ্রেষ্ঠ বাগ্মীগণও তাঁর সেই উচ্চতায় আরোহণ করতে পারে না এবং তার শীর্ষস্থান লাভের আকাঙ্ক্ষাও করতে পারে না। বরং তাঁর বর্ণনার কাছে বিনম্র হওয়া, তাঁর বাগ্মিতা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা এবং এর সঠিক দিকনির্দেশনা ও গূঢ় রহস্যসমূহ অন্বেষণ করা এবং এর মর্মার্থ উপলব্ধি করাতেই তাদের সার্থকতা।
নিশ্চয়ই তিনি তাঁর বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন এক ইমাম (إمام) … যাঁর গভীরতা অনুধাবনে বাগ্মীগণও হতবুদ্ধি হয়ে পড়েন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وهذا يستدعي حقيقة هامة، أغفلها كثير ممن يتعاملون مع الوحيَيْن قديما وحديثا، وهي أن من لم يتمكن من ناصية الأدب واللغة العربية، فلن يكون فهمه في عمومه سليما لهذين الوحيين، لأنهما في قمة سامقة من جوامع كلم البلاغة، فالتعامل معهما يستوجب استعدادا خاصا.
وما وقع فيه جميعُ الفرق المنحرفة عن فهم السلف المتقدمين: من تأويلات فاسدة، وآراء عليلة، مرَدُّ أغلبها إلى عُجْمتهم، وعدم إدراكهم مراد المتكلم من كلامه، فحملوا كلام الله ورسوله على ما لا يرضاه أحدهم لنفسه في كلامه، فضلوا بذلك وأضلوا. ولو كانوا عربا أقحاحا، أو استمدوا العربية تعلما من معادنها، لما وقعوا فيما وقعوا فيه من غرائب المحامل.
وكان العرب الخُلَّص من الأئمة أمثال مالك والشافعي، وأحمد، وأضرابهم، سلِيمِي الفهم، دقيقي التعليل، دراكين لمقاصد النصوص ومعانيها المرادة منها، فعلى أفهامهم يعوَّل وعلىما قعَّدوه يعتمَد في التفريع والتأصيل، وبه يستهدَى في التأويل والتنزيل.
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাকে তুলে ধরে, যা অতীত ও বর্তমানের ওহিদ্বয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকেই উপেক্ষা করেছেন। আর তা হলো, যে ব্যক্তি আরবি সাহিত্য ও ভাষার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে পারেনি, সাধারণভাবে এই ওহিদ্বয় সম্পর্কে তার উপলব্ধি সঠিক হবে না। কারণ, এই ওহিদ্বয় অলঙ্কারপূর্ণ সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণীর (جوامع كلم البلاغة) এক সুউচ্চ শিখরে অবস্থান করছে; তাই এগুলোর সাথে জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যবহারের জন্য বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন।
সালাফে সালেহীন বা অগ্রগামী পূর্বসূরিদের (السلف المتقدمين) সঠিক বুঝ থেকে বিচ্যুত সকল দল যেসব ভ্রান্ত ব্যাখ্যা (تأويلات فاسدة) এবং ত্রুটিপূর্ণ মতামতের (آراء عليلة) শিকার হয়েছে, তার অধিকাংশের মূল কারণ হলো তাদের ভাষাগত অযোগ্যতা বা অ-আরবীয় চিন্তা এবং বক্তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য অনুধাবনে তাদের অক্ষমতা। ফলে তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণীকে এমন সব অর্থে গ্রহণ করেছে, যা তারা নিজেরাও নিজেদের কথার ক্ষেত্রে পছন্দ করত না। এর মাধ্যমে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করেছে। তারা যদি খাঁটি আরব হতো অথবা মূল উৎস থেকে আরবি ভাষা শিক্ষা লাভ করত, তবে তারা এ ধরণের অদ্ভুত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের (غرائب المحامل) মাঝে নিপতিত হতো না।
ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ এবং তাঁদের সমগোত্রীয় বিশুদ্ধ আরব ইমামগণ ছিলেন নির্ভুল উপলব্ধিসম্পন্ন এবং সূক্ষ্ম কার্যকারণ বা ইল্লত (تعليل) নির্ণয়ে পারদর্শী। তাঁরা শরঈ পাঠ বা নصوص (نصوص) এর উদ্দেশ্য ও কাঙ্ক্ষিত অর্থ অনুধাবনে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। ফলে তাঁদের উপলব্ধির ওপরই নির্ভর করা হয় এবং শাখা-প্রশাখা নির্ধারণ (تفريع) ও মূলনীতি প্রণয়নে (تأصيل) তাঁদের প্রতিষ্ঠিত নিয়মনীতির ওপরই আস্থা রাখা হয়। এমনকি সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান (تأويل) ও প্রয়োগের (تنزيل) ক্ষেত্রেও তাঁদের মাধ্যমেই সঠিক পথনির্দেশনা পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
السنة النبوية وحي من الله، محفوظة كالقرآن
الأستاذ الدكتور: الحسين آيت سعيد
بسم الله الرحمن الرحيم
المبحث الأول: في عصمة الأنبياءأ - إن عصمة الأنبياء، من القضايا الخطيرة في الدين، والمسائلِ الأساسية فيه، التي لا يصح شيء منه إلا بصحتها وإثباتها بآياتها وبراهينها، ذلك أن التصديق بالوحي كلِّه أنه من عند الله، وأن الآتي به أرسله الله، يتوقف على ثبوت عصمته في كل ما يقول ويفعل ويبلغ عن الله تعالى.
وهذه القضية من قضايا العقيدة، فهي بذلك من أصول الدين لا من فروعه التي يجوز فيها الخلاف، ولذلك ينبغي أن تبحث في كتب العقائد. وقد أكثر من تشقيق الكلام عليها وتفصيله، المتكلمون المحكِّمون لعقولهم، حتى قالوا ما تقشعر منه الجلود، وتنفر منه الطباع السليمة، واستفاضوا في تفاصيل لا يترتب عليها أي عمل، ولا يتعلق بها أي مقصود، وأكثروا من تجويزات عقلية -لا وجود لها إلا في أذهانهم- في هذا الموضوع الواقعي، فجرَّهم ذلك الترفُ الفكري إلى أن جوزوا على الأنبياء ما لا يجوز، وصرحوا بما يتحاشى كل مسلم أن يصرح به، وجرَّؤُوا السفهاء ممن لا عقل لهم، أو لادين لهم -من العلمانيين والمستشرقين والمستعربين- على منصب النبوة بهذه الأقوال السمجة، كما فعل ابن الراوندي الملحد في كتاب الزمرد (1) .
ومن هذه الافتراضات، ما ذهب إليه الباقلاني وارتضاه الآمدي أن النبي صلى الله عليه وسلم لا تجب عصمته من الكذب غلطا ونسيانا (2) .
ومنها أنه ذهب بعض الكرامية إلى تجويز الكذب عليهم في التبليغ (3) .
--------------------------------------------
সুন্নাহ-এ-নাবাউয়ি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহি, যা কুরআনের মতোই সংরক্ষিত
অধ্যাপক ডক্টর: আল-হুসাইন আইত সাইদ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রথম পরিচ্ছেদ: নবীদের নিষ্পাপতা (عصمة) প্রসঙ্গেক - নিশ্চয়ই নবীদের নিষ্পাপতা (عصمة) দ্বীনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং মৌলিক মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার শুদ্ধতা এবং আয়াত ও প্রমাণের মাধ্যমে তা সাব্যস্ত হওয়া ব্যতীত দ্বীনের কোনো কিছুই সঠিক হতে পারে না। কারণ, ওহি সম্পূর্ণ আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এবং যিনি এটি নিয়ে এসেছেন তাঁকে আল্লাহ পাঠিয়েছেন—এই সত্যকে স্বীকার করা নির্ভর করে আল্লাহ তাআলা যা বলেন, করেন এবং প্রচার করেন, সেই সব ক্ষেত্রে তাঁর নিষ্পাপতা (عصمة) প্রমাণিত হওয়ার ওপর।
এই বিষয়টি আকিদার (العقيدة) বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত, তাই এটি দ্বীনের মূলনীতিসমূহের (أصول الدين) অন্তর্ভুক্ত, কোনো শাখা বা গৌণ বিষয়ের (فروع) অন্তর্ভুক্ত নয় যেখানে মতভেদের সুযোগ আছে; একারণেই এটি আকিদার কিতাবসমূহে আলোচনা করা উচিত। বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তিকে প্রাধান্য দানকারী ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদগণ (المتكلمون) এ বিষয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণকে অনেক দীর্ঘায়িত করেছেন, এমনকি তারা এমন সব কথা বলেছেন যা শুনলে গায়ের চামড়া শিউরে ওঠে এবং সুস্থ প্রকৃতি তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। তারা এমন সব বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনায় লিপ্ত হয়েছেন যার ওপর কোনো আমল নির্ভর করে না এবং যার সাথে কোনো উদ্দেশ্যও জড়িত নয়। তারা এই বাস্তব বিষয়টি নিয়ে অনেক বুদ্ধিবৃত্তিক অনুমানের—যার অস্তিত্ব কেবল তাদের কল্পনাতেই বিদ্যমান—অবতারণা করেছেন। এই বুদ্ধিবৃত্তিক বিলাসিতা তাদের এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, তারা নবীদের ব্যাপারে এমন কিছু বিষয় সম্ভব বলে সাব্যস্ত করেছেন যা মোটেও সমীচীন নয় এবং তারা এমন সব বিষয় স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন যা বলতে প্রত্যেক মুসলিম সংকোচ বোধ করে। তাদের এসব কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে তারা সেই সব নির্বোধদের দুঃসাহসী করে তুলেছেন যাদের না আছে বুদ্ধি, না আছে দ্বীন—যেমন ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী (العلمانيين), প্রাচ্যবিদ (المستشرقين) এবং মুস্তারিবিউন (المستعربين)—যাতে তারা নবুয়তের মহান মর্যাদার ওপর আঘাত হানতে পারে, যেমনটি নাস্তিক ইবনুল রাওয়ান্দি তার কিতাবুজ জুমুররুদ গ্রন্থে করেছে (১)।
এই সব অনুমানের মধ্যে একটি হলো বািল্লানি যা মনে করেছেন এবং আমেদি যা সমর্থন করেছেন যে—ভুলবশত বা বিস্মৃতিবশত মিথ্যা (الكذب) বলা থেকে নবীর (সা.) নিষ্পাপ (عصمة) হওয়া আবশ্যক নয় (২)।
আরেকটি হলো, কাররামিয়াহ সম্প্রদায়ের কেউ কেউ দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রে তাঁদের ওপর মিথ্যা (الكذب) আরোপ করাকে বৈধ মনে করেছেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومنها أن بعض الخوارج، جوزت الكفر على الأنبياء قبل البعثة، حكاه صاحب "المواقف" وزعم هو أنه لم يقم دليل سمعي على امتناع صدور الكبائر منهم قبل النبوة (1) .
ب - ما العصمة؟
العصمة لغة المنع والحفظ والوقاية، قال ابن فارس:" العين والصاد والميم، أصل واحد صحيح، يدل على إمساك ومنع وملازمة، والمعنى في ذلك كله معنى واحد، من ذلك العصمة، أن يعصم الله تعالى عبده من سوء يقع به، واعتصم العبد بالله إذا امتنع، واستعصم: التجأ" (2) . وفي اللسان:" عصمه يعصمه عصما منعه، يقال: عصمته فانعصم، واعتصمت بالله، إذا امتنعت بلطفه من المعصية، وعصمه الطعامُ منعه من الجوع، واعتصم به واستعصم، امتنع وأَبىَ
…" (3) .
وهذه المادة تكررت في القرآن الكريم مرارا بصيغ مختلفة، تؤول لمعنى الحفظ والمنع.
قال تعالى حاكيا عن ابن نوح: {قَالَ سَآوي إِلَى جَبَلٍ يَعْصِمُنِي مِنَ الْمَاءِ قَالَ لا عَاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِلَّا مَنْ رَحِمَ وَحَالَ بَيْنَهُمَا الْمَوْجُ فَكَانَ مِنَ الْمُغْرَقِينَ} [هود: 43] . وقال: {قُلْ مَنْ ذَا الَّذِي يَعْصِمُكُمْ مِنَ اللَّهِ إِنْ أَرَادَ بِكُمْ سُوءاً أَوْ أَرَادَ بِكُمْ رَحْمَةً} [الأحزاب:17] وقال: {وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ} [المائدة:67] .
--------------------------------------------
এর মধ্যে একটি হলো যে, খারিজিদের (الخوارج) কোনো কোনো দল নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে নবীগণের জন্য কুফরি করা সম্ভব বলে বৈধতা দিয়েছে। "আল-মাওয়াকিফ" গ্রন্থের রচয়িতা এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি দাবি করেছেন যে, নবুওয়াতের পূর্বে তাঁদের থেকে কবিরা গুনাহ (الكبائر) সংঘটিত হওয়া অসম্ভব হওয়ার বিষয়ে কোনো শ্রবণনির্ভর দলিল (دليل سمعي) প্রতিষ্ঠিত হয়নি (১)।
খ - ইসমাত (العصمة) কী?
আভিধানিকভাবে ইসমাত (العصمة) হলো বাধা প্রদান, সুরক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণ। ইবনে ফারিস বলেন: "আইন, সদ এবং মিম—এটি একটি সহিহ (صحيح) মূলবর্ণ যা কোনো কিছু আটকে রাখা, বাধা দেওয়া এবং লেগে থাকাকে নির্দেশ করে। এই সবগুলোর অর্থ মূলত অভিন্ন। এ থেকেই 'ইসমাত' (العصمة) শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ হলো আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাকে কোনো অমঙ্গল থেকে রক্ষা করা। আর বান্দা যখন আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা (اعتصم) করে তখন সে নিজেকে রক্ষা করে, এবং সে যখন সুদৃঢ়ভাবে আশ্রয় চায় (استعصم), তখন সে তাঁর শরণাপন্ন হয়" (২)। লিসানুল আরব গ্রন্থে বলা হয়েছে: "সে তাকে রক্ষা করল বা বাধা দিল। বলা হয়ে থাকে: আমি তাকে রক্ষা করেছি ফলে সে রক্ষা পেয়েছে। আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছি অর্থাৎ তাঁর অনুগ্রহে আমি পাপ (المعصية) থেকে বেঁচে থেকেছি। আবার বলা হয় খাদ্য তাকে রক্ষা করেছে অর্থাৎ ক্ষুধা নিবৃত্ত করেছে। সে তার মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করেছে এবং সুদৃঢ়ভাবে বিরত থেকেছে ও অস্বীকার করেছে
…" (৩)।
এই মূল ধাতুটি পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন রূপে বারবার এসেছে, যা মূলত সুরক্ষা ও বাধা প্রদানের অর্থকেই নির্দেশ করে।
আল্লাহ তাআলা নূহ (আ.)-এর পুত্রের কথা উল্লেখ করে বলেন: {সে বলল, অচিরেই আমি এক পাহাড়ে আশ্রয় নেব যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে (يعصمني)। তিনি (নূহ) বললেন, আজ আল্লাহর হুকুম থেকে রক্ষাকারী (عاصم) কেউ নেই, কেবল তিনি যাকে দয়া করবেন। আর অমনি উত্তাল তরঙ্গ তাদের মাঝে আড়াল হয়ে দাঁড়াল, ফলে সে নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হলো} [হূদ: ৪৩]। তিনি আরও বলেন: {বলুন, কে আছে এমন যে তোমাদেরকে আল্লাহর হাত থেকে রক্ষা করবে (يعصمكم), যদি তিনি তোমাদের মন্দ চান অথবা তোমাদের প্রতি রহমত করার ইচ্ছা করেন?} [আল-আহজাব: ১৭]। তিনি আরও বলেন: {আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের হাত থেকে রক্ষা করবেন (يعصمك)} [আল-মায়েদাহ: ৬৭]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والعصمة شرعا: قد اختلف المتكلمون في تعريفها اختلافا كثيرا أدى إلى تناقضهم وافتراضهم أموراً لا وجود لها إلا في أذهانهم، وكل منهم ينطلق في النظر للعصمة من منحاه العقدي (1) . وأقربُ التعاريف للصواب، هو قول ابن النجار " إن العصمة صرف دواعي المعصية عن المعصية، بما يلهم الله المعصوم من ترغيب وترهيب" (2) .
ج - من أي شيء عُصِمَ الأنبياء عليهم السلام؟
اتفق أهل الإسلام على أن الأنبياء عليهم الصلاة والسلام، قد عُصِموا من كل ما يخل بالتبليغ، كالشك، والجهل بالأحكام المنزلة عليهم، وكتمان الوحي، والكذب، والوسواس، وأن يقولوا ما ليس بحق، والتقصير في البلاغ، وتسليط الشيطان وتلبيسه عليهم، وتسليط الإنس أيضا عليهم بالإيذاء المُخِل بالرسالة. وبالجملة فهم معصومون من جميع الكبائر، والإجماعُ على هذا حكاه غير واحد.
قال ابن النجار: " فالإجماع منعقد على عصمتهم من تعمد الكذب في الأحكام وغيرها، لأن المعجزة قد دلت على صدقهم فيها، فلو جاز كذبهم فيها، لبطلت دلالة المعجزة، ولا يقع ما يخل بصدقهم لا غلطا ولا سهوا عند الأكثر " (3) . وقال ابن بَرْهان:" فإن الأمة أجمعت على أن الأنبياء معصومون عن الكبائر " (4) .
--------------------------------------------
শরীয়তের পরিভাষায় পবিত্রতা (العصمة): এর সংজ্ঞায় ধর্মতত্ত্ববিদগণ (المتكلمون) অনেক মতভেদ করেছেন, যা তাদের মধ্যে বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে এবং এমন কিছু বিষয়ের অবতারণা করেছে যার অস্তিত্ব কেবল তাদের কল্পনাতেই সীমাবদ্ধ। তাদের প্রত্যেকেই পবিত্রতা (العصمة)-এর বিষয়টি নিজ নিজ আকিদাগত (عقدي) দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন (১)। সঠিকতার সবচেয়ে নিকটবর্তী সংজ্ঞা হলো ইবনে নাজ্জারের উক্তি, "নিশ্চয়ই পবিত্রতা (العصمة) হলো গুনাহের (المعصية) প্ররোচনাকে গুনাহ (المعصية) থেকে বিমুখ রাখা, সেই উৎসাহ ও ভীতির মাধ্যমে যা আল্লাহ মাসুম (المعصوم) ব্যক্তিকে ইলহাম করেন" (২)।
গ - আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম কোন কোন বিষয় থেকে সুরক্ষিত (عُصِمَ) ছিলেন?
ইসলামের অনুসারীগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, নবীগণ আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম দাওয়াত বা তাবলিগ (تبليغ) এর ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটায় এমন সকল বিষয় থেকে সুরক্ষিত (عُصِموا); যেমন সন্দেহ, তাদের প্রতি অবতীর্ণ বিধান সম্পর্কে অজ্ঞতা, ওহি (وحي) গোপন করা, মিথ্যা (الكذب), কুমন্ত্রণা, সত্য নয় এমন কিছু বলা, প্রচারে অবহেলা করা, শয়তানের প্রভাব ও বিভ্রান্তি এবং মানুষের পক্ষ থেকে এমন কষ্টদান যা রিসালাতের দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত ঘটায়। সারসংক্ষেপ হলো, তারা সকল কবিরা গুনাহ (الكبائر) থেকে পবিত্র (معصومون), আর এ বিষয়ে ঐক্যমত্য (الإجماع) একাধিক আলেম বর্ণনা করেছেন।
ইবনে নাজ্জার বলেছেন: "শরীয়তের বিধান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা (الكذب) বলা থেকে তাদের পবিত্র (عصمتهم) থাকার বিষয়ে ঐক্যমত্য (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কারণ অলৌকিক নিদর্শন (المعجزة) তাদের সত্যবাদিতার প্রমাণ দেয়। সুতরাং যদি সেখানে তাদের মিথ্যা (الكذب) বলা সম্ভব হতো, তবে অলৌকিক নিদর্শনের (المعجزة) প্রমাণ অকার্যকর হয়ে যেত। অধিকাংশের মতে, ভুল বা বিস্মৃতিবশত এমন কিছু তাদের দ্বারা সংঘটিত হয় না যা তাদের সত্যবাদিতাকে ক্ষুণ্ণ করে" (৩)। ইবনে বারহান বলেছেন: "নিশ্চয়ই উম্মত এ বিষয়ে ঐক্যমত্য (أجمعت) পোষণ করেছে যে, নবীগণ কবিরা গুনাহ (الكبائر) থেকে পবিত্র (معصومون)" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال الزركشي:" والكلام في العصمة يرجع إلى أمور: أحدها في الاعتقاد، ولاخلاف بين الأمة في وجوب عصمتهم عما يناقض مدلول المعجزة، وهو الجهل بالله تعالى، والكفر به. وثانيها: أمر التبليغ، وقد اتفقوا على استحالة الكذب والخطأ فيه. وثالثها في الأحكام والفتوى، والإجماعُ على عصمتهم فيها، ولو في حال الغضب، بل يُستَدل بشدة غضبه صلى الله عليه وسلم على تحريم ذلك الشيء. ورابعها في أفعالهم وسيرهم، فأما الكبائر فحكَى القاضي إجماع المسلمين أيضا على عصمتهم فيها، ويلحق بها ما يُزْرِي بمناصبهم، كرذائل الأخلاق والدناءات، وإنما اختلفوا في الطريق، هل هو الشرع أو العقل "
… (1) .
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية:" فإن القول بأن الأنبياء معصومون عن الكبائر دون الصغائر، هو قول أكثر علماء الإسلام وجميع الطوائف، حتى إنه قول أكثر أهل الكلام، كما ذكر الآمدي أن هذا قولُ أكثر الأشعرية، وهو قول أكثر أهل التفسير والحديث والفقهاء، بل هو لم يُنقَل عن السلف والأئمة والصحابة والتابعين وتابعيهم، إلا ما يوافق هذا القول
… " (2) .
د -هل هم معصومون من الصغائر؟
هذه المسألة فيها خلاف بين النظار في موضعين: أحدهما هل تتصور منهم الصغائر، والثاني هل وقعت منهم؟. فأما تصورها منهم، فقد منعه الأستاذ أبو إسحاق الإسفرايني، وإمام الحرمين (3) .
--------------------------------------------
ইমাম যারকাশি বলেন: "নিষ্পাপতা (عصمة) সংক্রান্ত আলোচনা কয়েকটি বিষয়ের দিকে ফিরে যায়: প্রথমত, আকিদা বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে। মুজিযার (معجزة) মর্মার্থের পরিপন্থী বিষয়সমূহ, তথা আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং তাঁর প্রতি কুফর থেকে নবীদের নিষ্পাপ (معصوم) থাকা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে উম্মাহর মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। দ্বিতীয়ত: তাবলিগ বা দ্বীন প্রচারের বিষয়। এক্ষেত্রে তাঁদের পক্ষ থেকে মিথ্যা বা ভুল হওয়া অসম্ভব হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত হয়েছেন। তৃতীয়ত: বিধান প্রদান ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রেও তাঁদের নিষ্পাপ (عصمة) হওয়ার ব্যাপারে ইজমা (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমনকি রাগান্বিত অবস্থায়ও। বরং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তীব্র ক্রোধ সেই বিষয়টি হারাম হওয়ার ওপর দলিল (دليل) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। চতুর্থত: তাঁদের কর্ম ও জীবনচরিতের ক্ষেত্রে। কবিরা গুনাহের (الكبائر) ব্যাপারে কাজী (আইয়াজ) মুসলমানদের ইজমা (إجماع) বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা এসব থেকে নিষ্পাপ (معصوم)। তাঁদের উচ্চ মর্যাদাহানি করে এমন বিষয়সমূহও—যেমন দুশ্চরিত্র বা হীনতা—এর অন্তর্ভুক্ত। তবে এই নিষ্পাপতার ভিত্তি কী, তা কি শরয়ি (الشرع) দলিলে সাব্যস্ত নাকি আকলি (العقل) বা বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলে, সে বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন"
… (1) .
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: "নিশ্চয়ই নবীরা সগিরা গুনাহ (الصغائر) ব্যতীত কেবল কবিরা গুনাহ (الكبائر) থেকে নিষ্পাপ (معصوم)—এই মতটিই অধিকাংশ ইসলামি স্কলার এবং সকল ফিরকার (الطوائف) অভিমত। এমনকি এটি অধিকাংশ ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদেরও (أهل الكلام) অভিমত, যেমনটি আল-আমেদি উল্লেখ করেছেন যে এটি অধিকাংশ আশআরিদের (الأشعرية) বক্তব্য। তদ্রূপ এটি অধিকাংশ তাফসিরবিদ, হাদিসবিদ এবং ফকিহদেরও (الفقهاء) অভিমত। বরং সালফে সালেহিন, ইমামগণ, সাহাবি, তাবেয়ি ও তাবে-তাবেয়িদের থেকেও এই মতের সপক্ষেই বর্ণনা পাওয়া যায়
… " (2) .
ঘ - তাঁরা কি সগিরা গুনাহ (الصغائر) থেকেও নিষ্পাপ (معصوم)?
এ মাসআলায় গবেষকদের মাঝে দুটি বিষয়ে মতভেদ রয়েছে: প্রথমত, তাঁদের থেকে কি সগিরা গুনাহ (الصغائر) সংঘটিত হওয়া কল্পনা করা যায়? দ্বিতীয়ত, তাঁদের থেকে কি তা বাস্তবে ঘটেছে? সগিরা গুনাহের সম্ভাবনা উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফরাইনি এবং ইমামুল হারামাইন অস্বীকার করেছেন (3) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأما وقوعها منهم، فقد قال به ابن السمعاني، ونقل ابن القشيري وإمام الحرمين عن الأكثرين عدم الوقوع، ورجحه الزركشي في البحر المحيط، وهو مذهب أبي بكر بن مجاهد، وابن فورك، ونقل عياض وقوعها منهم عن أبي جعفر الطبري وغيره من الفقهاء (1) . هكذا نقل الزركشي وعياض عن هؤلاء، ونقل عنهم ابن حزم خلاف هذا الإطلاق بقوله:"وذهبت طائفة إلى أن الرسل عليهم الصلاة والسلام لا يجوز عليهم كبيرة من الكبائر أصلا، ويجوز عليهم الصغائر بالعمد، وهو قول ابن فورك الأشعري، وذهب جميع أهل الإسلام من أهل السنة، والمعتزلة، والنجارية، والخوارج، والشيعة، إلى أنه لا يجوز البتة أن يقع من نبي أصلا معصية بعمد، لا صغيرة ولا كبيرة، وهو قول ابن مجاهد الأشعري شيخ ابن فورك، والباقلاني المذكورين، وهذا القول الذي ندين الله تعالى به، ولا يحل لأحد أن يدين بسواه " (2) .
فهذا النص يفيد أنهم قيدوا عدم الوقوع بالعمد، وما نقله الزركشي عنهم مطلق، يحتمل التقييد وعدمه، وأقوالُ أصحاب المقالات، يقع فيها مثل هذا الاضطراب، فقد يُنقَل عن شخص واحد كالأشعري مثلا شيءٌ وضده، وذلك راجع إما لأقوال له في المسألة، أو خطأ في النقل، ولاسيما أن هذه المقالات، تنقل بلا أَزمَّة الأسانيد، التي يمكن تقويمها من خلالها.
وكيفما كان، فما قاله ابن حزم ومن معه، فهو الصواب الذي يجب اعتقاده من أن الصغائر لا تصدر منهم عمدا، فإذا وقعت منهم، فتكون سهوا، أو خطأ.
--------------------------------------------
আর তাদের (নবীগণের) থেকে এটি (পাপ) সংঘটিত হওয়া প্রসঙ্গে ইবনে সামআনি মত দিয়েছেন; এবং ইবনুল কুশাইরী ও ইমামুল হারামাইন অধিকাংশ আলিমের পক্ষ থেকে তা সংঘটিত না হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। আল-যাররাকাশি আল-বাহরুল মুহিত গ্রন্থে এটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং এটিই আবু বকর ইবনে মুজাহিদ ও ইবনে ফাওরাকের মাজহাব। আর কাযী ইয়াদ, আবু জাফর তবারী ও অন্যান্য ফকিহদের সূত্র ধরে তাদের থেকে এটি সংঘটিত হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন (১)। এভাবেই আল-যাররাকাশি ও কাযী ইয়াদ তাদের পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনে হাজম তাদের থেকে এই শর্তহীন (مطلق) বক্তব্যের বিপরীতে বর্ণনা করে বলেছেন: "একদল এই মত পোষণ করেছেন যে, রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) ক্ষেত্রে কোনো কবিরা গুনাহ (كبيرة) সংঘটিত হওয়া মোটেও সম্ভব নয়, তবে ইচ্ছাকৃতভাবে সগিরা গুনাহ (صغيرة) হওয়া সম্ভব; আর এটি আশআরী মতাদর্শের ইবনে ফাওরাকের বক্তব্য। পক্ষান্তরে আহলে সুন্নাত, মুতাজিলা, নাজ্জারিয়া, খাওয়ারিজ ও শিয়া সম্প্রদায়ের সকল মুসলিম এই মতে উপনীত হয়েছেন যে, কোনো নবীর পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পাপ (معصية) সংঘটিত হওয়া একেবারেই অসম্ভব—তা সগিরা হোক বা কবিরা। আর এটি ইবনে ফাওরাকের উস্তাদ আশআরী মতাদর্শের ইবনে মুজাহিদ এবং উল্লেখিত বাকিলানীর বক্তব্য। আর এটিই সেই অভিমত যার মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর আনুগত্য করি এবং অন্য কোনোটি অনুসরণ করা কারো জন্য বৈধ নয়" (২)।
সুতরাং এই উদ্ধৃতিটি নির্দেশ করে যে, তারা সংঘটিত না হওয়াকে ইচ্ছাকৃত হওয়ার সাথে শর্তযুক্ত করেছেন। আর আল-যাররাকাশি তাদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা ছিল শর্তহীন (مطلق), যা শর্তযুক্ত হওয়া বা না হওয়া—উভয় সম্ভাবনাই রাখে। আর বিভিন্ন মতবাদের প্রবক্তাদের বর্ণনায় এ ধরনের অসংলগ্নতা পরিলক্ষিত হয়। কখনো কখনো একই ব্যক্তি থেকে—যেমন আল-আশআরী—কোনো একটি বিষয় এবং তার বিপরীত বিষয়টিও বর্ণিত হতে পারে। এর কারণ হতে পারে উক্ত বিষয়ে তার একাধিক বক্তব্য থাকা অথবা বর্ণনায় ভুল হওয়া। বিশেষ করে এই মতবাদগুলো যখন সনদসমূহ (أسانيد) এর নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বর্ণিত হয়, যার মাধ্যমে সেগুলোকে যাচাই করা সম্ভব ছিল।
পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, ইবনে হাজম ও তার অনুসারীরা যা বলেছেন সেটিই সঠিক অভিমত যা বিশ্বাস করা আবশ্যক; আর তা হলো তাদের থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সগিরা গুনাহ (صغيرة) সংঘটিত হয় না। যদি তাদের থেকে কোনো কিছু প্রকাশ পায়, তবে তা বিস্মৃতি বা ভুলবশত হয়ে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وسبب الخلاف في وقوعها منهم أو عدم وقوعها، اختلافهم في تقسيم الذنوب إلى صغائر وكبائر، فذهب أبو إسحاق الاسفراييني إلى أن الذنوب كلها شيء واحد، لأنها مخالفة أمرالآمر، وتبعه الجويني بقوله:" المرضي عندنا أن كل ذنب كبيرة، إذ لاتراعى أقدار الذنوب حتى تضاف إلى المعصي بها" (1) ثم في فصلِ عصمة الأنبياء، ذكَر ما يدل على أنه يقر بالتقسيم (2) .
والجويني كثير الاضطراب في تقرير أصول المعتقد، فهو أحيانا يجمع بين الشيء ونقيضه. وقال ابن تيمية: " لم يذكر الله عن نبي من الأنبياء ذنباً إلا ذكر توبته منه، ولهذا كان الناس في عصمة الأنبياء على قولين: إما أن يقولوا بالعصمة من فعلها، وإما أن يقولوا بالعصمة من الإقرار عليها، لا سيما فيما يتعلق بتبليغ الرسالة، فإن الأمة متفقة على أن ذلك معصوم أن يقر فيه على خطأ، لأن ذلك يناقض مقصود الرسالة، ومدلول المعجزة.
…والمقصود هنا أن الله لم يذكر في كتابه عن نبي من الأنبياء ذنبا إلا ذكر توبته منه
… واعلم أن المنحرفين في مسألة العصمة، على طرفي نقيض، كلاهما مخالف لكتاب الله من بعض الوجوه، قومٌ أفرطوا في دعوى امتناع الذنوب، حتى صرفوا نصوص القرآن المخبرة بما وقع منهم من التوبة من الذنوب، ومغفرةِ الله لهم، ورفْعِ درجاتهم بذلك، وقوم أفرطوا في أن ذكروا عنهم ما دل القرآن على براءتهم منه، وأضافوا إليهم ذنوباً وعيوبا نزههم الله عنها، وهؤلاء مخالفون للقرآن،
--------------------------------------------
তাদের (নবীদের) পক্ষ থেকে গুনাহ সংঘটিত হওয়া বা না হওয়া সম্পর্কিত মতপার্থক্যের কারণ হলো, গুনাহকে ছোট গুনাহ (صغائر) এবং বড় গুনাহ (كبائر) এই দুই ভাগে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে আলেমদের মতভেদ। আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনি এই মত পোষণ করেছেন যে, সকল গুনাহই মূলত এক; কারণ তা হলো আদেশদাতার আদেশের অবাধ্যতা। আল-জুওয়াইনি তাকে অনুসরণ করে বলেন: "আমাদের নিকট গ্রহণযোগ্য মত হলো প্রতিটি গুনাহই বড় গুনাহ (كبيرة); কেননা গুনাহের পরিমাণ ততক্ষণ পর্যন্ত বিবেচনা করা হয় না যতক্ষণ না তা যার অবাধ্যতা করা হচ্ছে তাঁর সাথে সম্পর্কিত করা হয়।" (১) অতঃপর নবীদের নিষ্পাপতা (عصمة) অধ্যায়ে তিনি এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা নির্দেশ করে যে তিনি এই বিভাজন স্বীকার করেন (২)।
আকিদার মূলনীতি বর্ণনার ক্ষেত্রে আল-জুওয়াইনি অত্যন্ত অস্থিরচিত্ত; তিনি কখনও কখনও একটি বিষয় ও তার বিপরীত বিষয়কে একত্র করে ফেলেন। ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "আল্লাহ তাআলা নবীদের মধ্য থেকে কোনো নবীর কোনো গুনাহের কথা উল্লেখ করেননি যার সাথে তাঁর তওবা করার কথা উল্লেখ করেননি। এই কারণেই নবীদের নিষ্পাপতা (عصمة) বিষয়ে মানুষের দুটি মত রয়েছে: হয় তারা গুনাহ সংঘটিত হওয়া থেকেই নিষ্পাপ (عصمة) হওয়ার কথা বলেন, অথবা গুনাহের ওপর বহাল থাকা থেকে নিষ্পাপ (عصمة) হওয়ার কথা বলেন। বিশেষ করে রিসালাত প্রচারের ক্ষেত্রে উম্মত এ বিষয়ে একমত যে, তা ভুলের ওপর বহাল থাকার বিষয় থেকে নিষ্পাপ (معصوم); কারণ তা রিসালাতের উদ্দেশ্য এবং মুজিজার দালিলিক অর্থের পরিপন্থী।
…আর এখানে উদ্দেশ্য হলো যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে কোনো নবীর গুনাহের কথা উল্লেখ করেননি যার সাথে তাঁর তওবা করার কথা উল্লেখ করেননি
… জেনে রাখুন যে, নিষ্পাপতা (عصمة) বিষয়ে বিচ্যুতরা দুটি বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে; উভয় পক্ষই কোনো না কোনো দিক থেকে আল্লাহর কিতাবের বিরোধী। একদল গুনাহ সংঘটিত হওয়া অসম্ভব হওয়ার দাবিতে অতিাবাড়াবাড়ি করেছে, এমনকি তারা কুরআনের সেই সুস্পষ্ট পাঠসমূহকেও (نصوص) ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে যাতে নবীদের তওবা করা, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ক্ষমা করা এবং এর মাধ্যমে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির সংবাদ দেওয়া হয়েছে। অন্য দল অতিাবাড়াবাড়ি করে তাদের সম্পর্কে এমন কিছু উল্লেখ করেছে যা থেকে কুরআন তাদের পবিত্রতা ঘোষণা করেছে এবং তাদের প্রতি এমন সব গুনাহ ও দোষারোপ আরোপ করেছে যা থেকে আল্লাহ তাদের পবিত্র রেখেছেন; আর এরা কুরআনের বিরুদ্ধাচরণকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وهؤلاء مخالفون للقرآن، ومن اتبع القرآن على ما هو عليه من غير تحريف، كان من الأمة الوسَط، مهتديا إلى الصراط المستقيم (1) .
وقال:" والكلام في هذا المقام مبني على أصل، وهو أن الأنبياء ـ صلوات الله عليهم ـ معصومون فيما يخبرون به عن الله سبحانه وفي تبليغ رسالته باتفاق الأمة، ولهذا وجب الإيمان بكل ماأُوتُوه
… وهذه العصمةُ الثابتة للأنبياء، هي التي يحصل بها مقصود النبوة والرسالة
… والعصمةُ فيما يبلغون عن الله ثابتة، فلا يستقر في ذلك خطأ باتفاق المسلمين، ولكن هل يَصْدر ما يستدركه الله، فيَنسخ ما يُلقِي الشيطانُ، ويُحكِم الله آياته، فهذا فيه قولان، والمأثور عن السلف يوافق القرآن بذلك .... وأما العصمة في غير ما يتعلق بتبليغ الرسالة، فللناس فيه نزاع، هل هو ثابت بالعقل أو بالسمع، ومتنازعون في العصمة من الكبائر والصغائر أو من بعضها، أم هل العصمة إنما هي في الإقرار عليها لا في فعلها؟ أم لا يجب القول إلا في التبليغ فقط
… والقولُ الذي عليه جماهير الناس ـ وهو الموافق للآثار المنقولة عن السلف ـ إثبات العصمة من الإقرار على الذنوب مطلقا
… وحججُ القائلين بالعصمة إذا حُرِّرت إنما تدل على هذا القول، وحجج النفاة لا تدل على وقوع ذنب أُقر عليه الأنبياء، فإن القائلين بالعصمة، احتجوا بأن التأسي بهم مشروع فيما أُقروا عليه دون مانهوا عنه، ورجعوا عنه
… وكذلك ما احتجوا به من أن الذنوب تنافي الكمال، أو أنها ممن عظُمت عليه النعمة أقبح، أو أنها توجب التنفير
… فهذا إنما يكون مع البقاء على ذلك وعدم الرجوع، وإلا فالتوبة
--------------------------------------------
এরা কুরআনের বিরুদ্ধাচরণকারী; আর যে ব্যক্তি কুরআনকে কোনো প্রকার বিকৃতি (تحريف) ছাড়াই যথাযথভাবে অনুসরণ করবে, সে মধ্যপন্থী উম্মতের (الأمة الوسط) অন্তর্ভুক্ত হবে এবং সঠিক পথের (الصراط المستقيم) দিকে দিশাপ্রাপ্ত হবে (১)।
তিনি বলেন: "এই বিষয়ে আলোচনা একটি মূলনীতির (أصل) ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর তা হলো—নবীগণ (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) মহান আল্লাহ সম্পর্কে যা সংবাদ দেন এবং তাঁর রিসালাত পৌঁছানোর ক্ষেত্রে উম্মতের ঐকমত্যের (اتفاق الأمة) ভিত্তিতে তাঁরা নিষ্পাপ (معصومون)। আর একারণেই তাঁদের যা কিছু প্রদান করা হয়েছে তার সবকিছুর ওপর ঈমান আনা আবশ্যক (وجب)
… আর নবীদের জন্য সাব্যস্ত এই নিষ্পাপতা (العصمة) দ্বারাই নবুওয়াত ও রিসালাতের উদ্দেশ্য হাসিল হয়
… আর আল্লাহ প্রদত্ত বাণী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নিষ্পাপতা (العصمة) সুসাব্যস্ত, তাই মুসলিমদের ঐকমত্য (اتفاق المسلمين) অনুযায়ী এক্ষেত্রে কোনো ভুল (خطأ) স্থায়িত্ব পায় না। কিন্তু আল্লাহ যা সংশোধন করে দেন তেমন কিছু কি প্রকাশ পায়—যার ফলে শয়তান যা প্রক্ষেপ করে আল্লাহ তা রহিত (ينسخ) করেন এবং আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত (يحكم) করেন? এ বিষয়ে দুটি মত (قولان) রয়েছে এবং পূর্বসূরিদের (السلف) থেকে বর্ণিত (المأثور) বিষয়াদি এক্ষেত্রে কুরআনের অনুকূল.... আর রিসালাত পৌঁছানোর সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে নিষ্পাপতা (العصمة) নিয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ (نزاع) রয়েছে যে, তা কি বিবেক (عقل) দ্বারা সাব্যস্ত নাকি শ্রুতি বা ওহী (سمع) দ্বারা? তাঁরা কবিরা গুনাহ (الكبائر) ও সগিরা গুনাহ (الصغائر) অথবা এগুলোর কোনো অংশ থেকে নিষ্পাপ থাকার বিষয়েও মতবিরোধ করেছেন। অথবা নিষ্পাপতা (العصمة) কি কেবল সেটার ওপর বহাল না থাকার ক্ষেত্রে, সেটি সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে নয়? অথবা কেবল বাণী পৌঁছানোর ক্ষেত্রেই কি এটি বলা আবশ্যক?
… আর অধিকাংশ মানুষের যে অভিমত (القول)—যা পূর্বসূরিদের (السلف) থেকে বর্ণিত বর্ণনাসমূহের (الآثار) সাথে সংগতিপূর্ণ—তা হলো নিরঙ্কুশভাবে (مطلقا) পাপের ওপর বহাল থাকার ক্ষেত্রে নিষ্পাপতা (العصمة) সাব্যস্ত করা
… এবং নিষ্পাপতার (العصمة) প্রবক্তাদের দলিলসমূহ (حجج) যদি পর্যালোচনা করা হয়, তবে সেগুলো এই মতের পক্ষেই প্রমাণ দেয়। আর যারা এটি অস্বীকার করেন (النفاة), তাঁদের দলিলগুলো এমন কোনো পাপ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ দেয় না যার ওপর নবীদের বহাল রাখা হয়েছে। কেননা যারা নিষ্পাপতার (العصمة) প্রবক্তা, তাঁরা দলিল পেশ করেছেন এই মর্মে যে, তাঁদের অনুসরণ (التأسي) কেবল সেই বিষয়গুলোতে বিধিবদ্ধ (مشروع) যেগুলোর ওপর তাঁদের বহাল রাখা হয়েছে, সেগুলোতে নয় যেগুলো থেকে তাঁদের নিষেধ করা হয়েছে এবং যেখান থেকে তাঁরা ফিরে এসেছেন
… একইভাবে তাঁরা এই দলিলও পেশ করেছেন যে, পাপসমূহ পূর্ণতার (الكمال) পরিপন্থী, অথবা যাঁদের ওপর নেয়ামত অধিক তাঁদের পক্ষ থেকে তা অধিকতর মন্দ, অথবা সেগুলো মানুষের মনে ঘৃণা উদ্রেক করে
… তবে এটি কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন সেই অবস্থায় অবিচল থাকা হয় এবং ফিরে আসা না হয়; অন্যথায় তওবা (التوبة)"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
النصوح التي يقبلها الله، يرفع بها صاحبها إلى أعظمَ مما كان عليه، كما قال بعض السلف: كان داودُ عليه السلام بعد التوبة خيراً منه قبل الخطيئة.
وقال آخر: لو لم تكن التوبة أحب الأشياء إلى الله، لما ابتلى بالذنب أكرم الخلق عليه
… وفي الكتاب والسنة الصحيحة، والكتب التي قبل القرآن مما يوافق هذا القول، ما يتعذر إحصاؤه.
والرادّون لذلك، تأولوا ذلك بمثل تأويلات الجهمية، والقدرية، والدهرية، لنصوص الأسماء والصفات ونصوص القدر ونصوص المعاد، وهي من جنس تأويلات القرامطة الباطنية التي يُعلَم بالاضطرار أنها باطلة، وأنها من باب تحريف الكلم عن مواضعه، وهؤلاء يقصد أحدهم تعظيمَ الأنبياء فيقع في تكذيبهم، ويريد الإيمان بهم، فيقع في الكفر بهم" (1) .
وهذا المذهب الذي يرى الذنوب كلها في مرتبة واحدة باطل، لأن النصوص متواترة عن النبي صلى الله عليه وسلم في تقسيم الذنوب إلى صغائر وكبائر، والقرآن الكريم قد صرح بذلك بلا لبس، قال تعالى: {إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ} [النساء:31] ومعنى الآية أن اجتناب الكبائر والبعدَ عنها، يكون سببا في تكفير ما اقترف من السيئات، وهي الصغائر، فلو كانت الكبائر هي السيئات، لكان معنى الآية: إن تجتنبوا الكبائر نكفر عنكم الكبائر، وهذا معنى باطل، لأن مالم يفعل لا يتصور فيه التكفير، وإنما التكفير ينصب على ما فعل من الصغائر التي لا يخلو منها بشر.
--------------------------------------------
বিশুদ্ধ তওবা যা আল্লাহ কবুল করেন, তার মাধ্যমে তিনি তওবাকারীকে আগের চেয়েও শ্রেষ্ঠতর মর্যাদায় উন্নীত করেন। যেমনটি সালাফদের কেউ কেউ বলেছেন: "দাউদ (আলাইহিস সালাম) তওবা করার পর পূর্বের গুনাহে লিপ্ত হওয়ার আগের অবস্থার চেয়েও উত্তম স্তরে পৌঁছেছিলেন।"
অন্য একজন বলেছেন: "যদি তওবা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় বিষয় না হতো, তবে তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তিকে গুনাহর পরীক্ষায় ফেলতেন না... আর কিতাবুল্লাহ এবং সহিহ (صحيحة) সুন্নাহতে ও কুরআনের পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে এই মতের স্বপক্ষে এত অধিক বর্ণনা রয়েছে যা গণনা করা দুঃসাধ্য।"
যারা এই বিষয়টি অস্বীকার করে, তারা এগুলোর ব্যাখ্যায় জাহমিয়া, কাদারিয়া এবং দাহরিয়াদের সেই সব অপব্যাখ্যার অনুকরণ করেছে যা তারা আল্লাহর নাম ও গুণাবলী, তাকদির এবং পরকাল সংক্রান্ত নসসমূহের ক্ষেত্রে করে থাকে। এগুলো মূলত বাতেনি কারামিতাদের অপব্যাখ্যার পর্যায়ভুক্ত, যার অসারতা অকাট্যভাবে প্রমাণিত এবং যা মূলত শব্দের অর্থ বিকৃতির অন্তর্ভুক্ত। এদের কেউ কেউ নবীদের সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্য পোষণ করলেও পরিণামে তাঁদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করার পাপে লিপ্ত হয়, আর তাঁদের প্রতি ঈমান আনার ইচ্ছা পোষণ করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের সাথে কুফরিতে লিপ্ত হয়।" (১)
আর এই মতবাদ যা সকল গুনাহকে একই স্তরের মনে করে, তা বাতিল। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে গুনাহসমূহকে কবিরা ও সগিরা গুনাহে বিভক্ত করার বিষয়ে মুতাওয়াতির (متواترة) প্রমাণাদি বর্ণিত হয়েছে। আল-কুরআনুল কারিম কোনো প্রকার অস্পষ্টতা ছাড়াই এ কথা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যদি তোমরা সেই সব বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো যা তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমি তোমাদের ছোট পাপগুলো মোচন করে দেব} [নিসা: ৩১]। আয়াতের অর্থ হলো কবিরা গুনাহ বর্জন ও তা থেকে দূরে থাকা লিপ্ত হওয়া ছোট পাপগুলোর কাফফারা বা মোচনের কারণ হবে, আর এই পাপগুলোই হলো সগিরা গুনাহ। যদি কবিরা গুনাহই 'সাইয়িআত' (পাপ) হতো, তবে আয়াতের অর্থ দাঁড়াত: "যদি তোমরা বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো তবে আমি তোমাদের বড় গুনাহ মোচন করে দেব।" এটি একটি বাতিল অর্থ; কারণ যা সংঘটিত হয়নি তার মোচনের প্রশ্নই আসে না। মূলত কাফফারা বা মোচন কেবল সংঘটিত হওয়া সগিরা গুনাহর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যা থেকে কোনো মানুষই সম্পূর্ণ মুক্ত থাকতে পারে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأحاديثُ النبي صلى الله عليه وسلم في انقسام الذنوب إلى صغائر وكبائر، أكثر من أن تحصى، منهاقوله من حديث أبي بكرة: " ألا أنبئكم بأكبر الكبائر" فكررها ثلاثا (1) ويقابل هذا الغلو في نفي التقسيم غلو آخر، يرى أصحابه أنه صلى الله عليه وسلم لاتقع منه صغائر لا عمدا ولاسهوا، وقد نقل هذا المذهبَ إمامُ الحرمين وابن القشيري عن الأكثرين (2) وردوا عشرات النصوص المتواترة الدالة على ذلك في الكتاب والسنة، من مثل قوله تعالى:
{لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ} [الفتح:2] وقوله: {فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ} [غافر:55] .
وقوله صلى الله عليه وسلم من حديث " إنه ليغان على قلبي، وإني أستغفر الله سبعين مرة " (3) وحملوا ذلك كله على ما قبل النبوة، أو ترك الأَوْلى، أو فعلوا ذلك بتأويل. وهذا التمحل يؤدي إليه اعتقاد هؤلاء أن القول بأنه صلى الله عليه وسلم تصدر عنه بعض الصغائر سهوا، يَغُضُّ من مقامه، وليس الأمر كذلك، بل الصواب أنها قد تصدر عنه صغائر سهوا أو خطأ، فينبَّه عليها ويتوب منها، فتكون منزلته عند الله عز وجل بعد التوبة أرقى منها قبل التوبة، وهو بذلك ينزقى من كمال إلى أكمل.
هـ - هل السهو يجوز عليهم؟
قال ابن حزم: " إنه يقع من الأنبياء السهو من غير قصد، ويقع منهم أيضا قصد الشيء يريدون به وجه الله تعالى والتقرب به منه، فيوافق خلاف
--------------------------------------------
পাপরাশিকে সগীরা (صغائر) ও কবীরা (كبائر) গুনাহে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহ অগণিত। তার মধ্যে আবু বাকরাহ্ বর্ণিত হাদিসটি অন্যতম: "আমি কি তোমাদেরকে কবীরা গুনাহসমূহের (الكبائر) মধ্যে সবচেয়ে বড়টি সম্পর্কে সংবাদ দেব না?" তিনি এটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করেন (১)। এই বিভাজনকে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে যে চরমপন্থা রয়েছে, তার বিপরীতে অন্য একটি চরমপন্থা বিদ্যমান। এর প্রবক্তারা মনে করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত—কোনোভাবেই সগীরা (صغائر) গুনাহ সংঘটিত হওয়া সম্ভব নয়। ইমামুল হারামাইন এবং ইবনুল কুশায়রী অধিকাংশ আলেমের পক্ষ থেকে এই মতটি বর্ণনা করেছেন (২)। তারা কিতাব ও সুন্নাহর এ সংক্রান্ত ডজন ডজন অবিচ্ছিন্ন (متواترة) বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেমন আল্লাহর বাণী:
{যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দেন} [আল-ফাতহ: ২] এবং তাঁর বাণী: {সুতরাং আপনি ধৈর্য ধরুন, নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য; আর আপনি আপনার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন} [গাফির: ৫৫] ।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস: "নিশ্চয়ই আমার অন্তরে আবরণ পড়ে, আর আমি প্রতিদিন আল্লাহর নিকট সত্তরবার ক্ষমা প্রার্থনা করি" (৩)। তারা এই সব কিছুকে নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্ববর্তী সময়ের ওপর, অথবা উত্তম কাজটি বর্জন করার ওপর চাপিয়েছেন, কিংবা এগুলোর ব্যাখ্যা (تأويل) প্রদান করেছেন। এই কৃত্রিম ব্যাখ্যার মূলে রয়েছে তাদের এই বিশ্বাস যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ভুলবশত কিছু সগীরা (صغائر) গুনাহ প্রকাশ পাওয়ার কথা বললে তাঁর উচ্চ মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করা হয়। কিন্তু বিষয়টি মোটেও তেমন নয়; বরং সঠিক মত হলো, তাঁর থেকে ভুলবশত বা অসাবধানতাবশত সগীরা (صغائر) গুনাহ প্রকাশ পেতে পারে, যা পরে তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় এবং তিনি তা থেকে তাওবা করেন। ফলে তাওবা করার পর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট তাঁর মর্যাদা তাওবা করার আগের চেয়ে আরও উচ্চতর হয় এবং এর মাধ্যমে তিনি পূর্ণতা থেকে আরও শ্রেষ্ঠতর পূর্ণতার দিকে উন্নীত হন।
ঙ - তাঁদের (নবীগণের) ক্ষেত্রে কি ভুল (السهو) হওয়া সম্ভব?
ইবনে হাজম বলেন: "নিশ্চয়ই নবীগণের পক্ষ থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল (السهو) সংঘটিত হয়; আবার কখনও কখনও তাঁরা কোনো কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে করার সংকল্প করেন, কিন্তু তা (বাস্তবে) বিপরীত হয়ে যায়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
مراد الله تعالى، إلا أنه تعالى لا يقرهم على شيء من هذين الوجهين أصلا، بل ينبههم على ذلك ولا يداثر (1) وقوعه منهم، ويظهر عزوجل ذلك لعباده ويبين لهم، كمافعل نبيُّه في سلامه من اثنتين، وقيامه من اثنتين، وربما عاتبهم على ذلك بالكلام كما فعل مع نبيه عليه السلام في أمر زينب أم المؤمنين، وطلاق زيد لها رضي الله عنهما وفي قصة ابن أم مكتوم رضي الله عنه " (2) .
وينبغي تقييد السهو منهم - كما ذهب إليه أكثر الفقهاء والمتكلمين - بالأفعال دون الأقوال، لأن الأدلة إنما جاءت في سهوهم في الأفعال، دون الأقوال، وقد حكى العلامة القاضي عياض الإجماع على امتناع السهو فيها (3) . وهذا هو الصواب الذي لا محيد عنه.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলার অভিপ্রায়; তবে তিনি তাঁদেরকে এই দুই বিষয়ের কোনোটির ওপরই মোটেও বহাল রাখেন না, বরং তিনি তাঁদেরকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দেন এবং তাঁদের থেকে তা ঘটার বিষয়টি উপেক্ষা (১) করেন না। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নিকট তা প্রকাশ করেন এবং তাঁদের জন্য স্পষ্ট করে দেন; যেমনটি তাঁর নবী দুই রাকাআত শেষে সালাম ফেরানো এবং দুই রাকাআত শেষে (না বসে) দাঁড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে করেছিলেন। কখনো কখনো তিনি কথার মাধ্যমে তাঁদেরকে এ নিয়ে তিরস্কারও করেন, যেমনটি তিনি নবী আলাইহিস সালামের সাথে উম্মুল মুমিনীন যয়নাব এবং তাঁর থেকে যায়দ (রা.)-এর তালাকের বিষয়ে এবং ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)-এর ঘটনায় করেছিলেন (২)।
আর তাঁদের পক্ষ থেকে ভুল হওয়াকে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত—যেমনটি অধিকাংশ ফকিহ এবং কালাম শাস্ত্রবিদগণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন—কার্যাবলির ক্ষেত্রে, বাণীর ক্ষেত্রে নয়। কেননা প্রমাণাদি কেবল কার্যাবলিতে তাঁদের ভুলের বিষয়ে এসেছে, বাণীর ক্ষেত্রে নয়। আল্লামা কাজী ইয়াদ বাণীর ক্ষেত্রে ভুল হওয়া অসম্ভব হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত (إجماع) বর্ণনা করেছেন (৩)। আর এটিই হলো সঠিক পথ যা থেকে বিচ্যুত হওয়ার সুযোগ নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الثاني: في اجتهاد الأنبياء عليهم السلامهذه المسألة هي التي سيبنى عليها جواب عنوان هذا الموضوع، وهو: هل السنة كلها وحي، أو فيها اجتهاد؟
وفي الموضوع قضايا متفق عليها، وقضايا مختلف فيها.
فأما المتفق عليه، فقد أجمعوا على جواز التعبد بالاجتهاد عقلا للأنبياء عليهم السلام كغيرهم من المجتهدين، وهذا الإجماع حكاه ابن فورك، والأستاذ أبو منصور (1) . وأجمعوا أيضا على جواز التعبد بالاجتهاد للأنبياء فيما يؤول إلى الأمور الدنيوية ومصالحها، وتدبير أمور الحروب، وما يحفظ بيضة الأمة وكيانها، وهذا الإجماعُ حكاه الزركشي (2) ونقله ابن النجار عن ابن مفلح (3) .
وأما المختلف فيه، فقد اختلفوا في اجتهاد الأنبياء عليهم الصلاة والسلام في الأمور الشرعية على أربعة مذاهب:
الأول: ذهبت الظاهرية وأكثر الأشاعرة والمعتزلة، إلى أنه لا يجوز لنبينا ولا لغيره من الأنبياء الاجتهاد في الشرعيات مطلقا، وقال القاضي أبو يعلى: إنه ظاهر كلام أحمد في رواية ابنه عبد الله (4) .
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবিগণের (আলাইহিমুস সালাম) ইজতিহাদ (اجتهاد) প্রসঙ্গেএই বিষয়টিই বর্তমান বিষয়ের শিরোনামের উত্তরের ভিত্তি হিসেবে গণ্য হবে, আর তা হলো: পুরো সুন্নাহ কি ওহি (وحي), নাকি এর মধ্যে ইজতিহাদ (اجتهاد) রয়েছে?
এই বিষয়ে কিছু বিষয় সর্বসম্মত (متفق عليه) এবং কিছু বিষয় মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه) রয়েছে।
সর্বসম্মত বিষয়ের ক্ষেত্রে বলা যায়, ওলামায়ে কেরাম অন্যান্য মুজতাহিদগণের (مجتهدين) ন্যায় নবিগণের (আলাইহিমুস সালাম) ক্ষেত্রেও বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির ভিত্তিতে ইজতিহাদ (اجتهاد) পালনের বৈধতার বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন। এই ঐকমত্যের (إجماع) কথা ইবনে ফুরাক এবং উস্তাদ আবু মানসুর বর্ণনা করেছেন। তাঁরা আরও ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, দুনিয়াবি বিষয়াদি ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রসমূহ, যুদ্ধের কলাকৌশল এবং উম্মতের সুরক্ষা ও অস্তিত্ব রক্ষাকারী বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে নবিগণের ইজতিহাদ (اجتهاد) পালন বৈধ। এই ঐকমত্যের (إجماع) কথা যারকাশি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে নাজ্জার একে ইবনে মুফলিহ থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
আর মতভেদপূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রে বলা যায়, শরিয়তের বিষয়াদিতে নবিগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) ইজতিহাদ (اجتهاد) করার ব্যাপারে চারটি মাযহাব বা মত রয়েছে:
প্রথম: যাহিরি সম্প্রদায় এবং অধিকাংশ আশআরি ও মুতাজিলাদের অভিমত হলো—আমাদের নবি বা অন্য কোনো নবির পক্ষেই শরিয়তের বিষয়গুলোতে নিঃশর্তভাবে ইজতিহাদ (اجتهاد) করা বৈধ নয়। কাজি আবু ইয়ালা বলেন: ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহর বর্ণনায় (رواية) তাঁর কথার বাহ্যিক দিক থেকে এটিই প্রতীয়মান হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الثاني: ذهب الجمهور ـ من الشافعية والمالكية والحنابلة، والحنفية ـ بشرط انتظار الوحي واليأسِ من نزوله عندهم – وبعضِ الأشاعرة، والقاضي عبد الجبار، وأبي الحسين البصري من المعتزلة، واختاره ابن الحاجب، والغزالي، والبيضاوي، وابن السبكي ـ إلى جواز ذلك لنبينا صلى الله عليه وسلم وغيره من الأنبياء، ووقع منه صلى الله عليه وسلم، وإذا اجتهد فهل يصيب دائما ولا يخطئ، أو يصيب ويخطئ كغيره من المجتهدين؟ فكل من قال بعصمته مطلقاً فإنه يصيب عنده دائما، وهو مذهب أبي جعفر السجستاني أيضا حكاه بقوله:" الله تعالى يصرفه عن الخطأ، ويهديه إلى الصواب " (1) .
الثالث: المنع مطلقا، وحُكي هذا المذهب عن أبي علي الجبائي، وابنه أبي هاشم (2) . وإذا جاز للنبي صلى الله عليه وسلم وغيره من الأنبياء الاجتهاد في الأحكام الشرعية، فهل وقع ذلك منهم؟ لأنه ليس كل ما جاز يقع، هذه المسألة قد ذهب أكثر المتكلمين، وبعض الشافعية إلى عدم الوقوع، وهو مذهب باطل بالأدلة الدامغة التي ستأتي.
الرابع: التوقف، وقد ذهب إليه قوم، واختاره الباقلاني، وزعم الصيرفي أنه مذهب الشافعي، لأنه حكى الأقوال، ولم يختر شيئا منها (3) .
قلت: قد نقل الرازي عن الشافعي قوله: "لا يجوز أن يكون في أحكام الرسول صلى الله عليه وسلم ما صدر عن الاجتهاد، وهو قول أبي يوسف (4) .
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: অধিকাংশ (جمهور) আলিম—শাফিয়ি, মালিকি, হাম্বলি এবং হানাফিগণ (তাদের শর্তানুযায়ী ওহির অপেক্ষা করা এবং তা না আসার ব্যাপারে নিরাশ হওয়ার সাপেক্ষে)—এবং কিছু আশআরি, মুতাজিলাদের মধ্য থেকে কাজী আব্দুল জব্বার ও আবু হুসাইন আল-বসরি এই মত পোষণ করেছেন। ইবনুল হাজিব, আল-গাযালি, আল-বায়যাবি এবং ইবনুস সুবকি এটিকেই গ্রহণ করেছেন। তারা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং অন্যান্য নবীদের জন্য ইজতিহাদ করা বৈধ (جائز) হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে এটি সংঘটিত হয়েছে। তিনি যখন ইজতিহাদ (اجتهاد) করতেন, তখন কি তিনি সর্বদা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতেন এবং কোনো ভুল করতেন না, নাকি অন্যান্য মুজতাহিদের মতো তিনিও সঠিক ও ভুল উভয়টিই করতে পারতেন? যারা নিরঙ্কুশভাবে তাঁর নিষ্পাপত্বের (عصمة) প্রবক্তা, তাদের মতে তিনি সর্বদা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতেন। এটি আবু জাফর আস-সিজিস্তানিরও মাযহাব (مذهب), তিনি একে এভাবে বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহ তাআলা তাঁকে ভুল থেকে ফিরিয়ে রাখেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে পরিচালিত করেন।" (১)।
তৃতীয়: নিরঙ্কুশভাবে নিষিদ্ধ (منع) হওয়া। এই মাযহাব (مذهب) আবু আলী আল-জুব্বায়ী এবং তাঁর পুত্র আবু হাশিম থেকে বর্ণিত হয়েছে (২)। যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং অন্যান্য নবীদের জন্য শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) করা বৈধ (جائز) হয়ে থাকে, তবে বাস্তবে কি তা তাঁদের পক্ষ থেকে সংঘটিত হয়েছিল? কারণ যা কিছু হওয়া সম্ভব, তার সবই বাস্তবে সংঘটিত হয় না। এই মাসআলায় অধিকাংশ কালামশাস্ত্রবিদ এবং কিছু শাফিয়ি আলিম ইজতিহাদ সংঘটিত না হওয়ার মত পোষণ করেছেন। তবে এটি একটি বাতিল (باطل) মত, যা পরবর্তীতে অকাট্য দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে।
চতুর্থ: কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছে বিরত থাকা (توقف)। একদল আলিম এই মতের দিকে গিয়েছেন এবং আল-বাকিলানি এটি পছন্দ করেছেন। আস-সাইরাফি দাবি করেছেন যে, এটি ইমাম শাফিয়ির মাযহাব (مذهب), কারণ তিনি বিভিন্ন মত বর্ণনা করেছেন কিন্তু কোনোটিকেই বেছে নেননি (৩)।
আমি বলছি: ইমাম আর-রাযি ইমাম শাফিয়ি থেকে তাঁর এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন: "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেওয়া বিধানসমূহের মধ্যে এমন কিছু থাকা বৈধ (جائز) নয় যা ইজতিহাদ (اجتهاد) থেকে উদ্ভূত হয়েছে।" এটি আবু ইউসুফেরও বক্তব্য (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وهذا فيه تصريح الشافعي بالمطلوب. ويعارضه ما نقله الواحدي في الوسيط من أَن مذهب الشافعي الجواز وهو الصواب (1) .
أدلة هذه المذاهب
أـ أدلة المذهب الأول
استدل المذهب الأول المخصص للاجتهاد بالأمور الدنيوية بالكتاب والسنة والمعقول:
أ - فأما الكتاب فقد استدل بمايلي:
(1) قوله تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:3-4] . ووجه الدلالة من الآية أن الله تعالى حصر ما ينطق به النبي صلى الله عليه وسلم في أنه وحْيٌ يوحى إليه، فلو كان يجتهد في الأحكام، لما صح هذا الحصر، ولكان بعض ما ينطق به، وحيا وبعضه اجتهادا، فلما حصر نطقَه في أحد القسمين، دل ذلك على نفي الثاني عنه، وهذا الحصر وقع، بـ"إِنْ" و"إِلَاّ" الدالتين على قصر الموصوف على الصفة.
قال ابن حزم: "لما بينا أن القرآن هو الأصل المرجوع إليه في الشرائع، نظرنا فيه، فوجدنا فيه إيجاب طاعة ما أمرنا به رسول الله صلى الله عليه وسلم ووجدناه عز وجل يقول فيه -واصفا لرسوله صلى الله عليه وسلم:" وما ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى" فصح لنا بذلك أن الوحي ينقسم من الله عز وجل إلى رسوله صلى الله عليه وسلم على قسمين: أحدهما وحي متلوٌّ مؤلف تأليفا معجز النظام وهو القرآن.
--------------------------------------------
এতে অভীষ্ট বিষয়ের ওপর ইমাম শাফিঈর সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে। আর এর বিপরীতে আল-ওয়াহিদি 'আল-ওয়াসিত' গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন তা হলো—ইমাম শাফিঈর মাযহাব অনুযায়ী এটি বৈধ (جواز), আর এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত (১)।
এই মাযহাবসমূহের দলীলসমূহ
ক— প্রথম মাযহাবের দলীলসমূহ
প্রথম মাযহাবের প্রবক্তাগণ, যারা ইজতিহাদকে (اجتهاد) কেবল পার্থিব বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট করেন, তারা কুরআন, সুন্নাহ এবং আকলি (যৌক্তিক) প্রমাণের মাধ্যমে দলীল পেশ করেছেন:
ক - কুরআন থেকে তারা নিম্নোক্ত দলীলসমূহ পেশ করেছেন:
(১) আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহী (وحي), যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়} [নাজম: ৩-৪]। আয়াতটি থেকে দলীলের দিকটি হলো—আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা উচ্চারণ করেন তা ওহী (وحي) হিসেবেই সীমাবদ্ধ করেছেন। সুতরাং তিনি যদি আহকাম বা বিধানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) করতেন, তবে এই সীমাবদ্ধকরণ সঠিক হতো না। সেক্ষেত্রে তাঁর উচ্চারিত কিছু বিষয় হতো ওহী (وحي) এবং কিছু হতো ইজতিহাদ (اجتهاد)। যেহেতু তাঁর বক্তব্যকে একটি প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, তাই এটি তাঁর থেকে দ্বিতীয় প্রকারটিকে নাকচ করে দেয়। আর এই সীমাবদ্ধকরণটি "ইন" (إِنْ) এবং "ইল্লা" (إِلَاّ) শব্দদ্বয়ের মাধ্যমে করা হয়েছে যা গুণী ব্যক্তিকে গুণের মধ্যে সীমাবদ্ধ (قصر) রাখার অর্থ প্রদান করে।
ইবনে হাজম বলেন: "যখন আমরা স্পষ্ট করলাম যে, শরিয়তের বিধিবিধানের ক্ষেত্রে কুরআনই হলো মূল ভিত্তি (أصل), তখন আমরা তাতে লক্ষ্য করলাম এবং সেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত বিষয়সমূহ আনুগত্য করার আবশ্যকতা খুঁজে পেলাম। আমরা আরও দেখতে পেলাম যে, মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে পবিত্র কুরআনে বলেছেন: 'আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহী যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।' এর মাধ্যমে আমাদের নিকট এটি সুনিশ্চিত হলো যে, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবতীর্ণ ওহী (وحي) দুই প্রকার: এর একটি হলো তিলাওয়াতকৃত ওহী (وحي متلو), যা এক অলৌকিক বিন্যাসে সংকলিত, আর তা হলো কুরআন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والثاني وحي مروي منقول غير مؤلف ولا معجز ولا متلو، لكنه، مقروء، وهو الخبر الوارد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو المبين عن الله عزوجل مراده منا، قال الله تعالى: {لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل:44] ووجدناه تعالى قد أوجب طاعة هذا القسم الثاني كما أوجب طاعة القسم الأول الذي هو القرآن ولا فرق .... والقرآن والخبر الصحيح، بعضُها مضاف إلى بعض، وهما شيء واحد في أنهما من عند الله تعالى، وحكمهُما حكم واحد في وجوب الطاعة لهما .... ونحن إذ أطعنا أمر نبينا صلى الله عليه وسلم، لِعِلْمنا أنه كله من عند الله عز وجل، وأنه لا يقول من تلقاء نفسه شيئا " (1) .
وبهذا قال بعض المفسرين، قال القرطبي:" وفيها أيضا دلالة على أن السنة، كالوحي المنزل في العمل.. (2) وقال الرازي" هو" ضميرُ معلومٍ أو ضميرُ مذكورٍ، نقول: فيه وجهان: أشهرهما أنه ضمير معلوم، وهو القرآن، كأنه يقول: ما القرآن إلا وحي
…والوجه الثاني أنه عائد إلى مذكور ضمناً وهو قول النبي صلى الله عليه وسلم وكلامُه، وذلك لأن قوله تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى} في ضمنه النطق وهو كلام وقول، فكأنه تعالى يقول: وما كلامه – وهو نطْقُه – إلا وحي (3) .
وقال الشنقيطي:" هذه الآية تدل بظاهرها على أن النبي صلى الله عليه وسلم لا يجتهد في شيء، وقد جاءت آيات أخر تدل على أنه ربما اجتهد في
--------------------------------------------
এবং দ্বিতীয় প্রকার হলো বর্ণিত ও পরষ্পরাগত (منقول) ওহি, যা কোনো সংকলিত রচনা নয়, মুজিজাস্বরূপ নয় এবং (নামাজে) তিলাওয়াত করা হয় না, তবে তা পাঠ করা হয়। আর এটি হলো আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সংবাদ (الخبر), যা আমাদের নিকট মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যকে স্পষ্টকারী। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যাতে আপনি মানুষের কাছে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে} [আন-নাহল: ৪৪]। আমরা দেখতে পাই যে, মহান আল্লাহ এই দ্বিতীয় প্রকারের আনুগত্যকে আবশ্যক করেছেন যেমন তিনি প্রথম প্রকার তথা কুরআনের আনুগত্যকে আবশ্যক করেছেন এবং এ দুয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই... কুরআন এবং সহিহ (الصحيح) সংবাদ (الخبر) একে অপরের পরিপূরক। এ উভয়টিই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার দিক দিয়ে এক এবং অভিন্ন। আর এ দুটির আনুগত্য ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে বিধানও এক... আমরা যখন আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশের আনুগত্য করি, তখন তা এই জ্ঞানের ভিত্তিতেই করি যে, এর সবকিছুই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তিনি নিজের পক্ষ থেকে কিছুই বলেন না। (১)
এ বিষয়ে অনেক মুফাসসির মত দিয়েছেন; ইমাম কুরতুবি বলেন: "এতে আরও প্রমাণ রয়েছে যে, আমল করার ক্ষেত্রে সুন্নাহ অবতীর্ণ ওহির মতোই।" (২) ইমাম রাজি বলেন: "'هو' (এটি) একটি পরিচিত বিষয়ের সর্বনাম অথবা পূর্বে উল্লেখিত বিষয়ের সর্বনাম। আমরা বলি: এতে দুটি অভিমত রয়েছে। সবচেয়ে প্রসিদ্ধটি হলো এটি একটি পরিচিত বিষয়ের সর্বনাম, আর তা হলো কুরআন। যেন বলা হচ্ছে: কুরআন ওহি ছাড়া আর কিছুই নয়
… আর দ্বিতীয় অভিমতটি হলো এটি পরোক্ষভাবে উল্লেখিত বিষয়ের দিকে ফিরছে, আর তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা ও বাণী। কেননা আল্লাহর বাণী: {তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না} এর মধ্যে 'উচ্চারণ' নিহিত রয়েছে, যা হলো কথা ও বাণী। ফলে মহান আল্লাহ যেন বলছেন: তাঁর কথা—যা তাঁর উচ্চারণ—তা ওহি ছাড়া আর কিছুই নয়। (৩)
ইমাম শানকিতি বলেন: "এই আয়াতের বাহ্যিক অর্থ নির্দেশ করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো বিষয়ে ইজতিহাদ (اجتهد) করেন না। তবে অন্যান্য আয়াত এসেছে যা নির্দেশ করে যে, সম্ভবত তিনি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهد) করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بعض الأمور .... والجواب عن هذا من وجهين: الأول هو الذي اقتصر عليه ابن جرير، وصدر به ابن الحاجب في مختصره الأصولي، أن معنى قوله تعالى:" وما ينطق عن الهوى " أي في كل ما يبلغه عن الله " إن هو " أي كلُّ ما يبلغه عن الله "إلا وحي" من الله، لأنه لا يقول على الله شيئا إلا بوحي منه، فالآية رد على الكفار حيث قالوا: إن النبي صلى الله عليه وسلم افترى هذا القرآن كما قال ابن الحاجب. والوجه الثاني أنه إن اجتهد، فإنه إنما يجتهد بوحي من الله، يأذن له به في ذلك الاجتهاد، وعليه فاجتهاده بوحي فلا منافاة" (1) .
وقال ابن كثير:" وما ينطق عن الهوى " أي ما يقول قولا عن هوى وغرض " إن هو إلا وحي يوحى " أي إنما يقول ما أُمر به، يبلغه إلى الناس كاملا موفرا، من غير زيادة ولا نقصان " (2) .
(2) قوله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9] . ووجه الدلالة من الآية أن الله تعالى تكفل بحفظ الذكر الذي أنزله، والذكْرُ يشمل الكتاب والسنة، فكلاهما منزل من عند الله بنص الآية، وكلاهما محفوظ، كما هو مدرك بالمشاهدة والعيان. قال ابن حزم:" وضمان الله تعالى، قد صح في حفظ كل ما قاله رسول الله صلى الله عليه وسلم " (3) .
(3) قوله تعالى: {قُلْ إِنَّمَا أُنْذِرُكُمْ بِالْوَحْيِ} [الأنبياء:45] ووجه الدلالة من الآية أن الله تعالى حصر نِذاَرة النبي صلى الله عليه وسلم لقومه
--------------------------------------------
কিছু বিষয় .... এবং এর উত্তর দুটি দিক থেকে হতে পারে: প্রথমটি হলো যার মধ্যে ইবনে জারির সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং ইবনে আল-হাজিব তাঁর উসুল সংক্রান্ত সংক্ষেপিত গ্রন্থে (মুখতাসার) যা দিয়ে শুরু করেছেন, তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর তিনি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কথা বলেন না" অর্থাৎ আল্লাহ সম্পর্কে তিনি যা কিছু প্রচার করেন তার সবই; "তা তো কেবল ওহি (وحي)" অর্থাৎ আল্লাহ সম্পর্কে তিনি যা কিছু প্রচার করেন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি (وحي) ব্যতীত আর কিছু নয়। কারণ তিনি আল্লাহর নামে ওহি (وحي) ব্যতীত কোনো কথা বলেন না। সুতরাং আয়াতটি কাফেরদের কথার প্রতিবাদ স্বরূপ, যখন তারা বলেছিল যে, নবী (সা.) এই কুরআন নিজে রচনা করেছেন, যেমনটি ইবনে আল-হাজিব উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় দিকটি হলো, তিনি যদি ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি (وحي)-এর মাধ্যমেই করেন, যা তাঁকে সেই ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর অনুমতি দেয়। অতএব, তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) ওহি (وحي)-এর মাধ্যমেই হয়, তাই এতে কোনো বৈপরীত্য নেই" (১)।
ইবনে কাসির বলেন: "আর তিনি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কথা বলেন না" অর্থাৎ তিনি নিজ প্রবৃত্তি ও উদ্দেশ্যে কোনো কথা বলেন না। "তা তো কেবল ওহি (وحي) যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়" অর্থাৎ তিনি কেবল যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই বলেন, যা তিনি মানুষের নিকট পরিপূর্ণ ও অবিকলভাবে পৌঁছান, কোনো বৃদ্ধি বা হ্রাস ছাড়াই" (২)।
(২) মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি উপদেশ (যিকর) নাযিল করেছি এবং আমিই এর হিফাজতকারী} [হিজর: ৯]। আয়াত থেকে প্রমাণের দিক (وجه الدلالة) হলো এই যে, মহান আল্লাহ তাঁর অবতীর্ণ উপদেশ (যিকর) সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আর যিকর কিতাব ও সুন্নাহ (سنة) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ আয়াতের ভাষ্য অনুযায়ী উভয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং উভয়ই সংরক্ষিত, যা পর্যবেক্ষণ ও প্রত্যক্ষ প্রমাণের মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়। ইবনে হাজম বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) যা কিছু বলেছেন, তা সংরক্ষণের বিষয়ে আল্লাহর জিম্মাদারী বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে" (৩)।
(৩) মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমি তো কেবল ওহি (وحي)-এর মাধ্যমেই তোমাদের সতর্ক করি} [আম্বিয়া: ৪৫]। আয়াত থেকে প্রমাণের দিক (وجه الدلالة) হলো এই যে, মহান আল্লাহ তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট নবী (সা.)-এর সতর্ক করার বিষয়টি ওহি (وحي)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فيما أوحى إليه، ونذارتُه لهم كانت بالقرآن والسنة يقينا، فدل ذلك على أن السنة وحي كالقرآن.
قال ابن حزم -معلقا على هاتين الآيتين-:" فأخبر تعالى كما قدمنا، أن كلام نبيه صلى الله عليه وسلم كله وحي، والوحي كله محفوظ بحفظ الله عزّوجل، مضمون لنا أنه لا يضيع منه شيء؛ إذ ما حفظ الله تعالى بلا خلاف ذكْر، والذكر محفوظ بنص القرآن، فصح بذلك أن كلامه صلى الله عليه وسلم كله محفوظ بحفظ الله عزّوجل، مضمون لنا أنه لا يضيع منه شيء؛ إذ ما حفظ الله تعالى فهو باليقين لا سبيل إلى أن يضيع منه شيء، فهو منقول إلينا كله، فلله الحجة علينا أبدا "
… (1) .
(4) قوله تعالى: {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ، ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} [القيامة:18-19] . ووجه الدلالة من الآيتين، أن الله تعالى أمر نبيه باتباع قراءة جبريل، والإنصاتِ لها، ثم بعدها تكفل الله له أن يبين له معاني ما قرأ وسمع. والبيانُ إنما وقع بالسنة، فدل ذلك على أن السنة من عند الله، كالقرآن سواء، لأن الله تعالى أضاف البيان لنفسه، فأفاد ذلك أن الرسول صلى الله عليه وسلم إنما يتلقاه منه.
قال ابن حزم:" فأخبر تعالى أن بيان القرآن عليه عز وجل، وإذا كان عليه، فبيانه من عنده تعالى، والوحي كله - متلوُّه وغير متلوه - فهو من عند الله عز وجل " (2) .
(5) قوله تعالى: {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً} [النساء:82] . قال ابن حزم:" فصح بهذه الآية صحة ضرورية، أن
--------------------------------------------
যা কিছু তাঁর কাছে প্রত্যাদেশ (وحي) করা হয়েছে তাতে; আর তাদের প্রতি তাঁর সতর্কবাণী নিশ্চিতভাবেই কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে ছিল। এটি প্রমাণ করে যে, সুন্নাহ কুরআনের মতোই একটি প্রত্যাদেশ (وحي)।
ইবনে হাজম —এই আয়াতদ্বয়ের ব্যাখ্যায়— বলেন: "আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাবতীয় কথা হলো প্রত্যাদেশ (وحي), আর সমস্ত প্রত্যাদেশ (وحي) মহান আল্লাহর হেফাজতের মাধ্যমে সংরক্ষিত, যা আমাদের জন্য সুনিশ্চিত যে এর কোনো কিছুই হারিয়ে যাবে না; কেননা আল্লাহ তাআলা যা সংরক্ষণ করেছেন তা কোনো দ্বিমত ছাড়াই 'জিকির' (ذكر), আর জিকির কুরআনের অকাট্য ভাষ্য (نص) দ্বারা সংরক্ষিত। ফলে এটি প্রমাণিত হলো যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাবতীয় কথা মহান আল্লাহর সংরক্ষণে সংরক্ষিত, যা আমাদের জন্য সুনিশ্চিত যে এর কোনো কিছুই হারিয়ে যাবে না। কারণ আল্লাহ তাআলা যা সংরক্ষণ করেছেন, তাতে নিশ্চিতভাবেই কোনো কিছু বিলুপ্ত হওয়ার কোনো পথ নেই। সুতরাং এটি পূর্ণাঙ্গরূপে আমাদের নিকট বর্ণিত (منقول) হয়েছে। অতএব, আমাদের উপর সর্বদা আল্লাহরই দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত।"
… (১) ।
(৪) আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। তারপর তার বর্ণনা (بيان) প্রদানের দায়িত্ব অবশ্যই আমার।} [কিয়ামাহ: ১৮-১৯]। এই আয়াতদ্বয় থেকে প্রমাণের দিকটি হলো, আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে জিবরাঈলের পাঠ অনুসরণ করার এবং তা মনোযোগ দিয়ে শোনার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আল্লাহ স্বয়ং তাঁর পঠিত ও শ্রুত বিষয়ের অর্থসমূহ বর্ণনা (بيان) করে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। আর এই বর্ণনা (بيان) সুন্নাহর মাধ্যমেই সংঘটিত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, সুন্নাহ ঠিক কুরআনের মতোই আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত; কারণ আল্লাহ তাআলা বর্ণনা (بيان)-কে নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। এটি একথাই প্রকাশ করে যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা মূলত তাঁর কাছ থেকেই গ্রহণ করেন।
ইবনে হাজম বলেন: "আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, কুরআনের বর্ণনা (بيان) প্রদানের দায়িত্ব মহান আল্লাহর। আর যখন তা তাঁর দায়িত্বে, তখন সেই বর্ণনা (بيان) মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই। সুতরাং প্রত্যাদেশ (وحي) —পঠিত (متلو) হোক কিংবা অপঠিত (غير متلو)— সবই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে।" (২) ।
(৫) আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা তাতে অনেক মতপার্থক্য (اختلاف) দেখতে পেত।} [নিসা: ৮২]। ইবনে হাজম বলেন: "এই আয়াতের মাধ্যমে অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয় যে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
القرآن والحديث الصحيح متفقان، هما شيء واحد، لا تعارض بينهما ولا اختلاف، يوفق الله تعالى لفهم ذلك من شاء من عباده، ويحرمه من شاء، لا إله إلا هو
… وصح بما ذكرنا بطلانُ قول من ضرب القرآن بعضه ببعض، أو ضرب الحديث الصحيح بعضه ببعض، كضرب القرآن والحديث بعضهما ببعض
…ونحن إنما أطعنا أمر نبينا عليه السلام، لعلمنا أنه كله من عند الله، وأنه لا يقول من تلقاء نفسه شيئا
…" (1) .
(6) قوله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [النحل:44] ووجه الدلالة من الآية أن الله تعالى أخبر نبيه صلى الله عليه وسلم أنه أنزل إليه الذكر ليبينه للناس، والذكْرُ هو الكتاب والسنة، فكل منهما ذكر، ووظيفته صلى الله عليه وسلم بيان الذكر النازل من عند الله، فصح بهذا التعميم، أن السنة من عند الله كالقرآن، وأنه يوحى إليه صلى الله عليه وسلم بها كما يوحى إليه بالقرآن، ومن خص الآية بالقرآن وحده، فليس عنده دليل يجب التسليم له، وتقوم الحجة به على التخصيص، والأصل هو العموم، والتخصيص استثناء، ومدَّعِي الاستثناء، عليه الدليل.
قال ابن حزم:" بل فيها بيان جلي، ونص ظاهر أنه أنزل تعالى عليه الذكر ليبينه للناس، والبيان هو بالكلام، فإذا تلاه النبي صلى الله عليه وسلم فقد بينه، ثم إن كان مجملا لا يفهم معناه من لفظه، بيَّنَه حينئذ بوحي يوحى إليه، إما متلو أو غير متلو
…" (2) .
--------------------------------------------
কুরআন এবং সহিহ (صحيح) হাদিস পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ; তারা মূলত একই বিষয়। তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা বৈপরীত্য নেই। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এটি বোঝার তৌফিক দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা তা থেকে বঞ্চিত করেন। তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই
… আর আমরা যা উল্লেখ করেছি তার দ্বারা সেই ব্যক্তির বক্তব্যের অসারতা প্রমাণিত হয়েছে যে কুরআনের এক অংশের সাথে অন্য অংশের সংঘাত সৃষ্টি করে, অথবা সহিহ (صحيح) হাদিসের এক অংশের সাথে অন্য অংশের সংঘাত সৃষ্টি করে, যেমনটি কুরআন ও হাদিসের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টির মাধ্যমে করা হয়
… আর আমরা কেবল আমাদের নবী আলাইহিস সালামের নির্দেশের আনুগত্য করি, কারণ আমরা জানি যে এর সবটুকুই আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তিনি নিজের পক্ষ থেকে কিছুই বলেন না
…" (১) ।
(৬) আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে} [আন-নাহল: ৪৪]। এই আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণের দিকটি হলো, আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবহিত করেছেন যে, তিনি তাঁর প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি তা মানুষের নিকট স্পষ্ট করেন। আর যিকির হলো কিতাব ও সুন্নাহ, তাই এদের প্রতিটিই যিকির। আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দায়িত্ব হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ যিকিরের ব্যাখ্যা প্রদান করা। সুতরাং এই ব্যাপকতার (عموم) মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হলো যে, সুন্নাহ কুরআনের মতোই আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত, এবং কুরআনের মতো সুন্নাহও তাঁর প্রতি ওহী হিসেবে অবতীর্ণ করা হয়। আর যে ব্যক্তি এই আয়াতটিকে কেবল কুরআনের জন্য নির্দিষ্ট করবে, তার নিকট এমন কোনো প্রমাণ নেই যা মেনে নেওয়া আবশ্যক এবং যার দ্বারা এই নির্দিষ্টকরণের (تخصيص) স্বপক্ষে দলিল (حجة) কায়েম করা যায়। মূল নীতি হলো ব্যাপকতা (عموم), আর নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) হলো একটি ব্যতিক্রম; আর যে ব্যক্তি ব্যতিক্রমের দাবি করে, প্রমাণ উপস্থাপনের দায়িত্ব তার ওপরই বর্তায়।
ইবনে হাজম বলেন: "বরং এতে সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং অকাট্য পাঠ (نص) রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর যিকির অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি তা মানুষের নিকট স্পষ্ট করেন। আর এই বর্ণনা প্রদান হলো বক্তব্যের মাধ্যমে। সুতরাং যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পাঠ করেন, তখন তিনি তা স্পষ্ট করে দেন। অতঃপর তা যদি এমন সংক্ষিপ্ত (مجمل) হয় যার অর্থ তার শব্দ থেকে অনুধাবন করা না যায়, তবে তিনি তখন তাঁর প্রতি প্রেরিত ওহীর মাধ্যমে তা ব্যাখ্যা করেন—তা তিলাওয়াতকৃত (متلو) ওহী হোক কিংবা অ-তিলাওয়াতকৃত (غير متلو) ওহী হোক
…" (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(7) قوله تعالى: {قُلْ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أُبَدِّلَهُ مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِي إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ} [يونس: 15] . قال ابن حزم: " فلو أنه صلى الله عليه وسلم شرَّع شيئا لم يوح إليه به، لكان مبدلا للدين من تلقاء نفسه، وكل من أجاز هذا، فقد كفر وخرج عن الإسلام، وبالله تعالى نعوذ من الخذلان " (1) .
(8) قوله تعالى: {وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ، لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ} [الحاقة:44-45] . ووجه الدلالة أن الله تعالى نفى عن نبيه صلى الله عليه وسلم أن يتقول عليه شيئا لم يُوحَ به إليه، ولا أن ينسب إليه شيئا لم يأذن له فيه، والاجتهاد في الأحكام الشرعية مظنة الزلل، لأن الخطأ فيها وارد، فإذا نُفِي الزلل، نفي سببه الذي هو الاجتهاد، ونفْيُ الملزوم يستدعي نفي اللازم بالضرورة، لأن اللازم لا يوجد بدون ملزومه، والزللُ لازم الاجتهاد، فنفيه نفي لاجتهاده عليه السلام.
قال ابن حزم:" إن من ظن أن الاجتهاد يجوز لهم في شرع شريعة لم يوح إليهم فيها، فهو كفر عظيم، ويكفي من إبطال ذلك أمره تعالى نبيه عليه السلام أن يقول:" إن أتبع إلا ما يوحى إلي "
… (2) .
ب - وأما السنة النبوية، فقد استدلوا منها بمايلي:
(1) حديث أبي هريرة – رضي الله عنه – قال: سئل النبي صلى الله عليه وسلم عن الحمر فقال: " ما أُنزل علي فيها شيء إلا هذه الآية الفاذة
--------------------------------------------
(7) মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমার নিজের পক্ষ থেকে এটি পরিবর্তন করার কোনো অধিকার আমার নেই। আমার প্রতি যা ওহি (وحي) নাজিল করা হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি} [ইউনুস: ১৫]। ইবনে হাজম বলেন: "যদি তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোনো বিধান প্রণয়ন করতেন যা তাঁর প্রতি ওহি (وحي) হিসেবে অবতীর্ণ হয়নি, তবে তিনি নিজের পক্ষ থেকে দ্বীন পরিবর্তনকারী হতেন। আর যে ব্যক্তি একে বৈধ মনে করবে, সে কুফরি করল এবং ইসলাম থেকে বের হয়ে গেল। আমরা আল্লাহর কাছে লাঞ্ছনা থেকে আশ্রয় চাই" (১)।
(8) মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি যদি আমার নামে কোনো কথা বানিয়ে বলতেন, তবে আমি অবশ্যই তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম} [আল-হাক্কাহ: ৪৪-৪৫]। প্রমাণের দিকটি হলো, মহান আল্লাহ তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর এমন কোনো কথা আরোপ করা অস্বীকার করেছেন যা তাঁর প্রতি ওহি (وحي) করা হয়নি, এবং তাঁর ওপর এমন কিছু সম্বন্ধ করাও অস্বীকার করেছেন যার অনুমতি তাঁকে দেওয়া হয়নি। আর শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) হলো পদস্খলনের উৎস, কারণ এতে ভুলের সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং যখন পদস্খলনকে অস্বীকার করা হলো, তখন তার কারণ তথা ইজতিহাদকেও (اجتهاد) অস্বীকার করা হলো। আর আবশ্যিক বিষয়কে (ملزوم) অস্বীকার করা মানে তার অপরিহার্য অনুষঙ্গকে (لازم) আবশ্যিকভাবেই অস্বীকার করা, কারণ অপরিহার্য অনুষঙ্গ (لازم) তার মূল আবশ্যিক বিষয় (ملزوم) ছাড়া অস্তিত্ব লাভ করতে পারে না। আর পদস্খলন হলো ইজতিহাদের (اجتهاد) একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ (لازم); তাই পদস্খলনকে অস্বীকার করা মানে তাঁর (আলাইহিস সালাম) ইজতিহাদকে (اجتهاد) অস্বীকার করা।
ইবনে হাজম বলেন: "যে ব্যক্তি মনে করে যে, তাঁদের (নবীগণের) জন্য এমন কোনো শরয়ি বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) করা বৈধ যার ব্যাপারে তাঁদের প্রতি কোনো ওহি (وحي) নাজিল হয়নি, তবে তা হবে চরম কুফরি। আর এটি বাতিলের জন্য মহান আল্লাহর সেই নির্দেশই যথেষ্ট যা তিনি তাঁর নবীকে (আলাইহিস সালাম) বলতে বলেছেন: 'আমি কেবল তারই অনুসরণ করি যা আমার প্রতি ওহি (وحي) করা হয়'..." (২)।
খ - আর সুন্নাহর দলিলসমূহের মধ্য থেকে তাঁরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন:
(1) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "এই অনন্য আয়াতটি ব্যতীত এ বিষয়ে আমার প্রতি আর কিছুই নাজিল করা হয়নি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আয়িত সাঈদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الجامعة {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْراً يَرَهُ، وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرّاً يَرَهُ} [الزلزلة:7-8] (1) .
ووجه الدلالة من الحديث أنه صلى الله عليه وسلم سئل عن حكم الحمر، فأجاب بأنه لم ينزل عليه فيها شيء، فلو كان يجوز له الاجتهاد لاجتهد في حكمها، وأجاب السائل بما أداه إليه اجتهاده، فلما لم يجتهد في النازلة مع وجود الداعي، وأحال السائلَ على عموم الآية، دل ذلك على أن كل ما يقوله، إنما يقوله بوحي.
(2) حديث جابر قال:" جاءت امرأة سعد بن الربيع بابنتيها من سعد إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقالت: يا رسول الله، هاتان ابنتا سعد بن الربيع، قتل أبوهما معك يوم أحد شهيدا، وإن عمهما أخذ مالهما، فلم يدَعْ لهما مالا، ولا تنكحان إلا ولهما مال، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: " يقضي الله في ذلك " فنزلت آية الميراث فبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى عمهما فقال: " أعط ابنتي سعد الثلثين، وأعط أمهما الثمن، وما بقي فهو لك " (2) .
ج - وأما الأدلة العقلية، فقد استدلوا بمايلي:
--------------------------------------------
ব্যাপক অর্থবোধক (الجامعة) আয়াত: {অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ ভালো কাজ করলে সে তা দেখবে, আর কেউ অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করলে সে তা দেখবে} [সূরা আয-যিলযাল: ৭-৮] (১)।
হাদিসটি থেকে প্রমাণের দিক (وجه الدلالة) হলো যে, তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গাধার বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন যে, এই বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো ওহি নাযিল হয়নি। যদি তাঁর জন্য ইজতিহাদ (اجتهاد) করা বৈধ হতো, তবে তিনি এর বিধানে ইজতিহাদ (اجتهاد) করতেন এবং তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) অনুযায়ী প্রশ্নকারীকে উত্তর দিতেন। যেহেতু প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তিনি এই নতুন উদ্ভূত মাসআলায় ইজতিহাদ (اجتهاد) করেননি এবং প্রশ্নকারীকে আয়াতের সাধারণ ব্যাপকতার দিকে নির্দেশ করেছেন, এটি প্রমাণ করে যে তিনি যা কিছু বলেন তা কেবল ওহির মাধ্যমেই বলেন।
(২) জাবির (রা.)-এর হাদিস, তিনি বলেন: "সা’দ ইবনুর রাবি’-এর স্ত্রী তাঁর দুই কন্যাকে সাথে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এরা সা’দ ইবনুর রাবি’-এর দুই কন্যা। তাদের পিতা ওহুদ যুদ্ধে আপনার সাথে থাকা অবস্থায় শহিদ হয়েছেন। তাদের চাচা তাদের সমস্ত সম্পদ নিয়ে নিয়েছেন এবং তাদের জন্য কোনো সম্পদই বাকি রাখেননি। সম্পদ না থাকলে তাদের বিয়ে দেওয়াও সম্ভব নয়। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'আল্লাহ এ বিষয়ে ফয়সালা করবেন।' এরপর মীরাসের আয়াত নাযিল হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের চাচার কাছে লোক পাঠিয়ে বললেন: 'সা’দের দুই কন্যাকে দুই-তৃতীয়াংশ দাও এবং তাদের মাতাকে এক-অষ্টমাংশ দাও, আর যা অবশিষ্ট থাকে তা তোমার।'" (২)।
গ - আর বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলের (الأدلة العقلية) ক্ষেত্রে তারা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন:
--------------------------------------------