(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: -)
السنة النبوية وحي - أبو لبابة بن الطاهر حسين   (أبو لبابة بن الطاهر حسين)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: السنة النبوية وحي من الله محفوظة كالقرآن الكريم

المؤلف: أبو لبابة بن الطاهر حسين

الناشر: مطبعة الملك فهد

عدد الصفحات: 56

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহ (سنة) নববী হলো ওহি (وحي) - আবু লুবাবা বিন আল-তাহির হুসাইন   (আবু লুবাবা বিন আল-তাহির হুসাইন)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


বই: সুন্নাহ (سنة) নববী আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহি (وحي), যা পবিত্র কুরআনের মতোই সংরক্ষিত

লেখক: আবু লুবাবা বিন আল-তাহির হুসাইন

প্রকাশক: কিং ফাহদ প্রিন্টিং প্রেস

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬

[গ্রন্থের নম্বরকরণ মুদ্রণ সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌تمهيد:

صبُّ عنايتنا في هذا البحث على قضيّة واحدة هي إثبات أنّ السنّة الصحيحة التي توافرت فيها شروط القبول وحي من الله مبرّأ من الخطأ معصوم من التضارب والخلل لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه. ولن نتعرّض لتعريف السنّة ولا لبيان مكانتها من التشريع ولا لنسبتها من الكتاب ولا لحجّيتها ووجوب العمل بها وغيرها من المباحث إلا عند الضرورة القصوى وبما يخدم هدفنا من هذا البحث.

والسنّة التي نريد أن نثبت كونها وحيا تعني ما ثبتت نسبته إلى النبيّ صلى الله عليه وسلم من أقواله وأفعاله وإقراراته، وهي التي أطلق عليها النبيّ عليه الصلاة والسلام اسم "الهدي " فقال: "وأحسن الهدي هدي محمد" كما عبّر عنها الصحابة بالهدي سيرا على نهج الرسول القويم فقالوا: "وخير الهدي هدي محمّد صلى الله عليه وسلم"، وعبّر عنها سلف الأمّة بالعلم (1) . ذلك أنّهم كانوا يفرّقون بين العلم والرأي فيقولون للسنّة علم ولما عداها رأي.

--------------------------------------------

(1) روى البخاريّ عن عبد الله بن مسعود قوله: "إنّ أحسن الحديث كتاب الله وأحسن الهدي هدي محمد" لاعتصام - باب الاقتداء سنن رسول الله (حديث 7309 فتح الباري13/263. وقد عنون الخطيب البغداديّ في القرن الخامس كتابه حول كتابة السنّة النبويّة بقوله: "تقييد العلم"، "تحقيق يوسف العشّ - دار إحياء السنّة النبويّة - ط2، 1974م"، وانظر تسمية السلف السنّة علما، (فتح الباري 13/304) .
উপক্রমণিকা:

এই গবেষণায় আমরা একটিমাত্র বিষয়ের ওপর আমাদের মনোযোগ নিবদ্ধ করেছি, আর তা হলো এটি প্রমাণ করা যে, যে বিশুদ্ধ (صحيحة) সুন্নাহর মধ্যে গ্রহণের শর্তাবলি (شروط القبول) বিদ্যমান রয়েছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহি (وحي); যা ভুলভ্রান্তি থেকে মুক্ত এবং পারস্পরিক বৈপরীত্য ও ত্রুটি থেকে সুরক্ষিত। এর সম্মুখ বা পশ্চাৎ—কোনো দিক থেকেই বাতিল বা মিথ্যা এতে প্রবেশ করতে পারে না। অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ব্যতিরেকে এবং এই গবেষণার উদ্দেশ্য হাসিল হয় এমন ক্ষেত্র ছাড়া আমরা সুন্নাহর সংজ্ঞা, শরিয়ত প্রণয়নে এর গুরুত্ব, কিতাবুল্লাহর সাথে এর সম্পর্ক, এর প্রমাণযোগ্যতা (حجية) কিংবা এর ওপর আমল করার আবশ্যকতা এবং এজাতীয় অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব না।

যে সুন্নাহকে আমরা ওহি (وحي) হিসেবে প্রমাণ করতে চাই, তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতি হিসেবে যা প্রমাণিত হয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একে 'হিদায়াত (الهدي)' নামে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: "আর সর্বোত্তম হিদায়াত (الهدي) হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হিদায়াত।" সাহাবীগণও রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঠিক পথ অনুসরণের ক্ষেত্রে একে হিদায়াত (الهدي) হিসেবে ব্যক্ত করে বলতেন: "সর্বোত্তম হিদায়াত (الهدي) হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হিদায়াত।" উম্মাহর সালফগণ (سلف) একে ইলম (العلم) বা জ্ঞান হিসেবে অভিহিত করেছেন (১)। কারণ তাঁরা ইলম (العلم) এবং রায় (الرأي) বা ব্যক্তিগত অভিমতের মধ্যে পার্থক্য করতেন; তাঁরা সুন্নাহকে ইলম (العلم) বলতেন এবং সুন্নাহ বহির্ভূত অন্য কিছুকে রায় (الرأي) বলতেন।

--------------------------------------------

(১) বুখারি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হিদায়াত (الهدي) হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হিদায়াত।" আল-ইতিসাম - অনুচ্ছেদ: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর অনুসরণ (হাদিস ৭৩০৯, ফাতহুল বারি ১৩/২৬৩)। পঞ্চম হিজরি শতকে খতিব বাগদাদি সুন্নাহ লিপিবদ্ধকরণ বিষয়ে তাঁর রচিত গ্রন্থের নামকরণ করেছেন 'তাকয়িদুল ইলম' নামে, "ইউসুফ আল-আশ কর্তৃক সম্পাদিত - দারু ইহইয়ায়িস সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহ - ২য় সংস্করণ, ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দ"। সালফগণ সুন্নাহকে ইলম (العلم) হিসেবে যে নামকরণ করেছেন তার জন্য দেখুন: (ফাতহুল বারি ১৩/৩০৪)।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ২)
السنّة النبويّة وحي من الله محفوظة كالقرآن الكريم

إعداد الدكتور أبولبابة الطاهر حسين

بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌هل كلّ السنّة وحي؟

إلا أنّه قبل المضيّ قدما في دراسة الموضوع يعترضنا سؤال هامّ وهو: هل كلّ السنّة وحي؟

لقد ثبت بتتبّع سيرة النبيّ صلى الله عليه وسلم العطرة وسنّته المطهّرة أنّه قد اجتهد في مسائل ونوازل عديدة لم ينزل عليه فيها وحي، بمقتضى ما فطر عليه من سلامة العقل وسداد النظر سواء كان ذلك:

أ - باستخدام القياس: كقياسه صلى الله عليه وسلم ولادة الطفل الأسود من أبوين أبيضين على إنجاب الإبل الحمر الجمال الورق (1) بسبب الوراثة العرقيّة (2) ، وكقياسه وفاء البنت بنذر أمّها الحجّ، فماتت قبل أن تفي بنذرها، على وجوب قضاء الوارث دين مورّثه (3) .

ب - أو باستعمال الرأي: ابتداء مثل اجتهاده صلى الله عليه وسلم في غزوة بدر حيث نزل موضعا رأى أحد صحابته وهو الحباب بن المنذر الخزرجيّ رضي الله عنه أنه غير ملائم عسكريّا، فسأله: "أمنزلا أنزلكه الله، ليس لنا أن نتقدّمه ولا أن نتأخّر عنه؟ أم هو الرأي والحرب والمكيدة؟ " فلمّا أعلمه عليه الصلاة والسلام أنّه مجرّد اجتهاد لا دخل للوحي فيه، عرض عليه تغيير

--------------------------------------------

(1) البعير الأورق: هو البعير الأسود الذي يخالط سواده بياض كدخان الرمث [فقه اللغة وسرّ العربيّة، للثعالبيّ 118 - مطبعة الاستقامة - القاهرة - بدون تاريخ] .

(2) انظر حديث الأعرابيّ الذي أتى النبيّ فقال: "إنّ امرأتي ولدت غلاما أسود وإنّي قد أنكرته. . صحيح البخاريّ - الاعتصام بالكتاب والسنّة - باب من شبّه أصلا معلوما بأصل مبيّن وقد بيّن النبيّ حكمهما ليفهم السائل الحديث 7314 - فتح الباري 13/ 309.

(3) انظر حديث المرأة التي جاءت إلى النبيّ فقالت: "إنّ أمي نذرت أن تحجّ فماتت قبل أن تحجّ. . صحيح البخاريّ - الاعتصام - باب من شبّه أصلا معلوما. . . حديث 7315 فتح الباري 13/ 309.
সুন্নাহ নববী হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী (وحي), যা পবিত্র কুরআনের মতোই সংরক্ষিত।

প্রস্তুতকরণে: ড. আবুলবাবা আত-তাহির হোসেন

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

‌‌সমগ্র সুন্নাহ কি ওহী (وحي)?

তবে এ বিষয়ে আলোচনার গভীরে যাওয়ার আগে আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উদয় হয়, আর তা হলো: সমগ্র সুন্নাহ কি ওহী (وحي)?

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র সীরাত এবং তাঁর সুন্নাহ পর্যালোচনায় এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি অনেক মাসআলা এবং সমসাময়িক সমস্যার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছেন যেগুলোতে তাঁর ওপর কোনো ওহী (وحي) অবতীর্ণ হয়নি। এটি ছিল তাঁর জন্মগত সুস্থ বিবেক ও সঠিক দূরদর্শিতার দাবি অনুযায়ী, তা নিচের ক্ষেত্রগুলোতে হতে পারে:

ক - কিয়াস (قياس) ব্যবহারের মাধ্যমে: যেমন দুই শ্বেতাঙ্গ বাবা-মায়ের ঘরে একটি কালো সন্তান জন্ম নেওয়ার বিষয়টিকে লাল উটের ধূসর উট (১) প্রসবের সাথে বংশগতির (২) কারণে তুলনা বা কিয়াস (قياس) করা। তেমনিভাবে, এক মেয়ের পক্ষ থেকে তার মায়ের হজের মানত পূরণ করার বিষয়টিকে—যিনি মানত পূর্ণ করার আগেই মারা গেছেন—ওয়ারিশের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ের সাথে তুলনা বা কিয়াস (قياس) করা (৩)।

খ - অথবা রা'য় (رأي) ব্যবহারের মাধ্যমে: যেমন বদর যুদ্ধের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইজতিহাদ (اجتهاد), যেখানে তিনি এমন এক স্থানে তাবু ফেলেছিলেন যা তাঁর একজন সাহাবী হুবাব ইবনে মুনযির আল-খাযরাজী (রা.) সামরিক দিক থেকে অনুপযুক্ত মনে করেছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "এটি কি এমন কোনো স্থান যেখানে আল্লাহ আপনাকে অবতরণ করিয়েছেন, যা থেকে আমাদের সামনে বা পেছনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই? নাকি এটি কেবল রা'য় (رأي), যুদ্ধ কৌশল ও রণকৌশল মাত্র?" যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জানালেন যে এটি কেবল ইজতিহাদ (اجتهاد) এবং এতে ওহীর (وحي) কোনো সম্পৃক্ততা নেই, তখন তিনি অবস্থান পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন...

--------------------------------------------

(১) ধূসর উট: এটি এমন কালো উট যার কালোর মাঝে সাদার মিশ্রণ থাকে যেমন ছাইবর্ণের ধোঁয়া [আছ-ছায়ালাবী রচিত ফিকহুল লুগাহ ওয়া সিররুল আরাবিয়্যাহ ১১৮ - মাতবাআতুল ইস্তিকামাহ - কায়রো - তারিখ বিহীন]।

(২) সেই গ্রাম্য ব্যক্তির হাদিসটি দেখুন যিনি নবীর কাছে এসে বলেছিলেন: "আমার স্ত্রী একটি কালো সন্তান জন্ম দিয়েছে যা আমি অস্বীকার করছি..." সহিহ বুখারি - কিতাবুল ইতিসাম বিল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ - পরিচ্ছেদ: পরিদৃষ্ট মূলনীতিকে স্পষ্ট মূলনীতির সাথে তুলনা করা এবং নবী তাদের উভয়ের বিধান বর্ণনা করেছেন যাতে প্রশ্নকারী হাদিসটি বুঝতে পারে, হাদিস ৭৩১৪ - ফাতহুল বারী ১৩/৩০৯।

(৩) সেই মহিলার হাদিসটি দেখুন যিনি নবীর কাছে এসে বলেছিলেন: "আমার মা হজের মানত করেছিলেন কিন্তু হজের আগেই মারা গেছেন..." সহিহ বুখারি - ইতিসাম - পরিচ্ছেদ: পরিদৃষ্ট মূলনীতিকে তুলনা করা... হাদিস ৭৩১৫ ফাতহুল বারী ১৩/৩০৯।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ৩)
الموقع ونزل الرسول صلى الله عليه وسلم على رأيه (1) .

ومثل اجتهاده في مصير أسرى بدر حيث رجّح عليه الصلاة والسلام رأي أبي بكر الصدّيق القائل بأخذ الفداء، وكان ذلك قبل نزول الآية التي تحدّد حكم الأسرى، وهي قوله تعالى: {فَإِذا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ حَتَّى إِذَا أَثْخَنتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاء حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا} [محمد:4] .

فهذه الاجتهادات في ظاهرها لا صلة لها بالوحي لكن إذا تبيّن لنا أنّ الله سبحانه لا يتركه وشأنه وإنّّما يقرّه إذا أصاب وينبّهه إن أخطأ (2) ، أدركنا أنها وحي منزّل من الله تعالى ذلك أنّه تعالى لا يقرّ رسوله صلى الله عليه وسلم على خطأ:

فمثلا في غزوة بني النضير (3) أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بقطع نخيلهم وتحريقها حتّى ييئسوا من وعد إخوانهم المنافقين بالنصرة، وحتّى يتمّ تعجيل استسلامهم فتحقن الدماء، ويعمّ الأمن، فنزل الوحي يؤيّد هذا العمل ويجعله بإذن الله وأمره وإرادته فقال تعالى: {مَا قَطَعْتُم مِّن لِّينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيُخْزِيَ الْفَاسِقِينَ} [الحشر:5] .

كما أنّ قبول الفداء من أسرى بدر تعقّبه القرآن معاتبا الرسول صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) انظر سيرة ابن هشام 1/620 [تحقيق السقّا، الأبياريّ، شلبيّ - ط2 - 1375 هـ /1955م - مصطفى البابي الحلبيّ - القاهرة] ، والسيرة النبويّة في ضوء القرآن والسنّة - محمد محمد أبو شهبة - 2/157 [دار القلم - دمشق - ط5 - 1419هـ/ 1999م] .

(2) انظر الحديث والمحدّثون - محمد محمد أبو زهو - 15 [دار الفكر العربيّ بدون بيان عدد الطبعة ولا تاريخها، ويبدو أنها مصوّرة عن الطبعة الأولى - 1978هـ - بمصر] .

(3) وقعت في شوّال سنة 4 هـ.
স্থানটি এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মতামতের ওপর ভিত্তি করে সেখানে অবস্থান গ্রহণ করেন (১)।

আর বদরের যুদ্ধবন্দীদের পরিণতির বিষয়ে তাঁর গবেষণা বা ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধি (اجتهاد)-এর উদাহরণ, যেখানে তিনি (সা.) মুক্তিপণ গ্রহণের ব্যাপারে আবু বকর সিদ্দিকের মতকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। এটি ছিল যুদ্ধবন্দীদের বিধান নির্ধারণকারী আয়াত নাজিল হওয়ার আগের ঘটনা। আর মহান আল্লাহর সেই বাণী হলো: "অতঃপর যখন তোমরা কাফিরদের সাথে যুদ্ধে মোকাবিলা করো, তখন তাদের ঘাড়ে আঘাত করো। অবশেষে যখন তোমরা তাদেরকে পূর্ণরূপে পরাভূত করবে, তখন তাদের কষে বাঁধো। অতঃপর হয় অনুকম্পা করো, না হয় মুক্তিপণ গ্রহণ করো, যতক্ষণ না যুদ্ধ তার অস্ত্রশস্ত্র নামিয়ে ফেলে।" [মুহাম্মদ: ৪]।

আপাতদৃষ্টিতে এই গবেষণা বা ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধি (اجتهاد)-সমূহের সাথে ওহী (وحي)-র কোনো সম্পর্ক নেই বলে মনে হয়। কিন্তু যখন আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে তাঁর নিজের অবস্থার ওপর ছেড়ে দেননি; বরং তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে আল্লাহ তা অনুমোদন করেন এবং ভুল হলে তাঁকে সতর্ক করে দেন (২), তখন আমরা বুঝতে পারি যে এগুলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী (وحي)। কারণ তিনি তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো ভুলের ওপর বহাল রাখেন না:

উদাহরণস্বরূপ, বনু নাজির যুদ্ধে (৩) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলার এবং পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে তারা তাদের মুনাফিক ভাইদের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি থেকে নিরাশ হয় এবং যাতে তাদের আত্মসমর্পণ ত্বরান্বিত হয়, ফলে রক্তপাত বন্ধ হয় এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন এই কাজটিকে সমর্থন করে এবং আল্লাহর অনুমতি, নির্দেশ ও ইচ্ছায় এটি হয়েছে তা সাব্যস্ত করে ওহী (وحي) নাজিল হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরা যে সব খেজুর গাছ কেটেছো কিংবা যেগুলোকে তাদের কাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই অনুমতিতে এবং যাতে তিনি পাপাচারীদের লাঞ্ছিত করেন।" [হাশর: ৫]।

অনুরূপভাবে বদরের যুদ্ধবন্দীদের থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ করার বিষয়টিও কুরআনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুযোগ করার মাধ্যমে অনুসৃত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন সিরাত ইবনে হিশাম ১/৬২০ [সম্পাদনা ও যাচাইকরণ (تحقيق): সাক্কা, আবিয়ারি, শালবি - ২য় সংস্করণ - ১৩৭৫ হিজরি / ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ - মোস্তফা আল-বাবী আল-হালাবি - কায়রো], এবং আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফি দাউয়িল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ - মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু শাহবাহ - ২/১৫৭ [দারুল কালাম - দামেস্ক - ৫ম সংস্করণ - ১৪১৯ হিজরি / ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ]।

(২) দেখুন আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন - মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু জাহু - ১৫ [দারুল ফিকর আল-আরাবি, সংস্করণ সংখ্যা বা তারিখের উল্লেখ ছাড়াই, এবং এটি সম্ভবত ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে মিশরের প্রথম সংস্করণের ফটোকপি]।

(৩) এটি ৪ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে সংঘটিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ৪)
والمسلمين على أخذهم الفداء من الأسرى، فقال تعالى: {مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَن يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الأَرْضِ تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللهُ يُرِيدُ الآخِرَةَ وَاللهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ لَّوْلَا كِتَابٌ مِّنَ اللهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ} [الأنفال:67-68] . وعلى ضوء هذه الثوابت يكون الرأي والاجتهاد منه عليه الصلاة والسلام مصيبا لأنّه مسدّد بالوحي فيأخذ حكمه، وتكون الحقيقة التي لا جدال فيها هي أن الرسول صلى الله عليه وسلم "لا يقع فيما يجتهد فيه خطأ أصلا" (1) . خطب عمر بن الخطّاب رضي الله عنه يوما فقال: "يا أيها الناس! إنّ الرأي إنّما كان من رسول الله مصيبا لأنّ الله عز وجل يريه، وإنّما هو منّا الظنّ والتكلّف".

وبذلك يتبيّن لنا أنّ ثبوت الاجتهاد للنبيّ صلى الله عليه وسلم لا يتعارض مع ما قرّره العلماء من أنّ اجتهاده وسائر عناصر سنّته من الوحي، اللهم إلا بعض قضايا معيشيّة كتأبير النخل ونحوه ممّا لا يتعلّق بالحلال والحرام والعقائد والمغيّبات، فهذه قد أجاب عنها النبيّ الكريم بنفسه كما هو ثابت في حديث رافع بن خديج الذي رواه مسلم: "إنّما أنا بشر إذا أمرتكم بشيء من دينكم فخذوا به، وإذا أمرتكم بشيء من رأي فأنا بشر" (2) ، فهذه تجارب يعيشها الرسول صلى الله عليه وسلم بوصفه بشرا عاديّا كتلك التي يكابدها سائر الناس في حياتهم اليوميّة، فلا صلة لها بالوحي.

وقبل استعراض الأدلّة النقليّة والعقليّة على أنّ السنّة النبويّة وحي، لا بدّ

--------------------------------------------

(1) انظر فتح الباري 13/ 305.

(2) 4/1835 - 1836 الحديث عدد 2362.
এবং মুসলমানদের বন্দীদের কাছ থেকে মুক্তিপণ গ্রহণের বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন: {দেশ জয় না করা পর্যন্ত কোনো নবীর পক্ষে বন্দী রাখা সমীচীন নয়। তোমরা দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সম্পদ কামনা করছ, আর আল্লাহ আখেরাত কামনা করেন এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। যদি আল্লাহর পূর্ব বিধান না থাকত তবে তোমরা যা গ্রহণ করেছ তার বিনিময়ে তোমাদের ওপর মহাশাস্তি আপতিত হতো} [আল-আনফাল: ৬৭-৬৮]। এই ধ্রুব সত্যগুলোর আলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে যে অভিমত এবং গবেষণা (اجتهاد) প্রকাশ পায় তা সঠিক, কারণ তা ওহি (وحي) দ্বারা পরিচালিত, ফলে তা ওহির বিধানই লাভ করে। আর অনস্বীকার্য সত্য হলো এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "গবেষণামূলক (اجتهاد) বিষয়ে কোনো ভুল করেন না" (১)। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) একদিন খুতবা দানকালে বলেন: "হে লোকসকল! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিমত ছিল নির্ভুল, কারণ মহান আল্লাহ তাঁকে পথ দেখাতেন। আর আমাদের অভিমত হলো কেবল ধারণা (الظن) ও চেষ্টা প্রসূত।"

এর মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গবেষণা (اجتهاد) সাব্যস্ত হওয়া আলেমদের সেই সিদ্ধান্তের সাথে সাংঘর্ষিক নয় যে—তাঁর গবেষণা (اجتهاد) এবং সুন্নাহর অন্যান্য সকল উপাদান ওহির (وحي) অন্তর্ভুক্ত। তবে জীবনযাপনের কিছু বিষয় যেমন—খেজুর গাছের পরাগায়ন এবং এর অনুরূপ বিষয়াবলী এর ব্যতিক্রম, যা হালাল-হারাম, আকিদা এবং অদৃশ্যের (المغيبات) বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে নবী কারীম নিজেই উত্তর দিয়েছেন, যা মুসলিম-এ বর্ণিত রাফে ইবনে খাদিজ-এর হাদিসে প্রমাণিত (ثابت): "আমি কেবল একজন মানুষ মাত্র। আমি যখন তোমাদের দ্বীনের কোনো বিষয়ে আদেশ করি তখন তোমরা তা গ্রহণ করো, আর আমি যখন ব্যক্তিগত অভিমতের ভিত্তিতে কোনো আদেশ করি তখন তো আমি একজন মানুষ মাত্র" (২)। এগুলো হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মানবিক অভিজ্ঞতা, যা তিনি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে লাভ করতেন, যেমনটি অন্য মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনে লাভ করে থাকে; ওহির (وحي) সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

সুন্নাহ যে ওহি (وحي)—এর স্বপক্ষে বর্ণনাভিত্তিক (النقلية) ও যুক্তিভিত্তিক (العقلية) দলিলসমূহ পর্যালোচনার পূর্বে, অবশ্যই...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতহুল বারী ১৩/৩০৫।

(২) ৪/১৮৩৫ - ১৮৩৬, হাদিস নম্বর: ২৩৬২।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ৫)
لنا أن نتعرّف ماهية الوحي؟ وأن نتحدّث عن إمكان حصوله؟ وإمكان اتّصال الله سبحانه بأنبيائه المصطفين من خلاله؟ وموقف أهل الإيمان من هذه الظاهرة؟ وموقف الملاحدة والدهريّين منها؟
আমাদের ওহী বা প্রত্যাদেশ (وحي)-এর স্বরূপ সম্পর্কে অবগত হওয়া প্রয়োজন? এবং এর সংঘটিত হওয়ার সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করা? এর মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কর্তৃক তাঁর মনোনীত (مصطفين) নবীগণের (أنبياء) সাথে যোগাযোগের সম্ভাব্যতা কতটুকু? এই বিষয়ের (ظاهرة) প্রতি মুমিনদের (أهل الإيمان) দৃষ্টিভঙ্গি কী? এবং নাস্তিক (ملاحدة) ও বস্তুবাদী (دهريين)-দের এ ব্যাপারে অবস্থান কী?
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌ما الوحي؟

الوحي: لغة: يقول الراغب الأصفهانيّ في "مفردات القرآن": "أصل الوحي الإشارة السريعة، فقيل [للأمر السريع] أمر وحي" (1) . وهو أيضا "الإعلام في خفاء" (2) ، إذ هو خاص بمن يوجّه إليه هذا الإعلام بحيث يخفى عن غيره. وتكون هذه الإشارة السريعة، وهذا الإعلام الخفيّ:

- بالكلام على سبيل الرمز والتعريض.

- وبالصوت المجرّد عن التركيب.

- وبالإشارة، والإيماء ببعض الجوارح.

- وبالكتابة.

فكلّ ما دللت به من كلام أو كتابة أو رسالة أو إشارة، فهو وحي. وعلى هذه المعاني حمل قوله تعالى عن زكريّا: {فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ مِنَ الْمِحْرَابِ فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ أَن سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا} [مريم:11] ، فقيل في تفسير "أوحى إليهم" رمز، وقيل أشار، وقيل كتب (3) .

وقد يطلق الوحي ويراد به الموحى به من باب إطلاق المصدر وإرادة اسم المفعول.

--------------------------------------------

(1) صفحة 858 [ط2 - 1418هـ / 1997م] .

(2) انظر فتح الباري لابن حجر العسقلانيّ 1/14.

(3) مفردات القرآن 858.
ওহী (وحي) কী?

ওহী (وحي): আভিধানিক অর্থ: আল-রাগিব আল-আসফাহানি তাঁর "মুফরাদাতুল কুরআন" গ্রন্থে বলেন: "ওহী (وحي)-এর মূল অর্থ হলো দ্রুত ইশারা করা, তাই [দ্রুত কাজের ক্ষেত্রে] বলা হয় এটি একটি দ্রুত নির্দেশ (أمر وحي)" (১)। এটি "গোপনে সংবাদ প্রদান"-ও (২), যেহেতু এটি কেবল যাকে উদ্দেশ্য করে এই সংবাদ প্রদান করা হয় তার সাথে নির্দিষ্ট থাকে, ফলে অন্য কেউ তা জানতে পারে না। এই দ্রুত ইশারা এবং গোপন সংবাদ প্রদান হতে পারে:

- রূপক ও ইঙ্গিতের মাধ্যমে কথা বলার দ্বারা।

- কোনো প্রকার বাক্য গঠন ব্যতীত কেবল শব্দের দ্বারা।

- ইশারা এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ইঙ্গিতের দ্বারা।

- লিখনীর মাধ্যমে।

সুতরাং কথা, লিখনী, বার্তা কিংবা ইশারার মাধ্যমে আপনি যা কিছু ব্যক্ত করবেন, তা-ই ওহী (وحي)। এই অর্থগুলোর ওপর ভিত্তি করেই জাকারিয়া (আ.) সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার এই বাণীটি অবতীর্ণ হয়েছে: {অতঃপর তিনি মেহরাব থেকে বের হয়ে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট আসলেন এবং তাদের ইশারা করলেন (أوحى إليهم) যেন তারা সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করে} [সূরা মারইয়াম: ১১]। এখানে "আওহা ইলাইহিম" (أوحى إليهم)-এর ব্যাখ্যায় কেউ বলেছেন প্রতীকী ইশারা, কেউ বলেছেন সংকেত, আবার কেউ বলেছেন লিখে জানিয়েছেন (৩)।

কখনও কখনও ওহী (وحي) শব্দ দ্বারা 'যাকে ওহী করা হয়েছে' (الموحى به) তা বোঝানো হয়; অর্থাৎ ক্রিয়ামূল (مصدر) উল্লেখ করে কর্মপদ (اسم المفعول) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়।

--------------------------------------------

(১) পৃষ্ঠা ৮৫৮ [২য় সংস্করণ - ১৪১৮ হিজরী / ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ]।

(২) ইবনে হাজার আসকালানী রচিত ফাতহুল বারী ১/১৪ দেখুন।

(৩) মুফরাদাতুল কুরআন ৮৫৮।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ৬)
أمّا الوحي شرعاً: فهو الإعلام بالشرع، أو هو كلام الله المنزّل على أنبيائه (1) ، سواء كان ذلك في اليقظة أو في المنام. فالله تعالى يعلم أنبياءه "ما يريد إبلاغه إليهم من الشرائع والأخبار بطريق خفيّ، بحيث يحصل عندهم علم ضروريّ قطعيّ بأنّ ذلك من عند الله جلّ شأنه. . فهو أخصّ من المعنى اللغويّ وفق مصدره وهو الله سبحانه، والموجّه إليهم وهم أنبياؤه الكرام" (2) .

--------------------------------------------

(1) انظر فتح الباري 1/14 - 15.

(2) الحديث والمحدّثون 11.
শরয়ী (شرعي) পরিভাষায় ওহী হলো: শরিয়ত সম্পর্কে অবহিত করা, অথবা এটি তাঁর নবীদের ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর কালাম (১), চাই তা জাগ্রত অবস্থায় হোক বা নিদ্রায়। সুতরাং আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীদেরকে "শরিয়ত ও সংবাদসমূহ থেকে যা তিনি তাঁদের নিকট পৌঁছাতে চান তা এক গোপন পদ্ধতিতে শিক্ষা দেন, যার ফলে তাঁদের নিকট এই মর্মে একটি আবশ্যিক (ضروري) ও অকাট্য (قطعي) জ্ঞান অর্জিত হয় যে, তা মহান আল্লাহ জাল্লা শানুহুর পক্ষ থেকে। . সুতরাং এটি এর উৎসের বিচারে শাব্দিক (لغوي) অর্থের চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট, আর তা হলো মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এবং যাদের প্রতি তা নির্দেশিত তাঁরা হলেন তাঁর সম্মানিত নবীগণ" (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন ফাতহুল বারী ১/১৪ - ১৫।

(২) আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন ১১।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌أقسام الوحي

‌‌الضرب الأول: الوحي

…

أقسام الوحي:

يقول الله تعالى: {وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَن يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِن وَرَاء حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاء} [الشورى:51] . فأضرب الوحي وأقسامه حسبما دلّت عليه هذه الآية الكريمة ثلاثة:

الضرب الأوّل: الوحي: وهو الإيحاء والإلهام، والإلقاء في الروع والنفث فيه، ويعبّر النبيّ صلى الله عليه وسلم عن ذلك بقوله: "إنّ روح القدس نفث في روعي". فهو إلقاء المعنى في قلب النبيّ صلى الله عليه وسلم مع العلم اليقينيّ بأنّ ذلك من الله عز وجل، وقد يكون هذا الإلهام:

أ- في اليقظة.

ب- أو في المنام: "ذلك أنّ أوّل ما يؤتى به الأنبياء في المنام، حتّى تهدأ قلوبهم، ثمّ ينزل الوحي بعد في اليقظة"، كما ذكر ذلك علقمة بن قيس صاحب عبد الله بن مسعود رضي الله عنه (1) .

--------------------------------------------

(1) فتح الباري 1/15.
অহির প্রকারভেদ

প্রথম প্রকার: ওহি

…

অহির প্রকারভেদ:

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {কোনো মানুষের জন্য এমন নয় যে আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন ওহি (وحياً) ব্যতীত, অথবা পর্দার আড়াল থেকে, অথবা কোনো বার্তাবাহক প্রেরণের মাধ্যমে; অতঃপর সে তাঁর অনুমতিক্রমে তিনি যা চান তা ওহি (فَيُوحِيَ) করে} [সূরা আশ-শুরা: ৫১]। এই মহিমান্বিত আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী অহির পদ্ধতি ও প্রকারসমূহ তিনটি:

প্রথম প্রকার: ওহি (الوحي): এটি হলো ইশারা ও ইলহাম (إلهام), এবং হৃদয়ে কোনো বিষয় সঞ্চার করা বা ফুঁকে দেওয়া। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে তাঁর বাণীতে ব্যক্ত করেছেন: "নিশ্চয়ই রুহুল কুদুস (জিবরাঈল আলাইহিস সালাম) আমার হৃদয়ে ফুঁকে দিয়েছেন।" মূলত এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে কোনো অর্থের সঞ্চার করা, সাথে এই নিশ্চিত জ্ঞান থাকা যে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর এই ইলহাম (الإلهام) হতে পারে:

ক- জাগ্রত অবস্থায়।

খ- অথবা স্বপ্নযোগে: "নবীদের কাছে অহির সূচনা হতো স্বপ্নের মাধ্যমে, যাতে তাঁদের হৃদয় স্থির হয়, অতঃপর জাগ্রত অবস্থায় ওহি (الوحي) অবতীর্ণ হতো", যেমনটি উল্লেখ করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর ছাত্র আলকামা ইবনে কায়স (১)।

--------------------------------------------

(1) ফাতহুল বারী ১/১৫।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ৭)
وروى البخاريّ من حديث عائشة رضي الله عنها: "كان أوّل ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم [من الوحي] الرؤيا الصادقة في النوم، فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح" (1) .

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاريّ - التفسير - الحديث4953.
ইমাম বুখারি আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস হতে বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি [ওহীর] সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি এমন কোনো স্বপ্নই দেখতেন না যা ভোরের আলোর ন্যায় সুস্পষ্ট হয়ে প্রকাশ পেত না" (১) ।

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি - তাফসির - হাদিস ৪৯৫৩।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الضرب الثانيّ: الكلام من وراء حجاب:

أي أنّ الله يكلّم النبيّ فيسمعه دون معاينة:

ـ مثلما حصل لموسى عليه السلام في بدء رسالته بجبل الطور {وَهَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ مُوسَى إِذْ رَأَى نَارًا فَقَالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا لَّعَلِّي آتِيكُم مِّنْهَا بِقَبَسٍ أَوْ أَجِدُ عَلَى النَّارِ هُدًى فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِي يَا مُوسَى إِنِّي َأنَا َربُّكَ َفاخْلَعْ نَعْلَيْكَ ِإنَّكَ ِبالْوَادِ الْمُقَدَّسِ ُطوًى} [طه:9-12] . وكما جاء ذلك في قوله تعالى: {وَلَمَّا جَاء مُوسَى لِمِيقَاتِنَا وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ قَالَ رَبِّ أَرِنِي أَنظُرْ إِلَيْكَ قَالَ لَن تَرَانِي وَلَكِنِ انظُرْ ِ إلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرَانِي} [الأعراف: 143] .

ـ وكما حصل لنبينا محمد صلى الله عليه وسلم ليلة المعراج فقد كلّمه ربّه وفرض الصلاة عليه وعلى أمّته وراجع عليه الصلاة والسلام ربّه فيها على ما صرّحت به الأحاديث الصحيحة (1) .

--------------------------------------------

(1) الحديث والمحدثون 12- 13.
দ্বিতীয় প্রকার: পর্দার আড়াল থেকে কথোপকথন:

অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা নবীর সাথে কথা বলেন এবং নবী তা শুনতে পান, তবে চাক্ষুষ দর্শন ব্যতিরেকেই:

— যেমনটি মূসা আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে তাঁর রিসালাতের শুরুতে তূর পাহাড়ে ঘটেছিল: {আপনার কাছে কি মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? যখন তিনি আগুন দেখলেন, তখন তাঁর পরিবারবর্গকে বললেন, ‘তোমরা অপেক্ষা করো, আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবত আমি তোমাদের কাছে তা থেকে কোনো অঙ্গার নিয়ে আসতে পারব অথবা আগুনের কাছে কোনো পথের দিশা পাব।’ অতঃপর যখন তিনি সেখানে পৌঁছলেন, তখন তাঁকে সম্বোধন করে বলা হলো, ‘হে মূসা! নিশ্চয়ই আমিই তোমার রব, অতএব তুমি তোমার জুতো জোড়া খুলে ফেলো; কারণ তুমি পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রয়েছ।} [ত্বহা: ৯-১২]। এবং যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে এসেছে: {আর মূসা যখন আমাদের নির্ধারিত সময়ে এলেন এবং তাঁর রব তাঁর সাথে কথা বললেন, তখন তিনি বললেন, ‘হে আমার রব! আমাকে দর্শন দিন, আমি আপনাকে দেখব।’ তিনি বললেন, ‘তুমি আমাকে দেখতে পাবে না, তবে তুমি পাহাড়ের দিকে তাকাও, যদি তা নিজ স্থানে স্থির থাকে তবে তুমি আমাকে দেখতে পাবে।} [আরাফ: ১৪৩]।

— এবং যেমনটি আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে মিরাজের রাতে ঘটেছিল; তাঁর প্রতিপালক তাঁর সাথে সরাসরি কথা বলেছেন এবং তাঁর ও তাঁর উম্মতের ওপর সালাত ফরজ করেছেন। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ ব্যাপারে তাঁর প্রতিপালকের কাছে বারবার ফিরে গিয়েছেন, যেমনটি বিশুদ্ধ (صحيحة) হাদিসসমূহে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে (১)।

--------------------------------------------

(১) আল-হাদিস ওয়াল-মুহাদ্দিসুন, ১২-১৩।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الضرب الثالث: الوحي بواسطة الملك رسول الوحي:

أي أنّ الله تعالى يرسل ملكاً - وملك الوحي هو جبريل عليه السلام فيبلِّغ النبيّ صلى الله عليه وسلم ما يريد الله أن يبلّغه إليه، وهذا مصداق لقوله صلى الله عليه وسلم: "كان
তৃতীয় প্রকার: ওহী (وحي) বহনকারী ফেরেশতার মাধ্যমে ওহী (وحي):

অর্থাৎ মহান আল্লাহ একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন—আর ওহী (وحي) বহনকারী ফেরেশতা হলেন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম—অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তা পৌঁছে দেন যা আল্লাহ তাঁর নিকট পৌঁছাতে চান। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীরই বাস্তব রূপ: "ছিল
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ৮)
الوحي يأتيني به جبريل فيلقيه عليّ كما يلقي الرجل على الرجل فذاك ينفلت منّي، ويأتيني في بيتي مثل صوت الجرس، حتى يخالط قلبي فذاك الذي لا ينفلت مني" (1) .

وهذا الملك تارة يراه النبي صلى الله عليه وسلم فيكون رسولاً مُشاهَداً تُرى ذاتُهُ ويُسْمَعُ كلامُهُ، وتارة لا يراه:

1- ففي حالة رؤية النبي صلى الله عليه وسلم ملك الوحي وهو يلقي عليه الوحي:

أ- قد يراه على صورته الحقيقية التي خلقه الله عليها، وله ستمائة جناح، وهذا نادر، فقد ثبت في صحيح مسلم من حديث عائشة مرفوعاً: "لم أرَه - يعني جبريل - على صورته التي خلق عليها إلا مرتين" (2) ، وحدّدت السيدة عائشة رضي الله عنها هاتين المرّتين بقولها: "مرّة عند سدرة المنتهى، ومرّة عند أجياد".

يقول النبي صلى الله عليه وسلم: "جاورت في حراء فلمّا قضيت جواري هبطت فاستبطنت الوادي، فنوديت، فنظرت أمامي وخلفي وعن يميني وعن شمالي، فإذا هو جالس على عرش بين السماء والأرض" (3) ، وفي رواية: "على كرسيّ بين السماء والأرض وقد سدّ الأفق".

ب- وقد يراه متمثّلاً في صورة بشر في شكل أعرابيّ أو غيره، وكثيراً ما كان يتقمّص صورة دحية الكلبي الصحابي الجليل الوسيم رضي الله عنه.

2- وفي حالة عدم رؤية النبيّ صلى الله عليه وسلم الملك وهو يوحي إليه ويبلّغه كلام

--------------------------------------------

(1) فتح الباري 1/27.

(2) فتح الباري 1/32.

(3) البخاري - التفسير - باب وربّك فكبّر - فتح الباري 8/547 الحديث رقم 4924 و 8/586 الحديث رقم 4925 - وانظر بدء الوحي فتح الباري 1/37 الحديث رقم 4.
"ওহি (الوحي) আমার নিকট জিবরাঈল নিয়ে আসেন এবং তিনি তা আমার উপর এমনভাবে অর্পণ করেন যেমন এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কাছে অর্পণ করে; আর সেটি আমার থেকে বিস্মৃত হয়ে যায়। আবার কখনও সেটি আমার কাছে ঘণ্টার ধ্বনির মতো আসে, এমনকি তা আমার হৃদয়ে গেঁথে যায়; আর সেটিই আমার থেকে আর বিস্মৃত হয় না" (১)।

নবী (সা.) এই ফেরেশতাকে কখনও সরাসরি দেখতে পেতেন, এমতাবস্থায় তিনি দৃশ্যমান এক দূতে পরিণত হতেন যার সত্তা দেখা যেত এবং যার কথা শোনা যেত; আবার কখনও তিনি তাঁকে দেখতেন না:

১- নবী (সা.) কর্তৃক ওহি (الوحي) বহনকারী ফেরেশতাকে দেখার অবস্থা, যখন তিনি তাঁর প্রতি ওহি (الوحي) অবতীর্ণ করছেন:

ক- কখনও তিনি তাঁকে সেই প্রকৃত অবয়বে দেখতেন যে রূপে আল্লাহ তাঁকে সৃষ্টি করেছেন, যাঁর রয়েছে ছয়শত ডানা। এটি বিরল ঘটনা। সহিহ মুসলিম-এ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত মরফু (مرفوع) হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে: "আমি তাঁকে—অর্থাৎ জিবরাঈলকে—তাঁর সৃষ্টিগত প্রকৃত রূপে মাত্র দুইবার দেখেছি" (২)। সায়্যিদা আয়েশা (রা.) এই দুইবারকে নির্দিষ্ট করে বলেছেন: "একবার সিদরাতুল মুনতাহায় এবং আর একবার আজইয়াদ নামক স্থানে।"

নবী (সা.) বলেন: "আমি হেরা গুহায় অবস্থান করছিলাম, যখন আমার অবস্থানের মেয়াদ শেষ হলো আমি নিচে নেমে এলাম এবং উপত্যকার মাঝখানে পৌঁছালাম। তখন আমাকে সম্বোধন করা হলো; আমি আমার সামনে, পেছনে, ডানে এবং বামে তাকালাম। হঠাৎ দেখলাম তিনি আসমান ও জমিনের মাঝে একটি আরশের উপর সমাসীন" (৩)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "আসমান ও জমিনের মাঝে একটি কুরসির উপর উপবিষ্ট এবং তিনি দিগন্তকে আবৃত করে ফেলেছিলেন।"

খ- কখনও তিনি তাঁকে মানুষের আকৃতিতে দেখতেন, যেমন কোনো মরুবাসী বেদুঈন বা অন্য কারো বেশে। অনেক সময় তিনি প্রখ্যাত ও রূপবান সাহাবী দাহ্ইয়াতুল কালবি (রা.)-এর রূপ ধারণ করতেন।

২- নবী (সা.) ফেরেশতাকে না দেখার অবস্থায় যখন তিনি তাঁর নিকট ওহি (الوحي) পৌঁছাতেন এবং আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিতেন...

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারি ১/২৭।

(২) ফাতহুল বারি ১/৩২।

(৩) বুখারি - তাফসির - পরিচ্ছেদ: ‘ওয়া রাব্বাকা ফাকাব্বির’ - ফাতহুল বারি ৮/৫৪৭ হাদিস নং ৪৯২৪ ও ৮/৫৮৬ হাদিস নং ৪৯২৫ - এবং দেখুন: ওহি শুরুর অধ্যায়, ফাতহুল বারি ১/৩৭ হাদিস নং ৪।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ৯)
ربّه، فإنّه عليه الصلاة والسلام يسمع عند قدومه:

أ- دوياً كدويّ النحل، كما جاء ذلك في حديث عمر رضي الله عنه: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا نزل الوحيُ يُسْمَعُ عند وجهِهِ كدويّ النحل" (1) .

ب - أو صلصلة شديدة كصلصلة الجرس: أي أنّه صلى الله عليه وسلم يسمع حسيساً كصوت وقوع الحديد بعضه على بعض. جاء في حديث عائشة أم المؤمنين أنّ الحارث بن هشام المخزومي رضي الله عنهم شقيق أبي جهل وكان من فضلاء الصحابة رضي الله عنهم سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله! كيف يأتيك الوحي؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم "أحياناً يأتيني مثل صلصلة الجرس، وهو أشدّه عليّ فيفصم عنّي وقد وعيْتُ عنه ما قال، وأحياناً يتمثّل لي الملك رجلاً فيكلّمني فأعي ما يقول" (2) .

ودويّ النحل لا يعارض صلصلة الجرس لأنّ سماع الدويّ بالنسبة إلى الحاضرين السامعين -كما في حديث عمر الآنف- أمّا الصلصلة فبالنسبة إلى مقام النبي صلى الله عليه وسلم الذي شبَّه صوت الوحي بصلصلة الجرس.

ثم إنّ كلاً من الدويّ والصلصة إنّما يعلم كنههما ومصدرهما الله تعالى إلا أنّ آثارهما تبدو واضحة على رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك أنّ حالة روحيّة غير عادية تعتريه لا يدرك الحاضرون إلا أماراتها الظاهرة كثقل بدنه وتفصّد

--------------------------------------------

(1) الحديث والمحدثون 13.

(2) صحيح البخاري - كتاب بدء الوحي - الباب الثاني- الحديث رقم2 فتح الباري 1/25-26.
তাঁর প্রতিপালক; কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওহী আগমনের সময় শুনতে পেতেন:

(ক) মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ, যেমনটি উমর (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট যখন ওহী নাযিল হতো, তখন তাঁর পবিত্র চেহারার কাছে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দ শোনা যেত।" (১)।

(খ) অথবা ঘণ্টার শব্দের মতো তীব্র ঝনঝনানি শব্দ: অর্থাৎ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোহার এক অংশের সাথে অন্য অংশের আঘাতের ফলে সৃষ্ট শব্দের মতো এক প্রকার ধ্বনি শুনতে পেতেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, হারিস ইবনে হিশাম আল-মাখযূমী (রা.)—যিনি আবু জাহেলের সহোদর এবং সাহাবীদের মাঝে অন্যতম মর্যাদাবান ছিলেন—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট ওহী কীভাবে আসে?" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "কখনো কখনো তা আমার নিকট ঘণ্টার ঝনঝনানি শব্দের মতো আসে, আর এটিই আমার ওপর সবচেয়ে বেশি কষ্টদায়ক হয়। এরপর আমার থেকে ওহীর সেই অবস্থাটি দূরীভূত হয় এবং তিনি যা বলেছেন তা আমি আয়ত্ত করে ফেলি। আর কখনো ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার নিকট আসেন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নিই।" (২)।

মৌমাছির গুঞ্জন এবং ঘণ্টার ঝনঝনানি শব্দের বর্ণনার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। কারণ, মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দটি উপস্থিত শ্রবণকারীদের প্রেক্ষাপটে বর্ণিত—যেমনটি উমর (রা.)-এর পূর্বোক্ত হাদিসে এসেছে। আর ঘণ্টার ঝনঝনানির বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উচ্চমর্যাদার সাথে সংশ্লিষ্ট, যেখানে ওহীর শব্দকে তিনি ঘণ্টার ঝনঝনানির সাথে তুলনা করেছেন।

তদুপরি, এই গুঞ্জন ও ঝনঝনানি—উভয়েরই প্রকৃত স্বরূপ ও উৎস সম্পর্কে আল্লাহ তাআলাই সম্যক পরিজ্ঞাত। তবে এগুলোর প্রভাব রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হতো। মূলত একটি অসাধারণ আধ্যাত্মিক অবস্থা তাঁকে আচ্ছন্ন করত, যার বাহ্যিক লক্ষণাবলী ব্যতীত উপস্থিত ব্যক্তিরা আর কিছুই উপলব্ধি করতে পারত না; যেমন তাঁর শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাওয়া এবং ঘাম ঝরা...

--------------------------------------------

(১) আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন, ১৩।

(২) সহীহ বুখারী - ওহীর সূচনা অধ্যায় - দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ - হাদিস নং ২, ফাতহুল বারী ১/২৫-২৬।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১০)
جبينه عرقاً (1) ذلك أنّ النبي صلى الله عليه وسلم كان يعالج من التنزيل شدة، كما جاء ذلك في حديث ابن عباس (2) وقد علّل بعضهم هذه الشدة بقوله: "ليستجمع قلبه فيكون أوعى لما سمع" (3) والحقيقة هي أنّ الوحي ثقيل يقول تعالى: {لَوْ أَنزَلْنَا هَذَا لْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَّرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْيَةِ للَّهِ وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [الحشر: 21] ، فإذا تصدّع الجبل فكيف ببدن ضعيف؟! تقول السيّدة عائشة رضي الله عنها عن الرسول صلى الله عليه وسلم وما يلقاه من الشدة عند نزول الوحي: "ولقد رأيته ينزل عليه الوحي في اليوم الشديد البرد، فيفصم عنه وإن جبينه ليتفصّد عرقاً" (4) .

--------------------------------------------

(1) الحديث والمحدثون 13.

(2) انظر فتح الباري 1/28.

(3) انظر فتح الباري 1/28.

(4) البخاري - كتاب بدء الوحي - الباب2- الحديث عدد2- فتح الباري 1/25 - 26.
তাঁর কপাল ঘর্মাক্ত হতো (১)। এর কারণ হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওহী নাযিলের সময় প্রচণ্ড কষ্ট অনুভব করতেন, যেমনটি ইবনে আব্বাসের হাদিসে (২) বর্ণিত হয়েছে। কেউ কেউ এই কষ্টের কারণ এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে: "যাতে তিনি তাঁর অন্তরকে একাগ্র করতে পারেন এবং যা শ্রবণ করছেন তা আরও ভালোভাবে ধারণ করতে পারেন" (৩)। প্রকৃত সত্য হলো ওহী অত্যন্ত গুরুভার; মহান আল্লাহ বলেন: {যদি আমি এই কুরআন কোনো পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে পেতে যে তা আল্লাহর ভয়ে বিনীত হয়ে বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আর আমি মানুষের জন্য এসব দৃষ্টান্ত পেশ করি যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে} [হাশর: ২১]। পাহাড় যদি বিদীর্ণ হয়ে যায়, তবে একজন দুর্বল (ضعيف) শরীরের অবস্থা কেমন হবে?! সায়্যিদাহ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর ওহী নাযিল হওয়ার সময়কার কষ্ট সম্পর্কে বলেন: "আমি প্রচণ্ড শীতের দিনে তাঁর ওপর ওহী নাযিল হতে দেখেছি; যখন ওহীর সমাপ্তি ঘটত, তখন তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরতে থাকত" (৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন ১৩।

(২) দেখুন: ফাতহুল বারী ১/২৮।

(৩) দেখুন: ফাতহুল বারী ১/২৮।

(৪) বুখারি - কিতাব বাদউল ওহী - পরিচ্ছেদ ২ - হাদিস নং ২ - ফাতহুল বারী ১/২৫ - ২৬।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌وحي الأنبياء لا تباين فيه:

والجدير بالملاحظة هو أنّ وحي الأنبياء واحد فلا اختلاف بين وحي هذا النبيّ ووحي هذا النبيّ، يقول تعالى: {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِن بَعْدِهِ َوأَوْحَيْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإْسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالأَسْبَاطِ وَعِيسَى وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهَارُونَ وَسُلَيْمَانَ وَآتَيْنَا دَاوُودَ زَبُورًا} [النساء: 163] .
নবীদের ওহিতে কোনো বৈসাদৃশ্য নেই:

লক্ষণীয় বিষয় হলো এই যে, নবীদের ওহি (وحي) অভিন্ন; সুতরাং এক নবীর ওহি (وحي) এবং অন্য নবীর ওহি (وحي)-র মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি ওহি (وحي) পাঠিয়েছি যেমনিভাবে আমি ওহি (وحي) পাঠিয়েছিলাম নূহ ও তাঁর পরবর্তী নবীদের প্রতি; এবং আমি ওহি (وحي) পাঠিয়েছিলাম ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণ, ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারুন ও সুলায়মানের প্রতি; আর আমি দাউদকে জাবুর প্রদান করেছি।} [সূরা আন-নিসা: ১৬৩]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌هل يكون الوحي للأنبياء فقط؟

وردت صيغة الوحي ومشتقاتها في القرآن الكريم في مواضع كثيرة وبدلالات عديدة، فبالإضافة إلى معاني الوحي إلى الأنبياء وردت عبارات تفيد أن هناك وحياً لغير الأنبياء:

1 ـ فهناك وحي إلى بشر عاديين:

أ- مثل الإيحاء للحواريين وإعلامهم بواسطة عيسى رسالة ربّهم إليهم {وَإِذْ أَوْحَيْتُ إِلَى الْحَوَارِيِّينَ أَنْ آمِنُواْ بِي وَبِرَسُولِي} [المائدة:111] .

ب- ومثل الإيحاء لأمّ موسى {وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى أَنْ أَرْضِعِيهِ} [القصص:7] وهو بمعنى الإلهام.

ج- ومثل إيحاء بعض المخلوقات لبعضهم كإيحاء شياطين الإنس والجن لبعضهم البعض - وهي الوسوسة -: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نِبِيٍّ عَدُوًّا
ওহি (الوحي) কি কেবল নবীদের জন্যই হয়?

পবিত্র কুরআনের অনেক স্থানে ওহি (الوحي) শব্দটির রূপভেদ এবং এর ব্যুৎপত্তিগত শব্দসমূহ বহুবিধ অর্থে ও পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবহৃত হয়েছে। নবীদের প্রতি অবতীর্ণ ওহি (الوحي)-এর অর্থের পাশাপাশি এমন কিছু বাক্যও বিদ্যমান যা নির্দেশ করে যে, নবীগণ ব্যতীত অন্যদের প্রতিও ওহি (وحي) হতে পারে:

১- এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের প্রতিও ওহি (وحي) হয়ে থাকে:

ক- যেমন হাওয়ারীদের প্রতি ওহি (الإيحاء) করা এবং ঈসা (আ.)-এর মাধ্যমে তাদের কাছে তাদের রবের বার্তা পৌঁছে দেওয়া: {আর যখন আমি হাওয়ারীদের প্রতি ওহি (أوحيت) করলাম যে, তোমরা আমার প্রতি এবং আমার রাসূলের প্রতি ঈমান আনো} [আল-মায়িদা: ১১১]।

খ- এবং যেমন মুসা (আ.)-এর জননীর প্রতি ওহি (الإيحاء): {এবং আমি মুসার জননীর প্রতি ওহি (أوحينا) করলাম যে, তাকে দুধ পান করাও} [আল-কাসাস: ৭]। এটি এখানে ইলহাম (الإلهাম) বা অন্তরে প্রক্ষিপ্ত জ্ঞান অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

গ- এবং যেমন কিছু সৃষ্টির একে অপরের প্রতি ওহি (إيحاء) করা, যেমন মানুষ ও জিন শয়তানদের একে অপরের প্রতি প্ররোচনা প্রদান—যা মূলত কুমন্ত্রণা (الوسوسة)—: {আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য শত্রু নির্ধারণ করেছি...
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১২)
شَيَاطِينَ الإِنسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا} [الأنعام:112] ، {وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَآئِهِمْ} [الأنعام:121] ، ويقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "وإن للشيطان للمّة" (1) .

د- وكالإيحاء للأمم بواسطة الأنبياء {وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا وَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِمْ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَإِقَامَ الصَّلَاةِ وَإِيتَاء الزَّكَاةِ وَكَانُوا لَنَا عَابِدِينَ} [الأنبياء:73] .

2 ـ وهناك وحي لغير الإنسان: بمعنى الهداية والتسخير، كقوله تعالى: {وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا} [النحل:68] ، وقوله تعالى: {فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَى فِي كُلِّ سَمَاء أَمْرَهَا} [فصّلت:12] .

--------------------------------------------

(1) مفردات ألفاظ القرآن - الراغب الأصفهاني ص 858.
{মানুষ ও জিন শয়তানরা, তাদের একে অপরকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে চাকচিক্যময় কথাবার্তা প্ররোচনা (يوحي) দিয়ে থাকে।} [আল-আনআম: ১১২], {এবং নিশ্চয় শয়তানরা তাদের বন্ধুদের প্ররোচনা (ليوحون) প্রদান করে।} [আল-আনআম: ১২১], এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "নিশ্চয়ই শয়তানের পক্ষ থেকে একটি প্ররোচনা (لمّة) রয়েছে।" (১) ।

ঘ- এবং নবীদের মাধ্যমে উম্মতদের প্রতি প্রত্যাদেশ (الإيحاء) প্রেরণের ন্যায়: {আমি তাদেরকে ইমাম বানিয়েছিলাম যারা আমার আদেশে মানুষকে পথপ্রদর্শন করত। আর আমি তাদের প্রতি ওহী (أوحينا) পাঠিয়েছিলাম সৎকাজ সম্পাদন করতে, সালাত কায়েম করতে এবং যাকাত প্রদান করতে; আর তারা ছিল আমারই একান্ত ইবাদতকারী।} [আল-আম্বিয়া: ৭৩] ।

২ ـ এবং মানুষ ব্যতীত অন্যান্য সৃষ্টির প্রতিও প্রত্যাদেশ (وحي) বিদ্যমান: যা মূলত পথপ্রদর্শন এবং বশীভূতকরণ (تسخير) অর্থে ব্যবহৃত। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আপনার পালনকর্তা মৌমাছিকে প্রত্যাদেশ (أوحى) করলেন যে, পাহাড়সমূহে নিজেদের ঘর নির্মাণ করো।} [আন-নাহল: ৬৮], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তিনি সেগুলোকে দুই দিনে সাত আসমানে বিন্যস্ত করলেন এবং প্রতিটি আসমানে তার নির্দেশ ওহী (أوحى) করলেন।} [ফুসসিলাত: ১২] ।

--------------------------------------------

(১) মুফরাদাতু আলফাযিল কুরআন - রাগিব আল-ইসফাহানি, পৃষ্ঠা ৮৫৮।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌ظاهرة الوحي وإمكان وقوعها:

إنّ كلّ من آمن بوجود الله تعالى وكمال قدرته آمن بالوحي وإمكان وقوعه بوصفه جانباً من جوانب التدبير الإلهي ورعايته للخلق ورحمته بهم، فالعقل السليم يقرّ بإمكان وقوع الوحي، كما يقرّ أنّ النبوّة اصطفاء واجتباء لصفوة من الخلق حمّلهم الله مسؤولية الرسالة وهداية الخليقة فأوحى إليهم، وليست جانباً من المعاناة والرياضة النفسيّة والروحيّة التي تمكّن من يكابدها من الحكماء والفلاسفة والمفكّرين الوصول إليها.
ওহির (وحي) বাস্তবতা এবং এর সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা:

নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর অস্তিত্ব এবং তাঁর পূর্ণ কুদরতে বিশ্বাস স্থাপন করে, সে ওহি (وحي) এবং এর সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনার প্রতিও বিশ্বাস রাখে; যেহেতু এটি ঐশ্বরিক ব্যবস্থাপনা, সৃষ্টির প্রতি তাঁর তত্ত্বাবধান এবং করুণারই একটি দিক। বস্তুত সুস্থ বিবেক ওহির (وحي) সম্ভাব্যতাকে স্বীকার করে; যেমনটি সে স্বীকার করে যে, নবুওয়াত (نبوة) হলো সৃষ্টির মধ্য হতে একদল মনোনীত (اصطفاء) ও নির্বাচিত (اجتباء) শ্রেষ্ঠ মানুষের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, যাঁদের ওপর আল্লাহ রিসালাতের (رسالة) দায়িত্ব এবং সৃষ্টির হিদায়েতের (هداية) ভার অর্পণ করতঃ তাঁদের নিকট ওহি (وحي) প্রেরণ করেছেন। এটি কোনো কৃচ্ছ্রসাধন কিংবা মানসিক ও আধ্যাত্মিক সাধনার বিষয় নয়, যা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কোনো প্রজ্ঞাবান, দার্শনিক বা চিন্তাবিদ অর্জন করতে সক্ষম হন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৩)
إلا أنّ الملاحدة والدهريين قديماً وحديثاً ينكرون النبوّة ويكفرون بالوحي {وَقَالُوا مَا هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ وَمَا لَهُم بِذَلِكَ مِنْ عِلْمٍ إِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ} [الجاثية:24] .

كما أنّ الفلسفة الوضعية الحديثة في القرن التاسع عشر التي يتزعّمها الفيلسوف الفرنسي أوقيست كونت Auguste Comte [1798-1857م] ترى "أنّ البحث عن العلل الأولى أو الغائيّة بحث لا معنى له ولا طائل من ورائه" (1) ذلك أنّ هذا المذهب يعد "المعرفة الصحيحة هي المعرفة المبنيّة على الواقع والتجربة، وأنّ العلوم التجريبيّة هي التي تحقّق المثل الأعلى لليقين"، والوضعيّة لا تعترف بإله متعالٍ فردٍ صمدٍ متفرّد بالعظمة والجلال وإنّما تعد الديانة هي ديانة الإنسانية (2) والإله هو الإنسان.

وهؤلاء الماديّون القدامى والمحدثون يمثّلون الضلال ويصدرون عن الظن الذي لا يغني عن الحقّ شيئاً، ذلك أنّ طرق المعرفة ووسائلها ممثّلة في العقل والحسّ والتجربة والأخبار الصحيحة المتناقلة عن الآباء والأجداد لا يمكنها بحال الوصول إلى الحقيقة المطلقة، فأين لهذا الحسّ والعقل والتجربة والأخبار التي لا يكون مصدرها الوحي، الوصول إلى معرفة عالم الغيب؟ بل أنّى لهذه الوسائل مجتمعة أن تتوصّل إلى معرفة وظيفة الإنسان الحقيقية في الحياة؟ وما ينتظره بعد الممات؟!

--------------------------------------------

(1) معجم المصطلحات والشواهد الفلسفية 488 - جلال الدين سعد - دار الجنوب للنشر- 1998 - تونس.

(2) المصدر السابق 477.
তবে প্রাচীন ও বর্তমানকালের নাস্তিক ও বস্তুবাদীরা নবুওয়াতকে অস্বীকার করে এবং ওহীকে অবিশ্বাস করে। {তারা বলে: "আমাদের পার্থিব জীবনই তো সব; আমরা মরি ও বাঁচি, কাল (সময়) ছাড়া আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না।" এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, তারা কেবল ধারণা (ظن) পোষণ করে।} [আল-জাসিয়া: ২৪] .

তদ্রূপ ঊনবিংশ শতাব্দীতে ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কোঁৎ (Auguste Comte) [১৭৯৮-১৮৫৭ খ্রি.]-এর নেতৃত্বাধীন আধুনিক ইতিবাচক দর্শন মনে করে যে, "আদি কারণ বা উদ্দেশ্যমূলক কারণ অনুসন্ধান করা একটি অর্থহীন ও নিরর্থক প্রচেষ্টা" (১)। কারণ এই মতবাদ অনুযায়ী "সঠিক (صحيحة) জ্ঞান হলো বাস্তব ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে অর্জিত জ্ঞান, এবং পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানই হলো নিশ্চিত বিশ্বাসের (يقين) সর্বোচ্চ মানদণ্ড অর্জনের মাধ্যম।" ইতিবাচকতাবাদ কোনো সুমহান, একক, অমুখাপেক্ষী এবং মহিমা ও গাম্ভীর্যে অনন্য স্রষ্টাকে স্বীকার করে না; বরং তারা মানবধর্মকেই একমাত্র ধর্ম বলে গণ্য করে (২) এবং তাদের মতে মানুষই হলো ঈশ্বর।

এই প্রাচীন ও আধুনিক বস্তুবাদীরা ভ্রষ্টতার প্রতিনিধিত্ব করে এবং এমন ধারণার (ظن) বশবর্তী হয়ে কথা বলে যা সত্যের বিপরীতে কোনো কাজেই আসে না। কারণ জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম ও পদ্ধতিসমূহ—যেমন বুদ্ধি, পঞ্চেন্দ্রিয়, অভিজ্ঞতা এবং পূর্বপুরুষদের থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রাপ্ত সঠিক সংবাদ (الأخبار الصحيحة)—কোনোভাবেই পরম সত্যে পৌঁছাতে পারে না। সুতরাং, যে অনুভূতি, বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা ও সংবাদসমূহের উৎস ওহী নয়, তা কীভাবে অদৃশ্যের জগত (عالم الغيب) সম্পর্কে জ্ঞান লাভে সক্ষম হবে? বরং এই সমস্ত মাধ্যম সম্মিলিতভাবেও কীভাবে জীবনে মানুষের প্রকৃত দায়িত্ব এবং মৃত্যুর পরে তার জন্য কী অপেক্ষা করছে, তা জানতে পারবে?!

--------------------------------------------

(১) মু’জাম আল-মুসতালাহাত ওয়াশ-শাওয়াহিদ আল-ফালসাফিয়্যাহ ৪৮৮ - জালালুদ্দিন সাদ - দারুল জুনুব পাবলিশিং - ১৯৯৮ - তিউনিসিয়া।

(২) পূর্বোক্ত উৎস ৪৭৭।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৪)
إنّ العقل يسلّم بمحدوديّة معارفه وانحصارها في عالم الشهادة، أمّا عالم الغيب فلا سبيل إلى معرفته والإلمام بأسراره وخصائصه إلا بالوحي، ومن هنا أدركت العقول الصحيحة أنّ الإنسان في حاجة ماسّة إلى الوحي الإلهي للوصول إلى المعرفة الصحيحة حول الكون وخالقه والإنسان ودوره في التعمير وخلافة الله في الأرض ومصيره في الآخرة. والإحساس بالحاجة إلى الوحي ليس فيه غمط للعقل والحسّ ودورهما في المعرفة، ذلك أنّ الوحي يهدي هذه الوسائل ويصحّح مسارها ويرشدها إلى الحقائق التي لا سبيل أن يصل إليها العقل والحسّ بمفردهما.

الفيلسوف ابن الطفيل يثبت أن لا مناص من النبوّة والوحي لإرشاد الخليقة إلى الحقّ (1) :

كتب الفيلسوف ابن الطفيل في القرن السادس للهجرة قصّته الشهيرة "حيّ بن يقظان" هذا الطفل الذي رمت به الأمواج في جزيرة مهجورة من جزائر الهند التي تحت خط الاستواء، فتبنّته غزالة فكانت له كأمّه ونما وكبر وقد وهبه الله ذكاءً وقّاداً فعرف كيف يقوم بحاجات نفسه واستطاع أن يتحصّل بفطرته السليمة وملاحظاته الفاحصة وتفكيره الحادّ علماً غزيراً وأن يدرك بنفسه أرفع الحقائق الطبيعيّة وما وراء الطبيعة فعرف الله والعالم ونال السعادة المتّصلة الغامرة التي لا ينالها إلا العارفون بالله والعالمون بحقائق الكون الفسيح، وعند التقائه "أبسال" الرجل التقيّ الذي قرّر اعتزال

--------------------------------------------

(1) هو أبوبكر محمد بن عبد الملك بن طفيل القيسي الأندلسي ولد قبل سنة 506هـ وتوفي سنة 581هـ[1185-1186م] .
নিশ্চয়ই বুদ্ধি (العقل) তার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এবং তা দৃশ্যমান জগতের (عالم الشهادة) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে। পক্ষান্তরে অদৃশ্যের জগত (عالم الغيب) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং এর রহস্য ও বৈশিষ্ট্যসমূহ অবগত হওয়ার কোনো পথ ওহি (الوحي) ব্যতীত নেই। এ কারণেই সুস্থ বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তিগণ উপলব্ধি করেছেন যে, মহাবিশ্ব ও এর স্রষ্টা, মানুষ এবং পৃথিবীতে আবাদকরণে তার ভূমিকা, আল্লাহর খিলাফত এবং পরকালে তার পরিণতি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জনের জন্য মানুষ ঐশী ওহি (الوحي)-এর একান্ত মুখাপেক্ষী। ওহি (الوحي)-এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করার অর্থ এই নয় যে, জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে বুদ্ধি (العقل) ও ইন্দ্রিয়ানুভূতির গুরুত্বকে অবজ্ঞা করা; বরং ওহি (الوحي) এই মাধ্যমগুলোকে পথ দেখায়, এদের গতিপথ সংশোধন করে এবং এমন সব সত্যের দিকে পরিচালিত করে যা কেবল বুদ্ধি (العقل) ও ইন্দ্রিয়ানুভূতির পক্ষে এককভাবে অর্জন করা সম্ভব নয়।

দার্শনিক ইবনে তুফায়েল প্রমাণ করেছেন যে, সৃষ্টিজগতকে সত্যের দিকে পরিচালিত করার জন্য নবুওয়ত (النبوة) ও ওহি (الوحي) ব্যতিরেকে কোনো গত্যন্তর নেই (১):

দার্শনিক ইবনে তুফায়েল ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীতে তাঁর বিখ্যাত গল্প "হাই ইবনে ইয়াকজান" রচনা করেন। এটি এমন এক শিশুর কাহিনী যাকে সমুদ্রের ঢেউ বিষুবরেখার নিচে অবস্থিত ভারতের এক জনমানবহীন দ্বীপে নিক্ষেপ করেছিল। একটি হরিণী তাকে লালন-পালন করে এবং সে তার মায়ের মতো হয়ে ওঠে। সে বড় হতে থাকে এবং আল্লাহ তাকে প্রখর মেধা দান করেন। ফলে সে নিজের প্রয়োজনসমূহ পূরণ করার পদ্ধতি শিখে নেয় এবং তার সুস্থ ফিতরাত (الفطرة), সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও তীক্ষ্ণ চিন্তাশক্তির মাধ্যমে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হয়। সে নিজে নিজেই প্রাকৃতিক ও অতিপ্রাকৃতিক উচ্চতর সত্যগুলো অনুধাবন করে। এভাবে সে আল্লাহ ও জগত সম্পর্কে জানতে পারে এবং এমন এক অবিচ্ছিন্ন ও অপার সুখ লাভ করে যা কেবল আল্লাহ সম্পর্কে আরিফগণ (العارفون) এবং মহাবিশ্বের প্রকৃত সত্য সম্পর্কে অবগত বিদ্বানগণই (العالمون) লাভ করতে পারেন। যখন তার সাথে 'আবসাল' নামক এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির সাক্ষাৎ হয়, যিনি নির্জনবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন তুফায়েল আল-কাইসি আল-আন্দালুসি। তিনি ৫০৬ হিজরির পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৮১ হিজরিতে [১১৮৫-১১৮৬ খ্রিস্টাব্দ] মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৫)
الناس والفرار بدينه من جزيرة مجاورة، علّمه الكلام، فعلم منه حقائق الوجود ووجد في الطريق الفلسفي الذي سلكه حيّ بن يقظان تعليلاً علويّاً للدين الذي يعتقده، وتفسيراً سليماً لكلّ الأديان، واستطاع حيّ بن يقظان إقناع "أبسال" أن يحمله إلى جزيرته التي هجرها ليلتقي فيها ملكها التقيّ "سلامان" صديق "أبسال" الذي يرى خلافاً لأبسال وجوب ملازمة الجماعة وترك العزلة.

وبالتقائهم حاول حيّ أن يكشف لأهل الجزيرة وخاصّتها بطريقته العقليّة والإشراقيّة الحقائق العليا التي وصل إليها فلم يوفّق، وأدرك حيّ وصديقه أبسال أنّ من أراد أن يعلّم الناس حقائق الوجود ويؤثّر في أفهامهم الغليظة ويُلِين إرادتهم المستعصية، فلا مفرّ له من أن يصوغ آراءه بلغة الأديان المنزّلة على الرسل. فابن الطفيل أراد أن يبيّن أنّه في وسع الإنسان أن يرتقي بنفسه وبفطرته السليمة من المحسوس إلى المعقول إلى الله بحيث يستطيع الوصول إلى معرفة العالم ومعرفة الخالق، إلا أنّ هذا الإنسان سواءً كان فيلسوفاً أو مفكّراً أو عالماً وإن وصل إلى معرفة الحقائق العليا حول الإنسان والكون والخالق سبحانه، فإنّه لا يُحْسِنُ إبلاغ هذه الحقائق إلى عامّة الناس بل إنه لا يستطيع إقناع حتى الخاصّة منهم، فالسبيل الوحيد لإيصال الحقائق الكونيّة للخليقة هو الوحي الإلهي عن طريق من يجتبيهم الله تعالى من الأنبياء والرسل عليهم الصلاة والسلام (1) .

--------------------------------------------

(1) انظر ذخائر العرب 8 - حيّ بن يقظان لابن سينا وابن الطفيل والسهرورديّ ص1-11،ص 20-32، تحقيق وتعليق أحمد أمين - ط 3 -1966، دار المعارف - بمصر.
মানুষ এবং পার্শ্ববর্তী দ্বীপ থেকে স্বীয় দ্বীন রক্ষার্থে পলায়নকারী [আবসাল], তাকে কথা বলা শেখান; ফলে সে তার নিকট থেকে অস্তিত্বের হাকিকতসমূহ অবগত হয়। হাই ইবনে ইয়াকজান যে দার্শনিক পথ অবলম্বন করেছিলেন, তাতে তিনি স্বীয় বিশ্বাসের এক উচ্চতর যৌক্তিকতা এবং সকল ধর্মের একটি সঠিক (سليم) ব্যাখ্যা খুঁজে পান। হাই ইবনে ইয়াকজান 'আবসাল'কে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করতে সক্ষম হন যেন সে তাকে তার সেই পরিত্যক্ত দ্বীপে নিয়ে যায়, যাতে সেখানে সে তার মুত্তাকি রাজা 'সালামান'-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারে। সালামান ছিলেন আবসালের বন্ধু, যিনি আবসালের বিপরীতে জামাআতের (جماعة) সাথে থাকা এবং নির্জনতা বর্জন করাকে আবশ্যক মনে করতেন।

তাদের সাক্ষাতের মাধ্যমে হাই উক্ত দ্বীপের অধিবাসী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট তার বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক পদ্ধতিতে লব্ধ উচ্চতর সত্যসমূহ উন্মোচন করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তিনি সফল হননি। হাই এবং তার বন্ধু আবসাল বুঝতে পারলেন যে, যারা মানুষকে অস্তিত্বের হাকিকতসমূহ শিক্ষা দিতে চায় এবং তাদের স্থূল অনুধাবন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে অবাধ্য ইচ্ছাশক্তিকে নমনীয় করতে চায়, তাদের জন্য রাসূলগণের ওপর অবতীর্ণ ঐশী ধর্মসমূহের ভাষায় নিজ মতামত ব্যক্ত করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। মূলত ইবনে তুফাইল এটিই স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, মানুষের পক্ষে তার নফস ও সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة سليمة) মাধ্যমে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয় হয়ে আল্লাহর দিকে আরোহণ করা সম্ভব, যাতে সে জগত ও স্রষ্টার পরিচয় লাভে সক্ষম হয়। তবে এই মানুষটি দার্শনিক, চিন্তাবিদ বা আলেম যাই হোন না কেন, তিনি যদি মানুষ, মহাবিশ্ব ও মহান সৃষ্টিকর্তা সুবহানাহু ওয়া তাআলা সম্পর্কে উচ্চতর হাকিকতসমূহ বা সত্যসমূহের জ্ঞান লাভ করেনও, তবুও তিনি সাধারণ মানুষের কাছে এই সত্যগুলো যথাযথভাবে পৌঁছাতে সক্ষম নন; এমনকি বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও তিনি এ বিষয়ে পুরোপুরি আশ্বস্ত করতে পারেন না। সুতরাং সৃষ্টির নিকট মহাজাগতিক সত্যসমূহ পৌঁছানোর একমাত্র পথ হলো খোদায়ী ওহি (وحي), যা আল্লাহ তাআলা তাঁর মনোনীত নবী ও রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) মাধ্যমে প্রদান করেন (১)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: যাখাইরুল আরব ৮ - ইবনে সিনা, ইবনে তুফাইল এবং সোহরাওয়ার্দী রচিত 'হাই ইবনে ইয়াকজান', পৃষ্ঠা ১-১১, ২০-৩২; তাহকিক (تحقيق) ও তালীক (تعليق): আহমাদ আমিন - ৩য় সংস্করণ - ১৯৬৬, দারুল মাআরিফ - মিসর।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৬)
فالوحي ظاهرة ممكنة الحدوث وإنّ تواتر الرسالات السماويّة إلى جانب الكثير من الدراسات العقلية الجادّة التي توصّلت إلى ضرورة الوحي، حتى إن المعتزلة وهم ممّن مجّد العقل وقدّمه، عدّوا الوحي والنبوّة واجباً يقتضيه العقل نفسه، كلّ ذلك يثبت حقيقة الوحي ولا يمكن بحال أن يغني العقل عن النبوّة والرسالة. وطالما أنّ الإنسان محاسب مجازى على أعماله فإنّ مبعث الرسل للشعوب والأمم وللخليقة أجمعين يعدّ واجبا {لِئَلَاّ يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} [النساء:165] ، كما يعدُّ الوحي حقيقة لا ينكرها إلا متفلّت من ضوابط العقل والحسّ وثوابت النقل وكلّ سبل المعرفة وتحصيل العلم. .

وحينما نثبت الوحي نثبت علويّته فهو من الله، ونثبت صدقه فهو حقّ محض لا يأتيه الباطل، فكلّ ما أخبر به الوحي واقع وصدق وحقّ لا يتخلّف، يقول عبد الله بن عبّاس حول قول الله تعالى مخاطباً اليهود المخادعين: {قُلْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ هَادُوا إِن زَعَمْتُمْ أَنَّكُمْ أَوْلِيَاء لِلَّهِ مِندُونِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ} [الجمعة:6] . وحول قوله تعالى في شأن المجادلين في شأن عيسى عليه السلام بعد أن بيّن القرآن وجه الحقّ فيه: {فَقُلْ تَعَالَوْاْ نَدْعُ أَبْنَاءنَا وَأَبْنَاءكُمْ وَنِسَاءنَا وَنِسَاءكُمْ وَأَنفُسَنَا وأَنفُسَكُمْ ثُمَّ نَبْتَهِلْ فَنَجْعَل لَّعْنَةُ اللهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ} [آل عمران:61] (1) : "لو تمنى اليهود الموت لماتوا، ولو خرج الذين يباهلون رسول الله صلى الله عليه وسلم لرجعوا، لا

--------------------------------------------

(1) والمباهلة هي الدعاء باللعنة على الكاذب المفتري [التفسير الواضح الميسر - الشيخ محمد الصابوني - ص 128 - ط1 - 1422هـ - 2001م - مؤسّسة الريّان للطباعة والنشر بيروت] .
ওহি একটি সংঘটনযোগ্য পরিদৃশ্য। আসমানি বার্তাসমূহের নিরবচ্ছিন্নতা (تواتر) এবং পাশাপাশি অনেক গভীর বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণা ওহির আবশ্যকতা প্রমাণ করেছে। এমনকি মুতাজিলারাও—যারা বিবেক-বুদ্ধিকে মহিমান্বিত করে এবং একে প্রাধান্য দেয়—তারাও ওহি ও নবুয়তকে বিবেক-বুদ্ধির দাবি অনুযায়ী আবশ্যক বলে গণ্য করেছে। এই সবকিছুই ওহির বাস্তবতাকে প্রমাণ করে এবং কোনোভাবেই বিবেক-বুদ্ধি নবুয়ত ও রিসালাতের বিকল্প হতে পারে না। যেহেতু মানুষকে তার আমলের জন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং প্রতিদান দেওয়া হবে, তাই জাতি ও গোষ্ঠীসমূহের জন্য এবং সমগ্র সৃষ্টির জন্য রাসূল প্রেরণ করা আবশ্যক গণ্য করা হয়, যাতে {রাসূলদের আসার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে} [আন-নিসা: ১৬৫]। তদ্রূপ, ওহি এমন এক বাস্তবতা যা কেবল তারাই অস্বীকার করে যারা বিবেক-বুদ্ধি, ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান, বর্ণনার (نقل) অকাট্য নীতিমালা এবং জ্ঞানার্জন ও জ্ঞান লাভের সকল মাধ্যমের নিয়ম-কানুন থেকে বিচ্যুত।

যখন আমরা ওহিকে সাব্যস্ত করি, তখন আমরা এর উচ্চমর্যাদাকেই সাব্যস্ত করি, কারণ তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত। আমরা এর সত্যতাকে সাব্যস্ত করি, কারণ এটি নির্ভেজাল সত্য যাতে মিথ্যার কোনো অনুপ্রবেশ নেই। সুতরাং ওহি যে সংবাদ প্রদান করেছে তার সবই বাস্তব ও ধ্রুব সত্য, যার কোনো ব্যতিক্রম হয় না। প্রতারক ইহুদিদের সম্বোধন করে মহান আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: {বলুন, হে ইহুদিগণ! যদি তোমরা দাবি করো যে, অন্য মানুষের পরিবর্তে তোমরাই আল্লাহর বন্ধু, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা করো যদি তোমরা সত্যবাদী হও} [আল-জুমুআ: ৬]। এবং ঈসা আলাইহিস সালামের ব্যাপারে বিতর্ককারীদের বিষয়ে আল্লাহ তাআলার বাণীর প্রেক্ষিতে—কুরআন এ বিষয়ে সত্য দিকটি স্পষ্ট করার পর: {তবে আপনি বলুন, এসো, আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রদের ও তোমাদের পুত্রদের, আমাদের নারীদের ও তোমাদের নারীদের এবং আমাদের ও তোমাদেরকে, তারপর আমরা বিনীত প্রার্থনা করি এবং মিথ্যাবাদীদের ওপর আল্লাহর লানত বর্ষণ করি} [আল-ইমরান: ৬১]: "যদি ইহুদিরা মৃত্যু কামনা করত তবে তারা অবশ্যই মারা যেত। আর যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মুবাহালায় লিপ্ত হওয়ার জন্য বের হতো, তারা ফিরে গিয়ে দেখত তাদের পরিবার বা সম্পদ কিছুই অবশিষ্ট নেই..."

--------------------------------------------

(১) মুবাহালা হলো মিথ্যাবাদী ও অপবাদদাতার ওপর লানতের মাধ্যমে প্রার্থনা করা [আত-তাফসিরুল ওয়াদিহ আল-মুয়াসসার - শায়খ মুহাম্মদ আস-সাবুনী - পৃ. ১২৮ - ১ম সংস্করণ - ১৪২২ হি - ২০০১ খ্রি - মুয়াসসাসাতুর রায়য়ান লি-তিবাআ ওয়ান-নাশর, বৈরুত]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৭)
يجدون أهلاً ولا مالاً " (1) .

والأنبياء عصمهم الله من الخطإ في تلقّي الوحي وفي إبلاغه، وهم لا يملكون من أمر الوحي شيئاً فهم مبلِّغون رسالات ربّهم بدون تبديل أو تغيير.

وإذا ثبت لدينا إمكانية الوحي وتحقّقت هذه الظاهرة الربّانية فهل السنة النبويّة الصحيحة وحي من الله؟

لإثبات ذلك سوف نبحث عن أدلّة من كتاب الله الذي هو وحي من الله، ثمّ من السنّة النبويّة الصحيحة، كما سنتتبّع جملة من الأخبار الغيبيّة التي أخبر عنها الرسول صلى الله عليه وسلم وندرس مدى تحقّقها ومصداقها فيما بعد حتى نعرف إن كان مصدرها الوحي من الله، وكذلك سندرس جملة من الأحاديث التي تتناول مسائل علميّة معقّدة ونبحث عن الإعجاز العلمي فيها فإذا تحقّق ذلك كلّه أدركنا بما لا يدع مجالاً للشك أنّ السنّة النبويّة وحي من الله جلّت قدرته.

--------------------------------------------

(1) شرح صحيح البخاريّ، فتح الباري - كتاب التفسير - باب "كلا لئن لم ينته" - 8/595 - الحديث رقم 4950.
"...তারা পরিবার বা ধন-সম্পদ কোনোটিই পাবে না।" (১)।

নবীগণকে আল্লাহ ওহি (وحي) গ্রহণ ও তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল থেকে সুরক্ষিত রেখেছেন। ওহির বিষয়ে তাঁদের কোনো নিজস্ব ইখতিয়ার নেই; বরং তাঁরা তাঁদের রবের প্রেরিত বাণীসমূহ কোনো প্রকার রদবদল বা পরিবর্তন ছাড়াই পৌঁছে দানকারী বা প্রচারকারী।

যখন আমাদের কাছে ওহি (وحي)-এর সম্ভাবনা সাব্যস্ত হলো এবং এই ঐশী নিদর্শনের বাস্তবতা প্রমাণিত হলো, তখন প্রশ্ন জাগে—সহিহ (صحيح) সুন্নাহ কি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহি (وحي)?

এটি প্রমাণের জন্য আমরা আল্লাহর কিতাব থেকে দলিল (أدلة) অনুসন্ধান করব যা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি (وحي); অতঃপর সহিহ (صحيح) সুন্নাহ থেকে। পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব গায়েবি সংবাদ (الأخبار الغيبيّة) দিয়েছেন, তার একটি অংশ আমরা অনুসরণ করব এবং পরবর্তী সময়ে সেগুলোর বাস্তবতা ও সত্যতা কতটুকু অর্জিত হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করব, যাতে আমরা জানতে পারি যে এগুলোর উৎস আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহি (وحي) কি না। একইভাবে আমরা এমন কিছু হাদিস নিয়ে আলোচনা করব যা জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয়সমূহ সংশ্লিষ্ট এবং সেগুলোর বৈজ্ঞানিক মুজিজা (الإعجاز العلمي) অনুসন্ধান করব। যদি এই সবকিছু প্রমাণিত হয়, তবে আমরা কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ ছাড়াই অনুধাবন করতে পারব যে, সুন্নাহ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি (وحي)।

--------------------------------------------

(১) শারহু সহিহ বুখারি, ফাতহুল বারি - কিতাবুত তাফসির - পরিচ্ছেদ "কাল্লা লায়িন লাম ইয়ান্তাহি" - ৮/৫৯৫ - হাদিস নম্বর ৪৯৫০।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الدليل من القرآن الكريم على أن السنة وحي:

روى الإمام البخاري في جامعه بسنده الصحيح إلى أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "ما من الأنبياء نبيّ إلا أعطي من الآيات ما مثله آمن عليه البشر، وإنّما كان الذي أوتيته وحياً أوحاه الله إلىّ، فأرجو أن أكون أكثرهم تابعاً يوم القيامة" (1) .

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري - الاعتصام - باب قول النبي (بعثت بجوامع الكلم - فتح الباري 13/261 - حديث رقم 7274.
কুরআনুল কারিম থেকে সুন্নাহ ওহি (وحي) হওয়ার স্বপক্ষে প্রমাণ:

ইমাম বুখারি তাঁর জামে গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে নবি (সা.)-এর সূত্রে তাঁর বিশুদ্ধ (صحيح) সনদ (سند)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি (সা.) বলেছেন: "নবীদের মধ্যে এমন কোনো নবি ছিলেন না যাকে এমন নিদর্শন দান করা হয়নি যার ওপর মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা হলো ওহি (وحي), যা আল্লাহ আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। তাই আমি আশা করি যে, কিয়ামতের দিন অনুসারীর সংখ্যায় আমি তাঁদের সবার চেয়ে বেশি হব।" (১) .

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি - আল-ইতিসাম - অনুচ্ছেদ: নবি (সা.)-এর বাণী (আমাকে ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্য দিয়ে পাঠানো হয়েছে) - ফাতহুল বারি ১৩/২৬১ - হাদিস নম্বর ৭২৭৪।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৮)
فالرسول صلى الله عليه وسلم يبين في هذا الحديث أن معجزته الكبرى هي الوحي، والوحي لا ينحصر في القرآن الكريم الذي هو "أعظم المعجزات وأفْيَدُها وأدومها لاشتماله على الدعوة والحجّة ودوام الانتفاع به إلى آخر الدهر" (1) . وإنّما يدخل ضمنه بيان القرآن وشرحه الذي أجراه الله على لسان نبيّه في سنته المطهّرة وقد وردت آيات كثيرة تثبت هذا المعنى من ذلك:

1ـ قوله تعالى: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} [القيامة:16-19] .

فالله يطمئن رسولهصلى الله عليه وسلم في هذه الآيات ويعده -ووعده الحق- بأنّه سيجمع القرآن في صدره فيحفظه دون أن يتفلّت منه شيء ويردّده متى شاء بكلّ يسر وسيعلّمه قراءته كما نزل، وقطع سبحانه بأنه المتكفّل ببيانه، ويفسّر ابن عباس قوله تعالى: {ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} بقوله: "علينا أن نبيّنه بلسانك"وفي رواية: "على لسانك" (2) .

وعبارة "بيانه" في قوله تعالى: {إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} جنس مضاف، فيعمّ جميع أصناف البيان المتعلّقة بالقرآن الكريم من إظهاره وتبيين أحكامه وما يتعلّق بها من تخصيص وتقييد ونسخ وغير ذلك (3) . ونظراً إلى أنّ السنة هي التي بيّنت الغامض وفصّلت المجمل ووضّحت المشكل وفسّرت المبهم وقيّدت المطلق وخصّصت العام وحدّدت المنسوخ فهي المراد بقوله تعالى:

--------------------------------------------

(1) فتح الباري 13/262.

(2) صحيح البخاري - التفسير- باب فإذا قرأناه فاتبع قرآنه حديث 4929 فتح الباري 8/550.

(3) انظر فتح الباري 8/551.
فালরাসূল (সা.) এই হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা হলো ওহি। আর ওহি কেবল পবিত্র কুরআনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, যা হলো "সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বাধিক উপকারী এবং দীর্ঘস্থায়ী মুজিজা; কারণ এটি দাওয়াত, প্রমাণ ও শেষ যামানা পর্যন্ত এর নিরবচ্ছিন্ন উপযোগিতাকে অন্তর্ভুক্ত করে" (১)। বরং এর মধ্যে কুরআনের বর্ণনা ও ব্যাখ্যাও অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ তাঁর নবীর পবিত্র সুন্নাহর মাধ্যমে তাঁর মুখনিসৃত বাণীরূপে জারি করেছেন। এই মর্মার্থ প্রমাণ করে এমন অনেক আয়াত বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১- মহান আল্লাহর বাণী: {তাড়াহুড়া করার জন্য আপনি ওহি লাভের সময় আপনার জিহ্বা দ্রুত নাড়বেন না। নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। সুতরাং আমরা যখন তা পাঠ করি, আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। অতঃপর এর বর্ণনা প্রদানের দায়িত্বও আমাদেরই।} [আল-কিয়ামাহ: ১৬-১৯] ।

সুতরাং আল্লাহ এই আয়াতগুলোতে তাঁর রাসূল (সা.)-কে আশ্বস্ত করছেন এবং তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন—আর তাঁর প্রতিশ্রুতি ধ্রুব সত্য—যে তিনি তাঁর অন্তরে কুরআন জমা করে দেবেন, ফলে তা থেকে কিছুই বিস্মৃত না হয়ে তিনি তা হিফজ করবেন এবং যখনই ইচ্ছা করবেন অতি সহজে তা পাঠ করবেন; আর তিনি তাঁকে তা অবতীর্ণ হওয়ার অনুরূপ তিলাওয়াত করা শিখিয়ে দেবেন। মহান আল্লাহ অকাট্যভাবে ঘোষণা করেছেন যে, এর বর্ণনার দায়িত্ব তিনিই গ্রহণ করেছেন। ইবনে আব্বাস মহান আল্লাহর বাণী {অতঃপর এর বর্ণনা প্রদানের দায়িত্বও আমাদেরই} এর ব্যাখ্যায় বলেন: "আমাদের দায়িত্ব হলো আপনার জবান দিয়ে তা বর্ণনা করা।" অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-তে এসেছে: "আপনার জবানের মাধ্যমে।" (২)।

আর মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয়ই এর বর্ণনা প্রদানের দায়িত্ব আমাদের} এর মধ্যে "বর্ণনা (বিয়ান)" শব্দটি একটি সাধারণ শ্রেণিবাচক শব্দ, যা পবিত্র কুরআন সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার বর্ণনাকে অন্তর্ভুক্ত করে; যেমন- তা প্রকাশ করা, এর বিধানসমূহ স্পষ্ট করা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্টকরণ (تخصيص), শর্তযুক্তকরণ (تقييد), রহিতকরণ (نسخ) এবং অন্যান্য বিষয় (৩)। আর যেহেতু সুন্নাহই অস্পষ্ট বিষয়কে ব্যাখ্যা করেছে, সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছে, জটিল (مشكل) বিষয়কে স্পষ্ট করেছে, অস্পষ্ট (مبهم) বিষয়কে ব্যাখ্যা করেছে, শর্তহীন (مطلق) বিষয়কে শর্তযুক্তকরণ (تقييد) করেছে, সাধারণ (عام) বিষয়কে নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করেছে এবং রহিত (منسوخ) বিষয়কে চিহ্নিত করেছে; তাই মহান আল্লাহর বাণীতে সেটিই উদ্দেশ্য:

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী ১৩/২৬২।

(২) সহিহ বুখারি - তাফসির - পরিচ্ছেদ: "সুতরাং আমরা যখন তা পাঠ করি, আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন", হাদিস ৪৯২৯; ফাতহুল বারী ৮/৫৫০।

(৩) দেখুন: ফাতহুল বারী ৮/৫৫১।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ১৯)
{إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} فهي وحي من الله.

2 ـ وكذلك قوله تعالى: {لَقَدْ مَنَّ اللهُ عَلَى الْمُؤمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولاً مِّنْ أَنفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُواْ مِن قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُّبِينٍ} [آل عمران:164] . إن فُسِّرَت الحكمة بالعقل والإتقان والصواب في القول والعمل (1) .

وفسّرها ابن عباس رضي الله عنه "بعلم القرآن ناسخه ومنسوخه محكمه ومتشابهه " وفسّرت كذلك بفهم حقائق القرآن (2) ، وهي معانٍ تنطبق على السنة ولا تخرج عن دائرتها فإنّ العديد من العلماء فسّروها بالسنة بكلّ وضوح فقد شرحها كل من قتادة بن دعامة السدوسي [ت131هـ] وعبد الملك بن جريج [ت149هـ] بالسنة (3) وشرحها ابن جرير الطبري بقوله "وهي السنن التي علّمكموها رسول الله صلى الله عليه وسلم وسنّها لكم " (4) .

والحكمة وردت في القرآن العزيز مقرونة بالكتاب في مواطن عديدة، وممن بسط القول في شرحها وعلى أنّها السنة المطهرة الإمام محمد بن إدريس الشافعي رحمه الله فقال في رسالته: " سمعت من أرضى من أهل

--------------------------------------------

(1) انظر البحر المحيط - محمد بن يوسف بن علي بن يوسف بن حيّان الأندلسي الغرناطي الحياني الشهير بأبي حيّان 2/ 320،463.

(2) مفردات القرآن للراغب 250.

(3) جامع البيان عن تأويل القرآن - أبو جعفر محمد بن جرير الطبري 1/557 /3/274. [ط3 - 1388هـ/1968م - مصطفى البابي الحلبي وأولاده بمصر] .

(4) المصدر السابق 2/483.
{নিশ্চয়ই এর বর্ণনা প্রদানের দায়িত্ব আমাদেরই} অতএব এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত প্রত্যাদেশ।

২ — অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদের পবিত্র করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেন; যদিও ইতিপূর্বে তারা স্পষ্ট পথভ্রষ্টতার মধ্যে ছিল} [আলে ইমরান: ১৬৪]। যদি হিকমাহ-এর ব্যাখ্যা বিবেক, নিপুণতা এবং কথা ও কাজে সঠিকতা দ্বারা করা হয় (১)।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর ব্যাখ্যা করেছেন "কুরআনের জ্ঞান অর্থাৎ এর রহিতকারী (ناسخ), রহিত (منسوخ), সুস্পষ্ট (محكم) এবং অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়াবলির জ্ঞান" দ্বারা। একইভাবে এর ব্যাখ্যা কুরআনের হাকীকত বা প্রকৃত মর্ম উপলব্ধি করা দ্বারাও করা হয়েছে (২), আর এই অর্থগুলো সুন্নাহর (سنة) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এর পরিধির বাইরে নয়। কেননা অনেক আলিম অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এর ব্যাখ্যা সুন্নাহ (سنة) দ্বারা করেছেন। কাতাদাহ ইবনে দিয়ামাহ আস-সাদুসী [মৃত্যু ১৩১ হি.] এবং আব্দুল মালিক ইবনে জুরাইজ [মৃত্যু ১৪৯ হি.] উভয়েই এর ব্যাখ্যা সুন্নাহ (سنة) দ্বারা করেছেন (৩)। ইবনে জারীর আত-তাবারী এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, "এটি হলো সেই সুন্নাহ (سنة) যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের শিখিয়েছেন এবং তোমাদের জন্য প্রবর্তন করেছেন" (৪)।

পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে হিকমাহ শব্দটি কিতাবের সাথে যুক্ত হয়ে এসেছে। যারা এর ব্যাখ্যায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং একে পবিত্র সুন্নাহ (سنة) হিসেবে গণ্য করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)। তিনি তাঁর রিসালাহ গ্রন্থে বলেছেন: "আমি দ্বীনি ইলমের অধিকারী এমন ব্যক্তিদের নিকট থেকে শুনেছি যাদের প্রতি আমি সন্তুষ্ট..."

--------------------------------------------

(১) দেখুন আল-বাহরুল মুহিত - মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ ইবনে হাইয়ান আল-আন্দালুসী আল-গারনাতি আল-হাইয়ানি, যিনি আবু হাইয়ান নামে পরিচিত ২/৩২০, ৪৬৩।

(২) রাগেবের মুফরাদাতুল কুরআন ২৫০।

(৩) জামিউল বায়ান আন তাউয়িলিল কুরআন - আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত-তাবারী ১/৫৫৭, ৩/২৭৪। [৩য় সংস্করণ - ১৩৮৮ হি./১৯৬৮ খ্রি. - মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি ওয়া আওলাদুহু, মিশর]।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস ২/৪৮৩।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ২০)
العلم بالقرآن يقول: الحكمة سنّة رسول الله صلى الله عليه وسلم وهذا يشبه ما قال والله أعلم ". ويعلل ذلك بقوله: "لأنّ القرآن ذكر وأتبعته الحكمة، وذكر الله مَنَّه على خلقه بتعليمهم الكتاب والحكمة فلم يجُز – والله أعلم – أن يقال: الحكمة ها هنا إلا سنّة رسول الله صلى الله عليه وسلم " (1) . ويبسط الشيخ مصطفى السباعي رحمه الله القول في دليل الشافعي فيقول:

1- إن الله عطف الحكمة على الكتاب، وذلك يقتضي المغايرة، ولا يصحّ أن تكون غير السنة.

2- لأنّ الله ذكرها في معرض المنّة على المؤمنين، ولا يمنّ الله إلا بما هو حقّ وصواب.

3- وبما أن القرآن واجب الاتباع فالمعطوف عليه وهو الحكمة واجبة الاتباع.

4- وبما أنّ الله لم يوجب علينا إلا اتباع الكتاب والسنة، فتعيّن أن تكون السنة هي ما صدر عن الرسول صلى الله عليه وسلم من أقوال وأحكام في معرض التشريع (2) . فهذا دليل قرآني على أنّ السنّة وحي أنزلها الله على قلب رسوله كما أنزل القرآن: {وَأَنزَلَ اللهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا} [النساء:113] .

3 ـ ومن الأدلة القرآنية على أنّ السنة وحي قوله تعالى: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ

--------------------------------------------

(1) الرسالة للإمام الشافعي ص 86 [ط1 - 1408هـ /1988م، الناشر مركز الأهرام للترجمة والنشر - القاهرة] .

(2) السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي - مصطفى بن حسين السباعي ص 51، [ط4 - 1405هـ/1985م المكتب الإسلامي - بيروت] .
আল-কুরআনের জ্ঞান প্রসঙ্গে তিনি বলেন: "হিকমাহ হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ (سنة), আর এটি তাঁর পূর্বোক্ত কথারই সদৃশ, এবং আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।" তিনি এর সপক্ষে কারণ দর্শিয়ে বলেন: "যেহেতু কুরআনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং হিকমাহ তার অনুগামী হয়েছে, আর আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন, তাই এটি বলা সংগত নয়—এবং আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ—যে এখানে হিকমাহ বলতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ (سنة) ব্যতীত অন্য কিছু বোঝানো হয়েছে।" (১)। শেখ মুস্তফা সিবায়ী (রহিমাহুল্লাহ) ইমাম শাফিঈর দলিলের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে বলেন:

১- আল্লাহ তাআলা কিতাবের ওপর হিকমাহকে আতফ (عطف) করেছেন, যা উভয়ের মাঝে ভিন্নতা দাবি করে; আর সুন্নাহ (سنة) ব্যতীত অন্য কিছু হওয়া এখানে সঠিক নয়।

২- কারণ আল্লাহ তাআলা মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশের প্রসঙ্গে এটি উল্লেখ করেছেন, আর আল্লাহ কেবল সত্য ও সঠিক বিষয় দ্বারাই অনুগ্রহ করেন।

৩- যেহেতু কুরআন অনুসরণ করা ওয়াজিব (واجب), সেহেতু তার ওপর যা আতফ (عطف) করা হয়েছে অর্থাৎ হিকমাহ অনুসরণ করাও ওয়াজিব (واجب)।

৪- যেহেতু আল্লাহ আমাদের ওপর কিতাব ও সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কিছুর অনুসরণ ওয়াজিব (واجب) করেননি, তাই এটি সুনির্দিষ্ট যে, সুন্নাহ (سنة) হলো শরিয়ত প্রণয়ন (تشريع) হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে জারিকৃত কথা ও বিধানাবলি। (২)। এটি একটি কুরআনি দলিল যে, সুন্নাহ (سنة) হলো ওহি (وحي) যা আল্লাহ তাঁর রাসুলের অন্তরে অবতীর্ণ করেছেন যেমনটি তিনি কুরআন অবতীর্ণ করেছেন: "আর আল্লাহ আপনার ওপর কিতাব ও হিকমাহ অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না, আর আপনার ওপর আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে" [নিসা: ১১৩]।

৩ — সুন্নাহ (سنة) যে ওহি (وحي) তার সপক্ষে অন্যতম কুরআনি দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি...

--------------------------------------------

(১) আর-রিসালাহ লিল ইমাম আশ-শাফিঈ, পৃ. ৮৬ [১ম সংস্করণ - ১৪০৮ হি./ ১৯৮৮ খ্রি., প্রকাশক: মারকাজুল আহরাম লিত-তারজামাহ ওয়ান নাশ্‌র - কায়রো]।

(২) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরি আল-ইসলামি - মুস্তফা বিন হুসাইন আস-সিবায়ী, পৃ. ৫১, [৪র্থ সংস্করণ - ১৪০৫ হি./ ১৯৮৫ খ্রি., আল-মাকতাবুল ইসলামি - বৈরুত]।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ২১)
الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [النحل:44] .

وإن شُرِح الذكر (1) الوارد في قوله تعالى: {أَأُنزِلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ مِن بَيْنِنَا} [ص:8] بالقرآن، فإنّه في آيتنا هذه يعني السنّة لأنّ الذكر الذي أنزله الله على قلب الرسول صلى الله عليه وسلم إنما أنزله عليه ليبيّن به للناس ما نزّل إليهم من كتاب الله، وبيان الرسول إنّما هو من سنته صلى الله عليه وسلم.

ويشرح ابن حزم عبارة "الذكر" الواردة في الآية بالوحي فيقول: "ولا خلاف بين أحدٍ من أهل اللغة والشريعة في أنّ كل وحي نزل من عند الله فهو ذكر منزّل"وردّ على من زعم أنّ المراد بالذكر في الآية "القرآن وحده" بقوله: "هذه دعوى كاذبة مجرّدة عن البرهان، وتخصيص للذكر بلا دليل والذكر اسم واقع على كلّ ما أنزل الله على نبيه صلى الله عليه وسلم من قرآن وسنة" (2) .

"فالذكر بيانٌ أنزله الله والسنة هي هذا البيان فتكون بالتالي وحياً منزّلاً من السماء، وقد قام الرسول صلى الله عليه وسلم بتبليغ ما أنزل إليه من القرآن أكمل تبيلغ كما قام بتبيينه خير تبيين ففصّل مجمله ووضّح مشكله وفسّر مبهمه وقيّد مطلقه وخصّص عامّه وبيّن منسوخه واستنبط أحكامه وحدّد مرماه وكشف مغزاه وأبان عن معناه " (3) .

4 ـ ومن الأدلة القرآنية على أنّ السنة وحي قوله تعالى: {إِنَّا أَنزَلْنَا

--------------------------------------------

(1) المفردات للراغب ص 328.

(2) السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي 157.

(3) محاضرات في علوم الحديث - للشيخ مصطفى أمين التازي 1/120.
"...যাতে আপনি মানুষের কাছে তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।" [আন-নাহল: ৪৪]।

যদি আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমাদের মধ্য থেকে কি কেবল তাঁরই ওপর যিকর অবতীর্ণ হয়েছে?} [সোয়াদ: ৮]-এ বর্ণিত 'যিকর' (১)-কে কুরআন দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়, তবুও আমাদের আলোচ্য এই আয়াতে এর অর্থ হলো সুন্নাহ (سنة)। কারণ, আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হৃদয়ে যে যিকর অবতীর্ণ করেছেন, তা তাঁর ওপর এ জন্যই অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি এর মাধ্যমে আল্লাহর কিতাব থেকে মানুষের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা তাদের কাছে স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন। আর রাসূলের এই বর্ণনা মূলত তাঁর সুন্নাহ (سنة)-রই অন্তর্ভুক্ত।

ইবনে হাজম আয়াতে বর্ণিত "যিকর" শব্দটিকে ওহি (وحي) হিসেবে ব্যাখ্যা করে বলেন: "ভাষা ও শরিয়ত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ প্রতিটি ওহি (وحي)-ই হলো অবতীর্ণ যিকর।" যারা দাবি করেন যে আয়াতে যিকর বলতে কেবল "কুরআন"-কে বোঝানো হয়েছে, তাদের প্রতিবাদে তিনি বলেন: "এটি একটি মিথ্যা দাবি যা প্রমাণহীন এবং কোনো দলিল ছাড়াই যিকর-কে সুনির্দিষ্ট করার নামান্তর। মূলত যিকর এমন একটি নাম যা কুরআন ও সুন্নাহ (سنة)-র মধ্য থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যা কিছু অবতীর্ণ করেছেন তার সবকিছুর ওপরই প্রযোজ্য।" (২)।

"সুতরাং যিকর হলো আল্লাহর অবতীর্ণ একটি বর্ণনা এবং সুন্নাহ (سنة) হলো সেই বর্ণনা। ফলশ্রুতিতে এটি আকাশ থেকে অবতীর্ণ ওহি (وحي)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতি অবতীর্ণ কুরআনকে যেমন পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছে দিয়েছেন, তেমনি তিনি তা সর্বোত্তমভাবে ব্যাখ্যাও করেছেন। তিনি এর সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, জটিল (مشكل) বিষয়কে স্পষ্ট করেছেন, অস্পষ্ট (مبهم) বিষয়কে ব্যাখ্যা করেছেন, শর্তহীন (مطلق) বিষয়কে সীমাবদ্ধ (مقيد) করেছেন, সাধারণ (عام) বিষয়কে বিশেষায়িত (خاص) করেছেন, রহিত (منسوخ) বিষয় বর্ণনা করেছেন, এর বিধানসমূহ উদ্ভাবন করেছেন, এর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, এর নিগূঢ় তাৎপর্য উন্মোচন করেছেন এবং এর অর্থ পরিষ্কার করেছেন।" (৩)।

৪ — সুন্নাহ (سنة) যে ওহি (وحي), তার স্বপক্ষে কুরআন থেকে অন্যতম দলিল হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই আমরা অবতীর্ণ করেছি...

--------------------------------------------

(১) আল-মুফরাদাত লি-রাগের, পৃষ্ঠা ৩২৮।

(২) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরি' আল-ইসলামি, ১৫৭।

(৩) মুহাদ্বারাত ফি উলুমিল হাদিস - শেখ মুস্তফা আমিন আল-তাজি ১/১২০।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়াহইুন - আবু লুবাবাহ বিনুত তাহির হুসাইন (পৃষ্ঠা: ২২)
إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللهُ وَلَا تَكُن لِّلْخَآئِنِينَ خَصِيمًا} [النساء:105] .

ذهب الداودي إلى أن عبارة "بما أراك الله" ليست محصورة في المنصوص وإنّما فيها إذن في القول بالرأي من قياس واجتهاد، خلافاً لما ذهب إليه الإمام البخاري من أنّ كل ما قاله النبي صلى الله عليه وسلم وحكم به بين الناس إنّما صدر فيه عن الوحي، وقد ترجم لهذا المعنى في صحيحه بقوله: ". . . ولم يقل برأي ولا قياس لقوله تعالى: "بما أراك الله" (1) .

ولكن إذا علمنا أنّ الله لا يقرّ نبيّه على خطأ تبيّن لنا أن الرسول صلى الله عليه وسلم عندما يحكم بين الناس إنّما يحكم بما ورد في القرآن ممّا نصّ عليه فيه من أحكام، كما يحكم بينهم بما علّمه الله وأراه أي بسنّته فيكون في حكمه مستنداً إلى القرآن والسنة وكلّ منهما ممّا نزّله الله عليه وعلّمه حقائقه وعرّفه حدوده، فهما وحي بلا جدال.

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري - الاعتصام - الباب 8 - باب ما كان النبي (يُسأل ممّا لم ينزل عليه الوحي - فتح الباري 13/3030.
{নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে বিচার-মীমাংসা করেন যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী। আর আপনি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষালম্বনকারী হবেন না।} [আন-নিসা: ১০৫] .

দাউদী এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, "যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন" এই বাক্যটি কেবল সুষ্পষ্টভাবে বর্ণিত (منصوص) বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এতে রায় (رأي), কিয়াস (قياس) ও ইজতিহাদ (اجتهاد) এর মাধ্যমে মতামত ব্যক্ত করার অনুমতি রয়েছে। এটি ইমাম বুখারীর মতের বিপরীত; কারণ ইমাম বুখারীর অভিমত হলো, নবী (সা.) যা কিছু বলেছেন এবং মানুষের মধ্যে যে ফয়সালা করেছেন, তার সবকিছুই ওহী (وحي) থেকে উৎসারিত। তিনি তাঁর সহীহ গ্রন্থে এই অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন এই বলে: ". . . এবং তিনি রায় (رأي) বা কিয়াস (قياس) অনুযায়ী কোনো কথা বলেননি, কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: 'যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন' (১) ।"

কিন্তু আমরা যখন জানি যে, আল্লাহ তাঁর নবীকে কোনো ভুলের ওপর বহাল রাখেন না, তখন আমাদের কাছে এটি সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, রাসূল (সা.) যখন মানুষের মাঝে বিচার করেন, তখন তিনি কুরআনে বর্ণিত বিধানসমূহ (أحكام) অনুসারেই বিচার করেন। ঠিক তেমনি তিনি তাদের মাঝে সে অনুযায়ী বিচার করেন যা আল্লাহ তাঁকে শিখিয়েছেন এবং দেখিয়েছেন—অর্থাৎ তাঁর সুন্নাহ (سنة) এর মাধ্যমে। সুতরাং তাঁর ফয়সালা কুরআন ও সুন্নাহর ওপর নির্ভরশীল হয় এবং এই উভয়ই আল্লাহ তাঁর প্রতি অবতীর্ণ করেছেন, তাঁকে এগুলোর হাকীকত শিক্ষা দিয়েছেন এবং এগুলোর সীমারেখা চিনিয়ে দিয়েছেন। অতএব, এ দুটি নিঃসন্দেহে ওহী (وحي)।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী - আল-ইতিসাম - অধ্যায় ৮ - অনুচ্ছেদ: নবী (সা.)-কে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা যে বিষয়ে ওহী (وحي) নাযিল হয়নি - ফাতহুল বারী ১৩/৩০৩০।